(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في التنبيه على الأسباب التي أوجبت الاختلاف بين المسلمين   (ابن السيد البطليوسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الإنصاف في التنبيه على المعاني والأسباب التي أوجبت الاختلاف

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن محمد بن السيد البطليوسي (ت 521هـ)

المحقق: د. محمد رضوان الداية

الناشر: دار الفكر - بيروت

الطبعة: الثانية، 1403

عدد الصفحات: 199

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইনসাফ ফি আত-তানবিহ আলা আল-আসবাব আল-লাতি আওজাবাত আল-ইখতিলাফ বাইনাল মুসলিমিন   (ইবনে আল-সিদ আল-বাতালইউসি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


কিতাব: আল-ইনসাফ ফি আত-তানবিহ আলা আল-মাআনি ওয়াল আসবাব আল-লাতি আওজাবাত আল-ইখতিলাফ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-সিদ আল-বাতালইউসি (মৃত্যু ৫২১ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ রেদওয়ান আদ-দায়াহ

প্রকাশক: দার আল-ফিকর - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على مُحَمَّد وعَلى آله وَسلم تَسْلِيمًا عونك اللَّهُمَّ قَالَ أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن السَّيِّد البطليوسي رحمه الله

الْحَمد لله مسبغ النعم ومسوغ الْقسم وَالْمُنْفَرد بالقدم وبارئ النسم وموجدنا بعد الْعَدَم وباعث الْعِظَام الهامدة والرمم والمخالف بَين الهيئات والشيم حِكْمَة تاهت فِي فهمها عقول ذَوي الحكم خلق الْأَجْسَام من أضداد متنافرة ابتدعها بقدرته وَألف نقائضها بِحِكْمَتِهِ حَتَّى أبرزها للعيان مُتَغَايِرَة الصُّور والألوان متقنة الأشكال مخترعة على غير مِثَال وَخَالف بَين الآراء والاعتقادات كَمَا خَالف بَين الصُّور والهيئات وَأخْبرنَا بِمَا فِي ذَلِك من وَاضح فَقَالَ تَعَالَى {وَمن آيَاته خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَاخْتِلَاف أَلْسِنَتكُم وألوانكم إِن فِي ذَلِك لآيَات للْعَالمين}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। হে আল্লাহ, আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইয়িদ আল-বাতালইউসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণকারী এবং জীবিকা বণ্টনকারী; যিনি অনাদিত্বে একক ও অদ্বিতীয় এবং প্রাণের সৃজনকারী; যিনি আমাদের অনস্তিত্বের পর অস্তিত্ব দান করেছেন এবং জীর্ণ ও চূর্ণ-বিচূর্ণ অস্থিসমূহকে পুনরুত্থিতকারী। তিনি মানুষের অবয়ব ও স্বভাবের মধ্যে বৈচিত্র্য দান করেছেন; এটি এমন এক প্রজ্ঞা যার নিগূঢ় রহস্য অনুধাবনে জ্ঞানীদের বুদ্ধিও দিশেহারা হয়ে পড়ে। তিনি পরস্পরবিরোধী উপাদানসমূহ থেকে শরীরসমূহ সৃষ্টি করেছেন, আপন শক্তিতে তা উদ্ভাবন করেছেন এবং নিজ প্রজ্ঞায় সেগুলোর বৈপরীত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন; শেষ পর্যন্ত তিনি সেগুলোকে দৃষ্টির সামনে বিভিন্ন রূপ ও বর্ণে প্রকাশ করেছেন। সেগুলোর গঠন সুনিপুণ এবং কোনো পূর্ব নমুনা ব্যতিরেকেই উদ্ভাবিত। তিনি মানুষের মতামত ও বিশ্বাসের মধ্যেও ভিন্নতা সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি তিনি করেছেন তাদের রূপ ও অবয়বের ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সুস্পষ্ট সংবাদ প্রদান করে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।”
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ جل جلاله {وَلَا يزالون مُخْتَلفين إِلَّا من رحم رَبك وَلذَلِك خلقهمْ}

وَبَين لنا أَنه قدير على غير مَا أجْرى الْعَادة بِهِ فَقَالَ {وَلَو شَاءَ الله لجمعهم على الْهدى فَلَا تكونن من الْجَاهِلين}

وَنَبَّهنَا ألطف تَنْبِيه على مَا فِي هَذَا الْخلاف الْمَوْجُود فِي الْبشر المركوز فِي الْفطر من الْحِكْمَة الْبَالِغَة وَأَنه جعله احدى الدَّلَائِل على صِحَة الْبَعْث الَّذِي أنكرهُ من ألحد فِي أَسْمَائِهِ وَكفر بسوابغ نعمائه فَقَالَ وَقَوله الْحق ووعده الصدْق {وأقسموا بِاللَّه جهد أَيْمَانهم لَا يبْعَث الله من يَمُوت بلَى وَعدا عَلَيْهِ حَقًا وَلَكِن أَكثر النَّاس لَا يعلمُونَ ليبين لَهُم الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وليعلم الَّذين كفرُوا أَنهم كَانُوا كاذبين}
এবং মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {আর তারা সর্বদা মতপার্থক্য করতেই থাকবে, তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন; আর এ জন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।}

এবং তিনি আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মের বহির্ভূত বিষয়েও পূর্ণ সক্ষম। তিনি এরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই তাদের সকলকে হিদায়াতের ওপর একত্রিত করতেন। সুতরাং তুমি কক্ষনো অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।}

মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতিতে নিহিত এই মতপার্থক্যের মাঝে যে সুগভীর প্রজ্ঞা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আমাদের অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সজাগ করেছেন। তিনি ইহাকে পুনরুত্থানের সত্যতার অন্যতম দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যা ওইসব ব্যক্তিরা অস্বীকার করে যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি ঘটায় এবং তাঁর অঢেল নেয়ামতরাজিকে অস্বীকার করে। তিনি এরশাদ করেছেন—আর তাঁর বাণী সত্য এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তব: {তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না। অবশ্যই করবেন, এটি তাঁর ওপর একটি সত্য প্রতিশ্রুতি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। যাতে তিনি তাদের নিকট ওই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং যাতে কাফিররা জেনে নেয় যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبين) ছিল।}
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَهَذِه الْآيَة أحد مَا تضمنه الْقُرْآن الْعَزِيز من الْأَدِلَّة البرهانية على صِحَة الْبَعْث وَوجه الْبُرْهَان المنفك من هَذِه الأية الَّتِي لَا يقدرها حق قدرهَا الا الْعَالمُونَ وَلَا ينتبه لغامض سرها الا المستبصرون أَن اخْتِلَاف النَّاس فِي الْحق لَا يُوجب احتلاف الْحق فِي نَفسه وانما تحتلف الطّرق الموصلة اليه والقياسات المركبة عَلَيْهِ وَالْحق فِي نَفسه وَاحِد

فَلَمَّا ثَبت أَن هَهُنَا حَقِيقَة مَوْجُودَة لَا محَالة وَكَانَ لَا سَبِيل لنا فِي حياتنا هَذِه الى الْوُقُوف عَلَيْهَا وقوفا يُوجب لنا الائتلاف وَيرْفَع عَنَّا الِاخْتِلَاف اذ كَانَ الِاخْتِلَاف مركوزا 2 ب فِي فطرنا مطبوعا فِي خلقنَا وَكَانَ لَا يُمكن ارتقاعه وزواله الا بارتفاع هَذِه الْخلقَة ونقلنا الى جبلة غير هَذِه الجبلة صَحَّ ضَرُورَة أَن لنا خياة أُخْرَى غير هَذِه الْحَيَاة فِيهَا يرْتَفع الْخلاف والعناد وتزول من صدورنا الضغائن الكامنة والأحقاد وَهَذِه هِيَ الْحَال الَّتِي وعدنا الله تَعَالَى بالمصير اليها فَقَالَ تَعَالَى {وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورهمْ من غل إخْوَانًا على سرر مُتَقَابلين}

এই আয়াতটি হলো পুনরুত্থানের সঠিকতার (صحة) স্বপক্ষে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বিদ্যমান প্রামাণিক দলিলসমূহের অন্যতম। এই আয়াতের অন্তর্নিহিত প্রমাণের দিকটি এমন, যা কেবল আলেমগণই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে সক্ষম এবং কেবল দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গই এর রহস্যময় গূঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন হন; তা হলো—সত্যের ব্যাপারে মানুষের মতভেদ স্বয়ং সত্যের মাঝে কোনো পার্থক্যের সৃষ্টি করে না, বরং কেবল সত্য পর্যন্ত পৌঁছানোর পথসমূহ এবং এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত যুক্তিকাঠামোর মধ্যেই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, অথচ সত্য তার নিজ সত্তায় এক ও অভিন্ন।

