(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: -)
تقرير الاستناد في تفسير الاجتهاد   (الجلال السيوطي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: تقرير الاستناد في تفسير الاجتهاد

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد

الناشر: دار الدعوة - الاسكندرية

الطبعة: الأولى، 1403

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাকরিরুল ইসতিনাদ ফি তাফসিরিল ইজতিহাদ   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: তাকরিরুল ইসতিনাদ ফি তাফসিরিল ইজতিহাদ

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

গবেষক-সম্পাদক: ড. ফুয়াদ আবদ আল-মুনয়েম আহমদ

প্রকাশক: দারুদ দাওয়াহ - আলেকজান্দ্রিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

{وَأما بِنِعْمَة رَبك فَحدث}

وَبعد

1 -‌‌ الِاجْتِهَاد من فروض الكفايات

 

فقد قَالَ الزَّرْكَشِيّ فِي قَوَاعِده قد عد الشهرستانى فِي الْملَل والنحل الِاجْتِهَاد من فروض الكفايات وسرد بعض عِبَارَته وَلم يتعقبه بنكير

وَقد راجعت كتاب الشهرستاني فَوَجَدته ذكر ذَلِك فِي مَوْضُوعَيْنِ

فَقَالَ فِي تَرْجَمَة أهل الْفُرُوع المختلفون فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة والمسائل الاجتهادية وَهِي فِي نصف الْكتاب مَا نَصه
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

{এবং আপনার রবের নেয়ামতসমূহ বর্ণনা করুন}

অতঃপর

১ -‌‌ ইজতিহাদ (الاجتهاد) ফরজে কিফায়ার (فروض الكفايات) অন্তর্ভুক্ত

 

নিশ্চয়ই ইমাম যারকাশি তার 'কাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলেছেন যে, শাহরাস্তানি 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' গ্রন্থে ইজতিহাদকে (الاجتهاد) ফরজে কিফায়ার (فروض الكفايات) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। তিনি তার কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এর ওপর কোনো সমালোচনা করেননি।

আমি শাহরাস্তানির কিতাবটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছি এবং দেখেছি যে তিনি এটি দুটি স্থানে উল্লেখ করেছেন।

তিনি কিতাবের মধ্যভাগে 'আহলুল ফুরু' অর্থাৎ যারা শরয়ি বিধান এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) সংক্রান্ত মাসআলায় মতভেদ করেছেন, তাদের আলোচনায় (ترجمة) যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَبِالْجُمْلَةِ نعلم قطعا ويقينا أَن الْحَوَادِث والوقائع فِي الْعِبَادَات والتصرفات مِمَّا لَا يقبل الْحصْر وَالْعد ونعلم أَيْضا أَنه لم يرد فِي كل حَادِثَة نَص وَلَا يتَصَوَّر ذَلِك أَيْضا والنصوص إِذا كَانَت متناهية والوقائع غير متناهية وَمَا لَا يتناهي لَا يضبطه مَا يتناهي علم قطعا أَن الِاجْتِهَاد وَالْقِيَاس وَاجِب الِاعْتِبَار حَتَّى يكون بصدد كل حَادِثَة اجْتِهَاد

ثمَّ ذكر شُرُوط الِاجْتِهَاد من فروض الكفايات لَا من فروض الْأَعْيَان حَتَّى إِذا اشْتغل بتحصيله وَاحِد سقط الْقَرْض عَن الْجَمِيع وَإِن قصر فِيهِ أهل عصر عصوا بِتَرْكِهِ وأشرفوا على خطر عَظِيم فَالْآن الْأَحْكَام الاجتهادية إِذا كَانَت مرتبَة على الِاجْتِهَاد ترتت الْمُسَبّب على السَّبَب وَلم يُوجد السَّبَب كَانَت الْأَحْكَام عاطلة والآراء كلهَا متماثلة فَلَا بُد من مُجْتَهد

هَذِه عِبَارَته وَإِيَّاهَا سَاق الزَّرْكَشِيّ

وَهَذَا الْكَلَام إِذا عرض على أهل الْعَصْر شقّ عَلَيْهِم جدا فَإِنَّهُ مَتى أدعى عِنْدهم ثُبُوت وصف الِاجْتِهَاد لأحد مَوْجُود الْآن ليسقط عَنْهُم الْإِثْم والعصيان كبر ذَلِك عَلَيْهِم واستعظموه وَرُبمَا عدوا هَذَا القَوْل من الهذيان والخرافات

وَالسَّبَب فِي ذَلِك أَن أحدا مِنْهُم لَا يُمكن أَن يَدعِيهِ لنَفسِهِ وَلَا يَدعِيهِ لَهُ أحد من خاصته لخلوه يَقِينا عَن أَكثر شُرُوطه إِذْ غَايَة الْوَاحِد مِنْهُم أَن يتقن فَنًّا وَاحِدًا وَهُوَ الْفِقْه مَعَ أَن علم الْفِقْه نَفسه ليسس من شُرُوط الِاجْتِهَاد كَمَا هُوَ مُقَرر فِي مَوْضِعه فَإِن ضم إِلَى ذَلِك غَيره من الْعُلُوم قدر يسير من الْعَرَبيَّة وأنذر مِنْهُ من الْأُصُول تمت الْقَضِيَّة

পরিশেষে আমরা নিশ্চিত ও দৃঢ়ভাবে জানি যে, ইবাদত এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে ঘটনা ও বিষয়াবলি সীমাহীন এবং অগণিত। আমরা এও জানি যে, প্রতিটি ঘটনার জন্য কোনো সুস্পষ্ট উৎস-পাঠ (نص) অবতীর্ণ হয়নি এবং তেমনটি কল্পনাও করা যায় না। যেহেতু এই পাঠসমূহ (نصوص) সসীম এবং ঘটনাবলি অসীম, আর যা অসীম তাকে সসীম কোনো কিছু দিয়ে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়; তাই এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইজতিহাদ (اجتهاد) ও কিয়াস (قياس) বিবেচনা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক, যাতে প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইজতিহাদ (اجتهاد) বিদ্যমান থাকে।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর শর্তাবলি অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত, ফরজে আইন (فرض عين)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এমনকি যদি একজন ব্যক্তিও তা অর্জনে সচেষ্ট হয়, তবে সকলের পক্ষ থেকে সেই বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। আর যদি কোনো যুগের অধিবাসীরা এতে অবহেলা করে, তবে তা পরিত্যাগ করার কারণে তারা গুনাহগার হবে এবং এক মহা বিপদের সম্মুখীন হবে। বর্তমানে ইজতিহাদলব্ধ বিধানগুলো যদি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ওপর নির্ভরশীল হয়—যেমন কারণ (سبب) ছাড়া কার্য (مسبب) সম্পন্ন হয় না—আর যদি সেই কারণটিই অনুপস্থিত থাকে, তবে বিধানগুলো অকেজো হয়ে পড়বে এবং সকল মতামত সমান স্তরের হয়ে যাবে। অতএব, একজন মুজতাহিদ (مجتهد) থাকা অপরিহার্য।

এটিই তার বক্তব্য এবং এটিই ইমাম যারকাশি উদ্ধৃত করেছেন।

আর এই কথাটি যদি বর্তমান যুগের লোকদের কাছে উপস্থাপন করা হয়, তবে তা তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হয়। কারণ, তাদের গুনাহ ও অবাধ্যতা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যদি বর্তমানে বিদ্যমান কোনো ব্যক্তির জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতার দাবি করা হয়, তবে তারা একে বড় কিছু মনে করে এবং বিস্মিত হয়; এমনকি অনেক সময় তারা এই কথাকে প্রলাপ বা কাল্পনিক কাহিনী হিসেবে গণ্য করে।

এর কারণ হলো যে, তাদের কেউ নিজের জন্য এই দাবি করতে পারে না এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের কেউও তার জন্য এই দাবি করতে পারে না। কারণ, নিশ্চিতভাবেই তার মাঝে ইজতিহাদের অধিকাংশ শর্ত অনুপস্থিত। তাদের একজনের সর্বোচ্চ যোগ্যতা হলো একটি মাত্র শাস্ত্র তথা ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী হওয়া, অথচ ফিকহ শাস্ত্র নিজে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়—যেমনটি তার সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে সুনির্ধারিত রয়েছে। এমতাবস্থায় যদি এর সাথে অন্যান্য শাস্ত্র থেকে সামান্য পরিমাণ আরবি ভাষা এবং উসুল (أصول) শাস্ত্র থেকে আরও সামান্য কিছু যুক্ত করা হয়, তবে বিষয়টি পূর্ণতা পায়।

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمَتى إدعي عَنهُ خلو الْعَصْر عَن مُجْتَهد وَهُوَ الْمُوَافق لغرضهم كَانَ ذَلِك مناداة عَلَيْهِم بإثمهم كلهم وعصيانهم بأسرهم

وَمَا أَدْرِي هَل ترْضونَ بذلك أَو يعودون على قَائِل هَذِه الْمقَالة بالتشنيع والتضعيف لقَوْله وَإِنَّهَا مقاله واهية سَاقِطَة لَا يعول عَلَيْهَا وَلَا يعْتَمد عَلَيْهَا وَأَحْسَنهمْ حَالا من يُسَلِّمهَا وَيَقُول إِن الْعَصْر لَا يَخْلُو عَن مُجْتَهد وَإِن كُنَّا لَا نعلمهُ وَلَعَلَّه فِي الْبِلَاد القاصية لَا فِي هَذِه الْبِلَاد
আর যখন এই দাবি করা হয় যে কোনো যুগ মুজতাহিদ (গবেষক) শূন্য থাকে—যা তাদের উদ্দেশ্যের অনুকূল—তখন তা তাদের সকলের পাপাচার এবং সামগ্রিক অবাধ্যতারই এক ঘোষণা।

আমি জানি না আপনারা কি এতে সন্তুষ্ট হবেন, নাকি তারা এই উক্তির প্রবক্তাকে নিন্দা জানাবে এবং তার বক্তব্যকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করবে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভিত্তিহীন (واهية) ও বর্জিত (ساقطة) উক্তি, যার ওপর নির্ভর করা যায় না এবং যা অবলম্বনীয় নয়। আর তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তির অবস্থা সর্বোত্তম, যে এই বিষয়টি মেনে নেয় এবং বলে যে—কোনো যুগই মুজতাহিদ শূন্য হয় না, যদিও আমরা তাকে চিনি না; সম্ভবত তিনি দূরবর্তী কোনো দেশে অবস্থান করছেন, এই দেশে নয়।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌فصل لَا يجوز خلو الزَّمَان عَن مُجْتَهد

رَأْي الْحَنَابِلَة

ذهب الْحَنَابِلَة إِلَى أَنه لَا يجوز خلو الزَّمَان عَن مُجْتَهد مُطلق أَو مُقَيّد لقَوْله صلى الله عليه وسلم لَا تزَال طَائِفَة من أمتِي ظَاهِرين على الْحق حَتَّى يَأْتِي أَمر الله

قَالُوا وَلِأَن الِاجْتِهَاد فرض كِفَايَة فيستلزم انتفاؤه اتِّفَاق الْمُسلمين على الْبَاطِل

‌‌اخْتِيَار ابْن دَقِيق الْعِيد

 

وَاخْتَارَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين الْعِيد أَنه لَا يجوز خلوه عَن مُجْتَهد مَا لم
পরিচ্ছেদ: কোনো যুগ মুজতাহিদ (مجتهد) শূন্য হওয়া জায়েজ নয়

হাম্বলিদের অভিমত

হাম্বলিগণ এই অভিমত পোষণ করেন যে, কোনো কাল মুজতাহিদ মুতলাক (مجتهد مطلق) অথবা মুজতাহিদ মুকাইয়্যাদ (مجتهد مقيد) শূন্য থাকা বৈধ নয়। এর স্বপক্ষে দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।"

তাঁরা বলেন যে, ইজতিহাদ (اجتهاد) হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), তাই এর অনুপস্থিতি বাতিল (باطل) বিষয়ের ওপর মুসলিমদের ঐকমত্য (اتفاق) হওয়াকে আবশ্যক করে তুলবে।

ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর পছন্দকৃত অভিমত

 

শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, কোনো যুগ মুজতাহিদ (مجتهد) শূন্য হওয়া জায়েজ নয় যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يتداعى الزَّمَان بنزول الْقَوَاعِد بِأَن تَأتي أَشْرَاط السَّاعَة الْكُبْرَى كَذَا نَقله عَنهُ ابْن السُّبْكِيّ فِي جمع الْجَوَامِع وَهَذَا الْكَلَام أَخذه من خطْبَة شرح الْإِلْمَام حَيْثُ قَالَ فِيهَا

وَالْأَرْض تَخْلُو من قَائِم لله بِالْحجَّةِ وَالْأمة الشَّرِيفَة لَا بُد فِيهَا من سالك إِلَى الْحق على وَاضح المحجة إِلَى أَن يَأْتِي أَمر الله من أَشْرَاط السَّاعَة الْكُبْرَى وتتابع بعده مَا لَا يبْقى مَعَه إِلَّا قدوم الْآخِرَة

وَهَذَا الْكَلَام استنبطه الشَّيْخ تَقِيّ الدّين من الحَدِيث الْمَذْكُور وَمن قَول على رضي الله عنه لن تَخْلُو الأَرْض من قَائِم لله بِحجَّة لكيلا تبطل حجج الله وبيناته أُولَئِكَ هم الأقلون عددا الأعظمون عِنْد الله قدرا

