(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: -)
صفة الفتوى القسم: أصول الفقه
الكتاب: صفة الفتوى والمفتي والمستفتي
المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن حمدان بن شبيب بن حمدان النميري الحرّاني الحنبلي (ت 695هـ)
المحقق: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثالثة، 1397
عدد الصفحات: 114
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফতোয়ার বৈশিষ্ট্য বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
বই: সিফাতুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হামদান বিন শাবিব বিন হামদান আল-নুমাইরি আল-হাররানি আল-হাম্বলি (মৃ. ৬৯৫ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم اللَّهُمَّ يسر
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَامِل الْفَاضِل الْمُحَقق الصَّدْر الْكَامِل مفتي الْمُسلمين أقضى الْقُضَاة نجم الدّين أَبُو عبد الله أَحْمد بن حمدَان بن شبيب بن حمدَان بن شبيب بن مَحْمُود الْحَرَّانِي الْحَنْبَلِيّ رَحمَه الله تَعَالَى وَرَضي عَنهُ
الْحَمد لله الَّذِي من على الْأمة بهداية الْعلمَاء ووفقهم للْفَتْوَى وَالْقَضَاء وإرشاد الْجُهَّال فِي الصَّباح والمساء وَأمرهمْ بِالْقيامِ بأَمْره على الأقوياء والضعفاء ونهاهم عَن مُرَاعَاة الأوداء والتحامل ظلما على الْأَعْدَاء وَحرم الفنوى وَالْقَضَاء على من فقد شَرطهمَا من الْعلم الْمُعْتَبر لَهما وَالْعَدَالَة وَترك الْهوى والشحناء
أَحْمَده على مَا أولانا من الْهِدَايَة والنعماء ووفق لَهُ من منزلتي الْفَتْوَى وَالْقَضَاء وَاتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة الْبَيْضَاء
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, সহজ করে দিন।
শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আমলকারী, গুণী, গবেষক, শীর্ষস্থানীয় পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, মুসলিমদের মুফতি ও প্রধান বিচারপতি নাজমুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হামদান বিন শাবিব বিন হামদান বিন শাবিব বিন মাহমুদ আল-হাররানি আল-হাম্বলি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আলেমদের হিদায়াতের মাধ্যমে উম্মাহর ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁদেরকে ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্য পরিচালনার তাওফিক দান করেছেন, আর সকাল-সন্ধ্যায় অজ্ঞদের পথপ্রদর্শনের সামর্থ্য দিয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে সবল ও দুর্বলের ওপর তাঁর বিধান প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বন্ধুদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও শত্রুদের ওপর জুলুমমূলক অবিচার করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি এমন ব্যক্তির জন্য ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্য পরিচালনা হারাম করেছেন, যার মধ্যে এই দুই পদের জন্য প্রয়োজনীয় ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), প্রবৃত্তি বর্জন ও বিদ্বেষ ত্যাগের মতো শর্তসমূহ অনুপস্থিত।
আমি তাঁর প্রশংসা করি সেই হিদায়াত ও নেয়ামতের জন্য যা তিনি আমাদের দান করেছেন এবং ফতোয়া ও বিচারকার্যের এই দুই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং কিতাব ও উজ্জ্বল সুন্নাহ অনুসরণের যে তাওফিক তিনি দিয়েছেন, তার জন্য।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة موقن بِيَوْم اللِّقَاء وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الْمُؤَيد بجند السَّمَاء والمخصوص بالشفاعة وَالْمقَام الْمَحْمُود واللواء صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان على السَّرَّاء وَالضَّرَّاء صَلَاة دائمة بدوام دَار الْبَقَاء
وَبعد فَإِنَّهُ لما لما كَانَ الْمُفْتى هُوَ الْمخبر بِحكم الله تَعَالَى لمعرفته بدليله هُوَ الْمخبر عَن الله بِحكمِهِ
وَقيل هُوَ المتمكن من معرفَة أَحْكَام الوقائع شرعا بِالدَّلِيلِ مَعَ حفظه لأكْثر الْفِقْه
عظم أَمر الْفَتْوَى وخطرها وَقل أَهلهَا وَمن يخَاف إثمها وخطرها وأقدم عَلَيْهَا الحمقى والجهال وَرَضوا فِيهَا بالقيل والقال واغتروا بالامهال والأهمال واكتفوا بزعمهم أَنهم من الْعدَد بِلَا عدد وَلَيْسَ مَعَهم بأهليتهم خطّ أحد وَاحْتَجُّوا باستمرار حَالهم فِي المدد بِلَا مدد وغرهم فِي الدُّنْيَا كَثْرَة الْأَمْن والسلامة وَقلة الْإِنْكَار والملامة
أَحْبَبْت أَن أبين صفة الْمُفْتِي والمستفتي والاستفتاء وَالْفَتْوَى وشروط الْأَرْبَعَة وَمَا يتَعَلَّق بذلك من وَاجِب ومندوب وَحرَام ومكروه ومباح لينكف عَن الْفَتْوَى أَو يكف عَنْهَا غير أَهلهَا
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য যে সাক্ষাতের দিনে (পরকাল) দৃঢ় বিশ্বাসী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি আসমানি বাহিনী দ্বারা সমর্থিত এবং বিশেষভাবে শাফায়াত (شفاعة), মাকামে মাহমুদ (الْمَقَام الْمَحْمُود) ও লওয়াউল হামদ বা প্রশংসার পতাকাধারী হওয়ার বিশেষত্বমণ্ডিত। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং সুখ ও দুঃখে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈনদের (التَّابِعِينَ) ওপর—এমন এক চিরন্তন রহমত যা অনন্তকাল স্থায়ী থাকবে।
অতঃপর, যেহেতু মুফতি (الْمُفْتِي) হলেন তিনি যিনি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন তাঁর দলিলের জ্ঞানের ভিত্তিতে, এবং তিনি হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর হুকুমের সংবাদ দানকারী।
এবং বলা হয়েছে যে, তিনি হলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি ফিকহের (الْفِقْه) অধিকাংশ মাসআলা মুখস্থ রাখার পাশাপাশি দলিলের মাধ্যমে শরিয়তের বাস্তব ঘটনাবলির বিধান উদ্ঘাটনে সক্ষম।
ফতোয়া (الْفَتْوَى) প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ এর যোগ্য ব্যক্তি এবং এর গুনাহ ও বিপদ সম্পর্কে ভীত মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। পক্ষান্তরে নির্বোধ ও মূর্খরা এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে; তারা ভিত্তিহীন গালগল্পেই তুষ্ট হয়েছে এবং অবকাশ লাভ ও অবহেলায় প্রলুব্ধ হয়েছে। তারা সংখ্যা বিচারে নিজেদের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো যোগ্যতা নেই এবং তাদের যোগ্যতার সপক্ষে কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তির স্বীকৃতি বা প্রত্যয়ন নেই। তারা কোনো ঐশী সাহায্য ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের বর্তমান অবস্থা বজায় থাকাকেই দলিল হিসেবে পেশ করে এবং দুনিয়াতে নিরাপত্তা, প্রশান্তি এবং প্রতিবাদ ও তিরস্কারের অভাব তাদের প্রতারিত করেছে।
আমি মুফতি (الْمُفْتِي), মুস্তাফতি (الْمُسْتَفْتِي), ইস্তিফতা (الِاسْتِفْتَاء) ও ফতোয়ার (الْفَتْوَى) বৈশিষ্ট্য এবং এই চারটির শর্তাবলি বর্ণনা করতে আগ্রহী হলাম। সেই সঙ্গে এ সম্পর্কিত ওয়াজিব (وَاجِب), মানদুব (مَنْدُوب), হারাম (حَرَام), মাকরুহ (مَكْرُوه) ও মুবাহ (مُبَاح) বিষয়াদিও আলোচনা করব, যাতে অযোগ্য ব্যক্তিরা ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকে অথবা তাদের বিরত রাখা যায়।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৫)
ويلتزم بهَا كفؤها وبعلها وَيعلم حَال السَّائِل والمسئول وَيمْنَع مِنْهَا من لَا حَاصِل لَهُ وَلَا محصول وَهُوَ إِلَى الْحق بعيد الْوُصُول وَإِنَّمَا دأبه الْحَسَد والنكد والفضول وَمن لَا يصلح للْفَتْوَى لَا يصلح للْقَضَاء
قَالَ القَاضِي الإِمَام أَبُو يعلى بن الْفراء الْحَنْبَلِيّ رححمه الله من لم يكن من أهل الِاجْتِهَاد لم يجز لَهُ أَن يُفْتِي وَلَا يقْضِي وَلَا خلاف فِي اعْتِبَار الِاجْتِهَاد فيهمَا عندنَا وَلَو فِي بعض مَذْهَب إِمَامه فَقَط أَو غَيره وَكَذَا مَذْهَب مَالك وَالشَّافِعِيّ وَخلق كثير
وَرُبمَا أذكر بعض مَا يخْتَص بِالْقضَاءِ فِي كتاب مُفْرد إِن شَاءَ الله تَعَالَى فَالله يلهم السداد والرشاد إِنَّه رَحِيم كريم جواد
এবং এর প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন এর যোগ্য ও পারদর্শী ব্যক্তি। তাকে প্রশ্নকারী এবং যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হবে। আর যার কোনো জ্ঞানীয় ভিত্তি বা সারবত্তা নেই, তাকে এ থেকে বিরত রাখতে হবে; কেননা সে সত্যের গন্তব্যে পৌঁছাতে অক্ষম। তার স্বভাব কেবল হিংসা, ক্লেশ এবং অনর্থক কৌতূহল। আর যে ব্যক্তি ফতোয়া প্রদানের (فتوى) উপযুক্ত নয়, সে বিচারকার্য (قضاء) পরিচালনার জন্যও উপযুক্ত নয়।
বিচারক ইমাম আবু ইয়ালা ইবনে আল-ফাররা আল-হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যে ব্যক্তি গবেষণালব্ধ বিচার বিশ্লেষণের (اجتهاد) যোগ্য নয়, তার জন্য ফতোয়া প্রদান (فتوى) করা বা বিচারকার্য (قضاء) সম্পাদন করা বৈধ নয়। আমাদের নিকট এ উভয় ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ বিচার বিশ্লেষণের (اجتهاد) আবশ্যকতা অনস্বীকার্য, চাই তা কেবল তার ইমামের মাযহাবের কোনো অংশে হোক কিংবা অন্য কিছুতে। ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং অসংখ্য বিজ্ঞজনের মাযহাবও এটিই।
আর সম্ভবত আমি বিচারকার্য (قضاء) সংক্রান্ত কিছু বিশেষ বিষয় ইনশাআল্লাহ তাআলা একটি স্বতন্ত্র কিতাবে উল্লেখ করব। আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথ ও সুপথের দিকনির্দেশনা দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অতি দাতা ও মহানুভব।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৬)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب وَقت إِبَاحَة الْفتيا واستحبابها وإيجابها وكراهتها وتحريمها صلى الله عليه وسلم َ -
الْفتيا فرض عين إِذا كَانَ فِي الْبَلَد مفت وَاحِد وَفرض كِفَايَة إِذا كَانَ فِيهِ مفتيان فَأكْثر سَوَاء حضر أَحدهمَا أَو هما وسئلا مَعًا أَو لَا والورع إِذن التّرْك للخطر وَالْخَوْف من التَّقْصِير والقصور وَتحرم الْفَتْوَى على الْجَاهِل بصواب الْجَواب لقَوْله تَعَالَى {وَلَا تَقولُوا لما تصف أَلْسِنَتكُم الْكَذِب هَذَا حَلَال وَهَذَا حرَام لتفتروا على الله الْكَذِب} الْآيَة
وَلقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم من أُفْتِي بِفُتْيَا غير ثَبت فَإِنَّمَا إثمه على الَّذِي أفتاه رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وَابْن ماجة
وَفِي لفظ من أُفْتِي بِفُتْيَا بِغَيْر علم كَانَ إِثْم ذَلِك على الَّذِي أفتاه رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَقَوله من أفتى النَّاس بِغَيْر علم لعنته مَلَائِكَة السَّمَاء وملائكة الأَرْض ذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي تَعْظِيم الْفَتْوَى
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - ফতোয়া প্রদানের বৈধতা, মুস্তাহাব (مستحب), ওয়াজিব (واجب), মাকরূহ (مكروه) এবং হারাম (حرام) হওয়ার সময় সম্পর্কিত অধ্যায় - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
ফতোয়া প্রদান করা ফরজে আইন (فرض عين) যখন শহরে একজন মাত্র মুফতি থাকেন এবং ফরজে কেফায়া (فرض كفاية) যখন সেখানে দুইজন বা ততোধিক মুফতি থাকেন, চাই তাঁদের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকুন অথবা উভয়েই এবং তাঁদেরকে একসাথে জিজ্ঞাসা করা হোক বা না হোক। এমতাবস্থায় পরহেজগারি হলো ফতোয়া প্রদান ত্যাগ করা, কারণ এতে ঝুঁকি রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে ত্রুটি ও সক্ষমতার অভাবের আশঙ্কা থাকে। সঠিক উত্তর সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য ফতোয়া প্রদান করা হারাম (حرام), কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে বলে তোমরা বলবে না যে—এটি হালাল এবং এটি হারাম (حرام), আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য} (আয়াত)
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যাকে নির্ভরযোগ্যতা (ثبت) ছাড়াই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, তার পাপ কেবল সেই ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে যে তাকে ফতোয়া দিয়েছে।" এটি ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "যাকে জ্ঞান (علم) ছাড়াই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, সেই পাপের বোঝা সেই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে যে তাকে ফতোয়া দিয়েছে।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি জ্ঞান (علم) ছাড়াই মানুষকে ফতোয়া দেয়, আসমানের ফেরেশতারা এবং জমিনের ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দেন।" ইবনুল জাওজি এটি 'তাজিমুল ফুতইয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَلقَوْله صلى الله عليه وسلم إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعا ينتزعه من صُدُور الرِّجَال وَلَكِن يقبض الْعلم بِقَبض الْعلمَاء فَإِذا لم يبْق عَالم اتخذ النَّاس رُؤَسَاء جُهَّالًا فسئلوا فأفتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا حَدِيث حسن
وَقَالَ الْبَراء لقد رَأَيْت ثَلَاثمِائَة من أَصْحَاب بدر مَا فيهم من أحد إِلَّا وَهُوَ يحب أَن يَكْفِيهِ صَاحبه الْفتيا وَقَالَ ابْن أبي ليلى أدْركْت عشْرين وَمِائَة من الْأَنْصَار من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يسْأَل أحدهم عَن الْمَسْأَلَة فيردها هَذَا إِلَى هَذَا وَهَذَا إِلَى هَذَا حَتَّى ترجع إِلَى الأول وَفِي رِوَايَة مَا من أحد يحدث بِحَدِيث أَو يسْأَل عَنهُ وَفِي رِوَايَة عَن شَيْء إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ إِيَّاه وَلَا يستفتي فِي شَيْء إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ الْفتيا وَقَالَ ابْن مَسْعُود من أفتى النَّاس فِي كل مَا يسألونه عَنهُ فَهُوَ مَجْنُون وَعَن ابْن عَبَّاس نَحوه وَقَالَ أَبُو حُصَيْن الْأَسدي إِن أحدكُم ليفتي فِي الْمَسْأَلَة لَو وَردت على عمر بن الْخطاب لجمع لَهَا أهل بدر وَنَحْوه عَن الْحسن وَالشعْبِيّ
وَقَالَ مُحَمَّد بن عجلَان إِذا أغفل الْعَالم لَا أَدْرِي أُصِيبَت مقَالَته وَنَحْوه عَن ابْن عَبَّاس وَسُئِلَ الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن أبي بكر عَن شَيْء فَقَالَ لَا أحْسنه فَقَالَ السَّائِل إِنِّي جِئْت إِلَيْك
এবং নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে জ্ঞান ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন না; বরং তিনি আলেমদের মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট প্রশ্ন করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।
বারা (রা.) বলেন, "আমি বদরের যুদ্ধের তিনশত জন সাহাবীকে দেখেছি, যাদের প্রত্যেকেই এই কামনা করতেন যে, ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বটি যেন তার কোনো সাথী পালন করে তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়।" ইবনে আবি লায়লা বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনসার সাহাবীদের মধ্যে একশত বিশজনকে পেয়েছি, যাদের কাউকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা একজনের দিকে ঠেলে দিতেন এবং তিনি অন্যজনের দিকে, এভাবে শেষ পর্যন্ত মাসআলাটি প্রথমজনের কাছেই ফিরে আসত।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে, "এমন কেউ ছিল না যে কোনো হাদিস বর্ণনা করত বা তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো—অন্য বর্ণনায় (رواية): কোনো বিষয় সম্পর্কে—তবে সে কামনা করত যে তার ভাই যেন তার পরিবর্তে তা করে দেয়; এবং কোনো বিষয়ে তার কাছে ফতোয়া চাওয়া হলে সে এটাই চাইত যেন তার ভাই তার পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বটি পালন করে।" ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, "যে ব্যক্তি মানুষকে তাদের জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়েই ফতোয়া দেয়, সে উন্মাদ।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবু হুসাইন আল-আসাদি বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করে, যা যদি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে আসত, তবে তিনি এর জন্য বদরে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের একত্রিত করতেন।" হাসান এবং শাবি থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনে আজলান বলেন, "আলেম যখন 'আমি জানি না' বলতে ভুলে যান, তখন তার বক্তব্য বিপথগামী হয়।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি এটি ভালোভাবে জানি না।" তখন প্রশ্নকারী বলল, "আমি আপনার নিকট এসেছি (সমাধানের জন্য)..."