যেহেতু এটি প্রমাণিত যে, এখানে একটি অনিবার্য বাস্তবতা বিদ্যমান রয়েছে, অথচ আমাদের এই পার্থিব জীবনে এমন কোনো পথ নেই যার মাধ্যমে আমরা সেই বাস্তবতাকে এমনভাবে অনুধাবন করতে পারি যা আমাদের মাঝে ঐক্য আনয়ন করবে এবং আমাদের থেকে মতভেদ দূর করবে; কেননা মতভেদ আমাদের মজ্জাগত স্বভাবে প্রোথিত এবং আমাদের সৃষ্টির সাথে সুসমন্বিত। আর আমাদের বর্তমান সৃষ্টির অবয়ব বিলুপ্ত হওয়া এবং আমাদের ভিন্নতর কোনো প্রকৃতিতে স্থানান্তরিত হওয়া ব্যতীত এই মতভেদ দূর হওয়া ও দূরীভূত হওয়া সম্ভব নয়; তাই এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, এই জীবন ব্যতিরেকে আমাদের অন্য একটি জীবন রয়েছে, যেখানে যাবতীয় মতভেদ ও হঠকারিতা অপসারিত হবে এবং আমাদের অন্তর থেকে সুপ্ত বিদ্বেষ ও ঈর্ষা দূরীভূত হবে। আর এটাই হলো সেই অবস্থা যার দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা আমাদের দিয়েছেন; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমি তাদের অন্তর থেকে ঈর্ষা-বিদ্বেষ দূর করে দেব; তারা ভাই ভাই হয়ে পরস্পর মুখোমুখি আসনে অবস্থান করবে।"

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَلَا بُد من كَون ذَلِك باضطرار اذ كَانَ وجود الِاخْتِلَاف يَقْتَضِي وجود الائتلاف لِأَنَّهُ ضرب وَنَوع من الْمُضَاف

وَكَانَ لَا بُد من حَقِيقَة وان لم نقل ذَلِك صرنا الى مَذْهَب السوفسطائية فِي نفي الْحَقَائِق فقد صَار الْخلاف الْمَوْجُود فِي الْعَالم كَمَا ترى أوضح الدَّلَائِل على كَون الْبَعْث الَّذِي يُنكره المنكرون وينازع فِيهِ الْمُلْحِدُونَ الْكَافِرُونَ

فسبحان من أودع كِتَابه الْعَزِيز تَصْرِيحًا وتلويحا كل لَطِيفَة لمن قدره حق قدره ووفق لفهم غوامض سره

وَصلى الله على من هدَانَا بِهِ من الضَّلَالَة وَعلمنَا بعد الْجَهَالَة واياه يسْأَل أَن يوفقنا لاقتفاء آثاره ختى يحلنا دَار المقامة فِي جواره

واني لما رَأَيْت النَّاس قد أفرطوا فِي التَّأْلِيف وأملوا الناظرين بأنواع التصنيف فِي أَشْيَاء مَعْرُوفَة وأساليب مألوفة يُغني بَعْضهَا
আর এটি অনিবার্য হওয়া আবশ্যক, যেহেতু মতভেদের বিদ্যমান থাকা ঐকমত্যের বিদ্যমান থাকাকে আবশ্যক করে, কারণ এটি একটি প্রকার এবং আপেক্ষিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

আর একটি পরম সত্য থাকা অপরিহার্য; যদি আমরা তা না বলি, তবে আমরা সত্য অস্বীকারকারী সোফিস্টদের মতবাদের দিকে ধাবিত হব। সুতরাং পৃথিবীতে বিদ্যমান এই মতভেদ—যেমনটি আপনি দেখছেন—সেই পুনরুত্থানের (بعث) অস্তিত্বের সুস্পষ্টতম প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অস্বীকারকারীরা অস্বীকার করে এবং অবিশ্বাসী নাস্তিকরা এ নিয়ে বিবাদ করে।

অতএব মহিমা তাঁরই, যিনি তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে স্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে এবং ইঙ্গিতস্বরূপ প্রতিটি সূক্ষ্ম তত্ত্ব গচ্ছিত রেখেছেন তাদের জন্য যারা তাঁকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করে এবং তাঁর রহস্যের গূঢ় বিষয়াবলি বোঝার তাওফিকপ্রাপ্ত হয়।

এবং আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর মাধ্যমে তিনি আমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে সুপথ দেখিয়েছেন এবং মূর্খতার পর জ্ঞান দান করেছেন; আর তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর পদাঙ্ক (آثار) অনুসরণের তাওফিক দান করেন, যাতে তিনি আমাদের তাঁর সান্নিধ্যে জান্নাতের স্থায়ী আবাসে স্থান দান করেন।

আর আমি যখন দেখলাম যে, মানুষ গ্রন্থ রচনায় অনেক বাড়াবাড়ি করছে এবং সুপরিচিত বিষয় ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরণের শ্রেণিবিন্যাসের (تصنيف) মাধ্যমে পাঠকদের ক্লান্ত করে তুলছে, যেখানে এর একাংশই অন্য অংশের জন্য যথেষ্ট...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
عَن بعض صرفت خاطري الى وضع كتاب فِي أَسبَاب الْخلاف الْوَاقِع بَين الْأمة قَلِيل النظير نَافِع لِلْجُمْهُورِ عَجِيب المنزع غَرِيب المقطع يشبه المخترع وان كَانَ غير مخترع ينتمي الى الدّين بِأَدْنَى نسب وَيتَعَلَّق من اللِّسَان الْعَرَبِيّ بأقوى سَبَب ويخبر من تَأمل غَرَضه ومقصده بِأَن الطَّرِيقَة الْفِقْهِيَّة مفتقرة الى علم الْأَدَب مؤسسة على أصُول كَلَام الْعَرَب وَأَن مثلهَا وَمثله قَول أبي الْأسود الدؤَلِي … فالا يكنها أَو تكنه فانه … أَخُوهَا غذته أمه بلبانها … وَلَيْسَ غرضي من كتابي هَذَا أَن أَتكَلّم فِي الْأَسْبَاب الَّتِي أوجبت الْخلاف الْأَعْظَم بَين من سلف وَخلف من الْأُمَم وانما غرضي أَن أذكر الْأَسْبَاب الَّتِي أوجبت الْخلاف بَين أهل ملتنا الحنيفية الَّتِي جعلنَا الله تَعَالَى من أَهلهَا وهدانا الى وَاضح سبلها حَتَّى صَار من فقهائهم الْمَالِكِي وَالشَّافِعِيّ والحنفي وَالْأَوْزَاعِيّ وَمن ذَوي مقالاتهم
কিছু বিষয়ের প্রেক্ষিতে আমি উম্মাহর মধ্যে বিদ্যমান মতভেদের (خلاف) কারণসমূহ সম্পর্কে এমন একটি গ্রন্থ রচনার দিকে মনোনিবেশ করেছি যার দৃষ্টান্ত বিরল, যা সর্বসাধারণের জন্য উপকারী, যার বিন্যাস পদ্ধতি বিস্ময়কর এবং কাঠামো অনন্য; এটি যেন এক অভিনব সৃষ্টি, যদিও এটি প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়। এটি ধর্মের সাথে নিবিড়তম সূত্রে সম্পৃক্ত এবং আরবি ভাষার সাথে অত্যন্ত শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ। যে ব্যক্তি এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করবে, সে জানতে পারবে যে, ফিকহী পদ্ধতি (الطريقة الفقهية) আদব (أدب) বা ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের মুখাপেক্ষী এবং তা আরবদের বাকরীতির মূলনীতির (أصول) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এ দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক অনেকটা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালীর বাণীর মতো … যদি সে এটি না হয় অথবা এটি সে না হয়, তবে সে তার ভাই, যাকে তার মা স্বীয় দুগ্ধে প্রতিপালন করেছেন … আমার এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জাতিসমূহের মধ্যে সংঘটিত বড় ধরণের মতভেদের (خلاف) কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করা নয়। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো আমাদের সেই হানিফ মিল্লাতের (ملة) অনুসারীদের মধ্যে উদ্ভূত মতভেদের (خلاف) কারণসমূহ উল্লেখ করা, যে মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ তাআলা আমাদের করেছেন এবং যার সুস্পষ্ট পথের দিকে আমাদের হেদায়াত দান করেছেন। যার ফলে তাদের ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে মালিকি, শাফিয়ি, হানাফি ও আওজায়ি এবং বিভিন্ন মতাদর্শের (مقالات) ধারক-বাহকগণের উদ্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
الجبري والقدري والمشبه والجهمي وَمن شيعهم
জাবারি (الجبري), কাদারি (القدري), সাদৃশ্যবাদী (المشبه), জাহমি (الجهمي) এবং যারা তাদের মতাদর্শের অনুসারী।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الزيدي والرافضي والسبئي والغرابي والمخمس والمحمدي وَغير هَؤُلَاءِ من الْفرق الثَّلَاث وَالسبْعين الَّتِي نَص عَلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
জায়দি (الزيدي), রাফেজি (الرافضي), সাবায়ি (السبئي), ঘুরাবি (الغرابي), মুখাম্মিস (المخمس), মুহাম্মাদি (المحمدي) এবং ঐ তিয়াত্তরটি দলের (الفرق) অন্তর্ভুক্ত অন্যান্যরা, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَلَا غرضي أَيْضا أَن أحْصر أَصْنَاف الْمذَاهب والآراء واناقض ذَوي الْبدع المضللة والأهواء لِأَن هَذَا الْفَنّ من الْعلم قد سبق اليه وَنبهَ فِي مَوَاضِع كَثِيرَة عَلَيْهِ وانما غرضي أَن أنبه على الْمَوَاضِع الَّتِي مِنْهَا نَشأ الْخلاف بَين الْعلمَاء حَتَّى تباينوا فِي الْمذَاهب والآراء

