(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق المراد في أن النهي يقتضي الفساد القسم: أصول الفقه
الكتاب: تحقيق المراد في أن النهي يقتضي الفساد
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761هـ)
المحقق: د. إبراهيم محمد السلفيتي
الناشر: دار الكتب الثقافية - الكويت
عدد الصفحات: 211
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াকতাদিল ফাসাদ বিভাগ: উসূল আল-ফিকহ
গ্রন্থ: তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াকতাদিল ফাসাদ
লেখক: সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবন কাইকালদী ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আল-আলাঈ (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
সম্পাদক: ড. ইবরাহীম মুহাম্মদ আস-সালাফীতি
প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - কুয়েত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه أما بعد حمد الله الْعَزِيز بباهر كَمَاله الْقَدِير بقاهر جَلَاله الْجواد بجزيل نواله الْحَكِيم بجميل فعاله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي الْأُمِّي وَآله صَلَاة تبلغ قَائِلهَا نِهَايَة آماله فَإِن مَسْأَلَة إقتضاء النَّهْي الْفساد من مهمات الْفَوَائِد وَأُمَّهَات الْقَوَاعِد لرجوع كثير من الْمسَائِل الفرعية إِلَيْهَا وَتَخْرِيج خلاف الْأَئِمَّة فِي مآخذهم عَلَيْهَا فعلقتها فِي هَذِه الأوراق مبسوطة وَذكرت من المباحث مَا هِيَ بِهِ منوطة وَالله تَعَالَى الْهَادِي إِلَى سَوَاء السَّبِيل وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل وَالْكَلَام عَلَيْهَا يَتَرَتَّب فِي فُصُول
আমার সকল তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি তাঁর দেদীপ্যমান পূর্ণতায় পরাক্রমশালী, তাঁর বিজয়ী মহিমায় সর্বশক্তিমান, তাঁর অঢেল অনুগ্রহে পরম দানশীল এবং তাঁর চমৎকার কর্মে প্রজ্ঞাবান। আর আমাদের নেতা উম্মি নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক এমন এক সালাত ও সালাম, যা এর পাঠকারীকে তার পরম আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। নিশ্চয়ই ‘নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর হওয়া (الفساد) দাবি করে’—এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা এবং মৌলিক মূলনীতিসমূহের (أمهات القواعد) অন্তর্ভুক্ত; কেননা বহু শাখাগত (فرعية) মাসআলা এর ওপর ভিত্তি করে এবং এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং এর আলোকেই ইমামদের মাকসুদ ও মতপার্থক্যের কারণগুলো নির্ণয় করা হয়। তাই আমি এই বিষয়টিকে এই পৃষ্ঠাগুলোতে বিস্তারিতভাবে বিবৃত করেছি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় আলোচনা উল্লেখ করেছি। মহান আল্লাহই সরল পথের দিশারী; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। এ সম্পর্কিত আলোচনা কয়েকটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الْفَصْل الأول فِي مُقَدمَات وتقسيمات يَتَرَتَّب الْكَلَام عَلَيْهَا وفيهَا مبَاحث
الْبَحْث الأول أَن صِيغَة لَا تفعل حصر إستعمالها جمَاعَة من الْأَئِمَّة فِي عدَّة وُجُوه أَحدهَا التَّحْرِيم كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تقربُوا الزِّنَى} وَأَمْثَاله وَثَانِيها الْكَرَاهَة كَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم إِذا اسْتَيْقَظَ أحدكُم من نَومه فَلَا يغمس يَده فِي الْإِنَاء الحَدِيث وَثَالِثهَا التحقير كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تَمُدَّن عَيْنَيْك} الْآيَة وَرَابِعهَا الْإِرْشَاد كَقَوْلِه تَعَالَى {لَا تسألوا عَن أَشْيَاء}
প্রথম পরিচ্ছেদ ভূমিকা ও বিভাজন প্রসঙ্গে, যার ওপর ভিত্তি করে আলোচনা বিন্যস্ত হবে এবং এতে রয়েছে কয়েকটি অন্বেষণ
প্রথম অন্বেষণ: একদল ইমাম "করো না" (لا تفعل) ক্রিয়ারূপের ব্যবহারকে কয়েকটি অর্থে সীমাবদ্ধ করেছেন। তার মধ্যে প্রথমটি হলো নিষিদ্ধকরণ (تحريم); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না} এবং এর সমরূপ আয়াতসমূহ। দ্বিতীয়টি হলো অপছন্দনীয়তা (كراهة); যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে তার হাত না ডুবায়..." হাদিস। তৃতীয়টি হলো তুচ্ছজ্ঞান করা (تحقير); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আপনার দু’চোখ প্রসারিত করবেন না} আয়াতাংশ। চতুর্থটি হলো দিকনির্দেশনা (إرشاد); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা এমন সব বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করো না}।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وخامسها التحذير كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تموتن إِلَّا وَأَنْتُم مُسلمُونَ} وسادسها بَيَان الْعَاقِبَة كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تحسبن الله غافلا عَمَّا يعْمل الظَّالِمُونَ} وسابعها الْيَأْس كَقَوْلِه تَعَالَى {لَا تعتذروا الْيَوْم} الْآيَة وثامنها الدُّعَاء كَقَوْلِه تَعَالَى {رَبنَا لَا تُؤَاخِذنَا إِن نَسِينَا} وَنَحْوه وتاسعها التَّسْوِيَة كَقَوْلِه تَعَالَى {فَاصْبِرُوا أَو لَا تصبروا}
পঞ্চমটি হলো সতর্কীকরণ (التحذير), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।" ষষ্ঠটি হলো পরিণাম স্পষ্টীকরণ (بيان العاقبة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহকে কখনো গাফেল মনে করো না।" সপ্তমটি হলো নিরাশ করা (اليأس), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আজ ওজর পেশ করো না"—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অষ্টমটি হলো প্রার্থনা (الدعاء), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না" এবং অনুরূপ বিষয়। নবমটি হলো সমতা বিধান (التسوية), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো অথবা ধৈর্য ধারণ না করো।"
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
وعاشرها التهديد كَقَوْل السَّيِّد لعَبْدِهِ لَا تمتثل أَمْرِي يهدده بذلك وَزَاد بعض الْحَنَفِيَّة وَجها آخر وَهُوَ الشَّفَقَة كَمَا فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم لَا تَتَّخِذُوا الدَّوَابّ كراسي وَيُمكن رده إِلَى وَجه الْكَرَاهَة وَكَذَلِكَ التحقير وَبَيَان الْعَاقِبَة بِخِلَاف بَقِيَّة الْوُجُوه
ثمَّ الْخلاف بَين الْأَئِمَّة مَشْهُور فِي التَّحْرِيم وَالْكَرَاهَة هَل اللَّفْظ حَقِيقَة فِي أَحدهمَا مجَاز فِي الآخر أَو هُوَ مُشْتَرك لَفْظِي أَو للقدر الْمُشْتَرك أَو يُقَال بِالْوَقْفِ على مَا هُوَ مَعْرُوف فِي مَوْضِعه وَالْمُخْتَار أَنه حَقِيقَة فِي التَّحْرِيم مجَاز فِيمَا عداهُ
وَالْكَلَام فِي أَن النَّهْي هَل يَقْتَضِي الْفساد أم لَا إِنَّمَا هُوَ مُفَرع على أَنه للتَّحْرِيم وَأما نهي الْكَرَاهَة فَالَّذِي يشْعر بِهِ كَلَام الْأَكْثَرين وَصرح بِهِ جمَاعَة أَنه
দশমটি হলো ভীতি প্রদর্শন (التهديد), যেমন কোনো মনিব তার দাসকে বলল: 'আমার নির্দেশ পালন করো না', এর মাধ্যমে তিনি তাকে হুমকি প্রদান করেন। কতিপয় হানাফি আলেম আরেকটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো মমতা (الشفقة), যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে: 'তোমরা পশুদের পিঠকে আসন বানিও না'। একে অপছন্দনীয় (الكراهة) হওয়ার বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। একইভাবে অবজ্ঞা (التحقير) এবং পরিণাম বর্ণনা (بيান العاقبة)-ও এর অন্তর্ভুক্ত, যা অন্যান্য দিকের বিপরীত।
অতঃপর হারাম (التحريم) এবং অপছন্দনীয় (الكراهة) হওয়ার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতপার্থক্য সুপ্রসিদ্ধ যে, শব্দটি কি কোনো একটির ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ (حقيقة) আর অন্যটির ক্ষেত্রে রূপক (مجاز), নাকি এটি একটি দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (مشترك لفظي), নাকি কোনো সাধারণ বিষয়ের (القدر المشترك) জন্য ব্যবহৃত হয়, অথবা এ ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্তে না এসে বিরতি দেওয়ার (الوقف) কথা বলা হবে, যেমনটি তার নিজ স্থানে সুপরিচিত। আর মনোনীত মত হলো—এটি হারাম (التحريم) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ (حقيقة) এবং তা ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে রূপক (مجاز)।
আর নিষেধাজ্ঞা (النهي) কি বাতিল বা ফাসাদ (الفساد) হওয়াকে আবশ্যক করে কি না—তা মূলত এটি হারাম (التحريم) হওয়ার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে শাখা হিসেবে নির্গত হয়েছে। তবে অপছন্দনীয়তার নিষেধাজ্ঞা (نهي الكراهة) সম্পর্কে অধিকাংশ আলেমের বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় এবং একদল আলেম যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তা হলো—
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
لَا خلاف فِيهِ وَذَلِكَ ظَاهر إِذْ لَا مَانع من الِاعْتِدَاد بالشَّيْء مَعَ كَونه مَكْرُوها وَلذَلِك قَالَ أَصْحَابنَا وَغَيرهم بِصِحَّة الصَّلَاة فِي الْحمام وأعطان الْإِبِل وَنَحْوهمَا مَعَ القَوْل بكراهتها وَقد وَقع فى كَلَام الشَّيْخ أبي عَمْرو بن الصّلاح رَحمَه الله تَعَالَى مَا يُنَافِي هَذَا فَإِن أَصْحَابنَا اخْتلفُوا فِي النَّهْي عَن الصَّلَاة فِي الْأَوْقَات الْخَمْسَة هَل هُوَ للتَّحْرِيم أَو للتنزيه
وَالأَصَح عِنْد الْجُمْهُور أَنه للتَّحْرِيم ثمَّ ذكرُوا وَجْهَيْن فِي أَنَّهَا إِذا أحرم بهَا فِي هَذِه الْأَوْقَات هَل تَنْعَقِد أم لَا وَالأَصَح أَنَّهَا لَا تَنْعَقِد كَالصَّوْمِ فِي يَوْم الْعِيد فَالَّذِي يظْهر أَن هذَيْن الْوَجْهَيْنِ مفرعان على أَن النَّهْي للتَّحْرِيم أَو للتنزيه وَلذَلِك اتّفق التَّصْحِيح على أَنه للتَّحْرِيم وَأَنَّهَا لَا تَنْعَقِد
এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই এবং তা সুস্পষ্ট; কারণ কোনো বিষয় অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়া সত্ত্বেও তা ধর্তব্য বা গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ কারণেই আমাদের মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ এবং অন্যান্যরা গোসলখানা, উটের আস্তাবল ও অনুরূপ স্থানগুলোতে নামায আদায় করাকে অপছন্দনীয় (مكروه) বলা সত্ত্বেও তার সঠিক বা বৈধ (صحة) হওয়ার কথা বলেছেন। শায়খ আবু আমর ইবন আল-সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্যে এমন কিছু তথ্য এসেছে যা এর পরিপন্থী। কেননা আমাদের মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ পাঁচটি সময়ে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি হারামের (للتحريم) জন্য নাকি তানজিহ বা সাধারণ অপছন্দনীয়তার (للتنزيه) জন্য।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের (الجمهور) মতে অধিকতর সঠিক (الأصح) মত হলো এটি হারামের (للتحريم) জন্য। অতঃপর তাঁরা এ বিষয়ে দু’টি দিক উল্লেখ করেছেন যে, যদি এই নিষিদ্ধ সময়গুলোতে কেউ নামায শুরু করে, তবে তা কার্যকর বা সংঘটিত হবে কি হবে না? অধিকতর সঠিক (الأصح) মত হলো তা সংঘটিত হবে না, যেমন ঈদের দিনে রোজা রাখা। সুতরাং যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই দু’টি দিক এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত যে, নিষেধাজ্ঞা কি হারামের (للتحريم) জন্য নাকি তানজিহ বা সাধারণ অপছন্দনীয়তার (للتنزيه) জন্য। আর এ কারণেই এই সঠিকায়ন বা বিশুদ্ধকরণ (التصحيح) বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে যে, এটি হারামের (للتحريم) জন্য এবং তা কার্যকর হবে না।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَقَالَ ابْن الصّلاح مَأْخَذ الْوَجْهَيْنِ أَن النَّهْي هَل يعود إِلَى نفس الصَّلَاة أم إِلَى خَارج عَنْهَا قَالَ وَلَا يتَخَرَّج هَذَا على أَن النَّهْي للتَّحْرِيم أَو للتنزيه لِأَن نهي التَّنْزِيه أَيْضا يضاد الصِّحَّة إِذا رَجَعَ إِلَى نفس الصَّلَاة لِأَنَّهَا لَو صحت لكَانَتْ عبَادَة مَأْمُورا بهَا وَالْأَمر وَالنَّهْي الراجعان إِلَى نفس الشَّيْء متناقضان انْتهى كَلَامه
