(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: -)
رفع الحاجب عن مختصر ابن الحاجب القسم: أصول الفقه
الكتاب: رفع الحاجب عن مختصر ابن الحاجب
المؤلف: تاج الدين أبو نصر عبد الوهاب بن [تقي الدين] علي بن عبد الكافي السبكي (727 - 771 هـ)
وبأعلى الصفحات: متن مختصر ابن الحاجب [ت 646 هـ]
المحقق: علي محمد معوض - عادل أحمد عبد الموجود
الناشر: عالم الكتب، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1999 م - 1419 هـ
عدد الأجزاء: 4
تنبيه: انتشر هذا الكتاب في كثيرٍ من النُسَخ الإلكترونية مقتصِرًا على الجزء الأول فقط، وتَداخَل فيه المتن بالشرح؛ خلافًا لهذه النسخة الكاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুখতাসার ইবনুল হাজিবের ওপর রাফউল হাজিব
বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: মুখতাসার ইবনুল হাজিবের ওপর রাফউল হাজিব
রচয়িতা: তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে [তাকীউদ্দীন] আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকী (৭২৭ - ৭৭১ হিজরী)
পৃষ্ঠার উপরিভাগে: মুখতাসার ইবনুল হাজিব এর মূল পাঠ [ওফাত ৬৪৬ হিজরী]
গবেষক ও সম্পাদক: আলী মুহাম্মদ মুআওয়াদ - আদিল আহমদ আব্দুল মওজুদ
প্রকাশক: আলমুল কুতুব, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪১৯ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৪
সতর্কবার্তা: এই কিতাবটি অনেক ইলেকট্রনিক সংস্করণে শুধুমাত্র প্রথম খণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে মূল পাঠ ও ব্যাখ্যা একে অপরের সাথে মিশে গেছে; যা এই পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটির বিপরীত।
[কিতাবের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد للّه رب العالمين، وصلاةً وسلامًا على سيد الخلق وحبيب الحق محمد صلى الله عليه وسلم.
مقدمة الناشرأما بعدُ:
نحن في عصر الفضاء والذرة، ولا يقف العلم ولا الإنسان على طرف سنان، وإنما هو كالبرق الخلب والريح القلب، وكل يوم ينتقل من طور إلى طور ومن حسن إلى أحسن. ويساير هذا التقدم العلمي التقدم الطباعي أيضًا وقد أخذنا بأسبابه، وركبنا رحابه واجتهدنا في الأخذ بأحدث معداته وأدواته، لنشر التراث الإسلامي المجيد، ونفض الغبار عن مجده التليد. وها نحن اليوم ذا نتقدم لجماهير وعلماء وطلاب العلم في بقاع الأرض قاطبة بنشر هذه المفخرة من مفاخر التراث وهي "رفع الحاجب عن مختصر ابن الحاجب" وهو كتابٌ عظيم النفع، جليل القدر، قد تلقفته الأيادي في القدم وقد جهد طلاب العلم بحثًا وتنقيبًا عنه، فهنيئًا لهم نشر الكتاب منزهًا عن التحريف والخراب، كامل التصحيح والتحقيق ورتب الصواب فنسأل الله أن يتقبل منا، وأن يعفو عنا، وأن يمدنا بعونه وفضله لنشر غيره.
"إنه نعم المولى ونعم النصير"
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সত্যের প্রিয়ভাজন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর।
প্রকাশকের ভূমিকাঅতঃপর:
আমরা এখন মহাকাশ ও পরমাণুর যুগে বাস করছি; জ্ঞান এবং মানুষ কোনো স্থির বিন্দুতে থেমে থাকে না। বরং তা যেন চমকপ্রদ বিদ্যুৎ এবং পরিবর্তনশীল বায়ুর ন্যায়, যা প্রতিদিন এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে এবং উত্তম থেকে উত্তমতরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে সাথে মুদ্রণ শিল্পেরও উন্নতি ঘটছে। আমরা এর সকল উপকরণ গ্রহণ করেছি, এর বিশাল ক্ষেত্রে পদার্পণ করেছি এবং মহিমান্বিত ইসলামি ঐতিহ্য প্রচারের লক্ষ্যে এবং এর সুপ্রাচীন গৌরবের ওপর থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলার জন্য সর্বাধুনিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আজ আমরা বিশ্বের সকল প্রান্তের সাধারণ মানুষ, ওলামায়ে কেরাম এবং জ্ঞানান্বেষীদের সামনে ঐতিহ্যের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শন "রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব" গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে হাজির হয়েছি। এটি অত্যন্ত উপকারী এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন একটি কিতাব। প্রাচীনকাল থেকেই এটি মানুষের সমাদর পেয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এর অনুসন্ধান ও গবেষণায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তাই তাদের জন্য মোবারকবাদ যে, বইটি বিকৃতি ও ত্রুটিমুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ সংশোধন ও তাহকীকসহ প্রকাশিত হলো। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন, আমাদের ক্ষমা করেন এবং তাঁর সাহায্য ও অনুগ্রহে এর বাইরেও অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশের তাওফিক দান করেন।
"নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।"
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৬)
كتب ابن قاضي الجبل تقريظًا لهذا المصنف
(1): [الطويلُ]
لِيَهْنَكَ يَا تَاجَ المَعَالِي مُصَنَّفٌ
… يُشَوِّفُ أَسْمَاعًا لَنَا وَيُشَنِّفُ
هُوَ الْبَحْرُ إِلَّا أَنَّهُ فَاقَ جَوْهَرًا
… هُوَ الرَّوْضُ إِلَّا أَنَّهُ مِنْهُ أَلْطَفُ
فَمَا السَّيْفُ فِي أَحْكَامِهِ مِثْلَ حُكْمِهِ
… بُحُوثُكَ فَخْرَ الدِّينِ فِيهِ تُزَيِّفُ
وَلا الْقُطْبُ فِي شَرْحٍ لَهُ مِثْلُ قُطْبِهِ
… فَأَضْحَتْ فُهُومُ الْقَوْمِ فِيهِ تُوَظَّفُ
أُصُولٌ غَدَتْ أَصْلَ الأُصُول لِفَاهِمٍ
… وَمَنْقُولُهَا حَقٌّ صَحِيحٌ مُعَرَّفُ
فَلَوْ أُغْرِقُوا فِي الْبَحْثِ طُولَ حَيَاتِهِمْ
… فَذِهْنُكَ أَدْرَى بِالْعُلُومِ وَأَعْرَفُ
وَرِثْتَ لِشَيْخِ الْعِلْمِ أَوْحَدَ عَصْرِهِ
… هنيئًا لَكَ الْعِلْمُ الَّذِي بِكَ يُعْرَفُ
وَلَوْ عَلِمُوا حَقَّ العُلُومِ لَبَادَرُوا
… وَأَضْحَوْا تَلامِيذًا لَدَيْكَ وَأَنْصَفُوا
لَقَدْ فُقْتَ بِالتَّهْذِيبِ كُلَّ مُهَذَّبٍ
… وَأَقْلامُ أَهْلِ الْعَصْرِ بِالْمَدْحِ تَرْعُفُ
وَسُدْتَ فَظَهْرُ السُّدَّةِ اليَوْمَ مُزْهِرٌ
… وَأَسْكَرَنَا مِنْ لَقْطِكَ اليَوْمَ مُرْقِفُ
وَشَيَّدْتَ أَحْكَامًا وَفُقْتَ بَلاغَةً
… كَمَا أَنْتَ بِالطُّلَّابِ أَدْرَى وَأَرْأَفُ
--------------------------------------------
ইবনে কাজী আল-জাবাল এই গ্রন্থটির জন্য একটি প্রশংসামূলক ভূমিকা লিখেছেন
(১):
হে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট! আপনার এই গ্রন্থটি আপনার জন্য আনন্দদায়ক হোক
... যা আমাদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে উদগ্রীব করে এবং কর্ণশোভিত করে।
এটি একটি সমুদ্র, তবে এটি মণি-মুক্তার দিক থেকে সমুদ্রকেও ছাড়িয়ে গেছে
... এটি একটি উদ্যান, তবে এটি উদ্যান অপেক্ষাও অধিক মনোরম।
ফায়সালার ক্ষেত্রে তলোয়ারও এর ফায়সালার মতো নয়
... হে ফখরুদ্দীন! আপনার সূক্ষ্ম অনুসন্ধানসমূহ সেখানে ভ্রান্তিকে অসার প্রতিপন্ন করে।
ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো দিকপালও এর মূলবিন্দুর ন্যায় হতে পারেনি
... ফলে মানুষের বোধশক্তি এখন এর সেবায় নিয়োজিত হয়েছে।
এটি এমন মূলনীতি যা সমঝদার ব্যক্তির নিকট মূলনীতির মূলে পরিণত হয়েছে
... আর এর বর্ণিত বিষয়সমূহ সত্য, সঠিক ও সুপরিচিত।
তারা যদি তাদের সারা জীবন গবেষণায় নিমগ্ন থাকে
... তবুও আপনার মেধা জ্ঞানরাজ্যে অধিক প্রাজ্ঞ ও পারদর্শী।
আপনি আপনার যুগের অদ্বিতীয় ইলমের শাইখের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন
... আপনার জন্য সেই ইলম কল্যাণময় হোক যা আপনার দ্বারা পরিচিতি পায়।
তারা যদি ইলমের প্রকৃত মর্যাদা জানত, তবে তারা দ্রুত আপনার নিকট চলে আসত
... এবং তারা আপনার ছাত্র হয়ে ইনসাফ করত।
পরিমার্জনের ক্ষেত্রে আপনি সকল পরিমার্জনকারীকে ছাড়িয়ে গেছেন
...
আর সমসাময়িকদের কলমসমূহ প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছে
আপনি নেতৃত্ব লাভ করেছেন, ফলে আজ উচ্চাসনের উপরিভাগ প্রস্ফুটিত
এবং
আজ আপনার চয়নকৃত বাণীসমূহ আমাদের বিমোহিত করছে
আপনি বিধানসমূহ সুদৃঢ় করেছেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন
যেমনটি
আপনি ছাত্রদের সম্পর্কে অধিক অবগত ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ
الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْشَأَ الكَائِنَاتِ عَلَى غَيْرِ مِثَالٍ، وَأَبْدَعَ الخَلْقَ لِحِكَمٍ بَالِغَةٍ فَعَجَزَتِ العُقُولُ عَنْ إِدْرَاكِ كُنْهِهَا، وَأَسْبَغَ عَلَيْهِمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً، وَرَفَعَ بِقُدْرَتِهِ مَنْزِلَةَ الإِنْسَانِ، وَميَّزَهُ بِالْعَقْل عَلَى سَائِرِ المَخْلُوقَاتِ، وَمَنَحَهُ التَّفْكِيرَ وَالتَّمْيِيزَ والتَّدْبِيرَ، وَهُوَ - سُبْحَانَهُ - مَعَ هذِهِ النِّعَمِ العَظِيمَةِ لَمْ يَتْرُكِ البَشَرَ سُدًى وَلا هَمَلًا؛ يَمُوجُ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ عَلَى غَيْرِ هُدًى وَبَصِيرَةٍ، وَلَمْ يَتْرُكْهُمْ يَسِيرُونَ فِي دُرُوب الحَيَاةِ خَبْطَ عَشْوَاءَ، بَلْ أَرْسَلَ إِلَيْهِمُ الرُّسُلَ الْكِرَامَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ؛ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ، وَخَتَمَ كَوْكَبَةَ رُسُلِهِ بِخَيْرِ الأَنَامِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالسَّلامِ، وَأَوْلاهُ شَرِيعَتَهُ الغَرَّاءَ الَّتِي لا يُعَادِلُهَا نِظَامٌ، وَلَهُ الشُّكْرُ - سُبْحَانَهُ - حَيْثُ جَعَلَنَا مِمَّنْ يَسِيرُ فِي رَكْبِ هذِهِ الشَّرِيعَةِ السَّمْحَةِ، وَوَفَّقَنَا لأِنْ نُحَصِّلَ وَنَتَشَرَّبَ مَجْمُوعَ الأُصُولِ والفُرُوعِ، فَسَلَكْنَا سَبِيلَ العُلَمَاءِ الثِّقَاتِ، وَأَعْرَضْنَا صَفْحًا عَنْ طَرْقِ أَبْوَابِ المُبْتَدِعِينَ اللِّئَامِ.
وَبَعْد، فَإِنَّ أَعْظَمَ مَا تُرِكَ لأِجْلِهِ لَذَائِذُ الطَّعَامِ، وَأُعْرِضَ مِنْ أَجْلِهِ عَن طِيبِ المَنَامِ، هُوَ الاِشْتِغَالُ بِطَلَبِ الْعِلْمِ، وَالسَّعْيُ فِي تَحْصِيلِهِ، وتَجشُّمُ الصِّعَابِ في التَّرَقِّي فِي دَرَجِ الفُهُومِ.
وَلَقَدْ كَانَ عِلْمُ الأُصُولِ مِن بَيْنِ تِلْكَ العُلُومِ أَسَاسًا لِلشَّرِيعَةِ، وَهُوَ مِن أَجَلِّهَا قَدْرًا، وَأَعْظَمِهَا نَفْعًا وَفَائِدَةً؛ إِذْ هُوَ العِلْمُ الكَفِيلُ بالنَّظَرِ فِي أَحْوَالِ الأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ مِنْ كِتَابٍ وَسُنَّةٍ وإِجْمَاعٍ وَقِياسٍ مِن حَيْثُ تُؤخَذُ مِنْهَا التَّكَالِيفُ وَتُسْتَنْبَطُ الأَحْكَامُ.
وَعِلْمُ أُصُولِ الفِقْهِ هُوَ العَاصِمُ لِلذِّهْنِ عَنِ الخَطَإِ عِنْدَ اسْتِنْبَاطِ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ، وَهُو
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সৃষ্টিজগত উদ্ভাবন করেছেন এবং সুগভীর প্রজ্ঞার ভিত্তিতে মাখলুকাতকে নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন, ফলে মানবীয় বুদ্ধি এর প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধিতে অক্ষম হয়েছে। তিনি তাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করেছেন এবং তাঁর কুদরতের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন। তিনি মানুষকে অন্য সকল সৃষ্টির ওপর জ্ঞান-বুদ্ধির দ্বারা বিশিষ্টতা দান করেছেন এবং তাকে চিন্তা-ভাবনা, বিচার-বিবেচনা ও ব্যবস্থাপনার শক্তি প্রদান করেছেন। তিনি—সুবহানাহু—এতসব মহান নেয়ামত দান করা সত্ত্বেও মানবজাতিকে লক্ষ্যহীন ও উদ্দেশ্যহীন অবস্থায় ছেড়ে দেননি; যেন তারা হিদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টিহীন হয়ে বিশৃঙ্খলায় পতিত না হয়। তিনি তাদের জীবনের পথে দিকভ্রান্ত হয়ে চলতে ছেড়ে দেননি, বরং তাদের নিকট সম্মানিত রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন; যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো ওজর বা দলিল অবশিষ্ট না থাকে। তিনি তাঁর রাসূলদের পবিত্র ধারাকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁকে এক উজ্জ্বল শরীয়ত দান করেছেন যার সমকক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেই। সকল শুকরিয়া মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই সহজ-সরল শরীয়তের অনুসারী করেছেন এবং আমাদের তাওফীক দান করেছেন যাতে আমরা দ্বীনের মৌলিক ও শাখাগত জ্ঞান অর্জন ও হৃদয়ঙ্গম করতে পারি। ফলে আমরা নির্ভরযোগ্য আলেমদের পথ অবলম্বন করেছি এবং পথভ্রষ্ট বিদআতীদের দ্বারে কড়া নাড়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হয়েছি।
এরপর, যার জন্য সুস্বাদু খাবারের স্বাদ ত্যাগ করা হয় এবং আরামদায়ক ঘুম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় হলো ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করা, তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া এবং বোধশক্তির সোপানে উন্নীত হওয়ার পথে কাঠিন্যকে আলিঙ্গন করা।
আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই শাখাগুলোর মধ্যে উসুল শাস্ত্র ছিল শরীয়তের ভিত্তি স্বরূপ। এটি মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত মহিমান্বিত এবং উপকারিতা ও কল্যাণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যা কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের মতো শরয়ী দলিলসমূহের অবস্থা পর্যালোচনার নিশ্চয়তা প্রদান করে, যে প্রেক্ষিত থেকে তা থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ গ্রহণ করা হয় এবং বিধিবিধানসমূহ উদ্ভাবন করা হয়।
আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র হলো শরীয়তের বিধানাবলি উদ্ভাবন করার সময় মেধাকে ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষাকারী, এবং এটি
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৮)
المُعْتَمَدُ لأِصْحَاب الخِلافِ فِيمَا يَجْرِي بَيْنَهُمْ مِن مُنَاظَرَاتٍ وَمُسَاجَلاتٍ؛ كَيْ يُصَحِّحَ كُلٌّ مِنْهُمْ مَذْهَبَه، وَيُثَبِّتَ بِنَاءَهُ عَلَى دَعَائِمَ صَحِيحَةٍ، وَأُصُولٍ قَوِيمَةٍ، وَهُوَ المُعْتَمَدُ أَيْضًا لأِصْحَابِ التَّخْرِيجِ الَّذِين عُنُوا بِتَفْرِيعِ الأَحْكَامِ الفِقْهِيَّةِ، وَتَخْرِيجِ الحَوَادِثِ وَالْوَقَائِعِ الوَقْتيَّةِ عَلَى أصُولٍ تَنْبَنِي عَلَيْهَا، وَتُؤْخَذُ مِنْهَا.
وَبَعْد، فَهذِهِ مُقَدِّمَةٌ لِتَحْقِيقِ كِتَابِنَا "رَفْعِ الحَاجِبِ عَنْ مُخْتَصَرِ ابْنِ الحَاجِبِ" للإمام الهمام العلَّامة ابن السبكي رحمه الله تَشْتَمِلُ عَلَى المَبَاحِثِ التَّالِية:
- نَبْذة عن عَصْر ابن الحاجب.
- ابنُ الحاجب بَيْن يدَيْ أصحاب التَّرَاجِم.
- نشأة ابن الحاجِب.
- شُيُوخ ابْنِ الحاجِب.
- تلاميذ ابنِ الحاجِب.
- ثناءُ العلماءِ عليه.
- بَيْن ابْنِ الحاجِبِ والعِزّ بن عبْدِ السَّلام.
- مصنَّفَاتُهُ.
- وفاةُ ابْنِ الحاجب.
- إضاءَةٌ على القَرْن الثَّامِنِ الهجْريّ.
- الحالةُ السياسيَّة في عَصْر سلاطين المماليك.
- الحالة الاجتماعيَّة في عَصْر سلاطين المماليك.
- الحالةُ الاقتصاديَّةُ في عَصْر سلاطين المماليك.