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৮)
لَا أعرف غَيْرك فَقَالَ الْقَاسِم لَا تنظر إِلَى طول لحيتي وَكَثْرَة النَّاس حَولي وَالله مَا أحْسنه فَقَالَ شيخ من قُرَيْش جَالس إِلَى جنبه يَا ابْن أخي الزمها فو الله مَا رَأَيْتُك فِي مجْلِس أنبل مِنْك الْيَوْم فَقَالَ الْقَاسِم وَالله لِأَن يقطع لساني أحب إِلَيّ من أَن أَتكَلّم بِمَا لَا علم لي وَقَالَ سُفْيَان بن عيينه وَسَحْنُون بن سعيد صَاحب الْمُدَوَّنَة أجسر النَّاس على الْفتيا أقلهم علما وَسَأَلَ رجل مَالك بن أنس عَن شَيْء أَيَّامًا فَقَالَ إِنِّي إِنَّمَا أَتكَلّم فِيمَا أحتسب فِيهِ الْخَيْر وَلست أحسن مسألتك هَذِه وَقَالَ الْهَيْثَم بن جميل شهِدت مَالِكًا سُئِلَ عَن ثَمَان وَأَرْبَعين مَسْأَلَة فَقَالَ فِي اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ مِنْهَا لَا أَدْرِي وَقيل رُبمَا كَانَ يسْأَل عَن خمسين مَسْأَلَة فَلَا يُجيب فِي وَاحِدَة مِنْهَا وَكَانَ يَقُول من أجَاب فِي مَسْأَلَة فَيَنْبَغِي من قبل أَن يُجيب فِيهَا أَن يعرض نَفسه على الْجنَّة وَالنَّار وَكَيف يكون خلاصه فِي الْآخِرَة ثمَّ يُجيب فِيهَا وَسُئِلَ عَن مَسْأَلَة فَقَالَ لَا أَدْرِي فَقيل لَهُ إِنَّهَا مَسْأَلَة خَفِيفَة سهلة فَغَضب وَقَالَ لَيْسَ فِي الْعلم خَفِيف أما سَمِعت قَول الله تَعَالَى {إِنَّا سنلقي عَلَيْك قولا ثقيلا} فالعلم كُله ثقيل وخاصة مَا يسْأَل عَنهُ يَوْم الْقِيَامَة وَقَالَ مَا أَفْتيت حَتَّى شهد لي سَبْعُونَ أَنِّي أهل لذَلِك وَقَالَ أَيْضا لَا يَنْبَغِي لرجل أَن يرى نَفسه أَهلا لشَيْء حَتَّى يسْأَل من كَانَ أعلم مِنْهُ وَمَا أَفْتيت حَتَّى سَأَلت ربيعَة وَيحيى بن سعيد فأمراني بذلك وَلَو نهياني انْتَهَيْت وَقَالَ إِذا كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله
"আমি আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে চিনি না।" অতঃপর কাসিম বললেন, "আপনি আমার দীর্ঘ দাড়ি এবং আমার চারপাশে মানুষের এই আধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আল্লাহর কসম! আমি এটি ভালো করে জানি না।" তখন তাঁর পাশে বসা কুরাইশ বংশের এক প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি এই অবস্থানেই (নিজের অজ্ঞতা স্বীকারে) অটল থাকো। আল্লাহর কসম! আজকের মজলিসের চেয়ে অধিক মহিমান্বিত অবস্থায় আমি তোমাকে আর কখনও দেখিনি।" কাসিম বললেন, "আল্লাহর কসম! আমার জিহ্বা কেটে ফেলা আমার নিকট এমন বিষয়ে কথা বলার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়, যে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।" সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং আল-মুদাওয়ানাহ গ্রন্থের লেখক সাহনুন ইবনে সাঈদ বলেছেন, "ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী তারাই, যাদের জ্ঞান সবচেয়ে কম।" এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে কোনো একটি বিষয়ে কয়েক দিন ধরে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, "আমি কেবল সেই বিষয়েই কথা বলি যাতে আমি কল্যাণের আশা রাখি, আর আমি আপনার এই মাসআলাটি ভালো করে জানি না।" হাইসাম ইবনে জামিল বলেন, "আমি ইমাম মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন তাঁকে আটচল্লিশটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তার মধ্যে বত্রিশটি মাসআলা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, 'আমি জানি না'।" বর্ণিত আছে যে, কখনও কখনও তাঁকে পঞ্চাশটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি তার একটিরও উত্তর দিতেন না। তিনি বলতেন, "যে ব্যক্তি কোনো মাসআলার উত্তর দিতে চায়, তার উচিত উত্তর দেওয়ার আগে নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামের সামনে পেশ করা এবং পরকালে তার মুক্তি কীভাবে হবে তা চিন্তা করা; অতঃপর উত্তর দেওয়া।" তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি জানি না।" তখন তাঁকে বলা হলো, "এটি তো একটি অতি সামান্য ও সহজ মাসআলা।" এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, "জ্ঞানের কোনো বিষয়ই সামান্য বা হালকা নয়। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনেননি? {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করব}। সুতরাং জ্ঞান পুরোটাই ভারী, বিশেষ করে যে বিষয়ে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া দেইনি, যতক্ষণ না সত্তর জন সাক্ষ্য দিয়েছেন যে আমি এর যোগ্য।" তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে কোনো বিষয়ের যোগ্য মনে করা, যতক্ষণ না সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে। আমি ততক্ষণ ফতোয়া দিইনি যতক্ষণ না আমি রাবিআহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন; যদি তাঁরা আমাকে নিষেধ করতেন, তবে আমি বিরত থাকতাম।" তিনি বললেন, "যখন রাসূলুল্লাহ এর সাহাবীগণ..."
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৯)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تصعب عَلَيْهِم الْمسَائِل وَلَا يُجيب أحدهم فِي مَسْأَلَة حَتَّى يَأْخُذ رَأْي صَاحبه مَعَ مَا رزقوا من السداد والتوفيق مَعَ الطَّهَارَة فَكيف بِنَا الَّذين غطت الْخَطَايَا والذنُوب قُلُوبنَا وَقيل كَانَ إِذا سُئِلَ عَن مَسْأَلَة كَأَنَّهُ وَاقِف بَين الْجنَّة وَالنَّار وَقَالَ عَطاء أدْركْت أَقْوَامًا إِن كَانَ أحدهم ليسأل عَن الشَّيْء فيتكلم وَإنَّهُ ليرعد
وَسُئِلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَي الْبِلَاد شَرّ فَقَالَ لَا أَدْرِي فَسَأَلَ جِبْرِيل فَقَالَ لَا أَدْرِي فَسَأَلَ ربه عز وجل فَقَالَ أسواقها ذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي تَعْظِيم الْفتيا
وَسُئِلَ الشّعبِيّ عَن شَيْء فَقَالَ لَا أَدْرِي فَقيل أَلا تَسْتَحي من قَوْلك لَا أَدْرِي وَأَنت فَقِيه أهل الْعرَاق فَقَالَ لَكِن الْمَلَائِكَة لم تَسْتَحي حِين قَالَت {لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا}
وَقَالَ أَبُو نعيم مَا رَأَيْت عَالما أَكثر قولا لَا أَدْرِي من مَالك بن أنس وَقَالَ أَبُو الذَّيَّال تعلم لَا أَدْرِي فَإنَّك إِن قلت لَا أَدْرِي علموك حَتَّى تَدْرِي وَإِن قلت أَدْرِي سألوك حَتَّى لَا تَدْرِي
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের নিকট মাসআলাসমূহ অত্যন্ত কঠিন মনে হতো। পবিত্রতা এবং সঠিকতা (السداد) ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক (التوفيق) প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কেউ কোনো মাসআলার উত্তর দিতেন না যতক্ষণ না তিনি তার সঙ্গীর অভিমত গ্রহণ করতেন। তবে আমাদের অবস্থা কী হবে, যাদের অন্তরসমূহ ভুল ও পাপে আচ্ছন্ন হয়ে আছে? বর্ণিত আছে যে, তাদের কাউকে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন মনে হতো যেন তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। আতা (রহ.) বলেন, "আমি এমন এক দল লোককে পেয়েছি যে, তাদের কাউকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যখন কথা বলতেন, তখন ভয়ে কাঁপতেন।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "কোন স্থান সবচেয়ে নিকৃষ্ট?" তিনি বললেন, "আমি জানি না।" অতঃপর তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনিও বললেন, "আমি জানি না।" তারপর তিনি তার মহান প্রতিপালককে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, "সেখানকার বাজারসমূহ।" ইবনুল জাওজি এটি তাজিমুল ফুতইয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
শাবি (রহ.)-কে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি জানি না।" তখন তাকে বলা হলো, "আপনি ইরাকবাসীর ফকিহ (فقيه) হওয়া সত্ত্বেও 'আমি জানি না' বলতে কি লজ্জা পাচ্ছেন না?" তিনি বললেন, "ফেরেশতারা তো লজ্জা পাননি যখন তারা বলেছিলেন, 'আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই'।"
আবু নুআইম বলেন, "আমি মালেক ইবনে আনাসের চেয়ে অধিক 'আমি জানি না' বলতে অন্য কোনো আলেম (عالم)-কে দেখিনি।" আবু আল-জায়্যাল বলেন, "'আমি জানি না' বলা রপ্ত করুন; কেননা আপনি যদি বলেন 'আমি জানি না', তবে তারা আপনাকে শেখাবে যতক্ষণ না আপনি জানতে পারেন। আর যদি আপনি বলেন 'আমি জানি', তবে তারা আপনাকে প্রশ্ন করতে থাকবে যতক্ষণ না আপনি নিরুত্তর হয়ে পড়েন।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَسُئِلَ الشَّافِعِي رحمه الله عَن مَسْأَلَة فَسكت فَقيل أَلا تجيب فَقَالَ حَتَّى أَدْرِي الْفضل فِي سكوتي أَو فِي الْجَواب وَقَالَ الْأَثْرَم سَمِعت الإِمَام أَحْمد يستفتي فيكثر أَن يَقُول لَا أَدْرِي وَذَلِكَ فِيمَا عرف فِيهِ الْأَقَاوِيل وَقَالَ من عرض نَفسه للفتيا فقد عرضهَا لأمر عَظِيم إِلَّا أَنه قد تلجئ الضَّرُورَة وَقيل لَهُ أَيهمَا أفضل الْكَلَام أَو الْإِمْسَاك فَقَالَ الْإِمْسَاك أحب إِلَيّ إِلَّا لضَرُورَة وَقَالَ عقبَة بن مُسلم صَحِبت ابْن عمر أَرْبَعَة وَثَلَاثِينَ شهرا وَكَانَ كثيرا مَا يسْأَل فَيَقُول لَا أَدْرِي وَكَانَ سعيد بن الْمسيب لَا يكَاد يُفْتِي فتيا وَلَا يَقُول شَيْئا إِلَّا قَالَ اللَّهُمَّ سلمني وَسلم مني وَقَالَ سَحْنُون صَاحب الْمُدَوَّنَة أَشْقَى النَّاس من بَاعَ آخرته بدنياه وأشقى مِنْهُ من بَاعَ آخرته بدنيا غَيره ففكرت فِيمَن بَاعَ آخرته بدنيا غَيره فَوَجَدته الْمُفْتِي يَأْتِيهِ رجل قد حنث فِي امْرَأَته ورقيقه فَيَقُول لَهُ لَا شَيْء عَلَيْك فَيذْهب الحانث فيتمتع بامرأته ورقيقه وَقد بَاعَ الْمُفْتِي دينه بدنيا هَذَا وَسَأَلَهُ رجل مَسْأَلَة فتردد إِلَيْهِ فِيهَا ثَلَاثَة أَيَّام فَقَالَ وَمَا أصنع لَك يَا خليلي ومسألتك هَذِه معضلة وفيهَا أقاويل وَأَنا متحير فِي ذَلِك فَقَالَ لَهُ وَأَنت أصلحك الله لكل معضلة فَقَالَ لَهُ سَحْنُون هَيْهَات يَا ابْن أخي لَيْسَ بِقَوْلِك هَذَا أبذل لَك لحمي وَدمِي إِلَى النَّار وَكَانَ يزري على من يعجل فِي الْفَتْوَى وَيذكر النَّهْي عَن ذَلِك عَن معلميه القدماء وَقَالَ إِنِّي لأسأل عَن الْمَسْأَلَة أعرفهَا فَمَا يَمْنعنِي من الْجَواب إِلَّا كَرَاهَة الجرأة بعدِي على الْفَتْوَى وَقيل لَهُ إِنَّك تسْأَل عَن مَسْأَلَة لَو سُئِلَ
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নীরব থাকলেন। তখন তাকে বলা হলো, "আপনি কি উত্তর দেবেন না?" তিনি বললেন, "যতক্ষণ না আমি জানতে পারি যে, আমার নীরব থাকাতে বেশি ফযীলত নাকি উত্তর প্রদানে।" আল-আছরাম বলেন, "আমি ইমাম আহমাদকে ফাতওয়া প্রদানকালে বলতে শুনেছি যে, তিনি প্রায়ই বলতেন 'আমি জানি না'। আর তা ছিল সেই সকল বিষয়ে যাতে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত ছিল।" তিনি আরও বলেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে ফাতওয়া দেওয়ার জন্য পেশ করল, সে নিজেকে এক গুরুতর বিষয়ের মুখোমুখি করল। তবে অনেক সময় নিরুপায় অবস্থা তাকে বাধ্য করতে পারে।" তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "কথা বলা বা নীরব থাকা—এই দুইটির মধ্যে কোনটি উত্তম?" তিনি বললেন, "প্রয়োজন ছাড়া নীরব থাকাই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।" উকবাহ ইবনে মুসলিম বলেন, "আমি চৌত্রিশ মাস ইবনে উমরের সাথে কাটিয়েছি; তাকে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি বলতেন 'আমি জানি না'।" সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব কোনো ফাতওয়া দিতে গেলে বা কোনো কথা বললে সর্বদা বলতেন, "হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদ রাখুন এবং আমার থেকে (অন্যদের) নিরাপদ রাখুন।" মুদাওওয়ানা গ্রন্থের রচয়িতা সাহনুন বলেন, "সেই ব্যক্তি সবচাইতে হতভাগা যে তার আখিরাতকে নিজের দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে। আর তার চেয়েও বড় হতভাগা হলো সেই ব্যক্তি, যে তার আখিরাতকে অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে।" (সাহনুন বলেন) আমি চিন্তা করে দেখলাম, কে সেই ব্যক্তি যে অন্যের দুনিয়ার জন্য নিজের আখিরাত বিক্রি করে? আমি দেখলাম সে হলো ঐ মুফতি যার কাছে কোনো ব্যক্তি আসে যে কি না তার স্ত্রী বা দাসের ব্যাপারে শপথ ভঙ্গ করেছে; তখন মুফতি তাকে বলে, 'তোমার ওপর কোনো দায় নেই'। ফলে ঐ ব্যক্তি গিয়ে তার স্ত্রী বা দাসের সাথে মেলামেশা উপভোগ করে, আর মুফতি ঐ ব্যক্তির দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের দীন বিক্রি করে দেয়। এক ব্যক্তি তাকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করল এবং তিন দিন ধরে তার কাছে ধর্না দিল। সাহনুন তাকে বললেন, "হে আমার বন্ধু! আমি তোমার জন্য কী করতে পারি? তোমার এই মাসআলাটি অত্যন্ত জটিল ও দুরূহ (معضلة), এতে অনেক মতামত রয়েছে এবং আমি এ ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে আছি।" লোকটি তাকে বলল, "আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনি তো প্রতিটি দুরূহ (معضلة) বিষয়ের সমাধানের জন্য আছেন।" সাহনুন তাকে বললেন, "কখনোই নয় হে ভাতিজা! তোমার এই স্তুতির কারণে আমি আমার গোশত ও রক্তকে জাহান্নামের আগুনের জন্য বিলিয়ে দিতে পারি না।" তিনি ফাতওয়া প্রদানে তাড়াহুড়াকারীদের সমালোচনা করতেন এবং তার প্রাচীন শিক্ষকগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত এ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন, "আমাকে এমন মাসআলা জিজ্ঞেস করা হয় যা সম্পর্কে আমি জানি, কিন্তু আমার দৃষ্টান্ত দেখে পরবর্তীতে ফাতওয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের দুঃসাহসী হয়ে ওঠার আশঙ্কায় আমি উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকি।" তাকে বলা হলো, "আপনাকে এমন মাসআলা জিজ্ঞেস করা হয় যা যদি অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করা হতো..."