وَهَذَا مَأْخُوذ من كَلَام الإِمَام الْغَزالِيّ فِي الْمُسْتَصْفى فَإِنَّهُ قَالَ كَمَا يتضاد الْحَرَام وَالْوَاجِب فيتضاد الْمَكْرُوه وَالْوَاجِب فَلَا يدْخل مَكْرُوه تَحت الْأَمر حَتَّى يكون شَيْء وَاحِد مَأْمُورا بِهِ مَكْرُوها إِلَّا أَن تَنْصَرِف الْكَرَاهَة عَن ذَات الْمَأْمُور إِلَى غَيره ككراهة الصَّلَاة فِي الْحمام وأعطان الْإِبِل وَذكر بَقِيَّة كَلَام
فتحصلنا على قَوْلَيْنِ فِي أَن نهي التَّنْزِيه إِذا كَانَ لعين الشَّيْء هَل يَقْتَضِي الْفساد أم لَا وَفِي نهي التَّنْزِيه نظر لِأَن التَّنَاقُض إِنَّمَا يَجِيء إِذا كَانَ النَّهْي للتَّحْرِيم وعَلى تَقْدِير اعْتِبَار مَا ذكره الْغَزالِيّ وَابْن الصّلاح فَذَلِك التضاد إِنَّمَا يَجِيء فِيمَا هُوَ وَاجِب خَاصَّة لما بَين الْوُجُوب وَالْكَرَاهَة من التباين
فَأَما الصِّحَّة مَعَ الْإِبَاحَة كَمَا فِي الْعُقُود الْمنْهِي عَنْهَا تَنْزِيها فَلَا تضَاد حِينَئِذٍ وَالْفساد مُخْتَصّ بِمَا كَانَ النَّهْي فِيهِ للتَّحْرِيم وَالله أعلم
ইবনে আস-সালাহ বলেছেন, (এক্ষেত্রে) দুটি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হলো—নিষেধাজ্ঞাটি (نهي) কি খোদ নামাজের মূল সত্তার দিকে ফিরে যাচ্ছে, নাকি এর বাইরের কোনো বিষয়ের দিকে? তিনি বলেন, বিষয়টি এমনভাবে বের করা হবে না যে নিষেধাজ্ঞাটি হারাম করার (تحريم) জন্য নাকি অপছন্দনীয় করার (تنزيه) জন্য। কেননা অপছন্দনীয় করার নিষেধাজ্ঞাটিও (نهي التنزيه) সহিহ হওয়ার (صحة) পরিপন্থী, যখন তা খোদ নামাজের মূল সত্তার দিকে ফিরে যায়। কারণ, নামাজটি যদি সহিহ হতো, তবে তা এমন একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য হতো যা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অথচ কোনো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে একইসাথে নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা থাকা পরস্পরবিরোধী। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।
এবং এটি ইমাম আল-গাজালির আল-মুস্তাসফা গ্রন্থের বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন—যেভাবে হারাম (حرام) এবং ওয়াজিব (واجب) পরস্পরবিরোধী, তদ্রূপ মাকরূহ (مكروه) এবং ওয়াজিবও পরস্পরবিরোধী। সুতরাং কোনো মাকরূহ বিষয় নির্দেশের (أمر) অধীনে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, যাতে একই বস্তু নির্দেশিত এবং মাকরূহ উভয়টি হয়; তবে যদি সেই অপছন্দনীয়তা (كراهة) নির্দেশিত বিষয়ের মূল সত্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হয়, যেমন হাম্মামখানায় নামাজ পড়া কিংবা উটের আস্তাবলে নামাজ পড়ার অপছন্দনীয়তা। তিনি তাঁর বাকি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং আমরা দুটি মত পেলাম—অপছন্দনীয় করার নিষেধাজ্ঞা (نهي التنزيه) যদি কোনো বিষয়ের মূল সত্তার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তা ফাসাদ (فسাদ) দাবি করে কি না। তবে অপছন্দনীয় করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পর্যালোচনা সাপেক্ষ (نظر); কারণ এই বৈপরীত্য তখনই সৃষ্টি হয় যখন নিষেধাজ্ঞাটি হারাম করার (تحريم) জন্য হয়। আর যদি আল-গাজালি এবং ইবনে আস-সালাহ যা উল্লেখ করেছেন তা বিবেচনা করা হয়, তবে সেই বৈপরীত্য কেবল ওয়াজিব (واجب) বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, কারণ ওয়াজিব হওয়া এবং অপছন্দনীয় হওয়ার (كراهة) মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
পক্ষান্তরে, বৈধতার (إباحة) সাথে সহিহ হওয়া (صحة)—যেভাবে সেই চুক্তিসমূহ যা অপছন্দনীয় করার কারণে নিষিদ্ধ (نهي التنزيه)—সেক্ষেত্রে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর ফাসাদ (فسাদ) কেবল সেই বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট যেখানে নিষেধাজ্ঞাটি হারাম করার (تحريم) জন্য হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
الْبَحْث الثَّانِي النَّهْي عَن الشَّيْء يَنْقَسِم ظَاهرا إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام أَحدهَا مَا يرجع إِلَى ذَات الْمنْهِي عَنهُ كالكذب وَالظُّلم وَنَحْوهمَا وَثَانِيها مَا يرجع إِلَى غَيره كالنهي عَن البيع وَقت النداء وَعَن النجش وَمَا أشبههما وَثَالِثهَا مَا يرجع إِلَى وصف الْمنْهِي عَنهُ كَصَوْم يَوْم النَّحْر وَبيع الربويات على الْوَجْه الْمنْهِي عَنهُ وَالْوَطْء فِي حَالَة الْحيض وَالطَّلَاق فِيهِ أَيْضا
فالصوم من حَيْثُ انه صَوْم مَشْرُوع لَكِن من حَيْثُ إِيقَاعه فِي يَوْم الْعِيد مَنْهِيّ عَنهُ وَالْبيع مَشْرُوع من حَيْثُ الْجُمْلَة لَكِن من حَيْثُ إِيقَاعه انه وَقع مَقْرُونا بِشَرْط فَاسد أَو بِزِيَادَة فِي المَال الرِّبَوِيّ مَمْنُوع وَكَذَلِكَ الْوَطْء وَالطَّلَاق حَالَة الْحيض وَفِيهِمَا نظر يَأْتِي التَّنْبِيه عَلَيْهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَالْعُلَمَاء مُخْتَلفُونَ فِي الحكم بِالْفَسَادِ وَعَدَمه فِي هَذِه الْأَقْسَام كَمَا سَيَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وينقسم أَيْضا من وَجه آخر إِلَى مَا يتَعَلَّق بالعبادات وَمَا يتَعَلَّق بالمعاملات وكل مِنْهُمَا يَنْقَسِم إِلَى الْأَقْسَام الثَّلَاثَة الأولى
দ্বিতীয় আলোচনা: কোনো কাজ থেকে নিষেধ (النهي) বাহ্যিকভাবে তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো সেই নিষেধ যা নিষিদ্ধ বিষয়ের (المنهي عنه) মূল সত্তার সাথে সম্পর্কিত, যেমন মিথ্যাচার ও জুলুম এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। দ্বিতীয়টি হলো সেই নিষেধ যা অন্য কোনো বিষয়ের দিকে ফিরে যায়, যেমন আজানের সময় কেনাবেচা এবং প্রতারণামূলক দর বৃদ্ধি (النجش) ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করা। তৃতীয়টি হলো সেই নিষেধ যা নিষিদ্ধ বিষয়ের (المنهي عنه) গুণের সাথে সম্পর্কিত, যেমন কোরবানির দিনে রোজা রাখা, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে সুদি পণ্যের কেনাবেচা করা, ঋতুস্রাব অবস্থায় সহবাস করা এবং সেই অবস্থায় তালাক প্রদান করা।
সুতরাং রোজা রোজা হওয়ার দিক থেকে শরিয়তসম্মত (مشروع), কিন্তু ঈদের দিনে তা পালন করার কারণে তা নিষিদ্ধ (منهي عنه)। কেনাবেচা সামগ্রিকভাবে বৈধ (مشروع), কিন্তু যখন তা কোনো বাতিল (فاسد) শর্তের সাথে যুক্ত হয়ে সম্পাদিত হয় অথবা সুদি মালের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হওয়ার কারণে তা নিষিদ্ধ (ممنوع)। অনুরূপভাবে ঋতুস্রাব অবস্থায় সহবাস ও তালাক প্রদানের বিষয়টিও; এই দুটির ব্যাপারে পর্যালোচনা রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে উল্লেখ করা হবে। এই প্রকারগুলোতে অকার্যকর হওয়া (الفساد) বা না হওয়ার হুকুমের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।
এটি অন্য দিক থেকেও বিভক্ত হয়: যা ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা লেনদেনের (المعاملات) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এই প্রত্যেকটি বিভাগই আবার পূর্বোক্ত তিন ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
وَعبر الْحَنَفِيَّة عَن الْأَقْسَام الثَّلَاثَة الَّتِي ذَكرنَاهَا بِعِبَارَة أُخْرَى فَقَالُوا النَّهْي عَن الشَّيْء إِمَّا لعَينه أَو لغيره
فَالْأول يَنْقَسِم إِلَى وضعي كالعبث والسفه وشرعي كَبيع الْحر والمضامين والملاقيح وَالصَّلَاة بِغَيْر طَهَارَة لارْتِفَاع أَهْلِيَّة الْأَدَاء شرعا وَالثَّانِي يَنْقَسِم إِلَى مجاور وَوصف لَازم فالمجاور كَالْوَطْءِ فِي الْحيض وَالْبيع وَقت النداء وكصوم يَوْم النَّحْر وَالصَّلَاة فِي الدَّار الْمَغْصُوبَة وَالْوَصْف اللَّازِم كَبيع الرِّبَوِيّ مُتَفَاضلا أَو بنسيئة وَسَائِر الْعُقُود الْفَاسِدَة وعد بَعضهم صَوْم يَوْم النَّحْر من هَذَا الْقسم وَسَيَأْتِي مَا يَتَرَتَّب على هَذَا التَّقْسِيم وَمَا يرد عَلَيْهِ أَن شَاءَ الله تَعَالَى
الْبَحْث الثَّالِث المعني بِالْفَسَادِ الْآتِي ذكره عِنْد كل من قَالَ بِهِ هُوَ مَا ذهب إِلَيْهِ فِي تَفْسِير الْفساد وَلَهُم فِي ذَلِك اخْتِلَاف وَالْكَلَام فِي طرفين الأول مَا يتَعَلَّق بالعبادات وَتَفْسِير لفظ الْفساد مترتب على مَا يُقَابله وَهُوَ الصِّحَّة وَالَّذِي ذهب إِلَيْهِ المتكلمون أَن المعني بِالصِّحَّةِ فِي الْعِبَادَة كَونهَا مُوَافقَة لأمر الشَّارِع فِي ظن الْفَاعِل لَا فِي نفس الْأَمر
হানাফিগণ ইতিপূর্বে উল্লিখিত তিনটি প্রকারকে অন্য পরিভাষায় ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন: কোনো বিষয় থেকে নিষেধ (النهي) হয় হয় তার সত্তাগত কারণে (لعينه) অথবা সত্তাবহির্ভূত অন্য কোনো কারণে (لغيره)।
প্রথম প্রকারটি জাগতিক (وضعي) ও শারয়ী (شرعي)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। জাগতিক নিষেধ যেমন—নিরর্থকতা (العبث) এবং নির্বুদ্ধিতা (السفه)। আর শারয়ী নিষেধ যেমন—স্বাধীন মানুষ বিক্রয় করা, পশুর জরায়ুর গর্ভস্থ সন্তান (المضامين) বিক্রয় করা, প্রজননের বীর্য (الملاقيح) বিক্রয় করা এবং পবিত্রতা ব্যতিরেকে সালাত আদায় করা; কারণ শারয়ীভাবে এর আদায়ের যোগ্যতা (أهلية الأداء) রহিত হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রকারটি সংলগ্ন (مجاور) এবং অবিচ্ছেদ্য গুণ (وصف لازم)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। সংলগ্ন নিষেধ যেমন—ঋতুকালীন সহবাস করা, জুমার আজানের সময় কেনাবেচা করা, কোরবানির দিন রোজা রাখা এবং জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায় করা। আর অবিচ্ছেদ্য গুণের কারণে নিষেধ যেমন—সুদযুক্ত পণ্য পরিমাণের কমবেশি করে বা বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করা এবং অন্যান্য সকল ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি (العقود الفاسدة)। তাদের কেউ কেউ কোরবানির দিনের রোজাকে এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই বিভাজনের ফলশ্রুতিতে যা প্রযোজ্য হবে এবং এর ওপর যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হবে, তা ইনশাআল্লাহ অচিরেই বর্ণিত হবে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পণ্ডতা (الفساد) সম্পর্কে পরবর্তী আলোচনায় যা উল্লেখ করা হবে, তা হলো ফাসাদ-এর ব্যাখ্যায় প্রবক্তাদের অভিমত। এ বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। এই আলোচনাটি দুটি ভাগে বিভক্ত; প্রথম ভাগটি ইবাদত সংক্রান্ত। এখানে পণ্ডতা (الفساد) শব্দের ব্যাখ্যা এর বিপরীত শব্দ অর্থাৎ বিশুদ্ধতা (الصحة)-এর ওপর নির্ভরশীল। কালাম শাস্ত্রবিদগণ (المتكلمون) যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা হলো—ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা (الصحة) বলতে বোঝায় আমলকারীর ধারণা অনুযায়ী তা শারয়ী নির্দেশের (أمر الشارع) অনুকূলে হওয়া, প্রকৃত বাস্তবতার (نفس الأمر) নিরিখে নয়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَعند الْفُقَهَاء المُرَاد بِالصِّحَّةِ فِيهَا إِسْقَاط الْقَضَاء وَالْفساد مُقَابل للصِّحَّة على التفسيرين فعلى هَذَا يتَخَرَّج صَلَاة من ظن أَنه متطهر ثمَّ تبين أَنه لَيْسَ كَذَلِك فَعِنْدَ الْمُتَكَلِّمين هِيَ صَحِيحَة لِأَنَّهَا وَقعت مُوَافقَة لأمر الشَّارِع فِي ظَنّه
