(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: -)
عقد الجيد في أحكام الاجتهاد والتقليد   (ولي الله الدهلوي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: عقد الجيد في أحكام الاجتهاد والتقليد

المؤلف: أحمد بن عبد الرحيم بن الشهيد وجيه الدين بن معظم بن منصور المعروف بـ «الشاه ولي الله الدهلوي» (ت 1176 هـ)

المحقق: محب الدين الخطيب [ت 1389 هـ]

الناشر: المطبعة السلفية - القاهرة

سنة النشر:

عدد الصفحات: 36

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলীদ   (ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


কিতাব: ইকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলীদ

লেখক: আহমাদ বিন আব্দুর রহীম বিন আশ-শাহীদ ওয়াজিহুদ্দীন বিন মুয়াজ্জাম বিন মানসুর, যিনি «শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী» নামে পরিচিত (মৃ. ১১৭৬ হিজরি)

তাহকীককারী/সম্পাদক: মুহিবুদ্দীন আল-খতীব [মৃ. ১৩৮৯ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ - কায়রো

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الْمُقدمَة

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله الَّذِي بعث سيدنَا مُحَمَّدًا إِلَى الْعَرَب والعجم ليستضيئوا بِهِ فِي الظُّلُمَات وينال بِسَبَبِهِ معالي المقامات من كَانَ أهل عوالي الهمم وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي لَا نَبِي بعده صلى الله عَلَيْهِ وَآله وَصَحبه وَبَارك وَسلم

وَبعد فَيَقُول العَبْد الضَّعِيف المفتقر إِلَى رَحْمَة ربه الْكَرِيم ولي الله بن عبد الرحيم صانه الله تَعَالَى عَمَّا شَأْنه وَأصْلح باله وحاله وشأنه

هَذِه رِسَالَة سميتها عقد الْجيد فِي أَحْكَام الإجتهاد والتقليد حَملَنِي على تحريرها سُؤال بعض الْأَصْحَاب عَن مسَائِل مهمة فِي ذَلِك الْبَاب صلى الله عليه وسلم َ - بَاب فِي بَيَان حَقِيقَة الإجتهاد وَشَرطه وأقسامه صلى الله عليه وسلم َ -

حَقِيقَة الإجتهاد على مَا يفهم من كَلَام الْعلمَاء استفراغ الْجهد فِي إِدْرَاك الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الفرعية من أدلتها التفصيلية الراجعة كلياتها إِلَى أَرْبَعَة أَقسَام الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس وَيفهم من هَذَا أَنه أَعم من أَن يكون استفراغا فِي إِدْرَاك حكم مَا سبق التَّكَلُّم فِيهِ من الْعلمَاء السَّابِقين أَو لَا وافقهم فِي ذَلِك أَو خَالف وَمن أَن يكون ذَلِك بإعانة الْبَعْض فِي التَّنْبِيه على صور الْمسَائِل والتنبيه على مآخذ الْأَحْكَام من الْأَدِلَّة التفصيلية أَو بِغَيْر إِعَانَة مِنْهُ فَمَا يظنّ فِيمَن كَانَ مُوَافقا لشيخه فِي أَكثر الْمسَائِل لكنه يعرف لكل حكم دَلِيلا ويطمئن قلبه بذلك الدَّلِيل وَهُوَ على بَصِيرَة من أمره أَنه لَيْسَ بمجتهد ظن فَاسد وَكَذَلِكَ مَا يظنّ من أَن الْمُجْتَهد لَا يُوجد فِي هَذِه الْأَزْمِنَة اعْتِمَادًا على الظَّن الأول بِنَاء على فَاسد

وَشَرطه أَنه لَا بُد لَهُ أَن يعرف من الْكتاب وَالسّنة مَا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ ومواقع الْإِجْمَاع وشرائط الْقيَاس وَكَيْفِيَّة النّظر وَعلم الْعَرَبيَّة والناسخ والمنسوخ وَحَال الروَاة وَلَا حَاجَة إِلَى الْكَلَام وَالْفِقْه قَالَ الْغَزالِيّ إِنَّمَا يحصل الإجتهاد فِي
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-কে আরব ও অনারবদের নিকট প্রেরণ করেছেন যাতে তারা অন্ধকারের মাঝে তাঁর মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হতে পারে এবং যাতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিবর্গ তাঁর অসিলায় সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, স্বীয় মহান প্রতিপালকের করুণার মুখাপেক্ষী দুর্বল (ضعيف) বান্দা ওয়ালিউল্লাহ ইবনে আবদুর রহিম বলছেন—আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মানহানিকর বিষয় থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর চিন্তা, অবস্থা ও যাবতীয় বিষয় সংশোধন করে দিন।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত রিসালাহ যার নামকরণ করেছি 'আকদ আল-জিদ ফি আহকাম আল-ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ'। এই বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে জনৈক বন্ধুর প্রশ্ন আমাকে এটি রচনায় অনুপ্রাণিত করেছে। (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) — পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদের প্রকৃত রূপ, এর শর্তাবলি ও প্রকারভেদের বর্ণনায় (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।

উলামায়ে কেরামের বক্তব্য থেকে ইজতিহাদের যে প্রকৃত রূপটি অনুধাবন করা যায় তা হলো—শরীয়তের শাখাগত বিধানসমূহকে সেগুলোর বিস্তারিত দলিল থেকে আহরণ করার জন্য পূর্ণ শ্রম ব্যয় করা। এই দলিলসমূহের মূলনীতিগুলো প্রধানত চারটি ভাগে বিভক্ত: কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইজতিহাদ শব্দটি আরও ব্যাপক—তা পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের আলোচিত কোনো বিধান আহরণের চেষ্টা হোক বা না হোক; তিনি তাঁদের সাথে একমত হোন কিংবা ভিন্নমত পোষণ করুন। একইভাবে মাসআলার স্বরূপ বুঝতে কিংবা বিস্তারিত দলিল থেকে বিধানের উৎস চিহ্নিত করতে অন্যের সহযোগিতা নেওয়া হোক বা না হোক—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যারা মনে করে যে, ব্যক্তি তার উস্তাদের সাথে অধিকাংশ মাসআলায় একমত হওয়া সত্ত্বেও যদি প্রতিটি বিধানের দলিল জানেন এবং সেই দলিলের ভিত্তিতে তাঁর অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং তিনি স্বীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানের অধিকারী হন, তবে তিনি মুজতাহিদ নন—এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। অনুরূপভাবে প্রথমোক্ত ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে কোনো মুজতাহিদ পাওয়া সম্ভব নয় বলে যে ধারণা করা হয়, তাও বাতিল।

ইজতিহাদের শর্ত হলো—মুজতাহিদকে অবশ্যই কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর বিধান সংশ্লিষ্ট অংশসমূহ, ইজমার ক্ষেত্রসমূহ, কিয়াসের শর্তাবলি, গবেষণার পদ্ধতি, আরবি ভাষা, রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। তবে ইলমে কালাম ও ফিকহ শাস্ত্রের বিস্তারিত শাখা-প্রশাখা জানার আবশ্যকতা নেই। ইমাম গাজালি (রহ.) বলেছেন: ইজতিহাদ মূলত অর্জিত হয়...
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪)
زَمَاننَا بممارسة الْفِقْه وَهِي طَرِيق تَحْصِيل الدِّرَايَة فِي هَذَا الزَّمَان وَلم يكن الطَّرِيق فِي زمن الصَّحَابَة رضي الله عنهم ذَلِك قلت هَذَا إِشَارَة إِلَى أَن الإجتهاد الْمُطلق المنتسب لَا يتم إِلَّا بِمَعْرِِفَة نُصُوص الْمُجْتَهد المستقل وَكَذَلِكَ لَا بُد للمستقل من معرفَة كَلَام من مضى من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتبعهم فِي أَبْوَاب الْفِقْه وَهَذَا الَّذِي ذَكرْنَاهُ من شَرط الإجتهاد مَبْسُوط فِي كتب الْأُصُول وَلَا بَأْس أَن نورد كَلَام الْبَغَوِيّ فِي هَذَا الْموضع قَالَ الْبَغَوِيّ والمجتهد من جمع خَمْسَة أَنْوَاع من الْعلم علم كتاب الله عز وجل وَعلم سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وأقاويل عُلَمَاء السّلف من أجماعهم وَاخْتِلَافهمْ وَعلم اللُّغَة وَعلم الْقيَاس وَهُوَ طَرِيق استنباط الحكم من الْكتاب وَالسّنة إِذا لم يجده صَرِيحًا فِي نَص كتاب أَو سنة أَو إِجْمَاع فَيجب أَن يعلم من علم الْكتاب النَّاسِخ أَو الْمَنْسُوخ والمجمل والمفصل وَالْخَاص وَالْعَام والمحكم والمتشابه وَالْكَرَاهَة وَالتَّحْرِيم وَالْإِبَاحَة وَالنَّدْب وَالْوُجُوب وَيعرف من السّنة هَذِه الْأَشْيَاء وَيعرف مِنْهَا الصَّحِيح والضعيف والمسند والمرسل وَيعرف تَرْتِيب السّنة على الْكتاب وترتيب الْكتاب على السّنة حَتَّى لَو وجد حَدِيثا لَا يُوَافق ظَاهره الْكتاب يَهْتَدِي إِلَى وَجه محمله فَإِن السّنة بَيَان الْكتاب وَلَا تخَالفه وَإِنَّمَا يجب معرفَة مَا ورد مِنْهَا فِي أَحْكَام الشَّرْع دون مَا عَداهَا من الْقَصَص وَالْأَخْبَار والمواعظ وَكَذَلِكَ يجب أَن يعرف من علم اللُّغَة مَا أَتَى فِي كتاب أَو سنة فِي أُمُور الْأَحْكَام دون الْإِحَاطَة بِجَمِيعِ لُغَات الْعَرَب وَيَنْبَغِي أَن يتحرج فِيهَا بِحَيْثُ يقف على مرامي كَلَام الْعَرَب فِيمَا يدل على المُرَاد من اخْتِلَاف الْمحَال وَالْأَحْوَال لِأَن الْخطاب ورد بِلِسَان الْعَرَب فَمن لم يعرفهُ لَا يقف على مُرَاد الشَّارِع وَيعرف أقاويل الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فِي الْأَحْكَام ومعظم فتاوي فُقَهَاء الْأمة حَتَّى لَا يَقع حكمه مُخَالفا لأقوالهم فَيكون فِيهِ خرق الْإِجْمَاع وَإِذا عرف من كل من هَذِه الْأَنْوَاع معظمه فَهُوَ حِينَئِذٍ مُجْتَهد وَلَا يشْتَرط معرفَة جَمِيعهَا بِحَيْثُ لَا يشذ عَنهُ شَيْء مِنْهَا وَإِذا لم يعرف نوعا من هَذِه الْأَنْوَاع فسبيله التَّقْلِيد وَإِن كَانَ متبحرا فِي مَذْهَب وَاحِد من آحَاد أَئِمَّة السّلف فَلَا يجوز لَهُ تقلد الْقَضَاء وَلَا الترصد للفتيا وَإِذا جمع هَذِه الْعُلُوم وَكَانَ مجانبا للأهواء والبدع مدرعا بالورع محترزا عَن الكباتر غير مصر على الصَّغَائِر جَازَ لَهُ أَن يتقلد

আমাদের যুগে ফিকহ চর্চার মাধ্যমেই প্রজ্ঞা (دراية) অর্জিত হয় এবং বর্তমান সময়ে এটিই জ্ঞান আহরণের পথ; কিন্তু সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে এই পথ এমন ছিল না। আমি বলব, এটি এই ইঙ্গিত দেয় যে, স্বতন্ত্র মুজতাহিদের সাথে সম্পৃক্ত সাধারণ ইজতিহাদ (الاجتهاد المطلق المنتسب) সেই স্বতন্ত্র মুজতাহিদের ভাষ্যসমূহ (نصوص) জানা ব্যতীত পূর্ণতা পায় না। একইভাবে, একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদের জন্য ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ে পূর্ববর্তী সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। ইজতিহাদের (إجتهاد) যে শর্তাবলির কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তা উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই স্থানে ইমাম বাগভীর বক্তব্য উদ্ধৃত করতে কোনো বাধা নেই। ইমাম বাগভী বলেছেন: মুজতাহিদ (مجتهد) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পাঁচ প্রকার জ্ঞান অর্জন করেছেন— মহান আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর জ্ঞান, সালাফে সালেহীন বা পূর্বসূরি আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) ও মতপার্থক্য (اختلاف) সংক্রান্ত বক্তব্যসমূহ, ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান এবং কিয়াস (قياس)। আর কিয়াস (قياس) হলো কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান বা হুকুম ইস্তিনবাত (استنباط) করার পদ্ধতি, যখন কিতাব, সুন্নাহ বা ইজমার সুস্পষ্ট ভাষ্যে তা পাওয়া যায় না। সুতরাং তাকে কিতাবের জ্ঞান থেকে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও বিস্তারিত (مفصل), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), সুস্পষ্ট (محكم) ও রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه), অপছন্দনীয়তা (كراهة), হারাম হওয়া (تحريم), বৈধতা (إباحة), মুস্তাহাব (ندب) এবং ওয়াজিব হওয়া (وجوب) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। সুন্নাহ থেকেও তাকে এই বিষয়গুলো জানতে হবে এবং এর মধ্য থেকে সহিহ (صحيح), দুর্বল (ضعيف), মুসনাদ এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। এছাড়া কিতাবের ওপর সুন্নাহর বিন্যাস এবং সুন্নাহর ওপর কিতাবের বিন্যাস সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হবে; যেন তিনি এমন কোনো হাদিস পান যার বাহ্যিক অর্থ কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে তিনি যেন তার সঠিক ব্যাখ্যার দিকটি বুঝতে পারেন। কারণ সুন্নাহ হলো কিতাবের ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং তা কিতাবের পরিপন্থী হয় না। তবে সুন্নাহর মধ্য থেকে শরীয়তের আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জ্ঞান রাখাই কেবল আবশ্যক, এ ছাড়া কাহিনী, সংবাদ এবং উপদেশমূলক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তা জরুরি নয়। একইভাবে ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান থেকে কেবল কিতাব ও সুন্নাহর বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানাই তার জন্য আবশ্যক, সমগ্র আরবি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন জরুরি নয়। তবে তাকে এক্ষেত্রে সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে যাতে তিনি বিভিন্ন স্থান ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে আরবের বাগধারা ও বক্তব্যের নিগূঢ় লক্ষ্যসমূহ অনুধাবন করতে পারেন। কারণ শরীয়তের সম্বোধন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি তা জানে না, সে শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হবে না। এছাড়া বিধান সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈগণের বক্তব্য এবং উম্মতের ফকিহগণের অধিকাংশ ফতোয়া সম্পর্কে তাকে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে, যাতে তার সিদ্ধান্ত তাঁদের বক্তব্যের বিরোধী না হয় এবং এর ফলে ঐকমত্য বা ইজমা (إجماع) লঙ্ঘন না ঘটে। যখন কেউ এই প্রত্যেকটি প্রকারের অধিকাংশ বিষয় আয়ত্ত করবেন, তখন তিনি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) হিসেবে গণ্য হবেন। এগুলোর প্রতিটি বিষয় এমনভাবে জানা শর্ত নয় যে কোনো কিছুই যেন বাদ না থাকে। আর যদি তিনি এসব প্রকারের কোনো একটিও না জানেন, তবে তার পথ হলো তাকলিদ (تقليد) বা অনুসরণ করা। যদি তিনি সালাফের কোনো একজন ইমামের মাজহাবে গভীর পাণ্ডিত্যও রাখেন, তবুও তাঁর জন্য বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা বা ফতোয়া প্রদানের জন্য নিয়োজিত হওয়া বৈধ হবে না। তবে যখন তিনি এই সমস্ত জ্ঞান অর্জন করবেন এবং কুপ্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে দূরে থাকবেন, তাকওয়ার পোশাকে সজ্জিত হবেন, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন এবং সগিরা গুনাহে লিপ্ত থাকবেন না, তখন তাঁর জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা বৈধ হবে।

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৫)
الْقَضَاء ويتصرف فِي الشَّرْع بالإجتهاد وَالْفَتْوَى وَيجب على من لم يجمع هَذِه الشَّرَائِط تَقْلِيده فِيمَا يعن لَهُ من الْحَوَادِث انْتهى كَلَام البغوى

وَقد صرح الرَّافِعِيّ وَالنَّوَوِيّ وَغَيرهمَا مِمَّن لَا يُحْصى كَثْرَة أَن الْمُجْتَهد الْمُطلق الَّذِي مر تَفْسِيره على قسمَيْنِ مُسْتَقل ومنتسب وَيظْهر من كَلَامهم أَن المستقل يمتاز عَن غَيره بِثَلَاث خِصَال إِحْدَاهَا التَّصَرُّف فِي الْأُصُول الَّتِي عَلَيْهَا بِنَاء مجتهداته وثانيتها تتبع الْآيَات وَالْأَحَادِيث والْآثَار لمعْرِفَة الْأَحْكَام الَّتِي سبق بِالْجَوَابِ فِيهَا وَاخْتِيَار بعض الْأَدِلَّة المتعارضة على بعض وَبَيَان الرَّاجِح من محتملاته والتنبيه لمآخذ الأ حكام من تِلْكَ الْأَدِلَّة وَالَّذِي نرى وَالله أعلم أَن ذَلِك ثلثا علم الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى وَالثَّالِثَة الْكَلَام فِي الْمسَائِل الَّتِي لم يسْبق بِالْجَوَابِ فِيهَا أخذا من تِلْكَ الْأَدِلَّة والمنتسب من سلم أصُول شَيْخه واستعان بِكَلَامِهِ كثيرا فِي تتبع الْأَدِلَّة والتنبيه للمأخذ وَهُوَ مَعَ ذَلِك مستيقن بِالْأَحْكَامِ من قبل أدلتها قَادر على استنباط الْمسَائِل مِنْهَا قل ذَلِك مِنْهُ أَو كثر وَإِنَّمَا تشْتَرط الْأُمُور الْمَذْكُورَة فِي الْمُجْتَهد الْمُطلق وَأما الَّذِي هُوَ دونه فِي الْمرتبَة فَهُوَ مُجْتَهد فِي الْمَذْهَب وَهُوَ مقلد لإمامه فِيمَا ظهر فِيهِ نَصه لكنه يعرف قَوَاعِد إِمَامه وَمَا بنى عَلَيْهِ مذْهبه فَإِذا وَقعت حَادِثَة لم يعرف لإمامه نصا فِيهَا اجْتهد على مذْهبه وخرجها من أَقْوَاله وعَلى منواله ودونه فِي الْمرتبَة مُجْتَهد الْفتيا وَهُوَ المتبحر فِي مَذْهَب إِمَامه المتمكن من تَرْجِيح قَول على آخر وَوجه من وُجُوه الْأَصْحَاب على آخر وَالله أعلم صلى الله عليه وسلم َ - بَاب فِي بَيَان اخْتِلَاف الْمُجْتَهدين صلى الله عليه وسلم َ -

اخْتلفُوا فِي تصويب الْمُجْتَهدين فِي الْمسَائِل الفرعية الَّتِي لَا قَاطع فِيهَا هَل كل مُجْتَهد فِيهَا مُصِيب أَو الْمُصِيب فِيهَا وَاحِد قَالَ بِالْأولِ الشَّيْخ أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ وَالْقَاضِي أَبُو بكر وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد بن الْحسن وَابْن شُرَيْح وَنقل عَن جُمْهُور الْمُتَكَلِّمين من الأشاعرة والمعتزلة وَفِي كتاب الْخراج لأبي يُوسُف إشارات إِلَى ذَلِك تقَارب
...বিচারকার্য পরিচালনা করা এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) ও ফতোয়ার মাধ্যমে শরিয়তের বিধান প্রয়োগ করা। যার মধ্যে এই শর্তাবলি বিদ্যমান নেই, তার জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তার অনুসরণ (تقليد) করা ওয়াজিব। ইমাম বাগাভীর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

ইমাম রাফেয়ি, ইমাম নববি এবং আরও অসংখ্য আলেম সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মুজতাহিদে মুতলাক (যার ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে) দুই প্রকার: স্বতন্ত্র (مستقل) এবং অনুগামী (منتস্প)। তাদের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, স্বতন্ত্র (مستقل) মুজতাহিদ অন্যদের থেকে তিনটি বৈশিষ্ট্যে আলাদা। প্রথমটি হলো: সেই মূলনীতিসমূহের (أصول) প্রয়োগ ও বিন্যাস করা যার ওপর তার ইজতিহাদসমূহ নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত: ইতিপূর্বে যে মাসয়ালাগুলোর সমাধান দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বিধান জানার জন্য কুরআনের আয়াত, হাদিস এবং আসার (آثار) অনুসন্ধান করা, পরস্পরবিরোধী দলিলসমূহের (أدلة) মধ্য থেকে কোনো একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া, সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে অধিকতর সঠিক (راجح) বিষয়টি বর্ণনা করা এবং সেই দলিলসমূহ থেকে বিধানের উৎসসমূহ চিহ্নিত করা। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন, আমাদের দৃষ্টিতে এটিই ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর ইলমের দুই-তৃতীয়াংশ। তৃতীয়ত: সেই দলিলসমূহ থেকে গ্রহণের মাধ্যমে এমন সব মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করা যেগুলোর সমাধান ইতিপূর্বে দেওয়া হয়নি। আর অনুগামী (منتسپ) মুজতাহিদ হলেন তিনি, যিনি তার শায়খের মূলনীতিসমূহকে (أصول) মেনে নেন এবং দলিল অন্বেষণ ও বিধানের উৎস নির্ণয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার বক্তব্যের সাহায্য গ্রহণ করেন। এতদসত্ত্বেও তিনি দলিলসমূহ থেকে বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান রাখেন এবং তা থেকে মাসয়ালা উদ্ভাবন (استنباط) করতে সক্ষম, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। উল্লিখিত বিষয়গুলো কেবল মুজতাহিদে মুতলাকের ক্ষেত্রেই শর্তযুক্ত। আর যার মর্যাদা এর চেয়ে নিচে, তিনি হলেন মুজতাহিদে ফিল মাজহাব। তিনি তার ইমামের সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) সমূহের ক্ষেত্রে স্বীয় ইমামের অনুসারী (مقلد); তবে তিনি তার ইমামের মূলনীতিসমূহ (قواعد) এবং যে ভিত্তির ওপর মাজহাব প্রতিষ্ঠিত তা জানেন। সুতরাং যখন এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যেখানে ইমামের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না, তখন তিনি তার মাজহাব অনুযায়ী ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং ইমামের বক্তব্য ও পদ্ধতির আলোকে বিধান আহরণ করেন। তার পরবর্তী স্তরে রয়েছেন মুজতাহিদে ফতোয়া। তিনি তার ইমামের মাজহাবে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং এক বক্তব্যকে অন্য বক্তব্যের ওপর অথবা ইমামের অনুসারীদের কোনো এক অভিমতকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দিতে সক্ষম। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। — পরিচ্ছেদ: মুজতাহিদগণের মতপার্থক্য বর্ণনা প্রসঙ্গে — আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহে, যেখানে কোনো চূড়ান্ত অকাট্য দলিল নেই, সেখানে মুজতাহিদদের সঠিকতা নির্ণয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সেখানে কি প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক (مصيب), নাকি সঠিক কেবলমাত্র একজন? প্রথম মতটির প্রবক্তা হলেন শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরি, কাজি আবু বকর, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং ইবনে শুরাইহ। আশআরি ও মুতাজিলা ঘরানার অধিকাংশ কালাম শাস্ত্রবিদ (متكلمين) থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। আবু ইউসুফের কিতাবুল খারাজ গ্রন্থেও এর কাছাকাছি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৬)
التَّصْرِيح وَبِالثَّانِي قَالَ جُمْهُور الْفُقَهَاء وَنقل عَن الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَقَالَ ابْن السَّمْعَانِيّ فِي القواطع إِنَّه ظَاهر مَذْهَب الشَّافِعِي قَالَ الْبَيْضَاوِيّ فِي الْمِنْهَاج اخْتلف فِي صَوَاب المحتهدين بِنَاء على الْخلاف فِي أَن لكل صُورَة حكما معينا عَلَيْهِ دَلِيل قَطْعِيّ أَو ظَنِّي وَالْمُخْتَار مَا صَحَّ عَن الشَّافِعِي أَن فِي الْحَادِثَة حكما معينا عَلَيْهِ أَمارَة من وجدهَا أصَاب وَمن فقدها أَخطَأ وَلم يَأْثَم لِأَن الإجتهاد مَسْبُوق بالأدلة لِأَنَّهُ طلبَهَا وَالدّلَالَة مُتَأَخِّرَة عَن الحكم فَلَو تحقق الإجتهادان لإجتمع النقيضان وَلِأَنَّهُ قَالَ عليه الصلاة والسلام من أصَاب فَلهُ اجران وَمن أَخطَأ فَلهُ أجر وَاحِد قيل لَو تعين الحكم فالمخالف لَهُ لم يحكم بِمَا أنزل الله فيفسق لقَوْله تَعَالَى {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْفَاسِقُونَ} قُلْنَا أَمر بالحكم بماظنه وَإِن أَخطَأ الحكم بِمَا أنزل الله قيل لَو لم يصوب الْجَمِيع لما جَازَ نصب الْمُخَالف وَقد نصب أَبُو بكر رضي الله عنه زيدا قُلْنَا لم يجز تَوْلِيَة الْمُبْطل والمخطىء لَيْسَ بمبطل انْتهى كَلَام الْبَيْضَاوِيّ

قَوْله لكل صُورَة حكم الخ قُلْنَا حكم على الْغَيْب بِلَا دَلِيل قَوْله مَا صَحَّ عَن الشَّافِعِي أَن فِي الْحَادِثَة الخ قُلْنَا مَعنا فِي كل حَادِثَة قَول هُوَ أوفق بالأصول وأقعد فِي طرق الإجتهاد وَعَلِيهِ أَمارَة ظَاهِرَة من دَلَائِل الإجتهاد من وجدهَا أصَاب وَمن فقدها فقد أَخطَأ وَلم يَأْثَم وَذَلِكَ لِأَنَّهُ نَص فِي أَوَائِل الْأُم بِأَن الْعَالم إِذا قَالَ للْعَالم أَخْطَأت فَمَعْنَاه أَخْطَأت المسلك السديد الَّذِي يَنْبَغِي للْعُلَمَاء أَن يسلكوه وَبسط ذَلِك وَمثله بأمثال كَثِيرَة أَو مَعْنَاهُ إِذا كَانَ فِي الْمَسْأَلَة خبر الْوَاحِد فقد أصَاب من وجده وَأَخْطَأ من فَقده وَهَذَا أَيْضا مَبْسُوط فِي الْأُم قَوْله لِأَن الإجتهاد مَسْبُوق الخ قُلْنَا تعبدنا الله تَعَالَى بِأَن نعمل مَا يُؤَدِّي إِلَيْهِ إجتهادنا فنطلب الَّذِي نعمله إِجْمَالا لنحيط بِهِ تَفْصِيلًا قَوْله لإجتمع النقيضان قُلْنَا هُوَ كخصال الْكَفَّارَة كل وَاحِد مِنْهَا وَاجِب وَلَيْسَ بِوَاجِب قَوْله من أصَاب فَلهُ أَجْرَانِ قُلْنَا هَذَا عَلَيْكُم لَا لكم لِأَن الْخَطَأ الَّذِي يُوجب الْأجر لَا يكون مَعْصِيّة فَلَا بُد أَن يَكُونَا حكمين لله تَعَالَى أَحدهمَا أفضل من الآخر كالعزيمة والرخصة أَو هَذَا فِي الْقَضَاء وَلَا بُد أَن يتَحَقَّق فِي الْخَارِج إِمَّا قَول الْمُدعى أَو الْمُنكر قَوْله أَمر بالحكم بِمَا ظَنّه الخ قُلْنَا

প্রকাশ্য উক্তি এবং দ্বিতীয় মতটি ফকিহদের (فقهاء) সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পোষণ করেছেন এবং এটি চার ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সামআনি 'আল-কাওয়াতি' গ্রন্থে বলেছেন যে, এটিই ইমাম শাফেয়ির মাজহাবের বাহ্যিক দিক। বায়জাবি 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে বলেছেন: মুজতাহিদের (مجتهد) সঠিক হওয়া বা না হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যার ভিত্তি হলো এই বিরোধ যে—প্রতিটি বিষয়ের জন্য কি কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে যার ওপর কোনো সুনিশ্চিত দলিল (دليل قطعي) অথবা ধারণাপ্রসূত দলিল (دليل ظني) বিদ্যমান? পছন্দনীয় মত হলো যা ইমাম শাফেয়ি থেকে সহিহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রতিটি ঘটনার বিপরীতে একটি সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে যার ওপর একটি নিদর্শন বা আলামত বিদ্যমান; যে ব্যক্তি তা খুঁজে পেল সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হলো (أصاب), আর যে তা পেল না সে ভুল করল (أخطأ), তবে সে গুনাহগার হবে না। কারণ ইজতিহাদ (إجتهاد) দলিলের অনুবর্তী; কেননা তা হলো দলিলের অনুসন্ধান, আর নির্দেশনা বিধানের পরে আসে। যদি দুটি ইজতিহাদই (إجتهاد) সঠিক হতো, তবে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় একত্রিত হয়ে যেত। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় (أصاب) তার জন্য দুটি সওয়াব, আর যে ভুল করে (أخطأ) তার জন্য একটি সওয়াব।" বলা হয়ে থাকে: যদি বিধান সুনির্দিষ্টই হয়, তবে এর বিরুদ্ধাচরণকারী তো আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করল না, ফলে সে ফাসেক (فاسق) হয়ে যাবে; যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারা ফাসেক}। আমরা বলব: তাকে তার ধারণা অনুযায়ী ফয়সালা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও সে আল্লাহর অবতীর্ণ প্রকৃত বিধানের ক্ষেত্রে ভুল (أخطأ) করে থাকে। বলা হয়ে থাকে: যদি সকলের ইজতিহাদকে সঠিক বলা না হতো, তবে ভিন্ন মতাবলম্বীকে বিচারক নিয়োগ করা জায়েজ হতো না, অথচ আবু বকর (রা.) জায়েদ (রা.)-কে নিয়োগ দিয়েছিলেন। আমরা বলব: বাতিলপন্থীকে দায়িত্ব দেওয়া জায়েজ নেই, কিন্তু ভুলকারী (مخطئ) ব্যক্তি বাতিলপন্থী নয়। বায়জাবির বক্তব্য এখানেই শেষ।

তাঁর কথা "প্রতিটি সুরতের জন্য একটি বিধান..." এর উত্তরে আমরা বলব: এটি দলিল ছাড়াই অদৃশ্যের ওপর হুকুম আরোপ করা। তাঁর কথা "ইমাম শাফেয়ি থেকে যা সহিহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে প্রতিটি ঘটনায়..." এর উত্তরে আমরা বলব: আমাদের মতে প্রতিটি ঘটনায় এমন একটি বক্তব্য থাকে যা মূলনীতির (أصول) সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইজতিহাদের (إجتهاد) পদ্ধতির সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ; এবং এর ওপর ইজতিহাদের (إجتهاد) দলিলসমূহ থেকে একটি সুস্পষ্ট আলামত বিদ্যমান থাকে। যে তা পেল সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাল (أصاب), আর যে তা পেল না সে ভুল করল (أخطأ), তবে সে গুনাহগার হবে না। এর কারণ হলো তিনি 'আল-উম্ম' কিতাবের শুরুতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যখন একজন আলেম অন্য আলেমকে বলেন "আপনি ভুল করেছেন (أخطأت)", তখন এর অর্থ হলো আপনি সেই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন যা আলেমদের অনুসরণ করা উচিত ছিল; তিনি এটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং অনেক উদাহরণ দিয়েছেন। অথবা এর অর্থ হলো: যদি কোনো মাসয়ালায় একক বর্ণনা (واحد/آحاد) থাকে, তবে যে তা পেল সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাল (أصاب) আর যে তা পেল না সে ভুল করল (أخطأ)। এটিও 'আল-উম্ম' কিতাবে বিস্তারিত বর্ণিত আছে। তাঁর কথা "ইজতিহাদ যেহেতু পূর্ববর্তী..." এর উত্তরে আমরা বলব: আল্লাহ তাআলা আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা আমাদের ইজতিহাদ (إجتهاد) যা নির্দেশ করে সে অনুযায়ী আমল করি; সুতরাং আমরা যা আমল করব তা সাধারণভাবে অনুসন্ধান করি যাতে বিস্তারিতভাবে তা আয়ত্ত করতে পারি। তাঁর কথা "দুটি বিপরীত বিষয় একত্রিত হয়ে যাবে" এর উত্তরে আমরা বলব: এটি কাফফারার বিধানের মতো, যার প্রতিটি অংশই ওয়াজিব (واجب) আবার (নির্দিষ্টভাবে) ওয়াজিব নয়। তাঁর কথা "যে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তার জন্য দুটি সওয়াব", আমরা বলব: এটি তোমাদের বিপক্ষে যায়, পক্ষে নয়; কারণ যে ভুলের (خطأ) কারণে সওয়াব পাওয়া যায় তা গুনাহ হতে পারে না, সুতরাং অবশ্যই উভয়টিই আল্লাহর বিধান হতে হবে যার একটি অন্যটির চেয়ে উত্তম—যেমন আজিমত (عزيمة) এবং রুখসত (رخصة); অথবা এটি বিচারিক ফয়সালার ক্ষেত্রে, যেখানে বাস্তব ক্ষেত্রে অবশ্যই বাদীর দাবি অথবা অস্বীকারকারীর কথার যেকোনো একটি সত্য হবে। তাঁর কথা "তাকে তার ধারণা অনুযায়ী ফয়সালার আদেশ দেওয়া হয়েছে..." এর উত্তরে আমরা বলব—

