(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
التلخيص في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: كتاب التلخيص في أصول الفقه
المؤلف: عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني، أبو المعالي، ركن الدين، الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)
المحقق: عبد الله جولم النبالي وبشير أحمد العمري
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
سنة النشر:
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তালখিস ফী উসুলিল ফিকহ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)
কিতাব: কিতাবুত তালখিস ফী উসুলিল ফিকহ
লেখক: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনী, আবু আল-মা'আলী, রুকনুদ্দিন, ইমামুল হারামাইন উপাধিতে ভূষিত (মৃত ৪৭৮ হি.)
সম্পাদক: আব্দুল্লাহ জালাম আল-নাবালি এবং বশির আহমদ আল-উমারি
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশকাল:
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله على رَسُوله مُحَمَّد وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ. . رب يسر بِرَحْمَتك.
(1)
فصل
فِي حَقِيقَة الْفِقْه وأصول الْفِقْه
[1] فَإِن قَالَ قَائِل: مَا حَقِيقَة الْفِقْه؟
قيل: الْفِقْه فِي حَقِيقَة اللُّغَة هُوَ الْعلم وَلَا تفصل الْعَرَب فِي كَلَامهَا بَين قَول الْقَائِل " فقهت الشَّيْء " وَبَين قَوْله " عَلمته " بيد أَن أَرْبَاب الشَّرَائِع خصصوه بضروب من الْعُلُوم تواضعا مِنْهُم وَاصْطِلَاحا.
فالفقه إِذا فِي مواضعتهم هُوَ الْعلم بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّة وَعبر القَاضِي عَن هَذَا الْمَقْصد بِعِبَارَة أُخْرَى فَقَالَ: هُوَ الْعلم بِأَحْكَام أَفعَال الْمُكَلّفين الشَّرْعِيَّة دون الْعَقْلِيَّة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর। হে আমার রব, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।
(১)
পরিচ্ছেদ
ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহের স্বরূপ প্রসঙ্গে
[১] যদি কেউ প্রশ্ন করে: ফিকহের স্বরূপ কী?
বলা হবে: শাব্দিক অর্থে ফিকহ হলো জ্ঞান। আরবরা তাদের ভাষায় "আমি বিষয়টি বুঝেছি" এবং "আমি বিষয়টি জেনেছি" বাক্য দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তবে শরয়ি শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ তাদের পারস্পরিক পরিভাষা ও সমঝোতা অনুযায়ী একে বিশেষ কিছু জ্ঞানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
সুতরাং তাদের পরিভাষায় ফিকহ হলো শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান। আর কাজি (আল-বাকিল্লানি) এই বিষয়টি ভিন্ন ভাষায় ব্যক্ত করেছেন; তিনি বলেছেন: এটি হলো মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্ম সম্পর্কিত শরয়ি বিধানসমূহের জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক (আকলি) বিধানের জ্ঞান নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وَهَذِه الْعبارَة وَإِن كَانَت تُؤدِّي مَضْمُون الْعبارَة الأولى فَالْأولى أَسد وأوضح.
[2] فَإِن قَالَ قَائِل: مَا أصُول الْفِقْه على قَضِيَّة الِاصْطِلَاح المتداول بَين الْعلمَاء؟
قيل: أصُول الْفِقْه أدلته، فالأدلة الدَّالَّة على أَحْكَام الشَّرَائِع أُصُولهَا وَالْعلم بهَا هُوَ الْعلم بالأصول.
[3] فَإِن قيل: أفيدخل فِي هَذَا الْفَنّ مَا لَا يلْتَمس فِيهِ الْقطع وَالْعلم؟
এই অভিব্যক্তিটি যদিও প্রথম অভিব্যক্তির মূল অর্থ প্রকাশ করে, তথাপি প্রথমটিই অধিকতর সঠিক এবং সুস্পষ্ট।
[২] যদি কেউ প্রশ্ন করে: আলেমদের নিকট প্রচলিত পরিভাষার ভিত্তিতে উসূলুল ফিকহ কী?
উত্তরে বলা হবে: উসূলুল ফিকহ হলো এর দলিলসমূহ। সুতরাং শরীয়তের বিধানাবলির প্রতি নির্দেশক দলিলসমূহ হলো এর মূল ভিত্তি, এবং এগুলোর জ্ঞানই হলো উসূলের জ্ঞান।
[৩] যদি জিজ্ঞেস করা হয়: এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত কি এমন কিছু হবে যার ক্ষেত্রে অকাট্যতা এবং নিশ্চিত জ্ঞান অন্বেষণ করা হয় না?
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
قيل: مَا ارْتَضَاهُ الْمُحَقِّقُونَ أَن مَا لَا يَبْتَغِي فِيهِ الْعلم لَا يعد من الْأُصُول.
فَإِن قيل: فأخبار الْآحَاد والمقاييس السمعية لَا تُفْضِي إِلَى الْعلم وَهِي من أَدِلَّة أَحْكَام الشَّرَائِع؟
قيل: إِنَّمَا يتَعَلَّق بالأصول تثبيتها أَدِلَّة على وجوب الْأَعْمَال وَذَلِكَ مِمَّا يدْرك بالأدلة القاطعة، فَأَما الْعَمَل المتلقى مِنْهَا فمتصل بالفقه دون أصُول الْفِقْه.
(2)
القَوْل فِي حد الْعلم وَحَقِيقَته
[4] إِن سَأَلنَا سَائل عَن حد الْحَد جملَة.
قيل لَهُ: حد الشَّيْء وَحَقِيقَته خاصيته الَّتِي بهَا يتَمَيَّز.
বলা হয়েছে: গবেষকগণ যা পছন্দ করেছেন তা হলো, যে বিষয়ে ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা হয় না, তা উসূলের (মূলনীতি) অন্তর্ভুক্ত গণ্য হয় না।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে খাবারে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) এবং শ্রুতিগত কিয়াসসমূহ তো ইলম পর্যন্ত পৌঁছায় না, অথচ এগুলো তো শরীয়াহর বিধানাবলির দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর দেওয়া হয়েছে: উসূলের সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা হলো আমল ওয়াজিব হওয়ার দলীল হিসেবে সেগুলোকে সাব্যস্ত করা, আর তা অকাট্য দলীলের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। পক্ষান্তরে, সেগুলো থেকে যে আমল গ্রহণ করা হয়, তা ফিকহের সাথে সংশ্লিষ্ট, উসূলে ফিকহের সাথে নয়।
(২)
ইলমের (জ্ঞান) সংজ্ঞা ও এর হাকীকত (প্রকৃত রূপ) প্রসঙ্গে আলোচনা
[৪] যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের কাছে সাধারণভাবে 'সংজ্ঞার' (হদ্দ) সংজ্ঞা সম্পর্কে জানতে চান।
তবে তাকে বলা হবে: কোনো বস্তুর সংজ্ঞা ও তার হাকীকত হলো তার এমন বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে সেটি পৃথক হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
[5] وَمَا صَار إِلَيْهِ مُعظم الْمُحَقِّقين من ائمتنا أَن حد الشَّيْء وَحَقِيقَته رَاجع إِلَى صفة الْمَحْدُود دون قَول الواصف الحاد.
وَمَا ارْتَضَاهُ القَاضِي أَن الْحَد يؤول إِلَى قَول الواصف وَهُوَ عِنْده القَوْل الْمُفَسّر لاسم الْمَحْدُود وَصفته على وَجه يَخُصُّهُ ويحصره فَلَا يدْخل فِيهِ مَا لَيْسَ من قبيله وَلَا يخرج مِنْهُ مَا هُوَ من قبيله فَهُوَ رحمه الله مُنْفَرد بذلك من بَين أَصْحَابه وَهَذَا مِمَّا يستقصى فِي الديانَات.
[6] فَإِن قيل: فَمَا حد الْعلم؟
قُلْنَا: حَده معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ وَإِن اقتصرت على معرفَة الْمَعْلُوم اسْتَقل الْحَد.
[৫] আমাদের ইমামগণের মধ্যে অধিকাংশ গবেষক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা হলো, কোনো বস্তুর সংজ্ঞা (হাদ) ও তার প্রকৃত সত্তা (হাকিকাত) সংজ্ঞায়িত বস্তুর বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল, সংজ্ঞাকারীর বক্তব্যের ওপর নয়।
আর কাযী যা পছন্দ করেছেন তা হলো, সংজ্ঞা সংজ্ঞাকারীর বক্তব্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; আর তাঁর নিকট এটি হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর নাম ও গুণের ব্যাখ্যামূলক এমন এক বক্তব্য যা বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ করে, ফলে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয় তা এতে প্রবেশ করে না এবং যা তার অন্তর্ভুক্ত তা তা থেকে বেরিয়ে যায় না। সুতরাং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এ বিষয়ে একক মত পোষণ করেছেন এবং এটি এমন একটি বিষয় যা ধর্মতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহে সবিস্তারে আলোচিত হয়।
[৬] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে ইলমের (জ্ঞানের) সংজ্ঞা কী?
আমরা বলি: এর সংজ্ঞা হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার বাস্তব অবস্থার নিরিখে জানা। আর আপনি যদি কেবল 'জ্ঞাত বিষয়কে জানা'র ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে সংজ্ঞার জন্য তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
وَلَو قلت: الْعلم مَا يعلم بِهِ الْمَعْلُوم كَانَ أَسد عندنَا.
وَلَو قلت: الْعلم مَا أوجب لمحله الاتصاف بِكَوْنِهِ عَالما، لَكَانَ صَحِيحا.
