(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: -)
إيثار الإنصاف في آثار الخلاف القسم: أصول الفقه
الكتاب: إيثار الإنصاف في آثار الخلاف
المؤلف: سبط ابن الجوزي (ت 654 هـ)
المحقق: ناصر العلي الناصر الخليفي (جامعة الملك فهد للبترول والمعادن - قسم الدراسات الإسلامية والعربية)
الناشر: دار السلام - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 410
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইইসারুল ইনসাফ ফি আসারিল খিলাফ (মতভেদের প্রভাবসমূহে ইনসাফকে প্রাধান্য প্রদান) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)
বই: ইইসারুল ইনসাফ ফি আসারিল খিলাফ
লেখক: সিবত ইবনুল জাওজি (মৃত ৬৫৪ হিজরি)
সম্পাদক: নাসের আল-আলি আন-নাসের আল-খুলাইফি (কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস - ইসলামি ও আরবি শিক্ষা বিভাগ)
প্রকাশক: দারুস সালাম - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم(وَبِه نستعين) وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه
الْحَمد لله الَّذِي أنعم على الْعلمَاء بالإسعاد والإسعاف وَمن عَلَيْهِم بالإتحاف والألطاف وشرفهم بالفضائل وَبهَا يحصل الشّرف والإشراف ذلت الموجودات لهيبته وأقرت عَن اعْتِرَاف وانقادت الأفئدة خاضعة لعظمته وَهِي فِي انقيادها تخَاف
أَحْمَده على ستر الْخَطَايَا والاقتراف وأصلي على رَسُوله مُحَمَّد مَا لبّى محرم وسعى ساع وَطَاف وعَلى آله وَصَحبه الْفُضَلَاء الْأَشْرَاف
وَبعد فَإِن جمَاعَة من إخْوَان الْفُقَهَاء كثر الله عَددهمْ ووفر مددهم كَانُوا يسألونني جمع أَحَادِيث التَّعْلِيق و (بَيَان) مَا صَحَّ مِنْهَا وَمَا لم يَصح لكل فريق وَكنت اقتنع من ذَلِك لشيئين
أَحدهمَا لِأَنِّي ذكرت جَمِيع الْأَحَادِيث المختصة بِالْأَحْكَامِ فِي كتابي الْمُسَمّى ب الْمُخْتَصر اللامع على شرح الْمُخْتَصر وَالْجَامِع
وَالثَّانِي ظَنِّي أَن مَا فِي الطّرق من ذَلِك يَكْفِي وَيحصل المُرَاد ويشفي فَلَمَّا نظرت فِي عَامَّة التَّعَالِيق رَأَيْت بضَاعَة أَكْثَرهم فِي هَذَا الْفَنّ مزجاة وَرُبمَا اعْتمد الْمُسْتَدلّ على حَدِيث وَلَا يدْرِي من رَوَاهُ وَكَيف يحسن بفقيه لَا يعرف صَحِيح حَدِيث الرَّسُول عَلَيْهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।(এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি) আমার সকল তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আলেমদের সৌভাগ্য ও সাহায্য দান করে ধন্য করেছেন, তাঁদের প্রতি উপহার ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন এবং তাঁদের ফযিলত দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যার মাধ্যমে প্রকৃত মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়। সকল সৃষ্টি তাঁর মহিমার সামনে অবনত হয়েছে এবং তা স্বীকার করে নিয়েছে। তাঁর মাহাত্ম্যের সামনে সমস্ত অন্তর অনুগত হয়ে ঝুঁকে পড়েছে এবং সেই আনুগত্যে তারা ভীত-শঙ্কিত।
আমি তাঁর প্রশংসা করি গুনাহ ও পাপাচার গোপন রাখার জন্য। আমি তাঁর রাসুল মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করি—যতক্ষণ কোনো ইহরামকারী লাব্বাইক বলবে, কোনো সাঈকারী সাঈ করবে এবং কোনো তাওয়াফকারী তাওয়াফ করবে। আর তাঁর পরিবারবর্গ ও শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপরও (দরুদ বর্ষিত হোক)।
অতঃপর, ফকীহ ভাইদের একটি দল—আল্লাহ তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁদের সাহায্য পর্যাপ্ত করুন—তাঁরা আমাকে 'তালিক' (টীকা) সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করার এবং প্রত্যেক পক্ষের জন্য কোনটি সহিহ আর কোনটি সহিহ নয় তা বর্ণনা করার অনুরোধ করছিলেন। আমি দুটি কারণে এ বিষয়ে নিবৃত্ত ছিলাম।
প্রথমত, কারণ আমি আহকাম বা বিধান সংশ্লিষ্ট সমস্ত হাদিস আমার 'আল-মুখতাসারুল লামি' আলা শারহিল মুখতাসার ওয়াল জামি' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়ত, আমার ধারণা ছিল যে, এ বিষয়ে প্রচলিত গ্রন্থাদিতে যা রয়েছে তা-ই যথেষ্ট এবং এর মাধ্যমেই উদ্দেশ্য হাসিল ও সমাধান হবে। কিন্তু যখন আমি সাধারণ 'তালিক' বা টীকাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, তখন দেখলাম যে এই শাস্ত্রে তাদের অধিকাংশের পুঁজি খুবই নগণ্য। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দলিল পেশকারী কোনো একটি হাদিসের ওপর নির্ভর করেন অথচ তিনি জানেন না সেটি কে বর্ণনা করেছেন। আর একজন ফকীহর জন্য এটি কীভাবে শোভন হতে পারে যে, তিনি আল্লাহর রাসুলের—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—সহিহ হাদিস সম্পর্কে অবগত নন?
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الصَّلَاة وَالسَّلَام من سقيمه وَلَا سالمه من سليمه وَكَثِيرًا مَا أسمع الْعَجَائِب فِي المناظرات فَمن قَائِل عَن الحَدِيث الصَّحِيح هَذَا لَا يعرف وَإِنَّمَا هُوَ لَا يعرفهُ ومحتج بالواهي ويظنه ثَابتا وَرُبمَا جَاءَ حَدِيث ضَعِيف يُخَالف مذْهبه (فيبين) وَجه الطعْن فِيهِ وَإِن كَانَ مُوَافقا سكت عَن ذَلِك سكُوت غير فَقِيه
فاستخرت الله تَعَالَى فِي إِجَابَة سُؤَالهمْ بتقرير مَذْهَبنَا وَمذهب الْمُخَالف وكشف الغوامض من دقائق الْأَحَادِيث الَّتِي يهتدى بِصِحَّتِهَا إِلَى المعارف وَمَتى ورد حَدِيث فِيهِ نظر بيّنت مَا جَاءَ فِي علته وأظهرت فَسَاده من صِحَّته وَلَا فرق بَين أَن يكون حجَّة لنا أَو يلْزمنَا الْخصم بِهِ إلزاما لِأَنِّي أعتقد العصبية فِي مثل هَذَا حَرَامًا ونادر (مُصَنف) منصف
وعزيت أَحَادِيث الْأَحْكَام إِلَى أَئِمَّة النَّقْل الْأَعْلَام
فلأحمد (حد) وللبخاري (خَ) وَلمُسلم (م) وَلأبي دَاوُد (د) وللترمذي (ت) وَلابْن مَاجَه (جه) وللنسائي (نس) وللدار قطني (ق)
وسميته إِيثَار الْإِنْصَاف فِي آثَار الْخلاف واقتصرت على أَحَادِيث الْمسَائِل الْمَشْهُورَة إِجَابَة لسؤالهم وتبليغا لآمالهم فَمن رام الْوُقُوف على بَاقِي الْمسَائِل وَإِدْرَاك بسط الْأَدِلَّة فَعَلَيهِ بطريقتنا الخلافية فَفِيهَا مقنع وَمَتى طلبنا التَّرْجِيح اقتبسناه من إِجْمَاع الصَّحَابَة وَإِلَى الله سُبْحَانَهُ الإناية
وَرُبمَا استدللنا فِي بعض الْمسَائِل بعمومات الْكتاب لعدم المنقولات فِي الْبَاب وَالله الْمُوفق للصَّوَاب
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর রুগ্ন বা সুস্থ কোনো উম্মতই তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত নয়। আমি বিতর্ক সভাগুলোতে প্রায়শই কিছু আশ্চর্যজনক বিষয় শুনে থাকি। কেউ কেউ কোনো সহিহ হাদিস সম্পর্কে বলে ফেলে যে এটি অপরিচিত, অথচ বাস্তবতা হলো সে নিজেই তা জানে না। আবার কেউ ভিত্তিহীন ও দুর্বল বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করে এবং সেটিকে সুপ্রমাণিত মনে করে। কখনো আবার এমন কোনো দুর্বল হাদিস সামনে আসে যা তার মাযহাবের পরিপন্থী, তখন সে তৎক্ষণাৎ তার ত্রুটিসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে শুরু করে; কিন্তু যদি তা তার মাযহাবের অনুকূলে হয়, তবে সে এমনভাবে নীরবতা অবলম্বন করে যা কোনো বিজ্ঞ ফকিহ ব্যক্তির জন্য শোভনীয় নয়।
অতঃপর আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে, আমাদের মাযহাব ও বিরুদ্ধ মতাদর্শের বর্ণনা প্রদান করতে এবং হাদিসের সেই নিগূঢ় ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উন্মোচন করতে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি—যে হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা অনুধাবনের মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা যায়। যখনই এমন কোনো হাদিস এসেছে যা পর্যালোচনার দাবি রাখে, আমি তার অন্তর্নিহিত ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করেছি এবং তার অশুদ্ধতা বা বিশুদ্ধতাকে সুস্পষ্ট করেছি। এক্ষেত্রে কোনো হাদিস আমাদের অনুকূলে দলিল হওয়া কিংবা প্রতিপক্ষ কর্তৃক আমাদের বিরুদ্ধে পেশ করার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য করিনি। কেননা আমি মনে করি, এ জাতীয় বিষয়ে গোঁড়ামি বা পক্ষপাতিত্ব করা হারাম। আর ইনসাফ বা নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গ্রন্থকার অত্যন্ত বিরল।
আমি বিধিবিধান সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে প্রথিতযশা হাদিস বিশারদ ইমামগণের বর্ণনার দিকে সম্বন্ধিত করেছি।
ইমাম আহমাদ বুঝাতে (হাদ), বুখারীর জন্য (খা), মুসলিমের জন্য (মিম), আবু দাউদের জন্য (দাল), তিরমিযীর জন্য (তা), ইবনে মাজাহর জন্য (জাহ), নাসাঈর জন্য (নুন-সিন) এবং দারাকুতনীর জন্য (কাফ) সংকেত চিহ্ন নির্ধারণ করেছি।
