(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في أصول الفقه   (ابن شهاب العكبري)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: رسالة في أصول الفقه

المؤلف: أبو علي الحسن بن شهاب بن الحسن بن علي بن شهاب العكبريّ الحنبلي (ت 428هـ)

المحقق: د. موفق بن عبد الله بن عبد القادر

الناشر: المكتبة المكية - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1413هـ-1992م

عدد الصفحات: 143

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালা ফি উসুলিল ফিকহ   (ইবনে শিহাব আল-উকবারী)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: রিসালা ফি উসুলিল ফিকহ

লেখক: আবু আলী আল-হাসান ইবনে শিহাব ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে শিহাব আল-উকবারী আল-হানবালী (মৃ. ৪২৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মুওয়াফফাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কাদির

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়্যাহ - মক্কাতুল মুকাররমাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি-১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة أَبُو على الْحسن بن شهَاب العكبري الْحَنْبَلِيّ رضي الله عنه وأرضاه آمين الْحَمد لله ذِي الْحجَج البوالغ وَالنعَم السوابغ حمدا يروي أصُول رياض أفضاله كَمَا يَنْبَغِي لكرم وَجهه وَعز جَلَاله وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ المفيض بجوده ونواله وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله الَّذين هم شَجَرَة أَصْلهَا النُّبُوَّة وفرعها الْمُرُوءَة وَأَصْحَابه الَّذين هم زِينَة الْحَيَاة وسفينة النجَاة وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا

اعْلَم فهمك الله ونفعك بِهِ إِن إحكام الْفِقْه سَبْعَة أَقسَام

وَاجِب ومباح ومحظور ومندوب إِلَيْهِ وَسنة وصحيح وفاسد
শায়খ, ইমাম, আল্লামা আবু আলী আল-হাসান ইবনে শিহাব আল-উকবারী আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, আমীন) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অকাট্য দলিল ও অফুরন্ত নেয়ামতের অধিকারী। এমন প্রশংসা যা তাঁর অনুগ্রহের কাননসমূহের মূলকে সিক্ত করে, যেমনটি তাঁর সত্তার মহিমা এবং তাঁর প্রতাপের গাম্ভীর্যের জন্য উপযুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি তাঁর দান ও করুণা দ্বারা অনুগ্রহ বর্ষণকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর—যাঁরা নবুওয়তের মূল ও সৌজন্যের শাখা সম্বলিত বৃক্ষ সদৃশ—এবং তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর, যাঁরা পার্থিব জীবনের অলংকার ও মুক্তির তরী (সফিনা)।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং এর দ্বারা উপকৃত করুন—নিশ্চয়ই ফিকহ শাস্ত্রের বিধানসমূহ (أحكام) সাতটি ভাগে বিভক্ত:

ওয়াজিব (واجب), মুবাহ (مباح), নিষিদ্ধ (محظور), পছন্দনীয় (مندوب إليه), সুন্নাত (سنة), সহিহ (صحيح) এবং ফাসেদ (فاسد)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَالْوَاجِب مَا يُثَاب الْمُكَلف على فعله ويعاقب على تَركه

 

وَلَو قلت مَا كَانَ فِي تَركه عِقَاب أَجْزَأَ وتميز من الْمَنْدُوب

والحتم وَاللَّازِم والمكتوب عبارَة عَن الْفَرْض
সুতরাং ওয়াজিব (واجب) হলো তা-ই, যার সম্পাদনের জন্য মুকাল্লাফকে (مكلف) সওয়াব প্রদান করা হয় এবং যা ত্যাগের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।

 

আর আপনি যদি বলেন, "যা ত্যাগের জন্য শাস্তি রয়েছে," তবে তা যথেষ্ট হবে এবং এটি মানদুব (مندوب) থেকে পৃথক হয়ে যাবে।