وَأَنا أسترشد الله تَعَالَى الى سَبِيل الْحق وأستهديه وأسأله العون على مَا أحاوله وأنويه وأرغب اليه أَن يعصمني من الزلل فِيمَا أقوله وأحكيه ونه ولي الطول ومسديه لَا رب سواهُ وَلَا معبود حاشاه
আমার উদ্দেশ্য এটিও নয় যে, আমি মাযহাব ও মতাদর্শের প্রকারভেদসমূহকে সীমাবদ্ধ করব এবং বিভ্রান্তিকর বিদআত (بدعة) ও প্রবৃত্তিপূজারীদের বিরোধিতা করব; কারণ ইলমের এই শাখাটি নিয়ে পূর্বেই কাজ হয়েছে এবং অনেক স্থানে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বরং আমার উদ্দেশ্য কেবল সেই স্থানগুলো নির্দেশ করা যেখান থেকে আলিমদের মধ্যে মতভেদের সূচনা হয়েছে, যার ফলে তাঁরা মাযহাব ও মতাদর্শের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন।

আমি সত্যের পথের জন্য মহান আল্লাহর নিকট হিদায়াত ও পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি এবং আমি যা করার চেষ্টা করছি ও নিয়ত করেছি, তাতে তাঁর সাহায্য কামনা করছি। আমি তাঁর নিকট আরজি পেশ করছি যেন আমি যা বলি ও বর্ণনা করি তাতে তিনি আমাকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুমহান অনুগ্রহের অধিকারী এবং তার দাতা; তিনি ছাড়া কোনো পালনকর্তা নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ذكر الْأَسْبَاب الْمُوجبَة للْخلاف كم هِيَ

 

أَقُول وَبِاللَّهِ أَعْتَصِم واليه أفوض فِي جَمِيع أَمْرِي وَأسلم ان الْخلاف عرض لأهل ملتنا من ثَمَانِيَة أوجه كل ضرب من الْخلاف متولد مِنْهَا متفرع عَنْهَا

الأول مِنْهَا اشْتِرَاك الْأَلْفَاظ والمعاني

وَالثَّانِي الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

وَالثَّالِث الافراد والتركيب

وَالرَّابِع الْخُصُوص والعموم

وَالْخَامِس الرِّوَايَة وَالنَّقْل

وَالسَّادِس الإجتهاد فِيمَا لَا نَص فِيهِ

وَالسَّابِع النَّاسِخ والمنسوخ

وَالثَّامِن الأباحة والتوسع

وَنحن نذْكر من كل نوع من هَذِه الْأَنْوَاع أَمْثِلَة تنبه قَارِئ كتَابنَا هَذَا على بقيتها اذ كَانَ اسْتِيفَاء جَمِيع ذَلِك من المتعذر على من حاوله وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق لَا رب غَيره
মতভেদের কারণসমূহের বর্ণনা এবং তা সংখ্যায় কতটি

 

আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট আমার সকল বিষয় ন্যস্ত করি এবং তাঁরই অনুগত হই—নিশ্চয়ই আমাদের মিল্লাতের অনুসারীদের নিকট মতভেদ আটটি দিক থেকে উপস্থাপিত হয়েছে; প্রত্যেক প্রকারের মতভেদ এ থেকেই উদ্ভূত এবং এ থেকেই শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত।

প্রথমটি হলো: শব্দ ও অর্থের দ্ব্যর্থবোধকতা।

দ্বিতীয়টি হলো: প্রকৃত ও রূপক (حقيقة ومجاز) অর্থ।

তৃতীয়টি হলো: শব্দের একক ও যৌগিক ব্যবহার।

চতুর্থটি হলো: বিশেষত্ব (خصوص) ও সাধারণত্ব (عموم)।

পঞ্চমটি হলো: বর্ণনা (رواية) ও তথ্য স্থানান্তর (نقل)।

ষষ্ঠটি হলো: যে বিষয়ে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই তাতে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা।

সপ্তমটি হলো: রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ)।

অষ্টমটি হলো: বৈধতা ও প্রশস্ততা।

আমরা এই প্রত্যেকটি প্রকারের মধ্য থেকে এমন কিছু উদাহরণ উল্লেখ করব, যা আমাদের এই কিতাবের পাঠককে অবশিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে সজাগ করবে। কেননা, এ সকল বিষয় পুরোপুরি আয়ত্ত করা যে কারো জন্য দুঃসাধ্য। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি, তিনি ছাড়া কোনো রব নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الْبَاب الأول فِي الْخلاف الْعَارِض من جِهَة اشْتِرَاك الْأَلْفَاظ واحتمالها للتأويلات الْكَثِيرَة
প্রথম অধ্যায়: শব্দের অনেকার্থকতা এবং বহুবিধ ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ থাকার কারণে উদ্ভূত মতভেদ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
هَذَا الْبَاب يَنْقَسِم ثَلَاثَة أَقسَام

أَحدهَا اشْتِرَاك فِي مَوْضُوع اللَّفْظَة المفردة

وَالثَّانِي اشْتِرَاك فِي احوالها الَّتِي تعرض لَهَا من اعراب وَغَيره

وَالثَّالِث اشْتِرَاك يُوجِبهُ تركيب الْأَلْفَاظ وَبِنَاء بَعْضهَا على بعض

فَأَما الِاشْتِرَاك الْعَارِض فِي مَوْضُوع اللَّفْظَة المفردة فنوعان

اشْتِرَاك يجمع مَعَاني مُخْتَلفَة متضادة واشتراك يجمع مَعَاني مُخْتَلفَة غير متضادة

فَالْأول كالقرء ذهب الحجازيون من الْفُقَهَاء الى أَنه الطُّهْر وَذهب الْعِرَاقِيُّونَ الى أَنه الْحيض وَلكُل وَاحِد من الْقَوْلَيْنِ 3 ب شَاهد من الحَدِيث وَمن اللُّغَة
এই অধ্যায়টি তিনটি ভাগে বিভক্ত।

এর প্রথমটি হলো একক শব্দের প্রয়োগে সাদৃশ্য (اشتراك)।

দ্বিতীয়টি হলো শব্দের সেই সকল অবস্থায় সাদৃশ্য (اشتراك) যা ব্যাকরণিক রূপান্তর (إعراب) বা অন্য কোনো কারণে উদ্ভূত হয়।

আর তৃতীয়টি হলো এমন সাদৃশ্য (اشتراك) যা শব্দের গঠনশৈলী এবং একটির উপর অপরটির বিন্যাসের কারণে আবশ্যক হয়ে পড়ে।

একক শব্দের প্রয়োগে যে আপতিক সাদৃশ্য (اشتراك) ঘটে তা দুই প্রকার।

এমন সাদৃশ্য (اشتراك) যা বিভিন্ন বিপরীতধর্মী অর্থকে একত্রিত করে এবং এমন সাদৃশ্য (اشتراك) যা বিপরীত নয় এমন বিভিন্ন অর্থকে একত্রিত করে।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো 'কুরু' (শব্দটি); হিজাযি ফকিহগণ (فقهاء) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এর অর্থ হলো পবিত্রতা (الطهر), আবার ইরাকিগণ মনে করেন এর অর্থ হলো ঋতুস্রাব (الحيض)। এই প্রতিটি মতের স্বপক্ষেই হাদিস এবং ভাষা থেকে প্রমাণ (شاهد) বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أما حجَّة الْحِجَازِيِّينَ من الحَدِيث فَمَا رُوِيَ عَن عمر وَعُثْمَان وَعَائِشَة وَزيد بن ثَابت رضي الله عنهم أَنهم قَالُوا الْأَقْرَاء الْأَطْهَار

