(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: -)
المعونة في الجدل القسم: أصول الفقه
الكتاب: المعونة في الجدل
المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الفيروزابادي المعروف بالشيرازي
المحقق: د. علي عبد العزيز العميريني، الأستاذ المساعد بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الناشر: جمعية إحياء التراث الإسلامي - الكويت
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 127
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাউনা ফিল জাদল বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-মাউনা ফিল জাদল
লেখক: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ আল-ফিরোজাবাদি, যিনি আশ-শিরাজি নামে পরিচিত
গবেষক: ড. আলি আব্দুল আজিজ আল-উমাইরিনি, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশক: জামইয়্যাত ইহইয়াউত তুরাস আল-ইসলামি - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الْحَمد لله حق حَمده وَصلى الله على مُحَمَّد خير خلقه وعَلى اصحابه واهل بَيته
لما رَأَيْت حَاجَة من يتفقه ماسة الى معرفَة مَا يعْتَرض بِهِ من الادلة وَمَا يُجَاب بِهِ عَن الاعتراضات وَوجدت مَا عملت من الملخص فِي الجدل مَبْسُوطا صنفت هَذِه الْمُقدمَة لتَكون مَعُونَة للمبتدئين وَتَذْكِرَة للمنتهيين مجزية فِي الجدل كَافِيَة لاهل النّظر وقدمت على ذَلِك بَابا فِي بَيَان الادلة ليَكُون مَا بعده من الاعتراضات والاجوبة على ترتيبه
وَمَا توفيقي الا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل واياه أسأَل أَن ينفع بِهِ فِي الدُّنْيَا والاخرة انه قريب مُجيب صلى الله عليه وسلم َ - بَاب بَيَان وُجُوه ادلة الشَّرْع صلى الله عليه وسلم َ -
وادلة الشَّرْع ثَلَاثَة اصل ومعقول اصل واستصحاب حَال
فالاصل ثَلَاثَة الْكتاب وَالسّنة والاجماع واضاف اليه الشَّافِعِي
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, যেভাবে তাঁর প্রশংসা করা উচিত। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর।
যখন আমি দেখলাম যে, যারা ফিকহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য দলীলসমূহের (أدلة) ওপর উত্থাপিত আপত্তি এবং সেই আপত্তিগুলোর উত্তরের পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি; এবং আমি অনুভব করলাম যে বিতর্কশাস্ত্র (جدل) বিষয়ে আমার রচিত সারসংক্ষেপটি বেশ দীর্ঘ, তখন আমি এই ভূমিকাটি (مقدمة) সংকলন করলাম। এটি যেন শিক্ষানবিশদের জন্য সহায়ক এবং পণ্ডিতদের জন্য স্মারক হিসেবে কাজ করে; যা বিতর্কশাস্ত্রের (جدل) ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত এবং গবেষকদের জন্য যথেষ্ট হয়। এর পূর্বে আমি দলীলসমূহের (أدلة) বিবরণে একটি অধ্যায় উপস্থাপন করেছি, যেন পরবর্তী আপত্তি ও উত্তরগুলো এর ক্রমানুসারে সাজানো সম্ভব হয়।
আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। আমি তাঁরই নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও প্রার্থনা কবুলকারী। — শরয়ি দলীলসমূহের (أدلة الشرع) প্রকারভেদ বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায় —
শরয়ি দলীলসমূহ (أدلة الشرع) তিন প্রকার: মূল (أصل), মূলের যৌক্তিক অর্থ (معقول أصل) এবং বর্তমান অবস্থার ধারাবাহিকতা (استصحاب حال)।
মূল (أصل) হলো তিনটি: কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع); ইমাম শাফিঈ রহ. এর সাথে যুক্ত করেছেন—
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رَحمَه الله فِي الْقَدِيم قَول الْوَاحِد من الصَّحَابَة فَجعله اربعة
فاما الْكتاب فدلالته ثَلَاثَة النَّص وَالظَّاهِر والعموم
فالنص هُوَ اللَّفْظ الَّذِي لَا يحْتَمل الا معنى وَاحِد كَقَوْلِه تَعَالَى {الزَّانِيَة وَالزَّانِي فاجلدوا كل وَاحِد مِنْهُمَا مائَة جلدَة} {وَلَا تقتلُوا النَّفس الَّتِي حرم الله إِلَّا بِالْحَقِّ} وَمَا اشبه ذَلِك مِمَّا لَا يحْتَمل الا معنى وَاحِدًا
وَحكمه ان يُصَار اليه وَلَا يتْرك الا بِنَصّ يُعَارضهُ
وَالظَّاهِر كل لفظ احْتمل امرين وَهُوَ فِي احدهما اظهر
وَهُوَ ضَرْبَان ظَاهر بِوَضْع اللُّغَة كالامر يحْتَمل الايجاب وَيحْتَمل النوب إِلَّا انه فِي الايجاب اظهر وكالنهي يحْتَمل التَّحْرِيم وَيحْتَمل الْكَرَاهَة والتنزيه الا انه فِي التَّحْرِيم اظهر وكسائر الالفاظ المحتملة لمعنيين وَهُوَ فِي احدهما اظهر
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, প্রাচীন (কাদিম) মতে তিনি একজন সাহাবীর উক্তিকেও গ্রহণ করেছেন, ফলে তিনি একে চারটিতে নির্ধারণ করেছেন।
আর কিতাব (আল-কুরআন) এর নির্দেশক ধরণ তিনটি: স্পষ্ট পাঠ (النص), আপাত অর্থ (الظاهر) এবং সাধারণ অর্থ (العموم)।
স্পষ্ট পাঠ (النص) হলো এমন শব্দ যা কেবল একটি মাত্র অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রাখে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো} এবং {আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না}; এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ যা কেবল একটি মাত্র অর্থই বহন করে।
এর বিধান হলো, এর ওপর আমল করতে হবে এবং একে কোনো বিপরীত স্পষ্ট পাঠ (النص) ছাড়া বর্জন করা যাবে না।
আর আপাত অর্থ (الظاهر) হলো প্রতিটি এমন শব্দ যা দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে, তবে শব্দটির প্রয়োগ একটিতে অধিকতর স্পষ্ট।
এটি দুই প্রকার। ভাষাগত সংস্থানের দিক থেকে যা আপাত অর্থ (الظاهر), যেমন আদেশ (الأمر) যা আবশ্যকতা (الإيجاب) এবং ঐচ্ছিকতা (الندب) উভয় সম্ভাবনা রাখে, তবে আবশ্যকতার (الإيجاب) ক্ষেত্রে এটি অধিকতর স্পষ্ট। তদ্রূপ নিষেধ (النهي) যা নিষিদ্ধতা (التحريم) এবং অপছন্দনীয়তা (الكراهة) ও তানজিহি (التنزيه) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে নিষিদ্ধতার (التحريم) ক্ষেত্রে এটি অধিকতর স্পষ্ট। এছাড়াও অন্যান্য এমন সব শব্দ যা দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে এবং একটিতে এটি অধিকতর স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَحكمه ان يحمل على اظهر الْمَعْنيين وَلَا يحمل على غَيره الا بِدَلِيل
وَظَاهر بِوَضْع الشَّرْع كالاسماء المنقولة من اللُّغَة الى الشَّرْع كَالصَّلَاةِ فِي اللُّغَة اسْم للدُّعَاء وَفِي الشَّرْع اسْم لهَذِهِ الافعال الْمَعْرُوفَة وَالْحج فِي اللُّغَة اسْم للقصد وَفِي الشَّرْع اسْم لهَذِهِ الافعال الْمَعْرُوفَة وَغير ذَلِك من الاسماء المنقولة من اللُّغَة الى الشَّرْع
وَحكمه ان يحمل على مَا نقل اليه فِي الشَّرْع وَلَا يحمل على غَيره الا بِدَلِيل
وَمن اصحابنا من قَالَ لَيْسَ فِي الاسماء شَيْء مَنْقُول بل الصَّلَاة هِيَ الدُّعَاء وَالْحج هُوَ الْقَصْد وانما هَذِه الافعال زيادات اضيفت اليهاوليست مِنْهَا كَمَا اضيفت الطَّهَارَة الى الصَّلَاة وَلَيْسَت مِنْهَا فعلى هَذَا تحمل هَذِه الالفاظ على موضوعها فِي اللُّغَة وَلَا تحمل على غَيره الا بِدَلِيل
والعموم كل لفظ عَم شَيْئَيْنِ اثْنَيْنِ فَصَاعِدا على وَجه وَاحِد لَا مزية لاحدهما على الاخر
والفاظه اربعة اسماء الجموع كالمسلمين وَالْمُشْرِكين والابرار والفجار
এর বিধান হলো, এটিকে দুটি অর্থের মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট (أظهر) অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না।
আর শরিয়তের পরিভাষা নির্ধারণের মাধ্যমে যা স্পষ্ট (ظاهر), যেমন আভিধানিক ভাষা থেকে শরিয়তের পরিভাষায় স্থানান্তরিত (منقولة) বিশেষ্যসমূহ। উদাহরণস্বরূপ, ‘সালাত’ আভিধানিক ভাষায় দোয়ার নাম এবং শরিয়তে এটি এই সুপরিচিত কার্যাবলির নাম। আর ‘হজ’ আভিধানিক ভাষায় সংকল্প করার নাম এবং শরিয়তে এটি এই সুপরিচিত কার্যাবলির নাম। আভিধানিক ভাষা থেকে শরিয়তের পরিভাষায় স্থানান্তরিত (منقولة) অন্যান্য বিশেষ্যসমূহও অনুরূপ।
এর বিধান হলো, শরিয়তে যে অর্থের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে তার ওপর একে প্রয়োগ করা হবে এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না।
আমাদের সাথীদের (اصحابنا) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, বিশেষ্যসমূহের মধ্যে স্থানান্তরিত (منقول) কোনো শব্দ নেই; বরং সালাত হলো দোয়া এবং হজ হলো সংকল্প। এই কার্যাবলিগুলো কেবল অতিরিক্ত বিষয় যা এগুলোর সাথে যুক্ত করা হয়েছে কিন্তু সেগুলো তার (মূল অর্থের) অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন পবিত্রতা সালাতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে কিন্তু তা সালাতের অংশ নয়। এই মতানুসারে, এই শব্দগুলোকে আভিধানিক মূল অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না।
আর ব্যাপকতা (عموم) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা অভিন্নভাবে দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে একটির ওপর অন্যটির কোনো বিশেষত্ব থাকে না।