أخرجه أَبُو نعيم فِي الْحِلْية

وَيشْهد لَهُ أَيْضا مَا أخرجه الدَّارمِيّ فِي مُسْنده عَن وهب بن عَمْرو الحجمي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تعجلوا بالبلية قبل نُزُولهَا

কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ (أشراط الساعة الكبرى) প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে মহাকালের অবসান ঘটবে—ইবনে আল-সুবকী তাঁর ‘জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থে তাঁর থেকে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই বক্তব্যটি তিনি ‘শারহুল ইলমাম’-এর ভূমিকা থেকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

পৃথিবী কখনও আল্লাহর সপক্ষে প্রমাণ (حجة) উপস্থাপনকারী থেকে শূন্য হবে না। আর এই সম্মানিত উম্মতের মাঝে অবশ্যই সত্যের পথে সুষ্পষ্ট পন্থায় বিচরণকারী এমন লোক থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ তথা কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ (أشراط الساعة الكبرى) প্রকাশ পায় এবং এরপর একের পর এক এমন বিষয় আসতে থাকবে যার পরে পরকাল আসা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।

আর এই বক্তব্যটি শাইখ তাকীউদ্দীন উল্লিখিত হাদিস এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তি থেকে আহরণ করেছেন: “আল্লাহর সপক্ষে প্রমাণ (حجة) পেশকারী ব্যক্তি থেকে পৃথিবী কখনও শূন্য হবে না, যাতে আল্লাহর প্রমাণাদি ও নিদর্শনাবলী বিলুপ্ত না হয়ে যায়। তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য হলেও আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে তাঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ।”

এটি আবু নুয়াইম তাঁর ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

আদ-দারিমি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ওহাব ইবনে আমর আল-হাজামি থেকে যা বর্ণনা করেছেন (أخرجه), তাও এর সপক্ষে প্রমাণ দেয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “বিপদ আপতিত হওয়ার আগেই তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না।”

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَإِنَّكُم أَن لَا تعجلوها قبل نُزُولهَا لَا يَنْفَكّ الْمُسلمُونَ وَفِيهِمْ إِذا هِيَ نزلت من إِذا قَالَ وفتى وسدد

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل عَن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن مَرْفُوعا نَحوه

وَكِلَاهُمَا مُرْسل وكل مِنْهُمَا يعضد الآخر

وَهِي شَهَادَة من النَّبِي صلى الله عليه وسلم لأمته بِأَنَّهُم لَا ينفكون عَمَّن يَقُول فِي الْحَادِثَة فَيُصِيب وَذَلِكَ هُوَ الْمُجْتَهد

وَله شَوَاهِد مَوْقُوفَة وَأخرج الدَّارمِيّ وَالْبَيْهَقِيّ عَن معَاذ بن جبل أَنه قَالَ أَيهَا النَّاس لَا تعجلوا بالبلاء قبل نُزُوله فَيذْهب بكم هَا هُنَا وأنكم إِن لم تعجلوا بالبلاء قبل نُزُوله لم يَنْفَكّ الْمُسلمُونَ أَن يكون فيهم من إِذا سُئِلَ سدد وَإِن قَالَ وفْق

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَنه قَالَ إيَّاكُمْ وَهَذِه العضل فَإِنَّهَا إِذا نزلت بعث الله لَهَا من يقيمها أَو يُفَسِّرهَا
নিশ্চয়ই তোমরা যদি কোনো বিষয় ঘটার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করো, তবে মুসলমানদের মধ্যে সর্বদাই এমন লোক থাকবেন যারা বিষয়টি ঘটার পর কথা বললে সঠিক বলবেন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন।

বায়হাকি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর উভয় বর্ণনাই মুরসাল (مرسل) এবং এদের প্রতিটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর উম্মতের জন্য একটি সাক্ষ্য যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সঠিক কথা বলতে সক্ষম এমন ব্যক্তি থেকে তারা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না; আর তিনিই হলেন মুজতাহিদ।

এর জন্য কিছু মাওকুফ (موقوفة) শাহিদ (شواهد) রয়েছে। দারেমি এবং বায়হাকি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, "হে লোকসকল! তোমরা বিপদ আসার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে। আর তোমরা যদি বিপদ আসার আগে তাড়াহুড়ো না করো, তবে মুসলমানদের মধ্যে সবসময় এমন ব্যক্তি থাকবেন যাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সঠিক উত্তর দেবেন এবং কথা বললে সঠিক পথের তাওফিক পাবেন।"

বায়হাকি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, "তোমরা এই জটিল মাসআলাগুলো থেকে বেঁচে থাকো; কারণ যখন এগুলো আপতিত হয়, আল্লাহ তখন এমন কাউকে পাঠান যিনি সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেন বা ব্যাখ্যা প্রদান করেন।"
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌قَول محب الدّين وَالِد ابْن دَقِيق الْعِيد

 

وَقَالَ الشَّيْخ محب الدّين وَالِد الشَّيْخ تَقِيّ الدّين دَقِيق الْعِيد فِي كِتَابه تلقيح الإفهام عز الْمُجْتَهد فِي هَذِه الإعصار وَلَيْسَ ذَلِك لتعذر حُصُول آلَة الِاجْتِهَاد بل لإعراض النَّاس فِي اشتغالهم عَن الطَّرِيق المفضية إِلَى ذَلِك

وَقَالَ بَعضهم الِاجْتِهَاد فِي هَذَا الزَّمَان أسهل مِنْهُ فِي الزَّمن الأول لِأَن الْآلَات من الْأَحَادِيث وَغَيرهَا قد دونت وَسَهل مراجعتها بِخِلَاف الزَّمن الأول فَلم يكن فِيهِ شَيْء من آلَات الِاجْتِهَاد مدون

‌‌قَول النَّوَوِيّ

 

وَقَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب فِي بَاب آدَاب الْعَالم وَيَنْبَغِي أَن يعتني بالتصنيف إِذا تأهل لَهُ فِيهِ يطلع على حقائق الْعلم ودقائقه وينبت مَعَه لِأَنَّهُ يضطره إِلَى كَثْرَة المطالعة والتفتيش وَالتَّحْقِيق والمراجعة والإطلاع على مُخْتَلف كَلَام الْأَئِمَّة ومتفقه وواضحه عَن مشكله وَصَحِيحه من ضعيفه وجزله

من ركيكه وَمَا لَا اعْتِرَاض عَلَيْهِ من غَيره وَبِه يَتَّصِف الْمُحَقق بِصفة الْمُجْتَهد

‌‌قَول أبي طَالب الْمَكِّيّ

 

وَقَالَ أَبُو طَالب الْمَكِّيّ فِي كتاب قوت الْقُلُوب أعلم أَن العَبْد
মুহিব্বুদ্দীন, ইবনে দাকীকুল ঈদ-এর পিতার উক্তি

 

শায়খ মুহিব্বুদ্দীন, শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ-এর পিতা, তাঁর ‘তালকীহুল ইফহাম’ গ্রন্থে বলেছেন: বর্তমান যুগে মুজতাহিদ (مجتهد)-এর অস্তিত্ব বিরল হয়ে পড়েছে। এটি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর উপকরণ অর্জন করা অসম্ভব হওয়ার কারণে নয়, বরং মানুষ এই পথে পরিচালিত করে এমন জ্ঞানার্জনের কাজ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে হয়েছে।

তাদের কেউ কেউ বলেন: বর্তমান যুগে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা প্রাথমিক যুগের তুলনায় সহজ, কারণ হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রের উপকরণসমূহ সংকলিত হয়েছে এবং সেগুলোতে উদ্ধৃতি অনুসন্ধান করা সহজ হয়েছে; যা প্রাথমিক যুগের বিপরীত ছিল, কারণ তখন ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর কোনো উপকরণই সংকলিত আকারে ছিল না।

‌নববীর উক্তি

 

ইমাম নববী শারহুল মুহাযযাব-এর ‘আদাবুল আলিম’ (বিদ্বানের আদব) অধ্যায়ে বলেছেন: যখন কেউ যোগ্য হয়ে ওঠেন, তখন তাঁর গ্রন্থ রচনার প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে তিনি ইলমের নিগুঢ় সত্য ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং তাঁর জ্ঞান বিকশিত হয়। কারণ এটি তাঁকে অধিক অধ্যয়ন, অনুসন্ধান, তাহকীক (গবেষণা), পুনরীক্ষণ এবং ইমামগণের বক্তব্যের ভিন্নতা ও ঐক্য, অস্পষ্ট বিষয় থেকে স্পষ্ট বিষয় এবং সহিহ (صحيح) থেকে দুর্বল (ضعيف) ও বলিষ্ঠ থেকে জীর্ণ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করার এবং অন্যের আপত্তির ঊর্ধ্বে যা রয়েছে তা সম্পর্কে অবগত হতে বাধ্য করে। এর মাধ্যমেই একজন গবেষক মুজতাহিদ (مجتهد)-এর গুণে গুণান্বিত হন।

‌আবু তালিব মক্কীর উক্তি

 

আবু তালিব মক্কী তাঁর ‘কুতুল কুলুব’ গ্রন্থে বলেছেন: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই বান্দা...
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
إِذا كاشفه الله بالمعرفة وَالْيَقِين لم يَسعهُ تَقْلِيد أحد من الْعلمَاء وَكَذَلِكَ كَانَ المتقدمون إِذا أقِيمُوا هَذَا الْمقَام خالفوا من حملُوا عَنهُ الْعلم وَلأَجل ذَلِك كَانَ الْفُقَهَاء يكْرهُونَ التَّقْلِيد وَيَقُولُونَ لَا يَنْبَغِي للرجل أَن يُفْتى حَتَّى يعرف اخْتِلَاف الْعلمَاء أَي فيختار مِنْهَا الْأَحْوَط للدّين والأقوى بِالْيَقِينِ فَلَو كَانُوا يحبونَ أَن يُفْتى الْعَالم بِمذهب غَيره لم يحْتَج أَن يعرف الِاخْتِلَاف ولكان إِذا عرف مَذْهَب صَاحبه كَفاهُ وَمن قبل أَن العَبْد يسْأَل غَدا فَيُقَال مَاذَا عملت مِمَّا علمت وَلَا يُقَال لَهُ فِيمَا علم غَيْرك وَقَالَ الله تَعَالَى {وَقَالَ الَّذين أُوتُوا الْعلم وَالْإِيمَان} فقرن بَينهمَا فَدلَّ على أَنه من أُوتِيَ إِيمَانًا ويقينا أُوتِيَ علما كَمَا أَن من أُوتِيَ علما نَافِعًا أُوتِيَ إِيمَانًا وَهَذَا أحد الْوُجُوه فِي معنى قَوْله تَعَالَى {أُولَئِكَ كتب فِي قُلُوبهم الْإِيمَان وأيدهم بِروح مِنْهُ} أَي قواهم بِعلم الْإِيمَان فَعلم الْإِيمَان هُوَ روحه وَتَكون الْهَاء عَائِدَة على الْإِيمَان لِأَن الْعَالم الَّذِي هُوَ من أهل الاستنباط وَالِاسْتِدْلَال من الْكتاب وَالسّنة وَمَعْرِفَة أَدَاة الصَّنْعَة وَآلَة الصنع لِأَنَّهُ ذُو تميز وبصيرة وَمن أهل التَّدْبِير وَالْعبْرَة انْتهى

যখন আল্লাহ তাআলা কাউকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান (معرفة) ও নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) দ্বারা উদ্ভাসিত করেন, তখন তার জন্য কোনো আলেমকে অন্ধভাবে অনুসরণ (تقليد) করার অবকাশ থাকে না। আর পূর্বসূরিদের (متقدمون) অবস্থাও এমনই ছিল; যখন তারা এই উচ্চমাকামে অধিষ্ঠিত হতেন, তখন তারা তাদের সেসব উস্তাদের মতের বিরোধিতা করতেন যাদের নিকট থেকে তারা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। আর এ কারণেই ফকিহগণ (فقهاء) অন্ধ অনুসরণ (تقليد) অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, আলেমদের মতপার্থক্য (اختلاف) না জানা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির পক্ষে ফতোয়া (فتوى) প্রদান করা সমীচীন নয়। অর্থাৎ, তিনি যেন সেসব মতের মধ্য থেকে দ্বীনের জন্য সবচেয়ে সতর্কতামূলক এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী মতটি বেছে নিতে পারেন। যদি তারা পছন্দ করতেন যে একজন আলেম অন্য কারোর মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করুক, তবে মতপার্থক্য (اختلاف) জানার কোনো প্রয়োজন হতো না; বরং নিজ ইমামের মাযহাব (مذهب) জানাই তার জন্য যথেষ্ট হতো। আরও এ কারণে যে, কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, "তুমি যা জানতে সে অনুযায়ী কী আমল করেছ?" তাকে অন্যের অর্জিত জ্ঞানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে না। আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দান করা হয়েছে তারা বলবে}; এখানে তিনি জ্ঞান ও ঈমানকে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে যাকে ঈমান ও নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) দান করা হয়েছে তাকে জ্ঞানও দান করা হয়েছে, ঠিক যেমন যাকে উপকারী জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে ঈমানও দান করা হয়েছে। আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্যতম একটি ব্যাখ্যা: {এরাই তারা, যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে রুহ (روح) দ্বারা শক্তিশালী করেছেন}। অর্থাৎ তিনি তাদেরকে ঈমানের জ্ঞান দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। সুতরাং ঈমানের জ্ঞানই হলো ঈমানের প্রাণ (روح); আর এখানে 'হু' (هاء) সর্বনামটি ঈমানের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। কারণ সেই আলেম যিনি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান উদ্ঘাটন (استنباط) ও প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال) করার যোগ্য এবং এই শাস্ত্রীয় কারিগরি উপকরণ (أداة) ও জ্ঞানতাত্ত্বিক হাতিয়ার (آلة) সম্পর্কে সম্যক অবগত, তিনি মূলত স্বতন্ত্র বিচারবোধ (تميز) ও অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) অধিকারী এবং গভীর চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فصل 3 - شُرُوط الِاجْتِهَاد