وَأما حجتهم من اللُّغَة فَقَوْل الْأَعْشَى … وَفِي كل عَام انت جاشم غَزْوَة … تشد لأقصاها عزيم عزائكا … مورثة مَالا وَفِي الْحَيّ رفْعَة … لما ضَاعَ فِيهَا من قُرُوء نسائكا …
হিজাজিদের হাদিসভিত্তিক দলিল হলো যা উমর, উসমান, আয়েশা এবং জায়েদ বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: 'আকরা' (الأقراء) হলো পবিত্রতার সময়কাল (الأطهار)।

আর ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে তাঁদের দলিল হলো আল-আ'শার উক্তি … "এবং প্রতি বছর আপনি এক একটি যুদ্ধে লিপ্ত হন … যার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের জন্য আপনি আপনার সংকল্পকে সুদৃঢ় করেন … যা সম্পদ এবং গোত্রে উচ্চমর্যাদা বয়ে আনে … আপনার স্ত্রীদের অতিবাহিত হওয়া পবিত্রতার সময়কালগুলোর (قروء) বিনিময়ে …"
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَأما حجَّة الْعِرَاقِيّين من الحَدِيث فَقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم للمستحاضة اقعدي عَن الصَّلَاة أَيَّام أَقْرَائِك

واما حجتهم من اللُّغَة فَقَوْل الراجز … يَا رب ذِي ضغن عَليّ فارض … لَهُ قُرُوء كقرء الْحَائِض … وَقد حكى يَعْقُوب بن السّكيت وَغَيره من اللغويين أَن الْعَرَب تَقول
আর হাদিসের প্রেক্ষিতে ইরাকিদের দলিল (حجة) হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, যা তিনি ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে (مستحاضة) বলেছিলেন: "তোমার ঋতুকালের (أقراء) দিনগুলোতে সালাত থেকে বিরত থাকো।"

আর ভাষাগত দিক থেকে তাদের দলিল (حجة) হলো রাজেযের (راجز) উক্তি ... হে প্রতিপালক! আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এমন কত ব্যক্তিই না রয়েছে ... যার ক্ষোভ ঋতুবতী নারীর (حائض) ঋতুচক্রের (قرء) ন্যায় ... আর ইয়াকুব ইবনে সিক্কিত এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বর্ণনা করেছেন যে, আরবরা বলে থাকে
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
أَقرَأت الْمَرْأَة اذا طهرت وأقرأت اذا حَاضَت وَذَلِكَ أَن الْقُرْء فِي كَلَام الْعَرَب مَعْنَاهُ الْوَقْت فَلذَلِك صلح للطهر وَالْحيض مَعًا

وَيدل على ذَلِك قَول الشَّاعِر … شنئت الْعقر عقر بني شليل … اذا هبت لِقَارِئِهَا الرِّيَاح …

وَقد احْتج بعض الْحِجَازِيِّينَ لقَولهم بقوله تبارك وتعالى {ثَلَاثَة قُرُوء} فَأثْبت الْهَاء فِي ثَلَاثَة فَدلَّ ذَلِك على أَنه أَرَادَ الْأَطْهَار وَلَو أَرَادَ الْحيض لقَالَ ثَلَاث قُرُوء لِأَن الْحيض مُؤَنّثَة
একজন নারী যখন পবিত্রতা অর্জন করে তখন বলা হয় 'আকরাআত' (أقرأت) এবং যখন সে ঋতুমতী হয় তখন তাকে 'আকরাআত' (أقرأت) বলা হয়। এর কারণ হলো, আরবদের ভাষায় 'কুরউ' (القرء) শব্দের অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময় (الوقت), তাই এটি পবিত্রতা (الطهر) ও ঋতুস্রাব (الحيض) উভয় অবস্থার জন্যই প্রযোজ্য।

কবির এই উক্তিটি এর প্রমাণ বহন করে: … আমি বনী শালীল এর অনুর্বরতাকে ঘৃণা করি … যখন তার নির্দিষ্ট সময়ে (لقارئها) বাতাস প্রবাহিত হয় …

হিজাযের কোনো কোনো আলেম তাঁদের মতের স্বপক্ষে মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল (احتج) পেশ করেছেন: {তিনটি কুরউ (ثَلَاثَة قُرُوء)}। এখানে 'সালাসাতাহ' (ثلاثة) শব্দটিতে 'হা' (هاء) যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এর দ্বারা পবিত্রতা (الأطهار) উদ্দেশ্য। যদি ঋতুস্রাব (الحيض) উদ্দেশ্য হতো, তবে 'সালাসু কুরু' (ثلاث قروء) বলা হতো, কারণ ঋতুস্রাব (الحيض) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنثة)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَهَذَا لَا حجَّة فِيهِ عِنْد أهل النّظر وانما الْحجَّة مَا قدمْنَاهُ وانما لم تكن فِيهِ حجَّة لِأَنَّهُ لَا يُنكر أَن يكون الْقُرْء لفظا مذكرا يعْنى بِهِ الْمُؤَنَّث وَيكون تذكير ثَلَاثَة حملا على اللَّفْظ دون الْمَعْنى كَمَا تَقول الْعَرَب جَاءَنِي ثَلَاثَة أشخص وهم يعنون نسَاء

وَالْعرب تحمل الْكَلَام تَارَة على اللَّفْظ وَتارَة على الْمَعْنى أَلا ترى الى قِرَاءَة الْقُرَّاء {بلَى قد جاءتك آياتي فَكَذبت بهَا واستكبرت} بِكَسْر الْكَاف وَالتَّاء وفتحهما

وَوُقُوع الْأَسْمَاء على المسميات فِي كَلَام الْعَرَب يَنْقَسِم أَرْبَعَة أَقسَام

أَحدهَا أَن يكون الْمُسَمّى مذكرا واسْمه مُذَكّر كَرجل يُسمى بزيد أَو عَمْرو

وَالْآخر أَن يكون الْمُسَمّى مؤنثا وأسمه مؤنث كإمرأه تسمى فَاطِمَة

চিন্তাশীল উলামাদের (أهل النظر) নিকট এতে কোনো দলিল (حجة) নেই। প্রকৃতপক্ষে দলিল (حجة) হলো তা-ই যা আমরা পূর্বে উপস্থাপন করেছি। এতে কোনো দলিল (حجة) না থাকার কারণ হলো, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে 'কুরু' (ঋতুস্রাব বা পবিত্রতা) শব্দটি একটি পুংলিঙ্গ শব্দ হওয়া সত্ত্বেও এর দ্বারা স্ত্রীলিঙ্গ সত্তাকে বোঝানো হতে পারে। এমতাবস্থায় 'তিন' সংখ্যাটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কেবল শব্দের (لفظ) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে, অর্থের (معنى) ওপর ভিত্তি করে নয়; যেমন আরবরা বলে থাকে—'আমার নিকট তিনজন ব্যক্তি (أشخص) এসেছে', অথচ তারা এর দ্বারা নারীদের উদ্দেশ্য করে।

আরবরা কখনো তাদের বক্তব্যকে শব্দের (لفظ) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গঠন করে, আবার কখনো অর্থের (معنى) ওপর ভিত্তি করে। আপনি কি কারীগণের কিরআত (قراءة) লক্ষ্য করেননি—{হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, তখন তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং অহংকার করেছিলে}, এখানে কাফ এবং তা বর্ণদ্বয়ে কাসরা এবং ফাতহা উভয় প্রকার পাঠরীতিই বিদ্যমান।

আরবি ভাষায় নাম এবং নামধারী সত্তার প্রয়োগ চারটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথমটি হলো: নামধারী সত্তা পুংলিঙ্গ এবং তার নামটিও পুংলিঙ্গ হওয়া, যেমন কোনো ব্যক্তির নাম যায়দ বা আমর হওয়া।

এবং অপরটি হলো: নামধারী সত্তা স্ত্রীলিঙ্গ এবং তার নামটিও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া, যেমন কোনো মহিলার নাম ফাতিমা রাখা।