এর শব্দাবলি চারটি: সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسماء الجموع), যেমন: মুসলিমগণ, মুশরিকগণ, পুণ্যবানগণ এবং পাপাচারীগণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَالِاسْم الْمُفْرد اذا عرف بالالف وَاللَّام كَالرّجلِ وَالْمَرْأَة وَالْمُسلم والمشرك
وَمن اصحابنا من قَالَ لَيْسَ هَذَا من الفاظ الْعُمُوم
والاول اصح
والاسماء المبهمة ك من فِيمَن يعقل وَمَا فِي مَا لَا يعقل وَأي فِي الْجَمِيع وَحَيْثُ وَأَيْنَ فِي الْمَكَان وَمَتى فِي الزَّمَان
وَالنَّفْي فِي النكرات كَقَوْلِه عليه السلام
لَا يقتل مُسلم بِكَافِر وَمَا رَأَيْت رجلا وَمَا اشبهه
فَحكم هَذِه الالفاظ ان تحمل على الْعُمُوم وَلَا يخص مِنْهُ شَيْء الا بِدَلِيل
واما السّنة فدلالتها ثَلَاثَة قَول وَفعل واقرار
فَالْقَوْل على ضَرْبَيْنِ مُبْتَدأ وخارج على سَبَب
فالمبتدأ يَنْقَسِم الى مَا يَنْقَسِم اليه الْكتاب من النَّص وَالظَّاهِر والعموم
এবং একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد) যখন আলিফ ও লাম (الألف واللام) যোগে নির্দিষ্ট করা হয়, যেমন— পুরুষ, নারী, মুসলিম এবং মুশরিক।
আমাদের সঙ্গীদের (উলামায়ে কেরাম) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি ব্যাপকতাবোধক শব্দসমষ্টির (ألفاظ العموم) অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ।
আর অস্পষ্ট বিশেষ্যসমূহ (الأسماء المبهمة) যেমন: বিবেকসম্পন্নদের ক্ষেত্রে 'মান' (من), বিবেকহীনদের ক্ষেত্রে 'মা' (ما), সবার ক্ষেত্রে 'আইয়্যু' (أي), স্থানের ক্ষেত্রে 'হাইসু' (حيث) ও 'আইনা' (أين) এবং সময়ের ক্ষেত্রে 'মাতা' (متى)।
আর অনির্দিষ্ট শব্দের (النكرات) ক্ষেত্রে নেতিবাচক অর্থ প্রদান, যেমন নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী:
"কোনো মুসলিমকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না," এবং "আমি কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি" ও এই জাতীয় শব্দসমূহ।
এই শব্দগুলোর বিধান হলো, এগুলোকে ব্যাপকতার (العموم) ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং দলিলের (دليل) মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া ব্যতীত এর কোনো কিছুকেই সুনির্দিষ্ট (يخص) করা যাবে না।
আর সুন্নাহ (السنة) এর নির্দেশক হওয়ার পদ্ধতি তিনটি: উক্তি (قول), কর্ম (فعل) এবং মৌন সম্মতি (إقرار)।
উক্তি (قول) দুই প্রকার: প্রাথমিক উক্তি (مبتدأ) এবং কোনো কারণবশত প্রকাশিত উক্তি (خارج على سبب)।
প্রাথমিক উক্তি (مبتدأ) সেই সব ভাগে বিভক্ত হয় যেগুলোতে কিতাব (কুরআন) বিভক্ত হয়ে থাকে; অর্থাৎ: সুস্পষ্ট নস (نص), প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) এবং ব্যাপকতা (العموم)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فالنص كَقَوْلِه عليه السلام فِي اربعين شَاة شَاة وَمَا أشبهه // أخرجه التِّرْمِذِيّ فِي الزَّكَاة
فَحكمه ان يُصَار اليه وَلَا يتْرك الا بِنَصّ يُعَارضهُ
وَالظَّاهِر كَقَوْلِه عليه السلام حتيه ثمَّ اقرصيه ثمَّ اغسليه بِالْمَاءِ فَيحمل // أخرجه أَبُو داودد فِي كتاب الطَّهَارَة على الْوُجُوب وَلَا يصرف الى الِاسْتِحْبَاب الا بِدَلِيل
والعموم كَقَوْلِه عليه السلام من بدل دينه فَاقْتُلُوهُ فَيحمل على الْعُمُوم // أخرجه البُخَارِيّ فِي كتاب الْجِهَاد فِي الرِّجَال وَالنِّسَاء وَلَا يخص الا بِدَلِيل
وَالْخَارِج على سَبَب ضَرْبَان مُسْتَقل دون السَّبَب كَمَا رُوِيَ انه قيل لَهُ عليه السلام انك تتوضأ من بِئْر بضَاعَة وانما يطْرَح فِيهَا دم المحايض وَلُحُوم الْكلاب وَمَا يُنجي النَّاس فَقَالَ عليه السلام المَاء طهُور لَا يُنجسهُ شَيْء
فَحكمه حكم القَوْل والمبتدأ
সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ন্যায়: "প্রতি চল্লিশটি মেষের যাকাত হিসেবে একটি মেষ প্রদান করতে হবে" এবং এই জাতীয় বক্তব্যসমূহ // এটি তিরমিজি যাকাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
এর বিধান হলো, এর মাধ্যমেই ফয়সালা করতে হবে এবং কোনো বিপরীতমুখী সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) ব্যতিরেকে এটি ত্যাগ করা যাবে না।
আপাত প্রতীয়মান (ظاهر) হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ন্যায়: "তা (রক্ত) চেঁছে ফেলো, অতঃপর আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে ঘষো, তারপর পানি দিয়ে ধৌত করো।" এটি আবু দাউদ পবিত্রতা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন; একে আবশ্যকতা (وجوب) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতিরেকে একে পছন্দনীয়তা (استحباب) অর্থে সরিয়ে নেওয়া যাবে না।
সাধারণ (عموم) হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ন্যায়: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।" একে সাধারণ (عموم) হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি বুখারি জিহাদ অধ্যায়ে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন। কোনো নির্দিষ্টকারী প্রমাণ (دليل) ব্যতীত একে বিশেষায়িত (تخصيص) করা যাবে না।
কোনো কারণ বা পটভূমির (سبب) প্রেক্ষিতে যা বর্ণিত হয় তা দুই প্রকার: (প্রথমটি) যা পটভূমি (سبب) ছাড়াই স্বতন্ত্র। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো, "আপনি কি বুদা’আ কূপ থেকে অজু করেন? অথচ তাতে ঋতুবতী নারীর রক্ত, কুকুরের মাংস ও মানুষের মলমূত্র নিক্ষেপ করা হয়।" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "পানি পবিত্র (طهور), কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।"
এর বিধান হলো স্বতন্ত্র এবং প্রারম্ভিক বক্তব্যের বিধানের ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمن اصحابنا من قَالَ يقصر على السَّبَب الَّذِي ورد فِيهِ وَلَيْسَ بِشَيْء // أخرجه التِّرْمِذِيّ وَغَيره
وَضرب لَا يسْتَقلّ دون السَّبَب كَمَا رُوِيَ ان اعرابيا قَالَ لَهُ جامعت فِي شهر رَمَضَان بِالنَّهَارِ فَقَالَ اعْتِقْ رَقَبَة فَيصير قَول الرَّسُول مَعَ السَّبَب كالجملة // أخرجه البُخَارِيّ وَغَيره الْوَاحِدَة كَأَنَّهُ قَالَ عليه السلام اذا جامعت فاعتق
واما الْفِعْل فضربان
احدهما مَا فعله على غير وَجه الْقرْبَة فَهُوَ كالمشي والاكل وَغَيرهمَا فَيدل على الْجَوَاز
وَالثَّانِي مَا فعله على وَجه الْقرْبَة فَهُوَ على ثَلَاثَة اضراب
احدها ان يكون امتثالا لامر فَتعْتَبر بذلك الامر ان كَانَ وَاجِبا فَهُوَ وَاجِب وان كَانَ ندبا فَهُوَ ندب
وَالثَّانِي ان يكون بَيَانا لمجمل فَتعْتَبر بالمبين ان كَانَ وَاجِبا فَهُوَ وَاجِب وان كَانَ ندبا فَهُوَ ندب
আমাদের সাথীদের (মাযহাবের অনুসারীদের) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি সেই কারণ (سبب) এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে যার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বর্ণিত হয়েছে, তবে এই অভিমতটি অকিঞ্চিৎকর। // এটি তিরমিযী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
এবং এমন এক প্রকার যা কারণ (سبب) ব্যতীত স্বতন্ত্রভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি তাঁকে বলেছিলেন: "আমি রমজান মাসে দিনের বেলা সহবাস করেছি।" তখন তিনি বললেন: "একজন দাস মুক্ত করো।" ফলে রাসূলুল্লাহর বাণী সেই কারণ (سبب) এর সাথে মিলিত হয়ে একটি পূর্ণ বাক্যের মতো হয়ে যায় // এটি বুখারি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন একটি একক (বাক্যের মতো), যেন তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যদি তুমি সহবাস করো তবে দাস মুক্ত করো।"
আর কর্ম (فعل) দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো—যা তিনি ইবাদত (قربة) হিসেবে করেননি, যেমন—হাঁটা, খাওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ; যা কেবল বৈধতা (جواز) প্রমাণ করে।
দ্বিতীয়টি হলো—যা তিনি ইবাদত (قربة) হিসেবে করেছেন, আর এটি তিন প্রকার।
প্রথম প্রকার হলো—কোনো আদেশের পরিপালন স্বরূপ হওয়া। সেক্ষেত্রে সেই আদেশের মাধ্যমেই হুকুম নির্ধারিত হবে; যদি সেই আদেশটি ওয়াজিব (واجب) হয়ে থাকে তবে কর্মটিও ওয়াজিব (واجب) হবে, আর যদি তা মুস্তাহাব (ندব) হয়ে থাকে তবে সেটি মুস্তাহাব (ندব) হবে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো—কোনো অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়ের ব্যাখ্যা স্বরূপ হওয়া। সেক্ষেত্রে যার ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার মাধ্যমেই হুকুম নির্ধারিত হবে; যদি তা ওয়াজিব (واجب) হয় তবে এটিও ওয়াজিব (واجب) হবে, আর যদি তা মুস্তাহাব (ندব) হয় তবে সেটি মুস্তাহাব (ندব) হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَالثَّالِث ان يكون مُبْتَدأ فَفِيهِ ثَلَاثَة اوجه
احدهما انه يَقْتَضِي الْوُجُوب وَلَا يصرف الى غَيره الا بِدَلِيل
وَالثَّانِي انه يَقْتَضِي النّدب وَلَا يصرف الى غَيره الا بِدَلِيل
وَالثَّالِث انه على الْوَقْف فَلَا يحمل على وَاحِد مِنْهُمَا الا بِدَلِيل
واما الاقرار فضربان
احدهما ان يسمع قولا فَيقر عَلَيْهِ كَمَا رُوِيَ انه سمع رجلا يَقُول الرجل يجد مَعَ امْرَأَته رجلا ان قتل قَتَلْتُمُوهُ وان تكلم جلدتموه وان سكت سكت على غيظ ام كَيفَ يصنع // أخرجه البُخَارِيّ فِي اللّعان
فَحكمه حكم قَوْله عليه السلام وَقد بَيناهُ
وَالثَّانِي ان يرى رجلا يفعل فعلا فيقره عَلَيْهِ كَمَا رُوِيَ انه رأى
এবং তৃতীয়টি হলো তা যদি প্রারম্ভিক (مبتدأ) হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে।
তন্মধ্যে একটি হলো, এটি আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত একে অন্য অর্থে সরিয়ে নেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়টি হলো, এটি পছন্দনীয়তা (ندب) দাবি করে এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত একে অন্য অর্থে সরিয়ে নেওয়া যাবে না।
তৃতীয়টি হলো, এটি স্থগিতকরণের (وقف) ওপর থাকবে, ফলে কোনো দলিল (دليل) ব্যতীত এ দুটির কোনোটির ওপর একে প্রয়োগ করা যাবে না।
আর মৌনসম্মতি (إقرار) দুই প্রকার।
তন্মধ্যে একটি হলো, তিনি কোনো কথা শুনলেন এবং তার ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করলেন। যেমনটি বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন: "কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোনো পুরুষকে দেখতে পায়; তবে সে যদি তাকে হত্যা করে তবে আপনারা তাকে হত্যা করবেন, আর যদি সে কথা বলে তবে আপনারা তাকে বেত্রাঘাত করবেন, আর যদি সে চুপ থাকে তবে সে ক্ষোভ নিয়ে চুপ থাকবে; এমতাবস্থায় সে কী করবে?" এটি বুখারী লিআন অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
এর বিধান (حكم) তাঁর আলাইহিস সালাম বাণীর বিধানের মতোই এবং আমরা তা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি।
দ্বিতীয়টি হলো, তিনি কোনো ব্যক্তিকে কোনো কাজ করতে দেখলেন এবং তাকে তার ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) দিলেন, যেমনটি বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি দেখেছিলেন—
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَي الرَّاوِي قيس بن فَهد يُصَلِّي رَكْعَتي الْفجْر بعد الصُّبْح // أخرجه أَبُو دَاوُد وَغَيره
فَحكمه حكم فعله وَقد بَيناهُ
واما الاجماع فَهُوَ اتِّفَاق عُلَمَاء الْعَصْر على حكم الْحَادِثَة فَذَلِك ضَرْبَان
احدهما مَا ثَبت بقول جَمِيعهم كاجماعهم على جَوَاز البيع وَالشَّرِكَة وَالْمُضَاربَة وَغير ذَلِك من الاحكام
فَحكمه ان يُصَار اليه وَيعْمل بِهِ وَلَا يجوز تَركه بِحَال
وَالثَّانِي مَا ثَبت بقول بَعضهم اَوْ فعله وسكوت البَاقِينَ مَعَ انتشار ذَلِك فيهم
অর্থাৎ বর্ণনাকারী (الراوي) কায়েস বিন ফাহদ সুবহে সাদিকের পর ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করেন // এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এর বিধান (حكم) তার কর্মের বিধানের অনুরূপ এবং আমরা তা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি।
আর ইজমা (الإجماع) হলো কোনো ঘটনার বিধানের (حكم) ওপর সমসাময়িক যুগের আলেমগণের ঐকমত্য পোষণ করা। আর তা দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো যা তাদের সকলের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, অংশীদারিত্ব (শারিকাহ), মুদারাবা এবং অন্যান্য বিধানের (الأحكام) বৈধতার (جواز) ওপর তাদের ঐকমত্য (إجماع)।
এর বিধান (حكم) হলো যে, এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং তদনুসারে আমল করতে হবে; কোনো অবস্থাতেই তা বর্জন করা বৈধ নয়।
আর দ্বিতীয়টি হলো যা তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের বক্তব্য বা কর্মের মাধ্যমে প্রমাণিত এবং তাদের মাঝে বিষয়টি জানাজানি হওয়া সত্ত্বেও বাকিদের নীরব থাকা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَذَلِك حجَّة وَهل يُسمى اجماعا فِيهِ وَجْهَان
وَقَالَ ابو عَليّ بن ابي هُرَيْرَة ان كَانَ ذَلِك حكما من امام اَوْ قَاض لم يكن حجَّة وان كَانَ فتيا من فَقِيه فَهُوَ حجَّة
والاول اصح
واما قَول الْوَاحِد من الصَّحَابَة اذا لم ينتشر فَفِيهِ قَولَانِ
قَالَ فِي الْجَدِيد لَيْسَ بِحجَّة فعلى هَذَا لَا يحْتَج بِهِ وَلَكِن يرجح بِهِ
وَقَالَ بعض اصحابنا يحْتَج بِهِ مَعَ قِيَاس ضَعِيف وَلَيْسَ بِشَيْء
وَقَالَ فِي الْقَدِيم هُوَ حجَّة فعلى هَذَا يحْتَج بِهِ وَيقدم على الْقيَاس وَهل يخص بِهِ الْعُمُوم فِيهِ وَجْهَان
সুতরাং তা দলিল (حجة), আর একে ইজমা (إجماع) হিসেবে অভিহিত করা হবে কি না সে বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
আবু আলী ইবনে আবি হুরায়রা বলেছেন, যদি তা কোনো ইমাম বা বিচারকের পক্ষ থেকে ফয়সালা (حكم) হয়, তবে তা দলিল (حجة) হবে না; আর যদি তা কোনো ফকিহের পক্ষ থেকে ফতোয়া (فتيا) হয়, তবে তা দলিল (حجة)।
আর প্রথম মতটিই অধিকতর শুদ্ধ (أصح)।
পক্ষান্তরে, যখন কোনো একজন সাহাবীর বক্তব্য ছড়িয়ে না পড়ে, তখন সে ক্ষেত্রে দুটি মত (قولان) বিদ্যমান।
তিনি তাঁর নতুন (জাদিদ) মতে বলেছেন যে, এটি দলিল (حجة) নয়। এই ভিত্তিতে এর মাধ্যমে দলিল পেশ (يحتج) করা যাবে না, তবে এর দ্বারা কোনো বিষয়কে প্রাধান্য (يرجح) দেওয়া যেতে পারে।
আমাদের কতিপয় সঙ্গী (আসহাব) বলেছেন, একে দুর্বল (ضعيف) কিয়াসের সাথে দলিল (يحتج) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে, তবে এই মতটি ধর্তব্য নয়।
তিনি তাঁর পুরাতন (কাদিম) মতে বলেছেন, এটি দলিল (حجة)। এই ভিত্তিতে এটি দলিল (يحتج) হিসেবে গণ্য হবে এবং কিয়াসের (قياس) ওপর অগ্রগণ্য হবে। এর দ্বারা কোনো সাধারণ (عموم) বিষয়কে বিশেষায়িত (يخص) করা যাবে কি না, সে বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
واما ادلة الْمَعْقُول فَثَلَاثَة فحوى الْخطاب وَدَلِيل الْخطاب وَمعنى الْخطاب
فاما فحوى الْخطاب فَهُوَ ان ينص على الاعلى وينبه على الادنى اَوْ ينص على الادنى فينبه على الاعلى وَذَلِكَ مثل قَوْله تَعَالَى {وَمن أهل الْكتاب من إِن تأمنه بقنطار يؤده إِلَيْك وَمِنْهُم من إِن تأمنه بِدِينَار لَا يؤده إِلَيْك} وَنَهْيه عَن التَّضْحِيَة بالعوراء وَنبهَ بِهِ على العمياء // أخرجه مَالك وَغَيره
فَحكم هَذَا حكم النَّص
واما دَلِيل الْخطاب فَهُوَ ان يعلق الحكم على اُحْدُ وصفي الشَّيْء كَقَوْلِه تَعَالَى {وَإِن كن أولات حمل فأنفقوا عَلَيْهِنَّ} وَقَوله عَلَيْهِ السَّلَام
আর যৌক্তিক দলীলসমূহ (ادلة المعقول) তিনটি: বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য (فحوى الخطاب), বক্তব্যের সংকেত (دليل الخطাব) এবং বক্তব্যের মর্মার্থ (معنى الخطاب)।
বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য (فحوى الخطাব) হলো, উচ্চতর বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) প্রদানের মাধ্যমে নিম্নতর বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা, অথবা নিম্নতর বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) প্রদানের মাধ্যমে উচ্চতর বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর তা যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যার কাছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ আমানত রাখলে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে; আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে একটি দিনার আমানত রাখলেও সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না।" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একচক্ষু বিশিষ্ট পশু কুরবানি করায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান, যার দ্বারা তিনি অন্ধ পশুর অবৈধতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। // এটি মালিক এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
এই প্রকারের বিধান সুস্পষ্ট ভাষ্যের (النص) বিধানের পর্যায়ভুক্ত।
আর বক্তব্যের সংকেত (دليل الخطাব) হলো, কোনো বিধানকে কোনো বিষয়ের দুটি বৈশিষ্ট্যের একটির সাথে সংশ্লিষ্ট করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তারা যদি গর্ভবতী হয়, তবে তাদের জন্য ব্যয় করো।" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فِي سَائِمَة الْغنم زَكَاة فَدلَّ على ان غير الْحَامِل لَا نَفَقَة لَهَا وَغير السَّائِمَة لَا زَكَاة فِيهَا
وَقَالَ ابو الْعَبَّاس بن سُرَيج لَا يدل على حكم مَا عدا الْمَذْكُور
وَالْمذهب الاول
فاما معنى الْخطاب فَهُوَ الْقيَاس وَهُوَ حمل فرع على اصل بعلة جَامِعَة بَينهمَا واجراء حكم الاصل على الْفَرْع
وَهُوَ ضَرْبَان
احدهما قِيَاس الْعلَّة وَهُوَ ان يحمل الْفَرْع على الاصل بِالْمَعْنَى
চারণভূমিতে বিচরণকারী (سائمة) ছাগলের ওপর জাকাত আবশ্যক। এটি এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে যে, গর্ভবতী নয় এমন নারীর জন্য কোনো ভরণপোষণ নেই এবং চারণভূমিতে বিচরণকারী (سائمة) নয় এমন পশুর ক্ষেত্রে কোনো জাকাত নেই।
আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ বলেন, এটি উল্লিখিত বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের বিধানের ওপর প্রমাণ বহন করে না।
আর প্রথম অভিমতটিই হলো মাযহাব (المذهب)।
পক্ষান্তরে 'মানাল খিতাব' (معنى الخطاب) হলো কিয়াস (القياس); যা হচ্ছে শাখা (فرع)-কে মূল (أصل)-এর সাথে এমন এক সাধারণ কারণের (علة) ভিত্তিতে সংযুক্ত করা যা উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান এবং মূলের বিধানকে শাখার ওপর প্রয়োগ করা।
এটি দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো কিয়াসুল ইল্লত (قياس العلة), আর তা হলো শাখা (فرع)-কে অর্থের ভিত্তিতে মূল (أصل)-এর সাথে সংযুক্ত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الَّذِي يتَعَلَّق الحكم بِهِ فِي الشَّرْع وَذَلِكَ مثل قِيَاس النَّبِيذ على الْخمر بعلة انه شراب فِيهِ شدَّة مطربة وَقِيَاس الارز على الْبر بعلة انه مطعوم جنس
وَالثَّانِي قِيَاس الدّلَالَة وَهُوَ ثَلَاثَة اضْرِب
احدها ان يسْتَدلّ بخصيصة من خَصَائِص الشَّيْء عَلَيْهِ
كَقَوْلِنَا فِي سُجُود التِّلَاوَة انه لَا يجب لانه سُجُود يجوز فعله على الرَّاحِلَة فِي غير عذر فاشبه سُجُود النَّفْل وان جَوَاز فعله على الرَّاحِلَة من خَصَائِص النَّوَافِل فيستدل بِهِ على انه نفل
وَالثَّانِي ان يسْتَدلّ بالنظير على النظير
كَقَوْلِنَا فِي الزَّكَاة فِي مَال الصَّبِي ان من وَجب الْعشْر فِي زرعه وَجب ربع الْعشْر فِي مَاله كَالْبَالِغِ
যার সাথে শরিয়তের বিধান সংশ্লিষ্ট থাকে, যেমন মদের ওপর নবিজের তুলনা (قياس), যার কারণ (علة) হলো এটি এমন পানীয় যা তীব্রভাবে মত্ততা বা নেশা সৃষ্টি করে; এবং গমের ওপর চালের তুলনা (قياس), যার কারণ (علة) হলো এটি একই জাতীয় খাদ্যদ্রব্য।
দ্বিতীয়টি হলো নির্দেশক বা প্রমাণমূলক তুলনা (قياس الدلالة), যা তিন প্রকার।
এর একটি হলো কোনো বস্তুর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সেই বস্তুর ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা।
যেমন তিলাওয়াতের সিজদাহ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হলো যে, এটি আবশ্যক (واجب) নয়; কারণ এটি এমন সিজদাহ যা কোনো ওজর ছাড়াই সওয়ারির ওপর আদায় করা বৈধ, ফলে এটি নফল (نفل) সিজদাহর সদৃশ। আর সওয়ারির ওপর আদায় করার বৈধতা নফল (نفل) ইবাদতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তাই এর মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে এটি নফল (نفل)।
দ্বিতীয়টি হলো সদৃশ বস্তুর মাধ্যমে অপর সদৃশ বস্তুর ওপর প্রমাণ পেশ করা।
যেমন শিশুর সম্পদের যাকাতের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো—যার ফসলের ওপর দশমাংশ (عشر) আবশ্যক (واجب) হয়, তার সম্পদের ওপর চল্লিশ ভাগের এক ভাগ বা আড়াই শতাংশ (ربع العشر) আবশ্যক (واجب) হবে, যেমনটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وكقولنا فِي ظِهَار الذِّمِّيّ من صَحَّ طَلَاقه صَحَّ ظِهَاره كَالْمُسلمِ وان الْعشْر نَظِير ربع الْعشْر وَالظِّهَار نَظِير الطَّلَاق فَيدل احدهما على الاخر
وَالثَّالِث ان يسْتَدلّ بِضَرْب من الشّبَه مثل ان يَقُول فِي ايجاب التَّرْتِيب فِي الْوضُوء انه عبَادَة يُبْطِلهَا النّوم فَوَجَبَ فِيهَا التَّرْتِيب كَالصَّلَاةِ فَفِيهِ وَجْهَان
من اصحابنا من قَالَ انه دَلِيل
وَمِنْهُم من قَالَ لَيْسَ بِدَلِيل وانما يرجح بِهِ غَيره وَهُوَ الاصح
যেমন অমুসলিম জিম্মির জিহার (ظهار) প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য হলো: যার তালাক (طلاق) শুদ্ধ (صحيح) হয়, মুসলিমের ন্যায় তার জিহারও (ظهار) শুদ্ধ (صحيح) হবে। আর উশর (عشر) যেমন রুবউ-উল-উশরের (ربع العشر) সমরূপ, তেমনি জিহার (ظهار) তালাকের (طلاق) সমরূপ; সুতরাং একটি অপরটির ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে।
তৃতীয় প্রকার হলো সাদৃশ্যের (شبه) মাধ্যমে দলিল (دليل) পেশ করা; যেমন ওযুর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা (ترتيب) আবশ্যক (واجب) হওয়ার বিষয়ে বলা হয় যে, এটি এমন একটি ইবাদত যা ঘুমের কারণে বাতিল হয়ে যায়, তাই নামাজের মতো এতেও ধারাবাহিকতা (ترتيب) রক্ষা করা আবশ্যক (واجب)। এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
আমাদের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি একটি দলিল (دليل)।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি দলিল (دليل) নয়, বরং এর দ্বারা অন্য বিষয়কে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হয়; আর এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فصل فِي اسْتِصْحَاب الْحَال واما اسْتِصْحَاب الْحَال فضربان
اسْتِصْحَاب حَال الْعقل فِي بَرَاءَة الذِّمَّة كَقَوْلِنَا فِي اسقاط دِيَة الْمُسلم اذا قتل فِي دَار الْحَرْب اَوْ فِي اسقاط مَا زَاد على ثلث الدِّيَة فِي قتل الْيَهُودِيّ ان الاصل بَرَاءَة الذِّمَّة وفراغ الساحة وَطَرِيق اشتغالها بِالشَّرْعِ وَلم نجد فِي الشَّرْع مَا يدل على الِاشْتِغَال فِي قتل الْمُسلم فِي دَار الْحَرْب وَلَا على الِاشْتِغَال فِيمَا زَاد على الثُّلُث فِي قتل الْيَهُود فَبَقيَ على الاصل
فَهَذَا دَلِيل يفزع اليه الْمُجْتَهد عِنْد عدم الادلة
وَالثَّانِي اسْتِصْحَاب حَال الاجماع وَذَلِكَ مثل ان يَقُول فِي الْمُتَيَمم اذا رأى المَاء فِي صلَاته انه يمْضِي فِي صلَاته انْعَقَدت بالاجماع فَلَا يَزُول عَن ذَلِك الا بِدَلِيل
فَهَذَا فِيهِ وَجْهَان
من اصحابنا من قَالَ هُوَ دَلِيل
وَمِنْهُم من قَالَ لَيْسَ بِدَلِيل وَهُوَ الاصح
স্থিতাবস্থার নীতি (استصحاب الحال) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ আর স্থিতাবস্থার নীতি (استصحاب الحال) দুই প্রকার—
প্রথমত: দায়মুক্ততার (براءة الذمة) ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার অনুবৃত্তি (استصحاب حال العقل); যেমন—দারুল হারবে (دار الحرب) কোনো মুসলিম নিহত হলে তার রক্তপণ (دية) রহিত হওয়ার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য, অথবা কোনো ইহুদি হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণের (دية) এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অংশ রহিত হওয়ার ব্যাপারে আমাদের অভিমত। এর কারণ হলো, মূলনীতি (الأصل) হচ্ছে দায়মুক্ততা (براءة الذمة) ও দায়হীনতা। আর দায়বদ্ধ হওয়ার পথ হলো শরিয়ত (الشرع)। যেহেতু দারুল হারবে (دار الحرب) মুসলিম হত্যার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ হওয়ার বিষয়ে শরিয়ত (الشرع) থেকে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইহুদি হত্যার ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অংশের বিষয়েও কোনো প্রমাণ নেই, তাই এটি তার মূলনীতির (الأصل) ওপরই বহাল থাকবে।
এটি এমন একটি দলিল (دليل) যার দিকে মুজতাহিদ (المجتهد) অন্যান্য দলিলের (الأدلة) অনুপস্থিতিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
দ্বিতীয়ত: ইজমা (إجماع)-এর অবস্থার অনুবৃত্তি (استصحاب حال الاجماع)। যেমন—কোনো তায়াম্মুমকারী (المتيمم) যদি সালাতরত অবস্থায় পানি দেখতে পায়, তবে সে তার সালাত চালিয়ে যাবে। কেননা সালাতটি ইজমা (إجماع)-এর ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল, তাই কোনো দলিল (دليل) ছাড়া তা থেকে সরে আসা যাবে না।
এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে—
আমাদের একদল ফকিহ বলেছেন, এটি একটি দলিল (دليل)।
অন্যদল বলেছেন, এটি কোনো দলিল (دليل) নয় এবং এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب وُجُوه الْكَلَام على الِاسْتِدْلَال بِالْكتاب صلى الله عليه وسلم َ -
وَذَلِكَ من ثَمَانِيَة اوجه
احدهما ان يسْتَدلّ مِنْهُ بطرِيق من الاصول لَا يَقُول بِهِ وَذَلِكَ مثل ان يسْتَدلّ الْحَنَفِيّ فِي اسقاط الْمُتْعَة للمدخول بهَا بقوله تَعَالَى {لَا جنَاح عَلَيْكُم إِن طلّقْتُم النِّسَاء مَا لم تمَسُّوهُنَّ أَو تفرضوا لَهُنَّ فَرِيضَة ومتعوهن} فَشرط فِي ايجاب الْمُتْعَة ان لَا يكون قد مَسهَا
فَيَقُول الشَّافِعِي هَذَا اسْتِدْلَال بِدَلِيل الْخطاب وانت لَا تَقول بِهِ
فَالْجَوَاب ان يَقُول ان هَذَا بِلَفْظ الشَّرْط لانه قَالَ {إِن طلّقْتُم النِّسَاء} وان من امهات حُرُوف الشَّرْط وانا اقول بِدَلِيل الْخطاب اذا كَانَ بِلَفْظ الشَّرْط
اَوْ يَقُول ان هَذَا من مسَائِل الاصول وانا مِمَّن يَقُول بِهِ
وَالثَّانِي ان لَا يَقُول بِهِ فِي الْموضع الَّذِي تنَاوله
كاستدلال الْحَنَفِيّ فِي شَهَادَة اهل الذِّمَّة بقوله تَعَالَى {أَو آخرَانِ من غَيْركُمْ} أَي من اهل ملتكم
- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কিতাব (কুরআন) থেকে দলিল গ্রহণের (الاستدلال) পদ্ধতিসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
আর এটি আটটি পদ্ধতির (أوجه) মাধ্যমে হয়ে থাকে।
তার মধ্যে একটি হলো: মূলনীতি বা উসুলের (الأصول) এমন কোনো পন্থায় দলিল পেশ করা যা সে নিজে স্বীকার করে না। যেমন কোনো হানাফি আলেম কর্তৃক সহবাসকৃত মহিলার জন্য মুতআ (মাতা') বা বিচ্ছেদকালীন উপঢৌকন রহিত করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা: {তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যদি তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এমতাবস্থায় যে, তোমরা তাদের স্পর্শ করোনি কিংবা তাদের জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করোনি, তবে তাদেরকে কিছু সামগ্রী (মুতআ) প্রদান করো}। এখানে মুতআ ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত করা হয়েছে যেন তাদের স্পর্শ বা সহবাস (مس) করা না হয়ে থাকে।
তখন শাফেয়ী আলেম বলবেন: এটি হলো ভাষ্য-প্রমাণ বা দালিলুল খিতাব (دليل الخطاب) দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاستدلال), অথচ আপনি তো এটি মানেন না।
এর উত্তর হলো তিনি বলবেন: এটি শর্তের শব্দ (لفظ الشرط) দ্বারা সাব্যস্ত, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন {যদি তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও}। আর 'ইন' (إن) হলো শর্তবাচক অব্যয় বা হুরুফুশ শার্তের (حروف الشرط) অন্যতম প্রধান। আর আমি ভাষ্য-প্রমাণ বা দালিলুল খিতাব (دليل الخطاب) স্বীকার করি যখন তা শর্তের শব্দ (لفظ الشرط) দ্বারা সাব্যস্ত হয়।
অথবা তিনি বলবেন: এটি মূলনীতি বা উসুলের (الأصول) এমন মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আমি স্বীকার করি।
দ্বিতীয়টি হলো: যে বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলিলটিকে স্বীকার না করা।
যেমন যিম্মিদের (أهل الذمة) সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে হানাফিদের দলিল পেশ করা, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {অথবা তোমাদের ছাড়া অন্য দুজন} অর্থাৎ তোমাদের ধর্মাদর্শ বা মিল্লাত বহির্ভূত অন্য কেউ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فَيَقُول الشَّافِعِي هَذَا كَانَ فِي قصَّة بَين الْمُسلمين وَالْكفَّار وعندك لَا تقبل شَهَادَة اهل الذِّمَّة على الْمُسلمين
وتكلف بَعضهم الْجَواب عَنهُ فَقَالَ انه لما قبل شَهَادَتهم على الْمُسلمين دلّ على ان شَهَادَتهم على الْكفَّار اولى بِالْقبُولِ ثمَّ دلّ الدَّلِيل على ان شَهَادَتهم لَا تقبل على الْمُسلمين فَبَقيَ فِي حق الْكفَّار على مَا اقْتَضَاهُ
فَقَالَ الامام رحمه الله هَذَا لَيْسَ بِشَيْء لانه تعلق بفحوى الْخطاب وَقد ذكر ان الْخطاب قد ارْتَفع فَكيف يبْقى حكم فحواه
والاعتراض الثَّانِي ان يَقُول بموجبها وَذَلِكَ على ضَرْبَيْنِ
احدهما ان يحْتَج من الْآيَة بِأحد الوضعين فَيَقُول السَّائِل بِمُوجبِه بَان يحملهُ على الْوَضع الاخر
كاستدلال الْحَنَفِيّ فِي تَحْرِيم الْمُصَاهَرَة بِالزِّنَا بقوله تَعَالَى {وَلَا تنْكِحُوا مَا نكح آباؤكم} وَالْمرَاد لَا تطؤوا مَا وطىء آباؤكم
ইমাম শাফেঈ বলেন, এটি ছিল মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার একটি ঘটনার ক্ষেত্রে, অথচ আপনার নিকট মুসলিমদের বিরুদ্ধে আহলে জিম্মাহর (أهل الذمة) সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর উত্তর প্রদানের কষ্টসাধ্য প্রয়াস চালিয়েছেন এবং বলেছেন যে, যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন তা নির্দেশ করেছিল যে কাফিরদের বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে তা অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য। অতঃপর দলিল (دليل) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, ফলে কাফিরদের অধিকারের ক্ষেত্রে তা নিজস্ব চাহিদানুযায়ী বহাল রয়েছে।
ইমাম (রহ.) বলেন, এটি কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়; কারণ এটি ভাষ্যের অন্তর্নিহিত মর্মের (فحوى الخطاب) সাথে সম্পৃক্ত। অথচ এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে খোদ ভাষ্যটিই (الخطاب) রহিত হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় তার অন্তর্নিহিত মর্মের বিধান (حكم) কীভাবে অবশিষ্ট থাকতে পারে?
দ্বিতীয় আপত্তি (اعتراض) হলো এর আবশ্যিক মর্মার্থের (موجب) সাথে একমত হওয়া, যা দুই প্রকারের হয়ে থাকে।
তার একটি হলো, কোনো আয়াত থেকে দুটি প্রেক্ষিতের কোনো একটির মাধ্যমে দলিল পেশ করা, অতঃপর প্রশ্নকারী তার আবশ্যিক মর্মার্থের (موجب) ভিত্তিতে একে অন্য প্রেক্ষিতের ওপর প্রয়োগ করবেন।
যেমন ব্যভিচারের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার বিষয়ে হানাফিদের দলিল পেশ করা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমাদের পিতারা যাদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না।" এখানে উদ্দেশ্য হলো: তোমাদের পিতারা যাদের সাথে সহবাস করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فَيَقُول الشَّافِعِي النِّكَاح فِي الشَّرْع هُوَ العقد فَيكون مَعْنَاهُ لَا تتزوجوا من تزوج بهَا آباؤكم
وَالْجَوَاب ان تسلك طَريقَة من يَقُول ان الاسماء غير منقولة وان الْخطاب بلغَة الْعَرَب وَالنِّكَاح فِي عرف اللُّغَة هُوَ الْوَطْء
وَالضَّرْب الثَّانِي ان يَقُول بِمُوجبِه فِي الْموضع الَّذِي احْتج بِهِ وَذَلِكَ مثل ان يسْتَدلّ الشَّافِعِي فِي الْعَفو عَن الْقصاص الى الدِّيَة من غير رضى الْجَانِي بقوله {فَمن عُفيَ لَهُ من أَخِيه شَيْء فاتباع بِالْمَعْرُوفِ} وَالْعَفو هُوَ الصفح وَالتّرْك
فَيَقُول الْحَنَفِيّ بل الْعَفو هَا هُنَا هُوَ الْبَذْل وَمَعْنَاهُ اذا بذل الْجَانِي للْوَلِيّ الدِّيَة اتبع الْمَعْرُوف
وَالْجَوَاب عَنهُ من وَجْهَيْن
احدهما ان يبين ان الْعَفو فِي الصفح وَالتّرْك اظهر فِي اللُّغَة
وَالثَّانِي ان يبين بِالدَّلِيلِ من سِيَاق الاية اَوْ غَيره على ان المُرَاد بِهِ الصفح
والاعتراض الثَّالِث ان يدعى اجمال الاية اما فِي الشَّرْع واما فِي اللُّغَة
فاما فِي الشَّرْع فَمثل ان يسْتَدلّ الْحَنَفِيّ فِي نِيَّة صَوْم رَمَضَان بقوله تَعَالَى {فَمن شهد مِنْكُم الشَّهْر فليصمه} وَهَذَا قد صَامَ
ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে 'নিকাহ' হলো বিবাহ চুক্তি (العقد); সুতরাং এর অর্থ হবে—তোমাদের পিতারা যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তোমরা তাদের বিবাহ করো না।
এর উত্তর হলো সেই ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা যারা বলেন যে, বিশেষায়িত নামসমূহ মূল অর্থ থেকে স্থানান্তরিত (منقولة) হয়নি এবং সম্বোধন করা হয়েছে বিশুদ্ধ আরবি ভাষায়। আর ভাষাগত ব্যবহারে 'নিকাহ' হলো সহবাস (الوطء)।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো—যে বিষয়ে দলিল পেশ করা হয়েছে, সেখানে সেই শব্দের দাবিকৃত অর্থ অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করা। যেমন: অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই কিসাস (القصاص) থেকে দিয়ত (الدية) বা রক্তপণ গ্রহণ করে ক্ষমা করার স্বপক্ষে ইমাম শাফেঈ (রহ.) আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন—"তবে যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হবে, সে যেন সদয়ভাবে তা অনুসরণ করে।" এখানে ক্ষমা বলতে মার্জনা (الصفح) ও অব্যাহতি (الترك) বোঝানো হয়েছে।
হানাফিগণ বলেন, বরং এখানে ক্ষমা বলতে অর্পণ বা প্রদান করা (البذل) বোঝানো হয়েছে এবং এর অর্থ হলো—যখন অপরাধী নিহতের অভিভাবককে দিয়ত প্রদান করবে, তখন যেন সে সদয়ভাবে তার অনুসরণ করে।
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়।
এক: এটি স্পষ্ট করা যে, ভাষাগত দিক থেকে 'ক্ষমা' বলতে মার্জনা (الصفح) ও অব্যাহতি (الترك) অর্থটিই অধিকতর স্পষ্ট।
দুই: আয়াতের পূর্বাপর প্রাসঙ্গিকতা (سياق الآية) বা অন্য কোনো দলিলের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত করা যে, এখানে 'ক্ষমা' দ্বারা মার্জনা উদ্দেশ্য।
তৃতীয় আপত্তিটি হলো—আয়াতের মধ্যে শরিয়ত অথবা ভাষার দিক থেকে অস্পষ্টতা (إجمال) রয়েছে বলে দাবি করা।
শরিয়তের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো—হানাফিগণ রমজানের রোজার নিয়তের ব্যাপারে আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন—"কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।" আর এই ব্যক্তি তো রোজা পালন করেছেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَيَقُول الشَّافِعِي هَذَا مُجمل لَان المُرَاد صَوْم شَرْعِي وَنحن لَا نسلم ان هَذَا صَوْم شَرْعِي
وَالْجَوَاب عَنهُ ان يبين ان الْخطاب بلغَة الْعَرَب ويسلك طَريقَة من يَقُول لَيْسَ فِي الاسماء شَيْء مَنْقُول وَالصَّوْم فِي اللُّغَة هُوَ الامساك فَوَجَبَ ان يجزىء كل امساك الا مَا خصّه الدَّلِيل
واما فِي اللُّغَة فَهُوَ مثل ان يسْتَدلّ الشَّافِعِي فِي ان الاحرام بِالْحَجِّ لَا يَصح فِي غير اشهره بقوله تَعَالَى {الْحَج أشهر مَعْلُومَات فَمن فرض فِيهِنَّ الْحَج فَلَا رفث وَلَا فسوق}
فَيَقُول الْمُخَالف هَذَا مُجمل لَان الْحَج لَيْسَ باشهر فَلَا بُد فِي معرفَة المُرَاد مِنْهُ من اضمار وَيجوز ان يكون مَعْنَاهُ وَقت احرام الْحَج اشهر مَعْلُومَات وَيجوز ان يكون مَعْنَاهُ وَقت افعال الْحَج اشهر مَعْلُومَات فَوَجَبَ التَّوَقُّف فِيهِ
وَالْجَوَاب ان يبين بِالدَّلِيلِ ان المُرَاد بِهِ وَقت احرام الْحَج لَان الافعال لَا تفْتَقر الى اشهر ولانه قَالَ {فَمن فرض فِيهِنَّ الْحَج فَلَا رفث} وَالْفَرْض هُوَ الاحرام
والاعتراض الرَّابِع الْمُشَاركَة فِي الدَّلِيل
كاستدلال الشَّافِعِي فِي النِّكَاح بِغَيْر ولي بقوله تَعَالَى {فَلَا تعضلوهن أَن ينكحن أَزوَاجهنَّ}
তখন শাফেঈ বলেন, এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل), কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো শরয়তসম্মত (شرعي) রোজা এবং আমরা এটি স্বীকার করি না যে এটি একটি শরয়তসম্মত (شرعي) রোজা।
এর উত্তর হলো এটি স্পষ্ট করা যে, এই সম্বোধনটি আরবের ভাষায় এবং সেই ব্যক্তির পথ অনুসরণ করা যিনি বলেন যে বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত (منقول) কোনো কিছু নেই। আর আভিধানিক অর্থে (لغة) রোজা হলো বিরত থাকা, তাই দলিল (دليل) দ্বারা যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা ব্যতিরেকে প্রতিটি বিরত থাকাই যথেষ্ট হওয়া আবশ্যক।
আর আভিধানিক অর্থের (لغة) ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো—যেমন হজের নির্দিষ্ট মাসগুলো ব্যতীত অন্য সময়ে হজের এহরাম (احرام) সহিহ না হওয়ার ব্যাপারে ইমাম শাফেঈর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা: "হজ হয় সুবিদিত মাসসমূহে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ ফরজ (فرض) করে নেয়, সে যেন হজের সময় কোনো অশ্লীলতা বা পাপাচার না করে।"
তখন প্রতিপক্ষ বলে, এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل), কারণ হজ তো স্বয়ং মাসসমূহ নয়। তাই এর উদ্দেশ্য অনুধাবনের জন্য একটি উহ্য (اضمار) শব্দ থাকা আবশ্যক। হতে পারে এর অর্থ হলো 'হজের এহরামের (احرام) সময় হলো সুবিদিত মাসসমূহ', আবার হতে পারে এর অর্থ 'হজের কার্যাবলীর সময় হলো সুবিদিত মাসসমূহ'। সুতরাং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (توقف) আবশ্যক।
এর উত্তর হলো—দলিল (دليل) দ্বারা এটি স্পষ্ট করা যে, এর দ্বারা হজের এহরামের (احرام) সময় উদ্দেশ্য; কারণ হজের কার্যাবলী সম্পাদনে দীর্ঘ মাসসমূহের প্রয়োজন হয় না এবং যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ ফরজ (فرض) করে নেয়, সে যেন কোনো অশ্লীলতা না করে।" আর এখানে ফরজ (فرض) হওয়া বলতে এহরামকে (احرام) বোঝানো হয়েছে।
চতুর্থ আপত্তি (اعتراض) হলো দলিলের (دليل) মধ্যে অংশীদারিত্ব।
যেমন অভিভাবক (ولي) ব্যতীত নিকাহর বিষয়ে ইমাম শাফেঈর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা: "তবে তোমরা তাদের (নারীদের) বাধা দিও না যে, তারা তাদের স্বামীদের বিয়ে করবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَلَو لم يكن تَزْوِيجهَا اليه لما صَحَّ العضل
فَيَقُول الْحَنَفِيّ هَذَا حجَّة لنا لانه قَالَ {أَن ينكحن} فاضاف النِّكَاح اليهن فَدلَّ على ان لَهُنَّ ان يعقدن
وَالْجَوَاب ان يسْقط دَلِيل السَّائِل ليسلم لَهُ مَا تعلق بِهِ
والاعتراض الْخَامِس اخْتِلَاف الْقِرَاءَة
وَذَلِكَ مثل ان يسْتَدلّ الشَّافِعِي فِي ايجاب الْوضُوء من اللَّمْس بقوله تَعَالَى {أَو لامستم النِّسَاء فَلم تَجدوا مَاء فَتَيَمَّمُوا}
فَيَقُول الْمُخَالف قد قرىء {أَو لامستم} وَهَذَا يَقْتَضِي الْجِمَاع
وَالْجَوَاب ان يَقُول القراءتان كالايتين فيستعملهما
والاعتراض السَّادِس النّسخ وَهُوَ من ثَلَاثَة اوجه
احدها ان يفصل النّسخ صَرِيحًا كاستدلال الشَّافِعِي فِي ايجاب الْفِدْيَة على الْحَامِل بقوله تَعَالَى {وعَلى الَّذين يطيقُونَهُ فديَة}
যদি তাকে বিবাহ দেওয়ার বিষয়টি তার (অভিভাবকের) ওপর ন্যস্ত না হতো, তবে বিবাহে বাধা দেওয়া (عضل) সঠিক হতো না।
তখন হানাফি আলিম বলবেন যে, এটি আমাদের সপক্ষে দলিল (حجة); কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন {যেন তারা বিবাহ করে}, এখানে তিনি বিবাহের সম্বন্ধ তাদের (নারীদের) দিকে করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তাদের নিজেদের বিবাহ সম্পন্ন করার অধিকার রয়েছে।
এর উত্তর হলো প্রশ্নকারীর দলিলকে অকার্যকর করা, যাতে তার সংশ্লিষ্ট দাবিটি সুরক্ষিত থাকে।
পঞ্চম আপত্তি হলো কিরাআতের (قراءة) ভিন্নতা।
আর তা হলো যেমন ইমাম শাফিয়ি স্পর্শের কারণে অজু ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে তোমরা তায়াম্মুম করো}।
তখন প্রতিপক্ষ বলেন যে, এটি 'লামাস্তুম' (لامستم) পঠিত হয়েছে এবং এটি সহবাসের অর্থ দাবি করে।
এর উত্তর হলো, উভয় কিরাআত (قراءة) দুটি আয়াতের মতো, তাই তিনি উভয়টিই ব্যবহার করবেন।
ষষ্ঠ আপত্তি হলো রহিতকরণ (نسخ), যা তিনটি দিক থেকে হতে পারে।
তার একটি হলো স্পষ্টভাবে রহিতকরণ (نسخ) বর্ণনা করা, যেমন ইমাম শাফিয়ি গর্ভবতী নারীর ওপর ফিদিয়া ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {এবং যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর ফিদিয়া (আবশ্যক)}।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فَيَقُول الْحَنَفِيّ قد قَالَ سَلمَة بن الاكوع انها مَنْسُوخَة بقوله تَعَالَى {فَمن شهد مِنْكُم الشَّهْر فليصمه}
وَالْجَوَاب ان يبين انها نسخت الا فِي الْحَامِل والمرضع
وَالثَّانِي ان يدعى نسخهَا بِآيَة مُتَأَخِّرَة مثل ان يسْتَدلّ الشَّافِعِي فِي الْمَنّ وَالْفِدَاء بقوله تَعَالَى {فإمَّا منا بعد وَإِمَّا فدَاء}
فَيَقُول الْحَنَفِيّ قد نسخ بقوله تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْركين} لانها مُتَأَخِّرَة
وَالْجَوَاب ان يجمع بَين الايتين فيستعمل كل وَاحِدَة فِي مَوضِع واذا امكن الْجمع لم يجز دَعْوَى النّسخ
وَالثَّالِث ان يدعى نسخهَا بِأَن ذَلِك شرع من قبلنَا كاستدلال الشَّافِعِي فِي وجوب الْقصاص فِي الطّرف بَين الرجل وَالْمَرْأَة بقوله تَعَالَى {والجروح قصاص}
এরপর হানাফী আলেম বলবেন যে, সালামাহ ইবনে আল-আকওয়া বলেছেন, এটি মহান আল্লাহর এই বাণী—"তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে"—এর দ্বারা রহিত (منسوخة)।
এর উত্তর হলো—এটি স্পষ্ট করা যে, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী ব্যতীত অন্য সবার ক্ষেত্রে এটি রহিত (نسخت) হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো—কোনো পরবর্তী আয়াতের মাধ্যমে এর রহিতকরণ (نسخها) দাবি করা; যেমন ইমাম শাফিঈ অনুগ্রহ প্রদর্শন ও মুক্তিপণ গ্রহণের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "অতঃপর হয় অনুগ্রহ করো, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ করো।"
তখন হানাফী আলেম বলবেন যে, এটি আল্লাহ তাআলার বাণী—"মুশরিকদের হত্যা করো"—এর দ্বারা রহিত (نسخ) হয়ে গেছে, কারণ এটি পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ।
এর উত্তর হলো—আয়াত দুটির মধ্যে সমন্বয় করা, ফলে প্রত্যেকটি আয়াত নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হবে। আর যখন সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তখন রহিতকরণের (النسخ) দাবি করা বৈধ নয়।
তৃতীয়টি হলো—এটি আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের শরীয়ত হওয়ার কারণে তা রহিত (نسخها) বলে দাবি করা। যেমন পুরুষ ও নারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস বা প্রতিশোধের আবশ্যকতা সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "আর জখমের বিনিময়ে রয়েছে কিসাস (প্রতিশোধ)।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
// أخرجه البُخَارِيّ فِي الريات وَغَيره
فَيَقُول الْحَنَفِيّ هَذَا اخبار عَن شرع من قبلنَا وَقد نسخ ذَلِك بشرعنا
فَالْجَوَاب ان شرع من قبلنَا شرع لنا اَوْ يدل على ان ذَلِك شرع لنا ايضا لَان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي امْرَأَة قلعت سنّ امْرَأَة كتاب الله الْقصاص واراد بِهِ هَذِه الاية
والاعتراض السَّابِع التَّأْوِيل وَذَلِكَ ضَرْبَان
تَأْوِيل الظَّاهِر كاستدلال الشَّافِعِي فِي ايجاب الابتاء بقوله تَعَالَى {فكاتبوهم إِن علمْتُم فيهم خيرا وَآتُوهُمْ من مَال الله الَّذِي آتَاكُم} فيحمله الْحَنَفِيّ على الِاسْتِحْبَاب بِدَلِيل
وَالثَّانِي تَخْصِيص الْعُمُوم كاستدلال الشَّافِعِي فِي قتل شُيُوخ الْمُشْركين بقوله تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْركين} فيخصصها الْحَنَفِيّ فِي الشُّيُوخ بِدَلِيل
// ইমাম বুখারি এটি রক্তপণ অধ্যায় এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
হানাফিগণ বলেন, এটি আমাদের পূর্ববর্তী শরিয়ত সম্পর্কে সংবাদ এবং আমাদের শরিয়ত দ্বারা তা রহিত (نسخ) হয়েছে।
এর উত্তর হলো, আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত আমাদের জন্যও শরিয়ত অথবা এটি নির্দেশ করে যে, তা আমাদের জন্যও শরিয়ত। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মহিলার বিষয়ে—যিনি অন্য এক মহিলার দাঁত উপড়ে ফেলেছিলেন—বলেছেন: "আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস (القصاص)", এবং এর দ্বারা তিনি এই আয়াতটিকেই উদ্দেশ্য করেছেন।
সপ্তম আপত্তি হলো ব্যাখ্যা (التأويل), আর এটি দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো স্পষ্টত প্রতীয়মান বিষয়ের ব্যাখ্যা (تأويل الظاهر), যেমন দাসের মুক্তিচুক্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতার সপক্ষে ইমাম শাফিয়ি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তোমরা তাদের সাথে মুক্তিচুক্তি সম্পাদন করো যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাও এবং আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদের দান করো}। তবে হানাফিগণ দলিলের ভিত্তিতে একে মুস্তাহাব (الاستحباب) অর্থে গ্রহণ করেন।
দ্বিতীয়টি হলো ব্যাপক অর্থকে নির্দিষ্ট করা (تخصيص العموم), যেমন মুশরিক বৃদ্ধদের হত্যার বিষয়ে ইমাম শাফিয়ি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {অতএব তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো}। কিন্তু হানাফিগণ দলিলের ভিত্তিতে বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে একে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَالْجَوَاب ان يتَكَلَّم على الدَّلِيل الَّذِي تَأَول بِهِ اَوْ خص بِهِ ليسلم لَهُ الظَّاهِر والعموم
والاعتراض الثَّامِن الْمُعَارضَة وَهُوَ ضَرْبَان مُعَارضَة بالنطق ومعارضة بِالْعِلَّةِ
فالمعارضة بالنطق مثل ان يسْتَدلّ الشَّافِعِي فِي تَحْرِيم شعر الْميتَة بقوله تَعَالَى {حرمت عَلَيْكُم الْميتَة}
فيعارضه الْحَنَفِيّ بقوله تَعَالَى {وَمن أصوافها وأوبارها وَأَشْعَارهَا أثاثا ومتاعا إِلَى حِين}
الْجَواب عَنهُ من وَجْهَيْن
احدهما ان يتَكَلَّم على الْمُعَارضَة بِمَا يعْتَرض بِهِ
اَوْ يسْتَدلّ بِهِ ابْتِدَاء ويرجح دَلِيله على الْمُعَارضَة وان كَانَت الْمُعَارضَة بعلة تكلم عَلَيْهَا بِمَا تكلم على الْعِلَل ليسلم دَلِيله
উত্তর হলো, সেই দলিলের (الدليل) ওপর আলোচনা করা যার মাধ্যমে তিনি ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন অথবা বিশেষিত (تخصيص) করেছেন, যাতে তার স্বপক্ষে প্রকাশ্য (الظاهر) ও ব্যাপক (العموم) অর্থটি বহাল থাকে।
অষ্টম আপত্তি হলো বৈপরীত্য বা পারস্পরিক বিরোধিতা (المعارضة); আর এটি দুই প্রকার: নস বা ভাষ্যের মাধ্যমে বিরোধিতা (معارضة بالنطق) এবং কারণ বা ইল্লতের মাধ্যমে বিরোধিতা (معارضة بالعلة)।
ভাষ্যের মাধ্যমে বিরোধিতার উদাহরণ যেমন ইমাম শাফিঈ মৃত প্রাণীর পশম হারাম হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল (دليل) পেশ করেন: {তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে}
তখন হানাফি আলিম এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা পাল্টা দলিল বা বিরোধিতা (معارضة) পেশ করেন: {এবং তাদের পশম, লোম ও চুল হতে কিছুকালের জন্য ঘরের আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী (তৈরি কর)}
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়
একটি হলো, আপত্তিকারী যে বিষয়ের মাধ্যমে বিরোধিতা (المعارضة) করেছেন তার ওপর এমনভাবে আলোচনা করা যা দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা যায়
অথবা প্রারম্ভিকভাবেই এর স্বপক্ষে দলিল (دليل) পেশ করা এবং বিরোধিতাকারী দলিলের ওপর নিজের দলিলকে প্রাধান্য (ترجيح) প্রদান করা। আর যদি এই বিরোধিতা কারণ বা ইল্লতের (العلة) মাধ্যমে হয়, তবে ইল্লত বা কারণসমূহের ওপর যেভাবে আলোচনা করা হয় সেভাবে এর ওপরও আলোচনা করা হবে যাতে তার নিজস্ব দলিলটি (الدليل) সঠিক হিসেবে সাব্যস্ত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب الْكَلَام على الِاسْتِدْلَال بِالسنةِ صلى الله عليه وسلم َ -
وَذَلِكَ من ثَلَاثَة اوجه
احدها الرَّد
وَالثَّانِي الْكَلَام على الاسناد
وَالثَّالِث الْكَلَام على الْمَتْن
فاما الرَّد فَمن وُجُوه
احدها رد الرافضة وَذَلِكَ ردهم اخبارنا فِي الْمسْح عل الْخُفَّيْنِ وايجاب غسل الرجلَيْن قَالُوا هَذِه اخبار احاد وَنحن لَا نقُول بِهِ
فَالْجَوَاب من ثَلَاثَة اوجه
احدها ان يَقُول اخبار الاحاد اصل من اصول الدّين فان لم يسلمُوا نقلنا الْكَلَام اليه
وَالثَّانِي ان يُقَال ان هَذَا تَوَاتر من طَرِيق الْمَعْنى فان الْجَمِيع مُتَّفق على الدّلَالَة على الْمسْح على الْخُف وايجاب غسل الرجلَيْن وان كَانَ فِي كل
- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (الاستدلال) আলোচনার পরিচ্ছেদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
আর তা তিনটি দিক থেকে হতে পারে।
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো প্রত্যাখ্যান (الرد)।
দ্বিতীয়টি হলো সনদ (الإسناد) সংক্রান্ত আলোচনা।
তৃতীয়টি হলো মতন (المتن) সংক্রান্ত আলোচনা।
প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আবার কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে।
তার একটি হলো রাফেজিদের প্রত্যাখ্যান; আর তা হলো মোজার ওপর মাসাহ করা এবং দুই পা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত আমাদের বর্ণনাগুলো তাদের প্রত্যাখ্যান করা। তারা বলে: এগুলো একক বর্ণনা (أخبار آحاد) এবং আমরা তা গ্রহণ করি না।
এর উত্তর তিনটি দিক থেকে দেওয়া যায়।
প্রথমটি হলো এটি বলা যে, একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) অন্তর্ভুক্ত। যদি তারা এটি মেনে না নেয়, তবে আমরা আলোচনা সেই প্রসঙ্গের দিকে নিয়ে যাব।
দ্বিতীয়টি হলো এটি বলা যে, এটি অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের। কারণ মোজার ওপর মাসাহ করা এবং দুই পা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার নির্দেশনার ব্যাপারে সকলেই একমত, যদিও প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
قصَّة مِنْهَا خبر الْوَاحِد فَوَقع الْعلم بهَا كالاخبار عَن شجاعة عَليّ وسخاء حَاتِم
وَالثَّالِث ان يناقضوا فِيمَا خالفونا فِيهِ فانهم اثبتوها باخبار الاحاد
وَالثَّانِي رد اصحاب ابي حنيفَة فِيمَا يعم بِهِ الْبلوى كردهم خبرنَا فِي مس الذّكر قَالُوا مَا يعم بِهِ الْبلوى لَا يقبل فِيهِ خبر الْوَاحِد
وَالْجَوَاب ان عندنَا يقبل فان لم يسلمُوا دللنا عَلَيْهِ ولانهم عمِلُوا بِهِ فِي الْمَنْع من بيع دور مَكَّة وايجاب الْوتر
এমন কিছু ঘটনা যার অন্তর্ভুক্ত হলো একক বর্ণনা (خبر الواحد), ফলে এর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়, যেমন আলীর সাহসিকতা এবং হাতেমের দানশীলতা সংক্রান্ত সংবাদসমূহ।
তৃতীয়ত, তারা আমাদের সাথে ভিন্নমত পোষণকারী বিষয়ে স্ববিরোধী অবস্থানে লিপ্ত হয়েছে; কেননা তারা সেগুলো একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) দিয়েই সাব্যস্ত করেছে।
দ্বিতীয়ত, ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের ঐসব বিষয় প্রত্যাখ্যান করা যা ব্যাপকভাবে সংঘটিত বিষয়ের (يعم به البلوى) অন্তর্ভুক্ত; যেমন লিঙ্গ স্পর্শ করার বিষয়ে আমাদের বর্ণিত হাদিসটি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, যা ব্যাপকভাবে সংঘটিত বিষয়ের (يعم به البلوى) অন্তর্ভুক্ত, তাতে একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্য নয়।
এর উত্তর হলো, আমাদের নিকট তা গ্রহণযোগ্য। তারা যদি এটি স্বীকার না করে, তবে আমরা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করব। তাছাড়াও তারা মক্কার ঘরবাড়ি বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং বিতর নামাজ ওয়াজিব (إيجاب) করার ক্ষেত্রে এর ভিত্তিতেই আমল করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَالْمَشْي خلف الْجِنَازَة
وَالثَّالِث رد اصحاب مَالك فِيمَا خَالف الْقيَاس كردهم خبرنَا فِي طَهَارَة جُلُود الْميتَة فانه مُخَالف للْقِيَاس فَلَا يقبل
وَالْجَوَاب ان خبر الْوَاحِد عندنَا مقدم على الْقيَاس فان لم يسلمُوا دللنا عَلَيْهِ اَوْ تناقضوا بِمَا قبلوا فِيهِ خبر الْوَاحِد وقدموه على الْقيَاس
وَالرَّابِع رد اصحاب ابي حنيفَة فِيمَا خَالف قِيَاس الاصول كردهم خبرنَا فِي الْمُصراة والقرعة
এবং জানাজার পেছনে চলা।
তৃতীয়ত, মালিকি মতাবলম্বীদের সেই সব ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান যা সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) পরিপন্থী; যেমন মৃত পশুর চামড়া পবিত্রকরণের বিষয়ে আমাদের বর্ণিত সংবাদকে (خبر) তাদের প্রত্যাখ্যান করা। কেননা এটি সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) বিরোধী, তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
এর উত্তর হলো: আমাদের নিকট একক বর্ণনা (خبر الواحد) সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। যদি তারা এটি মেনে না নেয়, তবে আমরা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করব অথবা তাদের সেই সব স্ববিরোধিতা প্রদর্শন করব যেখানে তারা একক বর্ণনাকে (خبر الواحد) গ্রহণ করেছে এবং একে সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) ওপর প্রাধান্য দিয়েছে।
চতুর্থত, হানাফি মতাবলম্বীদের সেই সব বিষয়ে প্রত্যাখ্যান যা মূলনীতিভিত্তিক অনুমানের (قياس الأصول) পরিপন্থী; যেমন 'মুসাররাত' (দুগ্ধবতী পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা) এবং লটারি সংক্রান্ত আমাদের বর্ণিত হাদিসকে তাদের প্রত্যাখ্যান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وَغَيرهمَا
فَالْجَوَاب ان قِيَاس الاصول هُوَ الْقيَاس على مَا ثَبت بالاصول وَقد بَينا الْجَواب عَنهُ ولانهم ناقضوا فعملوا بِخَبَر الْوَاحِد فِي نَبِيذ التَّمْر وقهقهة الْمُصَلِّي واكل النَّاسِي فِي الصَّوْم
وَالْخَامِس رد اصحاب ابي حنيفَة فِيمَا يُوجب زِيَادَة فِي نَص الْقُرْآن وان ذَلِك نسخ كخبرنا فِي ايجاب التَّغْرِيب فَقَالُوا هَذَا يُوجب زِيَادَة فِي نَص الْقُرْآن وَذَلِكَ نسخ وَلَا يقبل فِيهِ خبر الْوَاحِد
এবং এতদুভয় ব্যতীত অন্যগণও।
এর উত্তর হলো, উসুলের কিয়াস (قياس الأصول) বলতে মূলত উসুলের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার ওপর কিয়াস করাকেই বোঝায়; আমরা ইতিপূর্বেই এ বিষয়ে উত্তর প্রদান করেছি। তাছাড়া তারা স্ববিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছেন, কারণ তারা খেজুরের নাবীয, মুসাল্লীর উচ্চস্বরে হাসি এবং রোজা অবস্থায় ভুলবশত আহার করার মাসআলাগুলোতে একক বর্ণনা (خبر الواحد)-এর ওপর আমল করেছেন।
পঞ্চম বিষয়টি হলো, ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ এমন বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন যা কুরআনের নস (نص)-এর ওপর অতিরিক্ত কোনো বিধান আরোপ করে এবং তারা ইহাকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য করেছেন। যেমন দেশান্তরের বিধান আবশ্যকতা সংক্রান্ত আমাদের বর্ণিত হাদিসটির ক্ষেত্রে তারা বলেছেন যে, এটি কুরআনের নস (نص)-এর ওপর অতিরিক্ত সংযোজন এবং এটি একটি রহিতকরণ (نسخ), আর এ জাতীয় ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَالْجَوَاب ان ذَلِك لَيْسَ بنسخ عندنَا لَان النّسخ هُوَ الرّفْع والازالة وَنحن لم نرفع مَا فِي الاية ولانهم ناقضوا فزادوا النَّبِيذ فِي اية التَّيَمُّم بِخَبَر الْوَاحِد
واما الاسناد فَالْكَلَام فييه من وَجْهَيْن
احدهما الْمُطَالبَة باثباته فَهَذَا يكون فِي الاخبار الَّتِي لم توقف فِي السّنَن وَلم تسمع الا من الْمُخَالفين كاستدلال الْحَنَفِيّ فِي صَدَقَة الْبَقر بِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ
فِي اربعين مُسِنَّة وَفِيمَا زَاد فبحسابه
وَالْجَوَاب ان يبين اسناده أَو يحيله الى كتاب مُعْتَمد
وَالثَّانِي الْقدح فِي الاسناد وَهُوَ من ثَلَاثَة اوجه
احدها ان يذكر فِي الرَّاوِي سَببا يُوجب الرَّد مثل ان يَقُول انه كَذَّاب اَوْ مُبْتَدع اَوْ مُغفل
فَالْجَوَاب ان يبين للْحَدِيث طَرِيقا اخر
وَالثَّانِي ان يذكر انه مَجْهُول
فَالْجَوَاب ان يبين للْحَدِيث طَرِيقا اخر اَوْ يزِيل جهالته بِرِوَايَة
উত্তর হলো, আমাদের নিকট এটি রহিতকরণ (نسخ) নয়; কারণ রহিতকরণ (نسখ) হলো রহিত করা ও অপসারণ করা, আর আমরা আয়াতের বিধানে কোনো কিছু রহিত করিনি। তাছাড়া তারা নিজেরাই স্ববিরোধিতা করেছে, যখন তারা একক বর্ণনা (خبر الواحد)-এর ভিত্তিতে তায়াম্মুমের আয়াতে 'নাবিজ' সংক্রান্ত বিধান সংযোজন করেছে।
আর বর্ণনা পরম্পরা (إسناد) প্রসঙ্গে আলোচনা দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো এর সত্যতা প্রমাণের দাবি জানানো। এটি এমন সব সংবাদের (أخبار) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যা সুনান গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়নি এবং যা কেবল প্রতিপক্ষ ছাড়া অন্য কারো নিকট শোনা যায়নি। যেমন গাভীর যাকাতের ক্ষেত্রে হানাফীগণের এই দলীল পেশ করা যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“প্রতি চল্লিশটি গাভীর জন্য একটি তিন বছর বয়সী গাভী এবং এর অতিরিক্তের ক্ষেত্রেও সেই অনুপাতে হিসাব হবে।”
এর উত্তর হলো, তাকে এর বর্ণনা পরম্পরা (إسناد) স্পষ্ট করতে হবে অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য কিতাবের উদ্ধৃতি দিতে হবে।
দ্বিতীয়টি হলো বর্ণনা পরম্পরার ওপর সমালোচনা (القدح) করা; আর তা তিনটি দিক থেকে হতে পারে।
প্রথমত, বর্ণনাকারী (الراوي)-র মধ্যে এমন কোনো কারণ উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান (الرد) করাকে আবশ্যক করে; যেমন—এই বলা যে, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অথবা বিদআতী (مبتدع), অথবা সে একজন চরম অসতর্ক (مغفل) ব্যক্তি।
এর উত্তর হলো, তাকে হাদিসের জন্য অন্য কোনো সূত্র বা পথ (طريق) প্রদর্শন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বর্ণনাকারীকে অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবে উল্লেখ করা।
এর উত্তর হলো, তাকে হাদিসের জন্য অন্য কোনো সূত্র (طريق) বর্ণনা করতে হবে অথবা অন্য কোনো বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে তার অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة) দূর করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الثِّقَات عَنهُ اَوْ ثَنَاء اصحاب الحَدِيث عَلَيْهِ
وَالثَّالِث ان يذكر انه مُرْسل
فَالْجَوَاب ان يبين انه مُسْند اَوْ يَقُول الْمُرْسل كالمسند ان كَانَ مِمَّن يعْتَقد قبُول الْمَرَاسِيل
واضاف اصحاب ابي حنيفَة الى هَذَا وُجُوهًا اخر
مِنْهَا ان يَقُول السّلف ردُّوهُ كَمَا قَالُوا فِي حَدِيث الْقسَامَة ان عَمْرو بن شُعَيْب قَالَ وَالله مَا كَانَ الحَدِيث كَمَا حدث سهل // أخرجه البُخَارِيّ
فَالْجَوَاب انه اذا كَانَ الرَّاوِي ثِقَة لم يرد حَدِيثه بانكار غَيره لَان الْمُنكر يَنْفِي والراوي يثبت والاثبات مقدم على النَّفْي لَان مَعَ الْمُثبت زِيَادَة علم
وَمِنْهَا ان يَقُول الرَّاوِي انكر الحَدِيث كَمَا قَالُوا فِي قَوْله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) তাঁর থেকে বর্ণনা করা অথবা তাঁর প্রতি হাদিস বিশারদগণের (اصحاب الحديث) প্রশংসা করা।
তৃতীয়টি হলো, এটি উল্লেখ করা যে সেটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)।
এর উত্তর হলো, এটি স্পষ্ট করা যে সেটি সংযুক্ত (مسند), অথবা বলা যে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসটি সংযুক্ত (مسند) হাদিসের মতোই, যদি তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন যারা বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহ (المراسيل) গ্রহণ করা বৈধ মনে করেন।
আর আবু হানিফার অনুসারীগণ এর সাথে আরও কিছু দিক যুক্ত করেছেন।
তন্মধ্যে একটি হলো এটি বলা যে, পূর্বসূরিগণ (السلف) তা প্রত্যাখ্যান করেছেন; যেমনটি তারা কাসামাহ (القسامة) সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, আমর ইবনে শুআইব বলেছেন: "আল্লাহর কসম, হাদিসটি তেমন ছিল না যেমনটি সাহল বর্ণনা করেছেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
এর উত্তর হলো, বর্ণনাকারী যখন নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তখন অন্য কারো অস্বীকৃতির কারণে তাঁর হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হবে না। কারণ অস্বীকারকারী (المنكر) বিষয়টিকে অস্বীকার (ينفي) করে এবং বর্ণনাকারী তা সাব্যস্ত (يثبت) করেন; আর অস্বীকৃতির (النفي) তুলনায় সাব্যস্তকরণ (الاثبات) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, কারণ যিনি সাব্যস্ত করছেন (المثبت) তাঁর কাছে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে।
এবং এর মধ্যে আরেকটি হলো বর্ণনাকারীর হাদিসটি অস্বীকার করা, যেমনটি তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
আল-মাউনা ফিল জাদাল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
ايما امْرَأَة نكحت بِغَيْر اذن وَليهَا فنكاحها بَاطِل رَاوِيه الزُّهْرِيّ وَقد قَالَ لَا اعرفه
فَالْجَوَاب ان انكار الرَّاوِي لَا يقْدَح فِي الحَدِيث لجَوَاز ان يكون نَسيَه
وَمِنْهَا ان يَقُول رَاوِيه لم يعْمل بِهِ كَمَا قَالُوا فِي حَدِيث الْغسْل من ولوغ الْكَلْب سبعا ان رَاوِيه ابو هُرَيْرَة وَقد افتى بِثَلَاث مَرَّات // كَمَا أخرجه الطَّحَاوِيّ
যেকোনো নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করলে তার বিবাহ বাতিল (باطل); এর বর্ণনাকারী (راوي) হলেন যুহরী, অথচ তিনি (পরবর্তীতে) বলেছেন, ‘আমি এটি চিনি না’।
এর উত্তর হলো, বর্ণনাকারীর (راوي) এই অস্বীকৃতি (إنكار) হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি (قدح) সৃষ্টি করে না; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এটি ভুলে গিয়েছেন।
তন্মধ্যে (অন্যতম কারণ) হলো বর্ণনাকারী (راوي) উক্ত হাদিস অনুযায়ী আমল করেননি বলে উল্লেখ করা; যেমনটি তারা কুকুরের চাটন বা মুখ দেওয়া পাত্র সাতবার ধৌত করার হাদিসের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারী (راوي) হলেন আবু হুরায়রা, অথচ তিনি তিনবার ধৌত করার ফতোয়া দিয়েছেন // যেমনটি ইমাম তহাবি বর্ণনা করেছেন।