وَعند الْفُقَهَاء هِيَ بَاطِلَة لِأَنَّهَا لم تسْقط الْقَضَاء وعكسها صَلَاة من صلى خلف الْخُنْثَى الْمُشكل ثمَّ تبين أَنه رجل إِذا فرع على أحد الْقَوْلَيْنِ للشَّافِعِيّ فِي انه لَا يجب الْقَضَاء لَكِن الرَّاجِح خِلَافه فَإِنَّهَا على اصْطِلَاح الْفُقَهَاء صَحِيحَة على هَذَا القَوْل لإسقاطها الْقَضَاء وَعند الْمُتَكَلِّمين بَاطِلَة لِأَنَّهَا لَيست مُوَافقَة لأمر الشَّرْع
وَذكر الْقَرَافِيّ أَن الْخلاف فِي هَذِه الْمَسْأَلَة إِنَّمَا هُوَ فِي التَّسْمِيَة وَأما الْأَحْكَام فمتفق عَلَيْهَا عِنْد الْفَرِيقَيْنِ لأَنهم اتَّفقُوا على أَنه مُوَافق لأمر الله تَعَالَى وَأَنه مثاب عَلَيْهَا وَأَنه لَا يجب عَلَيْهِ الْقَضَاء إِذا لم يطلع على الْحَدث وَأَنه يجب الْقَضَاء إِذا تبينه
قَالَ وَإِنَّمَا اخْتلفُوا فِي وضع لفظ الصِّحَّة هَل يضعونه لما وَافق الْأَمر
ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট এখানে বিশুদ্ধতা (الصحة) বলতে উদ্দেশ্য হলো কাজা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়া। আর অসারতা (الفسাদ) হলো উভয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিশুদ্ধতার বিপরীত। এই মূলনীতির ভিত্তিতেই সেই ব্যক্তির নামাজের হুকুম নির্ণীত হয়, যে ধারণা করেছিল যে সে পবিত্র, অতঃপর স্পষ্ট হলো যে সে পবিত্র ছিল না। কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মতে, এই নামাজটি সঠিক (صحيحة); কারণ এটি তার ধারণা অনুযায়ী শরিয়তদাতার আদেশের অনুবর্তী হয়েছে।
আর ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট তা বাতিল (باطلة); কারণ তা কাজা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রহিত করেনি। এর বিপরীত হলো সেই ব্যক্তির নামাজ, যে এমন এক ব্যক্তির (الخنثى المشكل) পেছনে নামাজ পড়েছে যার লিঙ্গ পরিচয় অস্পষ্ট ছিল, অতঃপর প্রকাশ পেল যে ইমামটি পুরুষ ছিল। ইমাম শাফিঈ-এর দু’টি মতের মধ্যে যেটিতে কাজা করা ওয়াজিব নয় বলে উল্লেখ আছে—যদিও এর বিপরীত মতটিই অগ্রগণ্য (الراجح)—সেই মত অনুযায়ী এটি ফকিহগণের পরিভাষায় সঠিক (صحيحة), যেহেতু তা কাজা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রহিত করেছে। কিন্তু কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মতে তা বাতিল (باطلة); কারণ তা শরিয়তের আদেশের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না।
কারাফি উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলায় মতভেদটি মূলত নামকরণ কেন্দ্রিক। তবে বিধানের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ একমত। কারণ তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিষয়টি আল্লাহ তাআলার আদেশের অনুগামী ছিল এবং ব্যক্তি এর জন্য সওয়াব পাবে। আর যতক্ষণ সে অপবিত্রতা (الحدث) সম্পর্কে অবগত না হবে, ততক্ষণ তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব হবে না; তবে তা স্পষ্ট হওয়ার পর কাজা করা ওয়াজিব হবে।
তিনি বলেন, তারা মূলত 'বিশুদ্ধতা' (الصحة) শব্দটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, তারা কি একে আদেশের অনুবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারণ করবেন কি না।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
سَوَاء وَجب الْقَضَاء أَو لم يجب أَو لما لَا يُمكن أَن يتعقبه قَضَاء وَهَذَا فِيهِ نظر من جِهَة مَسْأَلَة الصَّلَاة خلف الْخُنْثَى الْمُشكل الَّتِي أَشَرنَا إِلَيْهَا وَلَا يلْزم من اتِّفَاقهم على مَا ذكر من الْأَحْكَام أَن يكون الْخلاف فِي التَّسْمِيَة لِأَنَّهُ ثمَّ أَحْكَام أخر غير هَذِه
وَقد ذكر الْأَصْفَهَانِي شَارِح الْمُخْتَصر فِيهِ أَن مِمَّا يتَخَرَّج على هَذَا الْخلاف صَلَاة من لم يجد مَاء وَلَا تُرَابا إِذا صلى على حسب حَاله وَقُلْنَا بالراجح من الْمَذْهَب انه يجب عَلَيْهِ الْإِعَادَة قَالَ فَتلك الصَّلَاة صَحِيحَة على اصْطِلَاح الْمُتَكَلِّمين فَاسِدَة على اصْطِلَاح الْفُقَهَاء قلت وَفِي ذَلِك وَجْهَان لِأَصْحَابِنَا حَكَاهُمَا إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَالْمُتوَلِّيّ وَبنى عَلَيْهِمَا لَو حلف لَا يُصَلِّي فصلى
চাই কাজা (قضاء) ওয়াজিব (وجوب) হোক বা না হোক, অথবা এমন ক্ষেত্রে যেখানে পরবর্তীতে কাজা আদায় সম্ভব নয়; আর খুনসা মুশকিল (الخنثى المشكل) এর পেছনে নামাজ আদায় সংক্রান্ত যে মাসআলার প্রতি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি, তার প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। উল্লিখিত বিধানসমূহের (الأحكام) ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্য থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে মতপার্থক্যটি কেবল পারিভাষিক নামকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, কারণ সেখানে এগুলো ব্যতীত আরও অন্যান্য বিধান (أحكام) বিদ্যমান।
মুখতাসার এর ব্যাখ্যাকার আল-আসফাহানি এতে উল্লেখ করেছেন যে, এই মতপার্থক্যের ভিত্তিতে যে মাসআলাটি উদ্ভূত হয় তা হলো—পানি ও মাটি উভয় সংকটে থাকা ব্যক্তির নামাজ, যখন সে তার বিদ্যমান অবস্থায় নামাজ আদায় করে। এমতাবস্থায় মাযহাবের অগ্রগণ্য (الراجح) মত অনুযায়ী যদি আমরা বলি যে তার ওপর নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব (وجوب), তবে তিনি বলেন: সেই নামাজটি মুতাকাল্লিমদের পরিভাষায় সঠিক (صحيحة), কিন্তু ফকিহদের পরিভাষায় তা ফাসেদ (فاسدة)। আমি বলি: এ বিষয়ে আমাদের সাথীদের মাঝে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে যা ইমামুল হারামাইন ও আল-মুতাওয়াল্লী বর্ণনা করেছেন। তারা এই দুই অভিমতের ওপর ভিত্তি করে এই মাসআলাটি সাজিয়েছেন যে—যদি কেউ শপথ করে যে সে নামাজ পড়বে না, অতঃপর সে নামাজ আদায় করে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
كَذَلِك وَلَكِن هَذَا القَوْل يُؤَدِّي إِلَى أَن نقُول كل صَلَاة فعلت لحُرْمَة الْوَقْت وَلم يسْقط بذلك فَرضهَا بل كَانَ قَضَاؤُهَا وَاجِبا تكون فَاسِدَة عِنْد الْفُقَهَاء وَلَا يكون الْفساد فِي الْعِبَادَة دائرا مَعَ ارْتِكَاب الْمنْهِي عَنهُ وجودا وعدما بل قد يكون لاختلال شَرط أَو ركن مَعَ كَونه مَأْمُورا بِفعل الْعِبَادَة فِي الْوَقْت لِحُرْمَتِهِ لَكِن يشكل على هَذَا أَن يُقَال كَيفَ يُؤمر بِعبَادة هِيَ فَاسِدَة وَلَا يسمحون بِإِطْلَاق الْفَاسِد فِي مثل هَذَا بل قد صَرَّحُوا فِيهِ بِالصِّحَّةِ وللنظر هُنَا مجَال وَسَيَأْتِي مزِيد بحث فِي ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى
الطّرف الثَّانِي فِيمَا يتَعَلَّق بالمعاملات وَالَّذِي ذكره جُمْهُور أَئِمَّة الْأُصُول أَن الصِّحَّة فِيهَا عبارَة عَن ترَتّب ثَمَرَة ذَلِك العقد الْمَطْلُوبَة مِنْهُ وَالْمرَاد بِالْفَسَادِ أَن لَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ ذَلِك وَالْمرَاد بالثمرة أثر كل عقد بِحَسبِهِ فأثر البيع التَّمَكُّن من الْأكل وَالْوَطْء وَالْهِبَة وَالْوَقْف وَنَحْو ذَلِك وَثَمَرَة الْإِجَارَة التَّمَكُّن من الْمَنَافِع وَفِي الْقَرَاض عدم الضَّمَان وَاسْتِحْقَاق الرِّبْح وَفِي النِّكَاح التَّمَكُّن من الْوَطْء وَالطَّلَاق إِلَى غير ذَلِك من أَنْوَاع الْعُقُود
وَاعْترض بَعضهم على ذَلِك بِأَن المُرَاد من ثَمَرَات الْعُقُود إِمَّا الْكل أَو الْبَعْض وَالْأول بَاطِل لِأَن الْمَبِيع فِي زمن الْخِيَار وَالْمَبِيع قبل قَبضه لَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ ثمراته مَعَ أَن العقد صَحِيح وَكَذَلِكَ إِذا بَاعَ الدَّار المأجورة وَالْعَبْد الْجَانِي وَقُلْنَا بِصِحَّة البيع فيهمَا
বিষয়টি এমনই, তবে এই উক্তিটি এই অভিমতের দিকে ধাবিত করে যে, সময়ের পবিত্রতা রক্ষার খাতিরে আদায়কৃত প্রতিটি সালাত, যার মাধ্যমে সেই সালাতের ফরজ (فرض) দায়িত্ব নিষ্কৃতি পায় না বরং তার কাজা (قضاء) আদায় করা ওয়াজিব (واجب) হয়, তা ফকিহগণের নিকট বাতিল (فاسدة) বলে গণ্য হবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে এই বাতিল (فساد) হওয়া বিষয়টি কেবল নিষিদ্ধ কাজ সম্পাদন করা বা না করার ওপর আবর্তিত হয় না, বরং কখনো কখনো তা কোনো শর্ত (شرط) অথবা রকন (ركن) বিঘ্নিত হওয়ার কারণেও হতে পারে; যদিও সময়ের মর্যাদার খাতিরে তাকে সেই সময়ে ইবাদত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তবে এখানে এই সংশয় দেখা দেয় যে, যে ইবাদতটি বাতিল (فاسدة), তা আদায়ের নির্দেশ কীভাবে দেওয়া হতে পারে? অথচ তাঁরা এই জাতীয় ক্ষেত্রে 'বাতিল' (فاسد) শব্দটি প্রয়োগের অনুমতি দেন না, বরং তাঁরা এক্ষেত্রে বৈধতা বা সঠিক (صحة) হওয়ার বিষয়টিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে এবং ইন-শা-আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুআমালাত (লেনদেন) সংক্রান্ত। উসুলশাস্ত্রের অধিকাংশ ইমাম যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিকতা (صحة) বলতে সেই চুক্তির (عقد) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা ফলশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়াকে বোঝায়। আর বাতিল (فساد) বলতে সেই ফলাফল অর্জিত না হওয়াকে বোঝায়। এখানে ফলাফল বলতে প্রতিটি চুক্তির প্রকৃতি অনুযায়ী তার প্রভাবকে বোঝানো হয়েছে। যেমন বিক্রয় চুক্তির প্রভাব হলো ভোগ করা, দান করা, ওয়াকফ করা এবং অনুরূপ অন্যান্য ব্যবহারের সক্ষমতা লাভ করা। ইজারা বা ভাড়ার ফলাফল হলো উপকারিতা ভোগ করার সক্ষমতা লাভ করা। কিরাদ বা মুদারাবা চুক্তির ক্ষেত্রে ফলাফল হলো জামানত (ضمان) মুক্ত থাকা এবং মুনাফার অধিকার লাভ করা। আর বিবাহের ক্ষেত্রে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন ও তালাকের অধিকার লাভ করা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের চুক্তি।
