(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
إجمال الإصابة في أقوال الصحابة   (صلاح الدين العلائي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: إجمال الإصابة في أقوال الصحابة

المؤلف: خليل بن كيكلدي صلاح الدين العلائي الشافعي (694 - 761 هـ)

حققه وعلق عليه: د. محمد سليمان الأشقر

الناشر: جمعية إحياء التراث الإسلامي - الكويت

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 97

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইজমালুল ইসাবাহ ফি আকওয়ালিস সাহাবাহ   (সালাহউদ্দীন আল-আলাই)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: ইজমালুল ইসাবাহ ফি আকওয়ালিস সাহাবাহ

লেখক: খলীল বিন কাইকালদি সালাহউদ্দীন আল-আলাই আশ-শাফিঈ (৬৯৪ - ৭৬১ হিজরী)

তাহকীক (تحقيق) ও তালীক (تعليق) করেছেন: ড. মুহাম্মদ সুলাইমান আল-আশকার

প্রকাশক: জামইয়াতু ইহয়াইত তুরাসিল ইসলামী - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَمَا توفيقي الا بِاللَّه

اما بعد حمد الله الَّذِي فضل هَذِه الامة على سَائِر الامم وَجعل للصدر الاول من ذَلِك اكثر الانصباء واوفر الْقسم واختصهم لصحبة نبيه عليه السلام الْمَبْعُوث بمحاسن الشيم ومجامع الحكم وهداهم بِمَا شهدُوا من احواله وفهموا من اقواله وشاهدوا من افعاله الى ارشد لقم فهم خير الْقُرُون بالاجماع واولاها بالاقتداء والاتباع واهل الْبَأْس وَالْكَرم

فَهَذَا تَحْقِيق مَا اخْتلف فِيهِ من الِاحْتِجَاج بأقوالهم المنفردة وَمَا فِي ذَلِك من الْمذَاهب المتعددة مَعَ بَيَان مداركها وايضاح مسالكها وَالْجَوَاب عَمَّا لَا يعْتَمد مِنْهَا وازاحة الشّبَه والانفصال عَنْهَا

وعَلى الله الِاعْتِمَاد وَمِنْه العون واياه نسْأَل التَّوْفِيق والصون فَهُوَ على كل شَيْء قدير وبالاسعاف جدير

وَالْكَلَام فِي هَذِه المسالة ينْحَصر فِي اطراف
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

অতঃপর, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এই উম্মতকে অন্য সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং ইসলামের প্রথম প্রজন্মকে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও পূর্ণাঙ্গ অংশ দান করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন, যাঁকে সর্বোত্তম চরিত্র ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি তাঁদেরকে নবীর অবস্থা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে, তাঁর বাণী অনুধাবনের মাধ্যমে এবং তাঁর কার্যাবলি অবলোকনের মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। সুতরাং তাঁরা ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং তাঁরাই অনুসরণ ও অনুকরণের জন্য সর্বাধিক যোগ্য এবং তাঁরা বীরত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী।

এটি তাঁদের একক বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের (الاحتجاج) বিষয়ে যে মতভেদ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যে বহুবিধ মাযহাব বা মতপথ রয়েছে সেগুলোর একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ; সাথে এগুলোর ভিত্তি ও পদ্ধতিগুলোর স্পষ্টীকরণ এবং যেগুলোর ওপর নির্ভর করা যায় না সেগুলোর উত্তর প্রদান এবং সংশয় নিরসন ও তা খণ্ডন।

আল্লাহর ওপরই পূর্ণ ভরসা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমরা তাঁর কাছেই তাওফিক ও হিফাজত কামনা করি। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করার যোগ্য।

এই মাসআলা বা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা কয়েকটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الطّرف الاول قَول الصَّحَابِيّ اذا اشْتهر بَينهم جَمِيعًا وَلم ينكروه

 

اذا قَالَ الْوَاحِد مِنْهُم قولا اَوْ اكثر من الْوَاحِد كالاثنين وَالثَّلَاثَة واشتهر ذَلِك بَين البَاقِينَ وَلم ينكروه وَلَا ظهر مِنْهُم مُوَافقَة لذَلِك الْقَائِل بقول اَوْ فعل وَلَا انكار

وَهَذَا هُوَ الْمُسَمّى الاجماع السكوتي

ولائمة الاصوليين فِي تصَوره طَرِيقَانِ

احداهما من جعل ذَلِك فِي حق كل عصر من عصور الْمُجْتَهدين وَهَذَا هُوَ الَّذِي صرح بِهِ الْحَنَفِيَّة فِي كتبهمْ وامام الْحَرَمَيْنِ وَالشَّيْخ ابو اسحاق الشِّيرَازِيّ فِي شرح اللمع وفخر الدّين الرَّازِيّ فِي كتبه وَسَائِر اصحابه وَسيف الدّين الامدي وَابْن الْحَاجِب فِي مختصريه وَغَيرهم والقرافي من الْمَالِكِيَّة وَغَيره من المتاخرين

وتفصيل الْمذَاهب على هَذِه الطَّرِيقَة ان احْمَد بن حَنْبَل وَجُمْهُور الْحَنَفِيَّة وَكَثِيرًا من اصحابنا قَالُوا انه اجماع وَحجَّة وَمِنْهُم من عزاها الى الشَّافِعِي وَكَذَلِكَ قَالَ بعض الْمُعْتَزلَة لَكِن شَرط الجبائي ابو عَليّ وَغَيره مِنْهُم فِي ذَلِك انْقِرَاض الْعَصْر

وَالَّذِي ذهب اليه جُمْهُور اصحابنا وَبَعض الْحَنَفِيَّة وَدَاوُد الظَّاهِرِيّ ان ذَلِك لَا يكون اجماعا وَلَا حجَّة قَالَ الامام فِي الْبُرْهَان هُوَ ظَاهر مَذْهَب الشَّافِعِي وَنَقله الْغَزالِيّ فِي المنخول عَن الْجَدِيد
‌প্রথম পক্ষ: সাহাবীর (الصحابي) বক্তব্য যখন তা তাঁদের সকলের মাঝে প্রসিদ্ধ হয় এবং তাঁরা তা অস্বীকার না করেন

 

যখন তাঁদের মধ্য থেকে একজন অথবা একের অধিক যেমন দুইজন বা তিনজন কোনো বক্তব্য প্রদান করেন এবং তা অবশিষ্টদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করে, অথচ তাঁরা তা অস্বীকার করেননি এবং কথা বা কাজের মাধ্যমে সেই প্রবক্তার সাথে কোনো একমত পোষণ কিংবা কোনো আপত্তিও প্রকাশ করেননি—

আর এটিই নিরব এজমা (الاجماع السكوتي) হিসেবে অভিহিত।

এর স্বরূপ নির্ধারণে উসুলবিদ (الاصوليين) ইমামগণের নিকট দুটি পদ্ধতি রয়েছে।

তার মধ্যে একটি হলো—একে মুজতাহিদগণের (المجتهدين) প্রতিটি যুগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা; আর এটিই হানাফীগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এবং ইমামুল হারামাইন, শাইখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি ‘শারহুল লুমা’ গ্রন্থে, ফখর উদ্দিন আল-রাজি তাঁর কিতাবসমূহে ও তাঁর সকল অনুসারীগণ, সাইফ উদ্দিন আল-আমেদি, ইবনুল হাজিব তাঁর সংক্ষিপ্তসার দুইটিতে এবং অন্যান্যরা ও মালেকী মাযহাবের কারাফি ও পরবর্তী যুগের (المتاخرين) আলিমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই পদ্ধতির আলোকে মাযহাবসমূহের বিস্তারিত বিবরণ হলো—আহমাদ বিন হাম্বল, জমহুর (جمهور) হানাফী এবং আমাদের অনেক সাথীগণ বলেছেন যে, এটি এজমা (اجماع) এবং দলিল (حجة)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই মতটিকে শাফেয়ীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। অনুরূপভাবে কতিপয় মুতাজিলাও (المعتزلة) একই কথা বলেছেন, তবে আবু আলী আল-জুব্বায়ী এবং তাঁদের অন্যান্যরা এক্ষেত্রে যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন।

আর আমাদের সাথীদের জমহুর (جمهور), কতিপয় হানাফী এবং দাউদ আল-জাহিরি যে মত পোষণ করেছেন তা হলো—এটি এজমা (اجماعا) হবে না এবং দলিলও (حجة) নয়। ইমাম (আল-জুওয়াইনি) ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের প্রকাশ্য মত এবং ইমাম গাজালি ‘আল-মানখুল’ গ্রন্থে তা নতুন (الجديد) মত থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَذهب ابو بكر الصَّيْرَفِي من اصحابنا وابو هَاشم بن الجبائي الى انه حجَّة وَلَيْسَ باجماع

وَقَالَ ابو عَليّ بن ابي هُرَيْرَة ان كَانَ ذَلِك حكما من الاحكام لم يكن سكُوت البَاقِينَ اجماعا وَلَا حجَّة وان فَتْوَى كَانَ سكوتهم اجماعا

وَعكس الاستاذ ابو اسحاق الاسفرائيني فَقَالَ يكون اجماعا فِي الحكم دون الْفتيا

وَاخْتَارَ الامدي فِي الاحكام انه يكون حجَّة وَلَيْسَ بِإِجْمَاع وَهُوَ قريب من قَول الصَّيْرَفِي وابي هَاشم

وَوَافَقَهُ ابْن الْحَاجِب فِي مُخْتَصره الْكَبِير وردد فِي مُخْتَصره الصَّغِير اخْتِيَاره بَين ان يكون اجماعا اَوْ حجَّة

وَالطَّرِيق الثَّانِيَة قَول من خص صُورَة الْمَسْأَلَة بعصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم دون من بعدهمْ

قَالَ ذَلِك من اصحابنا ابو الْحُسَيْن الْقطَّان فِي كِتَابه اصول الْفِقْه وابو نصر بن الصّباغ فِي كِتَابه الْعدة وابو المظفر بن السَّمْعَانِيّ فِي كِتَابه الْحجَّة وَالْغَزالِيّ فِي الْمُسْتَصْفى والمنخول وَابْن برهَان وَغَيرهم وَقَالَهُ القَاضِي عبد الْوَهَّاب من الْمَالِكِيَّة وَاخْتَارَهُ الْقُرْطُبِيّ من متأخريهم كَمَا سَيَأْتِي وَالشَّيْخ موفق الدّين الْحَنْبَلِيّ فِي الرَّوْضَة وَخَصه بالمسائل التكليفية وَقَالَ عَن احْمَد مَا يدل على انه اجماع

وَحكى هَؤُلَاءِ الْمذَاهب نَحوا مِمَّا تقدم

وَنقل ابْن السَّمْعَانِيّ عَن ابي بكر الصَّيْرَفِي انه قَالَ فِي كَونه حجَّة لَا اجماعا
আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু বকর আল-সাইরাফি এবং আবু হাশিম ইবনুল জুব্বায়ী এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি একটি দলিল (حجة), তবে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) নয়।

আবু আলী ইবনে আবি হুরায়রা বলেছেন, যদি সেটি শরয়ি বিধানসমূহের (أحكام) মধ্য থেকে কোনো একটি বিধান (حكم) হয়, তবে অবশিষ্টদের নীরবতা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) বা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; আর যদি তা ফতোয়া (فتوى) হয়, তবে তাদের নীরবতা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) হিসেবে গণ্য হবে।

উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারাইনি এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন; তিনি বলেছেন, এটি বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) হবে, ফতোয়ার (فتوى) ক্ষেত্রে নয়।

আল-আমিদি তার আল-ইহকাম গ্রন্থে পছন্দ করেছেন যে, এটি দলিল (حجة) হবে তবে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) নয়; আর এটি আল-সাইরাফি ও আবু হাশিমের মতের কাছাকাছি।

ইবনুল হাজিব তার মুখতাসার আল-কাবীর গ্রন্থে তার সাথে একমত হয়েছেন এবং তার মুখতাসার আল-সাগীর গ্রন্থে এটি সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) নাকি দলিল (حجة) হবে সে ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো তাদের বক্তব্য, যারা এই মাসআলার স্বরূপকে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর যুগের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, তাদের পরবর্তী যুগের জন্য নয়।

আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু আল-হুসাইন আল-কাত্তান তার উসুল আল-ফিকহ গ্রন্থে, আবু নাসর ইবনুল সাব্বাগ তার আল-উদ্দাহ গ্রন্থে, আবু আল-মুজাফফর ইবনুল সামআনি তার আল-হুজ্জাহ গ্রন্থে, আল-গাজালি তার আল-মুস্তাসফা ও আল-মানখুল গ্রন্থে, ইবনে বুরহান এবং অন্যান্যরা এরূপ বলেছেন। মালিকি মাযহাবের আলিমদের মধ্য থেকে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবও এটি বলেছেন এবং তাদের পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্য থেকে আল-কুরতুবি এটি পছন্দ করেছেন—যেমনটি সামনে আসবে। আর শেখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন আল-হাম্বলি আল-রওদাহ গ্রন্থে একে শারয়ী দায়িত্ব সংক্রান্ত (التكليفية) মাসআলাসমূহের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন এবং ইমাম আহমাদ থেকে এমন বর্ণনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে এটি একটি সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع)।

তারা উপরে বর্ণিত মতসমূহের অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ইবনুল সামআনি আবু বকর আল-সাইরাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটিকে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করার কথা বলেছেন, সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَقيل ان هَذَا مَذْهَب الشَّافِعِي قَالَ وَبِه قَالَ الْكَرْخِي من الْحَنَفِيَّة وَبَعض الْمُعْتَزلَة

وَحكى القَوْل بِكَوْنِهِ اجماعا فِي صُورَة الحكم دون الْفَتْوَى عَن ابي اسحاق الْمروزِي لَا عَن الاستاذ ابي اسحاق

وَقَالَ القَاضِي الْمَاوَرْدِيّ فِي كِتَابه الْحَاوِي ان كَانَ من غير عصر الصَّحَابَة فَلَا يكون انتشار قَول الْوَاحِد مِنْهُم مَعَ امساك غَيره اجماعا وَلَا حجَّة وان كَانَ فِي عصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم فاذا قَالَ الْوَاحِد مِنْهُم قولا اَوْ حكم بِهِ فامسك الْبَاقُونَ فَهَذَا على ضَرْبَيْنِ

احدهما ان يكون فِيمَا يفوت استدراكه كاراقة دم اَوْ اسْتِبَاحَة فرج فَيكون اجماعا لانهم لَو اعتقدوا خِلَافه لانكروه اذ لَا يَصح مِنْهُم ان يتفقوا على ترك انكار مُنكر

وَثَانِيهمَا ان كَانَ مِمَّا لَا يفوت استدراكه كَانَ حجَّة لَان الْحق لَا يخرج عَنْهُم وَفِي كَونه اجماعا يمْنَع الِاجْتِهَاد وَجْهَان لاصحابنا احدهما يكون اجماعا لَا يسوغ مَعَه الِاجْتِهَاد وَالثَّانِي لَا يكون اجماعا وَسَوَاء كَانَ هَذَا القَوْل حكما اَوْ فتيا

وَفرق ابو عَليّ ابْن ابي هُرَيْرَة فَجعله اجماعا ان كَانَ فتيا وَلم يَجعله اجماعا ان كَانَ حكما وَعَكسه غَيره من اصحابنا انْتهى كَلَامه

وَاخْتَارَ امام الْحَرَمَيْنِ فِي اخر الْمَسْأَلَة انه ان كَانَ ذَلِك مِمَّا يَدُوم ويتكرر وُقُوعه والخوض فِيهِ فانه يكون السُّكُوت اجماعا وان صُورَة الْخلاف فِي السألة اذا فرض السُّكُوت فِي الزَّمن الْيَسِير
বলা হয়ে থাকে যে, এটি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব (مذهب)। তিনি বলেন, হানাফি (الحنفية) পণ্ডিতদের মধ্যে আল-কারখী এবং কিছু মুতাজিলা (المعتزلة) মতাবলম্বীও একই কথা বলেছেন।

ফতোয়া (فتوى) ব্যতীত কেবল ফয়সালা বা হুকুমের (حكم) ক্ষেত্রে এটি ইজমা (إجماع) হওয়ার বিষয়টি আবু ইসহাক আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণিত হয়েছে, উস্তাদ আবু ইসহাক থেকে নয়।

কাজী আল-মাওয়ারদী তার আল-হাবী কিতাবে বলেছেন, যদি বিষয়টি সাহাবী (صحابة) গণের যুগ পরবর্তী সময়ের হয়, তবে তাদের মধ্যে কোনো একজনের বক্তব্যের প্রচার এবং অন্যদের নীরবতা ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হবে না এবং তা দলিল বা হুজ্জাতও (حجة) হবে না। আর যদি বিষয়টি সাহাবী (صحابة) গণের যুগে হয়ে থাকে এবং তাদের কেউ কোনো কথা বলেন অথবা ফয়সালা (حكم) প্রদান করেন আর অন্যরা নীরব থাকেন, তবে এটি দুই প্রকার:

প্রথমত: বিষয়টি এমন হওয়া যার প্রতিকার করার সুযোগ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, যেমন রক্তপাত ঘটানো বা লজ্জাস্থান হালাল করা। এমতাবস্থায় এটি ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তারা যদি এর বিপরীতে বিশ্বাস করতেন তবে অবশ্যই তার প্রতিবাদ করতেন; কেননা কোনো মুনকার (منكر) বা অন্যায়ের প্রতিবাদ ত্যাগ করার বিষয়ে তাদের ঐকমত্য হওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত: যদি বিষয়টি এমন হয় যার প্রতিকার করার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না, তবে তা দলিল বা হুজ্জাত (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সত্য তাদের ঊর্ধ্বে নয়। তবে এটি ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার পথ রুদ্ধ করবে কি না, এ বিষয়ে আমাদের সাথীদের দুটি মত রয়েছে। প্রথমটি হলো, এটি ইজমা (إجماع) হবে যার উপস্থিতিতে ইজতিহাদ (اجتهاد) বৈধ নয়। দ্বিতীয়টি হলো, এটি ইজমা (إجماع) হবে না; চাই এই বক্তব্যটি কোনো ফয়সালা (حكم) হোক বা ফতোয়া (فتوى) হোক।

আবু আলী ইবনে আবি হুরায়রা পার্থক্য করে বলেছেন যে, যদি এটি ফতোয়া (فتوى) হয় তবে তিনি একে ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন, আর যদি ফয়সালা (حكم) হয় তবে তিনি একে ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য করেননি। আমাদের অন্যান্য সাথীরা এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন। তার আলোচনা এখানেই শেষ।

ইমামুল হারামাইন মাসআলাটির শেষে এই মত বেছে নিয়েছেন যে, যদি বিষয়টি এমন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বারবার সংঘটিত ও আলোচিত হয়, তবে সেক্ষেত্রে নীরবতা ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হবে। আর মাসআলাটিতে মতভেদের প্রেক্ষাপট কেবল তখনই তৈরি হয় যখন অল্প সময়ের জন্য নীরবতা কল্পনা করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقد تقدم انه فرض الْمَسْأَلَة بِالنِّسْبَةِ الى كل عصر لَا فِي عصر الصَّحَابَة فَقَط

وَهَذَا قريب من اخْتِيَار ابْن الْخَطِيب فِي قَول الصَّحَابِيّ اذا لم ينتشر وَكَانَ فِيمَا تعم بِهِ الْبلوى انه حجَّة كَمَا سَيَأْتِي ان شَاءَ الله تَعَالَى

‌‌تَرْجِيح

 

وَالْمَقْصُود ان الطَّرِيقَة الثَّانِيَة وَهِي تَخْصِيص الْمَسْأَلَة بعصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم اظهر من الطَّرِيقَة الاولى وَذَلِكَ لَان من قَالَ يكون حجَّة وَلَا يكون اجماعا انما يتَوَجَّه اذا فرض ذَلِك فِي حق الصَّحَابَة لَان منصبهم الشريف لَا يَقْتَضِي السُّكُوت عَن مثل ذَلِك مَعَ مخالفتهم فِيهِ لما عرف من عَادَتهم وَهَذَا لَا يجىء فِي حق غير الصَّحَابَة كَيفَ والتعلق هُنَا انما هُوَ بقول الْمُفْتِي اَوْ الْحَاكِم فَقَط لانه مَبْنِيّ على السَّاكِت لَا ينْسب اليه قَول كَمَا نقل عَن الامام الشَّافِعِي رَحْمَة الله عَلَيْهِ وَلَا حجَّة فِي قَول اُحْدُ من الْمُجْتَهدين بعد الصَّحَابَة بالِاتِّفَاقِ فاذا لم يكن ذَلِك اجماعا فَكيف يكون حجَّة بِخِلَاف مَا اذا كَانَ ذَلِك قَول صَحَابِيّ فان ذَلِك اذا لم يكن سكوتهم عَن مثله اجماعا فيصلح للاحتجاج بِهِ كَمَا سَيَأْتِي ان شَاءَ الله

ثمَّ ان الشَّافِعِي رحمه الله احْتج فِي كتاب الرسَالَة لاثبات الْعَمَل بِخَبَر الْوَاحِد وبالقياس بِأَن بعض الصَّحَابَة عمل بِهِ وَلم يظْهر من البَاقِينَ انكار لذَلِك فَكَانَ ذَلِك اجماعا هَذَا معنى كَلَامه فَيحْتَمل ان يُقَال لَهُ
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিষয়টি প্রতিটি যুগের সাথে সম্পর্কিত করে উপস্থাপন করেছেন, কেবল সাহাবীদের (صحابة) যুগের সাথে নয়।

আর এটি ইবনুল খাতিবের পছন্দনীয় মতের কাছাকাছি যে, সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) যখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় না এবং এমন সাধারণ বিষয়ে হয় যাতে মানুষ ব্যাপকভাবে লিপ্ত (تعم به البلوى), তখন তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে আসবে।

‌‌প্রাধান্য দান (ترجيح)

 

মূল উদ্দেশ্য হলো এই যে, দ্বিতীয় পদ্ধতিটি—অর্থাৎ মাসআলাটিকে সাহাবীদের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগের সাথে সুনির্দিষ্ট করা—প্রথম পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট। কারণ যারা বলেন যে এটি প্রমাণ (حجة) হবে কিন্তু ঐক্যমত্য (إجماع) হবে না, তাদের এই মত কেবল তখনই সঙ্গত হয় যখন তা সাহাবীদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। কেননা তাঁদের সুমহান মর্যাদা এবং তাঁদের সুপরিচিত রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও এমন বিষয়ে নীরবতা (سكوت) অবলম্বন করা তাঁদের শানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর এটি সাহাবী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। কেননা এখানে নির্ভরতা কেবল মুফতি বা বিচারকের বক্তব্যের ওপর, যা এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে—'নীরব ব্যক্তির (ساكت) প্রতি কোনো উক্তি আরোপ করা যায় না', যেমনটি ইমাম শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবীদের পরবর্তী কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-এর বক্তব্যের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই। সুতরাং যদি তা ঐক্যমত্য (إجماع) না হয়, তবে তা কীভাবে প্রমাণ (حجة) হতে পারে? পক্ষান্তরে যদি তা সাহাবীর বক্তব্য হয় এবং সে বিষয়ে অন্যদের নীরবতা যদি ঐক্যমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য নাও হয়, তবুও তা দলীল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) উপযুক্ত হতে পারে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

অতঃপর ইমাম শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'রিসালাহ' গ্রন্থে একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد) এবং কিয়াস (قياس) অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য দলীল পেশ করেছেন (احتج) যে, কোনো কোনো সাহাবী তা অনুযায়ী আমল করেছেন এবং অবশিষ্টদের পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিবাদ প্রকাশ পায়নি, ফলে তা ঐক্যমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য হয়েছিল। এটিই তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ; ফলে এটি সম্ভাবনা রাখে যে তাঁকে বলা হবে—
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فِي الْمَسْأَلَة قَوْلَيْنِ كَمَا حَكَاهُمَا ابْن الْحَاجِب وَيحْتَمل ان ينزل الْقَوْلَانِ على حَالين وَذَلِكَ باحد طَرِيقين

احدهما ان يكون حَيْثُ اثْبتْ القَوْل بانه اجماع اراد بذلك عصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم كَمَا اسْتدلَّ بِهِ لخَبر الْوَاحِد وَالْقِيَاس وَحَيْثُ قَالَ لَا ينْسب الى سَاكِت قَول اراد بذلك من بعد الصَّحَابَة وَهَذَا اولى من ان يَجْعَل لَهُ قَولَانِ متناقضان فِي الْمَسْأَلَة من اصلها

وَالثَّانِي ان يحمل نَفْيه على مَا لم يتَكَرَّر من القضايا اَوْ لم تعم بِهِ الْبلوى وَيحمل القَوْل الاخر فِي الرسَالَة على مَا كَانَ كَذَلِك كَمَا اخْتَارَهُ امام الْحَرَمَيْنِ وَابْن الْخَطِيب لَان الْعَمَل بِخَبَر الْوَاحِد بِالْقِيَاسِ مِمَّا يتَكَرَّر وتعم بِهِ الْبلوى

وكل من هذَيْن الطَّرِيقَيْنِ مُحْتَمل
এই মাসআলায় দুটি অভিমত রয়েছে যেমনটি ইবনে আল-হাজিব বর্ণনা করেছেন। সম্ভাবনা আছে যে অভিমত দুটিকে দুটি অবস্থার প্রেক্ষিতে গ্রহণ করা হবে এবং তা দুটি পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে হতে পারে।

প্রথমটি হলো, যেখানে তিনি অভিমতটিকে ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেখানে তিনি সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-গণের যুগকে বুঝিয়েছেন; যেমনটি তিনি একক বর্ণনা (خبر الواحد) এবং সাযুজ্যবিধান (القياس)-এর ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। আর যেখানে তিনি বলেছেন যে, নীরব থাকা ব্যক্তির প্রতি কোনো বক্তব্য আরোপ করা যাবে না, সেখানে তিনি সাহাবীদের পরবর্তী যুগকে বুঝিয়েছেন। এটি মূল মাসআলায় তাঁর দুটি স্ববিরোধী অভিমত সাব্যস্ত করার চেয়ে অধিক উত্তম।

দ্বিতীয়টি হলো, তাঁর অস্বীকৃতিকে এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে ধরা হবে যা বারবার ঘটে না অথবা যা জনসংশ্লিষ্ট সাধারণ সমস্যা (عموم البلوى) নয়। আর আর-রিসালাহ গ্রন্থে তাঁর অন্য অভিমতটিকে এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে ধরা হবে যা অনুরূপ (অর্থাৎ যা বারবার ঘটে), যেমনটি ইমামুল হারামাইন এবং ইবনুল খাতিব পছন্দ করেছেন। কারণ একক বর্ণনা (خبر الواحد) ও সাযুজ্যবিধান (القياس) অনুযায়ী আমল করা এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা বারবার ঘটে এবং যা জনসংশ্লিষ্ট সাধারণ সমস্যা (عموم البلوى)।

এই দুটি পদ্ধতির প্রতিটিই সম্ভাব্য।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ادلة الاقوال الْمُتَقَدّمَة

 

الْكَلَام الان فِيمَا اسْتدلَّ بِهِ كل من قَالَ بقول مِمَّا تقدم

اولا احْتج الْقَائِلُونَ بانه لَيْسَ باجماع وَلَا حجَّة بَان سكُوت الساكتين لَا يدل على الْمُوَافقَة لَا صَرِيحًا وَلَا ظَاهرا

اما نفي الصراحة فَظَاهر

واما نفي دلَالَته ظَاهرا فلَان السُّكُوت يحْتَمل وُجُوهًا

احدها الْمُوَافقَة وَالرِّضَا بذلك

وَثَانِيها انه لم يجْتَهد فِي الْمَسْأَلَة

وَثَالِثهَا انه اجْتهد وَلم يظْهر لَهُ شَيْء

وَرَابِعهَا انه ظهر لَهُ مَا يَقْتَضِي خلاف ذَلِك القَوْل لكنه لم يُبْدِهِ اما لاعْتِقَاده ان كل مُجْتَهد مُصِيب واما لظَنّه ان غَيره كفى الْقيام بذلك واما لهيبة الْقَائِل كَمَا قَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي مَسْأَلَة نفي الْعَوْل وَقد قيل
পূর্বোল্লিখিত অভিমতসমূহের দলীলসমূহ

 

এখন আলোচনা করা হবে সেইসব বিষয় সম্পর্কে, যা দ্বারা পূর্বোল্লিখিত প্রতিটি অভিমতের প্রবক্তাগণ দলীল পেশ করেছেন।

প্রথমত, যারা একে ঐক্যমত (إجماع) বা প্রমাণ (حجة) নয় বলে মনে করেন, তারা দলীল পেশ করেছেন এই বলে যে, মৌন অবলম্বনকারীদের নীরবতা সম্মতির ওপর স্পষ্টভাবে (صريحا) কিংবা আপাতভাবে (ظاهرا)—কোনোভাবেই প্রমাণ বহন করে না।

স্পষ্টভাবে (صريحا) প্রমাণ না হওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট।

আর আপাতভাবে (ظاهرا) প্রমাণ না হওয়ার কারণ হলো, নীরবতা বিভিন্ন বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে।

তার একটি হলো: সম্মতি এবং তাতে সন্তুষ্টি।

দ্বিতীয়টি হলো: তিনি সংশ্লিষ্ট মাসআলায় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেননি।

তৃতীয়টি হলো: তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন কিন্তু তার নিকট কোনো কিছু স্পষ্ট হয়নি।

চতুর্থটি হলো: তার নিকট উক্ত বক্তব্যের বিপরীতে কোনো কিছু প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রকাশ করেননি। হয়তো এই বিশ্বাস থেকে যে, প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিকতা প্রাপ্ত (مصيب), অথবা এই ধারণায় যে অন্য কেউ হয়তো তার পক্ষ থেকে বিষয়টি পালনের জন্য যথেষ্ট হবে, কিংবা বক্তার প্রভাব বা মর্যাদার কারণে; যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আউল (العول) নাকচ করার মাসআলায় বলেছিলেন, এবং বলা হয়ে থাকে যে...
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لَهُ لم لَا رددت على عمر رضي الله عنه فَقَالَ هِبته وَالله واما للخوف من ثوران فتْنَة كَمَا وَقع لكثير من الصَّحَابَة مَعَ بني امية واما انه راى ان الانكار لَا يجدي شَيْئا

وكل هَذِه الِاحْتِمَالَات منقدحة على السوَاء لَا تَرْجِيح لاحدها على الاخر فَلَا يكون السُّكُوت دَالا على الْمُوَافقَة بطرِيق الظُّهُور

واذا انْتَفَى ان يكون اجماعا فَلَا يكون حجَّة لَان هَذَا قَول بعض الامة والعصمة انما ثبتَتْ لجميعهم لَا حجية الا فِي المدارك الْمَعْرُوفَة من الْكتاب وَالسّنة والاجماع وَالْقِيَاس وَلَيْسَ هَذَا شَيْئا مِنْهَا

ثَانِيًا واجاب الْقَائِلُونَ بِكَوْنِهِ اجماعا عَن ذَلِك بَان احْتِمَال الرِّضَا والموافقة اظهر من بَقِيَّة الِاحْتِمَالَات لَان الله تَعَالَى وصف هَذِه الامة بانهم خير امة اخرجت للنَّاس يامرون بِالْمَعْرُوفِ وَينْهَوْنَ عَن الْمُنكر فَلَا يَصح من جَمِيعهم الاطباق على ترك انكار الْمُنكر لَان فرض الْمَسْأَلَة فِيمَا بلغ الحكم جَمِيع الْمُجْتَهدين
তাকে বলা হলো, "আপনি কেন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতিবাদ করলেন না?" তিনি উত্তর দিলেন, "আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে অভিভূত ছিলাম।" আর (অন্যান্য সম্ভাবনা হলো) হয়তো বিশৃঙ্খলা (فتنة) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিনি তা করেননি, যেমনটি বনু উমাইয়াদের যুগে অনেক সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; অথবা তিনি মনে করেছিলেন যে, প্রতিবাদ কোনো ফল বয়ে আনবে না।

এই প্রতিটি সম্ভাবনাই সমানভাবে যুক্তিযুক্ত এবং এদের একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং, আপাত স্পষ্টতার (الظهور) ভিত্তিতে নীরব থাকা সম্মতির পরিচায়ক হতে পারে না।

আর যখন এটি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হওয়া নাকচ হয়ে গেল, তখন তা দলিল বা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এটি উম্মতের একাংশের বক্তব্য মাত্র। আর অভ্রান্ততা (العصمة) কেবল তাদের সমষ্টির জন্যই সাব্যস্ত হয়েছে। কিতাব, সুন্নাহ, সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) এবং সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس)-এর ন্যায় পরিচিত উৎসসমূহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর প্রামাণ্যতা নেই এবং এটি এগুলোর কোনোটিই নয়।

দ্বিতীয়ত, যারা এটিকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) মনে করেন তারা এর উত্তর দিয়েছেন যে, সন্তুষ্টি ও সম্মতির সম্ভাবনা অন্যান্য সম্ভাবনার চেয়ে অধিক স্পষ্ট। কারণ আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের গুণাবলি সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানুষের জন্য বের করা হয়েছে, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ বা অপছন্দনীয় (منكر) কাজ থেকে নিষেধ করে। সুতরাং মন্দ কাজের প্রতিবাদ বর্জন করার ক্ষেত্রে তাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়; কারণ মাসআলাটির পূর্বশর্ত হলো বিধানটি সকল মুজতাহিদগণের (المجتهدين) নিকট পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثمَّ الْعَادة جَارِيَة فِي كل عصر بِأَن من كَانَ عِنْده خلاف فِي شَيْء من مسَائِل الِاجْتِهَاد أبداه وَلم يسكت وانهم كَانُوا إِذا نزلت بهم نازلة فزعوا فِيهَا إِلَى الآجتهاد وَطلب الحكم