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১১)
عَنْهَا بعض أَصْحَابك أجَاب فتتوقف فِيهَا فَقَالَ فتْنَة الْجَواب بِالصَّوَابِ أَشد من فتْنَة المَال وَقَالَ الْخَلِيل بن أَحْمد إِن الرجل ليسأل عَن الْمَسْأَلَة ويعجل فِي الْجَواب فَيُصِيب فأذمه وَيسْأل عَن مَسْأَلَة فيتثبت فِي الْجَواب فيخطئ فأحمده وَقَالَ أَبُو بكر الْخَطِيب والصيمري قل من حرص على الْفَتْوَى وسابق إِلَيْهَا وثابر عَلَيْهَا إِلَّا قل توفيقه واضطرب فِي أمره وَإِذا كَانَ كَارِهًا لذَلِك غير مُخْتَار لَهُ مَا وجد مندوحة عَنهُ وَقدر أَن يحِيل بِالْأَمر فِيهِ على غَيره كَانَت المعونة لَهُ من الله أَكثر وَالصَّلَاح فِي جَوَابه وفتياه أغلب
وَقَالَ بشر الحافي من أحب أَن يسْأَل فَلَيْسَ بِأَهْل أَن يسْأَل
وَكَانَ أَبُو الْحسن الْقَابِسِيّ لَيْسَ شَيْء أَشد عَلَيْهِ من الْفتيا
وَقَالَ تَارَة مَا ابتلى أحد بِمَا ابْتليت بِهِ أَفْتيت الْيَوْم فِي عشر مسَائِل
وَرَأى رجل ربيعَة بن عبد الرَّحْمَن يبكي فَقَالَ مَا يبكيك فَقَالَ أستفتي من لَا علم لَهُ وَظهر فِي الْإِسْلَام أَمر عَظِيم وَقَالَ ولبعض من يُفْتِي هَا هُنَا أَحَق بالسجن من السراق قلت فَكيف لَو رأى زَمَاننَا وأقدام من لَا علم عِنْده على الْفتيا مَعَ قلَّة خبرته وَسُوء سيرته وشؤم سَرِيرَته وَإِنَّمَا قَصده السمعة والرياء ومماثلة الْفُضَلَاء والنبلاء والمشهورين المستورين وَالْعُلَمَاء الراسخين والمتبحرين السَّابِقين وَمَعَ هَذَا فهم ينهون فَلَا ينتهون وينبهون فَلَا ينتبهون قد أملي لَهُم بانعكاف الْجُهَّال عَلَيْهِم وَتركُوا مَا لَهُم
আপনার কোনো কোনো সাথী এ বিষয়ে উত্তর প্রদান করে, অথচ আপনি এ বিষয়ে বিরত থাকেন? তিনি বললেন: সঠিক উত্তর প্রদানের পরীক্ষা ধন-সম্পদের পরীক্ষা অপেক্ষা অধিকতর কঠিন। খলিল ইবনে আহমদ বলেন, নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে উত্তর প্রদানে তড়িঘড়ি করে এবং তা সঠিক হয়, তবুও আমি তার নিন্দা করি। আর সে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে উত্তর প্রদানে স্থিরতা অবলম্বন করে অথচ ভুল করে, তবে আমি তার প্রশংসা করি। আবু বকর আল-খতিব এবং আস-সাইমারি বলেন, যে ব্যক্তিই ফতোয়া প্রদানের লোভ করে, এর জন্য প্রতিযোগিতা করে এবং এতে অটল থাকে, খুব কমই সে তৌফিকপ্রাপ্ত হয় এবং তার বিষয়াদি বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যখন সে একে অপছন্দ করে এবং নিজের জন্য তা বেছে নেয় না যতক্ষণ না এর থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ পায় এবং অন্য কারও দিকে বিষয়টি অর্পণ করতে সক্ষম হয়, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সাহায্য অধিক হয় এবং তার উত্তর ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়।
বিশর আল-হাফি বলেন, যে ব্যক্তি জিজ্ঞাসিত হতে ভালোবাসে, সে জিজ্ঞাসিত হওয়ার যোগ্য নয়।
আবুল হাসান আল-কাবেসি-এর নিকট ফতোয়া প্রদানের চেয়ে কঠিন আর কিছুই ছিল না।
তিনি একদা বলেছিলেন, আমি যা দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি, এমন আর কেউ হয়নি; আমি আজ দশটি মাসআলায় ফতোয়া দিয়েছি।
এক ব্যক্তি রাবিআ বিন আবদুর রহমানকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, যার ইলম নেই তার নিকট ফতোয়া চাওয়া হচ্ছে এবং ইসলামে এক মহা বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বললেন, এখানে যারা ফতোয়া প্রদান করে তাদের মধ্যে কেউ কেউ চোরদের তুলনায় কারাবরণের অধিক যোগ্য। আমি বলি, তিনি যদি আমাদের যামানা এবং যাদের ইলম নেই তাদের ফতোয়া প্রদানের ধৃষ্টতা দেখতেন, অথচ তাদের অভিজ্ঞতার অভাব, মন্দ আচরণ এবং অভ্যন্তরীণ কলুষতা বিদ্যমান। তাদের উদ্দেশ্য কেবলই সুখ্যাতি অর্জন, রিয়া বা লোকদেখানো প্রদর্শন এবং মর্যাদাশালী, শ্রেষ্ঠজন, প্রসিদ্ধ ও অপ্রকাশিত (مستور) ব্যক্তিবর্গ, গভীর জ্ঞানসম্পন্ন আলেম এবং পূর্ববর্তী পারদর্শী পণ্ডিতদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা। এতৎসত্ত্বেও তাদের নিষেধ করা হলেও তারা বিরত হয় না এবং সতর্ক করা হলেও তারা সজাগ হয় না। মূর্খদের ভিড় তাদের বিভ্রান্তিতে ফেলে রেখেছে এবং তারা তাদের যা পালনীয় ছিল তা বর্জন করেছে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১২)
فِي ذَلِك وَمَا عَلَيْهِم فَمن أقدم على مَا لَيْسَ لَهُ أَهلا من فتيا أَو قَضَاء أَو تدريس أَثم فَإِن أَكثر مِنْهُ وأصر وَاسْتمرّ فسق وَلم يحل قبُول قَوْله وَلَا فتياه وَلَا قَضَاؤُهُ هَذَا حكم دين الْإِسْلَام وَالسَّلَام وَلَا اعْتِبَار لمن خَالف هَذَا الصَّوَاب فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون
وَقد قَالَ ابْن دَاوُد وَغَيره إِن الشَّافِعِي شَرط فِي الْمُفْتِي وَالْقَاضِي شُرُوطًا لَا تُوجد إِلَّا فِي الْأَنْبِيَاء وَقَالَ بعض أَصْحَابه شَرط الشَّافِعِي فيهمَا شُرُوطًا تمنع أَن يكون بعده حَاكم
وَكتب سُلَيْمَان إِلَى أبي الدَّرْدَاء بَلغنِي أَنَّك قعدت طَبِيبا فاحذر أَن تقتل مُسلما
وَتحرم الْفَتْوَى على الْجَاهِل بِمَا يسْأَل عَنهُ لما سبق من الحَدِيث وَإِن كَانَ عَارِفًا بِغَيْرِهِ وَقَالَ سُفْيَان أدْركْت الْفُقَهَاء وهم يكْرهُونَ أَن يجيبوا فِي الْمسَائِل والفتيا حَتَّى لَا يَجدوا بدا من أَن يفتوا وَقَالَ أدْركْت الْعلمَاء وَالْفُقَهَاء يترادون الْمسَائِل يكْرهُونَ أَن يجيبوا فِيهَا فَإِذا أعفوا مِنْهَا كَانَ أحب إِلَيْهِم وَقَالَ أعلم النَّاس بالفتيا أسكتهم عَنْهَا وأجهلهم بهَا أنطقهم فِيهَا
এ বিষয়ে এবং তাদের ওপর যা অর্পিত সে সম্পর্কে: যে ব্যক্তি কোনো ফাতাওয়া (فتيا), বিচারকার্য (قضاء) অথবা শিক্ষকতার (تدريس) উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তাতে অগ্রসর হয়, সে গুনাহগার হবে। যদি সে এরূপ অধিক করে এবং এতে অটল ও অবিচল থাকে, তবে সে পাপাচারী (فسق) হিসেবে গণ্য হবে। তার কথা, ফাতাওয়া (فتيا) অথবা বিচারিক রায় (قضاء) গ্রহণ করা বৈধ হবে না। এটিই ইসলামের বিধান এবং শান্তি। যে ব্যক্তি এই সঠিক মতের বিরোধিতা করবে তার কোনো গুরুত্ব নেই। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
ইবনে দাউদ এবং অন্যরা বলেছেন যে, ইমাম শাফিঈ মুফতি (مفتي) এবং বিচারকের (قاضي) জন্য এমন সব শর্তারোপ করেছেন যা নবীগণ ব্যতীত অন্য কারও মাঝে পাওয়া যায় না। তাঁর কিছু অনুসারী বলেছেন: ইমাম শাফিঈ এই দুই পদের জন্য এমন শর্তারোপ করেছেন যা তাঁর পরে কোনো বিচারক (حاكم) থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়।
সুলাইমান আবু দারদা (রা.)-এর নিকট লিখলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি চিকিৎসক হিসেবে বসেছেন, সুতরাং কোনো মুসলিমকে হত্যা করার ব্যাপারে সাবধান থাকুন।"
জিজ্ঞাসিত বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য ফাতাওয়া (فتوى) প্রদান করা হারাম, ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসের কারণে; যদিও সে অন্য বিষয়ে বিজ্ঞ হয়ে থাকে। সুফিয়ান (রাহ.) বলেছেন: "আমি ফকিহদের (فقهاء) পেয়েছি যে, তারা মাসআলা এবং ফাতাওয়া (فتيا) প্রদানের ক্ষেত্রে উত্তর দেওয়াকে অপছন্দ করতেন, যতক্ষণ না ফাতাওয়া (فتيا) দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকত।" তিনি আরও বলেন: "আমি আলেম ও ফকিহদের (فقهاء) দেখেছি যে তারা মাসআলাগুলো একে অপরের দিকে ঠেলে দিতেন এবং উত্তর দেওয়াকে অপছন্দ করতেন। যদি তারা এ থেকে অব্যাহতি পেতেন, তবে তা তাদের নিকট অধিক প্রিয় হতো।" তিনি আরও বলেন: "ফাতাওয়া (فتيا) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী তারা, যারা এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নীরব থাকেন; আর এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ তারা, যারা এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب صفة الْمُفْتِي وشروطه وَأَحْكَامه وآدابه وَمَا يتَعَلَّق بِهِ صلى الله عليه وسلم َ -
وَمن صفته وشروطه أَن يكون مُسلما عدلا مُكَلّفا فَقِيها مُجْتَهدا يقظا صَحِيح الذِّهْن والفكر وَالتَّصَرُّف فِي الْفِقْه وَمَا يتَعَلَّق بِهِ
أما اشْتِرَاط إِسْلَامه وتكليفه وعدالته فبالاجماع لِأَنَّهُ يخبر عَن الله تَعَالَى بِحكمِهِ فَاعْتبر إِسْلَامه وتكليفه وعدالته لتحصل الثِّقَة بقوله ويبنى عَلَيْهِ كَالشَّهَادَةِ وَالرِّوَايَة
فصل وَالْعدْل من اسْتمرّ على فعل الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب والصدق وَترك الْحَرَام وَالْمَكْرُوه وَالْكذب مَعَ حفظ مروءته ومجانبة الريب والتهم بجلب نفع وَدفع ضَرَر فَإِن كَانَ هَذَا وَصفه ظَاهرا وَجَهل بَاطِنه فَفِي كَونه عدلا خلاف وَظَاهر مَذْهَبنَا أَنه لَيْسَ عدلا كَمَا لَو علم أَن بَاطِنه بِخِلَاف ظَاهره وعَلى كلا الْقَوْلَيْنِ لَيْسَ بِعدْل من يَقُول على الله أَو على رَسُوله أَو غَيرهمَا أَو جازف فِي أَقْوَاله وأفعاله مَعَ إثمه بذلك أَو إِسْقَاط مروءته وتفصيل ذَلِك فِي كتب الْفِقْه وَبِالْجُمْلَةِ كل مَا يَأْثَم بِفِعْلِهِ مرّة يفسق بِفِعْلِهِ ثَلَاثًا وَإِن كَانَ كَبِيرَة فَمرَّة وكل مَا أسقط أسقط الْعَدَالَة إِذا كثر وَإِن لم يكثر لم يَأْثَم بِهِ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - মুফতির বৈশিষ্ট্য, তার শর্তাবলী, বিধিবিধান, আদব এবং এ সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
তার বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাকে মুসলিম হতে হবে, ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে, শরিয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف) হতে হবে, ফকিহ হতে হবে, ইজতিহাদকারী (مجتهد) হতে হবে, সচেতন এবং ফিকহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তীক্ষ্ণ মেধা, সঠিক চিন্তা ও বিচক্ষণতার অধিকারী হতে হবে।
তার ইসলাম, শরিয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হওয়ার বিষয়টি ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সাব্যস্ত। কারণ তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন। অতএব, তার ইসলাম, দায়িত্বভার এবং ন্যায়পরায়ণতা বিবেচনা করা হয়েছে যাতে তার কথার প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) অর্জিত হয় এবং সাক্ষ্য ও বর্ণনা (رواية) এর ন্যায় এর ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
পরিচ্ছেদ (فصل) ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি তিনি, যিনি ওয়াজিব (واجب) ও পছন্দনীয় (مندوب) কার্যাবলি সম্পাদন এবং সত্যবাদিতার ওপর অবিচল থাকেন এবং হারাম (حرام), অপছন্দনীয় (مكروه) ও মিথ্যা বর্জন করেন; এর পাশাপাশি স্বীয় ব্যক্তিত্ব (مروءة) রক্ষা করেন এবং ব্যক্তিগত লাভ বা ক্ষতি এড়ানোর ক্ষেত্রে সন্দেহ ও অভিযোগের স্থান থেকে দূরে থাকেন। যদি কারো বাহ্যিক অবস্থা এমন হয় কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত থাকে, তবে তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে গণ্য হবেন কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আমাদের মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত হলো, তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) নন; যেমনটি হয় যদি জানা যায় যে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত। উভয় মতানুসারেই ওই ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে গণ্য হবেন না, যিনি আল্লাহ, তাঁর রাসূল বা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করেন, অথবা স্বীয় কথা ও কাজে বেপরোয়া আচরণ করেন—যা তাকে পাপিষ্ঠ করে কিংবা তার ব্যক্তিত্বকে বিনষ্ট করে। এর বিস্তারিত বিবরণ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। সারকথা হলো, এমন প্রতিটি কাজ যা একবার করলে গুনাহ হয়, তা তিনবার করলে ব্যক্তি পাপাচারী (فاسق) হয়ে যায়। আর যদি তা কবিরা গুনাহ (كبيرة) হয়, তবে একবার করলেই সে পাপাচারী হয়। এবং এমন প্রতিটি বিষয় যা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ক্ষুণ্ণ করে, তা অধিক মাত্রায় ঘটলে ন্যায়পরায়ণতা নষ্ট হয়, আর যদি অধিক না হয় তবে তার কারণে সে পাপী হবে না।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل فَأَما الْفَقِيه على الْحَقِيقَة فَهُوَ من لَهُ أَهْلِيَّة تَامَّة يُمكنهُ أَن يعرف الحكم بهَا إِذا شَاءَ مَعْرفَته جملَة كَثِيرَة عرفهَا من أُمَّهَات مسَائِل الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الفروعية العملية بِالِاجْتِهَادِ والتأمل وحضورها عِنْده فَكل فَقِيه حَقِيقَة مُجْتَهد قَاض لِأَن الِاجْتِهَاد بذل الْجهد والطاقة فِي طلب الحكم الشَّرْعِيّ بدليله وكل مُجْتَهد أصولي فَلهَذَا كَانَ علم أصُول الْفِقْه فرضا على الْفُقَهَاء وَقد ذكر ابْن عقيل أَنه فرض عين وَقَالَ العالمي الْحَنَفِيّ إِنَّه فرض عين على من أَرَادَ الِاجْتِهَاد وَالْفَتْوَى وَالْقَضَاء وَفرض كِفَايَة على غَيرهم وَهُوَ أولى إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَالْمذهب أَنه فرض كِفَايَة كالفقه قلت نحمله على غير الثَّلَاثَة وَلِأَن بِهِ يعرف الدَّلِيل وَالتَّعْلِيل وَالصَّحِيح وَالْفَاسِد والعليل والنبيل والرذيل وَكَيْفِيَّة الِاسْتِدْلَال والاستنباط والإلحاق وَالِاجْتِهَاد والمجتهد وَالْفَتْوَى والمفتي والمستفتي وَمن يجوز لَهُ الِاجْتِهَاد وَالْفَتْوَى أَو يجبان عَلَيْهِ أَو يحرمان أَو يندبان لَهُ وَمن يلْزمه التَّقْلِيد أَو يمْتَنع عَلَيْهِ وَفِيمَا يجوز أَو يمْتَنع وَمن جَهله كَانَ حاكي فقه وفرضه التَّقْلِيد وَقد أوجب ابْن عقيل وَغَيره تَقْدِيم مَعْرفَته على الْفُرُوع وَلِهَذَا ذكره القَاضِي وَابْن أبي مُوسَى وَابْن الْبَنَّا وَأَبُو بكر عبد الْعَزِيز فِي أَوَائِل كتبهمْ الفروعية وَقَالَ أَبُو الْبَقَاء العكبري أبلغ مَا يتَوَصَّل بِهِ إِلَى أَحْكَام الْأَحْكَام اتقان أصُول الْفِقْه
