(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: -)
النبذة الكافية في أحكام أصول الدين   (ابن حزم)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: النبذة الكافية في أحكام أصول الدين

المؤلف: ابن حزم الأندلسي (ت 456 هـ)

المحقق: محمد أحمد عبد العزيز

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 75

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-নুবজাতুল কাফিয়াহ ফি আহকাম উসুল আদ-দীন   (ইবনে হাজম)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: আন-নুবজাতুল কাফিয়াহ ফি আহকাম উসুল আদ-দীন

লেখক: ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৫৬ হি.)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ আহমদ আবদুল আজিজ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
النبذ فِي أصُول الْفِقْه

مُقَدّمَة قَالَ الشَّيْخ الفيه الامام الْحَافِظ الْوَزير أَبُو مُحَمَّد عَليّ بن احْمَد بن سعيد بن حزم الأندلسي الْقُرْطُبِيّ رضى الله عَنهُ الْحَمد لله الَّذِي خلقنَا ورزقنا وَجعل لنا السّمع والأبصار والأفئدة فنسأله أَن يجعلنا من الشَّاكِرِينَ وَصلى الله على سيد الْمُرْسلين مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله أتم صَلَاة وأفضلها وأزكاها وَعَلِيهِ من رَبنَا تَعَالَى ثمَّ منا أفضل السَّلَام وأطيبه ثمَّ على أَزوَاجه وَآله وَأَصْحَابه وتابعيهم وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

‌‌أما بعد

وفقنا الله تَعَالَى وَإِيَّاكُم لإيفاء مَا كلفنا وعصمنا وأياكم من مواقعة مَا عَنهُ نَهَانَا فاننا لما كتبنَا كتَابنَا الْكَبِير فِي الْأُصُول وتقصينا أَقْوَال الْمُخلفين وشبههم وأوضحنا بعون الله تَعَالَى وَمِنْه الْبَرَاهِين فِي كل ذَلِك رَأينَا بعد إستخارة الله تَعَالَى والضراعة اليه فِي عونه على بَيَان الْحق أَن نجمع تِلْكَ الْجمل فِي كتاب لطيف يسهل تنَاوله وَيقرب حفظه وَيكون ان شَاءَ الله عز وجل دَرَجَة إِلَى الاشراف على مَا فِي كتَابنَا الْكَبِير فِي ذَلِك وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل

‌‌فصل

أعلمُوا رحمكم الله أننا لم نخرجنا رَبنَا الى الدُّنْيَا لتَكون لنا دَار اقامة لَكِن لتَكون لنا محلّة رَحْله ومنزله قلعة
আন-নুবাজ ফি উসুলিল ফিকহ

ভূমিকা। ফকিহ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ), উজির আবু মুহাম্মদ আলি ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিজিক দান করেছেন এবং আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর দান করেছেন। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করেন। সালাত বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল—সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ, উত্তম ও পবিত্রতম সালাত; এবং তাঁর ওপর মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমাদের পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক সর্বোত্তম ও পবিত্রতম সালাম। অতঃপর তাঁর সহধর্মিণীগণ, পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপরও। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

‌‌অতঃপর

আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদেরকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালনের তাওফিক দান করুন এবং যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন তাতে লিপ্ত হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করুন। মূলনীতি (الأصول) বিষয়ে যখন আমি আমার বৃহৎ গ্রন্থটি রচনা করেছিলাম এবং বিরোধীদের মতামত ও তাদের সংশয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছিলাম এবং আল্লাহর সাহায্যে ও অনুগ্রহে তার প্রমাণাদি (البراهين) স্পষ্ট করেছিলাম; তখন আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (إستخارة) এবং সত্য বর্ণনায় তাঁর সাহায্য কামনার পর আমি এই সংকল্প করলাম যে, সেই সারকথাগুলোকে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে সংকলন করব যা আয়ত্ত করা সহজ হবে এবং স্মরণে রাখা সহজতর হবে। এটি ইনশাআল্লাহ সেই বৃহৎ গ্রন্থের বিষয়বস্তু অনুধাবনের একটি সোপান হবে। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

‌‌পরিচ্ছেদ

আপনারা অবগত হোন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন—আমাদের প্রতিপালক আমাদের এই পৃথিবীতে স্থায়ী বসবাসের জন্য পাঠাননি, বরং এটি আমাদের জন্য সফরের একটি মনজিল এবং ক্ষণস্থায়ী যাত্রাবিরতির স্থান।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَالْمرَاد منا الْقيام بِمَا كلفنا بِهِ رَبنَا تَعَالَى مِمَّا بعث بِهِ الينا رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَط وَلذَلِك خلقنَا وَمن أَجله اسكننا هَذِه الدَّار ثمَّ النقلَة مِنْهَا الى احدى الدَّاريْنِ {إِن الْأَبْرَار لفي نعيم وَإِن الْفجار لفي جحيم} ثمَّ بَين لنا تَعَالَى من الْأَبْرَار وَمن الْفجار فَقَالَ عز وجل {وَمن يطع الله وَرَسُوله يدْخلهُ جنَّات تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار خَالِدين فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْز الْعَظِيم وَمن يعْص الله وَرَسُوله ويتعد حُدُوده يدْخلهُ نَارا خَالِدا فِيهَا وَله عَذَاب مهين}

فَوَجَبَ انطلب كَيفَ هَذِه الطَّاعَة وَهَذِه الْمعْصِيَة فوجدناه تَعَالَى قد قَالَ {مَا فرطنا فِي الْكتاب من شَيْء} وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا أنزلنَا عَلَيْك الْكتاب إِلَّا لتبين لَهُم الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ وَهدى وَرَحْمَة لقوم يُؤمنُونَ} وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} وَقَالَ تَعَالَى {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ}

فأيقنا وَللَّه الْحَمد بِأَن الدّين الَّذِي كلفنا بِهِ رَبنَا وَلم يَجْعَل لنا مخلصا من النَّار إِلَّا باتباعه مُبين كُله فِي الْقُرْآن الْكَرِيم وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - واجماع الْأمة وَأَن الدّين قد كمل فَلَا مزِيد فِيهِ وَلَا نقص وأيقنا أَن كل ذَلِك مَحْفُوظ مضبوط لقَوْل الله تَعَالَى {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون}
আমাদের উদ্দেশ্য কেবল আমাদের রব তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে আমাদের প্রতি যা অর্পণ করেছেন তা সম্পাদন করা। কেবল এই লক্ষ্যেই আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্যেই তিনি আমাদের এই আবাসে বসবাস করিয়েছেন। অতঃপর এখান থেকে দুই চিরস্থায়ী আবাসের কোনো একটিতে প্রস্থান করতে হবে: "নিশ্চয়ই পুণ্যবানরা থাকবে নেয়ামতের মাঝে এবং নিশ্চয়ই পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে।" এরপর মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কারা পুণ্যবান এবং কারা পাপাচারী। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এটিই মহা সফলতা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।"

সুতরাং এই আনুগত্য ও অবাধ্যতার স্বরূপ কী তা অন্বেষণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আমরা দেখতে পাই মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি তাদের নিকট সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করছে এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়াত ও রহমত।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো।" তিনি আরও বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।"

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের রব আমাদের ওপর যে দ্বীন অর্পণ করেছেন এবং যার অনুসরণ ছাড়া জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ তিনি রাখেননি, তার সবকিছুই পবিত্র কুরআন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মতের ইজমা (إجماع)-এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত। দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে, সুতরাং এতে কোনো কিছু বৃদ্ধির অবকাশ নেই এবং হ্রাস করারও সুযোগ নেই। আমরা আরও দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে, এই সবকিছুই সংরক্ষিত (محفوظ) ও সুবিন্যস্ত (مضبوط), যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
فصح من هَذَا صِحَة مستيقنة لَا مجَال للشَّكّ فِيهَا أَنه لَا يحل لأحد أَن يُفْتِي وَلَا أَن يقْضِي وَلَا أَن يعْمل فِي الدّين إِلَّا بِنَصّ الْقُرْآن الْكَرِيم أَو نَص حكم صَحِيح عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَو اجماع مُتَيَقن من أولى أَمر منا لَا خلاف فِيهِ من أحد مِنْهُم وَصَحَّ أَن من نفى شَيْئا أَو أوجبه فَإِنَّهُ لَا يقبل مِنْهُ إِلَّا ببرهان لِأَنَّهُ لَا مُوجب وَلَا نافي إِلَّا الله تَعَالَى فَلَا يجوز الْخَبَر عَن الله تَعَالَى إِلَّا بِخَبَر وَارِد من تقبله تَعَالَى أما فِي الْقُرْآن وَمَا فِي السّنة وَالْإِبَاحَة تَقْتَضِي مبيحا وَالتَّحْرِيم يَقْتَضِي محرما وَالْفَرْض يَقْتَضِي فارضا وَلَا مُبِيح وَلَا محرم وَلَا مفترض إِلَّا الله تَعَالَى خَالق الْكل ومالكه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ
এ থেকে এটি সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়েছে, যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট পাঠ (نص), অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) বিধানের স্পষ্ট পাঠ (نص), অথবা আমাদের উলুল আমরের পক্ষ থেকে এমন সুনিশ্চিত ইজমা (إجماع) যাতে তাদের মধ্য থেকে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি—এগুলো ব্যতীত কারো জন্য দ্বীনি বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া, বিচারকার্য পরিচালনা করা কিংবা আমল করা বৈধ নয়। আর এটি প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে অস্বীকার করল বা আবশ্যক করল, অকাট্য প্রমাণ (برهان) ব্যতীত তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো বিধানদাতা বা নিষেধকারী নেই। সুতরাং মহান আল্লাহ সম্পর্কে কোনো সংবাদ (خبر) প্রদান করা জায়েজ নয় কেবল তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদ (خبر) ব্যতীত—তা কুরআনেই হোক কিংবা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হোক। আর বৈধতা (إباحة) একজন বৈধতাদানকারী দাবি করে, নিষিদ্ধকরণ (تحريم) একজন নিষিদ্ধকারী দাবি করে এবং ফরজ (فرض) একজন ফরজকারী দাবি করে। অথচ নিখিল বিশ্বের স্রষ্টা ও মালিক মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো বৈধতাদানকারী, নিষিদ্ধকারী বা ফরজকারী নেই; তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الْكَلَام فِي الْإِجْمَاع وَمَا هُوَ

بدأنا بالاجماع لِأَنَّهُ لَا اخْتِلَاف فِيهِ فَنَقُول وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق أَنه لما صَحَّ عَن الله عز وجل فرض اتِّبَاع الْإِجْمَاع بِمَا ذكرنَا وَبِقَوْلِهِ عز وجل {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى ونصله جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا} وذم تَعَالَى الإختلاف وَحرمه يَقُوله تَعَالَى {واعتصموا بِحَبل الله جَمِيعًا وَلَا تفَرقُوا} وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَلَا تنازعوا فتفشلوا وَتذهب ريحكم} وَلم يكن فِي الدّين إِلَّا اجماع أَو أختلاف فَأخْبر تَعَالَى أَن الِاخْتِلَاف لَيْسَ من عِنْده عز وجل فَقَالَ تَعَالَى {وَلَو كَانَ من عِنْد غير الله لوجدوا فِيهِ اخْتِلَافا كثيرا} فصح ضَرُورَة ان الأجتماع من عِنْده تَعَالَى اذ الْحق من عِنْده تَعَالَى وَلَيْسَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا اجماع أَو اخْتِلَاف فالاختلاف لبيس من عِنْد الله تَعَالَى فَلم يبْقى إِلَّا الاجماع فَهُوَ من عِنْد الله تَعَالَى بِلَا شكّ وَمن خَالفه بعد علمه بِهِ اَوْ قيام الحدة عَلَيْهِ بذلك فقد اسْتحق الْوَعيد الْمَذْكُور فِي الْآيَة

فَنَظَرْنَا فِي هَذَا الاجماع المفترض علينا اتِّبَاعه فوجدناه لَا يَخْلُو من أحد وَجْهَيْن لَا ثَالِث لَهما

أما أَن يكون اجماع كل عصر من أول الاسلام الى انْقِضَاء الْعَالم ومجيء يَوْم الْقِيَامَة أَو اجماع عصر دون عصر فَلم يجز ان يكون الاجماع الَّذِي افْترض الله علينا اتِّبَاعه اجماع كل عصر من أول الاسلام الى انْقِضَاء الْعَالم لِأَنَّهُ لَو كَانَ ذَلِك لم يلْزم احدا فِي النَّاس اتِّبَاع الاجماع لِأَنَّهُ ستأتي أعصار بعده بِلَا شكّ فالاجماع اذن لم يتم بعد وَكَانَ يكون أَمر الله
ঐক্যমত্য (إجماع) এবং এর স্বরূপ সংক্রান্ত আলোচনা

আমরা ঐক্যমত্য (إجماع) দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি কারণ এতে কোনো মতভেদ (اختلاف) নেই। সুতরাং আমরা আল্লাহর তাওফিকে বলছি যে, যখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐক্যমত্য (إجماع) অনুসরণ করা ফরজ হওয়া সাব্যস্ত (صحيح) হয়েছে—যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "আর যে ব্যক্তি তার নিকট হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যা সে গ্রহণ করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট আবাস।" আল্লাহ তাআলা মতভেদকে (اختلاف) নিন্দা করেছেন এবং তা হারাম করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন (تفرقوا) হয়ো না।" এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি চূর্ণ হবে।" দ্বীনের মধ্যে ঐক্যমত্য (إجماع) অথবা মতভেদ (اختلاف) ব্যতীত আর কিছুই নেই। আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, মতভেদ (اختلاف) তাঁর পক্ষ থেকে নয়; তিনি বলেছেন: "তা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে বহু মতভেদ (اختلاف) দেখতে পেত।" সুতরাং যৌক্তিক অনিবার্যতায় এটি সাব্যস্ত (صحيح) হয় যে, ঐক্যবদ্ধ হওয়া আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই, কারণ সত্য (حق) তাঁর পক্ষ থেকেই আসে। আর পৃথিবীতে ঐক্যমত্য (إجماع) অথবা মতভেদ (اختلاف) ব্যতিরেকে তৃতীয় কিছু নেই; যেহেতু মতভেদ (اختلاف) আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, তাই ঐক্যমত্য (إجماع) ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। অতএব, এটি নিসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকেই। আর যে ব্যক্তি এটি অবগত হওয়ার পর অথবা তার বিরুদ্ধে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর বিরোধিতা করবে, সে আয়াতে বর্ণিত শাস্তির যোগ্য হবে।

অতঃপর আমরা সেই ঐক্যমত্য (إجماع) নিয়ে পর্যালোচনা করলাম যা অনুসরণ করা আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। আমরা একে দুটি সূরতের মধ্যে সীমাবদ্ধ পেলাম যার তৃতীয় কোনোটি নেই।

হয় এটি ইসলামের সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি যুগের ঐক্যমত্য (إجماع) হবে, অথবা এটি কোনো এক যুগের ঐক্যমত্য (إجماع) হবে অন্য যুগের পরিবর্তে। এটি হওয়া সম্ভব নয় যে, আল্লাহ আমাদের ওপর যে ঐক্যমত্য (إجماع) অনুসরণ করা ফরজ করেছেন তা ইসলামের সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি যুগের ঐক্যমত্য (إجماع) হবে; কারণ যদি তা-ই হতো, তবে কোনো মানুষের পক্ষেই ঐক্যমত্য (إجماع) অনুসরণ করা আবশ্যক হতো না, যেহেতু নিসন্দেহে তার পরেও আরও বহু যুগ আসবে, ফলে ঐক্যমত্য (إجماع) তখনো পূর্ণতা পেত না। আর এমতাবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ হতো...
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
تَعَالَى بذلك بَاطِلا وَهَذَا كفر مِمَّن اجازه اذا علمه وعاند فِيهِ فَبَطل هَذَا الْوَجْه بِيَقِين لَا شكّ فِيهِ وَلم يبْقى إِلَّا الْوَجْه الآخر وَهُوَ أَنه اجماع عصر دون سَائِر الْأَعْصَار فَنَظَرْنَا فِي ذَلِك لنعلم أَي الْأَعْصَار هُوَ الَّذِي اجماع أَهله هُوَ الَّذِي أذن الله تَعَالَى فِي ابتاعه وان لَا يخرج عَنهُ فَوَجَدنَا القَوْل فِي ذَلِك لَا يَخْلُو من أحد ثَلَاثَة أوجه لَا رَابِع لَهَا

أما أَن يكون ذَلِك الْعَصْر هُوَ عصر من الْأَعْصَار الَّتِي بعد عصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم أَو يكون عصر الصَّحَابَة فَقَط أَو يكون عصر الصَّحَابَة وَأي عصر بعدهمْ أجمع أَهله أَيْضا على شَيْء فَهُوَ اجماع

فَنَظَرْنَا فِي القَوْل الأول فوجدناه فَاسِدا لوَجْهَيْنِ برهانيين كافيين أَحدهمَا أَنه مُحَمَّد على أَنه بَاطِل لم يقل بِهِ أحد قطّ وَالثَّانِي أَنه دَعْوَى بِلَا دَلِيل وَمَا كَانَ هَكَذَا فَهُوَ سَاقِط بِيَقِين لبرهانين أَحدهمَا قَوْله تَعَالَى {قل هاتوا برهانكم إِن كُنْتُم صَادِقين} فصح ان كل من لَا برهَان لَهُ فَلَيْسَ بصادق فِي دَعْوَاهُ وَالثَّانِي أَنه لَا يعجز مخالفه عَن أَن يدعى كدعواه فَيَقُول أَحدهمَا هُوَ الْعَصْر الثَّانِي وَيَقُول الآخر بل الثَّالِث وَيَقُول الثَّالِث بل الرَّابِع وَهَذَا تَخْلِيط الاخفاء بِهِ فَيسْقط هَذَا القَوْل وَالْحَمْد لله