عِنْد الشهرستانى

قَالَ الشهرستانى فِي الْملَل والنحل شَرَائِط الِاجْتِهَاد خَمْسَة

معرفَة صدر صَالح من اللُّغَة بِحَيْثُ يُمكنهُ فهم لُغَات الْعَرَب والتمييز بَين الْأَلْفَاظ الوضعية والمستعارة وَالنَّص وَالظَّاهِر وَالْعَام وَالْخَاص وَالْمُطلق والمقيد والمجمل والمفصل وفحوى الْخطاب وَمَفْهُوم الْكَلَام وَمَا يدل على مَفْهُومه بالمطابقة وَمَا يدل بالتضمن وَمَا يدل بالاستتباع فَإِن هَذِه الْمعرفَة كالآلة الَّتِي بهَا يحصل الشَّيْء وَمن لم يحكم الْآلَة والأداة لم يصل إِلَى تَمام الصِّيغَة ثمَّ معرفَة تَفْسِير الْقُرْآن خُصُوصا مَا يتَعَلَّق
পরিচ্ছেদ ৩ - ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর শর্তাবলি

আশ-শাহরাস্তানির মতে

আশ-শাহরাস্তানি আল-মিলাল ওয়ান নিহাল গ্রন্থে বলেছেন, ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর শর্তাবলি পাঁচটি:

ভাষার একটি পর্যাপ্ত অংশ সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখা যাতে তিনি আরবদের ভাষাসমূহ বুঝতে পারেন এবং মৌলিক শব্দ (الألفاظ الوضعية) ও রূপক শব্দ (المستعارة), অকাট্য পাঠ (النص) ও সুস্পষ্ট (الظاهر), সাধারণ (العام) ও বিশেষ (الخاص), নিঃশর্ত (المطلق) ও সশর্ত (المقيد), সংক্ষিপ্ত (المجمل) ও বিস্তারিত (المفصل), বাচনভঙ্গির নিহিতার্থ (فحوى الخطاب), বক্তব্যের ভাষাগত মর্মার্থ (مفهوم الكلام) এবং যা সরাসরি নির্দেশন (بالمطابقة)-এর মাধ্যমে অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যা অন্তর্ভুক্তিকরণের (بالتضمن) মাধ্যমে প্রমাণ করে এবং যা অনুগমন বা আবশ্যকতার (بالاستتباع) মাধ্যমে প্রমাণ দেয়—এসবের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হন। কেননা, এই জ্ঞান হলো সেই যন্ত্রের মতো যার দ্বারা কোনো লক্ষ্য অর্জিত হয়; আর যে ব্যক্তি যন্ত্র ও সরঞ্জামে পারদর্শী নয়, সে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখায় পৌঁছাতে পারে না। এরপর কুরআনের তাফসির সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, বিশেষ করে যা সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بِالْأَحْكَامِ وَمَا ورد من الْأَخْبَار فِي مَعَاني الْآيَات وكما رأى من الصَّحَابَة المعتبرين كَيفَ سلكوا مناهجها وَأي معنى فَهموا من مدارجها وَلَو جهل تَفْسِير سَائِر الْآيَات الَّتِي تتَعَلَّق بالمواعظ والقصص لم يضرّهُ ذَلِك فِي الِاجْتِهَاد فَإِن من الصَّحَابَة من كَانَ لَا يدْرِي تِلْكَ المواعظ وَلم يتَعَلَّم بعد جَمِيع الْقُرْآن وَكَانَ من أهل الِاجْتِهَاد

ثمَّ معرفَة الْأَخْبَار بمتونها وأسانيدها والإحاطة بأحوال النقلَة والرواة عَدو لَهَا وثقاتها ومطعونها ومردودها والإحاطة بالوقائع الْخَاصَّة فِيهَا وَمَا هُوَ عَام ورد فِي حَادِثَة خَاصَّة وَمَا هُوَ خَاص عمم فِي الْكل حكمه

ثمَّ الْفرق بَين الْوَاجِب وَالنَّدْب وَالْإِبَاحَة والحظر وَالْكَرَاهَة حَتَّى لَا يشذ عَنهُ وَجه من هَذِه الْوُجُوه وَلَا يخْتَلط عَلَيْهِ بَاب بِبَاب

ثمَّ معرفَة مواقع إِجْمَاع الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ من السّلف الصَّالِحين حَتَّى لَا يَقع اجْتِهَاد فِي مُخَالفَة الْإِجْمَاع

ثمَّ التهدي إِلَى مَوَاضِع الأقيسة وَكَيْفِيَّة النّظر والتردد فِيهَا من طلب أصل أَولا ثمَّ طلب معنى مخيل يستنبط مِنْهُ فيعلق الحكم عَلَيْهِ أَو شبه يغلب على الظَّن فَيلْحق الحكم بِهِ

বিধানসমূহ এবং আয়াতের মর্মার্থ নিয়ে বর্ণিত বর্ণনা (أخبار) এবং নির্ভরযোগ্য (معتبر) সাহাবীগণকে তিনি যেভাবে ঐ সকল পদ্ধতির অনুসারী হতে দেখেছেন এবং তাদের স্তরসমূহ থেকে তারা যে অর্থ উপলব্ধি করেছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। যদি তিনি উপদেশ ও কাহিনী সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে অজ্ঞাতও থাকেন, তবে তা তার ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করবে না। কেননা সাহাবীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি ঐ সকল উপদেশ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং তখনও পূর্ণ কুরআন শিক্ষা করেননি, অথচ তিনি মুজতাহিদগণের (أهل الاجتهاد) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

অতঃপর বর্ণনাগুলোর মূলপাঠ (متن) ও সনদ (إسناد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং বর্ণনাকারী (نقلة) ও রাবীদের (رواة) অবস্থা সম্পর্কে পরিবেষ্টিত জ্ঞান রাখা; অর্থাৎ তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدول), নির্ভরযোগ্যতা (ثقات), তাদের সমালোচিত (مطعون) দিক এবং বর্জনীয় (مردود) হওয়া সম্পর্কে সম্যক জানা। সেই সাথে বিশেষ ঘটনাবলি এবং কোনটি সাধারণ (عام) যা কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে আর কোনটি বিশেষ (خاص) যার বিধানকে সর্বজনীন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে অবগত হওয়া।

এরপর ওয়াজিব (واجب), মুস্তাহাব (ندب), বৈধ (إباحة), নিষিদ্ধ (حظر) এবং মাকরূহ (كراهة)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা, যাতে এগুলোর কোনো দিকই তার অজানা না থাকে এবং এক অধ্যায় অন্য অধ্যায়ের সাথে মিশে না যায়।

অতঃপর সালাফে সালেহীনদের মধ্য থেকে সাহাবী ও তাবিঈগণের ইজমা (إجماع) বা ঐকমত্যের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যাতে ইজমা (إجماع)-এর পরিপন্থী কোনো ইজতিহাদ (اجتهاد) সংঘটিত না হয়।

এরপর কিয়াস (أقيسة) বা অনুমানের ক্ষেত্রগুলোর দিকে পথনির্দেশ লাভ করা এবং এতে চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি আয়ত্ত করা; যার প্রক্রিয়া হলো—প্রথমে মূল ভিত্তি (أصل) অন্বেষণ করা, অতঃপর সেখান থেকে কোনো যৌক্তিক কারণ বা অর্থ উদ্ভাবন (يستنبط) করা যার ওপর বিধানটি নির্ভরশীল হবে, অথবা এমন কোনো সাদৃশ্য (شبه) খুঁজে বের করা যা প্রবল ধারণার (ظن) উদ্রেক করে এবং এর মাধ্যমে বিধানটি তার সাথে যুক্ত হয়।

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
فَهَذِهِ خمس شَرَائِط لَا بُد من اعْتِبَارهَا حَتَّى يكون الْمُجْتَهد مُجْتَهدا وَاجِب الإتباع والتقليد فِي حق الْعَاميّ فَإِذا حصل الْمُجْتَهد هَذِه المعارف سَاغَ لَهُ الِاجْتِهَاد وَيكون الحكم الَّذِي أدّى إِلَيْهِ اجْتِهَاده سائغا فِي الْفَرْع وَوَجَب على الْعَاميّ تَقْلِيده وَالْأَخْذ بفتواه انْتهى

‌‌عِنْد الرَّافِعِيّ وَالنَّوَوِيّ

 

وَقَالَ الرَّافِعِيّ وَتَبعهُ النَّوَوِيّ فِي الرَّوْضَة إِنَّمَا تحصل أَهْلِيَّة الِاجْتِهَاد لمن علم أمورا

أَحدهَا كتاب الله تَعَالَى وَلَا يشْتَرط الْعلم بِجَمِيعِهِ بل مِمَّا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ وَلَا يشْتَرط حفظه عَن ظهر قلب

الثَّانِي سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا جَمِيعهَا بل بِمَا يتَعَلَّق مِنْهَا بِالْأَحْكَامِ وَيشْتَرط أَن يعرف مِنْهَا الْخَاص وَالْعَام وَالْمُطلق والمقيد والمجمل والمبين والناسخ والمنسوخ وَمن السّنة الْمُتَوَاتر والآحاد والمرسل والمتصل وَحَال الروَاة جرحا وتعديلا

الثَّالِث أقاويل عُلَمَاء الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ إِجْمَاعًا واختلافا

الرَّابِع الْقيَاس فَيعرف جلية وخفيه وتميز الصَّحِيح من الْفَاسِد

الْخَامِس لِسَان الْعَرَبيَّة لُغَة وإعرابا لِأَن الشَّرْع ورد بِالْعَرَبِيَّةِ وبهذه الْجِهَة يعرف عُمُوم اللَّفْظ وخصوصه وإطلاقه وتقييده وإجماله وَبَيَانه
এগুলো হলো পাঁচটি শর্ত যা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যাতে একজন মুজতাহিদ (مجتهد) এমন স্তরের মুজতাহিদ হতে পারেন যার অনুসরণ ও অনুকরণ (تقليد) সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য ওয়াজিব। যখন একজন মুজতাহিদ এই জ্ঞানসমূহ অর্জন করেন, তখন তার জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ হয় এবং তার ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তটি শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়ে প্রযোজ্য হয়, আর সাধারণ মানুষের ওপর তার তাকলিদ (تقليد) করা এবং ফতোয়া গ্রহণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। সমাপ্ত।

‌‌রাফেয়ী ও নববীর নিকট

 

রাফেয়ী বলেছেন এবং রওদাহ গ্রন্থে নববী তাঁর অনুসরণ করেছেন যে, ইজতিহাদের (اجتهاد) যোগ্যতা কেবল তাঁর জন্যই অর্জিত হবে যিনি কিছু বিষয় অবগত হবেন।

প্রথমটি হলো: আল্লাহ তাআলার কিতাব; তবে এর সম্পূর্ণ অংশ জানা শর্ত নয়, বরং কেবল আহকামের (বিধান) সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু জানাই যথেষ্ট এবং তা মুখস্থ থাকা শর্ত নয়।

দ্বিতীয়টি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ; তবে এর সম্পূর্ণ অংশ নয়, বরং কেবল আহকামের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশ। আর এক্ষেত্রে শর্ত হলো যে, তিনি এর বিশেষ (خاص), সাধারণ (عام), শর্তহীন (مطلق), শর্তযুক্ত (مقيد), সংক্ষিপ্ত (مجمل), বিশদ (مبين), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত হবেন। সুন্নাহর মধ্য হতে অতি-প্রসিদ্ধ (متواتر), একক সূত্রীয় (آحاد), বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং নিরবচ্ছিন্ন (متصل) প্রকারভেদসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা তথা সমালোচনা (جرح) ও সত্যায়ন (تعديل) সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে।

তৃতীয়টি হলো: সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ, চাই তা ঐকমত্য (إجماع) হোক বা মতভেদ (اختلاف)।

চতুর্থটি হলো: কিয়াস (قياس); সুতরাং এর স্পষ্ট ও সূক্ষ্ম প্রকারগুলো জানতে হবে এবং সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণের (فاسد) মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হতে হবে।

পঞ্চমটি হলো: আরবি ভাষা, এর শব্দতত্ত্ব ও ব্যাকরণসহ; কারণ শরিয়ত আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর এই বিষয়ের মাধ্যমেই শব্দের ব্যাপকতা (عموم) ও বিশেষত্ব (خصوص), এর শর্তহীনতা (إطلاق) ও শর্তযুক্ত হওয়া (تقييد) এবং এর সংক্ষিপ্ততা (إجمال) ও বিশদ বর্ণনা (بيان) অনুধাবন করা যায়।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
قَالَ أَصْحَابنَا لَا يشْتَرط التبحر فِي هَذِه الْعُلُوم بل يَكْفِي معرفَة جمل مِنْهَا

‌‌عِنْد الْغَزالِيّ

 