পরিচ্ছেদ প্রকৃতপক্ষে ফকিহ (فقيه) হলেন সেই ব্যক্তি, যার এমন পূর্ণ যোগ্যতা (أهلية) রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি যখনই কোনো বিধান (حكم) জানতে চান, তখনই তা জানতে সক্ষম হন। তিনি শরিয়তের আমলি ও শাখা-প্রশাখা বিষয়ক (فروعية) মৌলিক মাসআলাসমূহ থেকে প্রচুর পরিমাণ বিধান ইজতিহাদ (اجتهاد), গভীর চিন্তা ও উপস্থিত প্রজ্ঞার মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। সুতরাং প্রত্যেক প্রকৃত ফকিহ (فقيه) একজন মুজতাহিদ (مجتهد) ও বিচারক (قاض); কারণ ইজতিহাদ (اجتهاد) হলো দলিলের (دليل) ভিত্তিতে শরয়ি বিধান (حكم شرعي) অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ শ্রম ও শক্তি ব্যয় করা। আর প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) একজন উসুলি (أصولي); এই কারণেই উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করা ফকিহদের (فقهاء) ওপর ফরজ (فرض)। ইবনে আকিল উল্লেখ করেছেন যে, এটি ফরজে আইন (فرض عين)। হানাফি আলেম আল-আলামি বলেছেন, এটি সেই ব্যক্তির ওপর ফরজে আইন (فرض عين) যে ইজতিহাদ (اجتهাদ), ফতোয়া (فتوى) ও বিচারকার্য (قضاء) পরিচালনা করতে চায়; আর অন্যদের ক্ষেত্রে এটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। ইনশাআল্লাহ এটাই অধিকতর অগ্রগণ্য মত। মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো এটি ফিকহ শাস্ত্রের ন্যায় ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। আমি বলি: আমরা এটাকে পূর্বোক্ত তিন শ্রেণির বহির্ভূত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গণ্য করব। কারণ এই শাস্ত্রের মাধ্যমেই দলিল (دليل), কার্যকারণ বিশ্লেষণ (تعليل), সহিহ (صحيح), ফাসিদ (فاسد), ত্রুটিযুক্ত (عليل), উৎকৃষ্ট (نبيل) ও নিকৃষ্ট (رذিল) বিষয়সমূহ জানা যায়। এছাড়া দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি (استدلال), উদ্ভাবন (استنباط), বিধানের সংযুক্তি (إلحاق), ইজতিহাদ (اجتهاد), মুজতাহিদ (مجتهد), ফতোয়া (فتوى), মুফতি (مفتي) এবং ফতোয়া প্রার্থী (مستفتي) সম্পর্কে জানা যায়। আরও জানা যায় কার জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) ও ফতোয়া (فتوى) প্রদান বৈধ (يجوز), অথবা কখন তা তার ওপর ওয়াজিব (يجب) হয়, কিংবা কখন তা হারাম (يحرم) বা মুস্তাহাব (يندب) হয়। কার ওপর তাকলিদ (تقليد) করা আবশ্যক এবং কার জন্য তা নিষিদ্ধ, আর কোন কোন ক্ষেত্রে তা বৈধ বা নিষিদ্ধ—সবই এর মাধ্যমে জানা যায়। যে ব্যক্তি এই শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ, সে কেবল ফিকহের বর্ণনাকারী মাত্র এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাকলিদ (تقليد) করা। ইবনে আকিল ও অন্যান্যরা শাখা-প্রশাখা বিষয়ক মাসআলা (فروع) জানার আগে এই শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করা আবশ্যক করেছেন। এই কারণেই কাজি আবু ইয়ালা, ইবনে আবি মুসা, ইবনে আল-বান্না এবং আবু বকর আব্দুল আজিজ তাঁদের ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের শুরুতে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। আবু আল-বাকা আল-উকবারি বলেছেন: "শরয়ি বিধানসমূহের মূল রহস্য পর্যন্ত পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হলো উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করা।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وطرف من أصُول الدّين لَكِن القَاضِي أوجب تَقْدِيم الْفُرُوع لتحصل الدربة والملكة وَهُوَ أولى إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فصل فَأَما الْمُجْتَهد مُطلقًا فَهُوَ من حفظ وَفهم أَكثر الْفِقْه وأصوله وأدلته فِي مسَائِله إِذا كَانَت لَهُ أَهْلِيَّة تَامَّة يُمكنهُ معرفَة أَحْكَام الشَّرْع فِيهَا بِالدَّلِيلِ وَسَائِر الوقائع إِذا شَاءَ فَإِن كثرت اصابته صلح مَعَ بَقِيَّة الشُّرُوط أَن يُفْتِي وَيَقْضِي وَإِلَّا فَلَا
এবং দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) একটি অংশ। তবে বিচারক (আল-কাজী) শাখা-প্রশাখা বা উপ-বিষয়সমূহকে (فروع) অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক করেছেন যাতে চর্চা ও দক্ষতা (ملكة) অর্জিত হয় এবং ইনশাআল্লাহ এটিই অধিকতর উত্তম।
পরিচ্ছেদ পক্ষান্তরে শর্তহীন মুজতাহিদ (مجتهد مطلقا) হলেন তিনি, যিনি ফিকহ, এর মূলনীতি (أصول) এবং এর মাসআলাগুলোর দলীলসমূহ (أدلة) অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখস্থ ও অনুধাবন করেছেন; যখন তাঁর পূর্ণ যোগ্যতা (أهلية) থাকবে যার মাধ্যমে তিনি দলীলসহ শরীয়তের বিধানসমূহ এবং ইচ্ছানুসারে অন্যান্য ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হতে সক্ষম হবেন। যদি তাঁর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর হার অধিক হয়, তবে অন্যান্য শর্তাবলির (شروط) সাথে তিনি ফতোয়া প্রদান (يفتي) ও বিচারকার্য পরিচালনার (يقضي) যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, অন্যথায় নয়।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فصل والمجتهد أَرْبَعَة أَقسَام مُجْتَهد مُطلق ومجتهد فِي مَذْهَب إِمَامه أَو فِي مَذْهَب إِمَام غَيره ومجتهد فِي نوع من الْعلم ومجتهد فِي مَسْأَلَة مِنْهُ أَو مسَائِل
الْقسم الأول
الْمُجْتَهد الْمُطلق وَهُوَ الَّذِي ذَكرْنَاهُ آنِفا إِذا اسْتَقل بإدراكه للْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة من الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة الْعَامَّة والخاصة وَأَحْكَام الْحَوَادِث مِنْهَا مَعَ حفظه لأكْثر الْفِقْه وَلَا يُقَلّد أحدا وَلَا يتَقَيَّد بِمذهب أحد وَقيل لَا يشْتَرط حفظه لفروع الْفِقْه لِأَنَّهُ فرع الِاجْتِهَاد وَفِيه بعد وَقيل يشْتَرط فِيمَن يتَأَدَّى بفتواه فرض الْكِفَايَة وَمن شَرطه أَن يعرف من الْكتاب وَالسّنة مَا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ وَحَقِيقَة ذَلِك ومجازه وَأمره وَنَهْيه ومجمله ومبينه ومحكمه ومتشابهه وخاصه وعامه ومطلقه ومقيده وناسخه ومنسوخه والمستثنى والمستثنى مِنْهُ وصحيح السّنة من ذَلِك وسقيمها وتواترها وآحادها ومرسلها ومسندها ومتصلها ومنقطعها وَيعرف الْوِفَاق وَالْخلاف فِي مسَائِل الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة فِي كل عصر والأدلة والشبهة وَالْفرق بَينهمَا وَالْقِيَاس وشروطه وَمَا يتَعَلَّق بذلك والعربية المتداولة بالحجاز واليمن وَالشَّام وَالْعراق وَمن حَولهمْ من الْعَرَب وَلَا يضر جَهله بِبَعْض ذَلِك لشُبْهَة أَو إِشْكَال لَكِن يَكْفِيهِ معرفَة وُجُوه دلَالَة الْأَدِلَّة وَكَيْفِيَّة أَخذ الْأَحْكَام من لَفظهَا وَمَعْنَاهَا
পরিচ্ছেদ মুজতাহিদ (مجتهد) চার প্রকার: স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد مطلق), স্বীয় ইমামের মাযহাবে মুজতাহিদ অথবা অন্য কোনো ইমামের মাযহাবে মুজতাহিদ, কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের মুজতাহিদ এবং শাস্ত্রের কোনো নির্দিষ্ট মাসআলা বা মাসআলাসমূহের মুজতাহিদ।
প্রথম প্রকার
স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (المجتهد المطلق): তিনি হলেন ঐ ব্যক্তি যার কথা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, যখন তিনি সাধারণ ও বিশেষ শরয়ী দলিলসমূহ থেকে শরীয়তের বিধানসমূহ অনুধাবনে এবং সেগুলোর মাধ্যমে নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলীর বিধান আহরণে স্বয়ংসম্পূর্ণ হন, পাশাপাশি অধিকাংশ ফিকহ তার স্মৃতিস্থ থাকে। তিনি কারো তাকলীদ করেন না এবং কারো মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না। কেউ কেউ বলেন যে, ফিকহের শাখা-প্রশাখাগুলো মুখস্থ থাকা তার জন্য শর্ত নয়; কারণ তা হলো ইজতিহাদের ফলাফল, তবে এ মতটি গ্রহণযোগ্যতা থেকে দূরে। আবার বলা হয়েছে যে, যার ফতোয়ার মাধ্যমে ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) আদায় হয়, তার ক্ষেত্রে এটি শর্ত। তার একটি শর্ত হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা; যেমন—শব্দের প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز), আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও ব্যাখ্যাত (مبين), সুদৃঢ় (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), শর্তহীন (مطلق) ও শর্তযুক্ত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), এবং ব্যতিক্রম ও যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে। এছাড়া সুন্নাহর মধ্য থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح), দুর্বল (سقيم), অবিচ্ছিন্ন (تواتر), একক (آحاد), বিচ্ছিন্ন (مرسل), সূত্রযুক্ত (مسند), সংযুক্ত (متصل) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع) তা চেনা। এছাড়া তাকে প্রত্যেক যুগের ফিকহী মাসআলাসমূহের ঐকমত্য ও মতভেদ সম্পর্কে জানতে হবে, এবং দলিল ও সংশয় এবং এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। তাকে কিয়াস (قياس), এর শর্তাবলি এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে হবে। হিজায, ইয়েমেন, শাম, ইরাক এবং তাদের পার্শ্ববর্তী আরবদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ভাষা সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে। কোনো সংশয় বা জটিলতার কারণে এর কিছু অংশ অজানা থাকলে তা ক্ষতিকর নয়, তবে তার জন্য দলিলের নির্দেশনার ধরণসমূহ এবং শব্দের রূপ ও অর্থ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি জানা যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَهل تشْتَرط معرفَة الْحساب وَنَحْوه فِي الْمسَائِل المتوقفة عَلَيْهِ فِيهِ خلاف
وَمن زمن طَوِيل عدم الْمُجْتَهد الْمُطلق مَعَ أَنه الْآن أيسر مِنْهُ فِي الزَّمن الأول لِأَن الحَدِيث وَالْفِقْه قد دونا وَكَذَا مَا يتَعَلَّق بِالِاجْتِهَادِ من الْآيَات والْآثَار وأصول الْفِقْه والعربية وَغير ذَلِك لَكِن الهمم قَاصِرَة والرغبات فاترة ونار الْجد والحذر خامدة اكْتِفَاء بالتقليد واستعفاء من التَّعَب الوكيد وهربا من الأثقال وأربا فِي تمشية الْحَال وبلوغ الآمال وَلَو بِأَقَلّ الْأَعْمَال وَهُوَ فرض كِفَايَة قد أهملوه وملوه وَلم يعقلوه ليفعلوه
وَقيل الْمُفْتِي هُوَ من تمكن من معرفَة أَحْكَام الوقائع على يسر من غير تعلم آخر
الْقسم الثَّانِي
مُجْتَهد فِي مَذْهَب إِمَامه أَو إِمَام غَيره وأحواله أَرْبَعَة
الْحَالة الأولى
أَن يكون غير مقلد لإمامه فِي الحكم وَالدَّلِيل لَكِن سلك طَرِيقه فِي الِاجْتِهَاد وَالْفَتْوَى ودعا إِلَى مذْهبه وَقَرَأَ كثيرا مِنْهُ على أَهله فَوَجَدَهُ صَوَابا وَأولى من غَيره وَأَشد مُوَافقَة فِيهِ وَفِي طَرِيقه وَقد ادّعى هَذَا منا القَاضِي أَبُو عَليّ ابْن أبي مُوسَى الْهَاشِمِي فِي شرح الْإِرْشَاد الَّذِي لَهُ وَالْقَاضِي أَبُو يعلى وَغَيرهمَا وَمن الشَّافِعِيَّة خلق كثير وَاخْتلفت الشَّافِعِيَّة وَالْحَنَفِيَّة فِي أبي يُوسُف
হিসাববিজ্ঞান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলোর জ্ঞান কি সেই সব সমস্যার ক্ষেত্রে শর্ত হবে যা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীন মুজতাহিদ (مجتهد مطلق) এর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যদিও বর্তমান সময়ে এটি প্রাথমিক যুগের চেয়ে সহজতর। কারণ হাদিস এবং ফিকহ সংকলিত হয়েছে, আর ইজতিহাদের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ, আসার (آثار), উসুলুল ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়াদিও লিপিবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু মানুষের সংকল্প এখন সংকুচিত, আগ্রহ স্তিমিত এবং পরিশ্রম ও সতর্কতার আগুন নির্বাপিত। তারা অনুকরণ বা তাকলিদের ওপর সন্তুষ্ট থেকে কঠিন পরিশ্রম থেকে অব্যাহতির পথ বেছে নিয়েছে। দায়িত্বের ভার থেকে পলায়ন এবং ন্যূনতম আমলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থা পরিচালনা ও আশা পূরণে তারা নিমগ্ন। অথচ এটি একটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), যা তারা বর্জন করেছে, অবজ্ঞা করেছে এবং তা পালনের উদ্দেশ্যে তা হৃদয়ঙ্গম করেনি।
বলা হয়ে থাকে যে, মুফতি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নতুন কোনো শিক্ষা গ্রহণ ছাড়াই সহজে উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানসমূহ নির্ণয়ে সক্ষম।
দ্বিতীয় প্রকার
নিজ ইমাম বা অন্য কোনো ইমামের মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত মুজতাহিদ (مجتهد); তার অবস্থা চারটি।
প্রথম অবস্থা
তিনি বিধান এবং দলীলের ক্ষেত্রে তার ইমামের অনুসারী নন, বরং তিনি ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইমামের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তাঁর মাযহাবের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের নিকট এর অনেক অংশ অধ্যয়ন করেছেন। অতঃপর তিনি একেই সঠিক এবং অন্যদের তুলনায় অগ্রগণ্য এবং তাঁর নিজের ও তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে পেয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে এই দাবি করেছেন কাজী আবু আলী ইবনে আবি মুসা আল-হাশেমি তাঁর শারহুল ইরশাদ গ্রন্থে, এবং কাজী আবু ইয়ালা ও আরও অনেকে। শাফেয়ীদের মধ্যে এক বিরাট দল এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আর ইমাম আবু ইউসুফের ব্যাপারে শাফেয়ী ও হানাফীগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَمُحَمّد والمزني وَابْن سُرَيج هَل كَانُوا مجتهدين مستقلين أَو فِي مَذْهَب الْإِمَامَيْنِ وفتوى الْمُجْتَهد الْمَذْكُور كفتوى الْمُجْتَهد الْمُطلق فِي الْعَمَل بهَا والاعتداد بهَا فِي الاجماع وَالْخلاف
فصل وَقَالَ بعض الشَّافِعِيَّة إِذا كَانَ رجل مُجْتَهدا فِي مَذْهَب إِمَام وَلم يكن مُسْتقِلّا بالفتوى فِيهِ عَن نَفسه فَهَل لَهُ أَن يُفْتِي بقول ذَلِك الإِمَام على وَجْهَيْن
أَحدهمَا يجوز وَيكون متبعه مُقَلدًا للْمَيت لَا لَهُ
