(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الاجتهاد القسم: أصول الفقه
الكتاب: الاجتهاد (من كتاب التلخيص لإمام الحرمين)
المؤلف: عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني، أبو المعالي، ركن الدين، الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)
المحقق: د. عبد الحميد أبو زنيد
الناشر: دار القلم , دارة العلوم الثقافية - دمشق , بيروت
الطبعة: الأولى، 1408
عدد الصفحات: 132
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইজতিহাদ (الاجتهاد) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
গ্রন্থ: ইজতিহাদ (الاجتهاد) (ইমামুল হারামাইনের আত-তালখিস গ্রন্থ থেকে)
লেখক: আবদুল মালিক বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, আবু আল-মাআলি, রুকনুদ্দিন, ইমামুল হারামাইন উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৪৭৮ হি.)
সম্পাদক: ড. আবদুল হামিদ আবু জুনাইদ
প্রকাশক: দারুল কালাম, দারাতুল উলূম আস-সাকাফিয়্যাহ - দামেস্ক, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم = كتاب الِاجْتِهَاد =
القَوْل فِي تصويب الْمُجْتَهدين وَذكر وُجُوه الْخلاف فِيهِ اعْلَم وفقك الله ان مَا يجْرِي فِيهِ كَلَام الْعلمَاء يَنْقَسِم الى الْمسَائِل القطعية والى الْمسَائِل الاجتهادية الْعَارِية عَن ادلة الْقطع
فَأَما الْمسَائِل القطعية فتنقسم الى الْعَقْلِيَّة والسمعية
فَأَما الْعَقْلِيَّة فَهِيَ الَّتِي تنتصب فِيهَا ادلة الْقطع على الِاسْتِقْلَال
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে = ইজতিহাদ (الاجتهاد) অধ্যায় =
মুজতাহিদগণের (المجتهدين) মতের সঠিকতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে মতভেদের ধরণসমূহের বর্ণনা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—আলেমগণের আলোচনা যে সকল বিষয়ে আবর্তিত হয় তা দুই ভাগে বিভক্ত: নিশ্চিত বিষয়সমূহ (المسائل القطعية) এবং ইজতিহাদি বিষয়সমূহ (المسائل الاجتهادية) যা অকাট্য দলিল (أدلة القطع) বিবর্জিত।
আর নিশ্চিত বিষয়সমূহ (المسائل القطعية) আবার বুদ্ধিভিত্তিক (العقلية) এবং শ্রবণনির্ভর (السمعية) এই দুই ভাগে বিভক্ত।
আর বুদ্ধিভিত্তিক (العقلية) বিষয় হলো সেটি, যাতে স্বতন্ত্রভাবে অকাট্য দলিল (أدلة القطع) প্রতিষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وتفضي الى الْمطلب من غير افتقار الى تَقْرِير الشَّرْع وَذَلِكَ مُعظم مسَائِل العقائد نَحْو اثبات حدث الْعَالم واثبات الْمُحدث وَقدمه وَصِفَاته وتبيين تنزيهه عَمَّا يلْزم فِيهِ مضاهاة الْحَوَادِث واثبات الْقدر واثبات جَوَاز الرُّؤْيَة وابطال القَوْل بِخلق الْقرَان وَتَحْقِيق قدم الارادة الى غير ذَلِك من الاصول
واما الشَّرْعِيَّة فَكل مَسْأَلَة تنطوي على حكم من احكام التَّكْلِيف مَدْلُول عَلَيْهَا بِدلَالَة قَاطِعَة من نَص اَوْ اجماع
وَقد اخْتلفت عِبَارَات اصحابنا اذ سئلوا عَن تَحْدِيد مسَائِل الاصول فَذكر القَاضِي عِبَارَات فِي مصنفاته فَقَالَ فِي بَعْضهَا حد الاصل مَالا يجوز التَّعَبُّد فِيهِ الا بِأَمْر وَاحِد فيندرج تَحت هَذَا الْحَد مسَائِل الِاعْتِقَاد وَيخرج عَنهُ مسَائِل الشَّرْع أجمع قطعيها ومجتهدها
وَقَالَ مرّة اخرى حد الاصل يَصح من النَّاظر العثور فِيهِ على الْعلم من غير تَقْدِير وُرُود الشَّرْع
وزيف فِي هَذَا الْكتاب مَا ذكره فِي كتبه وَقَالَ لَا يَنْبَغِي ان نحد
এবং এগুলো শরিয়তের অনুমোদনের (تقرير الشرع) মুখাপেক্ষী না হয়েই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আর তা হলো আকিদাহ (العقائد) সংক্রান্ত অধিকাংশ মাসআলা; যেমন: মহাবিশ্বের নশ্বরতা প্রমাণ করা, এর স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করা, তাঁর অনাদিত্ব ও গুণাবলী প্রমাণ করা, এবং সৃষ্টির সাদৃশ্যতা আবশ্যক করে এমন বিষয়সমূহ থেকে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা; এছাড়া তাকদির (القدر) সাব্যস্ত করা, (আল্লাহকে) দেখার বৈধতা প্রমাণ করা, কুরআন সৃষ্টির মতবাদ বাতিল করা এবং (আল্লাহর) ইচ্ছার অনাদিত্ব নিশ্চিত করা—এসবই মূলনীতিসমূহের (الاصول) অন্তর্ভুক্ত।
আর শরিয়ত সম্পর্কিত মাসআলাগুলো হলো সেই সব বিষয় যা শারিয়াতী দায়িত্বের (التكليف) কোনো না কোনো বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা নস (نص) অথবা ইজমা (اجماع) থেকে প্রাপ্ত অকাট্য প্রমাণ (دلالة قاطعة) দ্বারা নির্দেশিত হয়।
আমাদের ইমামগণের বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে যখন তাঁদের কাছে মূলনীতিসমূহের (الاصول) মাসআলাগুলোর সংজ্ঞা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আল-কাজী তাঁর গ্রন্থসমূহে বিভিন্ন সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। তিনি কোনো কোনো স্থানে বলেছেন: মূলনীতির (الاصل) সংজ্ঞা হলো এমন বিষয় যাতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পন্থায় আনুগত্য করা বৈধ। এই সংজ্ঞার অধীনে বিশ্বাসের (الاعتقاد) মাসআলাগুলো অন্তর্ভুক্ত হয় এবং শরিয়তের সমস্ত মাসআলা—হোক তা অকাট্য (قطعي) কিংবা ইজতিহাদী (مجتهد)—এর থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: মূলনীতির (الاصل) সংজ্ঞা হলো সেই বিষয় যাতে একজন গবেষকের পক্ষে শরিয়ত আসার বিষয়টি কল্পনা করা ছাড়াই জ্ঞান লাভ করা সম্ভবপর হয়।
তিনি তাঁর এই গ্রন্থে সেইসব বিষয়কে দুর্বল প্রতিপন্ন করেছেন যা তিনি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছেন: আমাদের সংজ্ঞা প্রদান করা উচিত নয়
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بِهَذِهِ وامثالها اصول الدّين اذ يدْخل عَلَيْهَا وجوب معرفَة الْبَارِي وَمَعْرِفَة صِفَاته وَوُجُوب معرفَة النُّبُوَّة فوجوب معرفَة هَذِه الاصول من اصول الدّين فَلَا سَبِيل الى الحاق هَذَا الْقَبِيل بمسائل الْفُرُوع مَعَ علمنَا بِأَن الْوُجُود لَا يثبت الا شرعا فَبَطل من هَذَا الْوَجْه حصر مسَائِل الاصول فِي العقليات وَلذَلِك يجوز تَقْدِير نسخ وجوب الْمعرفَة عندنَا فَكل مَا ثَبت اصله بِالشَّرْعِ يجوز فِيهِ تَقْدِير النّسخ
فالحد الصَّحِيح الَّذِي عول عَلَيْهِ فِيمَا هُوَ من اصول الدّين ان قَالَ كل مَسْأَلَة يحرم الْخلاف فِيهَا مَعَ اسْتِقْرَار الشَّرْع وَيكون مُعْتَقد خلَافهَا جَاهِلا فَهِيَ من الاصول سَوَاء استندت الى العقليات ام لم تستند اليها
فَإِن قَالَ قَائِل فالعقليات الَّتِي يتَكَلَّم فِيهَا ارباب الْكَلَام وَيَقَع الِاسْتِقْلَال بذواتها فِي العقائد تعد من الاصول وَلَا يتَحَقَّق فِيهَا تَحْرِيم الْخلاف
قُلْنَا ان كَانَت مناطة بقاعدة من قَوَاعِد الدّين وان كَانَت من
এই বিষয়গুলো এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোই হলো দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين); কেননা এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে স্রষ্টাকে জানার আবশ্যকতা, তাঁর গুণাবলি (صفات) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং নবুওয়াত (نبوة) সম্পর্কে জানার আবশ্যকতা। সুতরাং এই মূলনীতিগুলো জানার আবশ্যকতা দ্বীনের মূলনীতিরই (أصول الدين) অংশ। তাই এই জাতীয় বিষয়গুলোকে শাখা বিষয়সমূহের (فروع) মাসআলার সাথে সংযুক্ত করার কোনো অবকাশ নেই, যেহেতু আমাদের জানা আছে যে এর আবশ্যকতা শরয়ি পদ্ধতি (شرعا) ব্যতীত প্রমাণিত হয় না। এ কারণে মূলনীতির বিষয়গুলোকে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (عقليات) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ধারণাটি বাতিল হয়ে যায়। আর এই কারণেই আমাদের নিকট معرفة বা জ্ঞান অর্জনের আবশ্যকতা রহিত (نسخ) হওয়ার সম্ভাবনা অনুমান করা বৈধ। সুতরাং যার মূল ভিত্তি শরয়ি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তাতে রহিতকরণ (نسخ) অনুমান করা সম্ভব।
সুতরাং দ্বীনের মূলনীতির (أصول الدين) ক্ষেত্রে যে সঠিক (صحيح) সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করা হয়েছে তা হলো: প্রত্যেক এমন মাসআলা যাতে শরয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মতভেদ করা হারাম (حرام) এবং যার বিপরীত বিশ্বাস পোষণকারী অজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত; চাই তা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (عقليات) ওপর ভিত্তি করে হোক বা না হোক।
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন, তবে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ (عقليات) যে সম্পর্কে ইলমে কালামের (كلام) বিশেষজ্ঞগণ আলোচনা করেন এবং যা আকিদাহর (عقائد) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করে, সেগুলোকেও মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়, অথচ সেগুলোতে মতপার্থক্য করা হারাম (تحريم) হওয়া সাব্যস্ত হয় না।
আমরা বলি, যদি তা দ্বীনের কোনো মৌলিক নিয়মের (قواعد) সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং যদি তা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الدقائق يحرم الْخلاف فِيهَا وان كَانَت لَا تتَعَلَّق بِشَيْء من الْقَوَاعِد فَلَا تعد من اصول الدّين وانما اعتبارنا بأصول الدّين
حكم تصويب الْمُجْتَهدين فِي الاصول فَإِذا عرفت مَا هُوَ الاصل فَلَا تقل فِيمَا هَذَا سَبيله ان كَانَ مُجْتَهد مُصِيب بل الْمُصِيب فِيهَا وَاحِد وَمن عداهُ جَاهِل مخطىء وَهَذَا مَا صَار اليه كَافَّة الاصوليين الا عبيد الله بن الْحسن الْعَنْبَري فَإِنَّهُ ذهب الى ان كل مُجْتَهد مُصِيب فِي الاصول كَمَا ان كل مُجْتَهد مُصِيب فِي الْفُرُوع
ثمَّ اخْتلفت الرِّوَايَات عَنهُ فَقَالَ فِي اشهر الرِّوَايَتَيْنِ انا اصوب كل
সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে (دقائق) মতভেদ করা নিষিদ্ধ, আর যদিও তা কোনো মূলনীতির (قواعد) সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তা দ্বীনের মূলনীতির (أصول الدين) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের বিবেচনা কেবল দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (أصول الدين) নিয়ে।
মূলনীতিসমূহের (أصول) ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের (مجتهدين) নির্ভুল হওয়ার বিধান সুতরাং আপনি যখন মূলনীতি (أصل) কী তা জানতে পারলেন, তখন এই জাতীয় বিষয়ে এমনটি বলবেন না যে, প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) নির্ভুল (مصيب)। বরং এক্ষেত্রে সত্যে উপনীত ব্যক্তি কেবল একজনই, আর তিনি ব্যতীত অন্য সবাই অজ্ঞ ও ভুলকারী (مخطئ)। অধিকাংশ উসুলবিদ (أصوليين) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন, কেবল উবায়দুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-আনবারী ব্যতীত। কেননা তিনি মনে করতেন যে, শাখাগত মাসআলাগুলোর (فروع) ন্যায় মূলনীতিসমূহের (أصول) ক্ষেত্রেও প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهদ) নির্ভুল (مصيب)।
অতঃপর তাঁর থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহের (روايات) মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়; তিনি তাঁর দুই বর্ণনার (روايتين) মধ্যে অধিকতর প্রসিদ্ধটিতে বলেছেন, "আমি প্রত্যেককে নির্ভুল বলি..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مُجْتَهد فِي الَّذين تجمعهم الْملَّة واما الْكَفَرَة فَلَا يصوبون وغلا بعض الروَاة عَنهُ فصوب الكافة من الْمُجْتَهدين دون الراكنين الى الدعة والمعرضين عَن امْر الِاجْتِهَاد وَحَقِيقَة مذْهبه يبين فِي الْخلاف فَهَذَا بَيَان اُحْدُ الْقسمَيْنِ وَهُوَ مسَائِل الاصول
حكم الْمُجْتَهدين فِي الْفُرُوع من حَيْثُ التصويب والتخطئة فاما مسَائِل الْفُرُوع فَنَذْكُر حَدهَا اولا
واصح مَا يُقَال فِيهَا ان نقُول كل حكم فِي افعال الْمُكَلّفين لم يقم عَلَيْهِ دلَالَة عقل وَلَا ورد فِي حكمه الْمُخْتَلف فِيهِ دلَالَة سمعية قَاطِعَة فَهُوَ من الْفُرُوع
মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মুজতাহিদ (مجتهد)। পক্ষান্তরে কাফিরদের ক্ষেত্রে তারা সঠিক বলেন না। তাঁর থেকে কতিপয় বর্ণনাকারী (رواة) অতিরঞ্জিত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে বিমুখ ও অলসতায় নিমগ্ন ব্যক্তিগণ ব্যতীত সকল মুজতাহিদকেই (مجتهد) সঠিক বলেছেন। তাঁর মাযহাবের প্রকৃত রূপ 'খিলাফ' অধ্যায়ে স্পষ্ট করা হবে। সুতরাং এটি দুই প্রকারের একটির বর্ণনা, যা হলো উসুল বা মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।
সঠিক সাব্যস্ত করা এবং ভুল নির্ণয় করার দিক থেকে শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত মাসআলায় মুজতাহিদগণের (مجتهد) বিধান আর শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই এর সংজ্ঞা উল্লেখ করব।
এ বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম (أصح) কথা হলো এই যে, মুকাল্লাফ ব্যক্তিদের আমল বা কার্যাবলির এমন প্রতিটি বিধান যার সপক্ষে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং যার বিতর্কিত বিধানের ব্যাপারে কোনো অকাট্য শ্রবণলব্ধ (سمعية) দলিল বর্ণিত হয়নি, তাই শাখা-প্রশাখা (فروع) এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
واذا اخْتلف فِيهِ الْعلمَاء فِي مباينة اجتهادهم فَمَا حكمهم فِي التصويب والتخطئة
فاما نفاة الْقيَاس فقد قطعُوا بَان الْمُصِيب وَاحِد وعينوه وَزَعَمُوا ان من اخطأ الْحق الْمعِين فَهُوَ مأثوم مأزور وَلم يقل بِهَذَا الْمَذْهَب من القائسين الا الاصم وَبشر المريسي فانهما زعما ان الْمُصِيب وَاحِد وَالْمَطْلُوب وَاحِد وَمن تعداه مأثوم
যখন আলেমগণ তাঁদের ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিন্নতার কারণে কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তখন সঠিক সাব্যস্তকরণ (تصويب) ও ভুল সাব্যস্তকরণের (تخطئة) ক্ষেত্রে তাঁদের বিধান কী হবে?