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَالثَّالِث أَن يكون الْمُسَمّى مؤنثا واسْمه مُذَكّر كإمرأة تسمى جَعْفَر وَزيد قَالَ الشَّاعِر

يَا جَعْفَر يَا جَعْفَر يَا جَعْفَر

ان أك دحداحا فَأَنت أقصر … أَو أك ذَا شيب فَأَنت اكبر

غَرَّك سربال عَلَيْك أَحْمَر … ومقنع من الْحَرِير أصفر وَتَحْت ذَاك سؤاة لَو تذكر

وَالرَّابِع أَن يكون الْمُسَمّى مذكرا واسْمه مؤنث كَرجل يُسمى طَلْحَة وَحَمْزَة

وَهَذَا لَا يخص الْأَسْمَاء الْأَعْلَام دون الْأَجْنَاس والأنواع

وَهَكَذَا مَذْهَب الْعَرَب فِي الصّفة والموصوف فَرُبمَا كَانَ الْمَوْصُوف مطابقا لصفته فِي التَّذْكِير والتأنيث كَقَوْلِهِم هَذَا رجل قَائِم وَهَذِه امْرَأَة قَائِمَة

وَرُبمَا كَانَ مُخَالفا لصفته فِي التَّذْكِير والتأنيث كَقَوْلِهِم رجل ربعَة وعلامة ونسابة

وَفِي الْمُؤَنَّث امْرَأَة حاسر وعاشق
তৃতীয়ত হলো, যার নামকরণ করা হয়েছে (المسمى) সে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) অথচ তার নাম পুংলিঙ্গ (مذكر); যেমন কোনো নারী যার নাম রাখা হয়েছে জাফর ও যায়েদ। কবি বলেছেন:

হে জাফর! হে জাফর! হে জাফর!

আমি যদি খর্বাকৃতি হই তবে তুমি আরও খাটো … অথবা আমি যদি বার্ধক্যে উপনীত হই তবে তুমি বয়সে বড়।

তোমার পরিহিত লাল পোশাক তোমাকে প্রলুব্ধ করেছে … এবং রেশমের হলুদ ওড়নাও; অথচ তার নিচে রয়েছে কুশ্রীতা, যদি তুমি তা স্মরণ করতে।

চতুর্থত হলো, যার নামকরণ করা হয়েছে (المسمى) সে পুংলিঙ্গ (مذكر) অথচ তার নাম স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث); যেমন কোনো পুরুষ যার নাম রাখা হয়েছে তালহা ও হামজাহ।

আর এটি কেবল নামবাচক বিশেষ্যের (الأسماء الأعلام) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং তা জাতিবাচক (الأجناس) ও প্রকারবাচক (الأنواع) শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

গুণ (الصفة) এবং গুণান্বিত (الموصوف) শব্দের ক্ষেত্রেও আরবদের রীতি এমনই। কখনো কখনো গুণান্বিত (الموصوف) বিষয়টি পুংলিঙ্গ (التذكير) ও স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) হওয়ার ক্ষেত্রে তার গুণের (الصفة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যেমন তাদের উক্তি: "ইনি একজন দণ্ডায়মান পুরুষ" এবং "ইনি একজন দণ্ডায়মান নারী"।

আবার কখনো কখনো পুংলিঙ্গ (التذكير) ও স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) হওয়ার ক্ষেত্রে তা স্বীয় গুণের (الصفة) পরিপন্থী হয়; যেমন তাদের উক্তি: "মাঝারি গড়নের পুরুষ" (رجل ربعة), "মহাজ্ঞানী" (علامة) এবং "বংশবিদ্যায় পারদর্শী" (نسابة)।

আর স্ত্রীলিঙ্গের (المؤنث) ক্ষেত্রে তারা বলে: "মাথা খোলা নারী" (امرأة حاسر) এবং "প্রেমাসক্ত নারী" (عاشق)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ ذُو الرمة … وَلَو أَن لُقْمَان الْحَكِيم تعرضت … لعينيه مي حاسرا كَاد يَبْرق … فقد تبين أَنه لَا حجَّة فِي دُخُول الْهَاء فِي ثَلَاثَة

وَمن الْأَلْفَاظ الْمُشْتَركَة الْوَاقِعَة على الشَّيْء وضده قَوْله تَعَالَى {فَأَصْبَحت كالصريم}

قَالَ بعض الْمُفَسّرين مَعْنَاهُ كأنهار المضيء بَيْضَاء لَا شَيْء فِيهَا

وَقَالَ آخَرُونَ كالليل المظلم سَوْدَاء لَا شَيْء فِيهَا

وكلا الْقَوْلَيْنِ مَوْجُود فِي اللُّغَة أما من قَالَ كالنهار المضيء فحجته قَول زُهَيْر
যু-রুম্মাহ বলেছেন … "আর যদি লুকমান আল-হাকিমের দৃষ্টির সামনে অনাবৃত মায়্যি আসত … তবে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়তেন" … সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, 'তিন' সংখ্যাটিতে 'হা' বর্ণটি যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জোরালো যুক্তি (حجة) নেই।

আর কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যৌথ অর্থবোধক (المشتركة) শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর তা হয়ে গেল কর্তিত ফসলের ন্যায়}

জনৈক ব্যাখ্যাকারী (المفسرين) বলেছেন, এর অর্থ হলো উজ্জ্বল দিনের ন্যায় শুভ্র, যাতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।

আবার অন্য ব্যাখ্যাকারীরা বলেছেন, এর অর্থ অন্ধকার রাতের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ, যাতে কিছুই নেই।

আর উভয় বক্তব্যই ভাষাতত্ত্বে বিদ্যমান; যারা একে উজ্জ্বল দিনের মতো বলেছেন, তাদের প্রমাণ (حجة) হলো যুহাইরের উক্তি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
. بكرت عَلَيْهِ غدْوَة فرأيته … قعُودا لَدَيْهِ بالصريم عواذله … يَعْنِي الصَّباح

وَأما من قَالَ كالليل فحجته قَول الراجز تهوي هوي أنجم الصريم

وَقَالَ آخر … كأنا والرحال على صوار … برمل خزاق أسلمه الصريم … وَقَالَ بَعضهم مَعْنَاهُ انحسر عَنهُ الرمل وَقَالَ قوم مَعْنَاهُ خرج من اللَّيْل وانجلى عَنهُ كَمَا قَالَ النَّابِغَة … حَتَّى غَدا فِي بَيَاض الصُّبْح منصلتا … يقرو الأماعز من لبنان والأكما …
. আমি অতিপ্রত্যুষে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে দেখলাম … সারিম-এ তাঁর সমীপে তাঁর ভর্ৎসনাকারীরা উপবিষ্ট … অর্থাৎ প্রভাত।

আর যারা একে রাত্রির ন্যায় মনে করেন, তাঁদের প্রমাণ হলো জনৈক রাজিজ (ছন্দকার)-এর উক্তি: "তা যেন সারিমের নক্ষত্ররাজির পতনের ন্যায় দ্রুত পতিত হচ্ছে।"

অন্য এক কবি বলেছেন … যেন আমরা এবং আমাদের আরোহী যানসমূহ এক বন্য ষাঁড়ের পৃষ্ঠে সওয়ার … খুজাকের বালুকাভূমিতে, যাকে সারিম পরিত্যাগ করেছে … তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো তার থেকে বালু অপসারিত হয়েছে। আবার একদল বলেছেন, এর অর্থ হলো সে রাত্রি থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং রাত্রি তার থেকে অপসারিত হয়েছে, যেমন নাবিগাহ বলেছেন … এমনকি সে প্রত্যুষের শুভ্রতায় ক্ষিপ্রগতিতে ধাবমান হলো … লেবাননের শক্ত ভূমি ও পাহাড়সমূহ অতিক্রম করে …
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وانما سمي كل وَاحِد مِنْهُمَا صريما لِأَنَّهُ ينصرم اذا وافى الآخر

وَالْمعْنَى أَيْضا يشْهد لكل وَاحِد من الْقَوْلَيْنِ لِأَن الْعَرَب تَقول لَك بَيَاض الأَرْض وسوادها يعنون بالبياض مَا لَا عمَارَة فِيهِ وبالسواد مَا فِيهِ الْعِمَارَة فَهَذَا مَا يحْتَج بِهِ لمن ذهب الى معنى الْبيَاض

وَمن ذهب الى معنى السوَاد فانما أَرَادَ أَنَّهَا احترقت برِيح صر أَو نَار كَقَوْلِه تَعَالَى {فأصابها إعصار فِيهِ نَار فاحترقت}

