(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: -)
نزهة الأعين النواظر في علم الوجوه والنظائر   (ابن الجوزي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: نزهة الأعين النواظر في علم الوجوه والنظائر

المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)

المحقق: محمد عبد الكريم كاظم الراضي

الناشر: مؤسسة الرسالة - لبنان/ بيروت

الطبعة: الأولى، 1404هـ - 1984م

عدد الصفحات: 645

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুযহাতুল আ’য়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজূহি ওয়ান নাযাইর   (ইবনুল জাওযী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসীরের মূলনীতিসমূহ


কিতাব: নুযহাতুল আ’য়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজূহি ওয়ান নাযাইর

লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ আল-জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরী)

তাহকীককারী: মুহাম্মাদ আব্দুল কারীম কাযিম আল-রাদী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - লেবানন/ বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৪ হিজরী - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৫

[কিতাবের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم)

 

( [ ‌‌(الْحَمد لله رب الْعَالمين))

 

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم جمال الدّين، أَبُو الْفرج عبد الرَّحْمَن بن عَليّ ابْن الْجَوْزِيّ رحمه الله ] :

الْحَمد لله على إحسانه حمدا يُوجب الْمَزِيد من رضوانه، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ فِي سُلْطَانه، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أرْسلهُ لايضاح برهانه، وَصلى الله عَلَيْهِ، وعَلى أَصْحَابه، وأزواجه، وأعوانه، صَلَاة تدوم على مُرُور الزَّمَان ومرور أحيانه، وَسلم تلسيما كثيرا.

وَبعد لما نظرت فِي كتب الْوُجُوه والنظائر الَّتِي ألفها أَرْبَاب الِاشْتِغَال بعلوم الْقُرْآن، رَأَيْت كل مُتَأَخّر عَن مُتَقَدم يحذو حذوه، وينقل قَوْله مُقَلدًا لَهُ من غير فكرة (فِيمَا نَقله وَلَا بحث عَمَّا حصله.
(পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)

 

( [ (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য))

 

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ] :

আল্লাহর তাঁর অনুগ্রহের জন্য প্রশংসা করছি—এমন প্রশংসা যা তাঁর সন্তুষ্টির প্রবৃদ্ধি অবধারিত করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে তিনি তাঁর প্রমাণসমূহ সুস্পষ্ট করার জন্য প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও সাহায্যকারীদের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা মহাকালের আবর্তনে চিরস্থায়ী হয়, এবং তিনি প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, আমি যখন কুরআন বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক রচিত 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' (শব্দের বিবিধ অর্থ ও সমার্থ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখলাম যে প্রত্যেক উত্তরসূরি তাঁর পূর্বসূরির পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তাকে অনুকরণ করে তাঁর বক্তব্য নকল করছেন (যা তিনি বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে যেমন তাঁর কোনো চিন্তা নেই, তেমনি যা তিনি আহরণ করেছেন সে বিষয়েও কোনো গবেষণা নেই।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮২)
قد نسب كتاب فِي " الْوُجُوه والنظائر " إِلَى (عِكْرِمَة عَن) ابْن عَبَّاس " رضي الله عنهما " وَكتاب) آخر إِلَى عَليّ بن أبي طَلْحَة عَن ابْن عَبَّاس.

وَمِمَّنْ ألف كتب " الْوُجُوه والنظائر ". الْكَلْبِيّ، وَمُقَاتِل بن سُلَيْمَان، وَأَبُو الْفضل الْعَبَّاس بن الْفضل الْأنْصَارِيّ. وروى مطروح بن مُحَمَّد بن شَاكر عَن عبد الله بن هَارُون الْحِجَازِي عَن أَبِيه، كتابا فِي " الْوُجُوه والنظائر "، وَأَبُو بكر بن مُحَمَّد بن
"আল-উজুহ ওয়ান-নাজাইর" বিষয়ক একটি গ্রন্থ (ইকরিমা-এর সূত্রে) ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং অন্য একটি গ্রন্থ আলি ইবনে আবু তালহা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।

আর যারা "আল-উজুহ ওয়ান-নাজাইর" বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-কালবি, মুকাতিল ইবনে সুলায়মান এবং আবুল ফজল আব্বাস ইবনুল ফজল আল-আনসারি। মাতরুহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাকির, আবদুল্লাহ ইবনে হারুন আল-হিজাজি থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে "আল-উজুহ ওয়ান-নাজাইর" বিষয়ক একটি গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন; এবং আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الْحسن النقاش، وَأَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الدَّامغَانِي، وَأَبُو عَليّ الْبناء من أَصْحَابنَا، وَشَيخنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن عبيد الله بن الزَّاغُونِيّ. وَلَا أعلم أحدا جمع الْوُجُوه والنظائر سوى هَؤُلَاءِ.

وَأعلم أَن معنى الْوُجُوه والنظائر (2 / أ) أَن تكون الْكَلِمَة وَاحِدَة، ذكرت فِي مَوَاضِع من الْقُرْآن على لفظ وَاحِد، وحركة وَاحِدَة، وَأُرِيد بِكُل مَكَان معنى غير الآخر، فَلفظ كل كلمة ذكرت فِي مَوضِع نَظِير للفظ الْكَلِمَة الْمَذْكُورَة فِي الْموضع الآخر، وَتَفْسِير كل كلمة بِمَعْنى غير معنى الآخرى هُوَ الْوُجُوه.

فَإِذن النَّظَائِر: اسْم للألفاظ، وَالْوُجُوه: اسْم للمعاني، فَهَذَا الأَصْل فِي وضع كتب الْوُجُوه والنظائر، وَالَّذِي أَرَادَ الْعلمَاء بِوَضْع كتب الْوُجُوه والنظائر أَن يعرفوا السَّامع لهَذِهِ النَّظَائِر أَن مَعَانِيهَا تخْتَلف، وَأَنه لَيْسَ المُرَاد بِهَذِهِ اللَّفْظَة مَا أُرِيد بِالْأُخْرَى، وَقد تجوز واضعوها فَذكرُوا كلمة وَاحِدَة مَعْنَاهَا فِي جَمِيع الْمَوَاضِع وَاحِد. كالبلد، والقرية، وَالْمَدينَة، وَالرجل، وَالْإِنْسَان، وَنَحْو ذَلِك. إِلَّا أَنه يُرَاد بِالْبَلَدِ فِي هَذِه الْآيَة غير الْبَلَد فِي الْآيَة الْأُخْرَى (وبهذه الْقرْيَة غير الْقرْيَة فِي الْآيَة الْأُخْرَى) . فحذوا
আল-হাসান আন-নাক্কাশ, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামিগানি, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু আলি আল-বান্না এবং আমাদের শায়খ আবুল হাসান আলি ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনুয যাগুনি। আমি এদের ব্যতীত অন্য কাউকে জানি না যারা 'উজুহ ও নাজাইর' সংকলন করেছেন।

জেনে রাখুন যে, 'উজুহ ও নাজাইর'-এর (২ / ক) অর্থ হলো শব্দটি অভিন্ন হওয়া, যা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একই উচ্চারণ ও একই হরকতে (স্বরচিহ্নে) উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ প্রতিটি স্থানে এক অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এক স্থানে উল্লিখিত শব্দের উচ্চারণ অন্য স্থানে উল্লিখিত শব্দের উচ্চারণের সদৃশ বা ‘নাজির’, আর প্রতিটি শব্দকে অন্য অর্থের বিপরীতে ব্যাখ্যা করাই হলো 'উজুহ'।

অতএব, 'নাজাইর' হলো শব্দাবলির নাম এবং 'উজুহ' হলো অর্থসমূহের নাম। উজুহ ও নাজাইর বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনার মূল ভিত্তি এটাই। উজুহ ও নাজাইর বিষয়ক কিতাবসমূহ রচনার মাধ্যমে আলেমগণ এই সদৃশ শব্দাবলির শ্রোতাকে এ কথা জানাতে চেয়েছেন যে, এগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং এক স্থানে এই শব্দ দ্বারা যা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, অন্য স্থানে তা উদ্দেশ্য নয়। কখনো কখনো এর রচয়িতাগণ শিথিলতা অবলম্বন করেছেন এবং এমন শব্দও উল্লেখ করেছেন যার অর্থ সকল স্থানে অভিন্ন। যেমন: শহর, গ্রাম, নগর, ব্যক্তি, মানুষ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। তবে এই আয়াতে 'শহর' বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা অন্য আয়াতের 'শহর' থেকে ভিন্ন (এবং এই 'গ্রাম' অন্য আয়াতের 'গ্রাম' থেকে ভিন্ন)। অতঃপর তারা অনুসরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৪)
بذلك حَذْو الْوُجُوه والنظائر الْحَقِيقِيَّة. فَرَأَيْت أَن أذكر هَذَا الِاسْم كَمَا ذَكرُوهُ وَلَقَد قصد أَكْثَرهم كَثْرَة الْوُجُوه والأبواب، فَأتوا بالتهافت العجاب، مثل أَن ترْجم بَعضهم فَقَالَ: بَاب الذُّرِّيَّة، وَذكر فِيهِ " ذَرْنِي "، " وتذروه الرِّيَاح "، " ومثقال ذرة ". وَترْجم بَعضهم فَقَالَ: بَاب الرِّبَا، وَذكر فِيهِ " أَخْذَة رابية ". و " ربيون " و " ربائبكم "، و " جنَّة بِرَبْوَةٍ ".

وتهافتهم إِلَى مثل هَذَا كثير يعجب مِنْهُ ذُو اللب، إِذا رَآهُ، وجمعت فِي كتابي هَذَا أَجود مَا جَمَعُوهُ، وَوضعت (عَنهُ) كل وهم ثبتوه فِي كتبهمْ ووضعوه، وَقد رتبته على الْحُرُوف ترتيبا (2 / ب) ، وقربته إِلَى الِاخْتِصَار المألوف تَقْرِيبًا، وَأَنا أسأَل الله الَّذِي لم يزل قَرِيبا أَن يَجْعَل لي من عونه نَصِيبا إِنَّه ولي ذَلِك والقادر عَلَيْهِ.
প্রকৃত ‘উজুহ’ (শব্দের বহুমাত্রিক অর্থ) ও ‘নাজাইর’ (সমার্থক শব্দ)-এর অনুকরণে। তাই আমি এই নামটিকে সেভাবেই উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি যেভাবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁদের অধিকাংশই পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ের সংখ্যাধিক্যের সংকল্প করেছিলেন, ফলে তাঁরা বিস্ময়কর অসংলগ্নতা নিয়ে এসেছেন। যেমন তাঁদের কেউ কেউ শিরোনাম দিয়েছেন: ‘বংশধর’ অধ্যায়, অথচ সেখানে উল্লেখ করেছেন ‘আমাকে ছেড়ে দিন’, ‘বাতাস যা উড়িয়ে নিয়ে যায়’ এবং ‘অণু পরিমাণ’। আবার কেউ শিরোনাম দিয়েছেন: ‘সুদ’ অধ্যায়, অথচ সেখানে উল্লেখ করেছেন ‘কঠোর পাকড়াও’, ‘আল্লাহওয়ালাগণ’, ‘তোমাদের লালিত কন্যারা’ এবং ‘উঁচু ভূমিতে অবস্থিত বাগান’।

এই ধরণের বিষয়ে তাঁদের অসংলগ্নতা এত বেশি যে, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা দেখলে বিস্মিত হবেন। আমি আমার এই গ্রন্থে তাঁদের সংগৃহীত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে সর্বোত্তমগুলো জমা করেছি এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে যেসব ভ্রান্তি সাব্যস্ত ও সন্নিবেশিত করেছেন, সেগুলো বর্জন করেছি। আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি (২/খ), এবং একে প্রচলিত সংক্ষিপ্ত রূপের অত্যন্ত নিকটবর্তী করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যিনি সর্বদা নিকটবর্তী, তিনি যেন আমাকে তাঁর সাহায্যের একটি অংশ দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৫)
‌‌(كتاب الْألف)

 

وَهُوَ سِتَّة وَخَمْسُونَ بَابا: -

‌‌(أَبْوَاب الْوَجْهَيْنِ)

 

(1 -‌‌ بَاب الِاتِّبَاع)

 

الأَصْل فِي الِاتِّبَاع: أَن يقفو المتبع أثر المتبع بالسعي فِي طَرِيقه. وَقد يستعار فِي الدّين وَالْعقل وَالْفِعْل.

وَذكر أهل التَّفْسِير أَنه فِي الْقُرْآن على هذَيْن الْوَجْهَيْنِ. -

فَمن الأول: قَوْله تَعَالَى فِي طه: {فأتبعهم فِرْعَوْن بجُنُوده} ، وَفِي الشُّعَرَاء: {فأتبعوهم مشرقين} .

وَمن الثَّانِي: قَوْله تَعَالَى فِي الْبَقَرَة: {إِذْ تَبرأ الَّذين} اتبعُوا من الَّذين اتبعُوا وَرَأَوا الْعَذَاب وتقطعت بهم الْأَسْبَاب. وَقَالَ الَّذين اتبعُوا لَو
(আলিফ অধ্যায়)

 

এটি ছাপান্নটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত: -

‌(দ্বিমুখী অর্থবোধক পরিচ্ছেদসমূহ)

 

(১ -‌ অনুসরণ ও অনুকরণের পরিচ্ছেদ)

 

অনুসরণের মূল অর্থ হলো: অনুসরণকারী কর্তৃক অনুসরণীয় ব্যক্তির পদাঙ্ক অনুসরণ করা তার পথে চলার মাধ্যমে। আর এটি দ্বীন, বুদ্ধি এবং কর্মের ক্ষেত্রে রূপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে এটি এই দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। -

প্রথম অর্থ থেকে: সূরা ত্ব-হা-তে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর ফিরআউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পিছু নিল}, এবং সূরা আশ-শুআরা-তে: {অতঃপর সূর্যোদয়কালে তারা তাদের পিছু নিল}।

দ্বিতীয় অর্থ থেকে: সূরা আল-বাকারাহ-তে মহান আল্লাহর বাণী: {যখন অনুসরণীয় ব্যক্তিগণ অনুসারীদের থেকে দায়মুক্ত হবে এবং তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে এবং তাদের পারস্পরিক সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর অনুসারীরা বলবে, যদি...}‌
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৬)
أَن لنا كرة} ، وَفِي الْأَعْرَاف: {لَئِن اتبعتم شعيبا} ، وَفِي إِبْرَاهِيم: {إِنَّا كُنَّا لكم تبعا} ، وَفِي الشُّعَرَاء: {واتبعك الأرذلون} .

وَلَا يَصح هَذَا التَّقْسِيم إِلَّا أَن تَقول: إِن الإتباع والاتباع بِالتَّخْفِيفِ وَالتَّشْدِيد بِمَعْنى وَاحِد.

(2 -‌‌ بَاب أخلد)

 

أخلد: على وزن أفعل، وَهُوَ بِمَعْنى الِاعْتِمَاد على الشَّيْء والميل إِلَيْهِ.

قَالَ أَبُو الْحُسَيْن بن فَارس اللّغَوِيّ: يُقَال أخلد: إِذا أَقَامَ.

وَمثله: خلد، مِنْهُ جنَّة الْخلد.

وأخلد إِلَى الأَرْض: لصق بهَا. والخلد: البال. والخلدة: القرط.

وَجَاء فِي التَّفْسِير قَوْله تَعَالَى: {وَيَطوف عَلَيْهِ ولدان مخلدون} مقرطون، وَيُقَال: إِنَّه من الْخلد.
...আমাদের যদি পুনরায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো}", এবং সূরা আল-আরাফে: {যদি তোমরা শুয়াইবের অনুসরণ করো}, এবং সূরা ইবরাহিমে: {নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম}, এবং সূরা আশ-শুআরায়: {আর তোমার অনুসরণ করেছে নিম্নস্তরের লোকেরা}।

আর এই বিভাজনটি সঠিক হবে না যতক্ষণ না আপনি বলেন যে: হালকা উচ্চারণে এবং ভারী উচ্চারণে উভয় শব্দের অর্থ একই।

(২ -‌‌ পরিচ্ছেদ: আখলাদা)

 

আখলাদা: এটি 'আফআলা' ছন্দের ওজনে গঠিত, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করা এবং সেদিকে ঝুঁকে পড়া।

ভাষাবিদ আবু আল-হুসাইন ইবনে ফারিস বলেছেন: বলা হয় 'আখলাদা' যখন কেউ স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।

আর এরই অনুরূপ হলো: 'খালাদা', যা থেকে 'জান্নাতুল খুলদ' (চিরস্থায়ী জান্নাত) এসেছে।

আর 'আখলাদা ইলাল আরদি' অর্থ: সে মাটির সাথে লেপ্টে গেল। 'আল-খুলদ' অর্থ: মন বা অন্তর। 'আল-খুলদাহ' অর্থ: কানের দুল।

তাফসিরে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোররা} প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে তারা 'কানের দুল পরিহিত', আবার বলা হয় যে এটি 'আল-খুলদ' (চিরস্থায়িত্ব) শব্দ থেকে এসেছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَذكر أهل التَّفْسِير أَن أخلد فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن:

أَحدهمَا: بِمَعْنى الْميل. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَعْرَاف: {وَلكنه أخلد إِلَى الأَرْض} .

وَالثَّانِي: بِمَعْنى التخليد. وَمِنْه (3 / أ) قَوْله تَعَالَى فِي الْهمزَة: {يحْسب أَن مَاله أخلده} ، أَي: خلده من الخلود.

(3 -‌‌ بَاب الْأَذَان)

 

الْأَذَان: نِدَاء يقْصد بِهِ إِعْلَام المنادى بِمَا يُرَاد مِنْهُ.

وَمِنْه الْأَذَان للصَّلَاة، فَإِذا أصغى إِلَيْهِ المنادى بالاستماع والاستجابة قيل قد أذن، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {أَذِنت لِرَبِّهَا وحقت} ، يُرِيد استمعت، وَكَذَلِكَ قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم: " مَا أذن الله لشَيْء مَا أذن لنَبِيّ يتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يجْهر بِهِ ". أَي: مَا اسْتمع.

وَذكر أهل التَّفْسِير أَن الْأَذَان فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: النداء. (وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَعْرَاف) :
তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আখলাদা' শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে:

প্রথমটি: আসক্তি বা ঝুঁকে পড়া অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-আ’রাফে মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু সে জমিনের প্রতি আসক্ত হলো}।

দ্বিতীয়টি: চিরস্থায়ী করা অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো (৩ / ক) সূরা আল-হুমাযাহ-তে মহান আল্লাহর বাণী: {সে মনে করে যে তার ধন-সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে}, অর্থাৎ: অমরত্ব থেকে তাকে চিরস্থায়ী করা।

(৩ -‌‌ আযান অধ্যায়)

 

আযান: এমন একটি আহ্বান যার উদ্দেশ্য হলো যাকে আহ্বান করা হচ্ছে তাকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা।

এর থেকেই সালাতের আযান এসেছে। যখন যাকে আহ্বান করা হচ্ছে সে মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং সাড়া দেয়, তখন বলা হয় 'আযিনা' (সে শুনেছে বা মনোযোগ দিয়েছে)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সে তার রবের প্রতি কান দিল (আদেশ শ্রবণ করল) এবং এটাই তার জন্য সমীচীন}, এখানে অর্থ হলো সে শুনেছে। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি তেমন কান দেন না (শোনেন না) যেমনটি তিনি উচ্চস্বরে সুমিষ্ট স্বরে কুরআন পাঠকারী নবীর প্রতি কান দেন।" অর্থাৎ: তিনি শ্রবণ করেছেন।

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে আযান শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমটি: আহ্বান। (এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-আ’রাফে মহান আল্লাহর বাণী) :
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৮)
{فَأذن مُؤذن بَينهم أَن لعنة الله على الظَّالِمين} ،

وَفِي يُوسُف: {ثمَّ أذن مُؤذن أيتها العير إِنَّكُم لسارقون} ،

وَفِي الْحَج: {وَأذن فِي النَّاس بِالْحَجِّ} .

وَالثَّانِي: الْإِعْلَام وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي بَرَاءَة: {وأذان من الله وَرَسُوله} ،

وَفِي فصلت: {قَالُوا آذناك مَا منا من شَهِيد} .

وَيجوز أَن يعد هَذَانِ الْوَجْهَانِ وَجها وَاحِدًا، فَلَا يَصح التَّقْسِيم إِذن.

(4 -‌‌ بَاب الِاسْتِطَاعَة)

 

الأَصْل فِي الِاسْتِطَاعَة: أَنه استفعال من الطَّاعَة. فَسُمي الْفَاعِل مستطيعا، لِأَن الْفِعْل الَّذِي يرومه مُمكن مُطَاوع، وتسميته بذلك قبل الْفِعْل على سَبِيل الْمجَاز، لِأَن الِاسْتِطَاعَة من الْعباد لَا تكون إِلَّا مَعَ الْفِعْل.

وَذكر أهل التَّفْسِير أَن الِاسْتِطَاعَة فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -
{অতঃপর তাদের মধ্যে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন যে, যালিমদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ},

এবং সূরা ইউসুফে: {অতঃপর এক ঘোষক ঘোষণা করলেন, হে কাফেলার আরোহীরা! নিশ্চয়ই তোমরা চোর},

এবং সূরা হাজ্জে: {আর মানুষের মাঝে হাজ্জের ঘোষণা দাও}।

এবং দ্বিতীয় অর্থটি হলো: সংবাদ প্রদান করা, আর এরই অন্তর্ভুক্ত সূরা বারায়াতে (তওবা) মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এক ঘোষণা},

এবং সূরা ফুসসিলাতে: {তারা বলবে, আমরা আপনার নিকট ঘোষণা করছি যে, আমাদের মধ্যে কেউ এর সাক্ষী নেই}।

এবং এটিও সম্ভব যে এই দুই প্রকারকে একই প্রকার হিসেবে গণ্য করা হবে, সেক্ষেত্রে এই বিভাজনটি আর সঠিক হবে না।

(৪ -‌‌ সক্ষমতা পরিচ্ছেদ)

 

সক্ষমতা (ইস্তিত’আত)-এর মূল হলো: এটি 'ত্বা’আত' (আনুগত্য/অনুকূল হওয়া) থেকে 'ইস্তিফ’আল' ছাঁচে গঠিত। অতঃপর সম্পাদনকারীকে 'মুস্তাত্বী' (সক্ষম) বলা হয়, কারণ সে যে কাজটি করতে চায় তা সম্ভব ও অনুকূল হয়। আর কাজের আগে তাকে এই নামে অভিহিত করা রূপক অর্থে হয়ে থাকে, কেননা বান্দার সক্ষমতা কাজের সাথেই অস্তিত্ব লাভ করে।

মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে সক্ষমতা (ইস্তিত’আত) শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে: -
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৮৯)
أَحدهمَا: سَعَة المَال، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {وَللَّه على النَّاس حج الْبَيْت (3 / ب} من اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} ، أَي: من وجد سَعَة من المَال. وَفِي سُورَة النِّسَاء: {وَمن لم يسْتَطع مِنْكُم طولا} ، وَفِي بَرَاءَة: {لَو استطعنا لخرجنا مَعكُمْ} .

وَالثَّانِي: الإطاقة، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة النِّسَاء: {وَلنْ تستطيعوا أَن تعدلوا بَين النِّسَاء وَلَو حرصتم} ، أَي: لن تُطِيقُوا. وَفِي هود: {مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السّمع} ، أَي: لم يطيقوا أَن يسمعوا ذكر الْإِيمَان، وَفِي الْكَهْف: {وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سمعا} ، فِي الْفرْقَان: {فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صرفا وَلَا نصرا} ، وَفِي التغابن: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُم} ، وَفِي الذاريات: {فَمَا اسْتَطَاعُوا من قيام} .

(5 -‌‌ بَاب الاسْتِغْفَار)

 

الاسْتِغْفَار: استفعال من طلب الغفران. والغفران: تَغْطِيَة الذَّنب بِالْعَفو عَنهُ. والغفر: السّتْر. وَيُقَال: اصبغ ثَوْبك فَهُوَ أَغفر للوسخ وَغفر
প্রথমটি: সম্পদের প্রাচুর্য; এর উদাহরণ হলো সূরা আল-ইমরানে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং মানুষের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর কর্তব্য (৩/খ)}, অর্থাৎ: যে সম্পদের সচ্ছলতা লাভ করেছে। সূরা নিসায় রয়েছে: {আর তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য নেই...}, এবং সূরা বারাআতে (আত-তাওবা): {যদি আমরা সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম}।

দ্বিতীয়টি: সক্ষমতা; এর উদাহরণ হলো সূরা নিসায় আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা কখনো স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে পারবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো}, অর্থাৎ: তোমরা সক্ষম হবে না। সূরা হুদে রয়েছে: {তারা শোনার সামর্থ্য রাখত না}, অর্থাৎ: তারা ঈমানের কথা শোনার সামর্থ্য রাখত না। সূরা কাহাফে আছে: {এবং তারা শুনতে সক্ষম ছিল না}, সূরা ফুরকানে: {অতঃপর তোমরা তা ফেরাতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও পাবে না}, সূরা তাগাবুনে: {সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যানুযায়ী}, এবং সূরা যারিয়াতে: {অতঃপর তারা উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হলো না}।

(৫ -‌‌ ক্ষমা প্রার্থনা অধ্যায়)

 

ইস্তিগফার: এটি ক্ষমা প্রার্থনা করা অর্থে ইস্তিফ'আল (ক্রিয়ামূলের রূপ)। আর গুফরান (ক্ষমা) হলো: ক্ষমার মাধ্যমে গুনাহকে ঢেকে দেওয়া। 'গফর' শব্দের অর্থ হলো আবরণ বা গোপন করা। বলা হয়ে থাকে: তুমি তোমার কাপড়টি রঞ্জিত করো, কেননা তা ময়লা ঢাকার জন্য অধিক কার্যকর ও আবরক।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯০)
الخد وَالصُّوف: مَا علا فَوق الثَّوْب مِنْهُمَا، كالزئبر: سمي غفرا لِأَنَّهُ يستر الثَّوْب: وَيُقَال: لجنة الرَّأْس مغفر لِأَنَّهَا تستر الرَّأْس وَقَالَ أَبُو سُلَيْمَان الْخطابِيّ: وَحكى بعض أهل اللُّغَة أَن الْمَغْفِرَة مَأْخُوذَة من الغفر. وَهُوَ نبت يداوى بِهِ الْجراح، يُقَال: إِنَّه إِذا ذَر عَلَيْهَا دملها وأبرأها.

ذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الاسْتِغْفَار فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: الاسْتِغْفَار نَفسه وَهُوَ طلب الغفران، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي هود: {وَاسْتَغْفرُوا ربكُم ثمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ} ، وَفِي يُوسُف: {واستغفري لذنبك} ، وَفِي نوح: {اسْتَغْفرُوا ربكُم إِنَّه كَانَ غفارًا} . (4 / أ) . وَهُوَ كثير فِي الْقُرْآن.

وَالثَّانِي: الصَّلَاة. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {والمستغفرين بالأسحار} ، وَفِي الْأَنْفَال: {وَمَا كَانَ الله معذبهم وهم يَسْتَغْفِرُونَ} ، وَفِي الذاريات: {وبالأسحار هم يَسْتَغْفِرُونَ} .
গাল এবং পশম: কাপড়ের ওপর এদের যে অংশগুলো জেগে থাকে, যেমন রেশম বা পশমের সূক্ষ্ম রোঁয়া; একে 'গাফর' বলা হয় কারণ এটি কাপড়কে ঢেকে রাখে। আরও বলা হয়: মাথার শিরস্ত্রাণকে 'মিগফার' বলা হয় কারণ এটি মাথাকে ঢেকে রাখে। আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেছেন: কোনো কোনো ভাষাবিদ বর্ণনা করেছেন যে, 'মাগফিরাহ' (ক্ষমা) শব্দটি 'গাফর' থেকে উদ্ভূত। এটি এমন এক প্রকার উদ্ভিদ যা দিয়ে ক্ষত চিকিৎসা করা হয়; বলা হয় যে, যখন এটি ক্ষতের ওপর ছিটানো হয়, তখন তা ক্ষতকে মিলিয়ে দেয় এবং আরোগ্য দান করে।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'ইস্তিগফার' শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে:-

প্রথমটি: স্বয়ং ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। এর উদাহরণ হলো সূরা হুদে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো}, এবং সূরা ইউসুফে: {তুমি তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো}, এবং সূরা নূহে: {তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল}। (৪ / ক)। কুরআনে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।

দ্বিতীয়টি: সালাত (নামাজ)। এর উদাহরণ হলো সূরা আল ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে}, এবং সূরা আল আনফালে: {আর আল্লাহ তাদের ওপর আজাব প্রদান করবেন না যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে}, এবং সূরা আল যারিয়াতে: {এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত}।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯১)
وَقد عد بَعضهم الْآيَة الَّتِي فِي يُوسُف، من قسم الاسْتِغْفَار، وَجعل الَّتِي فِي هود وَفِي نوح بِمَعْنى التَّوْحِيد، فَيكون الْبَاب على قَوْله من أَقسَام الثَّلَاثَة.

(6 -‌‌ بَاب الأسف)

 

الأسف: الْحزن الشَّديد على الشَّيْء والتلهف عَلَيْهِ.

قَالَ ابْن فَارس: يُقَال: أسفت آسَف آسفا، إِذا لهفت والأسف: الغضبان.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الأسف على فِي الْقُرْآن وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: الْحزن، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي العأراف: {وَلما رَجَعَ مُوسَى إِلَى قومه غَضْبَان أسفا} ، وَمثله: {يَا أسفى على يُوسُف} .

وَالثَّانِي: الْغَضَب، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الزخرف: {فَلَمَّا آسفونا انتقمنا مِنْهُم} ، أَي: أغضبونا.

(7 -‌‌ بَاب أصبح)

 

الأَصْل فِي أصبح: إِدْرَاك الصَّباح للمصبح، وَيُقَال: أصبح، إِذا أوقد الْمِصْبَاح.
তাদের কেউ কেউ সূরা ইউসুফে বর্ণিত আয়াতটিকে ক্ষমা প্রার্থনার পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং সূরা হুদ ও সূরা নূহে বর্ণিত আয়াতগুলোকে তাওহীদের অর্থে গ্রহণ করেছেন; ফলে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী অধ্যায়টি তিন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়।

(৬ -‌‌ অনুশোচনা ও দুঃখের অধ্যায়)

 

আল-আসাফ: কোনো বিষয়ের ওপর তীব্র দুঃখ এবং তার জন্য আক্ষেপ করা।

ইবনু ফারিস বলেন: বলা হয়: আমি আক্ষেপ করেছি, যখন কেউ আক্ষেপ প্রকাশ করে। আর 'আল-আসিফ' অর্থ: ক্রুদ্ধ ব্যক্তি।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আসাফ' শব্দটির প্রয়োগ দুই অর্থে হয়েছে: -

এক: দুঃখ, যার উদাহরণ সূরা আল-আ'রাফে মহান আল্লাহর বাণী: {আর মূসা যখন তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ক্রুদ্ধ ও দুঃখিত অবস্থায় ফিরে এলেন}, এবং অনুরূপ বাণী: {হায় ইউসুফের জন্য আমার আক্ষেপ (দুঃখ)}।

দুই: ক্রোধ, যার উদাহরণ সূরা আয-যুখরুফে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তারা আমাকে ক্রুদ্ধ করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম}, অর্থাৎ: তারা আমাকে রাগান্বিত করল।

(৭ -‌‌ 'আসবাহা' এর অধ্যায়)

 

'আসবাহা' শব্দের মূল অর্থ হলো: কারো সকালের সময় উপনীত হওয়া। আর বলা হয়: 'আসবাহা', যখন কেউ প্রদীপ বা চেরাগ প্রজ্বলন করে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯২)
وَذكر أهل التَّفْسِير أَن أصبح فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: إِدْرَاك الصَّباح للصبح. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْكَهْف: {فَأصْبح يقلب كفيه} ، وَفِي الْأَحْقَاف: {فَأَصْبحُوا لَا يرى إِلَّا مساكنهم} ، وَفِي نون: {ليصرمنها مصبحين} ، وفيهَا: {فَأَصْبَحت كالصريم} .

وَالثَّانِي: بِمَعْنى صَار. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {فأصبحتم بنعمته إخْوَانًا} ، وَفِي الْمَائِدَة: {فَأصْبح من الخاسرين} (4 / ب) ، وفيهَا: {فَأصْبح من النادمين} ، وَفِي الْكَهْف: {أَو يصبح مَاؤُهَا غورا} ، [وَفِي فصلت] : {فأصبحتم من الخاسرين} ، وَفِي الْملك: {إِن أصبح ماؤكم غورا} .

(8 -‌‌ بَاب الإصر)

 

قَالَ أَبُو الْحُسَيْن بن فَارس اللّغَوِيّ: الإصر: الثّقل. والإصر:
তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আসবাহা' শব্দটি দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: -

প্রথমটি: সকালের সময়ে উপনীত হওয়া। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী সূরা আল-কাহফে: {ফলে সে তার দুই হাত কচলাতে লাগল}, এবং সূরা আল-আহক্বাফে: {ফলে তারা এমন অবস্থায় উপনীত হলো যে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না}, এবং সূরা নূনে: {তারা অবশ্যই প্রত্যুষে ফল সংগ্রহ করবে}, এবং সেই সূরায়: {ফলে সেটি কর্তিত বাগানের মতো হয়ে গেল}।

দ্বিতীয়টি: 'হওয়া' অর্থে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী সূরা আলে ইমরানে: {অতঃপর তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে}, এবং সূরা আল-মায়িদাহ্-তে: {ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল} (৪ / খ), এবং সেই সূরায়: {ফলে সে অনুতপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল}, এবং সূরা আল-কাহফে: {অথবা তার পানি ভূগর্ভে তলিয়ে যাবে}, [এবং সূরা ফুসসিলাতে]: {ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে}, এবং সূরা আল-মুলকে: {যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে তলিয়ে যায়}।

(৮ -‌‌ ইসর (বোঝা) অধ্যায়)

 

ভাষাবিদ আবু আল-হুসাইন বিন ফারেস বলেছেন: ইসর মানে হলো ভারী বোঝা। আর ইসর হলো:
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৩)
الْعَهْد. والأخرة: الْقَرَابَة. وكل عقد وقرابة وعهد: إصر. وَالْعرب. تَقول: مَا تأصرني على فلَان آصرة. أَي: مَا تعطفني عَلَيْهِ قرَابَة وَلَا منَّة. قَالَ الحطيئة: -

(عطفوا عَليّ بغيرا … صرة فقد عظم الأواصر)

 

أَي: عطفوا عَليّ بِغَيْر عهد وَلَا قرَابَة. والمأصر الْموضع الَّذِي يُقيم فِيهِ صَاحب الرصد فيأصر فِيهِ العير. أَي: يحبسها لطلب الضريبة، وأصرته: حَبسته.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الإصر فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: الثّقل. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْبَقَرَة: {رَبنَا وَلَا تحمل علينا إصرا} .

وَالثَّانِي: الْعَهْد. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {وأخذتم على ذَلِكُم إصري} . وَفِي الْأَعْرَاف: {وَيَضَع عَنْهُم إصرهم} .

قَالَ مُجَاهِد: عهود كَانَت عَلَيْهِم. وَقد ذهب قوم إِلَى أَن المُرَاد
অঙ্গীকার। আর আছিরাহ: আত্মীয়তা। প্রতিটি চুক্তি, আত্মীয়তা এবং অঙ্গীকারই হলো 'ইসর'। আর আরবরা বলে: অমুকের সাথে আমার কোনো 'আছিরাহ' (বন্ধন) নেই। অর্থাৎ: তার প্রতি আমাকে দয়ালু করার মতো কোনো আত্মীয়তা বা অনুগ্রহ নেই। হুতাইআ বলেছেন: -

(তারা কোনো অঙ্গীকার ছাড়াই আমার প্রতি সদয় হয়েছে … নিশ্চয়ই সম্পর্কের বন্ধনসমূহ অতি মহান)

 

অর্থাৎ: তারা কোনো অঙ্গীকার বা আত্মীয়তা ছাড়াই আমার প্রতি সদয় হয়েছে। আর 'মা'সার' হলো সেই স্থান যেখানে শুল্ক আদায়কারী অবস্থান করে এবং সেখানে বাণিজ্য কাফেলাকে আটকে রাখে। অর্থাৎ: কর আদায়ের উদ্দেশ্যে সেগুলো আটকে রাখা; আর 'আসারতুহু' অর্থ: আমি তাকে আটকে রেখেছি।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'ইসর' শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমটি: বোঝা। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-বাকারাহ-তে মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের রব! আমাদের ওপর কোনো বোঝা চাপিয়ে দেবেন না}।

দ্বিতীয়টি: অঙ্গীকার। এর উদাহরণ হলো সূরা আলে ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা কি এ বিষয়ে আমার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছ?}। আর সূরা আল-আ'রাফে: {এবং তিনি তাদের থেকে তাদের বোঝা (অঙ্গীকারের ভার) নামিয়ে দেন}।

মুজাহিদ বলেছেন: এগুলো ছিল তাদের ওপর অর্পিত অঙ্গীকারসমূহ। একদল মনে করেন যে এর উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৪)
بالإصر الْمَذْكُور فِي الْبَقَرَة: الْعَهْد. مِنْهُم ابْن عَبَّاس، وَمُجاهد، وَالضَّحَّاك، وَالسُّديّ. فَبَطل على قَوْلهم التَّقْسِيم.

(9 -‌‌ بَاب الأفواه)

 

الأفواه: وَاحِدهَا فَم. وأصل الْفَم فوه على وزن فوز. والفوه: سَعَة الْفَم. يُقَال: رجل أفوه، وَامْرَأَة فوهاء، وَيُقَال: فَاه الرجل بالْكلَام يفوه، إِذا لفظ بِهِ، والمفوه: الْقَادِر على الْكَلَام. وأنشدوا:

(قد يخزن الْوَرع التقي لِسَانه … هذر الْكَلَام وَإنَّهُ لمفوه)

 

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن [الأفواه فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: _

أَحدهمَا: الأفواه الْمَعْرُوفَة الَّتِي وَاحِدهَا فَم، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي إِبْرَاهِيم: {فَردُّوا أَيْديهم فِي أَفْوَاههم} ، وَمَعْنَاهُ: إِنَّهُم قصدُوا إسكات الرُّسُل بلغوهم.
বাকারাহ সূরায় উল্লিখিত 'ইসর' (ভার) বলতে বোঝায়: অঙ্গীকার। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, যাহহাক এবং সুদ্দী। সুতরাং তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী বিভাজনটি বাতিল হয়ে গেল।

(৯ -‌‌ মুখসমূহ অধ্যায়)

 

'আফওয়াহ' (মুখসমূহ): এর একবচন হলো 'ফাম' (মুখ)। 'ফাম' শব্দের মূল হলো 'ফাও' যা 'ফাওয' এর ওজনে। আর 'ফাও' শব্দের অর্থ হলো মুখের প্রশস্ততা। বলা হয়: প্রশস্ত মুখের অধিকারী ব্যক্তি এবং প্রশস্ত মুখের অধিকারী নারী। আরও বলা হয়: লোকটি কথা উচ্চারণ করেছে, যখন সে তা ব্যক্ত করে। আর 'মুফাওওয়াহ' হলো কথা বলায় পারদর্শী ব্যক্তি। তাঁরা কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

(পরহেজগার মুত্তাকী ব্যক্তি তার জিহ্বাকে অসার কথা থেকে সংযত রাখেন... অথচ তিনি কথা বলায় অত্যন্ত পারদর্শী)

 

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আফওয়াহ' শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: _

প্রথমটি: পরিচিত মুখসমূহ যার একবচন হলো 'ফাম'। এর উদাহরণ হলো ইবরাহীম সূরায় মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা তাদের হাত তাদের মুখে ফিরিয়ে নিল}। এর অর্থ হলো: তারা তাদের অসার প্রলাপের মাধ্যমে রাসূলদের চুপ করিয়ে দেওয়ার সংকল্প করেছিল।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৫)
وَالثَّانِي: الألسن. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {يَقُولُونَ بأفواههم مَا لَيْسَ فِي قُلُوبهم} ، أَي: بألسنتهم وَسمي اللِّسَان بذلك لمَكَان الْمُجَاورَة وَالسَّبَب كَمَا سمي الْعقل قلبا فِي قَوْله تَعَالَى: {إِن فِي ذَلِك لذكرى لمن كَانَ لَهُ قلب} ، أَي: عقل، لِأَن الْقلب ظرف لِلْعَقْلِ.

وَقد ألحق بَعضهم " وَجها " ثَالِثا فَقَالَ: والأفواه: الْكَلَام. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {يُرِيدُونَ ليطفئوا نور الله بأفواههم} ، أَي: بكلامهم

(10 -‌‌ بَاب إِقَامَة الصَّلَاة)

 

أصل الْإِقَامَة: من الْقيام. وَهُوَ امتداد قامة الْإِنْسَان إِلَى جِهَة الْعُلُوّ بالانتصاب.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن إِقَامَة الصَّلَاة فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: إِتْمَامهَا. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة الْبَقَرَة: (الَّذين
দ্বিতীয় অর্থ: জিহ্বা। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের মুখ দিয়ে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই}, অর্থাৎ তাদের জিহ্বা দিয়ে। জিহ্বাকে এই নামে (মুখ) অভিহিত করা হয়েছে সন্নিকটবর্তী স্থান ও কারণের প্রেক্ষিতে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে বুদ্ধিকে অন্তর (কলব) বলা হয়েছে: {নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর রয়েছে}, অর্থাৎ বুদ্ধি রয়েছে; কারণ অন্তর হলো বুদ্ধির আধার।

কেউ কেউ তৃতীয় একটি অর্থও যুক্ত করেছেন, তাঁরা বলেছেন: 'আফওয়াহ' (মুখসমূহ) বলতে কথা বা বক্তব্য বোঝানো হয়েছে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়}, অর্থাৎ তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে।

(১০ -‌‌ নামাজ কায়েম করার অধ্যায়)

 

'ইকামাহ' শব্দের মূল উৎস হলো 'কিয়াম' (দাঁড়ানো)। আর তা হলো সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মানুষের দেহের উপরের দিকে বিস্তৃতি লাভ করা।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে নামাজ কায়েম করার বিষয়টি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: -

প্রথমত: নামাজ পূর্ণরূপে সম্পাদন করা। এর উদাহরণ সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: (যারা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৬)
يُؤمنُونَ بِالْغَيْبِ ويقيمون الصَّلَاة) {وفيهَا} (وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة} .

وَالثَّانِي: الْإِقْرَار بهَا. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي بَرَاءَة: {فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاة} ، أَي: أقرُّوا بهَا.

(11 -‌‌ بَاب أولى)

 

الأَصْل فِي أولى أَنَّهَا مَوْضُوعَة لترجيح الأحق، تَقول: زيد أولى بالإكرام من عَمْرو، أَي: أَحَق.

قَالَ ابْن فَارس: فَأَما قَوْلهم فِي الشتم: أولى لَهُ، فَحَدثني على بن عمر، وَقَالَ: سَمِعت ثعلبا، يَقُول: أولى تهدد ووعيد. وأنشدوا (5 / ب) :

(فَأولى، ثمَّ أولى ثمَّ أولى … وَهل للدر يحلب من مرد)

 

قَالَ الْأَصْمَعِي: مَعْنَاهُ قاربه مَا يهلكه. أَي: نزل بِهِ، وَأنْشد: -
(যারা) অদৃশ্যে বিশ্বাস করে এবং সালাত কায়েম করে) {এবং তাতে (রয়েছে)} (তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও)।

দ্বিতীয়টি: তা স্বীকার করে নেওয়া। এবং এর মধ্য থেকে রয়েছে সূরা বারাআতে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যদি তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে}, অর্থাৎ: তারা তা স্বীকার করে নেয়।

(১১ -‌‌ ‘আওলা’ (অধিকতর হকদার) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

 

‘আওলা’ শব্দের মূল ব্যবহার হলো যাকে প্রাধান্য দেওয়া অধিক সংগত তাকে সাব্যস্ত করার জন্য। আপনি বলবেন: জায়েদ আমরের চেয়ে সম্মানের অধিক হকদার, অর্থাৎ: অধিক যোগ্য।

ইবনে ফারিস বলেন: গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের উক্তি ‘আওলা লাহু’ (তোমার ধ্বংস হোক) প্রসঙ্গে আমাকে আলি ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সা’লাবকে বলতে শুনেছি: ‘আওলা’ শব্দটি ধমক ও হুঁশিয়ারি অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারা (কবিতা) পাঠ করেছেন (৫ / খ):

(অতঃপর দুর্ভোগ, এরপর দুর্ভোগ, অতঃপর আরও দুর্ভোগ … আর ওলান শুকিয়ে যাওয়ার পর কি তা থেকে দুধ দোহন করা যায়?)

 

আসমাঈ বলেন: এর অর্থ হলো যা তাকে ধ্বংস করবে তা তার নিকটবর্তী হয়েছে। অর্থাৎ: তা তার ওপর আপতিত হয়েছে। তিনি পাঠ করেছেন: -
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৭)
(فعادى بَين هاديتين مِنْهَا … وَأولى أَن يزِيد على الثَّلَاث)

 

أَي: قَارب أَن يزِيد، قَالَ ثَعْلَب: وَلم يقل أحد فِي أولى أحسن مِمَّا قَالَ الْأَصْمَعِي.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن أولى فِي الْقُرْآن على وَجْهَيْن: -

أَحدهمَا: بِمَعْنى أَحَق. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَنْفَال: {وَأولُوا الْأَرْحَام بَعضهم أولى بِبَعْض فِي كتاب الله} ، وَفِي مَرْيَم: {أولى بهَا صليا} .

وَفِي الْأَحْزَاب: {النَّبِي أولى بِالْمُؤْمِنِينَ من أنفسهم} .

وَالثَّانِي: بِمَعْنى الْوَعيد والتهديد. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم: {ينظرُونَ إِلَيْك نظر المغشي عَلَيْهِ من الْمَوْت فَأولى لَهُم} ، وَفِي الْقِيَامَة: {أولى لَك فَأولى ثمَّ أولى لَك فَأولى} .

‌‌(أَبْوَاب الثَّلَاثَة)

 

(12 -‌‌ بَاب الْإِذْن)

 

الأَصْل فِي الْإِذْن: الْإِطْلَاق من غير حجر. وأذنت للْحَدِيث
(অতঃপর তিনি এগুলোর মধ্য থেকে দুটির মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করলেন … এবং তা তিনের অধিক হওয়ার উপক্রম হলো)

 

অর্থাৎ: বৃদ্ধি পাওয়ার নিকটবর্তী হলো। সা’লাব বলেন: ‘আওলা’ শব্দের ব্যাখ্যায় আল-আসমায়ি যা বলেছেন, তার চেয়ে উত্তম কথা কেউ বলেননি।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে ‘আওলা’ শব্দটি দুটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমটি: ‘অধিক হকদার’ বা ‘অধিক যোগ্য’ অর্থে। যেমন সূরা আল-আনফালে মহান আল্লাহর বাণী: {আর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ আল্লাহর বিধান অনুসারে একে অপরের অধিক হকদার}, এবং সূরা মারইয়ামে: {তাতে দগ্ধ হওয়ার জন্য কে অধিক যোগ্য}।

এবং সূরা আল-আহজাবে: {নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ}।

দ্বিতীয়টি: ধমক ও সতর্কবাণী অর্থে। যেমন সূরা মুহাম্মাদে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বাণী: {তারা আপনার দিকে এমনভাবে তাকায় যেমন মৃত্যুভয়ে মূর্ছিত ব্যক্তি তাকায়, সুতরাং তাদের জন্য দুর্ভোগ}, এবং সূরা আল-কিয়ামাহতে: {তোমার জন্য ধ্বংসের ওপর ধ্বংস, আবারও তোমার জন্য ধ্বংসের ওপর ধ্বংস}।

‌‌(তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের অধ্যায়সমূহ)

 

(১২ -‌‌ অনুমতি বা শ্রবণ সংক্রান্ত অধ্যায়)

 

‘ইযন’ (অনুমতি)-এর মূল অর্থ হলো: কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া বা মুক্ত করে দেওয়া। আর ‘আমি কথাটি মনোযোগ দিয়ে শুনলাম’।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৮)
استمعت، وَفِي الحَدِيث: " مَا أذن الله لشَيْء مَا أذن لنَبِيّ يتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ " أَي مَا اسْتمع.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الْإِذْن فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

أَحدهَا: الْإِذْن نَفسه. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {وَمَا كَانَ لنَفس أَن تَمُوت إِلَّا بِإِذن الله كتابا مُؤَجّلا} ، يُرِيد إِلَّا أَن يَأْذَن الله فِي مَوتهَا. وَفِي يُونُس: {وَمَا كَانَ لنَفس أَن تؤمن إِلَّا بِإِذن الله} .

وَالثَّانِي: الْأَمر. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة النِّسَاء: {وَمَا أرسلنَا من رَسُول إِلَّا ليطاع بِإِذن الله} ، وَفِي الْمَائِدَة: {ويخرجهم من الظُّلُمَات إِلَى النُّور بِإِذْنِهِ} ، وَفِي الرَّعْد: {وَمَا كَانَ لرَسُول (6 / أ} أَن يَأْتِي بِآيَة إِلَّا بِإِذن الله} ، وَفِي إِبْرَاهِيم: {لتخرج النَّاس من الظُّلُمَات إِلَى النُّور بِإِذن رَبهم} ، وفيهَا: {تؤتي أكلهَا كل حِين بِإِذن رَبهَا} ، وفيهَا: {خَالِدين فِيهَا بِإِذن رَبهم} .

وَالثَّالِث: الْإِرَادَة. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْبَقَرَة: {وَمَا هم بضارين بِهِ من أحد إِلَّا بِإِذن الله} ، وفيهَا: (كم من فِئَة قَليلَة غلبت فِئَة
আমি শুনেছি, আর হাদীসে রয়েছে: "আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি তেমন কান পাতেননি, যেমনটি তিনি একজন নবীর প্রতি কান পেতেছেন যিনি সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করেন।" অর্থাৎ তিনি শ্রবণ করেছেন।

কিছু মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'ইযন' (অনুমতি) শব্দটি তিনটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমটি: খোদ অনুমতি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রাণের মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়, এটি একটি সুনির্ধারিত লিখন}, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যতক্ষণ না আল্লাহ তার মৃত্যুতে অনুমতি প্রদান করেন। এবং সূরা ইউনুসে রয়েছে: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়}।

দ্বিতীয়টি: আদেশ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আন-নিসায় মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কোনো রাসূলকেই প্রেরণ করিনি যাতে আল্লাহর আদেশে তাঁর আনুগত্য করা হয়}, এবং সূরা আল-মায়িদাহতে: {এবং তিনি তাঁর আদেশে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন}, এবং সূরা আর-রা'দে: {কোনো রাসূলের পক্ষে সম্ভব নয় (৬/ক) যে তিনি আল্লাহর আদেশ ব্যতীত কোনো নিদর্শন নিয়ে আসবেন}, এবং সূরা ইব্রাহীমে: {যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের আদেশে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন}, এবং তাতে রয়েছে: {তা তার প্রতিপালকের আদেশে প্রতি সময়ে ফল দান করে}, এবং তাতে রয়েছে: {তারা সেখানে তাদের প্রতিপালকের আদেশে চিরস্থায়ী হবে}।

তৃতীয়টি: ইচ্ছা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-বাকারাতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তারা এর দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না}, এবং তাতে রয়েছে: (কত ক্ষুদ্র দল বড় দলকে পরাজিত করেছে...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৯)
كَثِيرَة بِإِذن الله) {وفيهَا} (فهزموهم بِإِذن الله} ، وَفِي آل عمرَان: {وَمَا أَصَابَكُم يَوْم التقى الْجَمْعَانِ فبإذن الله} .

(13 -‌‌ بَاب الاستحياء)

 

ذكر أهل التَّفْسِير أَن الاستحياء فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

[وَلم يفرقُوا بَين الْمَقْصُور والممدود] .

أَحدهمَا: الاستبقاء. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة الْبَقَرَة: {ويستحيون نساءكم} .

وَالثَّانِي: التّرْك. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {إِن الله لَا يستحي أَن يضْرب مثلا مَا بعوضة فَمَا فَوْقهَا} .

وَالثَّالِث: من الْحيَاء. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَحْزَاب: {إِن ذَلِكُم كَانَ يُؤْذِي النَّبِي فيستحي مِنْكُم} .
আল্লাহর অনুমতিতে অনেক) {এবং তাতে} {অতঃপর তারা আল্লাহর অনুমতিতে তাদের পরাজিত করল}, এবং সূরা আল ইমরানে: {আর যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা আল্লাহর অনুমতিতেই ছিল}।

(১৩ -‌‌ ইস্তিহয়া (লজ্জাবোধ বা বাঁচিয়ে রাখা) অধ্যায়)

 

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'ইস্তিহয়া' শব্দটি তিনটি অর্থে এসেছে: -

[আর তারা মাকসুর এবং মামদুদ শব্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি]।

প্রথমটি: জীবিত রাখা বা বাঁচিয়ে রাখা। এর উদাহরণ হলো সূরা বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত}।

দ্বিতীয়টি: ত্যাগ করা বা ছেড়ে দেওয়া। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জা (সংকোচ বা পরিহার) করেন না}।

তৃতীয়টি: লজ্জাবোধ থেকে। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-আহজাবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এটি নবীকে কষ্ট দিত, ফলে তিনি তোমাদের নিকট লজ্জা পেতেন}।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০০)
(14 -‌‌ بَاب السّفل)

 

الْأَسْفَل: مَا انحط عَن رُتْبَة الْأَعْلَى، والسفل: مَا مَالَتْ إِلَيْهِ الْأَجْسَام الثَّقِيلَة بالطبع، والعلو مَا انْتَهَت إِلَيْهِ الْأَجْسَام الْخَفِيفَة بالطبع.

وَذكر أهل التَّفْسِير أَن الْأَسْفَل فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه:

أَحدهَا: الانحطاط فِي الْمَكَان، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة النِّسَاء: {إِن الْمُنَافِقين فِي الدَّرك الْأَسْفَل من النَّار} ، وَفِي الْأَنْفَال: {والركب أَسْفَل مِنْكُم} ، أَي: هم فِي منهبط الْوَادي.

وَالثَّانِي: الخسران فِي الْأَمر. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الصافات: {فأرادوا بِهِ كيدا فجعلناهم الأسفلين} .

وَالثَّالِث: بُلُوغ أرذل الْعُمر. وَمِنْه قَوْله تعال: (6 / ب) فِي سُورَة التِّين: {ثمَّ رددناه أَسْفَل سافلين} .

(15 -‌‌ بَاب الأغلال)

 

الأغلال: جمع غل. والغل: حَدِيدَة مستديرة تجْعَل فِي عنق
(১৪ - নিম্নতা অধ্যায়)

 

আল-আসফাল: যা উচ্চতার স্তর থেকে নিচে অবস্থান করে। সুফল (নিম্নতা): যার দিকে ভারী বস্তুসমূহ স্বভাবগতভাবে ঝুঁকে পড়ে। আর উলুউ (উচ্চতা): হালকা বস্তুসমূহ স্বভাবগতভাবে যেখানে গিয়ে শেষ হয়।

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আসফাল' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

প্রথমটি: স্থানের নিম্নগামীতা। এর উদাহরণ হলো সূরা আন-নিসায় আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে}। আর সূরা আল-আনফালে: {আর আরোহী দল তোমাদের চেয়ে নিচু অবস্থানে ছিল}, অর্থাৎ: তারা উপত্যকার নিচু ঢালে ছিল।

দ্বিতীয়টি: কোনো বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা পর্যুদস্ত হওয়া। এর উদাহরণ হলো সূরা আস-সাফফাতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই সর্বাধিক হীন (নিচু) করে দিলাম}।

তৃতীয়টি: অতি বার্ধক্যে পৌঁছানো। এর উদাহরণ হলো সূরা আত-তীনে আল্লাহ তাআলার বাণী (৬ / খ): {অতঃপর আমি তাকে হীনতমদের হীনতমে ফিরিয়ে দিয়েছি}।

(১৫ - বেড়ি বা শৃঙ্খল অধ্যায়)

 

আল-আঘলাল: এটি ‘গুল্লুন’ শব্দের বহুবচন। ‘গুল্লুন’ হলো গোলাকার লোহার বেড়ি যা গলায় পরানো হয়।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০১)
الْأَسير. والغل - بِكَسْر الْغَيْن: الحقد. والغال: الْوَادي ينْبت الشّجر، وَجمعه غلان، وغل الرجل: إِذا خَان لِأَنَّهُ أَخذ مختفيا. وأغلت الضَّيْعَة فَهِيَ مغلة: إِذا أَتَت بِشَيْء وَأَصلهَا بَاقٍ، قَالَ زُهَيْر: -

(فتغلل لكم مَا لَا تغل لأَهْلهَا … قرى بالعراق من قفيز وَدِرْهَم)

 

والغلالة: الثَّوْب [الَّذِي] يلبس تَحت الثِّيَاب. وتغللت بالغالية، وتغليت: إِذا جَعلتهَا فِي أصُول الشّعْر. والغلل: المَاء الَّذِي يجْرِي فِي أصُول الشّجر. والغليل: حرارة الْعَطش. والغلغلة: سرعَة السّير. المغلغلة: الرسَالَة تغلغل تَحت كل شَيْء حَتَّى تصل.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الأغلال فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

أَحدهَا: أغلال الْحَدِيد. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سبأ: {وَجَعَلنَا الأغلال فِي أَعْنَاق الَّذين كفرُوا} .

وَالثَّانِي: الشدائد. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَعْرَاف: (والأغلال الَّتِي
বন্দি। আর 'গিল'—'গাইন' বর্ণে কাসরা যোগে: এর অর্থ বিদ্বেষ। 'গাল': এমন উপত্যকা যেখানে গাছপালা জন্মে, এর বহুবচন হলো 'গিলান'। কোনো ব্যক্তি 'গাল্লা' করেছে বলা হয় যখন সে বিশ্বাসঘাতকতা বা আত্মসাৎ করে, কারণ সে গোপনে কোনো কিছু গ্রহণ করে। আর জমি বা সম্পত্তি ফলদায়ক হলে তাকে 'মুগিল্লাহ্' বলা হয়; যখন তা থেকে কোনো উৎপাদন আসে অথচ তার মূল উৎসটি অবশিষ্ট থাকে। কবি জুহাইর বলেছেন:

(তা তোমাদের জন্য এমন ফল উৎপাদন করবে যা তার নিজের লোকদের জন্য করেনি … ইরাকের জনপদগুলো থেকে কফিজ ও দিরহামের বিনিময়ে)

 

'গিলালাহ্': ঐ পোশাক যা কাপড়ের নিচে পরিধান করা হয়। আর সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'তাগাল্লালতু' বা 'তাগাল্লাইতু' বলা হয় যখন তা চুলের গোড়ায় পৌঁছানো হয়। 'গালাল': ঐ পানি যা গাছের গোড়া দিয়ে প্রবাহিত হয়। 'গালীল': তৃষ্ণার প্রচণ্ড উত্তাপ। 'গালগালাহ্': দ্রুত গতিতে পথ চলা। 'মুগালগালাহ্': ঐ বার্তা যা সবকিছুর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আগুলাল' শব্দটি তিনটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমটি: লোহার শিকল। এর উদাহরণ হলো সূরা সাবা-তে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি কাফিরদের গলায় শিকল পরিয়ে দিয়েছি}।

দ্বিতীয়টি: কঠোরতা বা বোঝা। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-আ’রাফে মহান আল্লাহর বাণী: (এবং সেই শিকলগুলো যা
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০২)
كَانَت عَلَيْهِم} .

وَالثَّالِث: الْإِمْسَاك. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْمَائِدَة: {وَقَالَت الْيَهُود يَد الله مغلولة غلت أَيْديهم} ، أَي: أَمْسَكت عَن فعل الْخَيْر.

(16 -‌‌ بَاب " إِلَى ")

 

" إِلَى ": حرف من حُرُوف الْخَفْض. وَهِي مَوْضُوعَة فِي الأَصْل للانتهاء والغاية.

قَالَ أَبُو زَكَرِيَّا يحيى بن عَليّ التبريزي: وَهِي للغاية فِي الْمَكَان وَغير ذَلِك، تَقول: سرت من الْبَصْرَة إِلَى الْكُوفَة، وانتظرته إِلَى آخر النَّهَار. فَكَأَنَّهَا مُقَابلَة لمن، ومراسلة لَهَا (7 / أ) ، لِأَن تِلْكَ للابتداء، وَإِلَى للانتهاء، وَإِذا قلت: سرت من الْبَصْرَة إِلَى الْكُوفَة. فَجَائِز أَن تكون قد دَخَلتهَا، وَأَن تكون قد وصلت إِلَيْهَا وَلم تدْخلهَا. فمما جَاءَ فِي التَّنْزِيل دخل الْحَد فِي الْمَحْدُود قَوْله تَعَالَى: {وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق} . فالمرافق دَاخِلَة فِي الْغسْل الْوَاجِب. وَمِمَّا جَاءَ وَلم يدْخل الْحَد فِي الْمَحْدُود قَوْله: {ثمَّ أَتموا الصّيام إِلَى اللَّيْل} ، فالليل غير دَاخل فِي وجوب الصَّوْم.
তাদের ওপর ছিল}।

তৃতীয়টি হলো: আটকে রাখা বা কৃপণতা করা। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী, যা সূরা আল-মায়িদাহ-তে রয়েছে: {আর ইহুদিরা বলে আল্লাহর হাত আবদ্ধ, তাদের হাতই আবদ্ধ হোক}, অর্থাৎ: তারা কল্যাণকর কাজ করা থেকে বিরত থেকেছে।

(১৬ -‌‌ পরিচ্ছেদ "ইলা" )

 

"ইলা": এটি খাফদ (বা জার) প্রদানকারী হরফসমূহের একটি। এটি মূলত সমাপ্তি এবং প্রান্তসীমা বোঝানোর জন্য নির্ধারিত।

আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আলী আত-তাবরিজি বলেন: এটি স্থান এবং সময় উভয় ক্ষেত্রেই প্রান্তসীমা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন তুমি বলো: আমি বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি, এবং আমি দিনের শেষ পর্যন্ত তার অপেক্ষা করেছি। সুতরাং এটি যেন 'মিন' (من) এর বিপরীতে এবং তার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে (৭ / অ), কারণ 'মিন' সূচনার জন্য এবং 'ইলা' সমাপ্তির জন্য। আর যখন তুমি বলো: 'আমি বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি', তখন এ সম্ভাবনা থাকে যে তুমি কুফায় প্রবেশ করেছ, আবার এ সম্ভাবনাও থাকে যে তুমি সেখানে পৌঁছেছ কিন্তু প্রবেশ করোনি। কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে যেখানে শেষ সীমাটি মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত (ধৌত করো)}। এখানে কনুইসমূহ ধৌত করা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেখানে শেষ সীমাটি মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তার উদাহরণ হলো তাঁর বাণী: {অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো}। এখানে রাত রোজা রাখার আবশ্যিক সময়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৩)
وَذكر أهل التَّفْسِير أَن " إِلَى " فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

أَحدهَا: وُرُودهَا على أَصْلهَا. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْبَقَرَة: {ثمَّ أَتموا الصّيام إِلَى اللَّيْل} ، وَفِي طه: {اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْن} ، وَمثله: {وَإِلَى عَاد} ، {وَإِلَى ثَمُود} ، {وَإِلَى مَدين} ، وَهُوَ الْعَام.

وَالثَّانِي: بِمَعْنى " مَعَ ". وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الصَّفّ: {من أَنْصَارِي إِلَى الله} ، وَفِي سُورَة النِّسَاء: {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالهم إِلَى أَمْوَالكُم} ، وَفِي الْمَائِدَة: {وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم إِلَى الْكَعْبَيْنِ} .

وَالثَّالِث: بِمَعْنى اللَّام. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَنْعَام: {ليجمعنكم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة} ، وَقيل إِنَّه بِمَعْنى " فِي ". وَألْحق بَعضهم وَجها رَابِعا فَقَالَ: و " إِلَى " بِمَعْنى: الْبَاء. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْبَقَرَة: {وَإِذا خلوا إِلَى شياطينهم} ، وفيهَا: {أحل لكم لَيْلَة الصّيام الرَّفَث إِلَى نِسَائِكُم} ، وألحقه قوم بالقسم الثَّانِي فَقَالُوا: هُوَ بِمَعْنى " مَعَ "
তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে "ইলা" শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: -

প্রথমটি: এর মূল অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো}, এবং সূরা ত্বোয়াহায়: {তুমি ফিরআউনের নিকট যাও}, এবং অনুরূপভাবে: {এবং আদ সম্প্রদায়ের নিকট}, {এবং সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট}, {এবং মাদইয়ান সম্প্রদায়ের নিকট}, আর এটিই হলো সাধারণ ব্যবহার।

দ্বিতীয়টি: "সাথে" অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আস-সাফ-এ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে?}, এবং সূরা আন-নিসায়: {তোমরা তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে ভক্ষণ করো না}, এবং সূরা আল-মায়িদায়: {এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত (কনুইসহ) ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (টাখনুসহ) ধৌত করো}।

তৃতীয়টি: "লাম" (নিমিত্তে/জন্য) অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-আনআমে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনের জন্য একত্রিত করবেন}, এবং বলা হয়েছে যে এটি "মধ্যে" অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ চতুর্থ একটি দিক যুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "ইলা" শব্দটি "বা" (সাথে/প্রতি) অর্থেও আসে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়}, এবং তাতে আরও রয়েছে: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সংগত হওয়া হালাল করা হয়েছে}, আর একদল লোক একে দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: এটি "সাথে" অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৪)
وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِك النَّضر بن شُمَيْل.

(17 -‌‌ بَاب الْأَمَانَة)

 

قَالَ شَيخنَا عَليّ بن عبيد الله رضي الله عنه: الأَصْل فِي الْأَمَانَة: الْأَمْن والطمأنينة. والموضع الَّذِي يطمئن فِيهِ الْإِنْسَان: المأمن. والوديعة: أَمَانَة لِأَن (7 / ب) صَاحبهَا ائْتمن الْمُودع على حفظهَا فاطمأن إِلَيْهِ.

وَقَالَ ابْن فَارس: يُقَال: رجل أَمَنَة. وأمنة: يَثِق بِكُل أحد. وَرجل أَمِين وأمان. وأنشدوا:

(وَلَقَد شهِدت التَّاجِر … الْأمان مورودا شرابه)

 

والأمون النَّاقة الموثقة الْخلق. وَكَأَنَّهُ أَمن فِيهَا الفتور فِي السّير.

وَذكر بعض الْمُفَسّرين أَن الْأَمَانَة فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

أَحدهَا: الْفَرَائِض، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة الْأَنْفَال: {لَا تخونوا الله وَالرَّسُول وتخونوا أماناتكم} ، أَي: تضيعوا فرائضكم. وَفِي الْأَحْزَاب: {إِنَّا عرضنَا الْأَمَانَة على السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَالْجِبَال}
এবং যারা এ কথা বলেছেন তাদের মধ্যে আন-নাদর ইবন শুমাইল অন্যতম।

(১৭ -‌‌ আমানত অধ্যায়)

 

আমাদের শায়খ আলী ইবন উবায়দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমানত (বিশ্বস্ততা) এর মূল ভিত্তি হলো নিরাপত্তা ও প্রশান্তি। আর যে স্থানে মানুষ প্রশান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে তাকে 'মা’মান' (নিরাপদ আশ্রয়) বলা হয়। আর গচ্ছিত সম্পদকে (ওয়াদিয়া) আমানত বলা হয় কারণ (৭ / খ) এর মালিক গচ্ছিত সম্পদ গ্রহণকারীর ওপর সেটি সংরক্ষণের ব্যাপারে আস্থা রেখেছে, ফলে সে তার প্রতি নিশ্চিন্ত হয়েছে।

ইবন ফারিস বলেছেন: বলা হয়ে থাকে, ‘রাজুলুন আমানাহ’ এবং ‘উমানাহ’, যার অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যে প্রত্যেককে বিশ্বাস করে। এছাড়া ‘আমীন’ এবং ‘আমান’ শব্দও ব্যবহৃত হয়। তারা পংক্তি আবৃত্তি করেছেন:

(এবং অবশ্যই আমি ব্যবসায়ীর সাক্ষ্য দিয়েছি ... যার পানীয়র উৎস বিশ্বস্ত বা নিরাপদ)

 

আর ‘আমুন’ হলো সুদৃঢ় দৈহিক গঠনের উটনী। যেন তার চলার গতিতে কোনো শিথিলতা বা ক্লান্তি আসবে না বলে নিশ্চিন্ত হওয়া গিয়েছে।

কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে আমানত শব্দটি তিনটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমত: ফরজ বিধানসমূহ; এর প্রমাণ হিসেবে সূরা আল-আনফালে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহের খেয়ানত করো না}, অর্থাৎ: তোমাদের ফরজ বিধানসমূহ নষ্ট করো না। এবং সূরা আল-আহযাবে বর্ণিত হয়েছে: {আমি আসমান, জমিন ও পাহাড়ের নিকট আমানত পেশ করেছিলাম}।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৫)
وَالثَّانِي: الْوَدِيعَة. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة النِّسَاء: {إِن الله يَأْمُركُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَات إِلَى أَهلهَا} ، وَفِي الْمُؤمنِينَ: {وَالَّذين هم لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدهمْ رَاعُونَ} .

وَالثَّالِث: الْعِفَّة. مِنْهُ قَوْله تَعَالَى فِي الْقَصَص: {إِن خير من اسْتَأْجَرت الْقوي الْأمين} .

(18 -‌‌ بَاب أم)

 

قَالَ ابْن قُتَيْبَة: أم تكون بِمَعْنى أَو. وَتَكون بِمَعْنى ألف الِاسْتِفْهَام.

وَذكر الْمُفَسِّرُونَ أَنَّهَا فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه: -

أَحدهَا: بِمَعْنى " أَو " وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي بني إِسْرَائِيل: {أم أمنتم أَن يعيدكم فِيهِ تَارَة أُخْرَى} ، وَفِي الْملك: {أم أمنتم من فِي السَّمَاء أَن يُرْسل عَلَيْكُم حاصبا} .

وَالثَّانِي: بِمَعْنى ألف الِاسْتِفْهَام. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي سُورَة
দ্বিতীয়ত: আমানত বা গচ্ছিত বস্তু। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আন-নিসায় মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দাও}, এবং সূরা আল-মুমিনুনে: {এবং যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে}।

তৃতীয়ত: চারিত্রিক পবিত্রতা বা সততা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-কাসাসে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনার কর্মচারী হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত}।

(১৮ -‌‌ পরিচ্ছেদ: 'আম' (অথবা/কি) প্রসঙ্গে)

 

ইবনে কুতায়বাহ বলেছেন: 'আম' কখনো 'অথবা' অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনো এটি প্রশ্নবোধক 'আলিফ'-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।

মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে এটি তিনটি অর্থে এসেছে: -

প্রথমত: 'অথবা' অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা বনী ইসরাঈলে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকে পুনরায় সেখানে (সমুদ্রে) ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন?}, এবং সূরা আল-মুলকে: {অথবা তোমরা কি নিরাপদ বোধ করছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের ওপর কঙ্করবর্ষী ঝড় পাঠাবেন?}।

দ্বিতীয়ত: প্রশ্নবোধক 'আলিফ'-এর অর্থে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী সূরা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৬)
النِّسَاء: {أم يحسدون النَّاس على مَا آتَاهُم الله من فَضله} ، أَرَادَ أيحسدون وَفِي سَجْدَة لُقْمَان: {أم يَقُولُونَ افتراه بل هُوَ الْحق من رَبك} ، وَفِي ص: {أتخذناهم سخريا أم زاغت عَنْهُم الْأَبْصَار} . وَفِي الطّور: {أم لَهُ الْبَنَات وَلكم البنون (8 / أ} أم تسئلهم أجرا فهم من مغرم مثقلون. أم عِنْدهم الْغَيْب فهم يَكْتُبُونَ} .

وَالثَّالِث: بِمَعْنى بل. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الرَّعْد: {أم بِظَاهِر من القَوْل} .

وَفِي الزخرف: {أم أَنا خير من هَذَا الَّذِي هُوَ مهين وَلَا يكَاد يبين} ، وَفِي الْقَمَر: {أم يَقُولُونَ نَحن جَمِيع منتصر} .

(19 -‌‌ بَاب أَنى)

 

قَالَ ابْن قُتَيْبَة: أَنى تكون لمعنيين: -
সূরা আন-নিসা: {নাকি তারা মানুষের প্রতি ঐ বিষয়ের জন্য হিংসা করে যা আল্লাহ তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করেছেন?}, এখানে উদ্দেশ্য হলো 'তারা কি হিংসা করে?' এবং সাজদাহ-লুকমানে (সূরা আস-সাজদাহ): {নাকি তারা বলে যে, সে এটা রচনা করেছে? বরং তা আপনার রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য।}, এবং সূরা ছোয়াদে: {আমরা কি তাদেরকে উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম, নাকি আমাদের দৃষ্টি তাদের দিক থেকে সরে গিয়েছে?}। এবং সূরা আত-তূরে: {নাকি তাঁর জন্য কন্যা সন্তান আর তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান? (৮/ক) নাকি আপনি তাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাইছেন যার ফলে তারা ঋণের ভারে জর্জরিত? নাকি তাদের নিকট অদৃশ্যের জ্ঞান আছে ফলে তারা তা লিখে রাখে?}।

তৃতীয় প্রকার: 'বরং' অর্থে। এর উদাহরণ হলো সূরা আর-রা'দে মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি কেবল বাহ্যিক কথার ভিত্তিতে (এরূপ বলছ)?}।

এবং সূরা আয-যুখরুফে: {বরং আমিই তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি অপেক্ষা, যে অতি নগণ্য এবং যে স্পষ্টভাবে কথা বলতেও সক্ষম নয়।}, এবং সূরা আল-কামারে: {নাকি তারা বলে যে, আমরা এক বিজয়ী দল?}।

(১৯ -‌‌ আন্না অধ্যায়)

 

ইবনে কুতায়বাহ বলেছেন: 'আন্না' শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: -
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৭)
أَحدهمَا: بِمَعْنى: كَيفَ. وَالثَّانِي بِمَعْنى: من أَيْن. والمعنيان متقاربان، يجوز أَن يتَأَوَّل فِي كل وَاحِد مِنْهُمَا الآخر.

قَالَ الْكُمَيْت: -

(أَنى وَمن أَيْن آبك الطَّرب … من حَيْثُ لَا صبوة وَلَا ريب)

 

فجَاء بالمعنيين جَمِيعًا.

قَالَ شَيخنَا عَليّ بن عبيد الله: أَنى لفظ سُؤال يرد فِي كل مَكَان بِحَسب مَا يَقْتَضِيهِ من زمَان، وَحَال، وَمَكَان، فَإِذا وَقع سؤالا عَن زمَان، كَانَ بِمَعْنى " مَتى ". وَإِذا كَانَ سؤالا عَن حَال، كَانَ بِمَعْنى " كَيفَ ". فَإِذا كَانَ سؤالا عَن مَكَان، كَانَ بِمَعْنى " أَيْن ".

وَذكر الْمُفَسِّرُونَ أَنه فِي الْقُرْآن على هَذِه الْأَوْجه الثَّلَاثَة: -

فَمن الأول: وَهُوَ كَونه بِمَعْنى " مَتى "، قَوْله فِي الْبَقَرَة: {أَنى يحيي هَذِه الله بعد مَوتهَا} .

وَمن الثَّانِي: وَهُوَ كَونه بِمَعْنى " كَيفَ ". قَوْله فِي الْبَقَرَة: {فَأتوا حَرْثكُمْ أَنى شِئْتُم} ، وَفِي آل عمرَان: {أَنى يكون لي ولد} .
এর মধ্যে একটি হলো: 'কীভাবে' অর্থে। দ্বিতীয়টি হলো: 'কোত্থেকে' অর্থে। আর অর্থ দুটি পরস্পর নিকটবর্তী, এদের একটিকে অন্যটির স্থলে ব্যাখ্যা করা বৈধ।

কুমাইত বলেছেন: -

(আন্না বা কীভাবে এবং কোত্থেকে তোমার কাছে এই আনন্দ ফিরে এল … এমন এক স্থান থেকে যেখানে কোনো যৌবনসুলভ চাঞ্চল্য বা সন্দেহ নেই)

 

এখানে তিনি উভয় অর্থকেই একত্রিত করেছেন।

আমাদের শাইখ আলী ইবন উবায়দুল্লাহ বলেছেন: 'আন্না' হলো একটি প্রশ্নবোধক শব্দ যা কাল, অবস্থা ও স্থানভেদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন এটি কাল সম্পর্কে প্রশ্ন হিসেবে আসে, তখন এটি 'কখন' অর্থে ব্যবহৃত হয়। যখন অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন হিসেবে আসে, তখন এটি 'কীভাবে' অর্থে হয়। আর যখন স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন হিসেবে আসে, তখন এটি 'কোথায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে এটি এই তিনটি অর্থেই এসেছে: -

প্রথমটির উদাহরণ: অর্থাৎ 'কখন' অর্থে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন সূরা বাকারায় আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ একে এর মৃত্যুর পর কখন জীবিত করবেন?}।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: অর্থাৎ 'কীভাবে' অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। সূরা বাকারায় আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো}, এবং সূরা আল ইমরানে: {কীভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে?}।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَمن الثَّالِث: وَهُوَ كَونه بِمَعْنى " من أَيْن ". قَوْله تَعَالَى فِي آل عمرَان: {يَا مَرْيَم أَنى لَك هَذَا} ، وَفِي بَرَاءَة: {قَاتلهم الله أَنى يؤفكون} .

(20 -‌‌ بَاب " أَو ")

 

" أَو ": حرف يرد للشَّكّ. تَقول: رَأَيْت زيدا أَو عمرا. وَيرد للتَّخْيِير

تَقول: خُذ مِنْهُ دِينَارا أَو قِيمَته وَرقا. وَيرد بِمَعْنى " بل ".

أنْشد الْفراء (8 / ب: -

(بَدَت مثل قرن الشَّمْس فِي رونق الضُّحَى … وَصورتهَا أَو أَنْت فِي الْعين أَمْلَح)

 

يُرِيد: بل أَنْت. وَترد بِمَعْنى " الْوَاو ".

قَالَ جرير: -

(نَالَ الْخلَافَة أَو كَانَت لَهُ قدرا … كَمَا أَتَى ربه مُوسَى على قدر)
তৃতীয় প্রকার থেকে: আর এটি 'কোথা থেকে' অর্থে হওয়া। মহান আল্লাহর বাণী সূরা আল ইমরানে: {হে মারইয়াম, তোমার কাছে এটি কোথা থেকে এল?}, এবং সূরা বারাআতে: {আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কীভাবে সত্য বিমুখ হচ্ছে।}

(২০ -‌‌ 'আও' (বা) অধ্যায় )

 

'আও': এটি সন্দেহ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত একটি অব্যয়। আপনি বলবেন: আমি জায়েদকে অথবা ওমরকে দেখেছি। আর এটি পছন্দের (বিকল্প নির্বাচনের) জন্য ব্যবহৃত হয়।

আপনি বলবেন: তার কাছ থেকে একটি দিনার অথবা এর সমমূল্যের রৌপ্যমুদ্রা গ্রহণ করো। আর এটি 'বরং' অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

আল-ফাররা আবৃত্তি করেছেন:

(সে পূর্বাহ্ণের উজ্জ্বলতায় সূর্যের অগ্রভাগের মতো প্রকাশিত হলো … এবং তার রূপ, বরং তুমিই চোখের দৃষ্টিতে অধিক সুন্দর।)

 

তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: বরং তুমি। আর এটি 'এবং' অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

জারীর বলেছেন: -

(তিনি খেলাফত লাভ করেছেন এবং এটি তাঁর জন্য নির্ধারিত ছিল … যেমন মুসা তাঁর রবের কাছে একটি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।)
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আয়ুনিন নাওয়াযির ফী ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০৯)
قَالَ تَوْبَة: -

(وَقد زعمت ليلى بِأَنِّي فَاجر … لنَفْسي تقاها أَو عَلَيْهَا فجورها)

 

مَعْنَاهُ: وَعَلَيْهَا.

قَالَ أَبُو زَكَرِيَّا: وَترد للإبهام، تَقول: اشْتريت هَذَا الثَّوْب بِدِينَار أَو أَكثر. تُرِيدُ بذلك الْإِبْهَام على السَّائِل.

وَكَقَوْلِه: {أَو يزِيدُونَ} . وَترد للْإِبَاحَة، تقل جَالس الْحسن أَو ابْن سِيرِين. أَي جَالس الأخيار فان جالسهما أَو أَحدهمَا فقد أطاعك.

وَذكر أهل التَّفْسِير أَن " أَو " فِي الْقُرْآن على ثَلَاثَة أوجه:

أَحدهَا: التَّخْيِير وَمِنْه قَوْله تَعَالَى [فِي الْبَقَرَة] : {ففدية من صِيَام أَو صَدَقَة أَو نسك} ، وَفِي الْمَائِدَة: {فكفارته إطْعَام عشرَة مَسَاكِين من أَوسط مَا تطْعمُونَ أهليكم أَو كسوتهم أَو تَحْرِير رَقَبَة} .

وَالثَّانِي: بِمَعْنى " الْوَاو ". وَمِنْه قَوْله تَعَالَى فِي الْأَنْعَام: {أَو الحوايا أَو مَا اخْتَلَط بِعظم} ، وَفِي طه: {لَعَلَّه يتَذَكَّر أَو يخْشَى} .
তাওবাহ বলেছেন: -

(লায়লা দাবি করেছে যে আমি পাপাচারী … আমার নফসের জন্য তার তাকওয়া অথবা তার ওপর তার পাপাচার)

 

এর অর্থ হলো: এবং তার ওপর।

আবু যাকারিয়া বলেছেন: এটি অস্পষ্টতা (ইবহাম) প্রকাশের জন্য আসে; যেমন আপনি বললেন: আমি এই কাপড়টি এক দীনার বা তার চেয়ে বেশি দামে কিনেছি। এর মাধ্যমে আপনি প্রশ্নকারীর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট রাখতে চেয়েছেন।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তারা বৃদ্ধি পায়}। এটি অনুমতি প্রদানের (ইবাহাত) জন্য আসে; যেমন আপনি বললেন: হাসান অথবা ইবনে সিরিনের সঙ্গে বসো। অর্থাৎ নেককারদের সাথে বসো। যদি সে উভয়ের সাথে অথবা তাদের কোনো একজনের সাথে বসে, তবে সে আপনার কথা মান্য করলো।

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'আও' শব্দটির ব্যবহার তিনটি অর্থে হয়েছে:

প্রথমটি: পছন্দ প্রদানের (তাখয়ীর) জন্য; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী [সূরা বাকারাহয়]: {তবে রোজা, সাদকা কিংবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদয়া দিতে হবে}, এবং সূরা মায়িদাহয়: {এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মাঝারি ধরনের খাবার দান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা কিংবা একজন দাস মুক্ত করা}।

দ্বিতীয়টি: 'ওয়াও' (এবং) অর্থে; যেমন সূরা আনআম-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: {অথবা নাড়ীভুঁড়ি কিংবা যা হাড়ের সাথে লেগে থাকে}, এবং সূরা ত্বোয়াহায়: {যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে অথবা ভয় করে}।