আমি কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘ঈসারুল ইনসাফ ফি আসারিল খিলাফ’ (মতপার্থক্যের বর্ণনায় নিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া)। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে আমি কেবল সুপ্রসিদ্ধ মাসআলাগুলোর হাদিসের বর্ণনার ওপর সংক্ষেপ করেছি। সুতরাং যারা অবশিষ্ট মাসআলাগুলো সম্পর্কে অবহিত হতে এবং দলিলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুধাবন করতে আগ্রহী, তাদের উচিত আমাদের ‘তরীকাতুল খিলাফিয়া’ (মতভেদ বিষয়ক শাস্ত্রীয় পদ্ধতি) পাঠ করা, কারণ তা তাদের জন্য পর্যাপ্ত হবে। আর যখনই আমরা কোনো মতকে প্রাধান্য দিতে চেয়েছি, তখন সাহাবীগণের ইজমা বা ঐকমত্য থেকে তা আহরণ করেছি। মহান আল্লাহর নিকটই যাবতীয় প্রত্যাবর্তন।
কখনো কখনো কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় কোনো বর্ণিত হাদিস না থাকার কারণে আমরা কুরআনের সাধারণ নির্দেশের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছি। আল্লাহই সঠিক পথ লাভের তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
= كتاب الطَّهَارَة =
مَسْأَلَة الْخَارِج النَّجس من غير السَّبِيلَيْنِ ينْقض الْوضُوء عِنْد عُلَمَائِنَا وَهُوَ قَول الْعشْرَة المبشرين بِالْجنَّةِ وَابْن مَسْعُود وَابْن عمر وَزيد بن ثَابت وَأبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ وَأبي الدَّرْدَاء وثوبان وصدور التَّابِعين
وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ رحمهمَا الله لاينقض وَفرق أَحْمد بَين الْقَلِيل وَالْكثير 2
لنا مَا رُوِيَ أَن فَاطِمَة بنت أبي حُبَيْش سَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَت إِنِّي أسْتَحَاض فَلَا أطهر أفأدع الصَّلَاة فَقَالَ لَا إِنَّمَا ذَلِك عرق وَلَيْسَ بالحيضة فَإِذا أَقبلت فدى الصَّلَاة وَإِذا أَدْبَرت فاغسلي عَنْك الدَّم وتوضئي لَك صَلَاة خَ 0 م 0 ت وَصلي وروى زيد بن عَليّ عَن أَبِيه عَن جده قَالَ قَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم القلس حدث 0 ق 0
وروى 8 ابْن أبي مليكَة عَن عَائِشَة رَضِي الله عنهاقالت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قاء أحدكُم فِي صلَاته أَو قلس فلينصرف وليتوضأ وليبن على مَا مضى من صلَاته مَا لم يتَكَلَّم 0 ق 0
= পবিত্রতা অধ্যায় =
মাসআলা: দুই পথ (মল ও মূত্রদ্বার) ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো স্থান দিয়ে অপবিত্র কিছু নির্গত হওয়া আমাদের ওলামায়ে কেরামের নিকট ওযু ভঙ্গকারী। আর এটি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী (আশারা মুবাশশারা), ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, যায়েদ ইবনে সাবিত, আবু মুসা আল-আশআরি, আবু দারদা, সাওবান এবং শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ীগণের অভিমত।
ইমাম মালেক এবং ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেছেন যে, এতে ওযু নষ্ট হয় না; আর ইমাম আহমদ অল্প এবং অধিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
আমাদের পক্ষে দলিল হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, "আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত হই এবং পবিত্র হই না, তবে কি আমি সালাত ত্যাগ করব?" তিনি বললেন, "না, এটি তো কেবল একটি রগ (থেকে নির্গত রক্ত), তা হায়েয নয়। সুতরাং যখন হায়েয আসবে তখন সালাত ছেড়ে দাও, আর যখন তা শেষ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং প্রতিটি সালাতের জন্য ওযু করো ও সালাত আদায় করো।" (বুখারী, মুসলিম ও তিরমিজি)। যায়েদ ইবনে আলী তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুখভর্তি বমি ওযু ভঙ্গকারী।" (দারুকুতনী)।
ইবনে আবি মুলাইকা আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কেউ যদি তার সালাতরত অবস্থায় বমি করে কিংবা মুখভর্তি বমি আসে, তবে সে যেন ফিরে গিয়ে ওযু করে এবং সালাতের যতটুকু অংশ ইতিপূর্বে আদায় করেছে তার ওপর ভিত্তি করে বাকিটুকু পূর্ণ করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কথা না বলে।" (দারুকুতনী)।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَفِي رِوَايَة أبي سعيد أَو أحدث 0 ق 0
وَفِي رِوَايَة ابْن عَبَّاس كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا رعف فِي صلَاته تَوَضَّأ ثمَّ بنى على صلَاته 0 ق 0
وروى تَمِيم الدَّارِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْوضُوء من كل دم سَائل
وروى سلمَان قَالَ سَالَ من أنفي دم فَقَالَ لي النَّبِي صلى الله عليه وسلم أحدث لما حدث لَك وضُوءًا 0 ق 0
وروى أَبُو هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْسَ فِي القطرة وَلَا القطرتين من الدَّم وضوء وَإِلَّا أَن يكون سَائِلًا 0 ق 0
وروى معدان بن أبي طَلْحَة عَن أبي الدَّرْدَاء أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قاء فَتَوَضَّأ
(قَالَ معدان) فَلَقِيت ثَوْبَان فِي مَسْجِد دمشق فَذكرت لَهُ ذَلِك فَقَالَ صدق أَنا صببت لَهُ وضُوءًا حد
আবু সাঈদের বর্ণনায় রয়েছে: অথবা সে অপবিত্র হয়েছে।
ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়কালে যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝরত, তখন তিনি অজু করতেন এবং এরপর সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করতেন।
তামীম আদ-দারী বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি প্রবাহিত রক্ত থেকেই অজু করতে হবে।"
সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নাক থেকে রক্ত ঝরল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "তোমার যা ঘটেছে তার জন্য নতুনভাবে অজু করো।"
আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এক বা দুই ফোঁটা রক্তের কারণে অজু করতে হয় না, যদি না তা প্রবাহিত হয়।"
মা'দান ইবনে আবু তালহা আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করলেন এবং এরপর অজু করলেন।
(মা'দান বলেন) অতঃপর আমি দামেস্কের মসজিদে সাওবানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন, আমিই তাঁর অজুর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।"
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَإِن قيل فِي إِسْنَاد حَدِيث زيد بن عَليّ سوار بن مُصعب قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ إِنَّه مَتْرُوك
وَفِي حَدِيث ابْن أبي مليكَة اسماعيل بن عَيَّاش ضَعِيف ثمَّ هُوَ مُرْسل
وَفِي رِوَايَة أبي سعيد أَبُو بكر (الداهريء) قَالَ ابْن معِين لَيْسَ بِشَيْء
وَفِي إِسْنَاد حَدِيث ابْن عَبَّاس عمر بن ريَاح وَسليمَان بن أَرقم ضعفهما الدَّارَقُطْنِيّ
যদি বলা হয় যে যায়েদ বিন আলীর হাদীসের সনদে সাওয়ার বিন মুসআব রয়েছে, যার সম্পর্কে দারাকুতনী বলেছেন যে সে পরিত্যক্ত।
আর ইবনে আবী মুলাইকার হাদীসে ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ রয়েছে, যে দুর্বল; তদুপরি এটি মুরসাল।
আর আবু সাঈদের বর্ণনায় আবু বকর (আদ-দাহিরী) রয়েছে, যার সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন যে সে কিছুই নয়।
আর ইবনে আব্বাসের হাদীসের সনদে উমর বিন রিয়াহ এবং সুলাইমান বিন আরকাম রয়েছে, দারাকুতনী তাদের উভয়কে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَحَدِيث تَمِيم مُرْسل
وَحَدِيث سلمَان فِيهِ (عَمْرو) الْقرشِي ضعفه أَحْمد
وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة فِيهِ مُحَمَّد بن الْفضل وَهُوَ ضَعِيف
وَحَدِيث ثَوْبَان مُرْسل
فَالْجَوَاب أما حَدِيث زيد فقد رَوَاهُ عَن آبَائِهِ الطاهرين وَزيد غير مُتَّهم واضطراب سوار لَا يقْدَح فِي عَدَالَة زيد وَقد احْتج بِهِ أَبُو بكر الْخلال وَغَيره وَقد قيل إِن اضطرابه من حَيْثُ الْإِرْسَال وَذَلِكَ حجَّة عندنَا
وَأما ابْن عَيَّاش فقد وَثَّقَهُ يحيى بن معِين
তামীমের হাদিসটি মুরসাল।
সালমানের হাদিসটিতে (আমর) আল-কুরাশি রয়েছেন, ইমাম আহমাদ তাকে দুর্বল বলেছেন।
আবু হুরায়রা-র হাদিসটিতে মুহাম্মদ ইবনুল ফদল রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল।
সাওবানের হাদিসটি মুরসাল।
উত্তর হলো, যায়দ-এর হাদিস সম্পর্কে কথা এই যে, তিনি তা তাঁর পবিত্র পিতৃপুরুষদের থেকে বর্ণনা করেছেন। যায়দ অভিযুক্ত নন এবং সাওয়ার-এর অস্থিরতা যায়দ-এর ন্যায়নিষ্ঠাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। আবু বকর আল-খলাল এবং অন্যান্যরা একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে, এর অস্থিরতা মূলত মুরসাল হওয়ার দিক থেকে, আর তা আমাদের নিকট দলিল হিসেবে গণ্য।
