(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى مذهب الإمام أحمد لابن بدران   (ابن بدران)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل

المؤلف: عبد القادر بن أحمد بن مصطفى بن عبد الرحيم بن محمد بدران (ت 1346هـ)

المحقق: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الثانية، 1401

عدد الصفحات: 501

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে বাদরান রচিত ইমাম আহমদের মাযহাবের ভূমিকা   (ইবনে বাদরান)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের ভূমিকা

লেখক: আব্দুল কাদির বিন আহমদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বাদরান (মৃত্যু ১৩৪৬ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০১

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم نحمدك يَا من هُوَ مَحْمُود بِكُل لِسَان

حمد من اتّصف بِالْإِيمَان بقوله وَعَمله والجنان

وننزهك يَا من لَيْسَ كمثله شَيْء فَلَا يشْغلهُ شَأْن عَن شَأْن

وَلَا يَخْلُو من علمه مَكَان

عَن كل مَا يصفك بِهِ أولو الزيغ والطغيان

والافتراء والبهتان

نصفك بِمَا وصفت بِهِ نَفسك فِي كتابك الْمنزل

وَبِمَا بلغنَا عَن نبيك الْمُصْطَفى الْمُرْسل

من غير تَشْبِيه وَلَا تَمْثِيل

وَلَا تَأْوِيل وَلَا تَعْطِيل

وَنكل علم حَقِيقَة ذَلِك إِلَيْك يَا وَاجِب الْوُجُود

وَيَا مفيض الْكَرم على عِبَادك والجود

سُبْحَانَكَ لَا تمثلك الْعُقُول بالتفكير

وَلَا تتوهمك الْقُلُوب بالتصوير

فالخلق عاجزون عَن كنه الْحَقِيقَة

وَلَو خبروا الْعلم بأجمعه ودقيقه

ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا أَنْت وَحدك لَا شريك لَك شَهَادَة مقرّ بالعبودية لَا يَجْعَل بَيْنك وَبَينه أندادا

وَلَا ينقاد إِلَّا إِلَى شرعك الَّذِي أوحيته إِلَى نبيك انقيادا

ويجتهد فِيمَا يرضيك من الِاعْتِقَاد وَالْعَمَل اجْتِهَادًا

عله أَن يبلغ من رضاك ورحمتك مرَادا

وَأَن ترزقه فِي دُنْيَاهُ وأخراه إسعادا

ونشهد أَن مُحَمَّدًا عَبدك وَرَسُولك خير خلقك ومهبط
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমরা আপনার প্রশংসা করি, হে সেই সত্তা যিনি প্রতিটি রসনায় প্রশংসিত।

এমন ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার কথা, কাজ ও অন্তরের মাধ্যমে ঈমানের গুণে গুণান্বিত।

আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি, হে সেই সত্তা যাঁর সদৃশ কিছুই নেই, যাকে এক কাজ অন্য কাজ থেকে বিমুখ করে না।

কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞান থেকে মুক্ত নয়।

বিচ্যুতি ও অবাধ্যতা পোষণকারীরা আপনার সম্পর্কে যে বর্ণনা দেয়, তা থেকে (আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি)।

এবং মিথ্যা অপবাদ ও কুৎসা থেকেও।

আপনি আপনার অবতীর্ণ কিতাবে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন, আমরা আপনার সেই গুণগান করি।

এবং আপনার মনোনীত প্রেরিত নবীর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে, তার মাধ্যমেও।

কোনো সাদৃশ্য প্রদান বা উপমা দেওয়া ছাড়াই।

এবং কোনো অপব্যাখ্যা বা অর্থহীন করা ছাড়াই।

আর তার প্রকৃত তত্ত্বের জ্ঞান আমরা আপনার কাছেই ন্যস্ত করি, হে অনিবার্য অস্তিত্ব (ওয়াজিবুল উজুদ)।

হে আপনার বান্দাদের ওপর মহানুভবতা ও করুণা বর্ষণকারী।

আপনি পবিত্র, চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে বুদ্ধি আপনার কোনো প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারে না।

অন্তর কল্পনার মাধ্যমে আপনার কোনো চিত্র বা রূপ ধারণা করতে পারে না।

কেননা সৃষ্টিজগত হাকিকতের মূল রহস্য অনুধাবনে অক্ষম।

যদিও তারা সমস্ত জ্ঞান এবং তার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হয়।

আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই; এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যে দাসত্ব স্বীকার করে এবং আপনার ও নিজের মাঝে কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ করে না।

এবং আপনার সেই শরিয়তের প্রতিই আনুগত্য প্রকাশ করে যা আপনি আপনার নবীর প্রতি ওহি হিসেবে পাঠিয়েছেন।

এবং আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে আপনার সন্তুষ্টি অর্জনে পূর্ণ প্রচেষ্টা চালায়।

যাতে সম্ভবত সে আপনার সন্তুষ্টি ও রহমতের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

এবং আপনি তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্য দান করেন।

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল, আপনার সৃষ্টির সেরা এবং ওহি অবতরণের স্থল...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪২)
وحيك والمبلغ لشرعك والأمين على مَا أنزلت عَلَيْهِ من كتابك وَدينك {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْأِسْلامُ} آل عمرَان 19

صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه عُمُوما البررة الْكِرَام السَّادة الْأَعْلَام

مَا سرت فِي ميادين الطروس وعَلى جباهها الأقلام

وَمَا غردت حمائم الأيك على الصون

وأطرب العيس حادي العيس بألطف الْأَلْفَاظ وأعذب اللحون

واستنبط من الْكتاب الْعَزِيز وَمَا صَحَّ عَن الْمُصْطَفى الْمُخْتَار أدق الْمعَانِي المستنبطون وَسلم تَسْلِيمًا