পক্ষান্তরে কিয়াস (قياس) অস্বীকারকারীগণ দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সত্যে উপনীত ব্যক্তি (مصيب) একজনই এবং তাঁরা তাকে নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সত্য অর্জনে ভুল করবে, সে গুনাহগার ও পাপিষ্ঠ হবে। কিয়াসপন্থী (قائسين) আলেমদের মধ্যে আল-আসাম্ম এবং বিশর আল-মারিসি ব্যতীত আর কেউ এই মত পোষণ করেননি; কেননা তাঁরা উভয়েই দাবি করেছেন যে, সত্যে উপনীত ব্যক্তি (مصيب) একজনই এবং কাম্য বিষয়ও (مطلوب) একটিই, আর যে ব্যক্তি তা লঙ্ঘন করবে সে গুনাহগার।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَصَارَ كَافَّة الْعلمَاء الى نفي الاثم والحرج فِي مسَائِل الْفُرُوع وَاخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي التصويب
فاما الشَّافِعِي رحمه الله فَلَيْسَ لَهُ فِي الْمَسْأَلَة نَص على التَّخْصِيص لَا نفيا وَلَا اثباتا وَلَكِن اخْتلف النقلَة عَنهُ المستنبطون من قضايا كَلَامه
فَذهب الاكثرون الى انه يَقُول الْمُصِيب وَاحِد ثمَّ اخْتلف هَؤُلَاءِ فَذهب بَعضهم الى انه كَانَ يَقُول الْمُجْتَهد كلف الِاجْتِهَاد والعثور على الْحق وَنصب الدَّلِيل المفضي الى الْعلم بِمَا كلف فان اصابه فَلهُ اجران وان اخطاه فالوزر محطوط عَنهُ لغموض الدَّلِيل والى هَذَا الْمَذْهَب صَار مُعظم الْقَائِلين بَان الْمُصِيب وَاحِد
وَذهب اخرون الى ان الْحق لَا دَلِيل عَلَيْهِ يُفْضِي الى الْعلم بِهِ وَلكنه كالشيء الْمكنون يتَّفق العثور عَلَيْهِ ويتفق تعريه وَلَيْسَ على الْعلم بِهِ دَلِيل
ثمَّ اخْتلف هَؤُلَاءِ فَذهب بَعضهم الى ان العثور عَلَيْهِ مِمَّا يجب على الْمُكَلف وان لم يكن عَلَيْهِ دَلِيل يُفْضِي الى الْعلم
وَذهب اخرون الى ان العثور عَلَيْهِ لَيْسَ بِوَاجِب وانما الْوَاجِب الِاجْتِهَاد وَهَذَا حَقِيقَة مَذْهَب من يَقُول ان كل مُجْتَهد مُصِيب فِي اجْتِهَاده
واما ابو حنيفَة فقد اخْتلفت الرِّوَايَة عَنهُ وَالَّذِي يَصح عَنهُ انه كَانَ
সমস্ত আলেম শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে গুনাহ এবং সংকীর্ণতা নাকচ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং এরপরে তাঁরা সঠিকতা নির্ধারণ (تصويب) নিয়ে মতভেদ করেছেন।
ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর ব্যাপারে এই মাসআলায় কোনো সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই—না তা নাকচ করার ক্ষেত্রে, না সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে। তবে তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তু থেকে যারা বিধান আহরণ করেন, সেই বর্ণনাকারীদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
তাদের অধিকাংশের অভিমত হলো, তিনি বলতেন যে সত্যে উপনীত হওয়া ব্যক্তি (مصيب) মাত্র একজন। অতঃপর এই দলটির মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে; তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, তিনি বলতেন—গবেষক (مجتهد)-কে গবেষণা (اجتهاد) করা এবং সত্য উদ্ঘাটন করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আর এমন প্রমাণ (دليل) নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা তাকে অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে। যদি সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তবে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে, আর যদি সে ভুল করে তবে প্রমাণের অস্পষ্টতার কারণে তার পাপ মার্জনা করা হবে। যারা মনে করেন যে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ব্যক্তি (مصيب) একজনই, তাদের অধিকাংশের মাযহাব এটিই।
আবার অন্য একদল মনে করেন যে, সত্যের এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ (دليل) নেই যা নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে; বরং এটি এক সুপ্ত বিষয়ের মতো, যা কখনো খুঁজে পাওয়া যায় আবার কখনো অগোচরে থেকে যায় এবং তা জানার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।
অতঃপর তাদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে; তাদের একদল মনে করেন যে, সেই সত্য উদ্ঘাটন করা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি (مكلف)-এর ওপর আবশ্যক (واجب), যদিও সে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো প্রমাণ (دليل) নেই।
অন্য দলটির মতে, সেই সত্য উদ্ঘাটন করা আবশ্যক (واجب) নয়, বরং কেবল গবেষণা (اجتهاد) করাই আবশ্যক (واجب)। আর এটিই হলো তাদের মাযহাবের প্রকৃত রূপ যারা বলেন যে—প্রত্যেক গবেষক (مجتهد) তার গবেষণায় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত (مصيب)।
আর ইমাম আবু হানিফার ব্যাপারে বর্ণনাগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে; তবে তাঁর থেকে যা বিশুদ্ধ (يصح) বলে প্রমাণিত তা হলো এই যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يَقُول كل مُجْتَهد مُصِيب فِي اجْتِهَاده واحدهم عاثر على الْحق وَالْبَاقُونَ مخطئون فِيهِ وَكلهمْ على الصَّوَاب بِالِاجْتِهَادِ
قَالَ القَاضِي وَالَّذِي توضح عندنَا من فحوى كَلَام الشَّافِعِي رحمه الله القَوْل بتصويب الْمُجْتَهدين وَقد نقل ذَلِك بعض اصحاب الشَّافِعِي عَنهُ صَرِيحًا وعد نصوصا منبئة عَمَّا قَالَه
وَالصَّحِيح من مَذْهَب الشَّافِعِي ان الْمُصِيب وَاحِد
وَذهب طَائِفَة من الْعلمَاء الى ان الْمُجْتَهد مَأْمُور بِطَلَب الاشبه وَصَارَ مُحَمَّد بن الْحسن وابو يُوسُف
প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد) তার গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্রে সঠিক; তাদের মধ্যে একজন সত্যের দেখা পান এবং বাকিরা সে বিষয়ে ভুল করেন, তবে গবেষণার (اجتهاد) কারণে তারা সকলেই সঠিকতার ওপর রয়েছেন।
কাজী (قاضي) বলেন, ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে আমাদের নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো গবেষণাকারীদের (المجتهدين) সঠিক হিসেবে গণ্য করার অভিমত। শাফিঈর কোনো কোনো অনুসারী তাঁর থেকে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি যা বলেছেন তার নির্দেশক হিসেবে কিছু বক্তব্য বা নস (نصوص) উল্লেখ করেছেন।
শাফিঈ মাযহাবের (مذهب) বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এই যে, সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ব্যক্তি মাত্র একজন।
একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, গবেষণাকারী (مجتهد) অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য আদিষ্ট। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং আবু ইউসুফও এই মতের অনুসারী হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَابْن سُرَيج فِي احدى الرِّوَايَتَيْنِ عَنهُ الى مثل ذَلِك وَلَا يتَبَيَّن الاشبه الا بتفصيل وسنقرر فِيهِ بَابا
فَهَذِهِ جملَة الْمذَاهب الَّتِي عدا القَوْل بتصويب الْمُجْتَهدين اجْتِهَادًا وَحكما
وَمَا صَار اليه الْمُعْتَزلَة قاطبة ان كل مُجْتَهد مُصِيب اجْتِهَادًا وَحكما وَمَال شَيخنَا ابو الْحسن الى ذَلِك وَهُوَ اخْتِيَار القَاضِي وكل من انْتَمَى الى الاصول الا الاستاذ ابا اسحق فانه صَار الى ان الْمُصِيب
ইবনে সুরাইজ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (الروايتين) একটিতে তিনিও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন। বিস্তারিত বিশ্লেষণ ব্যতীত অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ (الأشبه) বিষয়টি স্পষ্ট হবে না, এবং আমরা এ বিষয়ে অচিরেই একটি অধ্যায় নির্দিষ্ট করব।
সুতরাং এগুলো হলো সেই সমস্ত মাযহাবের সমষ্টি যা মুজতাহিদগণের (المجتهدين) ইজতিহাদ (اجتهادا) এবং বিধানের (حكما) ক্ষেত্রে সঠিক হওয়ার অভিমতটি ব্যতীত।
আর মুতাজিলাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো এই যে, প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) তার ইজতিহাদ (اجتهادا) ও বিধানের (حكما) ক্ষেত্রে সঠিক (مصيب)। আমাদের শায়খ আবুল হাসান এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন এবং এটিই কাজীর পছন্দ। উসুলের (الأصول) সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই এই মত গ্রহণ করেছেন কেবল উস্তাদ আবু ইসহাক ব্যতীত; কেননা তিনি মনে করেন যে সঠিক (المصيب) ব্যক্তি হলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَاحِد وَحكى الطَّبَرِيّ ذَلِك عَن ابْن فورك وَالَّذِي عندنَا انه كَانَ يَقُول بتصويب الْمُجْتَهدين
وَنحن الان نرد على الْعَنْبَري اولا ثمَّ نذْكر شبه الْقَائِلين بَان الْمُصِيب وَاحِد ونتقصى عَن جَمِيعهَا ثمَّ نذْكر ادلتنا ثمَّ نقرر بعد ذَلِك ثَلَاثَة ابواب احدها فِي الرَّد على من قَالَ كل مُجْتَهد مُصِيب فِي اجْتِهَاده وَالثَّانِي فِي الْقَائِلين بالاشبه وَالثَّالِث فِي القَوْل بالتخيير مَعَ تصويب الْمُجْتَهدين
مَسْأَلَة فِي الرَّد على الْعَنْبَريحَيْثُ قَالَ بتصويب الْمُجْتَهدين فِي مسَائِل الاصول فَنَقُول لَا يَخْلُو من اُحْدُ امرين فِي الْمُخْتَلِفين فِي نفي الصِّفَات واثباتها وَالْقَوْل بِخلق الْقُرْآن وَقدمه وَغَيرهمَا من مسَائِل الاصول
اما ان يَقُول كل وَاحِد من المذهبين حق وَهُوَ علم ثَابت مُتَعَلق بالمعلوم على مَا هُوَ بِهِ فان قَالَ ذَلِك فَهُوَ خُرُوج مِنْهُ الى
এক (واحد)। তাবারী ইবনে ফুরাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট যা (প্রতীয়মান) তা হলো তিনি মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب المجتهدين) মত পোষণ করতেন।
আমরা এখন প্রথমে আম্বারীর প্রতিবাদ করব, অতঃপর যারা বলেন যে সঠিক কেবল একজন (المصيب واحد) তাদের সংশয়গুলো উল্লেখ করব এবং সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খণ্ডন করব। এরপর আমরা আমাদের দলিলসমূহ পেশ করব। তারপর আমরা তিনটি অধ্যায় নির্ধারণ করব: প্রথমটি হলো তাদের প্রতিবাদে যারা বলেন যে প্রত্যেক মুজতাহিদ তার ইজতিহাদে সঠিক (كل مجتهد مصيب في اجتهاده), দ্বিতীয়টি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ (الأشبه) বিষয়ের প্রবক্তাদের সম্পর্কে, এবং তৃতীয়টি মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب المجتهدين) সাথে নির্বাচনের স্বাধীনতার (التخيير) মত প্রসঙ্গে।
আম্বারীর প্রতিবাদে একটি মাসয়ালাযেহেতু তিনি উসুলের (الأصول) মাসয়ালাসমূহে মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب المجتهدين) কথা বলেছেন, তাই আমরা বলি: সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকার ও সাব্যস্ত করা, কুরআন সৃজিত হওয়া বা অনাদি হওয়া এবং উসুলের অন্যান্য মাসয়ালাসমূহে মতবিরোধকারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না।