হাতম (حتم), লাজিম (لازم) এবং মাকতুব (مكتوب) মূলত ফরজ (فرض)-এরই বিভিন্ন অভিব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَالْفَرْض هُوَ الْوَاجِب وَالصَّحِيح عَن أَحْمد رضي الله عنه لِأَن حدهما فِي الشَّرْع سَوَاء
আর ফরজ (فرض) হলো ওয়াজিব (واجب); এবং ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী শরীয়তের বিধানে এই দুটির সংজ্ঞা একই।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
والمباح مل فعل
এবং মুবাহ (مباح) হলো তা যা সম্পাদন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مَأْذُون فِيهِ لفَاعِله لَا ثَوَاب لَهُ فِي فعله وَلَا عِقَاب عَلَيْهِ فِي تَركه

وَفِيه احْتِرَاز من أَفعَال المجانين وَالصبيان والبهائم لِأَنَّهُ لَا يَصح إذْنهمْ وإعلامهم بِهِ

وَلَا يدْخل على ذَلِك فعل الله كَمَا لَا يجوز أَن يُوصف أَنه مَأْذُون لَهُ

والمحظور مَا يُعَاقب الْمُكَلف على فعله ويثاب عَلَيْهِ
যা সম্পাদনের জন্য এর কর্তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে (مأذون فيه), এটি করার জন্য কোনো সওয়াব (ثواب) নেই এবং এটি বর্জনের জন্য কোনো শাস্তি (عقاب) নেই।

এর মাধ্যমে পাগল, শিশু এবং পশুপাখির কার্যাবলীকে বাদ (احترز) দেওয়া হয়েছে; কারণ তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি (إذن) প্রদান এবং এ বিষয়ে তাদের অবহিত করা সঠিক (صحيح) নয়।

আল্লাহর কাজ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমনভাবে তাঁকে 'অনুমতিপ্রাপ্ত' (مأذون له) হিসেবে অভিহিত করা বৈধ (جائز) নয়।

আর নিষিদ্ধ (محظور) হলো তা-ই, যার সম্পাদনের কারণে শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (مکلف) শাস্তি (عقاب) প্রদান করা হয় এবং সওয়াব (ثواب) প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
تَركه

وَالنَّدْب استدعاء الْفِعْل بالْقَوْل مِمَّن هُوَ دونه على وَجه يتَضَمَّن التَّخْيِير بَين الْفِعْل وَالتّرْك

وَالْمَنْدُوب مَا كَانَ فِي فعله ثَوَاب وَلَيْسَ فِي تَركه عِقَاب
তা বর্জন (ترك) করা।

আর ‘নদব’ (الندب) হলো নিম্নপদস্থ কারো নিকট থেকে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পাদনের তলব বা আহ্বান করা এমনভাবে, যা উক্ত কাজ করা এবং বর্জন (ترك) করার মধ্যে পছন্দের অবকাশ রাখে।

আর ‘মানদুব’ (المندوب) হলো এমন কাজ যা সম্পাদন করলে সওয়াব (ثواب) রয়েছে এবং যা বর্জন (ترك) করলে কোনো শাস্তি (عقاب) নেই।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وحد السّنة مَا رسم ليتخذا وَلِهَذَا قَالَ النَّبِي من سنّ حَسَنَة فَلهُ أجرهَا وَأجر من عمل بهَا إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَمن سنّ سَيِّئَة فَعَلَيهِ وزرها من عمل بهَا إِلَى يَوْم الْقِيَامَة
সুন্নতের (سنة) সংজ্ঞা হলো এমন এক নির্ধারিত কর্মপন্থা যা অনুসরণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। এই কারণেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম সুন্নত (سنة) প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াবও সে লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ সুন্নত (سنة) প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই মন্দ কর্মের পাপ বর্তাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর আপতিত হবে।"
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقد يَقع إِطْلَاق اسْم السّنة على الْوَاجِب وَمَا لَيْسَ بِوَاجِب

قَالَ الله تَعَالَى

(سنت الله الَّتِي قد خلت ف عباده)

أَي شَرِيعَة الله
কখনও কখনও সুন্নাহ (سنة) শব্দের প্রয়োগ ওয়াজিব (واجب) এবং যা ওয়াজিব (واجب) নয়—উভয় প্রকার বিধানের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন—