وَزَاد الْغَزالِيّ تحقيقات ذكرهَا فِي أصُول الْفِقْه مِنْهَا أنة لَا حَاجَة إِلَى تتبع الْأَحَادِيث على تفرقها وانتشارها بل يَكْفِي أَن يكون عِنْده أصل يجمع أَحَادِيث الْأَحْكَام كسنن أبي دَاوُد وَيَكْفِي أَن يعرف مواقع كل بَاب فيراجعه إِذا احْتَاجَ إِلَى الْعَمَل بذلك الْبَاب ونازعه النَّوَوِيّ فِي التَّمْثِيل بسنن أبي دَاوُد فَإِنَّهُ لم يستوعب الصَّحِيح من أَحَادِيث الْأَحْكَام وَلَا معظمه

وَمِنْهَا أَن لَا يشْتَرط ضبط جَمِيع مَوَاضِع الْإِجْمَاع وَالِاخْتِلَاف بل يَكْفِي أَن يعرف فِي الْمَسْأَلَة الَّتِي يُفْتى فِيهَا أَن قَوْله لَا يُخَالف الْإِجْمَاع بِأَن يعلم أَنه وَافق بعض الْمُتَقَدِّمين أَو يغلب على ظَنّه أَن الْمَسْأَلَة لم يتَكَلَّم فِيهَا الْأَولونَ بل تولدت فِي عصره وعَلى هَذَا قِيَاس معرفَة النَّاسِخ والمنسوخ

وَمِنْهَا أَن اجْتِمَاع هَذَا الْعُلُوم إِنَّمَا يشْتَرط فِي الْمُجْتَهد الْمُطلق الَّذِي يُفْتى فِي جَمِيع أَبْوَاب الشَّرْع وَيجوز أَن يكون للْعَالم منصب الِاجْتِهَاد فِي
আমাদের আসহাবগণ বলেছেন যে, এই সকল বিদ্যায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করা শর্ত নয়, বরং এগুলোর একটি সারাংশ জানাই যথেষ্ট।

‌‌ইমাম আল-গাজ্জালীর নিকট

 

ইমাম আল-গাজ্জালী উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রে কিছু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো, হাদিসসমূহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে সেগুলোর প্রতিটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তালাশ করার প্রয়োজন নেই। বরং মুজতাহিদের নিকট আহকাম সংক্রান্ত হাদিস সংকলিত এমন একটি মূল উৎস থাকাই যথেষ্ট, যেমন: সুনানে আবু দাউদ। আর প্রতিটি অধ্যায়ের স্থানসমূহ জানাই যথেষ্ট হবে, যাতে যখন ওই অধ্যায় অনুযায়ী আমল করার প্রয়োজন হয়, তখন তিনি তা দেখে নিতে পারেন। তবে ইমাম আন-নববী সুনানে আবু দাউদকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন; কেননা এটি আহকামের হাদিসসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসগুলোর সবটুকু অথবা অধিকাংশকেও বেষ্টন করেনি।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো, ইজমা ও ইখতিলাফের সকল ক্ষেত্র আয়ত্ত করা শর্ত নয়। বরং যে মাসআলায় ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এটি জানাই যথেষ্ট যে তার বক্তব্যটি ইজমার বিরোধী নয়; আর তা এভাবে যে তিনি জানবেন যে তিনি পূর্ববর্তীদের কারো সাথে একমত হয়েছেন অথবা তার প্রবল ধারণা হবে যে এই মাসআলাটি নিয়ে পূর্বসূরিরা আলোচনা করেননি বরং এটি তার যুগেই উদ্ভূত হয়েছে। রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) চেনার বিষয়টিও এই একই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো, এই সকল বিদ্যার সমাবেশ কেবল সেই মুজতাহিদে মুতলাকের জন্য শর্ত, যিনি শরীয়তের সকল অধ্যায়ে ফতোয়া প্রদান করেন। আর একজন আলেমের জন্য ইজতিহাদের যোগ্যতা থাকা বৈধ হতে পারে...
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
بَاب دون بَاب وعد الْأَصْحَاب من شُرُوط الِاجْتِهَاد معرفَة أصُول الِاعْتِقَاد

قَالَ الْغَزالِيّ وَعِنْدِي أَنه يَكْفِي اعْتِقَاد جازم وَلَا يشْتَرط مَعْرفَتهَا على طرق الْمُتَكَلِّمين وبأدلته الَّتِي يجردونها انْتهى

وَعبارَة الْغَزالِيّ فِي المنخول لَا بُد من علم اللُّغَة فَإِن مآخذ الشَّرْع أَلْفَاظ عَرَبِيَّة وَيَنْبَغِي أَن يشْتَغل بفهم كَلَام الْعَرَب وَلَا يَكْفِيهِ الرُّجُوع إِلَى الْكتب فَإِنَّهَا لَا تدل إِلَّا على مَعَاني الْأَلْفَاظ فَأَما الْمعَانِي المفهومة من سياقها وترتيبها لَا يفهمها إِلَّا من يشْتَغل بهَا

والتعمق فِي غرائب اللُّغَة لَا يشْتَرط

ولابد من علم النَّحْو فَمِنْهُ يثور مُعظم اشكالات الْقُرْآن

وَلَا بُد من علم الْأَحَادِيث الْمُتَعَلّقَة بِالْأَحْكَامِ والتعويل فِيهِ على الْكتب جَائِز وَمَعْرِفَة النَّاسِخ والمنسوخ

وَعلم التواريخ ليتبين الْمُتَقَدّم من الْمُتَأَخر

وَالْعلم بالسقيم وَالصَّحِيح من الْأَحَادِيث

وسير الصَّحَابَة ومذاهب الْأَئِمَّة لكيلا يخرق إِجْمَاعًا

وَلَا بُد من أصُول الْفِقْه وَلَا اسْتِقْلَال للنَّظَر دونه
পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের অংশ; এবং আলেমগণের মতে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অন্যতম শর্ত হলো আকিদার মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

ইমাম গাজালি বলেন, আমার মতে একটি দৃঢ় বিশ্বাসই যথেষ্ট এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের (متكلمين) পদ্ধতি অনুযায়ী কিংবা তাদের উপস্থাপিত বিস্তারিত দলীলসমূহের মাধ্যমে তা জানা শর্ত নয়। সমাপ্ত।

আল-মানখুল গ্রন্থে ইমাম গাজালির বক্তব্য হলো: ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান থাকা আবশ্যক, কারণ শরিয়তের উৎসসমূহ হলো আরবি শব্দাবলি। তাই আরবি ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে ব্যাপৃত হওয়া উচিত। কেবল গ্রন্থরাজির শরণাপন্ন হওয়া যথেষ্ট নয়, কারণ তা কেবল শব্দের আক্ষরিক অর্থের নির্দেশ দেয়। তবে প্রসঙ্গের ধারা ও বিন্যাস থেকে যে অর্থগুলো বোধগম্য হয়, তা কেবল সেই ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারে যে এ বিষয়ে চর্চায় নিয়োজিত থাকে।

ভাষার বিরল ও জটিল শব্দাবলীতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করা শর্ত নয়।

এবং নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য, কারণ তা থেকেই কুরআনের অধিকাংশ অস্পষ্টতা বা জটিল বিষয়ের সমাধান পাওয়া যায়।

এবং বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা বৈধ এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও জরুরি।

এবং ইতিহাসের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট হয়।

এবং হাদিসসমূহের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) ও সহিহ (صحيح) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরামের জীবনী এবং ইমামগণের মাযহাব সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন যাতে কোনো ইজমা (إجماع) ভঙ্গ না হয়।

এবং উসুলুল ফিকহ এর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য, যা ব্যতীত স্বাধীনভাবে গবেষণালব্ধ মত প্রদানের কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَفقه النَّفس لَا بُد مِنْهُ وَهُوَ غريزة لَا تتَعَلَّق بالاكتساب

وَلَا بُد من معرفَة أَحْكَام الشَّرْع

‌‌عِنْد أبي مَنْصُور التَّمِيمِي

 

وَقَالَ الْأُسْتَاذ أَبُو مَنْصُور عبد القاهر بن طَاهِر التَّمِيمِي فِي كِتَابه التَّحْصِيل من شَرط الْمُجْتَهد فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة أَن يكون عَالما بأصول أَحْكَام الشَّرْع الَّتِي هِيَ الْكتاب وَالسّنة والمقاييس الشَّرْعِيَّة

وَأَن يكون عَالما بأصول هَذِه الْأُصُول من الدَّلَائِل الْعَقْلِيَّة

وَأَن يكون عَالما بجملة من اللُّغَة تفصل بَين الْحَقِيقَة وَالْمجَاز وَيعرف مِنْهَا مَرَاتِب الْخلاف

وَأَن يكون عَارِفًا بضروب علم النَّحْو والتصريف ومعاني حُرُوف الْمعَانِي

وَأَن يكون عَارِفًا بجمل من الْأَخْبَار الْمُتَعَلّقَة بِأَحْكَام الشَّرْع

وَإِذ داهمته عَن حفظه مَا يتَعَلَّق مِنْهَا بالقصص والمواعظ جَازَ
আন্তরপ্রজ্ঞা (فقه النفس) অপরিহার্য; এটি একটি সহজাত প্রবৃত্তি যা অর্জনের (الاكتساب) মাধ্যমে লাভ করা যায় না।

এবং শারঈ বিধানসমূহ (أحكام الشرع) সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও আবশ্যক।

‌‌আবু মনসুর আত-তামিমীর নিকট

 

উস্তাদ আবু মনসুর আবদুল কাহির বিন তাহির আত-তামিমী তাঁর 'আত-তাহসিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শারঈ বিধানসমূহের ক্ষেত্রে একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য শর্ত হলো তাকে শারঈ বিধানের মূলনীতিসমূহ (أصول أحكام الشرع) অর্থাৎ কিতাব, সুন্নাহ এবং শারঈ কিয়াস (مقاييس شرعية) সম্পর্কে পারদর্শী হতে হবে।

এবং তাকে এই মূলনীতিগুলোর ভিত্তি তথা বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহ (دلائل عقلية) সম্পর্কেও জ্ঞানী হতে হবে।

তদুপরি তাকে ভাষাতত্ত্বের এমন একটি মৌলিক অংশ সম্পর্কে অবগত হতে হবে যা প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থের (مجاز) মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে এবং যার মাধ্যমে সে মতভেদের পর্যায়গুলো বুঝতে সক্ষম হয়।

এবং তাকে নাহু ও সরফ-এর বিভিন্ন প্রকার এবং অর্থবোধক অব্যয়সমূহের (حروف المعاني) তাৎপর্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

এবং তাকে শারঈ বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট পর্যাপ্ত সংখ্যক হাদিস সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হবে।

আর যদি গল্প-কাহিনী ও উপদেশ সংশ্লিষ্ট বর্ণনাগুলো মুখস্থ রাখার বিষয়টি তার আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, তবে তা অনুমোদিত।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَأَن يكون عَارِفًا بطرق الْأَخْبَار من تَوَاتر وآحاد متوسط بَينهمَا ليميز من يقطع بِهِ مِنْهَا وَبَين مَا لَا يقطع بِهِ وَأَن يكون عَارِفًا بِشُرُوط الروَاة والأسباب الَّتِي ترد بهَا الرِّوَايَة والأسباب الَّتِي تقبل مَعهَا الرِّوَايَة

وَأَن يكون عَارِفًا بِوُجُوه الْقيَاس ومواضعه ووجوه التَّرْجِيح وأقسامه ثمَّ يكون عَارِفًا بِوُجُوه تَرْتِيب الْآيَات وَالسّنَن وَالْجمع بَينهمَا وَتَخْصِيص بَعْضهَا بِبَعْض وَنسخ بَعْضهَا بِبَعْض مَعَ كلمة الشُّرُوط النّسخ والتخصيص

ثمَّ يكون عَالما بجمل من أَحْكَام الصَّحَابَة على الْإِجْمَاع والإختلاف حَتَّى لَا يشذ عَنهُ إِلَّا النَّادِر

ثمَّ يكون عَالما بجمل من فروع الْفِقْه محيطا بالمشهور مِنْهَا وببعض مَا غمض مِنْهَا كفروع الْحيض والفرائض والدور والوصايا وَالدّين

وَاخْتلف أَصْحَابنَا فِي الْمُتَعَلّق مِنْهَا بِالْحِسَابِ

فَمنهمْ من قَالَ من شَرطه معرفَة وُجُوه الْحساب فهما وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح لِأَن مِنْهَا مَا لَا يُمكن اسْتِخْرَاج الْجَواب فِيهَا إِلَّا بِالْحِسَابِ فَمن كَانَت هَذِه صفته فَهُوَ من أهل الِاجْتِهَاد

‌‌عِنْد الرَّازِيّ والأرموي

 

وَقَالَ صَاحب الْمَحْصُول وَتَبعهُ صَاحب الْحَاصِل

الْعُلُوم الَّتِي يحْتَاج إِلَيْهَا الْمُجْتَهد ثَمَانِيَة

أَرْبَعَة كالأصول وَهِي الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع والمعقول
এবং তাকে বর্ণনার পদ্ধতিসমূহ যেমন- মুতাওয়াতির (تواتر) এবং আহাদ (آحاد) এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্তর সম্পর্কে অবগত হতে হবে যাতে তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে যা অকাট্য এবং যা অকাট্য নয় তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। আরও তাকে রাবীদের (الرواة) শর্তাবলি এবং যে সকল কারণে বর্ণনা (الرواية) প্রত্যাখ্যান করা হয় ও যে সকল কারণে বর্ণনা (الرواية) গ্রহণ করা হয়, সে সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