কেউ কেউ এর ওপর এই বলে আপত্তি তুলেছেন যে, চুক্তির ফলাফল বলতে হয় পূর্ণ ফলাফল, নয়তো আংশিক ফলাফলকে বোঝানো হবে। প্রথমটি অসার, কারণ ইখতিয়ার বা অপশন (خيار) থাকাকালীন সময়ে বিক্রিত পণ্য এবং হস্তগত (قبض) করার পূর্বের বিক্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তির পূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয় না, অথচ চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হিসেবেই গণ্য হয়। অনুরূপভাবে যদি ভাড়াকৃত বাড়ি বা অপরাধী ক্রীতদাস বিক্রয় করা হয় এবং আমরা সেই বিক্রয় সঠিক (صحة) হওয়ার রায় প্রদান করি (তখনও পূর্ণ ফলাফল সাথে সাথে পাওয়া যায় না)।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَإِن كَانَ المُرَاد بالثمرات بَعْضهَا فَذَلِك الْبَعْض إِمَّا معِين أَو أَي بعض كَانَ وَالْأول بَاطِل اتِّفَاقًا وَأَيْضًا لَيْسَ فِي اللَّفْظ مَا يشْعر بِهِ
وَالثَّانِي يرد عَلَيْهِ ترَتّب بعض آثَار العقد الْفَاسِد كالقراض وَالْوكَالَة الفاسدين فَإِن التَّصَرُّف فيهمَا يَصح وَهُوَ بعض ثَمَرَات العقد فَيكون الْحَد غير مَانع
وَيُمكن الْجَواب عَنهُ بِأَن المُرَاد بِهِ جَمِيع ثَمَرَات العقد وَلَيْسَ المعني بِهِ التَّرْتِيب بِالْفِعْلِ بل بِالْقُوَّةِ وتخلف ذَلِك عَن الْمَبِيع قبل الْقَبْض أَو فِي زمن الْخِيَار لَا يرد لِأَن العقد وَإِن كَانَ صَحِيحا لكنه لم يتم حَتَّى يتَمَكَّن المُشْتَرِي من جَمِيع التَّصَرُّفَات فَتخلف ذَلِك لمَانع عَارضه لَا لفساد العقد
وَأَيْضًا فجواز تصرف الْعَامِل وَالْوَكِيل فِي الْقَرَاض وَالْوكَالَة الفاسدين لَيْسَ من ثَمَرَات العقد بل من ثَمَرَات الْأذن الَّذِي اشْتَمَل عَلَيْهِ العقد وَلِهَذَا يسْقط الْمُسَمّى وَيرجع فِيهِ إِلَى أُجْرَة الْمثل وَكَذَلِكَ القَوْل فِي الْخلْع وَالْكِتَابَة الفاسدين لَيْسَ النّفُوذ فيهمَا من ثَمَرَات العقد بل من التَّعْلِيق الَّذِي اشْتَمَل العقد عَلَيْهِ فَلم يَتَرَتَّب فِي هَذَا على العقد الْفَاسِد شَيْء ولهذه الْعُقُود عدل بَعضهم عَن الْعبارَة الْمُتَقَدّمَة فَقَالَ المُرَاد من كَون العقد صَحِيحا أَن يكون مستجمعا لجَمِيع أَرْكَانه وشرائطه وَمن كَونه فَاسِدا أَن لَا يكون كَذَلِك ليشْمل الْحَد جَمِيع مَا أَشَرنَا إِلَيْهِ وَرجح هَذِه الْعبارَة قَائِلهَا بمناسبتها للمعنى اللّغَوِيّ فان الصِّحَّة فِي اللُّغَة ضد السقم فَالصَّحِيح من الْحَيَوَان مَا هُوَ على الْحَالة الطبيعية الَّتِي هِيَ أكمل أَحْوَاله وَالْفساد هُوَ الْخُرُوج عَن ذَلِك فَالْعقد المستجمع لِأَرْكَانِهِ وشرائطه صَحِيح
আর যদি 'পরিণামসমূহ' দ্বারা এর অংশবিশেষ উদ্দেশ্য হয়, তবে সেই অংশটি হয় নির্দিষ্ট হবে নতুবা যেকোনো অংশ হবে। প্রথমটি সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল (باطل); উপরন্তু শব্দটির মাঝে এমন কিছু নেই যা তা নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আপত্তি এই যে, ফাসিদ (فاسد) চুক্তির কিছু প্রভাব পরিলক্ষিত হয়—যেমন ফাসিদ (فাসد) কিরাদ (লাভের অংশীদারিত্ব) ও ফাসিদ (فاسد) ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব)। কেননা এই উভয় ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা সহিহ (صحيح) হয়, যা চুক্তিরই অন্যতম একটি ফলাফল; ফলে সংজ্ঞাটি মানি' (مانع) বা অননন্য থাকছে না।
এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এখানে 'পরিণামসমূহ' দ্বারা চুক্তির সকল ফলাফল উদ্দেশ্য। আর এর অর্থ এই নয় যে ফলাফলগুলো বাস্তবে কার্যকর হবে, বরং এগুলো সুপ্তভাবে বিদ্যমান থাকে। কব্জা বা অধিকার লাভের পূর্বে বিক্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে অথবা ইখতিয়ারের (বাছাই করার অধিকার) সময়কালে এর ব্যতিক্রম ঘটা কোনো আপত্তি সৃষ্টি করে না। কারণ চুক্তিটি সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও তা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না ক্রেতা সব ধরণের হস্তক্ষেপে সক্ষম হয়। সুতরাং সেই ব্যতিক্রমটি কোনো আকস্মিক বাধার কারণে হয়েছে, চুক্তির কোনো ফাসাদ (فساد) বা অসারতার কারণে নয়।
তাছাড়া, ফাসিদ (فاسد) কিরাদ ও ফাসিদ (فاسد) ওকালাহ-এর ক্ষেত্রে শ্রমিক বা প্রতিনিধির হস্তক্ষেপের বৈধতা চুক্তির ফলাফল নয়, বরং চুক্তির অন্তর্ভুক্ত অনুমতির ফলাফল। একারণেই নির্ধারিত পারিশ্রমিক বাতিল হয়ে যায় এবং সেখানে ন্যায্য পারিশ্রমিকের দিকে ফিরে যেতে হয়। অনুরূপভাবে ফাসিদ (فাসد) খুল্' ও কিতাবাত-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; সেখানে চুক্তি কার্যকর হওয়া চুক্তির ফল নয়, বরং চুক্তির অন্তর্ভুক্ত শর্তযুক্তকরণের ফল। সুতরাং এক্ষেত্রে ফাসিদ (فاسد) চুক্তির ওপর কোনো কিছুই বর্তায় না। এসকল চুক্তির কারণে কেউ কেউ পূর্বোক্ত বর্ণনা থেকে সরে এসেছেন এবং বলেছেন: চুক্তির সহিহ (صحيح) হওয়ার অর্থ হলো এর যাবতীয় রুকন ও শর্তাবলি পূর্ণ থাকা, আর ফাসিদ (فاسد) হওয়ার অর্থ হলো তা না থাকা; যাতে করে সংজ্ঞাটি আমাদের নির্দেশিত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই প্রবক্তা তার উক্তিটিকে আভিধানিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা আভিধানিক অর্থে সুস্থতা হলো অসুস্থতার বিপরীত; সুতরাং প্রাণিকুলের মধ্যে সহিহ (صحيح) হলো সেটি যা তার স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, যা তার পূর্ণতম অবস্থা। আর ফাসাদ (فساد) হলো সেই অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়া। সুতরাং যে চুক্তি তার রুকন ও শর্তাবলি পূরণ করে, তা সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
لِأَنَّهُ على أكمل أَحْوَاله وَمَا نقص فِيهِ شَيْء من ذَلِك كَانَ فَاسِدا لِخُرُوجِهِ عَن ذَلِك وَيُمكن أَن تجْعَل هَذِه الْعبارَة شَامِلَة للعبادات والمعاملات جَمِيعًا فَيُقَال كَون كل مِنْهُمَا صَحِيحا هُوَ مَا استجمع جَمِيع أَرْكَانه وشرائطه لكنه يحْتَاج إِلَى أَن يُزَاد فِي الْعِبَادَة مَعَ الْقُدْرَة عَلَيْهَا حَتَّى لَا ترد صَلَاة الْمَرِيض قَاعِدا عِنْد مشقة الْقيام وَأَمْثَاله وَكَذَلِكَ من صلى إِلَى غير جِهَة الْقبْلَة بِالِاجْتِهَادِ ثمَّ تبين الْخَطَأ إِذا قُلْنَا بِأَنَّهُ لَا يلْزمه الْإِعَادَة وَهَاتَانِ العبارتان إِنَّمَا هِيَ على قَاعِدَة أَصْحَابنَا
وَالْجُمْهُور فِي عدم التَّفْرِقَة بَين الْبَاطِل وَالْفَاسِد وأنهما مُتَرَادِفَانِ يُطلق كل مِنْهُمَا فِي مُقَابلَة الصَّحِيح
وَأما الْحَنَفِيَّة فَإِنَّهُم فرقوا بَينهمَا وخصصوا اسْم الْبَاطِل بِمَا لَا ينْعَقد بِأَصْلِهِ كَبيع الْخمر وَالْحر وَالْفَاسِد بِمَا ينْعَقد عِنْدهم بِأَصْلِهِ دون وَصفه كعقد الرِّبَا فَإِنَّهُ مَشْرُوع من حَيْثُ انه بيع وممنوع من حَيْثُ انه عقد رَبًّا فَالْبيع الْفَاسِد عِنْدهم يُشَارك الصَّحِيح فِي إِفَادَة الْملك إِذا اتَّصل بِالْقَبْضِ
وَحَاصِل هَذَا أَن قاعدتهم انه لَا يلْزم من كَون الشَّيْء مَمْنُوعًا بوصفه أَن يكون مَمْنُوعًا بِأَصْلِهِ فَجعلُوا ذَلِك منزلَة متوسطة بَين الصَّحِيح وَالْبَاطِل وَقَالُوا الصَّحِيح هُوَ الْمَشْرُوع بِأَصْلِهِ وَوَصفه وَهُوَ العقد المستجمع لكل شَرَائِطه وَالْبَاطِل هُوَ الْمَمْنُوع بهما جَمِيعًا وَالْفَاسِد الْمَشْرُوع بِأَصْلِهِ الْمَمْنُوع بوصفه
وَمذهب الشَّافِعِي وَأحمد وأصحابهما أَن كل مَمْنُوع بوصفه فَإِنَّهُ مَمْنُوع بِأَصْلِهِ وَسَتَأْتِي الْمَسْأَلَة مبسوطة إِن شَاءَ الله تَعَالَى غير أَن الَّذِي يخص هَذَا الْموضع
কারণ এটি তার পূর্ণাঙ্গতম অবস্থায় থাকে। আর এর কোনো অংশে যা কিছু কম হবে তা ঐ পূর্ণাঙ্গ অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে অশুদ্ধ (فاسد) বলে গণ্য হবে। এই পরিভাষাটিকে ইবাদত ও লেনদেন (মুয়ামালাত) সবকিছুর ক্ষেত্রে ব্যাপক করা সম্ভব। এমতাবস্থায় বলা যায়, এগুলোর প্রতিটি সঠিক (صحيح) হওয়া মানে হলো যা তার সমস্ত রুকন ও শর্তাবলিকে পূর্ণ করে। তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে সক্ষমতা থাকার বিষয়টি অতিরিক্ত উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে দাঁড়ানো কষ্টকর হলে অসুস্থ ব্যক্তির বসে সালাত আদায় করা এবং এই জাতীয় আমলগুলো প্রত্যাখ্যাত না হয়। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করে কিবলা ভিন্ন অন্য দিকে সালাত আদায় করেছে এবং পরে ভুল প্রকাশ পেয়েছে, এমতাবস্থায় যদি আমরা বলি যে তার জন্য সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয় (তবে তাও সঠিক)। এই দুটি বর্ণনা আমাদের (শাফেয়ী) সাথীদের মূলনীতি অনুযায়ী।
এবং জুমহুর উলামায়ে কেরামের নিকট বাতিল (باطل) ও অশুদ্ধ (فاسد) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাঁদের মতে এই দুটি পরিভাষা সমার্থক এবং এগুলোর প্রতিটিই সঠিক (صحيح) এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়।
পক্ষান্তরে হানাফীগণ এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাঁরা বাতিল (باطل) নামটিকে ঐসব বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা তার মূলগত কারণে (আসলে) সংঘটিত হয় না, যেমন—মদ বা স্বাধীন মানুষ বিক্রয় করা। আর অশুদ্ধ (فاسد) হলো তা যা তাঁদের মতে মূলগতভাবে (আসলে) সংঘটিত হয় কিন্তু গুণগত (ওয়াসফ) কারণে ত্রুটিযুক্ত হয়, যেমন—সুদী চুক্তি। কারণ এটি বিক্রয়ের দিক থেকে শরিয়তসম্মত কিন্তু সুদী চুক্তি হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ। তাই তাঁদের নিকট অশুদ্ধ (فاسد) বিক্রয় যখন হস্তগত করা হয়, তখন তা মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) বিক্রয়ের সাথে অংশীদার হয়।
এর সারকথা হলো, তাঁদের মূলনীতি এই যে, কোনো কিছু তার গুণগত কারণে নিষিদ্ধ হলে তা মূলগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক নয়। তাই তাঁরা একে সঠিক (صحيح) ও বাতিল (باطل) এর মাঝে একটি মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন: সঠিক (صحيح) হলো যা তার মূল ও গুণ উভয় দিক থেকে শরিয়তসম্মত এবং এটি এমন এক চুক্তি যা সমস্ত শর্ত পূরণ করে। বাতিল (باطل) হলো যা উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ। আর অশুদ্ধ (فاسد) হলো যা তার মূলে শরিয়তসম্মত কিন্তু গুণের কারণে নিষিদ্ধ।
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ এবং তাঁদের অনুসারীদের মাযহাব হলো, যা কিছু গুণগত কারণে নিষিদ্ধ তা তার মূলগত কারণেও নিষিদ্ধ। ইনশাআল্লাহ তাআলা এই মাসআলাটি বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে, তবে এর মধ্যে যা কিছু এই স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট (তা উল্লেখ করা হলো)।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
بَيَان فَسَاد هَذَا الِاصْطِلَاح وَذَلِكَ من جِهَة النَّقْل فان مُقْتَضى هَذِه التَّفْرِقَة أَن يكون الْفَاسِد هُوَ الْمَوْجُود على نوع من الْخلَل وَالْبَاطِل هُوَ الَّذِي لَا تثبت حَقِيقَته بِوَجْه وَقد قَالَ الله تَعَالَى {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا} فَسمى السَّمَوَات وَالْأَرْض فَاسِدَة عِنْد تَقْدِير الشَّرِيك ووجوده وَدَلِيل التمانع يَقْتَضِي أَن الْعَالم على تَقْدِير الشَّرِيك ووجوده يَسْتَحِيل وجوده لحُصُول التمانع لَا انه يكون مَوْجُودا على نوع من الْخلَل فقد سمى الله تَعَالَى الَّذِي لَا تثبت حَقِيقَته بِوَجْه فَاسِدا وَهُوَ خلاف مَا قَالُوهُ فِي الْفرق بَين الْبَاطِل وَالْفَاسِد وان كَانَ مأخذهم فِي التَّفْرِيق مُجَرّد الِاصْطِلَاح مطالبون بمستند شَرْعِي يَقْتَضِي اخْتِلَاف الحكم الْمُرَتّب عَلَيْهِمَا
فَعلم بِهَذَا أَن مُرَاد الْجُمْهُور بقَوْلهمْ النَّهْي يَقْتَضِي الْفساد هُوَ الْبطلَان وَأما الْفساد على اصْطِلَاح الْحَنَفِيَّة فَلَا وان مُرَاد الْحَنَفِيَّة فِي أَن بعض أَنْوَاع النَّهْي يَقْتَضِي الْفساد لَيْسَ هُوَ الْبطلَان كَمَا سَيَأْتِي بَيَانه
وَأما الْمَالِكِيَّة فتوسطوا بَين الْقَوْلَيْنِ وَلم يفرقُوا بَين الْبَاطِل وَالْفَاسِد فِي التَّسْمِيَة وَلَكنهُمْ قَالُوا البيع الْفَاسِد يُفِيد شُبْهَة الْملك فِيمَا يقبل الْملك فَإِذا لحقه أحد أَرْبَعَة أَشْيَاء تقرر الْملك بِالْقيمَةِ وَهِي حِوَالَة الْأَسْوَاق وَتلف الْعين ونقصانها وَتعلق حق الْغَيْر بهَا على تَفْصِيل لَهُم وفروع هِيَ مبسوطة فِي كتبهمْ وَالله أعلم
এই পরিভাষার অসারতা বর্ণনা করা হচ্ছে। আর তা হলো বর্ণনা (نقل) এর দিক থেকে; কেননা এই পার্থক্যের দাবি হলো— অসার (فاسد) হবে সেই বস্তু যা কোনো প্রকার বিচ্যুতিসহ বিদ্যমান থাকে, আর বাতিল (باطل) হবে সেই বস্তু যার বাস্তবতা কোনোভাবেই সাব্যস্ত হয় না। অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস (فساد) হয়ে যেত}। এখানে তিনি অংশীদার সাব্যস্ত করা ও তার অস্তিত্বের অনুমানের প্রেক্ষিতে আসমান ও জমিনকে অসার (فاسد) বলে অভিহিত করেছেন। অথচ 'দলিলে তামানউ' (পারস্পরিক বাধা প্রদানের প্রমাণ) দাবি করে যে, অংশীদারের অস্তিত্ব ও উপস্থিতির অনুমানে বিশ্বজগতের অস্তিত্বই অসম্ভব হয়ে পড়ে; বিষয়টি এমন নয় যে তা কোনো ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যার মূল অস্তিত্বই সাব্যস্ত হওয়া অসম্ভব তাকেই অসার (فاسد) বলে অভিহিত করেছেন। অথচ এটি তাদের বাতিল (باطل) ও অসার (فاسد)-এর মধ্যকার পার্থক্যের পরিপন্থী। আর যদি তাদের এই পার্থক্যের ভিত্তি কেবল নিছক পরিভাষা (اصطلاح) হয়ে থাকে, তবে তাদের কাছে এমন শারয়ী প্রমাণের (مستند شرعي) দাবি করা হবে যা এই দুইয়ের ওপর আরোপিত হুকুমের পার্থক্যের দাবি রাখে।
এর মাধ্যমে জানা গেল যে, জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের বক্তব্য— 'নিষেধাজ্ঞা (نهي) অসারতা (فساد) দাবি করে'—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাতিল (بطلان) হওয়া। কিন্তু হানাফিদের পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী অসারতা (فساد) নয়। আর হানাফিদের মতে নির্দিষ্ট কিছু প্রকারের নিষেধাজ্ঞা (نهي) যে অসারতা (فساد) দাবি করে, তার অর্থ বাতিল (بطلان) হওয়া নয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
মালিকি মাযহাব এ দুই মতের মাঝামাঝি অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা নামাকরণের ক্ষেত্রে বাতিল (باطل) ও অসার (فاسد)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি; তবে তারা বলেছে যে, অসার বিক্রয় (بيع فاسد) মালিকানার সন্দেহ (شبهة الملك) সৃষ্টি করে সেই সব ক্ষেত্রে যা মালিকানাযোগ্য। যখন এতে চারটি বিষয়ের যেকোনো একটির সম্পৃক্ততা ঘটে, তখন মূল্যের বিনিময়ে মালিকানা নির্ধারিত হয়ে যায়। সেগুলো হলো: বাজারের পরিবর্তন (حوالة الأسواق), মূল বস্তু ধ্বংস হওয়া (تلف العين), মূল্য হ্রাস পাওয়া (نقصانها) এবং এর সাথে অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়া। তাদের কিতাবসমূহে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা ও শাখা-প্রশাখা বর্ণিত রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
الْفَصْل الثَّانِيفِي نقل الْمذَاهب فِي هَذِه الْمَسْأَلَة وللعلماء فِي ذَلِك اخْتِلَاف كثير وَالَّذِي وَقعت عَلَيْهِ من كَلَام المصنفين فِي هَذِه المسالة على أَقسَام
أَحدهمَا قَول من أطلق الْخلاف فِي الْمَسْأَلَة وَلم يفصل فَقَالَ الْأُسْتَاذ أَبُو بكر بن فورك الَّذِي ذهب إِلَيْهِ أَكثر أَصْحَاب الشَّافِعِي وَأبي حنيفَة أَن النَّهْي يَقْتَضِي الْفساد وَقَالَ إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي الْبُرْهَان ذهب الْمُحَقِّقُونَ إِلَى أَن الصِّيغَة الْمُطلقَة فِي النَّهْي تَتَضَمَّن فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদএই মাসআলায় বিভিন্ন মাযহাবের বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। এই বিষয়ে গ্রন্থকারদের বক্তব্য থেকে আমি যা পেয়েছি তা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি হলো তাদের বক্তব্য যারা এই মাসআলায় কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ ছাড়াই সাধারণভাবে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। উস্তাদ আবু বকর ইবনে ফুরাক বলেছেন, ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফার অধিকাংশ অনুসারী যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো—নিষেধ (النهي) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অসারতা বা অবৈধতা (الفساد) দাবি করে। ইমামুল হারামাইন আল-বুরহান গ্রন্থে বলেছেন, গবেষকগণ (المحققون) এই মত পোষণ করেছেন যে, নিষেধের (النهي) সাধারণ রূপ নিষিদ্ধ বিষয়টির অসারতা বা অবৈধতাকে (فساد) অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَخَالف فِي ذَلِك كثير من الْمُعْتَزلَة وَبَعض أَصْحَاب أبي حنيفَة
وَقَالَ القَاضِي الْمَاوَرْدِيّ فِي كِتَابه الْحَاوِي وَالنَّهْي إِن تجرد عَن قرينَة كَانَ مَحْمُولا عِنْد الشَّافِعِي على التَّحْرِيم وَفَسَاد الْمنْهِي عَنهُ إِلَّا أَن يصرفهُ دَلِيل غَيره
وَقَالَ الإِمَام أَبُو نصر بن الصّباغ فِي كِتَابه الْعدة النَّهْي يدل على فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ بِظَاهِرِهِ وعَلى التَّحْرِيم وَيجوز أَن يصرف عَن ظَاهره بِدَلِيل وَقَالَ قوم من أَصْحَابنَا لَا يدل على فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ وَهُوَ مَذْهَب أَكثر الْمُتَكَلِّمين وَذهب متأخروهم إِلَى أَنه يدل على فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ فِي الْعِبَادَات دون الْعُقُود والإيقاعات
এক্ষেত্রে মুতাজিলাদের (المعتزلة) অনেকেই এবং আবু হানিফার কিছু অনুসারী (أصحاب) ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
কাজী আল-মাওয়ার্দি তাঁর আল-হাউয়ি গ্রন্থে বলেন যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) যদি কোনো আনুষঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) থেকে মুক্ত থাকে, তবে ইমাম শাফেয়ীর মতে তা নিষিদ্ধকরণ (التحريم) এবং নিষিদ্ধ বিষয়টি অসার (فساد) হওয়ার ওপর গণ্য হবে; যতক্ষণ না অন্য কোনো দলিল (دليل) একে অন্য অর্থে সরিয়ে নেয়।
ইমাম আবু নাসর ইবনুন সাব্বাগ তাঁর আল-ইদ্দাহ গ্রন্থে বলেন যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) তার প্রকাশ্য অর্থের (ظاهر) মাধ্যমে নিষিদ্ধ বিষয়ের অসারতা (فساد) এবং নিষিদ্ধকরণ (التحريم) নির্দেশ করে; আর দলিলের (دليل) ভিত্তিতে এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরে আসা সম্ভব। আমাদের অনুসারীদের (أصحابنا) একটি দল বলেন যে, এটি নিষিদ্ধ বিষয়ের অসারতা (فساد) নির্দেশ করে না এবং এটিই অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদের (المتكلمين) মাযহাব (مذهب)। আর পরবর্তী আলেমদের (متأخروهم) মত হলো যে, এটি ইবাদতের (العبادات) ক্ষেত্রে অসারতা (فساد) নির্দেশ করে, কিন্তু চুক্তি (العقود) এবং একতরফা বিচ্ছেদের (الإيقاعات) ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَقَالَ الشَّيْخ أَبُو إِسْحَق الشِّيرَازِيّ فِي شرح اللمع النَّهْي يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ على قَول أَكثر أَصْحَابنَا
وَقَالَ أَبُو بكر الْقفال لَا يدل عَلَيْهِ وَللشَّافِعِيّ رحمه الله كَلَام يدل عَلَيْهِ وَهُوَ قَول أبي الْحسن الْكَرْخِي من الْحَنَفِيَّة واكثر الْمُتَكَلِّمين من الأشاعرة
وَقَالَ بعض أَصْحَابنَا إِن كَانَ النَّهْي يخْتَص بالمنهي عَنهُ كَالصَّلَاةِ فِي الستْرَة النَّجِسَة دلّ على فَسَاده وَإِن كَانَ لَا يخْتَص بالمنهي عَنهُ كَالصَّلَاةِ فِي الدَّار الْمَغْصُوبَة وَالثَّوْب الْحَرِير وَالْبيع وَقت النداء لَا يدل على فَسَاده انْتهى
শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি ‘শারহুল লুমা’ গ্রন্থে বলেছেন যে, আমাদের অধিকাংশ সহচরদের মতে, নিষেধাজ্ঞা (نهي) নিষিদ্ধ (منهي عنه) বিষয়ের অসারতা বা বাতিল হওয়াকে (فساد) আবশ্যক করে।
আবু বকর আল-কাফফাল বলেছেন যে, এটি তার ওপর প্রমাণ বহন করে না। তবে ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়; এবং এটিই হানাফি মাযহাবের আবুল হাসান আল-কারখি এবং আশআরিদের অধিকাংশ কালাম শাস্ত্রবিদদের (متكلمين) অভিমত।
আমাদের কোনো কোনো সহচর বলেছেন যে, যদি নিষেধাজ্ঞা (نهي) সরাসরি নিষিদ্ধ (منهي عنه) বিষয়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়—যেমন নাপাক কাপড়ে সালাত আদায় করা—তবে তা অসারতা বা বাতিল হওয়ার (فساد) ওপর প্রমাণ বহন করে। আর যদি নিষেধাজ্ঞা (نهي) সরাসরি নিষিদ্ধ (منهي عنه) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়—যেমন জবরদখলকৃত ঘরে সালাত আদায় করা, রেশমি পোশাক পরিধান করা অথবা জুমার আজানের (نداء) সময় কেনা-বেচা করা—তবে তা অসারতা বা বাতিল হওয়ার (فساد) ওপর প্রমাণ দেয় না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
وَقَالَ القَاضِي عبد الْجَبَّار من الْمُعْتَزلَة فِي ملخصه ذهب أَكثر الْفُقَهَاء إِلَى أَن النَّهْي يدل على فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ وَذهب أهل الْأُصُول إِلَى أَنه لَا يدل على ذَلِك وَمن ذهب إِلَى الْمَذْهَب الأول اخْتلفُوا فَمنهمْ من قَالَ لَا يدل باللغة وَلَكِن بِدَلِيل شَرْعِي وَمِنْهُم من قَالَ يدل على الْفساد بموضوعه فِي اللُّغَة وَقَالَ ابْن برهَان النَّهْي يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ فَنقل عَن بعض أَصْحَابنَا وَهُوَ ظَاهر كَلَام الشَّافِعِي أَنه يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ وَنقل عَن الْقفال الشَّاشِي من أَصْحَابنَا وَأبي الْحسن الْكَرْخِي أَنه لَا يَقْتَضِيهِ وَعَن أبي الْحسن الْبَصْرِيّ أَن النَّهْي عَن الْعِبَادَات يَقْتَضِي فَسَادهَا وَأما عَن الْعُقُود الشَّرْعِيَّة فَلَا
মুতাজিলা (المعتزلة) মতাদলম্বী কাজী আব্দুল জব্বার তার 'মুলখাস' গ্রন্থে বলেছেন যে, অধিকাংশ ফকিহ (الفقهاء) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) নিষিদ্ধ বিষয়টি বাতিল বা ফাসাদ (فساد) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। পক্ষান্তরে উসুলবিদগণ (أهل الأصول) মনে করেন যে, এটি উক্ত বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে না। যারা প্রথম মতটি গ্রহণ করেছেন তারা আবার মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি আভিধানিকভাবে প্রমাণ করে না বরং শরয়ী দলিলের (بدليل شرعي) মাধ্যমে প্রমাণ করে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি আভিধানিক অবস্থানের দিক থেকেই ফাসাদ (الفساد) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে।
ইবনে বুরহান বলেছেন: নিষেধাজ্ঞা (النَّهْي) নিষিদ্ধ বিষয়টি বাতিল বা ফাসাদ (فسাদ) হওয়াকে আবশ্যক করে। আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী থেকে বর্ণিত হয়েছে—যা ইমাম শাফিঈর সুস্পষ্ট বক্তব্য—যে, এটি নিষিদ্ধ বিষয়টির ফাসাদ (فسাদ) হওয়াকেই দাবি করে। আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কাফফাল আশ-শাশী এবং আবুল হাসান আল-কারখী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি তা দাবি করে না। আর আবুল হাসান আল-বাসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবাদতের (العبادات) ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (النَّهْي) তার ফাসাদ (فساد) বা বাতিল হওয়াকে আবশ্যক করে, তবে শরয়ী চুক্তিসমূহের (العقود الشرعية) ক্ষেত্রে তা নয়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وَنقل عَن طَائِفَة من الْمُتَكَلِّمين أَن النَّهْي إِن كَانَ لِمَعْنى يخص الْمنْهِي عَنهُ كَالصَّلَاةِ فِي الْبقْعَة النَّجِسَة فَإِنَّهُ يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ فَإِن النَّهْي إِنَّمَا كَانَ لِمَعْنى يخْتَص بِالصَّلَاةِ وَهِي النَّجَاسَة أَلا ترى أَنه فِي غير الصَّلَاة لَا يمْنَع من الْجُلُوس فِي الْبقْعَة النَّجِسَة وَإِن كَانَ لِمَعْنى لَا يخص الْمنْهِي عَنهُ فَلَا يَقْتَضِي فَسَاده كَالصَّلَاةِ فِي الدَّار الْمَغْصُوبَة لِأَنَّهُ نهي عَن الْغَصْب وَذَلِكَ لَا يخص الصَّلَاة
وَنقل عَن بعض الْعلمَاء أَنه إِذا كَانَ النَّهْي عَن فعل فَإِذا فعل الْمنْهِي عَنهُ أخل بِشَرْط من شَرَائِطه أَو ركن من أَرْكَانه كالنهي عَن الصَّلَاة من غير طَهَارَة دلّ على فَسَاده وَإِلَّا فَلَا كالنهي عَن البيع وَقت النداء انْتهى
وَقَالَ القَاضِي أَبُو الْوَلِيد الْبَاجِيّ من الْمَالِكِيَّة النَّهْي عَن الشَّيْء يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ وَبِهَذَا قَالَ القَاضِي أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي عبد الْوَهَّاب وَجُمْهُور أَصْحَابنَا وَأَصْحَاب أبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَبِه قَالَ الشَّيْخ أَبُو بكر بن فورك
একদল কালামশাস্ত্রবিদের (المتكلمين) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) যদি এমন কোনো বিষয়ের কারণে হয় যা নিষিদ্ধ বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট, যেমন অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করা; তবে তা নিষিদ্ধ বিষয়টির অকার্যকরতা (فساد) দাবি করে। কারণ এখানে নিষেধাজ্ঞাটি সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ের কারণে হয়েছে, আর তা হলো অপবিত্রতা। আপনি কি দেখেন না যে, সালাত ব্যতীত অন্য অবস্থায় অপবিত্র স্থানে বসতে কোনো বাধা নেই? আর যদি নিষেধাজ্ঞাটি এমন কোনো বিষয়ের কারণে হয় যা নিষিদ্ধ বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট নয়, তবে তা বিষয়টির অকার্যকরতা (فساد) দাবি করে না। যেমন—জবরদখলকৃত ঘরে সালাত আদায় করা; কারণ এটি জবরদখল করার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে এবং তা সালাতের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট নয়।
কিছু আলেমের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) যদি কোনো কাজের ব্যাপারে হয় এবং সেই নিষিদ্ধ কাজটি করার ফলে তার কোনো শর্ত (شرط) বা রোকন (ركن) বিঘ্নিত হয়—যেমন পবিত্রতা ছাড়া সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞা—তবে তা বিষয়টির অকার্যকরতা (فساد) নির্দেশ করে। অন্যথায় তা অকার্যকরতা নির্দেশ করে না, যেমন জুমার আজানের সময় কেনাবেচা করার নিষেধাজ্ঞা। সমাপ্ত।
মালিকি মাযহাবের কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: কোনো বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা (النهي) সেই নিষিদ্ধ বিষয়ের অকার্যকরতা (فساد) দাবি করে। কাজী আবু মুহাম্মদ অর্থাৎ আব্দুল ওয়াহহাব এবং আমাদের অধিকাংশ (جمهور) ফকিহগণ, আবু হানিফার অনুসারীগণ এবং শাফেয়ির অনুসারীগণ একথাই বলেছেন। শেখ আবু বকর ইবনে ফুরাকও একথাই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَقَالَ القَاضِي أَبُو بكر وَالْقَاضِي أَبُو جَعْفَر السمناني وَأَبُو عبد الله الْأَزْدِيّ وَأَبُو بكر الْقفال من الشَّافِعِيَّة لَا يَقْتَضِي فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ
وَقَالَ الإِمَام الْمَازرِيّ فِي شرح الْبُرْهَان الْأَكْثَر من الْفُقَهَاء فِي هَذِه الْمَسْأَلَة على دلَالَة النَّهْي على الْفساد وَالْأَكْثَر من الْمُتَكَلِّمين على أَنه لَا يدل على الْفساد وَأَصْحَاب الشَّافِعِي يحكون عَنهُ الْقَوْلَيْنِ فَمنهمْ من نقل عَنهُ ذَهَابه إِلَى أَن النَّهْي يدل على الْفساد وَمِنْهُم من استلوح من كَلَام وَقع لَهُ مصيره إِلَى أَنه لَا يدل على الْفساد
وَالْجُمْهُور من مَذَاهِب الْمَالِكِيَّة كَونه دَالا على الْفساد والذاهبون إِلَى دلَالَته على الْفساد مُخْتَلفُونَ هَل ذَلِك مَأْخُوذ من اللُّغَة أَو عَن الشَّرْع
এবং কাজি আবু বকর, কাজি আবু জাফর আস-সিমনানি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আজদি এবং শাফিঈ মাজহাবের আবু বকর আল-কাফফাল বলেছেন যে, (কোনো বিষয়ে) নিষেধ (نهي) নিষিদ্ধ বিষয়টি অবৈধ হওয়াকে (فساد) আবশ্যক করে না।
এবং ইমাম আল-মাজিরি শারহুল বুরহান গ্রন্থে বলেছেন যে, এই মাসআলায় অধিকাংশ ফকিহ মনে করেন নিষেধ (نهي) অবৈধতার (فساد) ওপর প্রমাণ বহন করে। আর অধিকাংশ মুতাকাল্লিমিন মনে করেন যে এটি অবৈধতার (فساد) ওপর প্রমাণ বহন করে না। শাফিঈ মাজহাবের অনুসারীরা তাঁর থেকে উভয় মতই বর্ণনা করেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর এই মতটি বর্ণনা করেছেন যে নিষেধ (نهي) অবৈধতার (فساد) প্রমাণ বহন করে, আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর কোনো এক বক্তব্য থেকে এই ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তিনি মনে করতেন এটি অবৈধতার (فساد) ওপর প্রমাণ বহন করে না।
এবং মালিকি মাজহাবের অধিকাংশের (جمهور) মতে এটি অবৈধতার (فساد) প্রমাণ বহন করে। যারা এটি অবৈধতার (فساد) প্রমাণ বহন করার প্রবক্তা, তাঁরা এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এই প্রমাণ কি ভাষা (لغة) থেকে গৃহীত নাকি শরিয়ত (شرع) থেকে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وَقَالَ الإِمَام أَبُو نصر الْقشيرِي فِي كِتَابه قَالَ أَصْحَاب الشَّافِعِي وَمَالك وَأبي حنيفَة وَأهل الظَّاهِر وَطَوَائِف من الْمُتَكَلِّمين النَّهْي عَن الشَّيْء يدل على فَسَاده ثمَّ نقل عَنْهُم الْخلاف فِي أَن ذَلِك من جِهَة اللُّغَة أَو الشَّرْع
ثمَّ قَالَ وَقَالَ مُعظم الْمُتَكَلِّمين فِيمَا حَكَاهُ القَاضِي أَن النَّهْي لَا يدل على الْفساد ثمَّ أَجمعُوا على أَنه كَمَا لَا يدل على الْفساد لَا يدل على صِحَّته وإجزائه كَذَا قَالَ وَفِي نقل هَذَا الْإِجْمَاع نظر لما سَيَأْتِي من مَذْهَب الْحَنَفِيَّة وتبعهم على هَذِه الْعبارَة فِي الْإِطْلَاق الإِمَام فَخر الدّين الرَّازِيّ وَسَائِر أَتْبَاعه واختاروا
ইমাম আবু নাসর আল-কুশায়রী তাঁর কিতাবে বলেছেন, ইমাম শাফেয়ী, মালিক ও আবু হানিফার অনুসারীগণ, আহলে জাহির এবং কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) বিভিন্ন দল মনে করেন যে, কোনো বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা (النهي) সেটি বাতিল (فساده) হওয়ার প্রমাণ বহন করে। অতঃপর তিনি তাঁদের থেকে এই মতপার্থক্য (الخلاف) বর্ণনা করেছেন যে, এটি কি ভাষাগত (اللغة) দিক থেকে নাকি শরয়ী (الشرع) দিক থেকে।
অতঃপর তিনি বলেন, কাযী (القاضي) যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ (المتكلمين) মনে করেন যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) বাতিল (الفساد) হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। এরপর তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, এটি যেমন বাতিল (الفساد) হওয়ার প্রমাণ দেয় না, তেমনি এটি শুদ্ধ (صحته) হওয়া এবং দায়মুক্তির (إجزائه) প্রমাণও বহন করে না—তিনি এভাবেই বলেছেন। তবে এই ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণনার ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে, কারণ সামনে হানাফী মাযহাবের যে মতটি আসবে তার পরিপ্রেক্ষিতে। ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাযী এবং তাঁর অনুসারীগণ নিঃশর্তভাবে (الإطلاق) এই বক্তব্যের অনুসরণ করেছেন এবং এটিই গ্রহণ (واختاروا) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
جَمِيعًا أَنه يَقْتَضِي الْفساد فِي الْعِبَادَات دون الْمُعَامَلَات كَمَا هُوَ إختيار الْغَزالِيّ وَأبي الْحُسَيْن الْبَصْرِيّ
وَقَالَ الإِمَام أَبُو الْعَبَّاس الْقُرْطُبِيّ فِي كِتَابه الْوُصُول قَالَ قوم النَّهْي يدل على الْفساد وَهُوَ مَذْهَب مَالك على مَا حَكَاهُ القَاضِي عبد الْوَهَّاب وَقَالَ آخَرُونَ لَا يدل عَلَيْهِ وَفرق آخَرُونَ فَمنهمْ من قَالَ يدل عَلَيْهِ فِي الْعِبَادَات دون الْمُعَامَلَات وَمِنْهُم من قَالَ إِن كَانَ النَّهْي رَاجعا لعين الْمنْهِي عَنهُ دلّ وَإِلَّا فَلَا
وَقَالَ الْقَرَافِيّ فِي شرح التَّنْقِيح فِي هَذِه الْمَسْأَلَة أَرْبَعَة مَذَاهِب يَقْتَضِي الْفساد لَا يَقْتَضِيهِ الْفرق بَين الْعِبَادَات والمعاملات تفِيد الْفساد على وَجه تثبت مَعَه شُبْهَة الْملك وَهُوَ مَذْهَب مَالك وَزَاد فِي شرح الْمَحْصُول على هَذِه الْأَرْبَعَة قولا خَامِسًا وَهُوَ مَذْهَب أبي حنيفَة أَنه يدل على الصِّحَّة
সকলের মতেই এটি ইবাদতের ক্ষেত্রে বাতিল (الفساد) হওয়ার দাবি রাখে, কিন্তু লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়; যেমনটি আল-গাজালি এবং আবু আল-হুসাইন আল-বাসরির পছন্দনীয় অভিমত।
ইমাম আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবি তার আল-উসুল কিতাবে বলেছেন, একদল আলিম বলেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) বাতিল (الفساد) হওয়ার প্রমাণ বহন করে; এবং কাজী আব্দুল ওয়াহাবের বর্ণনা অনুযায়ী এটিই ইমাম মালিকের মাজহাব। আবার অন্যরা বলেছেন যে, এটি তার প্রমাণ দেয় না। অন্য একদল আলিম এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন এটি ইবাদতের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়ার প্রমাণ দিলেও লেনদেনের ক্ষেত্রে দেয় না। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন, যদি নিষেধাজ্ঞা (النهي) সরাসরি নিষিদ্ধ বিষয়টির মৌলিক সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তবে তা বাতিল (الفساد) হওয়ার প্রমাণ দিবে, অন্যথায় নয়।
আল-কারাফি শারহুত তানকিহ গ্রন্থে বলেছেন যে, এই মাসআলায় চারটি মাজহাব রয়েছে: এটি বাতিল (الفساد) হওয়ার দাবি রাখে, এটি তা দাবি করে না, ইবাদত ও লেনদেনের মধ্যে পার্থক্য করা এবং এটি এমনভাবে বাতিল (الفساد) হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে যার সাথে মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার সন্দেহ বিদ্যমান থাকে; আর এটিই ইমাম মালিকের মাজহাব। তিনি শারহুল মাহসুল গ্রন্থে এই চারটি মতের অতিরিক্ত পঞ্চম আরেকটি অভিমত যুক্ত করেছেন, যা ইমাম আবু হানিফার মাজহাব; আর তা হলো এটি বিশুদ্ধ (الصحة) হওয়ার প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
وَقَالَ فِي مَذْهَب مَالك إِن البيع الْفَاسِد عِنْدهم الْمنْهِي عَنهُ يُفِيد شُبْهَة الْملك فَإِذا اتَّصل بِهِ البيع أَو غَيره على مَا قرروه ثَبت الْملك فِيهِ بِالْقيمَةِ وان كَانَت قاعدتهم أَن النَّهْي يدل على الْفساد فِي الْأُصُول غير أَنهم راعوا الْخلاف فِي أصل الْقَاعِدَة فِي الْفُرُوع فَقَالُوا شُبْهَة الْملك وَلم يخصوا الْفساد وَلَا الصِّحَّة جمعا بَين الْمذَاهب قلت وَهَذَا يَقْتَضِي اخْتِصَاص هَذَا القَوْل بِالْعُقُودِ دون الْعِبَادَات لَكِن سَيَأْتِي من تفريعاتهم فِي الْعِبَادَات مَا يُؤْخَذ مِنْهُ نَظِير ذَلِك حَيْثُ يَقُولُونَ بِوُجُوب الْإِعَادَة فِي الْوَقْت خَاصَّة وَلَا يُعِيد بعده
وَقَالَ الشَّيْخ موفق الدّين فِي الرَّوْضَة النَّهْي عَن الْأَسْبَاب المفيدة للْأَحْكَام يَقْتَضِي فَسَادهَا ثمَّ نقل بعد ذَلِك ثَلَاثَة أَقْوَال أخر وَهِي
মালিকি মাযহাব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাদের নিকট নিষিদ্ধ (المنهي عنه) ত্রুটিযুক্ত বিক্রয় (البيع الفاسد) মালিকানার অস্পষ্টতা (شبهة الملك) তৈরি করে। সুতরাং তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যখন এর সাথে বিক্রয় বা অন্য কিছু যুক্ত হয়, তখন মূল্যের বিনিময়ে তাতে মালিকানা সাব্যস্ত হয়। যদিও উসুল (الأصول) শাস্ত্রের তাদের মূলনীতি হলো—নিষেধ (النهي) অবৈধতা (الفساد) নির্দেশ করে, তবে তারা ফুরু (الفروع) বা প্রায়োগিক মাসআলার ক্ষেত্রে মূলনীতির মৌলিক মতভেদ বিবেচনা করেছেন। ফলে মাযহাবসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে তারা একে 'মালিকানার অস্পষ্টতা' (شبهة الملك) বলেছেন এবং একে কেবল অবৈধতা (الفساد) বা শুদ্ধতা (الصحة)-র সাথে নির্দিষ্ট করেননি। আমি (গ্রন্থকার) বলি, এটি দাবি করে যে এই বক্তব্যটি কেবল চুক্তিসমূহের (العقود) সাথে সংশ্লিষ্ট, ইবাদতসমূহের (العبادات) সাথে নয়। কিন্তু অচিরেই ইবাদত সংক্রান্ত তাদের এমন কিছু শাখা মাসআলা আসবে যা থেকে অনুরূপ দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা যাবে; যেখানে তারা কেবল ওয়াক্তের মধ্যে পুনরায় আদায় করাকে ওয়াজিব (وجوب الإعادة في الوقت خاصة) বলেন এবং ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর পুনরায় আদায়ের কথা বলেন না।
শায়খ মুয়াফফাকুদ্দিন রওজা গ্রন্থে বলেছেন: বিধান প্রদানকারী কারণসমূহের (الأسباب) প্রতি নিষেধ (النهي) সেগুলোর অবৈধতা (فساد) দাবি করে। এরপর তিনি আরও তিনটি মত উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো—
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
أَنه لَا يَقْتَضِي فَسَادًا وَلَا صِحَة
وَأَنه يَقْتَضِي الصِّحَّة كَمَا قَالَه أَبُو حنيفَة وانه يَقْتَضِي الْفساد فِي الْعِبَادَات دون الْمُعَامَلَات وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو الْخطاب الْحَنْبَلِيّ فِي كِتَابه الْهِدَايَة النَّهْي يدل على فَسَاد الْمنْهِي فِي رِوَايَة جمَاعَة يَعْنِي عَن الإِمَام أَحْمد رحمه الله فَهَذَا كَلَام من وقفت عَلَيْهِ من المصنفين فِي إِطْلَاق الْخلاف أَولا فِي الْمَسْأَلَة من غير تَقْيِيد
وَالْقسم الثَّانِي من قيد مَحل الْخلاف فِي كَلَامه بِبَعْض الصُّور فَقَالَ الإِمَام الْغَزالِيّ فِي الْمُسْتَصْفى اخْتلفُوا فِي أَن النَّهْي عَن البيع وَالنِّكَاح والتصرفات المفيدة للْأَحْكَام هَل يَقْتَضِي فَسَادهَا فَذهب الجماهير إِلَى أَنه يَقْتَضِي فَسَادهَا وَذهب قوم إِلَى أَنه إِن كَانَ نهيا عَنهُ لعَينه دلّ على الْفساد وَإِن كَانَ لغيره فَلَا وَالْمُخْتَار أَنه لَا يَقْتَضِي الْفساد ثمَّ اخْتَار بعد ذَلِك فِي مَسْأَلَة أُخْرَى أَن النَّهْي عَن الْعِبَادَات يَقْتَضِي فَسَادهَا وَلم ينْقل فِيهِ خلافًا
এটি অকার্যকারিতা (فساد) বা শুদ্ধতা (صحة) কোনোটিই দাবি করে না।
এবং ইমাম আবু হানিফা যেমনটি বলেছেন যে, এটি শুদ্ধতা (صحة) দাবি করে; আর এটি ইবাদতের ক্ষেত্রে অকার্যকারিতা (فساد) দাবি করে, লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়। অনুরূপভাবে আবু আল-খাত্তাব আল-হাম্বলি তার আল-হিদায়াহ কিতাবে বলেছেন: একদল আলেমের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী—অর্থাৎ ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে—নিষেধাজ্ঞা (النهي) নিষিদ্ধ বিষয়ের অকার্যকারিতার (فساد) প্রমাণ দেয়। সুতরাং, এটি ঐসব গ্রন্থকারদের বক্তব্য যাদের সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, যারা প্রাথমিকভাবে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই এই মাসআলায় মতভেদের বিষয়টি সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন।
আর দ্বিতীয় প্রকার হলো তারা, যারা তাদের আলোচনায় কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মতভেদের বিষয়টি সীমাবদ্ধ করেছেন। ইমাম আল-গাজালি আল-মুসতাসফা কিতাবে বলেছেন: ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং শারীয়াহর বিধান সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (النهي) কি সেগুলোর অকার্যকারিতা (فساد) দাবি করে কি না, এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। জমহুর (الجماهير) বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো, এটি এগুলোর অকার্যকারিতা (فساد) দাবি করে। আবার একদল মনে করেন যে, যদি নিষেধাজ্ঞাটি (النهي) সরাসরি মূল সত্তার কারণে (لعينه) হয় তবে তা অকার্যকারিতা (فساد) নির্দেশ করে, আর যদি তা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক কারণে হয় তবে নয়। তবে মনোনীত মত হলো এটি অকার্যকারিতা (فساد) দাবি করে না। এরপর তিনি অন্য একটি মাসআলায় এই মত গ্রহণ করেছেন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (النهي) তার অকার্যকারিতা (فساد) দাবি করে, আর এ বিষয়ে তিনি কোনো মতভেদ বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
وَكَذَلِكَ قَالَ الْآمِدِيّ فِي الْأَحْكَام اخْتلفُوا فِي النَّهْي عَن التَّصَرُّفَات والعقود المفيدة لأحكامها كَالْبيع وَالنِّكَاح وَنَحْوهمَا هَل يَقْتَضِي فَسَادهَا أم لَا
فَذهب جمَاعَة الْفُقَهَاء من أَصْحَاب الشَّافِعِي وَمَالك وَأبي حنيفَة والحنابلة وَجَمِيع أهل الظَّاهِر وَجَمَاعَة من الْمُتَكَلِّمين إِلَى فَسَادهَا لَكِن اخْتلفُوا فِي جِهَة الْفساد فَمنهمْ من قَالَ إِن ذَلِك من جِهَة اللُّغَة وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّه من جِهَة الشَّرْع دون اللُّغَة وَمِنْهُم من لم يقل بِالْفَسَادِ وَهُوَ اخْتِيَار الْمُحَقِّقين من أَصْحَابنَا كالقفال وَإِمَام الْحَرَمَيْنِ وَالْغَزالِيّ وَكثير من الْحَنَفِيَّة وَبِه قَالَ جمَاعَة من الْمُعْتَزلَة كَأبي عبد الله الْبَصْرِيّ والكرخي وَالْقَاضِي عبد
একইভাবে আল-আমিদি আল-আহকাম গ্রন্থে বলেছেন, লেনদেন এবং চুক্তিসমূহ যা নিজস্ব বিধান বাস্তবায়নে কার্যকর—যেমন বেচাকেনা, বিবাহ ও অনুরূপ বিষয়াদি—সেগুলোর ওপর অর্পিত নিষেধাজ্ঞা কি সেগুলোর বাতিল (فساد) হওয়াকে আবশ্যক করে কি না, এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন।
শাফেয়ী, মালিকি, হানাফি ও হাম্বলি মাযহাবের একদল ফকিহ, সকল আহলে জাহির এবং একদল মুতাকাল্লিম বা ধর্মতাত্ত্বিকের অভিমত হলো যে এটি বাতিল (فساد) হবে। তবে তারা বাতিলের (فساد) কারণ নিয়ে মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন এটি ভাষাগত দিক থেকে, আবার কেউ বলেছেন এটি শরয়ি দিক থেকে, ভাষাগত দিক থেকে নয়। অন্য একদল আলেম বাতিল (فساد) হওয়ার কথা বলেননি; এটি আমাদের একদল গবেষক আলেমের মনোনীত মত, যেমন—কাফফাল, ইমামুল হারামাইন, আল-গাজালি এবং হানাফি মাযহাবের অনেক আলেম। মুতাজিলাদের একটি দলও একই অভিমত পোষণ করেছেন, যেমন—আবু আবদুল্লাহ আল-বাসরি, আল-কারখি এবং কাজি আব্দুল...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الْجَبَّار وَأبي الْحُسَيْن الْبَصْرِيّ وَكثير من مشايخهم وَلَا يعرف خلافًا فِي أَن مَا نهي عَنهُ لغيره أَنه لَا يفْسد كالنهي عَن البيع فِي وَقت النداء يَوْم الْجُمُعَة إِلَّا مَا نقل عَن مَالك وَأحمد بن حَنْبَل فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنهُ
وَالْمُخْتَار أَن مَا نهي عَنهُ لعَينه فالنهي لَا يدل على فَسَاده من جِهَة اللُّغَة بل من جِهَة الْمَعْنى ثمَّ قَالَ بعد ذَلِك فِي مَسْأَلَة بعْدهَا إتفق أَصْحَابنَا على أَن النَّهْي عَن الْفِعْل لَا يدل على صِحَّته
وَنقل أَبُو زيد عَن أبي حنيفَة وَمُحَمّد بن الْحسن أَنَّهُمَا قَالَا يدل على صِحَّته فَظَاهر كَلَام الْغَزالِيّ والآمدي رحمهمَا الله تَخْصِيص الْخلاف بِالْعُقُودِ الْمنْهِي عَنْهَا لَكِن الْغَزالِيّ صرح بعد ذَلِك كَمَا تقدم بِأَن النَّهْي عَن
আল-জাব্বার, আবু আল-হুসাইন আল-বাসরি এবং তাঁদের অনেক মাশায়েখ থেকে বর্ণিত যে, যা অন্য কোনো বাহ্যিক কারণবশত (لغيره) নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাতিল বা ফাসাদ (فساد) হয় না—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। যেমন জুমার দিনে আজানের সময় ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া। তবে মালিক এবং আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার (رواية) একটির বিষয় ব্যতীত।
পছন্দনীয় মত হলো, যা তার মূল সত্তাগত কারণে (لعينه) নিষিদ্ধ, সেই নিষেধাজ্ঞা ভাষাগত দিক থেকে তার অসারতা বা ফাসাদ (فساد) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না, বরং অর্থগত দিক থেকে করে। এরপর তিনি পরবর্তী একটি মাসআলায় বলেছেন, আমাদের সাথীগণ (উলামায়ে কিরাম) একমত হয়েছেন যে, কোনো কর্মের প্রতি নিষেধাজ্ঞা তার শুদ্ধতা বা সহিহ (صحة) হওয়ার ওপর দালালত করে না।
আবু জায়েদ ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়েই বলেছেন যে এটি তার সহিহ (صحة) বা শুদ্ধ হওয়ার প্রমাণ দেয়। ইমাম গাজালি ও আমেদি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো, এই মতভেদটি কেবল নিষিদ্ধ চুক্তিসমূহের (عقود) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট। তবে ইমাম গাজালি এরপর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—যে নিষেধাজ্ঞা...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
الْعِبَادَة يَقْتَضِي الْفساد وَفِي أثْنَاء كَلَام الْآمِدِيّ أَيْضا التَّصْرِيح بِأَن النَّهْي عَن الْعِبَادَة لعينها يَقْتَضِي الْفساد وَهَذَا هُوَ مُرَاد الْغَزالِيّ لِأَنَّهُ صرح القَوْل بِصِحَّة الصَّلَاة فِي الدَّار الْمَغْصُوبَة عِنْد الْكَلَام فِيهَا
وَالْقسم الثَّالِث من قيد الْخلاف فِي الْمَسْأَلَة على وَجه آخر وَهُوَ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو بن الْحَاجِب رحمه الله فقسم الْمنْهِي عَنهُ إِلَى مَا نهي عَنهُ لعَينه وَإِلَى مَا نهي عَنهُ لوصفه وَحكى فِي الْمنْهِي عَنهُ لعَينه خَمْسَة مَذَاهِب أَحدهَا أَنه يَقْتَضِي الْفساد من جِهَة الشَّرْع لَا من مُقْتَضى اللُّغَة وَهُوَ القَوْل الَّذِي اخْتَارَهُ وَهُوَ الرَّاجِح دَلِيلا كَمَا سَيَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَثَانِيها أَنه يَقْتَضِيهِ من حَيْثُ اللُّغَة وجوهر اللَّفْظ وَالثَّالِث لَا يَقْتَضِي فَسَادًا وَلَا صِحَة وَالرَّابِع أَنه يَقْتَضِي الصِّحَّة وَلم يَنْقُلهُ أَولا بل ذكر أَدِلَّة الْقَائِلين بِهِ فِي أثْنَاء الْمَسْأَلَة على عَادَته فِي الإختصار وخامسها الْفرق بَين الْعِبَادَات والعقود كَمَا تقدم
ثمَّ حكى فِي الْمنْهِي عَنهُ لوصفه ثَلَاثَة مَذَاهِب
ইবাদত [নিষিদ্ধ হওয়া] অসারতা (الفساد) দাবি করে। আল-আমিদির আলোচনার মধ্যেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবাদতের মূল সত্তার কারণে তা নিষিদ্ধ হওয়া অসারতা (الفساد) দাবি করে। আর ইমাম গাজালির উদ্দেশ্যও এটিই, কারণ তিনি জবরদখল করা ঘরে সালাত আদায়ের বৈধতা (الصحة) সম্পর্কে আলোচনার সময় এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
তৃতীয় প্রকারটি হলো মাসআলাটির মতভেদকে ভিন্নভাবে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে, আর তিনি হলেন শেখ আবু আমর ইবনুল হাজিব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। তিনি নিষিদ্ধ বিষয়কে (المنهي عنه) দুই ভাগে ভাগ করেছেন: যা তার মূল সত্তার (لعينه) কারণে নিষিদ্ধ এবং যা তার গুণ বা বৈশিষ্ট্যের (لوصفه) কারণে নিষিদ্ধ। সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ বিষয়ের (المنهي عنه) ক্ষেত্রে তিনি পাঁচটি অভিমত (مذاهب) বর্ণনা করেছেন। প্রথমটি হলো: এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে অসারতা (الفساد) দাবি করে, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। এটিই সেই অভিমত যা তিনি গ্রহণ করেছেন এবং দলিলের বিচারে এটিই অগ্রগণ্য (الراجح), যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে। দ্বিতীয়টি হলো: এটি ভাষাগত দিক এবং শব্দের মূল গঠন অনুযায়ী অসারতা দাবি করে। তৃতীয়টি হলো: এটি অসারতা (فسادًا) কিংবা বৈধতা (صحة) কোনোটিই দাবি করে না। চতুর্থটি হলো: এটি বৈধতা (الصحة) দাবি করে; তিনি এটি শুরুতে বর্ণনা করেননি বরং সংক্ষেপ করার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মাসআলার আলোচনার মধ্যভাগে এই মতের প্রবক্তাদের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। পঞ্চমটি হলো: ইবাদত এবং চুক্তিসমূহের মধ্যে পার্থক্য করা, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তিনি বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ বিষয়ের (المنهي عنه) ক্ষেত্রে তিনটি অভিমত (مذاهب) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
أَحدهَا أَنه يُفِيد الْفساد شرعا كالمنهي عَنهُ لعَينه وَثَانِيها أَنه لَا يفِيدهُ وَعَزاهُ إِلَى الْأَكْثَر وَثَالِثهَا قَول الْحَنَفِيَّة أَنه يدل على فَسَاد ذَلِك الْوَصْف لَا فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ وَذكر أَن الشَّافِعِي رضى الله عَنهُ قَالَ إِن النَّهْي عَن الشَّيْء لوصفه يضاد وجوب أَصله
قَالَ ابْن الْحَاجِب وَأَرَادَ أَنه يضاده ظَاهرا لَا قطعا إِذْ لَو كَانَ قطعا لورد عَلَيْهِ نهي الْكَرَاهَة كالنهي عَن الصَّلَاة فِي أعطان الْإِبِل والأماكن الْمَكْرُوهَة فَإِنَّهُ يلْزم حِينَئِذٍ إِذا كَانَ مضادا لوُجُوب الأَصْل أَن لَا تصح الصَّلَاة وَلَيْسَ كَذَلِك فَإِذا قيل إِنَّه يضاده ظَاهرا يكون قد ترك فِي هَذِه الْمَوَاضِع الظَّاهِر لدَلِيل رَاجِح وَفِي كَلَام ابْن الْحَاجِب مَا يَقْتَضِي إختياره لهَذَا القَوْل أَي إِنَّه يدل على الْفساد ظَاهرا لَا قطعا وَمُقْتَضى ذَلِك أَن يكون عِنْده دلَالَة النَّهْي عَن الشَّيْء لعَينه على الْفساد قطعا لَا من حَيْثُ الظَّاهِر وَتَبعهُ على هَذِه التَّفْرِقَة شرَّاح كِتَابه لَكِن زَاد الْبَيْضَاوِيّ فِي كِتَابه المرصاد الَّذِي أوضح فِيهِ مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب فِي الْمَسْأَلَة الأولى فَقَالَ
প্রথমত, এটি শরীয়তসম্মতভাবে অবৈধতা (الفساد) প্রদান করে, যেমন কোনো বিষয় তার মূল সত্তার কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لعينه) হলে হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, এটি তা প্রদান করে না এবং তিনি একে অধিকাংশের অভিমত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়ত, হানাফিদের অভিমত হলো, এটি সেই গুণের অবৈধতা (فساد) নির্দেশ করে, মূল নিষিদ্ধ (المنهي عنه) বিষয়ের অবৈধতা নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেছেন: কোনো বিষয়কে তার গুণের কারণে নিষেধ (النهي) করা সেই বিষয়ের মূল সত্তার আবশ্যিকতার (وجوب الأصل) পরিপন্থী।
ইবনুল হাজিব বলেছেন, তিনি এর দ্বারা আপাত বৈপরীত্য (ظاهرا) বুঝিয়েছেন, সুনিশ্চিত (قطعا) বৈপরীত্য নয়। কারণ যদি এটি সুনিশ্চিত হতো, তবে এর বিপরীতে অপছন্দনীয়তার নিষেধাজ্ঞা (نهي الكراهة) চলে আসত; যেমন উটের আস্তাবল ও অপছন্দনীয় স্থানে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞা। এমতাবস্থায় যদি এটি মূল সত্তার আবশ্যিকতার পরিপন্থী হতো, তবে সালাত শুদ্ধ (تصح) হতো না, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। সুতরাং যখন বলা হয় যে এটি আপাতভাবে (ظاهرا) পরিপন্থী, তখন বুঝা যায় যে এই স্থানগুলোতে কোনো অগ্রগণ্য দলীল (دليل راجح) থাকার কারণে আপাত অর্থ (الظاهر) পরিত্যাগ করা হয়েছে। ইবনুল হাজিবের বক্তব্যে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে তিনি এই মতটিই গ্রহণ করেছেন; অর্থাৎ এটি আপাতদৃষ্টিতে অবৈধতা (الفساد ظاهرا) নির্দেশ করে, নিশ্চিতভাবে (قطعا) নয়। এর দাবি হলো, কোনো বিষয় তার মূল সত্তার কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার দ্বারা তার অবৈধতা সাব্যস্ত হওয়া তাঁর কাছে সুনিশ্চিত (قطعا), কেবল আপাত (ظاهرا) নয়। তাঁর কিতাবের ব্যাখ্যাকারগণও এই পার্থক্যের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন। তবে আল-বায়দাউই তাঁর আল-মিরসাদ নামক গ্রন্থে—যেটিতে তিনি ইবনুল হাজিবের আল-মুখতাসার ব্যাখ্যা করেছেন—প্রথম মাসআলাটি সম্পর্কে অতিরিক্ত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াক্তাদিল ফাসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
النَّهْي عَن الشَّيْء لعَينه وللازمه يَقْتَضِي الْفساد شرعا وَذكر بَقِيَّة الْمَذْهَب وَأَرَادَ بذلك نَحْو النَّهْي عَن الزِّنَا فَإِنَّهُ لدفع مَحْذُور اخْتِلَاط الْأَنْسَاب وَهُوَ لَازم لَهُ غَالِبا أَو لدفع مَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ من الأنفة وَالْحمية الَّتِي توجبها الْغيرَة وَهُوَ لَازم لَهُ أَيْضا
وَقَالَ فِي الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة النَّهْي عَن الشَّيْء لوصفه اللَّازِم كَصَوْم يَوْم الْعِيد والربا كالنهي لعَينه فَإِن مُسْتَلْزم الْحَرَام حرَام
وَلذَلِك قَالَ الشَّافِعِي رَحْمَة الله عَلَيْهِ حُرْمَة الشَّيْء لوصفه تضَاد وجوب أَصله وَهَذَا تَقْيِيد حسن وَلَا يحْتَاج بذلك أَن يَقُول ظَاهرا إِذا جعل ذَلِك مُخْتَصًّا بِالنَّهْي الَّذِي هُوَ للتَّحْرِيم كَمَا نَص عَلَيْهِ الشَّافِعِي فَلَا يرد نهي الْكَرَاهَة وَهَذَا التَّفْصِيل الَّذِي سلكه الْبَيْضَاوِيّ هُوَ الرَّاجِح الْمُخْتَار فِي هَذِه الْمَسْأَلَة كَمَا سَيَأْتِي تَقْرِيره إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَلم يتَعَرَّض ابْن الْحَاجِب وَمن تبعه للنَّهْي عَن الشَّيْء لغيره كَالْبيع وَقت النداء مَعَ أَن فِيهِ الْخلاف الْمُتَقَدّم عَن الْحَنَابِلَة وَغَيرهم فَهَذِهِ الطّرق الثَّلَاث هِيَ الْمَوْجُودَة فِي كتب أَصْحَابنَا فِي نقل هَذِه الْمَسْأَلَة وَمَا فِيهَا من الْخلاف
وَأما الْحَنَفِيَّة فَلهم فِي ذَلِك عبارَة أُخْرَى وَهِي فِي الْحَقِيقَة رَاجِعَة إِلَى مَا تقدم من النَّقْل عَنْهُم وَلَكِن أذكرها لما فِيهَا من الْفَائِدَة ولبيان تناقضها فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
কোনো বিষয়ের সত্তাগত কারণে (لعينه) এবং তার অপরিহার্য অনুষঙ্গের কারণে (وللازمه) নিষেধ (النهي) করা শরয়ি দৃষ্টিকোণ (شرعا) থেকে অসারতা বা বাতিল হওয়াকে (الفساد) আবশ্যক করে। তিনি মাযহাবের অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি ব্যভিচারের (الزنا) নিষেধের মতো বিষয়কে বুঝিয়েছেন; কেননা তা বংশপরম্পরার সংমিশ্রণের মতো নিষিদ্ধ বিষয়কে প্রতিহত করার জন্য, যা সাধারণত এর সাথে অবিচ্ছেদ্য (لازم له)। অথবা এটি সেই ঘৃণা ও ক্ষোভকে প্রতিহত করার জন্য যা আত্মমর্যাদাবোধ থেকে সৃষ্টি হয় এবং এটিও এর সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত (لازم له)।
তিনি দ্বিতীয় মাসআলায় বলেছেন, কোনো বিষয়ের অপরিহার্য গুণের কারণে (لوصفه اللازم) কৃত নিষেধ (النهي), যেমন ঈদের দিনের রোজা এবং সুদ (الربا), তা সত্তাগত নিষেধের (لعينه) মতোই। কারণ যা হারামকে (الحرام) অনিবার্য করে, তাও হারাম (حرام)।
একই কারণে ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন: কোনো বিষয়ের গুণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তা হারাম (حرمة) হওয়া তার মূল ভিত্তির আবশ্যিকতার পরিপন্থী। এটি একটি চমৎকার সীমাবদ্ধকরণ (تقييد); এর ফলে একে যদি হারাম সাব্যস্ত করার (للتحريم) জন্য নির্দিষ্ট নিষেধের (بالنهي) সাথে বিশেষায়িত করা হয়—যেমনটি ইমাম শাফিঈ স্পষ্ট করেছেন—তবে একে বাহ্যিকভাবে (ظاهرا) বলার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ হওয়ার নিষেধ (نهي الكراهة) এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। বায়যাভি যে বিস্তারিত বিশ্লেষণের পথ অবলম্বন করেছেন, এই মাসআলায় সেটিই অগ্রগণ্য (الراجح) ও মনোনীত (المختار) মত, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে। ইবনুল হাজিব এবং তাঁর অনুসারীরা অন্য কোনো কারণে কোনো বিষয়ের নিষেধ (للنهي عن الشيء لغيره) সম্পর্কে আলোচনা করেননি, যেমন জুমার আজানের সময় কেনাবেচা, যদিও এক্ষেত্রে হাম্বলি ও অন্যদের থেকে পূর্বোল্লিখিত মতভেদ বিদ্যমান। এই মাসআলা এবং এর মধ্যকার মতভেদ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের আলেমদের কিতাবসমূহে এই তিনটি পদ্ধতিই বিদ্যমান রয়েছে।
আর হানাফিদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ভিন্ন পরিভাষা রয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত আলোচনার দিকেই ফিরে যায়। তবে আমি তা উল্লেখ করছি এর উপকারিতার জন্য এবং পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ তাআলা তাদের বক্তব্যের বৈপরীত্য স্পষ্ট করার জন্য।