(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: -)
آداب الفتوى والمفتي والمستفتي القسم: أصول الفقه
الكتاب: آداب الفتوى والمفتي والمستفتي
المؤلف: أبو زكريا يحيى بن شرف النووي (631 - 676 هـ)
المحقق: بسام عبد الوهاب الجابي [ت 1438 هـ]
الناشر: دار الفكر، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 86
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফতোয়া, মুফতি ও ফতোয়াপ্রার্থীর আদবসমূহ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: ফতোয়া, মুফতি ও ফতোয়াপ্রার্থীর আদবসমূহ
লেখক: আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরফ আন-নববী (৬৩১ - ৬৭৬ হি.)
সম্পাদক: বাসসাম আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাবি [মৃ. ১৪৩৮ হি.]
প্রকাশক: দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হি. - ১৯৮৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
آدَابُ الفَتْوَى والمفتي والمستفتي
اعْلَم أَن هَذَا البابَ مهمٌّ جدًّا فأحببتُ تَقْدِيمه لعمومِ الْحَاجة إِلَيْهِ وَقد صنَّف فِي هَذَا جمَاعَة من أَصْحَابنَا مِنْهُم أَبُو الْقَاسِم الصَّيْمَرِيّ شيخ صَاحب الْحَاوِي ثمَّ الْخَطِيب أَبُو بكر الْحَافِظ الْبَغْدَادِيّ ثمَّ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح وكل مِنْهُم ذكرَ نفائس لم يذكرهَا الْآخرَانِ وَقد طالعت كتب الثَّلَاثَة ولخصت مِنْهَا جملَة مختصرة مستوعبة لكل مَا ذَكرُوهُ من المهم وضممت إِلَيْهَا نفائس من متفرقات كَلَام الْأَصْحَاب وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
مُقَدّمَة فِي أهمية الْإِفْتَاء وَعظم خطره وفضله اعْلَم أَن الْإِفْتَاء عَظِيم الْخطر كَبِير الْموقع كثير الْفضل لِأَن الْمُفْتِي وَارِث الْأَنْبِيَاء صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِم وقائم بِفَرْض الْكِفَايَة لكنه معرض للخطأ
ফতোয়া, মুফতি এবং ফতোয়া অন্বেষণকারীর আদবসমূহ
জেনে রাখুন যে, এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে আমি এটিকে প্রথমে নিয়ে আসা সমীচীন মনে করেছি। আমাদের একদল ইমাম এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-হাভী' প্রণেতার উস্তাদ আবুল কাসেম আস-সাইমারী, অতঃপর হাফিয খতীব আবু বকর আল-বাগদাদী এবং অতঃপর শায়খ আবু আমর ইবনুল সালাহ। তাঁদের প্রত্যেকেই এমন কিছু বিরল ও মূল্যবান তথ্য উল্লেখ করেছেন যা অন্যরা করেননি। আমি এই তিনজনের কিতাবসমূহ গভীরভবে পাঠ করেছি এবং তা থেকে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ নির্যাস তৈরি করেছি, যা তাঁদের বর্ণিত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে শামিল করে। এর সাথে আমি আমাদের ফকীহগণের বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরও কিছু মূল্যবান আলোচনা যুক্ত করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।
ফতোয়া প্রদানের গুরুত্ব, এর মহান ঝুঁকি এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে ভূমিকা জেনে রাখুন যে, ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর ফযিলত অত্যন্ত বেশি। কেননা মুফতি হলেন নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) উত্তরাধিকারী এবং তিনি ফরজে কেফায়া সম্পাদনকারী; তবে তিনি ভুলের সম্মুখীন হতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلِهَذَا قَالُوا الْمُفْتِي موقع عَن الله تَعَالَى
وروينا عَن ابْن المُنكدر قَالَ الْعَالم بَين الله تَعَالَى وخلقه فَلْينْظر كَيفَ يدْخل بَينهم
وروينا عَن السّلف وفضلاء الْخلف من التَّوَقُّف عَن الْفتيا أَشْيَاء كَثِيرَة مَعْرُوفَة نذْكر مِنْهَا أحرفاً تبركاً
وروينا عَن عبد الرَّحْمَن ابْن أبي ليلى قَالَ أدركتُ عشْرين ومئة من الْأَنْصَار من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُسأل أحدهم عَن الْمَسْأَلَة فيردها هَذَا إِلَى هَذَا وَهَذَا إِلَى هَذَا حَتَّى ترجع إِلَى الأول
وَفِي رِوَايَة مَا مِنْهُم من يحدث بِحَدِيث إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ إِيَّاه وَلَا يستفتى عَن شَيْء إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ الْفتيا
وَعَن ابْن مَسْعُود وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهم مَنْ أفتى فِي كلِّ مَا يسْأَل فَهُوَ مَجْنُون
এ কারণেই উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, মুফতি হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাক্ষরকারী।
আমরা ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: আলেম হলেন মহান আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে অবস্থানকারী; সুতরাং তিনি যেন লক্ষ্য করেন যে কীভাবে তিনি তাদের মাঝে প্রবেশ করছেন।
সালাফে সালেহীন এবং পরবর্তী প্রজন্মের পুণ্যবান মনীষীদের পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও বিরত থাকার বহু প্রসিদ্ধ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, আমরা বরকত স্বরূপ তার মধ্য থেকে সামান্য কিছু উল্লেখ করছি।
আমরা আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে একশত বিশজন আনসারীকে পেয়েছি, যাদের কাউকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অন্যের দিকে পাঠিয়ে দিতেন এবং তিনি আবার অন্যের দিকে, এভাবে শেষ পর্যন্ত তা পুনরায় প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে আসত।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন কিন্তু মনে মনে আকাঙ্ক্ষা করতেন যে তাঁর কোনো ভাই যেন তাঁর পরিবর্তে তা বর্ণনা করে দেন, এবং কোনো বিষয়ে তাঁর কাছে ফতোয়া চাওয়া হলে তিনি চাইতেন যেন তাঁর কোনো ভাই তাঁর পরিবর্তে সেই ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বটি পালন করেন।
ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি তার কাছে জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে উন্মাদ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَعَن الشّعبِيّ وَالْحسن وَأبي حَصِين بِفَتْح الْحَاء التابعيين قَالُوا إِن أحدَكَم ليفتي فِي الْمَسْأَلَة وَلَو وَرَدَتْ على عُمَر بن الْخطاب رضي الله عنه لجمع لَهَا أهل بدر
وَعَن عَطاء بن السَّائِب التَّابِعِيّ أدركتُ أَقْوَامًا يسْأَل أحدهم عَن الشَّيْء فيتكلم وَهُوَ يرعد
وَعَن ابْن عَبَّاس وَمُحَمّد بن عجلَان إِذا أغفل الْعَالم لَا أَدْرِي أُصِيبت مقاتله
وَعَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَسَحْنُون أجسر النَّاس على الْفتيا أقلهم علما
وَعَن الشَّافِعِي وَقد سُئِلَ عَن مسألةٍ فَلم يجب فَقيل لَهُ فَقَالَ حَتَّى أَدْرِي أَن الْفضل فِي السُّكُوت أَو فِي الْجَواب
وَعَن الْأَثْرَم سمعتُ أَحْمد بن حَنْبَل يكثر أَن يَقُول لَا أَدْرِي وَذَلِكَ فِيمَا عرف الْأَقَاوِيل فِيهِ
ইমাম শাবি, হাসান এবং আবু হাসিন (হা বর্ণে জবরসহ)—এই তাবেঈগণ থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন: “তোমাদের কেউ এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করে, যা যদি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট উপস্থিত হতো, তবে তিনি এর সমাধানের জন্য বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একত্র করতেন।”
তাবেঈ আতা ইবনুস সাইব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি এমন কিছু লোকের সান্নিধ্য পেয়েছি যে, তাঁদের কাউকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কথা বলার সময় (আল্লাহর ভয়ে) প্রকম্পিত হতেন।”
ইবনে আব্বাস এবং মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণিত: “আলেম যখন ‘আমি জানি না’ বলা ছেড়ে দেন, তখন তিনি মারাত্মক বিপদে পতিত হন।”
সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এবং সাহনুন থেকে বর্ণিত: “ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী সে-ই, যার জ্ঞান সবচেয়ে কম।”
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত, তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। তখন তাঁকে এ সম্পর্কে বলা হলে তিনি বললেন: “যতক্ষণ না আমি বুঝতে পারি যে শ্রেষ্ঠত্ব কি মৌনতায় নাকি উত্তর প্রদানে (ততক্ষণ আমি উত্তর দেব না)।”
আল-আছরাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে প্রচুর পরিমাণে ‘আমি জানি না’ বলতে শুনেছি; আর এটি ছিল এমন সব বিষয়ে যেগুলোতে বিভিন্ন মতামত তাঁর জানা ছিল।”
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَعَن الْهَيْثَم بن جميل شَهِدْتُ مَالِكًا سُئِلَ عَن ثَمَان وَأَرْبَعين مَسْأَلَة فَقَالَ فِي ثِنْتَيْنِ وَثَلَاثِينَ مِنْهَا لَا أَدْرِي
وَعَن مَالك أَيْضا أَنه رُبمَا كَانَ يسْأَل عَن خمسين مَسْأَلَة فَلَا يُجيب فِي وَاحِدَة مِنْهَا وَكَانَ يَقُول من أجَاب فِي مَسْأَلَة فَيَنْبَغِي قبل الْجَواب أَن يعرض نَفسه على الْجنَّة وَالنَّار وَكَيف خلاصه ثمَّ يُجيب
وَسُئِلَ عَن مَسْأَلَة فَقَالَ لَا أَدْرِي فَقيل هِيَ مَسْأَلَة خَفِيفَة سهلة فَغَضب وَقَالَ لَيْسَ فِي الْعلم شَيْء خَفِيف
وَقَالَ الشَّافِعِي مَا رأيتُ أحدا جمع الله تَعَالَى فِيهِ من آلَة الْفتيا مَا جمع فِي ابْن عُيَيْنَة أسكت مِنْهُ على الْفتيا
وَقَالَ أَبُو حنيفَة لَوْلَا الفَرَقُ من الله تَعَالَى أَن يضيع الْعلم مَا أفتيتُ يكون لَهُم المهنأ وَعلي الْوزر
وأقوالهم فِي هَذَا كَثِيرَة مَعْرُوفَة
হাইসাম ইবনে জামিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে দেখেছি, তাঁকে আটচল্লিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার মধ্যে বত্রিশটির ক্ষেত্রেই তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জানি না’।