أما بعد فَيَقُول الْفَقِير لعفو ربه المنان عبد الْقَادِر بن أَحْمد بن مصطفى بن عبد الرَّحِيم بن مُحَمَّد الْمَشْهُور كأسلافه بِابْن بدران أنني لما من الله عَليّ بِطَلَب الْعلم هجرت لَهُ الوطن والوسن وَكنت أبكر فِيهِ بكور الْغُرَاب وأطوف الْمعَاهد لتحصيله وأذهب فِيهِ كل مَذْهَب وأتبع فِيهِ كل شعب وَلَو كَانَ عسرا أشرف على كل يفاع كل غور فَتَارَة أطوح بنفسي فِيمَا سلكه ابْن سينا فِي الشفار والإشارات وَتارَة أتلقف مَا سبكه أَبُو نصر الفارابي من صناعَة الْمنطق وَتلك الْعبارَات

وَتارَة أجول فِي مَوَاقِف الْمَقَاصِد والمواقف

وَأَحْيَانا أطلب الْهِدَايَة ظنا مني أَنَّهَا تهدي إِلَى رشد

فأضم إِلَيْهَا مَا سلكه ابْن رشد

ثمَّ أردد فِي الطبيعي والإلهي نظرا

وَفِي تشريح الأفلاك أتطلب خَبرا أَو خَبرا

ثمَّ أجول فِي ميادين الْعُلُوم مُدَّة كعدد السَّبع الْبَقَرَات الْعِجَاف فأرتد إِلَيّ الطّرف خاسئا وَهُوَ حسير وَلم أحصل من معرفَة الله جل جلاله إِلَّا على أَوْهَام وخطرات وساوس وأشكال تنشأ من الْبَحْث والتدقيق فأدفعه بِمَا أقنع نَفسِي بنفسي فَلَمَّا هَمت فِي تِلْكَ الْبَيْدَاء الَّتِي هِيَ على حد قَول أبي الطّيب يَتلون الخريت من خوف التوى فِيهَا كَمَا تلون الحرباء
আপনার ওহী (বহনকারী), আপনার শরীয়ত প্রচারকারী এবং আপনি আপনার কিতাব ও দ্বীন থেকে যা কিছু তাঁর ওপর নাযিল করেছেন তার আমানতদার। {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} (আলে ইমরান: ১৯)।

আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবায়ে কেরামের ওপর, যাঁরা পুণ্যবান, সম্মানিত এবং মহান নেতা।

যতক্ষণ পর্যন্ত কাগজের ময়দানে এবং তাদের ললাটে কলমসমূহ চলমান থাকবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত বনের ঘুঘুগুলো ডালপালার ওপর গুঞ্জন করবে।

এবং উটচালক তার কোমল শব্দ ও সুমধুর সুরে উটের কাফেলাকে বিমোহিত করবে।

এবং যতক্ষণ পর্যন্ত গবেষকগণ মহাগ্রন্থ ও মনোনীত রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ বিষয়াদি হতে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অর্থসমূহ উদ্ভাবন করবেন; এবং তাঁর ওপর বর্ষিত হোক অঢেল শান্তি।

অতঃপর, তাঁর দয়াময় প্রতিপালকের ক্ষমার ভিখারি—আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ ইবনে মুস্তফা ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ, যিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো ইবনে বদরান নামে পরিচিত—বলছেন: আল্লাহ যখন আমাকে জ্ঞান অন্বেষণের তাওফিক দান করলেন, তখন আমি এর জন্য স্বদেশ এবং আরাম-নিদ্রা ত্যাগ করলাম। আমি খুব ভোরে কাকের ন্যায় ক্ষিপ্রতায় বের হতাম এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা নিকেতনে ঘুরে বেড়াতাম। আমি এর জন্য প্রতিটি পথ অবলম্বন করেছি এবং প্রতিটি শাখা অনুসরণ করেছি, তা যত কঠিনই হোক না কেন। আমি প্রতিটি উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি পর্যবেক্ষণ করেছি। কখনো আমি নিজেকে সঁপে দিয়েছি ইবনে সিনা 'শিফা' ও 'ইশারাত' গ্রন্থে যে পথ অবলম্বন করেছেন তাতে, আবার কখনো আমি আবু নসর আল-ফারাবি যুক্তিবিদ্যার শিল্পে যা কিছু গেঁথেছেন এবং সেসব পরিভাষা গ্রহণ করেছি।

কখনো আমি 'মাকাসিদ' ও 'মাওয়াকিফ'-এর ময়দানে বিচরণ করেছি।

মাঝে মাঝে আমি 'হিদায়াত' অন্বেষণ করতাম এই মনে করে যে, এটি সঠিক পথ দেখাবে।

তাই আমি এর সাথে ইবনে রুশদ যা অনুসরণ করেছেন তা যুক্ত করতাম।

এরপর আমি পদার্থবিদ্যা ও অধিবিদ্যার বিষয়ে বারংবার চিন্তা করতাম।

এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশ্লেষণে কোনো তথ্য বা তত্ত্বের তালাশ করতাম।

এরপর আমি বিজ্ঞানের ময়দানগুলোতে সাতটি শীর্ণ গাভীর মেয়াদের (সাত বছর) ন্যায় দীর্ঘ সময় বিচরণ করলাম; পরিশেষে আমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে আমার কাছে ফিরে এল। আমি মহান আল্লাহর পরিচয় (মা'রিফাত) সম্পর্কে কিছু কল্পনা, সংশয়, কুমন্ত্রণা এবং গভীর অনুসন্ধান ও চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে উদ্ভূত কিছু জটিলতা ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারিনি, যা আমি নিজের মনকে প্রবোধ দিয়ে দূর করতাম। যখন আমি সেই মরুভূমিতে দিকভ্রান্ত হলাম, যে মরুভূমি সম্পর্কে আবু তাইয়্যিব বলেছিলেন: "অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক সেখানে পথ হারানোর ভয়ে রঙ পরিবর্তন করে, যেমন গিরগিটি রঙ পরিবর্তন করে।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ناداني مُنَادِي الْهدى الْحَقِيقِيّ هَلُمَّ إِلَى الشّرف والكمال ودع نجاة ابْن سينا الموهومة إِلَى النجَاة الْحَقِيقِيَّة وَمَا ذَلِك إِلَّا بِأَن تكون على مَا كَانَ عَلَيْهِ السّلف الْكِرَام من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان فَإِن الْأَمر لَيْسَ على مَا تتوهم وَحَقِيقَة الرب لَا يُمكن أَن يُدْرِكهَا المربوب وَمَا السَّلامَة إِلَّا بِالتَّسْلِيمِ وَكتاب الله حق وَلَيْسَ بعد الْحق إِلَّا الضلال