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৭)
اعْتِرَاف بمقصودنا قَوْله والمخطىء لَيْسَ بمبطل قُلْنَا لما لم يكن مُبْطلًا لم يكن مُخَالفا للحق لِأَن كل مُخَالف للحق مُبْطل وماذا بعد الْحق إِلَّا الضلال وَالْحق أَن مَا نسب إِلَى الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة قَول مخرج من بعض تصريحاتهم وَلَيْسَ نصا مِنْهُم وَأَنه لَا خلاف للْأمة فِي تصويب الْمُجْتَهدين فِيمَا خبر فِيهِ نصا أَو إِجْمَاعًا كالقراءات السَّبع وصيغ الْأَدْعِيَة وَالْوتر بِسبع وتسع وَإِحْدَى عشرَة فَكَذَلِك لَا يَنْبَغِي أَن يخالفوا قيمًا خير فِيهِ دلَالَة

وَالْحق أَن الِاخْتِلَاف أَرْبَعَة أَقسَام أَحدهَا مَا تعين فِيهِ الْحق قطعا وَيجب أَن ينْقض خِلَافه لِأَنَّهُ بَاطِل يَقِينا وَثَانِيها مَا تعين فِيهِ الْحق بغالب الرَّأْي وخلافه بَاطِل ظنا وَثَالِثهَا مَا كَانَ كلا طرفِي الْخلاف مُخَيّرا فِي بِالْقطعِ وَرَابِعهَا مَا كَانَ كلا طرفِي الْخلاف مُخَيّرا فِيهِ بغالب الرَّأْي

تَفْصِيل ذَلِك أَنه إِن كَانَت الْمَسْأَلَة مِمَّا ينْقض فِيهَا قَضَاء القَاضِي بِأَن يكون فِيهَا نَص صَحِيح فِيهَا مَعْرُوف من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَكل إجتهاد خِلَافه فَهُوَ بَاطِل نعم رُبمَا يعْذر بِجَهْل نَصه صلى الله عليه وسلم إِلَى أَن يبلغ وَتقوم الْحجَّة وَأَن كَانَ الِاجْتِهَاد فِي معرفَة وَاقعَة قد وَقعت ثمَّ اشْتبهَ الْحَال مثل موت زيد وحياته فَلَا جرم أَن الْحق وَاحِد نعم رُبمَا يعْذر المخطىء بإجتهاده وَإِن كَانَ الإجتهاد فِي أَمر فوض إِلَى تحري الْمُجْتَهد وَكَانَ المأخذان متقاربين وَلَيْسَ وَاحِد مِنْهُمَا بَعيدا عَن الأذهان جدا بِحَيْثُ يرى أَن صَاحبه مقصر قد خرج عَن عرف النَّاس وعادتهم فالمجتهدان مصيبان مثل رجلَيْنِ قيل لكل وَاحِد مِنْهُمَا أعْط كل فَقير وجدته درهما من مَالِي قَالَ كَيفَ أعرف أَنه فَقير قيل إِذا اجتهدت فِي تتبع قَرَائِن الْفقر ثمَّ أَتَاك الثَّلج أَنه فَقير فأعطه فاختلفا فِي رجل قَالَ احدهما هُوَ فَقير وَقَالَ الآخر لَا والمأخذان متقاربان يسوغ الْأَخْذ بهما فهما مصيبان لِأَنَّهُ مَا أدَار الحكم إِلَّا على من يَقع فِي تحريه أَنه فَقير وَقد وَقع فِي تحريه ذَلِك من غير تَقْصِير ظَاهر بِخِلَاف مَا إِذا أعْطى تَاجِرًا كَبِيرا لَهُ خدم وحشم فَإِن الْقَائِل بفقره يعد مقصرا وَلَا يسوغ الْأَخْذ بِالشُّبْهَةِ الَّتِي ذهب إِلَيْهَا فههنا مقامان أَحدهمَا أَنه فَقير فِي الْحَقِيقَة أم لَا وَلَا شُبْهَة أَن الْحق فِيهِ وَاحِد وَأَن النقيضين لَا يَجْتَمِعَانِ وَالثَّانِي
আমাদের উদ্দেশ্যের স্বীকৃতি তার এই বক্তব্যে নিহিত যে, "ভুলকারী ব্যক্তি বাতিলকারী (مبطل) নয়।" আমরা বলি, যেহেতু সে বাতিলকারী নয়, সেহেতু সে সত্যের পরিপন্থীও নয়; কারণ সত্যের প্রতিটি পরিপন্থীই হলো বাতিলকারী। আর সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী-ই বা আছে? প্রকৃতপক্ষে সত্য হলো এই যে, চার ইমামের প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তা তাদের কিছু স্পষ্ট বক্তব্য থেকে আহরিত (مخرج) একটি মত মাত্র, এটি তাদের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি পাঠ (نص) নয়। মুজতাহিদগণ (مجتهد) যে বিষয়ে কোনো সরাসরি পাঠ (نص) অথবা ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে—যেমন সাত কেরাআত, দোয়ার শব্দাবলি এবং সাত, নয় ও এগারো রাকাত বিতর—সেসব ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণ সঠিক হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। তেমনিভাবে, যে বিষয়ে দলিলের নির্দেশনায় (دلالة) অবকাশ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করাও সমীচীন নয়।

প্রকৃত সত্য এই যে, মতভেদ চার প্রকার। প্রথম: যাতে সত্য অকাট্যভাবে (قطعًا) নির্ধারিত এবং এর বিপরীতটিকে রদ করা আবশ্যক; কেননা তা নিশ্চিতভাবেই অসার (باطل)। দ্বিতীয়: যাতে প্রবল ধারণার (غالب الرأي) ভিত্তিতে সত্য নির্ধারিত হয় এবং এর বিপরীতটি ধারণাগতভাবে অসার (باطل ظنًا)। তৃতীয়: যাতে মতভেদের উভয় পক্ষই অকাট্যভাবে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত। চতুর্থ: যাতে মতভেদের উভয় পক্ষই প্রবল ধারণার ভিত্তিতে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত।

এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: বিষয়টি যদি এমন হয় যেখানে বিচারকের রায় রদ করা যায়—যেমন সে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো সুপরিচিত বিশুদ্ধ (صحيح) পাঠ (نص) বিদ্যমান থাকে—তবে তার বিপরীত প্রতিটি গবেষণা (اجتهاد) অসার (باطل)। হ্যাঁ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঠ (نص) তার কাছে পৌঁছানো এবং দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত হয়তো অজ্ঞতার কারণে তাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে। আর যদি গবেষণা (اجتهاد) এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে হয় যা সংঘটিত হয়েছে কিন্তু বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে—যেমন জায়েদের মৃত্যু বা জীবন—তবে নিশ্চিতভাবেই সত্য একটিই। হ্যাঁ, ভুলকারীকে তার গবেষণার (اجتهاد) কারণে হয়তো ক্ষমা করা যেতে পারে। আর যদি গবেষণা (اجتهاد) এমন কোনো বিষয়ে হয় যা মুজতাহিদের (مجتهد) অনুসন্ধানের (تحري) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং উভয় উৎসের ভিত্তি পরস্পরের কাছাকাছি হয় এবং কোনোটিই বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায় থেকে এত অবাস্তব নয় যে তার প্রবক্তাকে ত্রুটিপূর্ণ অথবা মানুষের রীতি ও অভ্যাসের বহির্ভূত মনে করা হবে, তবে এক্ষেত্রে উভয় মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক (مصيب)। যেমন দুজন ব্যক্তি, যাদের প্রত্যেককে বলা হলো: "আমার সম্পদ থেকে তোমার পাওয়া প্রতিটি দরিদ্রকে এক দিরহাম করে দাও।" সে প্রশ্ন করল: "আমি কীভাবে চিনব যে সে দরিদ্র?" বলা হলো: "যখন তুমি দারিদ্র্যের লক্ষণসমূহ তালাশ করার জন্য গবেষণা (اجتهاد) করবে এবং তোমার হৃদয়ে এই স্থিরতা (ثلج) আসবে যে সে দরিদ্র, তখন তাকে দাও।" অতঃপর তারা এক ব্যক্তির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করল; একজন বলল সে দরিদ্র এবং অন্যজন বলল না। কিন্তু উভয় পক্ষের অনুসন্ধানের ভিত্তি কাছাকাছি ছিল যা গ্রহণ করা সম্ভব। এমতাবস্থায় তারা উভয়েই সঠিক (مصيب); কারণ বিধানটি কেবল তার ওপরই আবর্তিত হয়েছে যার অনুসন্ধানে (تحري) সে দরিদ্র বলে সাব্যস্ত হবে। আর সে কোনো প্রকাশ্য ত্রুটি ছাড়াই তার অনুসন্ধানে (تحري) তাকে দরিদ্র হিসেবে পেয়েছে। পক্ষান্তরে বিষয়টি এমন নয় যে যদি সে কোনো বড় ব্যবসায়ীকে দান করে যার দাস-দাসী ও চাকর-বাকর রয়েছে; এক্ষেত্রে তাকে দরিদ্র বলা ব্যক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হবে এবং সে যে সংশয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। এখানে দুটি প্রেক্ষিত রয়েছে: একটি হলো বাস্তবে সে দরিদ্র কি না, আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এখানে সত্য একটিই এবং দুটি বিপরীত বিষয় একত্রিত হতে পারে না। দ্বিতীয়টি হলো...
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৮)
أَن من أعْطى غير الْفَقِير على ظن فقره هَل هُوَ مُطِيع أم لَا وَلَا شُبْهَة أَنه مُطِيع نعم من وَافق ظَنّه الْحَقِيقَة قد نَالَ حظا وافرا وَإِن كَانَ الإجتهاد فِي اخْتِيَار مَا خير فِيهِ كأحرف الْقُرْآن وصيغ الْأَدْعِيَة وَكَذَا مَا فعله النَّبِي صلى الله عليه وسلم على وُجُوه تسهيلا على النَّاس مَعَ كَونهَا كلهَا حاوية لأصل الْمصلحَة فالمجتهدان مصيبان فَهَذَا كُله بَين لَا يَنْبَغِي لأحد أَن يتَوَقَّف فِيهِ ومواضع الِاخْتِلَاف بَين الْفُقَهَاء معظمها أُمُور أَحدهَا أَن يكون وَاحِد قد بلغه الحَدِيث وَالْآخر لم يبلغهُ والمصيب هَهُنَا معِين وَالثَّانِي أَن يكون عِنْد كل وَاحِد أَحَادِيث وآثار متخالفة وَقد اجْتهد فِي تطبيق بَعْضهَا بِبَعْض أَو تَرْجِيح بَعْضهَا على بعض فَأدى اجْتِهَاده إِلَى حكم فجَاء الإختلاف من هَذَا الْقَبِيل وَالثَّالِث أَن يَخْتَلِفُوا فِي تَفْسِير الْأَلْفَاظ المستعملة وحدودها الجامعة الْمَانِعَة أَو معرفَة أَرْكَان الشَّيْء وشروطه من قبيل السبر والحذف وَتَخْرِيج المناط وَصدق مَا وصف وَصفا عَاما على هَذِه الصُّورَة الْخَاصَّة أَو انطباق الْكُلية على جزئياتها وَنَحْو ذَلِك فَأدى اجْتِهَاد كل وَاحِد إِلَى مَذْهَب وَالرَّابِع أَن يَخْتَلِفُوا فِي الْمسَائِل الْأُصُولِيَّة وَيتَفَرَّع عَلَيْهِ الإختلاف فِي الْفُرُوع والمجتهدان فِي هَذِه الْأَقْسَام مصيبان إِذا كَانَ مأخذاهما متقاربين بِالْمَعْنَى الَّذِي ذكرنَا

وَالْحق أَن الْمسَائِل الْمَذْكُورَة فِي كتب أصُول الْفِقْه على قسمَيْنِ قسم هُوَ من بَاب تتبع لُغَة الْعَرَب كالخاص وَالْعَام وَالنَّص وَالظَّاهِر وَمثله كَمثل قَول اللّغَوِيّ هَذَا علم وَذَلِكَ اسْم جنس وَالْفَاعِل مَرْفُوع وَالْمَفْعُول مَنْصُوب وَلَيْسَ فِي هَذَا الْقسم كثير اخْتِلَاف وَقسم هُوَ من بَاب تقريب الذِّهْن إِلَى مَا يَفْعَله الْعَاقِل بسليقته تَفْصِيله أَنَّك إِذا ألقيت إِلَى عَاقل كتابا عتيقا قد تغير بعض حُرُوفه وأمرته بقرَاءَته لَا بُد إِذا اشْتبهَ عَلَيْهِ شَيْء يتتبع الْقَرَائِن ويتحرى الصَّوَاب وَرُبمَا يخْتَلف عاقلان فِي مثل ذَلِك وَإِذا عَن للعاقل طَرِيقَانِ كَيفَ يتتبع الدَّلَائِل ويتفحص عَن الْمصَالح ويختار الْأَرْجَح والأقل شرا فَكَذَلِك الْأَوَائِل لما ورد عَلَيْهِم أَحَادِيث مُخْتَلفَة أجالوا قداح نظرهم فِي ذَلِك فأفضى اجتهادهم إِلَى الحكم على بَعْضهَا بالنسخ وتطبيق بَعْضهَا بِبَعْض وترجيح بَعْضهَا على بعض وَكَذَلِكَ لما ورد عَلَيْهِم مسَائِل لم يكن السّلف تكلمُوا فِيهَا أخذُوا النظير بالنظير
নিশ্চয় যে ব্যক্তি কাউকে দরিদ্র মনে করে কোনো দান করল অথচ সে দরিদ্র নয়, সে আনুগত্যকারী কি না—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে সে একজন আনুগত্যকারী। হ্যাঁ, যার ধারণা বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে সে তো বড় ধরনের অংশ লাভ করেছে। আর যদি ইজতিহাদ (اجتهاد) এমন বিষয়ের নির্বাচনে হয় যেক্ষেত্রে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—যেমন কুরআনের বিভিন্ন পঠনশৈলী বা আহরুফ (أحرف) এবং দুআর শব্দাবলি, কিংবা নবী (সা.) মানুষের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে যা বিভিন্ন পদ্ধতিতে করেছেন অথচ সেগুলোর সবই মূল জনকল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে—তবে এক্ষেত্রে উভয় মুজতাহিদই সঠিক। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, যা নিয়ে কারো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। ফকীহগণের মধ্যকার মতপার্থক্যের অধিকাংশ কারণ মূলত কয়েকটি বিষয়। প্রথমটি হলো, একজনের কাছে হাদিস পৌঁছেছে কিন্তু অন্যজনের কাছে তা পৌঁছেনি; এক্ষেত্রে যে সঠিক মত পোষণ করেছে সে সুনির্দিষ্ট। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন হাদিস ও আছার (آثار) বিদ্যমান থাকা এবং তারা সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির সমন্বয় (تطبيق) সাধনে অথবা একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন। ফলে তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) ভিন্ন ভিন্ন হুকুমের দিকে নিয়ে গেছে এবং এভাবেই মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয়ত, ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর সুসংজ্ঞায়িত সীমানা নিয়ে মতপার্থক্য হওয়া; অথবা কোনো বিষয়ের রুকন ও শর্তাবলি নির্ধারণে সাবর ও হাযফ (السبر والحذف) এবং তাখরিজুল মানাত (تخريج المناط)-এর মতো পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া; অথবা কোনো সাধারণ বর্ণনাকে বিশেষ কোনো সুরতের ওপর প্রয়োগ করা কিংবা কোনো সামগ্রিক বিষয়ের আংশিক বিষয়ের ওপর প্রয়োগ ঘটা ইত্যাদি। ফলে প্রত্যেকের ইজতিহাদ (اجتهاد) ভিন্ন ভিন্ন মাজহাবের জন্ম দিয়েছে। চতুর্থত, উসূলি মাসআলাসমূহে মতপার্থক্য হওয়া এবং তার ওপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখাগত মাসআলাসমূহে মতপার্থক্য তৈরি হওয়া। এই বিভাগগুলোতে উভয় মুজতাহিদই সঠিক পথপ্রাপ্ত যদি তাদের দালিলিক ভিত্তি আমরা ইতিপূর্বে যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছি তার কাছাকাছি হয়।

প্রকৃত সত্য এই যে, উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহে বর্ণিত মাসআলাসমূহ দুই প্রকার। এক প্রকার হলো যা আরবি ভাষা অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: খাস (خاص), আম (عام), নস (نص) এবং স্পষ্ট (ظاهر)। এর উদাহরণ হলো ভাষাবিদদের এই কথা বলা যে, এটি নামবাচক বিশেষ্য (علم), এটি জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس), ফায়েল বা কর্তা পেশযুক্ত (مرفوع) এবং মাফুল বা কর্ম জবরযুক্ত (منصوب) হয়। এই প্রকারের মাসআলাসমূহে খুব একটা মতপার্থক্য নেই। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো কোনো বিবেকবান ব্যক্তি তার সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা যা করে, সেদিকে মানুষের মেধাকে ধাবিত করা। এর বিস্তারিত বিবরণ হলো, আপনি যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি দেন যার কিছু অক্ষর পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং তাকে তা পড়তে বলেন, তবে কোনো বিষয় অস্পষ্ট হলে সে অবশ্যই বিভিন্ন আলামত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرائن) অনুসন্ধান করবে এবং সঠিক বিষয়টি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করবে। এমতাবস্থায় দুইজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মধ্যে এই ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির সামনে দুটি পথ উন্মোচিত হয়, তখন সে যেভাবে প্রমাণাদি অন্বেষণ করে, কল্যাণসমূহ যাচাই করে এবং অধিকতর অগ্রগণ্য ও কম ক্ষতিকর বিষয়টি বেছে নেয়; তেমনিভাবে পূর্ববর্তী মনীষীদের কাছে যখন বিভিন্ন ধরনের হাদিস পৌঁছেছে, তখন তারা সেগুলোর ওপর গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করেছেন। ফলে তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) কোনোটিকে রহিতকরণ (نسخ) সাব্যস্ত করা, কোনোটির সাথে অন্যটির সমন্বয় (تطبيق) করা এবং একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেছে। একইভাবে যখন তাদের সামনে এমন মাসআলা উপস্থিত হয়েছে যা নিয়ে পূর্বসূরিগণ (سلف) আলোচনা করেননি, তখন তারা সদৃশ বিষয়কে সদৃশ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সমাধান প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৯)
واستنبطوا الْعِلَل وَبِالْجُمْلَةِ فَكَانَت لَهُم صنائع انْدَفَعُوا إِلَيْهَا بسليقتهم المخلوقة فيهم كَمَا ينْدَفع الْعَاقِل فِي أَمر يعن لَهُ فَأَرَادَ قوم أَن يسردوا صنائعهم الَّتِي ذكروها مفصلة فِي كتبهمْ أَو أشاروا إِلَيْهَا فِي ضمن كَلَامهم أَو خرجت من مسائلهم وَإِن لم يذكروها وتلقت عقول الْخلف أَكثر صنائعهم بِالْقبُولِ لما جبلوا عَلَيْهِ من السليقة فِي مثل ذَلِك ثمَّ صَارَت أمورا مسلمة فِيمَا بَينهم وعَلى قِيَاس ذَلِك لما أفرغوا جهدهمْ فِي رِوَايَة الحَدِيث وَمَعْرِفَة الصَّحِيح من السقيم والمستفيض من الْغَرِيب وَمَعْرِفَة أَحْوَال الروَاة جرحا وتعديلا وَكِتَابَة كتب الحَدِيث وتصحيحها جروا فِي تِلْكَ الميادين بسليقتهم المخلوقة فِي عُقُولهمْ ثمَّ جَاءَ قوم آخَرُونَ وَجعلُوا صنائعهم تِلْكَ كليات مدونة وَهَاهُنَا فَائِدَة جليلة هِيَ أَن من شَرط الْعَمَل بِمثل هَذِه الْمُقدمَات الْكُلية أَن لَا تكون الصُّورَة الْجُزْئِيَّة الَّتِي يَقع فِيهَا الْكَلَام مِمَّا سبق للعقلاء فِيهَا ضد حكم الكليات لِأَنَّهُ كثيرا مَا يكون هُنَاكَ قَرَائِن خَاصَّة تفِيد غير حكم الكليات وأصل الجدل هُوَ اتِّبَاع الكليات وَإِثْبَات حكم قد قضى الْعقل الصراح بِخِلَافِهِ لخُصُوص الْمقَام كَمَا إِذا رَأَيْت حجرا وأيقنت أَنه حجر فجَاء الجدلي فَقَالَ الشَّيْء إِنَّمَا يعرف باللون والشكل وَنَحْوهمَا وَهَذِه الصُّورَة قد تشابه الْأَشْيَاء فِيهَا فنقض ذَلِك الْيَقِين بِأَمْر كلي وَلَا يعلم الْمِسْكِين أَن الْيَقِين الْحَاصِل فِي هَذِه الصُّورَة الْخَاصَّة أكبر من اتِّبَاع الكليات فإياك أَن تغرك أَقْوَالهم عَن صَرِيح السّنة وَالِاخْتِلَاف فِي هَذَا الْقسم رَاجع إِلَى التَّحَرِّي وَسُكُون الْقلب وَبِالْجُمْلَةِ الإختلاف فِي أَكثر أصُول الْفِقْه رَاجع إِلَى التَّحَرِّي واطمئنان الْقلب بمشاهدة الْقَرَائِن وَقد أَشَارَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى أَن التَّكْلِيف رَاجع إِلَى مَا يُؤَدِّي إِلَيْهِ التَّحَرِّي فِي مَوَاضِع من كَلَامه مِنْهَا قَوْله صلى الله عليه وسلم فطركم يَوْم تفطرون وأضحاكم يَوْم تضحون قَالَ الْخطابِيّ معنى الحَدِيث أَن الْخَطَأ مَوْضُوع عَن النَّاس فِيمَا كَانَ سَبيله الإجتهاد فَلَو أَن قوما اجتهدوا فَلم يرَوا الْهلَال إِلَّا بعد ثَلَاثِينَ فَلم يفطروا حَتَّى استوفوا الْعدَد ثمَّ ثَبت عِنْدهم أَن الشَّهْر كَانَ تسعا وَعشْرين فَإِن صومهم وفطرهم مَاض وَلَا شَيْء عَلَيْهِم من وزر أَو عتب وَكَذَلِكَ فِي الْحَج إِذا أخطأوا يَوْم عَرَفَة فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِم إِعَادَته ويجزئهم أضحاهم ذَلِك وَإِنَّمَا هَذَا تَخْفيف من الله سُبْحَانَهُ ورفق بعباده وَمِنْهَا قَوْله الْحَاكِم إِذا اجْتهد فَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَإِذا اجْتهد فَأَخْطَأَ فَلهُ أجر وكل

তারা হাদিসের নিগূঢ় দোষ-ত্রুটি (العلل) উদ্ভাবন করেছেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাদের এমন কিছু শিল্প-পদ্ধতি ছিল যেগুলোতে তারা তাদের সৃষ্টিগত সহজাত মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ধাবিত হয়েছিলেন; ঠিক যেভাবে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সামনে উপস্থিত হওয়া কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অগ্রসর হন। পরবর্তীতে একদল লোক তাদের সেই সকল শিল্প-পদ্ধতিগুলো ধারাবাহিকভাবে সংকলন করতে চাইলেন, যা তারা তাদের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন অথবা তাদের বক্তব্যের মাঝে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কিংবা তাদের মাসআলাসমূহ থেকে যেগুলো উদ্ভূত হয়েছিল, যদিও তারা সরাসরি সেগুলো উল্লেখ করেননি। পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের মেধা তাদের অধিকাংশ পদ্ধতিকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছে, কারণ তাদের মাঝেও অনুরূপ সহজাত প্রজ্ঞা বিদ্যমান ছিল। অতঃপর এগুলো তাদের মাঝে সর্বসম্মত বিষয়ে পরিণত হয়।

অনুরূপভাবে, যখন তারা হাদিস বর্ণনা করা, বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিস থেকে ত্রুটিযুক্ত (السقيم) হাদিসকে পৃথক করা, সুপ্রসিদ্ধ (المستفيض) ও একক বর্ণনাকারী সম্বলিত (الغريب) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে সমালোচনা (جرحا) ও প্রশংসা (تعديلا) করা এবং হাদিসের কিতাবসমূহ লিখন ও সেগুলোর শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে নিজেদের পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন, তখন তারা সেই ময়দানগুলোতে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সহজাত প্রজ্ঞা অনুযায়ীই অগ্রসর হয়েছিলেন। অতঃপর অন্য একদল লোক আসলেন এবং তাদের সেই শিল্প-পদ্ধতিগুলোকে বিধিবদ্ধ মূলনীতি (كليات) হিসেবে সংকলন করলেন।

এখানে একটি মহান শিক্ষা রয়েছে: এই জাতীয় সামগ্রিক মূলনীতি (كليات) অনুযায়ী আমল করার শর্ত হলো, আলোচিত বিশেষ ক্ষেত্রটি যেন এমন না হয় যেখানে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিকট মূলনীতির বিধানের বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। কারণ অনেক সময় সেখানে এমন কিছু বিশেষ আলামত থাকে যা সাধারণ মূলনীতির বিধানের বাইরে অন্য কোনো ফল প্রদান করে। আর বিতর্কের মূল ভিত্তি হলো মূলনীতির অন্ধ অনুসরণ করা এবং এমন কোনো বিধান সাব্যস্ত করা, যেখানে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সুস্থ বিবেক তার বিপরীত ফয়সালা দেয়। যেমন—আপনি একটি পাথর দেখলেন এবং নিশ্চিত হলেন যে এটি পাথর। কিন্তু একজন তার্কিক এসে বলল, ‘কোনো বস্তু তো চেনা যায় তার রং, আকৃতি ও এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে, আর এই বিশেষ রূপটি অন্য অনেক বস্তুর সাথেও সদৃশ হতে পারে।’ এভাবে সে একটি সাধারণ মূলনীতির মাধ্যমে আপনার সেই নিশ্চিত বিশ্বাসকে খণ্ডন করে দিল। অথচ সেই বেচারা জানে না যে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে অর্জিত নিশ্চিত জ্ঞান সাধারণ মূলনীতি (كليات) অনুসরণের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

অতএব সাবধান! তাদের এই ধরণের কথাবার্তা যেন আপনাকে সুস্পষ্ট সুন্নাহ (السنة) থেকে বিচ্যুত না করে। এই পর্যায়ের মতভেদ মূলত তথ্যানুসন্ধান এবং হৃদয়ের প্রশান্তির ওপর নির্ভরশীল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফিকহশাস্ত্রের অধিকাংশ মূলনীতি (أصول الفقه) সংক্রান্ত মতভেদ আলামত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধান ও হৃদয়ের প্রশান্তির দিকেই ফিরে যায়। নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর বিভিন্ন স্থানে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শরিয়তের বিধানের দায়বদ্ধতা মূলত তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। যেমন তাঁর বাণী: ‘তোমাদের রোজা খোলার দিন হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সকলে রোজা শেষ করো (ঈদুল ফিতর উদযাপন করো), আর তোমাদের কুরবানির দিন হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সকলে কুরবানি করো।’

ইমাম খাত্তাবি বলেন, এই হাদিসের অর্থ হলো—গবেষণা (الاجتهاد) সাপেক্ষ বিষয়গুলোতে মানুষের ভুল ক্ষমাযোগ্য। যদি কোনো সম্প্রদায় গবেষণা (اجتهد) করার পর ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে চাঁদ দেখতে না পায় এবং তারা দিন সংখ্যা পূর্ণ করে রোজা ভাঙে, আর পরবর্তীতে তাদের নিকট প্রমাণিত হয় যে মাসটি আসলে উনত্রিশ দিনের ছিল, তবে তাদের সেই রোজা রাখা ও রোজা ভাঙা (ঈদ করা) বৈধ বলেই গণ্য হবে এবং এতে তাদের কোনো পাপ বা তিরস্কার নেই। অনুরূপভাবে হজের ক্ষেত্রেও যদি তারা আরাফার দিনের তারিখ নির্ধারণে ভুল করে, তবে তাদের ওপর হজ পুনরায় করা আবশ্যক নয় এবং তাদের সেই কুরবানি যথেষ্ট হবে। এটি মূলত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ সহজীকরণ ও দয়া। তাঁর আরও একটি বাণী হলো: ‘বিচারক যখন গবেষণা (اجتهد) করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তিনি দুটি সওয়াব পান; আর যখন তিনি গবেষণা (اجتهد) করে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি একটি সওয়াব পান।’

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১০)
من استقرى نُصُوص الشَّارِع وفتاواه يحصل عِنْده قَاعِدَة كُلية وَهِي أَن الشَّارِع قد ضبط أَنْوَاع الْبر من الْوضُوء وَالْغسْل وَالصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالصَّوْم وَالْحج وَغَيرهَا مِمَّا إجمعت الْملَل عَلَيْهِ بأنحاء الضَّبْط فشرع لَهَا أركانا وشروطا وآدابا وَوضع لَهَا مكروهات ومفسدات وجوائز وَأَشْبع القَوْل فِي هَذَا حق الإشباع ثمَّ لم يبْحَث عَن تِلْكَ الْأَركان وَغَيرهَا بحدود جَامِعَة مَانِعَة كثير بحث وَكلما سُئِلَ عَن أَحْكَام جزئية تتَعَلَّق بِتِلْكَ الْأَركان والشروط وَغَيرهَا أحالها على مَا يفهمون فِي نُفُوسهم من الْأَلْفَاظ المستعلمة وأرشدهم إِلَى رد الجزئيات نَحْو الكليات وَلم يزدْ على ذَلِك اللَّهُمَّ إِلَّا فِي مسَائِل قَليلَة لأسباب طارئة من لجاج الْقَوْم وَنَحْوه فشرع غسل الْأَعْضَاء الْأَرْبَعَة فِي الْوضُوء ثمَّ لم يحد الْغسْل بِحَدّ جَامع مَانع يعرف بِهِ أَن الدَّلْك دَاخل فِي حَقِيقَته أم لَا وَأَن إسالة المَاء دَاخِلَة فِيهَا أم لَا وَلم يقسم المَاء إِلَى مُطلق ومقيد وَلم يبين أَحْكَام الْبِئْر والغدير وَنَحْوهمَا وَهَذِه الْمسَائِل كلهَا كَثِيرَة الْوُقُوع لَا يتَصَوَّر عدم وُقُوعهَا فِي زَمَانه صلى الله عليه وسلم وَلما سَأَلَهُ السَّائِل فِي قصَّة بِئْر بضَاعَة وَحَدِيث الْقلَّتَيْنِ لم يزدْ على الرَّد إِلَى مَا يفهمونه من اللَّفْظ ويعتادونه فِيمَا بَينهم وَلِهَذَا الْمَعْنى قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ مَا وجدنَا فِي أَمر المَاء إِلَّا سَعَة وَلما سَأَلته امْرَأَة عَن الثَّوْب يُصِيبهُ دم الْحَيْضَة لم يزدْ على أَن قَالَ حتيه ثمَّ اقرصيه ثمَّ انضحيه ثمَّ صلي فِيهِ فَلم يَأْتِ بِأَكْثَرَ مِمَّا عِنْدهم وَأمر بإستقبال الْقبْلَة وَلم يعلمنَا طَرِيق معرفَة الْقبْلَة وَقد كَانَت الصَّحَابَة يسافرون ويجتهدون فِي أَمر الْقبْلَة وَكَانَت لَهُم حَاجَة شَدِيد إِلَى معرفَة طَرِيق الإجتهاد فَهَذَا كُله لتفويضه مثل ذَلِك إِلَى رَأْيهمْ وَهَكَذَا أَكثر فَتَاوَاهُ صلى الله عليه وسلم كَمَا لَا يخفى على منصف لَبِيب

وَقد فهمنا من تتبع أَحْكَامه أَنه رَاعى فِي ترك التعمق وَعدم الْإِكْثَار من وُجُوه الضَّبْط مصلحَة عَظِيمَة وَهِي أَن هَذِه الْمسَائِل ترجع إِلَى حقائق تسْتَعْمل فِي الْعرف على إجمالها وَلَا يعرف حَدهَا الْجَامِع الْمَانِع إِلَّا بعسر وَرُبمَا يحْتَاج عِنْد إِقَامَة الْحَد إِلَى التَّمْيِيز بَين المشكلين بِأَحْكَام وضوابط يحرجون بإقامتها ثمَّ إِن ضبطت وفسرت لَا يُمكن تَفْسِيرهَا إِلَّا بحقائق مثلهَا وهلم جرا فيتسلسل الْأَمر أَو يقف فِي بعض مَا هُنَالك إِلَى التَّفْوِيض إِلَى رَأْي الْمُبْتَلى بِهِ والحقائق الْأُخْرَى لَيست بِأَحَق من الأولى فِي التَّفْوِيض إِلَى المبتلين فلأجل هَذِه الْمصلحَة فوض الْحَقَائِق أول مرّة

