(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: -)
الاحتجاج بالشافعي القسم: أصول الفقه
الكتاب: مسألة الاحتجاج بالشافعي
المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)
المحقق: خليل إبراهيم ملا خاطر [ت 1445 هـ]
الناشر: المكتبة الأثرية - باكستان
عدد الصفحات: 79
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম শাফিঈর দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: মাসয়ালাতুল ইহতিজাজ বিশ-শাফিঈ
লেখক: আবু বকর আহমাদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদি আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদক: খলিল ইবরাহিম মুল্লা খাতির [মৃত্যু ১৪৪৫ হিজরি]
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসারিইয়াহ - পাকিস্তান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
أخبرنَا الشَّيْخَانِ الأجلان الأمينان الثِّقَة نجم الدّين أَبُو بكر مُحَمَّد بن عَليّ بن المظفر بن الْقَاسِم النشبي وَالْإِمَام الْعَالم الْعَلامَة مُسْند عصره تَقِيّ الدّين أَبُو مُحَمَّد إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بن أبي الْيُسْر التنوخي قِرَاءَة على كل وَاحِد مِنْهُم وَأَنا أسمع بِمَدِينَة دمشق فِي تاريخين مُخْتَلفين
قيل لكل وَاحِد مِنْهُمَا أَخْبَرتك الشيخة الصَّالِحَة سِتّ الكتبة نعْمَة بنت عَليّ بن يحيى بن عَليّ بن الطراح الْبَغْدَادِيّ قِرَاءَة عَلَيْهَا وَأَنت تسمع بِدِمَشْق فِي تَارِيخ سَمَاعه مِنْهَا فَأقر بِهِ
قيل لَهَا أخْبرك جدك الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد يحيى بن عَليّ بن مُحَمَّد بن الطراح قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنت تسمعين فِي ذِي الْحجَّة سنة خمس وَثَلَاثِينَ وَخَمْسمِائة فأقرت بِهِ قَالَ أَنبأَنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ إجَازَة قَالَ
مُقَدّمَة الْمُؤلف الْحَمد لله رب الْعَالمين شكرا لنعمته وَلَا اله إِلَّا الله إِقْرَارا بوحدانيته وَصلى الله على خير خلقه مُحَمَّد نَبينَا الْمُصْطَفى لرسالته وعَلى إخوانه من النَّبِيين وَأهل بَيته وصحابته وتابعيه بِالْإِحْسَانِ المتمسكين بسنته
سَأَلَني بعض إِخْوَاننَا تولاهم الله برعايته ووفقنا وإياهم للْعَمَل بِطَاعَتِهِ بَيَان عِلّة ترك أبي عبد الله مُحَمَّد ابْن اسماعيل البُخَارِيّ الرِّوَايَة عَن الإِمَام أبي عبد الله مُحَمَّد بن ادريس الشَّافِعِي فِي كِتَابه الْجَامِع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দুই মহান, আমানতদার ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) শায়খ—নাজমুল দ্বীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-মুজাফ্ফর বিন আল-কাসিম আন-নাশবয়ি এবং ইমাম, আলিম, মহাজ্ঞানী ও নিজ সময়ের বড় হাদিস বর্ণনাকারী (مسند) তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আবুল ইউসর আত-তানুখি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমি দামেস্ক শহরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাঁদের প্রত্যেকের নিকট পাঠ (قراءة) করা অবস্থায় তা শ্রবণ (سماع) করেছি।
তাঁদের প্রত্যেকের নিকট বলা হয়েছে যে, পুণ্যবতী শায়খা সিতুল কাতাবাহ নিয়ামাহ বিনতে আলী বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আত-তাররাহ আল-বাগদাদি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, যখন আপনি দামেস্কে তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) করা অবস্থায় শ্রবণ (سماع) করছিলেন এবং এটি তাঁর নিকট শ্রবণ করার তারিখে ছিল। অতঃপর তাঁরা তা স্বীকার করেছেন।
তাঁকে (সিতুল কাতাবাহ-কে) বলা হয়েছে যে, আপনার দাদা শায়খ আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আত-তাররাহ আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, যখন আপনি ৫৩৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসে তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) করা অবস্থায় শ্রবণ (سماع) করছিলেন। তিনিও তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শায়খ, ইমাম, আলিম ও হাদিস বিশারদ (حافظ) আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি আমাদের অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
লেখকের ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তাঁর নিআমতের শুকরিয়া স্বরূপ। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি স্বরূপ এটি ঘোষণা করছি। আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবীগণের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেন, তাঁদের সবার ওপর।
আমাদের দ্বীনি ভাইদের মধ্যে কেউ কেউ—আল্লাহ তাঁদের রক্ষণাবেক্ষণ করুন এবং আমাদের ও তাঁদেরকে তাঁর আনুগত্য করার তাওফিক দিন—আমার নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি তাঁর আল-জামি গ্রন্থে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ি থেকে বর্ণনা (رواية) গ্রহণ না করার কারণ (علة) ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
للآثار عَن سلف الْأمة الأخيار وَذكر أَن بعض من يذهب إِلَى رَأْي أبي حنيفَة ومقالته ضعف أَحَادِيث للشَّافِعِيّ وَاعْترض بالطعن عَلَيْهِ فِي رِوَايَته لإعراض أبي عبد الله البُخَارِيّ عَنْهَا واطراحه مَا انْتهى إِلَيْهِ مِنْهَا
وَلَوْلَا مَا أَخذ الله تَعَالَى على الْعلمَاء فِيمَا يعلمونه ليبيننه للنَّاس وَلَا يكتمونه لَكَانَ أولى الْأَشْيَاء الْإِعْرَاض عَن اعْتِرَاض الْجُهَّال وَالسُّكُوت عَن جوابهم فِيمَا اجترأوا عَلَيْهِ من النُّطْق بالمحال وتركهم على جهلهم يعمهون بتحيرهم فِي الْبَاطِل والضلال لَكِن وَعِيد الله فِي الْقُرْآن منع الْعلمَاء من الكتمان ثمَّ مَا صَحَّ واشتهر عَن الْمُصْطَفى سيد الْبشر صلى الله عليه وسلم من التَّغْلِيظ فِي الْخَبَر
الَّذِي أخبرنَا بِهِ أَبُو نعيم احْمَد بن عبد الله الْحَافِظ بأصبهان ثَنَا حبيب بن الْحسن الْقَزاز ثَنَا عبد الله بن أَيُّوب يَعْنِي الجزار ثَنَا أَبُو نصر التمار ثَنَا حَمَّاد عَن عَليّ بن الحكم عَن عَطاء عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من كتم علما علمه الله ألْجمهُ الله
এই উম্মতের নেককার পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের (آثار) খাতিরে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফার মতাদর্শ ও মাযহাব অনুসারী কেউ কেউ ইমাম শাফেয়ির বর্ণিত হাদিসসমূহকে দুর্বল (ضعيف) প্রতিপন্ন করেছেন। তাঁরা তাঁর বর্ণনার (رواية) প্রতি কটাক্ষ করে আপত্তি তুলেছেন এই যুক্তিতে যে, আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি সেই বর্ণনাগুলো থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাঁর কাছে পৌঁছানো এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বর্জন করেছেন।
আল্লাহ তাআলা যদি আলেমদের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ না করতেন যে, তাঁরা যা জানেন তা মানুষের কাছে অবশ্যই বর্ণনা করবেন এবং তা গোপন করবেন না, তবে মূর্খদের আপত্তির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের ধৃষ্টতাপূর্ণ অসার বক্তব্যের উত্তর দেওয়া থেকে নীরব থাকাই ছিল সবচেয়ে শ্রেয়। তাদেরকে তাদের অজ্ঞতার মধ্যেই বিভ্রান্ত হয়ে বাতিল ও গোমরাহির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া যেত। কিন্তু পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর কঠোর হুঁশিয়ারি আলেমদের সত্য গোপন করা থেকে বিরত রেখেছে। তদুপরি, মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) থেকে যা নির্ভরযোগ্যভাবে সহিহ (صحيح) ও প্রসিদ্ধ (مشهور) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে সেই কঠোর হুঁশিয়ারি সংবলিত সংবাদ (خبر) হলো—
যা আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আসবাহানের হাফেজ (حافظ) আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাবীব বিন হাসান আল-কাযযায, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ বিন আইয়ুব অর্থাৎ আল-জাযযার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নাসর আত-তাম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ, তিনি আলি বিন আল-হাকাম থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি এমন কোনো জ্ঞান গোপন করল যা আল্লাহ তাকে শিখিয়েছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে (আগুনের) লাগাম পরিয়ে দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تَعَالَى بلجام من نَار
তাআলা আগুনের লাগাম দ্বারা
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَأخْبرنَا القَاضِي أَبُو عمر الْقَاسِم بن جَعْفَر بن عبد الْوَاحِد الْهَاشِمِي بِالْبَصْرَةِ ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن أَحْمد الْحَافِظ ثَنَا عمر بن ابراهيم أَبُو الآذان ثَنَا الْقَاسِم بن سعيد بن الْمسيب بن شريك ثَنَا أَبُو النَّضر الْأَكْفَانِيِّ ثَنَا سُفْيَان الثَّوْريّ عَن جَابر يَعْنِي الْجعْفِيّ عَن عَطاء عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من سُئِلَ عَن علم نَافِع فكتمه جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة مُلجمًا بلجام من نَار
وَأَنا بِمَشِيئَة الله أُجِيب أخانا عَن مَسْأَلته مؤملا من الله جزيل أجره ومثوبته وسائلا لَهُ المعونة بتوفيقه وعصمته فَإِنَّهُ لَا حول لي وَلَا قُوَّة إِلَّا بمعونته
وَقد كَانَ جرى بيني وَبَين بعض من يشار إِلَيْهِ بالمعرفة كَلَام فِي هَذِه الْمَسْأَلَة وَاعْترض عَليّ بِمَا تقدم ذكره وَزَاد فِي احتجاجه بخلو كتب مُسلم بن الْحجَّاج النَّيْسَابُورِي وَأبي دَاوُد السجسْتانِي وأئمة الحَدِيث غَيرهمَا مِمَّن صنف الصِّحَاح بعدهمَا من حَدِيث الشَّافِعِي
বসরায় কাজী আবু ওমর আল-কাসিম বিন জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), হাফেজ (الحافظ) আব্দুর রহমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), ওমর বিন ইব্রাহিম আবু আল-আদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আল-কাসিম বিন সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব বিন শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু আন-নাদর আল-আকফানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), সুফিয়ান আস-সাওরি জাবির—অর্থাৎ আল-জু’ফি—থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যাকে কোনো উপকারী ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তা গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে উপস্থিত করা হবে।"
আর আমি আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, আল্লাহর নিকট থেকে তাঁর বিপুল সওয়াব ও প্রতিদানের আশা রাখছি এবং তাঁর তাওফিক ও আশ্রয়ের মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। কেননা তাঁর সাহায্য ছাড়া আমার কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
ইতিপূর্বে আমার এবং এমন একজনের মধ্যে এই মাসআলা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল যিনি বিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি আমার ওপর সেই বিষয়গুলো দিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর যুক্তিতে আরও যোগ করেছেন যে, মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরি, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি এবং তাঁদের পরবর্তী অন্যান্য হাদিস ইমামগণ যারা সহিহ কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন, তাঁদের কিতাবসমূহে ইমাম শাফেয়ীর কোনো হাদিস নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فأجبته بِمَا فَتحه الله عز وجل عَليّ ويسره وَقضى لي بِهِ النُّطْق فِي الْحَال وَقدره وسألخص إِن شَاءَ الله فِي هَذِه الْمَسْأَلَة الْكَلَام وأشرحها شرحا يُؤمن مَعَه وُقُوع الْإِيهَام ليَكُون حجَّة على من رام دفع الْحق وَظُهُور الْبَاطِل بعدوانه ونزول شبهه إِن اعترضت فِي قلب من لم يكن علم الحَدِيث من شَأْنه وَأَعُوذ بِاللَّه من الرِّيَاء والإعجاب وأسأله التَّوْفِيق لإدراك الْحق وَالصَّوَاب