- الحالة الثقافيَّة في عَصْر سلاطين المماليك.
- تاجُ الدِّين السُّبْكِيُّ بين يدَيْ أصحاب الطبقات.
• نسبه.
• مولده.
• نشأته.
• الكلام على آل السُّبْكِيِّ.
• شيوخه.
এটি ইখতিলাফ বা মতভেদ নিয়ে কাজ করেন এমন আলিমদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অবলম্বন, যাতে তারা পারস্পরিক মুনাজারা ও বিতর্কের সময় নিজ নিজ মাযহাবকে বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারেন এবং সুদৃঢ় স্তম্ভ ও সুশৃঙ্খল মূলনীতির ওপর এর ভিত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। এছাড়া এটি সেই সকল তাখরিজ বিশেষজ্ঞদের জন্যও একটি নির্ভরযোগ্য উৎস, যারা ফিকহি বিধানের শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন এবং সমসাময়িক ঘটনাবলিকে এমন মূলনীতির আলোকে বিচার করতে মনোনিবেশ করেন যেগুলোর ওপর ফিকহ নির্মিত হয় এবং যেখান থেকে বিধানগুলো আহরণ করা হয়।
অতঃপর, এটি হলো মহান ইমাম ও আল্লামা ইবনুস সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত আমাদের তাহকিককৃত গ্রন্থ "রাফউল হাজিব আন মুখতাসারি ইবনিল হাজিব"-এর একটি ভূমিকা, যা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
- ইবনুল হাজিবের যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
- জীবনীকারদের দৃষ্টিতে ইবনুল হাজিব।
- ইবনুল হাজিবের শৈশব ও বেড়ে ওঠা।
- ইবনুল হাজিবের উস্তাদবৃন্দ।
- ইবনুল হাজিবের ছাত্রবৃন্দ।
- তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
- ইবনুল হাজিব এবং ইয ইবনে আব্দুস সালাম-এর সম্পর্ক।
- তাঁর রচনাবলি।
- ইবনুল হাজিবের ইন্তেকাল।
- হিজরি অষ্টম শতাব্দীর ওপর আলোকপাত।
- মামলুক সুলতানদের যুগে রাজনৈতিক অবস্থা।
- মামলুক সুলতানদের যুগে সামাজিক অবস্থা।
- মামলুক সুলতানদের যুগে অর্থনৈতিক অবস্থা।
- মামলুক সুলতানদের যুগে সাংস্কৃতিক অবস্থা।
- তাবারকাত রচয়িতাদের দৃষ্টিতে তাজউদ্দীন আস-সুবকী।
• তাঁর বংশপরিচয়।
• তাঁর জন্ম।
• তাঁর লালন-পালন ও বেড়ে ওঠা।
• সুবকী পরিবার সম্পর্কে আলোচনা।
• তাঁর শিক্ষকগণ।
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৯)
• تلاميذه.
• ثناء العلماء عليه.
• محنة التاج السبكي.
• آثاره ومصنفاته.
• وفاته.
- تعريف أصول الفقه.
- موضوع أصول الفقه.
- نشأة علْم أُصُول الفِقْه.
- اختلافُ العلماءِ حَوْل واضِعِ عِلْم الأُصُول:
• الإمام محمد الباقر.
• الإمام "أبو جنيفة".
• محمَّد بنُ الحَسَن.
• أبو يُوسُف.
• الرسالةُ والشَّافعيُّ.
• خُلاصَة رسالةِ الشَّافعيِّ.
- مناهجُ العلماءِ في الدراساتِ الأُصوليَّة.
أوَّلًا: الاتجاه النظريُّ.
ثانيًا: الاتِّجاه المذهبيُّ المتأثِّر بالفروع:
• الحنفية.
• المالكية.
• الحنابلة.
• الشافعية.
ثالثًا: الاتِّجاهُ الجامعُ بَيْنَ المذهَبَيْن.
رابعًا: حول قضية التجديد في أُصُول الفقه.
• النسبة بين أصول الفقه والعُلُوم الأخرى.
• اسْتِمْدَاده.
• তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
• তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
• তাজ আল-সুবকির পরীক্ষা বা নিগ্রহ।
• তাঁর অবদান ও রচনাবলি।
• তাঁর মৃত্যু।
- উসূলে ফিকহ-এর সংজ্ঞা।
- উসূলে ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয়।
- উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের উৎপত্তি।
- উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের প্রবর্তক সম্পর্কে আলেমদের মতপার্থক্য:
• ইমাম মুহাম্মাদ আল-বাকির।
• ইমাম "আবু হানিফা"।
• মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান।
• আবু ইউসুফ।
• আল-রিসালাহ এবং ইমাম শাফেয়ী।
• ইমাম শাফেয়ীর আল-রিসালাহ-এর সারসংক্ষেপ।
- উসূলে ফিকহ গবেষণায় আলেমদের কর্মপদ্ধতি।
প্রথমত: তাত্ত্বিক ধারা।
দ্বিতীয়ত: ফুরু' (শাখাগত মাসয়ালা) দ্বারা প্রভাবিত মাযহাবী ধারা:
• হানাফী মাযহাব।
• মালিকী মাযহাব।
• হাম্বলী মাযহাব।
• শাফেয়ী মাযহাব।
তৃতীয়ত: উভয় ধারার সমন্বিত পদ্ধতি।
চতুর্থত: উসূলে ফিকহ-এর সংস্কার বা আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে।
• উসূলে ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক।
• এর উৎসমূল।
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১০)
• فائِدَتُه.
• الكِتَابُ.
• السنَّة.
• إنْكارُ حُجِّيَّة السُّنَّة موجِبٌ للرِّدَّة.
• العلاقةُ بيَن الكتابِ والسُّنَّة.
• الإجماعُ.
• القياس.
• النَّسْخ.
• এর উপকারিতা।
• কিতাব।
• সুন্নাহ।
• সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করা ধর্মত্যাগের কারণ।
• কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্ক।
• ইজমা।
• কিয়াস।
• নাসখ।
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১১)
ابْنُ الحَاجِبِ بَيْنَ يَدَيْ أَصْحَابَ التَّرَاجِمِ
نَسَبُهُ:هو: أَبُو عمرٍو عُثْمانُ بْنُ عمرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ يُونُسَ الكُرْدِيُّ الدَّوِينِيُّ
(1) الأصْلِ، الإسنائيُّ
(2) المولدِ المالكيُّ، ويلقب بـ "جمالِ الدِّينِ".
قال أبو العبَّاس ابنُ خَلِّكان المتوفى سنة 681 هـ: "أبو عمرو
… الدَّوَنِيُّ ثم المصريُّ الفقيهُ المالكيُّ .. "
(3).
وقال الحافظُ الذهبيُّ المتوفَّى سنة 748 هـ: "الشَّيخُ الإمامُ العلَّامة المُقَرئُ الأُصوليُّ الفقيه النحويُّ جمال الأئمة والملَّة والدينِ أَبو عَمْرٍو
… صاحبُ التصانيفِ .. "
(4).
وقال ابن فَرْحُون المالكِيُّ المتوفَّى سنة 799 هـ، نقلًا عن "الوفيات" لابن خَلِّكان: "عُثمانُ بْنُ عمرَ بْنِ أَبِي بكْرِ. بنِ يُونُسَ الرَّوِينِيُّ، ثمَّ المصريُّ الدمشقيُّ ثم الإسكندريُ يكنى أبا عمرٍو المعروف بـ "ابن الحاجب"، الملقَّب بـ "جمال الدِّين"، الإمامُ العلَّامة، الفقيهُ
--------------------------------------------
জীবনীকারদের দৃষ্টিতে ইবনুল হাজিব
তাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন: আবু আমর উসমান বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইউনুস আল-কুর্দি। তাঁর আদি নিবাস ছিল দুউইন
(১)
এবং জন্মস্থান ছিল ইসনা
(২)
। তিনি মালেকি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁকে ‘জামালুদ্দিন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
৬৮১ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী আবুল আব্বাস ইবনে খাল্লিকান বলেন: “আবু আমর আদ-দুওয়ানি, পরবর্তীতে মিশরীয় মালেকি ফকিহ।”
(৩)
.
৭৪৮ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী হাফেজ আয-যাহাবি বলেন: “শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, ক্বারি, উসুলবিদ, ফকিহ ও ব্যাকরণবিদ; ইমামগণ, উম্মত ও দ্বীনের সৌন্দর্য আবু আমর, যিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।”
(৪)
.
৭৯৯ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনে ফারহুন আল-মালেকি, ইবনে খাল্লিকানের ‘ওয়াফায়াত’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: “উসমান বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইউনুস আর-রুওয়িনি (আদ-দুউইনী), পরবর্তীতে মিশরীয়, দামেশকি এবং এরপর ইস্কান্দারি। তাঁর উপনাম ছিল আবু আমর এবং তিনি ‘ইবনুল হাজিব’ নামে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর উপাধি ছিল ‘জামালুদ্দিন’। তিনি একজন ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত ও ফকিহ ছিলেন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১২)
المالكيُّ
… "
(1). ويظهر الفرْق واضحًا بَيْن ما نقله ابن فَرْحُون، وما هو في "الوفيات".
وقال ابن الجزريِّ المتوفَّى سنة 833 هـ: "عثمانُ بنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ يُونسُ أَبُو عَمْرِو بْن الحَاجِبِ الكرديُّ الأصلِ الدَّونِيُّ الإسنائيُّ المولدِ
… "
(2).
وقال السُّيُوطيُّ المتوفَّى سنة 911 هـ: "ابن الحاجبِ العلَّامةُ جمالُ الدينِ أَبُو عمْرٍو عثمانُ بنُ أَبِي بَكْرٍ الكرديُّ الإسنائيُّ ثم المصريُّ المالكيُّ
… "
(3).
وقال حاجي خليفة المتوفَّى سنة 1067 هـ: "عثمانُ بنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ يُونُسَ الكُرديُّ الإسنائيُّ ثمَّ المصريُّ جمالُ الدِّينِ أَبُو عَمْرٍو المالكيُّ النَّحويُّ المعروفُ بـ "ابنِ الحاجبِ" .. "
(4).
وقال ابن العماد الحنبليُّ المتوفَّى سنة 1089 هـ: "العلَّامة أبو عمرو عثمان بن عمر بن أبي بكر الكردي الأسنائي - وأسْنَا - بفتح الهمزة وسكون السين المهملة وفتح النون وبعدها ألف بليدة صغيبرة - من أعمال القُوصيَّة بالصعيد الأعلى من مصر
… "
(5).
وقال كَحَالَة: "عثمانُ بن عمرَ بْن أبي بَكْرِ بْنِ يُونُسَ الكرديّ، الدَّوينِيُّ الأصْلِ، الإسْنائيّ، المالكيّ، المعروف بـ "ابن الحاجِبِ" "أبُو عَمْرو، جَمالُ الدِّين"
… "
(6).
وقال خَيْرُ الدِّينِ الزِّركلِيُّ: "عثمانُ بنُ عُمر بْنِ أبِي بَكْرِ بْنِ يُونس، أَبُو عمرو جَمَالُ الدِّينِ بْنُ الحَاجِبِ .. "
(7).
مَوْلِدُهُ:ولد ابن الحاجبِ في أواخر سنة 570 هـ أو 571 على الشَّكِّ منه. كذا ذكره الذهبيُّ وابن الجزريِّ.
--------------------------------------------
মালিকী
এবং অন্যান্য বর্ণনা অনুযায়ী "
(১)
। আর ইবনে ফারহুন যা বর্ণনা করেছেন এবং "আল-ওয়াফায়াত"-এ যা রয়েছে, তার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
এবং ৮৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনুল জাজারী বলেন: "উসমান ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে ইউনুস আবু আমর ইবনুল হাজিব, জাতিগতভাবে কুর্দি, দাওয়ানি এবং জন্মসূত্রে ইসনায়ী
প্রভৃতি"
(২)
।
এবং ৯১১ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী সুয়ূতী বলেন: "ইবনুল হাজিব, বিজ্ঞ আল্লামা জামালুদ্দিন আবু আমর উসমান ইবনে আবি বকর আল-কুর্দি আল-ইসনায়ী, অতঃপর মিশরীয় ও মালিকী
প্রভৃতি"
(৩)
।
এবং ১০৬৭ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী হাজি খলিফা বলেন: "উসমান ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে ইউনুস আল-কুর্দি আল-ইসনায়ী, এরপর মিশরীয়, জামালুদ্দিন আবু আমর আল-মালিকী নাহবী (ব্যাকরণবিদ), যিনি 'ইবনুল হাজিব' নামে সুপরিচিত
ইত্যাদি"
(৪)
।
এবং ১০৮৯ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী বলেন: "আল্লামা আবু আমর উসমান ইবনে উমর ইবনে আবি বকর আল-কুর্দি আল-ইসনায়ী — আর ইসনা (শব্দটি) হামযাহর উপর ফাতহাহ, সীন বর্ণে সুকুন এবং নুন বর্ণে ফাতহাহ ও এরপর আলিফ যোগে গঠিত — এটি মিশরের ঊর্ধ্বাঞ্চলীয় কূসিয়্যাহ জেলাধীন একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র জনপদ
প্রভৃতি"
(৫)।
কাহহালা বলেন: "উসমান বিন উমর বিন আবু বকর বিন ইউনুস আল-কুর্দি, মূলত দাওয়িন এলাকার অধিবাসী, আল-ইসনাঈ, আল-মালিকি, যিনি 'ইবনুল হাজিব' নামে সমধিক পরিচিত, আবু আমর, জামালুদ্দিন।"
(৬)।
খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলি বলেন: "উসমান বিন উমর বিন আবু বকর বিন ইউনুস, আবু আমর জামালুদ্দিন ইবনুল হাজিব।"
(৭)।
তাঁর জন্ম:
ইবনুল হাজিব ৫৭০ হিজরির শেষভাগে অথবা ৫৭১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, এ বিষয়ে তাঁর নিজের পক্ষ থেকে কিছুটা সংশয় ছিল। ইমাম আয-যাহাবি এবং ইবনুল জাযারি এভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الذهبيُّ: ولد سنة سبعين وخَمْسِمائةٍ، أو سنة إحدى - وهو يشك - بـ "إسْنا" من بلادِ الصَّعيد .. "
(1).
وقال ابن الجزريِّ: "وُلدَ سنة سبعين أو إحدى وسبعين وخَمْسِمائة - الشكُّ منه - بـ "إسْنا" من صعيد مصر .. "
(2).
وقد تحرَّفْت سنةُ موْلِدهِ عنْد ابن فرْحُون، فقال: " .... وكان مولده بـ "إسْنا" بالصعيد الأعلى سنة تسعين وخمسمائة"
(3).
--------------------------------------------
আয-যাহাবী বলেন: তিনি পাঁচশত সত্তর হিজরি সালে, অথবা একাত্তর সালে—সন্দেহটি তাঁর নিজের—উর্ধ্ব মিশরের "ইস্না" নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
(১).
ইবনুল জাযারি বলেন: "তিনি পাঁচশত সত্তর অথবা একাত্তর হিজরি সালে—সন্দেহটি তাঁর পক্ষ থেকেই—মিসরের সাঈদ অঞ্চলের 'ইস্না' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।"
(২).
ইবনে ফারহুনের বর্ণনায় তাঁর জন্মের বছরটি ভ্রমবশত পরিবর্তিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তাঁর জন্ম হয়েছিল উর্ধ্ব মিশরের 'ইস্না' নামক স্থানে পাঁচশত নব্বই হিজরি সালে।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
نبذة عن عَصْر ابْنِ الحَاجِبِ (1)مَا أَصْدَقَ قَوْلَةَ ابْنِ خَلْدُونَ فِي مقدِّمته "أن الإنْسَانَ مَدَنِيٌّ بِالطَّبْع"، وهذا يَعْنِي أَنَّ الإنْسَان لا يَسْتَطِيع أَنْ يَعِيشَ مُنْعَزِلًا عَن المُجْتَمع، بَلْ لا بُدَّ لَهُ من تأثيرٍ وتأثُّرٍ، وأخذ وإعطاء، فهذه سُنَّةُ اللّه الَّتي فَطر النَّاس عَلَيْهَا.
ولا شكَّ أَنَّ كلَّ بيئةٍ لها تأثيرُهَا الخاصُّ عَلَى تكوين أفْرَادِهَا، فَهِي تصبغه بصبغتها، فيَسْتَوِي عُودُه على ما قَدْ رَشَفَه مِنْ مجتَمَعِه الَّذِي يُحِيط به، إِنْ خيرًا فخيرٌ، وإنْ شرًّا فَشَرٌّ.
وغايةُ الأَمْرِ أَنَّك، إِذَا أردت أن تستَجْلِي هذا الصَّرْحَ الشَّامِخَ - ابْنَ الحاجِب - فلا بُدَّ من إِلقاء بَصِيصٍ مِنَ الضَّوْء على العَصْر الَّذي عاشَ فيه:
قَامَتْ دولَةُ بَنِي أَيُّوبَ في مصْرَ بعْد ضعف الخلافةِ العبَّاسيَّة، وانْقِسام الطَّوائِف الطَّامعةِ في الخلافَةِ بأماكنَ تخصُّها، فالعالَمُ الإسلاميُّ يعاني من وَيْلات الانقسامِ والفُرْقَةِ، مِنْ سلاجقةٍ بالعراق، وفاطميِّين في الغَرْب، ثُمَّ مِصْر والشَّام، وبُوَيْهِيِّين بالعراقِ وفارِس قَبْل أنْ يَسْتَولي السَّلاجِقَةُ بَعْد ذلِكَ عَلَى الخِلافَة بـ "بَغْدَاد".
ولقَدْ دَخَلَ السَّلاجقةُ فِي حُرُوبٍ وويلانٍ ليوطِّدوا مُلكَهم، وكانَتْ علاقتهم بالعباسييِّن علاقةً طيِّبة لا يُعكَّر صفْوُها إلا إذا تدَخَّل أحدُهم في شؤون الخليفة العباسيِّ.