(আল্লাহর সেই বিধান যা তাঁর বান্দাদের মাঝে অতিবাহিত হয়েছে)

অর্থাৎ আল্লাহর শরিয়ত (شريعة)
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَقَالَ عليه السلام من السّنة أَن لَا يقتل الْحر بِالْعَبدِ وَأَرَادَ الشَّرِيعَة

والشريعة تعم الْوَاجِب وَغَيره إِلَّا أَن الْغَالِب عِنْد الْفُقَهَاء أَن إِطْلَاق اسْم السّنة يَقع على مَا لَيْسَ بِوَاجِب

فعلى هَذَا يجب أَن يُقَال مَا رسم ليتخذا اسْتِحْبَابا

وَالصَّحِيح مَا طابق الْعقل وَالنَّقْل
এবং তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত হলো স্বাধীন ব্যক্তিকে দাসের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না; আর তিনি এর দ্বারা শরীয়ত (الشريعة) উদ্দেশ্য করেছেন।

আর শরীয়ত (الشريعة) ওয়াজিব (الواجب) এবং তা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে; তবে ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট অধিক প্রচলিত রীতি হলো, সুন্নাহ (السنة) নামের প্রয়োগ সাধারণত এমন বিষয়ের ওপর হয় যা ওয়াজিব (واجب) নয়।

সুতরাং এই প্রেক্ষিতে বলা আবশ্যক যে, যা মুস্তাহাব (استحباباً) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

আর সহিহ (الصحيح) হলো তা-ই, যা বিচারবুদ্ধি ও বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَالْفَاسِد بِخِلَافِهِ
আর ত্রুটিযুক্ত (فাসد) এর বিপরীত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌فصل

 

وَدلَالَة الشَّرْع سِتَّة
পরিচ্ছেদ

 

এবং শরীয়তের নির্দেশনা (دلالة) ছয়টি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
أصُول تشْتَمل على سِتَّة فُصُول كتاب الله تَعَالَى وَسنة نبيه وَإِجْمَاع أمته وَالْقِيَاس واستصحاب الْحَال وَقَول الصَّحَابِيّ الْوَاحِد
মূলনীতিসমূহ (أصول) যা ছয়টি পরিচ্ছেদ সম্বলিত: মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة), তাঁর উম্মতের ঐকমত্য (إجماع), অনুমাননির্ভর সাদৃশ্যবিধান (قياس), বিদ্যমান অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب) এবং একক সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌الْفَصْل الأول

 

الْكتاب ويشتمل على عشرَة أَصْنَاف خَاص
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

গ্রন্থটি দশটি বিশেষ প্রকার (أصناف) সম্বলিত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وعام ومحكم ومتشابه ومجمل وَمُطلق ومقيد وناسخ ومنسوخ

فالمحكم حَده مَا تأبد حكمه ويعبر بِهِ أَيْضا عَن الْمُفَسّر كَمَا قَالَ الله تَعَالَى
এবং সাধারণ (عام), সুস্পষ্ট (محكم), অস্পষ্ট (متشابه), সংক্ষিপ্ত (مجمل), শর্তহীন (مطلق), শর্তযুক্ত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ)।

সুস্পষ্ট (المحكم)-এর সংজ্ঞা হলো যার বিধান চিরস্থায়ী এবং এর দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত (المفسر) বিষয়কেও বোঝানো হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
(هُوَ الَّذِي أنزل عَلَيْك الْكتاب مِنْهُ ءايت محكمت هن أم الْكتب وَأخر متشابهات)

وَأَرَادَ بالمحكمات المفسرة والمستغنية فِي مَعَانِيهَا عَمَّا يُفَسِّرهَا وحد ذَلِك مَا يعقل مَعْنَاهُ

والمتشابه هُوَ الَّذِي يحْتَاج فِي معرفَة مَعْنَاهُ إِلَى تفكر وتدبر وقرائن
(তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন; তার মধ্যে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), যা কিতাবের মূল ভিত্তি; এবং অন্যগুলো অস্পষ্ট বা রূপক (متشابهات)।)