ইমাম মালিক থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, কখনো কখনো তাঁকে পঞ্চাশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো কিন্তু তিনি একটিরও উত্তর দিতেন না। তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি কোনো মাসআলার উত্তর দিতে চায়, উত্তর প্রদানের পূর্বে তার উচিত নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামের সামনে পেশ করা এবং চিন্তা করা যে কীভাবে তার মুক্তি মিলবে; অতঃপর উত্তর প্রদান করা।
তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘আমি জানি না’। তখন বলা হলো, এটি তো একটি সামান্য ও সহজ মাসআলা। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘ইলমের কোনো বিষয়ই সামান্য বা তুচ্ছ নয়’।
ইমাম শাফিয়ী বলেন: ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা ও উপকরণ আল্লাহ তাআলা ইবনে উয়ায়নাহর মধ্যে যতটা একত্রিত করেছিলেন, আমি আর কাউকে তেমন দেখিনি; অথচ ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক মৌন আর কেউ ছিল না।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যদি আল্লাহ তাআলার ভয় না থাকতো, তবে আমি ফতোয়া দিতাম না; কারণ এতে অন্যদের জন্য রয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, আর আমার ওপর বর্তাবে এর দায়ভার।
এই বিষয়ে তাঁদের উক্তি অত্যন্ত বহুবিধ ও সুবিদিত।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ الصَّيْمَرِيّ والخطيب وَقل من حرص على الْفتيا وسابق إِلَيْهَا وثابر عَلَيْهَا إِلَّا قلَّ توفيقُه واضطرب فِي أمره وَإِن كَانَ كَارِهًا لذَلِك غير موثر لَهُ مَا وجد عَنهُ مندوحة وأحال الْأَمر فِيهِ على غَيره كَانَت المعونة لَهُ من الله أَكثر وَالصَّلَاح فِي جَوَابه أغلب
واستَدَلَاّ بقوله صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الصَّحِيح لَا تسْأَل الْإِمَارَة فَإنَّك إِن أعطيتهَا عَن مَسْأَلَة أَو كلت إِلَيْهَا وَإِن أعطتها عَن غير مَسْأَلَة أُعِنتَ عَلَيْهَا
فصل فِي معرفَة من يصلح للْفَتْوَى قَالَ الْخَطِيب يَنْبَغِي للْإِمَام أَن يتصفح أَحْوَال الْمُفْتِينَ فمَنْ صَلحَ للفتيا أقرَّه وَمن لَا يصلح مَنعه وَنَهَاهُ أَن يعود وتواعده بالعقوبة إِن عَاد وَطَرِيق
আস-সাইমারী ও আল-খতিব বলেন, খুব কমই এমন হয়েছে যে, কেউ ফতোয়া প্রদানের প্রতি অতিমাত্রায় লালায়িত হয়েছে, এর দিকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ধাবিত হয়েছে এবং এতে লিপ্ত থাকার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, অথচ তার তাওফিক বা ঐশী সহায়তা হ্রাস পায়নি এবং তার বিষয়াদি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েনি। পক্ষান্তরে, যদি সে এর প্রতি অনাগ্রহী হয়, যতক্ষণ বিকল্প পথ খোলা থাকে ততক্ষণ একে প্রাধান্য না দেয় এবং বিষয়টি অন্যের ওপর সোপর্দ করে, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সাহায্য হবে অধিক এবং তার উত্তরের সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে প্রবল।
তাঁরা উভয়েই সহীহ হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তুমি নেতৃত্ব প্রার্থনা করো না; কেননা যদি তোমাকে চাওয়ার কারণে তা প্রদান করা হয়, তবে তোমাকে তার ওপরই সোপর্দ করা হবে (অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা হবে), আর যদি না চাইতেই তোমাকে তা দেওয়া হয়, তবে সে বিষয়ে তোমাকে সাহায্য করা হবে।"
ফতোয়া প্রদানের যোগ্য ব্যক্তি নিরূপণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ আল-খতিব বলেন, ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের উচিত মুফতিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। সুতরাং যাদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা পাওয়া যাবে তিনি তাদের বহাল রাখবেন, আর যে অযোগ্য তাকে তিনি বিরত রাখবেন এবং পুনরায় ফতোয়া প্রদান করতে নিষেধ করবেন। সে যদি পুনরায় তা করে তবে তাকে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেবেন। আর এর পদ্ধতি হলো...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإِمَام إِلَى معرفَة من يصلح الْفتيا أَن يسْأَل عُلَمَاء وقته ويعتمد أَخْبَار الموثوق بهم
ثمَّ روى بِإِسْنَادِهِ عَن مَالك رحمه الله قَالَ مَا أفتيتُ حَتَّى شهد لي سَبْعُونَ أَنِّي أهل لذَلِك
وَفِي رِوَايَة مَا أَفْتيت حَتَّى سألتُ من هُوَ أعلم مني هَل يراني موضعا لذَلِك
قَالَ مَالك وَلَا يَنْبَغِي لرجل أَن يرى نَفسه أَهلا لشَيْء حَتَّى يسْأَل من هُوَ أعلم مِنْهُ
فصل فِي وجوب ورع الْمُفْتِي وديانته قَالُوا وَيَنْبَغِي أَن يكون الْمُفْتِي ظَاهر الْوَرع مَشْهُورا بالديانة الظَّاهِرَة والصيانة الباهرة
وَكَانَ مَالك رحمه الله يعْمل بِمَا لَا يلْزمه النَّاس
ফতোয়া প্রদানের যোগ্য ব্যক্তি নিরূপণের ক্ষেত্রে ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) কর্তব্য হলো তাঁর সমসাময়িক আলেমদের জিজ্ঞাসা করা এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সংবাদের ওপর নির্ভর করা।
অতঃপর তিনি তাঁর সনদে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া প্রদান করিনি, যতক্ষণ না সত্তর জন আলেম আমার যোগ্যতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন।"
অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া প্রদান করিনি, যতক্ষণ না আমি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করেছি যে, তাঁরা আমাকে এই পদের যোগ্য মনে করেন কি না।"
ইমাম মালিক বলেন: "কোনো ব্যক্তির জন্য নিজেকে কোনো বিষয়ের যোগ্য মনে করা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানসম্পন্ন কাউকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে।"
মুফতির পরহেজগারি ও দ্বীনদারির আবশ্যকতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ উলামায়ে কেরাম বলেন: মুফতিকে প্রকাশ্য তাকওয়া ও পরহেজগারির অধিকারী হতে হবে এবং তিনি যেন তাঁর সুস্পষ্ট দ্বীনদারি ও অত্যুজ্জ্বল চারিত্রিক নির্মলতার জন্য সুপরিচিত হন।
আর ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের ক্ষেত্রে এমন সব আমল বা সতর্কতা অবলম্বন করতেন যা তিনি সাধারণ মানুষের ওপর আবশ্যক করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَيَقُول لَا يكون عَالما حَتَّى يعْمل فِي خاصَّةِ نَفسه بِمَا لَا يلْزمه النَّاس مِمَّا لَو تَركه لم يَأْثَم وَكَانَ يَحْكِي نَحوه عَن شَيْخه ربيعَة
فصل فِي شُرُوط الْمُفْتِي شَرط الْمُفْتِي كَونه مُكَلّفا مُسلما ثِقَة مَأْمُونا متنزِّهاً عَن أَسبَاب الْفسق وخوارم الْمُرُوءَة فقيهَ النَّفس سليمَ الذِّهْن رصينَ الفِكر صَحِيح التَّصَرُّف والاستنباط متيقظاً سواءٌ فِيهِ الحرُّ وَالْعَبْد وَالْمَرْأَة وَالْأَعْمَى والأخرس إِذا كتب أَو فهمت إِشَارَته
قَالَ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح وَيَنْبَغِي أَن يكون كالراوي فِي أَنه لَا يُؤثر فِيهِ قرَابَة وعداوة وجرّ نفع وَدفع ضرّ لِأَن الْمُفْتِي فِي حكم مخبرٌ عَن الشَّرْع بِمَا لَا اخْتِصَاص لَهُ بشخص فَكَانَ كالراوي لَا كالشاهد
তিনি বলতেন, একজন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে নিজের ক্ষেত্রে এমন আমল করে যা সে অন্য মানুষের ওপর আবশ্যক করে না; এমন সব কাজ যা বর্জন করলে কোনো গুনাহ হয় না। তিনি তাঁর উস্তাদ রাবিআহ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করতেন।
মুফতির শর্তাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ মুফতির শর্ত হলো তাকে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য), মুসলিম, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত, পাপাচারের কারণসমূহ এবং ব্যক্তিত্বহানিকর বিষয়াবলী থেকে মুক্ত হতে হবে। এছাড়া তাকে স্বভাবগতভাবে ফকীহ, সুস্থ মেধা ও গভীর চিন্তাশীল হতে হবে এবং শরয়ী প্রয়োগ ও উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) পদ্ধতিতে সঠিক এবং সজাগ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাস, নারী, অন্ধ এবং বাকপ্রতিবন্ধী—সবাই সমান, যদি বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি লিখতে পারেন অথবা তাঁর ইশারা বোঝা যায়।
শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন, মুফতির বিষয়টি বর্ণনাকারীর (রাবী) মতো হওয়া উচিত; অর্থাৎ আত্মীয়তা, শত্রুতা, কোনো স্বার্থ হাসিল বা ক্ষতি রোধ করার প্রবণতা যেন তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার না করে। কারণ মুফতি মূলত শরীয়তের বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে বিশিষ্ট নয়। সুতরাং তিনি একজন বর্ণনাকারীর মতো, সাক্ষীর মতো নন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفتواه لَا يرتبط بهَا إِلْزَام بِخِلَاف حكم القَاضِي
قَالَ وَذكر صَاحب الْحَاوِي أَن الْمُفْتِي إِذا نابذ فِي فتواه شخصا معينا صَار خصما حكما معانداً فتُردُّ فتواه على من عَادَاهُ كَمَا ترد شَهَادَته عَلَيْهِ
وَاتَّفَقُوا على أَن الْفَاسِق لَا تصح فتواه وَنقل الْخَطِيب فِيهِ إِجْمَاع الْمُسلمين
وَيجب عَلَيْهِ إِذا وَقعت لَهُ وَاقعَة أَن يعْمل بِاجْتِهَاد نَفسه وَأما المستور وَهُوَ الَّذِي ظَاهره الْعَدَالَة وَلم تختبر عَدَالَته بَاطِنا فَفِيهِ وَجْهَان
أصَحهمَا جَوَاز فتواه لأنَّ الْعَدَالَة الْبَاطِنَة يعسر مَعْرفَتهَا على غير الْقُضَاة
وَالثَّانِي لَا يجوز كَالشَّهَادَةِ وَالْخلاف كالخلاف فِي صِحَة النِّكَاح بِحُضُور المستورين
তার ফতোয়া পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যা বিচারকের রায়ের বিপরীত।