যে ব্যক্তি শরীয়ত প্রবর্তকের (শরীয়ত প্রবর্তক) ভাষ্যসমূহ এবং তাঁর ফতোয়াগুলো সবিস্তারে অনুসন্ধান করবে, তার নিকট একটি সার্বিক মূলনীতি স্পষ্ট হবে। আর তা হলো, শরীয়ত প্রবর্তক ওজু, গোসল, নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য ইবাদত—যা সমস্ত ধর্মাদর্শের ঐকমত্যের অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোকে বিভিন্ন প্রকারের বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে সুসংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি এগুলোর জন্য রুকন, শর্ত ও আদবসমূহ নির্ধারিত করেছেন এবং এগুলোর জন্য মাকরূহ, ফাসিদকারী ও বৈধ বিষয়সমূহ স্থির করেছেন; আর এ বিষয়ে অত্যন্ত পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেই রুকন ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো 'জামে ও মানে' (ব্যাপক ও ব্যতিরেকী) সংজ্ঞার পেছনে খুব বেশি চুলচেরা বিশ্লেষণ করেননি। যখনই তাঁকে সেই রুকন ও শর্তাদি সংক্রান্ত কোনো আংশিক বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তিনি সেগুলোকে প্রচলিত শব্দের মাধ্যমে মানুষ মনে মনে যা বোঝে, সেদিকেই সোপর্দ করেছেন। তিনি তাদেরকে আংশিক বিষয়গুলোকে মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। তবে মানুষের হঠকারিতা বা অনর্থক তর্কের মতো কিছু আকস্মিক কারণে সামান্য কিছু বিষয়ে এর ব্যতিক্রম হয়েছে। যেমন, তিনি ওজুর ক্ষেত্রে চারটি অঙ্গ ধৌত করার বিধান দিয়েছেন, কিন্তু 'ধৌত করার' এমন কোনো 'জামে ও মানে' সংজ্ঞা প্রদান করেননি যার মাধ্যমে জানা যেত যে, হাত দিয়ে ঘষা এর হাকীকতের অন্তর্ভুক্ত কি না, কিংবা পানি প্রবাহিত করা এর অন্তর্ভুক্ত কি না। তিনি পানিকে সাধারণ (মুতলাক) ও বিশেষ (মুকাইয়াদ) ভাগে বিভক্ত করেননি এবং কূপ বা পুকুর ইত্যাদির বিধানও পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেননি। অথচ এই সমস্ত বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত সংঘটিত হওয়ার মতো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে না ঘটা অসম্ভব ছিল। যখন বি'রে বুদাআহ এবং দুই কুল্লা সংক্রান্ত হাদিস এর ঘটনায় জনৈক প্রশ্নকারী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন তিনি শব্দের মাধ্যমে তারা যা বোঝে এবং নিজেদের মধ্যে যাতে তারা অভ্যস্ত, সেদিকে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করেননি। এই মর্মেই সুফিয়ান সাওরি বলেছিলেন, "পানির বিষয়ে আমরা প্রশস্ততা ছাড়া আর কিছুই পাইনি।" যখন এক মহিলা নবীজিকে ঋতুকালীন রক্ত মাখা পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি কেবল বলেছিলেন: "রক্তটুকু খুঁটে ফেলো, তারপর আঙ্গুল দিয়ে রগড়াও, তারপর পানি ছিটিয়ে দাও এবং তা পরে নামাজ পড়ো।" তিনি তাদের নিকট পরিচিত পদ্ধতির অতিরিক্ত কিছু বলেননি। তিনি কিবলার দিকে মুখ করার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু কিবলা নির্ণয়ের পদ্ধতি শিখিয়ে দেননি। অথচ সাহাবায়ে কেরাম সফর করতেন এবং কিবলার ব্যাপারে ইজতিহাদ করতেন; ইজতিহাদ করার পদ্ধতি জানার তাদের তীব্র প্রয়োজন ছিল। এই সবকিছুর কারণ হলো, তিনি এই জাতীয় বিষয়গুলোকে তাদের বিচার-বুদ্ধির ওপর সোপর্দ করেছিলেন। একজন ন্যায়পরায়ণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এটা স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ ফতোয়া এমনই ছিল।

তাঁর বিধানসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, গভীরে প্রবেশ না করা এবং সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে অতি কড়াকড়ি পরিহার করার মাঝে এক মহান কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর তা হলো, এই বিষয়গুলো এমন কিছু বাস্তবতার দিকে ফিরে যায় যা লোকব্যবহারে বা প্রথাগত ব্যবহারে সামগ্রিকভাবে ব্যবহৃত হয়; এর 'জামে ও মানে' (ব্যাপক ও ব্যতিরেকী) সংজ্ঞা নির্ধারণ করা অত্যন্ত দুরুহ। সম্ভবত সংজ্ঞা নির্ধারণের সময় জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এমন কিছু বিধান ও নিয়মের প্রয়োজন হতো যা পালন করা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত। তদুপরি, যদি সেগুলোকে সুসংজ্ঞায়িত ও ব্যাখ্যা করা হতো, তবে অনুরূপ কিছু বাস্তবতার মাধ্যমেই সেগুলোর ব্যাখ্যা করতে হতো এবং এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকত। ফলে এটি একটি অন্তহীন চক্রের রূপ নিত অথবা কোনো পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিচার-বুদ্ধির ওপর সোপর্দ করতে হতো। অথচ পরবর্তী বাস্তবতাগুলো সোপর্দ করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীগুলোর চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নয়। সুতরাং এই কল্যাণের বিবেচনাতেই তিনি হাকীকত বা মূল বিষয়গুলোকে শুরুতেই সংশ্লিষ্টদের বিচার-বুদ্ধির ওপর সোপর্দ করেছেন।

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১১)
إِلَى رَأْيهمْ وَلم يشدد قيمًا يَخْتَلِفُونَ حِين كَانَ الإختلاف فِي أَمر فوض إِلَيْهِم وَله فِي ذَلِك مساغ فَلم يعنف على عَمْرو بن الْعَاصِ فِيمَا فهم من قَوْله تَعَالَى {وَلَا تلقوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَة} من جَوَاز التَّيَمُّم للْجنب إِذا خَافَ على نَفسه من الْبرد وَلم يعنف على عمر بن الْخطاب فِيمَا فهم من تَأْوِيل {أَو لامستم النِّسَاء} أَنه فِي لمس الْمَرْأَة لَا الْجَنَابَة فَبَقيت مَسْأَلَة الْجنب غير مَذْكُورَة فَيَنْبَغِي أَن لَا يتَيَمَّم الْجنب أصلا أخرج النَّسَائِيّ عَن طَارق أَن رجلا أجنب فَلم يصل فَأتى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكر ذَلِك لَهُ فَقَالَ أصبت فأجنب رجل فَتَيَمم وَصلى فَأَتَاهُ فَقَالَ نَحْو مَا قَالَ للْآخر أصبت انْتهى وَلم يعنف على أحد مِمَّن أخر صَلَاة الْعَصْر أَو أَدَّاهَا فِي وَقتهَا حِين كَانُوا جَمِيعًا على تَأْوِيل من قَوْله لَا تصلوا الْعَصْر إِلَّا فِي بني قُرَيْظَة وَبِالْجُمْلَةِ فَمن أحَاط بجوانب الْكَلَام علم أَنه صلى الله عليه وسلم فوض الْأَمر فِي تِلْكَ الْحَقَائِق المستعملة فِي الْعرف على إجمالها وَكَذَا فِي تطبيق بَعْضهَا بِبَعْض إِلَى إفهامهم وَنَظِيره تَفْوِيض الْفُقَهَاء كثيرا من الْأَحْكَام إِلَى تحري الْمُبْتَلى وعادته فَلَا عنف على اُحْدُ من الْمُخْتَلِفين عِنْدهم وَنَظِيره أَيْضا مَا أَجمعت عَلَيْهِ الْأمة من الإجتهاد فِي الْقبْلَة عِنْد الْغَيْم وَترك العنف على وَاحِد فِيمَا أدّى تحريه إِلَيْهِ

وَنَظِير هَذِه الْمصلحَة مَا ذكره أهل المناظرة من الإصطلاح على ترك الْبَحْث عَن مُقَدمَات الدَّلَائِل لِئَلَّا يلْزم انتشار الْبَحْث فَمن عرف هَذِه الْمَسْأَلَة كَمَا هِيَ علم أَن أَكثر صور الِاجْتِهَاد يكون الْحق فِيهَا دائرا فِي جَانِبي الإختلاف وَأَن فِي الْأَمر سَعَة وَأَن اليبس على شَيْء وَاحِد والجزم بِنَفْي الْمُخَالف لَيْسَ بِشَيْء وَأَن استنباط حُدُودهَا إِن كَانَ من بَاب تقريب الذَّهَب إِلَى مَا يفهمهُ كل أحد من أهل اللِّسَان فإعانة على الْعلم وَإِن كَانَ بَعيدا من الأذهان وتميزا للمشكل بمقدمات مخترعة فَعَسَى أَن يكون شرعا جَدِيدا وَأَن الصَّحِيح مَا قَالَه الإِمَام عزالدين بن عبد السلام وَلَقَد أَفْلح من قَامَ بِمَا أَجمعُوا على وُجُوبه واجتنب مَا أَجمعُوا على تَحْرِيمه واستباح مَا أَجمعُوا على إِبَاحَته وَفعل مَا أَجمعُوا على اسْتِحْبَابه واجتنب مَا أَجمعُوا على كَرَاهَته وَمن أَخذ بِمَا اخْتلفُوا فِيهِ فَلهُ حالان إِحْدَاهمَا أَن يكون الْمُخْتَلف فِيهِ مِمَّا ينْقض الحكم بِهِ فَهَذَا لَا سَبِيل إِلَى التَّقْلِيد فِيهِ لِأَنَّهُ خطأ مَحْض وَمَا حكم فِيهِ بِالنَّقْضِ إِلَّا لكَونه خطأ بَعيدا من نفس

তাদের মতামতের প্রতি (ছেড়ে দিয়েছিলেন) এবং তিনি কোনো তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কঠোরতা আরোপ করেননি যখন তারা এমন বিষয়ে মতভেদ করতেন যা তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল এবং তাতে অবকাশ ছিল। তিনি আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ওপর কঠোরতা করেননি আল্লাহ তাআলার বাণী— {তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না} থেকে তিনি যা বুঝেছিলেন সে ব্যাপারে; অর্থাৎ যখন তিনি নিজের ওপর শীতের আশঙ্কা করেছিলেন তখন অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে। আর তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ওপর কঠোরতা করেননি— {অথবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করেছ} আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি যা বুঝেছিলেন সে ব্যাপারে; যে এটি কেবল নারীদের স্পর্শ করা বুঝায়, জুনুব অবস্থা নয়। ফলে জুনুব ব্যক্তির (তায়াম্মুমের) বিষয়টি অনুল্লিখিত থেকে গিয়েছিল, তাই জুনুব ব্যক্তির মোটেও তায়াম্মুম করা উচিত নয়। নাসায়ি তারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি জুনুব অবস্থায় ছিল এবং সালাত আদায় করেনি। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তুমি সঠিক করেছ।" এরপর আরেকজন ব্যক্তি জুনুব হলো এবং তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল। সেও তাঁর কাছে এলে তিনি আগের ব্যক্তির মতো বললেন: "তুমি সঠিক করেছ" — সমাপ্ত। আর তিনি সেই ব্যক্তিদের কারো ওপর কঠোরতা করেননি যারা আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করেছিল অথবা যারা তা সময়মতো আদায় করেছিল, যখন তারা সবাই তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যায় ভিন্নমত পোষণ করেছিল যে: "বনু কুরাইজাতে না পৌঁছে কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে।" সংক্ষেপে বলতে গেলে, যে ব্যক্তি আলোচনার সকল দিক পরিবেষ্টন করবে, সে জানবে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচলিত প্রথার ওপর ভিত্তি করে সেই বাস্তব বিষয়গুলোর প্রয়োগ এবং সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টি তাদের বুঝের ওপর অর্পণ করেছিলেন। এর উদাহরণ হলো ফকীহগণ অনেক বিধানকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুসন্ধান ও অভ্যাসের ওপর অর্পণ করেন, ফলে তাদের নিকট মতভেদকারীদের কারো ওপর কঠোরতা করা হয় না। এর অনুরূপ হলো কুয়াশার সময় কিবলা নির্ধারণের ব্যাপারে গবেষণা (اجتهاد) করার ওপর উম্মতের ঐকমত্য এবং যার ব্যক্তিগত অনুসন্ধান যেখানে পৌঁছেছে সেই অনুযায়ী আমল করার কারণে কারো ওপর কঠোরতা না করা।

এই হিতকর বিষয়ের অনুরূপ হলো বিতর্কবিদগণ দলিলের প্রাথমিক বিষয়গুলোর (ভূমিকা) চুলচেরা বিশ্লেষণ ত্যাগ করার যে পরিভাষা স্থির করেছেন যাতে বিতর্কের ব্যাপ্তি না ঘটে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়টি যথাযথভাবে জানবে, সে বুঝতে পারবে যে গবেষণা (اجتهاد)-এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যটি মতভেদের উভয় দিকেই আবর্তিত হয় এবং এ বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে। কোনো একটি বিষয়ের ওপর অনড় থাকা এবং ভিন্নমতের অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে অস্বীকার করা কোনো সঠিক পদ্ধতি নয়। আর এর সীমারেখা নির্ধারণের বিষয়টি যদি সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে হয়, তবে তা ইলমের ক্ষেত্রে একটি সহায়তা। কিন্তু যদি তা সাধারণ মানুষের মেধা থেকে দূরে হয় এবং কোনো উদ্ভাবিত ভূমিকার মাধ্যমে জটিলতাকে আলাদা করার চেষ্টা হয়, তবে সম্ভবত তা নতুন শরিয়ত প্রবর্তনের নামান্তর। আর সঠিক (صحيح) হলো ইমাম ইযযুদ্দিন ইবন আবদুস সালাম যা বলেছেন: "সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে ঐকমত্যপূর্ণ ওয়াজিবসমূহ পালন করে, ঐকমত্যপূর্ণ হারামসমূহ বর্জন করে, ঐকমত্যপূর্ণ বৈধ বিষয়গুলোকে গ্রহণ করে, ঐকমত্যপূর্ণ মুস্তাহাবসমূহ সম্পাদন করে এবং ঐকমত্যপূর্ণ মাকরূহসমূহ বর্জন করে। আর যে ব্যক্তি মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্য থেকে কোনোটি গ্রহণ করে, তার দুটি অবস্থা থাকে: প্রথমটি হলো মতভেদটি এমন পর্যায়ের যাতে হুকুম বাতিল হয়ে যায়, এমতাবস্থায় অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর কোনো পথ নেই, কারণ এটি সুস্পষ্ট ভুল। আর কোনো হুকুম কেবল তখনই বাতিলের যোগ্য হয় যখন তা মূল বিষয়টি থেকে দূরে ও সুস্পষ্ট ভুল হিসেবে গণ্য হয়।"

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১২)
الشَّرْع ومأخذه ورعاية حكمه الثَّانِيَة أَن يكون مِمَّا لَا ينْقض الحكم بِهِ فَلَا بَأْس بِفِعْلِهِ وَلَا بِتَرْكِهِ إِذا قلد فِيهِ بعض الْعلمَاء لِأَن النَّاس لم يزَالُوا على ذَلِك يسْأَلُون من اتّفق من الْعلمَاء من غير تَقْيِيد بِمذهب وَلَا إِنْكَار على أحد من السَّائِلين إِلَى ان ظَهرت هَذِه الْمذَاهب ومتعصوبها من المقلدين فَإِن أحدهم يتبع إِمَامه مَعَ بعد مذْهبه عَن الْأَدِلَّة مُقَلدًا لَهَا فِيمَا قَالَ فَكَأَنَّهُ نَبِي أرسل إِلَيْهِ وَهَذَا نأي عَن الْحق وَبعد عَن الصَّوَاب لَا يرضى بِهِ أحد من أولي الْأَلْبَاب انْتهى وَقَالَ من قلد إِمَامًا من الْأَئِمَّة ثمَّ أَرَادَ تَقْلِيد غَيره فَهَل لَهُ ذَلِك فِيهِ خلاف وَالْمُخْتَار التَّفْصِيل فَإِن كَانَ الْمَذْهَب الَّذِي أَرَادَ الِانْتِقَال إِلَيْهِ مِمَّا ينْقض فِيهِ الحكم فَلَيْسَ لَهُ الِانْتِقَال إِلَى حكم يجب نقضه فَإِنَّهُ لم يجب نقضه إِلَّا لبطلانه وَإِن كَانَ المأخذان متقاربين جَازَ التَّقْلِيد والانتقال لِأَن النَّاس لم يزَالُوا من زمن الصَّحَابَة رضي الله عنهم إِلَى أَن ظَهرت الْمذَاهب الْأَرْبَعَة يقلدون من اتّفق من الْعلمَاء من غير نَكِير من أحد يعْتَبر إِنْكَاره وَلَو كَانَ ذَلِك بَاطِلا لأنكروه وَالله أعلم بِالصَّوَابِ انْتهى

وَإِذا تحقق عنْدك مَا بَيناهُ علمت أَن كل حكم يتَكَلَّم فِيهِ الْمُجْتَهد بإجتهاد مَنْسُوب إِلَى صَاحب الشَّرْع عَلَيْهِ الصَّلَاة والتسليمات إِمَّا إِلَى لَفظه أَو إِلَى عِلّة مَأْخُوذَة من لَفظه وَإِذا كَانَ الْأَمر على ذَلِك فَفِي كل اجْتِهَاد مقامان أَحدهمَا أَن صَاحب الشَّرْع هَل أَرَادَ بِكَلَامِهِ هَذَا الْمَعْنى أَو غَيره وَهل نصب هَذِه الْعلَّة مدارا فِي نَفسه حِين مَا تكلم بالحكم الْمَنْصُوص عَلَيْهِ أَو لَا فَإِن كَانَ التصويب بِالنّظرِ إِلَى هَذَا الْمقَام فأحد الْمُجْتَهدين لَا لعَينه مُصِيب دون الآخر وَثَانِيهمَا أَن من جملَة أَحْكَام الشَّرْع أَنه صلى الله عليه وسلم عهد إِلَى أمته صَرِيحًا أَو دلَالَة أَنه مَتى اخْتلف عَلَيْهِم نصوصه أَو اخْتلف عَلَيْهِم مَعَاني نَص من نصوصه فهم مأمورون بالإجتهاد واستفراغ الطَّاقَة فِي معرفَة مَا هُوَ الْحق من ذَلِك فَإِذا تعين عِنْد مُجْتَهد شَيْء من ذَلِك وَجب عَلَيْهِ اتِّبَاعه كَمَا عهد إِلَيْهِم أَنه مَتى اشْتبهَ عَلَيْهِم الْقبْلَة فِي اللَّيْلَة الظلماء يجب عَلَيْهِم أَن يتحروا ويصلوا إِلَى جِهَة وَقع تحريهم عَلَيْهَا فَهَذَا حكم علقه الشَّرْع بِوُجُود التَّحَرِّي كَمَا علق وجوب الصَّلَاة بِالْوَقْتِ وكما علق تَكْلِيف الصَّبِي بِبُلُوغِهِ فَإِن كَانَ الْبَحْث بِالنّظرِ إِلَى هَذَا الْمقَام نظر فَإِن كَانَت الْمَسْأَلَة مِمَّا ينْقض فِيهِ اجْتِهَاد الْمُجْتَهد فإجتهاده بَاطِل قطعا وَإِن كَانَ فِيهَا حَدِيث صَحِيح وَقد حكم بِخِلَافِهِ فإجتهاده بَاطِل ظنا
শরীয়ত, এর উৎস এবং এর বিধানের রক্ষণাবেক্ষণ। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো—যা দ্বারা কোনো ফয়সালা রদ করা হয় না, তা করা বা বর্জন করাতে কোনো দোষ নেই যখন এক্ষেত্রে কোনো আলেমকে অনুসরণ (تقليد) করা হয়। কারণ মানুষ সর্বদা এভাবেই ছিল যে, তারা নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের (مذهب) বাধ্যবাধকতা বা কোনো প্রশ্নকারীর প্রতি অস্বীকৃতি জানানো ছাড়াই যে কোনো আলেমের নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করত। অবশেষে এই মাযহাবগুলো এবং এর অন্ধ অনুসারীদের (المقلدين) গোঁড়ামির উদ্ভব ঘটে। তাদের কেউ তার ইমামের অনুসরণ করে অথচ তার মাযহাবটি দলীল-প্রমাণের (الأدلة) থেকে অনেক দূরে থাকে; তিনি যা বলেছেন তাতেই সে তার অনুসরণ (تقليد) করে, যেন তিনি তার প্রতি প্রেরিত কোনো নবী। এটি সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং সঠিক পথ থেকে দূরত্ব, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই পছন্দ করবেন না—সমাপ্ত। তিনি আরও বলেন: কেউ যদি কোনো ইমামের অনুসরণ (تقليد) করে এবং পরবর্তীতে অন্য কারো অনুসরণ (تقليد) করতে চায়, তবে তার জন্য কি তা বৈধ? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ: যদি সে এমন মাযহাবে (مذهب) স্থানান্তরিত হতে চায় যেখানে ফয়সালা রদ হয়ে যায়, তবে তার জন্য এমন হুকুমে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ নয় যা রদ করা ওয়াজিব। কারণ কোনো বিষয় বাতিল (باطل) হওয়া ছাড়া তা রদ করা ওয়াজিব হয় না। আর যদি উভয় পক্ষের দলীলের উৎস কাছাকাছি হয়, তবে অনুসরণ (تقليد) এবং স্থানান্তর জায়েজ। কারণ সাহাবী (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের যুগ থেকে শুরু করে চার মাযহাবের উদ্ভব পর্যন্ত মানুষ কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই যে কোনো আলেমের অনুসরণ (تقليد) করত। আর যদি তা বাতিল (باطل) হতো, তবে তারা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করতেন। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত—সমাপ্ত।

আপনি যদি আমাদের বর্ণিত বিষয়টি উপলব্ধি করেন, তবে জানতে পারবেন যে, মুজতাহিদ (المجتهد) যখন কোনো হুকুম নিয়ে কথা বলেন, তখন তার সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) শরীয়তদাতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত থাকে; হয় তাঁর শব্দের প্রতি, অথবা তাঁর শব্দ থেকে গৃহীত কোনো কারণের (علة) প্রতি। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন প্রতিটি ইজতিহাদের (اجتهاد) দুটি পর্যায় থাকে। প্রথমত: শরীয়তদাতা কি তাঁর বাণীর মাধ্যমে এই অর্থটিই উদ্দেশ্য করেছেন নাকি অন্য কিছু? এবং তিনি যখন কোনো নস (نص) বা টেক্সটের মাধ্যমে বিধানটি দিয়েছেন, তখন কি তিনি এই কারণটিকে (علة) এর মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন কি না? যদি এই পর্যায়ের নিরিখে সঠিকতা বিচার করা হয়, তবে মুজতাহিদদের (المجتهدين) মধ্যে কেবল একজনই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, অন্যজন নয়। দ্বিতীয়ত: শরীয়তের বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন তাঁর বর্ণিত নসসমূহ বা তার অর্থসমূহের মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা দেবে, তখন তারা সত্য উদঘাটনে সামর্থ্য অনুযায়ী ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে আদিষ্ট। সুতরাং কোনো মুজতাহিদের (المجতেদ) নিকট যখন কোনো বিষয় নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হবে, তখন তার অনুসরণ করা তাঁর ওপর ওয়াজিব হবে। যেমনটি তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অন্ধকার রাতে যখন কিবলা (القبلة) নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, তখন তাদের ওপর ওয়াজিব হলো অনুসন্ধান করা এবং তাদের অনুসন্ধানে যে দিকটি সাব্যস্ত হয় সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করা। এটি এমন এক হুকুম যা শরীয়ত অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল করেছে, যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়াকে সময়ের সাথে এবং শিশুর ওপর বিধান প্রযোজ্য হওয়াকে তার সাবালকত্বের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যদি এই পর্যায়ের নিরিখে আলোচনা করা হয় তবে দেখা যাবে, যদি মাসআলাটি এমন হয় যাতে মুজতাহিদের (المجتهد) ইজতিহাদ (اجتهاد) বাতিল হয়ে যায়, তবে তার সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) নিশ্চিতভাবেই বাতিল (باطل)। আর যদি তাতে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান থাকে এবং তিনি তার বিপরীতে ফয়সালা দেন, তবে প্রবল ধারণা মতে তার সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) বাতিল (باطل)।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَإِن كَانَ المجتهدان جَمِيعًا قد سلكا مَا يَنْبَغِي لَهما أَن يسلكاه وَلم يخالفا حَدِيثا صَحِيحا وَلَا أمرا ينْقض اجْتِهَاد القَاضِي والمفتي فِي خِلَافه فهما جَمِيعًا على الْحق هَذَا وَالله أعلم صلى الله عليه وسلم َ - بَاب تَأْكِيد الْأَخْذ بِهَذِهِ الْمذَاهب الْأَرْبَعَة، التَّشْدِيد فِي تَركهَا وَالْخُرُوج عَنْهَا صلى الله عليه وسلم َ -

اعْلَم أَن فِي الْأَخْذ بِهَذِهِ الْمذَاهب الْأَرْبَعَة مصلحَة عَظِيمَة وَفِي الْإِعْرَاض عَنْهَا كلهَا مفْسدَة كَبِيرَة وَنحن نبين ذَلِك بِوُجُوه

أَحدهَا أَن الْأمة اجْتمعت على أَن يعتمدوا على السّلف فِي معرفَة الشَّرِيعَة فالتابعون اعتمدوا فِي ذَلِك على الصَّحَابَة وَتبع التَّابِعين اعتمدوا على التَّابِعين وَهَكَذَا فِي كل طبقَة اعْتمد الْعلمَاء على من قبلهم وَالْعقل يدل على حسن ذَلِك لِأَن الشَّرِيعَة لَا تعرف إِلَّا بِالنَّقْلِ والإستنباط وَالنَّقْل لَا يَسْتَقِيم إِلَّا بِأَن تَأْخُذ كل طبقَة عَمَّن قبلهَا بالإتصال وَلَا بُد فِي الإستنباط أَن تعرف مَذَاهِب الْمُتَقَدِّمين لِئَلَّا يخرج عَن أَقْوَالهم فيخرق الْإِجْمَاع وَيَبْنِي عَلَيْهَا ويستعين فِي ذَلِك كل بِمن سبقه لِأَن جَمِيع الصناعات كالصرف والنحو والطب وَالشعر والحدادة والنجارة والصياغة لم تتيسر لأحد إِلَّا بملازمة أَهلهَا وَغير ذَلِك نَادِر بعيد لم يَقع وَإِن كَانَ جَائِزا فِي الْعقل وَإِذا تعين الإعتماد على أقاويل السّلف فَلَا بُد من أَن تكون أَقْوَالهم الَّتِي يعْتَمد عَلَيْهَا مروية بِالْإِسْنَادِ الصَّحِيح أَو مدونة فِي كتب مَشْهُورَة وَأَن تكون مخدومة بِأَن يبين الرَّاجِح من محتملاتها ويخصص عمومها فِي بعض الْمَوَاضِع ويقيد مُطلقهَا فِي بعض الْمَوَاضِع وَيجمع الْمُخْتَلف مِنْهَا وَيبين علل أَحْكَامهَا وَإِلَّا لم يَصح الِاعْتِمَاد عَلَيْهَا وَلَيْسَ مَذْهَب فِي هَذِه الْأَزْمِنَة الْمُتَأَخِّرَة بِهَذِهِ الصّفة إِلَّا هَذِه الْمذَاهب الْأَرْبَعَة اللَّهُمَّ إِلَّا مَذْهَب الإمامية والزيدية وهم أهل الْبِدْعَة لَا يجوز الِاعْتِمَاد على أقاويلهم

وَثَانِيها قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اتبعُوا السوَاد الْأَعْظَم وَلما اندرست الْمذَاهب الحقة إِلَّا هَذِه الْأَرْبَعَة كَانَ اتباعها اتبَاعا للسواد الْأَعْظَم وَالْخُرُوج عَنْهَا خُرُوجًا عَن السوَاد الْأَعْظَم
যদি উভয় মুজতাহিদ (مجتهد) ই সেই পথ অবলম্বন করে থাকেন যা তাদের জন্য অবলম্বন করা উচিত ছিল এবং তারা কোনো সঠিক (صحيح) হাদিস কিংবা বিচারক (قاضي) ও মুফতির (مفتي) ইজতিহাদ (اجتهاد) ভঙ্গকারী কোনো বিষয়ের বিরোধিতা না করে থাকেন, তবে তারা উভয়ই সত্যের ওপর রয়েছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। - পরিচ্ছেদ: এই চার মাযহাব (مذاهب) গ্রহণ করার তাকিদ এবং তা বর্জন ও তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কঠোরতা প্রসঙ্গে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

জেনে রাখুন যে, এই চার মাযহাব (مذاهব) অনুসরণের মধ্যে মহান কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং এগুলোর সবকটি থেকে বিমুখ হওয়ার মধ্যে রয়েছে বড় ধরণের অনিষ্টতা। আমরা বিভিন্ন দিক থেকে তা বর্ণনা করছি।

প্রথমত, উম্মত এই বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে যে, শরীয়ত অনুধাবনের ক্ষেত্রে তারা পূর্বসূরিদের (سلف) ওপর নির্ভর করবে। ফলে তাবিঈনগণ (تابعين) এক্ষেত্রে সাহাবীগণের (صحابة) ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাবে-তাবিঈনগণ (تبع التابعين) তাবিঈনগণের (تابعين) ওপর নির্ভর করেছেন। এভাবেই প্রতিটি স্তর (طبقة)-এ আলেমগণ তাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর নির্ভর করেছেন। আর যুক্তিও এর যথার্থতা নির্দেশ করে; কারণ শরীয়ত কেবল বর্ণনা (نقل) এবং বিধান উদ্ভাবন (استنباط) ছাড়া জানা সম্ভব নয়। আর বর্ণনা (نقل) ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না প্রতিটি স্তর (طبقة) তার পূর্ববর্তী স্তর থেকে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال)-এর সাথে তা গ্রহণ করে। বিধান উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তীদের মাযহাব (مذاهب) জানা আবশ্যক, যাতে তাদের মতের বাইরে গিয়ে ঐক্যমত (إجماع) ভঙ্গ না হয়। বরং তাদের মতের ওপর ভিত্তি করেই অগ্রসর হতে হয় এবং এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই তার পূর্বসূরিদের সাহায্য গ্রহণ করে। কারণ সরফ (শব্দতত্ত্ব), নাহু (ব্যাকরণ), চিকিৎসাশাস্ত্র, কবিতা, কামারগিরি, ছুতারবিদ্যা ও স্বর্ণকারের কাজ—এই সব ধরণের শিল্পই সংশ্লিষ্ট ওস্তাদদের সান্নিধ্য ছাড়া কারো পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এর ব্যতিক্রম হওয়া অত্যন্ত বিরল ও অসম্ভবপ্রায়, যদিও যুক্তির দিক থেকে তা সম্ভব। যখন পূর্বসূরিদের মতামতের ওপর নির্ভর করা অবধারিত হলো, তখন এটিও আবশ্যক যে তাদের সেই মতগুলো সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হতে হবে অথবা প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। সেই সাথে সেগুলোর যথাযথ বিন্যাস ও ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন; যেমনটি সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে অগ্রাধিকারযোগ্য (راجح) মতটি স্পষ্ট করা, সাধারণ বিধানকে বিশেষিত করা, অনির্দিষ্ট বিধানকে সীমাবদ্ধ করা, বৈচিত্র্যময় মতগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং বিধানগুলোর কারণ বা ইলাল (علل) বর্ণনা করার মাধ্যমে হয়ে থাকে। অন্যথায় সেগুলোর ওপর নির্ভর করা শুদ্ধ হবে না। আর বর্তমানের এই শেষ জামানায় এই চার মাযহাব (مذاهب) ব্যতীত অন্য কোনো মাযহাব এই গুণের অধিকারী নয়। তবে ইমামিয়া ও যায়দিয়া মাযহাবের কথা ভিন্ন, কিন্তু তারা হলো বিদআতি (أهل البدعة) সম্প্রদায়, যাদের মতামতের ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়।

দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "তোমরা বিশাল জনগোষ্ঠী (السواد الأعظم)-এর অনুসরণ করো।" আর যখন এই চার মাযহাব ব্যতীত সত্য মাযহাবসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন এই চারটির অনুসরণ করাই মূলত বিশাল জনগোষ্ঠী (السواد الأعظم)-এর অনুসরণ হিসেবে গণ্য হবে, আর এগুলো থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই বিশাল জনগোষ্ঠী (السواد الأعظم) থেকে বিচ্যুত হওয়া।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَثَالِثهَا أَن الزَّمَان لما طَال وَبعد الْعَهْد وضيعت الْأَمَانَات لم يجز أَن يعْتَمد على أَقْوَال عُلَمَاء السوء من الْقُضَاة الجورة والمفتين التَّابِعين لأهوائهم حَتَّى ينسبوا مَا يَقُولُونَ إِلَى بعض من اشْتهر من السّلف بِالصّدقِ والديانة وَالْأَمَانَة إِمَّا صَرِيحًا أَو دلَالَة وَحفظ قَوْله ذَلِك وَلَا على قَول من لَا نَدْرِي هَل جمع شُرُوط الإجتهاد أَو لَا فَإِذا رَأينَا الْعلمَاء الْمُحَقِّقين فِي مَذَاهِب السّلف عَسى أَن يصدقُوا فِي تخريجاتهم على أَقْوَالهم واستنباطهم من الْكتاب وَالسّنة وَأما إِذا لم نر مِنْهُم ذَلِك فهيهات وَهَذَا الْمَعْنى الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه حَيْثُ قَالَ يهدم الْإِسْلَام جِدَال الْمُنَافِق بِالْكتاب وَابْن مَسْعُود حَيْثُ قَالَ من كَانَ مُتبعا فَليتبعْ من مضى فَمَا ذهب إِلَيْهِ ابْن حزم حَيْثُ قَالَ التَّقْلِيد حرَام وَلَا يحل لأحد أَن يَأْخُذ قَول أحد غير رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِلَا برهَان لقَوْله تَعَالَى {اتبعُوا مَا أنزل إِلَيْكُم من ربكُم وَلَا تتبعوا من دونه أَوْلِيَاء} وَقَوله تَعَالَى {وَإِذا قيل لَهُم اتبعُوا مَا أنزل الله قَالُوا بل نتبع مَا ألفينا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} وَقَالَ تَعَالَى مادحا لمن لم يُقَلّد {فبشر عباد الَّذين يَسْتَمِعُون القَوْل فيتبعون أحْسنه أُولَئِكَ الَّذين هدَاهُم الله وَأُولَئِكَ هم أولُوا الْأَلْبَاب} وَقَالَ تَعَالَى {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} فَلم يبح الله تَعَالَى الرَّد عِنْد التَّنَازُع إِلَى اُحْدُ دون الْقُرْآن وَالسّنة وَحرم بذلك الرَّد عِنْد التَّنَازُع إِلَى قَول قَائِل لِأَنَّهُ غير الْقُرْآن وَالسّنة وَقد صَحَّ إِجْمَاع الصَّحَابَة كلهم أَوَّلهمْ عَن آخِرهم وَإِجْمَاع التَّابِعين أَوَّلهمْ عَن آخِرهم وَإِجْمَاع تبع التَّابِعين أَوَّلهمْ عَن آخِرهم على الإمتناع وَالْمَنْع من أَن يقْصد أحد إِلَى قَول إِنْسَان مِنْهُم أَو مِمَّن قبلهم فَيَأْخذهُ كُله فَليعلم من أَخذ بِجَمِيعِ أَقْوَال أبي حنيفَة أَو جَمِيع أَقْوَال مَالك أَو جَمِيع أَقْوَال الشَّافِعِي أَو جَمِيع أَقْوَال أَحْمد رحمهم الله وَلَا يتْرك قَول من اتبع مِنْهُم أَو من غَيرهم إِلَى قَول غَيره وَلم يعْتَمد على مَا جَاءَ فِي الْقُرْآن وَالسّنة غير صَارف ذَلِك إِلَى قَول إِنْسَان بِعَيْنِه أَنه قد خَالف إِجْمَاع الْأمة كلهَا أَولهَا عَن آخرهَا بِيَقِين لَا إِشْكَال فِيهِ وَأَنه لَا يجد لنَفسِهِ سلفا وَلَا إِمَامًا فِي جَمِيع الْأَعْصَار المحمودة الثَّلَاثَة فقد اتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نَعُوذ بِاللَّه من هَذِه الْمنزلَة وَأَيْضًا فَإِن هَؤُلَاءِ الْفُقَهَاء كلهم قد نهوا عَن تقليدهم وتقليد غَيرهم فقد خالفهم من قلدهم وَأَيْضًا فَمَا الَّذِي جعل رجلا من هَؤُلَاءِ أَو من غَيرهم أولى بِأَن يُقَلّد من عمر بن الْخطاب

তৃতীয়ত, যখন সময়ের ব্যাপ্তি ঘটল, পূর্ববর্তী যুগের দূরত্ব তৈরি হলো এবং আমানতসমূহ বিনষ্ট হলো, তখন জালেম বিচারক এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসারী মুফতিদের মতো অসৎ আলেমদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়; যতক্ষণ না তারা যা বলে তা সালাফদের (السلف) মধ্যে সত্যবাদিতা, দ্বীনদারিতা এবং বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত কোনো ব্যক্তির দিকে স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতমূলকভাবে নিসবত করে এবং সেই বক্তব্য সংরক্ষিত থাকে। আর এমন ব্যক্তির বক্তব্যের ওপরও নির্ভর করা যাবে না যার মধ্যে ইজতিহাদের (اجتهاد) শর্তসমূহ পূর্ণ হয়েছে কি না তা আমরা জানি না। অতএব, আমরা যখন সালাফদের (السلف) মাযহাবসমূহে বিজ্ঞ ও গবেষক আলেমদের দেখি, তখন আশা করা যায় যে তারা তাদের বক্তব্যের তাখরিজ (تخريج) এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ইস্তিনবাত (استنباط) করার ক্ষেত্রে সত্যবাদী হবেন। কিন্তু যখন আমরা তাদের মধ্যে তা দেখি না, তখন তা অসম্ভব। আর এটিই সেই অর্থ যার দিকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়।" এবং ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা গত হয়েছেন।" ইবনে হাজম যা গ্রহণ করেছেন তা হলো, তিনি বলেছিলেন: "তাকলিদ (تقليد) হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যতীত অন্য কারও কথা কোনো প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা কারও জন্য বৈধ নয়।" মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করো, তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি}। আর যারা তাকলিদ (تقليد) করে না তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। তারাই তারা যাদের আল্লাহ হেদায়েত দিয়েছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান রাখো}। সুতরাং আল্লাহ তাআলা বিরোধের সময় কুরআন ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ করেননি এবং এর মাধ্যমে বিরোধের সময় কোনো প্রবক্তার কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করাকে হারাম করেছেন, কারণ তা কুরআন ও সুন্নাহ নয়। সমস্ত সাহাবী, সমস্ত তাবিঈ এবং সমস্ত তবে-তাবিঈর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলের ঐক্যমত (إجماع) বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের মধ্য থেকে বা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তির একটি উক্তি নির্দিষ্ট করে তা পুরোপুরি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা ও নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী কিংবা আহমদ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর সকল বক্তব্য গ্রহণ করে এবং যাদের সে অনুসরণ করে তাদের বা অন্যদের কোনো বক্তব্য ত্যাগ করে না এবং কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তার জেনে রাখা উচিত যে, সে নিশ্চিতভাবেই উম্মতের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলের ঐক্যমত (إجماع) লঙ্ঘন করেছে যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। সে প্রশংসিত তিন যুগের কোনো যুগেই নিজের জন্য কোনো সালাফ (سلف) বা ইমাম খুঁজে পাবে না; ফলে সে মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করল। আমরা এ অবস্থা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। অধিকন্তু, এই ফকিহদের সকলেই তাদের এবং অন্য কারও তাকলিদ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের তাকলিদ (تقليد) করল, সে তাদেরই বিরোধিতা করল। আর এদের মধ্যে বা অন্য কেউ কেন উমর ইবনুল খাত্তাবের চেয়ে তাকলিদ (تقليد) করার অধিক যোগ্য হবে?

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أَو عَليّ بن أبي طَالب أَو ابْن مَسْعُود أَو ابْن عمر أَو ابْن عَبَّاس رضي الله عنهم أَو عَائِشَة رضي الله عنها أم الْمُؤمنِينَ فَلَو سَاغَ التَّقْلِيد لَكَانَ كل وَاحِد من هَؤُلَاءِ أَحَق بِأَن يتبع من غَيره انْتهى إِنَّمَا يتم فِيمَن لَهُ ضرب من الِاجْتِهَاد وَلَو فِي مَسْأَلَة وَاحِدَة وفيمن ظهر عَلَيْهِ ظهورا بَينا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر بِكَذَا أَو نهى عَن كَذَا وَأَنه لَيْسَ بمنسوخ إِمَّا بِأَن يتتبع الْأَحَادِيث وأقوال الْمُخَالف والموافق فِي الْمَسْأَلَة فَلَا يجد لَهَا نسخا أَو بِأَن يرى جما غفيرا من المتبحرين فِي الْعلم يذهبون إِلَيْهِ وَيرى الْمُخَالف لَهُ لَا يحْتَج إِلَّا بِقِيَاس أَو استنباط أَو نَحْو ذَلِك فَحِينَئِذٍ لَا سَبَب لمُخَالفَة حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَّا نفاق خَفِي أَو حمق جلي وَهَذَا هُوَ الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الشَّيْخ عز الدّين بن عبد السَّلَام حَيْثُ قَالَ وَمن الْعجب العجيب أَن الْفُقَهَاء المقلدين يقف أحدهم على ضعف مَأْخَذ إِمَامه بِحَيْثُ لَا يجد لضَعْفه مدفعا وَهُوَ مَعَ ذَلِك يقلده فِيهِ وَيتْرك من شهد الْكتاب وَالسّنة والأقيسة الصَّحِيحَة لمذهبهم جمودا على تَقْلِيد إِمَامه بل يتحيل لدفع ظَاهر الْكتاب وَالسّنة ويتأولها بالتأويلات الْبَعِيدَة الْبَاطِلَة نضالا عَن مقلده وَقَالَ لم يزل النَّاس يسْأَلُون من اتّفق من الْعلمَاء من غير تَقْيِيد بِمذهب وَلَا إِنْكَار على أحد من السَّائِلين إِلَى أَن ظَهرت هَذِه الْمذَاهب ومتعصبوها من المقلدين فَإِن أحدهم يتبع إِمَامه مَعَ بعد مذْهبه عَن الْأَدِلَّة مُقَلدًا لَهُ فِيمَا قَالَ كَأَنَّهُ نَبِي أرسل وَهَذَا نأي عَن الْحق وَبعد عَن الصَّوَاب لَا يرضى بِهِ أحد من أولي الْأَلْبَاب وَقَالَ الإِمَام أَبُو شامة يَنْبَغِي لمن اشْتغل بالفقه أَن لَا يقْتَصر على مَذْهَب إِمَام ويعتقد فِي كل مَسْأَلَة صِحَة مَا كَانَ أقرب إِلَى دلَالَة الْكتاب وَالسّنة المحكمة وَذَلِكَ سهل عَلَيْهِ إِذا كَانَ أتقن مُعظم الْعُلُوم الْمُتَقَدّمَة وليجتنب التعصب وَالنَّظَر فِي طرائق الْخلاف فَإِنَّهَا مضيعة للزمان ولصفوه مكدرة فقد صَحَّ عَن الشَّافِعِي أَنه نهى عَن تَقْلِيده وَغَيره قَالَ صَاحبه الْمُزنِيّ فِي أول مُخْتَصره اختصرت هَذَا من علم الشَّافِعِي رحمه الله وَمن معنى قَوْله لأقربه على من أَرَادَ مَعَ إعلاميه نَهْيه عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره لينْظر فِيهِ لدينِهِ ويحتاط لنَفسِهِ أَي مَعَ إعلامي من أَرَادَ علم الشَّافِعِي نهى الشَّافِعِي عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره انْتهى وفيمن يكون عاميا ويقلد رجلا من

অথবা আলী ইবনে আবি তালিব, অথবা ইবনে মাসউদ, অথবা ইবনে উমর, অথবা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), অথবা মুমিনদের জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। যদি অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বৈধ হতো, তবে তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই অন্যের তুলনায় অনুসৃত হওয়ার অধিক যোগ্য হতেন। সমাপ্ত। এটি কেবল তার ক্ষেত্রেই পূর্ণতা পায় যার মধ্যে গবেষণার (اجتهاد) সামান্যতম যোগ্যতা রয়েছে, এমনকি যদি তা একটি মাত্র মাসআলার ক্ষেত্রেও হয়। আর যার নিকট এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুক বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন বা অমুক বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন এবং তা রহিত (منسوخ) নয়; হয় হাদিসসমূহ এবং উক্ত মাসআলায় বিপক্ষ ও স্বপক্ষীয়দের মতামত পর্যালোচনার মাধ্যমে যেখানে তিনি কোনো রহিতকরণ খুঁজে পাননি, অথবা তিনি একদল বিজ্ঞ আলেমকে সেই মতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে দেখছেন এবং লক্ষ্য করছেন যে, তার বিরোধীরা কেবল অনুমান (قياس) বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ (استنباط) বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমেই দলিল পেশ করছে। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের বিরুদ্ধাচরণ করার পেছনে প্রচ্ছন্ন মুনাফিকি অথবা স্পষ্ট মূর্খতা ছাড়া অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটিই সেই বিষয় যার প্রতি শাইখ ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) ফকিহদের মধ্যে কেউ কেউ যখন তার ইমামের মতের উৎসের দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে অবগত হন, এমনকি সেই দুর্বলতা খণ্ডনের কোনো পথ খুঁজে পান না, তবুও তিনি সেই বিষয়ে ইমামের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেন। অথচ তিনি সেই মতকে বর্জন করেন যার সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং সহিহ (صحيحة) অনুমানসমূহ সাক্ষ্য দিচ্ছে, কেবল স্বীয় ইমামের অন্ধ অনুসরণের (تقليد) ওপর অটল থাকার কারণে। বরং তিনি কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থকে প্রতিহত করার জন্য কূটকৌশল অবলম্বন করেন এবং স্বীয় ইমামের পক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে দূরবর্তী ও বাতিল ব্যাখ্যা (تأويلات) প্রদান করেন।" তিনি আরও বলেন: "মানুষ সব সময় আলেমদের নিকট থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতেন কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই এবং প্রশ্নকারীদের কাউকেই বাধা দেওয়া হতো না; যতক্ষণ না এই মাযহাবসমূহ এবং অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) গোঁড়া সমর্থকদের উদ্ভব ঘটে। নিশ্চয়ই তাদের কেউ কেউ তার ইমামের অনুসরণ করে যদিও সেই মাযহাব দলিল (أدلة) থেকে অনেক দূরে থাকে; তার প্রতিটি কথা এমনভাবে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে যেন তিনি একজন প্রেরিত নবী। এটি সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং সঠিক পথ থেকে দূরত্ব, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি পছন্দ করবেন না।" ইমাম আবু শামাহ বলেছেন: "ফিকহ চর্চাকারীদের উচিত নয় কোনো একজন ইমামের মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। বরং প্রতিটি মাসআলায় সেটিকেই সঠিক (صحة) বলে বিশ্বাস করা উচিত যা কুরআন এবং সুদৃঢ় সুন্নাহর দলিলের অধিক নিকটবর্তী। আর এটি তার জন্য সহজ হবে যদি সে পূর্বোক্ত অধিকাংশ বিদ্যায় পারদর্শী হয়। তাকে গোঁড়ামি পরিহার করতে হবে এবং মতভেদের পদ্ধতিসমূহ পর্যালোচনায় লিপ্ত হওয়া বর্জন করতে হবে, কারণ এটি সময়ের অপচয় এবং অন্তরের নির্মলতাকে ঘোলাটে করে দেয়।" ইমাম শাফিঈ থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তার এবং অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন। তার সহচর আল-মুযানী তার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ (মুখতাসার)-এর শুরুতে বলেন: "আমি এটি ইমাম শাফিঈর ইলম এবং তার বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে সংক্ষেপ করেছি যেন ইচ্ছুকদের জন্য তা সহজবোধ্য হয়। সেই সাথে আমি তাকে এটিও জানিয়ে দিয়েছি যে, তিনি (শাফিঈ) নিজের এবং অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন, যাতে সে নিজের দ্বীনের বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে এবং নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।" অর্থাৎ, ইমাম শাফিঈর ইলম অন্বেষণকারীর অবগতির জন্য বলছি যে, তিনি নিজের এবং অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন। সমাপ্ত। আর যারা সাধারণ মানুষ (عامي) এবং কোনো এক ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে...

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْفُقَهَاء بِعَيْنِه يرى أَنه يمْتَنع من مثله الْخَطَأ وَأَن مَا قَالَه هُوَ الصَّوَاب الْبَتَّةَ وأضمر فِي قلبه أَن لَا يتْرك تَقْلِيده وَإِن ظهر الدَّلِيل على خِلَافه وَذَلِكَ مَا رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن عدي بن حَاتِم أَنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقْرَأ {اتَّخذُوا أَحْبَارهم وَرُهْبَانهمْ أَرْبَابًا من دون الله} قَالَ إِنَّهُم لم يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكنهُمْ كَانُوا إِذا أحلُّوا لَهُم شَيْئا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذا حرمُوا عَلَيْهِم شَيْئا حرمُوهُ وفيمن لَا يجوز أَن يستفتي الْحَنَفِيّ مثلا فَقِيها شافعيا وَبِالْعَكْسِ وَلَا يجوز أَن يَقْتَدِي الْحَنَفِيّ بِإِمَام شَافِعِيّ مثلا فَإِن هَذَا قد خَالف إِجْمَاع الْقُرُون الأولى وناقض الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَلَيْسَ مَحَله فِيمَن لَا يدين إِلَّا بقول النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا يعْتَقد حَلَالا إِلَّا مَا أحله الله وَرَسُوله وَلَا حَرَامًا إِلَّا مَا حرمه الله وَرَسُوله لَكِن لما لم يكن لَهُ علم بِمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا بطرِيق الْجمع بَين المختلفات من كَلَامه وَلَا بطرِيق الإستنباط من كَلَامه اتبع عَالما راشدا على أَنه مُصِيب فِيمَا يَقُول ويفتي ظَاهرا مُتبع سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن ظهر خلاف مَا يَظُنّهُ أقلع من سَاعَته من غير جِدَال وَلَا إِصْرَار فَهَذَا كَيفَ يُنكره أحد مَعَ أَن الإستفتاء لم يزل بَين الْمُسلمين من عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا فرق بَين أَن يستفتي هَذَا دَائِما أَو يستفتي هَذَا حينا بعد أَن يكون مجمعا على مَا ذَكرْنَاهُ كَيفَ لَا وَلم نؤمن بفقيه أيا كَانَ أَنه أوحى الله إِلَيْهِ الْفِقْه وَفرض علينا طَاعَته وَأَنه مَعْصُوم فَإِن اقتدينا بِوَاحِد مِنْهُم فَذَلِك لعلمنا أَنه عَالم بِكِتَاب الله وَسنة رَسُوله فَلَا يَخْلُو قَوْله إِمَّا أَن يكون من صَرِيح الْكتاب وَالسّنة أَو مستنبطا مِنْهُمَا بِنَحْوِ من الإستنباط أَو عرف بالقرائن أَن الحكم فِي صُورَة مَا مَنُوط بعلة كَذَا وَاطْمَأَنَّ قلبه بِتِلْكَ الْمعرفَة فقاس غير الْمَنْصُوص على الْمَنْصُوص فَكَأَنَّهُ يَقُول ظَنَنْت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ كلما وجدت هَذِه الْعلَّة فَالْحكم ثمَّة هَكَذَا والمقيس مندرج فِي هَذَا الْعُمُوم فَهَذَا أَيْضا معزو إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَكِن فِي طَرِيقه ظنون وَلَوْلَا ذَلِك لما قلد مُؤمن لمجتهد فَإِن بلغنَا حَدِيث من الرَّسُول الْمَعْصُوم الَّذِي فرض الله علينا طَاعَته بِسَنَد صَالح يدل على خلاف مذْهبه وَتَركنَا حَدِيثه وَاتَّبَعنَا ذَلِك التخمين فَمن أظلم منا وَمَا عذرنا يَوْم يقوم النَّاس لرب الْعَالمين

কোনো নির্দিষ্ট ফকিহ সম্পর্কে কেউ যখন মনে করে যে, তার পক্ষে ভুল করা অসম্ভব এবং তিনি যা বলেছেন তা-ই চূড়ান্ত সত্য, আর সে মনে মনে সংকল্প করে যে, তার বিপরীত কোনো দলিল (دليل) প্রকাশ পেলেও সে তার অনুসরণ (تقليد) বর্জন করবে না—এটিই সেই বিষয় যা তিরমিজি আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াত পাঠ করতে শুনেছি, {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও দরবেশদের রবরূপে গ্রহণ করেছে}। তিনি বললেন: তারা যে সরাসরি তাদের ইবাদত করত তা নয়, বরং তারা যখন তাদের জন্য কোনো কিছুকে বৈধ (حلال) করে দিত তখন তারা সেটাকে বৈধ মনে করত এবং যখন কোনো কিছুকে অবৈধ (حرام) করে দিত তখন তারা সেটাকে অবৈধ মনে করত। আর যারা মনে করে যে, উদাহরণস্বরূপ কোনো হানাফি ব্যক্তির জন্য শাফেয়ী ফকিহর কাছে ফতোয়া (استفتاء) চাওয়া জায়েজ নয় এবং এর বিপরীতটাও জায়েজ নয়; অথবা কোনো হানাফি ব্যক্তির জন্য শাফেয়ী ইমামের পেছনে ইকতিদা করা জায়েজ নয়, তবে সে প্রথম যুগের ঐকমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করল এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের (التابعين) পদ্ধতির পরিপন্থী কাজ করল। তবে এই বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ছাড়া অন্য কিছুকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বৈধ (حلال) করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুকে বৈধ মনে করে না, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা অবৈধ (حرام) করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুকে অবৈধ মনে করে না। কিন্তু যেহেতু তার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর জ্ঞান নেই, এবং তাঁর বাণীর বিভিন্ন ভিন্নতার মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করার পদ্ধতি বা তাঁর বাণী থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের (استنباط) নিয়ম জানা নেই, তাই সে একজন সঠিক পথপ্রাপ্ত আলেমকে অনুসরণ করে এই ভিত্তিতে যে, তিনি বাহ্যিকভাবে যা বলছেন ও ফতোয়া দিচ্ছেন তাতে সত্যের ওপর আছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসারী। অতঃপর যদি সে যা ধারণা করেছিল তার বিপরীতে কোনো সত্য প্রকাশ পায়, তবে সে কোনো বিতর্ক বা গোঁড়ামি ছাড়াই তৎক্ষণাৎ তা থেকে ফিরে আসে। এটি এমন এক বিষয় যা কেউ কীভাবে অস্বীকার করতে পারে? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই মুসলমানদের মধ্যে ফতোয়া চাওয়ার (استفتاء) ধারা প্রচলিত ছিল। একজন আলেমকে সবসময় জিজ্ঞাসা করা হোক বা মাঝেমধ্যে একেকজনকে জিজ্ঞাসা করা হোক—এতে কোনো পার্থক্য নেই, যদি তা আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। কেনই বা হবে না, আমরা তো এমন বিশ্বাস করি না যে কোনো ফকিহ—তিনি যেই হোন না কেন—তার কাছে আল্লাহ ফিকহ ওহী করেছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন এবং তিনি নিষ্পাপ (معصوم)। আমরা যদি তাঁদের কাউকে অনুসরণ করি, তবে তা এ কারণে করি যে আমরা জানি তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ। সুতরাং তাঁর কথা হয় কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট বয়ান থেকে হবে, অথবা তা থেকে কোনো প্রকারের উদ্ভাবন (استنباط) হবে, অথবা বিভিন্ন আলামত দ্বারা তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বিধান কোনো একটি কারণের (علة) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সেই জ্ঞানের দ্বারা তার অন্তর প্রশান্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি শরয়ি নস বা সুস্পষ্ট বিধান (منصوص) দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যা নসে নেই (غير منصوص) সেটিকে কিয়াস (قيাস) করেছেন। যেন তিনি বলছেন: আমি ধারণা করি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখনই এই কারণটি (علة) পাওয়া যাবে তখনই সেখানে এমন বিধান হবে, আর কিয়াসকৃত বিষয়টি এই সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত, কিন্তু এর পদ্ধতিতে কিছু অনুমান বা জল্পনা রয়েছে। আর এমনটি না হলে কোনো মুমিন কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) অনুসরণ (تقليد) করত না। সুতরাং যদি আমাদের কাছে সেই নিষ্পাপ (معصوم) রাসূলের পক্ষ থেকে—যার আনুগত্য করা আল্লাহ আমাদের ওপর ফরজ করেছেন—এমন কোনো হাদিস পৌঁছায় যার সনদ নির্ভরযোগ্য (سند صالح) এবং যা তার মাযহাবের (مذهب) বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, আর আমরা যদি সেই হাদিস ছেড়ে দিয়ে কেবল সেই অনুমানের অনুসরণ করি, তবে আমাদের চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে? এবং যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে সেদিন আমাদের ওজর কী হবে?

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب اخْتِلَاف النَّاس فِي الْأَخْذ بِهَذِهِ الْمذَاهب الْأَرْبَعَة وَمَا يجب عَلَيْهِم من ذَلِك صلى الله عليه وسلم َ -

اعْلَم أَن النَّاس فِي الْأَخْذ بِهَذِهِ الْمذَاهب على أَرْبَعَة منَازِل وَلكُل قوم حد لَا يجوز أَن يتعدوه أَحدهَا مرتبَة الْمُجْتَهد الْمُطلق المنتسب إِلَى صَاحب مَذْهَب من تِلْكَ الْمذَاهب ثَانِيهمَا مرتبَة الْمخْرج وَهُوَ الْمُجْتَهد فِي الْمَذْهَب وَثَالِثهَا مرتبَة المتبحر فِي الْمَذْهَب الَّذِي حفظ الْمَذْهَب وأتقنه وَهُوَ يُفْتِي بِمَا أتقن وَحفظ من مَذْهَب أَصْحَابه وَرَابِعهَا الْمُقَلّد الصّرْف الَّذِي يستفتي عُلَمَاء الْمذَاهب وَيعْمل على فتواهم وَكتب الْقَوْم مشحونة بِشُرُوط كل منزل وَأَحْكَامه إِلَّا أَن من لَا يُمَيّز بَين الْمنَازل فيتخبط فِي تِلْكَ الْأَحْكَام ويظنها متناقضة فأردنا أَن نجْعَل لكل منزل فصلا ونشير إِلَى أَحْكَام كل منزل على حِدة

‌‌فصل فِي الْمُجْتَهد الْمُطلق المنتسب

 

وَقد قدمنَا شَرطه فَلَا نعيده وَحَاصِل كل ذَلِك أَنه جَامع بَين علم الحَدِيث وَالْفِقْه الْمَرْوِيّ عَن أَصْحَابه وأصول الْفِقْه كَحال كبار الْعلمَاء من الشَّافِعِيَّة وهم وَإِن كَانُوا كثيرين فِي أنفسهم لكِنهمْ أقلون بِالنّظرِ إِلَى الْمنَازل الْأُخْرَى وَحَاصِل صنيعهم على مَا استقرينا من كَلَامهم أَن تعرض الْمسَائِل المنقولة عَن مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأبي حنيفَة وَالثَّوْري وَغَيرهم رضي الله عنهم من الْمُجْتَهدين المقبولة مذاهبهم وفتاواهم على موطأ مَالك والصحيحين ثمَّ على أَحَادِيث التِّرْمِذِيّ وَأبي دَاوُد فَأَي الْمَسْأَلَة وافقتها السّنة نصا أَو إِشَارَة أخذُوا بهَا وعولوا عَلَيْهَا وَأي مَسْأَلَة خالفتها السّنة مُخَالفَة صَرِيحَة ردوهَا وَتركُوا الْعَمَل بهَا وَأي مَسْأَلَة اخْتلفت فِيهَا الْأَحَادِيث والْآثَار اجتهدوا فِي تطبيق بَعْضهَا بِبَعْض إِمَّا بِجعْل الْمُفَسّر قَاضِيا على الْمُبْهم وتنزيل كل حَدِيث على صُورَة أَو غير ذَلِك فَإِن كَانَت من بَاب السّنَن والآداب فَالْكل سنة وَإِن كَانَت من بَاب الْحَلَال وَالْحرَام أَو من بَاب الْقَضَاء وَاخْتلف فِيهَا الصَّحَابَة والتابعون والمجتهدون جعلوها على قَوْلَيْنِ أَو على أَقْوَال وَلم ينكروا على أحد فِيمَا أَخذ مِنْهَا وَرَأَوا فِي الْأَمر سَعَة إِذا كَانَ يشْهد الحَدِيث والْآثَار لكل جَانب ثمَّ استفرغوا جهدهمْ فِي معرفَة الأولى والأرجح إِمَّا بِقُوَّة الرِّوَايَة أَو بِعَمَل أَكثر الصَّحَابَة أَو كَونه مَذْهَب جُمْهُور الْمُجْتَهدين أَو مُوَافقا للْقِيَاس كفئا
- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এই চারটি মাযহাব গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের মতপার্থক্য এবং এই বিষয়ে তাদের উপর যা আবশ্যক সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -

জেনে রাখুন যে, এই মাযহাবগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ চারটি স্তরে বিভক্ত এবং প্রতিটি দলের জন্য একটি সীমা রয়েছে যা অতিক্রম করা তাদের জন্য বৈধ নয়। প্রথমটি হলো সংশ্লিষ্ট মুজতাহিদে মুতলাক (المجتهد المطلق) এর স্তর, যিনি এই মাযহাবগুলোর কোনো একটির ইমামের সাথে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়টি হলো 'মুখাররিজ' (المخرج) এর স্তর, আর তিনি হলেন মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মুজতাহিদ (المجتهد في المذهب)। তৃতীয়টি হলো মাযহাবের গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি (المتبحر في المذهب), যিনি মাযহাবকে আয়ত্ত ও মুখস্থ করেছেন; তিনি তাঁর ইমামদের মাযহাব থেকে যা আয়ত্ত ও মুখস্থ করেছেন সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন। চতুর্থটি হলো নিছক মুকাল্লিদ (المقلد الصرف), যিনি মাযহাবের আলেমদের কাছে ফতোয়া চান এবং তাঁদের ফতোয়া অনুযায়ী আমল করেন। প্রতিটি স্তরের শর্তাবলি ও বিধানসমূহ আলেমদের কিতাবসমূহে ভরপুর রয়েছে। তবে যারা এই স্তরগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তারা এই বিধানগুলোর ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়ে এবং সেগুলোকে পরস্পরবিরোধী মনে করে। তাই আমরা প্রতিটি স্তরের জন্য একটি করে অনুচ্ছেদ তৈরি করার এবং প্রত্যেক স্তরের বিধানগুলো পৃথকভাবে নির্দেশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি।

সংশ্লিষ্ট মুজতাহিদে মুতলাক বিষয়ক অনুচ্ছেদ

 

আমরা ইতিপূর্বে তাঁর শর্তাবলি উল্লেখ করেছি, তাই আমরা তার পুনরাবৃত্তি করছি না। এর সারকথা হলো, তিনি হাদিস বিজ্ঞান এবং তাঁর ইমামদের কাছ থেকে বর্ণিত ফিকহ ও উসূলে ফিকহের সমন্বয়কারী। যেমন শাফিঈ মাযহাবের বড় আলেমদের অবস্থা। যদিও তাঁরা সংখ্যায় অনেক, তবে অন্যান্য স্তরের তুলনায় তাঁরা সংখ্যায় অতি নগণ্য। তাঁদের বক্তব্যের নিবিড় পর্যালোচনার পর তাঁদের কর্মপদ্ধতির সারমর্ম হলো: মালিক, শাফিঈ, আবু হানিফা, সাওরি এবং অন্যান্য মুজতাহিদ—যাঁদের মাযহাব ও ফতোয়া গ্রহণযোগ্য—তাঁদের থেকে বর্ণিত মাসআলাসমূহকে মুয়াত্তায়ে মালিক, সহিহাইন, অতপর তিরমিজি ও আবু দাউদের হাদিসসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো মাসআলা যদি সুন্নাহর স্পষ্ট পাঠ (نصا) বা ইশারা (إشارة) এর সাথে মিলে যায়, তবে তাঁরা তা গ্রহণ করেন এবং তার ওপর নির্ভর করেন। আর কোনো মাসআলা যদি সুন্নাহর সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ওপর আমল পরিত্যাগ করেন। আর যদি কোনো মাসআলায় হাদিস ও আসার (الآثار) এর মধ্যে ভিন্নতা থাকে, তবে তাঁরা সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেন; হয় অস্পষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বিষয়কে নির্ধারক সাব্যস্ত করে, অথবা প্রতিটি হাদিসকে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিতের ওপর প্রয়োগ করে কিংবা অন্য কোনোভাবে। যদি বিষয়টি সুন্নত ও আদব সংক্রান্ত হয়, তবে উভয়টিই সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি বিষয়টি হালাল-হারাম কিংবা বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত হয় এবং তাতে সাহাবী, তাবেঈ ও মুজতাহিদগণ মতপার্থক্য করেন, তবে তাঁরা একে দুই বা ততোধিক মতের ওপর বহাল রাখেন এবং কেউ যা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে তাঁর ওপর কোনো আপত্তি করেন না। হাদিস ও আসার (الآثار) যদি প্রতিটি পক্ষকে সমর্থন করে, তবে তাঁরা বিষয়টিতে প্রশস্ততা দেখেন। অতঃপর তাঁরা উত্তম ও অধিকতর অগ্রগণ্য (الأرجح) বিষয়টি নির্ণয়ে নিজেদের পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন; হয় বর্ণনার শক্তির (قوة الرواية) মাধ্যমে, অথবা অধিকাংশ সাহাবীর আমলের মাধ্যমে, অথবা তা জমহুর মুজতাহিদদের (جمهور المجتهدين) মাযহাব হওয়ার কারণে, কিংবা তা সমপর্যায়ের কিয়াস (القياس) এর অনুকূলে হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لنظرائه ثمَّ عمِلُوا بذلك الْأَقْوَى من غير نَكِير على أحد مِمَّن أَخذ بالْقَوْل الآخر فَإِن لم يَجدوا فِي الْمَسْأَلَة حَدِيثا من تينك الطبقتين أجالوا قداح نظرهم فِي شَوَاهِد أَقْوَالهم من آثَار الطَّبَقَة الثَّالِثَة من كتب الحَدِيث وَإِلَى مَا يفهم من كَلَامهم من الدَّلِيل وَالتَّعْلِيل فَإِذا اطْمَأَن الخاطر بِشَيْء أخذُوا بِهِ فَإِن لم يطمئن بِشَيْء مِمَّا ذَكرُوهُ وَاطْمَأَنَّ بِغَيْرِهِ وَكَانَت الْمَسْأَلَة مِمَّا ينفذ فِيهِ اجْتِهَاد الْمُجْتَهد وَلم يسْبق فِيهِ إِجْمَاع وَقَامَ عِنْدهم الدَّلِيل الصَّرِيح قَالُوا بِهِ مستعينين بِاللَّه متوكلين عَلَيْهِ وَهَذَا بَاب نَادِر الْوُقُوع صَعب المرتقى يجتنبون مزالقة أَشد اجْتِنَاب وَإِن لم يقم عِنْدهم دَلِيل صَرِيح اتبعُوا السوَاد الْأَعْظَم وَأي مَسْأَلَة لَيْسَ فِيهَا تَصْرِيح أَو تَعْلِيل صَحِيح من السّلف استفرغوا الْجهد فِي طلب نَص أَو إِشَارَة أَو إِيمَاء من الْكتاب وَالسّنة أَو أثر من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فَإِن وجدوا قَالُوا بِهِ وَلَيْسَ عِنْدهم أَن يقلدوا عَالما وَاحِدًا فِي كل مَا قَالَ اطمأنت بِهِ نُفُوسهم أَو لَا وَإِن كنت فِي ريب مِمَّا ذكرنَا فَعَلَيْك بكتب الْبَيْهَقِيّ وَكتاب معالم السّنَن وَشرح السّنة لِلْبَغوِيِّ فَهَذِهِ طَريقَة الْمُحَقِّقين من فُقَهَاء الْمُحدثين وَقَلِيل مَا هم وهم غير الظَّاهِرِيَّة من أهل الحَدِيث الَّذين لَا يَقُولُونَ بِالْقِيَاسِ وَلَا الْإِجْمَاع وَغير الْمُتَقَدِّمين من أَصْحَاب الحَدِيث مِمَّن لم يلتفتوا إِلَى أَقْوَال الْمُجْتَهدين أصلا وَلَكنهُمْ أشبه النَّاس بأصحاب الحَدِيث لأَنهم صَنَعُوا فِي أَقْوَال الْمُجْتَهدين مَا صنع أُولَئِكَ فِي مسَائِل الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ

‌‌فصل فِي الْمُجْتَهد فِي الْمَذْهَب وَفِيه مسَائِل

 

مَسْأَلَة اعْلَم أَن الْوَاجِب على الْمُجْتَهد فِي الْمَذْهَب أَن يحصل من السّنَن والْآثَار مَا يحْتَرز بِهِ من مُخَالفَة الحَدِيث الصَّحِيح واتفاق السّلف وَمن دَلَائِل الْفِقْه مَا يقتدر بِهِ على معرفَة مَأْخَذ أَصْحَابه فِي أَقْوَالهم وَهُوَ معنى مَا فِي الفتاوي السِّرَاجِيَّة لَا يَنْبَغِي لأحد أَن يُفْتِي إِلَّا أَن يعرف أقاويل الْعلمَاء وَيعلم من أَيْن قَالُوا وَيعرف معاملات النَّاس فَإِن عرف أقاويل الْعلمَاء وَلم يعرف مذاهبهم فَإِن سُئِلَ عَن مَسْأَلَة يعلم أَن الْعلمَاء الَّذين يتَّخذ مَذْهَبهم قد اتَّفقُوا عَلَيْهَا فَلَا بَأْس بِأَن يَقُول هَذَا جَائِز وَهَذَا لَا يجوز وَيكون قَوْله على سَبِيل الْحِكَايَة وَإِن كَانَت مَسْأَلَة قد اخْتلفُوا فِيهَا فَلَا بَأْس بِأَن يَقُول هَذَا جَائِز فِي قَول فلَان وَفِي قَول فلَان لَا يجوز وَلَيْسَ لَهُ أَن يخْتَار
তাদের সমসাময়িকদের জন্য; অতঃপর তারা সেই শক্তিশালী মতানুসারে আমল করতেন কারো প্রতি কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই যারা অন্য মতটি গ্রহণ করতেন। যদি তারা এই বিষয়ে উল্লিখিত দুই স্তরের কোনো হাদিস না পেতেন, তবে তারা হাদিসের কিতাবসমূহের তৃতীয় স্তরের আসার (آثار) থেকে তাদের বক্তব্যের সমর্থক বর্ণনা (شواهد) এবং তাদের বক্তব্য থেকে অনুধাবিত দলিল ও কারণতত্ত্ব (تعليل) অনুসন্ধানে গভীর দৃষ্টিপাত করতেন। অতঃপর যখন কোনো বিষয়ে মন প্রশান্ত হতো, তারা তা গ্রহণ করতেন। আর যদি তাদের উল্লিখিত কোনো বিষয়ে মন প্রশান্ত না হতো বরং অন্য কোনো বিষয়ে প্রশান্ত হতো এবং বিষয়টি এমন হতো যেখানে মুজতাহিদের ইজতিহাদ (اجتهاد) কার্যকর হয় এবং ইতিপূর্বে তাতে কোনো ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আর তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান থাকতো, তবে তারা আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে ও তাঁর ওপর ভরসা করে সেই মতেই কথা বলতেন। আর এটি এমন এক অধ্যায় যা সচরাচর ঘটে না এবং যার শিখরে আরোহণ করা অত্যন্ত কঠিন; তারা এর পদস্খলনের স্থানগুলো থেকে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আর যদি তাদের নিকট কোনো স্পষ্ট দলিল না থাকতো, তবে তারা সংখ্যাগুরু আলেমদের অনুসরণ করতেন। আর যে মাসআলায় সালাফদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা বা সঠিক কারণতত্ত্ব (تعليل صحيح) পাওয়া যেত না, সেখানে তারা কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট পাঠ (نص), ইঙ্গিত (إشارة) বা ইশারা (إيماء) অথবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের কোনো আসার (أثر) অনুসন্ধানে প্রাণপণ চেষ্টা করতেন। যদি তারা তা পেয়ে যেতেন, তবে সেই অনুযায়ী মত দিতেন। তাদের নিকট এমন কোনো নিয়ম ছিল না যে, তারা কেবল একজন আলেমের প্রতিটি কথা অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন, চাই তাতে তাদের মন প্রশান্ত হোক বা না হোক। আমরা যা উল্লেখ করেছি সে সম্পর্কে যদি আপনার কোনো সংশয় থাকে, তবে আপনার উচিত বায়হাকীর কিতাবসমূহ, মাআলিমুস সুনান এবং বাগভীর শারহুস সুন্নাহ দেখা। কারণ এটিই হলো মুহাক্কিক ফকীহ-মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি, আর তাঁদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাঁরা আহলে হাদিসের মধ্য হতে জাহিরী পন্থীদের মতো নন যারা অনুমানলব্ধ তুলনা (قياس) কিংবা ঐক্যমত্যকে (إجماع) স্বীকার করেন না, আবার তাঁরা পূর্ববর্তী সেইসব হাদিস অনুসারীদের মতোও নন যারা মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্যের প্রতি একেবারেই ভ্রূক্ষেপ করতেন না। বরং তাঁরা হাদিস অনুসারীদের মধ্যে সেই স্তরের লোকদের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যারা মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্যের ক্ষেত্রে তেমনই করেছেন যেমনটি তাঁরা সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে করেছিলেন।

‌‌মাযহাবের অভ্যন্তরে মুজতাহিদ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ এবং এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে

 

মাসআলা: জেনে রাখুন, মাযহাবের অভ্যন্তরে একজন মুজতাহিদের জন্য ওয়াজিব হলো এমন পরিমাণ সুন্নাহ ও আসার (آثار) সংগ্রহ করা যার মাধ্যমে তিনি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস এবং সালাফদের ঐকমত্যের বিরোধিতার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। আর ফিকহের এমন দলিলাদি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা যার মাধ্যমে তিনি তাঁর মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্যের উৎস অনুধাবন করতে সক্ষম হন। ফাতাওয়া সিরাজিয়ার বক্তব্যের মর্মার্থ এটাই যে, কারো জন্য ফতোয়া দেওয়া উচিত নয় যতক্ষণ না সে আলেমদের বক্তব্যসমূহ জানবে, তাঁরা কেন তা বলেছেন তা অবগত হবে এবং মানুষের লেনদেনের রীতি-নীতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখবে। যদি সে আলেমদের উক্তিগুলো জানে কিন্তু তাঁদের মাযহাব সম্পর্কে অবগত না হয়, এমতাবস্থায় যদি তাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় যাতে সেই মাযহাবের আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তবে তার জন্য এটি জায়েজ বা নাজায়েজ বলাতে কোনো দোষ নেই; তবে তার এই বক্তব্য হবে কেবল বর্ণনা বা উদ্ধৃতিস্বরূপ। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যাতে তাঁরা মতভেদ করেছেন, তবে তার জন্য এটি বলাতে দোষ নেই যে, অমুকের মতে এটি জায়েজ এবং অমুকের মতে এটি নাজায়েজ; কিন্তু তার জন্য নিজস্ব কোনো মত গ্রহণ বা ইখতিয়ার করার অধিকার থাকবে না।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فيجيب بقول بَعضهم مَا لم يعرف حجتهم وَفِي الْفُصُول الْعمادِيَّة فِي الْفَصْل الأول وَإِن لم يكن من أهل الإجتهاد لَا يحل لَهُ أَن يُفْتِي إِلَّا بطرِيق الْحِكَايَة فيحكي مَا يحفظ من أَقْوَال الْفُقَهَاء وَعَن أبي يُوسُف وَزفر وعافية بن زيد أَنهم قَالُوا لَا يحل لأحد أَن يُفْتِي بقولنَا مَا لم يعلم من أَيْن قُلْنَا وفيهَا أَيْضا عَن بَعضهم قَالُوا لَو أَن الرجل حفظ جَمِيع كتب أَصْحَابنَا لَا بُد أَن يتلمذ للْفَتْوَى حَتَّى يَهْتَدِي إِلَيْهِ لِأَن كثيرا من الْمسَائِل أجَاب عَنْهَا أَصْحَابنَا على عَادَة أهل بلدهم ومعاملاتهم فَيَنْبَغِي لكل مفت أَن ينظر إِلَى عَادَة أهل بَلَده وزمانه فِيمَا لَا يُخَالف الشَّرِيعَة فِي عُمْدَة الْأَحْكَام من الْمُحِيط فَأَما أهل الِاجْتِهَاد فَهُوَ من يكون عَالما بِالْكتاب وَالسّنة والْآثَار ووجوه الْفِقْه وَمن الْخَانِية نقل عَن بَعضهم لَا بُد للإجتهاد من حفظ الْمَبْسُوط وَمَعْرِفَة النَّاسِخ والمنسوخ والمحكم والمؤول وَالْعلم بعادات النَّاس وعرفهم فِي السِّرَاجِيَّة قيل أدنى الشُّرُوط للإجتهاد حفظ الْمَبْسُوط ذكر هَذِه الرِّوَايَة فِي خزانَة الْمُفْتِينَ أَقُول هَذِه الْعبارَات مَعْنَاهَا الْفرق بَين الْمُفْتِي الَّذِي هُوَ صَاحب تَخْرِيج وَبَين الْمُفْتِي الَّذِي هُوَ متبحر فِي مَذْهَب أَصْحَابه يُفْتِي على سَبِيل الْحِكَايَة لَا على سَبِيل الِاجْتِهَاد

مَسْأَلَة اعْلَم أَن الْقَاعِدَة عِنْد محققي الْفُقَهَاء ان الْمسَائِل على أَرْبَعَة أَقسَام قسم تقرر فِي ظَاهر الْمَذْهَب وَحكمه أَن يقبلوه على كل حَال وَافَقت الْأُصُول أَو خَالَفت وَلذَلِك ترى صَاحب الْهِدَايَة وَغَيره يتكلفون بَيَان الْفرق فِي مسَائِل التَّجْنِيس وَقسم هُوَ رِوَايَة شَاذَّة عَن أبي حنيفَة رحمه الله وصاحبيه وَحكمه أَن لَا يقبلوه إِلَّا إِذا وَافق الْأُصُول وَكم فِي الْهِدَايَة وَنَحْوهَا من تَصْحِيح لبَعض الرِّوَايَات الشاذة بِحَال الدَّلِيل وَقسم هُوَ تَخْرِيج من الْمُتَأَخِّرين اتّفق عَلَيْهِ جُمْهُور الْأَصْحَاب وَحكمه أَنهم يفتون بِهِ على كل حَال وَقسم هُوَ تَخْرِيج مِنْهُم لم يتَّفق عَلَيْهِ جُمْهُور الْأَصْحَاب وَحكمه أَن يعرضه الْمُفْتِي على الْأُصُول والنظائر من كَلَام السّلف فَإِن وجده مُوَافقا لَهَا أَخذ بِهِ وَإِلَّا تَركه فِي خزانَة الرِّوَايَات نقلا عَن بُسْتَان الْفَقِيه أبي اللَّيْث فِي بَاب الْأَخْذ عَن الثِّقَات وَلَو أَن رجلا سمع حَدِيثا أَو سمع مقَالَة فَإِن لم يكن الْقَائِل ثِقَة فَلَا يَسعهُ أَن يقبل مِنْهُ إِلَّا أَن يكون قولا يُوَافق الْأُصُول فَيجوز الْعَمَل بِهِ وَإِلَّا فَلَا وَكَذَا لَو وجد حَدِيثا مَكْتُوبًا أَو مَسْأَلَة فَإِن كَانَ مُوَافقا
তিনি তাদের কোনো কোনো বক্তব্য অনুযায়ী উত্তর প্রদান করবেন যতক্ষণ না তিনি তাদের দলিল (حجتهم) জানতে পারেন। আল-ফুসুল আল-ইমাদিয়্যাহ-এর প্রথম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যদি কেউ ইজতিহাদের যোগ্য (أهل الإجتهاد) না হন, তবে তার জন্য বর্ণনার পন্থায় (بطرِيق الْحِكَايَة) ছাড়া ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়। অর্থাৎ তিনি ফকিহগণের বক্তব্যের যা মুখস্থ রেখেছেন তা বর্ণনা করবেন। আবু ইউসুফ, জুফার এবং আফিয়া ইবন যাইদ থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেছেন: "আমরা কেন বলেছি (আমাদের দলিল কী) তা না জানা পর্যন্ত কারো জন্য আমাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়।" সেখানে আরও কিছু আলিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: "যদি কোনো ব্যক্তি আমাদের ইমামদের সমস্ত কিতাব মুখস্থ করে ফেলে, তবুও তাকে ফতোয়া প্রদানের জন্য উস্তাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে হবে যাতে সে সঠিক দিকনির্দেশনা পায়। কারণ অনেক মাসআলার উত্তর আমাদের ইমামগণ তাদের এলাকার প্রথা ও লেনদেনের ভিত্তিতে দিয়েছেন। সুতরাং প্রত্যেক মুফতির উচিত তার শহরের এবং সময়ের প্রথার প্রতি লক্ষ্য রাখা, যতক্ষণ না তা শরিয়তের বিরোধী হয়।" মুহিত-এর উমদাতুল আহকাম-এ বলা হয়েছে: আর ইজতিহাদের যোগ্য (أهل الإجتهاد) ব্যক্তি হলেন তিনি যিনি কুরআন, সুন্নাহ, আসার (الآثار) এবং ফিকহের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞানী। আল-খানিয়া-তে কারো কারো উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: ইজতিহাদের জন্য আল-মাবসুত মুখস্থ থাকা, রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), অস্পষ্টতাহীন (المحكم) ও ব্যাখ্যাকৃত (المؤول) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং মানুষের অভ্যাস ও প্রথা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আস-সিরাজিয়্যাহ-তে বলা হয়েছে: ইজতিহাদের সর্বনিম্ন শর্ত হলো আল-মাবসুত মুখস্থ থাকা। এই বর্ণনাটি খুযানাতুল মুফতীন-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আমি বলি: এই ইবারতগুলোর উদ্দেশ্য হলো সেই মুফতির মধ্যে পার্থক্য করা যিনি উদ্ভাবন বা আহরণকারী (صاحbuilder تخريج) এবং সেই মুফতির মধ্যে যিনি তার ইমামদের মাজহাবে দক্ষ এবং তিনি বর্ণনার ভিত্তিতে ফতোয়া দেন, ইজতিহাদের (الاجتهاد) ভিত্তিতে নয়।

মাসআলা: জেনে রাখুন যে, গবেষক ফকিহদের নিকট নীতি হলো মাসআলাসমূহ চার প্রকার। প্রথম প্রকার: যা জাহিরুল মাজহাব-এ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর হুকুম হলো—উসুলের অনুকূল হোক বা প্রতিকূল হোক—সর্বাবস্থায় তা গ্রহণ করতে হবে। এই কারণেই আপনি দেখবেন হিদায়া-র লেখক এবং অন্যান্যরা আত-তাজনিস-এর মাসআলাসমূহে পার্থক্য বর্ণনায় অনেক শ্রম দিয়েছেন। দ্বিতীয় প্রকার: যা ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর দুই শিষ্যের থেকে বর্ণিত ব্যতিক্রমী বর্ণনা (رواية شاذة)। এর হুকুম হলো, তা উসুলের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে না। হিদায়া এবং এর মতো কিতাবগুলোতে দলিলের ভিত্তিতে কতই না ব্যতিক্রমী বর্ণনার (الروايات الشاذة) বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) করা হয়েছে। তৃতীয় প্রকার: যা পরবর্তী যুগের আলেমদের উদ্ভাবন বা আহরণ (تخريج), যার ওপর অধিকাংশ ইমাম একমত হয়েছেন। এর হুকুম হলো তারা সর্বাবস্থায় এর ভিত্তিতে ফতোয়া দেন। চতুর্থ প্রকার: যা তাদের উদ্ভাবন বা আহরণ (تخريج) কিন্তু তাতে অধিকাংশ ইমাম একমত হননি। এর হুকুম হলো মুফতি একে উসুল এবং পূর্বসূরিদের (سلف) বক্তব্যের সমজাতীয় বিষয়ের সাথে তুলনা করবেন। যদি তিনি একে সেগুলোর অনুকূল পান তবে গ্রহণ করবেন, অন্যথায় বর্জন করবেন। খুযানাতুল রিওয়ায়াত-এ ফকিহ আবুল লাইসের বুস্তানুল ফকিহ থেকে ‘নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) থেকে গ্রহণ করা’ পরিচ্ছেদে উদ্ধৃত হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো হাদিস শুনে বা কোনো কথা শুনে, তবে বক্তা যদি নির্ভরযোগ্য (ثقة) না হয়, তবে উসুলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া ছাড়া তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে না। উসুলের অনুকূল হলে এর ওপর আমল করা বৈধ, অন্যথায় নয়। অনুরূপভাবে যদি সে কোনো লিখিত হাদিস বা মাসআলা পায়, তবে তা যদি অনুকূল হয়...
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
لِلْأُصُولِ جَازَ أَن يعْمل بِهِ وَإِلَّا فَلَا وَفِي الْبَحْر الرَّائِق عَن أبي اللَّيْث قَالَ سُئِلَ أَبُو نصر عَن مَسْأَلَة وَردت عَلَيْهِ مَا تَقول رَحِمك الله وَقعت عندنَا كتب أَرْبَعَة كتاب إِبْرَاهِيم بن رستم وآداب القَاضِي عَن الْخصاف وَكتاب الْمُجَرّد وَكتاب النَّوَادِر من جِهَة هِشَام هَل يجوز لنا أَن نفتي مِنْهَا أَو لَا وَهَذِه الْكتب محمودة عنْدك فَقَالَ مَا صَحَّ عَن أَصْحَابنَا فَذَلِك علم مَحْبُوب مَرْغُوب فِيهِ مرضى بِهِ وَأما الْفتيا فَإِنِّي لَا أرى لأحد أَن يُفْتِي بِشَيْء لَا يفهمهُ وَلَا يحْتَمل أثقال النَّاس فَإِن كَانَت مسَائِل قد اشتهرت وَظَهَرت وانجلت عَن أَصْحَابنَا رَجَوْت أَن يسع لي الِاعْتِمَاد عَلَيْهَا فِي النَّوَازِل

مَسْأَلَة اعْلَم أَن الْمَسْأَلَة إِذا كَانَت ذَات اخْتِلَاف بَين أبي حنيفَة وصاحبيه فَحكمهَا أَن الْمُجْتَهد فِي الْمَذْهَب يخْتَار من أَقْوَالهم مَا هُوَ أقوى دَلِيلا وأقيس تعليلا وأرفق بِالنَّاسِ وَلذَلِك أفتى جماعات من عُلَمَاء الْحَنَفِيَّة على قَول مُحَمَّد رحمه الله فِي طَهَارَة المَاء للمستعمل وعَلى قَوْلهمَا فِي أول وَقت الْعَصْر وَالْعشَاء وَفِي جَوَاز الْمُزَارعَة وكتبهم مشحونة بذلك لَا يحْتَاج إِلَى إِيرَاد النقول وَكَذَلِكَ الْحَال فِي مَذْهَب الشَّافِعِي رحمه الله فِي الْمِنْهَاج وَغَيره فِي الْفَرَائِض أَن أصل الْمَذْهَب عدم تَوْرِيث ذَوي الْأَرْحَام وَقد أفتى الْمُتَأَخّرُونَ عِنْد عدم انتظام بَيت المَال بتوريثهم وَقد نقل فَقِيه الْيمن ابْن زِيَاد فِي فَتَاوَاهُ مسَائِل أفتى الْمُتَأَخّرُونَ فِيهَا بِخِلَاف الْمَذْهَب مِنْهَا إِخْرَاج الْفُلُوس من الزَّكَاة الْمَفْرُوضَة من النَّقْدَيْنِ وعروض التِّجَارَة أفتى البُلْقِينِيّ بِجَوَازِهِ وَقَالَ أعتقد جَوَازه وَلكنه مُخَالف لمَذْهَب الشَّافِعِي رحمه الله وَتبع البُلْقِينِيّ فِي ذَلِك البُخَارِيّ وَمِنْهَا دفع الزَّكَاة إِلَى الْأَشْرَاف العلويين أفتى الإِمَام فَخر الدّين الرَّازِيّ بِجَوَازِهِ فِي هَذِه الْأَزْمِنَة حِين منعُوا سهمهم من بَيت المَال وأضر بهم الْفقر وَمِنْهَا بيع النَّحْل فِي الكوارات مَعَ مَا فِيهَا من شمع وَغَيره اجاب البُلْقِينِيّ بِالْجَوَازِ وَنقل ابْن زِيَاد عَن الإِمَام ابْن عجيل أَنه قَالَ ثَلَاث مسَائِل فِي الزَّكَاة يُفْتِي فِيهَا بِخِلَاف الْمَذْهَب نقل الزَّكَاة وَدفع الزَّكَاة إِلَى وَاحِد وَدفعهَا إِلَى أحد الْأَصْنَاف أَقُول وَعِنْدِي فِي ذَلِك رَأْي وَهُوَ أَن الْمُفْتِي فِي مَذْهَب الشَّافِعِي سَوَاء كَانَ مُجْتَهدا فِي الْمَذْهَب أَو متبحرا فِيهِ إِذا احْتَاجَ فِي مَسْأَلَة إِلَى غير مذْهبه فَعَلَيهِ بِمذهب أَحْمد رحمه الله فَإِنَّهُ أجل أَصْحَاب الشَّافِعِي
মূলনীতি অনুযায়ী এর ওপর আমল করা জায়েজ হতে পারে, নতুবা নয়। 'আল-বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে আবুল লাইস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আবু নাসরকে একটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনার অভিমত কী? আমাদের কাছে চারটি কিতাব এসেছে: ইবরাহিম ইবনে রুস্তমের কিতাব, খাসসাফ বর্ণিত 'আদাবুল কাজী', 'কিতাবুল মুজাররাদ' এবং হিশামের সূত্রে বর্ণিত 'কিতাবুন নাওয়াদির'। এই কিতাবগুলো থেকে কি আমাদের জন্য ফতোয়া প্রদান করা জায়েজ হবে কি না? অথচ আপনার নিকট এই কিতাবগুলো প্রশংসিত। তিনি বললেন: আমাদের মাশায়েখদের থেকে যা বিশুদ্ধ (صح) বলে সাব্যস্ত হয়েছে, তা তো পছন্দনীয়, কাঙ্ক্ষিত এবং সন্তোষজনক জ্ঞান। আর ফতোয়ার বিষয়ে আমার বক্তব্য হলো, আমি কারো জন্য এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা সমীচীন মনে করি না যা সে নিজে বোঝে না এবং যা মানুষের দায়ভার বহনে সক্ষম নয়। তবে মাসয়ালাগুলো যদি আমাদের মাশায়েখদের থেকে প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি আশা রাখি যে উদ্ভূত জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে এগুলোর ওপর নির্ভর করার অবকাশ আমার আছে।

মাসয়ালা: জেনে রাখুন, মাসয়ালাটি যদি ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর দুই শিষ্যের মধ্যে মতপার্থক্যপূর্ণ হয়, তবে তার বিধান হলো— মাযহাবের মুজতাহিদ পণ্ডিত তাঁদের উক্তিগুলোর মধ্য থেকে সেটিই নির্বাচন করবেন যা দলিলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী, যুক্তির দিক থেকে অধিক সুশৃঙ্খল এবং মানুষের জন্য অধিক সহজসাধ্য। এই কারণেই হানাফী উলামায়ে কেরামের একটি বড় জামাত ব্যবহৃত পানির পবিত্রতার বিষয়ে ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন। আর আসর ও এশার ওয়াক্তের শুরু এবং মুজারাআ (বর্গা চাষ) জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের (সাহেবাইন) মতের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন। তাঁদের কিতাবসমূহ এই জাতীয় বিবরণে ভরপুর, তাই নতুন করে উদ্ধৃতি প্রদানের প্রয়োজন নেই। তদ্রূপ ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মাযহাবের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; 'আল-মিনহাজ' ও অন্যান্য কিতাবে মিরাস অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, মাযহাবের মূল সিদ্ধান্ত হলো 'যাবিল আরহাম' বা দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উত্তরাধিকার না দেওয়া। তবে পরবর্তী যুগের আলিমগণ বায়তুল মালের অব্যবস্থাপনার সময় তাদেরকে উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করার ফতোয়া দিয়েছেন। ইয়েমেনের ফকিহ ইবনে জিয়াদ তাঁর ফতোয়া গ্রন্থে এমন কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন যেখানে পরবর্তী আলিমগণ মাযহাবের বিপরীত ফতোয়া দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো— স্বর্ণ-রৌপ্য ও ব্যবসার মালের ফরজ জাকাত হিসেবে নগদ মুদ্রা প্রদান করা; আল-বুলকিনী এটি জায়েজ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন: 'আমি এর বৈধতায় বিশ্বাস করি, যদিও এটি ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মাযহাবের পরিপন্থী।' এ বিষয়ে আল-বুলকিনী ইমাম বুখারীকে অনুসরণ করেছেন। আরেকটি হলো— সম্মানীত আলভী সাদাতদের জাকাত প্রদান করা; ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি বর্তমান যুগে এটি জায়েজ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন, যেহেতু তারা বায়তুল মালের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত এবং দারিদ্র্য তাদেরকে চরম কষ্টে নিপতিত করেছে। আরেকটি হলো— মৌচাকসহ মৌমাছি বিক্রয় করা, যার মধ্যে মোম ও অন্যান্য বস্তু থাকে; আল-বুলকিনী এটি জায়েজ বলে উত্তর দিয়েছেন। ইবনে জিয়াদ ইমাম ইবনে উজাইল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'জাকাতের তিনটি মাসয়ালায় মাযহাবের বিপরীত ফতোয়া দেওয়া হয়— জাকাত স্থানান্তর করা, একজনকে সম্পূর্ণ জাকাত দেওয়া এবং জাকাত কেবল এক শ্রেণির লোককে প্রদান করা।' আমি বলছি, এ বিষয়ে আমার একটি অভিমত আছে; তা হলো— শাফেয়ী মাযহাবের মুফতি, তিনি মাযহাবের মুজতাহিদ হোন কিংবা মাযহাবে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হোন, যদি কোনো মাসয়ালায় নিজ মাযহাবের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তাঁর জন্য ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর মাযহাব অনুসরণ করা উচিত। কারণ তিনি ইমাম শাফেয়ীর শিষ্যদের মধ্যে সবচাইতে মহান।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
رَحمَه الله علما وديانة ومذهبه عِنْد التَّحْقِيق فرع لمَذْهَب الشَّافِعِي رحمه الله وَوجه من وجوهه وَالله أعلم

‌‌فصل فِي المتبحر فِي الْمَذْهَب وَهُوَ الْحَافِظ لكتب مذْهبه وَفِيه مسَائِل

 

مَسْأَلَة من شَرطه أَن يكون صَحِيح الْفَهم عَارِفًا بِالْعَرَبِيَّةِ وأساليب الْكَلَام ومراتب التَّرْجِيح متفطنا لمعاني كَلَامهم لَا يخفى عَلَيْهِ غَالِبا تَقْيِيد مَا يكون مُطلقًا فِي الظَّاهِر وَالْمرَاد مِنْهُ الْمُقَيد وَإِطْلَاق مَا يكون مُقَيّدا فِي الظَّاهِر وَالْمرَاد مِنْهُ الْمُطلق نبه على ذَلِك ابْن نجيم فِي الْبَحْر الرَّائِق وَيجب عَلَيْهِ أَن لَا يُفْتِي إِلَّا بِأحد وَجْهَيْن إِمَّا أَن يكون عِنْده طَرِيق صَحِيح يعْتَمد عَلَيْهِ إِلَى إِمَامه أَو تكون الْمَسْأَلَة فِي كتاب مَشْهُور تداولته الْأَيْدِي فِي النَّهر الْفَائِق فِي كتاب الْقَضَاء طَرِيق نقل الْمُفْتِي الْمُقَلّد عَن الْمُجْتَهد أحد أَمريْن إِمَّا أَن يكون لَهُ سَنَد إِلَيْهِ أَو أَخذه من كتاب مَعْرُوف تداولته الْأَيْدِي نَحْو كتب مُحَمَّد بن الْحسن وَنَحْوهَا من التصانيف الْمَشْهُورَة للمجتهدين لِأَنَّهُ بِمَنْزِلَة الْخَبَر الْمُتَوَاتر أَو الْمَشْهُور وَهَكَذَا ذكر الرَّازِيّ فعلى هَذَا لَو وجد بعض النّسخ النَّوَادِر فِي زَمَاننَا لَا يحل عزو مَا فِيهَا إِلَى مُحَمَّد وَلَا إِلَى أبي يُوسُف رحمهمَا الله لِأَنَّهَا لم تشتهر فِي عصرنا فِي دِيَارنَا وَلم تتداول نعم إِذا وجد النَّقْل عَن النَّوَادِر مثلا فِي كتاب مَشْهُور مَعْرُوف كالهداية والمبسوط كَانَ ذَلِك تعويلا على ذَلِك الْكتاب انْتهى وَفِي فتاوي الْقنية فِي بَاب مَا يتَعَلَّق بالمفتي إِن مَا يُوجد من كَلَام رجل ومذهبه فِي كتاب مَعْرُوف وَقد تداولته النّسخ فَإِنَّهُ جَازَ لمن نظر فِيهِ أَن يَقُول قَالَ فلَان أَو فلَان كَذَا وَإِن لم يسمعهُ من أحد نَحْو كتب مُحَمَّد بن الْحسن وموطأ مَالك رحمهمَا الله وَنَحْوهمَا من الْكتب المصنفة فِي أَصْنَاف الْعُلُوم لِأَن وجود ذَلِك على هَذَا الْوَصْف بِمَنْزِلَة الْخَبَر الْمُتَوَاتر والاستفاضة لَا يحْتَاج مثله إِلَى إِسْنَاد

مَسْأَلَة إِذا وجد المتبحر فِي الْمَذْهَب حَدِيثا صَحِيحا يُخَالف مذْهبه فَهَل لَهُ أَن يَأْخُذ بِالْحَدِيثِ وَيتْرك مذْهبه فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة فِي هَذِه الْمَسْأَلَة بحث طَوِيل وَأطَال فِيهَا صَاحب خزانَة الرِّوَايَات نقلا عَن دستور الْمَسَاكِين فلنورد كَلَامه من ذَلِك بِعَيْنِه فَإِن قيل لَو كَانَ الْمُقَلّد غير الْمُجْتَهد عَالما مستدلا يعرف قَوَاعِد الْأُصُول ومعاني
আল্লাহ তাকে জ্ঞান ও দ্বীনদারির জন্য রহম করুন। সূক্ষ্ম অনুসন্ধানে তার মাযহাব ইমাম শাফিঈ রহ.-এর মাযহাবের একটি শাখা এবং এর অন্যতম একটি দিক। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

‌‌অনুচ্ছেদ: মাযহাবে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তি সম্পর্কে, যিনি স্বীয় মাযহাবের কিতাবসমূহের হাফেজ; আর এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে।

 