وقد استقلَّ عماد الدِّين زنكي عن السَّلاجقة، وأَنْشَأَ الدَّوْلَة الزنكيَّة، الَّتي دخَلَتْ فِي
--------------------------------------------
ইবনুল হাজিবের যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা
(১)
ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় কতই না সত্য কথা বলেছেন যে, "মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক"। এর অর্থ হলো, মানুষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করতে পারে না; বরং তার জন্য অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং আদান-প্রদান অপরিহার্য। এটিই আল্লাহর সেই রীতি যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি পরিবেশেরই তার ব্যক্তিদের গঠনের ওপর একটি বিশেষ প্রভাব থাকে। পরিবেশ তাদের নিজের রঙে রঞ্জিত করে, ফলে ব্যক্তির বিকাশ ঘটে সেই সব উপাদানের ভিত্তিতে যা সে তার চারপাশের পরিবেষ্টিত সমাজ থেকে আহরণ করেছে; তা যদি ভালো হয় তবে ফলাফল ভালো হয়, আর যদি মন্দ হয় তবে ফলাফল মন্দ হয়।
সারকথা হলো, আপনি যদি এই সুউচ্চ ব্যক্তিত্ব—ইবনুল হাজিব—সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে চান, তবে তিনি যে যুগে বসবাস করেছেন তার ওপর কিছুটা আলোকপাত করা অপরিহার্য।
আব্বাসীয় খিলাফতের দুর্বলতা এবং খিলাফতের প্রত্যাশী বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজ নিজ অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর মিশরে আইয়ুবী রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন মুসলিম বিশ্ব বিভক্তি ও অনৈক্যের যন্ত্রণায় ভুগছিল; ইরাকে ছিল সেলজুকরা, পশ্চিমে এবং পরবর্তীতে মিশর ও শামে ছিল ফাতেমীয়রা এবং ইরাক ও পারস্যে ছিল বুয়াইহী বংশের শাসন, এরপর সেলজুকরা বাগদাদের খিলাফতের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
সেলজুকগণ তাদের রাজত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে নানা যুদ্ধ ও বিগ্রহে অবতীর্ণ হন। আব্বাসীয়দের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত চমৎকার, যার নির্মলতা কেবল তখনই ক্ষুণ্ণ হতো যখন তাদের কেউ আব্বাসীয় খলিফার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করত।
ইমাদউদ্দীন জঙ্গি সেলজুকদের থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং জঙ্গি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حُرُوب مع السَّلاجِقَة، وقدْ ساعد نجْمُ الدِّين أَيُّوبُ والدُ صلاح الدين - عماد الدين، فأحسن استقباله ووفادته، ولذلك توطدت العلاقة بين البيت الزنكي والأيوبي، وتسير الأُمُور حتَّى يسيطر السلاجقةُ بزعامة نُور الدِّين زنْكِي عَلَى مصْر بمساعدة صلاح الدِّين وأسدِ الدِّين شيركوه، حتَّى إذا تُوُفِّيَ نور الدِّين، يخلفه صلاح الدين، فَيَبْسُط سلطان الأيُّوبِيِّين على البلاد الممتدَّة من مصْرّ إلى الفُرات.
وتزْحَف الحملاتُ الصليبيَّةُ عَلَى العَالَمِ الإسْلاميِّ، فيتصدَّى لها السُّلطان صلاحُ الدِّين الأيُّوبيُّ حتَّى تَنكَسِرَ وتتحطم، فيحمد له التاريخُ ذلك.
وقال فيه أحد الشعراء قصيدة مطلعها: [الطويل]
أَرَى النَّصْرَ مَعْقُودًا بِرَايَتِكَ الصَّفْرَا
… فَسِرْ وَافْتَحِ الدُّنْيَا فَأَنْتَ بِهَا أَحْرَى
وَبِتَوَلِّي صلاح الدِّين الأمْرَ في مصْر، كان بدايةُ ظهور الدَّوْلَة الأيُّوبيَّة عَلَى مَسْرح الأحداث، وامتلأَتْ أيَّام حُكْم صلاحِ الدِّين بالحُرُوب والفُتُوحِ، وأعظمها فتْحُ بيت المقدس، وبلادِ الشَّامِ، إلَّا أَنَّ الصليبيين يُعَاوِدُونَ هُجُومَهُم، فيعقد معهم هدْنةً، وفي خلالِ ذلك يُفَجَّع المُسْلِمُونَ بمَوْت صَلاحِ الدِّين في سنة 589 هـ.
ويتوالَى سلاطينُ الأيوبيِّين واحدًا بعد الآخَرِ إلى أنْ تضعف دوْلَتُهم، بعد تدخُّل المماليك في شؤون البلاد، حتَّى تسْقُط الدوْلَة بمقتل توران شاه ابن الملك الصَّالِح نَجْم الدِّين أيُّوب، وذلك سنة 648 هـ.
وقد ظهر في خلال تِلْك الفتْرة نهضةٌ علميةٌ، ظهرتْ من خلالِ علماء جهابِذَةٍ وُجدُوا في أقطارِ العالم الإسْلاميِّ آنذاك، فمنهم:
حجَّة الإسلامِ أبو حامد الغزاليُّ المتوفَّى سنة 505 هـ، وعبد اللّه البَطْلَيوسِيُّ الفقيهُ المحدِّث الأصوليُّ المالكيُّ المتوفَّى سنة 521 هـ، وأبو الحَسَن بنُ الزاغُونِيِّ، الفقيهُ الحنبليُّ المتوفَّى سنة 527 هـ، والقاضي أَبُو بَكْر بْنُ العربيِّ الفقيهُ المالكيُّ المشهورُ المتوفَّى سنة 543 هـ، والفيلسوفُ ابنُ رشدٍ الحفيدُ المتوفَّى سنة 595 هـ، ابن الجوزيِّ الحنبليُّ المتوفَّى سنة 597 هـ، وابن قُدامَة الحَنْبَلِيُّ المتوفَّى سنة 620 هـ، وسيفُ الدِّينِ الآمديُّ المتوفَّى سنة 631 هـ، والشيخُ أبو عمرِو بنُ الصَّلاحِ المتوفَّى سنة 643 هـ، وغير هؤلاء كثير جدًّا.
সেলজুকদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পিতা নাজমুদ্দীন আইয়ুব ইমাদুদ্দীনকে সাহায্য করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে যথাযথভাবে গ্রহণ ও আতিথেয়তা প্রদান করেছিলেন। যার ফলে জানকি ও আইয়ুবী পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। ঘটনাবলি এমনভাবে আবর্তিত হতে থাকে যে, পরিশেষে নুরুদ্দীন জানকির নেতৃত্বে সেলজুকরা সালাহউদ্দীন এবং আসাদুদ্দীন শিরকুহ-এর সহায়তায় মিসর নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। নুরুদ্দীন যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন সালাহউদ্দীন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং মিসর থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের ওপর আইয়ুবীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
ইসলামী বিশ্বের ওপর ক্রুসেডারদের বাহিনীগুলো অগ্রসর হতে থাকে, তখন সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী তাদের মোকাবিলা করেন যতক্ষণ না তারা পরাজিত ও বিধ্বস্ত হয়। ইতিহাস তাঁর এই বীরত্বগাথাকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।
জনৈক কবি তাঁর প্রশংসায় একটি কবিতা রচনা করেন যার প্রারম্ভিক পঙ্ক্তি হলো: [তওয়ীল ছন্দ]
আমি আপনার পীত পতাকার সাথে বিজয়কে অবিচ্ছেদ্য দেখছি
সুতরাং আপনি অগ্রসর হোন এবং বিশ্ব জয় করুন, কারণ আপনিই এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য।
সালাহউদ্দীন কর্তৃক মিসরের শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে আইয়ুবী রাষ্ট্রের উত্থান সূচিত হয়। সালাহউদ্দীনের শাসনামলের দিনগুলো যুদ্ধ এবং বিজয়ে পরিপূর্ণ ছিল, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ছিল বায়তুল মাকদিস ও শাম দেশ বিজয়। তবে ক্রুসেডাররা পুনরায় আক্রমণ চালালে তিনি তাদের সাথে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। এমতাবস্থায় ৫৮৯ হিজরিতে সালাহউদ্দীনের ইন্তেকালে মুসলিম উম্মাহ শোকবিহ্বল হয়ে পড়ে।
আইয়ুবীয় সুলতানগণ একের পর এক ধারাবাহিকভাবে শাসন করতে থাকেন যতক্ষণ না দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মামলুকদের হস্তক্ষেপের ফলে তাদের রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিশেষে ৬৪৮ হিজরিতে মালিক সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের পুত্র তুরান শাহের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রের পতন ঘটে।
সেই সময়ে এক জ্ঞানভিত্তিক জাগরণ দেখা দিয়েছিল, যা তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যমান প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ আলেমদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি), ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মালেকি উসুলবিদ আবদুল্লাহ আল-বাতলায়ুসি (মৃত্যু ৫২১ হিজরি), হাম্বলি ফকিহ আবুল হাসান বিন আজ-জাগুনি (মৃত্যু ৫২৭ হিজরি), প্রখ্যাত মালেকি ফকিহ কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি (মৃত্যু ৫৪৩ হিজরি), দার্শনিক ইবনে রুশদ আল-হাফিদ (মৃত্যু ৫৯৫ হিজরি), ইবনুল জাওজি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি), ইবনে কুদামা আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬২০ হিজরি), সাইফুদ্দিন আল-আমিদি (মৃত্যু ৬৩১ হিজরি), শেখ আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) এবং এ ছাড়াও আরও অসংখ্য আলেম।
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كما ظهرت مصنفاتُ هؤلاء الأئمَّة، وانتشرتْ في جميع الأَصْقَاعِ، فتقبَّلها النَّاسُ بالقَبُول التامِّ، واعترفوا لأهْلِها بعُلُوِّ المنزلة. ومن بين هؤلاء الذين شَهِدَ لهم القاصي والداني، بإمامَتهِ وفَضْلِه، وطُول بَاعِه في نَوَاحِي العِلْمِ المختَلِفَة، الشَّيخُ العلَّامةُ الإمام أَبو عَمْرِو بْنُ الحَاجِبِ. وإليك - أيُّها القارئُ الكريمُ - ترجمة هذا الإمام:
نَشْأَتُهُ:نشأ ابن الحاجِب في بَيْتِ أبيهِ الَّذِي كان حاجِبًا للأَمير عزِّ الدين موسك الصلاحيِّ، ثم انتقل به والدُه إلى القاهِرة، حَيْثُ اشتغل بالقُرْآن الكريمِ فَحفِظَه، وأخذ بَعْض القراءاتِ عن الشاطبيِّ، وسمع منه "التيسير" و"الشاطبيَّة"، ثم قرأ بالسَّبْع على أبي الجود، وقرأ بطُرُقِ "المبهج" على الشِّهاب الغَزْنَوِيِّ، وتفقَّه على مَذْهَب الإمامِ مالك، وطلب الأُصُول فحصَّلها، وبرع فيها، وفي العربيَّة واشتهر بها، ودخل دمشق فسَمِعَ بها، ولزِمَ الاشتغال حتَّى ضرب به المثل. وما زال يَطْلُب العِلْم حتَّى سَادَ.
قال الذهبيُّ: "اشتغل أبو عمرٍو بالقاهِرة، وحفِظ القرْآن، وأخذَ بَعْض القِراءات عن الشاطبيِّ، وسمعَ مِنْه "التَّيْسِير"، وقرأ بطُرُق "المُبْهِج" على الشهابِ الغَزْنويِّ، وتلا بالسبع على أبي الجود، وسمع من أبي القاسمِ البوصيريِّ، وإسماعيل بْنِ ياسين، وبهاء الدِّين بْنِ عساكِرَ، وفاطمة بِنْتِ سعْدِ الْخَيْرِ، وطائِفة، وتفقَّه على أبي المنصور الأبياريِّ وغيره"
(1).
وَيَسْتَتْبِعُ هذَا الحديث عن شيوخ هذا الإمام؛
شيوخهُ:
1 - الشَّاطبيُّ:وهو القاسمُ بْنُ فِيرُّةَ بْن أَبِي القَاسِم بْنِ خَلَف بْنِ أَحْمَدَ، الإمامُ العلَّامةُ الحُفَظَةُ الضَّرير، أبو محمَّد الرُّعَيْنِيُّ، الأندلسيُّ، الشاطبيُّ، المقرئ الشهيرُ صاحبُ القصيدةِ
--------------------------------------------
যেমন এই ইমামগণের রচনাবলী প্রকাশিত হয়েছে এবং সকল দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে মানুষ তা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেছে এবং তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর যাঁদের ইমামত, শ্রেষ্ঠত্ব এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অগাধ পাণ্ডিত্যের ব্যাপারে নিকট ও দূরবর্তী সকলেই সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ আল্লামা ইমাম আবু আমর ইবনুল হাজিব। হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে এই ইমামের জীবনী তুলে ধরা হলো:
তাঁর বেড়ে ওঠা:
ইবনুল হাজিব তাঁর পিতার গৃহে বেড়ে ওঠেন, যিনি আমির ইজ্জুদ্দীন মুসক আল-সালাহির দেহরক্ষী ছিলেন। অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে কায়রোতে চলে যান, সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন চর্চায় নিয়োজিত হন এবং তা মুখস্থ করেন। তিনি ইমাম শাতিবির নিকট থেকে কিছু কিরাত গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে "আত-তাইসির" ও "আশ-শাতিবিয়্যাহ" শ্রবণ করেন। এরপর তিনি আবুল জুদ-এর নিকট সাত কিরাত পাঠ করেন এবং শিহাব গজনভির নিকট "আল-মুবহিজ"-এর পদ্ধতিতে কিরাত সম্পন্ন করেন। তিনি ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেন এবং উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্র অন্বেষণ করে তা আয়ত্ত করেন ও তাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। আরবি ভাষাতেও তিনি ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং এর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং সেখানে হাদিস শ্রবণ ও জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি জ্ঞানার্জনে এমনভাবে নিবিষ্ট থাকেন যে, এ ক্ষেত্রে তিনি উপমায় পরিণত হন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণ অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব লাভ করেন।
আয-যাহাবি বলেন: "আবু আমর কায়রোতে ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন, কুরআন হিফজ করেন এবং আশ-শাতিবি থেকে কিছু কিরাত গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর থেকে 'আত-তায়সির' শ্রবণ করেন এবং শিহাব আল-গাযনাভির কাছে 'আল-মুবহিজ'-এর পদ্ধতিসমূহে পাঠ করেন। তিনি আবুল জুদের কাছে সাত কিরাতে তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন। তিনি আবুল কাসিম আল-বুসাইরি, ইসমাইল ইবনে ইয়াসিন, বাহাউদ্দীন ইবনে আসাকির, ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইর এবং একদল উস্তাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি আবুল মানসুর আল-আবিয়ারি ও অন্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।"
(১)
.
এরই ধারাবাহিকতায় এই ইমামের উস্তাদদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো;
তাঁর শিক্ষকগণ:
১ - আশ-শাতিবি:
তিনি হলেন কাসিম ইবনে ফিররোহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে খালাফ ইবনে আহমাদ; প্রখ্যাত ইমাম, আল্লামা, প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ও দৃষ্টিহীন ব্যক্তি; আবু মুহাম্মাদ আর-রুয়াইনি, আল-আন্দালুসি, আশ-শাতিবি। তিনি সেই প্রসিদ্ধ কাসিদার রচয়িতা ও প্রখ্যাত কিরাত বিশেষজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المَوْسُومةِ بِـ "حرْزِ الأَمَانِي"، وَلَم يُلْحَقْ فِيها ولا سُبِقَ إلى مثلها. ولد بـ "شاطبة" في سنة 538 هـ ودخل مصر سنة 572 هـ، ذكره النوويُّ في "طبقاته" في الأسماء الزائدة على ما ذكره ابنُ الصَّلاح، وقال: لم يكنْ في زمانه بـ "مصرَ" نظيرُه في تعدُّد فنونه وكثرة محْفوظه، وقال ابن خَلِّكان: كان عالمًا بكتاب اللّه قراءةً وتفسيرًا، وبحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم مُبَرِّزًا، وكان يُقْرَأُ عَلَيْه "الصَّحيحان" و"الموطَّأ" فيصحِّحون النسخ من حفظه، ويُمْلِي النكت على المواضع المحتاج إلَيْها. وكان إمامًا في عِلْم النَّحْوِ واللُّغة، عارفًا بتعبير المناماتِ، حسَنَ المقَاصِد، مُخْلِصًا فيما يقول ويَفْعَل، ولا يَجْلِس للإقراء إلا على طهارة في هَيْئة حسَنَةٍ وتخشُّع واسْتكانة، وكان يقال: إنه يحفظ وِقْرَ بَعِيرٍ من العُلُومِ.
عالمًا بكتاب اللّه تعالى قراءةً وتفسيرًا، وبحديث الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، وبالجملة، فمحاسنه كثيرةٌ رحمه الله، وله من المصنَّفاتِ: اللَّامِيَّة والشَّاطِبيَّة، تُوفي سنة 590 هـ
(1).
والرعينيُّ منسوبٌ إلى ذي رُعَيْنٍ إحدى قبائل اليمن.
وفِيرُّة - بفاء مكسورة وياء مثناة من تحت ساكنة وراء مضمومة مشددة - اسم أعجمي معناه بالعربية: حَدِيد.
2 - الشِّهَابُ الغَزْنَوِيُّ:هو شهاب الدين أبو الفضل أحمدُ بن يوسُفَ بْنِ عليِّ بْنِ محمَّدٍ الغزنويُّ البغداديُّ، الفقيهُ الحنفيّ، وتنسب إليه المدرسة الغزنويَّة، حيث كان مدرِّسًا بها، وكان إمامًا فاضلًا، حسَنَ الطريقةِ متينًا، حدَّث بالقاهرة بكتاب "الجامع" لعبد الرزَّاق بْنِ هَمَّام، فرواه عنه جماعةٌ، وجمع كتابًا في الشيب والعمر.
وُلِدَ ببَغْداد سنة 522 هـ، وتُوفي بالقاهرة سنة 599 هـ.