فَهَذَا كُله مِمَّا يرجح احْتِمَال الْمُوَافقَة وَالرِّضَا وَبَقِيَّة الاحتم الات وَإِن كَانَت منقدحة عقلا خلاف الظَّاهِر من أَحْوَال أَرْبَاب الدّين واهل الْحل وَالْعقد

فَفِي ترك الِاجْتِهَاد إهمال حكم الله تَعَالَى فِيمَا وَجب عَلَيْهِم وَلَا يظنّ بهم ذَلِك لما فِيهِ من الْمعْصِيَة وألأصل براءتهم مِنْهَا
অতঃপর প্রত্যেক যুগে এটিই সাধারণ রীতি যে, ইজতিহাদ (اجتهاد)-যোগ্য মাসআলাসমূহের কোনোটিতে যাঁর দ্বিমত থাকত, তিনি তা প্রকাশ করতেন এবং নীরব থাকতেন না। আর যখনই তাঁদের সামনে কোনো নতুন সমস্যা উপস্থিত হতো, তখন তাঁরা সে বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) ও বিধান অন্বেষণে তৎপর হতেন।

এসবই ঐকমত্য ও সম্মতির সম্ভাবনাকে প্রবল করে। অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো যদিও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে, তবে তা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ এবং আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد)-এর বাহ্যিক অবস্থার পরিপন্থী।

কেননা ইজতিহাদ (اجتهاد) বর্জন করার অর্থ হলো তাঁদের ওপর যা ওয়াজিব ছিল, সে ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করা। তাঁদের সম্পর্কে এমন ধারণা করা যায় না, কারণ এতে অবাধ্যতার গুনাহ রয়েছে; আর মূল নীতি হলো তাঁরা তা থেকে মুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَأما كَونه لم يظْهر لَهُم وَجه الحكم فَهُوَ بعيد ايضا بل مَرْجُوح لِأَن الظَّاهِر أَنه مَا من حكم إِلَّا وَللَّه عَلَيْهِ أَمَارَات وَدَلَائِل تدل عَلَيْهِ وَالظَّاهِر مِمَّن لَهُ أَهْلِيَّة الآجتهاد الآطلآع على ذَلِك وَيلْزم من تَجْوِيز ذَلِك على جَمِيعهم خلو الْعَصْر عَن قَائِم لله بِالْحجَّةِ لَا سِيمَا أهل الْأَعْصَار الأول قبل اسْتِقْرَار الْمذَاهب وَغَلَبَة المقلدين فَإِن ذَلِك فِي تِلْكَ الْأَعْصَار مِمَّا يقطع بِعَدَمِهِ

وَأما احْتِمَال ظَنّه أَن غَيره كفى الْكَلَام فِي ذَلِك فَهُوَ وَإِن كَانَ مجوزا فَلَا يَصح تطابق الْجَمِيع على ذَلِك وَالْعَادَة قاضية بِخِلَافِهِ وَلَا سِيمَا مَعَ قرب بَعضهم من بعض واطلاعهم على مَا يصدر عَنْهُم غَالِبا

وَأما اعْتِقَاد أَن كل مُجْتَهد مُصِيب فَلَيْسَ ذَلِك قولا لأحد من الصَّحَابَة وَإِنَّمَا ينقدح هَذَا فِيمَن بعدهمْ

وَكَذَلِكَ بَقِيَّة الإحتمالات من الهيبة وَالْخَوْف من ثوران فتْنَة والتقية وَظن أَن الْإِنْكَار لَا يجدي شَيْئا كل ذَلِك بعيد مَرْجُوح بِالنِّسْبَةِ إِلَى أَحْوَال الصَّحَابَة فقد أَنْكَرُوا الْكثير على الْأَئِمَّة وعَلى غَيرهم فِي مسَائِل الْجد وَالإِخْوَة والعول وَقَوله أَنْت عَليّ حرَام وَقَالَ عَليّ

আর তাদের নিকট বিধানের যৌক্তিক ভিত্তি প্রকাশ না পাওয়ার বিষয়টিও সুদূরপরাহত, বরং তা দুর্বল (مرجوح)। কেননা দৃশ্যত এমন কোনো বিধান নেই যার সপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন ও প্রমাণ নেই যা তার দিকে পথপ্রদর্শন করে। আর যাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতা রয়েছে, তাদের পক্ষে বিষয়টি অবগত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এটি সবার ক্ষেত্রে সম্ভব বলে ধরে নেওয়া হলে যুগটি আল্লাহর সপক্ষে হুজ্জত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠাকারী থেকে শূন্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; বিশেষত মাযহাবসমূহ সুসংহত হওয়ার এবং মুকাল্লিদদের প্রভাব বিস্তারের পূর্ববর্তী প্রথম যুগের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য। কারণ ওই সকল যুগে এমন অবস্থার অনুপস্থিতির বিষয়টি সুনিশ্চিত।

আর তাদের কারও এই ধারণা হওয়ার সম্ভাবনা যে অন্য কেউ এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য যথেষ্ট—যদিও এটি সম্ভাব্য হতে পারে, তবে সকলের এই বিষয়ে একমত হওয়া সঠিক হতে পারে না। আর সাধারণ রীতি এর বিপরীত ফয়সালা দেয়, বিশেষ করে তাদের একে অপরের সান্নিধ্য এবং একে অপরের থেকে যা প্রকাশ পেত সে বিষয়ে সচরাচর অবগতির কারণে।

আর প্রত্যেক মুজتাহিদ (مجتهد) সঠিক (مصيب)—এই বিশ্বাস সাহাবীদের কারো বক্তব্য ছিল না, বরং এটি তাদের পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে উদয় হয়েছে।

অনুরূপভাবে অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো যেমন—প্রভাব বা গাম্ভীর্যের ভীতি, ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির আশঙ্কা, তাক্বিয়াহ (تقية) বা আত্মরক্ষামূলক গোপনীয়তা এবং প্রতিবাদ কোনো কাজে আসবে না এমন ধারণা করা—সাহাবীদের অবস্থার প্রেক্ষাপটে এই সবই সুদূরপরাহত ও দুর্বল (مرجوح)। কারণ তারা ইমামদের এবং অন্যদের অনেক বিষয়ের প্রতিবাদ করেছিলেন; যেমন দাদা ও ভাইদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলা, আল-আউল (العول) এবং 'তুমি আমার জন্য হারাম'—এই উক্তির ব্যাপারে; আর আলী (রা.) বলেছিলেন...

(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لعمر رضي الله عنه حِين أَرَادَ جلد الْحَامِل لَيْسَ لَك سَبِيل على مَا فِي بَطنهَا وَكَذَلِكَ فِي إِعَادَة الْجلد فِي قصَّة الْمُغيرَة وَكَذَلِكَ على عُثْمَان رضي الله عنه فِي إِنْكَاره الْقُرْآن بَين الْحَج وَالْعمْرَة وَأنْكرت أمْرَأَة على عمر رضي الله عنه فِي قَوْله لَا تغَالوا بمهور النِّسَاء والوقائع فِي مثل هَذَا كَثِيرَة جدا حَتَّى من التَّابِعين أَيْضا من الصَّحَابَة فقد قَالَ عُبَيْدَة السَّلمَانِي لعَلي رضي الله عنه فِي مَسْأَلَة بيع أُمَّهَات الْأَوْلَاد رَأْيك مَعَ عمر فِي حَال الإجتماع أحب إِلَيْنَا من رَأْيك وَحدك فِي الْفِتْنَة

وَأما سكُوت من سكت لبني أُميَّة فَذَلِك فِيمَا يتَعَلَّق بشأن الْخلَافَة وَنَحْوهَا وَلَيْسَ الْكَلَام فِي ذَلِك وكل هَذِه مِمَّا يُقَوي اخْتِصَاص الْمَسْأَلَة بعصر
ওমর (রা.) যখন একজন গর্ভবতী নারীকে দোররা মারার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তখন [তাঁকে বলা হয়েছিল যে] তার গর্ভস্থ সন্তানের ওপর আপনার কোনো কর্তৃত্ব নেই। একইভাবে মুগিরার ঘটনায় দোররা প্রদানের পুনরাবৃত্তির বিষয়েও প্রতিবাদ করা হয়েছিল। তদ্রূপ উসমান (রা.)-এর ওপরও আপত্তি জানানো হয়েছিল যখন তিনি হজ ও উমরার মাঝে কিরান (القرآن) করার বিরোধিতা করেছিলেন। এছাড়া জনৈক নারী ওমর (রা.)-এর এই উক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন যে, "তোমরা নারীদের মোহরানা নির্ধারণে বাড়াবাড়ি করো না।" এই ধরনের ঘটনাবলি প্রচুর, এমনকি সাহাবিদের বিপরীতে তাবেয়ি (التابعين)-দের থেকেও এমনটি ঘটেছে। যেমন উবাইদাহ আস-সালমানি উম্মু আল-ওয়ালাদ (أمهات الأولاد) বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলা (المসألة)-র বিষয়ে আলী (রা.)-কে বলেছিলেন: "ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় ওমরের সাথে আপনার যে রায় ছিল, তা ফিতনার (الفتنة) সময়ের আপনার একক রায়ের চেয়ে আমাদের নিকট অধিক প্রিয়।"

আর বনু উমাইয়াদের শাসনামলে যারা নীরব ছিলেন, তা ছিল খিলাফত (الخلافة) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে, এবং আমাদের বর্তমান আলোচনা সেই প্রসঙ্গের নয়। এই সমস্ত বিষয় উক্ত মাসআলা (المসألة)-টি একটি নির্দিষ্ট যুগের সাথে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত (اختصاص) হওয়ার দিকটিকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الصَّحَابَة رضي الله عنهم لما جعلهم الله عَلَيْهِ من الصدع بِالْحَقِّ وَالْقُوَّة فِي الدّين وَأَنَّهُمْ لَا تأخذهم فِي الله لومة لائم وَأَنَّهُمْ خير قُرُون هَذِه الْأمة لَا سِيمَا فِيمَا يتَكَرَّر وُقُوعه أَو تعم الْبلوى بِهِ وَمَعَ طول الزَّمن وانقراض الْعَصْر

ثمَّ لَو سلم أَن ذَلِك لَا يكون إِجْمَاعًا قَطْعِيا فَلَا ريب أَنه إِجْمَاع ظَنِّي فَيكون حجَّة

وَأَيْضًا فالمعروف من عَادَة التَّابِعين وَمن بعدهمْ الإحتجاج بِمثل ذَلِك إِذا اتَّصل بهم أَن بعض الصَّحَابَة قَالَ قولا وانتشر فِي البَاقِينَ وَلم ينكروه وَلَا يَخْلُو أحد من الْمُجْتَهدين من إِيرَاد مثل ذَلِك فِي كتبهمْ على وَجه والإحتجاج بِهِ فَلَو لم يكن الْإِجْمَاع السكوتي حجَّة لزم اتِّفَاقهم على الْبَاطِل

وَلَا يُقَال يلْزم أَن يكون الْإِجْمَاع السكوتي إِجْمَاعًا بِالْإِجْمَاع وَيكون الْمُخَالف فِيهِ خارقا للْإِجْمَاع وَلَيْسَ كَذَلِك لأَنا نقُول جَازَ أَن يكون من احْتج بِهِ فِي كل عصر لم احْتج بِهِ فِي كل عصر لم تتفق آراؤهم على كَونه إِجْمَاعًا وَرَآهُ الْآخرُونَ حجَّة وَلَيْسَ بِإِجْمَاع

وَلَو سلم ذَلِك لمُخَالفَة للْإِجْمَاع الإستدلالي أَو الظني لَا يقْدَح فِي قَائِلهَا

ثَالِثا وَأما من قَالَ إِنَّه يكون حجَّة وَلَيْسَ بِإِجْمَاع فاعتمد أَن الْإِجْمَاع إِنَّمَا
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সত্য প্রকাশে অবিচল এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী করেছেন এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পান না, আর তারা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম; বিশেষ করে এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা বারবার ঘটে থাকে অথবা যার প্রয়োজনীয়তা সর্বব্যাপী (تعم البلوى) এবং সময়ের বিবর্তনে সে যুগের অবসান ঘটে।

অতঃপর যদি মেনে নেওয়া হয় যে এটি চূড়ান্ত ইজমা (إجماعا قطعيا) নয়, তবুও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني), যা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়াও তাবিঈগণ এবং তাদের পরবর্তীগণের সাধারণ নীতি হলো এই যে, যখন তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাত যে কোনো সাহাবী একটি মত প্রকাশ করেছেন এবং তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে অথচ কেউ তার প্রতিবাদ করেননি, তখন তারা এটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الإحتجاج) করতেন। কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-ই তাদের কিতাবসমূহে এ জাতীয় বিষয় উল্লেখ করা ও তা দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করা থেকে বিরত থাকেননি। সুতরাং যদি মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي) দলিল (حجة) না হতো, তবে তা বাতিলের ওপর তাদের ঐকমত্য সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক করে তুলত।

এবং এটি বলা যাবে না যে, মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي) ইজমার মাধ্যমেই ইজমা হওয়া আবশ্যক এবং এর বিরোধিতাকারী ইজমা লঙ্ঘনকারী বলে গণ্য হবে; বিষয়টি এমন নয়। কারণ আমরা বলি, হতে পারে যারা প্রতি যুগে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত এটি ইজমা হওয়ার ব্যাপারে একমত ছিল না, বরং অন্যরা একে দলিল (حجة) মনে করলেও ইজমা মনে করেননি।

আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে ইজতিহাদলব্ধ ইজমা (إجماع استدلالي) অথবা ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني)-এর বিরোধিতা করা তার প্রবক্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব বা সংশয় (قدح) তৈরি করে না।

তৃতীয়ত: আর যারা বলেন যে, এটি দলিল (حجة) হবে কিন্তু ইজমা (إجماع) নয়, তারা এই ভিত্তির ওপর নির্ভর করেছেন যে ইজমা মূলত...
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يكون عِنْد الْعلم بِاتِّفَاق الْمُجْتَهدين وَهُوَ مَفْقُود فِي هَذِه الصُّورَة فَانْتفى كَونه إِجْمَاعًا

وَأما كَونه حجَّة فَلِأَن الْعَادة تَقْتَضِي بِأَنَّهُ لَو لم يكن صَحِيحا لما تطابق الْجَمِيع على السُّكُوت عَنهُ إِذا لم يكن هُنَاكَ مَانع قوي وَلَو كَانَ ثمَّ مَانع لظهر فَإِذا لم يظْهر ذَلِك وَلَا إِنْكَار صدر من أحد مِنْهُم لذَلِك القَوْل فيبعد إِلَّا يكون الْحق فِي ذَلِك القَوْل بعد قَوِيا فَيكون حجَّة لِئَلَّا الْمَحْذُور بِالنِّسْبَةِ إِلَى أهل الْعَصْر وَعدم إظهارهم الْمُخَالفَة

وَأما ابْن أبي هُرَيْرَة فَقَالَ الْعَادة جَارِيَة بالإعتراض على الْمُفْتِي دون الْحُكَّام لما فِي الإعتراض على الْحُكَّام من ثوران الْفِتَن فَإِذا سكتوا عَن الْفتيا فَإِن سكوتهم دَال على الْمُوَافقَة دون مَا إِذا سكتوا عَن الحكم

وَقَالَ من عكس ذَلِك هَذَا فِي الحكم أولى لما كَانَت الْعَادة جَارِيَة بِهِ من أَن الْحَاكِم يشاور وَيُرَاجع أهل النّظر بِخِلَاف الْفَتْوَى فَإِنَّهَا تقع غَالِبا عَن الإستبداد

وَاعْترض على الْقَوْلَيْنِ بِأَنَّهُ لَا فرق بَين الْفَتْوَى وَالْحكم وَقد تقدم أَنهم اعْترضُوا على الْخُلَفَاء فِي أحكامهم كثيرا

وَفِي الْمَسْأَلَة مبَاحث كَثِيرَة للأصوليين من التقديرات المجوزة لسنا بصدد ذكرهَا

‌‌مَرَاتِب الْإِجْمَاع السكوتي

 

وَالْمَقْصُود أَن هُنَا مَرَاتِب مُتَفَاوِتَة فِي الْقُوَّة والضعف

إِحْدَاهَا فرض ذَلِك فِي كل عصر وَهَذَا إِن كَانَ بعد اسْتِقْرَار الْمذَاهب فَلَا أثر للسكوت قطعا وَإِن كَانَ قبل ذَلِك فَفِيهِ مَا تقدم من الْخلاف
এটি মুজতাহিদগণের (مجتهدين) ঐকমত্যের জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা এই সুরতে অনুপস্থিত, ফলে এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হিসেবে গণ্য হওয়া নাকচ হয়ে যায়।