আর ইবনে আইয়াশ-কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَأما حَدِيث ثَوْبَان فقد قَالَ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ هُوَ أصح شَيْء فِي هَذَا الْبَاب
وَأما مُحَمَّد بن الْفضل فَإِنَّمَا تكلم فِيهِ لِأَنَّهُ رَوَاهُ عَن أَبِيه عَن مَيْمُون بن مهْرَان عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن الْمسيب بَين مَيْمُون وَأبي هُرَيْرَة وَلم يذكرهُ وَهَذِه صفة الْإِرْسَال
وَبَاقِي الْأَحَادِيث إِنَّمَا طعنوا فِيهَا من جِهَة الْإِرْسَال والمراسيل عندنَا حجَّة لما عرف من أصولنا
احْتَجُّوا بِأَحَادِيث مِنْهَا
مَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قاء فَغسل فَمه فَقيل لَهُ أَلا تتوضأ وضوءك للصَّلَاة فَقَالَ هَكَذَا الْوضُوء من الْقَيْء
وروى أَنه عليه الصلاة والسلام قَالَ لَا وضوء إِلَّا من حدث قيل وَمَا الْحَدث قَالَ الْخَارِج من السَّبِيلَيْنِ 0 (ت)
وروى أَبُو هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا وضوء إِلَّا من صَوت أَو ريح 0 ت 0
وروى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم احْتجم وَلم يتَوَضَّأ وَلم يزدْ على غسل محاجمه ق
وَفِي رِوَايَة ثَوْبَان فَسَكَبت لَهُ وضُوءًا قلت من هَذَا وضوء فَقَالَ لَو
আর সাওবানের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে আহমদ ও তিরমিজি বলেছেন যে, এই অধ্যায়ে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস।
আর মুহাম্মদ ইবনুল ফজল সম্পর্কে যে সমালোচনা করা হয়েছে, তা মূলত এই কারণে যে, তিনি এটি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মেহরান থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ মায়মুন ও আবু হুরায়রার মাঝে ইবনুল মুসায়্যিব বিদ্যমান ছিলেন কিন্তু তিনি তাকে উল্লেখ করেননি; আর এটিই হলো ইরসালের (সূত্রের বিচ্ছিন্নতা) প্রকৃতি।
বাকি হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে তাঁরা কেবল ইরসালের দিক থেকেই আপত্তি তুলেছেন। আর আমাদের নিকট আমাদের সুপরিচিত মূলনীতি অনুযায়ী মুরসাল হাদিসসমূহ দলিল হিসেবে গণ্য।
তাঁরা কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে—
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বমি করেছিলেন অতঃপর তাঁর মুখ ধৌত করেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি কি সালাতের অজুর ন্যায় অজু করবেন না? তিনি বললেন, বমির কারণে অজু এমনই হয়।
এবং বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: ‘হাদাস’ (অশুচিতা) ব্যতীত কোনো অজু নেই। জিজ্ঞাসা করা হলো, হাদাস কী? তিনি বললেন: দুই পথ (মল ও মূত্রের রাস্তা) দিয়ে যা নির্গত হয়। (তিরমিজি)
আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: শব্দ শোনা অথবা দুর্গন্ধ পাওয়া (বায়ু নির্গত হওয়া) ব্যতীত কোনো অজু নেই। (তিরমিজি)
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন কিন্তু নতুন করে অজু করেননি এবং সিঙ্গার স্থান ধৌত করার অতিরিক্ত কিছু করেননি। (দারাকুতনি)
সাওবানের বর্ণনায় রয়েছে, আমি তাঁর জন্য অজুর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। আমি বললাম, এটি কি অজুর পানি? তিনি বললেন, যদি—
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
كَانَ لوجدته فِي كتاب الله تَعَالَى 0 ق 0
وَعَن جَابر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم خرج من غزَاة ذَات الرّقاع فَقَالَ من يكلؤنا فِي اللَّيْل فَقَالَ رجل من الْأَنْصَار وَرجل من الْمُهَاجِرين نَحن بِفَم الشّعب فَنَامَ الْأنْصَارِيّ وحرس الْمُهَاجِرِي فجَاء رجل من الْمُشْركين فَرَمَاهُ بِسَهْم فَنَزَعَهُ فَرَمَاهُ بآخر حَتَّى رَمَاه بِثَلَاثَة أسْهم فَلَمَّا خَافَ على نَفسه أيقظ صَاحبه فَلَمَّا رأى الدَّم يسيل مِنْهُ قَالَ هلا أيقظتني من الأول فَقَالَ كنت أتلو سُورَة فَوَقَعت فِي روضات دمثات وَلَوْلَا أَنِّي أَخَاف أَن أضيع ثغرا أَمرنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بحفظه لما أيقظتك وَبلغ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَدَعَا لَهما 0 د 0
তবে তা মহান আল্লাহর কিতাবে অবশ্যই পেতে। [ক]
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাতুর রিকা যুদ্ধ থেকে ফিরলেন। তিনি বললেন: "রাতে কে আমাদের পাহারাদারি করবে?" তখন জনৈক আনসারী ও জনৈক মুহাজির বললেন: "আমরা গিরিপথের মুখে পাহারায় থাকব।" এরপর আনসারী ব্যক্তিটি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং মুহাজির ব্যক্তিটি পাহারা দিতে লাগলেন। এমতাবস্থায় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে তাকে একটি তীর নিক্ষেপ করল, তিনি তা খুলে ফেললেন। এভাবে সে তাকে তিনটি তীর নিক্ষেপ করল। অতঃপর যখন তিনি নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করলেন, তখন তাঁর সঙ্গীকে জাগিয়ে দিলেন। যখন তাঁর সঙ্গী রক্ত প্রবাহিত হতে দেখলেন, তখন বললেন: "কেন আপনি আমাকে প্রথম তীরটির সময়ই জাগালেন না?" তিনি বললেন: "আমি একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম, তখন আমি যেন এক সুকোমল শ্যামল উদ্যানে বিচরণ করছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যে সীমান্ত রক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা ব্যাহত হওয়ার ভয় না থাকলে আমি আপনাকে জাগাতাম না।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাঁদের উভয়ের জন্য দোয়া করলেন। [দ]
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَلم يَأْمُرهُ بِالْوضُوءِ وَلَا إِعَادَة الصَّلَاة
فَالْجَوَاب أما الحَدِيث الأول فَغَرِيب فَلَا يُعَارض الْمَشْهُور
وَأما الثَّانِي فَلَا يعرف أصلا
وَأما الثَّالِث فمتروك الظَّاهِر لِأَن الْوضُوء يجب من غير الصَّوْت وَالرِّيح بالِاتِّفَاقِ وَأما حَدِيث ثَوْبَان فَفِي إِسْنَاده عتبَة بن السكن قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ هُوَ مَتْرُوك
وَأما الرَّابِع فَيحْتَمل أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يعلم بِحَالهِ على الْفَوْر ثمَّ علم بعد ذَلِك فَأمره بِالْإِعَادَةِ بِغَيْر علم الرَّاوِي وَلَو وَقع التَّعَارُض طلبنا التَّرْجِيح وَذَلِكَ من وَجْهَيْن
أَحدهمَا إِجْمَاع الصَّحَابَة على مثل مَذْهَبنَا وَلَو كَانَت الْأَخْبَار غير ثَابِتَة لما أَجمعُوا
وَالثَّانِي أَن أخبارنا مثبة وأخبارهم نَافِيَة والمثبت مقدم
وَأحمد رحمه الله يفرق بَين الْقَلِيل وَالْكثير بِمَا روى ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رخص فِي دم (الحبون) 0 ق 0 يَعْنِي الدماميل
قُلْنَا فِي إِسْنَاده بَقِيَّة قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَانَ يُدَلس إِلَّا أَنه قد أخرج عَنهُ مُسلم
এবং তিনি তাকে ওযু করার অথবা সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দেননি।
এর উত্তর হলো, প্রথম হাদিসটি ‘গারিব’ (অল্প সংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত), তাই এটি ‘মাশহুর’ (সুপ্রসিদ্ধ) হাদিসের পরিপন্থী নয়।
আর দ্বিতীয় হাদিসটির কোনো ভিত্তিই জানা নেই।
আর তৃতীয়টির বাহ্যিক অর্থ পরিত্যক্ত, কারণ সর্বসম্মতিক্রমে শব্দ বা বায়ু নির্গত হওয়া ছাড়াও ওযু ওয়াজিব হয়। অন্যদিকে সাওবান (রা.)-এর হাদিসটির সনদে ‘উতবা বিন আস-সাকান’ রয়েছে, যার সম্পর্কে ইমাম দারা কুতনী বলেছেন: সে ‘মাতরুক’ (পরিত্যক্ত)।
আর চতুর্থটির ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হননি, পরবর্তীতে অবগত হওয়ার পর তাকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন যা বর্ণনাকারী জানতে পারেননি। আর যদি বৈপরীত্য দেখা দেয়, তবে আমরা ‘তারজীহ’ (প্রাবল্য নির্ধারণ) অন্বেষণ করব এবং তা দুটি পন্থায় সম্ভব।
প্রথমটি হলো, আমাদের মাযহাবের অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাহাবীগণের ইজমা (ঐক্যমত); আর যদি এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত না হতো, তবে তারা ইজমা করতেন না।
দ্বিতীয়টি হলো, আমাদের বর্ণিত হাদীসসমূহ সাব্যস্তকারী আর তাদের হাদীসসমূহ না-বোধক; আর সাব্যস্তকারী বর্ণনা অগ্রগণ্য হয়।
আর ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) অল্প ও অধিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য করেছেন ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসের মাধ্যমে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হুবুন’ অর্থাৎ ফোড়া বা পাছড়ার রক্তের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।