মাসআলা: তার জন্য শর্ত হলো যে, তিনি সঠিক বোধশক্তির অধিকারী হবেন, আরবি ভাষা ও বাচনভঙ্গি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবেন এবং প্রাধান্য দানের স্তরসমূহ সম্পর্কে অবগত হবেন। তিনি ফকিহদের বক্তব্যের মর্মার্থ অনুধাবনে এমন বিচক্ষণ হবেন যে, সাধারণত তার কাছে এমন বিষয় গোপন থাকবে না যেখানে বাহ্যিকভাবে নিঃশর্ত (مطلق) মনে হলেও উদ্দেশ্য থাকে শর্তযুক্ত (مقيد), আবার বাহ্যিকভাবে শর্তযুক্ত (مقيد) মনে হলেও উদ্দেশ্য থাকে নিঃশর্ত (مطلق)। আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে ইবনে নুজাইম এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার জন্য আবশ্যক হলো যে, তিনি কেবল দুটি পদ্ধতির একটির মাধ্যমেই ফতোয়া দেবেন: হয় তার কাছে তার ইমাম পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সঠিক (صحيح) সূত্র বিদ্যমান থাকবে, অথবা মাসআলাটি এমন কোনো প্রসিদ্ধ কিতাবে থাকবে যা মানুষের হাতে হাতে পৌঁছেছে। আন-নাহরুল ফায়েক গ্রন্থের কাজা (বিচার ব্যবস্থা) অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, মুকাল্লিদ মুফতির পক্ষ থেকে মুজতাহিদ থেকে বর্ণনা করার পদ্ধতি দুটি: হয় তার কাছে মুজতাহিদ পর্যন্ত সনদ (سند) থাকতে হবে, অথবা তা এমন কোনো পরিচিত কিতাব থেকে গ্রহণ করতে হবে যা মানুষের মাঝে বহুল প্রচলিত, যেমন মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের কিতাবসমূহ এবং মুজতাহিদদের অনুরূপ অন্যান্য প্রসিদ্ধ রচনা। কারণ এগুলো মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ অথবা মাশহুর (مشهور) সংবাদের সমপর্যায়ের। রাজি রহ. এভাবেই উল্লেখ করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে, যদি আমাদের সময়ে কোনো দুর্লভ পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, তবে সেখানে যা আছে তা ইমাম মুহাম্মদ রহ. কিংবা আবু ইউসুফ রহ.-এর দিকে নিসবত করা বৈধ হবে না; কারণ এগুলো আমাদের যুগে আমাদের ভূখণ্ডে প্রসিদ্ধ হয়নি এবং প্রচলিতও নয়। হ্যাঁ, যদি সেই দুর্লভ বর্ণনাটির উদ্ধৃতি কোনো সুপরিচিত প্রসিদ্ধ কিতাব যেমন আল-হিদায়া ও আল-মাবসুত-এ পাওয়া যায়, তবে তা সেই কিতাবের ওপর নির্ভর করে গ্রহণ করা হবে। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল-কুনিয়া-এর ফতোয়া অধ্যায়ে মুফতি সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা মাযহাব যদি কোনো পরিচিত কিতাবে পাওয়া যায় এবং এর অনুলিপিগুলো বহুল প্রচলিত হয়, তবে যিনি তা পাঠ করবেন তার জন্য এটি বলা বৈধ যে, 'অমুক ব্যক্তি এমনটি বলেছেন', যদিও তিনি তা কারো কাছ থেকে সরাসরি শ্রবণ না করেন। যেমন মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের কিতাবসমূহ ও মুয়াত্তা মালিক এবং ইলমের বিভিন্ন শাখায় রচিত এই পর্যায়ের অন্যান্য কিতাব। কারণ এই বৈশিষ্ট্যের কোনো কিতাবের অস্তিত্ব মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ ও বহুল প্রচারের (استفاضة) সমপর্যায়ের, যার জন্য সনদ-পরম্পরা (إسناد) উপস্থাপনের প্রয়োজন হয় না।

মাসআলা: যখন মাযহাবে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী কোনো ব্যক্তি এমন কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস পান যা তার মাযহাবের পরিপন্থী, তখন কি তিনি হাদিস অনুযায়ী আমল করতে পারবেন এবং সেই মাসআলায় নিজ মাযহাব ত্যাগ করতে পারবেন? এই মাসআলায় দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। দাস্তুরুল মাসাকিন-এর বরাতে খিজানাতুর রিওয়ায়াত গ্রন্থের লেখক এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আমরা তার সেই বক্তব্যটি হুবহু উদ্ধৃত করছি: "যদি বলা হয় যে, মুকাল্লিদ ব্যক্তি মুজতাহিদ না হয়েও যদি আলিম ও দলিল সম্পর্কে অবগত হন, যিনি উসুলের নীতিমালা এবং অর্থসমূহ বুঝেন..."
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
النُّصُوص وَالْأَخْبَار هَل يجوز أَن يعْمل عَلَيْهَا وَكَيف يجوز وَقد قيل لَا يجوز لغير الْمُجْتَهد أَن يعْمل إِلَّا على رِوَايَات مذْهبه وفتاوى إِمَامه وَلَا يشْتَغل بمعاني النُّصُوص وَالْأَخْبَار وَيعْمل عَلَيْهَا كالعامي قيل هَذَا فِي الْعَاميّ الصّرْف الْجَاهِل الَّذِي لَا يعرف مَعَاني النُّصُوص وَالْأَحَادِيث وتأويلاتها أما الْعَالم الَّذِي يعرف النُّصُوص وَالْأَخْبَار وَهُوَ من أهل الدِّرَايَة وَثَبت عِنْده صِحَّتهَا من الْمُحدثين أَو من كتبهمْ الموثوقة الْمَشْهُورَة المتداولة فَيجوز لَهُ أَن يعْمل عَلَيْهَا وَإِن كَانَ مُخَالفا لمذهبهم يُؤَيّدهُ قَول أبي حنيفَة وَمُحَمّد وَالشَّافِعِيّ وَأَصْحَابه رَحِمهم الله تَعَالَى وَقَول صَاحب الْهِدَايَة فِي رَوْضَة الْعلمَاء الزندوستية فِي فضل الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم سُئِلَ أَبُو حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى إِذا قلت قولا وَكتاب الله يُخَالِفهُ قَالَ اتْرُكُوا قولي بِكِتَاب الله فَقيل إِذا كَانَ خبر الرَّسُول صلى الله عليه وسلم يُخَالِفهُ قَالَ اتْرُكُوا قولي بِخَبَر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقيل إِذا كَانَ قَول الصَّحَابَة يُخَالِفهُ قَالَ اتْرُكُوا قولي بقول الصَّحَابَة وَفِي الامتاع روى الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن عِنْد الْكَلَام على الْقِرَاءَة بِسَنَدِهِ قَالَ قَالَ الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى إِذا قلت قولا وَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ خلاف قولي فَمَا يَصح من حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم أولى فَلَا تقلدوني وَنقل إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي النِّهَايَة عَن الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى أَنه قَالَ إِذا بَلغَكُمْ خبر صَحِيح يُخَالف مذهبي فَاتَّبعُوهُ وَاعْلَمُوا أَنه مذهبي وَقد صَحَّ مَنْصُوصا أَنه قَالَ إِذا بَلغَكُمْ عني مَذْهَب وَصَحَّ عنْدكُمْ خبر على مُخَالفَته فاعلموا أَن مذهبي مُوجب الْخَبَر وروى الْخَطِيب بِإِسْنَادِهِ أَن الداركي من الشَّافِعِيَّة كَانَ يستفتي وَرُبمَا يُفْتِي بِغَيْر مَذْهَب الشَّافِعِي وَأبي حنيفَة رحمهمَا الله تَعَالَى فَيُقَال لَهُ هَذَا يُخَالف قَوْلهمَا فَيَقُول وَيْلكُمْ حدث فلَان عَن فلَان عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم هَكَذَا وَالْأَخْذ بِالْحَدِيثِ أولى من الْأَخْذ بقولهمَا إِذا خالفاه وَكَذَا يُؤَيّدهُ مَا ذكر فِي الْهِدَايَة فِي مَسْأَلَة صَوْم المحتجم لَو احْتجم وَظن أَن ذَلِك يفطره ثمَّ أكل مُتَعَمدا عَلَيْهِ الْقَضَاء وَالْكَفَّارَة لِأَن الظَّن مَا اسْتندَ إِلَى دَلِيل شَرْعِي إِلَّا إِذا أفتاه فَقِيه بِالْفَسَادِ لِأَن الْفَتْوَى دَلِيل شَرْعِي فِي حَقه وَلَو بلغه الحَدِيث وَاعْتَمدهُ فَكَذَلِك عَن مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى لِأَن قَول الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لَا ينزل عَن قَول الْمُفْتِي فِي الْكَافِي والْحميدِي أَي لَا يكون أدنى دَرَجَة من قَول الْمُفْتِي وَقَول الْمُفْتِي يصلح دَلِيلا شَرْعِيًّا فَقَوْل الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أولى وَعَن أبي يُوسُف خلاف

মূল পাঠ (نصوص) এবং সংবাদ বা বর্ণনা (أخبار) সমূহের ওপর আমল করা কি বৈধ? এবং কীভাবে তা বৈধ হতে পারে? অথচ বলা হয়ে থাকে যে, একজন গবেষণামূলক ইজতিহাদকারী (مجتهد) ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিজের মাজহাবের বর্ণনা (روايات) এবং নিজ ইমামের ফতোয়া ছাড়া অন্য কিছুর ওপর আমল করা বৈধ নয়; এবং সে সাধারণ মানুষের ন্যায় মূল পাঠ (نصوص) ও বর্ণনা (أخبار) সমূহের অর্থ নিয়ে ব্যাপৃত হবে না এবং তার ওপর আমল করবে না।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি কেবল সেই নিছক সাধারণ অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে মূল পাঠ (نصوص), হাদিস এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সম্পর্কে অবগত নয়। পক্ষান্তরে, সেই আলেম যিনি মূল পাঠ (نصوص) ও বর্ণনা (أخبار) সম্পর্কে অবগত এবং তিনি বর্ণনা তত্ত্ব ও বোধজ্ঞান (دراية) সম্পন্ন এবং হাদিস বিশারদদের (محدثين) নিকট থেকে অথবা তাঁদের নির্ভরযোগ্য, প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত কিতাবসমূহ থেকে সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) তাঁর নিকট প্রমাণিত হয়েছে, তবে তাঁর জন্য সে অনুযায়ী আমল করা বৈধ, যদিও তা তাঁদের মাজহাবের পরিপন্থী হয়। এই বক্তব্যকে ইমাম আবু হানিফা, মুহাম্মদ, শাফিয়ি এবং তাঁদের অনুসারীগণ (রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা) সমর্থন করেন। হিদায়া গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যও একে সমর্থন করে যা 'রাওজাতুল উলামা আল-জান্দুস্তিইয়াহ' গ্রন্থে সাহাবিদের (রাজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) ফজিলাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু হানিফাকে (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আমি যদি এমন কোনো কথা বলি যা আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী হয়?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবের বিপরীতে আমার কথা ত্যাগ করো।" পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: "যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা (خبر) তার পরিপন্থী হয়?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা (خبر)-এর বিপরীতে আমার কথা ত্যাগ করো।" পুনরায় বলা হলো: "যদি সাহাবিদের কথা তার পরিপন্থী হয়?" তিনি বললেন: "সাহাবিদের কথার বিপরীতে আমার কথা ত্যাগ করো।"

'আল-ইমতা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, ইমাম বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে কিরাত সংক্রান্ত আলোচনায় নিজস্ব সনদে (بسنده) বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: "আমি যদি কোনো কথা বলি আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী আমার কথার বিপরীত হয়, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস থেকে যা সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হবে তাই অগ্রগণ্য; সুতরাং তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না।" ইমামুল হারামাইন 'নিহায়া' গ্রন্থে ইমাম শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমাদের কাছে আমার মাজহাবের পরিপন্থী কোনো সহিহ বর্ণনা (خبر صحيح) পৌঁছাবে, তবে তোমরা সেটিই অনুসরণ করো এবং জেনে রেখো যে সেটিই আমার মাজহাব।" তাঁর থেকে স্পষ্টভাবে স্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ পাঠ হিসেবে (منصوصا) সহিহ (صحيح) রূপে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো মাজহাব (মত) পৌঁছাবে এবং তোমাদের নিকট তার বিপরীতে কোনো বর্ণনা (خبر) সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হবে, তবে জেনে রেখো যে সেই বর্ণনা (خبر)-এর দাবিই আমার মাজহাব।"

আল-খতিব আল-বাগদাদি নিজস্ব সনদে (بإسناده) বর্ণনা করেছেন যে, শাফিয়ি মাজহাবের ফকিহ আদ-দারাকি ফতোয়া প্রদান করতেন। অনেক সময় তিনি ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম আবু হানিফার (রহিমাহুমাল্লাহ তায়ালা) মাজহাবের বাইরেও ফতোয়া দিতেন। তাকে যখন বলা হতো যে, এটি তাঁদের উভয়ের মতের পরিপন্থী, তখন তিনি বলতেন: "তোমাদের ধ্বংস হোক! অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। আর হাদিস গ্রহণ করা তাঁদের উভয়ের কথা গ্রহণ করার চেয়ে অধিক শ্রেয়, যখন তাঁদের কথা হাদিসের পরিপন্থী হয়।"

অনুরূপভাবে, একে সমর্থন করে হিদায়া গ্রন্থে 'সিঙা লাগানো ব্যক্তির রোজা' সংক্রান্ত মাসআলায় যা উল্লেখ করা হয়েছে: যদি কেউ সিঙা লাগায় এবং ধারণা করে যে এতে তার রোজা ভেঙে গেছে, অতঃপর সে স্বেচ্ছায় আহার করে, তবে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। কারণ, এই ধারণা কোনো শারয়ি দলিল (دليل شرعي)-এর ওপর ভিত্তি করে ছিল না। তবে যদি কোনো ফকিহ তাকে রোজা নষ্ট হওয়ার ফতোয়া দিয়ে থাকেন (তবে ভিন্ন কথা), কারণ ফতোয়া তার ক্ষেত্রে একটি শারয়ি দলিল (دليل شرعي)। আর যদি তার কাছে হাদিস পৌঁছে থাকে এবং সে তার ওপর নির্ভর করে থাকে, তবে ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী মুফতির বাণীর চেয়ে নিচে নয়—যেমনটি 'আল-কাফি' এবং 'আল-হুমাইদি' গ্রন্থে রয়েছে—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মর্যাদা মুফতির বাণীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আর মুফতির বাণী যদি শারয়ি দলিল (دليل شرعي) হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অধিকতর অগ্রগণ্য। অবশ্য ইমাম আবু ইউসুফ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ذَلِك لِأَن على الْعَاميّ الِاقْتِدَاء بالفقهاء لعدم الاهتداء فِي حَقه إِلَى معرفَة الاحاديث وَإِن عرف تَأْوِيله تجب الْكَفَّارَة وَفِي المناوى بالإتفاق وَأما الْجَواب عَن قَول أبي يُوسُف إِن للعامي الإقتداء بالفقهاء فَمَحْمُول على الْعَاميّ الصّرْف الْجَاهِل الَّذِي لَا يعرف معنى الْأَحَادِيث وتأويلاتها لِأَنَّهُ أَشَارَ إِلَيْهِ بقوله لعدم الإهتداء أَي فِي حَقه إِلَى معرفَة الْأَحَادِيث وَكَذَا قَوْله وَإِن عرف الْعَاميّ تَأْوِيله تجب الْكَفَّارَة يُشِير إِلَى أَن المُرَاد من الْعَاميّ غير الْعَالم وَفِي الْحميدِي الْعَاميّ مَنْسُوب إِلَى الْعَامَّة وهم الْجُهَّال فَعلم من هَذِه الإشارات أَن مُرَاد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَيْضا من الْعَاميّ الْجَاهِل الَّذِي لَا يعرف معنى النَّص أَو تَأْوِيله فِيمَا ذكر من قَول أبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَمُحَمّد رحمهم الله ينْدَفع قَول الْقَائِل يجب الْعَمَل بالرواية بِخِلَاف النَّص انْتهى مَا نَقَلْنَاهُ من خزانَة للروايات

وَفِي الْمَسْأَلَة قَول آخر وَهُوَ أَنه إِذا لم يجمع آلَات الإجتهاد لَا يجوز لَهُ الْعَمَل على الحَدِيث بِخِلَاف مذْهبه لِأَنَّهُ لَا يدْرِي أَنه مَنْسُوخ أَو مؤول أَو مُحكم مَحْمُول على ظَاهره وَمَال إِلَى هَذَا القَوْل ابْن الْحَاجِب فِي مُخْتَصره وتابعوه ورد بِأَنَّهُ إِن أَرَادَ عدم التيقن بِنَفْي هَذِه الإحتمالات فالمجتهد أَيْضا لَا يحصل لَهُ الْيَقِين بذلك وَإِنَّمَا يَبْنِي أَكثر أمره على غَالب الظَّن وَإِن أَرَادَ أَنه لَا يدْرِي ذَلِك بغالب الرَّأْي منعناه فِي صُورَة النزاع لِأَن المتبحر فِي الْمَذْهَب المتتبع لكتب الْقَوْم الْحَافِظ من الحَدِيث وَالْفِقْه بجملة صَالِحَة كثيرا مَا يحصل لَهُ غَالب الظَّن بِأَن الحَدِيث غير مَنْسُوخ وَلَا مؤول بِتَأْوِيل يجب القَوْل بِهِ وَإِنَّمَا الْبَحْث فِيمَا حصل لَهُ ذَلِك وَالْمُخْتَار هَهُنَا هُوَ قَول ثَالِث وَهُوَ مَا اخْتَارَهُ ابْن الصّلاح وَتَبعهُ النَّوَوِيّ وَصَححهُ قَالَ ابْن الصّلاح من وجد من الشَّافِعِيَّة حَدِيثا يُخَالف مذْهبه نظر إِن كملت لَهُ آلَة الإجتهاد مُطلقًا أَو فِي ذَلِك الْبَاب وَالْمَسْأَلَة كَانَ لَهُ الإستقلال بِالْعَمَلِ بِهِ وَإِن لم تكمل وشق مُخَالفَة الحَدِيث بعد أَن يبْحَث فَلم يجد لمُخَالفَته جَوَابا شافيا عَنهُ فَلهُ الْعَمَل بِهِ إِن كَانَ عمل بِهِ إِمَام مُسْتَقل غير الشَّافِعِي رحمه الله وَيكون هَذَا عذرا فِي ترك مَذْهَب إِمَامه هَهُنَا وَحسنه النَّوَوِيّ وَقَررهُ

مَسْأَلَة إِذا أَرَادَ هَذَا المتبحر فِي الْمَذْهَب أَن يعْمل فِي مَسْأَلَة بِخِلَاف مَذْهَب إِمَامه مُقَلدًا فِيهَا لإِمَام آخر هَل يجوز لَهُ ذَلِك اخْتلفُوا فِيهِ فَمَنعه الْغَزالِيّ وشرذمة وَهُوَ

এর কারণ হলো, সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য ফকিহদের অনুসরণ করা আবশ্যক, কারণ হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে তাদের কোনো সক্ষমতা নেই। আর যদি তিনি হাদিসের ব্যাখ্যা অবগত হন, তবে কাফফারা ওয়াজিব হবে। আল-মুনাউয়িতে এটি সর্বসম্মত (بالإتفاق) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম আবু ইউসুফের এই উক্তির উত্তর—যেখানে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য ফকিহদের অনুসরণ করা আবশ্যক—তা মূলত সেই নিরেট মূর্খ সাধারণ ব্যক্তির (العامي) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে হাদিসের অর্থ ও এর ব্যাখ্যাসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়। কারণ তিনি 'পথ না পাওয়ার' কথা বলে হাদিস সম্পর্কে তার জ্ঞানের অভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। অনুরূপভাবে তার এই উক্তি—যে সাধারণ ব্যক্তি (العامي) যদি এর ব্যাখ্যা জানতে পারে তবে কাফফারা ওয়াজিব হবে—তা নির্দেশ করে যে এখানে সাধারণ ব্যক্তি বলতে অ-আলেম ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। আল-হুমাইদিতে বর্ণিত আছে যে, 'আম্মি' (العامي) শব্দটি 'আম্মাহ' (العامة) থেকে আগত, যাদের দ্বারা মূর্খ লোক উদ্দেশ্য। সুতরাং এই সব ইঙ্গিত থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর উদ্দেশ্যও সাধারণ ব্যক্তি (العامي) বলতে এমন মূর্খ ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়েছে, যে উল্লেখিত ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফিঈ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর বক্তব্যের মর্ম বা ব্যাখ্যা জানে না। এর মাধ্যমেই সেই প্রবক্তার দাবি খণ্ডন হয়ে যায় যে, অকাট্য পাঠের (نص) বিপরীতে বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। 'খিজানাতুল রিওয়ায়াত' থেকে সংগৃহীত আমাদের উদ্ধৃতি এখানেই শেষ।

এই মাসআলায় অন্য একটি মত হলো—যদি কারো মাঝে ইজতিহাদের (إجتهاد) উপকরণসমূহ বিদ্যমান না থাকে, তবে নিজের মাযহাবের পরিপন্থী হাদিসের ওপর আমল করা তার জন্য জায়েজ নয়। কারণ সে জানে না যে হাদিসটি রহিত (منسوخ), নাকি ব্যাখ্যাত (مؤول), নাকি এটি সুদৃঢ় (محكم) এবং এর প্রকাশ্য অর্থের (ظاهر) ওপরই তা বহাল রয়েছে। ইবনুল হাজিব তার 'মুখতাসার' গ্রন্থে এই মতের প্রতি প্রবণতা দেখিয়েছেন এবং তার অনুসারীরাও তা অনুসরণ করেছেন। তবে এই মতটি এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয়েছে যে, যদি এর দ্বারা এই সব সম্ভাবনার বিলুপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া বোঝানো হয়, তবে মুজতাহিদও (مجتهد) সে বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা লাভ করতে পারেন না; বরং তিনি তার অধিকাংশ কার্যাবলি প্রবল ধারণার (غالب الظن) ওপর ভিত্তি করেই সম্পাদন করেন। আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি প্রবল মতামতের ভিত্তিতে তা জানেন না, তবে আমরা বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রে এটি প্রত্যাখ্যান করব। কারণ মাযহাবে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তি, যিনি আলেমদের কিতাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেন এবং হাদিস ও ফিকহের একটি বড় অংশ হিফজ করেছেন, তার প্রায়ই এই প্রবল ধারণা (غالب الظن) অর্জিত হয় যে হাদিসটি রহিত (منسوخ) নয় এবং এমন কোনো ব্যাখ্যা দ্বারা ব্যাখ্যাত (مؤول) নয় যা গ্রহণ করা আবশ্যক। মূলত আলোচনা সেই ব্যক্তি সম্পর্কেই যার এই পাণ্ডিত্য অর্জিত হয়েছে। এক্ষেত্রে মনোনীত মত হলো তৃতীয়টি, যা ইবনুস সালাহ পছন্দ করেছেন এবং ইমাম নববী তার অনুসরণ করেছেন ও একে সঠিক (صححه) বলে অভিহিত করেছেন। ইবনুস সালাহ বলেন: শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে যারা এমন কোনো হাদিস পাবেন যা তার মাযহাবের পরিপন্থী, তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন; যদি তার মধ্যে সাধারণভাবে অথবা সেই নির্দিষ্ট অধ্যায় ও মাসআলায় ইজতিহাদের (إجتهاد) পূর্ণ যোগ্যতা থাকে, তবে স্বতন্ত্রভাবে সেই হাদিস অনুযায়ী আমল করার অধিকার তার থাকবে। আর যদি যোগ্যতা পূর্ণ না হয় এবং হাদিসটি নিয়ে গবেষণার পর এর বিপরীতে কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায় ও হাদিসের বিরোধিতা করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, তবে তিনি এর ওপর আমল করতে পারবেন যদি ইমাম শাফিঈ (রহ.) ছাড়া অন্য কোনো স্বতন্ত্র (مستقل) ইমাম সেই হাদিস অনুযায়ী আমল করে থাকেন। এটি হবে তার জন্য নিজ ইমামের মাযহাব ত্যাগের একটি গ্রহণযোগ্য ওজর। ইমাম নববী একে উত্তম বলেছেন এবং বহাল রেখেছেন।

মাসআলা: যদি মাযহাবে পারদর্শী এই ব্যক্তি কোনো একটি মাসআলায় নিজের ইমামের মাযহাবের বিপরীতে অন্য কোনো ইমামের তাকলিদ (مقلدًا) করে আমল করতে চান, তবে তা কি তার জন্য জায়েজ হবে? এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম গাজালি ও একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এটি নিষিদ্ধ করেছেন, এবং এটি

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قَول ضَعِيف عِنْد الْجُمْهُور لِأَن مبناه على أَن الْإِنْسَان يجب عَلَيْهِ أَن يَأْخُذ بِالدَّلِيلِ فَإِذا فَاتَ ذَلِك لجهله بالدلائل أَقَمْنَا اعْتِقَاد أَفضَلِيَّة إِمَامه مقَام الدَّلِيل فَلَا يجوز لَهُ أَن يخرج من مذْهبه كَمَا لَا يجوز لَهُ أَن يُخَالف الدَّلِيل الشَّرْعِيّ ورد بِأَن اعْتِقَاد أَفضَلِيَّة الإِمَام على سَائِر الْأَئِمَّة مُطلقًا غير لَازم فِي صِحَة التَّقْلِيد إِجْمَاعًا لِأَن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ كَانُوا يَعْتَقِدُونَ أَن خير هَذِه الْأمة أَبُو بكر ثمَّ عمر رضي الله عنهما وَكَانُوا يقلدون فِي كثير من الْمسَائِل غَيرهمَا بِخِلَاف قَوْلهمَا وَلم يُنكر على ذَلِك أحد فَكَانَ إِجْمَاعًا على مَا قُلْنَاهُ وَأما أَفضَلِيَّة قَوْله فِي هَذِه الْمَسْأَلَة فَلَا سَبِيل إِلَى مَعْرفَتهَا للمقلد الصّرْف فَلَا يجوز أَن يكون شرطا للتقليد إِذْ يلْزم أَن لَا يَصح تَقْلِيد جُمْهُور المقلدين وَلَو سلم فَفِي مَسْأَلَتنَا هَذِه هَذَا عَلَيْكُم لَا لكم لِأَنَّهُ كثيرا مَا يطلع على حَدِيث يُخَالف مَذْهَب إِمَامه أَو يجد قِيَاسا قَوِيا يُخَالف مذْهبه فيعتقد الْأَفْضَلِيَّة فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة لغيره وَذهب الْأَكْثَرُونَ إِلَى جَوَازه مِنْهُم الْآمِدِيّ وَابْن الْحَاجِب وَابْن الْهمام وَالنَّوَوِيّ وَأَتْبَاعه كَابْن حجر والرملي وجماعات من الْحَنَابِلَة والمالكية مِمَّن يُفْضِي ذكر أسمائهم إِلَى التَّطْوِيل وَهُوَ الَّذِي انْعَقَد عَلَيْهِ الإتفاق من مفتي الْمذَاهب الْأَرْبَعَة من الْمُتَأَخِّرين واستخرجوه من كَلَام أوائلهم وَلَهُم رسائل مُسْتَقلَّة فِي هَذِه الْمَسْأَلَة إِلَّا أَنهم اخْتلفُوا فِي شَرط جَوَازه فَمنهمْ من قَالَ لَا يرجع فِيمَا قلد اتِّفَاقًا فسره ابْن الْهمام فَقَالَ أَي عمر بِهِ وَاخْتلف الشُّرَّاح فِي معنى هَذِه الْكَلِمَة فَقيل فِيمَا عمر بِهِ بِخُصُوصِهِ بِأَن يقْضِي تِلْكَ الصَّلَوَات الْوَاقِعَة على الْمَذْهَب الأول مثلا وَهُوَ الصَّحِيح الَّذِي لَا يتَّجه غَيره عِنْد التَّحْقِيق وَقيل بِجِنْسِهِ ورد بِأَنَّهُ لَيْسَ اتفاقيا بل أَكثر مَا روى عَن السّلف هُوَ الْعَمَل بِخِلَاف الْمَذْهَب فِيمَا كَانُوا يعْملُونَ بِهِ وَمِنْهُم من قَالَ لَا يلتقط الرُّخص فَقيل يَعْنِي مَا سهل عَلَيْهِ ورد بِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا خير اخْتَار أَهْون الْأَمريْنِ مَا لم يكن إِثْمًا وَقيل مَا لَا يقويه الدَّلِيل بل الدَّلِيل الصَّحِيح الصَّرِيح قَامَ بِخِلَافِهِ مثل الْمُتْعَة وَالصرْف وَهَذَا وَجه وجيه وجدت فِي كتاب التخليص فِي تَخْرِيج أَحَادِيث الرَّافِعِيّ لِلْحَافِظِ ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي فِي كتاب النِّكَاح مِنْهُ نقلا عَن الْحَاكِم فِي كتاب عُلُوم الحَدِيث بِإِسْنَادِهِ إِلَى الْأَوْزَاعِيّ قَالَ يجْتَنب أَو يتْرك من قَول أهل الْعرَاق خمس وَمن أَقْوَال أهل الْحجاز اسْتِمَاع الملاهي والمتعة وإتيان النِّسَاء فِي أدبارهن

বিদ্বানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (جمهور) এর মতে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) মত, কারণ এর ভিত্তি হলো যে মানুষের ওপর দলীলের অনুসরণ করা ওয়াজিব। অতঃপর যখন দলীলের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে তা সম্ভব হয় না, তখন আমরা তার ইমামের শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাসকে দলীলের স্থলাভিষিক্ত করি। তাই তার জন্য নিজ মাযহাব থেকে বের হওয়া বৈধ নয়, ঠিক যেমন তার জন্য শরয়ি দলীলের বিরোধিতা করা বৈধ নয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, তাকলিদ (تقليد) সহীহ (صحيح) হওয়ার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعا) অন্যান্য সমস্ত ইমামের তুলনায় নিজের ইমামের শ্রেষ্ঠত্বের একনিষ্ঠ বিশ্বাস পোষণ করা অপরিহার্য নয়। কারণ সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ বিশ্বাস করতেন যে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা), অথচ তাঁরা বহু মাসয়ালায় তাঁদের উভয়ের মতের বিপরীতে অন্যদের তাকলিদ (تقليد) করতেন এবং এতে কেউ আপত্তি করেননি। সুতরাং আমরা যা বলেছি তার ওপর ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর নির্দিষ্ট কোনো মাসয়ালায় ইমামের মতের শ্রেষ্ঠত্ব জানা একজন সাধারণ মুকাল্লিদ (مقلد) এর জন্য সম্ভব নয়, তাই একে তাকলিদ (تقليد) এর শর্ত করা বৈধ নয়; অন্যথায় অধিকাংশ মুকাল্লিদ (مقلد) এর তাকলিদ (تقليد) সহীহ (صحيح) হবে না। আর যদি বিষয়টি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও আমাদের আলোচ্য মাসয়ালায় এটি আপনাদের বিপক্ষে যাবে, পক্ষে নয়। কারণ অনেক সময় একজন ব্যক্তি এমন হাদিস সম্পর্কে অবগত হন যা তার ইমামের মাযহাবের পরিপন্থী, অথবা এমন শক্তিশালী কিয়াস (قياس) পান যা তার মাযহাবের বিপরীত; ফলে তিনি সেই মাসয়ালার ক্ষেত্রে অন্যের মতের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করেন।

অধিকাংশ আলেম এর বৈধতার মত পোষণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমেদি, ইবনুল হাজিব, ইবনুল হুমাম, নববী এবং তাঁর অনুসারীগণ যেমন ইবনে হাজার, রামলি এবং হাম্বলি ও মালিকি মাযহাবের একদল আলেম, যাঁদের নাম উল্লেখ করলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। চার মাযহাবের পরবর্তী যুগের মুফতিগণের মাঝে এই বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের কালাম থেকে এটি নির্যাস করেছেন। এই মাসয়ালায় তাঁদের স্বতন্ত্র পুস্তিকাও রয়েছে। তবে তাঁরা এর বৈধতার শর্ত নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: সর্বসম্মতিক্রমে (إتفاقا) যে বিষয়ে তাকলিদ (تقليد) করা হয়েছে তা থেকে ফিরে আসা যাবে না। ইবনুল হুমাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ যার ওপর আমল করা হয়েছে। ব্যাখ্যাকারগণ এই শব্দের অর্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন; বলা হয়েছে: নির্দিষ্টভাবে যার ওপর আমল করা হয়েছে, যেমন প্রথম মাযহাব অনুযায়ী আদায়কৃত নামাজগুলো (পুনরায় ভিন্ন মাযহাবে) কাজা না করা। এটিই সহীহ (صحيح) মত যা সূক্ষ্ম গবেষণার বিচারে অন্য মতের চেয়ে অগ্রগণ্য। আবার কেউ বলেছেন: সেই বিষয়ের সমজাতীয় কার্যাবলীর ক্ষেত্রে (ফিরে আসা যাবে না)। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে এটি সর্বসম্মত নয়, বরং সালাফদের থেকে বর্ণিত অধিকাংশ বর্ণনাই হলো এমন বিষয়ের ওপর আমল করা যা তাঁদের পূর্ববর্তী আমলের মাযহাবের বিপরীত ছিল।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন যে রুকসত (رخصة) বা সহজ বিধান অনুসন্ধান করা যাবে না। বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তার জন্য সহজসাধ্য হয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে সুযোগ পেতেন, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যতক্ষণ না তা গুনাহের কাজ হতো। আবার বলা হয়েছে: (রুকসত অনুসন্ধান মানে) যার সপক্ষে কোনো দলিল শক্তিশালী নয়, বরং সহীহ (صحيح) এবং স্পষ্ট দলিল তার বিপরীতে বিদ্যমান; যেমন মুতআ বিয়ে বা নির্দিষ্ট ধরনের মুদ্রা বিনিময়। আর এটি একটি শক্তিশালী মত। আমি হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রচিত আত-তালখিস ফি তাখরিজি আহাদিসির রাফেয়ি গ্রন্থের কিতাবুন নিকাহ-এ পেয়েছি, যা তিনি হাকেমের কিতাব উলুমুল হাদিস থেকে তাঁর সনদ (إسناد) সহ ইমাম আওজায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আওজায়ি) বলেন: ইরাকবাসীদের মত থেকে পাঁচটি বিষয় বর্জন করা উচিত এবং হিজাজবাসীদের মত থেকে বাদ্যযন্ত্র শোনা, মুতআ এবং নারীদের মলদ্বারে সঙ্গম করা বর্জনীয়।