قَالَ أَنبأَنَا القَاضِي أَبُو عمر الْقَاسِم بن جَعْفَر بن عبد الْوَاحِد الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد ابْن أَحْمد الْأَثْرَم ثَنَا حميد بن الرّبيع ثَنَا يُونُس بن بكير أَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن أبي عبلة عَن أَبِيه عَن عَوْف بن مَالك رَحمَه الله تَعَالَى قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن أَمَام الدَّجَّال سِنِين خوادع يكثر فِيهَا الْمَطَر ويقل فِيهَا النبت ويؤمن فِيهَا الخائن ويخون فِيهَا الْأمين ويكذب فِيهَا الصَّادِق وَيصدق فِيهَا الْكَاذِب وَيتَكَلَّم فِيهَا الرويبضة فَسئلَ مَا الرويبضة قَالَ من لَا حسب لَهُ وَلَا يؤبه لَهُ
অতঃপর আমি তাকে সেই বিষয়ের মাধ্যমে উত্তর প্রদান করলাম যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আমার জন্য উন্মোচন করেছেন ও সহজ করে দিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলার যে সামর্থ্য ও শক্তি তিনি আমার জন্য নির্ধারণ করেছেন। ইনশাআল্লাহ, আমি এই মাসআলায় আলোচনা সংক্ষেপ করব এবং এমনভাবে তার ব্যাখ্যা প্রদান করব যেন কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা না থাকে; যাতে এটি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলিলস্বরূপ হয় যে সত্যকে প্রতিহত করতে এবং শত্রুতা ও অন্যায়ের মাধ্যমে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়; আর এটি সেই ব্যক্তির হৃদয়ে উদিত সংশয়সমূহ নিরসনের কারণ হয়, যার বৈশিষ্ট্য হাদিস শাস্ত্রের ইলম অর্জন করা নয়। আমি রিয়া (লৌকিকতা) এবং আত্মমুগ্ধতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং সত্য ও সঠিক দিশা লাভের জন্য তাঁর নিকট তাওফিক কামনা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) বিচারক আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী; আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আশরাম; আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا) হুমাইদ ইবনে আল-রাবি; আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইউনুস ইবনে বুকাইর; আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক; আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني) ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলা, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আউফ ইবনে মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি (سمعت), "দাজ্জালের আগমনের পূর্বে কিছু প্রতারণাপূর্ণ বছর আসবে, যখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে কিন্তু উদ্ভিদ বা ফসল উৎপাদন হবে খুবই সামান্য। তখন বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বাস করা হবে এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হবে এবং মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে। আর সে সময় 'রুওয়াইবিজাহ' কথা বলবে।" জিজ্ঞাসা করা হলো, 'রুওয়াইবিজাহ' কী? তিনি বললেন: "যার কোনো বিশেষ বংশীয় মর্যাদা নেই এবং যার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় না (এমন অতি তুচ্ছ ব্যক্তি)।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فقد شاهدنا مَا كُنَّا قبل نَسْمَعهُ ووصلنا إِلَى الزَّمَان الَّذِي كُنَّا نحذره ونتوقعه وَحل بِنَا مَا لم نزل نهابه ونفزعه من استعلاء الْجَاهِلين وَظُهُور الخاملين وخوضهم بجهلهم فِي الدّين وقذفهم بوصفهم الَّذِي مَا زَالُوا بِهِ معروفين السَّادة من الْعلمَاء وَالْأَئِمَّة المنزهين وبسطهم ألسنتهم بالوقيعة فِي الصَّالِحين وَإِن الذَّنب بهم ألحق والذم إِلَيْهِم أسبق والقبيح بهم ألصق وَالْعَيْب بهم أليق
وَمَا سبيلهم فِيمَا قصدوه من الطَّرِيق الَّذِي سلكوه وظنهم الْكَاذِب الَّذِي يوهموه وَقَوْلهمْ الْبَاطِل إِذْ أذاعوه إِلَّا مَا أخبرنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن رزق الْبَزَّاز قَالَ أنشدنا أَحْمد بن كَامِل قَالَ أنشدنا أَبُو يزِيد أَحْمد بن روح الْبَزَّاز قَالَ أنشدنا عبيد بن مُحَمَّد الْعَبْسِي فِي ابْنه
حسدوا الْفَتى إِذْ لم ينالوا سَعْيه
فَالنَّاس أضداد لَهُ وخصوم
… كضرائر الْحَسْنَاء قُلْنَ لوجهها
حسدا وبغيا إِنَّه لذميم
… وَترى اللبيب محسدا لم يجترم
شتم الرِّجَال وَعرضه مشتوم
وَأخْبرنَا ابْن رزق أَيْضا قَالَ أنشدنا أَحْمد بن كَامِل قَالَ أنشدنا الْحَارِث بن مُحَمَّد بن أبي أُسَامَة قَالَ أنشدنا عَليّ بن مُحَمَّد المدايني
إِن الغرانيق نلقاها محسدة
… وَلَا نرى للئام النَّاس حسادا
বস্তুত আমরা আজ তা প্রত্যক্ষ করলাম যা ইতিপূর্বে শুনতাম এবং আমরা সেই যুগে উপনীত হয়েছি যে সম্পর্কে আমরা সতর্ক থাকতাম ও যা আমরা আশঙ্কা করতাম। আর আমাদের ওপর এমন বিষয় আপতিত হয়েছে যা আমরা সর্বদা ভয় ও শঙ্কা করতাম; আর তা হলো—অজ্ঞদের (جاهلين) প্রাধান্য, অখ্যাতদের (خاملين) প্রাদুর্ভাব, দ্বীনের বিষয়ে তাদের অজ্ঞতাপূর্ণ অনধিকার চর্চা এবং বরেণ্য আলেম (علماء) ও দোষমুক্ত ইমামগণের (أئمة) প্রতি এমন সব চারিত্রিক দোষারোপ করা যেগুলোতে তারা (অজ্ঞরা) নিজেরাই পরিচিত। এছাড়া পুণ্যবানদের (صالحين) নিন্দায় তাদের জিহ্বা প্রসারিত করা। অথচ পাপ তাদের সাথেই অধিকতর সংশ্লিষ্ট, নিন্দা তাদের প্রতিই অগ্রগামী, কদর্যতা তাদের সাথেই লেপ্টে আছে এবং দোষ তাদের জন্যই অধিক মানানসই।
তারা যে পথ অবলম্বন করেছে এবং যে উদ্দেশ্য তারা পোষণ করেছে, তাদের সেই মিথ্যা ধারণা যা তারা অন্যদের মনে জাগ্রত করে এবং তাদের সেই অসার কথা যা তারা প্রচার করেছে—তার স্বরূপ ঠিক তেমনই, যেমনটি আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আল-বাজ্জার; তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবৃত্তি করেছেন আহমদ বিন কামিল; তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবৃত্তি করেছেন আবু ইয়াজিদ আহমদ বিন রুহ আল-বাজ্জার; তিনি বলেন, উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-আবসি তাঁর পুত্র সম্পর্কে আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:
তারা সেই যুবকের প্রতি হিংসা পোষণ করল যখন তারা তার প্রচেষ্টার সমকক্ষ হতে পারল না
ফলে মানুষ তার বিরোধী ও শত্রুতে পরিণত হলো
… সুন্দরী মহিলার সপত্নীদের ন্যায়, যারা তার চেহারার প্রতি
হিংসা ও বিদ্বেষবশত—বলে থাকে যে, এটি নিশ্চয়ই কুৎসিত
… তুমি দেখবে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিংসার পাত্র হন অথচ তিনি কোনো অপরাধ করেননি
লোকেরা তাকে গালি দেয় অথচ তার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়
আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন ইবনে রিজক; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আহমদ বিন কামিল; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি উসামা; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মাদায়িনী:
নিশ্চয়ই আমরা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের হিংসার শিকার হতে দেখি
… কিন্তু নীচ প্রকৃতির লোকদের জন্য আমরা কোনো হিংসুক দেখি না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بعض مزايا الشَّافِعِي فَمثل الشَّافِعِي من حسد وَإِلَى ستر معالمه قصد {ويأبى الله إِلَّا أَن يتم نوره} وَيظْهر بفضله من كل حق مستوره وَكَيف لَا يغِيظ من حَاز الْكَمَال بِمَا جمع الله تَعَالَى لَهُ من الْخلال اللواتي لَا ينكرها إِلَّا ظَاهر الْجَهْل أَو خَارج عَن حد التَّكْلِيف لذهاب الْعقل
مِنْهَا جزيل حَظه من الْأَدَب وجلالة محتده فِي النّسَب الَّذِي سَاوَى بِهِ فِي الحكم بني عبد الْمطلب
ثمَّ لما كَانَ عَلَيْهِ من قُوَّة الدّين وَحسن الطَّرِيقَة عِنْد الموافقين والمخالفين
وَحفظه لكتاب ربه ومعرفته بواجبه وندبه وتصرفه فِي سَائِر أَنْوَاع علمه مِمَّا يعجز غَيره عَن بُلُوغ فهمه
وفقهه بالسنن المنقولة وبصره بالصحاح مِنْهَا والمعلولة وَكَلَامه فِي الْأُصُول وَحكم الْمُرْسل والموصول وتمييز وُجُوه النُّصُوص وَذكر الْعُمُوم وَالْخُصُوص وَهَذَا مَا لم يدْرك الْكَلَام فِيهِ أَبُو حنيفَة وَلَا غَيره من متقدميه
… تِلْكَ المكارم لَا قعبان من لبن
… شيبا بِمَاء فعادا بعد أبوالا
…ثمَّ تَركه التَّقْلِيد لأهل الْبَلدة وإيثاره مَا ظهر دَلِيله وَثبتت بِهِ الْحجَّة
ইমাম শাফিঈ-র কতিপয় বৈশিষ্ট্য ইমাম শাফিঈ-র মতো ব্যক্তিত্বকে যে হিংসে করে এবং যার লক্ষ্য তাঁর মহৎ বৈশিষ্ট্যসমূহকে গোপন করা, (সে জেনে রাখুক) {আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না}। তাঁর অনুগ্রহে সত্যের সকল গোপন বিষয় প্রকাশিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে যেসব গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি পূর্ণতা অর্জন করেছেন, তা দেখে কার না মনে ঈর্ষা জাগবে? একমাত্র ঘোর অজ্ঞ অথবা কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলা পাগল ছাড়া কেউ এসব গুণ অস্বীকার করতে পারে না।
এর মধ্যে রয়েছে শিষ্টাচার (أدب)-এর ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল অংশ এবং তাঁর সুউচ্চ বংশমর্যাদা, যা তাঁকে মর্যাদাগত বিচারে বনু আব্দুল মুত্তালিবের সমপর্যায়ে উন্নীত করেছে।
তদুপরি, তাঁর দ্বীনের দৃঢ়তা এবং তাঁর সুন্দর কর্মপন্থা, যা তাঁর অনুসারী ও বিরোধী সকলের নিকট স্বীকৃত।
এবং তাঁর রবের কিতাব হিফজ করা, এর ওয়াজিব (واجب) ও মুস্তাহাব (ندب) বিষয়াবলি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং এর ইলমের অন্যান্য সকল শাখায় তাঁর ব্যুৎপত্তি, যার গভীরতা অনুধাবনে অন্যেরা অক্ষম।
বর্ণিত সুন্নাহসমূহ সম্পর্কে তাঁর প্রগাঢ় ফিকহ এবং এগুলোর মধ্যে সহিহ (صحاح) ও ত্রুটিযুক্ত (معلولة) বর্ণনা সম্পর্কে তাঁর প্রজ্ঞা; এছাড়া উসুল (أصول), বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও সংযুক্ত (موصول) বর্ণনার বিধান, নুসুস (نصوص) বা মূল পাঠের ধরণসমূহের পার্থক্য নিরূপণ এবং আম (عموم) ও খাস (خصوص) বর্ণনার আলোচনা। এটি এমন এক বিষয় যা ইমাম আবু হানিফা বা তাঁর পূর্ববর্তীগণ আলোচনার মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারেননি
… সেগুলোই তো মহৎ গুণ, পানির সাথে মিশ্রিত দুই পাত্র দুধ নয়
… যা পানের পর পুনরায় মূত্রে পরিণত হয়
…অতঃপর কোনো নির্দিষ্ট জনপদের অধিবাসীদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) বর্জন এবং যে বিষয়ের দলিল (دليل) স্পষ্ট ও প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত, তাকেই প্রাধান্য দান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَعَ اتِّخَاذه الْيَد الْعَظِيمَة وتقليده المنن الجسيمة كَافَّة أهل الْآثَار ونقلة الْأَحَادِيث وَالْأَخْبَار بِتَوْقِيفِهِ إيَّاهُم على مَعَاني السّنَن وتنبيههم وقذفه بِالْحَقِّ على بَاطِل أهل الرَّأْي وتمويههم فنشلهم الله تَعَالَى بِهِ بعد أَن كَانُوا خاملين وَظَهَرت كلمتهم على من سواهُم من ساير الْمُخَالفين ودمغوهم بواضحات الدلايل والبراهين حَتَّى ظلت أَعْنَاقهم لَهَا خاضعين
ثَنَاء الْأَئِمَّة على الشَّافِعِي أَبُو نعيم أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ ثَنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن ابراهيم بن عَليّ قَالَ سَمِعت الْخضر بن دَاوُد يَقُول سَمِعت الْحسن بن مُحَمَّد الزَّعْفَرَانِي يَقُول قَالَ مُحَمَّد بن الْحسن إِن تكلم أَصْحَاب الحَدِيث يَوْمًا فبلسان الشَّافِعِي يَعْنِي لما وضع كتبه