আমরা বলি, এর সনদে ‘বাকিয়্যাহ’ রয়েছেন; ইমাম দারা কুতনী বলেছেন: তিনি ‘তাদলীস’ করতেন, তবে ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فِي الصَّحِيح فَيحمل على الْقَلِيل إِذا لم يسل
مَسْأَلَة النِّيَّة لَيست بِشَرْط فِي الْوضُوء وَالْغسْل عندنَا
قَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد رحمهم الله هِيَ شَرط
لنا مَا رُوِيَ أَن أم سَلمَة رضي الله عنها سَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَت يَا رَسُول الله إِنِّي امْرَأَة أَشد ضفر رَأْسِي أفأنقضه فِي الْجَنَابَة فَقَالَ لَا إِنَّمَا يَكْفِيك أَن تحثي على رَأسك ثَلَاث حثيات من مَاء فتطهرين م حد
وَفِي رِوَايَة أما أَنا فأحثي على رَأْسِي ثَلَاث حثيات من مَاء فَإِذا أَنا قد طهرت
وَلَو كَانَت النِّيَّة وَاجِبَة لذكرها
وَعلم النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْأَعرَابِي الْوضُوء وَلم يذكر لَهُ النِّيَّة خَ م مَعَ جَهله بِالْأَحْكَامِ
সহীহ বর্ণনামতে, এটি অল্প পরিমাণের ওপর প্রয়োগ করা হবে যদি তা প্রবাহিত না হয়।
মাসআলা: আমাদের নিকট ওযু ও গোসলের ক্ষেত্রে নিয়ত করা শর্ত নয়।
ইমাম মালিক, শাফেঈ এবং আহমাদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: এটি শর্ত।
আমাদের সপক্ষে দলীল হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মে সালামাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন একজন নারী যে মাথার বেণী শক্ত করে বাঁধে; আমি কি জানাবাতের গোসলের জন্য তা খুলে ফেলব? তিনি বললেন: না, তোমার জন্য তোমার মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢেলে দেওয়াই যথেষ্ট, তাহলেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম ও সুনান)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "আর আমি তো আমার মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢেলে দেই, ফলে আমি পবিত্র হয়ে যাই।"
যদি নিয়ত ওয়াজিব হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন।
নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এক গ্রাম্য ব্যক্তিকে ওযু শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং তার নিকট নিয়তের কথা উল্লেখ করেননি (সহীহ বুখারী ও মুসলিম), যদিও সে বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
احْتَجُّوا بِأَحَادِيث مِنْهَا
مَا روى عمر رضي الله عنه أَنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَلكُل امرىء مَا نوى فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله وَمن كَانَت هجرته إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة يَتَزَوَّجهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ خَ م
وروى أَبُو مَالك الْأَشْعَرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الطّهُور شطر الْإِيمَان وَالْحَمْد لله تملأ الْمِيزَان م
وَفِي رِوَايَة وَلَيْسَ لِلْمُؤمنِ من عمله إِلَّا مَا نَوَاه
وروى أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لاصلاة لمن لَا وضوء لَهُ وَلَا وضوء لمن لم ينود وَهُوَ قَول ابْن عمر وَابْن مَسْعُود
তারা কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।" (বুখারী ও মুসলিম)
আবু মালিক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক এবং 'আলহামদুলিল্লাহ' মিজানের পাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়।" (মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "মুমিনের জন্য তার আমল থেকে কেবল তা-ই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে।"
এবং বর্ণিত আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তার সালাত নেই যার ওযু নেই, আর তার ওযু নেই যে নিয়ত করেনি।" এটি ইবনে ওমর এবং ইবনে মাসউদের উক্তি।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَالْجَوَاب أما الحَدِيث الأول فمتروك الظَّاهِر لِأَن الْعَمَل يُوجد من غير نِيَّة لما عرف ثمَّ هُوَ ورد على سَبَب فَكَانَ خطابا لرجل هَاجر لذَلِك السَّبَب وَكَذَا الثَّانِي لِأَن الْإِيمَان عبارَة عَن التَّصْدِيق وَالْوُضُوء لَيْسَ من التَّصْدِيق فِي شَيْء
وَأما الثَّالِث فَيحمل على الِاسْتِحْبَاب تَوْفِيقًا بَين الدَّلَائِل
مَسْأَلَة التَّرْتِيب لَيْسَ بِشَرْط فِي الْوضُوء عندنَا وَهُوَ قَول عَليّ وَابْن عَبَّاس وَابْن مَسْعُود وَبِه قَالَ مَالك إِلَّا أَنه يشْتَرط الدَّلْك وَقَالَ الشَّافِعِي وَأحمد رحمهمَا الله هُوَ شَرط
لنا مَا روى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مسح رَأسه بِمَا فضل من وضوئِهِ
قلت وَالَّذِي روينَاهُ على غير هَذَا وَهُوَ مَا رَوَت الرّبيع بنت معوذ بن عفراء قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يأتينا فيكثر فَأَتَانَا فَوَضَعْنَا لَهُ الميضأة فَتَوَضَّأ فَغسل كفيه وتمضمض واستنشق وَغسل وَجهه وذراعيه وَمسح رَأسه بِمَا بَقِي من وضوئِهِ فِي يَدَيْهِ ثمَّ غسل رجلَيْهِ حد
وَقد احْتج الإِمَام الرضي فِي طَرِيقَته فَقَالَ روى أَبُو دَاوُد أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم تيَمّم فَبَدَأَ بذراعيه
قلت وَلم أَجِدهُ فِي سنَنه
উত্তর হলো, প্রথম হাদিসটির বাহ্যিক অর্থটি বর্জনীয়, কারণ এটি সুপরিচিত যে নিয়ত ছাড়াও আমল বা কাজ সম্পন্ন হয়। তদুপরি, এটি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে, তাই এটি সেই ব্যক্তির প্রতি সম্বোধন ছিল যে সেই নির্দিষ্ট কারণে হিজরত করেছিল। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় হাদিসটিও, কারণ ঈমান হলো মূলত সত্যায়ন (তাসদিক), আর ওজু সত্যায়ন করার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর তৃতীয় হাদিসটিকে দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য করা হবে।
মাসআলা: আমাদের নিকট ওজুতে ধারাবাহিকতা (তারতীব) বজায় রাখা শর্ত নয়। এটি আলী, ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ (রা.)-এর অভিমত। ইমাম মালিকও (রহ.) এই মত পোষণ করেছেন, তবে তিনি অঙ্গ মর্দন করাকে শর্ত করেছেন। ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেছেন যে, এটি একটি শর্ত।
আমাদের স্বপক্ষে দলীল হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ওজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন।
আমি বলি, আমরা যা বর্ণনা করেছি তা এর থেকে ভিন্ন। আর তা হলো রুবায়্যি বিনতে মুআউইজ বিন আফরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে প্রায়ই আসতেন। একদা তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং আমরা তাঁর জন্য ওজুর পানির পাত্র রাখলাম। তখন তিনি ওজু করলেন; তাঁর উভয় কবজি ধুলেন, কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধুলেন এবং তাঁর হাতে ওজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন, অতঃপর দুই পা ধুলেন।
ইমাম রাযী তাঁর 'তারিকা' গ্রন্থে দলিল পেশ করে বলেছেন: আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তায়াম্মুম করলেন এবং তাঁর দুই হাত থেকে শুরু করলেন।
আমি বলি: আমি তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
احْتَجُّوا بِمَا روى خَلاد بن السَّائِب عَن أيه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يقبل الله تَعَالَى صَلَاة امرىء حَتَّى يضع الطّهُور موَاضعه فَيغسل وَجهه ثمَّ ذِرَاعَيْهِ ثمَّ يمسح بِرَأْسِهِ ثمَّ يغسل رجلَيْهِ ق
وَهَذَا هُوَ التَّرْتِيب وَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يتَوَضَّأ مُرَتبا حد م وَقَالَ صلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
فَالْجَوَاب أما الحَدِيث الأول فقد ضعفه الرَّازِيّ فِي أَحْكَام الْقُرْآن وَلَو سلم
তারা খাল্লাদ বিন সায়েব কর্তৃক তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত এই বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কোনো ব্যক্তির সালাত কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে পবিত্রতা অর্জনের অঙ্গসমূহ যথাস্থানে ব্যবহার করে; অর্থাৎ সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করবে, অতঃপর তার উভয় হাত, এরপর মাথা মাসাহ করবে এবং অতঃপর তার উভয় পা ধৌত করবে।"
আর এটিই হলো ধারাবাহিকতা (তারতিব)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধারাবাহিকভাবেই অজু করতেন এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"
এর উত্তর হলো—প্রথম হাদিসটির ব্যাপারে ইমাম রাযী তাঁর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন; আর যদি একে সহীহ হিসেবে মেনেও নেওয়া হয়...
