(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: -)
تقويم النظر في مسائل خلافية ذائعة   (ابن الدهان)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: تقويم النظر في مسائل خلافية ذائعة، ونبذ مذهبية نافعة

المؤلف: محمد بن علي بن شعيب، أبو شجاع، فخر الدين، ابن الدَّهَّان (ت 592هـ)

المحقق: د. صالح بن ناصر بن صالح الخزيم

الناشر: مكتبة الرشد - السعودية / الرياض

الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বহুল প্রচলিত মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে দৃষ্টিভঙ্গির মূল্যায়ন   (ইবনুল দাহহান)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ

গ্রন্থ: বহুল প্রচলিত মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে দৃষ্টিভঙ্গির মূল্যায়ন, এবং মাযহাব বিষয়ক উপকারী সারসংক্ষেপ

লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী বিন শুয়াইব, আবু শুজা, ফখরুদ্দীন, ইবনুল দাহহান (মৃত্যু ৫৯২ হি.)

সম্পাদক: ড. সালেহ বিন নাসের বিন সালেহ আল-খুযাইম

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم)

 

" رب يسر وأعن وتمم بِخَير فِي عَافِيَة، واعف عَنَّا، وصل على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وعترته وَسلم ": {الْحَمد لله الَّذِي هدَانَا لهَذَا وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله لقد جَاءَت رسل رَبنَا بِالْحَقِّ} ، اللَّهُمَّ إِنَّا نحمدك على توفيقنا لحمدك وتأهيلنا لفهم خطابك، وانقيادنا إِلَى طَاعَتك وهدايتنا بِخَاتم أنبيائك وَسيد أصفيائك مُحَمَّد النَّبِي عَلَيْهِ أفصل سلامك، وعَلى آله وَصَحبه وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان، كَانَ الْوَالِد رضي الله عنه يخْتَار لي مَا يخْتَار الْأَب الْبر لوَلَده من سعادتي الْآخِرَة وَالدُّنْيَا، فأداه اجْتِهَاده إِلَى شغلي بالفقه الْجَامِع لما قصد لَهُ، ذَاك والطين رطب، وَالْعود بمائه؛ وَلِأَن كل امْرِئ ميسر لما خلق لَهُ، صرفت عَن هَذَا الْقَصْد أزمة الْقدر حَتَّى
‌(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

 

"হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কল্যাণের সাথে সুস্থতায় পূর্ণ করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার, তাঁর সঙ্গী ও তাঁর বংশধরদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।": {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এর দিকে হিদায়াত দিয়েছেন; আর আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।}, হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করছি আপনার প্রশংসা করার তাওফিক প্রদানের জন্য, আপনার বাণী অনুধাবনের যোগ্যতা দানের জন্য, আপনার আনুগত্যের প্রতি আমাদের আত্মসমর্পণ এবং আপনার নবীদের মোহর ও আপনার মনোনীতদের সর্দার নবী মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর আপনার সর্বোত্তম সালাম বর্ষিত হোক—এর মাধ্যমে আমাদের হিদায়াত দানের জন্য; এবং তাঁর পরিবার, পরিজন ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক)। পরম শ্রদ্ধেয় পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমার জন্য আখেরাত ও দুনিয়ার সৌভাগ্যের বিষয়ে তাই পছন্দ করতেন যা একজন পুণ্যবান পিতা তাঁর সন্তানের জন্য পছন্দ করেন। ফলে তাঁর প্রচেষ্টা আমাকে এমন এক পূর্ণাঙ্গ ফিকহ চর্চায় ব্যস্ত করার দিকে নিয়ে গেল যা তাঁর অভীষ্ট ছিল; আর তা ছিল সেই সময়ে যখন কাদা ছিল নমনীয় এবং কাষ্ঠ ছিল সজীব; আর যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই পথই সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তাকদীরের লাগাম আমাকে এই উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে নিল যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
عَسى الْعود، وعاصى الطائع، فندمت حِين لات مندم:

(وأصبحت من ليلى الْغَدَاة كناظر … مَعَ الصُّبْح فِي أعقاب نجم مغرب)

 

وَلَا أَشك أَن ببركة همة الْوَالِد - رَحمَه الله تَعَالَى - مَا وهب لي على الْكبر، عبد من عبيد الرَّحْمَن المنتمين إِلَيْهِ، الراغبين فِيمَا لَدَيْهِ، فأرغد العيشة، وهنأ الْمَعيشَة.
প্রত্যাবর্তন দুঃসাধ্য হলো এবং অনুগত ব্যক্তি অবাধ্য হলো, ফলে আমি এমন সময়ে অনুতপ্ত হলাম যখন অনুশোচনা নিরর্থক:

(আর আজ ভোরে লায়লার বিরহে আমি সেই ব্যক্তির ন্যায় হলাম যে … প্রত্যুষে অস্তগামী নক্ষত্রের শেষ চিহ্নের দিকে তাকিয়ে থাকে)

 

আর আমি এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, পিতার—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—উচ্চাকাঙ্ক্ষার বরকতে বৃদ্ধ বয়সে আমাকে যা দান করা হয়েছে, তা হলো পরম করুণাময়ের বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত এমন এক বান্দা যে তাঁরই দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তার প্রতি অনুরাগী; ফলে তিনি জীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং জীবনযাত্রাকে করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যময়।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
فحين أويت إِلَى ظله، وعلقت بمرير حبله، فرغني للاشتغال وأعانني بخلو البال، وَوَجَدته قد اقتنى مَعَ الذّكر الْجَمِيل كتبا تشهد بفضله فاتخذتها ذَرِيعَة إِلَى تدارك ذَلِك الْمَقْصد وَالله الْمُوفق، ثمَّ جمعت هَذِه الأوراق ووسمتها بتقويم النّظر، تشْتَمل على مسَائِل خلافية ذائعة، ونبذ مذهبية نافعة بعد مُقَدمَات تعين على النّظر فِي ذَلِك، وَجَعَلته يشْتَمل على الْمذَاهب الْأَرْبَعَة مقدما مَذْهَب الشَّافِعِي رضي الله عنه وحجته) لقَوْله عليه السلام: " قدمُوا قُريْشًا وَلَا تقدموها، وتعلموا من قُرَيْش وَلَا
সুতরাং যখন আমি তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করলাম এবং তাঁর সুদৃঢ় রজ্জু ধারণ করলাম, তখন তিনি আমাকে জ্ঞানচর্চায় নিবিষ্ট হওয়ার অবকাশ দিলেন এবং চিত্তের স্থিরতা প্রদানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করলেন। আমি দেখলাম যে, তিনি তাঁর সুখ্যাতির পাশাপাশি এমন কিছু কিতাব সংগ্রহ করেছেন যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য বহন করে। ফলে সেই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে আমি সেগুলোকে গ্রহণ করলাম এবং আল্লাহই তাওফিকদাতা। অতঃপর আমি এই পত্রসমূহ একত্রিত করলাম এবং এর নাম দিলাম 'তাকভীমুন নাযার' (দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার); যা প্রসিদ্ধ কিছু মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা এবং মাযহাব সংক্রান্ত কিছু উপকারী আলোচনার সংকলন, যার শুরুতে এমন কিছু ভূমিকা রয়েছে যা এ বিষয়ে গবেষণায় সহায়ক হবে। আমি একে চার মাযহাবের ওপর বিন্যস্ত করেছি, যেখানে ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) মাযহাব ও তাঁর দলিলসমূহকে অগ্রভাগে রেখেছি) কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কুরাইশদের অগ্রগণ্য করো এবং তাদের অতিক্রম করো না, আর কুরাইশদের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং..."
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
تعالموها، فعالمها يمْلَأ الأَرْض علما "، وَوجدنَا هَذَا الْعَالم هُوَ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس بن الْعَبَّاس بن عُثْمَان بن شَافِع بن السايب بن عُبَيْدَة بن عبد يزِيد بن هَاشم بن الْمطلب بن عبد منَاف، (وَفِي عبد منَاف) يجْتَمع مَعَ النَّبِي عليه الصلاة والسلام، ومولده رضي الله عنه بغزة فِي سنة قن، ووفاته سنة رد، وتربته الطاهرة بِمصْر.

وَقيل لبَعض الْقصاص: مَا السِّرّ فِي قصر عمر الشَّافِعِي؟ ، فَقَالَ: حَتَّى لَا يزَالُوا مُخْتَلفين، وَلَو طَال عمره رفع الْخلاف، وأردفت الجداول بجدول يشْتَمل على تواريخ وَفَاة جمَاعَة من الصَّحَابَة (رضوَان الله عَلَيْهِم) وَالْأَئِمَّة وَالْفُقَهَاء، والأنبه الأنبه فِي الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة (رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ)
তোমরা এটি শেখো, কেননা এর আলিম পৃথিবীকে ইলম দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেবেন। আর আমরা পেয়েছি এই আলিম হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনুল আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফে ইবনে আস-সায়েব ইবনে উবায়দ ইবনে আবদ ইয়াজিদ ইবনে হাশিম ইবনুল মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ। (আবদ মানাফের বংশধারায়) তিনি নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সাথে মিলিত হয়েছেন। তাঁর জন্ম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ১৫০ হিজরি সনে গাজায় এবং তাঁর মৃত্যু ২০৪ হিজরি সনে, আর তাঁর পবিত্র সমাধি মিশরে অবস্থিত।

জনৈক গল্পকারকে জিজ্ঞাসা করা হলো: শাফেয়ীর সংক্ষিপ্ত আয়ুষ্কালের রহস্য কী? তিনি বললেন: যেন মানুষ সর্বদা মতভেদপূর্ণ থাকে; যদি তাঁর হায়াত দীর্ঘ হতো তবে তিনি সকল মতভেদ দূর করে দিতেন। আর আমি সারণীগুলোর সাথে এমন একটি সারণী যুক্ত করেছি যা একদল সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), ইমামগণ, ফকিহগণ এবং শরয়ী ইলমের অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মৃত্যুর তারিখসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَالله (تَعَالَى) الْمعِين.

مُقَدّمَة - اللَّفْظ قالب الْمَعْنى، ومركبه الموصله إِلَى الذِّهْن، وَقد خص اللِّسَان الْعَرَبِيّ بأفصح اللَّفْظ، وَبِه خوطبنا فِي عزيزي الْكتاب وَالسّنة، فاللفظ يعبر عَمَّا فِي الذِّهْن، وَمَا فِي الذِّهْن مِثَال للمعبر عَنهُ، وَالْكِتَابَة تنوب عَن الْعبارَة، والعبارة مَجْمُوع أَلْفَاظ مفيدة، واللفظة مركبة من حُرُوف، والحروف تَنْقَسِم إِلَى صامتة ومصوته، فالصامت مَا يتَمَكَّن من مطلعه ويتميز بِهِ الصَّوْت مثل س ع د، والمصوت مَا يخرج فِي الْهَوَاء فَيحمل الْحَرْف الصَّامِت إِلَى السّمع كالضمة والفتحة والكسرة الَّتِي (مَتى مطلت) صَارَت واي، وَمن الْأَلْفَاظ والحروف المقاطع، والمقاطع تَنْقَسِم إِلَى خَفِيفَة وثقيلة، فالخفيف تركب من حرفين صَامت ومصوت، والثقيل من صامتين ومصوت؛ لِأَن المصوت. أما أَن ينْطق بِهِ فِي أقصر زمَان يكون فِيهِ اتِّصَال الصَّامِت (إِلَى الصَّامِت) أَو إِلَى السّمع وَهُوَ المقطع الْمَقْصُور وَالسَّبَب الْخَفِيف الْعَرُوضِي مثل لن.

وَأما أَن ينْطق بِهِ فِي ضعف الزَّمَان أَو إضعافه وَيُسمى مقطعا مسدودا (وَهُوَ) الوتد المفروق الْعَرُوضِي مثل: فاع، ولهذه الْحُرُوف
আর আল্লাহ (তাআলা) সাহায্যকারী।

ভূমিকা - শব্দ হলো অর্থের ছাঁচ এবং এটি এমন এক বাহন যা তাকে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। আরবি ভাষাকে সর্বাধিক সাবলীল শব্দের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমাদের প্রতি মহিমান্বিত কিতাব ও সুন্নাহতে সম্বোধন করা হয়েছে। সুতরাং শব্দ মনের ভাব প্রকাশ করে, আর মনে যা থাকে তা হলো যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার একটি প্রতিচ্ছবি। লিখন পদ্ধতি বা লেখা হলো বাচনিক অভিব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত, আর বাচনিক অভিব্যক্তি হলো অর্থবহ শব্দের সমষ্টি। প্রতিটি শব্দ অক্ষর দ্বারা গঠিত এবং অক্ষরসমূহ ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনিতে বিভক্ত। ব্যঞ্জনধ্বনি হলো তা, যা তার উচ্চারণস্থল থেকে দৃঢ়ভাবে নির্গত হয় এবং যার মাধ্যমে শব্দ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করে, যেমন: স, আ, দ। আর স্বরধ্বনি হলো তা, যা শূন্যে নির্গত হয় এবং ব্যঞ্জনধ্বনিকে শ্রবণের উপযোগী করে তোলে; যেমন পেশ, যবর ও যের, যা (যখন দীর্ঘায়িত করা হয়) তখন ওয়াও, আলিফ ও ইয়া-তে পরিণত হয়। শব্দ ও বর্ণসমূহ থেকে শব্দাংশ গঠিত হয় এবং শব্দাংশসমূহ লঘু ও গুরু—এই দুই ভাগে বিভক্ত। লঘু শব্দাংশ একটি ব্যঞ্জনধ্বনি ও একটি স্বরধ্বনি দ্বারা গঠিত। আর গুরু শব্দাংশ গঠিত হয় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি ও একটি স্বরধ্বনি দ্বারা; কারণ স্বরধ্বনিটি হয় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে উচ্চারিত হবে যাতে একটি ব্যঞ্জনধ্বনি অপরটির সাথে (কিংবা শ্রবণের সাথে) সংযুক্ত হয়, যা হ্রস্ব শব্দাংশ এবং ছন্দবিজ্ঞানের (আরূয) পরিভাষায় 'সাবাবে খাফীফ' হিসেবে পরিচিত, যেমন: 'লান'।

অথবা তা দ্বিগুণ বা কয়েক গুণ সময় নিয়ে উচ্চারিত হবে এবং একে রুদ্ধ শব্দাংশ বলা হয়, যা ছন্দবিজ্ঞানের পরিভাষায় 'ওয়াতাদে মাফরূক্ব'; যেমন: 'ফা-আ'। আর এই বর্ণসমূহের জন্য...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
مخارج هَذِه صورتهَا:

‌‌1 -

(من أقْصَى الْحلق، هـ آهمزة) .

‌‌2 -

(بعده من جِهَة الْفَم، ع ح) .

‌‌3 -

(بعده، غ خَ) .

‌‌4 -

(من أقْصَى اللِّسَان وَمَا فَوْقه من الحنك، ق) .

‌‌5 -

(أَسْفَل من ذَلِك قَلِيلا، ك) .

‌‌6 -

(من وسط اللِّسَان بَينه وَبَين الحنك، ج ش ي) .

‌‌7 -

(من دون حافة اللِّسَان والأضراس، ض) .

‌‌8 -

(من حافة اللِّسَان أدناها إِلَى مُنْتَهى طرفه، ل) .

‌‌9 -

(فَوق ذَلِك فويق الثنايا، ن) .

‌‌10 -

(أَدخل من ذَلِك إِلَى طرف اللِّسَان منحرفا، ر) .

‌‌11 -

(من طرف اللِّسَان وأصول الثنايا، ط د ت) .

‌‌12 -

(من بَين طرف اللِّسَان فويق الثنايا السُّفْلى، ز س ص) .

‌‌13 -

(مَا بَين طرف اللِّسَان وأطراف الثنايا، ظ ث ذ) .

‌‌14 -

(من بَاطِن الشّفة السُّفْلى وأطراف الثنايا الْعليا، ف) .

‌‌15 -

(من الشفتين، ب م و) .

‌‌16 -

(من الخياشيم، التَّنْوِين) .
মাখরাজসমূহ, এটি সেগুলোর বর্ণনা:

‌‌১ -

(গলার শেষ প্রান্ত হতে: হা, হামযাহ) .

‌‌২ -

(অতঃপর গলার মধ্যভাগ হতে: আইন, হা) .

‌‌৩ -

(অতঃপর গলার শুরু হতে: গাইন, খা) .

‌‌৪ -

(জিহ্বার গোড়া এবং তার বরাবর উপরের তালু হতে: কফ) .

‌‌৫ -

(তার থেকে সামান্য নিচ হতে: কাফ) .

‌‌৬ -

(জিহ্বার মধ্যভাগ এবং তার বরাবর উপরের তালু হতে: জীম, শীন, ইয়া) .

‌‌৭ -

(জিহ্বার পার্শ্বভাগ এবং মাড়ির দাঁত হতে: দাদ) .

‌‌৮ -

(জিহ্বার পার্শ্বভাগের নিকটবর্তী অংশ হতে জিহ্বার অগ্রভাগ পর্যন্ত: লাম) .

‌‌৯ -

(তার উপরে অর্থাৎ সামনের উপরের দাঁতের সামান্য উপরে হতে: নূন) .

‌‌১০ -

(জিহ্বার অগ্রভাগের আরো ভেতর দিক হতে পিঠের দিকে সামান্য বাঁকা হয়ে: রা) .

‌‌১১ -

(জিহ্বার অগ্রভাগ এবং সামনের উপরের দাঁতের গোড়া হতে: ত-য়া, দাল, তা) .

‌‌১২ -

(জিহ্বার অগ্রভাগ এবং সামনের নিচের দাঁতের সামান্য উপর হতে: যা, সীন, সদ) .

‌‌১৩ -

(জিহ্বার অগ্রভাগ এবং সামনের উপরের দাঁতের অগ্রভাগ হতে: যা, সা, যাল) .

‌‌১৪ -

(নিচের ঠোঁটের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং সামনের উপরের দাঁতের অগ্রভাগ হতে: ফা) .

‌‌১৫ -

(উভয় ঠোঁট হতে: বা, মীম, ওয়াও) .

‌‌১৬ -

(নাসারন্ধ্র হতে: তানভীন) .
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
تفهيم:

حاسة السّمع أحد الْحَواس الْخمس وتعجز عَن إِدْرَاك البسائط، فحروف المعجم مَا لم يتركب، لَا يُمكن إِدْرَاكهَا بِالسَّمْعِ وَلَا إيرادها بِآلَة النُّطْق واحتيج إِلَى تعرف الْحُرُوف البسيطة فَرَكبُوا مَعَ الْحَرْف الْبَسِيط حروفا أخر وَجعلُوا الْجُمْلَة اسْم ذَاك الْحَرْف الْبَسِيط؛ وَلِأَنَّهُ مُهِمّ صدرُوا الْجُمْلَة بِهِ فولك عين هُوَ اسْم الْحَرْف الْأَوْسَط من سعد.
উপলব্ধি:

শ্রবণেন্দ্রিয় পঞ্চেন্দ্রিয়ের অন্যতম একটি ইন্দ্রিয় এবং এটি মৌলিক এককসমূহ অনুধাবনে অক্ষম। সুতরাং বর্ণমালার অক্ষরসমূহ যতক্ষণ পর্যন্ত যৌগিক রূপ লাভ না করে, ততক্ষণ শ্রবণের মাধ্যমে সেগুলো অনুধাবন করা সম্ভব নয় এবং বাকযন্ত্রের সাহায্যে সেগুলো উচ্চারণ করাও সম্ভব নয়। মৌলিক বর্ণগুলোকে চেনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, তাই তারা মৌলিক বর্ণের সাথে অন্য বর্ণসমূহ যুক্ত করলেন এবং এই সমষ্টিকে উক্ত মৌলিক বর্ণের নাম হিসেবে নির্ধারণ করলেন। যেহেতু এটি গুরুত্বপূর্ণ, তাই তারা সমষ্টির শুরুতে সেই বর্ণটিকে স্থান দিলেন। যেমন, ‘আইন’ হলো ‘সা‘দ’ শব্দের মধ্যবর্তী বর্ণটির নাম।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌(فصل فِي عُيُوب اللِّسَان)

 

الرتة كَالرِّيحِ تمنع أول الْكَلَام، فَإِذا جَاءَ اتَّصل.

التمتمة التَّرَدُّد فِي التَّاء. الفأفأة التَّرَدُّد فِي الْفَاء. العقلة التواء اللِّسَان عِنْد إدارة الْكَلَام. الحبسة تعذر الْكَلَام عِنْد إدارته. اللفف إِدْخَال حرف فِي حرف. الغمغمة أَن تسمع الصَّوْت وَلَا (يتَبَيَّن لَك) تقطيع الْحُرُوف. وَقَرِيب مِنْهُ الدندنة. الطمطمة أَن يكون الْكَلَام شَبِيها بِكَلَام الْعَجم. اللكنة أَن تعترض على الْكَلَام عجمة. اللثغة أَن تعدل بِحرف إِلَى حرف. الغنة أَن يشوب الْحَرْف صَوت الخياشيم، الخنة أَشد مِنْهَا، التَّرْخِيم حذف الْحَرْف أَو تخفيفه. الحكلة نُقْصَان آلَة النُّطْق حَتَّى لَا تعرف مَعَانِيه إِلَّا بالاستدلال، وَبَعض مَا قدمْنَاهُ يكون خلقَة، وَبَعضه عَادَة، وَمِنْهَا مَا هُوَ غريزي. يُقَال: إِن الرتة كَثِيرَة فِي الْأَشْرَاف من ولد سُلَيْمَان بن صَالح بن عَليّ بن عبد الله بن الْعَبَّاس، أعدتهم من
(পরিচ্ছেদ: জিহ্বার ত্রুটিসমূহ প্রসঙ্গে)

 

‘রাত্তাহ’ বাতাসের ন্যায় যা কথার প্রারম্ভকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে কথা শুরু হয়ে গেলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

‘তামতামাহ’ হলো ‘তা’ বর্ণ উচ্চারণে জড়তা বা দ্বিধা। ‘ফাফায়াহ’ হলো ‘ফা’ বর্ণ উচ্চারণে জড়তা। ‘উক্লাহ’ হলো কথা বলার সময় জিহ্বার জড়তা বা মোচড়। ‘হাবসাহ’ হলো কথা বলার সময় তা প্রকাশে বাধা পাওয়া। ‘লাফাফ’ হলো এক বর্ণকে অন্য বর্ণের মধ্যে প্রবিষ্ট করানো। ‘গামগামাহ’ হলো এমন যে, তুমি শব্দ শুনতে পাও কিন্তু বর্ণের বিভাজন তোমার নিকট স্পষ্ট হয় না। এর কাছাকাছি বিষয় হলো ‘দানদানাহ’। ‘ত্বামত্বামাহ’ হলো কথা অনারবদের কথার সদৃশ হওয়া। ‘লুকনাহ’ হলো কথাবার্তায় অনারবীয় প্রভাবের অনুপ্রবেশ। ‘লাদগাহ’ হলো এক বর্ণকে অন্য বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে উচ্চারণ করা। ‘গুন্নাহ’ হলো বর্ণের সাথে নাসিকা ধ্বনি মিশ্রিত হওয়া, আর ‘খুন্নাহ’ হলো এর চেয়েও তীব্রতর। ‘তারখীম’ হলো কোনো বর্ণ বিলোপ করা অথবা তা হালকা করা। ‘হুকলাহ’ হলো বাকযন্ত্রের এমন ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা যার ফলে অনুমানের সাহায্য ব্যতীত কথার অর্থ উপলব্ধি করা যায় না। আমাদের পূর্বে বর্ণিত এসব ত্রুটির কোনোটি জন্মগত, কোনোটি অভ্যাসগত আবার কোনোটি সহজাত। বলা হয়ে থাকে যে, সুলায়মান বিন সালিহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস-এর বংশের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে ‘রাত্তাহ’-এর আধিক্য ছিল, যা তাদের মাঝে সংক্রমিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
أم صفدية.

وَفَائِدَة هَذَا الْفَصْل أَن تمرن اللِّسَان على الْحَرْف الأقوم بِالتَّصَرُّفِ فِي المحاورات ومفاوضة الفصحاء، وَقد قَالَ بَعضهم:

(وأفتح بالْكلَام عرى لساني … وأكره عجمة أَن تعتريني)

 

(فقد لانت حَوَاشِيه ورقت … جوانبه على كل الْفُنُون)

 

وَمن عُيُوب الخطابة الاسْتِرَاحَة إِلَى كلمة يخْشَى بهَا درج الْكَلَام، والسعلة، والعبث بِالْوَجْهِ، وَقد عيب خطيب بذلك فَقيل:

(مَلِيء ببهر والتفات وسعلة … ومسحة عثنون وفتل الْأَصَابِع)

 

مُقَدّمَة:

ركب من الْحُرُوف ثَلَاثَة أَنْوَاع من الْكَلم عمادها، نوع فِيهَا يلقب بِالِاسْمِ وَهُوَ أَكْثَرهَا دورا فِي الْكَلَام؛ لِأَنَّهُ يخبر بِهِ وَعنهُ، وَهُوَ يدل على معنى غير مقترن بِزَمَان، وَالِاسْم بِذَاتِهِ وَبِمَا يعرض لَهُ من الْحُرُوف يدل على الْمعَانِي،
উম্মে সাফদিয়্যাহ।

এই পরিচ্ছেদের উপকারিতা হলো কথোপকথনে এবং বাগ্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনার ব্যবহারের মাধ্যমে জিহ্বাকে সঠিক উচ্চারণের ওপর অভ্যস্ত করা। জনৈক ব্যক্তি বলেছেন:

(আমি বাক্যের মাধ্যমে আমার জিহ্বার জড়তা উন্মোচন করি … আর আমি অপছন্দ করি যে কোনো অনারবীয় অস্পষ্টতা আমাকে আচ্ছন্ন করুক)

 

(কেননা তার প্রান্তগুলো কোমল হয়েছে এবং তার দিকগুলো সকল শাস্ত্রের ওপর সূক্ষ্ম হয়েছে)

 

আর বক্তৃতার ত্রুটিসমূহের মধ্যে রয়েছে এমন কোনো শব্দের আশ্রয় নেওয়া যার দ্বারা কথার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এবং কাশি দেওয়া ও মুখমণ্ডল নিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া করা। জনৈক বক্তাকে এই বিষয়ে দোষারোপ করে বলা হয়েছে:

(সে শ্বাসকষ্ট, এদিক-ওদিক তাকানো এবং কাশিতে ভরপুর … আর দাড়ি স্পর্শ করা এবং আঙ্গুল মটকানোতে মগ্ন)

 

ভূমিকা:

অক্ষরসমূহ থেকে তিন প্রকারের শব্দ গঠিত হয়েছে যা ভাষার মূল স্তম্ভ। এর মধ্যে এক প্রকারকে 'ইসিম' (বিশেষ্য) বলা হয় এবং এটি বাক্যে সর্বাধিক আবর্তিত হয়; কারণ এর মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হয় এবং এটি সম্পর্কেও সংবাদ দেওয়া হয়। এটি এমন অর্থ প্রকাশ করে যা সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর ইসিম তার নিজ সত্তাগতভাবে এবং তার ওপর আপতিত অক্ষরসমূহের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থের ওপর দালালত করে।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
ذَلِك لِأَن الْمعَانِي أَكثر من الْأَلْفَاظ؛ لِأَن الْأَلْفَاظ مَا ظهر مِنْهَا فقد تناهى بِالْفِعْلِ وَمَا لم يظْهر فَهُوَ متناه بِالْقُوَّةِ؛ لِأَنَّهُ يتركب من حُرُوف تتناهى بِالْفِعْلِ والمعاني لَا نِهَايَة لَهَا، ثمَّ يَتْلُو الِاسْم فِي الرُّتْبَة الْفِعْل وَهُوَ لفظ يخبر بِهِ وَلَا يخبر عَنهُ، وَيدل على معنى وزمان ذَلِك الْمَعْنى. ويتلوه فِي الرُّتْبَة الْحَرْف وَهُوَ لفظ يَجِيء بَين الْأَسْمَاء وَالْأَفْعَال فيربط الْبَعْض بِالْبَعْضِ وَيحدث فِيهَا مَعَاني وَيحسن وصفهَا وَيُسمى الأداة.

مُقَدّمَة:

والكلم يَنْقَسِم إِلَى مُفْرد ومركب ومؤلف، فالمفرد هُوَ الَّذِي يدل على معنى وَلَا جُزْء من أَجْزَائِهِ يدل على شَيْء أصلا مَا دَامَ جزءه مثل مَسْعُود، فَإِنَّهُ يدل على معنى وليكونا من عود لَا يدلان على شَيْء أصلا مَا دَامَ جُزْءا الِاسْم، وَالِاسْم الْمركب يَنْبَنِي من لفظتين أَو أَكثر، لَكِن قوته قُوَّة الْمُفْرد كَقَوْلِك عبد الله وَعبد الْملك. والمؤلف هُوَ الْمركب من لفظتين أَو أَكثر
এটি এই কারণে যে, অর্থসমূহ শব্দের চেয়ে অধিক; কারণ শব্দগুলোর মধ্যে যা প্রকাশিত হয়েছে তা বাস্তবে সসীম, আর যা প্রকাশিত হয়নি তা সম্ভাবনার দিক থেকে সসীম; কারণ শব্দ গঠিত হয় এমন কিছু অক্ষর দ্বারা যা বাস্তবে সসীম, অথচ অর্থের কোনো শেষ নেই। অতঃপর মর্যাদার ক্রমে বিশেষ্যের পরে আসে ক্রিয়া, যা এমন একটি শব্দ যার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা হয় কিন্তু যা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয় না, এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ ও সেই অর্থের সময়ের ওপর নির্দেশ করে। আর মর্যাদার ক্রমে এর পরে আসে অব্যয়, যা বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মাঝে এসে একটির সাথে অন্যটিকে সংযুক্ত করে, তাদের মধ্যে নতুন অর্থের সৃষ্টি করে এবং তাদের বর্ণনাকে সুন্দর করে, আর একে 'সরঞ্জাম' বলা হয়।

উপক্রমণিকা:

শব্দাবলী একক, যৌগিক এবং সুসংবদ্ধ—এই তিন ভাগে বিভক্ত। একক হলো সেটি যা একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং তার অংশগুলোর কোনো অংশই কোনো কিছুর ওপর স্বতন্ত্রভাবে নির্দেশ করে না যতক্ষণ তা মূল শব্দের অংশ হিসেবে থাকে, যেমন 'মাসউদ'। এটি একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে, কিন্তু এর অংশগুলো কোনো কিছুর ওপর নির্দেশ করে না যতক্ষণ তা নামের অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকে। আর যৌগিক বিশেষ্য দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, কিন্তু এর প্রয়োগ একক শব্দের ন্যায়, যেমন আপনার উক্তি 'আবদুল্লাহ' এবং 'আবদুল মালিক'। আর সুসংবদ্ধ হলো যা দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা সংকলিত।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَيدل على معنى والألفاظ الَّتِي مِنْهَا ألف تدل على أَجزَاء الْمَعْنى كَقَوْلِك: قَامَ زيد.

مُقَدّمَة:

وَالِاسْم يَنْقَسِم إِلَى جزئي وكلي. فالجزئي لَا يصلح أَن يشْتَرك فِيهِ كَثِيرُونَ كَقَوْلِك زيد، وَهَذَا الرجل. والكلي هُوَ الَّذِي يصلح أَن يشْتَرك فِيهِ كَثِيرُونَ كَقَوْلِك الْإِنْسَان، وَالْبيع فَإِنَّهُ يدْخل تَحت هَذِه اللَّفْظَة كَثْرَة، وَقد يمْنَع عَن الْكَثْرَة أَمر وجودي، وَالْعبْرَة بِكَوْن اللَّفْظَة كُلية لَا بِالْأَمر الوجودي، فَإِن الشَّمْس لَفْظَة كُلية، وَإِن لم يكن فِي الْوُجُود غير شمس وَاحِدَة.

مُقَدّمَة:

وينقسم الِاسْم إِلَى مُحَصل وَغير مُحَصل، فالمحصل هُوَ الْمَوْضُوع لمسماه كَقَوْلِك زيد والعالم، وَغير المحصل هُوَ اسْم قرن بِهِ حرف نفي فَصَارَ يدل على أَصْنَاف عدم الِاسْم الَّذِي قرن بِهِ، مِثَاله: لَا عَالم، وَيسْتَعْمل كثيرا فِي الفارسية كَقَوْلِهِم: ناجوا مرد، وَقَول الْفَقِيه لَا جَائِز أَن يُقَال اسْم غير مُحَصل.
এবং তা কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর সেই সকল শব্দ যা দ্বারা যৌগিক বাক্য গঠিত হয়, তা অর্থের অংশসমূহের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমন আপনার উক্তি: যায়েদ দাঁড়িয়েছে।

ভূমিকা:

বিশেষ্য বা নাম আংশিক এবং সামগ্রিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত। আংশিক হলো তা যাতে অনেকের অংশীদার হওয়া সম্ভব নয়, যেমন আপনার উক্তি: যায়েদ এবং এই ব্যক্তি। আর সামগ্রিক হলো তা যাতে অনেকের অংশীদার হওয়া সম্ভব, যেমন আপনার উক্তি: মানুষ এবং ক্রয়-বিক্রয়, কারণ এই শব্দের অধীনে বহু ব্যক্তি বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। অনেক সময় কোনো বাহ্যিক অস্তিত্বের কারণে এই বহুত্ব বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তবে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দটি সামগ্রিক হওয়া, বাহ্যিক অস্তিত্ব নয়। কেননা ‘সূর্য’ একটি সামগ্রিক শব্দ, যদিও বাস্তবে একটির বেশি সূর্য বিদ্যমান নেই।

ভূমিকা:

বিশেষ্য বা নাম সুনিশ্চিত এবং অনির্দিষ্ট—এই দুই ভাগে বিভক্ত। সুনিশ্চিত হলো তা যা তার নামধারী বিষয়ের জন্য নির্ধারিত, যেমন আপনার উক্তি: যায়েদ এবং আলেম। আর অনির্দিষ্ট হলো এমন বিশেষ্য যার সাথে কোনো না-বোধক অব্যয় যুক্ত করা হয়েছে, ফলে তা ওই বিশেষ্যটির অনুপস্থিতির বিভিন্ন প্রকারকে নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ: ‘আলেম নয়’। ফারসি ভাষায় এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে, যেমন তাদের উক্তি: ‘অপুরুষোচিত’। আর ফকিহ বা আইনবিদের উক্তি ‘বৈধ নয়’-কে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য বলা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
مُقَدّمَة:

وتنقسم الْأَسْمَاء إِلَى متباينة ومترادفة ومشتركة ومتواطئ، فالمتباينة هِيَ الَّتِي تخْتَلف اسْما وَاحِدًا كزيد وَالْحجر، وَقد يتَّفق الاسمان فِي الْمَادَّة والتركيب وهما متباينان وَيحسن إيرادهما فِي الْجمل كَقَوْل الشَّاعِر:

(لَك الشُّكْر مني وَالثنَاء مخلدا … وَشعر كموج الْبَحْر يصفو وَلَا يصغي)

 

والمترادفة هِيَ المتفقة حدا الْمُخْتَلفَة اسْما كَالْخمرِ وَالْعَقار، وَيَقَع مِنْهَا نوع مشكك، وَهُوَ أَن يعتور على الْمُسَمّى الْوَاحِد اسمان أَحدهمَا مقتضب لَهُ وَالْآخر لصفة فِيهِ كالسيف والصارم، وَقد يكونَانِ بِحَسب صفتين كالصارم والحسام، وَقد يكونَانِ بِحَسب صفة وَنسبَة كالصارم والمهند فتظن مترادفة وَلَيْسَت كَذَلِك.

والمشتركة هِيَ: الَّتِي تتفق اسْما وتختلف حدا كالعير للعظم الناتئ فِي الْقدَم ولحمار الْوَحْش، وَقد يُقَال على الضدين كالقرء للطهر وَالْحيض،
ভূমিকা:

নামসমূহ ভিন্নার্থক (মুতাবায়িনা), সমার্থক (মুতারাডিফা), অনেকার্থক (মুশতারাকা) এবং অভিন্নার্থক (মুতাওয়াতি)—এই চার ভাগে বিভক্ত। ভিন্নার্থক হলো সেই শব্দগুলো যা নামগতভাবে একে অপরের থেকে পৃথক, যেমন ‘জায়েদ’ এবং ‘পাথর’। কখনও কখনও দুটি নাম মূল ধাতু ও গঠনের দিক থেকে এক হতে পারে অথচ তারা ভিন্নার্থক, আর বাক্যের মধ্যে তাদের একত্রে ব্যবহার বেশ শ্রুতিমধুর হয়; যেমন কবির উক্তি:

(আপনার প্রতি আমার পক্ষ থেকে চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা... আর সমুদ্রের তরঙ্গের মতো কাব্য, যা স্বচ্ছ ও সাবলীল)

 

সমার্থক হলো সেই শব্দগুলো যা সংজ্ঞাগতভাবে এক কিন্তু নামগতভাবে ভিন্ন, যেমন ‘খামর’ ও ‘আকর’ (মদ)। এগুলোর মধ্যে এক প্রকার সংশয়যুক্ত (মুশাককিক) শব্দ রয়েছে; আর তা হলো যখন একটি নামধারী সত্তার জন্য দুটি নাম আসে, যার একটি হলো তার জন্য নির্ধারিত মৌলিক নাম এবং অন্যটি তার একটি গুণের কারণে রাখা নাম, যেমন ‘সাইফ’ (তলোয়ার) ও ‘সারিম’ (তীক্ষ্ণ)। আবার কখনও দুটি নামই দুটি ভিন্ন গুণের ভিত্তিতে হতে পারে, যেমন ‘সারিম’ ও ‘হুসাম’। আবার কখনও একটি গুণের কারণে এবং অন্যটি সম্পর্কের কারণে হতে পারে, যেমন ‘সারিম’ ও ‘মুহান্নাদ’ (ভারতীয় তলোয়ার)। এমতাবস্থায় এগুলোকে সমার্থক মনে হতে পারে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

অনেকার্থক হলো: সেই শব্দগুলো যা নামে এক কিন্তু সংজ্ঞায় ভিন্ন, যেমন ‘আইর’ শব্দটি পায়ের ওপরের উত্থিত হাড়ের জন্য এবং বন্য গাধার জন্যও ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও এটি দুটি বিপরীতধর্মী অর্থের জন্যও ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘কুরু’ শব্দটি পবিত্রতা এবং ঋতুস্রাব উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
فدليل الطُّهْر بَيت الأعشق:

(مورثة مَالا وَفِي الْحَيّ رفْعَة … لما ضَاعَ فِيهَا من قرؤ نسائكا)

 

وَالْحق أَنه للْوَقْت يُطلق تَارَة على الطُّهْر، وَتارَة على الْحيض، قَالَ خَالِد الْهُذلِيّ:

(كرهت الْعقر عقر بني تَمِيم … إِذا هبت لقاريها الرِّيَاح)
পবিত্রতার স্বপক্ষে প্রমাণ হলো আল-আ'শাকের পংক্তি:

(যা সম্পদের উত্তরাধিকারী করে এবং গোত্রের মাঝে মর্যাদা বৃদ্ধি করে … কারণ এতে তোমাদের নারীদের পবিত্রতাকাল যা অতিবাহিত হয়েছে।)

 

প্রকৃত সত্য এই যে, এটি সময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; কখনও পবিত্রতার অর্থে আবার কখনও ঋতুস্রাবের অর্থে ব্যবহৃত হয়। খালিদ আল-হুজালি বলেছেন:

(আমি বনু তামিমে বন্ধ্যাত্বকে অপছন্দ করেছি … যখন তার সময়ের অনুকূলে বাতাস প্রবাহিত হয়।)
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
أَي لوَقْتهَا، وَكَذَلِكَ شعبت الشَّيْء أصلحته، وشعبته فرقته، وَمِنْه سميت الْمنية شعوبا، وَقَالَ عَليّ بن الغدير الْعَنزي:

(وَإِذا رَأَيْت الْمَرْء يشعب أمره … شعب الْعَصَا ويلج فِي الْعِصْيَان)

 

(فاعمد لما تعلو فَمَا لَك بِالَّذِي … لَا تَسْتَطِيع من الْأُمُور يدان)

 

وَيحسن إِيرَاد الْكَلِمَتَيْنِ المشتركتين فِي الْجمل الشعرية والخطابية، قَالَ الشَّاعِر:

(وَمَا كنت أخْشَى أَن أرى لرماحكم … عوامل فِي الهيجاء غير عوامل)

 

والنمط من الْكَلَام الْمُسَمّى مجونا أَكْثَره بالأسماء الْمُشْتَركَة.

وَأما المتواطئة، فَهِيَ الَّتِي تتفق اسْما وَاحِدًا كالحيوان الْمَقُول على
অর্থাৎ তার সময়ের জন্য। অনুরূপভাবে, কোনো বস্তুকে 'শা’আবতু' বলা মানে আমি তা সংশোধন করেছি, আবার 'শা’আবতু' মানে আমি তা পৃথকও করেছি। এ থেকেই মৃত্যুকে 'শুউব' নামকরণ করা হয়েছে। আলী ইবনুল গাদীর আল-আনাযী বলেছেন:

(এবং যখন তুমি দেখবে যে কোনো ব্যক্তি তার বিষয়কে ছিন্নভিন্ন করছে … লাঠি ভেঙে ফেলার মতো এবং সে অবাধ্যতায় লিপ্ত হচ্ছে)

 

(সুতরাং তুমি যা অর্জন করতে পারো তার সংকল্প করো, কেননা যে বিষয়গুলো তুমি পারো না … তাতে তোমার কোনো হাত নেই)

 

কাব্যিক ও আলঙ্কারিক বাক্যে দুটি সমোচ্চারিত শব্দ (মুশতারাক) উল্লেখ করা উত্তম। কবি বলেছেন:

(আর আমি কখনো আশঙ্কা করিনি যে তোমাদের বল্লমগুলোকে দেখব … যুদ্ধের ময়দানে সেগুলো কার্যকর (আওয়ামিল) অথচ তা বল্লমের হাতল (আওয়ামিল) নয়)

 

এবং ‘মজুন’ (কৌতুকপূর্ণ বা অসার কথা) নামক বাকরীতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমোচ্চারিত বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়।

আর 'মুতাওয়াতিয়াহ' (সমান্তরাল শব্দ) হলো সেগুলো, যা একটি নামে একমত হয়, যেমন ‘প্রাণী’ শব্দটি যা বলা হয়...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
الْإِنْسَان وَالْفرس. وَيَقَع التشكيك أَيْضا فِي هَذَا الْقسم إِذا كَانَ الِاسْم يَقع على الْقسمَيْنِ لكنه لأَحَدهمَا أولى أَو أول كالموجود إِذا قيل على أَب وَابْن، فَإِنَّهُ للْأَب أول وَكَذَلِكَ فِيمَا يقبل الأشد والأضعف كالبياض للثلج، والعاج.

تفهيم:

وتلتحق بالمقدمة السَّابِقَة الْأَسْمَاء المنقولة والمستعارة والمصرفة، فَأَما المنقولة فَهِيَ الَّتِي تكون بِالْوَضْعِ الأول لشَيْء ثمَّ تنقل إِلَى شَيْء آخر لنَوْع مشابهة، كَمَا نقل اسْم الصَّلَاة عَن الدُّعَاء إِلَى هَذِه الْعِبَادَة، وَشَاهد الدُّعَاء قَول الشَّاعِر:

(لَهَا حارس لَا يبرح الدَّهْر دنها … إِذا ذبحت صلى عَلَيْهَا وزمزما)

 

وَكَذَلِكَ الصَّوْم كَانَ للإمساك، ثمَّ نقل إِلَى هَذَا النّسك، وَدَلِيل الْإِمْسَاك
মানুষ ও ঘোড়া। এই প্রকারের ক্ষেত্রেও সংশয় (তাশকিক) ঘটে থাকে যখন কোনো নাম উভয় বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয়, কিন্তু তাদের মধ্যে একটির ক্ষেত্রে তা অধিকতর উপযুক্ত বা অগ্রগণ্য হয়। যেমন 'অস্তিত্বশীল' শব্দটি যখন পিতা ও পুত্রের ক্ষেত্রে বলা হয়; কেননা তা পিতার জন্য অগ্রগণ্য। অনুরূপভাবে সেই সকল ক্ষেত্রেও যা তীব্রতা ও দুর্বলতা গ্রহণ করে, যেমন বরফ ও হাতির দাঁতের শুভ্রতা।

বোধগম্যতা:

পূর্ববর্তী ভূমিকার সাথে স্থানান্তরিত (পরিভাষাগত), রূপক এবং রূপান্তরিত নামসমূহ সংযুক্ত হয়। স্থানান্তরিত নাম হলো সেই সব নাম যা প্রাথমিকভাবে একটি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল, অতঃপর কোনো প্রকার সাদৃশ্যের কারণে অন্য কোনো বিষয়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। যেমন 'সালাত' শব্দটিকে প্রার্থনা (দুআ) থেকে সরিয়ে এই বিশেষ ইবাদতের দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রার্থনা অর্থে সালাত ব্যবহারের প্রমাণ হলো কবির উক্তি:

(তার এক প্রহরী রয়েছে যে কখনো মদের মটকা ছেড়ে যায় না … যখন তা খোলা হয়, সে তার ওপর প্রার্থনা করে এবং অস্পষ্ট স্বরে গুনগুন করে)

 

অনুরূপভাবে 'সাওম' (রোজা) শব্দটি বিরত থাকার অর্থে ছিল, অতঃপর তা এই বিশেষ ইবাদতের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর বিরত থাকার প্রমাণ হলো
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
قَول الشَّاعِر:

(خيل صِيَام وخيل غير صَائِمَة … تَحت العجاج وَأُخْرَى تعلك اللجما)

 

وَحقّ الْمَنْقُول إِلَى صناعَة أَو نحلة أَن يسْتَعْمل فِيهَا على مَا نقل إِلَيْهِ، إِلَّا أَن يصرف عَن ذَلِك صَارف. والمستعارة مثل المنقولة إِلَّا أَن المنقولة تثبت فِيمَا نقلت إِلَيْهِ بِخِلَاف المستعارة، وَمن الِاسْتِعَارَة خفض جنَاح الذل واشتعال الرَّأْس وإقفال الْقُلُوب، وتحسن الِاسْتِعَارَة فِي الْعبارَة كَقَوْل الشَّاعِر:

(مرت بِنَا تختال فِي أَربع … يَأْكُل مِنْهَا بَعْضهَا بَعْضًا)

 

وَقَول الآخر:

(فَقَالَت صه يَا ويج غَيْرك إِنَّنِي … سَمِعت حَدِيثا بَينهم يقطر الدما)

 

وَأما المصرفة فَهِيَ المشتقة كالفقه والفقيه وتحسن أَيْضا فِي الْجمل الخطابية كَقَوْل الشَّاعِر:

(من يعتفى الْعَافِي لِحَاجَتِهِ … وَمن يأوى إِلَيْهِ المعتم المعتام)
কবির উক্তি:

(কিছু ঘোড়া স্থির দাঁড়িয়ে আছে এবং কিছু ঘোড়া স্থির নয় … ধূলিজালের নিচে এবং অন্যগুলো লাগাম চিবুচ্ছে।)

 

কোনো শিল্প বা বিশেষ মতাদর্শের পরিভাষায় স্থানান্তরিত (মানকুল) শব্দের বিধান হলো, একে সেই অর্থেই ব্যবহার করতে হবে যার দিকে একে স্থানান্তর করা হয়েছে, যদি না কোনো বিশেষ কারণ একে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেয়। আর রূপক শব্দসমূহ (মুস্তা'আরাহ) স্থানান্তরিত শব্দের মতোই, তবে পার্থক্য হলো স্থানান্তরিত শব্দ যে অর্থের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে তাতে তা সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, যা রূপক শব্দের ক্ষেত্রে হয় না। রূপক ব্যবহারের উদাহরণ হলো 'বিনয়ের ডানা অবনমিত করা', 'মস্তক (বার্ধক্যে) প্রজ্বলিত হওয়া' এবং 'অন্তরসমূহে তালাবদ্ধ হওয়া'। বাক্যালংকারে রূপকের ব্যবহার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, যেমন কবির উক্তি:

(সে দম্ভভরে চতুষ্পদে আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল … যার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে।)

 

অন্য কবির উক্তি:

(সে বলল, 'চুপ করো, তোমার দুর্ভাগ্য হোক, আমি তাদের মাঝে এমন এক কথোপকথন শুনেছি যা থেকে রক্ত ঝরছে।')

 

আর রূপান্তরিত (মুসাররাফাহ) শব্দ বলতে ব্যুৎপন্ন (মুশতাক্ক) শব্দসমূহকে বোঝায়, যেমন 'ফিকহ' এবং 'ফকিহ'। এটি আলংকারিক বাক্যেও সৌন্দর্যমন্ডিত হয়, যেমন কবির উক্তি:

(প্রার্থী কার নিকট তার প্রয়োজনের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে … এবং কার নিকট অন্ধকার রাতে দিশেহারা ব্যক্তি আশ্রয় গ্রহণ করে?)
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
مُقَدّمَة:

إِذا كَانَ فِي طبيعة شَيْء أَن يُوجد فِي شَيْء، فَإِن كَانَ مَوْجُودا فِيهِ سمي مَوْجُودا بِالْفِعْلِ، وَإِلَّا فَهُوَ مَوْجُود بِالْقُوَّةِ، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {إِنِّي أَرَانِي أعصر خمرًا} ، وَقَالَ الرضي يصف قضبان الْكَرم:

(يحملن أوعية المدام كَأَنَّمَا … يحملنها بأكارع النفران)

 

تفهيم:

إِذا قدمت شَيْئا وأخبرت عَنهُ بِشَيْء قسم الْمخبر عَنهُ الْمَوْضُوع، وَالْخَبَر الْمَحْمُول، وَالْجُمْلَة قَول جازم، وَهُوَ الَّذِي يتَطَرَّق عَلَيْهِ الصدْق وَالْكذب هَذَا مَتى اعْتبرت الْجُمْلَة مُرْسلَة، وَمَتى اعْتبرت من جِهَة حَاجَتهَا إِلَى برهَان سميت دَعْوَى، وَمَتى أخذت على سَبِيل التَّسْلِيم لينبني عَلَيْهَا غَيرهَا سميت مصادرة، وَمهما اعْتبرت من جِهَة الِاسْتِعْمَال فِي تأليف الْقيَاس سميت مُقَدّمَة، وَمَتى اعْتبرت من جِهَة أَنَّهَا صحت ببرهان سميت نتيجة،
উপস্থাপনা:

যদি কোনো কিছুর প্রকৃতি এমন হয় যে তা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, তবে যদি তা বর্তমানে তাতে বিদ্যমান থাকে তবে তাকে 'বাস্তবে বিদ্যমান' বলা হয়, অন্যথায় তাকে 'সুপ্তভাবে বিদ্যমান' বলা হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আমি নিজেকে শরাব নিংড়াতে দেখছি}। আল-রাযী আঙুর লতা বর্ণনা করে বলেছেন:

(সেগুলো মদের পাত্রসমূহ বহন করছে, যেন সেগুলো বুনো পশুর পা দিয়ে বহন করা হচ্ছে)

 

বোধোদয়:

যখন আপনি কোনো বিষয়কে আগে উপস্থাপন করেন এবং সে সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান করেন, তখন যাকে উদ্দেশ্য করে সংবাদ দেওয়া হয়েছে তাকে 'উদ্দেশ্য' এবং সংবাদটিকে 'বিধেয়' বলা হয়। আর বাক্যটি হলো একটি সুনিশ্চিত উক্তি, যার মধ্যে সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে—এটি তখন হয় যখন বাক্যটিকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর যখন একে প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তখন একে 'দাবি' বলা হয়। যখন একে অন্য কোনো বিষয়ের ভিত্তি হিসেবে মেনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়, তখন একে 'স্বতঃসিদ্ধ' বলা হয়। আর যখন একে ন্যায়-অনুমানের বিন্যাসে ব্যবহারের দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তখন একে 'হেতুবাক্য' বলা হয়। এবং যখন একে প্রমাণের মাধ্যমে সঠিক হওয়ার দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তখন একে 'সিদ্ধান্ত' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
كَهَذا الشَّخْص إِن اعْتبر بِنَفسِهِ سمي إنْسَانا، وبإضافته إِلَى ابْنه أَبَا وَإِلَى أَبِيه ابْنا، وَإِلَى عَبده مولى، وَإِلَى مَوْلَاهُ عسيفا، والقضية تقال على جَمِيع الْأَخْبَار الجازمة.

مُقَدّمَة:

إِذا تواردت الصِّفَات على شَيْء، فَمَا قوام ذَلِك الشَّيْء بِهِ مِنْهَا فَهُوَ الْوَصْف الذاتي لذَلِك الشَّيْء، وَمن خَواص هَذَا الْوَصْف أَنَّك إِذا أخطرته وأخطرت الْمَوْصُوف بِهِ ببالك لم يكن أَن تعرف الْمَوْصُوف إِلَّا وَقد عرفت هَذَا الْوَصْف، وَقد تكون للشَّيْء أَوْصَاف ذاتية فَوق وَاحِد، وَإِذا كَانَ كَذَلِك فأعم الوصفين الواردين على الشَّيْء هُوَ جنسه، وأخصهما نَوعه، وَالْوَصْف الَّذِي يتَمَيَّز بِهِ الْأَخَص من الْأَعَمّ يُسمى فصلا، وَمَا لَيْسَ قوام الشَّيْء إِلَّا بِهِ يُسمى عرضيا، وَهَذَا العرضي مِنْهُ مَا يكون شَدِيد اللُّزُوم للمتصف بِهِ، وَمِنْه مَا هُوَ سهل اللُّزُوم، ثمَّ العرضي يَنْقَسِم إِلَى مَا يُوصف بِهِ نوع وَاحِد وَيُسمى خَاصَّة وَإِلَى مَا يُوصف بِهِ أَكثر من نوع وَيُسمى عرضا عَاما، فالصفات الواردات على الموصوفات تَنْقَسِم إِلَى الْأَجْنَاس والأنواع والفصول والخواص وَالْعرض الْعَام.
যেমন এই ব্যক্তি, তাকে যদি তার নিজের সত্তার দিক থেকে বিবেচনা করা হয় তবে তাকে মানুষ বলা হয়; আর তার পুত্রের সাথে সম্বন্ধের কারণে সে পিতা, পিতার সাথে সম্বন্ধের কারণে পুত্র, দাসের সাথে সম্বন্ধের কারণে মনিব এবং মনিবের সাথে সম্বন্ধের কারণে ভৃত্য। আর ‘প্রতিজ্ঞা’ শব্দটি সকল সুনিশ্চিত বিবৃতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

ভূমিকা:

যখন কোনো বস্তুর ওপর অনেকগুলো গুণাবলি একত্র হয়, তখন ঐ গুণাবলির মধ্যে যা দ্বারা বস্তুর সত্তা গঠিত হয় তা হলো ঐ বস্তুর সত্তাগত গুণ। এই গুণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আপনি যখন আপনার হৃদয়ে ঐ গুণ এবং গুণান্বিত বস্তুটিকে উপস্থিত করবেন, তখন ঐ গুণটি না চিনে আপনি গুণান্বিত বস্তুটিকে চিনতে পারবেন না। কোনো বস্তুর একাধিক সত্তাগত গুণ থাকতে পারে। এমতাবস্থায় ঐ বস্তুর ওপর আপতিত গুণদ্বয়ের মধ্যে যেটি অধিকতর ব্যাপক তা হলো তার ‘বর্গ’, আর যেটি অধিকতর বিশেষ বা সুনির্দিষ্ট তা হলো তার ‘প্রজাতি’। যে গুণের মাধ্যমে বিশেষ বিষয়টি ব্যাপকতর বিষয়টি থেকে পৃথক হয় তাকে ‘বিভেদক’ বলা হয়। আর যা বস্তুর সত্তা গঠনের মৌলিক অংশ নয় তাকে ‘আকস্মিক গুণ’ বলা হয়। এই আকস্মিক গুণের মধ্যে কোনোটি গুণান্বিত সত্তার সাথে অত্যন্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে, আবার কোনোটি সহজেই বিচ্যুত হতে পারে। অতঃপর আকস্মিক গুণ সেই শ্রেণিতে বিভক্ত যা কেবল একটি প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট এবং একে ‘বিশেষ গুণ’ বলা হয়, আর যা একাধিক প্রজাতির মধ্যে পাওয়া যায় তাকে ‘সাধারণ আকস্মিক গুণ’ বলা হয়। সুতরাং গুণান্বিত বিষয়াবলির ওপর আপতিত গুণসমূহ বর্গ, প্রজাতি, বিভেদক, বিশেষ গুণ এবং সাধারণ আকস্মিক গুণ—এই কয়েক ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
فالجنس أَعم كليتين ذاتيتين يحسن أَن يُقَال كل وَاحِد مِنْهُمَا فِي جَوَاب مَا هُوَ، وَالنَّوْع أخصهما، والفصل هُوَ الذاتي الْمُفْرد الَّذِي يُمَيّز النَّوْع عَن قسمه فِي جنسه، والخاصة هُوَ الْوَصْف الْمُمَيز، لَكِن لَا تميز ذاتيا، والعرضي هُوَ الَّذِي يكون وَيبْطل مَعَ بَقَاء الْمَوْصُوف.

مُقَدّمَة:

" للفظة ثَلَاث دلالات: دلَالَة الْمُطَابقَة وَهِي: دلالتها على مَا وضعت لَهُ. وَدلَالَة تضمين وَهِي دلالتها على مَا يشْتَمل عَلَيْهِ مسماها من أَبْعَاضه. وَدلَالَة الْتِزَام وَهِي دلالتها على مَا تستتبعه من الْمعَانِي اللاحقة بِالْمُسَمّى كالشهد يدل على الضَّرْب دلَالَة مُطَابقَة، وعَلى الشمع دلَالَة تضمين، وعَلى الخلية دلَالَة الْتِزَام، والمستعمل فِي الْعُلُوم دلَالَة التَّضْمِين، والمطابقة ".
সুতরাং জিনস (বর্গ) হলো দুটি আত্মগত সামগ্রিক ধারণার মধ্যে অধিকতর ব্যাপক, যার প্রত্যেকটি সম্পর্কে ‘তা কী?’ প্রশ্নের উত্তরে বলা সমীচীন। নাও (প্রজাতি) হলো ওই দুটির মধ্যে অধিকতর সুনির্দিষ্ট। আর ফসল (বিভেদক) হলো সেই একক আত্মগত গুণ যা প্রজাতিকে তার বর্গের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অংশ থেকে পৃথক করে। খাসসা (বিশেষ লক্ষণ) হলো পৃথককারী বৈশিষ্ট্য, তবে তা আত্মগতভাবে পার্থক্য করে না। আর আরাযী (অস্থায়ী গুণ) হলো তা যা বর্ণিত বস্তু বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তৈরি হয় এবং বিলুপ্ত হয়।

ভূমিকা:

" শব্দের নির্দেশক ক্ষমতা (দালালাত) তিন প্রকার: মুতবাকাহ (সামঞ্জস্যপূর্ণ) নির্দেশ—আর তা হলো শব্দটি যার জন্য গঠন করা হয়েছে তার পূর্ণ অর্থের ওপর নির্দেশ করা। তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি) নির্দেশ—আর তা হলো শব্দের নির্দেশিত অর্থের কোনো একটি অংশের ওপর নির্দেশ করা। এবং ইলতিযাম (অনিবার্য সংশ্লিষ্টতা) নির্দেশ—আর তা হলো শব্দের মূল অর্থের সাথে আবশ্যিকভাবে জড়িয়ে থাকা অনুষঙ্গী অর্থের ওপর নির্দেশ করা। যেমন: ‘শাহদ’ (মধুচক্র) শব্দটি ‘দারব’ (এক প্রকার মধু)-এর ওপর মুতবাকাহ (সামঞ্জস্যপূর্ণ) হিসেবে নির্দেশ করে, মোমের ওপর তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি) হিসেবে নির্দেশ করে এবং মৌচাকের ওপর ইলতিযাম (অনিবার্য সংশ্লিষ্টতা) হিসেবে নির্দেশ করে। আর বিভিন্ন বিদ্যায় সাধারণত তাদাম্মুন ও মুতবাকাহ নির্দেশনাই ব্যবহৃত হয়। "
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
مُقَدّمَة:

الْقيَاس قَول مؤلف من أَقْوَال يلْزم عَنْهَا بِنَفسِهَا قَول آخر دَائِما، وَهُوَ فِي اصْطِلَاح الْفُقَهَاء: رد فرع إِلَى أصل بعلة جَامِعَة، وعَلى طَرِيق الاتساع هُوَ تشرف الذِّهْن من مَعْلُوم، إِلَى مَعْلُوم وَبِه يقتنص الْعلم الْمُسَمّى معرفَة المتعدى إِلَى مفعولين، فَإِن الْعلم صنفان تصور وتصديق، فالتصور علم مَا الشَّيْء، والتصديق علم نِسْبَة المتصورات بَعْضهَا إِلَى بعض؛ وَهَذَا الْعلم للغرائز موهبة إلاهية، وَالْإِنْسَان يعلم بِهَذِهِ الغريزة، وَلَا يعلم كَيفَ علم كَمَا يبصر بِالْقُوَّةِ الباصرة، وَلَا يعلم الإبصار، وَكَذَلِكَ الشَّاعِر ينظم الْبَيْت ذَا الْوَزْن وَلَا يعلم الْعرُوض، فالقايس فِي الْعُلُوم وَلم يقدم معرفَة الْقيَاس كالفارض من غير أَن يعلم الْفُرُوض، وَفرق بَين من يعلم الْعلم، وَمن يعلم مَعَ ذَلِك علم الْعلم.

وأنواع الأقيسة ثَلَاثَة: الحملي، والشرطي الْمُتَّصِل، والشرطي الْمُنْفَصِل، ويلتحق بهَا قِيَاسا الْخلف والاستقراء.

مُقَدّمَة:

إِذا عرف الْمُسَمّى بسمة مقتضية لَهُ سميت اسْما محصلا، وَإِن عرف بضدها سمي لقبا عدميا، وَإِن قرن بِالِاسْمِ المحصل حرف سلب وَجعل مَعَه
ভূমিকা:

কিয়াস হলো এমন এক বক্তব্য যা একাধিক বক্তব্যের সমন্বয়ে গঠিত, যা থেকে তার নিজস্ব সত্তার কারণেই অনিবার্যভাবে সর্বদা অন্য একটি বক্তব্য সাব্যস্ত হয়। ফকিহগণের পরিভাষায় কিয়াস হলো: একটি অভিন্ন ইল্লত বা কারণের ভিত্তিতে কোনো শাখাগত বিষয়কে মূল বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তিত করা। ব্যাপক অর্থে এটি হলো মনোজগতে কোনো একটি জানা বিষয় হতে অন্য একটি জানা বিষয়ে উপনীত হওয়া, যার মাধ্যমে সেই 'ইলম' বা জ্ঞান অর্জিত হয় যাকে 'মারিফাত' বলা হয় এবং যা দ্বিকর্মক ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিশ্চয়ই জ্ঞান দুই প্রকার: তাসাউয়ুর (ধারণা) এবং তাসদিক (প্রত্যায়ন)। কোনো বস্তু কী—তা জানাই হলো তাসাউয়ুর, আর ধারণাকৃত বিষয়সমূহের একটির সাথে অপরটির পারস্পরিক সম্পর্কের জ্ঞানই হলো তাসদিক। এই জ্ঞান হলো সহজাত প্রবৃত্তির জন্য একটি ঐশ্বরিক উপহার। মানুষ এই সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমেই জানে, কিন্তু সে জানে না যে সে কীভাবে জানে; যেমন সে দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে দেখে কিন্তু দেখার নিগূঢ় রহস্য জানে না। তদ্রূপ কবি ছন্দোবদ্ধ পদ্য রচনা করেন অথচ তিনি ইলমে আরুজ (ছন্দশাস্ত্র) জানেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়াসের স্বরূপ না জেনেই বিভিন্ন বিদ্যায় কিয়াস বা অনুমান প্রয়োগ করে, সে যেন সেই ব্যক্তির মতো যে উত্তরাধিকার আইন না জেনেই সম্পদ বণ্টন করে। আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয় জানে, এবং যে ব্যক্তি সেই বিষয়ের সাথে সাথে ওই বিষয়ের মূলনীতি ও প্রকৃতি সম্পর্কেও জ্ঞান রাখে—উভয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

কিয়াসের প্রকারভেদ তিনটি: হামলি (নিঃশর্ত), শর্তি মুত্তাসিল (শর্তযুক্ত অবিচ্ছিন্ন), এবং শর্তি মুনফাসিল (শর্তযুক্ত বিচ্ছিন্ন)। আর কিয়াসে খুফ (বিপরীতাত্মক প্রমাণ) এবং ইস্তিকরা (আরোহ পদ্ধতি) কিয়াসের এই প্রকারগুলোর সাথেই সংযুক্ত হয়।

ভূমিকা:

যখন কোনো নামধারী সত্তাকে তার জন্য অপরিহার্য কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চেনা যায়, তখন তাকে ‘ইসম মুহাসসাল’ (অস্তিত্বসূচক নাম) বলা হয়। আর যদি তার বিপরীত কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চেনা যায় তবে তাকে ‘লকব আদামি’ (অভাবসূচক উপাধি) বলা হয়। আর যদি ইসম মুহাসসালের সাথে কোনো নেতিবাচক অব্যয় যুক্ত করা হয় এবং তার সাথে একত্রিত করা হয়...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
كالشيء الْوَاحِد سمي بِالِاسْمِ الْغَيْر مُحَصل، وبالمعدول، فَإِذا قيل بيع صَحِيح فقد سمي باسم مُحَصل، وَإِذا قيل فَاسد فقد وصف بِصفة عدمية، وَإِذا قيل غير صَحِيح فقد وصف بِصفة معدولة، وَكَثِيرًا يحْتَاج إِلَى الِاسْم المعدول فِي نظم الأقيسة فِي مضايق الْمُقدمَات الَّتِي لَا تحْتَمل السَّلب، وَالِاسْم المعدول يدل على أَصْنَاف عدم ذَلِك الِاسْم المحصل.

مُقَدّمَة:

مَتى أجريت شَيْئَيْنِ فِي معرض الحكم، فَأَما أَن تحكم بِأَحَدِهِمَا على جَمِيع الآخر أَو على بعضه، وَإِمَّا أَن تَنْفِي أَحدهمَا عَن جَمِيع الآخر، أَو عَن بعضه، فالنفي وَالْإِثْبَات كَيْفيَّة الْقَضِيَّة وَالْكل والجزء كمية الْقَضِيَّة وَيُسمى الدَّال على الْقَضِيَّة أسوارا فسور الْكُلِّي الْمُوجب كلي، وسور الْكُلِّي السالب لَا وَاحِد وَلَا شَيْء، وسور
যেমন একটি একক বস্তু, একে অনির্দিষ্ট নাম এবং বিচ্যুত নাম হিসেবে অভিহিত করা হয়। সুতরাং যখন বলা হয় 'সঠিক বিক্রয়', তখন একে একটি সুনির্দিষ্ট নামে অভিহিত করা হয়। আর যখন একে 'ত্রুটিপূর্ণ' বলা হয়, তখন একে একটি অভাবসূচক গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়। আবার যখন 'অ-সঠিক' বলা হয়, তখন একে বিচ্যুত গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমানের বিন্যাসে ভূমিকাগুলোর সেই সংকীর্ণতার স্থলে বিচ্যুত নামের প্রয়োজন হয় যা নেতিবাচকতা গ্রহণে সক্ষম নয়। আর বিচ্যুত নাম সেই সুনির্দিষ্ট নামের অভাবের বিভিন্ন প্রকারভেদকে নির্দেশ করে।

ভূমিকা:

যখন আপনি বিচারের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে উপস্থাপন করবেন, তখন হয় আপনি তাদের একটির দ্বারা অন্যটির সামগ্রিক অংশ বা আংশিক অংশের ওপর বিধান আরোপ করবেন, অথবা তাদের একটিকে অন্যটির সামগ্রিক অংশ বা আংশিক অংশ থেকে নাকচ করবেন। সুতরাং ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতা হলো প্রতিজ্ঞার গুণ, আর সামগ্রিকতা ও আংশিকতা হলো প্রতিজ্ঞার পরিমাণ। প্রতিজ্ঞার নির্দেশককে পরিমাণক বলা হয়। সুতরাং সার্বিক ইতিবাচক প্রতিজ্ঞার পরিমাণক হলো সার্বিক, আর সার্বিক নেতিবাচক প্রতিজ্ঞার পরিমাণক হলো 'কেউ নয়' এবং 'কিছুই নয়', আর পরিমাণক
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
الجزئي الْمُوجب بعض كَذَا وَكَذَا، وسور الجزئي السالب لَيْسَ بعض كَذَا وَكَذَا، ويلتحق بذلك أَلْفَاظ تتعارف بهَا ويصطلح عَلَيْهَا مثل: ثلة، وَطَائِفَة، وَسَائِر بِمَعْنى الْبَاقِي، وقاطبة، وكافة، وَمَا عرف بِالْألف وَاللَّام إِن لم يرجع إِلَى مَعْهُود سائق فَهُوَ صَالح للدلالة على الْكل وَصَالح للدلالة على الْكل وَصَالح للدلالة على الْبَعْض فَهُوَ فِي قُوَّة الجزئي والشخصي فِي الْمَعْنى الرَّاجِح إِلَيْهِ كالكلي فِي الْمَعْنى الرَّاجِع إِلَى طبيعة الْكُلِّي.

مُقَدّمَة:

أقل مَا تلتئم الْقَضِيَّة من جزءين؛ مَوْضُوع ومحمول، وَيدخل بَين الْمَوْضُوع والمحمول لفظ كالجامعة بَينهمَا تسمى رِبَاطًا،
আংশিক ইতিবাচক-এর মানক হলো 'অমুকের কিছু অংশ', এবং আংশিক নেতিবাচক-এর মানক হলো 'অমুকের কিছু অংশ নয়'। এর সাথে এমন কিছু শব্দও যুক্ত হয় যা প্রচলিত এবং পারিভাষিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: একটি দল, একটি গোষ্ঠী, অবশিষ্ট অর্থে 'বাকি', সামগ্রিক এবং সমস্ত। আর যা আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদি তা পূর্ববর্তী কোনো পরিচিত প্রসঙ্গের দিকে নির্দেশ না করে, তবে তা যেমন সমষ্টি বুঝাতে সক্ষম, তেমনি আংশিক অর্থ বুঝাতেও সক্ষম। সুতরাং প্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থের বিচারে এটি আংশিক এবং ব্যক্তিবাচক বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত, যেমনটি সার্বিক প্রকৃতির দিকে প্রত্যাবর্তিত অর্থের ক্ষেত্রে সার্বিক বিষয়টি হয়ে থাকে।

ভূমিকা:

একটি যুক্তিবাক্য ন্যূনতম দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়; উদ্দেশ্য এবং বিধেয়। উদ্দেশ্য এবং বিধেয়ের মাঝখানে একটি শব্দ আসে যা উভয়ের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে, যাকে সংযোজক বলা হয়।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
والمحمول قَلما تسْتَعْمل فِي الْعَرَبيَّة وَهِي لَفْظَة هُوَ وتوجد وَمَا أعطي هَذَا الْمَعْنى، فَإِذا اسْتعْملت الْقَضِيَّة مُرْسلَة سميت ثنائية، وَإِذا دخل بَينهمَا الرِّبَاط سميت ثلاثية، وتلحق الْقَضِيَّة لَفْظَة أُخْرَى تدل على كَون الْمَوْضُوع للمحمول على أَي جِهَة هُوَ وَتسَمى الْجِهَة وَتَكون إِمَّا ضَرُورِيَّة أَو ممتنعة أَو مُمكنَة؛ أَعنِي نِسْبَة الْمَحْمُول إِلَى الْمَوْضُوع والممكن بِالِاسْتِعْمَالِ الْعَاميّ هُوَ غير الْمُمْتَنع، فَإِذا اسْتعْمل كَذَلِك دخل الْوَاجِب فِيهِ، فَإِن الْوَاجِب غير مُمْتَنع وَهُوَ بِالِاسْتِعْمَالِ الْخَاص بِمَعْنى غير الْمُمْتَنع وَغير الضَّرُورِيّ.

مُقَدّمَة:

الْقَضِيَّة تكون على وجود الشَّيْء كقضيتنا على وجود بيع مُطلق، وعَلى جوهره كَقَوْلِنَا: هَذَا الدِّينَار ذهب، وعَلى كميته كَقَوْلِنَا: خمس مائَة رَطْل، وعَلى كيفيته كَقَوْلِنَا: المَاء الْمُطلق طهُور، وعَلى إِضَافَته كَقَوْلِنَا: الإِمَام تجاه الْقبْلَة، وعَلى مَكَانَهُ كَقَوْلِنَا: الْكَعْبَة بِمَكَّة حرسها الله تَعَالَى، وعَلى زَمَانه كَقَوْلِنَا: ولد النَّبِي عليه السلام عَام الْفِيل، وعَلى وَضعه كَقَوْلِنَا فلَان ساجد، وعَلى مَا يفعل كَقَوْلِنَا: يُصَلِّي، وعَلى مَا يفعل بِهِ كَقَوْلِنَا: يكرم، وعَلى مَا هُوَ لَهُ كَقَوْلِنَا متختم.
আরবি ভাষায় বিধেয় হিসেবে 'সে' এবং 'বিদ্যমান আছে' এবং এই অর্থ প্রদানকারী শব্দসমূহ খুব কমই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন প্রতিজ্ঞাটি মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে দ্বিপদীয় বলা হয়, আর যখন এ দুয়ের মধ্যে সংযোজক প্রবেশ করে তখন তাকে ত্রিপদীয় বলা হয়। প্রতিজ্ঞার সাথে অন্য একটি শব্দ যুক্ত হয় যা উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের ধরন নির্দেশ করে, একে 'দিক' বলা হয়। আর এই দিকগুলো হয় তো অনিবার্য, নতুবা অসম্ভব, অথবা সম্ভাব্য; অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্বন্ধ। সাধারণ ব্যবহারে 'সম্ভাব্য' বলতে 'অ-অসম্ভব' বোঝায়; ফলে যদি এটি সেভাবে ব্যবহৃত হয় তবে 'অপরিহার্য' বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, কেননা যা অপরিহার্য তা অসম্ভব নয়। আর পারিভাষিক ব্যবহারে এটি 'অ-অসম্ভব' এবং 'অ-অনিবার্য' উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

ভূমিকা:

প্রতিজ্ঞা কখনো কোনো বস্তুর অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন নিঃশর্ত বিক্রয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের প্রতিজ্ঞা। কখনো তার সারসত্তার ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: এই দিনারটি স্বর্ণ। কখনো তার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: পাঁচশত রতল। কখনো তার গুণের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: সাধারণ পানি পবিত্র। কখনো তার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: ইমাম কিবলার অভিমুখী। কখনো তার স্থানের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: কাবা মক্কায় অবস্থিত, আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন। কখনো তার সময়ের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। কখনো তার দৈহিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: অমুক ব্যক্তি সিজদারত। কখনো তার ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: সে সালাত আদায় করছে। কখনো তার ওপর কৃত ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: তাকে সম্মানিত করা হচ্ছে। আর কখনো তার পরিহিত বা ধারণকৃত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন আমাদের কথা: আংটি পরিহিত ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
مُقَدّمَة:

نذْكر هَهُنَا تقَابل القضايا وَهِي الَّتِي تستوي فِي الْمَوْضُوع والمحمول، وكل قضيتين متقابلتين فإمَّا أَن تَكُونَا شخصيتين، أَو مهملتين، أَو متضادتين، أَو تَحت التضاد، وَإِمَّا متناقضتين، وَإِمَّا متداخلتين، فالشخصيتان هما اللَّتَان موضوعهما شخص، والمهملتان اللَّتَان لم يتَبَيَّن قدر الحكم فيهمَا، والمتضادتان المختلفتان كَيْفيَّة المتفقتان كمية، وَمَا تَحت التضاد كَذَلِك، وَالْفرق بَينهمَا: أَن المتضادتين كليتان، واللتان تَحت التضاد جزئيتان، والمتناقضتان هما المختلفتان كمية وَكَيْفِيَّة، والتناقض أَشد عنادا من التضاد.

مُقَدّمَة:

وَهَذِه القضايا تنْقَلب بِأَن تجْعَل مَوْضُوع الْقَضِيَّة مَحْمُولا ومحمولها مَوْضُوعا، فَإِن بَقِي صدقهَا عَلَيْهَا فَهِيَ منعكسة، وَالَّتِي تنعكس مثل نَفسهَا السالبة الْكُلية، وَالَّتِي لَا تنعكس أصلا السالبة الْجُزْئِيَّة، وَأما الْمُوجبَة الْكُلية، والموجبة الْجُزْئِيَّة، فَكل وَاحِدَة مِنْهُمَا تنعكس مُوجبَة جزئية.
ভূমিকা:

আমরা এখানে বচনসমূহের বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনা করব। এগুলো হলো সেই বচন যা উদ্দেশ্য এবং বিধেয়ের ক্ষেত্রে অভিন্ন। পরস্পর বৈপরীত্যসম্পন্ন প্রতিটি দুই বচন হয় ব্যক্তিক, অথবা অনির্ধারিত, অথবা বিপরীত, অথবা উপ-বিপরীত, অথবা বিরুদ্ধ, অথবা অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিক বচন হলো সেই দুটি যার উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি। অনির্ধারিত বচন হলো সেই দুটি যাতে বিধানের পরিমাণ স্পষ্ট করা হয়নি। বিপরীত বচন হলো সেই দুটি যা গুণগত দিক থেকে ভিন্ন কিন্তু পরিমাণগত দিক থেকে এক। উপ-বিপরীত বচনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। এদের মধ্যে পার্থক্য হলো: বিপরীত বচন দুটি সার্বিক, আর উপ-বিপরীত বচন দুটি বিশেষ। বিরুদ্ধ বচন হলো সেই দুটি যা পরিমাণ এবং গুণ উভয় ক্ষেত্রেই ভিন্ন। আর বিরুদ্ধতা বৈপরীত্যের তুলনায় অধিকতর জোরালো।

ভূমিকা:

এই বচনগুলো এমনভাবে আবর্তিত হয় যেখানে বচনের উদ্দেশ্যকে বিধেয় এবং বিধেয়কে উদ্দেশ্য করা হয়। যদি এর সত্যতা বজায় থাকে তবে তা আবর্তিত বচন। যা হুবহু নিজের অনুরূপ আবর্তিত হয় তা হলো সার্বিক নঞর্থক বচন। আর যা মোটেও আবর্তিত হয় না তা হলো বিশেষ নঞর্থক বচন। অন্যদিকে, সার্বিক সদর্থক এবং বিশেষ সদর্থক বচন—এদের প্রতিটিই বিশেষ সদর্থক হিসেবে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
مُقَدّمَة:

من هَاهُنَا نجْعَل الْأَمْثِلَة بالحروف الخالية عَن معنى حَتَّى إِذا أنتجت أنتجت بِنَفسِهَا، لَا لمادة وجودية وَهِي مَعَ ذَلِك أخصر ووزانها الْأَشْيَاء الَّتِي يستعملها الحاسب فِي اسْتِخْرَاج المجهولات.

مُقَدّمَة:

فِي تركيب الْقيَاس الحملي وَصورته، يتركب من مقدمتين وَأَرْبَعَة حُدُود، مِنْهَا حد مُكَرر، وَهَذَا الْحَد المكرر يُقَال لَهُ الْحَد الْأَوْسَط وَهُوَ الْوَصْف الْجَامِع، وينتج هَذَا التَّرْكِيب قَضِيَّة هِيَ النتيجة، ويشتمل على جزءين هما الواردان فِي المقدمتين مطيفين بِالْحَدِّ الْأَوْسَط، وَفِي كل مُقَدّمَة من مقدمتي الْقيَاس حد من حُدُود النتيجة وقرينة الْحَد الْأَوْسَط، فالمقدمة الَّتِي تشْتَمل على مَوْضُوع النتيجة هِيَ الْمُقدمَة الصُّغْرَى وبحق كَانَ ذَلِك؛ لِأَنَّهَا تشْتَمل على الْحَد الْأَصْغَر من حدي النتيجة؛ لِأَنَّهُ تَحت الْمَحْمُول، والمقدمة الْمُشْتَملَة على مَحْمُول النتيجة هِيَ الْمُقدمَة الْكُبْرَى؛ لِأَنَّهَا
ভূমিকা:

এখান থেকে আমরা অর্থহীন অক্ষরগুলোর মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করব, যাতে এগুলো যখন কোনো ফলাফল প্রদান করে, তখন তা আপন সত্তার মাধ্যমেই দেয়, কোনো অস্তিত্বশীল বিষয়বস্তুর কারণে নয়। এটি অধিকতর সংক্ষিপ্ত এবং এর মানদণ্ড সেই সব বিষয়ের মতো যা গণনাকারী অজ্ঞাত বিষয়গুলো বের করার জন্য ব্যবহার করেন।

ভূমিকা:

হামলি কিয়াস (বর্ণনামূলক অনুমান)-এর গঠন ও রূপ প্রসঙ্গে: এটি দুটি ভূমিকা এবং চারটি পদ দ্বারা গঠিত হয়, যার মধ্যে একটি পদ পুনরাবৃত্ত হয়। এই পুনরাবৃত্ত পদটিকে 'মধ্যপদ' বলা হয় এবং এটি হলো সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য। এই গঠনটি একটি বচন প্রদান করে যা হলো 'ফলাফল'। এটি দুটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে যা দুটি ভূমিকার মধ্যে এসেছে এবং মধ্যপদকে পরিবেষ্টন করে থাকে। কিয়াসের প্রতিটি ভূমিকার মধ্যে ফলাফলের পদসমূহের একটি পদ এবং মধ্যপদের অনুষঙ্গ থাকে। অতএব, যে ভূমিকাটি ফলাফলের 'উদ্দেশ্য'-কে অন্তর্ভুক্ত করে তা হলো 'ক্ষুদ্রতর ভূমিকা' এবং এটি যথার্থ; কারণ এটি ফলাফলের পদদ্বয়ের মধ্যে ক্ষুদ্রতর পদটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেহেতু তা বিধেয়-এর অন্তর্ভুক্ত। আর যে ভূমিকাটি ফলাফলের 'বিধেয়'-কে অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো 'বৃহত্তর ভূমিকা'; কারণ এটি
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
تشْتَمل على الْحَد الْأَكْبَر من حدي النتيجة، وَهَذَا الْحَد الْأَوْسَط لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون مَوْضُوعا فِي المقدمتين أَو مَحْمُولا فيهمَا أَو مَوْضُوعا فِي وَاحِدَة مَحْمُولا فِي الْأُخْرَى، وَلذَلِك تنوعت الأقيسة ثَلَاثَة أَنْوَاع، وَفِي الْمُمكن نوع آخر يتَوَلَّد من هَذَا النَّوْع الآخر قَلِيل الْفَائِدَة فِي الْعُلُوم فهجرناه.

وَالنَّوْع الأول من المقاييس الحملية هُوَ الَّذِي يكون الْحَد الْأَوْسَط فِيهِ مَوْضُوعا فِي مُقَدّمَة مَحْمُولا فِي الْأُخْرَى، وَالثَّانِي الَّذِي يكون الْحَد الْأَوْسَط فِيهِ مَحْمُولا فِيهَا، وَالثَّالِث هُوَ الَّذِي يكون الْحَد الْأَوْسَط فِيهِ مَوْضُوعا فيهمَا، ونسمي هَذِه الْأَنْوَاع أشكالا، والممكن من تركيب كل شكل سِتَّة عشر اقترانا؛ لِأَن الْمُقدمَات أَربع كَمَا بَينا، فَإِذا امتزجت أحدثت هَذِه الاقترانات وَلَيْسَ كل هَذِه الْقَرَائِن مفيدة، بل الْمُفِيد من الشكل الأول أَرْبَعَة وَكَذَلِكَ من الثَّانِي.

وَأما الثَّالِث، فالمنتج مِنْهُ سِتَّة، وَالشّرط الْعَام لهَذِهِ الأشكال أَلا تنْتج من سالبتين، وَلَا من جزئيتين، وَلَا من صغرى سالبة وكبرى جزئية، والنتيجة تتبع أخس المقدمتين.

الشكل الأول: شَرطه أَن تكون صغراه مُوجبَة وكبراه كُلية وغايته
এতে ফলাফলের দুটি পদের মধ্য থেকে প্রধান পদ (হাদ্দ আকবর) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই মধ্যপদটি (হাদ্দ আওসাত) হয় উভয় মুকাদ্দামায় (প্রস্তাবনায়) উদ্দেশ্য (মাওজু) হবে, অথবা উভয়টিতে বিধেয় (মাহমুল) হবে, কিংবা একটিতে উদ্দেশ্য ও অন্যটিতে বিধেয় হবে। এ কারণে কিয়াসসমূহ (যৌক্তিক অনুমান) তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এছাড়া আরেকটি সম্ভাব্য প্রকার রয়েছে যা এই শেষোক্ত প্রকারটি থেকে উদ্ভূত হয়, কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার উপকারিতা সামান্য হওয়ায় আমরা তা বর্জন করেছি।

বর্ণনামূলক কিয়াসসমূহের (আল-মাকায়িস আল-হামলিয়া) প্রথম প্রকার হলো সেটি, যাতে মধ্যপদটি এক মুকাদ্দামায় উদ্দেশ্য এবং অন্যটিতে বিধেয় হিসেবে থাকে। দ্বিতীয় প্রকার হলো সেটি, যাতে মধ্যপদটি উভয় মুকাদ্দামাতেই বিধেয় হয়। আর তৃতীয় প্রকার হলো সেটি, যাতে মধ্যপদটি উভয় মুকাদ্দামাতেই উদ্দেশ্য হয়। আমরা এই প্রকারগুলোকে আকৃতি (আশকাল) বলে অভিহিত করি। প্রতিটি আকৃতির বিন্যাস থেকে ষোলোটি যুগলবন্ধী (ইকতিরান) হওয়া সম্ভব; কারণ মুকাদ্দামা চারটি—যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। যখন এগুলোর সংমিশ্রণ ঘটে তখন এই যুগলবন্ধীগুলো তৈরি হয়। তবে এই সব যুগলবন্ধী ফলাফলপ্রসূ নয়; বরং প্রথম আকৃতি থেকে চারটি এবং অনুরূপভাবে দ্বিতীয় আকৃতি থেকেও চারটি ফলাফলপ্রসূ হয়।

আর তৃতীয় আকৃতির ক্ষেত্রে ফলাফলপ্রসূ হলো ছয়টি। এই আকৃতিগুলোর সাধারণ শর্ত হলো যে, দুটি নঞর্থক (সালেবা) থেকে কোনো ফলাফল আসবে না, দুটি আংশিক (জুজয়ি) থেকেও কোনো ফলাফল আসবে না এবং ক্ষুদ্রতর প্রস্তাবনা (সুগরা) নঞর্থক ও বৃহত্তর প্রস্তাবনা (কুবরা) আংশিক হলেও কোনো ফলাফল আসবে না। ফলাফল সর্বদা দুটি প্রস্তাবনার মধ্যে যেটি দুর্বলতর সেটিকে অনুসরণ করে।

প্রথম আকৃতি: এর শর্ত হলো এর ক্ষুদ্রতর প্রস্তাবনাটি (সুগরা) সদর্থক (মুজিবা) হতে হবে এবং বৃহত্তর প্রস্তাবনাটি (কুবরা) সার্বিক (কুল্লিয়া) হতে হবে এবং এর লক্ষ্য হলো...
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
إنتاج المطالب الْأَرْبَعَة، وَهُوَ بَين بِنَفسِهِ وَبِه يتَبَيَّن ضروب الشكلين الآخرين.

(الضَّرْب الأول: يتركب من موجبتين كلييتين 6 / ب) ، وينتج مُوجبَة كُلية، مِثَاله: كل أَب وكل ب ح ينْتج كل أح وَصورته:

(الضَّرْب الثَّانِي: من كليتين كبراهما سالبة) وينتج كُلية سالبة.

مِثَاله: كل أَب وَلَا شَيْء من ب ج فَلَا شَيْء من أج وَصورته:
চারটি বিষয়ের ফলাফল উৎপাদন; যা স্বয়ংপ্রমাণিত এবং এর মাধ্যমেই অন্য দুটি প্রকারের রূপসমূহ সুস্পষ্ট হয়।

(প্রথম প্রকার: এটি দুটি ইতিবাচক সার্বিক বচন দ্বারা গঠিত ৬ / খ), এবং এটি একটি ইতিবাচক সার্বিক বচন উৎপাদন করে। এর উদাহরণ: প্রত্যেক ‘ক’ হয় ‘খ’ এবং প্রত্যেক ‘খ’ হয় ‘গ’, ফলে সিদ্ধান্ত আসে প্রত্যেক ‘ক’ হয় ‘গ’ এবং এর রূপ হলো:

(দ্বিতীয় প্রকার: দুটি সার্বিক বচন দ্বারা গঠিত যার প্রধান আশ্রয়বাক্যটি নেতিবাচক) এবং এটি একটি নেতিবাচক সার্বিক বচন উৎপাদন করে।

এর উদাহরণ: প্রত্যেক ‘ক’ হয় ‘খ’ এবং ‘খ’ এর কোনো কিছুই ‘গ’ নয়, সুতরাং ‘ক’ এর কোনো কিছুই ‘গ’ নয় এবং এর রূপ হলো:
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৮০)
الضَّرْب الثَّالِث: من موجبتين صُغْرَاهُمَا جزئية ينْتج مُوجبَة جزئية.

مِثَاله: بعض أَب، وكل ب ج، فبعض أح وَصورته:

الضَّرْب الرَّابِع: من صغرى مُوجبَة جزئية وكبرى سالبة كُلية ينْتج سالبة جزئية.

مِثَاله: بعض أَب وَلَا شَيْء من ج ب ينْتج فَلَا شَيْء من أج.

وَصورته:

الشكل الثَّانِي: شَرطه أَن تخْتَلف مقدماته فِي الْكَيْفِيَّة وَتَكون الْكُبْرَى كُلية وغايته إنتاج السوالب.

الضَّرْب الأول: من كليتين كبراهما سالبة تنْتج كُلية سالبة، مِثَاله: كل أَب وَلَا شَيْء من ح ب يَنْتَهِي فَلَا شَيْء من أح وَصورته:
তৃতীয় প্রকার: দুটি সদর্থক বাক্য থেকে যার ক্ষুদ্রতরটি আংশিক, এটি একটি আংশিক সদর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করে।

উদাহরণ: কিছু ‘অ’ হলো ‘ব’, এবং সকল ‘ব’ হলো ‘জ’, সুতরাং কিছু ‘অ’ হলো ‘হ’। এর রূপটি হলো:

চতুর্থ প্রকার: আংশিক সদর্থক ক্ষুদ্রতর বাক্য এবং সার্বিক নঞর্থক বৃহত্তর বাক্য থেকে একটি আংশিক নঞর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করে।

উদাহরণ: কিছু ‘অ’ হলো ‘ব’ এবং ‘জ’-এর কোনো কিছুই ‘ব’ নয়, যা ফলাফল দেয় যে ‘অ’-এর কোনো কিছুই ‘জ’ নয়।

এর রূপটি হলো:

দ্বিতীয় আকৃতি: এর শর্ত হলো এর প্রস্তাবনাদ্বয় গুণগত দিক থেকে ভিন্ন হতে হবে এবং বৃহত্তর প্রস্তাবনাটি সার্বিক হতে হবে; এর উদ্দেশ্য হলো নঞর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করা।

প্রথম প্রকার: দুটি সার্বিক বাক্য থেকে যার বৃহত্তরটি নঞর্থক, এটি একটি সার্বিক নঞর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করে। উদাহরণ: সকল ‘অ’ হলো ‘ব’ এবং ‘হ’-এর কোনো কিছুই ‘ব’ নয়, যা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে ‘অ’-এর কোনো কিছুই ‘হ’ নয়। এবং এর রূপটি হলো:
(খণ্ড: ১) তাকউমুন নাযার ফী মাসাইলা খিলাফিয়্যাহ জাইআহ (পৃষ্ঠা: ৮১)
الضَّرْب الثَّانِي: من كليتين الصُّغْرَى سالبة ينْتج سالبة كُلية، مِثَاله لَا شَيْء من أَب، وكل ج ب فَلَا شَيْء من أج وَصورته:

وَإِن أردْت أَن تتبين نتائج الأشكال بإعادتها إِلَى الضَّرْب الأول فاعكس كبرى الضَّرْب الأول من هَذَا الشكل وصغرى الضَّرْب الثَّانِي، ثمَّ اعكس نتيجة الضَّرْب الثَّانِي، وَقد اتَّضَح الانتاج، وَلَعَلَّ التشكيل بالخطوط يَكْفِي لوُقُوع الْحس عَلَيْهِ ".

الضَّرْب الثَّالِث: من صغرى مُوجبَة وكبرى سالبة كُلية ينْتج سالبة جزئية.

مِثَاله بعض أَب وَلَا شَيْء من ج ب ينْتج فَلَيْسَ بعض أج.

وَصورته: بَيَانِيَّة بعكس الْكُبْرَى.
দ্বিতীয় বিন্যাস: দুটি সার্বিক বচন থেকে যেখানে ক্ষুদ্রতর বচনটি নঞর্থক, এটি একটি সার্বিক নঞর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো ‘আ’ ‘বা’ নয়, এবং প্রত্যেক ‘জিম’ হলো ‘বা’; সুতরাং কোনো ‘আ’ ‘জিম’ নয়। এবং এর রূপটি হলো:

আর আপনি যদি আকারসমূহের ফলাফলগুলোকে প্রথম বিন্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চান, তবে এই আকারের প্রথম বিন্যাসের বৃহত্তর বচন এবং দ্বিতীয় বিন্যাসের ক্ষুদ্রতর বচনটিকে আবর্তন করুন। অতঃপর দ্বিতীয় বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবর্তন করুন, এতে ফলাফল সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। সম্ভবত রেখাচিত্রের মাধ্যমে রূপদান করাই ইন্দ্রিয়লব্ধ উপলব্ধির জন্য যথেষ্ট।

তৃতীয় বিন্যাস: সদর্থক ক্ষুদ্রতর বচন এবং সার্বিক নঞর্থক বৃহত্তর বচন থেকে বিশেষ নঞর্থক সিদ্ধান্ত উৎপন্ন হয়।

এর উদাহরণ: কিছু ‘আ’ হলো ‘বা’, এবং কোনো ‘জিম’ ‘বা’ নয়; এর ফলে সিদ্ধান্ত হয় যে, কিছু ‘আ’ ‘জিম’ নয়।

এর রূপ: বৃহত্তর বচনের আবর্তনের মাধ্যমে প্রদর্শিত।