এখানে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (محكمات) দ্বারা তিনি ওইসব আয়াতকে উদ্দেশ্য করেছেন যা সবিস্তারে ব্যাখ্যাত এবং নিজ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়। আর এর সংজ্ঞা হলো—যার অর্থ সহজেই অনুধাবন করা যায়।

আর অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) হলো তা, যার মর্মার্থ অনুধাবনের জন্য গভীর চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা এবং সহায়ক প্রমাণের (قرائن) প্রয়োজন হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
تبينه وتزيل إشكاله

والمجمل مَا لم يبن عَن المُرَاد بِنَفسِهِ كَقَوْلِه تَعَالَى
যা সেটিকে সুস্পষ্ট করে এবং এর জটিলতা দূর করে।

আর সংক্ষেপে বর্ণিত (المجمل) হলো তা, যা নিজেই নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে না; যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
(وءاتوا حَقه يَوْم حصاد)

فَإِن ذَلِك مُجمل فِي جنس الْحق وَقدره وَيحْتَاج إِلَى دَلِيل يُبينهُ ويفسر مَعْنَاهُ

وَمثل قَوْله تَعَالَى

(قل لَا أجد مَا أُوحِي إِلَيّ محرما على طاعم يطعمهُ إِلَّا أَن يكون ميتَة أَو دَمًا مسفوحا أَو لحم خِنْزِير)

فَلَمَّا نهى صلى عَلَيْهِ وَسلم عَن كل ذِي نَاب من السبَاع وكل ذِي مخلب من الطير دلّت أَحْكَام صَاحب الشَّرْع أَن الْآيَة لَيست على ظَاهرهَا وَأَنه هُوَ الْمعبر لما فِي كتاب الله تَعَالَى وَمن لزم ظَاهر الْآيَة لزمَه ان يُبِيح لحم الْكَلْب والفأرة والفيل
(এবং ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করো)

নিশ্চয়ই তা হকের প্রকার ও পরিমাণের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত (مجمل); এটি এমন একটি দলিল (دليل) বা প্রমাণের মুখাপেক্ষী যা একে সুস্পষ্ট করবে এবং এর অর্থ ব্যাখ্যা করবে।

এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

(বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে আমি আহারকারীর জন্য আহার করা হারাম এমন কিছু পাই না, তবে তা যদি মৃত জন্তু অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের গোশত হয়...)

অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট শিকারি পশু এবং নখরবিশিষ্ট শিকারি পাখি ভক্ষণ করতে নিষেধ করলেন, তখন শরীয়ত প্রণেতার বিধানসমূহ একথাই প্রমাণ করল যে, আয়াতটি তার বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ নয় এবং মহান আল্লাহর কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনিই তার যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদানকারী। আর যে ব্যক্তি আয়াতের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর অটল থাকবে, তার জন্য কুকুর, ইঁদুর এবং হাতির গোশত বৈধ বলে গণ্য করা আবশ্যক হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
والقرد وَغير ذَلِك مِمَّا نهي عَنهُ
এবং বানর ও এজাতীয় অন্যান্য বিষয় যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৫২)
وَالْمُطلق هُوَ المتناول لوَاحِد لَا بِعَيْنِه بِاعْتِبَار حَقِيقَة شَامِلَة لجنس وَهِي النكرَة فِي سِيَاق الْأَمر

(فَتَحْرِير رَقَبَة)

وَقد يكون فِي الْخَبَر كَقَوْلِه لَا نِكَاح إِلَّا بولِي
এবং মুতলাক (مطلق) হলো যা এমন একটি অনির্দিষ্ট এককের ওপর প্রযোজ্য হয় যা তার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত সকল সত্তার ক্ষেত্রে হাকীকত হিসেবে ব্যাপক; আর এটি হলো আদেশ (أمر) এর প্রসঙ্গের মধ্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة)।

(অতঃপর একটি দাস মুক্ত করা)

আর কখনো এটি খবরের (خبر) ক্ষেত্রেও হতে পারে, যেমন তাঁর বাণী: “অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই।”
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
والمقيد هُوَ المتناول لمُعين وَغير معِين مَوْصُوف بِأَمْر زَائِد على الْحَقِيقَة

كَقَوْلِه تَعَالَى
আর সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত (مقيد) হলো তা, যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে অথবা মূল সত্তার (حقيقة) অতিরিক্ত কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিশেষিত কোনো অনির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
(وتحرير رَقَبَة مُؤمنَة فَمن لم يجد فَصِيَام شَهْرَيْن مُتَتَابعين

قيد الرَّقَبَة بِالْإِيمَان وَالصِّيَام بالتتابع

والنسخ فِي اللُّغَة الرّفْع والإزالة كَقَوْلِهِم نسخت الرِّيَاح الْآثَار أَي أزالتها

وَهِي عرف الْفُقَهَاء انْقِضَاء مُدَّة الْعِبَادَة الَّتِي ظَاهرهَا الْإِطْلَاق
(এবং একজন মুমিন দাস মুক্ত করা; অতঃপর যে সামর্থ্য রাখবে না, সে টানা দুই মাস বিরতিহীন (متتابعين) রোজা রাখবে।

এখানে দাস মুক্তির বিষয়টি ঈমানের সাথে এবং রোজা রাখার বিষয়টি বিরতিহীন (بالتتابع) হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে।

আর আভিধানিক অর্থে রহিতকরণ (النسخ) হলো কোনো কিছু উঠিয়ে দেওয়া (الرفع) এবং মিটিয়ে দেওয়া (الإزالة); যেমন আরবদের প্রবাদ: ‘বাতাস পদচিহ্নগুলো মিটিয়ে দিয়েছে’, অর্থাৎ তা বিলুপ্ত করে দিয়েছে।

ফকিহগণের পরিভাষায় এটি হলো সেই ইবাদতের সময়কাল শেষ হওয়া, যা বাহ্যত নিঃশর্ত (الإطلاق) মনে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَإِن شِئْت قلت بَيَان مَا لم يرد بِاللَّفْظِ الْعَام فِي الْأَزْمَان مَعَ تراخيه واحتراز من الحكم الْمُعَلق على زمَان مَخْصُوص

فَإِن لَيْسَ بنسخ لَهُ لِأَن الحكم لم يكن مُطلقًا مثل قَوْله تَعَالَى

(ثمَّ أَتموا الصّيام إِلَى اللَّيْل)

فَلَيْسَ انْقِضَاء اللَّيْل نسخا للْحكم الْمُعَلق فِيهِ وَلَا انْقِضَاء النَّهَار نسخا للصَّوْم الْمَأْمُور بِهِ فِيهِ وَالله أعلم
আপনি চাইলে বলতে পারেন, এটি এমন বিষয়ের বর্ণনা যা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সময়ের প্রেক্ষিতে ব্যাপক (عام) শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়নি এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান থেকে সতর্কতা স্বরূপ।

কারণ এটি তার জন্য রহিতকরণ (نسخ) নয়, কেননা বিধানটি নিঃশর্ত (مطلق) ছিল না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

(অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো)

সুতরাং রাতের অবসান হওয়া তাতে সংশ্লিষ্ট বিধানের জন্য রহিতকরণ (نسخ) নয় এবং দিনের সমাপ্তি তাতে নির্দেশিত রোজার রহিতকরণ (نسخ) নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي فِي سنة رَسُول الله

 

وقسمتها قسْمَة الْكتاب وتزيد عَلَيْهِ بقسمين يختصان بهَا دون الْكتاب الْفِعْل وَالْإِقْرَار على القَوْل وَالْفِعْل

فَفعله يجب أَن يقْتَدى بِهِ فِي إِيجَاب وَندب وَإِبَاحَة لمساواته لنا فِي التَّكْلِيف

وَالدُّخُول تَحت المرسوم وَالْحُدُود فَأَما فعل الله تَعَالَى فخارج عَن هَذَا القيبل لعدم دُخُوله تَحت مرسوم لِأَنَّهُ حَاكم غير مَحْكُوم عَلَيْهِ

وَإِقْرَاره على القَوْل وَالْفِعْل يدل على الْإِبَاحَة لِأَنَّهُ بعث مُبينًا ومؤدبا ومعرفا وُجُوه الْفساد وَالصَّلَاح فَلَا يجوز عَلَيْهِ الْإِقْرَار على مَا هُوَ قَبِيح فِي الشَّرْع
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) প্রসঙ্গে

 

সুন্নাহর শ্রেণিবিভাগ আল-কুরআনের শ্রেণিবিভাগের অনুরূপ। তবে সুন্নাহর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুটি প্রকার রয়েছে যা কিতাবুল্লাহর বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়; সেগুলো হলো: কর্ম (الفعل) এবং কথা ও কাজের ওপর মৌনসম্মতি (الإقرار)।

ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (إيجاب), মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়তা (ندب) এবং মুবাহ বা বৈধতার (إباحة) ক্ষেত্রে তাঁর কর্মের অনুসরণ করা আবশ্যক; কারণ শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা (التكليف) এবং নির্ধারিত বিধিবিধান ও সীমানার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আমাদেরই সমতুল্য।

পক্ষান্তরে মহান আল্লাহর কর্ম এই শ্রেণির বহির্ভূত, কারণ তিনি কোনো বিধির আওতাভুক্ত নন; কেননা তিনি বিচারক (حاكم), তিনি আদিষ্ট (محكوم عليه) নন।

আর কোনো কথা বা কাজের ওপর তাঁর মৌনসম্মতি (الإقرار) তার বৈধতা (إباحة) নির্দেশ করে। কেননা তাঁকে শরিয়তের ব্যাখ্যাদানকারী, শিষ্টাচার শিক্ষক এবং অনিষ্ট ও কল্যাণের পথসমূহ পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং শরিয়তে যা কদর্য বা মন্দ (قبيح), তার ওপর তাঁর মৌনসম্মতি (الإقرار) প্রদান করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَإِقْرَار الله تَعَالَى على مَا يعلم قبحه لَا يدل على التشريع لِأَنَّهُ إِنَّمَا أقرّ بِتَأْخِير الْمُؤَاخَذَة والإمهال عَن المعاجلة بِخِلَاف الرُّسُل فَإِنَّهُم سفراء عَنهُ فِي الزّجر عَن ارْتِكَاب الْمَفَاسِد الْمنْهِي عَنْهَا والحث على الْمصَالح الْمَأْمُور بهَا

فَأَما الْإِقْرَار على القَوْل فنحو مَا رُوِيَ عَن أبي بكر الصّديق رضي الله عنه أَنه قَالَ لماعز إِن أَقرَرت أَرْبعا رجمك رَسُول الله فَكَانَ ذَلِك جَارِيا مجْرى قَوْله إِن أَقرَرت أَرْبعا رَجَمْتُك
এবং আল্লাহ তাআলার কোনো মন্দ বিষয়ের ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করা তা শরয়ি বিধান দান (تشريع) হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার দলিল নয়। কারণ, তিনি কেবল পাকড়াও বিলম্বিত করার মাধ্যমে এবং তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান হতে অবকাশ প্রদানের মাধ্যমেই মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করেন। কিন্তু রাসূলগণের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা তাঁরা নিষিদ্ধ অনিষ্টকর কাজসমূহ হতে বিরত রাখা এবং নির্দেশিত কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রতিনিধি।

আর কোনো বক্তব্যের ওপর মৌনসম্মতি (إقرار)-এর উদাহরণ হলো যেমনটি আবু বকর সিদ্দীক (রা.) হতে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি মা’ইজকে বলেছিলেন: “যদি তুমি চারবার স্বীকারোক্তি দাও, তবে আল্লাহর রাসূল তোমাকে রজম করবেন।” এটি তাঁর এই কথার স্থলাভিষিক্ত ছিল যে, “যদি তুমি চারবার স্বীকারোক্তি দাও, তবে আমি তোমাকে রজম করব।”
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَأما الْإِقْرَار على الْفِعْل فنحو مَا رُوِيَ أَن جواريا من بني النجار كن يضربن بالدف وَيَقُلْنَ