হয় তিনি বলবেন যে উভয় মতাদর্শই সত্য (حق) এবং তা জ্ঞাত বিষয়ের বাস্তব অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান; যদি তিনি এটি বলেন, তবে তা তার পক্ষ থেকে (যুক্তি হতে) বেরিয়ে যাওয়ার নামান্তর...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
السفسطة وَترك الضروريات وَجحد الْبِدَايَة فانا نعلم بضرورة الْعقل اسْتِحَالَة كَون الشَّيْء قَدِيما حَادِثا ثَابتا منفيا جَائِزا مستحيلا فَبَطل الْمصير الى هَذَا الْقسم وَتبين ان اُحْدُ الْمُجْتَهدين هُوَ الْعَالم بِحَقِيقَة مَا فِيهِ الْكَلَام وَالثَّانِي جَاهِل
فان زعم ان كل مُجْتَهد مُصِيب فِي الاصول بِمَعْنى انه لم يُكَلف الا الِاجْتِهَاد فاما العثور على الْحق فَلم يتَعَلَّق بِهِ تَكْلِيف لصعوبة مدركه وَاخْتِلَاف الاراء وغموض طرق الادلة فان سلك هَذَا المسلك فِي القَوْل بالتصويب وَقَالَ مَعَ ذَلِك بطرد مذْهبه فِي الْكفْر فقد انْسَلَّ من الدّين حِين عذر الْكفَّار فِي الاصرار على الْكفْر
فان قَالَ ذَلِك فِي الَّذين تجمعهم الْملَّة كَانَ الْكَلَام عَلَيْهِ من وَجْهَيْن
احدهما ان نقُول مَا الَّذِي حجزك عَن القَوْل بَان الْمُصِيب وَاحِد فان تمسك بغموض الادلة قيل لَهُ فَالْكَلَام فِي النبوات والاحاطة بِصِفَات المعجزات وتمييزها عَن المخاريق والكرامات اغمض عِنْد العارفين باصول
সফসতানি (السفسطة) বা ভ্রান্ত যুক্তিবিদ্যা, আবশ্যকীয় জ্ঞান (الضروريات) বর্জন করা এবং প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ অস্বীকার করা; কেননা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতার মাধ্যমেই জানি যে, একই বস্তু অনাদি ও নশ্বর হওয়া, সাব্যস্ত ও অস্বীকৃত হওয়া এবং সম্ভব ও অসম্ভব হওয়া অসম্ভব। অতএব, এই পন্থার দিকে ধাবিত হওয়া বাতিল এবং এটি স্পষ্ট যে, গবেষণাকারীদের (المجتهدين) মধ্যে একজনই উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবগত, আর দ্বিতীয়জন অজ্ঞ।
যদি কেউ দাবি করে যে, মূলনীতি (الأصول) সংক্রান্ত বিষয়ে প্রত্যেক গবেষণাকারীই (مجتهد) সত্যে উপনীত (مصيب)—এই অর্থে যে, তাকে কেবল গবেষণার (الاجتهاد) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; আর সত্য উদঘাটনের বিষয়টি তার ওপর অর্পিত হয়নি তার উপলব্ধির কাঠিন্য, মতভেদ এবং দলিলের অস্পষ্টতার কারণে—তবে সে যদি সত্য সঠিক হওয়ার (التصويب) ক্ষেত্রে এই পথ অবলম্বন করে এবং এর পাশাপাশি কুফরির বিষয়েও তার এই মতবাদকে প্রয়োগ করে, তবে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল, যেহেতু সে কাফিরদের কুফরির ওপর অটল থাকাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করল।
আর সে যদি এ কথা তাদের ক্ষেত্রে বলে যারা একই মিল্লাত বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত, তবে তার উত্তর হবে দুই দিক থেকে:
প্রথমত: আমরা বলব, কোন বিষয়টি আপনাকে এই কথা বলা থেকে বিরত রাখল যে, সত্যে উপনীত ব্যক্তি (المصيب) কেবল একজন? যদি সে দলিলের অস্পষ্টতাকে আঁকড়ে ধরে, তবে তাকে বলা হবে: নবুওয়াত, মুজেজার বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবেষ্টন করা এবং ভেলকিবাজি থেকে অলৌকিকত্বকে (الكرامات) পৃথক করার বিষয়টি মূলনীতি (أصول) বিশারদদের নিকট আরও বেশি অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الديانَات من الْكَلَام فِي الْقدر وَغَيره مِمَّا اخْتلف فِيهِ اهل الْملَّة فَهَلا عذرت الْكَفَرَة بِمَا ذكرت وَهَذَا مَا لَا محيص لَهُ عَنهُ
وَالْوَجْه الاخر من الْكَلَام ان نقُول مِمَّا خَاضَ فِيهِ اهل الْملَّة القَوْل بالتشبيه تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا وَالْقَوْل بِخلق الْقرَان الى غير ذَلِك مِمَّا يعظم خطره وَقد اجْمَعْ الْمُسلمُونَ قبل الْعَنْبَري على انه يجب على الْمُسلم ادراك بطلَان القَوْل بالتشبيه وَلَا يسوغ الاضراب عَن معرفَة هَذَا وامثاله من اصول الْحَقَائِق وَمَا قَالَ اُحْدُ مِمَّن مضى وَبَقِي انه لَا تجب معرفَة العقائد على الْحَقِيقَة بل قَالُوا قاطبة ان معرفَة العقائد وَاجِبَة على كل مُكَلّف وَهَذَا مَا لَا سَبِيل الى رده فَبَطل مَا قَالَه من كل وَجه وَقد ذكرنَا فِي خلال الْكَلَام مَا عَلَيْهِ معول الرجل
مَسْأَلَة فِي تصويب الْمُجْتَهدين فِي الْفُرُوع وَقد قدمنَا ذكر الْمذَاهب وَهَا نَحن الان نذْكر شبه الْقَائِلين بَان الْمُصِيب وَاحِد فمما سبق الى التَّمَسُّك بِهِ الْفُقَهَاء الَّذين لَا يحصلون حقائق
তাকদির (القدر) সংক্রান্ত আলোচনা এবং মিল্লাতের অনুসারীদের মধ্যে মতবিরোধপূর্ণ অন্যান্য দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে—আপনি কেন কাফেরদেরকে আপনার বর্ণিত ওজরের কারণে ক্ষমা করলেন না? অথচ এটি এমন এক বিষয় যা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই।
আলোচনার দ্বিতীয় দিকটি হলো, মিল্লাতের অনুসারীরা যেসব বিষয়ে নিবিষ্ট হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সাদৃশ্য দান (التشبيه) এর মতবাদ—আল্লাহ তাআলা তা থেকে সুউচ্চ ও মহান—এবং কুরআন সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত বক্তব্যসহ এমন সব বিষয় যার ভয়াবহতা অত্যন্ত গুরুতর। আল-আম্বরীর পূর্ববর্তী সকল মুসলিম এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, সাদৃশ্য দানের (التشبيه) বক্তব্যের অসারতা উপলব্ধি করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক এবং এই জাতীয় মৌলিক সত্যসমূহ (أصول الحقائق) জানার ক্ষেত্রে বিমুখ হওয়া বৈধ নয়। অতীত বা বর্তমানের কেউ এমন কথা বলেননি যে, আকিদা বা বিশ্বাসের স্বরূপ জানা প্রকৃতপক্ষে ওয়াজিব নয়; বরং তারা সবাই একযোগে বলেছেন যে, আকিদার জ্ঞান প্রতিটি মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। এটি প্রত্যাখ্যান করার কোনো পথ নেই। সুতরাং তার বক্তব্য সব দিক থেকেই বাতিল (باطل) প্রমাণিত হলো। আমরা আলোচনার মাঝেই উল্লেখ করেছি যে, উক্ত ব্যক্তির মূল নির্ভরতা কিসের ওপর।
মাসআলা: ফুরু বা গৌণ বিষয়ে মুজতাহিদদের (مجتهدين) সঠিক হওয়ার বিষয়টি প্রসঙ্গে আমরা ইতোমধ্যেই মাযহাবগুলোর (مذاهب) কথা উল্লেখ করেছি। এখন আমরা তাদের সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব যারা মনে করেন যে, সত্যে উপনীত ব্যক্তি কেবল একজন। এটি এমন এক বিষয় যা সেই সব ফকিহগণ (فقهاء) আঁকড়ে ধরেছেন যারা বিষয়ের গূঢ়তত্ত্ব বা হাকিকত অনুধাবন করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الاصول ان قَالُوا اذا اخْتلفت الْعلمَاء فِي تَحْلِيل وَتَحْرِيم فَلَو قُلْنَا ان كل وَاحِد مِنْهُمَا مُصِيب كَانَ ذَلِك محالا من القَوْل وجمعا بَين متنافيين فان الشَّيْء الْوَاحِد يَسْتَحِيل كَونه حَلَالا حَرَامًا واطنبوا فِيهِ وَالَّذِي ذَكرْنَاهُ يُؤَدِّي الى مقصودهم
وَالَّذِي يُقَال لَهُم اول مَا فتحتم بِهِ كلامكم غلط فان الْعين الْوَاحِدَة لَا تحل وَلَا تحرم اذ التَّحْلِيل وَالتَّحْرِيم لَا يتعلقان بالاعيان وانما يتعلقان بافعال الْمُكَلّفين فالمحرم فعل الْمُكَلف فِي الْعين والمحلل فعله فِيهِ فهما اذا شَيْئَانِ حرم احدهما وَحل الثَّانِي فَهَذَا وَجه مفاتحتهم بالْكلَام على انا نقُول لَو تتبعناكم وانما المتنافي ان يحرم الشَّيْء وَيحل على الشَّخْص الْوَاحِد فِي الْحَالة الْوَاحِدَة وَلَيْسَ هَذَا سَبِيل الْمُجْتَهدين فان كل مُجْتَهد مؤاخذ بِاجْتِهَادِهِ وتنزلت الْعين الدائرة فِي النَّفْي والاثبات بَينهمَا مَعَ اخْتِلَاف اجتهاديهما منزلَة الْعين الْمَمْلُوكَة بَين مَالِكهَا وَغير مَالِكهَا وَهِي محللة عَلَيْهِ مُحرمَة على غَيره وَكَذَلِكَ الْميتَة بَين الْمُضْطَر وَالْمُخْتَار فَهَذَا اكثر من ان يُحْصى فَبَطل ادِّعَاء التَّنَاقُض
উসূল বা মূলনীতি (الأصول) হলো, তাঁরা বলেন যে যখন আলেমগণ (العلماء) কোনো বিষয়কে বৈধকরণ (تحليل) এবং নিষিদ্ধকরণ (تحريم) এর ব্যাপারে মতভেদ করেন, তখন যদি আমরা বলি যে তাঁদের প্রত্যেকেই সত্যে উপনীত (مصيب), তবে তা হবে একটি অসম্ভব (محال) কথা এবং দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমন্বয়। কারণ একটি নির্দিষ্ট বস্তু একই সাথে হালাল ও হারাম হওয়া অসম্ভব। তাঁরা এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা তাঁদের উদ্দেশ্যকেই প্রমাণ করে।
তাঁদের উদ্দেশ্যে যা বলা হবে তা হলো, আপনাদের আলোচনার প্রারম্ভিক কথাই ভুল। কারণ কোনো নির্দিষ্ট বস্তু (عين) নিজে নিজে হালাল বা হারাম হয় না। কেননা বৈধকরণ (تحليل) ও নিষিদ্ধকরণ (تحريم) সত্তার সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং তা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি (المكلفين)-দের কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং নিষিদ্ধ হলো ওই বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যক্তির কাজ এবং বৈধ হলো তার ক্ষেত্রে ওই কাজ। অতএব এগুলো মূলত দুটি ভিন্ন বিষয়; যার একটিকে হারাম করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিকে হালাল করা হয়েছে। তাঁদের কথার এটিই হলো প্রাথমিক উত্তর। এছাড়া আমরা বলি যে, যদি আমরা আপনাদের যুক্তি অনুসরণ করি, তবে পরস্পরবিরোধিতা তখনই হতো যখন একই ব্যক্তির জন্য একই অবস্থায় কোনো বিষয় একই সাথে হারাম ও হালাল হতো। কিন্তু মুজতাহিদগণ (المجتهدين)-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী দায়বদ্ধ। দুই মুজতাহিদের ভিন্ন ভিন্ন ইজতিহাদের কারণে কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে স্বীকৃতি (إثبات) ও অস্বীকৃতি (نفي)-র যে আবর্তন ঘটে, তার উদাহরণ হলো এমন একটি মালিকানাধীন বস্তু যা তার মালিকের জন্য একরকম আর মালিকহীন ব্যক্তির জন্য আরেকরকম। সেটি মালিকের জন্য বৈধ কিন্তু অন্যের জন্য নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে নিরুপায় ব্যক্তি (المضطر) এবং সাধারণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির মধ্যে মৃত প্রাণী (الميتة)-র বিধানের ভিন্নতা। এর উদাহরণ এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। সুতরাং বৈপরীত্য বা পরস্পরবিরোধিতার দাবিটি বাতিল হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَرُبمَا يفْرض من قَالَ ان الْمُصِيب وَاحِد صورا فِي غير دَعْوَى التَّنَاقُض وَنحن نذْكر مَا يَقع بِهِ الِاسْتِقْلَال حَتَّى يسْتَدلّ بطرق الْجَواب فِيهَا على امثالها