قَرَأت على مُحَمَّد بن أَحْمد بن يَعْقُوب عَن مُحَمَّد بن نعيم النَّيْسَابُورِي قَالَ سَمِعت أَبَا زَكَرِيَّا يحيى بن مُحَمَّد الْعَنْبَري يَقُول سَمِعت أَبَا جَعْفَر مُحَمَّد بن عَليّ بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أبي بكر بن سَالم ابْن عبد الله بن عمر بن الْخطاب يَقُول سَمِعت الْحسن بن مُحَمَّد الزَّعْفَرَانِي يَقُول كَانَ أَصْحَاب الحَدِيث رقودا حَتَّى جَاءَ الشَّافِعِي فأيقظهم فتيقظوا
حَدثنِي أَبُو رَجَاء هبة الله بن مُحَمَّد بن عَليّ الشِّيرَازِيّ فِي مجْلِس أبي الْحُسَيْن بن بَشرَان ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن عمر التَّمِيمِي ثَنَا أَبُو الْقَاسِم بن رَاشد الدينَوَرِي ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن القَاضِي ثَنَا الْفضل بن
মহান অবদান রাখা এবং সমস্ত হাদিস অনুসারী (أهل الآثار) ও হাদিস ও সংবাদের বর্ণনাকারীদের ওপর বিশাল অনুগ্রহ করার পাশাপাশি, তিনি তাদেরকে সুন্নাহর অর্থসমূহ বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের সচেতন করেছেন। তিনি সত্যের মাধ্যমে রায়পন্থী বা যুক্তিনির্ভর অনুসারীদের (أهل الرأي) বাতিল ও প্রবঞ্চনার ওপর আঘাত হেনেছেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে তাদেরকে উদ্ধার করেছেন, অথচ এর আগে তারা অখ্যাত ছিলেন। এখন অন্যান্য সমস্ত বিরোধীদের ওপর তাদের আদর্শ বিজয়ী হয়েছে এবং তিনি সুস্পষ্ট দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাদের পরাভূত করেছেন, যার ফলে তাদের মাথা নত হয়ে গেছে।
ইমাম শাফিঈর প্রতি ইমামগণের প্রশংসা হাফিজ (الحافظ) আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি খিযর বিন দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হাসান বিন মুহাম্মদ আয-যাফরানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন— মুহাম্মদ বিন হাসান বলেছেন: যদি কোনোদিন হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب الحديث) কথা বলেন, তবে তা শাফিঈর যবানিতেই বলেন। অর্থাৎ যখন তিনি তাঁর কিতাবসমূহ সংকলন করেন।
আমি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াকুবের নিকট পড়েছি, তিনি মুহাম্মদ বিন নুয়াইম আন-নিশাপুরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হাসান বিন মুহাম্মদ আয-যাফরানীকে বলতে শুনেছি— হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب الحديث) নিদ্রিত ছিলেন, যতক্ষণ না শাফিঈ আসলেন এবং তাদের জাগ্রত করলেন; ফলে তারা জাগ্রত হলেন।
আবু রাজা হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শিরাজী আবু আল-হুসাইন বিন বাশরানের মজলিসে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন উমর আত-তামিমী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবুল কাসিম বিন রাশিদ আদ-দিনাওয়ারী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাজী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ফযল বিন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
زِيَاد قَالَ سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول مَا أحد مس بِيَدِهِ محبرة وَلَا قَلما إِلَّا وَللشَّافِعِيّ فِي رقبته منَّة
فَهَذَا قَول سيد أَصْحَاب الحَدِيث وَأَهله وَمن لَا يخْتَلف الْعلمَاء فِي ورعه وفضله ويحق لَهُ ذَلِك وَقد كَانَ أحد تلاميذ الشَّافِعِي وَمن أَعْيَان أَصْحَابه وَأكْثر النَّاس مُلَازمَة لَهُ وأشدهم حرصا على سَماع كتبه وأحضهم لِلْخلقِ على حفظ علمه وَمن شكره للشَّافِعِيّ قَالَ هَذَا القَوْل وَمن لم يشْكر النَّاس لم يشْكر الله عز وَجل
জিয়াদ বর্ণনা করেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার হাতে দোয়াত কিংবা কলম ধরেছে, অথচ তার ওপর শাফি'ইর অনুগ্রহ নেই।"
এটি হাদিস বিশারদ (أصحاب الحديث) ও এর অনুসারীদের নেতার উক্তি, যার পরহেজগারি ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। আর তার পক্ষে এমনটি বলা যুক্তিসঙ্গত, কারণ তিনি শাফি'ইর অন্যতম ছাত্র এবং তাঁর বিশিষ্ট অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; এমনকি তিনি তাঁর সর্বাধিক সান্নিধ্য লাভকারী, তাঁর কিতাবসমূহ শ্রবণে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী এবং তাঁর ইলম সংরক্ষণের বিষয়ে মানুষকে সর্বাধিক উৎসাহ প্রদানকারী ছিলেন। শাফি'ইর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপই তিনি এই কথাটি বলেছেন; আর যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে মহান আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَفِي بعض مَا ذكرنَا من معالم الشَّافِعِي مَا يُوجب الْحَسَد وَالْكذب عَلَيْهِ
وَمَا الَّذِي يضرّهُ ويقدح فِيهِ من جهل عدوه ومناوئيه مَعَ تولي رب الْعَالمين لنصرته وإرادته فِي السَّابِق إِظْهَار كَلمته
… أَبى الله إِلَّا رَفعه وعلوه
… وَلَيْسَ لما يعليه ذُو الْعَرْش وَاضع
…وَمَا يتَعَدَّى الْحَاسِد فعله وَلَا يضر كَيده إِلَّا نَفسه
أَنا أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد الْجَوْهَرِي قَالَ أَنا أَبُو عبيد الله مُحَمَّد بن عمرَان بن مُوسَى بن المرزباني ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي سعيد الْبَزَّاز قَالَ أَنا أَحْمد بن أبي طَاهِر قَالَ حَدثنِي حبيب بن أَوْس قَالَ قَالَ رجل لِابْنِهِ يَا بني إياك والحسد فَإِنَّهُ يتَبَيَّن فِيك وَلَا يتَبَيَّن فِي عَدوك وَلَو أَن رعاع التبع وَأسرى حبالة الطمع شغلتهم عيوبهم وأهمتهم ذنوبهم وأعينوا من الله بالتوفيق وَحسن البصيرة لأسقط أهل الْعلم عَن أنفسهم مؤنا كَثِيرَة من تكلفهم إِزَالَة أكاذيبهم وكشفهم شبه زخارفهم وأعاجيبهم لَكِن لم يرد الله بهم خيرا فخذلهم وَعَن دفع الْحق بِالْبَاطِلِ الَّذِي لَا يَنْفَعهُمْ شغلهمْ وَنحن نَعُوذ بِاللَّه من غَضَبه وخذلانه ونسأله التَّوْفِيق لما يُؤَدِّي إِلَى رَحمته ورضوانه
أَخْبرنِي بكر بن أبي الطّيب الجرجرائي ثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد الْمُفِيد ثَنَا عبد الصَّمد بن مُحَمَّد قَالَ سَمِعت أَبَا تُرَاب النخشبي يَقُول إِذا ألف الْقلب الْإِعْرَاض عَن الله صَحبه الوقيعة فِي أَوْلِيَاء الله
أَنبأَنَا عبد الْعَزِيز بن أبي الْحسن القرميسيني ثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن ابراهيم بن كثير ثَنَا الْفَيْض بن اسحق قَالَ سَمِعت الفضيل بن عِيَاض يَقُول تَكَلَّمت فِيمَا لَا يَعْنِيك فشغلك عَمَّا يَعْنِيك وَلَو شغلك مَا يَعْنِيك
ইমাম শাফিঈর যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা (বিদ্বেষীদের) ঈর্ষা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা (كذب) আরোপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাঁর শত্রু ও বিরোধীদের মূর্খতা তাঁর কী-ই বা ক্ষতি করতে পারে কিংবা তাঁর মর্যাদায় কীভাবেই বা আঘাত হানতে পারে? যেখানে জগতসমূহের প্রতিপালক স্বয়ং তাঁর সাহায্যের ভার গ্রহণ করেছেন এবং অনাদিকাল থেকেই তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন
… আল্লাহ কেবল তাঁর সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বই বৃদ্ধি করেছেন
… আর আরশের অধিপতি যাকে উচ্চাসীন করেন, তাকে অবনমিত করার কেউ নেই
…হিংসুকের কর্ম তার নিজের সীমা অতিক্রম করে না এবং তার ষড়যন্ত্র কেবল তার নিজেরই ক্ষতি সাধন করে।
আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ (أنا) দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইমরান ইবনে মুসা আল-মারযুবানী আমাদের সংবাদ (أنا) দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি সাঈদ আল-বায্যায আমাদের হাদীস বর্ণনা (ثنا) করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আবি তাহির আমাদের সংবাদ (أنا) দিয়েছেন, তিনি বলেন, হাবিব ইবনে আওস আমাকে হাদীস বর্ণনা (حدثني) করেছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার পুত্রকে লক্ষ্য করে বললেন: হে বৎস! হিংসা থেকে বিরত থাকো, কেননা এর কুপ্রভাব তোমার মাঝেই প্রকাশ পাবে, অথচ তোমার শত্রুর মধ্যে তা প্রকাশ পাবে না। আর যদি নিম্নস্তরের অনুসারী এবং লোভের ফাঁদে বন্দিরা নিজেদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকত এবং নিজেদের গুনাহসমূহ তাদের বিচলিত করত, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক ও উত্তম প্রজ্ঞার মাধ্যমে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতো, তবে জ্ঞানীরা তাদের মিথ্যা (أكاذيب) নিরসন এবং তাদের অলংকৃত সংশয় ও অদ্ভুত বিষয়সমূহ উন্মোচনের ব্যাপক শ্রমসাধ্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতেন। কিন্তু আল্লাহ তাদের জন্য কল্যাণ চাননি, ফলে তিনি তাদের লাঞ্ছিত করেছেন। আর সত্যকে এমন অসার (باطل) দ্বারা প্রতিহত করার কাজে তাদের লিপ্ত রেখেছেন যা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আমরা আল্লাহর ক্রোধ ও লাঞ্ছনা থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট এমন তাওফিক কামনা করি যা তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।
বকর ইবনে আবি আল-তৈয়িব আল-জারজারাঈ আমাকে সংবাদ (أخبرني) দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-মুফিদ আমাদের হাদীস বর্ণনা (ثنا) করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস বর্ণনা (ثنا) করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু তুরাব আল-নাখশাবীকে বলতে শুনেছি: অন্তর যখন আল্লাহর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর বন্ধুদের (أولياء) বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা তার মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়।
আবদুল আযীয ইবনে আবি আল-হাসান আল-কিরমিসিনী আমাদের অবহিত (أنبأنا) করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে কাসীর আমাদের হাদীস বর্ণনা (ثنا) করেছেন, আল-ফায়য ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস বর্ণনা (ثنا) করেছেন, তিনি বলেন, আমি ফুযাইল ইবনে আইয়াযকে বলতে শুনেছি: তুমি এমন বিষয়ে কথা বলেছ যা তোমার জন্য জরুরি নয়, ফলে তা তোমাকে জরুরি বিষয় থেকে বিমুখ করে দিয়েছে। অথচ যদি তুমি জরুরি বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تركت مَا لَا يَعْنِيك
وَلنْ يخلي الله عز وجل كل عصر آنف بعد سالف إِلَى آخر الدَّهْر من دَافع للكذب بِالصّدقِ ودامغ للباطل بِالْحَقِّ يُجَاهد فِي الله بفعاله ويحتسب مَا عِنْد الله بمقاله متيقنا أَن مذْهبه القويم وسبيله هُوَ السَّبِيل الْمُسْتَقيم {ليهلك من هلك عَن بَيِّنَة وَيحيى من حَيّ عَن بَيِّنَة وَإِن الله لسميع عليم}
أَنبأَنَا أَبُو بكر أَحْمد بن غَالب الْفَقِيه ثَنَا مُحَمَّد بن الْعَبَّاس الخزاز ثَنَا أَبُو عبيد بن حربويه ثَنَا الْحسن بن مُحَمَّد الزَّعْفَرَانِي ثَنَا يزِيد بن هَارُون قَالَ أَنبأَنَا شُعْبَة عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن أَبِيه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يزَال نَاس من أمتِي يُقَاتلُون على الْحق ظَاهِرين حَتَّى يَأْتِيهم أَمر الله وهم على ذَلِك
أَنبأَنَا أَبُو نعيم الْحَافِظ ثَنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد الطَّبَرَانِيّ ثَنَا أسلم بن سهل الوَاسِطِيّ ثَنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر قَالَ لما حدث يزِيد بن هَارُون بِحَدِيث شُعْبَة عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن أَبِيه قَالَ يزِيد إِن لم يَكُونُوا أهل لحَدِيث والأثر فَلَا أَدْرِي من هم
أَنبأَنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن عبد الله بن صَالح الْمقري بأصبهان قَالَ أنبأ أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن جَعْفَر بن حَيَّان ثَنَا اسحق بن أَحْمد الْفَارِسِي ثَنَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ ثَنَا ابْن أبي أويس ثَنَا ابْن أبي الزِّنَاد عَن مُوسَى بن عقبَة عَن أبي الزبير قَالَ سَمِعت جَابِرا يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ
আপনি অনর্থক বিষয় বর্জন করেছেন।
মহান আল্লাহ মহাকালের শেষ অবধি প্রতিটি উত্তরবর্তী যুগে পূর্ববর্তী যুগের পর এমন ব্যক্তিদের থেকে শূন্য করবেন না, যারা সত্যের (الصدق) মাধ্যমে মিথ্যার (الكذب) প্রতিরোধ করবেন এবং হকের মাধ্যমে বাতিলকে চূর্ণ করবেন। তারা স্বীয় কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ করবেন এবং স্বীয় বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রতিদান প্রত্যাশা করবেন; এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যে, তাদের ঋজু আদর্শ ও পন্থা হলো সরল পথ। “যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
আবু বকর আহমদ বিন গালিব আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-খাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু উবাইদ বিন হারবুয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হাসান বিন মুহাম্মদ আল-জাফরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুয়াবিয়া বিন কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।”
আবু নুয়াইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), সুলাইমান বিন আহমদ আত-তাবারানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আসলাম বিন সাহল আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তামীম বিন আল-মুনতাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যখন ইয়াজিদ বিন হারুন শুবা-মুয়াবিয়া বিন কুররাহ-তাঁর পিতা সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করলেন, তখন ইয়াজিদ বললেন: “তারা যদি হাদিস ও আছারের (الأثر) অনুসারী না হন, তবে আমি জানি না তারা কারা।”
আসফাহানের আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হাইয়্যান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), ইসহাক বিন আহমদ আল-ফারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবন আবি উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবন আবিয যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি যে, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَسلم يَقُول لَا تزَال طَائِفَة من أمتِي يُقَاتلُون على الْحق ظَاهِرين إِلَى يَوْم الْقِيَامَة
...বলছিলেন: আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী হয়ে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ أَبُو عبد الله البُخَارِيّ يَعْنِي أهل الحَدِيث
كل طَائِفَة وَإِن كَانَت تتأول أَن هَذَا الحَدِيث وَارِد فِيهَا دون غَيرهَا مِمَّن خالفها فَإِنَّهَا لَا تنكر أَن أَشد النَّاس نظرا فِي حَال الْمَنْقُول واهتماما بِأُمُور الْأَسَانِيد المؤدية عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أَصْحَاب الحَدِيث لأَنهم الْعَالمُونَ بأسماء الرِّجَال وَأهل الْعِنَايَة بالبحث عَن الْأَحْوَال
আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি বলেছেন, অর্থাৎ হাদিস বিশারদগণ:
প্রত্যেকটি দলই—যদিও তারা এটি ব্যাখ্যা করে যে, এই হাদিসটি কেবল তাদের পক্ষেই বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধবাদীদের ক্ষেত্রে নয়—তবে তারা এটি অস্বীকার করতে পারে না যে, উদ্ধৃত বর্ণনার (المنقول) অবস্থা পর্যালোচনায় সর্বাধিক প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সূত্রসমূহের (الأسانيد) ব্যাপারে সর্বাধিক যত্নশীল ব্যক্তিগণ হলেন হাদিস বিশারদরাই। কারণ তাঁরাই বর্ণনাকারীদের (الرجال) নাম সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাঁদের অবস্থা (الأحوال) অনুসন্ধানের বিষয়ে বিশেষ যত্নবান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وذووا الْمعرفَة بِالْجرْحِ وَالتَّعْدِيل والحافظون طرق الصَّحِيح والمعلول اجتهدوا فِي تعلم ذَلِك وَضَبطه وأتعبوا أنفسهم فِي سَمَاعه وَحفظه وفنيت فِيهِ أعمارهم وبعدت فِيهِ أسفارهم واستقربوا لَهُ الشقة الْبَعِيدَة وهونوا لأَجله الْمَشَقَّة الشَّدِيدَة حَتَّى علمُوا بِتَوْفِيق الله لَهُم صَحِيح الْآثَار ومنكر الرِّوَايَات وَالْأَخْبَار وَعرفُوا أهل النَّقْل من مَجْرُوح وَعدل ومتقن وحافظ وصدوق وَصَالح ولين وَضَعِيف وساقط ومتروك فنزلوا الروَاة مَنَازِلهمْ وميزوا أَحْوَالهم ومراتبهم ودونوا من الْأَحَادِيث صحيحها ونبهوا على باطلها وموضوعها وَكَانَ من أحْسنهم مذهبا فِيمَا أَلفه وأصحهم اخْتِيَارا لما صنفه مُحَمَّد بن اسماعيل البُخَارِيّ هذب مَا فِي جَامعه جمعه وَلم يأل عَن الْحق فِيمَا أودعهُ غير أَنه عدل عَن كثير من الْأُصُول إيثارا للإيجاز وَكَرَاهَة للتطويل وَإِن كَانَ قد عني عَن الْمَتْرُوك بأمثاله وَدلّ على مَا هُوَ من شَرطه بأشكاله وَلم يكن قَصده وَالله أعلم اسْتِيعَاب طرق الْأَحَادِيث كلهَا مَا صَحَّ إِسْنَاده وَإِنَّمَا جعل كِتَابه أصلا يؤتم بِهِ ومثالا يستضاء بمجموعه وَيرد مَا شَذَّ عَنهُ إِلَى الِاعْتِبَار بِمَا هُوَ فِيهِ
وَيدل على ذَلِك مَا أخبرنَا أَبُو سعد أَحْمد بن مُحَمَّد الْمَالِينِي قَالَ أَنبأَنَا عبد الله بن عدي الْحَافِظ قَالَ سَمِعت الْحسن بن الْحُسَيْن البُخَارِيّ يَقُول سَمِعت إِبْرَاهِيم بن معقل يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ يَقُول مَا أدخلت فِي كتابي الْجَامِع إِلَّا مَا صَحَّ وَتركت من الصِّحَاح لحَال الطوَال
وأنبأنا أَبُو سعد أَيْضا قَالَ أَنبأَنَا عبد الله بن عدي قَالَ حَدثنِي مُحَمَّد بن أَحْمد القومسي قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن حمدوية يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل يَقُول أحفظ مائَة ألف حَدِيث صَحِيح وأحفظ مِائَتي ألف حَدِيث غير صَحِيح
যাঁরা জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) তথা সমালোচনা ও প্রশংসা শাস্ত্রে পারদর্শী এবং সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (معلول) হাদিসের সুদীর্ঘ সূত্রসমূহ মুখস্থ রেখেছেন, তাঁরা এ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন ও তা আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁরা হাদিস শ্রবণ ও তা মুখস্থ করার জন্য নিজেদের ওপর কঠোর পরিশ্রম চাপিয়ে দিয়েছেন, এতেই তাঁদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং এ উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তে সফর করেছেন। তাঁরা দীর্ঘ পথকেও নিকটতর মনে করেছেন এবং এ কাজের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর শ্রমকে সহজ জ্ঞান করেছেন। পরিশেষে আল্লাহর তৌফিকে তাঁরা সহিহ (صحيح) আসার (ঐতিহ্য) এবং মুনকার (منكر) তথা প্রত্যাখ্যাত রেওয়ায়েত ও সংবাদসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তাঁরা হাদিস বর্ণনাকারীদের চিনেছেন যে, কে জরাহপ্রাপ্ত (مجروح), কে ন্যায়পরায়ণ (عدل), কে বর্ণনায় সুদৃঢ় (متقন), কে হাফিজ (حافظ), কে সত্যবাদী (صدوق), কে সৎকর্মশীল (صالح), কে শিথিল (لين), কে দুর্বল (ضعيف), কে অগ্রহণযোগ্য (ساقط) এবং কে বর্জনীয় (متروك)। অতঃপর তাঁরা বর্ণনাকারীদের স্ব-স্ব স্তরে স্থান দিয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা ও মর্যাদা আলাদা করেছেন। তাঁরা হাদিসসমূহের মধ্যে যা সহিহ (صحيح) তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যা বাতিল ও জাল (موضوع) সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রচনার পদ্ধতির দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সংকলন নির্বাচনে সর্বাধিক সঠিক ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি। তিনি তাঁর সংকলিত জামে গ্রন্থে যা একত্রিত করেছেন তা সুবিন্যস্ত করেছেন এবং এতে যা নিহিত রেখেছেন তার সত্যতা প্রকাশে কোনো ত্রুটি করেননি। তবে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের জন্য তিনি অনেক মূলনীতি বর্জন করেছেন। যদিও তিনি বর্জনীয় (متروك) বর্ণনাকারীদের পরিবর্তে তাঁদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন এবং তাঁর শর্তের (شرط) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হাদিসগুলোর মাধ্যমে অন্যদের নির্দেশ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন, তাঁর উদ্দেশ্য সহিহ সনদবিশিষ্ট হাদিসসমূহের সকল সূত্র পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করা ছিল না। বরং তিনি তাঁর কিতাবকে এমন এক মূল উৎস হিসেবে গড়েছেন যা অনুসরণ করা হবে এবং এমন এক আদর্শ হিসেবে তৈরি করেছেন যার আলোতে সকলে পথ চলবে; আর তাঁর কিতাবের বাইরে যা বিচ্ছিন্ন (شذ) হিসেবে রয়ে গেছে, সেগুলোকে কিতাবে বর্ণিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ (اعتبار) করতে হবে।
এ বিষয়টি আবু সা'দ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মালিনির বর্ণিত সংবাদ দ্বারা প্রমাণিত হয়, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আব্দুল্লাহ ইবনে আদি, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে হুসাইন আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইব্রাহিম ইবনে মাকিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি— "আমি আমার জামে গ্রন্থে সহিহ (صحيح) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি, আর অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস দীর্ঘ হওয়ার কারণে বর্জন করেছি।"
আমাদের আবু সা'দ আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আদি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কূমাসি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি মুহাম্মদ ইবনে হামদুওয়াহকে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে বলতে শুনেছেন— "আমার এক লক্ষ সহিহ (صحيহ) হাদিস মুখস্থ আছে এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ আছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وجامع البُخَارِيّ إِنَّمَا يشْتَمل على أُلُوف يسيرَة من الْأُصُول
وَأَحْسبهُ أَرَادَ بقوله أحفظ مائَة ألف حَدِيث صَحِيح طرق الْأَخْبَار من المرفوعة والموقوفة وأقوال التَّابِعين وَمن بعدهمْ جعل كل طَرِيق مِنْهَا حَدِيثا لَا أَنه أَرَادَ الْأُصُول حسب
وَأي ذَلِك كَانَ مُرَاده فقد بَين أَن فِي الصِّحَاح مَا لم يشْتَمل عَلَيْهِ كِتَابه وَلم يحوه جَامعه
وكمثل مَا فعل فِي الْأَحَادِيث فعل فِي الرِّجَال فَإِن كتاب التَّارِيخ الَّذِي صنفه تشْتَمل أَسمَاء الرِّجَال الْمَذْكُورَة فِيهِ على أُلُوف كَثِيرَة فِي الْعدَد وَأخرج فِي صَحِيحه عَن بعض الْمَذْكُورين فِي تَارِيخه
وسبيل من ترك الْإِخْرَاج عَنهُ سَبِيل مَا ترك من الْأُصُول
বুখারি সংকলন কেবল কয়েক হাজার মৌলিক হাদিস (الأصول) অন্তর্ভুক্ত করে।
আর আমি মনে করি, 'আমি এক লক্ষ বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস মুখস্থ রেখেছি'—তার এই উক্তি দ্বারা তিনি মরফু (المرفوعة), মাওকুফ (الموقوفة) এবং তাবেয়ীগণ (التابعين) ও তাদের পরবর্তী যুগের ব্যক্তিবর্গের বাণীর বর্ণনাসূত্রসমূহ (طرق) বুঝিয়েছেন; যেখানে তিনি প্রতিটি সূত্রকে একটি স্বতন্ত্র হাদিস হিসেবে গণ্য করেছেন, কেবল মৌলিক হাদিস (الأصول) নয়।
তার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, তিনি এটি স্পষ্ট করেছেন যে, বিশুদ্ধ (صحاح) হাদিসসমূহের মধ্যে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা তার কিতাব বা সংকলনটি অন্তর্ভুক্ত বা বেষ্টন করেনি।
হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি যেমনটি করেছেন, বর্ণনাকারীদের (الرجال) ক্ষেত্রেও তেমনটি করেছেন। কেননা, তিনি যে ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন তাতে উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের নাম সংখ্যায় কয়েক হাজার; অথচ তিনি তার সহিহ গ্রন্থে তাদের মধ্য থেকে কেবল কিছু সংখ্যক ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
আর যাদের থেকে তিনি বর্ণনা গ্রহণ করা বর্জন করেছেন, তাদের বিষয়টি ঠিক সেরকমই যেমনটি তিনি অনেক মৌলিক হাদিস (الأصول) বর্জন করার ক্ষেত্রে করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
إِمَّا أَن يكون الرَّاوِي ضَعِيفا لَيْسَ من شَرطه أَو يكون مَقْبُولًا عِنْده غير أَنه عدل عَنهُ اسْتغْنَاء بِغَيْرِهِ وَالله أعلم
فصل سَبَب ترك البُخَارِيّ إِخْرَاج الحَدِيث عَن طَرِيق الشَّافِعِي وَالَّذِي نقُول فِي تَركه الإحتجاج بِحَدِيث الشَّافِعِي إِنَّمَا تَركه لَا لِمَعْنى يُوجب ضعفه لَكِن غَنِي عَنهُ بِمَا هُوَ أَعلَى مِنْهُ وَذَلِكَ أَن أقدم شُيُوخ الشَّافِعِي الثِّقَات الَّذين روى عَنْهُم مَالك بن أنس وَعبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد الدَّرَاورْدِي وَدَاوُد بن عبد الرَّحْمَن الْعَطَّار وسُفْيَان بن عُيَيْنَة
وَالْبُخَارِيّ لم يدْرك الشَّافِعِي وروى عَن من كَانَ أكبر مِنْهُ سنا وأقدم مِنْهُ سَمَاعا مثل مكي بن إِبْرَاهِيم الْبَلْخِي وَعبيد الله بن مُوسَى الْعَبْسِي وَأبي عَاصِم الشَّيْبَانِيّ وَمُحَمّد بن عبد الله الْأنْصَارِيّ وَخلق يطول ذكرهم
وَهَؤُلَاء الَّذين سميتهم رووا عَن بعض التَّابِعين
وحدثه أَيْضا عَن شُيُوخ الشَّافِعِي جمَاعَة كَعبد الله بن مسلمة القعْنبِي وَعبد الله بن يُوسُف
হয় বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعيف) হবেন যা তাঁর শর্ত অনুযায়ী নয়, অথবা তিনি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) হবেন কিন্তু অন্যের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাওয়ায় তিনি তাঁর থেকে বিমুখ হয়েছেন। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি কর্তৃক ইমাম শাফিয়ির সূত্রে হাদিস বর্ণনা বর্জনের কারণ ইমাম শাফিয়ির হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) বর্জন করার বিষয়ে আমরা যা বলি তা হলো—তিনি তাঁকে এমন কোনো কারণে বর্জন করেননি যা তাঁর দুর্বলতা (ضعف) সাব্যস্ত করে; বরং তাঁর চেয়েও উচ্চতর সনদের মাধ্যমে তিনি তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন। আর বিষয়টি হলো এই যে, ইমাম শাফিয়ির প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য (الثقات) শায়খগণ যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন—মালিক বিন আনাস, আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দি, দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার এবং সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ।
ইমাম বুখারি ইমাম শাফিয়িকে পাননি এবং তিনি এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন যারা বয়সে তাঁর চেয়ে বড় ছিলেন এবং শ্রবণ (سماع) করার ক্ষেত্রেও তাঁর চেয়ে অগ্রজ ছিলেন। যেমন—মাক্কি বিন ইব্রাহিম আল-বালখি, উবায়দুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি, আবু আসিম আল-শাইবানি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি যাদের নাম উল্লেখ করা দীর্ঘসাধ্য।
আর আমি যাদের নাম উল্লেখ করেছি তাঁরা কতিপয় তাবিঈর (التابعين) নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।
এছাড়াও একদল বর্ণনাকারী ইমাম শাফিয়ির শায়খদের থেকে তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন—আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা আল-কা'নাবি এবং আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
التنيسِي وَإِسْمَاعِيل بن أبي أويس وَعبد الْعَزِيز الأويسي وَيحيى بن قزعة وَأبي نعيم الْفضل بن دُكَيْن وخَالِد بن مخلد وَأحمد بن يُونُس وقتيبة بن سعيد
وَهَؤُلَاء كلهم رووا عَن مَالك وَمِنْهُم من روى عَن الدَّرَاورْدِي وكسعيد بن أبي مَرْيَم الْمصْرِيّ وَأبي غَسَّان النَّهْدِيّ وَعبد الله بن الزبير الْحميدِي وَعلي بن الْمَدِينِيّ
وَهَؤُلَاء رووا عَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَفِيهِمْ من يحدث عَن دَاوُد بن عبد الرَّحْمَن الْعَطَّار
وَغير من ذكرت أَيْضا مِمَّن أدْرك شُيُوخ الشَّافِعِي قد كتب عَنهُ البُخَارِيّ
فَلم ير أَن يروي عَنهُ حَدِيثا عَن رجل عَن الشَّافِعِي عَن مَالك وَقد حَدثهُ بِهِ غير وَاحِد عَن مَالك كَمَا رَوَاهُ الشَّافِعِي مَعَ كَون الَّذِي حَدثهُ بِهِ أكبر من الشَّافِعِي سنا وأقدم سَمَاعا
তিন্নীসী, ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস, আব্দুল আজিজ আল-উওয়াইসী, ইয়াহইয়া বিন কাযাআহ, আবু নুয়াইম আল-ফাযল বিন দুকাইন, খালিদ বিন মাখলাদ, আহমদ বিন ইউনুস এবং কুতাইবাহ বিন সাঈদ।
তাঁরা সবাই ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাঁরা আদ-দারাওয়ারদী থেকেও বর্ণনা করেছেন; যেমন: সাঈদ বিন আবি মারইয়াম আল-মিসরী, আবু গাসসান আন-নাহদী, আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর আল-হুমাইদী এবং আলী বিন আল-মাদীনী।
তাঁরা সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেন।
আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁরা ছাড়াও ইমাম শাফিঈর উস্তাদদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এমন আরও অনেক বর্ণনাকারীর নিকট থেকে ইমাম বুখারি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন।
তাই তিনি কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে শাফিঈ থেকে, আর শাফিঈর সূত্রে মালিক থেকে হাদিস বর্ণনা করার প্রয়োজন মনে করেননি। কারণ ইমাম শাফিঈ যেভাবে ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, ঠিক সেভাবেই একাধিক ব্যক্তি তাঁর (বুখারির) কাছে মালিকের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ওই বর্ণনাকারীরা বয়সে শাফিঈর চেয়ে বড় ছিলেন এবং তাঁদের শ্রবণের (سماع) সময়কালও ছিল অধিক প্রাচীন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
إعتراض البُخَارِيّ روى فِي صَحِيحه حَدِيثا نازلا وَهُوَ عِنْده عَال فَإِن قيل فقد أورد البُخَارِيّ فِي صَحِيحه نازلا حَدِيثا كَانَ عِنْده عَالِيا وَهُوَ حَدِيث مدعم رَوَاهُ عَن إِسْمَاعِيل بن أبي أويس عَن مَالك وَرَوَاهُ أَيْضا عَن عبد الله بن مُحَمَّد المسندي عَن مُعَاوِيَة بن عَمْرو عَن أبي اسحق الْفَزارِيّ عَن مَالك وَهَذَا الحَدِيث فِي الْمُوَطَّأ
وَلَا شكّ أَن البُخَارِيّ قد سَمعه من غير وَاحِد من أَصْحَاب مَالك إِذْ كَانَ قد لَقِي جمَاعَة مِمَّن روى لَهُ الْمُوَطَّأ عَن مَالك
ইমাম বুখারীর প্রতি আপত্তি: তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে একটি নিম্ন-সনদ (نازل) হাদিস বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁর নিকট সেটির উচ্চ-সনদ (عال) বিদ্যমান ছিল যদি বলা হয় যে, ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এমন একটি নিম্ন-সনদ (نازل) হাদিস উল্লেখ করেছেন যা তাঁর নিকট উচ্চ-সনদ (عال) হিসেবেও বিদ্যমান ছিল; আর সেটি হলো মিদ’আম সম্পর্কিত হাদিস। তিনি এটি ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস-এর সূত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার তিনি এটি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মুসনাদি-এর সূত্রে মুয়াবিয়া বিন আমর থেকে, তিনি আবু ইসহাক আল-ফাজারি থেকে এবং তিনি মালিক-এর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। আর এই হাদিসটি মুয়াত্তা গ্রন্থে রয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম বুখারী এটি ইমাম মালিকের একাধিক ছাত্রের কাছ থেকে শুনেছেন; কেননা তিনি এমন একদল ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যারা তাঁর নিকট মালিকের সূত্রে মুয়াত্তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فأعظم مَا فِي الْبَاب لَو روى عَن رجل عَن الشَّافِعِي عَن مَالك أَن يكون قد نزل عَن عالي حَدِيثه دَرَجَة وَهُوَ فِي الإعتبار أَعلَى من حَدِيث أبي إِسْحَق الْفَزارِيّ الَّذِي أخرجه بِدَرَجَة لِأَن بَينه وَبَين مَالك من طَرِيق الشَّافِعِي لَو أخرجه رجلَيْنِ وَمن طَرِيق الْفَزارِيّ ثَلَاثَة
وَهَذَا يدل عَن خلاف مَا ذكرت وينقض مَا عَلَيْهِ فِي هَذَا الْبَاب اعتمدت
البُخَارِيّ لم يرو نازلا وَهُوَ عِنْده عَال إِلَّا لِمَعْنى إِن البُخَارِيّ لم يرو فِي الصَّحِيح حَدِيثا نازلا وَهُوَ عِنْده عَال إِلَّا لِمَعْنى فِي النَّازِل لَا يجده فِي العالي أَو يكون أصلا مُخْتَلفا فِيهِ فيذكر بعض طرقه عَالِيا ويردفه بِالْحَدِيثِ النَّازِل مُتَابعَة لذَلِك القَوْل فَأَما أَن يُورد الحَدِيث النَّازِل وَهُوَ عِنْده عالي لَا لِمَعْنى يخْتَص بِهِ وَلَا على وَجه الْمُتَابَعَة لبَعض مَا اخْتلف فِيهِ فَغير مَوْجُود فِي الْكتاب
وَحَدِيث أبي اسحق الْفَزارِيّ فِيهِ بَيَان الْخَبَر وَهُوَ مَعْدُوم فِي غَيره وَأَنا أسوقه ليوقف على صِحَة مَا ذكرته
أَنبأَنَا القَاضِي أَبُو بكر أَحْمد بن الْحسن بن أَحْمد الْحَرَشِي بنيسابور ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يَعْقُوب الْأَصَم ثَنَا مُحَمَّد بن اسحق الصغاني ثَنَا مُعَاوِيَة بن عَمْرو عَن أبي اسحق عَن مَالك بن أنس قَالَ حَدثنِي ثَوْر أَخْبرنِي سَالم مولى ابْن مُطِيع أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه يَقُول افتتحنا خَيْبَر فَلم نغنم ذَهَبا وَلَا فضَّة إِنَّمَا غنمنا الْإِبِل وَالْبَقر وَالْمَتَاع والحوائط ثمَّ انصرفنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى وَادي الْقرى وَمَعَهُ عبد لَهُ يُقَال لَهُ مدعم وهبه لَهُ أحد بني الضباب فَبَيْنَمَا هُوَ يحط رَحل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ
সুতরাং এই পরিচ্ছেদে সবচেয়ে বড় কথা হলো, যদি তিনি শাফিঈর সূত্রে ইমাম মালিক থেকে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তবে তিনি তাঁর উচ্চমানের সনদ (عالي) থেকে এক ধাপ নিচে নেমে আসতেন। অথচ বিবেচনার দিক থেকে এটি আবু ইসহাক আল-ফাজারির হাদিস অপেক্ষা এক ধাপ ঊর্ধ্বে যা তিনি বর্ণনা করেছেন। কারণ তাঁর ও ইমাম মালিকের মাঝে শাফিঈর সূত্রে যদি তিনি বর্ণনা করতেন তবে দুইজন মধ্যস্থতাকারী থাকতেন, আর আল-ফাজারির সূত্রে তিনজন।
আর এটি আমি যা উল্লেখ করেছি তার বিপরীত বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে এবং এই পরিচ্ছেদে আমি যার ওপর নির্ভর করেছি তাকে খণ্ডন করে।
ইমাম বুখারি কোনো নিম্নমানের সনদ (نازل) বর্ণনা করেননি যদি তাঁর কাছে উচ্চমানের সনদ (عال) বিদ্যমান থাকে, কোনো বিশেষ কারণ ব্যতীত
নিশ্চয়ই ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে কোনো নিম্নমানের সনদ (نازل) বিশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেননি যখন তাঁর কাছে উচ্চমানের সনদ (عال) বিদ্যমান ছিল; তবে নিম্নমানের সনদে (نازل) এমন কোনো বিশেষ অর্থ বা বৈশিষ্ট্য থাকলে যা তিনি উচ্চমানের সনদে (عالي) পাননি, অথবা যদি মূল হাদিসটি মতভেদপূর্ণ হয়, তবে তিনি তার কিছু উচ্চমানের সনদ (عاليا) উল্লেখ করেন এবং সেই বক্তব্যের সমর্থনে (متابعة) নিম্নমানের সনদটি (النازل) তার অনুবর্তী হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এমন কোনো নিম্নমানের সনদ (نازل) বিশিষ্ট হাদিস উপস্থাপন করা, যা তাঁর নিকট উচ্চমানের সনদ (عالي) হিসেবে বিদ্যমান এবং তাতে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই কিংবা কোনো মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) হিসেবেও নয়—এমনটি এই কিতাবে পাওয়া যায় না।