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فكلمة ثمَّ تذكر بِمَعْنى الْوَاو كَقَوْلِه تَعَالَى {ثمَّ الله شَهِيد} {ثمَّ كَانَ من الَّذين آمنُوا}
وَأما مَا فعله عليه الصلاة والسلام فَيحمل على الِاسْتِحْبَاب لِئَلَّا ترد النُّصُوص الدَّالَّة على جَوَاز الطَّهَارَة بِغَيْر تَرْتِيب كَقَوْلِه تَعَالَى {وأنزلنا من السَّمَاء مَاء طهُورا} وَنَحْوه وَالْمَاء مطهر بطبعه فَلَا يتَوَقَّف على صنع العَبْد
مَسْأَلَة تجوز إِزَالَة النَّجَاسَة الْحَقِيقِيَّة بِغَيْر المَاء من الْمَائِعَات الطاهرات كالخل وَنَحْوه
وَقَالَ مُحَمَّد رحمه الله لَا تجوز وَهُوَ قَول زفر رحمه الله وَمَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد رحمهم الله
لنا مَا روى عَليّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا ولغَ الْكَلْب فِي إِنَاء أحدكُم فليغسله سبعا 0 خَ 0 م 0
وَفِي رِوَايَة الدَّارَقُطْنِيّ ثَلَاثًا أَمر بِالْغسْلِ مُطلقًا فتقييده بِالْمَاءِ يحْتَاج إِلَى دَلِيل وَكَذَا الْأَحَادِيث الْمُطلقَة فِي الْبَاب
সুতরাং 'সুম্মা' শব্দটি 'এবং' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আল্লাহ সাক্ষী" এবং "অতঃপর তিনি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন"।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছেন, তা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হবে, যাতে পর্যায়ক্রম (তরতিব) ব্যতীত পবিত্রতা অর্জনের বৈধতা নির্দেশকারী দলীলসমূহ প্রত্যাখ্যাত না হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি" এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত। আর পানি স্বভাবগতভাবেই পবিত্রকারী, তাই এটি বান্দার কর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়।
মাসআলা: পানি ব্যতীত অন্য কোনো পবিত্র তরল পদার্থ, যেমন সিরকা বা এই জাতীয় বস্তু দ্বারা প্রকৃত নাপাকি দূর করা বৈধ।
ইমাম মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এটি বৈধ নয়; আর এটিই ইমাম যুফার (রহিমাহুল্লাহ), ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর অভিমত।
আমাদের স্বপক্ষে দলীল হলো যা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।" (বুখারী ও মুসলিম)।
আর দারাকুতনীর বর্ণনায় রয়েছে তিনবার। এখানে ধৌত করার আদেশ সাধারণভাবে এসেছে, সুতরাং একে পানির সাথে শর্তযুক্ত করার জন্য স্বতন্ত্র দলীলের প্রয়োজন। এই অধ্যায়ের অন্যান্য সাধারণ হাদীসগুলোর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت كُنَّا نقرض الدَّم على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ نبله بالريق
وَالظَّاهِر أَنه صلى الله عليه وسلم علم بذلك
احْتَجُّوا بقوله عليه الصلاة والسلام لأسماء وَقد سَأَلته عَن دم الْحيض يُصِيب الثَّوْب حتيه ثمَّ اقرضيه ثمَّ اغسليه بِالْمَاءِ 0 خَ 0 م 0
أَمر بِالْغسْلِ بِالْمَاءِ فَلَمَّا لم يغسلهُ بِهِ لَا يخرج عَن الْعهْدَة
وثبث أَن صلى الله عليه وسلم نهى عَن قيل وَقَالَ وإضاعة المَال وَغسل هَذِه الْأَشْيَاء بالخل وَنَحْوه إِضَاعَة
فَالْجَوَاب أَنه لَيْسَ فِيهِ نفي الْغسْل بِغَيْر المَاء وَذكر المَاء إِنَّمَا كَانَ على الْأَعَمّ الْأَغْلَب كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا طَائِر يطير بجناحيه}
وَأما الحَدِيث الثَّانِي فإنفاق المَال لغَرَض صَحِيح يجوز فَإِن من الْآثَار مَا لَا يَزُول إِلَّا بالخل
مَسْأَلَة جُلُود الْميتَة تطهر بالدباغ عندنَا
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমরা (কাপড়ে লেগে থাকা) রক্ত নখ দিয়ে খুঁটে ফেলতাম, তারপর তা থুতু দিয়ে ভিজিয়ে দিতাম।
প্রকাশ্যত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন।
তারা আসমা (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন—যখন তিনি তাঁকে ঋতুস্রাবের রক্ত কাপড়ে লাগা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—"তুমি তা ঘষবে, তারপর নখ দিয়ে খুঁটে ফেলবে, এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে।" (বুখারী ও মুসলিম)
তিনি পানি দিয়ে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই যখন পানি দিয়ে ধোয়া হবে না, তখন দায়মুক্তি হবে না।
আর এটি সুপ্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিরর্থক কথাবার্তা ও সম্পদ অপচয় করতে নিষেধ করেছেন; আর এই বস্তুসমূহ সিরকা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ধোয়া অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত।
এর উত্তর হলো, এতে পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ধোয়াকে নাকচ করা হয়নি। পানির উল্লেখ কেবল সচরাচর ব্যবহারের ভিত্তিতে হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে।"
আর দ্বিতীয় হাদিসের উত্তর হলো, সঠিক উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করা বৈধ। কেননা কিছু দাগ এমন যা সিরকা ব্যতীত দূর হয় না।
মাসআলা: আমাদের নিকট মৃত পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার (দাবাগাত) মাধ্যমে পবিত্র হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَقَالَ مَالك وَأحمد لَا تطهر
ووافقنا الشَّافِعِي رضي الله عنه إِلَّا فِي جلد الْكَلْب فَإِنَّهُ نجس الْعين عِنْده كالخنزير وَهُوَ رِوَايَة عَن أبي حنيفَة رحمه الله
لنا مَا روى ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مر بِشَاة لميمونة ميتَة فَقَالَ هلا انتفعتم بإهابها فَقَالُوا إِنَّهَا ميتَة فَقَالَ إِنَّمَا حرم من الْميتَة أكلهَا 0 خَ 0 م 0
وروى ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا دبغ الإهاب فقد طهر م وَهَذِه نُصُوص فِي مَحل النزاع
احتجا بِمَا روى عبد الله بن عكيم قَالَ أَتَانَا كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبل مَوته كنت رخصت لكم فِي جُلُود الْميتَة فَإِذا أَتَاكُم كتابي هَذَا فَلَا تنتفعوا مِنْهَا بإهاب وَلَا عصب حد
وَقَوله كنت دَلِيل على نسخ مَا تقدمه
وَالْجَوَاب من وُجُوه
এবং ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ বলেছেন যে তা পবিত্র হয় না।
আর ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সাথে একমত হয়েছেন, তবে কুকুরের চামড়ার বিষয়টি ব্যতীত; কেননা সেটি তাঁর নিকট শূকরের মতো সত্তাগতভাবেই অপবিত্র। আর এটি ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকেও একটি বর্ণনা।
আমাদের সপক্ষে দলিল হলো যা ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাইমুনাহর একটি মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না?" তাঁরা বলল: "এটি তো মৃত।" তিনি বললেন: "মৃত প্রাণীর কেবল ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।" (বুখারী ও মুসলিম)
ইবনে আব্বাস আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন চামড়া পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" (মুসলিম)। আর এগুলো বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রমাণ (নুসুস)।
তাঁরা (মালিক ও আহমাদ) আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের কিছুকাল পূর্বে আমাদের নিকট তাঁর একটি পত্র আসে যে, "আমি তোমাদের মৃত প্রাণীর চামড়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছিলাম; কিন্তু যখন তোমাদের নিকট আমার এই পত্র পৌঁছাবে, তখন তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া ও রগ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।"
আর তাঁর কথা "আমি দিয়েছিলাম" কথাটি পূর্ববর্তী বিধান রহিত হওয়ার দলিল।
এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
أَحدهَا أَنه كتاب لَا يعرف حامله
وَالثَّانِي أَن أَلْفَاظه مضطربه فَتَارَة يَقُول وَأَنا شَاب وَتارَة يَقُول وَأَنا صبي وَتارَة قبل مَوته بِشَهْر وَتارَة بشهرين
وَقد قَالَ ابْن الْمَدِينِيّ مَاتَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلابْن عكيم سنة وَإِنَّمَا يرويهِ عَن مشيخة من جُهَيْنَة
وَالثَّالِث أَن حديثنا فِي الصَّحِيحَيْنِ وحديثهما مُضْطَرب فَلَا يقاومه وَلَو سلم لم يكن فِيهِ دَلِيل على مَوضِع الْخلاف لِأَن الإهاب فِي اللُّغَة اسْم للجلد مَا لم يدبغ فَإِذا دبغ فَهُوَ أَدِيم
وَالشَّافِعِيّ رحمه الله يحْتَج بِمَا روى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم دَعَاهُ بعض الْأَنْصَار إِلَى دَار فَلم يجب وَدعَاهُ آخر فَأجَاب فَسئلَ عَن ذَلِك فَقَالَ كَانَ فِي الأولي كلب وَفِي الثَّانِيَة هرة وَإِنَّهَا لَيست نَجِسَة إِنَّهَا من الطوافين عَلَيْكُم أَو الطوافات وَهَذَا الْجَواب وَقع فِي معرض الْفرق تمهيدا لعذره صلى الله عليه وسلم
وَالْجَوَاب أَنه غَرِيب فَلَا يُعَارض الْمَشْهُور وَلَو اشْتهر لم يكن حجَّة لِأَنَّهُ لَا يدل بالمنطوق لِأَنَّهُ مسكوت عَنهُ وَلَا بِالْمَفْهُومِ لِأَنَّهُمَا عينان مُخْتَلِفَانِ وَيحْتَمل أَنه صلى الله عليه وسلم لم يجبهُ لِمَعْنى آخر لَا لماقال وَمَتى احْتمل بَطل الِاحْتِجَاج بِهِ
এর মধ্যে একটি হলো, এটি এমন একটি পত্র যার বাহক পরিচিত নন।
দ্বিতীয়ত, এর শব্দমালার মধ্যে অসংলগ্নতা (ইদতিরাব) রয়েছে। কখনও তিনি বলেন, 'আমি তখন যুবক ছিলাম', কখনও বলেন, 'আমি তখন বালক ছিলাম', আবার কখনও বলেন, 'তাঁর মৃত্যুর এক মাস আগে' এবং কখনও বলেন, 'দুই মাস আগে'।
ইবনে মাদিনী রহ. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ইবনে আকাইমের বয়স ছিল মাত্র এক বছর। তিনি মূলত জুহাইনা গোত্রের কতিপয় শায়খ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত, আমাদের পক্ষের হাদিসটি সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে, আর তাদের বর্ণিত হাদিসটি অসংলগ্ন, তাই এটি তার সমকক্ষ হতে পারে না। আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তাতে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কোনো দলিল নেই। কারণ ভাষাগতভাবে 'ইহাব' বলা হয় সেই চামড়াকে যা এখনো প্রক্রিয়াজাত (দাবাগাত) করা হয়নি; যখন তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তাকে 'আদীম' বলা হয়।
ইমাম শাফেঈ রহ. সেই বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেন যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বাড়িতে দাওয়াত দিলে তিনি তাতে সাড়া দেননি। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি তাঁকে দাওয়াত দিলে তিনি সাড়া দেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "প্রথম বাড়িতে কুকুর ছিল, আর দ্বিতীয়টিতে ছিল বিড়াল; আর বিড়াল অপবিত্র নয়, বরং তারা তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী বা বিচরণকারিনী।" এই উত্তরটি পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজর পেশ করার ভূমিকা হিসেবে।