وَمِمَّا تمسكوا بِهِ أَن قالو اذا قَالَ للْمَرْأَة زَوجهَا فِي حَال الْغَضَب وسالته الطَّلَاق انت بَائِن وَالزَّوْج شَافِعِيّ يعْتَقد ان الطَّلَاق لَا يَقع بذلك وَالْمَرْأَة حنفية تعتقد وُقُوع الطَّلَاق قَالُوا فاذا زعمتم ان كل وَاحِد مِنْهُمَا مُصِيب وَلَعَلَّهُمَا كَانَا مجتهدين فالجمع بَين القَوْل بتصويبها وتصويبه يَقْتَضِي الْجمع بَين التسليط على الِاسْتِمْتَاع وَالْمَنْع مِنْهُ فان الرجل مسلط على قَضِيَّة اعْتِقَاده على الِاسْتِمْتَاع وَمن مُوجب اعْتِقَاده انه لَا يجوز لَهَا ان تَمنعهُ استمتاعا مُبَاحا مِنْهَا لَهُ وَمن مُوجب اعتقادها التَّحْرِيم وَوُجُوب الِامْتِنَاع وَهَذَا متناقض جدا
فاول مَا نفاتحهم بِهِ ان نقُول فانتم معاشر الْقَائِلين بَان الْمُصِيب وَاحِد لَا سَبِيل لكم الى ان تنزلوا الْمَرْأَة على قَوْله أَو تنزلوا الرجل على قَوْلهَا فانكم لَا تعرفُون فِي الظَّاهِر الْمُصِيب مِنْهُمَا فَمَا وَجه جوابكم
যারা মনে করেন যে সঠিক (المصيب) মাত্র একজন, তারা সম্ভবত স্ববিরোধিতার দাবি ব্যতিরেকে অন্য কিছু অবস্থা কল্পনা করে থাকেন। আমরা এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করছি যা স্বতন্ত্র ভিত্তি প্রদান করবে, যাতে এগুলোর সমাধানের পদ্ধতি থেকে সমজাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়।
তারা যে সকল যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন তার মধ্যে একটি হলো—তারা বলেন: যদি রাগান্বিত অবস্থায় কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক চাওয়ার প্রেক্ষিতে বলে "তুমি বিচ্ছিন্ন (بائن)", এমতাবস্থায় স্বামী যদি শাফেয়ি মতাদর্শী হন এবং বিশ্বাস করেন যে এর দ্বারা তালাক কার্যকর হয় না, আর স্ত্রী হানাফি মতাদর্শী হন এবং বিশ্বাস করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে; তবে তারা বলেন: যদি আপনারা দাবি করেন যে তাদের উভয়েই সঠিক (مصيب) এবং সম্ভবত তারা উভয়েই গবেষণাকারী (مجتهدين) ছিলেন, তবে উভয়ের সঠিক হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ার অর্থ হলো সম্ভোগের অধিকার এবং তা থেকে বারণ করা—উভয় বিষয়কে একত্রিত করা। কারণ স্বামী তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্ভোগের ওপর কর্তৃত্বশীল, এবং তার বিশ্বাসের দাবি হলো বৈধ সম্ভোগ থেকে তাকে বাধা দেওয়া স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। অন্যদিকে স্ত্রীর বিশ্বাসের দাবি হলো এটি নিষিদ্ধ এবং বিরত থাকা আবশ্যক। এটি অত্যন্ত স্ববিরোধী।
সুতরাং তাদের সাথে আমাদের আলোচনার সূচনাতেই আমরা বলব: হে সঠিক (المصيب) মাত্র একজন—এই মতের অনুসারীগণ, আপনাদের কাছে স্ত্রীকে স্বামীর মতের ওপর চালানোর কিংবা স্বামীকে স্ত্রীর মতের ওপর চালানোর কোনো উপায় নেই। কারণ আপনারা বাহ্যিকভাবে জানেন না যে তাদের মধ্যে কে সঠিক (المصيب)। এমতাবস্থায় আপনাদের জবাবের ভিত্তি কী?
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
اذا عنت هَذِه الْحَادِثَة فَكل مَا قدرتموه جَوَابا ظَاهرا فِي حَقّهمَا فَهُوَ حكم الله تَعَالَى عندنَا ظَاهرا وَبَاطنا وان زَعَمُوا ان الامر بَينهمَا يُوقف الى ان يرفعا الى حَاكم فَيَقْضِي عَلَيْهِمَا بِمُوجب اعْتِقَاده قُلْنَا فالوقت قبل الرّفْع حكم الله تَعَالَى عَلَيْهِمَا قطعا واذا رفعا اليه فَمَا حكم بِهِ القَاضِي فَهُوَ حكم الله تَعَالَى قطعا
وان زَعَمُوا ان الْمَرْأَة مأمورة بالامتناع جهدها وَالرجل مُبَاح لَهُ طلب الِاسْتِمْتَاع وان ادى ذَلِك الى قهرها وَلم يعدوا ذَلِك متناقضا فِي ظَاهر الْجَواب فَهُوَ الحكم عِنْد الله تَعَالَى وَعِنْدنَا ظَاهرا وَبَاطنا
وَالْجُمْلَة الكافية فِي ذَلِك جدالا وتحقيقا مَا قدمْنَاهُ من ان كل مَا يقدره الْقَائِلُونَ بَان الْمُصِيب وَاحِد فِي امثال هَذِه الْمسَائِل ويزعمون انه كَلَام مِنْهُم فِي الظَّاهِر فَهُوَ الحكم عندنَا فِي الظَّاهِر وَالْبَاطِن
وَمِمَّا يتمسكون بِهِ من الصُّور ان الْمَرْأَة اذا نكحت بِغَيْر ولي اولا ثمَّ زَوجهَا وَليهَا ثَانِيًا وَالَّذِي زوج بهَا ثَانِيًا شَافِعِيّ الْمَذْهَب يعْتَقد بطلَان نِكَاح الاول وَالَّذِي تزوج بهَا اولا حَنَفِيّ يعْتَقد صِحَة النِّكَاح الاول وَبطلَان
যখন এই ঘটনাটি ঘটে, তবে তাদের উভয়ের ক্ষেত্রে বাহ্যিক সমাধান হিসেবে আপনারা যা নির্ধারণ করেছেন, তা আমাদের নিকট বাহ্যিক (ظاهر) এবং অভ্যন্তরীণ (باطن) উভয়ভাবেই আল্লাহ তাআলার বিধান (حكم)। আর যদি তারা দাবি করে যে, বিষয়টি তাদের উভয়ের মাঝে স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না তারা কোনো বিচারকের (حاكم) নিকট বিষয়টি উত্থাপন করে এবং তিনি তার বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে ফয়সালা করেন; তবে আমরা বলব—বিচারকের নিকট পেশ করার পূর্ব পর্যন্ত সময়টিতে তাদের উভয়ের জন্য যা নির্ধারিত ছিল তা-ই নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তাআলার বিধান (حكم)। আর যখন তারা বিষয়টি বিচারকের নিকট পেশ করবে, তখন বিচারক যা ফয়সালা করবেন, সেটিই অকাট্যভাবে আল্লাহ তাআলার বিধান (حكم)।
আর যদি তারা দাবি করে যে, নারীটি তার সাধ্যমতো বিরত থাকতে আদিষ্ট এবং পুরুষের জন্য সম্ভোগ কামনা করা বৈধ (مباح), যদিও তা তাকে বাধ্য করার পর্যায়ে পৌঁছে এবং তারা একে বাহ্যিক উত্তরের ক্ষেত্রে স্ববিরোধী মনে না করে, তবে এটিই আল্লাহ তাআলার নিকট এবং আমাদের নিকট বাহ্যিক (ظاهر) ও অভ্যন্তরীণ (باطن) উভয়ভাবে চূড়ান্ত বিধান (حكم)।
এ বিষয়ে বিতর্ক ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই কথাটুকুই যথেষ্ট যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, যারা মনে করেন এই জাতীয় মাসয়ালাসমূহে (مسائل) সত্যের অনুসারী কেবল একজনই, তারা বাহ্যিকভাবে যা-ই দাবি করুন না কেন, আমাদের নিকট বাহ্যিক (ظاهر) ও অভ্যন্তরীণ (باطن) উভয় বিচারে সেটিই চূড়ান্ত বিধান (حكم)।
তারা যেসব উদাহরণ পেশ করে থাকেন তার মধ্যে একটি হলো—যদি কোনো নারী প্রথমে অভিভাবক (ولي) ছাড়াই বিবাহ করে এবং পরবর্তীতে তার অভিভাবক (ولي) তাকে দ্বিতীয়বার বিবাহ দেয়; এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেছে সে শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী হওয়ায় প্রথম বিবাহটিকে বাতিল (بطلان) মনে করে, আর যে ব্যক্তি প্রথমে বিবাহ করেছিল সে হানাফি হওয়ায় প্রথম বিবাহটির শুদ্ধতা (صحة) এবং দ্বিতীয়টির অসারতায় বিশ্বাস করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الثَّانِي وَالْمَرْأَة مترددة بَين دعوتيهما وهما مجتهدان مثلا فَمَا وَجه تصويبهما وَفِيه الافضاء الى تحليلها لَهما وتحريمها عَلَيْهِمَا اَوْ جمع الْحل وَالتَّحْرِيم فِي حق كل وَاحِد مِنْهُمَا
قُلْنَا فَلَو حدثت هَذِه الْمَسْأَلَة وسئلتم عَنْهَا فبمذا كُنْتُم تفضلون الحكم فِيهَا ظَاهرا وكل مَا اجبتم بِهِ فِي ظَاهر الامر وَلم تعتدوه تناقضا فَهُوَ حكم الله تَعَالَى عندنَا وان اجتزيت بِهَذَا الْقدر كَفاك وان اردت التَّفْصِيل فِي الْجَواب قلت
من الْقَائِلين بَان الْمُصِيب وَاحِد من صَار فِي هَذِه الصُّورَة الى الْوَقْف حَتَّى يرفع الامر الى القَاضِي كَمَا قدمْنَاهُ فِي الصُّورَة الْمَعْلُومَة الاولى فعلى هَذَا القَوْل حكم الله تَعَالَى فيهمَا الْوَقْف ظَاهرا وَبَاطنا حَتَّى يرفع امرهما الى القَاضِي فينزلهما على اعْتِقَاد نَفسه فَحكم الله تَعَالَى حِينَئِذٍ عَلَيْهِمَا ذَلِك
وَمِنْهُم من قَالَ تسلم الْمَرْأَة الى الزَّوْج الاول فانه نَكَحَهَا نِكَاحا يعْتَقد صِحَّته وَهُوَ السَّابِق بِهِ فَلَا يبعد ان يَقُول ان هَذَا هُوَ الحكم
দ্বিতীয়ত, নারীটি তাদের উভয়ের দাবির মাঝে দোদুল্যমান এবং উদাহরণস্বরূপ তারা উভয়ই মুজতাহিদ (গবেষক)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়কে সঠিক (مصيب) সাব্যস্ত করার প্রেক্ষাপট কী? অথচ এতে তাদের উভয়ের জন্য তাকে হালাল করা এবং হারাম করা, অথবা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই সাথে হালাল ও হারামের বিধানকে একত্রিত করার প্রসঙ্গের অবতারণা হয়।
আমরা বলি, যদি এই মাসআলাটি (সমস্যা) উদ্ভূত হতো এবং আপনাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে আপনারা বাহ্যিকভাবে কী ফয়সালা দিতেন? বাহ্যিকভাবে আপনারা যা উত্তর প্রদান করতেন এবং যেটিকে আপনারা বৈপরীত্য হিসেবে গণ্য করতেন না, আমাদের নিকট সেটিই মহান আল্লাহর বিধান। আপনি যদি এই পরিমাণে সন্তুষ্ট থাকেন তবে তাই যথেষ্ট, আর যদি উত্তরের বিস্তারিত বিবরণ চান তবে আমি বলব:
যারা মনে করেন যে সঠিক (مصيب) মত প্রদানকারী মাত্র একজন, তাদের মধ্যে কেউ এই অবস্থায় স্থগিত রাখা (الوقف) এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যতক্ষণ না বিষয়টি বিচারকের নিকট উত্থাপিত হয়; যেমনটি আমরা প্রথম পরিচিত সুরতে বর্ণনা করেছি। সুতরাং এই মতানুযায়ী, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হলো স্থগিত রাখা (الوقف), যতক্ষণ না তাদের বিষয়টি বিচারকের নিকট পেশ করা হয় এবং তিনি স্বীয় ইজতিহাদ ও বিশ্বাস অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করেন। এমতাবস্থায় তাদের প্রতি সেটিই আল্লাহর বিধান হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, নারীটিকে প্রথম স্বামীর নিকট হস্তান্তর করা হবে। কেননা সে এমনভাবে বিবাহ করেছে যাকে সে সঠিক (صحيح) বলে বিশ্বাস করে এবং সে বিবাহের ক্ষেত্রে অগ্রগামী। অতএব, এটিই মূল বিধান হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَاعْلَم ان هَذِه الْمَسْأَلَة وامثالها من المجتهدات وفيهَا تقَابل الِاحْتِمَالَات فيجتهد الْمُجْتَهد فِيهَا عندنَا فَمَا ادى اليه اجْتِهَاده فَهُوَ حق من وقف اَوْ تَقْدِيم اَوْ تَأْخِير أَو غَيرهمَا من وُجُوه الْجَواب وَقد اكثروا فِي ايراد الصُّور وَفِيمَا ذَكرْنَاهُ المغنى ان شَاءَ الله تَعَالَى
وَالَّذِي عول عَلَيْهِ الاستاذ ابو اسحق فِي الْمَسْأَلَة لما رأى أَن ادِّعَاء التَّنَاقُض فِي الاحكام لَا وَجه لَهُ الْتزم التَّنَاقُض فِي الادلة فَقَالَ لَا تثبت الاحكام فِي آحَاد الْمسَائِل الشَّرْعِيَّة الا بالادلة كَمَا لَا يثبت اصل الشَّرِيعَة المتلقاة من تَبْلِيغ الرَّسُول عليه السلام الا بالمعجزة الدَّالَّة على صدقه وَقد اتّفق الْعلمَاء قاطبة على ان الاحكام فِي جَوَاز الِاجْتِهَاد تستند الى ادلة وامارات فاذا ثَبت هَذَا الاصل فَالَّذِي اداه اجْتِهَاده الى الْحل متمسك بامارة اَوْ دلَالَة تعم فِي قضيتها وَلَا تخص هَذَا الْمُجْتَهد بِعَيْنِه وَكَذَلِكَ من قَالَ بِالتَّحْرِيمِ معتصم بطريقة عَامَّة فِي قضيتها اذ لَيْسَ فِي قَضِيَّة دلَالَة من ادلة الشَّرِيعَة اخْتِصَاص لبَعض الْمُجْتَهدين فَالْقَوْل بتصويبهما فِي الْحل وَالتَّحْرِيم مَعَ مَا مهدناه من انهما لَا يثبتان الا بدلالتين اَوْ امارتين ذهَاب