فهنالك هدأ روعي وَجعلت عقيدتي كتاب الله أكل علم صِفَاته إِلَيْهِ بِلَا تجسيم وَلَا تَأْوِيل وَلَا تَشْبِيه وَلَا تَعْطِيل وانجلى مَا كَانَ على قلبِي من رأن أورثته قَوَاعِد أرسطوطاليس وَقلت مَا كَانَ إِلَّا من النّظر فِي تِلْكَ الوساوس والبدع والدسائس فَمن أَيْن لعباد الْكَوَاكِب أَن يرشدونا إِلَى الصِّرَاط الْمُسْتَقيم وَمَا كَانُوا مهتدين

وَمن أَيْن لأَصْحَاب المقالات أَن يعلمُوا حَقِيقَة قيوم الأَرْض وَالسَّمَوَات وَلَو كَانَت حَقِيقَة صِفَات الله تَعَالَى تدْرك بالعقول لوصل أَصْحَاب رسائل إخْوَان الصفاء إِلَى الصَّفَا ولاتصل صَاحب النَّجَاء والشفاء إِلَى النجَاة وغليل لبه وشفا وَلَكِن {وَلَا يحيطون بِشَيْء من علمه إِلَّا بِمَا شَاءَ} {وَمَا أُوتِيتُمْ من الْعلم إِلَّا قَلِيلا} وَأَيْنَ هم من قَوْله صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة لَكِن من اتبع هَوَاهُ هام فِي كل وَاد وَلم يبال بِأَيّ شعب سلك وَلَا بِأَيّ طَرِيق هلك
সত্য হেদায়েতের এক আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বললেন: সম্মান ও পূর্ণতার দিকে এগিয়ে এসো এবং ইবনে সিনার কাল্পনিক মুক্তি ছেড়ে প্রকৃত মুক্তির দিকে ধাবিত হও। আর তা কেবল তখনই সম্ভব যখন তুমি সেই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে যার ওপর সাহাবা, তাবিঈন এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সেই মর্যাদাবান সালাফগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কেননা বিষয়টি তেমন নয় যেমন তুমি কল্পনা করো; আর রবের প্রকৃত সত্তা বা হাকিকত কোনো সৃষ্টির পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কিছুতে নিরাপত্তা নেই; এবং আল্লাহর কিতাব সত্য, আর সত্যের পরে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নেই।

তখন আমার অস্থিরতা প্রশমিত হলো এবং আমি আল্লাহর কিতাবকেই আমার আকিদার ভিত্তি বানালাম। আমি তাঁর গুণাবলির জ্ঞানকে কোনো প্রকার দেহত্বারোপ, অপব্যাখ্যা, সাদৃশ্য প্রদান কিংবা গুণ অস্বীকার ছাড়াই তাঁর নিকট সোপর্দ করলাম। অ্যারিস্টটলের মূলনীতিসমূহ আমার অন্তরে যে কলুষতা তৈরি করেছিল তা দূর হয়ে গেল। আমি বললাম, সেই সব কুমন্ত্রণা, বিদআত এবং ষড়যন্ত্রের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছিল। নক্ষত্রপুজারিদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করা, অথচ তারা নিজেরাও হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিল না?

ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের প্রবক্তারা কীভাবে আসমান ও জমিনের চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক রবের প্রকৃত সত্তা সম্পর্কে অবগত হবে? যদি আল্লাহ তাআলার গুণাবলির হাকিকত জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবন করা যেত, তবে ‘রাসাইল ইখওয়ানুস সাফা’-এর রচয়িতারা নির্মলতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত এবং ‘নাজাত’ ও ‘শিফা’-এর লেখক প্রকৃত মুক্তি ও অন্তরের আরোগ্য লাভে সক্ষম হতো। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, "তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত" এবং "তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।" তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী থেকে কতই না দূরে— "তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো, একে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরো। আর দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থেকো। কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে প্রতিটি উপত্যকায় দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়; সে কোন পথে চলল বা কোন পথে ধ্বংস হলো তার সে ভ্রূক্ষেপ থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَمن ثمَّ جعلت شغلي كتاب الله تدريسا وتفسيرا أَو بِسنة نبيه الْمُخْتَار قِرَاءَة أَيْضا وشرحا وتحريرا فَللَّه الْحَمد على هَذِه الْمِنَّة وأسأله الثَّبَات على ذَلِك وازدياد النِّعْمَة ثمَّ إِنِّي زججت نَفسِي فِي بحار الْأُصُول وَالْفُرُوع والبحث عَن الْأَدِلَّة حَتَّى لَا أكون منقادا لكل قَائِد وَلَا مُقَلدًا تقليدا أعمى لمن يَقُودهُ فَإِن هَذِه حَالَة لَا يرضى بهَا الصّبيان فضلا عَمَّن أُوتِيَ شَيْئا من الْعقل ثمَّ سبرت الْمذَاهب المتبوعة الْآن وَكَثِيرًا من غير المتبوعة فَوجدت كلا مِنْهُم قدس الله أسرارهم وَجعل فِي عليين مَنَازِلهمْ قد اجْتهد فِي طلب الْحق وَلم يأل جهدا فِي طلبه وَلَا قصر فِي اجْتِهَاده بل قَامَ بِمَا عهد إِلَيْهِ حق الْقيام ونصح الْأمة واجتنب كل مَا يشين غير أَن الإِمَام أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل رضي الله عنه كَانَ أوسعهم معرفَة بِحَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَمَا يعلم من اطلع على مُسْنده الْمَشْهُور وَأَكْثَرهم تتبعا لمذاهب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فَلذَلِك كَانَ مذْهبه مؤيدا بالأدلة السمعية حَتَّى كَأَنَّهُ ظهر فِي الْقرن الأول لشدَّة اتِّبَاعه لِلْقُرْآنِ وَالسّنة إِلَّا أَنه كَانَ رَحمَه الله تَعَالَى لشدَّة ورعه ينْهَى عَن كِتَابَة كَلَامه ليبقي بَاب الِاجْتِهَاد لمن هُوَ أهل لَهُ مَفْتُوحًا وليعلم الْقَوْم أَن فضل الله لَا يَنْقَطِع وَأَن خزائنه لم تنفذ على عكس مَا يَدعِيهِ القاصرون وينتحله المبطلون ولحسن نِيَّته قيض الله من دون فَتَاوَاهُ وَجَمعهَا ورتبها حَتَّى صَار لَهُ مَذْهَب مُسْتَقل مَعْدُود بَين