এর উত্তর হলো, হাদিসটি গরীব (একক সূত্রীয়), তাই এটি মশহুর (প্রসিদ্ধ) হাদিসের বিরোধী হতে পারে না। আর যদি তা প্রসিদ্ধও হতো, তবুও তা দলিল হওয়ার যোগ্য ছিল না; কারণ তা 'মানতুক' (উচ্চারিত শব্দ) দ্বারা কোনো অর্থ নির্দেশ করে না যেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে সেখানে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, আর 'মাফহুম' (উহ্য অর্থ) দ্বারাও নয় কারণ বিড়াল ও কুকুর দুটি ভিন্ন সত্তা। অধিকন্তু, এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কোনো কারণে তাঁর দাওয়াতে সাড়া দেননি, তিনি যা বলেছেন সেই কারণে নয়। আর যেখানে অন্য সম্ভাবনার উদ্রেক হয়, সেখানে তা দিয়ে দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
= كتاب الصَّلَاة =
مَسْأَلَة العَاصِي بِسَفَرِهِ يترخص برخص الْمُسَافِرين عندنَا وَقَالَ أَحْمد وَالشَّافِعِيّ لَا يترخص وَاتَّفَقُوا على العَاصِي فِي سَفَره يترخص
لنا إِجْمَاع الصَّحَابَة فَإِن عمر وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَا صَلَاة الْمُسَافِر رَكْعَتَانِ على لِسَان نَبِيكُم وَقد خَابَ من افترى فَيجب الْعَمَل بِالْعُمُومِ
لَهما أَن الرُّخْصَة مُقَيّدَة بالاضطرار وَكَونه غير بَاغ وَلَا عَاد لقَوْله تَعَالَى {فَمن اضْطر غير بَاغ وَلَا عَاد فَلَا إِثْم عَلَيْهِ} فَكَانَ الْمُسَافِر العَاصِي مَنْصُوصا عَلَيْهِ فِيمَا تمسكنا بِهِ ومسكوتا عَنهُ فِيمَا تمسكتم بِهِ وَالْمَنْصُوص عَلَيْهِ مقدم على الْمَسْكُوت عَنهُ
وَالْجَوَاب لَا خلاف أَن الْإِثْم مَرْفُوع عَن الْمُضْطَر غير الْبَاغِي العادي وَإِنَّمَا الْخلاف فِي الْبَاغِي العادي إِذا تحقق الِاضْطِرَار فِي حَقه وَالْآيَة ساكتة عَن حكمه
مَسْأَلَة تَارِك الصَّلَاة لَا يجب قَتله عندنَا وَيحبس ويستتاب وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد يُسْتَتَاب فَإِن تَابَ وَإِلَّا قتل
لنا قَوْله عليه الصلاة والسلام لَا يحل دم امرىء مُسلم إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاث كفر
= সালাত অধ্যায় =
মাসআলা: যে ব্যক্তি তার সফরের মাধ্যমে গুনাহগার (অর্থাৎ যার সফরের উদ্দেশ্যই গুনাহ), আমাদের নিকট সে মুসাফিরের সুযোগ-সুবিধা বা রুখসাতসমূহ গ্রহণ করবে। ইমাম আহমাদ ও শাফিঈ বলেছেন, সে রুখসাত গ্রহণ করবে না। তবে সফরেরত অবস্থায় যে ব্যক্তি গুনাহ করে, সে রুখসাত পাবে— এ ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন।
আমাদের দলিল হলো সাহাবায়ে কেরামের ইজমা। কেননা উমর ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তোমাদের নবীর জবানে মুসাফিরের সালাত হলো দুই রাকাত; আর যে মিথ্যা রটনা করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে।" সুতরাং এর সাধারণ হুকুমের (উমুম) ওপর আমল করা ওয়াজিব।
তাদের দলিল হলো, ছাড় বা রুখসাত নিরুপায় হওয়া এবং বিদ্রোহী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, অথচ সে বিদ্রোহী কিংবা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ নেই}। সুতরাং আমরা যা আঁকড়ে ধরেছি তাতে গুনাহগার মুসাফিরের বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত (মানসূস), আর তোমরা যা আঁকড়ে ধরেছ তাতে এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। আর সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত বিষয় নীরবতা অবলম্বনকৃত বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।
এর উত্তর হলো, যে ব্যক্তি নিরুপায় এবং বিদ্রোহী বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার ওপর থেকে গুনাহ অপসারিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ কেবল সেই বিদ্রোহী ও সীমালঙ্ঘনকারীর ক্ষেত্রে যখন তার জন্য বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে পড়ে; আর আয়াতটি তার বিধানের ব্যাপারে নীরব।
মাসআলা: সালাত ত্যাগকারীকে হত্যা করা আমাদের নিকট ওয়াজিব নয়; বরং তাকে বন্দি করা হবে এবং তাওবা করতে বলা হবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ বলেছেন, তাকে তাওবা করতে বলা হবে; যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।
আমাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত তিনটি কারণ ব্যতীত হালাল নয়: কুফর..."
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بعد إِيمَان وزنى بعد إِحْصَان وَقتل نفس بِغَيْر حق حد
وَلَفظ الصَّحِيحَيْنِ فِي رِوَايَة ابْن مَسْعُود لَا يحل دم امرىء مُسلم يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاث الثّيّب الزَّانِي وَالنَّفس بِالنَّفسِ والتارك لدينِهِ المفارق للْجَمَاعَة
وَرِوَايَة الْمسند قَالَهَا عُثْمَان يَوْم الدَّار عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهَذَا لم يَأْتِ بِأحد هَذِه الْأَشْيَاء فَلَا يُبَاح دَمه
وَقَالَ عليه الصلاة والسلام أرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله الحَدِيث
فاقتضي عصمَة مَاله وَدَمه عملا بِعُمُومِهِ
فَإِن قيل ظَاهره مَتْرُوك فَإِنَّهُ لَو بغى أُبِيح دَمه
وَأما الحَدِيث الثَّانِي فَفِي سِيَاقه إِلَّا بِحَقِّهَا وَالصَّلَاة من حَقّهَا وبتركها زَالَت الْعِصْمَة
قُلْنَا الْبَغي أَيْضا مَحْمُول على (إصراره) أَو بدايته بِالْقِتَالِ وَلَا نسلم أَن بِتَرْكِهَا زَالَت الْعِصْمَة وَالْخلاف فِيهِ
ঈমানের পর (কুফরী), বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার এবং অন্যায়ভাবে হত্যার দণ্ড সম্পর্কে।
ইবনে মাসউদের বর্ণনায় সহীহাইন-এর শব্দ হলো: "যে মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তার রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ নয়; তবে তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: বিবাহিত ব্যভিচারী, জীবনের বিনিময়ে জীবন এবং স্বীয় দ্বীন পরিত্যাগকারী যে জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"
মুসনাদ গ্রন্থের বর্ণনাটি উসমান (রা.) ইয়ামুদ-দার (অবরুদ্ধ দিবস)-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এই ব্যক্তি উক্ত বিষয়গুলোর কোনোটিই করেনি, সুতরাং তার রক্ত বৈধ নয়।
রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'..." (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)।
সুতরাং হাদীসের ব্যাপক অর্থ অনুযায়ী তার সম্পদ ও রক্তের নিরাপত্তা অপরিহার্য।
যদি বলা হয় যে, এর বাহ্যিক অর্থ পরিত্যক্ত, কারণ কেউ বিদ্রোহ করলে তার রক্ত বৈধ হয়ে যায়।
আর দ্বিতীয় হাদীসটির প্রেক্ষাপটে রয়েছে— "তবে ইসলামের হক ব্যতিরেকে"; আর সালাত সেই হকেরই অন্তর্ভুক্ত, তাই সালাত ত্যাগের মাধ্যমে নিরাপত্তা রহিত হয়ে যায়।
আমরা বলি— বিদ্রোহের বিষয়টিও তার বিদ্রোহে অটল থাকা অথবা আক্রমণ শুরুর ওপর নির্ভরশীল। আর আমরা এটি স্বীকার করি না যে, সালাত ত্যাগের কারণে নিরাপত্তা রহিত হয়ে যায়, বরং এ বিষয়ে মতভেদ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
احْتَجُّوا بقوله عليه الصلاة والسلام بَين العَبْد وَالْكفْر ترك الصَّلَاة م إِلَى غير ذَلِك من الْأَخْبَار المستفيضة وَحكم الْكفْر الْقَتْل
لنا الحَدِيث مَحْمُول على مَا إِذا تَركهَا اعتقادا وَلم يرهَا فرضا أَو يحمل على المتهاون بهَا فقاله عليه الصلاة والسلام مُبَالغَة فِي الزّجر كَمَا قَالَ شَارِب الْخمر عَابِد وثن
তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী—"বান্দা এবং কুফরের মাঝে (পার্থক্য) হলো সালাত বর্জন করা"—এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রসিদ্ধ বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর কুফরের বিধান হলো হত্যা।
আমাদের পক্ষ থেকে উত্তর হলো, হাদীসটি ঐ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হবে যখন কেউ বিশ্বাসগত কারণে সালাত বর্জন করে এবং একে ফরজ মনে না করে; অথবা একে অলসতা প্রদর্শনকারীর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে কঠোরতা স্বরূপ এটি বলেছেন, যেমনটি বলা হয়েছে: "মদপানকারী মূর্তি পূজারীর ন্যায়।"
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
= كتاب الزَّكَاة =
مَسْأَلَة تجب الزَّكَاة فِي حلي النِّسَاء عندنَا وَهُوَ قَول عمر وَابْن مَسْعُود وَابْن عمر وَابْن عَبَّاس وَعَائِشَة رضي الله عنهم
وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه لَا تجب وَعَن أَحْمد كالمذهبين لنا أَحَادِيث عَامَّة وخاصة فالعامة أَرْبَعَة مِنْهَا مَا روى أَبُو سعيد أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ فِيمَا دون خمس أَوَاقٍ صَدَقَة م وَرُوِيَ عَن عَليّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هاتوا صَدَقَة الرقة ت قَالَ ابْن قُتَيْبَة الرقة الْفضة دَرَاهِم كَانَت أَو غَيرهَا
وروى عمر بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْسَ فِي أقل من عشْرين مِثْقَالا من الذَّهَب شَيْء وَلَا فِي أقل من مِائَتي دِرْهَم شَيْء ق وروى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لعَلي رضي الله عنه لَيْسَ عَلَيْك فِي الذَّهَب شَيْء حَتَّى
= যাকাত অধ্যায় =
মাসআলা: আমাদের নিকট মহিলাদের অলঙ্কারে যাকাত ওয়াজিব। আর এটি উমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অভিমত।
ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, যাকাত ওয়াজিব নয়। আর ইমাম আহমাদ থেকে উভয় মাযহাবের মতো দুইটি মত বর্ণিত হয়েছে। আমাদের স্বপক্ষে সাধারণ ও বিশেষ উভয় প্রকার হাদীস রয়েছে। সাধারণ হাদীসগুলোর মধ্যে চারটি উল্লেখযোগ্য; যার একটি হলো যা আবু সাঈদ (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো যাকাত নেই।" (মুসলিম)। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা রিক্কাহ (রৌপ্য মুদ্রা)-এর যাকাত প্রদান করো।" (তিরমিযী)। ইবনে কুতায়বা বলেন, 'রিক্কাহ' হলো রূপা, তা দিরহাম হোক বা অন্য কিছু।
আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিশ মিসকালের কম স্বর্ণে কোনো যাকাত নেই এবং দুইশত দিরহামের কম রূপাতেও কোনো যাকাত নেই।" (ক)। আর বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমার ওপর কোনো কিছু (যাকাত) নেই যতক্ষণ না..."