জেনে রাখুন যে, এই মাসআলা বা বিষয়টি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো ইজতিহাদযোগ্য (مجتهدات) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত এবং এতে বিভিন্ন সম্ভাবনার সংঘাত রয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের মতে মুজতাহিদ এতে ইজতিহাদ করবেন; অতঃপর তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) তাঁকে যে সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে সেটিই সঠিক—চাই তা বিরতি (وقف) গ্রহণ করা হোক, অথবা কোনোটিকে অগ্রাধিকার (تقديم) দেওয়া হোক, কিংবা কোনোটিকে বিলম্বে (تأخير) স্থাপন করা হোক অথবা উত্তরের অন্যান্য পদ্ধতিগুলোর কোনোটি হোক। উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে অনেক দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি, ইনশাআল্লাহ তা যথেষ্ট।
উস্তাদ আবু ইসহাক এই মাসআলায় যে বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন—যেহেতু তিনি দেখেছেন যে বিধানাবলির মধ্যে বৈপরীত্যের দাবি করার কোনো অবকাশ নেই—তাই তিনি দলিলের বৈপরীত্যকে আবশ্যক করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন: শরিয়তের একক (آحاد) বিষয়সমূহে বিধানাবলি দলিল ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না, যেমন রাসুল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রচার থেকে প্রাপ্ত মূল শরিয়ত তাঁর সত্যতার প্রমাণবহ মুজিজা ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। সমস্ত উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইজতিহাদের (اجتهاد) বৈধতার ক্ষেত্রে বিধানসমূহ দলিল ও নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং যখন এই মূলনীতি সাব্যস্ত হলো, তখন যাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) তাঁকে হালাল হওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেছে, তিনি এমন একটি নিদর্শন বা দলিলের ওপর নির্ভর করছেন যা তার বিধানে সাধারণ এবং কেবল উক্ত মুজতাহিদের জন্য নির্দিষ্ট নয়। একইভাবে, যিনি হারামের কথা বলছেন তিনিও স্বীয় সিদ্ধান্তে একটি সাধারণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন; কেননা শরিয়তের দলিলসমূহের মধ্যে এমন কোনো দলিল নেই যা নির্দিষ্ট কোনো মুজতাহিদের জন্য বিশেষায়িত। সুতরাং হালাল ও হারাম উভয় ক্ষেত্রে উভয়কে সঠিক বলা—এই ভূমিকার সাথে যে, এই উভয়টি কেবল দুটি দলিল বা দুটি নিদর্শনের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়—এমন একটি অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الى تَحْقِيق الامارتين العامتين وتصحيحهما وهما متناقضتان وان لم يتناقض الْحل وَالتَّحْرِيم فِي حق رجلَيْنِ
وَقد انْفَصل بعض من لَا يتَحَقَّق مَقْصُود هَذِه الْمَسْأَلَة عَن هَذِه الدّلَالَة بِأَن قَالَ انما يَسْتَقِيم هَذَا اذ لَو قُلْنَا ان مَا يتَمَسَّك بِهِ فِي صور الاجتهادات ادلة فاما وَقد قدمنَا بانهما لَيست بادلة لَا يلْزم فِيهَا التَّنَاقُض
وَهَذَا لَيْسَ بِشَيْء فان التَّنَاقُض فِي الامارات المنصوبة على الاحكام كالتناقض فِي الدَّلَائِل الدَّالَّة على مدلولاتها بانفسها من غير بعد نصب فِيهَا وَهَذَا بَين لَا خَفَاء بِهِ
وَطَرِيق الْجَواب عَن ذَلِك مَا ذكره القَاضِي فِي علل الاحكام وَذَلِكَ انه قَالَ اذا اخْتلف المجتهدان فِي تَعْلِيل الْبر فِي حكم الرِّبَا وَألْحق احدهما بِهِ فرعا ونفاه الثَّانِي ومرجعهما فِي الِاجْتِهَاد الى وصف الْبر فَلَيْسَ فِي وصف الْبر دلالتان بأنفسهما على النَّفْي والاثبات ولسنا نقُول ايضا ان صَاحب الشَّرِيعَة نصب فِي الْبر عَلامَة مَعْلُومَة عِنْده وكلفنا العثور عَلَيْهَا اَوْ نصب فِيهِ امارتين حَتَّى نقدر الامارتين المنصوبتين متناقضتين اَوْ
দুটি সাধারণ নিদর্শন (الأمارتين العامتين) যাচাই এবং সেগুলোকে সঠিক বলে গণ্য করার ক্ষেত্রে, অথচ সেগুলো পরস্পরবিরোধী (متناقضتان); যদিও দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হালাল ও হারাম হওয়া পরস্পরবিরোধী নয়।
যারা এই মাসআলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই প্রমাণ (الدلالة) থেকে এই বলে সরে এসেছেন যে, এটি তখনই সঠিক হবে যখন আমরা বলব যে ইজতিহাদের (الاجتهادات) ক্ষেত্রগুলোতে যা আঁকড়ে ধরা হয় তা হলো প্রমাণসমূহ (أدلة); কিন্তু যেহেতু আমরা আগেই বলেছি যে সেগুলো প্রমাণ (أدلة) নয়, তাই সেগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য (التناقض) থাকা আবশ্যক নয়।
আর এটি কোনো গ্রহণযোগ্য কথা নয়; কারণ বিধানসমূহের (الأحكام) জন্য নির্ধারিত নিদর্শনগুলোর (الأمارات) মধ্যে বৈপরীত্য (التناقض) থাকা ঠিক তেমনই যেমন কোনো প্রকার নির্ধারণ ছাড়াই নিজস্ব সত্তার মাধ্যমে নির্দেশিত বিষয়গুলোর ওপর প্রমাণ প্রদানকারী দলীলসমূহের (الدلائل) মধ্যে বৈপরীত্য থাকা। আর এটি সুস্পষ্ট, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
এর উত্তর প্রদানের পদ্ধতি হলো যা কাজী (القاضي) 'ইলালুল আহকাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তা হলো, তিনি বলেছেন: যখন দুজন মুজতাহিদ (المجتهدان) সুদের (الربا) বিধানের ক্ষেত্রে গমের (البر) কারণ (تعليل) নির্ধারণে মতবিরোধ করেন, এবং তাদের একজন এর সাথে একটি শাখা বিষয়কে (فرعا) অন্তর্ভুক্ত করেন এবং দ্বিতীয়জন তা অস্বীকার করেন, অথচ ইজতিহাদের (الاجتهاد) ক্ষেত্রে তাদের উভয়েরই প্রত্যাবর্তনস্থল হলো গমের বৈশিষ্ট্য; তবে গমের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নফি (النفي) এবং ইসবাতের (الاثبات) ওপর নিজস্ব সত্তাগতভাবে দুটি স্বতন্ত্র প্রমাণ (دلالتان) নেই। আর আমরা এমনটিও বলি না যে, শারিয়াত দাতা (صاحب الشريعة) গমের মধ্যে এমন কোনো চিহ্ন (علامة) নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা তাঁর কাছে পরিচিত এবং আমাদের তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছেন, অথবা তাতে দুটি নিদর্শন (أمارتين) নির্ধারণ করেছেন যার ফলে আমরা সেই নির্ধারিত নিদর্শনদ্বয়কে (الأمارتين المنصوبتين) পরস্পরবিরোধী (متناقضتين) বলে গণ্য করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
متماثلتين اذ لَو قُلْنَا بذلك كُنَّا قائلين بِطَلَب شَيْء والعثور عَلَيْهِ سوى الْعَمَل وَهَذَا قَول ثَان الْحق هُوَ طلب علم اَوْ هُوَ طلب الاشبه وَنحن نبطل الطريقتين جَمِيعًا فَيخرج من ذَلِك انا لَا نقدر دلالتين وَلَا امارتين منصوبتين على الْوَجْه الَّذِي فَرْضه الْمُسْتَدلّ علينا وَلَكنَّا نقُول امارة الحكم فِي حق كل وَاحِد مِنْهُمَا غَلَبَة ظَنّه وَكَأن الرب تَعَالَى جعل غَلَبَة ظن كل مُجْتَهد علما على الحكم بِمُوجب ظَنّه وَهَذَا مَا لَا يتَحَقَّق فِيهِ تنَاقض فَتبين ذَلِك واعلمه فَأَنَّهُ سر الْمَسْأَلَة وَلَا يُحِيط بِهِ الا من تَأَكد غوصه فِيهَا وَلَا يَنْتَفِي بعْدهَا علينا مؤونة الا بِشَيْء وَاحِد وَهُوَ انهم ان قَالُوا اذا زعمتم ان الَّذِي يتَمَسَّك بِهِ الْمُجْتَهد لَا يقدر امارة مَنْصُوبَة شرعا فَمَاذَا يطْلب الْمُجْتَهد وَلَيْسَ عِنْده فِيمَا يطْلب عِلّة مَنْصُوبَة عِنْد الله تَعَالَى قبل طلبه وَلَا يتَحَقَّق طلب من غير مَطْلُوب وَهَذَا اصعب سُؤال لَهُم وَلَو قَامَت للقائل بَان الْمُصِيب وَاحِد حجَّة لكَانَتْ هَذِه وَلَا تحسبن ذَلِك تشككا فَنحْن من القاطعين بَان كل مُجْتَهد مُصِيب وسنتقصى عَن هَذَا السُّؤَال عِنْد ذكرنَا الاشبه ان شَاءَ الله تَعَالَى
وَمِمَّا استدلوا بِهِ فِي الْمَسْأَلَة ان قَالُوا اذا قُلْتُمْ ان كل مُجْتَهد مُصِيب
দুটি সমজাতীয় বিষয়; কেননা আমরা যদি তা বলতাম, তবে আমল ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর অন্বেষণ ও তা লাভ করার প্রবক্তা হতাম, আর এটি হলো দ্বিতীয় একটি মত। প্রকৃত সত্য হলো জ্ঞানের অন্বেষণ অথবা অধিকতর সদৃশ (الأشبه) বিষয়ের অনুসন্ধান; আর আমরা উভয় পদ্ধতিকেই অসার গণ্য করি। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নকারী আমাদের ওপর যেভাবে চাপিয়ে দিয়েছেন, আমরা সেভাবে দুটি প্রমাণ (دلالة) বা দুটি চিহ্ন (أمارة) নির্ধারণ করি না। বরং আমরা বলি যে, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে হুকুমের চিহ্ন (أمارة) হলো তাদের প্রবল ধারণা (غلبة ظن)। যেন মহান প্রতিপালক প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد)-এর প্রবল ধারণাকেই (غلبة ظن) তার ধারণার দাবি অনুযায়ী হুকুমের নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এটি এমন এক বিষয় যাতে কোনো বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয় না। অতএব এটি স্পষ্ট করে অনুধাবন করুন, কারণ এটিই এই মাসআলার মূল রহস্য। এই বিষয়ে যার গভীর ব্যুৎপত্তি রয়েছে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এর হাকিকত অনুধাবন করতে পারে না। এরপর আমাদের জন্য একটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকে না; আর তা হলো তাদের এই আপত্তি: "যদি আপনারা দাবি করেন যে, গবেষণাকারী (مجتهد) যা অবলম্বন করেন তা শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো চিহ্ন (أمارة) নয়, তবে তিনি কী অনুসন্ধান করেন? অথচ তার অনুসন্ধানের পূর্বে মহান আল্লাহর নিকট কোনো নির্ধারিত কারণ (علة) বিদ্যমান নেই। আর অন্বেষিত বস্তু ব্যতীত অনুসন্ধান সম্ভব নয়।" এটিই তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন। যারা মনে করেন সঠিকতাপ্রাপ্ত (مصيب) মাত্র একজনই, তাদের যদি কোনো শক্তিশালী দলিল থাকত তবে সেটি এটিই হতো। আপনি একে সংশয় হিসেবে গণ্য করবেন না; কেননা আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত যে প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد)-ই সঠিকতাপ্রাপ্ত (مصيب)। ইনশাআল্লাহ, অধিকতর সদৃশ (الأشبه) সংক্রান্ত আলোচনার সময় আমরা এই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ নিরসন করব।