আর এটি অকাট্য দলিল (حجة) হওয়ার কারণ হলো, সাধারণ নিয়ম বা প্রথা দাবি করে যে, যদি বিষয়টি সঠিক (صحيح) না হতো, তবে কোনো শক্তিশালী প্রতিবন্ধক না থাকলে এ বিষয়ে সবাই মৌনতা অবলম্বনে একমত হতো না। আর যদি সেখানে কোনো প্রতিবন্ধক থাকতো তবে তা প্রকাশ পেত। যখন তা প্রকাশ পায়নি এবং সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাদের কারোর পক্ষ থেকে কোনো অস্বীকৃতিও আসেনি, তখন সেই বক্তব্যে সত্য থাকার বিষয়টিই প্রবল। সুতরাং এটি অকাট্য দলিল (حجة) হবে, যাতে সমসাময়িক লোকদের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি এবং তাদের ভিন্নমত প্রকাশ না করার বিষয়টি সাব্যস্ত না হয়।

ইবনে আবি হুরায়রা বলেন, প্রচলিত প্রথা হলো মুফতিদের (مفتي) বিরোধিতা করা, শাসকদের নয়; কারণ শাসকদের বিরোধিতা করার মধ্যে ফেতনা (فتنة) সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। সুতরাং তারা যদি ফতোয়া (فتوى) প্রদানের ক্ষেত্রে চুপ থাকেন, তবে তাদের এই মৌনতা সম্মতির নির্দেশক, কিন্তু বিচারের রায়ের ক্ষেত্রে মৌন থাকা সম্মতির নির্দেশক নয়।

আর এর বিপরীতে কেউ কেউ বলেন, এটি বিচারের রায়ের ক্ষেত্রে অধিক প্রযোজ্য; কারণ সাধারণত নিয়ম হলো বিচারক বিজ্ঞজনদের সাথে পরামর্শ ও পর্যালোচনা করেন। ফতোয়ার (فتوى) বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ এটি প্রায়শই একক মতামতের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।

উভয় মতের বিরুদ্ধে আপত্তি করা হয়েছে এই বলে যে, ফতোয়া (فتوى) এবং বিচারের রায়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা খলিফাদের বিচারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও বহুবার আপত্তি জানিয়েছেন।

এ মাসআলায় উসুলশাস্ত্রবিদদের (أصوليين) অনুমোদিত সম্ভাবনার বিষয়ে অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

‌‌মৌন এজমার (إجماع سكوتي) স্তরসমূহ

 

মূল উদ্দেশ্য হলো, এখানে শক্তি ও দুর্বলতার দিক থেকে বিভিন্ন স্তর রয়েছে।

এর একটি হলো প্রত্যেক যুগে এর কল্পনা করা। এটি যদি মাজহাবসমূহ (مذاهব) সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হয়, তবে এই মৌনতার নিশ্চিতভাবেই কোনো প্রভাব নেই। আর যদি তার আগে হয়, তবে এ বিষয়ে পূর্বোক্ত মতভেদ প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَفِي جعله إِجْمَاعًا ظنيا نظر وَكَونه حجَّة وَلَيْسَ بِإِجْمَاع أبعد من ذَلِك

وَثَانِيها أَن يكون ذَلِك فِي عصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم فَهُوَ أقوى من الأول وَأولى بِأَن يكون السُّكُوت مِنْهُم دَلِيلا على الْمُوَافقَة لعلو مرتبتهم فِي الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَعدم المذاهبة على من بعدهمْ وَإِن كَانَ لم يكن إِجْمَاعًا فَالظَّاهِر أَنه حجَّة لما تقدم

وَثَالِثهَا أَن يكون ذَلِك فِيمَا يتَكَرَّر وُقُوعه فَهُوَ أولى بِأَن يكون إِجْمَاعًا أَو حجَّة لِأَن تِلْكَ الإحتمالات الْمقدرَة تبعد فِيهِ بعدا قَوِيا

وَرَابِعهَا أَن يكون فِيمَا تعم بِهِ الْبلوى فكون ذَلِك إِجْمَاعًا أقوى مِمَّا قبله
এটিকে ধারণা-প্রসূত ঐক্যমত (إجماع ظني) হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে সংশয় রয়েছে এবং তা দলিল (حجة) হওয়া সত্ত্বেও ঐক্যমত (إجماع) না হওয়া আরও দূরবর্তী বিষয়।

দ্বিতীয়ত: তা যদি সাহাবীগণের (رضي الله عنهم) যুগে হয়ে থাকে, তবে তা প্রথম প্রকারের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে এবং পরবর্তী প্রজন্মের ন্যায় কারো সাথে আপসকামিতা না থাকার কারণে তাঁদের নীরবতা সম্মতির প্রমাণ (دليل) হিসেবে গণ্য হওয়াই অধিক যুক্তিসঙ্গত। আর যদি তা ঐক্যমত (إجماع) নাও হয়, তবুও পূর্বোক্ত কারণে তা দলিল (حجة) হওয়াটাই প্রকাশ্য।

তৃতীয়ত: এটি যদি এমন বিষয়ে হয় যা বারবার সংঘটিত হয়, তবে তা ঐক্যমত (إجماع) অথবা দলিল (حجة) হওয়ার অধিক উপযোগী; কেননা সেখানে অনুমিত সম্ভাবনাগুলো প্রবলভাবে দূরীভূত হয়।

চতুর্থত: এটি যদি সর্বসাধারণের সংশ্লিষ্টতা বা ব্যাপক প্রয়োজনীয় (عم به البلوى) কোনো বিষয়ে হয়, তবে তা ঐক্যমত (إجماع) হওয়া পূর্বোক্ত অবস্থার চেয়েও অধিক শক্তিশালী।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَأظْهر فِي الحجية لِأَن انتشار ذَلِك الحكم مَعَ عُمُوم الْبلوى بِهِ يَقْتَضِي علمهمْ بذلك الحكم وموافقتهم فِيهِ وَإِلَّا لزم تطابقهم على ترك إِنْكَاره

وخامسها أَن يكون فِيمَا يفوت وقته كالدماء والفروج كَمَا صُورَة الْمَاوَرْدِيّ فاشتهار ذَلِك بَينهم مَعَ سكُوت البَاقِينَ عَنهُ يدل على الرِّضَا أقوى مِمَّا فِي الصُّور الْمُتَقَدّمَة إِلَّا أَن صورته فِيمَا تعم بِهِ الْبلوى ويتكرر وُقُوعه أظهر أَو الْكل على السوَاء

وَالْقَوْل بحجية ذَلِك وَإِن لم يكن إِجْمَاعًا قوي إِذا قيل بِأَن قَول الصَّحَابِيّ بمفرده لَا يكون حجَّة وَالله سُبْحَانَهُ أعلم

‌‌الطّرف الثَّانِي قَول الصَّحَابِيّ إِذا طلع عَلَيْهِ غَيره وَلم يعلم انتشاره بَينهم جمعيهم

 

أَن يثبت للصحابي قَول أَو حكمه فِي مَسْأَلَة وَيعلم اطلَاع غَيره من الصَّحَابَة عَلَيْهِ أَو انتشاره بَينهم دون انتشاره بَين الْجَمِيع وَلَا يُؤثر عَن غَيره فِيهِ مُخَالفَة لَهُ

فَهَذَا دون الَّتِي قبله هَذِه لعدم اشتهاره بَين الْجَمِيع وَإِن كَانَ انْتَشَر بَينهم فِي الْجُمْلَة

وَبِهَذَا قَيده أَبُو الْعَبَّاس الْقُرْطُبِيّ من الْمَالِكِيَّة وَالشَّيْخ صفي الدّين الأرموي فِي كِتَابه نِهَايَة الْوُصُول

وَمِنْهُم من أطلق القَوْل فِي ذَلِك وَلم يُقَيِّدهُ بالإنتشار
এবং এটি শরয়ী প্রামাণ্যতার (الحجية) ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট; কারণ ব্যাপক জনসংশ্লিষ্টতা (عموم البلوى) রয়েছে এমন বিষয়ে সেই বিধানটির প্রচার হওয়া তাদের (সাহাবীদের) এই বিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং তাতে একমত হওয়ার দাবি রাখে। অন্যথায়, তা প্রত্যাখ্যান না করার বিষয়ে তাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আর পঞ্চম (অবস্থা) হলো, বিষয়টি এমন হওয়া যার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, যেমন রক্তপাত এবং লজ্জাস্থান সংক্রান্ত বিষয়াবলি, যেমনটি ইমাম মাওয়ার্দী চিত্রায়িত করেছেন। সুতরাং অন্যান্য সাহাবীদের নীরব থাকাবস্থায় তাদের মাঝে এর প্রচার হওয়া পূর্ববর্তী অবস্থাগুলোর তুলনায় জোরালোভাবে সম্মতির (الرضا) প্রমাণ দেয়। তবে যে বিষয়ে ব্যাপক জনসংশ্লিষ্টতা (عموم البلوى) রয়েছে এবং যার পুনরাবৃত্তি ঘটে, সেই চিত্রটি অধিক স্পষ্ট অথবা সবগুলোই সমান।

আর একে শরয়ী প্রামাণ্যতা (الحجية) হিসেবে গণ্য করার মতটি—যদিও তা ইজমা (إجماع) নয়—তখনি শক্তিশালী হয় যখন বলা হয় যে, এককভাবে সাহাবীর কথা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অধিক অবগত।

‌‌দ্বিতীয় পক্ষ: সাহাবীর বক্তব্য যখন অন্য সাহাবীগণ তা অবগত হন, কিন্তু তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায় না

 

তা হলো কোনো মাসআলায় সাহাবীর কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হওয়া এবং অন্যান্য সাহাবীদের তা অবগত হওয়া সম্পর্কে জানা যাওয়া, অথবা তাদের একাংশের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়া কিন্তু সবার মধ্যে ছড়িয়ে না পড়া; এমতাবস্থায় অন্য কারোর পক্ষ থেকে এর কোনো বিরোধিতা বর্ণিত না হওয়া।

এটি পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে নিম্নমানের, কারণ এটি সবার মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, যদিও সামগ্রিকভাবে তাদের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল।

মালিকী মাযহাবের আবু আব্বাস আল-কুরতুবী এবং শেখ সফিউদ্দীন আল-আরমাভী তাঁর নিহায়াতুল উসুল গ্রন্থে বিষয়টিকে এভাবেই সীমাবদ্ধ করেছেন।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই বক্তব্যটিকে সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং একে প্রচার বা প্রসারের শর্তে সীমাবদ্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والمحكي فِي ذَلِك ثَلَاثَة أَقْوَال

أَحدهَا أَنه إِجْمَاع وَهُوَ بعيد جدا لِأَن الْإِجْمَاع عبارَة عَن اتِّفَاق جَمِيع الْمُجْتَهدين من أهل الْعَصْر وَذَلِكَ إِمَّا بالْقَوْل أَو بِالْفِعْلِ اتِّفَاقًا وَإِمَّا بقول الْبَعْض وسكوت البَاقِينَ مَعَ اطلاعهم على القَوْل الْمُتَقَدّم فَأَما إِذا لم يعلمُوا فَيمْتَنع رضاهم بِهِ أَو ردهم لَهُ

وَالثَّانِي أَنه حجَّة وَإِن قُلْنَا إِن قَول الصَّحَابِيّ بمفرده لَيْسَ بِحجَّة لِأَنَّهُ لما انْتَشَر ذَلِك القَوْل وَلم يظْهر خلاف علم أَنه قد سَمعه الْأَكْثَر فأقروه عَلَيْهِ وَذَلِكَ لَا يكون مِنْهُم إِلَّا عَن ثَبت وَدَلِيل لما يعلم من صلابتهم فِي الدّين وتحقيقهم فِيهِ

وَالثَّالِث وَهُوَ اخْتِيَار فَخر الدّين الرَّازِيّ إِن كَانَ ذَلِك مِمَّا تعم بِهِ الْبلوى وَتَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ فَهُوَ يجْرِي مجْرى الْإِجْمَاع أَو يكون حجَّة
এ বিষয়ে বর্ণিত অভিমত তিনটি:

প্রথমটি হলো, এটি একটি ঐক্যমত (إجماع); তবে এটি অত্যন্ত সুদূরপরাহত। কারণ ঐক্যমত (إجماع) বলতে সমকালীন সকল মুজতাহিদগণের (مجتهدين) একমত হওয়াকে বোঝায়। আর তা হয় সর্বসম্মতিক্রমে কথা বা কাজের মাধ্যমে, অথবা একদল লোকের বক্তব্য এবং সেই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর বাকিদের নীরবতার মাধ্যমে। পক্ষান্তরে, তারা যদি বিষয়টি সম্পর্কে অবগতই না হন, তবে সেক্ষেত্রে তাদের সন্তুষ্টি বা প্রত্যাখ্যান—কোনোটিরই অবকাশ থাকে না।

দ্বিতীয়টি হলো, এটি দলিল (حجة); যদিও আমরা বলে থাকি যে সাহাবীর একক বক্তব্য দলিল (حجة) নয়। কারণ যখন উক্ত বক্তব্যটি প্রচারিত হয়েছে এবং কোনো ভিন্নমত প্রকাশ পায়নি, তখন এটি জানা যায় যে অধিকাংশ লোক তা শুনেছেন এবং তারা এর ওপর মৌন সম্মতি দিয়েছেন। আর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের দৃঢ়তা এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের যে বৈশিষ্ট্য সুবিদিত, তাতে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثبت) ভিত্তি ও প্রমাণ (دليل) ছাড়া তাদের পক্ষ থেকে এমনটি ঘটা সম্ভব নয়।

তৃতীয় অভিমতটি হলো—যা ফখরুদ্দিন আল-রাজি পছন্দ করেছেন—যদি বিষয়টি এমন হয় যা ব্যাপকভাবে প্রয়োজনীয় (تعم به البلوى) এবং যার আবশ্যকতা রয়েছে, তবে তা ঐক্যমত (إجماع) এর সমপর্যায়ে গণ্য হবে অথবা দলিল (حجة) হিসেবে বিবেচিত হবে।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الطّرف الثَّالِث قَول الصَّحَابِيّ إِذا لم يشْتَهر وَلم يُخَالِفهُ غَيره

 

أَن يَقُول الصَّحَابِيّ قولا أَو يحكم بِحكم وَلم يثبت فِيهِ اشتهار وَلَا يُؤثر عَن غير من الصَّحَابَة مُخَالفَة فِي ذَلِك

وَهَذِه الصُّورَة هِيَ أَكثر مَا يُوجد عَنْهُم

وللعلماء فِيهَا أَقْوَال مُتعَدِّدَة وَالْكَلَام فِي مقامين

‌‌الْمقَام الأول

 

فِي كَونه حجَّة شَرْعِيَّة تقدم على الْقيَاس وَالَّذِي يتَحَصَّل فِي ذَلِك مَذَاهِب

أَحدهَا أَنه حجَّة مُطلقًا

وَالثَّانِي أَنه لَيْسَ بِحجَّة مُطلقًا

وَالثَّالِث أَن الْحجَّة قَول أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما دون غَيرهمَا

وَالرَّابِع أَن الْحجَّة قَول الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة رضي الله عنهم فَقَط

وَالْخَامِس أَن قَول الصَّحَابِيّ فِيمَا لَا يدْرك قِيَاسا فَهُوَ حجَّة دون مَا يدْرك بِالْقِيَاسِ وَهَذَا هُوَ الَّذِي يعبر عَنهُ ابْن الْحَاجِب بِأَنَّهُ حجَّة إِذا خَالف الْقيَاس

وَالسَّادِس إِن كَانَ من أهل الْعلم والإجتهاد فَقَوله حجَّة وَإِلَّا فَلَا قَالَه العالمي من الْحَنَفِيَّة فِي كِتَابه حاكيا لَهُ عَن أَصْحَابهم وَالْجُمْهُور لم يفصلوا هَذَا التَّفْصِيل بل أطْلقُوا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য যখন তা প্রসিদ্ধি (اشتهار) লাভ করেনি এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা করেনি

 

তা হলো কোনো সাহাবী (صحابي) একটি কথা বললেন বা কোনো ফয়সালা দিলেন, অথচ তাতে কোনো প্রসিদ্ধি (اشتهار) প্রমাণিত হয়নি এবং অন্য কোনো সাহাবীর (صحابة) পক্ষ থেকে তার বিপরীতে কোনো ভিন্ন মত বর্ণিত হয়নি।

আর এই সুরতটিই তাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের বহুবিধ বক্তব্য রয়েছে এবং আলোচনাটি দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত।

‌প্রথম পর্যায়

 

এটি শরয়ি দলিল (حجة شرعية) হওয়ার বিষয়ে যা কিয়াসের (قياس) ওপর প্রাধান্য পাবে; আর এ ক্ষেত্রে যা লব্ধ হয় তা কয়েকটি মাযহাব (مذاهب):

