(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: -)
أصول الفقه إجابة السائل شرح بغية الآمل القسم: أصول الفقه
الكتاب: أصول الفقه المسمى إجابة السائل شرح بغية الآمل
المؤلف: محمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (ت 1182 هـ)
المحقق: القاضي حسين بن أحمد السياغي - الدكتور حسن محمد مقبولي الأهدل
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 444
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসূলুল ফিকহ: ইজাবাতুস সাইল শারহু বুগইয়াতিল আমিল বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: উসূলুল ফিকহ যার নাম ইজাবাতুস সাইল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-আমীর আস-সানআনী (মৃত্যু ১১৮২ হিজরি)
সম্পাদক: আল-কাযী হুসাইন বিন আহমাদ আস-সিয়াগী - ডক্টর হাসান মুহাম্মদ মাকবুলী আল-আহদাল
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين
الْحَمد لله رب الْعَالمين وصلواته وَسَلَامه على رَسُول الْأمين وعَلى آله المطهرين وَبعد فَهَذَا شرح لطيف على منظومة الكافل الْمُسَمَّاة بغية الآمل وَقد كَانَ شرحها تلميذنا الْعَلامَة الْمُحَقق إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد بن إِسْحَاق قدس الله روحه فِي الْجنَّة شرحا نفيسا بسيطا وَكَانَ مَا كتبه عرضه على شَيْخه النَّاظِم فليحق بِهِ مَا يرَاهُ وَيضْرب على مَا لَا يحْتَاج إِلَيْهِ من لَفظه أَو مَعْنَاهُ حَتَّى كمل شرحا بديعا سَمَّاهُ الفواصل شرح بغية الآمل إِلَّا أَنه طَال واتسع فِيهِ مجَال الْمقَام فَطلب مني بعد وَفَاته بعض طلبة الْعلم اختصاره والإتيان بأقوى أَدِلَّة الْمَسْأَلَة وتوضيح الْعبارَة والاقتصار على الْأَدِلَّة المختارة والأقوال المرتضاة عِنْد المهرة النظارة فأجبت إِلَى ذَلِك مستمدا للهداية والإعانة من الَّذِي هدَانَا لهَذَا وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله وسميته إِجَابَة السَّائِل شرح بغية الآمل قَالَ النَّاظِم
قَالَ فَقير ربه مُحَمَّد
أَعَانَهُ الله على مَا يقْصد
… أَحْمد حمدا يكون شَامِلًا
وبالأصول وَالْفُرُوع كافلا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর। অতঃপর, এটি 'বুগইয়াতুল আমিল' নামক 'আল-কাফিল' পদ্যের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমাদের ছাত্র আল্লামা গবেষক ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক—আল্লাহ জান্নাতে তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি যা লিখতেন তা তাঁর শিক্ষক পদ্যকারের (নাজিম) নিকট পেশ করতেন, যেন তিনি তাতে যা সমীচীন মনে করেন তা যুক্ত করতে পারেন এবং যার শব্দ বা অর্থের প্রয়োজন নেই তা বাদ দিতে পারেন; এভাবে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা সম্পন্ন হয় যার নাম তিনি রাখেন 'আল-ফাওয়াসিল শারহু বুগইয়াতিল আমিল'। তবে এটি দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল এবং এর আলোচনার পরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত। তাই তাঁর ইন্তেকালের পর কিছু ইলম অন্বেষী ছাত্র আমার নিকট একে সংক্ষেপ করার, মাসআলাগুলোর শক্তিশালী দলীলসমূহ উপস্থাপন করার, ভাষাকে প্রাঞ্জল করার এবং বিজ্ঞ গবেষকদের নিকট পছন্দনীয় দলীল ও গ্রহণযোগ্য মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান। আমি সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি তাঁর নিকট হিদায়াত ও সাহায্য প্রার্থনা করে যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন, আর আল্লাহ আমাদের পরিচালিত না করলে আমরা সঠিক পথ পেতাম না। আমি এর নামকরণ করেছি 'ইজাবাতুস সাইল শারহু বুগইয়াতিল আমিল'। পদ্যকার বলেন:
তাঁর প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ বলেন:
আল্লাহ তাকে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে সাহায্য করুন
... আমি এমন প্রশংসা করছি যা হবে সর্বব্যাপী,
এবং যা মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখাকে অন্তর্ভুক্তকারী।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هَذَا هُوَ مقول القَوْل وَالْحَمْد هُوَ الثَّنَاء بالجميل الِاخْتِيَارِيّ وحمدا مصدر تأكيدي وبوصفه عَاد نوعيا والشامل من شَمله الشَّيْء إِذا عَمه أَي شَامِلًا لأنواع الْحَمد وأنواع الْمَحْمُود عَلَيْهِ والشامل اسْم كتاب فِي الْأُصُول للْإِمَام يحيى وَفِي ذكر الْأُصُول وَالْفُرُوع والكافل براعة الاستهلال مَعَ التورية
… وأستزيد الْمُنْتَهى من عِنْده
… والمجتبى من فَضله لعَبْدِهِ
… اسْتَزَادَ طلب الزِّيَادَة لما حمد مَوْلَاهُ طلب الزِّيَادَة من نعمائه ومنتهى الشَّيْء غَايَته وَفضل الله لَا غَايَة لَهُ وَلَا انْتِهَاء وَهُوَ أَيْضا اسْم لكتاب الْآمِدِيّ فِي الْأُصُول فَفِيهِ تورية والمجتبى بِالْجِيم واجتباه إِذا اخْتَارَهُ وَمن فَضله يتنازع فِيهِ الْمُنْتَهى والمجتبى وَهُوَ اسْم كتاب فِي الْأُصُول أَيْضا والْحَدِيث للنسائي فَفِيهِ مَا فِي الَّذِي قبله من التورية
… ثمَّ صَلَاة الله تغشى الْمُصْطَفى
… وَآله سفن النجَاة الحنفا
…
এটি হলো বক্তব্যের মূল বক্তব্য এবং হামদ (প্রশংসা) হলো স্বেচ্ছায় সম্পাদিত সুন্দর কাজের জন্য গুণগান করা। আর 'হামদান' শব্দটি একটি গুরুত্ব প্রদানকারী মূল শব্দ (মাসদার) এবং গুণগত বর্ণনার কারণে এটি নির্দিষ্ট প্রকারের হয়ে থাকে। আর 'আশ-শামিল' (ব্যাপক) শব্দটি এসেছে যখন কোনো বিষয় কোনো কিছুকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। অর্থাৎ যা প্রশংসার সকল প্রকার এবং প্রশংসিত হওয়ার সকল কারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'আশ-শামিল' ইমাম ইয়াহইয়া রচিত উসুল শাস্ত্রের একটি কিতাবের নাম। এবং উসুল, ফুরু ও 'আল-কাফিল' এর বর্ণনার মধ্যে দ্ব্যর্থবোধক শব্দের (তাওরিয়াহ) মাধ্যমে চমৎকার প্রারম্ভিক উপস্থাপনা রয়েছে
… এবং আমি তাঁর নিকট থেকে শেষ সীমার আধিক্য কামনা করি
… এবং তাঁর বান্দার জন্য তাঁর অনুগ্রহ হতে মনোনীত বিষয় প্রার্থনা করি
… 'ইস্তাজাদা' মানে হলো বৃদ্ধির প্রার্থনা করা। যখন তিনি তাঁর মওলার (প্রভুর) প্রশংসা করলেন, তখন তিনি তাঁর নেয়ামতসমূহের বৃদ্ধি প্রার্থনা করলেন। আর কোনো কিছুর 'মুনতাহা' হলো তার চূড়ান্ত সীমা। এবং আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো সীমা বা শেষ নেই। এটি উসুল শাস্ত্রে ইমাম আমেদি রচিত একটি কিতাবের নামও বটে, তাই এখানেও শ্লেষাত্মক অলঙ্কার বিদ্যমান। আর 'আল-মুজতাবা' শব্দটি 'জিম' বর্ণযোগে গঠিত, আর 'ইজতাবাহু' মানে যখন তিনি কাউকে মনোনীত করেন। এবং 'তাঁর অনুগ্রহ হতে' কথাটি 'আল-মুনতাহা' এবং 'আল-মুজতাবা' উভয় শব্দের সাথেই ব্যাকরণগতভাবে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি উসুল শাস্ত্রের একটি কিতাবের নাম এবং ইমাম নাসায়ীর হাদিস শাস্ত্রের কিতাবেরও নাম, তাই এতেও পূর্বের মতো শ্লেষাত্মক অলঙ্কার রয়েছে
… অতঃপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মনোনীত রাসূলের ওপর
… এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা মুক্তির তরী এবং একনিষ্ঠ সত্যপন্থী
…
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عطف الدُّعَاء لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم على حَمده لرَبه عطف اسميه على فَعَلَيهِ وتغشى من غشية الشَّيْء شَمله وَعَمه وَمِنْه {وَاللَّيْل إِذا يغشى} والمصطفى من اصطفاه اخْتَارَهُ وَهُوَ من أَوْصَافه صلى الله عليه وسلم الَّتِي اشْتهر بهَا حَتَّى إِذْ أطلقت لَا يتَبَادَر سواهُ والآل على الْمُخْتَار هم من حرمت عَلَيْهِم الزَّكَاة كَمَا فسرهم بذلك زيد بن أَرقم كَمَا فِي رِوَايَة مُسلم وسفن النجَاة اقتباس من حَدِيث أهل بَيْتِي كسفينة نوح من ركبهَا نجا وَمن تخلف عَنْهَا غرق وَهوى أخرجه الْحَاكِم من حَدِيث ابْن عَبَّاس والحنفاء جمع حنيف كشهداء فِي شَهِيد وَهُوَ المائل واشتهر فِي المائل إِلَى الدّين المحمدي لقَوْله صلى الله عَلَيْهِ وَآله
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দুআকে তাঁর রবের প্রশংসার ওপর সংযোজন করা হয়েছে, যা একটি বিশেষ্যমূলক বাক্যকে ক্রিয়ামূলক বাক্যের ওপর সংযোজন করার উদাহরণ। 'তাগাশশা' শব্দটি কোনো জিনিসের 'গাশইয়াহ' থেকে আগত, যার অর্থ হলো তা তাকে বেষ্টন ও পরিব্যাপ্ত করেছে; এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "শপথ রাত্রির, যখন তা আচ্ছাদিত করে।" 'আল-মুস্তাফা' শব্দটি 'ইসতাফাহু' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ তিনি তাঁকে মনোনীত করেছেন। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন এক বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, এমনকি যখন এটি শর্তহীনভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন তিনি ব্যতীত অন্য কারও প্রতি মন ধাবিত হয় না। অগ্রগণ্য মতানুসারে 'আল' (পরিবার) হলেন তাঁরা, যাঁদের ওপর জাকাত হারাম করা হয়েছে, যেমনটি যায়েদ বিন আরকাম (রা.) মুসলিমের বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 'নাজাতের তরীসমূহ' কথাটি এই হাদিস থেকে গৃহীত: "আমার আহলে বাইত নূহের নৌকার সদৃশ; যে তাতে আরোহণ করল সে মুক্তি পেল, আর যে তা থেকে পিছিয়ে থাকল সে নিমজ্জিত ও ধ্বংস হলো।" হাকিম এটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। 'হুনফা' হলো 'হানিফ'-এর বহুবচন, যেমন 'শহীদ'-এর বহুবচন 'শুহাদা'। এর অর্থ হলো একনিষ্ঠ বা কোনো এক দিকে ঝুঁকে পড়া। এটি মুহাম্মদী দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ বা ঝুঁকে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে...
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَسلم بعثت بالحنيفية السمحة السهلة وَلم يَأْتِ بِالسَّلَامِ مَعَ الصَّلَاة هُنَا لِأَنَّهُ يَأْتِي بِهِ فِي آخر النّظم وَهُوَ كَلَام وَاحِد
… وَبعد فالكافل فِي الْأُصُول
… مُخْتَصر قد خص بِالْقبُولِ
… أَي بعد الْحَمد وَالصَّلَاة حذف الْمُضَاف إِلَيْهِ وَبنى بعد على الضَّم لما عرف فِي النَّحْو
والكافل هُوَ تأليف الْعَلامَة مُحَمَّد بن يحيى بهران رَحمَه الله تَعَالَى تَلقاهُ النَّاس بِالْقبُولِ وَشَرحه جمَاعَة من الْعلمَاء ودرسوا فِيهِ لما أَفَادَهُ قَوْله
… لِأَنَّهُ مهذب موضح
… مُحَرر مُحَقّق منقح
…
এবং সালাম; আমাকে উদার ও সহজ হানিফিয়্যাহ আদর্শসহ প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি এখানে সালাতের সাথে সালাম উল্লেখ করেননি, কারণ তিনি পদ্যের শেষভাগে এটি নিয়ে আসবেন এবং এটি একটি অবিচ্ছিন্ন বক্তব্য
… অতঃপর উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থ 'আল-কাফিল'
… একটি সংক্ষিপ্ত সার যা বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে
… অর্থাৎ হামদ ও সালাতের পর। এখানে মুদাফ ইলাইহি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নাহু শাস্ত্রের পরিচিত নিয়ম অনুযায়ী 'বাদু' শব্দটিকে পেশের ওপর মাবনি করা হয়েছে।
আর 'আল-কাফিল' হলো আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বাহরান (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর রচনা। সাধারণ মানুষ একে কবুল করে নিয়েছে এবং একদল আলেম এর ব্যাখ্যা লিখেছেন ও এটি পাঠদান করেছেন। কারণ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী
… কেননা এটি সুবিন্যস্ত ও সুস্পষ্ট
… পরিমার্জিত, গবেষিত ও সংশোধিত
…
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَمن هذبه نقاه وأخلصه وَأَصْلحهُ كَمَا فِي الْقَامُوس وموضح من وضح الْأَمر يضح وضوحا بَان وَظهر وتحرير الْكتاب وَغَيره تقويمه والمحقق من الْكَلَام الرصين ومنقح من نقح الشَّيْء هذبه وَكَانَ طلب نظمه مني بعض الطّلبَة أَيَّام قِرَاءَته عَليّ
… وَقد نظمت مَا حوى مَعْنَاهُ
… نظما يلذ للَّذي يقراه
… قَوْله مَعْنَاهُ إِعْلَام بِأَن أَلْفَاظه لم ينظمها وَقد يتَّفق نظم بَعْضهَا
… لِأَن حفظ النّظم فِي الْكَلَام
… أسْرع مَا يعلق بالأفهام
… تَعْلِيل لنظمه فَإِنَّهُ لَا ريب أَن حفظ النّظم أسْرع من حفظ النثر وَلذَا فَإِن الْعلمَاء لَا يزالون ينظمون كتب الْعلم من نَحْو وَفقه وعلوم الْقرَاءَات وعلوم مصطلح أهل الحَدِيث وَغَيرهَا حَتَّى السّير النَّبَوِيَّة كالهمزية
… وأسأل الله بِهِ أَن ينفعا
… لِأَنَّهُ بِأَصْلِهِ قد نفعا
… كَمَا قَرَّرْنَاهُ من أَنه رزق الْقبُول عِنْد الْعلمَاء
… واستمد اللطف وَالْهِدَايَة
… بمبتدا ذَلِك وَالنِّهَايَة
… اللطف بِضَم اللَّام لُغَة الرأفة والرفق وَعبر بِهِ هُنَا عَمَّا يَقع بِهِ صَلَاح العَبْد وَالْهِدَايَة دلَالَة بلطف إِلَى مَا يُوصل إِلَى الْمَطْلُوب وَقيل سلوك طَرِيق توصل إِلَى الْمَطْلُوب نسْأَل الله أَن يوصلنا بهدايته وَرَحمته إِلَى سَوَاء السَّبِيل وَأَن يخلص الْأَعْمَال لوجهه الْكَرِيم من كل دَقِيق وجليل
وَأعلم أَنه اسْتحْسنَ الْعلمَاء رحمهم الله قبل خوضهم فِي مَقَاصِد مَا يؤلفونه من المؤلفات فِي أَي فن من فنون الْعلم تَقْدِيم مُقَدّمَة يذكر فِيهَا ثَلَاثَة أَشْيَاء
যিনি এটিকে পরিশোধিত করেছেন, তিনি একে নির্মল, বিশুদ্ধ ও সংশোধন করেছেন; যেমনটি 'আল-কামুস' অভিধানে রয়েছে। আর 'মুওয়াদিহ' শব্দটি কোনো বিষয় স্পষ্ট হওয়া ও প্রকাশ পাওয়া অর্থ থেকে গৃহীত। কোনো কিতাব বা অন্য কিছুর 'তাহরির' হলো সেটিকে ত্রুটিমুক্ত ও সুবিন্যস্ত করা। বক্তব্যের ক্ষেত্রে 'মুহাক্কাক' হলো অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ় কথা। 'মুনাক্কাহ' শব্দটি কোনো কিছুকে পরিশোধিত করা অর্থ থেকে এসেছে। আমার নিকট অধ্যায়নরত কিছু শিক্ষার্থী তাদের পাঠদানকালে আমার কাছে এটি ছন্দোবদ্ধ করার অনুরোধ করেছিল... এবং আমি এর বিষয়বস্তুর মর্মার্থকে ছন্দোবদ্ধ করেছি... এমন এক ছন্দে যা পাঠকের নিকট আনন্দদায়ক হবে...
তার উক্তি—'এর অর্থ'—এটি একটি ঘোষণা যে, তিনি এর মূল শব্দগুলোকে ছন্দোবদ্ধ করেননি, যদিও কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো শব্দের ছন্দের মিল ঘটে যেতে পারে... কারণ কথার ক্ষেত্রে ছন্দ মুখস্থ করা... মেধা ও বোধগম্যতায় অত্যন্ত দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে...
এটি ছন্দোবদ্ধ করার একটি যৌক্তিক কারণ; কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গদ্যের তুলনায় পদ্য মুখস্থ করা অধিকতর দ্রুততর। আর এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম ইলমের বিভিন্ন কিতাব যেমন—নাহু, ফিকহ, ক্বিরাআত শাস্ত্র, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে ছন্দোবদ্ধ রচনা অব্যাহত রেখেছেন। এমনকি সিরাত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যেমন—'হামজিয়্যাহ'... এবং আমি আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে প্রার্থনা করছি যেন তিনি উভয়কে উপকারী করেন... কারণ এর মূল কিতাবটি উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে...
যেভাবে আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, এটি আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভে ধন্য হয়েছে... এবং আমি শুরু ও শেষ অবধি তাঁর করুণা ও হিদায়াত প্রার্থনা করছি...