তিনি বলেন, ‘আল-হাভি’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, মুফতি যদি তার ফতোয়ার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে বিরোধে লিপ্ত হন, তবে তিনি কার্যত একজন একগুঁয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য হন। ফলে যার সাথে তার শত্রুতা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে তার ফতোয়াটি প্রত্যাখ্যাত হবে, ঠিক যেমন তার বিরুদ্ধে তার সাক্ষ্যও অগ্রাহ্য হয়।
ফাসিক বা পাপাচারী ব্যক্তির ফতোয়া যে শুদ্ধ নয়, সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন। খতিব এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহর ইজমা বা সর্বসম্মত ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন।
মুফতির নিজের ক্ষেত্রে কোনো ঘটনা বা সমস্যার উদ্ভব হলে তার জন্য নিজ ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক। তবে ‘মাস্টুর’ বা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি (যার বাহ্যিক অবস্থা ন্যায়নিষ্ঠ মনে হলেও অভ্যন্তরীণ বিশ্বস্ততা যাচাই করা হয়নি) তার ফতোয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
তন্মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত হলো তার ফতোয়া বৈধ হওয়া। কারণ বিচারক ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে মানুষের অভ্যন্তরীণ ন্যায়পরায়ণতা নিরূপণ করা দুঃসাধ্য।
দ্বিতীয় অভিমত অনুযায়ী এটি বৈধ নয়, যেমনটি সাক্ষ্যপ্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। আর এ সংক্রান্ত মতপার্থক্যটি ঠিক তেমনই, যেমনটি অজ্ঞাত পরিচয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পাদিত বিবাহের শুদ্ধতার ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২১)
قَالَ الصَّيْمَرِيّ وَتَصِح فَتَاوَى أهل الْأَهْوَاء والخوارج وَمن لَا نكفره ببدعته وَلَا نفسقه
وَنقل الْخَطِيب هَذَا ثمَّ قَالَ وَأما الشراة والرافضة الَّذين يسبون السّلف الصَّالح ففتاويهم مَرْدُودَة وأقوالهم سَاقِطَة
وَالْقَاضِي الْمَاوَرْدِيّ كَغَيْرِهِ فِي جَوَاز الْفتيا بِلَا كَرَاهَة هَذَا هُوَ الصَّحِيح الْمَشْهُور من مَذْهَبنَا
قَالَ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح وَرَأَيْت فِي بعض تعاليق الشَّيْخ أبي حَامِد الأسفراييني أنَّ لَهُ الْفَتْوَى فِي الْعِبَادَات وَمَا لَا يتَعَلَّق بِالْقضَاءِ وَفِي الْقَضَاء وَجْهَان لِأَصْحَابِنَا
أَحدهمَا الْجَوَاز لِأَنَّهُ أهل
وَالثَّانِي لَا لِأَنَّهُ مَوضِع تُهْمَة
وَقَالَ ابْن الْمُنْذر تكره للقضاة الْفَتْوَى فِي
আস-সাইমারী বলেন: প্রবৃত্তি পূজারী (বিদআতী), খাওয়ারিজ এবং যাদেরকে তাদের বিদআতের কারণে আমরা কাফির বা ফাসিক সাব্যস্ত করি না, তাদের ফতোয়া প্রদান সঠিক ও বৈধ।
আল-খাতীব এটি বর্ণনা করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন: তবে ‘শুরাহ্’ এবং রাফিযী সম্প্রদায়—যারা সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের গালিগালাজ করে—তাদের ফতোয়া প্রত্যাখ্যাত এবং তাদের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য।
আর আল-কাদী আল-মাওয়ারদী অন্যান্যদের ন্যায় কোনো রূপ অপছন্দনীয়তা ছাড়াই ফতোয়া প্রদানের বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন; আমাদের মাযহাবের বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ অভিমত এটিই।
শায়খ আবু আমর ইবনে আস-সালাহ বলেন: আমি শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়ীনীর কোনো এক টীকায় দেখেছি যে, ইবাদত সংক্রান্ত বিষয় এবং যা বিচারিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তাতে তিনি ফতোয়া দিতে পারেন। আর বিচারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মাযহাবের আলেমদের মাঝে দুটি অভিমত রয়েছে।
তার একটি হলো—বৈধতা, কারণ তিনি এর উপযুক্ত।
দ্বিতীয়টি হলো—না (বৈধ নয়), কারণ এটি সন্দেহের উদ্রেককারী।
ইবনুল মুনযির বলেন: বিচারকদের জন্য ফতোয়া প্রদান অপছন্দনীয়...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مسَائِل الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة
وَقَالَ شُرَيْح أَنا أَقْْضِي وَلَا أُفْتِي
فصل فِي أَقسَام الْمُفْتِينَ قَالَ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح الْمفْتُون قِسْمَانِ مُسْتَقل وَغَيره
فالمستقل شرطُه مَعَ مَا ذكرنَا أَن يكون قيمًا بِمَعْرِِفَة أَدِلَّة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة من الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس وَمَا الْتحق بهَا على التَّفْصِيل وَقد فُصِّلَت فِي كتب الْفِقْه فتيسرت وَللَّه الْحَمد وَأَن يكون عَالما بِمَا يشْتَرط فِي الْأَدِلَّة ووجوه دلالتها وبكيفية
শরয়ী বিধানের মাসায়েলসমূহ
এবং শুরায়হ বলেন, "আমি বিচারকার্য পরিচালনা করি, ফতোয়া প্রদান করি না।"
মুফতিগণের প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ আবু আমর ইবনেস সালাহ বলেন, মুফতিগণ দুই প্রকার: স্বতন্ত্র এবং অ-স্বতন্ত্র।
স্বতন্ত্র মুফতির শর্ত হলো—আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পাশাপাশি—কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উৎস হতে শরয়ী বিধানের দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে জানার ক্ষেত্রে পারদর্শী হওয়া। এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, ফলে তা সহজসাধ্য হয়ে গেছে, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এছাড়া দলিলের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি, সেগুলোর নির্দেশনার ধরন এবং পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
اقتباس الْأَحْكَام مِنْهَا وَهَذَا يُسْتَفَاد من أصُول الْفِقْه عَارِفًا من عُلُوم الْقُرْآن والْحَدِيث والناسخ والمنسوخ والنحو واللغة والتصريف وَاخْتِلَاف الْعلمَاء واتفاقهم بِالْقدرِ الَّذِي يتَمَكَّن مَعَه من الْوَفَاء بِشُرُوط الْأَدِلَّة والاقتباس مِنْهَا ذَا دربة وارتياض فِي اسْتِعْمَال ذَلِك عَالما بالفقه ضابطاً لأمهات مسَائِله وتفاريعه فَمن جمع هَذِه الْأَوْصَاف فَهُوَ الْمُفْتِي الْمُطلق المستقل الَّذِي يتَأَذَّى بِهِ فرض الْكِفَايَة وَهُوَ الْمُجْتَهد الْمُطلق المستقل لِأَنَّهُ يسْتَقلّ بالأدلة بِغَيْر تَقْلِيد وتقيد بِمذهب أحد
قَالَ أَبُو عَمْرو وَمَا شرطناه من حفظه لمسائل الْفِقْه لم يشْتَرط فِي كثير من الْكتب الْمَشْهُورَة لكَونه لَيْسَ شرطا لمنصب الِاجْتِهَاد لِأَن الْفِقْه ثَمَرَته فَيتَأَخَّر عَنهُ وَشرط الشَّيْء لَا يتَأَخَّر عَنهُ وشَرَطَه الْأُسْتَاذ أَبُو إِسْحَاق الإِسْفِرَايِينِيّ وَصَاحبه أَبُو مَنْصُور الْبَغْدَادِيّ وَغَيرهمَا واشتراطه فِي الْمُفْتِي الَّذِي يتَأَدَّى بِهِ فرض الْكِفَايَة هُوَ الصَّحِيح وَإِن لم يكن كَذَلِك فِي الْمُجْتَهد المستقل
বিধানাবলি আহরণ করা; আর এটি উসূলে ফিকহ থেকে আহরিত হয়। এর পাশাপাশি তিনি কুরআন ও হাদীস শাস্ত্র, নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), ব্যাকরণ, ভাষা ও শব্দতত্ত্ব এবং আলেমগণের মতভেদ ও ঐকমত্য সম্পর্কে এমন স্তরের জ্ঞানের অধিকারী হবেন, যার মাধ্যমে তিনি দলীলসমূহের শর্তাবলি পূরণ করতে এবং তা থেকে বিধান উদ্ঘাটনে সক্ষম হন। তিনি এই বিষয়গুলোর প্রয়োগে সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ হবেন এবং ফিকহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য রাখার পাশাপাশি এর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখাসমূহ আত্মস্থকারী হবেন। যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে, তিনিই হলেন ‘মুফতিয়ে মুতলাক’ বা ‘স্বাধীন মুফতি’, যার দ্বারা ফরজে কিফায়া বাস্তবায়িত হয়। তিনিই হলেন ‘মুজতাহিদে মুতলাক’ বা ‘স্বাধীন মুজতাহিদ’; কারণ তিনি কোনো মাযহাবের অনুসরণ বা সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকেই স্বতন্ত্রভাবে দলীলের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করতে সক্ষম।
আবু আমর বলেন, ফিকহের মাসআলাসমূহ হিফজ বা মুখস্থ রাখার যে শর্ত আমরাারোপ করেছি, তা অনেক প্রসিদ্ধ কিতাবে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। কেননা এটি ইজতিহাদের পদের জন্য শর্ত নয়; কারণ ফিকহ হলো ইজতিহাদের ফলস্বরূপ, তাই এটি ইজতিহাদের পরে আসে, আর কোনো বিষয়ের শর্ত তার পরে আসতে পারে না। তবে উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী, তাঁর সহকর্মী আবু মনসুর আল-বাগদাদী এবং আরও অনেকে এটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যে মুফতির মাধ্যমে ফরজে কিফায়া আদায় হয়, তার ক্ষেত্রে এই শর্তারোপ করাই সঠিক, যদিও স্বাধীন মুজতাহিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثمَّ لَا يشْتَرط أَن تكون جَمِيع الْأَحْكَام على ذهنه بل يَكْفِيهِ كَونه حَافِظًا الْمُعظم مُتَمَكنًا من إِدْرَاك الْبَاقِي على قرب
وَهل يشْتَرط أَن يعرف من الْحساب مَا يصحح بِهِ الْمسَائِل الحسابية الْفِقْهِيَّة
حكى أَبُو إِسْحَاق وَأَبُو مَنْصُور فِيهِ خلافًا لِأَصْحَابِنَا وَالأَصَح اشْتِرَاطه
ثمَّ إِنَّمَا يشْتَرط اجْتِمَاع الْعُلُوم الْمَذْكُورَة فِي مُفتٍ مُطلق فِي جَمِيع أَبْوَاب الشَّرْع فَأَما مُفتٍ فِي بَاب خَاص كالمناسك والفرائض فيكفيه معرفَة ذَلِك الْبَاب كَذَا قَطَعَ بِهِ الْغَزالِيّ وَصَاحبه ابْن بَرهان بِفَتْح الْبَاء وَغَيرهمَا وَمِنْهُم من مَنعه مُطلقًا وَأَجَازَهُ ابْن الصّباغ فِي الْفَرَائِض خَاصَّة والأصحُّ جَوَازه مُطلقًا
الْقسم الثَّانِي الْمُفْتِي الَّذِي لَيْسَ بمستقل وَمن
তদুপরি, সমস্ত বিধান তাঁর স্মৃতিতে উপস্থিত থাকা শর্ত নয়; বরং তাঁর জন্য অধিকাংশ বিষয় মুখস্থ রাখাই যথেষ্ট, যাতে তিনি অবশিষ্টগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
এবং গাণিতিক ফিকহি মাসআলাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় গণিতশাস্ত্রের জ্ঞান থাকা কি শর্ত?