3 - القاسِمُ بْنُ عَسَاكِر:هو القاسمُ بنُ عَلِيِّ بْنِ الحسن بْن هِبَةِ الله، الحافِظُ المُسْنِد، بهاءُ الدِّين، أبو محمَّد بنُ الحافِظِ الكبيرِ ثقة الدِّين أبي القاسم بْنِ عَسَاكِر، وُلدَ في جُمَادَى الأولَى سنة
--------------------------------------------
যা "হিরজুল আমানি" নামে প্রসিদ্ধ, এতে তাঁর সমতুল্য কেউ হতে পারেনি এবং এর আগে কেউ এর অনুরূপ কিছু করতে সক্ষম হয়নি। তিনি ৫৩৮ হিজরিতে "শাতিবা"-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৭২ হিজরিতে মিসরে প্রবেশ করেন। ইমাম নববী তাঁর "তাবাকাত" গ্রন্থে ইবনুস সালাহ বর্ণিত নামের অতিরিক্তদের তালিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর সময়ে "মিসর"-এ বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা এবং মুখস্থ বিদ্যার প্রাচুর্যের দিক থেকে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি আল্লাহর কিতাবের কিরাআত ও তাফসির এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী আলেম ছিলেন। তাঁর নিকট "সহীহাইন" এবং "মুওয়াত্তা" পাঠ করা হতো, আর তাঁরা তাঁর মুখস্থ থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করে নিতেন এবং তিনি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাসমূহ বলে দিতেন। তিনি নাহু ও ভাষা বিজ্ঞানে ইমাম ছিলেন, স্বপ্নের ব্যাখ্যাকরণে পারদর্শী ছিলেন, তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ ছিল মহৎ এবং তিনি তাঁর কথা ও কাজে একনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত এবং সুন্দর বেশভূষা, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন ছাড়া পাঠদানের জন্য বসতেন না। বলা হতো যে, তিনি এক উটের বোঝা পরিমাণ জ্ঞান মুখস্থ রাখতেন।
তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের কিরাআত ও তাফসির এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বিষয়ে আলেম ছিলেন। সংক্ষেপে, তাঁর গুণাবলি অসংখ্য, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-লামিয়্যাহ" এবং "আশ-শাতিবিয়্যাহ"। তিনি ৫৯০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(১)
আর "আর-রুআইনি" শব্দটি ইয়েমেনের অন্যতম গোত্র "যু রুআইন"-এর দিকে সম্বন্ধিত।
আর "ফিররূহ" শব্দটি—কাসরাযুক্ত 'ফা', সুকুনযুক্ত 'ইয়া' এবং দাম্মা ও তাশদীদযুক্ত 'রা' সহকারে—একটি অনারবীয় নাম, যার আরবি অর্থ হলো: লোহা।
২ - আল-শিহাব আল-গজনভী:
তিনি হলেন শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-গজনভী আল-বাগদাদী, হানাফী ফকীহ। গজনভী মাদ্রাসাটি তাঁর দিকেই নিসবত করা হয়, যেহেতু তিনি সেখানে শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম, সচ্চরিত্রবান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন। তিনি কায়রোতে আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মামের "আল-জামি" গ্রন্থটি বর্ণনা করেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বার্ধক্য ও বয়স বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন।
তিনি ৫২২ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৯৯ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
৩ - আল-কাসিম বিন আসাকির:
তিনি হলেন আল-কাসিম বিন আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ, হাফেজ, মুসনিদ, বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ; যিনি প্রখ্যাত হাফেজ সিকাতুদ্দিন আবুল কাসিম বিন আসাকিরের পুত্র। তিনি জুমাদাল উলা মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
527 هـ، وكان محدِّثًا حَسَن المعرفَة، شديد الوَرَع، ومع ذلك كان كثير المُزاحِ، صنَّف كتاب "المستقصى في فضائِلِ المَسْجِدِ الأقْصى"، وكتاب "الجهاد"، وتولَّى مشيخة دار الحديث النورية بعْد والده، فلم يتناولْ من معلومها شيئًا، بل كان يرْصُدُه للواردين من الطَّلَبة حتى قيل: لم يَشْرَبْ من مائِها ولا توضَّأ.
قال الذهبيُّ: كتب الكثير، وصنَّف وخرَّج وعُنِيَ بالكتابة والمطالعة فبالَغَ إلى الغاية
… تُوفِّيَ سنة 600 هـ بدمشق"
(1).
4 - أبُو الحَسَنِ الأبْيَارِيُّ:وهو عليُّ بنُ إسماعيل بْنِ عليِّ بن عطيَّة الأبياريُّ، شمسُ الدِّينِ، أبو الحَسَن، وأَبْيَار - بفتح الهمزة وسكون الباء - بلدة بالغربية من محافظات مصر، جمع "بِئْر". وهو أحد أئمَّة الإسْلام المحقِّقين الفقيهُ المالكيُّ الأصوليُّ المحدِّث، رحل النَّاس إليه، وكان ذا دعوةٍ مجابةٍ، بَرَعَ فِي عُلُومٍ شتَّى: الفقه، والأصُّول، والكَلام، وكان بعض الأئمَّة يفضِّله على الإمامِ فخر الدِّين في الأصُولِ، تفقَّه بأبي الطَّاهِرِ بْنِ عَوْفٍ، والقاضي عبد الرحمن بْن سلامة، ودرس بالإسكندرية، وانتفع به الناس.
وُلدَ سنة 557 هـ، وتُوُفِّي سنة 618 هـ
(2).
5 - أَبُو الجُودِ:وهو الحسنُ بنُ عليِّ بْنِ عبْدِ الله أَبُو الجُودِ الأنطاكيُّ يُعْرفُ بـ "ابْنِ الزِّف" مكسورة، وبالفاء، شيخ لأبي عليٍّ الرُّهَاوِيِّ ذُكِرَ أَنَّه قرأَ عليْهِ عن قراءته على أبي بكرٍ محمَّدِ بْنِ هارون التَّمَّارِ صاحبِ رويس، وذكر الحافظُ أبو العلاءِ أنَّه قرأ أيضًا على أبي بكرٍ أحمدَ بْنِ كاملٍ عن التمار، وعلى الحُسَيْنِ بْنِ عليٍّ الملقَبِ بـ "كرداب" صاحِبِ الغرائب عن رويس
(3).
وقد تتلْمَذ ابنُ الحاجب على شيوخٍ كثيرينَ مثْل أبي الحُسَيْن بْن جيد، وأبي الحَسَنِ
--------------------------------------------
৫২৭ হিজরি, তিনি উত্তম জ্ঞানের অধিকারী একজন মুহাদ্দিস এবং অত্যন্ত পরহেজগার ছিলেন; তাসত্ত্বেও তিনি প্রচুর কৌতুক করতেন। তিনি 'আল-মুস্তাকসা ফি ফাদায়িলিল মাসজিদিল আকসা' এবং 'কিতাবুল জিহাদ' গ্রন্থদ্বয় রচনা করেন। তিনি তাঁর পিতার পর দারুল হাদিস নূরিয়ার শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে সেখানকার জন্য নির্ধারিত কোনো পারিশ্রমিক তিনি গ্রহণ করতেন না; বরং তিনি তা আগন্তুক শিক্ষার্থীদের জন্য জমা রাখতেন। এমনকি বলা হতো যে, তিনি সেখানকার পানি পান করতেন না এবং তা দিয়ে অজুও করতেন না।
আয-যাহাবি বলেন: "তিনি প্রচুর লিখেছেন, গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন এবং লেখালেখি ও অধ্যয়নে নিবিষ্ট ছিলেন, ফলে তিনি এক্ষেত্রে পূর্ণতায় পৌঁছেছিলেন। তিনি ৬০০ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।"
(১)
.
৪ - আবুল হাসান আল-আবিয়ারি:
তিনি হলেন আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে আতিয়্যাহ আল-আবিয়ারি, শামসুদ্দিন, আবুল হাসান। আর 'আবিয়ার'—হামজার উপরে ফাতহা এবং বা-এর উপরে সুকুন—মিশরের গারবিয়া প্রদেশের একটি শহর, যা 'বি’র' শব্দের বহুবচন। তিনি ইসলামের অন্যতম গবেষক ইমাম, মালিকি ফকিহ, উসুলবিদ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। মানুষ তাঁর নিকট সফর করে আসত। তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) ছিলেন। তিনি ফিকহ, উসুল এবং ইলমে কালামসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। কোনো কোনো ইমাম উসুল শাস্ত্রে তাঁকে ইমাম ফখরুদ্দিনের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি আবু তাহির ইবনে আউফ এবং কাজি আবদুর রহমান ইবনে সালামাহর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় পাঠদান করেন; তাঁর মাধ্যমে মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছে।
তিনি ৫৫৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(২)
.
৫ - আবুল জুদ:
তিনি হলেন হাসান বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ আবুল জুদ আল-আনতাকি, যিনি "ইবনুল জিফ" (প্রথম অক্ষরে জের এবং শেষে 'ফা' বর্ণ যোগে) নামে পরিচিত। তিনি আবু আলি আল-রুহাউয়ির শাইখ ছিলেন; উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি (রুহাউয়ি) তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন, আর তিনি (আবুল জুদ) রুয়াইসের ছাত্র আবু বকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আল-তাম্মারের নিকট কিরাত পাঠ করেছিলেন। হাফিজ আবুল আলা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-তাম্মারের সূত্রে আবু বকর আহমাদ বিন কামিলের নিকট এবং রুয়াইসের সূত্রে "কুরদাব" উপাধিধারী ও সাহিবুল গরাইব আল-হুসাইন বিন আলির নিকটও কিরাত পাঠ করেছেন
(৩)
।
ইবনুল হাজিব অনেক শাইখের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন, যেমন আবু আল-হুসাইন বিন জায়্যিদ এবং আবু আল-হাসান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الشَّاذليِّ، وأبِي عبْدِ اللَّهِ محمَّدِ بنِ أحمد بْنِ حامِدٍ الأرتاحيّ، وغيرِهِمْ ممَّا لا يتَّسع له المقام، بل سنذكرهم على آخرهم في تحقيقنا على المختصر.
تَلامِذَتُهُ:
1 - شِهَابُ الدِّينِ القرافِيُّ:وهو أحمد بن إدريس بْنِ عَبْدِ الرحمنِ بنِ عبْدِ اللهِ بن بكِّين، الصنهاجيُّ البغشيميّ، البهنسيُّ المصريُّ المالكيُّ شهابُ الدِّين، وكنيته "أبو العباس"، أخذ عن الشيخ عزّ الدِّينِ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ الشَّافعي والفاكهانيِّ والبقوريِّ، وكان وحيدَ دَهْره ومزيدَ عَصْره، حافظًا منوهًا، بارعًا في الأصُول والتفْسِير والحديث والعُلُوم العقْليَّة، وعلم الكلام والنَّحْو. تخرَّج عليه جمْعٌ من الفضلاء، وله مصنَّفات عديدةٌ مشهورةٌ، منها: "نفائس الأصُول"، وقد حقَّقْناه بِحمد اللّه، وكتاب "التَّنْقِيح" وشرحه، و"الذَّخيرة"، وبها اشتُهر، و"الاسْتِغْناء في الاسْتِثْناء"، وغير ذلك.
تُوُفِّيَ بمصر القديمة سنة 684 هـ
(1).
2 - ابْنُ المُنير:وهو أحمدُ بْنُ محمَّدِ بْنِ مَنْصورِ بْنِ أبِي القَاسِم بْنِ مخْتَارِ بْن أَبِي بَكْر بْنِ عليٍّ، أبُو العبَّاسِ ناصرُ الدِّين، المعروفُ بـ "ابن المنير" الجرويُّ الجزاميُّ الإسكندريُّ، الفقيهُ المالكيُّ الأصوليُّ المتكلِمُ النظارُ المفسِّر، المحدِّثُ الراوية، الأديبُ الشَّاعِرُ الخطيب، ولد سنة 620 هـ، وسمع من أبيه ومنْ أبي بكرٍ عبدِ الوهَّاب بنِ رواح بن أسْلم الطوسيِّ، وقرأ على ابن الحاجب الفقْه والأصول، ونقل ابن فرحونَ أن العزَّ بنَ عبْد السلام قال: الدِّيارُ المصريَّة تفتَخِر برجُلَيْن في طرفيها: "ابنُ دَقِيقِ العِيدِ بـ "قُوص"، وابْنُ المنير بـ "الإسْكَنْدَرِيَّة"، ولأبي عمرو بْنِ الحاجِبِ فيه: [الوافر]
لَقَدْ سَئِمَتْ حَيَاتِي اليَوْمَ لَوْلا
… مَبَاحِثُ سَاكِنِ الإِسْكَنْدَرِيَّهْ
--------------------------------------------
আশ-শাজিলী, এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামিদ আল-আরতাহীসহ আরও অনেকে যাদের উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত স্থান এখানে নেই; বরং আমরা আল-মুখতাসার-এর ওপর আমাদের তাহকীকে তাদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করব।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
১ - শিহাবউদ্দীন আল-কারাফী:
তিনি হলেন আহমদ বিন ইদরীস বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন বাক্কীন, আস-সানহাজী আল-বাগাশিমী, আল-বাহনাসী আল-মিসরী আল-মালিকী শিহাবউদ্দীন। তাঁর উপনাম (কুনয়াত) হলো "আবু আব্বাস"। তিনি শেখ ইযযুদ্দীন বিন আবদুস সালাম আশ-শাফিয়ী, আল-ফাকিহানী এবং আল-বাকুরী থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি ছিলেন তাঁর জামানার অনন্য ব্যক্তিত্ব ও যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান, একজন খ্যাতিমান হাফেয, উসূল (মূলনীতি), তাফসীর, হাদীস, আকলী বা যুক্তিনির্ভর জ্ঞান, ইলমে কালাম এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে সুপণ্ডিত। একদল গুণী ব্যক্তি তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর বহু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: "নাফাইসুল উসূল"—যা আল্লাহর প্রশংসায় আমরা তাহকীক করেছি, এবং "আত-তানকীহ" কিতাব ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "আয-যখীরা"—যার মাধ্যমে তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছেন, "আল-ইস্তিঘনা ফীল ইস্তিসনা" ইত্যাদি।
তিনি ৬৮৪ হিজরী সনে প্রাচীন মিশরে ইন্তেকাল করেন
(১)
.
২ - ইবনুল মুনাইয়ির:
তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মানসুর বিন আবুল কাসেম বিন মুখতার বিন আবু বকর বিন আলি, আবুল আব্বাস নাসিরুদ্দিন, যিনি "ইবনুল মুনাইয়ির" আল-জারউয়ি আল-জুযামি আল-ইসকান্দারি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন মালিকি ফকিহ, উসুলবিদ, কালামশাস্ত্রবিদ, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, মুফাসসির, হাদিস বর্ণনাকারী মুহাদ্দিস, সাহিত্যিক, কবি ও বাগ্মী। তিনি ৬২০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা এবং আবু বকর আব্দুল ওয়াহহাব বিন রাওয়াহ বিন আসলাম আত-তুসি থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং ইবনুল হাজিবের নিকট ফিকহ ও উসুল পাঠ করেন। ইবনে ফারহুন বর্ণনা করেছেন যে, ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম বলেছেন: "মিসর ভূখণ্ড তার দুই প্রান্তের দুইজন ব্যক্তির জন্য গর্ববোধ করে: কুস নগরে 'ইবনে দাকীকুল ঈদ' এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় 'ইবনুল মুনাইয়ির'।" ইবনুল মুনাইয়ির সম্পর্কে আবু আমর ইবনুল হাজিব বলেছেন: [ওয়াফুর ছন্দ]
আমার জীবন আজ নিশ্চয়ই বিষণ্ণ হয়ে উঠত যদি না আলেকজান্দ্রিয়ার সেই বাসিন্দার জ্ঞানগর্ভ ও শাস্ত্রীয় আলোচনা থাকত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২০)
كَأَحْمَدَ سِبْطِ أَحْمَدَ حِينَ يَأْتِي
… بِكُل غَرِيبَةٍ كَالْعَبْقَرِيَّهْ
تُذَكِّرُنِي مَبَاحِثُهُ زَمَانًا
… وإخْوَانًا لَقِيتُهُمُ سَرِيَّه
زَمَانًا كَانَ الأَبْيَارِيُّ فِيهِ
… مُدَرِّسَنَا وتَغْبِطُنَا الْبَرِيَّهْ
مَضَوْا فَكَأَنَّهُمْ إِمَّا مَنَامٌ
… وإمَّا صُحْبَةٌ أَضْحَتْ عَشِيَّه
له مصنَّفاتٌ عديدةٌ قيِّمة، منْها: تفسير القرآن سماه "البَحْرَ الكَبِيرَ في نخب التَّفْسِير"، ومنها: كتابُ "الانتصاف من الكَشَّاف" وغيرهما.
تُوُفِّيَ رحمه الله بالإسكندرية سنة 683 هـ
(1).
3 - المُنْذِرِيُّ صاحب "الترغيب والترهيب":وهو عبدُ العَظِيم بنُ عَبْدِ القويِّ بْن عبدِ الله بْنِ سلامَة بْنِ سعدِ بْنِ سَعِيدٍ، الحافِظُ زكيُّ الدِّينِ أبُو محمَّدٍ، المنذريُّ، الشاميُّ الأصْل، ثم المصريُّ المولد والوفاة. ولد سنة 581 هـ، وقرأ القراءات، وبَرَع في العربيَّة والفقْه، وسمِعَ الحديث من جماعة بـ "مَكَّة" ودمشْق وحَرَّان والرُّها والإسْكَنْدرِية، وتخرَّج في الحديثِ بالحافظِ عليِّ بْن المفضَّلِ، وخَرَّج لنَفْسِه معجمًا مفيدًا في ثمانية عشَرَ جُزءًا حديثيَّة، روى عنه الدِّمْياطيُّ وابنُ دقيقِ العيدِ، والشَّريفُ عزُّ الدِّينِ وأبُو الحَسَنِ اليونينيُّ وخلقٌ، ودرس بالجامع الظافريِّ، ثم ولي مشيخة دار الحديث الكاملية، وانقَطَعَ بها عشرين سنة يصنِّف ويفيد، ويتخرَّج به العلماء في فُنُونٍ من العلْم، وبه تخرَّجِ الدمياطيُّ وابنُ دقيق العيد وطائفةٌ. وقال الشَّريفُ عزُّ الدين: "كان عديمَ النَّظير في مَعْرِفة عِلْمِ الحَدِيث عَلَى اخْتِلاف فُنُونه، عَالِمًا بِصَحِيحه وسَقيمه، ومَعْلُوله وطرق أسَانِيده، متبحِّرًا في مَعْرِفَةِ أحْكَامِه ومَعَانِيه ومُشْكِلِه، قيِّمًا بِمعْرِفَة غرِيبهِ وإعْرَابه واخْتِلافِ ألْفاظِه، ماهِرًا في مَعْرِفَةِ رواتِه وجرحِهم وتَعْدِيلِهِم ووَفياتِهم، وموالِيدِهِم وأخْبَارِهِم، إمامًا حُجَّةً، ثَبتًا، ورعًا، متحرِّيًا فيما يقولُه، متثبّتًا فيما يَرْوِيهِ".
وقال الذهبيُّ: كان صالحًا، زاهدًا، متنسِّكًا، ولم يكنْ في زمانه أحْفَظُ منه.