'লুতফ' শব্দটি আভিধানিকভাবে করুণা ও কোমলতাকে বোঝায়। এখানে এটি দ্বারা এমন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যার মাধ্যমে বান্দার সংশোধন সাধিত হয়। আর 'হিদায়াত' হলো লক্ষ্যের দিকে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও কোমলভাবে পথপ্রদর্শন করা। কেউ কেউ বলেন, এটি হলো কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ অনুসরণ করা। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর হিদায়াত ও রহমতের মাধ্যমে আমাদের সঠিক পথে পৌঁছে দেন এবং আমাদের যাবতীয় ছোট-বড় সকল আমলকে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করে দেন।
জেনে রাখুন যে, ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) ইলমের যেকোনো শাখায় কোনো গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তার মূল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে একটি ভূমিকা প্রদান করাকে উত্তম মনে করেছেন, যেখানে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২২)
تَعْرِيف الْفَنّ وموضوعه وغايته قَالُوا لِأَن الشَّرْع فِي الْفَنّ بِوَجْه الْخِبْرَة وفرط الرَّغْبَة يتَوَقَّف عَلَيْهَا كَمَا قَالَه السعد فِي التَّهْذِيب وَقد وَقع الِاقْتِصَار فِي الْمَنْظُومَة صَرِيحًا على تَعْرِيف الْعلم تبعا لاقتصار الأَصْل المنظوم
فَأول الْكَلَام فِيمَا ينظم
حد أصُول الْفِقْه فَهُوَ الأقدم
أول مُبْتَدأ خَبره قَوْله حد أصُول الْفِقْه قَوْله فَهُوَ الأقدم تَعْلِيل لأوليته فِي النّظم قاضية بأولويته فِيهِ وَإِنَّمَا كَانَ الْحَد أولى بالتقديم مِمَّا بعده لِأَنَّهُ بِحَدّ الْعلم يحصل تميزه عَمَّا عداهُ فَيعرف الطَّالِب حَقِيقَة مَطْلُوبه من أول الْأَمر وَلِأَن بمعرفته يعرف مَوْضُوع الْعلم وغايته لِأَنَّهُ إِذا قيل إِنَّه علم باحث عَن أَحْوَال كَذَا من حَيْثُ إِنَّه يُفِيد كَذَا علم الْمَوْضُوع والغاية من ذَلِك بالاستلزام وسنذكرهما آخرا مفسرين وَإِذا عرفت أَن الْحَد أول مَا ينظم
فالحد علم بأصول وصلَة
بهَا لإِخْرَاج عَن الْأَدِلَّة
… أحكامنا الشَّرْعِيَّة الفرعية
وقيدت تِلْكَ بتفصيلية
اعْلَم أَنه لَا بُد للحد من مَحْدُود فَقَوله الْحَد التَّعْرِيف فِيهِ عهدي أَي حد أصُول الْفِقْه لتقدمه ذكرا وَهَذَا هُوَ الْمَحْدُود وَمَعْنَاهُ فحد أصُول الْفِقْه وَقد ذكر فِي الْكتب الْأُصُولِيَّة أَن أصُول الْفِقْه لقب لهَذَا الْفَنّ وكلامنا الْآن فِي حَده اللقبي وَهُوَ مَنْقُول عَن مركب إضافي وَقد تكلم الْعلمَاء فِي مبسوطات الْفَنّ على تَعْرِيف كل وَاحِد من جزئيه بِاعْتِبَار الْإِضَافَة والأهم هُنَا معرفَة مَعْنَاهُ اللقبي إِذْ هُوَ المدون لَهُ الْكتاب
وَاعْلَم أَن التَّعْرِيف يشْتَمل فِي الْغَالِب على جنس وفصول فَقَوله علم جنس الْحَد وَالْعلم هُوَ الِاعْتِقَاد الْجَازِم المطابق الثَّابِت وَهَذَا هُوَ مَعْنَاهُ الْأَخَص
শাস্ত্রের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু এবং এর উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এবং প্রবল আগ্রহের সাথে কোনো শাস্ত্র শুরু করা এই সংজ্ঞার ওপরই নির্ভর করে, যেমনটি আস-সাদ 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে বলেছেন। মূল কাব্যের অনুসরণে এই কাব্যগ্রন্থেও স্পষ্টভাবে কেবল শাস্ত্রের সংজ্ঞার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে।
অতএব যা কাব্যাকারে রচিত হয়েছে তাতে প্রথম আলোচনা হলো
উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা, কারণ এটিই সর্বাগ্রে
'আউয়াল' (প্রথম) শব্দটি মুবতাদা, এর খবর হলো 'হাদ্দু উসুলিল ফিকহ' (উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা)। তাঁর উক্তি 'ফা হুয়া আল-আকদাম' (কারণ এটিই সর্বাগ্রে) কাব্যে এর প্রারম্ভিকতার কারণ দর্শাচ্ছে, যা এতে এর অগ্রাধিকারের ফয়সালা করে। পরবর্তী বিষয়গুলোর তুলনায় সংজ্ঞাকে আগে উপস্থাপন করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত, কারণ শাস্ত্রের সংজ্ঞার মাধ্যমেই অন্য সব কিছু থেকে এর স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয়। ফলে শিক্ষার্থী শুরু থেকেই তার অভীষ্ট লক্ষ্যের প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারে। আর সংজ্ঞার মাধ্যমেই শাস্ত্রের বিষয়বস্তু এবং উদ্দেশ্য জানা যায়। কেননা যখন বলা হয় যে, এটি এমন এক শাস্ত্র যা এমন কিছু অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে যা এমন ফল প্রদান করে, তখন এর দ্বারা বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য অবধারিতভাবে বুঝে আসে। আমরা পরবর্তীতে এ দুটি বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব। আর যখন আপনি জানলেন যে সংজ্ঞাই প্রথম কাব্যবদ্ধ বিষয়, তখন:
সংজ্ঞা হলো মূলনীতিসমূহের জ্ঞান ও এমন এক সংযোগ
যার মাধ্যমে দলীলসমূহ থেকে বের করে আনা হয়
… আমাদের শারঈ উপশাখা বিষয়ক বিধানসমূহ
আর সেগুলোকে বিস্তারিত দলীলের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে
জেনে রাখুন, সংজ্ঞার (হাদ্দ) জন্য একটি সংজ্ঞায়িত বিষয় (মাহদুদ) থাকা আবশ্যক। সুতরাং তাঁর কথা 'আল-হাদ্দ'-এর 'আল' বর্ণটি এখানে ইতিপূর্বে আলোচিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিতকারী, অর্থাৎ উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা, যেহেতু পূর্বে এর উল্লেখ হয়েছে। এটিই হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়, আর এর অর্থ হলো: উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা। উসুলের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'উসুলুল ফিকহ' হলো এই শাস্ত্রের একটি উপাধি। আমাদের বর্তমান আলোচনা এর উপাধিমূলক সংজ্ঞা নিয়ে, যা একটি সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। উলামায়ে কেরাম এই শাস্ত্রের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে এর সম্বন্ধযুক্ত অর্থ বিবেচনায় এর প্রতিটি অংশের সংজ্ঞার ওপর আলোচনা করেছেন। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর উপাধিমূলক অর্থ জানা, কারণ এই গ্রন্থটি মূলত সেই উদ্দেশ্যেই সংকলিত হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞা সাধারণত জিনস এবং ফাসল নিয়ে গঠিত হয়। সুতরাং তাঁর উক্তি 'ইলম' (জ্ঞান) হলো সংজ্ঞার জিনস। আর 'ইলম' হলো দৃঢ়, বাস্তবসম্মত এবং অটল বিশ্বাস; এটিই এর অধিকতর সুনির্দিষ্ট অর্থ।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقد يُقَال على مَا يَشْمَل الظَّن وَكَثِيرًا مَا يَسْتَعْمِلهُ الْفُقَهَاء فِي هَذَا الْأَخير وَهُوَ مَعْنَاهُ الْأَعَمّ وَالْمرَاد بِهِ هُنَا مَا يَشْمَل الْمَعْنيين جَمِيعًا أَي الِاعْتِقَاد الْجَازِم الخ وَالظَّن فَقَط فَإِن كَانَ لفظ الْعلم مُشْتَركا بَينهمَا فاستعمال الْمُشْتَرك فِي معنييه وَإِن كَانَ مَهْجُورًا فِي التعاريف فالمقام هُنَا مشْعر بالمراد فتزول بِهِ الْجَهَالَة وَإِن كَانَ لَيْسَ بمشترك كَمَا أَفَادَهُ فِي المواقف فَإِنَّهُ قَالَ إِن
এবং কখনো কখনো এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি বলা হয় যা প্রবল ধারণাকে (যন) অন্তর্ভুক্ত করে এবং ফকীহগণ প্রায়ই এই শেষোক্ত অর্থে এটি ব্যবহার করেন; আর এটিই এর ব্যাপকতর অর্থ। এখানে এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা উভয় অর্থকেই একত্রে শামিল করে, অর্থাৎ দৃঢ় বিশ্বাস ইত্যাদি এবং কেবল প্রবল ধারণা। সুতরাং যদি ‘ইলম’ শব্দটি উভয়ের মধ্যে মুশতারাক (সাধারণ) হয়, তবে এটি মুশতারাক শব্দের তার উভয় অর্থেই ব্যবহার—যদিও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে তা বর্জিত। তবে এখানকার প্রেক্ষাপট কাঙ্ক্ষিত অর্থের ইঙ্গিত প্রদানকারী, ফলে এর দ্বারা অস্পষ্টতা দূর হয়ে যায়। আর যদি এটি মুশতারাক না হয়, যেমনটি ‘মাওয়াকিফ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, কেননা তিনি বলেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تَسْمِيَة الظَّن علما وَجعله مندرجا فِيهِ كَمَا ذهب إِلَيْهِ الْحُكَمَاء مُخَالف لاستعمال اللُّغَة وَالْعرْف وَالشَّرْع فقد قيل عَلَيْهِ إِنَّه لَا مَانع من إِطْلَاقه عَلَيْهِ مجَازًا والتعريف بالمجاز الْمَشْهُور قد أجازوه
فَإِن قلت فَيحمل هُنَا الْعلم على مَعْنَاهُ الأول وَهُوَ الَّذِي يسمونه الْأَخَص قلت يمْنَع عَن حمله هُنَا عَلَيْهِ أَنه قد تقرر أَن من قَوَاعِد هَذَا الْفَنّ مَا هُوَ ظَنِّي وَقد أوضحناه فِي رِسَالَة مُسْتَقلَّة وَيَأْتِي التَّنْبِيه عَلَيْهِ فِي مَوَاضِع فَلَا تغتر بقَوْلهمْ مسَائِل أصُول الْفِقْه قَطْعِيَّة وَقد أَشَارَ فِي الْفُصُول إِلَى هَذَا فَقَالَ بعد تَعْرِيفه لأصول الْفِقْه بالقواعد الَّتِي يتَوَصَّل بهَا إِلَى آخر مَا هُنَا لَفظه وَقيل الْعلم بهَا أَو الظَّن فَأَشَارَ بقوله أَو الظَّن إِلَى أَن قَوَاعِد أصُول الْفِقْه مَا هُوَ ظَنِّي وَأَرَادَ بِلَفْظ الْعلم فِي عِبَارَته الْمَعْنى الْأَخَص فَلِذَا عطف عَلَيْهِ الظَّن وَقد اسْتشْكل الشَّيْخ لطف الله فِي شَرحه عَلَيْهِ عطفه الظَّن
ধারণাকে জ্ঞান হিসেবে নামকরণ করা এবং একে জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করা—যেমনটি দার্শনিকগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন—তা ভাষা, লোকরীতি এবং শরীয়তের প্রয়োগরীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে বলা হয়েছে যে, রূপক অর্থে একে জ্ঞান বলাতে কোনো বাধা নেই, আর প্রসিদ্ধ রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করাকে তারা অনুমোদন করেছেন।
আপনি যদি বলেন যে, তবে এখানে জ্ঞান শব্দটিকে তার প্রথম বা বিশেষ অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হোক; আমি বলব, এখানে সেই অর্থে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ; কারণ এটি নির্ধারিত ও সুসাব্যস্ত যে, এই শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি ধারণাপ্রসূত। আমরা একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় এটি স্পষ্ট করেছি এবং বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা আসবে। সুতরাং "উসুলুল ফিকহের মাসআলাসমূহ অকাট্য"—তাদের এই কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। 'আল-ফুসুল' গ্রন্থে তিনি এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞায় "সেই সকল নিয়মাবলি যার মাধ্যমে পৌঁছানো যায়..." ইত্যাদি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "বলা হয়েছে, এগুলোর জ্ঞান অথবা ধারণা।" তিনি "অথবা ধারণা" বলার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, উসুলুল ফিকহের নিয়মাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ধারণাপ্রসূত। তিনি তার বক্তব্যে জ্ঞান শব্দ দ্বারা বিশেষ অর্থটিই উদ্দেশ্য করেছেন, এ কারণেই তিনি এর ওপর ধারণা শব্দটিকে সংযোজন করেছেন। শেখ লুৎফুল্লাহ তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে ধারণা শব্দটির এই সংযোজনকে জটিল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عَلَيْهِ وَلَا وَجه لاستشكاله كَمَا عرفت
وَقَوله بأصول جمع أصل وَهُوَ لُغَة مَا يبْنى عَلَيْهِ غَيره وترادفه الْقَاعِدَة وعرفوها بِأَنَّهَا قَضِيَّة كُلية تعرف أَحْكَام جزيئات موضوعها نَحْو قَوْلك هُنَا الْأَمر للْوُجُوب مثلا فَإِنَّهُ يدْخل تَحْتَهُ جزيئات تعرف مِنْهُ أَحْكَامهَا نَحْو أقِم الصَّلَاة وَآت الزَّكَاة وَحج الْبَيْت وَغير ذَلِك هَذَا وَلما كَانَت الْأُصُول ترادف الْقَوَاعِد وَقد عرفه ابْن الْحَاجِب بقوله الْعلم بالقواعد الَّتِي يتَوَصَّل بهَا إِلَى آخِره وَقَوله هُنَاكَ وصلَة بهَا لإِخْرَاج هُوَ صفة لقَوْله بأصول أَي يتَوَصَّل بهَا إِلَى إِخْرَاج الْأَحْكَام الْخَمْسَة الْآتِيَة عَن أدلتها كَمَا ستعرفه فالباء سَبَبِيَّة وَاللَّام فِي لإِخْرَاج بِمَعْنى إِلَى مثلهَا فِي قَوْله تَعَالَى {سقناه لبلد ميت} {كل يجْرِي لأجل} وَحذف فَاعل لإِخْرَاج للْعلم بِهِ إِذْ فَاعل الْمصدر يجوز حذفه أَي إِخْرَاج الْأُصُول أَو الْمُجْتَهد
وَقَوله عَن الْأَدِلَّة وَهِي الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس فبها أَي الْأُصُول أَو الْقَوَاعِد يخرج الْمُجْتَهد الْأَحْكَام عَن هَذِه الْأَدِلَّة وَالْأَحْكَام المُرَاد بهَا الْخَمْسَة الْوُجُوب وَالتَّحْرِيم وَالنَّدْب وَالْكَرَاهَة وَالْإِبَاحَة وَمَا يتَعَلَّق بهَا والتعريف فِيهَا وَفِي الْأَدِلَّة للْعهد الْخَارِجِي لِأَنَّهَا مَعْلُومَة بَين أهل الْأُصُول فَلَا يتَوَهَّم أَن فِي التَّعْرِيف جَهَالَة
وَقَوله أحكامنا مفعول الْمصدر جمع حكم وعرفوه بِأَنَّهُ القضايا وَالنّسب
এর ওপর এবং যেমনটি আপনি জেনেছেন, এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই।
এবং তাঁর বক্তব্য "মূলনীতিসমূহের মাধ্যমে" - এটি 'আসল' (মূল)-এর বহুবচন। আর আভিধানিক অর্থে এটি এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয় এবং 'কায়েদা' বা সূত্র এর সমার্থক। বিদ্বানগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমন এক সামষ্টিক বিষয় হিসেবে, যার মাধ্যমে তার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্গত শাখা-প্রশাখাসমূহের বিধানাবলি জানা যায়। যেমন উদাহরণস্বরূপ আপনার এখানে বলা যে, 'আদেশ ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার অর্থ প্রদান করে'। নিশ্চয়ই এর অধীনে এমন সব শাখা-প্রশাখা অন্তর্ভুক্ত হয় যেগুলোর বিধান এর মাধ্যমেই জানা যায়; যেমন 'তোমরা সালাত কায়েম করো', 'তোমরা জাকাত প্রদান করো', 'তোমরা বায়তুল্লাহর হজ করো' এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এটি স্পষ্ট হওয়ার পর, যেহেতু 'উসুল' (মূলনীতিসমূহ) 'কাওয়ায়িদ' (সূত্রসমূহ)-এর সমার্থক, সেহেতু ইবনুল হাজিব একে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে: 'এমন সব সূত্রের জ্ঞান যার মাধ্যমে পৌঁছানো যায়...' শেষ পর্যন্ত। আর সেখানে তাঁর বক্তব্য 'যার মাধ্যমে বের করা হয়' - এটি 'মূলনীতিসমূহের মাধ্যমে' কথাটির একটি বিশেষণ। অর্থাৎ, এগুলোর মাধ্যমে পরবর্তী পাঁচটি বিধানকে তাদের দলীলসমূহ থেকে বের করার বা নিষ্কাশন করার পথ পাওয়া যায়, যেমনটি আপনি অচিরেই জানতে পারবেন। এখানে 'বা' অক্ষরটি কারণ বা মাধ্যম অর্থে ব্যবহৃত। আর 'বের করার জন্য' বাক্যাংশে 'লাম' অক্ষরটি 'পর্যন্ত' বা 'অভিমুখে' অর্থে ব্যবহৃত, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আমি একে কোনো মৃত জনপদের দিকে চালিত করি" এবং "প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে"। আর 'বের করা' ক্রিয়ামূলের কর্তা উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তা জানা আছে; কেননা ক্রিয়ামূলের কর্তাকে উহ্য রাখা জায়েজ। অর্থাৎ, মূলনীতিসমূহের বের করা অথবা মুজতাহিদের বের করা বা নিষ্কাশন করা।
এবং তাঁর বক্তব্য 'দলীলসমূহ থেকে' - আর দলীলগুলো হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। সুতরাং এগুলোর মাধ্যমে অর্থাৎ মূলনীতি বা সূত্রসমূহের মাধ্যমে মুজতাহিদ এই দলীলগুলো থেকে বিধানাবলি নিষ্কাশন করেন। আর 'বিধানাবলি' বলতে এখানে পাঁচটি বিধানকে বোঝানো হয়েছে: ওয়াজিব (আবশ্যকতা), হারাম (নিষিদ্ধতা), মানদুব (পছন্দনীয়), মাকরুহ (অপছন্দনীয়) ও মুবাহ (বৈধতা) এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ। আর 'বিধানাবলি' এবং 'দলীলসমূহ' শব্দগুলোতে যে নির্দিষ্টকরণ ব্যবহৃত হয়েছে, তা বাহ্যিক পরিচিতি বোঝানোর জন্য; কারণ এগুলো উসুলবিদদের নিকট সুপরিচিত। সুতরাং সংজ্ঞায় কোনো অস্পষ্টতা আছে বলে ধারণা করার অবকাশ নেই।
এবং তাঁর বক্তব্য 'আমাদের বিধানাবলি' - এটি হলো উক্ত ক্রিয়ামূলের কর্ম। এটি 'হুকুম' (বিধান)-এর বহুবচন। আর বিদ্বানগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন সিদ্ধান্তসমূহ এবং সম্বন্ধসমূহ হিসেবে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التَّامَّة نَحْو قَوْلنَا الْحَج وَاجِب فَخرجت التصورات وَقَوله لإِخْرَاج أولى من قَوْلهم لاستخراج ولاستنباط لما عرف أَن السِّين للطلب غَالِبا وَالْمرَاد هُنَا الْإِخْرَاج نَفسه لَا طلبه وَبِهَذَا الْقَيْد خرج علم الْعَرَبيَّة بأقسامه وَعلم الْكَلَام فَإِن قَوْله بهَا أَي بِسَبَبِهَا المُرَاد بِهِ السَّبَب الْقَرِيب فَإِنَّهَا أَي الْبَاء ظَاهِرَة فِيهِ وَإِضَافَة التَّوَصُّل إِلَى غير أصُول الْفِقْه مِمَّا هُوَ سَبَب بعيد لِأَنَّهُ يتَوَصَّل بِهِ لَكِن بالواسطة وَعبر ابْن الإِمَام فِي الْغَايَة بقوله الموصلة لذاتها الخ لِئَلَّا يرد أَنه قد يتَوَصَّل بغَيْرهَا من قَوَاعِد الْعَرَبيَّة وَالْكَلَام لِأَنَّهُمَا من مبادىء علم الْأُصُول لَكِن التَّوَصُّل بهما لإِخْرَاج الْأَحْكَام لَيْسَ لذاتها فَإِن علم الْعَرَبيَّة وَنَحْوه وَإِن كَانَ يتَوَصَّل بِهِ إِلَى إِخْرَاج الْأَحْكَام لكنه توصل بعيد إِذْ يتَوَصَّل بقواعد الْعَرَبيَّة إِلَى معرفَة كَيْفيَّة دلَالَة الْأَلْفَاظ على مدلولتها الوضعية وبواسطة ذَلِك يتَوَصَّل بهَا إِلَى إِخْرَاج الْأَحْكَام وَأما علم الْكَلَام فَإِنَّهُ يتَوَصَّل بقواعده إِلَى ثُبُوت الْكتاب وَالسّنة وصدقهما وَبِه يتَوَصَّل إِلَى ذَلِك
وَقَوله الشَّرْعِيَّة يخرج بِهِ الْعلم بِالْأَحْكَامِ الْعَقْلِيَّة كقبح الظُّلم وَحسن الْعدْل
وَقَوله الفرعية تخرج الشَّرْعِيَّة غير الفرعية من الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الْأَصْلِيَّة
وَقَوله وقيدت تِلْكَ أَي الْأَدِلَّة بتفصيلية بَيَان للْوَاقِع لَا إِنَّه لإِخْرَاج الْأَدِلَّة الإجمالية ككون الْكتاب حجَّة فَإِنَّهُ لَا يستنبط مِنْهُ حكم حَتَّى يحْتَاج إِلَى إِخْرَاجه وَلَا خلل فِي زِيَادَة قيد فِي الْحَد للإيضاح وَالْبَيَان فَإِن مثله وَاقع فِي التعريفات مَعَ أَنه يَنْبَغِي أَن يعلم أَن هَذِه الْحُدُود إِنَّمَا هِيَ من التعريفات
পূর্ণাঙ্গ, যেমন আমাদের উক্তি 'হজ ওয়াজিব', ফলে কেবল ধারণাগুলো বহির্ভূত হয়ে গেল। এবং তার উক্তি 'নিষ্কাশনের জন্য', তাদের উক্তি 'নিষ্কাশন অন্বেষণের জন্য' বা 'উদ্ঘাটন অন্বেষণের জন্য' অপেক্ষা অধিকতর উত্তম; কারণ এটি সুবিদিত যে 'সীন' বর্ণটি সাধারণত অন্বেষণ বা প্রার্থনার অর্থ প্রকাশ করে, অথচ এখানে উদ্দেশ্য হলো স্বয়ং নিষ্কাশন, তার অন্বেষণ নয়। এই শর্তের মাধ্যমে আরবি ভাষা বিজ্ঞানের সকল শাখা এবং ইলমুল কালাম বহির্ভূত হয়ে গেল। কেননা তার উক্তি 'তার মাধ্যমে' অর্থাৎ 'তার কারণে', এর দ্বারা নিকটবর্তী কারণ উদ্দেশ্য। কেননা 'বা' বর্ণটি এই অর্থেই স্পষ্ট। আর উসুলুল ফিকহ ব্যতীত অন্য বিষয়ের সাথে 'পৌঁছে দেওয়া'র সম্বন্ধ যুক্ত করা একটি দূরবর্তী কারণ; কেননা সেটির মাধ্যমেও লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানো যায় কিন্তু তা মধ্যস্থতার মাধ্যমে। ইবনুল ইমাম 'আল-গায়াহ' গ্রন্থে তার উক্তি 'যা তার স্বীয় সত্তার কারণে পৌঁছে দেয়' ইত্যাদি দ্বারা ব্যক্ত করেছেন যেন এই আপত্তি না আসে যে, আরবি ব্যাকরণ এবং ইলমুল কালামের অন্যান্য নিয়মের মাধ্যমেও তো পৌঁছানো সম্ভব। কেননা এই দুটি উসুল শাস্ত্রের প্রারম্ভিক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিধান নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এই দুটির মাধ্যমে পৌঁছানোটা তাদের স্বীয় সত্তার কারণে নয়। কারণ আরবি ভাষা বিজ্ঞান ও অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমে যদিও বিধান নিষ্কাশন পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, তবে তা একটি দূরবর্তী পৌঁছানো। কেননা আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলীর মাধ্যমে শব্দের আভিধানিক অর্থের ওপর তার নির্দেশনার ধরণ জানা যায় এবং সেই মধ্যস্থতায় তার মাধ্যমে বিধান নিষ্কাশন পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। আর ইলমুল কালামের ক্ষেত্রে তার নিয়মাবলীর মাধ্যমে কিতাব ও সুন্নাহর প্রামাণ্যতা এবং তাদের সত্যতা সাব্যস্ত হয় এবং তার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছানো হয়।
এবং তার উক্তি 'শরয়ি', এর মাধ্যমে বুদ্ধিগত বিধানসমূহের জ্ঞান বহির্ভূত হয়ে যায়, যেমন জুলুমের কদর্যতা এবং ন্যায়ের সৌন্দর্য।
এবং তার উক্তি 'শাখাভিত্তিক', এর মাধ্যমে মৌলিক বা মূলগত শরয়ি বিধানসমূহ, যা শাখাভিত্তিক নয়, তা বহির্ভূত হয়ে যায়।
এবং তার উক্তি 'সেই দলিলসমূহকে বিস্তারিত হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে', এটি বাস্তব পরিস্থিতির বর্ণনা মাত্র, এটি সামগ্রিক দলিলসমূহকে বের করে দেওয়ার জন্য নয়। যেমন 'কিতাব (কুরআন) একটি দলিল' হওয়া; কেননা তা থেকে কোনো বিধান ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ঘাটন করা যায় না যতক্ষণ না তা বিস্তারিত দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হয়। আর পরিস্ফুটন ও ব্যাখ্যার জন্য সংজ্ঞার মধ্যে অতিরিক্ত শর্তারোপ করায় কোনো ত্রুটি নেই; কেননা সংজ্ঞাসমূহের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিষয় ঘটে থাকে। এর পাশাপাশি এটি জানা আবশ্যক যে, এই সীমাবদ্ধতাগুলো মূলত সংজ্ঞাসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلَيْسَت بحدود حَقِيقِيَّة وَسَيَأْتِي بَيَان الْفرق بَين الْأَمريْنِ فِي آخر الْكتاب حَيْثُ ذكره المُصَنّف إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَفِي قَوْله وقيدت إِشَارَة إِلَى عدم الْحَاجة إِلَى التَّقْيِيد وَفِي شرح الْمحلي أَنه قيد بتفصيلية لإِخْرَاج اعْتِقَاد الْمُقَلّد فَإِنَّهُ لَا يُسمى علما
وَاعْلَم ان هَذَا التَّعْرِيف لأصول الْفِقْه مَأْخُوذ من تَعْرِيف ابْن الْحَاجِب بمختصره الْمُنْتَهى ومبني على أَن أصُول الْفِقْه هُوَ الْعلم بالقواعد وَمن الْأُصُولِيِّينَ من جعله الْقَوَاعِد بِنَفسِهَا وَقد ذكر فِي الْفُصُول التعريفين مَعًا وَقدم الثَّانِي وَحكى الأول بقيل قَالَ الشَّيْخ لطف الله فِي شَرحه وَكَأَنَّهُ اخْتَار الأول أَي فِي عِبَارَته وَهُوَ الْقَوَاعِد لما قيل من أَنه أرجح لوجوه
أَحدهَا أَن أصُول الْفِقْه ثَابت فِي نفس الْأَمر من بَيَانِيَّة تِلْكَ الْقَوَاعِد وَإِن لم يعرفهُ الشَّخْص
وَثَانِيها أَن أهل الْعرف يجْعَلُونَ أصُول الْفِقْه للمعلوم وَيَقُولُونَ هَذَا كتاب فِي أصُول الْفِقْه
وَثَالِثهَا أَن الْأُصُول فِي اللُّغَة الْأَدِلَّة وَالْقَوَاعِد أَدِلَّة للفقه إِذْ يَنْبَنِي عَلَيْهَا فَجعله اصْطِلَاحا نفس الْأَدِلَّة أقرب إِلَى الْمَدْلُول اللّغَوِيّ انْتهى
وَقَالَ بعض الْمُحَقِّقين الْعَلامَة المقبلي فِي نجاح الطَّالِب الْحق أَن يُقَال
এগুলো প্রকৃত সংজ্ঞা নয় এবং বইয়ের শেষে লেখক যেখানে উল্লেখ করেছেন সেখানে এই দুই বিষয়ের পার্থক্য স্পষ্টভাবে আসবে, ইনশাআল্লাহ। তাঁর কথা "এবং সীমাবদ্ধ করা হয়েছে" এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা না থাকার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। আল-মহাল্লির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, একে "বিস্তারিত" দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর বিশ্বাসকে বর্জন করার জন্য, কারণ একে জ্ঞান বলা হয় না।
জেনে রাখুন যে, উসুলুল ফিকহ-এর এই সংজ্ঞাটি ইবনে হাজিবের মুখতাসারুল মুনতাহা গ্রন্থের সংজ্ঞা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, উসুলুল ফিকহ হলো নিয়মাবলি বা মূলনীতিসমূহের জ্ঞান। উসুলবিদদের মধ্যে কেউ কেউ খোদ নিয়মাবলিকেই উসুলুল ফিকহ গণ্য করেছেন। আল-ফুসুল গ্রন্থে উভয় সংজ্ঞাই একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিকে আগে আনা হয়েছে, আর প্রথমটিকে "বলা হয়ে থাকে" শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। শায়খ লুৎফুল্লাহ তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মনে হয় তিনি প্রথমটিকেই পছন্দ করেছেন অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে একে "নিয়মাবলি" হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেহেতু একে বিভিন্ন কারণে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।
তার মধ্যে একটি হলো: উসুলুল ফিকহ বিষয়টি সেই নিয়মাবলির বর্ণনার নিরিখে বাস্তবিকভাবেই সুপ্রতিষ্ঠিত, যদিও কোনো ব্যক্তি তা না জানে।
দ্বিতীয়টি হলো: পরিভাষাবিদগণ জ্ঞাত বিষয়কেই উসুলুল ফিকহ সাব্যস্ত করেন এবং তারা বলেন "এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ক একটি কিতাব"।
তৃতীয়টি হলো: শাব্দিক অর্থে "উসুল" মানে হলো দলীলসমূহ, আর নিয়মাবলি হলো ফিকহ-এর জন্য দলীল স্বরূপ, যেহেতু ফিকহ এগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং পারিভাষিক অর্থে একে খোদ দলীলসমূহ হিসেবে গণ্য করা শাব্দিক অর্থের অধিক নিকটবর্তী। সমাপ্ত।
জনৈক গবেষক আল্লামা আল-মাকবালি নাজাহুত তালিব গ্রন্থে বলেছেন, সত্য হলো এই যে বলা হবে-
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَن أصُول الْفِقْه وَنَحْوه نفس الْقَوَاعِد فَإِن الْعلم الْمُتَعَلّق بهَا الْحَال بقلب زيد لَيْسَ هُوَ حَقِيقَة الْأُصُول كَمَا تَقوله فِي سَائِر الْحَقَائِق فَلَيْسَ السَّيْف الْعلم بالحديد الْمَخْصُوص بل نَفسه فعلى هَذَا لَا يتَحَقَّق الْوُجُود الْخَارِجِي لهَذِهِ الْحَقَائِق المحدودة كَمَا هُوَ شَأْن سَائِر الماهيات لَكِن هَذِه لَيْسَ لَهَا جُزْء خارجي كَمَا لماهية الْفرس مثلا لِأَنَّهَا أشخاص ومسمى أصُول الْفِقْه مثلا مَجْمُوع قَوَاعِد بِمَنْزِلَة مائَة وَألف وَكَون الْأَمر للْوُجُوب وَالنَّهْي للحصر مثلا كأفراد الْمِائَة وَالْألف مثلا جُزْء لمسمى جزئي ذَلِك اللقب ومسمى اللقب الملتئم من أَجزَاء كلهَا عقلية عَقْلِي انْتهى وَهُوَ كَلَام حسن هَذَا
وَأما حَده مُضَافا فِي الِاصْطِلَاح فَالْأَصْل الدَّلِيل وَالْفِقْه فِيهِ الْعلم أَو الظَّن للْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الفرعية عَن أدلتها التفصيلية وَقد اسْتُفِيدَ من الْقُيُود خُرُوج الْعلم بِغَيْر الْأَحْكَام كالذوات وَالصِّفَات وَالْأَحْكَام الَّتِي لم تُؤْخَذ من الشَّرْع بل من الْعقل كَالْعلمِ بِأَن الْعَالم حَادث أَو من الْحس كَالْعلمِ بِأَن النَّار محرقة أَو من الْوَضع والاصطلاح كَالْعلمِ بِأَن الْفَاعِل مَرْفُوع وَخرج الْعلم بِالْأَحْكَامِ النظرية الشَّرْعِيَّة اعتقادية أَو أصولية مثل الْإِيمَان وَاجِب وَالْإِجْمَاع حجَّة أصولية وَخرج بقوله عَن أدلتها التفصيلية علم الْمُقَلّد على القَوْل بِأَنَّهُ يُسمى علما وَذَلِكَ لِأَن حرف الْجَرّ مُتَعَلق بِمَحْذُوف صفة للْعلم أَي الْعلم الْحَاصِل عَن الْأَدِلَّة وَعلمه غير حَاصِل عَنْهَا فَلِذَا لَا تسمى أَقْوَال المفرعين الْمُجَرَّدَة عَن الْأَدِلَّة فقها كَمَا حقق فِي مَحَله
وَاعْلَم أَنه قد سبقت إِشَارَة إجمالية إِلَى مَوْضُوع هَذَا الْفَنّ وَهُوَ ان مَوْضُوعه الْأَدِلَّة السمعية الْكُلية وَهِي مَا عرفت الْكتاب الْعَزِيز وَالسّنة
উসুলুল ফিকহ এবং এই জাতীয় শাস্ত্রসমূহ মূলত ওইসব মূলনীতিরই সমষ্টি। কারণ যায়িদের অন্তরে বিদ্যমান এ সংক্রান্ত জ্ঞানই প্রকৃত অর্থে উসুল বা মূলনীতি নয়, যেমনটি অন্যান্য বাস্তবতার ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে। তলোয়ার বলতে ওই বিশেষ লোহাটিকেই বোঝায়, লোহা সংক্রান্ত জ্ঞানকে নয়। এ হিসেবে, অন্যান্য বাস্তব সত্তার মতো এই নির্দিষ্ট হাকীকতগুলোর বাহ্যিক অস্তিত্ব বাস্তবায়িত হয় না। তবে এগুলোর কোনো বাহ্যিক অংশ নেই, যেমনটি উদাহরণস্বরূপ ঘোড়ার সত্তার ক্ষেত্রে থাকে। কারণ এগুলো মূলত একেকটি স্বতন্ত্র বিষয়। আর উসুলুল ফিকহ পরিভাষাটি মূলত একগুচ্ছ মূলনীতির সমষ্টি, যা ১০০ বা ১০০০ সংখ্যার মতো। যেমন—আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য হওয়া কিংবা নিষেধ সীমাবদ্ধ করার জন্য হওয়া—এই বিষয়গুলো ১০০ বা ১০০০ এর এককগুলোর মতো, যা ওই নির্দিষ্ট নামের একটি অংশ। আর এমন কোনো নাম যা সম্পূর্ণ বুদ্ধিগত অংশসমূহ দ্বারা গঠিত, তা নিজেও বুদ্ধিগতই হয়। সমাপ্ত। এটি একটি উত্তম কথা।
আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবে এর পরিচয় হলো: 'আসল' (মূল) হলো দলিল, আর এতে 'ফিকহ' হলো বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আহরিত শরীয়তের শাখাগত বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণা। সংজ্ঞার বিভিন্ন শর্ত থেকে এ বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিধান ব্যতীত অন্য বিষয়ের জ্ঞান এর বহির্ভূত; যেমন—আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি এবং ওইসব বিধান যা শরীয়ত থেকে গৃহীত হয়নি বরং বুদ্ধি থেকে নেওয়া হয়েছে, যেমন—এই মহাবিশ্ব নশ্বর—এই জ্ঞান; কিংবা যা ইন্দ্রিয়জাত অনুভব থেকে নেওয়া হয়েছে, যেমন—আগুন দহনকারী—এই জ্ঞান; কিংবা যা ভাষাগত নিয়ম বা পরিভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যেমন—কর্তা পেশযুক্ত হয়—এই জ্ঞান। অনুরূপভাবে, তাত্ত্বিক শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, হোক তা বিশ্বাসগত কিংবা মৌলিক নীতিগত; যেমন—'ঈমান আনা ওয়াজিব' এবং 'ইজমা একটি মৌলিক নীতিগত দলিল'। আর সংজ্ঞায় 'বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে' বলার মাধ্যমে মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর জ্ঞান বহির্ভূত হয়ে গেছে—যদি সেটাকে জ্ঞান বলা হয়। কারণ, এখানে অব্যয়টি একটি ঊহ্য বিশেষণের সাথে সম্পর্কিত, অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা দলিল থেকে অর্জিত হয়েছে। আর তার জ্ঞান দলিল থেকে অর্জিত নয়। একারণেই দলিলবিহীন শাখাগত মাসআলা বর্ণনাকারীদের কথাকে 'ফিকহ' বলা হয় না, যেমনটি নিজ নিজ স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, ইতিপূর্বে এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আর তা হলো, এর আলোচ্য বিষয় হলো সামগ্রিক শরয়ী দলিলসমূহ; যা আপনার পরিচিত মহিমান্বিত কিতাব এবং সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
النَّبَوِيَّة وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس فعنها وَقع بحثهم فِي هَذَا الْفَنّ من حَيْثُ دلالتها على الْأَحْكَام إِمَّا مُطلقًا أَو من حَيْثُ تعارضها أَو استنباطها مِنْهَا وَأما غَايَته فالعلم بِأَحْكَام الله تَعَالَى وَبهَا ينَال الْفَوْز فِي الدَّاريْنِ
… وانحصرت أبوابه فِي عشره
… تَأتي على التَّرْتِيب فِي ماذكره
… انحصار أبوابه فِي ذَلِك لَيْسَ بحاصر عَقْلِي اقْتَضَاهُ بل وَقع التدوين كَذَلِك تمييزا بَين أبحاث أَقسَام الْمَوْضُوع وَالضَّمِير عَائِد إِلَى نظم الكافل لِأَن أبوابه كَذَلِك وَلَيْسَ عَائِدًا إِلَى الْعلم نَفسه لِأَن الْبَاب الأول الْمُشْتَمل على الْأَحْكَام وتوابعها لَيْسَ من مَوْضُوع الْعلم فَلَا يَصح عوده إِلَيْهِ إِلَّا بِنَوْع تَأْوِيل كالتغليب
নবুওয়াতী সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এগুলো নিয়ে এই শাস্ত্রে আলোচনা করেছেন বিধানের ওপর এদের নির্দেশনার দিক থেকে, চাই তা সাধারণভাবে হোক অথবা সেগুলোর পারস্পরিক বৈপরীত্য বা সেগুলো থেকে বিধান উদ্ভাবনের দিক থেকে হোক। আর এর লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে উভয় জগতে সফলতা অর্জিত হয়
… আর এর অধ্যায়গুলো দশে সীমাবদ্ধ
… যা তিনি উল্লেখ করেছেন তাতে সেগুলো ক্রমানুসারে আসবে
… এর অধ্যায়গুলোর এই সীমাবদ্ধতা কোনো বুদ্ধিগত অনিবার্যতার কারণে নয় যা তা দাবি করে, বরং সংকলনটি এভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যাতে আলোচ্য বিষয়ের বিভিন্ন প্রকারের গবেষণার মধ্যে পার্থক্য করা যায়। আর সর্বনামটি ‘নাজমুল কাফিল’-এর দিকে ফিরেছে, কারণ এর অধ্যায়গুলো এরূপই। এটি স্বয়ং শাস্ত্রের দিকে ফিরছে না, কারণ প্রথম অধ্যায়টি যা বিধান এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে, তা শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং প্রাধান্য প্রদানের (তাগলিব) মতো কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে এর দিকে সর্বনামটি ফিরিয়ে নেয়া সঠিক হবে না।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- صلى الله عليه وسلم َ -
الْبَاب الأول فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة… أَولهَا أحكامنا الشَّرْعِيَّة
… تتبعها تَوَابِع مرعية
… هَذَا أول الْأَبْوَاب وَالضَّمِير لَهَا وَالْأَحْكَام جمع حكم تقدم تَفْسِيره آنِفا وإضافتها إِلَيْنَا لكوننا المأمورين بهَا وَجَمعهَا لِأَنَّهَا خَمْسَة كَمَا عرفت قَرِيبا ووصفها بالشرعية لما مر ونسبت إِلَى الشَّرْع لثبوتها بِهِ إِمَّا بنقله عَن أَصله أَو بتقريره على أَصله على حد لَو نقل بَدَلا عَن إِمْسَاكه لصَحَّ كَمَا ورد الْمَنْع عَن ذبح مَا لَا يحل أكله فَإِن الشَّرْع هُنَا قرر مَا فِي الْعقل بِخِلَاف مَا ورد بِهِ الشَّرْع مطابقا لِلْعَقْلِ مِمَّا يقْضِي الْعقل فِيهِ بقضية لَا يَصح أَن يغيرها الشَّرْع كوجوب قَضَاء الدّين ورد الْوَدِيعَة وقبح الظُّلم وَنَحْو ذَلِك فَإِن هَذَا لَا يُسمى شَرْعِيًّا وَقَوله تتبعها أَي الْأَحْكَام تَوَابِع مرعية المُرَاد مَا يتبعهَا من الصِّحَّة والبطلان بل وَمن تَقْسِيم الْوَاجِب إِلَى مُخَيّر وموسع وَنَحْوهَا فَإِن هَذِه تَوَابِع الْأَحْكَام وَالْأَصْل فِي الْبَحْث هُوَ الْأَحْكَام لذاتها وَهَذِه أَقسَام وصفات لَهَا مُلَاحظَة بالتبعية
আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক -
প্রথম পরিচ্ছেদ: শারয়ি বিধানসমূহ প্রসঙ্গে… প্রথমত আমাদের শারয়ি বিধানসমূহ
… যা অনুসরণ করে লক্ষ্যযোগ্য অনুসারী বিষয়াবলি
… এটি পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যে প্রথম এবং সর্বনামটি সেগুলোর দিকেই ফিরছে। ‘আহকাম’ হলো ‘হুকুম’ শব্দের বহুবচন, যার ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এগুলোকে আমাদের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো—আমরাই এগুলোর দ্বারা আদিষ্ট। এগুলোকে বহুবচনে আনা হয়েছে কারণ এগুলো সংখ্যায় পাঁচটি, যেমনটি আপনি নিকট অতীতে জেনেছেন। এগুলোর ‘শারয়ি’ (শরিয়ত সংক্রান্ত) বিশেষণটি পূর্বোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে। আর এগুলোকে শরিয়তের দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে শরিয়তের মাধ্যমে এগুলো সাব্যস্ত হওয়ার কারণে; হয় একে তার মূল উৎস হতে স্থানান্তরের মাধ্যমে অথবা তাকে তার মূল উৎসের ওপর বহাল রাখার মাধ্যমে। এটি ঠিক সেই পর্যায়ের—যদি একে স্থগিত রাখার পরিবর্তে স্থানান্তর করা হতো তবুও তা সঠিক হতো, যেমনটি ভক্ষণ করা বৈধ নয় এমন প্রাণী যবেহ করার নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। কেননা শরিয়ত এখানে বিবেকের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছে। এটি সেই বিষয়ের বিপরীত যা শরিয়ত বিবেকের অনুকূলে নিয়ে এসেছে, যেখানে বিবেক এমন একটি ফয়সালা প্রদান করে যা পরিবর্তন করা শরিয়তের পক্ষে সম্ভব নয়। যেমন—ঋণ পরিশোধের আবশ্যকতা, আমানত ফেরত দেওয়া, জুলুমের জঘন্যতা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ; কেননা এগুলোকে (পারিভাষিক অর্থে) ‘শারয়ি’ বলা হয় না। লেখকের বক্তব্য: ‘যা অনুসরণ করে’ অর্থাৎ বিধানসমূহকে অনুসরণ করে ‘লক্ষ্যযোগ্য অনুসারী বিষয়াবলি’। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিধানসমূহের অনুগামী বিষয়াবলি যেমন বিশুদ্ধতা ও অসারতা, এমনকি ওয়াজিবকে ঐচ্ছিক ও প্রশস্ত ইত্যাদিতে বিভক্ত করা; কারণ এগুলো বিধানের অনুসারী বিষয় মাত্র। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো স্বয়ং বিধানসমূহ, আর এগুলো হলো সেগুলোর বিভিন্ন প্রকার ও গুণাবলি যা অনুগামী হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَاعْلَم أَن الْأَحْكَام لَهَا نِسْبَة إِلَى الْحَاكِم وَإِلَى مَا فِيهِ الحكم وَهُوَ الْفِعْل فتسمى بِالنّظرِ إِلَى الأول إِيجَابا مثلا وَتسَمى إِذا نسبت إِلَى الثَّانِي وجوبا فهما متحدان ذاتا مُخْتَلِفَانِ اعْتِبَارا وَمن هُنَا تراهم يجْعَلُونَ أَقسَام الحكم الْإِيجَاب وَالتَّحْرِيم تَارَة وَالْوُجُوب وَالْحُرْمَة أُخْرَى كَمَا وَقع هُنَا وَقد رسمت باعبتار صفة الْحَاكِم وَبِاعْتِبَار متعلقاتها والناظم رسمها بِالِاعْتِبَارِ الثَّانِي مُوَافقَة لأصله
فَقَالَ
وَهِي وجوب حُرْمَة وَالنَّدْب
كَرَاهَة إِبَاحَة يَا ندب
فِي الْقَامُوس النّدب الْخَفِيف فِي الْحَاجة الظريف النجيب
وَلَا يخفى حسن الجناس
وعرفوها بِالَّتِي تعيقت
بهَا فَخذ رسومها كَمَا أَتَت
أَي تعلّقت بهَا قَالَ فِي الأَصْل وتعرف بمتعلقاتها
فَمَا اسْتحق الْفَاعِل الثَّوَاب
بِفِعْلِهِ وَتَركه العقابا
… فَوَاجِب وَعَكسه الْحَرَام
هَذَا هُوَ تَعْرِيف الْوَاجِب وَالْحرَام كَقَوْلِه فَمَا اسْتحق مُبْتَدأ وَكلمَة مَا مَوْصُولَة وَالْجُمْلَة صلتها والعائد أغْنى عَنهُ تَعْرِيف الْفَاعِل وَأَصله فَاعله أَو مَحْذُوف أَي عَلَيْهِ وَقَوله فَوَاجِب خَبره دخلت الْفَاء لتضمن الْمُبْتَدَأ معنى الشَّرْط وَلَك تَقْدِيره فَهُوَ وَاجِب وَالْمرَاد بالفاعل الْمُكَلف وَالثَّوَاب الْجَزَاء كَمَا فِي الْقَامُوس وَالْمرَاد بِهِ هُنَا مَا وعد الله بِهِ عباده من الْجَزَاء على فعل الْوَاجِبَات على لِسَان رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَاسْتِحْقَاق الْفَاعِل لَهُ
জেনে রাখুন যে, বিধানগুলোর (আহকাম) একটি সম্বন্ধ রয়েছে বিধানদাতার (হাকিম) প্রতি এবং একটি সম্বন্ধ রয়েছে যার মধ্যে বিধানটি সাব্যস্ত হয় অর্থাৎ ক্রিয়া (ফেল)-এর প্রতি। প্রথমটির প্রতি লক্ষ্য রেখে একে উদাহরণস্বরূপ ‘ইজাব’ (আবশ্যিককরণ) বলা হয় এবং দ্বিতীয়টির প্রতি সম্বন্ধ করলে একে ‘উজুব’ (আবশ্যকতা) বলা হয়। সুতরাং এ দুটি সত্তাগতভাবে অভিন্ন কিন্তু বিবেচনার দিক থেকে ভিন্ন। এ কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, তাঁরা বিধানের প্রকারভেদকে কখনো ইজাব ও তাহরিম (নিষিদ্ধকরণ) হিসেবে গণ্য করেন, আবার কখনো উজুব ও হুরমাত (নিষিদ্ধতা) হিসেবে গণ্য করেন, যেমনটি এখানে ঘটেছে। এগুলো কখনো বিধানদাতার গুণের বিচারে সংজ্ঞায়িত করা হয়, আবার কখনো এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির বিচারে। আর কাব্যকার তাঁর মূল গ্রন্থের অনুসরণে দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতেই একে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেছেন:
আর তা হলো উজুব (আবশ্যকতা), হুরমাত (নিষিদ্ধতা) এবং নদব (উৎসাহ প্রদান),
কারাহাত (অপছন্দনীয়তা) ও ইবাহাত (বৈধতা), হে বুদ্ধিমান!
‘কামুস’ অভিধানে রয়েছে: ‘নাদব’ হলো প্রয়োজনে তৎপর, মার্জিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি।
এখানে শব্দালংকারের সৌন্দর্য অস্পষ্ট নয়।
এবং তাঁরা সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন,
যা এর সাথে যুক্ত হয়েছে; সুতরাং সেগুলোর সংজ্ঞা গ্রহণ করো যেভাবে তা এসেছে।
অর্থাৎ তার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি মূল গ্রন্থে বলেছেন: এবং তা এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির মাধ্যমে পরিচিত হয়।
সুতরাং যার কর্তা সওয়াবের উপযুক্ত হয়,
নিজের কাজের মাধ্যমে, এবং তা ত্যাগ করার কারণে শাস্তির যোগ্য হয়
… তাই ওয়াজিব; আর এর বিপরীত হলো হারাম।
এটি হলো ওয়াজিব ও হারামের সংজ্ঞা, যেমন তাঁর কথা ‘ফামা ইসতাহাক্কা’ (অতঃপর যা উপযুক্ত করে)। এখানে ‘মা’ শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং এটি একটি ইসমে মাওসুল (সংযোজক সর্বনাম), আর বাক্যটি তার সিলাহ (সম্বন্ধ)। আর ‘ফায়িল’ (কর্তা) শব্দটির পরিচিতিই ‘আয়িদ’ (সর্বনাম)-এর প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করেছে; এর মূল রূপ ছিল ‘ফায়িলুহু’ (তার কর্তা) অথবা এটি উহ্য রয়েছে যার অর্থ ‘আলাইহি’ (তার ওপর)। আর তাঁর উক্তি ‘ফাওয়াজিবুন’ (সুতরাং তা ওয়াজিব) হলো এর খবর (বিধেয়); এখানে ‘ফা’ যুক্ত হয়েছে কারণ মুবতাদাটি শর্তের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করেছে। আপনি একে ‘ফাহুওয়া ওয়াজিবুন’ (অতএব তা ওয়াজিব) হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। আর ‘ফায়িল’ দ্বারা মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) উদ্দেশ্য এবং ‘সওয়াব’ মানে প্রতিদান, যেমনটি কামুস অভিধানে আছে। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ওয়াজিব কাজগুলো করার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে তাঁর বান্দাদের যে প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং কর্তার সেই প্রতিদান পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بوعد من لَا يخلف الميعاد بإثابته وَالْمرَاد مَا من شَأْنه أَن يسْتَحق عَلَيْهِ الثَّوَاب فَيدْخل فِيهِ فرض الْكِفَايَة والمخير وَبِهَذَا الْقَيْد خرج الْحَرَام وَالْمَكْرُوه والمباح لِأَنَّهَا قد دخلت فِي قَوْله وَالْحكم فَإِنَّهُ مُقَدّر أَي فَالْحكم الْوَاجِب مَا اسْتحق إِلَى آخِره ضَرُورَة أَنه جنس للخمسة فَهُوَ مُرَاد وَلِأَن كلمة مَا فِي قَوْله مَا اسْتحق بِمَعْنى فعل أَي فعل اسْتحق فَدخلت فِيهِ وَقَوله وَتَركه العقابا هُوَ من الْعَطف على معمولي عاملين مُخْتَلفين على رَأْي الْفراء وبفعله يتَعَلَّق بالثواب وَهُوَ مصدر يتَعَلَّق بِهِ الظّرْف وَتَركه مَعْمُول الْعقَاب وتقديمه عَلَيْهِ جَائِز من بَاب {فَلَمَّا بلغ مَعَه السَّعْي} وَبِهَذَا الْقَيْد خرج الْمَنْدُوب والمباح وَبِهِمَا كَانَ التَّعْرِيف جَامعا مَانِعا إِن قلت كَانَ يَكْفِي اسْتِحْقَاق الْعقَاب بِتَرْكِهِ قلت زِيَادَة قيد الثَّوَاب بِفِعْلِهِ احْتِيجَ إِلَيْهِ ليتم الِاخْتِصَار بقوله وَعَكسه الْحَرَام وَيعرف بِهِ المُرَاد وَلَو حذف مَا عرف المُرَاد بِالْعَكْسِ وَهُوَ وَجه إِيرَاده فِي الأَصْل كَذَلِك والناظم يعْتَمد عبارَة مَا نظمه فَلَا يرد أَنه كَانَ يَكْفِي أَن يُقَال الْوَاجِب مَا اسْتحق تَاركه الْعقَاب وَالْحرَام بِالْعَكْسِ على أَن الْعبارَة قد اشْتَمَلت على لطف الْمُقَابلَة بَين الْفِعْل وَالتّرْك وَالْعِقَاب وَالثَّوَاب وفيهَا من الْإِشَارَة إِلَى التَّرْغِيب والترهيب مَا يزيدها حسنا ولطفا وَلِأَنَّهُ لَا بُد من ذكر ذَلِك فِي الْمَنْدُوب وَالْمَكْرُوه والمباح فَحسن الْإِتْيَان بِهَذَا فِي الْوَاجِب وَالْحرَام ليَكُون الْكل على منوال وَاحِد وَالْمرَاد بِالْعَكْسِ اللّغَوِيّ أَي مَا يسْتَحق الثَّوَاب بِتَرْكِهِ وَالْعِقَاب بِفِعْلِهِ فَهُوَ الْحَرَام فَيخرج بالقيد الأول الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب وَبِالثَّانِي الْمَكْرُوه والمباح وَالْمرَاد أَن من شَأْنه عِقَاب فَاعله كَمَا أَن من شَأْن تَارِك الْوَاجِب عِقَابه فَلَا يُنَافِيهِ جَوَاز الْعَفو فَإِن ذَلِك مُقْتَض
যিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না, তাঁর পক্ষ হতে সওয়াব প্রদানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে [এটি সাব্যস্ত]। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যার প্রকৃতিই হলো সওয়াবের অধিকারী হওয়া। ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে ফরজে কিফায়া এবং মুখাইয়ার (যেখানে একাধিক বিষয়ের মধ্য হতে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে)। এই শর্তের মাধ্যমে হারাম, মাকরূহ এবং মুবাহ বহির্ভূত হয়ে গেল; কারণ এগুলো তাঁর বাণী 'এবং হুকুম' (আল-হুকুম)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে মূলত উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ 'ওয়াজিবের হুকুম হলো যা সওয়াবের অধিকারী করে...' শেষ পর্যন্ত। কেননা এটি (হুকুম) পাঁচটি বিধানের সাধারণ প্রকার (জেন্স), তাই এটিই এখানে উদ্দেশ্য। কারণ 'মা' (যা) শব্দটি তাঁর উক্তি 'যা সওয়াবের অধিকারী করে'-এর মধ্যে 'ফেল' বা ক্রিয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ 'এমন কাজ যা সওয়াবের অধিকারী করে', ফলে তা এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর তাঁর উক্তি 'এবং তা ত্যাগ করা শাস্তির কারণ'—এটি আল-ফাররা-এর মতানুযায়ী দুটি ভিন্ন আমেল (ক্রিয়াশীল শব্দ)-এর দুটি মামুল (প্রভাবিত শব্দ)-এর ওপর আতফ (সংযোজন)। 'তার কাজের মাধ্যমে' (বি-ফিলিহি) কথাটি সওয়াবের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) যার সাথে যরফ (অধিকরণ) সংশ্লিষ্ট হয়েছে। আর 'তার ত্যাগ করা' (তারকুহু) হলো শাস্তির মামুল, এবং এর আগে আসা জায়েয যেমন পবিত্র কুরআনের আয়াতে রয়েছে: "যখন সে তার সাথে চলার মতো বয়সে উপনীত হলো"। এই শর্তের দ্বারা মানদুব ও মুবাহ বের হয়ে গেছে। এই দুটি শর্তের মাধ্যমেই সংজ্ঞাটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্যদের বর্জনকারী (জামে ও মানে) হয়েছে। যদি আপনি বলেন: 'তা ত্যাগ করলে শাস্তির যোগ্য হওয়া'—এতটুকুই যথেষ্ট ছিল; তবে আমি বলব: 'তার কাজের মাধ্যমে সওয়াব পাওয়া'—এই বাড়তি শর্তটির প্রয়োজন হয়েছে যাতে 'এবং হারাম এর বিপরীত'—এই উক্তির মাধ্যমে সংক্ষেপণ পূর্ণ হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। যদি এই অংশটি বাদ দেওয়া হতো তবে বিপরীতের মাধ্যমেই উদ্দেশ্য বোঝা যেত, আর মূলে এভাবেই এটি উপস্থাপনের একটি দিক ছিল। গ্রন্থকার (নাজিম) তাঁর কাব্যের শব্দাবলীর ওপর নির্ভর করেছেন, তাই এই আপত্তি করা যাবে না যে—'ওয়াজিব হলো যা বর্জনকারী শাস্তির যোগ্য এবং হারাম তার বিপরীত'—বলাই যথেষ্ট ছিল। অধিকন্তু, এই অভিব্যক্তিটি কাজ ও বর্জন এবং শাস্তি ও সওয়াবের মধ্যে একটি চমৎকার সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈপরীত্য ধারণ করেছে। এতে উৎসাহ প্রদান (তারগিব) ও ভীতি প্রদর্শনের (তারহিব) প্রতি এমন ইঙ্গিত রয়েছে যা এর সৌন্দর্য ও মাধুর্য বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু মানদুব, মাকরূহ ও মুবাহ-এর ক্ষেত্রেও এগুলোর উল্লেখ করা আবশ্যক, তাই ওয়াজিব ও হারামের ক্ষেত্রেও এটি উল্লেখ করা উত্তম হয়েছে যাতে সবগুলোর বর্ণনা একই পদ্ধতিতে হয়। আর শাব্দিক বিপরীত (আকসে লুগাউয়ি) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যা ত্যাগ করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা করলে শাস্তির যোগ্য হতে হয়, তা-ই হলো হারাম। ফলে প্রথম শর্তের মাধ্যমে ওয়াজিব ও মানদুব বের হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় শর্তের মাধ্যমে মাকরূহ ও মুবাহ বের হয়ে যায়। আর এর অর্থ হলো, অপরাধীর শাস্তি পাওয়াই এর স্বাভাবিক দাবি, যেমনটি ওয়াজিব বর্জনকারীর ক্ষেত্রে শাস্তির দাবি থাকে। তবে এটি মহান আল্লাহর ক্ষমা করার অবকাশের পরিপন্থী নয়, কারণ ক্ষমা প্রাপ্তি একটি বিষয় যা প্রত্যাশিত।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
للعقاب مَا لم يمْنَع مَانع الْعَفو وَالتَّوْبَة والشفاعة وَاعْلَم أَنه لَا يَشْمَل الْحَد التروك عِنْد من يَجْعَلهَا أفعالا وَيَأْتِي تَحْقِيقه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فَائِدَة وَاعْلَم أَن كل فعل طلب الشَّارِع تَركه أَو ذمّ فَاعله أَو مقته أَو لَعنه أَو نفى محبته إِيَّاه أَو محبَّة فَاعله أَو نفي الرِّضَا بِهِ أَو الرِّضَا عَن فَاعله أَو شبه فَاعله بالبهائم أَو بالشياطين أَو جَاءَ لَهُ مَانِعا للهدى أَو استعاذ الْأَنْبِيَاء عليهم السلام مِنْهُ أَو جعله سَببا لنفي الْفَلاح أَو لعذاب عَاجل أَو آجل أَو نسبه الله تَعَالَى أَو رَسُوله إِلَى عمل الشَّيْطَان أَو تزيينه أَو لعداوة الله أَو محاربته أَو الِاسْتِهْزَاء بِهِ أَو سخريته أَو دَعَا إِلَى التَّوْبَة مِنْهُ أَو وصف فَاعله بخبث أَو بضلالة أَو بِأَنَّهُ لَيْسَ من الله فِي شَيْء أَو بِأَنَّهُ لَيْسَ من الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أَو أَنه لَا يقبل من فَاعله صرفا وَلَا عدلا أَو أخبر ان من فعله قيض الله لَهُ شَيْطَانا فَهُوَ لَهُ قرين أَو جعل فعله سَببا لإزاغة قلب فَاعله أَو لصرفه عَن آيَاته وَفهم آلائه أَو يسْأَل الله تَعَالَى عَن عِلّة الْفِعْل لم فعل {تصدُّونَ عَن سَبِيل الله من آمن} {لم تلبسُونَ الْحق بِالْبَاطِلِ} {مَا مَنعك أَن تسْجد} فَهَذِهِ كلهَا وَنَحْوهَا تدل على الْمَنْع من الْفِعْل ودلالتها على التَّحْرِيم أظهر من دلالتها على الْكَرَاهَة وَأما نَحْو يكرههُ الله وَرَسُوله فدلالتها على التَّحْرِيم أظهر فاكثر مَا يسْتَعْمل فِي الْمحرم
… وَبعده الْمَنْدُوب يَا همام
… الْهمام كغراب العالي الهمه كَمَا فِي الْقَامُوس وَالْمَنْدُوب لُغَة الْمَدْعُو إِلَيْهِ يُقَال ندبته لكذا فَانْتدبَ وَأَصله الْمَنْدُوب إِلَيْهِ فتوسع فِيهِ بِحَذْف حرف الْجَرّ فاستتر فِيهِ الضَّمِير ثمَّ صَار إسما لهَذَا الْقسم من الْأَحْكَام ورسموه بقوله
… مَا يسْتَحق الْأجر فِيهِ إِن فعل
…
শাস্তির যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, যতক্ষণ না ক্ষমা, তওবা কিংবা সুপারিশের মতো কোনো বাধা একে প্রতিহত করে। জেনে রাখুন যে, যারা বর্জনকে কাজ হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে এই সংজ্ঞাটি বর্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে না; এবং এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।
একটি পরিজ্ঞা: জেনে রাখুন যে, প্রতিটি কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা বর্জন করার দাবি জানিয়েছেন, অথবা তার সম্পাদনকারীকে নিন্দা করেছেন, বা তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন, কিংবা লানত করেছেন, অথবা সেই কাজের প্রতি বা তার সম্পাদনকারীর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা নেই বলে নাকচ করেছেন, অথবা সেই কাজটির প্রতি বা তার সম্পাদনকারীর প্রতি সন্তুষ্টি নেই বলে নাকচ করেছেন, কিংবা তার সম্পাদনকারীকে চতুষ্পদ জন্তু বা শয়তানের সাথে তুলনা করেছেন, অথবা যা হিদায়াতের পথে বাধা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিংবা নবীগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন, অথবা যা সফলতাকে নাকচ করার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, অথবা তা পার্থিব বা পরকালীন শাস্তির কারণ সাব্যস্ত হয়েছে, অথবা আল্লাহ তাআলা কিংবা তাঁর রাসূল যাকে শয়তানের কাজ বা তার কারসাজি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অথবা আল্লাহর সাথে শত্রুতা, তাঁর সাথে যুদ্ধ, তাঁকে নিয়ে উপহাস বা বিদ্রূপ করার শামিল করা হয়েছে, অথবা যা থেকে তওবা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, অথবা যার সম্পাদনকারীকে অপবিত্রতা বা ভ্রষ্টতার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, অথবা বলা হয়েছে যে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, অথবা এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা যার সম্পাদনকারীর কাছ থেকে কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না বলে জানানো হয়েছে, অথবা সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তা করবে আল্লাহ তার জন্য একজন শয়তান নিযুক্ত করবেন এবং সে হবে তার সহচর, অথবা তার কাজটিকে সম্পাদনকারীর অন্তর বিচ্যুত হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথবা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর নিদর্শনাবলি বোঝার পথ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথবা আল্লাহ তাআলা সেই কাজের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন যে কেন এটি করা হলো, যেমন: “কেন তোমরা মুমিনদের আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করো?”, “কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো?”, “তোমাকে কিসে সেজদা করতে বাধা দিল?”—এই সবকিছু এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সেই কাজটি নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। আর এগুলোর মাধ্যমে 'হারাম' হওয়া বুঝানো 'মাকরুহ' হওয়ার চেয়ে অধিক স্পষ্ট। আর যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অপছন্দ করেন—এমন অভিব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা 'হারাম' হওয়ার ওপর অধিক জোরালো প্রমাণ দেয়; কেননা এটি হারাম বা নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্রেই অধিক ব্যবহৃত হয়
… এবং এর পরে রয়েছে মানদুব (পছন্দনীয়), হে উচ্চাকাঙ্ক্ষী
… 'হাম্মাম' শব্দটি 'গুরাব'-এর ওজনে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিকে বোঝায়, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে। আর 'মানদুব' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো যাকে আহ্বান করা হয়েছে। বলা হয়, ‘আমি তাকে অমুক কাজের জন্য আহ্বান করেছি, ফলে সে তাতে সাড়া দিয়েছে’। এর মূল রূপ হলো ‘যাকে আহ্বান করা হয়েছে’ (আল-মানদুবু ইলাইহি), তবে এখানে অব্যয় পদ বিলুপ্ত করে একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং এর ভেতরে সর্বনামটি প্রচ্ছন্ন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি শরয়ি বিধানের এই প্রকারটির জন্য বিশেষ নাম বা পরিভাষায় পরিণত হয়েছে। আর উলামায়ে কেরাম এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে—
… এমন কাজ যার পালনে সওয়াব বা পুরস্কার পাওয়া যায়
…
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
خرج بِهِ الْحَرَام وَالْمَكْرُوه والمباح وَبَقِي الْوَاجِب أخرجه بقوله
… وَلَا عِقَاب إِن يكن عَنهُ غفل
… فالمندوب مَا اسْتحق فَاعله الثَّوَاب وَلم يسْتَحق تَاركه الْعقَاب
وَاعْلَم أَن كل فعل عظمه الله تَعَالَى أَو رَسُوله أومدحه أومدح فَاعله لأَجله أَو فَرح بِهِ أَو أحبه أَو أحب فَاعله أَو رَضِي بِهِ أَو رَضِي عَن فَاعله أَو وَصفه بالطيب أَو الْبركَة أَو الْحسن أَو نَصبه سَببا لمحبته أَو لثواب عَاجل أَو آجل أَو نَصبه سَببا لذكره لعَبْدِهِ أَو لشكره أَو لهدايته إِيَّاه أَو لرضاه عَنهُ أَو لمغفرة ذَنبه أَو لتكفير سيئاته أولقبوله أَو لنظره إِلَيْهِ أَو لنصره أَو وَصفه بِأَنَّهُ قربَة أَو أقسم بِهِ أَو بفاعله كالقسم بخيل الْمُجَاهدين وإغارتها وَضحك الرب سُبْحَانَهُ من فَاعله أَو إعجابه بِهِ فَهُوَ دَلِيل على مشروعيته الْمُشْتَركَة بَين الْوُجُوب وَالنَّدْب
وَالرَّابِع وَالْخَامِس مَا فِي قَوْله
… وَعَكسه الْمَكْرُوه والمباح
… مَا فقدا فِيهِ فَلَا جنَاح
… فالرابع الْمَكْرُوه مَا اسْتحق تَاركه الثَّوَاب وَلم يسْتَحق الْفَاعِل عَلَيْهِ الْعقَاب وَهَذَا الَّذِي يُسَمِّيه الْفُقَهَاء بِأَنَّهُ مَكْرُوه تَنْزِيها ويسمونه خلاف الأولى وَأما الْمَكْرُوه كَرَاهَة حظر فَإِنَّهُ دَاخل فِي قسم الْحَرَام وَلَيْسَ قسما
এর মাধ্যমে হারাম, মাকরূহ এবং মুবাহ বাদ পড়ে গেছে এবং ওয়াজিব অবশিষ্ট রয়ে গেছে। একে তিনি বের করেছেন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে
... এবং যদি তা থেকে গাফেল হয় তবে কোনো শাস্তি নেই
... সুতরাং মানদুব হলো তা যার সম্পাদনকারী সওয়াবের অধিকারী হয় এবং এর বর্জনকারী শাস্তির অধিকারী হয় না।
জেনে রাখুন যে, প্রতিটি কাজ যা আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসূল মহান করেছেন, অথবা এর প্রশংসা করেছেন, অথবা এর কারণে এর সম্পাদনকারীর প্রশংসা করেছেন, অথবা এতে খুশি হয়েছেন, অথবা একে ভালোবেসেছেন, অথবা এর সম্পাদনকারীকে ভালোবেসেছেন, অথবা এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন, অথবা এর সম্পাদনকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, অথবা একে পবিত্রতা, বরকত বা সৌন্দর্যের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, অথবা একে তাঁর ভালোবাসার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, অথবা ইহকাল বা পরকালের সওয়াবের কারণ সাব্যস্ত করেছেন, অথবা বান্দার প্রতি তাঁর স্মরণ, তাঁর শোকর, তাঁর হেদায়েত, তাঁর সন্তুষ্টি, তাঁর মাগফিরাত, তার পাপ মোচন, তার আমল কবুল করা, তার দিকে তাঁর দৃষ্টি দান করা বা তাকে সাহায্য করার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, অথবা একে নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথবা এর শপথ করেছেন বা এর সম্পাদনকারীর শপথ করেছেন—যেমন মুজাহিদদের ঘোড়া এবং তাদের আক্রমণের শপথ—এবং রবের (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) এর সম্পাদনকারীর প্রতি হাসি বা এতে তাঁর আশ্চর্যান্বিত হওয়া—এ সবই ওয়াজিব এবং মানদুবের মধ্যবর্তী সাধারণ বিধিবদ্ধতার প্রমাণ।
চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রকার হলো যা তাঁর এই বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত
... আর এর বিপরীত হলো মাকরূহ এবং মুবাহ
... যাতে এ দুটির অভাব রয়েছে তাতে কোনো দোষ নেই
... চতুর্থ প্রকার হলো মাকরূহ; যা বর্জনকারী সওয়াবের অধিকারী হয় এবং সম্পাদনকারী এর কারণে শাস্তির অধিকারী হয় না। একেই ফকীহগণ 'মাকরূহে তানজিহী' বলে অভিহিত করেন এবং একে 'খিলাফে আওলা'ও বলা হয়। আর 'মাকরূহে তাহরিমি' বা নিষিদ্ধ মাকরূহ হারামের অন্তর্ভুক্ত, এটি পৃথক কোনো প্রকার নয়।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مُسْتقِلّا وَالْمرَاد بغفل عَنهُ تَركه عمدا فَلَا يتَوَهَّم من لفظ غفل أَنه من لم يعلم بِهِ إِذْ الغافل لَا يُكَلف بِشَيْء من الْأَحْكَام والقرينة على الْإِرَادَة الْمقَام فبالفصل الأول يخرج الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب والمباح وبالفصل الثَّانِي الْحَرَام وَالْخَامِس الْمُبَاح المرسوم بقوله مَا فقدا فِيهِ أَي فعل فقد فِيهِ الإثابة على فعله وَالْعِقَاب على تَركه وَلذَا قيل فَلَا جنَاح أَي لَا حرج على فَاعله وتاركه وَضمير فِيهِ للمباح وَالْمرَاد فقدا فِيهِ فعلا وتركا
وَاعْلَم أَنَّهَا تستفاد الْإِبَاحَة من كَلَام الشَّارِع من لفظ الْإِحْلَال وَرفع الْجنَاح وَالْإِذْن وَالْعَفو وَإِن شِئْت فافعل وَإِن شِئْت فَلَا تفعل وَمن الامتنان بِمَا فِي الْأَعْيَان من الْمَنَافِع وَمَا يتَعَلَّق بهَا من الْأَفْعَال نَحْو من أصوافها وأوبارها وَأَشْعَارهَا أثاثا وَنَحْوه من السُّكُوت عَن التَّحْرِيم وَمن الْإِقْرَار على الْفِعْل فِي زمن الْوَحْي وَهُوَ نَوْعَانِ إِقْرَار الرب وَإِقْرَار رَسُوله صلى الله عليه وسلم فَمن إِقْرَار الرب حَدِيث جَابر كُنَّا نعزل وَالْقُرْآن ينزل وَمن إِقْرَار الرَّسُول صلى الله عليه وسلم قَول حسان لعمر كنت أنْشد وَفِيه من هُوَ خير مِنْك
وَاعْلَم أَن المُرَاد من قَوْله مَا اسْتحق فَاعله الخ أَي مَا صَار حَقًا على فعله الإثابة وَصَارَ حَقًا على تَركه الْعقُوبَة وَالْحق عَلَيْهِ تَعَالَى وَهُوَ وَإِن كَانَ يُوَافق رَأْي الْمُعْتَزلَة لَكنا قد أَشَرنَا إِلَى تَوْجِيهه وَكَانَ الأوفى بمقام الْأَدَب أَن يُقَال الْوَاجِب مَا وعدنا بِالْإِثَابَةِ على فعله وتوعدنا بالعقاب على تَركه وَعَكسه الْحَرَام وَلَك أَن تكتفي بِمَا توعد على تَركه وَعَكسه الْحَرَام
هَذَا وَقد أورد الْجلَال فِي النظام وَسَبقه إِلَيْهِ غَيره بِأَنَّهُ دور فَلَا يعرف
স্বতন্ত্রভাবে। আর 'উপেক্ষা করা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা। সুতরাং 'উপেক্ষা' শব্দ থেকে যেন এমনটি মনে না করা হয় যে, এর অর্থ যে এই বিষয়ে জানে না; কেননা অসতর্ক ব্যক্তির ওপর শরীয়তের কোনো বিধান আরোপিত হয় না। এখানে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য প্রসঙ্গটিই নিদর্শন হিসেবে কাজ করবে। সুতরাং প্রথম বিভাজনের মাধ্যমে ওয়াজিব, মানদুব ও মুবাহ বহির্ভূত হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিভাজনের মাধ্যমে হারাম এবং পঞ্চমটি হলো মুবাহ, যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘যাতে উভয়টির অনুপস্থিতি রয়েছে’, অর্থাৎ যে কাজ করলে সওয়াব নেই এবং বর্জন করলে শাস্তি নেই। একারণেই বলা হয়েছে ‘কোনো গুনাহ নেই’ অর্থাৎ এর সম্পাদনকারী বা বর্জনকারীর ওপর কোনো সংকীর্ণতা নেই। এখানে ‘তাতে’ সর্বনামটি মুবাহ-এর দিকে ফিরছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্পাদন ও বর্জনের ক্ষেত্রে উভয় বিষয়ের (সওয়াব ও শাস্তি) অনুপস্থিতি।
জেনে রাখুন, শারী‘আহ প্রদাতার বক্তব্য থেকে বৈধতা বা ইবাহাত সাব্যস্ত হয় ‘হালাল করা’, ‘গুনাহ তুলে নেওয়া’, ‘অনুমতি দেওয়া’, ‘ক্ষমা করা’ এবং ‘তুমি চাইলে করো, আর চাইলে করো না’—এই জাতীয় শব্দাবলি থেকে। এছাড়া কোনো জিনিসের উপকারিতা বর্ণনা এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলির মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রকাশের দ্বারাও বৈধতা প্রমাণিত হয়। যেমন: ‘সেগুলোর পশম, লোম ও চুল থেকে আসবাবপত্র...’ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে হারাম হওয়া সম্পর্কে নীরব থাকা এবং ওহীর যুগে কোনো কাজের ওপর মৌন সম্মতি প্রদানের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত হয়। এটি দুই প্রকার: প্রতিপালকের মৌন সম্মতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সম্মতি। প্রতিপালকের মৌন সম্মতির উদাহরণ হলো জাবিরের হাদীস: ‘আমরা আযল করতাম অথচ তখন কুরআন নাযিল হচ্ছিল।’ আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সম্মতির উদাহরণ হলো উমরের প্রতি হাসসানের উক্তি: ‘আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম এমতাবস্থায় যে সেখানে এমন একজন উপস্থিত থাকতেন যিনি আপনার চেয়েও উত্তম।’
জেনে রাখুন, ‘যার সম্পাদনকারী প্রাপ্য হয়...’ ইত্যাদি উক্তির উদ্দেশ্য হলো—যার সম্পাদনের কারণে সওয়াব পাওয়া পাওনা হয়ে যায় এবং বর্জনের কারণে শাস্তি পাওয়া পাওনা হয়ে যায়; আর এই পাওনা মহান আল্লাহর ওপর বর্তায়। যদিও এটি মুতাজিলাদের মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ মনে হয়, তবুও আমরা এর সঠিক ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করেছি। তবে শিষ্টাচারের দাবি অনুযায়ী এভাবে বলা অধিকতর উত্তম হতো যে: ওয়াজিব হলো এমন কাজ যার সম্পাদনে আমাদের সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং বর্জনে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে; আর হারাম হলো এর বিপরীত। আপনি চাইলে শুধু ‘যার বর্জনে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে’—একথাটুকুর ওপরও সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন; আর হারাম হলো এর বিপরীত।
উল্লেখ্য যে, জালাল নিযাম গ্রন্থে—এবং তাঁর পূর্বে অন্যান্যরা—আপত্তি তুলেছেন যে, এটি একটি আবর্তন বা চক্রক, ফলে এটি সংজ্ঞায়িত হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الِاسْتِحْقَاق إِلَّا بعد معرفَة الْوُجُوب وَلَا الْوُجُوب إِلَّا بعد معرفَة الِاسْتِحْقَاق وَأجِيب بِأَن اسْتِحْقَاق الإثابة وَالْعِقَاب يعرف بتعريف الشَّارِع إِمَّا بنصه على ذَلِك وَذَلِكَ يعرف باستقراء الْأَدِلَّة وَحِينَئِذٍ فَلَا يتَوَقَّف معرفَة الِاسْتِحْقَاق على معرفَة الْوُجُوب ثمَّ إِنَّه لَو رسم الْأَمْرَانِ بقوله فِي الأول الْوَاجِب مَا أَمر بِهِ الشَّارِع وَالْحرَام مَا نهى عَنهُ مَعَ تقريرهم أَن الأَصْل فِي الْأَمر الْوُجُوب وَفِي النَّهْي الْخطر لَكَانَ رسما صَحِيحا سالما عَمَّا أوردهُ على غَيره
… وَالْفَرْض وَالْوَاجِب قد ترادفا
… والناصر الاطروش فِيهِ خالفا
… الْخلاف بَين الْجُمْهُور والناصر وَالْحَنَفِيَّة فَذهب الْأَولونَ إِلَى ترادف اللَّفْظَيْنِ أَي يتحدان معنى كاتحاد لَيْث وَأسد وَذهب الْآخرُونَ إِلَى أَنَّهُمَا متغايران فَمَا كَانَ دَلِيله قَطْعِيا سندا وَدلَالَة سموهُ فرضا وَمَا كَانَ ظنيا سندا وَدلَالَة أَو أَحدهمَا سموهُ وَاجِبا وَقد يستعملون أَحدهمَا مَكَان الآخر وَفِي شرح الْمُخْتَصر إِن الْخلاف لَفْظِي وَقيل معنوي وَإِن تَارِك الْفَرْض يفسق بِخِلَاف تَارِك الْوَاجِب هَذَا وَأما الْحَرَام فَإِنَّهُ يرادفه الْمَحْظُور وَيُسمى مَعْصِيّة وذنبا ومزجورا عَنهُ ومتوعدا عَلَيْهِ ثمَّ أَشَارَ إِلَى تَقْسِيم الْوَاجِب إِلَى أقسامه فالقسمة الأولى هِيَ الْمشَار إِلَيْهَا بقوله
… وانقسم الْوَاجِب فِي الدرايه
…
পাওনা হওয়া বা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ওয়াজিব হওয়া বা আবশ্যকতা জানার পরেই কেবল জানা সম্ভব, আর আবশ্যকতা জানা পাওনা হওয়া বা সাব্যস্ত হওয়া জানার পরেই কেবল সম্ভব। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, সওয়াব ও আজাব পাওনা হওয়ার বিষয়টি শারী‘ (বিধানদাতা)-র পরিচিত করানোর মাধ্যমেই জানা যায়; হয় এ বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে, যা দলীলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের দ্বারা অবগত হওয়া যায়। এমতাবস্থায় পাওনা হওয়ার বিষয়টি জানা আবশ্যকতা জানার ওপর নির্ভর করে না। অতঃপর যদি উভয় বিষয়কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হতো যে, প্রথমটির ক্ষেত্রে— ওয়াজিব তা-ই যা শারী‘ নির্দেশ দিয়েছেন এবং হারাম তা-ই যা তিনি নিষেধ করেছেন; এবং সেই সাথে যদি এই মূলনীতি স্থির রাখা হতো যে নির্দেশের মূল হলো ওয়াজিব হওয়া এবং নিষেধের মূল হলো নিষিদ্ধ হওয়া, তবে এই সংজ্ঞাটি সঠিক হতো এবং অন্যের ওপর আনীত আপত্তি থেকে সুরক্ষিত থাকত
… ফরজ এবং ওয়াজিব সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে
… এবং নাসের আল-উতরুশ এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন
… জুমহুর (অধিকাংশ আলেম), নাসের এবং হানাফীদের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ প্রসঙ্গে: প্রথমোক্তগণ উভয় শব্দকে সমার্থক মনে করেন, অর্থাৎ অর্থের দিক থেকে তারা এক ও অভিন্ন, যেমন সিংহ শব্দের বিভিন্ন প্রতিশব্দ এক ও অভিন্ন হয়ে থাকে। আর শেষোক্তগণ মনে করেন যে তারা পরস্পর ভিন্ন। সুতরাং যে বিষয়ের দলীল সূত্র ও তাৎপর্য উভয় দিক থেকে সুনিশ্চিত, তারা তাকে ‘ফরজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। আর যা সূত্র ও তাৎপর্য উভয় দিক থেকে অথবা যেকোনো এক দিক থেকে প্রবল ধারণাভিত্তিক, তারা তাকে ‘ওয়াজিব’ নামকরণ করেন। কখনও কখনও তারা একটিকে অন্যটির স্থলে ব্যবহার করেন। শারহুল মুখতাসার-এ বর্ণিত হয়েছে যে এই বিরোধটি শাব্দিক, আবার বলা হয়েছে এটি অর্থগত। এবং ফরজের ত্যাগকারী ফাসেক হিসেবে গণ্য হয়, যা ওয়াজিবের ত্যাগকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি গেল ওয়াজিব ও ফরজের কথা; আর হারামের ক্ষেত্রে ‘মাহজুর’ (নিষিদ্ধ) শব্দটিও তার সমার্থক। একে নাফরমানি, পাপ, বারণকৃত এবং শাস্তির হুঁশিয়ারিযুক্ত কাজ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এরপর তিনি ওয়াজিবকে এর বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার প্রথম বিভাজনটি তাঁর এই বাণীর দ্বারা নির্দেশিত
… এবং ওয়াজিব জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে বিভক্ত হয়েছে
…
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بِكَسْر الدَّال الْمُهْملَة درى يدْرِي أَي علم وَيسْتَعْمل لما فِيهِ ضرب من الْحِيلَة وَهُوَ يُقَابل الرِّوَايَة عِنْد إِطْلَاقه
… إِلَى فروض الْعين والكفاية
… انقسام الْوَاجِب لَهُ جهتان الأولى بِالنّظرِ إِلَى الْمَحْكُوم عَلَيْهِ وَهُوَ الْمُكَلف فَإِن كَانَ الْفِعْل الْمَطْلُوب من الْمُكَلف لَا يسْقطهُ عَنهُ فعل مُكَلّف آخر فَفرض عين أَو يسْقطهُ فَفرض كِفَايَة فَالْأول كَالصَّلَاةِ وَالثَّانِي كالأمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَاعْلَم أَن سنة الْكِفَايَة كفرضها قَالَ فِي جمع الْجَوَامِع وَسنة الْكِفَايَة كفرضها قَالَ الزَّرْكَشِيّ هَذَا يَقْتَضِي انقسام السّنة إِلَى كِفَايَة وَعين وَالْفرق بَينهمَا أَن سنة الْكِفَايَة يكون النّظر فِيهَا إِلَى الْفِعْل من غير نظر إِلَى الْفَاعِل كتشميت الْعَاطِس وَابْتِدَاء السَّلَام وَالْأُضْحِيَّة فِي حق الْبَيْت الْوَاحِد والجهة الثَّانِيَة أفادها قَوْله
… ثمَّ إِلَى التَّعْيِين والتخيير
… وَهَذَا بِالنّظرِ إِلَى الْمَحْكُوم فِيهِ وَهُوَ الْفِعْل فَإِنَّهُ إِن كَانَ الْمَطْلُوب مِنْهُ إِيقَاعه بِعَيْنِه كالصلوات الْخمس فمعين وَإِلَّا فمخير بَين إِفْرَاده كخصال الْكَفَّارَة ثمَّ لَهُ تَقْسِيم آخر بِاعْتِبَار إِيقَاع الْفِعْل هُوَ المفاد بقوله
… وَمُطلق والغير فِي تحبير
… التحبير مصدره حبره تحبيرا إِذا حسنه
فَالْوَاجِب انقسم إِلَى مُطلق وَهُوَ مَا لم يعين وقته كالنذر الْمُطلق وَقَضَاء صَوْم رَمَضَان وَإِلَى معِين وقته وَذَلِكَ كالصلوات الْخمس وَالْحج وَالصِّيَام وَقَوله
… مُؤَقّت مضيق أَو وسعا
…
'দাল' বর্ণটি কাসরা বা যের সহযোগে 'দারা' 'ইয়াদরি', অর্থাৎ সে জেনেছে। এটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে কোনো প্রকার সূক্ষ্ম কলাকৌশল বা বুদ্ধিমত্তা বিদ্যমান থাকে। সাধারণ ব্যবহারে এটি বর্ণনার (রিওয়ায়াত) বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে
… ফরজ আইন এবং ফরজ কিফায়া পর্যন্ত
… ওয়াজিবের বিভাজন দুটি দিক থেকে হতে পারে। প্রথমটি হলো 'মাহকুম আলাইহি' বা যার ওপর বিধান কার্যকর হয় তার দৃষ্টিভঙ্গিতে, আর তিনি হলেন মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)। যদি মুকাল্লাফের নিকট থেকে কাম্য কাজটি অন্য কোনো মুকাল্লাফের সম্পাদনের মাধ্যমে তার ওপর থেকে রহিত না হয়, তবে তা ফরজ আইন। আর যদি অন্য কারো সম্পাদনের মাধ্যমে তা রহিত হয়ে যায়, তবে তা ফরজ কিফায়া। প্রথমটির উদাহরণ যেমন সালাত, আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ। জেনে রাখুন যে, সুন্নতে কিফায়া তার ফরজের (ফরজে কিফায়া) মতো। 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সুন্নতে কিফায়া তার ফরজের মতো। আল-যারকাশী বলেছেন: এটি সুন্নাতকে কিফায়া এবং আইন হিসেবে বিভক্ত করার দাবি রাখে। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, সুন্নতে কিফায়ার ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য থাকে কাজটির প্রতি, কাজ সম্পাদনকারীর প্রতি নয়। যেমন—হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া, সালামের সূচনা করা এবং এক পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করা। আর দ্বিতীয় দিকটি তার এই উক্তি থেকে প্রাপ্ত
… অতঃপর সুনির্দিষ্ট করা (তায়ীন) এবং পছন্দ করার (তাখয়ীর) ভিত্তিতে
… আর এটি হলো 'মাহকুম ফিহি' বা যে কাজের বিষয়ে বিধান দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে, আর তা হলো কাজ স্বয়ং। যদি সেই কাজেরই সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কাম্য হয় যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, তবে তা 'মুআইয়্যান' (সুনির্দিষ্ট)। অন্যথায়, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তাকে 'মুখায়্যার' (পছন্দাধীন) বলা হয়, যেমন কাফফারার বিধানসমূহ। অতঃপর কাজ সম্পাদনের সময়কাল বিবেচনায় এর আরেকটি বিভাজন রয়েছে যা তার এই উক্তি থেকে প্রতিভাত হয়
… এবং মুতলাক (শর্তহীন/অনির্ধারিত) ও অন্যটি সৌন্দর্যমণ্ডিত বর্ণনায় (তাহবীর)
… তাহবীর একটি মাসদার বা মূল শব্দ, এর অর্থ হলো কোনো কিছুকে সুন্দর করা। সুতরাং ওয়াজিব বিভক্ত হয়েছে মুতলাক হিসেবে, যার সময় সুনির্দিষ্ট নয়—যেমন শর্তহীন মানত এবং রমজানের রোজার কাজা করা। আর দ্বিতীয়টি হলো যার সময় সুনির্দিষ্ট, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, হজ ও রোজা। আর তার উক্তি
… সময় নির্ধারিত যা সংকীর্ণ বা প্রশস্ত হতে পারে
…
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بدل من الْغَيْر أَو بَيَان لَهُ أُتِي بِهِ لبَيَان المُرَاد بِالْغَيْر أَي غير الْمُطلق وَإِدْخَال آلَة التَّعْرِيف عَلَيْهِ شَائِع فِي عِبَارَات الْعلمَاء غير وَارِد فِي كَلَام الْعَرَب أَي وَالْوَاجِب الْمُؤَقت يَنْقَسِم أَيْضا إِلَى مضيق وقته وموسع فَالْأول هُوَ مَا لَا يَتَّسِع الْوَقْت الْمُقدر لَهُ شرعا إِلَّا لفعل الْوَاجِب وَذَلِكَ مثل الصّيام وَالثَّانِي وَهُوَ مَا يزِيد وقته على فعل الْوَاجِب وَذَلِكَ كالصلوات الْخمس وَهَذَا هُوَ الَّذِي أفيد بقوله مضيق اَوْ وسعا فمضيق مجرور صفة لمؤقت وَقد يعبر عَنهُ بِالْوَاجِبِ الموسع وَالْوَاجِب الْمضيق على سَبِيل الْمجَاز وَإِنَّمَا الْمضيق والموسع صفة للْوَقْت وَلما فرغ من تَقْسِيم الْوَاجِب بِتِلْكَ الاعتبارات أَخذ فِي بَيَان ترادف بعض الْأَلْفَاظ عِنْد بعض أهل الْأُصُول فَقَالَ
وَالْمُسْتَحب رادف التطوعا
ورادف الْمَنْدُوب الْمسنون
… أخص من كليهمَا يكون
هَا هُنَا أَلْفَاظ حكمُوا عَلَيْهَا بالترادف فَقَالُوا الْمَنْدُوب وَالْمُسْتَحب والتطوع مترادفة معنى كل مِنْهُمَا معنى الآخر فَهِيَ مَا يسْتَحق الثَّوَاب بِفِعْلِهَا وَلَا عِقَاب فِي تَركهَا وَقَوله والمسنون مُبْتَدأ خَبره أخص من كليهمَا فَإِنَّهُم
'আল-গাইর' শব্দটি 'গাইর' এর পরিবর্তে বা তার ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে, যা দ্বারা 'গাইর মুতলাক' (সাধারণ অন্য) বোঝানো উদ্দেশ্য। এর শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত করা আলিমগণের পরিভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও আরবদের বিশুদ্ধ বক্তব্যে তা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, সময়বদ্ধ ওয়াজিবও দুই ভাগে বিভক্ত: সংকীর্ণ সময়বিশিষ্ট (মুদাইয়্যাক) এবং প্রশস্ত সময়বিশিষ্ট (মুওয়াসসা)। প্রথমটি হলো যার জন্য শরীয়ত নির্ধারিত সময় কেবল সেই ওয়াজিবটি আদায়ের সমপরিমাণ হয় এবং অন্য কিছুর অবকাশ রাখে না, যেমন: রোজা। দ্বিতীয়টি হলো যার সময় ওয়াজিবটি সম্পন্ন করার সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত হয়, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। এটিই তাঁর 'সংকীর্ণ বা প্রশস্ত' উক্তিটি দ্বারা ব্যক্ত হয়েছে। এখানে 'সংকীর্ণ' শব্দটি 'সময়বদ্ধ' শব্দের বিশেষণ হিসেবে মাজরুর হয়েছে। কখনও একে রূপকভাবে 'প্রশস্ত ওয়াজিব' বা 'সংকীর্ণ ওয়াজিব' হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়, যদিও মূলত সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততা সময়েরই বৈশিষ্ট্য। এসকল বিবেচনায় ওয়াজিবের প্রকারভেদ শেষ করে তিনি উসূলবিদদের নিকট কতিপয় শব্দের সমার্থকতা বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়ে বললেন:
এবং মুস্তাহাব হলো 'তাতাত্তাউ' (ঐচ্ছিক)-এর সমার্থক
এবং মানদুব-এর সমার্থক; মাসনুন (সুন্নাত)
… ঐ উভয়টির চেয়ে বিশিষ্ট হয়ে থাকে
এখানে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে তাঁরা সমার্থক হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন: মানদুব, মুস্তাহাব এবং তাতাত্তাউ সমার্থক; এগুলোর প্রতিটির অর্থ অপরটির অনুরূপ। আর তা হলো এমন কাজ যা পালন করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু বর্জন করলে কোনো শাস্তি নেই। আর তাঁর উক্তি 'মাসনুন' হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো 'ঐ উভয়টির চেয়ে বিশিষ্ট', কেননা তাঁরা...
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
رسموه بِمَا أَمر بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وواظب عَلَيْهِ فزادوا فِيهِ قيد الْمُوَاظبَة وَأَرَادُوا بِمَا أَمر بِهِ أَمر ندب فَلَا يرد الْوَاجِب فَكل مسنون مَنْدُوب وَلَا عكس وَعبر عَن ذَلِك فِي الْغَايَة بقوله مَا أَمر بِهِ عليه السلام ندبا فَإِن واظب عَلَيْهِ فمسنون وَإِلَّا فمستحب وَفِي جمع الْجَوَامِع أَنه يرادف الْمَنْدُوب أَيْضا وَإِن الْكل مَعْنَاهُ الْفِعْل الْمَطْلُوب طلبا غير جازم وَنقل عَن القَاضِي حُسَيْن أَنه يَقُول فِي الْمسنون بِمثل كَلَام النَّاظِم وَأَنه أخص لأخذ الْمُوَاظبَة فِيهِ وَاعْلَم أَن التَّقْسِيم الَّذِي فِي الْوَاجِب يجْرِي فِي الْمَنْدُوب أَيْضا فَيُشبه فرض الْعين التَّوَجُّه فَإِنَّهُ مَشْرُوع فِي الصَّلَاة بِأَلْفَاظ مَخْصُوصَة وَلَا يسْقط بِفعل مُكَلّف آخر فَمن تَركهَا أَو بدلهَا فقد خَالف السّنة وَمثلهَا أَيْضا الْأَذْكَار الْمعينَة عقيب الصَّلَوَات وفيهَا ومندوب الْكِفَايَة كالسلام ابْتِدَاء من جمَاعَة والتشميت للعاطس مِنْهُم على قَول من لم ير وُجُوبه على كل من السامعين وَإِن كَانَ حَدِيث إِذا عطس أحدكُم فَحَمدَ الله كَانَ حَقًا على كل من سَمعه أَن يَقُول لَهُ يَرْحَمك الله أخرجه أَحْمد والشيخان وَأَبُو دَاوُد وَابْن حبَان يَقْتَضِي وجوب تشميت كل عاطس حَامِد على كل سامع والمعين كَسنة الْفجْر مثلا فالمطلوب إيقاعها بخصوصها والمخير كالقراءة ب {قل يَا أَيهَا الْكَافِرُونَ} و {قل هُوَ الله أحد} أَو الْآيَتَيْنِ من سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَالْمُطلق كَصَلَاة النَّافِلَة من حَيْثُ هِيَ وَالذكر من حَيْثُ هُوَ والمؤقت كصيام الْبيض وَيكون مضيقا كَهَذا الصّيام وموسعا كرواتب الفراض … هَذَا وَمَا وَافق أَمر الشَّارِع … فَهُوَ الصَّحِيح أول التوابع …
তারা একে (মাসনুনকে) সংজ্ঞায়িত করেছেন এমন বিষয় দ্বারা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ করেছেন এবং তিনি তাতে নিয়মিত ছিলেন। ফলে তারা এতে নিয়মিত পালনের শর্তটি যুক্ত করেছেন এবং 'যা তিনি নির্দেশ করেছেন' বলতে তারা সুপারিশমূলক নির্দেশ (নাদব) বুঝিয়েছেন, যাতে ওয়াজিব এর অন্তর্ভুক্ত না হয়। সুতরাং প্রতিটি 'মাসনুন' ই 'মানদুব', কিন্তু প্রতিটি 'মানদুব' 'মাসনুন' নয়। 'আল-গায়া' গ্রন্থে একে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, নবী (আলাইহিস সালাম) সুপারিশ হিসেবে যা নির্দেশ করেছেন, তিনি যদি তা নিয়মিত পালন করেন তবে তা 'মাসনুন', অন্যথায় তা 'মুস্তাহাব'। 'জামি’উল জাওয়ামি’' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি 'মানদুব' এরও সমার্থক। আর এই সবকিছুর অর্থ হলো এমন কাজ যা পালনের জন্য গুরুত্বহীনভাবে (অনিবার্য নয় এমনভাবে) তলব বা চাওয়া হয়েছে। কাজী হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মাসনুন সম্পর্কে রচয়িতার (নাজিম) বক্তব্যের অনুরূপ মত পোষণ করতেন এবং তাঁর মতে এটি (মাসনুন) অধিকতর বিশিষ্ট, কারণ এতে নিয়মিত পালনের বিষয়টি শর্ত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। জেনে রাখুন যে, ওয়াজিবের ক্ষেত্রে যে বিভাজন বিদ্যমান, তা মানদুবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং 'তাওয়াজ্জুহ' (নামাজের শুরুর দোয়া) ফরযে আইনের সদৃশ, কারণ এটি বিশেষ শব্দাবলির মাধ্যমে নামাজে বিধিবদ্ধ এবং অন্য কোনো মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) পালনের দ্বারা তা রহিত হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল বা পরিবর্তন করল, সে সুন্নাতের খেলাফ করল। অনুরূপভাবে নামাজের পরের এবং নামাজের মধ্যকার নির্দিষ্ট জিকিরসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। আর 'মানদুবুল কিফায়া' (সামষ্টিক সুপারিশ) হলো যেমন একদল লোকের পক্ষ থেকে প্রথমে সালাম প্রদান করা এবং তাদের মধ্য থেকে হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া (তাশমিত), যা তাদের মতানুসারে যারা প্রত্যেক শ্রবণকারীর ওপর এটি ওয়াজিব মনে করেন না। যদিও হাদীস: "যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন যে ব্যক্তি তা শুনবে তার ওপর এটি হক (কর্তব্য) যে সে তাকে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে" — এটি আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন — এই হাদীসটি প্রত্যেক শ্রবণকারীর ওপর প্রত্যেক আল্লাহর প্রশংসাকারী হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। আর 'মুআইয়্যান' (সুনির্দিষ্ট) হলো যেমন ফজরের সুন্নাত, যা নির্দিষ্টভাবেই আদায় করা তলব করা হয়েছে। আর 'মুখাইয়্যার' (পছন্দাধীন) হলো যেমন সূরা আল-কাফিরুন ও সূরা আল-ইখলাস পাঠ করা, অথবা সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে-ইমরানের আয়াতদ্বয় পাঠ করার মধ্যে পছন্দ করা। আর 'মুতলাক' (সাধারণ) হলো যেমন সাধারণ নফল নামাজ বা সাধারণ জিকির। আর 'মুয়াক্কাত' (সময়নির্ধারিত) হলো যেমন 'আইয়ামে বিয' এর রোজা; যা কখনো 'মুদাইয়্যাক' (সংকীর্ণ সময়) হয় যেমন এই রোজাগুলো, আবার কখনো 'মুওয়াসসা' (প্রশস্ত সময়) হয় যেমন ফরয নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাতসমূহ (রাওয়াতিব) … এটিই হলো তা, যা শরিয়তদাতার নির্দেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ … আর এটিই হলো সঠিক, যা পরবর্তী অনুগামী বিষয়সমূহের মধ্যে প্রথম …
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
تقدّمت إِشَارَة إِلَى تَوَابِع الْأَحْكَام هَذَا أَولهَا وَهُوَ تَقْسِيم للْوَاجِب بِالنّظرِ إِلَى إِيقَاعه على وقف شُرُوطه وأسبابه الْمُعْتَبرَة شرعا أَعم من أَن تكون عبَادَة أَو مُعَاملَة فانقسم بِهَذَا الِاعْتِبَار إِلَى صَحِيح وباطل الأول الصَّحِيح وَهُوَ لُغَة السَّلِيم وَاصْطِلَاحا مَا أَفَادَهُ النّظم بِأَنَّهُ الْفِعْل الَّذِي وَافق أَمر الشَّارِع أَي مَا كملت فِيهِ الشُّرُوط الَّتِي اعتبرها الشَّارِع كالصلوات بشرائطها من الطَّهَارَة وَستر الْعَوْرَة وَغَيرهمَا وَهَذَا رسمه بِاعْتِبَار الْعِبَادَة وَأما بِاعْتِبَار الْمُعَامَلَة فالصحة فِيهَا ترَتّب الْأَثر الْمَطْلُوب مِنْهَا عَلَيْهَا وَفِي جمع الْجَوَامِع أَن الصِّحَّة مُوَافقَة الْفِعْل ذِي الْوَجْهَيْنِ الشَّرْع وَقيل فِي الْعِبَادَة إِسْقَاط الْقَضَاء وَفِي الْعُقُود ترَتّب أَثَره عَلَيْهِ وَهُوَ مَا شرع العقد لَهُ كحل الِانْتِفَاع فِي البيع
وَاعْلَم أَنه خص فِي الأَصْل التوابع بِمَا ذكر مَعَ أَن تَقْسِيم الْوَاجِب الَّذِي تقدم آنِفا هُوَ من صِفَات الحكم فَلَو عد من التوابع لَكَانَ صَحِيحا وَهُوَ امْر سهل فَإِنَّهُ اصْطِلَاح وَالْقسم الثَّانِي الْبَاطِل أَفَادَهُ مَعَ الْفَاسِد قَوْله
… نقيضه الْبَاطِل أما الْفَاسِد
… فَقيل قد رادفه فواحد
… الْبَاطِل لُغَة الذَّاهِب وَاصْطِلَاحا نقيض الصَّحِيح وَيجْرِي فِي الْعِبَادَات والمعاملات أَيْضا فَهُوَ فيهمَا عدم ترَتّب الْأَثر الْمَقْصُود من الْفِعْل عَلَيْهِ فَفِي الْعِبَادَة عدم مُوَافقَة أَمر الشَّارِع أَو عدم سُقُوط الْقَضَاء وَفِي الْمُعَامَلَة عدم حل الِانْتِفَاع بِالْمَبِيعِ وَأما الْفَاسِد فَفِيهِ خلاف مِنْهُم من يَقُول إِنَّه مرادف للباطل فَمَعْنَاه مَعْنَاهُ كَمَا أَفَادَهُ قَوْله فواحد أَي فمعناهما وَاحِد وَمن لم يقل بترادفهما رسمه بقوله
… وَقَالَ فِي تَعْرِيفه من يَنْفِي
… مَا شرع الأَصْل بِدُونِ الْوَصْف
… أَي أَنه عرفه من يَنْفِي الترادف بَينه وَبَين الْبَاطِل ويجعله قسما مُسْتقِلّا بِأَنَّهُ الْمَشْرُوع بِأَصْلِهِ الْمَمْنُوع بوصفه وَهُوَ قَول من يثبت الْوَاسِطَة بَين الْبَاطِل
বিধিবিধানের অনুষঙ্গসমূহের (তাওয়াবিউল আহকাম) দিকে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে, এটি সেগুলোর মধ্যে প্রথম। আর তা হলো ওয়াজিবের এমন এক বিভাজন যা তার শর্তাবলি ও শরীয়াহসম্মতভাবে স্বীকৃত কারণসমূহের ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হওয়ার নিরিখে করা হয়েছে; চাই তা ইবাদত হোক কিংবা লেনদেন (মুয়ামালা)। এই বিচারে তা সহীহ ও বাতিল—এই দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো ‘সহীহ’। আভিধানিক অর্থে এটি হলো ত্রুটিমুক্ত। আর পারিভাষিক অর্থে মূল পাঠে যা বুঝানো হয়েছে তা হলো: এমন কাজ যা শারঈ বিধানদাতার নির্দেশের অনুগামী হয়েছে। অর্থাৎ যাতে শারঈ বিধানদাতার নির্ধারিত শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে; যেমন পবিত্রতা অর্জন ও সতর ঢাকা ইত্যাদি শর্তসহ সালাত আদায় করা। ইবাদতের বিচারে এটিই এর সংজ্ঞা। আর লেনদেনের বিচারে ‘সহীহ’ হওয়ার অর্থ হলো, তার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হওয়া। ‘জামিউল জাওয়ামি’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, দুই দিক বিশিষ্ট কাজের শরীয়তের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়াই হলো ‘সিহ্হাত’ বা সহীহ হওয়া। ইবাদতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, এর মাধ্যমে পুনরায় আদায়ের (কাজা) আবশ্যকতা রহিত হয়। আর চুক্তির ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রকাশ পাওয়া; আর তা হলো যার জন্য চুক্তিটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমন কেনাবেচার ক্ষেত্রে পণ্য থেকে উপকৃত হওয়ার বৈধতা।
জেনে রাখুন যে, মূল গ্রন্থে অনুষঙ্গসমূহকে কেবল উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও ইতিপূর্বে আলোচিত ওয়াজিবের বিভাজনটিও বিধানের (হুকুম) বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। যদি সেটিকেও অনুষঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তবে তাও সঠিক হতো; আর এটি একটি সহজ বিষয়, কারণ এটি পারিভাষিক বিষয় মাত্র। দ্বিতীয় প্রকার হলো ‘বাতিল’। একে ‘ফাসিদ’-এর সাথে উল্লেখ করে বলা হয়েছে:
… তার বিপরীত হলো বাতিল। আর ফাসিদ প্রসঙ্গে
… বলা হয়েছে যে তা বাতিলের সমার্থক, তাই উভয়টি অভিন্ন
… আভিধানিক অর্থে বাতিল হলো যা বিলুপ্ত। আর পারিভাষিক অর্থে এটি ‘সহীহ’-এর বিপরীত। এটি ইবাদত এবং লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। উভয় ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো কাজ থেকে উদ্দিষ্ট ফলাফল প্রকাশ না পাওয়া। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে বাতিল হলো শারঈ বিধানদাতার নির্দেশের অনুগামী না হওয়া অথবা পুনরায় আদায়ের দায়ভার থেকে মুক্তি না পাওয়া। আর লেনদেনের ক্ষেত্রে বাতিল হলো বিক্রিত বস্তু ব্যবহারের বৈধতা অর্জিত না হওয়া। আর ‘ফাসিদ’-এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেন যে এটি ‘বাতিল’-এর সমার্থক, সুতরাং এর অর্থ তাই যা বাতিলের অর্থ, যেমনটি ‘অভিন্ন’ কথাটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে; অর্থাৎ তাদের উভয়ের অর্থ এক। আর যারা এই দুটির সমার্থক হওয়ার প্রবক্তা নন, তারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে যে:
… আর যারা সমার্থকতা অস্বীকার করেন তারা এর সংজ্ঞায় বলেন:
… যা মূলে বিধিবদ্ধ কিন্তু বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ
… অর্থাৎ যারা ফাসিদ ও বাতিলের মধ্যে সমার্থকতা অস্বীকার করেন এবং ফাসিদকে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেন, তারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে—তা হলো এমন বিষয় যা তার মূলের (আসল) দিক থেকে বিধিবদ্ধ কিন্তু তার বৈশিষ্ট্যের (ওয়াসফ) দিক থেকে নিষিদ্ধ। এটি তাদের অভিমত যারা বাতিল ও সহীহের মাঝে একটি মধ্যবর্তী পর্যায় সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَالصَّحِيح إِلَّا أَنه يَنْبَغِي أَن يعلم أَنهم متفقون فِي الْعِبَادَات سوى الْحَج أَنه لَا وَاسِطَة فِيهَا بل إِمَّا صَحِيحَة أَو بطالة وَالْحَاصِل أَن من فسر الْفَاسِد بِعَدَمِ ارْتِفَاع وجوب الْقَضَاء كَانَ كالباطل وَمن قَالَ إِنَّه الْمَشْرُوع بِأَصْلِهِ الْمَمْنُوع بوصفه كَانَ وَاسِطَة فَيَقُول فِي الْعِبَادَات مثلا صَوْم الْعِيدَيْنِ الصَّوْم مَشْرُوع بِأَصْلِهِ وَلَكِن الْوَصْف وَهُوَ كَونه فِي ذَلِك الْيَوْم مثلا مَنعه الشَّارِع وَفِي الْمُعَامَلَات كَبيع دِرْهَم بِدِرْهَمَيْنِ إِن البيع مَشْرُوع بِأَصْلِهِ وَلَكِن الْوَصْف وَهُوَ اشْتِمَال أحد الْجَانِبَيْنِ على الزِّيَادَة مَمْنُوع فَهُوَ عِنْده خلل يُوجب ترَتّب بعض الْآثَار فَالْبيع الْفَاسِد يُوجب جَوَاز الْفَسْخ وَعدم الْملك إِلَّا بِالْقَبْضِ بإلاذن وَالْقيمَة لَا الثّمن وَأما الْبَاطِل فَلَا يَتَرَتَّب على عقد البيع عَلَيْهِ شَيْء وَجعل الْفَاسِد وَاسِطَة هومذهب الهدوية وَالْحَنَفِيَّة وَأما النَّاصِر وَالشَّافِعِيَّة فهم قَائِلُونَ بالترادف وَعدم الْوَاسِطَة وَلَهُم فِي المطولات أَمْثِلَة لَا نطول بذكرها
تَنْبِيه لم يتَعَرَّض فِي الأَصْل للإجزاء وَهُوَ عِنْدهم كالصحة فرسمه رسمها إِلَّا أَنه يخْتَص بالعبادات وَاجِبَة كَانَت أَو مَنْدُوبَة وَقيل يخْتَص بِالْوَاجِبِ ومنشأ الْخلاف وُرُوده فِي الحَدِيث النَّبَوِيّ فِي الْأَضَاحِي وَمن قَالَ إِنَّهَا سنة قَالَ تتصف بِهِ السّنة وَالْوَاجِب لحَدِيث لَا تجزىء صَلَاة لَا يقْرَأ فِيهَا بِأم الْقُرْآن أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ وَصَححهُ وَقيل لَا يخْتَص بالعبادات بل يجرى فِي الْمُعَامَلَات كرد الْوَدِيعَة فَإِنَّهُ إِذا حجر على الْمُودع مَا أودعهُ لم يجز الرَّد عَلَيْهِ بِخِلَاف إِذا لم يحْجر عَلَيْهِ ورد بِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهَا إِلَّا تَسْلِيمهَا لمستحق التَّسْلِيم فَلَيْسَ رد الْوَدِيعَة يجْرِي على وَجْهَيْن مجز وَغير مجز
সঠিক অভিমত এই যে, তবে এটি জানা প্রয়োজন যে, হজ ব্যতীত অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে তারা একমত যে এর মাঝে কোনো মধ্যবর্তী স্তর নেই; বরং তা হয় সহীহ হবে অথবা বাতিল হবে। সারকথা হলো, যে ব্যক্তি 'ফাসিদ'কে 'কাযার আবশ্যকতা রহিত না হওয়া' দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, তার নিকট তা বাতিলের মতো। আর যিনি বলেন যে, এটি মূলত বিধিবদ্ধ কিন্তু গুণগতভাবে নিষিদ্ধ, তিনি একে একটি মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ ইবাদতের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, দুই ঈদের দিনের রোজা; রোজা রাখা তার মূলগত দিক থেকে বিধিবদ্ধ, কিন্তু তার গুণ—অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ উক্ত বিশেষ দিনে হওয়া—শারীআহ প্রণেতা নিষিদ্ধ করেছেন। আর লেনদেনের ক্ষেত্রে যেমন এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রয় করা; এখানে বিক্রয় তার মূলগত দিক থেকে বিধিবদ্ধ, কিন্তু তার গুণ—অর্থাৎ এক পক্ষ অতিরিক্ত হওয়া—তা নিষিদ্ধ। সুতরাং তার নিকট এটি এমন এক ত্রুটি যা কিছু বিধান কার্যকর হওয়াকে আবশ্যক করে। অতএব, ফাসিদ বিক্রয় চুক্তি বাতিল করার সুযোগ তৈরি করে এবং অনুমতি সাপেক্ষে হস্তগত করা ব্যতীত মালিকানা সাব্যস্ত হয় না, আর এক্ষেত্রে বাজারমূল্য ধর্তব্য হবে, চুক্তিকৃত মূল্য নয়। আর বাতিলের ক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তির কোনো ফলাফলই সাব্যস্ত হয় না। ফাসিদকে মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে গণ্য করা হাদাবিয়্যাহ ও হানাফী মাযহাবের অভিমত। পক্ষান্তরে নাসির এবং শাফিঈগণ একে সমার্থক মনে করেন এবং তারা কোনো মধ্যবর্তী স্তরের প্রবক্তা নন। দীর্ঘ আলোচনা সম্বলিত গ্রন্থসমূহে তাদের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা উল্লেখ করে আমরা দীর্ঘ করছি না।
সতর্কীকরণ: মূল গ্রন্থে ‘ইজযা’ (যথেষ্ট হওয়া) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি। তাদের নিকট এটি ‘সহীহ’ হওয়ার মতোই, তাই এর সংজ্ঞাও সহীহ-এর সংজ্ঞার অনুরূপ; তবে এটি ইবাদতের সাথে নির্দিষ্ট, চাই তা ওয়াজিব হোক বা মুস্তাহাব। কেউ কেউ বলেছেন, এটি শুধুমাত্র ওয়াজিবের সাথে নির্দিষ্ট। এই মতভেদের কারণ হলো কুরবানীর পশু সংক্রান্ত নববী হাদিসে এর শব্দগত ব্যবহার। যারা কুরবানীকে সুন্নাত বলেন, তারা বলেন যে এটি সুন্নাত এবং ওয়াজিব উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। কারণ হাদিসে এসেছে: ‘ঐ সালাত যথেষ্ট হবে না যাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না।’ এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, এটি ইবাদতের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন আমানত ফেরত দেওয়া। কেননা আমানতদাতার ওপর যখন সম্পদ ব্যয়ে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়, তখন তাকে আমানত ফেরত দেওয়া জায়েয নয়; পক্ষান্তরে বিধি-নিষেধ না থাকলে জায়েয। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এতে হকদারের নিকট আমানত পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নেই। সুতরাং আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ‘যথেষ্ট হওয়া’ এবং ‘যথেষ্ট না হওয়া’—এই দুই ভাবে বিভক্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَيُطلق الْجَائِز فِي الْمُبَاح
وممكن وَالْكل فِي اصْطِلَاح
… كَذَا على الْمَشْكُوك ثمَّ مَا اسْتَوَى
الْفِعْل وَالتّرْك بِهِ وَلَا سوى
هَذَا فِي ذكر الْجَائِز وَمَا يُطلق عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُطلق على الْمُبَاح فكلمة فِي بِمَعْنى على مثل قَوْله تَعَالَى {ولأصلبنكم فِي جُذُوع النّخل} فالنظم قد أَفَادَ أَنه يُطلق الْجَائِز على أَرْبَعَة أَشْيَاء
الأول مِمَّا يُطلق عَلَيْهِ الْمُبَاح الْمُعَرّف بِمَا تقدم من رسمه
الثَّانِي الْمُمكن وَهُوَ إِمَّا مَا لَا يمْتَنع شرعا أَي مَا لَا يحرم وَهُوَ شَامِل للأربعة الْأَحْكَام الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب والمباح وَالْمَكْرُوه وَأما مَا لَا يمْتَنع عقلا كَأَن يُقَال كَون جِبْرِيل فِي أَرض جَائِز أَي لَا مَانع مِنْهُ فِي الْعقل ومثلوا مَا لَا يمْتَنع شرعا كَأَن يُقَال الْأكل بالشمال جَائِز أَي لَا مَانع عَنهُ شرعا كَذَا مثلوه بِهِ وَفِيه نظر
الثَّالِث أَن يُطلق على مَا اسْتَوَى فعله وَتَركه عقلا كَفعل الصَّبِي وَكَذَلِكَ شرعا كالمباح
وَالرَّابِع الْمَشْكُوك فِيهِ وَهُوَ مَا تَعَارَضَت فِيهِ أَمَارَات الثُّبُوت والانتفاء أَمارَة تقضي ثُبُوته وَأُخْرَى تَقْتَضِي نَفْيه فِي الْعقل أَو الشَّرْع ومثلوه فِي الْعقل بِمن يتَوَقَّف فِي أصل الْأَشْيَاء هَل على الْحَظْر أَو الْإِبَاحَة فَإِنَّهُ يَقُول بِأَنَّهُ جَائِز الْأَمريْنِ أَي الْحَظْر وَعَدَمه لِاسْتِوَائِهِمَا عِنْد تعَارض دليليهما وَفِي الشَّرْع كمن يتَوَقَّف فِي لحم الأرنب وَوُجُوب صَلَاة الْعِيدَيْنِ لتعارض أمارتي الْأَمريْنِ فيوصف بِأَنَّهُ جَائِز بِهَذَيْنِ الاعتبارين فَهَذِهِ الْأَرْبَعَة الْمعَانِي الَّتِي أفادها النّظم
وللجائز أَرْبَعَة معَان بِاعْتِبَار الْمَشْكُوك فِيهِ استوفاها فِي الفواصل فَلَا نطيل بذكرها لعدم مساس الْحَاجة إِلَيْهَا ثمَّ من تَوَابِع الحكم بِاعْتِبَار إِيقَاع الْفِعْل وَهُوَ يخْتَص بالعبادات مَا تضمنه قَوْلنَا
'জায়িয' (বৈধ/সম্ভব) শব্দটি 'মুবাহ' (অনুমোদিত) এবং 'মুমকিন' (সম্ভব) অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং পারিভাষিক ক্ষেত্রে এই সব কটি অর্থই বিদ্যমান
... অনুরূপভাবে তা 'মাশকুক' (সন্দিহান) এবং এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যাতে কাজ করা ও বর্জন করা সমান, অন্য কোনো পার্থক্য নেই।
এটি 'জায়িয' এবং তা কী কী অর্থে ব্যবহৃত হয় তার আলোচনা। কারণ এটি 'মুবাহ'-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এখানে 'মধ্যে' শব্দটি 'উপরে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আমি তোমাদেরকে অবশ্যই খেজুর গাছের কাণ্ডের উপর শূলে চড়াবো।" সুতরাং এই পদ্যটি স্পষ্ট করেছে যে, 'জায়িয' শব্দটি চারটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
প্রথমটি হলো 'মুবাহ', যার সংজ্ঞা ইতিপূর্বে তার বর্ণনার মাধ্যমে অতিবাহিত হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো 'মুমকিন' (সম্ভব)। এটি হয় এমন বিষয় যা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব নয়, অর্থাৎ যা হারাম নয়; আর এটি ওয়াজিব, মানদুব (মুস্তাহাব), মুবাহ এবং মাকরূহ—এই চারটি বিধানকেই অন্তর্ভুক্ত করে। অথবা এটি হতে পারে এমন বিষয় যা বুদ্ধিগতভাবে অসম্ভব নয়, যেমন বলা হয়: জিবরাইল (আ.)-এর জমিনে অবস্থান করা 'জায়িয', অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে এতে কোনো বাধা নেই। আর শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে যা অসম্ভব নয় তার উদাহরণ তারা এভাবে দিয়েছেন যে, বাম হাত দিয়ে খাওয়া 'জায়িয', অর্থাৎ শরয়িভাবে এতে কোনো বাধা নেই। তারা এভাবেই এর উদাহরণ দিয়েছেন, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
তৃতীয়ত, এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার করা এবং বর্জন করা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমান, যেমন শিশুর কাজ; এবং অনুরূপভাবে শরয়িভাবেও সমান, যেমন মুবাহ।
চতুর্থটি হলো 'মাশকুক' (সন্দিহান), যাতে সাব্যস্ত হওয়া এবং নাকচ হওয়ার লক্ষণসমূহ পরস্পর বিরোধী হয়; যেখানে একটি লক্ষণ তার সাব্যস্ত হওয়াকে এবং অন্যটি বুদ্ধিগতভাবে বা শরয়িভাবে তার নাকচ হওয়াকে দাবি করে। বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে তারা এর উদাহরণ দিয়েছেন এমন ব্যক্তির মাধ্যমে, যে বস্তুর মূল হুকুমের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত যে তা কি নিষিদ্ধ নাকি বৈধ। এমতাবস্থায় সে বলে যে, উভয় বিষয়টিই 'জায়িয', অর্থাৎ নিষিদ্ধ হওয়া বা না হওয়া—উভয়টিই সমান, কারণ তাদের দলীলসমূহের বিরোধের কারণে সেগুলো সমপর্যায়ে রয়েছে। আর শরয়ি ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো এমন ব্যক্তি, যে খরগোশের গোশত এবং দুই ঈদের সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, কারণ এই উভয় বিষয়ের লক্ষণসমূহ পরস্পর বিরোধী। ফলে এই দুই দিক বিবেচনায় একে 'জায়িয' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই চারটি অর্থই পদ্যটি প্রদান করেছে।
'মাশকুক'-এর বিবেচনায় 'জায়িয'-এর চারটি অর্থ রয়েছে, যা 'ফাওয়াসিল' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আনা হয়েছে। তাই প্রয়োজনীয়তা না থাকায় আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে আমরা সেগুলো উল্লেখ করছি না। অতঃপর কাজ সম্পাদনের বিবেচনায় হুকুমের অনুবর্তী বিষয়সমূহ—যা কেবল ইবাদতের সাথে খাস—তা আমাদের পরবর্তী বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
.. وَمَا أَتَى فِي وقته مِنْك ابتدا
… مُقَدرا شرعا لَهُ فَهُوَ الأدا
… اعْلَم أَن الْعِبَادَة إِمَّا أَن يكون لَهَا وَقت معِين أَو لَا الثَّانِي لَا يُوصف بأَدَاء وَلَا قَضَاء وَلَا إِعَادَة كالنوافل الْمُطلقَة والأذكار الَّتِي لم توقت وَالْأول وَهُوَ مَا لَهُ وَقت معِين إِمَّا أَن يكون وقته الْمعِين مَحْدُود الطَّرفَيْنِ أَو لَا الثَّانِي يُوصف بِالْأَدَاءِ لَا غير كَالْحَجِّ وَلَا يُوصف بِالْقضَاءِ إِلَّا مجَازًا لأجل المشابهة للمقضي فِي الِاسْتِدْرَاك كَمَا قيل وَالْأول يُوصف بِالثَّلَاثَةِ
إِذا عرفت هَذَا فالأداء قد رسمه النَّاظِم بِمَا سمعته فَقَوله مُقَدرا حَال من وقته أَي الْفِعْل الَّذِي أَتَى مِنْك فِي وقته الْمُقدر لَهُ ابْتِدَاء هُوَ الاداء وَحمل الْأَدَاء على قَوْله مَا أَتَى صَحِيح لِأَن الْمصدر بِمَعْنى الْمَفْعُول قيل وَقد صَار إِطْلَاقه عَلَيْهِ هُنَا حَقِيقَة عرفيه وَابْتِدَاء مَنْصُوب بمقدر الْمَذْكُور أَي فعل فِي وقته الْمُقدر لَهُ ابْتِدَاء فَخرج بقوله فِي وقته النَّوَافِل الْمُطلقَة وَبِقَوْلِهِ الْمُقدر لَهُ ابْتِدَاء الْقَضَاء كَصَلَاة الظّهْر مثلا فَإِن وَقتهَا الأول هُوَ الْأَدَاء وَالثَّانِي وَقت ذكرهَا إِذا نَسِيَهَا أَو نَام عَنْهَا فَإِذا أوقعهَا فِيهِ فَلَيْسَتْ بأَدَاء قلت وَلَك أَن تَقول ابْتِدَاء مَنْصُوب بأتى فَلَا تخرج عَن الْأَدَاء فَإِنَّهُ فعلهَا ابْتِدَاء عِنْد ذكرهَا فِي وَقتهَا وَقد قَالَ الشَّارِع إِنَّه لَا وَقت لَهَا إِلَّا ذَلِك فَهُوَ من قسم الْأَدَاء وَلم يفعل ثَانِيًا
وَقَوله شرعا يخرج مَا إِذا عين الْمُكَلف للْقَضَاء الموسع وقتا وَكَذَا الزَّكَاة إِذا عين الإِمَام لقبضها شهرا فَهُوَ عرفي لَا شَرْعِي وعَلى هَذَا التَّقْدِير فالإعادة من قسم الْأَدَاء وَهُوَ الَّذِي قَرَّرَهُ الْعَضُد وَتَبعهُ الْجلَال فِي شرح الْفُصُول وَهَذَا على تَقْدِير تعلق ابْتِدَاء بمقدر وَقيل إِنَّه يتَعَلَّق بأتى أَي وَمَا أَتَى مِنْك
.. এবং তোমার পক্ষ থেকে যা তার সময়ের শুরুতে সম্পাদিত হয়েছে
… শরীয়ত অনুযায়ী তার জন্য নির্ধারিত সময়ে, তবে তা হলো আদায়
… জেনে রাখুন যে, ইবাদত হয় তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকবে অথবা থাকবে না। দ্বিতীয় প্রকারটি (যার সময় নির্দিষ্ট নয়) আদায়, কাযা বা পুনরাবৃত্তি (ইআদাহ) দ্বারা বিশেষিত হয় না; যেমন সাধারণ নফল নামাজ এবং ঐসব জিকির যার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। আর প্রথম প্রকার, যা হলো যার নির্দিষ্ট সময় আছে, হয় তার নির্দিষ্ট সময়ের শুরু ও শেষ উভয় সীমা থাকবে অথবা থাকবে না। দ্বিতীয় প্রকারটি শুধুমাত্র আদায় দ্বারা বিশেষিত হয়, যেমন হজ। আর এটি কাযা দ্বারা বিশেষিত হয় না কেবল রূপক অর্থ ছাড়া, যা ছুটে যাওয়া আমল পুনরায় আদায়ের সদৃশ হওয়ার কারণে, যেমনটি বলা হয়েছে। আর প্রথম প্রকারটি তিনটির (আদায়, কাযা ও পুনরাবৃত্তি) মাধ্যমেই বিশেষিত হয়।
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন নাজিম (লেখক) আদায়ের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা শুনুন। তাঁর কথা 'নির্ধারিত' শব্দটি 'তার সময়' থেকে হাল (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ, যে কাজটি আপনার পক্ষ থেকে তার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়ে সম্পাদিত হয়েছে, তা-ই হলো আদায়। আর 'আদায়' শব্দটিকে 'যা সম্পাদিত হয়েছে' এর ওপর প্রয়োগ করা সঠিক, কারণ এখানে মাসদার (ক্রিয়ামূল) মাফউল (কর্ম)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এখানে এর প্রয়োগ পারিভাষিক সত্যে পরিণত হয়েছে। আর 'প্রাথমিকভাবে' শব্দটি উল্লিখিত 'নির্ধারিত' দ্বারা মানসুব হয়েছে। অর্থাৎ এমন কাজ যা তার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়ে করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর কথা 'তার সময়ে'-এর মাধ্যমে সাধারণ নফলসমূহ বাদ পড়ে গেল। আর তাঁর কথা 'তার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত'-এর মাধ্যমে কাযা বাদ পড়ে গেল; যেমন জোহরের নামাজ। কারণ এর প্রথম সময়টি হলো আদায়, আর দ্বিতীয় সময়টি হলো তা স্মরণ হওয়ার সময় যখন সে তা ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে। সুতরাং যখন সে সেই সময়ে তা সম্পাদন করে, তখন তা আদায় নয়। আমি বলি, আপনি চাইলে বলতে পারেন যে 'প্রাথমিকভাবে' শব্দটি 'সম্পাদিত হয়েছে' দ্বারা মানসুব, ফলে এটি আদায় থেকে বের হবে না। কারণ সে এটি তার সময়ে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই প্রাথমিকভাবে সম্পাদন করেছে। আর শরীয়তপ্রণেতা বলেছেন যে, সেটি ছাড়া তার আর কোনো সময় নেই। অতএব এটি আদায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বিতীয়বার করা হয়নি।
আর তাঁর কথা 'শরীয়তসম্মতভাবে' দ্বারা ঐ ক্ষেত্রটি বাদ পড়ে যায় যখন কোনো দায়বদ্ধ ব্যক্তি প্রশস্ত কাযা আদায়ের জন্য নিজে কোনো সময় নির্দিষ্ট করে নেয়। অনুরূপভাবে জাকাত, যখন ইমাম তা সংগ্রহের জন্য একটি মাস নির্দিষ্ট করেন, তবে তা প্রথাগত নির্দিষ্টকরণ, শরয়ী নয়। আর এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী পুনরাবৃত্তি (ইআদাহ) আদায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। এটিই আদুদ সুনিশ্চিত করেছেন এবং জালাল 'শারহুল ফুসুল'-এ তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর এটি 'প্রাথমিকভাবে' শব্দটিকে 'নির্ধারিত'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট করার প্রেক্ষিতে। আর বলা হয়েছে যে, এটি 'সম্পাদিত হয়েছে'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ আপনার পক্ষ থেকে যা সম্পাদিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ابْتِدَاء فَتخرج الْإِعَادَة وَقَوله فِي وقته مُقَدرا تخرج النَّوَافِل الْمُطلقَة وعَلى هَذَا بنى الشَّيْخ لطف الله فِي شرح الْفُصُول وَعَلِيهِ اعْتمد صَاحب الْغَايَة فِيهِ
وَاعْلَم أَن ظَاهر الرَّسْم خُرُوج صَلَاة أدْرك مِنْهَا فاعلها رَكْعَة فِي وَقتهَا ثمَّ خرج الْوَقْت وأتى بباقيها خَارِجَة وَحَدِيث الصَّحِيحَيْنِ من أدْرك رَكْعَة من الصَّلَاة فقد أدْرك الصَّلَاة يقْضِي بِأَنَّهَا أَدَاء وَلِهَذَا عرف الْأَدَاء فِي جمع الْجَوَامِع بقوله وَالْأَدَاء فعل بعض وَقيل كل مَا دخل وقته قبل خُرُوجه وَإِذا عرفت مِمَّا ذَكرْنَاهُ آنِفا أَن هُنَاكَ ثَلَاث صِفَات للْفِعْل فقد قدمنَا رسم الأول مِنْهَا وَهُوَ الاداء ورسم الآخرين أَفَادَهُ قَوْلنَا
وَمَا فعلت بعده استدراكا
لواجب مطلقه عراكا
… فَهُوَ القضا فِي الشَّرْع للعباده
فَهَذَا هُوَ ثَانِي الثَّلَاثَة وَهُوَ الْقَضَاء وَضمير بعده عَائِد إِلَى الْوَقْت أَي مَا فعلته بعد وَقت الاداء استدراكا إِلَى آخِره وَقيد مُطلقًا فِي قَوْله مطلقه أَي مُطلق الْوُجُوب ليُوَافق قَوْله فِي الأَصْل استدراكا لما سبق لَهُ وجوب مُطلقًا قَالَ شَارِحه وَقَوله مُطلقًا قيد للوجب أَي سَوَاء كَانَ على القَاضِي أَو على غَيره فَيدْخل فِي ذَلِك قَضَاء الْحَائِض للصَّوْم لِأَنَّهُ وَإِن لم يسْبق لَهُ وجوب عَلَيْهَا فقد سبق على غَيرهَا وَحكى ابْن الْحَاجِب أَن بعض الْأُصُولِيِّينَ فِي حَده للْقَضَاء يحذف مُطلقًا فَعَلَيهِ لَا يُسمى صَوْم الْحَائِض قَضَاء وعَلى الأول يُسمى قَضَاء
প্রাথমিকভাবে পালন, ফলে তা ‘পুনরাবৃত্তি’ (ইআদাহ)-কে বর্জন করে। এবং তাঁর কথা ‘নির্ধারিত সময়ে’ বলার দ্বারা সাধারণ নফল সালাতসমূহ বাদ পড়ে যায়। এর ওপর ভিত্তি করেই শেখ লুৎফুল্লাহ ‘শারহুল ফুসুল’-এ আলোচনা করেছেন এবং ‘আল-গায়াহ’ গ্রন্থের লেখকও এতে তার ওপর নির্ভর করেছেন।
জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞার বাহ্যিক দিক অনুযায়ী ঐ সালাতটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যার আদায়কারী কেবল এক রাকাত ওয়াক্তের মধ্যে পেয়েছে, অতঃপর ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ ওয়াক্তের বাইরে পূর্ণ করেছে। অথচ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীস—‘যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে সালাতটিই পেল’—ফয়সালা দেয় যে এটি ‘আদা’ (যথাসময়ে আদায়কৃত) হিসেবে গণ্য হবে। এই কারণেই ‘জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থে ‘আদা’-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: ‘আদা হলো সেই বিষয়ের অংশবিশেষ—মতান্তরে সম্পূর্ণ—আদায় করা যার ওয়াক্ত শুরু হয়েছে, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে।’ ইতিপূর্বে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে আপনি যখন জানলেন যে কাজের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তখন আমরা তার প্রথমটির সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছি, আর তা হলো ‘আদা’। অন্য দুটির সংজ্ঞা আমাদের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়:
এবং যা কিছু তার পরে পূরণস্বরূপ করা হয়
কোনো নিঃশর্ত ওয়াজিবের ক্ষেত্রে যা তোমার ওপর অর্পিত হয়েছিল
… শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদতের ক্ষেত্রে তাই হলো ‘কাজা’।
এটি হলো তিনটির মধ্যে দ্বিতীয়টি, অর্থাৎ কাজা। এখানে ‘তার পরে’ শব্দের সর্বনামটি ওয়াক্ত বা সময়ের দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ আদা-এর ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর প্রতিকার হিসেবে যা করা হয়। ‘মুতলাকাহু’ শব্দে ‘নিঃশর্ত’ হওয়ার শর্তটি মূলত ওয়াজিবের সাধারণ অবস্থার জন্য, যাতে তা মূল গ্রন্থের এই বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যে—‘এমন বিষয়ের প্রতিকার হিসেবে যা পূর্বে নিঃশর্তভাবে ওয়াজিব ছিল’। এর ব্যাখ্যাকার বলেছেন: ‘নিঃশর্ত’ কথাটি ওয়াজিবের জন্য একটি বিশেষণ। অর্থাৎ চাই তা কাজা আদায়কারীর ওপর ওয়াজিব হোক বা অন্য কারো ওপর। এর ফলে ঋতুবতী নারীর সিয়ামের কাজা এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ যদিও বিষয়টি ইতিপূর্বে তার ওপর ওয়াজিব ছিল না, কিন্তু অন্য সবার ওপর তা ওয়াজিব ছিল। ইবনুল হাজিব বর্ণনা করেছেন যে, উসুলবিদদের কেউ কেউ কাজা-এর সংজ্ঞায় ‘নিঃশর্ত’ শব্দটি বাদ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী ঋতুবতী নারীর সিয়াম পালনকে কাজা বলা হবে না, তবে প্রথম মতানুসারে একে কাজা বলা হবে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ফিকহ ইজাবাতুস সায়েল শারহু বুগইয়াতিল আমিল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقد ثَبت حَدِيث عَائِشَة كُنَّا نؤمر بِقَضَاء الصَّوْم لَا الصَّلَاة وَالْمرَاد بِهِ الْأَدَاء وَهُوَ مَعْنَاهُ لُغَة وَالْخلاف لَفْظِي لِأَن حَالَة الْعذر يجب عَلَيْهَا ترك الصَّوْم وَحَالَة عَدمه يجب عَلَيْهِ الْإِتْيَان بِهِ اتِّفَاقًا وَعرفت أَنه خرج بقوله بعد الْأَدَاء والإعادة وَبِقَوْلِهِ استدراكا الصَّلَاة المؤداة خَارج الْوَقْت قَضَاء ثمَّ أَعَادَهَا بِجَمَاعَة على القَوْل بِأَنَّهَا تكون أَي الأولى نَافِلَة
فَإِن قلت من مَاتَ فحج عَنهُ يكون من الْأَدَاء أَو الْقَضَاء قلت قد جعلُوا الْحَج من الْمُؤَقت وَوَقته الْعُمر فَمَا فعل بعده كَانَ قَضَاء وَأما من فسد حجه فَأتى بِهِ صَحِيحا فَلَا يُسمى قَضَاء إِلَّا مجَازًا كَمَا يُطلق عَلَيْهِ الْفُقَهَاء
وَاعْلَم أَن لفظ النُّسْخَة من النّظم الأولى الَّتِي شرحها مؤلف الفواصل رحمه الله كَانَت بِلَفْظ السَّابِق وُجُوبه علاكا بِحَذْف قيد الْإِطْلَاق فَخرج مِنْهَا صَوْم الْحَائِض عَن أَن يُسمى قَضَاء وَهُوَ قَول بعض الْأُصُولِيِّينَ إِلَّا أَنا حولنا إِلَى مَا هُنَا ليُوَافق الأَصْل فَإِنَّهُ قيد بِالْإِطْلَاقِ لإدخال ذَلِك وَأما السَّبق فَإِنَّهُ وَإِن فَاتَ فِي الَّذِي عوضناه فَقَوله بعده يُغني عَن ذَلِك وَقيد استدراكا قيل لَا حَاجَة إِلَيْهِ لِأَنَّهُ لَيْسَ من مَفْهُوم الْقَضَاء وَإِن كَانَ عرضا لِأَن الْعرض للشَّيْء خَارج عَن ذَاته
وَالثَّالِث وَهُوَ الْإِعَادَة أَشَارَ إِلَيْهِ قَوْلنَا
وَخذ هديت الرَّسْم للإعادة
بِمَا فعلت ثَانِيًا وَقت الأدا
… لخلل فِيمَا أَتَى فِي الإبتدا
الْإِعَادَة هِيَ مَا فعل ثَانِيًا فِي وَقت الْأَدَاء لخلل فِي الْفِعْل الأول فَقَوله ثَانِيًا يخرج الْأَدَاء وَقَوله وَقت الْأَدَاء يخرج الْقَضَاء وَقَوله خلل فِي الأول أَي من فَوَات ركن أَو شَرط يخرج مَا لَيْسَ كَذَلِك كالمنفرد إِذا صلى ثَانِيَة مَعَ
এবং আয়েশা (রা.)-এর হাদীসটি প্রমাণিত যে, 'আমাদের রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাযের নয়।' এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আদায় (সম্পাদন), আর আভিধানিক অর্থে এটিই এর অর্থ। এই মতভেদটি শাব্দিক; কারণ ওজরের (অপারগতার) অবস্থায় তার জন্য রোযা বর্জন করা ওয়াজিব এবং ওজর না থাকা অবস্থায় তা পালন করা সর্বসম্মতভাবে ওয়াজিব। আর আপনি জেনেছেন যে, তার 'আদায় ও ই'য়াদার পর' এবং 'ক্ষতিপূরণস্বরূপ' বলার মাধ্যমে ঐ নামাযটি বের হয়ে গেছে যা ওয়াক্তের বাইরে কাযা হিসেবে আদায় করা হয়েছে, অতঃপর তা জামায়াতে পুনরায় আদায় করা হয়েছে এই মতানুসারে যে, প্রথমটি নফল হিসেবে গণ্য হবে।
যদি আপনি বলেন: যে ব্যক্তি মারা গেল এবং তার পক্ষ থেকে হজ করা হলো, তা কি আদায় হবে নাকি কাযা? আমি বলব: তারা হজকে সময়নির্ধারিত ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর সময় হলো পুরো জীবন। সুতরাং এরপর যা করা হবে তা কাযা হবে। আর যার হজ নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে তা সঠিকভাবে পুনরায় সম্পাদন করেছে, তাকে রূপক অর্থ ব্যতীত কাযা বলা হয় না, যেমনটি ফকীহগণ এর ওপর প্রয়োগ করে থাকেন।
জেনে রাখুন যে, 'ফাওয়াসিল' গ্রন্থের লেখক (রহ.) যে প্রথম কাব্যের ব্যাখ্যা করেছেন, তার পাঠ ছিল 'যার ওয়াজিব হওয়া পূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছে'—এভাবে নিঃশর্ততার শর্তটি বাদ দিয়ে। এর ফলে ঋতুবতী নারীর রোযাকে কাযা বলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা কিছু উসূলে ফিকহবিদের অভিমত। তবে আমরা ইহাকে এখানে যা আছে তাতে রূপান্তরিত করেছি যেন তা মূল পাঠের অনুগামী হয়; কেননা তা একে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিঃশর্তভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। আর 'পূর্ববর্তী হওয়া'র বিষয়টি আমরা যা স্থলাভিষিক্ত করেছি তাতে না থাকলেও, তার পরবর্তী বক্তব্য তা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। আর 'ক্ষতিপূরণস্বরূপ' শর্তটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এর প্রয়োজন নেই, কারণ এটি কাযার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়; যদিও এটি একটি আনুষঙ্গিক গুণ, আর কোনো কিছুর আনুষঙ্গিক গুণ তার সত্তার বহির্ভূত।
এবং তৃতীয় প্রকার হলো ই'য়াদা (পুনরাবৃত্তি), যার প্রতি আমাদের এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে:
আপনি হেদায়েতপ্রাপ্ত হোন, ই'য়াদার সংজ্ঞা গ্রহণ করুন:
যা দ্বিতীয়বার আদায়ের ওয়াক্তের মধ্যেই পালন করা হয়
… শুরুতে যা করা হয়েছিল তাতে ত্রুটি থাকার কারণে।
ই'য়াদা হলো যা প্রথম কাজের ত্রুটির কারণে আদায়ের ওয়াক্তের মধ্যেই দ্বিতীয়বার সম্পাদন করা হয়। সুতরাং 'দ্বিতীয়বার' কথাটি 'আদায়'কে বর্জন করে, আর 'আদায়ের ওয়াক্ত' কথাটি 'কাযা'কে বর্জন করে। এবং 'প্রথমটিতে ত্রুটি' অর্থাৎ কোনো রুকন বা শর্ত বাদ পড়া—এমন বিষয়কে বর্জন করে যা এমন নয়, যেমন একাকী নামায আদায়কারী যখন দ্বিতীয়বার নামায পড়ে সাথে