এরপর আমি আমার সকল কর্মপ্রচেষ্টাকে আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা প্রদান ও এর তাফসীর এবং তাঁর মনোনীত নবীর সুন্নাহর পঠন, ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার সাথে যুক্ত করেছি। এই মহান অনুগ্রহের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য এবং আমি তাঁর নিকট এই পথে অটল থাকা ও নেয়ামত বৃদ্ধির প্রার্থনা জানাই। অতঃপর আমি উসূল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) এর সমুদ্রে অবগাহন করলাম এবং দলীলসমূহ নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালালাম, যাতে আমি কোনো নির্বিচার অনুসারী না হই কিংবা কোনো পথপ্রদর্শকের অন্ধ অনুকরণ না করি; কেননা এ এমন এক অবস্থা যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তো দূরের কথা, অবুঝ শিশুরাও পছন্দ করে না। তারপর আমি বর্তমানের প্রচলিত ও অনেক অপ্রচলিত মাযহাবসমূহ পর্যালোচনা করে দেখলাম যে, তাঁদের প্রত্যেকেই—আল্লাহ তাঁদের রহস্যসমূহ পবিত্র করুন এবং ইল্লিয়্যিনে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন—সত্যের অন্বেষণে কঠোর সাধনা করেছেন এবং ইজতিহাদের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ত্রুটি বা শৈথিল্য প্রদর্শন করেননি। বরং অর্পিত আমানত তাঁরা যথাযথভাবে পালন করেছেন, উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন এবং সকল নিন্দনীয় বিষয় পরিহার করেছেন। তবে ইমাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস সম্পর্কে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, যা তাঁর প্রখ্যাত ‘মুসনাদ’ পাঠকারী মাত্রই অবগত হতে পারেন। এছাড়া তিনি সাহাবী ও তাবিঈগণের মাযহাব বা মতাদর্শের অনুসরণেও ছিলেন সর্বাগ্রগণ্য। আর এ কারণেই তাঁর মাযহাব সরাসরি শ্রুত দলীলাদি দ্বারা এমনভাবে পুষ্ট ছিল যে, কুরআন ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসরণের প্রাবল্যে মনে হতো তিনি যেন প্রথম শতাব্দীতেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর তীব্র তাকওয়ার কারণে নিজের কথা লিখে রাখতে বারণ করতেন, যাতে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত থাকে এবং মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে আল্লাহর অনুগ্রহ অশেষ ও তাঁর ভাণ্ডার অফুরন্ত—যা সংকীর্ণমনাদের দাবি ও বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর সদ্নিয়তের বরকতে আল্লাহ এমন কিছু লোকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যারা তাঁর ফাতাওয়াগুলো লিপিবদ্ধ, সংগ্রহ ও সুবিন্যস্ত করেছেন, যার ফলে তাঁর একটি স্বতন্ত্র মাযহাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা (অন্যান্য মাযহাবের মধ্যে) গণ্য...

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْأَئِمَّة الَّذين دونوا وألفوا ثمَّ هيأ الله لَهُ أتباعا وأصحابا سلكوا فِي رواياته مَسْلَك الِاجْتِهَاد كَمَا تعلمه مِمَّا سَيَأْتِي وألفوا فِي ذَلِك المطولات والمتوسطات والمختصرات فجزاهم الله خيرا غير أَنهم تركُوا اصْطِلَاحَات مُتَفَرِّقَة فِي غُضُون الْكتب لَا يعلمهَا إِلَّا المتقنون وسلكوا مسالك لَا يُدْرِكهَا إِلَّا المحصلون وَأصَاب هَذَا الْمَذْهَب مَا أصَاب غَيره من تشَتت كتبه حَتَّى آلت إِلَى الاندراس وأكب النَّاس على الدُّنْيَا فنظروا إِلَيْهِ فَإِذا هُوَ منهل سنة وَفقه صَحِيح لَا مورد مَال فهجره كثير مِمَّن كَانَ مُتبعا لَهُ رَجَاء طلب قَضَاء أَو وَظِيفَة فَمن ثمَّ تقلص ظله من بِلَادنَا السورية وخصوصا فِي دمشق إِلَّا قَلِيلا وأشرق نوره فِي الْبِلَاد النجدية من جَزِيرَة الْعَرَب وهب قوم كرام مِنْهُم لطبع كتبه وأنفقوا الْأَمْوَال الطائلة لإحياء هَذَا الْمَذْهَب لَا يطْلبُونَ بذلك إِلَّا وَجه الله تَعَالَى وَلَا يقصدون إِلَّا إحْيَاء مَذْهَب السّلف وَمَا كَانَ عَلَيْهِ الصَّحَابَة والتابعون فجزاهم الله خيرا وَأحسن إِلَيْهِم على أَن قوما من أولي التَّقْلِيد الْأَعْمَى أسراء الْوَهم والخيالات الْفَاسِدَة وَالْجهل الْمركب يطعنون فِي أُولَئِكَ وينفرون النَّاس مِنْهُم وَمَا ذَلِك إِلَّا أَن الله أَرَادَ بأولئك الْقَوْم خيرا فاظهر لَهُم أَعدَاء لينشروا فَضلهمْ من حَيْثُ لَا يعلمُونَ {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ} الشُّعَرَاء 227 وَمَا هَؤُلَاءِ إِلَّا على حد مَا حَكَاهُ الْحَافِظ أَبُو الْقَاسِم عَليّ بن عَسَاكِر الدِّمَشْقِي فِي أَوَائِل تَارِيخه عَن أبي يحيى السكرِي قَالَ دخلت مَسْجِد دمشق فَرَأَيْت بِهِ حلقا فَقلت هَذَا بلد دخله جمَاعَة من الصَّحَابَة فملت إِلَى حَلقَة فِي صدرها شيخ جَالس فَجَلَست إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رجل أَمَامه من عَليّ بن أبي طَالب فَقَالَ خفاق يَعْنِي ضَعِيفا كَانَ بالعراق اجْتمعت عَلَيْهِ جمَاعَة فقصد أَمِير الْمُؤمنِينَ أَن يحاربه فنصره الله عَلَيْهِ قَالَ فاستعظمت ذَلِك وَقمت فَرَأَيْت فِي جَانب