এবং তাকে কিয়াসের (القياس) পদ্ধতিসমূহ ও এর প্রয়োগস্থল এবং তারজিহ (الترجيح) বা প্রধান্য প্রদানের দিকসমূহ ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হতে হবে। এরপর তাকে আয়াতসমূহ ও সুন্নাহর বিন্যাস পদ্ধতি, এতদুভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন, একটির মাধ্যমে অন্যটিকে নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এবং একটির দ্বারা অন্যটির রহিতকরণ (النسخ) সম্পর্কে এবং রহিতকরণ (النسخ) ও নির্দিষ্টকরণের (التخصيص) শর্তাবলি সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

অতঃপর তাকে সাহাবীদের ইজমা (الإجماع) এবং মতভেদ সম্পর্কিত বিধানসমূহের সমষ্টি সম্পর্কে আলেম হতে হবে, যাতে খুব নগণ্য বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু তার অজানা না থাকে।

এরপর তাকে ফিকহের শাখা-প্রশাখার (ফুরুউল ফিকহ) একটি বড় অংশ সম্পর্কে আলেম হতে হবে এবং এর মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো ও কিছু জটিল বিষয় যেমন হায়েয, ফারায়েয, দাওর, ওসিয়ত এবং ঋণ সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে ব্যুৎপত্তি থাকতে হবে।

আর এসকল বিষয়ের মধ্যে গণিত বা হিসাব-নিকাশ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পণ্ডিতগণের (আসহাব) মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, হিসাব-নিকাশের পদ্ধতিগুলো অনুধাবন করা ইজতিহাদের জন্য একটি শর্ত; আর এটিই সঠিক মত। কারণ এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোর সমাধান হিসাব ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। যার মধ্যে এই গুণাবলি থাকবে, তিনি ইজতিহাদ (الاجتهاد) করার যোগ্য বলে গণ্য হবেন।

রাজি এবং আরমাউয়ির নিকট

 

আল-মাহসুল গ্রন্থের লেখক বলেছেন এবং আল-হাসিল গ্রন্থের লেখক তাকে অনুসরণ করেছেন:

একজন মুজতাহিদের জন্য প্রয়োজনীয় শাস্ত্র হলো আটটি।

চারটি মূল বা উসূলস্বরূপ; সেগুলো হলো- কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা (الإجماع) এবং যৌক্তিক প্রমাণ (المعقول)।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَفِي علم الْكتاب تحقيقان

أَحدهمَا أَنه لَا حَاجَة إِلَى كل الْكتاب بل إِلَى مَا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّة وَهِي خَمْسمِائَة آيَة

وَالثَّانِي أَنه لَا حَاجَة إِلَى حفظهَا بل يعلم مواقعها ليراجعها عِنْد الْحَاجة وَهَذَانِ التحقيقان جاريان فِي السّنة

وَأما الْإِجْمَاع فَيحْتَاج إِلَى مَعْرفَته لِئَلَّا يُفْتى بِخِلَافِهِ

وَأما الْمَعْقُول فَالْقِيَاس لشرائطه

وَأَرْبَعَة تجْرِي مجْرى الأَصْل

فأحدهما علم الْعَرَبيَّة كاللغة والنحو والتصريف

وَثَانِيها علم كَيْفيَّة استفادة التصورات والتصديقات من مادتها وَهُوَ علم الْمنطق

وَثَالِثهَا علم النَّاسِخ والمنسوخ

وَرَابِعهَا علم الْجرْح وَالتَّعْدِيل

وَلَا حَاجَة إِلَى الْكَلَام وتفاريع الْفِقْه فَإِنَّهَا نتيجة الِاجْتِهَاد وَالشَّيْء لَا يتَوَقَّف على فروعه
পবিত্র কুরআনের জ্ঞানের ক্ষেত্রে দুটি বিশ্লেষণমূলক সিদ্ধান্ত রয়েছে

প্রথমটি হলো, সমগ্র কিতাবের প্রয়োজন নেই বরং কেবল শারঈ বিধান (الأحكام الشرعية) সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর প্রয়োজন, আর তা হলো পাঁচশত আয়াত।

দ্বিতীয়টি হলো, সেগুলো মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই, বরং এগুলোর অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকাই যথেষ্ট যাতে প্রয়োজনে সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়; আর এই দুটি বিশ্লেষণ সুন্নাহর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আর সর্বসম্মত ঐক্য (الإجماع) প্রসঙ্গে কথা হলো, এটি সম্পর্কে জানা আবশ্যক যাতে এর বিপরীতে কোনো ফতোয়া প্রদান করা না হয়।

আর যুক্তিনির্ভর বিষয়ের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে কিয়াস (القياس) প্রযোজ্য।

এবং চারটি বিষয় মূলনীতির (الأصل) স্থলাভিষিক্ত।

তার মধ্যে প্রথমটি হলো আরবি ভাষা বিষয়ক জ্ঞান, যেমন: অভিধান (اللغة), ব্যাকরণ (النحو) ও শব্দরূপান্তর (التصريف)।

দ্বিতীয়টি হলো বিষয়ের মূল উপাদান থেকে ধারণা (التصورات) ও প্রত্যয়ন (التصديقات) লাভের পদ্ধতি বিষয়ক জ্ঞান, আর তা হলো যুক্তিবিদ্যা (المنطق)।

তৃতীয়টি হলো রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ক জ্ঞান।

চতুর্থটি হলো বর্ণনাকারীর দোষ-গুণ বিচার (الجرح والتعديل) বিষয়ক জ্ঞান।

ইলমুল কালাম (الكلام) এবং ফিকহের শাখাগত মাসয়ালাসমূহের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সেগুলো হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর ফলাফল; আর কোনো বিষয় তার শাখা-প্রশাখার ওপর নির্ভরশীল নয়।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌عِنْد ابْن الصّلاح

 

وَقَالَ ابْن الصّلاح لَا يشْتَرط فِي الْمُجْتَهد المستقل معرفَة تفاريع الْفِقْه لِأَنَّهَا نتيجة الِاجْتِهَاد فَلَو شرطت فِيهِ لزم الدّور نعم يشْتَرط فِي الْمُجْتَهد الَّذِي يتَأَدَّى بِهِ فرض الْكِفَايَة فِي الأفتاء ليسهل عَلَيْهِ إِدْرَاك أَحْكَام الوقائع على قرب من غير تَعب كَبِير

وَهُوَ معنى قَول الْغَزالِيّ إِنَّمَا يحصل الِاجْتِهَاد فِي زَمَاننَا بممارسة الْفِقْه فَهُوَ طَرِيق تَحْصِيله فِي هَذَا الزَّمَان وَلم يكن الطَّرِيق فِي زمن الصَّحَابَة رضي الله عنهم ذَلِك

وَقَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ يَكْفِي فِي الْمُجْتَهد بالتوسط فِي عُلُوم الْعَرَبيَّة من لُغَة وإعراب وتصريف وَمَعَان وَبَيَان

وَفِي أصُول الْفِقْه لَا بُد أَن يكون لَهُ فِيهَا ملكة وَأَن يكون مَعَ ذَلِك قد أحَاط بمعظم قَوَاعِد الشَّرْع ومارسها بِحَيْثُ اكْتسب قُوَّة يفهم بهَا مَقَاصِد الشَّرْع

وَكَانَ هَذَا هُوَ الَّذِي عبر عَنهُ الْغَزالِيّ بِفقه النَّفس وَيحْتَمل أَن يكون غَيره وَجزم بِهِ ابْن السُّبْكِيّ فِي جمع الْجَوَامِع وفسروه بِأَن يكون شَدِيد الْفَهم بالطبع لمقاصد الْكَلَام بِحَيْثُ يكون لَهُ قدرَة على التصريف

قَالَ الْغَزالِيّ إِذا لم يتَكَلَّم الْفَقِيه فِي مَسْأَلَة لم يسْمعهَا ككلامه فِي مَسْأَلَة سَمعهَا فَلَيْسَ بفقيه

هَذَا مَجْمُوع كَلَام الْعلمَاء فِي شُرُوط الِاجْتِهَاد
‌ইবনে আস-সালাহ-এর মতে

 

ইবনে আস-সালাহ বলেন, স্বাধীন মুজতাহিদ (المجتهد المستقل)-এর জন্য ফিকহের খুটিনাটি শাখাগত মাসআলাসমূহ জানা শর্ত নয়; কারণ তা ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর ফলাফল। সুতরাং যদি একে শর্ত হিসেবে ধরা হয়, তবে তা চক্রক আবর্তন (الدور) এর নামান্তর হবে। তবে হ্যাঁ, ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে যার মাধ্যমে ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) আদায় হয়, এমন মুজতাহিদের জন্য এটি শর্ত, যাতে তার পক্ষে সমসাময়িক ঘটনাবলির বিধানসমূহ কোনো বড় ধরনের কষ্ট ছাড়াই দ্রুত অনুধাবন করা সহজ হয়।

ইমাম গাজালির বক্তব্যের মর্মার্থও এটিই যে, বর্তমান যুগে ফিকহ চর্চার মাধ্যমেই ইজতিহাদ (الاجتهاد) অর্জিত হয়; সুতরাং এই যুগে এটিই তা অর্জনের পথ। সাহাবীগণের যুগে বিষয়টি এমন ছিল না।

শাইখ তাকিউদ্দীন আস-সুবকি বলেন, একজন মুজতাহিদের জন্য আরবি ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান যেমন: শব্দতত্ত্ব, ব্যাকরণ, রূপান্তর এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে পরিমিত জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট।

আর উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর ক্ষেত্রে তার বিশেষ দক্ষতা (ملكة) থাকা আবশ্যক এবং এর পাশাপাশি তাকে শরীয়তের অধিকাংশ মূলনীতি (قواعد الشرع) আয়ত্ত করতে হবে এবং সেগুলোর এমন চর্চা করতে হবে যার মাধ্যমে তিনি শরীয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشرع) অনুধাবনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।

এটিই সেই বিষয় যাকে ইমাম গাজালি 'ফিকহুন নাফস' (فقه النفس) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও এর ভিন্ন কোনো অর্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইবনে আস-সুবকি 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিকে প্রাকৃতিকভাবেই বক্তব্যের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবনে অত্যন্ত প্রখর ধীসম্পন্ন হতে হবে, যাতে তার প্রয়োগিক রূপান্তরের সক্ষমতা থাকে।

ইমাম গাজালি বলেন, কোনো ফকিহ যদি এমন কোনো মাসআলা যা তিনি আগে শুনেননি, সে সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করতে না পারেন যেমনটি তিনি শোনা মাসআলার ক্ষেত্রে করেন, তবে তিনি ফকিহ নন।

ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর শর্তাবলি সম্পর্কে এটিই আলেমগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
فصل 4 شُرُوط الِاجْتِهَاد عِنْد السُّيُوطِيّ

 

قلت وَحَاصِل ذَلِك أَن الْعُلُوم الْمُشْتَرط فِي الِاجْتِهَاد بضعَة عشر

أَحدهَا عُلُوم الْكتاب الْعَزِيز وَهِي كَثِيرَة جدا وَقد جمعت فِي أُصُولهَا كتاب الإتقان فِي عُلُوم الْقُرْآن وَهُوَ مُجَلد ضخم مُشْتَمل على ثَمَانِينَ نوعا وَكلهَا أَو أَكْثَرهَا مِمَّا يتَوَقَّف عَلَيْهِ الِاجْتِهَاد وَمن أهمها معرفَة أَسبَاب النُّزُول وَقد أفردت فِيهِ كتابا لم يؤلف مثله سميته لباب النقول وَمَعْرِفَة النَّاسِخ والمنسوخ وَقد حررته فِي الإتقان تحريرا بَالغا وَمَعْرِفَة مَا ورد من الْأَخْبَار والْآثَار فِي مَعَاني الْآيَات وَقد ألفت فِي ذَلِك الدّرّ المنثور فِي التَّفْسِير الْمَأْثُور أَربع مجلدات وَمَعْرِفَة مَا استنبطه الْعلمَاء مِنْهُ فن الْأَحْكَام وَقد ألفت فِي ذَلِك الإكليل فِي استنباط التَّنْزِيل وَمَعْرِفَة أسراره وبلاغته ومجازاته وأساليبه وَقد ألفت فِي ذَلِك أسرار التَّنْزِيل ثَلَاث مجلدات ولي فِي تعلقات الْقُرْآن تصانيف أخر لَا يحْتَاج مَعهَا إِلَى غَيرهَا

الثَّانِي عُلُوم السّنة وَهِي مائَة علم شرحها فِي الْكتب الَّتِي ألفتها فِي عُلُوم الحَدِيث وَقد تبِعت بِحَمْد الله جَمِيع الْأَحَادِيث على تفرقها وانتشارها فأحطت بأضعاف مَا فِي الْكتب السِّتَّة فضلا عَن سنَن أبي دَاوُد من كتاب الصِّحَاح وَالسّنَن والجوامع وَالْمَسَانِيد والمعاجم والأجزاء والفوائد والتواريخ مَعَ معرفَة متصلها ومرسلها ومعضلها ومنقطعها ومدلسها ومدرجها وَمَا اخْتلف فِي وَصله وإرساله وَفِي رَفعه وَوَقفه وَمَعْرِفَة أَصَحهَا وصحيحها وحسنها لذاته وحسنها لغيره وضعيفها المتماسك وواهها ومنكرها
পরিচ্ছেদ ৪: সুয়ূতির নিকট ইজতিহাদের শর্তাবলি

 