فَنَظَرْنَا فِي هَذَا القَوْل الثَّانِي وَهُوَ قَول من قَالَ ان أهل الْعَصْر الَّذِي اجماعهم هُوَ الاجماع الَّذِي أَمر الله تَعَالَى باتباعه
আল্লাহ তাআলার প্রতি এমন কোনো বিষয় আরোপ করা অসার (باطل); এবং এটি ঐ ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুফর যে এটি জানার পর তা বৈধ মনে করে এবং এ বিষয়ে হঠকারিতা করে। ফলে এই দিকটি নিশ্চিতভাবেই অসার প্রমাণিত হলো যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন কেবল অন্য দিকটিই অবশিষ্ট রইল, আর তা হলো—এটি অন্য সকল যুগের পরিবর্তে কেবল একটি যুগের ঐক্যমত্য (إجماع)। আমরা এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলাম যাতে জানতে পারি যে, আসলে সেই যুগটি কোনটি যার অধিবাসীদের ঐক্যমত্য (إجماع)-কে আল্লাহ তাআলা অনুসরণ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তা থেকে বিচ্যুত না হতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা দেখতে পেলাম যে, এ সংক্রান্ত বক্তব্য তিনটি সুরতের অন্তর্ভুক্ত, যার চতুর্থ কোনোটি নেই।

হয় সেই যুগটি হবে সাহাবিগণের (الصحابة) পরবর্তী কোনো একটি যুগ, অথবা তা হবে কেবল সাহাবিগণের (الصحابة) যুগ, অথবা তা হবে সাহাবিগণের (الصحابة) যুগ এবং তাদের পরবর্তী যেকোনো যুগ যার অধিবাসীরা কোনো বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে সেটিও একটি ঐক্যমত্য (إجماع)।

আমরা প্রথম বক্তব্যটি পর্যবেক্ষণ করে দুটি পর্যাপ্ত ও অকাট্য প্রমাণের (برهان) ভিত্তিতে সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) হিসেবে পেলাম। প্রথমত, এটি সর্বসম্মতভাবে (مجمع) অসার (باطل), যা আগে কখনো কেউ বলেনি। দ্বিতীয়ত, এটি দলিল (دليل) বিহীন একটি দাবি। আর যা এমন হয়, তা দুটি অকাট্য প্রমাণের (برهان) কারণে নিশ্চিতভাবেই বর্জনযোগ্য। তার একটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের অকাট্য প্রমাণ (برهان) পেশ করো}। সুতরাং এটি সঠিক প্রমাণিত হলো যে, যার কাছে কোনো অকাট্য প্রমাণ (برهان) নেই, সে তার দাবিতে সত্যবাদী নয়। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো বিরোধিতাকারীকে তার মতো দাবি করা থেকে বিরত রাখতে পারে না; ফলে একজন বলবে এটি দ্বিতীয় যুগ, অন্যজন বলবে না এটি তৃতীয় যুগ, আবার তৃতীয়জন বলবে এটি চতুর্থ যুগ। এটি এমন এক বিভ্রান্তি যা অত্যন্ত স্পষ্ট, ফলে এই বক্তব্যটি বাতিল সাব্যস্ত হলো। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

অতঃপর আমরা এই দ্বিতীয় বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করলাম, আর তা হলো ঐ ব্যক্তির বক্তব্য যে বলে যে, নির্দিষ্ট সেই যুগের অধিবাসীদের ঐক্যমত্যই (إجماع) হলো সেই ঐক্যমত্য (إجماع) যা অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২০)
هم الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَقَط فوجدناه صَحِيحا لبرهانين أَحدهمَا أَنه اجماع لَا خلاف فِيهِ من أحد وَمَا اخْتلف قطّ مسلمان فِي أَن مَا أجمع عَلَيْهِ جمع الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم دون خلاف من أحد مِنْهُم اجماعا متيقنا مَقْطُوعًا بِصِحَّتِهِ فانه اجماع صَحِيح لَا يحل لأحد خِلَافه وَالثَّانِي أَنه قد صَحَّ أَن الدّين قد كمل بقوله تَعَالَى {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ} واذ قد صَحَّ ذَلِك فقد بَطل أَن يُزَاد فِيهِ شَيْء وَصَحَّ أَنه كمل فقد اتفقنا أَنه كُله مَنْصُوص عَلَيْهِ من عِنْد الله عز وجل واذا كَانَ هُوَ كَذَلِك فَمَا كَانَ من عِنْد الله تَعَالَى فَلَا سَبِيل الى مَعْرفَته إِلَّا من قبل النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - الَّذِي يَأْتِيهِ الْوَحْي من عِنْد الله والا فَمن نسب الى الله تَعَالَى أمرا لم يَأْتِ بِهِ عَن الله عهد فَهُوَ قَائِل على الله تَعَالَى مَالا علم لَهُ بِهِ وَهَذَا مقرون بالشرك وَوَصِيَّة ابيلس قَالَ الله تَعَالَى {قل إِنَّمَا حرم رَبِّي الْفَوَاحِش مَا ظهر مِنْهَا وَمَا بطن وَالْإِثْم وَالْبَغي بِغَيْر الْحق وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّه مَا لم ينزل بِهِ سُلْطَانا وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ} وَقَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تتبعوا خطوَات الشَّيْطَان إِنَّه لكم عَدو مُبين إِنَّمَا يَأْمُركُمْ بالسوء والفحشاء وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ}

فاذن قد صَحَّ أَنه لَا سَبِيل الى معرفَة مَا أَرَادَ الله تَعَالَى الا من قبل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا يكون الدّين الا من عِنْد الله تَعَالَى فالصحابة رضى الله عَنْهُم هم الَّذين شاهدوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وسمعوه فاجمعهم على مَا أَجمعُوا عَلَيْهِ هُوَ الاجماع المفترض اتِّبَاعه لأَنهم نقلوه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - عَن الله تَعَالَى بِلَا شكّ
তাঁরা হলেন কেবল সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। আমরা একে দুটি প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক (صحيح) হিসেবে পেয়েছি; এর একটি হলো এটি এমন এক ঐকমত্য (إجماع) যার ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। কোনো দুইজন মুসলিমও কখনো এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সমগ্র জামাত যখন কোনো বিষয়ে কারো কোনো ভিন্নমত ছাড়াই একমত হন, তখন সেই ঐকমত্যের (إجماع) সঠিকতা সুনিশ্চিত (متيقن) ও অকাট্য (مقطوع) হয়। আর এটি এমন এক সঠিক (صحيح) ঐকমত্য (إجماع), যার বিরোধিতা করা কারো জন্য বৈধ নয়। দ্বিতীয় প্রমাণটি হলো, এটি প্রমাণিত (صح) যে দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম}। যখন এটি প্রমাণিত (صح) হলো, তখন এতে নতুন কিছু বৃদ্ধি করা বাতিল হয়ে গেল। আর যেহেতু প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে, তাই আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, এর সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص عليه)। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা জানার কোনো উপায় নেই একমাত্র নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যম ছাড়া, যাঁর নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) অবতীর্ণ হতো। অন্যথায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে এমন কোনো বিষয় সম্বন্ধযুক্ত করল যার কোনো প্রতিশ্রুতি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি, সে আল্লাহর নামে এমন কথা বলল যার কোনো জ্ঞান তার নেই। এটি শিরকের সাথে এবং ইবলিসের প্ররোচনার সাথে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক তো হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অন্যায্য বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর নামে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো তোমাদের কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর নামে এমন কথা বলতে বলে যা তোমরা জানো না}।

অতএব এটি প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, মহান আল্লাহ যা চেয়েছেন তা জানার কোনো উপায় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া আর কারো মাধ্যম নেই; আর দ্বীন কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। সুতরাং সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন তাঁরা যারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং তাঁর কথা শুনেছেন। অতএব, তাঁরা যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, তার অনুসরণ করা আবশ্যিক (مفترض); কারণ তাঁরা তা নিসন্দেহে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা (نقل) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২১)
ثمَّ نَظرنَا فِي القَوْل الثَّالِث وَهُوَ ان اجماع الصَّحَابَة اجماع صَحِيح وَأَن اجماع أهل عصر مَا مِمَّن بعدهمْ اجماع ايضا وان لم يَصح فِي ذَلِك عَن الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم اجماع فوجدناه بَاطِلا لِأَنَّهُ لَا يَخْلُو من أحد ثَلَاثَة أوجه لَا رَابِع لَهَا

أما أَن يجمع أهل ذَلِك الْعَصْر على مَا أجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم واما ان يجمعوا على مَا لم يَصح فِيهِ اجماع وَلَا اخْتِلَاف لَكِن اما على أَمر لم يحفظ فِيهِ عَن أحد من الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم قَول وَأما على أَمر حفظ فِيهِ عَن بَعضهم قَول وَلم يحفظ فِيهِ عَن ساشرهم شَيْء فان كَانَ اجماع أهل الْعَصْر الْمُتَأَخر عَنْهُم على مَا أجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فقد غنينا باجماع الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم وَوَجَب فرض اتِّبَاعه على من بعدهمْ وَلَا يجوز أَن يزِيد اجماع الصحابه قُوَّة فِي ايجابة مُوَافقَة من بعدهمْ لَهُم كَمَا لاتقدح فِيهِ مُخَالفَة من بعدهمْ لَو خالفوهم بل من خالفهم وخرق الأجماع الْمُتَيَقن على علم مِنْهُ بِهِ فَهُوَ كَافِر اذا قَامَت الْحجَّة عَلَيْهِ بذلك وَتبين لَهُ الْأَمر وعاند الْحق وان كَانَ اجماع الْعَصْر الْمُتَأَخر على مَا صَحَّ فِيهِ اخْتِلَاف بَين الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَهَذَا بَاطِل وَلَا يجوز ان يجْتَمع اجماع وَاخْتِلَاف فِي مَسْأَلَة وَاحِدَة لِأَنَّهُمَا ضدان والضدان لَا يَجْتَمِعَانِ مَعًا واذا صَحَّ الِاخْتِلَاف بَين الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَلَا يجوز ان يحرم على من بعدهمْ مَا حل لَهُم من النّظر وَأَن يمنعوا من الاجتمهاد الَّذِي أداهم الى الِاخْتِلَاف فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة اذا أدّى انسان بعدهمْ دَلِيل الى مَا أدّى اليه دَلِيل بعض الصَّحَابَة لِأَن الدّين لَا يحدث على مَا قُلْنَا قبل وَمَا كَانَ
অতঃপর আমরা তৃতীয় মতটি পর্যালোচনা করলাম, যা হলো সাহাবীগণের (صحابة) ঐক্যমত (إجماع) একটি সঠিক (صحيح) ঐক্যমত (إجماع) এবং তাদের পরবর্তী কোনো এক যুগের অধিবাসীগণের ঐক্যমতও (إجماع) একইভাবে ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে গণ্য, যদিও সে বিষয়ে সাহাবীগণের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পক্ষ থেকে কোনো ঐক্যমত (إجماع) সাব্যস্ত (صح) না হয়ে থাকে; কিন্তু আমরা একে বাতিল (باطل) হিসেবে পেয়েছি, কারণ এটি তিনটি অবস্থার কোনো একটির বাইরে হতে পারে না যার চতুর্থ কোনোটি নেই।

হয়তো সেই যুগের অধিবাসীগণ এমন কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করবেন যার ওপর সাহাবীগণ (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন, অথবা তারা এমন বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হবেন যাতে কোনো ঐক্যমত (إجماع) বা মতপার্থক্য (اختلاف) সাব্যস্ত (صح) হয়নি। তবে তা হতে পারে এমন কোনো বিষয় যাতে সাহাবীগণের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কারো থেকে কোনো বক্তব্য সংরক্ষিত হয়নি, অথবা এমন বিষয় যাতে তাদের কারো কারো থেকে বক্তব্য সংরক্ষিত হয়েছে কিন্তু বাকিদের থেকে কিছু সংরক্ষিত হয়নি। সুতরাং যদি তাদের পরবর্তী যুগের অধিবাসীগণের ঐক্যমত (إجماع) এমন বিষয়ের ওপর হয় যাতে সাহাবীগণ (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন, তবে সাহাবীগণের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঐক্যমতই (إجماع) আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তাদের পরবর্তীগণের ওপর তার অনুসরণ ফরজ (فرض) হওয়া আবশ্যক। আর পরবর্তীগণের সহমত পোষণ সাহাবীগণের (صحابة) ঐক্যমতের (إجماع) শক্তিতে নতুন কোনো আবশ্যকতা যোগ করতে পারে না, যেমনটি তাদের পরবর্তীগণের বিরোধিতাও তাতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে না যদি তারা বিরোধিতা করত। বরং যে ব্যক্তি তাদের বিরোধিতা করবে এবং জেনেশুনে নিশ্চিত ঐক্যমত (إجماع) ভঙ্গ করবে, সে কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য হবে যখন তার ওপর অকাট্য দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে, বিষয়টি তার নিকট স্পষ্ট হবে এবং সে সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করবে। আর যদি পরবর্তী যুগের ঐক্যমত (إجماع) এমন কোনো বিষয়ে হয় যাতে সাহাবীগণের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে মতপার্থক্য (اختلاف) থাকা প্রমাণিত (صح) হয়, তবে তা বাতিল (باطل)। কারণ একই মাসআলায় (مسألة) ঐক্যমত (إجماع) এবং মতপার্থক্য (اختلاف) একত্রে সমবেত হওয়া সম্ভব নয়; যেহেতু তারা পরস্পর বিপরীত (ضدان) আর দুটি বিপরীত বিষয় কখনোই একত্রে মিলিত হয় না। আর যখন সাহাবীগণের (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে মতপার্থক্য (اختلاف) প্রমাণিত (صح) হয়ে যায়, তখন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই চিন্তা-গবেষণা (نظر) হারাম (حرام) করা জায়েজ (يجوز) নয় যা সাহাবীগণের (صحابة) জন্য বৈধ (حل) ছিল এবং তাদেরকে সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে বাধা দেওয়া যাবে না যা তাদেরকে ওই মাসআলায় (مسألة) মতপার্থক্যের (اختلاف) দিকে ধাবিত করেছিল, যদি পরবর্তী কোনো ব্যক্তির দলিল (دليل) তাকে সেই সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায় যার দিকে কোনো কোনো সাহাবীর (صحابة) দলিল (دليل) নিয়ে গিয়েছিল। কারণ দ্বীন নতুন করে সৃষ্টি হয় না যেমনটি আমরা পূর্বে বলেছি এবং যা ইতিপূর্বে ছিল।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২২)
مُبَاحا فِي وَقت مَا بعد موت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - فَهُوَ مُبَاح ابدا وَمَا كَانَ حرَام فِي وَقت مَا فَلَا يجوز بعده أَن يحل أبدا قَالَ الله تَعَالَى {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ}

وبرهان آخر وَهُوَ أَن هَؤُلَاءِ أهل هَذَا الْعَصْر الْمُتَأَخِّرين وَمن وافقوه من الصَّحَابَة أَنما هم بعض الْمُؤمنِينَ بِيَقِين اذا لم يدْخل فيهم من روى عَنهُ الْخلاف فِي ذَلِك من الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم واذ لَا شكّ فِي أَنهم بعض الْمُؤمنِينَ فقد بَطل ان يكون اجماع لِأَن الاجماع انما هُوَ اجماع جمع الْمُؤمنِينَ لَا اجماع بَعضهم لِأَن الله تَعَالَى نَص على ذَلِك بقوله تَعَالَى {وأولي الْأَمر مِنْكُم فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} وَإِذا اجْمَعْ بعض دون بعض فَهِيَ حَال تنَازع فَلم يَأْمر تَعَالَى فِيهَا بِاتِّبَاع بعض دون بعض لَكِن بِالرَّدِّ الى الله تَعَالَى وَالرَّسُول صلى الله عليه وسلم فيطل هَذَا القَوْل بِيَقِين لَا مرية فِيهِ وَللَّه الْحَمد

ثمَّ نَظرنَا فِي الْقسم الثَّالِث وَهُوَ اجماع الْعَصْر الْمُتَأَخر على مَا لم يحفظ فِيهِ اجماع وَلَا خلاف بَين الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم لَكِن اما على حكم حفظ فِيهِ قَول عَن بعض الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم دون بعض أَو لم يحفظ فِيهِ عَن أحد مِنْهُم من الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم شَيْء فوجدناه لَا يَصح لبرهانين

أَحدهمَا أَنهم بعض الْمُؤمنِينَ لَا كلهم وَلم يَقع قطّ على أهل عصر بعد الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم اسْم جَمِيع الْمُؤمنِينَ لأَنهم قد سلف قبلهم خِيَار الْمُؤمنِينَ فاذن أهل كل عصر بعد الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم انما هم بعض الْمُؤمنِينَ بِلَا شكّ وَعَلِيهِ فقد بَطل أَن يكون اجماعهم اجماع الْمُؤمنِينَ وَلم يُوجب الله
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর কোনো এক সময়ে যা বৈধ (مباح) ছিল, তা চিরকালই বৈধ (مباح); আর যা কোনো এক সময়ে হারাম (حرام) ছিল, তাঁর পরে তা কখনোই হালাল (حلال) হওয়া বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম}।

আর অন্য একটি প্রমাণ হলো, এই পরবর্তী যুগের ব্যক্তিবর্গ এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা তাদের সাথে একমত হয়েছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই মুমিনদের একটি অংশ মাত্র। কেননা তাদের মধ্যে ওইসব সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি যাদের থেকে এ বিষয়ে ভিন্নমত বর্ণিত হয়েছে। যেহেতু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা মুমিনদের একটি অংশ মাত্র, তাই এটি ইজমা (إجماع) হওয়া বাতিল সাব্যস্ত হলো। কারণ ইজমা (إجماع) মূলত সকল মুমিনের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে বোঝায়, তাদের কিছু অংশের ঐক্যকে নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে তাঁর বাণীর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন: {এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের; অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো}। আর যখন কিছু লোক ঐক্যমত পোষণ করে কিন্তু অন্যেরা করে না, তখন তা বিরোধপূর্ণ অবস্থা হিসেবে গণ্য হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা একজনের আনুগত্য করতে ও অন্যজনকে বর্জন করতে নির্দেশ দেননি, বরং আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এই অভিমতটি নিশ্চিতভাবে বাতিল যাতে কোনো সংশয় নেই, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

অতঃপর আমরা তৃতীয় প্রকারটি নিয়ে বিবেচনা করলাম, আর তা হলো সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে কোনো ইজমা (إجماع) বা মতভেদ সংরক্ষিত নেই এমন বিষয়ের ওপর পরবর্তী যুগের ইজমা (إجماع)। তবে তা হতে পারে এমন কোনো হুকুমের ওপর যেখানে কিছু সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) বক্তব্য সংরক্ষিত আছে অন্যদের বাদ দিয়ে, অথবা সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) কারো থেকেই কোনো কিছু সংরক্ষিত নেই। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, দুটি প্রমাণের ভিত্তিতে এটি সঠিক নয়।