আর আবু ইসহাক আল-ফাজারির হাদিসে সরাসরি শ্রবণের স্পষ্ট বর্ণনা (بيان الخبر) রয়েছে যা অন্যগুলোতে অনুপস্থিত। আমি এটি বর্ণনা করছি যাতে আমি যা উল্লেখ করেছি তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-হারাশি নিশাপুরে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন আমর, আবু ইসহাক থেকে, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাওর, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মুতি’র মুক্তদাস সালেম যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: আমরা খায়বার জয় করলাম, তবে আমরা গনিমত হিসেবে কোনো সোনা বা রুপা লাভ করিনি। আমরা কেবল উট, গরু, আসবাবপত্র এবং বাগান গনিমত হিসেবে পেয়েছিলাম। অতঃপর আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ওয়াদি আল-কুরা অভিমুখে রওনা হলাম। তাঁর সাথে মিদ’আম নামক জনৈক দাস ছিল, যাকে বনু দ্বাবাব গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে উপহার দিয়েছিল। যখন সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আসবাবপত্র নামাচ্ছিল, হঠাৎ তাঁর কাছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
سهم عائر حَتَّى أصَاب ذَلِك العَبْد فَقَالَ النَّاس هَنِيئًا لَهُ الشَّهَادَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بل وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن الشملة الَّتِي أَصَابَهَا يَوْم خَيْبَر من الْمَغَانِم لم تصبها المقاسم لتشتعل عَلَيْهِ نَارا فجَاء رجل حِين سمع ذَلِك من النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِشِرَاك أَو بِشِرَاكَيْنِ فَقَالَ هَذَا شَيْء كنت أصبته فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شرك أَو شراكان من نَار
فَلْينْظر كَيفَ قد جود أَبُو اسحق رِوَايَة هَذَا الحَدِيث وَحكى فِيهِ سَماع مَالك من ثَوْر بن زيد وَسَمَاع ثَوْر من سَالم وَسَمَاع سَالم من أبي هُرَيْرَة
وَأما أَصْحَاب مَالك عبد الله بن وهب ومعن بن عِيسَى وَأَبُو قُرَّة مُوسَى بن طَارق وَمُحَمّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي وَمُحَمّد بن الْحسن الشَّيْبَانِيّ وَعبد الله بن مسلمة القعني وَإِسْمَاعِيل بن أبي أويس وَسَعِيد بن كثير بن عفير وَأَبُو مُصعب أَحْمد بن أبي بكر الزُّهْرِيّ وَمصْعَب بن
একটি লক্ষ্যহীন তীর এসে সেই দাসের গায়ে বিঁধল। তখন উপস্থিত লোকজন বলতে লাগল, ‘তার জন্য শাহাদাতের অভিনন্দন।’ কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘কখনোই নয়, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! খায়বারের যুদ্ধের দিন গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বেই সে যে চাদরটি আত্মসাৎ করেছিল, তা অবশ্যই তার উপর আগুনের লেলিহান শিখা হয়ে জ্বলছে।’ যখন জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে এটি শুনল, তখন সে একটি বা দুটি জুতার ফিতা নিয়ে এল এবং বলল, ‘এটি আমি গ্রহণ করেছিলাম।’ তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আগুনের একটি বা দুটি ফিতা।’
সুতরাং লক্ষ্য করা উচিত যে, আবু ইসহাক এই হাদিসের বর্ণনাকে (رواية) কতটা নিপুণ (جود) করেছেন এবং এতে তিনি মালেকের সাওর ইবনে যাইদ থেকে শ্রবণ (سماع), সাওরের সালেম থেকে শ্রবণ (سماع) এবং সালেমের আবু হুরায়রা থেকে শ্রবণের (سماع) কথা বর্ণনা করেছেন।
আর মালেকের শাগরিদদের (أصحاب) মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, মা'ন ইবনে ঈসা, আবু কুররাহ মুসা ইবনে তারিক, মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-শাফিঈ, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-শায়বানি, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল-ক্বানাবী, ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস, সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফাইর, আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবি বকর আল-জুহরি এবং মুসআব ইবনে
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
عبد الله الزبيرِي وسُويد بن سعيد فَإِنَّهُم جَمِيعًا رَوَوْهُ من غير بَيَان خبر وَلَا نَص سَماع
أَنا القَاضِي أَبُو بكر بن الْحسن الْحِيرِي ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يَعْقُوب الْأَصَم قَالَ أَنا مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم قَالَ أَنا ابْن وهب قَالَ أَخْبرنِي مَالك بن أنس
وَأَنا أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن الْفضل الْقطَّان قَالَ أَنا عبد الله بن اسحق بن إِبْرَاهِيم الْبَغَوِيّ ثَنَا إِبْرَاهِيم بن الْهَيْثَم ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس الْمدنِي حَدثنِي مَالك بن أنس
وَأَنا عبد الرَّحْمَن بن عبيد الله الْحَرْبِيّ وَعُثْمَان بن مُحَمَّد بن يُوسُف العلاف قَالَا أَنا مُحَمَّد بن عبد الله ابْن إِبْرَاهِيم حَدثنِي اسحق الْحَرْبِيّ ثَنَا عبد الله بن مسلمة القعْنبِي عَن مَالك
وأنبأنا القَاضِي أَبُو عمر الْقَاسِم بن جَعْفَر بن عبد الْوَاحِد الْهَاشِمِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن سُفْيَان المعمري قَالَ ثَنَا إِسْمَاعِيل بن اسحق القَاضِي قَالَ ثَنَا أَبُو مُصعب أَحْمد بن أبي بكر قَالَ ثَنَا مَالك بن أنس
وَأَنا عَليّ بن أبي عَليّ الْمعدل قَالَ ثَنَا عبيد الله بن مُحَمَّد بن اسحق الْبَزَّار قَالَ ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الْعِزّ قَالَ ثَنَا مُصعب بن عبد الله الزبيرِي قَالَ ثَنَا مَالك
وَأَخْبرنِي عبيد الله بن أبي الْفَتْح الْفَارِسِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن المظفر الْحَافِظ قَالَ أَنا مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الباغندي قَالَ قَرَأَ عَليّ سُوَيْد مَالك
وَأَنا أَبُو بكر أَحْمد بن مُحَمَّد بن غَالب الْخَوَارِزْمِيّ قَالَ قَرَأت على أبي بكر الْإِسْمَاعِيلِيّ أخْبركُم هَارُون بن يُوسُف قَالَ ثَنَا ابْن أبي عمر قَالَ ثَنَا معن عَن مَالك
وَأَنا القَاضِي أَبُو الْعَلَاء مُحَمَّد بن عَليّ بن يَعْقُوب الوَاسِطِيّ قَالَ أَنا عبد الله بن مُحَمَّد بن عُثْمَان الْمدنِي الْحَافِظ أَنا الْمفضل بن مُحَمَّد الجندي قَالَ ثَنَا أَبُو حمه مُحَمَّد بن يُوسُف ثَنَا أَبُو قُرَّة قَالَ ذكر مَالك
আব্দুল্লাহ আল-জুবায়রি এবং সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ, কারণ তারা উভয়েই বর্ণনার (رواه) সুস্পষ্ট বিবরণ (خبر) অথবা শ্রবণের (سماع) কোনো পাঠ উল্লেখ করা ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন।
বিচারক আবু বকর ইবনুল হাসান আল-হিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)।
এবং আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), ইব্রাহিম ইবনুল হাইসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আল-মাদানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন (حدثني)।
এবং আব্দুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-হারবি ও উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-আল্লাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তারা উভয়ই বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), ইসহাক আল-হারবি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন (حدثني), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কা'নাবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), তিনি মালিক থেকে (عن) বর্ণনা করেন।
এবং বিচারক আবু ওমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান আল-মা'মারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), বিচারক ইসমাইল ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবি বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মালিক ইবনে আনাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا)।
এবং আলী ইবনে আবি আলী আল-মুআদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-বাজজার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ইজ্জ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুবায়রি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মালিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا)।
এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি ফাতহ আল-ফারিসি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), হাফিজ (الحافظ) মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগিন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেন: সুওয়াইদ আমার নিকট মালিকের বর্ণনা পাঠ (قرأ) করেছেন।
এবং আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব আল-খাওয়ারিজমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেন: আমি আবু বকর আল-ইসমাঈলির নিকট পাঠ (قرأت) করেছি যে, হারুন ইবনে ইউসুফ আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبركم), ইবনে আবি ওমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), মা'ন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), তিনি মালিক থেকে (عن) বর্ণনা করেন।
এবং বিচারক আবু আল-আলা মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াকুব আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), হাফিজ (الحافظ) আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-মাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আল-মুফাজ্জল ইবনে মুহাম্মদ আল-জুন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবু হাম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), আবু কুররাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا), তিনি বলেন: মালিক উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَأَنا أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن عُثْمَان بن الْقَاسِم الدِّمَشْقِي فِي كِتَابه إِلَيْنَا ثَنَا أَبُو عَليّ الْحسن بن حبيب ابْن عبد الْملك الْفَقِيه قَالَ أَنبأَنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان أَنبأَنَا الشَّافِعِي قَالَ أَنبأَنَا مَالك
وَأَخْبرنِي الْحسن بن أبي طَالب ثَنَا مُحَمَّد بن المظفر ثَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد بن سَلامَة الطَّحَاوِيّ ثَنَا أَبُو إِبْرَاهِيم الْمُزنِيّ ثَنَا الشَّافِعِي أَنبأَنَا مَالك
وأنبأنا الْحسن بن أبي بكر بن شَاذان قَالَ أَنبأَنَا القَاضِي أَبُو نصر أَحْمد بن نصر بن مُحَمَّد بن اسكاب البُخَارِيّ ثَنَا عبد الله بن عبد الْوَهَّاب الْقزْوِينِي ثَنَا إِسْمَاعِيل بن توبه ثَنَا مُحَمَّد بن الْحسن عَن مَالك بن أنس
وَأَخْبرنِي عَتيق بن سَلامَة بن نصر بن عبد الله الْأنْصَارِيّ ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن عمر بن مُحَمَّد الْمصْرِيّ ثَنَا أَحْمد بن بهزاد الْفَارِسِي ثَنَا عبيد الله بن سعيد بن كثير بن عفير حَدثنِي أبي حَدثنِي مَالك
عَن ثَوْر بن زيد عَن أبي الْغَيْث مولى مُطِيع عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم خَيْبَر فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ نَحْو مَا تقدم
وَهَكَذَا رَوَاهُ عَن مَالك عبد الرَّحْمَن بن الْقَاسِم وَيحيى بن عبد الله بن بكير المصريان
وَالْبُخَارِيّ يتبع الْأَلْفَاظ بالْخبر فِي بعض الْأَحَادِيث ويراعيها لأسباب
আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে কাসিম আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট প্রেরিত তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আলি হাসান ইবনে হাবিব ইবনে আব্দুল মালিক আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন: রাবি ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)।