--------------------------------------------
আহমদের দৌহিত্র আহমদের মতো যখন তিনি
নিয়ে আসেন বিস্ময়কর ও অনন্য সব বিষয়
তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আমাকে সেই সময়ের কথা
এবং সেই ভ্রাতৃবৃন্দের কথা মনে করিয়ে দেয় যাদের সাথে আমি এক শ্রেষ্ঠ মজলিসে মিলিত হয়েছিলাম
সেই সময় যখন আল-আবিয়ারী আমাদের
মাঝে শিক্ষক ছিলেন এবং সমগ্র সৃষ্টি আমাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করত
তাঁরা গত হয়েছেন, ফলে এখন তাঁদের এক
স্বপ্ন মনে হয় অথবা এমন এক সাহচর্য যা দ্রুতই সায়াহ্নে পর্যবসিত হয়েছে
তাঁর বহু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: কুরআনের তাফসীর যার নাম তিনি রেখেছেন "আল-বাহরুল কাবীর ফী নুখাবিত তাফসীর", এবং "আল-ইনতিসাফ মিনাল কাশশাফ" গ্রন্থ ও অন্যান্য।
তিনি ৬৮৩ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন
(১)।
৩ - "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব" প্রণেতা আল-মুনজিরী:
তিনি হলেন আব্দুল আজিম ইবন আব্দুল কাবি ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালামাহ ইবন সাদ ইবন সাইদ, হাফেজ জাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-মুনজিরি। তাঁর আদি নিবাস সিরিয়া হলেও তিনি মিসরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি ৫৮১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ (কিরাত) শিখেছিলেন এবং আরবি ভাষা ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তিনি মক্কা, দামেস্ক, হাররান, রুহা ও আলেকজান্দ্রিয়ার একদল মুহাদ্দিসের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি হাফেজ আলি ইবনুল মুফাজ্জালের নিকট হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং নিজের জন্য আঠারো খণ্ডে বিন্যস্ত একটি অত্যন্ত উপকারী হাদিস-অভিধান সংকলন করেন। তাঁর নিকট থেকে আদ-দিময়াতি, ইবন দাকিকুল ঈদ, শরীফ ইজ্জুদ্দিন, আবুল হাসান আল-ইউনিনিসহ অগণিত লোক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি জামে জাফিরিতে অধ্যাপনা করেন এবং পরবর্তীকালে দারুল হাদিস আল-কামিলিয়ার প্রধান শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে বিশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি গ্রন্থ রচনা ও জ্ঞান বিতরণে অতিবাহিত করেন এবং তাঁর অধীনে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু আলেম তৈরি হন। আদ-দিময়াতি, ইবন দাকিকুল ঈদ এবং একদল আলেম তাঁর কাছেই শিক্ষিত হয়েছেন। শরীফ ইজ্জুদ্দিন বলেন: "হাদিস শাস্ত্রের নানাবিধ শাখায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি হাদিসের সহিহ, সাকিম, মালুল এবং বর্ণনাসূত্রসমূহ সম্পর্কে বিশদ অবগত ছিলেন। হাদিসের বিধান, অর্থ ও জটিল বিষয়সমূহে তিনি ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। হাদিসের বিরল শব্দ, ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ ও পাঠান্তর সম্পর্কে তিনি দক্ষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাঁদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, জন্ম-মৃত্যুর তারিখ এবং জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত পটু। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, অকাট্য দলিল, নির্ভরযোগ্য ও পরহেজগার। তিনি যা বলতেন তাতে ছিলেন অতি সতর্ক এবং যা বর্ণনা করতেন তাতে ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ়।"
এবং ইমাম যাহাবী বলেছেন: তিনি ছিলেন পুণ্যবান, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার; তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ (স্মৃতিধর) আর কেউ ছিলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومن تصانيفه: "مختصر مسْلِم"، و"مُختصر سنن أبي دَاوُد"، وكتاب "الترغيب والترهيب" وغير ذالك. تُوفِّي سنة 656 هـ، ودُفِنَ بسَفح المُقطَم
(1).
4 - الدِّميَاطيُّ:هو عبدُ المؤْمِن بْنُ خلَفِ بْنِ أبي الحَسَن بْنِ شرَفِ بْنِ الخَضِرِ بْنِ مُوسَى، الحافِظُ الكبير، شرفُ الدِّين أبو محمَّدٍ، وأبو أحْمَدَ الدِّمْياطِيُّ. وُلدَ بدمياط سنة 613 هـ، وتفقه بها، وقرأ بالسَّبع على الكمال الضَّرِير، وسَمِع الكثير ورحَل، ولازَمَ المنذريَّ سنين، وتخرَّج به، ودرَّسَ لطائفة المحدِّثين بالمنْصُوريَّة، وهو أول مَنْ دَرَّسَ بِهَا لَهُم، وبالظاهريَّة، ورحل إلَيْه الطُلَّاب، وحدَّث قديمًا، وسَمِع مِنْه أبو الفَتْح الأبْيورْدِيُّ، رَوَى عنه من تلاميذه الحفَّاظُ: المِزِّيُّ، والبرزاليُّ، والذهبيّ، وابنُ سيِّدِ النَّاسِ، والسُّبْكِيُّ وغيرُهُم.
قال المِزِّيُّ: ما رأيْتُ أحْفَظَ مِنْه. وقال البرزاليُّ: وكان آخِرَ مَنْ بَقِيَ من الحفَّاظ وأهْل الحديث أصحاب الرواية العالية، والدرايةِ الوافِرَةِ. وقال الذهبيُّ في معجمه: العلَّامة، الحافظ، الحجَّة، أحدُ الأئِمَّةِ الأَعلام، وبقيَّة نُقَّاد الحديث، اشتغل بـ "دِمْيَاط"، وأتقن الفِقْه، ثم طلب الحديث سنة 636 هـ، ورحل وسَمِعَ الكَثيِر، ومعْجمه نحو ألف ومائتين وخمسين شيخًا.
وله تصانيفُ في الحديثِ والعوالي، والفِقْهِ واللُّغة وغَيْرِ ذلك، ومحاسِنُه جمَّةٌ. وقد أثنى عَلَيْه غَيْرُ واحِدٍ، وله مصنَّفاتٌ نَفِيسَةٌ منها: "السِّيرة النبويَّة"، وكتابّ في "الصلاةِ الوُسْطى"، وكتابُ "الخيل"، وغير ذلك. تُوُفِّيَ فجأةً سنة 705 هـ بالقاهرة
(2).
ولابنِ الحاجبِ تلامذةٌ كثيرونَ، نكْتَفِي بِذِكْرِ مَنْ تقدَّم، ولنبسط ذلك عند تحقيقنا على المختصر.
--------------------------------------------
তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "মুখতাসার মুসলিম", "মুখতাসার সুনানে আবি দাউদ", "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব" গ্রন্থ এবং আরও অন্যান্য। তিনি ৬৫৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশে তাকে সমাহিত করা হয়
(১)
।
৪ - আদ-দিমইয়াতি:
তিনি হলেন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ বিন আবিল হাসান বিন শারাফ বিন আল-খাদির বিন মুসা, আল-হাফিজুল কাবির (সুপ্রসিদ্ধ হাফেজ), শারাফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ এবং আবু আহমাদ আদ-দিমইয়াতি। তিনি ৬১৩ হিজরি সনে দিমইয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ফিকহ শাস্ত্র শিক্ষা করেন। তিনি কামাল আদ-দারিরের নিকট সাত ক্বিরাত পড়েছেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ ও জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন। তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ আল-মুনযিরির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকেই শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি মানসুরিয়্যা মাদরাসায় মুহাদ্দিসগণের একটি দলকে পাঠদান করেছেন এবং তিনিই সেখানে তাদের প্রথম শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাহিরিয়্যা মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট সফর করে আসত। তিনি অনেক পূর্ব থেকেই হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবুল ফাতহ আল-আবিওয়ার্দি হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্য হতে প্রখ্যাত হাফেজগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন: আল-মিযযি, আল-বিরযালি, আজ-জাহাবি, ইবনু সাইয়্যিদিন নাস, আস-সুবকি এবং আরও অন্যান্য।
আল-মিযযী বলেন: “আমি তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি।” আল-বারযালী বলেন: “তিনি ছিলেন উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনা এবং প্রভূত পাণ্ডিত্যের অধিকারী হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের মধ্যে অবশিষ্ট সর্বশেষ ব্যক্তি।” আয-যাহাবী তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে বলেন: “আল্লামা, হাফেজ, হুজ্জাহ (প্রমাণ), শীর্ষস্থানীয় ইমামগণের একজন এবং হাদিস সমালোচকগণের উত্তরসূরি। তিনি ‘দমইয়াত’-এ জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন এবং ফিকহশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। অতঃপর তিনি ৬৩৬ হিজরি সালে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন, (জ্ঞানার্জনে) দেশভ্রমণ করেন ও প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁর ‘মুজাম’ (শিক্ষক-তালিকা) প্রায় এক হাজার দুইশত পঞ্চাশজন শায়খের সমন্বয়ে গঠিত।”
হাদিস, আওয়ালী (উচ্চ সনদসমৃদ্ধ হাদিস), ফিকহ, ভাষাতত্ত্ব এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে এবং তাঁর গুণাবলি অত্যন্ত ব্যাপক। একাধিক মনীষী তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে: ‘আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ’, ‘আস-সালাতুল উসতা’ বিষয়ক একটি কিতাব এবং ‘আল-খাইল’ (ঘোড়া) বিষয়ক কিতাব অন্যতম। তিনি ৭০৫ হিজরি সালে কায়রোতে আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন
(২)।
ইবনুল হাজিবের অসংখ্য ছাত্র রয়েছে, আমরা কেবল পূর্বোল্লিখিতদের বর্ণনায় সন্তুষ্ট থাকছি। ‘আল-মুখতাসার’-এর তাহকীক (সম্পাদনা) করার সময় আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثنَاءُ العُلَمَاءِ عَلَيهِ:قال ابنُ خَلِّكَانَ: "
… وبرَعَ في عُلُومه وأتْقَنَها غاية
… وجَاءَني مرارًا بسبب آراء وشهادات، وسألته عن مواضع في العربيَّة مُشكلةً، فأجاب أبلغ إجابة بسُكُونٍ كثير وتثبُّتٍ تامِّ
…(1).
قال: ومِنْ جملةِ ما سألته عن مسألة اعتراضِ الشَّرْط علَى الشَّرْط في قولهم: "إنْ أَكَلْتِ إِنْ شرَبْتِ فَأَنْتِ طَالِقٌ" ثُمَّ تعيُّن تقديمِ الشُّرْبِ على الأكْلِ يُسَبِّبُ وقوعَ الطَّلاقِ حتَّى لَوْ أكلَتْ ثمَّ شربَتْ لا تُطلَّق؟.
وسألته عن بيتِ أبي الطيِّب المتنبي، وهو قوله: [البسيط]
"لَقَدْ تَصبَّرْتُ حَتى لاتَ مُصْطَبرِ
… فَالآنَ أُقحَمُ حَتَّى لاتَ مُقْتَحَمِ"
مَا السَّبَبُ الموجِبُ لِخَفْضِ. "مُصْطَبَرٍ" و"مُقْتَحَمِ"، و"لاتَ" لَيْسَتْ من أدوات الجر؟ فأطال الكلام فيهما، وأحسن الجَوابَ عَنْهما، ولولا التطويلُ لذكرت ما قاله .. "
(2).
وقال الذهبيُّ: "وكان من أذكياء العَالَم، رأْسًا في العربيَّة وعِلْم النظر، درَّس بجامع دمشْق، وبالنورية المالكيَّة، وتخرَّج به الأصحاب، وسارَتْ بمصنَّفاته الركبان، وخالَفَ النُّحاة في مسائِلَ دقيقةٍ، وأوْرَدَ عَلَيْهم إشكالات مفْحِمةً .. "
(3).
وقال الأدفويُّ: "وكان صحيحَ الذِّهْن، قويَّ الفَهْم، حادَّ القريحة. قال الشيخ الإمامُ أبو الفتح محمَّدُ بْنُ عليّ القُشَيْرِيُّ عنه: هذا الرَّجُلُ تيسَّرَتْ له البلاغة، فتقيأ ظلَّها الظليل، وتفجَّرتْ ينابيعُ الحِكْمَةِ، فكان خاطِرُه ببَطْن المَسِيل، قرب المرمى، فخفف الحمل الثقيل، وقامَ بوظيفةِ الإيجاز، فنَادَاهُ لسانُ الإنْصَاف، ما على المُحْسِنِين مِنْ سبيل، وكان رحمه الله مِنَ المُحْسِنِينَ الصَّالِحِينَ المُتَّقِينَ"
(4).
وقال ابنُ فَرْحُونَ: "قال والدي - عليُّ بْنُ فَرْحُونَ رحمه الله: قال لي الإمامُ العالِمُ
--------------------------------------------
তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা:
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: "তিনি তাঁর জ্ঞানশাখাসমূহে পারদর্শী হয়েছিলেন এবং সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে আয়ত্ত করেছিলেন। বিভিন্ন মতামত ও সাক্ষ্য প্রদানের প্রয়োজনে তিনি বহুবার আমার কাছে এসেছেন। আমি তাঁকে আরবী ভাষার কিছু জটিল বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরতা ও পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল উত্তর দিয়েছিলেন
(১)।
তিনি বলেন: আমি তাঁকে যা যা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তার মধ্যে একটি বিষয় ছিল শর্তের ওপর শর্ত আসার মাসআলা। যেমন তাদের কথা: "যদি তুমি খাও, যদি তুমি পান করো, তবে তুমি তালাক"। এক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য খাওয়ার আগে পান করা কেন নির্ধারিত হয়ে যায়, এমনকি সে যদি আগে খায় এবং পরে পান করে তবে কেন তালাক হবে না?
আর আমি তাঁকে আবু তাইয়্যেব আল-মুতানাব্বির একটি পঙ্ক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তা হলো: [বাসিত ছন্দ]
"আমি ধৈর্য ধারণ করেছি যতক্ষণ না ধৈর্যের আর কোনো সুযোগ ছিল, এখন আমি বিপদে নিমজ্জিত হয়েছি যতক্ষণ না নিমজ্জিত হওয়ার আর কোনো স্থান অবশিষ্ট ছিল।"
'মুসতাবারিন' এবং 'মুক্তাহামি' শব্দ দুটিতে জের হওয়ার কারণ কী, অথচ 'লাতা' তো হরফে জার বা পদান্বয়ী অব্যয় নয়? তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং চমৎকার উত্তর প্রদান করেন। যদি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে তিনি যা বলেছিলেন আমি তা উল্লেখ করতাম।
(২)।
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন জগতের অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি, আরবি ভাষা ও যুক্তিবিদ্যায় শীর্ষস্থানীয় ইমাম। তিনি দামেস্কের জামে মসজিদে এবং আল-নুরিয়্যাহ আল-মালিকিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন। তার সান্নিধ্যে বহু ছাত্র শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং তার রচিত গ্রন্থাবলি দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সূক্ষ্ম বিভিন্ন বিষয়ে বৈয়াকরণদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং তাদের সামনে এমন সব অকাট্য আপত্তি উত্থাপন করেছেন যা তাদের নিরুত্তর করে দিত।"
(৩)
.
আদফাউয়ি বলেন: "তিনি ছিলেন সুস্থ চিন্তাশক্তি, প্রখর বোধশক্তি এবং তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। শায়খ ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুশায়রি তার সম্পর্কে বলেছেন: এই ব্যক্তির জন্য অলঙ্কারশাস্ত্র সহজসাধ্য হয়েছিল, ফলে তিনি এর সুশীতল ছায়া বিস্তারিত করেছিলেন। তার থেকে প্রজ্ঞার ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয়েছিল। তার চিন্তা-ভাবনা ছিল প্রবাহমান স্রোতধারার তলদেশের মতো গভীর এবং লক্ষ্যের নিকটবর্তী। তিনি ভারী বোঝাকে হালকা করেছিলেন এবং সংক্ষেপ করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে ইনসাফের জবান তাকে ডেকে বলেছিল, 'সদাচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো পথ নেই'। আল্লাহ তাকে রহম করুন, তিনি ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ, নেককার ও মুত্তাকি বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।"
(৪)
.
ইবনুল ফারহুন বলেন: "আমার পিতা—আলী বিন ফারহুন (আল্লাহ তাকে রহম করুন) বলেছেন: আলেম ইমাম আমাকে বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفَاضِلُ العَلَّامَةُ القاضي فخرُ الدِّينِ المصريُّ: كان شيخُنا كمالُ الدِّين الزملكانيُّ يقول: "لَيْسَ للشَّافعيةِ مثْل مُختَصَرِ ابْنِ الحاجِبِ للمالكيَّة" وكفى بهذه الشَّهَادة
(1).
وقال ابن الجَزَرِيِّ. "الإمامُ العلَّامة الفقيهُ المالكيّ، الأصوليُّ النَّحويُّ المقرئُ
… قال أبو الفَتْح عمر بن الحاجِبِ الأمينيُّ هو فقيهٌ فاضلٌ مُفتٍ مناظرّ مُبَرِّزٌ في عدَّة عُلُومٍ متبحِّرٌ مع ثقةٍ ودينٍ وورعٍ وتواضعٍ واحتمال تكلُّفٍ
… "
(2).
وقال السُّيُوطِي. "وكانَ رُكْنًا مِنْ أَرْكانِ الدِّينِ في العِلم والعَمَلِ
… "
(3).
بَيْنَ ابْنِ الْحَاجِبِ وَالْعِزِّ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ:تذْكُر المصادِرُ التاريخيَّةُ أنَّ ابن الحاجِبِ كانَ عَلَى علاقَةٍ شديدةٍ بسُلْطان العلماءِ العزِّ بْنِ عبدِ السَّلامِ، فكان يحِبه حبًّا شديدًا، ويتعلَّقُ به، ويدافِعُ عنه.
قال ابنُ العِمَادِ: "قال اليافعيُّ: وبَلَغَنِي أنَّه كان محبًّا للشَّيْخِ عزِّ الدِّين بْنِ عَبْدِ السَّلامِ وأن ابنَ عَبْد السلامِ حين حُبِسَ بِسَبَبِ إنْكاره عَلَى السُّلطان دَخَل مَعَهُ الحَبْسَ موافقةً ومراعاةً، ولَعلَّ انتقَالَه إلى مصر كان بسَبَبِ انتقال الشَّيخِ ابْنِ عَبْدِ السَّلام وفيهما أنَّهما اجتمعا في الإنكار
… "
(4).
ولكن ابنَ الجَزَرِيِّ يرَى - من قبلُ - أن السُّلْطان أخرجهما معًا من الدِّيَار الشاميَّة، قال: "ودخَلَ دمشق، فسَمِعَ من القاسم بْنِ عساكِرَ وغيره، ولزم الاشتغال حتَّى ضُرِبَ به المَثَل، وتكرَّر دخولُه دمشْقَ، وآخر ما دخلها سنة سَبع عَشْرَة وستمائة، فَاشْتَغَل ودرَّسَ بالجامعِ الأمويِّ بزاوية المالكيَّة منْه، وهي شماليّ محرابِ الحنابلة الذي يلي صَحْنَ الجامع، فأكب الفضلاءُ عَلَيْه، وانْتَفعُوا بهِ كَثِيرًا، فَلمَّا وَقَعَ بَينَهُ وَبَينَ صَاحِب دِمشْقَ الصَّالِح بْنِ أَبِي الجيش مَا وَقَع مع الشَّيْخِ عَزِّ الدِّينِ أَبِي محمَّدِ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ؛ حَيْثُ أنْكَرَا عَلَيْهِ سُوءَ سِيرَتِهِ أمَرَهُمَا بأن يخرجا مِنْ بَلَده، فخَرَجَا مِنْهَا سَنَة ثَمان وثلاثين وستمائة، فدخلا القاهِرَة، وجَلَسَ الشَّيْخ أبو عمرٍو بالفاضليَّة موْضع الشاطبيِّ وقصده الطلبة
… "
(5).