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
يبلغ عشْرين مِثْقَالا
نفى الْوُجُوب إِلَى غَايَة بُلُوغه عشْرين مِثْقَالا فَإِذا بلغ هَذَا الْقدر ثَبت الْوُجُوب وَكَذَا مَا ذكرنَا من الْأَحَادِيث
أما الْخَاصَّة فثمانية مِنْهَا
رُوِيَ عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده قَالَ أَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم امْرَأَتَانِ فِي أَيْدِيهِمَا أساور من ذهب فَقَالَ عليه الصلاة والسلام أتحبان أَن يسوركما الله يَوْم الْقِيَامَة أساور من نَار قَالَتَا لَا قَالَ فأديا حق الله فِيمَا فِي أيديكما حد
وَفِي رِوَايَة جَاءَت امْرَأَة وابنتها من أهل الْيمن إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَفِي يَدهَا مسكتان غليظتان من ذهب قَالَ هَل تعطين زَكَاة هَذَا قَالَت لَا قَالَ فيسرك أَن يسورك الله بسوارين من نَار قَالَ فخلعتهما وَقَالَت هما لله وَلِرَسُولِهِ ق
الحَدِيث الثَّانِي عَن أَسمَاء بنت يزِيد قَالَت دخلت أَنا وخالتي على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وعلينا أسورة من ذهب فَقَالَ لنا أتعطيان زَكَاته فَقُلْنَا لَا فَقَالَ أما تخافان أَن يسوركما الله تَعَالَى أسورة من نَار أديا زَكَاته حد
বিশ মিদকাল পর্যন্ত পৌঁছে
বিশ মিদকাল পরিমাণে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে। সুতরাং যখন এই পরিমাণ পূর্ণ হবে তখন ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হবে এবং আমাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের বিষয়াবলিও তদ্রূপ।
বিশেষ দলীলসমূহের মধ্যে আটটি হলো নিম্নরূপ:
আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দুইজন নারী আসলেন যাদের হাতে সোনার চুড়ি ছিল। তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: “তোমরা কি এটা পছন্দ করো যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের আগুনের চুড়ি পরিয়ে দেবেন?” তারা বললেন: “না”। তিনি বললেন: “তাহলে তোমাদের হাতে যা আছে তাতে আল্লাহর হক আদায় করো।”
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইয়ামেনবাসীদের মধ্য থেকে এক নারী ও তার মেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং তার হাতে সোনার দুটি মোটা চুড়ি ছিল। তিনি বললেন: “তুমি কি এর জাকাত দাও?” সে বলল: “না”। তিনি বললেন: “আল্লাহ তোমাকে আগুনের দুটি চুড়ি পরিয়ে দেবেন—তা কি তোমাকে আনন্দিত করবে?” বর্ণনাকারী বলেন, তখন সে চুড়ি দুটি খুলে ফেলল এবং বলল: “এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।”
দ্বিতীয় হাদিস: আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও আমার খালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় আমাদের পরিধানে সোনার চুড়ি ছিল। তিনি আমাদের বললেন: “তোমরা কি এর জাকাত প্রদান করো?” আমরা বললাম: “না”। তিনি বললেন: “তোমরা কি ভয় পাও না যে আল্লাহ তাআলা তোমাদের আগুনের চুড়ি পরিয়ে দেবেন? তোমরা এর জাকাত আদায় করো।”
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
(الحَدِيث) الثَّالِث عَن أم سَلمَة أَنَّهَا كَانَت تلبس أَوْضَاحًا من ذهب فَسَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن ذَلِك فَقَالَت أكنز هُوَ قَالَ إِذا أدّيت زَكَاته فَلَيْسَ بكنز ق
الرَّابِع عَن عَائِشَة قَالَ دخلت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَرَأى فِي يَدي فتخات من ورق فَقَالَ مَا هَذَا يَا عَائِشَة فَقلت صنعتهن أتزين لَك بِهن قَالَ أتؤدين زكاتهن قلت لَا قَالَ هن حَسبك من النَّار ق
الْخَامِس عَن فَاطِمَة بنت قيس قَالَت أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بطوق فِيهِ سَبْعُونَ مِثْقَالا من ذهب فَقلت يَا رَسُول الله خُذ مِنْهُ الْفَرِيضَة فَأخذ مِنْهُ مِثْقَالا وَثَلَاثَة أَربَاع مِثْقَال ق
السَّادِس عَن فَاطِمَة بنت قيس أَيْضا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْحلِيّ زَكَّاهُ ق
السَّابِع عَن ابْن مَسْعُود قَالَ قلت يارسول الله إِن لامرأتي جليا من عشْرين مِثْقَالا قَالَ فأد زَكَاته نصف مِثْقَال ق
তৃতীয় হাদিস: উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি স্বর্ণের অলঙ্কার পরিধান করতেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, "এটি কি সঞ্চিত সম্পদ (কানজ)?" তিনি বললেন: "যখন তুমি এর জাকাত আদায় করবে, তখন তা সঞ্চিত সম্পদ (কানজ) নয়।"
চতুর্থ হাদিস: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমার হাতে রুপার আংটি দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: "হে আয়েশা, এগুলো কী?" আমি বললাম, "আপনার জন্য সৌন্দর্য বর্ধন করতে আমি এগুলো তৈরি করেছি।" তিনি বললেন: "তুমি কি এগুলোর জাকাত প্রদান করো?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন: "জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তোমার জন্য এগুলোই যথেষ্ট।"
পঞ্চম হাদিস: ফাতিমা বিনতে কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সত্তর মিসকাল স্বর্ণ নির্মিত একটি হার নিয়ে আসলাম এবং বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এটি থেকে নির্ধারিত ফরজ (জাকাত) গ্রহণ করুন।" অতঃপর তিনি তা থেকে এক মিসকাল এবং এক মিসকালের তিন-চতুর্থাংশ গ্রহণ করলেন।
ষষ্ঠ হাদিস: ফাতিমা বিনতে কায়েস (রা.) থেকেই বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অলঙ্কারের জাকাত সম্পর্কে (আদেশ) প্রদান করেছেন।
সপ্তম হাদিস: ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রীর বিশ মিসকাল ওজনের অলঙ্কার রয়েছে।" তিনি বললেন: "তবে তার জাকাত হিসেবে আধা মিসকাল প্রদান করো।"
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
الثَّامِن عَن ابْن مَسْعُود أَيْضا أَن امْرَأَة جَاءَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَت إِن لي حليا وَإِن زَوجي خَفِيف ذَات الْيَد وَإِن لي بني أَخ أفيجزيني أَن أجعَل زَكَاة الْحلِيّ فيهم قَالَ نعم ق
فَإِن قيل أما حَدِيث عَليّ فَالْمُرَاد مِنْهُ الْمُسْتَخْرج من الْمَعْدن لَا مُطلق الذَّهَب وَأما الْأَحَادِيث الْخَاصَّة فَفِيهَا مقَال
أما الأول فَفِيهِ الْحجَّاج بن أَرْطَاة قَالَ أَحْمد كَانَ يرْوى عَمَّن لم يلقه وَفِي طَرِيق الْمَرْأَة الَّتِي جاءن من الْيمن الْمثنى بن الصَّباح ضعفه أَحْمد
وَأما الثَّانِي ففه شهر بن حَوْشَب ضعفه ابْن عدي
অষ্টমটি ইবনে মাসউদ থেকেও বর্ণিত যে, এক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, "আমার কাছে অলংকার আছে, আর আমার স্বামী অসচ্ছল এবং আমার কিছু ভ্রাতুষ্পুত্র রয়েছে। আমি কি আমার অলংকারের জাকাত তাদের দিতে পারি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"
যদি বলা হয় যে, আলী (রা.) এর হাদিসের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো খনি থেকে উত্তোলিত সম্পদ, কেবল সাধারণ স্বর্ণ নয়। আর বিশেষ হাদিসগুলোর ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।
প্রথমটির ক্ষেত্রে হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ রয়েছেন; (ইমাম) আহমাদ বলেছেন যে, তিনি এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করতেন যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। আর ইয়ামেন থেকে আসা নারীর বর্ণনার সূত্রে মুসান্না ইবনে সাবাহ রয়েছেন, যাঁকে আহমাদ দুর্বল বলেছেন।
আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে শাহর ইবনে হাওশাব রয়েছেন, যাঁকে ইবনে আদি দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَأما الثَّالِث فَفِيهِ مُحَمَّد بن مهَاجر ضَعِيف وَأما الرَّابِع فَفِيهِ مُحَمَّد بن عَطاء قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ هُوَ مَجْهُول أما الْخَامِس فَفِيهِ الْهُذلِيّ قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ اسْمه ابو بكر لم يَأْتِ بِهِ غَيره أما السَّادِس فَفِيهِ مَيْمُون قَالَ أَحْمد مَتْرُوك
আর তৃতীয়টির ক্ষেত্রে, এতে মুহাম্মদ বিন মুহাজির রয়েছেন, তিনি দুর্বল। আর চতুর্থটির ক্ষেত্রে, এতে মুহাম্মদ বিন আতা রয়েছেন; দারাকুতনি বলেছেন: তিনি অপরিচিত। পঞ্চমটির ক্ষেত্রে, এতে হুজালি রয়েছেন; দারাকুতনি বলেছেন: তাঁর নাম আবু বকর, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি নিয়ে আসেননি। আর ষষ্ঠটির ক্ষেত্রে, এতে মাইমুন রয়েছেন; আহমাদ বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَأما السَّابِع فَفِيهِ يحيى بن أبي أنيسَة ضعفه أَحْمد قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ وَالصَّوَاب أَنه مُرْسل مَوْقُوف وَأما الثَّامِن فَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ أَيْضا إِنَّه مُرْسل مَوْقُوف وَلَو سلمت كَانَت الأول مجملة فافتقرت إِلَى الْبَيَان