সেই ইমামগণ যারা সংকলন ও রচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর জন্য এমন অনুসারী ও সহচরদের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যারা তাঁর বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের পথ অবলম্বন করেছেন, যেমনটি আপনি পরবর্তীতে জানতে পারবেন। তাঁরা এ বিষয়ে দীর্ঘ, মাঝারি ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। তবে তাঁরা কিতাবসমূহের মাঝে বিক্ষিপ্ত এমন কিছু পরিভাষা রেখে গেছেন যা কেবল বিশেষজ্ঞরাই জানেন, এবং এমন পথ অবলম্বন করেছেন যা কেবল গভীর জ্ঞানসম্পন্নরাই অনুধাবন করতে পারেন। এই মাযহাবটিও অন্যান্য মাযহাবের মতো কিতাবসমূহের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ার সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, এমনকি তা বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আর মানুষ দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তারা যখন এই মাযহাবের দিকে তাকাল, তখন দেখল এটি সুন্নাহ ও সহীহ ফিকহের একটি উৎস মাত্র, অর্থ উপার্জনের কোনো মাধ্যম নয়। ফলে যারা এই মাযহাবের অনুসারী ছিল, তাদের অনেকেই বিচারকের পদ বা কোনো চাকরির আশায় একে পরিত্যাগ করল। এই কারণে আমাদের সিরীয় ভূখণ্ডে, বিশেষ করে দামেস্কে এর প্রভাব বিলীন হয়ে গেল, সামান্য কিছু বাদে। আর আরব উপদ্বীপের নজদ অঞ্চলে এর আলো উদ্ভাসিত হলো এবং সেখানকার একদল মহৎ ব্যক্তি এর কিতাবসমূহ ছাপানোর জন্য ব্রতী হলেন। তাঁরা এই মাযহাবকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করলেন, এর মাধ্যমে তাঁরা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন এবং সালাফদের মাযহাব তথা সাহাবী ও তাবেয়ীগণ যে পথের ওপর ছিলেন তা পুনরুজ্জীবিত করার সংকল্প করেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। তবে একদল অন্ধ অনুসারী, যারা ভ্রান্ত ধারণা ও কল্পনা এবং জটিল মূর্খতার শিকারে পরিণত হয়েছে, তারা ঐ ব্যক্তিদের নিন্দা করে এবং মানুষকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর এটি কেবল এজন্যই যে, আল্লাহ ওই লোকদের কল্যাণ চেয়েছিলেন, তাই তাদের জন্য শত্রু প্রকাশ করে দিয়েছেন যাতে তারা অজান্তেই তাদের মর্যাদা ছড়িয়ে দেয়। "আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে তারা কোন পরিণতির দিকে প্রত্যাবর্তন করবে" (আশ-শুআরা: ২২৭)। আর এই লোকেরা তো ঠিক তেমন, যেমনটি হাফেজ আবুল কাসিম আলী ইবনে আসাকির আদ-দামেশকী তাঁর ইতিহাসের শুরুতে আবু ইয়াহইয়া আস-সুক্কারি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে অনেকগুলো ইলমী মজলিস দেখলাম। আমি বললাম, এটি এমন একটি শহর যেখানে অনেক সাহাবী প্রবেশ করেছেন। তখন আমি একটি মজলিসের দিকে এগিয়ে গেলাম যার মাঝখানে একজন শায়খ বসা ছিলেন, আমি তাঁর কাছে বসলাম। তখন তাঁর সামনে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আলী ইবনে আবি তালিব কে? তিনি বললেন, 'খাফফাক' অর্থাৎ তিনি ইরাকের একজন দুর্বল ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর কাছে একদল লোক সমবেত হয়েছিল। অতঃপর আমীরুল মুমিনীন তাঁর সাথে যুদ্ধ করার সংকল্প করলেন এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর ওপর বিজয় দান করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি একে অত্যন্ত গুরুতর অন্যায় মনে করলাম এবং উঠে দাঁড়ালাম, অতঃপর এক পাশে দেখতে পেলাম...

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْمَسْجِد شَيخا يُصَلِّي إِلَى سَارِيَة حسن السمة وَالصَّلَاة والهيئة فَقلت لَهُ يَا شيخ أَنا رجل من أهل الْعرَاق جَلَست إِلَى تِلْكَ الْحلقَة وقصصت عَلَيْهِ الْقِصَّة فَقَالَ فِي هَذَا الْمَسْجِد عجائب بَلغنِي أَن بَعضهم يطعن على أبي مُحَمَّد الْحجَّاج بن يُوسُف فعلي بن أبي طَالب من هُوَ ثمَّ جعل يبكي انْتهى

فَهَؤُلَاءِ مَا عرفُوا إِلَّا عليا المركون فِي مخيلتهم وَلم يعلمُوا عليا الْحَقِيقِيّ وَكَذَلِكَ الَّذين يطعنون على المتبعين لمَذْهَب السّلف يطعنون على قوم لَا وجود لَهُم إِلَّا فِي مخيلتهم الْفَاسِدَة وتصوراتهم المختلة وَلَو فَهموا حَقِيقَة الْقَوْم لانقادوا إِلَيْهِم وجعلوهم أَئِمَّة هدَاهُم وَلذَلِك وضعت كتابي خدمَة لهَذَا الْمَذْهَب الْحق ومشاركة لَهُم فِي إحيائه عله ينالني من الْأجر مَا ينالون وَمن الْخَيْر وَالْبركَة مَا يؤملون