--------------------------------------------
বিশিষ্ট বিজ্ঞ আল্লামা কাজি ফখরুল দীন আল-মিসরি বর্ণনা করেন: আমাদের শায়খ কামালুদ্দিন আজ-জামলাকানি বলতেন: "মালেকিদের জন্য ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার' নামক গ্রন্থটি যেমন শ্রেষ্ঠ, শাফেয়িদের জন্য তেমন কোনো গ্রন্থ নেই।" আর তার এই সাক্ষ্যই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট
(১).
ইবনুল জাজারি বলেন: "তিনি ছিলেন ইমাম, আল্লামা, মালেকি ফকিহ, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ এবং ক্বারি। আবুল ফাতহ উমর বিন আল-হাজিব আল-আমিনি বলেন, তিনি একজন বিজ্ঞ ফকিহ, মুফতি, দক্ষ তার্কিক এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে অনন্য পারদর্শী ও প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন; সেই সাথে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার, বিনয়ী ও ধৈর্যশীল"
(২).
সুয়ুতি বলেন: "তিনি ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন"
(৩).
ইবনুল হাজিব ও ইযয বিন আবদুস সালামের মধ্যকার সম্পর্ক:
ঐতিহাসিক উৎসসমূহ উল্লেখ করে যে, ইবনুল হাজিব সুলতানুল উলামা ইযয বিন আবদুস সালামের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। তিনি তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সর্বদা তার পক্ষাবলম্বন করতেন।
ইবনুল ইমাদ বলেছেন: "ইয়াফেয়ী বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি শাইখ ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালামকে ভালোবাসতেন। আর ইবনে আবদুস সালাম যখন সুলতানের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে কারারুদ্ধ হলেন, তখন তিনি তাঁর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং তাঁর সান্নিধ্য রক্ষার্থে তাঁর সাথে কারাগারে প্রবেশ করেন। সম্ভবত মিশরে তাঁর হিজরত শাইখ ইবনে আবদুস সালামের হিজরতের কারণেই ছিল এবং তাঁদের উভয়ের ব্যাপারে বলা হয় যে তাঁরা অন্যায় প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন
এবং একমত পোষণ করেছিলেন"
(৪)
.
কিন্তু ইবনুল জাযারি ইতিপূর্বে মনে করতেন যে সুলতান তাঁদের উভয়কে একসাথে শাম অঞ্চল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেন: "তিনি দামেশকে প্রবেশ করেন, কাসেম ইবনে আসাকির ও অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং জ্ঞানচর্চায় এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেন যে তিনি এ বিষয়ে উদাহরণে পরিণত হন। তিনি বারবার দামেশকে যাতায়াত করতেন এবং সবশেষ ৬১৭ হিজরিতে সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি উমাইয়া মসজিদের মালেকি কোণায় জ্ঞানচর্চা ও পাঠদান করেন, যা মসজিদের চত্বর সংলগ্ন হাম্বলি মেহরাবের উত্তর দিকে অবস্থিত। এতে গুণীজনরা তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং তাঁর মাধ্যমে প্রচুর উপকৃত হন। অতঃপর যখন দামেশকের শাসক আস-সালিহ ইবনে আবিল জাইশের সঙ্গে তাঁর এবং শাইখ ইযযুদ্দীন আবু মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালামের সেই ঘটনাটি ঘটল; যেখানে তাঁরা শাসকের মন্দ আচরণের প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন শাসক তাঁদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেন। তাঁরা ৬৩৮ হিজরিতে সেখান থেকে বেরিয়ে কায়রোতে প্রবেশ করেন। শাইখ আবু আমর শাতেবীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফাদিলিয়্যাহ মাদরাসায় আসন গ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে।"
…
(৫)
.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
آثَارُهُ:وقد تفنَّن ابن الحاجب في تصْنِيفاتهِ فَقَدْ أقَرَّ بفضْلِهِ وعُلُوِّ قَدْرهِ كَثِيرٌ من أهْلِ العِلْم، وامْتَدَحُوا مُصنَّفاته، وأعلوْا ذِكْرَهَا، وقَدْ نَالَتْ - لأَهميتها - عناية كثير من العُلَماءِ الَّذِين جاءُوا مِنْ بَعْدِهِ، فَتَنَاوَلُوهَا بالشُّروح والتَّعالِيقِ.
قالَ ابنُ خَلِّكَانَ: "وكلُّ تصانيفه في نهاية الحُسْنِ والإفَادَة .. "
(1).
ونَقَلَ ابْنُ فَرْحُونَ ثناءَ تقيِّ الدِّين بْنِ دقيقِ العيدِ على أحدِ مصنَّفاتِ ابْنِ الحَاجِب فقالَ: "
… ومِمَّا ذَكَرَهُ في مَدْحِ الكِتابِ أنْ قَالَ: هذَا كِتابٌ أَتَى بِعَجَبِ العُجَاب، ودَعَا قَصِيَّ الإجادَةِ، فَكَانَ المُجَاب، وراضَ عَصِيَّ المرادِ، فَأزَالَ شماسَتَه وانْجابَ، وَأبْدَى مَا حَقَّه أنْ يُبَالَغَ في اسْتِحْسَانه
… "
(2).
وقالَ ابْنُ الجَزَرِيِّ: "قُلْتُ: ومُؤَلَّفاتُهُ تنبِئُ عَنْ فَضْله كمخْتَصَرَي الأُصُولِ والفِقْهِ، ومُقَدِّمَتَي النَّحْوِ والتَّصْرِيفِ وَلا سِيَّما "أماليه" الَّتي يَظْهَرُ مِنْهَا ما آتاه اللهُ مِنْ عِظَمِ الذِّهْن، وحسن التَّصوُّرِ، إِلَّا أَنَّه أعضل فيما ذَكَره في مخْتَصَر الأصُولِ حِينَ تَعَرَّض لِلْقِراءَات، وأتى بِما لَم يَتَقَدَّم فِيهِ غيره
… "
(3).
وبالجُمْلة فقد قال الحافظُ الذَّهبيُّ: "
… وسارَتْ بمصنَّفاته الرُّكْبان
… "
(4).
وَأَمَّا مصنَّفاته فنذكُرُها مرتَّبةً مِن حيْثُ المادَّة العلميَّة:
(أ) مُصنَّفاتُهُ في الأُصُول:
1 - منتهى السُّولِ والأَمَلِ، فِي عِلْمَي الأُصُولِ والجَدَل.
2 - مختصر المنتهى.
(ب) مُصنَّفاتُهُ في الفِقْهِ:
1 - الجامع بين الأمهات.
2 - مختصر ابن الحاجب الفرعي.
(ج) مُصنَّفاتُهُ في التَّارِيخ:
1 - ذيل على تاريخ دِمَشْق لابْنِ عَسَاكِر.
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি:
ইবনে হাজিব তাঁর রচনাবলিতে বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। বহু আলিম তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাঁর কিতাবসমূহের প্রশংসা করেছেন এবং সেগুলোর উচ্চ মর্যাদা তুলে ধরেছেন। অধিক গুরুত্বের কারণে তাঁর পরবর্তী অনেক আলিম এগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন এবং এগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচনা করেছেন।
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: "তাঁর সকল রচনাবলি সৌন্দর্য ও উপকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।"
(১)
.
ইবনে ফারহুন ইবনুল হাজিবের একটি রচনার ওপর তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদের প্রশংসা উদ্ধৃত করে বলেন: "তিনি কিতাবটির প্রশংসায় যা বলেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো: এটি এমন এক কিতাব যা অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় উপহার দিয়েছে, যা সুদূরপ্রসারী নৈপুণ্যকে আহ্বান করেছে এবং তাতে সফল হয়েছে। এটি কঠিন লক্ষ্যকে বশীভূত করেছে, ফলে এর জটিলতা দূর হয়েছে এবং তা উন্মোচিত হয়েছে। এটি এমন বিষয় প্রকাশ করেছে যার ভূয়সী প্রশংসা করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।"
(২)
.
এবং ইবনুল জাযারি বলেছেন: "আমি বলি: তাঁর রচনাবলি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেয়, যেমন উসুল ও ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসারদ্বয় এবং নাহু ও তাসরিফ শাস্ত্রের ভূমিকাগ্রন্থদ্বয়। বিশেষত তাঁর ‘আমালি’ (বক্তৃতা সংকলন) গ্রন্থটি, যার মাধ্যমে তাঁর প্রতি আল্লাহর প্রদত্ত অসাধারণ মেধা ও চমৎকার অনুধাবন ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তবে তিনি ‘মুখতাসারুল উসুল’ গ্রন্থে কিরাত বা পঠনপদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তাতে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি করেছেন এবং এমন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন যাতে ইতিপূর্বে অন্য কেউ অগ্রসর হয়নি।"
(৩)
.
সারকথা হলো, হাফিজ যাহাবি বলেছেন: "তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি কাফেলার যাত্রীদের মাধ্যমে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সর্বত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।"
(৪)
.
আর তাঁর গ্রন্থাবলিকে আমরা জ্ঞানগত বিষয়বস্তু অনুযায়ী বিন্যস্তভাবে উল্লেখ করছি:
(ক) উসুল শাস্ত্রীয় রচনাবলি:
১ -
মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল ফী ইলমাইল উসুল ওয়াল জাদাল।
২ -
মুখতাসারুল মুনতাহা।
(খ) ফিকহ শাস্ত্রীয় রচনাবলি:
১ -
আল-জামি বাইনাল উম্মাহাত।
২ -
মুখতাসারু ইবনিল হাজিব আল-ফারি।
(গ) ইতিহাসে তাঁর রচনাবলি:
১ - ইবনে আসাকিরের তারিখু দিমাশক-এর পরিশিষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - معجم الشيوخ.
(د) مُصَنَّفاتُهُ في النَّحْو:
1 - إعراب بعض آيات القرآن العظيم.
2 - الأمالي النحوية.
3 - الإيضاح في شرح المفصَّل.
4 - رسالة في العشر.
5 - شرحُ الكافية.
6 - شرحُ كتاب سيبوَيْه.
7 - شرح المقدِّمة الجُزُوليَّةِ.
8 - شرح الوافية، نظْم الكَافِيَة.
9 - القصيدةُ الموشَّحة بالأسماء المؤنَثَّة السماعيَّة.
10 - الكافية.
11 - المسائلُ الدِّمَشْقيَّة.
12 - المكتفي للمبتدي شرح الإيضاح لأبي عليٍّ الفارسي.
13 - الواقية في نَظمَ الكافِيَة.
(هـ) مصنَّفاتُهُ في التَّصرْيف:
1 - الشافية في التَّصْرِيف.
2 - شرح الشَّافِيةِ.
(و) مصنَّفاتُهُ في العَرُوض:
1 - المَقْصِدُ الجَلِيل، في عِلْم الخَلِيلِ.
(ز) مصنَّفاتُهُ في الأَدَبِ:
1 - جمالُ العَرَبِ في عِلْمِ الأَدَبِ.
(ح) مصنَّفاتُهُ فِي العَقِيدَةِ:
1 - عقيدةُ ابْنِ الحَاجِبِ.
২ -
মুজামুশ শুয়ুখ (শিক্ষকদের জীবনীকোষ)।
(দ) নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:
১ -
পবিত্র কুরআনের কতিপয় আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)।
২ -
আল-আমালি আন-নাহবিয়্যাহ (ব্যাকরণিক ভাষণমালা)।
৩ -
আল-ইজাহ ফি শারহিল মুফাসসাল।
৪ -
রিসালাহ ফিল আশর (দশ বিষয়ক পুস্তিকা)।
৫ -
শারহুল কাফিয়া।
৬ -
শারহু কিতাবি সিবওয়াইহ।
৭ -
শারহুল মুকাদ্দিমাতিল জুজুলিয়্যাহ।
৮ -
শারহুল ওয়াফিয়্যাহ, নাজমুল কাফিয়্যাহ।
৯ -
আসমায়ে মুয়ান্নাস সামায়িয়্যাহ (শ্রুত স্ত্রীবাচক বিশেষ্য) বিষয়ক আল-কাসিদাতুল মুওয়াশশাহ।
১০ -
আল-কাফিয়া।
১১ -
আল-মাসাইল আদ-দিমাশকিয়্যাহ (দামেস্কের মাসআলাসমূহ)।
১২ -
আল-মুকতাফি লিল মুবতাদি শারহুল ইজাহ লি আবি আলি আল-ফারিসি।
১৩ -
আল-ওয়াকিয়াহ ফি নাজমিল কাফিয়্যাহ।
(হ) সারফ (শব্দরূপান্তর শাস্ত্র) শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:
১ -
শব্দরুপান্তর বিষয়ক গ্রন্থ আশ-শাফিয়া।
২ -
আশ-শাফিয়ার ব্যাখ্যা।
(ওয়াও) ছন্দশাস্ত্র বিষয়ক তাঁর রচনাবলি:
১ -
আল-মাকসিদুল জালিল ফি ইলমিল খলিল (খলিল শাস্ত্রে সুমহান লক্ষ্য)।
(যা) সাহিত্য বিষয়ক তাঁর রচনাবলি:
১ -
জামালুল আরব ফি ইলমিল আদব (সাহিত্যশাস্ত্রে আরবদের সৌন্দর্য)।
(হা) আকিদা বিষয়ক তাঁর রচনাবলি:
১ -
ইবনুল হাজিবের আকিদা।
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَفَاتُهُ:قال ابن خَلِّكان: "
… ثم انُتْقَلَ إلَى الإسْكَندريَّة لِلإقَامَةِ بِهَا، فَلَمْ تَطُلْ مُدَّته هناك، وتُوُفيَ بِهَا ضاحِي نَهَارِ الخميس السَّادس والعشرين من شوَّال سنة ست وأربعين وستمائة، ودُفِنَ خارج باب البَحْر
(1) بتُرْبة الشَّيْخ الصَّالحِ ابْن أبي شامَةَ .. رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى"
(1).
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:ইবনে খাল্লিকান বলেন: "অতঃপর তিনি বসবাসের উদ্দেশ্যে আলেকজান্দ্রিয়ায় স্থানান্তরিত হন, কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থানের সময় দীর্ঘ হয়নি। তিনি সেখানেই ৬৪৬ হিজরির ২৬শে শাওয়াল বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাবুল বাহরের বাইরে
(১) পুণ্যবান শেখ ইবনে আবি শামার মাকবারায় সমাহিত করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إِضَاءَةٌ عَلَى: "القَرْنِ الثَّامِنِ الهِجْرِيِّ" الذي عاش فيه الشارح (ابنُ السُّبْكِيِّ)
دِيبَاجَةٌ:مِمَّا لا شكَّ فِيه عند جميع النَّاس أن الإنْسَانَ خَلَقَهُ الله سُبْحَانَهُ مَدَنيًّا بِطَبْعه، وحبَّب إِلَيْه الأُلْفَة والجماعَةَ، فَلا يُرى أحَدٌ يَنزَوِي عن جماعة النَّاس إلَّا لِعِلَّة شدِيدَة دَفَعَتْهُ إلَى إتيانِ غَيْر مَا جَبَلَ اللهُ عَلَيْه بَنِي آدَم.
بَلَ إنَّهُ - سُبْحَانَهُ - جَعَلَ النَّاسَ طبَقَاتٍ متعددةً، وكلُّها لا تَخْلُو عن صفة التأثير والتأثُّر، فهذه سمةُ الحياةِ: "طبيبٌ، ومريضٌ"، "حطَّاب ونجَّار"، "بَائِعٌ ومشترٍ"، إلخ
…إن كلَّ حيٍّ في الوجود يتأثَّرُ بالجو الذي يستنشقُ مِنْه هواءه، وبالبيئة الَّتى يَنْمُو بين أحْضَانِهَا، فإن البيئة تؤثِّر في النَّفْسِ الإنسانيَّةِ تأثيرًا بالغًا، دونَهُ تأثيرُ أيِّ مؤثِّر آخَر.
وَعَلَيْه، فإنَّ العَصْر الَّذِي يَحْيَى فِيهِ عَالِمٌ من العلماء لا شَكَّ أن لَهُ تأثيرًا فعَّالًا عَلَيْه، إلَّا أن التأثير يختلفُ من شخْصٍ لآخَر.
"وهكَذَا، فَإنَّه لَم يخرجْ عن أحكام البيئاتِ الضالَّة - إلَّا الأنبياءُ والرُّسُل - عليهم الصَّلاة والسلام - وكذلك المصلِحُون والمجدِّدون، الذين ثارُوا على ما توارثه عصْرُهم من عاداتٍ وتقاليد لَيْسَتْ من الحقِّ في شيءٍ
(1).
ثمَّ إنَّ معرفة أخبارِ أهْلِ العِلْمِ، والاطلاع عَلَى أحْوالِ نَشْأتهمْ وظُروفِ بِيئتِهِمْ، اعتبره
--------------------------------------------
আলোকপাত: "অষ্টম হিজরি শতাব্দী" যাতে ব্যাখ্যাকার (ইবনুল সুবকী) বসবাস করতেন
প্রারম্ভিকা:
সকল মানুষের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা মানুষকে প্রকৃতিগতভাবেই সামাজিক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তার নিকট হৃদ্যতা ও সংঘবদ্ধতাকে প্রিয় করেছেন। তাই কোনো গুরুতর কারণ ছাড়া কাউকে মানবসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেখা যায় না, যা তাকে আল্লাহ আদম সন্তানদের যে স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তার বিপরীতে চলতে প্ররোচিত করে।
বরং তিনি—সুবহানাহু তাআলা—মানুষকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন, যার কোনোটিই প্রভাব বিস্তার ও প্রভাব গ্রহণের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত নয়। আর এটাই জীবনের বৈশিষ্ট্য: "চিকিৎসক ও রোগী", "কাঠুরে ও কাঠমিস্ত্রি", "বিক্রেতা ও ক্রেতা" ইত্যাদি
...
অস্তিত্বের প্রতিটি জীবই সেই আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয় যেখান থেকে সে শ্বাস গ্রহণ করে এবং সেই পরিবেশের দ্বারা যার কোলে সে বেড়ে ওঠে। নিশ্চয়ই পরিবেশ মানবাত্মার ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলে, যার সামনে অন্য যেকোনো প্রভাবকের প্রভাব অতি সামান্য।
সেই হিসেবে, কোনো আলেম যে যুগে জীবন অতিবাহিত করেন, নিঃসন্দেহে তার ওপর সেই যুগের একটি কার্যকর প্রভাব থাকে; তবে এই প্রভাবের মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্নতর হয়।
এবং এভাবেই, পথভ্রষ্ট পরিবেশের প্রভাব থেকে নবী ও রাসূলগণ—তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—ব্যতীত আর কেউ মুক্ত হতে পারেননি। আর অনুরূপভাবে সেই সকল সংস্কারক ও মুজাদ্দিদগণও (মুক্ত ছিলেন), যারা তাঁদের যুগে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এমন সব আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন যেগুলোর সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই
(১)
.