হাসান ইবনে আবি তালিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আত-তহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু ইব্রাহিম আল-মুজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)।
হাসান ইবনে আবি বকর ইবনে শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: কাজি আবু নাসর আহমদ ইবনে নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসকাব আল-বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-কাজউইনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), ইসমাইল ইবনে তাওবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), মালিক ইবনে আনাস থেকে।
আতিক ইবনে সালামাহ ইবনে নাসর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আহমদ ইবনে বেহজাদ আল-ফারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কাসির ইবনে উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), মালিক আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني)।
সাওর ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি মুতির মুক্তদাস আবু আল-গাইস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা খাইবার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম... এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
এভাবেই মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) দুই মিশরীয় বর্ণনাকারী—আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর।
আর বুখারি কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে বর্ণনার (خبر) শব্দাবলি অনুসরণ করেন এবং বিশেষ কিছু কারণে তা রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقد كَانَ بعض النَّاس أنكر قَول أبي هُرَيْرَة خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم خَيْبَر لِأَن أَبَا هُرَيْرَة إِنَّمَا قدم فِي أثْنَاء الْوَقْعَة فَأخْرج البُخَارِيّ حَدِيث أبي اسحق لتجويده وَإِسْنَاده إِذْ فِيهِ قطع لعذر من اعْترض عَلَيْهِ بتجويز كَونه مُرْسلا مَقْطُوعًا أَو مدلسا غير مسموع وَتَأَول قَوْله ففتحنا خَيْبَر أَنه أَرَادَ بذلك إِدْرَاكه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَر أثْنَاء الْوَقْعَة لَا أَنه أَرَادَهُ كَونه مَعَه فِي ابتدائها وَكَذَلِكَ كَانَت قَضِيَّة قدم على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عقيب فَتحه بعض حصون خَيْبَر فَشهد بَقِيَّة الْفَتْح وَسَار مَعَه لما قفل من غزوته
وَقد أورد البُخَارِيّ فِي الْجَامِع لحَدِيث أبي اسحق نَظَائِر إِذا تأملها النَّاظر تبين صِحَة مَا قُلْنَا
لَا يُوجد للشَّافِعِيّ حَدِيث على شَرط البُخَارِيّ أغرب بِهِ وَأَنا اعْتبرنَا رِوَايَات الشَّافِعِي الَّتِي ضمنهَا كتبه فَلم نجد فِيهَا حَدِيثا وَاحِدًا على شَرط البُخَارِيّ أغرب بِهِ وَلَا تفرد بِمَعْنى فِيهِ يشبه مَا بَيناهُ فِي حَدِيث أبي اسحق ونلزم البُخَارِيّ إِخْرَاجه من طَرِيقه وَإِن كَانَ لَا يلْزمه
কিছু লোক আবু হুরায়রা (রা.)-এর এই উক্তিটি অস্বীকার করেছেন যে, "আমরা খায়বারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হয়েছিলাম," কারণ আবু হুরায়রা (রা.) মূলত যুদ্ধের মাঝপথে উপস্থিত হয়েছিলেন। অতঃপর বুখারি আবু ইসহাকের হাদিসটি এর গুণগত মান এবং এর সনদের (إسناد) কারণে সংকলন করেছেন; যেহেতু এতে সেই সকল ব্যক্তির ওজর বা আপত্তির অবসান ঘটে যারা এটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل), ছিন্ন (مقطوع) অথবা লুকায়িত (مدلس) ও সরাসরি না শোনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে আপত্তি তুলেছিলেন। এবং তাঁর এই উক্তি "অতঃপর আমরা খায়বার জয় করলাম"-এর ব্যাখ্যা এই যে, এর দ্বারা তিনি যুদ্ধের মাঝপথে খায়বারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হওয়াকে বুঝিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই তাঁর সাথে থাকাকে নয়। আর বিষয়টি এমনই ছিল যে, তিনি খায়বারের কিছু দুর্গ বিজয়ের অব্যবহিত পরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন; অতঃপর তিনি বিজয়ের বাকি অংশে উপস্থিত ছিলেন এবং যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়ও তাঁর সাথে পথ চলেছিলেন।
আর বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থে আবু ইসহাকের হাদিসের এমন কিছু নজির উল্লেখ করেছেন যা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আমাদের বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (صحة) স্পষ্ট হয়ে যায়।
ইমাম শাফিঈর এমন কোনো হাদিস নেই যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী তিনি এককভাবে (أغرب) বর্ণনা করেছেন
আমরা ইমাম শাফিঈর সেই বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনা করেছি যা তিনি তাঁর গ্রন্থাবলীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কিন্তু সেখানে বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী এমন একটি হাদিসও পাইনি যা তিনি এককভাবে (أغرب) বর্ণনা করেছেন। অথবা তিনি এমন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে একক (تفرد) হননি যা আবু ইসহাকের হাদিসের ব্যাপারে আমরা যা ব্যাখ্যা করেছি তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার ফলে আমরা বুখারিকে তাঁর বর্ণিত সূত্র (طريق) থেকে হাদিসটি গ্রহণে বাধ্য করতে পারি, যদিও তাঁর ওপর তা আবশ্যক ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَإِذ قد بَينا الْوَجْه الَّذِي لأَجله خنى البُخَارِيّ عَن إِخْرَاج حَدِيث الشَّافِعِي فِي صَحِيحه فَمثله القَوْل فِي ترك مُسلم بن الْحجَّاج إِيَّاه لإدراكه مَا أدْرك البُخَارِيّ من ذَلِك
رِوَايَة أبي داؤد لحَدِيث الشَّافِعِي وَأما أَبُو دَاوُد السجسْتانِي فقد أخرج فِي كِتَابه الَّذِي جمع السّنَن فِيهِ عَن الشَّافِعِي غير حَدِيث من ذَلِك
مَا أخبرنَا القَاضِي أَبُو عمر الْقَاسِم بن جَعْفَر بن عبد الْوَاحِد الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو عَليّ مُحَمَّد بن أَحْمد اللؤْلُؤِي ثَنَا أَبُو دَاوُد ثَنَا ابْن السَّرْح وَإِبْرَاهِيم بن خَالِد هُوَ أَبُو ثَوْر الْكَلْبِيّ فِي آخَرين قَالُوا ثَنَا مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي حَدثنِي عمي مُحَمَّد بن عَليّ بن شَافِع عَن عبد الله بن عَليّ بن السَّائِب عَن نَافِع بن عجير ابْن عبد يزِيد بن ركانه أَن ركَانَة بن عبد يزِيد طلق امْرَأَته سهيمة الْبَتَّةَ فَأخْبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بذلك فَقَالَ وَالله مَا أردْت إِلَّا وَاحِدَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالله مَا أردْت إِلَّا وَاحِدَة فَقَالَ ركَانَة وَالله مَا أردْت إِلَّا وَاحِدَة فَردهَا إِلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَطلقهَا الثَّانِيَة فِي زمَان عمر وَالثَّالِثَة فِي زمَان عُثْمَان
قَالَ أَبُو دَاوُد أَوله لفظ إِبْرَاهِيم وَآخره لفظ ابْن السَّرْح
যেহেতু আমরা সেই প্রেক্ষিতটি বর্ণনা করেছি যার কারণে ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইমাম শাফেয়ির হাদিস সংকলন (إخراج) করা থেকে বিরত থেকেছেন, সেহেতু মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজের তা বর্জন করার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ ইমাম বুখারি যা অনুধাবন করেছিলেন, তিনিও এই বিষয়ে তা-ই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।
ইমাম শাফেয়ির হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু দাউদের বর্ণনা আর আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি তাঁর গ্রন্থ—যাতে তিনি সুনান সংকলন করেছেন—তাতে ইমাম শাফেয়ি থেকে একাধিক হাদিস সংকলন (أخرج) করেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু ওমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-লুলুই, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুস সারহ এবং ইব্রাহিম ইবনে খালিদ—যিনি আবু সাওর আল-কালবি—এবং আরও অনেকে। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার চাচা মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে শাফে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি নাফি ইবনে উজাইর ইবনে আবদ ইয়াজিদ ইবনে রুকানা থেকে বর্ণনা করেন যে, রুকানা ইবনে আবদ ইয়াজিদ তাঁর স্ত্রী সুহাইমাকে 'বাত্তাহ' (চূড়ান্তভাবে) তালাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি কেবল একটিরই (এক তালাক) নিয়ত করেছিলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহর কসম, তুমি কি কেবল একটিরই নিয়ত করেছিলে?" রুকানা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি কেবল একটিরই নিয়ত করেছিলাম।" ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর স্ত্রীর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার তালাক দেন ওমরের জামানায় এবং তৃতীয়বার তালাক দেন উসমানের জামানায়।
আবু দাউদ বলেন: এর প্রথমাংশ ইব্রাহিমের শব্দচয়ন (لفظ) এবং শেষাংশ ইবনুস সারহ-এর শব্দচয়ন (لفظ)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
من اخْرُج من الْحفاظ حَدِيث الشَّافِعِي وَأخرج لَهُ أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيّ وَمُحَمّد بن اسحق بن خُزَيْمَة النَّيْسَابُورِي وَعبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم الرَّازِيّ وَلم نرد بقولنَا هَذَا إِلَّا الْإِبَانَة ليطاول قَول من حكينا عَنهُ أَنه احْتج علينا بترك الْأَئِمَّة لَهُ على أَن التّرْك لَا يزِيد فِي حَال الْمَتْرُوك إِذا كَانَت عَدَالَته ظَاهِرَة والألسن بالثناء عَلَيْهِ ناطقة وَإِنَّمَا التَّأْثِير لذكر ينكت بِهِ الْجرْح وَترك يرد فِيهِ التَّضْعِيف والقدح وَقد كَانَ لشعبة بن الْحجَّاج مَذْهَب فِيمَن يتْرك حَدِيثه
مَذْهَب شُعْبَة فِيمَن يتْرك حَدِيثه أَنبأَنَا أَبُو الْحُسَيْن عَليّ بن مُحَمَّد بن عبد الله بن بَشرَان الْمعدل أَنبأَنَا عَليّ بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمصْرِيّ ثَنَا مُحَمَّد بن عَمْرو بن نَافِع
وأنبأنا مُحَمَّد بن عِيسَى بن عبد الْعَزِيز الهمذاني بهَا ثَنَا صَالح بن أَحْمد الْحَافِظ أَنبأَنَا عبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم قِرَاءَة ثَنَا عَليّ بن الْحسن الهسنجاني ثَنَا نعيم بن حَمَّاد قَالَ سَمِعت عبد الرَّحْمَن بن مهْدي يَقُول سَمِعت شُعْبَة وَسُئِلَ من الَّذِي يتْرك حَدِيثه قَالَ الَّذِي إِذا روى عَن المعروفين مَا لَا يعرفهُ المعروفون فَأكْثر طرح حَدِيثه وَإِذا اتهمَ بِالْكَذِبِ طرح حَدِيثه يَعْنِي إِذا صَحَّ عَلَيْهِ وَإِذا روى حَدِيثا غَلطا مجمعا عَلَيْهِ فَلم يتهم نَفسه فيتركه طرح حَدِيثه وَإِذا أَكثر الْغَلَط يتْرك حَدِيثه وَمَا كَانَ غير ذَلِك فارو عَنهُ دخل لفظ أحد الْحَدِيثين فِي الآخر
হাফিজগণের (الحفاظ) মধ্যে যারা ইমাম শাফিঈর হাদিস উদ্ধৃত করেছেন আবু ঈসা তিরমিযী, মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আন-নাইসাবুরী এবং আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম আর-রাজি তাঁর হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। আমাদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য কেবল এটিই সুস্পষ্ট করা যে, আমরা তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করছি যারা আমাদের বিরুদ্ধে এই বলে দলিল পেশ করে যে, ইমামগণ তাঁকে বর্জন করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, কোনো ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) যদি প্রকাশ্য হয় এবং মানুষের জবান তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে, তবে বর্জনীয় (متروك) হওয়ার দাবি তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। মূলত প্রভাব কেবল তখনই পড়ে যখন এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয় যার মাধ্যমে কোনো সমালোচনা (جرح) সাব্যস্ত হয়, অথবা এমন কোনো বর্জন যা দুর্বল সাব্যস্ত করা (تضعيف) বা ত্রুটি (قدح) অন্বেষণের পর্যায়ে পড়ে। হাদিস বর্জনের বিষয়ে শু'বা বিন আল-হাজ্জাজের একটি সুনির্দিষ্ট নীতি ছিল।
যাদের হাদিস বর্জন করা হবে তাদের বিষয়ে শু'বার নীতি আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বাশরান আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আমর বিন নাফে আমাদের বর্ণনা করেছেন।
এবং মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আবদুল আজিজ আল-হামদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালেহ বিন আহমদ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম পাঠ করে আমাদের শুনিয়েছেন, আলী বিন আল-হাসান আল-হাসানজানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, নুআইম বিন হাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি, আমি শু'বাকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কার হাদিস বর্জন করা হবে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি পরিচিত রাবিদের সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করে যা অন্যান্য পরিচিত রাবিগণ চেনেন না, আর যদি সে এমনটি অধিক হারে করে তবে তার হাদিস বর্জন (طرح) করা হবে। আর যখন কেউ মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (اتهم بالكذب) হয় (অর্থাৎ যখন তার মিথ্যা প্রমাণিত হয়), তখন তার হাদিস বর্জন (طرح) করা হবে। আর যখন সে এমন কোনো ভুল (غلط) হাদিস বর্ণনা করে যার ভুলের ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, অথচ সে ভুলটি বুঝতে পেরে তা বর্জন করে না, তখন তার হাদিস বর্জন (طرح) করা হবে। আর যখন সে অত্যধিক ভুল (غلط) করে, তখন তার হাদিস বর্জন (ترك) করা হবে। এছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে তার থেকে বর্ণনা করো। (এখানে দুই হাদিসের শব্দ একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করেছে)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فصل زعم إِنَّمَا عدل البُخَارِيّ عَن للاحتجاج بالشافعي لقلَّة علمه بِالْحَدِيثِ وَزعم بعض من يَدعِي الْمعرفَة أَن الشَّافِعِي إِنَّمَا عدل البُخَارِيّ عَن الِاحْتِجَاج بروايته لقلَّة علمه كَانَ بِالْحَدِيثِ وَعلله وَمَعْرِفَة أسانيده وطرقه وتمييزه صَحِيحه من سقيمه وأحوال رُوَاته ونقلته
وَهَذِه دَعْوَى متعرية عَن الْبُرْهَان مَا أنزل الله بهَا من سُلْطَان وأظن صَاحبهَا تَأَول
مَا أَنبأَنَا أَبُو نعيم الْحَافِظ ثَنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد اللَّخْمِيّ قَالَ سَمِعت عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول سَمِعت أبي يَقُول قَالَ مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي أَنْتُم أعلم بالأخبار الصِّحَاح منا فَإِذا كَانَ خبر صَحِيح فَأَعْلمنِي حَتَّى أذهب إِلَيْهِ كوفيا كَانَ أَو بصريا أَو شاميا
পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি ইমাম শাফিয়ির বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা থেকে বিরত থাকার কারণ হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা - এমন দাবির খণ্ডন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দাবিদার কোনো কোনো ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, ইমাম বুখারি ইমাম শাফিয়ির বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা থেকে বিরত থেকেছেন মূলত হাদিস, হাদিসের গূঢ় ত্রুটি (العلل), সনদসমূহ (الأسانيد) ও বর্ণনার পথসমূহ (الطرق) সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সহিহ (الصحيح) ও দুর্বল (السقيم) হাদিসের পার্থক্য নিরূপণ এবং বর্ণনাকারী (الرواة) ও বাহকদের অবস্থা সম্পর্কে যথাযথ অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে।
এটি এমন একটি দাবি যা প্রমাণহীন এবং আল্লাহ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আমার ধারণা, এই দাবির প্রবক্তা নিম্নে বর্ণিত বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা (تأول) করেছেন:
হাফিজ আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান বিন আহমদ আল-লাখমি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আল-শাফিয়ি বলেছেন, "সহিহ সংবাদসমূহ (الأخبار الصحاح) সম্পর্কে আপনারা আমাদের চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান। সুতরাং যখন কোনো সংবাদ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়, তখন আমাকে জানাবেন যাতে আমি তা গ্রহণ করি; চাই তা কুফাবাসী, বসরাবাসী কিংবা শামবাসীর বর্ণিত হোক।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فَرَأى أَن هَذَا قَول مقرّ بالتقصير يَقُول فِي قَاعِدَة مذْهبه على التَّقْلِيد وَلَيْسَ الْأَمر كَذَلِك
وَإِنَّمَا أَرَادَ الشَّافِعِي إِعْلَام أَحْمد بن حَنْبَل أَن أَصله الَّذِي بنى عَلَيْهِ مذْهبه الْأَثر دون غَيره فِيمَا ثَبت النَّص بِخِلَافِهِ وَأَشَارَ إِلَى أَن أَصْحَاب الحَدِيث أَشد عناية من غَيرهم بتصحيح الْأَحَادِيث وتعليلها وَأكْثر بحثا عَن أَحْوَال الْأمة فِي جرحها وتعديلها ليستخرج بذلك مَا فِي نفس أَحْمد ويسبره هَل يجد عِنْده طَعنا عَلَيْهِ أَو عَيْبا فِيمَا يذهب إِلَيْهِ أَو خَبرا يُخَالف أَصله أَو أثرا ينْقض قَوْله
وَهَذَا يدل على قُوَّة نَفسه فِيمَا اصله وإتقانه قَاعِدَة مذْهبه وَمَا شيده
قَول الشَّافِعِي إِذا وجدْتُم سنة خلاف قولي فَخُذُوا بهَا وَقد أَنبأَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن رزق الْبَزَّار ثَنَا دعْلج بن أَحْمد قَالَ سَمِعت أَبَا مُحَمَّد الجارودي يَقُول سَمِعت الرّبيع يَقُول سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول إِذا وجدْتُم سنة من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خلاف قولي فَخُذُوا بِالسنةِ ودعوا قولي فَإِنِّي أَقُول بهَا
وَكَيف يُوجد فِي الْأَمر مَا يُخَالف مذْهبه وعَلى الْأَثر عول وَمِنْه استنبط وَبِه أَخذ
তিনি মনে করতেন যে এটি একটি ত্রুটি স্বীকারকারী উক্তি, যা তার মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী অন্ধ অনুসরণের (تقليد) ভিত্তিতে বলা হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।
বরং ইমাম শাফেয়ী আহমদ ইবনে হাম্বলকে এটি অবহিত করতে চেয়েছিলেন যে, যে মূলনীতির (أصل) ওপর তিনি তার মাযহাব প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা হলো বর্ণনা (أثر), অন্য কিছু নয়—এমনকি যদি তার বিপরীতে কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص) সাব্যস্ত হয়। তিনি আরও ইঙ্গিত করেছেন যে, হাদিসের অনুসারীগণ অন্যদের তুলনায় হাদিসকে সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয় (تعليل) করার ক্ষেত্রে অধিক যত্নশীল। তারা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل) সংক্রান্ত বিষয়ের অনুসন্ধানে অধিক ব্যাপৃত থাকেন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি আহমদের মনের ভাব উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাকে পরীক্ষা করতে পারেন—তিনি কি তার ওপর কোনো আপত্তি (طعن) বা তার অনুসৃত পথের কোনো ত্রুটি খুঁজে পান কি না, অথবা এমন কোনো বর্ণনা (خبر) পান কি না যা তার মূলনীতির (أصل) বিরোধী কিংবা এমন কোনো বর্ণনা (أثر) যা তার বক্তব্যকে খণ্ডন করে।
আর এটি তার প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির দৃঢ়তা এবং তার মাযহাবের ভিত্তি ও কাঠামোর সুনিপুণতার প্রমাণ দেয়।
ইমাম শাফেয়ীর উক্তি: যখন তোমরা আমার বক্তব্যের বিপরীতে কোনো সুন্নাহ (سنة) পাবে, তখন সেটিই গ্রহণ করো মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজক আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দাউলাজ ইবনে আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ আল-জারুদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি—তোমরা যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার বক্তব্যের বিপরীতে কোনো সুন্নাহ (سنة) পাও, তবে সেই সুন্নাহকেই গ্রহণ করো এবং আমার বক্তব্য বর্জন করো; কেননা আমি সেই সুন্নাহর আলোকেই কথা বলি।
আর কেনই বা তার মাযহাবে এমন কিছু পাওয়া যাবে যা সুন্নাহর পরিপন্থী, অথচ তিনি বর্ণনার (أثر) ওপরই নির্ভর করেছেন, তা থেকেই মাসয়ালা উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন এবং সেটিই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَإِنَّمَا قَالَ هَذَا تَعْظِيمًا للأثر وحثا على التَّمَسُّك بالسنن
إِخْرَاج البُخَارِيّ عَن جمَاعَة هم دون الشَّافِعِي وَيبْطل قَول المعتل بِمَا ذَكرْنَاهُ فِي أول هَذَا الْفَصْل أَن البُخَارِيّ قد أخرج مِنْهُم قدم فِي الْعلم ثَابِتَة وَلَا حَالَة عِنْد أَهله ظَاهِرَة كَعبد الله بن مرّة فِي صَحِيحه أَحَادِيث عَن جمَاعَة لَيْسَ لوَاحِد وسعدان بن يحيى اللَّخْمِيّ وشبيب بن سعيد الحبطي وَطَلْحَة بن أبي سعيد وَعبد الله بن يحيى بن أبي كثير وَخلق يطول ذكرهم احْتج بأحاديثهم وَلَيْسَ يقاربون الشَّافِعِي فِي اشتهار الِاسْم وانتشار الْعلم وَبَيَان الْفضل وَصِحَّة الأَصْل
তিনি এটি বলেছেন কেবল আসরের (الأثر) প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য।
ইমাম বুখারি কর্তৃক এমন একদল রাবি থেকে হাদিস বর্ণনা করা যারা ইমাম শাফি'ঈর চেয়ে নিম্নস্তরের অজুহাত পেশকারীর দাবিটি সেই তথ্যের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায় যা আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এমন একদল রাবি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের কারোরই ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান নেই এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট কোনো স্পষ্ট মর্যাদাও নেই; যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ, সা'দান ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাখমি, শাবীব ইবনে সাঈদ আল-হাবাতি, তালহা ইবনে আবি সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির এবং এমন আরও বহু রাবি যাদের নাম উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। তিনি তাঁদের হাদিসসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (احتج), অথচ তাঁরা নাম-যশ, ইলমের প্রসার, শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ এবং বংশীয় বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ইমাম শাফি'ঈর ধারেকাছেও নন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بعض مَنَاقِب الشَّافِعِي فَإِن مناقبه أَكثر من أَن تحصى وعد مَا جمع الله فِيهِ لَا يسْتَوْفى إِذْ كَانَ الْمَخْصُوص من الدّين والرجحان الظَّاهِر الْمُبين والتقدم فِي الْمُسلمين بِمَا فاق بِهِ النظراء وسما بِهِ على الْأَكفاء فَصَارَ نَسِيج وَحده وفريد مجده وقريع دهره
ইমাম শাফিঈ-এর কতিপয় মর্যাদা কেননা তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলি সংখ্যাতীত এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে যেসব মহিমা একত্রিত করেছেন তার পূর্ণ বিবরণ দান অসম্ভব। যেহেতু তিনি ছিলেন দ্বীনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং মুসলিমদের মাঝে এমন এক অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন এবং সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছেন। ফলে তিনি আপন সত্তায় অনন্য, তাঁর মহিমায় অদ্বিতীয় এবং নিজ যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।