وَلما رتبته وأتممته وسميته بالمدخل إِلَى مَذْهَب الإِمَام أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل وضمنته جلّ مَا يحْتَاج إِلَى مَعْرفَته المشتغل بِهَذَا الْمَذْهَب وسلكت بِهِ مسلكا لم أجد غَيْرِي سلكه حَتَّى صَار بحيا يسْتَحق أَن يكون مدخلًا لسَائِر الْمذَاهب وَلَيْسَ على المخترع أَن يَسْتَوْفِي جَمِيع الْأَقْسَام بل عَلَيْهِ أَن يفتح الْبَاب ثمَّ لَا يَخْلُو فِيمَا بعد من مستحسن لَهُ يقف عِنْد مَا دونه أَو مُسْتَدْرك عَلَيْهِ بِذكر مَا أخل بِهِ أَو مُخْتَصر لَهُ يحذف مَا يرَاهُ من الزِّيَادَات يزعمه على أَنه لَا يُمكن الْإِنْسَان أَن يَأْتِي بِمَا يستحسنه جَمِيع الْبشر فَإِن هَذَا شَأْن الْعلي الْأَعْلَى جلّ وَعلا

ورتبت هَذَا الْمدْخل على ثَمَانِيَة عُقُود عدد أَبْوَاب الْجنان رَجَاء أَن يدخلنا الله يَوْم الْقِيَامَة مِنْهَا كلهَا وَهَذِه فهرست تِلْكَ الْعُقُود
মসজিদে একজন বৃদ্ধকে একটি খুঁটির দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে দেখলাম, যাঁর অবয়ব, সালাত এবং বেশভূষা অত্যন্ত সুন্দর ছিল। আমি তাঁকে বললাম, "হে শেখ, আমি ইরাক থেকে আসা একজন লোক।" আমি সেই পাঠচক্রে বসলাম এবং তাঁর কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, "এই মসজিদে অনেক বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তাদের কেউ কেউ আবু মুহাম্মাদ হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিন্দা করে। তাহলে আলি বিন আবি তালিব কে?" এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। (সমাপ্ত)

এরা কেবল তাদের কল্পনাপ্রসূত আলিকে চিনেছে, তারা প্রকৃত আলিকে চিনতে পারেনি। তদ্রূপ যারা সালাফদের মাযহাবের অনুসারীদের নিন্দা করে, তারা এমন এক কওমের সমালোচনা করে যাদের অস্তিত্ব কেবল তাদের কলুষিত কল্পনা ও বিকৃত চিন্তাধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদি তারা এই কওমের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারত, তবে অবশ্যই তাদের আনুগত্য করত এবং তাদের হিদায়াতের ইমাম হিসেবে গ্রহণ করত। এই কারণেই আমি এই সত্য মাযহাবের খিদমতে এবং একে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আমার এই কিতাবটি রচনা করেছি; যাতে তাদের প্রাপ্য সওয়াব এবং প্রত্যাশিত কল্যাণ ও বরকতের অংশীদার আমিও হতে পারি।

যখন আমি এটি বিন্যস্ত ও সম্পন্ন করলাম এবং এর নাম দিলাম ‘আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল’ (ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলের মাযহাবের প্রবেশিকা), তখন আমি এতে এই মাযহাব নিয়ে চর্চাকারীদের জন্য যা জানা প্রয়োজন তার অধিকাংশ বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি এতে এমন এক পথ অবলম্বন করেছি যা আমার আগে আর কাউকে অবলম্বন করতে দেখিনি, এমনকি এটি অন্যান্য সকল মাযহাবের জন্য একটি প্রবেশিকা হওয়ার যোগ্যতায় উন্নীত হয়েছে। কোনো বিষয়ের উদ্ভাবকের দায়িত্ব সমস্ত শাখা-প্রশাখা পূর্ণ করা নয়, বরং তাঁর কাজ হলো পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া। এরপর এমন কেউ আসবে যে একে পছন্দ করে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, অথবা এমন কেউ আসবে যে কোনো বিচ্যুতি উল্লেখ করে এর ওপর সংশোধন আনবে, কিংবা এমন কেউ আসবে যে একে সংক্ষেপ করতে গিয়ে নিজের বিবেচনায় অতিরিক্ত মনে হওয়া অংশগুলো বাদ দেবে। কারণ কোনো মানুষের পক্ষে এমন কিছু পেশ করা সম্ভব নয় যা সমস্ত মানুষের নিকট পছন্দনীয় হবে; কেননা এই বৈশিষ্ট্য কেবল সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।

আমি এই প্রবেশিকা গ্রন্থটিকে জান্নাতের দরজাসমূহের সংখ্যার সাথে মিল রেখে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, এই আশায় যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ যেন আমাদের এর সবগুলো দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর এটিই হলো সেই অধ্যায়গুলোর সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৭)
العقد الأول فِي العقائد الَّتِي نقلت عَن الإِمَام المبجل أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل

العقد الثَّانِي فِي السَّبَب الَّذِي لأَجله اخْتَار كثير من كبار الْعلمَاء مَذْهَب الإِمَام أَحْمد على مَذْهَب غَيره

العقد الثَّالِث فِي ذكر أصُول مذْهبه فِي استنباط الْفُرُوع وَبَيَان طَرِيقَته

العقد الرَّابِع فِي مَسْلَك كبار أَصْحَابه فِي تَرْتِيب مذْهبه واستنباطه من فتياه وَالرِّوَايَات عَنهُ وتصرفهم فِي ذَلِك الْإِرْث المحمدي الأحمدي

العقد الْخَامِس فِي الْأُصُول الْفِقْهِيَّة الَّتِي دونهَا الْأَصْحَاب وَفِي فن الجدل

العقد السَّادِس فِيمَا اصْطلحَ عَلَيْهِ المؤلفون فِي فقه الإِمَام أَحْمد مِمَّا يحْتَاج إِلَيْهِ المبتدىء

العقد السَّابِع فِي ذكر الْكتب الْمَشْهُورَة فِي الْمَذْهَب وَبَيَان طَريقَة بَعْضهَا وَمَا عَلَيْهِ من التعليقات والحواشي حسب الْإِمْكَان

العقد الثَّامِن فِي أَقسَام الْفِقْه عِنْد أَصْحَابنَا وَمَا ألف فِي هَذَا النَّوْع وَفِي هَذَا العقد دُرَر ورد الْعَجز على الصَّدْر

وَهَذِه طلائع تِلْكَ الْعُقُود وَمَا أودع فِيهَا من الْفقر والدرر وَالله الْمعِين
প্রথম অধ্যায়: সেই সকল আকিদা বা বিশ্বাসমালা প্রসঙ্গে, যা সম্মানিত ইমাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সেই কারণ প্রসঙ্গে, যার দরুন বহু প্রথিতযশা আলেম ইমাম আহমাদের মাযহাবকে অন্যদের মাযহাবের ওপর প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়: শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধান আহরণে তাঁর মাযহাবের মূলনীতিসমূহ এবং তাঁর পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর মাযহাব সুবিন্যস্তকরণে তাঁর প্রবীণ অনুসারীগণের কর্মপন্থা এবং তাঁর ফতোয়া ও বর্ণনা থেকে মাসআলা আহরণ, এবং মুহাম্মাদী ও আহমাদী সেই ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মতৎপরতা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: ফিকহশাস্ত্রের সেই সকল মূলনীতি প্রসঙ্গে যা অনুসারীগণ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বিতর্কশিল্পের মূলনীতি প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ইমাম আহমাদের ফিকহশাস্ত্রে লেখকদের ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ প্রসঙ্গে, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন।

সপ্তম অধ্যায়: মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির বর্ণনা, সেগুলোর কয়েকটির পদ্ধতি এবং সম্ভবানুযায়ী সেগুলোর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: আমাদের মাযহাবের আলেমদের নিকট ফিকহের বিভিন্ন বিভাগ এবং এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে। এই অধ্যায়ে সারগর্ভ ও মূল্যবান বিষয়সমূহ রয়েছে যা শেষাংশকে প্রথমাংশের সাথে সম্পৃক্ত করে।

এগুলো হলো সেই সকল অধ্যায়ের উপক্রমণিকা এবং এতে নিহিত মূল্যবান সারসংক্ষেপ ও মুক্তোসমূহ। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌العقد الأول

فِي العقائد الَّتِي نقلت عَن الإِمَام المبجل أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل اعْلَم أننا ذاكرون إِن شَاءَ الله مَا كَانَ عَلَيْهِ الإِمَام أَحْمد من الِاعْتِقَاد الَّذِي هُوَ مَذْهَب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين والسادة الْمُحدثين رضوَان الله عَلَيْهِم ولسنا نذْكر إِلَّا مَا نَقله لنا الثِّقَات من كَلَامه فِي هَذَا النَّوْع ليستغني بذلك أَتْبَاعه عَمَّا ألف فِي علم العقائد عُمُوما مِمَّا دخله التَّأْوِيل والتعطيل والتشبيه والتمثيل أَو حام حول الْحُلُول والاتحاد أَو كَانَ من قبيل مغالطة الْخصم فِي الجدل فَظَنهُ الغبي مذهبا لقائله فقلده بِهِ تقليدا أعمى فضل وأضل حَيْثُ إِن مسالك الجدل غير مسالك الِاعْتِقَاد وَأَنت إِذا طرحت التعصب وَنظرت فِي كتب عُلَمَاء الْكَلَام الموثوق بهم بإنصاف وسبرت غورهم فِي عقائدهم تجدها رَاجِعَة إِلَى عقيدة السّلف إِمَّا بالاضطرار وَإِمَّا بِصَرِيح التَّصْرِيح أَو التَّلْوِيح كَمَا جرى لأبي الْحسن الْأَشْعَرِيّ فَإِنَّهُ لما ألف الْكتب فِي الرَّد على الْمُعْتَزلَة على طَريقَة فن الجدل أعلن أخيرا بِبَيَان عقيدته فِي كِتَابه الْمُسَمّى بالإنابة عَن مَذْهَب أهل الْحق وَصرح فِيهِ بِأَن مذْهبه مَذْهَب الصَّحَابَة وتابعيهم بِإِحْسَان فَمن فهم مقاصده أصبح سلفيا
প্রথম পরিচ্ছেদ