وَمن هَذَا النَّوْع قَول أبي بكر رضي الله عنه طُوبَى لمن مَاتَ فِي النأنأة فانه يحْتَمل أَن يُرِيد أول الاسلام عِنْد قُوَّة البصائر قبل وُقُوع الْخلاف وَيحْتَمل أَنه يُرِيد بِهِ آخر الْإِسْلَام اذا ضعفت البصائر وَكَثُرت الْبدع وَالْخلاف
এবং তাদের প্রত্যেককেই ‘সারিম’ (صريم) নামে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ একটি যখন শেষ হয় তখন অন্যটি শুরু হয়।

উভয় মতের সপক্ষেই অর্থের সমর্থন রয়েছে; কেননা আরবরা ভূমির শুভ্রতা (بياض) এবং কৃষ্ণতা (سواد) শব্দদ্বয় ব্যবহার করে। শুভ্রতা (بياض) বলতে তারা আবাদহীন বা বিরান ভূমি বোঝায় এবং কৃষ্ণতা (سواد) বলতে আবাদকৃত শস্যশ্যামল ভূমি বোঝায়। যারা শুভ্রতার অর্থের দিকে গিয়েছেন, এটিই তাদের সপক্ষের যুক্তি।

আর যারা কৃষ্ণতার (سواد) অর্থের দিকে গিয়েছেন, তারা মূলত এটি বুঝিয়েছেন যে, তা প্রচণ্ড শীতল বায়ুপ্রবাহ অথবা আগুনের কারণে ভস্মীভূত হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর তাতে আগুনসহ এক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানল এবং তা পুড়ে গেল।"

এই প্রকারের (نوع) অন্তর্ভুক্ত হলো আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "সুসংবাদ তার জন্য যে 'নানআ' (النأنأة) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল।" এর দ্বারা সম্ভবত ইসলামের প্রাথমিক যুগ উদ্দেশ্য হতে পারে, যখন মানুষের অন্তর্দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত প্রখর এবং কোনো মতবিরোধের সৃষ্টি হয়নি। আবার এ দ্বারা ইসলামের শেষ যুগও উদ্দেশ্য হতে পারে, যখন মানুষের অন্তর্দৃষ্টি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বিদআত (بدعة) ও মতবিরোধের আধিক্য দেখা দেবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَيدل على صِحَة الْمَعْنيين جَمِيعًا قَوْله صلى الله عليه وسلم ان الأسلام بَدَأَ غَرِيبا وَسَيَعُودُ غَرِيبا كَمَا بَدَأَ فطوبى للغرباء

والنأنأة عِنْد الْعَرَب الضعْف لَا يخص الصغر دون الْكبر

قَالَ امْرُؤ الْقَيْس فِي ذَلِك … لعمرك مَا سعد بخلة آثم … وَلَا نأنأ يَوْم الْحفاظ وَلَا حصر …

وتأوله أَبُو عبيد على أَنه أَرَادَ بِهِ أول الأسلام وَلَيْسَ فِي لفظ الحَدِيث مَا يَقْتَضِي ذَلِك على أَن بعض الروَاة قد روى فِي النأنأة الأولى فان كَانَ هَذَا مَحْفُوظًا فَالْقَوْل مَا قَالَ أَبُو عبيد

وَمن هَذَا النَّوْع قَوْله صلى الله عليه وسلم قصوا الشَّوَارِب وأعفوا اللحى
উভয় অর্থের বিশুদ্ধতার প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত (غريب) অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা শুরুর সময়ের মতোই অপরিচিত (غريب) অবস্থায় ফিরে আসবে; সুতরাং অপরিচিতদের (غرباء) জন্য সুসংবাদ।"

আরবদের নিকট 'নানাআ' বলতে দুর্বলতা (ضعف) বোঝায়, যা কেবল শৈশবের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং বার্ধক্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ইমরুল কায়েস এ সম্পর্কে বলেছেন … তোমার জীবনের শপথ! সাদ কোনো পাপিষ্ঠ বন্ধুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি … এবং সে সুরক্ষার দিনে দুর্বল (نأنأ) বা কুণ্ঠিত ছিল না …

আবু উবাইদ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, এর দ্বারা তিনি ইসলামের সূচনা লগ্নকে বুঝিয়েছেন; তবে হাদিসের শব্দে এমন কিছু নেই যা এটাকে আবশ্যক করে। অবশ্য কিছু বর্ণনাকারী (رواة) 'প্রথম দুর্বলতা' (النأنأة الأولى) শব্দে বর্ণনা করেছেন; সুতরাং যদি এটি সংরক্ষিত (محفوظ) হয়ে থাকে, তবে আবু উবাইদ যা বলেছেন সেটিই সঠিক।

এই প্রকারের (نوع) অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো।"
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
قَالَ قوم مَعْنَاهُ وفروا وكثروا وَقَالَ آخَرُونَ قصروا وانقصوا وكلا الْقَوْلَيْنِ لَهُ شَاهد من اللُّغَة

أما من ذهب الى التكثير فحجته قَوْله تَعَالَى {حَتَّى عفوا} وَقَول جرير … وَلَكنَّا نعض السَّيْف مِنْهَا … بأسوق عافيات اللَّحْم كوم … طزك …

وَأما من ذهب الى الْحَذف وَالتَّقْصِير فحجته قَول زُهَيْر … تحمل أَهلهَا مِنْهَا فبانوا … على آثَار من ذهب العفاء … فَهَذِهِ جملَة من اللَّفْظ الْمُشْتَرك الْوَاقِع على معَان مُخْتَلفَة متضادة
একদল বলেছেন এর অর্থ হলো পূর্ণ করা ও বৃদ্ধি করা, আবার অন্যদল বলেছেন এর অর্থ হলো ছোট করা ও কমানো; উভয় মতেরই ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে।

যারা আধিক্য (التكثير) অর্থের দিকে গিয়েছেন, তাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী {যতক্ষণ না তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল (عفوا)} এবং জারীরের উক্তি … কিন্তু আমরা তার ওপর তলোয়ার দিয়ে আঘাত করি … মাংসল ও বিশাল কুঁজবিশিষ্ট উটের পায়ে … [অস্পষ্ট] …

আর যারা বিলোপ (الحذف) ও সংক্ষিপ্তকরণের (التقصير) দিকে গিয়েছেন, তাদের দলিল হলো যুহাইরের উক্তি … এর বাসিন্দারা এখান থেকে প্রস্থান করল এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল … যারা চলে গেছে তাদের চিহ্নের ওপর বিলুপ্তি নেমে এল … এটি হলো এমন বহু-অর্থবোধক শব্দের (اللفظ المشترك) সমষ্টি যা ভিন্ন ভিন্ন এবং বিপরীতমুখী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَأما اللَّفْظ الْمُشْتَرك الْوَاقِع على معَان مُخْتَلفَة غير متضادة فنحو قَوْله تَعَالَى {إِنَّمَا جَزَاء الَّذين يُحَاربُونَ الله وَرَسُوله ويسعون فِي الأَرْض فَسَادًا أَن يقتلُوا أَو يصلبوا} الى آخر الْآيَة ذهب قوم الى أَن أَو هَهُنَا للتَّخْيِير كَالَّتِي من قَوْلك جَالس زيدا أَو عمرأ فَقَالُوا السُّلْطَان مُخَيّر فِي هَذِه الْعُقُوبَات يفعل بقاطع السَّبِيل أَيهَا شَاءَ وَهُوَ قَول الْحسن الْبَصْرِيّ وَعَطَاء وَبِه قَالَ مَالك رحمه الله

وَذهب آخَرُونَ الى أَن أَو هَهُنَا للتفصيل والتبعيض فَمن حَارب وَقتل وَأخذ المَال صلب وَمن قتل وَلم يَأْخُذ المَال قتل وَمن أَخذ المَال وَلم يقتل قطعت يَده وَرجله من خلاف وَهُوَ قَول أبي مجلز وحجاج بن أَرْطَاة عَن ابْن عَبَّاس وَبِه قَالَ الشَّافِعِي وَأَبُو حنيفَة رحمهمَا الله تَعَالَى وَاحْتَجُّوا بِحَدِيث رَوَاهُ عُثْمَان وَعَائِشَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ لَا يحل دم امْرِئ مُسلم الا باحدى ثَلَاث زنا بعد احصان
আর একাধিক অর্থবোধক শব্দের (اللفظ المشترك) ক্ষেত্রে, যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু অ-পরস্পরবিরোধী অর্থের ওপর প্রযুক্ত হয়, তার উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। একদল আলিম মনে করেন যে, এখানে ‘অথবা’ (أو) অব্যয়টি পছন্দের অবকাশ (تخيير) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি বলা হয়— ‘জায়েদ অথবা আমরের সাথে বসো’। তারা বলেন, শাসক এই শাস্তিগুলোর ক্ষেত্রে ইচ্ছাধিকারপ্রাপ্ত (مخير); তিনি পথচারীদের লুণ্ঠনকারীর ওপর এর মধ্য থেকে যা ইচ্ছা প্রয়োগ করবেন। এটি হাসান বসরী ও আতা-এর মত এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) এই মতই পোষণ করেছেন।