আবু ইসহাক ও আবু মনসুর এ বিষয়ে আমাদের ফকিহগণের মধ্যে মতপার্থক্য বর্ণনা করেছেন, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত হলো এটি শর্ত।
অতঃপর, উল্লিখিত জ্ঞানসমূহের সমাবেশ কেবল শরিয়তের সমস্ত অধ্যায়ে ফতোয়া প্রদানে সক্ষম ‘মুফতিয়ে মুতলাক’ বা নিরঙ্কুশ মুফতির ক্ষেত্রেই শর্ত। তবে হজ্জের নিয়মাবলি বা উত্তরাধিকার আইনের মতো কোনো বিশেষ অধ্যায়ের মুফতির জন্য সেই নির্দিষ্ট অধ্যায় সম্পর্কে অবগত থাকাই যথেষ্ট। ইমাম গাযালি, তাঁর অনুসারী ইবনে বুরহান এবং আরও অনেকে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে সর্বতোভাবে নিষেধ করেছেন, আবার ইবনে সাব্বাগ কেবল উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন; তবে অধিকতর সঠিক মত হলো এটি সর্বতোভাবে বৈধ।
দ্বিতীয় প্রকার: সেই মুফতি যিনি স্বাধীন নন এবং যিনি...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
دهر طَوِيل عُدِم الْمُفْتِي المستقل وصَارت الْفَتْوَى إِلَى المنتسبين إِلَى أَئِمَّة الْمذَاهب المتبوعة وللمفتي المنتسب أَرْبَعَة أَحْوَال
أَحدهَا أَن لَا يكون مُقَلدًا لإمامه لَا فِي الْمَذْهَب وَلَا فِي دَلِيله لاتصافه بِصفة المستقل وَإِنَّمَا ينْسب إِلَيْهِ لسلوكه طَرِيقه فِي الِاجْتِهَاد
وَادّعى الْأُسْتَاذ أَبُو إِسْحَاق الأسفراييني هَذِه الصّفة لِأَصْحَابِنَا فحَكَى عَن أَصْحَاب مَالك رحمه الله وَأحمد وَدَاوُد وَأكْثر الْحَنَفِيَّة أَنهم صَارُوا إِلَى مَذَاهِب أئمتهم تقليداً لَهُم ثمَّ قَالَ وَالصَّحِيح الَّذِي ذهب إِلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ مَا ذهب إِلَيْهِ أَصْحَابنَا وَهُوَ أَنهم صَارُوا إِلَى مَذْهَب الشَّافِعِي لَا تقليداً لَهُ بل لما وجدوا طرقه فِي الِاجْتِهَاد والفتاوى أَسد الطّرق وَلم يكن لَهُم بُد من الِاجْتِهَاد سلكوا طَرِيقه فطلبوا معرفَة الْأَحْكَام بطرِيق الشَّافِعِي
সুদীর্ঘ কাল যাবৎ স্বতন্ত্র মুফতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়েছে এবং ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অনুসৃত মাজহাবসমূহের ইমামগণের সাথে সংশ্লিষ্ট মুফতিদের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছে। আর এই সংশ্লিষ্ট বা অনুসারী মুফতির অবস্থা চারটি।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো: তিনি মাজহাব বা দলিল—কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর ইমামের তাকলিদকারী বা অন্ধ অনুসারী নন; কারণ তিনি নিজেই স্বতন্ত্র মুজতাহিদের গুণাবলীতে গুণান্বিত। তাঁকে তাঁর ইমামের সাথে কেবল এই কারণে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যে, তিনি ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সেই ইমামের কর্মপন্থা ও পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি আমাদের শাফেয়ি আলেমদের ব্যাপারে এই বৈশিষ্ট্যের দাবি করেছেন। তিনি ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), আহমদ, দাউদ এবং অধিকাংশ হানাফি আলেমদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা তাঁদের ইমামগণের মাজহাব গ্রহণ করেছেন তাঁদের তাকলিদ করার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি বলেন: মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমগণ যে সঠিক মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো আমাদের আলেমদের অভিমত। আর তা হলো—তাঁরা ইমাম শাফেয়ির মাজহাবের দিকে ধাবিত হয়েছেন তাঁর তাকলিদ করার জন্য নয়; বরং যখন তাঁরা দেখতে পেলেন যে ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতিই সর্বাপেক্ষা সঠিক ও সুদৃঢ়, এবং তাঁদের জন্য ইজতিহাদ করা ব্যতিরেকে কোনো গত্যন্তর ছিল না, তখন তাঁরা তাঁরই পথ অবলম্বন করেছেন এবং শাফেয়ি পদ্ধতির মাধ্যমেই শরিয়তের বিধানাবলি অন্বেষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَذكر أَبُو عَليّ السنجي بِكَسْر السِّين الْمُهْملَة نَحْو هَذَا فَقَالَ اتَّبعنَا الشَّافِعِي دون غَيره لأَنا وجدنَا قَوْله أرجح الْأَقْوَال وأعدلها لَا أَنا قلدناه
قلتُ هَذَا الَّذِي ذكرَاهُ مُوَافق لما أَمرهم بِهِ الشَّافِعِي ثمَّ الْمُزنِيّ فِي أول مُخْتَصره وَغَيره بقوله مَعَ إعلامية نَهْيه عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره
قَالَ أَبُو عَمرو دَعْوَى انْتِفَاء التَّقْلِيد عَنْهُم مُطلقًا لَا يَسْتَقِيم وَلَا يلائم الْمَعْلُوم من حَالهم أَو حَال أَكْثَرهم وحَكَى بعض أَصْحَاب الْأُصُول مِنَّا أَنه لم يُوجد بعد عصر الشَّافِعِي مجتهدٌ مُسْتَقل
ثمَّ فَتْوَى الْمُفْتِي فِي هَذِه الْحَالة كفتوى المستقل فِي الْعَمَل بهَا والاعتداد بهَا فِي الْإِجْمَاع وَالْخلاف
الْحَالة الثَّانِيَة أَن يكون مُجْتَهدا مقيَّداً فِي مَذْهَب إِمَامه مُسْتقِلّا بتقرير أُصُوله بِالدَّلِيلِ غير أَنه لَا يتَجَاوَز فِي أدلته أصُول إِمَامه وقواعده
এবং আবু আলী আস-সিনজী (সীন বর্ণে কাসরা সহকারে) অনুরূপ বর্ণনা করে বলেছেন: "আমরা অন্য কাউকে ছেড়ে শাফিঈর অনুসরণ করেছি, কেননা আমরা তাঁর মতকে সকল মতের মধ্যে অধিক নির্ভরযোগ্য ও সুষম হিসেবে পেয়েছি; আমরা তাঁর তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) করিনি।"
আমি বলছি: তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা ইমাম শাফিঈ এবং পরবর্তীতে মুযানী তাঁর 'মুখতাসার'-এর শুরুতে ও অন্যান্যরা যা নির্দেশ দিয়েছেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ; যেখানে তিনি তাঁর নিজের এবং অন্য কারো তাকলীদ করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন।
আবু আমর বলেছেন: তাঁদের থেকে তাকলীদকে ঢালাওভাবে অস্বীকার করার দাবিটি সঠিক নয় এবং তা তাঁদের বা তাঁদের অধিকাংশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যা জানা যায় তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমাদের উসূলে ফিকহ বিশেষজ্ঞগণের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম শাফিঈর যুগের পরে আর কোনো স্বতন্ত্র মুজতাহিদ পাওয়া যায়নি।
অতঃপর এই অবস্থায় মুফতির ফতোয়া, তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এবং ইজমা ও ইখতিলাফের ক্ষেত্রে গণ্য হওয়ার দিক থেকে স্বতন্ত্র মুজতাহিদের ফতোয়ার মতোই।
দ্বিতীয় অবস্থা হলো: তিনি তাঁর ইমামের মাযহাবের মধ্যে একজন সীমাবদ্ধ মুজতাহিদ হবেন, যিনি দলিলের ভিত্তিতে মাযহাবের মূলনীতিসমূহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র; তবে তিনি তাঁর দলিলাদির ক্ষেত্রে ইমামের মূলনীতি ও নিয়মাবলি অতিক্রম করেন না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَشَرطه كَونه عَالما بالفقه وأصوله وأدلة الْأَحْكَام تَفْصِيلًا بَصيرًا بمسالك الأقيسة والمعاني تَامّ الارتياض فِي التَّخْرِيج والاستنباط قيمًا بإلحاق مَا لَيْسَ مَنْصُوصا عَلَيْهِ لإمامه بأصوله وَلَا يعرى عَن شوب تَقْلِيد لَهُ لإخلاله بِبَعْض أدوات المستقل بِأَن يُخلَّ بِالْحَدِيثِ أَو الْعَرَبيَّة وَكَثِيرًا مَا أخل بهما المقيَّد ثمَّ يتَّخذ نُصُوص إِمَامه أصولاً يستنبط مِنْهَا كَفعل المستقل بنصوص الشَّرْع وَرُبمَا اكْتفى فِي الحكم بِدَلِيل إِمَامه وَلَا يبْحَث عَن معَارض كَفعل المستقل فِي النُّصُوص وَهَذِه صفة أَصْحَابنَا أَصْحَاب الْوُجُوه وَعَلَيْهَا كَانَ أَئِمَّة أَصْحَابنَا أَو أَكْثَرهم وَالْعَامِل بفتوى هَذَا مقلد لإمامه لَا لَهُ
ثمَّ ظَاهر كَلَام الْأَصْحَاب أنَّ من هَذَا حَاله لَا يتأدَّى بِهِ فرض الْكِفَايَة
قَالَ أَبُو عَمْرو وَيظْهر تأدي الْفَرْض بِهِ فِي الْفَتْوَى وَإِن لم يتأد فِي إحْيَاء الْعُلُوم الَّتِي مِنْهَا استمداد
এবং তাঁর শর্ত হলো তিনি ফিকহ, এর মূলনীতি ও বিধানের বিস্তারিত প্রমাণাদি সম্পর্কে সুবিজ্ঞ হবেন; কিয়াসের পদ্ধতিসমূহ ও বিষয়ের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সম্পর্কে প্রখর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী হবেন; মাসআলা উদ্ঘাটন (তাখরিজ) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে পূর্ণ পারদর্শী হবেন; এবং ইমামের মূলনীতির আলোকে এমন সব বিষয়ের সমাধান প্রদানে সক্ষম হবেন যেগুলোর ব্যাপারে ইমামের সরাসরি কোনো বক্তব্য নেই। তবে একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদের প্রয়োজনীয় কিছু উপাদানের ঘাটতি থাকার কারণে তিনি তাঁর ইমামের অনুকরণের সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত নন; যেমন হাদিস শাস্ত্র অথবা আরবি ভাষাজ্ঞানে তাঁর কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। আর সীমাবদ্ধ মুজতাহিদের ক্ষেত্রে প্রায়শই এই দুটি বিষয়ে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অতঃপর তিনি তাঁর ইমামের বক্তব্যসমূহকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তা থেকে মাসআলা আহরণ করেন, ঠিক যেমন একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ শরয়ি মূলপাঠ (নস) থেকে আহরণ করে থাকেন। অনেক সময় তিনি কোনো বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর ইমামের প্রদত্ত দলিলের ওপরই নির্ভর করেন এবং এর বিপরীতে কোনো দলিল আছে কি না তা অনুসন্ধান করেন না, যেমনটি একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ শরয়ি মূলপাঠের ক্ষেত্রে করে থাকেন। এটিই আমাদের ‘আসহাবুল উজুহ’ বা প্রথিতযশা ফকিহগণের বৈশিষ্ট্য এবং আমাদের অধিকাংশ ইমাম এই স্তরেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী আমলকারী মূলত তাঁর ইমামেরই অনুসারী, তাঁর নয়।
অতঃপর আমাদের ফকিহগণের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম এই যে, যাঁর অবস্থা এরূপ তাঁর দ্বারা ফরজে কিফায়া আদায় হবে না।
আবু আমর বলেন, ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা ফরজে কিফায়া আদায় হওয়া স্পষ্ট হয়, যদিও জ্ঞানসমূহকে পুনর্জীবিত করার ক্ষেত্রে তা হবে না যেখান থেকে সাহায্য আহরণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْفَتْوَى لأنَّه قَامَ مقَام إِمَامه المستقل تَفْرِيعا على الصَّحِيح وَهُوَ جَوَاز تَقْلِيد الْمَيِّت
ثمَّ قد يسْتَقلّ الْمُقَيد فِي مَسْأَلَة أَو بَاب خَاص كَمَا تقدم
وَله أَن يُفْتِي فِيمَا لَا نصَّ فِيهِ لإمامه بِمَا يُخرجهُ على أُصُوله هَذَا هُوَ الصَّحِيح الَّذِي عَلَيْهِ الْعَمَل وَإِلَيْهِ مفزع الْمُفْتِينَ من مُدَدٍ طَوِيلَة ثمَّ إِذا أفتى بتخريجه فالمستفتي مقلد لإمامه لَا لَهُ هَكَذَا قطع بِهِ إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي كِتَابه الغياثي وَمَا أَكثر فَوَائده
قَالَ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو وَيَنْبَغِي أَن يخرج هَذَا على خلاف حَكَاهُ الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق الشِّيرَازِيّ وَغَيره أَن مَا يُخرجهُ أَصْحَابنَا هَل تجوز نسبته إِلَى الشَّافِعِي
وَالأَصَح أَنه لَا ينْسب إِلَيْهِ
ثمَّ تَارَة يخرِّج من نَص معِين لإمامه وَتارَة لَا يجده فيخرّج على أُصُوله بِأَن يجد دَلِيلا على شَرط
ফতোয়া প্রদান বৈধ, কারণ তিনি তাঁর স্বাধীন ইমামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এটি সহীহ মতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত, আর তা হলো মৃত ব্যক্তির তাকলীদ করা বৈধ।
অতঃপর পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট মাসআলা বা বিশেষ অধ্যায়ে এই অনুসারী মুফতি স্বাধীন ইজতিহাদ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।
আর যে বিষয়ে তাঁর ইমামের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই, সে বিষয়ে তিনি ইমামের মূলনীতির আলোকে সমাধান (তাখরীজ) করে ফতোয়া দিতে পারেন। এটিই সহীহ অভিমত যার ওপর আমল চলে আসছে এবং দীর্ঘকাল ধরে মুফতিগণ এ বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করছেন। অতঃপর তিনি যখন নিজের উদ্ভাবিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফতোয়া দেন, তখন ফতোয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি মূলত ইমামেরই অনুসারী (মুকাল্লিদ) হিসেবে গণ্য হন, মুফতির নয়। ইমামুল হারামাইন তাঁর ‘আল-গিয়াসি’ গ্রন্থে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন; এই গ্রন্থটি কতই না উপকারী!