আমি বলি, এর সারমর্ম হলো ইজতিহাদের জন্য শর্তযুক্ত জ্ঞানসমূহ দশের অধিক।

প্রথমটি হলো মহান কিতাবের (কুরআন) জ্ঞানসমূহ, যা সংখ্যায় অনেক। আমি এগুলোর মূলনীতি সম্পর্কে 'আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন' নামক গ্রন্থটি সংকলন করেছি। এটি একটি বিশাল খণ্ড যা আশিটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর সবকটি বা অধিকাংশের ওপর ইজতিহাদ নির্ভরশীল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) জানা; এ বিষয়ে আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখেছি যার সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি, এর নাম দিয়েছি 'লুবাবুন নুকুল'। এছাড়াও নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوখ) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; যা আমি আল-ইতকান গ্রন্থে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আলোচনা করেছি। তদুপরি আয়াতসমূহের অর্থ সম্পর্কে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনা ও আছার সম্পর্কে জ্ঞান রাখা; এ বিষয়ে আমি চার খণ্ডে 'আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরিল মাসুর' রচনা করেছি। আরও প্রয়োজন হলো আলিমগণ কুরআন থেকে যা উদ্ভাবন করেছেন সেই আহকাম বা বিধিবিধানের জ্ঞান; এ বিষয়ে আমি 'আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল' লিখেছি। এছাড়া কুরআনের রহস্য, অলঙ্কারশাস্ত্র, রূপক এবং বর্ণনাভঙ্গি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; এ বিষয়ে আমি তিন খণ্ডে 'আসরারুত তানজিল' রচনা করেছি। কুরআন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার আরও অন্যান্য রচনা রয়েছে, যা থাকলে অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না।

দ্বিতীয়টি হলো সুন্নাহর জ্ঞানসমূহ এবং এটি একশত প্রকার ইলম বা জ্ঞানের সমষ্টি, যা আমি হাদিস বিজ্ঞানের ওপর রচিত গ্রন্থাবলীতে ব্যাখ্যা করেছি। আল্লাহর প্রশংসায়, আমি সমস্ত হাদিসকে তাদের বিক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত অবস্থা সত্ত্বেও অনুসরণ করেছি, ফলে আমি 'কুতুবুস সিত্তা' (ছয়টি কিতাব) এমনকি সুনানে আবু দাউদে যা আছে তার কয়েক গুণ বেশি সহিহ, সুনান, জামে, মুসনাদ, মু'জাম, জুয, ফাওয়াইদ এবং ইতিহাস গ্রন্থাবলি আয়ত্ত করেছি। এর পাশাপাশি হাদিসের সংযুক্ত (متصل), বিচ্ছিন্ন (مرسل), জটিল (معضل), ছিন্ন (منقطع), লুকায়িত (مدلس) এবং প্রক্ষিপ্ত (مدرج) হওয়া সম্পর্কেও অবগতি লাভ করেছি। এছাড়া যা বর্ণনার ক্ষেত্রে সংযুক্তকরণ (وصل) ও বিচ্ছিন্নকরণ (إرسাল) এবং মারফু (رفع) ও মাওকুফ (وقف) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সে সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করেছি। আরও চিনেছি সর্বাধিক সহিহ (أصح), সহিহ (صحيح), স্বকীয়ভাবে হাসান (حسن لذاته), অন্য কারণে হাসান (حسن لغيره), সহনযোগ্য দুর্বল (ضعيف متماسك), অত্যন্ত দুর্বল (واهن) এবং মুনকার (منكر) হাদিসসমূহ।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
ومتروكها وشاذها ومعللها وَمَا اخْتلف فِي صِحَّته وَحسنه وَضَعفه ومتواترها ومشهورها وأحادها وغريبها ومردها الْمُطلق وفردها النسبي وَمَا لَهُ متابع من لَفظه وَمَا لَهُ شَاهد من مَعْنَاهُ وناسخها ومنسوخها وَأَسْبَاب وُرُودهَا وتصانيفي الحدية كافلة بِكَثِير من ذَلِك

الثَّالِث علم أصُول الْفِقْه وَهُوَ أهم مِمَّا بعده لأجل كَيْفيَّة الِاسْتِدْلَال وَتَقْدِيم بعض الْأَدِلَّة على بعض وَالْجمع بَينهمَا عِنْد معارضها وَقد ألفت فِيهِ منظومة جمع الْجَوَامِع وشرحتها

الرَّابِع علم اللُّغَة وَهَذَا يرجع فِيهِ إِلَى الْكتب الْمُؤَلّفَة فِي ذَلِك كصحاح الْجَوْهَرِي بتكملته للصغاني والعباب والقاموس وَنَحْوهَا وَإِلَى الْكتب الْمُؤَلّفَة فِي يغريب الْقُرْآن وغريب الحَدِيث

الْخَامِس الْمعَانِي المفهومة من السِّيَاق وَهُوَ الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الْغَزالِيّ فِي المنخول وَأَنه لَا يَكْتَفِي فِيهِ بكتب اللُّغَة وَقد ألف فِي هَذَا النَّوْع بِخُصُوصِهِ الرَّاغِب كِتَابه مُفْرَدَات الْقُرْآن وعقدت لَهُ فِي الإتقان فصلاء

السَّادِس وَالسَّابِع النَّحْو وَالصرْف وكتبي فِيهَا كَثِيرَة وَلَو لم يكن إِلَّا جمع الْجَوَامِع وَشَرحه كَانَ فيهمَا غنية كَبِيرَة

الثَّامِن وَالتَّاسِع والعاشر الْمعَانِي وَالْبَيَان والبديع وَقد ألفت فِيهَا ألفية وشرحتها

الْحَادِي عشر علم الْإِجْمَاع وَالْخلاف وَهَذَا يُؤْخَذ من غصون الْكتب وَأول مَا يحْتَاج فِيهِ إِلَى ممارسة فقه الْمَذْهَب حَتَّى يُحِيط بمسائل الْقطع ومسائل الْأَقْوَال وَالْوُجُوه ثمَّ ينْهض إِلَى مُرَاجعَة كتب بَقِيَّة الْمذَاهب

এবং এর বর্জনীয় (متروك), বিচ্ছিন্ন (شاذ) ও ত্রুটিপূর্ণ (معلل) হাদিসসমূহ; আর যেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة), গ্রহণযোগ্যতা (حسن) এবং দুর্বলতা (ضعف) নিয়ে মতভেদ রয়েছে; এবং মুতাওয়াতির (متواتر), মাশহুর (مشهور), আহাদ (أحاد), গরিব (غريب), শর্তহীন একক (فرد المطلق) ও আপেক্ষিক একক (فرد النسبي) বর্ণনা; যার শব্দের অনুরূপ মুতাবি (متابع) রয়েছে এবং যার অর্থের অনুরূপ শাহিদ (شاهد) রয়েছে; নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) হাদিস এবং হাদিস অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب ورودها)। হাদিস বিষয়ক আমার গ্রন্থসমূহ এসকল বিষয়ের অধিকাংশকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তৃতীয়ত: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র। এটি পরবর্তী বিষয়গুলো অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দলীল আহরণ পদ্ধতি (الاستدلال), এক দলীলের ওপর অন্য দলিলকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দলীলসমূহের মাঝে বৈপরীত্য দেখা দিলে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার পদ্ধতি জানা যায়। আমি এ বিষয়ে 'জামউল জাওয়ামি' নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছি এবং তার ব্যাখ্যাও লিখেছি।

চতুর্থত: ভাষাতত্ত্ব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হতে হয়, যেমন আল-জওহরীর 'সিহাহ' এবং আল-সাগানী কর্তৃক এর পরিশিষ্ট, 'আল-উবাব', 'আল-কামুস' ও সমজাতীয় গ্রন্থসমূহ; এবং 'গারিব আল-কুরআন' ও 'গারিব আল-হাদিস' বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ।

পঞ্চমত: প্রেক্ষাপট (سياق) থেকে প্রাপ্ত অর্থসমূহ। ইমাম গাজালি 'আল-মানখুল' গ্রন্থে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, এক্ষেত্রে কেবল আভিধানিক গ্রন্থসমূহ যথেষ্ট নয়। এ বিশেষ বিষয়ে ইমাম রাঘিব তার 'মুফরাদাতুল কুরআন' গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং আমি 'আল-ইতকান' গ্রন্থে এর জন্য একটি পরিচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছি।

ষষ্ঠ ও সপ্তমত: নাহু ও সরফ। এ বিষয়ে আমার বহু গ্রন্থ রয়েছে। যদি কেবল 'জামউল জাওয়ামি' এবং তার ব্যাখ্যাও থাকত, তবে তা এই দুই শাস্ত্রে এক বিশাল ভাণ্ডার হিসেবে যথেষ্ট হতো।

অষ্টম, নবম ও দশমত: মাআনি, বয়ান ও বাদি। এ বিষয়ে আমি একটি 'আলফিয়াহ' রচনা করেছি এবং তার ব্যাখ্যাও লিখেছি।

একাদশতম: ইজমা (إجماع) ও মতভেদ (خلاف) সংক্রান্ত শাস্ত্র। এটি বিভিন্ন গ্রন্থের শাখা-প্রশাখা থেকে আহরণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হলো কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের ফিকহ চর্চা করা, যাতে করে অকাট্য মাসআলা এবং ইমামদের বক্তব্য ও মতামতের দিকগুলো সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জিত হয়। এরপর অন্যান্য মাজহাবের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার দিকে অগ্রসর হতে হয়।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَالْخلاف العالي وَلَا يشْتَرط حفظ الْكل بل يعرف مواقعه ليراجعه عِنْد الْحَاجة كَمَا تقدم فِي الْكَلَام الْغَزالِيّ والرافعي وَالنَّوَوِيّ

الثَّانِي عشر علم الْحساب وَهَذَا شَرط فِي الْمُجْتَهد الْمُطلق فِي جَمِيع أَبْوَاب الشَّرْع أما الْمُجْتَهد فِيمَا عدا الْفَرَائِض وَنَحْوهَا فَلَا يشْتَرط فِيهِ وَلِهَذَا لم يذكرهُ الشَّيْخَانِ وَلَا غَيرهمَا سوى الْأُسْتَاذ أبي مَنْصُور

الثَّالِث عشر فقه النَّفس

الرَّابِع عشر الْإِحَاطَة بمعظم قَوَاعِد الشَّرْع الَّذِي ذكره السُّبْكِيّ أَن عددناه مغايرا لفقه النَّفس وَإِلَّا فَهُوَ وَمَا قبله وَاحِد وَيَنْبَغِي أَن يضم إِلَى ذَلِك

خَامِس عشر وَهُوَ علم الْأَخْلَاق ومداواة الْقُلُوب أخذا من كَلَام صَاحب قوت الْقُلُوب

وَذكر السُّبْكِيّ فِي جمع الْجَوَامِع من شُرُوطه أَن يكون عَارِفًا بِالدَّلِيلِ الْعقلِيّ وَهُوَ الْمنزلَة أساسا مكلفون بالتمسك بِهِ مَا لم تردنَا حجَّة وَلَا حَاجَة إِلَى أَفْرَاد هَذَا شرطا لِأَنَّهُ من جملَة أصُول الْفِقْه

وَأما علم الْكَلَام فالراجح عدم اشْتِرَاطه كَمَا قَالَه الْغَزالِيّ والشيخان
এবং উচ্চমানের মতভেদ (الخلاف العالي)। তবে সবকিছু মুখস্থ রাখা শর্ত নয়, বরং এর উৎসস্থলসমূহ জানতে হবে যাতে প্রয়োজনে সেগুলো দেখা যায়, যেমনটি ইমাম গাযালি, রাফেয়ি এবং নববীর আলোচনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

দ্বাদশ: গণিত শাস্ত্র (علم الحساب)। এটি শরয়ি বিধানের সকল ক্ষেত্রে স্বাধীন মুজতাহিদ (المجتهد المطلق)-এর জন্য একটি শর্ত। তবে উত্তরাধিকার আইন এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে মুজতাহিদ হওয়ার জন্য এটি শর্ত নয়। এ কারণেই শায়খাইন এবং উস্তাদ আবু মনসুর ব্যতীত অন্য কেউ এটি উল্লেখ করেননি।

ত্রয়োদশ: ফিকহুন নাফস (فقه النفس) (অর্থাৎ সহজাত প্রজ্ঞা)।

চতুর্দশ: শরয়ি নীতিমালার (قواعد الشرع) অধিকাংশের ওপর পূর্ণ ব্যুৎপত্তি রাখা, যা ইমাম সুবকী উল্লেখ করেছেন—যদি আমরা একে 'ফিকহুন নাফস' থেকে ভিন্ন মনে করি, অন্যথায় এটি এবং এর পূর্বের বিষয়টি অভিন্ন। এর সাথে আরও যা যুক্ত করা সমীচীন—

পঞ্চদশ: আর তা হলো আখলাক শাস্ত্র (علم الأخلاق) এবং অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা, যা 'কুতুল কুলুব' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য থেকে গৃহীত।

ইমাম সুবকী জামিউল জাওয়ামি গ্রন্থে অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তাকে যৌক্তিক দলীল (الدليل العقلي) সম্পর্কে অবগত হতে হবে। এটিই হচ্ছে সেই মূল ভিত্তি যার ওপর অটল থাকতে আমরা আদিষ্ট যতক্ষণ না আমাদের নিকট অন্য কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) আসে। তবে এটিকে পৃথক শর্ত হিসেবে ধরার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এরই অংশ।

আর কালাম শাস্ত্র (علم الكلام) প্রসঙ্গে অগ্রগণ্য মত (الراجح) হলো এটি শর্ত নয়, যেমনটি ইমাম গাযালি ও শায়খাইন বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَأما علم الْمنطق فَأَقل وأذل من أَن يذكر وَقد كَانَ المجتهدون وتقررت الْمذَاهب فِي الْمِائَة الأولى وَالثَّانيَِة والمنطق بعد فِي جَزِيرَة قبرص لم يدْخل بَين الْمُسلمين وَلَا أحضر إِلَى بِلَاد الْإِسْلَام من قبرص إِلَّا فِي خلَافَة الْمَأْمُون وَعلم أصُول الْفِقْه وَالْبَيَان تعنيان عَنهُ فِي كَيْفيَّة الاستفادة وَلم يذكرهُ أحد من الْفُقَهَاء والأصوليين بل زجروا عَنهُ وحرموا الِاشْتِغَال بِهِ وَلم يُوَافق صَاحِبي الْمَحْصُول وَالْحَاصِل أحد على عده شرطا حَتَّى وَلَا الْبَيْضَاوِيّ الَّذِي مهاجه مُخْتَصر من الْحَاصِل

আর যুক্তিবিদ্যা (المنطق) শাস্ত্রের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো গুরুত্বের চেয়েও অনেক তুচ্ছ ও নগণ্য। অথচ প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতেই মুজতাহিদ (مجتهدون) ইমামগণ বিদ্যমান ছিলেন এবং মাযহাবসমূহ (المذاهب) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন যুক্তিবিদ্যা (المنطق) তখনও সাইপ্রাস দ্বীপেই পড়ে ছিল। এটি মুসলিমদের মধ্যে প্রবেশ করেনি এবং খলিফা আল-মামুনের খেলাফতকালের আগে সাইপ্রাস থেকে ইসলামি ভূখণ্ডে আনীত হয়নি। কোনো উৎস থেকে কীভাবে জ্ঞান আহরণ করতে হয়, সে বিষয়ে উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) এবং আল-বায়ান (البيان) শাস্ত্রই যুক্তিবিদ্যা থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফকিহ (الفقهاء) এবং উসুলবিদদের (الأصوليون) কেউই এটি উল্লেখ করেননি; বরং তাঁরা এটি থেকে সতর্ক করেছেন এবং এর চর্চাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। আল-মাহসুল ও আল-হাসিল গ্রন্থদ্বয়ের লেখকগণ যুক্তিবিদ্যাকে যে শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করেছেন, সে ব্যাপারে কেউ তাঁদের সাথে একমত হননি; এমনকি ইমাম বাইযাভীও নন, যাঁর মিনহাজ গ্রন্থটি মূলত আল-হাসিল-এর একটি সংক্ষিপ্তসার।

(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
فَائِدَة 5 دَلِيل استكمال شَرَائِط الِاجْتِهَاد

 

قَالَ الشهرستاني بِأَيّ شَيْء يعرف الْعَاميّ أَن الْعَالم قد وصل إِلَى حد الِاجْتِهَاد وَكَذَلِكَ الْمُجْتَهد نَفسه مَتى يعلم أَنه قد اسْتكْمل شَرَائِط الِاجْتِهَاد فِيهِ نظر كَذَا فِي عدَّة نسخ من كِتَابه من غير زِيَادَة عَلَيْهِ وَكَأَنَّهُ لم يَتَّضِح لَهُ فِيهِ شَيْء يذكرهُ

وَيظْهر أَن الْعَالم يعرف ذَلِك من نَفسه بَان يعلم أَنه أتقن آلاته كل الإتقان وجد لَهُ ملكة وقدرة على الاستنباط واستخراج الْأَحْكَام الْخفية من الْأَدِلَّة الْبَعِيدَة على نَظِير مَا حكى عَن إِمَام الْحَرَمَيْنِ أَنه سُئِلَ مَا الدَّلِيل على أَن الْبَارِي تَعَالَى لَيْسَ فِي جِهَة

فَقَالَ الدَّلِيل عَلَيْهِ قَوْله صلى الله عليه وسلم لَا تفضلُونِي على يُونُس بن مَتى فخفي وَجه الدّلَالَة على الْحَاضِرين مقرره لَهُم بطريقة فَمثل هَذَا الاستنباط الدَّقِيق إِنَّمَا يُدْرِكهُ مُجْتَهد بِخِلَاف أَخذ الْأَحْكَام الظَّاهِرَة من الْأَدِلَّة الْقَرِيبَة فَأن ذَلِك يقدر عَلَيْهِ كل عَالم وَأَن لم يبلغ دَرَجَة الِاجْتِهَاد

وَأما معرفَة الْعَاميّ ذَلِك فَلَا يُمكن إِلَّا بأخبار الْمُجْتَهد عَن نَفسه لِأَن الِاجْتِهَاد معنى قَائِم بِالنَّفسِ لَا إطلاع للعامي عَلَيْهِ نعم قد يدْرك ذَلِك بِكَثْرَة الاختبار من لَهُ أَهْلِيَّة الاختبار
উপযোগিতা ৫: ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর শর্তাবলি (شرائط) পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ

 

শাহরাস্তানি বলেছেন: একজন সাধারণ ব্যক্তি (عامي) কিসের মাধ্যমে জানবেন যে, একজন আলেম ইজতিহাদ (الاجতেহাদ)-এর সীমায় পৌঁছেছেন? তদ্রূপ মুজতাহিদ (المجتهد) নিজেও কখন জানবেন যে তিনি নিজের মধ্যে ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর শর্তাবলি (شرائط) পূর্ণ করেছেন? বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। তাঁর কিতাবের বেশ কিছু অনুলিপিতে অতিরিক্ত কোনো বর্ণনা ছাড়াই বিষয়টি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। মনে হচ্ছে, তাঁর নিকট এ বিষয়ে উল্লেখ করার মতো কোনো কিছু স্পষ্ট হয়নি।

আর এটি স্পষ্ট যে, একজন আলেম নিজের ভেতর থেকেই তা উপলব্ধি করতে পারেন। আর তা এভাবে যে, তিনি জানবেন যে তিনি এর অনুষঙ্গসমূহ (آلات) পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত করেছেন এবং তাঁর মধ্যে সুদূরপ্রসারী দলিলসমূহ (أدلة) থেকে নিগূঢ় বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ (استخراج) ও গবেষণা করার (استنباط) মতো সহজাত দক্ষতা (ملكة) ও সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। যেমনটি ইমামুল হারামাইন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মহান স্রষ্টা কোনো নির্দিষ্ট দিকে (جهة) নেই—এর দলিল কী?

তিনি বললেন: এর দলিল হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তা-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না।" তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট এর নির্দেশনার দিকটি (دلالة) অস্পষ্ট থেকে গেল। অতঃপর তিনি একটি পদ্ধতির মাধ্যমে তা তাদের নিকট বুঝিয়ে দিলেন। এ ধরনের সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত আহরণ (استنباط) কেবল একজন মুজতাহিদ (المجتهد)-ই অনুধাবন করতে পারেন। এর বিপরীতে নিকটবর্তী দলিলসমূহ (أدلة) থেকে প্রকাশ্য বিধানসমূহ (أحكام) গ্রহণ করা ভিন্ন বিষয়; কেননা প্রত্যেক আলেমই তা করতে সক্ষম, যদিও তিনি ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর স্তরে (درجة) না পৌঁছান।

আর সাধারণ মানুষের (عامي) পক্ষে এটি জানা কেবল মুজতাহিদ (المجتهد) কর্তৃক নিজের সম্পর্কে অবগত করার মাধ্যমেই সম্ভব। কারণ ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো মনের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়, যা সাধারণ মানুষের (عامي) পক্ষে অবগত হওয়া সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, যাঁর যাচাই করার যোগ্যতা (أهلية) রয়েছে, তিনি অধিক পরীক্ষার (اختبار) মাধ্যমে তা উপলব্ধি করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَالظَّاهِر قبُول قَول الْعَالم فِي الْأَخْبَار عَن نَفسه أَنه وصل إِلَى حد الِاجْتِهَاد إِذا كَانَ عدلا قِيَاسا على قَوْلهم من أدعى الصُّحْبَة قبل قَوْله فِي ذَلِك إِذا كَانَ عدلا لِأَن عَدَالَته تَمنعهُ أَن يكذب وَلَا نظر إِلَى اتهامه بِكَوْنِهِ يَدعِي لنَفسِهِ رُتْبَة عالية
প্রকাশ্য অভিমত হলো, কোনো আলেম যদি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দেন যে তিনি ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছেছেন এবং তিনি যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন, তবে তাঁর কথা গ্রহণ করা হবে। এটি ওলামাদের এই বক্তব্যের সাথে কিয়াস বা তুল্য যে, যে ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়া অবস্থায় সাহাবিয়্যাত (صحبة) দাবি করে, তার সেই দাবি গ্রহণ করা হবে। কারণ তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) তাকে মিথ্যা বলতে বাধা দেয়। তিনি নিজের জন্য একটি উচ্চ মর্যাদার দাবি করছেন—এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য নাকচ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌تَنْبِيه

 

الْعجب مِمَّن لَا يصدق بِوُجُود مُجْتَهد الْيَوْم مَعَ صَلَاحِية الْقُدْرَة الإلهية بِمثل مَا وَقع فِي الزَّمن الْمَاضِي وَأعظم مِنْهُ وَأغْرب من ذَلِك أَن يُتْلَى على آذانهم فِي كتب الْأُصُول بكرَة وعشيا ذكر الْمُجْتَهدين من الْيَهُود وَالنَّصَارَى فَكيف يقررون بِإِمْكَان الِاجْتِهَاد فِي أُولَئِكَ الْملَل ويستبعدونه فِي الْمُتَأَخِّرين من هَذِه الْملَّة الشَّرِيفَة الَّتِي حباها الله بِكُل خير مَعَ الْأَحَادِيث الدَّالَّة على اسْتِمْرَار فيهم إِلَى قيام السَّاعَة وَإِلَى قيام السَّاعَة وَإِلَى وجود أشراطها قَوْله صلى الله عليه وسلم مثل أمتِي مثل الْمَطَر لَا يدْرِي أَوله خير أم آخِره وَقَوله صلى الله عليه وسلم يبْعَث الله على رَأس كل مائَة سنة من يجدد لهَذِهِ الْأمة أَمر دينهَا

وَقد رَأَيْت بِخَط الْكَمَال الشمني وَالِد شَيخنَا الإِمَام تَقِيّ الدّين مَا نَصه
সতর্কীকরণ (تنبيه)

 

সেই সব ব্যক্তিদের দেখে বিস্ময় জাগে যারা বর্তমান যুগে কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করে না; অথচ মহান আল্লাহর ক্ষমতা যেমন অতীতকালে কার্যকর ছিল, আজও তেমনই বা তার চেয়েও মহান ও বিস্ময়কর কিছু প্রকাশে সক্ষম। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, উসুল (أصول) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে সকাল-সন্ধ্যা তাদের সামনে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার মুজতাহিদদের (المجتهدون) কথা পঠিত হয়। তারা কীভাবে সেই সব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইজতিহাদ (الاجتهاد) সম্ভব বলে স্বীকার করে নেন, অথচ এই মহান উম্মত—যাকে আল্লাহ তায়ালা সকল কল্যাণ দান করেছেন—তার পরবর্তী যুগের (المتأخرين) অনুসারীদের ক্ষেত্রে একে অসম্ভব মনে করেন? অথচ এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে এই ধারা অব্যাহত থাকার প্রমাণ দেয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত হলো বৃষ্টির ন্যায়, যার শুরু ভালো নাকি শেষ ভালো তা জানা যায় না।" এবং তাঁর অন্য একটি বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এই উম্মতের জন্য এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের দ্বীনের সংস্কার (تجديد) করবেন।"

আমি আমাদের শায়খ ইমাম তাকিউদ্দীন-এর পিতা কামাল আশ-শুমান্নীর হস্তাক্ষরে একটি পাঠ দেখেছি যার ভাষ্য নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
قَالَ شَيخنَا عز الدّين بن جمَاعَة أَحَالهُ أهل زَمَاننَا وجود الْمُجْتَهد يفتر عَن حبر مَا وَإِلَّا أما يكون الْقَائِلُونَ لذَلِك من الْمُجْتَهدين وَمَا الْمَانِع من فضل الله واختصاصه بعض الْفَيْض والوهب وَالعطَاء بعض أهل الصفوة انْتهى

وَقد ذكر فِي عدَّة من كتب الْأُصُول أَنه رب امْرَأَة فِي خدرها بلغت دَرَجَة الِاجْتِهَاد وَلَا يشْعر بهَا فَكيف يستبعدون ذَلِك على من خدم الْعلم نَحْو ثَلَاثِينَ سنة

وَقد ذكر فِي تَرْجَمَة الْقفال أَنه كَانَ فِي أول أمره صناعًا صَنْعَة الأقفال ثمَّ اشْتغل بِالْعلمِ وَهُوَ كَبِير أَظُنهُ ابْن أَرْبَعِينَ وَوصل بعد ذَلِك إِلَى دَرَجَة الِاجْتِهَاد
আমাদের শাইখ ইযযুদ্দীন বিন জামাআহ বলেছেন যে, আমাদের যুগের মানুষেরা মুজতাহিদ (مجتهد)-এর অস্তিত্বকে অসম্ভব বলে গণ্য করেছেন... অন্যথা যারা এ কথা বলছেন তারা কি মুজতাহিদ (مجتهدين) নন? আর আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর বিশেষ দান, করুণা ও হেবা মনোনীত বান্দাদের কাউকে বিশেষভাবে প্রদান করার ক্ষেত্রে কী অন্তরায় থাকতে পারে? সমাপ্ত।

উসুল (أصول)-এর একাধিক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, পর্দার অন্তরালে থাকা অনেক নারীও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছে গিয়েছেন অথচ তাদের সম্পর্কে কেউ জানতেও পারেনি। সুতরাং যারা প্রায় ত্রিশ বছর ইলমের খিদমত করেছেন, তাদের ব্যাপারে তারা কীভাবে এটাকে অসম্ভব মনে করেন?

আল-কাফফাল-এর জীবনী (ترجمة)-তে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রথম জীবনে তালা তৈরির কারিগর ছিলেন। এরপর তিনি বয়োবৃদ্ধ অবস্থায়—আমার ধারণা চল্লিশ বছর বয়সে—ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তীতে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে উপনীত হন।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
فصل 6 الِاتِّفَاق على أَن تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ مُجْتَهد مُطلق

 

قَالَ ابْن السُّبْكِيّ فِي الترشيح قَالَ الشَّيْخ شهَاب الدّين النَّقِيب صَاحب مُخْتَصر الْكِفَايَة وَغَيرهَا من المصنفات جَلَست بِمَكَّة بَين طَائِفَة من الْعلمَاء فشرعنا نقُول لَو قدر الله تَعَالَى بعد الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة فِي هَذَا الزَّمَان مُجْتَهدا عَارِفًا منهاجهم أَجْمَعِينَ يركب لنَفسِهِ مذهبا من الْأَرْبَعَة بعد اعْتِبَار هَذِه الْمذَاهب الْمُخْتَلفَة كلهَا لأزدار الزَّمَان بِهِ وانقاد النَّاس فاتفق رَأينَا على هَذِه الرُّتْبَة لَا تعدوا الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ وَلَا يَنْتَهِي لَهَا سوا
পরিচ্ছেদ ৬: তাকিউদ্দিন আস-সুবকি একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد مطلق) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য।

 

ইবনে আস-সুবকি ‘আত-তারশিহ’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘মুখতাসার আল-কিফায়াহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা শেখ শিহাবুদ্দিন আন-নাকিব বলেছেন: আমি মক্কায় একদল আলেমের মাঝে বসেছিলাম এবং আমরা এই বলে আলোচনা শুরু করলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি চার ইমামের পর এই যুগে এমন একজন মুজতাহিদ (مجتهد) দান করতেন যিনি তাদের সকলের কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত এবং এই সকল ভিন্ন ভিন্ন মাযহাব পর্যালোচনার পর এই চার মাযহাব থেকে নিজের জন্য একটি কর্মপন্থা নির্ধারণ করতেন, তবে যুগ তাঁকে নিয়ে গর্ব করত এবং মানুষ তাঁর অনুগত হতো। অতঃপর আমাদের সকলের রায় এই মর্যাদার ব্যাপারে একমত হলো যে, এটি শেখ তাকিউদ্দিন আস-সুবকিকে অতিক্রম করে না এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এতে উপনীত হতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
خَاتِمَة 7 كَيْفيَّة الِاجْتِهَاد وترتيبه

 

قَالَ الْغَزالِيّ فِي المنخول فصل فِي كَيْفيَّة سرد الِاجْتِهَاد ومراعاة ترتيبه

قَالَ الشَّافِعِي إِذا رفعت إِلَيْهِ وَاقعَة فليعرضها على نُصُوص الْكتاب

فَإِن أعوزه فعلى الْأَخْبَار المتواترة ثمَّ على الْآحَاد

فَإِن أعوزه لم يخض فِي الْقيَاس بل يتلفت إِلَى ظواهر الْقُرْآن

فَإِن وجد ظَاهرا نظر فِي المخصصات من قِيَاس وَخبر فَإِن لم يجد مُخَصّصا حكم بِهِ

وَإِن لم يعثر على لفظ من كتاب وَلَا سنة نظر إِلَى الْمذَاهب فَإِن وجدهَا مجمعا عَلَيْهَا اتبع الْإِجْمَاع

وَإِن لم يجد إِجْمَاعًا خَاضَ فِي الْقيَاس

ويلاحظ الْقَوَاعِد الْكُلية أَولا ويقدمها على الجزئيات كَمَا فِي الْقَتْل بالمقتل يقدم قَاعِدَة الردع على مُرَاعَاة الْآلَة

فَإِن عدم قَاعِدَة كُلية نظر فِي النُّصُوص ومواقع الْإِجْمَاع فَإِن
উপসংহার ৭: ইজতিহাদ (الاجتهاد) এর পদ্ধতি ও এর ক্রমবিন্যাস

 

আল-গাজালি 'আল-মানখুল' গ্রন্থে বলেন: ইজতিহাদ (الاجتهاد) এর ধারাবাহিক বর্ণনা এবং এর ক্রমধারা রক্ষার পদ্ধতি বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

ইমাম শাফিঈ বলেন: যখন কোনো ঘটনা তাঁর নিকট উপস্থাপিত হয়, তখন তিনি যেন তা কিতাবুল্লাহর অকাট্য ভাষ্য বা নসুসের (نصوص) ওপর উপস্থাপন করেন।

যদি তাতে পর্যাপ্ত সমাধান না পান, তবে মুতাওয়াতির (المتواترة) সংবাদের প্রতি, অতঃপর আহাদ (الآحاد) সংবাদের প্রতি লক্ষ্য করবেন।

যদি তাতেও না পান, তবে তিনি সরাসরি কিয়াসে (القياس) প্রবৃত্ত হবেন না, বরং কুরআনের জাহির বা প্রকাশ্য অর্থের (ظواهر) দিকে মনোনিবেশ করবেন।

যদি কোনো জাহির (ظاهر) অর্থ পান, তবে কিয়াস (القياس) ও সংবাদের মধ্য থেকে কোনো মুখাসসিস বা বিশিষ্টকারী (مخصصات) আছে কি না তা যাচাই করবেন। অতঃপর যদি কোনো মুখাসসিস (مخصص) না পান, তবে তার ভিত্তিতেই ফয়সালা দেবেন।

আর যদি কিতাব বা সুন্নাহর কোনো শব্দ খুঁজে না পান, তবে আলেমদের মাযহাব বা মতামতের দিকে দৃষ্টি দেবেন। যদি সেগুলোকে ঐকমত্যপূর্ণ পান, তবে ইজমা (الإجماع) অনুসরণ করবেন।

যদি ইজমা (إجماع) না পান, তবে কিয়াসে (القياس) প্রবৃত্ত হবেন।

আর তিনি প্রথমে সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ (القواعد الكلية) পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সেগুলোকে আংশিক বিষয়াবলির ওপর প্রাধান্য দেবেন; যেমনটি প্রাণঘাতী উপায়ে হত্যার ক্ষেত্রে অস্ত্রের ধরন বিবেচনার পরিবর্তে অপরাধ দমনের মূলনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

যদি কোনো সামগ্রিক মূলনীতি পাওয়া না যায়, তবে তিনি নসুস বা অকাট্য ভাষ্যসমূহ (النصوص) এবং ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রসমূহ পর্যবেক্ষণ করবেন, অতঃপর...
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وجدهَا فِي معنى وَاحِد ألحق بِهِ وَإِلَّا انحدر إِلَى قِيَاس مخيل فَإِن أعوزه تمسك بالشبه

وَلَا يَقُول على طرد أَن كَانَ يُؤمن بِاللَّه تَعَالَى وَيعرف مآخذ هَذَا تدريج النّظر على مَا قَالَه الشَّافِعِي

قَالَ الْغَزالِيّ وَلَقَد أخر الْإِجْمَاع عَن الْأَخْبَار

وَذَلِكَ تَأْخِير مرتبَة لَا تَأْخِير عمل إِذْ الْعَمَل بِهِ مقدم وَلَكِن الْخَبَر يتَقَدَّم فِي الْمرتبَة عَلَيْهِ فَإِن مُسْتَنده قبُول الْإِجْمَاع
যদি তিনি সেগুলোকে একই অর্থবোধক (معنى واحد) হিসেবে পান তবে তিনি একে তার সাথে সংযুক্ত করবেন, অন্যথায় তিনি কল্পনাপ্রসূত অনুমান (قياس مخيل) এর স্তরে নেমে আসবেন। আর যদি তিনি এতে ব্যর্থ হন, তবে সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (الشبه) ওপর নির্ভর করবেন।

আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং এই পদ্ধতির উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত, সে কেবল সহ-অবস্থানের (طرد) ওপর ভিত্তি করে কিছু বলবে না। ইমাম শাফিঈ যা বলেছেন, এটি হলো চিন্তাধারার ক্রমিক বিন্যাস।

ইমাম গাজালি বলেছেন, নিশ্চয়ই তিনি ঐকমত্যকে (الإجماع) বর্ণনার (الأخبار) পরে স্থান দিয়েছেন।

আর এটি হলো মর্যাদাগত বিন্যাসের বিলম্ব, আমল বা প্রয়োগের বিলম্ব নয়; কারণ এর ওপর আমল করাই অগ্রগণ্য। কিন্তু বর্ণনার (الخبر) মর্যাদা এর চেয়ে অগ্রবর্তী, কারণ এটিই হলো ঐকমত্য (الإجماع) গ্রহণ করার ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) তাকরীরুল ইস্তিনাদ ফী তাফসীরিল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
فصل 8 الْمُجْتَهد مُجَدد للدّين فِي كل قرن

 

روى أَبُو دَاوُد وَالْحَاكِم عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن الله يبْعَث لهَذِهِ الْأمة على رَأس كل مائَة سنة من يجدد لَهَا دينهَا

قَالَ بعض شرَّاح الحَدِيث ذهب بعض الْعلمَاء إِلَى أَنه لَا يلْزم أَن يكون الْمَبْعُوث على رَأس الْمِائَة رجلا وَاحِد بل قد يكون وَاحِدًا وَقد يكون أَكثر فَإِن انْتِفَاع الْأمة بالفقهاء وَإِن كَانَ عَاما فِي أُمُور الدّين فَإِن انتفاعهم بغيرهم أَيْضا كَبِير مثل أولى الْأَمر وَأَصْحَاب الطَّبَقَات ينْتَفع بِكُل فِي قَول لَا ينْتَفع بِالْآخرِ فِيهِ

فأولوا الْأَمر ينْتَفع بهم فِي الْعدْل والتناصف وحقن الدِّمَاء والتمكن من إِقَامَة قوانين الشَّرْع

وَأَصْحَاب الحَدِيث ينْتَفع بهم فِي ضبط الْأَحَادِيث الَّتِي هِيَ أَدِلَّة الشَّرْع الدُّنْيَا فَكل وَاحِد ينْتَفع بِغَيْر مَا ينْتَفع بِهِ الآخر

قَالَ لَكِن الَّذِي يَنْبَغِي أَن يكون الْمَبْعُوث على رَأس الْمِائَة وجلا وَاحِدًا مشارا إِلَيْهِ فِي كل فن من هَذِه الْفُنُون وَهُوَ الْمُجْتَهد

قَالَ فَإِذا حمل تَأْوِيل الحَدِيث على هَذَا الْوَجْه كَانَ أولى وأشبه بالحكمة
পরিচ্ছেদ ৮: মুজতাহিদ (المجتهد) প্রতি শতাব্দীতে দ্বীনের সংস্কারক

 

আবু দাউদ এবং হাকীম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীকাল শেষে এমন একজনকে পাঠাবেন, যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।"

হাদিসের জনৈক ব্যাখ্যাকার বলেছেন, কিছু আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, শতাব্দীকাল শেষে প্রেরিত ব্যক্তি কেবল একজন হওয়া আবশ্যক নয়; বরং তিনি একজন হতে পারেন আবার একাধিকও হতে পারেন। কারণ দ্বীনের বিষয়ে ফকিহদের (الفقهاء) মাধ্যমে উম্মতের উপকারিতা ব্যাপক হলেও, অন্যান্যদের মাধ্যমেও তাদের উপকারিতা অনস্বীকার্য, যেমন রাষ্ট্রপ্রধান এবং স্তরের (الطبقات) বিশেষজ্ঞগণ। প্রত্যেকের থেকে এমন সব বিষয়ে উপকার লাভ করা যায় যা অন্যের মাধ্যমে সম্ভব হয় না।

সুতরাং রাষ্ট্রপ্রধানদের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, ইনসাফ কায়েম করা, রক্তপাত বন্ধ করা এবং শরিয়তের বিধানসমূহ কার্যকর করার ক্ষেত্রে উপকার লাভ করা যায়।

আর মুহাদ্দিসদের (أصحاب الحديث) মাধ্যমে হাদিসসমূহ সংরক্ষণে উপকার পাওয়া যায়, যা হলো শরিয়তের পার্থিব দলিলসমূহ। সুতরাং প্রত্যেকের মাধ্যমেই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে উপকার লাভ হয়।

তিনি বলেন, তবে শতাব্দীকাল শেষে প্রেরিত ব্যক্তি এমন একজন ব্যক্তি হওয়া উচিত যিনি এই সকল শাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় প্রশিদ্ধ ও অগ্রগণ্য হবেন, আর তিনিই হলেন মুজতাহিদ (المجتهد)।

তিনি বলেন, যদি হাদিসের ব্যাখ্যা এই অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে তা হবে অধিকতর উত্তম এবং প্রজ্ঞার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।