তার একটি হলো, তারা মুমিনদের একটি অংশ মাত্র, সবাই নন। সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) পরবর্তী যুগের কোনো জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কখনোই "সকল মুমিন" পদবাচ্যটি প্রযোজ্য হয়নি; কারণ তাদের পূর্বে শ্রেষ্ঠ মুমিনগণ গত হয়েছেন। সুতরাং সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) পরবর্তী প্রত্যেক যুগের লোকগণ নিশ্চিতভাবেই মুমিনদের একটি অংশ মাত্র। অতএব, তাদের ইজমা (إجماع) মুমিনদের ইজমা (إجماع) হওয়া বাতিল সাব্যস্ত হলো। আর আল্লাহ ওয়াজিব (واجب) করেননি...
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
تَعَالَى علينا قطّ اتِّبَاع سَبِيل بعض الْمُؤمنِينَ وَلَا طَاعَة بعض أولى الْأَمر وَأما الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فانهم فِي عصرهم كَانُوا جَمِيع أولى الْأَمر اذ لم يتكن مَعَهم أحد غَيرهم فصح أَن اجماعهم هُوَ اجماع جَمِيع الْمُؤمنِينَ بِيَقِين لَا شكّ فِيهِ وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين وَبَطل ذَلِك القَوْل جملَة اذ لَا يحل لأحد أَن يُوجب فِي الدّين مَا لم يُوجِبهُ الله تَعَالَى على لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم َ - وَأَيْضًا فَأَنَّهُ لَا يجوز لأحد الْقطع على صِحَة اجماع اهل عصر مَا بعد الصابة رضى الله عَنْهُم على مَا لم يجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة بل يكون من قطع بذلك كَاذِبًا بِلَا شكّ لِأَن الْأَعْصَار بعد الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم من التَّابِعين فَمن بعدهمْ لَا يُمكن ضبط أَقْوَال جَمِيعهم وَلَا حصرها أَنهم ملاوا الدُّنْيَا وَللَّه الْحَمد من أقْصَى السَّنَد وخراسان وأرمينية وأذربيجان والجزيرة وَالشَّام ومصر وافريقية والأندلس وبلاد البربر واليمن وجزيرة الْعَرَب وَالْعراق والأهواز وَفَارِس وكرمان ومكران وسجستان وأردبيل وَمَا بَين هَذِه الْبِلَاد

وَمن الْمُمْتَنع أَن يُحِيط أحد بقول كل انسان فِي هَذِه الْبِلَاد وانما يَصح الْقطع على اجماعهم على مَا أجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة ببرهان أوضح وَهُوَ أَن الْيَقِين قد صَحَّ على أَن كل من وَافق من كل هَؤُلَاءِ اجماع الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَهُوَ مُؤمن وَمن خَالفه جَاهِلا باجماعهم فَهُوَ كَافِر فقد سقط بذلك عَن أَن يكون من جملَة الْمُؤمنِينَ الَّذين اجماعهم اجماع وَلَيْسَ هَذَا الحكم جَارِيا على من خَالف أهل عصر هُوَ مِنْهُم وانما صَحَّ الْقطع على اجماع الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم لأَنهم كَانُوا عددا محصورا مُجْتَمعين فِي الْمَدِينَة وَمَكَّة مَقْطُوعًا على أَنهم مطيعون لرَسُول
আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর কখনোই কেবল কিছু মুমিনের পথ অনুসরণ করা কিংবা কেবল কিছু কর্তৃত্বশীলদের (أولي الأمر) আনুগত্য করা ওয়াজিব করেননি। পক্ষান্তরে সাহাবীগণ (صحابة) তাঁদের যুগে সকল কর্তৃত্বশীলের (أولي الأمر) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কেননা তখন তাঁদের সাথে অন্য কেউ ছিল না। সুতরাং এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে, তাঁদের ঐক্যমত্যই (إجماع) হলো কোনো সন্দেহাতীত নিশ্চিত সত্যের ভিত্তিতে সকল মুমিনের ঐক্যমত্য (إجماع)। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং সেই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে গেল; কেননা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখে আল্লাহ তাআলা যা ওয়াজিব করেননি, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করা কারো জন্য বৈধ নয়। তদুপরি, সাহাবীগণের (صحابة) পরবর্তী কোনো যুগের মানুষের ঐক্যমত্যের (إجماع) বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে দাবি করা কারো জন্য বৈধ নয়, যে বিষয়ে সাহাবীগণ (صحابة) ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেননি। বরং কেউ এমন দাবি করলে সে নিঃসন্দেহে একজন মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সাহাবীগণের (صحابة) পরবর্তী তাবিঈগণ (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের মানুষের মতামতসমূহ আয়ত্ত করা বা সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহর প্রশংসায় তাঁরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েছিলেন—সিন্ধু উপত্যকার প্রান্তসীমা থেকে শুরু করে খোরাসান, আরমেনিয়া, আজারবাইজান, আল-জাজিরা, শাম (সিরিয়া), মিশর, আফ্রিকা, আন্দালুস (স্পেন), বার্বারদের দেশ, ইয়ামেন, আরব উপদ্বীপ, ইরাক, আহওয়াজ, পারস্য, কিরমান, মাকরান, সিজিস্তান, আরদাবিল এবং এসব অঞ্চলের মধ্যবর্তী জনপদগুলো পর্যন্ত।

এই সকল অঞ্চলের প্রত্যেকটি মানুষের মতামত পরিবেষ্টন করা কারো পক্ষে অসম্ভব। বরং তাঁদের ঐক্যমত্য (إجماع) কেবল সেই বিষয়ের ওপরই নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হতে পারে যে বিষয়ে সাহাবীগণ (صحابة) একমত হয়েছিলেন। আর এটি একটি অতি স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত, যা হলো—এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে, এই সকল মানুষের মধ্যে যারা সাহাবীগণের (صحابة) ঐক্যমত্যের (إجماع) সাথে একমত পোষণ করেন, তিনি মুমিন (مؤمن); আর যারা তাঁদের ঐক্যমত্য (إجماع) সম্পর্কে জেনেও তার বিরোধিতা করেন, তিনি কাফির (كافر)। এর মাধ্যমে তিনি সেই সকল মুমিনের দলভুক্ত হওয়া থেকে বিচ্যুত হয়ে গেলেন যাদের ঐক্যমত্য (إجماع) হলো প্রকৃত ঐক্যমত্য (إجماع)। তবে এই বিধানটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যে তার নিজ যুগের মানুষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। আর সাহাবীগণের (صحابة) ঐক্যমত্যের (إجماع) ওপর নিশ্চিত হওয়া এজন্য সম্ভব হয়েছিল যে, তাঁরা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং মক্কা ও মদীনায় একত্রিত ছিলেন, এবং তাঁরা রাসূলের প্রতি অনুগত ছিলেন—এটি একটি নিশ্চিত বিষয়।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
الله صلى الله عليه وسلم َ - وَأَن من اسْتحلَّ عصيانة عليه السلام فَلَيْسَ مِنْهُم بل هُوَ خَارج عَن الايمان مبعد عَن الْمُؤمنِينَ

فصح بِيَقِين لَا مرية فِيهِ أَن الاجماع المفترض علينا اتباعة انما هُوَ اجماع الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَقَط وَلَا يجوز ان يجمع اهل عصر بعدهمْ على خطأ لِأَن الله تَعَالَى قد ضمن ذَلِك لنا بقوله تَعَالَى {وَلَا يزالون مُخْتَلفين إِلَّا من رحم رَبك} وَالرَّحْمَة انما هِيَ للمحسنين بِنَصّ الْقُرْآن فاذا كَانَ قطع على انه لم يكن خلاف فَهُوَ اجماع على حق يُوجب الرَّحْمَة وَلَا بُد واذا لم يكن قطع تَامّ باجماع على غير مَا يُوجب الرَّحْمَة بِنَصّ الْقُرْآن مَعَ مَا حَدثنَا عبد الله بن يُوسُف ثَنَا أَحْمد بن فتح ثَنَا عبد الْوَهَّاب بن عِيسَى ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ثَنَا أَحْمد بن عَليّ ثَنَا مُسلم بن الْحجَّاج ثَنَا سعيد بن مَنْصُور وَأَبُو الرّبيع الْعَتكِي وقتيبة قَالُوا ثَنَا حَمَّاد هُوَ ابْن زيد عَن أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ عَن أبي قلَابَة عَن أبي أَسمَاء الرَّحبِي عَن ثَوْبَان قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - لَا تزَال طَائِفَة من أمتِي ظَاهِرين على الْحق لَا يضرهم من خذلهم حَتَّى يأتى أَمر الله وَزَاد الْعَتكِي وَسَعِيد فِي روايتهما وهم كَذَلِك

وَأخْبرنَا عبد الرَّحْمَن بن عبد الله الْهَمدَانِي ثَنَا أَبُو اسحق الْبَلْخِي ثَنَا الْفربرِي ثَنَا البُخَارِيّ ثَنَا الْحميدِي ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم ثَنَا ابْن جَابر هُوَ ابْن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد بن جَابر قَالَ حَدثنِي عُمَيْر ابْن هاني أَنه سمع مُعَاوِيَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - يَقُول لَا تزَال طَائِفَة من أمتِي أمة قَائِمَة بِأَمْر
আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) - এবং নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবাধ্যতাকে বৈধ মনে করে, সে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সে ঈমান থেকে বহির্ভূত এবং মুমিনদের থেকে বিচ্যুত।

সুতরাং অকাট্যভাবে এবং সংশয়হীনভাবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুসরণ করা আমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে, তা কেবল সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)। তাঁদের পরবর্তী যুগের অধিবাসীদের পক্ষে কোনো ভুলের ওপর একমত হওয়া বৈধ নয়; কারণ মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে আমাদের জন্য এর নিশ্চয়তা দিয়েছেন: {এবং তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা ব্যতীত যাদের প্রতি আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন}। আর কুরআনের সুস্পষ্ট পাঠ (نص) অনুযায়ী রহমত কেবল সৎকর্মশীলদের জন্য। সুতরাং যখন এটি নিশ্চিত হয় যে কোনো মতভেদ ছিল না, তখন সেটিই হকের ওপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) যা রহমতকে অবধারিত করে এবং এটিই অনিবার্য। আর যখন কুরআনের সুস্পষ্ট পাঠ (نص) অনুযায়ী যা রহমত অবধারিত করে তা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের ওপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হওয়ার ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকে না; এর সাথে আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন ফাতহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ বিন মানসুর, আবু আল-রাবি আল-আতাকি এবং কুতায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন হাম্মাদ—যিনি ইবনে যায়েদ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা আল-রাহবি থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসে।" আল-আতাকি এবং সাঈদ তাঁদের বর্ণনা (رواية)-এ এটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, "এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।"

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান bin আব্দুল্লাহ আল-হামদানি, তিনি বলেন আবু ইসহাক আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-ফারাবরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে জাবির—যিনি ইবনে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উমাইর বিন হানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুয়াবিয়াকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে..."
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الله مَا يضرهم من كذبهمْ وَلَا من خالفهم حَتَّى يَأْتِي أَمر الله وهم على ذَلِك

قَالَ أَبُو مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى وَبِمَا ذكرنَا آنِفا فِي ابطال الْقسم الثَّالِث بَطل قَول من قَالَ أَن مَا صَحَّ عَن طَائِفَة من الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم وَلم يعرف عَن غَيرهم انكار لذَلِك فانه مِنْهُم اجماع لِأَن هَذَا انما هُوَ قَول بعض الْمُؤمنِينَ كَمَا ذكرنَا وَأَيْضًا فان من قطع على غير ذَلِك الْقَائِل بِأَنَّهُ مُوَافق لذَلِك الْقَائِل فقد قفا مَا لَا علم لَهُ بِهِ وَهَذَا اجرام قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم إِن السّمع وَالْبَصَر والفؤاد كل أُولَئِكَ كَانَ عَنهُ مسؤولا} فليتق الله تَعَالَى كل امريء على نَفسه وليفكر فِي أَن الله تَعَالَى سَائل سَمعه وبصره وفؤاده عَمَّا قَالَه مِمَّا لَا يَقِين عِنْده بِهِ وَمن قطع على انسان بِأَمْر لم يوقفه عَلَيْهِ فقد وَاقع الْمَحْذُور وَحصل لَهُ الاثم فِي ذَلِك فان قيل هم أهل الْفضل والسبق فَلَو انكروا شَيْئا لما ستكتوا عَنهُ قُلْنَا وَبِاللَّهِ تالى التَّوْفِيق

هَذَا لَو صَحَّ لَك انهم كلهم علموه وسكتوا عَلَيْهِ وعذا مَا لَا سَبِيل الى وجوده فِي قَول قَائِل مِنْهُم أبدا لِأَن الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم تفَرقُوا فِي بِلَاد الْيمن وَمَكَّة والكوفة وَالْبَصْرَة والرقة وَالشَّام ومصر والبحرين وَغَيرهَا فصح ان من ادّعى فِي قَول روى عَن بعض الصَّحَابَة أما من الْخُلَفَاء أَو من غَيرهم ان جَمِيعهم عرفه فقد افترى على جَمِيعهم بِلَا شكّ وانما يقطع على اجامعهم فِيمَا يرى أَنهم عرفوه كالصوات الْخمس وَصِيَام شهر رَمَضَان والتحج الى الْكَعْبَة
আল্লাহর শপথ, যারা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, আর তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।

আবু মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমরা ইতিপূর্বে তৃতীয় প্রকার বাতিল করার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমেই ওই ব্যক্তির বক্তব্য বাতিল হয়ে যায় যে বলে—সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি দলের পক্ষ থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে এবং অন্যদের পক্ষ থেকে এর কোনো অস্বীকৃতি জানা যায়নি, তবে তা তাদের পক্ষ থেকে একটি ঐকমত্য (إجماع); কারণ এটি কেবল কতিপয় মুমিনের বক্তব্য যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর যে ব্যক্তি বক্তা ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত দেয় যে সে ওই বক্তার সাথে একমত, তবে সে এমন কিছুর অনুসরণ করল যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই, আর এটি একটি অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তকরণ—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে}। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের ব্যাপারে মহান আল্লাহকে ভয় করা এবং এটি চিন্তা করা যে, মহান আল্লাহ তার কান, চোখ ও অন্তকরণ সম্পর্কে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করবেন যা সে নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া বলেছে। যে ব্যক্তি কোনো মানুষের ব্যাপারে এমন বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেয় যা সে তাকে জানায়নি, তবে সে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হলো এবং তার জন্য এতে পাপ অর্জিত হলো। যদি বলা হয় যে, তারা শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রবর্তিতার অধিকারী ছিলেন, তাই তারা যদি কোনো বিষয় প্রত্যাখ্যান করতেন তবে সে বিষয়ে চুপ থাকতেন না; আমরা আল্লাহর তাওফীকেই বলছি—

এটি তখনই আপনার জন্য সঠিক হতো যদি এটি প্রমাণিত হতো যে তারা সকলেই বিষয়টি জেনেছিলেন এবং তারপরও চুপ ছিলেন। অথচ তাদের কারো কোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবে জানার কোনো পথ নেই। কারণ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইয়ামেন, মক্কা, কুফা, বসরা, রাক্কাহ, সিরিয়া, মিশর, বাহরাইন ও অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, খলিফাগণ কিংবা অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত (روى) কোনো বক্তব্যের ব্যাপারে যে দাবি করে যে তাদের সকলেই তা জানতেন, সে নিঃসন্দেহে তাদের সবার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিল। বরং তাদের ঐকমত্য (إجماع) কেবল ওইসব বিষয়েই নিশ্চিতভাবে বলা যায় যা তারা জানতেন বলে দেখা যায়, যেমন—পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজান মাসের সিয়াম এবং কাবার উদ্দেশ্যে হজ্জ করা।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَتَحْرِيم الْميتَة وَالدَّم وَلحم الْخِنْزِير وَالْخمر وَسَائِر مَا لَا شكّ فِي أَنهم عرفوه وَقَالَهُ بِهِ بِيَقِين لاشك فِيهِ هَذَا على أَن الْفتيا لم ترو إِلَّا عَن مائَة وَثَمَانِية وَثَلَاثِينَ مِنْهُم فَقَط وهم أُرِيد من عشْرين ألفا فَبَطل مَا ظَنّه أهل هَذَا القَوْل بِلَا تَحْصِيل

واما الحنفيون والكاليون والشافعيون المحتجون بِهَذَا اذا وَافق تقليدهم فهم أَشد خلق الله تَعَالَى خلافًا لطائقة من الصَّحَابَة لَا يعرف لَهُم مِنْهُم مُخَالف كخلافهم مَا صَحَّ عَن عَليّ وَابْن عَبَّاس من ايجاب الْغسْل لكل صَلَاة أَو صَلَاتَيْنِ مجموعتين على الْمُسْتَحَاضَة وَعَن عَائِشَة أَن من يغْتَسل فِي كل يَوْم عِنْد صَلَاة الظّهْر وَلَا مُخَالف لَهُم يعرف من الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَغير ذَلِك كثير يبلغ مِائَتَيْنِ من الْمسَائِل قد جمعناها وَللَّه الْحَمد فِي كتاب

نعم وخالفوا الاجماع الصَّحِيح الْمُتَيَقن كخلافهم جَمِيع الصَّحَابَة أَوَّلهمْ عَن آخِرهم فِي اجازتهم مُسَاقَاة أهل خَيْبَر الى غير أجل قائلين لَهُم وَلَكنَّا نخرجكم اذا شِئْنَا طول خلَافَة ابي بكر وَعمر وَلَا مخالفهم لَهُم أصلا وَغير ذَلِك كثير قد تقصيناه عَلَيْهِم أَيْضا وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

‌‌فصل

وَأما من قَالَ ان الاجماع اجماع أل الْمَدِينَة لفضلها وَلِأَن اهلها شهدُوا نزُول الْوَحْي فَقَوْل خطأ من وُجُوه أَحدهمَا أَنَّهَا دَعْوَى بِلَا برهَان وَالثَّانِي ان فضل الْمَدِينَة بَاقٍ بِحَسبِهِ وَالْغَالِب على أَهلهَا الْيَوْم الْفسق بل الْكفْر من غَالِيَة الروافض فَنَقُول وانا لله وانا اليه رَاجِعُون على ذَلِك وَالثَّالِث ان الَّذين شهدُوا الْوَحْي انما هم الصَّحَابَة رضى
মৃতদেহ, রক্ত, শূকরের মাংস, মদ্য এবং অপরাপর যা কিছু তারা নিঃসন্দেহে চিনতেন এবং সে সম্পর্কে এমন সুনিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে বলেছেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এগুলোর নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়টি তেমনই। এটি এ সত্যের ওপর ভিত্তি করে যে, ফতোয়া তাদের মধ্য থেকে মাত্র একশত আটত্রিশ জন থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, অথচ তাদের সংখ্যা ছিল বিশ হাজারের চেয়েও বেশি। সুতরাং এই মতের প্রবক্তারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই যা ধারণা করেছিল, তা বাতিল হয়ে গেল।

আর হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ীগণের মধ্যে যারা এটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে যখন তা তাদের অন্ধ অনুসরণ বা তাকলিদের (تقليد) অনুকূলে হয়, তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সাহাবীগণের এমন এক দলের সবচেয়ে কঠোর বিরোধী, যাদের কোনো ভিন্নমত পোষণকারী সম্পর্কে জানা যায় না। যেমন তাদের বিরোধিতা করা সেই বিষয়ের যা আলী এবং ইবনে আব্বাস থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে—যে ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার ওপর প্রত্যেক সালাতের জন্য অথবা একত্রে পড়া দুই সালাতের জন্য গোসল করা আবশ্যক হওয়া সংক্রান্ত। আবার আয়েশা (রা.) থেকেও বর্ণিত যে, তিনি প্রতিদিন জোহরের সালাতের সময় গোসল করতেন। সাহাবীগণের মধ্য থেকে তাদের কোনো বিরোধী আছে বলে জানা যায় না। এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা প্রায় দুইশত মাসআলায় পৌঁছাবে, যা আমরা আল্লাহর প্রশংসায় একটি গ্রন্থে সংকলন করেছি।

হ্যাঁ, তারা সুনিশ্চিত বিশুদ্ধ (صحيح) সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (الاجماع) বিরোধিতা করেছে, যেমন তারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল সাহাবীর বিরোধিতা করেছে খায়বরবাসীদের সাথে অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ভূমি বর্গা দেওয়া বৈধ করার বিষয়ে; যেখানে তারা বলেছিলেন: 'আমরা তোমাদের বের করে দেব যখন আমরা চাইব'। আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর পুরো খিলাফতকাল জুড়ে এটি কার্যকর ছিল এবং তাদের কোনো বিরোধী ছিল না। এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা আমরা তাদের বিরুদ্ধে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

পরিচ্ছেদ (فصل)

আর যারা বলে যে, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الاجماع) বলতে কেবল মদিনাবাসীদের ইজমা বোঝায় তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এবং যেহেতু তারা ওহী নাজিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের এই উক্তিটি কয়েক কারণে ভুল। প্রথমত, এটি প্রমাণহীন একটি দাবি। দ্বিতীয়ত, মদিনার মর্যাদা তার নিজ গুনেই অবশিষ্ট আছে, তবে বর্তমানে সেখানে পাপাচার এমনকি চরমপন্থী রাফেজিদের পক্ষ থেকে কুফরও প্রবল হয়ে উঠেছে—আমরা এর ওপর 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করছি। তৃতীয়ত, যারা ওহী প্রত্যক্ষ করেছিলেন তারা কেবল সাহাবীগণ (رضي الله عنهم)।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الله عَنْهُم لَا من جَاءَ بعدهمْ من أهل الْمَدِينَة وَعَن الصَّحَابَة أَخذ التابعون من أهل كل مصر وَالرَّابِع أَن كل خلاف وجد فِي الْأمة فَهُوَ مَوْجُود فِي الْمَدِينَة على مَا قد سلف فِي كتبنَا وَالْحَمْد لله تَعَالَى كثيرا وَالْخَامِس ان الْخُلَفَاء الَّذين كَانُوا بِالْمَدِينَةِ لَا يَخْلُو حَالهم من اُحْدُ وَجْهَيْن لَا ثَالِث لَهما أما أَن يَكُونُوا قد بينوا لأهل الامصار من رعيتهم حكم الدّين أَو لم يبينوا فان كَانُوا قد بينوا لَهُم الدّين فقد اسْتَوَى اهل الْمَدِينَة وَغَيرهم فِي ذَلِك وان كَانُوا لم يبينوا لَهُم فَهَذِهِ صفة سوء قد اعاذهم الله تَعَالَى مِنْهَا فَبَطل قَول هَؤُلَاءِ بِيَقِين وَالسَّادِس أَنه انما قَالَ ذَلِك قوم من الْمُتَأَخِّرين ليتوصلوا بذلك الى تَقْلِيد مَالك بن أنس دون عُلَمَاء الْمَدِينَة جَمِيعًا وَلَا سَبِيل لَهُم الى مَسْأَلَة وَاحِدَة أجمع عَلَيْهَا جَمِيع فُقَهَاء أهل الْمَدِينَة المعروفون من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ خالفهم فِيهَا سَائِر الامصار وَالسَّابِع انهم قد خالفوا اجماع اهل الْمَدِينَة وَغَيرهم فِي الْمُسَاقَاة كَمَا ذَكرْنَاهُ فِي غير ذَلِك

‌‌فصل

واذا اخْتلف النَّاس على قَوْلَيْنِ فَصَاعِدا وَصَحَّ النَّص شَاهدا لأَحَدهمَا فَهُوَ الْحق واجماعهم فِي تِلْكَ المسئله هُوَ الْحجَّة اللَّازِمَة لِأَنَّهُ اجماع أهل الْحق واجماع اهل الْحق حق

‌‌فصل فِي نَوْعَيْنِ من الاجماع

غذا اجْتمعت الامة على اباحة شَيْء اَوْ تَحْرِيمه اَوْ ايجابه ثمَّ
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁদের পরবর্তী মদিনাবাসীদের থেকে নয়। আর সাহাবীগণের (الصحابة) নিকট থেকে প্রত্যেক অঞ্চলের তাবেয়ীগণ (التابعون) জ্ঞান গ্রহণ করেছেন। চতুর্থত, উম্মাহর মধ্যে যে সকল মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তা মদিনাতেও বিদ্যমান ছিল, যেমনটি আমাদের কিতাবসমূহে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে; আর সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। পঞ্চমত, মদিনায় অবস্থানকারী খলিফাদের অবস্থা দুইটির যেকোনো একটি হতে বাধ্য, যার তৃতীয় কোনো বিকল্প নেই: হয় তাঁরা তাঁদের প্রজাদের নিকট দ্বীনের বিধানসমূহ স্পষ্ট করেছেন, অথবা করেননি। যদি তাঁরা তাঁদের নিকট দ্বীন স্পষ্ট করে থাকেন, তবে মদিনাবাসী ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে সমান। আর যদি তাঁরা তা স্পষ্ট না করে থাকেন, তবে এটি একটি মন্দ গুণ যা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁদের পবিত্র রেখেছেন। ফলে নিশ্চিতভাবেই তাদের বক্তব্য বাতিল সাব্যস্ত হলো। ষষ্ঠত, পরবর্তীকালের (المتأخرين) একদল লোক এই কথাটি বলেছে যাতে তারা মদিনার সকল আলেমকে বাদ দিয়ে কেবল মালিক বিন আনাস-এর অন্ধ অনুকরণ (تقليد) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাদের নিকট এমন একটি মাসআলাও পেশ করার উপায় নেই যার ওপর মদিনার প্রসিদ্ধ ফকিহগণ (فقهاء)—যাঁরা সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ীগণের (التابعون) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—সকলে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন অথচ অন্যান্য শহরের আলেমগণ তার বিরোধিতা করেছেন। সপ্তমত, তারা মুসাকাত (বর্গাচাষ) ও অন্যান্য বিষয়ে মদিনাবাসী এবং অন্যদের সর্বসম্মতির (إجماع) বিরোধিতা করেছে, যেমনটি আমরা অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি।

‌‌অনুচ্ছেদ

যখন মানুষ দুই বা ততোধিক মতে বিভক্ত হয় এবং তাদের কোনো একটির স্বপক্ষে অকাট্য পাঠ (النص) বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়, তবে সেটিই সত্য। আর সেই মাসআলায় তাদের সর্বসম্মতি (إجماع) হলো অকাট্য দলিল (الحجة); কারণ এটি সত্যপন্থীদের ঐক্যমত এবং সত্যপন্থীদের সর্বসম্মতি (إجماع) সর্বদা সত্য।

‌‌সর্বসম্মতির (إجماع) দুই প্রকারভেদ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ

যখন উম্মাহ কোনো বিষয়ের বৈধতা, অবৈধতা অথবা আবশ্যকতার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, অতঃপর...
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ادّعى بَعضهم ان ذلتك الحكم تقد انْتقل لم يلْتَفت الى قَوْله تإلا بِنَصّ وَألا فَقَوله بَاطِل لِأَنَّهُ دَعْوَى لَا اجماع مَعهَا وَلَا نَص من كتاب وَلَا سنة فَهِيَ سَاقِطَة لقَوْله تَعَالَى {قل هاتوا برهانكم إِن كُنْتُم صَادِقين} قصح ان من لَا برهَان لَهُ فَلَيْسَ صَادِقا أعنى فِي ذَلِك

وَأما اذا جَاءَ نَص بِحكم مَا ثمَّ خص الاجماع بعضه فَوَاجِب الانقياد للأجماع فان ادّعى مُدع ان ذَلِك التَّخْصِيص متماد وَخَالفهُ غَيره فاواجب قطع ذَلِك التَّخْصِيص وَالرُّجُوع الى النَّص اذ هُوَ الْبُرْهَان

برهَان ذَلِك ان دَعْوَى التَّخْصِيص هَاهُنَا عَارِية من الاجماع وَمُخَالفَة للنَّص فَهِيَ بَاطِلَة

فَالْأول نُسَمِّيه اسْتِصْحَاب الْحَال كَقَوْلِنَا فِيمَا ادَّعَاهُ قوم من فسخ النِّكَاح بالعنة وابالعيب قد صَحَّ النِّكَاح باجماع فَلَا يَزُول الا بِنَصّ اَوْ اجماع

وَالثَّانِي نُسَمِّيه أقل مَا قيل مثل ان النَّص ورد تَحْرِيم الْأَقْوَال ثمَّ جَاءَ اجماع باباحة شَيْء مِنْهَا فَلَا نُبيح مَا قَالَه قَائِل فِي ذَلِك بِزِيَادَة على مَا اباحه الاجماع فَهَذَا حكم الاجماع وَبَينه وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين

‌‌فصل فِي الْكَلَام فِي حكم الِاخْتِلَاف

وَأما اذا لم يَصح اجماع فقد وَجب وُقُوع التَّنَازُع وَالِاخْتِلَاف لما ذَكرْنَاهُ من قَول الله تَعَالَى {وأولي الْأَمر مِنْكُم فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول} الْآيَة وَلقَوْله تَعَالَى {وَلَا يزالون مُخْتَلفين إِلَّا من رحم رَبك}

কেউ কেউ দাবি করেছেন যে সেই বিধানটি পরিবর্তিত হয়েছে; তবে অকাট্য দলিল (نص) ব্যতীত তার সেই কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। অন্যথায় তার বক্তব্য বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে, কারণ এটি এমন এক দাবি যার স্বপক্ষে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) নেই এবং কুরআন বা সুন্নাহর কোনো অকাট্য দলিল (نص) নেই। সুতরাং মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে তা অসার হিসেবে গণ্য হবে: "তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।" এতে সাব্যস্ত হলো যে, যার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, সে (এই ক্ষেত্রে) সত্যবাদী নয়।

আর যদি কোনো অকাট্য দলিল (نص) কোনো বিধান প্রদান করে এবং পরবর্তীতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) তার বিশেষ কোনো অংশকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করে দেয়, তবে সেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) আনুগত্য করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি কোনো দাবিদার মনে করে যে, সেই নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) অব্যাহত থাকবে এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা করে, তবে সেই নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) বর্জন করা এবং মূল অকাট্য দলিলের (نص) দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব; কারণ সেটিই হলো অকাট্য প্রমাণ।

এর প্রমাণ হলো যে, এখানে নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) দাবিটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্জিত এবং অকাট্য দলিলের (نص) পরিপন্থী, তাই এটি বাতিল (باطل)।

প্রথম বিষয়টিকে আমরা পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা (استصحاب الحال) বলি। যেমন—একদল লোক পুরুষত্বহীনতা বা শারীরিক ত্রুটির কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের যে দাবি করে, সে বিষয়ে আমাদের কথা হলো: সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) ভিত্তিতে বিবাহটি শুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে; সুতরাং কোনো অকাট্য দলিল (نص) বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) ব্যতীত তা বিলুপ্ত হবে না।

আর দ্বিতীয় বিষয়টিকে আমরা 'ন্যূনতম বক্তব্য' (أقل ما قيل) বলি। উদাহরণস্বরূপ—যদি কোনো অকাট্য দলিলে (نص) কোনো কিছুকে হারাম (حرام) ঘোষণা করা হয়, অতঃপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) মাধ্যমে তার কোনো অংশকে বৈধতা (إباحة) দেওয়া হয়, তবে কোনো বক্তা সেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) মাধ্যমে যতটুকু বৈধ করা হয়েছে তার অতিরিক্ত যা বলবে, তা আমরা বৈধ মনে করব না। এটিই হলো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) বিধান এবং তার ব্যাখ্যা। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

‌‌মতভেদ (اختلاف) সংক্রান্ত বিধানের আলোচনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

আর যদি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) প্রমাণিত না হয়, তবে বিবাদ ও মতভেদ (اختلاف) হওয়া অনিবার্য; যেমনটি আমরা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে উল্লেখ করেছি: "...এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরদের। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও" (আয়াত)। এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর তারা সর্বদা মতভেদকারী (مختلفين) হিসেবেই থাকবে, তবে তারা ছাড়া যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন।"

(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَلما وصفناه من أَنه اذا لم يكن اجماع فَلَا بُد من الْخلاف ضَرُورَة لِأَنَّهُمَا متنافيان اذا ارْتَفع احدهما وَقع الآخر وَلَا بُد واذا كَانَ كَذَلِك فالمرجوع اليه هُوَ مَا افْترض الله تَعَالَى علينا الرُّجُوع اليه من الْقُرْآن وَالسّنة بقوله عز وجل {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} وَقَالَ عز وجل عَن نبيه صلى الله عليه وسلم َ - {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} فصح ان كَلَامه كُله عليه السلام عَن وَحي من الله تَعَالَى اذا كَانَ فِيمَا تعبدنا بِهِ خالقنا تَعَالَى لقَوْله عليه السلام {أَنا أعلم بِأَمْر دينكُمْ} الحَدِيث وَقَالَ تَعَالَى {وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم} فصح أَنه لَا يحل التحاكم عِنْد الِاخْتِلَاف الا الى الْقُرْآن وَالسّنة

‌‌فصل فِي النَّقْل الْمُتَوَاتر

فَأَما الْقُرْآن فمنقول نقل الكواف والتواتر وَأما السّنة فَمِنْهَا مَا جَاءَ متواترا وَمِنْهَا خبر الْآحَاد الْعدْل عَن مثله وَقد يَقع فِيهِ الْعدْل عَن العدلين وَعَن الثَّلَاثَة وَالثَّلَاثَة عَن الْوَاحِد وَهَذَا كثير وَهُوَ صَحِيح مُسلم مَوْجُود حَيْثُ طلب

فَأَما مَا نقل نقل الكواف فَلَا يخْتَلف اثْنَان من الْمُسلمين فِي وجوب الطَّاعَة لَهُ وان كَانَ بَعضهم قد خَالف فِي تَفْصِيل ذَلِك فنقلوا قَوْلهم وأخطأوا بِيَقِين

‌‌فصل فِي خبر الْوَاحِد وأنواعه

فَأَما مَا نَقله واححد عَن وَاحِد فينقسم أقساما ثَلَاثَة

যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে, যখন কোনো ঐকমত্য (إجماع) থাকে না, তখন সেখানে অবশ্যই মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান থাকে; কারণ তারা পরস্পরবিরোধী—যখন একটির অপসারিত হয় তখন অন্যটি অনিবার্যভাবে ঘটে। আর বিষয়টি যখন এমন হয়, তখন প্রত্যাবর্তনস্থল হলো তা-ই যার প্রতি মহান আল্লাহ আমাদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থাৎ কুরআন এবং সুন্নাহ (سنة)। মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো}। আর মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: {তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়}। সুতরাং এটি সুসাব্যস্ত হলো যে, নবী (আলাইহিস সালাম)-এর সকল কথাই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহী (وحي)-এর অন্তর্ভুক্ত, যখন তা আমাদের ইবাদত সংক্রান্ত বিষয় হয়। যেমনটি তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: {আমি তোমাদের দ্বীনি বিষয় সম্পর্কে অধিক অবগত}—হাদিস। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন}। অতএব এটি প্রমাণিত যে, মতভেদের সময় কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর কাছে ফয়সালা প্রার্থনা করা বৈধ নয়।

‌‌গণ-বিচ্ছুরিত বর্ণনা (متواتر) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

কুরআন তো বিপুল জনসমষ্টির বর্ণনা বা গণ-বিচ্ছুরণ (تواتر) পদ্ধতিতে বর্ণিত। আর সুন্নাহ (سنة)-এর কিছু অংশ মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে এসেছে, আবার কিছু অংশ হলো এমন একক সংবাদ (خبر الآحاد) যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন। কখনও এমন ঘটে যে, দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী থেকে একজন বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো তিনজন থেকে একজন, অথবা একজন থেকে তিনজন বর্ণনা করেছেন—এমন উদাহরণ প্রচুর এবং এটি সহিহ মুসলিম গ্রন্থে বিদ্যমান আছে।

আর যা বিপুল জনসমষ্টির বর্ণনা (نقل الكواف) তথা মুতাওয়াতির হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তার আনুগত্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে কোনো দুজন মুসলিমও দ্বিমত পোষণ করেন না; যদিও তাদের কেউ কেউ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, ফলে তারা তাদের নিজস্ব বক্তব্য বর্ণনা করেছেন এবং নিশ্চিতভাবেই ভুল করেছেন।

‌‌একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আর যা একজন থেকে অন্যজন বর্ণনা করেছেন, তা তিন ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
احدها مَا نَقله الثِّقَة عَن الثِّقَة حَتَّى يبلغ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمِنْه مَا ينْقل كَذَلِك وَفِيهِمْ رجل مَجْرُوح أَو سيء الْحِفْظ أَو مَجْهُول وَمِنْه مَا نقل كَذَلِك وَالْقطع فِي طَرِيقه مثل ان يبلغ الى التَّابِع ثمَّ يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَهَذَا هُوَ الْمُرْسل وَأَن يَقُول تَابع أَو من دونه قَالَ فلَان الصاحب عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - وَذَلِكَ الْقَائِل لم يدْرك ذَلِك الصاحب فَهَذَا هُوَ الْمُنْقَطع

فَنَظَرْنَا فِي هَذِه الْوُجُوه فَوَجَدنَا قوما يَقُولُونَ انها كلهَا سَوَاء وانها كلهَا يجب الْآخِذ بهَا وَهَذَا قَول جُمْهُور الحنفيين والمالكيين وَهَذَا خطأ لِأَن الْمُرْسل والمنقطع لَا يدْرِي من رَوَاهُ واذا لم يعرف من رَوَاهُ أثقه هُوَ أم غير ثقه فَلَا يحل الحكم فِي الدّين بِنَقْل مَجْهُول لَا يدْرِي من هُوَ وَلَا كَيفَ ححاله فِي حمله للْحَدِيث

فقد يكون ثِقَة صَالحا وَيرد حَدِيثه اذا كَانَ مغفلا غير شابط وَلَا مُسْتَقِيم الحَدِيث سِيمَا اذا كَانَ كَاذِبًا اَوْ دَاعيا الى بِدعَة وكل هَذَا لَا يُؤمن فِي الْمَجْهُول الَّذِي يحْتَج بِهِ فِي الْمُرْسل وَقد أمرنَا تَعَالَى بترك مَا لم نعلم قَالَ تَعَالَى {وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ} وَقَالَ تَعَالَى {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم} فَمن اخذ مَا اخبر بِهِ عَمَّن لَا يدْرِي من هُوَ فقد قَالَ عَليّ الله وعَلى رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - مَا لَا علم بِهِ وَهَذَا لَا يحل وَكَذَلِكَ مَا رَوَاهُ مَجْهُول الْحَال
এর মধ্যে একটি প্রকার হলো তা, যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অপর একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত। আবার এর মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা একইভাবে বর্ণিত, কিন্তু তাদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি বিতর্কিত বা সমালোচিত (مجروح) অথবা দুর্বল মুখস্থ শক্তিসম্পন্ন (سيء الحفظ) কিংবা অজ্ঞাত (مجهول)। আবার এর মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা একইভাবে বর্ণিত কিন্তু এর সূত্রে বিচ্ছেদ রয়েছে; যেমন- বর্ণনাটি তাবেয়ি পর্যন্ত পৌঁছেছে এরপর তিনি বলছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—একে বলা হয় মুরসাল (مرسل)। আর যদি কোনো তাবেয়ি বা তার পরবর্তী স্তরের কেউ বলেন যে, অমুক সাহাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ উক্ত বর্ণনাকারী সেই সাহাবিকে পাননি, তবে তা হলো মুনকাতি (منقطع)।

আমরা যখন এই দিকগুলো পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখলাম একদল আলিম বলছেন যে, এগুলো সবই সমান এবং এগুলোর সবকটি গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর এটি অধিকাংশ হানাফি এবং মালিকি আলিমগণের অভিমত। তবে এটি ভুল, কারণ মুরসাল (مرسل) এবং মুনকাতি (منقطع) বর্ণনায় কে এটি বর্ণনা করেছেন তা জানা যায় না। আর যখন বর্ণনাকারী সম্পর্কে জানা যায় না যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নাকি অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), তখন এমন এক অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির বর্ণনার ভিত্তিতে দ্বীনি কোনো বিধান দেওয়া বৈধ নয়, যার পরিচয় জানা নেই এবং হাদিস বহন বা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তার অবস্থাও জানা নেই।

কেননা কোনো ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সৎকর্মপরায়ণ হতে পারেন, কিন্তু তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয় যদি তিনি অসতর্ক (مغفل) হন এবং হাদিস সঠিকভাবে সংরক্ষণকারী (ضابط) না হন কিংবা তার বর্ণিত হাদিস সুসংহত (مستقيم الحديث) না হয়। বিশেষ করে যদি তিনি মিথ্যাবাদী (كاذب) হন অথবা বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী হন। আর মুরসাল (مرسل) বর্ণনায় যে অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তিকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়, তার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর কোনোটি থেকেই নিরাপদ থাকা যায় না। মহান আল্লাহ আমাদের এমন বিষয় বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন যা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা যেন আল্লাহর নামে এমন কিছু না বলো যা তোমরা জানো না।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।" সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কারো দেওয়া তথ্য গ্রহণ করল যার পরিচয় সে জানে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন কথা বলল যা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই, আর এটি বৈধ নয়। অনুরূপ অবস্থা সেই বর্ণনারও যা অজ্ঞাত অবস্থা সম্পন্ন (مجهول الحال) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأما مَا رَوَاهُ الْمَجْرُوح فالمجروح فَاسق وَقد قَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِن جَاءَكُم فَاسق بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تصيبوا قوما بِجَهَالَة فتصبحوا على مَا فَعلْتُمْ نادمين} وَمن حكم بِرِوَايَة مَجْهُول من مُرْسل اَوْ مَوْقُوف أَو مَجْهُول الْحَال فقد أصَاب قوما بِجَهَالَة وان لم يتثبت فليصبح على مَا فعل من النادمين

قَالَ أَبُو مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى وَمن صَحَّ عَنهُ أَنه يُدَلس الْمُنْكَرَات على الضُّعَفَاء الى الثِّقَات فَهُوَ اما مَجْرُوح واما حكمه حكم الْمُرْسل فَلَا يجوز قبُول رِوَايَته وَلقَائِل ان يَقُول انه ادون حَالا من صَاحب الْمُرْسل لِأَنَّهُ قد يُرْسِلهُ عَن ثقه وَقد يُرْسِلهُ عَن غير ثِقَة فأخذنا بالآحوط فِي الْكَشْف عَن حَال الْمُرْسل عَنهُ وَلَيْسَ المدلس للمنكرات كَذَلِك فَهُوَ أَحَق بِالرَّدِّ مِنْهُ

وبالجمله فَلَا يحل أَن نخبر عَن الله تَعَالَى وَلَا عَن رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - إِلَّا بِمَا أَمر الله تَعَالَى ان يخبر عَنهُ بِهِ وَلم يَأْتِ نَص قُرْآن وَلَا سنة صَحِيحه وَلَا اجماع على وجوب قبُول خبر مُرْسل وَلَا مُنْقَطع وَلَا رِوَايَة فَاسق وَلَا مَجْهُول الْحَال عَن الله تَعَالَى وَلَا عَن رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - فَلم يبْق الا مارواه القثة مبلغا الى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَنَظَرْنَا فِي هَذَا فوجنا برهانين يُوجب الله تَعَالَى بهما قبُوله وَلَا بُد

أَحدهمَا قَول الله تَعَالَى {فلولا نفر من كل فرقة مِنْهُم طَائِفَة ليتفقهوا فِي الدّين ولينذروا قَومهمْ إِذا رجعُوا إِلَيْهِم لَعَلَّهُم يحذرون} فأسقط الله عز وجل عَن جَمِيع الْمُؤمنِينَ أَن يتفرقوا للتفقه فِي الدّين وانذار قَومهمْ بِمَا تفقهوا فِيهِ والطائفة فِي لُغَة الْعَرَب الَّتِي بهَا نزل الْقُرْآن وَقَالَ تَعَالَى
আর আহত বা বিতর্কিত (مجروح) ব্যক্তি যা বর্ণনা করে, তবে সেই বিতর্কিত (مجروح) ব্যক্তি তো পাপাচারী (فاسق); অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।} আর যে ব্যক্তি কোনো বিচ্ছিন্ন (مرسل) কিংবা সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে স্থগিত (موقوف) কিংবা অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال) এমন কোনো অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির বর্ণনার ভিত্তিতে কোনো বিধান প্রদান করল, সে মূলত অজ্ঞতাবশত একটি জাতির ক্ষতি করল। আর যদি সে বিষয়টি নিশ্চিত না করে থাকে, তবে তার কৃতকর্মের জন্য সে লজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আবু মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, যার সম্পর্কে এটি প্রমাণিত যে, সে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাখ্যাত (منكر) বর্ণনাগুলোকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের নামে চালিয়ে দিয়ে প্রতারণা (تدليس) করে, তবে সে হয় বিতর্কিত (مجروح) অথবা তার বিধান বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার বিধানের অনুরূপ হবে; সুতরাং তার বর্ণনা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কোনো বক্তা বলতে পারেন যে, তার অবস্থা বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা প্রদানকারীর চেয়েও অধম; কারণ সে (মুরসিলকারী) কখনো কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে বর্ণনাটি বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) পেশ করে, আবার কখনো অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেও তা করে থাকে। তাই যার থেকে বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তার অবস্থা উন্মোচনের ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়ের প্রতারক (مدلس) এমন নয়, বরং সে প্রত্যাখ্যানের (رد) ক্ষেত্রে মুরসিলকারীর চেয়েও বেশি অগ্রগণ্য।

সারসংক্ষেপ হলো, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) সম্পর্কে এমন কিছু বলা বৈধ নয় যা আল্লাহ বলার আদেশ দেননি। আর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো বিচ্ছিন্ন (مرسل) কিংবা সংযোগহীন (منقطع) সংবাদ, কিংবা কোনো পাপাচারী (فاسق) বা অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা যে ওয়াজিব, সে ব্যাপারে কোনো কুরআনের পাঠ (নস), সহীহ (صحيح) সুন্নাহ কিংবা ইজমা (ঐকমত্য) পরিলক্ষিত হয়নি। সুতরাং কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া বর্ণনাটিই অবশিষ্ট থাকে। আমরা যখন এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলাম, তখন এমন দুটি প্রমাণ পেলাম যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এটি গ্রহণ করা আবশ্যক করে দিয়েছেন।

এর একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকে।} সুতরাং আল্লাহ তাআলা সকল মুমিনের ওপর দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন এবং তারা যা শিখেছে তা দিয়ে নিজ কওমকে সতর্ক করার জন্য দলে দলে বের হওয়া স্থগিত করেছেন। আর আরবি ভাষায় 'তায়েফা' (দল) বলতে যা বোঝায় যার মাধ্যমে কুরআন নাযিল হয়েছে, এবং মহান আল্লাহ বলেছেন-
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
مخبرا عَنهُ {بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين} هِيَ بعض الشَّيْء وَلم يخص قطّ بِلَفْظ الطَّائِفَة عددا دون عدد بل هِيَ لَفظه تقع على الْوَاحِد وعَلى أَكثر من الْوَاحِد الى مَا يُمكن وجوده وَلَو آلَاف آلَاف اذا كَانُوا مصافين الى غَيرهم

وبيقين نَدْرِي أَن الله تَعَالَى لَو أَرَادَ تَخْصِيص عدد دون عدد لبينه واذ لم يبين عز وجل ذَلِك بِيَقِين نَدْرِي أَنه أَرَادَ الْوَاحِد فَصَاعِدا اذ محَال ان ينفرنا تَعَالَى ويلبس علينا قَالَ تَعَالَى {تبيانا لكل شَيْء} فصح قبُول نذاره الْوَاحِد الثِّقَة النافر للثقة فِي الدّين والآخذ بنذارته لحذر مَا يخَاف من عِقَاب الله تَعَالَى فِي الْمعْصِيَة وَقبُول النذارة لَيْسَ الا رِوَايَة مَا يحمل النَّاذِر

قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَلَيْسَ إِلَّا فَاسق اَوْ عدل فَسقط قبُول الْفَاسِق بقوله تَعَالَى {إِن جَاءَكُم فَاسق بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تصيبوا قوما بِجَهَالَة فتصبحوا على مَا فَعلْتُمْ نادمين} فَلم يبْق الا الْعدْل فصح يَقِينا وجوب قبُول نذارته وَقبُول قَوْله فِيمَا روى لنا مِمَّا تفقه فِيهِ وبلغه الين عَن رَسُول عَن لله صلى الله عليه وسلم َ - مبلغا ثِقَة عَن ثِقَة اَوْ ثِقَة عَن اكثر من وَاحِد اَوْ اكثر من وَاحِد عَن ثِقَة وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

والبرهان الثَّانِي هُوَ اجماع جَمِيع الامم مؤمنها وكافرها على ان رَسُول الله (صل) بعث رسله الى الْقَبَائِل والملوك داعين الى الله عز وجل وَبعث الى كل جِهَة أَمِير يعلمهُمْ دينهم وَينفذ عَلَيْهِم احكام الله تَعَالَى فِي التَّعْلِيم لَهُم تَعْلِيم الصَّلَاة واحكامها وَالصَّوْم واحكامه وَالزَّكَاة واحكامها وَالْحج واحكامه وَالْجهَاد واحكامه والأقضية

তাঁর পক্ষ থেকে {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} সংবাদ দানকারী হিসেবে এটি (তায়েফা শব্দটি) কোনো কিছুর অংশবিশেষ। 'তায়েফা' শব্দটিকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্য কখনোই সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, বরং এটি এমন একটি শব্দ যা একজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় এবং একজনের অধিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সংখ্যা পর্যন্ত, এমনকি হাজার হাজার মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদি তারা অন্যদের বিপরীতে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।

আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, মহান আল্লাহ যদি কোনো বিশেষ সংখ্যা নির্ধারণ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তবে তিনি তা বর্ণনা করে দিতেন। যেহেতু মহান আল্লাহ তা বর্ণনা করেননি, তাই আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে তিনি একজন বা তদূর্ধ্ব সংখ্যা বুঝিয়েছেন। কেননা এটি অসম্ভব যে আল্লাহ আমাদের সত্যের পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেবেন অথচ বিষয়টি আমাদের নিকট অস্পষ্ট রাখবেন। তিনি বলেছেন: {সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ}। অতএব, দ্বীনের জ্ঞান অন্বেষণে বহির্গত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির সতর্কবাণী গ্রহণ করা এবং তাঁর সতর্কবাণী অনুযায়ী আল্লাহর অবাধ্যতায় শাস্তির ভয় থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বন করা সঠিক বলে প্রমাণিত হলো। আর এই সতর্কবাণী গ্রহণ করা মূলত বর্ণনাকারী যা বহন করে এনেছেন তার বর্ণনা (رواية) ছাড়া আর কিছুই নয়।

আবু মুহাম্মদ বলেন: মানুষ হয় পাপাচারী (فاسق) অথবা ন্যায়পরায়ণ (عدل)। মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে পাপাচারীর সংবাদ গ্রহণ করার গ্রহণযোগ্যতা রহিত হয়ে গেছে: {যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও}। সুতরাং এখন কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিই অবশিষ্ট রইল। ফলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, তাঁর সতর্কবাণী এবং তাঁর সেই বক্তব্য গ্রহণ করা আবশ্যক যা তিনি অনুধাবন করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন—তা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি অপর নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করুক, অথবা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি একাধিক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করুক, কিংবা একাধিক ব্যক্তি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করুক। আর আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই সকল কাজ সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয় প্রমাণ হলো মুমিন-কাফির নির্বিশেষে সকল জাতির সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন গোত্র ও রাজন্যবর্গের নিকট আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হিসেবে তাঁর দূতদের প্রেরণ করতেন। তিনি প্রতিটি জনপদে একজন করে আমির প্রেরণ করতেন যিনি তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতেন এবং সালাত ও এর বিধান, সওম ও এর বিধান, জাকাত ও এর বিধান, হজ ও এর বিধান, জিহাদ ও এর বিধান এবং বিচার বিভাগীয় ফয়সালার ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমগুলো তাদের ওপর কার্যকর করতেন।

(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فِي خصوماتهم ونكاحهم وطلاقهم وبيوعهم وَمَا يحل من ذَلِك وَمَا يحرم وَمَا يلْزم وَمَا يحل وَيحرم من المآكل والمشارب والملابس هَذَا مَالا خلاف فِيهِ فاذا قد الزمهم عليه السلام طَاعَة اولئك الْأُمَرَاء وَهُوَ عليه السلام حَيّ غَائِب عَنْهُم فقد صَحَّ ان ذَلِك يكون بَاقِيا الى يَوْم الْقِيَامَة

وَبعد مَوته عليه السلام بِيَقِين شكّ فِيهِ لِأَنَّهُ تخبر عدل لَازم وَلَا فرق فان اعْترض معترض بِحَدِيث ذِي الْيَدَيْنِ وَأَنه صلى الله عليه وسلم لم يصدقهُ حَتَّى سَأَلَ النَّاس فَهَذَا لَا حجَّة لَهُم فِيهِ لِأَن ذَا الْيَدَيْنِ انما أخبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - بِخَبَر عَن فعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - لَا عَن غَيره وأعلمه أَنه عليه السلام وهم وَلم يقدر عَلَيْهِ وَالسَّلَام انه وهم وامكن ان يكون ذَا الْيَدَيْنِ وهم فَلهَذَا تثبت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - لَا لما عدا ذَلِك والا فَلَا خلاف فِي أَنه عليه السلام كَانَ يَأْتِيهِ الْوَاحِد عَن قومه فيصقه وَيعْمل بِخَبَرِهِ وَيبْعَث مَعَه المخاطبة والوالي وَنَحْو ذَلِك وانه كَانَ يبْعَث الْمُصدق وَحده اَوْ اثْنَيْنِ فَيقوم الْحجَّة بذلك على من أَتَاهُ الْمُصدق وَيلْزمهُ اداء صدقته اليه وَهَكَذَا فِي كل شَيْء من الدّين

فان قيل الرَّسُول والأمراء كَانَت تَأتي مَعَهم وقبلهم وبعدهم بخبرهم قُلْنَا وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

لَا شكّ فِي أَن الرفاق لم تأت بِجَمِيعِ الآحكام الَّتِي يُخْبِرهُمْ بهَا الْأُمَرَاء وَالرسل فَبَطل هَذَا الِاعْتِرَاض بِيَقِين وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين

‌‌فصل الْعدْل السيء الْحِفْظ لَا يجوز ان تقبل رِوَايَته

لِأَن الله تَعَالَى أمرنَا بِقبُول نذارة من تفقه فِيمَا سمع وَمن سَاءَ حفظَة لم يتفقه فِيمَا سمع اذ التفقه انما هُوَ الْفَهم والتدبر فِيمَا حمله من الْآمِر الشَّرْعِيّ على صرافته حَسْبَمَا حمله اذ من الْمحَال ان يكون من سَاءَ حفظَة وَلم يتَيَقَّن مَا حمله تفقه
তাদের বিবাদ, বিবাহ, তালাক, ক্রয়-বিক্রয় এবং এর মধ্যে যা হালাল, যা হারাম, যা আবশ্যক এবং পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে যা হালাল ও হারাম—এসব বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। যেহেতু তিনি (সা.) তাঁদের ওপর সেই আমিরদের আনুগত্য আবশ্যক করেছিলেন যখন তিনি জীবিত অবস্থায় তাঁদের থেকে অনুপস্থিত ছিলেন, তাই এটি সহিহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এবং তাঁর মৃত্যুর পরেও এটি নিশ্চিত সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ এটি একজন নির্ভরযোগ্য (عدل) ব্যক্তির সংবাদ যা পালন করা আবশ্যক এবং এতে কোনো পার্থক্য নেই। যদি কোনো আপত্তিকারী যুল-ইয়াদাঈনের হাদিস নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করে যে, নবী (সা.) তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তবে এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই। কারণ যুল-ইয়াদাঈন নবী (সা.)-কে স্বয়ং নবী (সা.)-এর নিজের কাজ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছিলেন, অন্য কারো সম্পর্কে নয়। তিনি তাঁকে অবহিত করেছিলেন যে তিনি (সা.) ভুল করেছেন, অথচ তিনি (সা.) তা অনুভব করেননি যে তিনি ভুল করেছেন। এবং এটিও সম্ভব ছিল যে যুল-ইয়াদাঈন নিজেই ভুল করেছেন। এই কারণেই নবী (সা.) বিষয়টি যাচাই করেছিলেন, অন্য কোনো কারণে নয়। অন্যথায় এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, নবী (সা.)-এর কাছে যখন কোনো গোত্র থেকে একজন ব্যক্তি আসতেন, তিনি তাকে সত্যয়ন করতেন এবং তার সংবাদের ওপর আমল করতেন। তিনি তার সাথে পত্র, ওয়ালি (গভর্নর) এবং অনুরূপ ব্যক্তি পাঠাতেন। তিনি একাকী বা দু'জন যাকাত সংগ্রাহক পাঠাতেন, যার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ওপর হুজ্জত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হতো এবং তার কাছে যাকাত আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। দ্বীনের প্রতিটি বিষয়েই নিয়মটি এমন।

যদি বলা হয় যে, রাসূলগণ এবং আমিরদের সংবাদের সাথে, আগে বা পরে অন্যান্য কাফেলাও আসত, তবে আমরা বলব—আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা আসে—

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগত কাফেলাগুলো আমির ও রাসূলগণ কর্তৃক বর্ণিত সকল আহকাম বা বিধান নিয়ে আসত না। সুতরাং এই আপত্তি নিশ্চিতভাবে বাতিল হয়ে গেল। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

পরিচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য (العدل) কিন্তু মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা জায়েয নয়

কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন ব্যক্তির সতর্কবার্তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যে তার শ্রবণকৃত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জন করেছে। আর যার মুখস্থ শক্তি মন্দ, সে তার শ্রবণকৃত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারেনি। কেননা জ্ঞান অন্বেষণ বা 'তাফাককুহ' হলো যা সে শারঈ বিধান হিসেবে বহন করেছে, সেটিকে তার মূল রূপে অনুধাবন ও চিন্তা করা। কারণ এটি অসম্ভব যে, যার মুখস্থ শক্তি মন্দ এবং যা সে বহন করছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, সে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فِيمَا لم يتَيَقَّن مِمَّا لم يضبطه وَالْمَرْأَة وَالْعَبْد وَالْأمة فِي كل مَا ذكرنَا سَوَاء لعُمُوم قَوْله تَعَالَى {طَائِفَة} وَقد صَحَّ الأجماع على أَن النِّسَاء وَالْعَبِيد والاماء يلْزمهُم الدّين كَمَا يلْزم الآحرار وَالرِّجَال وَلَا فرق وان اخْتلفت الْأَحْكَام فِي بعض ذَلِك بِدَلِيل لَا بِغَيْر دَلِيل

‌‌فصل

فاذا جَاءَ خبر الرَّاوِي الثِّقَة عَن مثله مُسْندًا الى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَهُوَ مَقْطُوع بِهِ على أَنه حق عِنْد الله عز وجل مُوجب صِحَة الحكم بِهِ اذا كَانَ جَمِيع رُوَاته مُتَّفقا على عدالتهم أَو مِمَّن ثبتَتْ عدالتهم وان اعْترض معترض فِي بَعضهم مِمَّن لم يَصح اعتراضه أَو اعْترض بِمَا لَا يَصح الِاعْتِرَاض بِهِ برهَان ذَلِك قَول الله تَعَالَى {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون} وَقد صَحَّ بِيَقِين افتراض الله علينا قبُول مَا رَوَاهُ لنا الثِّقَات وَمن الْبَاطِل الْمُتَيَقن مَعَ حفظ الله تَعَالَى الدّين ان يلْزمنَا قبُول شَرِيعَة باطله لم يَأْمر الله تَعَالَى هُوَ بهَا قطّ

هَذَا امْر قد أمناه بِضَمَان الله تَعَالَى ذَلِك لنا وَهَذَا بِخِلَاف شَهَادَة اشهود لِأَن الله تَعَالَى لم يضمن لنا قطّ ان الشُّهُود لَا يشْهدُونَ غلا الْحق بل قد بَين لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - انهم قد يشْهدُونَ بباطل اذ يَقُول عليه السلام فَمن قضيت لَهُ من حق أَخِيه بِشَيْء فَلَا يَأْخُذهُ فانما اقْطَعْ لَهُ قِطْعَة من النَّار وَمن الْمَعْلُوم ان كل من حَاكم اليه صلى الله عليه وسلم َ - لم يكن بخصام اثْنَيْنِ فَقَط احدهما الحن بحجته من الآخر ابدا وانما يكون الحكم مرّة بِشَهَادَة من توجب الْحق شَهَادَته وَمرَّة يتَعَيَّن الحكم بِفضل لحن خطاب احدهما على الآخر
যা তিনি যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করতে পারেননি সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সবকিছুর ক্ষেত্রেই নারী, দাস ও দাসী সমান; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "একটি দল" (طائفة) এর অর্থ ব্যাপক। এটি ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রমাণিত (صح) যে, স্বাধীন ও পুরুষদের ওপর যেভাবে দ্বীন পালন করা আবশ্যক, নারী, দাস ও দাসীদের ওপরও একইভাবে আবশ্যক। এতে কোনো পার্থক্য নেই, যদিও দালিলের ভিত্তিতে কোনো কোনো হুকুমে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু তা দালিল ব্যতীত নয়।

‌‌পরিচ্ছেদ (فصل)

যখন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী (راوي) তার মতো অন্য একজন বর্ণনাকারী থেকে সংবাদ (خبر) বর্ণনা করেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মুসনাদ বা সংযুক্ত (مسند), তখন এটি মহান আল্লাহর কাছে সত্য হিসেবে অকাট্য (مقطوع به)। এটি সেই সংবাদ অনুযায়ী হুকুমের বিশুদ্ধতা (صحة) সাব্যস্ত করা আবশ্যক করে, যখন এর সকল বর্ণনাকারী তাদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) বিষয়ে সর্বসম্মত হন অথবা যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণিত। যদি কোনো আপত্তিকারী তাদের কারো ব্যাপারে আপত্তি তোলে যার আপত্তি বিশুদ্ধ (صح) নয়, অথবা এমন কিছু দ্বারা আপত্তি তোলে যার দ্বারা আপত্তি করা সঠিক নয়, (তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না)। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমিই এ উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক}। আল্লাহ তাআলা নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণিত বিষয় গ্রহণ করা আমাদের ওপর ফরজ করেছেন, যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত (صح)। আর আল্লাহ তাআলা দ্বীন সংরক্ষণ করার ঘোষণা দেওয়ার পর আমাদের ওপর এমন কোনো বাতিল শরিয়ত গ্রহণ করা আবশ্যক করা যা আল্লাহ কখনো নির্দেশ দেননি, তা নিশ্চিতভাবেই একটি বাতিল বা অসার বিষয়।

এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ হয়েছি। এটি সাক্ষীদের সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের চেয়ে ভিন্নতর; কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের কাছে কখনো এই নিশ্চয়তা দেননি যে, সাক্ষীরা কেবল সত্যই সাক্ষ্য দেবে। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মিথ্যা সাক্ষ্যও দিতে পারে। যেমন তিনি বলেছেন: "আমি যদি কারো জন্য তার ভাইয়ের হকের কোনো ফয়সালা করি, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কেননা আমি তার জন্য জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরোই নির্ধারণ করে দিচ্ছি।" এটি সুবিদিত যে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে আসতেন, তারা কেবল দু’জন বিবাদমান ব্যক্তি ছিলেন না যাদের একজন সর্বদা অন্যের চেয়ে বেশি বাকপটু ছিল। বরং কখনো ফয়সালা হতো এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের (شهادة) ভিত্তিতে যার সাক্ষ্য (شهادة) সত্যকে অবধারিত করে, আবার কখনো ফয়সালা নির্ধারিত হতো একজনের বক্তব্যের বাকপটুতা অন্যের ওপর প্রাধান্য পাওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَنحن على يَقِين من أَنه عليه السلام لَا يحكم الا بِحَق عِنْد الله تَعَالَى فصح أننا مأمورون بانفاذ مَا شهد بِهِ الشُّهُود الْعُدُول عندنَا وان كَانَ بَاطِلا فِي بَاطِنه وان نقْتل بذلك من لَا يحل لنا قَتله لَو علمنَا كذبهمْ أَو اغفالهم وَأَن نحكم كَذَلِك بِالْمَالِ الْمحرم أَخذه على الَّذِي يعلم بَاطِن الْقَضِيَّة وَكَذَلِكَ فِي الْفروج وَلَا فرق ومحرم عَلَيْهِم استحلال شَيْء من ذَلِك وَهَذَا مَوْجُود فِي الدّيانَة كَمَا ندفع المَال فِي فدَاء الْأَسير من كَافِر أَو ظَالِم لقد فرض علينا دفع المَال ان لم نقدر على استنقاذه الا بِهِ وَحرَام على الَّذِي يعطاه أَخذه وَلَيْسَ هَكَذَا قبُول الشَّرَائِع لِأَنَّهَا ذكر مَضْمُون حفظه من الله تَعَالَى

هَكَذَا نقطع بِأَن كل حَدِيث لم يَأْتِ قطّ إِلَّا مُرْسلا اَوْ لم يروه الا مَجْهُول لَا يعرف حَاله أحد من أهل الْعلم أَو مجرح مُتَّفق على جرحته أَو ثَابت الجرحه فانه خبر بَاطِل لم يقلهُ قطّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - وَلَا حكم بِهِ لِأَن من الْمُمْتَنع ان يجوز أَن لَا ترد شَرِيعَة ححق الا من هَذِه الطَّرِيق مَعَ ضَمَان الله تَعَالَى حفظ الذّكر النَّازِل من عِنْده الَّذِي اوحاه الى نبيه صلى الله عليه وسلم وَمَعَ ضَمَانه تَعَالَى انه لم يضع من الدّين شَيْء اصلا وَلَا يضيع ابدا وَلَا بُد أَن يكون مَعَ كل عصر من الْعلمَاء من يضْبط مَا خفى عَن غَيره مِنْهُم ويضبط غَيره ايضا مَا خفى عَنهُ فَيبقى الدّين مَحْفُوظًا ال يَوْم الْقِيَامَة وَلَا بُد وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

‌‌فصل

وَأما مَا كَانَ عندنَا عدلا فِي ظَاهر أمره وَكَانَ عِنْد غَيرنَا قد صحت جرحته فَهَذَا الَّذِي خَالَفنَا فِيهِ يكون محقا عِنْد الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ من جهلة انسان وَعرف عَدَالَته آخر فَالَّذِي عِنْده يَقِين عَدَالَته هوالمحق عِنْد الله تَعَالَى وانما يَنْبَغِي أَن

আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর নিকট যা সত্য কেবল তা দ্বারাই বিচার করতেন। অতএব এটি প্রমাণিত যে, আমাদের নিকট যারা ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী (الشهود العدول) বলে গণ্য, তারা যে সাক্ষ্য প্রদান করে তা কার্যকর করতে আমরা আদিষ্ট, যদিও তা অভ্যন্তরীণভাবে বাতিল (باطل) হয়ে থাকে। এমনকি এর মাধ্যমে আমরা এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারি যাকে হত্যা করা আমাদের জন্য বৈধ নয়—যদি আমরা তাদের মিথ্যাচার বা অসাবধানতা সম্পর্কে জানতাম। একইভাবে আমরা এমন সম্পদ প্রদানের ফয়সালা করি যা গ্রহণ করা সেই ব্যক্তির জন্য হারাম যে বিষয়টির অভ্যন্তরীণ হাকিকত জানে। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ এবং এতে কোনো পার্থক্য নেই। তাদের জন্য এসবের কোনো কিছু নিজেদের জন্য বৈধ করে নেওয়া হারাম। এটি দ্বীনি বিধানের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আমরা কোনো কাফের বা জালেমের নিকট থেকে বন্দিকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে অর্থ প্রদান করি। যদি অর্থ প্রদান ছাড়া তাকে মুক্ত করা সম্ভব না হয়, তবে আমাদের ওপর অর্থ প্রদান ফরজ করা হয়েছে, কিন্তু যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করছে তার জন্য তা নেওয়া হারাম। তবে শরয়ি বিধান গ্রহণের বিষয়টি এমন নয়, কারণ শরীয়ত এমন এক স্মারক যা সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন।

একইভাবে আমরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, প্রতিটি হাদিস যা কেবল মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, অথবা যা কেবল এমন কোনো অজ্ঞাত (مجهول) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার অবস্থা আলেমগণের কেউ জানেন না, অথবা এমন কোনো সমালোচিত (مجرح) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যার সমালোচনার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে কিংবা যার সমালোচনা (جرحته) প্রমাণিত—তবে তা একটি বাতিল খবর (خبر باطل) যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনোই বলেননি এবং এর দ্বারা কোনো বিধানও দেননি। কারণ এটি অসম্ভব যে, কোনো সত্য শরীয়ত কেবল এই পথেই আসবে, অথচ মহান আল্লাহ তাঁর নিকট থেকে অবতীর্ণ সেই জিকর (স্মারক) সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যা তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ওহি করেছেন। সাথে সাথে তিনি এই নিশ্চয়তাও দিয়েছেন যে, দ্বীনের কোনো কিছুই মূলগতভাবে হারিয়ে যায়নি এবং কখনো হারাবেও না। প্রত্যেক যুগে অবশ্যই এমন একদল আলেম থাকবেন যারা অন্যের নিকট যা অস্পষ্ট তা নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং অন্যরাও আবার তাদের নিকট যা অস্পষ্ট তা সংরক্ষণ করবেন। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীন সংরক্ষিত থাকবে। আর আল্লাহর তাওফিকই কাম্য।

‌‌পরিচ্ছেদ

আর যে ব্যক্তি আমাদের নিকট প্রকাশ্য অবস্থায় ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে গণ্য, কিন্তু অন্য কারো নিকট তার সমালোচনা (جرحته) প্রমাণিত হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে আমাদের সাথে যিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন তিনি আল্লাহর নিকট সত্যের ওপর রয়েছেন। একইভাবে যাকে কোনো একজন ব্যক্তি চেনেন না কিন্তু অন্যজন তার নির্ভরযোগ্যতা (عدالته) সম্পর্কে অবগত, তবে যার নিকট তার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত, আল্লাহর নিকট তিনিই সত্যের ওপর রয়েছেন। এবং এটিই হওয়া উচিত যে—

(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
لَا يلبس الله تَعَالَى الْحق على خلقه وَلَا شَيْئا من دينه على جَمِيع خلقه اذ لَا يُوقن اُحْدُ مَكَان الْحق الْمُتَيَقن فِيهِ من الْبَاطِل وَهَذَا مَا لَا سَبِيل اليه الا بِضَمَان الله تَعَالَى حفظ الدّين ولشهادته تَعَالَى بِكَمَالِهِ وَأَنه قد أتم النِّعْمَة علينا فِيهِ ورضيه لنا دينا قَالَ جلّ ذكره {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا}

‌‌‌‌فصل

وَمن ادّعى فِي خبر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قد تصح بِنَقْل الثِّقَات أَنه خطأ لم يصدق غلا ببرهان وَاضح من ثِقَة يشْهد انه حضر ذَلِك الرَّاوِي وَقد سَهَا فحرفه أَو أَن يقر الرَّاوِي على نَفسه بِأَنَّهُ أَخطَأ فِيهِ فَقَط وَكَذَلِكَ من ادّعى فِي خبر صَحِيح اَوْ فِي آيَة من الْقُرْآن أَنَّهَا منسوخه أَو مخصوصه فَقَوله بَاطِل الا أَن يَأْتِي بِنَصّ آخر شَاهد على ذَلِك أَو باجماع مُتَيَقن على مَا ادّعى والا فَهُوَ مُبْطل لِأَن الله تَعَالَى يَقُول {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول} فَمن قَالَ فِي آيَة أَو خبر صَحِيح انهما منسوخان اَوْ انهما ليسَا عى ل عمومهما وَلَا على ظاهرهما فقد قَالَ لنا لَا تطيعوا هَذِه الْآيَة وَلَا هَذَا الْخَبَر فَقَوله مَرْدُود وَقَول الله أَحَق وأصدق وَلَو أَرَادَ الله تَعَالَى مَا قَالَ لبينه بِعَين دَعْوَى هَذَا الْمُدَّعِي قَالَ تَعَالَى {تبيانا لكل شَيْء} وَقَالَ تَعَالَى {لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم}

فصل

وَلَا يحل لأحد أَن يحِيل آيَة عَن ظَاهرهَا وَلَا خَبرا عَن
আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কাছে সত্যকে অস্পষ্ট করেন না এবং তাঁর দ্বীনের কোনো বিষয়কে তাঁর সমগ্র সৃষ্টির জন্য বিভ্রান্তিকর করেন না; যাতে সুনিশ্চিত সত্যের স্থানে কেউ বাতিলের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত না হয়। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দ্বীন সংরক্ষণের নিশ্চয়তা এবং তাঁর দ্বীনের পূর্ণতার সাক্ষ্য প্রদানের কারণে। তিনি আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।"

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো সংবাদ (خبر) সম্পর্কে যদি কেউ দাবি করে যে সেটি ভুল—অথচ তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ সাব্যস্ত (تصح) হয়েছে—তবে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির স্পষ্ট প্রমাণ ব্যতীত তার কথা সত্য বলে গণ্য হবে না। সেই প্রমাণ প্রদানকারীকে সাক্ষ্য দিতে হবে যে, তিনি উক্ত বর্ণনাকারীর (الراوي) নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ভুলবশত শব্দ পরিবর্তন করেছেন, অথবা স্বয়ং বর্ণনাকারী (الراوي) নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি এতে ভুল করেছেন। একইভাবে, যে ব্যক্তি কোনো সহিহ (صحيح) সংবাদ (خبر) অথবা কুরআনের কোনো আয়াতের ক্ষেত্রে দাবি করে যে তা রহিত (منسوخة) বা বিশেষার্থে নির্দিষ্টকৃত (مخصوصة), তবে তার সেই বক্তব্য বাতিল বলে গণ্য হবে; যতক্ষণ না সে এর সপক্ষে অন্য কোনো নস (نص) বা দাবিকৃত বিষয়ের ওপর সুনিশ্চিত ঐক্যমত (إجماع) উপস্থাপন করতে পারে। অন্যথায় সে সত্য বিচ্যুত হিসেবে গণ্য হবে, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।" সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো আয়াত বা সহিহ (صحيح) সংবাদ (خبر) সম্পর্কে বলে যে, এই দুটি রহিত (منسوخان) অথবা এগুলো তাদের সাধারণ অর্থের (عموم) ওপর কিংবা বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর বহাল নেই, সে মূলত আমাদের বলছে যে, তোমরা এই আয়াত বা এই সংবাদের আনুগত্য করো না। এমতাবস্থায় তার কথা প্রত্যাখ্যাত (مردود), আর আল্লাহর বাণীই অধিকতর সত্য ও যথার্থ। আল্লাহ তাআলা যদি এই দাবিদারের দাবির অনুরূপ কিছু ইচ্ছা করতেন, তবে তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, "এটি সবকিছুর বিশদ বিবরণস্বরূপ" এবং তিনি আরও বলেন, "যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন।"

পরিচ্ছেদ

কারো জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে কোনো আয়াতকে তার বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে সরিয়ে দেবে, কিংবা কোনো সংবাদকে (خبر) তার...
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ظَاهِرَة لِأَن الله تَعَالَى يَقُول {بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين} وَقَالَ تَعَالَى ذاما لقوم {يحرفُونَ الْكَلم عَن موَاضعه} وَمن حَال نصا عَن ظَاهره فِي اللُّغَة بِغَيْر برهَان من آخر اَوْ اجماع فقد ادّعى ان النَّص لَا بَيَان فِيهِ وَقد حرف كَلَام الله تَعَالَى ووحيه الى نبيه صلى الله عليه وسلم َ - عَن مَوْضِعه وَهَذَا عَظِيم جدا مَعَ أَنه لَو سلم من هَذِه الْكَبَائِر لَكَانَ مُدعيًا بِلَا دَلِيل

وَلَا يحل أَن يحرف كَلَام اُحْدُ من النَّاس فَكيف كَلَام الله تَعَالَى وَكَلَام رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - الَّذِي هُوَ وَحي من الله تَعَالَى وَمن شغب فِي هَذَا بقول قَائِل من الْعلمَاء فَلَيْسَ قَول اُحْدُ دون قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - الذب هُوَ وَحي من الله تَعَالَى وَمن شغب فِي هَذَا القَوْل قَائِل من الْعلمَاء فَلَيْسَ قَول أحد دون قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - حجَّة وَقد أوضحنا أَن من شغب بِهَذَا من هَؤُلَاءِ فانهم أترك خلق الله تَعَالَى لقَوْل الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فضلا عَن غَيرهم وان أَصْحَاب الظَّاهِر من أهل الحَدِيث رضى الله عَنْهُم أَشد اتبَاعا وموافقة للصحابة رضوَان الله عَلَيْهِم مِنْهُم وينا ذَلِك مسئلة مَسْأَلَة فِي كتَابنَا الموسوم بالايصال الى فهم كتَابنَا الموسوم بالخصال وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين

فَالْوَاجِب ان لَا يُحَال نَص عَن ظَاهره الا بِنَصّ آخر صَحِيح مخبر انه على غير ظَاهره فتنبع فِي ذَلِك بَيَان الله تَعَالَى وَبَيَان رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - كَمَا بَين عليه السلام قَوْله تَعَالَى {وَلم يلبسوا إِيمَانهم بظُلْم} أَنه مُرَاده تَعَالَى بِهِ الْكفْر كَمَا قَالَ عز وجل {إِن الشّرك لظلم عَظِيم} أَو باجماع مُتَيَقن كاجماع الْأمة على أَن قَوْله تَعَالَى {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ}

(এটি) সুস্পষ্ট, কারণ মহান আল্লাহ বলেন, {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} এবং তিনি একটি সম্প্রদায়ের নিন্দা করে বলেছেন, {তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন করে}। আর যে ব্যক্তি কোনো সুনিশ্চিত পাঠকে (نص) তার ভাষাগত বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে অন্য কোনো দলিল বা সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) ব্যতিরেকে সরিয়ে নেয়, সে মূলত দাবি করল যে ঐ সুনিশ্চিত পাঠের (نص) মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এর মাধ্যমে সে মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি অবতীর্ণ ওহিকে তার সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন করে ফেলল। আর এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এমনকি যদি সে এই কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বেঁচেও থাকে, তবুও সে প্রমাণহীন দাবিদার হিসেবে গণ্য হবে।

কোনো মানুষের কথাকেও বিকৃত করা বৈধ নয়, তাহলে মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব—যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি? আর যে ব্যক্তি কোনো আলেমের উক্তি দ্বারা এ বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়, তবে জেনে রাখা উচিত যে, মহান আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা ছাড়া অন্য কারোর কথা অকাট্য প্রমাণ (حجة) হতে পারে না, যা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি। আর যে ব্যক্তি এই বিষয়ে কোনো আলেমের উক্তি দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে, তবে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্তি ব্যতীত অন্য কারোর উক্তি অকাট্য প্রমাণ (حجة) নয়। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, যারা এ নিয়ে বিতর্ক করে, তারা সাহাবায়ে কেরামের (রা.) বাণী পরিত্যাগের ক্ষেত্রে আল্লাহর মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। পক্ষান্তরে হাদিস বিশারদদের মধ্য হতে যারা বাহ্যিক অর্থের অনুসারী, তাঁরা অন্যদের তুলনায় সাহাবায়ে কেরামের অধিক অনুসারী এবং তাঁদের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা এটি আমাদের আল-ইসাল ইলা ফাহমি কিতাবিনা আল-খিসাল নামক গ্রন্থে প্রতিটি মাসআলা ধরে ধরে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

সুতরাং কর্তব্য হলো, কোনো সুনিশ্চিত পাঠকে (نص) তার বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে অন্য কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) সুনিশ্চিত পাঠ (نص) ব্যতীত বিচ্যুত না করা, যা সংবাদ দেয় যে এটি তার বাহ্যিক অর্থে উদ্দেশ্য নয়। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যাখ্যা অনুসরণ করতে হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) মহান আল্লাহর বাণী— {এবং যারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি}-এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, এখানে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য হলো কুফর; যেমন মহিয়ান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম}। অথবা নিশ্চিত সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) দ্বারা (বাহ্যিক অর্থ থেকে সরানো যেতে পারে), যেমন উম্মতের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর যে— {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান}।

(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
انه لم يرد بذلك العبيد وَلَا بنى الْبَنَات مَعَ وجود عاصب وَنَحْو هَذَا كثير أَو ضَرُورَة مَانِعَة من حمل ذَلِك على ظَاهره كَقَوْلِه تَعَالَى {الَّذين قَالَ لَهُم النَّاس إِن النَّاس قد جمعُوا لكم فَاخْشَوْهُمْ} فبيقين الضَّرُورَة والمشاهدة نَدْرِي ان جَمِيع النَّاس لم يَقُولُوا أَن النَّاس قد حمعوا لكم

وبرهان مَا قُلْنَا من حمل الْأَلْفَاظ على مفهومها من ظَاهرهَا قَول الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن {بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين} وَقَوله تَعَالَى {وَمَا أرسلنَا من رَسُول إِلَّا بِلِسَان قومه ليبين لَهُم} فصح ان الْبَيَان لنا انما هُوَ حمل لفظ الْقُرْآن وَالسّنة على ظاهرهما وموضوعهما فَمن أَرَادَ صرف شَيْء من ذَلِك الى تَأْوِيل بِلَا نَص وَلَا اجماع فقد افترى على الله تَعَالَى وعَلى رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - وَخَالف الْقُرْآن وَحصل فِي الدعاوي وحرف الْكَلم عَن موَاضعه

وَأَيْضًا فَيُقَال لمن أَرَادَ صرف الْكَلَام عَن ظَاهره بِلَا برهَان ان هَذَا سَبَب الى السفسطة وابطال الْحَقَائِق كلهَا لِأَنَّهُ كلما قلت أَنْت وَغَيْرك كلَاما قيل لَك لَيْسَ هَذَا على ظَاهره بل لَك غَرَض آخر وَكلما أكدت قيل لَك لَيْسَ هَذَا ايضا على ظَاهره وَلم تنفك مِمَّن يَقُول لَك لَعَلَّ ابطالك للظَّاهِر لَيْسَ على ظَاهِرَة وَهَذَا كَمَا ترى وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

‌‌فصل

فاذا وَقعت اللَّفْظَة فِي اللُّغَة على مَعْنيين فَصَاعِدا وقوعا مستويا لم يجز أَن يقْتَصر بهَا على احدهما بِلَا نَص وَلَا اجماع
নিশ্চয়ই তিনি এর মাধ্যমে দাসদের এবং আসিবের (عاصب) উপস্থিতিতে কন্যাদের সন্তানদের উদ্দেশ্য করেননি। এরুপ উদাহরণ প্রচুর রয়েছে, অথবা এমন কোনো অনিবার্য কারণ (ضرورة) থাকতে পারে যা উক্ত বিষয়টিকে তার শাব্দিক অর্থের (ظاهر) ওপর প্রয়োগ করতে বাধা দেয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তাদের ভয় করো}। এখানে অকাট্য বাস্তবতা ও চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা জানি যে, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এ কথা বলেনি যে সকল মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে।

শব্দসমূহকে তার শাব্দিক অর্থের (ظاهر) ওপর প্রয়োগ করার বিষয়ে আমরা যা বলেছি তার প্রমাণ হলো কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী: {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়}। এবং আল্লাহর বাণী: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা দিয়ে পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারেন}। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, আমাদের জন্য বর্ণনার সঠিক পদ্ধতি হলো কুরআন ও সুন্নাহর শব্দকে তার শাব্দিক অর্থ (ظاهر) ও প্রয়োগস্থলের ওপর রাখা। অতএব যে ব্যক্তি কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) অথবা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) ব্যতীত এর কোনো কিছুকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় (تأويل) রূপান্তর করতে চায়, সে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করল, কুরআনের বিরোধিতা করল, অমূলক দাবিতে লিপ্ত হলো এবং শব্দকে তার সঠিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করল।

অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি কোনো প্রমাণ ব্যতিরেকে কথাকে তার শাব্দিক অর্থ (ظاهر) থেকে সরিয়ে নিতে চায় তাকে বলা হবে: এটি মূলত কুতর্ক এবং সমস্ত সত্যকে নস্যাৎ করার একটি পথ। কারণ আপনি বা অন্য কেউ যখনই কোনো কথা বলবেন, তখন আপনাকে বলা হবে যে এটি তার শাব্দিক অর্থে (ظاهر) ব্যবহৃত হয়নি, বরং আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আপনি যতই গুরুত্বারোপ করুন না কেন, আপনাকে বলা হবে এটিও তার শাব্দিক অর্থে (ظاهر) নয়। আপনি এমন ব্যক্তি থেকে রেহাই পাবেন না যে আপনাকে বলবে: হতে পারে আপনার শাব্দিক অর্থকে (ظاهر) বাতিল ঘোষণা করার বিষয়টিও তার শাব্দিক অর্থে (ظاهر) নয়। বিষয়টি আপনার দৃষ্টিগোচর যেমন হচ্ছে তেমনই। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

‌‌পরিচ্ছেদ

যদি ভাষায় কোনো শব্দ সমানভাবে দুই বা ততোধিক অর্থের ওপর প্রযুক্ত হয়, তবে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) ব্যতীত তাকে কেবল একটি অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা বৈধ হবে না।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
لَكِن يحمل على كل مَا يَقع عَلَيْهِ فِي اللُّغَة وَلَا بُد لما ذكرنَا من ذمّ من حرف كَلَام الله عَن موَاضعه واذا جَاءَ فِي الْقُرْآن لفظ عَرَبِيّ مَنْقُول عَن مَوْضِعه فِي اللُّغَة الى معنى آخر كَالصَّلَاةِ وَالزَّكَاة وَالصَّوْم وَالْحج فان هَذِه الفاظ لغوية نقلت الى مَعَاني شَرْعِيَّة لم تكن الْعَرَب تعرفها قبل ذَلِك فَهَذَا لَيْسَ مجَازًا بل هِيَ تَسْمِيَة صَحِيحَة لِأَن الله تَعَالَى خَالق اللُّغَات تعبدنا بِأَن نسمى هَذِه الْمعَانِي بِهَذِهِ الْأَسْمَاء وَأما يتعبدنا الله تَعَالَى بِتَسْمِيَة ذَلِك الْمَعْنى فَهَذَا هُوَ الْمجَاز مثل قَول الله تَعَالَى {واخفض لَهما جنَاح الذل من الرَّحْمَة} وَمَا أشبه ذَلِك

‌‌فصل

وَلَا يحل أَن يُقَال فِي آيَة أَو خبر صَحِيح هَذَا مَنْسُوخ لما ذكرنَا من أَن قَائِل ذَلِك مسْقط لطاعة ذَلِك النَّص إِلَّا بِنَصّ آخر يبين أَن هَذَا مَنْسُوخ أَو اجماع مُتَيَقن على نسخه وَألا فَلَا يقدر أحد على اسْتِعْمَال النَّص وَأما مَا دَامَ يمكننا جمع النُّصُوص من الْقُرْآن وَالسّنة فَلَا يجوز تَركهمَا وَلَا ترك أَحدهمَا لِأَن كليهمَا سَوَاء فِي وجوب الطَّاعَة وَلَيْسَ بَعْضهَا فِي وجوب الطَّاعَة أولى من بعض قَالَ تَعَالَى {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله} فَالْوَاجِب حِينَئِذٍ أَن يسْتَثْنى الْأَقَل من الْأَكْثَر اذ لَا يُوصل الى استعمالهما جَمِيعًا الا بذلك فان عجزنا عَن ذَلِك فَلَا يجوز التحكم فِي جَمعهمَا الا بِغَيْر مَا ذكرنَا لِأَنَّهُ تحكم بِلَا برهَان مثل أَن يَقُول قَائِل اسْتعْمل هَذَا النَّص فِي وَجه
কিন্তু একে ভাষার আভিধানিক অর্থের আওতাভুক্ত প্রতিটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে আল্লাহর কালামকে তার প্রকৃত স্থান থেকে বিচ্যুতকারীর নিন্দা করা আবশ্যক। আর যখন কুরআনে কোনো আরবি শব্দ আসে যা আভিধানিক অর্থ থেকে অন্য কোনো অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে—যেমন সালাত, জাকাত, সওম এবং হজ—তবে এগুলো মূলত আভিধানিক শব্দ যা শরয়ি অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা আরবরা ইতিপূর্বে জানত না। এটি রূপক (مجاز) নয়, বরং এটি একটি সঠিক নামকরণ; কারণ ভাষার স্রষ্টা মহান আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা এই অর্থগুলোকে এই নামগুলো দ্বারা অভিহিত করি। আর আল্লাহ তাআলা যে বিষয়টিকে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের ইবাদত করিয়েছেন, তা-ই হলো রূপক (مجاز), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর দয়াবশত তাদের উভয়ের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করো} এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহ।

‌‌পরিচ্ছেদ

কোনো আয়াত বা সহিহ (صحيح) খবর সম্পর্কে এটি রহিত (منسوخ) বলা বৈধ নয়। কারণ আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো, যে ব্যক্তি এমন কথা বলেন তিনি মূলত সেই নসের (نص) আনুগত্যকে বাতিল করছেন, যতক্ষণ না অন্য কোনো নস (نص) দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে এটি রহিত (منسوخ), অথবা তার রহিতকরণের (نسخ) ওপর কোনো সুনিশ্চিত ইজমা (إجماع) থাকে। অন্যথায় কেউ নস (نص) প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহের (النصوص) মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব, ততক্ষণ উভয়টি অথবা তাদের কোনো একটি বর্জন করা জায়েজ নয়। কারণ আনুগত্যের আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে উভয়ই সমান এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রে একটি অন্যটির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল}। এমতাবস্থায় ওয়াজিব (واجب) হলো আধিক্য থেকে স্বল্পতাকে ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রহণ করা, কারণ এছাড়া উভয়টির ওপর একত্রে আমল করা সম্ভব নয়। যদি আমরা তা করতে অক্ষম হই, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জবরদস্তি করা বৈধ হবে না; কারণ এটি হবে প্রমাণহীন স্বেচ্ছাচারিতা। যেমন কেউ বলল: এই নসকে (النص) নির্দিষ্ট পন্থায় ব্যবহার করো।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
كَذَا وَهَذَا النَّص فِي وَجه كَذَا فَهَذَا لَا يحل لَهُ لِأَنَّهُ شرع فِي الدّين لم يَأْذَن الله تَعَالَى بِهِ

وَلَا يجوز ان نخبر عَن مُرَاد الله عز وجل وَلَا عَن مُرَاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بِغَيْر خبر وَارِد عَن الله تَعَالَى بذلك أَو عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - وَمن هَذَا مَا قد صَحَّ من نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - عَن اسْتِقْبَال القبله واستدبارها لبول اَوْ غَائِط من طَرِيق أبي أَيُّوب الآنصاري وَغَيره

وَعَن أبي عمر انه رأى الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ - مُسْتَقْبل بَيت الْمُقَدّس مستدبر الْكَعْبَة لِحَاجَتِهِ فَقَالَ قوم يسْتَعْمل النَّهْي فِي الصَّحَارِي وَيسْتَعْمل الأباحة فِي الْبُنيان وَهَذَا خطأ لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - لم يقل قطّ أَنِّي أبحث هَذَا فِي الْبناء وحظرته فِي الصَّحَارِي وَلَا فرق بَين قَول هَؤُلَاءِ وَبَين من قَالَ لَا أُبِيح ذَلِك إِلَّا بِالْمَدِينَةِ اذا كَانَ على لبنتين والا فَلَا

وكل هَذَا لَا يحل القَوْل بِهِ لِأَنَّهُ شرع فِي الدّين لم يَأْذَن بِهِ الله تَعَالَى وَمثل هَذَا فَالْوَاجِب فِيهِ الْأَخْذ فِيهِ بِالزَّائِدِ على مَعْهُود الأَصْل وَلَا بُد

برهَان هَذَا أننا نعلم اذا ورد نصان فِي أَحدهمَا اسقاط فرض وَفِي الآخر ايجابه بِعَيْنِه أَو فِي أَحدهمَا اباحة شَيْء وَفِي الآخر تَحْرِيم ذَلِك الشَّيْء فبيقين نَدْرِي أَن الْمُسلمين قد كَانُوا بُرْهَة مَعَ نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم َ - لم يلْزمهُم ذَلِك
অনুরূপভাবে এই নস (نص)-টিকে এই পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা কারো জন্য বৈধ নয়। কারণ এটি দ্বীনের মধ্যে এমন এক বিধান প্রবর্তন করা যার অনুমতি মহান আল্লাহ তাআলা দেননি।

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো খবর (خبر) অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আসা কোনো খবর (خبر) ব্যতীত মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া জায়েয নেই। আর এর উদাহরণ হলো সেই হাদিস যা আবু আইয়ুব আনসারি ও অন্যান্যদের বর্ণনা সূত্র (طريق) থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পেশাব বা পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ ফেরানোর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

আবার আবু উমর (ইবনে উমর) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর প্রয়োজনে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকতে দেখেছেন। এমতাবস্থায় একদল লোক বলেন যে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মরুভূমির ক্ষেত্রে এবং বৈধতার বিষয়টি দালানকোঠার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথচ এটি একটি ভুল ধারণা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই বলেননি যে, 'আমি এটি ইমারতের ভেতরে বৈধ করেছি এবং মরুভূমিতে নিষিদ্ধ করেছি'। এই সব লোকদের কথা আর যারা বলে যে 'আমি এটি কেবল মদিনায় এবং যখন তা দুটি ইটের ওপর হবে তখনই বৈধ মনে করি, অন্যথায় নয়'—তাদের কথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

এই ধরণের কথা বলা মোটেই বৈধ নয়; কারণ এটি দ্বীনের মাঝে এমন বিধান প্রবর্তন করা যার অনুমতি আল্লাহ তাআলা দেননি। এমন ক্ষেত্রে মৌলিক অবস্থার (মউহুদুল আসল) অতিরিক্ত যা বর্ণিত হয়েছে, অনিবার্যভাবে তা গ্রহণ করাই ওয়াজিব।

এর প্রমাণ হলো, আমরা জানি যে যখন দুটি নস (نص) এমনভাবে আসে যে একটিতে কোনো ফরজ (فرض) রহিত করার কথা থাকে আর অন্যটিতে হুবহু সেটিই আবশ্যক করার কথা থাকে, অথবা একটিতে কোনো বিষয় বৈধ করার কথা থাকে এবং অন্যটিতে সেই বিষয়টিই হারাম (حرام) করার কথা থাকে; তবে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে মুসলমানগণ তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এমন এক সময় অতিবাহিত করেছিলেন যখন তাদের ওপর সেই বিধানটি আবশ্যক ছিল না।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
الْفَرْض وَلَا حرم عَلَيْهِم ذَلِك الشَّيْء ثمَّ بِيَقِين نَدْرِي أَنه حِين نطق النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - بايجاب ذَلِك الشَّيْء أَو بِتَحْرِيم مَا حرم فقد نسخت الْحَالة الأولى وَارْتَفَعت بِشَيْء هُوَ يَقِين لَا شكّ فِيهِ وَمن الْبَاطِل ترك مَا يتَيَقَّن أَنه مَنْسُوخ وَهَذَا لَو جَازَ لجَاز أَن تعود الْحَالة الأولى الَّتِي قد تَيَقّن نسخهَا وَتبطل الْحَالة الثَّانِيَة الَّتِي قد تَيَقّن أَنَّهَا ناسخة فَلَو كَانَ هَذَا لَكَانَ مَا فَعَلُوهُ تركا لليقين وَحكما بالظنون وَالله تَعَالَى قد أنكر هَذَا فَقَالَ {إِن يتبعُون إِلَّا الظَّن وَإِن الظَّن لَا يُغني من الْحق شَيْئا} وَقَالَ صلى الله عليه وسلم َ - اياكم وَالظَّن فانه أكذب الحَدِيث فَكيف وَنحن نقطع ونشهد بِشَهَادَة الله تَعَالَى أَنه قد ضمن لنا تَعَالَى حفظ الذّكر وَالدّين وانه قد كمل فَلَو نسخ النَّاسِخ لبين ذَلِك بَيَانا جليا فاذا لم يفعل تَعَالَى ذَلِك فنشهد بِشَهَادَة الله تَعَالَى ان النَّاسِخ بَاقٍ محكما الى يَوْم الْقِيَامَة وان الْمَنْسُوخ بَاقٍ مَنْسُوخا الى يَوْم الْقِيَامَة لَا نشك فِي ذَلِك وَلَا يجوز الْبَتَّةَ ان يشكل شَيْء من الدّين حَتَّى يخفى على جَمِيع النَّاس مَوضِع الْحق وَحَتَّى يصيروا الى الحكم بِالظَّنِّ نبرأ الى الله تَعَالَى من هَذَا القَوْل كبراءتنا اليه تَعَالَى من الشّرك وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين

‌‌فصل

والمبادرة الى انفاذ الْأَوَامِر وَاجِب لقَوْله تَعَالَى {وسارعوا إِلَى مغْفرَة من ربكُم وجنة عرضهَا السَّمَاوَات وَالْأَرْض أعدت لِلْمُتقين} وَمن تَأَخّر لم يُسَارع الا أَن يُبِيح التَّأْخِير نَص فَيُوقف عِنْده كَمَا جَاءَ فِي اباحة تَأْخِير الصَّلَاة الى آخر وَقتهَا
আবশ্যিক বিধান (الفرض) এবং ঐ বস্তুটি তাদের জন্য হারাম ছিল না। এরপর আমরা নিশ্চিত জ্ঞানের (يقين) মাধ্যমে জানতে পারি যে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বস্তুটিকে অপরিহার্য করার (بايجاب) অথবা যা তিনি হারাম করেছেন তা নিষিদ্ধ করার কথা বললেন, তখন পূর্ববর্তী অবস্থাটি রহিত (نسخت) হয়ে গেছে এবং এমন একটি বিষয়ের মাধ্যমে অপসারিত হয়েছে যা নিশ্চিত (يقين), যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যা নিশ্চিতভাবে রহিত (منسوخ) বলে জানা গেছে তা বর্জন করা বাতিল বা ভিত্তিহীন। এটি যদি জায়েজ হতো, তবে যে প্রথম অবস্থাটির রহিত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে তার প্রত্যাবর্তন এবং যে দ্বিতীয় অবস্থাটি রহিতকারী (ناسخة) হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে তার বাতিল হওয়াও জায়েজ হয়ে যেত। যদি এমনটি হতো, তবে তাদের এই কর্ম নিশ্চিত বিষয়কে বর্জন এবং ধারণার (الظنون) ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান হিসেবে গণ্য হতো। অথচ আল্লাহ তাআলা এটি অস্বীকার করে বলেছেন: "তারা তো কেবল ধারণারই (الظن) অনুসরণ করে, আর সত্যের বিপরীতে ধারণার (الظن) কোনো কার্যকারিতা নেই।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ধারণা (الظن) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা (হাদিস)।" এটি কীভাবে সম্ভব যখন আমরা আল্লাহ তাআলার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অকাট্যভাবে বিশ্বাস করি ও সাক্ষ্য দেই যে, তিনি আমাদের জন্য এই জিকির (কুরআন) ও দ্বীন সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং তা পূর্ণতা লাভ করেছে? সুতরাং যদি রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি রহিত হতো, তবে তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতেন। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তা করেননি, তাই আমরা আল্লাহর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিই যে, রহিতকারী (الناسخ) বিধানটি কিয়ামত পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত (محكما) থাকবে এবং রহিত (المنسوخ) বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত রহিত (منسوخا) হিসেবেই থাকবে; এ বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। দ্বীনের কোনো বিষয় এমনভাবে অস্পষ্ট হওয়া মোটেও জায়েজ নয় যা সমস্ত মানুষের নিকট সত্যের অবস্থানকে গোপন করে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত তারা ধারণার (الظن) ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদানের দিকে ধাবিত হয়। আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট এই বক্তব্য থেকে সেভাবেই দায়মুক্তি ঘোষণা করছি যেভাবে আমরা শিরক থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করি। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

‌‌পরিচ্ছেদ (فصل)

আদেশসমূহ বাস্তবায়নে তৎপর হওয়া আবশ্যিক (واجب), কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।" যে ব্যক্তি বিলম্ব করল সে দ্রুত ধাবিত হলো না, যদি না কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) বিলম্ব করাকে বৈধ করে; সেক্ষেত্রে সেই প্রমাণের সীমারেখায় অবস্থান করতে হবে, যেমনটি সালাতকে তার শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করার বৈধতার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌‌‌فصل

وَلَا يجوز تَأْخِير الْبَيَان عَن وَقت وجوب الْعَمَل بذلك الْأَمر اذ فِي تَأْخِيره الباس وَقد أمنا ان يلبس الله تَعَالَى علينا دينه بل هُوَ مُبين لَهُ على لِسَان من افْترض عَلَيْهِ الْبَيَان وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

فصل

وَالْقُرْآن ينْسَخ الْقُرْآن وَالسّنة تنسخ الْقُرْآن أَيْضا قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} فاذا ذَلِك كَذَلِك فَالْكل من عِنْد الله وبوحيه تَعَالَى سمى هَذَا كتابا وسمى هَذَا سنة وَحِكْمَة قَالَ تَعَالَى {واذكرن مَا يُتْلَى فِي بيوتكن من آيَات الله وَالْحكمَة إِن الله كَانَ لطيفا خَبِيرا}

فان قيل السّنة لَيست مثلا لِلْقُرْآنِ وَلَا خيرا مِنْهُ وانما هِيَ بَيَان لِلْقُرْآنِ قُلْنَا وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق السّنة مثل الْقُرْآن فِي وجوب الطَّاعَة لَهما اذا صحت السّنة قَالَ تَعَالَى {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله} والنسخ بَيَان وَرفع لِلْأَمْرِ فالناسخ مُبين أَن حكم الْمَنْسُوخ قد ارْتَفع وانْتهى أمره قَالَ تَعَالَى {لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم} وَقد يَأْتِي الْخَبَر بِمَا هُوَ خير لنا مِمَّا جَاءَ بِهِ الْقُرْآن من رفق وَتَخْفِيف وَالْقُرْآن قد بَين السّنة أَيْضا قَالَ تَعَالَى {تبيانا لكل شَيْء}
‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

কোনো নির্দেশের ওপর আমল করা আবশ্যক হওয়ার সময় থেকে সেই বিষয়ের স্পষ্টীকরণ (بيان) বিলম্বিত করা বৈধ নয়। কারণ এর বিলম্বের মধ্যে অস্পষ্টতা বা সংশয় সৃষ্টির অবকাশ থাকে। অথচ আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, মহান আল্লাহ আমাদের নিকট তাঁর দ্বীনকে সংশয়াচ্ছন্ন করবেন না; বরং তিনি তাঁর সেই রাসূলের জবানিতে দ্বীনকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যাঁর ওপর এটি স্পষ্ট করার (بيان) দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক বা সামর্থ্য আসে।

পরিচ্ছেদ

কুরআন কুরআনকে রহিত (نسخ) করে এবং সুন্নাহও কুরআনকে রহিত (نسখ) করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} সুতরাং বিষয়টি যখন এরূপ, তখন এর সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী। তিনি একে 'কিতাব' নামে অভিহিত করেছেন এবং অন্যটিকে 'সুন্নাহ' ও 'হিকমাহ' নামে অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমাহ পঠিত হয়, তা স্মরণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ।}

যদি বলা হয় যে, সুন্নাহ কুরআনের সমতুল্য নয় এবং এটি কুরআন থেকে উত্তমও নয়, বরং এটি কেবল কুরআনের একটি স্পষ্টীকরণ (بيان) মাত্র; তবে আমরা বলব—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে—আনুগত্য আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে সুন্নাহ কুরআনের মতোই, যখন সুন্নাহ বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে প্রকারান্তরে আল্লাহরই আনুগত্য করল।} আর রহিতকরণ (نسخ) হলো কোনো নির্দেশের স্পষ্টীকরণ (بيان) ও তা বিলোপ করা। সুতরাং রহিতকারী (ناسخ) এটিই স্পষ্ট করে যে, রহিত (منسوخ) বিষয়ের বিধানটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এর সময়সীমা শেষ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।} আর কখনও এমন সংবাদ (خبر) আসতে পারে যা আমাদের জন্য কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের চেয়েও অধিক সহজসাধ্য ও স্বস্তিদায়ক হওয়ার কারণে উত্তম। আবার কুরআনও সুন্নাহর বিষয়কে স্পষ্ট করেছে; মহান আল্লাহ বলেছেন: {সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ।}
(খণ্ড: ১) আন-নুবজাতুল কাফিয়া ফী আহকামি উসুলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
والنسخ لَا يجوز إِلَّا فِي الْأَوَامِر أَو فِي لفظ خبر مَعْنَاهُ معنى الْأَمر وَلَا يجوز النّسخ فِي الْأَخْبَار لِأَنَّهُ ان كَانَ يكون كذبا وَقد تنزه الله تَعَالَى عَن ذَلِك وَكَذَلِكَ الرُّسُل واما دَلِيل صِحَة النّسخ فَقَوْل الله تَعَالَى {مَا ننسخ من آيَة أَو ننسها نأت بِخَير مِنْهَا أَو مثلهَا} وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

‌‌فصل

فِي الْأَوَامِر والنواهي واوامر الله تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم كلهَا فرض ونواهي الله تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم كلهَا تَحْرِيم وَلَا يحل لأحد أَن يَقُول فِي شَيْء مِنْهَا هَذَا ندب أَو كَرَاهِيَة الا بِنَصّ صَحِيح مُبين لذَلِك أَو اجماع كَمَا قُلْنَا فِي النّسخ قَالَ تَعَالَى {فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره أَن تصيبهم فتْنَة أَو يصيبهم عَذَاب أَلِيم} وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} وَمعنى النّدب والكراهية انما هُوَ ان شِئْت أفعل وان شِئْت فَلَا أفعل هَذَا موضوعهما فِي اللُّغَة وَلَا يفهم من أفعل ان شِئْت لَا تفعل وَلَا يفهم من لَا تفعل ان شِئْت افْعَل وَمن ادّعى هَذَا فقد جَاءَ هُوَ بالمحال وَقد افْترض الله تَعَالَى علينا طَاعَته وَطَاعَة رَسُوله صلى الله عليه وسلم فَمن قَالَ هَذَا الْأَمر ندب وَهَذَا النَّهْي كَرَاهِيَة فانما يَقُول لَيْسَ
রহিতকরণ (النسخ) কেবল আদেশসমূহ (الأوامر) অথবা এমন সংবাদের (خبر) শব্দের ক্ষেত্রে বৈধ, যার অর্থ আদেশের অর্থ বহন করে। আর সংবাদসমূহের (الأخبار) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) বৈধ নয়; কারণ যদি তা হতো তবে মিথ্যা সাব্যস্ত হতো, অথচ আল্লাহ তাআলা এ থেকে পবিত্র এবং তাঁর রাসূলগণও অনুরূপ। আর রহিতকরণের (النسخ) বিশুদ্ধতার (صحة) দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি কোনো আয়াত রহিত করি কিংবা তা ভুলিয়ে দেই, তবে আমি তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার সমপর্যায়ের আয়াত নিয়ে আসি।" আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়।

‌‌পরিচ্ছেদ

আদেশ (الأوامر) ও নিষেধ (النواهي) প্রসঙ্গে; আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল আদেশই ফরজ (فرض) এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল নিষেধই হারাম (تحريم)। কারো পক্ষেই এগুলোর কোনোটি সম্পর্কে বলা বৈধ নয় যে, এটি মুস্তাহাব (ندب) অথবা অপছন্দনীয় (كراهية), যতক্ষণ না সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সহিহ (صحيح) দলিল (نص) বা ইজমা (إجماع) থাকে, যেমনটি আমরা রহিতকরণ (النسخ) সম্পর্কে বলেছি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসতে পারে।" তিনি আরও বলেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" আর মুস্তাহাব (ندব) ও অপছন্দনীয় (كراهية)-এর অর্থ কেবল এটাই যে—যদি চাও তবে করো, আর যদি চাও তবে করো না; ভাষাগতভাবে এ দুটির মূল প্রয়োগ এটাই। "তুমি করো" থেকে এটি বোঝা যায় না যে "যদি চাও করো না", আবার "করো না" থেকে এটি বোঝা যায় না যে "যদি চাও করো"। যে ব্যক্তি এমন দাবি করে, সে এক অসম্ভব বিষয় উপস্থাপন করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর তাঁর এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য ফরজ (افترض) করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে "এই আদেশটি মুস্তাহাব (ندب)" এবং "এই নিষেধটি অপছন্দনীয় (كراهية)", সে মূলত এটাই বলছে যে এটি [বাধ্যতামূলক] নয়...