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَالصرْف وَالْجمع بَين الصَّلَاتَيْنِ بِغَيْر عذر وَمن قَول أهل الْعرَاق شرب النَّبِيذ وَتَأْخِير الْعَصْر حَتَّى يكون ظلّ الشَّيْء أَرْبَعَة أَمْثَاله وَلَا جُمُعَة إِلَّا فِي سَبْعَة أَمْصَار والفرار من الزَّحْف وَالْأكل بعد الْفجْر فِي رَمَضَان ثمَّ قَالَ ابْن حجر وروى عبد الرزاق عَن معمر لَو أَن رجلا أَخذ بقول أهل الْمَدِينَة فِي اسْتِمَاع الْغناء وإتيان النِّسَاء فِي أدبارهن وَبقول أهل مَكَّة فِي الْمُتْعَة وَالصرْف وَبقول أهل الْكُوفَة فِي الْمُسكر كَانَ شَرّ عباد الله وَمِنْهُم من قَالَ لَا يلفق بِحَيْثُ يتركب حَقِيقَة ممتنعة عِنْد الْإِمَامَيْنِ قيل الْمَمْنُوع أَن يتركب حَقِيقَة ممتنعة فِي مَسْأَلَة وَاحِدَة مثل الْوضُوء بِلَا تَرْتِيب ثمَّ خرج مِنْهُ الدَّم السَّائِل لَا فِي مَسْأَلَتَيْنِ كَمَا إِذا طهر الثَّوْب بِمذهب الشَّافِعِي وَصلى بِمذهب أبي حنيفَة وَيتَّجه أَن يُقَال فِيهِ بحث لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْمَقْصُود من هَذَا الْقَيْد أَن لَا يخرج مَجْمُوع مَا انتحله من الِاتِّفَاق فَهُوَ حَاصِل فِي مَسْأَلَتَيْنِ أَيْضا وَإِن كَانَ الْمَقْصُود أَن لَا يخرج هَذِه الْمَسْأَلَة وَحدهَا من الْإِجْمَاع فَيَكْفِي عَنهُ اشْتِرَاط كَونه مذهبا للإجتهاد فِيهِ مساغ كَمَا يَأْتِي وَمِنْهُم من قَالَ لَا يكون الْمَذْهَب الَّذِي يذهب إِلَيْهِ مِمَّا ينْقض فِيهِ قَضَاء القَاضِي وَهَذَا وجيه والإحتراز مِنْهُ يحصل إِذا قلد مذهبا من الْمذَاهب الْأَرْبَعَة المقبولة الْمَشْهُورَة وَمِنْهُم من قَالَ ينشرح صَدره فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة بِمَا قلد فِيهِ غير إِمَامه وَلَا يتَصَوَّر إِلَّا فِي المتبحر وَقيل إِذا تبع الْأَكْثَر وَالْقَوْل الْمَشْهُور فخروجه من مَذْهَب إِمَامه حسن وَإِذا كَانَ بِالْعَكْسِ فقبيح هَذَا خُلَاصَة مَا فِي رسائلهم مَعَ تَنْقِيح وتحرير وَأَنا أخْتَار فِي الْجَوَاز شَرط أَن لَا ينْقض قَضَاء قَاض بِهِ سَوَاء كَانَ النَّقْض لإجتماع مَعْنيين كل وَاحِد مِنْهُمَا صَحِيح كَالنِّكَاحِ بِغَيْر شُهُود مُجْتَمعين وَلَا إعلان أَو لغيره وَفِي الِاخْتِيَار شَرط انْشِرَاح الصَّدْر لِمَعْنى فِي الدَّلِيل أَو كَثْرَة من عمل بِهِ فِي السّلف أَو كَونه أحوط أَو كَونه تفصيا من مضيق لَا يُمكن لَهُ الطَّاعَة مَعَه لقَوْله صلى الله عليه وسلم إِذا أَمرتكُم بِأَمْر فَأتوا مِنْهُ بِمَا اسْتَطَعْتُم وَنَحْو ذَلِك من الْمعَانِي الْمُعْتَبرَة فِي الشَّرْع لَا مُجَرّد الْهوى وَطلب الدُّنْيَا وَفِي الْوُجُوب شَرط أَن يتَعَلَّق بِهِ حق لغيره فَيَقْضِي القَاضِي بِخِلَاف مذْهبه فِي خزانَة الرِّوَايَات فِي كشف القناع وَإِذا قلد فَقِيها فِي شَيْء هَل يجوز لَهُ أَن يرجع عَنهُ إِلَى فَقِيه آخر الْمَسْأَلَة على وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن لَا يكون الْتزم مذهبا معينا كمذهب أبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَغَيرهمَا رَحِمهم الله تَعَالَى وَالثَّانِي الْتزم فَقَالَ إِنِّي مُلْتَزم مُتبع فَفِي
এবং মুদ্রা বিনিময় (সরফ) ও কোনো ওজর ব্যতীত দুই সালাত একত্রে আদায় করা; এবং ইরাকবাসীদের মতানুসারে নাবিয পান করা, আসরের সালাত বিলম্বিত করা যতক্ষণ না কোনো বস্তুর ছায়া তার চারগুণ হয়, সাতটি প্রধান শহর ছাড়া জুমা জায়েজ না হওয়া, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং রমজানে সুবহে সাদিকের পর আহার করা। অতঃপর ইবনে হাজার বলেন, আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "যদি কোনো ব্যক্তি গান শোনা এবং স্ত্রীদের মলদ্বারে সঙ্গম করার ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের মত গ্রহণ করে, মুত'আ বিবাহ ও মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের মত গ্রহণ করে এবং মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে কুফাবাসীদের মত গ্রহণ করে, তবে সে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হবে।" তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এমনভাবে মাসআলার মিশ্রণ (تلفيق) করা যাবে না যাতে দুই ইমামের নিকট একটি অসম্ভব বাস্তবতা তৈরি হয়। বলা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ হলো একটি মাসআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব বাস্তবতা তৈরি হওয়া—যেমন ধারাবাহিকতা (ترتيب) ব্যতীত ওযু করা এবং এরপর প্রবহমান রক্ত বের হওয়া। তবে দুটি ভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে এমনটি নিষিদ্ধ নয়, যেমন শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী কাপড় পবিত্র করা এবং আবু হানিফা মাযহাব অনুযায়ী সালাত আদায় করা। এ বিষয়ে বলা যেতে পারে যে, এখানে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে; কারণ যদি এই শর্তের উদ্দেশ্য হয় যে, তার গৃহীত মতগুলোর সমষ্টি যেন সর্বসম্মত মতের বাইরে না যায়, তবে তা দুটি মাসআলার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, এই মাসআলাটি এককভাবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) থেকে বিচ্যুত না হওয়া, তবে এর পরিবর্তে এই শর্তারোপ করা যথেষ্ট যে, এটি এমন একটি মাযহাব হতে হবে যাতে ইজতিহাদের (إجتهاد) অবকাশ রয়েছে, যেমনটি সামনে আসবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, সে যে মাযহাব অনুসরণ করবে তা এমন হতে পারবে না যার ফলে বিচারকের রায় বাতিল (نقض) করতে হয়। এটি একটি যুক্তিযুক্ত মত এবং চারটি গ্রহণযোগ্য ও প্রসিদ্ধ মাযহাবের কোনো একটির তাকলীদ (تقليد) করলে এই সতর্কতা অর্জিত হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, যে মাসআলায় সে তার ইমাম ছাড়া অন্য কাউকে তাকলীদ (تقليد) করবে, সে ব্যাপারে তার অন্তর প্রশস্ত হতে হবে; এটি কেবল অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী (متبحر) ব্যক্তির ক্ষেত্রেই সম্ভব। আবার কেউ কেউ বলেন, যদি সে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং প্রসিদ্ধ মত অনুসরণ করে, তবে নিজ ইমামের মাযহাব থেকে বিচ্যুত হওয়া উত্তম, আর যদি এর বিপরীত হয় তবে তা মন্দ। এটিই তাদের রিসালাহসমূহে বর্ণিত বক্তব্যের পরিমার্জিত ও সম্পাদিত নির্যাস। বৈধতার ক্ষেত্রে আমি এই শর্তটিই পছন্দ করি যে, এর মাধ্যমে বিচারকের রায় বাতিল (نقض) হবে না; চাই তা দুটি এমন বিষয়ের সমষ্টির কারণে হোক যার প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে বিশুদ্ধ (صحيح), যেমন সাক্ষী বা ঘোষণা ছাড়াই বিবাহ সম্পন্ন করা, অথবা অন্য কোনো কারণে। আর নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরের প্রশস্ততা বজায় থাকার শর্ত রয়েছে, যা দলিলের অন্তর্নিহিত অর্থের কারণে হোক, কিংবা সালাফদের (سلف) মধ্যে এর ব্যাপক আমল থাকার কারণে, অথবা অধিকতর সতর্কতামূলক হওয়ার কারণে, কিংবা এমন কোনো সংকীর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য যেখানে শরিয়তের আনুগত্য করা সম্ভব হয় না; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন আমি তোমাদের কোনো আদেশ দিই, তখন সাধ্যানুসারে তা পালন করো।" এবং এ জাতীয় শরিয়তে গ্রহণযোগ্য অন্যান্য অর্থ, কেবল প্রবৃত্তি অনুসরণ বা দুনিয়া কামনার জন্য নয়। আর ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো যে, এতে অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে, ফলে বিচারক তার নিজস্ব মাযহাবের বিপরীতে ফয়সালা দেবেন; যেমনটি খিজানাতুর রিওয়ায়াত এবং কাশফুল কিনা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যখন কেউ কোনো বিষয়ে একজন ফকিহকে তাকলীদ (تقليد) করে, তখন তার জন্য কি অন্য ফকিহর দিকে ফিরে যাওয়া জায়েজ? এ মাসআলায় দুটি দিক রয়েছে: প্রথমত, সে যদি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব যেমন আবু হানিফা বা শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম-এর মাযহাব অনুসরণের আবশ্যকতা গ্রহণ না করে। দ্বিতীয়ত, সে যদি তা আবশ্যক করে নেয় এবং বলে, "আমি অমুক মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী (متبع)", তবে এ বিষয়ে...
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْوَجْه الأول قَالَ ابْن الْحَاجِب لَا يرجع بعد تَقْلِيده فِيمَا قلد اتِّفَاقًا وَفِي حكم آخر الْمُخْتَار الْجَوَاز لقَوْله تَعَالَى {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} فَالْقَوْل بِوُجُوب الرُّجُوع إِلَى من قلد أَولا فِي مَسْأَلَة يكون تَقْيِيد النَّص وَهُوَ يجْرِي مجْرى النّسخ على مَا تقرر فِي الْأُصُول وَلقَوْله صلى الله عليه وسلم أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ وَإِن الْعَوام فِي السّلف كَانُوا يستفتون الْفُقَهَاء من غير رُجُوع إِلَى معِين من غير إِنْكَار فَحل مَحل الْإِجْمَاع على الْجَوَاز كَذَا فِي شرح ابْن الْحَاجِب وَأما الْجَواب فِي الْوَجْه الثَّانِي وَهُوَ مَا إِذا الْتزم مذهبا معينا كَأبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ رحمهمَا الله تَعَالَى فقد أَشَارَ ابْن الْحَاجِب إِلَى الإختلاف فِي ذَلِك من اخْتِلَاف مذْهبه وَأَشَارَ إِلَى أَنه اخْتلف الْعلمَاء فِي ذَلِك على ثَلَاثَة أقاويل فَقيل لَا يجوز مُطلقًا وَقيل يجوز مُطلقًا القَوْل الثَّالِث أَن الحكم فِي هَذَا الْوَجْه وَالْوَجْه الأول سَوَاء فَلَا يجوز أَن يرجع عَنهُ بعد تَقْلِيده فِيمَا قلد أَي عمل بِهِ وَيجوز فِي غَيره وَفِي عُمْدَة الْأَحْكَام من الفتاوي الصُّوفِيَّة سُئِلَ عَن يَوْم عيد الْفطر إِنَّا نرى بعض النَّاس يتطوعون فِي الْجَامِع عِنْد الزَّوَال فَمَنعهُمْ عَن ذَلِك ونخبرهم عَن وُرُود النَّهْي عَن الصَّلَاة فِي الْأَوْقَات الثَّلَاثَة قَالَ أما الْمَنْع فَلَا كَيْلا يدْخل تَحت قَوْله تَعَالَى {أَرَأَيْت الَّذِي ينْهَى عبدا إِذا صلى} وَلَا يتَعَيَّن وَقت الزَّوَال بل عَسى أَن يكون قبله أَو بعده وَلَئِن كَانَ وقته فقد روى عَن أبي يُوسُف رحمه الله لَا يكره ذَلِك التَّطَوُّع عِنْد الزَّوَال يَوْم الْجُمُعَة وَالشَّافِعِيّ رحمه الله لَا يكره ذَلِك فِي جَمِيع الْأَيَّام فلئن اعترضت على هَذَا الْمصلى فَعَسَى أَن يجيبك أَنه تقلد فِي هَذِه الْمَسْأَلَة من يرى جَوَاز ذَلِك أَو يحْتَج عَلَيْك بِمَا احْتج بِهِ من اخْتَار ذَلِك فَلَيْسَ لَك أَن تنكر على من قلد مُجْتَهدا أَو احْتج بِدَلِيل وفيهَا أَيْضا من التَّجْنِيس والمزيد وَرُبمَا قَلّدهُ هَذَا الْمصلى فَلَا يُنكر على من فعل فعلا مُجْتَهدا أَو تقلد بمجتهد وَفِي الظَّهِيرِيَّة وَمن فعل فعلا مُجْتَهدا فِيهِ أَو قلد مُجْتَهدا فِي فعل مُجْتَهد فِيهِ فَلَا عَار وَلَا شناعة وَلَا إِنْكَار عَلَيْهِ وَفِي الْمِنْهَاج للبيضاوي لَو رأى الزَّوْج لفظا كِنَايَة ورأته الْمَرْأَة صَرِيحًا فَلهُ الطّلب وَلها الإمتناع فيرجعان إِلَى غَيرهمَا فَائِدَة اسْتشْكل رجل شَافِعِيّ الإختلاف بَين عبارتي الْأَنْوَار فأجبته بِمَا يحل الإختلاف فِي كتاب الْقَضَاء من كتاب الْأَنْوَار مَا حَاصله إِذا دونت هَذِه الْمذَاهب جَازَ للمقلد أَن ينْتَقل من مَذْهَب مُجْتَهد إِلَى مَذْهَب

প্রথম দিকটি হলো: ইবনে আল-হাজিব বলেছেন যে, কোনো বিষয়ে অনুসরণ (تقليد) করার পর সর্বসম্মতভাবে (اتفاقا) তা থেকে আর ফিরে আসা যাবে না। আর অন্য কোনো বিধানের ক্ষেত্রে পছন্দনীয় (مختار) মত হলো ফিরে আসা বৈধ (جواز), কেননা মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো।" সুতরাং কোনো মাসআলায় প্রথম যাকে অনুসরণ করা হয়েছে তার নিকটেই ফিরে যাওয়া আবশ্যক হওয়া সংক্রান্ত অভিমতটি হবে নস-এর সীমাবদ্ধকরণ (تقييد النص); আর উসুল শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী এটি রহিতকরণ (نسخ)-এর সমপর্যায়ভুক্ত হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, সঠিক পথ পাবে।" এছাড়া সালাফগণের যুগে সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট কোনো ফকিহর নিকট ফিরে যাওয়া ছাড়াই বিভিন্ন ফকিহর কাছ থেকে ফতোয়া গ্রহণ করতেন এবং এতে কোনো আপত্তি করা হতো না। ফলে এটি বৈধতার (جواز) ওপর ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। ইবনে আল-হাজিবের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে।

আর দ্বিতীয় দিকের উত্তর হলো—যখন কেউ কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব (مذهب) অনুসরণ আবশ্যক করে নেয়, যেমন ইমাম আবু হানিফা বা ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর মাযহাব, তবে ইবনে আল-হাজিব তার মাযহাবের মতপার্থক্যের ভিত্তিতে এ বিষয়েও মতভেদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি নির্দেশ করেছেন যে, এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মত দিয়েছেন: কারো মতে এটি মোটেও বৈধ নয়, কারো মতে এটি সাধারণভাবে বৈধ (جائز)। তৃতীয় মতটি হলো: এই ক্ষেত্রের এবং প্রথম ক্ষেত্রের বিধান একই। অর্থাৎ, কোনো বিষয়ে অনুসরণ (تقليد) করার পর—যার ওপর সে আমল করেছে—তা থেকে আর ফিরে আসা যাবে না, তবে অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তা বৈধ (جائز)।

ফাতাওয়ায়ে সুফিয়া-এর অন্তর্ভুক্ত উমদাতুল আহকাম-এ বর্ণিত হয়েছে: ঈদুল ফিতরের দিন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, আমরা কিছু মানুষকে দেখি যারা দ্বিপ্রহরের সময় মসজিদে নফল নামাজ আদায় করছেন; আমরা কি তাদের বাধা দেব এবং তিন সময়ে নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা (نهي) সম্পর্কে অবহিত করব? তিনি বললেন: বাধা দেওয়া যাবে না, যাতে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়— "তুমি কি তাকে দেখেছ, যে এক বান্দাকে বাধা দেয় যখন সে নামাজ পড়ে?" আর জাওয়ালের সময়টি সুনির্দিষ্ট নয়, বরং হতে পারে এটি তার আগে বা পরে। আর যদি সেটি জাওয়ালের সময়ই হয়, তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জুমার দিন জাওয়ালের সময় নফল নামাজ পড়া অপছন্দনীয় (مكروه) নয়। আর ইমাম শাফিঈ (রহ.) সকল দিনেই একে অপছন্দনীয় (مكروه) মনে করেন না। সুতরাং আপনি যদি এই নামাজির ওপর আপত্তি করেন, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি আপনাকে উত্তর দেবেন যে, তিনি এই মাসআলায় এমন কাউকে অনুসরণ (تقليد) করেছেন যিনি একে বৈধ (جواز) মনে করেন অথবা তিনি আপনার বিপক্ষে সেই দলিল পেশ করবেন যা এই মত গ্রহণকারী ব্যক্তি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। অতএব, যিনি কোনো মুজতাহিদকে (مجتهد) অনুসরণ করেছেন অথবা দলিলের ভিত্তিতে কাজ করেছেন, তার ওপর আপত্তি করার অধিকার আপনার নেই।

সেখানে আত-তাজনীস ওয়াল মাজীদ থেকেও উদ্ধৃত হয়েছে: সম্ভবত এই নামাজি কাউকে অনুসরণ করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি ইজতিহাদলব্ধ (مجتهد فيه) কোনো কাজ করে অথবা কোনো মুজতাহিদকে (مجتهد) অনুসরণ করে, তার ওপর আপত্তি করা যাবে না। আয-জাহীরিয়্যাহ-তে আছে: যে ব্যক্তি ইজতিহাদলব্ধ (مجتهد فيه) কোনো কাজ করে অথবা ইজতিহাদলব্ধ কোনো বিষয়ে মুজতাহিদকে (مجتهد) অনুসরণ করে, তবে তার জন্য কোনো লজ্জা, নিন্দা বা আপত্তির অবকাশ নেই। বায়দাবীর আল-মিনহাজ-এ আছে: স্বামী যদি (তালাকের) কোনো শব্দকে পরোক্ষ (كناية) মনে করেন এবং স্ত্রী তাকে স্পষ্ট (صريح) মনে করেন, তবে স্বামীর জন্য তা তলব করার এবং স্ত্রীর জন্য তা অস্বীকার করার সুযোগ রয়েছে; এমতাবস্থায় তারা অন্য কারো নিকট ফয়সালার জন্য যাবেন।

বিশেষ জ্ঞাতব্য: একজন শাফিঈ ব্যক্তি আল-আনওয়ার গ্রন্থের দুটি ইবারতের মধ্যে অসংগতি নিয়ে জটিলতায় পড়েছিলেন। আমি তাকে এর সমাধান দিয়েছি যা আল-আনওয়ার গ্রন্থের কিতাবুল কাজা-তে মতভেদ নিরসনের জন্য রয়েছে। তার সারসংক্ষেপ হলো: যখন এই মাযহাবগুলো (مذاهب) সংকলিত হয়ে গেছে, তখন কোনো অনুসরণকারীর (مقلد) জন্য একজন মুজতাহিদের (مجتهد) মাযহাব (مذهب) থেকে অন্য মাযহাবে (مذهب) স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ (جائز)।

(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
آخر وَكَذَا لَو قلد مُجْتَهدا فِي بعض الْمسَائِل وَآخر فِي الْبَعْض الآخر حَتَّى لَو اخْتَار من كل مَذْهَب الأهون كالحنفي إِذا إقتصد وَأَرَادَ أَن يَأْخُذ بالشافعي رحمه الله لِئَلَّا يتَوَضَّأ أَو الشَّافِعِي مس فرجه أَو امْرَأَة وَأَرَادَ أَن يَأْخُذ بالحنفي لِئَلَّا يتَوَضَّأ وَغير ذَلِك من الْمسَائِل جَازَ هَذَا حَاصِل كَلَام صَاحب الْأَنْوَار فِي كتاب الْقَضَاء وَقَالَ فِي بَاب الإحتساب لَو رأى الشَّافِعِي شافعيا يشرب النَّبِيذ أَو ينْكح بِلَا ولي ويطؤها فَلهُ أَن يُنكر لِأَن على كل مقلد اتِّبَاع مقلده ويعصي بالمخالفة وَلَو رأى الشَّافِعِي الْحَنَفِيّ يَأْكُل الضَّب أَو مَتْرُوك التَّسْمِيَة عمدا فَلهُ أَن يَقُول إِمَّا أَن تعتقد أَن الشَّافِعِي أولى بالإتباع وَإِمَّا أَن تتْرك هَذَا كَلَامه فِي الإحتساب وَبَين الْقَوْلَيْنِ اخْتِلَاف أَقُول وَحل الإختلاف عِنْدِي وَالله أعلم أَن معنى قَوْله يَعْصِي بالمخالفة أَنه يَعْصِي بالمخالفة إِذا عزم على تَقْلِيده فِي جَمِيع الْمسَائِل أَو فِي هَذِه الْمَسْأَلَة ثمَّ أقدم على الْمُخَالفَة فَهَذِهِ مَعْصِيّة بِلَا شكّ وَأما إِذا قلد فِي هَذِه الْمَسْأَلَة غَيره فَذَلِك الْغَيْر هُوَ مقلده وَلم يُخَالف مقلده ونقول الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة مَبْنِيَّة على قَول الْغَزالِيّ وشرذمة وَالْأولَى على قَول الْجُمْهُور فَافْهَم فَإِن حل هَذَا الإختلاف قد صَعب على بعض المصنفين

مَسْأَلَة اعْلَم أَن تَقْلِيد الْمُجْتَهد على وَجْهَيْن وَاجِب وَحرَام

فأحدهما أَن يكون من اتِّبَاع الرِّوَايَة دلَالَة تَفْصِيله أَن الْجَاهِل بِالْكتاب وَالسّنة لَا يَسْتَطِيع بِنَفسِهِ التتبع وَلَا الإستنباط فَكَانَ وظيفته أَن يسْأَل فَقِيها مَا حكم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي مَسْأَلَة كَذَا وَكَذَا فَإِذا أخبر تبعه سَوَاء كَانَ مأخوذا من صَرِيح نَص أَو مستنبطا مِنْهُ اَوْ مقيسا على الْمَنْصُوص فَكل ذَلِك رَاجع إِلَى الرِّوَايَة عَنهُ صلى الله عليه وسلم وَلَو دلَالَة وَهَذَا قد اتّفقت الْأمة على صِحَّته قرنا بعد قرن بل الْأُمَم كلهَا أنفقت على مثله فِي شرائعهم وأمارة هَذَا التَّقْلِيد أَن يكون عمله بقول الْمُجْتَهد كالمشروط بِكَوْنِهِ مُوَافقا للسّنة فَلَا يزَال متفحصا عَن السّنة بِقدر الْإِمْكَان فَمَتَى ظهر حَدِيث يُخَالف قَوْله هَذَا أَخذ بِالْحَدِيثِ وَإِلَيْهِ أَشَارَ الْأَئِمَّة قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله إِذا صَحَّ الحَدِيث فَهُوَ مذهبي وَإِذا رَأَيْتُمْ كَلَامي يُخَالف الحَدِيث فأعملوا بِالْحَدِيثِ واضربوا بكلامي الْحَائِط وَقَالَ مَالك رحمه الله مَا من أحد إِلَّا ومأخوذ من كَلَامه ومردود عَلَيْهِ
অপর একটি বিষয়: অনুরূপভাবে যদি কেউ কিছু মাসআলায় এক মুজতাহিদের অনুসরণ করে এবং অন্য কিছু মাসআলায় অপর একজনের অনুসরণ করে, এমনকি যদি সে প্রতিটি মাজহাব থেকে সহজটি গ্রহণ করে; যেমন একজন হানাফি ব্যক্তি যদি পরিমিত রক্তমোক্ষণ (হিজামা) করে এবং এরপর শাফিঈ রহ.-এর মত গ্রহণ করতে চায় যেন তাকে অজু করতে না হয়, অথবা একজন শাফিঈ ব্যক্তি যদি তার লজ্জাস্থান বা কোনো নারীকে স্পর্শ করে এবং হানাফি মাজহাব গ্রহণ করতে চায় যেন তাকে অজু করতে না হয়— এই জাতীয় মাসায়েলগুলোতে তা বৈধ। এটিই কিতাবুল কাজা-তে ‘সাহিবুল আনোয়ার’-এর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। আর তিনি ‘বাবুল ইহতিসাব’-এ বলেছেন, যদি কোনো শাফিঈ ব্যক্তি অন্য কোনো শাফিঈকে নাবিয পান করতে দেখে অথবা অভিভাবকহীন বিবাহ করতে ও সহবাস করতে দেখে, তবে তার জন্য তা নিষেধ করার অধিকার রয়েছে। কারণ প্রত্যেক মুকাল্লিদ (অনুসরণকারী)-এর জন্য তার অনুসৃত ইমামের অনুসরণ করা আবশ্যক এবং এর বিরোধিতা করা গুনাহ। আর যদি কোনো শাফিঈ ব্যক্তি কোনো হানাফিকে গুইসাপ খেতে দেখে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ না বলে জবাই করা পশু খেতে দেখে, তবে তার বলার অধিকার আছে যে, হয় আপনি বিশ্বাস করুন যে শাফিঈর অনুসরণ করাই অধিক উত্তম, নতুবা এটি বর্জন করুন। এটি ইহতিসাব অধ্যায়ে তার বক্তব্য। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আমি বলি, আমার মতে এই মতভেদের সমাধান হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—তার এই কথার অর্থ ‘বিরোধিতা করলে গুনাহ হবে’ তখন প্রযোজ্য, যখন সে সমস্ত মাসআলায় অথবা নির্দিষ্ট এই মাসআলায় সেই ইমামের অনুসরণের সংকল্প করে এবং এরপর তা ভঙ্গ করে; তবে এটি নিঃসন্দেহে গুনাহ। কিন্তু যদি সে এই মাসআলায় অন্য কারো অনুসরণ করে, তবে সেই অন্য ব্যক্তিই তার জন্য অনুসৃত ইমাম এবং সে নিজের অনুসৃত ইমামের বিরোধিতা করেনি। আমরা বলি যে, দ্বিতীয় মাসআলাটি ইমাম গাজালি ও একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর প্রথমটি জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতের ওপর ভিত্তি করে। বিষয়টি অনুধাবন করুন, কেননা এই বিরোধের সমাধান করা কোনো কোনো লেখকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মাসআলা: জেনে রাখুন যে, মুজতাহিদের অনুসরণ দুই প্রকার: ওয়াজিব (আবশ্যক) ও হারাম (নিষিদ্ধ)।

এর মধ্যে একটি হলো বর্ণনা অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হলো—কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে নিজে নিজে অনুসন্ধান বা মাসআলা উদ্ভাবন করা সম্ভব নয়। ফলে তার দায়িত্ব হলো কোনো ফকিহকে জিজ্ঞাসা করা যে, অমুক অমুক মাসআলায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিধান কী? যখন তিনি তাকে অবহিত করবেন, তখন তিনি তার অনুসরণ করবেন; চাই তা সুস্পষ্ট দলিল থেকে গৃহীত হোক কিংবা তা থেকে উদ্ভাবিত হোক অথবা প্রমাণিত বিধানের ওপর কিয়াসকৃত হোক। এই সব কিছুই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যদিও তা পরোক্ষভাবে হয়। উম্মাহর আলেমগণ যুগ যুগ ধরে এর বৈধতার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, বরং সমস্ত জাতিই তাদের শরয়ি বিধানে এমন বিষয়ের ওপর একমত হয়েছে। এই অনুসরণের চিহ্ন হলো—মুজতাহিদের বক্তব্যের ওপর আমল করা সুন্নাহর অনুগামী হওয়ার শর্তযুক্ত হবে। ফলে সে সাধ্যমতো সুন্নাহর অনুসন্ধান করতে থাকবে। যখনই এমন কোনো হাদিস প্রকাশ পাবে যা তার অনুসৃত ব্যক্তির কথার পরিপন্থী, তখন সে হাদিসটি গ্রহণ করবে। আইম্মায়ে কেরাম একথাই ইঙ্গিত করেছেন। ইমাম শাফিঈ রহ. বলেছেন, "যখন হাদিস সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত হবে, সেটিই আমার মাজহাব।" তিনি আরও বলেছেন, "যখন দেখবে আমার কথা হাদিসের পরিপন্থী, তখন হাদিসের ওপর আমল করো এবং আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে মারো।" ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কেউ নেই যার প্রতিটি কথা গ্রহণ করা হবে কিংবা কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করা হবে না।"
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
إِلَّا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله لَا يَنْبَغِي لمن لم يعرف دليلي أَن يُفْتِي بكلامي وَقَالَ أَحْمد لَا تقلدني وَلَا تقلدن مَالِكًا وَلَا غَيره وَخذ الْأَحْكَام من حَيْثُ أخذُوا من الْكتاب وَالسّنة

الْوَجْه الثَّانِي أَن يظنّ بفقيه أَنه بلغ الْغَايَة القصوى فَلَا يُمكن أَن يخطىء فمهما بلغه حَدِيث صَحِيح صَرِيح يُخَالف مقَالَته لم يتْركهُ أَو ظن أَنه لما قَلّدهُ كلفه الله بمقالته وَكَانَ كالسفيه الْمَحْجُور عَلَيْهِ فَإِن بلغه حَدِيث واستقين بِصِحَّتِهِ لم يقبله لكَون ذمَّته مَشْغُولَة بالتقليد فَهَذَا اعْتِقَاد فَاسد وَقَول كاسد لَيْسَ لَهُ شَاهد من النَّقْل وَالْعقل وَمَا كَانَ أحد من الْقُرُون السَّابِعَة يفعل ذَلِك وَقد كذب فِي ظَنّه من لَيْسَ بمعصوم من الْخَطَأ مَعْصُوما حَقِيقَة أَو مَعْصُوما فِي حق الْعَمَل بقوله وَفِي ظَنّه أَن الله تَعَالَى كلفه بقوله وَأَن ذمَّته مَشْغُولَة بتقليده وَفِي مثله نزل قَول تَعَالَى {وَإِنَّا على آثَارهم مقتدون} وَهل كَانَ تحريفات الْملَل السَّابِقَة إِلَّا من هَذَا الْوَجْه

مَسْأَلَة اخْتلفُوا فِي الْفَتْوَى بالروايات الشاذة المهجورة فِي خزانَة الرِّوَايَات فِي السِّرَاجِيَّة ثمَّ الْفَتْوَى على الاطلاق على قَول أبي حنيفَة رحمه الله ثمَّ بقول أبي سَوف رحمه الله ثمَّ بقول مُحَمَّد بن الْحسن الشَّيْبَانِيّ رَحمَه الله تَعَالَى ثمَّ بقول زفر بن هُذَيْل وَالْحسن بن زِيَاد رحمهمَا الله تَعَالَى وَقيل إِذا كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله فِي جَانب وصاحباه فِي جَانب فالمفتي بِالْخِيَارِ وَالْأول أصح إِذا لم يكن الْمُفْتِي مُجْتَهدا لِأَنَّهُ كَانَ أعلم زَمَانه حَتَّى قَالَ الشَّافِعِي النَّاس كلهم عِيَال أبي حنيفَة رحمه الله فِي الْفِقْه فِي الْمُضْمرَات وَقيل إِذا كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله فِي جَانب وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد رحمهمَا الله فِي جَانب فالمفتي بِالْخِيَارِ إِن شَاءَ أَخذ بقوله وَإِن شَاءَ اخذ بقولهمَا وَإِن كَانَ أَحدهمَا مَعَ أبي حنيفَة يَأْخُذ بقولهمَا الْبَتَّةَ إِلَّا إِذا اصْطلحَ الْمَشَايِخ على الْأَخْذ بقول ذَلِك الْوَاحِد فَيتبع اصطلاحهم كَمَا اخْتَار الْفَقِيه أَبُو اللَّيْث قَول زفر فِي قعُود الْمَرِيض للصَّلَاة أَنه يقْعد الْمُصَلِّي فِي التَّشَهُّد لِأَنَّهُ أيسر على الْمَرِيض وَإِن كَانَ قَول أَصْحَابنَا أَن يقْعد الْمَرِيض فِي حَال الْقيام متربعا أَو مُحْتَبِيًا ليَكُون فرقا بَين الْقعدَة وَالْقعُود الَّذِي هُوَ فِي حكم الْقيام وَلَكِن هَذَا يشق على الْمَرِيض لِأَنَّهُ لم يتعود هَذَا الْقعُود وَكَذَلِكَ
...ব্যতীত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "যার আমার দলিল জানা নেই, তার জন্য আমার কথা দিয়ে ফতোয়া প্রদান করা সমীচীন নয়।" ইমাম আহমদ বলেছেন, "তোমরা আমার তাকলিদ করো না, মালেকের তাকলিদ করো না এবং অন্য কারোও না; বরং তারা যেখান থেকে শরয়ি বিধান গ্রহণ করেছেন, তোমরাও সেখান থেকেই তা গ্রহণ করো।"

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো কোনো ফকিহ সম্পর্কে এমন ধারণা করা যে, তিনি জ্ঞানের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে গেছেন এবং তাঁর পক্ষে ভুল করা অসম্ভব। ফলে যখনই তাঁর কাছে কোনো সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট হাদিস পৌঁছে যা উক্ত ফকিহের মতের পরিপন্থী হয়, তখন তিনি সেই হাদিস ত্যাগ করেন না। অথবা তিনি ধারণা করেন যে, যেহেতু তিনি তাঁর তাকলিদ করেছেন, তাই আল্লাহ তাকে তাঁর কথার ওপরই দায়বদ্ধ করেছেন এবং তিনি যেন একজন অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণাধীন নির্বোধ ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যান। এমতাবস্থায় যদি তার কাছে কোনো হাদিস পৌঁছে এবং তিনি এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন, তবুও তিনি তা গ্রহণ করেন না এই অজুহাতে যে, তার জিম্মা বা দায়বদ্ধতা তাকলিদ দ্বারা আবদ্ধ। এটি একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অসার কথা, যার সপক্ষে কিতাব বা যুক্তির কোনো প্রমাণ নেই। পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের (সালাফে সালেহীন) কেউ এমনটি করতেন না। তিনি যে ব্যক্তিকে ভুল থেকে মুক্ত নন তাকে ভুলত্রুটিহীন (معصوم) মনে করে অথবা তার কথার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে তাকে নির্ভুল মনে করে স্বীয় ধারণায় মিথ্যাচার করেছেন। তিনি মনে করেন যে, মহান আল্লাহ তাকে সেই ফকিহের কথার অনুসারী করেছেন এবং তার জিম্মা তার তাকলিদের মাধ্যমে আবদ্ধ। এ জাতীয় ব্যক্তিদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: "আমরা তো আমাদের পিতৃপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।" আর পূর্ববর্তী ধর্মাবলম্বীদের পথভ্রষ্টতা কি এই রূপ ধারণার কারণেই ছিল না?

