(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير التحرير شرح كتاب التحرير في أصول الفقه   (أمير باد شاه)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: تيسير التحرير على كتاب التحرير في أصول الفقه الجامع بين اصطلاحي الحنفية والشافعية لكمال الدين ابن همام الدين الإسكندري

المؤلف: محمد أمين المعروف بأمير بادشاه الحسيني الحنفي الخراساني البخاري المكي (ت 972 هـ)

الناشر: مصطفى البابي الحلبي - مصر (1351 هـ - 1932 م)

وصورته: دار الكتب العلمية - بيروت (1403 هـ - 1983 م)، ودار الفكر - بيروت (1417 هـ - 1996 م)

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাইসীরুত তাহরীর: উসূলে ফিকহ সংক্রান্ত কিতাবুত তাহরীর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (আমীর বাদশাহ)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ

কিতাব: তাইসীরুত তাহরীর; যা কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম আদ-দীন আল-ইসকান্দারীর হানাফী ও শাফেঈ উভয় মাযহাবের পরিভাষার সমন্বয়ে রচিত 'কিতাবুত তাহরীর' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ

লেখক: মুহাম্মাদ আমীন, যিনি আমীর বাদশাহ আল-হুসাইনী আল-হানাফী আল-খুরাসানী আল-বুখারী আল-মাক্কী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৭২ হি.)

প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি - মিসর (১৩৫১ হি. - ১৯৩২ খ্রি.)

মুদ্রিত সংস্করণ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত (১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি.), এবং দারুল ফিকর - বৈরুত (১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.)

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

(وَبِهِ التَّوْفِيقُ، وَمِنْهُ اْلإِعَانَةُ)

سُبْحَانَ من نور الْعقل بنوره، ورتب أَحْكَام الْوُجُود قبل ظُهُوره، وَأظْهر بِحِكْمَتِهِ الْفُرُوع من الْأُصُول، وأوضح بكتابه الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول، فسر بمحكمه مَا تشابه على الْأَنَام، ونفع بِظَاهِرِهِ الْخَاص وَالْعَام، مَفْهُومه مَنْطُوق أسفار جَامِعَة، وإشارته من سوق الْعبارَة لامعة، وَبَين مجمله الرَّسُول الْأمين، صلى الله عليه وسلم وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ، نَبِي أُوتِيَ جَوَامِع الْكَلم، فقبس مِنْهُ الْعلم كل من علم، أخْبرت الْأَنْبِيَاء عَن أَوْصَاف حَقِيقَته، وأجمعت الْعُقُول على اسْتِحْسَان شَرِيعَته، تَوَاتر فِي الْأَعْصَار حسن خصاله، فيا قبح من يخفاه صدق مقاله، عجز الْقيَاس عَن وصف كَمَاله، صلى الله عليه وسلم وَآله. (أما بعد) فَيَقُول الْفَقِير إِلَى رَحْمَة الله " مُحَمَّد أَمِين " الشهير بأمير بادشاه الْحُسَيْنِي نسبا، الْحَنَفِيّ مذهبا، الْخُرَاسَانِي مولدا، البُخَارِيّ منشأ، الْمَكِّيّ موطنا: أَن الْعلم حَيَاة النَّفس وكمالها، وصفوته أَن تعرف مَا عَلَيْهَا وَمَا لَهَا، وَهِي ملكة لَا تحصل إِلَّا بأصولها، فَوَجَبَ معرفَة الْأُصُول قبل وصولها.

وَقد اشْتهر فِي الْآفَاق، بِمُوجب الِاسْتِحْقَاق، مُخْتَصر الإِمَام المدقق، والعلامة الْمُحَقق، ذِي الرَّأْي الثاقب، الشَّيْخ ابْن الْحَاجِب، وَشَرحه للعلامة الْمُحَقق، والتحرير المدقق، عضد الْملَّة وَالدّين، أَعلَى الله درجتهما فِي عليين، وحاشيته للمحقق الثَّانِي، الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ، أستاذ المخلصين، وخلاصة الْمُتَأَخِّرين، شكر الله بره، وَقدس سره، وَكتاب التَّنْقِيح، مَعَ شَرحه التَّوْضِيح، للْإِمَام الْمُحَقق، وَالْبَحْر المدقق، صدر الشَّرِيعَة وَالْإِسْلَام، أَعلَى الله دَرَجَته فِي دَار السَّلَام، وحاشيته الْمُسَمّى بالتلويح، ناهيك بِهِ فَإِنَّهُ غَنِي عَن المديح.

وَكنت أَقُول: إِن الْعلم انْتهى إِلَيْهِم، وَلَا يطْلب التَّحْقِيق إِلَّا لديهم، إِلَى أَن ظَفرت بمتن بسيط، وبحر مُحِيط بِمَا فِي الْكتب المزبورة، وَغَيرهَا من المؤلفات الْمَشْهُورَة، مَعَ تحقيقات خص بهَا عَن غَيره، فَللَّه در مُصَنفه، وَكَثْرَة خَيره، أبطاله التحقيقات من ذكر غير مَحْصُور، وَدفعهَا غَايَة المرام وَهُوَ غير مَقْدُور، من سلك مَعَه مَسْلَك الْإِنْصَاف، وتجنب عَن التعصب والاعتساف، علم أَن يَدُور مَعَ الْحق أَيْنَمَا دَار، ويسير مَعَ الصَّوَاب حَيْثُمَا سَار، غير أَنه أفرط
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(আর তাঁর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয় এবং তাঁর নিকট থেকেই সাহায্য প্রার্থনা করি)

পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সত্তার, যিনি স্বীয় নূর দ্বারা বিবেককে আলোকিত করেছেন, এবং অস্তিত্বের বিকাশের পূর্বেই এর বিধিসমূহ বিন্যস্ত করেছেন। তিনি স্বীয় প্রজ্ঞা দ্বারা মূলনীতি থেকে শাখা-প্রশাখা প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে বিবেকজাত ও বর্ণনাজাত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের মাধ্যমে মানুষের কাছে অস্পষ্ট বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর বাহ্যিক দিক দ্বারা বিশেষ ও সাধারণ সকলকে উপকৃত করেছেন। এর মর্মার্থসমূহ হলো ব্যাপক অর্থবোধক গ্রন্থরাজির বাচনিক রূপ, এবং এর ইঙ্গিতসমূহ শব্দবিন্যাসের প্রবাহ থেকে সমুজ্জ্বল। বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীগণের মাধ্যমে তিনি এর সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন এক নবী যাঁকে 'জাওয়ামিউল কালিম' দান করা হয়েছে, ফলে জ্ঞান অন্বেষণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর থেকেই জ্ঞানের আলো গ্রহণ করেছে। নবীগণ তাঁর স্বরূপের গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং মানব বিবেকসমূহ তাঁর শরীয়তের সৌন্দর্যের ব্যাপারে একমত হয়েছে। যুগে যুগে তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়ে আসছে; সুতরাং কতই না মন্দ সেই ব্যক্তি, যার কাছে তাঁর বাণীর সত্যতা গোপন থাকে! কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান তাঁর পূর্ণতা বর্ণনা করতে অক্ষম; আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। (অতঃপর) আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী 'মুহাম্মাদ আমিন', যিনি বংশগতভাবে হুসাইনি, মাযহাবগতভাবে হানাফি, জন্মসূত্রে খোরাসানি, লালন-পালন ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে বুখারি এবং আবাসস্থলের দিক থেকে মক্কি হিসেবে 'আমীর বাদশাহ' নামে পরিচিত, তিনি বলছেন: জ্ঞান হলো আত্মার জীবন ও পূর্ণতা, আর জ্ঞানের নির্যাস হলো নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও নিজের অধিকার সম্পর্কে অবগত হওয়া। এটি এমন এক গুণ যা এর মূলনীতিসমূহ ছাড়া অর্জিত হয় না। সুতরাং লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে মূলনীতিসমূহ জানা আবশ্যক।

যোগ্যতার দাবি অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে সুখ্যাতি লাভ করেছে সূক্ষ্মদর্শী ইমাম ও গবেষক আল্লামা, প্রখর ধীসম্পন্ন শেখ ইবনুল হাজিব-এর 'মুখতাসার' এবং এর ওপর মিল্লাত ও দ্বীনের স্তম্ভ গবেষক ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষক আল্লামা আদুদ্দীন-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ—আল্লাহ ইল্লিয়্যিনে তাঁদের উভয়ের মর্যাদা উচ্চ করুন। আরও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে দ্বিতীয় গবেষক, মুখলিসদের উস্তাদ এবং উত্তরসূরিদের নির্যাস আল্লামা তাফতাজানি-এর হাশিয়া বা টীকা—আল্লাহ তাঁর নেক কাজ কবুল করুন এবং তাঁর রূহকে পবিত্র করুন। এবং ইমাম মুহাক্কিক ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের সমুদ্র সদরুশ শরীয়াহ আল-ইসলাম-এর 'তানক্বীহ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাওদীহ'—আল্লাহ দারুস সালামে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন—এবং এর ওপর 'তালবীহ' নামক হাশিয়া, যা নিজেই নিজের প্রশংসার জন্য যথেষ্ট এবং অন্য কোনো প্রশংসার মুখাপেক্ষী নয়।

আমি বলতাম যে, জ্ঞান তাঁদের ওপর এসেই সমাপ্ত হয়েছে এবং তাঁদের নিকট ব্যতীত প্রকৃত গবেষণা অন্য কোথাও অন্বেষণ করা যায় না। অবশেষে আমি এমন একটি বিস্তারিত মূল পাঠের সন্ধান পেলাম যা একটি পরিবেষ্টনকারী সমুদ্রের ন্যায়, যাতে উল্লিখিত কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ রচনাবলীর সারবস্তু বিদ্যমান, সাথে রয়েছে এমন কিছু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যা তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে। সুতরাং এর রচয়িতার কর্ম ও তাঁর প্রভূত কল্যাণ প্রশংসার দাবিদার। অগণিত সূত্র থেকে আনীত সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের নির্যাস তিনি তুলে ধরেছেন এবং সেগুলোর খণ্ডন করা লক্ষ্য হিসেবে অত্যন্ত কঠিন ও সাধ্যাতীত। যে ব্যক্তি তাঁর সাথে ইনসাফের পথ অবলম্বন করবে এবং গোঁড়ামি ও হঠকারিতা পরিহার করবে, সে জানতে পারবে যে তিনি হকের সাথেই আবর্তিত হন হক যেখানেই থাকুক না কেন, এবং সঠিক বিষয়ের সাথেই চলেন সঠিক পথ যেদিকেই যাক না কেন। তবে তিনি কিছুটা আতিশয্য...
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩)
فِيهِ من الإيجاز، فكاد أَن يُجَاوز التعمية وَيلْحق بالألغاز، مسالكه من الوعورة تقصر عَنْهَا الْخَطَأ، تهَامَة فيح يحار فِيهَا القطا، فَصَارَ بذلك محجوبا عَن الْأَبْصَار، وَإِن اشْتهر عنوانه بمعظم الْأَمْصَار، تصدى لشرحه بعض من حضر دراسته، وَلم يكن فَارس ميدان فراسته، فَبَقيت مخدراته عذارى فِي خدورها، وَلم تجل عرائسه بمنصة ظُهُورهَا، لكنه لم يقصر فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهِ من النَّقْل، وَقد ينْقل عَن المُصَنّف مَا يقبله الْعقل، ويحكى أَنه عرض عَلَيْهِ كِتَابه، وَسمع بعد الْعرض جَوَابه.

(سَارَتْ مشرقة وسرت مغربا … شتان بَين مشرق ومغرب)

 

تغمده الله بغفرانه، وَأدْخلهُ فِي جنانه، فَلَمَّا علمت أَنه مجمع الدقائق، ومعدن الْحَقَائِق، وَفِيه بغية المرتحلين هَذِه الأوطان، لطلب مزِيد الْعلم وَكَمَال الْعرْفَان، عرفت أَن شَرحه من أهم المطالب، والكشف عَنهُ من أعظم المآرب، وأنفت همتي عَن التقاعد عَنهُ تعسيرا، فَنَهَضت وشمرت عَن سَاق الْجد تشميرا، مستعينا بجوار بَيت الله الْكَرِيم زَاده الله من التشريف والتعظيم، فَدخلت بادية لم تسلكها سابلة لتقتفي آثَارهم، وَلم يرد مناهلها وَارِدَة ليتبع أخبارهم، فصرفت خِيَار عمري فِي حل مشكلاته، وبذلت كَمَال جهدي فِي فتح مغلقاته، وبالغت فِي التَّنْقِيح والتوضيح، واكتفيت فِيمَا يتَبَادَر بالتلويح، واقتصدت بَين الإيجاز والإطناب، احْتِرَازًا عَن الإملال والإسهاب، وكررت فِيهِ من التَّغْيِير والتبديل، لإِصْلَاح الْخلَل وَقصد التسهيل. فَكَانَ ذَلِك عِنْد المذاكرة والمدارسة، بِمحضر جمع من الحذاق فِي المباحثة والممارسة. فتم بِحَمْد الله مَا كَانَ منيتي بمنة رَبِّي، لَا بحولي وقوتي، فَأصْبح قريب التَّنَاوُل بعد أَن لم تَجِد إِلَيْهِ سَبِيلا، وَصَارَ كجنة أينعت ثمارها، وذللت قطوفها تذليلا، وَحَيْثُ يسر بِهَذَا الشَّرْح ذَلِك الْمَتْن العسير. دعتني هَذِه الْمُنَاسبَة أَن أُسَمِّيهِ " تيسير التَّحْرِير " وأسأل الله تَعَالَى أَن يرزقه الإقبال، ويوفق لمطالعته المستعدين من أهل الْكَمَال.

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة، مُجْتَهد دهره، ومحقق عصره، شيخ الْإِسْلَام، ومفتي الْأَنَام، مُفِيد الطالبين، قطب العارفين.

(يَقُول العَبْد الْفَقِير مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن عبد الحميد، الإسكندري مولدا، السيواسي منتسبا، الشهير بِابْن همام الدّين: غفر الله ذنُوبه، وَستر عيوبه) وَالِده الْعَلامَة: كَانَ قَاضِي سيواس من بِلَاد الرّوم وَمن بَيت الْعلم وَالْقَضَاء، قدم الْقَاهِرَة وَولي خلَافَة الحكم بهَا عَن القَاضِي بدر الدّين لحنفي بهَا، ثمَّ ولي الْقَضَاء بالإسكندرية، وَتزَوج بهَا بنت القَاضِي الْمَالِكِي يَوْمئِذٍ، فَولدت لَهُ المُصَنّف، ومدحه الشَّيْخ بدر الدّين الدماميني بقصيدة بليغة يشْهد لَهُ فِيهَا بعلو الْمرتبَة فِي الْعلم،
এতে এমন সংক্ষিপ্ততা রয়েছে যে, এটি প্রায় দুর্বোধ্যতাকে ছাড়িয়ে ধাঁধার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর পথগুলো এতই বন্ধুর যে ভুল সেখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়; এটি এমন এক বিশাল প্রান্তর যেখানে মরু-পাখিও পথ হারিয়ে ফেলে। ফলে এর শিরোনাম অধিকাংশ জনপদে প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এটি দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে। যারা এর পাঠদানে উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু তারা এর অন্তর্দৃষ্টির ময়দানের অশ্বারোহী ছিলেন না। ফলে এর পর্দানশীন সুন্দরীগণ তাদের কক্ষেই কুমারী রয়ে গেছেন এবং এর নববধূগণ তাদের আত্মপ্রকাশের মঞ্চে উদ্ভাসিত হননি। তবে প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি বা বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি এবং কখনও কখনও তিনি গ্রন্থকারের নিকট থেকে এমন বিষয় উদ্ধৃত করেছেন যা বিবেক গ্রহণ করে। বর্ণিত আছে যে, তাঁর নিকট এই কিতাবটি পেশ করা হয়েছিল এবং তিনি সেটি দেখার পর তাঁর উত্তর শুনেছিলেন।

(সে পূর্ব দিকে গেল আর আমি গেলাম পশ্চিম দিকে … পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে কতই না ব্যবধান!)

 

আল্লাহ তাঁকে তাঁর ক্ষমা দ্বারা আবৃত করুন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করান। যখন আমি জানতে পারলাম যে এটি সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের সমাবেশস্থল এবং হাকীকত বা প্রকৃত সত্যের খনি, আর এতে অধিক জ্ঞান ও পূর্ণ প্রজ্ঞা অন্বেষণে স্বদেশ ত্যাগকারী মুসাফিরদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নিহিত রয়েছে; তখন আমি অনুধাবন করলাম যে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং এর গূঢ় রহস্য উন্মোচন করা সর্বশ্রেষ্ঠ লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই কাজ থেকে পিছিয়ে থাকাকে আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা অপছন্দ করল, তাই আমি অলসতা পরিত্যাগ করলাম এবং পূর্ণ সংকল্পের সাথে কোমর বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি আল্লাহর সম্মানিত ঘরের সান্নিধ্যে সাহায্য প্রার্থনা করলাম—যা আল্লাহ অধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করুন। আমি এমন এক দুর্গম প্রান্তরে প্রবেশ করলাম যেখানে কোনো পথচারী চলেনি যে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা যাবে, আর এর পানির ঘাটে কোনো আগন্তুক আসেনি যে তাদের সংবাদ অনুসরণ করা যাবে। আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় এর সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যয় করেছি এবং এর জটিল রহস্যগুলো উন্মোচনে আমার পূর্ণ প্রচেষ্টা বিলিয়ে দিয়েছি। আমি এর পরিমার্জন ও স্পষ্টীকরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আর যেখানে ইঙ্গিতই যথেষ্ট সেখানে তাই করেছি। বিরক্তি ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করার জন্য আমি সংক্ষেপণ ও বিস্তারিত বর্ণনার মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছি। এতে ভুল সংশোধন ও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে আমি বারবার পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেছি। এটি করা হয়েছে বিজ্ঞজনদের উপস্থিতিতে আলোচনা ও অধ্যয়নের মজলিসে। অতঃপর আমার রবের অনুগ্রহে আমার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো, যা আমার নিজের শক্তি বা সামর্থ্যে নয়। ফলে এটি সহজে আয়ত্ত করার উপযোগী হলো, অথচ আগে সেখানে পৌঁছানোর কোনো পথ ছিল না। এটি এমন এক উদ্যানের ন্যায় হলো যার ফলসমূহ পেকেছে এবং তার ফলমূল আহরণ করা সহজ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সেই কঠিন মূলপাঠটি সহজ হয়ে গেছে, তাই এই সঙ্গতি রক্ষা করে আমি এর নাম রেখেছি "তায়সীরুত তাহরীর"। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কবুল করেন এবং যোগ্য ও পূর্ণতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এটি অধ্যয়নের তৌফিক দান করেন।

শাইখ, ইমাম, আল্লামা, তাঁর যুগের মুজতাহিদ, তাঁর সময়ের গবেষক, শাইখুল ইসলাম, জগতের মুফতি, জ্ঞানান্বেষীদের উপকারকারী, আরিফদের কুতুব বললেন:

(অসহায় বান্দা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল হামিদ, জন্মসূত্রে ইস্কান্দারী, বংশপরম্পরায় সিওয়াসি এবং ইবনুল হুমামুদ্দীন নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁর গুনাহ ক্ষমা করুন এবং দোষত্রুটি গোপন রাখুন—বলছেন:) তাঁর পিতা আল্লামা: তিনি রোম সাম্রাজ্যের সিওয়াস অঞ্চলের বিচারক ছিলেন এবং একটি ইলমি ও বিচারক পরিবার থেকে আগত। তিনি কায়রোতে এসে সেখানে হানাফি বিচারক বদরুদ্দীনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করেন, এরপর তিনি ইস্কান্দারিয়ার বিচারক নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি তৎকালীন মালিকি বিচারকের কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভেই গ্রন্থকার (ইবনুল হুমাম) জন্মগ্রহণ করেন। শাইখ বদরুদ্দীন আদ-দামামিনী একটি প্রাঞ্জল কবিতার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর উচ্চতর ইলমি মাকামের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وَحسن السِّيرَة فِي الحكم، ثمَّ رغب عَنْهَا وَرجع إِلَى الْقَاهِرَة فَأَقَامَ بهَا مشتغلا بكليته فِي الْعلم إِلَى أَن انْتقل إِلَى رَحْمَة الله تَعَالَى، كَذَا نَقله شَارِح هَذَا الْكتاب عَن المُصَنّف، وَهُوَ مِمَّن قَرَأَ عَلَيْهِ، " وَقَوله مولدا ومنتسبا " تَمْيِيز عَن نِسْبَة الصّفة إِلَى ضمير الْمَوْصُوف يَعْنِي مَنْسُوبا إِلَى الْإسْكَنْدَريَّة من حَيْثُ الْولادَة وَإِلَى السيواس من حَيْثُ الانتساب والمولد، والمنتسب بِفَتْح السِّين مصدر ميمي وانتسابه إِلَى السيواس إِمَّا بِاعْتِبَار نِسْبَة آبَائِهِ إِلَيْهِ، أَو بِاعْتِبَار أَن النَّاس كَانُوا ينسبونه إِلَيْهِ (الْحَمد لله) إِخْبَار صِيغَة إنْشَاء معنى كصيغ الْعُقُود، وَلَا مَحْذُور فِي عدم محموديته فِي الْأَزَل بِمَا أنشأه الْعباد من المحامد، وَإِنَّمَا الْمَحْذُور عدم اتصافه بِمَا يحمدونه بِهِ من الكمالات، وَهُوَ غير لَازم، وَالله اسْم للذات الْوَاجِب الْوُجُود الْمُسْتَحق لجَمِيع المحامد، وَالصَّحِيح أَنه عَرَبِيّ كَمَا ذهب إِلَيْهِ الْجُمْهُور، لَا عبراني أَو سرياني كَمَا ذهب إِلَيْهِ أَبُو زيد، وَقيل أَنه صفة، وَالْجُمْهُور على أَنه علم مرتجل من غير اعْتِبَار أصل أَخذ مِنْهُ: مِنْهُم أَبُو حنيفَة وَمُحَمّد بن الْحسن وَالشَّافِعِيّ رَحْمَة الله تَعَالَى عَلَيْهِم والخليل والزجاج وَابْن كيسَان والحليمي وَالْغَزالِيّ والخطابي وَإِمَام الْحَرَمَيْنِ، وروى هِشَام عَن مُحَمَّد عَن أبي حنيفَة أَنه اسْم الله الْأَعْظَم، وَبِه قَالَ الطَّحَاوِيّ وَكثير (الَّذِي أنشأ) أَي أوجد ابْتِدَاء (هَذَا الْعَالم) اسْم لكل مَا سوى الله، إِمَّا مُشْتَقّ من الْعلم فإطلاقه على غير الثقلَيْن وَالْمَلَائِكَة تَغْلِيب، وَإِمَّا من الْعَلامَة فَإِن فَاعِلا يسْتَعْمل فِي الْآلَة كثيرا كالطابع والخاتم، فَإِنَّهُ كالآلة فِي الدّلَالَة على صانعه، وَفِي كلمة هَذَا إِشَارَة إِلَى قرب مَا يسْتَدلّ بِهِ على وجود الصَّانِع من ذَوي الْأَبْصَار فَلَا تغفل عَنهُ (البديع) أَي المخترع، فَقَوله (بِلَا مِثَال سَابق) تَصْرِيح بِمَا علم ضمنا، أَو الْغَايَة فِي الْكَمَال فَهُوَ تأسيس، وَقيل الْإِنْشَاء والإبداع إِيجَاد الشَّيْء بِلَا سبق مَادَّة وزمان وَلَا وَاسِطَة آلَة، فيقابل التكوين لمسبوقيته بالمادة، والأحداث لكَونه مَسْبُوقا بِالزَّمَانِ، ورد بقوله تَعَالَى - {وَهُوَ الَّذِي أنشأكم من نفس وَاحِدَة} - و - {ثمَّ الله ينشئ النشأة الْآخِرَة} -، وَفِيه نظر لجَوَاز التَّجْرِيد عِنْد الْقَرِينَة (وأنار) أَي أظهر وأوضح (لأبصار الْعُقَلَاء) جمع بصر، وَهُوَ حاسة النّظر وَفِي بعض النّسخ لبصائر، وَهُوَ جمع بَصِيرَة، وَهِي للنَّفس كالبصر للبدن (طرق دلَالَته) وَلَا يخفى مَا فِيهِ من براعة الاستهلال، لِأَن الْأُصُول يبْحَث عَن طرق دلَالَة الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة (على وجوده وَتَمام قدرته) أَشَارَ بِهِ إِلَى أَن من لم يَتَّضِح لَهُ الطّرق لَيْسَ من الْعُقَلَاء فَإِن قلت وُجُوه الِاسْتِدْلَال لَيست مِمَّا يدْرك بالأبصار، فَمَا معنى إنارته لَهَا؟ قلت الإنارة للعقول حَقِيقَة لَكِنَّهَا لما كَانَت بِوَاسِطَة اسْتِعْمَال الْبَصَر غَالِبا نَسَبهَا إِلَيْهَا (فَهُوَ إِلَى الْعلم) أَي الله تَعَالَى أَو الْعَالم (بذلك) الْإِنْشَاء والتنوير (سائق) جعل خلق الْعَالم مَعَ إِيضَاح طرق دلَالَته بِمَنْزِلَة السُّوق تَنْبِيها على أَن الْإِنْسَان كالمضطر فِي الاهتداء إِلَى ذَلِك كالحيوان المسوق إِلَى جِهَة أُرِيد
বিচারকার্যে তাঁর আচার-আচরণ প্রশংসনীয় ছিল। অতঃপর তিনি তা থেকে বিমুখ হলেন এবং কায়রোতে ফিরে গিয়ে সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ইলম অর্জনে মশগুল হয়ে বসবাস করতে থাকলেন, যে পর্যন্ত না তিনি আল্লাহ তাআলার রহমতে (পরলোকে) পাড়ি জমালেন। এই গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (ব্যাখ্যাকার) তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এবং তাঁর উক্তি "জন্মগত ও সম্বন্ধগতভাবে" হলো মাওসুফের (বিশেষ্য) যমীরের (সর্বনাম) দিকে সিফাতের (গুণবাচক শব্দ) সম্বন্ধ থেকে 'তাময়ীজ' (পার্থক্যকারী)। অর্থাৎ, জন্মের দিক থেকে আলেকজান্দ্রিয়া এবং সম্বন্ধ ও বংশের দিক থেকে সিভাস-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। এবং 'আল-মুনতাসাব' শব্দটি 'সিন' বর্ণে ফাতহা যোগে মীম-যুক্ত মাসদার। আর সিভাস-এর সাথে তাঁর সম্বন্ধ হওয়াটা হয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সেখানে সম্বন্ধিত হওয়ার কারণে, অথবা মানুষ তাঁকে সেই স্থানের সাথে সম্বন্ধিত করত বলে। (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) এটি শব্দগতভাবে সংবাদ প্রদান হলেও অর্থগতভাবে ইনশা বা প্রার্থনামূলক, যেমনটি লেনদেনের চুক্তির বাক্যসমূহে হয়ে থাকে। আর সৃষ্টির দ্বারা কৃত প্রশংসাসমূহ অনাদি কাল (আযল) থেকে না থাকায় কোনো অসুবিধা নেই। বরং অসুবিধা কেবল তখনই হতো যদি তিনি ঐ সকল পূর্ণতা দ্বারা গুণান্বিত না হতেন যার মাধ্যমে তারা তাঁর প্রশংসা করে থাকে, আর এমনটি হওয়া অসম্ভব। আর 'আল্লাহ' হলো সেই সত্তার নাম যাঁর অস্তিত্ব অনিবার্য এবং যিনি সকল প্রশংসার যোগ্য। সঠিক মত হলো এটি আরবি শব্দ, যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমের অভিমত; এটি হিব্রু বা সুরিয়ানি ভাষা থেকে আগত নয়, যেমনটি আবু যায়েদ মনে করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি বিশেষণ (সিফাত), তবে জমহুর আলিমগণের মতে এটি একটি মৌলিক সংজ্ঞাবাচক নাম (আলম মুরতাজাল), যা অন্য কোনো মূল শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন হয়নি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, শাফিয়ী (তাঁদের ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক), খলীল, যাজ্জাজ, ইবনে কায়সান, হালীমী, গাজালী, খাত্তাবী এবং ইমামুল হারামাইন। হিশাম ইমাম মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি আল্লাহর ইসমে আজম (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম)। ইমাম তহাবী এবং অনেক আলিমও এই মত পোষণ করেছেন। (যিনি সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ শূন্য থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন (এই আলম তথা জগতকে)। আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছুকেই 'আলম' বলা হয়। এটি যদি 'ইলম' (জ্ঞান) থেকে ব্যুৎপন্ন হয়, তবে জিন-ইনসান ও ফেরেশতা ছাড়া অন্যদের ওপর এর প্রয়োগ প্রাধান্যদানের (তাগলীব) ভিত্তিতে হবে। আর যদি এটি 'আলামত' (চিহ্ন) থেকে হয়, তবে 'ফায়িলুন' ওজনের শব্দ যন্ত্রের অর্থে অধিক ব্যবহৃত হয়, যেমন 'তাবয়ি' (ছাপার যন্ত্র) ও 'খতাম' (মোহর মারার যন্ত্র)। কেননা এটি তার কারিগরের অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ন্যায় কাজ করে। আর 'হাযা' (এই) শব্দের মধ্যে সেই প্রমাণের নৈকট্যের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যার মাধ্যমে দৃষ্টিমান ব্যক্তিরা স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পায়, সুতরাং এ ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। (বদিউ) অর্থাৎ উদ্ভাবনকারী। সুতরাং তাঁর উক্তি (পূর্ববর্তী কোনো নমুনা ছাড়াই) হলো সেই বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা যা উহ্যভাবে বোঝা যাচ্ছিল। অথবা এর অর্থ হলো পূর্ণতার চূড়ান্ত পর্যায়, এমতাবস্থায় এটি একটি নতুন অর্থ প্রদানকারী শব্দ (তাসিস)। কেউ কেউ বলেছেন যে, 'ইনশা' এবং 'ইবদা' হলো কোনো বস্তু সৃষ্টি করা কোনো উপাদান, সময় বা যন্ত্রের মাধ্যম ছাড়াই। ফলে এটি 'তাকভীন' এর বিপরীত—যা উপাদানের মুখাপেক্ষী, এবং 'ইহদাস' এরও বিপরীত—যা সময়ের মুখাপেক্ষী। তবে এই মতটি আল্লাহ তাআলার বাণী—"তিনিই তোমাদেরকে এক সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন" এবং "অতঃপর আল্লাহ পরকালীন সৃষ্টিকে পুনরুত্থান করবেন"—দ্বারা খণ্ডিত হয়। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ আছে, কারণ প্রাসঙ্গিক সংকেত থাকলে আক্ষরিক অর্থ ত্যাগ করা জায়েজ। (এবং তিনি আলোকিত করেছেন) অর্থাৎ প্রকাশ ও সুস্পষ্ট করেছেন (জ্ঞানীগণের চোখের জন্য)। 'আবসার' হলো 'বাসার' এর বহুবচন, যা দেখার ইন্দ্রিয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'বাসায়ির' শব্দ রয়েছে, যা 'বাসীরাত' এর বহুবচন; আর এটি আত্মার জন্য তেমন, যেমন দেহের জন্য চক্ষু। (তাঁর প্রমাণের পথসমূহ)। এখানে 'বারাআতিল ইস্তিহলাল' (বিষয়বস্তুর সাথে ভূমিকার সামঞ্জস্য) সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, কারণ উসুল শাস্ত্রে শরয়ি দলিলসমূহের প্রমাণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। (তাঁর অস্তিত্ব ও পূর্ণ কুদরতের ওপর)। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, যার নিকট এই পথসমূহ স্পষ্ট নয় সে জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, দলিলাদি বা প্রমাণের দিকগুলো তো চর্মচক্ষু দিয়ে অনুভব করা যায় না, তাহলে সেগুলো 'আলোকিত করার' অর্থ কী? আমি বলব: আলোকিত করা মূলত বিবেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু যেহেতু এটি সাধারণত চর্মচক্ষু ব্যবহারের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাই তিনি একে চক্ষুর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। (সুতরাং তিনি জ্ঞানের দিকে) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা অথবা জগৎ (সেই) সৃষ্টি ও আলোকায়নের মাধ্যমে (পরিচালনাকারী)। তিনি জগতের সৃষ্টি ও এর প্রমাণের পথসমূহ স্পষ্ট করাকে 'পরিচালিত করা' বা 'তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার' সাথে তুলনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সতর্ক করা যে, মানুষ এই পথের দিশা পাওয়ার ক্ষেত্রে ততটাই মুখাপেক্ষী বা বাধ্য, যতটা কোনো পশু যাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫)
سوقه إِلَيْهَا، ويناسب هَذَا قَوْله (دفع) أَي ألجأ الْمَدْفُوع إِلَيْهِ (نظامه) أَي حسن تَرْتِيب الْعَالم على الْوَجْه الْمشَاهد (المستقر) أَي الثَّابِت على أتم وُجُوه الانتظام من غير اختلال وَلَا انخرام (إِلَى الْقطع) أَي الْعلم الْقطعِي مُتَعَلق بِالدفع (بوحدانيته) لِأَنَّهُ - {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا} - (كَمَا أوجب توالي نعمائه تَعَالَى المستمر) أَي تتابعها الدَّائِم على عَامَّة الْخلق، والنعماء بِالْفَتْح ممدودة بِمَعْنى النِّعْمَة (الْعلم برحمانيته) لِأَن الرَّحْمَن هُوَ الْمُنعم الْحَقِيقِيّ الْبَالِغ فِي الرَّحْمَة غايتها بِأَن يسع كل شَيْء تفضلا من غير انْقِطَاع الْمعْصِيَة وَغَيرهَا، وَفِيمَا ذكر إِشَارَة إِلَى مُعظم مَقَاصِد علم أصُول الدّين الْمُقدم على علم أصُول الْفِقْه من إِثْبَات الْوَاجِب وَقدرته وإيجاده إِلَى غير ذَلِك (وَصلى الله على رَسُوله مُحَمَّد). قَالَ بعض الْمُحَقِّقين: أجمع الْأَقْوَال الشارحة للرسالة الإلهية أَنَّهَا سفارة بَين الْحق والخلق تنبه أولي الْأَلْبَاب على مَا تقصر عَنهُ عُقُولهمْ من صِفَات معبودهم ومعادهم، ومصالح دينهم ودنياهم، ومستحثات تهديهم، ودوافع شبه ترديهم. قَالَ المُصَنّف رحمه الله فِي المسايرة: وَأما على مَا ذكره الْمُحَقِّقُونَ: من أَن النَّبِي: إِنْسَان بَعثه الله لتبليغ مَا أُوحِي إِلَيْهِ، وَكَذَا الرَّسُول فَلَا فرق انْتهى، وَمِمَّا قيل فِي الْفرق: أَن الرَّسُول مَأْمُور بالإنذار، وَيَأْتِي بشرع مُسْتَأْنف، وَلَا كَذَلِك النَّبِي، وَإِن أمره بالتبليغ، وَيَأْتِي الْوَحْي الرَّسُول من جَمِيع وجوهه، وَالنَّبِيّ من بَعْضهَا، وَإِنَّمَا سمي بِمُحَمد لِأَنَّهُ مَحْمُود عِنْد الله وَعند أهل السَّمَاء وَالْأَرْض، وَهُوَ أَكثر النَّاس حمدا إِلَى غير ذَلِك.

(وشق لَهُ من اسْمه ليجله … فذو الْعَرْش مَحْمُود وَهَذَا مُحَمَّد)

 

(أفضل من عَبده من عباده) فِيهِ إِشَارَة إِلَى تَفْضِيل الْبشر على الْملك، وَمن تبعيضية لِأَن الْعباد: وهم المماليك يعم من عبد وَمن لم يعبد، وَالْعِبَادَة الطَّاعَة (وَأقوى من ألزم أوامره) بالمعجزات الباهرة والحجج الظَّاهِرَة: وَهُوَ كالدليل على أفضليته. قَالَ تَعَالَى - {كُنْتُم خير أمة أخرجت للنَّاس تأمرون بِالْمَعْرُوفِ} - الْآيَة وَإِنَّمَا قدم الْوَصْف الأول لكَونه موصلا إِلَى الثَّانِي وَاكْتفى بِذكر الْأَوَامِر، لِأَن إِلْزَامه أصعب، فَإِن الْفِعْل أشق على النَّفس من التّرْك مَعَ أَنه يفهم بِقَرِينَة التقابل، وَترك الْمنْهِي عَنهُ مَأْمُور بِهِ (وَنشر) أَي فرق أَو بسط (ألوية شرائعه) جمع لِوَاء بِالْمدِّ، وَهُوَ الْعلم، أَو شَرِيعَة، وَهُوَ مَا شرع الله لِعِبَادِهِ، شبه الشَّرَائِع بالألوية لكَونهَا عَلامَة الْملك وأضافها، فَيكون التَّشْبِيه أبلغ كَمَا فِي لجين المَاء (فِي بِلَاده حَتَّى افترت) الْبِلَاد: أَي سكنت بعد حِدة، ولانت بعد شدَّة (ضاحكة) حَال من ضمير افترت (عَن جذل) بِفَتْح الْجِيم والذال الْمُعْجَمَة أَي عَن فَرح وابتهاج، شبه بِاعْتِبَار كَثْرَة أَفْرَاده بالأسنان الْبَادِيَة حَال الضحك فِي الظُّهُور عِنْد الانبساط، وَعَن مُتَعَلقَة بِضَاحِكَةٍ لتَضَمّنه معنى الْكَشْف، وَيجوز أَن يُرَاد كَون الضحك ناشئا
তাকে সেই দিকে চালিত করা এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো তাঁর কথা (তাড়িত করা), অর্থাৎ যাকে তাড়িত করা হয়েছে তাকে বাধ্য করা (তার শৃঙ্খলা) অর্থাৎ দৃশ্যমান পন্থায় জগতের উত্তম বিন্যাস (সুপ্রতিষ্ঠিত) অর্থাৎ কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গরূপে সুদৃঢ় থাকা (দৃঢ়তার দিকে) অর্থাৎ অকাট্য জ্ঞান যা তাড়িত করার সাথে সম্পৃক্ত (তাঁর একত্বের প্রতি), কারণ—"যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত"—(যেমন মহান আল্লাহর নিরন্তর নিয়ামতের ধারাবাহিকতা আবশ্যক করে) অর্থাৎ সৃষ্টির ওপর তাঁর নিয়ামতের অবিরত প্রবাহ, আর 'নি'মা' শব্দটি ফাতাহ যোগে দীর্ঘায়িত যা 'নিয়ামত' অর্থ প্রকাশ করে (তাঁর রাহমানিয়্যাত বা পরম করুণাময়তার জ্ঞান), কারণ 'রাহমান' তিনিই যিনি প্রকৃত নিয়ামতদাতা এবং যাঁর দয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অবাধ্যতা বা অন্য কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াই অনুগ্রহস্বরূপ প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে। যা আলোচনা করা হয়েছে তাতে ইলমে উসুলুদ দ্বীনের অধিকাংশ উদ্দেশ্যের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যা ইলমে উসুলুল ফিকহের পূর্বে অবস্থান করে; যেমন ওয়াজিবুল উজুদ (আল্লাহর অস্তিত্ব), তাঁর ক্ষমতা এবং সৃষ্টি করা ইত্যাদি প্রমাণ করা। (এবং আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক)। জনৈক গবেষক বলেন: রিসালাতে ইলাহিয়্যার ব্যাখ্যায় সবচেয়ে সারগর্ভ কথা হলো এটি সত্য (আল্লাহ) এবং সৃষ্টির মধ্যে এক মাধ্যম, যা বুদ্ধিমানদের সেই সব বিষয়ে সচেতন করে যা তাদের বুদ্ধি অনুধাবন করতে অক্ষম—যেমন তাদের মাবুদের গুণাবলি, পরকাল, দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণসমূহ, হেদায়েতকারী প্রেরণা এবং ধ্বংসকারী সংশয় দূরীকরণ। মুসান্নিফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'আল-মুসাইয়ারা' গ্রন্থে বলেন: আর গবেষকদের বর্ণনা অনুযায়ী: নবী হলেন এমন এক মানুষ যাকে আল্লাহ তাঁর নিকট অবতীর্ণ ওহি প্রচারের জন্য পাঠিয়েছেন, আর রাসুলের ক্ষেত্রেও তাই, সুতরাং কোনো পার্থক্য নেই—উক্তি সমাপ্ত। পার্থক্যের বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: রাসুল সতর্ক করার জন্য আদিষ্ট এবং তিনি নতুন শরীয়ত নিয়ে আসেন, নবীর বিষয়টি তেমন নয় যদিও তাঁকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাসুলের কাছে ওহি সমস্ত প্রকারে আসে, আর নবীর কাছে আংশিকভাবে আসে। তাঁর নাম 'মুহাম্মাদ' রাখা হয়েছে কারণ তিনি আল্লাহর নিকট এবং আসমান ও জমিনবাসীর নিকট প্রশংসিত, আর তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী ইত্যাদি।

(তিনি তাঁর সম্মান বৃদ্ধির জন্য তাঁর নিজের নাম থেকে একটি নাম বের করেছেন... সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' আর ইনি হলেন 'মুহাম্মাদ')

 

(তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাঁর ইবাদতকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ) এতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। 'মিন' (من) অব্যয়টি এখানে আংশিকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ 'ইবাদ' (বান্দা) বলতে মালিকানাধীন দাসদের বুঝায় যা ইবাদতকারী ও অ-ইবাদতকারী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ইবাদত হলো আনুগত্য। (এবং তাঁর আদেশসমূহ পালন করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী) স্পষ্ট মুজিজা এবং প্রকাশ্য দলিলের মাধ্যমে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের মতো। মহান আল্লাহ বলেন—"তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের জন্য বের করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও"—আয়াত। প্রথম গুণটিকে দ্বিতীয়টির আগে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ প্রথমটি দ্বিতীয়টির দিকে নিয়ে যায়। কেবল 'আদেশসমূহ' উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হওয়া হয়েছে কারণ এটি পালন করানো অধিক কঠিন; কেননা বর্জন করার চেয়ে কোনো কাজ সম্পাদন করা নফসের জন্য অধিক কষ্টসাধ্য, তা সত্ত্বেও বিপরীত দিক থেকে এটি বোঝা যায়, আর যা নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করাও একটি নির্দেশ। (এবং তিনি প্রসারিত করেছেন) অর্থাৎ ছড়িয়ে দিয়েছেন বা বিস্তৃত করেছেন (তাঁর শরীয়তসমূহের ঝাণ্ডাগুলো) 'লিওয়া' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ পতাকা; অথবা শরীয়ত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। শরীয়তকে ঝাণ্ডার সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ তা রাজত্বের চিহ্ন, আর এর সম্বন্ধ করা হয়েছে যা রূপককে আরও জোরালো করে, যেমন 'পানির রূপালি আভা' বাক্যে দেখা যায় (তাঁর দেশসমূহে এমনকি তা বিকশিত হলো) দেশসমূহ: অর্থাৎ তীব্রতার পর শান্ত হলো এবং কঠোরতার পর কোমল হলো (হাস্যোজ্জ্বল হয়ে) এটি 'বিকশিত হওয়া'র সর্বনাম থেকে অবস্থা বর্ণনা করছে (আনন্দের কারণে) 'জিম' এবং 'যাল' বর্ণের ফাতাহ যোগে, অর্থাৎ খুশি ও উল্লাসের কারণে। অনেক ব্যক্তির উপস্থিতির বিবেচনায় একে হাসির সময় প্রকাশিত দাঁতের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা প্রফুল্লতার সময় প্রকাশ পায়। 'আন' (عَن) অব্যয়টি 'হাস্যোজ্জ্বল' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত কারণ এটি উন্মোচনের অর্থ প্রকাশ করে। এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে হাসিটি উদ্ভূত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬)
عَن الْفَرح (بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان) مُتَعَلق بجذل، فَإِنَّهُمَا يوجبانه (بعد طول انتحابها) أَي بكائها أَشد الْبكاء (على انبساط بهجة الْإِيمَان) أَي حسنه، الْجَار مُتَعَلق بالضحك، فَإِن بِنَاء الضحك على الانبساط وَهُوَ ضد الانقباض، أَو بالانتحاب على أَن يكون مبكيا عَلَيْهِ، شبه الْبِلَاد بِمن يَتَّصِف بالفرح تَارَة والحزن أُخْرَى تَشْبِيها مضمرا، وَأثبت لَهَا من لوازمه الضحك والبكاء تخييلا (وَلَقَد كَانَت) الْبِلَاد (كَمَا قيل:

(فَكَأَن وَجه الأَرْض خد متيم … وصلت سجام دُمُوعه بسجام)

الخد مَعْرُوف، والمتيم العاشق، من تيمه الْحبّ إِذا ذلله، يُقَال سجم الدمع سجوما وسجاما إِذا سَالَ، وَالْمرَاد من وُصُول السجام بالسجام تواترها وتتابعها صلى الله عليه وسلم وعَلى آله الْكِرَام، وَأَصْحَابه الَّذين هم مصابيح الظلام، وَسلم تَسْلِيمًا " وَبعد " فَإِنِّي لما أَن صرفت طَائِفَة من الْعُمر للنَّظَر فِي طريقي الْحَنَفِيَّة وَالشَّافِعِيَّة فِي الْأُصُول) لما كَانَ علم الْأُصُول يتَوَصَّل بِهِ إِلَى كَيْفيَّة استنباط الْأَحْكَام سمي طَرِيقا، وَاخْتلفت الآراء فِي قَوَاعِده فَصَارَ طرقا، وَلم يقل أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ رحمهمَا الله لاشتمال الطَّرِيقَيْنِ مَا ذَهَبا إِلَيْهِ وَمَا ذهب إِلَيْهِ أصحابهما، وَيجوز أَن يُرَاد أسلوباهما فِيهِ. وظرفية الْأُصُول لَهما ظرفية الْكل للجزء، أَو الْكُلِّي للجزئي (خطر لي أَن أكتب كتابا مفصحا) أَي كاشفا يزِيل الخفاء (عَن الاصطلاحين) هُوَ اتِّفَاق طَائِفَة على وضع لفظ لِمَعْنى، والتثنية بِاعْتِبَار النَّوْعَيْنِ لَا الفردين، وَلَا يلْزم اخْتِلَافهمَا فِي كل فَرد، بل يَكْفِي بِاعْتِبَار الْمَجْمُوع وَلَا ينْحَصر الْكتاب فِي بَيَان الاصطلاحيات، لَكِنَّهَا الْعُمْدَة فِيهِ فَاكْتفى بذكرها (بِحَيْثُ يطير من أتقنه) أَي أحكم هَذَا الْكتاب الْمَذْكُور بفهمه على وَجه التَّحْقِيق يطير (إِلَيْهِمَا) أَي الاصطلاحين أَو طريقي الْفَرِيقَيْنِ (بجناحين) " قَوْله بِحَيْثُ " مُتَعَلق بِمَحْذُوف هُوَ صفة حَال " كتابا " أَو لمصدر " مفصحا " فَإِن قلت من أتقن الْكتاب المفصح عَن الاصطلاحين فقد بلغ الْغَايَة فيهمَا فَكيف يطير بعد ذَلِك إِلَيْهِمَا قلت مَعْنَاهُ أَن المتقن تحصل لَهُ ملكة يقتدر بهَا على استحضار كل من المصطلحات عِنْد الْحَاجة بِأَدْنَى توجه، وَبِهَذَا ظهر وَجه اسْتِعَارَة الطيران لسرعة الِانْتِقَال، وَفَائِدَة ذكر الجناحين مَعَ أَن الطيران لَا يكون بدونهما إِيهَام أَن الطيران مَحْمُول على حَقِيقَته (إِذْ كَانَ من عَلمته أَفَاضَ) أَي أَفَادَ (فِي هَذَا الْمَقْصد) أَي الإفصاح عَنْهُمَا (لم يوضحهما حق الْإِيضَاح وَلم يناد مرتادهما) أَي طَالب الاصطلاحين (بَيَانه) فَاعل لم يناد (إِلَيْهِمَا) أَي الاصطلاحين (بحي على الْفَلاح) هِيَ اسْم فعل بِمَعْنى أقبل يعدى بعلي، وَقد يَجِيء حَيّ مُتَعَدِّيا بِمَعْنى ائْتِ كَقَوْلِه:

(حَيّ الحمول: فَإِن الركب قد ذَهَبا …)

والفلاح: الْفَوْز والنجاة والبقاء فِي الْخَيْر، وَالْمَجْمُوع صَار فِي الْعرف مثلا يسْتَعْمل فِي شهار التَّبْلِيغ والإيقاظ لَهُ، والإفصاح عَن الْقَصْد، مَأْخُوذ من قَول الْمُؤَذّن (فشرعت فِي هَذَا الْغَرَض) أَي تأليف الْكتاب الْمَذْكُور (ضاما إِلَيْهِ) أَي بَيَان الاصطلاحين (مَا ينقدح
আনন্দ প্রসঙ্গে (ইনসাফ ও ইহসানের মাধ্যমে) যা 'জাযাল' (তীব্ৰ আনন্দ) এর সাথে সম্পৃক্ত। কেননা এই দুটি বিষয় তা সাব্যস্ত করে (তার দীর্ঘ বিলাপের পর) অর্থাৎ অত্যন্ত কঠোর ক্রন্দনের পর (ঈমানের সৌন্দর্যের প্রসারণের ওপর) অর্থাৎ তার সৌন্দর্যের ওপর। যার (সংলগ্ন পদ) হাসির সাথে সম্পৃক্ত, কারণ হাসির ভিত্তি হলো প্রসারণ বা প্রফুল্লতা, যা সংকোচনের বিপরীত। অথবা এটি বিলাপের সাথে সম্পৃক্ত, যার ওপর ক্রন্দন করা হচ্ছে। এখানে জনপদকে এমন এক সত্তার সাথে তুলনা করা হয়েছে যে কখনো আনন্দিত হয় আবার কখনো দুঃখিত হয়—এটি একটি প্রচ্ছন্ন উপমা (তাশবিহ মুদমার)। এবং তার আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে হাসি ও কান্নাকে রূপক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে (তাখয়িলা)। (এবং জনপদ ছিল) যেমনটি বলা হয়েছে:

(যেন পৃথিবীর উপরিভাগ এক প্রেমকাতর প্রেমিকের গণ্ডদেশ … যার প্রবাহিত অশ্রুধারা অপর অশ্রুধারার সাথে মিলিত হয়েছে।)

'খাদ' (গণ্ডদেশ) সুপরিচিত, আর 'মুতায়্যাম' হলো সেই প্রেমিক, যাকে প্রেম বশীভূত ও অনুগত করে ফেলেছে। বলা হয়, যখন অশ্রু প্রবাহিত হয় তখন তাকে 'সাজামা আদ-দাম'উ সাজুমান ওয়া সিজামান' বলা হয়। অশ্রুর প্রবাহের সাথে প্রবাহ মিলিত হওয়ার অর্থ হলো এর ধারাবাহিকতা ও পর্যায়ক্রমিক অবস্থা। তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গের ওপর ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যাঁরা অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ। অতঃপর: আমি যখন আমার জীবনের একটি অংশ উসুল শাস্ত্রে হানাফি ও শাফিঈ উভয় পদ্ধতির পর্যালোচনায় ব্যয় করলাম; যেহেতু উসুল শাস্ত্রের মাধ্যমে হুকুম আহকাম উদ্ঘাটনের পদ্ধতি জানা যায়, তাই একে 'তরিকা' বা পথ বলা হয়েছে। এবং এর নীতিমালার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতের সৃষ্টি হওয়ায় এটি একাধিক পথে পরিণত হয়েছে। লেখক এখানে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফিঈর (রহিমাহুমাল্লাহ) নাম নির্দিষ্ট করে বলেননি, কারণ এই দুই পথ তাঁদের এবং তাঁদের অনুসারীদের গৃহীত মতামতের অন্তর্ভুক্ত। অথবা এর দ্বারা তাঁদের দুজনের রচনাশৈলী বা পদ্ধতিও উদ্দেশ্য হতে পারে। আর উসুলের ক্ষেত্রে তাঁদের এই অবস্থান হলো পূর্ণের সাথে অংশের বা সাধারণের সাথে বিশেষের সম্পর্কের মতো। (আমার মনে উদয় হলো যে, আমি একটি সুস্পষ্ট কিতাব রচনা করি) অর্থাৎ যা আবরণ উন্মোচনকারী এবং অস্পষ্টতা দূরকারী (উভয় পরিভাষার ক্ষেত্রে)। পরিভাষা হলো কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য একটি শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে কোনো দলের ঐক্যমত হওয়া। এখানে দ্বিবচন ব্যবহার করা হয়েছে দুই প্রকারের বিবেচনায়, দুই ব্যক্তির বিবেচনায় নয়। প্রতিটি একক বিষয়ে তাঁদের ভিন্ন হওয়া আবশ্যক নয়, বরং সামগ্রিক বিচারে ভিন্ন হওয়াই যথেষ্ট। আর এই কিতাবটি কেবল পরিভাষা বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তবে এটিই এর মূল ভিত্তি, তাই কেবল এর উল্লেখ করা হয়েছে। (যাতে করে যে ব্যক্তি এটি আয়ত্ত করবে সে উড়তে পারবে) অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই কিতাবটি যথাযথভাবে অনুধাবন করে আয়ত্ত করবে, সে উড়তে পারবে (উভয় পরিভাষার দিকে) অর্থাৎ উভয় পরিভাষা বা উভয় দলের পদ্ধতির দিকে (দুই ডানা নিয়ে)। "যাতে করে" কথাটি উহ্য একটি গুণের সাথে সম্পৃক্ত যা "কিতাবান" এর অবস্থা অথবা "মুফসিহান" এর মূল ক্রিয়াপদের সাথে সম্পৃক্ত। যদি আপনি প্রশ্ন করেন: যে ব্যক্তি উভয় পরিভাষার সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাবটি আয়ত্ত করেছে, সে তো এ বিষয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে, তবে এরপর আবার সেদিকে উড়বে কীভাবে? আমি বলব: এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি এটি আয়ত্ত করবে তার মধ্যে এমন এক সক্ষমতা বা দক্ষতা তৈরি হবে যার মাধ্যমে সে সামান্য মনোযোগ দিলেই প্রয়োজনে প্রতিটি পরিভাষাকে উপস্থিত করতে সমর্থ হবে। এর মাধ্যমেই দ্রুত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে 'ওড়া' শব্দের রূপক ব্যবহারের কারণ স্পষ্ট হলো। আর দুই ডানার উল্লেখ করার উপকারিতা হলো—যদিও ওড়া ডানা ছাড়া সম্ভব নয়—তা সত্ত্বেও এটি বোঝানো যে এই ওড়া তার প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। (যেহেতু আমি যাদের সম্পর্কে জানি যারা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন) অর্থাৎ এই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ উভয়টি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে (তাঁরা যথাযথভাবে তা স্পষ্ট করেননি এবং তাঁদের অন্বেষণকারীকে আহ্বান জানাননি) অর্থাৎ পরিভাষা অন্বেষণকারীকে। 'তার বর্ণনা' শব্দটি 'আহ্বান জানায়নি' ক্রিয়ার কর্তা। (তাঁদের দিকে) অর্থাৎ উভয় পরিভাষার দিকে (কল্যাণের দিকে এসো আহ্বানের মাধ্যমে)। এটি একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যার অর্থ 'আসো', যা 'আলা' অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। কখনো 'হায়্যা' শব্দটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করে 'আসো' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন কবি বলেছেন:

(উটের পিঠের হাওদাজগুলোর কাছে এসো; কেননা কাফেলা চলে গেছে …)

আর 'ফালাহ' হলো: সফলতা, মুক্তি এবং কল্যাণের ওপর স্থায়ী হওয়া। এই বাক্যটি প্রথাগতভাবে প্রচার এবং মানুষকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে একটি প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা মুয়াজ্জিনের আযান থেকে নেওয়া হয়েছে। (অতঃপর আমি এই উদ্দেশ্যে ব্রতী হলাম) অর্থাৎ উল্লিখিত কিতাবটি রচনার কাজে (তার সাথে যুক্ত করে) অর্থাৎ উভয় পরিভাষার বর্ণনার সাথে (যা আমার মনে উদয় হয়েছে)...
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৭)
لي) أَي يظْهر (من بحث) وَهُوَ فِي اللُّغَة التفتيش، وَفِي الِاصْطِلَاح إِثْبَات حَال الشَّيْء (وتحرير) تَحْرِير الْكتاب وَغَيره تقويمه (فَظهر لي بعد) كِتَابَة شَيْء (قَلِيل) أَو بعد قَلِيل من الزَّمَان (أَنه) أَي الْكتاب الْمَشْرُوع فِيهِ (سفر) أَي كتاب (كَبِير وَعرفت من أهل الْعَصْر انصراف هممهم) جمع همة بِالْكَسْرِ: وَهِي مَا يهم بِهِ من أَمر ليفعله، شاع فِي الْبَاعِث القلبي المنبعث من النَّفس بمطلوب كمالي ومقصود عَال (فِي غير الْفِقْه إِلَى المختصرات. وإعراضهم عَن الْكتب المطولات) عدم انصراف هممهم فِي الْفِقْه هَهُنَا، أما لكَونه ضَرُورِيًّا للْكُلّ بِاعْتِبَار حوادث جمة لَا تكَاد تُوجد إِلَّا فِيهَا، وَإِمَّا لما ترَتّب عَلَيْهِ من حطام الدُّنْيَا، والأغلب هُوَ الثَّانِي، والاختصار رد الْكثير إِلَى الْقَلِيل مَعَ بَقَاء مَعْنَاهُ: وَهُوَ أقرب إِلَى الْحِفْظ وَأنْشط للقارئ وأوقع فِي النَّفس، قَالَ صلى الله عليه وسلم " أُوتيت جَوَامِع الْكَلم واختصرت لي الْحِكْمَة اختصارا " وَقَالَ الْحسن بن عَليّ رضي الله عنهما " خير الْكَلَام مَا قل وَدلّ وَلم يطلّ فيمل " (فعدلت إِلَى مُخْتَصر مُتَضَمّن إِن شَاءَ الله تَعَالَى الغرضين) بَيَان الاصطلاحين على الْوَجْه الْمَذْكُور وَضم مَا يظْهر لَهُ (واف بِفضل الله سُبْحَانَهُ بتحقيق مُتَعَلق العزمين) الإفصاح والاختصار، وَلَا يخفى على من أتقن هَذَا الْمُخْتَصر الْجَامِع لما فِي المختصرات والمطولات مَعَ كَمَال التدقيق وَالتَّحْقِيق، وَأما الإفصاح وَإِن تبادر إِلَى الْوَهم ضِدّه لما فِيهِ من الصعوبة الَّتِي تعجز عقول الفحول إِلَّا من خصّه الله بمزيد التَّوْفِيق: فقد وَقع على أتم الْوُجُوه الممكنة فِي مثله مِمَّا لَفظه إِلَى مَعْنَاهُ كقطرة بِالنّظرِ إِلَى بَحر عميق (غير أَنه) أَي الْمُخْتَصر (مفتقر إِلَى الْجواد الْوَهَّاب تَعَالَى أَن يقرنه بِقبُول أَفْئِدَة الْعباد) الْجواد السخي، من أَسمَاء الله تَعَالَى من صِفَات الْأَفْعَال، وَكَذَا الْوَهَّاب إِلَّا أَن فِيهِ زِيَادَة مُبَالغَة " وَأَن يقرنه " بِحَذْف الْجَار مُتَعَلق بمفتقر، والأفئدة جمع فؤاد، وَهُوَ الْقلب: أَفَادَ أَن حسن التَّأْلِيف وكماله لَا يُوجب الْقبُول، لِأَنَّهُ موهبة من الله سُبْحَانَهُ، وَلَقَد تأدب فِي سُؤَاله الْمُقَارنَة بقبولها مَعَ الْخَلِيل صلى الله عليه وسلم حَيْثُ قَالَ: - {فَاجْعَلْ أَفْئِدَة من النَّاس تهوي إِلَيْهِم} - (وَأَن يتفضل عَلَيْهِ) أَي الْمُخْتَصر: أَي على مُؤَلفه على تأليفه، وَفِيه إِيهَام أَنه بِمَنْزِلَة طَالب لِلْأجرِ، ويلائمه مَا سبق من وَصفه بالافتقار (بِثَوَاب يَوْم التناد) أَي يَوْم الْقِيَامَة، سمي بِهِ لِأَنَّهُ يُنَادي فِيهِ بَعضهم بَعْضًا للاستغاثة، أَو يتنادى أَصْحَاب الْجنَّة وَأَصْحَاب النَّار، وَقيل غير ذَلِك، وَهَذَا إِذا لم تكن الدَّال مُشَدّدَة، فَإِن كَانَت فَالْمَعْنى يند بَعضهم من بعض: أَي يفر (وَالله سُبْحَانَهُ أسأله ذَلِك) أَي الْقبُول وَالثَّوَاب، وَتَقْدِيم الْمَفْعُول لإِفَادَة الْحصْر كَمَا فِي - {إياك نستعين} - (وَهُوَ حُسَيْنًا) كافينا (وَنعم الْوَكِيل) قيل بِمَعْنى موكول إِلَيْهِ تَدْبِير الْبَريَّة وَغَيره على الْحَذف والإيصال، أَو الْكَفِيل بالرزق، أَو الْمعِين، أَو الشَّاهِد، أَو الحفيظ أَو الْكَافِي، وَقدم الْمَخْصُوص بالمدح لإِفَادَة التَّخْصِيص (وسميته: بالتحرير) لتقويمه
(আমার জন্য) অর্থাৎ প্রকাশিত হয়েছে (গবেষণা থেকে); এটি আভিধানিক অর্থে অনুসন্ধান, আর পারিভাষিক অর্থে কোনো বিষয়ের অবস্থাকে সাব্যস্ত করা। (এবং লিখনশৈলী) বই বা অন্য কিছুর লিখনশৈলী বা সংস্কার হলো সেটিকে সংশোধন ও সুবিন্যস্ত করা। (অল্প কিছু) লেখার পর (বা অল্প সময় পর আমার কাছে প্রতিভাত হলো যে,) অর্থাৎ যে কিতাবটি শুরু করা হয়েছে (তা একটি বড়) বা বিশাল (গ্রন্থ)। (এবং আমি সমসাময়িক লোকদের থেকে তাদের সংকল্পের বিমুখতা লক্ষ্য করেছি।) ‘হিমাম’ শব্দটি ‘হিম্মাহ’ এর বহুবচন, যা দ্বারা কোনো কাজ করার সংকল্পকে বোঝায়। এটি সাধারণত কোনো মহৎ উদ্দেশ্য বা উচ্চতর গন্তব্য লাভের জন্য অন্তরের ঐকান্তিক তাগিদ অর্থে ব্যবহৃত হয়। (ফিকহ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে তারা সংক্ষিপ্তসার বা সারসংক্ষেপের দিকে ঝুঁকেছে এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।) এখানে ফিকহের ক্ষেত্রে তাদের সংকল্প বিমুখ না হওয়ার কারণ হতে পারে এটি সবার জন্য অপরিহার্য, কারণ এতে এমন অসংখ্য নিত্যনতুন ঘটনার সমাধান রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। অথবা এটি হতে পারে দুনিয়াবি তুচ্ছ সম্পদের মোহে, আর দ্বিতীয় কারণটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য। সংক্ষেপণ হলো অর্থের কোনো পরিবর্তন না করে অনেক কথাকে অল্প কথায় নিয়ে আসা। এটি মুখস্থ রাখার জন্য সহজতর, পাঠকের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এবং অন্তরে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাকে সারগর্ভ বাক্য প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য প্রজ্ঞা ও জ্ঞানকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।” হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “সেই কথাই সর্বোত্তম যা অল্প কিন্তু অর্থবহ এবং যা দীর্ঘ হয়ে বিরক্তির কারণ হয় না।” (তাই আমি একটি সংক্ষিপ্তসারের দিকে মনোযোগ দিলাম যা ইনশাআল্লাহ তাআলা উভয় উদ্দেশ্যকে ধারণ করবে।) অর্থাৎ উল্লিখিত পদ্ধতিতে দুটি পরিভাষার ব্যাখ্যা এবং যা লেখকের নিকট প্রকাশ পেয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করা। (এবং এটি সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে উভয় সংকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঠিক বিশ্লেষণ প্রদানে সক্ষম হবে।) অর্থাৎ বর্ণনার স্পষ্টতা এবং সংক্ষিপ্ততা। যারা এই সংক্ষিপ্ত ও জামে কিতাবটি আয়ত্ত করবে তাদের কাছে এটি গোপন থাকবে না যে, এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ছোট-বড় সব কিতাবের সারবস্তুকে একত্রিত করেছে। আর বর্ণনার স্পষ্টতার বিষয়টি—যদিও এর কাঠিন্যের কারণে এর বিপরীত ধারণা মনে আসতে পারে যা বড় বড় পণ্ডিতদের বুদ্ধিকেও হার মানিয়ে দেয়, কেবল তারাই ব্যতিক্রম যাদের আল্লাহ বিশেষ তৌফিক দান করেছেন—তা এই কিতাবে সম্ভবপর নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যার শব্দসমষ্টি এর গভীর অর্থের তুলনায় গভীর সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির মতো। (তবে এই সংক্ষিপ্তসারটি) অর্থাৎ এই গ্রন্থটি (পরম দাতা ও মহাদানশীল আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী, যেন তিনি একে বান্দাদের অন্তরের কবুলিয়াতের সাথে যুক্ত করে দেন।) ‘আল-জাওয়াদ’ মানে অত্যন্ত দানশীল, এটি আল্লাহ তাআলার কার্যাবলীর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত নাম। একইভাবে ‘আল-ওয়াহহাব’ নামটিও, তবে এতে গুণবাচকতার আধিক্য রয়েছে। ‘যাতে তিনি একে যুক্ত করেন’ বাক্যটি ‘মুখাপেক্ষী’ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। ‘আফইদাহ’ হলো ‘ফুয়াদ’-এর বহুবচন, যার অর্থ অন্তর। এখান থেকে বোঝা যায় যে, সুন্দর রচনাশৈলী এবং এর পূর্ণতা থাকলেই তা মানুষের কাছে গৃহীত হওয়া আবশ্যক নয়, বরং এটি সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান। আর তিনি এটি কবুল করার আবেদনের ক্ষেত্রে খলিলুল্লাহর সাথে আদব রক্ষা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: “সুতরাং আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন।” (এবং যেন তিনি এর ওপর অনুগ্রহ করেন) অর্থাৎ সংক্ষিপ্তসারটির ওপর তথা এর রচনার জন্য এর লেখকের ওপর। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে তিনি যেন প্রতিদান প্রত্যাশী এক প্রার্থী, যা তাঁর পূর্বোক্ত অভাব বা মুখাপেক্ষিতার বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (ডাক দেওয়ার দিনের সওয়াব বা প্রতিদান প্রদানের মাধ্যমে।) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। একে এই নামে ডাকার কারণ হলো, সেদিন একে অপরকে সাহায্যের জন্য ডাকবে, অথবা জান্নাতি ও জাহান্নামীরা একে অপরকে ডাকবে। আরও কিছু মতও রয়েছে। আর যদি ‘দাল’ বর্ণটি তাশদিদযুক্ত হয়, তবে এর অর্থ হবে সেদিন তারা একে অপর থেকে পলায়ন করবে। (আর আমি সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছেই তা প্রার্থনা করি) অর্থাৎ কবুলিয়াত ও সওয়াব। এখানে কর্মপদকে আগে আনা হয়েছে সীমাবদ্ধতা বা একনিষ্ঠতা বোঝাতে, যেমনটি ‘আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই’ আয়াতে হয়েছে। (এবং তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট) (এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক)। কারো মতে এর অর্থ—সৃষ্টিজগতের পরিচালনার ভার যাঁর ওপর অর্পিত, অথবা তিনি রিজিকের জিম্মাদার, অথবা সাহায্যকারী, অথবা সাক্ষী, অথবা রক্ষাকারী, কিংবা যথেষ্টকারী। এখানে প্রশংসিত সত্তাকে আগে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর বিশেষত্ব বোঝানোর জন্য। (এবং আমি এর নাম দিয়েছি: আত-তাহরির) একে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করার কারণে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৮)
قَوَاعِد الْأُصُول عَن مظان العوج، ولكمالها فِي الاتصاف بِهَذَا الْوَصْف، سمي باسم جنسه مُبَالغَة وادعاء لاتحاده بِهِ، وتنزيلا لما سواهُ منزلَة الْعَدَم (بعد ترتيبه على مُقَدّمَة) لتَكون التَّسْمِيَة بعد وجود الْمُسَمّى كَمَا هُوَ الأَصْل، و‌‌المقدمة مَأْخُوذَة من مُقَدّمَة الْجَيْش من قدم بِمَعْنى تقدم، يُقَال مُقَدّمَة الْعلم لما يتَوَقَّف عَلَيْهِ مسَائِله كمعرفة حَده، وغايته، وموضوعه، ومقدمة الْكتاب لطائفة من كَلَامه قدمت أَمَام الْمَقْصُود لارتباطه بهَا، وانتفاع بهَا فِيهِ (هِيَ الْمُقدمَات) أَي الْأُمُور الَّتِي جرت عَادَة الْأُصُولِيِّينَ بجعلها مُقَدّمَة لعلم الْأُصُول من بَيَان مَفْهُوم اسْمه وموضوعه، والمقدمات المنطقية، واستمداده كَمَا سَيَجِيءُ، فَاللَّام للْعهد (وَثَلَاث مقالات) أولاها (فِي المبادئ) اللُّغَوِيَّة (و) ثَانِيهَا فِي (أَحْوَال الْمَوْضُوع) أَي مَوْضُوع علم الْأُصُول (و) ثَالِثهَا فِي مَاهِيَّة (الِاجْتِهَاد) وَمَا يُقَابله من التَّقْلِيد وَمَا يتبعهَا من الْأَحْكَام (وَهُوَ) أَي الِاجْتِهَاد وَمَا يتبعهُ (متمم) لمسائل الْأُصُول، لَا مِنْهَا (مسَائِله) أَي الِاجْتِهَاد (فقهية) أَي بَعْضهَا كوجوب الِاجْتِهَاد فِي حق نَفسه وَفِي حق غَيره إِذا خَافَ فَوت الْحَادِثَة على غير الْوَجْه وحرمته فِي مُقَابلَة قَاطع (لمثل مَا سنذكر) فِي بَيَان الْمَوْضُوع من أَن الْبَحْث عَن حجية خبر الْوَاحِد، وَالْقِيَاس لَيْسَ من مسَائِل الْأُصُول، لِأَن موضوعها فعل الْمُكَلف، ومحمولها الحكم الشَّرْعِيّ، وَهُوَ الْوُجُوب وَالْحُرْمَة، فَتكون فقهية (واعتقادية) كَمَسْأَلَة لَا حكم فِي الْمَسْأَلَة الاجتهادية، وَجَوَاز خلو الزَّمَان عَن مُجْتَهد.

(الْمُقدمَة)

 

(الْمُقدمَة أُمُور) هِيَ الْمَدْلُول عَلَيْهَا بقوله هِيَ الْمُقدمَات، نكرت هَهُنَا لِأَنَّهَا ذكرت تَوْطِئَة لتفصيلها، والتنكير بمقام الْإِجْمَال أليق، وَمَا قيل من أَن الْمعرفَة إِذا أُعِيدَت نكرَة، فَهِيَ غير الأولى، فَلَيْسَ على إِطْلَاقه، على أَن ذَلِك عِنْد إِعَادَة اللَّفْظ بِعَيْنِه (الأول) من الْأُمُور الْمَذْكُورَة (مَفْهُوم اسْمه) أَي الْعلم الْمَذْكُور، وَالِاسْم أصُول الْفِقْه، لم يقل تَعْرِيفه مَعَ أَنه أخصر إِشَارَة إِلَى أَن التَّعْرِيف اسْمِي لَا حَقِيقِيّ كَمَا سَيَجِيءُ، مَعَ أَنه جرت عَادَتهم بِاعْتِبَار حَال الِاسْم فِي مقَام تَعْرِيفه (وَالْمَعْرُوف) أَي الْمَشْهُور بَين الْأُصُولِيِّينَ (كَونه) أَي الِاسْم الْمَذْكُور (علما) هُوَ مَا وضع لشَيْء بِعَيْنِه غير متناول غَيره بِوَضْع وَاحِد، وَسَيَجِيءُ بَيَانه (وَقيل) هُوَ (اسْم جنس لإدخاله اللَّام) أضيف الإدخال إِلَى الِاسْم مجَازًا لِأَنَّهُ فعل الْمُتَكَلّم تَنْزِيلا للقابل منزلَة الْفَاعِل مُبَالغَة فِي قبُوله، فَكَأَنَّهُ أدخلها بِنَفسِهِ عَلَيْهِ، يَعْنِي لَو كَانَ علما لما دَخلته اللَّام، وَإِذا انْتَفَى العلمية تعْيين كَونه اسْم جنس، وَيرد عَلَيْهِ أَنَّهَا تدخل فِي كثير من الْأَعْلَام، إِمَّا لُزُوما كَمَا فِي الْأَعْلَام الْغَالِبَة، أَو بِغَيْرِهِ كَمَا فِي كثير من الْأَعْلَام المنقولة من الصّفة أَو الْمصدر، أَو مَا فِيهِ معنى الْمَدْح أَو الذَّم كالعباس
উসূলের মূলনীতিসমূহ বক্রতার উৎস থেকে মুক্ত, এবং এই গুণাবলিতে ভূষিত হওয়ার পূর্ণতার কারণে একে অতিশয়োক্তি ও একত্বের দাবি হিসেবে তার শ্রেণির নামেই নামকরণ করা হয়েছে, এবং একে ছাড়া অন্য সব কিছুকে অস্তিত্বহীনের স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে (একটি ভূমিকার বিন্যাসের পর), যাতে নামকরণটি নামকরণের পর সংঘটিত হয় যেমনটি মূল নিয়ম। আর ভূমিকা শব্দটি বাহিনীর অগ্রবর্তী দল (মুকাদ্দিমাতুল যাইশ) থেকে গৃহীত হয়েছে যা 'কদামা' ধাতু থেকে উদ্ভূত এবং 'অগ্রবর্তী হওয়া' অর্থ প্রকাশ করে। বিজ্ঞানের ভূমিকা বলা হয় এমন বিষয়কে যার ওপর এর মাসয়ালা বা সমস্যাবলি নির্ভর করে, যেমন এর সংজ্ঞা, লক্ষ্য এবং আলোচ্য বিষয় জানা। আর গ্রন্থের ভূমিকা হলো সেই বক্তব্য যা মূল উদ্দেশ্যের আগে উপস্থাপন করা হয় কারণ এর সাথে মূল বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে এবং এতে উপকারিতা বিদ্যমান। (এগুলো হলো ভূমিকাগুলো) অর্থাৎ সেই সব বিষয় যা উসূলবিদগণ সাধারণত উসূল শাস্ত্রের ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করে থাকেন, যেমন এর নামের অর্থ ও আলোচ্য বিষয়ের বর্ণনা, যৌক্তিক ভূমিকা এবং এর উৎসসমূহ—যা সামনে আলোচিত হবে। এখানে আলিফ-লাম নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। (এবং তিনটি প্রবন্ধ) যার প্রথমটি ভাষাগত (মূলনীতিসমূহ) প্রসঙ্গে, (এবং) দ্বিতীয়টি (আলোচ্য বিষয়ের অবস্থা) অর্থাৎ উসূল শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে, (এবং) তৃতীয়টি (ইজতিহাদ) বা গবেষণার স্বরূপ এবং এর বিপরীতে থাকা তাকলীদ বা অনুসরণ এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানসমূহ নিয়ে। (এবং তা) অর্থাৎ ইজতিহাদ ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো উসূলের মাসয়ালাসমূহের (পরিপূরক), এগুলো উসূলের অন্তর্ভুক্ত নয়। (এর মাসয়ালাগুলো) অর্থাৎ ইজতিহাদের মাসয়ালাগুলো (ফিকহ সংক্রান্ত), অর্থাৎ এর কিছু অংশ যেমন নিজের জন্য ইজতিহাদ করা ওয়াজিব হওয়া এবং অন্যের ক্ষেত্রেও ওয়াজিব হওয়া যদি সময়ের মধ্যে ঘটনাটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এবং অকাট্য দলীলের বিপরীতে ইজতিহাদ করা হারাম হওয়া। (আমরা যা উল্লেখ করব তার মতো) যেমন আলোচ্য বিষয়ের বর্ণনায় আসবে যে—খবরে ওয়াহিদের প্রামাণ্যতা এবং কিয়াস নিয়ে আলোচনা উসূলের মাসয়ালা নয়, কারণ এর আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাজ, আর এর বিধেয় হলো শরঈ বিধান, যা হলো ওয়াজিব বা হারাম হওয়া। সুতরাং এগুলো ফিকহ সংক্রান্ত। (এবং বিশ্বাসগত) যেমন এই মাসয়ালা যে—ইজতিহাদী বিষয়ে কোনো নির্ধারিত বিধান নেই, এবং কোনো যুগ মুজতাহিদ শূন্য থাকা বৈধ।

(ভূমিকা)

 

(ভূমিকা হলো কতিপয় বিষয়) যা তার 'এগুলো হলো ভূমিকাগুলো' উক্তির মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে। এখানে অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে কারণ এগুলো বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাবনা হিসেবে এসেছে, আর অস্পষ্টতার স্তরে অনির্দিষ্ট রাখাই বেশি উপযুক্ত। আর যা বলা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট বিশেষ্য যদি অনির্দিষ্টভাবে পুনরাবৃত্তি হয় তবে তা প্রথমটি থেকে ভিন্ন হয়—এটি সর্বজনীন নয়, বিশেষ করে যখন মূল শব্দ হুবহু পুনরাবৃত্তি করা হয়। উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে (প্রথমটি) হলো (এর নামের ধারণা) অর্থাৎ উক্ত শাস্ত্রের ধারণা। আর নামটি হলো উসূলে ফিকহ। তিনি এর সংজ্ঞা বলেননি যদিও সেটি সংক্ষেপ হতো, এটি নির্দেশ করতে যে সংজ্ঞাটি নামগত, প্রকৃত নয় যেমন সামনে আসবে। তা সত্ত্বেও তাদের রীতি ছিল সংজ্ঞার স্থানে নামের অবস্থাকে বিবেচনা করা। (এবং পরিচিত) অর্থাৎ উসূলবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো (সেটি) অর্থাৎ উক্ত নাম একটি (বিশেষ্য), যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্ধারিত যা অন্য কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে না। এর বর্ণনা সামনে আসবে। (এবং কেউ কেউ বলেন) এটি (একটি সাধারণ বিশেষ্য কারণ এতে আলিফ-লাম প্রবেশ করেছে)। প্রবেশের বিষয়টি রূপকভাবে নামের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে কারণ এটি বক্তার কাজ, এখানে গ্রহণকারীকে কর্তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে এর গ্রহণযোগ্যতার আধিক্য বোঝাতে, যেন এটি নিজেই নিজের ওপর আলিফ-লাম প্রবেশ করিয়েছে। অর্থাৎ এটি যদি বিশেষ্য হতো তবে এতে আলিফ-লাম প্রবেশ করত না। আর যখন এর বিশেষ্য হওয়া নাকচ হয়ে যায়, তখন এর সাধারণ বিশেষ্য হওয়া নিশ্চিত হয়। এর বিপরীতে যুক্তি দেওয়া হয় যে, আলিফ-লাম অনেক বিশেষ্যেই প্রবেশ করে; হয় আবশ্যিকভাবে যেমন 'আলামে গালেবা'র ক্ষেত্রে, অথবা অন্যভাবে যেমন সিফাত বা মাসদার থেকে রূপান্তরিত অনেক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে, অথবা যেগুলোর মধ্যে প্রশংসা বা নিন্দার অর্থ রয়েছে যেমন 'আল-আব্বাস'।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَالْحسن وَالنضْر والأسد وَالْكَلب فِي الْمُسَمّى بهَا، وَإِن لم يكن مُحْتَاجا إِلَى التَّعْرِيف، وَذَلِكَ للمح الوصفية، ومدح الْمُسَمّى بهَا وذمه (وَلَيْسَ بِشَيْء فَإِن الْعلم) على مَا هُوَ الْمَعْرُوف إِنَّمَا هُوَ (الْمركب) الإضافي: أَي أصُول الْفِقْه (لَا الْأُصُول) الَّذِي هُوَ جُزْء مِنْهُ، فالعلم مَا دَخلته اللَّام، وَمَا دَخلته اللَّام فَلَيْسَ بِعلم بل جزؤه، وَلما عين مَدْخُول اللَّام أَرَادَ أَن يبين معنى اللَّام فِيهِ، فَقَالَ (بل الْأُصُول بعد كَونه عَاما فِي المباني) جمع مبْنى، وَهُوَ مَا يَنْبَنِي عَلَيْهِ الشَّيْء (يُقَال) أَي يُطلق (خَاصّا فِي المباني الْمَعْهُودَة للفقه) وَهِي الْأَدِلَّة السمعية (فَاللَّام للْعهد) الْخَارِجِي، لِأَنَّهَا حِصَّة مُعينَة من المباني الْمُطلقَة، وَكلمَة بل اضراب عَمَّا يفهم من الْكَلَام السَّابِق من علمية لفظ الْأُصُول وَحَاصِله أَنه لَيْسَ بِعلم، بل معرف بلام الْعَهْد، وَقيل الأَصْل بعد مَا كَانَ عَاما فِي المباني نقل إِلَى الدَّلِيل، وَقَالَ صدر الشَّرِيعَة النَّقْل خلاف الأَصْل، وَلَا ضَرُورَة إِلَى الْعُدُول إِلَيْهِ، لِأَن الابتناء كَمَا يَشْمَل الْحسي كابتناء السّقف على الجدران كَذَلِك يَشْمَل الْعقلِيّ كابتناء الحكم على دَلِيله (وَالْوَجْه أَنه) أَي الْمركب علم (شخصي) حَقِيقَة الْعُلُوم إِمَّا الْمسَائِل، أَو التصديقات الْمُتَعَلّقَة بهَا، أَو الملكة الْحَاصِلَة من ممارستها، وَيُؤَيّد الْأَخيرينِ تَسْمِيَتهَا بِالْعلمِ، وَالْأول قَول الْقَائِل: علمت النَّحْو وَالصرْف، وَكَلَام المُصَنّف يُشِير إِلَى الأول إِذْ التصديقات أَو الملكة الْقَائِمَة بعالم غير الْقَائِمَة بآخر، فالاسم بِهَذَيْنِ الاعتبارين اسْم جنس كَمَا حَقَّقَهُ السَّيِّد السَّنَد، بِخِلَاف مُتَعَلق علومهم، وَهِي الْمسَائِل، فَإِنَّهُ وَاحِد، وَإِلَيْهِ أَشَارَ بقوله (إِذْ لَا يصدق على مَسْأَلَة) يَعْنِي مثلا، فَيشْمَل كل مَا سوى مَجْمُوع الْمسَائِل، وَلم يتَعَرَّض لما سوى الْجَزَاء، لِأَن عدم صدقه على مَا هُوَ خَارج عَنْهَا فِي غَايَة الظُّهُور فَإِن قلت مسَائِل الْعُلُوم تتزايد بتلاحق الأفكار، فالموجود فِي الزَّمَان السَّابِق مُغَاير بِالذَّاتِ للموجود فِي اللَّاحِق تغاير الْجُزْء وَالْكل، وَهَذَا يسْتَلْزم تعدد الْمُسَمّى، وَهُوَ يُنَافِي كَون الِاسْم علما شخصيا قلت الْمَوْجُود فِي كل زمَان شخص معِين، ويلتزم اشْتِرَاك الِاسْم وتعدد وَضعه بِحَسب تعدد الْأَزْمِنَة، وَلَا مَحْظُور وَهَهُنَا بحث، وَهُوَ أَن مَجْمُوع الْمسَائِل إِنَّمَا هُوَ مَوْجُود ذهني لاشتمالها على النّسَب الاعتبارية، وَمن ضَرُورَة تعدد الأذهان: تعدد وجوداته، وَمن ضَرُورَة تعدد الوجودات: تعدد تشخصاته، فَلَزِمَ كَون الِاسْم للْجِنْس بِهَذَا الِاعْتِبَار أَيْضا وَالْجَوَاب أَن حَقِيقَة مَجْمُوع الْمسَائِل من حَيْثُ هِيَ مَعَ قطع النّظر عَن وجودهَا وتشخصها فِي الذِّهْن جزئي حَقِيقِيّ لعدم إِمْكَان فرض اشتراكها بَين كثيرين، والتعدد إِنَّمَا هُوَ بِاعْتِبَار صورها الْحَاصِلَة فِي الأذهان، فمتعلق تِلْكَ الصُّور وَاحِد بِالذَّاتِ، وَإِن كَانَ كثيرا بِاعْتِبَار التعلقات وَالله أعلم (وَالْعَادَة تعريفة مُضَافا وعلما) أَي عَادَة الْأُصُولِيِّينَ تَعْرِيف الِاسْم الْمَذْكُور تَارَة من حَيْثُ أَنه مركب إضافي

আল-হাসান, আন-নাদর, আল-আসাদ এবং আল-কালব এই নামগুলোর ক্ষেত্রে, যদিও এগুলো পরিচয়ের জন্য আলিফ-লামের মুখাপেক্ষী নয়, তবুও গুণাবলির প্রতি ইঙ্গিত করতে এবং নামধারী ব্যক্তির প্রশংসা বা নিন্দার জন্য এতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়। (আর এটি কোনো গ্রহণযোগ্য কথা নয়, কারণ সংজ্ঞার্থ বা নাম) প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা হলো মূলত (যৌগিক) সম্বন্ধযুক্ত শব্দ: অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ। (শুধু 'আল-উসুল' নয়) যা এর একটি অংশ। সুতরাং নাম বা সংজ্ঞার্থ হলো সেটিই যাতে আলিফ-লাম প্রবেশ করেছে। আর যাতে আলিফ-লাম প্রবেশ করেছে সেটি পূর্ণ নাম নয় বরং তার অংশ। যখন তিনি আলিফ-লাম যার ওপর প্রবেশ করেছে তাকে নির্দিষ্ট করলেন, তখন তিনি এতে আলিফ-লামের অর্থ বর্ণনা করতে চাইলেন। তাই তিনি বললেন, (বরং 'আল-উসুল' শব্দটি 'মাবানি' বা ভিত্তিসমূহের ক্ষেত্রে ব্যাপক হওয়ার পর) 'মাবানি' হলো 'মাবনা' এর বহুবচন, আর তা হলো এমন বিষয় যার ওপর কোনো কিছু দণ্ডায়মান থাকে। (বলা হয়) অর্থাৎ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয় (ফিকহ শাস্ত্রের সেই প্রসিদ্ধ ভিত্তিগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে) আর তা হলো শরয়ি দলিলসমূহ। (সুতরাং এখানে আলিফ-লাম হলো বাহ্যিক পরিচয়ের বা 'আহদ-এ-খারিজী'র জন্য), কারণ এটি সাধারণ ভিত্তিসমূহের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশকে নির্দেশ করে। আর 'বরং' শব্দটি পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে 'আল-উসুল' শব্দটি একটি নাম বা সংজ্ঞার্থ হিসেবে যা বোঝা যাচ্ছিল, তা থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এর সারকথা হলো এটি কোনো নাম নয়, বরং 'লাম-এ-আহদ' এর মাধ্যমে একে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

আর বলা হয়েছে যে, 'আসল' শব্দটি ভিত্তিসমূহের ক্ষেত্রে ব্যাপক হওয়ার পর তা দলিলে স্থানান্তরিত হয়েছে। সদরুশ শরীআহ বলেন, শব্দের অর্থ স্থানান্তর করা মূল নীতির পরিপন্থী, আর এর দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো আবশ্যকতাও নেই। কারণ কোনো কিছুর ওপর ভিত্তি করা যেমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে—যেমন দেয়ালের ওপর ছাদ দণ্ডায়মান হওয়া—তেমনি তা বুদ্ধিগত বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন দলিলের ওপর হুকুম বা বিধান দণ্ডায়মান হওয়া। (আর সঠিক অভিমত হলো এটি) অর্থাৎ এই যৌগিক শব্দটি একটি (ব্যক্তিবাচক নাম)। বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্তা হয় মাসয়ালাসমূহ, অথবা সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নসমূহ, অথবা সেগুলো চর্চার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা। শেষোক্ত দুই অর্থকে ওই শাস্ত্রকে বিজ্ঞান হিসেবে নামকরণ করা সমর্থন করে। আর প্রথম অর্থটিকে বক্তার এই কথাটি সমর্থন করে: 'আমি নাহু ও সরফ শিখেছি'। গ্রন্থকারের বক্তব্য প্রথম অর্থটির দিকেই ইঙ্গিত করে, যেহেতু একজন আলেমের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যয়ন বা দক্ষতা অন্যজনের মধ্যে বিদ্যমান বিষয় থেকে ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং এই দুই বিবেচনায় নামটি জাতিবাচক নাম হবে, যেমনটি সাইয়্যিদ আস-সানাদ তাহকিক করেছেন। পক্ষান্তরে তাদের বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয় অর্থাৎ মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তা অভিন্ন। আর তিনি তাঁর এই কথার মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে (যেহেতু তা একটি মাসয়ালার ওপর প্রযোজ্য হয় না)।

অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ, সুতরাং তা মাসয়ালাসমূহের সমষ্টি ব্যতীত অন্য সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। তিনি আংশিক বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুর অবতারণা করেননি, কারণ মাসয়ালার গণ্ডির বাইরের বিষয়ের ওপর এর প্রয়োগ না হওয়াটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে, চিন্তার বিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞানের মাসয়ালাসমূহ বৃদ্ধি পেতে থাকে; ফলে পূর্ববর্তী সময়ে বিদ্যমান মাসয়ালাসমূহ পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান মাসয়ালাসমূহ থেকে সত্তাগতভাবে ভিন্ন হয়ে যায়, যেমন অংশ ও পূর্ণাঙ্গের মধ্যকার পার্থক্য। আর এটি নামধারী সত্তার বহুত্বকে আবশ্যক করে, যা নামটিকে ব্যক্তিবাচক নাম হওয়ার পরিপন্থী করে তোলে। এর উত্তরে আমি বলব, প্রত্যেক যুগে বিদ্যমান সমষ্টিটি একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিবাচক সত্তা। আর সময়ের ভিন্নতা অনুযায়ী নামের অংশীদারিত্ব এবং এর একাধিকবার প্রবর্তিত হওয়াকে মেনে নেওয়া হবে, এতে কোনো বাধা নেই। এখানে একটি সূক্ষ্ম আলোচনা রয়েছে, আর তা হলো মাসয়ালাসমূহের সমষ্টি মূলত একটি মানসিক অস্তিত্ব, কারণ এটি আপেক্ষিক সম্বন্ধসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর মনের বহুত্ব অস্তিত্বের বহুত্বকে এবং অস্তিত্বের বহুত্ব বৈশিষ্ট্যের বহুত্বকে অপরিহার্য করে তোলে। সুতরাং এই বিবেচনায়ও নামটি জাতিবাচক হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। উত্তর হলো, মাসয়ালাসমূহের সমষ্টির প্রকৃত সত্তা তার নিজস্ব দিক থেকে—মানসিক অস্তিত্ব এবং বিশিষ্টতা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়—তা একটি প্রকৃত বিশেষ, কারণ একে অনেকের মধ্যে অংশীদার হিসেবে কল্পনা করা সম্ভব নয়। আর বহুত্ব কেবল মনে উদিত হওয়া প্রতিচ্ছবিসমূহের বিবেচনায় হয়। সুতরাং ওই প্রতিচ্ছবিসমূহের সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সত্তাগতভাবে এক, যদিও তা সংশ্লিষ্টতার বিবেচনায় বহু হতে পারে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (আর রীতি হলো একে সম্বন্ধযুক্ত এবং একটি নাম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা) অর্থাৎ উসুলবিদদের রীতি হলো উল্লিখিত নামটিকে কখনো সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১০)
نظرا إِلَى مَعْنَاهُ الْأَصْلِيّ الَّذِي نقل عَنهُ إِلَى العلمي، وَتارَة من حَيْثُ أَنه مُفْرد علم نظرا إِلَى مَعْنَاهُ الشخصي الَّذِي نقل إِلَيْهِ، وَإِنَّمَا عرفوه على الْوَجْهَيْنِ لمزيد الانكشاف (فعلى الأول) يحْتَاج إِلَى تَعْرِيف الْمُضَاف والمضاف إِلَيْهِ (الْأُصُول الْأَدِلَّة) مُبْتَدأ وَخبر، والظرف مُتَعَلق بِمَحْذُوف تَقْدِيره فتعريفه الْمَبْنِيّ على الأول هَكَذَا، وَالْمرَاد بِالدَّلِيلِ مَا يُمكن التَّوَصُّل بِالنّظرِ فِيهِ إِلَى مَطْلُوب خبري كَالصَّلَاةِ وَاجِبَة وَالْخمر حرَام، وَسَيَجِيءُ بَيَانه مفصلا (وَالْفِقْه التَّصْدِيق) قد يُرَاد بِهِ مَا يُقَابل التَّصَوُّر، وَهُوَ إِدْرَاك أَن النِّسْبَة وَاقعَة أَو لَيست بواقعة، وَقد يُرَاد بِهِ مَا هُوَ أخص مِنْهُ، وَهُوَ يُقَابل الظَّن، وَكِلَاهُمَا هَهُنَا جَائِز، تبع عَامَّة الْأُصُولِيِّينَ فِي تَفْسِير الْفِقْه بِمَا هُوَ من مقولة الْعلم، وَإِن كَانَ الْمُخْتَار عِنْده كَونه من مقولة الْمَعْلُوم كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ فِيمَا سبق (لأعمال الْمُكَلّفين) قيل اللَّام بِمَعْنى على كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى - {وتله للجبين} - مُتَعَلق بالتصديق لتَضَمّنه معنى الحكم، وَفِي الْكَشَّاف فِي - {يخرون للأذقان} - فَإِن قلت: حرف الاستعلاء ظَاهر الْمَعْنى إِذا قلت خر على وَجهه، وعَلى ذقنه فَمَا معنى اللَّام؟ قلت مَعْنَاهُ جعل وَجهه وذقنه للخرور واختصه بِهِ، وَهَذَا يدل على أَن كَونهَا بِمَعْنى على لم يثبت عِنْده، فَالْأولى أَن يُقَال لتَضَمّنه الاثبات عدي بهَا ولتضمنه الحكم عدي بِالْبَاء فالمثبت لَهُ الموضوعات، وَهِي الْأَعْمَال، والمحكوم بِهِ المحمولات، وَهِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة، والأعمال تعم أَفعَال الْقُلُوب أَيْضا كالنية وَغَيرهَا، وَخرج التَّصْدِيق لغير الْأَعْمَال، ولأعمال غير الْمُكَلف (الَّتِي لَا تقصد لاعتقاد) فصل ثَالِث يخرج التَّصْدِيق لأعمالهم الَّتِي تقصد لَهُ كالتصديق بِأَن الْخَيْر وَالشَّر بِقَضَاء الله وَقدرته وإرادته، والاعتقاد حكم لَا يحْتَمل النقيض عِنْد الْحَاكِم، وَلَو عرض عَلَيْهِ طرفاه يجوز أَن يحكم بَينهمَا بالنقيض لكَونه على خلاف الْوَاقِع، أَو لعدم استناده إِلَى مُوجب من حس أَو ضَرُورَة أَو عَادَة أَو دَلِيل، بل اتّفق لسَبَب تَقْلِيد أَو شُبْهَة، وَقد يُرَاد بالاعتقاد مَا يعم الْيَقِين والجزم وَالظَّن وَالْجهل الْمركب، وَهُوَ الْمَشْهُور عِنْد الْمُتَكَلِّمين، وَالْمرَاد هَهُنَا، وَإِلَّا لم يخرج مَا قصد لاعتقاد لَا يصدق عَلَيْهِ الْمَعْنى الأول (بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّة) الحكم إِسْنَاد أَمر إِلَى آخر إِيجَابا أَو سلبا، أَو خطاب الله الْمُتَعَلّق بِفعل الْمُكَلف اقْتِضَاء أَو تخييرا، وَالْأول هَهُنَا أولى لِئَلَّا يَلْغُو التَّقْيِيد بالشرعية، وَقد يُقَال يجوز أَن يُرَاد بالشرعية مَا لَا يدْرك لَوْلَا خطاب الشَّارِع، وَمن الْأَحْكَام مَا يدْرك بِدُونِهِ كوجوب الْإِيمَان بِاللَّه وتصديق النَّبِي عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم، وَفِيه مَا فِيهِ، وعَلى الثَّانِي يُرَاد مَا يَتَرَتَّب على الْخطاب كالوجوب وَالْحُرْمَة، لأنفسه كالإيجاب وَالتَّحْرِيم لِأَنَّهُ الْمَحْكُوم بِهِ على الْأَعْمَال، وَقيل هما متحدان بِالذَّاتِ متغايران بِالِاعْتِبَارِ، وَفِيه بحث، وَبِهَذَا الْقَيْد احْتَرز عَن مثل قَوْلنَا أَفعَال الْمُكَلّفين أَعْرَاض قَائِمَة بذواتهم منقسمة إِلَى الْجَوَارِح والقلوب (القطعية) أَي الثَّابِتَة بِدَلِيل قَطْعِيّ لَا شُبْهَة فِيهِ: أَي الشُّبْهَة الناشئة عَن الدَّلِيل.

কখনও এর মূল আভিধানিক অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে যেখান থেকে এটি পারিভাষিক অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, আবার কখনও এটি একটি একক নাম বা পরিভাষা হওয়ার দিক থেকে এর সেই নির্দিষ্ট অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে যেটির দিকে একে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা এটিকে দুইভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশের জন্য। (প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী) মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এবং মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধী)-এর সংজ্ঞার প্রয়োজন হয়। (উসুল হলো দলিলসমূহ) এটি মুক্তাদা এবং খবর। আর এখানে যরফটি (অব্যয়টি) একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: প্রথম পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এর সংজ্ঞা হবে এইরূপ। আর দলিল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু, যার মাধ্যমে চিন্তাগবেষণার দ্বারা কোনো সংবাদমূলক অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়; যেমন: 'সালাত ওয়াজিব' এবং 'মদ হারাম'। এর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। (এবং ফিকহ হলো সত্যায়ন) কখনও এটি দ্বারা তাসাউয়ুর (ধারণা)-এর বিপরীত অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, যা হলো কোনো সম্বন্ধ বাস্তবায়িত হয়েছে কি হয়নি তা উপলব্ধি করা। কখনও এটি দ্বারা এর চেয়েও বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, যা প্রবল ধারণার (যন) বিপরীত; এবং এখানে উভয় অর্থই বৈধ। তিনি ফিকহ-এর ব্যাখ্যায় অধিকাংশ উসুলবিদদের অনুসরণ করেছেন একে ইলম (জ্ঞান)-এর পর্যায়ভুক্ত গণ্য করার ক্ষেত্রে, যদিও তার নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি মালুম (জ্ঞাত বিষয়)-এর পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি তিনি পূর্বে ইঙ্গিত করেছেন। (মুকাল্লাফদের আমলের জন্য) বলা হয়েছে যে, এখানে ‘লাম’ অক্ষরটি ‘আলা’ (উপরে) অর্থের ধারক, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘এবং তাকে কাত করে কপালে শোয়ালেন’। এটি সত্যায়ন বা তাসদিকের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ এটি হুকুম বা বিধানের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। ‘কাশশাফ’ গ্রন্থে ‘তারা চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়ে’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: যদি আপনি বলেন, যখন বলা হয় সে মুখের ওপর বা চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়েছে তখন তো উচ্চতা বা উপরে থাকা প্রকাশক অব্যয়ের অর্থই স্পষ্ট, তবে ‘লাম’ ব্যবহারের অর্থ কী? আমি বলব, এর অর্থ হলো সে তার মুখ ও চিবুককে লুটিয়ে পড়ার জন্য নিবিড় ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, ‘লাম’ অব্যয়টি ‘আলা’ (উপরে) অর্থে হওয়া তাঁর নিকট প্রমাণিত নয়। তাই অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা যে, এটি সাব্যস্ত করাকে (ইসবাত) অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ‘লাম’ এর মাধ্যমে এবং বিধানকে (হুকুম) অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ‘বা’ এর মাধ্যমে পরবর্তী পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়েছে। সুতরাং যার জন্য সাব্যস্ত করা হয় তা হলো বিষয়বস্তু (মাউযু), আর তা হলো আমলসমূহ। আর যার মাধ্যমে বিধান দেওয়া হয় তা হলো বিধেয় (মাহমুল), আর তা হলো শরয়ি বিধানসমূহ। আর আমল বা কার্যাবলি অন্তরের কাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেমন নিয়ত ইত্যাদি। এর মাধ্যমে আমল ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি সত্যায়ন এবং মুকাল্লাফ নয় এমন ব্যক্তিদের আমলের বিষয়টি সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে গেছে। (যা বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে নয়) এটি একটি তৃতীয় পরিচ্ছেদকারী বিশেষ যা তাদের এমন আমলের সত্যায়নকে বাদ দেয় যা বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে করা হয়; যেমন- এই বিশ্বাস করা যে মঙ্গল ও অমঙ্গল আল্লাহর ফয়সালা, কুদরত ও ইচ্ছাধীন। আর বিশ্বাস (ইতিকাদ) হলো এমন এক বিধান যা বিচারকের নিকট বিপরীত কোনো সম্ভাবনা রাখে না, যদিও তার সামনে এর উভয় দিক উপস্থাপন করা হয়। বাস্তবতার পরিপন্থী হওয়ার কারণে অথবা কোনো ইন্দ্রিয়লব্ধ, আবশ্যিক, অভ্যাসগত বা দলিলভিত্তিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার কারণে এর বিপরীত বিধান দেওয়া সম্ভব হতে পারে। বরং এটি নিছক অন্ধ অনুসরণ বা সংশয়ের কারণে ঘটে থাকে। কখনও বিশ্বাস বলতে এমন ব্যাপক অর্থ বোঝানো হয় যা ইয়াকিন, দৃঢ় বিশ্বাস, প্রবল ধারণা এবং যৌগিক মূর্খতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে; আর ধর্মতাত্ত্বিকগণের (মুতাকাল্লিম) নিকট এটিই প্রসিদ্ধ এবং এখানে এটিই উদ্দেশ্য। অন্যথায় যা বিশ্বাসের জন্য করা হয় তা প্রথম অর্থ অনুযায়ী সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়বে না। (শরয়ি বিধানাবলির মাধ্যমে) বিধান (হুকুম) হলো এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা; অথবা মুকাল্লাফের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সেই সম্বোধন যা দাবি বা ইচ্ছাধিকারমূলক। এখানে প্রথম অর্থটিই অধিক শ্রেয় যাতে 'শরয়ি' বিশেষণটি নিরর্থক না হয়। কখনও বলা হয় যে, 'শরয়ি' দ্বারা ওইসব বিষয় উদ্দেশ্য যা শারিয়ার সম্বোধন ব্যতিরেকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে এমন কিছু বিধান রয়েছে যা এটি ছাড়াও উপলব্ধি করা যায়, যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্য বলে মেনে নেওয়া ওয়াজিব হওয়া। তবে এ মতের দুর্বলতা রয়েছে। দ্বিতীয় সংজ্ঞানুযায়ী ওইসব বিষয় উদ্দেশ্য যা সম্বোধনের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়, যেমন ওয়াজিব হওয়া এবং হারাম হওয়া; অথবা স্বয়ং সম্বোধন যেমন ওয়াজিব করা এবং হারাম করা, কারণ এগুলোই কার্যাবলির ওপর আরোপিত বিধান। কেউ কেউ বলেন, এ দুটি সত্তাগতভাবে অভিন্ন কিন্তু বিবেচনার দিক থেকে ভিন্ন, যদিও এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। এই শর্তের মাধ্যমে আমাদের এই উক্তির মতো বিষয়গুলো থেকে আত্মরক্ষা করা হয়েছে যে— ‘মুকাল্লাফদের কার্যাবলি তাদের সত্তার সাথে বিদ্যমান কিছু ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অন্তরের কাজের মধ্যে বিভক্ত’। (অকাট্য) অর্থাৎ যা এমন অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত যাতে কোনো সংশয় নেই; অর্থাৎ সেই সংশয় যা দলিলের কারণে উদ্ভূত হয়।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فَانْدفع مَا قيل: من أَنه إِن أُرِيد بِالْأَحْكَامِ جَمِيعهَا لم يُوجد الْفِقْه وَلَا الْفَقِيه، لِأَن الْحَوَادِث وَإِن كَانَت متناهية ضَرُورَة انْقِضَاء دَار التَّكْلِيف، لَكِنَّهَا لكثرتها وَعدم انقطاعها مَا دَامَت الدُّنْيَا غير دَاخِلَة تَحت ضبط الْمُجْتَهدين، وَإِن أُرِيد بَعْضهَا، فإمَّا بعض لَهُ نِسْبَة مُعينَة إِلَى الْكل كالنصف، فَيلْزم الْجَهَالَة بِجَهَالَة الْكل، وَإِمَّا مُطلق فَيلْزم كَون الْعَالم بِمَسْأَلَة فَقِيها، وَلَيْسَ كَذَلِك اصْطِلَاحا، وَجه الاندفاع أَن القطعية تدخل تَحت الضَّبْط فَيمكن الْإِحَاطَة بهَا (مَعَ ملكة الاستنباط) فَخرج التَّصْدِيق الَّذِي لَيْسَ مَعهَا، وَهِي كَيْفيَّة راسخة فِي النَّفس حَاصِلَة باستجماع المآخذ والأسباب والشروط الَّتِي يَكْفِي الْمُجْتَهد الرُّجُوع إِلَيْهَا فِي معرفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة يقتدر بهَا على اسْتِخْرَاج كل مَسْأَلَة ترد عَلَيْهِ بعد التَّأَمُّل، فَلَا يخل قَول مَالك: لَا أَدْرِي فِي سِتّ وَثَلَاثِينَ من أَرْبَعِينَ مَسْأَلَة سُئِلَ عَنْهَا فِي اجْتِهَاده، وَلَا توقف أبي حنيفَة رحمه الله فِي مسَائِل مَعْدُودَة، لجَوَاز أَن يكون لتعارض الْأَدِلَّة، أَو وجود الْمَانِع، اَوْ مُعَارضَة الْوَهم الْعقل، أَو مشاكلة الْحق الْبَاطِل، فَإِن الخلوص عَن هَذِه الْمَوَانِع خَارج عَن الطَّاقَة، فَلَا يشْتَرط (وَدخل نَحْو الْعلم بِوُجُود النِّيَّة) لما مر من عُمُوم الْأَعْمَال، فَإِن النِّيَّة من الْأَعْمَال القلية، وَالْمرَاد دُخُول الْجُزْء فِي الْكل إِن أَرَادَ الدُّخُول فِي الْمُعَرّف، أَو الجزئي فِي الْكُلِّي إِن أَرَادَ الدُّخُول فِي مَا يعم الْكل والجزء الْمَفْهُوم ضمنا أَي التَّصْدِيق لعمل الْمُكَلف بالحكم الشَّرْعِيّ، وَالْمرَاد بِنَحْوِهِ مَا كَانَ مَوْضُوعه فعل الْقلب ومحموله حكم شَرْعِي (وَقد يخص) الْفِقْه (بظنها) أَي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة للأعمال الْمَذْكُورَة، قيل الْمُخَصّص الإِمَام الرَّازِيّ، وَذَلِكَ لِأَن الْفِقْه مُسْتَفَاد من الْأَدِلَّة السمعية، وَهِي لَا تفِيد إِلَّا الظَّن

لتوقف إفادتها الْيَقِين على نفي الِاشْتِرَاك، وَالْمجَاز وَنَحْوه، ونفيها لَا يثبت إِلَّا بِأَن الأَصْل عدمهَا، وَهَذَا دَلِيل ظَنِّي، وَجَوَابه منع الْحصْر (وعَلى مَا قُلْنَا) من أَنه التَّصْدِيق للأعمال بِالْأَحْكَامِ القطعية (لَيْسَ هُوَ) أَي الظَّن (شَيْئا من الْفِقْه) أَي جُزْءا من أَجْزَائِهِ، فضلا عَن أَن يكون عينه، وَذَلِكَ لِأَن التَّصْدِيق الْمُتَعَلّق بِالْأَحْكَامِ القطعية لَا يكون إِلَّا قَطْعِيا (وَلَا الْأَحْكَام المظنونة) أَي وَلَا الْأَحْكَام المظنونة شَيْئا من أَحْكَامه ومحمولاته، عطف على ضمير لَيْسَ، وَلِهَذَا أكد بالمنفصل وَلَا، بِإِعَادَة النَّفْي (إِلَّا بإصطلاح) اسْتثِْنَاء مُنْقَطع: أَي لكنه مِنْهُ إِن وَقع الِاصْطِلَاح على وضع اسْم الْفِقْه لما يصدق على الظَّن فَقَط، أَو لما يعمه وَغَيره، وَلَا مشاحة فِي الِاصْطِلَاح، لَكِن الْأَلْيَق بِالِاعْتِبَارِ مَا ذَكرْنَاهُ لما مر (ثمَّ على هَذَا التَّقْدِير) أَي على تَقْدِير تَخْصِيصه بِالظَّنِّ (يخرج) مِنْهُ (مَا علم من الْمسَائِل بِالضَّرُورَةِ الدِّينِيَّة) بطرِيق البداهة الْحَاصِلَة من الْخَبَر الْمُتَوَاتر الْمَشْهُور الَّذِي عرفت الْعَامَّة حَتَّى النِّسَاء وَالصبيان فِي دين الْإِسْلَام كَونه مِنْهُ بِإِخْبَار الْمخبر الصَّادِق كوجوب الصَّلَوَات الْخمس وَصَوْم رَمَضَان، لِأَن التَّصْدِيق بهَا يقيني، وَكَذَا يخرج على تَفْسِيره
এতে করে সেই আপত্তি খণ্ডিত হয়ে গেল যা বলা হয়েছিল: যদি বিধানসমূহের (আহকাম) সবগুলোকে উদ্দেশ্য করা হয়, তবে কোনো ফিকহ বা ফকিহ পাওয়া যাবে না। কারণ, যদিও দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার আবশ্যকতা অনুযায়ী ঘটনাসমূহ (হাওয়াদিস) সসীম, তবুও দুনিয়া বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত সেগুলোর আধিক্য এবং নিরবচ্ছিন্নতার কারণে তা মুজতাহিদগণের আয়ত্তের বাইরে। আর যদি সেগুলোর কিছু অংশ উদ্দেশ্য করা হয়, তবে হয় তা এমন কিছু অংশ যার মোটের সাথে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত রয়েছে—যেমন অর্ধেক—তাহলে মোটের অজ্ঞাত হওয়ার কারণে সেই অংশটিও অজ্ঞাত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। অথবা যদি তা অনির্দিষ্ট হয়, তবে একটি মাত্র মাসআলা জানা ব্যক্তিকেও ফকিহ বলা আবশ্যক হয়ে পড়বে, অথচ পরিভাষায় বিষয়টি সেরূপ নয়। এই আপত্তি খণ্ডনের দিকটি হলো এই যে, নিশ্চিত বিষয়সমূহ (ক্বাতয়িয়্যাত) আয়ত্তের মধ্যে থাকে, ফলে সেগুলোকে পরিবেষ্টন করা সম্ভব (ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ভাবনের যোগ্যতাসহ)। সুতরাং সেই তাসদিক (দৃঢ় প্রত্যয়) সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়ে গেল যার সাথে এই যোগ্যতা নেই। আর এটি হলো মনের গভীরে প্রোথিত এমন এক বিশেষ গুণ যা সেই সকল উৎস, কারণ এবং শর্তাবলি অর্জনের মাধ্যমে হাসিল হয়, শারঈ বিধানসমূহ জানার ক্ষেত্রে যেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা একজন মুজতাহিদের জন্য যথেষ্ট; এর মাধ্যমে তিনি তার সামনে উপস্থাপিত প্রতিটি মাসআলার সমাধান চিন্তা-ভাবনার পর বের করতে সক্ষম হন। অতএব, ইমাম মালিকের এই বক্তব্য যে, 'আমি জানি না'—যা তিনি তাঁর ইজতিহাদের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসিত চল্লিশটি মাসআলার মধ্যে ছত্রিশটিতেই বলেছিলেন—তাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সীমিত কিছু মাসআলায় মৌন থাকাও কোনো খতিকর নয়। কারণ, এর কারণ হতে পারে দলিলের পারস্পরিক সংঘাত, কোনো প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি, অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তের সাথে কল্পনার বিরোধ, কিংবা সত্যের সাথে মিথ্যার সাদৃশ্য। কেননা, এই সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের সক্ষমতার ঊর্ধ্বে, তাই এটি শর্ত নয়। (এবং নিয়তের অস্তিত্বের জ্ঞানের মতো বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হবে) যা পূর্বে অতিবাহিত আমলসমূহের ব্যাপকতার কারণে; কেননা নিয়ত হলো অন্তরের আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সমষ্টিকর্তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া চাইলে 'অংশের সমগ্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া', অথবা যা অংশ ও সমগ্র উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া চাইলে 'বিশেষের সাধারণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া'—অর্থাৎ যা পরোক্ষভাবে শারঈ বিধানের মাধ্যমে মুকাল্লাফের আমলের তাসদিক বা প্রত্যয়কে বোঝায়। আর 'তদ্রূপ বিষয়সমূহ' বলতে সেই বিষয়গুলোকে বোঝানো হয়েছে যার বিষয়বস্তু হলো অন্তরের কাজ এবং বিধেয় হলো শারঈ বিধান। (কখনও কখনও ফিকহকে তার ধারণা বা জন্ন দ্বারা খাস করা হয়) অর্থাৎ উল্লিখিত আমলসমূহের শারঈ বিধানাবলির ক্ষেত্রে। বলা হয়ে থাকে যে, এই বিশেষায়ন করেছেন ইমাম রাজি। তার কারণ হলো, ফিকহ আহরিত হয় শ্রবণনির্ভর দলিলসমূহ থেকে, আর তা কেবল ধারণাই প্রদান করে।

কারণ, সেই দলিলসমূহ থেকে নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকিন) লাভ করা শব্দে একাধিক অর্থের অনুপস্থিতি, রূপক অর্থ না থাকা এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয় না থাকার ওপর নির্ভরশীল। আর এগুলোর অনুপস্থিতি কেবল তখনই প্রমাণিত হয় যখন মূলনীতি হিসেবে এগুলো না থাকাকে ধরা হয়, যা একটি ধারণা প্রসূত দলিল। এর উত্তর হলো সীমাবদ্ধ থাকার দাবিটি অস্বীকার করা। (এবং আমরা যা বলেছি তার ভিত্তিতে) অর্থাৎ ফিকহ হলো নিশ্চিত বিধানসমূহের মাধ্যমে আমলসমূহের তাসদিক হওয়া; (তা—অর্থাৎ ধারণা—ফিকহের কোনো কিছুই নয়) অর্থাৎ এটি ফিকহের কোনো অংশ নয়, বরং তার মূল হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। এর কারণ হলো, নিশ্চিত বিধানের সাথে সম্পৃক্ত তাসদিক নিশ্চিত ছাড়া আর কিছুই হয় না। (এবং ধারণা প্রসূত বিধানসমূহও নয়) অর্থাৎ ধারণা প্রসূত বিধানসমূহ ফিকহের কোনো বিধান বা বিধেয় নয়। এটি 'লাইসা' ক্রিয়ার সর্বনামের ওপর সংযোজন করা হয়েছে, তাই এটিকে পৃথক সর্বনাম এবং 'লা' যোগে নেতিবাচক অর্থ পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে তাকিদ করা হয়েছে। (ব্যতিক্রম কেবল পারিভাষিক ক্ষেত্রে) এটি একটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম: অর্থাৎ তবে এটি ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হবে যদি পারিভাষিক দিক থেকে ফিকহ নামটি কেবল ধারণার ওপর প্রয়োগ করা হয়, অথবা যা ধারণা ও ধারণা ভিন্ন অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই, তবে পূর্বে বর্ণিত কারণে আমাদের আলোচিত বিষয়টিই বিবেচনার ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য। (অতঃপর এই সম্ভাবনা অনুযায়ী) অর্থাৎ ফিকহকে কেবল ধারণার সাথে খাস করার ভিত্তিতে (তা থেকে সেই সকল মাসআলা বের হয়ে যাবে যা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে জ্ঞাত)। এটি এমন সুস্পষ্ট উপায়ে অর্জিত যা মুতাওয়াতির এবং প্রসিদ্ধ সংবাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ এমনকি নারী ও শিশুরাও ইসলাম ধর্মের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হিসেবে সত্যবাদী সংবাদদাতার সংবাদের মাধ্যমে জানে—যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রমজানের রোজা ফরজ হওয়া। কারণ এই বিষয়গুলোর প্রতি তাসদিক বা বিশ্বাস হলো নিশ্চিত। আর তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী এভাবেই বহির্ভূত হবে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بِالْعلمِ بِالْأَحْكَامِ العملية عَن أدلتها التفصيلية بالاستدلال، وَإِنَّمَا دعاهم إِلَى إِخْرَاجه كَون الْفِقْه لُغَة إِدْرَاك الْأَشْيَاء الْخفية، وَذَلِكَ فِي النظريات: يُقَال فقهت كلامك، وَلَا يُقَال فقهت السَّمَاء وَالْأَرْض وَأَنت خَبِير بِأَنَّهُ لَا يلْزم اعْتِبَار وَجه التَّسْمِيَة بِالنِّسْبَةِ إِلَى كل جُزْء من الْمُسَمّى، على أَن مَا علم بالضررة كَانَ خفِيا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْأَوَائِل (وَأما قصره) أَي الْفِقْه (على الْيَقِين وَجعل الظَّن فِي طَرِيقه) أَي الْفِقْه أَو الْيَقِين دفعا لاعتراض القَاضِي أبي بكر على التَّعْرِيف بِأَنَّهُ من بَاب الظنون، فَلَا يجوز أَن يعْتَبر الْعلم جِنْسا فِي تَعْرِيفه تَلْخِيص الْجَواب الْتِزَام كَون الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة كلهَا يقينية، وَإِن كَانَ أَكثر أدلتها أَمَارَات ظنية، لانعقاد الْإِجْمَاع على وجوب الْعَمَل بِالظَّنِّ على الْمُجْتَهد إِذا أدّى إِلَيْهِ اجْتِهَاده، فَكل حكم كَذَا يجب الْعَمَل بِهِ قطعا تعلق بِهِ الْخطاب قطعا وَلَا نعني بالقطعي إِلَّا هَذَا فَثَبت أَنَّهَا قَطْعِيَّة، وَالظَّن فِي طريقها (فمغير لمفهومه) جَوَاب أما، بِمَعْنى قصره على الْيَقِين بالتأويل الْمَذْكُور يسْتَلْزم أَن يُرَاد بِهِ غير مُسَمَّاهُ، لِأَن مُسَمَّاهُ تصديقات، أَو مسَائِل موضوعاتها أَفعَال الْمُكَلّفين، ومحمولاتها الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة كالوجوب وَالْحُرْمَة، وَهِي قد تكون ظنية نَحْو الْوتر وَاجِب، وَمَا ذكر لَا يُخرجهَا من الظَّن إِلَى الْقطع بل يُفِيد الْقطع بِوُجُوب الْعَمَل بهَا قطعا، وَهُوَ لَا يسْتَلْزم كَونهَا مُتَعَلق حكم الله قطعا لظُهُور عدم الْقطع بِكَوْن الْوتر مثلا مَطْلُوبا غير جَائِز التّرْك، وَلِهَذَا وَقع الِاخْتِلَاف فِي وُجُوبه: نعم هَهُنَا تصديقات أخر موضوعاتها الْأَحْكَام الْمَذْكُورَة ومحمولها مَفْهُوم وَاحِد أَعنِي وجوب الْعَمَل بهَا قطعا وَإِلَيْهِ أَشَارَ بقوله (ويقصره على حكم) أَي يقصر الْقصر الْمَذْكُور الْفِقْه على حكم وَاحِد بِاعْتِبَار الْمَحْمُول لَا الْمَوْضُوع لما عرفت فَإِن قلت الْقطع بِوُجُوب الْعَمَل رَفعهَا عَن حضيض الظَّن لي ذرْوَة الْيَقِين فالوتر مثلا بَعْدَمَا كَانَ ظَنِّي الثُّبُوت نظرا إِلَى أمارته صَار قَطْعِيّ الثُّبُوت بِاعْتِبَار تعلق الطّلب بِالْعَمَلِ بِهِ قطعا قلت لله سبحانه وتعالى حكم خَاص فِي كل عمل، وَحكم عَام وَهُوَ وجوب الْعَمَل بِمَا أدّى إِلَيْهِ الِاجْتِهَاد وَالْعلم بِالْأولِ تَارَة يكون قَطْعِيا، وَتارَة يكون ظنيا بِخِلَاف الثَّانِي، فَإِنَّهُ قَطْعِيّ دَائِما، والمجتهد مَأْمُور بمظنونه وَإِن كَانَ خلاف حكم الله بِالْمَعْنَى الأول نعم عِنْد المصوبة الْكل حكم الله، وَالتَّحْقِيق خِلَافه، وَالْمُعْتَبر فِي مَفْهُوم الْفِقْه الْقطع، وَالظَّن بِاعْتِبَار الأول لَا الثَّانِي، وَالْمُصَنّف رحمه الله يُشِير إِلَى مَا قلت بقوله (وَمَا قيل فِي إِثْبَات قَطْعِيَّة مظنونات الْمُجْتَهد مظنونه) بدل من ضمير الْمَوْصُول (مَقْطُوع بِوُجُوب الْعَمَل بِهِ) بِالْإِجْمَاع وَالْأَخْبَار المتواترة معنى (وكل مَا قطع إِلَى آخِره) أَي وجوب الْعلم بِهِ مَقْطُوع بِهِ (فَهُوَ) أَي مظنونه (مَقْطُوع بِهِ، مَمْنُوع الْكُبْرَى) يَعْنِي كل مَا قطع إِلَى آخِره لجَوَاز وجوب الْعَمَل بِهِ من غير أَن يكون مُتَعَلق الْخطاب الْخَاص على مَا عرفت (وَالْمرَاد بالملكة) الْمَذْكُورَة فِي التَّعْرِيف (أدنى مَا تتَحَقَّق بِهِ الْأَهْلِيَّة) للاستنباط، وَفِي إِضَافَة الملكة إِلَيْهِ إِشْعَار بالمراد، لِأَن مَعْنَاهَا ملكة يقتدر
বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে ইস্তিদলাল বা দলিলভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে অর্জিত ব্যবহারিক বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানই হলো ফিকহ। ফিকহবিদগণ কর্তৃক এই সংজ্ঞায় কেবল ইস্তিদলাল বা তাত্ত্বিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো, আভিধানিক অর্থে ফিকহ মানে সূক্ষ্ম বিষয়াবলি উপলব্ধি করা, যা সাধারণত তাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন বলা হয়, 'আমি তোমার কথা ফিকহ করেছি (বুঝেছি)', কিন্তু 'আমি আকাশ ও পৃথিবী ফিকহ করেছি' বলা হয় না। আপনি জানেন যে, কোনো কিছুর নামকরণের ক্ষেত্রে নামকরণের কারণটি সেই সংজ্ঞায়িত বিষয়ের প্রতিটি খুঁটিনাটি অংশের ওপর প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক নয়। তাছাড়া যা বর্তমানে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে পরিচিত, তা প্রারম্ভিক পর্যায়ে সূক্ষ্মই ছিল। (আর ফিকহকে কেবল নিশ্চিত জ্ঞানের বা একীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং প্রবল ধারণাকে বা যনকে এর পথে রাখা) অর্থাৎ ফিকহ বা নিশ্চিত জ্ঞানের পথে যনকে স্থান দেওয়া হয়েছে কাজী আবু বকর বাদানীর আপত্তির প্রেক্ষিতে। তার আপত্তি ছিল যে, ফিকহ হলো প্রবল ধারণার (যন) অন্তর্ভুক্ত বিষয়, তাই এর সংজ্ঞায় 'জ্ঞান' বা 'ইলম'-কে লিঙ্গ (Genus) হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়। এর উত্তরের সারাংশ হলো—সমস্ত ফিকহি বিধানকে নিশ্চিত ও অকাট্য (ইয়াকিনি) হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে, যদিও এর অধিকাংশ দলিলই হলো ধারণাপ্রসূত বা আমারাতে যানিয়্যাহ। কেননা, মুজতাহিদের ইজতিহাদ তাকে যে ধারণার দিকে নিয়ে যায়, সেই অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতএব, যে বিধানের ওপর আমল করা অকাট্যভাবে ওয়াজিব, তা নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর সম্বোধন বা খিতাবের অন্তর্ভুক্ত। আর আমরা অকাট্য বা قطعي বলতে এটাই বুঝিয়ে থাকি। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে ফিকহি বিধানগুলো অকাট্য, আর প্রবল ধারণা কেবল এর পথে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। (তবে ফিকহকে এই অর্থে সীমিত করা এর মূল ধারণাকে পরিবর্তন করে দেয়)। এটি 'আম্মা' (أما) এর উত্তর; অর্থাৎ উল্লিখিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে ফিকহকে কেবল নিশ্চিত জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তা এর পারিভাষিক অর্থের বিপরীত হবে। কারণ ফিকহ মূলত এমন কিছু সত্যায়ন বা মাসআলার নাম যার উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির কার্যাবলি, আর যার বিধেয় (মহমূল) হলো ওয়াজিব বা হারাম হওয়ার মতো শরয়ী বিধানসমূহ। এই বিধানগুলো কখনো কখনো ধারণাপ্রসূত হতে পারে, যেমন 'বিতর সালাত ওয়াজিব'। এখানে যা আলোচনা করা হয়েছে তা বিষয়টিকে ধারণা থেকে সরিয়ে নিশ্চিত বা একীনের পর্যায়ে নিয়ে যায় না, বরং এর ওপর আমল করা যে ওয়াজিব—সে বিষয়ে অকাট্য নিশ্চয়তা প্রদান করে। আর আমল করার ওয়াজিব হওয়া অকাট্য হওয়া মানেই এই নয় যে, বিষয়টি মূলগতভাবে আল্লাহর বিধান হিসেবেও অকাট্য। যেমন বিতর সালাত পালনীয় হওয়া এবং তা পরিত্যাগ করা জায়েজ না হওয়ার বিষয়টি অকাট্য নয় বলেই এর ওয়াজিব হওয়া নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। হ্যাঁ, এখানে আরও কিছু সত্যায়ন (তাসদিক) রয়েছে যার উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত বিধানগুলো, আর তার বিধেয় হলো একটিই ধারণা—অর্থাৎ এর ওপর আমল করা অকাট্যভাবে ওয়াজিব। আর গ্রন্থকার যখন বলেন (এবং তিনি ফিকহকে একটি বিধানের ওপর সীমাবদ্ধ করেছেন), তখন তিনি এই মহমূল বা বিধেয়কেই বুঝিয়েছেন, বিষয়বস্তু বা মাওজুকে নয়—যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। আপনি যদি বলেন: আমল ওয়াজিব হওয়ার এই অকাট্য নিশ্চয়তা তো তাকে ধারণার নিম্নস্তর থেকে একীনের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেছে; ফলে বিতর সালাত তার দলিলের দিক থেকে ধারণাপ্রসূত হলেও, আমল করার নির্দেশনার দিক থেকে তা অকাট্য সাব্যস্ত হয়েছে। এর উত্তরে আমি বলব: প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান থাকে এবং একটি সাধারণ বিধান থাকে; সাধারণ বিধানটি হলো ইজতিহাদ লব্ধ ফয়সালার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া। প্রথম প্রকারের জ্ঞান কখনো অকাট্য হয় আবার কখনো ধারণাপ্রসূত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারটি সর্বদা অকাট্য। মুজতাহিদের জন্য তার প্রবল ধারণার (যন) অনুসরণ করাই নির্দেশিত, যদিও তা আল্লাহর মূল বিধানের (প্রথম অর্থের বিবেচনায়) বিপরীত হতে পারে। হ্যাঁ, 'মুসাব্বিবা' সম্প্রদায়ের মতে মুজতাহিদের সিদ্ধান্তই আল্লাহর বিধান; তবে সঠিক ও তাহকীকী মত এর বিপরীত। আর ফিকহ-এর সংজ্ঞায় যে একীন বা যন-এর কথা বলা হয়েছে, তা প্রথম অর্থের বিবেচনায়, দ্বিতীয় অর্থের বিবেচনায় নয়। মুসান্নিফ (রহ.) তার বক্তব্যে এই দিকেই ইশারা করেছেন যখন তিনি বলেন, (মুজতাহিদের ধারণাপ্রসূত বিষয়গুলোর অকাট্যতা প্রমাণের বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা তার ধারণার ওপরই নির্ভরশীল)। এটি 'মাওসুল'-এর সর্বনাম থেকে বদল হিসেবে এসেছে। (ইজমা এবং মানাউই মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা এর ওপর আমল করা অকাট্যভাবে প্রমাণিত)। (এবং প্রতিটি বিষয় যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত ইত্যাদি) অর্থাৎ এর জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক হওয়া একটি অকাট্য বিষয়। (সুতরাং সেটি) অর্থাৎ মুজতাহিদের ধারণাপ্রসূত বিষয়টিও (অকাট্য, তবে এর 'কুবরা' বা প্রধান বাক্যটি অসিদ্ধ)। অর্থাৎ প্রতিটি অকাট্য বিষয়ই আল্লাহর খিতাব হওয়া আবশ্যক নয়, কারণ আপনি জেনেছেন যে, কোনো বিশেষ খিতাব বা বিধান ছাড়াই আমল ওয়াজিব হওয়া সম্ভব। (আর সংজ্ঞায় মালিকাহ বা যোগ্যতা বলতে উদ্দেশ্য হলো) ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের ক্ষেত্রে (যোগ্যতার ন্যূনতম স্তর যার মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জিত হয়)। যোগ্যতার সাথে ইস্তিনবাতের সম্পর্কই এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়, কারণ এর অর্থ হলো এমন এক সক্ষমতা বা প্রতিভা যা বিধান আহরণে সমর্থ করে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بهَا على مَا يصدق عَلَيْهِ مُطلق الاستنباط، وَلَيْسَ المُرَاد اعْتِبَار الْأَدْنَى بِعَيْنِه وَنفي الزِّيَادَة، بل المُرَاد الْأَدْنَى سَوَاء تحقق مُنْفَردا، أَو فِي ضمن الْأَوْسَط، أَو الْأَعْلَى، وَلَا جَهَالَة فِيهِ حَتَّى يلْزم فَسَاد التَّعْرِيف، وَإِلَيْهِ أَشَارَ بقوله (وَهُوَ) أَي المُرَاد (مضبوط) انضباط الْمُطلق إِذا أُرِيد بِهِ الْإِطْلَاق من غير إِرَادَة خُصُوصِيَّة من خصوصياته، فَإِن الْإِيهَام عِنْد ذَلِك، ثمَّ المُرَاد من التَّصْدِيق مَا هُوَ الْمُتَبَادر بِقَرِينَة السِّيَاق، وَهُوَ الْحَاصِل بالاستنباط الْمُتَرَتب على الملكة فَلَا يرد علم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَجِبْرِيل بِالْأَحْكَامِ الْمَذْكُورَة بطرِيق الضَّرُورَة الحاصلين من الْأَدِلَّة بطرِيق الحدس، وَيتَّجه حِينَئِذٍ مَا علم بِالضَّرُورَةِ الدِّينِيَّة فَتَأمل (وعَلى الثَّانِي) أَي بِاعْتِبَار علمية الِاسْم الْمَذْكُور (فَقَالَ كثير) مِمَّن عرفه، وَالْفَاء للتفصيل كَمَا فِي الأول (أما تَعْرِيفه لقبا) حَال من الضَّمِير (ليشعروا) أَي الْكثير مُتَعَلق بقال، يَعْنِي يذكر الْكثير اللقب بدل الْعلم، فَإِن اللقب مِمَّا يدل على الْمَدْح أَو الذَّم، وَهُوَ غير مُحْتَمل هَهُنَا (برفعة مُسَمَّاهُ) أَي الِاسْم لكَونه مَبْنِيّ الْفِقْه الَّذِي هُوَ أهم الْعُلُوم وأنفعها، (و) قَالَ (بَعضهم علما) مَوضِع لقبا (لِأَن التَّعْرِيف) أَي التَّعْرِيف الأسمى (إِفَادَة مُجَرّد الْمُسَمّى) فالمنظور فِيهِ بَيَان مَا وضع لَهُ اللَّفْظ (لَا) إِفَادَة الْمُسَمّى (مَعَ اعْتِبَار ممدوحيته وَإِن كَانَت) الممدوحية (ثَابِتَة) فِي نفس الْأَمر (فَلَا يعْتَرض) على من قَالَ علما بدل لقبا (بثبوتها) أَي الممدوحية بِأَن يُقَال الممدوحية ثَابِتَة فِي نفس الْأَمر، وَلَفظ الْعلم لَا يدل عَلَيْهَا لكَونه أَعم من اللقب فَإِن قلت مُسَمّى الْعلم الشخصي لَا يحد لِأَن مَعْرفَته لَا تحصل إِلَّا بتعين مشخصاته بِالْإِشَارَةِ وَنَحْوهَا، والتعريف غَايَته الْحَد التَّام، وَهُوَ إِنَّمَا يشْتَمل على مقومات الْمَاهِيّة دون مشخصاتها قلت الْحق كَمَا ذكره الْمُحَقق التَّفْتَازَانِيّ أَنه يحد بِمَا يُفِيد امتيازه عَن جَمِيع مَا عداهُ بِحَسب الْوُجُود لَا بِمَا يُفِيد تعينه وتشخصه، وَلما ذكر اخْتِلَاف الْقَوْم فِي التَّعْبِير عَن تَعْرِيفه على اعْتِبَار العلمية أَرَادَ أَن يصدر التَّعْرِيف بتوطئة مفيدة لمزيد الانكشاف لَهُ، فَقَالَ (وكل علم) من الْعُلُوم الْمُدَوَّنَة (كثرتا ادراكات) تصورية وتصديقية (ومتعلقاتها) أَي تِلْكَ الادراكات، وَهِي الْمسَائِل وموضوعاتها ومحمولاتها وَمَا يتَعَلَّق بهَا، وَفِيه مُسَامَحَة لِأَن الْعلم عبارَة عَن أَحدهمَا لَا الْمَجْمُوع الْمركب مِنْهُمَا، وَالْمرَاد وجودهما فِي كل علم، وَالْكَثْرَة بِمَعْنى الْكَثِيرَة وَإِضَافَة الكثرتين إِلَى الادراكات كإضافة حُصُول صُورَة الشَّيْء، أَي الادراكات الْكَثِيرَة والمدركات الْكَثِيرَة (وَلها) أَي لتِلْك الْكَثْرَة المتحققة فِي ناحيتي الْإِدْرَاك والمدرك (وحدة غَايَة) أَي وحدة بِاعْتِبَار الْغَايَة، وَهِي الْعلَّة الغائية الباعثة لإقدام الطَّالِب على تَحْصِيله، وَهِي معرفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة المفضية إِلَى السَّعَادَة الدِّينِيَّة والدنيوية (تستتبع) تِلْكَ الْوحدَة (وحدة موضوعها) أَي تِلْكَ الْكَثْرَة يَعْنِي أَن وحدة الْغَايَة تستدعى، وحدة الْمَوْضُوع وَالثَّانيَِة تَابِعَة للأولى، وَذَلِكَ لِأَن الطَّالِب إِذا

এর মাধ্যমে এমন বিষয়ের ওপর যা সাধারণ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এখানে উদ্দেশ্য সর্বনিম্ন স্তরকে হুবহু নির্দিষ্ট করা এবং এর অতিরিক্তকে নাকচ করা নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো সর্বনিম্ন স্তর, তা এককভাবে বাস্তবায়িত হোক কিংবা মধ্যম বা উচ্চস্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হোক। এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই যার কারণে সংজ্ঞায় কোনো ত্রুটি দেখা দেবে। আর তিনি তাঁর এই কথার মাধ্যমে সেদিকেই ইশারা করেছেন যে, (এবং তা) অর্থাৎ উদ্দেশ্যটি (সুসংজ্ঞায়িত) সাধারণ বিষয়ের সুসংজ্ঞায়িত হওয়ার মতো যখন তার মাধ্যমে কোনো বিশেষত্ব ছাড়াই কেবল সাধারণ বিষয়টি উদ্দেশ্য হয়। কারণ অস্পষ্টতা তখনই দেখা দেয় যখন বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য থাকে। এরপর 'সত্যায়ন' (তাসদিক) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রসঙ্গের ইশারা অনুযায়ী যা দ্রুত বোধগম্য হয়, আর তা হলো যোগ্যতার (মালাকা) ওপর ভিত্তি করে গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের উল্লিখিত বিধিবিধানের জ্ঞান এক্ষেত্রে আপত্তিকর হবে না; কারণ তাঁদের সেই জ্ঞান দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে স্বতঃস্ফূর্ত উপলব্ধির (হাদ্স) ভিত্তিতে অর্জিত হয়েছে। আর এ সময়ে দ্বীনের অকাট্যভাবে জানা বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, সুতরাং আপনি চিন্তা করুন। (এবং দ্বিতীয় মতানুযায়ী) অর্থাৎ উল্লিখিত নামটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ভিত্তিতে। (অতঃপর অনেকে বলেছেন) যারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন, আর এখানে 'ফা' বর্ণটি বিস্তারিত বর্ণনার জন্য এসেছে যেমনটি প্রথম ক্ষেত্রে ছিল। (তবে এর সংজ্ঞা উপাধি হিসেবে) এটি সর্বনাম থেকে অবস্থা (হাল) হিসেবে এসেছে। (যাতে তাঁরা অনুধাবন করাতে পারেন) অর্থাৎ সেই 'অনেকে' - এটি 'বললেন' ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ অনেকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের পরিবর্তে উপাধি উল্লেখ করেন। কারণ উপাধি প্রশংসা বা নিন্দা জ্ঞাপন করে, আর এখানে নিন্দার কোনো সম্ভাবনা নেই। (তার নামধারী বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে) অর্থাৎ নামটির মর্যাদা, কারণ এটি ফিকহ শাস্ত্রের ভিত্তি যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী বিজ্ঞান। (এবং) (তাদের কেউ কেউ একে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন) 'উপাধি'র স্থলে। (কারণ সংজ্ঞা) অর্থাৎ নামবাচক সংজ্ঞা (হলো কেবল নামধারী বিষয়কে বোঝানো)। সুতরাং এখানে মূল লক্ষ্য হলো শব্দটি যার জন্য গঠন করা হয়েছে তা বর্ণনা করা। (না) নামধারী বিষয়কে বোঝানো (তার প্রশংসনীয় হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা করে, যদিও এটি) অর্থাৎ প্রশংসনীয় হওয়ার বিষয়টি (প্রতিষ্ঠিত) বাস্তব ক্ষেত্রে। (তাই আপত্তি করা যাবে না) যারা উপাধির পরিবর্তে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলেছেন তাদের ওপর (তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে) অর্থাৎ প্রশংসনীয় হওয়ার বিষয়টি বাস্তব ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য তা সরাসরি প্রকাশ করে না যেহেতু এটি উপাধির চেয়ে সাধারণ—এমন কথা বলে আপত্তি করা যাবে না। আপনি যদি বলেন: ব্যক্তিবাচক বিশেষ্যের কোনো পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হয় না, কারণ এর পরিচয় কেবল ইশারা বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্যগুলো নির্দিষ্ট করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর সংজ্ঞার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা, যা কেবল সত্তাগত উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহকে নয়। আমি বলব: সত্য وہی যা গবেষক তাফতাযানী উল্লেখ করেছেন যে, এর সংজ্ঞা এমন বিষয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয় যা অস্তিত্বের বিচারে অন্য সবকিছু থেকে এর পার্থক্য নির্দেশ করে, এর সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি-সত্তা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মাধ্যমে নয়। আর যখন তিনি একে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে আলেমদের পরিভাষাগত পার্থক্য উল্লেখ করলেন, তখন তিনি সংজ্ঞা প্রদানের আগে একটি ভূমিকা দিতে চাইলেন যা বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। তাই তিনি বললেন: (এবং প্রতিটি বিজ্ঞানই) সংকলিত বিজ্ঞানসমূহের মধ্য থেকে। (দুটি প্রাচুর্য তথা উপলব্ধি) ধারণামূলক ও প্রত্যয়নমূলক (এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ) অর্থাৎ সেই উপলব্ধিসমূহের বিষয়াদি, যা হলো মাসআলাসমূহ, আলোচ্য বিষয়সমূহ, বিধেয়সমূহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ। এতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, কারণ 'বিজ্ঞান' বা ইলম হলো এগুলোর যেকোনো একটির নাম, এদের সমষ্টির নাম নয়। আর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি বিজ্ঞানে এ দুটির অস্তিত্ব থাকা। এখানে 'প্রাচুর্য' বলতে 'প্রচুর' অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং দুটি প্রাচুর্যকে উপলব্ধির দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে বস্তুর রূপ অর্জনের সম্বন্ধের মতো; অর্থাৎ প্রচুর উপলব্ধি এবং প্রচুর উপলব্ধিযোগ্য বিষয়সমূহ। (এবং তার জন্য) অর্থাৎ উপলব্ধি ও উপলব্ধিযোগ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সেই প্রাচুর্যের জন্য (লক্ষ্যের একতা রয়েছে)। অর্থাৎ লক্ষ্যের দিক থেকে একক হওয়া। আর তা হলো চূড়ান্ত কারণ যা শিক্ষার্থীকে তা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে, আর তা হলো শরীআতের বিধানাবলি জানা যা ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়। (অনুসরণ করে) সেই একতাটি (তার আলোচ্য বিষয়ের একতাকে)। অর্থাৎ সেই প্রাচুর্য; যার মানে হলো লক্ষ্যের একতা আলোচ্য বিষয়ের একতাকে দাবি করে এবং দ্বিতীয়টি প্রথমটির অনুগামী হয়। আর তা এই কারণে যে, শিক্ষার্থী যখন...

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كَانَ لَهُ مطلب وَاحِد علمي يعمد إِلَى أُمُور مُنَاسبَة لذَلِك الْمطلب فيبحث عَن أحوالها الَّتِي لَهَا مدْخل فِي الإيصال إِلَيْهِ فَيصدق على كل وَاحِد من تِلْكَ الْأُمُور الْكَثِيرَة مَا يبْحَث عَن حَاله للإيصال إِلَى غَايَة كَذَا، وَلَا يَعْنِي بوحدة الْمَوْضُوع الأمثل هَذَا (أول الملاحظة) ظرف للاستتباع يَعْنِي الاستتباع الْمَذْكُور بِاعْتِبَار مُلَاحظَة الْغَايَة أَولا، فَإِن مدون الْعلم يُلَاحظ الْغَايَة أَولا، لِأَنَّهَا الباعثة لإقدامه على التدوين فملاحظته إِيَّاهَا من حَيْثُ يستدعى تدوين علم مَوْضُوعه كَمَا عَرفته مُتَقَدّمَة، وَأما بِاعْتِبَار تحققهما فِي الْخَارِج، فَالْأَمْر بِالْعَكْسِ وَإِلَيْهِ أَشَارَ بقوله (وَفِي التَّحْقِيق إِلَّا تصافى بِالْقَلْبِ 1) يَعْنِي إِذا نَظرنَا إِلَى تحقق الوحدتين من حَيْثُ أَنَّهُمَا وصفان ثابتان لموصوفيهما أَي الْغَايَة والموضوع وجدنَا وحدة الْمَوْضُوع سَابِقَة على وحدة الْغَايَة ضَرُورَة تَأَخّر وصف الْمُتَأَخر عَن وصف الْمُتَقَدّم وَتَأَخر الْعلَّة الغائية عَن معلولها بِاعْتِبَار الْوُجُود الْخَارِجِي (وَأَسْمَاء الْعُلُوم الْمُدَوَّنَة مَوْضُوعَة لكل) من الكثرتين لِأَن الِاسْتِعْمَال فِي كل مِنْهُمَا على السوية، وَهُوَ دَلِيل الْوَضع عِنْد عدم الِاحْتِيَاج إِلَى الْقَرِينَة وَلم يذكر الملكة مَعَ أَنهم جَعَلُوهُ من جملَة مسمياتها، لِأَن أَكثر الاستعمالات يَأْبَى عَنْهَا وَيلْزم أَن لَا يكون إِطْلَاق اسْم الْعلم على الْأَلْفَاظ والنقوش من بَاب تَسْمِيَة الدَّال باسم الْمَدْلُول (وَكَذَا الْقَاعِدَة والقضية) مَوْضُوعَة لكل من الادراكات إِدْرَاك الْمَحْكُوم عَلَيْهِ، وَبِه وَالنِّسْبَة وَالْحكم ومتعلقاتها، والقضية أَعم من الْقَاعِدَة، فالقاعدة قَضِيَّة كُلية منطبقة على جزئياتها كَقَوْلِنَا: الْفَاعِل مَرْفُوع وجزئياتها كزيد مَرْفُوع فِي جَاءَ زيد، والقضية قَول يحْتَمل الصدْق وَالْكذب (فعلى) اعْتِبَار (الأول) وَهُوَ وَضعهَا للادراكات (هُوَ) أَي أصُول الْفِقْه (إِدْرَاك الْقَوَاعِد الَّتِي يتَوَصَّل بهَا إِلَى استنباط الْفِقْه) وَجه التَّوَصُّل أَن الْأَدِلَّة التفصيلية تدل على الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة بِوَاسِطَة كيفيات فِيهَا متنوعة، وكل قَاعِدَة من الْأُصُول تبين نوعا من تِلْكَ الكيفيات وَعند الاستنباط كَمَا تقع الْحَاجة إِلَى معرفَة تِلْكَ الكيفيات تقع إِلَى معرفَة الْقَوَاعِد المبينة لَهَا، لِأَن معرفَة تِلْكَ الكيفيات بِدُونِ الْقَوَاعِد لَا تخلص عَن الشُّبْهَة، وَلَا يرد عَلَيْهِ قَوَاعِد الْعَرَبيَّة والمنطقية لِأَن التَّوَصُّل بهَا بعيد والمتبادر مِنْهُ الْقَرِيب (وَقَوْلهمْ) أَي الْأُصُولِيِّينَ فِي التَّعْرِيف (عَن الْأَدِلَّة التفصيلية) بعد قَوْلهم هُوَ الْعلم بالقواعد الَّتِي يتَوَصَّل بهَا إِلَى استنباط الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة (تَصْرِيح بِلَازِم) يفهم ضمنا، لِأَن المُرَاد استنباط الْأَحْكَام تَفْصِيلًا، وَهُوَ لَا يكون إِلَّا عَن أدلتها تَفْصِيلًا فَهُوَ لمزيد الْكَشْف لَا للِاحْتِرَاز فَلَا يضر تَركه (وَإِخْرَاج) علم (الْخلاف) عَن التَّعْرِيف (بِهِ) أَي القَوْل الْمَذْكُور (غلط) لِأَنَّهُ علم يتَوَصَّل بِهِ إِلَى حفظ الْأَحْكَام المستنبطة الْمُخْتَلف فِيهَا أَو هدمها، لَا إِلَى الاستنباط، وَكَذَلِكَ علم الجدل فَإِنَّهُ علم يتَوَصَّل بِهِ إِلَى حفظ رَأْي أَو هَدمه، أَعم من أَن يكون

তদীয় একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক লক্ষ্য ছিল, যা উক্ত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াবলির দিকে মনোনিবেশ করে এবং সেগুলোর এমন অবস্থা নিয়ে গবেষণা করে যা সেই লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখে। ফলে সেই বহুবিধ বিষয়ের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই এটি সত্য হয় যে, অমুক লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এর অবস্থা সম্পর্কে গবেষণা করা হচ্ছে। আলোচ্য বিষয়ের অভিন্নতা বলতে এই আদর্শিক বিষয়টি বোঝানো হয়নি। (পর্যবেক্ষণের সূচনা) হলো অনুবর্তী হওয়ার একটি অবস্থা, অর্থাৎ লক্ষ্যকে প্রথমে পর্যবেক্ষণে রাখার বিচারে উক্ত অনুবর্তিতা। কেননা শাস্ত্র সংকলনকারী প্রথমেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে পর্যবেক্ষণ করেন, কারণ এটিই তাকে সংকলন কার্যে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার লক্ষ্য পর্যবেক্ষণ করা—যেহেতু এটি এমন একটি শাস্ত্র সংকলনের দাবি রাখে যার আলোচ্য বিষয় আপনার পূর্বপরিচিত—তা অগ্রবর্তী। আর বাহ্যিক অস্তিত্বে উভয়ের অর্জিত হওয়ার বিচারে বিষয়টি এর বিপরীত। আর এরই দিকে তিনি তার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (আর বাস্তব বিচারে হৃদয়ের স্বচ্ছতা ব্যতীত নয় ১)। অর্থাৎ, যখন আমরা অভিন্নতা দ্বয়ের (উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু) বাস্তব রূপায়নের দিকে তাকাই এই দিক থেকে যে, তারা তাদের বিশেষিত বিষয়ের (অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তুর) জন্য দুটি স্থির গুণ বা বৈশিষ্ট্য, তখন আমরা দেখতে পাই যে বিষয়বস্তুর অভিন্নতা উদ্দেশ্যের অভিন্নতার চেয়ে অগ্রবর্তী। কারণ অগ্রবর্তীর গুণের তুলনায় অনুবর্তীর গুণের বিলম্বে আসা এবং বাহ্যিক অস্তিত্বের বিচারে স্বীয় ফলশ্রুতির তুলনায় চূড়ান্ত কারণের (উদ্দেশ্যের) বিলম্বে আসা অপরিহার্য।

(সংকলিত শাস্ত্রসমূহের নামসমূহ প্রত্যেকটির জন্যই নির্ধারিত) অর্থাৎ উভয় প্রকার আধিক্যের জন্যই; কারণ উভয়ের ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ সমপর্যায়ের। আর প্রসঙ্গের প্রয়োজনীয়তা না থাকার সময় এটিই হলো শব্দ প্রয়োগের (ওয়াদ) প্রমাণ। তিনি এখানে 'যোগ্যতা' বা অনুষদের কথা উল্লেখ করেননি, যদিও তারা একে শাস্ত্রের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ অধিকাংশ প্রয়োগই একে গ্রহণ করতে চায় না। অন্যথায় শব্দ ও লিপির ওপর 'ইলম' বা শাস্ত্রের নাম প্রয়োগ করা 'মাদলুল' (নির্দেশিত অর্থ)-এর নামে 'দাল' (নির্দেশক)-কে নামকরণের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

(অনুরূপভাবে 'কায়েদা' বা মূলনীতি এবং 'কাদিয়াহ' বা বচন)-ও প্রতিটি উপলব্ধির জন্য নির্ধারিত; যেমন—যাহার ওপর বিধান আরোপ করা হয়েছে তার উপলব্ধি, বিধানের উপলব্ধি, সম্বন্ধের উপলব্ধি, বিধান স্বয়ং এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদির উপলব্ধি। 'কাদিয়াহ' (বচন) শব্দটি 'কায়েদা' (মূলনীতি) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কেননা মূলনীতি হলো এমন একটি সামগ্রিক বচন যা তার প্রতিটি আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য। যেমন আমাদের কথা: 'কর্তা পেশযুক্ত হয়'। এর আংশিক বিষয়সমূহ হলো যেমন 'যাইদ এসেছে' বাক্যে 'যাইদ পেশযুক্ত'। আর বচন হলো এমন কথা যা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

(সুতরাং প্রথমটি) অর্থাৎ উপলব্ধির জন্য এর প্রয়োগ বিবেচনার ভিত্তিতে (তা) অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ হলো (এমন সব মূলনীতির উপলব্ধি যা ফিকহ আহরণের পথে পৌঁছে দেয়)। পৌঁছানোর মাধ্যম হওয়ার স্বরূপ এই যে, বিস্তারিত দলীলসমূহ বিভিন্ন প্রকার অবস্থার মাধ্যমে ফিকহী বিধানাবলীর ওপর প্রমাণ পেশ করে। আর উসুলের প্রতিটি মূলনীতি সেই অবস্থাগুলোর কোনো একটি প্রকারকে বর্ণনা করে। বিধান আহরণের সময় যেমন সেই অবস্থাগুলো জানার প্রয়োজন হয়, তেমনি সেগুলো বর্ণনাকারী মূলনীতিগুলো জানারও প্রয়োজন হয়। কারণ মূলনীতি ব্যতীত সেই অবস্থাগুলোর জ্ঞান সংশয়মুক্ত হয় না। এর ওপর আরবী ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যার মূলনীতিসমূহের আপত্তি আসবে না, কারণ সেগুলোর মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়, আর এখানে সরাসরি বা নিকটবর্তী মাধ্যমই উদ্দেশ্য।

(এবং তাদের এই উক্তি) অর্থাৎ উসুলবিদগণের সংজ্ঞায় (বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে) তাদের এই উক্তির পর যে—তা হলো এমন সব মূলনীতির জ্ঞান যা শরীয়তের বিধান আহরণের পথে পৌঁছে দেয়—তা (অপরিহার্য বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা) যা পরোক্ষভাবে বোঝা যায়। কারণ উদ্দেশ্য হলো বিস্তারিতভাবে বিধান আহরণ করা, আর তা বিস্তারিত দলীলসমূহ ব্যতীত সম্ভব নয়। সুতরাং এটি অতিরিক্ত ব্যাখ্যার জন্য, বর্জনের জন্য নয়। তাই এটি ত্যাগ করলে কোনো ক্ষতি নেই।

(এবং এর মাধ্যমে) অর্থাৎ উক্ত বাণীর মাধ্যমে (মতভেদ সংক্রান্ত জ্ঞান বা ইলমুল খিলাফ-কে) সংজ্ঞা হতে (বের করে দেওয়া) (ভুল)। কারণ এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে আহরিত ও বিতর্কিত বিধানসমূহ সংরক্ষণ করা বা খণ্ডন করা সম্ভব হয়, নতুন করে বিধান আহরণ করা নয়। অনুরূপভাবে বিতর্ক শাস্ত্রও (ইলমুল জাদাল); কেননা এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে কোনো মত সংরক্ষণ বা খণ্ডন করা হয়, তা সে মতটি যাই হোক না কেন...

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة أَو غَيرهَا، وعَلى تَقْدِير تَسْلِيم كَونه يتَوَصَّل بِهِ إِلَى الاستنباط لَا يخرج بالقيد الْمَذْكُور، لِأَنَّهُ لَا يسْتَعْمل إِلَّا عِنْد استنباط الْأَحْكَام عَن أدلتها التفصيلية (وَعَلِيهِ) أَي على الأول (مَا تقدم من) تَعْرِيف (الْفِقْه) وَهُوَ قَوْله التَّصْدِيق الخ، فَإِنَّهُ إِدْرَاك فتعريف الْفِقْه مَبْنِيّ على الأول (وَجعل الْجِنْس) فِي تَعْرِيف الْأُصُول (الِاعْتِقَاد الْجَازِم المطابق) للْوَاقِع احْتِرَازًا عَن الظَّن وَالْجهل (مُشكل بقضية الْمُخطئ فِي الْكَلَام) يَعْنِي يلْزم اعْتِبَار الْجَزْم والمطابقة فِي جَمِيع مَا ينْدَرج تَحت الْجِنْس، وَمن جملَته علم الْأُصُول الْكَلَام فَيلْزم أَن يخرج مِنْهُ الْمُخطئ فِي الِاعْتِقَاد سَوَاء بدع كالمعتزلة أَو كفر كالمجسمة، وَقد صَرَّحُوا باندراج اعْتِقَاد الْمُخطئ تَحْتَهُ (ولأنا نمْنَع اشْتِرَاطه) أَي المجعول جِنْسا (فِي أصُول الْفِقْه) نقل سَنَد الْمَنْع عَن المُصَنّف، ومحصوله أَن الظَّن يَكْفِي فِي إِثْبَات محمولات مسَائِل الْأُصُول لموضوعاتها نَحْو الْأَمر للْوُجُوب وَالنَّهْي للْحُرْمَة، وَتَخْصِيص الْعَام يجوز والمشترك لَا يعم، وَخبر الْوَاحِد مقدم على الْقيَاس، فَإِنَّهَا غير قَطْعِيَّة لعدم قَطْعِيَّة أدلتها، وَرُبمَا لم يكن مطابقا للْوَاقِع، وَالْمرَاد من الْمَنْع النَّقْض الَّذِي يُورد فِي التعريفات (فَالْأَوْجه كَونه) أَي جنس التَّعْرِيف (أَعم) من أَن يكون جَازِمًا أم لَا، مطابقا أم لَا، أَشَارَ إِلَى أَن عدم التَّعْمِيم أَيْضا لَهُ وَجه لما مر من أَنه لَا مشاحة فِي الِاصْطِلَاح، لَكِن الأولى والأنسب هُوَ التَّعْمِيم (وعَلى) اعْتِبَار (الثَّانِي) وَهُوَ وَضعهَا للمتعلقات هُوَ (الْقَوَاعِد الَّتِي يتَوَصَّل بمعرفتها) إِلَى استنباط الْفِقْه (وَالْقَوَاعِد فِيهِ) أَي فِي هَذَا التَّعْرِيف (مَعْلُومَات) لَا عُلُوم وتصديقات فِيهِ أَن الْقَاعِدَة مُشْتَركَة بَين الْعلم والمعلوم، والاحتراز عَن إِيرَاد الْمُشْتَرك فِي التعريفات وَاجِب قلت لَا يضر فِي مثل هَذَا، لِأَن التَّعْرِيف صَحِيح على التَّقْدِيرَيْنِ على أَن قَوْله بمعرفتها يعين المُرَاد و (أَعنِي) بالمعلومات (المفاهيم التصديقية الْكُلية) الْفَهم هُوَ الْإِدْرَاك وَالْمَفْهُوم مُتَعَلقَة يَنْقَسِم إِلَى التصوري والتصديقي ضَرُورَة انقسام الْإِدْرَاك إِلَى التَّصَوُّر والتصديق، والكلية مَا حكم فِيهِ على كل فَرد من أَفْرَاد مَوْضُوعَة (من نَحْو الْأَمر للْوُجُوب) من بَيَانِيَّة للمفاهيم (وَلذَا) أَي لأجل أَن المُرَاد بهَا المعلومات (قُلْنَا بمعرفتها) لِأَنَّهَا تُضَاف إِلَى الْمَعْلُوم لَا الْعلم (وَمَعْنَاهَا) أَي الْقَاعِدَة (كالضابط والقانون وَالْأَصْل والحرف) فَهِيَ أَلْفَاظ مترادفة اصْطِلَاحا، وَإِن كَانَت فِي الأَصْل لمعان مُخْتَلفَة، أما الأَصْل فقد مر، وَأما الْقَاعِدَة فَهُوَ اسْم فَاعل من قعد، وقواعد الهودج خشبات أَربع تَحْتَهُ ركب فِيهِنَّ، وَالضَّابِط من ضبط، والقانون، قيل سرياني اسْم مسطر الْكِتَابَة أَو الْجَدْوَل، وَفِي الْقَامُوس مقياس كل شَيْء، وَأما الْحَرْف فَلهُ معَان مِنْهَا الطّرف، وَأحد حُرُوف التهجي، والمناسبة بَين اللُّغَة والاصطلاح تظهر بِأَدْنَى تَأمل (قَضِيَّة كُلية كبرى لسهلة الْحُصُول) أَي لقضية صغرى سهلة الْحُصُول بترتيبها مَعهَا تحصل النتيجة، وَأَشَارَ إِلَى وَجه سهولتها

শরয়ী বিধিবিধান বা অন্যান্য ক্ষেত্রে; এবং এটি দ্বারা কোনো কিছু উদ্ভাবন করা হয় - এই সম্ভাবনা মেনে নিলেও তা উল্লিখিত সীমাবদ্ধতা থেকে বের হবে না। কারণ, এটি বিধিবিধানকে তাদের বিস্তারিত দলীল থেকে উদ্ভাবন করার সময় ছাড়া ব্যবহৃত হয় না। (এবং এর ওপর ভিত্তি করেই) অর্থাৎ প্রথম সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই (পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে) ফিকহ-এর (সংজ্ঞা)। আর তা হলো তাঁর উক্তি 'আত-তাসদীক' (সত্যায়ন করা) ইত্যাদি। কারণ এটি এক প্রকার উপলব্ধি (ইদরেক)। সুতরাং ফিকহ-এর সংজ্ঞাটি প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে প্রণীত।

(এবং উসূলের সংজ্ঞায় 'জিলস' বা সাধারণ বর্গ হিসেবে) 'বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস'কে (সাব্যস্ত করা), ধারণা এবং অজ্ঞতা থেকে বাঁচার জন্য; (তা ইলমে কালামের ক্ষেত্রে ভুলকারীর বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক)। অর্থাৎ, এই বর্গের অধীনে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত হবে, তার সবকিছুর মধ্যেই দৃঢ়তা এবং বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইলমে উসূল আল-কালাম। ফলে আকিদার ক্ষেত্রে ভুলকারী ব্যক্তি এর থেকে বের হয়ে যাবে; চাই সে বিদআতী হোক—যেমন মুতাযিলা, অথবা কাফির হোক—যেমন মুজাসসিমা। অথচ আলেমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, ভুলকারীর বিশ্বাসও এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত।

(কেননা আমরা একে শর্ত হিসেবে অস্বীকার করি) অর্থাৎ যা বর্গ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, (উসূলুল ফিকহের ক্ষেত্রে)। এই অস্বীকৃতির ভিত্তি গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে। এর সারমর্ম হলো, উসূলের মাসআলাগুলোর বিধেয়কে তাদের উদ্দেশ্যের জন্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'ধারণা'ই যথেষ্ট। যেমন—আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য, এবং নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য। আবার সাধারণকে বিশেষ করা জায়েজ, এবং একাধিক অর্থবোধক শব্দ ব্যাপকতা বোঝায় না, এবং একক সূত্রে বর্ণিত হাদীস কিয়াসের ওপর প্রাধান্য পায়। কারণ এগুলোর দলীলসমূহ অকাট্য নয় বিধায় এগুলোও অকাট্য নয়। আর অনেক সময় তা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নাও হতে পারে। আর এখানে অস্বীকারের উদ্দেশ্য হলো সেই আপত্তি, যা সংজ্ঞাসমূহের ক্ষেত্রে উত্থাপন করা হয়।

(সুতরাং অধিকতর সঠিক হলো এর হওয়া) অর্থাৎ সংজ্ঞার বর্গটি (আরও ব্যাপক) হওয়া; চাই তা দৃঢ় হোক বা না হোক, বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হোক বা না হোক। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ব্যাপকতা না রাখারও একটি দিক রয়েছে, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে পারিভাষিক বিষয়ে কোনো বিবাদ নেই। তবে ব্যাপকতা রাখাই উত্তম এবং অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(এবং দ্বিতীয়টির) বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে, আর তা হলো বিষয়টির সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া; তা হলো (সেই সকল মূলনীতি যার জ্ঞানের মাধ্যমে পৌঁছানো যায়) ফিকহ উদ্ভাবন পর্যন্ত। (এবং এর মধ্যে মূলনীতিগুলো হলো) অর্থাৎ এই সংজ্ঞায় তা হলো (জ্ঞাত বিষয়সমূহ), জ্ঞান বা সত্যায়ন নয়। এতে আপত্তি আছে যে, 'মূলনীতি' শব্দটি জ্ঞান এবং জ্ঞাত বিষয়—উভয়ের জন্যই সাধারণ শব্দ। আর সংজ্ঞার মধ্যে সাধারণ ও দ্ব্যর্থবোধক শব্দ পরিহার করা আবশ্যক। আমি বলব, এ জাতীয় ক্ষেত্রে তা কোনো ক্ষতি করে না। কারণ উভয় বিবেচনাতেই সংজ্ঞাটি সঠিক। তদুপরি তাঁর উক্তি 'তার জ্ঞানের মাধ্যমে' দ্বারা উদ্দেশ্যটি নির্দিষ্ট হয়ে যায়।

(আর আমি অর্থ গ্রহণ করছি) জ্ঞাত বিষয়াবলী দ্বারা (সামষ্টিক সত্যায়নমূলক ধারণাগুলো)। 'ফাহম' হলো উপলব্ধি, আর 'মাফহুম' বা ধারণা তার সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি আবশ্যিকভাবেই ধারণামূলক এবং সত্যায়নমূলক—এই দুই ভাগে বিভক্ত, যেহেতু উপলব্ধিই এই দুই ভাগে বিভক্ত। আর 'সামষ্টিক' হলো সেই বিষয়, যার বিধান তার উদ্দেশ্যের প্রতিটি একক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়।

(যেমন—আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য); এখানে 'মিন' অব্যয়টি ধারণাগুলোর বর্ণনার জন্য এসেছে। (আর একারণেই) অর্থাৎ যেহেতু এগুলোর দ্বারা জ্ঞাত বিষয়গুলো উদ্দেশ্য, (আমরা বলেছি: তার জ্ঞানের মাধ্যমে)। কারণ এটি জ্ঞাত বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, জ্ঞানের দিকে নয়।

(আর এর অর্থ) অর্থাৎ মূলনীতির অর্থ (যাবিতাহ, কানুন, আসল এবং হারফ-এর মতো)। এগুলো পরিভাষার দিক থেকে সমার্থক শব্দ, যদিও মূল ভাষার দিক থেকে এগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অর্থ রয়েছে। 'আসল' সম্পর্কে আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর 'কায়দা' শব্দটি 'কাআদা' (বসা) থেকে ইসমে ফায়েল। হাওদাজের কায়দা হলো এর নিচের চারটি কাঠ, যার ওপর এটি বসানো হয়। 'যাবিতাহ' শব্দটি 'যাবাতা' (সংরক্ষণ করা) থেকে এসেছে। 'কানুন' সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি সিরিয়াক ভাষার শব্দ, যার অর্থ লেখার মাপকাঠি বা ছক। 'আল-কামূস' অভিধানে বলা হয়েছে: প্রতিটি বস্তুর পরিমাপক। আর 'হারফ'-এর একাধিক অর্থ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো প্রান্ত, এবং বর্ণমালার একটি বর্ণ। শাব্দিক এবং পারিভাষিক অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্যতা সামান্য চিন্তা করলেই স্পষ্ট হয়।

(এটি এমন একটি সামষ্টিক বৃহৎ প্রতিজ্ঞা যা সহজে অর্জনযোগ্য); অর্থাৎ এমন একটি ক্ষুদ্র প্রতিজ্ঞার জন্য যা সহজে অর্জনযোগ্য, যার সাথে একে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে ফলাফল অর্জিত হয়। তিনি এর সহজ হওয়ার কারণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
بقوله (لانتظامها) أَي الصُّغْرَى (عَن) أَمر (محسوس) وَهِي (كَهَذا أَمر و) هَذَا (نهي) وكل أَمر للْوُجُوب فَهَذَا للْوُجُوب، وكل نهي للتَّحْرِيم فَهَذَا للتَّحْرِيم، فقولنا الْأَمر للْوُجُوب قَضِيَّة جعلت كبرى لصغرى وَهِي كَقَوْلِنَا أقِيمُوا الصَّلَاة أَمر وسهولة حُصُولهَا ظَاهِرَة، لِأَن الْعلم بِكَوْنِهَا أمرا للْعَالم باللغة والاصطلاح بديهي لَا يحْتَاج إِلَى تَأمل، والنتيجة، وَهِي أَن أقِيمُوا الصَّلَاة للْوُجُوب من جزئيات الْأَمر للْوُجُوب فَيرجع مآل هَذَا التَّعْرِيف إِلَى مَا مر من تَعْرِيفهَا، وَمعنى انتظام الصُّغْرَى تركب أَجْزَائِهَا من الْمَوْضُوع والمحمول وَالْحكم، وَإِنَّمَا ينشأ هَذَا الانتظام عَن محسوس، وَهُوَ موضوعها، وَإِنَّمَا حكم بِكَوْن موضوعها محسوسا على الْإِطْلَاق لاندراجها تَحت مَوْضُوع الْكُبْرَى الَّتِي هِيَ من مسَائِل الْأُصُول، وموضوع مسَائِل الْأُصُول على الْإِطْلَاق مندرج تَحت مَوْضُوع الْأُصُول، وَهُوَ الدَّلِيل السمعي، وَهُوَ محسوس بحاسة السّمع، وَكَيْفِيَّة الانتظام أَنَّك إِذا نظرت فِي المحسوس الَّذِي هُوَ أقِيمُوا الصَّلَاة مثلا وجدت أَنه أَمر، فتحكم أَنه أَمر ثمَّ تضم هَذِه الْقَضِيَّة الَّتِي انتظمت إِلَى الْكُلية الَّتِي تكون النتيجة من جزئياتها (وَهَذَا) التَّعْرِيف (حد أسمى) الْحَد عِنْد الْأُصُولِيِّينَ مَا يُمَيّز الشَّيْء عَن غَيره، وينقسم إِلَى حَقِيقِيّ وأسمى ولفظي، فالحقيقي مَا أنبأ عَن ذاتياته الْكُلية المركبة، لِأَنَّهَا فُرَادَى لَا تفِيد الْحَقِيقَة لفقد الصُّورَة، والأسمى مَا أنبأ عَن الشَّيْء بلازمه مثل الْخمر مَائِع يقذف بالزبد، واللفظي مَا أنبأ عَن الشَّيْء بِلَفْظ أظهر مرادف، كَذَا ذكر الشَّيْخ ابْن الْحَاجِب فِي مُخْتَصره، وَقَالَ الْمُحَقق التَّفْتَازَانِيّ فِي حَاشِيَته عَلَيْهِ: الْحَد اللَّفْظِيّ عِنْد الْمُحَقِّقين هُوَ أَن يقْصد بَيَان مَا تعقله الْوَاضِع، فَوضع الِاسْم بإزائه سَوَاء كَانَ بِلَفْظ مرادف، أَو باللوازم، أَو بالذاتيات حَتَّى أَن مَا يُقَال فِي أول الهندسة أَن المثلث شكل يُحِيط بِهِ ثَلَاثَة أضلاع تَعْرِيف اسْمِي، ثمَّ بعد مَا يتَبَيَّن وجوده يصير هُوَ بِعَيْنِه حدا حَقِيقِيًّا انْتهى، وَالْمرَاد بِالْحَدِّ الأسمى هُنَا مَا ذكره الْمُحَقق يُشِير إِلَى قَوْله (وَلَا يُنَافِي الْحَقِيقِيّ) أَي لَا يُنَافِي كَونه الْحَد الأسمى كَونه الْحَد الْحَقِيقِيّ، وَقد عرفت لجَوَاز أَن يبين وجوده، وَتَكون الْمَذْكُورَات ذاتيات الْمُعَرّف (وَاخْتلف) بَين الْأُصُولِيِّينَ (فِيهِ) أَي الْحَد من حَيْثُ كَونه (مُقَدّمَة الشُّرُوع وَلَا خلاف) بَينهم (فِي خِلَافه) وَهُوَ الْحَد بِدُونِ الْقَيْد الْمَذْكُور: أَي لم يَخْتَلِفُوا فِي جَوَاز أَن أَن يكون للْعلم حد حَقِيقِيّ من غير أَن يَجْعَل مُقَدّمَة، فَالضَّمِير للمقيد (كَمَا قيل) من أَنه لَا خلاف فِيهِ بَينهم، وَيحْتَمل أَن يكون الْمَعْنى كَمَا قيل من أَن بَينهم فِيهِ خلافًا، وَإِنَّمَا لم يَخْتَلِفُوا (لِإِمْكَان تصور) الْعقل (مَا يَتَّصِف بِهِ) الضَّمِير الْمَرْفُوع لِلْعَقْلِ المرموز إِلَيْهِ بِذكر التَّصَوُّر، وَالْمَجْرُور للموصول حَاصِل التَّعْلِيل رفع مَا يتَوَهَّم أَن يكون مَانِعا عَن التَّحْدِيد من أَنه لَا يجوز تَحْدِيد الْعلم، لِأَنَّهُ إِدْرَاك، وَالْحَد كَذَلِك فَلَا يتَعَلَّق بِهِ إِلَّا يلْزم إِدْرَاك الْإِدْرَاك، فَالْجَوَاب منع بطلَان الثَّانِي

তাঁর উক্তি (তার বিন্যাসের কারণে) অর্থাৎ ছোট বাক্যটি (সুগরা) একটি (অনুভূত) বিষয় (থেকে গঠিত)। আর তা হলো (যেমন- এটি একটি আদেশ এবং) এটি (একটি নিষেধ)। আর প্রতিটি আদেশই ওয়াজিব হওয়ার জন্য, তাই এটিও ওয়াজিব হওয়ার জন্য; এবং প্রতিটি নিষেধই হারাম হওয়ার জন্য, তাই এটিও হারাম হওয়ার জন্য। সুতরাং আমাদের কথা 'আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য'—এটি এমন একটি প্রতিজ্ঞা যাকে বড় বাক্য (কুবরা) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এমন এক ছোট বাক্যের (সুগরা) জন্য যা আমাদের এই উক্তির মতো: 'তোমরা সালাত কায়েম করো' একটি আদেশ। আর এর অর্জিত হওয়া সহজ হওয়াটা স্পষ্ট; কারণ ভাষা ও পরিভাষা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি একটি আদেশ হওয়াটা স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান, যা কোনো চিন্তাভাবনার প্রয়োজন পড়ে না।

আর ফলাফল হলো—'তোমরা সালাত কায়েম করো' বাক্যটি ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি 'আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য' এই সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই সংজ্ঞার চূড়ান্ত ফলাফল ইতোপূর্বে বর্ণিত সংজ্ঞার দিকেই ফিরে যায়। আর ছোট বাক্যের বিন্যাসের অর্থ হলো তার অংশগুলো অর্থাৎ উদ্দেশ্য (মাওজু), বিধেয় (মাহমুল) এবং বিধানের (হুকুম) সমন্বয়ে গঠিত হওয়া। আর এই বিন্যাস মূলত একটি অনুভূত বিষয় থেকেই উদ্ভূত হয়, যা তার বিষয়বস্তু। আর এর বিষয়বস্তুকে নিরঙ্কুশভাবে অনুভূত বলে হুকুম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি বড় বাক্যের বিষয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত, যা উসূলের মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর উসূলের মাসআলাসমূহের বিষয়বস্তু সাধারণভাবে উসূলের বিষয়বস্তুর অধীনে অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো শ্রুতিগত দলিল; যা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত।

আর বিন্যাসের পদ্ধতি হলো—আপনি যখন অনুভূত বিষয়ের দিকে তাকাবেন, যা উদাহরণস্বরূপ 'তোমরা সালাত কায়েম করো', তখন আপনি দেখতে পাবেন যে এটি একটি আদেশ। এরপর আপনি হুকুম দেবেন যে এটি একটি আদেশ এবং অতঃপর এই বিন্যস্ত প্রতিজ্ঞাটিকে সেই সার্বিক নিয়মের সাথে যুক্ত করবেন যার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো থেকে ফলাফল তৈরি হয়।

(আর এই) সংজ্ঞাটি হলো (নামবাচক সংজ্ঞা)। উসূলবিদদের নিকট সংজ্ঞা হলো যা কোনো বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করে। আর এটি প্রকৃত (হাকীকী), নামবাচক (আসমী) এবং শাব্দিক (লাফজী)—এই তিন ভাগে বিভক্ত। সুতরাং প্রকৃত সংজ্ঞা হলো যা বস্তুর যৌগিক সার্বিক সত্তাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেয়; কারণ এককভাবে সেগুলো প্রকৃত রূপ প্রদান করে না কাঠামোর অভাবের কারণে। আর নামবাচক সংজ্ঞা হলো যা কোনো বস্তুকে তার অবিচ্ছেদ্য গুণাবলী দ্বারা পরিচিত করায়, যেমন মদের সংজ্ঞা হলো—এটি এমন তরল যা ফেনা উগরে দেয়। আর শাব্দিক সংজ্ঞা হলো যা কোনো বস্তুকে তার অধিকতর স্পষ্ট সমার্থক শব্দের মাধ্যমে পরিচিত করায়।

শেখ ইবনুল হাজিব তার সংক্ষিপ্তসারে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আর গবেষক তাফতাজানী তার টীকায় বলেছেন: গবেষকদের নিকট শাব্দিক সংজ্ঞা হলো—শব্দ প্রণেতা যা অনুধাবন করেছেন তা বর্ণনা করার লক্ষ্য স্থির করা, ফলে তিনি তার বিপরীতে একটি নাম রেখেছেন; চাই তা সমার্থক শব্দের মাধ্যমে হোক, কিংবা অবিচ্ছেদ্য গুণের মাধ্যমে হোক, অথবা সত্তাগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে হোক। এমনকি জ্যামিতির শুরুতে যা বলা হয় যে, 'ত্রিভুজ হলো এমন একটি আকৃতি যা তিনটি বাহু দ্বারা বেষ্টিত'—এটি একটি নামবাচক সংজ্ঞা। পরবর্তীতে যখন এর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তখন তা নিজেই একটি প্রকৃত সংজ্ঞায় পরিণত হয়। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর এখানে নামবাচক সংজ্ঞা দ্বারা গবেষক যা উল্লেখ করেছেন তা-ই উদ্দেশ্য। এটি তাঁর এই উক্তির দিকে ইঙ্গিত করে যে, (এবং তা প্রকৃত সংজ্ঞার পরিপন্থী নয়), অর্থাৎ এর নামবাচক সংজ্ঞা হওয়া তার প্রকৃত সংজ্ঞা হওয়ার পরিপন্থী নয়।

আর আপনি জেনেছেন যে, এর অস্তিত্ব স্পষ্ট হওয়া এবং উল্লেখিত বিষয়গুলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর সত্তাগত বৈশিষ্ট্য হওয়া সম্ভব। আর উসূলবিদদের মাঝে (এ বিষয়ে মতভেদ হয়েছে), অর্থাৎ সংজ্ঞার বিষয়ে এই দিক থেকে যে এটি (শুরু করার ভূমিকা)। আর তাদের মধ্যে (এর বিপরীতে কোনো মতভেদ নেই), যা হলো উল্লেখিত শর্ত ছাড়াই সংজ্ঞা প্রদান করা: অর্থাৎ কোনো শাস্ত্রের জন্য একটি প্রকৃত সংজ্ঞা থাকা এবং তাকে ভূমিকা হিসেবে গণ্য না করার বৈধতার ব্যাপারে তারা কোনো মতভেদ করেননি। সুতরাং সর্বনামটি শর্তযুক্ত বিষয়ের দিকে ফিরেছে। (যেমনটি বলা হয়েছে) যে, তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আবার এর অর্থ এমন হওয়ার সম্ভাবনাও আছে যে, যেমনটি বলা হয়েছে যে তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

আর তারা মূলত মতভেদ করেননি (উপলব্ধি করা সম্ভব হওয়ার কারণে)—এখানে বিবেক উপলব্ধি করে—(সেই বস্তুকে যার দ্বারা সে বিশেষিত হয়)। এখানে কর্তৃকারক সর্বনামটি সেই বিবেকের দিকে ফিরছে যার প্রতি 'উপলব্ধি' শব্দটির মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে, আর কর্মকারক সর্বনামটি নির্দেশিত বস্তুর দিকে ফিরছে। এই কারণ দর্শানোর সারসংক্ষেপ হলো—সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে যা প্রতিবন্ধক হতে পারে বলে ধারণা করা হয় তা দূর করা; আর তা হলো এই ধারণা যে ইলমের সংজ্ঞা প্রদান করা জায়েয নয়, কারণ ইলম হলো একটি উপলব্ধি, আর সংজ্ঞাও অনুরূপ; সুতরাং এর সাথে কোনো বিষয় সংশ্লিষ্ট হতে পারে না অন্যথায় 'উপলব্ধির উপলব্ধি' আবশ্যক হয়ে পড়বে। সুতরাং উত্তর হলো—দ্বিতীয় বিষয়টি বাতিল হওয়ার দাবিকে অস্বীকার করা।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لجَوَاز أَن يتَصَوَّر الْعقل مَا قَامَ بِهِ أَي وصف كَانَ (وَلَو) كَانَ ذَلِك الْوَصْف (تصورا) من تصوراته، لَا يُقَال لَا يجوز أَن يتَصَوَّر تصَوره، وَإِلَّا يلْزم تَحْصِيل الْحَاصِل (إِذْ الْحُصُول) أَي حُصُول التَّصَوُّر الَّذِي اتّصف بِهِ الْعقل فِي نفس الْأَمر (لَا يستلزمه) أَي لَا يسْتَلْزم تصور التَّصَوُّر، بل علمه وتصوره كَسَائِر صِفَاته الْمَوْجُودَة فِيهِ، وَلَا شكّ أَنه لَا يلْزم من اتصافه بِتِلْكَ الصِّفَات شعوره بهَا فَإِن قلت تصور التَّصَوُّر عينه، لأَنهم صَرَّحُوا بِأَن علم النَّفس بذاتها وصفاتها حضوري لَا حصولي: يَعْنِي يحضر عِنْدهَا بِذَاتِهِ لَا بصورته ومثاله قلت لَكِن لَا بُد من توجه النَّفس إِلَى مَا يَتَّصِف بِهِ لينكشف عِنْده بِذَاتِهِ لَا بصورته، والحصول لَا يسْتَلْزم ذَلِك، على أَن التَّوَهُّم الْمَذْكُور مَبْنِيّ على كَون الْمَحْدُود إِدْرَاك الْقَوَاعِد لَا نَفسهَا، ثمَّ بَين الِاخْتِلَاف بقوله (فَقيل لَا) يجوز أَن يكون الْحَد الْحَقِيقِيّ مُقَدّمَة الشُّرُوع (لِأَن الْكَثْرَة) الْمَذْكُورَة فِي الادراكات ومتعلقاتها (بِتِلْكَ الْوحدَة) الاعتبارية الْحَاصِلَة للْعلم من جِهَة الْغَايَة والموضوع (لَا تصير نوعا حَقِيقِيًّا) وَلَا بُد أَن يكون الْمَحْدُود نوعا حَقِيقِيًّا لاتحاده مَعَ الْحَد الْحَقِيقِيّ الَّذِي هُوَ مركب من الْجِنْس والفصل الَّذِي لَا يتركب مِنْهُمَا إِلَّا الماهيات الْحَقِيقِيَّة الَّتِي وحدتها حَقِيقِيَّة، لَا بِمُجَرَّد اعْتِبَار الْعقل (وَمُقْتَضى هَذَا) الدَّلِيل (نَفْيه) أَي نفي الْحَد الْحَقِيقِيّ للْعلم (مُطلقًا) سَوَاء جعل مُقَدّمَة الشُّرُوع أم لَا (فَفِيهِ) أَي فِي حكم وجود الْحَد الْحَقِيقِيّ للْعلم (الْخلاف أَيْضا) كَمَا فِي كَونه مُقَدّمَة الْعلم: يَعْنِي الْخلاف الْمَذْكُور خلاف فيهمَا جَمِيعًا بِاعْتِبَار هَذَا الدَّلِيل فَصَاحب هَذَا الدَّلِيل يَنْفِيه، وخصمه يُثبتهُ (وَلِأَنَّهُ) أَي الْحَد الْحَقِيقِيّ إِنَّمَا يتَحَقَّق (بسرد الْعقل) كل الْمسَائِل) أَي بتعقلها متتابعة، لِأَن الْحَد عبارَة عَن تعقل كنه الْمَاهِيّة، وكنه مَاهِيَّة الْعلم عين مسَائِله (وَلَيْسَ) الْحَد الْحَقِيقِيّ (حِينَئِذٍ الْمُقدمَة) أَي مُقَدّمَة الشُّرُوع للْعلم، بل هُوَ نفس الْعلم وَتَمَامه مفصلا (وَقيل نعم) أَي يجوز أَن يكون الْحَد الْحَقِيقِيّ مُقَدّمَة الشُّرُوع (لِأَن الادراكات أَو متعلقاتها كالمادة) وَهِي مَا بِهِ الْمركب مَوْجُود بِالْقُوَّةِ كأجزاء السرير بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ قبل التَّرْكِيب وَبعده إِذا قطعت النّظر عَن هَيئته (ووحدتها الدَّاخِلَة) أَي وحدة الادراكات أَو متعلقاتها بِاعْتِبَار الْمَوْضُوع والغاية الدَّاخِلَة فِي حَقِيقَتهَا (كالصورة) وَهِي مَا بِهِ الْمركب مَوْجُود بِالْفِعْلِ، وَإِنَّمَا لم يقل مَادَّة وَصُورَة، لِأَنَّهُمَا لَا يتحققان إِلَّا فِي المركبات الخارجية (فينتظم) الْمركب (الْمَأْخُوذ مِنْهُمَا) أَي شبهي الْمَادَّة وَالصُّورَة (جِنْسا وفصلا) أَي يَنْتَظِم الْمركب الْمَأْخُوذ من شبهي الْمَادَّة وَالصُّورَة بِأَن يُؤْخَذ الْجِنْس مَا هُوَ كالمادة والفصل مِمَّا هُوَ كالصورة فيركب حد مِنْهُمَا، وَهَذَا هُوَ الْمُتَبَادر من الْعبارَة، وَلَا يخفى فَسَاده لِأَن الْمَادَّة وَالصُّورَة متباينان

বুদ্ধিবৃত্তির (আকল) পক্ষে এটি সম্ভব যে, তার মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো বৈশিষ্ট্যকে সে কল্পনা করতে পারে, যদিও সেই বৈশিষ্ট্যটি তার কল্পনাগুলোর মধ্য থেকেই একটি কল্পনা হয়। এমনটি বলা যাবে না যে, বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে তার নিজের কল্পনাকে কল্পনা করা বৈধ নয়, অন্যথায় এটি ইতোমধ্যে অর্জিত বিষয় পুনরায় অর্জন করার (তাহসিলুল হাসিল) নামান্তর হবে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিবৃত্তি যে কল্পনার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, সেই কল্পনার উপস্থিতি (হুসুল) মানেই সেই কল্পনাকে পুনরায় কল্পনা করা নয়। বরং বুদ্ধিবৃত্তির জ্ঞান ও কল্পনা তার মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মতোই; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া মানেই সেই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া অনিবার্য নয়। আপনি যদি বলেন: কল্পনার কল্পনা তো সেই কল্পনারই অনুরূপ, কারণ তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নফস বা আত্মার নিজের সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান হলো 'হুজুরি' (উপস্থিতিমূলক), 'হুসুলি' (অর্জনমূলক) নয়; অর্থাৎ, তা আত্মার কাছে তার নিজের সত্তার মাধ্যমেই উপস্থিত হয়, কোনো আকৃতি বা উদাহরণের মাধ্যমে নয়। আমি বলব: তবে নফস যে বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তার দিকে নফসের মনোযোগ নিবদ্ধ হওয়া জরুরি যাতে তা তার কাছে সত্তাগতভাবে উন্মোচিত হয়, কোনো আকৃতির মাধ্যমে নয়। আর নিছক উপস্থিতি (হুসুল) এর দাবি রাখে না। উপরন্তু, উল্লিখিত বিভ্রান্তিটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, সংজ্ঞায়িত বিষয়টি হলো নিয়মনীতিসমূহের উপলব্ধি, খোদ নিয়মনীতিসমূহ নয়। এরপর তিনি মতভেদ বর্ণনা করে বলেন: (বলা হয়েছে 'না') প্রকৃত সংজ্ঞা (হাদে হাকিকি) কোনো বিষয়ের আলোচনার প্রারম্ভিক ভূমিকা হতে পারে না। কারণ, উপলব্ধি এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের মধ্যে যে আধিক্যের কথা বলা হয়েছে, তা লক্ষ্য ও বিষয়ের প্রেক্ষিতে অর্জিত ধারণাগত ঐক্যের মাধ্যমে একটি 'প্রকৃত প্রজাতিতে' (নাউয়ে হাকিকি) পরিণত হয় না। আর সংজ্ঞায়িত বিষয়টিকে অবশ্যই একটি প্রকৃত প্রজাতি হতে হবে, কারণ প্রকৃত সংজ্ঞার সাথে তার একাত্মতা রয়েছে; যা কিনা জিনস (শ্রেণি) ও ফাসল (বিভেদক) দ্বারা গঠিত। আর এই দুটি বস্তু কেবল সেই সমস্ত প্রকৃত সত্তার (মাহিয়্যাতে হাকিকিয়া) ক্ষেত্রেই সমন্বিত হয় যাদের ঐক্য বাস্তবভিত্তিক, যা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল নয়। আর এই প্রমাণের দাবি হলো ইলম বা জ্ঞানের প্রকৃত সংজ্ঞাকে (হাদে হাকিকি) সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা, চাই তাকে আলোচনার প্রারম্ভিক ভূমিকা করা হোক বা না হোক। সুতরাং ইলমের প্রকৃত সংজ্ঞার অস্তিত্বের বিধানের ক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে, যেমনটি একে ইলমের ভূমিকা হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে রয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রমাণের আলোকে উক্ত উভয় বিষয়েই মতভেদ বিদ্যমান। এই প্রমাণের প্রবক্তা একে অস্বীকার করেন এবং তার প্রতিপক্ষ একে সাব্যস্ত করেন। তদুপরি, প্রকৃত সংজ্ঞা কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন বুদ্ধিবৃত্তি সমস্ত মাসআলা বা বিষয়বস্তু অনুধাবন করে, অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বুঝতে পারে। কারণ সংজ্ঞা হলো কোনো সত্তার প্রকৃত স্বরূপ (কুনহে মাহিয়্যাত) অনুধাবন করার নাম, আর ইলমের প্রকৃত স্বরূপ হলো খোদ তার মাসআলা বা আলোচ্য বিষয়সমূহ। এমতাবস্থায় প্রকৃত সংজ্ঞা কোনো বিষয়ের প্রারম্ভিক ভূমিকা হতে পারে না, বরং এটি হলো খোদ ইলম এবং বিস্তারিতভাবে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ। (আর বলা হয়েছে 'হ্যাঁ') অর্থাৎ প্রকৃত সংজ্ঞা আলোচনার প্রারম্ভিক ভূমিকা হওয়া জায়েজ। কেননা উপলব্ধি অথবা এর সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ হলো উপাদানের (মাদ্দা) মতো; আর উপাদান হলো তা, যার মাধ্যমে একটি যৌগিক বস্তু সুপ্তাবস্থায় (বিল কুওয়্যাহ) বিদ্যমান থাকে; যেমন একটি খাটের অবয়ব বাদ দিয়ে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর অবস্থা, তা জোড়া দেওয়ার আগে হোক বা পরে। আর বিষয় ও লক্ষ্যের বিবেচনায় উপলব্ধি বা তার অনুষঙ্গসমূহের অভ্যন্তরীণ যে ঐক্য বিদ্যমান রয়েছে, তা হলো আকৃতি বা রূপের (সুরাত) মতো; আর এটি হলো তা, যার মাধ্যমে কোনো যৌগিক বস্তু বাস্তবে (বিল ফিয়াল) অস্তিত্ব লাভ করে। এখানে সরাসরি 'মাদ্দা' (উপাদান) এবং 'সুরাত' (আকৃতি) বলা হয়নি, কারণ এই দুটি বিষয় কেবল বাহ্যিক জগতের যৌগিক বস্তুর ক্ষেত্রেই সম্ভব। সুতরাং সেই উপাদানসদৃশ ও আকৃতিসদৃশ বিষয় দুটি থেকে গৃহীত যৌগিক বস্তুটি 'জিনস' (শ্রেণি) ও 'ফাসল' (বিভেদক) আকারে বিন্যস্ত হয়। অর্থাৎ উপাদানসদৃশ বিষয়টিকে 'জিনস' এবং আকৃতিসদৃশ বিষয়টিকে 'ফাসল' হিসেবে গ্রহণ করে একটি সংজ্ঞা (হাদ) তৈরি করা হয়। ইবারত বা পাঠ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়; তবে এর অসারতাও গোপন নয়, কারণ মাদ্দা (উপাদান) ও সুরাত (আকৃতি) পরস্পর ভিন্নধর্মী বিষয়।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فَكيف يكون المأخوذان مِنْهُمَا المحمولان عَلَيْهِمَا جِنْسا وفصلا مَعَ أَن الْجِنْس مَحْمُول على الْفَصْل، وَيُمكن أَن يكون المُرَاد أَخذ كل وَاحِد من الْجِنْس والفصل من مَجْمُوع الْمَادَّة وَالصُّورَة، وَلَا يخفى مَا فِيهِ (من غير حَاجَة) للحاد (إِلَى سرد الْكل) كَمَا زعم النَّافِي، ثمَّ لما ذكر الْخلاف أَرَادَ بَيَان مَا عِنْده من تَحْقِيق الْمقَام، فَقَالَ (وَإِذا كَانَ الْعلم مُطلقًا) أَي مَفْهُوم الْعلم الَّذِي يصدق على كل وَاحِد من الْعُلُوم الْمُدَوَّنَة من غير تَقْيِيد (ذاتيا لما) ينْدَرج (تَحْتَهُ) كالفقه وَالْأُصُول وَالْكَلَام وَغَيرهَا دَاخِلا فِي حَقِيقَتهَا (وَالْعلم الْمَحْدُود) كالأصول (لَيْسَ إِلَّا صنفا) مِنْهُ، وَلَعَلَّه قَالَ صنفا، وَلم يقل نوعا لكَون الْعُلُوم الْمُدَوَّنَة كلهَا مندرجة تَحت نوع من أَنْوَاع الْعلم الْمُطلق، وَهُوَ الْعلم الْمُتَعَلّق بالمسائل المتحدة بِاعْتِبَار الْمَوْضُوع والغاية، والصنف كلي مندرج تَحت النَّوْع حَقِيقَته النَّوْع الْمُقَيد بِعَارِض غير شخص (لم يبعد) جَوَاب إِذا (كَونه) أَي الْخلاف (لفظيا) أَي فِي اللَّفْظ دون الْمَعْنى، لعدم وُرُود النَّفْي وَالْإِثْبَات على مَحل وَاحِد (مَبْنِيا على) اخْتِلَاف (الِاصْطِلَاح فِي مُسَمّى) الْحَد (الْحَقِيقِيّ أهوَ) اصْطِلَاحا (ذاتيات) الْمَاهِيّة (الْحَقِيقِيَّة) أَي الْمَوْجُودَة فِي الْخَارِج الثَّابِتَة فِي نفس الْأَمر مَعَ قطع النّظر عَن اعْتِبَار الْعقل كَمَا هُوَ اصْطِلَاح المنطقيين (أَو) هُوَ ذاتيات الْمَاهِيّة (مُطلقًا) حَقِيقِيَّة كَانَت أَو اعتبارية، فَمن ذهب إِلَى الأول نفي، وَمن ذهب إِلَى الثَّانِي أثبت، فمورد النَّفْي الْحَد بِالْمَعْنَى الأول، وَالْإِثْبَات بِالْمَعْنَى الثَّانِي، وَلَا مُنَافَاة بَين نفي الْأَخَص وَإِثْبَات الْأَعَمّ.

(الثَّانِي) من الْأُمُور الَّتِي هِيَ مُقَدّمَة الْكتاب مُبْتَدأ خَبره مَحْذُوف: أَي فِي بَيَان مَوْضُوعه أَو قَوْله (مَوْضُوعه الدَّلِيل السمعي الْكُلِّي) إِلَى آخر المبحث: مَوْضُوع الْعلم مَا يبْحَث فِيهِ عَن عوارضه الذاتية، والعارض الْخَارِج الْمَحْمُول والذاتي الَّذِي منشأ عروضه الذَّات كالمدرك للْإنْسَان، أَو مَا هُوَ مسَاوٍ للذات كالضاحك الْعَارِض لَهُ بِوَاسِطَة التَّعَجُّب، أَو جزئها الْأَعَمّ كالمتحرك بِوَاسِطَة الْحَيَوَان، والبحث عَنْهَا حملهَا على نفس الْمَوْضُوع بِدَلِيل، نَحْو الدَّلِيل السمعي يُفِيد الحكم قطعا أَو ظنا، أَو على نوع مِنْهُ نَحْو الْأَمر يُفِيد الْوُجُوب، أَو على عرضه الذاتي نَحْو الْعلم يُفِيد الْقطع، أَو على نَوعه نَحْو الْعَام الَّذِي يخص مِنْهُ الْبَعْض يُفِيد الظَّن، قيد بالكلى لِئَلَّا يتَوَهَّم أَن المُرَاد مَا صدقاته، وَقيل مَوْضُوعه الْأَدِلَّة الْأَرْبَعَة وَالْأَحْكَام لِأَن الْأَحْوَال بَعْضهَا رَاجع إِلَى الْأَدِلَّة، وَبَعضهَا إِلَى الْأَحْكَام، وَقيل هُوَ الْأَدِلَّة وَمَا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ من حَيْثُ الثُّبُوت رَاجع إِلَى الْأَدِلَّة من حَيْثُ الْإِثْبَات، وَقيل هُوَ الْأَحْكَام من حَيْثُ ثُبُوتهَا بالأدلة. وَاخْتَارَ المُصَنّف رحمه الله مفهوما وَاحِدًا، أَفْرَاده الْأَدِلَّة نظرا إِلَى كَونه أقرب إِلَى الضَّبْط (من حَيْثُ يُوصل الْعلم بأحواله إِلَى قدرَة إِثْبَات الْأَحْكَام لأفعال الْمُكَلّفين) الْحَيْثِيَّة الْمَذْكُورَة
অতএব, সেই দুইটির মধ্য থেকে গৃহীত এবং সেই দুইটির ওপর প্রযুক্ত হওয়া বিষয় দুটি কীভাবে জাত (জেন্স) এবং প্রভেদক (ফসল) হতে পারে, অথচ 'জাত' 'প্রভেদক'-এর ওপর প্রযুক্ত হয়? এবং সম্ভবত উদ্দেশ্য হলো জাত এবং প্রভেদক প্রত্যেকটিকে পদার্থ ও আকৃতির সমষ্টি থেকে গ্রহণ করা, আর এতে যে অসংগতি রয়েছে তা গোপন নয়। এটি বর্ণনার জন্য কোনো হাদি (পথপ্রদর্শক) বা বর্ণনাকারীর পূর্ণ বিবরণের প্রয়োজন নেই, যেমনটি অস্বীকারকারী ধারণা করেছেন। অতঃপর যখন তিনি মতভেদ উল্লেখ করলেন, তখন এই বিষয়ের যে তাহকীক বা বিশ্লেষণ তাঁর কাছে রয়েছে তা বয়ান করার ইচ্ছা করলেন। তিনি বললেন: (এবং যখন ইলম বা জ্ঞান নিরঙ্কুশভাবে) অর্থাৎ ইলমের এমন একটি ধারণা যা কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই সংকলিত প্রতিটি ইলমের ওপর প্রযোজ্য হয় (তা যদি তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের জন্য স্বকীয় বা জাতী হয়), যেমন ফিকহ, উসুল, কালাম এবং অন্যান্য শাস্ত্র যা এর প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত। (এবং সংজ্ঞায়িত ইলম) যেমন উসুল (তা তো ইলমের একটি শ্রেণি মাত্র)। সম্ভবত তিনি 'শ্রেণি' (সিনফ) বলেছেন এবং 'প্রকার' (নাউ) বলেননি, কারণ সংকলিত শাস্ত্রসমূহ নিরঙ্কুশ ইলমের প্রকারভেদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রকারের অধীনে অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো এমন ইলম যা বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যের দিক থেকে অভিন্ন মাসআলাসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর শ্রেণি হলো প্রকারের অধীনে থাকা এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যার হাকিকত হলো সেই প্রকার যা কোনো ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ব্যতীত অন্য কোনো আগন্তুক গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ। (তবে তা অসম্ভব নয়)—এটি 'যখন'-এর উত্তর—(যে এই মতভেদটি) অর্থাৎ বিরোধটি (শাব্দিক)। অর্থাৎ এটি কেবল শব্দের ক্ষেত্রে, অর্থের ক্ষেত্রে নয়। কারণ ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো একই বিষয়ের ওপর আপতিত হচ্ছে না। (যা সংজ্ঞার নামকরণের ক্ষেত্রে পরিভাষার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে) যে (প্রকৃত সংজ্ঞা কি) পারিভাষিক অর্থে (প্রকৃত সত্তার স্বকীয় বিষয়সমূহ), অর্থাৎ যা বাহ্যিক জগতে বিদ্যমান এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সাব্যস্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে, যেমনটি যুক্তিবিদদের পরিভাষা। (অথবা) তা হলো সত্তার স্বকীয় বিষয়সমূহ (নিরঙ্কুশভাবে), তা প্রকৃত হোক বা ধারণাপ্রসূত। সুতরাং যারা প্রথম মতটি গ্রহণ করেছেন তারা অস্বীকার করেছেন, আর যারা দ্বিতীয়টি গ্রহণ করেছেন তারা সাব্যস্ত করেছেন। অতএব, অস্বীকৃতির বিষয়টি প্রথম অর্থের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে, আর সাব্যস্তকরণের বিষয়টি দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে। সুতরাং বিশেষ বিষয়কে অস্বীকার করা এবং সাধারণ বিষয়কে সাব্যস্ত করার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।

(দ্বিতীয়ত) কিতাবের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহের মধ্য থেকে; এটি একটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা) যার বিধেয় (খবর) উজ্জহ্য রয়েছে। অর্থাৎ: এর বিষয়বস্তুর বর্ণনায়। অথবা তাঁর বক্তব্য (এর বিষয়বস্তু হলো সামগ্রিক শ্রুতিগত দলিল) আলোচনার শেষ পর্যন্ত: কোনো শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো সেটি যার মধ্যে তার স্বকীয় আগন্তুক গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 'আরিয' বা আগন্তুক হলো সেই বহিরাগত বিষয় যা গুণ হিসেবে প্রযুক্ত হয়, আর 'স্বকীয়' বা জাতী হলো সেই বিষয় যার আরোপের উৎস হলো খোদ সত্তাটি, যেমন মানুষের জন্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা। অথবা যা সত্তার সমতুল্য, যেমন মানুষের জন্য হাসি যা বিস্ময়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অথবা যা সত্তার সাধারণ অংশ, যেমন প্রাণীর মাধ্যমে গতিশীল হওয়া। আর সে সম্পর্কে আলোচনার অর্থ হলো দলিলের ভিত্তিতে সেগুলোকে খোদ বিষয়বস্তুর ওপর আরোপ করা। যেমন: শ্রুতিগত দলিল নিশ্চিতভাবে বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে বিধানের ফায়দা দেয়। অথবা বিষয়বস্তুর কোনো প্রকারের ওপর তা প্রয়োগ করা, যেমন: নির্দেশ (আমর) ওয়াজিব হওয়ার ফায়দা দেয়। অথবা তার স্বকীয় গুণের ওপর প্রয়োগ করা, যেমন: জ্ঞান নিশ্চিত ফায়দা দেয়। অথবা তার প্রকারের ওপর প্রয়োগ করা, যেমন: এমন সাধারণ শব্দ যা থেকে কিছু অংশকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা প্রবল ধারণার ফায়দা দেয়। এখানে 'সামগ্রিক' শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যাতে কেউ মনে না করে যে এর দ্বারা এর প্রতিটি দৃষ্টান্ত উদ্দেশ্য। কেউ কেউ বলেন এর বিষয়বস্তু হলো চারটি দলিল এবং বিধানাবলি, কারণ কিছু অবস্থা দলিলের দিকে ফিরে যায় আর কিছু বিধানের দিকে। আবার কেউ বলেন এর বিষয়বস্তু হলো দলিলসমূহ, আর বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু রয়েছে তা সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে প্রমাণের দিকে ফিরে যায়। কেউ কেউ বলেন তা হলো বিধানসমূহ এই দিক থেকে যে সেগুলো দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। লেখক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) একটি একক ধারণাকে পছন্দ করেছেন যার অন্তর্ভুক্ত হলো দলিলসমূহ, একে সুশৃঙ্খল রাখার অধিক নিকটবর্তী বিবেচনা করে। (এই দিক থেকে যে, এর অবস্থাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির কার্যাবলীর জন্য বিধান সাব্যস্ত করার সক্ষমতা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়)। উল্লিখিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قيد للموضوع عِنْد الْمُحَقِّقين: يَعْنِي موضوعيته لَهُ بِاعْتِبَار الإيصال الْمَذْكُور فَلَا يبْحَث فِيهِ إِلَّا عَن أَحْوَاله الَّتِي لَهَا مدْخل فِي الإيصال، وَقيل قد يكون جُزْءا مِنْهُ، وَذَلِكَ إِذا لم يبْحَث فِي الْعلم عَنْهَا كحيثية الْوُجُود فِي مَوْضُوع الْعلم الإلهي الباحث عَن أَحْوَال الموجودات الْمُجَرَّدَة، وَهُوَ الْمَوْجُود من حَيْثُ هُوَ مَوْجُود، إِذْ لَا يبْحَث فِيهِ عَن نفس الْوُجُود، لِأَنَّهُ لَا يبْحَث فِي الْعلم عَن نفس الْمَوْضُوع وَعَن أَجْزَائِهِ، وَقد تكون خَارِجَة عَنهُ وَلَيْسَت بِقَيْد لَهُ، بل تذكر لبَيَان الْأَعْرَاض المبحوث عَنْهَا كالصحة وَالْمَرَض فِي مَوضِع الطِّبّ وَهُوَ بدن الْإِنْسَان، وَيرد عَلَيْهِ أَنه يلْزم حِينَئِذٍ تشارك العلمين الباحثين عَن أَحْوَال شَيْء وَاحِد فِي مَوْضُوع وَاحِد بِالذَّاتِ وَالِاعْتِبَار، لعدم تَقْيِيد الْمَوْضُوع بِقَيْد، وَقد تقرر أَن تمايز الْعُلُوم بِحَسب تمايز الموضوعات، فالتحقيق أَنَّهَا قيد لَهُ، وَإِنَّمَا اعْتبر الْقُدْرَة لَا الْإِثْبَات بِالْفِعْلِ لِأَنَّهُ إِنَّمَا يتَحَقَّق عِنْد معرفَة تفاصيل الْأَدِلَّة، وَالْمَذْكُور فِي الْأُصُول إجمالها، فَالْمُرَاد إِثْبَات الْأَحْكَام تَفْصِيلًا وَإِلَيْهِ أَشَارَ بقوله (أخذا من شخصياته) حَال من الْأَحْكَام لكَونهَا مفعول الْإِثْبَات معنى: أَي إِثْبَاتهَا حَال كَونهَا مَأْخُوذَة من شخصيات الدَّلِيل السمعي الْكُلِّي: يَعْنِي أَفْرَاد الشخصية، وَذَلِكَ لِأَن الْأَدِلَّة التفصيلية تدل على الْأَحْكَام التفصيلية بِوَاسِطَة كيفيات متنوعة كل نوع مِنْهَا يبين مَسْأَلَة من مسَائِل الْأُصُول، فَمن عرف الْأُصُول عرف تِلْكَ الْأَنْوَاع فَحصل لَهُ قدرَة إِثْبَات الْأَحْكَام لحُصُول الاستعداد لَهُ بمعرفتها، فَكل حكم أَرَادَ إثْبَاته بدليله وجد عِنْده مَا يبين كَيْفيَّة إثْبَاته، وَهَذَا هُوَ المُرَاد بِالْقُدْرَةِ (وبالفعل فِي الْمسَائِل أَنْوَاعه وأعراضه وأنواعها) عطف على مَحْذُوف هُوَ مُتَعَلق الْمُبْتَدَأ، وَالتَّقْدِير مَوْضُوعَة بِالْقُوَّةِ الدَّلِيل السمعي إِلَى آخِره، وبالفعل فِي الْمسَائِل أَنْوَاع الدَّلِيل السمعي، وأنواع تِلْكَ الْأَعْرَاض، أما كَون هَذِه الْأَشْيَاء مَوْضُوعَات فَظَاهر لِأَنَّك إِذا نظرت فِي مسَائِل الْأُصُول وجدت موضوعاتها هَذِه الْأَشْيَاء، وَهِي الَّتِي يبْحَث عَن عوارضها الذاتية فِي هَذَا الْعلم، وَأما الدَّلِيل السمعي الْمُطلق فَلَا يكَاد يُوجد الْبَحْث عَن عَارضه الذاتي من حَيْثُ هُوَ مَوْضُوع بِالْفِعْلِ فِي مَسْأَلَة غير أَنه لما كَانَت من مَوْضُوعَات الْمسَائِل كلهَا جزئيات إضافية لَهُ أمكن أَن يُؤْخَذ من كل طَائِفَة مستوعبة جَمِيع أَفْرَاد الْمُطلق من محمولات الْمسَائِل مَفْهُوم مردد بَين آحَاد تِلْكَ الطَّائِفَة فَيثبت للمطلق، وكما أَن كل وَاحِد من تِلْكَ الْآحَاد عرض ذاتي للجزئي الإضافي للمطلق كَذَلِك المردد الْمَأْخُوذ مِنْهَا عرض ذاتي للمطلق، فَثَبت كَونه مَوْضُوعا بِالْقُوَّةِ، وَسَيَجِيءُ فِي كَلَام المُصَنّف رَحمَه الله تَعَالَى مَا يُشِير إِلَى هَذَا (فَالْمُرَاد بالأحوال) الَّتِي يتَوَصَّل الْعلم بهَا إِلَى الْقُدْرَة الْمَذْكُورَة (مَا يرجع إِلَى الْإِثْبَات) يَعْنِي أحوالا حَاصِل الْبَحْث عَنْهَا ومآله يرجع إِلَى كَون الدَّلِيل مثبتا للْحكم، وَلِهَذَا يُفِيد الْعلم بهَا قدرَة الاثبات

গবেষকদের নিকট এটি বিষয়বস্তুর জন্য একটি শর্ত: অর্থাৎ উল্লিখিত সংযোগের বিবেচনায় এটি তার বিষয়বস্তু হিসেবে গণ্য হবে, সুতরাং এতে কেবল সেই সকল অবস্থা সম্পর্কেই আলোচনা করা হবে যা উক্ত সংযোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি বিষয়বস্তুর অংশও হতে পারে; আর তা তখন হয় যখন সেই বিজ্ঞানে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় না, যেমন বিমূর্ত অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহের অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনাকারী ইলাহী বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুতে অস্তিত্বশীলতার প্রেক্ষিত। আর তা হলো অস্তিত্ব হিসেবে অস্তিত্ব, যেহেতু এতে স্বয়ং অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয় না; কারণ কোনো বিজ্ঞানে স্বয়ং তার বিষয়বস্তু এবং তার অংশসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয় না। আবার কখনো এটি বিষয়বস্তুর বহির্ভূত হতে পারে এবং তার জন্য শর্ত হিসেবে গণ্য না-ও হতে পারে, বরং তা কেবল আলোচিত আগন্তুক গুণাবলি বর্ণনা করার জন্য উল্লেখ করা হয়; যেমন চিকিৎসা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সুস্থতা ও অসুস্থতা, যার বিষয়বস্তু হলো মানুষের শরীর। এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয় যে, তখন এমন দুটি বিজ্ঞানের মধ্যে অভিন্নতা অপরিহার্য হয়ে পড়বে যারা বিষয়গত ও বিবেচনাগতভাবে একই জিনিসের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে, কারণ তখন বিষয়বস্তুকে কোনো শর্তের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়নি; অথচ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, বিষয়বস্তুর ভিন্নতার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের ভিন্নতা ঘটে। সুতরাং সঠিক বিশ্লেষণ হলো যে, এটি বিষয়বস্তুর জন্য একটি শর্ত। প্রকৃতপক্ষে কার্যত প্রমাণকে নয় বরং সামর্থ্যকে গণ্য করা হয়েছে, কারণ কার্যত প্রমাণ তখনই বাস্তবায়িত হয় যখন দলিলের বিস্তারিত রূপ জানা থাকে, অথচ উসুল বা মূলনীতিশাস্ত্রে কেবল তার সামগ্রিক রূপ আলোচিত হয়। সুতরাং এখানে উদ্দেশ্য হলো বিস্তারিতভাবে বিধানসমূহ প্রমাণ করা। আর গ্রন্থকার তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে— (ব্যক্তিগত বা বিশেষ দলিলসমূহ থেকে গ্রহণ করা) এটি বিধানসমূহের অবস্থা বর্ণনা করছে, যেহেতু অর্থগতভাবে বিধানসমূহ এখানে প্রমাণের কর্ম: অর্থাৎ বিধানসমূহকে প্রমাণ করা এমতাবস্থায় যে, সেগুলো সামগ্রিক শ্রবণনির্ভর দলিলের বিশেষ এককসমূহ থেকে গৃহীত। এর কারণ হলো, বিস্তারিত দলিলসমূহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে বিস্তারিত বিধানাবলির ওপর প্রমাণ পেশ করে, যার প্রতিটি প্রকার উসুলের মাসয়ালাসমূহের মধ্য থেকে কোনো না কোনো মাসয়ালা স্পষ্ট করে। সুতরাং যে ব্যক্তি উসুল বা মূলনীতিসমূহ জানল, সে উক্ত প্রকারসমূহও জানল; ফলে তার মধ্যে বিধানসমূহ প্রমাণের সামর্থ্য অর্জিত হলো, কারণ উক্ত বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে তার মাঝে সেই যোগ্যতা তৈরি হয়েছে। অতএব সে যে বিধানকেই তার দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাইবে, তার কাছে সেটি প্রমাণের পদ্ধতি স্পষ্টকারী উপকরণ বিদ্যমান থাকবে; আর সামর্থ্য বলতে এটিই উদ্দেশ্য। (এবং মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে কার্যতভাবে এর প্রকারসমূহ, এর আগন্তুক গুণাবলি ও সেগুলোর প্রকারসমূহ) এটি একটি উহ্য বিষয়ের ওপর সংযুক্ত যা উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর প্রাক্কলিত রূপ হলো: সম্ভাব্যতার দিক থেকে শ্রবণনির্ভর দলিল হলো বিষয়বস্তু ইত্যাদি, আর মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে শ্রবণনির্ভর দলিলের প্রকারসমূহ এবং উক্ত আগন্তুক গুণাবলির প্রকারসমূহ হলো কার্যত বিষয়বস্তু। এই বিষয়গুলো যে বিষয়বস্তু হওয়া তা স্পষ্ট, কারণ আপনি যখন উসুলের মাসয়ালাসমূহের দিকে লক্ষ্য করবেন, তখন দেখবেন সেগুলোর বিষয়বস্তু হলো এই বিষয়গুলোই; আর এগুলোরই স্বকীয় আগন্তুক গুণাবলি নিয়ে এই বিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়। আর সাধারণ শ্রবণনির্ভর দলিলের ক্ষেত্রে কোনো মাসয়ালায় কার্যত বিষয়বস্তু হিসেবে তার স্বকীয় আগন্তুক গুণ সম্পর্কে আলোচনা প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে; তবে যেহেতু মাসয়ালাসমূহের সকল বিষয়বস্তু এর জন্য আপেক্ষিক আংশিক বিষয়, তাই মাসয়ালাসমূহের বিধেয়সমূহ থেকে এমন প্রতিটি গোষ্ঠী যারা ওই সাধারণ বিষয়ের সকল একককে পরিবেষ্টন করে, তাদের থেকে এমন এক অনির্ধারিত ধারণা গ্রহণ করা সম্ভব যা ওই গোষ্ঠীর এককগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয় এবং তা সাধারণ বিষয়ের জন্য প্রমাণিত হয়। আর যেভাবে ওই এককগুলোর প্রতিটি সেই সাধারণ বিষয়ের আপেক্ষিক আংশিক রূপের জন্য স্বকীয় আগন্তুক গুণ, তেমনিভাবে তাদের থেকে গৃহীত সেই অনির্ধারিত বিষয়টিও ওই সাধারণ বিষয়ের জন্য স্বকীয় আগন্তুক গুণ। ফলে এটি সম্ভাব্য বিষয়বস্তু হিসেবে প্রমাণিত হলো। গ্রন্থকারের রহমতুল্লাহি তায়ালা বক্তব্যে সামনে এমন কিছু আসবে যা এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে। (অবস্থাসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো) যার মাধ্যমে জ্ঞান উক্ত সামর্থ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয় (যা প্রমাণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে) অর্থাৎ এমন অবস্থাসমূহ যা নিয়ে আলোচনার নির্যাস ও পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, দলিলটি বিধানের প্রমাণক হিসেবে গণ্য হয়; আর এই কারণেই এগুলোর জ্ঞান বিধান প্রমাণের সামর্থ্য প্রদান করে।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَبِهَذَا ظهر وَجه التَّفْرِيع، وَهَذَا مَا أَشَارَ إِلَيْهِ بعض الْمُحَقِّقين من أَن فَائِدَة قيد الْحَيْثِيَّة أَن جَمِيع الْعَوَارِض المبحوث عَنْهَا فِي الْعلم لَا بُد أَن يكون لَهَا مدْخل فِي الْمَعْنى الَّذِي صَار قيدا للموضوع (وَهُوَ) أَي الْإِثْبَات الَّذِي هُوَ مرجع الْأَحْوَال عرض (ذاتي للدليل) السمعي الَّذِي هُوَ مَوْضُوع الْعلم، فمرجع الْأَحْوَال عرض ذاتي لَهُ مبحوث عَنهُ بِالْقُوَّةِ، وَهَذَا مَا وعدناك آنِفا (وَإِن لم يحمل الْإِثْبَات بِعَيْنِه) على الدَّلِيل: أَن وصلية، وَالْمعْنَى هُوَ ذاتي لَهُ مبحوث عَنهُ بإثباته لَهُ فِي ضمن إِثْبَات مَا يرجع إِلَيْهِ بجزئياته: وَإِن لم يكن هُوَ بِعَيْنِه مَحْمُولا عَلَيْهِ، وَوضع الظَّاهِر مَوضِع الضَّمِير للتنصيص على أَن الْمَنْفِيّ عَنهُ الْحمل إِنَّمَا هُوَ نفس الْإِثْبَات لَا مَا يرجع إِلَيْهِ، وَقد عرفت (وَنَظِيره) أَي الْإِثْبَات فِي كَونه عرضا ذاتيا للموضوع غير مَحْمُول عَلَيْهِ مَا يرجع إِلَيْهِ (فِي الْمنطق) الإيصال، لِأَنَّهُ (لَا مَسْأَلَة) فِيهِ (محمولها الإيصال) كَمَا لَا مَسْأَلَة فِي الْأُصُول محمولها الْإِثْبَات وموضوع الْمنطق الْمَعْلُوم التصوري أَو التصديقي من حَيْثُ الإيصال إِلَى التَّصَوُّر، أَو التَّصْدِيق بِمَعْنى أَن جَمِيع الْأَحْوَال المبحوث عَنْهَا فِيهِ يرجع إِلَى الإيصال (وَمُقْتَضى الدَّلِيل خُرُوج عنوان الْمَوْضُوع) أَي خُرُوج الْبَحْث عَن عنوان الْمَوْضُوع عَن مبَاحث الْعلم الَّذِي هُوَ مَوْضُوعه: والبحث عَنهُ إثْبَاته لنَفس الْمَوْضُوع، وَالْمرَاد بعنوانه مَا جعل آلَة ملاحظته عِنْد تَعْيِينه فِي قَوْلهم: مَوْضُوع الْعلم كَذَا من حَيْثُ كَذَا، مَأْخُوذ من عنوان الْكتاب الدَّال على مضمونه إِجْمَالا، فالعنوان هَهُنَا الدَّلِيل السمعي من حَيْثُ يُوصل الخ، وَذَلِكَ لِأَن وَظِيفَة الْعلم بَيَان أَحْوَال الْمَوْضُوع، وَذَلِكَ إِنَّمَا يكون بعد الْعلم بِذَاتِهِ وعنوانه الَّذِي بِهِ يعرف وَلِأَن الْمَوْضُوع إِنَّمَا وضع لِأَن يحمل عَلَيْهِ، لَا لِأَن يحمل على شَيْء، فَإِنَّهُ قلب الْمَوْضُوع (فالبحث عَن حجية الْإِجْمَاع) بِأَن يُقَال الْإِجْمَاع حجَّة (وَخبر الْوَاحِد وَالْقِيَاس) بِأَن يُقَال هما حجتان (لَيْسَ مِنْهُ) أَي علم الْأُصُول لِأَن معنى " حجَّة " دَلِيل. وَهُوَ عنوان الْمَوْضُوع (بل من) مسَائِل (الْفِقْه لِأَن موضوعاتها أَفعَال الْمُكَلّفين ومحمولاتها الحكم الشَّرْعِيّ إِذْ معنى حجَّة يجب الْعَمَل بِمُقْتَضَاهُ وَهُوَ) أَي مَا ذكرنَا (فِي الْقيَاس على تَقْدِير كَونه فعل الْمُجْتَهد) بِأَن يُفَسر ببذل الْجهد فِي اسْتِخْرَاج الْحق أَو حمل الشَّيْء على غَيره بإجراء حكمه عَلَيْهِ وَنَحْوه (أما على) تَقْدِير (أَنه الْمُسَاوَاة الكائنة عَن تَسْوِيَة الله تَعَالَى بَين الأَصْل وَالْفرع فِي الْعلَّة) المشيرة للْحكم (فَلَيْسَتْ) حجيته (مَسْأَلَة) أصلا (لِأَنَّهَا) أَي حجية الْمُسَاوَاة الْمَذْكُورَة (ضَرُورِيَّة دينية) أَي بديهية فِي الدّين وضروريات الدّين لَا تكون مسَائِل، لِأَن المسأله مَا يبرهن عَلَيْهِ فِي الْفَنّ، والبديهي لَا يبرهن عَلَيْهِ، أما البداهة فَلِأَن من عرف معنى الْقيَاس على الْوَجْه الْمَذْكُور وَعرف معنى الحجية لَا يتَوَقَّف فِي الحكم بِأَنَّهُ حجَّة، وَلَا يضر فِي بداهة الحكم نظرية طَرفَيْهِ (بِخِلَاف) الْبَحْث عَن
এভাবেই আনুষঙ্গিক বিষয়ের দিকটি স্পষ্ট হয়েছে। আর এটিই কোনো কোনো গবেষক (মুহাক্কিক) ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রেক্ষিতের শর্তারোপের উপকারিতা হলো—বিজ্ঞানে আলোচিত সমস্ত আপতন বা বৈশিষ্ট্যগুলোর অবশ্যই সেই অর্থের মধ্যে একটি প্রবেশাধিকার থাকতে হবে যা বিষয়ের জন্য শর্ত করা হয়েছে। আর তা (অর্থাৎ সাব্যস্তকরণ বা প্রমাণায়ন, যা বিবিধ অবস্থার মূল উৎস) হলো শ্রুত দলিলের (যা এই বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়) একটি মৌলিক আপতন, যা শক্তিগতভাবে (বিল-কুওয়াহ) আলোচিত হয়। আর এটিই আমি আপনাকে কিছুক্ষণ আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম (যে, যদিও সাব্যস্তকরণটি সরাসরি দলিলের ওপর প্রযুক্ত না হয়)। এখানে 'ইন' (যদি) হলো সংযোগকারী। এর অর্থ হলো, এটি তার একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য যা তার অংশগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে সাব্যস্ত করার অন্তর্ভুক্তিতে আলোচিত হয়; যদিও এটি সরাসরি তার ওপর প্রযুক্ত না হয়। আর সর্বনামের পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করা হয়েছে এটা সুনির্দিষ্ট করার জন্য যে, যার ওপর প্রয়োগকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো স্বয়ং সাব্যস্তকরণ, তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়। আপনি এটি জেনেছেন। আর মৌলিক বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে সাব্যস্তকরণের দৃষ্টান্ত হলো যুক্তিবিদ্যায় 'পৌঁছে দেওয়া' (ঈসাল)। কারণ যুক্তিবিদ্যায় এমন কোনো মাসআলা বা সমস্যা নেই যার বিধেয় হলো 'পৌঁছে দেওয়া', যেমন উসুলে এমন কোনো মাসআলা নেই যার বিধেয় হলো 'সাব্যস্তকরণ'। আর যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় হলো জানা ধারণা (তাসাউর) বা প্রত্যয়ন (তাসদিক)—ধারণা বা প্রত্যয়নের দিকে পৌঁছে দেওয়ার প্রেক্ষিত থেকে। এর অর্থ হলো, এতে আলোচিত সমস্ত অবস্থা 'পৌঁছে দেওয়া'র দিকেই ফিরে যায়। আর দলিলের দাবি হলো আলোচ্য বিষয়ের শিরোনামটি সেই বিজ্ঞানের আলোচনার বাইরে থাকা যে বিজ্ঞানের এটি আলোচ্য বিষয়। তার সম্পর্কে আলোচনা করার অর্থ হলো তাকে বিষয়ের নিজের জন্য সাব্যস্ত করা। আর শিরোনাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা, যাকে বিষয়টি নির্ধারণের সময় পর্যবেক্ষণের মাধ্যম হিসেবে রাখা হয়েছে; যেমন তাদের বক্তব্য: 'এই বিজ্ঞানের বিষয় হলো এই প্রেক্ষিত থেকে অমুক'। এটি বইয়ের শিরোনাম থেকে গৃহীত যা তার বিষয়বস্তুকে সংক্ষেপে নির্দেশ করে। সুতরাং এখানে শিরোনাম হলো শ্রুত দলিল সেই প্রেক্ষিত থেকে যা পৌঁছে দেয়... ইত্যাদি। কারণ বিজ্ঞানের কাজ হলো বিষয়ের অবস্থা বর্ণনা করা। আর তা বিষয়ের সত্তা এবং শিরোনাম জানার পরেই সম্ভব হয় যার মাধ্যমে তাকে চেনা যায়। এবং এ কারণে যে, মওজু (উদ্দেশ্য) কেবল এজন্যই রাখা হয়েছে যাতে তার ওপর কোনো কিছু প্রয়োগ করা যায়, এজন্য নয় যে সে নিজে অন্য কোনো কিছুর ওপর প্রযুক্ত হবে; কারণ তা হলে উদ্দেশ্যের স্থান পরিবর্তিত হয়ে যায়। সুতরাং ইজমার প্রামাণ্যতা নিয়ে আলোচনা করা—এই মর্মে যে 'ইজমা একটি দলিল'—এবং খবর-এ-ওয়াহিদ ও কিয়াস সম্পর্কে—এই মর্মে যে 'তারা দুটি দলিল'—তা উসুল শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ 'প্রমাণ' বা 'হুজ্জত'-এর অর্থ হলো দলিল, যা হলো আলোচ্য বিষয়ের শিরোনাম। বরং এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলা। কারণ সেগুলোর আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফদের কার্যাবলি এবং সেগুলোর বিধেয় হলো শরয়ি বিধান। যেহেতু প্রামাণ্যতার অর্থ হলো এমন বিষয় যার দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। আর কিয়াসের ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা একে মুজতাহিদের কাজ হিসেবে গণ্য করার ভিত্তিতে; এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী যে, সত্য উন্মোচনে পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করা অথবা এক বস্তুকে অন্য বস্তুর ওপর তার বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে আরোপ করা ইত্যাদি। কিন্তু যদি একে আল্লাহর পক্ষ থেকে মূল এবং শাখার মধ্যে ইল্লত বা কারণের ক্ষেত্রে সমতাবিধান হিসেবে ধরা হয়—যা বিধানের দিকে ইঙ্গিতকারী—তবে তার প্রামাণ্যতা কোনো মাসআলাই নয়। কারণ উক্ত সমতার প্রামাণ্যতা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় বিষয়। অর্থাৎ এটি দ্বীনের ক্ষেত্রে স্বতঃসিদ্ধ। আর দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ কোনো মাসআলা হতে পারে না। কারণ মাসআলা হলো তা, যা ওই শাস্ত্রে প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করা হয়, আর স্বতঃসিদ্ধ বিষয় প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। আর এর স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, যে ব্যক্তি কিয়াসের অর্থ উল্লিখিত পদ্ধতিতে জানে এবং প্রামাণ্যতার অর্থ বোঝে, সে একে দলিল হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা করে না। আর এই বিধানের স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে তার উভয় পক্ষের তাত্ত্বিক হওয়া কোনো ক্ষতি করে না। পক্ষান্তরে আলোচনার...
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২১)
(عُمُوم النكرَة) الْوَاقِعَة (فِي) سِيَاق (النَّفْي) فَإِنَّهُ غير خَارج عَن مبَاحث الْأُصُول بِمُقْتَضى الدَّلِيل لعدم اندراجه تَحت عنوان الْمَوْضُوع (فَإِنَّهُ) أَي الْعُمُوم (حَال للدليل) أَي عرض ذاتي للدليل الَّذِي هُوَ مَوْضُوع الْأُصُول، لَا من عنوانه، وَلَيْسَ ببديهي أَيْضا، وَكَأَنَّهُ تَركه لظُهُوره (فَعَن هلية الْمَوْضُوع البسيطة أولى) يَعْنِي إِذا كَانَ الْبَحْث عَن حجية الْمَذْكُورَات خَارِجا عَن الْأُصُول، بِمُقْتَضى الدَّلِيل لاندراجها تَحت العنوان بالتأويل الْمَذْكُور، فالبحث عَن وجود الْمَوْضُوع أولى بِالْخرُوجِ عَنهُ، لِأَن الْعلم بِوُجُود الشَّيْء يقدم على الْعلم بعنوانه لِأَن عنوانه وصف ثَابت لَهُ وَثُبُوت الشَّيْء للشَّيْء فرع ثُبُوت الْمُثبت لَهُ، وَفِيه مَا فِيهِ، وَلِأَن الْأَحْوَال المبحوث عَنْهَا لَا بُد أَن يكون لَهَا مدْخل فِي الإيصال، والوجود لَا مدْخل لَهُ فِيهِ ثمَّ اعْلَم أَن " هَل " لطلب التَّصْدِيق، وَهِي قِسْمَانِ بسيطة، وَهِي الَّتِي يطْلب بهَا وجود الشَّيْء أَولا وجوده كَقَوْلِه: هَل الْحَرَكَة مَوْجُودَة أَو لَا مَوْجُودَة، ومركبة، وَهِي الَّتِي يطْلب بهَا وجود شَيْء لشَيْء كَقَوْلِنَا: هَل الْحَرَكَة دائمة أَو لَا دائمة؟، وَقد أَخذ فِي هَذِه شيآن غير الْوُجُود، فَإِن الْمَطْلُوب فِيهِ وجود الدَّوَام لَهَا أَو لَا وجوده، والوجود فِي البسيطة مَحْمُول، وَفِي المركبة رابطة، وَتَسْمِيَة وجود الشَّيْء هليته لِأَنَّهُ مَنْسُوب إِلَى " هَل " لِأَنَّهُ يسْأَل عَنهُ بهَا وَإِنَّمَا قيد بالبسيطة لِأَن الْبَحْث عَن المركبة من الْعلم، بل الْمَطْلُوب فِي كل مَسْأَلَة وجود شَيْء للموضوع (وَقَوْلهمْ) أَي الْقَائِلين بِأَن الْبَحْث عَن الهلية من الْفَنّ فِي إِثْبَات مدعاهم (مَا لم يثبت وجوده) أَي الْمَوْضُوع (كَيفَ يثبت لَهُ الْأَحْكَام.) فَإِن ثُبُوت شَيْء لشَيْء فرع ثُبُوت الْمُثبت لَهُ (يَقْتَضِي التَّوَقُّف) أَي توقف الْبَحْث عَن أَحْوَال الْمَوْضُوع على ثُبُوت وجوده (لَا) يقتضى (كَونهَا) أَي هليته (من مسَائِل الْعلم) كَيفَ وَقد صَرَّحُوا بِأَن التَّصْدِيق بموضوعيته لَيْسَ من مسَائِل الْعلم، وَهُوَ بعد الْعلم بِوُجُودِهِ، كَذَا قيل، وَلَا يخفى عدم استلزام الأول للثَّانِي غير أَن الأول أقرب مِنْهُ فِي كَونه من الْمسَائِل (وعَلى) قَول (من أَدخل الْأَحْكَام) الشَّرْعِيَّة فِي مَوْضُوع الْأُصُول (إِذْ يبْحَث) فِيهِ (عَنْهَا) أَي عَن أَحْوَال الْأَحْكَام (من حَيْثُ تثبت) أَي الْأَحْكَام (بالأدلة لَا يبعد إِدْخَال الْمُكَلف الْكُلِّي) أَيْضا فِيهِ لاشْتِرَاكهمَا فِي الْمُقْتَضى (إِذْ يبْحَث عَنهُ) أَي الْمُكَلف الْكُلِّي أَيْضا فِيهِ (من حَيْثُ تتَعَلَّق بِهِ الْأَحْكَام وَقد وَضعه الْحَنَفِيَّة) أَي عدوا الْمُكَلف الْكُلِّي من الْمَوْضُوع (معنى) أَي يُسْتَفَاد من كتبهمْ من غير تَصْرِيح مِنْهُم (وأحواله) أَي وضعُوا أَحْوَال الْمُكَلف أَيْضا (فِي تَرْجَمَة الْعَوَارِض السماوية والمكتسبة) تَرْجَمَة الْبَاب عنوانه لِأَنَّهُ يترجم عَن مضمونه إِجْمَالا من الترجمان، وَهُوَ الْمُفَسّر للسان، وَالْمرَاد بالعوارض السماوية مَا لَيْسَ للْعَبد فِيهِ اخْتِيَار، والمكتسبة الَّتِي اكتسبها العَبْد (لبَيَان كَيفَ تتَعَلَّق بِهِ الْأَحْكَام) أَي وضع

(নাকেরা বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ব্যাপকতা) যা (না-বোধক) বাক্যের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য, এটি মূলনীতির প্রমাণের আবশ্যকতা অনুযায়ী উসুল বা মূলনীতির আলোচনার বহির্ভূত নয়। কারণ এটি আলোচ্য বিষয়ের (মাওদু) শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত না হলেও (কেননা তা) অর্থাৎ এই ব্যাপকতা (দলিলের একটি অবস্থা) অর্থাৎ এটি দলিলের একটি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, যা উসুলের মূল আলোচ্য বিষয়, যদিও তা শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত নয়। এবং এটি স্বতঃসিদ্ধও নয়, সম্ভবত লেখক এর স্পষ্টতার কারণে তা বর্জন করেছেন। (সুতরাং আলোচ্য বিষয়ের মৌলিক অস্তিত্ব বা ‘হালিয়্যা বাসিতা’ সম্পর্কে আলোচনা বর্জন করা আরও অধিক যুক্তিসঙ্গত)। অর্থাৎ যদি উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রামাণিকতা সম্পর্কে আলোচনা উসুলের বহির্ভূত হয়—দলিলের দাবির প্রেক্ষিতে এবং উল্লিখিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে—তবে আলোচ্য বিষয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে আলোচনা উসুলের বহির্ভূত হওয়ার বিষয়টি আরও অগ্রগণ্য। কারণ কোনো বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান তার শিরোনাম সম্পর্কে জ্ঞানের পূর্ববর্তী। কেননা শিরোনাম হলো তার জন্য একটি সাব্যস্ত বিশেষণ, আর কোনো বস্তুর জন্য কিছু সাব্যস্ত হওয়া সেই মূল বস্তুটি সাব্যস্ত হওয়ার শাখা। তবে এই যুক্তিতে কিছু কথা আছে। এবং কারণ হলো, যে অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেগুলোর গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা থাকা আবশ্যক, অথচ অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা নেই। এরপর জেনে রাখুন যে, 'হাল' (هل) শব্দটি সত্যায়ন তলব করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি দুই প্রকার: প্রথমত, ‘বাসিতা’ বা সরল, যার মাধ্যমে কোনো বস্তুর অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। যেমন বলা হয়: গতি কি বিদ্যমান নাকি বিদ্যমান নয়? দ্বিতীয়ত, ‘মুরাক্কাব’ বা যৌগিক, যার মাধ্যমে এক বস্তুর জন্য অন্য বস্তুর অস্তিত্ব তলব করা হয়। যেমন আমাদের কথা: গতি কি স্থায়ী নাকি স্থায়ী নয়? এখানে অস্তিত্ব ছাড়া অন্য দুটি বিষয় গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ এখানে কাম্য বিষয় হলো গতির স্থায়িত্বের অস্তিত্ব অথবা অনস্তিত্ব। ‘বাসিতা’-তে অস্তিত্ব হলো বিধেয় (মাহমুল), আর ‘মুরাক্কাব’-এ তা হলো সংযোজক (রাবিতা)। কোনো বস্তুর অস্তিত্বকে ‘হালিয়্যা’ বলা হয় কারণ এটি ‘হাল’ (هل) শব্দের সাথে সম্পর্কিত, যেহেতু এটি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আর একে ‘বাসিতা’ বা সরল বলে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কারণ ‘মুরাক্কাব’ নিয়ে আলোচনা বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, বরং প্রতিটি মাসআলায় কাম্য বিষয় হলো আলোচ্য বিষয়ের (মাওদু) জন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা। (এবং তাদের কথা) অর্থাৎ যারা বলেন যে ‘হালিয়্যা’ বা অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, তারা তাদের দাবি প্রমাণে বলেন যে: (যার অস্তিত্ব সাব্যস্ত হয়নি) অর্থাৎ আলোচ্য বিষয়ের (সেটির জন্য কীভাবে বিধান সাব্যস্ত হতে পারে?) কারণ কোনো বস্তুর জন্য কিছু সাব্যস্ত হওয়া সেই মূল বস্তু সাব্যস্ত হওয়ারই শাখা। (এটি অপেক্ষার দাবি রাখে) অর্থাৎ আলোচ্য বিষয়ের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করার জন্য তার অস্তিত্ব সাব্যস্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা আবশ্যক। (কিন্তু এটি এক কথা নয় যে) অর্থাৎ তার ‘হালিয়্যা’ বা অস্তিত্ব (এই বিজ্ঞানের মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবে)। এটি কীভাবে সম্ভব? অথচ তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কোনো কিছুর আলোচ্য বিষয় হওয়াকে সত্যায়ন করা এই বিজ্ঞানের মাসআলা নয়, বরং তা তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার পরের বিষয়। এমনই বলা হয়েছে। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রথমটি দ্বিতীয়টিকে আবশ্যক করে না, তবে প্রথমটি মাসআলা হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টির তুলনায় অধিক নিকটবর্তী। (এবং) সেই ব্যক্তির মতানুসারে (যিনি শরয়ি বিধানসমূহকে) উসুলের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, (যেহেতু এখানে আলোচনা করা হয়) অর্থাৎ উসুলে (বিধানসমূহ সম্পর্কে) সেই দৃষ্টিকোণ থেকে যে (তা দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়)। সুতরাং (সামষ্টিক মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে) এর অন্তর্ভুক্ত করা অবান্তর নয়, কারণ উভয়ের আবশ্যকতা একই। (যেহেতু তাকে নিয়ে আলোচনা করা হয়) অর্থাৎ সামষ্টিক মুকাল্লাফকে নিয়েও উসুলে আলোচনা করা হয় (এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে তার সাথে বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট হয়। হানাফিগণ তাকে নির্ধারণ করেছেন) অর্থাৎ তারা সামষ্টিক মুকাল্লাফকে আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (মর্মগতভাবে) অর্থাৎ তাদের কিতাবসমূহ থেকে এটি বোঝা যায়, যদিও তারা স্পষ্টভাবে তা বলেননি। (এবং তার অবস্থাসমূহকেও) অর্থাৎ তারা মুকাল্লাফের অবস্থাসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন (আওয়ারিযে সামাভিয়্যাহ বা আসমানি আপদ এবং আওয়ারিযে মুকতাসাবাহ বা অর্জিত আপদসমূহের শিরোনামের অধীনে)। অধ্যায়ের শিরোনামকে ‘তারজামা’ বলা হয় কারণ এটি তার বিষয়বস্তুকে সারসংক্ষেপে অনুবাদ করে, যা ‘তুরজুমান’ (অনুবাদক) থেকে এসেছে, যিনি ভাষা ব্যাখ্যা করেন। ‘আওয়ারিযে সামাভিয়্যাহ’ বা আসমানি আপদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাতে বান্দার কোনো ইখতিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ নেই, আর ‘মুকতাসাবাহ’ হলো যা বান্দা নিজে অর্জন করেছে। (যাতে বর্ণনা করা যায় কীভাবে তার সাথে বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট হয়)। অর্থাৎ তিনি তা নির্ধারণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الْحَنَفِيَّة الْمُكَلف وأحواله فِي الْبَحْث الْمَذْكُور لبَيَان كَيْفيَّة تعلق الْأَحْكَام بِهِ، وَقَوله لبَيَان كَيفَ الخ كَقَوْلِهِم فِي جَوَاب مَا هُوَ: أَي فِي جَوَاب السُّؤَال بِمَا هُوَ. أَي فِي جَوَاب هَذَا اللَّفْظ فَلَا يرد أَنه لَا يجوز إِضَافَة الْبَيَان إِلَى مَا يقتضى صدر الْكَلَام (وَإِذا كَانَت الْغَايَة الْمَطْلُوبَة) من الْعلم (لَا تترتب إِلَّا على) الْبَحْث عَن أَحْوَال (أَشْيَاء كَانَت) تِلْكَ الْأَشْيَاء (الْمَوْضُوع) أَي مَوْضُوع الْعلم المغيا بِتِلْكَ الْغَايَة (كَمَا لَو ترتبت غايات على جمل من أَحْوَال) شَيْء (وَاحِد) كَانَ ذَلِك الْوَاحِد من مَوْضُوع عُلُوم فَهُوَ تَشْبِيه مركب بمركب، وهما الهيئتان الحاصلتان من الشرطيتين، وَوجه الشّبَه استتباع الْغَايَة من حَيْثُ الترتب الْمَوْضُوع من حيثية التَّعَدُّد أَو الْوحدَة فَفِي الْمُشبه استتبع ترتبها، وَهِي وَاحِدَة على الْبَحْث عَن أَحْوَال المتعدد ووحدة الْمَوْضُوع، وَفِي الْمُشبه بِهِ استتبع ترتبها، وَهِي مُتعَدِّدَة على أَحْوَال شَيْء وَاحِد تعدده، وَكلمَة مَا زَائِدَة مسوغة دُخُول الْحَرْف على الشّرطِيَّة، فَالْعِبْرَة فِي وحدة الْمَوْضُوع وكثرته بِحَال الْغَايَة ووحدتها وتعددها وترتبها (حَيْثُ يكون) الْوَاحِد الَّذِي ترتبت الغايات على جمل من أَحْوَاله (مَوْضُوع عُلُوم يخْتَلف) ذَلِك الْوَاحِد الْمَوْضُوع (فِيهَا) فِي تِلْكَ الْعُلُوم (بالحيثية) بِأَن يَجْعَل مَوْضُوع هَذَا الْعلم من حَيْثُ يُوصل الْعلم بجملة من أَحْوَاله إِلَى غَايَة كَذَا، وموضوع ذَلِك الْعلم من حَيْثُ يُوصل إِلَى جملَة أُخْرَى إِلَى غَايَة أُخْرَى وَهَكَذَا (وَمن هُنَا) أَي من أجل مَا ذكر من أَن الْعبْرَة بِحَال الْغَايَة فِي تعْيين الْمَوْضُوع (استتبعته) أَي الْغَايَة الْمَوْضُوع، إِشَارَة إِلَى مَا ذكر من قَوْله وَلها وحدة غَايَة تستتبع وحدة موضوعها (وَلُزُوم التناسب) بَين الْأَشْيَاء الَّتِي ترتبت عَلَيْهَا الْغَايَة وَجعلت مَوْضُوعا أَمر (اتفاقي) لَا يَقْتَضِيهِ دَلِيل عَقْلِي فَإِن قلت كَيفَ جمع بَين اللُّزُوم والاتفاق قلت لَا مُنَافَاة، لِأَنَّهُ لم يرد بِهِ اللُّزُوم الْعقلِيّ بل كَونه أمرا مطردا لَا يتَخَلَّف فِي مَادَّة أصلا، فاللزوم أُرِيد بِهِ لَازمه (وَلَو اتّفق ترتبها) أَي الْغَايَة على الْأَشْيَاء (مَعَ عَدمه) أَي التناسب كَمَا اتّفق مَعَه (أهْدر) أَي التناسب وَأسْقط عَن دَرَجَة الِاعْتِبَار لعدم الِاحْتِيَاج إِلَيْهِ، وَاخْتَارَ كلمة لَو لِأَنَّهُ غير وَاقع (وبحسب اتِّفَاق الترتب) أَي ترَتّب الْغَايَة على مَا يُوصل الْبَحْث عَن أَحْوَاله إِلَيْهَا (كَانَت) طَائِفَة من الْعُلُوم (متباينة) غير متشاركة فِي الْمَوْضُوع لترتب غَايَة بَعْضهَا على شَيْء مباين لما يَتَرَتَّب عَلَيْهِ غَايَة الآخر (و) طَائِفَة أُخْرَى مِنْهَا (متداخلة) لترتب غاياتها على شَيْء وَاحِد (إِلَّا فِي لُزُوم عرُوض عَارض المباين للْآخر فِي الْبَحْث) اسْتثِْنَاء من عُمُوم اعْتِبَار التباين والتداخل بِحَسب اتِّفَاق الترتب، يَعْنِي تباينها وتداخلها إِنَّمَا يعْتَبر بِحَسبِهِ فِي جَمِيع الصُّور إِلَّا فِي صُورَة لُزُوم الْعرُوض، فَإِنَّهُ حِينَئِذٍ يعْتَبر التَّدَاخُل بِاعْتِبَار ذَلِك اللُّزُوم بِأَن يكون علمَان غَايَة كل مِنْهُمَا يَتَرَتَّب على مَا يباين مَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ غَايَة الآخر لكنهما متشاركان فِي لُزُوم عرُوض

হানাফীগণের মতে, উক্ত আলোচনায় মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) এবং তার অবস্থাসমূহ হলো বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যাতে তার সাথে বিধানসমূহের সংশ্লিষ্টতার ধরন বর্ণনা করা যায়। এবং তাঁর কথা 'কিভাবে বর্ণনা করার জন্য' ইত্যাদি তাদের 'এটি কী'-র উত্তরে বলার মতো; অর্থাৎ 'এটি কী' প্রশ্নের উত্তরে। অর্থাৎ এই শব্দের উত্তরে, সুতরাং এটি আপত্তিযোগ্য হবে না যে, বাক্যের প্রারম্ভ যা দাবি করে তার সাথে বর্ণনাকে সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ নয়। (আর যখন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য) কোনো জ্ঞান থেকে (অর্জিত হয় না কেবল) বিভিন্ন (বিষয়ের) অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনার (মাধ্যমেই কেবল তা অর্জিত হয়, তখন) সেই বিষয়গুলোই (বিষয়বস্তু) হিসেবে গণ্য হয়; অর্থাৎ সেই লক্ষ্যের দ্বারা উদ্দেশ্যকৃত জ্ঞানের বিষয়বস্তু। (যেমন যদি একাধিক লক্ষ্য কোনো একটি মাত্র বিষয়ের) বিভিন্ন (অবস্থার সমষ্টির ওপর নির্ভরশীল হয়), তবে সেই একটি বিষয়ই বিভিন্ন জ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে গণ্য হবে। এটি একটি যৌগিক উপমা, যা দুটি শর্তমূলক বাক্য থেকে উৎপন্ন দুটি অবস্থার সাদৃশ্য প্রকাশ করে। আর উপমার দিকটি হলো লক্ষ্যের অনুগামী হওয়া; তা অর্জিত হওয়ার দিক থেকে বিষয়বস্তুর বহুত্ব বা একত্ব অনুযায়ী। সুতরাং উপমিত বিষয়ের ক্ষেত্রে, একটি লক্ষ্যের অর্জিত হওয়া বহু বিষয়ের অবস্থা এবং বিষয়বস্তুর একত্বের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে অনুগামী করে। আর উপমান বা যার সাথে তুলনা করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে, একাধিক লক্ষ্যের অর্জিত হওয়া একটি বিষয়ের বিভিন্ন অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিষয়বস্তুর বহুত্বকে অনুগামী করে। আর এখানে 'মা' শব্দটি অতিরিক্ত যা শব্দটিকে শর্তমূলক বাক্যের ওপর প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। সুতরাং বিষয়বস্তুর একত্ব বা বহুত্বের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হবে লক্ষ্যের অবস্থা, তার একত্ব, বহুত্ব এবং তা অর্জিত হওয়ার ওপর। (যেখানে হবে) সেই একক বিষয়টি—যার বিভিন্ন অবস্থার ওপর লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হয়—(বিভিন্ন জ্ঞানের বিষয়বস্তু যা ভিন্ন ভিন্ন হয়) সেই একক বিষয়টি (সেখানে) অর্থাৎ সেই জ্ঞানসমূহে (দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রেক্ষিতের কারণে)। যেমন কোনো একটি জ্ঞানের বিষয়বস্তুকে এমন প্রেক্ষিত থেকে নির্ধারণ করা হয় যা তার একগুচ্ছ অবস্থার জ্ঞান লাভের মাধ্যমে অমুক লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, আবার অন্য জ্ঞানের বিষয়বস্তুকে অন্য প্রেক্ষিতে অন্য কোনো লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং এভাবেই চলতে থাকে। (আর এখান থেকেই) অর্থাৎ বিষয়বস্তু নির্ধারণে লক্ষ্যের অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই (লক্ষ্য বিষয়বস্তুকে অনুগামী করে), যা তাঁর এই কথার দিকে ইঙ্গিত করে যে: "এবং তার একটি একক লক্ষ্য রয়েছে যা তার বিষয়বস্তুর একত্বকে অনুগামী করে।" (এবং সামঞ্জস্যের আবশ্যকতা) সেই বিষয়গুলোর মধ্যে যার ওপর লক্ষ্য অর্জিত হয় এবং যা বিষয়বস্তু হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তা (একটি আপতিক বিষয়) যা কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের দাবি নয়। যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, আবশ্যকতা এবং আপতিকতাকে কীভাবে একত্রে আনা হলো? আমি বলব, এতে কোনো বৈপরিত্য নেই; কারণ এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা বোঝানো হয়নি, বরং এটি এমন একটি বিষয় যা সর্বদা ঘটে থাকে এবং কোনো ক্ষেত্রেই ব্যত্যয় ঘটে না। সুতরাং আবশ্যকতা দ্বারা এখানে তার অপরিহার্যতা বোঝানো হয়েছে। (আর যদি সামঞ্জস্যহীনভাবে) সেই বস্তুগুলোর ওপর (লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার বিষয়টি ঘটে থাকে), যেভাবে সামঞ্জস্য সহকারে ঘটে থাকে, তবে সেই (সামঞ্জস্যকে অগ্রাহ্য করা হবে) এবং বিবেচনার স্তর থেকে বাদ দেওয়া হবে যেহেতু তার কোনো প্রয়োজন নেই। আর এখানে 'লাও' (যদি) শব্দটিকে নির্বাচন করা হয়েছে কারণ এটি বাস্তবে ঘটে না। (আর লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার ধরন অনুযায়ী), অর্থাৎ যার অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা সেই লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, (সেই অনুযায়ী) একদল জ্ঞান (পরস্পর স্বতন্ত্র) হয়ে থাকে যারা বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে অংশীদার নয়। কারণ কোনো কোনোটির লক্ষ্য এমন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যা অন্যটির লক্ষ্যের ওপর নির্ভরশীল বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন। (এবং) অন্য একদল জ্ঞান (পরস্পর সংশ্লিষ্ট) হয়ে থাকে তাদের লক্ষ্যসমূহ একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে। (তবে আলোচনার ক্ষেত্রে একটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের আবশ্যকতা অন্যটির থেকে স্বতন্ত্র হওয়ার বিষয়টি ছাড়া)। এটি লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার ধরন অনুযায়ী স্বাতন্ত্র্য ও সংশ্লিষ্টতা বিবেচনার সাধারণ নিয়মের একটি ব্যতিক্রম। অর্থাৎ জ্ঞানের স্বাতন্ত্র্য এবং সংশ্লিষ্টতা সব ক্ষেত্রেই এই অনুযায়ী বিবেচিত হবে, কেবল গুণের আবশ্যিক উপস্থিতির ক্ষেত্রটি ছাড়া। কারণ সেক্ষেত্রে ওই আবশ্যিকতার নিরিখে সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করা হবে। যেমন এমন দুটি জ্ঞান যার প্রতিটির লক্ষ্য এমন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যা অন্যটির লক্ষ্যের ওপর নির্ভরশীল বিষয় থেকে স্বতন্ত্র, কিন্তু তারা উভয়েই নির্দিষ্ট কোনো গুণের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে অংশীদার।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عَارض لموضوعيهما (فتتداخل) الْعُلُوم المتشاركة فِي لُزُوم عرُوض الْعَارِض على الْوَجْه الْمَذْكُور (مَعَ التباين) بِحَسب الْمَوْضُوع (للْعُمُوم الاعتباري) فَإِن موضوعاتها، وَإِن كَانَت متباينة بِحَسب الْحَقِيقَة لَكِنَّهَا بِسَبَب اشتراكها فِي لُزُوم الْعَارِض الْمَذْكُور صَارَت كَأَنَّهَا مَفْهُوم وَاحِد عَام يَشْمَل تِلْكَ الْعُلُوم، فالعموم الاعتباري بِاعْتِبَار الِاشْتِرَاك فِي الْمَحْمُول (كالمويسيقي) بِضَم الْمِيم وَكسر الْمُهْملَة وَالْقَاف يوناني مَعْنَاهُ تأليف الألحان، واللحن من الْأَصْوَات المصنوعة (مَوْضُوعه النغم) محركة ويسكن، الْكَلَام الْخَفي، الْوَاحِدَة بهاء، وَفِي الِاصْطِلَاح النغمة صَوت يتصاعد أَو يتنزل بِدَرَجَة من الدَّرَجَات الشَّرِيفَة ظَاهرا أومخيلا كَمَا إِذا سمع شخص صَوتا مُخْتَلفا فِي الحدة والثقل، وَاسْتقر فِي سامعته، ثمَّ بَدَأَ بِصَوْت لَا اخْتِلَاف فِيهِ فيتخيل التصاعد أَو التنزل فِيهِ بِاعْتِبَار مَا اسْتَقر فِي سامعته، والدرجات الشَّرِيفَة تعرف بِأَن يبْدَأ بِصَوْت معِين بعلامة خَاصَّة فيتصاعد دَرَجَة دَرَجَة بِأَن يكون التَّفَاضُل فِي كل دَرَجَة يسع مِقْدَار حَده المبدأ إِلَى أَن يبلغ إِلَى سبع وَعشْرين دَرَجَة، وَهَذَا نِهَايَة التصاعد بِحَسب الاستقراء فيتضاعف الأَصْل أَربع مَرَّات، وَهَذِه الدَّرَجَات تسمى بالدرجات الشَّرِيفَة (ويندرج) المويسيقى (تَحت علم الْحساب، وموضوعه الْعدَد) وَهُوَ نصف مَجْمُوع الحاشيتين، وَقيل مَا يبين بِهِ كمية الشَّيْء (مَعَ تبَاين موضوعيهما كَمَا قيل إِذْ كَانَ الْبَحْث فِي النغم عَن النّسَب العددية) تَعْلِيل لاندراجه تَحت علم الْحساب، يُرِيد أَن النّسَب العددية عوارض ذاتية للعدد الَّذِي هُوَ مَوْضُوع علم الْحساب المباين لموضوع علم المويسيقى، وَقد بحث عَنْهَا فِي المويسيقى، كَمَا سبق إِلَيْهِ إِشَارَة على سَبِيل اللُّزُوم بِحَيْثُ لَا يَخْلُو عَنْهَا مَبْحَث مِنْهُ، فَصَارَ عرُوض هَذَا الْعَارِض للنغم لَازِما للبحث عَن النغم، وَهَذَا معنى لُزُوم عرُوض عَارض المباين: أَي الْعدَد الَّذِي هُوَ مَوْضُوع الْحساب فِي الْبَحْث عَن النغم الَّذِي هُوَ مَوْضُوع المويسيقى وَاعْلَم أَن الْمُعْتَبر فِي عَامَّة مسَائِل المويسيقى تأليف الألحان المتناسبة والتناسب بَينهَا إِنَّمَا يظْهر بِاعْتِبَار عدم الْأَجْزَاء وكيفياتها مثل الْبعد الصُّغْرَى إِنَّمَا يحصل بترتيب ثَلَاث دَرَجَات من الشَّرِيفَة، والكبرى من الْأَرْبَع، والكامل من الْخمس، وعَلى هَذَا الْقيَاس فالتناسب بَين الأبعاد لَا يظْهر إِلَّا بِالنّسَبِ العددية (وَاعْلَم أَن إيرادهم) أَي الْأُصُولِيِّينَ وَغَيرهم (كلا من الْحَد والموضوع والغاية لتَحْصِيل البصيرة) للشارع فِي الْعلم (لَا يَخْلُو عَن اسْتِدْرَاك) لِأَنَّهُ فِي الْحَد يعرف الْمَوْضُوع والغاية، لِأَنَّهُ إِذا قيل: علم باحث عَن أَحْوَال كَذَا من حَيْثُ إِنَّه يُفِيد فَائِدَة كَذَا علم الْمَوْضُوع والغاية، فَإِن مَا يبْحَث عَن أَحْوَاله هُوَ الْمَوْضُوع، وَتلك الْفَائِدَة هِيَ الْغَايَة (إِلَّا من حَيْثُ التَّسْمِيَة باسم خَاص) اسْتثِْنَاء مِمَّا يدل عَلَيْهِ الِاسْتِدْرَاك، وَهُوَ نفي الْفَائِدَة، والمستثنى معرفَة اسْم خَاص للموضوع والغاية، وَفِي قَوْله لَا يَخْلُو إِشَارَة إِلَى أَنه لَيْسَ

তাদের উভয় বিষয়ের জন্য আগন্তুক (ফলে পরস্পর প্রবিষ্ট হয়) সেই সব বিজ্ঞানসমূহ যা উল্লিখিত পদ্ধতিতে আগন্তুক বিষয়ের অপরিহার্যতা প্রদর্শনে অংশগ্রহণ করে (ভিন্নতা সত্ত্বেও) বিষয়ের বিচারে (বিবেচনামূলক ব্যাপকতার কারণে)। কেননা এগুলোর বিষয়বস্তুসমূহ যদিও হাকিকত বা প্রকৃত বিচারে ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু উল্লিখিত আগন্তুক বিষয়ের অপরিহার্যতা প্রদর্শনে অংশীদার হওয়ার কারণে এগুলো যেন একটি সাধারণ ধারণায় পরিণত হয়েছে যা ওই বিজ্ঞানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং বিবেচনামূলক ব্যাপকতা হলো বিধেয়ের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়ার বিচারে (যেমন সঙ্গীতবিদ্যা)। মীম-এর পেশ এবং সীন ও কাফ-এর যের যোগে এটি একটি গ্রীক শব্দ, যার অর্থ সুরের বিন্যাস; আর সুর হলো নির্মিত শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত (এর বিষয়বস্তু হলো সুর)। এটি হরকত ও সুকুন উভয়ভাবে পড়া যায়, যার অর্থ অস্ফুট কথা; এর একক শব্দ হলো 'নগমাহ'। পারিভাষিক অর্থে নগমাহ হলো এমন শব্দ যা দৃশ্যত বা কাল্পনিকভাবে ‘শরীফ’ বা উচ্চ স্তরের কোনো একটি স্তরে আরোহণ করে বা অবতরণ করে; যেমন যদি কোনো ব্যক্তি তীক্ষ্ণতা ও গাম্ভীর্যে ভিন্ন ভিন্ন কোনো শব্দ শোনে এবং তা তার শ্রবণেন্দ্রিয়ে গেঁথে যায়, অতঃপর সে এমন এক শব্দ শুরু করে যাতে কোনো ভিন্নতা নেই, তখন সে তার শ্রবণেন্দ্রিয়ে গেঁথে থাকা শব্দের বিচারে তাতে আরোহণ বা অবতরণ কল্পনা করে। আর ‘শরীফ’ বা উচ্চ স্তরসমূহ চেনার উপায় হলো, একটি নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ থেকে শুরু করা, অতঃপর ধাপে ধাপে আরোহণ করা; যেখানে প্রতিটি স্তরের পার্থক্য এমন হবে যা প্রারম্ভিক সীমার পরিমাণ ধারণ করে, এভাবে সাতাশ স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো। এটি হলো আরোহণের শেষ সীমা যা পর্যালোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে মূলটি চারগুণ বৃদ্ধি পায়। এই স্তরগুলোকে ‘শরীফ স্তর’ বলা হয়। আর সঙ্গীতবিদ্যা (অন্তর্ভুক্ত হয়) (হিসাব বিজ্ঞানের অধীনে, যার বিষয়বস্তু হলো সংখ্যা)। আর তা হলো দুই প্রান্তের সমষ্টির অর্ধেক; আবার বলা হয়েছে যা দ্বারা বস্তুর পরিমাণ স্পষ্ট হয়। (উভয়টির বিষয়বস্তু ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও, যেমনটি বলা হয়েছে, যেহেতু সুরের আলোচনা সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুপাত কেন্দ্রিক); এটি হিসাব বিজ্ঞানের অধীনে সঙ্গীতবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ দর্শানো। তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুপাতসমূহ হলো সংখ্যার স্বকীয় আগন্তুক বৈশিষ্ট্য, যা হিসাব বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু; আর এটি সঙ্গীতবিদ্যার বিষয়বস্তু থেকে ভিন্ন। অথচ সঙ্গীতবিদ্যায় এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমনটি অপরিহার্যতার ভিত্তিতে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যাতে এর কোনো আলোচনাই তা থেকে মুক্ত না থাকে। ফলে সুরের ক্ষেত্রে এই আগন্তুক বিষয়ের উপস্থিতি সুর বিষয়ক আলোচনার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর এটিই হলো ভিন্ন কোনো বিষয়ের আগন্তুক বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির অর্থ: অর্থাৎ সংখ্যা, যা হিসাব বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু, সুরের আলোচনায় তা অপরিহার্য হওয়া, যা সঙ্গীতবিদ্যার বিষয়বস্তু। জেনে রাখুন যে, সঙ্গীতবিদ্যার সাধারণ মাসআলাসমূহে ভারসাম্যপূর্ণ সুরের বিন্যাসই ধর্তব্য। আর এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য কেবল অংশের সংখ্যা এবং সেগুলোর গুণাগুণের বিচারে প্রকাশ পায়; যেমন ক্ষুদ্রতর ব্যবধান কেবল তিনটি ‘শরীফ’ স্তরের বিন্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়, বৃহত্তর ব্যবধান চারটি থেকে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবধান পাঁচটি থেকে। এই নিয়মানুসারেই ব্যবধানগুলোর মধ্যকার ভারসাম্য কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুপাতের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। (জেনে রাখুন যে, তাদের উপস্থাপন করা) অর্থাৎ উসুলবিদ ও অন্যদের (সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু এবং উদ্দেশ্য—এগুলোর প্রত্যেকটিই অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের জন্য) কোনো বিদ্যায় প্রবেশকারীর জন্য (তা সংশোধন বা ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে নয়)। কারণ সংজ্ঞার মধ্যেই বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য জানা যায়। কেননা যখন বলা হয়: ‘এমন একটি বিদ্যা যা অমুক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে এই দিক থেকে যে তা অমুক ফায়দা প্রদান করে’, তখন বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য জানাই থাকে। কেননা যার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয় তা-ই হলো বিষয়বস্তু, আর ওই ফায়দাই হলো উদ্দেশ্য। (কেবল বিশেষ নামে নামকরণের দিকটি ব্যতীত) এটি ওই বিষয় থেকে ব্যতিক্রম যা সংশোধনী নির্দেশ করে, আর তা হলো ফায়দাকে অস্বীকার করা। আর ব্যতিক্রমী বিষয়টি হলো বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যের জন্য একটি বিশেষ নাম জানা। এবং তাঁর কথা ‘মুক্ত নয়’-এর মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে এটি নয়।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بمستدرك من كل وَجه (وَلم يوردوه) أَي كلا مِنْهَا (لذَلِك) أَي لبَيَان ذَلِك الِاسْم الْخَاص بل لأجل البصيرة.

(الثَّالِث) من الْأُمُور الَّتِي هِيَ مُقَدّمَة الْكتاب (الْمُقدمَات المنطقية) سميت بهَا لكَونهَا من مسَائِل الْمنطق (مبَاحث النّظر) عطف بَيَان للمقدمات (وَتَسْمِيَة جمع) من الْأُصُولِيِّينَ كالآمدي وَمن تبعه (لَهَا) أَي للمقدمات المنطقية، أَو مبَاحث النّظر (مبادي كلامية بعيد) لِأَنَّهَا لَيست من الْكَلَام وَلَا كَونهَا مبادي يقْتَصر عَلَيْهِ (بل الْكَلَام فِيهَا كَغَيْرِهِ) من الْعُلُوم (لِاسْتِوَاء نسبتها إِلَى كل الْعُلُوم وَهُوَ) أَي وَجه الاسْتوَاء (أَنه) أَي الشَّأْن (لما كَانَ الْبَحْث ذاتيا للعلوم) أَي دَاخِلا فِي حَقِيقَتهَا (وَهُوَ) أَي الْبَحْث (الْحمل) أَي إِثْبَات شَيْء لشَيْء (بِالدَّلِيلِ) لِأَن حَقِيقَتهَا التصديقات المدللة وَالْإِثْبَات جُزْء مِنْهَا (وَصِحَّته) أَي الدَّلِيل (بِصِحَّة النّظر وفساده بِهِ) أَي بِفساد النّظر، والجمل مُعْتَرضَة بَين لما وجوابها: أَعنِي قَوْله (وَجب التَّمْيِيز) بَين صَحِيحه وفاسده بِبَيَان شَرَائِط صِحَّته من حَيْثُ الْمَادَّة وَالصُّورَة بالقوانين الْمَوْضُوعَة لذَلِك كَمَا سَيَجِيءُ (ليعلم) بالتمييز بَينهمَا (خطأ المطالب) الْمَقْصُودَة من الْأَدِلَّة الْقَائِمَة على الأبحاث الْمَذْكُورَة فِي الْعُلُوم (وصوابها) الْخَطَأ وَالصَّوَاب إِنَّمَا يستعملان فِي الْأَحْكَام العملية كَمَا أَن الْحق وَالْبَاطِل يستعملان فِي العقائد، وَلَكِن المُرَاد مِنْهُمَا هَهُنَا مَا هُوَ أَعم (وَلَيْسَ فِي الْأُصُول من) مسَائِل (الْكَلَام إِلَّا مَسْأَلَة الْحَاكِم) وَهِي أَن الْحَاكِم بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّة كلهَا هُوَ الله سُبْحَانَهُ بِلَا خلاف، لَكِن هَل يتَعَلَّق لَهُ تَعَالَى حكم قبل الْبعْثَة وبلوغ الدعْوَة أم لَا، الأشعرية لَا، فَلَا يحرم كفر، وَلَا يجب إِيمَان قبلهَا، والمعتزلة نعم فِيمَا أدْرك الْعقل فِيهَا حسنا أَو قبحا (وَمَا يتَعَلَّق بهَا) بِمَسْأَلَة الْحَاكِم (من) مَسْأَلَة (الْحسن والقبح) هَل هما عقليان أم لَا (وَنَحْوه) أَي الْمَذْكُور، قيل كَمَسْأَلَة الْمُجْتَهد يُخطئ ويصيب، وَمَسْأَلَة خلو الزَّمَان عَن مُجْتَهد (وَهَذِه) أَي الْمَذْكُورَات (من الْمُقدمَات) لهَذَا الْعلم لَا من مسَائِله (يتَوَقَّف عَلَيْهَا زِيَادَة بَصِيرَة) فِي معرفَة بعض مقاصده وَلَيْسَت بمقدمة الشُّرُوع لعدم مدخليتها فِي أَكثر الْمَقَاصِد، وَلِهَذَا لم يوردوها قبل الشُّرُوع (وَتَصِح) أَن تكون (مبادي على) اصْطِلَاح (الْأُصُولِيِّينَ) قَالَ الْآمِدِيّ فِي الْأَحْكَام: اعْلَم أَن مبادي كل علم هِيَ التصورات والتصديقات الْمسلمَة فِي ذَلِك الْعلم، وَهِي غير مبرهنة فِيهِ لبِنَاء مسَائِل ذَلِك الْعلم عَلَيْهَا سَوَاء كَانَت مسلمة فِي نَفسهَا كمبادي الْعلم الْأَعْلَى، أَو غير مسلمة فِي نَفسهَا، بل مَقْبُولَة على سَبِيل المصادرة أَو الْوَضع على أَن تبرهن فِي علم أَعلَى من ذَلِك الْعلم انْتهى، وَلَا يخفى عَلَيْك أَن الْمسَائِل الْمَذْكُورَة مبرهنة فِي الْأُصُول فَلَا تكون من المبادي على مَا ذكره الْآمِدِيّ، نعم ذكر غَيره أَنَّهَا قد تطلق على مَا يتَوَقَّف عَلَيْهِ الشُّرُوع والبحث عَن مسَائِله بوسط أَو بِغَيْرِهِ وَلم يشْتَرط فِيهَا أَلا تكون
প্রতিটি দিক থেকে পরিপূরক হিসেবে (এবং তারা এটি উল্লেখ করেননি) অর্থাৎ সেগুলোর কোনোটিই (সেজন্য) অর্থাৎ সেই বিশেষ নামটির বর্ণনার জন্য নয় বরং দূরদর্শিতার জন্য।

(তৃতীয়) কিতাবের ভূমিকা স্বরূপ বিষয়গুলোর মধ্য হতে (যুক্তিবিদ্যার ভূমিকাসমূহ), এগুলোকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এগুলো যুক্তিবিদ্যার মাসয়ালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (পর্যবেক্ষণমূলক আলোচনা) এটি 'ভূমিকাসমূহ'-এর ব্যাখ্যা স্বরূপ। (এবং একদল উসুলবিদদের নামকরণ) যেমন আমেদী এবং যারা তার অনুসারী (সেগুলোকে) অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার ভূমিকাসমূহকে বা পর্যবেক্ষণমূলক আলোচনাকে (কালামশাস্ত্রীয় মূলনীতি হিসেবে অভিহিত করা অসঙ্গত); কারণ এগুলো কালামশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এমন নয় যে এগুলো কেবল এরই মূলনীতি। (বরং এগুলোর আলোচনা অন্যান্য জ্ঞানের মতোই) অর্থাৎ অন্যান্য বিজ্ঞানের মতোই (সমস্ত বিজ্ঞানের সাথে এগুলোর সম্পর্কের সমতার কারণে; আর তা হলো) অর্থাৎ সমতার বিষয়টি হলো (যেহেতু আলোচনা বিজ্ঞানের জন্য সত্তাগত) অর্থাৎ তার স্বরূপের অন্তর্ভুক্ত (আর তা হলো) অর্থাৎ আলোচনা হলো (প্রয়োগ) অর্থাৎ প্রমাণের মাধ্যমে কোনো বিষয়কে কোনো বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা (দলীলের মাধ্যমে); কারণ বিজ্ঞানের স্বরূপ হলো দলীলভিত্তিক সত্যায়নসমূহ এবং কোনো কিছু সাব্যস্ত করা তারই অংশ। (এবং এর বিশুদ্ধতা) অর্থাৎ দলীলের বিশুদ্ধতা (পর্যবেক্ষণের বিশুদ্ধতার মাধ্যমে এবং এর অসারতা পর্যবেক্ষণের অসারতার মাধ্যমে হয়ে থাকে)। এই বাক্যগুলো 'যেহেতু' (লাম্মা) এবং তার জওয়াবের মাঝে মধ্যবর্তী বাক্য। আমি বলতে চাচ্ছি লেখকের এই উক্তি: (পার্থক্য করা আবশ্যক) বিশুদ্ধ ও অসার দলীলের মাঝে, এর উপাদান ও কাঠামোর দিক থেকে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি বর্ণনার মাধ্যমে, যা এ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মনীতির ভিত্তিতে হবে, যেমনটি সামনে আসবে। (যাতে জানা যায়) উভয়ের মাঝে পার্থক্যের মাধ্যমে (উদ্দেশ্যসমূহের ভুল) যা বিজ্ঞানের উল্লিখিত আলোচনাগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত দলীলগুলো থেকে অন্বেষিত (এবং সেগুলোর সঠিকতা)। ভুল এবং সঠিক শব্দদ্বয় মূলত ব্যবহারিক বিধানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন সত্য ও মিথ্যা আকিদাগত বিষয়ে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু এখানে এই দুটি দ্বারা আরও ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য। (আর উসুলশাস্ত্রে কালামশাস্ত্রের মাসয়ালাসমূহের মধ্য থেকে কেবল বিধানদাতার মাসয়ালাটিই রয়েছে) আর তা হলো—শরয়ি সমস্ত বিধানের বিধানদাতা হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, এতে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু রাসূল প্রেরণ এবং দাওয়াত পৌঁছানোর আগে মহান আল্লাহর কোনো বিধান কার্যকর হবে কি না—এ বিষয়ে আশআরিদের মতে না, তাই তার আগে কুফর হারাম হবে না এবং ঈমান আনা ওয়াজিব হবে না। আর মুতাজিলাদের মতে হ্যাঁ, সেই বিষয়গুলোতে যেগুলোর ভালো বা মন্দ বিবেক দ্বারা উপলব্ধি করা যায়। (এবং সেই মাসয়ালার সাথে যা সংশ্লিষ্ট) অর্থাৎ বিধানদাতার মাসয়ালার সাথে (ভালো ও মন্দের মাসয়ালাটি) যে, এগুলো কি বিবেকপ্রসূত নাকি নয় (এবং তদ্রূপ বিষয়গুলো) অর্থাৎ যা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, যেমন মুজতাহিদের ভুল ও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার মাসয়ালা এবং কোনো যুগ মুজতাহিদশূন্য থাকা সংক্রান্ত মাসয়ালা। (আর এগুলো) অর্থাৎ উল্লিখিত বিষয়গুলো (ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত) এই শাস্ত্রের জন্য, এর মাসয়ালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। (এর ওপর দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পাওয়া নির্ভরশীল) এর কিছু উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে; তবে এগুলো কিতাব আরম্ভ করার ভূমিকা নয়, কারণ অধিকাংশ উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এগুলোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। আর এ কারণেই তারা শাস্ত্রটি শুরু করার আগে এগুলো উল্লেখ করেননি। (এবং এটি সঠিক হতে পারে) যে এগুলো (উসুলবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী মূলনীতি হবে)। আমেদী 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে বলেছেন: জেনে রেখো যে, প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো সেই শাস্ত্রে স্বীকৃত ধারণা ও সত্যায়নসমূহ, যেগুলোর সত্যতা সেই শাস্ত্রে প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না, যেহেতু সেই শাস্ত্রের মাসয়ালাগুলো এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। চাই সেগুলো স্বয়ংসিদ্ধ হোক যেমন উচ্চতর বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ, অথবা স্বয়ংসিদ্ধ না হয়ে বরং দাবি হিসেবে বা স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে গৃহীত হোক এই শর্তে যে এগুলো সেই বিজ্ঞানের চেয়ে উচ্চতর কোনো বিজ্ঞানে প্রমাণিত হবে—সমাপ্ত। আর তোমার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, উল্লিখিত মাসয়ালাগুলো উসুলশাস্ত্রে প্রমাণিত, তাই আমেদীর বর্ণনা অনুযায়ী এগুলো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে না। হ্যাঁ, অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে যার ওপর কোনো শাস্ত্রের সূচনা এবং তার মাসয়ালাগুলো নিয়ে আলোচনা করা কোনো মাধ্যমসহ বা মাধ্যম ছাড়া নির্ভরশীল; আর তিনি এতে এমন শর্তারোপ করেননি যে তা হতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مبرهنة فِي الْعلم الَّذِي يتَوَقَّف الْبَحْث عَن مسَائِله عَلَيْهَا، وَقد يُقَال كَونهَا مبرهنة فِي كتب الْأُصُول لَا يستدعى كَونهَا جُزْءا من الْعلم لجَوَاز كَونهَا استطرادية (وَلما انقسم) النّظر (إِلَى مَا يُفِيد علما) (و) إِلَى مَا يُفِيد (ظنا ميزا) أَي الْعلم وَالظَّن بِأَن عرف كل مِنْهُمَا (لِأَن تمييزهما) يسْتَلْزم التَّمْيِيز بَين مفيديهما (وَتَمَامه) أَي تَمام تمييزهما (بالمقابلات) أَي تَمْيِيز مقابلاتهما من الْوَهم وَالشَّكّ وَالْجهل والتقليد، وَهَذَا مَا قيل من أَن الْأَشْيَاء تتبين بأضدادها، قَالَ حجَّة الْإِسْلَام: رُبمَا يعسر تَحْدِيد الْعلم بِالْجِنْسِ والفصل، لِأَن ذَلِك متعسر فِي أَكثر المدركات كرائحة الْمسك، فَكيف فِي الادراكات؟ لَكِن يقدر على شرح مَعْنَاهُ بتقسيم وَمِثَال، أما التَّقْسِيم فَهُوَ أَن تميزه عَمَّا يلتبس بِهِ من الظَّن وَالشَّكّ بِالْجَزْمِ، وَعَن الْجَهْل بالمطابقة وَعَن اعْتِقَاد الْمُقَلّد بِأَنَّهُ يبْقى مَعَ تغير المعتقد وَيصير جهلا، وَأما الْمِثَال فَهُوَ أَن إِدْرَاك البصيرة شَبيه إِدْرَاك الباصرة كانطباع الصُّورَة فِي الْمرْآة، كَذَلِك الْعلم عبارَة عَن انطباع صُورَة المعقولات فِي الْعقل، وَالنَّفس بِمَنْزِلَة حَدِيدَة الْمرْآة وغريزتها الَّتِي بهَا تتهيأ لقبُول الصُّور: أَعنِي الْعقل بِمَنْزِلَة صقالة الْمرْآة واستنارتها وَحُصُول الصُّور فِي مرْآة الْعقل هُوَ الْعلم، فالتقسيم يقطعهُ عَن مظان الِاشْتِبَاه، وَهَذَا الْمِثَال يفهمك حَقِيقَته، وَالْمُصَنّف رحمه الله اقْتصر على الأول فَقَالَ (فالعلم) عِنْد الْأُصُولِيِّينَ (حكم) أَي إِدْرَاك وُقُوع النِّسْبَة أَو لَا وُقُوعهَا (لَا يحْتَمل طرفاه) أَي الْمَحْكُوم عَلَيْهِ وَبِه (نقيضه) أَي الحكم، فَإِن كَانَ إِدْرَاك الْوُقُوع فنقيضه إِدْرَاك اللاوقوع، وَإِلَّا فبالعكس (عِنْد من قَامَ) الحكم (بِهِ) وَهُوَ الْحَاكِم (لموجب) مُتَعَلق لَا يحْتَمل. وَسَيَجِيءُ بَيَان الْمُوجب، وَالْمرَاد باحتمالهما النقيض عِنْد الْحَاكِم كَونهمَا بِحَيْثُ لَو فرض بَينهمَا نقيض لَا يعده الْحَاكِم محالا، بل يجوزه تجويزا مَا، فالعلم حكم لَا يكون طرفاه مَوْصُوفا بِهَذَا الْكَوْن وَنقض التَّعْرِيف بِالْعلمِ بالأمور العادية كَالْحكمِ بِكَوْن الْجَبَل الْغَائِب عَن النّظر حجرا لاتصاف طَرفَيْهِ بالكون الْمَذْكُور لجَوَاز انقلابه ذَهَبا لتجانس الْجَوَاهِر واستوائها فِي قبُول الصِّفَات مَعَ ثُبُوت الْقَادِر الْمُخْتَار وَأجِيب بِأَنَّهُ إِذا علم كَونه حجرا فِي وَقت اسْتَحَالَ كَونه ذَهَبا فِي ذَلِك الْوَقْت، فَإِذا علم كَونه حجرا دَائِما اسْتَحَالَ كَونه ذَهَبا فِي وَقت من الْأَوْقَات، وَلَا يخفى ضعفه وَالْجَوَاب مَا ذكره المُصَنّف رَحمَه الله تَعَالَى بقوله (فَدخل العادي لِأَن إِمْكَان كَون الْجَبَل ذَهَبا لَا يمْنَع الْجَزْم بنقيضه عَن مُوجبه) وَأَنت خَبِير بِأَنَّهُ إِن أُرِيد بِالْجَزْمِ مَا لَا يُنَافِي تَجْوِيز النقيض فَهُوَ خَارج عَن المبحث، وَإِلَّا فالإمكان يمنعهُ، وَلذَا قَالَ (وَالْحق أَن إِمْكَان خرق الْعَادة الْآن) أَي آن الحكم بِكَوْنِهِ حجرا (وَهُوَ) أَي الْإِمْكَان (ثَابت) فِي نفس الْأَمر (يسْتَلْزم تَجْوِيز النقيض الْآن) أَي آن الحكم الْمَذْكُور (إِذا لوحظ النقيض) لِأَن عدم احْتِمَاله لخلو الذِّهْن عَنهُ خَارج عَن دَائِرَة الِاعْتِبَار، لِأَن الْعبْرَة بالتجويز وَعَدَمه عِنْد
এটি এমন একটি বিজ্ঞানে প্রমাণিত যার ওপর তার বিষয়বস্তুসমূহের গবেষণা নির্ভরশীল। কখনো বলা হয় যে, উসূলের কিতাবসমূহে এগুলোর প্রমাণিত হওয়া এটি ওই বিজ্ঞানের অংশ হওয়াকে আবশ্যক করে না; কারণ এটি প্রসঙ্গক্রমে বা আনুষঙ্গিকভাবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। (আর যখন বিভক্ত হলো) চিন্তা-গবেষণা (এমন বিষয়ে যা জ্ঞান প্রদান করে) (এবং) এমন বিষয়ে যা (প্রবল ধারণা প্রদান করে, তখন তিনি পার্থক্য করেছেন) অর্থাৎ জ্ঞান ও প্রবল ধারণার মধ্যে, এভাবে যে তিনি তাদের প্রত্যেকের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। (কারণ তাদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা) তাদের ফলাফলদাতার (অর্থাৎ জ্ঞান ও ধারণা প্রদানকারী বিষয়ের) মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করাকে আবশ্যক করে। (আর এর পূর্ণতা) অর্থাৎ তাদের পার্থক্যের পূর্ণতা ঘটে (বিপরীত বিষয়গুলোর মাধ্যমে) অর্থাৎ তাদের বিপরীত বিষয় যেমন—বিভ্রম, সংশয়, অজ্ঞতা এবং অন্ধ অনুকরণ থেকে সেগুলোকে পৃথক করার মাধ্যমে। আর এটিই বলা হয়ে থাকে যে, "বস্তুসমূহ তাদের বিপরীতের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়।" হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন: অনেক সময় লিঙ্গ ও প্রভেদক দ্বারা জ্ঞানের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে; কারণ ঘ্রাণেন্দিয়ের অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে যেমন কস্তুরীর সুবাসের ক্ষেত্রে এটি কঠিন, তাহলে অনুভূতির ক্ষেত্রে তা কেমন হবে? কিন্তু এর অর্থের ব্যাখ্যা বিভাগ ও উদাহরণের মাধ্যমে করা সম্ভব। বিভাগ হলো: একে এমন সব বিষয় থেকে পৃথক করা যা সংশয় ও সন্দেহের সাথে মিশে যায় ‘নিশ্চয়তা’ প্রদানের মাধ্যমে; আর সঠিকতা বা বাস্তবতার সাথে মিল থাকার মাধ্যমে অজ্ঞতা থেকে এবং মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর বিশ্বাস থেকে একে পৃথক করা এই দিক দিয়ে যে, মুকাল্লিদের বিশ্বাস বিশ্বাসযোগ্য বিষয়টি পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং অজ্ঞতায় পরিণত হয়। আর উদাহরণের বিষয়টি হলো: অন্তঃচক্ষুর উপলব্ধি বহিঃচক্ষুর উপলব্ধির মতো, যেমন আয়নায় প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠা। তেমনিভাবে জ্ঞান হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোর রূপ বুদ্ধিতে অঙ্কিত হওয়া। আর আত্মা হলো আয়নার লোহার পাতের মতো এবং এর সেই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যার মাধ্যমে সে রূপ গ্রহণের উপযোগী হয়—অর্থাৎ বুদ্ধি—তা হলো আয়নার পালিশ ও উজ্জ্বলতার মতো। আর বুদ্ধির আয়নায় রূপের প্রতিফলনই হলো জ্ঞান। সুতরাং বিভাগ একে সংশয়ের স্থানগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর এই উদাহরণটি আপনাকে এর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ বুঝতে সাহায্য করবে। আর গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) প্রথমটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং বলেছেন: উসূলবিদগণের নিকট (জ্ঞান হলো এমন একটি বিচার) অর্থাৎ সম্বন্ধের হওয়া বা না হওয়াকে উপলব্ধি করা (যার উভয় দিক) অর্থাৎ যার ওপর বিচার করা হয়েছে এবং যা দ্বারা বিচার করা হয়েছে (তার বিপরীতে) অর্থাৎ ওই বিচারের বিপরীতের (কোনো সম্ভাবনা রাখে না)। যদি এটি হওয়ার উপলব্ধি হয়, তবে এর বিপরীত হলো না হওয়ার উপলব্ধি হওয়া, অন্যথায় এর উল্টো। (যার নিকট) বিচারটি (প্রতিষ্ঠিত হয়েছে) অর্থাৎ বিচারকের নিকট (একটি কারণবশত) যা ‘সম্ভাবনা রাখে না’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। সামনে 'কারণ' বা 'প্রমাণে'র বর্ণনা আসবে। আর বিচারকের নিকট উভয় পক্ষের বিপরীতের সম্ভাবনা রাখার অর্থ হলো: তারা এমন হওয়া যে যদি তাদের মাঝে কোনো বিপরীত বিষয়ের অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়, তবে বিচারক সেটাকে অসম্ভব মনে করবেন না, বরং কোনো না কোনোভাবে একে বৈধ মনে করবেন। সুতরাং জ্ঞান হলো এমন এক বিচার যার উভয় পক্ষ এমন গুণের অধিকারী হয় না। আর অভ্যাসবশত জানা বিষয়গুলোর দ্বারা এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়, যেমন দৃষ্টির আড়ালে থাকা পাহাড়টি পাথর হওয়ার বিচার করা। কেননা এর উভয় পক্ষ উল্লিখিত গুণের অধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যেহেতু পাহাড়টি স্বর্ণে রূপান্তরিত হওয়া সম্ভব। কারণ মৌলিক পদার্থসমূহ সমজাতীয় এবং গুণাবলি গ্রহণের ক্ষেত্রে সমান, আর একজন স্বাধীন ক্ষমতাশীল আল্লাহ তো বিদ্যমান আছেনই। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সেটি পাথর হিসেবে জানা গেল, তখন সেই সময়ে সেটি স্বর্ণ হওয়া অসম্ভব। সুতরাং যখন এটি সর্বদা পাথর হিসেবে জানা গেল, তখন কোনো সময়েই সেটি স্বর্ণ হওয়া অসম্ভব। এর দুর্বলতা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আর সঠিক উত্তরটি হলো যা গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: (সুতরাং অভ্যাসজাত বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কারণ পাহাড়টি স্বর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তার কারণজনিত কারণে তার বিপরীত বিষয়ের নিশ্চয়তাকে বাধাগ্রস্ত করে না)। আপনি ভালো করেই জানেন যে, যদি নিশ্চয়তা দ্বারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য হয় যা বিপরীতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না, তবে তা আলোচনা বহির্ভূত। অন্যথায় সম্ভাবনা একে বাধা প্রদান করবে। এজন্যই তিনি বলেছেন: (আর সত্য কথা হলো এই যে, বর্তমানে অভ্যাস লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা) অর্থাৎ পাথর হওয়ার বিচারের মুহূর্তে (আর সেটি) অর্থাৎ উক্ত সম্ভাবনা (বাস্তব ক্ষেত্রে) সুপ্রতিষ্ঠিত (তা বর্তমানে বিপরীতের সম্ভাবনা রাখাকেই আবশ্যক করে) অর্থাৎ উক্ত বিচারের মুহূর্তে (যদি বিপরীতটি লক্ষ্য করা হয়)। কারণ বিপরীত বিষয়ের সম্ভাবনা না থাকা মন থেকে তা অনুপস্থিত হওয়ার কারণে বিবেচনার বাইরে, কেননা বিচার্য বিষয় হলো বিচারকের নিকট সম্ভাবনা থাকা বা না থাকার ওপর।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الِالْتِفَات إِلَى النقيض، كَيفَ وَإِلَّا فطرفا الظَّن أَيْضا لَا يحْتَملهُ من حَيْثُ خلو ذهن الظَّان عَنهُ (فَالْحق أَن الْعلم كَذَلِك) أَي الْعلم الْمَوْصُوف بِكَوْن طَرفَيْهِ غير مُحْتَمل إِيَّاه (هُوَ مَا) أَي حكم (لَا يحْتَمل مُوجبَة التبدل) أَي الَّذِي أَفَادَهُ يكون بِحَيْثُ يَسْتَحِيل عِنْد الْعقل تخلف مفاده لما فِيهِ مِمَّا يَقْتَضِي ذَلِك (كالعقلي) أَي كالبرهان الْعقلِيّ الَّذِي مقدماته يقينية، وإنتاجه كَذَلِك (وَالْخَبَر الصَّادِق) الَّذِي يَسْتَحِيل عِنْد الْعقل كذبه وَحَاصِل هَذَا الْكَلَام إِن جَعَلْنَاهُ جَوَابا عَن الأشكال الْتِزَام خُرُوجه عَن التَّعْرِيف، وَمنع دُخُوله فِي الْمُعَرّف (وَالظَّن حكم يحْتَملهُ) أَي يحْتَمل طرفاه نقيضه عَن الظَّان إِن عرض عَلَيْهِ (مرجوحا) حَال مُؤَكدَة عَن الْمَفْعُول لكَون المرجوحية لَازِمَة لنقيضه، وَيجوز أَن يكون مَنْصُوبًا على المصدرية كَمَا لَا يخفى (وَهُوَ) الْمُحْتَمل الْمَرْجُوح (الْوَهم وَلَا حكم فِيهِ) أَي الْوَهم (لاستحالته) أَي الحكم (بالنقيصين) وَذَلِكَ لِأَن النقيض الَّذِي هُوَ مُتَعَلق الظَّن قد حكم بِهِ، فَإِن كَانَ فِي نقيضه أَعنِي مُتَعَلق الْوَهم حكم أَيْضا لزم الحكم بهما جَمِيعًا (وَالشَّكّ عدم الحكم بِشَيْء) من وُقُوع النِّسْبَة وَلَا وُقُوعهَا (بعد الشُّعُور) بهما، لِأَنَّهُ على تَقْدِير عدم الشُّعُور بِشَيْء مِنْهُمَا عدم الحكم ثَابت فِي مثل الْوَاحِد نصف الِاثْنَيْنِ (للتساوي) أَي تَسَاوِي الْوُقُوع، واللاوقوع فِي نظر الْعقل، فَإِن حكم بِشَيْء مِنْهُمَا لزم التَّرْجِيح بِلَا مُرَجّح، وَإِن حكم بهما جَمِيعًا لزم الحكم بالنقيضين، وَقد عرفت، وَلَا يخفى مَا فِي قَوْله: الشَّك عدم الحكم من الْمُسَامحَة، لِأَنَّهُ فِي الْحَقِيقَة نوع من الْإِدْرَاك يلْزمه عدم الحكم، فَهُوَ تَفْسِير باللازم (فَيخرج أحد قسمي الْجَهْل الْبَسِيط) الْجَهْل وَهُوَ عدم الحكم المطابق عَمَّا من شَأْنه الْعلم قِسْمَانِ: أَحدهمَا مَا لم يقارن الحكم بنقيض مُتَعَلّقه، إِمَّا مَعَ عدم الشُّعُور بالمتعلق، وَقد خرج عَن تَعْرِيف الشَّك، وَإِمَّا مَعَه وَلم يخرج عَنهُ، وَثَانِيهمَا مَا يقارنه، فَالْأول أقل أَجزَاء، وَلذَا سمي بالبسيط، وَبِهَذَا ظهر وَجه تَسْمِيَة الْمركب، وَالْجهل الْمركب الحكم غير المطابق، فَلم يدْخل فِي التَّعْرِيف الْمَذْكُور (وَلم نشترط جرما) فِي الْجَهْل الْمركب بل يعمه بِحَيْثُ يَشْمَل الظَّن، وَلذَا قَالَ (لِأَن الظَّن غير المطابق لَيْسَ سواهُ) أَي لَيْسَ خَارِجا عَنهُ بل هُوَ دَاخل فِيهِ كَمَا أَن الْجَزْم الْغَيْر المطابق دَاخل فِيهِ فَإِن قلت هَذَا يُخَالف مَا فِي المواقف والمقاصد من أَنه عبارَة عَن اعْتِقَاد جازم غير مُطَابق قلت لَعَلَّه ظفر بِنَقْل مفصل لم يظفرا بِهِ، أَو هُوَ من تفَاوت اصطلاحي العلمين، وَفِي التَّلْوِيح مَا يُوَافق المُصَنّف رحمه الله (وَأما التَّقْلِيد) وَهُوَ الْعَمَل بقول الْغَيْر من غير حجَّة كأخذ الْعَاميّ والمجتهد بقول مثله، فالرجوع إِلَى الرَّسُول وَالْإِجْمَاع، وَرُجُوع الْعَاميّ إِلَى الْمُفْتِي وَالْقَاضِي إِلَى الشُّهُود لَيْسَ تقليدا لقِيَام الْحجَّة فِيهَا كَمَا بَين فِي مَحَله، وَإِن سمى بعض ذَلِك تقليدا فِي الْعرف فَلَا مشاحة فِي الِاصْطِلَاح، كَذَا أَفَادَهُ الْعَلامَة الْمُحَقق القَاضِي عضد الدّين (فَلَيْسَ

বিপরীত বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করা; অন্যথায় ধারণার ক্ষেত্রেও এর উভয় পার্শ্ব (সত্য বা মিথ্যা হওয়া) ধারণাকারীর মন তা থেকে মুক্ত থাকার কারণে তা বহনে সক্ষম হতো না। (প্রকৃতপক্ষে ইলম বা জ্ঞানও তদ্রূপ) অর্থাৎ এমন জ্ঞান যার উভয় পার্শ্বের বিপরীতটি গ্রহণ করার সম্ভাবনা নেই। (তা হলো এমন) অর্থাৎ এমন একটি বিধান (যা পরিবর্তনের দাবি রাখে না) অর্থাৎ যা প্রদান করা হয়েছে তা এমন যে, আকল বা বুদ্ধির নিকট এর বিপরীত হওয়া অসম্ভব, কারণ এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা একেই আবশ্যক করে। (যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক) অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ন্যায়, যার প্রাঙ্গণসমূহ নিশ্চিত এবং এর ফলাফলও তদ্রূপ। (এবং সত্য সংবাদ) বুদ্ধির নিকট যার মিথ্যা হওয়া অসম্ভব। এই কথার সারমর্ম হলো, যদি আমরা একে আপত্তির উত্তর হিসেবে গণ্য করি, তবে তা সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যাওয়াকে আবশ্যক করে এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে বাধা দেয়। (আর ধারণা হলো এমন একটি বিধান যা তা বহন করে) অর্থাৎ ধারণাকারীর নিকট যদি বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়, তবে এর উভয় দিকই এর বিপরীতটি ঘটার সম্ভাবনা রাখে। (দুর্বলতর হিসেবে) এটি কর্মবাচক পদ থেকে একটি জোরালো অবস্থা বর্ণনা করছে, কারণ এর বিপরীত দিকটি দুর্বল হওয়া অনিবার্য; আর এটি ক্রিয়ামূল হিসেবে মানসুব হওয়াও বৈধ, যা স্পষ্ট। (আর তা হলো) যা দুর্বলতর হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, (তাহলো বিভ্রান্তি বা ওহম, আর এতে কোনো বিধান নেই) অর্থাৎ ওহমের ক্ষেত্রে (কেননা এটি অসম্ভব) অর্থাৎ একই সাথে দুটি বিপরীত বিধান থাকা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্ভব। কারণ, ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট যে বিপরীত বিষয়টি রয়েছে, সে ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে গেছে। এখন যদি এর বিপরীতে অর্থাৎ ওহমের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়েও বিধান থাকে, তবে উভয় বিধানই একত্রে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। (আর সন্দেহ হলো কোনো বিষয়ে বিধান না থাকা) সম্পর্কের বাস্তবতা ঘটা বা না ঘটার কোনোটির পক্ষেই রায় না থাকা (তা অনুধাবন করার পর)। কারণ, যদি দুটির কোনোটিই অনুধাবন করা না যায়, তবে বিধান না থাকা বিষয়টি সুনিশ্চিত, যেমন এক হলো দুই এর অর্ধেক—এমন বোধ না থাকা। (সমতার কারণে) অর্থাৎ বুদ্ধির দৃষ্টিতে ঘটা এবং না ঘটা সমান হওয়া। এমতাবস্থায় যদি কোনো একটির পক্ষে রায় দেওয়া হয় তবে কোনো কারণ ছাড়াই প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক হবে, আর যদি দুটির পক্ষেই রায় দেওয়া হয় তবে দুটি বিপরীতমুখী বিষয়ের রায় দেওয়া হবে যা ইতিপূর্বেই জানা গেছে। আর তার বক্তব্য 'সন্দেহ হলো বিধানের অনুপস্থিতি' - এর মধ্যে যে শিথিলতা রয়েছে তা গোপন নয়; কারণ বাস্তবে এটি এক প্রকার উপলব্ধি যার অনিবার্য ফলাফল হলো বিধান না দেওয়া। সুতরাং এটি হলো অনিবার্য পরিণতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা। (ফলে সরল অজ্ঞতা বা জাহলে বাসীতের দুটি প্রকারের একটি বের হয়ে যায়)। অজ্ঞতা হলো এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত বিধানের অনুপস্থিতি যা জানার যোগ্যতা রাখে। এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিপরীতের সাথে কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট হয় না; হয় সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অনুধাবন না করার সাথে, যা সন্দেহের সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে গেছে; অথবা তা অনুধাবন করার সাথে, যা তা থেকে বের হয়নি। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। প্রথম প্রকারটির অংশসমূহ কম, তাই একে 'বাসীত' (সরল) বলা হয়। এর মাধ্যমেই 'মুরাক্কাব' (জটিল) নামকরণের কারণ স্পষ্ট হয়। আর জটিল অজ্ঞতা হলো বাস্তবতা বিরোধী এমন বিধান যা উল্লিখিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। (আমরা দৃঢ় বিশ্বাসকে শর্ত করিনি) জটিল অজ্ঞতার ক্ষেত্রে, বরং তা ব্যাপক রাখা হয়েছে যাতে ধারণাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। আর একারণেই তিনি বলেছেন: (কেননা বাস্তবতা বিরোধী ধারণাও এর বাইরে নয়) অর্থাৎ এটি জটিল অজ্ঞতা থেকে বহির্ভূত নয় বরং এর অন্তর্ভুক্ত, ঠিক যেমন বাস্তবতা বিরোধী দৃঢ় বিশ্বাসও এর অন্তর্ভুক্ত। যদি আপনি বলেন, এটি 'মাওয়াকিফ' এবং 'মাকাসিদ' কিতাবদ্বয়ে যা রয়েছে তার বিপরীত, কারণ সেখানে একে বাস্তবতা বিরোধী দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আমি বলব, সম্ভবত তিনি এমন কোনো বিস্তারিত বর্ণনা পেয়েছেন যা ওই লেখকদ্বয় পাননি, অথবা এটি দুই শাস্ত্রের পরিভাষাগত পার্থক্যের কারণে হয়েছে। আর 'তালবীহ' কিতাবে এমন বর্ণনা রয়েছে যা গ্রন্থকারের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মতের অনুকূলে। (আর তাকলীদ প্রসঙ্গে) তা হলো কোনো প্রমাণ ছাড়াই অন্যের কথা অনুযায়ী আমল করা, যেমন সাধারণ মানুষ বা মুজতাহিদের জন্য তার সমপর্যায়ের কারো কথা গ্রহণ করা। পক্ষান্তরে রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা ইজমা অনুসরণ করা এবং সাধারণ মানুষের মুফতির নিকট যাওয়া বা বিচারকের সাক্ষীদের কথার ওপর নির্ভর করা তাকলীদ নয়, কারণ এগুলোর পেছনে প্রমাণ বিদ্যমান, যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও সাধারণ রীতিতে এর কোনো কোনোটিকে তাকলীদ বলা হয়, তবে পরিভাষা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। প্রাজ্ঞ গবেষক আল্লামা কাযী আযুদুদ্দীন এমনটিই উল্লেখ করেছেন (সুতরাং তা নয়...

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
من حَقِيقَته ظن) أَي لَيْسَ من لَوَازِم حَقِيقَة التَّقْلِيد أَن يحصل للمقلد ظن بمضمون مَا قلد فِيهِ، وَذَلِكَ لما عرفت من أَنه عبارَة عَن الْعَمَل الْمَذْكُور بِغَيْر حجَّة، وَالَّذِي يعْمل بقول مثله من غير دَلِيل يجوز خلوه عَن التَّصْدِيق بمضمون ذَلِك القَوْل، وَلَيْسَ فِيهِ مَا يَقْتَضِي اعْتِبَاره، وَالْأَصْل عدم الحكم وَإِن اتّفق ذَلِك، فَهُوَ أَمر لَا تَقْتَضِيه حَقِيقَته (فضلا عَن الْجَزْم كَمَا قيل) من أَن التَّقْلِيد لَا يَقْتَضِي التَّصْدِيق بمضمون مَا قلد فِيهِ فَإِن قلت الظَّن رُجْحَان أحد طرفِي النِّسْبَة مَعَ تَجْوِيز الآخر، فَيجوز أَلا يكون هَذَا الْقَيْد من حَقِيقَة التَّقْلِيد، بِاعْتِبَار الْقَيْد، وَهَذَا الْقَيْد مُنْتَفٍ فِي الْجَزْم، فَيجوز أَن يكون من حَقِيقَته قلت أَرَادَ بِالظَّنِّ الْمَنْفِيّ كَونه من حَقِيقَة التَّقْلِيد الرجحان الْمَذْكُور، فَكَأَنَّهُ قَالَ لَيْسَ من حَقِيقَته رُجْحَان مَا قلد فِيهِ على نقيضه فضلا عَن الْجَزْم الَّذِي فِيهِ ذَلِك الرجحان مَعَ زِيَادَة عدم احْتِمَال عدم النقيض فَإِن قلت المُصَنّف رحمه الله قد صرح فِي مَبْحَث التَّقْلِيد أَن إِيمَان الْمُقَلّد صَحِيح، لكنه آثم بترك النّظر، وَكَيف يَصح وتقليده لَا يسْتَلْزم التَّصْدِيق، وَهُوَ جُزْء من الْإِيمَان قلت معنى الْكَلَام أَن التَّصْدِيق لَيْسَ من لَوَازِم التَّقْلِيد مُطلقًا، فَيجوز أَن يكون لَازِما إِذا قيد بِقَيْد يَقْتَضِيهِ ككون مَا قلد فِيهِ من مقولة التَّصْدِيق، فَإِن الْعَمَل بِهِ لَا يتَصَوَّر بِدُونِهِ، على أَنه يجوز أَن يكون مَبْنِيّ هَذَا الْكَلَام على مَا ذهب إِلَيْهِ القَاضِي على مَا مر، فَإِن إِيمَان الْمُقَلّد بعد وجود الْمُجْتَهدين رُجُوع إِلَيْهِم، فَهُوَ من بَاب رُجُوع الْعَاميّ إِلَى الْمُفْتِي، وَهُوَ لَيْسَ بتقليد بِالْمَعْنَى الْمَذْكُور، لِأَنَّهُ عمل بقوله مَعَ حجَّة، وَهِي الْإِجْمَاع على وجوب اتِّبَاعه إِيَّاه، وَمَا ذكره فِي آخر الْكتاب على تَحْقِيقه من أَن التَّقْلِيد هُوَ الْعَمَل بقول من لَيْسَ قَوْله إِحْدَى الْحجَج بِلَا حجَّة مِنْهَا، فَمِنْهُ رُجُوع الْعَاميّ إِلَى الْمُفْتِي (بل قد يقدر عَلَيْهِ) أَي على ظن مَا قلد فِيهِ (إِذا كَانَ الْمُقَلّد) فَاعل يقدر وَكَانَ، على سَبِيل التَّنَازُع (قَرِيبا) من الِاجْتِهَاد بِأَن يكون عَالما بِطرف صَالح من عُلُوم الِاجْتِهَاد بدليله لَا يُقَال عِنْد حُصُول الظَّن عَن الدَّلِيل يخرج عَن التَّقْلِيد لِأَن من لم يبلغ دَرَجَة الِاجْتِهَاد لَا عِبْرَة بظنه، وَلذَا لَا يجب عَلَيْهِ اتِّبَاع ظَنّه (وَقد لَا) يقدر عَلَيْهِ إِمَّا لبعده عَنهُ، أَو لمَانع آخر كتعارض الأمارات من غير قُوَّة التَّرْجِيح (وغايته) أَي الْمُقَلّد (إِذن) أَي إِذا لم يقدر على ظن مَا قلد فِيهِ (حسن ظَنّه بمقلده) فَيحصل لَهُ بذلك ظن بِمَا قلد فِيهِ لَكِن لَا عَن دَلِيله، بل بِأَنَّهُ حكم أدّى إِلَيْهِ اجْتِهَاد عَالم عَظِيم الشَّأْن، فَالظَّاهِر أَن يكون صَوَابا (وَقد يكون) أَي يُوجد التَّقْلِيد (وَلَا ظن) للمقلد بِأحد الْوَجْهَيْنِ (مَعَ علمه) أَي الْمُقَلّد (أَنه) أَي الْمُقَلّد بِفَتْح اللَّام (مفضول) فِيمَا قلد فِيهِ أَو مُطلقًا، لِأَن الْجُمْهُور على جَوَاز تَقْلِيد الْمَفْضُول مَعَ وجود الْفَاضِل كَمَا سَيَأْتِي (وَخرج التَّصَوُّر عَن الْعلم وَالظَّن على) قَول (الْأَكْثَر) أَي أَكثر الْأُصُولِيِّينَ (اصْطِلَاحا) على وضع لفظ الْعلم بِإِزَاءِ مَا لَا يصدق على التَّصَوُّر
(তার হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপের অন্তর্ভুক্ত হলো জন্ন বা ধারণা) অর্থাৎ তাকলীদের হাকীকতের জন্য এটি অনিবার্য বিষয় নয় যে, মুকাল্লিদ যে বিষয়ে তাকলীদ করছে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তার মাঝে কোনো জন্ন বা ধারণা সৃষ্টি হবে। আর এটি এ কারণেই যে, আপনি অবগত হয়েছেন যে তাকলীদ হলো কোনো প্রমাণ ব্যতিরেকে উল্লিখিত আমল করা। আর যে ব্যক্তি কোনো দলিল ছাড়াই তার সমপর্যায়ের কারো কথা অনুযায়ী আমল করে, তার পক্ষে সেই কথার বিষয়বস্তুকে তাসদীক করা বা সত্য বলে বিশ্বাস করা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। আর এর মাঝে এমন কিছু নেই যা তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করাকে আবশ্যক করে। আর মূলনীতি হলো হুকুমের অনুপস্থিতি, যদিও কখনও তাসদীক পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং এটি এমন বিষয় যা তার হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ দাবি করে না (জযম বা দৃঢ় নিশ্চয়তার তো প্রশ্নই আসে না, যেমনটি বলা হয়েছে)। অর্থাৎ তাকলীদ সে বিষয়ে তাসদীককে আবশ্যক করে না যে বিষয়ে তাকলীদ করা হচ্ছে। যদি আপনি বলেন, ‘জন্ন’ হলো অপর সম্ভাবনাকে জায়েজ রাখা সত্ত্বেও কোনো এক দিকের প্রাধান্য লাভ করা, ফলে এই শর্তটি তাকলীদের হাকীকতের অংশ না হওয়া সম্ভব, আর এই শর্তটি ‘জযম’-এর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত, তাই সেটি তার হাকীকতের অংশ হতে পারে। আমি বলব, তাকলীদের হাকীকত থেকে যে ‘জন্ন’কে অস্বীকার করা হয়েছে তা দ্বারা উক্ত প্রাধান্যকেই বোঝানো হয়েছে। যেন তিনি বলেছেন: তাকলীদের হাকীকত এমন নয় যে, যা তাকলীদ করা হচ্ছে তা তার বিপরীতে ওপর প্রাধান্য পাবে, ‘জযম’ তো বহু দূরের কথা যাতে সেই প্রধাণ্য লাভের পাশাপাশি বিপরীত সম্ভাবনা না থাকার বিষয়টি অতিরিক্ত হিসেবে থাকে। যদি আপনি বলেন, মুসান্নিফ (রহিমাহুল্লাহ) তাকলীদের অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে মুকাল্লিদের ঈমান সহীহ, তবে সে চিন্তা ও গবেষণার বর্জনের কারণে গুনাহগার। এখন তার ঈমান কীভাবে সহীহ হতে পারে অথচ তার তাকলীদ তাসদীককে আবশ্যক করে না, যেখানে তাসদীক ঈমানের অংশ? আমি বলব, এই কথার অর্থ হলো—তাসদীক বা সত্যয়ন নিরঙ্কুশভাবে তাকলীদের আবশ্যকীয় বিষয় নয়। তবে কোনো বিশেষ শর্ত যুক্ত হলে তা আবশ্যক হওয়া সম্ভব, যেমন—তাকলীদকৃত বিষয়টি যদি তাসদীকের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ এটি ছাড়া আমল করা কল্পনা করা যায় না। তদুপরি, এই বক্তব্যটি কাজীর সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে হওয়া সম্ভব যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। কেননা মুজতাহিদগণের উপস্থিতিতে মুকাল্লিদের ঈমান মূলত তাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। সুতরাং এটি সাধারণ মানুষের মুফতির দিকে প্রত্যাবর্তনের ন্যায়, যা উল্লিখিত সংজ্ঞায় তাকলীদ নয়। কারণ এটি দলিলের ভিত্তিতে আমল করা, আর তা হলো মুফতির অনুসরণ ওয়াজিব হওয়ার ওপর ইজমা বা ঐকমত্য। আর কিতাবের শেষে তিনি তার গবেষণালব্ধ মত হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—তাকলীদ হলো এমন ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করা যার কথা স্বয়ং কোনো দলিল নয় এবং যার সপক্ষে কোনো দলিলও নেই। সুতরাং সাধারণ মানুষের মুফতির শরণাপন্ন হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। (বরং কখনও সে সক্ষম হতে পারে) অর্থাৎ মুকাল্লিদ সক্ষম হতে পারে যে বিষয়ে তাকলীদ করছে সে সম্পর্কে জন্ন লাভে (যখন মুকাল্লিদ) সক্ষম হওয়া এবং হওয়ার ক্রিয়াপদ দুটির কর্তারূপে (ইজতিহাদের নিকটবর্তী হবে)। এভাবে যে, সে ইজতিহাদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহের একটি বড় অংশ দলিলসহ জানে। এমন বলা যাবে না যে, দলিল থেকে জন্ন অর্জিত হলে সে তাকলীদের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে, কারণ যে ব্যক্তি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছায়নি তার জন্মের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। আর এ কারণেই তার নিজ জন্মের অনুসরণ করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (আর কখনও সক্ষম হয় না) সে সম্পর্কে জন্ন লাভে, হয় তার থেকে বহু দূরে হওয়ার কারণে, অথবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে যেমন দালিলিক নির্দেশনাসমূহের পরস্পর বিরোধিতা যেখানে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার সামর্থ্য নেই। (আর মুকাল্লিদের চূড়ান্ত সীমা তখন) অর্থাৎ যখন সে জন্ন লাভে সক্ষম হয় না (হলো তার মুকাল্লাদ বা যার অনুসরণ করা হচ্ছে তার প্রতি সুধারণা পোষণ করা)। এর মাধ্যমে তার নিকট তাকলীদকৃত বিষয়টি সম্পর্কে জন্ন সৃষ্টি হয় কিন্তু তা সেই বিষয়ের দলিল থেকে নয়, বরং এই যুক্তিতে যে এটি এমন এক হুকুম যা একজন উচ্চপদস্থ আলেমের ইজতিহাদলব্ধ ফলাফল, সুতরাং বাহ্যত এটি সঠিক হবে। (আর কখনও পাওয়া যায়) অর্থাৎ তাকলীদ সংঘটিত হয় (অথচ কোনো জন্ন থাকে না) মুকাল্লিদের নিকট উল্লিখিত কোনো পন্থায় (তার এ কথা জানা সত্ত্বেও যে তিনি) অর্থাৎ মুকাল্লাদ (নিম্নতর বা মফযুল) যে বিষয়ে তাকলীদ করা হচ্ছে সে বিষয়ে অথবা সাধারণভাবে। কারণ জমহুরের মতে ফাযিল বা শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তির উপস্থিতিতে মফযুল বা নিম্নতর ব্যক্তির তাকলীদ করা জায়েজ, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। (আর অধিকাংশ উসুলবিদের পরিভাষা অনুযায়ী তাসাওউবুর বা নিছক ধারণা ইলম ও জন্ন থেকে বহির্ভূত) অর্থাৎ ‘ইলম’ শব্দটিকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যা তাসাওউবুরের ওপর প্রযোজ্য হয় না।
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
(لَا لاعْتِبَار الْمُوجب) أَي لَا لأجل أَنهم اعتبروا فِي حد الْعلم أَن يكون عدم احْتِمَال النقيض فِيهِ لموجب وَلَا مُوجب لعدم احْتِمَاله فِي التَّصَوُّر، كَيفَ وَهُوَ غير مندرج فِي جنس التَّعْرِيف؟.

(وَقد يُقَال) فِي تَعْرِيف الْعلم (صفة) أَي أَمر قَائِم بِغَيْرِهِ (توجب تمييزا) أَي توجب كَون محلهَا، وَهُوَ النَّفس مُمَيزَة لما تعلّقت بِهِ الصّفة، فَإِن الْعلم صفة ذَات تعلق، والمميز هُوَ الْعَالم لَا الْعلم، فَخرج مَا عدا الادراكات من الصِّفَات النفسية كالشجاعة وَغَيرهَا كالسواد، فَإِنَّهَا وَإِن أوجبت لمحالها تمييزا ضَرُورَة تَمْيِيز الشجاع بشجاعته عَن الجبان، وَالْأسود بسواده عَن الْأَبْيَض لَكِنَّهَا لَا توجب لَهَا تمييزا، بِأَن تميز بِسَبَب اتصافها بهَا شَيْئا عَن شَيْء، كَمَا إِذا حصلت فِي النَّفس صُورَة زيد واتصفت بهَا ميزت بذلك الاتصاف زيدا عَن غَيره (لَا يحْتَمل) نقيض مُتَعَلّقه، أَي مَعَ حُصُول ذَلِك التَّمْيِيز لَا يجوز الْعقل تحقق النقيض فِي نفس الْأَمر، فَإِن كَانَ التَّمْيِيز الْمَذْكُور إِدْرَاك وُقُوع النِّسْبَة على سَبِيل الْجَزْم لم يجوز عدم وُقُوعهَا فِيهِ، وَإِن كَانَ إِدْرَاك اللاوقوع فبالعكس، وَإِن كَانَ تصورا ساذجا لَا يجوز كَون مُتَعَلّقه خلاف مَا تميز وانكشف بِهِ وَلذَا قَالَ (فَيدْخل) أَي التَّصَوُّر فِي هَذَا التَّعْرِيف لصدقه عَلَيْهِ بِخِلَاف التَّعْرِيف الأول، وَخرج بقوله لَا يحْتَمل الظَّن لاحْتِمَال النقيض، وَكَذَا الْجَهْل الْمركب لاحْتِمَال أَن يطلع صَاحبه على مَا فِي الْوَاقِع فيزول عَنهُ مَا حكم بِهِ من الْإِيجَاب وَالسَّلب إِلَى نقيضه، وَكَذَا التَّقْلِيد لاحْتِمَال زَوَاله بالتشكيك (وَعدم الْمُطَابقَة فِي تصور الْإِنْسَان صها لَا للْحكم الْمُقَارن، أما الصُّورَة فَلَا تحْتَمل غَيرهَا) جَوَاب سُؤال، وَهُوَ أَن التَّصَوُّر لَو لم يحْتَمل نقيض مُتَعَلّقه، لَكَانَ كل تصور مطابقا لمتعلقه لَا محَالة، كَمَا أَن كل تَصْدِيق لَا يحْتَملهُ كَذَلِك، وَاللَّازِم بَاطِل، فَإِن تصور الْإِنْسَان بِصُورَة الصاهلية مثلا تصور غير مُطَابق لمتعلقه، وَهِي الْحَقِيقَة الإنسانية، وَالْجَوَاب أَنه لَيْسَ مُتَعَلق ذَلِك التَّصَوُّر حَقِيقَة الْإِنْسَان بل حَقِيقَة الْفرس، غَايَة الْأَمر أَن المتصور أَخطَأ فِي الحكم بِأَن مُتَعَلّقه الْإِنْسَان فَعدم الْمُطَابقَة إِنَّمَا هُوَ فِي هَذَا الحكم، وَأما الصُّورَة الْمَذْكُورَة فَلَا تحْتَمل غير متعلقها الَّذِي هُوَ الْفرس فِي نفس الْأَمر، وَذَلِكَ لِأَن مُتَعَلق كل صُورَة مَا هِيَ ظلّ لَهُ وانعكست عَنهُ وَصَارَت هِيَ سبّ انكشافه، وَلَا شكّ أَن صور الصهال سَبَب انكشاف حَقِيقَة الْعَكْس عَنْهَا تِلْكَ الصُّورَة، وَهِي حَقِيقَة الْفرس، وتسميتها إنْسَانا خطأ نَشأ من التَّوَهُّم، فَهِيَ لَا تحْتَمل غَيرهَا.

(وَالْوَجْه) فِي تَعْرِيف الْعلم على وَجه يعم التَّصَوُّر أَن يُقَال (أَنه تَمْيِيز، وَإِلَّا) أَي وَإِن لم يقل كَذَا، بل يُقَال صفة كَمَا ذكر لم يكن التَّعْرِيف مَانِعا (فَإِنَّمَا يصدق على القوه الْعَاقِلَة) وَهِي كَيْفيَّة للنَّفس بهَا تدْرك الْأَشْيَاء، لِأَنَّهَا صفة توجب التَّمْيِيز، لِأَن المُرَاد بإيجابها استعقابها بِخلق الله التَّمْيِيز عَادَة فَإِن قلت إِيجَابهَا التَّمْيِيز بِوَاسِطَة الْعلم، وَإِيجَاب الْعلم إِيَّاه بِغَيْر وَاسِطَة، والمتبادر
(আবশ্যককারীর বিবেচনার কারণে নয়) অর্থাৎ এই কারণে নয় যে, তারা জ্ঞানের সংজ্ঞায় বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকাকে কোনো আবশ্যককারীর (মুজিব) কারণে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন; অথচ ধারণার (তাসাউয়ুর) ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা না থাকার পেছনে কোনো আবশ্যককারী নেই। তা কীভাবে হতে পারে যখন ধারণা সংজ্ঞার মূল শ্রেণির (জিনিস) অন্তর্ভুক্তই নয়?

(কখনও বলা হয়) জ্ঞানের সংজ্ঞায় (এটি একটি বৈশিষ্ট্য) অর্থাৎ অন্য কিছুর সাথে বিদ্যমান এমন একটি বিষয়, (যা পার্থক্য সৃষ্টি করে) অর্থাৎ যা তার আধার তথা আত্মার জন্য এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করে যার মাধ্যমে আত্মা সেই বিষয়টিকে পৃথক করতে পারে যার সাথে বৈশিষ্ট্যটি সম্পর্কিত। কেননা জ্ঞান হলো সম্পর্কযুক্ত একটি বৈশিষ্ট্য; আর পার্থক্যকারী হলেন জ্ঞানী নিজে, জ্ঞান স্বয়ং নয়। এর মাধ্যমে উপলব্ধি ব্যতীত অন্যান্য মানসিক গুণাবলি যেমন সাহসিকতা বা কৃষ্ণতা (কালো হওয়া) ইত্যাদি বহির্ভূত হয়ে গেল। যদিও এগুলোও তাদের আধারের জন্য অপরিহার্যভাবে পার্থক্য সৃষ্টি করে (যেমন সাহসী ব্যক্তিকে তার সাহসিকতার কারণে ভীরু থেকে এবং কালো বস্তুকে তার কালো রঙের কারণে সাদা থেকে পার্থক্য করা হয়), তবে এগুলো আত্মার জন্য এমন পার্থক্য সৃষ্টি করে না যার ফলে সেই গুণের কারণে আত্মা এক বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করতে পারে। যেমন যখন আত্মার মধ্যে জায়েদের প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি হয় এবং আত্মা সেই গুণের অধিকারী হয়, তখন এই গুণের কারণে আত্মা জায়েদকে অন্য সবার থেকে পৃথক করতে পারে। (যা সম্ভাবনা রাখে না) তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিপরীত হওয়ার। অর্থাৎ, সেই পার্থক্য অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে বুদ্ধি প্রকৃত বাস্তবতায় তার বিপরীতটি ঘটার অবকাশ রাখে না। যদি উক্ত পার্থক্যটি দৃঢ়তার সাথে কোনো বিষয়ের সম্পর্কের উপলব্ধি হয়, তবে সেই সম্পর্ক না থাকার সম্ভাবনা থাকে না। আর যদি তা সম্পর্ক না থাকার উপলব্ধি হয়, তবে এর উল্টোটি ঘটে। আর যদি তা কেবল একটি সাধারণ ধারণা হয়, তবে যার সাথে এটি সম্পর্কিত হয়েছে, তা সেই পার্থক্যের এবং উন্মোচনের বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না। এই কারণেই তিনি বলেছেন (ফলে তা অন্তর্ভুক্ত হয়) অর্থাৎ ধারণা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ এর ওপর সংজ্ঞাটি সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়; যা প্রথম সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ছিল না। আর "সম্ভাবনা রাখে না" বলার মাধ্যমে 'ধারণা বা অনুমান' বাদ পড়ে গেছে, কারণ সেখানে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে 'যৌগিক মূর্খতা' বাদ পড়েছে, কারণ তার অধিকারীর সামনে প্রকৃত বাস্তবতা উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে সে না-বাচক বা হাঁ-বাচক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা অপসারিত হয়ে তার বিপরীতে চলে যায়। অনুরূপভাবে 'অন্ধ অনুসরণ'ও বাদ পড়েছে, কারণ সংশয়ের মাধ্যমে তা অপসারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (মানুষকে চিঁহিঁ রবকারী হিসেবে কল্পনা করার ক্ষেত্রে অসংগতিটি কেবল সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, আর সেই প্রতিচ্ছবিটি তার নিজ সত্তার বাইরে অন্য কিছুর সম্ভাবনা রাখে না) এটি একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হলো: যদি ধারণা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা না রাখত, তবে প্রতিটি ধারণাই আবশ্যিকভাবে তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হতো, ঠিক যেমন প্রতিটি প্রত্যয়ন (তাসদিক) বিপরীতের সম্ভাবনা রাখে না। অথচ এর ফলাফল তো বাতিল বা ভুল হতে দেখা যায়। যেমন মানুষকে 'চিঁহিঁ রবকারী' হিসেবে কল্পনা করা একটি ধারণা যা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে অসংগত, আর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি হলো মানব প্রকৃতি। এর উত্তর হলো: সেই ধারণার সংশ্লিষ্ট বিষয়টি মানুষের প্রকৃত সত্তা নয়, বরং তা ঘোড়ার প্রকৃত সত্তা। চূড়ান্ত কথা হলো, যে ব্যক্তি কল্পনা করেছে সে এই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে যে তার ধারণার বিষয়টি 'মানুষ'। সুতরাং অসংগতিটি কেবল এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর উল্লিখিত প্রতিচ্ছবিটি বাস্তব ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট বিষয় (যা হলো ঘোড়া) ব্যতীত অন্য কিছুর সম্ভাবনা রাখে না। কারণ প্রতিটি প্রতিচ্ছবি বা চিত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো সেটিই যার ছায়া এটি এবং যা থেকে এটি প্রতিফলিত হয়েছে এবং যা তার উন্মোচনের কারণ হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে 'চিঁহিঁ রবকারীর' চিত্রটি সেই প্রকৃত সত্তা উন্মোচনের কারণ যা থেকে এই চিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে, আর তা হলো ঘোড়ার প্রকৃত সত্তা। একে 'মানুষ' হিসেবে নামকরণ করা একটি ভুল যা ভ্রম থেকে উদ্ভূত হয়েছে। সুতরাং এটি তার আপন সত্তা ছাড়া অন্য কিছুর সম্ভাবনা রাখে না।

(যথাযথ পদ্ধতি) জ্ঞানের সংজ্ঞাকে এমনভাবে প্রদান করা যা ধারণাকেও শামিল করে, তা হলো এই বলা যে: (নিশ্চয়ই তা একটি পার্থক্য)। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি এমনটি না বলা হয় বরং পূর্বোক্ত বর্ণনার ন্যায় 'বৈশিষ্ট্য' বলা হয়, তবে সংজ্ঞাটি অন্যকে বর্জনকারী হবে না। (তখন তা কেবল আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির ওপর প্রযোজ্য হবে) যা আত্মার একটি গুণ যার মাধ্যমে সে বস্তুকে উপলব্ধি করে। কারণ এটিও এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা পার্থক্যকে আবশ্যক করে। কেননা 'আবশ্যক করা' বলতে এখানে আল্লাহর সৃষ্টির মাধ্যমে অভ্যাসগতভাবে পার্থক্যের অনুগামী হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। যদি আপনি বলেন: আকলি শক্তি জ্ঞানের মাধ্যমে পার্থক্যকে আবশ্যক করে, আর জ্ঞান কোনো মাধ্যম ছাড়াই তা করে, তবে এর উত্তর হলো...
(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
هُوَ الْإِيجَاب بِغَيْر وَاسِطَة، فَيحمل عَلَيْهِ فَلَا نقض حِينَئِذٍ قلت مُرَاده الْوَجْه الْأَحْسَن أَنه تَمْيِيز لِأَنَّهُ غير مُحْتَاج إِلَى التَّأْوِيل وَاعْلَم أَن ابْن الْحَاجِب عرف الْعلم بِمَا يعم التَّصَوُّر وَذكر مباحثه وَالْمُصَنّف رحمه الله اقْتصر على مَا هُوَ الأهم فِي الْأُصُول وَتركهَا لقلَّة الِاحْتِيَاج إِلَيْهَا لِأَن الْمَقْصُود مِنْهُ بَيَان طرق الِاسْتِدْلَال بالأدلة الشَّرْعِيَّة على الْأَحْكَام، لَا طرق التَّعْرِيف بالمعرفات وَلما وَقع التَّعَرُّض للتصور، وَمِنْه الْحَد، وَقد ذكرُوا أَنه لَا يكْتَسب بالبرهان وَلَا يُعَارض وَلَا يمْنَع أَشَارَ إِلَى مَا يُفِيد هَذِه الْأَحْكَام، فَقَالَ (وَلَا دَلِيل) يُقَام (إِلَّا على نِسْبَة) إيجابية أَو سلبية، وَلَا نِسْبَة فِي تعقل حَقِيقَة الْحَد، فَلَا يُقَام عَلَيْهِ وَلَا يكْتَسب بِهِ (وَكَذَا الْمُعَارضَة) لِأَنَّهَا إِقَامَة الدَّلِيل على خلاف مَا أَقَامَ عَلَيْهِ الْخصم، وَكَذَا الْمَنْع، لِأَنَّهُ طلب الدَّلِيل على مُقَدّمَة الدَّلِيل (وَذَلِكَ) أَي إِقَامَة الدَّلِيل والمعارضة إِنَّمَا تكون (عِنْد ادعائها) أَي الصُّور التصورية (صُورَة كَذَا) ثَانِي مفعولي الادعاء (كصور الْحُدُود) أَي كادعاء صور الْحُدُود صور محدوداتها كَمَا إِذا ادعيت أَن الصُّورَة الْحَاصِلَة فِي الْعقل من الْحَيَوَان النَّاطِق صُورَة الْإِنْسَان (وَحِينَئِذٍ) أَي حِين يدعى ذَلِك فِي الْحُدُود (تقبل) صور الْحُدُود بِسَبَب انضمام الحكم الْمَذْكُور إِلَيْهَا (الْمَنْع) إِمَّا حَقِيقَة إِن أقيم عَلَيْهِ دَلِيل، وَإِمَّا مجَازًا إِن لم يقم (وَيدْفَع) الْمَنْع (فِي) الْحَد (الأسمى) وَهُوَ على مَا مر بَيَانه مَا وضع الِاسْم بإزائه، وَمنعه مَعْنَاهُ لَا نسلم كَون هَذَا مَا وضع بإزائه الِاسْم (بِالنَّقْلِ) مُتَعَلق بيدفع، فَإِن كَانَ لغويا ينْقل عَن أهل اللُّغَة، وَإِن كَانَ شَرْعِيًّا عَن أهل الشَّرْع، وعَلى هَذَا الْقيَاس (وَفِي) منع الْحَد (الْحَقِيقِيّ) بِأَن يُقَال لَا نسلم أَن هَذَا مَجْمُوع ذاتيات هَذَا الْمَحْدُود (الْعَجز) أَي عجز الحاد عَن دفع هَذَا الْمَنْع (لَازم) لِأَن معرفَة ذاتيات الماهيات الْحَقِيقِيَّة متعذرة، وَالْمرَاد تعذره بِالْقُوَّةِ الْعَاقِلَة، فَلَا يُنَافِي حُصُوله بالكشف الإلهي (لَا لما قيل) من أَنه (لَا يكْتَسب الْحَد بالبرهان للاستغناء عَنهُ) من جملَة الْمَقُول، وَكَذَا قَوْله (إِذْ ثُبُوت أَجزَاء الشَّيْء لَهُ لَا يتَوَقَّف إِلَّا على تصَوره) بَيَانه أَن الْحَد مَجْمُوع أَجزَاء الْمَحْدُود، وَلَا فرق بَينهمَا إِلَّا بالإجمال وَالتَّفْصِيل فتغايرهما اعتباري، وكما أَن ثُبُوت الشَّيْء لنَفسِهِ من غير اعْتِبَار تغاير بَينهمَا ضَرُورِيّ مستغن عَن الْبَيَان كَذَلِك مَعَ التغاير الاعتباري غَايَة الْأَمر فِيهِ تَفْصِيل الْأَجْزَاء بِثُبُوت أَجزَاء الشَّيْء لَهُ لَا يتَوَقَّف إِلَّا على تصور ذَلِك الشَّيْء تَفْصِيلًا، وَهُوَ حَاصِل فِي نفس الْحَد، ثمَّ علل النَّفْي بقوله (لِأَن الْفَرْض) أَي الْمَفْرُوض (جَهَالَة كَونهَا) أَي أَجزَاء الشَّيْء الَّتِي هِيَ الْحَد (أَجزَاء الصُّورَة الإجمالية) الَّتِي هِيَ الْمَحْدُود (ونسبتها) أَي تِلْكَ الْأَجْزَاء (إِلَيْهَا) أَي الصُّورَة الإجمالية (بالجزئية مُجَرّد دَعْوَى فَلَا يُوجِبهُ) أَي ثُبُوت كَونهَا أَجزَاء للصورة الإجمالية (إِلَّا دَلِيل) والمفروض عَدمه (أَو للدور) عطف على قَوْله للاستغناء أَي لَا يكْتَسب الْحَد بالبرهان للُزُوم

এটি মাধ্যম ব্যতীত সাব্যস্তকরণ, সুতরাং একে তার ওপর প্রয়োগ করা হবে। এমতাবস্থায় আর কোনো আপত্তি থাকবে না। আমি বললাম, তাঁর উদ্দেশ্য হলো উত্তম দিকটি, কারণ এটি একটি 'তাময়িজ' (পার্থক্যকারী), যেহেতু এটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়। আর জেনে রাখুন যে, ইবনে হাজিব ইলম বা জ্ঞানের এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যা 'তাসাউয়ুর' (ধারণা) এবং 'তাসদিক' (সত্যায়ন) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং তিনি এর বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছেন। কিন্তু গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) কেবল উসূলের ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং ইলমের অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বর্জন করেছেন; কারণ উসূলের মূল উদ্দেশ্য হলো শরীয়তের দলিলসমূহের মাধ্যমে বিধানাবলি প্রমাণের পদ্ধতি বর্ণনা করা, সংজ্ঞায়ন বা 'মুয়াররিফাত' এর পদ্ধতি বর্ণনা করা নয়।

যেহেতু 'তাসাউয়ুর' (ধারণা) প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে—যার অন্তর্ভুক্ত হলো 'হাদ্দ' বা সংজ্ঞা—এবং তারা (বিদ্বানগণ) উল্লেখ করেছেন যে, এটি প্রমাণের (বুরহান) মাধ্যমে অর্জিত হয় না, এর বিরোধিতা করা যায় না এবং একে বাধা প্রদান করা যায় না—তাই তিনি সেই বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা এই বিধানগুলোকে স্পষ্ট করে। অতঃপর তিনি বললেন: "কোনো দলিল পেশ করা হয় না কেবল 'নিসবাত' বা সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই", হোক তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক। আর সংজ্ঞার স্বরূপ অনুধাবনের ক্ষেত্রে কোনো সম্পর্ক বা 'নিসবাত' নেই, সুতরাং এর ওপর দলিল পেশ করা যায় না এবং এর দ্বারা কিছু অর্জনও করা যায় না।

অনুরূপভাবে 'মুয়ারাযাহ' বা সংজ্ঞার বিরোধিতা করা যায় না, কারণ মুয়ারাযাহ হলো প্রতিপক্ষ যে বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করেছে তার বিপরীতে দলিল পেশ করা। তেমনিভাবে 'মান’' বা বাধা প্রদানও করা যায় না, কারণ তা হলো দলিলের কোনো المقدمة বা প্রাক-ভিত্তির ওপর দলিল তলব করা। আর দলিল পেশ করা এবং বিরোধিতা করা তখনই ঘটে যখন কোনো কিছুকে "এমন একটি রূপ" হিসেবে দাবি করা হয়—যা দাবিকৃত বিষয়ের দ্বিতীয় মফুল বা কর্ম—যেমন সংজ্ঞার (হুদুদ) দাবি। অর্থাৎ যেমন কোনো সংজ্ঞার রূপকে তার সংজ্ঞায়িত বস্তুর রূপ বলে দাবি করা; উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি দাবি করেন যে আকল বা বুদ্ধিতে 'জ্যান্ত বুদ্ধিমান প্রাণী' থেকে যে রূপটি অর্জিত হয়েছে, সেটিই হলো 'মানুষ' এর রূপ।

এমতাবস্থায়, অর্থাৎ যখন সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এমন দাবি করা হবে, তখন সংজ্ঞার সেই রূপগুলোতে উক্ত হুকুম যুক্ত হওয়ার কারণে তা 'মান’' বা আপত্তি গ্রহণের যোগ্যতা রাখবে। এই আপত্তিটি প্রকৃত অর্থে হবে যদি তার ওপর দলিল পেশ করা হয়, আর রূপক অর্থে হবে যদি দলিল পেশ না করা হয়। আর 'হাদ্দে আসমি' (নামীয় সংজ্ঞা)—যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে এটি নামের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে—এর ক্ষেত্রে সেই আপত্তিকে 'নকল' বা বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। যদি তা ভাষাগত হয় তবে ভাষা বিশেষজ্ঞদের থেকে বর্ণনা করতে হবে, আর যদি শরীয়তগত হয় তবে শরীয়তবিদদের থেকে; এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

আর 'হাদ্দে হাকিকি' বা প্রকৃত সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আপত্তির সুরত হলো এই বলা যে—আমরা স্বীকার করি না যে এটি এই সংজ্ঞায়িত বস্তুর সমস্ত মৌলিক উপাদানের (জাতিয়াত) সমষ্টি। এমতাবস্থায় সংজ্ঞাকারীর পক্ষ থেকে এই আপত্তি প্রতিহত করতে অপারগ হওয়া অবধারিত। কারণ প্রকৃত সত্তাসমূহের (মাহিয়াত) মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে জানা দুঃসাধ্য। এখানে উদ্দেশ্য হলো বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির মাধ্যমে তা জানা অসম্ভব হওয়া, যা আল্লাহ প্রদত্ত কাশফ বা ইলহামের মাধ্যমে অর্জিত হওয়ার পরিপন্থী নয়।

এটি সেই কারণে নয় যা বলা হয়েছে যে, "সংজ্ঞা প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয় না কারণ তার প্রয়োজন নেই"; এবং তাঁর এই কথাটিও এর অন্তর্ভুক্ত: "যেহেতু কোনো বস্তুর অংশসমূহ তার জন্য সাব্যস্ত হওয়া কেবল সেই বস্তুটিকে কল্পনা বা তাসাউয়ুর করার ওপরই নির্ভর করে"। এর ব্যাখ্যা হলো: সংজ্ঞা হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর অংশসমূহের সমষ্টি। এই দুটির মধ্যে কেবল সংক্ষিপ্ততা ও বিস্তারিত বর্ণনার পার্থক্য ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য নেই, তাই এদের ভিন্নতা কেবল বিবেচনাপ্রসূত (এতিবারি)। আর কোনো বস্তু নিজের জন্য সাব্যস্ত হওয়া যেমন কোনো ভিন্নতা বিবেচনা করা ছাড়াই স্বতঃসিদ্ধ ও ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়, তেমনি বিবেচনাপ্রসূত ভিন্নতার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। এর চূড়ান্ত পর্যায় হলো সেখানে অংশগুলোর বিস্তারিত বিবরণ থাকে। সুতরাং কোনো বস্তুর অংশগুলো তার জন্য সাব্যস্ত হওয়া কেবল সেই বস্তুর বিস্তারিত ধারণার ওপর নির্ভর করে, যা সংজ্ঞার মধ্যেই বিদ্যমান থাকে।

এরপর তিনি এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণ বর্ণনা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "কেননা যা ধরে নেয়া হয়েছে তা হলো সেই অংশগুলো (যা সংজ্ঞা হিসেবে পেশ করা হয়েছে) সামগ্রিক রূপের (যা সংজ্ঞায়িত বস্তু) অংশ হওয়াটা অজ্ঞাত"। আর সেই সামগ্রিক রূপের সাথে এই অংশগুলোর সম্পর্ক কেবল একটি দাবি মাত্র। সুতরাং সেই অংশগুলো সামগ্রিক রূপের অংশ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দলিল ছাড়া অন্য কিছুর অবকাশ নেই—অথচ এখানে দলিল না থাকাটাই ধরে নেয়া হয়েছে। অথবা এটি "অপ্রয়োজনীয় হওয়া" (ইস্তিগনা) এর ওপর সংযোজিত—অর্থাৎ সংজ্ঞাকে প্রমাণের (বুরহান) মাধ্যমে অর্জন করা যায় না 'দাওর' বা আবর্তনের আবশ্যকতা দেখা দেওয়ার কারণে।

(খণ্ড: ১) তাইসীরুত তাহরীর শারহু কিতাবিত তাহরীর ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الدّور على تَقْدِير اكتسابه، لِأَن الِاسْتِدْلَال على ثُبُوت شَيْء لشَيْء يتَوَقَّف على تعقلهما فَلَزِمَ توقف الِاسْتِدْلَال على ثُبُوت الْحَد للمحدود على تعقل الْمَحْدُود، فَكَانَ تعقله مقدما بِالذَّاتِ على الِاسْتِدْلَال الْمَذْكُور، فَلَو اكْتسب الْحَد الْمُقدم بِالذَّاتِ على تعقل الْمَحْدُود بالبرهان لزم تقدم الْبُرْهَان على مَا هُوَ مقدم عَلَيْهِ: أَعنِي تعقل الْمَحْدُود، وَهَذَا هُوَ الدّور، ثمَّ علل نفي الْعَجز بِسَبَب الدّور بقوله (لِأَن توقف الدَّلِيل) إِنَّمَا هُوَ (على تعقل الْمَحْكُوم عَلَيْهِ بِوَجْه) مَا، وَمُوجب هَذَا تقدم تعقل الْمَحْدُود على الْبُرْهَان بِاعْتِبَار وَجه من وجوهه لَا على التَّعْيِين (وَهُوَ) أَي تعقل الْمَحْكُوم عَلَيْهِ الَّذِي هُوَ الْمَحْدُود إِنَّمَا يتَوَقَّف (عَلَيْهِ) أَي الدَّلِيل (بِوَاسِطَة توقفه) أَي الْمَحْكُوم عَلَيْهِ (على الْحَد بحقيقته) وَمُوجب هَذَا تقدم الدَّلِيل على تعقل الْمَحْدُود بحقيقته وكنهه وَلَا مَحْذُور فِي أَن يكون تعقله لَا من حَيْثُ حَقِيقَته مقدما على الدَّلِيل، وَمن حَيْثُ حَقِيقَته مُؤَخرا عَنهُ (أَو لِأَنَّهُ) أَي الْبُرْهَان (إِنَّمَا يُوجب أمرا) وَهُوَ الْمَحْكُوم بِهِ (فِي الْمَحْكُوم عَلَيْهِ) لِأَن حَقِيقَته وسط يسْتَلْزم ذَلِك، وَقَوله أَو عطف على قَوْله للاستغناء أَو للدور (وبتقديره) أَي على تَقْدِير اكْتِسَاب الْحَد بالبرهان (يسْتَلْزم) الْبُرْهَان (عينه) أَي عين الْمَحْكُوم عَلَيْهِ وَهُوَ الْمَحْدُود وَلَا يُوجب أمرا آخر فِيهِ، وَهَذَا خلاف مُوجب الْبُرْهَان، ثمَّ بَين نفي كَون الْعَجز مُعَللا بِهَذَا بقوله (لِأَنَّهُ) أَي استلزام الْبُرْهَان عينه: أَي عين الْمَحْكُوم عَلَيْهِ وَهُوَ الْمَحْدُود (غير ضائر) لِأَن إِثْبَات عين الشَّيْء لَهُ من غير اعْتِبَار مُغَايرَة أصلا محَال أَو تَحْصِيل للحاصل.، وَأما إِذا تغايرا بِوَجْه مَا كالإجمال وَالتَّفْصِيل فَلَا يضر الِاتِّحَاد الذاتي لجَوَاز عدم الْعلم بالاتحاد والاحتياج فِيهِ إِلَى دَلِيل (فَإِن قَالَ) الْمُعَلل بِهَذَا الْإِثْبَات بطلَان اللَّازِم كَيفَ لَا يضر استلزام الْبُرْهَان عين الْمَحْدُود بِسَبَب اكْتِسَاب الْحَد بِهِ فَإِنَّهُمَا متحدان مَعَ أَنه يسْتَلْزم تعقل الْمَحْدُود قبل الْحَد ضَرُورَة تعقل الْمَطْلُوب قبل الدَّلِيل (وتعقلها) أَي عين الْمَحْدُود (إِنَّمَا يحصل بِالْحَدِّ) أَي بتعقله لكَونه أجزاءه فَيلْزم تقدم الشَّيْء على مَا هُوَ مقدم عَلَيْهِ (فكالأول) أَي فَالْجَوَاب عَن هَذَا التَّعْلِيل كالجواب عَن التَّعْلِيل الأول، وَهُوَ الِاسْتِغْنَاء عَن الْبُرْهَان إِذْ ثُبُوت أَجزَاء الشَّيْء إِلَى آخِره وَتَقْرِيره أَن قَوْلكُم وتعقل عين الْمَحْدُود يحصل بِالْحَدِّ غير مُسلم، لِأَن الْحَاصِل بِهِ المكتسب بالبرهان إِنَّمَا هُوَ تعقلها من حَيْثُ كَون الْحَد أَجزَاء لصورته الإجمالية وتعقلها الْمُتَقَدّم تصورها بِوَجْه مَا، وَلَا يخفى أَنه بِهَذَا التَّقْرِير أشبه بِالْجَوَابِ عَن التَّعْلِيل الثَّانِي، فَالْوَجْه أَن الْمَعْنى إِذا كَانَ الْبُرْهَان يسْتَلْزم عين الْمَحْدُود كَانَ نتيجة تعقلها، وَهُوَ حَاصِل بتعقل أَجزَاء الْحَد، فَلَا حَاجَة إِلَى الْبُرْهَان فَصَارَ مثل الأول بل عينه وَجَوَابه جَوَابه (بل لعدمه) أَي بل الْعَجز لَازم لعدم مَا يدْفع الْمَنْع الْوَارِد فِي الْحَد الْحَقِيقِيّ من برهَان يدل على كَون الْحَد ذاتيات الْمَحْدُود لتعذر معرفَة ذاتيات الماهيات الْحَقِيقِيَّة كَمَا مر غير

তার (সংজ্ঞার) অর্জনের অনুমানের ওপর চক্রকগতি (দাওর) অপরিহার্য হয়; কারণ একটি বিষয়ের জন্য অন্য একটি বিষয়ের সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দলিল পেশ করা সেই উভয় বিষয়ের উপলব্ধির (তা'য়াক্কুল) ওপর নির্ভর করে। ফলে সংজ্ঞায়িত বস্তুর (মাহদুদ) জন্য সংজ্ঞা (হাদ্দ) সাব্যস্ত হওয়ার দলিল নির্ভর করে সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধির ওপর। সুতরাং সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধি উক্ত দালিলিক প্রক্রিয়ার চেয়ে স্বীয় সত্তাগতভাবে অগ্রবর্তী। অতএব, সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধির চেয়ে স্বীয় সত্তাগতভাবে অগ্রবর্তী যে সংজ্ঞা, তা যদি প্রমাণের (বুরহান) মাধ্যমে অর্জন করা হয়, তবে যা অগ্রবর্তী—অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধি—তার চেয়ে প্রমাণের অগ্রবর্তী হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এটাই হলো চক্রকগতি (দাওর)। অতঃপর তিনি চক্রকগতির কারণে অপারগতাকে নাকচ করার কারণ দর্শিয়েছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে যে, (কেননা দলিলের নির্ভরতা) কেবল (কোনো একভাবে মাহকুম আলাইহি বা যার ওপর বিধান আরোপ করা হয় তার উপলব্ধির ওপর)। আর এর দাবি হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর কোনো এক দিক থেকে উপলব্ধি প্রমাণের চেয়ে অগ্রবর্তী হওয়া, নির্দিষ্টভাবে নয়। আর (তা)—অর্থাৎ যার ওপর বিধান আরোপ করা হয় বা সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধি—কেবল (তার ওপর)—অর্থাৎ দলিলের ওপর—নির্ভর করে (তার—অর্থাৎ যার ওপর বিধান আরোপ করা হয় তার—সংজ্ঞার হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপের ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে)। এর দাবি হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর প্রকৃত হাকীকত ও স্বরূপের উপলব্ধির চেয়ে দলিলের অগ্রবর্তী হওয়া। আর এতে কোনো আপত্তির অবকাশ নেই যে, তার (সংজ্ঞায়িত বস্তুর) উপলব্ধি তার হাকীকতের দিক থেকে না হয়ে বরং অন্য দিক থেকে দলিলের অগ্রবর্তী হবে এবং হাকীকতের দিক থেকে তা দলিলের পরবর্তী হবে। (অথবা এই কারণে যে,) অর্থাৎ প্রমাণ (কেবল একটি বিষয় সাব্যস্ত করে)—যা হলো ‘মাহকুম বিহি’ (প্রদত্ত বিধান)—(মাহকুম আলাইহি বা যার ওপর বিধান আরোপ করা হয় তার মধ্যে)। কেননা এর হাকীকত বা স্বরূপ হলো এমন এক মধ্যক (ওয়াসাত) যা একে অবধারিত করে। আর তাঁর উক্তি ‘অথবা’ শব্দটি ‘অপ্রয়োজনীয়তা’ বা ‘চক্রকগতি’ এর ওপর সংযোজিত। (আর এর অনুমানের ভিত্তিতে) অর্থাৎ প্রমাণের মাধ্যমে সংজ্ঞা অর্জনের অনুমানের ভিত্তিতে, (তা)—অর্থাৎ প্রমাণ—(তার মূল সত্তাকেই)—অর্থাৎ মাহকুম আলাইহি বা সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল সত্তাকেই—(অবধারিত করে)। এটি তার মধ্যে অন্য কোনো নতুন বিষয় সাব্যস্ত করে না। আর এটি প্রমাণের (বুরহান) দাবির পরিপন্থী। অতঃপর তিনি এই কারণ দর্শানোর মাধ্যমে অপারগতা সাব্যস্ত হওয়াকে নাকচ করেছেন এই বলে যে, (কেননা এটি)—অর্থাৎ প্রমাণের মাধ্যমে তার মূল সত্তাকেই অবধারিত করা—(ক্ষতিকর নয়)। কারণ কোনো প্রকার ভিন্নতা বিবেচনা না করে কোনো বস্তুর জন্য তার নিজের সত্তাকেই সাব্যস্ত করা অসম্ভব অথবা অর্জিত বিষয়কে পুনরায় অর্জন করার নামান্তর। কিন্তু যদি কোনো দিক থেকে তাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকে—যেমন সংক্ষিপ্ততা ও বিস্তারিত হওয়া—তবে সত্তাগত অভিন্নতা কোনো ক্ষতি করে না। (যদি কেউ বলে)—অর্থাৎ যিনি এই প্রমাণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার কারণ দর্শিয়েছেন—প্রমাণের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল সত্তাটিই অবধারিত হওয়া কেন ক্ষতিকর হবে না? অথচ সংজ্ঞার মাধ্যমে তা অর্জিত হওয়ার কারণে উভয়ই এক ও অভিন্ন। সাথে সাথে এটি সংজ্ঞার পূর্বে সংজ্ঞায়িত বস্তুর উপলব্ধিকে অবধারিত করে; কেননা দলিলের পূর্বে অন্বেষিত বিষয় (মাতলুব) উপলব্ধি করা আবশ্যক। (আর তার উপলব্ধি)—অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল সত্তার উপলব্ধি—(কেবল সংজ্ঞার মাধ্যমেই অর্জিত হয়)। অর্থাৎ সংজ্ঞা উপলব্ধির মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়, কারণ তা তার অংশবিশেষ। ফলে কোনো বিষয়ের নিজের চেয়ে অগ্রবর্তী বিষয়ের ওপর অগ্রবর্তী হওয়া আবশ্যক হয়। (অতএব এটি প্রথমটির মতো)—অর্থাৎ এই কারণ দর্শানোর উত্তরটি প্রথম কারণ দর্শানোর উত্তরের মতোই, যা হলো প্রমাণের অপ্রয়োজনীয়তা; কারণ কোনো বস্তুর অংশবিশেষ সাব্যস্ত হওয়া—পরবর্তী অংশ পর্যন্ত। এর ব্যাখ্যা হলো, আপনাদের এই কথা যে ‘সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল সত্তার উপলব্ধি সংজ্ঞার মাধ্যমেই অর্জিত হয়’—তা স্বীকৃত নয়। কারণ প্রমাণের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়, তা হলো সংজ্ঞাকে তার সামগ্রিক রূপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার দিক থেকে উপলব্ধি করা। আর এর পূর্ববর্তী উপলব্ধি ছিল কোনো একভাবে তাকে কল্পনা করা। এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর উত্তরের অধিক সদৃশ হয়। সুতরাং সঠিক দিক হলো, এর অর্থ যদি এমন হয় যে প্রমাণ সংজ্ঞায়িত বস্তুর মূল সত্তাকে অবধারিত করে, তবে তা হবে তার উপলব্ধির ফলাফল। আর তা সংজ্ঞার অংশসমূহ উপলব্ধির মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সুতরাং এখানে প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে এটি প্রথমটির মতো বরং প্রথমটিই হয়ে গেল এবং এর উত্তরও সেই একই উত্তর। (বরং এর অনুপস্থিতির কারণে)—অর্থাৎ অপারগতা মূলত এমন কিছু না থাকার কারণে আবশ্যক হয় যা প্রকৃত সংজ্ঞার (হাদ্দ হাকীকী) ওপর উত্থাপিত আপত্তিকে খণ্ডন করতে পারে। অর্থাৎ এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নির্দেশ করে যে, সংজ্ঞাটি সংজ্ঞায়িত বস্তুর সত্তাগত গুণাবলির (জাতিয়াত) অন্তর্ভুক্ত। কারণ প্রকৃত সত্তাগুলোর (মাহিয়াত) মূল সত্তাগত বিষয়াবলি জানা দুঃসাধ্য, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।