প্রথমত: তা নিঃশর্তভাবে দলিল (حجة)।

দ্বিতীয়ত: তা কোনোভাবেই দলিল (حجة) নয়।

তৃতীয়ত: কেবল আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বক্তব্য দলিল (حجة), অন্য কারো নয়।

চতুর্থত: কেবল চার খলিফার (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বক্তব্যই দলিল (حجة)।

পঞ্চমত: সাহাবীর (صحابي) সেই বক্তব্য দলিল (حجة) যা কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব নয়; তবে যা কিয়াসের মাধ্যমে অনুধাবনযোগ্য তা দলিল নয়। ইবনুল হাজিব এটিকেই এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তা দলিল (حجة) হবে যখন তা কিয়াসের (قياس) পরিপন্থী হয়।

ষষ্ঠত: যদি তিনি ইলম ও ইজতিহাদের (اجتهاد) অধিকারী হন তবে তার কথা দলিল (حجة), অন্যথায় নয়। হানাফিদের মধ্যে আল-আলামি তার কিতাবে তাদের সাথীদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে জুমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরাম এই বিস্তারিত বিভাজন করেননি, বরং সাহাবীদের (صحابة) ক্ষেত্রে বিষয়টি সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَأَما القَوْل بِكَوْنِهِ حجَّة فَهُوَ مَذْهَب مَالك وَجُمْهُور أَصْحَابه وسُفْيَان الثَّوْريّ وَجُمْهُور أهل الحَدِيث وَكثير من الْحَنَفِيَّة كَأبي يُوسُف وَأبي سعيد البرذعي وَأبي بكر الرَّازِيّ وَعَزاهُ الْأَصْحَاب إِلَى الْقَدِيم من قولي الشَّافِعِي وَلَيْسَ هُوَ كَذَلِك فَقَط كَمَا سَيَأْتِي وَهُوَ رِوَايَة مَشْهُورَة عَن أَحْمد بن حَنْبَل وَبِه قَالَ أَكثر أَصْحَابه وَهُوَ مُقْتَضى أجوبته وتصرفاته فِي كثير من الْمسَائِل

وَأما القَوْل بِأَنَّهُ لَيْسَ بِحجَّة مُطلقًا فإليه ذهب جُمْهُور الْأُصُولِيِّينَ من أَصْحَابنَا والمعتزلة وَهُوَ الَّذِي عزاهُ الْأَصْحَاب إِلَى الْجَدِيد من قَول الشَّافِعِي وَاخْتَارَهُ وأوما إِلَيْهِ أَحْمد بن حَنْبَل فَجعل ذَلِك رِوَايَة ثَانِيَة عَنهُ وَاخْتَارَهُ أَبُو الْخطاب من أَصْحَابه وَإِلَيْهِ يمِيل قَول مُحَمَّد بن الْحسن

وَذهب الْكَرْخِي من الْحَنَفِيَّة إِلَى أَن قَول الصَّحَابِيّ حجَّة فِيمَا لَا يدْرك بِالْقِيَاسِ وَهُوَ اخْتِيَار الْبَزْدَوِيّ وَابْن الساعاتي وَغَيرهمَا مِنْهُم

وَأما أَصْحَابنَا فقد تقدم أَنهم قطعُوا القَوْل عَن الإِمَام الشَّافِعِي بِأَن قَوْله الْقَدِيم أَنه حجَّة وَأَن قَول الْجَدِيد أَنه لَيْسَ بِحجَّة

وَقَالَ إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي الْبُرْهَان ذهب الشَّافِعِي فِي الْقَدِيم إِلَى أَنه حجَّة يجب على الْمُجْتَهدين من أهل الْأَمْصَار التَّمَسُّك بهَا ثمَّ قَالَ وَإِنَّمَا يكون حجَّة إِذا لم تخْتَلف الصَّحَابَة وَلَكِن نقل وَاحِد عَن وَاحِد وَلم يظْهر خِلَافه فَيكون حنيئذ حجَّة وَإِن لم ينتشر وَقَالَ فِي بعض أَقْوَاله إِذا اخْتلف الصَّحَابَة فالتمسك بقول الْخُلَفَاء أولى قَالَ الإِمَام وَهَذَا كالدليل على أَنه لم يسْقط الإحتجاج بأقوال الصَّحَابَة لأجل الإختلاف وَقَالَ فِي بعض أَقْوَاله إِن الْقيَاس الْجَلِيّ يقدم على قَول الصَّحَابِيّ وَقَالَ فِي مَوضِع آخر إِن قَول الصَّحَابِيّ

আর এটিকে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করার অভিমতটি হলো ইমাম মালেক, তাঁর অধিকাংশ অনুসারী, সুফিয়ান আস-সাওরি, অধিকাংশ হাদিস বিশারদ (أهل الحديث) এবং অনেক হানাফি আলেম যেমন—আবু ইউসুফ, আবু সাঈদ আল-বারযাঈ ও আবু বকর আর-রাজির মাযহাব। শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীরা এটিকে ইমাম শাফেয়ীর দুটি মতের মধ্যে কদিম বা পূর্ববর্তী (قديم) মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে বিষয়টি কেবল এমনই নয় যেমনটি সামনে আসবে। এটি আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية) এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এই মত পোষণ করেছেন। অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে তাঁর উত্তর ও কর্মপন্থা থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়।

আর এটি মোটেও দলিল (حجة) নয়—এই অভিমতটি আমাদের (শাফেয়ী) উসুল শাস্ত্রবিদগণের (الأصوليين) সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং মুতাজিলাদের। শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীরা ইমাম শাফেয়ীর জাদিদ বা পরবর্তী (جديد) মত হিসেবে এটিই উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলও এটি পছন্দ করেছেন এবং এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, ফলে এটি তাঁর থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে আবু আল-খাত্তাব এটি বেছে নিয়েছেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের ঝোঁকও এই মতের দিকেই।

হানাফিদের মধ্যে ইমাম কারখি এই মত পোষণ করেছেন যে, সাহাবীর কথা সেই সমস্ত বিষয়ে দলিল (حجة) যা কিয়াস (قياس)-এর মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আর এটিই বাযদাবি, ইবনে সাআতি এবং তাদের মধ্যকার অন্যান্যদের পছন্দকৃত মত।

আমাদের (শাফেয়ী) সাথীদের ব্যাপারে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা ইমাম শাফেয়ী থেকে অকাট্যভাবে বর্ণনা করেছেন যে—তাঁর পূর্ববর্তী (قديم) মত অনুযায়ী তা দলিল (حجة) এবং পরবর্তী (جديد) মত অনুযায়ী তা দলিল (حجة) নয়।

ইমামুল হারামাইন 'আল-বুরহান' গ্রন্থে বলেছেন: শাফেয়ী তাঁর পূর্ববর্তী (قديم) মতে এই অবস্থানে ছিলেন যে, এটি এমন একটি দলিল (حجة) যা বিভিন্ন জনপদের মুজতাহিদগণের (مجتهدين) জন্য আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। এরপর তিনি বলেন: এটি তখনই দলিল (حجة) হবে যখন সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ না থাকে, বরং একজন থেকে অন্যজন বর্ণিত হয়েছে এবং কোনো ভিন্নমত প্রকাশ পায়নি; এমতাবস্থায় তা দলিল (حجة) হবে যদিও তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি তাঁর কোনো কোনো উক্তিতে বলেছেন: সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে খলিফাদের কথা আঁকড়ে ধরাই অধিক উত্তম। ইমাম (আল-হারামাইন) বলেন: এটি যেন এই বিষয়ের প্রমাণ যে, মতভেদের কারণে সাহাবীদের কথার দলিল হওয়ার যোগ্যতা (احتجاج) বাতিল হয়ে যায় না। তিনি তাঁর কিছু উক্তিতে আরও বলেছেন যে, সুস্পষ্ট কিয়াস (قياس جلي) সাহাবীর কথার ওপর প্রাধান্য পাবে। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন যে, সাহাবীর কথা...
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
مقدم على الْقيَاس انْتهى كَلَام الإِمَام

وَهَذِه الْأَقْوَال الَّتِي أَشَارَ إِلَيْهَا الإِمَام منصوصة للشَّافِعِيّ فِي الْجَدِيد أَيْضا فَإِنَّهُ قَالَ فِي كتاب الرسَالَة الجديدة فِي أَقْوَال أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا تفَرقُوا فِيهَا نصير إِلَى مَا وَافق الْكتاب أَو السّنة أَو الْإِجْمَاع أَو كَانَ أصح فِي الْقيَاس وَإِذا قَالَ وَاحِد مِنْهُم القَوْل لَا نَحْفَظ عَن غَيره مِنْهُم لَهُ مُوَافقَة وَلَا خلافًا صرت إِلَى اتِّبَاع قَول وَاحِد إِذا لم أجد كتابا وَلَا سنة وَلَا إِجْمَاعًا وَلَا شَيْئا يحكم لَهُ بحكمة أَو وجد مَعَه قِيَاس

هَذَا نَصه رحمه الله فِي الرسَالَة الْمَذْكُورَة من رِوَايَة الرّبيع بن سُلَيْمَان
কিয়াস (القياس)-এর ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত; ইমামের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

আর ইমাম যে মতগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলো ইমাম শাফেয়ির 'জাদিদ' মাযহাবেও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوصة)। কেননা তিনি 'আর-রিসালাতুল জাদিদাহ' গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের বক্তব্যের বিষয়ে বলেছেন: "যখন তাঁরা কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য করেন, তখন আমরা সেই বক্তব্যের দিকে ফিরে যাই যা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ অথবা ইজমা (الإجماع)-এর অনুকূল হয় কিংবা যা কিয়াস (القياس)-এর বিচারে অধিক সঠিক (أصح)। আর যখন তাঁদের কোনো একজন কোনো কথা বলেন এবং আমরা তাঁদের অন্য কারো পক্ষ থেকে তার সাথে কোনো ঐক্যমত্য বা দ্বিমত সংরক্ষিত পাই না, তখন আমি সেই একজনের উক্তি অনুসরণের দিকে ফিরে যাই, যদি আমি কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (الإجماع) অথবা কোনো প্রজ্ঞাপূর্ণ ফয়সালা না পাই কিংবা যদি তার সপক্ষে কোনো কিয়াস (القياس) পাওয়া যায়।"

এটিই উল্লিখিত 'আর-রিসালা' গ্রন্থে রাবি ইবনে সুলাইমানের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তাঁর (রহ.) মূল পাঠ (نص)।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَمُقْتَضَاهُ تَقْدِيم الْقيَاس الْجَلِيّ على قَول الصَّحَابِيّ وَهُوَ المُرَاد إِن شَاءَ الله بقوله وَلَا شَيْئا فِي مَعْنَاهُ يحكم لَهُ بِحكمِهِ

وَيَقْتَضِي أَيْضا أَنه إِذا تعَارض قياسان وَأَحَدهمَا مَذْهَب الصَّحَابِيّ أَنه يقدم الْقيَاس الْمُوَافق لقَوْل الصَّحَابِيّ

وَقد حكى ابْن الصّباغ فِي كِتَابه الْعدة عَن بعض الْأَصْحَاب أَنه نقل عَن الشَّافِعِي أَنه إِذا كَانَ مَعَ قَول الصَّحَابِيّ قِيَاس ضَعِيف كَانَ أولى من الْقيَاس الصَّحِيح قولا وَاحِدًا ثمَّ ضعفه ابْن الصّباغ وَهَذَا حَكَاهُ الْمَاوَرْدِيّ فِي كتاب الْأَقْضِيَة من الْحَاوِي عَن الْقَدِيم لكنه قَالَ ذَلِك فِي الْقيَاس الْخَفي مَعَ الْجَلِيّ وَأَن الْخَفي يقدم على الْجَلِيّ إِذا كَانَ مَعَ الأول قَول الصَّحَابِيّ قَالَ ثمَّ رَجَعَ عَنهُ الشَّافِعِي فِي الْجَدِيد وَقَالَ الْعَمَل بِالْقِيَاسِ الْجَلِيّ أولى

وَقَالَ الْمَاوَرْدِيّ أَيْضا فِي الْبيُوع من الْحَاوِي فِي مَسْأَلَة البيع بِشَرْط الْبَرَاءَة من الْعُيُوب قَول الشَّافِعِي فِي الْجَدِيد أَن قِيَاس التَّقْرِيب إِذا انْضَمَّ إِلَى قَول الصَّحَابِيّ كَانَ أولى من قِيَاس التَّحْقِيق

وَقَالَ الشَّافِعِي رحمه الله فِي كتاب اختلافه مَعَ مَالك وَهُوَ من الْكتب الجديدة أَيْضا مَا كَانَ الْكتاب أَو السّنة موجودين فالعذر على من سَمعهَا مَقْطُوع إِلَّا باتباعهما فَإِذا لم يكن ذَلِك صرنا إِلَى أقاويل أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو وَاحِد مِنْهُم ثمَّ كَانَ قَول الْأَئِمَّة أبي بكر وَعمر وَعُثْمَان رضي الله عنهم أحب إِلَيْهَا إِذا صرنا إِلَى التَّقْلِيد وَذَلِكَ إِذا لم نجد دلَالَة فِي الإختلاف تدل على أقرب الإختلاف من الْكتاب وَالسّنة فنتبع القَوْل الَّذِي مَعَه الدّلَالَة لِأَن قَول الإِمَام مَشْهُور بِأَنَّهُ يلْزم النَّاس وَمن لزم قَوْله النَّاس كَانَ أظهر

এর মর্মার্থ হলো সাহাবীর বক্তব্যের (قول الصحابي) ওপর সুস্পষ্ট কিয়াসকে (القياس الجلي) প্রাধান্য দেওয়া। ইনশাআল্লাহ তাঁর বক্তব্য—"এবং তার সমার্থবোধক এমন কিছুই নেই যা তার হুকুমে বিচার্য হবে"—দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য।

এটি আরও দাবি করে যে, যখন দুটি কিয়াসের (قياس) মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং তাদের একটি সাহাবীর মাযহাবের (مذهب الصحابي) সাথে মিলে যায়, তখন সাহাবীর বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিয়াসকেই (القياس) প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ইবনে সাব্বাগ তাঁর আল-ইদ্দাহ কিতাবে জনৈক সাথীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন কোনো সাহাবীর বক্তব্যের (قول الصحابي) সাথে একটি দুর্বল কিয়াস (قياس ضعيف) থাকে, তখন সেটি একক বক্তব্য হিসেবে সঠিক কিয়াসের (القياس الصحيح) চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হবে। পরবর্তীতে ইবনে সাব্বাগ একে দুর্বল (ضعفه) বলে অভিহিত করেছেন। আল-মাওয়ার্দি তাঁর আল-হাউয়ি কিতাবের কিতাবুল আকদিয়া অংশে ইমাম শাফিঈর পুরাতন মাযহাব (القديم) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি স্পষ্ট কিয়াসের (الجلي) বিপরীতে প্রচ্ছন্ন কিয়াসের (القياس الخفي) ক্ষেত্রে বলেছেন; অর্থাৎ যদি প্রচ্ছন্ন কিয়াসের (الخفي) সাথে কোনো সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) থাকে, তবে তা স্পষ্ট কিয়াসের (الجلي) ওপর প্রাধান্য পাবে। তিনি বলেন, এরপর ইমাম শাফিঈ তাঁর নতুন মাযহাবে (الجديد) এ মত থেকে ফিরে এসেছেন এবং বলেছেন যে, স্পষ্ট কিয়াস (القياس الجلي) অনুযায়ী আমল করা অধিকতর উত্তম।

আল-মাওয়ার্দি আল-হাউয়ি কিতাবের ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে ত্রুটি থেকে দায়মুক্তির শর্তে বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈর নতুন মাযহাব (الجديد) অনুযায়ী, নিকটবর্তী কিয়াস (قياس التقريب) যখন সাহাবীর বক্তব্যের (قول الصحابي) সাথে যুক্ত হয়, তখন তা সুনিশ্চিত কিয়াসের (قياس التحقيق) চেয়ে অধিক অগ্রাধিকার পায়।

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইখতিলাফ মা'আ মালিক কিতাবে—যা তাঁর নতুন গ্রন্থগুলোর (الجديدة) অন্তর্ভুক্ত—বলেছেন: "যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন অথবা সুন্নাহ বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ তা শ্রবণকারীর জন্য এই দুটি অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়। যখন কুরআন-সুন্নাহ পাওয়া না যায়, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের বক্তব্যের (أقاويل أصحاب رسول الله) দিকে অথবা তাঁদের কোনো একজনের বক্তব্যের দিকে ফিরে যাই। এরপর যখন আমরা অনুকরণের (التقليد) পর্যায়ে উপনীত হই, তখন ইমাম আবুবকর, উমর ও উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বক্তব্য আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর এটি তখনই হয় যখন আমরা মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রমাণ (دلالة) পাই না যা কুরআন ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী মতভেদকে নির্দেশ করে। এমতাবস্থায় আমরা সেই বক্তব্য অনুসরণ করি যার সপক্ষে প্রমাণ (الدلالة) বিদ্যমান। কেননা ইমামের বক্তব্য মানুষের জন্য মানা আবশ্যক হিসেবে প্রসিদ্ধ (مشهور); আর যার বক্তব্য মানুষের জন্য মানা আবশ্যক, তা অধিকতর প্রকাশ্য।"

(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مِمَّن يُفْتِي الرجل أَو النَّفر وَقد يَأْخُذ بفتياه (أ) ويدعها وَأكْثر الْمُفْتِينَ يفتون الْخَاصَّة فِي بُيُوتهم ومجالسهم وَلَا يعْنى الْعَامَّة بِمَا قَالُوا عنايتهم بِمَا قَالَ الإِمَام وَقد وجدنَا الْأَئِمَّة يبتدئون فَيسْأَلُونَ عَن الْعلم من الْكتاب وَالسّنة فِيمَا أَرَادوا أَن يَقُولُوا فِيهِ وَيَقُولُونَ فيخبرون بِخِلَاف قَوْلهم فيقبلون من الْمخبر وَلَا يستنكفون أَن يرجِعوا لتقواهم الله وفضلهم فِي حالاتهم

فَإِذا لم يُوجد عَن الْأَئِمَّة فأصحاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الدّين فِي مَوضِع الْإِمَامَة أَخذنَا بقَوْلهمْ وَكَانَ ابتاعهم أولى بِنَا من اتِّبَاع من بعدهمْ

قَالَ وَالْعلم طَبَقَات

الأولى الْكتاب وَالسّنة إِذا ثبتَتْ السّنة

وَالثَّانيَِة الْإِجْمَاع فِيمَا لَيْسَ فِي كتاب وَلَا سنة

وَالثَّالِثَة أَن يَقُول بعض أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا نعلم لَهُ مُخَالفا مِنْهُم

وَالرَّابِعَة اخْتِلَاف أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَرَضي عَنْهُم

وَالْخَامِسَة الْقيَاس على بعض هَذِه الطَّبَقَات

وَلَا يُصَار إِلَى شَيْء غير الْكتاب وَالسّنة وهما موجودان وَإِنَّمَا يُؤْخَذ الْعلم من أَعلَى أه

هَذَا كُله نَص الإِمَام الشَّافِعِي رحمه الله فِي الْكتاب الْمشَار إِلَيْهِ وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ عَن شُيُوخه عَن الْأَصَم عَن الرّبيع بن سُلَيْمَان عَنهُ

وَهُوَ صَرِيح فِي أَن قَول الصَّحَابِيّ عِنْده حجَّة مُقَدّمَة على الْقيَاس كَمَا نَقله إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَإِن كَانَ جُمْهُور الْأَصْحَاب أغلفوا نقل ذَلِك عَن الْجَدِيد

وَيَقْتَضِي أَيْضا أَن الصَّحَابَة إِذا اخْتلفُوا كَانَ الْحجَّة فِي قَول أحد الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة رضي الله عنهم إِذا وجد عَنْهُم للمعنى الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الإِمَام الشَّافِعِي وَهُوَ اشتهار قَوْلهم وَرُجُوع النَّاس إِلَيْهِم
এমন কিছু লোক রয়েছেন যারা কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র দলকে ফতোয়া প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর ফতোয়া গ্রহণ করতে পারেন অথবা বর্জন করতে পারেন। অধিকাংশ মুফতি তাঁদের বিশিষ্টজনদের নিজস্ব ঘরে বা মজলিসে ফতোয়া দেন, আর সাধারণ মানুষ তাঁদের বক্তব্যের প্রতি ততটা গুরুত্ব দেয় না যতটা গুরুত্ব ইমামের বক্তব্যের প্রতি দেয়। আমরা ইমামদের দেখেছি যে, তাঁরা কোনো বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের আগে কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) থেকে ইলম অনুসন্ধানের মাধ্যমে শুরু করেন। এরপর যখন তাঁরা কোনো কথা বলেন এবং তাঁদেরকে তাঁদের বক্তব্যের বিপরীত কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ দেওয়া হয়, তখন তাঁরা সংবাদদাতার কথা মেনে নেন এবং আল্লাহর প্রতি খোদাভীতি ও তাঁদের অনন্য মর্যাদার কারণে সত্যের দিকে ফিরে আসতে দ্বিধাবোধ করেন না।

অতঃপর ইমামদের থেকে যখন সমাধান পাওয়া যায় না, তখন দ্বীনের ক্ষেত্রে ইমামতের (নেতৃত্বের) আসনে আসীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী (صحابة) গণের বক্তব্য আমরা গ্রহণ করি এবং তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের অনুসরণের চেয়ে তাঁদের অনুসরণ করা আমাদের জন্য অধিক সমীচীন।

তিনি বলেন, ইলমের কয়েকটি স্তর (طبقات) রয়েছে:

প্রথম স্তর: কুরআন এবং সুন্নাহ (سنة), যখন সুন্নাহ (سنة) প্রমাণিত (ثابتة) হয়।

দ্বিতীয় স্তর: ঐকমত্য (إجماع) এমন বিষয়ে যা কুরআন বা সুন্নাহ (سنة)-তে নেই।

তৃতীয় স্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কোনো সাহাবী (صحابي)-র বক্তব্য, যার বিপরীতে তাঁদের মধ্য থেকে অন্য কোনো ভিন্নমত জানা নেই।

চতুর্থ স্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী (صحابة) গণের মধ্যকার মতভেদ (اختلاف)।

পঞ্চম স্তর: এই স্তরগুলোর কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس)।

কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) বিদ্যমান থাকতে অন্য কোনো কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে ইলম সর্বদা উচ্চতর উৎস থেকেই গ্রহণ করতে হয়। সমাপ্ত।

এই সমস্ত বক্তব্যই উল্লিখিত কিতাবে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর সরাসরি বক্তব্য। বায়হাকী এটি তাঁর উস্তাদদের সূত্রে আসম থেকে, তিনি রবী বিন সুলায়মান থেকে এবং তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন।

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সাহাবী (صحابي)-র বক্তব্য তাঁর কাছে দলিল (حجة) হিসেবে কিয়াস (قياس)-এর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য, যেমনটি ইমামুল হারামাইন বর্ণনা করেছেন; যদিও অধিকাংশ শাফিঈ ফকীহ ইমামের 'জাদিদ' বা নতুন অভিমত থেকে এটি বর্ণনা করতে উপেক্ষা করেছেন।

এটি আরও দাবি করে যে, সাহাবী (صحابة) গণ যখন মতভেদ (اختلاف) করেন, তখন চার খলিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে যদি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় তবে সেটিই দলিল (حجة) হবে। ইমাম শাফিঈ এই অর্থের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো তাঁদের বক্তব্যের প্রসিদ্ধি এবং মানুষের তাঁদের সিদ্ধান্তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
فَأَما فِي الْقَدِيم فَقَوله فِيهِ مَشْهُور بحجية قَول الصَّحَابِيّ وَمن ذَلِك مَا ذكره فِي الرسَالَة الْقَدِيمَة بعد ذكره الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَالثنَاء عَلَيْهِم بِمَا هم أَهله فَقَالَ وهم فَوْقنَا فِي كل علم واجتهاد وورع وعقل وَأمر استدرك بِهِ علم واستنبط بِهِ وآراؤهم لنا أَحْمد وَأولى بنامن آرائنا عندنَا لأنفسنا وَمن أدركنا مِمَّن نرضى أَو حُكيَ لنا عَنهُ ببلدنا صَارُوا فِيمَا لم يعلمُوا لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيهِ سنة إِلَى قَوْلهم إِذا اجْتَمعُوا وَقَول بَعضهم إِن تفَرقُوا فَهَكَذَا نقُول إِن اجْتَمعُوا أَخذنَا بإجماعهم وَإِن قَالَ واحدهم قولا وَلم يُخَالِفهُ غَيره أَخذنَا بقوله إِن اخْتلفُوا أَخذنَا بقول بَعضهم وَلم نخرج عَن أقاويلهم كلهم

قَالَ وَإِذا قَالَ الرّجلَانِ مِنْهُم فِي شَيْء قَوْلَيْنِ مُخْتَلفين نظرت فَإِن كَانَ قَول أَحدهمَا أشبه بِكِتَاب الله أول أشبه بِسنة من سنَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أخذت بِهِ لِأَن مَعَه سَببا تقوى بِمثلِهِ لَيْسَ مَعَ الَّذِي يُخَالِفهُ مثله فَإِن لم يكن على وَاحِد من الْقَوْلَيْنِ دلَالَة بِمَا وصفت كَانَ قَول الْأَئِمَّة أبي بكر أَو عمر أَو عُثْمَان رضي الله عنهم أحب إِلَيّ أَن أَقُول بِهِ من قَول غَيرهم إِن خالفهم من قبل أَنهم أهل علم وحكام

ثمَّ قَالَ بعد ذَلِك فَإِن اخْتلف الْحُكَّام استدللنا بِالْكتاب وَالسّنة فِي اخْتلَافهمْ وصرنا إِلَى القَوْل الَّذِي عَلَيْهِ الدّلَالَة من الْكتاب أَو السّنة وقلما يَخْلُو اخْتلَافهمْ من دَلَائِل كتاب أَو سنة وَإِن اخْتلف الْمفْتُون يَعْنِي من الصَّحَابَة بعد الْأَئِمَّة بِلَا دلَالَة فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ

وَإِن وجدنَا للمفتين فِي زَمَاننَا وَقَبله اجتماعا فِي شَيْء لَا يَخْتَلِفُونَ فِيهِ تَبِعْنَاهُ وَكَانَ أحد طرق الْأَخْبَار الْأَرْبَعَة وَهِي كتاب الله ثمَّ سنة نبيه صلى الله عليه وسلم ثمَّ القَوْل لبَعض الصَّحَابَة ثمَّ اجْتِمَاع الْفُقَهَاء

فَإِذا نزلت نازلة لم نجد فِيهَا وَاحِدًا من هَذِه الْأَرْبَعَة فَلَيْسَ السَّبِيل فِي الْكَلَام فِي النَّازِلَة إِلَّا اجْتِهَاد الرَّأْي

ইমাম শাফিঈর প্রাচীন মত (قديم) অনুযায়ী, সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) সম্পর্কে তার অবস্থান সুপ্রসিদ্ধ। এর মধ্যে একটি হলো যা তিনি ‘রিসালাহ আল-কাদিমা’ গ্রন্থে সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রশংসা ও তাঁদের যোগ্য মর্যাদা বর্ণনার পর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: তাঁরা প্রতিটি জ্ঞান, গবেষণা (اجتهاد), পরহেজগারি ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে আমাদের ঊর্ধ্বে। এমন প্রতিটি বিষয় যার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা হয় কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের জন্য আমাদের নিজেদের মতামতের চেয়ে তাঁদের মতামত আমাদের নিকট অধিক প্রশংসনীয় ও অগ্রাধিকারযোগ্য। আমাদের সমসাময়িক যাদের প্রতি আমরা সন্তুষ্ট অথবা আমাদের শহরে যাদের সম্পর্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁরা এমন সব বিষয়ে—যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সুন্নাহ (سنة) তাঁদের জানা ছিল না—সেখানে তাঁরা যদি ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছাতেন তবে আমরা সেই ঐক্যমতের দিকেই ফিরে যেতাম। আর যদি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করতেন, তবে আমরা এভাবেই বলতাম—যদি তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হন তবে আমরা তাঁদের ঐক্যমত (إجماع) গ্রহণ করব, আর যদি তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কোনো কথা বলেন এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা না করেন তবে আমরা তাঁর সেই বক্তব্য (قول) গ্রহণ করব। আর যদি তাঁরা মতভেদ করেন তবে আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কারো মতামত গ্রহণ করব এবং তাঁদের সামগ্রিক মতামতের বাইরে যাব না।

তিনি আরও বলেছেন: যদি তাঁদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি কোনো বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন, তবে আমি তা পর্যবেক্ষণ করব। যদি তাঁদের একজনের বক্তব্য আল্লাহর কিতাব (كتاب الله) অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর (سنة) সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে আমি সেটি গ্রহণ করব। কারণ এর সাথে এমন প্রমাণ বিদ্যমান যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়েছে, যা এর বিপরীত মতের ক্ষেত্রে নেই। যদি বর্ণিত দুই মতের কোনোটির পক্ষেই উল্লিখিত কোনো প্রমাণ পাওয়া না যায়, তবে আমার নিকট আবু বকর, উমর বা উসমান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বক্তব্য গ্রহণ করা অন্যের বক্তব্যের চেয়ে অধিক প্রিয় হবে—যদিও অন্যরা তাঁদের বিরোধিতা করে থাকে। কারণ তাঁরা হলেন ইলমের অধিকারী ও শাসক।

অতঃপর তিনি এরপর বলেছেন: যদি শাসকগণ মতভেদ করেন, তবে আমরা তাঁদের মতভেদের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব (كتاب الله) ও সুন্নাহ (سنة) থেকে দলিল তালাশ করব এবং আল্লাহর কিতাব বা সুন্নাহর নির্দেশিত বক্তব্যের দিকে ফিরে যাব। খুব কমই এমন মতভেদ দেখা যায় যা আল্লাহর কিতাব বা সুন্নাহর (سنة) দলিল মুক্ত থাকে। আর যদি ফতোয়া প্রদানকারীগণ অর্থাৎ ইমামদের পরবর্তী সাহাবীগণ এমন বিষয়ে মতভেদ করেন যেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই,

এবং যদি আমরা আমাদের সময়ের বা তার পূর্বের ফতোয়া প্রদানকারীদের কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ (إجماع) পাই যেখানে তাঁরা মতভেদ করেননি, তবে আমরা তার অনুসরণ করব। আর এটি হলো সংবাদের চারটি উৎসের (طرق الأخبار) একটি; আর সেগুলো হলো: আল্লাহর কিতাব (كتاب الله), অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة), অতঃপর কোনো কোনো সাহাবীর বক্তব্য (قول), এরপর ফকীহগণের ঐক্যমত (إجماع)।

যদি এমন কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব হয় যেখানে এই চারটির কোনোটিই পাওয়া না যায়, তবে সেই সমস্যা সমাধানের পথ কেবল যুক্তিপ্রসূত গবেষণা (اجتهاد الرأي) ছাড়া আর কিছু নয়।

(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
هَذَا كُله كَلَام الشَّافِعِي رحمه الله فِي كتاب الرسَالَة الْقَدِيمَة وَالْحَاصِل عَنهُ فِي قَول الصَّحَابِيّ أَقْوَال

أَحدهَا أَنه حجَّة مُقَدّمَة على الْقيَاس كَمَا نَص عَلَيْهِ فِي كتاب اختلافه مَعَ مَالك وَهُوَ من كتبه الجديدة كَمَا تقدم

وَالثَّانِي أَنه لَيْسَ بِحجَّة مُطلقًا وَهُوَ الَّذِي اشْتهر بَين الْأَصْحَاب أَنه قَوْله الْجَدِيد

وَالثَّالِث أَنه حجَّة إِذا انْضَمَّ إِلَيْهِ قِيَاس فَيقدم حِينَئِذٍ على قِيَاس لَيْسَ مَعَه قَول صَحَابِيّ كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ فِي كتاب الرسَالَة الجديدة وَقد تقدم ذَلِك أَولا

ثمَّ ظَاهر كَلَامه أَن يكون القياسان متساويين لِأَنَّهُ لم يفرق بَين قِيَاس وَتقدم فِي نقل إِمَام الْحَرَمَيْنِ عَنهُ قَول تَخْصِيص الْقيَاس الْجَلِيّ بتقديمه على قَول الصَّحَابِيّ فعلى هَذَا يكون فِيمَا نَقله الإِمَام عَنهُ قَول رَابِع فِي الْمَسْأَلَة من أَصْلهَا

وَتقدم أَيْضا عَن القَاضِي الْمَاوَرْدِيّ أَن قَول الشَّافِعِي أَنه إِذا اعتضد قِيَاس التَّقْرِيب بقول الصَّحَابِيّ كَانَ أولى من قِيَاس التَّحْقِيق

وَعَن ابْن الصّباغ فِيمَا نَقله عَن بعض الْأَصْحَاب عَن الشَّافِعِي أَن الْقيَاس الضَّعِيف إِذا اعتضد بقول الصَّحَابِيّ كَانَ أولى من الْقيَاس الْقوي

فَيخرج من هذَيْن قَولَانِ آخرَانِ للشَّافِعِيّ أَيْضا إِن جعلنَا الْقيَاس الضَّعِيف أَعم من قِيَاس التَّقْرِيب وَغَيره وَإِلَّا فَقَوْل خَامِس زَائِد على مَا تقدم

وَذكر الْغَزالِيّ فِي كِتَابه الْمُسْتَصْفى من تفاريع القَوْل الْقَدِيم فِي تَقْلِيد الصَّحَابِيّ أَن الشَّافِعِي رحمه الله قَالَ فِي كِتَابه اخْتِلَاف الحَدِيث أَنه روى عَن
এইসবই ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রাচীন রিসালাহ কিতাবের বক্তব্য। সাহাবীর বক্তব্যের (قول الصحابي) ব্যাপারে তাঁর থেকে প্রাপ্ত সারকথা হলো একাধিক অভিমত।

প্রথমটি হলো: এটি কিয়াসের (قياس) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য প্রমাণ (حجة), যেমনটি তিনি মালিকের সাথে তাঁর মতভেদ কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর এটি তাঁর নতুন কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি সাধারণভাবে কোনো প্রমাণ (حجة) নয় এবং এটিই তাঁর অনুসারীদের মাঝে তাঁর নতুন অভিমত (قول جديد) হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

তৃতীয়টি হলো: এটি তখনই প্রমাণ (حجة) হবে যখন এর সাথে কোনো কিয়াস (قياس) যুক্ত হবে; এমতাবস্থায় এটি এমন কিয়াসের (قياس) ওপর অগ্রাধিকার পাবে যার সাথে কোনো সাহাবীর বক্তব্য নেই, যেমনটি তিনি নতুন রিসালাহ কিতাবে ইঙ্গিত করেছেন এবং তা শুরুতেই বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো উভয় কিয়াস (قياس) সমান হওয়া, কারণ তিনি কিয়াসের (قياس) মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। ইমামুল হারামাইন তাঁর থেকে সুস্পষ্ট কিয়াসকে (قياس جلي) সাহাবীর বক্তব্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে বিশিষ্ট করার যে অভিমতটি বর্ণনা করেছেন তা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে ইমাম তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে মূল মাসআলায় চতুর্থ একটি অভিমত পাওয়া যায়।

কাযী মাওয়ার্দী থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, শাফিঈর বক্তব্য হলো: যখন নিকটবর্তী কিয়াস (قياس التقريب) সাহাবীর বক্তব্যের দ্বারা সমর্থিত হয়, তখন তা নিশ্চিত কিয়াস (قياس التحقيق) অপেক্ষা অধিক গ্রহণযোগ্য হয়।

ইবনুল সাব্বাগ তাঁর থেকে এবং কোনো কোনো অনুসারী শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুর্বল (ضعيف) কিয়াস (قياس) যখন সাহাবীর বক্তব্যের দ্বারা সমর্থিত হয়, তখন তা শক্তিশালী কিয়াসের ওপর অগ্রাধিকার পায়।

এ দুটি থেকে শাফিঈর আরও দুটি অভিমত বের হয়ে আসে যদি আমরা দুর্বল (ضعيف) কিয়াসকে (قياس) নিকটবর্তী কিয়াস ও অন্যান্যদের তুলনায় ব্যাপক মনে করি, অন্যথায় তা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর অতিরিক্ত পঞ্চম অভিমত হিসেবে গণ্য হবে।

ইমাম গাযালী তাঁর আল-মুস্তাসফা কিতাবে সাহাবীর অনুকরণের (تقليد الصحابي) বিষয়ে প্রাচীন অভিমতের (قول قديم) শাখা-প্রশাখা আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইখতিলাফুল হাদিস কিতাবে বলেছেন যে এটি থেকে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
عَليّ رضي الله عنه أَنه صلى فِي لَيْلَة سِتّ رَكْعَات كل رَكْعَة بست سَجدَات ثمَّ قَالَ إِن ثَبت ذَلِك عَن عَليّ قلت بِهِ قَالَ الْغَزالِيّ وَهَذَا لِأَنَّهُ رأى أَن القَوْل بذلك لَا يكون إِلَّا عَن تَوْقِيف إِذْ لَا مجَال للْقِيَاس فِيهِ

قلت وَهَذَا يَقْتَضِي تَخْرِيج قَول للشَّافِعِيّ أَن قَول الصَّحَابِيّ فِيمَا لَا يدْرك بِالْقِيَاسِ حجَّة دون غَيره وَفِيه نظر لِأَن الظَّاهِر أَن هَذَا من الشَّافِعِي بِنَاء على مُطلق القَوْل بِأَن قَول الصَّحَابِيّ حجَّة

ثمَّ قَوْله إِن ذَلِك تَفْرِيع على الْقَدِيم ضَعِيف أَيْضا لِأَن كتاب اخْتِلَاف الحَدِيث من كتب الشَّافِعِي الجديدة بِمصْر رَوَاهُ عَنهُ الرّبيع بن سُلَيْمَان فَيكون هَذَا أَيْضا مؤيدا لما تقدم من النَّقْل عَن الرسَالَة الجديدة وَعَن كتاب اخْتِلَاف مَالك وَالشَّافِعِيّ

ثمَّ هَذِه الْأَقْوَال كلهَا إِذا انْفَرد قَول الصَّحَابِيّ وَلم يُخَالِفهُ غَيره فَأَما عِنْد خلافهم فَسَيَأْتِي الْكَلَام فِي ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى

‌‌الْمقَام الثَّانِي

 

فِي جَوَاز تَقْلِيد الْمُجْتَهد الصَّحَابِيّ إِذا لم يكن قَوْله حجَّة وَقد أفردها الإِمَام الْغَزالِيّ بِالذكر بعد الْكَلَام فِي أَن قَول الصَّحَابِيّ حجَّة فَقَالَ فِي الْمُسْتَصْفى إِن قَالَ قَائِل إِذا لم يجب تقليدهم فَهَل يجوز
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক রাতে ছয় রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন, প্রতি রাকাতে ছয়টি করে সাজদাহ ছিল। অতঃপর তিনি (ইমাম শাফিঈ) বললেন: যদি আলীর পক্ষ থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়, তবে আমি এটি গ্রহণ করব। ইমাম গাযালী বলেছেন, এটি একারণে যে তিনি (শাফিঈ) মনে করেছেন এই কথাটি কেবল ওহী বা সরাসরি বর্ণনা (توقيف) ছাড়া হতে পারে না, কেননা এতে কিয়াসের (قياس) কোনো অবকাশ নেই।

আমি (লেখক) বলছি, এটি ইমাম শাফিঈর একটি অভিমত আহরণ (تخريج) করার দাবি রাখে যে, সাহাবীর বক্তব্য যা কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়, তা দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, অন্য ক্ষেত্রে নয়। তবে এতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে, কারণ দৃশ্যত এটি ইমাম শাফিঈর পক্ষ থেকে ‘সাহাবীর বক্তব্য দলীল (حجة)’—এই সাধারণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে।

অতঃপর তাঁর এই কথা যে এটি পুরাতন (قديم) মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত শাখা মাসয়ালা, তাও দুর্বল (ضعيف); কারণ ইখতিলাফুল হাদিস বইটি মিশরে রচিত ইমাম শাফিঈর নতুন (جديد) কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। রবী ইবনে সুলাইমান এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটিও রিসালাতুল জাদিদাহ এবং ইখতিলাফু মালিক ওয়াশ শাফিঈ কিতাব থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত উদ্ধৃতির সপক্ষে প্রমাণ হবে।

উপরন্তু, এই সকল বক্তব্য তখন প্রযোজ্য যখন সাহাবীর অভিমত একক হয় এবং অন্য কেউ তাঁর বিরোধিতা না করেন। তবে তাঁদের মতপার্থক্য থাকলে সে বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহু তাআলা।

‌‌দ্বিতীয় পর্যায়

 

মুজতাহিদ (مجتهد) ব্যক্তির জন্য সাহাবীর তাকলীদ (تقليد) করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে, যখন তাঁর বক্তব্য দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না। সাহাবীর বক্তব্য দলীল (حجة) কি না—তা আলোচনার পর ইমাম গাযালী একে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আল-মুস্তাসফা কিতাবে বলেছেন, ‘যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, তাঁদের তাকলীদ (تقليد) করা যখন ওয়াজিব নয়, তবে তা কি বৈধ?’
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
تقليدهم قُلْنَا أما الْعَاميّ فيقلدهم وَأما الْعَالم فَإِن جَازَ تَقْلِيد الْعَالم للْعَالم فقد اخْتلف قَول الشَّافِعِي فِي تَقْلِيد الصَّحَابَة فَقَالَ فِي الْقَدِيم يجوز تَقْلِيد الصَّحَابِيّ إِذا قَالَ قولا وانتشر قَوْله وَلم يُخَالف

وَقَالَ فِي مَوضِع يُقَلّد وَإِن لم ينتشر

وَرجع فِي الْجَدِيد إِلَى أَنه لَا يُقَلّد الْعَالم صحابيا كَمَا لَا يُقَلّد الْعَالم عَالما آخر نقل الْمُزنِيّ عَنهُ ذَلِك وَأَن الْعمد على الْأَدِلَّة الَّتِي بهَا يجوز للصحابي الْفَتْوَى وَهُوَ الصَّحِيح الْمُخْتَار عندنَا انْتهى كَلَام الْغَزالِيّ رحمه الله

وَتَبعهُ على ذَلِك فَخر الدّين وَعَامة أَتْبَاعه والآمدي فِي الإحكام وَأعْرض ابْن الْحَاجِب عَن إِفْرَاد هَذِه الصُّورَة بِالذكر وَهُوَ الْحق لما ننبه عَلَيْهِ

فَإِن الَّذِي يظْهر أَن الإِمَام الشَّافِعِي حَيْثُ صرح بتقليد الصَّحَابِيّ لم يرد بِهِ التَّقْلِيد الَّذِي هُوَ مُتَعَارَف بَين الْعلمَاء وَهُوَ قبُول قَول غَيره مِمَّن لَا يجب عَلَيْهِ اتِّبَاعه من غير حجَّة بل مُرَاده بذلك أَن قَوْله حجَّة يجب اتباعها فَإِنَّهُ قَالَ فِي أدب القَاضِي ويشاور قَالَ الله تَعَالَى {وَأمرهمْ شُورَى بَينهم} وَقَالَ لنَبيه صلى الله عليه وسلم {وشاورهم فِي الْأَمر} قَالَ الْحسن إِن كَانَ لغنيا عَن مشاورتهم وَلكنه أَرَادَ بذلك أَن يستن بذلك الْأَحْكَام بعده وَلَا يشاور إِذا نزل بِهِ الْأَمر إِلَّا أَمينا عَالما بِالْكتاب وَالسّنة والْآثَار وأقاويل النَّاس ولسان الْعَرَب وَلَا يقبل وَإِن كَانَ أعلم مِنْهُ حَتَّى يُعلمهُ كعلمه أَن ذَلِك لَازم لَهُ من حَيْثُ لم تخْتَلف الرِّوَايَة فِيهِ أَو بِدلَالَة عَلَيْهِ أَو أَنه لَا يحْتَمل وَجها آخر أظهر مِنْهُ فَأَما أَن يقلده فَلم يَجْعَل الله ذَلِك لأحد بعد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তাদের তাকলিদ (অনুসরণ) প্রসঙ্গে আমরা বলি: সাধারণ মানুষ তাদের তাকলিদ করবে। আর আলেমের ক্ষেত্রে, যদি একজন আলেমের জন্য অন্য আলেমের তাকলিদ করা বৈধ হয়, তবে সাহাবীদের তাকলিদ করার বিষয়ে ইমাম শাফিঈর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। তিনি তাঁর প্রাচীন (কাদিম) মতবাদে বলেছেন যে, সাহাবীর তাকলিদ করা জায়েজ (বৈধ), যখন তিনি কোনো কথা বলেন এবং তা প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং কেউ তার বিরোধিতা না করে।

অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন, সাহাবীর তাকলিদ করা যাবে যদিও তা প্রসিদ্ধি লাভ না করে।

তবে তিনি তাঁর নতুন (জাদিদ) মতবাদে এই সিদ্ধান্তে ফিরে এসেছেন যে, একজন আলেম কোনো সাহাবীর তাকলিদ করবেন না, ঠিক যেভাবে একজন আলেম অন্য আলেমের তাকলিদ করেন না। ইমাম মুযানী তাঁর থেকে এটিই বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, মূল নির্ভরতা হলো সেই সকল দলিলের ওপর যার ওপর ভিত্তি করে সাহাবীর জন্য ফতোয়া প্রদান বৈধ হয়েছিল। আমাদের নিকট এটিই সঠিক (صحيح) ও মনোনীত মত। ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

ফখরউদ্দীন এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এবং আল-আমিদি তাঁর আল-ইহকাম গ্রন্থে এই মত অনুসরণ করেছেন। ইবনে আল-হাজিব এই বিষয়টি পৃথকভাবে উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন, আর এটিই যথার্থ সত্য যা আমরা পরবর্তীতে স্পষ্ট করব।

স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম শাফিঈ যখন সাহাবীর তাকলিদ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি আলেমদের মাঝে পরিচিত সেই তাকলিদকে বোঝাননি—যা হলো কোনো দলিল (حجة) ব্যতীত এমন ব্যক্তির কথা গ্রহণ করা যার অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, সাহাবীর বক্তব্য একটি দলিল (حجة) যা অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা তিনি ‘আদাবুল কাজি’ অধ্যায়ে বলেছেন: তিনি (বিচারক) পরামর্শ করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তাদের বিষয়াবলী তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।" তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: "আর গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।" হাসান (বসরি) বলেছেন: আল্লাহ তাঁকে তাদের পরামর্শ থেকে অমুখাপেক্ষী করতে পারতেন, কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন যেন এর মাধ্যমে তাঁর পরবর্তী যুগের বিধানসমূহ পদ্ধতিরূপ লাভ করে। কোনো বিষয় উপস্থিত হলে তিনি কেবলমাত্র এমন আমানতদার ব্যক্তির সাথেই পরামর্শ করবেন যিনি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, আছার (آثار) তথা পূর্বসূরিদের বর্ণনা, লোকজনের বক্তব্য এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে বিজ্ঞ। আর কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানীও হন, তবুও তাঁর কথা ততক্ষণ গ্রহণ করা যাবে না যতক্ষণ না তিনি নিজের ইলমের মতোই নিশ্চিত হন যে সেটি তাঁর জন্য পালন করা আবশ্যক; এ ক্ষেত্রে বর্ণনা (رواية)-এ কোনো ভিন্নতা না থাকা, বা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকা, অথবা এর চেয়ে অধিক স্পষ্ট অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর কারো তাকলিদ করার বিষয়টি আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো জন্য রাখেননি।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
هَذَا نَصه فِي مُخْتَصر الْمُزنِيّ فَأطلق اسْم التَّقْلِيد على الإحتجاج بقول النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا أَرَادَ بِهِ الإحتجاج بقوله فَكَذَلِك قَوْله فِي تَقْلِيد الصَّحَابِيّ وَلَا سِيمَا مَعَ مَا اسْتَقر من قَوْله المتكرر فِي غير مَوضِع بِالنَّهْي عَن التَّقْلِيد وَالْمَنْع مِنْهُ

ثمَّ قَول الْغَزالِيّ رحمه الله إِن ذَلِك فِي كتبه الْقَدِيمَة فَقَط وَإنَّهُ رَجَعَ عَنهُ فِي الْجَدِيد منقوض بِمَا نَص عَلَيْهِ فِي كتاب الْأُم فِي مَوَاضِع عديدة بتقليد الصَّحَابِيّ

مِنْهَا قَوْله فِيمَا إِذا بَاعَ بِشَرْط الْبَرَاءَة من الْعُيُوب فَالَّذِي أذهب إِلَيْهِ فِي ذَلِك قَضَاء عُثْمَان رضي الله عنه أَنه يبرأ من كل عيب علمه وَلم يسمه ويقفه عَلَيْهِ فلير تقليدا

فَإِن كَانَ أَرَادَ الإِمَام الشَّافِعِي بالتقليد للصحابي فِي الْقَدِيم مَعْنَاهُ الْمَعْرُوف فَهُوَ كَذَلِك هُنَا أَيْضا فِي الْجَدِيد وَالْأَظْهَر أَنه أَرَادَ بِهِ الإحتجاج بقول الصَّحَابِيّ وَأطلق اسْم التَّقْلِيد عَلَيْهِ مجَازًا كَمَا أطلقهُ فِي الإحتجاج بقول النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَهَذَا النَّص الَّذِي نقلته عَن الشَّافِعِي رحمه الله فِي البيع بِشَرْط الْبَرَاءَة قَالَه فِي مُخْتَصر الْمُزنِيّ وَفِي كتاب اخْتِلَاف الْعِرَاقِيّين وَهُوَ من جملَة كتب
এটি মুখতাসার আল-মুজানিতে তাঁর মূল পাঠ। এখানে তিনি নবী (সা.)-এর বাণীকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الإحتجاج) করার ক্ষেত্রে তাকলীদ (التقليد) শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। মূলত তিনি এর দ্বারা তাঁর বাণীকে দলীল হিসেবে পেশ করাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। সাহাবীর তাকলীদ (تقليد)-এর ব্যাপারেও তাঁর বক্তব্য অনুরূপ; বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে তাকলীদ (التقليد) নিষিদ্ধ ও বারণ করার বিষয়ে তাঁর যে সুদৃঢ় ও পুনরাবৃত্ত অবস্থান রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এটিই প্রমাণিত হয়।