তারা এই মাসআলায় যে প্রমাণ পেশ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের এই বক্তব্য: "যখন আপনারা বলেন যে প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد)-ই সঠিকতাপ্রাপ্ত (مصيب)..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فَبِمَ تنكرون على من يزْعم ان الْقَائِل بِأَن الْمُصِيب وَاحِد مُصِيب ايضا وَهَذَا مَا لَا طائل وَرَاءه فانا انما نقُول بتصويب الْمُجْتَهدين فِي مسَائِل الِاجْتِهَاد وَهَذِه الْمَسْأَلَة الَّتِي نَحن فِيهَا من مسَائِل الْقطع وَهِي ملتحقة بالقطعيات الَّتِي الْمُصِيب فِيهَا وَاحِد مُتَعَيّن
وَمِمَّا تمسكوا بِهِ ايضا ان قَالُوا اذا كَانَ كل مُجْتَهد مصيبا فَمَا فَائِدَة التناظر وَالْحجاج وَمَا زَالَ الْعلمَاء من عصر الرَّسُول عليه السلام الى عصرنا يتحاجون وَيطْلب كل وَاحِد مِنْهُم من المتناظرين دُعَاء خَصمه الى مَا ينصره من الْمَذْهَب فَلَو كَانَ كل مُجْتَهد مصيبا مَأْمُورا بملازمة اجْتِهَاده وَهُوَ الْحق عِنْد الله تَعَالَى لما كَانَ فِي طرق الْحجَّاج وَالنَّظَر فَائِدَة وَفِي اجماع الْعلمَاء على التناظر دَلِيل على فَسَاد هَذَا الاصل واوضحوا ذَلِك بَان قَالُوا كَمَا وجدناهم يتحاجون فِي اصول الديانَات فَكَذَلِك سبيلهم فِي الشرعيات ثمَّ كَانَ نظرهم فِي العقليات لطلب الْعلم بالمنظور فِيهِ فَكَذَلِك النّظر فِي الشرعيات
وَهَذَا الَّذِي ذَكرُوهُ بَاطِل من أوجه مِنْهَا
অতএব আপনারা কোন ভিত্তিতে তাদের প্রতিবাদ করছেন যারা দাবি করেন যে—'সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত ব্যক্তি মাত্র একজন'—একথা যিনি বলেন তিনিও সঠিক? অথচ এটি একটি অন্তঃসারশূন্য বিষয়। আমরা তো কেবল ইজতিহাদ (اجتهاد) সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহে মুজতাহিদগণের (مجتهد) সঠিক হওয়ার কথা বলি। আর বর্তমানে আমাদের আলোচিত এই বিষয়টি সুনিশ্চিত (قطع) মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সেসব নিশ্চিত বিষয়াবলির (قطعيات) পর্যায়ভুক্ত যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত ব্যক্তি কেবল একজনই এবং তিনি সুনির্দিষ্ট।
তাদের আঁকড়ে ধরা যুক্তিগুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম যে তারা বলেন: যদি প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে পারস্পরিক বিতর্ক ও যুক্তিতর্কের ফায়দা কী? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত ওলামায়ে কেরাম অবিরত বিতর্ক করে আসছেন এবং বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের প্রত্যেকেই তার প্রতিপক্ষকে নিজের সমর্থিত মাযহাবের (مذهب) দিকে আহ্বান করে থাকেন। যদি প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক হতেন এবং নিজ নিজ ইজতিহাদ (اجتهاد) আঁকড়ে ধরার নির্দেশপ্রাপ্ত হতেন—যা আল্লাহ তাআলার নিকট সত্য বলে গণ্য—তবে যুক্তিতর্ক ও গবেষণার কোনো সুফল থাকত না। বিতর্ক করার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের এই সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) এই মূলনীতির (أصل) অসারতার প্রমাণ বহন করে। তারা একে এভাবে স্পষ্ট করেছেন যে—যেমন আমরা তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (أصول الديانات) নিয়ে বিতর্ক করতে দেখি, তেমনি শরয়ি বিষয়েও তাদের পদ্ধতি একই। অতঃপর আকলি বা যুক্তিনির্ভর বিষয়ে তাদের গবেষণা ছিল উদ্দিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণের জন্য, অনুরূপভাবে শরয়ি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যও তাই।
আর তারা যা উল্লেখ করেছেন তা বিভিন্ন দিক থেকে বাতিল (باطل); তন্মধ্যে কিছু হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَن نقُول انتم وان زعمتم ان الْمُصِيب وَاحِد قيل لكم اذا اجْتهد الْمُجْتَهد فاداه اجتهداه الى التَّحْرِيم فَهَل لَهُ فِي ظَاهر الحكم الاخذ بالتحليل فَيَقُولُونَ فِي جَوَاب ذَلِك انه لَيْسَ لَهُ مُخَالفَة اجْتِهَاده فِي ظَاهر الامر والتناظر على زعمكم يتَضَمَّن خلاف ذَلِك فقد لزمكم مَا ألزمتمونا
وَالْوَجْه الاخر فِي الْجَواب ان نقُول مَا تلزمونه من التناظر ثَابت اجماعا وَمَا ادعيتموه من عرض المتناظرين فَأنْتم منازعون فِيهِ ولسنا نسلم ان الْعلمَاء انما يناظرون ليَدع كل وَاحِد مِنْهُم خَصمه الى مذْهبه فَتَبَيَّنُوا ذَلِك فَفِيهِ اشْتَدَّ النزاع وَلَا سَبِيل لَهُم الى اثباته
فان تمسكوا بعادات بعض اهل الْعَصْر قوبلوا بعادات الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فانهم مَا تنَاظرُوا ليَدع كل وَاحِد صَاحبه الى مذْهبه وانما
আমাদের বক্তব্য হলো, আপনারা যদিও দাবি করেন যে সত্যে উপনীত ব্যক্তি (المصيب) মাত্র একজন, তবুও আপনাদের জিজ্ঞাসা করা হয়: যখন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) তাঁকে কোনো বিষয় নিষিদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়, তবে কি বাহ্যিক বিধান অনুযায়ী তাঁর জন্য তা বৈধ হিসেবে গ্রহণ করার অবকাশ আছে? তারা এর উত্তরে বলবে যে, বাহ্যিক বিচারে তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) এর পরিপন্থী আমল করার সুযোগ নেই। আর আপনাদের দাবি অনুযায়ী বিতর্ক করার বিষয়টি এর বিপরীত বিষয়কে শামিল করে। সুতরাং আপনারা আমাদের যা মেনে নিতে বাধ্য করেছিলেন, তা এখন আপনাদের ওপরই বর্তালো।
উত্তরের দ্বিতীয় দিকটি হলো আমরা বলি, বিতর্কের যে আবশ্যকতা আপনারা উল্লেখ করেছেন তা ইজমা (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু বিতর্ককারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপনারা যা দাবি করেছেন, সে বিষয়ে আপনাদের সাথে বিরোধ রয়েছে। আমরা এটি স্বীকার করি না যে, আলিমগণ কেবল এজন্যই বাহাস করেন যেন প্রত্যেকে তাঁর প্রতিপক্ষকে নিজের মাযহাব (مذهب) এর দিকে আহ্বান করেন। আপনারা বিষয়টি স্পষ্ট করুন, কারণ এ বিষয়ে তীব্র মতভেদ বিদ্যমান এবং এটি প্রমাণ করার কোনো পথ তাদের নেই।
যদি তারা বর্তমান যুগের কিছু লোকের রীতিনীতিকে দলিল হিসেবে পেশ করেন, তবে তার বিপরীতে সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) রীতিনীতি উপস্থাপন করা হবে। কেননা তাঁরা একে অপরের সাথে এজন্য বিতর্ক করেননি যেন প্রত্যেকে তাঁর সাথীকে নিজের মাযহাব (مذهب) এর দিকে আহ্বান করেন, বরং...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
تنَاظرُوا لوجوه مِنْهَا التَّوَصُّل الى التذاكر فِي طرق الِاجْتِهَاد فان التذاكر والتناظر من اقوى الامور المرشدة الى ذَلِك وَمن فَوَائِد النّظر ايضا العثور على مَا يقطع بِهِ والبحث عَن النُّصُوص وَعَن مَا يحل محلهَا وابداء فَوَائِد النّظر تبرع منا وَلَيْسَ علينا الا ممانعتهم عَمَّا ادعوهُ من الْعرض
وَلِلْقَوْمِ طرق فِي الِاسْتِدْلَال تتَعَلَّق بالسمعيات مِنْهَا
انهم تمسكوا بقوله تَعَالَى فِي قصَّة دَاوُد وَسليمَان عليهما السلام {ففهمناها سُلَيْمَان وكلا آتَيْنَا حكما وعلما} قَالُوا فَدلَّ الظَّاهِر على انهما اجتهدا صلوَات الله عَلَيْهِمَا ووفق سُلَيْمَان للعثور على الْحق وَهُوَ الْمَعْنى بقوله تَعَالَى {ففهمناها سُلَيْمَان} وأكدوا الِاسْتِدْلَال بِأَن قَالُوا كَانَت الْوَاقِعَة من مسَائِل الْفُرُوع فانها كَانَت فِي زرع نفشت فِيهِ غنم الْقَوْم فافسدته
وَالْجَوَاب عَن ذَلِك من اوجه
احدها ان نقُول من انكر اجْتِهَاد الانبياء لم يساعدكم على ان الْمَسْأَلَة كَانَت اجتهادية وَكَذَلِكَ من نفي الزلل عَن الْأَنْبِيَاء فينكر ذَلِك أَشد الانكار ثمَّ لَيْسَ فِي الظَّاهِر من الاية دَلِيل على خطأ دَاوُد عليه السلام بل فِي ظَاهرهَا مَا يدل على اصابته فانه تَعَالَى قَالَ {وكلا آتَيْنَا حكما وعلما}
তারা বিভিন্ন কারণে মুনাজারা বা বিতর্ক (مناظرة) করেছেন, যার একটি উদ্দেশ্য হলো ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনার (تذاكر) স্তরে উপনীত হওয়া। কেননা পারস্পরিক আলোচনা (تذاكر) ও বিতর্ক (مناظرة) হলো এর দিকে পথপ্রদর্শনকারী অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। গবেষণার (نظر) অন্যতম উপকারিতা হলো এমন বিষয় উদ্ঘাটন করা যা দ্বারা অকাট্য সিদ্ধান্তে (يقطع به) উপনীত হওয়া যায় এবং নস (نصوص) বা পাঠ্য ও তার স্থলাভিষিক্ত বিষয়সমূহ অনুসন্ধান করা। গবেষণার (نظر) উপকারিতাগুলো প্রকাশ করা আমাদের পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত নিবেদন মাত্র, আমাদের দায়িত্ব কেবল তারা উপস্থাপনার (عرض) ক্ষেত্রে যা দাবি করেছে তা থেকে তাদের প্রতিহত করা।
শ্রবণযোগ্য বা দলিলের (سمعيات) ক্ষেত্রে উক্ত আলিমদের ইস্তিদলাল (استدلال) বা দলিল পেশ করার কিছু পদ্ধতি রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো—
তারা দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম)-এর ঘটনায় মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে: {অতঃপর আমি সুলাইমানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি তাদের উভয়কেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম}। তারা বলেন: আয়াতের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) একথাই প্রমাণ করে যে, তারা উভয়েই ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন এবং সুলাইমানকে সত্য উদ্ঘাটনের তাওফিক দান করা হয়েছিল, যা মহান আল্লাহর বাণী {আমি সুলাইমানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম}-এর মর্মার্থ। তারা এই ইস্তিদলালকে (استدلال) আরও সুদৃঢ় করেছেন এই বলে যে, ঘটনাটি ছিল ফুরু বা শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ের (فروع) অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি ছিল এমন একটি শস্যক্ষেত সম্পর্কিত যাতে এক সম্প্রদায়ের মেষপাল রাতে ঢুকে পড়েছিল এবং তা নষ্ট করে দিয়েছিল।
এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে:
তন্মধ্যে একটি হলো, আমরা বলব—যারা নবীদের ইজতিহাদ (اجتهاد) করাকে অস্বীকার করেন, তারা এই বিষয়টি ইজতিহাদি (اجتهادية) ছিল বলে আপনাদের সাথে একমত হবেন না। অনুরূপভাবে যারা নবীদের থেকে ভুলত্রুটি (زلل) হওয়াকে অস্বীকার করেন, তারাও একে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন। তাছাড়া আয়াতের বাহ্যিক অর্থে (ظاهر) দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর ভুল করার কোনো দলিল (دليل) নেই, বরং এর বাহ্যিক দিকটিতে তার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রমাণই রয়েছে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি তাদের উভয়কেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فَسقط استدلالهم جملَة واكثر مَا تنبىء عَنهُ الاية كَونهمَا مصيبين وَكَون مَا حكم بِهِ سُلَيْمَان اولى واحسن