আর অন্যরা মনে করেন যে, এখানে ‘অথবা’ (أو) অব্যয়টি বিস্তারিত বিন্যাস (تفصيل) ও প্রকারভেদ (تبعيض) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি যুদ্ধ করেছে, হত্যা করেছে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হবে। আর যে হত্যা করেছে কিন্তু সম্পদ নেয়নি, তাকে হত্যা করা হবে। আর যে সম্পদ নিয়েছে কিন্তু হত্যা করেনি, তার হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে। এটি আবু মিজলায এবং হাজ্জাজ বিন আরতাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুমাল্লাহ) এই মতই গ্রহণ করেছেন। তারা উসমান ও আয়েশা কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয় তিনটি কারণের কোনো একটি ছাড়া: বিবাহের পর ব্যভিচার..."
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৯)
اَوْ كفر بعد ايمان أَو قتل نفس بِغَيْر حق

وَاحْتَجُّوا من اللُّغَة بِأَن الْعَرَب تسْتَعْمل أَو للافراد وَالتَّفْصِيل فَيَقُولُونَ اجْتمع الْقَوْم فَقَالُوا حَاربُوا أَو صَالحُوا أَي قَالَ بَعضهم كَذَا وَقَالَ بَعضهم كَذَا وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {وَقَالُوا كونُوا هودا أَو نَصَارَى تهتدوا} 5 أوليس بَين الْفرق فرقة تخير بَين الْيَهُودِيَّة والنصرانية وانما الْمَعْنى أَن بَعضهم وهم الْيَهُود قَالُوا كونُوا هودا وَبَعْضهمْ وهم النَّصَارَى قَالُوا كونُوا نَصَارَى فَهَذَا تَفْصِيل لَا شكّ فِيهِ

وَالْعرب تلف الْكَلَامَيْنِ الْمُخْتَلِفين وَتَرْمِي بتفسيرهما جملَة ثِقَة بِأَن السَّامع يرد الى كل مخبر عَنهُ مَا يَلِيق بِهِ
অথবা ঈমানের পর কুফরি করা অথবা অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করা।

তারা ভাষাতাত্ত্বিক দলিল পেশ করেছেন যে, আরবরা ‘আও’ শব্দটিকে পৃথকীকরণ (افراد) এবং বিস্তারিত বর্ণনার (تفصيل) জন্য ব্যবহার করে। তারা বলে থাকে: ‘লোকেরা সমবেত হয়ে বলল: যুদ্ধ করো অথবা সন্ধি করো’; অর্থাৎ তাদের কেউ এটি বলেছে এবং কেউ ওটি বলেছে। মহান আল্লাহর বাণীও এর অন্তর্ভুক্ত: {তারা বলল: তোমরা ইহুদি অথবা খ্রিস্টান হয়ে যাও, তবেই হেদায়েত প্রাপ্ত হবে}। অথচ এই দলগুলোর মধ্যে এমন কোনো দল নেই যারা ইহুদি ধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার প্রদান করে। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো, তাদের একদল—অর্থাৎ ইহুদিরা—বলেছে: ‘তোমরা ইহুদি হও’, এবং অন্য দল—অর্থাৎ খ্রিস্টানরা—বলেছে: ‘তোমরা খ্রিস্টান হও’। সুতরাং এটি যে একটি বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل), তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আর আরবরা দুটি ভিন্ন বক্তব্যকে একত্রে গ্রথিত করে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা সামষ্টিকভাবে উপস্থাপন করে এই নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) ভিত্তিতে যে, শ্রোতা প্রতিটি সংবাদদাতার বক্তব্যকে তার উপযুক্ত বিষয়ের দিকেই ফিরিয়ে নেবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫০)
قَالَ الله تَعَالَى {وَمن رَحمته جعل لكم اللَّيْل وَالنَّهَار لتسكنوا فِيهِ ولتبتغوا من فَضله}

وَنَحْوه قَول امْرِئ الْقَيْس … كَأَن قُلُوب الطير ويابسا … لَدَى وَكرها الْعنَّاب والحشف الْبَالِي … وَلَو جَاءَ هَذَا الْكَلَام مفصلا لقَالَ كَأَن قُلُوب الطير رطبا الْعنَّاب ويابسا الحشف الْبَالِي

وَكَذَلِكَ الْآيَة لَو جَاءَت مفصلة لقَالَ جعل لكم اللَّيْل لتسكنوا فِيهِ وَالنَّهَار لتبتغوا من فَضله

وَاخْتلفُوا فِي النَّفْي من الأَرْض مَا هُوَ فَقَالَ الحجازيون ينفى من مَوضِع الى مَوضِع وَقَالَ الْعِرَاقِيُّونَ يسجن وَيحبس
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন {এবং তাঁর অনুগ্রহস্বরূপ তিনি তোমাদের জন্য রাত ও দিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো}

এর সদৃশ হলো ইমরুল কায়েসের উক্তি … যেন পাখির হৃৎপিণ্ডগুলো আর্দ্র ও শুষ্ক অবস্থায় … তার নীড়ের কাছে উননাব ও জীর্ণ খেজুরের মতো … যদি এই বাক্যটি বিস্তারিতভাবে আসত, তবে তিনি বলতেন: যেন পাখির হৃৎপিণ্ডগুলো আর্দ্র অবস্থায় উননাবের মতো এবং শুষ্ক অবস্থায় জীর্ণ খেজুরের মতো।

অনুরূপভাবে আয়াতটিও যদি বিস্তারিতভাবে আসত, তবে বলা হতো: তিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং দিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো।

আর জমিন থেকে বহিষ্কার (النفي من الأرض) বলতে কী বোঝায় সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। হিজাজবাসীরা বলেছেন, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্বাসিত করা; আর ইরাকবাসীরা বলেছেন, কারারুদ্ধ ও বন্দি করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَالْعرب تسْتَعْمل النَّفْي بِمَعْنى السجْن

قَالَ بعض المسجونين

خرجنَا من الدُّنْيَا وَنحن من أَهلهَا

فلسنا من الْأَمْوَات فِيهَا وَلَا الأحيا … اذا جَاءَنَا السجان يَوْمًا لحَاجَة

عجبنا وَقُلْنَا جَاءَ هَذَا من الدُّنْيَا

وَمن هَذَا النَّوْع قَوْله صلى الله عليه وسلم أَسْرَعكُنَّ لحَاقًا بِي أَطْوَلكُنَّ يدا قَالَه لنسائه فحسبنه من الطول الَّذِي هُوَ ضد الْقصر فظنت عَائِشَة أَنَّهَا المرادة فَلَمَّا مَاتَت زَيْنَب قبلهَا علِمْنَ حِينَئِذٍ أَنه انما
আরবরা ‘নির্বাসন’ (النفي) শব্দটিকে ‘কারাগার’ অর্থে ব্যবহার করে।

জনৈক কারাবন্দী বলেছেন:

“আমরা দুনিয়া থেকে প্রস্থান করেছি অথচ আমরা এর অধিবাসীদেরই অন্তর্ভুক্ত;

আমরা তথায় মৃতদের অন্তর্ভুক্ত নই, আবার জীবিতদেরও নই … যদি কোনো প্রয়োজনে কোনো একদিন কারারক্ষী আমাদের নিকট আসে,

তবে আমরা বিস্মিত হই এবং বলি, ‘এ ব্যক্তি দুনিয়া থেকে এসেছে’।”

এই প্রকারের (রূপক ব্যবহারের) অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “তোমাদের মধ্যে যার হাত দীর্ঘতম, সে-ই সবার আগে আমার সাথে মিলিত হবে।” তিনি তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এটি বলেছিলেন, ফলে তাঁরা একে দৈর্ঘ্যের অর্থে গ্রহণ করেছিলেন যা হ্রস্বতার বিপরীত। আয়েশা (রা.) ধারণা করেছিলেন যে তিনিই এর উদ্দেশ্য; কিন্তু যখন তাঁর পূর্বে যয়নব (রা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে এর দ্বারা মূলত...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫২)
أَرَادَ الطول الَّذِي هُوَ الْفضل وَالْكَرم وَكَانَت زَيْنَب أكثرهن صَدَقَة وَالْعرب تَقول فلَان أطول يدا من فلَان اذا كَانَ أكْرم مِنْهُ وَأكْثر بذلا