অতঃপর ইমাম গাজালী (রহ.)-এর এই উক্তি—যে এটি কেবল তাঁর প্রাচীন (القديمة) কিতাবসমূহে রয়েছে এবং তিনি তাঁর নতুন (الجديد) মতবাদে এ থেকে ফিরে এসেছেন—তা কিতাবুল উম্ম-এর বহু স্থানে সাহাবীর তাকলীদ (تقليد) সম্পর্কে তাঁর দেওয়া সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়।

তন্মধ্যে একটি হলো ত্রুটি থেকে দায়মুক্তির শর্তে বিক্রয় করার মাসআলায় তাঁর বক্তব্য: "এক্ষেত্রে আমি উসমান (রা.)-এর ফয়সালার দিকেই গিয়েছি যে, তিনি (বিক্রেতা) এমন প্রতিটি ত্রুটি থেকে দায়মুক্ত হবেন যা তিনি জানতেন কিন্তু উল্লেখ করেননি এবং ক্রেতাকে অবগত করেননি; সুতরাং একে তাকলীদ (تقليدا) হিসেবেই গণ্য করা হোক।"

ইমাম শাফিঈ যদি তাঁর প্রাচীন (القديم) মতবাদে সাহাবীর তাকলীদ (التقليد) দ্বারা এর প্রচলিত অর্থই উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তবে তাঁর নতুন (الجديد) মতবাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই। তবে অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো, তিনি এর দ্বারা সাহাবীর বাণীকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الإحتجاج) করা বুঝিয়েছেন এবং রূপকভাবে (مجازا) একে তাকলীদ (التَّقْلِيد) নামে অভিহিত করেছেন, যেমনটি তিনি নবী (সা.)-এর বাণীকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الإحتجاج) করার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন।

আর দায়মুক্তির শর্তে বিক্রয় সংক্রান্ত শাফিঈ (রহ.) থেকে আমি যে পাঠটি উদ্ধৃত করেছি, তা তিনি মুখতাসার আল-মুজানি এবং কিতাব ইখতিলাফ আল-ইরাকিয়্যিন-এ উল্লেখ করেছেন, যা মূলত তাঁর কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْأُم وَكِلَاهُمَا فِي الْجَدِيد

وَقد ذكر الْغَزالِيّ رحمه الله فِي آخر الْمَسْأَلَة الْمُتَقَدّمَة فِي الْمُسْتَصْفى قَالَ فَإِن قيل فقد ترك الشَّافِعِي فِي الْجَدِيد الْقيَاس فِي تَغْلِيظ الدِّيَة فِي الْحرم لقَوْل عُثْمَان رضي الله عنه وَكَذَلِكَ فرق بَين الْحَيَوَان وَغَيره فِي شَرط الْبَرَاءَة لقَوْل عُثْمَان قُلْنَا لَهُ فِي شَرط الْبَرَاءَة أَقْوَال فَلَعَلَّ هَذَا مرجوع عَنهُ فَلَيْسَ كَذَلِك لما بَينا فِي غير مَوضِع من كتبه الجديدة وَقَالَ إِنَّه الَّذِي يذهب إِلَيْهِ وَبِهَذَا قطع أَبُو إِسْحَاق الْمروزِي وَابْن خيران وَغَيرهمَا وَلم يجعلا فِي الْمَسْأَلَة الْمُتَقَدّمَة للشَّافِعِيّ قولا غَيره وَهُوَ الَّذِي صَححهُ الْمُتَأَخّرُونَ

وَأما الْمَسْأَلَة تَغْلِيظ الدِّيَة فقد احْتج الشَّافِعِي رحمه الله فِيهَا بِمَا روى عَن عُثْمَان رضي الله عنه أَنه قضى فِي امْرَأَة قتلت فِي الْحرم بدية وَثلث دِيَة وَقد رُوِيَ نَحْو مِنْهُ عَن عمر وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَلَا مُخَالف لَهما من الصَّحَابَة فَيكون اعْتمد ذَلِك بِنَاء على مَا تقدم من الْإِجْمَاع السكوتي بِالنِّسْبَةِ إِلَى الصَّحَابَة رضي الله عنهم أَو لِأَنَّهُ قضى بِهِ عمر وَعُثْمَان رضي الله عنهما وَهُوَ قد نَص فِي الْجَدِيد كَمَا تقدم عَنهُ على الرُّجُوع إِلَى قَول أحد الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة رضي الله عنهم لِأَنَّهُ يشْتَهر غَالِبا بِخِلَاف قَول الْمُفْتى

وَقد حكى الْغَزالِيّ فِي الْموضع الْمشَار إِلَيْهِ أَيْضا أَن الشَّافِعِي اخْتلف قَوْله فِيمَا إِذا اخْتلف الْإِفْتَاء وَالْحكم كمن الصَّحَابَة فَقَالَ مرّة الحكم أولى لِأَن الْعِنَايَة بِهِ أَشد والمشورة فِيهِ أبلغ وَقَالَ مرّة الْفَتْوَى أولى لِأَن سكوتهم على الحكم يحمل على الطَّاعَة لأولي الْأَمر
আল-উম্ম এবং উভয়টিই জাদিদ (جديد) মতে বর্ণিত।

ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) আল-মুস্তাসফা গ্রন্থের পূর্বোক্ত মাসআলার শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যদি বলা হয় যে, শাফিয়ী জাদিদ (جديد) মতে হারামে রক্তপণ (دية) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس) বর্জন করেছেন উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির কারণে; অনুরূপভাবে তিনি পশুপাখি এবং অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে দোষমুক্তির শর্তে পার্থক্য করেছেন উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির কারণে। আমরা বলব: দোষমুক্তির শর্তের ক্ষেত্রে তাঁর একাধিক উক্তি (أقوال) রয়েছে, সুতরাং সম্ভবত এটি এমন বিষয় যা থেকে তিনি ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, যেমনটি আমরা তাঁর জাদিদ (جديد) কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে বর্ণনা করেছি। তিনি বলেছেন যে, এটিই তাঁর অনুসৃত অভিমত। আবু ইসহাক আল-মারওয়াযী, ইবনে খাইরান এবং অন্যান্যেরা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তাঁরা পূর্বোক্ত মাসআলায় শাফিয়ীর অন্য কোনো উক্তি উল্লেখ করেননি। আর এটিকেই পরবর্তী (متأخرون) আলিমগণ সঠিক (صححه) বলে সাব্যস্ত করেছেন।

আর রক্তপণ (دية) বৃদ্ধির মাসআলাটির ক্ষেত্রে ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) প্রমাণ হিসেবে পেশ (احتج) করেছেন যা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি হারামের মধ্যে নিহত একজন মহিলার ক্ষেত্রে এক পূর্ণ রক্তপণ (دية) ও আরও এক-তৃতীয়াংশ রক্তপণের (دية) ফয়সালা দিয়েছিলেন। উমর এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে এবং সাহাবীদের মধ্যে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী নেই। সুতরাং সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ক্ষেত্রে এটি ইতিপূর্বে আলোচিত মৌন ঐক্যমত্যের (إجماع سكوتي) ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে, অথবা যেহেতু উমর ও উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এই ফয়সালা দিয়েছেন। আর তিনি জাদিদ (جديد) মতে ইতিপূর্বে বর্ণিত বক্তব্য অনুযায়ী চার খলিফার (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যেকোনো একজনের উক্তির দিকে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন; কারণ এটি সাধারণত মুফতির ব্যক্তিগত মতের তুলনায় অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে।

ইমাম গাযালী উল্লিখিত স্থানে আরও বর্ণনা করেছেন যে, যখন সাহাবীদের ফতোয়া প্রদান (إفتاء) এবং বিচারিক ফয়সালা (حكم) ভিন্ন হয়, তখন শাফিয়ীর বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তিনি একবার বলেছেন: বিচারিক ফয়সালা (حكم) অধিক অগ্রগণ্য; কারণ এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান অধিক এবং এতে পরামর্শের ব্যাপকতা বেশি থাকে। আবার তিনি বলেছেন: ফতোয়া (فتوى) অধিক অগ্রগণ্য; কারণ বিচারিক ফয়সালার ক্ষেত্রে তাঁদের মৌনতাকে উলিল আমর বা শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَعزا هَذَا الإختلاف إِلَى الْقَدِيم وَجعله مرجوعا عَنهُ وَفِيه من النّظر مَا قدمْنَاهُ لما نَص عَلَيْهِ فِي كتبه الجديدة كَمَا ذكرنَا

‌‌أَدِلَّة الْأَقْوَال الْمُتَقَدّمَة

 

هَذَا مَا يتَعَلَّق بِنَقْل الْأَقْوَال فِي الْمَسْأَلَة على وَجه الإحتجاج أَو التَّقْلِيد وَالْكَلَام الْآن فِيمَا احْتج بِهِ لكل قَول مِنْهَا مَعَ بَيَان مَا يتَعَلَّق بِتِلْكَ الْأَدِلَّة على وَجه الْإِيجَار إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَالنَّظَر فِي مَرَاتِب خمس تقدم القَوْل فِيهَا

الأولى فِي اتِّفَاق الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة الْخُلَفَاء رضي الله عنهم

وَالثَّانيَِة فِي اتِّفَاق الشَّيْخَيْنِ أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما

وَالثَّالِثَة فِي قَول الْوَاحِد من الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة أَي وَاحِد كَانَ مِنْهُم رضي الله عنهم

وَالرَّابِعَة فِي قَول الْوَاحِد من الصَّحَابَة غير الْأَرْبَعَة رضي الله عنهم

وَالْخَامِسَة فِي قَول الْوَاحِد مِنْهُم إِذا خَالف الْقيَاس أَو عضد الْقيَاس قَوْله وَأي قِيَاس كَانَ ذَلِك على مَا نبينه إِن شَاءَ الله
তিনি এই মতভেদকে পুরাতন (القديم) মতের দিকে সম্পর্কিত করেছেন এবং একে বর্জনকৃত (مرجوع عنه) সাব্যস্ত করেছেন। তবে এতে সেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি, কারণ তিনি তাঁর নতুন (الجديد) কিতাবসমূহে এ বিষয়ে যা সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) দিয়েছেন তা আমরা উল্লেখ করেছি।

‌‌পূর্বোক্ত মতামতের সপক্ষে প্রমাণসমূহ

 

এটি ছিল মাসআলার ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে গ্রহণ কিংবা অনুকরণের (تقليد) দিক থেকে মতামতসমূহ স্থানান্তরের বিষয়। এখন প্রতিটি মতের সপক্ষে যেসব প্রমাণ পেশ করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহু তাআলা সংক্ষেপে সেই প্রমাণাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।

পর্যালোচনাটি পাঁচটি স্তরের (مراتب) ওপর ভিত্তি করে যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

প্রথমটি: চার খলিফা (الخلفاء الأربعة) তথা ইমামগণের ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয়ে।

দ্বিতীয়টি: শায়খাইন (الشيخين) অর্থাৎ আবু বকর ও উমর (রা.)-এর ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয়ে।

তৃতীয়টি: চার খলিফার মধ্য হতে যেকোনো একজনের ব্যক্তিগত মতের (قول الواحد) বিষয়ে।

চতুর্থটি: চার খলিফা ব্যতীত অন্য যেকোনো সাহাবীর ব্যক্তিগত মতের (قول الواحد) বিষয়ে।

পঞ্চমটি: তাঁদের মধ্য হতে কোনো একজনের ব্যক্তিগত মতের বিষয়ে যখন তা কিয়াসের (قياس) বিপরীত হয় অথবা তাঁর কথাটি কিয়াসকে (قياس) শক্তিশালী করে—আর সেই কিয়াস (قياس) কেমন হবে তা ইনশাআল্লাহ আমরা বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১) ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌الْمرتبَة الأولى اتِّفَاق الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة

 

أما اتِّفَاق الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة على حكم أَو فَتْوَى فَمن النَّاس من جعل ذَلِك إِجْمَاعًا كاتفاق الْأَئِمَّة كلهم وَإِلَيْهِ ذهب أَبُو حَازِم القَاضِي من الْحَنَفِيَّة وَحَكَاهُ جمَاعَة من المصنفين رِوَايَة عَن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ الشَّيْخ الْمُوفق فِي الرَّوْضَة نقل عَن أَحْمد رحمه الله مَا يدل على أَنه لَا يخرج عَن قَوْلهم إِلَى قَول غَيرهم وَالصَّحِيح أَن ذَلِك لَيْسَ بِإِجْمَاع وَكَلَام أَحْمد فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنهُ يدل على أَن قَوْلهم حجَّة وَلَا يلْزم من كل مَا هُوَ حجَّة أَن يكون إِجْمَاعًا

قلت وَكَذَلِكَ مَا تقدم عَن الإِمَام الشَّافِعِي فِي الْقَدِيم وَفِي كتاب اختلافه مَعَ مَالك فِي الْجَدِيد عِنْد تفرق أَقْوَال الصَّحَابَة وَقد تقدم أَنه يصير إِلَى قَول أحد الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة وَحِينَئِذٍ فالإحتجاج بِمَا اتَّفقُوا عَلَيْهِ يكون بطرِيق الأولى

وَأما كَونه إِجْمَاعًا كَمَا إِذا أَجمعت الْأمة قاطبة فبعيد لِأَن الْأَدِلَّة المتمسك بهَا لكَون الْإِجْمَاع حجَّة من النقلية والعقلية إِنَّمَا يتَنَاوَل جَمِيع الْأمة وَلَا ريب فِي أَن الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة لَيْسُوا جَمِيع الْأمة

وَقد ذكر أَئِمَّة الْأُصُول أَن أَبَا حَازِم احْتج لكَون ذَلِك إِجْمَاعًا بقوله صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ الحَدِيث فَأوجب اتِّبَاع سنتهمْ كَمَا أوجب اتِّبَاع سنته والمخالف لسنته صلى الله عليه وسلم لَا يعْتد بقوله فَكَذَلِك الْمُخَالف لسنتهم
প্রথম স্তর: চার খলিফার ঐক্যমত

 

চার খলিফার কোনো বিধান বা ফতোয়ার ওপর একমত হওয়ার বিষয়ে কিছু লোক একে সকল ইমামের ঐক্যমতের মতো একটি ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন। হানাফি মাযহাবের আবু হাশিম আল-কাদি এই মত পোষণ করেছেন এবং একদল লেখক একে আহমদ ইবন হাম্বল থেকে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আল-মুওয়াফফাক 'আর-রওদাহ' গ্রন্থে বলেছেন, আহমদ (রহ.) থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, তাঁদের বক্তব্য ছেড়ে অন্য কারো বক্তব্যের দিকে যাওয়া যাবে না। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি ঐক্যমত (إجماع) নয়। আহমদ থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার (رواية) একটির বক্তব্য নির্দেশ করে যে তাঁদের বক্তব্য দলিল (حجة), আর যা কিছু দলিল (حجة) তা-ই যে ঐক্যমত (إجماع) হতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই।

আমি বলি, অনুরূপ কথা ইমাম শাফেয়ি থেকে তাঁর প্রাচীন মতবাদে এবং তাঁর নতুন মতবাদে মালিকের সাথে মতভেদ বিষয়ক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যখন সাহাবিদের মতামতের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি চার খলিফার যেকোনো একজনের বক্তব্যের দিকে ধাবিত হন। এমতাবস্থায়, তাঁরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তাকে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

কিন্তু এটি সমগ্র উম্মতের ঐকমত্যের মতো একটি ঐক্যমত (إجماع) হওয়া দূরহ ব্যাপার। কারণ ঐক্যমত (إجماع) দলিল (حجة) হওয়ার স্বপক্ষে যেসকল শ্রুত ও যৌক্তিক প্রমাণাদি রয়েছে তা মূলত সমগ্র উম্মতকে শামিল করে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, চার খলিফা মানেই সমগ্র উম্মত নয়।

উসুল শাস্ত্রের ইমামগণ উল্লেখ করেছেন যে, আবু হাশিম এটি ঐক্যমত (إجماع) হওয়ার স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল (حجة) পেশ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরো, একে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো..." (হাদিস)। এখানে তাঁদের সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করাকে ঠিক সেভাবেই আবশ্যক করা হয়েছে যেভাবে তাঁর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করা আবশ্যক। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতাকারীর বক্তব্য যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তাঁদের সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতাকারীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।