فان طالبونا بعد ذَلِك بِتَأْوِيل الاية لم تلزمنا اجابتهم بَعْدَمَا بَينا انه لَا اعتصام لَهُم فِي الاية ثمَّ ان تبرعنا بالتأويل فَالْوَجْه فِيهِ انهما صلوَات الله عَلَيْهِمَا اجتهدا وَكَانَ كل وَاحِد مِنْهُمَا على حكم وَعلم وَثَبت الحكمان بِمُوجب اجتهادهما عليهما السلام ثمَّ نسخ حكم دَاوُد بعد ثُبُوته وَنزل النَّص بتقرير حكم سُلَيْمَان فَهَذَا وَجه التَّأْوِيل
وَمِمَّا استدلوا بِهِ ايضا وحسبوه من عمدتهم مَا رُوِيَ عَن النَّبِي عليه السلام انه قَالَ اذا اجْتهد الْحَاكِم فاصاب فَلهُ اجران وان اجْتهد فَأَخْطَأَ فَلهُ اجْرِ وَاحِد // أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهم
ফলে তাঁদের দলিল উপস্থাপনের ভিত্তিটি সম্পূর্ণ অসার হয়ে গেল। এই আয়াত থেকে সর্বোচ্চ যা ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা হলো, তাঁরা উভয়েই সঠিক ছিলেন এবং সুলাইমান (আ.) যে ফয়সালা দিয়েছিলেন তা অধিক সমীচীন ও উত্তম ছিল।
এরপর যদি তারা আমাদের কাছে আয়াতের ব্যাখ্যার দাবি তোলে, তবে তাদের উত্তর দেওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য নয়; যেহেতু আমরা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছি যে, এই আয়াতে তাদের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এরপরও যদি আমরা স্বেচ্ছায় ব্যাখ্যা প্রদান করি, তবে তার পদ্ধতি হবে এই যে—তাঁরা উভয়েই (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই একটি বিধান ও ইলমের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ভিত্তিতেই উভয় বিধান সাব্যস্ত হয়েছিল। অতঃপর দাউদ (আ.)-এর বিধানটি সাব্যস্ত হওয়ার পর তা রহিত (نسخ) হয়ে যায় এবং সুলাইমান (আ.)-এর বিধানটি বহাল রাখার স্বপক্ষে নস (نص) অবতীর্ণ হয়। এটিই হলো ব্যাখ্যার স্বরূপ।
তাঁরা আরও যা দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং যেটিকে তাঁদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মনে করেন, তা হলো নবী (আ.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার। আর যদি তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।" // এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যগণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قَالُوا فَثَبت ان رَسُول الله عليه السلام خطأ الْمُجْتَهد وَلَا يتَصَوَّر مَعَ القَوْل بتصويب الْمُجْتَهدين ثُبُوت خطأ الْمُجْتَهد
قُلْنَا هَذَا من اخبار الاحاد وَالْمَسْأَلَة قَطْعِيَّة ثمَّ نقُول لَهُم الْخَبَر مَحْمُول على مَا اذا اجْتهد وَأَخْطَأ النَّص بعد بذل كَبِير مجهوده
فان قَالُوا وَالَّذِي بذل مجهوده فِي طلب النَّص فَلم يعثر عَلَيْهِ فَحكم الله عَلَيْهِ عنْدكُمْ مُوجب اجْتِهَاده فَمَا معنى الْخَطَأ
قُلْنَا لَيْسَ الْمَعْنى بالْخَطَأ انه أَخطَأ مَا كلف وَلَكِن الْمَعْنى بِهِ انه أَخطَأ النَّص فَلم يصبهُ ثمَّ نقُول ظَاهر الْخَبَر يدل عَلَيْكُم فانه عَلَيْهِ السَّلَام
তারা বলেন, এতে প্রমাণিত হলো যে আল্লাহর রাসূল (আ.) মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ভুল (خطأ) সাব্যস্ত করেছেন। আর সকল মুজতাহিদকে সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب) মতবাদের পাশাপাশি মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ভুল (خطأ) প্রমাণিত হওয়া কল্পনা করা যায় না।
আমরা বলি, এটি একক সূত্রীয় সংবাদ (أخبار الآحاد)-এর অন্তর্ভুক্ত, অথচ বিষয়টি সুনিশ্চিত (قطعية)। এরপর আমরা তাদের বলব, এই বর্ণনাটি (الخبر) সেই বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে যখন কেউ তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পর ইজতিহাদ (اجتهاد) করে এবং নস (النص)-এর ক্ষেত্রে ভুল করে।
তারা যদি বলে, যে ব্যক্তি নস (النص) অনুসন্ধানে তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছে কিন্তু তা খুঁজে পায়নি, আপনাদের নিকট তার জন্য আল্লাহর বিধান তো তার ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর দাবি অনুযায়ী যা হয় সেটাই; তাহলে এখানে ভুলের (الخطأ) অর্থ কী?
আমরা বলি, ভুলের (الخطأ) অর্থ এই নয় যে, সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ভুল করেছে, বরং এর অর্থ হলো সে নস (النص) শনাক্ত করতে ভুল করেছে ফলে তা সঠিকভাবে পায়নি। এরপর আমরা বলি, এই বর্ণনার (الخبر) বাহ্যিক দিকটি আপনাদের বিপক্ষেই দলিল প্রদান করে, কারণ তিনি (আ.)...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
اثْبتْ الاجر فِي حق كل وَاحِد من الْمُجْتَهدين فَالَّذِي أَخطَأ مَا كلف فحط الْوزر عَنهُ اجدر مِنْهُ بالاجر فَترك التَّعَرُّض لحط الْوزر والافصاح باثبات الاجر من أبين الادلة على انْتِفَاء الْخَطَأ الَّذِي فِيهِ تنازعنا فَبَطل مَا قَالُوهُ
فَهَذِهِ جمل عمدهم وَهِي ترشدك الى امثالها
أَدِلَّة من قَالَ بتصويب الْمُجْتَهدين وَأما أَدِلَّة الْقَائِل بتصويب الْمُجْتَهدين فقد ذكر القَاضِي طرقا فِي الدَّلِيل وَقد تأملتها فَرَأَيْت بَعْضهَا يفْتَقر فِي الثُّبُوت الى بعض وَكلهَا فِي التَّحْقِيق اركان دلَالَة وَاحِدَة فَرَأَيْت ان اركب مِنْهَا دلَالَة واستقصي فِيهَا وُجُوه الْكَلَام على السَّبِيل الَّتِي اشبعها القَاضِي فَنَقُول لمخالفينا
الْحق الَّذِي ادعيتم اتحاده عِنْد الله تَعَالَى لَا يخلون اما ان تزعموا انا
তিনি প্রত্যেক মুজতাহিদের (المجتهدين) ক্ষেত্রে সওয়াব সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যিনি ভুল করেছেন তিনি সে বিষয়ে আদিষ্ট ছিলেন না; তাই তার গুনাহ লাঘব করা সওয়াব প্রদানের চেয়েও অধিক যুক্তিযুক্ত। অতএব, গুনাহ লাঘবের প্রসঙ্গের অবতারণা পরিহার করা এবং সওয়াব সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা সেই ভুলের অনুপস্থিতির অন্যতম সুস্পষ্ট প্রমাণ যার বিষয়ে আমাদের মাঝে বিরোধ বিদ্যমান। ফলে তারা যা বলেছে তা বাতিল হয়ে গেল।
এগুলো হলো তাদের মূল দলীলসমূহের সারসংক্ষেপ, যা তোমাকে অনুরূপ বিষয়াবলির প্রতি পথনির্দেশ করবে।
মুজতাহিদের প্রত্যেককেই সঠিক সাব্যস্তকারীদের (تصويب) দলীলসমূহ আর যারা প্রত্যেক মুজতাহিদের (المجتهدين) ইজতিহাদকে সঠিক (تصويب) বলে গণ্য করেন তাদের দলীলসমূহের বিষয়ে কথা হলো—কাজী সাহেব দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। আমি সেগুলো অনুধাবন করে দেখেছি যে, প্রমাণের (الثبوت) দিক থেকে সেগুলোর একটি অন্যটির মুখাপেক্ষী এবং প্রকৃতপক্ষে এগুলোর প্রতিটিই একটিমাত্র দলীলের ভিত্তি বা স্তম্ভস্বরূপ। তাই আমি স্থির করেছি যে, সেগুলোকে সমন্বয় করে একটি সুসংহত দলীল গঠন করব এবং কাজী সাহেব যেভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে আলোচনার সকল দিক বিশদভাবে বর্ণনা করব। অতএব আমরা আমাদের বিরোধীদের বলব:
যে সত্যকে আপনারা আল্লাহর নিকট অভিন্ন বলে দাবি করেছেন, তা এই দুই অবস্থার বাইরে নয়; হয় আপনারা দাবি করবেন যে আমরা
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
كلفنا العثور عَلَيْهِ واما ان تزعموا انه لم يتَعَلَّق بِهِ حكم تَكْلِيف فان زعمتم انا لم نكلف العثور عَلَيْهِ فوجوده وَعَدَمه فِي حق الْمُكَلف بِمَثَابَة وَاحِدَة اذ لَيْسَ هُوَ حَقًا عَلَيْهِ وَهَذَا الْقسم مِمَّا لَا يَقُول الْخصم بِهِ فَلَا فَائِدَة فِي طلب الاطناب فِيهِ
فان زَعَمُوا ان الَّذِي هُوَ حق عِنْد الله تَعَالَى قد كلفنا العثور عَلَيْهِ وَالْعَمَل بِمُوجبِه وَهُوَ مَذْهَب الْقَوْم فَهَذَا بَاطِل لاصلين نمهدهما
احدهما اجماع الْمُسلمين قاطبة على ان كل مُجْتَهد مَأْمُور بِالْعَمَلِ على قَضِيَّة اجْتِهَاده فان غلب على ظن اُحْدُ الْمُجْتَهدين فِي وَاقعَة الْحل وَغلب على ظن الاخر التَّحْرِيم فَلَا يسوغ للْمحرمِ الاخذ بِغَيْر مُوجب اجْتِهَاده وَلَو حاد عَنهُ عصى وانتسب الى الماثم فاذا تقرر باطلاق الْأمة كَون كل مُجْتَهد مؤاخذ بِالْعَمَلِ بقضية اجْتِهَاده فَلَا يخلون اما ان يكون مَا عمل بِهِ حَقًا عِنْد الله تَعَالَى واما ان لَا يكون كَذَلِك فان كَانَ حَقًا عِنْد الله تَعَالَى فَهُوَ الَّذِي يلتمسه وَيجب على هَذَا الاصل كَون كل مُجْتَهد من الْمُجْتَهدين مصيبا
আমাদেরকে তা খুঁজে পাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না—হয় আপনারা দাবি করবেন যে এর সাথে কোনো শরয়ি বিধান (حكم تكليف) সংশ্লিষ্ট নয়। যদি আপনারা দাবি করেন যে আমাদের তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, তবে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) ক্ষেত্রে এর অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান; যেহেতু এটি তার ওপর কোনো হক নয়। আর প্রতিপক্ষ এই মত পোষণ করেন না, তাই এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার কোনো ফায়দা নেই।
পক্ষান্তরে তারা যদি দাবি করে যে, আল্লাহর নিকট যা সত্য (حق) তা খুঁজে বের করতে এবং তদনুযায়ী আমল করতে আমরা আদিষ্ট হয়েছি—আর এটিই তাদের মাযহাব—তবে এটি দুটি মূলনীতির (أصلين) ভিত্তিতে বাতিল বলে গণ্য হবে যা আমরা প্রতিষ্ঠিত করছি।
প্রথমটি হলো, সকল মুসলিমের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) এই মর্মে যে, প্রত্যেক গবেষক ফকিহ (مجتهد) তার গবেষণালব্ধ রায়ের (اجتهاد) দাবি অনুযায়ী আমল করতে আদিষ্ট। সুতরাং যদি কোনো একটি বিষয়ে একজন ফকিহ-এর প্রবল ধারণায় (غلبة الظن) সেটি বৈধতা (حل) হিসেবে প্রতিভাত হয় এবং অন্যজনের প্রবল ধারণায় সেটি নিষিদ্ধতা (تحريم) হিসেবে মনে হয়, তবে নিষিদ্ধতাকামীর জন্য নিজ গবেষণালব্ধ রায়ের বিপরীতটি গ্রহণ করা বৈধ নয়। যদি সে তা থেকে বিচ্যুত হয় তবে সে অবাধ্য হলো এবং পাপের অন্তর্ভুক্ত হলো। যখন উম্মাহর সর্বসম্মত রায় দ্বারা এটি স্থির হলো যে প্রত্যেক গবেষক ফকিহ তার গবেষণালব্ধ রায়ের দাবি অনুযায়ী আমল করার জন্য দায়বদ্ধ, তখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় সে যা আমল করেছে তা আল্লাহর নিকট সত্য (حق) হবে, নতুবা তা হবে না। যদি তা আল্লাহর নিকট সত্য (حق) হয়, তবে সেটিই অন্বেষিত বিষয়; আর এই মূলনীতির আলোকে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে প্রত্যেক গবেষক ফকিহই সঠিক পথপ্রাপ্ত (مصيب)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وان زَعَمُوا انه يجب عَلَيْهِ الْعَمَل ظَاهرا وَيجوز ان يكون مَنْهِيّا عَنهُ عِنْد الله تَعَالَى فَهَذَا بَاب من الْجَهَالَة لَا يرضى الْمُحَقِّقُونَ سلوكه فان الامة اجمعت على ان كل مُجْتَهد مَأْمُور بِالْعَمَلِ بقضية اجْتِهَاده حَتَّى لَو مَال عَن ذَلِك انتسب الى المأثم وان تغير اجْتِهَاده فِي الثَّانِي فَكيف تجمع الامة على وجوب مَا يجوز كَونه مَنْهِيّا عَنهُ وَهل هُوَ الا التَّنَاقُض الَّذِي ادعوهُ علينا فِي صدر شبههم فَهَذَا تمهيد اُحْدُ الاصلين