অতঃপর আলেমগণের জীবনবৃত্তান্ত জানা এবং তাঁদের বেড়ে ওঠার অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হওয়াকে গণ্য করা হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كثيرٌ من العلماءِ مِنَ الأُمُورِ المُستَحبَّة؛ لما فيه من المعاني المستخْرَجَة من الأحداثِ الَّتي تمرُّ بهم.
قال العلَّامة السخَاويُّ في "الإعْلان بالتَّوْبِيخ": "ويُنْتَفَع به - يَعْنِي التَّاريخ - فِي الاطِّلاع على أخبار العلماءِ والزهَّاد والفُضَلاء والخُلَفاء والمُلُوك والأُمَراء والنُّبَلاء، وسيرهم ومآثِرِهم في حَرْبهم وسِلْمهم، وما أبقى الدَّهْرُ من فضائلهم أو رذائِلِهم، بَعْد أن أبادهم الحَدَثانِ، وأبْلى جديدَهم المَلَوانِ"
(1).
وَللهِ دَرُّ القَائِلِ: [الطويل]
إِذَا عَلِمَ الإنْسَانُ أَخْبَارَ مَنْ مَضَى
… تَوَهَّمْتَهُ قَدْ عَاشَ مِنْ أَوَّلِ الدَّهْرِ
وَتَحْسَبُهُ قَدْ عَاشَ آخِرَ عُمْرِهِ
… إِذَا كَانَ قَدْ أَبْقَى الجَمِيلَ مِنَ الذِّكْرِ
فَقَدْ عَاشَ كُلَّ الدَّهْرِ مَنْ كَانَ عَالِمًا
… حَلِيمًا كَرِيمًا فَاغْتَنِمْ أَطْوَلَ العُمْرِ
وحيث إنَّنا نتحدَّث عن الإمام تاج الدِّين السُّبْكيِّ، فَلَنْ نفهم تكْوينَه الفكريَّ، ونستجلي مدَاخِلَ شخصيته، ما لم نتعرَّض - بإطْنَابٍ - لدراسة أحوال عصْره الذي نَشَأ فيه.
ودراسَتُنا هذه تُوجِبُ عَلَيْنَا أن نُلْقِي الضَّوْء عَلَى:
1 - الحالة السياسيَّة، وما حوته من أحباب جِسَامٍ.
2 - الحالةُ الاجتماعيَّة، بمختلف مكوناتها.
3 - الحالةُ الاقتصاديّة، من شتى مظاهرها.
4 - الحالةُ الثقافيَّة، بكلِّ جَنَبَاتِهَا الفكريَّة والعلميَّة.
وقبْل الدُّخول في شيءٍ من وصْف الحالات الأَرْبَع، يحْسُن بنا أنْ نحدِّدَ العصر الذي عاش فيه "تاج الدين السبكيُّ"، والمعلومُ أن التاج قد عاشَ منْ سنة 727 - 771 هـ.
ويَعْنِي هذا أن شَيْخَنَا قَدْ وُلدَ وَنَشَأَ ثُمَّ مَاتَ فِي عَصْرِ السَّلاطين المَماليكِ، وإنْ شِئْنَا التحديدَ قلْنا: في عصر المماليكِ البَحْريَّة، والذين امتدَّت مدَّةُ حكمهم من سنةِ 648 - 784 هـ
(2).
--------------------------------------------
অনেক আলেম একে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ এতে মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি থেকে শিক্ষণীয় বিষয় নিহিত রয়েছে।
আল্লামা সাখাবী তাঁর "আল-ইলান বিত-তাওবীখ" গ্রন্থে বলেন: "এর মাধ্যমে—অর্থাৎ ইতিহাসের মাধ্যমে—আলেম, সংসারবিরাগী, বিদগ্ধ ব্যক্তি, খলিফা, রাজা, আমির ও অভিজাতদের সংবাদ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। জানা যায় যুদ্ধ ও শান্তির সময়ে তাঁদের জীবনী ও কীর্তিগাঁথা এবং মহাকাল তাঁদের সদ্গুণ বা দুর্গুণের যা কিছু অবশিষ্ট রেখেছে, যদিও মহাকাল তাঁদের ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দিবস ও রজনী তাঁদের সজীবতাকে জীর্ণ করে ফেলেছে।"
(১)
.
কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
মানুষ যখন পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও ইতিহাস অবগত হয়, তখন তোমার মনে হবে সে যেন মহাকালের শুরু থেকেই বেঁচে ছিল।
আর তুমি তাকে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবিত বলে গণ্য করবে, যদি সে নিজের কোনো উত্তম স্মৃতি অবশিষ্ট রেখে যায়।
প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তিই পুরো মহাকাল জুড়ে বেঁচে থাকে যে জ্ঞানী, ধৈর্যশীল ও উদার; অতএব তুমিও দীর্ঘতম আয়ুর এই সুযোগ গ্রহণ করো।
যেহেতু আমরা ইমাম তাজউদ্দীন সুবকী সম্পর্কে আলোচনা করছি, তাই যতক্ষণ না আমরা তাঁর বেড়ে ওঠার সময়কালের অবস্থা বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করব, ততক্ষণ তাঁর চিন্তাধারার গঠন বুঝতে পারব না এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের গহীনে প্রবেশ করতে সক্ষম হব না।
আর আমাদের এই অধ্যয়ন আমাদের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়ে আলোকপাত করাকে আবশ্যক করে তোলে:
১ -
রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকা বড় বড় ঘটনাবলি।
২ -
সামাজিক পরিস্থিতি এবং এর বিভিন্ন উপাদানসমূহ।
৩ -
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং এর নানাবিধ রূপসমূহ।
৪ -
সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি এবং এর সকল বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকসমূহ।
এই চারটি পরিস্থিতির বর্ণনা করার পূর্বে 'তাজউদ্দীন আস-সুবকি' যে যুগে বসবাস করেছেন তা নির্ধারণ করা সমীচীন হবে। আর এটি সবার জানা যে, তাজ (তাজউদ্দীন) ৭২৭ থেকে ৭৭১ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
এর অর্থ হলো আমাদের শায়খ মামলুক সুলতানদের যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন, বেড়ে উঠেছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন। আর আমরা যদি আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই তবে বলব: বাহরি মামলুকদের যুগে, যাদের শাসনের সময়কাল ছিল ৬৪৮ থেকে ৭৮৪ হিজরি পর্যন্ত
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحَالَةُ السِّيَاسِيَّةُ فِي عَصْرِ سَلاطِينِ المَمَالِيكِ:تَحْكِي كُتُبُ التَّاريخِ أن سلطان المَماليك قَامَ عَلَى أنقاضِ دَوْلَة بَنِي أيُّوبَ فِي مصْرَ المحْرُوسَةِ، وذلك عقِبَ مقتَلِ السُّلطانِ توران شاه ابن أيوبَ بْنِ محمد بْنِ أبِي بَكْرِ بْنِ أيُّوبَ، المَلِكِ المعظَّمِ، سَيْفِ الدِّينِ، أَبِي الفَتْحِ بْنِ الصَّالحِ بْنِ الكَامِلْ بْنِ العَادِلِ.
وكان السلطانُ توران شاه قدْ تسلْطَن بـ "دِمَشْق" في يوم السَّبت، مستهلَّ شوال سنة سَبْع وأربعين وستمائة، وجلَس على تخْتِ المُلْكِ بَعْد قدومِهِ - بـ "الْمَنْصُورةِ" قريب ثغر دمياط - لتِسْعٍ بَقينَ مِنْ ذِي القِعْدَةِ من السنة المذكورة.
وماتَ قتيلًا في يَوْم الجُمُعة سادِسَ محرَّمٍ سنة ثمانٍ وأربعين وستمائة
(1). وبموته انْقَضَتِ الدولةُ الأيُّوبية الكُرْدِيَّةُ.
وأيًّا ما يكونُ سبَبُ قتْلهِ، فإنَّ المصادر التاريخيَّة تحْكِي أن أمراء المماليك أجْمَعوا على تولية شَجَرةِ الدُّرِّ أرملة نَجْمِ الدِّينِ أيُّوبَ والدِ توران شاه - مقاليد السَّلْطَنة.
ولَمْ تَطُلْ مدَّةُ "شجرة الدُّرِّ" في السلْطنة، فإنَّها خلَعَتْ نفْسَها - بعد ظهور كراهية النَّاس، لأنْ تتولَّاهم امرأةٌ -، فكانتْ مدَّتُها ثمانين يومًا.
ثمَّ اعتلى عرش السَّلْطنة بعدها أيبكُ التركمانيّ، الصالحيُّ التركيّ، المَلِكُ المعزُّ: عزُّ الدِّينِ أبُو العزَّ - صاحبُ المعزِّيَّة
(2) بـ "مِصْرَ".
وكان أيبكُ أوَّل ذَكَرٍ تَسَلْطَنَ بـ "مِصْرَ" ممَّن مسَّه الرقّ، وهو مملوكُ الملِكِ الصَّالِحِ نَجْمِ الدِّينِ أيُّوبَ.
وقد نزلتْ له شجرةُ الدِّرِّ عن المُلْك، وتزوَّج بها، ومات قتيلًا بيَدِها مع جواريها في لَيْلَة الأربعاءِ، رابعَ عشَرَ ربيع الآخر سنة خمس وخمسين وستمائة
(3)، وكانت مدَّتُه سبْع
--------------------------------------------
মামলুক সুলতানদের যুগের রাজনৈতিক অবস্থা:
ইতিহাসের কিতাবসমূহ বর্ণনা করে যে, সংরক্ষিত মিশরে আইয়ুবী রাজবংশের ধ্বংসাবশেষের উপর মামলুক সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি সুলতান তুরান শাহ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব, আল-মালিকুল মুয়াজ্জম, সাইফুদ্দীন, আবুল ফাতহ বিন আস-সালিহ বিন আল-কামিল বিন আল-আদিল-এর হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পর ঘটেছিল।
সুলতান তুরান শাহ ৬৪৭ হিজরীর শাওয়াল মাসের শুরুতে শনিবার ‘দামেস্কে’ ক্ষমতা লাভ করেন। তিনি উক্ত বছরের যিলকদ মাস শেষ হওয়ার নয় দিন বাকি থাকতে দিময়াত সীমান্তের নিকটবর্তী ‘মানসুরা’য় আগমনের পর রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন।
তিনি ৬৪৮ হিজরীর ৬ই মহররম শুক্রবার নিহত হন
(১)
। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই কুর্দি আইয়ুবী সালতানাতের অবসান ঘটে।
তাঁর হত্যার কারণ যাই হোক না কেন, ঐতিহাসিক উৎসসমূহ বর্ণনা করে যে, মামলুক আমিরগণ তুরান শাহের পিতা নাজমুদ্দীন আইয়ুবের বিধবা স্ত্রী শাজারাতুদ দুর-কে সালতানাতের রাজদণ্ড অর্পণের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।
সালতানাতে শাজারাতুদ দুর-এর মেয়াদ দীর্ঘ ছিল না। জনমানুষের মধ্যে একজন নারীর শাসনভার গ্রহণ করার প্রতি অনীহা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি নিজেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেন। তাঁর শাসনের মেয়াদ ছিল আশি দিন।
এরপর সুলতানি সিংহাসনে আরোহণ করেন আইবাক আত-তুর্কমানি, আস-সালিহি আত-তুর্কি, আল-মালিক আল-মুইয: ইযযুদ্দিন আবুল ইয - যিনি "মিসরে" মুইযযিয়া (মাদরাসা)-র প্রতিষ্ঠাতা
(২)।
আইবাক ছিলেন প্রথম পুরুষ যিনি "মিসরে" সুলতান হয়েছিলেন এবং যাঁকে দাসত্ব স্পর্শ করেছিল; তিনি ছিলেন মালিক আস-সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের ক্রীতদাস।
শাজারাতুদ দুরর তাঁর অনুকূলে ক্ষমতা ত্যাগ করেন এবং তিনি তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি বুধবার রাতে, ৬৫৫ হিজরি সনের ১৪ই রবিউল আখির তারিখে তাঁর ও তাঁর দাসীদের হাতে নিহত হন
(৩), এবং তাঁর শাসনের মেয়াদ ছিল সাত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
سنين، وقيل: تنْقصُ ثلاثة وثلاثين يومًا
(1)(2).
ثمَّ تولَّى بَعْده ابنُه عليٌّ، المَلِكُ المَنْصُور، أبو الفَتْح، تَسَلْطَن بَعْد موت أبيه بيَومٍ، ثمَّ خُلِعَ بَعْد سنتين وثمانيةِ شُهُور وثلاثة أيَّام
(3)، وذلك سنة سبع وخمسين وستمائة.
ثم تولَّى أمْرَ السلْطَنَة الملِكُ المُظفَّر، سيْفُ الدِّينِ أبو الفتْحِ، قُطُز، وذلك في ذي القَعْدة من سنة سبع وخمْسِين وستمائة.
وهو الَّذي قام بنُصْرَة الإسْلام، لَمَّا جاءَ التَّتَارُ إلى مَمْلَكَة المُسْلِمِين، مع هولاكو مَلكهمْ بجَيْشٍ عظيمٍ، وكان له اليَدُ البيضاءُ في دَحْرِهم ورَد كيدِهِمْ.
وخيْرُ مَنْ صوَّر هذا البلاء العظيمَ العلَّامة ابن الأَثيرِ الجَزَرِيُّ في سِفْره الجليلِ المعروفِ بـ "الكامل" حيث قال:
"لَقَد بُلِيَ الإسْلامُ والمُسْلِمُون في هذه المدَّة بمصائبَ لَمْ يُبْتَلَ بِهَا أحدٌ من الأمم؛ مِنْها هؤلاء التَّتَرُ، فمنْهم من أقبلوا من الشَّرْق، ففَعَلوا الأفعال التي يستعظمها كلُّ مَنْ سَمِع بها، ومِنْها خروجُ الفرنج - لَعَنَهُم الله - مِن المغْرِبِ إلى الشَّام وقَصْدُهُم ديارَ مصْرَ، وامتلاكُهُم ثغْرَها - أي دمياط - وأشرفَتْ ديار مصر وغَيْرها على أن يَمْلِكُوها - لولا لُطْفُ اللَّهِ - ومِنْها أن السَّيْف بينهم مسلولٌ، والفتنة قائمةٌ".
لقد زحَفَ التَّتارُ على كل ما قابلهم من بِلاد الشَّرْق متَّجهِين نحو الغَرْب حَيْث الخلافةُ الإسلاميَّة، وكان ابتداؤهم بتَدمِير بلادِ الدَّوْلة الخُوارَزميَّة، على يد رأْسِهِمُ الأكْبَر جنكيز خان الَّذِي أحل بالبلاد الإسلامية كوارث فادحةً.
روى المؤرِّخ ابنُ الأثيرِ حادثةً دالَّةً على مبْلَغِ ما نزل بالنَّاس من الرعْب والانْهيارِ أمام
--------------------------------------------
বছরসমূহ, এবং বলা হয়েছে: তেত্রিশ দিন কম
(1)
(2)
.
এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র আলী, আল-মালিক আল-মানসুর আবু আল-ফাতহ। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর একদিন পর সুলতান হিসেবে অধিষ্ঠিত হন, অতঃপর দুই বছর আট মাস তিন দিন পর তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়; আর এটি ছিল ৬৫৭ হিজরি সনের ঘটনা।
অতঃপর ৬৫৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসে সালতানাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আল-মালিক আল-মুজাফফর সাইফ আল-দীন আবু আল-ফাতহ কুতুজ।
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি ইসলামের সাহায্যের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছিলেন, যখন তাতাররা তাদের রাজা হালাকু খানের নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মুসলিম সাম্রাজ্যে এসেছিল। তাদের বিতাড়িত করতে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে তাঁর অনন্য অবদান ছিল।
আর এই ভয়াবহ বিপদের চিত্র সবচেয়ে উত্তমভাবে অঙ্কন করেছেন আল্লামা ইবনুল আসীর আল-জাজারি তাঁর 'আল-কামিল' নামক সুবিখ্যাত গ্রন্থে, যেখানে তিনি বলেছেন:
নিশ্চয়ই এই সময়ে ইসলাম ও মুসলিমরা এমন সব বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, যার শিকার অন্য কোনো জাতি হয়নি; এর মধ্যে রয়েছে এই তাতার সম্প্রদায়, যাদের কেউ কেউ পূর্ব দিক থেকে আগমন করেছে এবং এমন সব কর্মকাণ্ড করেছে যা শোনার পর যে কেউ তা অত্যন্ত ভয়াবহ মনে করবে। এর মধ্যে আরও রয়েছে ফ্রঞ্জদের (ক্রুসেডার) বহির্গমন—আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিন—যারা পশ্চিম থেকে সিরিয়ার দিকে এবং সেখান থেকে মিসর অভিমুখে যাত্রা করেছিল এবং তারা মিসরের সীমান্ত বন্দর—অর্থাৎ দিময়াত—দখল করে নিয়েছিল। আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকলে মিসর ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো তারা অধিকার করে নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আরও একটি বিষয় হলো, তাদের নিজেদের মধ্যেও তরবারি উন্মুক্ত ছিল এবং বিশৃঙ্খলা দানা বেঁধেছিল।
তাতাররা তাদের সামনে পড়া পূর্বের সকল জনপদ মাড়িয়ে পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল যেখানে ইসলামি খিলাফত অবস্থিত ছিল। তাদের সূচনালগ্ন ছিল খাওয়ারিজমি রাষ্ট্রের ধ্বংসের মাধ্যমে, যা সংঘটিত হয়েছিল তাদের প্রধান নেতা চেঙ্গিস খানের হাতে, যে মুসলিম ভূখণ্ডে অত্যন্ত ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে এনেছিল।
ঐতিহাসিক ইবনুল আসির এমন একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যা মানুষের মনে জেঁকে বসা আতঙ্ক এবং তাদের চরম ভেঙে পড়ার ভয়াবহ মাত্রার প্রমাণ বহন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الجُيُوش التَّتريَّة، وهي أن المغوليَّ يدخل القرية من القُرى وبها جمع كثير من الناس، فلا يزالُ يقتلُهم واحدًا بعْد واحدٍ، ولا يتجاسرُ أحدٌ أنْ يمدَّ يده إلى ذلك الفَارِسِ
(1)، .. "وإنَّ إنسانًا مِنْهم أخَذَ رَجُلًا، ولمْ يكُنْ مع التتريِّ ما يقتله به، فقال له: ضعْ رأْسَكَ عَلَى الأَرْضِ ولا تَبْرَحْ، فوضَع رأْسَه على الأرْض، ومضى التتريُّ فأحْضَرَ سَيْفًا وقَتَله به"
(2).