মাসয়ালা: 'খিজানাতুর রিওয়ায়াত' ও 'সিরাজিয়া' গ্রন্থে বর্ণিত বিরল (شاذ) ও পরিত্যক্ত বর্ণনাসমূহের দ্বারা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। অতঃপর সাধারণ নিয়ম হলো—ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমত আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মত, এরপর আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মত, এরপর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মত, এবং পরবর্তীতে জুফার ইবনুল হুজাইল ও হাসান ইবনু জিয়াদ (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর মত গ্রহণ করা হবে। কেউ কেউ বলেছেন, যদি আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) একদিকে থাকেন এবং তাঁর দুই শিষ্য (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) অন্যদিকে থাকেন, তবে মুফতি যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখেন। তবে প্রথম অভিমতটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح) যখন মুফতি নিজে মুজতাহিদ (مجتهد) না হন; কেননা তিনি স্বীয় যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ছিলেন। এমনকি ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "ফিকহের ক্ষেত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।" 'মুদমারাতে' বলা হয়েছে—যদি আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) একদিকে থাকেন এবং আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহিমাহুমাল্লাহ) অন্যদিকে থাকেন, তবে মুফতির ইখতিয়ার রয়েছে, তিনি চাইলে ইমামের কথা নিতে পারেন অথবা তাঁর দুই শিষ্যের কথা নিতে পারেন। তবে যদি তাঁদের কোনো একজন আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে থাকেন, তবে অবশ্যই তাঁদের দুজনের কথা গ্রহণ করা হবে। তবে যদি মাশায়েখগণ সেই একজনের মতের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেন, তবে তাঁদের সেই পরিভাষা বা ঐকমত্যই অনুসরণ করা হবে। যেমনটি ফকিহ আবু লাইস অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের বসার ক্ষেত্রে ইমাম জুফারের মতকে গ্রহণ করেছেন যে, অসুস্থ ব্যক্তি তাশাহহুদের ন্যায় বসবে; কারণ এটি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সহজতর। যদিও আমাদের সাথীদের অভিমত হলো যে, অসুস্থ ব্যক্তি কিয়ামের অবস্থায় পালথি গেঁথে বসবেন যাতে সাধারণ বসা এবং কিয়ামের স্থলাভিষিক্ত বসার মধ্যে পার্থক্য থাকে। কিন্তু এটি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কষ্টকর হতে পারে কারণ তিনি এ ধরনের বসায় অভ্যস্ত নন। একইভাবে...
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
اخْتَارُوا تضمين السَّاعِي إِلَى السُّلْطَان بِغَيْر إِذن وَهَذَا قَول زفر رَحمَه الله تَعَالَى سدا لباب السّعَايَة وَإِن كَانَ قَول أَصْحَابنَا لَا يجب الضَّمَان لِأَنَّهُ لم يتْلف عَلَيْهِ مَالا وَيجوز للمشايخ أَن يَأْخُذُوا بقول وَاحِد من أَصْحَابنَا عملا لمصْلحَة الزَّمَان فِي القنيه فِي بَاب مَا يتَعَلَّق بالمفتي من النَّوَادِر قَالَ رضي الله عنه وَالْفَتْوَى فِيمَا يتَعَلَّق بِالْقضَاءِ على قَول أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى لزِيَادَة تجربته وَفِي الْمُضْمرَات وَلَا يجوز للمفتي أَن يُفْتِي بِبَعْض الْأَقَاوِيل المهجورة لجر مَنْفَعَة لِأَن ضَرَر ذَلِك فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة أتم وأعم بل يخْتَار أقاويل الْمَشَايِخ واختيارهم ويقتدي بسير السّلف ويكتفي بإحراز الْفَضِيلَة والشرف فِي الْقنية فِي كتاب أدب القَاضِي فِي بَاب مسَائِل مُتَفَرِّقَة مَسْأَلَة الْمسَائِل الَّتِي تتَعَلَّق بِالْقضَاءِ فالفتوى فِيهَا على قَول أبي يُوسُف لِأَنَّهُ حصل لَهُ زِيَادَة علم بالتجربة وَفِي عُمْدَة الْأَحْكَام من كشف الْبَزْدَوِيّ يسْتَحبّ للمفتي الْأَخْذ بالرخص تيسيرا على الْعَوام مثل التَّوَضُّؤ بِمَاء الْحمام وَالصَّلَاة فِي الْأَمَاكِن الطاهرة بِدُونِ الْمصلى وَعدم الِاحْتِرَاز عَن طين الشوارع فِي مَوضِع حكمُوا بِطَهَارَتِهِ فِيهَا وَلَا يَلِيق ذَلِك بِأَهْل الْعُزْلَة بل الْأَخْذ بالإحتياط وَالْعَمَل بالعزيمة أولى بهم وَفِي الْقنية ثمَّ يَنْبَغِي للمفتي أَن يُفْتِي النَّاس بِمَا هُوَ أسهل عَلَيْهِم كَذَا ذكره الْبَزْدَوِيّ فِي شرح الْجَامِع الصَّغِير يَنْبَغِي للمفتي أَن يَأْخُذ بالأيسر فِي حق غَيره خُصُوصا فِي حق الضُّعَفَاء لقَوْله عليه الصلاة والسلام لأبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ ومعاذ حِين بعثهما إِلَى الْيمن يسرا وَلَا تعسرا وَفِي عُمْدَة الْأَحْكَام فِي كتاب الْكَرَاهِيَة سُؤْر الْكَلْب وَالْخِنْزِير نجس خلافًا لمَالِك وَغَيره وَلَو أفتى بقول مَالك جَازَ وَفِي الْقنية فَقِيه يُفْتِي بِمذهب سعيد بن الْمسيب ويزوج للزَّوْج الأول بقيت مُطلقَة بِثَلَاث تَطْلِيقَات كَمَا كَانَت وَيُعَزر الْفَقِيه وفقيه يحتال فِي الطلقات الثَّلَاث وَيَأْخُذ الرشا بذلك ويزوجها للْأولِ بِدُونِ دُخُول الثَّانِي هَل يَصح النِّكَاح وَمَا جَزَاء من يفعل ذَلِك قَالُوا يسود وَيبعد فِي الفتاوي الإعتمادية من فتاوي السَّمرقَنْدِي أَن سعيد بن الْمسيب رَجَعَ عَن قَوْله إِن دُخُول الْمُحَلّل لَيْسَ بِشَرْط فِي التَّحْلِيل فَلَو قضى بِهِ قَاض لَا ينفذ قَضَاؤُهُ وَلَو حكم بِهِ فَقِيه لَا يَصح ويعزز الْفَقِيه وَفِي التُّحْفَة شرح الْمِنْهَاج نقل الْغَزالِيّ الْإِجْمَاع على تخير الْمُقَلّد بَين قولي إِمَامه أَي على جِهَة الْبَدَل لَا الْجمع إِذا لم يظْهر تَرْجِيح أَحدهمَا
তারা সুলতানের কাছে অনুমতি ব্যতীত অভিযোগকারীর (الساعي) ওপর ক্ষতিপূরণ (تضمিন) আরোপ করাকে গ্রহণ করেছেন। এটি ইমাম যুফর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অভিমত, যা চোগলখুরির পথ বন্ধ করার জন্য। যদিও আমাদের হানাফী ইমামদের অভিমত হলো যে ক্ষতিপূরণ (تضمিন) ওয়াজিব নয়, কারণ সে সরাসরি কারো সম্পদ নষ্ট করেনি। এবং সমকালীন জনকল্যাণের স্বার্থে মাশায়েখদের জন্য আমাদের ইমামদের যেকোনো একজনের অভিমত গ্রহণ করা বৈধ। 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থের মুফতি সংশ্লিষ্ট বিরল মাসআলাসমূহ অধ্যায়ে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, বিচারকার্য সংক্রান্ত বিষয়ে ইমাম আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতানুসারে ফতোয়া প্রদান করা হবে, কারণ এ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা অধিক। 'আল-মুতমারাত' গ্রন্থে উল্লেখ আছে, কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মুফতির জন্য বর্জিত (مهجورة) কিছু উক্তির ভিত্তিতে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়। কারণ এর ক্ষতি দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত ভয়াবহ ও ব্যাপক। বরং তিনি মাশায়েখদের উক্তি ও তাঁদের পছন্দসমূহকে গ্রহণ করবেন এবং সালাফদের আদর্শ অনুসরণ করবেন, আর ফজিলত ও মর্যাদা অর্জনেই তুষ্ট থাকবেন। 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থের 'আদাবুল কাজী' কিতাবের বিবিধ মাসআলা অধ্যায়ে বলা হয়েছে, বিচারকার্য সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহে ইমাম আবু ইউসুফের অভিমতের ওপর ফতোয়া হবে, কারণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর বিশেষ জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। কাশফুল বাজদাবীর 'উমদাতুল আহকাম'-এ আছে, সাধারণ মানুষের জন্য সহজকরণের উদ্দেশ্যে মুফতির জন্য শিথিলতা (رخص) গ্রহণ করা মুস্তাহাব। যেমন হাম্মামের পানি দিয়ে অজু করা, জায়নামাজ ব্যতীত পবিত্র স্থানে নামাজ পড়া এবং রাস্তার কাদা থেকে বেঁচে না থাকা, যে স্থানে ফকিহগণ সেটির পবিত্রতার হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু নির্জনতা অবলম্বনকারীদের জন্য এটি শোভনীয় নয়; বরং সতর্কতা (احتياط) অবলম্বন এবং মূল বিধানের (عزيمة) ওপর আমল করা তাদের জন্য অধিক উত্তম। 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থে আছে, অতঃপর মুফতির উচিত মানুষের জন্য যা সহজতর সেই অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া। ইমাম বাজদাবী 'শারহুল জামিউস সাগির' গ্রন্থে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, অন্যদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে দুর্বলদের জন্য সহজতর বিষয়টি গ্রহণ করা মুফতির জন্য সমীচীন। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু মুসা আল-াশআরি ও মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না।" 'উমদাতুল আহকাম'-এর 'কিতাবুল কারাহিয়্যাহ'-তে আছে, কুকুর ও শুকরের ঝুটা অপবিত্র, যদিও ইমাম মালিক ও অন্যান্যের ভিন্নমত রয়েছে। তবে যদি কেউ ইমাম মালিকের মতানুসারে ফতোয়া দেয় তবে তা জায়েজ। 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থে আছে, কোনো ফকিহ যদি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেন এবং স্ত্রীকে প্রথম স্বামীর জন্য বিবাহযোগ্য সাব্যস্ত করেন (তিন তালাকের পর দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস ছাড়াই), তবে সে তিন তালাকপ্রাপ্তাই থাকবে এবং উক্ত ফকিহকে শাস্তিমূলক শাস্তি (تعزير) প্রদান করা হবে। আর যে ফকিহ তিন তালাকের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং এর বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করে দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস ছাড়াই তাকে প্রথম স্বামীর জন্য বিবাহযোগ্য করে দেয়, তার সেই নিকাহ কি সহিহ হবে? এবং যে ব্যক্তি এরূপ করে তার শাস্তি কী? তারা বলেছেন: তাকে লাঞ্ছিত করা হবে এবং সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে। ফাতাওয়া সামারকান্দি থেকে 'ফাতাওয়া আল-ইতিমাদিয়্যাহ'-তে বর্ণিত হয়েছে যে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব তাঁর এই উক্তি থেকে ফিরে এসেছিলেন যে হালালা করার জন্য মুহাল্লিল (দ্বিতীয় স্বামী)-এর সহবাস শর্ত নয়। সুতরাং কোনো বিচারক যদি এর ভিত্তিতে ফায়সালা দেন তবে তা কার্যকর হবে না এবং কোনো ফকিহ এর ভিত্তিতে বিধান দিলে তা সহিহ হবে না এবং উক্ত ফকিহকে শাস্তিমূলক শাস্তি (تعزير) দেওয়া হবে। 'আত-তুহফাহ শারহুল মিনহাজ' গ্রন্থে আছে, ইমাম গাজালি এই বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, মুকাল্লিদ তার ইমামের দুটি উক্তির মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার রাখে, অর্থাৎ তা বিকল্প হিসেবে (একটি গ্রহণ), দুটিকে একত্র করার জন্য নয়, যতক্ষণ না কোনো একটির অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَكَأَنَّهُ أَرَادَ إِجْمَاع أَئِمَّة مذْهبه وَكَيف وَمُقْتَضى مَذْهَبنَا كَمَا قَالَه السُّبْكِيّ منع ذَلِك فِي الْقَضَاء والإفتاء دون الْعَمَل لنَفسِهِ وَبِه يجمع بَين القَوْل الْمَاوَرْدِيّ يجوز عندنَا وانتصر لَهُ الْغَزالِيّ كَمَا يجوز لمن أَدَّاهُ اجْتِهَاده إِلَى تَسَاوِي جِهَتَيْنِ أَن يُصَلِّي إِلَى أَيهمَا شَاءَ إِجْمَاعًا وَقَول الإِمَام يمْتَنع إِن كَانَا فِي حكمين متضادين كإيجاب وَتَحْرِيم بِخِلَاف نَحْو خِصَال الْكَفَّارَة وأجرى السُّبْكِيّ ذَلِك وتبعوه فِي الْعَمَل بِخِلَاف الْمذَاهب الْأَرْبَعَة أَي مِمَّا علمت نسبته لمن يجوز تَقْلِيده وَجَمِيع شُرُوطه عِنْده وَحمل على ذَلِك قَول ابْن الصّلاح لَا يجوز تَقْلِيد غير الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة أَي فِي قَضَاء وإفتاء وَمحل ذَلِك وَغَيره من صور التَّقْلِيد مَا لم يتتبع الرُّخص بِحَيْثُ تنْحَل ربقة التَّقْلِيد عَن عُنُقه وَإِلَّا أَثم بِهِ بل قيل فسق وَهُوَ وجيه قيل مَحل ضعفه أَن يتتبعها من الْمذَاهب الْمُدَوَّنَة وَإِلَّا فسق قطعا انْتهى

‌‌فصل فِي الْعَاميّ

 

اعْلَم أَن الْعَاميّ الصّرْف لَيْسَ لَهُ مَذْهَب وَإِنَّمَا مذْهبه فَتْوَى الْمُفْتِي فِي الْبَحْر الرَّائِق لَو احْتجم أَو اغتاب فَظن أَنه يفطره ثمَّ أكل إِن لم يستفت فَقِيها وَلَا بلغه الْخَبَر فَعَلَيهِ الْكَفَّارَة لِأَنَّهُ مُجَرّد جهل وَأَنه لَيْسَ بِعُذْر فِي دَار الْإِسْلَام وَإِن استفتى فَقِيها فأفتاه لَا كَفَّارَة عَلَيْهِ لِأَن الْعَاميّ يجب عَلَيْهِ تَقْلِيد الْعَالم إِذا كَانَ يعْتَمد على فتواه فَكَانَ مَعْذُورًا فِيمَا صنع وَإِن كَانَ الْمُفْتِي مخطئا فِيمَا أفتى وَإِن لم يستفت وَلكنه بلغه الْخَبَر وَهُوَ قَوْله صلى الله عليه وسلم أفطر الحاجم والمحجوم وَقَوله عليه الصلاة والسلام الْغَيْبَة تفطر الصَّائِم وَلم يعرف النّسخ وَلَا تَأْوِيله لَا كَفَّارَة عَلَيْهِ عِنْدهمَا لِأَن ظَاهر الحَدِيث وَاجِب الْعَمَل بِهِ خلافًا لأبي يُوسُف لِأَنَّهُ لَيْسَ للعامي الْعَمَل بِالْحَدِيثِ لعدم علمه بالناسخ والمنسوخ وَلَو لمس امْرَأَة أَو قبلهَا بِشَهْوَة أَو اكتحل فَظن أَن ذَلِك يفْطر ثمَّ أفطر عَلَيْهِ الْكَفَّارَة إِلَّا إِذا استفتى فَقِيها فأفتاه بِالْفطرِ أَو بلغه خبر فِيهِ وَلَو نوى الصَّوْم قبل الزَّوَال ثمَّ أفطر لم يلْزمه الْكَفَّارَة عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى خلافًا لَهما كَذَا فِي الْمُحِيط وَقد علم من هَذَا أَن مَذْهَب الْعَاميّ فَتْوَى مفتيه وَفِيه أَيْضا فِي بَاب قَضَاء الْفَوَائِت عِنْد قَوْله وَيسْقط لضيق الْوَقْت وَالنِّسْيَان إِن كَانَ عاميا لَيْسَ لَهُ مَذْهَب
এবং সম্ভবত তিনি তাঁর মাযহাবের ইমামগণের ঐক্যমত (إجماع) বুঝাতে চেয়েছেন। আর তা কীভাবে সম্ভব, অথচ আমাদের মাযহাবের দাবি হলো—যেমনটি সুবকি বলেছেন—বিচারকার্য (قضاء) এবং ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ, তবে নিজের আমলের ক্ষেত্রে নয়। এর মাধ্যমেই মাওয়ার্দীর বক্তব্যের সাথে সমন্বয় করা হয় যে, 'আমাদের নিকট এটি বৈধ' এবং ইমাম গাজ্জালি এর সপক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন; যেমনটি সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ যার ইজতিহাদ (اجتهاد) তাকে দুটি দিকের সমতার দিকে নিয়ে যায় যে, সে ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে যে কোনোটির দিকে ফিরে সালাত আদায় করতে পারে। আর ইমামের বক্তব্য হলো, যদি সেগুলো দুটি পরস্পরবিরোধী বিধান (حكم) হয় যেমন ওয়াজিব সাব্যস্ত করা (إيجاب) এবং হারাম সাব্যস্ত করা (تحريم), তবে তা নিষিদ্ধ হবে; কিন্তু কাফফারার বিভিন্ন প্রকারের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। সুবকি এই নিয়মটি জারি করেছেন এবং পরবর্তীগণ আমলের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন—যা চার মাযহাবের পরিপন্থী, অর্থাৎ যা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণিত যার তাকলীদ (تقليد) করা বৈধ এবং তাঁর নিকট এর যাবতীয় শর্ত বিদ্যমান। ইবনুস সালাহ-এর এই বক্তব্য যে, 'চার ইমাম ব্যতীত অন্য কারো তাকলীদ (تقليد) করা বৈধ নয়'—একে বিচারকার্য (قضاء) এবং ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) ক্ষেত্রের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। আর এর এবং তাকলীদ (تقليد)-এর অন্যান্য অবস্থার ক্ষেত্র হলো ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না কেউ এমনভাবে সহজ সুযোগসমূহ (رخص) তালাশ করবে যার ফলে তার ঘাড় থেকে তাকলীদ (تقليد)-এর রশি খুলে যায়। অন্যথায় সে এর দ্বারা গুনাহগার হবে, এমনকি বলা হয়েছে সে পাপাচারী (فاسق) হয়ে যাবে এবং এটিই যুক্তিযুক্ত। আরও বলা হয়েছে যে, তার দুর্বলতার (ضعف) ক্ষেত্র হলো যখন সে সংকলিত মাযহাবসমূহ থেকে এগুলো তালাশ করবে, অন্যথায় সে নিশ্চিতভাবেই পাপাচারী (فاسق) হবে। সমাপ্ত।

‌‌পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষ (عامي) প্রসঙ্গে

 

জেনে রাখুন যে, খাঁটি সাধারণ মানুষের (عامي) নিজস্ব কোনো মাযহাব নেই, বরং তার মাযহাব হলো মুফতির ফতোয়া। 'আল-বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ শিঙা লাগায় অথবা গীবত করে এবং মনে করে যে এতে তার রোজা ভেঙে গেছে, এরপর সে আহার করে—তবে সে যদি কোনো ফকীহের নিকট ফতোয়া না চায় এবং তার কাছে কোনো খবর (হাদিস) না পৌঁছে থাকে, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে। কারণ এটি নিছক অজ্ঞতা এবং 'দারুল ইসলামে' এটি ওজর হিসেবে গণ্য নয়। আর যদি সে ফকীহের নিকট ফতোয়া চায় এবং ফকীহ তাকে ফতোয়া প্রদান করেন, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে না। কারণ সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য আলেমের তাকলীদ (تقليد) করা আবশ্যক (واجب) যখন সে তার ফতোয়ার ওপর নির্ভর করে; ফলে সে যা করেছে তাতে সে ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে, যদিও মুফতি তার ফতোয়ায় ভুল করে থাকেন। আর যদি সে ফতোয়া না চায় কিন্তু তার কাছে এই খবর (হাদিস) পৌঁছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'শিঙা দানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়েই রোজা ভঙ্গ করল' এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী: 'গীবত রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করে দেয়', আর সে এর রহিতকরণ (نسخ) বা ব্যাখ্যা সম্পর্কে না জানে, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদের মতে তার ওপর কাফফারা নেই। কারণ হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করা আবশ্যক (واجب)। তবে ইমাম আবু ইউসুফ এর দ্বিমত পোষণ করেছেন; কারণ তাঁর মতে সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ নয়, যেহেতু তার রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জ্ঞান নেই। আর যদি কেউ কোনো নারীকে স্পর্শ করে বা কামভাবের সাথে চুম্বন করে অথবা চোখে সুরমা লাগায় এবং মনে করে যে এর দ্বারা রোজা ভেঙে গেছে, অতঃপর সে আহার করে রোজা ভঙ্গ করে, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে—যদি না সে ফকীহের কাছে ফতোয়া চায় এবং তিনি রোজা ভঙ্গ হওয়ার ফতোয়া দেন, অথবা তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো খবর (হাদিস) পৌঁছায়। আর যদি কেউ দ্বিপ্রহরের আগে রোজার নিয়ত করে এবং পরে রোজা ভেঙে ফেলে, তবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে তাকে কাফফারা দিতে হবে না, যা সাহেবাইনের মতের পরিপন্থী। 'আল-মুহিত' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে জানা গেল যে, সাধারণ মানুষের (عامي) মাযহাব হলো তার মুফতির ফতোয়া। উক্ত কিতাবেরই 'ছুটে যাওয়া নামাজের কাযা' অধ্যায়ে সময়ের সংকীর্ণতা এবং বিস্মৃতির কারণে বিধান রহিত হওয়ার বর্ণনায় বলা হয়েছে—'যদি সে এমন সাধারণ মানুষ (عامي) হয় যার কোনো মাযহাব নেই'।
(খণ্ড: ১) ইক্কদুল জীয়াদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
معِين فمذهبه فَتْوَى مفتيه كَمَا صَرَّحُوا بِهِ فَإِن أفتى حَنَفِيّ أعَاد الْعَصْر وَالْمغْرب وَإِن أفتاه شَافِعِيّ فَلَا يعيدهما وَلَا عِبْرَة بِرَأْيهِ وَإِن لم يستفت أحدا وصادف الصِّحَّة على مَذْهَب مُجْتَهد أَجزَأَهُ وَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ انْتهى وَفِي شرح منهاج الْبَيْضَاوِيّ لِابْنِ إِمَام الكاملية فَإِذا وَقعت لعامي حَادِثَة فاستفتى فِيهَا مُجْتَهدا وَعمل فِيهَا بفتوى ذَلِك الْمُجْتَهد فَلَيْسَ لَهُ الرُّجُوع عَنهُ إِلَى فَتْوَى غَيره فِي تِلْكَ الْحَادِثَة بِعَينهَا بِالْإِجْمَاع كَمَا نَقله ابْن الْحَاجِب وَغَيره وَفِي جمع الْجَوَامِع الْخلاف فِيهِ وَإِن كَانَ قبل الْعَمَل فَقَالَ النَّوَوِيّ الْمُخْتَار مَا نَقله الْخَطِيب وَغَيره أَنه إِن لم يكن هُنَالك مفت آخر لزمَه بِمُجَرَّد فتواه إِن لم تسكن نَفسه وَإِن كَانَ هُنَاكَ آخر لم يلْزمه بِمُجَرَّد إفتائه إِذْ لَهُ أَن يسْأَل غَيره وَحِينَئِذٍ فقد يُخَالِفهُ فَيَجِيء فِيهِ الْخلاف فِي اخْتِلَاف الْمُفْتِينَ أما إِذا وَقعت لَهُ حَادِثَة غير ذَلِك فَالْأَصَحّ أَنه يجوز لَهُ أَن يستفتي فِيهَا غير من استفتاه فِي الْحَادِثَة السَّابِقَة وَقطع الكيا الهراسي بِأَنَّهُ يجب على الْعَاميّ أَن يلْزم مذهبا معينا وَاخْتَارَ فِي جمع الْجَوَامِع أَنه يجب ذَلِك وَلَا يَفْعَله لمُجَرّد التشهي بل يخْتَار مذهبا يقلده فِي كل شَيْء يَعْتَقِدهُ أرجح أَو مُسَاوِيا لغيره لَا مرجوحا وَقَالَ النَّوَوِيّ الَّذِي يَقْتَضِيهِ الدَّلِيل أَنه لَا يلْزمه التمذهب بِمذهب بل يستفتي من شَاءَ لَكِن من غير تلقط للرخص وَلَعَلَّ من مَنعه لم يَثِق بِعَدَمِ تلقطه وَإِذا الْتزم مذهبا معينا فَيجوز لَهُ الْخُرُوج عَنهُ على الْأَصَح وَفِي كتاب الزّبد لِابْنِ رسْلَان

وَالشَّافِعِيّ وَمَالك والنعمان

وَأحمد بن حَنْبَل وسُفْيَان … وَغَيرهم من سَائِر الْأَئِمَّة

على هدى والإختلاف رَحمَه

وَفِي شَرحه غَايَة الْبَيَان لَو اخْتلف جَوَاب مجتهدين متساويين فَالْأَصَحّ أَن للمقلد أَن يتَخَيَّر بقول من شَاءَ مِنْهُمَا وَقد مر مَا فِي التُّحْفَة فِي هَذِه الْمَسْأَلَة صلى الله عليه وسلم َ - بَاب صلى الله عليه وسلم َ -

وَهَذَا الَّذِي ذَكرْنَاهُ من الْأَمريْنِ هُوَ الَّذِي مَشى عَلَيْهِ جَمَاهِير الْعلمَاء من الآخذين بالمذاهب الْأَرْبَعَة ووصى بِهِ أَئِمَّة الْمذَاهب أَصْحَابهم قَالَ الشَّيْخ عبد الوهاب الشعراني
নির্দিষ্ট (معِين), তবে তার মাযহাব হবে তার মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী, যেমনটি তারা (উলামায়ে কেরাম) স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং যদি কোনো হানাফি ফতোয়া দেন, তবে সে আসর ও মাগরিব পুনরায় আদায় করবে। আর যদি তাকে কোনো শাফিঈ ফতোয়া দেন, তবে সে তা পুনরায় আদায় করবে না। এক্ষেত্রে তার নিজস্ব মতামতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা (عِبْرَة) নেই। আর যদি সে কারো নিকট ফতোয়া না চায় এবং তার কাজটি কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) মাযহাব অনুযায়ী সঠিক হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে এবং তাকে পুনরায় আদায় করতে হবে না—সমাপ্ত। ইবনে ইমাম আল-কামিলিয়্যাহ এর শারহু মিনহাজিল বায়যাবীতে রয়েছে: যখন কোনো সাধারণ মানুষের (عامي) ক্ষেত্রে কোনো ঘটনা ঘটে এবং সে বিষয়ে সে একজন মুজতাহিদের (مجتهد) নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করে এবং উক্ত মুজতাহিদের (مجتهد) ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, তবে উক্ত সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অন্য কারো ফতোয়ার দিকে ফিরে আসা (الرُّجُوع) তার জন্য বৈধ নয়। এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত, যেমনটি ইবনুল হাজিব ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আর জামউল জাওয়ামি-তে আমল করার পূর্ববর্তী অবস্থা নিয়ে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নববী বলেন: পছন্দনীয় মত (المختار) হলো তাই যা খতিব ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, যদি সেখানে অন্য কোনো মুফতি না থাকেন, তবে ফতোয়া দেওয়ার মাধ্যমেই তা তার ওপর আবশ্যক হয়ে যাবে, যদিও তার মন তাতে প্রশান্ত না হয়। আর যদি সেখানে অন্য মুফতি উপস্থিত থাকেন, তবে শুধু ফতোয়া প্রদানের দ্বারা তা আবশ্যক হবে না; কারণ তার অন্যকে জিজ্ঞাসা করার অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে মুফতিদের মতভেদের কারণে এখানেও মতভেদ সৃষ্টি হবে। তবে যদি তার সামনে ভিন্ন কোনো ঘটনা উপস্থিত হয়, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো, পূর্ববর্তী ঘটনায় যাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তা ব্যতীত অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করা তার জন্য বৈধ। কিয়া আল-হাররাসি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য একটি নির্দিষ্ট মাযহাব আঁকড়ে থাকা আবশ্যক (يجب)। জামউল জাওয়ামি-তেও এই মতটিই গ্রহণ করা হয়েছে যে এটি আবশ্যক (يجب); তবে এটি কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় হতে পারবে না, বরং সে এমন একটি মাযহাব অনুসরণ করার জন্য বেছে নেবে যাকে সে অন্য মাযহাবের তুলনায় শ্রেষ্ঠ বা সমপর্যায়ভুক্ত মনে করে, নিম্নমানের (مرجوحা) মনে করে নয়। ইমাম নববী বলেন: দলিল (دليل) যা দাবি করে তা হলো, কোনো মাযহাব গ্রহণ করা তার জন্য আবশ্যক নয়, বরং সে যাকে ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করবে, তবে তা যেন সহজ সুযোগসমূহের অনুসন্ধান (تلقط الرخص) করার উদ্দেশ্যে না হয়। সম্ভবত যারা এটি নিষেধ করেছেন, তারা সহজ সুযোগ অনুসন্ধানের প্রবণতা থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারেননি। আর যখন কেউ একটি নির্দিষ্ট মাযহাব গ্রহণ করে নেয়, তখন অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী তার জন্য তা থেকে বের হওয়া বৈধ। ইবনে রুসলানের কিতাবুজ জুবাদে রয়েছে—

শাফিঈ, মালিক এবং নোমান (আবু হানিফা)

আহমদ ইবনে হাম্বল ও সুফিয়ান … এবং অন্যান্য সকল ইমামগণ

হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং (তাদের) মতভেদ হলো রহমত

এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ গায়াতুল বয়ানে রয়েছে: যদি দুইজন সমান পর্যায়ের মুজতাহিদের (مجتهد) উত্তর ভিন্ন হয়, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো অনুসরণকারীর (مقلد) জন্য তাদের মধ্যে যার ইচ্ছা মত গ্রহণ করার ইখতিয়ার থাকবে। আর এই মাসআলায় তুহফা-তে যা বর্ণিত হয়েছে তা গত হয়েছে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - পরিচ্ছেদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আমরা এই যে দুইটি বিষয় উল্লেখ করলাম, চার মাযহাবের অনুসারী জমহুর উলামায়ে কেরাম এই পথেই চলেছেন এবং মাযহাবের ইমামগণও তাদের অনুসারীদের এই অসিয়ত করে গেছেন। শেখ আব্দুল ওয়াহাব আল-শারানী বলেন: