(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد الفقهية   (أحمد الزرقا)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: شرح القواعد الفقهية

المؤلف: أحمد بن الشيخ محمد الزرقا (ت 1357 هـ - 1938 م)

صححه وقدم له وعلق عليه: مصطفى أحمد الزرقا (ابن المؤلف)

تنسيق ومراجعة الطبعة الأولى: د عبد الستار أبو غدة

الناشر: دار القلم، دمشق - سوريا

الطبعة: الثانية، 1409 هـ - 1989 م

عدد الصفحات: 486

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ   (আহমাদ আল-যারকা)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


কিতাব: শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ

লেখক: আহমাদ ইবনুল শায়খ মুহাম্মদ আল-যারকা (মৃত্যু ১৩৫৭ হিজরি - ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ)

সম্পাদনা, ভূমিকা ও টীকা সংযোজন: মুস্তাফা আহমাদ আল-যারকা (লেখকের পুত্র)

প্রথম সংস্করণের সমন্বয় ও পর্যালোচনা: ড. আবদুল সাত্তার আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: দারুল কলম, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৬

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌(الْقَاعِدَة الأولى (الْمَادَّة / 2))

 

("‌‌ الْأُمُور بمقاصدها ")

 

(أَولا _ الشَّرْح)

الْأُمُور جمع أَمر، وَهُوَ: لفظ عَام للأفعال والأقوال كلهَا، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {إِلَيْهِ يرجع الْأَمر كُله} ، {قل إِن الْأَمر كُله لله} ، {وَمَا أَمر فِرْعَوْن برشيد} ، أَي مَا هُوَ عَلَيْهِ من قَول أَو فعل. (ر: مُفْرَدَات الرَّاغِب) .

ثمَّ إِن الْكَلَام على تَقْدِير مُقْتَضى، أَي: أَحْكَام الْأُمُور بمقاصدها، لِأَن علم الْفِقْه إِنَّمَا يبْحَث عَن أَحْكَام الْأَشْيَاء لَا عَن ذواتها، وَلذَا فسرت الْمجلة الْقَاعِدَة بقولِهَا: " يَعْنِي أَن الحكم الَّذِي يَتَرَتَّب على أَمر يكون على مُقْتَضى مَا هُوَ الْمَقْصُود من ذَلِك الْأَمر ".

أصل هَذِه الْقَاعِدَة فِيمَا يظْهر قَوْله صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ ".

 

(ثَانِيًا _ التطبيق)

إِن هَذِه الْقَاعِدَة تجْرِي فِي كثير من الْأَبْوَاب الْفِقْهِيَّة مثل: (1) الْمُعَاوَضَات والتمليكات الْمَالِيَّة. (2) وَالْإِبْرَاء. (3) وتجري فِي الوكالات. (4) وإحراز الْمُبَاحَات. (5) والضمانات والأمانات. (6) والعقوبات.

1 - أما الْمُعَاوَضَات والتمليكات الْمَالِيَّة: فكالبيع وَالشِّرَاء وَالْإِجَارَة وَالصُّلْح وَالْهِبَة، فَإِنَّهَا كلهَا عِنْد إِطْلَاقهَا _ أَي إِذا لم يقْتَرن بهَا مَا يقْصد بِهِ إخْرَاجهَا عَن إِفَادَة مَا وضعت لَهُ _ تفِيد حكمهَا، وَهُوَ الْأَثر الْمُتَرَتب عَلَيْهَا من التَّمْلِيك والتملك
(প্রথম মূলনীতি (ধারা / ২))

 

("‌কার্যসমূহ তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিবেচিত হয়")

 

(প্রথমত - ব্যাখ্যা)

‘আল-উমুর’ শব্দটি ‘আমর’ শব্দের বহুবচন। এটি সকল কাজ ও কথার জন্য একটি ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর বাণী থেকে এর উদাহরণ হলো: {সমস্ত বিষয় তাঁর দিকেই ফিরে যায়}, {বলুন, সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর}, {এবং ফেরাউনের বিষয়টি সঠিক ছিল না}, অর্থাৎ সে যে কথা বা কাজের ওপর ছিল তা সঠিক ছিল না। (দ্রষ্টব্য: মুফরাদাতুর রাগিব)।

অতঃপর বাক্যটি একটি উহ্য শব্দের নিরিখে গঠিত, অর্থাৎ: কার্যসমূহের বিধানাবলি তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কারণ ফিকহ শাস্ত্র বস্তুর সত্তা নিয়ে নয়, বরং বস্তুর বিধান নিয়ে আলোচনা করে। এই কারণে 'মাজাল্লাহ' এই মূলনীতিটির ব্যাখ্যায় বলেছে: "অর্থাৎ কোনো বিষয়ের ওপর যে বিধান অর্পিত হয়, তা সেই বিষয়ের উদ্দেশ্যের চাহিদানুযায়ী হয়ে থাকে।"

দৃশ্যত এই মূলনীতির মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"

 

(দ্বিতীয়ত - প্রয়োগ)

নিশ্চয়ই এই মূলনীতিটি ফিকহ শাস্ত্রের অনেক অধ্যায়ে কার্যকর হয়, যেমন: (১) আর্থিক বিনিময় ও মালিকানা সংক্রান্ত লেনদেন। (২) দায়মুক্তি। (৩) প্রতিনিধিত্ব। (৪) বৈধ বস্তুসমূহ আয়ত্ত করা। (৫) জামানত ও আমানত। (৬) দণ্ডবিধি।

১ - আর্থিক বিনিময় ও মালিকানা সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে: যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, সন্ধি ও দান। এগুলো যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়—অর্থাৎ যখন এগুলোর সাথে এমন কোনো উদ্দেশ্য যুক্ত না হয় যা একে তার নির্ধারিত অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়—তখন তা তার নিজস্ব বিধান প্রদান করে। আর তা হলো এর ফলস্বরূপ মালিকানা প্রদান ও মালিকানা গ্রহণ।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
لَكِن إِذا اقْترن بهَا مَا يُخرجهَا عَن إِفَادَة هَذَا الحكم، وَذَلِكَ كإرادة النِّكَاح بهَا وكالهزل والاستهزاء والمواضعة والتلجئة، فَإِنَّهُ يسلبها إِفَادَة حكمهَا الْمَذْكُور، فَإِنَّهُ إِذا أُرِيد بهَا النِّكَاح كَانَت نِكَاحا.

وَلَكِن يشْتَرط فِي الْإِجَارَة وَالصُّلْح أَن تكون الْمَرْأَة بَدَلا ليَكُون نِكَاحا، فَلَو كَانَت فِي الْإِجَارَة معقوداً عَلَيْهَا لَا تكون نِكَاحا، وَفِي الصُّلْح لَو كَانَت مصالحاً عَنْهَا بِأَن ادّعى عَلَيْهَا النِّكَاح فأنكرت ثمَّ صالحت الْمُدَّعِي على مَال دَفعته لَهُ ليكف صَحَّ وَكَانَ خلعاً. (ر: الدُّرَر وحاشيته، من كتاب النِّكَاح وَمن كتاب الصُّلْح) .

وَكَذَلِكَ لَو بَاعَ إِنْسَان أَو شرى وَهُوَ هازل، فَإِنَّهُ لَا يَتَرَتَّب على عقده تمْلِيك وَلَا تملك.

2 - وَأما الْإِبْرَاء: فَكَمَا لَو قَالَ الطَّالِب للْكَفِيل، أَو قَالَ الْمحَال للمحتال عَلَيْهِ: بَرِئت من المَال الَّذِي كفلت بِهِ، أَو المَال الَّذِي أحلّت بِهِ عَلَيْك، أَو قَالَ: بَرِئت إِلَيّ مِنْهُ، وَكَانَ الطّلب أَو الْمحَال حَاضرا، فَإِنَّهُ يرجع إِلَيْهِ فِي الْبَيَان لما قَصده من هَذَا اللَّفْظ، فَإِن كَانَ قصد بَرَاءَة الْقَبْض والاستيفاء مِنْهُ كَانَ للْكَفِيل أَن يرجع على الْمَكْفُول عَنهُ لَو الْكفَالَة بِالْأَمر، وَكَانَ للمحال عَلَيْهِ أَن يرجع على الْمُحِيل لَو لم يكن للْمُحِيل دين عَلَيْهِ. وَإِن كَانَ قصد من ذَلِك بَرَاءَة الْإِسْقَاط فَلَا رُجُوع لوَاحِد مِنْهُمَا.

أما إِذا كَانَ الطَّالِب أَو الْمحَال غير حَاضر فَفِي (بَرِئت إِلَيّ) لَا نزاع فِي أَنه يحمل على بَرَاءَة الِاسْتِيفَاء، وَكَذَلِكَ فِي بَرِئت، عِنْد أبي يُوسُف فَإِنَّهُ جعله كَالْأولِ، وَهُوَ الْمُرَجح، (ر: تنوير الْأَبْصَار وَشَرحه الدّرّ الْمُخْتَار، كتاب الْكفَالَة، بحث كَفَالَة المَال) .

3 - وَأما الوكالات، فَمِنْهَا: مَا لَو وكل إِنْسَان غَيره بشرَاء فرس معِين أَو نَحوه فَاشْترى الْوَكِيل فرسا فَفِيهِ تَفْصِيل: إِن كَانَ نوى شِرَاءَهُ للْمُوكل أَو أضَاف العقد إِلَى دَرَاهِم الْمُوكل يَقع الشِّرَاء للْمُوكل، وَإِن نوى الشِّرَاء لنَفسِهِ أَو أضَاف العقد إِلَى دَرَاهِم نَفسه يَقع الشِّرَاء لنَفسِهِ. وَكَذَا لَو أضَاف العقد إِلَى
কিন্তু যদি এর সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা একে এই বিধান প্রদানের উপযোগিতা থেকে বিচ্যুত করে দেয়, যেমন এর মাধ্যমে বিবাহের ইচ্ছা পোষণ করা, পরিহাস, বিদ্রূপ, পারস্পরিক গোপন সমঝোতা কিংবা নিরুপায় হয়ে করা কোনো কাজ; তবে তা একে উল্লিখিত বিধান প্রদানের উপযোগিতা থেকে বঞ্চিত করে। কারণ যদি এর দ্বারা বিবাহ উদ্দেশ্য করা হয়, তবে তা বিবাহ হিসেবেই গণ্য হবে।

তবে ইজারা (ভাড়া) ও সন্ধির (নিষ্পত্তি) ক্ষেত্রে শর্ত হলো যে, বিবাহ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য নারীকে বিনিময় (বদল) হতে হবে। যদি ইজারার ক্ষেত্রে নারী স্বয়ং চুক্তিবদ্ধ বিষয় হয়, তবে তা বিবাহ হবে না। আর সন্ধির ক্ষেত্রে যদি নারী এমন হয় যার পক্ষ থেকে বিবাদ মেটানো হচ্ছে—যেমন কেউ তার বিরুদ্ধে বিবাহের দাবি করল আর সে তা অস্বীকার করল, অতঃপর সে দাবিদারকে কিছু অর্থ প্রদানের বিনিময়ে বিবাদ নিরসনের সন্ধি করল, তবে তা সহীহ হবে এবং 'খোল' (বিবাহ বিচ্ছেদ) হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুরার ও এর টীকাগ্রন্থ, বিবাহ অধ্যায় ও সন্ধি অধ্যায়)।

অনুরূপভাবে যদি কোনো ব্যক্তি পরিহাসচ্ছলে ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে তার এই চুক্তির ফলে মালিকানা লাভ বা মালিকানা হস্তান্তরের কোনো বিধান কার্যকর হবে না।

২ - আর দায়মুক্তি (ইবরা) প্রসঙ্গে: যেমন পাওনাদার যদি জামিনদারকে বলে, অথবা হাওয়ালার ক্ষেত্রে পাওনাদার যদি যার ওপর ঋণ ন্যস্ত করা হয়েছে তাকে বলে: "তুমি সেই অর্থ থেকে দায়মুক্ত হলে যার জামিনদার তুমি হয়েছিলে", অথবা "যে অর্থের হাওয়ালা আমি তোমার ওপর করেছিলাম", অথবা বলল: "তুমি আমার নিকট তা থেকে দায়মুক্ত হলে", এবং পাওনাদার বা ঋণ স্থানান্তরকারী উপস্থিত থাকে, তবে সে এই শব্দের দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছে তা জানতে তার ব্যাখ্যার দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হবে। যদি সে এর দ্বারা উশুল বা পাওনা আদায়ের দায়মুক্তি উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে জামিনদার মূল ঋণীর নিকট দাবি নিয়ে ফিরে যেতে পারবে যদি জামিন গ্রহণের বিষয়টি তার নির্দেশে হয়ে থাকে। আর যার ওপর হাওয়ালা করা হয়েছে সে ঋণ স্থানান্তরকারীর নিকট দাবি নিয়ে ফিরে যেতে পারবে যদি তার নিকট ঋণ স্থানান্তরকারীর কোনো পাওনা না থাকে। আর যদি সে এর দ্বারা পাওনা বাতিলের মাধ্যমে দায়মুক্তি উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তাদের কেউ কারো নিকট পুনরায় দাবি নিয়ে ফিরে যেতে পারবে না।

কিন্তু যদি পাওনাদার বা ঋণ স্থানান্তরকারী অনুপস্থিত থাকে, তবে "তুমি আমার নিকট দায়মুক্ত হলে" বাক্যটির ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই যে, এটি পাওনা আদায়ের দায়মুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর নিকট কেবল "দায়মুক্ত হলে" বাক্যটির ক্ষেত্রেও একই হুকুম, আর এটিই অগ্রগণ্য মত। (দ্রষ্টব্য: তানভীরুল আবসার ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আদ-দুররুল মুখতার, জামিননামা অধ্যায়, আর্থিক জামিন সংক্রান্ত আলোচনা)।

৩ - আর ওকালাত (প্রতিনিধিত্ব) প্রসঙ্গে: তার মধ্যে একটি হলো, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে নির্দিষ্ট কোনো ঘোড়া বা অনুরূপ কিছু ক্রয়ের প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এবং প্রতিনিধি একটি ঘোড়া ক্রয় করে, তবে এক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণ হলো: যদি সে মুওয়াক্কিলের (নিয়োগকারী) জন্য ক্রয়ের নিয়ত করে অথবা চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের অর্থের সাথে সম্পৃক্ত করে, তবে ক্রয়টি মুওয়াক্কিলের জন্যই সাব্যস্ত হবে। আর যদি সে নিজের জন্য ক্রয়ের নিয়ত করে অথবা চুক্তিটিকে নিজের অর্থের সাথে সম্পৃক্ত করে, তবে ক্রয়টি তার নিজের জন্যই সাব্যস্ত হবে। অনুরূপভাবে যদি সে চুক্তিটিকে...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
دَرَاهِم مُطلقَة فَإِنَّهُ إِذا نوى بهَا دَرَاهِم الْمُوكل يَقع الشِّرَاء للْمُوكل وَإِن نوى بهَا دَرَاهِم نَفسه يَقع لنَفسِهِ، وَإِن تكاذبا فِي النِّيَّة يحكم النَّقْد فَيحكم بالفرس لمن وَقع نقد الثّمن من مَاله، لِأَن فِي النَّقْد من أحد الْمَالَيْنِ دلَالَة ظَاهِرَة على أَنه أُرِيد الشِّرَاء لصَاحبه (وَالْمَسْأَلَة مبسوطة فِي فصل الْوكَالَة بِالشِّرَاءِ من الْهِدَايَة) .

4 - وَأما الإحرازات، وَهِي: استملاك الْأَشْيَاء الْمُبَاحَة، فَإِن النِّيَّة وَالْقَصْد شَرط فِي إفادتها الْملك، فَلَو وضع إِنْسَان وعَاء فِي مَكَان فَاجْتمع فِيهِ مَاء الْمَطَر ينظر: فَإِن كَانَ وَضعه خصيصاً لجمع المَاء يكون مَا اجْتمع فِيهِ ملكه، وَإِن وَضعه بِغَيْر هَذَا الْقَصْد فَمَا اجْتمع فِيهِ لَا يكون ملكه، وَلغيره حينئذٍ أَن يَتَمَلَّكهُ بِالْأَخْذِ، لِأَن الحكم لَا يُضَاف إِلَى السَّبَب الصَّالح إِلَّا بِالْقَصْدِ. (ر: رد الْمُحْتَار، كتاب الْبيُوع، متفرقات، عِنْد قَول الْمَتْن: وَلَو فرخ طير أَو باض _ نقلا عَن الْبَحْر) .

وَكَذَلِكَ الصَّيْد، فَلَو وَقع الصَّيْد فِي شبكة إِنْسَان أَو حُفْرَة من أرضه ينظر: فَإِن كَانَ نشر الشبكة أَو حفر الحفرة لأجل الِاصْطِيَاد بهما فَإِن الصَّيْد ملكه وَلَيْسَ لأحد أَن يَأْخُذهُ، وَإِن كَانَ نشر الشبكة لتجفيفها مثلا أَو حفر الحفرة لَا لأجل الِاصْطِيَاد فَإِنَّهُ لَا يملكهُ، وَلغيره أَن يستملكه بِالْأَخْذِ. (ر: الْمجلة، مَادَّة / 1303) .

5 - وَأما الضمانات والأمانات فمسائلها كَثِيرَة: (أ) مِنْهَا اللّقطَة، فَإِن التقطها ملتقط بنية حفظهَا لمَالِكهَا كَانَت أَمَانَة لَا تضمن إِلَّا بِالتَّعَدِّي، وَإِن التقطها بنية أَخذهَا لنَفسِهِ كَانَ فِي حكم الْغَاصِب فَيضمن إِذا تلفت فِي يَده بِأَيّ صُورَة كَانَ تلفهَا، وَالْقَوْل للملتقط بِيَمِينِهِ فِي النِّيَّة لَو اخْتلفَا فِيهَا.

وَكَذَا لَو التقطها ثمَّ ردهَا لمكانها، فَإِن كَانَ التقطها للتعريف لم يضمن بردهَا لمكانها سَوَاء ردهَا قبل أَن يذهب بهَا أَو بعده وَسَوَاء خَافَ بإعادتها هلاكها أَولا، وَإِن كَانَ التقطها لنَفسِهِ لَا يبرأ بإعادتها لمكانها مَا لم يردهَا لمَالِكهَا. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، أَوَائِل كتاب اللّقطَة، نقلا عَن كَافِي الْحَاكِم وَعَن نور الْعين عَن الْخَانِية) .
সাধারণ দিরহাম; যদি এর দ্বারা মক্কেলের (প্রতিনিধি দাতা) দিরহামের নিয়ত করা হয়, তবে ক্রয়টি মক্কেলের জন্যই সম্পন্ন হবে এবং যদি সে নিজের দিরহামের নিয়ত করে, তবে তা নিজের জন্যই সম্পন্ন হবে। আর যদি তারা নিয়তের ব্যাপারে একে অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে নগদ অর্থ প্রদানের ভিত্তিতে ফয়সালা করা হবে; সুতরাং যার সম্পদ থেকে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে, ঘোড়াটি তার জন্যই সাব্যস্ত হবে। কেননা, দুই সম্পদের কোনো একটি থেকে নগদ মূল্য পরিশোধ করা এ কথার প্রকাশ্য প্রমাণ যে, তার মালিকের জন্যই ক্রয় করার ইচ্ছা করা হয়েছে। (মাসআলাটি হিদায়ার 'ওয়াকালাহ বিশ-শিরা' বা ক্রয়ের প্রতিনিধিত্ব অধ্যায়ে বিস্তারিত রয়েছে)।

৪ - আর 'ইহরাজাত' (ইহরাজসমূহ) হলো: মুবাহ বা বৈধ বস্তুসমূহের মালিকানা লাভ করা। মালিকানা লাভের ক্ষেত্রে নিয়ত ও সংকল্প শর্ত। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কোথাও কোনো পাত্র রাখে এবং তাতে বৃষ্টির পানি জমা হয়, তবে দেখতে হবে: যদি পাত্রটি বিশেষভাবে পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাখা হয়ে থাকে, তবে যা জমা হবে তা তার মালিকানাধীন হবে। আর যদি এই উদ্দেশ্য ছাড়া রাখা হয়, তবে যা জমা হবে তা তার মালিকানাধীন হবে না; এমতাবস্থায় অন্য কারো জন্য তা গ্রহণের মাধ্যমে মালিক হওয়ার অধিকার থাকবে। কেননা, সংকল্প ছাড়া কোনো কার্যকর কারণকে (সাবাব) হুকুমের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় না। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল বুয়ূ, মুতাফাররিকাত, মতনের এই উক্তির অধীনে: 'যদি পাখি বাচ্চা দেয় বা ডিম পাড়ে'—আল-বাহর থেকে উদ্ধৃত)।

অনুরূপভাবে শিকারের ক্ষেত্রেও; যদি শিকার কারো জালে বা তার জমির কোনো গর্তে পড়ে, তবে দেখতে হবে: যদি জাল বিছানো বা গর্ত খনন করা শিকার করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তবে শিকারটি তার মালিকানাধীন হবে এবং অন্য কারো জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। আর যদি জালটি শুকানোর জন্য বিছানো হয় অথবা গর্তটি শিকারের উদ্দেশ্যে নয় বরং অন্য কারণে খনন করা হয়, তবে সে এর মালিক হবে না; অন্য কেউ তা গ্রহণের মাধ্যমে মালিক হতে পারবে। (দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাহ, ধারা: ১৩০৩)।

৫ - আর জামানত (ক্ষতিপূরণ) ও আমানত সংক্রান্ত মাসআলা অনেক: (ক) তার মধ্যে একটি হলো 'লুকাতাহ' (কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু)। যদি কেউ তা মালিকের জন্য সংরক্ষণের নিয়তে কুড়িয়ে নেয়, তবে তা আমানত হিসেবে গণ্য হবে এবং সীমালঙ্ঘন ব্যতীত এর কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। আর যদি সে নিজের জন্য গ্রহণের নিয়তে কুড়িয়ে নেয়, তবে সে আত্মসাৎকারীর (গাসিব) হুকুমে অন্তর্ভুক্ত হবে; সুতরাং তা তার হাতে যেভাবেই বিনষ্ট হোক না কেন, তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর নিয়তের ব্যাপারে মতভেদ হলে কসমসহ কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ লুকাতাহ কুড়িয়ে নিয়ে পুনরায় তার স্থানে রেখে দেয়; যদি সে তা ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে কুড়িয়ে থাকে, তবে তা আগের স্থানে ফিরিয়ে রাখার কারণে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না—তা সে দূরে নিয়ে যাওয়ার আগে হোক বা পরে, এবং তা ফিরিয়ে রাখার কারণে বিনষ্ট হওয়ার ভয় থাকুক বা না থাকুক। কিন্তু যদি সে তা নিজের জন্য তুলে থাকে, তবে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে না দেয়া পর্যন্ত শুধু আগের স্থানে ফিরিয়ে রাখার মাধ্যমে সে দায়মুক্ত হবে না। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও এর হাশিয়া রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল লুকাতাহ-এর প্রারম্ভিক অংশ, কাফিয়ুল হাকিম থেকে উদ্ধৃত এবং নূরুল আইনের মাধ্যমে খানিয়া থেকে উদ্ধৃত)।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
(ب) وَمِنْهَا الْوَدِيعَة، فَإِن الْمُودع إِذا استعملها ثمَّ تَركهَا بنية الْعود إِلَى اسْتِعْمَالهَا لَا يبرأ عَن ضَمَانهَا لِأَن تعديه باقٍ، وَإِن كَانَ تَركهَا بنية عدم الْعود إِلَى اسْتِعْمَالهَا يبرأ وَلَكِن لَا يصدق فِي ذَلِك إِلَّا بِبَيِّنَة، لِأَنَّهُ أقرّ بِمُوجب الضَّمَان ثمَّ ادّعى الْبَرَاءَة. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ، صفحة / 144) .

وَهَذَا إِذا كَانَ تعديه عَلَيْهَا بِغَيْر الحجز أَو الْمَنْع عَن الْمَالِك، فَإِن كَانَ بِأحد هذَيْن فَإِنَّهُ لَا يبرأ عَن الضَّمَان إِلَّا بِالرَّدِّ على الْمَالِك وَإِن أَزَال تعديه بالاعتراف بهَا. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ، بحث مَا يصدق فِيهِ الْمُودع، صفحة / 145) .

وَكَذَلِكَ كل أَمِين من قبل الْمَالِك إِذا تعدى ثمَّ أَزَال التَّعَدِّي بنيته أَنه لَا يعود إِلَيْهِ فَإِنَّهُ يبرأ عَن الضَّمَان، فَلَو لم يكن مسلطاً من قبل الْمَالِك أصلا، كَمَا فِي مَسْأَلَة الْمُلْتَقط الْآتِيَة عَن جَامع الْفُصُولَيْنِ بحثا، أَو كَانَ مسلطاً فِي مُدَّة مُؤَقَّتَة وانتهت ثمَّ تعدى ثمَّ أَزَال تعديه وَعَاد إِلَى الْحِفْظ لَا يبرأ. قَالَ فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ: لَو كَانَ مَأْمُورا بِحِفْظ شهر فَمضى شهر ثمَّ اسْتعْمل الْوَدِيعَة ثمَّ ترك الِاسْتِعْمَال وَعَاد إِلَى الْحِفْظ لَا يبرأ، إِذْ عَاد وَأمر الْحِفْظ غير قَائِم. (ر: الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ مِنْهُ، بحث ضَمَان الْمُودع بِالدفع، صفحة / 145) . (ج) وَمن قبيل فرع الْوَدِيعَة الْمَذْكُور مَا جَاءَ فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ: وَكيل بِالْبيعِ لَو خَالف بِأَن اسْتَعْملهُ أَو دفع الثَّوْب إِلَى قصار لقصره حَتَّى صَار ضَامِنا، فَلَو عَاد إِلَى الْوِفَاق يبرأ كمودع، وَالْوكَالَة بَاقِيَة فِي بَيْعه. (ر: الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ مِنْهُ، بحث ضَمَان الْمَأْمُور والدلال، صفحة / 142 - 145 /، وَمثله فِي معِين الْحُكَّام، الْبَاب السَّادِس وَالْأَرْبَعِينَ، فصل التَّسَبُّب وَالدّلَالَة) .

واستثنوا من الْأُمَنَاء: (1) الْمُسْتَعِير لأجل الِانْتِفَاع، (2) وَالْمُسْتَأْجر، (3) وَمثلهمَا الْأَجِير، لَو خَالف ثمَّ عَاد إِلَى الْوِفَاق لَا يبرأ. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ، بحث إجَازَة الدَّوَابّ، صفحة / 164) . فَإِنَّهُمَا إِذا تَعَديا على الْعين المستعارة أَو الْمُسْتَأْجرَة ثمَّ تركا التَّعَدِّي بنية عدم الْعود إِلَيْهِ
(খ) এগুলোর মধ্যে একটি হলো গচ্ছিত সম্পদ (ওয়াদিয়াহ)। কেননা আমানত গ্রহণকারী যদি তা ব্যবহার করে, অতঃপর পুনরায় ব্যবহারের নিয়তে তা রেখে দেয়, তবে সে এর দায়ভার বা ক্ষতিপূরণ থেকে মুক্তি পাবে না; কারণ তার সীমালঙ্ঘন বিদ্যমান রয়েছে। আর যদি সে পুনরায় ব্যবহার না করার নিয়তে তা রেখে দেয়, তবে সে দায়মুক্ত হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রমাণ ব্যতীত তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে না; কেননা সে দায়বদ্ধতা বা ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে, অতঃপর দায়মুক্তির দাবি করেছে। (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ত্রয়োবিংশ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ১৪৪)।

আর এটি তখন প্রযোজ্য যখন তার সীমালঙ্ঘন মালিকের নিকট থেকে সম্পদটি কুক্ষিগত করা বা মালিককে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে না হয়। কিন্তু যদি এই দুইটির কোনো একটির মাধ্যমে হয়, তবে মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেওয়া ব্যতীত সে দায়মুক্ত হবে না, যদিও সে তা স্বীকার করার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন দূর করে। (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ত্রয়োবিংশ অধ্যায়, আমানত গ্রহণকারীর কোন কথা গ্রহণযোগ্য হবে সেই সংক্রান্ত আলোচনা, পৃষ্ঠা ১৪৫)।

অনুরূপভাবে মালিক কর্তৃক নিযুক্ত প্রত্যেক আমানতদার যখন সীমালঙ্ঘন করে, অতঃপর পুনরায় তা না করার নিয়তে সীমালঙ্ঘন দূর করে, তবে সে দায়মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু যদি সে আদতেই মালিক কর্তৃক নিযুক্ত না হয়—যেমন জামেউল ফুসুলাইন-এ আলোচিত কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু গ্রহণকারীর মাসআলায় আসবে—অথবা সে যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিযুক্ত থাকে এবং সেই সময় শেষ হয়ে যায়, অতঃপর সে সীমালঙ্ঘন করে এবং পরবর্তীতে সীমালঙ্ঘন দূর করে পুনরায় হিফাযতের অবস্থায় ফিরে আসে, তবে সে দায়মুক্ত হবে না। জামেউল ফুসুলাইন-এ বলা হয়েছে: যদি কেউ এক মাস হিফাযত করার জন্য আদিষ্ট হয় এবং এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সে গচ্ছিত বস্তু ব্যবহার করে, অতঃপর ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে পুনরায় হিফাযতের অবস্থায় ফিরে আসে, তবে সে দায়মুক্ত হবে না। কারণ সে যখন ফিরে এসেছে, তখন হিফাযত করার আদেশটি আর অবশিষ্ট ছিল না। (দ্রষ্টব্য: উক্ত কিতাবের ত্রয়োবিংশ অধ্যায়, প্রদানের মাধ্যমে আমানত গ্রহণকারীর দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত আলোচনা, পৃষ্ঠা ১৪৫)। (গ) গচ্ছিত সম্পদের উক্ত উপশাখার অনুরূপ হলো জামেউল ফুসুলাইন-এ বর্ণিত এই মাসআলাটি: বিক্রয় প্রতিনিধি যদি শর্ত লঙ্ঘন করে তা ব্যবহার করে অথবা কাপড়টি ধোয়ার জন্য ধোপার কাছে প্রদান করে, যার ফলে সে দায়বদ্ধ হয়ে যায়; এমতাবস্থায় সে যদি পুনরায় শর্তের অনুগত হয়, তবে আমানত গ্রহণকারীর মতো সেও দায়মুক্ত হয়ে যাবে এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধিত্ব বহাল থাকবে। (দ্রষ্টব্য: উক্ত কিতাবের ত্রয়োবিংশ অধ্যায়, আদিষ্ট ব্যক্তি ও দালালের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত আলোচনা, পৃষ্ঠা ১৪২-১৪৫; অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে মুঈনুল হুক্কাম-এর ৪৬তম পরিচ্ছেদে, কারণ ও মধ্যস্থতা অধ্যায়ে)।

আমানতদারদের মধ্য থেকে তারা নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের ব্যতিক্রম গণ্য করেছেন: (১) ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ধার গ্রহণকারী, (২) ইজারাদার, (৩) এবং তাদের মতো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কর্মরত ব্যক্তি; এরা যদি শর্ত লঙ্ঘন করার পর পুনরায় অনুগত হয়, তবে দায়মুক্ত হবে না। (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ত্রয়োবিংশ অধ্যায়, পশু ভাড়া দেওয়া সংক্রান্ত আলোচনা, পৃষ্ঠা ১৬৪)। কেননা তারা যখন ধার করা বা ইজারা নেওয়া বস্তুর ওপর সীমালঙ্ঘন করে, অতঃপর পুনরায় তা না করার নিয়তে সীমালঙ্ঘন ত্যাগ করে...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
لَا يبرآن عَن الضَّمَان إِلَّا بِالرَّدِّ على الْمَالِك. (4) وَيُزَاد رَابِع لَهَا (ذكره صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ بحثا فِي الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ مِنْهُ حَيْثُ قَالَ _ بعد أَن رمز لفتاوى القَاضِي ظهير وللواقعات _) : أَخذ لقطَة ثمَّ ضَاعَت مِنْهُ فَوَجَدَهَا فِي يَد آخر فَلَا خُصُومَة بَينهمَا، بِخِلَاف الْوَدِيعَة، وَالْفرق بَينهمَا أَن للثَّانِي ولَايَة أَخذ اللّقطَة كَالْأولِ بِخِلَاف الْوَدِيعَة. ثمَّ قَالَ عقبه: " أَقُول: دلّ هَذَا على أَنه لَو تعدى ثمَّ أَزَال التَّعَدِّي ثمَّ هَلَكت يضمن، لِأَن يَده لَيست بيد مَالك لما مر من عدم الْخُصُومَة، فبتعديه ظهر أَنه غَاصِب فَلَا يبرأ إِلَّا بِمَا يبرأ بِهِ الْغَاصِب ".

وَلَكِن لم يظْهر لي مَا بَحثه من أَن الْمُلْتَقط يضمن إِذا هَلَكت بعد أَن تعدى ثمَّ أَزَال التَّعَدِّي، بل ظهر لي خِلَافه وَذَلِكَ أَن الِالْتِقَاط بِقصد الرَّد على الْمَالِك مَنْدُوب إِلَيْهِ عِنْد عدم الْخَوْف على اللّقطَة، وواجب عِنْد الْخَوْف عَلَيْهَا، وَمَا ذَلِك إِلَّا للْإِذْن بِهِ من الْمَالِك دلَالَة، وَالْإِذْن من الْمَالِك دلَالَة، كالإذن الصَّرِيح، يَنْفِي الضَّمَان كَمَا قَالُوا فِيمَا لَو ذبح الرَّاعِي الْبَعِير فِي المرعى بعد أَن مرض مَرضا لَا ترجى مَعَه حَيَاته فَإِنَّهُ لَا يضمن، لِأَن الْإِذْن من الْمَالِك يذبحه وَالْحَالة هَذِه حَاصِل عَادَة.

فَإِذا كَانَ الِالْتِقَاط للْمَالِك كَانَ الْإِذْن للملتقط بِوَضْع يَده حَاصِلا من الْمَالِك دلَالَة، وَلذَا كَانَ مَنْدُوبًا إِلَيْهِ وواجباً شرعا، فَتكون يَده يدا مَأْذُونا فِيهَا، وَإِذا كَانَت مَأْذُونا فِيهَا فَهِيَ يَد نائبة عَن يَد الْمَالِك، فَإِذا تعدى ثمَّ أَزَال التَّعَدِّي لَا يبْقى غَاصبا بل تعود يَد النِّيَابَة عَن الْمَالِك فَإِذا هَلَكت بعد ذَلِك لَا يضمن.

وَمَا نَقله عَن فَتَاوَى القَاضِي ظهير الدّين والواقعات من نفس الْخُصُومَة بَين الْمُلْتَقط الأول وَالثَّانِي لَيْسَ مُعَللا بِأَن يَد الأول لَيست يَد الْمَالِك، كَمَا قَالَ، حَتَّى ينْتج الْمَطْلُوب، بل هُوَ مُعَلل كَمَا ترى بِأَن للثَّانِي ولَايَة الْأَخْذ كَالْأولِ إِذْ إِن أَخذ الثَّانِي، كأخذ الأول، مَأْذُون فِيهِ دلَالَة، فَتكون يَده يَد نِيَابَة كَذَلِك فَلَا يتَرَجَّح الأول عَلَيْهِ، على أَنه نقل فِي الدّرّ الْمُخْتَار فِي كتاب اللّقطَة، عَن السراج، أَن الصَّحِيح أَن الْمُلْتَقط الأول لَهُ أَن يُخَاصم الْمُلْتَقط الثَّانِي فِي اللّقطَة ويأخذها مِنْهُ
তারা মালিকের নিকট ফেরত প্রদান করা ব্যতীত দায়মুক্ত হবে না। (৪) এদের সাথে চতুর্থ একটি বিষয় যুক্ত হবে (জামিউল ফুসুলাইন গ্রন্থের লেখক তাঁর গ্রন্থের তেত্রিশতম অধ্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি কাজী জহির ও ওয়াকিআত-এর ফাতাওয়া নির্দেশ করার পর বলেছেন): কেউ কুড়িয়ে পাওয়া কোনো বস্তু (লুকতা) গ্রহণ করল, এরপর সেটি তার নিকট থেকে হারিয়ে গেল এবং সে তা অন্য ব্যক্তির হাতে দেখতে পেল, তবে তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো মামলা বা বিবাদ চলবে না। আমানত (ওয়াদিয়া) এর বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। এ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—প্রথম ব্যক্তির মতো দ্বিতীয় ব্যক্তিরও কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে, যা আমানতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এরপর তিনি এর পরপরই বলেছেন: "আমি বলি: এটি প্রমাণ করে যে, যদি সে (লুকতা গ্রহণকারী) কোনো সীমালঙ্ঘন করে এবং পরে সেই সীমালঙ্ঘন দূর করে দেয়, আর এরপর বস্তুটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ মামলা না চলার যে বিষয়টি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তার দখল মালিকের দখল হিসেবে গণ্য নয়। সুতরাং তার সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে সে একজন জবরদখলকারী; তাই একজন জবরদখলকারী যে উপায়ে দায়মুক্ত হয়, সে উপায় ব্যতীত সে দায়মুক্ত হবে না।"

কিন্তু তিনি যে বিষয়টি আলোচনা করেছেন—অর্থাৎ সীমালঙ্ঘন করার পর তা দূর করার পর যদি বস্তুটি ধ্বংস হয় তবে কুড়িয়ে গ্রহণকারী দায়ী হবে—সেটি আমার নিকট স্পষ্ট নয়। বরং এর বিপরীতটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়। তা হলো—মালিককে ফেরত দেওয়ার নিয়তে হারানো বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া মুস্তাহাব যখন সেটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, আর যখন নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে তখন তা কুড়িয়ে নেওয়া ওয়াজিব। আর এটি কেবল মালিকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পরোক্ষ অনুমতির কারণেই হয়ে থাকে। আর মালিকের পরোক্ষ অনুমতি স্পষ্ট অনুমতির মতোই দায়মুক্তি প্রদান করে, যেমনটি ফুকাহায়ে কেরাম ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছেন—যদি কোনো রাখাল চারণভূমিতে থাকা অবস্থায় এমন কোনো উট জবেহ করে দেয় যা এমন অসুস্থ যে আর বেঁচে থাকার আশা নেই, তবে সে দায়ী হবে না। কারণ এমতাবস্থায় মালিকের পক্ষ থেকে সেটি জবেহ করার অনুমতি প্রথাগতভাবে বিদ্যমান থাকে।

সুতরাং কুড়িয়ে নেওয়া যখন মালিকের কল্যাণার্থে হয়, তখন মালিকের পক্ষ থেকে কুড়িয়ে গ্রহণকারীর দখলের পরোক্ষ অনুমতি অর্জিত হয়। আর একারণেই এটি শরয়িভাবে মুস্তাহাব ও ওয়াজিব হয়েছে। ফলে তার দখল হবে মালিক কর্তৃক অনুমোদিত দখল। আর যখন তা অনুমোদিত দখল হলো, তখন তা মালিকের দখলের স্থলাভিষিক্ত বা প্রতিনিধিত্বমূলক দখল হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় সে যদি সীমালঙ্ঘন করে এবং পরে তা দূর করে দেয়, তবে সে আর জবরদখলকারী হিসেবে থাকে না, বরং মালিকের প্রতিনিধিত্বমূলক দখলই বহাল হয়। সুতরাং এরপর যদি বস্তুটি ধ্বংস হয়, তবে সে দায়ী হবে না।

আর তিনি কাজি জহিরুদ্দিনের ফাতাওয়া এবং ওয়াকিআত থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কুড়িয়ে গ্রহণকারীর মধ্যে মামলা না চলার যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, তার কারণ এটি নয় যে প্রথম জনের দখল মালিকের দখল নয়—যেমনটি তিনি তাঁর দাবি প্রমাণের জন্য বলেছেন। বরং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে এর কারণ হলো—প্রথম ব্যক্তির মতো দ্বিতীয় ব্যক্তিরও সেটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। কেননা দ্বিতীয় ব্যক্তির গ্রহণ করাও প্রথম ব্যক্তির মতো পরোক্ষভাবে অনুমোদিত। ফলে তার দখলও একইভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক দখল হবে, তাই প্রথম ব্যক্তি তার ওপর অগ্রাধিকার পাবে না। অধিকন্তু আদ-দুররুল মুখতার-এর 'লুকতা' অধ্যায়ে সিরাজ গ্রন্থ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সঠিক মত হলো—প্রথম কুড়িয়ে গ্রহণকারীর অধিকার রয়েছে যে সে দ্বিতীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে লুকতা নিয়ে মামলা করবে এবং তা তার থেকে নিয়ে নেবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَيُسْتَفَاد مِنْهُ أَن ذَلِك عَام فِي كل أَمِين كَانَت يَده لَيست يَد استحفاظ من الْمَالِك، كوارث الْمُودع وَمن أَلْقَت الرّيح ثوبا فِي دَاره وَنَحْوهمَا.

أما لَو كَانَ الْمُسْتَعِير غير مستعير لينْتَفع بل ليرهن الْعين المعارة، وَهُوَ الْمُسَمّى بالمستعير للرَّهْن، فَإِن حكمه كَسَائِر الْأُمَنَاء، فَإِذا تعدى على الْعين المعارة وَهِي فِي يَده، أَي قبل أَن يرهنها أَو بَعْدَمَا افتكها، ثمَّ أَزَال التَّعَدِّي يبرأ عَن الضَّمَان.

وَالْفرق بَين الْمُسْتَعِير لعمل نَفسه وَالْمُسْتَأْجر وَبَين الْمُودع وَمن بِمَعْنَاهُ كالمستعير للرَّهْن، أَن الْمُسْتَعِير الْمَذْكُور أَو الْمُسْتَأْجر عَامل لنَفسِهِ فَكَانَت يَده على الْعين يَد نَفسه لَا يَد مَالِكهَا، فَبعد إِزَالَة التَّعَدِّي وَالْعود إِلَى الْوِفَاق تبقى يَده فَلَا يُمكن أَن يعْتَبر ردا على الْمَالِك لَا حَقِيقَة وَلَا حكما، بِخِلَاف الْمُودع وَمن بِمَعْنَاهُ فَإِن يَده على الْعين كيد مَالِكهَا فبالعود إِلَى الْوِفَاق تظهر يَد الْمَالِك فَيصير راداً عَلَيْهِ حكما فَيبرأ عَن الضَّمَان. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، كتاب الْوَدِيعَة، وَكتاب الرَّهْن بَاب التَّصَرُّف فِي الرَّهْن وَالْجِنَايَة عَلَيْهِ) .

تَنْبِيه: أطلق فِي بعض الْكتب ضَمَان الْمُسْتَعِير وَالْمُسْتَأْجر فِيمَا إِذا تَعَديا ثمَّ أزالا التَّعَدِّي، وَلم يفصل بَين مَا إِذا كَانَت انْتَهَت الْإِعَارَة وَالْإِجَارَة أَو لم تكن انْتَهَت، وَنقل فِي الْفَصْل الثَّانِي وَالثَّلَاثِينَ من نور الْعين عَن الْهِدَايَة تَرْجِيحه بعلامة الْأَصَح.

وَبَعْضهمْ فصل بَين مَا إِذا كَانَت انْتَهَت الْإِعَارَة وَالْإِجَارَة فَلَا يبرأ إِلَّا بِالرَّدِّ على الْمَالِك، وَبَين مَا إِذا كَانَت لم تَنْتَهِ فَيبرأ بِالْعودِ، وَنقل أَيْضا فِي نور الْعين عَن الْكَافِي تَرْجِيحه بعلامة الْأَصَح.

لكنه نقل فِي الْمحل الْمَذْكُور. قبل ذَلِك بأسطر، أَن القَوْل بضمانها مُطلقًا من غير تَفْصِيل عَلَيْهِ الْفَتْوَى، وَكَذَلِكَ حكى فِي الْفَصْل الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ من جَامع الْفُصُولَيْنِ، من بحث رد الْعَارِية وَمَا يتَعَلَّق بِهِ، أَن الْفَتْوَى على أَنه لَا يبرأ بِالْعودِ إِلَى الْوِفَاق.

6 - وَأما الْعُقُوبَات: فكالقصاص: فَإِنَّهُ يتَوَقَّف على أَن يقْصد الْقَاتِل
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি এমন প্রত্যেক আমানতদারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার কবজা বা দখল মালিকের পক্ষ থেকে হেফাযতের জন্য নয়; যেমন আমানতকারীর উত্তরাধিকারী এবং যার বাড়িতে বাতাস কোনো কাপড় উড়িয়ে এনেছে এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিগণ।

পক্ষান্তরে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তু নিজে ব্যবহারের জন্য ধার না নিয়ে বরং তা বন্ধক রাখার জন্য ধার নেয়—যাকে 'বন্ধক রাখার জন্য ঋণগ্রহীতা' বলা হয়—তবে তার বিধান অন্যান্য আমানতদারদের মতোই হবে। সুতরাং সে যদি তার দখলে থাকা অবস্থায়—অর্থাৎ বন্ধক রাখার আগে বা তা ছাড়িয়ে আনার পর—উক্ত ধারিয়া বস্তুর ওপর সীমালঙ্ঘন করে এবং পরবর্তীতে সেই সীমালঙ্ঘন দূর করে দেয়, তবে সে দায়ভার (জামানত) থেকে মুক্তি পাবে।

নিজের ব্যবহারের জন্য ঋণগ্রহীতা ও ভাড়াটিয়া এবং আমানত গ্রহীতা ও তার সমগোত্রীয় (যেমন বন্ধকের জন্য ঋণগ্রহীতা) ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য হলো—উল্লিখিত ঋণগ্রহীতা বা ভাড়াটিয়া নিজের স্বার্থে কাজ করে, ফলে বস্তুর ওপর তার দখল মালিকের দখল হিসেবে গণ্য না হয়ে বরং তার নিজের দখল হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং সীমালঙ্ঘন দূর করার পর এবং আইনি বাধ্যবাধকতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অবস্থায় ফিরে আসার পরও তার দখল বজায় থাকে, তাই একে বাস্তবে বা আইনগতভাবে মালিকের নিকট ফেরত প্রদান হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে, আমানত গ্রহীতা ও তার সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে বস্তুর ওপর তাদের দখল মালিকের দখলের মতোই। তাই পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার মাধ্যমে মালিকের দখল পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে আইনগতভাবে ফেরত প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হয়, ফলে সে দায়ভার থেকে মুক্তি পায়। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও এর হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার, আমানত অধ্যায় এবং বন্ধক অধ্যায়: বন্ধককৃত বস্তুর ব্যবহার ও এর ওপর অপরাধ পরিচ্ছেদ)।

সতর্কীকরণ: কোনো কোনো কিতাবে ঋণগ্রহীতা ও ভাড়াটিয়া যদি সীমালঙ্ঘন করে এবং পরে তা দূর করে দেয়, তবে তাদের দায়বদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ঢালাওভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ঋণ বা ভাড়ার মেয়াদ শেষ হয়েছে কি হয়নি—সে ব্যাপারে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। ‘নূরুল আইন’ কিতাবের ৩২তম পরিচ্ছেদে ‘হিদায়া’ থেকে এর ওপর ‘আসাহ’ (সবচেয়ে সঠিক) চিহ্ন দিয়ে একেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আবার কেউ কেউ এই পার্থক্য করেছেন যে, যদি ঋণ বা ভাড়ার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে মালিকের নিকট সরাসরি ফেরত দেওয়া ছাড়া সে দায়মুক্ত হবে না। আর যদি মেয়াদ শেষ না হয়ে থাকে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার মাধ্যমেই সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। ‘নূরুল আইন’ কিতাবে ‘কাফি’ থেকে একেও ‘আসাহ’ চিহ্ন দিয়ে প্রাধান্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু উক্ত স্থানেই এর কয়েক পঙ্ক্তি আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার পার্থক্য ছাড়াই ঢালাওভাবে দায়বদ্ধ হওয়ার মতটির ওপরই ফতোয়া। একইভাবে ‘জামি উল ফুসুলাইন’ কিতাবের ৩৩তম পরিচ্ছেদে ধারিয়া বস্তু ফেরত এবং এ সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফতোয়া হলো—আইনি বাধ্যবাধকতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অবস্থায় ফিরে আসার দ্বারা সে দায়মুক্ত হবে না।

৬ - আর দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে: যেমন কিসাস; এটি ঘাতকের সংকল্প বা ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
الْقَتْل، لَكِن الْآلَة المفرقة للأجزاء تُقَام مقَام قصد الْقَتْل، لِأَن هَذَا الْقَصْد مِمَّا لَا يُوقف عَلَيْهِ، وَدَلِيل الشَّيْء فِي الْأُمُور الْبَاطِنَة يُقَام مقَامه، ويتوقف على أَن يقْصد قتل نفس الْمَقْتُول لَا غَيره. فَلَو لم يقْصد الْقَتْل أصلا، أَو قصد الْقَتْل وَلَكِن أَرَادَ غير الْمَقْتُول فَأصَاب الْمَقْتُول، فَإِنَّهُ لَا يقْتَصّ مِنْهُ فِي شَيْء من ذَلِك بل تجب الدِّيَة، سَوَاء كَانَ مَا قَصده مُبَاحا، كَمَا لَو أَرَادَ قتل صيد أَو إِنْسَان مُبَاح الدَّم فَأصَاب آخر مُحْتَرم الدَّم، أَو كَانَ مَا قَصده مَحْظُورًا، كَمَا لَو أَرَادَ قتل شخص مُحْتَرم الدَّم فَأصَاب آخر مثله.

 

‌‌(ثَالِثا: الْمُسْتَثْنى)

 

‌‌(تَنْبِيه)

: إِن هَذِه الْقَاعِدَة لَا تجْرِي بَين أَمريْن مباحين لَا تخْتَلف بِالْقَصْدِ صفتهما، كَمَا لَو وَقع الْخلاف فِي كَون البيع صدر هزلا أَو مواضعة مثلا، لِأَن اخْتِلَاف الْقَصْد بَين الْهزْل والمواضعة لَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ ثَمَرَة، إِذْ كل مِنْهُمَا لَا يُفِيد تَمْلِيكًا وَلَا تملكاً.

بل تجْرِي بَين مباحين تخْتَلف صفتهما بِالْقَصْدِ، كَمَا لَو دَار الْأَمر بَين البيع المُرَاد حكمه وَبَين بيع الْمُوَاضَعَة وَنَحْوه كَمَا تقدم.

وتجري بَين مُبَاح ومحظور، كَمَا فِي فرع اللّقطَة الْمُتَقَدّم فَإِن التقاطها بنية حفظهَا لمَالِكهَا مُبَاح، وبنية أَخذهَا لنَفسِهِ مَحْظُور، كَمَا فِي مَسْأَلَة الْمُودع إِذا لبس ثوب الْوَدِيعَة ثمَّ نَزعه فَإِن عدم الْعود إِلَى لبسه مَطْلُوب وَالْعود إِلَيْهِ مَحْظُور.

وَبِذَلِك يَتَّضِح أَن مَا قَالَه بعض شرَّاح الْمجلة من أَن الْقَاعِدَة الْمَذْكُورَة لَا تجْرِي إِلَّا فِي الْمُبَاحَات غير ظَاهر.
হত্যা, তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পৃথককারী সরঞ্জাম হত্যার সংকল্পের স্থলাভিষিক্ত হয়; কারণ এই সংকল্প এমন একটি বিষয় যা সরাসরি অবগত হওয়া সম্ভব নয়, আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো জিনিসের প্রমাণকে সেই জিনিসের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। তবে এটি এই শর্তের ওপর নির্ভরশীল যে, হত্যার উদ্দেশ্য যেন স্বয়ং নিহত ব্যক্তিই হয়, অন্য কেউ নয়। সুতরাং যদি মোটেও হত্যার উদ্দেশ্য না থাকে, অথবা হত্যার উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু নিহত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে লক্ষ্য করেছিল এবং পরে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত ব্যক্তিকে আঘাত করে, তবে এগুলোর কোনোটিতেই তার নিকট থেকে কিসাস গ্রহণ করা হবে না; বরং রক্তপণ (দিয়াত) আবশ্যক হবে। চাই তার উদ্দেশ্যটি বৈধ হোক—যেমন সে কোনো শিকার বা এমন কোনো মানুষকে হত্যার ইচ্ছা করেছিল যার রক্ত বৈধ, কিন্তু এমন অন্য কাউকে আঘাত করল যার রক্ত সংরক্ষিত; অথবা তার উদ্দেশ্যটি নিষিদ্ধ হোক—যেমন সে কোনো সংরক্ষিত রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার ইচ্ছা করেছিল কিন্তু তার মতো অন্য কাউকে আঘাত করল।

 

‌‌(তৃতীয়ত: ব্যতিক্রমসমূহ)

 

‌‌(সতর্কবার্তা)

: এই নীতিটি এমন দুটি বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না যাদের বৈশিষ্ট্য সংকল্প বা উদ্দেশ্যের কারণে ভিন্ন হয় না। যেমন ক্রয়-বিক্রয়টি উপহাসমূলক হয়েছে নাকি গোপন চুক্তির ভিত্তিতে হয়েছে—এ নিয়ে যদি মতভেদ ঘটে; কারণ উপহাস ও গোপন চুক্তির মধ্যে উদ্দেশ্যের ভিন্নতার ওপর কোনো সুফল বা প্রভাব বর্তায় না। কেননা এগুলোর কোনটিই মালিকানা অর্পণ বা মালিকানা গ্রহণ নিশ্চিত করে না।

বরং এটি এমন দুটি বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় যাদের বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্যের কারণে ভিন্ন হয়ে যায়। যেমন বিষয়টি যদি এমন হয় যে, এটি কি এমন ক্রয়-বিক্রয় যার বিধান কাম্য নাকি এটি কেবল গোপন চুক্তিমূলক ক্রয়-বিক্রয় বা অনুরূপ কিছু, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এবং এটি বৈধ ও নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যেও কার্যকর হয়, যেমনটি কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে; কেননা মালিকের পক্ষ থেকে সংরক্ষণের নিয়তে তা কুড়িয়ে নেওয়া বৈধ, আর নিজের জন্য গ্রহণ করার নিয়তে তা তুলে নেওয়া নিষিদ্ধ। যেমন আমানত রক্ষাকারীর মাসআলায়, যখন সে আমানত রাখা কাপড় পরিধান করে এবং এরপর তা খুলে ফেলে; তখন পুনরায় তা পরিধান না করা কাম্য এবং পুনরায় পরিধান করা নিষিদ্ধ।

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, 'মাজাল্লাহ'-এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার যে বলেছেন—উল্লিখিত নীতিটি কেবল বৈধ বিষয়সমূহের মধ্যেই কার্যকর হয়—তা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌(الْقَاعِدَة الثَّانِيَة (الْمَادَّة / 3))

 

("‌‌ الْعبْرَة فِي الْعُقُود للمقاصد والمعاني، لَا للألفاظ والمباني ")

 

(أَولا _ الشَّرْح)

[" الْعبْرَة فِي الْعُقُود للمقاصد والمعاني لَا للألفاظ والمباني "] كَمَا فِي الْبَاب الموفي أَرْبَعِينَ من معِين الْحُكَّام، لَكِن بِلَفْظ فِي التَّصَرُّفَات بدل الْعُقُود، وَهُوَ أَعم من التَّعْبِير بِالْعُقُودِ، فَيشْمَل الدَّعَاوَى كَمَا سَيَأْتِي عَن أصُول الْكَرْخِي: " وَلذَا يجْرِي حكم الرَّهْن فِي بيع الْوَفَاء ".

هَذِه الْقَاعِدَة بِالنِّسْبَةِ للَّتِي قبلهَا كالجزئي من الْكُلِّي، فَتلك عَامَّة وَهَذِه خَاصَّة فتصلح أَن تكون فرعا مِنْهَا.

وَالْمرَاد بالمقاصد والمعاني: مَا يَشْمَل الْمَقَاصِد الَّتِي تعينها الْقَرَائِن اللفظية الَّتِي تُوجد فِي عقد فتكسبه حكم عقد آخر كَمَا سَيَأْتِي قَرِيبا فِي انْعِقَاد الْكفَالَة بِلَفْظ الْحِوَالَة، وانعقاد الْحِوَالَة بِلَفْظ الْكفَالَة، إِذا اشْترط فِيهَا بَرَاءَة الْمَدْيُون عَن الْمُطَالبَة، أَو عدم بَرَاءَته.

وَمَا يَشْمَل الْمَقَاصِد الْعُرْفِيَّة المرادة للنَّاس فِي اصْطِلَاح تخاطبهم، فَإِنَّهَا مُعْتَبرَة فِي تعْيين جِهَة الْعُقُود، فقد صرح الْفُقَهَاء بِأَنَّهُ يحمل كَلَام كل إِنْسَان على لغته وعرفه وَإِن خَالَفت لُغَة الشَّرْع وعرفه: (ر: رد الْمُحْتَار، من الْوَقْف عِنْد الْكَلَام على قَوْلهم: وَشرط الْوَاقِف كنص الشَّارِع) .

وَمن هَذَا الْقسم مَا ذَكرُوهُ من انْعِقَاد بعض الْعُقُود بِأَلْفَاظ غير الْأَلْفَاظ الْمَوْضُوعَة لَهَا مِمَّا يُفِيد معنى تِلْكَ الْعُقُود فِي الْعرف، كانعقاد البيع وَالشِّرَاء بِلَفْظ
‌(দ্বিতীয় মূলনীতি (ধারা / ৩))

 

("‌‌ চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়, শব্দ ও কাঠামোর নয় ")

 

(প্রথমত _ ব্যাখ্যা)

["চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়, শব্দ ও কাঠামোর নয়"] যেমনটি 'মুঈন আল-হুক্কাম'-এর ৪০তম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে 'চুক্তি' শব্দের পরিবর্তে 'লেনদেন' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যা 'চুক্তি' শব্দের চেয়ে অধিক ব্যাপক। ফলে এটি মামলা-মোকাদ্দমাকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি সামনে ইমাম কারখীর 'উসুল' থেকে আসবে: "আর একারণেই 'বাই আল-ওয়াফা'-তে বন্ধকের বিধান কার্যকর হয়।"

পূর্ববর্তী মূলনীতির তুলনায় এই মূলনীতিটি সামষ্টিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি আংশিক বিষয়ের মতো; অর্থাৎ সেটি সাধারণ এবং এটি বিশেষ, তাই এটি তার একটি শাখা হওয়ার উপযুক্ত।

'উদ্দেশ্য ও অর্থ' দ্বারা এমন সব উদ্দেশ্যও অন্তর্ভুক্ত যা কোনো চুক্তিতে বিদ্যমান শাব্দিক আলামত দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং সেই চুক্তিকে অন্য চুক্তির বিধান দান করে; যেমনটি শীঘ্রই আসবে যে, 'হাওয়ালার' শব্দ দ্বারা 'কাফালাহ' সম্পন্ন হওয়া এবং 'কাফালাহ' শব্দ দ্বারা 'হাওয়ালা' সম্পন্ন হওয়া, যখন তাতে দেনাদারের দায়মুক্তি বা দায়মুক্ত না হওয়ার শর্ত থাকে।

এবং এটি মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনের পরিভাষায় তাদের প্রচলিত উদ্দেশ্যসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ চুক্তির ধরণ নির্ধারণে এগুলো গ্রহণযোগ্য। ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রত্যেক মানুষের কথাকে তার ভাষা ও প্রচলিত রীতির (উরফ) ওপর প্রয়োগ করা হবে, যদিও তা শরীয়তের ভাষা ও রীতির পরিপন্থী হয়: (দ্রষ্টব্য: রাদ্দ আল-মুহতার, ওয়াকফ অধ্যায়, এই কথার আলোচনায়: "ওয়াকফকারীর শর্ত শারী'র (বিধানদাতার) বাণীর মতো")।

আর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো যা তারা উল্লেখ করেছেন যে, কিছু চুক্তি এমন সব শব্দের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় যা মূলত সেই চুক্তির জন্য নির্ধারিত নয়, তবে তা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সেই চুক্তির অর্থ প্রদান করে; যেমন ক্রয়-বিক্রয় এমন শব্দের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া যা...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْأَخْذ والإعطاء. (ر: مَادَّة / 169 و 172 / من الْمجلة) ، وَكَذَا انْعِقَاد شِرَاء الثِّمَار على الْأَشْجَار بِلَفْظ " الضَّمَان " فِي عرفنَا الْحَاضِر.

 

(ثَانِيًا _ التطبيق)

1 - إِن جَرَيَان حكم الرَّهْن فِي بيع الْوَفَاء لَيْسَ فِي جَمِيع الْأَحْكَام بل فِي بَعْضهَا، وَبَيَان ذَلِك أَنه اخْتلف فِي بيع الْوَفَاء فَقيل هُوَ بيع صَحِيح، وَقيل بيع فَاسد، وَقيل هُوَ رهن. والمفتى بِهِ هُوَ القَوْل الْجَامِع، وَعَلِيهِ جرت الْمجلة فِي الْمَادَّة / 118 / وَهُوَ أَن بيع الْوَفَاء لَهُ شبه بِالْبيعِ الصَّحِيح، وَشبه بالفاسد، وَشبه بِالرَّهْنِ، وَله من كل شبه بعض أَحْكَام الْمُشبه بِهِ.

وَلَا مَانع من أَن يكون للْعقد الْوَاحِد أَكثر من حكم وَاحِد بِاعْتِبَار الْمَقْصُود مِنْهُ، كَالْهِبَةِ بِشَرْط الْعِوَض كَمَا سَيَأْتِي.

وكقرض القيمي، فَإِنَّهُ قرض من وَجه بِحَيْثُ يملكهُ الْمُسْتَقْرض بِالْقَبْضِ، وعارية من وَجه حَيْثُ إِنَّه يجب رد عينه على الْمقْرض كَمَا سَيَأْتِي فِي الْكَلَام على هَذِه الْمَادَّة نقلا عَن رد الْمُحْتَار أول فصل الْقَرْض.

وكالمضاربة، فَإِن المَال عِنْد الْمضَارب أَمَانَة، فَإِذا تصرف فَهُوَ وَكيل، فَإِذا ربح فَهُوَ شريك، فَإِذا فَسدتْ فَهُوَ أجِير إِجَارَة فَاسِدَة، فَإِذا خَالف فَهُوَ غَاصِب. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّلَاثِينَ، صفحة / 61) .

وكالاستصناع، فَإِن لَهُ شبها بِالْبيعِ، وشبهاً بِالْإِجَارَة، فَإِنَّهُ إِذا وَقع على مَا جرى فِيهِ تعامل وَلم يُؤَجل أَو أجل دون أجل السّلم على وَجه الاستعجال كَانَ لَهُ شبهان، شبه بِالْبيعِ بِخِيَار للمتبايعين حَتَّى إِن لكل مِنْهُمَا فَسخه، وَشبه بِالْإِجَارَة حَتَّى إِنَّه يبطل بِمَوْت الصَّانِع.

وَثُبُوت الْخِيَار لَهما قبل الْعَمَل لَا خلاف فِيهِ عندنَا، وَأما بعد الْعَمَل فثبوته لَهما هُوَ الصَّحِيح فِي الْمَذْهَب، وَرُوِيَ عَن أبي يُوسُف لُزُومه بِلَا خِيَار لأحد الْمُتَعَاقدين. (ر: الْبَدَائِع، كتاب الاستصناع، والدر الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، أَوَاخِر بَاب السّلم) .
গ্রহণ ও প্রদান। (দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাহ-এর ১৬৯ ও ১৭২ নং ধারা), অনুরূপভাবে আমাদের বর্তমান প্রচলিত প্রথায় 'জামিন' (নিশ্চয়তা) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের ফল বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া।

 

(দ্বিতীয়ত - প্রয়োগ)

১ - বাইউল ওয়াফায় (ফেরতযোগ্য বিক্রয়) বন্ধক বা রহনের বিধান জারি হওয়া সব বিধানের ক্ষেত্রে নয়, বরং কিছু বিধানের ক্ষেত্রে। এর ব্যাখ্যা হলো, বাইউল ওয়াফার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন এটি সহিহ বা বৈধ বিক্রয়, কেউ বলেছেন ফাসেদ বা ত্রুটিযুক্ত বিক্রয়, আবার কেউ বলেছেন এটি বন্ধক। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সমন্বিত মতটিই গ্রহণ করা হয়েছে এবং মাজাল্লাহ-এর ১১৮ নম্বর ধারায় এটিই অনুসৃত হয়েছে। তা হলো: বাইউল ওয়াফার সাথে বৈধ বিক্রয়ের সাদৃশ্য রয়েছে, ফাসেদ বিক্রয়ের সাদৃশ্য রয়েছে এবং বন্ধকের সাদৃশ্যও রয়েছে। ফলে এটি প্রতিটি সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু বিধান লাভ করে।

উদ্দেশ্য বিবেচনায় একটি চুক্তির একাধিক বিধান থাকাতে কোনো বাধা নেই, যেমন প্রতিদানের শর্তে হেবা (দান), যা সামনে আলোচিত হবে।

এবং যেমন মূল্যভিত্তিক বস্তুর ঋণ (কারজে কিয়ামি); এটি একদিক থেকে ঋণ, যার ফলে ঋণগ্রহীতা এটি হস্তগত করার মাধ্যমে মালিকানা লাভ করে, আবার অন্যদিক থেকে এটি আরিইয়াহ বা ধারের ন্যায়, কারণ ঋণদাতার নিকট মূল বস্তুটিই ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। যেমনটি এই ধারার আলোচনায় 'রদ্দুল মুহতার'-এর ঋণের অধ্যায়ের শুরু থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সামনে আলোচিত হবে।

এবং মুদারাবার ন্যায়; মুদারিবের নিকট গচ্ছিত সম্পদ হলো আমানত, যখন সে তা পরিচালনা করে তখন সে প্রতিনিধি বা উকিল, যখন মুনাফা হয় তখন সে অংশীদার, যখন চুক্তিটি ফাসেদ বা বাতিল হয়ে যায় তখন সে ফাসেদ ইজারার অধীনে পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কর্মী, আর যখন সে শর্ত লঙ্ঘন করে তখন সে জবরদখলকারী বা গাসিব। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, ৩০তম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৬১)।

এবং ইস্তিসনা (পণ্য তৈরির ফরমাইশ); এর সাথে বিক্রয়েরও সাদৃশ্য রয়েছে এবং ইজারারও সাদৃশ্য রয়েছে। যদি এটি প্রচলিত বিষয়গুলোর ওপর সংঘটিত হয় এবং কোনো সময় নির্ধারিত না থাকে, অথবা তড়িঘড়ি করার স্বার্থে সালাম চুক্তির মেয়াদের চেয়ে কম মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়, তবে এর দুটি সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকে: উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তি বাতিলের অধিকার (খিয়ার) থাকার দিক থেকে বিক্রয়ের সাথে সাদৃশ্য, এমনকি তাদের প্রত্যেকের জন্য এটি বাতিল করার সুযোগ থাকে; আবার কারিগরের মৃত্যুতে এটি বাতিল হয়ে যাওয়ার দিক থেকে ইজারার সাথে সাদৃশ্য।

কাজ শুরু করার আগে উভয়ের জন্য চুক্তি বাতিলের অধিকার বা খিয়ার থাকার বিষয়ে আমাদের নিকট কোনো মতভেদ নেই। তবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উভয়ের জন্য এই অধিকার বহাল থাকাটাই মাযহাবের সঠিক মত। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো পক্ষের ইখতিয়ার ছাড়াই এটি বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। (দ্রষ্টব্য: আল-বাদায়ি, কিতাবুল ইস্তিসনা; আদ-দুররুল মুখতার এবং এর টীকা রদ্দুল মুহতার, সালাম অধ্যায়ের শেষাংশ)।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وعَلى هَذَا فَمَا جرت عَلَيْهِ الْمجلة فِي الْمَادَّة / 392 / من أَن الاستصناع ينْعَقد لَازِما لَيْسَ مذهبا لأحد من أَئِمَّتنَا، وَمَا ذكرته فِي الْمقَالة الأولى من الْمُقدمَة من أَنَّهَا جرت فِيهَا على قَول أبي يُوسُف لَيْسَ بِصَحِيح، لما سَمِعت من أَنه لَا خلاف لأحد من أَئِمَّتنَا فِي ثُبُوت الْخِيَار لكل مِنْهُمَا قبل الْعَمَل، إِنَّمَا الْخلاف بعد الْعَمَل.

كَمَا إِنَّهَا جرت أَيْضا قبل ذَلِك فِي الْمَادَّة / 389 / على مَا ظَاهره بفيد صِحَة الاستصناع فِيمَا لَا تعامل فِيهِ، وَلم أره قولا لأحد فِي الْمَذْهَب، بل الْمَنْصُوص عَلَيْهِ فِي الْمُتُون أَنه لَا يَصح استصناعاً وَلَكِن إِذا استوفى شَرَائِط السّلم يكون سلما.

فَأَما شبه بيع الْوَفَاء بِالْبيعِ الصَّحِيح: (أ) فَمن جِهَة أَنه لَو كَانَ بِالدّينِ كَفِيل فشرى الطَّالِب بِهِ عقار الْمَدْيُون وَفَاء بطلت الْكفَالَة ثمَّ لَا تعود لَو تفاسخا بيع الْوَفَاء. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّامِن عشر، صفحة / 247) .

(ب) وَمن جِهَة أَن المُشْتَرِي لَهُ أَن ينْتَفع بِالْبيعِ وَفَاء وَيملك من زوائده مَا قَابل مُدَّة بَقَائِهِ فِي يَده بِحكم البيع، وَلَا يضمنهَا بإتلافها، حَتَّى لَو بَاعَ إِنْسَان بستاناً مثلا وَفَاء ثمَّ فسخ البيع بعد مُضِيّ بعض السّنة تقسم الْغلَّة بِالْحِصَّةِ على اثْنَي عشر شهرا، فَيَأْخُذ المُشْتَرِي حِصَّة مَا مضى سَوَاء كَانَت ظَهرت فِيهِ الْغلَّة أَو لَا، وَلَو لم يخرج الثَّمر أصلا فَلَيْسَ للْمُشْتَرِي أَن يَأْخُذ من البَائِع شَيْئا، وَلَو أدْركْت الْغلَّة وَأَخذهَا المُشْتَرِي فَلَيْسَ لَهُ نقض البيع وَطلب الثّمن حَتَّى تتمّ السّنة من وَقت البيع، إِلَّا إِذا أَرَادَ أَن يَأْخُذ من الْغلَّة نصيب مَا مضى وَيتْرك عَلَيْهِ نصيب مَا بَقِي فَلهُ ذَلِك. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّامِن عشر) .

(ج) وَمن جِهَة أَنه يجوز إِجَارَته للْبَائِع بعد الْقَبْض وَتلْزَمهُ الْأُجْرَة، أما لَو آجر قبل قَبضه فقد نقل فِي الْفَصْل الثَّامِن عشر من جَامع الْفُصُولَيْنِ، عَن شيخ الْإِسْلَام برهَان الدّين وَعَن فَوَائِد بعض الْمُتَأَخِّرين وَعَن أبي الْفضل الْكرْمَانِي، أَنه يجوز، وَنقل عَن مُحِيط الديناري أَن الْأَصَح عدم الْجَوَاز وَأَنه بِهِ يُفْتى، وأدلة كل من الْقَوْلَيْنِ مبسوطة هُنَاكَ.

غير أَن الْعرف جارٍ الْيَوْم على إِجَارَته من البَائِع قبل قَبضه، فَلَو أفتى مفتٍ
এই ভিত্তিতে, 'মাজাল্লাহ' এর ৩৯২ নম্বর ধারায় যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইস্তিসনা (তৈরি করার চুক্তি) একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি হিসেবে সম্পন্ন হয়, তা আমাদের ইমামগণের কারো মাযহাব নয়। এবং ভূমিকার প্রথম প্রবন্ধে আমি যা উল্লেখ করেছি যে, এতে ইমাম আবু ইউসুফের মত অনুসরণ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কেননা আপনি শুনেছেন যে, কাজ শুরু করার পূর্বে উভয় পক্ষের জন্য (চুক্তি বাতিলের) ইখতিয়ার বা অধিকার থাকার বিষয়ে আমাদের ইমামগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই; মতভেদ কেবল কাজ শুরু হওয়ার পরের বিষয়ে।

তেমনিভাবে এর আগে ৩৮৯ নম্বর ধারায় যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাহ্যিক দিক এমনটি নির্দেশ করে যে, যেসব বিষয়ে (পণ্য তৈরিতে) কোনো প্রচলন নেই, সেগুলোতেও ইস্তিসনা সহীহ হবে। অথচ মাযহাবের কারো এমন কোনো বক্তব্য আমি দেখিনি। বরং মূল গ্রন্থগুলোতে (মুতুন) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি ইস্তিসনা হিসেবে সহীহ নয়; তবে যদি এটি সালাম চুক্তির শর্তাবলি পূরণ করে, তবে তা সালাম হিসেবে গণ্য হবে।

আর সহীহ বিক্রয়ের সাথে 'বাইউল ওয়াফা'র সাদৃশ্যের দিকগুলো হলো: (ক) এই দিক থেকে যে, ঋণের ক্ষেত্রে যদি কোনো জামিনদার থাকে এবং পাওনাদার সেই ঋণের বিনিময়ে ঋণী ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি 'বাইউল ওয়াফা' হিসেবে ক্রয় করে, তবে জামিনদারি বাতিল হয়ে যাবে। এরপর তারা যদি 'বাইউল ওয়াফা' চুক্তিটি বাতিলও করে দেয়, তবুও সেই জামিনদারি আর ফিরে আসবে না। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, ১৮শ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২৪৭)।

(খ) এই দিক থেকে যে, ক্রেতার জন্য 'বাইউল ওয়াফা'র মাধ্যমে অর্জিত বস্তু থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার রয়েছে। বিক্রয়ের বিধান অনুযায়ী এটি তার অধীনে থাকাকালীন সময়ের আনুপাতিক হারে এর অতিরিক্ত লাভের মালিকানা সে লাভ করবে। এবং সেগুলো নষ্ট করার কারণে তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। এমনকি যদি কোনো ব্যক্তি উদাহরণস্বরূপ একটি বাগান 'বাইউল ওয়াফা' হিসেবে বিক্রি করে এবং বছরের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর বিক্রয় চুক্তিটি বাতিল করা হয়, তবে উৎপন্ন ফসল সময়ের আনুপাতিক হারে বারো মাসের ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা হবে। ফলে ক্রেতা অতিক্রান্ত সময়ের অংশটুকু গ্রহণ করবে, চাই সে সময় ফসল আসুক বা না আসুক। যদি কোনো ফল উৎপন্নই না হয়, তবে ক্রেতার বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু দাবি করার অধিকার নেই। আর যদি ফসল পেকে যায় এবং ক্রেতা তা গ্রহণ করে, তবে বিক্রয় সময় থেকে এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য বিক্রয় বাতিল করা এবং মূল্য ফেরত চাওয়া বৈধ নয়। তবে সে যদি ফসলের অতিক্রান্ত সময়ের অংশটুকু গ্রহণ করতে চায় এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রেতার জন্য ছেড়ে দিতে চায়, তবে তার সেই অধিকার থাকবে। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, ১৮শ অধ্যায়)।

(গ) এই দিক থেকে যে, পণ্য হস্তগত করার পর তা বিক্রেতার কাছেই ভাড়ায় দেওয়া বৈধ এবং বিক্রেতার ওপর ভাড়া পরিশোধ করা আবশ্যক হবে। তবে হস্তগত করার আগেই যদি ভাড়ায় দেওয়া হয়, তবে 'জামিউল ফুসুলাইন'-এর ১৮শ অধ্যায়ে শায়খুল ইসলাম বুরহান উদ্দিন, পরবর্তীকালের কিছু আলিমের 'ফাওয়াইদ' এবং আবুল ফজল আল-কিরমানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি বৈধ। আবার 'মুহিত আদ-দিনারি' থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী এটি বৈধ নয় এবং এর ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়। উভয় মতের দলিলসমূহ সেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে পণ্য হস্তগত করার আগেই বিক্রেতার নিকট তা ভাড়ায় দেওয়ার প্রচলন রয়েছে; সুতরাং কোনো মুফতি যদি ফতোয়া প্রদান করেন...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
بِالْجَوَازِ بِنَاء على القَوْل بِهِ كَانَ حسنا، لِأَن هَذَا القَوْل لَيْسَ بضعيف لِأَنَّهُ مُقَابل للأصح فَيكون صَحِيحا، على أَن الْعرف يصلح أَن يكون مُخَصّصا شرعا فِي مثل هَذَا، كَمَا يُسْتَفَاد مِمَّا سَيَأْتِي فِي كلامنا على الْمَادَّة / 36 /.

وَأما شبهه بِالْبيعِ الْفَاسِد: فَمن جِهَة أَن كلا من الْمُتَبَايعين يملك فَسخه واسترداد مَا دَفعه وَإِن لم يرض الآخر.

وَأما شبهه بِالرَّهْنِ: (أ) فَمن جِهَة أَنه لَيْسَ للْبَائِع وَلَا للْمُشْتَرِي بيع مَبِيع الْوَفَاء للْغَيْر إِلَّا بِإِذن الآخر.

(ب) وَأَن الْعقار الْمَبِيع بِالْوَفَاءِ لَا يُؤْخَذ بِالشُّفْعَة.

(ج) وَأَنه لَو بيع عقار بجانبه فَالشُّفْعَة فِيهِ للْمَالِك وَهُوَ البَائِع، لَا للْمُشْتَرِي. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّامِن عشر) .

(د) وَأَنه لَو مَاتَ البَائِع وَفَاء فَلَيْسَ لسَائِر الْغُرَمَاء التَّعَرُّض مَا لم يسْتَوْف المُشْتَرِي دينه.

(هـ) وَأَن الْمَبِيع وَفَاء إِذا هلك فِي يَد المُشْتَرِي من غير تعد مِنْهُ ضمنه ضَمَان الرَّهْن، فَإِن كَانَت قِيمَته مُسَاوِيَة للدّين سقط الدّين بمقابلته، وَإِن كَانَت نَاقِصَة عَن الدّين سقط من الدّين بِقدر قِيمَته واسترد المُشْتَرِي الْبَاقِي من البَائِع، وَإِن كَانَت قِيمَته زَائِدَة على الدّين سقط مِنْهَا مِقْدَار الدّين، وَمَا زَاد من قِيمَته عَن مِقْدَار الدّين يعْتَبر أَمَانَة فِي يَد المُشْتَرِي. فَإِن كَانَ هَلَاك الْمَبِيع بتعد من المُشْتَرِي كَانَ مَا زَاد من الْقيمَة مَضْمُونا عَلَيْهِ أَيْضا. (ر: الْموَاد / 118 و 396 و 397 و 399 و 403) .

وَلم أر حكم مَا لَو انْتقض بعض الْبناء أَو يبس بعض الْأَشْجَار فِي بيع الْوَفَاء، لمن يكون النَّقْض أَو الْحَطب، وَالظَّاهِر أَنَّهُمَا للْمَالِك، لِأَنَّهُ عين الْمَبِيع أَو وصف فِيهِ وَأَنه مَمْلُوك لَهُ بأجزائه وأوصافه وَلَيْسَ مَنْفَعَة من مَنَافِعه، وَيكون
বৈধতার প্রবক্তাদের মতানুসারে এর ওপর ভিত্তি করা উত্তম হবে, কারণ এই মতটি দুর্বল নয়; যেহেতু এটি 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ' (আসাহ) মতের বিপরীতে একটি মত, তাই এটি বিশুদ্ধ (সহীহ) হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া এ জাতীয় ক্ষেত্রে সামাজিক প্রথা বা উরফ শরয়িভাবে বিশেষত্ব প্রদানকারী (মুখাসসিস) হওয়ার যোগ্যতা রাখে, যেমনটি ৩৬ নম্বর ধারার আলোচনায় আমাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হবে।

আর ফাসিদ বিক্রয়ের (বাইউল ফাসিদ) সাথে এর সাদৃশ্য হলো: এই দিক থেকে যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই চুক্তিটি বাতিল করার এবং যা প্রদান করেছে তা ফেরত নেওয়ার অধিকার থাকে, যদিও অন্য পক্ষ তাতে সন্তুষ্ট না হয়।

আর বন্ধকের (রাহন) সাথে এর সাদৃশ্য হলো: (ক) এই দিক থেকে যে, বিক্রেতা বা ক্রেতা কারো জন্যই অন্য পক্ষের অনুমতি ব্যতীত 'বাইউল ওয়াফা'র মাধ্যমে বিক্রয়কৃত বস্তু তৃতীয় কোনো পক্ষের নিকট বিক্রয় করা বৈধ নয়।

(খ) এবং 'বাইউল ওয়াফা'র মাধ্যমে বিক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি অগ্রক্রয়াধিকারের (শুফ'আ) ভিত্তিতে গ্রহণ করা যায় না।

(গ) এবং যদি এর পার্শ্ববর্তী কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হয়, তবে তাতে অগ্রক্রয়াধিকারের হক প্রকৃত মালিক তথা বিক্রেতার হবে, ক্রেতার নয়। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ)।

(ঘ) এবং যদি ওয়াফা-বিক্রেতা মৃত্যুবরণ করে, তবে ক্রেতা তার পাওনা ঋণ পূর্ণরূপে বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত অন্যান্য পাওনাদাররা এতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

(ঙ) এবং ওয়াফাকৃত বিক্রিত বস্তু যদি ক্রেতার পক্ষ থেকে কোনো সীমালঙ্ঘন ছাড়াই তার হাতে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এর দায়বদ্ধতা বন্ধকী পণ্যের দায়বদ্ধতার মতো হবে। সুতরাং যদি এর মূল্য ঋণের সমান হয়, তবে ঋণের বিনিময়ে তা রহিত হয়ে যাবে। আর যদি তার মূল্য ঋণের চেয়ে কম হয়, তবে মূল্য অনুপাতে ঋণ রহিত হবে এবং ক্রেতা অবশিষ্ট অংশ বিক্রেতার নিকট থেকে ফেরত নেবে। আর যদি এর মূল্য ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়, তবে তা থেকে ঋণের পরিমাণ রহিত হবে এবং ঋণের অতিরিক্ত অংশটুকু ক্রেতার নিকট আমানত হিসেবে গণ্য হবে। তবে যদি বস্তুটি ক্রেতার সীমালঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মূল্যের অতিরিক্ত অংশটুকুর দায়ও তার ওপর বর্তাবে। (দ্রষ্টব্য: ধারা নং ১১৮, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৯ ও ৪০৩)।

আমি বাইউল ওয়াফা-এর ক্ষেত্রে ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বা কোনো গাছ শুকিয়ে গেলে সেই ধ্বংসাবশেষ বা জ্বালানি কাঠ কার প্রাপ্য হবে—সে সম্পর্কিত কোনো বিধান দেখিনি। তবে প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ই মালিকের প্রাপ্য হবে; কারণ তা বিক্রিত বস্তুর মূল সত্তা বা তার গুণের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তার অংশ ও গুণাবলি-সহ মালিকের মালিকানাধীন, এটি কোনো ব্যবহারের উপযোগিতা (মানফায়াত) নয়; বরং এটি হবে...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
للْمُشْتَرِي حق حَبسه إِلَى اسْتِيفَاء الثّمن، لِأَنَّهُ شَبيه بِالرَّهْنِ من جِهَة حق الْحَبْس عِنْد المُشْتَرِي وَحقّ الِاسْتِرْدَاد للْبَائِع عِنْد أَدَاء الثّمن.

ويفترق بيع الْوَفَاء عَن الرَّهْن فِي أُمُور: (أ) مِنْهَا أَن بيع الْوَفَاء يَصح فِي الْمشَاع وَلَو كَانَ يحْتَمل الْقِسْمَة.

(ب) وَأَن البَائِع وَفَاء إِذا رد للْمُشْتَرِي نصف الثّمن الَّذِي قَبضه يَنْفَسِخ البيع فِي نصف الْمَبِيع فيتمكن حِينَئِذٍ من بيع النّصْف للْغَيْر بِلَا إجَازَة المُشْتَرِي. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، بيع الْوَفَاء) . وَوَضعه الْمَسْأَلَة فِي النّصْف غير احترازي كَمَا هُوَ ظَاهر.

(ج) وَأَن الْمَبِيع وَفَاء تصح إِجَارَته من البَائِع وَمن غَيره كَمَا تقدم، بِخِلَاف الرَّهْن فَإِن إِجَارَته من الرَّاهِن لَا تصح بل تكون إِعَارَة وللمرتهن اسْتِرْدَاده مِنْهُ وحبسه بِالدّينِ، وَأما إِجَارَته من غير الرَّاهِن فَإِذا بَاشَرَهَا أَحدهمَا من رَاهن أَو مُرْتَهن بِإِذن الآخر خرج بهَا عَن الرَّهْن ثمَّ لَا يعود إِلَّا بِعقد رهن جَدِيد: (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، بَاب التَّصَرُّف فِي الرَّهْن وَالْجِنَايَة عَلَيْهِ) . وَإِذ خرج عَن الرَّهْن لَا يكون بدل الْإِجَارَة رهنا بدله، لِأَن الْأُجْرَة بدل الْمَنْفَعَة لَا الْعين، بِخِلَاف مَا إِذا بَاعه أَحدهمَا من رَاهن أَو مُرْتَهن بِإِذن الآخر حَيْثُ يخرج من الرَّهْن وَيكون الثّمن رهنا بدله، لِأَنَّهُ بدل الْعين. (ر: الدُّرَر، والدر الْمُخْتَار، بَاب التَّصَرُّف فِي الرَّهْن وَالْجِنَايَة عَلَيْهِ) .

وَالْفرق بَين إِجَارَة الْمُرْتَهن الرَّهْن للرَّاهِن وَبَين إِجَارَة أَحدهمَا من أَجْنَبِي بِإِذن الآخر _ حَيْثُ تكون الْإِجَارَة فِي الأولى عَارِية أَو وَدِيعَة لَا يخرج بهَا عَن الرَّهْن، بل يستعيده مِنْهُ ويحبسه بِالدّينِ، وَفِي الثَّانِيَة يخرج عَن الرَّهْن ثمَّ لَا يعود إِلَّا بِعقد جَدِيد _ هُوَ أَن الْإِجَارَة من الْعُقُود اللَّازِمَة، والعقود إِنَّمَا ترَاد وتقصد لأحكامها، وَحكم الْإِجَارَة ملك الْمُسْتَأْجر للِانْتِفَاع بالمأجور وَاسْتِحْقَاق الْمَالِك للأجرة، وكل من الْحكمَيْنِ مُتَوَقف على نَزعه من يَد الْمُرْتَهن وتسليمه للْمُسْتَأْجر، إِذْ بِدُونِ ذَلِك لَا يتَمَكَّن من الِانْتِفَاع وَإِذا لم يتَمَكَّن من الِانْتِفَاع لَا تجب الْأُجْرَة عَلَيْهِ.
ক্রেতার নিকট মূল্য আদায় করা পর্যন্ত পণ্যটি আটকে রাখার অধিকার রয়েছে, কারণ এটি ক্রেতার নিকট আটকে রাখার অধিকার এবং মূল্য পরিশোধের সময় বিক্রেতার নিকট তা ফেরত পাওয়ার অধিকারের দিক থেকে বন্ধকের (রাহন) সদৃশ।

বায়' আল-ওয়াফা (ওয়াদা বিক্রয়) কয়েকটি বিষয়ে বন্ধক থেকে পৃথক হয়: (ক) তার মধ্যে একটি হলো, বায়' আল-ওয়াফা অবিভক্ত সম্পত্তিতে (মুশা') বৈধ হয়, যদিও তা বিভাজনযোগ্য হয়।

(খ) বায়' আল-ওয়াফাতে বিক্রেতা যদি তার গ্রহণ করা মূল্যের অর্ধেক ক্রেতাকে ফেরত দেয়, তবে বিক্রয়কৃত পণ্যের অর্ধেকের ক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে ক্রেতার অনুমতি ছাড়াই ওই অর্ধেক অংশ অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে সক্ষম হয়। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, বায়' আল-ওয়াফা অধ্যায়)। মাসআলাটি অর্ধেকের উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করা নির্দিষ্ট কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি স্পষ্ট।

(গ) বায়' আল-ওয়াফাতে বিক্রয়কৃত পণ্য বিক্রেতা বা অন্য কারো কাছে ইজারা (ভাড়া) দেওয়া বৈধ, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু বন্ধকের বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা বন্ধকদাতার কাছে বন্ধকী বস্তু ইজারা দেওয়া বৈধ নয়, বরং তা ধার (আরিয়্যাত) হিসেবে গণ্য হয় এবং বন্ধকগ্রহীতার অধিকার থাকে তা তার থেকে ফেরত নেওয়ার এবং ঋণের বিনিময়ে আটকে রাখার। আর বন্ধকদাতা ব্যতীত অন্য কারো কাছে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে, যদি বন্ধকদাতা বা বন্ধকগ্রহীতার মধ্যে কোনো একজন অন্যজনের অনুমতি নিয়ে তা সম্পাদন করে, তবে এর মাধ্যমে বস্তুটি বন্ধক অবস্থা থেকে বের হয়ে যায় এবং পুনরায় নতুন বন্ধক চুক্তি ছাড়া তা বন্ধক হিসেবে গণ্য হয় না। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও তার টীকা রদ্দুল মুহতার, বন্ধকী বস্তুর ব্যবহার ও তার ওপর অপরাধ সংক্রান্ত অধ্যায়)। যখন তা বন্ধক থেকে বের হয়ে যায়, তখন ইজারার বিনিময় (ভাড়া) বন্ধকের স্থলাভিষিক্ত হয় না; কারণ ভাড়া হলো উপকারের বিনিময়, মূল বস্তুর (আইন) নয়। পক্ষান্তরে, যদি বন্ধকদাতা বা বন্ধকগ্রহীতার মধ্যে কোনো একজন অন্যজনের অনুমতি নিয়ে তা বিক্রি করে দেয়, তবে তা বন্ধক থেকে বের হয়ে যায় এবং বিক্রয়লব্ধ মূল্যটি বন্ধকের স্থলাভিষিক্ত হয়; কারণ তা হলো মূল বস্তুর (আইন) বিনিময়। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুরার এবং আদ-দুররুল মুখতার, বন্ধকী বস্তুর ব্যবহার ও তার ওপর অপরাধ সংক্রান্ত অধ্যায়)।

বন্ধকগ্রহীতা কর্তৃক বন্ধকদাতার নিকট বন্ধকী বস্তু ইজারা দেওয়া এবং অন্যজনের অনুমতি নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে ইজারা দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো—প্রথম ক্ষেত্রে ইজারাটি ধার (আরিয়্যাত) বা আমানত (ওয়াদিয়া) হিসেবে গণ্য হয় যার মাধ্যমে বস্তুটি বন্ধক অবস্থা থেকে বের হয় না, বরং সে তা থেকে পুনরায় গ্রহণ করে ঋণের বিনিময়ে আটকে রাখে। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা বন্ধক অবস্থা থেকে বের হয়ে যায় এবং পুনরায় নতুন চুক্তি ছাড়া ফিরে আসে না—এর কারণ হলো ইজারা একটি বাধ্যতামূলক (লাজিম) চুক্তি। আর চুক্তিগুলো তার বিধানাবলীর (আহকাম) উদ্দেশ্যেই করা হয়। ইজারার বিধান হলো ইজারাগ্রহীতা কর্তৃক ইজারা দেওয়া বস্তু থেকে উপকার ভোগের মালিকানা লাভ করা এবং মালিকের ভাড়া প্রাপ্তির অধিকার লাভ করা। আর এই উভয় বিধানই বন্ধকগ্রহীতার হাত থেকে বস্তুটি নিয়ে ইজারাগ্রহীতার কাছে হস্তান্তরের ওপর নির্ভরশীল। কারণ এটি ছাড়া উপকার ভোগ করা সম্ভব নয়, আর উপকার ভোগ করতে না পারলে তার ওপর ভাড়া দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
فَحَيْثُ بَاشر الْمُرْتَهن هَذَا العقد إِلَى ثَالِث بِإِذن الْمَالِك، وَهُوَ الرَّاهِن، أَو أذن بِهِ للرَّاهِن فَفعله اسْتحق الْمُسْتَأْجر عَلَيْهِ نَزعه من يَده وَوضع يَده عَلَيْهِ بِحكم هَذَا العقد اللَّازِم، وَسقط حَقه فِي حَبسه بِالدّينِ، وَإِذا سقط لَا يعود إِلَّا بِعقد رهن جَدِيد، هَكَذَا ظهر لي فِي وَجه الْفرق، ثمَّ رَأَيْته بِهَذَا الْمَعْنى فِي مَبْسُوط السَّرخسِيّ. (ر: الْمَبْسُوط، كتاب الرَّهْن، بَاب رهن الْحَيَوَان، ج / 21 / صفحة / 108 وَغَيرهَا من الْبَاب الْمَذْكُور) .

بِخِلَاف إِجَارَته من الرَّاهِن، فَإِنَّهُم صَرَّحُوا ببطلانها، وَمَا ذَاك إِلَّا لكَون عين الرَّهْن ملكا لَهُ، وَالْإِنْسَان لَا يُمكن أَن يسْتَأْجر مَا هُوَ ملكه، وَإِذا بطلت كَانَ وجودهَا كَالْعدمِ فَلم يبْق إِلَّا مُجَرّد تَسْلِيم الْمُرْتَهن الرَّهْن للرَّاهِن بِوَجْه غير مُسْتَحقّ عَلَيْهِ وَلَا وَاجِب، وَهَذَا لَا يُوجب سُقُوط حَقه فِي حبس الرَّهْن فَلِذَا كَانَ لَهُ اسْتِرْدَاده مِنْهُ وإعادته إِلَى يَده بِحكم الرَّهْن. إِن هَذِه الْقَاعِدَة تجْرِي فِي كثير من الْعُقُود، غير (1) بيع الْوَفَاء، فتجري: (2، 3) بَين الْكفَالَة وَالْحوالَة، (4) وَبَين البيع وَالْهِبَة، (5) وَبَين الْهِبَة وَالْإِجَارَة، [ (6) وَبَين الْهِبَة وَالْإِقَالَة] ، (7) وَبَين الْهِبَة وَالْقِسْمَة، (8) وَبَين الْمُضَاربَة وَالْقَرْض والبضاعة، (9) وَبَين الصُّلْح وَغَيره من الْعُقُود، (10) وَبَين الْوِصَايَة وَالْوكَالَة، (11) وَبَين الْعَارِية وَالْقَرْض، (12) وَبَين الْعَارِية وَالْإِجَارَة، (13) وَبَين الْإِقَالَة وَالْبيع فِي حق غير الْمُتَبَايعين، (14) وَبَين الشُّفْعَة وَالْبيع، (15) وَبَين الْإِقْرَار وَالْبيع، وَكثير غَيرهَا.

2 - أما الْكفَالَة فَهِيَ ضم ذمَّة إِلَى ذمَّة فِي الْمُطَالبَة، فَإِذا اشْترط فِيهَا بَرَاءَة الْمَدْيُون عَن الْمُطَالبَة تعْتَبر حِوَالَة فَيشْتَرط حِينَئِذٍ فِيهَا مَا يشْتَرط فِي الْحِوَالَة، وَلَا يُطَالب الدَّائِن إِلَّا الْكَفِيل فَقَط، وَلَا يرجع على الْمَكْفُول عَنهُ إِلَّا إِذا توي المَال، أَي هلك، عِنْد الْكَفِيل، وَذَلِكَ بِأَن يجْحَد الْكفَالَة مَعَ عجز الدَّائِن عَن إِثْبَاتهَا وَيحلف عِنْد تَكْلِيف الْحَاكِم لَهُ الْيَمين، أَو يَمُوت الْكَفِيل مُفلسًا، أَو يفلسه الْحَاكِم فَحِينَئِذٍ يرجع الدَّائِن على الْمَدْيُون الْمَكْفُول.

3 - وَكَذَلِكَ الْحِوَالَة، وَهِي نقل الدّين من ذمَّة الْمُحِيل إِلَى ذمَّة الْمحَال
অতএব, যখন বন্ধকগ্রহীতা মালিকের—যিনি বন্ধকদাতা—অনুমতিক্রমে তৃতীয় কোনো পক্ষের সাথে এই চুক্তি সম্পাদন করে, অথবা বন্ধকদাতার জন্য এর অনুমতি দেয় এবং সে তা সম্পন্ন করে, তখন ভাড়াটে এই বাধ্যতামূলক চুক্তির বিধান অনুযায়ী তার হাত থেকে তা সরিয়ে নেওয়ার এবং নিজের দখলে রাখার অধিকারী হয়। এমতাবস্থায় ঋণের দায়ে তা আটকে রাখার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর একবার তা বিলুপ্ত হয়ে গেলে নতুন কোনো বন্ধক চুক্তি ব্যতীত তা আর ফিরে আসে না। পার্থক্যের দিকটি আমার কাছে এভাবেই প্রতিভাত হয়েছে, অতঃপর আমি সারখাসির 'আল-মাবসুত'-এ এই অর্থেই এটি দেখেছি। (দ্রষ্টব্য: আল-মাবসুত, কিতাবুর রাহন, প্রাণীর বন্ধক অধ্যায়, খণ্ড ২১, পৃষ্ঠা ১০৮ এবং উক্ত অধ্যায়ের অন্যান্য স্থান)।

পক্ষান্তরে বন্ধকদাতার কাছে তা ভাড়া দেওয়া এর ব্যতিক্রম; কেননা ফকীহগণ তা বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। আর তা একারণেই যে, বন্ধকী বস্তুটি স্বয়ং তার মালিকানাভুক্ত, আর মানুষের পক্ষে নিজের মালিকানাধীন বস্তু ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয়। আর যখন এটি বাতিল হবে, তখন এর অস্তিত্ব অনস্তিত্বের সমান হয়ে যাবে। ফলে তখন বন্ধকগ্রহীতা কর্তৃক বন্ধকদাতার নিকট বন্ধকী বস্তুটি অর্পণ করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, যা কোনো পাওনা বা আবশ্যিক উপায়ে হয়নি। এটি বন্ধকী বস্তু আটকে রাখার অধিকার বিলুপ্ত হওয়াকে অবধারিত করে না। তাই বন্ধকী বিধান অনুযায়ী তা তার নিকট থেকে ফেরত নেওয়া এবং নিজের অধিকারে ফিরিয়ে আনার অধিকার তার থাকে। এই নীতিটি 'বাইউল ওয়াফা' (১) ব্যতীত আরও অনেক চুক্তিতে প্রযোজ্য হয়। যেমন: (২, ৩) জামিনদারী (কাফালাহ) ও ঋণ স্থানান্তর (হাওয়াবাহ)-এর মধ্যে, (৪) বিক্রয় ও দান (হেবা)-এর মধ্যে, (৫) দান ও ভাড়ার মধ্যে, [(৬) দান ও চুক্তি বাতিল (ইকালাহ)-এর মধ্যে], (৭) দান ও বণ্টনের মধ্যে, (৮) মুদারাবাহ, ঋণ ও পুঁজি বিনিয়োগ (বিদআহ)-এর মধ্যে, (৯) আপস-মীমাংসা ও অন্যান্য চুক্তির মধ্যে, (১০) অসিয়ত ও প্রতিনিধিত্ব (ওকালাহ)-এর মধ্যে, (১১) ধার দেওয়া (আরিয়াহ) ও ঋণের মধ্যে, (১২) ধার দেওয়া ও ভাড়ার মধ্যে, (১৩) ক্রেতা-বিক্রেতা ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল ও বিক্রয়ের মধ্যে, (১৪) অগ্রক্রয়াধিকার (শুফআহ) ও বিক্রয়ের মধ্যে, (১৫) স্বীকৃতি ও বিক্রয়ের মধ্যে এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে।

2 - আর জামিনদারী (কাফালাহ) হলো দেনা আদায়ের দাবিতে একজনের জিম্মাদারির সাথে অন্যজনের জিম্মাদারিকে যুক্ত করা। যদি এতে দেনাদারকে দায়মুক্ত করার শর্তারোপ করা হয়, তবে তা ঋণ স্থানান্তর (হাওয়াবাহ) হিসেবে গণ্য হবে। তখন এতে ঋণ স্থানান্তরের শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে। পাওনাদার তখন কেবল জামিনদারের নিকটই দাবি করতে পারবে। আর জামিনদারের কাছে সম্পদ বিনষ্ট বা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সে মূল দেনাদারের শরণাপন্ন হতে পারবে না। আর তা হলো এই যে, জামিনদার জামিনদারী অস্বীকার করল অথচ পাওনাদার তা প্রমাণে অক্ষম হলো এবং বিচারকের আদেশে সে শপথ করল; অথবা জামিনদার নিঃস্ব অবস্থায় মারা গেল কিংবা বিচারক তাকে নিঃস্ব ঘোষণা করল—এমতাবস্থায় পাওনাদার মূল দেনাদারের কাছে ফিরে যেতে পারবে।

3 - একইভাবে ঋণ স্থানান্তর (হাওয়াবাহ), যা হলো মূল দেনাদারের জিম্মা থেকে অন্য কারো জিম্মায় ঋণ স্থানান্তরিত করা।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
عَلَيْهِ، فَإِنَّهَا إِذا اشْترط فِيهَا عدم بَرَاءَة الْمُحِيل عَن الْمُطَالبَة تعْتَبر كَفَالَة، فَيشْتَرط فِيهَا مَا يشْتَرط فِي الْكفَالَة، وَيُطَالب الْمحَال كلا من الْمُحِيل والمحال عَلَيْهِ. (ر: الْمَادَّة / 148 و 149 من الْمجلة) . وَكَذَا لَو ادّعى كَفَالَة وَأقَام شَاهِدين شهد أَحدهمَا بِالْكَفَالَةِ وَشهد الآخر بالحوالة تقبل وَتثبت الْكفَالَة، لِأَنَّهَا أقل، وَهَذَانِ اللفظان جعلا كلفظة وَاحِدَة. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، آخر الْفَصْل الْحَادِي عشر) .

4 - وَأما الْهِبَة فَإِنَّهَا إِذا شَرط فِيهَا تعويض الْوَاهِب تصح وَتعْتَبر هبة ابْتِدَاء وبيعاً انْتِهَاء، فبالنظر لكَونهَا هبة يشْتَرط لصحتها شُرُوط الْهِبَة، فَلَا تصح من الصَّغِير وَلَو كَانَ الْعِوَض كثيرا. (ر: تأسيس النّظر للدبوسي) ، وَكَذَا لَا تصح من وليه وَلَو بعوض مَا. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار، كتاب الْهِبَة) ، وَيجب فِيهَا التَّقَابُض فِي الْعِوَضَيْنِ، وَلَا تصح فِي مشاعٍ يحْتَمل الْقِسْمَة وَلَا فِيمَا هُوَ مُتَّصِل بِغَيْرِهِ اتِّصَال الْأَجْزَاء أَو مَشْغُول بِغَيْرِهِ، كَمَا لَو وهب الزَّرْع دون الأَرْض أَو الأَرْض دون الزَّرْع أَو الثَّمر دون الشّجر أَو الشّجر دون الثَّمر، لِأَن ذَلِك فِي معنى الْمشَاع، إِلَى غير ذَلِك من شَرَائِط الْهِبَة.

وبالنظر لكَونهَا بيعا لَا يَصح الرُّجُوع فِيهَا، وَيجْرِي فِيهَا الرَّد بِالْعَيْبِ وَخيَار الرُّؤْيَة، وَتُؤْخَذ بِالشُّفْعَة. أما اشْتِرَاط كَون الْعِوَض مَعْلُوما فَفِيهِ خلاف، وَظَاهر مِثَال الْمَادَّة / 855 / من الْمجلة اشْتِرَاط علمه.

وَهَذَا التَّفْصِيل فِيمَا إِذا قَالَ الْوَاهِب: وَهبتك بِشَرْط أَن تعوض كَذَا، أما لَو قَالَ: وَهبتك بِكَذَا دَرَاهِم مثلا كَانَت بيعا ابْتِدَاء وانتهاءً. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، كتاب الْهِبَة) .

5 - وكما تكون هبة الْعين بِشَرْط الْعِوَض بيعا، على الْوَجْه المشروح، تكون هبة الْمَنْفَعَة بِشَرْط الْعِوَض إِجَارَة. (ر: الْأَشْبَاه والنظائر لِابْنِ نجيم، كتاب الْبيُوع) .

6 - وَقد تعْتَبر الْهِبَة إِقَالَة، كَمَا لَو وهب المُشْتَرِي الْمَبِيع الْمَنْقُول من البَائِع قبل قَبضه مِنْهُ كَانَ إِقَالَة إِذا قبل البَائِع الْهِبَة، وَيسْتَرد المُشْتَرِي مِنْهُ حِينَئِذٍ الثّمن،
এর উপর। কারণ এতে (হাওয়ালার ক্ষেত্রে) যদি দেনাদারকে (মুহিল) দাবি থেকে অব্যাহতি না দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়, তবে তা জামিনদারী (কাফালাহ) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় এতে কাফালাহর শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে এবং পাওনাদার (মুহাল) দেনাদার ও যার উপর হাওয়ালা করা হয়েছে—উভয়ের নিকট থেকেই দাবি করতে পারবে। (দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাহর ধারা ১৪৮ ও ১৪৯)। অনুরূপভাবে, কেউ যদি কাফালাহর দাবি করে এবং দুইজন সাক্ষী পেশ করে, যাদের মধ্যে একজন কাফালাহর সাক্ষ্য দেয় এবং অন্যজন হাওয়ালার সাক্ষ্য দেয়, তবে তা কবুল করা হবে এবং কাফালাহ সাব্যস্ত হবে; কারণ এটি (হাওয়ালার তুলনায় দায়বদ্ধতায়) কম, এবং এই শব্দ দুটিকে একটি শব্দের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে। (দ্রষ্টব্য: জামিউল ফুসুলাইন, একাদশ পরিচ্ছেদের শেষাংশ)।

৪ - আর হিবা বা দান প্রসঙ্গে কথা হলো, এতে যদি দাতা (ওয়াহিব)-কে প্রতিদান প্রদানের শর্ত করা হয়, তবে তা সহীহ হবে এবং প্রারম্ভিক অবস্থায় হিবা ও পরিণতির দিক থেকে বিক্রয় (বাই) হিসেবে গণ্য হবে। হিবা হওয়ার দিক বিবেচনায় এর শুদ্ধতার জন্য হিবা-র শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে। সুতরাং অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটি সহীহ হবে না, যদিও প্রতিদান অনেক বেশি হয়। (দ্রষ্টব্য: দবূসীর তাসিসুন নাজর)। অনুরূপভাবে তার অভিভাবকের পক্ষ থেকেও এটি সহীহ হবে না, চাই বিনিময়ে যাই থাকুক। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার, কিতাবুল হিবা)। এতে উভয় পক্ষের প্রতিদান হস্তগত করা ওয়াজিব। আর বিভাজনযোগ্য অবিভক্ত সম্পত্তিতে (মুশা') এবং এমন কোনো বস্তুতে হিবা সহীহ হবে না যা অন্য কিছুর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত বা অন্য কিছু দ্বারা পূর্ণ থাকে; যেমন—জমি ছাড়া ফসল দান করা, অথবা ফসল ছাড়া জমি দান করা, অথবা গাছ ছাড়া ফল দান করা, কিংবা ফল ছাড়া গাছ দান করা; কারণ এগুলো অবিভক্ত সম্পত্তির (মুশা') অর্থের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও হিবা-র অন্যান্য শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে।

আর বিক্রয় (বাই) হওয়ার দিক বিবেচনায় এটি থেকে ফিরে আসা (রুজু করা) বৈধ হবে না, এতে ত্রুটিজনিত ফেরত প্রদানের অধিকার (খিয়ারুল আইব) ও দেখে নেওয়ার অধিকার (খিয়ারুর রুয়াত) কার্যকর হবে এবং এটি ক্রয়াধিকারের (শুফআহ) অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতিদান সুনির্দিষ্ট (মালুম) হওয়া শর্ত কি না—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে মাজাল্লাহর ৮৫৫ নম্বর ধারার উদাহরণ থেকে প্রতিদান নির্দিষ্ট হওয়া শর্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

এই বিস্তারিত আলোচনা তখনই প্রযোজ্য যখন দাতা বলে: "আমি তোমাকে এই শর্তে দান করলাম যে তুমি আমাকে অমুক প্রতিদান দিবে।" কিন্তু সে যদি বলে: "আমি তোমাকে এত দিরহামের বিনিময়ে দান করলাম," তবে তা শুরু ও শেষ—উভয় দিক থেকেই বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও এর টীকা রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হিবা)।

৫ - যেভাবে কোনো বস্তুর (আইন) হিবা প্রতিদানের শর্তে বিক্রয় হিসেবে গণ্য হয়—যেটি উপরে বর্ণিত হয়েছে, তদ্রূপ কোনো উপযোগের (মানফাআত) হিবা প্রতিদানের শর্তে ইজারা বা ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: ইবনে নুজাইমের আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর, কিতাবুল বুয়ূ)।

৬ - কখনো দানকে ইকালাহ বা চুক্তি রদ হিসেবেও গণ্য করা হয়। যেমন—ক্রেতা যদি তার কেনা স্থাবর পণ্য বিক্রেতার কাছ থেকে হস্তগত করার পূর্বেই তাকে তা দান করে দেয়, তবে বিক্রেতা সেই দান কবুল করলে তা 'ইকালাহ' হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্রেতা তখন তার কাছ থেকে মূল্য ফেরত পাবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
لِأَن تصرف المُشْتَرِي فِي الْمَنْقُول قبل قَبضه من البَائِع لَا يجوز، فَلَا يُمكن تَصْحِيح الْهِبَة، بل تعْتَبر مجَازًا عَن الْإِقَالَة. (ر: تنوير الْأَبْصَار وَشَرحه الدّرّ الْمُخْتَار، كتاب الْبيُوع، أَوَائِل بَاب التَّصَرُّف فِي الْمَبِيع وَالثمن. وَمن بَاب الْإِقَالَة فِي رد الْمُحْتَار) . وكما لَو وهب رب السّلم الْمُسلم فِيهِ من الْمُسلم إِلَيْهِ وَقبل الْهِبَة كَانَت الْهِبَة إِقَالَة. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار، من بَاب السّلم) لِأَن تصرف رب السّلم فِي الْمُسلم فِيهِ قبل قَبضه لَا يَصح فَكَانَ مجَازًا عَن الْإِقَالَة.

وكما تكون الْهِبَة فِي معنى البيع وَالشِّرَاء قد يكون الشِّرَاء هبة، فقد قَالَ فِي الدّرّ الْمُخْتَار (فِي الْفُرُوع آخر متفرقات الْبيُوع، عَن الْمُلْتَقط) : شرت لطفلها على أَن لَا ترجع عَلَيْهِ بِالثّمن جَازَ، وَهُوَ كَالْهِبَةِ اسْتِحْسَانًا، وَقَالَ فِي حَاشِيَته، نقلا عَن الْخَانِية: تكون الْأُم مشترية لنَفسهَا ثمَّ يصير هبة مِنْهَا لولدها الصَّغِير وصلَة، وَلَيْسَ لَهَا أَن تمنع المشري عَن وَلَدهَا الصَّغِير.

7 - وَأما جريانها بَين الْقِسْمَة وَالْهِبَة فَكَمَا لَو أَمر أَوْلَاده أَن يقتسموا أرضه الْفُلَانِيَّة بَينهم وَأَرَادَ بِهِ التَّمْلِيك، فاقتسموها وتراضوا على هَذِه الْقِسْمَة تثبت لَهُم الْملك، وَلَا حَاجَة أَن يَقُول لَهُم جملَة: ملكتكم هَذِه الْأَرَاضِي، وَلَا أَن يَقُول لكل وَاحِد مِنْهُم، مَلكتك هَذَا النَّصِيب المفرز. (ر: رد الْمُحْتَار، عَن التَّتارْخَانِيَّة، قبيل الرُّجُوع فِي الْهِبَة، موضحاً) ، وكما لَو اقتسم الْوَرَثَة التَّرِكَة ذُكُورا وإناثاً على السوية صَحَّ بطرِيق الْهِبَة لَا الْإِرْث. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّامِن وَالْعِشْرين، صفحة / 39) .

8 - وَأما الْمُضَاربَة، فَإِنَّهَا إِذا شَرط فِيهَا أَن يكون كل الرِّبْح للْمُضَارب تعْتَبر قرضا، فَإِذا تلف المَال فِي يَد الْمضَارب يكون مَضْمُونا عَلَيْهِ. وَإِذا شَرط فِيهَا أَن يكون كل الرِّبْح لرب المَال تعْتَبر بضَاعَة _ وَهِي: أَن يكون المَال وَربحه لوَاحِد وَالْعَمَل من الآخر _ وَيكون المَال حِينَئِذٍ فِي يَد الْقَابِض أَمَانَة. (ر: الْأَشْبَاه والنظائر، كتاب الْبيُوع) .

9 - وَأما الصُّلْح فَإِنَّهُ يعْتَبر بأقرب الْعُقُود إِلَيْهِ، فَحِينَئِذٍ إِمَّا أَن يكون الْمُدعى عَلَيْهِ مقرا للْمُدَّعِي بالمدعى بِهِ أَو مُنْكرا
কারণ বিক্রেতার নিকট থেকে হস্তগত করার পূর্বে অস্থাবর সম্পত্তিতে ক্রেতার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা মালিকানাসুলভ আচরণ বৈধ নয়, তাই এক্ষেত্রে হেবা শুদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়; বরং একে রূপকভাবে 'ইকালা' (চুক্তি রদ) হিসেবে গণ্য করা হবে। (দ্রষ্টব্য: তানভীরুল আবসার ও এর শারহ দুররুল মুখতার, কিতাবুল বুয়ূ, ক্রয়কৃত পণ্য ও মূল্যে হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের প্রথমাংশ; এবং রদ্দুল মুহতারের ইকালা পরিচ্ছেদ)। যেমন, যদি 'সালাম' চুক্তিতে পণ্যের অগ্রিম মূল্য প্রদানকারী ব্যক্তি (রাব্বুস সালাম) চুক্তিকৃত পণ্যটি (মুসলাম ফিহি) হস্তগত করার পূর্বেই তা পণ্য সরবরাহকারীর (মুসলাম ইলাইহি) নিকট হেবা করে দেয় এবং সে তা গ্রহণ করে, তবে এই হেবাটি 'ইকালা' হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: দুররুল মুখতার, সালাম পরিচ্ছেদ)। কারণ, হস্তগত করার পূর্বে 'সালাম' চুক্তির পণ্যে পুঁজিদাতার কোনো হস্তক্ষেপ শুদ্ধ নয়, তাই এটি ইকালার একটি রূপক হিসেবে গণ্য হবে।

যেমনভাবে হেবা কখনো ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়, তেমনিভাবে ক্রয় করাও কখনো হেবা হতে পারে। যেমন 'দুররুল মুখতার'-এ (বিবিধ ক্রয়-বিক্রয় পরিচ্ছেদের শেষে, আল-মুলতাকাত থেকে উদ্ধৃত) বলা হয়েছে: এক নারী তার শিশুর জন্য কোনো কিছু ক্রয় করল এই শর্তে যে, সে উক্ত মূল্য শিশুর নিকট থেকে পুনরায় দাবি করবে না; এটি জায়েয এবং 'ইস্তিহসান' অনুযায়ী তা হেবা হিসেবে গণ্য হবে। আর এর হাশিয়ায় 'খানিয়া' থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: মা মূলত নিজের জন্য ক্রেতা হিসেবে গণ্য হবেন, অতঃপর তা তার ছোট সন্তানের জন্য তার পক্ষ থেকে হেবা ও অনুদান হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় তার জন্য ক্রয়কৃত পণ্যটি ছোট সন্তানের নিকট পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার থাকবে না।

৭ - আর বণ্টন এবং হেবার মধ্যকার প্রয়োগ হলো এমন: যেমন যদি কোনো ব্যক্তি তার সন্তানদের নির্দেশ দেয় যে তারা যেন তার অমুক ভূমিটি নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয় এবং এর দ্বারা সে মালিকানা অর্পণ করার ইচ্ছা পোষণ করে; অতঃপর তারা তা বণ্টন করল এবং এই বণ্টনের ওপর পরস্পর সম্মত হলো, তবে তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সন্তানদের সকলকে একত্রে এ কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, 'আমি তোমাদের এই ভূমিগুলোর মালিক বানিয়ে দিলাম', কিংবা তাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে বলারও প্রয়োজন নেই যে, 'আমি তোমাকে এই নির্দিষ্ট অংশটির মালিক বানিয়ে দিলাম'। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, তাতারখানিয়া থেকে উদ্ধৃত, হেবা থেকে প্রত্যাবর্তন পরিচ্ছেদের পূর্বে, বিস্তারিত)। তেমনিভাবে যদি ওয়ারিশরা তাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি নারী ও পুরুষের মাঝে সমান হারে বণ্টন করে নেয়, তবে তা হেবা হিসেবে সহীহ হবে, মিরাস বা উত্তরাধিকার হিসেবে নয়। (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ২৮তম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৩৯)।

৮ - আর মুদারাবার বিষয়টি হলো এই যে, যদি তাতে এই শর্ত করা হয় যে মুনাফার পুরোটাই মুদারিব (শ্রমদানকারী) পাবে, তবে তা 'করজ' (ঋণ) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় যদি মুদারিবের হাতে মাল নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার দায়ভার (জামানত) তাকেই বহন করতে হবে। আর যদি শর্ত করা হয় যে মুনাফার পুরোটাই পুঁজিদাতার (রাব্বুল মাল) হবে, তবে একে 'বিদাআহ' হিসেবে গণ্য করা হবে—অর্থাৎ পুঁজি ও মুনাফা একজনের (মালিকের) থাকবে আর কাজ হবে অন্যজনের—এমতাবস্থায় পুঁজি গ্রহণকারীর হাতে তা 'আমানত' হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর, কিতাবুল বুয়ূ)।

৯ - আর 'সুলহ' বা আপস-মীমাংসার বিষয়টি হলো, একে তার নিকটবর্তী চুক্তিসমূহের আলোকে বিবেচনা করা হবে। এমতাবস্থায় বিবাদী হয় বাদীর দাবিকৃত বিষয়ের স্বীকৃতি দেবে অথবা অস্বীকার করবে...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
فَفِي حَالَة إِقْرَاره إِن وَقع الصُّلْح عَن مَال بِمَال يَدْفَعهُ الْمُدعى عَلَيْهِ يعْتَبر بيعا، فَيجْرِي فِي الْمُدعى بِهِ الرَّد بِالْعَيْبِ، وَيُؤْخَذ بِالشُّفْعَة إِن كَانَ عقارا. وَإِن وَقع عَن مَال بِمَنْفَعَة يعْتَبر إِجَارَة. وَإِن كَانَ الصُّلْح عَن دَعْوَى النِّكَاح يعْتَبر خلعاً فتجري فِيهِ أَحْكَام الْخلْع.

وَفِي حَالَة إِنْكَار الْمُدعى عَلَيْهِ إِذا تصالحا على بدل يَدْفَعهُ الْمُدَّعِي يكون ذَلِك فِي حَقه صلحا مَحْضا لقطع الْمُنَازعَة، فَلَا يُمكنهُ بعد عقد الصُّلْح أَن يرد الْمُدعى بِهِ، أَي الْمصَالح عَنهُ، بِالْعَيْبِ، وَلَا يُؤْخَذ بِالشُّفْعَة لَو كَانَ عقارا. أما فِي حق الْمُدعى عَلَيْهِ الْمُنكر، وَهُوَ الَّذِي قبض بدل الصُّلْح، فَإِن رَجَعَ عَن إِنْكَاره وَصدق الْمُدَّعِي أَو لم يرجع وَلَكِن برهن الْمُدَّعِي على دَعْوَاهُ كَانَ فِي حَقه أَيْضا بيعا فتترتب عَلَيْهِ أَحْكَام البيع من الرَّد بِخِيَار الرُّؤْيَة وَالْعَيْب وَالْأَخْذ بِالشُّفْعَة لَو كَانَ الْبَدَل عقارا. (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّلَاثِينَ، صفحة / 67) . وَهَذَا لَا يظْهر إِلَّا فِيمَا إِذا كَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الْمُدعى عَلَيْهِ وَإِلَّا كَانَ صلحا مَحْضا كَمَا هُوَ ظَاهر. (ر: التَّنْبِيه الأول وَالثَّانِي الْآيَتَيْنِ فِي الْكَلَام على هَذِه الْقَاعِدَة) .

10 - وَأما الْوِصَايَة وَالْوكَالَة فَكَمَا لَو أوصى الْإِنْسَان غَيره بِبيع شَيْء من مَاله فَإِن ذَلِك يكون وكَالَة، وَلَو وَكله بتنفيذ وَصيته بعد مَوته يكون ذَلِك وصاية. (ر: الْفَتَاوَى الْبَزَّازِيَّة) .

11 - وَكَذَلِكَ الْعَارِية وَالْقَرْض، فَإِن إِعَارَة مَا يجوز قرضه، كالنقود والمثليات، تعْتَبر قرضا. (ر: الْفَتَاوَى الْهِنْدِيَّة) . وَكَذَا قرض مَا لَا يجوز قرضه، كالقيمي، يعْتَبر عَارِية، لَكِن من جِهَة أَنه يجب رد عينه لَا من جَمِيع الْوُجُوه، لِأَنَّهُ فِي هَذِه الصُّورَة يملك بِالْقَبْضِ وَيكون مَضْمُونا كالقرض الْمَحْض. (ر: رد الْمُحْتَار، أول الْقَرْض) . 12 - وَأما جريانها بَين الْعَارِية وَالْإِجَارَة فَكَمَا لَو قَالَ رجل لآخر: أعرتك دَاري هَذِه مثلا شهرا بِكَذَا كَانَ إِجَارَة. (ر: تنوير الْأَبْصَار وَشَرحه، أَوَائِل كتاب الْإِجَارَة) .

13 - وَأما جريانها بَين الْإِقَالَة وَالْبيع فَكَمَا لَو بَاعَ الْمَوْهُوب لَهُ الْعين
স্বীকৃতির (ইকরার) ক্ষেত্রে, যদি বিবাদী কর্তৃক পরিশোধিত কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের আপোষ-নিষ্পত্তি (সুলহ) সম্পন্ন হয়, তবে তা ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং, দাবীকৃত বস্তুটি ত্রুটির কারণে ফেরত দেওয়ার নিয়ম এতে প্রযোজ্য হবে এবং তা স্থাবর সম্পত্তি হলে প্রাক-ক্রয়াধিকার (শুফ’আ) কার্যকর হবে। আর যদি সম্পদের বিনিময়ে কোনো উপযোগ বা সুবিধার (মানফাত) মাধ্যমে আপোষ হয়, তবে তা ইজারা হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি বিবাহের দাবীর বিপরীতে আপোষ করা হয়, তবে তা খুল’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে খুল’-এর বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে।

বিবাদীর অস্বীকৃতির (ইনকার) ক্ষেত্রে, যদি তারা বাদী কর্তৃক পরিশোধিত কোনো বিনিময়ের ভিত্তিতে আপোষ করে, তবে বিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে তা বাদীর ক্ষেত্রে নিছক আপোষ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আপোষের চুক্তির পর তিনি ত্রুটির কারণে দাবীকৃত বস্তু বা আপোষকৃত বস্তু ফেরত দিতে পারবেন না এবং তা স্থাবর সম্পত্তি হলেও প্রাক-ক্রয়াধিকার প্রযোজ্য হবে না। তবে অস্বীকারকারী বিবাদীর ক্ষেত্রে—যিনি আপোষের বিনিময় গ্রহণ করেছেন—যদি তিনি তার অস্বীকৃতি থেকে ফিরে আসেন এবং বাদীর দাবীকে সত্য বলে স্বীকার করেন, অথবা ফিরে না আসলেও বাদী তার দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেন, তবে তার ক্ষেত্রেও এটি ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। ফলস্বরূপ, তার ওপর ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানাবলী যেমন: পণ্য দেখার পর সিদ্ধান্তের অধিকার (খিয়ারে রুইয়াত), ত্রুটির কারণে ফেরত দেওয়ার অধিকার এবং বিনিময়টি স্থাবর সম্পত্তি হলে প্রাক-ক্রয়াধিকারের বিধান কার্যকর হবে। (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ৩০তম অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৬৭)। আর এটি কেবল তখনই প্রকাশ পায় যখন বিনিময় প্রদানকারী বিবাদী হয়, অন্যথায় তা নিছক আপোষ হিসেবেই গণ্য হবে যেমনটি স্পষ্ট। (দ্রষ্টব্য: এই মূলনীতির আলোচনায় প্রথম ও দ্বিতীয় সতর্কীকরণ)।

১০ - ওসীয়ত এবং ওকালত প্রসঙ্গে: যেমন কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে তার সম্পদের কোনো কিছু বিক্রয় করার জন্য নির্দেশ দেয়, তবে তা ওকালত (প্রতিনিধিত্ব) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তার মৃত্যুর পর তার ওসীয়ত কার্যকর করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করে, তবে তা ওসীয়ত হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: ফাতাওয়ায়ে বাযযাযিয়া)।

১১ - অনুরূপভাবে আরিয়াত (ব্যবহারার্থ দান) এবং কর্জ (ঋণ): যে সকল বস্তু ঋণ দেওয়া বৈধ, যেমন নগদ অর্থ এবং সমজাতীয় দ্রব্যাদি, তা আরিয়াত হিসেবে প্রদান করা মূলত কর্জ হিসেবেই গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া)। তদ্রূপ যে সকল বস্তু ঋণ দেওয়া বৈধ নয়, যেমন মূল্যভিত্তিক বা অ-সমজাতীয় বস্তু, তা কর্জ হিসেবে প্রদান করা আরিয়াত হিসেবে গণ্য হবে; তবে তা এই দিক থেকে যে, এর মূল বস্তুটিই ফেরত দেওয়া আবশ্যক, সব দিক থেকে নয়। কারণ এই অবস্থায় হস্তগত করার মাধ্যমেই মালিকানা অর্জিত হয় এবং এটি পূর্ণাঙ্গ কর্জের ন্যায় দায়বদ্ধ থাকে। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, কর্জ অধ্যায়ের শুরু)। ১২ - আর আরিয়াত ও ইজারার মাঝে এই মূলনীতির প্রয়োগ: যেমন যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে: "আমি আমার এই ঘরটি তোমাকে এক মাসের জন্য এত বিনিময়ে আরিয়াত দিলাম," তবে তা ইজারা হিসেবে গণ্য হবে। (দ্রষ্টব্য: তানভীরুল আবসার ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, কিতাবুল ইজারা-র শুরু)।

১৩ - আর চুক্তি রদ (ইকালা) এবং ক্রয়-বিক্রয়ের মাঝে এর প্রয়োগ: যেমন হেবা গ্রহীতা যদি হেবা করা বস্তুটিকে বিক্রয় করে দেয়...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
الْمَوْهُوبَة من آخر ثمَّ تقايل مَعَه البيع وعادت الْعين الْمَوْهُوبَة إِلَى يَده فَلَيْسَ للْوَاهِب الرُّجُوع فِي الْهِبَة، لِأَن تقايل الْمَوْهُوب لَهُ البيع مَعَ المُشْتَرِي مِنْهُ بِمَنْزِلَة بيع جَدِيد فَكَأَنَّهُ اشْتَرَاهُ من مُشْتَرِيه. (ر: تنوير الْأَبْصَار وَشَرحه، من الْإِقَالَة) . وَهُنَاكَ فروع كَثِيرَة تُؤْخَذ من الْمحل الْمَذْكُور.

14 - وَأما جريانها بَين الشُّفْعَة وَالْبيع فَكَمَا سَيَأْتِي فِي التَّنْبِيه آخر الْقَاعِدَة / 71 / القائلة: " لَا عِبْرَة بِالظَّنِّ الْبَين خَطؤُهُ " فِي الْمَسْأَلَة الْخَارِجَة عَنْهَا.

15 - وَأما جريانها بَين الْإِقْرَار وَالْبيع فَلَمَّا فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ، فِي الْفَصْل الموفي عشْرين: " الْإِقْرَار المقرون بِالْعِوَضِ تمْلِيك مُبْتَدأ، فَإِن من قَالَ لآخر: أقرّ لي بِهَذَا، لشَيْء فِي يَده، حَتَّى أُعْطِيك مائَة مثلا كَانَ بيعا، حَتَّى لَو قَالَ: إِلَى الْحَصاد لم يجز ". أَي يفْسد لتأجيل الثّمن إِلَى أجل مَجْهُول.

 

‌‌(تَنْبِيهَات)

التَّنْبِيه الأول: إِن ذكر لفظ الْعُقُود فِي هَذِه الْقَاعِدَة لَيْسَ لإِفَادَة أَن اعْتِبَار الْمَقَاصِد والمعاني لَا يجْرِي إِلَّا فِي الْعُقُود بل جَريا على الْغَالِب، وَإِلَّا فَإِن الْقَاعِدَة الْمَذْكُورَة تجْرِي فِي غير الْعُقُود، كالدعاوى.

قَالَ الإِمَام أَبُو الْحسن الْكَرْخِي فِي رِسَالَة الْأُصُول: " الأَصْل أَنه يعْتَبر فِي الدَّعَاوَى مَقْصُود الْخَصْمَيْنِ فِي الْمُنَازعَة دون الظَّاهِر ". وَقَالَ الإِمَام أَبُو حَفْص النَّسَفِيّ فِي شَرحه للرسالة: " من مسَائِل هَذَا الأَصْل: (أ) أَن الْمُودع إِذا طُولِبَ برد الْوَدِيعَة فَقَالَ: رَددتهَا عَلَيْك، فَقَالَ الْمُودع: لم تردها، فَالْقَوْل قَول قَابل الْوَدِيعَة مَعَ أَنه يَدعِي خلاف الظَّاهِر بقوله رددت، وَذَلِكَ لِأَن الْمَقْصُود هُوَ الضَّمَان وَهُوَ مُنكر لَهُ فَكَانَ القَوْل قَوْله ".

(ب) وَمثله مَا فِي الرسَالَة الْمَذْكُورَة أَيْضا، من أَن الْمُودع الْمَأْمُور بِدفع الْوَدِيعَة لفُلَان إِذا قَالَ: دفعتها لَهُ، وَقَالَ فلَان: مَا دَفعهَا إِلَيّ، فَالْقَوْل قَول الْمُودع فِي بَرَاءَة نَفسه لَا فِي إِيجَاب الضَّمَان على فلَان بِالْقَبْضِ.
অন্যের কাছে দানকৃত বস্তু বিক্রির পর যদি সে ক্রেতার সাথে বিক্রয় চুক্তি বাতিল (ইক্বালা) করে এবং দানকৃত বস্তুটি পুনরায় দাতার অধীনে ফিরে আসে, তবে দাতার জন্য দান ফেরত নেওয়ার আর সুযোগ থাকে না। কারণ, দান গ্রহীতা ও তার ক্রেতার মধ্যবর্তী বিক্রয় বাতিল করা একটি নতুন বিক্রয়ের সমতুল্য; ফলে এটি এমন হলো যেন সে তার ক্রেতার কাছ থেকে বস্তুটি নতুন করে কিনে নিয়েছে। (দ্রষ্টব্য: তানভীরুল আবসার ও তার শরহ, ইক্বালা অধ্যায়)। এ বিষয়ে উক্ত আলোচনা থেকে আরও অনেক উপ-মাসয়ালা গ্রহণ করা যেতে পারে।

১৪ - আর শুফআ (অগ্রক্রয়াধিকার) ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মের প্রয়োগ সম্পর্কে শীঘ্রই ৭১ নম্বর মূলনীতির শেষের সতর্কবার্তায় আলোচনা আসবে, যেখানে বলা হয়েছে: "যে ধারণা স্পষ্টত ভুল প্রমাণিত হয়, তার কোনো গুরুত্ব নেই", উক্ত মূলনীতির বহির্ভূত মাসয়ালার ক্ষেত্রে।

১৫ - আর স্বীকারোক্তি (ইক্বরার) ও বিক্রয়ের মাঝে এই নিয়মের প্রয়োগ সম্পর্কে ‘জামেউল ফুসুলাইন’-এর বিংশতম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে: "বিনিময়ের সাথে যুক্ত স্বীকারোক্তি হলো নতুন করে মালিকানা প্রদান। সুতরাং কেউ যদি অন্যকে বলে: তার হাতে থাকা কোনো জিনিসের ব্যাপারে আমার অনুকূলে স্বীকারোক্তি দাও যাতে আমি তোমাকে উদাহরণস্বরূপ একশত (টাকা) দিতে পারি, তবে তা বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি সে যদি বলে: ‘ফসল কাটার সময় পর্যন্ত (সময় দেওয়া হলো)’, তবে তা বৈধ হবে না।" অর্থাৎ, মূল্য পরিশোধের সময়টি অজ্ঞাত হওয়ার কারণে বিক্রয়টি ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যাবে।

 

‌‌(সতর্কতাসমূহ)

প্রথম সতর্কতা: এই মূলনীতিতে 'চুক্তি' (আকদ) শব্দটি উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে, উদ্দেশ্য ও অর্থের বিবেচনা কেবল চুক্তির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে বলেই তা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুবা এই মূলনীতিটি চুক্তি ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, যেমন- মামলা-মোকদ্দমার (দাওয়া) ক্ষেত্রে।

ইমাম আবুল হাসান আল-কারখী তাঁর 'রিসালাতুল উসুল'-এ বলেছেন: "মূলনীতি হলো মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে বিবাদমান উভয় পক্ষের উদ্দেশ্যই বিবেচনা করা হবে, কেবল বাহ্যিক রূপ নয়।" ইমাম আবু হাফস আন-নাসাফী উক্ত রিসালার ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এই মূলনীতির অন্যতম একটি মাসআলা হলো: (ক) যখন আমানত রক্ষাকারীর কাছে গচ্ছিত সম্পদ ফেরত চাওয়া হয় এবং সে বলে: ‘আমি তোমাকে তা ফেরত দিয়েছি’, আর আমানত প্রদানকারী বলে: ‘তুমি ফেরত দাওনি’, তখন আমানত রক্ষাকারীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও সে ‘ফেরত দিয়েছি’ বলার মাধ্যমে বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত দাবি করছে, তবুও তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক দায়বদ্ধতা (জামান), আর সে তা অস্বীকার করছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তারই কথা গ্রহণযোগ্য হবে।"

(খ) অনুরূপ একটি মাসআলা উক্ত রিসালায় আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আমানত রক্ষাকারীকে যদি নির্দেশ দেওয়া হয় গচ্ছিত সম্পদ অমুক ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সে বলে: ‘আমি তাকে তা দিয়ে দিয়েছি’, কিন্তু ঐ ব্যক্তি বলে: ‘সে আমাকে তা দেয়নি’, তবে নিজের দায়মুক্তির ক্ষেত্রে আমানত রক্ষাকারীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে; কিন্তু ঐ ব্যক্তি যে সম্পদ গ্রহণ করেছে বলে তার ওপর দায়বদ্ধতা (জামান) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমানত রক্ষাকারীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
(ج) وَمِنْهَا مَا لَو ادّعى رجلَانِ نِكَاح امْرَأَة ميتَة وَأقَام كل مِنْهُمَا الْبَيِّنَة وَلم يؤرخا، أَو أرخا تَارِيخا متحداً، فَإِنَّهُ يقْضى بِالنِّكَاحِ بَينهمَا، وعَلى كل مِنْهُمَا نصف الْمهْر، ويرثان مِنْهَا مِيرَاث زوج وَاحِد. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار، كتاب الدَّعْوَى، دَعْوَى الرجلَيْن) لَان الْمَقْصُود من دَعْوَى النِّكَاح بعد مَوتهَا الْإِرْث فَكَانَت الدَّعْوَى دَعْوَى مَال وَلَا مَانع من اشتراكهما فِي المَال.

أما لَو كَانَت حَيَّة وَأقَام كل مِنْهُمَا الْبَيِّنَة وَلَا مُرَجّح لإحدى الْبَيِّنَتَيْنِ بسبق تَارِيخ أَو دُخُوله بِالْمَرْأَةِ أَو غَيره من المرجحات الْمَذْكُورَة هُنَاكَ فَإِنَّهُ لَا يقْضى لأحد مِنْهُمَا، لِأَن الْمَقْصُود حِينَئِذٍ نفس النِّكَاح وَالشَّرِكَة فِيهِ لَا تكون. (ر: مَا سَيَأْتِي تَحت الْمَادَّة / 13 / من الْمجلة) .

(د) وَمِنْهَا مَا لَو ادّعى اثْنَان عينا، كل يَدعِي أَن كلهَا رهن عِنْده من فلَان بِدِينِهِ، وَفُلَان ميت، وبرهنا، فَإِنَّهُ يقْضى لكل مِنْهُمَا بِنِصْفِهَا رهنا عِنْده سَوَاء كَانَت فِي أَيْدِيهِمَا أَو يَد غَيرهمَا، لِأَن دعواهما الرَّهْن _ والراهن ميت _ يكون الْمَقْصُود مِنْهَا الِاسْتِيفَاء من ثمن الْعين بِالْبيعِ، والشائع يقبله، بِخِلَاف مَا إِن كَانَ الرَّاهِن حَيا فَإِن الْمَقْصُود حِينَئِذٍ حكم الرَّهْن، وَهُوَ حبس الْعين، والشائع لَا يقبله. (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، والدرر، من بَاب مَا يَصح رَهنه وَمَا لَا يَصح) .

(هـ) وَمن مسَائِل الدَّعَاوَى أَيْضا فِي هَذَا الأَصْل: مَا لَو ادّعى الْمُتَوَلِي دفع الْغلَّة للمستحقين من ذُرِّيَّة الْوَاقِف، وهم يُنكرُونَ، فَالْقَوْل للمتولي مَعَ أَنه يَدي خلاف الظَّاهِر، لِأَنَّهُ يَدعِي بَرَاءَة ذمَّته وَالْأَصْل بَرَاءَة الذِّمَّة.

(و) وَمِنْهَا مَا سَيَأْتِي، فِي مستثنيات الْمَادَّة / 11 /، من انه لَو قَالَ الْوَكِيل بِالْبيعِ بعد علمه بِالْعَزْلِ، وَالْمَبِيع مستهلك، بِعْت وسلمت قبل الْعَزْل، وَقَالَ الْمُوكل: بعد الْعَزْل، فَالْقَوْل للْوَكِيل مَعَ أَنه يَدعِي خلاف الظَّاهِر بِإِضَافَة الْحَادِث إِلَى أبعد أوقاته، لِأَن الْمَقْصُود من الدَّعْوَى بعد هَلَاك الْعين تَضْمِينه، وَهُوَ يُنكر سَبَب الضَّمَان. وَكَذَلِكَ بَقِيَّة مستثنيات الْمَادَّة / 11 / الْمَذْكُورَة، فَإِنَّهَا من فروع هَذَا الأَصْل، لاعْتِبَار الْمَقْصُود من الدَّعْوَى فِيهَا.
(গ) এর অন্তর্ভুক্ত হলো যদি দুই ব্যক্তি জনৈকা মৃত মহিলার সাথে তাদের বিবাহের দাবি করে এবং তাদের প্রত্যেকেই প্রমাণ পেশ করে কিন্তু কোনো তারিখ উল্লেখ না করে, অথবা উভয়েই একই তারিখ উল্লেখ করে। তবে তাদের উভয়ের অনুকূলে বিবাহের ফয়সালা করা হবে এবং তাদের প্রত্যেকের ওপর অর্ধেক মোহর ধার্য হবে। তারা উভয়েই ওই মহিলার নিকট থেকে একজন স্বামীর অংশ হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করবে। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার, কিতাবুদ দাওয়া, দাওয়ার রাজুলাইন)। কারণ মহিলার মৃত্যুর পর বিবাহের দাবির উদ্দেশ্য হলো উত্তরাধিকার; ফলে এটি সম্পদের দাবিতে পরিণত হয়েছে, আর সম্পদে একাধিক ব্যক্তির অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু যদি ওই মহিলা জীবিত থাকতেন এবং উভয়েই প্রমাণ পেশ করতেন এবং পূর্ববর্তী তারিখ বা মহিলার সাথে সহবাস অথবা সেখানে বর্ণিত অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ের মাধ্যমে কোনো একটি প্রমাণের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত না হতো, তবে তাদের কারোর পক্ষেই ফয়সালা দেওয়া হতো না। কারণ এমতাবস্থায় উদ্দেশ্য হলো খোদ বিবাহ, আর বিবাহে অংশীদারিত্ব সম্ভব নয়। (দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাহর ১৩ নং ধারার অধীনে যা সামনে আসবে)।

(ঘ) এর অন্তর্ভুক্ত হলো যদি দুই ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট বস্তু দাবি করে এবং প্রত্যেকেই দাবি করে যে, এটি অমুক ব্যক্তির নিকট থেকে তাদের পাওনার বিপরীতে পূর্ণাঙ্গভাবে তার কাছে বন্ধক হিসেবে রাখা ছিল, আর ওই ব্যক্তি এখন মৃত, এবং তারা উভয়েই প্রমাণ পেশ করে। তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ওই বস্তুর অর্ধাংশ বন্ধক হিসেবে ফয়সালা করা হবে, চাই তা তাদের উভয়ের দখলে থাকুক বা অন্য কারোর দখলে। কারণ যখন বন্ধকদাতা (রাহিন) মৃত হয়, তখন বন্ধকের দাবির উদ্দেশ্য হয় ওই বস্তুটি বিক্রয় করে এর মূল্য থেকে পাওনা উসুল করা, আর অবিভক্ত অংশের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব। পক্ষান্তরে যদি বন্ধকদাতা জীবিত থাকত, তবে তখন উদ্দেশ্য হতো বন্ধকের প্রকৃত বিধান কার্যকর করা, যা হলো বস্তুটি আটকে রাখা; আর অবিভক্ত অংশে তা সম্ভব নয়। (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও এর হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার এবং আদ-দুরার, বন্ধক রাখা সহিহ হওয়া ও না হওয়া অধ্যায়)।

(ঙ) এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত মামলার বিষয়াবলির মধ্যে আরও রয়েছে: যদি মুতাওয়াল্লি (ওয়াকফের তত্ত্বাবধায়ক) ওয়াকফকারীর বংশধরদের মধ্য থেকে যারা হকদার তাদের লভ্যাংশ প্রদানের দাবি করেন, আর তারা তা অস্বীকার করে, তবে মুতাওয়াল্লির কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও তিনি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীতে দাবি করছেন, তবুও যেহেতু তিনি নিজের দায়মুক্তির দাবি করছেন এবং মূলনীতি হলো দায়মুক্ত থাকা।

(চ) এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ১১ নং ধারার ব্যতিক্রমসমূহে সামনে আসবে: যদি বিক্রয় প্রতিনিধি তার বরখাস্ত হওয়ার খবর জানার পর বলে—এমতাবস্থায় যে বিক্রিত বস্তুটি ইতিপূর্বে নষ্ট হয়ে গেছে—আমি বরখাস্ত হওয়ার আগেই তা বিক্রি ও হস্তান্তর করেছি, আর নিয়োগদাতা (মুয়াক্কিল) বলে: বরখাস্ত হওয়ার পরে করেছ; তবে প্রতিনিধির কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও তিনি ঘটনাকে দূরবর্তী সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে বাহ্যিক অবস্থার বিপরীতে দাবি করছেন, কারণ বস্তুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর মামলার উদ্দেশ্য হলো তার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা, আর তিনি মূলত ক্ষতিপূরণের কারণটি অস্বীকার করছেন। অনুরূপভাবে ১১ নং ধারার উল্লিখিত বাকি ব্যতিক্রমগুলোও এই মূলনীতির শাখাভুক্ত, কারণ সেগুলোতেও মামলার উদ্দেশ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌(التَّنْبِيه الثَّانِي)

: يذكرُونَ أَن الصُّلْح يعْتَبر بأقرب الْعُقُود إِلَيْهِ، كَمَا ذكرنَا فِي البند 9 من تطبيقات هَذِه الْقَاعِدَة، بِمَعْنى أَنه إِن كَانَ فِيهِ معنى البيع بِأَن وَقع عَن مَال بِمَال يعْتَبر بيعا، وَإِن كَانَ فِيهِ معنى الْإِجَارَة بِأَن وَقع عَن مَال بِمَنْفَعَة يعْتَبر إِجَارَة، وَهَكَذَا. وَأما إِذا لم يكن تطبيقه على عقد من الْعُقُود الْمَعْرُوفَة فَإِنَّهُ يبْقى صلحا مَحْضا لقطع الْمُنَازعَة.

وَلَكِن قد يَقع الصُّلْح على صُورَة تكون بِالنِّسْبَةِ إِلَى أحد المتصالحين فِي معني البيع مثلا، وبالنسبة إِلَى الآخر صلحا مَحْضا لِأَنَّهَا لَيست مُبَادلَة فِي زَعمه ودعواه، كَمَا لَو تصالحا، وَالْمُدَّعى عَلَيْهِ مُنكر، على أَن يدْفع الْمُدَّعِي إِلَى الْمُدعى عَلَيْهِ مَالا معينا وَيَأْخُذ مِنْهُ الْعين الْمُدعى بهَا فَهَذَا فِي زعم الْمُدَّعِي صلح مَحْض وَلَيْسَ مُبَادلَة، لِأَنَّهُ اسْتردَّ عين مَاله الَّذِي يَدعِيهِ، وَفِي زعم الْمُدعى عَلَيْهِ الْمُنكر لدعوى الْمُدَّعِي هُوَ بيع.

فَفِي أَمْثَال هَذِه الْحَالة هَل يعْتَبر عقد الصُّلْح على حسب زعم الْمُدَّعِي، فَإِن كَانَ فِي زَعمه مُبَادلَة مَالِيَّة اعْتبر بيعا وَإِجَارَة وأجريت فِيهِ أَحْكَام البيع وَالْإِجَارَة، وَإِن كَانَ صلحا مَحْضا اعتبرناه صلحا؟ أَو هَل نعتبره على حسب زعم الْمُدعى عَلَيْهِ؟ أَو هَل نعتبر زعم كل وَاحِد على حِدة بِحَيْثُ لَو كَانَ الصُّلْح فِي زعم أحد المتصالحين مُعَاوضَة وَفِي زعم الآخر صلحا مَحْضا أَخذنَا كلا بِزَعْمِهِ واعتبرناه فِي حَقه على خلاف مَا نعتبره فِي حق رَفِيقه؟

هَذَا مَا توقفنا فِيهِ، وَلم نر للفقهاء تَصْرِيحًا شافياً فِيهِ. وَالَّذِي ظهر لنا بعد طول الْبَحْث، استنباطاً من بعض تصريحاتهم وانطبقت عَلَيْهِ الْفُرُوع المنقولة وتوجيهاتها: أَنه فِيمَا بَين المتصالحين أَنفسهمَا يعْتَبر عقد الصُّلْح على الصّفة الَّتِي يقتضيها زعم الْمُدَّعِي دون زعم الْمُدعى عَلَيْهِ، وَأما فِيمَا بَين كل وَاحِد مِنْهُمَا وثالث خَارج، كالشفيع، فيؤاخذ كل وَاحِد من المتصالحين بِزَعْمِهِ على حِدة، سَوَاء أَكَانَ فِي عقد الصُّلْح مُدعيًا أَو مدعى عَلَيْهِ.

يُوضح ذَلِك مَا جَاءَ فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ، فِي الْفَصْل السَّادِس عشر مِنْهُ
(দ্বিতীয় সতর্কতা)

: ফকীহগণ উল্লেখ করেন যে, আপস-মীমাংসাকে (সুলহ) তার নিকটবর্তী চুক্তিসমূহের সমগোত্রীয় হিসেবে গণ্য করা হয়, যেমনটি আমরা এই মূলনীতির প্রয়োগের ৯ নম্বর উপ-দফায় উল্লেখ করেছি। এর অর্থ হলো, যদি এতে ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ নিহিত থাকে—অর্থাৎ মালের বিনিময়ে মালের লেনদেন হয়—তবে তা ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি এতে ইজারা বা ভাড়ার অর্থ থাকে—অর্থাৎ মালের বিনিময়ে উপকারের লেনদেন হয়—তবে তা ইজারা হিসেবে গণ্য হবে, এবং এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রেও। আর যদি একে সুপরিচিত কোনো চুক্তির ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব না হয়, তবে বিবাদ নিরসনের জন্য একে নিছক আপস-মীমাংসা হিসেবেই রাখা হবে।

কিন্তু কখনও কখনও আপস-মীমাংসা এমন এক রূপে সংঘটিত হয় যা মীমাংসাকারীদের একজনের বিচারে ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থে গণ্য হয়, আবার অন্যজনের বিচারে নিছক আপস-মীমাংসা হিসেবে গণ্য হয়; কারণ তার দাবি ও বক্তব্য অনুযায়ী এটি কোনো বিনিময় নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি তারা এমনভাবে আপস করে যেখানে বিবাদী বিষয়টি অস্বীকার করছে, এমতাবস্থায় বাদী বিবাদীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে এবং বিবাদমান মূল বস্তুটি গ্রহণ করে। বাদীর ধারণা অনুযায়ী এটি একটি বিশুদ্ধ আপস-মীমাংসা, কোনো বিনিময় নয়; কারণ সে তার দাবিকৃত নিজস্ব সম্পদটিই উদ্ধার করছে। কিন্তু বাদীর দাবি অস্বীকারকারী বিবাদীর ধারণা অনুযায়ী এটি একটি বিক্রয় চুক্তি।

এমতাবস্থায় আপস-মীমাংসার চুক্তিটিকে কি বাদীর ধারণা অনুযায়ী গণ্য করা হবে? ফলে যদি তার ধারণায় এটি আর্থিক বিনিময় হয়, তবে কি তাকে ক্রয়-বিক্রয় বা ইজারা হিসেবে গণ্য করে তাতে ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারার বিধানসমূহ জারি করা হবে, আর যদি তা নিছক আপস-মীমাংসা হয় তবে কি আমরা তাকে আপস হিসেবে গণ্য করব? নাকি আমরা একে বিবাদীর ধারণা অনুযায়ী গণ্য করব? অথবা আমরা কি প্রত্যেকের ধারণাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করব? অর্থাৎ যদি আপস-মীমাংসা একজন মীমাংসাকারীর মতে বিনিময় চুক্তি হয় এবং অন্যজনের মতে বিশুদ্ধ আপস-মীমাংসা হয়, তবে কি আমরা প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী পাকড়াও করব এবং একজনের ক্ষেত্রে যা গণ্য করছি তার সঙ্গীর ক্ষেত্রে তার বিপরীতটি গণ্য করব?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে আমরা থমকে গিয়েছিলাম এবং ফকীহগণের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক স্পষ্ট বক্তব্য খুঁজে পাইনি। তবে দীর্ঘ গবেষণার পর তাঁদের কিছু বক্তব্যের আলোকে যা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে এবং যা বর্ণিত শাখা-মাসায়েল ও সেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তা হলো: স্বয়ং মীমাংসাকারীদের নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপস-মীমাংসার চুক্তিটি বাদীর ধারণার চাহিদানুযায়ী গণ্য হবে, বিবাদীর ধারণা অনুযায়ী নয়। তবে তাদের প্রত্যেকের এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের (যেমন: অগ্রক্রয়াধিকারী) মধ্যবর্তী সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মীমাংসাকারীকে তার নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী আলাদাভাবে জবাবদিহি করতে হবে, চাই সে আপস চুক্তিতে বাদী হোক বা বিবাদী।

'জামি'উল ফুসুলাইন' গ্রন্থের ষোড়শ পরিচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তা এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
نقلا عَن فَتَاوَى رشيد الدّين، مَا نَصه: " لَو صَالح عَن الدَّار المدعاة فَاسْتحقَّ الدَّار فالمدعى عَلَيْهِ يَأْخُذ من الْمُدَّعِي مَا دفع إِلَيْهِ، أما لَو كَانَ الْمُدعى عَلَيْهِ مقرا فَظَاهر، لِأَنَّهُ يصير مُشْتَريا فَيرجع إِذا اسْتحق، وَأما لَو كَانَ مُنْكرا فَيرجع أَيْضا، إِذْ الصُّلْح جَوَازه على زعم الْمُدَّعِي، وزعمه بِأَنَّهُ بَاعه، فَإِذا اسْتحق يرجع، وَأما لَو دفع الْمُدَّعِي شَيْئا إِلَى ذِي الْيَد وَأخذ الدَّار مِنْهُ فَاسْتحقَّ الدَّار لَا يرجع الدَّافِع بِمَا دفع، إِذْ الْمُدَّعِي يزْعم: إِنِّي آخذ حَقي وَإِنَّمَا أدفَع المَال لقطع خُصُومَة، فَلَا يصير الْمُدَّعِي مُشْتَريا فَلَا يرجع ". فقد اعْتبر زعم الْمُدَّعِي فَقَط فِيمَا بَينه وَبَين الْمُدعى عَلَيْهِ وأهمل زعم الْمُدعى عَلَيْهِ، مَعَ أَنه فِي صُورَة مَا إِذا كَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الْمُدَّعِي، وَكَانَ الْمُدعى عَلَيْهِ مُنْكرا، يكون الصُّلْح بيعا فِي زعم الْمُدعى عَلَيْهِ كَمَا هُوَ ظَاهر وَمَعَ ذَلِك لم يثبتوا للْمُدَّعِي حق الرُّجُوع عَلَيْهِ ومؤاخذته بِزَعْمِهِ.

وَجَاء فِي شرح النقاية للقهستاني، فِي كتاب الصُّلْح مِنْهُ، فِيمَا إِذا كَانَ الْمُدعى عَلَيْهِ غير مقرّ وَكَانَ هُوَ دَافع بدل الصُّلْح مَا لَفظه: " فَلَا شُفْعَة للشَّرِيك وَغَيره على الْمُدعى عَلَيْهِ فِي صلح عَن دَار، لِأَنَّهُ زاعم أَنه على أصل حَقه، وَلَا يلْزم زعم الْمُدَّعِي، لِأَن الْمَرْء لَا يُؤَاخذ إِلَّا بِزَعْمِهِ ". فقد اعْتبر هُنَا زعم الْمُدعى عَلَيْهِ فِيمَا بَينه وَبَين الْأَجْنَبِيّ الْخَارِج، وَهُوَ الشَّفِيع، فَلم يثبتوا لَهُ حق الشُّفْعَة، لِأَن هَذَا الصُّلْح فِي زعم الْمُدعى عَلَيْهِ لَيْسَ مُعَاوضَة مَالِيَّة، لِأَنَّهُ لما كَانَ مُنْكرا لدعوى الْمُدَّعِي لم بكن اعْتِبَاره بِدفع الْبَدَل مُشْتَريا، بل قَاطعا للنزاع ومستبقيا لملكه، وَلَو كَانَ زعم الْمُدَّعِي مُعْتَبرا، وَالْحَالة هَذِه، دون زعم الْمُدعى عَلَيْهِ لَوَجَبَتْ الشُّفْعَة للشَّفِيع على الْمُدعى عَلَيْهِ فِي الدَّار الْمصَالح عَنْهَا، لِأَن هَذَا الصُّلْح فِي زعم الْمُدَّعِي الْقَابِض للبدل بيع.

وَقد جَاءَت الْمَادَّة / 1550 / من الْمجلة على نَحْو مَا فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ، وَشرح النقاية للقهستاني، وَشرح التَّنْوِير، منطبقة على مَا ذكرنَا ومؤيدة لَهُ.

وَإِنَّمَا لم يعْتَبر فِيمَا بَين المتصالحين أَنفسهمَا زعم كل وَاحِد مِنْهُمَا لِأَن زعميهما متنافيان إِيجَابا وسلباً، فَمَا يَقْتَضِيهِ زعم أَحدهمَا يَنْفِيه زعم الآخر، فَوَجَبَ الِاقْتِصَار على أحد الزعيمين فِي مصير عقد الصُّلْح.
রশীদ উদ্দিনের ফাতাওয়া থেকে উদ্ধৃত, যার পাঠ্য হলো: "যদি কেউ দাবি করা ঘরটি নিয়ে সন্ধি করে এবং পরবর্তীতে ঘরটির মালিকানা অন্য কারো সাব্যস্ত হয়, তবে বিবাদী বাদীর কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত নেবে যা সে তাকে প্রদান করেছিল। বিবাদী যদি স্বীকৃতি দানকারী হয় তবে তা সুস্পষ্ট, কারণ সে একজন ক্রেতা হিসেবে গণ্য হয়, তাই মালিকানা অন্যের সাব্যস্ত হলে সে অর্থ ফেরত পায়। আর বিবাদী যদি অস্বীকারকারী হয় তবুও সে অর্থ ফেরত পাবে, কারণ সন্ধির বৈধতা বাদীর দাবির ওপর ভিত্তি করে এবং বাদীর দাবি হলো যে সে এটি বিক্রয় করেছে, সুতরাং মালিকানা অন্যের সাব্যস্ত হলে সে অর্থ ফেরত পাবে। কিন্তু যদি বাদী দখলদারকে কিছু প্রদান করে তার থেকে ঘরটি গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে ঘরটির মালিকানা অন্য কারো সাব্যস্ত হয়, তবে প্রদানকারী (বাদী) যা প্রদান করেছে তা ফেরত পাবে না। কারণ বাদীর দাবি হলো: আমি আমার হক বুঝে নিয়েছি এবং বিবাদ নিরসনের জন্যই এই অর্থ প্রদান করেছি, ফলে বাদী ক্রেতা হিসেবে গণ্য হবে না এবং সে কিছুই ফেরত পাবে না।" এখানে বাদী ও বিবাদীর মধ্যকার বিষয়ে শুধুমাত্র বাদীর দাবিকেই বিবেচনা করা হয়েছে এবং বিবাদীর দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ যে ক্ষেত্রে বিনিময় প্রদানকারী হলো বাদী এবং বিবাদী ছিল অস্বীকারকারী, সেক্ষেত্রে বিবাদীর দাবিতে সন্ধিটি একটি বিক্রয় হিসেবে গণ্য হওয়া স্পষ্ট, তা সত্ত্বেও তারা বাদীর জন্য অর্থ ফেরতের অধিকার সাব্যস্ত করেননি এবং তাকে তার দাবির জন্য দায়ী করেননি।

কুহিস্তানি রচিত শারহুন নিবায়াহ-র সন্ধি অধ্যায়ে এসেছে, যখন বিবাদী স্বীকৃতি দানকারী নয় এবং সেই সন্ধির বিনিময় প্রদানকারী হয়, তখন তার বক্তব্য হলো: "সন্ধিকৃত ঘরের ক্ষেত্রে শরিক বা অন্য কারো জন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে কোনো অগ্রক্রয় অধিকার (শুফআ) থাকবে না। কারণ সে (বিবাদী) দাবি করছে যে সে তার মূল হকের ওপরই বহাল আছে। আর বাদীর দাবি এক্ষেত্রে আবশ্যক হবে না, কারণ মানুষকে কেবল তার নিজের দাবির আলোকেই দায়ী করা যায়।" এখানে বিবাদী এবং তৃতীয় পক্ষ তথা অগ্রক্রয়কারীর মধ্যকার বিষয়ে বিবাদীর দাবিকে বিবেচনা করা হয়েছে, ফলে তারা অগ্রক্রয়কারীর জন্য শুফআর অধিকার সাব্যস্ত করেননি। কারণ বিবাদীর দাবিতে এই সন্ধি কোনো আর্থিক বিনিময় নয়; যেহেতু সে বাদীর দাবির অস্বীকারকারী ছিল, তাই বিনিময় প্রদানের মাধ্যমে সে ক্রেতা হিসেবে গণ্য হবে না, বরং বিবাদ নিরসনকারী এবং স্বীয় মালিকানা রক্ষাকারী হিসেবে গণ্য হবে। যদি এক্ষেত্রে বিবাদীর দাবির পরিবর্তে বিনিময় গ্রহণকারী বাদীর দাবিকে বিবেচনা করা হতো, তবে অগ্রক্রয়কারীর জন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে উক্ত ঘরের ওপর শুফআ ওয়াজিব হতো, কারণ বিনিময় গ্রহণকারী বাদীর দাবিতে এই সন্ধি একটি বিক্রয়।

মাজাল্লাহ-র ১৫৫০ নম্বর ধারাটি জামেউল ফুসুলাইন, কুহিস্তানি রচিত শারহুন নিবায়াহ এবং শারহুত তানভীরের বর্ণনার অনুরূপভাবে এসেছে, যা আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর সমর্থক।

আর সন্ধি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়ের নিজেদের মধ্যে প্রত্যেকের দাবিকে এজন্য বিবেচনা করা হয়নি কারণ তাদের উভয়ের দাবি স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির দিক থেকে পরস্পরবিরোধী। একজনের দাবি যা সাব্যস্ত করে, অন্যজনের দাবি তা নাকচ করে। তাই সন্ধি চুক্তির পরিণতির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে যেকোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَإِنَّمَا كَانَ الْمُعْتَبر زَعمه هُوَ الْمُدَّعِي، دون الْمُدعى عَلَيْهِ، لِأَن الْمُدعى عَلَيْهِ مُنكر متمسك بِالْأَصْلِ، وَهُوَ عدم مَا يَدعِيهِ الْمُدَّعِي، وَالْمُنكر فِي غنى عَن بَيَان الْأَسْبَاب الشَّرْعِيَّة وَغير مُكَلّف بهَا لتأييده إِنْكَاره، وَلِأَنَّهُ لَيْسَ منشئاً للخصومة وَإِذا ترك لم يتْرك بل فِي موقف الدّفع، وَالْإِنْكَار لَا يتَضَمَّن إِثْبَات حق لأحد وَلذَا يقوم السُّكُوت بِلَا عذر مقَامه ويغني عَن الإفصاح بِهِ، فَكَمَا أَن السُّكُوت لَا يثبت حَقًا لأحد فَكَذَا مَا قَامَ مقَامه، فَإِذا ادّعى بعد ذَلِك خلاف مَا يَقْتَضِيهِ إِنْكَاره لَا يعد متناقضاً شرعا، لِأَن التَّنَاقُض لَا يمْنَع سَماع الدَّعْوَى إِلَّا إِذا كَانَ أول الْكَلَامَيْنِ فِيهِ مثبتاً حَقًا لمُعين. (ر: رد الْمُحْتَار، أول بحث التَّنَاقُض من بَاب الِاسْتِحْقَاق) معنى هَذَا لَا يمْنَع الْمُدعى عَلَيْهِ أَن يَدعِي بعد الصُّلْح مَا يُخَالف مُقْتَضى إِنْكَاره السَّابِق.

بِخِلَاف الْمُدَّعِي فَإِنَّهُ هُوَ المنشئ للخصومة والآتي بِأول الْكَلَامَيْنِ، وَلذَا لَو ترك ترك، وَهُوَ فِي موقف التهجم على الْمُدعى عَلَيْهِ والانتزاع من يَده، والنزع لَا بُد فِيهِ من كَون مَا يزعمه من السَّبَب مطابقاً لوجه شَرْعِي يسْتَحق بِهِ النزع، كَمَا يَقُول أَبُو يُوسُف، رَحمَه الله تَعَالَى، فِي كتاب الْخراج: " لَا ينْزع شَيْء من يَد أحد إِلَّا بِحَق ثَابت مَعْرُوف ".

فَإِذا كَانَ الْمُدعى عَلَيْهِ مُنْكرا وَكَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الْمُدَّعِي لم يكن فِي معنى الْمُضْطَر، لِأَنَّهُ لَو ترك ترك، فَكَانَ ذَلِك العقد فِيمَا زَعمه صلحا مَحْضا لَيْسَ فِيهِ معنى الْمُعَاوضَة، لِأَنَّهُ بِدفع الْبَدَل قد استخلص فِي زَعمه ملكه، فَإِذا اسْتحق من يَده يقْتَصر الِاسْتِحْقَاق عَلَيْهِ وَلَا يُمكن اعْتِبَاره فِي حكم من تلقى الْملك من غَيره، كَمَا هُوَ صَرِيح من كَلَام رشيد الدّين الْمُتَقَدّم، أَلا ترى أَن المُشْتَرِي إِذا أنكر دَعْوَى الْمُسْتَحق الْملك وَادّعى أَن الْمُدعى ملكه وَلم يذكر تلقي الْملك من بَائِعه فَلَا يرجع عَلَيْهِ بِالثّمن. (ر: رد الْمُحْتَار، أَوَائِل الِاسْتِحْقَاق) فَهَذَا أولى.

وَإِذا كَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الْمُدعى عَلَيْهِ الْمُنكر كَانَ فِي معنى الْمُضْطَر، لِأَنَّهُ لَو ترك لم يتْرك، فَإِذا اسْتحق الْمُدعى من يَده لم يكن هُنَاكَ مَا يمْنَع من اعْتِبَاره فِي حكم من تلقى الْملك من غَيره فَلَا يمْتَنع رُجُوعه بِالْبَدَلِ، إِذا لم يُوجد مِنْهُ سوى إِنْكَار كَون الْمُدعى بِهِ ملك الْمُدَّعِي، وعَلى تَسْلِيم صدقه فِي إِنْكَاره هَذَا فَإِنَّهُ
আর বাদীর দাবিই কেবল ধর্তব্য হবে, বিবাদীরটি নয়; কারণ বিবাদী হলো অস্বীকারকারী যে মূল অবস্থার (আসল) ওপর অটল থাকে, আর তা হলো বাদী যা দাবি করছে তার অনুপস্থিতি। অস্বীকারকারী ব্যক্তি শরয়ি কারণ বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয় এবং তার অস্বীকারকে সুদৃঢ় করার জন্য তা বর্ণনা করতে সে আদিষ্টও নয়। তাছাড়া সে বিরোধের সূচনাকারীও নয়; সে যদি বিরোধ ত্যাগ করে তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় না বরং সে আত্মপক্ষ সমর্থনের অবস্থানে থাকে। কোনো কিছুর অস্বীকার কারও জন্য কোনো হক বা অধিকার সাব্যস্ত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে না। এ কারণেই কোনো ওজর ব্যতীত নীরবতা সরাসরি বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তা স্পষ্ট বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। সুতরাং নীরবতা যেমন কারও জন্য কোনো অধিকার সাব্যস্ত করে না, তেমনি নীরবতার স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলোও কোনো অধিকার সাব্যস্ত করে না। তাই বিবাদী যদি এরপর এমন কিছু দাবি করে যা তার আগের অস্বীকারের বিপরীত, তবে তা শরয়িভাবে স্ববিরোধিতা (তানাকুজ) হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ স্ববিরোধিতা তখনই দাবি শ্রবণে বাধা সৃষ্টি করে যখন দুই বক্তব্যের প্রথম বক্তব্যটি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো অধিকার সাব্যস্ত করে। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, বাবুল ইসতিহকাক-এর শুরুতে তানাকুজ বিষয়ক আলোচনা)। এর অর্থ হলো, বিবাদী আপসের পর এমন কোনো দাবি করতে বাধাগ্রস্ত হবে না যা তার পূর্ববর্তী অস্বীকারের পরিপন্থী।

বাদীর বিষয়টি এর বিপরীত। কারণ সেই বিরোধের সূচনাকারী এবং প্রথম বক্তব্য উপস্থাপনকারী। এ কারণেই সে যদি দাবি ত্যাগ করে তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে মূলত বিবাদীকে আক্রমণ করার এবং তার হস্তগত বস্তু ছিনিয়ে নেওয়ার অবস্থানে থাকে। আর কোনো কিছু ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তার দাবিকৃত কারণটি শরয়ি পন্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক যার মাধ্যমে সে তা ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার লাভ করবে। যেমনটি ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) কিতাবুল খারাজে বলেছেন: "সুস্পষ্ট অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত কারও হাত থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না।"

সুতরাং বিবাদী যদি অস্বীকারকারী হয় এবং বিনিময় প্রদানকারী ব্যক্তি খোদ বাদী হয়, তবে সে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির (মুদতার) পর্যায়ভুক্ত হবে না। কারণ সে যদি দাবি ত্যাগ করত তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। তাই তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তিটি হবে নিছক একটি আপস (সুলহ), যার মধ্যে বিনিময়ের কোনো অর্থ নেই। কারণ সে বিনিময় প্রদানের মাধ্যমে তার দাবি অনুযায়ী নিজ মালিকানা উদ্ধার করেছে মাত্র। এমতাবস্থায় যদি বস্তুটি অন্যের হস্তগত হয়ে যায় (ইসতিহকাক), তবে সেই দায়ভার কেবল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাকে এমন ব্যক্তির হুকুমে গণ্য করা যাবে না যে অন্যের কাছ থেকে মালিকানা লাভ করেছে, যেমনটি রশীদুদ্দীনের পূর্বোক্ত বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, ক্রেতা যদি হকদারের মালিকানার দাবি অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে দাবিকৃত বস্তুটি তারই মালিকানাধীন, আর সে বিক্রেতার কাছ থেকে মালিকানা প্রাপ্তির কথা উল্লেখ না করে, তবে সে বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য ফেরত নিতে পারবে না। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, ইসতিহকাক অধ্যায়ের শুরু)। এই বিষয়টি তো আরও বেশি অগ্রগণ্য।

আর যদি বিনিময় প্রদানকারী সেই বিবাদী হয় যে বিষয়টি অস্বীকার করছিল, তবে সে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির (মুদতার) হুকুমে হবে। কারণ সে যদি বিরোধ ত্যাগ করতে চাইত তবুও তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো না। এমতাবস্থায় যদি দাবিকৃত বস্তুটি তার হাত থেকে অন্যের মালিকানায় চলে যায় (ইসতিহকাক), তবে তাকে অন্যের থেকে মালিকানা প্রাপ্ত ব্যক্তির হুকুমে গণ্য করতে কোনো বাধা থাকবে না। ফলে সে যে বিনিময় প্রদান করেছে তা ফেরত নিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না, যদি তার পক্ষ থেকে এই অস্বীকার ছাড়া আর কিছু না পাওয়া যায় যে—দাবিকৃত বিষয়টি বাদীর মালিকানা নয়। আর তার এই অস্বীকারের সত্যতা মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কথা হলো যে, সে...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
لَا يمْنَع من الرُّجُوع على البَائِع عِنْد الِاسْتِحْقَاق (ر: تنوير الْأَبْصَار، كتاب الدَّعْوَى، بَاب الِاسْتِحْقَاق) وَعدم ذكره فِي خُصُومَة الْمُسْتَحق تلقي الْملك من الْمُدَّعِي الأول الْقَابِض لبدل الصُّلْح لَا يمْنَع من اعْتِبَاره مقضياً عَلَيْهِ ورجوعه بِالْبَدَلِ عِنْد الِاسْتِحْقَاق، لِأَن هَذَا التلقي الْمُعْتَبر بيعا إِنَّمَا اعْتبر بيعا فِي ضمن عقد الصُّلْح، وَالشَّيْء إِذا ثَبت فِي ضمن غَيره لَا يجب أَن تتوفر شُرُوطه، بل يَكْتَفِي بتوفر شُرُوط المتضمن لَهُ فَقَط (ر: مَا جَاءَ من ذَلِك فِي الخاتمة الَّتِي كتبناها آخر الْمَادَّة / 52 / فَإِن فِيهَا مقنعا) .

ثمَّ لينْظر مَا لَو أنكر ملك الْمُدعى وَزعم أَن الْمَبِيع ملكه بِأَن قَالَ: لَيْسَ هُوَ ملكه بل هُوَ ملكي، وَيُمكن أَن يُقَال: لَا يمْنَع ذَلِك دَعْوَاهُ الرُّجُوع بِالْبَدَلِ، لِأَن دَعْوَاهُ الْملك أَمر زَائِد على الْجَواب الْكَافِي، وَهُوَ إِنْكَاره، وَلَا دخل لَهُ فِيهِ وَلَا تتَوَقَّف عَلَيْهِ صِحَّته، فَكَانَ وجودهَا كَالْعدمِ فَلَا يتَعَلَّق بهَا حكم، أَلا ترى أَنه لَو وجد فِي دَعْوَى الْمُدَّعِي أَو فِي شَهَادَة الشُّهُود زِيَادَة لَا تتَوَقَّف عَلَيْهَا صِحَة الدَّعْوَى أَو الشَّهَادَة، كَمَا لَو بَين الْمُدَّعِي ذرعاً من الثَّوْب الْمُدعى أَو لون الدَّابَّة أَو سنّهَا أَو كَونهَا مشقوقة الْأذن، ثمَّ ظهر أَن الْأَمر على خلاف مَا وصف، فقد حكى فِي الْفَصْل السَّادِس من جَامع الْفُصُولَيْنِ خلافًا فِي سَماع الدَّعْوَى وَقبُول الشَّهَادَة، وجنح إِلَى عدم سَماع الدَّعْوَى وَالشَّهَادَة (ر: مَا جَاءَ فِي التَّنْبِيه تَحت الْمَادَّة / 65 /) مَعَ أَنه ظهر فِي ذَلِك كذب الْمُدَّعِي وشهوده، فَمَا بالك بِمَا كَانَ زَائِدا فِي كَلَام الْمُدعى عَلَيْهِ؟ فَلِأَن لَا يتَعَلَّق بِهِ حكم بِلَا خلاف بِالْأولَى، خُصُوصا وَقد ارْتَفع زَعمه الْملك بتكذيب الْحَاكِم لَهُ فِيهِ بِالْقضَاءِ بِالْملكِ للْمُسْتَحقّ (ر: الْمَادَّة / 1654 / من الْمجلة) ، هَذَا مَا ظهر لفهمي وَالله أعلم.

هَذَا وَقد اسْتشْكل صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ مَا نَقله عَن رشيد الدّين من قَوْله الْمُتَقَدّم: " أما لَو دفع الْمُدَّعِي شَيْئا إِلَى ذِي الْيَد وَأخذ الدَّار مِنْهُ فَاسْتحقَّ
অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার (ইসতিহকাক) সময় বিক্রেতার নিকট প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এটি কোনো বাধা সৃষ্টি করে না (দ্রষ্টব্য: তানভিরুল আবসার, কিতাবুদ দাওয়া, বাবুল ইসতিহকাক)। প্রকৃত মালিকের বিবাদে এই বিষয়টির উল্লেখ না থাকা—যে সন্ধির বিনিময়ের গ্রাহক প্রথম দাবিদারের পক্ষ থেকে মালিকানা প্রাপ্ত হয়েছে—তা তাকে দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করতে এবং অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার সময় বিনিময় ফেরত পেতে বাধা দেয় না। কারণ, এই প্রাপ্তি যা বিক্রয় হিসেবে গণ্য, তা মূলত সন্ধি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই বিক্রয় গণ্য হয়েছে। আর কোনো বিষয় যখন অন্য কিছুর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তখন তার নিজস্ব শর্তাবলি পূরণ হওয়া আবশ্যক নয়; বরং যার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার শর্তাবলি পূরণ হওয়াই যথেষ্ট (দ্রষ্টব্য: এ বিষয়ে ৫২ নং ধারার শেষে আমরা যে উপসংহার লিখেছি তা পর্যালোচনার জন্য যথেষ্ট)।

অতঃপর এটি দেখা উচিত যে, যদি সে (বিবাদী) দাবিদারের মালিকানা অস্বীকার করে এবং বিক্রিত বস্তুটি তার নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করে এই মর্মে যে: "এটি তার মালিকানা নয় বরং আমার মালিকানা", তবে বলা যেতে পারে যে: এটি বিনিময়ের জন্য তার প্রত্যাবর্তনের দাবিকে বাধাগ্রস্ত করবে না। কারণ তার মালিকানার দাবিটি একটি পর্যাপ্ত উত্তরের (যা হলো তার অস্বীকার) অতিরিক্ত বিষয় মাত্র। এর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এর সঠিকতা তার ওপর নির্ভর করে না। সুতরাং এর উপস্থিতি অনুপস্থিতির মতোই গণ্য হবে, ফলে এর সাথে কোনো হুকুম বা বিধান সংশ্লিষ্ট হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, যদি দাবিদারের দাবিতে বা সাক্ষীদের সাক্ষ্যে এমন কোনো অতিরিক্ত বিষয় পাওয়া যায় যার ওপর দাবি বা সাক্ষ্যের সঠিকতা নির্ভর করে না; যেমন যদি দাবিদার দাবিকৃত কাপড়ের পরিমাপ বর্ণনা করে, অথবা পশুর রং, বয়স কিংবা তার কান কাটা হওয়ার কথা উল্লেখ করে, অতঃপর বিষয়টি তার বর্ণনার বিপরীতে প্রকাশ পায়—তবে জামেউল ফুসুলাইনের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে দাবি শ্রবণ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। সেখানে দাবি এবং সাক্ষ্য গ্রহণ না করার দিকেই ঝোঁক প্রকাশ করা হয়েছে (দ্রষ্টব্য: ৬৫ নং ধারার অধীনে ‘তামবিহ’ বা সতর্কবার্তায় যা এসেছে), অথচ সেক্ষেত্রে দাবিদার ও তার সাক্ষীদের মিথ্যা প্রকাশ পেয়েছিল। তাহলে বিবাদীর বক্তব্যের অতিরিক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে আপনার ধারণা কী হতে পারে? সুতরাং কোনো মতভেদ ছাড়াই এখানে আরও জোরালোভাবে কোনো হুকুম সংশ্লিষ্ট না হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে যখন বিচারক কর্তৃক প্রকৃত মালিকের সপক্ষে মালিকানার ফয়সালা প্রদানের মাধ্যমে তার (বিবাদীর) মালিকানার দাবিটি প্রত্যাখ্যাত হয়ে বাতিল হয়ে গেছে (দ্রষ্টব্য: মাজাল্লা-এর ১৬৫৪ নং ধারা)। আমার উপলব্ধিতে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এখানে আরও উল্লেখ্য যে, জামেউল ফুসুলাইন গ্রন্থের লেখক রশীদুদ্দীন থেকে বর্ণিত তার পূর্বোক্ত বক্তব্যের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, যা হলো: "কিন্তু যদি দাবিদার দখলদারের নিকট কোনো কিছু প্রদান করে এবং তার থেকে ঘরটি গ্রহণ করে, অতঃপর তা অন্যের অধিকারে চলে যায়..."
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
الدَّار لَا يرجع الدَّافِع بِمَا دفع، إِذْ الْمُدَّعِي يزْعم: إِنِّي آخذ حَقي "، وَاسْتظْهر أَن يكون زعم الْمُدعى عَلَيْهِ مُعْتَبرا أَيْضا فَيكون للْمُدَّعِي حق الرُّجُوع عَلَيْهِ فِي هَذِه الصُّورَة.

وَمَا استظهر يُنَافِيهِ الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول: أما الْمَعْقُول: فَلِأَن مَوْضُوع كَلَام رشيد الدّين فِيمَا بَين أحد المتصالحين وَالْآخر، لَا فِيمَا بَينه وَبَين الْأَجْنَبِيّ، فَلَا يُمكن اعْتِبَار زعم كل من المتصالحين، لتنافيهما.

وَأما الْمَنْقُول: فَلِأَن مَا جَاءَ فِي فَتَاوَى رشيد الدّين مُوَافق لما جَاءَ فِي معتبرات كتب الْمَذْهَب، وَقد نقل صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ نَفسه، فِي الْفَصْل الْعشْرين، عَن الْهِدَايَة مَا ينطبق على مَا فِي فَتَاوَى رشيد الدّين، وَلَفظه: " ادّعى نِكَاحهَا، وَهِي تنكر فصالحته على مَال ليترك دَعْوَاهُ جَازَ خلعاً فِي جَانِبه، بِنَاء على زَعمه، وبذلاً لِلْمَالِ لدفع الْخُصُومَة فِي جَانبهَا. وَلَو ادَّعَت هِيَ عَلَيْهِ نِكَاحهَا فصالحها على مَال يَدْفَعهُ هُوَ إِلَيْهَا لم يجز ". فقد اعْتبر صَاحب الْهِدَايَة، فِيمَا بَين المتصالحين، زعم الْمُدَّعِي، فحين كَانَ الزَّوْج هُوَ الْمُدَّعِي وَكَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الزَّوْجَة صَحَّ الصُّلْح على أَنه خلع، وَحين كَانَت هِيَ المدعية وَكَانَ دَافع الْبَدَل هُوَ الزَّوْج لم يَصح الصُّلْح اعْتِبَارا لزعمها، لِأَنَّهَا لَيست صَاحِبَة حق النِّكَاح حَتَّى يجوز أَخذهَا الْبَدَل اعتياضاً عَنهُ فِي زعمها، فَإِن الْحل وَالْحُرْمَة فِي النِّكَاح عائدان للزَّوْج شرعا، وَلذَا لَو اعْترفت الزَّوْجَة بِطَلَاق، وَلَو ثَلَاثًا، أَو برضاع لَا يلْتَفت إِلَيْهَا (ر: الدّرّ الْمُخْتَار وحاشيته رد الْمُحْتَار، كتاب الرَّضَاع) وَلم ينظر فِي هَذِه الصُّورَة الْأَخِيرَة إِلَى زعم الزَّوْج الْمُقْتَضِي لتصحيح الصُّلْح، بِاعْتِبَار أَنه دفع الْبَدَل لقطع خُصُومَة المدعية وَرفع النزاع، وَذَلِكَ لِأَن الزَّوْج مدعى عَلَيْهِ وزعمه غير مُعْتَبر، وَهَذَا يشْهد بانطباق مَا فِي فَتَاوَى رشيد الدّين على مَا فِي كتب الْمَذْهَب، فَانْدفع بِهَذَا إِشْكَال صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ الْمُتَقَدّم.

وَقد أجَاب الرَّمْلِيّ، فِي حَاشِيَته على جَامع الْفُصُولَيْنِ، عَن استشكال صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ الْمُتَقَدّم بِجَوَاب منقوض غير صَحِيح، حَيْثُ ذكر أَن الْمُدَّعِي فِي تِلْكَ الصُّورَة إِذا دفع بدل الصُّلْح وَأخذ الدَّار لَا يكون هَذَا الصُّلْح فِي
বাড়িটির ক্ষেত্রে, প্রদানকারী যা প্রদান করেছেন তা ফেরত পাবেন না; কারণ দাবিদার দাবি করেন: "আমি আমার প্রাপ্য অধিকার গ্রহণ করছি।" এবং তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিবাদীর দাবিও বিবেচনাযোগ্য হওয়া উচিত, যার ফলে এই সুরতে দাবিদারের জন্য তার ওপর প্রত্যাবর্তনের অধিকার থাকবে।

তিনি যা অভিমত দিয়েছেন তা যুক্তি এবং উদ্ধৃতি উভয়ের পরিপন্থী। যুক্তির দিক থেকে কারণ হলো: রশীদ আদ-দীনের আলোচনার বিষয়বস্তু আপসকারী পক্ষদ্বয়ের নিজেদের মধ্যকার বিষয়, এটি কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বহিরাগতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। অতএব, আপসকারী উভয় পক্ষের দাবি বিবেচনা করা সম্ভব নয়, কারণ তারা একে অপরের বিরোধী।

আর উদ্ধৃতির দিক থেকে কারণ হলো: ফাতাওয়ায়ে রশীদ আদ-দীনে যা এসেছে তা মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ। 'জামি আল-ফুসুলাইন'-এর লেখক নিজেই বিংশ অধ্যায়ে 'আল-হিদায়া' থেকে এমন উদ্ধৃতি দিয়েছেন যা ফাতাওয়ায়ে রশীদ আদ-দীনের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। তার শব্দাবলী হলো: "কেউ এক মহিলার সাথে তার বিয়ের দাবি করল, আর মহিলাটি তা অস্বীকার করল। অতঃপর মহিলাটি তার দাবি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থের মাধ্যমে আপস করল; তবে পুরুষের পক্ষ থেকে এটি তার দাবির ভিত্তিতে 'খুলা' হিসেবে গণ্য হওয়া জায়েয হবে, আর মহিলার পক্ষ থেকে বিবাদ মেটানোর জন্য অর্থ প্রদান হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি মহিলাটি পুরুষের বিরুদ্ধে বিয়ের দাবি করে এবং পুরুষটি তাকে অর্থ প্রদানের বিনিময়ে আপস করে, তবে তা জায়েয হবে না।" সুতরাং 'আল-হিদায়া'-র লেখক আপসকারীদ্বয়ের ক্ষেত্রে দাবিদারের দাবিকেই ধর্তব্য ধরেছেন। তাই যখন স্বামী দাবিদার ছিল এবং বিনিময় প্রদানকারী ছিল স্ত্রী, তখন আপসটি 'খুলা' হিসেবে শুদ্ধ হয়েছে। আর যখন স্ত্রী দাবিদার ছিল এবং বিনিময় প্রদানকারী ছিল স্বামী, তখন মহিলার দাবির ভিত্তিতে আপসটি শুদ্ধ হয়নি; কারণ মহিলার দাবিমতে সে বিয়ের অধিকারের মালিক নয় যে তার বিনিময়ে কোনো বিনিময় গ্রহণ করবে। কেননা শরীয়ত অনুযায়ী বিয়ের বৈধতা ও অবৈধতার বিষয়টি স্বামীর ইখতিয়ারে থাকে। এই কারণেই যদি স্ত্রী তালাকের স্বীকৃতি দেয়—এমনকি তিন তালাকেরও—অথবা দুগ্ধপান সম্পর্কের স্বীকৃতি দেয়, তবে তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না (দ্রষ্টব্য: আদ-দুররুল মুখতার ও তার হাশিয়া রদ্দুল মুহতার, কিতাবুর রেজা)। এবং এই শেষ সুরতে স্বামীর দাবির দিকে তাকানো হয়নি যা আপস শুদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে—এই বিবেচনায় যে সে দাবিদারের ঝগড়া মেটাতে এবং বিবাদ নিরসন করতে বিনিময় প্রদান করেছে—কারণ স্বামী এখানে বিবাদী এবং তার দাবি ধর্তব্য নয়। এটি ফাতাওয়ায়ে রশীদ আদ-দীনের বক্তব্যের সাথে মাযহাবের কিতাবসমূহের বক্তব্যের সংগতি থাকার প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমেই 'জামি আল-ফুসুলাইন' লেখকের পূর্বোক্ত জটিলতা নিরসন হয়ে গেল।

আর রামলি তার 'জামি আল-ফুসুলাইন'-এর হাশিয়াতে 'জামি আল-ফুসুলাইন' লেখকের পূর্বোক্ত জটিলতার এমন এক উত্তর দিয়েছেন যা খণ্ডিত ও সঠিক নয়; যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেই সুরতে দাবিদার যদি আপসের বিনিময় প্রদান করে ঘরটি গ্রহণ করে, তবে এই আপসটি...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
زَعمه مُبَادلَة، فَإِذا اسْتحقَّت الدَّار مِنْهُ لَا يسوغ لَهُ أَن يرجع بِمَا دَفعه، لِأَنَّهُ لَا يُمكنهُ الْمُطَالبَة بِمَا يُخَالف زَعمه.

وينقض هَذَا الْجَواب مَا ذكره رشيد الدّين، فِي صدر الْعبارَة، من أَنه لَو كَانَ الْمُدعى عَلَيْهِ مُنْكرا، وَكَانَ هُوَ دَافع الْبَدَل، ثمَّ اسْتحقَّت الدَّار من يَده يرجع على الْمُدَّعِي بِمَا دَفعه إِلَيْهِ، مَعَ أَن هَذَا الصُّلْح لَيْسَ مُبَادلَة فِي زَعمه، بل هُوَ مُبَادلَة فِي زعم الْمُدَّعِي فَقَط، فقد تمكن الْمُدعى عَلَيْهِ من الْمُطَالبَة بِمَا يُخَالف زَعمه. وَالْجَوَاب الْحَاكِم مَا قدمْنَاهُ، وبالمعقول وَالْمَنْقُول أيدناه، وَالله سبحانه وتعالى أعلم.

 

‌‌(التَّنْبِيه الثَّالِث)

قد يعْتَبر الْمَقْصد وَالْمعْنَى فِي بعض الْعُقُود، فَيحصل من اعتبارهما فِيهِ فَائِدَة من غير أَن يكْتَسب العقد صفة عقد آخر، كَمَا إِذا أعْطى الْغَاصِب الْمَغْصُوب مِنْهُ رهنا بِعَين الْمَغْصُوب، ثمَّ تلفت الْعين الْمَغْصُوبَة فِي يَد الْغَاصِب، فَإِن الرَّهْن يكون حينئذٍ ببدلها من مثل أَو قيمَة، وكما إِذا أعْطى الْمُسلم إِلَيْهِ لرب السّلم رهنا بِعَين الْمُسلم فِيهِ، ثمَّ انْفَسَخ عقد السّلم بِوَجْه مَا، فَإِن الرَّهْن يصير رهنا بِرَأْس المَال الَّذِي قَبضه الْمُسلم إِلَيْهِ (ر: الدُّرَر، وَغَيره، من بَاب مَا يَصح رَهنه وَمَا لَا يَصح) وَمَا ذَاك إِلَّا لِأَن الْمَقْصد من هَذَا الرَّهْن توثق الْمَغْصُوب مِنْهُ وَرب السّلم لِسَلَامَةِ حَقه وأمنه مِمَّا يلْحقهُ من الضَّرَر بِهَذَا الْغَصْب وَعقد السّلم.

 

‌‌(التَّنْبِيه الرَّابِع)

اخْتلف فِي جَوَاز بيع الْوَفَاء فِي الْمَنْقُول إِذا لم يكن الْمَنْقُول من تَوَابِع الْعقار. وَلم أجد فِي ذَلِك تَرْجِيحا، وَلم تتعرض الْمجلة لَهُ أَيْضا. وَمُقْتَضى مَا ذَكرُوهُ من أَن تَجْوِيز بيع الْوَفَاء بِهَذِهِ الْكَيْفِيَّة الْمَعْرُوفَة إِنَّمَا كَانَ لضَرُورَة النَّاس وتعارفهم، أَنه إِذا لم يتعارف النَّاس إجراءه فِي المنقولات، التعارف الْمُعْتَبر، لَا يجوز كَمَا هُوَ الْوَاقِع فِي زَمَاننَا.
তার দাবি ছিল এটি একটি বিনিময়, সুতরাং যদি ঘরটি তার নিকট থেকে অন্যের প্রাপ্য সাব্যস্ত হয়, তবে সে যা পরিশোধ করেছে তা ফেরত পাওয়া তার জন্য বৈধ নয়; কারণ তার নিজের দাবির পরিপন্থী কোনো কিছু সে দাবি করতে পারে না।

রশীদ উদ্দীন ইবারতের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তা এই উত্তরটিকে খণ্ডন করে; তিনি বলেছেন যে, যদি বিবাদী অস্বীকারকারী হয় এবং সে-ই বিনিময়ের অর্থ প্রদানকারী হয়, অতঃপর ঘরটি তার দখল হতে অন্যের প্রাপ্য সাব্যস্ত হয়, তবে সে যা প্রদান করেছিল তা বাদীর নিকট থেকে ফেরত নিবে। অথচ এই সন্ধিটি তার দাবিমতে কোনো বিনিময় ছিল না, বরং তা কেবল বাদীর দাবি অনুযায়ী বিনিময় ছিল। এমতাবস্থায় বিবাদী তার নিজের দাবির পরিপন্থী বিষয়ের দাবি করতে সক্ষম হলো। আর চূড়ান্ত উত্তর হলো তা-ই যা আমরা পূর্বে পেশ করেছি এবং যুক্তি ও উদ্ধৃতি দ্বারা আমরা তাকে সমর্থন করেছি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্যক অবগত।

 

‌‌(তৃতীয় সতর্কবার্তা)

কোনো কোনো চুক্তিতে উদ্দেশ্য ও অর্থকে গণ্য করা হয়, ফলে তা বিবেচনা করার মাধ্যমে এমন সুফল অর্জিত হয় যাতে চুক্তিটি অন্য কোনো চুক্তির রূপ পরিগ্রহ করে না। যেমন—যদি জবরদখলকারী মূল জবরদখলকৃত বস্তুর বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে কোনো বন্ধক প্রদান করে, অতঃপর জবরদখলকারীর হাতে থাকা অবস্থায় সেই বস্তুটি বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে সেই বন্ধকটি তখন তার অনুরূপ বা মূল্যের বিনিময়ে পরিণত হবে। তদ্রূপ যদি 'সালাম' চুক্তিতে পণ্য সরবরাহকারী ক্রেতাকে সালাম-পণ্যের বিপরীতে কোনো বন্ধক প্রদান করে, অতঃপর কোনো কারণে সালাম চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়, তবে সেই বন্ধকটি তখন সরবরাহকারীর গ্রহণকৃত মূলধনের বন্ধকে পরিণত হবে (দ্রষ্টব্য: আদ-দুরার ও অন্যান্য, 'যা বন্ধক রাখা বৈধ এবং যা বৈধ নয়' পরিচ্ছেদ)। আর এটি কেবল এ কারণে যে, এই বন্ধকের উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সালাম-ক্রেতার হক সুনিশ্চিত করা এবং এই জবরদখল ও সালাম চুক্তির কারণে তাদের যে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা থেকে নিরাপদ থাকা।

 

‌‌(চতুর্থ সতর্কবার্তা)

অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে 'বায়উল ওয়াফা' বৈধ হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যদি সেই অস্থাবর সম্পদটি স্থাবর সম্পত্তির অনুগামী না হয়। এ বিষয়ে আমি কোনো প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত খুঁজে পাইনি এবং 'মাজাল্লাহ' গ্রন্থেও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ সম্পর্কে ফকীহগণ যা উল্লেখ করেছেন তার দাবি হলো—এই সুপরিচিত পদ্ধতিতে বায়উল ওয়াফা বৈধ করা হয়েছিল কেবল মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও প্রচলিত রীতির কারণে; সুতরাং অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে যদি মানুষের মাঝে প্রচলিত কোনো নির্ভরযোগ্য রীতি না থাকে, তবে তা বৈধ হবে না, যেমনটি আমাদের বর্তমান সময়ে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
وَاخْتلف أَيْضا فِي ملك المُشْتَرِي للِانْتِفَاع بِالْمَبِيعِ وَفَاء وَملكه لزوائده، فَقيل لَا يملك ذَلِك إِلَّا بِالشّرطِ، وَقيل يملكهُ بِلَا شَرط، وَنقل فِي رد الْمُحْتَار، فِي بيع الْوَفَاء قبيل الْكفَالَة، أَن هَذَا القَوْل، أَعنِي ملكه لذَلِك بِدُونِ شَرط، عَلَيْهِ الْفَتْوَى، وَبَين أَن ملكه لذَلِك مَبْنِيّ أَيْضا على القَوْل الْجَامِع الَّذِي قدمنَا أَنه الْمُفْتى بِهِ وَأَن عَلَيْهِ الْمجلة.

غير أَن شرَّاح الْمجلة جروا، فِي شرح الْمَادَّة / 398 / مِنْهَا، على أَن المُشْتَرِي لَا يملك الِانْتِفَاع إِلَّا بِالشّرطِ، مَعَ أَن الْمَادَّة الْمَذْكُورَة لَا صَرَاحَة فِيهَا بِأَن المُشْتَرِي لَا يملك الِانْتِفَاع إِلَّا بِالشّرطِ، بل ذكرت أَنه إِذا شَرط فِي بيع الْوَفَاء أَن يكون قدر، من مَنَافِع الْمَبِيع للْمُشْتَرِي، كَأَن تكون غلَّة الْكَرم الْمَبِيع مثلا بَينهمَا مُنَاصَفَة، صَحَّ ذَلِك، وَهَذَا ظَاهر لَا كَلَام فِيهِ، وَأما الحكم عِنْد عدم الِاشْتِرَاط فَهُوَ مسكوت عَنهُ فِيهَا لم تتعرض لَهُ أصلا.

وَيرى النَّاظر فِي مَادَّة / 118 / مِنْهَا أَنَّهَا تفِيد ملك المُشْتَرِي للِانْتِفَاع بِلَا شَرط، حَيْثُ صرحت بِأَن بيع الْوَفَاء فِي حكم البيع الْجَائِز بِالنّظرِ إِلَى انْتِفَاع المُشْتَرِي بِالْمَبِيعِ … . إِلَخ، فَلَو كَانَ المُرَاد أَن الِانْتِفَاع إِنَّمَا يكون بِالشّرطِ لما صَحَّ، تشبيهه فِي هَذِه الْجِهَة بِالْبيعِ الْجَائِز اللَّازِم، بل كَانَ الصَّوَاب أَن يشبه فِي هَذِه الْجِهَة بِالرَّهْنِ، لِأَن الْمُرْتَهن يملك الِانْتِفَاع بِالرَّهْنِ بِالشّرطِ.

وَبِذَلِك يظْهر أَنه يجب حمل الْمَادَّة / 398 / على مَا يفهم من الْمَادَّة / 118 / فَيكون معنى تِلْكَ أَنه إِذا اشْترط فِي بيع الْوَفَاء أَن تكون غلَّة الْمَبِيع مُشْتَركَة بَين البَائِع وَالْمُشْتَرِي مُنَاصَفَة أَو مرابعة مثلا يَصح ذَلِك. أما عِنْد عدم هَذَا الِاشْتِرَاط فَتكون الْغلَّة كلهَا للْمُشْتَرِي.

على أَنه فِي زَمَاننَا الْيَوْم يجب الحكم بِملك المُشْتَرِي الِانْتِفَاع بِالْمَبِيعِ وَفَاء على كل حَال وَإِن لم يشْتَرط ذَلِك صَرِيحًا، لِأَن النَّاس متعارفة على ذَلِك، وَلَا يُمكن أَن يقدم أحد على الشِّرَاء وَفَاء إِلَّا وَيعلم هُوَ وَالْبَائِع، بِحكم الْعرف وَالْعَادَة، أَن المُشْتَرِي ينْتَفع بِالْمَبِيعِ بإجارته من البَائِع أَو من غَيره، وَيملك إنزاله وإغلاله، فَيكون حينئذٍ ملك المُشْتَرِي للِانْتِفَاع مَشْرُوطًا، لِأَن الْمَعْرُوف عرفا كالمشروط (ر:
বায়-উল-ওয়াফাতে বিক্রীত বস্তু থেকে উপকার লাভের অধিকার এবং এর অতিরিক্ত অংশ বা উপস্বত্বের মালিকানার বিষয়েও মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, শর্ত ছাড়া ক্রেতা এর মালিক হবে না; আবার কেউ বলেছেন, শর্ত ছাড়াই সে এর মালিক হবে। ‘রদ্দুল মুহতার’ গ্রন্থে ‘কাফালাহ’ অধ্যায়ের ঠিক আগে ‘বায়-উল-ওয়াফা’ পরিচ্ছেদে উদ্ধৃত হয়েছে যে, শর্ত ছাড়াই ক্রেতার মালিক হওয়ার মতটির ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়। সেখানে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্রেতার এই মালিকানার বিষয়টি সেই সামগ্রিক মতের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং এটিই ফতোয়া প্রদত্ত মত এবং এর ওপরই ‘মাজাল্লাহ’ প্রতিষ্ঠিত।

তবে ‘মাজাল্লাহ’র ব্যাখ্যাকারগণ এর ৩৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় এই মত গ্রহণ করেছেন যে, ক্রেতা শর্ত ছাড়া উপকার লাভের মালিক হবে না। অথচ উক্ত অনুচ্ছেদে এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই যে ক্রেতা শর্ত ছাড়া উপকার লাভের মালিক হবে না; বরং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি বায়-উল-ওয়াফাতে বিক্রীত বস্তুর উপকারের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেতার জন্য শর্ত করা হয়—যেমন বিক্রীত আঙুর বাগানের ফল উভয়ের মধ্যে অর্ধেক হিসেবে বণ্টন করার শর্ত করা—তবে তা সহীহ হবে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় এবং এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু কোনো শর্ত উল্লেখ না থাকলে বিধান কী হবে, সে বিষয়ে অনুচ্ছেদটিতে কিছুই বলা হয়নি এবং বিষয়টি পুরোপুরি অনুক্ত রাখা হয়েছে।

পক্ষান্তরে কেউ যদি এর ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তা ক্রেতার শর্তহীনভাবে উপকার লাভের মালিকানাকেই সমর্থন করে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্রেতার উপকার লাভের প্রেক্ষিতে বায়-উল-ওয়াফা ‘বৈধ বিক্রয়’ (বায়-ই-জায়েজ)-এর বিধানে গণ্য হবে ... ইত্যাদি। এখন যদি উদ্দেশ্য এই হতো যে উপকার লাভ কেবল শর্তসাপেক্ষেই হবে, তবে এই ক্ষেত্রে একে ‘বৈধ ও অপরিহার্য বিক্রয়’-এর সাথে তুলনা করা সঠিক হতো না। বরং সংগত হতো একে ‘বন্ধক’ (রাহন)-এর সাথে তুলনা করা; কারণ বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকী বস্তু থেকে উপকার লাভের মালিক কেবল শর্তসাপেক্ষেই হয়ে থাকে।

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, ৩৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদকে ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের মর্ম অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা আবশ্যক। ফলে সেই অনুচ্ছেদের অর্থ দাঁড়াবে এই যে, যদি বায়-উল-ওয়াফাতে শর্ত করা হয় যে বিক্রীত বস্তুর উপস্বত্ব বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ হারে বণ্টিত হবে, তবে তা সহীহ হবে। আর যদি এই ধরণের কোনো শর্ত না থাকে, তবে সমস্ত উপস্বত্ব ক্রেতার প্রাপ্য হবে।

তাছাড়া বর্তমান সময়ে সর্বাবস্থায় ক্রেতার বায়-উল-ওয়াফাকৃত বস্তু থেকে উপকার লাভের মালিকানার ফয়সালা দেওয়া আবশ্যক, যদিও তা স্পষ্টভাবে শর্ত করা না হয়। কারণ মানুষের মাঝে এটিই প্রচলিত প্রথা (উরফ)। আর প্রথা ও অভ্যাসের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই জানে যে, ক্রেতা বিক্রীত বস্তুটি বিক্রেতা বা অন্য কারো কাছে ভাড়া দিয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে তা থেকে লাভবান হবে—এই জ্ঞান না থাকলে কেউ বায়-উল-ওয়াফাতে ক্রয় করতে অগ্রসর হতো না। এমতাবস্থায় উপকার লাভের বিষয়ে ক্রেতার মালিকানা শর্তযুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ ‘প্রথাগতভাবে যা স্বীকৃত, তা শর্তযুক্ত হওয়ার মতোই’ (দ্রষ্টব্য:
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
مَادَّة / 43 / من الْمجلة) فَلذَلِك جرينا فِي شرح هَذِه الْقَاعِدَة على ملك المُشْتَرِي للمنافع وللزوائد بِلَا شَرط. وَمَا يُوجد فِي بعض شُرُوح الْمجلة من النقول الَّتِي تفِيد خلاف مَا جرينا عَلَيْهِ فَهِيَ مفرعة على القَوْل بالاشتراط، وَهُوَ خلاف الْمُفْتى بِهِ كَمَا علمت.

 

‌‌(التَّنْبِيه الْخَامِس)

إِن اعْتِبَار الْمَقَاصِد والمعاني فِي الْعُقُود مُقَيّد بِمَا إِذا لم يُعَارضهُ مَانع شَرْعِي يمْنَع اعْتِبَار الْمَقْصد وَالْمعْنَى ويصرفه إِلَى جِهَة أُخْرَى، فَلَو عَارضه تعْتَبر تِلْكَ الْجِهَة وَإِن قصد غَيرهَا، لما ذكر فِي جَامع الْفُصُولَيْنِ، فِي الْفَصْل الثَّلَاثِينَ مِنْهُ: " إِن المُشْتَرِي شِرَاء فَاسِدا لَو رد الْمَبِيع على بَائِعه انْفَسَخ البيع السَّابِق على أَي وَجه كَانَ رده، سَوَاء كَانَ بِبيع جَدِيد أَو بِهِبَة أَو صَدَقَة أَو عَارِية أَو وَدِيعَة، لِأَن فسخ البيع الْفَاسِد ورد الْمَبِيع وَاجِب شرعا، فعلى أَي وَجه رده يَقع عَن الْوَاجِب وَيبرأ عَن ضَمَانه "، فقد ألغى الْقَصْد فِي هَذِه التَّصَرُّفَات، وَاعْتبر تَسْلِيم الْمَبِيع للْبَائِع ردا بِحكم الْفَسْخ للْعقد الْفَاسِد السَّابِق.

وَمن هَذَا الْقَبِيل مَا ذكره فِي الدُّرَر وَغَيره، من بَاب الْمهْر، من أَنه لَو كَانَ الْمهْر دينا فِي ذمَّة الزَّوْج، كالدراهم وَالدَّنَانِير، فَوَهَبته الزَّوْجَة كُله أَو نصفه قبل أَن تقبضه مِنْهُ، أَو كَانَ الْمهْر عرضا معينا، فَوَهَبته مِنْهُ، وَلَو بعد قبضهَا لَهُ، ثمَّ طَلقهَا الزَّوْج قبل الدُّخُول فَإِنَّهُ لَا يرجع عَلَيْهَا بِشَيْء، وَيجْعَل مَا وصل إِلَيْهِ بِالْهبةِ واصلاً إِلَيْهِ بِحكم اسْتِحْقَاق نصف الْمهْر بِالطَّلَاق قبل الدُّخُول، وَغَايَة الْأَمر أَنه اخْتلف سَبَب وُصُوله إِلَيْهِ، وَلَا يبالى باخْتلَاف الْأَسْبَاب بعد سَلامَة الْمَقْصُود (انْتهى موضحاً) .

وَمِنْه مَا جَاءَ فِي رد الْمُحْتَار (من كتاب الْإِجَارَة ج / 5 / صفحة / 6 / عِنْد قَول الْمَتْن: وَاعْلَم أَن الْأجر لَا يلْزم بِالْعقدِ فَلَا يجب تَسْلِيمه بِهِ بل تَعْجِيله … .) ، حَيْثُ قَالَ: " إِذا عجل الْأُجْرَة لَا يملك الِاسْتِرْدَاد، وَلَو كَانَت الْأُجْرَة عينا فأعارها أَو أودعها رب الدَّار فَهُوَ كالتعجيل ". (ر: مثله فِي الْفَتَاوَى الْهِنْدِيَّة، كتاب الْإِجَارَة، الْبَاب الثَّانِي مِنْهُ) .
মাজাল্লাহর ৪৩ নং ধারা) এই কারণে আমরা এই মূলনীতির ব্যাখ্যায় কোনো শর্তারোপ ছাড়াই ক্রেতার উপযোগ এবং অতিরিক্তের মালিকানা লাভের মতটি অনুসরণ করেছি। মাজাল্লাহর কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন কিছু উদ্ধৃতি পাওয়া যায় যা আমাদের অনুসৃত মতের বিপরীত, সেগুলো মূলত শর্তারোপের মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত; অথচ আপনি যেমনটি জেনেছেন, তা ফতোয়া প্রদানের যোগ্য (মুফতা বিহি) মতের পরিপন্থী।

 

‌‌(পঞ্চম সতর্কতা)

চুক্তিতে উদ্দেশ্য এবং অর্থের বিবেচনা তখনই সীমাবদ্ধ থাকবে যখন কোনো শারয়ী প্রতিবন্ধক একে বাধা প্রদান না করে, যা উদ্দেশ্য ও অর্থকে ধর্তব্য করতে বাধা দেয় এবং বিষয়টিকে অন্য দিকে ফিরিয়ে নেয়। সুতরাং যদি কোনো শারয়ী প্রতিবন্ধক এর বিপরীতে উপস্থিত হয়, তবে সেই দিকটিই বিবেচিত হবে যদিও ভিন্ন কিছুর উদ্দেশ্য করা হোক। যেমনটি 'জামেউল ফুসুলাইন'-এর ৩০তম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে: "যদি কোনো ক্রেতা ফাসিদ ক্রয়ের মাধ্যমে কেনা পণ্য বিক্রেতার কাছে ফেরত দেয়, তবে পূর্ববর্তী বিক্রয়চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে; তা যেভাবেই ফেরত দেওয়া হোক না কেন—চাই তা নতুন বিক্রয়, হেবা, সদকা, আরিয়াহ বা ওয়াদিয়াহ হিসেবেই হোক। কারণ ফাসিদ বিক্রয় বাতিল করা এবং বিক্রিত পণ্য ফেরত দেওয়া শারয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়াজিব। সুতরাং সে যেভাবেই তা ফেরত দিক না কেন, তা ওয়াজিব পালন হিসেবেই গণ্য হবে এবং সে এর দায়ভার থেকে মুক্তি পাবে।" ফলে এই লেনদেনগুলোতে নিয়ত বা উদ্দেশ্যকে বাতিল করা হয়েছে এবং বিক্রেতার কাছে পণ্য হস্তান্তরকে পূর্ববর্তী ফাসিদ চুক্তির বিলুপ্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এই জাতীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো যা 'দুরার' এবং অন্যান্য গ্রন্থে মোহর অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোহর যদি স্বামীর জিম্মায় ঋণ হিসেবে থাকে—যেমন দিরহাম বা দিনার—এবং স্ত্রী সেটি হস্তগত করার পূর্বেই পুরোটা বা অর্ধেক স্বামীকে দান (হেবা) করে দেয়, অথবা মোহর যদি কোনো নির্দিষ্ট বস্তু হয় এবং স্ত্রী তা হস্তগত করার পরও স্বামীকে দান করে দেয়, এরপর স্বামী সহবাসের পূর্বেই তাকে তালাক দেয়, তবে স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে আর কিছুই ফেরত পাবে না। হেবার মাধ্যমে স্বামীর কাছে যা পৌঁছেছে, তাকে সহবাসের পূর্বে তালাকের কারণে প্রাপ্য মোহরের অর্ধাংশ হিসেবেই গণ্য করা হবে। বড়জোর এখানে প্রাপ্তির কারণ ভিন্ন হয়েছে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ার পর কারণের ভিন্নতাকে গণ্য করা হয় না। (স্পষ্টীকরণসহ সমাপ্ত)।

অনুরূপ একটি মাসআলা 'রাদ্দুল মুহতার' (ইজারা অধ্যায়, ৫ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠা, মূল পাঠের এই বক্তব্যের অধীনে: 'জেনে রাখুন যে, চুক্তির মাধ্যমে মজুরি আবশ্যক হয় না, তাই চুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রদান করা ওয়াজিব নয়, বরং তা অগ্রিম প্রদান … .')-এ বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন: "যদি কেউ অগ্রিম মজুরি প্রদান করে, তবে সে তা ফেরত নেওয়ার অধিকার রাখে না। আর যদি মজুরি কোনো নির্দিষ্ট বস্তু হয় এবং তা ঘরের মালিককে ধার বা আমানত হিসেবে দেওয়া হয়, তবে তাও অগ্রিম মজুরি প্রদানের ন্যায় গণ্য হবে।" (অনুরূপ মাসআলা ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া-র ইজারা অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদেও দেখুন)।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وأصل ذَلِك مَا ذكره الإِمَام الدبوسي، فِي كِتَابه تأسيس النّظر، حَيْثُ قَالَ: " الأَصْل عندنَا أَن كل فعل اسْتحق فعله على جِهَة بِعَينهَا فعلى أَي وَجه حصل كَانَ عَن الْوَجْه الْمُسْتَحق عَلَيْهِ، كرد الْوَدِيعَة وَالْمَغْصُوب ". ثمَّ فرع عَلَيْهِ فروعاً كَثِيرَة فانظرها فِيهِ.

لَكِن مَا كَانَ مُسْتَحقّا بِجِهَة إِذا وصل إِلَى الْمُسْتَحق بِجِهَة أُخْرَى فَإِنَّمَا يعْتَبر واصلاً عَن الْجِهَة الْمُسْتَحقَّة إِذا وصل إِلَيْهِ من جِهَة الْمُسْتَحق عَلَيْهِ، أما إِذا وصل إِلَيْهِ من جِهَة غَيره فَلَا، حَتَّى إِن المُشْتَرِي شِرَاء فَاسِدا إِذا وهب الْمَبِيع من غير بَائِعه أَو بَاعه فوهبه ذَلِك الرجل من البَائِع الأول وَسلمهُ إِلَيْهِ لَا يبرأ المُشْتَرِي عَن قِيمَته، وَكَذَلِكَ لَو كَانَ الْمهْر عينا فَوَهَبته الْمَرْأَة من غير زَوجهَا وَهُوَ وهبه من زَوجهَا ثمَّ طَلقهَا قبل الدُّخُول فلزوجها عَلَيْهَا نصف قيمَة الْعين (ر: جَامع الْفُصُولَيْنِ، الْفَصْل الثَّلَاثِينَ، صفحة / 52 / نقلا عَن الأَصْل للْإِمَام مُحَمَّد، رَحْمَة الله عَلَيْهِ) وَذَلِكَ لِأَنَّهُ وصل إِلَى الْمُسْتَحق، وَهُوَ البَائِع وَالزَّوْج، من غير جِهَة الْمُسْتَحق عَلَيْهِ، وَهُوَ المُشْتَرِي وَالْمَرْأَة.

وَنقل صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ قبل ذَلِك، عَن الزِّيَادَات للْإِمَام مُحَمَّد أَيْضا " أَنه لَو اشْترى عينا من غير ذِي الْيَد وَسلم الثّمن إِلَيْهِ ثمَّ خَاصم المُشْتَرِي ذَا الْيَد فَأَخذهَا مِنْهُ بِهِبَة أَو صَدَقَة أَو شِرَاء أَو وَدِيعَة أَو غصب أَو نَحوه فَلَيْسَ لَهُ على الثّمن سَبِيل، لزعمه أَن الثّمن مُسْتَحقّ بِجِهَة الشِّرَاء فَوَقع عَنْهَا، إِذْ الْمُسْتَحق بِجِهَة، وَهُوَ الْمَبِيع، يَقع عَن الْجِهَة الْمُسْتَحقَّة وَلَو أوقعه الْموقع بِجِهَة أُخْرَى ". والجهة الْأُخْرَى هِيَ جِهَة الْهِبَة وَمَا عطف عَلَيْهَا. ثمَّ قَالَ صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ عقبه: " أورد أَي مُحَمَّد، هَذِه الْمَسْأَلَة ليبين أَن المُشْتَرِي إِذا وصل إِلَى مُشْتَرِيه يعْتَبر وُصُوله بِجِهَة الشِّرَاء، وصل إِلَيْهِ من جِهَة البَائِع أَو من جِهَة غَيره، وَهَذَا بِخِلَاف مَا ذكر، أَي مُحَمَّد، فِي الأَصْل " - وسَاق عبارَة الأَصْل الْمَذْكُورَة أَعْلَاهُ - وَسكت عَمَّا ذكره من الْمُخَالفَة وَلم يجب عَنهُ وَلم يوفق بَين الْكَلَامَيْنِ، وَسكت عَنهُ محشيه الرَّمْلِيّ، وَكَذَلِكَ لم يتَعَرَّض لَهُ فِي نور الْعين.

مَعَ أَنه لَا تخَالف بَين كَلَامي الإِمَام مُحَمَّد، رَحْمَة الله تَعَالَى عَلَيْهِ، وَذَلِكَ أَن الْمُسْتَحق، وَهُوَ الْمَبِيع فِي فرع الزِّيَادَات، لم يصل إِلَى الْمُسْتَحق، وَهُوَ المُشْتَرِي،
এর মূল ভিত্তি হলো ইমাম দাব্বুসী তাঁর ‘তাসিসুন নাযার’ কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট মূলনীতি হলো, যে কাজ নির্দিষ্ট কোনো পন্থায় আদায় করা আবশ্যক, তা যেভাবেই অর্জিত হোক না কেন, তা সেই নির্দিষ্ট পন্থার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। যেমন আমানত এবং জবরদখল করা মাল ফেরত দেওয়া।" এরপর তিনি এর ওপর ভিত্তি করে অনেকগুলো উপ-বিধান বর্ণনা করেছেন, যা আপনি সেখানে দেখে নিতে পারেন।

তবে যা কোনো নির্দিষ্ট পন্থায় প্রাপ্য ছিল, তা যদি অন্য পন্থায় পাওনাদারের নিকট পৌঁছায়, তবে সেটি সেই প্রাপ্য পন্থায় আদায় হয়েছে বলে তখনই বিবেচিত হবে যখন তা দেনাদারের পক্ষ থেকে তার নিকট পৌঁছায়। কিন্তু যদি তা অন্য কারো পক্ষ থেকে তার কাছে পৌঁছায়, তবে তা আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে না। এমনকি যদি কোনো ব্যক্তি একটি ত্রুটিপূর্ণ ক্রয়ের মাধ্যমে কিছু কেনে এবং তা বিক্রেতা ব্যতীত অন্য কাউকে দান করে দেয় অথবা তার কাছে বিক্রি করে দেয়, আর সেই ব্যক্তি সেটি প্রথম বিক্রেতাকে দান করে দেয় এবং তা তাকে বুঝিয়ে দেয়, তবে ক্রেতা সেই মালের মূল্য পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পাবে না। একইভাবে যদি মোহরানা কোনো নির্দিষ্ট পণ্য হয় এবং স্ত্রী তা তার স্বামী ব্যতীত অন্য কাউকে দান করে দেয়, আর সেই ব্যক্তি তা স্বামীর নিকট দান করে দেয়, এরপর স্বামী বাসর হওয়ার আগেই স্ত্রীকে তালাক দেয়, তবে স্বামীর জন্য সেই পণ্যের অর্ধেক মূল্য স্ত্রীর কাছে পাওনা হবে (দ্রষ্টব্য: জামেউল ফুসুলাইন, ৩০তম অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৫২, ইমাম মুহাম্মদের 'আল-আসল' এর উদ্ধৃতিতে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। এর কারণ হলো, তা হকদারের কাছে (অর্থাৎ বিক্রেতা বা স্বামীর কাছে) পৌঁছেছে এমন একজনের পক্ষ থেকে যে হক আদায়ের জন্য দায়ী ছিল না (অর্থাৎ ক্রেতা বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে)।

জামেউল ফুসুলাইন-এর লেখক এর আগে ইমাম মুহাম্মদের ‘যিয়াদাত’ থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, "যদি কেউ এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করে যার দখলে সেটি নেই এবং তাকে মূল্য পরিশোধ করে দেয়, এরপর ক্রেতা দখলদারের সাথে বিবাদ করে এবং তার কাছ থেকে তা দান, সদকা, ক্রয়, আমানত, জবরদখল বা এই জাতীয় কোনো উপায়ে হস্তগত করে, তবে তার জন্য পরিশোধিত মূল্যের ওপর আর কোনো অধিকার থাকবে না। কারণ তার দাবি অনুযায়ী সেই মূল্যটি ক্রয়সূত্রে পাওনা ছিল এবং সেটি সেই মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। কেননা কোনো নির্দিষ্ট পন্থায় যা প্রাপ্য (অর্থাৎ বিক্রিত পণ্য), তা সেই প্রাপ্য পন্থায় অর্জিত হয়েছে বলেই গণ্য হয়, যদিও অর্পণকারী তা অন্য পন্থায় অর্পণ করে থাকে।" এখানে অন্য পন্থা বলতে দান বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বোঝানো হয়েছে। এরপর জামেউল ফুসুলাইন-এর লেখক এর পরেই বলেছেন: "ইমাম মুহাম্মদ এই মাসআলাটি এটি বর্ণনা করার জন্য উল্লেখ করেছেন যে, ক্রেতা যখন তার ক্রয়কৃত পণ্যটি লাভ করে, তখন সেটি ক্রয়সূত্রে লাভ করেছে বলেই গণ্য হবে, চাই তা বিক্রেতার পক্ষ থেকে আসুক বা অন্য কারো পক্ষ থেকে। আর এটি উপরে উল্লেখিত ‘আল-আসল’-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার বিপরীত।" —এরপর তিনি ‘আল-আসল’-এর উপরে উল্লেখিত বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন— কিন্তু এই বৈপরীত্যের বিষয়ে তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন, এর কোনো উত্তর দেননি এবং কথা দুটির মধ্যে সমন্বয়ও করেননি। তাঁর টীকাভাষ্যকার ইমাম রামলীও এ বিষয়ে নিশ্চুপ ছিলেন এবং অনুরূপভাবে ‘নূরুল আইন’ গ্রন্থেও এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।

যদিও ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ ‘যিয়াদাত’-এর উপ-মাসআলায় প্রাপ্য বস্তু অর্থাৎ বিক্রিত পণ্যটি প্রাপক তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছেনি,
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
من غير جِهَة الْمُسْتَحق عَلَيْهِ، وَهُوَ البَائِع، لِأَن إقدام المُشْتَرِي على الشِّرَاء من البَائِع اعْتِرَاف لَهُ بِالْملكِ (ر: رد الْمُحْتَار، كتاب الدَّعْوَى، بحث الِاسْتِحْقَاق، عِنْد قَول الْمَتْن: فَلَو بِإِقْرَار المُشْتَرِي فَلَا رُجُوع، نقلا عَن جَامع الْفُصُولَيْنِ نَفسه) فَتكون يَد ذِي الْيَد فِي زَعمه لَيست يَد ملك، وَإِذا لم تكن يَد ملك فَبِأَي كَيْفيَّة وصل إِلَيْهِ مِنْهَا يكون واصلاً إِلَيْهِ عَن الْمُسْتَحق عَلَيْهِ، وَهُوَ البَائِع، عين الْمَبِيع الْمُسْتَحق، وَمَا تِلْكَ الْعُقُود الَّتِي عَددهَا فِي الزِّيَادَات، من الْهِبَة وَمَا عطف عَلَيْهَا وَالْغَصْب، إِلَّا وَسَائِل غير مُرَاد للْمُشْتَرِي حقائقها وَلَا أَحْكَامهَا مستخلص بهَا عَن الْمُسْتَحق لَهُ، وإقدامه على الشِّرَاء ثَانِيًا من ذِي الْيَد وَإِن كَانَ يتَضَمَّن أَيْضا نَظِير مَا تضمنه إقدامه على الشِّرَاء الأول من الْإِقْرَار لَهُ بِالْملكِ فَإِنَّهُ لَا يبطل بِهِ إِقْرَاره الأول، إِذْ الْإِقْرَار لَا يبطل بِإِقْرَار يَأْتِي بعده مُخَالفا لَهُ، بل يصير بِالثَّانِي متناقضاً فَلَا يسمع مِنْهُ مَا لم يصر فِي الأول مُكَذبا شرعا (ر: مَا يَأْتِي فِي الْكَلَام على الْقَاعِدَة / 79 / القائلة لَا حجَّة مَعَ التَّنَاقُض) .

بِخِلَاف فرعي " الأَصْل " فَإِن الْمَبِيع فَاسِدا وَالْمهْر الْعين فيهمَا خرجا بِالْهبةِ عَن ملك المُشْتَرِي وَالزَّوْجَة ودخلا فِي ملك الْمَوْهُوب لَهُ، وبخروجهما عَن ملكهمَا انْقَطع حق البَائِع من اسْتِرْدَاد عين الْمَبِيع بِالْفَسْخِ، بِحكم الْفساد، وَحقّ الزَّوْج من اسْتِرْدَاد نصف عين الْمهْر، بِالطَّلَاق قبل الدُّخُول، وَتعلق حَقّهمَا بِالْقيمَةِ شرعا، كَمَا يعلم ذَلِك بمراجعة أَحْكَام البيع الْفَاسِد وَأَحْكَام الْمهْر بِكُل سهولة.

وَإِذا صَحَّ التَّمْلِيك والتملك بَين الْوَاهِب، وَهُوَ المُشْتَرِي وَالزَّوْجَة، وَبَين الْمَوْهُوب لَهُ، وَانْقطع حق الْمَالِك الْأَصْلِيّ عَن الْعين وَصَارَ الْمُسْتَحق لَهُ هُوَ الْقيمَة يكون بوصول الْعين إِلَيْهِ من الْمَوْهُوب لَهُ قد وصل إِلَيْهِ غير مَا يسْتَحقّهُ، وَهُوَ الْقيمَة، بِخِلَاف فرع الزِّيَادَات فَإِن الْوَاصِل فِيهِ إِلَى الْمُسْتَحق عين مَا يسْتَحقّهُ بِزَعْمِهِ فَلَا تخَالف بَين الْكَلَامَيْنِ.

وعَلى هَذَا فَقَوْل صَاحب جَامع الْفُصُولَيْنِ: أورد مُحَمَّد هَذِه الْمَسْأَلَة ليبين أَن المُشْتَرِي إِذا وصل … إِلَخ، لَيْسَ بِظَاهِر، لِأَن الْمَبِيع فِي فرع الزِّيَادَات لم يصل للْمُشْتَرِي من جِهَة غير البَائِع كَمَا بَينا، هَذَا مَا ظهر لي وَالله سُبْحَانَهُ أعلم.
যার বিরুদ্ধে হক সাব্যস্ত হয়েছে—অর্থাৎ বিক্রেতা—তার পক্ষ ভিন্ন অন্য কোনো দিক থেকে নয়; কারণ বিক্রেতার নিকট থেকে ক্রেতার ক্রয়ে অগ্রসর হওয়া তার মালিকানার স্বীকৃতিস্বরূপ (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, কিতাবুদ দাওয়া, ইস্তিহকাক সংক্রান্ত আলোচনা, মূল পাঠের এই বক্তব্যের অধীনে: 'যদি ক্রেতার স্বীকৃতির কারণে হয় তবে আর প্রত্যাবর্তন করা যাবে না', যা সরাসরি জামেউল ফুসুলাইন থেকে উদ্ধৃত)। ফলে তার ধারণায় দখলদারের দখলটি মালিকানাসূত্র দখল নয়; আর যখন তা মালিকানা দখল হিসেবে গণ্য হবে না, তখন যেভাবেই তা তার নিকট পৌঁছাক না কেন, তা মূলত যার বিরুদ্ধে হক সাব্যস্ত হয়েছে—অর্থাৎ বিক্রেতা—তার পক্ষ থেকেই বিক্রিত পণ্যের মূল সত্তা হিসেবে তার নিকট পৌঁছেছে বলে গণ্য হবে। আর 'যিয়াদাত' গ্রন্থে হেবা ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ এবং জবরদখল সংক্রান্ত যেসব চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো কেবল মাধ্যম মাত্র; ক্রেতার নিকট এগুলোর প্রকৃত অর্থ বা বিধান উদ্দেশ্য নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি প্রকৃত হকদারের নিকট থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেন মাত্র। আর দখলদারের নিকট থেকে দ্বিতীয়বার ক্রয় করতে অগ্রসর হওয়া যদি প্রথম ক্রয়ের মতো তার মালিকানার স্বীকৃতির অন্তর্ভুক্তও হয়, তবে তার মাধ্যমে প্রথম স্বীকৃতি বাতিল হবে না। কেননা, পরবর্তী কোনো বিপরীতধর্মী স্বীকৃতির মাধ্যমে পূর্বের স্বীকৃতি বাতিল হয় না; বরং দ্বিতীয়টির কারণে সে কেবল স্ববিরোধী সাব্যস্ত হয়। ফলে তার বক্তব্য আর গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রথম বক্তব্যে সে মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয় (দ্রষ্টব্য: ৭৯ নম্বর নীতির আলোচনায় যা সামনে আসবে: 'স্ববিরোধিতার উপস্থিতিতে কোনো প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হয় না')।

'আল-আসল' গ্রন্থের শাখা মাসআলা দু’টির বিষয়টি এর বিপরীত। কারণ সেখানে ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) বিক্রিত পণ্য এবং মোহর হিসেবে নির্ধারিত বস্তু—উভয় ক্ষেত্রে হেবার মাধ্যমে তা ক্রেতা ও স্ত্রীর মালিকানা থেকে বের হয়ে হেবা গ্রহণকারীর মালিকানায় প্রবেশ করেছে। আর তাদের মালিকানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে বিক্রিত পণ্যের মূল সত্তা ফাসখ (রদ) করার মাধ্যমে ফেরত নেওয়ার বিক্রেতার অধিকার এবং মিলনের পূর্বে তালাকের ক্ষেত্রে মোহরের মূল সত্তার অর্ধেক ফেরত নেওয়ার স্বামীর অধিকার রহিত হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের অধিকার মূল্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে, যা ফাসিদ ক্রয়-বিক্রয় ও মোহর সংক্রান্ত বিধানসমূহ পর্যালোচনা করলে সহজেই অনুধাবন করা যায়।

যখন দাতা (ক্রেতা ও স্ত্রী) এবং হেবা গ্রহণকারীর মধ্যে মালিকানা প্রদান ও গ্রহণ সঠিক সাব্যস্ত হলো এবং মূল মালিকের অধিকার পণ্যটির মূল সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল্যের সাথে সম্পৃক্ত হলো, তখন হেবা গ্রহণকারীর নিকট থেকে মূল পণ্যটি তার কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে এমন কিছু পৌঁছেছে যার সে হকদার ছিল না, বরং সে তো মূল্যের হকদার ছিল। পক্ষান্তরে 'যিয়াদাত' গ্রন্থের শাখা মাসআলার বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে হকদারের নিকট যা পৌঁছেছে তা তার দাবি অনুযায়ী সেই বস্তুরই মূল সত্তা যার সে হকদার ছিল। সুতরাং এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।

এই আলোচনার প্রেক্ষিতে, জামেউল ফুসুলাইন প্রণেতার এই বক্তব্য: 'ইমাম মুহাম্মদ এই মাসআলাটি বর্ণনা করেছেন এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, ক্রেতা যখন পৌঁছেছে... ইত্যাদি', তা সুস্পষ্ট নয়। কারণ 'যিয়াদাত' গ্রন্থের শাখা মাসআলায় বিক্রিত পণ্যটি বিক্রেতা ভিন্ন অন্য কারো পক্ষ থেকে ক্রেতার নিকট পৌঁছেনি, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আমার নিকট বিষয়টি এভাবেই স্পষ্ট হয়েছে, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌(ثَالِثا: الْمُسْتَثْنى)

يسْتَثْنى من هَذِه مسَائِل: مِنْهَا: أَن البيع بِلَا ثمن يبطل، وَلَا ينْعَقد هبة، وَلم أر فِيهِ خلافًا. وَكَذَا الْإِجَارَة بِلَا بدل لَا تَنْعَقِد عَارِية إِلَّا على قَول (ر: رد الْمُحْتَار، أَوَائِل الْإِجَارَة) .

وَوجه عدم الِانْعِقَاد فِي الفرعين ظَاهر، وَذَلِكَ أَنه دَار الْأَمر فيهمَا بَين عقد مَحْظُور، وَهُوَ البيع بِلَا ثمن وَالْإِجَارَة بِلَا بدل وَكِلَاهُمَا فَاسد وَهُوَ مَحْظُور، وَبَين عقد مُبَاح، وَهُوَ الْهِبَة وَالْعَارِية، فغلب الحاظر، بِخِلَاف بَقِيَّة مَا فرع على الْقَاعِدَة فَإِنَّهُ قد دَار الْأَمر فِي جَمِيعهَا بَين أَمريْن مباحين فَاعْتبر فيهمَا الْمَقْصد وَالْمعْنَى. هَذَا مَا ظهر لي وَالله سُبْحَانَهُ أعلم.

 

‌‌(خَاتِمَة)

هَذِه فروع مُتَعَلقَة بِبيع الْوَفَاء، مقتطفة من جَامع الْفُصُولَيْنِ، من الْفَصْل الثَّامِن عشر مِنْهُ، تذكر فِي هَذِه الْمَادَّة زِيَادَة للفائدة وَتجْعَل خَاتِمَة لَهَا.

(أ) لَا يدْخل الزَّرْع وَالثَّمَر وقوائم الْخلاف فِي بيع الْوَفَاء. وَلَو شَرط دُخُولهَا فِي البيع كَانَ البيع بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهَا نَافِذا باتاً، وَلها حِصَّة من الثّمن، حَتَّى لَو تفاسخا بيع الْوَفَاء بعد ذَلِك، وَكَانَ المُشْتَرِي قد أَخذ الزَّرْع وَالثَّمَر والقوائم، فَللْبَائِع أَن يقتطع على المُشْتَرِي من الثّمن الَّذِي قَبضه قدر قيمتهَا (كَمَا يُسْتَفَاد ذَلِك من أَوَاخِر صفحة / 240 / وأوائل صفحة / 241 / مِنْهُ) .

(ب) مَا كَانَ مَوْجُودا وَقت بيع الْوَفَاء، من الزَّرْع وَالثَّمَر والقوائم، لَا يجْبر المُشْتَرِي على الصّرْف مِنْهُ على الْعقار الْمَبِيع، لِأَنَّهُ دخل فِي ملكه بِحِصَّة من الثّمن، حَتَّى لَو صرف مِنْهُ بعد البيع، وَلَو صرف مِنْهُ على الْمَبِيع فَلهُ رَفعه عِنْد الْفَسْخ، وَإِنَّمَا يجْبر على الصّرْف على الْمَبِيع بِقدر مُتَعَارَف من غلَّة حدثت بعد البيع.
(তৃতীয়ত: ব্যতিক্রম)

এই মূলনীতি থেকে কিছু মাসআলা ব্যতিক্রম করা হয়েছে: তন্মধ্যে একটি হলো, মূল্য ব্যতীত ক্রয়-বিক্রয় বাতিল বলে গণ্য হয় এবং তা ‘হিবা’ (দান) হিসেবেও সংঘটিত হয় না; এ বিষয়ে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি। অনুরূপভাবে, বিনিময় ব্যতীত ইজারা (ভাড়া), ‘আরিয়াহ’ (বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া) হিসেবে সংঘটিত হয় না, তবে একটি ভিন্ন মত রয়েছে (দ্রষ্টব্য: রাদ্দুল মুহতার, ইজারা অধ্যায়ের প্রথমাংশ)।

উক্ত দুই শাখার ক্ষেত্রে চুক্তি সংঘটিত না হওয়ার কারণ স্পষ্ট। তা হলো, উভয় ক্ষেত্রে বিষয়টি একটি নিষিদ্ধ চুক্তি—অর্থাৎ মূল্যহীন বিক্রয় এবং বিনিময়হীন ইজারা, যা উভয়ই ফাসিদ ও নিষিদ্ধ—এবং একটি বৈধ চুক্তি—অর্থাৎ হিবা ও আরিয়াহ—এর মাঝে দোদুল্যমান। এমতাবস্থায় নিষিদ্ধের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। পক্ষান্তরে, এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত অবশিষ্ট শাখাগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি দুটি বৈধ বিষয়ের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল, তাই সেগুলোর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থের বিবেচনা করা হয়েছে। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

 

(উপসংহার)

এগুলো ‘বাইউল ওয়াফা’ (ফেরতযোগ্য বিক্রয়) সংক্রান্ত কিছু শাখা মাসআলা, যা ‘জামি আল-ফুসুলাইন’-এর অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ থেকে চয়ন করা হয়েছে। উপকারের উদ্দেশ্যে এই অনুচ্ছেদে অতিরিক্ত হিসেবে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে এবং একে এর উপসংহার করা হয়েছে।

(ক) বাইউল ওয়াফার মধ্যে ফসল, ফলমূল এবং দাঁড়িয়ে থাকা উইলো গাছ অন্তর্ভুক্ত হয় না। যদি বিক্রয়ের সময় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত করা হয়, তবে এগুলোর ক্ষেত্রে বিক্রয়টি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে এবং মোট মূল্যের একটি অংশ এগুলোর জন্য নির্ধারিত হবে। এমনকি পরবর্তীতে যদি তারা বাইউল ওয়াফা চুক্তিটি বাতিলও করে দেয় এবং ক্রেতা ফসল, ফল ও গাছগুলো গ্রহণ করে থাকে, তবে বিক্রেতা তার প্রাপ্ত মূল্য থেকে এগুলোর সমপরিমাণ মূল্য ক্রেতার নিকট থেকে কেটে রাখার অধিকার রাখবে (যেমনটি এর ২৪০ পৃষ্ঠার শেষাংশ এবং ২৪১ পৃষ্ঠার প্রথমাংশ থেকে জানা যায়)।

(খ) বাইউল ওয়াফার সময় যে ফসল, ফল ও গাছগুলো বিদ্যমান ছিল, সেগুলো বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করতে ক্রেতাকে বাধ্য করা যাবে না। কারণ, মূল্যের একটি অংশের বিনিময়ে এগুলো তার মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এমনকি যদি বিক্রয়ের পর সে তা থেকে ব্যয়ও করে, এবং যদি সে বিক্রিত সম্পত্তির পেছনে তা ব্যয় করে, তবে চুক্তি বাতিলের সময় তা তুলে নেওয়ার অধিকার তার থাকবে। ক্রেতাকে বিক্রিত সম্পত্তির পেছনে কেবলমাত্র বিক্রয়ের পর উৎপাদিত ফসলের প্রচলিত পরিমাণ থেকে ব্যয় করতে বাধ্য করা যাবে।