(نَحن جوَار من بني النجار … وحبذا مُحَمَّد من جَار)

فَقَالَ اعْلَم أَنِّي أحبكم

وَلم ينههم عَن ذَلِك فَدلَّ على جَوَازه
আর কোনো কাজের ওপর মৌন সম্মতির (الإقرار) বিষয়টি এমন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, বনু নাজ্জার গোত্রের কিছু বালিকা দফ বাজাচ্ছিল এবং বলছিল:

(আমরা বনু নাজ্জার গোত্রের বালিকা … আর প্রতিবেশী হিসেবে মুহাম্মাদ কতই না চমৎকার!)

অতঃপর তিনি বললেন, "জেনে রেখো যে, আমি তোমাদের ভালোবাসি।"

তিনি তাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করেননি, যা এর বৈধতা (جواز) প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

 

إِجْمَاع أمته وَهُوَ اتِّفَاق عُلَمَاء الْعَصْر على حكم النَّازِلَة

وَيعرف اتِّفَاقهم بقَوْلهمْ أَو بقول بَعضهم وسكوت البَاقِينَ حَتَّى ينقرض الْعَصْر عَلَيْهِم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

তাঁর উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع); আর তা হলো কোনো উদ্ভূত সমস্যার (نازلة) বিধানের ওপর ওই যুগের আলেমদের ঐকমত্য (اتفاق)।

তাঁদের ঐকমত্য জানা যায় তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা তাঁদের কয়েকজনের বক্তব্য এবং অন্যদের নীরবতার মাধ্যমে, যতক্ষণ না তাঁদের সেই যুগের পরিসমাপ্তি (انقراض العصر) ঘটে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَهُوَ مَأْخُوذ من الْعَزْم على الشَّيْء كَمَا يُقَال أَجمعُوا أَمرهم بَينهم أَي عزموا عَلَيْهِ فَإِذا عزم الْأَمر وَهُوَ حجَّة خلافًا للنظام لأَنهم معصومون عَن الْخَطَأ بقوله لَا تَجْتَمِع أمتِي على ضَلَالَة

আর এটি কোনো বিষয়ের ওপর দৃঢ় সংকল্প করা থেকে গৃহীত, যেমনটি বলা হয়— তারা তাদের বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সুসংহত করেছে অর্থাৎ তারা সে বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং যখন বিষয়টি দৃঢ় হয়, তখন তা একটি অকাট্য দলিল (حجة), যা নাযযামের মতের পরিপন্থী। কেননা তারা (উম্মত) ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত (معصوم); তাঁর এই বাণীর কারণে যে— ‘আমার উম্মত কখনোই পথভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না’।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وَقَوله من فَارق الْجَمَاعَة وَلَو قيد شبر خلع ربقة الْإِسْلَام من عُنُقه
এবং তাঁর এই বাণী: "যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ হলেও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার গর্দান থেকে ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করল।"
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌الْفَصْل الرَّابِع

 

الْقيَاس وَهُوَ رد الْفَرْع إِلَى الأَصْل بعلة جَامِعَة بَينهمَا

وَهَذَا حد الْقيَاس فِي الأَصْل من حَيْثُ الْجُمْلَة

وَقد حدوه بعبارات مُخْتَلفَة وَالْمعْنَى مُتَّفق وَهُوَ
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

 

কিয়াস (القياس); আর তা হলো একটি সমন্বয়কারী কার্যকর কারণের (علة جامعة) মাধ্যমে শাখাকে (الفرع) মূলের (الأصل) দিকে ফিরিয়ে আনা।

এটি সামগ্রিকভাবে (من حيث الجملة) মূলত কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা (حد)।

তাঁরা একে বিভিন্ন শব্দে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তবে এর অর্থ অভিন্ন; আর তা হলো: