(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: -)
القول السديد في بعض مسائل الاجتهاد والتقليد القسم: أصول الفقه
الكتاب: القول السديد في بعض مسائل الاجتهاد والتقليد
المؤلف: محمد بن عبد العظيم المكي الرومي الموروي الحنفي الملقب بابن مُلّا فَرُّوخ (ت 1061هـ)
المحقق: جاسم مهلهل الياسين , عدنان سالم الرومي
الناشر: دار الدعوة - الكويت
الطبعة: الأولى، 1988
عدد الصفحات: 172
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাউলুস সাদিদ ফি বা'দি মাসাইলিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-কাউলুস সাদিদ ফি বা'দি মাসাইলিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিম আল-মাক্কি আর-রুমি আল-মাওয়ারুয়ি আল-হানাফি, যিনি ইবনে মুল্লা ফারুখ নামে পরিচিত (মৃ. ১০৬১ হিজরি)
সম্পাদক: জাসিম মুহালহাল আল-ইয়াসিন, আদনান সালিম আর-রুমি
প্রকাশনী: দারুদ দাওয়াহ - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৮৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مُقَدّمَة الْمُؤلفبِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين وَعَلِيهِ نتوكل
الْهم أرنا الْحق حَقًا واهدنا لإتباعه وأرنا الْبَاطِل بَاطِلا ووفقنا لاجتنابه
الْحَمد لله لذاته وَجَمِيل صِفَاته وَالشُّكْر لَهُ على آلائه ونعمائه وعطائه وهباته وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على عَبده وَرَسُوله الْمَبْعُوث بِالدّينِ المتين وَالْكتاب الْمُبين سيدنَا ومولانا وَنَبِينَا مُحَمَّد الرَّسُول الْأمين وعَلى آله وَأَصْحَابه الهداة المهتدين
أما بعد فَهَذِهِ تعليقة موسومة بالْقَوْل السديد فِي بعض
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করি।
হে আল্লাহ! আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের হিদায়াত দান করুন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তাওফিক দান করুন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর সত্তা ও অনুপম গুণাবলির উপযুক্ত। তাঁর সকল অনুগ্রহ, নেয়ামত ও দানের জন্য শুকরিয়া। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূলের ওপর, যাঁকে সুদৃঢ় দ্বীন ও সুস্পষ্ট কিতাবসহ প্রেরণ করা হয়েছে—যিনি আমাদের নেতা, মুরুব্বি ও নবী মুহাম্মদ, বিশ্বস্ত রাসূল; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর, এটি 'আল-কাওলুস সাদীদ ফী বাদ' নামক একটি টীকাগ্রন্থ যা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مسَائِل الِاجْتِهَاد والتقليد
ইজতিহাদ (اجتهاد) ও তাকলিদ (تقليد) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أذكر فِيهَا مَا حضرني من بعض مسَائِل الِاجْتِهَاد والتقليد واقتداء الْمُقَلّد بِإِمَام يرى خلاف قَول مقلده بِفَتْح اللَّام إِمَّا اجْتِهَادًا أَو تقليدا وَمَا يتَعَلَّق بذلك ويتذيل عَلَيْهِ غير متصد للتتبع فِي ذَلِك بل قيدت مَا سنح للخاطر الفاتر فِي الْوَقْت الْحَاضِر من غير تقيد بمراجعة فِي ذَلِك وَهِي نبذة يسيرَة ونزر يسير من سئ كثير فَأَقُول وَبِاللَّهِ الْإِعَانَة
الْكَلَام فِي هَذِه الْمسَائِل على فُصُول
আমি এতে ইজতিহাদ (اجتهاد) ও তাকলিদ (تقليد)-এর কিছু মাসআলা এবং একজন মুকাল্লিদ (مقلد) কর্তৃক এমন ইমামের অনুসরণ—যিনি তার মুকাল্লাদ (مقلد - ‘লাম’ বর্ণে ফাতহাহ যোগে)-এর মতের বিপরীতে ভিন্ন মত পোষণ করেন—চাই তা ইজতিহাদ (اجتهاد) কিংবা তাকলিদ (تقليد)-এর ভিত্তিতে হোক, এবং এ সংশ্লিষ্ট ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি উল্লেখ করছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে সচেষ্ট না হয়ে বরং বর্তমান সময়ে ক্লান্ত মনে যা উদিত হয়েছে, কোনো প্রকার পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তা লিপিবদ্ধ করেছি। এটি মূলত অনেক বিষয়ের একটি অতি সামান্য ও নগণ্য অংশ মাত্র। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি—
এই মাসআলাগুলোর আলোচনা কয়েকটি পরিচ্ছেদে (فصول) বিন্যস্ত
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الْفَصْل الأول إعلم أَنه لم يُكَلف الله تَعَالَى أحدا من عباده بِأَن يكون حنفيا أَو مالكيا أَو شافعيا أَو حنبليا بل أوجب عَلَيْهِم الْإِيمَان بِمَا
প্রথম পরিচ্ছেদ জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে কাউকে হানাফী, মালিকী, শাফি'য়ী অথবা হাম্বলী হওয়ার জন্য বাধ্য করেননি; বরং তিনি তাঁদের ওপর সেই বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক করেছেন যা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بعث بِهِ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَالْعَمَل بِشَرِيعَتِهِ غير أَن الْعَمَل بهَا مُتَوَقف على الْوُقُوف عَلَيْهَا وَالْوُقُوف عَلَيْهَا لَهُ طرق فَمَا كَانَ مِنْهَا مِمَّا يشْتَرك بِهِ الْعَوام وَأهل النّظر كَالْعلمِ بفريضة الصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالصَّوْم وَالْحج وَالْوُضُوء اجمالا وكالعلم بِحرْمَة الزِّنَا وَالْخمر واللواطة وَقتل النَّفس وَغير ذَلِك مِمَّا علم من الدّين
(আল্লাহ) তাঁর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর শরীয়ত অনুযায়ী আমল করা (অপরিহার্য করেছেন); তবে সেই শরীয়ত অনুযায়ী আমল করা তা অবগত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। আর তা অবগত হওয়ার বিভিন্ন মাধ্যম (طرق) রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু বিষয় এমন যাতে সাধারণ মানুষ ও গবেষক—উভয়ই সমানভাবে অংশীদার; যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ এবং ওজুর আবশ্যকতা সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান এবং ব্যভিচার, মদ, সমকামিতা ও নরহত্যার অবৈধতা এবং দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয় যা অকাট্যভাবে জ্ঞাত, সেগুলোর জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بِالضَّرُورَةِ فَذَلِك لَا يتَوَقَّف فِيهِ على إتباع مُجْتَهد وَمذهب معِين بل كل مُسلم عَلَيْهِ اعْتِقَاد ذَلِك
فَمن كَانَ فِي الْعَصْر الأول فَلَا يخفي وضوح ذَلِك فِي حَقه وَمن كَانَ فِي الْأَعْصَار الْمُتَأَخر فلوصول ذَلِك إِلَى علمه ضَرُورَة من الْإِجْمَاع والتواتر وَسَمَاع الْآيَات وَالسّنَن أَي الْأَحَادِيث الشَّرِيفَة المستفيضة المصرحة بذلك فِي حق من وصلت إِلَيْهِ
وَأما مَالا يتَوَصَّل إِلَيْهِ إِلَّا بِضَرْب من النّظر وَالِاسْتِدْلَال فَمن كَانَ قَادِرًا عَلَيْهِ بتوفر آلاته وَجب عَلَيْهِ فعله كالأئمة الْمُجْتَهدين رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ وَمن لم يكن لَهُ قدرَة عَلَيْهِ وَجب عَلَيْهِ اتِّبَاع من أرشده إِلَى مَا كلف بِهِ
যা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে প্রমাণিত, তা কোনো নির্দিষ্ট মুজতাহিদ (مجتهد) বা মাযহাব (مذهب) অনুসরণের ওপর নির্ভর করে না; বরং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তা বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
যারা প্রথম যুগে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এর স্পষ্টতা লুকায়িত নয়। আর যারা পরবর্তী যুগের, তাদের কাছে ইজমা (إجماع), তাওয়াতুর (تواتر), কুরআনের আয়াত এবং সুনান অর্থাৎ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও মুস্তাফিদ (مستفيض) হাদিসসমূহ শোনার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত জ্ঞান অকাট্যভাবে পৌঁছেছে।
পক্ষান্তরে যেসব বিষয় গভীর পর্যবেক্ষণ ও দলীল-প্রমাণ ব্যতিরেকে অনুধাবন করা সম্ভব নয়, তাতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য তা করা আবশ্যক; যেমন মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)। আর যার সেই সক্ষমতা নেই, তার ওপর আবশ্যক হলো এমন ব্যক্তির অনুসরণ করা, যিনি তাকে অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
مِمَّن هُوَ من أهل النّظر وَالِاجْتِهَاد وَالْعَدَالَة وَسقط عَن الْعَاجِز تَكْلِيفه بالبحث وَالنَّظَر لعَجزه بقوله تبارك وتعالى {لَا يُكَلف الله نفسا إِلَّا وسعهَا} وَقَوله عز من قَائِل {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} وَهِي الأَصْل فِي اعْتِمَاد التَّقْلِيد كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ الْمُحَقق الْكَمَال ابْن الْهمام فِي التَّحْرِير
যিনি গভীর পর্যবেক্ষণ (نظر), ইজতিহাদ (اجتهاد) ও ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অধিকারী তাঁদের অন্তর্ভুক্ত; আর অক্ষম ব্যক্তির ওপর থেকে তার অক্ষমতার দরুন অনুসন্ধান (بحث) ও পর্যালোচনার (نظر) আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায় মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না} এবং মহান আল্লাহর এই ইরশাদের কারণে: {তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো}। আর তকলিদ (تقليد)-এর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে এটিই মূল ভিত্তি, যেমনটি মুহাক্কিক কামাল ইবনুল হুমাম আত-তাহরির গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فصل إِذا علمت ذَلِك فَاعْلَم أَن أَبَا حنيفَة ومالكا وَالشَّافِعِيّ وَأحمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ كل كَانَ من أهل الذّكر الَّذين وَجب سُؤَالهمْ لمن لم يصل إِلَى دَرَجَة النّظر وَالِاسْتِدْلَال فَإِذا عمل أحد منالمقلدين فِي طَهَارَته وَصلَاته اَوْ شَيْء مِمَّا جرى بِهِ التَّكْلِيف بقول وَاحِد مِنْهُم مُقَلدًا لَهُ فِيهِ أَو صَادف قَوْله وَلَو لم يعلم بِهِ حِين الْعَمَل فقلده فِيهِ بعد انقضائه على
পরিচ্ছেদ (فصل) আপনি যখন বিষয়টি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে—আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন), তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন সেই সকল বিজ্ঞ ব্যক্তির (أهل الذكر) অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের নিকট কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা সেই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক (وجب) যে ব্যক্তি গবেষণা বা পর্যবেক্ষণ (النظر) এবং দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের (الاستدلال) স্তরে উপনীত হতে পারেনি। সুতরাং অনুসারীদের (مقلدين) মধ্য হতে কেউ যদি তার পবিত্রতা, সালাত কিংবা শারয়ি বিধান (التكليف) সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে তাঁদের কারো মতের অনুসরণ করে আমল করে, অথবা যদি আমল করার সময় তা না জানা সত্ত্বেও তার আমল কারো মতের সাথে মিলে যায় এবং আমল শেষ হওয়ার পর সে ক্ষেত্রে সে তাঁর অনুসরণ (قلد) করে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
مَا ظهر لي فِي الْمَسْأَلَة كَمَا يدل عَلَيْهِ مَا اسْتشْهد بِهِ فِي المسالة بعد هَذَا فقد أدّى مَا عَلَيْهِ وَلَيْسَ لأحد مِمَّن هُوَ فِي دَرَجَته التَّقْلِيد لَهُ قلت بل وَلَا للمجتهد الْإِنْكَار عَلَيْهِ كَمَا صرح بِهِ (فِي غير كتاب) عندنَا من تصانيف الصَّدْر الشَّهِيد حسام الدّين وَغَيره من
এই মাসআলায় আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে, যেমনটি এর পরবর্তী মাসআলায় তার উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণাদি দ্বারা নির্দেশিত হয়, তাতে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তার সমপর্যায়ের কারো জন্য তাকে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) করা বৈধ নয়। আমি বলি, বরং কোনো ইজতিহাদকারী (المجتهد)-এর জন্যও তার প্রতি আপত্তি (الإنكار) করার অবকাশ নেই, যেমনটি আমাদের নিকট সদরুশ শহীদ হুসামুদ্দীন ও অন্যদের বিভিন্ন কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
كتب الْمَذْهَب الْمُعْتَبرَة كالتجنيس والمزيد لشيخ الْإِسْلَام برهَان الدّين صَاحب الْهِدَايَة كَمَا نقلته بخطي عَنْهَا فِي مظانه
মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتبرة) গ্রন্থসমূহ, যেমন শায়খুল ইসলাম বুরহানুদ্দীন—যিনি আল-হিদায়াহ-এর রচয়িতা—তাঁর রচিত 'আত-তাজনিস ওয়াল মাজিদ', যেমনিভাবে আমি এর যথাযথ স্থানসমূহ হতে তা স্বহস্তে অনুলিপি করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
إِذا ثَبت ذَلِك فَلَيْسَ لحنفي أَو مالكي أَو شَافِعِيّ من المقلدين أَن يمْتَنع من الِاقْتِدَاء بِالْإِمَامِ الْمُخَالف لمذهبه و (لَيْسَ لَهُ أَن يحْتَج) بِأَنِّي لما قلدت الشَّافِعِي أَو أَبَا حنيفَة مثلا فقد وَجب على الحكم بِبُطْلَان مَا خَالف اجْتِهَاده لأننا نقُول إِنَّمَا أُبِيح التَّقْلِيد بِقدر الضَّرُورَة وَذَلِكَ ينْدَفع بتقليدك لَهُ فِي عَمَلك وكيفيته فَقَط (وَإِن شِئْت قل فِي كَيْفيَّة إِيقَاع مَا كلفت بِهِ فَقَط) وَأما الحكم بِبُطْلَان مخالفه فَلَيْسَ ذَلِك إِلَيْك بل للْكَلَام مجَال فِي تسويغ ذَلِك للمجتهد الَّذِي قلدته
ইহা যখন সাব্যস্ত হলো, তখন কোনো হানাফী, মালিকী বা শাফেঈ অনুসারীর (مقلدين) জন্য তার নিজস্ব মাযহাবের পরিপন্থী ইমামের ইক্তিদা করা থেকে বিরত থাকা সমীচীন নয়। এবং (তার জন্য এ যুক্তি পেশ করার অবকাশ নেই) যে, "যেহেতু আমি উদাহরণস্বরূপ শাফেঈ বা আবু হানীফার অনুসরণ (تقليد) করেছি, তাই তাঁর গবেষণা (اجتهاد)-এর পরিপন্থী বিষয়কে বাতিল সাব্যস্ত করা আমার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়েছে।" কেননা আমরা বলি যে, অনুসরণ (تقليد) কেবল প্রয়োজনীয়তার খাতিরেই বৈধ করা হয়েছে এবং তা আপনার আমল ও তার পদ্ধতির ক্ষেত্রে কেবল তাঁর অনুসরণের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে যায় (আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: কেবল আপনাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা সম্পাদনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে)। পক্ষান্তরে, তাঁর বিরুদ্ধমতকে বাতিল বলে রায় দেওয়া আপনার কাজ নয়; বরং আপনি যে গবেষক (مجتهد)-এর অনুসরণ (تقليد) করেছেন, কেবল তাঁর পক্ষেই এ বিষয়টির বৈধতা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَأما أَنْت وَمن هُوَ فِي مرتبتك من المقلدين فَقَوْل كل مُجْتَهد عِنْده على حد سَوَاء إِذْ لَيْسَ التَّرْجِيح بِالدَّلِيلِ من
আর আপনার এবং আপনার স্তরের মুকাল্লিদদের (مقلدين) নিকট প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) বক্তব্যই সমান পর্যায়ের; যেহেতু দলিলের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করা তাদের কাজ নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وظائفك ولكنت فِي درجتهم وَوَجَب عَلَيْك الِاجْتِهَاد وارتفع التَّقْلِيد وَلَكِن لابد للْعَمَل فِي تَصْحِيحه من مُسْتَند فَأَنت استندت إِلَى إمامك وَنعم الإِمَام وَهَذَا الآخر اسْتندَ إِلَى إِمَام فِي فعله مثل إمامك أَو أَعلَى مِنْهُ فَلَا يمكنك الحكم على عمله بِالْبُطْلَانِ الْبَتَّةَ فلست حِينَئِذٍ فِي تخلفك عَن الِاقْتِدَاء بِهِ إِلَّا عَاملا بمحض التعصب وَقد نَص عُلَمَاؤُنَا وَغَيرهم من أَصْحَاب الْمذَاهب على حُرْمَة التعصب وتصويب الصلابة فِي الْمَذْهَب وَمعنى الصلابة أَي الثَّبَات على مَا ظهر للمجتهد من الدَّلِيل وَلَيْسَ ذَلِك إِلَّا للمجتهد نَفسه أَو لمن هُوَ من أهل النّظر مِمَّن أَخذ بقوله
আপনার দায়িত্বসমূহ এবং আপনি যদি তাদের স্তরের হতেন, তবে আপনার ওপর স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) আবশ্যক হতো এবং অন্ধ অনুসরণ (تقليد) রহিত হয়ে যেত। কিন্তু কোনো আমল বিশুদ্ধ (تصحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি প্রমাণের ওপর ভিত্তি করতে হয়। সুতরাং আপনি আপনার ইমামের ওপর নির্ভর করেছেন এবং তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ ইমাম! আর অপর ব্যক্তি তার কর্মে এমন একজন ইমামের ওপর নির্ভর করেছেন যিনি আপনার ইমামের সমপর্যায়ের কিংবা তার চেয়েও উচ্চমর্যাদার। এমতাবস্থায়, কোনোক্রমেই তার আমলকে বাতিল বলে গণ্য করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং এই অবস্থায় তার অনুসরণ থেকে আপনার বিমুখ থাকা নিছক গোঁড়ামি (تعصب) বৈ কিছু নয়। আমাদের ওলামায়ে কেরাম এবং অন্যান্য মাযহাবের (مذهب) বিশেষজ্ঞগণ গোঁড়ামি (تعصب) হারাম হওয়া এবং মাযহাবে (مذهب) দৃঢ়তা প্রদর্শনের বৈধতা বিষয়ে স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আর দৃঢ়তা বা অনমনীয়তার অর্থ হলো মুজতাহিদ (مجتهد) এর নিকট দলিল (دليل) থেকে যা স্পষ্ট হয়েছে তার ওপর অবিচল থাকা। আর এটি কেবল মুজতাহিদ (مجتهد) স্বয়ং কিংবা যারা বিচার-বিশ্লেষণে সক্ষম (أهل النظر) এবং তার মত গ্রহণ করেছেন তাদের জন্যই নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
والتعصب هُوَ الْميل مَعَ الْهوى لأجل نصْرَة الْمَذْهَب ومعاملة
আর পক্ষপাতিত্ব (التعصب) হলো প্রবৃত্তির (الهوى) বশবর্তী হয়ে নিজ মতাদর্শের (المذهب) সমর্থনের লক্ষ্যে ঝুঁকে পড়া এবং আচরণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الإِمَام الآخر ومقلديه بِمَا يحط عَنْهُم وَقد نَص فِي جَوَاهِر
অন্যান্য ইমাম এবং তাঁর অনুসারীদের (مقلد) এমন বিষয়ের মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করা যা তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে; আর 'জওয়াহির' গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত (نص) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الفتاوي وَغَيرهَا من كتب أَصْحَابنَا أَن الإِمَام الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى لم يكن لَهُ تعصب على أَئِمَّتنَا رَحِمهم الله تَعَالَى
وَقد كَانَ الصَّحَابَة رضي الله عنهم يَقْتَدِي بَعضهم بِبَعْض وَكَذَا التابعون لَهُم وَفِيهِمْ المجتهدون وَلم ينْقل عَن أحد من السّلف رَحِمهم الله تَعَالَى أَنه كَانَ لَا يرى الِاقْتِدَاء بِمن يُخَالف قَوْله فِي بعض الْمسَائِل وَلَو فِي خُصُوص الطَّهَارَة وَالصَّلَاة بل كَانَ يَقْتَدِي بَعضهم بِبَعْض وَرُبمَا اعْتقد بَعضهم ولَايَة بعض حَتَّى أَن الشَّافِعِي رضي الله عنه بعث يطْلب قَمِيص الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل من بَغْدَاد
ফাতাওয়া এবং আমাদের মাশায়েখদের অন্যান্য কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি তায়ালা) আমাদের ইমামগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) প্রতি কোনো প্রকার গোঁড়ামি পোষণ করতেন না।
নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) একে অপরের ইকতাদা করতেন এবং অনুরূপভাবে তাবেয়িগণও—যাদের মাঝে ইজতিহাদকারীগণ (المجتهدون) বিদ্যমান ছিলেন—একে অপরের অনুসরণ করতেন। সালাফদের (রহিমাহুমুল্লাহ) কারো থেকেই এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি এমন কারো ইকতাদা করা সমীচীন মনে করতেন না যিনি কোনো মাসআলায় তাঁর ভিন্নমত পোষণ করেন, এমনকি তা পবিত্রতা ও সালাত সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো মাসআলা হলেও। বরং তাঁরা একে অপরের ইকতাদা করতেন এবং কখনো কখনো একে অপরের বেলায়াত (তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া) সম্পর্কে সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতেন; এমনকি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের জামা চেয়ে পাঠানোর জন্য বাগদাদে দূত পাঠিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
يستشفي بِهِ فِي مُدَّة مَرضه بِغسْلِهِ وَشرب مَائه كَمَا رَأَيْته مثبتا فِي مَنَاقِب أَحْمد رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم يُعَامل بَعضهم بَعْضًا كَمَا يعلم ذَلِك من سيرهم وأحوالهم
وَلَا يلْتَفت إِلَى مَا قد تمسك بِهِ من لَا معرفَة عِنْده بِأَن الِاخْتِلَاف بَينهم لم يكن بَينهم بِهَذِهِ الصّفة الَّتِي عَلَيْهَا الْمذَاهب الْآن لأَنا قد قَررنَا أَن ذَلِك لَا يمْنَع لِأَن الْكل كَانُوا فِي طلب الْحق على
তিনি তাঁর অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে এটি ধৌত করে এবং এর পানি পান করার মাধ্যমে আরোগ্য অন্বেষণ করতেন, যেমনটি আমি ইমাম আহমদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মহিমা ও গুণাবলীতে লিপিবদ্ধ থাকতে দেখেছি। তাঁরা একে অপরের সাথে যেরূপ আচরণ করতেন, তা তাঁদের জীবনী এবং অবস্থাসমূহ থেকে অবগত হওয়া যায়।
আর জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা যা আঁকড়ে ধরে আছে সেদিকে কর্ণপাত করা যাবে না—অর্থাৎ তাঁদের মধ্যকার মতভেদ বর্তমান যুগের মাযহাবগুলোর বৈশিষ্ট্যের ন্যায় ছিল না। কারণ আমরা এটি সুসাব্যস্ত করেছি যে, তা কোনো অন্তরায় নয়, কেননা তাঁরা সকলেই সত্যের অন্বেষণে নিয়োজিত ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
حد متساو واجتهاد كل وَاحِد مِنْهُم يحْتَمل الْخَطَأ كَغَيْرِهِ بعد تَسْلِيم بلوغهم دَرَجَة الِاجْتِهَاد وَإِن تفاوتوا فِيهِ
فَإِن قلت قد نقل الإِمَام حَافظ الدّين النَّسَفِيّ صَاحب
একটি সমপর্যায়ের সীমা এবং তাদের প্রত্যেকের গবেষণালব্ধ রায় (اجتهاد) অন্যদের ন্যায় ভুলের সম্ভাবনা রাখে—তাদের গবেষণার স্তরে (اجتهاد) পৌঁছানোর বিষয়টি মেনে নেওয়ার পর, যদিও এই ক্ষেত্রে তাদের মাঝে তারতম্য থাকতে পারে।
যদি আপনি বলেন যে, ইমাম হাফিজুদ্দীন আন-নাসাফী, যিনি গ্রন্থকার, তিনি বর্ণনা (نقل) করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الْكَنْز وَالْكَافِي فِي مصفاة عَن الْمَشَايِخ الْمُتَقَدِّمين إِنَّا إِذا
আল-কানজ এবং আল-কাফি-তে যা পূর্ববর্তী শায়খদের (المشايخ المتقدمين) থেকে সংগৃহীত একটি পরিশ্রুত সংকলন; নিশ্চয়ই আমরা যখন
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
سئلنا عَمَّا ذَهَبْنَا إِلَيْهِ فِي الْفُرُوع نجيب بَان مَا ذَهَبْنَا إِلَيْهِ صَوَاب يحْتَمل الْخَطَأ وَمَا ذهب إِلَيْهِ الْغَيْر خطا يحْتَمل الصَّوَاب انْتهى بِمَعْنَاهُ وَإِن لم يكن بِلَفْظِهِ وَهَذَا يُوجب امْتنَاع الْمُقَلّد من اتِّبَاع امام يرى مُخَالفَة قَول امامه لكَونه خطأ وَمَا قلد فِيهِ صَوَاب عِنْده
قُلْنَا المُرَاد من هَذَا تَخْصِيص أَن مَا ذهب إِلَيْهِ أَئِمَّتنَا هُوَ صَوَاب عِنْدهم مَعَ احْتِمَال الْخَطَأ إِذْ كل مُجْتَهد قد يُصِيب وَقد يُخطئ فِي نفس الْأَمر وَأما بِالنّظرِ إِلَيْنَا فَهُوَ مُصِيب فِي اجْتِهَاده وَهُوَ
শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা (الفروع) সম্পর্কে আমাদের অনুসৃত অভিমত কী—এ বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন করা হলে আমরা উত্তর দিই যে, আমাদের অনুসৃত অভিমতটি সঠিক (صواب) যাতে ভুলের (الخطأ) সম্ভাবনা রয়েছে; আর অন্যের অভিমতটি ভুল (خطأ) যাতে সঠিক (الصواب) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কথাটি হুবহু এই শব্দে না হলেও এর মর্মার্থ এটাই। আর এটি একজন অনুসারীর (مقلد) জন্য এমন কোনো ইমামের (امام) অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক করে, যার বক্তব্যকে সে তার নিজস্ব ইমামের (امامه) পরিপন্থী মনে করে; যেহেতু সেটি তার নিকট ভুল (خطأ) এবং সে যে বিষয়ে অনুকরণ (قلد) করছে তা তার নিকট সঠিক (صواب)।
আমরা বলি: এর উদ্দেশ্য হলো এটি নির্দিষ্ট করা যে, আমাদের ইমামগণ (أئمتنا) যা অবলম্বন করেছেন তা তাঁদের নিকট সঠিক (صواب), যদিও সেখানে ভুলের (الخطأ) সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) বা গবেষক ফকিহ মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে কখনো সঠিক (يصيب) সিদ্ধান্তে উপনীত হন আবার কখনো ভুল (يخطئ) করেন। তবে আমাদের বিবেচনায় তিনি তাঁর ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তে (اجتهاده) সঠিক এবং তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
معنى مَا رُوِيَ أَن كل مُجْتَهد مُصِيب فَلَيْسَ مَعْنَاهُ أَن الْحق يَتَعَدَّد
وَيَنْبَغِي أَن يكون قد أَرَادَ الْكَلَام أَن للمجتهد الحكم ظنا لَا قَطْعِيا بِأَن اجْتِهَاد غَيره خطأ اما نفس الْمُجْتَهد الْمُخَالف فَهُوَ مُصِيب فِي الْعَمَل بِاجْتِهَاد نَفسه لَا مُخطئ فِي ذَلِك وَإِن كَانَ مَحْكُومًا بخطأ إجتهاده عِنْد غَيره لِأَنَّهُ مَأْمُور بإجتهاد نَفسه كَمَا لَا يخفي
قَالَ الإِمَام فَخر الْإِسْلَام عَليّ بن مُحَمَّد الْبَزْدَوِيّ فِي شرح
"প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক (مصيب)"—এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ এটি নয় যে, সত্য একাধিক হয়।
বরং বাণীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে, মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য বিধান (حكم) হলো প্রবল ধারণার (ظن) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, অকাট্যভাবে (قطعي) নয় যে অন্যের ইজতিহাদ (اجتهاد) ভুল (خطأ)। তবে ভিন্নমত পোষণকারী মুজতাহিদ (مجتهد) স্বীয় ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে সঠিক (مصيب), তিনি তাতে ভুলকারী (مخطئ) নন। যদিও অন্যের নিকট তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) ভুল (خطأ) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ তিনি নিজের ইজতিহাদ (اجتهাদ) অনুযায়ী আমল করতে আদিষ্ট, যেমনটি সুস্পষ্ট।
ইমাম ফখরুল ইসলাম আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-পাযদাভী তাঁর শারহ তথা ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْجَامِع الصَّغِير فِي مسئلة التَّحَرِّي بالقبلة فِي اللَّيْلَة الْمظْلمَة
অন্ধকার রাতে কিবলার দিক অনুসন্ধানের মাসআলা সংক্রান্ত আল-জামিউস সাগীর
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَهَذَا نَص من أَصْحَابنَا على انهم لم يَقُولُوا كل مُجْتَهد مُصِيب خلافًا للمعتزلة فَإِن من نسب ذَلِك إِلَيْهِم فقد تَقول عَلَيْهِم هَذَا لفظ فَخر الْإِسْلَام رَحْمَة الله عَلَيْهِ
قلت وَقد ذهب بَعضهم إِلَى أَن الْحق يَتَعَدَّد فِي الْمَسْأَلَة
এটি আমাদের (মাযহাবের) ইমামগণের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, তারা মুতাজিলাদের মতের বিপরীতে এটি বলেননি যে প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد) সঠিক (مصيب)। বস্তুত যে ব্যক্তি এই মতটি তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে, সে আসলে তাদের নামে মিথ্যাচার করেছে। এটি ফখরুল ইসলাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য।
আমি বলি, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কোনো একটি মাসআলায় সত্য (الحق) একাধিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَهُوَ مَا أدّى إِلَيْهِ اجْتِهَاد كل مُجْتَهد فِيهَا فقد جعل الله تبارك وتعالى حكم الْمَسْأَلَة مَا أدّى إِلَيْهِ اجْتِهَاد كل مُجْتَهد وَلَكِن لَا نقُول بِهِ بل مَعْنَاهُ أَنه مُصِيب فِي اجْتِهَاده ثمَّ الْعَمَل بِهِ وَالْحق عِنْد الله وَاحِد وَلَكِن لما ظهر لَهُم بِالدَّلِيلِ حكم من الْأَحْكَام وَجب عَلَيْهِم اتِّبَاع الدَّلِيل وَمن ضَرُورَة وجوب الِاتِّبَاع التصويب وَإِلَّا فالشرع لَا يَأْمر بِاتِّبَاع الْخَطَأ ثمَّ من ضَرُورَة تصويب قَوْلهم تخطئة قَول مخالفهم مَعَ احْتِمَال الْإِصَابَة من مخالفهم لِأَن الْمُجْتَهد لم يحصل لَهُ إِلَّا الظَّن لَا الْقطع بذلك وَلِهَذَا لَو حكم بِشَيْء من القطعيات فِي العقائد يجْزم بالإصابة وتخطئة الْمُخَالف كَمَا ذكره النَّسَفِيّ فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة فِي الْمُصَفّى أَيْضا
فَالْحَاصِل أَن المُرَاد من أَئِمَّتنَا وَمن أَخذ بقَوْلهمْ من أهل النّظر
আর তা হলো যার দিকে প্রত্যেক গবেষণা পরিচালনাকারীর (مجتهد) গবেষণা (اجتهاد) তাকে ধাবিত করে। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কোনো বিষয়ের বিধানকে (حكم) তা-ই নির্ধারণ করেছেন যার দিকে প্রত্যেক গবেষণা পরিচালনাকারীর (مجتهد) গবেষণা (اجتهاد) তাকে উপনীত করে। তবে আমরা এটি বলি না; বরং এর অর্থ হলো তিনি স্বীয় গবেষণায় (اجتهاد) সঠিক (مصيب), অতঃপর এর ওপর আমল করা আবশ্যক। আর আল্লাহর নিকট সত্য (الحق) অভিন্ন। কিন্তু যখন দলিলের (دليل) মাধ্যমে তাদের নিকট বিধানসমূহের মধ্য হতে কোনো একটি বিধান (حكم) স্পষ্ট হয়েছে, তখন উক্ত দলিলের (دليل) অনুসরণ করা তাদের ওপর ওয়াজিব হয়েছে। আর অনুসরণের আবশ্যকতা থেকে এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে তা সঠিক সাব্যস্ত করতে হবে (تصويب), নতুবা শরিয়ত ভুলের (خطأ) অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করে না। অতঃপর তাদের বক্তব্যকে সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب) আবশ্যিক দাবি হলো বিরোধীদের বক্তব্যকে ভুল সাব্যস্ত করা (تخطئة), যদিও বিরোধীদের বক্তব্য সঠিক হওয়ার (إصابة) সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে। কারণ গবেষণা পরিচালনাকারী (مجتهد) এ ক্ষেত্রে কেবল প্রবল ধারণা (ظن) লাভ করেছেন, সুনিশ্চিত জ্ঞান (قطع) নয়। এ কারণেই যদি আকিদাহ শাস্ত্রের সুনিশ্চিত বিষয়গুলোর (قطعيات) কোনো কিছুতে বিধান (حكم) দেওয়া হয়, তবে সঠিক হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস (جزم) পোষণ করা হয় এবং বিরোধীকে ভুল সাব্যস্ত (تخطئة) করা হয়; যেমনটি নাসাফি এই মাসআলায় আল-মুসাফফা গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন।
সারকথা হলো, আমাদের ইমামগণ এবং তত্ত্বানুসন্ধানী (أهل النظر) ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যারা তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো—
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
كمشايخ الْمَذْهَب الْكِبَار الْمُتَقَدِّمين كالشيخ أبي الْحسن الْكَرْخِي وَالْإِمَام أبي جَعْفَر الطَّحَاوِيّ والمتأخرين
যেমন মাজহাবের মহান পূর্বসূরি (المتقدمين) শায়খগণ, যেমন শায়খ আবুল হাসান আল-কারখি এবং ইমাম আবু জাফর আত-তহাবি এবং উত্তরসূরিগণ (المتأخرين)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
مثل شمس الْأَئِمَّة الْحلْوانِي وتلميذه السَّرخسِيّ وفخر الْإِسْلَام الْبَزْدَوِيّ وامثالهم من النظار فِي الْقرن الْخَامِس وَالْإِمَام قَاضِي
যেমন শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানি ও তাঁর ছাত্র আস-সারাখসি, ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাবি এবং তাঁদের মতো পঞ্চম শতাব্দীর সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ (النظار) এবং ইমাম (إمام) বিচারক (قاضي)
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
خَان وخسرويه صَاحب الْهِدَايَة وأضرابهما من أهل
খান এবং খুসরওয়াইহ, আল-হিদায়াহ এর রচয়িতা এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ যারা... এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الانظار ذَوي الْقدر الخطير فِي الْقرن السَّادِس لَو سئلوا لَكَانَ جوابهم مَا ذكره ويرشد إِلَى ذَلِك تَعْبِيره بقوله (لَو سئلنا) وَقَوله (عَمَّا ذَهَبْنَا) إِلَى آخِره وَلم يقل لَو سُئِلَ الْمُقَلّد فَهَذَا الْجَواب مُقَدّر من جَانب الْأَئِمَّة أنفسهم فِيمَا ذَهَبُوا
ষষ্ঠ শতাব্দীর উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণকে (أنظار) যদি জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে তাদের উত্তর হতো যা তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর ‘যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হতো’ এবং ‘আমরা যে মতটি অবলম্বন করেছি’ ইত্যাদি অভিব্যক্তি এই বিষয়ের দিকেই নির্দেশ করে। তিনি এটি বলেননি যে, ‘যদি কোনো অনুসারীকে (مقلদ) জিজ্ঞাসা করা হতো’। সুতরাং এই উত্তরটি স্বয়ং ইমামদের (أئمة) পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে সেই বিষয়ের ক্ষেত্রে, যা তারা অবলম্বন (ذهبوا) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুস সাদীদ ফী বাদি মাসাইলিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
// إِلَيْهِ وَلَيْسَ المُرَاد أَن يُكَلف كل مقلد أَن يعْتَقد ذَلِك فِيمَا قلد فِيهِ إِذْ ذَلِك تَقْلِيد فِيمَا لَا يحْتَاج إِلَيْهِ وَهُوَ مَمْنُوع كَمَا أفدتك من قبل أَن التَّقْلِيد إِنَّمَا يسوغ بِقدر الضَّرُورَة وَهُوَ مُحْتَاج إِلَى الْعَمَل فَلَا بُد من التَّقْلِيد فِي كَيْفيَّة حُصُوله وَأما اعْتِقَاد صِحَة مَا قلد فِيهِ وَلَا يدْرِي بطلَان كل مَا عداهُ فَلَيْسَ مُكَلّفا
فَإِن قلت بل هُوَ مُكَلّف وَإِلَّا لزم إِذا التَّكْلِيف مَعَ اعْتِقَاد عدم صِحَّتهَا
قلت لَا يلْزم ذَلِك إِلَّا لَو اعْتقد عدم صِحَة مَا قلد فِيهِ وَنحن لَا نقُول بِهِ بل هُوَ على الصَّوَاب ظَاهر حَيْثُ فعل مَا عَلَيْهِ وَهُوَ الْأَخْذ بقول مُجْتَهد وَأما تخطئة من أَخذ بِخِلَاف قَول
এর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, প্রত্যেক অনুসরণকারীকে (مقلد) সেই বিষয়েও বিশ্বাস পোষণ করতে বাধ্য করা হবে যাতে সে অনুসরণ (تقليد) করেছে; কেননা তা এমন বিষয়ে অনুসরণ (تقليد) হবে যার প্রয়োজন নেই। আর এটি নিষিদ্ধ, যেমনটি আমি আপনাকে ইতিপূর্বে অবগত করেছি যে, অনুসরণ (تقليد) কেবল প্রয়োজনের পরিমাণেই বৈধ। সে আমল করার মুখাপেক্ষী, তাই আমলটি কীভাবে অর্জিত হবে সেই পদ্ধতিতে অনুসরণ (تقليد) করা আবশ্যক। কিন্তু সে যে বিষয়ে অনুসরণ (تقليد) করেছে তার সঠিকতা (صحة) বিশ্বাস করা এবং অন্য সব কিছুর অসারতা সম্পর্কে না জানা—এমন বিষয়ের জন্য তাকে দায়বদ্ধ করা হয়নি।
আপনি যদি বলেন, বরং তাকে দায়বদ্ধ করা হয়েছে, অন্যথায় সঠিকতা (صحة) নেই এমন বিশ্বাসের সাথে দায়িত্ব প্রদান (تكليف) করা অনিবার্য হয়ে পড়বে।
আমি বলব, এটি কেবল তখনই অনিবার্য হতো যদি সে যা অনুসরণ (تقليد) করেছে তার সঠিকতা (صحة) নেই বলে বিশ্বাস করত, অথচ আমরা তা বলি না। বরং সে বাহ্যত সঠিকতার ওপর রয়েছে, যেহেতু সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে; আর তা হলো একজন গবেষক ফকীহর (مجتهد) মত গ্রহণ করা। আর যে ব্যক্তি ভিন্ন মত গ্রহণ করেছে তাকে ভুল সাব্যস্ত করার বিষয়টি...