শায়খ আবু আমর বলেন, শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজি ও অন্যান্যদের বর্ণিত মতপার্থক্য অনুযায়ী বিষয়টি ব্যাখ্যা করা উচিত। তা হলো: আমাদের মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ যা উদ্ভাবন (তাখরীজ) করেন, তা ইমাম শাফেয়ীর দিকে সম্বন্ধ করা কি বৈধ?
অধিকতর সঠিক মত হলো, তা তাঁর (ইমামের) দিকে সম্বন্ধ করা যাবে না।
অতঃপর কখনো তিনি তাঁর ইমামের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সমাধান বের করেন, আবার কখনো এমন কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য খুঁজে না পেয়ে ইমামের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী দলিল লাভের মাধ্যমে তাঁর মূলনীতির আলোকে সমাধান বের করেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مَا يحْتَج بِهِ إِمَامه فيفتي بِمُوجبِه
فَإِن نصَّ إِمَامه على شَيْء وَنَصّ فِي مَسْأَلَة تشبهها على خِلَافه فَخرج من أَحدهمَا إِلَى الآخر سمي قولا مخرجا
وَشرط هَذَا التَّخْرِيج أَن لَا يجد بَين نصيه فرقا فَإِن وجده وَجب تقريرهما على ظاهرهما ويختلفون كثيرا فِي القَوْل بالتخريج فِي مثل ذَلِك لاختلافهم فِي إِمْكَان الْفرق
قلتُ وَأكْثر ذَلِك يُمكن فِيهِ الفرقُ وَقد ذَكرُوهُ
الْحَالة الثَّالِثَة أَن لَا يبلغ رُتْبَة أَصْحَاب الْوُجُوه لكنه فَقِيه النَّفس حَافظ مَذْهَب إِمَامه عَارِف بأدلته قَائِم بتقريرها يصوّر ويحرّر ويقرّر ويمهد ويزيف ويرجح لكنَّه قصر عَن أُولَئِكَ لقصوره عَنْهُم فِي حفظ الْمَذْهَب أَو الارتياض فِي الاستنباط أَو معرفَة الْأُصُول وَنَحْوهَا من أدواتهم وَهَذِه صفةُ كثيرٍ
যার মাধ্যমে তাঁর ইমাম দলিল পেশ করেন, ফলে তিনি সেই অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন।
যদি তাঁর ইমাম কোনো একটি বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো মত ব্যক্ত করেন এবং তার সদৃশ অন্য একটি মাসআলায় তাঁর বিপরীত কোনো মত ব্যক্ত করেন, অতঃপর একটির বিধান অন্যটিতে প্রয়োগ করা হয়, তবে তাকে তখরীজকৃত মত বলা হয়।
এই তখরীজের শর্ত হলো এই যে, ইমামের উভয় ভাষ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। যদি কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়, তবে উভয় ভাষ্যকে তাদের বাহ্যিক অর্থেই বহাল রাখা আবশ্যক। এই জাতীয় মাসআলায় তখরীজের মত প্রদানের ক্ষেত্রে ফকীহগণ প্রায়ই মতভেদ করেন, কারণ পার্থক্যের সম্ভাবনা থাকার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বিমত থাকে।
আমি বলছি, এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্থক্য করা সম্ভব এবং তাঁরা তা উল্লেখও করেছেন।
তৃতীয় অবস্থা হলো এই যে, তিনি 'আসহাবুল উজুহ'-এর স্তরে পৌঁছেননি, কিন্তু তিনি সহজাত ফিকহী প্রজ্ঞার অধিকারী, স্বীয় ইমামের মাযহাবের হাফেজ, তাঁর দলীলসমূহ সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলো উপস্থাপনে পারদর্শী। তিনি মাসআলার রূপরেখা তৈরি করেন, তা পরিমার্জন করেন, সুদৃঢ় করেন, ভিত্তি স্থাপন করেন, অসারতা প্রমাণ করেন এবং অগ্রগণ্যতা দান করেন; তবে তিনি আসহাবুল উজুহ থেকে পিছিয়ে রয়েছেন, কারণ মাযহাব মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অথবা ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণ চর্চায় কিংবা উসূলে ফিকহ ও তাদের অনুরূপ অন্যান্য শাস্ত্রীয় উপকরণের জ্ঞানে তাঁদের তুলনায় তাঁর ঘাটতি রয়েছে। আর এটিই অনেকের বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
من الْمُتَأَخِّرين إِلَى أَوَاخِر المئة الرَّابِعَة المصنفين الَّذين رتبوا الْمَذْهَب وحرروه وصنَّفوا فِيهِ تصانيف فِيهَا مُعظم اشْتِغَال النَّاس الْيَوْم وَلم يلْحقُوا الَّذين قبلهم فِي التَّخْرِيج وَأما فتاويهم فَكَانُوا يتبسطون فِيهَا تبسط أُولَئِكَ أَو قَرِيبا مِنْهُ ويقيسون غير الْمَنْقُول عَلَيْهِ غير مقتصرين على الْقيَاس الْجَلِيّ وَمِنْهُم من جُمِعَت فَتَاوِيهِ وَلَا تبلغ فِي التحاقها بِالْمذهبِ مبلغَ فَتَاوَى أَصْحَاب الْوُجُوه
الْحَالة الرَّابِعَة أَن يقوم بِحِفْظ الْمَذْهَب وَنَقله وفهمه فِي الواضحات والمشكلات وَلَكِن عِنْده ضعف فِي تَقْرِير أدلته وتحرير أقيسته فَهَذَا يعْتَمد نَقله وفتواه بِهِ فِيمَا يحكيه من مسطورات مذْهبه من نُصُوص إِمَامه وتفريع الْمُجْتَهدين فِي مذْهبه وَمَا لَا يجده مَنْقُولًا إِن وجد فِي الْمَنْقُول مَعْنَاهُ بِحَيْثُ يدْرك بِغَيْر كَبِير فكر أنَّه لَا فرق بَينهمَا جَازَ إِلْحَاقه بِهِ وَالْفَتْوَى بِهِ وَكَذَا مَا يعلم اندراجه تَحت ضَابِط ممهد فِي الْمَذْهَب
পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্য থেকে চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত সেই সকল গ্রন্থকার যারা মাযহাবকে বিন্যস্ত ও সুসংগঠিত করেছেন এবং এতে এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে বর্তমানে মানুষের জ্ঞানচর্চার সিংহভাগ নিহিত। তবে মাসআলা উদ্ভাবন বা তাখরিজ-এর ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের সমকক্ষ হতে পারেননি। তাঁদের ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরা পূর্ববর্তীদের ন্যায় অথবা প্রায় অনুরূপ প্রশস্ততা অবলম্বন করতেন এবং কেবল সুস্পষ্ট অনুমানের (কিয়াসে জালি) ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে অনুল্লিখিত বিষয়গুলোকে বর্ণিত বিষয়ের ওপর কিয়াস করতেন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাঁদের ফতোয়াসমূহ সংকলিত হয়েছে, তবে মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ততার বিচারে সেগুলো ‘আসহাবুল উজুহ’ বা উচ্চস্তরের গবেষকগণের ফতোয়ার পর্যায়ে পৌঁছায় না।
চতুর্থ স্তর হলো: যিনি মাযহাবের সংরক্ষণ, বর্ণনা এবং এর সহজবোধ্য ও জটিল উভয় প্রকার মাসআলা অনুধাবনের দায়িত্ব পালন করেন; তবে মাযহাবের দলিলসমূহ সুচারুভাবে উপস্থাপন এবং এর অনুমানগত বিন্যাস (কিয়াস) করার ক্ষেত্রে তাঁর কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। মাযহাবের লিখিত বিষয়াবলি যেমন—ইমামের মূল বক্তব্য (নুসুস) এবং মাযহাবের মুজতাহিদগণের উদ্ভাবিত শাখা-প্রশাখা বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ধৃতি ও ফতোয়ার ওপর নির্ভর করা হবে। আর যেসব মাসআলা তিনি বর্ণিত আকারে পাবেন না, যদি বর্ণিত কোনো বিষয়ের মর্মার্থের মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা থেকে সামান্য চিন্তা করলেই অনুধাবন করা যায় যে দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তবে উক্ত অনুল্লিখিত বিষয়টিকে বর্ণিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা বৈধ। অনুরূপভাবে, মাযহাবের সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো মূলনীতির অধীনে নিশ্চিতভাবে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمَا لَيْسَ كَذَلِك يجب إِمْسَاكه عَن الْفَتْوَى فِيهِ وَمثل هَذَا يَقع نَادرا فِي حق الْمَذْكُور إِذْ يبعد كَمَا قَالَ إِمَام الْحَرَمَيْنِ أَن تقع مَسْأَلَة لم ينص عَلَيْهَا فِي الْمَذْهَب وَلَا هِيَ فِي معنى الْمَنْصُوص وَلَا مندرجة تَحت ضَابِط
وَشَرطه كَونه فَقِيه النَّفس ذَا حَظّ وافر من الْفِقْه
قَالَ أَبُو عَمْرو وَأَن يَكْتَفِي فِي حفظ الْمَذْهَب فِي هَذِه الْحَالة وَالَّتِي قبلهَا بِكَوْن الْمُعظم على ذهنه ويتمكن لدربته من الْوُقُوف على الْبَاقِي على قرب
فصل فِي بعض مسَائِل أَهْلِيَّة الْمُفْتِي هَذِه أَصْنَاف الْمُفْتِينَ وَهِي خمسةٌ وكلُّ صنف مِنْهَا يُشترط فِيهِ حفظ الْمَذْهَب وَفقه النَّفس فَمن تصدى للفتيا وَلَيْسَ بِهَذِهِ الصّفة فقد بَاء بِأَمْر عَظِيم
আর যা এরূপ নয়, সে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উল্লিখিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন বিষয় বিরল; কারণ ইমামুল হারামাইন যেমনটি বলেছেন, এমন কোনো মাসআলা উদ্ভূত হওয়া সুদূরপরাহত যার সুস্পষ্ট বর্ণনা মাযহাবে নেই, অথবা যা মাযহাবে বর্ণিত কোনো বিষয়ের মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত নয় কিংবা কোনো সাধারণ মূলনীতির অধীনে পড়ে না।
আর তাঁর জন্য শর্ত হলো তিনি সহজাত ফিকহী প্রজ্ঞার অধিকারী হবেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য থাকবে।
আবু আমর বলেন, এই স্তরে এবং এর পূর্ববর্তী স্তরে মাযহাব আয়ত্ত রাখার ক্ষেত্রে এতটুকুই যথেষ্ট যে, মাযহাবের অধিকাংশ বিষয় তাঁর স্মৃতিতে বিদ্যমান থাকবে এবং স্বীয় অভিজ্ঞতার বলে অবশিষ্ট বিষয়গুলো তিনি দ্রুত অবগত হতে সক্ষম হবেন।