قَالَ الشَّاعِر … وَلم يَك أَكثر الفتيان مَالا … وَلَكِن كَانَ أطولهم ذِرَاعا … ويروى أرحبهم

وَمن هَذَا النَّوْع قَوْله تَعَالَى {من أجل ذَلِك كتبنَا على بني إِسْرَائِيل} قَالَ قوم مَعْنَاهُ من سَبَب ذَلِك كَمَا يُقَال فعلت ذَلِك من أَجلك
তিনি ‘দৈর্ঘ্য’ (طول) বলতে শ্রেষ্ঠত্ব ও মহানুভবতা উদ্দেশ্য নিয়েছেন। যয়নব (রা.) তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীলা ছিলেন। আরবরা বলে থাকে, ‘অমুক অমুকের চেয়ে দীর্ঘ হস্তবিশিষ্ট’, যখন সে তার চেয়ে অধিক মহানুভব ও অধিক বদান্য হয়।

কবি বলেছেন … তিনি যুবকদের মধ্যে অধিক বিত্তবান ছিলেন না … বরং তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে দীর্ঘতম বাহুর অধিকারী … এবং বর্ণিত (يروى) হয়েছে ‘সর্বাধিক প্রশস্ত’।

আর এই প্রকারের (نوع) অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সেই কারণে আমি বনী ইসরাঈলের ওপর বিধান অবধারিত করেছিলাম}। একদল আলেম বলেছেন, এর অর্থ হলো ‘সেই কারণে’, যেমনটি বলা হয়: ‘আমি তোমার কারণেই এটি করেছি’।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَقَالَ قوم مَعْنَاهُ من جِنَايَة ذَلِك وجريرته وَيُقَال أجل عَلَيْهِم شرا يأجله أَََجَلًا اذا جناه وَاحْتَجُّوا بقول خَوات بن جُبَير الْأنْصَارِيّ … وَأهل خباء صَلَاح ذَات بَينهم … قد احتربوا فِي عَاجل أَنا آجله … وَهَذَا النَّوْع كثير جدا

وَأما الِاشْتِرَاك الْعَارِض من قبل اخْتِلَاف أَحْوَال الْكَلِمَة 5 ب دون مَوْضُوع لَفظهَا فَمثل قَوْله تَعَالَى {وَلَا يضار كَاتب وَلَا شَهِيد}
এক দল লোক বলেছেন যে, এর অর্থ হলো সেই অপরাধ এবং তার দায়। বলা হয়ে থাকে, ‘সে তাদের ওপর মন্দ বয়ে এনেছে’ যখন সে কোনো অপরাধ করে। তারা খাওওয়াত ইবনে জুবায়ের আল-আনসারীর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন … এবং এক তাঁবুর অধিবাসী যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সুন্দর … তারা এমন এক তাৎক্ষণিক বিষয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে যার মূলে ছিলাম আমি … এবং এই প্রকারটি অত্যন্ত অধিক।

আর শব্দের অবস্থার পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট আনুষঙ্গিক দ্ব্যর্থকতা (الاشتراك العارض) ৫ ব এর বিষয়টি শব্দের মূল প্রয়োগ ব্যতিরেকেই ঘটে থাকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো লেখক বা সাক্ষীকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়}।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫৪)
قَالَ قوم مضارة الْكَاتِب أَن يكْتب مَا لم يمل عَلَيْهِ ومضارة الشَّهِيد أَن يشْهد بِخِلَاف الشَّهَادَة وَقَالَ آخَرُونَ مضارتهما أَن يمنعا من أشغالهما ويكلفا الْكِتَابَة وَالشَّهَادَة فِي وَقت يشق ذَلِك فِيهِ عَلَيْهِمَا

وانما أوجب هَذَا الْخلاف أَن قَوْله {وَلَا يضار} يحْتَمل أَن يكون تَقْدِيره وَلَا يضارر بِفَتْح الرَّاء فَيلْزم على هَذَا أَن يكون الْكَاتِب والشهيد مَفْعُولا بهما لم يسم فاعلهما وَهَكَذَا كَانَ يقرأابن مَسْعُود بِإِظْهَار التَّضْعِيف وَفتح الرَّاء

وَيحْتَمل أَن يكون تعديره وَلَا يضارر بِكَسْر الرَّاء فَيلْزم على هَذَا أَن يكون الْكَاتِب والشهيد فاعلين وَهَكَذَا كَانَ يقْرَأ ابْن عمر باظهار التَّضْعِيف وَكسر الرَّاء
একদল বলেছেন যে, লেখকের ক্ষতি করা হলো এমন কিছু লেখা যা তাকে দিয়ে লেখানো হয়নি এবং সাক্ষীর ক্ষতি করা হলো প্রকৃত সাক্ষ্যের বিপরীতে সাক্ষ্য প্রদান করা। অন্য একদল বলেছেন যে, তাঁদের উভয়ের ক্ষতি করা হলো তাঁদেরকে নিজ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং এমন সময়ে লেখা ও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যখন তা তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়।

মূলত এই মতভেদের কারণ হলো, মহান আল্লাহর বাণী {وَلَا يُضَارَّ}-এর বিশ্লেষণমূলক রূপ (تقدير) 'ওয়া লা ইউদাররার' হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ রা বর্ণে ফাতহাহ (জবর) যোগে। এমতাবস্থায় লেখক ও সাক্ষী কর্মবাচ্য (مفعولا بهما لم يسم فاعلهما) হিসেবে গণ্য হবেন। ইবনে মাসউদ (রা.) এভাবেই দ্বিত্ব বিলোপ না করে (إظهار التضعيف) এবং রা বর্ণে ফাতহাহ যোগে পাঠ করতেন।

আবার এর বিশ্লেষণমূলক রূপ (تقدير) 'ওয়া লা ইউদাররির' হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ রা বর্ণে কাসরাহ (জের) যোগে। এর ফলে লেখক ও সাক্ষী কর্তা (فاعلين) হিসেবে গণ্য হবেন। ইবনে উমর (রা.) এভাবেই দ্বিত্ব বিলোপ না করে (إظهار التضعيف) এবং রা বর্ণে কাসরাহ যোগে পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফীত তানবীহি আলাল আসবাবিল্লাতী আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَمثل هَذَا قَوْله تَعَالَى {لَا تضار وَالِدَة بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُود لَهُ بولده}

وَأما الِاشْتِرَاك الْعَارِض من قبل تركيب الْكَلَام وَبِنَاء بعض الْأَلْفَاظ على بعض فان مِنْهُ مَا يدل على معَان مُخْتَلفَة متضادة وَمِنْه مَا يدل على معَان مُخْتَلفَة غير متضادة

فَمن النَّوْع الأول قَوْله تَعَالَى {وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُم فِي الْكتاب فِي يتامى النِّسَاء اللَّاتِي لَا تؤتونهن مَا كتب لَهُنَّ وترغبون أَن تنكحوهن} قَالَ قوم مَعْنَاهُ وترغبون فِي نِكَاحهنَّ لمالهن وَقَالَ آخَرُونَ: إِنَّمَا أَرَادَ وترغبون عَن نِكَاحهنَّ لدمامتهن وَقلة مالهن
আর এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {কোনো মাতাকে যেন তার সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয় এবং কোনো পিতাকেও যেন তার সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়।}

আর বাক্য গঠন এবং শব্দের পারস্পরিক বিন্যাসের ফলে সৃষ্ট দ্ব্যর্থবোধকতা (الاشتراك), তার মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা ভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী (متضادة) অর্থ প্রদান করে, আবার কিছু এমন যা ভিন্ন হলেও অ-পরস্পরবিরোধী (غير متضادة) অর্থ প্রদান করে।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং কিতাবে তোমাদের নিকট যা পাঠ করা হয় সেই নারী ইয়াতীমদের সম্পর্কে, যাদের জন্য যা নির্ধারিত ছিল তা তোমরা তাদের প্রদান করো না অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে আগ্রহী হতে।} একদল লোক বলেছেন, এর অর্থ হলো তোমরা তাদের সম্পদের লোভে তাদের বিবাহের প্রতি আগ্রহী হতে। আবার অন্যরা বলেছেন, তিনি মূলত তাদের রূপহীনতা ও স্বল্প সম্পদের কারণে তাদের বিবাহের প্রতি অনাগ্রহী হওয়াকে বুঝিয়েছেন।