وَقد أَوْمَأ إِلَيْهِ شَيخنَا فِي بعض مصنفاته وَالْكَلَام فِي استقصاء ذَلِك، وَالرَّدّ على الْمُخَالفين وَذكر أَقسَام الْعُلُوم يتَعَلَّق بأصول الديانَات.
(3)
القَوْل فِي مائية الْعقل وَحَقِيقَته
[7] اخْتلف [الْعلمَاء فِي] مائية الْعقل، فَقَالَ بَعضهم: إِنَّهَا قُوَّة طبيعية يفصل بهَا بَين حقائق المعلومات. وَقَالَ / بَعضهم: هُوَ جَوْهَر [1 / ب] [لطيف يفصل بِهِ بَين حقائق المعلومات] الضرورية، وَالَّذِي [ارْتَضَاهُ
আর আপনি যদি বলেন: জ্ঞান হলো তা যার মাধ্যমে জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে জানা যায়, তবে তা আমাদের নিকট অধিকতর বলিষ্ঠ হবে।
আর আপনি যদি বলেন: জ্ঞান হলো তা যা তার আধারের জন্য ‘জ্ঞানী’ হওয়ার গুণটিকে আবশ্যক করে, তবে তা সঠিক হবে।
আমাদের শাইখ তাঁর কিছু রচনায় এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর এর বিস্তারিত অনুসন্ধান, বিরোধীদের খণ্ডন এবং জ্ঞানের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা দ্বীনের মূলনীতিসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(৩)
বুদ্ধির সারসত্তা ও এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা
[৭] [বিদ্বানগণ] বুদ্ধির সারসত্তা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি স্বভাবজাত শক্তি যার দ্বারা জ্ঞাত বিষয়সমূহের হাকিকতসমূহের মাঝে পার্থক্য করা হয়। আর / কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি [১ / খ] [সূক্ষ্ম সত্তা যার দ্বারা আবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয়সমূহের হাকিকতসমূহের মাঝে পার্থক্য করা হয়], আর যা [পছন্দ করেছেন]
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
القَاضِي] أَن الْعقل بعض [الْعُلُوم الضرورية] ، [فَإِن قيل: مَا] هُوَ فصلوه لنا؟ قيل: هُوَ نَحْو الْعلم باستحالة اجْتِمَاع الضدين [وَالْعلم أَن الْمَعْلُوم لَا يخرج عَن أَن] يكون مَوْجُودا أَو غير مَوْجُود وَأَن الْمَوْجُود لَا يَخْلُو عَن الاتصاف بالقدم
[আল-কাজী] আকল (বুদ্ধি) হলো কতিপয় [আবশ্যিক জ্ঞানের] অংশ; [অতঃপর যদি বলা হয়: তা] কী? আমাদের নিকট তা বিস্তারিত বিবৃত করুন। বলা হয়েছে: তা হলো দুই বিপরীতধর্মী বিষয়ের একত্রে সমাবেশ অসম্ভব হওয়ার জ্ঞান সদৃশ, [এবং এই জ্ঞান যে, জ্ঞাত বিষয়টি এর বাইরে যায় না যে] তা অস্তিত্বমান হবে অথবা অস্তিত্বহীন হবে এবং অস্তিত্বমান সত্তা অনাদিত্বের (ক্বিদাম) গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত হওয়া থেকে মুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
أَو الْحُدُوث، وَالْعلم بمجاري الْعَادَات والمدركات بالضرورات كموجب الْأَخْبَار المتواترة الصادرة عَن المشاهدات إِلَى غير ذَلِك من الْعُلُوم الَّتِي يخْتَص بهَا الْعُقَلَاء وَمَا من ضرب من هَذِه الضروب إِذا ثَبت إِلَّا وَيجب ثُبُوت أغياره والميز بآحادها يَقع بَين الْعُقَلَاء وَغَيرهم.
[8] فَإِن قيل: مَا الدَّلِيل على مَا قلتموه فِي مائية الْعقل؟
قيل: الدَّلِيل على ذَلِك أَن الْعقل لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون من قبيل الْجَوَاهِر وَإِمَّا أَن يكون من قبيل الْأَعْرَاض. وَبَطل أَن يكون من قبيل الْجَوَاهِر إِذْ الدّلَالَة دلّت على تجانسها فَلَو كَانَ جَوْهَر عقلا لَكَانَ كل جَوْهَر عقلا لوُجُوب تشابه المتماثلات فِي كل الصِّفَات. وَهَذَا يُفْضِي إِلَى القَوْل بِأَن الْعَاقِل يَسْتَغْنِي بِوُجُود نَفسه بِثُبُوت هَذَا الْوَصْف لَهُ عَن ثُبُوت الْعقل وَهَذَا بَين الْبطلَان.
وَالَّذِي يُوضح بطلَان هَذَا الْقسم أَنه لَو كَانَ جوهرا لقام بِنَفسِهِ ولصح أَن يعقل الْعقل وَيحيى ويتصف بجملة الْأَوْصَاف الَّتِي تثبت للجواهر الْقَائِمَة بأنفسها، فاتضح بطلَان كَونه جوهرا، وَثَبت أَنه من قبيل الْأَعْرَاض، ومحال أَن يكون عرضا غير سَائِر الْعُلُوم لِأَنَّهُ لَو كَانَ كَذَلِك لصَحَّ وجود سَائِر
অথবা সৃষ্টিশীলতা, এবং অভ্যাসের গতিধারা ও অনিবার্য বোধশক্তির মাধ্যমে উপলব্ধ বিষয়াদির জ্ঞান, যেমন পর্যবেক্ষণলব্ধ নিরবচ্ছিন্ন সংবাদসমূহের অনিবার্য ফলাফল এবং এজাতীয় অন্যান্য জ্ঞানসমূহ যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য। এই প্রকারগুলোর মধ্যে কোনোটি যখন সাব্যস্ত হয়, তখন তার সদৃশ অন্য বিষয়গুলোও সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং এগুলোর একক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বুদ্ধিমান ও অন্যদের মাঝে পার্থক্য নিরূপিত হয়।
[৮] যদি প্রশ্ন করা হয়: বিবেকের সারসত্তা সম্পর্কে আপনারা যা বলেছেন তার দলিল কী?
বলা হবে: এর দলিল হলো—বিবেক হয় মৌলিক সত্তা (জাওহার) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে, না হয় অস্থায়ী বৈশিষ্ট্য (আরাজ) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি মৌলিক সত্তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাতিল বা অসার, কারণ প্রমাণাদি নির্দেশ করে যে সকল মৌলিক সত্তা সমজাতীয়। সুতরাং যদি কোনো একটি মৌলিক সত্তা বিবেক হতো, তবে প্রতিটি মৌলিক সত্তাই বিবেক হতো; কারণ সমজাতীয় বিষয়সমূহ সকল বৈশিষ্ট্যে অভিন্ন হওয়া আবশ্যক। আর এটি এমন এক দাবির দিকে ধাবিত করে যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার নিজের অস্তিত্বের মাধ্যমেই এই গুণের অধিকারী হওয়ার কারণে পৃথক বিবেকের অস্তিত্ব থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়, যা স্পষ্টতই অসার।
আর যা এই প্রসঙ্গের অসারতাকে স্পষ্ট করে তা হলো—যদি এটি মৌলিক সত্তা হতো, তবে তা স্বয়ংপ্রতিষ্ঠিত হতো এবং বিবেকের পক্ষে অনুধাবন করা, জীবিত হওয়া এবং স্বয়ংপ্রতিষ্ঠিত মৌলিক সত্তার জন্য সাব্যস্ত যাবতীয় বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত হওয়া সম্ভব হতো। ফলে এর মৌলিক সত্তা হওয়া বাতিল হওয়া স্পষ্ট হয়ে গেল এবং প্রমাণিত হলো যে এটি অস্থায়ী বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি অন্যান্য জ্ঞানরাশি ব্যতীত ভিন্ন কোনো অস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হওয়া অসম্ভব; কারণ যদি তা-ই হতো তবে অন্যান্য সকল কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব হতো...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
[الْعُلُوم] مَعَ عَدمه حَتَّى يكون الْعَالم بدقائق الْفُنُون غير عَاقل. وَهَذَا بَاطِل وفَاقا، فَدلَّ بذلك أَنه [لَيْسَ غي] ر سَائِر الْعُلُوم وَثَبت أَنه من قبيل الْعُلُوم ويستحيل أَن يكون هُوَ كل الْعُلُوم ضروريها وكس [بيها لِأَن] الْعَاقِل يَتَّصِف بِكَوْنِهِ عَاقِلا مَعَ عدم جَمِيع الْعُلُوم النظرية فَخرجت الْعُلُوم الكسبية م [ن ال] عقل، وباطل أَن يكون هُوَ كل الْعُلُوم الضرورية لِأَنَّهُ لَو كَانَ كَذَلِك لوَجَبَ أَن يكون الفاقد للْعلم با [لمدركا] ت لعدم الْإِدْرَاك الْمُتَعَلّق بهَا غير عَاقل وَذَلِكَ محَال. ويستحيل صرف الْعقل إِلَى الْعلم بالألم و [اللَّذَّة] والإحساسات النفسية.
فَإِن هَذَا الضَّرْب يتَحَقَّق للأطفال والبهائم والمجانين. فَتعين صرف الْعقل بعد بطلَان هَذِه الْأَقْسَام إِلَى مَا قدمْنَاهُ. وَلَو أردْت عبارَة أوجز مِمَّا قدمه القَاضِي رضي الله عنه لَقلت الْعقل عُلُوم ضَرُورِيَّة باستحالة مستحيلات وَجَوَاز
[জ্ঞানসমূহ] এর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, যাতে বিভিন্ন বিদ্যার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের পরিজ্ঞাত ব্যক্তি বুদ্ধিহীন বিবেচিত না হয়। আর সর্বসম্মতিক্রমে এটি বাতিল; ফলে এটি প্রমাণ করে যে তা অন্যান্য সকল জ্ঞান হতে পৃথক কিছু নয় এবং এটি প্রমাণিত হলো যে তা জ্ঞানসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত। আর বুদ্ধি সকল প্রকার জ্ঞান তথা অপরিহার্য ও অর্জিত জ্ঞানের সমষ্টি হওয়া অসম্ভব। কারণ, বুদ্ধিমান ব্যক্তি সমস্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বুদ্ধিমান হিসেবে অভিহিত হন; সুতরাং অর্জিত জ্ঞানসমূহ বুদ্ধির সংজ্ঞা থেকে বহির্ভূত হলো। আর এটিও বাতিল যে বুদ্ধি হলো সমস্ত অপরিহার্য জ্ঞান; কেননা যদি তা-ই হতো, তবে ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির অভাবে কোনো অনুভূত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানহীন ব্যক্তি বুদ্ধিহীন হওয়া আবশ্যক হতো, যা অসম্ভব। এবং ব্যথা, আনন্দ ও মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতির জ্ঞানকেও বুদ্ধির সংজ্ঞায় পর্যবসিত করা অসম্ভব।
কারণ এই প্রকার জ্ঞান শিশু, চতুষ্পদ জন্তু এবং পাগলদের মাঝেও পরিলক্ষিত হয়। অতএব, এই বিভাগগুলো বাতিল হওয়ার পর বুদ্ধির সংজ্ঞাকে আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তার দিকেই ধাবিত করা নির্ধারিত হলো। আর আপনি যদি কাজী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) যা পেশ করেছেন তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত বাক্য চান, তবে আমি বলতাম: বুদ্ধি হলো অসম্ভব বিষয়ের অসম্ভবতা এবং সম্ভাব্য বিষয়ের সম্ভাব্যতা সংক্রান্ত অপরিহার্য জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
جائزات ثمَّ تفصله على مَا قدمْنَاهُ وَلَا تقدر ذَلِك من قبيل الْحُدُود الفاصلة المميزة نَحْو حد الْعلم وَغَيره مِمَّا يحد فَإِن هَذَا صرف إِلَى بعض الْعُلُوم وَلَا تستتب فِيهِ الْعبارَة إِلَّا بِزِيَادَة كشف وَتَحْصِيل.
এগুলো অনুমোদিত, অতঃপর আমাদের উপস্থাপিত আলোচনার ভিত্তিতে আপনি একে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করবেন। আপনি বিষয়টিকে এমন কোনো পার্থক্যকারী ও বৈশিষ্ট্যসূচক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত মনে করবেন না, যেমন ইলমের সংজ্ঞা কিংবা অন্যান্য সংজ্ঞায়নযোগ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা এটি কতিপয় সুনির্দিষ্ট জ্ঞানশাখার দিকে প্রত্যাবর্তিত হয় এবং অতিরিক্ত উন্মোচন ও ব্যুৎপত্তি ব্যতিরেকে এর বর্ণনা সুসংগত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
[9] فَإِن قيل: فَإِذا صرفتم الْعقل إِلَى الْمصرف الَّذِي ذكرتموه فَهَل تَزْعُمُونَ أَن الْعُقَلَاء يتفاضلون فِي عُقُولهمْ؟
[2 / 1] قيل: الْأَصَح أَنهم لَا يتفاضلون فَلَا [يتَحَقَّق شخص أَعقل / من شخص وَإِن أطلق ذَلِك كَانَ تجوزاً اَوْ صرفا إِلَى كَثْرَة التجارب، فَإنَّا بعد أَن قُلْنَا: إِنَّه بعض الْعُلُوم الضرورية فَلَا يتَحَقَّق التَّفَاوُت فِيهَا] .
[৯] অতঃপর যদি বলা হয়: আপনারা বিবেককে যখন সেই অর্থে গ্রহণ করলেন যা আপনারা উল্লেখ করেছেন, তখন কি আপনারা মনে করেন যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মাঝে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতায় তারতম্য বা শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে?
[২ / ১] উত্তর দেওয়া হয়েছে: অধিকতর সঠিক মত এই যে, তাদের মাঝে কোনো তারতম্য নেই। সুতরাং [কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বুদ্ধিমান হওয়া সাব্যস্ত হয় না; আর যদি তা প্রয়োগ করা হয় তবে তা হবে রূপক অর্থে অথবা অভিজ্ঞতার আধিক্যের কারণে। কেননা আমরা যখন বলেছি যে তা কতিপয় অপরিহার্য জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, তখন সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য সাব্যস্ত হয় না]।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
(4)
[القَوْل فِي معنى الدَّلِيل وَالدَّال والمدلول] والمدلول لَهُ، والمستدل والمستدل لَهُ والمستدل عَلَيْهِ وَالِاسْتِدْلَال
[10] [أما الْإِتْيَان] بِمَعْنى الدَّلِيل فالدليل كل أَمر صَحَّ أَن يتَوَصَّل بِصَحِيح النّظر فِيهِ إِلَى علم مَا لَا يعلم بالاضطرار وَكَذَلِكَ الدّلَالَة.
[11] فَإِن قيل: أَلَيْسَ المرشد إِلَى الطَّرِيق يُسمى دَالا، على معنى أَنه يفعل الدّلَالَة، فَهَلا زعمتهم على طريقتكم أَن الدَّلِيل هُوَ الدَّال؟
(৪) [প্রমাণ, নির্দেশক ও নির্দেশিত-এর অর্থ প্রসঙ্গে আলোচনা] এবং যার জন্য নির্দেশিত, প্রমাণ অন্বেষণকারী, যার জন্য প্রমাণ অন্বেষণ করা হয়, যার বিষয়ে প্রমাণ পেশ করা হয় এবং প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি [১০] [উপস্থাপনের ক্ষেত্রে] প্রমাণের অর্থ হলো: প্রমাণ হচ্ছে এমন প্রতিটি বিষয়, যাতে সঠিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এমন বিষয়ের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় যা আবশ্যিকভাবে (স্বতঃসিদ্ধভাবে) জানা নেই; এবং নির্দেশনার (দালালাহ) বিষয়টিও তদ্রূপ।
[১১] যদি বলা হয়: পথপ্রদর্শককে কি 'নির্দেশক' বলা হয় না—এই অর্থে যে তিনি নির্দেশ প্রদানের কাজ সম্পাদন করেন? তবে আপনারা আপনাদের পদ্ধতি অনুযায়ী কেন দাবি করেন না যে, 'প্রমাণ'-ই হলো 'নির্দেশক'?
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
قيل: إِنَّمَا أطْلقُوا هَذَا الِاسْم على المرشد تجوزا ومنهج ذَلِك فِي الْأَسْمَاء يضاهي قَوْلهم: رجل عدل، يعنون بذلك الْعَادِل، وَإِن كَانَ الْعدْل وصف الْعَادِل بيد أَنهم سموهُ بوصفه. وَكَذَلِكَ يَقُولُونَ: [رجل] جور يعنون بِهِ الجائر، وَهَذَا سَبِيل تَسْمِيَة الدَّلِيل على معنى الدَّال، ثمَّ الدَّلِيل يُسمى دلَالَة، ومستدلا [بِهِ] وَحجَّة وسلطانا وبرهانا إِلَى غَيرهَا من الْعبارَات المترادفة.
[12] فَإِن قيل: فَمَا معنى الدَّال؟
قيل: هُوَ [المرشد] لغيره بِنصب الدَّلِيل. وَالله تَعَالَى دَال خلقه بنصبه
বলা হয়েছে: তারা এই নামটি পথপ্রদর্শকের ওপর রূপকভাবে প্রয়োগ করেছেন। নামসমূহের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি তাদের এই কথার সদৃশ: ‘ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি’, যার দ্বারা তারা ন্যায়বিচারকারীকে বুঝিয়ে থাকেন; যদিও ‘ন্যায়’ হলো ন্যায়বিচারকারীর একটি গুণ, তবুও তারা তাকে তার গুণের মাধ্যমেই নামকরণ করেছেন। তদ্রূপ তারা বলে থাকেন: ‘অত্যাচারী ব্যক্তি’, যার দ্বারা তারা অত্যাচারীকে বুঝিয়ে থাকেন। এটি নির্দেশকারীর অর্থে প্রমাণকে নামকরণ করার একটি পদ্ধতি। অতঃপর প্রমাণকে নির্দেশনা, যার দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করা হয়, অকাট্য যুক্তি, প্রবল প্রমাণ এবং সুস্পষ্ট দলিলসহ অন্যান্য সমার্থক শব্দে অভিহিত করা হয়।
[১২] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে ‘নির্দেশকারী’-এর অর্থ কী?
উত্তরে বলা হয়েছে: তিনি হলেন এমন সত্তা যিনি প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে অন্যকে পথ প্রদর্শন করেন। আর মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির জন্য প্রমাণাদি স্থাপনের মাধ্যমে তাদের পথপ্রদর্শক।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
الْأَدِلَّة السمعية لَهُم، والعقلية. وَهَذَا حَقِيقَة الدَّال.
[13] وَقد يُوصف الْمخبر عَن الدّلَالَة المنصوبة بِأَنَّهُ دَال كالواحد منا يخبر عَن دلَالَة [نصبها] الله تَعَالَى على مَدْلُول يُسمى دَالا تجوزا.
[14] فَإِن قيل: فَمَا معنى الْمَدْلُول؟
قيل: هُوَ الملتمس بِالدَّلِيلِ.
[15] فَإِن قيل: [فَمَا] الْمَدْلُول لَهُ؟
قيل: هُوَ عبارَة مُشْتَركَة بَين الْمَطْلُوب بِالدَّلِيلِ كَمَا ذَكرْنَاهُ فِي تَفْسِير الْمَدْلُول الْمُطلق وَبَين [الَّذِي نصب] لَهُ الدَّلِيل لاستدعائه عِنْد سُؤَاله.
[16] فَإِن قيل: فَمن الْمُسْتَدلّ؟
قيل: هَذَا أَيْضا مُتَرَدّد بَين [الطَّالِب] للْعلم بِحَقِيقَة الْأَمر [المنبئ]
তাদের জন্য শ্রুতিনির্ভর এবং বুদ্ধিভিত্তিক দলিলসমূহ। আর এটিই হচ্ছে নির্দেশকারীর প্রকৃত স্বরূপ।
[13] আর স্থাপিত নির্দেশক সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারীকেও কখনও 'নির্দেশকারী' হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যেমন আমাদের মধ্য থেকে কেউ যখন মহান আল্লাহ কর্তৃক কোনো নির্দেশিত বিষয়ের ওপর স্থাপিত নির্দেশক সম্পর্কে সংবাদ দেয়, তখন তাকে রূপকভাবে 'নির্দেশকারী' বলা হয়।
[14] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে নির্দেশিত বিষয় (মাদলুল)-এর অর্থ কী?
উত্তরে বলা হবে: এটি হলো সেই বিষয় যা দলিলের মাধ্যমে অন্বেষণ করা হয়।
[15] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে 'যার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে' (মাদলুল লাহু) বিষয়টি কী?
উত্তরে বলা হবে: এটি একটি পরিভাষা যা দলিলের মাধ্যমে অন্বেষিত বিষয়—যেমনটি আমরা 'পরম নির্দেশিত বিষয়'-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছি—এবং যার জন্য দলিলটি স্থাপন করা হয়েছে, এই উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়; কারণ তার জিজ্ঞাসার সময় এটি তলব করা হয়।
[16] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে দলিল উপস্থাপনকারী (মুস্তাদিল) কে?
উত্তরে বলা হবে: এটিও বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণকারী এবং সংবাদ প্রদানকারীর মধ্যে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
عَن الدّلَالَة وَبَين السَّائِل نصب الدَّلِيل على مَذْهَب الاستفعال [الْمَبْنِيّ] على اقْتِضَاء الطّلب.
[17] فَإِن قيل: فَمن الْمُسْتَدلّ؟
قيل: هُوَ المطالب بِالدّلَالَةِ.
فَإِن قيل: فَمن الْمُسْتَدلّ لَهُ؟
قيل: هَذَا يتَرَدَّد بَين الحكم الملتمس بِالنّظرِ فِي الدَّلِيل وَبَين المطالب بِالدّلَالَةِ.
[19] فَإِن قيل: فَمَا الْمُسْتَدلّ عَلَيْهِ؟
قيل: هُوَ الحكم الْمَدْلُول بِالدَّلِيلِ لَا غير.
প্রমাণ নির্দেশ করা এবং প্রশ্নকারীর সম্মুখে দলীল উপস্থাপন করার বিষয়টি 'ইস্তিফ'আল' কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো কিছু প্রার্থনা বা অন্বেষণ করার অর্থ প্রদান করে।
[17] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে প্রমাণ অন্বেষণকারী কে?
বলা হবে: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দলীল উপস্থাপনের দাবি করেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে যার অনুকূলে প্রমাণ অন্বেষণ করা হয় তিনি কে?
বলা হবে: এটি দলীলের ওপর পর্যালোচনার মাধ্যমে অন্বেষিত বিধান এবং প্রমাণের দাবিদার—এই উভয়ের মাঝে আবর্তিত হয়।
[19] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে যার ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় সেটি কী?
বলা হবে: এটি কেবল দলীলের মাধ্যমে নির্দেশিত বিধান।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
[20] فَإِن قيل: فَمَا الِاسْتِدْلَال؟
قيل: هُوَ يتَرَدَّد بَين الْبَحْث وَالنَّظَر فِي حَقِيقَة المنظور فِيهِ وَبَين مَسْأَلَة السَّائِل عَن الدَّلِيل.
فَهَذِهِ الْعبارَة الدائرة فِي هَذَا الْبَاب مِنْهَا مَا يتحد مَعْنَاهَا وَإِن اسْتعْملت فِي غَيرهَا كَانَت تجوزا. وَمِنْهَا مَا يتَرَدَّد بَين الجائزات.
(5)
فصل
[21] أطبق أَرْبَاب التَّحْقِيق على أَن الدّلَالَة لَا تتخصص بِوُجُود وَعدم وحدوث وَقدم. يسوغ الِاسْتِدْلَال بالقدم والحدوث والعدم والوجود. وَهَذَا وَإِن كَانَ مُتَّفقا عَلَيْهِ فَرُبمَا يقرع مسامعك من بعض الجهلة الْمصير إِلَى منع الِاسْتِدْلَال بِالْعدمِ.
وَالدَّلِيل على تثبيت ذَلِك أَن نقُول أَلسنا نستدل بِعَدَمِ الْآيَات على كذب المتنبي؟ وَكَذَلِكَ نستدل لعدم الْأَدِلَّة والعلوم الضرورية على [انحصار] أَوْصَاف الْأَجْنَاس فِيمَا أدركناه، حَتَّى لَو قَالَ الْقَائِل بِمَ تنكرون على من يزْعم أَن للجواهر. . وَنفى موا [رد] الارتياب غير أَن نقُول لَو / كَانَت لَهَا [2 / ب]
[২০] যদি প্রশ্ন করা হয়: ইস্তিদলাল (প্রমাণ অনুসন্ধান) কী?
উত্তরে বলা হয়: এটি পর্যালোচিত বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ অনুসন্ধান ও গবেষণার এবং প্রমাণ সম্পর্কে প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার মাঝে আবর্তিত হয়।
এই অধ্যায়ে প্রচলিত এই পরিভাষাগুলোর মধ্যে কোনোটির অর্থ সুনির্দিষ্ট, যা অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে তা রূপক হিসেবে গণ্য হবে। আবার কোনোটি সম্ভাব্য অর্থসমূহের মাঝে আবর্তিত হয়।
(৫)পরিচ্ছেদ [২১] সত্য অনুসন্ধানী গবেষকগণ (আরবাবুত তাহকীক) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দালালাত (নির্দেশনা) অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব, সৃষ্টি হওয়া (হুদুস) এবং অনাদিত্বের (কাদাম) মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। অনাদিত্ব, সৃষ্টি হওয়া, অনস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের মাধ্যমে ইস্তিদলাল করা বৈধ। এটি সর্বসম্মত হওয়া সত্ত্বেও, আপনি হয়তো কিছু মূর্খ লোকের নিকট শুনতে পাবেন যে তারা অনস্তিত্বের (আদম) মাধ্যমে ইস্তিদলাল করা নিষিদ্ধ করার দিকে ধাবিত হয়েছে।
এটি প্রমাণের দলিল হলো—আমরা কি অলৌকিক নিদর্শনের অনুপস্থিতির মাধ্যমে ভণ্ড নবীর মিথ্যাবাদী হওয়ার প্রমাণ দিই না? অনুরূপভাবে, আমরা দলিলের অনুপস্থিতি এবং স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানের অভাবের মাধ্যমে মৌলিক শ্রেণিগুলোর গুণাবলিকে আমাদের উপলব্ধ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করি। এমনকি যদি কেউ প্রশ্ন করে, যারা জাওহার বা মৌলিক সত্তার জন্য (নির্দিষ্ট গুণের) দাবি করে তাদের আপনারা কিসের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করেন? আর সংশয়ের ক্ষেত্রগুলো নিরসন করার উপায় হলো আমাদের এই কথা বলা যে, যদি তার জন্য [২ / খ] অস্তিত্ব থাকত...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২০)
أَوْصَاف. . انحصار أوصافها فِيمَا. . وتنافت فَدلَّ بذلك على جَوَاز الِاسْتِدْلَال بِالْعدمِ.
(6)
فصل
[22] اعْلَم وفقك الله أَن الْأَدِلَّة تَنْقَسِم إِلَى عَقْلِي ووضعي.
[23] فَأَما الْعقلِيّ فَهُوَ مَا دلّ على الْمَطْلُوب بِهِ بِوَصْف هُوَ فِي نَفسه عَلَيْهِ غير [مفتقر إِلَى] وَاضع واصطلاح، نَحْو دلَالَة الْمُحدث على الْمُحدث والإحكام على الْعَالم والتخصيص على المريد.
[24] فَأَما الوضعي فَمَا لَا يدل بِوَصْف هُوَ فِي نَفسه عَلَيْهِ. وَإِنَّمَا يدل بالمواضعة تَخْصِيصًا وَمن هَذَا الْقَبِيل جملَة الْعبارَات الدَّالَّة على الْمعَانِي فِي اللُّغَات.
[25] وَألْحق الْمُحَقِّقُونَ بِهَذَا الْفَنّ المعجزات الدَّالَّة على صدق
বৈশিষ্ট্যসমূহ। ... এর বৈশিষ্ট্যগুলোর এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া এবং পরস্পর বিরোধী হওয়া—যা অভাবের (অস্তিত্বহীনতার) মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করার বৈধতার ওপর দলীল।
(৬)
পরিচ্ছেদ
[২২] জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—নিশ্চয়ই প্রমাণসমূহ (আদিল্লাহ) দুই ভাগে বিভক্ত: যৌক্তিক (আকলি) এবং পারিভাষিক (ওয়াদয়ি)।
[২৩] যৌক্তিক প্রমাণ হলো সেটি, যা উদ্দিষ্ট বিষয়কে নির্দেশ করে এমন একটি গুণের মাধ্যমে যা তার নিজের মধ্যেই বিদ্যমান, যা কোনো প্রবর্তক বা পরিভাষার ওপর নির্ভর করে না। যেমন: সৃষ্টি (মুহদাস) স্রষ্টার (মুহদিস) অস্তিত্বের ওপর দলীল হওয়া, সুনিপুণ কারুকার্য জ্ঞানীর (আলিম) ওপর দলীল হওয়া এবং বিশেষায়ন ইচ্ছা পোষণকারীর (মুরিদ) ওপর দলীল হওয়া।
[২৪] আর পারিভাষিক প্রমাণ হলো সেটি, যা নিজের মধ্যে থাকা কোনো গুণের মাধ্যমে নির্দেশ করে না; বরং তা কেবল সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের (পরিভাষার) মাধ্যমেই নির্দেশ করে। আর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো ভাষাসমূহে অর্থের ওপর নির্দেশকারী শব্দ সমষ্টি।
[২৫] গবেষকগণ এই বিষয়ের সাথে সত্যতা নির্দেশক মুজিজাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الْأَنْبِيَاء وَشرح ذَلِك يستقصي فِي أصُول الديانَات.
[26] ثمَّ اعْلَم ان مَا دلّ عقلا لم يسغْ انقلابه عَن كَونه دَلِيلا. فَلَا يَتَقَرَّر فِي الْمَعْقُول حُدُوث غير دَال على مُحدث.
وَأما الْأَدِلَّة الوضعية فقد تتبدل الْمُوَاضَعَة فِيهَا فَلَا يؤول التبدل فِيهَا إِلَى أَوْصَاف أَنْفسهَا.
(7)
فصل
[27] الدَّلِيل لَا يَقْتَضِي مَدْلُوله وَلَا يُوجِبهُ إِيجَاب الْعلَّة معلولها بل يتَعَلَّق بالمدلول على مَا هُوَ بِهِ من النَّعْت وَيتبع وَصفه فِي التَّعَلُّق.
وَلَا يَقْتَضِي لَهُ ثُبُوت وصف كَالْعلمِ يتَعَلَّق بالمعلوم على مَا هُوَ بِهِ، وَلَا
নবীগণ এবং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ধর্মতত্ত্বের মূলনীতিসমূহে সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে।
[২৬] অতঃপর জেনে রাখুন, যা যুক্তিগতভাবে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তার দলীল হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং বিচারবুদ্ধিতে এমন কোনো সৃষ্টির অস্তিত্ব সাব্যস্ত হয় না যা কোনো সৃষ্টিকর্তার প্রতি নির্দেশ করে না।
আর পারিভাষিক দলীলসমূহের ক্ষেত্রে পরিভাষার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তন দলীলগুলোর নিজস্ব গুণাবলির দিকে ফিরে যায় না।
(৭)
পরিচ্ছেদ
[২৭] দলীল তার প্রমাণিত বিষয়কে (মাদলুল) অপরিহার্য করে না এবং কারণ যেমন তার কার্যকে অনিবার্য করে তোলে, দলীল সেভাবে তাকে অনিবার্য করে না। বরং এটি প্রমাণিত বিষয়ের সাথে তার গুণানুসারে সংশ্লিষ্ট হয় এবং সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে তার বৈশিষ্ট্যকে অনুসরণ করে।
আর এটি তার জন্য কোনো গুণের সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে না, যেমন জ্ঞান জ্ঞাত বিষয়ের (মালুম) সাথে তার প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট হয়; আর না...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২২)
يَقْتَضِي تثبيت وصف للمعلوم بل يتَعَلَّق بِهِ على مَا هُوَ بِهِ من النَّعْت وإيضاح ذَلِك بالمثال، أَن الْحُدُوث لما دلّ على الْمُحدث اسْتَحَالَ القَوْل بِأَنَّهُ يُوجِبهُ بل يتَعَلَّق بِهِ على مَا هُوَ [بِهِ] .
ومقصدنا من هَذَا الْفَصْل التَّحَرُّز من عِبَارَات يطلقهَا المتجانف عَن حقائق هَذَا الْفَنّ نَحْو قَول الْقَائِل: الدَّلِيل يُوجب كَذَا. وَالدّلَالَة تَقْتَضِي مدلولها، إِلَى غير ذَلِك فتحاش من أَمْثَالهَا. وَإِن أطلقتها فَاعْلَم أَنه متجوز فِي اطلاقها. وَالْكَلَام فِي الْأَدِلَّة يطول. وَفِيمَا ذَكرْنَاهُ مقنع إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
(8)
القَوْل فِي حَقِيقَة النّظر
[28] إِن قيل: مَا حَقِيقَة النّظر؟
قيل: النّظر لفظ يتَرَدَّد بَين معَان، فقد يُطلق وَالْمرَاد بِهِ الرُّؤْيَة، وَقد يرد وَالْمرَاد بِهِ الِانْتِظَار والرقبى وَقد يرد وَالْمرَاد بِهِ التحنن والتعطف وَقد يرد وَالْمرَاد بِهِ الِاعْتِبَار.
[29] فَإِن قيل: فَمَا المُرَاد بِهِ فِي اصْطِلَاح الْمُتَكَلِّمين؟
قيل: أَكثر النَّاس فِيهِ، فَمنهمْ من قَالَ هُوَ التَّأَمُّل والتفكر فِي الدَّلِيل وَهَذَا مَدْخُول، فَإِن التدبر فِي الشُّبْهَة يُسمى نظرا حَقِيقَة على اصْطِلَاح الْقَوْم.
পরিজ্ঞাত বিষয়ের কোনো বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করাকে এটি দাবি করে না, বরং এটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তার প্রকৃত গুণাবলি অনুযায়ী। উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো: যেহেতু কোনো কিছুর অস্তিত্বে আসা (হুদুথ) একজন অস্তিত্বদানকারীর (মুহদিথ) প্রমাণ দেয়, তাই এটি বলা অসম্ভব যে তা তাঁকে আবশ্যিক করে; বরং এটি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তিনি যেমন আছেন [সেই] অনুযায়ী।
এই পরিচ্ছেদে আমাদের উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু অভিব্যক্তি থেকে বেঁচে থাকা যা এই শাস্ত্রের হাকিকত থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিরা ব্যবহার করে থাকে। যেমন কারো কথা: "দলিল অমুক বিষয়কে আবশ্যিক করে," অথবা "নির্দেশনা তার নির্দেশিত বিষয়কে দাবি করে," ইত্যাদি। এই ধরনের শব্দাবলি থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনি এগুলো ব্যবহার করেন, তবে জেনে রাখুন যে তা রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। দলিল সংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘ, এবং আল্লাহ তাআলা চাইলে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
(৮)
নজরের (তাত্ত্বিক পর্যালোচনার) প্রকৃত স্বরূপ সংক্রান্ত আলোচনা
[২৮] যদি প্রশ্ন করা হয়: নজরের প্রকৃত স্বরূপ কী?
উত্তর দেওয়া হলো: নজর একটি শব্দ যা বিভিন্ন অর্থের মধ্যে আবর্তিত হয়। কখনো এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে দর্শন (চাক্ষুষ দেখা), কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে অপেক্ষা করা ও প্রতীক্ষা করা, কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে মমতা ও অনুকম্পা প্রদর্শন করা, আবার কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে শিক্ষা গ্রহণ বা তাত্ত্বিক বিবেচনা করা।
[২৯] যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে মুতাকাল্লিমদের পরিভাষায় এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য?
উত্তর দেওয়া হলো: এই বিষয়ে মানুষের অনেক মতামত রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো দলিলের মধ্যে চিন্তা-গবেষণা ও গভীর মনোনিবেশ করা। তবে এই সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ, কারণ এই শাস্ত্রবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী সংশয়ের (শুবহা) মধ্যে তাত্ত্বিক চিন্তা করাকেও প্রকৃত অর্থে নজর বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
وَالأَصَح فِي ذَلِك أَن يُقَال هُوَ الْفِكر الَّذِي يطْلب بِهِ معرفَة الْحق فِي ابْتِغَاء الْعُلُوم وغلبات الظنون وَهَذَا مَا ارْتَضَاهُ رضي الله عنه.
[30] ثمَّ يَنْقَسِم النّظر إِلَى الصَّحِيح وَالْفَاسِد مَعَ اندراج الْقسمَيْنِ فِي حَقِيقَة النّظر.
[31] فَإِن قيل: قد أنْكرت طَائِفَة من الْعُقَلَاء إفضاءه إِلَى الْعلم
এই বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ অভিমত হলো এই যে, একে বলা হবে এমন চিন্তা যার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ ও প্রবল ধারণার ক্ষেত্রে সত্য উদ্ঘাটন করা হয়। আর এটিই তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পছন্দ করেছেন।
[30] অতঃপর ‘নজর’ (চিন্তা-গবেষণা) সঠিক ও অশুদ্ধ—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়, যদিও উভয় প্রকারই নজরের প্রকৃত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
[31] যদি বলা হয়: একদল বুদ্ধিমান ব্যক্তি নজরের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
فحققوا مذهبكم.
قيل: المطالب بذلك لَا يَخْلُو من أحد أَمريْن: إِمَّا أَن يكون قَاطعا بِبُطْلَان النّظر حاصرا للعلوم فِي مدارك الْحَواس على مَا اشْتهر من مَذْهَب نفاة النّظر وَإِمَّا أَن يكون مستريبا غير قَاطع.
[3 / أ] فَإِن كَانَ قَاطعا قيل لَهُ /
… من جحد النّظر إِلَى جحد الضروريات.
وَأما
… النّظر وَبطلَان الْمصير إِلَى حصر الْعُلُوم فِي مدارك الْحَواس. وَكَانَ السَّائِل قَاطعا فَإِن [قَالَ] لست أقطع بِمذهب وَلَكِن أوضحُوا لي صِحَة افضاء الدَّلِيل على الْمَدْلُول فأهون الطّرق عَلَيْهِ أَن نقُول: اعْتبر الْأَدِلَّة فِي الْمسَائِل واختبرها تجدها سائقة إِلَى الْعلم بالمدلولات. فَهَذَا من أحسن مَا يتَمَسَّك بِهِ على نفاة النّظر.
(9)
فصل
[32] النّظر على مَذَاهِب أهل الْحق لَا يُولد الْعلم بالمنظور فِيهِ. وَقد
সুতরাং আপনারা আপনাদের মতবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন।
বলা হয়েছে: যার কাছে এটি দাবি করা হয়েছে, সে দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় সে যুক্তিনির্ভর চিন্তার (নাজার) অসারতার বিষয়ে নিশ্চিত এবং জ্ঞানকে কেবল ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতার মাঝে সীমাবদ্ধকারী—যেমনটি যুক্তিনির্ভর চিন্তা অস্বীকারকারীদের প্রসিদ্ধ মতবাদ, অথবা সে এই বিষয়ে সংশয়বাদী ও অনিশ্চিত।
[৩ / ক] যদি সে (নিজের মতে) নিশ্চিত হয়, তবে তাকে বলা হবে /
… যারা যুক্তিনির্ভর চিন্তাকে অস্বীকার করে, তারা মূলত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহকে অস্বীকার করার দিকেই ধাবিত হয়।
আর
… যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং জ্ঞানকে ইন্দ্রিয়লব্ধ সীমানায় আবদ্ধ রাখার অসারতা। যদি প্রশ্নকারী (তার অবস্থানে) অটল থাকে এবং [বলে]: আমি কোনো নির্দিষ্ট মতবাদের ওপর নিশ্চিত নই, তবে আপনারা আমার কাছে প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়ের যথার্থতা স্পষ্ট করুন; তবে তার জন্য সহজতম পথ হলো আমরা বলব: আপনি বিভিন্ন মাসআলার দলিলগুলো পর্যবেক্ষণ করুন এবং সেগুলো পরীক্ষা করুন, তবেই দেখতে পাবেন যে সেগুলো প্রমাণিত বিষয়ের জ্ঞানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি যুক্তিনির্ভর চিন্তা অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
(৯)
পরিচ্ছেদ
[৩২] সত্যপন্থীদের মতানুসারে, যুক্তিনির্ভর চিন্তা (নাজার) যা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে তা সম্পর্কে (সরাসরি) জ্ঞান সৃষ্টি বা উৎপাদন করে না। এবং...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
صَارَت الْقَدَرِيَّة إِلَى أَن النّظر يُولد الْعلم وَقد صحت الْأَدِلَّة عَلَيْهِم فِي إِفْسَاد التولد فِي جملَة الديانَات.
[33] فَإِن قَالُوا: النّظر إِذا صَحَّ وَارْتَفَعت الْعَوَائِق فيعقبه الْعلم بالمنظور فِيهِ لَا محَالة فَدلَّ أَنه يَقْتَضِيهِ وَلَا معنى لاقْتِضَائه إِيَّاه إِلَّا التولد فَإِنَّهُ لَا يتَعَلَّق بِهِ تعلق الْعلَّة بمعلولها بِدَلِيل أَن الْعلم بالمنظور لَا
কাদরিয়ারা এই মত পোষণ করেছে যে, তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ জ্ঞান উৎপাদন করে। আর সমস্ত ধর্মীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনের অসারতা সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
[33] অতঃপর তারা যদি বলে: তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ যখন সঠিক হয় এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারিত হয়, তখন বিচার্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অনিবার্যভাবে অর্জিত হয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, পর্যবেক্ষণ সেই জ্ঞানকে দাবি করে; আর একে দাবি করার অর্থ স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা এটি তার সাথে কারণ ও কার্যের সম্পর্কের ন্যায় সংশ্লিষ্ট নয়; এর প্রমাণ হলো যে, বিচার্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
يساوق النّظر.
قيل لَهُم: قد يجب وجود الشَّيْء مَعَ الشَّيْء أَو بعده من غير إِيجَاب عَنهُ وَثُبُوت تولد. وَالدَّلِيل عَلَيْهِ وجوب وجود الْكَوْن مَعَ وجود الْجَوْهَر. ثمَّ لَا يدل ذَلِك على أَن أَحدهمَا يُولد الآخر. وَكَذَلِكَ إِرَادَة الشَّيْء لَا تتَحَقَّق دون الْعلم ثمَّ لَا يُوجب ذَلِك تولداً. وَمن أوضح مَا يتَمَسَّك بِهِ عَلَيْهِم أَن نقُول: قد وافقتمونا معاشر الْمُعْتَزلَة على أَن من نظر وَعلم ثمَّ ذهلت نَفسه عَن النّظر وتذكر فيعقب التَّذَكُّر الْعلم كَمَا يعقب ابْتِدَاء النّظر ثمَّ اجْتَمَعْتُمْ على أَن تذكر
যুক্তি বা চিন্তার সহগামী হয়।
তাদের বলা হয়েছে: কখনো কখনো একটি বিষয়ের অস্তিত্ব অন্য বিষয়ের সাথে বা তার পরে হওয়া আবশ্যক হতে পারে, তা সত্ত্বেও কোনো অনিবার্য কারণ (ইজাব) বা উৎপত্তির (তাওয়াল্লুদ) সাব্যস্ততা ছাড়াই। এর প্রমাণ হলো জওহরের (মৌলিক সত্তা) অস্তিত্বের সাথে কাওনের (অবস্থান) অস্তিত্বের আবশ্যকতা। তথাপি এটি প্রমাণ করে না যে, তাদের একটি অন্যটিকে উৎপন্ন করেছে। অনুরূপভাবে, কোনো বিষয়ের ইচ্ছা জ্ঞান ব্যতীত অর্জিত হয় না, তবে এটিও কোনো প্রকার উৎপাদন (তাওয়াল্লুদ) সাব্যস্ত করে না। তাদের বিরুদ্ধে পেশ করার মতো সর্বাপেক্ষা স্পষ্ট দলিল হলো: হে মুতাজিলা সম্প্রদায়, তোমরা আমাদের সাথে একমত হয়েছ যে, যে ব্যক্তি চিন্তা ও জ্ঞান অর্জন করল, অতঃপর তার নফস সেই চিন্তা থেকে বিস্মৃত হলো এবং সে পুনরায় তা স্মরণ করল, তবে স্মরণের পর জ্ঞান অর্জিত হয় যেমনটি প্রাথমিক চিন্তার পর হয়েছিল। এরপর তোমরা একমত হয়েছ যে, স্মরণ করা
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
النّظر لَا يُوجب الْعلم.
فَإِن قيل: فَمَا الَّذِي يصدهم عَن ارْتِكَاب ذَلِك؟
قيل: لَو قَالُوهُ نسبوا إِلَى هدم مُعظم أصولهم. وَذَلِكَ أَنهم وافقونا على أَن التَّذَكُّر للدليل السَّابِق قد يحصل ضَرُورِيًّا من فعل الله عز وجل فَلَو كَانَ مولودا للْعلم بالمدلول لزم مِنْهُ كَون الْعلم بالمدلول فعلا لله تَعَالَى و
… ذَلِك يسوقهم إِلَى تَجْوِيز كَون معرفَة الله تَعَالَى من فعل الله وَهَذَا من أعظم مَا ينكرونه.
(10)
فصل
[34] فَإِن قيل: إِذا صَحَّ النّظر فِي الدَّلِيل تضمن الْإِفْضَاء إِلَى الْعلم بالمدلول فَهَل تَقولُونَ: إِن النّظر الْفَاسِد والفكر فِي الشُّبْهَة يُؤَدِّي إِلَى الْجَهْل والريب؟
قيل: النّظر فِي الشُّبُهَات لَا يَقْتَضِي جهلا وَلَا شكا وَكَذَلِكَ كل نظر فَاسد لَا يتَضَمَّن شَيْئا من أضداد الْعلم. وَالَّذِي يُحَقّق ذَلِك أَن الدَّلِيل يتَعَلَّق بمدلوله على وَجه يُؤَدِّي النّظر فِيهِ إِلَى الْعلم بالمدلول. وَأما الشُّبْهَة فَلَا تعلق
গবেষণা জ্ঞানকে অপরিহার্য করে না।
যদি বলা হয়: তবে কোন বিষয়টি তাদেরকে তা করা থেকে বিরত রাখে?
বলা হবে: যদি তারা এটি বলত, তবে তা তাদের অধিকাংশ মূলনীতি ধ্বংস করার নামান্তর হতো। আর তা এই কারণে যে, তারা আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছে যে, পূর্ববর্তী দলিলের কথা স্মরণ হওয়া কখনও কখনও মহান আল্লাহর কার্যের মাধ্যমে আবশ্যিকভাবে অর্জিত হতে পারে। সুতরাং যদি তা প্রতিপাদ্য বিষয়ের জ্ঞানের কারণ হতো, তবে তা থেকে প্রতিপাদ্য বিষয়ের জ্ঞান মহান আল্লাহর কাজ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত এবং
… তা তাদেরকে মহান আল্লাহর পরিচয় আল্লাহর কাজ হওয়ার বৈধতা প্রদানের দিকে ধাবিত করত, অথচ এটি তাদের নিকট সবচেয়ে বড় অস্বীকৃত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(১০)
পরিচ্ছেদ
[৩৪] যদি বলা হয়: দলিলের সঠিক গবেষণা যদি প্রতিপাদ্য বিষয়ের জ্ঞানের দিকে পৌঁছে দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে আপনারা কি বলেন যে, ভ্রান্ত গবেষণা এবং সংশয়পূর্ণ বিষয়ে চিন্তা করা কি অজ্ঞতা ও সন্দেহের দিকে পরিচালিত করে?
বলা হবে: সংশয় নিয়ে গবেষণা করা অজ্ঞতা বা সন্দেহের দাবি রাখে না; একইভাবে প্রতিটি ভ্রান্ত গবেষণা জ্ঞানের বিপরীত কোনো কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে না। আর যে বিষয়টি একে সুনিশ্চিত করে তা হলো, দলিল তার প্রতিপাদ্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত থাকে যে, তাতে গবেষণা করা প্রতিপাদ্য বিষয়ের জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে। কিন্তু সংশয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
لَهَا بأضداد الْعُلُوم حَتَّى تقتضيها لتعلقها بهَا اقْتِضَاء الدَّلِيل الْعلم بالمدلول.
وَالدَّلِيل على ذَلِك أَيْضا أَن النّظر فِي الشُّبْهَة لَو كَانَ يَقْتَضِي جهلا لزم اطراد هَذَا الِاقْتِضَاء. وَنحن نعلم أَن الْعَالم بحقائق الشُّبُهَات إِذا نظر لم تسقه إِلَى الْجَهْل وَالدَّلِيل لما كَانَ مقتضيا للْعلم بالمدلول يَقُود كل من صَحَّ نظره فِيهِ إِلَى الْعلم [بالمدلول] .
(11)
القَوْل فِي شَرَائِط صِحَة الْوُجُوه الَّتِي مِنْهَا تدل النَّاظر [3 / ب] [35] اعْلَم أَن النّظر إِنَّمَا / يَصح بشرائط
… أَن لَا يكون النَّاظر
এর জন্য ইলমের বিপরীত বিষয়সমূহের মাধ্যমে, যাতে তা সেগুলোকে অপরিহার্য করে তোলে; কারণ সেগুলোর সাথে তার সংশ্লিষ্টতা হচ্ছে দলীলের মাধ্যমে মাদলুল (প্রমাণিত বিষয়) সম্পর্কে ইলম অর্জনের আবশ্যকতা স্বরূপ।
এর ওপর আরও প্রমাণ হলো যে, সংশয়ের (শুবহা) ওপর পর্যালোচনা করা যদি মূর্খতা দাবি করত, তবে এই দাবির ধারাবাহিকতা বজায় থাকা আবশ্যক হতো। অথচ আমরা জানি যে, সংশয়ের স্বরূপ সম্পর্কে অবগত কোনো আলেম যখন পর্যালোচনা করেন, তখন তা তাকে মূর্খতার দিকে ধাবিত করে না। আর দলিল যখন মাদলুল সম্পর্কে ইলম অর্জনের দাবি রাখে, তখন যার পর্যালোচনাই সঠিক হবে তাকেই তা [মাদলুল সম্পর্কে] ইলমের দিকে পরিচালিত করবে।
(১১)
সেই পদ্ধতিসমূহের শুদ্ধতার শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা যা থেকে গবেষক প্রমাণ গ্রহণ করেন [৩ / খ] [৩৫] জেনে রেখো যে, পর্যালোচনা কেবল তখনই সঠিক হয় যখন কিছু শর্তাবলি... যে গবেষক যেন না হন
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
عَالما [بالمطلوب] لِأَن الْعلم بالشَّيْء يُنَافِي الا [ستدلال] .
[فَإِن قيل:] الْعَالم منا ينصب طرقا من الْأَدِلَّة على مَا علمه بعد حُصُول إِلَّا
…قيل: الْأَدِلَّة الَّتِي ينصبها لَا تُفْضِي بِهِ إِلَى الْعلم. وَلَيْسَ مقْصده التَّوَصُّل بهَا إِلَى الْعلم فَإِنَّهُ متصف بِهِ، وَإِنَّمَا [مرامه] أَن يتَوَصَّل إِلَى تمهيد الطّرق وليعلم أَنَّهَا تنزل منزلَة أول دَلِيل اعْتصمَ بِهِ فمطلوبه جعلهَا أَدِلَّة لَا التَّوَصُّل إِلَى مدلولها.
وَمن شَرَائِط النّظر كَمَال عقل النَّاظر.
وَمن شَرَائِطه أَيْضا أَن يعلم الْوُجُوه الَّتِي مِنْهَا تدل الْأَدِلَّة وَلَا يَكْفِيهِ الْعلم بِذَات الدّلَالَة مَعَ الذهول عَن الْوَجْه الَّذِي مِنْهُ تدل الدّلَالَة.
فَإِذا تجمعت هَذِه الشَّرَائِط فأنهى النَّاظر وَلم يعقه عائق وَلم يعقب كَمَال النّظر آفَة تضَاد حُصُول الْعلم بالمنظور فِيهِ فَيحصل الْعلم لَا محَالة وَإِذا اخْتَلَّ شَرط من هَذِه الشَّرَائِط فسد وَلم يفض إِلَى الْعلم.
(12)
القَوْل فِي وجوب النّظر
[36] فَإِن قيل: هَل يجب النّظر عنْدكُمْ؟
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া; কেননা কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা তার দ্বারা যুক্তি প্রদর্শনের পরিপন্থী।
[যদি বলা হয়:] আমাদের মধ্য থেকে কোনো আলেম কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পর সেই বিষয়ের ওপর দলিলের বিভিন্ন পথ বা পদ্ধতি স্থাপন করেন, কেবল...
…বলা হয়: তিনি যে সকল দলিল স্থাপন করেন, তা তাকে জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে না। আর এগুলোর মাধ্যমে জ্ঞানের স্তরে পৌঁছানোও তার উদ্দেশ্য নয়, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই সেই জ্ঞানের অধিকারী। বরং তার [উদ্দেশ্য] হলো দলিল উপস্থাপনের পথগুলোকে সুবিন্যস্ত করা এবং এটি জানানো যে, এগুলো সেই প্রথম দলিলের স্থলাভিষিক্ত যার ওপর তিনি নির্ভর করেছিলেন। সুতরাং তার অন্বিষ্ট হলো এগুলোকে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করা, এগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত সত্যে (মাদলুল) উপনীত হওয়া নয়।
তাত্ত্বিক পর্যালোচনার (নযর) অন্যতম শর্ত হলো পর্যালোচনাকারীর আকল বা বিবেকের পূর্ণতা।
এর আরও একটি শর্ত হলো দলিলের নির্দেশনার দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া। নির্দেশনার মূল দিকটি সম্পর্কে অসতর্ক থেকে কেবল দলিলের মূল রূপ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা যথেষ্ট নয়।
যখন এই শর্তগুলো একত্রিত হয় এবং পর্যালোচনাকারী তার কাজ সমাপ্ত করে, আর কোনো বাধা তাকে বাধাগ্রস্ত না করে, এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পর এমন কোনো বিপর্যয় না ঘটে যা পর্যালোচিত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পরিপন্থী, তবে অবশ্যই জ্ঞান অর্জিত হবে। আর যখন এই শর্তগুলোর কোনো একটিতে ত্রুটি দেখা দেয়, তখন তা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় এবং জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে না।
(১২) তাত্ত্বিক পর্যালোচনার (নযর) আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা [৩৬] যদি বলা হয়: আপনাদের নিকট কি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা (নযর) আবশ্যক?
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
قيل: أجل.
فَإِن قيل: فَمَا الدَّلِيل على وُجُوبه أبموجب الْعقل تدركونه أم بقضية السّمع؟
قيل: لَا تدْرك الْوَاجِبَات على أصُول أهل الْحق بقضية الْعقل. وَلكنهَا تدْرك بموجبات الْأَدِلَّة السمعية.
فَإِن قيل: فَمَا الدَّلِيل على وجوب النّظر سمعا؟
قيل: قد ثَبت وجوب المعارف اتِّفَاقًا. وَقد ثَبت تعلق التَّكْلِيف بهَا ثمَّ تحقق انقسام الْعُلُوم إِلَى الضرورية والكسبية، وَثَبت توقف الكسبية على قَضِيَّة الْأَدِلَّة فَفِي الِاتِّفَاق على وجوب المعارف مَعَ توقفها على صَحِيح النّظر أوضح الدّلَالَة على وُجُوبه فَإِن وجوب الشَّيْء يَقْتَضِي وجوب مَا لَا يتم إِلَّا بِهِ.
বলা হয়েছে: হ্যাঁ।
যদি বলা হয়: তবে এর আবশ্যিকতার দলিল কী? আপনারা কি তা বিবেকের দাবি অনুযায়ী অনুধাবন করেন নাকি শ্রবণভিত্তিক নির্দেশের মাধ্যমে?
বলা হয়েছে: হকপন্থীদের মূলনীতি অনুযায়ী ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়গুলো বিবেকের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় না। বরং সেগুলো শ্রবণভিত্তিক দলিলের দাবি অনুযায়ী অনুধাবন করা হয়।
যদি বলা হয়: তবে শ্রবণভিত্তিক দলিলের আলোকে চিন্তা ও গবেষণার আবশ্যিকতার দলিল কী?
বলা হয়েছে: সর্বসম্মতভাবে মারেফাত বা জ্ঞান অর্জন আবশ্যক হওয়া প্রমাণিত। আর এই মারেফাতের সাথে শরয়ি বিধিবিধানের সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত। অতঃপর জ্ঞান যে ‘জরুরি’ ও ‘কাসবি’—এই দুই ভাগে বিভক্ত, তাও সুনিশ্চিত। এটিও প্রমাণিত যে, কাসবি বা অর্জিত জ্ঞান দলিলের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, সঠিক চিন্তা ও গবেষণার ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও মারেফাত বা জ্ঞান অর্জনের আবশ্যিকতার ব্যাপারে যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা চিন্তা ও গবেষণার আবশ্যিকতার ওপর সবচাইতে স্পষ্ট দলিল। কারণ, কোনো বিষয় ওয়াজিব হওয়া সেই বিষয়েরও আবশ্যিকতা দাবি করে যা ছাড়া উক্ত ওয়াজিবটি সম্পন্ন হয় না।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
(13)
فصل
[37] فَإِن قيل: فَهَل تطلقون اسْم الدّلَالَة على أَخْبَار الْآحَاد والمقاييس والعبر الْمُقْتَضِيَة وجوب الْعَمَل دون الْعلم؟
قيل: مَا صَار إِلَيْهِ مُعظم الْمُحَقِّقين أَن اسْم الدّلَالَة يتخصص بِمَا يَقْتَضِي الْعلم من الْأَدِلَّة السمعية والعقلية. فَأَما مَا لَا يَقْتَضِي الْعلم فَسمى أَمارَة
(১৩) পরিচ্ছেদ [৩৭] যদি বলা হয়: তবে কি আপনারা ‘দালালাহ’ (প্রমাণক) পরিভাষাটি এমন একক বর্ণনা (আখবারুল আহাদ), কিয়াস এবং নিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যা আমল করা ওয়াজিব করে কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে না?
উত্তর দেওয়া হয়েছে: অধিকাংশ গবেষক (মুহাক্কিক) যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা হলো—‘দালালাহ’ পরিভাষাটি শ্রুতিগত ও বুদ্ধিগত দলিলের মধ্যে কেবল সেগুলোর জন্যই সুনির্দিষ্ট যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আর যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না, তাকে ‘আমারা’ (ইঙ্গিত) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
وَهَذَا لَو رد إِلَى حَقِيقَة اللُّغَة فِي الْإِطْلَاق لم يبعد. فَإِن الْعَرَب لَا تفصل فِي هَذَا الْمَقْصد بَين الْإِمَارَة وَالدّلَالَة. وَلَو قلب قالب مَا قدمْنَاهُ فِي التَّرْتِيب فَسمى الدّلَالَة المفضية إِلَى الْعلم أَمارَة، وَمَا يَقْتَضِي غَلَبَة الظَّن دلَالَة، لم يكن مُبْعدًا أَن أَرْبَاب الْحَقَائِق اصْطَلحُوا على مَا قدمْنَاهُ. وراموا بذلك تَحْقِيق الجنسين. وَهَذَا اخْتِلَاف هَين الْمدْرك.
وَذهب جُمْهُور الْفُقَهَاء إِلَى تَسْمِيَة الْكل دلَالَة.
[38] ثمَّ أعلم أَن الدّلَالَة تَنْقَسِم إِلَى عَقْلِي وسمعي.
فاما الْعقلِيّ فينقسم إِلَى مَا يَقْتَضِي الْقطع وَإِلَى مَا لَا يَقْتَضِيهِ.
فَأَما مَا يَقْتَضِي الْقطع فنحو الْأَدِلَّة فِي أصُول العقائد.
وَأما مَا لَا يَقْتَضِي الْقطع ويتشبث فِيهِ بشواهد الْعقل فنحو تَقْوِيم
আর একে যদি ভাষার প্রকৃত ব্যবহারের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা অসম্ভব হবে না। কেননা আরবরা এই উদ্দেশের ক্ষেত্রে 'ইমারা' (নিদর্শন) এবং 'দালালা' (প্রমাণ)-এর মধ্যে পার্থক্য করে না। আর আমরা বিন্যাসের ক্ষেত্রে যা আগে উল্লেখ করেছি, কেউ যদি তার বিপরীত করে অর্থাৎ জ্ঞান দানকারী প্রমাণকে 'ইমারা' বলে এবং প্রবল ধারণার উদ্রেককারী বিষয়কে 'দালালা' নামকরণ করে, তবে এমনটি অসম্ভব নয় যে তত্ত্বজ্ঞানীগণ আমরা যা আগে উল্লেখ করেছি তার ওপরই পরিভাষা স্থির করেছেন। তারা এর মাধ্যমে উভয় প্রকারের স্বরূপ সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন। আর এটি এমন এক মতভেদ যার উৎস অত্যন্ত সহজ।
আর জুমহুর ফকিহগণ সকল কিছুকেই 'দালালা' হিসেবে নামকরণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
[৩৮] অতঃপর জেনে রাখুন যে, দালালা (প্রমাণ) দুই প্রকার: যৌক্তিক ও শ্রুতিগত।
যৌক্তিক দালালা পুনরায় এমন বিষয়ে বিভক্ত যা অকাট্যতা (নিশ্চয়তা) দাবি করে এবং যা অকাট্যতা দাবি করে না।
যা অকাট্যতা দাবি করে, তা হলো আকিদার মূলনীতিসমূহের দলিলসমূহের ন্যায়।
আর যা অকাট্যতা দাবি করে না এবং যাতে বিবেকের সাক্ষ্যসমূহ অবলম্বন করা হয়, তা হলো মূল্যায়নের (তাকউয়িম) ন্যায়...
(খণ্ড: ১)
আত-তালখীস ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
المقومات وَحصر مبالغ النَّفَقَات المترتبة على مقادير الْحَاجَات فَهَذَا /
… [4 / أ] [" وَكَذَلِكَ السمعي يَنْقَسِم إِلَى مَا يَقْتَضِي الْقطع وَهُوَ يتَضَمَّن الْعلم، وَإِلَى مَا لَا يَقْتَضِيهِ كأخبار الْآحَاد والمقاييس السمعية، فَكَمَا لَا يُوصف باقتضاء الْعلم، لَا يُوصف باقتضاء غَلَبَة الظَّن، و "] هَذَا مِمَّا يزل فِيهِ مُعظم الْفُقَهَاء وَوجه التَّحْقِيق فِي ذَلِك يداني مَا قدمْنَاهُ من عدم إفضاء الشُّبْهَة إِلَى الْجَهْل. وَفِيمَا قدمْنَاهُ مقنع وَلَكِن قد تعم الْعَادة بِحُصُول غلبات الظنون فِي أَثَرهَا من غير أَن تكون متضمنة لَهَا.
(14)
القَوْل فِيمَا يعلم عقلا وسمعا تَخْصِيصًا أَو جمعا
[39] اعلموا وفقكم الله أَن من الْعُلُوم مَا لَا يتَوَصَّل إِلَيْهَا إِلَّا بأدلة الْعُقُول.
وَمِنْهَا مَا لَا يتَوَصَّل إِلَيْهَا إِلَّا بأدلة السّمع، وَمِنْهَا مَا يتَوَصَّل إِلَيْهَا بِدلَالَة سمعية تَارَة وعقلية أُخْرَى.
فَأَما مَا لَا يتَوَصَّل إِلَيْهِ من الْعُلُوم الكسبية إِلَّا بأدلة الْعُقُول فَهِيَ كل علم لَا تتمّ معرفَة الوحدانية والنبوات إِلَّا
উপাদানসমূহ এবং প্রয়োজনীয়তার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ; সুতরাং এটি /
… [৪ / অ] [" অনুরূপভাবে শ্রুতিগত দলীলসমূহ এমনভাবে বিভক্ত যা অকাট্যতা বা ধ্রুব সত্যের দাবি রাখে এবং তা নিশ্চিত জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে, আবার যা তা দাবি করে না যেমন একক বর্ণনা এবং শ্রুতিগত তুলনাসমূহ; সুতরাং এটি যেমন নিশ্চিত জ্ঞানের দাবিদার হিসেবে অভিহিত হয় না, তেমনি এটি প্রবল ধারণার দাবিদার হিসেবেও অভিহিত হয় না, এবং "] এটি এমন একটি বিষয় যেখানে অধিকাংশ ফকীহ পদস্খলিত হন। আর এই বিষয়ে প্রকৃত সত্যটি আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ সংশয় অজ্ঞতার দিকে ধাবিত না হওয়া—তার কাছাকাছি। আমরা যা পেশ করেছি তা যথেষ্ট, তবে অভ্যাসবশত এর প্রভাবে প্রবল ধারণার উদ্ভব হতে পারে যদিও তা সেটিকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
(১৪)
যা বুদ্ধি ও শ্রুতির মাধ্যমে এককভাবে কিংবা সম্মিলিতভাবে জানা যায় সেই প্রসঙ্গে আলোচনা
[৩৯] জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাদের তাওফীক দান করুন যে, কিছু জ্ঞান এমন রয়েছে যা বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়।
আর তন্মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা কেবল শ্রুতিগত দলীল ব্যতীত অর্জন করা যায় না, আবার কিছু এমন রয়েছে যা কখনো শ্রুতিগত দলীলের মাধ্যমে এবং কখনো বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
অর্জিত জ্ঞানসমূহের মধ্যে যা বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়, তা হলো এমন প্রতিটি জ্ঞান যা ব্যতীত আল্লাহর একত্ববাদ এবং নবুওয়াতের পরিচয় সম্পন্ন হয় না কেবল...