মুফতির যোগ্যতা সংক্রান্ত কতিপয় মাসআলা বিষয়ক পরিচ্ছেদ এই হলো মুফতিদের শ্রেণিবিভাগ এবং তা পাঁচটি। এই প্রত্যেকটি শ্রেণির জন্যই মাযহাবের বিষয়ে বুৎপত্তি এবং সহজাত ফিকহী প্রজ্ঞা থাকা শর্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই গুণাবলি ছাড়াই ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে, সে এক মহা অন্যায়ের দায়ভার গ্রহণ করল।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَلَقَد قطع إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَغَيره بِأَن الأصولي الماهر الْمُتَصَرف فِي الْفِقْه لَا يحلُّ لَهُ الْفَتْوَى بِمُجَرَّد ذَلِك وَلَو وَقعت لَهُ وَاقعَة لزمَه أَن يسْأَل عَنْهَا ويلتحق بِهِ الْمُتَصَرف النظَّار البحاث من أَئِمَّة الْخلاف وفحول المناظرين لِأَنَّهُ لَيْسَ أَهلا لإدراك حكم الْوَاقِعَة اسْتِقْلَالا لقُصُور آلَته وَلَا من مَذْهَب إِمَام لعدم حفظه لَهُ على الْوَجْه الْمُعْتَبر
فَإِن قيل من حفظ كتابا أَو أَكثر فِي الْمَذْهَب وَهُوَ قَاصِر لم يَتَّصِف بِصفة أحد مِمَّن سبق وَلم يجد الْعَاميّ فِي بَلَده غَيره هَل لَهُ الرُّجُوع إِلَى قَوْله
فَالْجَوَاب إِن كَانَ فِي غير بَلَده مُفتٍ يجد السَّبِيل إِلَيْهِ وَجب التَّوَصُّل إِلَيْهِ بِحَسب إِمْكَانه فَإِن تعذر ذكر مَسْأَلته للقاصر فَإِن وجدهَا بِعَينهَا فِي كتاب موثوق بِصِحَّتِهِ وَهُوَ مِمَّن يُقبل خَبره نقل لَهُ حكمهَا بنصه وَكَانَ الْعَاميّ فِيهَا مقلِّداً صَاحب الْمَذْهَب
ইমামুল হারামাইন এবং অন্যান্য আলিমগণ এই বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, উসুল শাস্ত্রের একজন দক্ষ পণ্ডিত যিনি ফিকহ শাস্ত্রেও পারদর্শী, কেবল সেই যোগ্যতার ভিত্তিতে তার জন্য ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়। এমনকি যদি কোনো বিষয়ের সম্মুখীন তিনি হন, তবে তার জন্য সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা আবশ্যক। এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেই সকল গবেষক ও গভীর চিন্তাশীল বিতার্কিকদের, যারা বিভিন্ন মতপার্থক্য এবং যুক্তি-তর্কে পারদর্শী। কারণ, প্রয়োজনীয় উপকরণের অপূর্ণতার কারণে তিনি স্বতন্ত্রভাবে কোনো ঘটনার শরয়ি বিধান অনুধাবনে সক্ষম নন, আবার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে মাজহাব আয়ত্ত না থাকার কারণে ইমামের মাজহাব অনুযায়ী সমাধান দিতেও সক্ষম নন।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মাজহাবের এক বা একাধিক কিতাব মুখস্থ রাখে কিন্তু সে অপরাগতাসম্পন্ন এবং পূর্বে বর্ণিত কোনো স্তরের যোগ্যতাসম্পন্ন না হয়, এমতাবস্থায় যদি কোনো সাধারণ মানুষ তার জনপদে অন্য কাউকে না পায়, তবে কি তার জন্য উক্ত ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া বৈধ হবে?
উত্তর হলো: যদি তার জনপদের বাইরে অন্য কোনো মুফতি থাকেন যার নিকট পৌঁছানোর উপায় থাকে, তবে সামর্থ্য অনুযায়ী তার সাথে যোগাযোগ করা ওয়াজিব। আর যদি তা অসম্ভব হয়, তবে সে তার সমস্যাটি উক্ত স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তির নিকট ব্যক্ত করবে। যদি সেই ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে হুবহু সেই মাসয়ালাটি খুঁজে পায় এবং সে এমন ব্যক্তি হয় যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য, তবে সে মূল পাঠ অনুযায়ী বিধানটি তাকে উদ্ধৃত করবে। এমতাবস্থায় সেই সাধারণ ব্যক্তিটি মূলত উক্ত মাজহাবের ইমামেরই অনুসারী হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قَالَ أَبُو عَمْرو وَهَذَا وجدتُّه فِي ضمن كَلَام بَعضهم وَالدَّلِيل يعضده
وَإِن لم يجدهَا مسطورة بِعَينهَا لم يقسها على مسطور عِنْده وَإِن اعتقده من قِيَاس لَا فَارق لِأَنَّهُ قد يتَوَهَّم ذَلِك فِي غير مَوْضِعه
فَإِن قيل هَل لمقلِّدٍ أَن يُفْتِي بِمَا هُوَ مقلد فِيهِ
قُلْنَا قطع أَبُو عبد الله الحَلِيمي وَأَبُو مُحَمَّد الْجُوَيْنِيّ وَأَبُو المحاسن الرّوياني وَغَيرهم بِتَحْرِيمِهِ وَقَالَ الْقفال الْمروزِي يجوز د
قَالَ أَبُو عَمْرو قولُ من مَنعه مَعْنَاهُ لَا يذكرهُ على صُورَة من يَقُوله من عِنْد نَفسه بل يضيفه إِلَى إِمَامه الَّذِي قلَّده فعلى هَذَا من عددناه من الْمُفْتِينَ المقلدين لَيْسُوا مفتين حَقِيقَة لَكِن لما قَامُوا مقامهم وأدوا عَنْهُم عدوا مَعَهم وسبيلهم أَن يَقُولُوا مثلا مَذْهَب الشَّافِعِي كَذَا أَو نَحْو هَذَا وَمن ترك مِنْهُم الْإِضَافَة
আবু আমর বলেন, আমি এটি কারো কারো আলোচনার মধ্যে পেয়েছি এবং দলীল একে সমর্থন করে।
আর যদি সে বিষয়টি হুবহু লিপিবদ্ধ না পায়, তবে সে তার নিকট থাকা কোনো লিপিবদ্ধ বিষয়ের ওপর একে কিয়াস করবে না, যদিও সে একে ‘কিয়াস লা ফারিক’ (পার্থক্যহীন তুলনা) বলে মনে করে; কারণ অনেক সময় ভুলবশত অনুপযুক্ত স্থানেও এমন ধারণা হতে পারে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: একজন মুকাল্লিদ কি যে বিষয়ে সে তকলীদ করে সে বিষয়ে ফতোয়া দিতে পারে?
আমরা বলি: আবু আব্দুল্লাহ আল-হালিমি, আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, আবু আল-মাহাসিন আল-রুয়ানি এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য মত প্রকাশ করেছেন। তবে আল-কাফফাল আল-মারওয়াযি বলেন, এটি জায়েজ।
আবু আমর বলেন: যারা এটি নিষেধ করেছেন তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো—তিনি বিষয়টি এমনভাবে উল্লেখ করবেন না যেন তা তাঁর নিজস্ব বক্তব্য, বরং তা তাঁর সেই ইমামের দিকে সম্বন্ধ করবেন যাঁর তিনি অনুসরণ (তকলীদ) করেন। এর ভিত্তিতে, আমরা যাদেরকে মুকাল্লিদ মুফতিদের অন্তর্ভুক্ত করেছি, তাঁরা প্রকৃত অর্থে মুফতি নন; বরং যেহেতু তাঁরা তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদান করেছেন, তাই তাঁদেরকে তাঁদের সঙ্গেই গণ্য করা হয়েছে। তাঁদের পদ্ধতি হলো এই যে, তাঁরা বলবেন—উদাহরণস্বরূপ: ‘শাফিয়ী মাজহাবের মত হলো এই’ অথবা এই জাতীয় কিছু। আর তাদের মধ্যে যারা সম্বন্ধ করা বর্জন করবে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَهُوَ اكْتِفَاء بالمعلوم من الْحَال عَن التَّصْرِيح بِهِ وَلَا بَأْس بذلك
وَذكر صَاحب الْحَاوِي فِي الْعَاميّ إِذا عرف حكم حَادِثَة بِنَاء على دليلها ثَلَاثَة أوجه
أَحدهَا يجوز أَن يُفْتِي بِهِ وَيجوز تَقْلِيده لِأَنَّهُ وصل إِلَى علمه كوصول الْعَالم
وَالثَّانِي يجوز إِن كَانَ دليلها كتابا أَو سنة وَلَا يجوز إِن كَانَ غَيرهمَا
وَالثَّالِث لَا يجوز مُطلقًا وَهُوَ الْأَصَح وَالله أعلم
এটি মূলত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যা জ্ঞাত, তার ওপর ভিত্তি করে স্পষ্ট ব্যক্তকরণের প্রয়োজনীয়তা থেকে দায়মুক্ত হওয়া; আর এতে কোনো দোষ নেই।
‘আল-হাভি’ গ্রন্থের রচয়িতা কোনো সাধারণ ব্যক্তি যদি দলিলের ভিত্তিতে কোনো ঘটনার বিধান সম্পর্কে অবগত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তিনটি মত উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, এর ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ এবং তার তাকলীদ করাও জায়েজ; কারণ তার নিকট ইলম বা জ্ঞান সেভাবেই পৌঁছেছে যেভাবে একজন আলেমের নিকট পৌঁছে।
দ্বিতীয়ত, যদি বিষয়টির দলিল কুরআন কিংবা সুন্নাহ হয়, তবে তা বৈধ; আর যদি এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছু হয়, তবে তা বৈধ নয়।
তৃতীয়ত, এটি নিরঙ্কুশভাবে অবৈধ; আর এটিই অধিকতর সঠিক মত। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فصل فِي أَحْكَام الْمُفْتِينَ فِيهِ مسَائِل
إِحْدَاهَا الْإِفْتَاء فرض كِفَايَة فَإِذا استفتي وَلَيْسَ فِي النَّاحِيَة غَيره تعيَّن عَلَيْهِ الْجَواب فَإِن كَانَ فِيهَا غَيره وَحضر فَالْجَوَاب فِي حَقّهمَا فرض كِفَايَة وَإِن لم يحضرهُ غَيره فَوَجْهَانِ
أصَحهمَا لَا يتَعَيَّن لما سبق عَن ابْن أبي ليلى
وَالثَّانِي يتَعَيَّن
وهما كالوجهين فِي مثله فِي الشَّهَادَة وَلَو سَأَلَ عَامي عَمَّا يَقع لم يجب جَوَابه
الثَّانِيَة إِذا أفتى بِشَيْء ثمَّ رَجَعَ عَنهُ فَإِن علم المستفتي بِرُجُوعِهِ وَلم يكن عمل بِالْأولِ لم يجز الْعَمَل
মুফতিদের বিধিবিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ এতে কতিপয় মাসআলা রয়েছে
প্রথমত: ফতোয়া প্রদান করা ফরজে কিফায়া। সুতরাং যখন কারো নিকট ফতোয়া চাওয়া হয় এবং সেই অঞ্চলে তিনি ব্যতীত অন্য কোনো মুফতি না থাকেন, তখন উত্তর প্রদান করা তাঁর ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (ফরজে আইন) হয়ে পড়ে। আর যদি সেখানে তিনি ছাড়াও অন্য কেউ থাকেন এবং তিনি উপস্থিত থাকেন, তবে উত্তর প্রদান করা তাঁদের উভয়ের ক্ষেত্রে ফরজে কিফায়া। কিন্তু যদি তাঁর নিকট অন্য কেউ উপস্থিত না থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে
তন্মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত হলো, এটি তাঁর ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক হবে না; যেমনটি ইতিপূর্বে ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত হয়েছে
দ্বিতীয় অভিমত হলো, এটি ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক হবে
আর এই অভিমতদ্বয় সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অনুরূপ মাসআলার দুটি মতের ন্যায়। আর যদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যা এখনো ঘটেনি (তথা কাল্পনিক বা সম্ভাব্য বিষয়), তবে তাঁর উত্তর দেওয়া আবশ্যক নয়
দ্বিতীয়ত: মুফতি যদি কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তা থেকে ফিরে আসেন, এমতাবস্থায় যদি ফতোয়া প্রার্থী সেই ফতোয়া প্রত্যাহারের কথা জানতে পারে এবং পূর্বের ফতোয়া অনুযায়ী আমল না করে থাকে, তবে সেই ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা আর বৈধ হবে না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بِهِ وَكَذَا إِن نكح بفتواه وَاسْتمرّ على نِكَاح بفتواه ثمَّ رَجَعَ لزمَه مفارقتها كَمَا لَو تغير اجْتِهَاد من قلَّده فِي الْقبْلَة فِي أثْنَاء صلَاته وَإِن كَانَ عمل قبل رُجُوعه فَإِن خَالف دَلِيلا قَاطعا لزم المستفتي نقض عمله ذَلِك وَإِن كَانَ فِي مَحل اجْتِهَاد لم يلْزمه نقضه لِأَن الِاجْتِهَاد لَا ينْقض بِالِاجْتِهَادِ وَهَذَا التَّفْصِيل ذكره الصَّيْمَرِيّ والخطيب وَأَبُو عَمْرو وَاتَّفَقُوا عَلَيْهِ وَلَا أعلم خِلَافه وَمَا ذكره الْغَزالِيّ والرازي لَيْسَ فِيهِ تَصْرِيح بِخِلَافِهِ
قَالَ أَبُو عَمْرو وَإِذا كَانَ يُفتي على مَذْهَب إمامٍ فَرجع لكَونه بَان لَهُ قطعا مُخَالفَة نَص مَذْهَب إِمَامه وَجب نقضه وَإِن كَانَ فِي مَحل الِاجْتِهَاد لأنَّ نَص مَذْهَب إِمَامه فِي حَقه كنص الشَّارِع فِي حق الْمُجْتَهد المستقل أما إِذا لم يعلم المستفتي بِرُجُوع الْمُفْتِي فحال المستفتي فِي علمه كَمَا قبل الرُّجُوع وَيلْزم الْمُفْتِي إِعْلَامه قبل الْعَمَل وَكَذَا بعده حَيْثُ يجب النَّقْض
وَإِذا عمل بفتواه فِي إِتْلَاف فَبَان خطأه وَأَنه
এবং অনুরূপভাবে যদি কেউ মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী বিবাহ করে এবং সেই ফতোয়ার ওপর ভিত্তি করেই বৈবাহিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে, অতঃপর মুফতি তার মত পরিবর্তন করেন, তবে ঐ ব্যক্তির জন্য স্ত্রীকে ত্যাগ করা আবশ্যক হবে; যেমনটি সালাতরত অবস্থায় কিবলার ব্যাপারে মুকাল্লিদ ব্যক্তির ইজতিহাদ পরিবর্তন হয়ে গেলে ঘটে থাকে। আর যদি মুফতির মত পরিবর্তনের পূর্বেই আমল করা হয়ে থাকে, তবে ফতোয়াটি যদি কোনো অকাট্য দলিলের পরিপন্থী হয়, তবে মুস্তাফতির (ফতোয়া যাচনাকারী) জন্য সেই আমলটি বাতিল করা আবশ্যক। কিন্তু যদি বিষয়টি ইজতিহাদমূলক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা বাতিল করা আবশ্যক নয়; কারণ ইজতিহাদ অন্য কোনো ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না। এই বিস্তারিত বিবরণ সায়মারি, খাতিব ও আবু আমর উল্লেখ করেছেন এবং তারা এর ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আমি এ বিষয়ে কোনো ভিন্ন মত জানি না। আর ইমাম গাযালি ও রাজি যা উল্লেখ করেছেন, তাতে এর বিপরীত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই।
আবু আমর বলেন: মুফতি যদি কোনো নির্দিষ্ট ইমামের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন, অতঃপর তার নিকট এটি অকাট্যভাবে স্পষ্ট হওয়ার কারণে তিনি মত পরিবর্তন করেন যে, ফতোয়াটি তার ইমামের মাযহাবের নস বা মূল ভাষ্যের পরিপন্থী ছিল, তবে উক্ত ফতোয়া বাতিল করা ওয়াজিব—যদিও তা ইজতিহাদী ক্ষেত্র হয়। কারণ, একজন স্বাধীন মুজতাহিদের ক্ষেত্রে শারীআহ প্রবর্তকের (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) নস যেমন গুরুত্ব রাখে, এই মুফতির ক্ষেত্রে তার ইমামের মাযহাবের নসও তদ্রূপ। তবে মুস্তাফতি যদি মুফতির মত পরিবর্তনের কথা জানতে না পারে, তবে মুস্তাফতির জ্ঞানের অবস্থা মত পরিবর্তনের পূর্বের ন্যায়ই গণ্য হবে। আর আমল করার পূর্বে তাকে বিষয়টি অবহিত করা মুফতির জন্য আবশ্যক, অনুরূপভাবে আমল করার পরেও যদি তা বাতিল করা ওয়াজিব হয় (তবে অবহিত করা আবশ্যক)।
আর যদি কেউ কোনো বিনাশ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, অতঃপর মুফতির ভুল প্রকাশ পায় এবং দেখা যায় যে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
خَالف الْقَاطِع فَعَن الْأُسْتَاذ أبي إِسْحَاق الأسفراييني أَنه يضمن إِن كَانَ أَهلا للْفَتْوَى وَلَا يضمن إِن لم يكن أَهلا لِأَن المستفتي قصًَّر كَذَا حَكَاهُ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح وَسكت عَلَيْهِ وَهُوَ مُشكِلٌ وَيَنْبَغِي أَن يخرج الضَّمَان على قولي الْغرُور المعروفين فِي بَابي الْغَصْب وَالنِّكَاح وَغَيرهمَا أَو يقطع بِعَدَمِ الضَّمَان إِذْ لَيْسَ فِي الْفَتْوَى إِلْزَام وَلَا إلجاء
الثَّالِثَة يحرم التساهل فِي الْفَتْوَى وَمن عرف بِهِ حرم استفتاؤه
فَمن التساهل أَن لَا يتثبت ويُسرِع بالفتوى قبل اسْتِيفَاء حقِّها من النّظر والفكر فَإِن تقدّمت مَعْرفَته بالمسؤول عَنهُ فَلَا بَأْس بالمبادرة وعَلى هَذَا يحمل مَا نقل عَن الماضين من مبادرة
وَمن التساهل أَن تحمله الْأَغْرَاض الْفَاسِدَة على تتبع
যদি বিষয়টি অকাট্য দলিলের পরিপন্থী হয়, তবে উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারাঈনী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, মুফতি যদি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য হন তবে তিনি দায়বদ্ধ হবেন, আর যদি যোগ্য না হন তবে তিনি দায়বদ্ধ হবেন না; কারণ প্রশ্নকারী (অযোগ্যকে প্রশ্ন করে) অবহেলা করেছে। শায়খ আবু আমর ইবনে আস-সালাহ বিষয়টি এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর নীরবতা অবলম্বন করেছেন। তবে এটি একটি জটিল বিষয়। সঙ্গত হলো, এই দায়বদ্ধতার বিষয়টি ‘গসব’ (অবৈধ দখল), বিবাহ ও অন্যান্য অধ্যায়ে প্রসিদ্ধ ‘প্রতারণা’ (আল-গুরূর) সংক্রান্ত দুটি মতের আলোকে নিরূপণ করা, অথবা দায়বদ্ধতা না থাকার বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেওয়া; কেননা ফতোয়ার মধ্যে কোনো বাধ্যবাধকতা বা জবরদস্তি নেই।
তৃতীয়: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হারাম; আর যে ব্যক্তি এই শিথিলতার জন্য পরিচিত, তার নিকট ফতোয়া চাওয়াও হারাম।
শিথিলতার একটি দিক হলো—যাচাই-বাছাই না করা এবং চিন্তা ও গবেষণার হক পূর্ণ করার আগেই ফতোয়া প্রদানে তড়িঘড়ি করা। তবে জিজ্ঞাসিত বিষয়ে যদি তার পূর্বজ্ঞান থেকে থাকে, তবে দ্রুত উত্তর প্রদানে কোনো দোষ নেই; আর পূর্বসূরিদের থেকে দ্রুত উত্তর প্রদানের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তাকে এ অর্থেই গ্রহণ করা হবে।
শিথিলতার আরেকটি দিক হলো—অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের বশবর্তী হয়ে (ভুল বা শিথিল বিষয়) অনুসন্ধান করা।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْحِيَل المحرَّمة أَو الْمَكْرُوهَة والتمسك بالشبه طلبا للترخيص لمن يروم نَفعه أَو التَّغْلِيظ على من يُرِيد ضره
وَأما مَنْ صَحَّ قَصده فاحتسب فِي طَلَبِ حيلةٍ لَا شُبْهَة فِيهَا لتخليص من ورطة يَمِين وَنَحْوهَا فَذَلِك حسن جميل
وَعَلِيهِ يحمل مَا جَاءَ عَن بعض السّلف من نَحْو هَذَا كَقَوْل سُفْيَان إنمَّا الْعلم عندنَا الرُّخْصَة من ثِقَة فَأَما التَّشْدِيد فيحسنه كل أحد
وَمن الْحِيَل الَّتِي فِيهَا شُبْهَة ويذم فاعلها الْحِيلَة السُّريجية فِي سدِّ بَاب الطَّلَاق
الرَّابِعَة يَنْبَغِي أَن لَا يُفْتِي فِي حَال تغيُّر خُلُقه وتشغل قلبه وتمنعه التَّأَمُّل كغضب وجوع
হারাম অথবা মাকরূহ অপকৌশলসমূহ এবং সংশয়পূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করা; যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উপকারের উদ্দেশ্যে সহজ সুযোগ অন্বেষণ করা হয় অথবা যার ক্ষতি করার ইচ্ছা থাকে তার ওপর কঠোরতা আরোপ করা হয়।
তবে যার উদ্দেশ্য বিশুদ্ধ এবং যিনি কোনো ব্যক্তিকে শপথের জটিলতা বা অনুরূপ কোনো সংকট থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে এমন কোনো কৌশল অন্বেষণ করেন যাতে কোনো সংশয় নেই, তবে তা উত্তম ও প্রশংসনীয়।
সলফে সালেহীনদের থেকে বর্ণিত এই পর্যায়ের বক্তব্যগুলো এরই অন্তর্ভুক্ত, যেমন সুফিয়ান রাহিমাহুল্লাহর উক্তি: "আমাদের মতে ইলম হলো কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত শিথিলতা; পক্ষান্তরে কঠোরতা তো প্রত্যেকেই প্রদর্শন করতে পারে।"
সংশয়যুক্ত এবং যার কর্তাকে নিন্দা করা হয় এমন অপকৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তালাকের পথ রুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ‘হিলা-এ-সুরাইজিয়্যাহ’।
চতুর্থত: মেজাজ পরিবর্তন বা বিগড়ে থাকা অবস্থায়, হৃদয়ের অস্থিরতায় কিংবা গভীর অনুধাবনে বাধা সৃষ্টি করে এমন পরিস্থিতিতে—যেমন ক্রোধ বা ক্ষুধার সময়—ফতোয়া প্রদান করা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وعطش وحزن وَفَرح غَالب ونعاس أَو ملل أَو حر مزعج أَو مرض مؤلم أَو مدافعة حَدَث وكل حَال يشْتَغل فِيهِ قلبه وَيخرج عَن حد الِاعْتِدَال فَإِن أفتى فِي بعض الْأَحْوَال وَهُوَ يَرَى أَنه لم يخرج عَن الصَّوَاب جَازَ وَإِن كَانَ مخاطراً بهَا
الْخَامِسَة الْمُخْتَار للمتصدِّي للْفَتْوَى أَن يتبرعَ بذلك وَيجوز أَن يَأْخُذ عَلَيْهِ رزقا من بَيت المَال إِلَّا أيتعين عَلَيْهِ وَله كِفَايَة فَيحرم على الصَّحِيح ثمَّ إِن كَانَ لَهُ رزقٌ لم يجز أَخذ أُجْرَة أصلا وَإِن لم يكن لَهُ رزق فَلَيْسَ لَهُ أَخذ أُجْرَة من أَعْيَان مَنْ يفتيه على الْأَصَح كالحاكم
واحتال الشَّيْخ أَبُو حَاتِم الْقزْوِينِي من أَصْحَابنَا فَقَالَ لَهُ أَن يَقُول يلْزَمنِي أَن أفيتك قولا وَأما كِتَابَة الْخط فَلَا فَإِذا اسْتَأْجرهُ على كِتَابَة الْخط جَازَ
قَالَ الصَّيْمَرِيّ والخطيب لَو اتّفق أهل الْبَلَد فَجعلُوا لَهُ رزقا من أَمْوَالهم على أَن يتَفَرَّع لفتاويهم جَازَ
...তৃষ্ণা, দুঃখ, অত্যধিক আনন্দ, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, একঘেয়েমি, বিরক্তিকর গরম, যন্ত্রণাদায়ক অসুস্থতা কিংবা মলমূত্র ত্যাগের বেগ; এবং এমন প্রতিটি অবস্থা যাতে তার অন্তর বিক্ষিপ্ত থাকে এবং সে স্বাভাবিক ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত হয়। এমতাবস্থায় যদি সে ফতোয়া প্রদান করে এবং সে মনে করে যে সে সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত হয়নি, তবে তা জায়েজ হবে, যদিও এতে ঝুঁকি থেকে যায়।
পঞ্চম মাসয়ালা: ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণকারীর জন্য পছন্দনীয় হলো এটি স্বেচ্ছায় সম্পাদন করা। তবে তার জন্য বায়তুল মাল থেকে এর বিনিময়ে ভাতা গ্রহণ করা বৈধ, যদি না এটি তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে অপরিহার্য (ফরজে আইন) হয়ে দাঁড়ায় এবং তার জীবনধারণের পর্যাপ্ত সচ্ছলতা থাকে; এমতাবস্থায় সঠিক অভিমত অনুযায়ী ভাতা গ্রহণ করা হারাম। অতঃপর, যদি তার জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা থাকে, তবে তার জন্য কোনোভাবেই পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ নয়। আর যদি ভাতার ব্যবস্থা না থাকে, তবে অধিকতর সঠিক মতানুসারে বিচারকের ন্যায় ফতোয়া গ্রহণকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে ব্যক্তিগতভাবে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ নয়।
আমাদের শাস্ত্রীয় ফকিহগণের অন্তর্ভুক্ত শায়খ আবু হাতেম আল-কাজভিনী একটি সূক্ষ্ম বৈধ পন্থা বর্ণনা করে বলেছেন: মুফতি বলতে পারেন, ‘মৌখিকভাবে ফতোয়া প্রদান করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা লিপিবদ্ধ করা আমার জন্য আবশ্যক নয়।’ এমতাবস্থায় যদি কেউ তাকে লিপি তৈরির জন্য নিয়োজিত করে পারিশ্রমিক দেয়, তবে তা জায়েজ হবে।
সায়মারি ও খতিব আল-বাগদাদী বলেন: যদি নগরবাসী একমত হয়ে তাদের সম্পদ থেকে তার জন্য একটি ভাতার ব্যবস্থা করে যাতে তিনি নিজেকে তাদের ফতোয়া প্রদানের কাজে নিয়োজিত রাখতে পারেন, তবে তা জায়েজ হবে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أما الْهَدِيَّة فَقَالَ أَبُو مظفر السَّمعاني لَهُ قبُولهَا بِخِلَاف الْحَاكِم فَإِنَّهُ يلْزم حكمهَا
قَالَ أَبُو عَمْرو يَنْبَغِي أَن يحرم قبُولهَا إِن كَانَ رشوة على أَن يفتيه بِمَا يُرِيد كَمَا فِي الْحَاكِم وَسَائِر مَا لَا يُقَابل بعوض
قَالَ الْخَطِيب وعَلى الإِمَام أَن يفْرض لمن نصب نَفسه لتدريس الْفِقْه وَالْفَتْوَى فِي الْأَحْكَام مَا يُغْنِيه عَن الاحتراف وَيكون ذَلِك من بَيت المَال ثمَّ روى بِإِسْنَادِهِ أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أعْطى كلَّ رجلٍ مِمَّن هَذِه صفته مئة دِينَار فِي السّنة
السَّادِسَة لَا يجوز أَن يُفْتِي فِي الْأَيْمَان وَالْإِقْرَار وَنَحْوهمَا مِمَّا يتَعَلَّق بالألفاظ إِلَّا أَن يكون من أهل بلد اللافظ أَو متنَزِّلاً مَنْزِلَتهمْ فِي الْخِبْرَة بمرادهم من ألفاظهم وعرفهم فِيهَا
উপহারের বিষয়ে আবু মুযাফফর আস-সামআনি বলেন যে, মুফতির জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ, যা বিচারকের (কাযী) ক্ষেত্র থেকে ভিন্ন; কেননা বিচারকের ক্ষেত্রে তা তার রায়কে প্রভাবিত করা আবশ্যক করে তোলে।
আবু আমর বলেন, উপহার গ্রহণ করা হারাম হওয়া উচিত যদি তা আবেদনকারীর চাহিদামতো ফতোয়া প্রদানের নিমিত্তে ঘুষ হিসেবে গণ্য হয়, যেমনটি বিচারক এবং এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা বিনিময়ের বিনিময়ে সম্পন্ন করা যায় না।
আল-খতিব বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের কর্তব্য হলো যারা ফিকহ শিক্ষা দান এবং শারঈ বিধানাবলির বিষয়ে ফতোয়া প্রদানের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, তাদের জন্য বাইতুল মাল থেকে এমন পরিমাণ ভাতা নির্ধারণ করা যা তাদের জীবিকা অন্বেষণের শ্রম থেকে বিমুখ রাখবে। অতঃপর তিনি স্বীয় সনদে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই গুণাবলি সম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বছরে একশত দীনার প্রদান করতেন।
ষষ্ঠত: শপথ, স্বীকারোক্তি এবং শব্দ সংশ্লিষ্ট এই জাতীয় বিষয়গুলোতে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়, যতক্ষণ না মুফতি বক্তার অঞ্চলের অধিবাসী হন অথবা তাদের ব্যবহৃত শব্দাবলির উদ্দেশ্য এবং প্রচলিত প্রথা সম্পর্কে অভিজ্ঞতায় তাদের সমপর্যায়ভুক্ত হন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতী ওয়াল মুসতাফতী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
السَّابِعَة لَا يجوز لمن كَانَت فتواه نقلا لمَذْهَب إِمَام إِذا اعْتمد الْكتب أَن يعْتَمد إِلَّا على كتاب موثوقٍ بِصِحَّتِهِ وَبِأَنَّهُ مَذْهَب ذَلِك الإِمَام فَإِن وثق بِأَن أصل التصنيف بِهَذِهِ الصّفة لَكِن لم تكن هَذِه النُّسْخَة مُعْتَمدَة فليستظهر بنسخ مِنْهُ متَّفقة وَقد تحصل لَهُ الثِّقَة من نُسْخَة غير موثوق بهَا فِي بعض الْمسَائِل إِذا رأى الْكَلَام منتظماً وَهُوَ خَبِير فَطِن لَا يخفى عَلَيْهِ لدربته مَوضِع الْإِسْقَاط والتغيير فَإِن لم يجده إِلَّا فِي نُسْخَة غير موثوق بهَا فَقَالَ أَبُو عَمْرو ينظر فَإِن وجده مُوَافقا لأصول الْمَذْهَب وَهُوَ أهل لتخريج مثله فِي الْمَذْهَب لَو لم يجده مَنْقُولًا فَلهُ أَن يُفْتِي بِهِ فَإِن أَرَادَ حكايته عَن قَائِله فَلَا يقل قَالَ الشَّافِعِي مثلا كَذَا وَليقل وَجدتُّ عَن الشَّافِعِي كَذَا أَو بَلغنِي عَنهُ وَنَحْو هَذَا وَإِن لم يكن أَهلا لتخريج مثله لم يجز لَهُ ذَلِك فَإِن سَبيله النَّقْل الْمَحْض وَلم يحصل مَا يجوز لَهُ ذَلِك وَله أَن يذكرهُ لَا على سَبِيل الْفَتْوَى مُفصِحاً بِحَالهِ فَيَقُول وجدته فِي نُسْخَة من الْكتاب الْفُلَانِيّ وَنَحْوه
সপ্তম: যার ফতোয়া মূলত কোনো ইমামের মাযহাবের উদ্ধৃতি প্রদান, তিনি যদি গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেন তবে কেবল এমন গ্রন্থের ওপরই নির্ভর করা বৈধ যার বিশুদ্ধতা এবং এটি যে ঐ ইমামের মাযহাব—তা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত। যদি তার এমন দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে মূল রচনাটি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কিন্তু আলোচ্য পাণ্ডুলিপিটি নির্ভরযোগ্য নয়, তবে তিনি উক্ত গ্রন্থের অন্যান্য সমজাতীয় পাণ্ডুলিপি দ্বারা তা সুনিশ্চিত করবেন। কখনও কখনও কোনো অনির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি থেকেও কিছু মাসআলায় আস্থা অর্জিত হতে পারে, যদি তিনি দেখেন যে বক্তব্যটি সুসংগত এবং তিনি যদি একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি হন যার দক্ষতার কারণে কোনো বিষয় বাদ পড়া বা পরিবর্তিত হওয়া তার দৃষ্টি এড়ায় না। যদি মাসআলাটি কেবল অনির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিতেই পাওয়া যায়, তবে আবু আমর বলেন: বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে; যদি তা মাযহাবের মূলনীতির অনুকূল হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি মাযহাবের অনুরূপ মাসআলা উদ্ভাবনের (তাখরিজ) যোগ্য হন—এমনকি যদি তা উদ্ধৃত হিসেবে নাও পাওয়া যেত—তবে তিনি এর ভিত্তিতে ফতোয়া দিতে পারবেন। আর তিনি যদি মূল প্রবক্তার পক্ষ থেকে তা বর্ণনা করতে চান, তবে যেন না বলেন যে, উদাহরণস্বরূপ: "শাফেয়ী এমন বলেছেন", বরং তিনি বলবেন: "শাফেয়ীর উদ্ধৃতিতে আমি এমন পেয়েছি" অথবা "তার পক্ষ থেকে আমার নিকট এমন পৌঁছেছে" ইত্যাদি। কিন্তু যদি তিনি অনুরূপ মাসআলা উদ্ভাবনের যোগ্য না হন, তবে তার জন্য তা জায়েয হবে না। কারণ তার কাজ হলো কেবল শুদ্ধ উদ্ধৃতি প্রদান করা, অথচ এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি অর্জিত হয়নি। তবে তিনি ফতোয়া হিসেবে নয় বরং প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করে তা উল্লেখ করতে পারেন, যেমন তিনি বলবেন: "আমি অমুক কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপিতে এটি পেয়েছি" ইত্যাদি।