وَأما الاصل الثَّانِي فَهُوَ ان نقُول اذا قدرتم وُرُود الْعَمَل بِمُوجب الِاجْتِهَاد حكما هُوَ الْحق فَلَا يخلون اما ان تزعموا انه مِمَّا يعلم والى الْعلم بِهِ سَبِيل وَهُوَ نصب عَلَيْهِ دَلِيل واما ان تَقولُوا هُوَ مِمَّا امرنا بِالْعلمِ بِهِ وَلَا دَلِيل يُؤَدِّي اليه واما ان تَقولُوا مَا كلفنا الْعلم بِهِ اصلا
فان زعمتم انا كلفنا الْعلم بِهِ واليه صَار مُعظم الْمُخَالفين وَزَعَمُوا ان عَلَيْهِ ادلة مَنْصُوبَة لَو تمسك بهَا النَّاظر لافضت بِهِ اليه فَهَذَا بَاطِل من اوجه
اقربها ان الادلة فِي المجتهدات الْحكمِيَّة مضبوطة الاوصاف وَلَيْسَت تَقْتَضِي علما لذواتها بِخِلَاف ادلة الْعُقُول فانها لَو اقْتَضَت علما لذواتها
আর যদি তারা দাবি করে যে, বাহ্যিকভাবে (ظاهرا) তার ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং হতে পারে যে তা মহান আল্লাহর নিকট নিষিদ্ধ, তবে এটি মূর্খতার এমন একটি পথ যা প্রকৃত গবেষক ও সত্যায়নকারীগণ (المحققون) অনুসরণ করা পছন্দ করেন না। কেননা উম্মাহ (الامة) এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد) তার গবেষণার (اجتهاد) দাবি অনুযায়ী আমল করতে আদিষ্ট, এমনকি সে যদি তা থেকে বিচ্যুত হয় তবে সে পাপের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি দ্বিতীয়বার তার গবেষণা (اجتهاد) পরিবর্তিত হয়, তবে উম্মাহ (الامة) কীভাবে এমন কিছুর আবশ্যকতা নিয়ে ঐকমত্য পোষণ করবে যা নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে? আর এটি কি সেই স্ববিরোধিতা নয় যা তারা তাদের সংশয়ের শুরুতে আমাদের ওপর আরোপ করেছিল? এটি হলো দুটি মূলনীতির একটির ভূমিকা।
আর দ্বিতীয় মূলনীতিটি হলো এই যে, আমরা বলি: যখন আপনারা গবেষণার (اجتهاد) আবশ্যকতা অনুযায়ী আমল করাকে সত্য বিধান হিসেবে সাব্যস্ত করেন, তখন বিষয়টি কয়েকটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় আপনারা দাবি করবেন যে এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা জানা যায় এবং তা জানার পথ রয়েছে, আর তার ওপর প্রমাণ (دليل) স্থাপিত হয়েছে; অথবা আপনারা বলবেন এটি এমন বিষয় যা জানার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর মতো কোনো প্রমাণ (دليل) নেই; অথবা আপনারা বলবেন আমাদের এটি জানার জন্য আদৌ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
যদি আপনারা দাবি করেন যে আমাদের এটি জানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—আর অধিকাংশ বিরোধী পক্ষ এই মতই গ্রহণ করেছেন এবং তারা দাবি করেছেন যে এর ওপর এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণসমূহ (ادلة) স্থাপিত আছে যা কোনো পর্যবেক্ষক আঁকড়ে ধরলে তা তাকে সেই সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেবে—তবে এই দাবিটি কয়েকটি কারণে বাতিল (باطل)।
তার মধ্যে নিকটতম কারণ হলো, গবেষণালব্ধ (مجتهدات) বিধানসমূহের ক্ষেত্রে প্রমাণসমূহ (الادلة) সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, কিন্তু সেগুলো তাদের স্বকীয় সত্তার কারণে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) দাবি করে না; যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণসমূহের (ادلة العقول) বিপরীত, কারণ সেগুলো যদি তাদের স্বকীয় সত্তার কারণে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) দাবি করত...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
لاقتضته من غير نصب وَقد استقصينا القَوْل فِي ذَلِك فِي احكام الْقيَاس فاذا بَطل تنزلها منزلَة الادلة الْعَقْلِيَّة فِي اقتضائها الْعلم لذواتها دلّ على انها انما نصبت امارات شرعا ثمَّ نعلم انها فِي قَضِيَّة الشَّرْع لَيست مِمَّا يقطع بهَا اذ مِنْهَا خبر الْوَاحِد وَلَا يسوغ الْقطع بنقله وَمِنْهَا طرق الاقيسة وَلَا يسوغ ايضا الْقطع باصابة المستنبط لَهَا على مَنْهَج اصل مخالفينا فانا يَسْتَقِيم كَونهَا مفضية الى الْعلم مَعَ التشكك والاسترابة فِي اصولها وَهَذَا مَا لَا جَوَاب عَنهُ فَبَطل من هَذَا الْوَجْه مَا ادعوهُ من انا كلفنا الْعلم بِالْحَقِّ وَنصب عَلَيْهِ الدَّلِيل المفضي اليه
وَمِمَّا يبطل ادِّعَاء الْعلم مَا ذكره القَاضِي من ان الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ من التَّابِعين مَا زَالُوا يَتَكَلَّمُونَ فِي مسَائِل الِاجْتِهَاد وكل مِنْهُم يزْعم ان كل مُجْتَهد مُتبع لاجتهاده وَلَا يسوغ لَهُ الاضراب عَنهُ وَكَانَ كل وَاحِد مِنْهُم لَا يقطع بِأَن الَّذِي تمسك بِهِ هُوَ الْحق وَالْكل مدعوون اليه فان لم يصل اليه فقد أَخطَأ الْحق وَأكْثر مَا كَانَ يَدعِيهِ الْمُجْتَهد مِنْهُم غَلَبَة الظَّن وترجيح الامارات واما الْقطع فَلم يصر اليه اُحْدُ مِنْهُم وَكَذَلِكَ كل علم
ইহা কোনো সুনির্দিষ্টভাবে স্থাপন ছাড়াই দাবি করা হত। আমরা 'কিয়াসের (قياس) বিধানাবলী' আলোচনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছি। সুতরাং যখন প্রমাণিত হলো যে, স্বকীয়ভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদানের ক্ষেত্রে এগুলোর অবস্থান বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের সমপর্যায়ে গণ্য করা বাতিল, তখন এটিই প্রতীয়মান হয় যে এগুলো শরয়ীভাবে কেবল নিদর্শনসমূহ (أمارات) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। অতঃপর আমরা জানি যে, শরীয়তের বিধানে এগুলো এমন বিষয় নয় যা দ্বারা অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) লাভ করা যায়; কারণ এর মধ্যে রয়েছে একক বর্ণনা (خبر الواحد), যার বর্ণনার মাধ্যমে অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) পোষণ করা বৈধ নয়। আরও রয়েছে কিয়াসের (قيাস) পদ্ধতিসমূহ, যেখানে আমাদের বিরোধীদের মূলনীতির বিপরীতে ইস্তিম্বাতকারীর নির্ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) প্রদানও বৈধ নয়। কারণ এগুলোর মূল ভিত্তি সম্পর্কে সংশয় ও সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) লাভের মাধ্যম হওয়া সঙ্গত নয়। আর এটি এমন এক আপত্তি যার কোনো উত্তর নেই। সুতরাং এই দিক থেকে তাদের সেই দাবি বাতিল হয়ে গেল যে, আমাদের সত্য সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) লাভে আদিষ্ট করা হয়েছে এবং এর ওপর এমন দলিল স্থাপন করা হয়েছে যা সেই নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে।
নিশ্চিত জ্ঞান (علم) লাভের দাবিকে যা অসার প্রমাণ করে তার মধ্যে একটি হলো কাজী যা উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী তাবিঈগণ ইজতিহাদী (اجتهاد) মাসআলাসমূহ নিয়ে সর্বদা আলোচনা করতেন। তাদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করতেন যে প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) তার নিজস্ব ইজতিহাদের (اجتهاد) অনুসারী এবং তার জন্য তা পরিহার করা বৈধ নয়। তাদের কেউই এ বিষয়ে অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) প্রদান করতেন না যে, তিনি যা আঁকড়ে ধরেছেন সেটিই পরম সত্য এবং সকলকেই সেদিকে আহ্বান করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি সেখানে পৌঁছাতে না পারেন তবে তিনি সত্য লাভে ভুল করেছেন—এমনটি তারা মনে করতেন না। তাদের মধ্যে একজন মুজতাহিদ (مجتهد) বড়জোর যা দাবি করতেন তা হলো প্রবল ধারণা (غلبة الظن) এবং নিদর্শনসমূহের (أمارات) প্রাধান্য দেওয়া। পক্ষান্তরে অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) প্রদানের পথে তাদের কেউ যেতেন না। একইভাবে সকল জ্ঞানের (علم) ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজতিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
مَقْطُوع بِهِ فَثَبت بذلك ثبوتا وَاضحا انْتِفَاء الْعلم فِي المجتهدات اذ لَو كُنَّا كلفنا اصابته لما ذهب عَنهُ من فرطنا وَلَو ذَهَبُوا عَنهُ كَانُوا متفقين على خلاف الْحق وَلَا تَجْتَمِع الامة على ضلاله وَالَّذِي يُحَقّق لَك مَا ذكرنَا ان احدا مَا كَانَ يؤثم اصحابه بالعدول عَن الْحق فَلَو كَانَ كَانَ الْوُصُول الى الْحق متصورا وَهُوَ وَاجِب ولكان من مَال عَنهُ وحاد عَن نَصبه تَارِكًا لواجب يقدر على الْوُصُول اليه فَلَمَّا لم يؤثم بعض الصَّحَابَة بَعْضًا فِي المجتهدات وَكَذَلِكَ عُلَمَاء عصرنا لَا يؤثم بَعضهم بَعْضًا فِي المجتهدات على انهم قَالُوا من حكم الْوَاجِب ان يَعْصِي الْمُكَلف بِتَرْكِهِ وَالَّذِي يُحَقّق ذَلِك ان النَّاس لما افْتَرَقُوا فِيمَا يَلِيق بالديانات دعوا للحق طَوْعًا اَوْ كرها اَوْ قهرا وَذَلِكَ نَحْو مُخَالفَة الْخَوَارِج
এটি সুনিশ্চিত (مقطوع به), এর মাধ্যমেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইজতিহাদি বিষয়গুলোতে (المجتهدات) নিশ্চিত জ্ঞানের অনুপস্থিতি রয়েছে। কেননা যদি আমরা সেই সত্যে পৌঁছাতে আদিষ্ট হতাম, তবে আমাদের অগ্রজ সলফগণ তা থেকে বিচ্যুত হতেন না। আর যদি তারা তা থেকে বিচ্যুত হতেন, তবে তারা সত্যের বিপরীতে ঐকমত্য পোষণকারী হিসেবে গণ্য হতেন, অথচ উম্মাহ কখনোই বিভ্রান্তির (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। আমাদের বর্ণিত বিষয়ের সত্যতা এতেই প্রমাণিত হয় যে, সাহাবীগণের কেউ সত্য থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে তাঁর সাথীদের পাপী সাব্যস্ত করতেন না। যদি সত্যে উপনীত হওয়া সম্ভবপর হতো এবং তা অপরিহার্য (واجب) হতো, তবে যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হতো এবং এর লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যেত, সে মূলত এমন একটি আবশ্যিক কর্তব্য (واجب) বর্জনকারী হিসেবে সাব্যস্ত হতো যাতে পৌঁছাতে সে সক্ষম ছিল। যেহেতু সাহাবীগণ ইজতিহাদি বিষয়ে (المجتهدات) একে অপরকে পাপী সাব্যস্ত করেননি এবং একইভাবে আমাদের সমকালীন আলেমগণও ইজতিহাদি বিষয়ে (المجتهدات) একে অপরকে পাপী বলেন না, যদিও তাঁরা স্বীকার করেন যে, কোনো বিষয় আবশ্যিক (واجب) হওয়ার বিধান হলো তা বর্জন করার মাধ্যমে দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف) পাপে লিপ্ত হয়। বিষয়টির যথার্থতা এতেও প্রকাশ পায় যে, মানুষ যখন দ্বীনি বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তখন তাদেরকে স্বেচ্ছায়, অনিচ্ছায় কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সত্যের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল; যেমনটি দেখা যায় খারেজিদের (الخوارج) বিরোধিতার ক্ষেত্রে।