لقد أضْمَرَ هولاكو الدَّمَارَ لِبِلاد الإسْلام، "فعزَمَ على السَّيْر نحو الشَّام، فزحَفَ شمالًا، وأعمل السَّيْف في سكانِ المَوْصلِ وحَرَّانَ والرُّهَا، ثمَّ أرْسَل هولاكو إلى ملوك الأيُّوبيِّين بالشامِ يتوعَّدهم ويهدِّدهم بالفناء التَّامِّ إذَا هُمْ لم يمهِّدوا لزحْفِهِ بالإسْرع إلى طاعتِهِ، وانتشر الذُّعْرُ بالبلاد الشاميَّة والمصريَّة كذلك. وجاء هولاكو، فاسْتَولى على حلب، ثم دمشق وغيرهما من البلاد الشاميَّة الواقعة بينهما، وبعث إلى السُّلْطان قُطُز سفارةً تحْمِل الوعيد والتَّهْدِيد، وتَطْلُب الطَّاعة المُطْلَقَة، وأجابَ قُطُز الخُوَارِزْمِيُ الأصْلِ، إجابةً غَيْرَ منتظرةٍ؛ إذْ قتَلَ السُّفَرَاءَ المغُولَ انتقامًا يائسًا لما أحْدثَه جنكيز خان بالدَّوْلَة الخُوَارِزْمِيَّةِ .. "
(3).
وتتوالَى الأحداث، فينادي السُّلطانُ قُطُز بالقتالِ، ويَرْفع راية الجِهَاد في سَبِيل اللّه، فيجيبه خلائق، ثمَّ أرْسَل طلائِعَه من القاهرة بقيادة الأمير بيبرس البندقداريِّ الذي يزْحَف - بِدَوْره - إلى قرْب غَزَّة، فيصدُّ طلائع المَغُول، ثم لَحق قُطُز بطلائعه السابِقَة، وتفاوَضَ مع الصليبيين الذين كانوا قد احْتَلُّوا أماكن منَ الشَّام، وذلِكَ لِيَسْمَحُوا له باختراق الأراضي
--------------------------------------------
তাতার বাহিনী; অবস্থা এমন ছিল যে, একজন মঙ্গোলীয় কোনো এক গ্রামে প্রবেশ করত যেখানে বহু মানুষের সমাবেশ থাকত, তারপর সে একে একে তাদের হত্যা করতে থাকত, আর সেই অশ্বারোহীর দিকে হাত তোলার সাহস কেউ পেত না
(১)
। আরও বর্ণিত আছে যে, "তাদের মধ্যকার একজন এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করল, কিন্তু সেই তাতারের কাছে তাকে হত্যা করার মতো কোনো অস্ত্র ছিল না। তখন সে তাকে বলল: তোমার মাথা মাটিতে রাখো এবং নড়াচড়া করো না। সে তার মাথা মাটিতে রাখল, আর তাতারটি চলে গিয়ে একটি তলোয়ার নিয়ে এল এবং তা দিয়ে তাকে হত্যা করল"
(২)
।
হালাকু খান মুসলিম ভূখণ্ডের ধ্বংস সাধনের সংকল্প করেছিল, "সে শামের (সিরিয়া) দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল এবং উত্তর দিকে যাত্রা করল। সে মসুল, হাররান ও রুহা-র অধিবাসীদের ওপর তলোয়ার চালাল (গণহত্যা চালাল)। এরপর হালাকু শামের আইয়ুবী রাজাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাদের সতর্ক করল এবং পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিল—যদি তারা দ্রুত তার আনুগত্য স্বীকার করে তার অগ্রযাত্রার পথ সুগম না করে। এর ফলে শামি এবং সেই সাথে মিশরীয় ভূখণ্ডেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। হালাকু এসে আলেপ্পো, এরপর দামেস্ক এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী শামের অন্যান্য শহর দখল করে নিল। সে সুলতান কুতুজের কাছে হুমকি ও সতর্কবার্তা সম্বলিত এক প্রতিনিধি দল পাঠাল এবং নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করল। মূলগতভাবে খাওয়ারিজমি বংশোদ্ভূত কুতুজ এক অপ্রত্যাশিত জবাব দিলেন; চেঙ্গিস খান খাওয়ারিজমি সাম্রাজ্যের যা বিপর্যয় ঘটিয়েছিল, তার চরম প্রতিশোধ হিসেবে তিনি মঙ্গোল দূতদের হত্যা করলেন"
(৩)
।
এরপর ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, তখন সুলতান কুতুজ যুদ্ধের ডাক দেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের পতাকা উত্তোলন করেন, ফলে এক বিশাল সৃষ্টি (জনগোষ্ঠী) তাঁর ডাকে সাড়া দেয়। অতঃপর তিনি আমির বাইবার্স আল-বুন্দুকদারির নেতৃত্বে কায়রো থেকে তাঁর অগ্রবর্তী সেনাদল প্রেরণ করেন, যিনি তাঁর পক্ষ থেকে গাজার নিকটবর্তী অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হন এবং মঙ্গোলদের অগ্রবর্তী বাহিনীকে প্রতিহত করেন। এরপর কুতুজ তাঁর পূর্ববর্তী অগ্রবর্তী সেনাদলের সাথে মিলিত হন এবং সিরিয়ার বিভিন্ন স্থান দখল করে রাখা ক্রুসেডারদের সাথে সমঝোতা করেন, যাতে তারা তাঁকে সেই ভূখণ্ড অতিক্রম করার অনুমতি প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
السَاحِليَّة، حتَّى يَبْغَتَ المَغُول، وقد نَجَحَتْ مفاوضاته برغمْ ميْل بَعْض الصليبيين إلى محالَفَة المَغُول.
وقد وَصَل قُطُز إلى "بيسان"
(1) في سُهُولة وسُرْعَة.
ثمَّ كانَتْ "عَيْنُ جالُوت"
(2)، وذلِكَ في يَوْم الجُمُعة الخامس والعشرين من رمضان سنة ثمان وخمسين وستمائة
(3)، وفيها أعز اللهُ الإسلام، ونَصَرَ المُسْلِمِين بعد أن دارَتْ رحَى الحَرْب، وكان قُطُز يصيح صَيْحَتَه الَّتي كتَبَها لَهُ التَاريخُ: "واإسْلاماه"، ويدْعُو ربَّه: "يأ الله! انصر عَبْدك قُطُز علَى التَّتَار"، فأنَالَهُ اللهُ النَّصْر، وقَطَعَ دابِرَ القَوْم الَّذِين ظلمُوا، والحمدُ للّه رب العالمِينَ.
وبذلك انْكَسَرَتْ فلول التَّتَار، واندحَرَتْ هجماتُهم بَعْدَ أن أذاقُوا البِلادَ الإسْلاميَّة الرُّعْبَ والخَوْفَ، فجاءتهم الزلْزَلَة، وهزَمَهم اللهُ بَعْد أن كَانُوا لا يُغْلَبُون.
وفي نشْوَةِ هذا النَّصْر العَظِيمِ قُتِلَ السُّلطانُ قُطُز، وأقام بيبرس نَفْسَه مكانه، قال ابن شاهين الملطيُّ
(4): " .. ومات قتيلًا بَعْد عَوْدِه، اغتيل قَبْل دخُوله القاهِرَة" وأما بيبرس البندقداريُّ، الملكُ الظَّاهرُ ركنُ الدِّين، أبو الفَتْح فـ "كان ملكًا شهمًا جليلًا
… تَسَلْطَن في يَوْمِ قَتْلِ المظفر قُطُز سنة ثمان وخمسين وستمائة، ومات في يوم الخميس سابعَ عَشَر محرَّم سنة ست وسبعين وستمائة، فكانَتْ مدَّته ثمان عشرة سنةً تزيدُ يَسيرًا"
(5).
ولأنَّ الظَّاهر بيبرس كانَ أحَسَّ أن النَّاس حانِقُون عَلَيْه بِسَبَب ما أُشِيع من قَتْلِه المَلِك المظفَّر قُطُز، فقد أراد أن يُزِيلَ عَنْه هذهِ السُّبَّه، فعمد إلى الخلافة العباسية، فأعادَهَا إلى الوُجُود سنة 659 هـ، بَعْد أنْ أزاحَها المَغُول بإسْقَاطهم إيَّاها في بَغْداد سنة 656 هـ.
قال ابن إياس: "
… ولو لم يكنْ من أفعاله الحَسَنة سِوَى ردِّ الخِلافة لبَنِي العبَّاس
--------------------------------------------
উপকূলীয় অঞ্চলে, যাতে মঙ্গোলদের অতর্কিত আক্রমণ করা যায়। কিছু ক্রুসেডার মঙ্গোলদের সাথে মৈত্রীর পক্ষপাতী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আলোচনা সফল হয়েছিল।
আর কুতুজ অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততার সাথে "বাইসান"
(1)-এ পৌঁছালেন।
এরপর সংঘটিত হয় "আইন জালুত"
(2)-এর যুদ্ধ; আর তা ছিল শুক্রবার, পঁচিশে রমজান, ছয়শ আটান্ন হিজরি সনে
(3), যাতে আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করলেন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার পর মুসলিমদের বিজয় দান করলেন। কুতুজ তখন সেই আর্তনাদ করছিলেন যা ইতিহাস তাঁর জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছে: "হায় ইসলাম!", এবং তিনি তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করছিলেন: "হে আল্লাহ! তাতারদের বিরুদ্ধে আপনার বান্দা কুতুজকে সাহায্য করুন।" অতঃপর আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করলেন এবং যারা জুলুম করেছিল সেই সম্প্রদায়ের মূলোৎপাটন করলেন। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।
এর মাধ্যমে তাতারদের অবশিষ্টাংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল এবং তাদের আক্রমণগুলো ধূলিসাৎ হলো। তারা মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে ত্রাস ও ভীতি আস্বাদন করানোর পর তাদের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে এল; আর তারা অপরাজেয় থাকার পর আল্লাহ তাদের পরাজিত করলেন।
এই মহান বিজয়ের আনন্দের মধ্যেই সুলতান কুতুজ নিহত হলেন এবং বাইবার্স তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইবন শাহীন আল-মালতি
(4) বলেন:
: "এবং ফিরে আসার পর তিনি নিহত হন, কায়রোতে প্রবেশের পূর্বেই তাঁকে গুপ্তহত্যা করা হয়।" আর বাইবার্স আল-বুন্দুকদারি, মালিকুজ জাহির রুকনুদ্দীন আবুল ফাতহ ছিলেন "একজন সাহসী ও মহান সম্রাট
তিনি মুজাফফর কুতুযের হত্যার দিন ৬৫৮ হিজরি সনে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৬৭৬ হিজরি সনের ১৭ই মহরম বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল আঠারো বছরের সামান্য বেশি"
(৫)
.
যেহেতু জাহির বাইবার্স অনুভব করেছিলেন যে, মালিক মুজাফফর কুতুযকে হত্যার যে গুজব রটেছিল তার কারণে জনগণ তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ, তাই তিনি নিজের ওপর থেকে এই অপবাদ দূর করতে চেয়েছিলেন। ফলে তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং ৬৫৯ হিজরি সনে তা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেন, ইতিপূর্বে ৬৫৬ হিজরি সনে বাগদাদে মোঙ্গলরা এর পতন ঘটিয়ে তা বিলুপ্ত করেছিল।
ইবনে ইয়াস বলেন: "
আর যদি তাঁর ভালো কাজগুলোর মধ্যে আব্বাসীয়দের খিলাফত পুনরুদ্ধার করা ছাড়া আর কিছুই না থাকত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإكْرامِهِ لَهُمْ - بَعْدما كادَتْ أن تنقَطِعَ عَنْهُمُ الخِلافَة، لَكَفَى"
(1).
وبالرغْم مِمَّا حلَّ بالتَّتارِ مِن هَزِيمةٍ عَلَى يَدِ قُطُز، إلَّا أنَّهُم كَانُوا عَنِيدِينَ، فَقَدْ لَمُّوا شتاتَهُمْ مرَّةً أخرى، وأعادوا غاراتهم على العالم الإسلاميِّ مراتٍ عديدةً، ولكنَّ سلاطينَ المماليكِ كانُوا لَهُم بالمِرْصَاد.
هذا، وقَدْ تعرَّض العالمُ الإسلاميُّ - إلى جانب الغَزْوِ التَّتريِّ - إلى خطَرٍ لا يقلُّ ضراوةً عن خطر المغول، وهو ما عُرِف بالحملات الصَّليبيَّة، والَّتي راحَ ضحيَّتها كثيرٌ جدًّا مِن الأَرْواح، حيثُ استمَرَّت قرنَيْن كامِلَيْن من الزَّمانِ من 490 - 690 هـ، وحَيْثُ إِنَّ الفَتْرة الَّتي عاشَها التَّاجُ السبكيُّ من 771 هـ - 827 هـ هي الَّتي تهمنا هنا، فسنقفز بَعْض الأحْداثِ كي لا يَتَسِعَ الأمْرُ عَلَيْنا، ونضيعَ بَين زوايا كُتُب التَّاريخ:
ومِنْ ثَمَّ فإنَّ فتْرَتنا هذه تحتلُّ من التَّاريخِ ما يقابِلُ جزءًا من الفترة الَّتي حَكَم فِيهَا السُّلْطانُ النَّاصر محمَّد بن قلاوُون: 684 - 741 هـ ثم يبنى لدينا ثلاثونَ عامًا أخرى نتحدَّث عن أحداثها السياسية أيضًا.
أما النَّاصرُ قلاوونُ فهو: محمَّدُ بْنُ قلاوون الملكُ الناصر، ناصِرُ الدِّينِ، أبُو المعالي بنُ المنصورِ، نَعَته ابن شاهين الملطيُّ بقوله: "صاحبُ العمائِرِ الهائِلَةِ، والآثارِ الطَّائِلَةِ، من ذلِك: القصْرُ الأبلقُ بالقلْعة، والجامعُ بها، والإيوانُ المعظَّم وغير ذلكَ من أبنيةٍ"
(2).
وهو السُّلطانُ التَّاسِعُ من ملوك التُّرْك المماليكِ بالدِّيار المصْرِيَّة. ولأن هذا العصر - الَّذي نتحدَّث عنه - كان يموجُ بالاضطراباتِ وكثرةِ الفِتَن، فقد رأينا صراعًا شديدًا على السُّلْطة بين أمراء المماليك.
ولا أدلَّ على ما نقولُ إلا ما حَدَثَ من سَلْطَنة النَّاصرِ محمَّدِ بْنِ قَلاوُونَ، فَقَدْ تَوَلَّى السَّلْطَنَة ثلاث مرَّاتٍ، كَانَتْ كالآتي:
الأولى: من سنة 693 - 694 هـ:وقد كان الناصرُ وقتها صغيرَ السِّنِّ، فكان في التَّاسعة من عُمُره، وهذه سنٌّ لا يُسْتَطاعُ فِيها أن تتحَمَّل إدارةُ دولةٍ واسعة الأطراف؛ فَضْلًا عن أن يفضَّ النزاعاتِ والاضْطِراباتِ
--------------------------------------------
এবং তাদের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন - যখন খেলাফত তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তা-ই যথেষ্ট ছিল
(১)
।
কুতুযের হাতে তাতারদের যে পরাজয় ঘটেছিল, তা সত্ত্বেও তারা ছিল জেদি। তারা আবারও তাদের বিচ্ছিন্ন শক্তিকে একত্রিত করেছিল এবং মুসলিম বিশ্বের ওপর বহুবার আক্রমণ চালিয়েছিল। তবে মামলুক সুলতানগণ তাদের প্রতিরোধের জন্য সদা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
তাতার অভিযানের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব এমন এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল যা মঙ্গোলদের বিপদের চেয়ে কোনো অংশে কম হিংস্র ছিল না; আর তা ছিল ক্রুসেড অভিযান হিসেবে পরিচিত। এতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এই অভিযান হিজরি ৪৯০ থেকে ৬৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই শতাব্দীকাল অব্যাহত ছিল। যেহেতু এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো তাজ আল-সুবকির জীবনকাল (হিজরি ৭৭১ - ৮২৭ সাল), তাই আমরা কিছু ঘটনা এড়িয়ে যাব যাতে বিষয়টি আমাদের জন্য খুব বেশি দীর্ঘ না হয়ে যায় এবং আমরা ইতিহাসের বইয়ের বিভিন্ন কোণে হারিয়ে না যাই:
সুতরাং, আমাদের এই সময়কালটি ইতিহাসের সেই অংশের অন্তর্ভুক্ত যা সুলতান নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউনের শাসনকালের (৬৮৪ - ৭৪১ হি.) একটি অংশের সাথে মিলে যায়। এরপর আমাদের সামনে আরও ত্রিশ বছর অবশিষ্ট থাকে, যার রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়েও আমরা আলোচনা করব।
আর নাসির কালাউন হলেন: মুহাম্মদ ইবনে কালাউন আল-মালিকুন নাসির, নাসিরুদ্দিন, আবুল মাআলী বিন আল-মানসুর। ইবনে শাহীন আল-মালতি তাকে এই বলে বিশেষায়িত করেছেন: "তিনি বিশাল সব ইমারত ও সুদূরপ্রসারী কীর্তিসমূহের অধিকারী। এর মধ্যে রয়েছে: দুর্গের আবলাক প্রাসাদ, সেখানকার জামে মসজিদ, সুমহান আইওয়ান এবং আরও অন্যান্য স্থাপত্য।"
(২)
.
তিনি ছিলেন মিশরের তুর্কি মামলুক রাজন্যবর্গের মধ্যে নবম সুলতান। যেহেতু এই যুগটি—যার সম্পর্কে আমরা আলোচনা করছি—অস্থিরতা ও ফিতনা-ফ্যাসাদে টালমাটাল ছিল, তাই আমরা মামলুক আমিরদের মধ্যে ক্ষমতার তীব্র লড়াই দেখতে পাই।
আমাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউনের সুলতান হওয়ার ঘটনাটি ছাড়া অন্য কোনো বড় প্রমাণ নেই। তিনি তিনবার সুলতান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা ছিল নিম্নরূপ:
প্রথমবার: ৬৯৩ - ৬৯৪ হিজরি:
নাসির তখন অল্পবয়স্ক ছিলেন, তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। আর এটি এমন এক বয়স যাতে কোনো বিশাল রাষ্ট্রের শাসনভার পরিচালনা করা সম্ভব নয়; বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা মিমাংসা করা তো দূরের কথা।
--------------------------------------------