وَالثَّانِي الْمَنْع لِأَنَّهُ مقلد لَهُ لَا للْمَيت والسائل إِنَّمَا أَرَادَ الاستفتاء على قَول الْمَيِّت وَالْأول أصح لِأَن مستفتيه عمل بقول الْمَيِّت الَّذِي عرف الْمُفْتِي صِحَّته بِالدَّلِيلِ فقد وَافقه فِيهِ فَصحت فتياه وَإِن منعنَا تَقْلِيد الْمَيِّت فِي وَجه لنا بعيد وَمذهب لغيرنا ضَعِيف لاحْتِمَال تغير اجْتِهَاده لَو كَانَ حَيا وجدد النّظر عِنْد حُدُوث الْمَسْأَلَة حِين الْفَتْوَى وَفِي وُجُوبه مذهبان سنذكرهما إِن شَاءَ الله تَعَالَى
الْحَالة الثَّانِيَة
أَن يكون مُجْتَهدا فِي مَذْهَب إِمَامه مُسْتقِلّا بتقريره بِالدَّلِيلِ لَكِن لَا يتَعَدَّى أُصُوله وقواعده مَعَ إتقانه للفقه وأصوله وأدلة مسَائِل الْفِقْه عَارِفًا بِالْقِيَاسِ وَنَحْوه تَامّ الرياضة قَادِرًا على التَّخْرِيج والإستنباط وإلحاق الْفُرُوع بالأصول وَالْقَوَاعِد الَّتِي
মুহাম্মদ, মুযানী এবং ইবনে সুরাইজ—তাঁরা কি স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد مستقل) ছিলেন নাকি দুই ইমামের মাযহাব (مذهب)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? আর উল্লিখিত মুজতাহিদের (مجتهد) ফতোয়া (فتوى) আমল করার ক্ষেত্রে এবং ইজমা (إجماع) ও মতভেদের (خلاف) ক্ষেত্রে ধর্তব্য হওয়ার দিক থেকে নিরঙ্কুশ মুজতাহিদের (مجتهد مطلق) ফতোয়ার (فتوى) ন্যায়।
পরিচ্ছেদ জনৈক শাফিঈ পণ্ডিত বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ইমামের মাযহাব (مذهب)-এর অভ্যন্তরে মুজতাহিদ (مجتهد) হন কিন্তু নিজের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে ফতোয়া (فتوى) প্রদানে সক্ষম না হন, তবে সেই ইমামের মত অনুযায়ী কি তিনি ফতোয়া (فتوى) দিতে পারবেন? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
প্রথমটি হলো: এটি জায়েজ (جائز), এমতাবস্থায় তাঁর অনুসরণকারী মূলত মৃত ইমামেরই মুকাল্লিদ (مقلد) হবেন, তাঁর (মুফতির) নয়।
দ্বিতীয়টি হলো: এটি নিষিদ্ধ, কারণ প্রশ্নকারী মূলত সেই ব্যক্তিরই মুকাল্লিদ (مقلد) হচ্ছেন, মৃত ইমামের নয়; অথচ প্রশ্নকারী কেবল মৃত ইমামের মতের ভিত্তিতেই ফতোয়া (فتوى) চেয়েছিলেন। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক (أصح), কারণ ফতোয়া গ্রহণকারী মৃত ব্যক্তির সেই মতের ওপরই আমল করেছেন যার বিশুদ্ধতা মুফতি দলিলের মাধ্যমে জেনেছেন। ফলে মুফতি সেই বিষয়ে ইমামের সাথে একমত হয়েছেন, তাই তাঁর ফতোয়া (فتوى) সঠিক হয়েছে। আর যদি আমরা মৃত ব্যক্তির তাকলিদ (تقليد) নিষিদ্ধ করি—যা আমাদের মতে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা এবং অন্যদের মতে একটি দুর্বল (ضعيف) মত—তার কারণ হলো, ইমাম জীবিত থাকলে এবং ফতোয়া (فتوى) দেওয়ার সময় নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ পেলে তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। এর আবশ্যকতা সম্পর্কে দুটি মাযহাব (مذهب) বা মত রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে উল্লেখ করব।
দ্বিতীয় অবস্থা
তিনি তাঁর ইমামের মাযহাব (مذهب)-এর মধ্যে একজন মুজতাহিদ (مجتهد), যিনি দলিলের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম, তবে তিনি ইমামের মূলনীতি (أصول) ও কায়দালগ্ন নিয়মসমূহের বাইরে যান না। এর পাশাপাশি তিনি ফিকহ ও উসুল (أصول)-এ পারদর্শী এবং ফিকহী মাসআলাসমূহের দলিলের ব্যাপারে অভিজ্ঞ; তিনি কিয়াস (قياس) ও সমজাতীয় বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ অবগত, পূর্ণ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং তাখরিজ (تخريج), ইস্তিনবাত (استنباط) তথা মূলনীতি (أصول) ও কায়দার সাথে শাখা মাসআলাসমূহকে সংযুক্ত করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لإمامه وَقيل وَلَيْسَ من شَرطه معرفَة هَذَا علم الحَدِيث واللغة الْعَرَبيَّة لكَونه يتَّخذ أصُول إِمَامه أصولا يستنبط مِنْهَا الْأَحْكَام كنصوص الشَّارِع وَقد يرى حكما ذكره إِمَامه بِدَلِيل فيكتفي بذلك من غير بحث عَن معَارض أَو غَيره وَهُوَ بعيد وَهَذَا شَأْن أهل الْأَوْجه والطرق فِي الْمذَاهب وَهُوَ حَال أَكثر عُلَمَاء الطوائف الْآن فَمن عمل بِفُتْيَا هَذَا فقد قلد إِمَامه دونه لِأَن معوله على صِحَة اضافة مَا يَقُول إِلَى إِمَامه لعدم استقلاله بتصحيح نسبته إِلَى الشَّارِع بِلَا وَاسِطَة إِمَامه وَالظَّاهِر مَعْرفَته بِمَا يتَعَلَّق بذلك من حَدِيث ولغة وَنَحْو وَقيل أَن فرض الْكِفَايَة لَا يتَأَدَّى بِهِ لِأَن تَقْلِيده نقص وخلل فِي الْمَقْصُود وَقيل يتَأَدَّى بِهِ فِي الْفَتْوَى لَا فِي إحْيَاء الْعُلُوم الَّتِي تستمد مِنْهَا الْفَتْوَى لِأَنَّهُ قد قَامَ فِي فتواه مقَام إِمَام مُطلق فَهُوَ يُؤَدِّي عَنهُ مَا كَانَ يتَأَدَّى بِهِ الْفَرْض حِين كَانَ حَيا قَائِما بِالْفَرْضِ مِنْهَا وَهَذَا على الصَّحِيح فِي جَوَاز تَقْلِيد الْمَيِّت ثمَّ قد يُوجد من الْمُجْتَهد الْمُقَيد اسْتِقْلَال بِالِاجْتِهَادِ وَالْفَتْوَى فِي مَسْأَلَة خَاصَّة أَو بَاب خَاص فَيجوز لَهُ أَن يُفْتِي فِيمَا لم يجده من أَحْكَام الوقائع مَنْصُوصا عَلَيْهَا عَن إِمَامه لما يُخرجهُ على مذْهبه وعَلى هَذَا الْعَمَل وَهُوَ أصح فالمجتهد فِي الْمَذْهَب أَحْمد مثلا إِذا أحَاط بقواعد مذْهبه وتدرب فِي مقاييسه وتصرفاته تنزل من الالحاق بمنصوصاته وقواعد مذْهبه منزلَة الْمُجْتَهد المستقل فِي إِلْحَاقه مَا لم
তার ইমামের অনুসারী হওয়ার কারণে; এবং বলা হয়েছে যে, তার জন্য হাদিস শাস্ত্র ও আরবি ভাষা জানা শর্ত নয়, যেহেতু তিনি তার ইমামের উসুলসমূহকে (মূলনীতি) এমন মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন যেখান থেকে তিনি শরিয়ত প্রণেতার অকাট্য ভাষ্যের ন্যায় বিধানসমূহ আহরণ করেন। কখনো কখনো তিনি তার ইমাম কর্তৃক দলীলসহ উল্লিখিত একটি বিধান দেখতে পান এবং কোনো বিরোধী প্রমাণের অনুসন্ধান ছাড়াই তাতে তুষ্ট থাকেন; তবে এটি একটি সুদূরপরাহত মত। এটি মাযহাবের মধ্যকার 'আসহাবুল উজুহ' ও 'তুরুক' এর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য এবং বর্তমানে বিভিন্ন দলের অধিকাংশ আলেমদের অবস্থাও এরূপ। সুতরাং কেউ যদি এমন ব্যক্তির ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, তবে সে মূলত তার ইমামেরই তাকলিদ করল, তার নয়। কারণ তার নির্ভরতা হলো তার কথাগুলো ইমামের দিকে সঠিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ওপর; যেহেতু ইমামের মাধ্যম ব্যতীত সরাসরি শরিয়ত প্রণেতার দিকে তা সম্বন্ধ করার বিষয়টিকে বিশুদ্ধ (تصحيح) করার ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র নন। তবে প্রবল মত হলো, হাদিস, ভাষা এবং এজাতীয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
বলা হয়েছে যে, এর মাধ্যমে ফরজে কেফায়া আদায় হবে না, কারণ তার তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ মূল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি ও বিচ্যুতি। আবার বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ফরজে কেফায়া আদায় হবে, তবে যে সকল উৎস হতে ফতোয়া গ্রহণ করা হয় সেই জ্ঞানসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে নয়। কারণ তিনি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে একজন মুজতাহিদে মুতলাকের (স্বতন্ত্র মুজতাহিদ) স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন; ফলে ইমাম যখন জীবিত থেকে ফরজ পালন করছিলেন, তখন তার মাধ্যমে যেভাবে ফরজ আদায় হতো, ইনিও তার পক্ষ থেকে সেভাবেই তা আদায় করছেন। আর এটি মৃত ব্যক্তির তাকলিদ বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ (صحيح) মতের ওপর ভিত্তি করে। অতঃপর কখনো কখনো মুজতাহিদে মুকাইয়্যাদের (সীমিত মুজতাহিদ) মধ্যে কোনো বিশেষ মাসয়ালা বা বিশেষ অধ্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের সক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে। এমতাবস্থায় যেসব ঘটনার বিধান তিনি তার ইমামের নিকট থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত পান না, সেগুলোতে মাযহাবের মূলনীতির আলোকে মাসয়ালা আহরণ করে ফতোয়া দেওয়া তার জন্য বৈধ। বর্তমানে আমল এর ওপরই এবং এটিই অধিকতর সঠিক (أصح) মত। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আহমদের মাযহাবের একজন মুজতাহিদ যখন তার মাযহাবের মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করেন এবং সেগুলোর প্রয়োগপদ্ধতি ও বিন্যাসে দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন কোনো বিষয়কে মাযহাবের মূলনীতি ও ইমামের বর্ণিত নসের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদের সমতুল্য বিবেচিত হন, যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২০)
ينص عَلَيْهِ الشَّارِع بِمَا نَص عَلَيْهِ وَهَذَا أقدر على ذَا من ذَاك على ذَاك فَإِنَّهُ يجد فِي مَذْهَب إِمَامه قَوَاعِد مُمَيزَة وضوابط مهذبة مِمَّا لَا يجده الْمُجْتَهد فِي أصُول الشَّرْع ونصوصه وَقد سُئِلَ الإِمَام أَحْمد رضي الله عنه عَمَّن يُفْتِي بِالْحَدِيثِ هَل لَهُ ذَلِك إِذا حفظ أَرْبَعمِائَة ألف حَدِيث فَقَالَ أَرْجُو فَقيل لأبي اسحق ابْن شاقلا فَأَنت تُفْتِي وَلست تحفظ هَذَا الْقدر فَقَالَ لكنني أُفْتِي بقول من يحفظ ألف ألف حَدِيث يَعْنِي الإِمَام أَحْمد
ثمَّ إِن المستفتي فِيمَا يفتيه بِهِ من تَخْرِيجه هَذَا مقلد لإمامه لَا لَهُ وَقيل مَا يُخرجهُ أَصْحَاب الإِمَام على مذْهبه هَل يجوز أَن ينْسب إِلَيْهِ وَأَنه مذْهبه فِيهِ لنا ولغيرنا خلاف وتفصيل وَالْحَاصِل أَن الْمُجْتَهد فِي مَذْهَب إِمَامه هُوَ الَّذِي يتَمَكَّن من التَّفْرِيع على أَقْوَاله كَمَا يتَمَكَّن الْمُجْتَهد من التَّفْرِيع على مَا انْعَقَد عَلَيْهِ الاجماع وَدلّ عَلَيْهِ الْكتاب أَو السّنة أَو الاستنباط وَلَيْسَ من شَرط الْمُجْتَهد أَن يُفْتِي فِي كل مَسْأَلَة بل يجب أَن يكون على بَصِيرَة فِيمَا يُفْتِي بِهِ بِحَيْثُ يحكم فِيمَا يدْرِي ويدري أَنه يدْرِي بل قد يجْتَهد الْمُجْتَهد فِي الْقبْلَة ويجتهد الْعَاميّ فِيمَن يقلده ويتبعه ثمَّ تَخْرِيجه تَارَة يكون من نَص لإمامه فِي مَسْأَلَة مُعينَة وَتارَة لَا يجد لإمامه نصا معينا يخرج مِنْهُ فَيخرج على وفْق أُصُوله وقواعده بِأَن يجد دَلِيلا من جنس مَا يحْتَج بِهِ إِمَامه وعَلى شَرطه فيفتي بِمُوجبِه وَجعل هَذَا مذهبا لإمامه بعيد ثمَّ إِن وَقع النَّوْع الأول من التَّخْرِيج فِي صُورَة فِيهَا
বিধানদাতা (الشارع) যা নির্ধারণ করেছেন, এই ব্যক্তি তার ওপর ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক সক্ষম; কেননা সে তার ইমামের মাজহাবের মধ্যে এমন কিছু স্বতন্ত্র মূলনীতি (قواعد) ও পরিমার্জিত নিয়মাবলি (ضوابط) খুঁজে পায়, যা একজন মুজতাহিদ (مجتهد) শরীয়তের মূলনীতি (أصول الشرع) ও ভাষ্যসমূহের (نصوص) মধ্যে খুঁজে পায় না। ইমাম আহমাদ (রা.)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে হাদিসের ভিত্তিতে ফতোয়া (فتوى) দেয়—সে কি তা করতে পারবে যদি সে চার লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখে? তিনি বললেন: আমি আশা করি। তখন আবু ইসহাক ইবনে শাকলাকে বলা হলো: আপনি তো ফতোয়া (فتوى) দিচ্ছেন অথচ আপনার তো এই পরিমাণ মুখস্থ নেই? তিনি বললেন: কিন্তু আমি এমন একজনের বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) দেই, যিনি দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন—অর্থাৎ ইমাম আহমাদ।
অতঃপর ফতোয়া প্রার্থী (مستفتي) মুফতির সেই তাখরিজ বা উদ্ভাবন (تخريج) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ফতোয়ার বিষয়ে মূলত তাঁর ইমামেরই অনুসারী (مقلد), তাঁর নয়। বলা হয়ে থাকে, ইমামের অনুসারীগণ তাঁর মাজহাবের ওপর ভিত্তি করে যা উদ্ভাবন (تخريج) করেন, তা কি ইমামের দিকে নিসবত করা এবং এটি তাঁরই মাজহাব বলা বৈধ? এ বিষয়ে আমাদের ও অন্যদের মাঝে মতভেদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। সারকথা হলো, নিজ ইমামের মাজহাবে মুজতাহিদ (مجتهد) তিনিই, যিনি ইমামের বক্তব্য থেকে শাখা মাসআলা বের করতে (تفريغ) সক্ষম, যেমনটি একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد) সক্ষম হন ইজমা (إجماع), কুরআন, সুন্নাহ (سنة) কিংবা আহরণ (استنباط) এর মাধ্যমে সাব্যস্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে শাখা মাসআলা বের করতে। মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য এটি শর্ত নয় যে তিনি প্রতিটি মাসআলায় ফতোয়া (فتوى) দেবেন; বরং তিনি যা ফতোয়া (فتوى) দিচ্ছেন সে বিষয়ে তাঁর স্বচ্ছ গভীর জ্ঞান (بصيرة) থাকা আবশ্যক, যাতে তিনি যা জানেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করেন এবং তিনি অবগত থাকেন যে তিনি বিষয়টি জানেন। এমনকি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) কিবলার (قبلة) দিক নির্ণয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে পারেন এবং একজন সাধারণ মানুষও সে কার অনুসরণ ও অনুকরণ করবে সে বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে পারে। অতঃপর তাঁর সেই তাখরিজ বা উদ্ভাবন (تخريج) কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর ইমামের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) থেকে হয়, আবার কখনো তিনি তাঁর ইমামের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য খুঁজে পান না যা থেকে সমাধান বের করা যায়, ফলে তিনি ইমামের মূলনীতি (أصول) ও কায়েদা (قواعد) অনুযায়ী সমাধান বের করেন; এভাবে যে, তিনি এমন কোনো দলিল খুঁজে পান যা তাঁর ইমামের দলিলের সমজাতীয় এবং তাঁর ইমামের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়, ফলে তিনি সেই অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) প্রদান করেন। আর একে ইমামের মাজহাব হিসেবে গণ্য করা কিছুটা দূরবর্তী বিষয়। অতঃপর যদি প্রথম প্রকারের উদ্ভাবন (تخريج) এমন কোনো ক্ষেত্রে ঘটে যাতে...
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২১)
نَص لإمامه مخرجا هُوَ فِيهَا بِخِلَاف نَصه فِيهَا من نَص آخر فِي صُورَة أُخْرَى فَهِيَ قَول مخرج كنصه على حكمين مُخْتَلفين فِي مَسْأَلَتَيْنِ متشابهتين فِي وَقْتَيْنِ فَيخرج من كل وَاحِدَة فِي الْأُخْرَى فَيكون لَهُ فِي مَسْأَلَة قَولَانِ قَول مَنْصُوص وَقَول مخرج وَإِن قُلْنَا الأول من قوليه لَيْسَ مذهبا لَهُ لم يجز النَّقْل والتخريج من الْمَسْأَلَة الْمُتَقَدّمَة إِلَى الْمُتَأَخِّرَة وَيجوز عَكسه هَذَا قَول الشَّافِعِيَّة وأصحابنا وَفِي جَوَازه خلاف وتفصيل نذكرهُ آنِفا وَأكْثر الشَّافِعِيَّة يطلقون النَّقْل والتخريج من غير تَفْصِيل فَيلْزم التَّخْرِيج من الْمَسْأَلَة الْمُتَقَدّمَة إِلَى الْمُتَأَخِّرَة فَيكون الْقَدِيم مذهبا والجديد لَيْسَ مذهبا
وَإِذا وَقع النَّوْع الثَّانِي فِي صُورَة قد قَالَ فِيهَا بعض الْأَصْحَاب غير ذَلِك سمي ذَلِك وَجها لمن خرجه وَيُقَال فِيهَا وَجْهَان وَقد يخرج بعض الْأَصْحَاب فِي بعض الْمسَائِل خلاف نَص الإِمَام فِيهَا على مَا يرَاهُ دَلِيلا من جنس أَدِلَّة الإِمَام وَذَلِكَ بَين أَصْحَابنَا كثير وَالْخلاف هُنَا إصطلاح لَفْظِي وَشرط التَّخْرِيج الْمَذْكُور أَولا عِنْد اخْتِلَاف النصين أَن لَا يُوجد بَين الْمَسْأَلَتَيْنِ فرق يُؤثر وَلَا يكون الإِمَام فرق بَينهمَا أَو كَانَ زمن الْقَوْلَيْنِ قَرِيبا وَلَا حَاجَة فِي مثل ذَلِك إِلَى عِلّة جَامِعَة وَهُوَ كإلحاق الْأمة بِالْعَبدِ فِي الْعتْق وَمَتى أمكن الْفرق بَين الْمَسْأَلَتَيْنِ لم يجز لَهُ على الْأَصَح التَّخْرِيج وَلَزِمَه تَقْرِير النصين على ظاهرهما للفارق والمؤثر
ইমামের এমন একটি বক্তব্য যা অন্য একটি বিষয়ের পাঠ (نص) থেকে উৎসারিত (مخرج), যা সেই বিষয়ে তাঁর অন্য একটি পাঠের (نص) পরিপন্থী; এটি একটি উৎসারিত অভিমত (قول مخرج) হিসেবে গণ্য। এটি এমন যে, ইমাম দুটি সদৃশ মাসআলায় (مسألة) দুটি ভিন্ন সময়ে দুটি পৃথক বিধান (حكم) প্রদান করেছেন। এক্ষেত্রে একটির বিধান অন্যটিতে প্রয়োগ করা হয়। ফলে একটি মাসআলায় (مسألة) তাঁর দুটি অভিমত (قول) তৈরি হয়: একটি সুস্পষ্ট পাঠের মাধ্যমে ব্যক্ত অভিমত (قول منصوص), আর অন্যটি উৎসারিত অভিমত (قول مخرج)। যদি আমরা বলি যে, তাঁর দুটি অভিমতের (قول) মধ্যে প্রথমটি তাঁর মাজহাব (مذهب) নয়, তবে পূর্ববর্তী মাসআলা (مسألة) থেকে পরবর্তী মাসআলায় (مسألة) স্থানান্তর (نقل) ও আহরণ (تخريج) করা বৈধ হবে না, তবে এর বিপরীতটি বৈধ। এটি শাফেঈ ও আমাদের ইমামদের অভিমত (قول)। এর বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে যা আমরা অচিরেই উল্লেখ করব। অধিকাংশ শাফেঈ আলিম কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ ছাড়াই এই স্থানান্তর (نقل) ও আহরণকে (تخريج) নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেন। ফলে পূর্ববর্তী মাসআলা (مسألة) থেকে পরবর্তী মাসআলায় (مسألة) আহরণ (تخريج) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় পুরাতন অভিমতটি মাজহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য হবে এবং নতুনটি মাজহাব (مذهب) হবে না।
যখন দ্বিতীয় প্রকারটি এমন কোনো ক্ষেত্রে ঘটে যেখানে কিছু ফকিহ (أصحاب) ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, তখন তাকে ওই আহরণকারীর জন্য একটি অভিমত (وجه) বলা হয় এবং বলা হয় যে এখানে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। কখনো কোনো ফকিহ (أصحاب) কোনো মাসআলায় (مسألة) ইমামের পাঠের (نص) বিপরীতে এমন কিছু আহরণ (تخريج) করেন যাকে তিনি ইমামের দলিলের অনুরূপ দলিল হিসেবে মনে করেন। আমাদের ফকিহদের মধ্যে এ ধরনের উদাহরণ প্রচুর। এখানকার মতভেদটি কেবল পারিভাষিক। আর দুটি পাঠের (نص) ভিন্নতার সময় পূর্বে উল্লিখিত আহরণের (تخريج) শর্ত হলো—উভয় মাসআলার (مسألة) মধ্যে এমন কোনো প্রভাববিস্তারী পার্থক্য থাকতে পারবে না যা ইমাম নিজে করেছেন অথবা যদি উভয় অভিমতের (قول) সময়কাল নিকটবর্তী হয়। এমন ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ কারণ বা ইল্লত (علة) অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। এটি দাসের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দাসীকে দাসের সাথে যুক্ত করার মতোই। যখনই দুটি মাসআলার (مسألة) মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হবে, তখন বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী আহরণ (تخريج) করা বৈধ হবে না এবং প্রভাববিস্তারী পার্থক্যের কারণে উভয় পাঠকে (نص) তাদের বাহ্যিক রূপেই বহাল রাখা আবশ্যক হবে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَاخْتلفُوا فِي القَوْل بالتخريج فِي مثل ذَلِك لإختلافهم فِي إِمْكَان الْفرق وَتَمام ذَلِك يَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى
الْحَالة الثَّالِثَة
أَن لَا يبلغ بِهِ رُتْبَة أَئِمَّة الْمذَاهب أَصْحَاب الْوُجُوه والطرق غير أَنه فَقِيه النَّفس حَافظ لمَذْهَب إِمَامه عَارِف بأدلته قَائِم بتقريره ونصرته يصور وَيجوز ويمهد ويقرر ويزيف ويرجح لكنه قصر عَن دَرَجَة أُولَئِكَ إِمَّا لكَونه لم يبلغ فِي حفظ الْمَذْهَب مبلغهم وَإِمَّا لكَونه غير متبحر فِي أصُول الْفِقْه وَنَحْوه على أَنه لَا يَخْلُو مثله فِي ضمن مَا يحفظه من الْفِقْه ويعرفه من أدلته عَن أَطْرَاف من قَوَاعِد أصُول الْفِقْه وَنَحْوه وَإِمَّا لكَونه مقصرا فِي غير ذَلِك من الْعُلُوم الَّتِي هِيَ أدوات للإجتهاد الْحَاصِل لاصحاب الْوُجُوه والطرق وَهَذِه صفة كثير من الْمُتَأَخِّرين الَّذين رتبوا الْمذَاهب وحرروها وصنفوا فِيهَا تصانيف بهَا يشْتَغل النَّاس الْيَوْم غَالِبا وَلم يلْحقُوا من يخرج الْوُجُوه ويمهد الطّرق فِي الْمذَاهب وَإِمَّا فِي فتاويهم فقد كَانُوا يتبسطون فِيهَا كتبسط أُولَئِكَ أَو نَحوه ويقيسون غير الْمَنْقُول والمسطور على الْمَنْقُول والمسطور فِي الْمَذْهَب غير مقتصرين فِي ذَلِك على الْقيَاس الْجَلِيّ وَقِيَاس لَا فَارق نَحْو قِيَاس الْمَرْأَة على الرجل فِي رُجُوع البَائِع إِلَى عين مَاله عِنْد تعذر الثّمن وَلَا تبلغ فتاويهم فَتَاوَى أَصْحَاب الْوُجُوه وَرُبمَا تطرق بَعضهم إِلَى تَخْرِيج قَول وإستنباط وَجه وإحتمال وفتاويهم مَقْبُولَة أَيْضا
এবং তাঁরা এই জাতীয় বিষয়ে তাখরিজ (تخريج) বা বিধান উদ্ভাবন করার মতামতের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন, কারণ তাঁরা এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের সম্ভাব্যতা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আর এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে আসবে।
তৃতীয় অবস্থা
তিনি মাযহাবের ওই সকল ইমামদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি যারা আসহাবুল ওজুহ (أصحاب الوجوه) ও আসহাবুত তুরুক (أصحاب الطرق) হিসেবে পরিচিত; তবে তিনি স্বভাবজাত ফকিহ, নিজ ইমামের মাযহাবের পূর্ণ হাফিজ (حافظ), এর দলিল-প্রমাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং মাযহাবের বর্ণনা ও সমর্থনে সদাতৎপর। তিনি মাসআলা চিত্রায়ন করেন, বিশ্লেষণ করেন, ভিত্তি স্থাপন করেন, সাব্যস্ত করেন, অসারতা প্রমাণ করেন এবং প্রাধান্য (ترجيح) প্রদান করেন। কিন্তু তিনি পূর্বোক্তদের পর্যায়ের চেয়ে পিছিয়ে আছেন; হয় তিনি মাযহাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাঁদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, অথবা তিনি উসুলে ফিকহ (أصول الفقه) ও এই জাতীয় বিদ্যায় গভীরভাবে পারদর্শী নন। যদিও তাঁর মতো আলিমের ফিকহ চর্চা এবং দলিলের জ্ঞানের মধ্যে উসুলে ফিকহের (أصول الفقه) মূলনীতিমালার বিভিন্ন দিক থাকা অসম্ভব নয়। অথবা তিনি ইজতিহাদের (اجتهاد) উপকরণ হিসেবে বিবেচিত অন্যান্য জ্ঞান অর্জনে পিছিয়ে আছেন, যা আসহাবুল ওজুহ (أصحاب الوجوه) ও আসহাবুত তুরুক (أصحاب الطرق) আলিমগণের অর্জিত ছিল। আর এটি পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলিমের বৈশিষ্ট্য, যাঁরা মাযহাবগুলোকে বিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেছেন এবং এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত থাকে। তবে তাঁরা মাযহাবের ভেতর নতুন মতামত উদ্ভাবন বা তাখরিজ (تخريج) এবং নতুন পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। অবশ্য ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরা পূর্ববর্তীদের মতোই সাবলীল ছিলেন এবং মাযহাবে বর্ণিত ও লিখিত বিষয়ের সাথে অবর্ণিত বিষয়গুলোর তুলনা বা কিয়াস (قياس) করতেন। এই কিয়াসের (قياس) ক্ষেত্রে তাঁরা কেবল সুস্পষ্ট কিয়াস (قياس جلي) বা যে কিয়াসে (قياس) কোনো পার্থক্য নেই—যেমন মূল্য আদায়ে অপারগ হলে বিক্রেতার নিজ পণ্য ফেরত পাওয়ার বিষয়ে পুরুষের হুকুমের ওপর নারীর কিয়াস (قياس)—তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন না। তবে তাঁদের ফতোয়াগুলো আসহাবুল ওজুহ (أصحاب الوجوه) আলিমগণের ফতোয়ার মানে পৌঁছায় না। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মাঝেমধ্যে কোনো বক্তব্যের তাখরিজ (تخريج), কোনো দৃষ্টিভঙ্গির নির্যাস বের করা বা ইস্তিনবাত (استنباط) এবং সম্ভাব্যতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁদের এই ফতোয়াগুলোও গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْحَالة الرَّابِعَة
أَن يقوم بِحِفْظ الْمَذْهَب وَنَقله وفهمه فَهَذَا يعْتَمد على نَقله وفهمه فَهَذَا يعْتَمد نَقله وفتواه فِيمَا يحكيه من مسطورات مذْهبه من منصوصات إِمَامه وتفريعات أَصْحَابه الْمُجْتَهدين فِي مذْهبه وتخريجاتهم وَأما مَا يجده مَنْقُولًا فِي مذْهبه فَإِن وجد فِي الْمَنْقُول مَا هَذَا فِي مَعْنَاهُ بِحَيْثُ يدْرك من غير فضل فكر وَتَأمل أَنه لَا فَارق بَينهمَا كَمَا فِي الْأمة بِالنِّسْبَةِ إِلَى العَبْد الْمَنْصُوص عَلَيْهِ فِي اعتاق الشَّرِيك جَازَ لَهُ إِلْحَاقه بِهِ وَالْفَتْوَى بِهِ وَكَذَلِكَ مَا يعلم إندراجه تَحت ضَابِط ومنقول ممهد فِي الْمَذْهَب وَمَا لم يكن كَذَلِك فَعَلَيهِ الْإِمْسَاك عَن الْفتيا بِهِ وَمثل هَذَا يَقع نَادرا فِي حق مثل الْفَقِيه الْمَذْكُور إِذْ يبعد أَن تقع وَاقعَة لم ينص على حكمهَا فِي الْمَذْهَب وَلَا هِيَ فِي معنى بعض الْمَنْصُوص عَلَيْهِ فِيهِ من غير فرق وَلَا مندرجة تَحت شَيْء من ضوابط الْمَذْهَب المحررة فِيهِ ثمَّ إِن هَذَا الْفَقِيه لَا يكون إِلَّا فَقِيه النَّفس لِأَن تَصْوِير الْمسَائِل على وَجههَا وَنقل أَحْكَامهَا بعده لَا يقوم بِهِ إِلَّا فَقِيه النَّفس وَيَكْفِي استحضار أَكثر الْمَذْهَب مَعَ قدرته على مطالعة بَقِيَّته قَرِيبا
চতুর্থ স্তর
তিনি মাযহাব সংরক্ষণ, বর্ণনা ও অনুধাবন করবেন। সুতরাং তাঁর বর্ণনা ও অনুধাবনের ওপর নির্ভর করা হবে। তাঁর মাযহাবের লিখিত বিষয়াবলি হতে তিনি যা উদ্ধৃত করেন, যেমন তাঁর ইমামের স্পষ্ট উক্তি (منصوصات), তাঁর মাযহাবের মুজতাহিদ (مجتهدين) সাথীদের উদ্ভাবিত শাখাগত মাসআলা (تفريعات) এবং তাঁদের আহরিত সমাধান (تخريجات)—এসব ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনা ও ফতোয়া (فتوى)-এর ওপর নির্ভর করা হবে। আর তিনি তাঁর মাযহাবে যা বর্ণিত পাবেন, যদি তিনি সেই বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু পান যা বর্তমান বিষয়ের সমার্থবোধক এবং কোনো গভীর চিন্তা ও গবেষণা ছাড়াই প্রতীয়মান হয় যে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—যেমন অংশীদারের দাসের মুক্তির ক্ষেত্রে বর্ণিত নির্দেশের সাথে দাসীর সামঞ্জস্যতা—তবে তাঁর জন্য এটিকে মূলের সাথে সংযুক্ত করা এবং সেই অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) প্রদান করা বৈধ। একইভাবে মাযহাবের কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি (ضابط) এবং বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত বলে যা স্পষ্টভাবে পরিগণিত হয়, তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর যা এরূপ নয়, তা নিয়ে ফতোয়া (فتوى) প্রদান থেকে তাঁর বিরত থাকা আবশ্যক। উল্লিখিত ফকিহ (فقيه)-এর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বিরল; কারণ এমন কোনো ঘটনা ঘটা সুদূরপরাহত যার বিধান মাযহাবে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) হয়নি, অথবা যা কোনো পার্থক্য ছাড়াই মাযহাবের কোনো স্পষ্ট বিধানের (منصوص عليه) সমার্থক নয়, কিংবা যা মাযহাবের সম্পাদিত কোনো মূলনীতির (ضوابط) অন্তর্ভুক্ত নয়। উপরন্তু, এই ফকিহ (فقيه) অবশ্যই স্বভাবজাত ফকিহ (فقيه النفس) হবেন। কারণ মাসআলা (مسائل) সমূহকে যথাযথভাবে চিত্রায়ন করা এবং পরবর্তীতে সেগুলোর বিধান বর্ণনা করা কেবল স্বভাবজাত ফকিহ (فقيه النفس) ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। মাযহাবের অধিকাংশ বিষয় নখদর্পণে থাকাই তাঁর জন্য যথেষ্ট, সাথে বাকি অংশগুলো দ্রুত পর্যালোচনার সক্ষমতা থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الْقسم الثَّالِث
الْمُجْتَهد فِي نوع من الْعلم
فَمن عرف الْقيَاس وشروطه فَلهُ أَن يُفْتِي فِي مسَائِل مِنْهُ قياسية لَا تتَعَلَّق بِالْحَدِيثِ وَمن عرف الْفَرَائِض فَلهُ أَن يُفْتِي فِيهَا وَأَن جهل أَحَادِيث النِّكَاح وَغَيره وَقيل يجوز ذَلِك فِي الْفَرَائِض دون غَيرهَا وَقيل بِالْمَنْعِ فيهمَا وَهُوَ بعيد
الْقسم الرَّابِع
الْمُجْتَهد فِي مسَائِل أَو فِي مَسْأَلَة وَلَيْسَ لَهُ الْفَتْوَى فِي غَيرهَا
وَأما فِيهَا فَالْأَظْهر جَوَازه وَيحْتَمل الْمَنْع لِأَنَّهُ مَظَنَّة الْقُصُور وَالتَّقْصِير
فصل فَمن أفتى وَلَيْسَ على صفة من الصِّفَات الْمَذْكُورَة من غير ضَرُورَة فَهُوَ عَاص آثم لِأَنَّهُ لَا يعرف الصَّوَاب وضده فَهُوَ كالأعمى الَّذِي لَا يُقَلّد الْبَصِير فِيمَا يعْتَبر لَهُ الْبَصَر لِأَنَّهُ بفقد الْبَصَر لَا يعرف الصَّوَاب وضده {أَلا يظنّ أُولَئِكَ أَنهم مبعوثون ليَوْم عَظِيم} 83 4 3 قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ يلْزم ولي الْأَمر مَنعهم كَمَا فعل بنوا أُميَّة وَمن تصدى للفتيا ظَانّا أَنه من أَهلهَا فليتهم نَفسه وليتق ربه
তৃতীয় বিভাগ
জ্ঞানের কোনো একটি নির্দিষ্ট শাখায় মুজতাহিদ (مجتهد)
সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়াস (القياس) এবং এর শর্তাবলি সম্পর্কে অবগত, তার জন্য এমন কিয়াস-ভিত্তিক মাসআলাসমূহে ফতোয়া দেওয়া বৈধ যা হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর যে ব্যক্তি ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) সম্পর্কে সম্যক অবগত, তার জন্য সে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ, যদিও সে বিবাহ ও অন্যান্য বিষয়ের হাদিসসমূহ সম্পর্কে অনবহিত থাকে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি কেবল ফারায়েজের ক্ষেত্রে জায়েজ, অন্য ক্ষেত্রে নয়। আবার উভয় ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ হওয়ার (المنع) মত ব্যক্ত করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য (بعيد)।
চতুর্থ বিভাগ
কতিপয় মাসআলা বা কোনো একটি নির্দিষ্ট মাসআলায় মুজতাহিদ (مجتهد), যার জন্য অন্য কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়।
আর উক্ত মাসআলাটির ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো এর বৈধতা, তবে নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও (يحتمل المنع) রয়েছে; কারণ এটি জ্ঞানগত অপরিপক্কতা ও ত্রুটির আশঙ্কাযুক্ত।
অনুচ্ছেদ (فصل) সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো জরুরি প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতিরেকে উল্লিখিত গুণাবলি ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করল, সে অবাধ্য ও গুনাহগার (آثم)। কেননা সে সঠিক ও তার বিপরীত বিষয়ের পার্থক্য বোঝে না। সে ওই অন্ধ ব্যক্তির ন্যায় যে এমন বিষয়ে কোনো দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির অনুসরণ করে না যেখানে দৃষ্টিশক্তি আবশ্যক; কারণ দৃষ্টিশক্তি না থাকায় সে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য চেনে না। {তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা এক মহা দিবসে পুনরুত্থিত হবে?}। ইবনুল জাওযী বলেন: উমাইয়া বংশের শাসকরা যেমন করেছিলেন, তেমনি বর্তমান শাসনকর্তার (ولي الأمر) ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদেরকে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত রাখা। আর যে ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য মনে করে ফতোয়া প্রদানের কাজে প্রবৃত্ত হয়, সে যেন নিজেকে অভিযুক্ত করে এবং তার প্রতিপালককে ভয় করে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فَإِن الماهر فِي علم الْأُصُول أَو الْخلاف أَو الْعَرَبيَّة دون الْفِقْه يحرم عَلَيْهِ الْفتيا لنَفسِهِ وَلغيره لِأَنَّهُ لَا يسْتَقلّ بِمَعْرِِفَة حكم الواقعية من أصُول الِاجْتِهَاد لقُصُور آلَته وَلَا من مَذْهَب إِمَام لعدم حفظه وإطلاعه عَلَيْهِ على الْوَجْه الْمُعْتَبر فَلَا يحْتَج بقوله فِي ذَلِك وَينْعَقد الْإِجْمَاع دونه على أصح المذهبين
وَأَجَازَ أَبُو حنيفَة تَقْلِيده فِيمَا يُفْتِي بِهِ غَيره وَالْحكم بِهِ وَلَا وَجه لَهُ مَعَ جهل الْمُفْتِي وَالْحَاكِم وعاميتهما لما سبق آنِفا وَلَا يجوز للمقلد الْفَتْوَى بِمَا هُوَ مقلد فِيهِ وَقيل إِن جهل دَلِيله
وَقيل يجوز لمن حفظ مَذْهَب ذِي مَذْهَب ونصوصه أَن يُفْتِي بِهِ عَن ربه وَإِن لم يكن عَارِفًا بغوامضه وحقائقه وَقيل لَا يجوز أَن يُفْتِي بِمذهب غَيره إِذا لم يكن متبحرا فِيهِ عَالما بغوامضه وحقائقه كَمَا لَا يجوز للعامي الَّذِي جمع فتاوي الْمُفْتِينَ أَن يُفْتِي بهَا وَإِذا كَانَ متبحرا فِيهِ جَازَ أَن يُفْتِي بِهِ وَالْمرَاد بقول من منع الْفَتْوَى بِهِ أَنه لَا يذكرهُ على صُورَة مَا يَقُوله من عِنْد نَفسه بل يضيفه إِلَى غَيره ويحكيه عَن إِمَامَة الَّذِي قَلّدهُ لصِحَّة تَقْلِيد الْمَيِّت كَمَا سبق فعلى هَذَا من عددناه من أَصْنَاف الْمُفْتِينَ من المقلدين لَيْسَ على الْحَقِيقَة من الْمُفْتِينَ وَلَكِن قَامُوا مقامهم وأدوا عَنْهُم فعدوا مَعَهم وسبيلهم فِي ذَلِك أَن يَقُولُوا مثلا مَذْهَب أَحْمد كَذَا وَكَذَا وَمُقْتَضى مذْهبه كَذَا وَكَذَا أَو نَحْو ذَلِك وَمن ترك مِنْهُم
বস্তুত যে ব্যক্তি উসুল (أصول) শাস্ত্র, মতপার্থক্য (خلاف) বা আরবি ব্যাকরণে দক্ষ কিন্তু ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, তার নিজের জন্য বা অন্যের জন্য ফতোয়া প্রদান করা হারাম। কারণ, যোগ্যতার ঘাটতি থাকার কারণে ইজতিহাদের (اجتهاد) মূলনীতিসমূহ থেকে বাস্তব ঘটনার বিধান বের করতে সে স্বাধীনভাবে সক্ষম নয়। আবার ইমামের মাযহাব থেকেও সে তা উদ্ঘাটন করতে পারে না, কারণ গ্রহণযোগ্য (معتبر) পদ্ধতিতে তা তার স্মরণে নেই এবং এ বিষয়ে তার সম্যক জ্ঞানও নেই। অতএব, এ ক্ষেত্রে তার বক্তব্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে না এবং অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাকে ছাড়াই ইজমা (إجماع) সাব্যস্ত হবে।
ইমাম আবু হানিফা অন্য কেউ যে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করে তাতে তার তাকলিদ (تقليد) করা এবং তদানুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করা জায়েজ বলেছেন। তবে মুফতি ও বিচারকের অজ্ঞতা ও সাধারণ (عامي) হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে সে অনুযায়ী এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। মুকাল্লিদ (مقلد) যে বিষয়ে অন্যের অনুসরণ করছে সে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা জায়েজ নয়। কারো কারো মতে, এটি তখন জায়েজ নয় যখন সে তার দলিল সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকে।
মতান্তরে বলা হয়েছে, যিনি কোনো মাযহাবের ইমামের মাযহাব ও তার নস বা ভাষ্যসমূহ মুখস্থ করেছেন, তিনি তার রবের পক্ষ থেকে ফতোয়া দিতে পারেন, যদিও তিনি এর সূক্ষ্ম রহস্য ও হাকিকত সম্পর্কে অবগত না হন। আবার বলা হয়েছে, অন্যের মাযহাবে পারদর্শী না হয়ে এবং তার সূক্ষ্ম দিক ও বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত না হয়ে ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়; যেমনটা একজন সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য জায়েজ নয় মুফতিদের ফতোয়া সংকলন করে তা দিয়ে ফতোয়া দেওয়া। তবে যদি সে বিষয়ে তিনি পারদর্শী হন, তবে ফতোয়া প্রদান জায়েজ। যারা ফতোয়া প্রদানে নিষেধ করেছেন তাদের উদ্দেশ্য হলো, ফতোয়া প্রদানকারী নিজের পক্ষ থেকে বলার মতো করে তা বলবে না, বরং একে অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে এবং তার অনুসৃত ইমামের উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করবে—যেহেতু ইতিপূর্বে মৃত ব্যক্তির তাকলিদ (تقليد) সঠিক হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে, মুকাল্লিদদের মধ্য থেকে আমরা যাদেরকে মুফতিদের শ্রেণিতে গণ্য করেছি, তারা প্রকৃতপক্ষে মুফতি নন; বরং তারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন বিধায় তাদের সাথে গণ্য করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পন্থা হলো এই বলা যে, যেমন: আহমদের মাযহাব হলো এই এই, অথবা তার মাযহাবের দাবি হলো এই এই ইত্যাদি। আর তাদের মধ্যে যারা এটি বর্জন করে...
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إِضَافَة ذَلِك إِلَى إِمَامَة إِن كَانَ ذَلِك مِنْهُ اكْتِفَاء بالمعلوم من الْحَال عَن التَّصْرِيح بالمقال جَازَ
وَإِذا عرف الْعَاميّ حكم الْمَسْأَلَة ودليلها فَقيل يجوز أَن يُفْتِي بِهِ وَيجوز تَقْلِيده فِيهِ لِأَنَّهُ قد وصل إِلَى الْعلم بِهِ كوصول الْعَالم إِلَيْهِ وَقيل يجوز ذَلِك إِن كَانَ دليلها نَص كتاب أَو سنة وَهُوَ ظَاهر وَظُهُور دلَالَة النقلي بِخِلَاف النظري وَقيل لَا يجوز ذَلِك مُطلقًا وَهُوَ أظهر وَقد سبق نَحوه وَسَيَأْتِي تَمَامه وَلِأَنَّهُ رُبمَا كَانَ لَهُ معَارض يجهله هُوَ فَلَو استفتى عَامي فَقِيها فِي حَادِثَة فأفتاه بِشَيْء فاعتقده مذهبا لم يجز لَهُ أَن يُفْتِي بِهِ وَلَا لغيره أَن يقلده فِيهِ وَإِن كَانَ مُعْتَقدًا لَهُ لِأَنَّهُ غير عَالم بِصِحَّتِهِ لَكِن لَهُ الاخبار بِهِ
فصل لَيْسَ لَهُ أَن يُفْتِي بِمَا سمع من مفت إِنَّمَا يجوز أَن يعْمل هُوَ بِهِ وَلَا يُفْتِي بالحكاية عَن غَيره بل بِاجْتِهَاد نَفسه لِأَنَّهُ إِنَّمَا سُئِلَ عَمَّا عِنْده ذكره ابْن بطة وَالْقَاضِي وَغَيرهمَا منا وَمن الشَّافِعِيَّة
وَقد قَالَ عبد الله سَأَلت أبي عَن الرجل تكون عِنْده الْكتب المصنفة فِيهَا قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَاخْتِلَاف الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَلَيْسَ للرجل بصر بِالْحَدِيثِ الضَّعِيف الْمَتْرُوك وَلَا للإسناد
ইমামতের (নেতৃত্বের) ক্ষেত্রে এটি যুক্ত করা—যদি তার পক্ষ থেকে এটি স্পষ্ট বক্তব্যের পরিবর্তে কেবল বিদ্যমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার ভিত্তিতে হয়—তবে তা জায়েজ।
আর যখন একজন সাধারণ ব্যক্তি কোনো মাসআলার বিধান এবং তার দলিল সম্পর্কে জানতে পারে, তখন বলা হয়েছে যে, তার জন্য সেই অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া এবং অন্যদের জন্য তার তাকলিদ করা জায়েজ; কারণ সে এর জ্ঞান অর্জন করেছে যেমনটি একজন আলেম করে থাকেন। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি কেবল তখনই জায়েজ যখন তার দলিল কুরআন বা সুন্নাহর অকাট্য পাঠ (نص) হয় এবং তা প্রকাশ্য (ظاهر) হয়। কেননা বর্ণনাগত দলিলের অর্থ প্রকাশ যুক্তিগত দলিলের চেয়ে ভিন্ন। অপর এক মত হলো এটি কোনোভাবেই জায়েজ নয় এবং এটাই অধিকতর স্পষ্ট (أظهر)। ইতিপূর্বে এর অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে এবং সামনে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আসবে। এর কারণ হলো, সম্ভবত সেখানে কোনো বিপরীত দলিল (معارض) থাকতে পারে যা সম্পর্কে সে অবগত নয়। সুতরাং কোনো সাধারণ ব্যক্তি যদি কোনো ঘটনার বিষয়ে কোনো ফকিহের কাছে ফতোয়া চায় এবং ফকিহ তাকে কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন, আর সে বিষয়টিকে সে তার মাজহাব হিসেবে গ্রহণ করে নেয়, তবে তার জন্য সেই অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া জায়েজ হবে না এবং অন্য কারো জন্য তার তাকলিদ করাও বৈধ হবে না; যদিও সে তা বিশ্বাস করে। কারণ সে এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, তবে তার কেবল বিষয়টি সংবাদ হিসেবে অন্যের কাছে পৌঁছানোর অধিকার আছে।
পরিচ্ছেদ কোনো মুফতির কাছ থেকে যা শোনা হয়েছে সে অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়ার অধিকার তার নেই; কেবল নিজের জন্য সে অনুযায়ী আমল করা জায়েজ। সে অন্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ফতোয়া দিবে না, বরং নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী দিবে। কারণ তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তার কাছে বিদ্যমান জ্ঞানের বিষয়ে। ইবনে বাত্তাহ, আল-কাজী এবং আমাদের ও শাফিঈ মাজহাবের অন্যান্য আলেমগণ এটি উল্লেখ করেছেন।
আবদুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার কাছে এমন সব সংকলিত কিতাব রয়েছে যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের মতপার্থক্য বিদ্যমান; কিন্তু সেই ব্যক্তির দুর্বল (ضعيف), বর্জনীয় (متروك) হাদিস এবং সনদ (إسناد) সম্পর্কে কোনো গভীর জ্ঞান নেই।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْقوي من الضَّعِيف فَيجوز أَن يعْمل بِمَا شَاءَ وَيتَخَيَّر مَا أحب من مَتنه فيفتي وَيعْمل بِهِ قَالَ لَا يعْمل حَتَّى يسْأَل مَا يُؤْخَذ بِهِ مِنْهَا فَيكون يعْمل على أَمر صَحِيح يسْأَل عَن ذَلِك أهل الْعلم
فصل وَمن تفقه وَقَرَأَ كتابا أَو كتبا من الْمَذْهَب وَهُوَ قَاصِر لم يَتَّصِف بِصفة بعض الْمُفْتِينَ الْمَذْكُورين فللعامي أَن يقلده إِذا لم يجد غَيره فِي بَلَده وقريبا مِنْهُ وَإِن كَانَ يقدر على السّفر إِلَى مفت لزمَه وَقيل إِذا خلت الْبَلدة عَن مفت حرم السُّكْنَى فِيهَا فَإِن شقّ السّفر عَلَيْهِ ذكر مَسْأَلته للقاصر الْمَذْكُور فَإِن وجدهَا مسطورة وَهُوَ مِمَّن يقبل خَيره أخبرهُ بِهِ بِعَيْنِه وَكَانَ المستفتي لَهُ مُقَلدًا لصَاحب الْمَذْهَب لَا للحاكي لَهُ وَإِن لم يجدهَا فَلَيْسَ لَهُ أَن يقيسها على مَا عِنْده من المسطور وَإِن اعتقده مثل قِيَاس الْأمة على العَبْد فِي الْعتْق لِأَنَّهُ يعرض لِأَن يعْتَقد مَا لَيْسَ من هَذَا الْقَبِيل دَلِيلا فِيهِ
فصل
فَإِن لم يجد الْعَاميّ من يسْأَله عَنْهَا فِي بَلَده وَلَا غَيره فَقيل لَهُ حكم مَا قبل الشَّرْع على الْخلاف فِي الْحَظْر وَالْإِبَاحَة وَالْوَقْف وَهُوَ أَقيس لما روى حُذَيْفَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ
শক্তিশালী (القوي) এবং দুর্বল (الضعيف)-এর পার্থক্যকারী; এমতাবস্থায় কি তার জন্য বৈধ যে সে যা ইচ্ছা তা অনুযায়ী আমল করবে এবং এর পাঠ (متن) থেকে যা পছন্দ করে তা বেছে নিয়ে ফতোয়া দেবে ও আমল করবে? তিনি বললেন: না, সে ততক্ষণ পর্যন্ত আমল করবে না যতক্ষণ না সে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয় যে এর মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণ করা হবে, যাতে সে একটি সঠিক (صحيح) বিষয়ের ওপর আমল করতে পারে। এ বিষয়ে সে আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করবে।
পরিচ্ছেদ আর যে ব্যক্তি ফিকহ শিক্ষা করেছে এবং মাযহাবের একটি বা একাধিক কিতাব পাঠ করেছে, কিন্তু সে যোগ্যতা অর্জনে অপূর্ণ (قاصر) এবং উল্লিখিত মুফতিগণের গুণাবলীতে গুণান্বিত নয়, তবে সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য তাকে অনুসরণ (تقليد) করা বৈধ যদি সে তার শহরে বা তার নিকটবর্তী স্থানে অন্য কাউকে না পায়। আর যদি সে কোনো মুফতির নিকট সফর করতে সক্ষম হয়, তবে তা তার ওপর আবশ্যক। এবং বলা হয়েছে যে, যদি কোনো এলাকা মুফতি শূন্য হয়ে যায় তবে সেখানে বসবাস করা হারাম। আর যদি সফর করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে সে তার মাসয়ালাটি উক্ত অপূর্ণ (قاصر) ব্যক্তির নিকট উল্লেখ করবে; যদি সে তা কিতাবে লিখিত পায় এবং সে এমন ব্যক্তি হয় যার সংবাদ গ্রহণযোগ্য, তবে সে তাকে হুবহু তা জানিয়ে দেবে। এমতাবস্থায় ফতোয়া প্রার্থী ব্যক্তিটি মাযহাবের ইমামের অনুসারী (مقلد) হিসেবে গণ্য হবে, বর্ণনাকারীর অনুসারী নয়। কিন্তু যদি সে তা লিখিত না পায়, তবে তার জন্য তা নিজের কাছে থাকা লিখিত বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করা বৈধ নয়, যদিও সে মনে করে যে এটি দাসের মুক্তির ক্ষেত্রে দাসীর ওপর কিয়াস করার মতোই স্পষ্ট; কারণ এতে এমন বিষয়কে দলিল হিসেবে বিশ্বাস করার আশঙ্কা থাকে যা আসলে সেই পর্যায়ের নয়।
পরিচ্ছেদ
অতঃপর সাধারণ মানুষ (عامي) যদি তার শহরে বা অন্য কোথাও এমন কাউকে না পায় যাকে সে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, তবে তার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, এর বিধান হবে শরয়ি বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী অবস্থার ন্যায়; যা নিষিদ্ধকরণ (حظر), বৈধতা (إباحة) এবং স্থগিতকরণের (وقف) ব্যাপারে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। আর এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ হুজায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يدرس الْإِسْلَام كَمَا يدرس وشي الثَّوْب حَتَّى لَا يدْرِي مَا صِيَام وَلَا صَلَاة وَلَا نسك وَلَا صَدَقَة ويسري على كتاب الله فِي لَيْلَة فَلَا يبْقى فِي الأَرْض مِنْهُ آيَة وَيبقى طوائف من النَّاس الشَّيْخ الْكَبِير والعجوز الْكَبِيرَة يَقُولُونَ أدركنا آبَاءَنَا على هَذِه الْكَلِمَة لَا إِلَه إِلَّا الله فَنحْن نقولها فَقَالَ صلَة بن زفر لِحُذَيْفَة مَا تغني عَنْهُم لَا إِلَه إِلَّا الله وهم لَا يَدْرُونَ مَا صِيَام وَلَا صَلَاة وَلَا نسك وَلَا صَدَقَة فَأَعْرض عَنهُ حُذَيْفَة فَردهَا عَلَيْهِ ثَلَاثًا كل ذَلِك يعرض عَنهُ حُذَيْفَة ثمَّ أقبل عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَة فَقَالَ يَا صلَة تنجيهم من النَّار تنجيهم من النَّار تنجيهم من النَّار رَوَاهُ ابْن مَاجَه فِي السّير وَالْحَاكِم أَبُو عبد الله فِي صَحِيحه وَقَالَ هَذَا حَدِيث على شَرط مُسلم وَلم يخرجَاهُ
ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যাবে যেভাবে কাপড়ের নকশা বিলুপ্ত হয়ে যায়, এমনকি মানুষ জানবে না রোজা কী, নামাজ কী, হজ-কুরবানি কী এবং দান-সদকা কী। এক রাতে আল্লাহর কিতাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, ফলে জমিনে তার একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষের কিছু দল অবশিষ্ট থাকবে—অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী—তারা বলবে, 'আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এই কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর ওপর পেয়েছি, তাই আমরা তা বলছি।' তখন সিলাহ ইবনে জুফার হুজাইফা (রা.)-কে বললেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তাদের কী উপকারে আসবে যখন তারা জানে না রোজা কী, নামাজ কী, হজ-কুরবানি কী এবং দান-সদকা কী?' হুজাইফা (রা.) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ তিনবার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন এবং প্রতিবারই হুজাইফা (রা.) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর তৃতীয়বার তিনি তার দিকে ফিরে বললেন, 'হে সিলাহ! এটি তাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে, এটি তাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে, এটি তাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।' ইবনে মাজাহ আস-সিয়ার অধ্যায়ে এবং হাকিম আবু আব্দুল্লাহ তার সাহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এই হাদিসটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে, কিন্তু তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি কিতাবভুক্ত করেননি।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب بَقِيَّة أَحْكَام الْمُفْتِي وآدابه وَمَا يتَعَلَّق بِهِ صلى الله عليه وسلم َ -
تصح فتيا العَبْد وَالْمَرْأَة والغريب والأمي والأخرس الْمَفْهُوم بالأشارة أَو الْكِتَابَة وَتَصِح مَعَ جر النَّفْع وَدفع الضَّرَر وَكَذَا من الْعَدو وَقيل لَا كالحاكم وَالشَّاهِد
وَلَا تصح من فَاسق لغيره وَإِن كَانَ مُجْتَهدا لَكِن يُفْتِي نَفسه وَلَا يسْأَله غَيره
وَأما مَسْتُور الْحَال فَتجوز فتياه وَقيل لَا وَقيل تجوز إِن اكتفينا بِالْعَدَالَةِ الظَّاهِرَة وَإِلَّا فَلَا
فصل من كَانَ من أهل الْفتيا قَاضِيا فَهُوَ كَغَيْرِهِ وَقيل يكره للْقَاضِي أَن يُفْتِي فِي مسَائِل الْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بِهِ دون الطَّهَارَة وَالصَّلَاة وَنَحْوهمَا
وَقد قَالَ شُرَيْح أَنا أَقْْضِي لكم وَلَا أُفْتِي وَلِأَنَّهُ يصير كَالْحكمِ مِنْهُ على الْخصم فَلَا يُمكن نقضه وَقت المحاكمة إِذا ترجح عِنْده ضِدّه أَو حجَّته أَو قَرَائِن حَالهمَا
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - পরিচ্ছেদ: মুফতির অবশিষ্ট বিধান, তাঁর আদব এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -
দাস, নারী, মুসাফির, নিরক্ষর এবং যার ইশারা বা লিখন বোঝা যায় এমন বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির ফতোয়া প্রদান বৈধ (صحيح)। উপকার লাভ বা ক্ষতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও তা বৈধ (صحيح)। একইভাবে শত্রুর পক্ষ থেকেও তা বৈধ (صحيح); তবে কারো মতে বিচারক ও সাক্ষীর ন্যায় তা বৈধ নয়।
পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির ফতোয়া অন্যের জন্য বৈধ (صحيح) নয়, যদিও সে মুজতাহিদ (مجتهد) হয়; তবে সে নিজেকে ফতোয়া দিতে পারবে কিন্তু অন্য কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করবে না।
আর যার অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال), তার ফতোয়া প্রদান জায়েজ। কেউ কেউ বলেছেন জায়েজ নয়। আবার কারো মতে, আমরা যদি কেবল প্রকাশ্য ন্যায়পরায়ণতাকে (العدالة الظاهرة) যথেষ্ট মনে করি তবে জায়েজ, অন্যথায় নয়।
অনুচ্ছেদ ফতোয়া প্রদানের যোগ্য ব্যক্তি যদি বিচারক হন, তবে তিনি অন্যদের মতোই গণ্য হবেন। তবে বিচারকের জন্য তাঁর বিচারিক কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট মাসয়ালাসমূহে ফতোয়া দেওয়া অপছندনীয় (مكروه) বলা হয়েছে; তবে পবিত্রতা, সালাত ও এই জাতীয় বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
শুরাইহ (রহ.) বলেছেন: "আমি তোমাদের জন্য বিচার করি কিন্তু ফতোয়া দিই না।" কারণ এটি বিবাদীর বিরুদ্ধে বিচারকের পক্ষ থেকে একটি রায়ের মতো হয়ে যায়, ফলে বিচারের সময় যখন তাঁর নিকট এর বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত বা ভিন্ন কোনো প্রমাণ অথবা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট প্রবল হয়ে ওঠে, তখন তা রদ করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فصل إِذا سَأَلَ عَامي عَن مَسْأَلَة لم تقع لم تجب إجَابَته لَكِن تسْتَحب وَقيل يكره لِأَن بعض السّلف كَانَ لَا يتَكَلَّم فِيمَا لم يَقع
وَقَالَ أَحْمد لبَعض أَصْحَابه إياك أَن تَتَكَلَّم فِي مَسْأَلَة لَيْسَ لَك فِيهَا إِمَام
وَقلت إِن كَانَ غَرَض السَّائِل معرفَة الحكم لاحْتِمَال أَن يَقع لَهُ أَو لمن سَأَلَ عَنهُ فَلَا بَأْس وَكَذَا إِن كَانَ مِمَّن يَنْفَعهُ فِي ذَلِك وَيقدر وُقُوع ذَلِك ويفرع عَلَيْهِ
فصل
فَإِن أفتى الْمُفْتِي بِشَيْء ثمَّ رَجَعَ عَنهُ فَإِن علم المستفتي بِهِ وَلم يكن عمل بِالْأولِ حرم عمله بِهِ وَلَو نكح بفتواه وَاسْتمرّ على النِّكَاح ثمَّ رَجَعَ بِاجْتِهَاد لزمَه مفارقتها فِي الأقيس لِأَن المرجوع عَنهُ لَيْسَ مذهبا لَهُ فِي الْأَصَح كَمَا لَو تغير اجْتِهَاد من قَلّدهُ فِي الْقبْلَة فِي أثْنَاء صلَاته فَإِنَّهُ يتَحَوَّل مَعَه فِي الْأَصَح وَإِن كَانَ المستفتي قد عمل بِهِ قبل رُجُوعه وَكَانَ مُخَالفا لدَلِيل قَاطع لزمَه نقض عمله ذَلِك وَالرُّجُوع إِلَى قَوْله الثَّانِي وَإِن اخْتلف اجْتِهَاده وَلم يرجع لم ينْقض عمله بِالْأولِ وَإِن لم يكن عمل بِهِ تَركه وَإِن لم يعلم بِرُجُوعِهِ اسْتمرّ كَمَا لَو كَانَ وَلَا يلْزمه إِعْلَامه وَقيل بلَى لِأَن مَا رَجَعَ عَنهُ لَا يعْمل هُوَ بِهِ فَكَذَا من قَلّدهُ فِيهِ لِأَنَّهُ لَيْسَ مذهبا لَهُ فِي
পরিচ্ছেদ (فصل) যখন কোনো সাধারণ ব্যক্তি (عامي) এমন একটি মাসয়ালা (مسألة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যা এখনও ঘটেনি, তবে তার উত্তর দেওয়া আবশ্যক নয়, তবে তা মুস্তাহাব (مستحب)। আবার বলা হয়েছে যে এটি মাকরুহ (يكره), কারণ সালাফদের (سلف) মধ্যে কেউ কেউ এমন বিষয়ে কথা বলতেন না যা এখনও ঘটেনি।
ইমাম আহমদ তাঁর কোনো এক সঙ্গীকে বলেছিলেন, "সাবধান! তুমি এমন কোনো মাসয়ালা (مسألة) নিয়ে কথা বলবে না যাতে তোমার কোনো ইমাম (إمام) নেই।"
আমি বলছি, যদি প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য হয় বিধান (حكم) জানা এই সম্ভাবনা থেকে যে এটি তার ক্ষেত্রে বা যার সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসা করছেন তার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, তবে এতে কোনো দোষ নেই। একইভাবে যদি তিনি এমন ব্যক্তি হন যার জন্য এটি ফলদায়ক হয় এবং তিনি এর সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা অনুমান করতে পারেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখা নির্গত করতে পারেন।
পরিচ্ছেদ (فصل)
যদি মুফতি (مفتي) কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন এবং পরে তা থেকে ফিরে আসেন (رجوع), তবে ফতোয়া অন্বেষণকারী (مستفتي) যদি বিষয়টি জানতে পারেন এবং প্রথমটির ওপর আমল না করে থাকেন, তবে তার জন্য প্রথম ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা হারাম (حرام)। যদি তিনি মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী বিবাহ করে থাকেন এবং সেই দাম্পত্য বজায় রাখেন, অতঃপর মুফতি ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন, তবে অধিক সঙ্গত (الأقيس) মত অনুযায়ী তাঁর জন্য বিচ্ছেদ আবশ্যক হবে। কারণ বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী যা থেকে ফিরে আসা হয়েছে তা আর তাঁর মাযহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য হয় না। যেমনটি ঘটে থাকে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে কেবলার ব্যাপারে যাকে তাকলিদ (قلده) করেছে তার ইজতিহাদ (اجتهاد) যদি নামাজের মধ্যে পরিবর্তন হয়, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী তাকেও তার সাথে পরিবর্তিত হতে হয়। আর যদি ফতোয়া অন্বেষণকারী (مستفتي) মুফতির প্রত্যাবর্তনের আগেই সে অনুযায়ী আমল করে ফেলেন এবং তা কোনো অকাট্য দলিলের (دليل قاطع) পরিপন্থী হয়, তবে তাঁর ওপর সেই আমল বাতিল করা এবং দ্বিতীয় মতের দিকে ফিরে আসা আবশ্যক। আর যদি তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) ভিন্ন হয় কিন্তু তিনি আগের মত থেকে ফিরে না আসেন, তবে প্রথমটির ওপর করা আমল বাতিল হবে না। আর যদি তিনি আমল না করে থাকেন তবে তা বর্জন করবেন। আর যদি তিনি মুফতির প্রত্যাবর্তনের কথা না জানেন, তবে আগের মতোই তা চালিয়ে যাবেন এবং মুফতির ওপর তাঁকে জানানো আবশ্যক নয়। তবে বলা হয়েছে যে জানানো আবশ্যক, কারণ মুফতি নিজে যে মত থেকে ফিরে এসেছেন তার ওপর তিনি আমল করেন না, সুতরাং যে তাঁকে এই বিষয়ে তাকলিদ (قلده) করেছে তার ক্ষেত্রেও তাই প্রযোজ্য, কারণ এটি এখন আর তাঁর মাযহাব (مذهب) নয়।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ফাতওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْأَصَح قَالَ القَاضِي أَبُو يعلى فِي الْكِفَايَة من افتى بِالِاجْتِهَادِ ثمَّ تغير اجْتِهَاده لم يلْزم إِعْلَام المستفتي بذلك إِن كَانَ قد أعلم بِهِ وَإِلَّا أعلمهُ بِتَغَيُّر مذْهبه الَّذِي اتبعهُ فِيهِ وَقَالَ غَيره يُعلمهُ بِهِ قبل الْعلم وَكَذَا بعده حَيْثُ يجب النَّقْض وَإِلَّا فَلَا
وَإِذا كَانَ الْمُفْتِي إِنَّمَا يُفْتى على مَذْهَب إِمَام معِين فَإِذا رَجَعَ لكَونه بِأَن لَهُ قطعا أَنه خَالف فِي فتواه نَص مَذْهَب إِمَامه وَجب نقضه وَإِن كَانَ عَن اجْتِهَاد لِأَن نَص مَذْهَب إِمَامه فِي حَقه كنص الشَّارِع فِي حق الْمُفْتِي الْمُجْتَهد المستقل
فصل إِذا عمل المستفتي بِفُتْيَا مفت فِي إِتْلَاف ثمَّ بِأَن خَطؤُهُ بمخالفة الْقَاطِع ضمنه الْمُفْتِي وَإِن لم يكن أَهلا للْفَتْوَى لم يضمن لتقصير المستفتي فِي تَقْلِيده وَقيل يضمن لِأَنَّهُ تصدى لما لَيْسَ لَهُ بِأَهْل وغر من استفتاه بتصديه لذَلِك
فصل
يحرم التساهل فِي الْفَتْوَى واستفتاء من عرف بذلك إِمَّا لتسارعه قبل تَمام النّظر والفكر أَو لظَنّه أَن الْإِسْرَاع براعة
অধিকতর সঠিক (الأصح) মত অনুযায়ী, কাজী আবু ইয়ালা 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে বলেছেন, যে ব্যক্তি ইজতিহাদের (الاجتهاد) ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করেছেন, এরপর যদি তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হয়, তবে যদি ফতোয়াটি ইতঃপূর্বে কার্যকর হয়ে থাকে তাহলে ফতোয়া প্রার্থীকে (المستفتي) তা জানানো আবশ্যক নয়। অন্যথায়, তিনি যে মাযহাব অনুসরণ করেছিলেন তাতে পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে অবহিত করবেন। অন্য আলিমগণ বলেছেন, কাজ শুরু করার আগেই তাকে জানাতে হবে, আর কাজ করার পরেও জানাতে হবে যেখানে তা বাতিল (النَّقْض) করা ওয়াজিব; অন্যথায় নয়।
আর যদি মুফতি কোনো নির্দিষ্ট ইমামের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন, এরপর যদি তিনি এই কারণে ফিরে আসেন যে, তাঁর নিকট এটি অকাট্যভাবে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি তাঁর ফতোয়ায় ইমামের মাযহাবের নসের (نص) বিরোধিতা করেছেন, তবে তা বাতিল (نقض) করা ওয়াজিব। যদিও তা ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে হয়ে থাকে, কারণ তাঁর ক্ষেত্রে তাঁর ইমামের মাযহাবের নস (نص) ঠিক তেমনি যেমন একজন স্বাধীন মুজতাহিদ (المجتهد المستقل) মুফতির ক্ষেত্রে শারির (الشارع) নস (نص) হয়ে থাকে।
পরিচ্ছেদ যদি ফতোয়া প্রার্থী (المستفتي) কোনো বিনাশ বা ক্ষতির ক্ষেত্রে কোনো মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে এবং পরবর্তীতে অকাট্য দলীলের (القاطع) পরিপন্থী হওয়ার কারণে মুফতির ভুল প্রকাশ পায়, তবে মুফতি তার দায় (ضمان) গ্রহণ করবেন। কিন্তু যদি তিনি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য না হন, তবে তিনি দায়ী হবেন না; কারণ ফতোয়া প্রার্থীর তাকে তাকলীদ (تقليد) করার ক্ষেত্রে অবহেলা রয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি দায়ী হবেন, কারণ তিনি এমন বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন যার জন্য তিনি যোগ্য নন এবং নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে তিনি ফতোয়া প্রার্থীকে প্রতারিত করেছেন।
পরিচ্ছেদ
ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং যার মধ্যে এমন শিথিলতা পরিলক্ষিত হয় তার নিকট থেকে ফতোয়া গ্রহণ করা হারাম। এটি হতে পারে যথাযথ পর্যালোচনা ও চিন্তার পূর্ণতার আগেই তাড়াহুড়ো করার কারণে অথবা দ্রুত উত্তর দেওয়াকে পাণ্ডিত্য মনে করার কারণে।