الْجَواب أما حَدِيث عَليّ فَلَا يُمكن حمله على الْمَعْدن لِأَن الْوَظِيفَة فِيهِ الْخمس بِالْحَدِيثِ الْمَشْهُور فَمن أوجب فِيهِ ربع الْعشْر فقد خَالف الحَدِيث
وَأما الْحجَّاج بن أَرْطَاة فمشهور بِصِحَّة الرِّوَايَة وَمَا ذكره أَحْمد عَنهُ فَهُوَ صفة الْإِرْسَال وَأما شهر بن حَوْشَب فقد وَثَّقَهُ أَحْمد وروى عَنهُ فِي غير مَوضِع وَأما بَاقِي الأجاديث فطريقة الْفُقَهَاء فِي قبُول الْأَحَادِيث غير طَريقَة الْمُحدثين والمراسيل عندنَا حجَّة وَالَّذِي يدل على أحاديثنا إِجْمَاع الصَّحَابَة على مثل مَذْهَبنَا وَلَو لم تكن ثَابِتَة لما ذَهَبُوا إِلَى ذَلِك احْتَجُّوا بِمَا روى جَابر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ فِي الْحلِيّ زَكَاة
সপ্তমটির ক্ষেত্রে, এতে ইয়াহইয়া বিন আবু আনিসা রয়েছে, যাকে আহমদ দুর্বল বলেছেন। আদ-দারা কুতনি বলেছেন, সঠিক মত হলো এটি মুরসাল মাওকুফ। আর অষ্টমটির ক্ষেত্রে, আদ-দারা কুতনিও বলেছেন যে এটি মুরসাল মাওকুফ। আর যদি এগুলোকে সঠিক বলে মেনেও নেওয়া হয়, তবে প্রথমগুলো ছিল অস্পষ্ট, ফলে সেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল।
উত্তর: আলীর বর্ণিত হাদিসটির ক্ষেত্রে একে খনিজের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, কারণ প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী এতে নির্ধারিত পরিমাণ হলো এক-পঞ্চমাংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ আবশ্যক করে, সে হাদিসের বিরোধিতা করল।
আর হাজ্জাজ বিন আরতাত বর্ণনার বিশুদ্ধতার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। আর আহমদ তার সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত মুরসাল হওয়ার বৈশিষ্ট্য। শাহর বিন হাওশাবকে আহমদ নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং একাধিক স্থানে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। অবশিষ্ট হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে ফুকাহাগণের হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। আমাদের নিকট মুরসাল হাদিস দলিল হিসেবে গণ্য। আমাদের হাদিসগুলোর স্বপক্ষে দলিল হলো আমাদের মাজহাবের অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্য। হাদিসগুলো যদি সাব্যস্ত না হতো, তবে তাঁরা এই মত গ্রহণ করতেন না। তাঁরা জাবির বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অলঙ্কারের ওপর কোনো জাকাত নেই।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَعَن ابْن عمر مَوْقُوفا وَمَرْفُوعًا زَكَاة الْحلِيّ إعارته وَكَذَا روى جَابر وَأنس وَعَائِشَة رضي الله عنهم وَالْجَوَاب أما الحَدِيث الأول فَعَنْهُ أجوبة أَحدهَا إِن فِي إِسْنَاده عَافِيَة بن أَيُّوب ضَعِيف وَالثَّانِي أَنه مَوْقُوف عَليّ جَابر وَالثَّالِث أَن التِّرْمِذِيّ قَالَ لَا يَصح فِي هَذَا الْبَاب شَيْء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُشِير
ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মাওকুফ এবং মারফু উভয় সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে যে: অলঙ্কারের যাকাত হলো তা (অন্যকে ব্যবহারের জন্য) ধার দেওয়া। জাবির, আনাস এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এর উত্তর হলো—প্রথম হাদিসটির ক্ষেত্রে কয়েকটি জবাব রয়েছে: প্রথমত, এর সনদে আফিয়া বিন আইয়ুব রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। দ্বিতীয়ত, এটি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকুফ। তৃতীয়ত, ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কিছুই সহীহ বা বিশুদ্ধ নয় যা ইঙ্গিত করে...
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
إِلَى مَذْهَب الْخصم فَإِن ادعوا أَنه أَشَارَ إِلَى أَحَادِيث مَذْهَبنَا لم يَصح لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا للأحاديث الْعَامَّة لِأَنَّهُ لَا مطْعن فِيهَا وَالثَّانِي لإِجْمَاع الصَّحَابَة فَلم تبْق الْإِشَارَة إِلَّا إِلَى جانبهم وَلَو سلم حمل على الْجَوَاهِر لِأَنَّهَا حلي بِالنَّصِّ مَسْأَلَة لَا زَكَاة فِي مَال الضمار عِنْد عُلَمَائِنَا الثَّلَاثَة وَقَالَ زفر فِيهِ الزَّكَاة وَهُوَ قَول الشَّافِعِي
وَتَفْسِير الضمار أَن يكون المَال قَائِما وينسد طَرِيق الْوُصُول إِلَيْهِ كَالْعَبْدِ الْآبِق والضال وَالْمَال السَّاقِط فِي الْبَحْر وَالَّذِي أَخذ مصادرة وَالدّين المجحود إِذا لم تكن لَهُ بَيِّنَة ثمَّ صَار بِأَن أقرّ عِنْد النَّاس والمدفون فِي الصَّحرَاء إِذا خفى على الْمَالِك مَكَانَهُ وَاتَّفَقُوا على انْعِقَادهَا فِي المدفون فِي الْبَيْت وَفِي المدفون فِي الْكَرم اخْتِلَاف الْمَشَايِخ لنا مَا روى أَبُو هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ على الْمُسلم فِي عَبده وَلَا فِي فرسه صَدَقَة حد وَالْعَبْد الْآبِق من مَحل النزاع
প্রতিপক্ষের মাযহাবের দিকে। তারা যদি দাবি করে যে তিনি আমাদের মাযহাবের হাদিসসমূহের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তবে তা দুটি কারণে সঠিক হবে না। প্রথমত, সাধারণ হাদিসসমূহের কারণে, কারণ সেগুলোতে কোনো ত্রুটি নেই। দ্বিতীয়ত, সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের (ইজমা) কারণে। সুতরাং ইঙ্গিতটি কেবল তাদের পক্ষের দিকেই অবশিষ্ট থাকে। আর যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবে সেটিকে রত্ন-সামগ্রীর ওপর প্রয়োগ করা হবে, কারণ দলীল অনুযায়ী সেগুলো অলঙ্কার। মাসআলা: আমাদের তিন ইমামের নিকট দ্বিমার সম্পদে কোনো যাকাত নেই। ইমাম যুফার বলেছেন এতে যাকাত রয়েছে এবং এটি ইমাম শাফেয়ীরও অভিমত।
আর দ্বিমার-এর ব্যাখ্যা হলো সম্পদ বিদ্যমান থাকা এবং তা হস্তগত হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া; যেমন পলাতক দাস, হারিয়ে যাওয়া পশু, সমুদ্রে পড়ে যাওয়া সম্পদ, যা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং এমন অস্বীকারকৃত ঋণ যার কোনো প্রমাণ নেই—অতঃপর লোকসমক্ষে তা স্বীকার করা হয়েছে, এবং মরুভূমিতে পুঁতে রাখা সম্পদ যার অবস্থান মালিকের নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেছে। আর তারা বাড়িতে পুঁতে রাখা সম্পদের ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তবে আঙুর বাগানে পুঁতে রাখা সম্পদের ব্যাপারে মাশায়েখগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আমাদের দলীল হলো যা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমের ওপর তার দাসের জন্য এবং তার ঘোড়ার জন্য কোনো সদকা নেই।" আর পলাতক দাস বিবাদপূর্ণ প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ঈসারুল ইনসাফ ফী আসারিল খিলাফ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وروى عَن عُثْمَان وَعلي وَابْن عمر رضي الله عنهم أَنهم قَالُوا لَا زَكَاة فِي مَال الضمار وَهُوَ مَأْخُوذ من الْبَعِير الضامر الَّذِي لَا ينْتَفع بِهِ لشدَّة هزاله وَقَالَ الرَّاعِي
وأنضاء أنخن إِلَى سعيد
طروقا ثمَّ عجلن ابتكارا
… حمدن مزاره فأصبن مِنْهُ
عَطاء لم يكن عدَّة ضمارا
وَعَن عمر بن عبد الْعَزِيز أَنه رد مَا وجده فِي بَيت المَال مِمَّا أَخذه بَنو أُميَّة من أَمْوَال الْمُسلمين على أَهله وَقَالَ لَا زَكَاة فِي مَال الضمار
احتجا بالعمومات الْوَارِدَة فِي الْبَاب مثل قَوْله عليه الصلاة والسلام فِي عشْرين مثقالامن الذَّهَب نصف مِثْقَال (وَفِي مِائَتي دِرْهَم خَمْسَة دَرَاهِم) من غير فصل بَين الضمار وَغَيره
فَالْجَوَاب أَن النُّصُوص كلهَا مَخْصُوصَة بثبات البذلة والمهنة وَنَحْوهمَا فيخص
উসমান, আলী এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন, ‘দিমার’ (অপ্রাপ্য বা হস্তচ্যুত) সম্পদের কোনো জাকাত নেই। এটি মূলত ‘দামির’ (কৃশকায়) উট শব্দ থেকে গৃহীত, যা অতিশয় দুর্বলতার কারণে কোনো উপকারে আসে না। কবি আল-রায়ী বলেন:
এবং জীর্ণকায় উটগুলো রাতে সাঈদের দ্বারে উপনীত হয়েছিল,
রাত্রিবেলা, অতঃপর প্রত্যুষে দ্রুত প্রস্থান করেছিল
… তারা তার আতিথেয়তার প্রশংসা করল এবং তার নিকট হতে
এমন দান লাভ করল যা কোনো ‘দিমার’ (অনিশ্চিত) প্রতিশ্রুতি ছিল না।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, বনু উমাইয়ারা মুসলিমদের যে সম্পদসমূহ হরণ করেছিল, তিনি বায়তুল মালে যা পেয়েছিলেন তা তাদের মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, ‘দিমার’ সম্পদের কোনো জাকাত নেই।
এই অধ্যায়ে বর্ণিত সাধারণ দলিলসমূহ দ্বারা তাঁরা যুক্তি পেশ করেছেন, যেমন নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: বিশ মিসকাল স্বর্ণে অর্ধেক মিসকাল (এবং দুইশ দিরহামে পাঁচ দিরহাম); যেখানে ‘দিমার’ সম্পদ এবং অন্য সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।
এর উত্তর হলো, এই নসসমূহ (দলিলসমূহ) ব্যবহারের বস্ত্র, আসবাবপত্র এবং অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে বিশিষ্ট (খাস) করা হয়েছে, ফলে তা সুনির্দিষ্ট হবে।