মহিমান্বিত ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ সম্পর্কে। জেনে রাখুন যে, ইনশাআল্লাহ্ আমরা ইমাম আহমাদ যে আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা উল্লেখ করব, যা সাহাবী, তাবিঈন, মুজতাহিদ ইমামগণ এবং হাদীসবিশারদ মহোদয়গণের (আল্লাহ্ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন) মাযহাব। আমরা এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা যা বর্ণনা করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করব না, যাতে তাঁর অনুসারীরা আকিদা শাস্ত্রের ওপর রচিত ঐসব সাধারণ গ্রন্থ থেকে বিমুখ থাকতে পারেন যেগুলোতে অপব্যাখ্যা, গুণাবলি অস্বীকার করা, সাদৃশ্য প্রদান ও উপমা প্রদান প্রবেশ করেছে অথবা যা সর্বেশ্বরবাদ ও অদ্বৈতবাদের সীমানায় ঘোরাফেরা করে, কিংবা যা বিতর্কের ময়দানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার কৌশল ছিল কিন্তু নির্বোধ ব্যক্তিরা সেগুলোকে প্রবক্তার প্রকৃত মাযহাব মনে করে অন্ধভাবে অনুকরণ করেছে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে। কেননা বিতর্কের পথ আর আকিদা বা বিশ্বাসের পথ ভিন্ন। আপনি যদি গোঁড়ামি পরিহার করেন এবং নির্ভরযোগ্য ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহ ইনসাফের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁদের আকিদার গভীরতা অনুসন্ধান করেন, তবে দেখতে পাবেন যে সেগুলো সালাফদের আকিদার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে—হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে, নয়তো স্পষ্ট ঘোষণা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে। যেমনটি ঘটেছিল আবুল হাসান আল-আশআরীর ক্ষেত্রে; তিনি যখন বিতর্ক শাস্ত্রের পদ্ধতিতে মুতাজিলাদের খণ্ডন করে কিতাবসমূহ লিখেছিলেন, তখন শেষ পর্যন্ত ‘আল-ইনাবাহ আন মাযহাবি আহলিল হক’ (সত্যপন্থীদের মাযহাবের বর্ণনা প্রসঙ্গে) নামক কিতাবে নিজের আকিদা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি সেখানে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর মাযহাব হলো সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈনদের মাযহাব। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হবে, সে সলফী হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫০)
بحتا وَمن لم يفهم موارده الْتقط مسَائِل كتبه الَّتِي رد بهَا على الْمُعْتَزلَة على علاتها وَجعلهَا مذهبا لَهُ ونسبها إِلَى الْأَشْعَرِيّ وَمَا رَأَيْت أحدا من الأشاعرة كشف هَذَا الْمَعْنى ونادى بِالصَّوَابِ سوى الشَّيْخ مُحَمَّد بن يُوسُف السنوسي فَإِنَّهُ قَالَ فِي شرح لَهُ صَغِير على عقيدته الْمَشْهُورَة الْمُسَمَّاة بِأم الْبَرَاهِين عِنْد الْكَلَام على صفة الْكَلَام مَا نَصه وكنه هَذِه الصّفة يَعْنِي صفة الْكَلَام وَسَائِر صِفَات الله جلّ وَعز مَحْجُوب عَن الْعقل كالذات الْعلية فَلَيْسَ لأحد أَن يَخُوض فِي الكنه بعد مَا يجب لذاته سُبْحَانَهُ أَو لصفاته وَمَا يُوجد فِي الْكتب من التَّمْثِيل بالكمال النَّفْسِيّ إِنَّمَا هُوَ للرَّدّ على الْمُعْتَزلَة حَيْثُ قَالُوا إِن الْكَلَام لَا يُوجد من غير حرف وَلَا صَوت فَقَالَ أهل السّنة إِنَّا نجد لنا كلَاما نفسيا بِلَا حرف وَلَا صَوت وَفِيه من كَلَام الفصحاء إِن الْكَلَام لفي الْفُؤَاد وَإِنَّمَا جعل اللِّسَان على الْفُؤَاد دَلِيلا

وَمَا قصدُوا إِلَّا التَّمْثِيل من حَيْثُ الْحَرْف وَالصَّوْت فَقَط أما الْحَقِيقَة فَجلت صِفَات الله أَن يماثلها شَيْء من صِفَات خلقه فَإِن كلامنا النَّفْسِيّ فِيهِ حُرُوف متعاقبة تنعدم وتحدث وَيُوجد فِيهِ تَقْدِيم وَتَأْخِير وترتيب وَغير ذَلِك فاعرف هَذَا فقد زلت هُنَا أَقْدَام لم تؤيد بِنور من الْملك العلام

هَذَا كَلَامه فقد صرح بِالْحَقِّ وَلم يخْش فِيهِ لومة لائم ولي فِي هَذَا مَسْلَك
বিশুদ্ধভাবে এবং যে ব্যক্তি তার উৎসসমূহ বুঝতে সক্ষম হয়নি, সে মুতাজিলাদের খণ্ডনে তার গ্রন্থগুলোর মাসআলাগুলোকে এর ত্রুটি-বিচ্যুতিসহ গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোকে নিজের মাযহাব বানিয়ে নিয়েছে এবং সেগুলোকে আশআরীর দিকে নিসবত করেছে। আর আমি আশআরিদের মধ্যে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সেনুসি ব্যতীত কাউকে দেখিনি যিনি এই নিগূঢ় অর্থ উন্মোচন করেছেন এবং সঠিক বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন। তিনি তার 'উম্মুল বারাহিন' নামক প্রসিদ্ধ আকিদাহ শাস্ত্রের ওপর রচিত একটি ছোট ব্যাখ্যাগ্রন্থে কালাম বা কথা বলার গুণের আলোচনার সময় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: এই গুণের প্রকৃত স্বরূপ—অর্থাৎ কালামের গুণ এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযর অন্যান্য সকল গুণ—সুউচ্চ সত্তার মতোই বুদ্ধির অগোচরে। সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সত্তা বা গুণাবলির জন্য যা ওয়াজিব বা আবশ্যক তা সাব্যস্ত করার পর কারও জন্য এর প্রকৃত স্বরূপে নিমগ্ন হওয়ার অবকাশ নেই। আর কিতাবসমূহে কালামে নাফসি বা মানসিক কথার যে উদাহরণ পাওয়া যায়, তা কেবল মুতাজিলাদের খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে; যেহেতু তারা বলেছিল যে, বর্ণ ও শব্দ ছাড়া কথা বা বক্তব্যের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। তখন আহলে সুন্নাত বলেছিল: আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে বর্ণ ও শব্দহীন মানসিক কথার অস্তিত্ব খুঁজে পাই। আর এ বিষয়ে সাবলীলভাষীদের বক্তব্য হলো: নিশ্চয় কথা অন্তরেই নিহিত থাকে, আর জিহ্বাকে তো কেবল অন্তরের পরিচায়ক বা প্রমাণস্বরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল বর্ণ ও শব্দের প্রেক্ষিত থেকে উদাহরণ পেশ করা। তবে হাকিকত বা প্রকৃত সত্যের বিচারে আল্লাহর গুণাবলি সৃষ্টির কোনো গুণের সদৃশ হওয়া থেকে বহু ঊর্ধ্বে। কেননা আমাদের মানসিক কথায় একের পর এক আসা বর্ণমালা থাকে যা বিলুপ্ত হয় ও পুনরায় সৃষ্টি হয় এবং সেখানে অগ্র-পশ্চাৎ, বিন্যাস ও আরও অন্যান্য বিষয় থাকে। সুতরাং এটি জেনে রাখো, কারণ এখানে এমন অনেকের পদস্খলন ঘটেছে যারা মালিকুল আল্লামের পক্ষ থেকে নূর দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়নি।

এটিই তার বক্তব্য; তিনি এতে সত্যকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেননি। আর এ বিষয়ে আমার একটি স্বতন্ত্র পথ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫১)
آخر وَهُوَ أَن الْأَعْيَان إِمَّا جَوَاهِر وَإِمَّا أَعْرَاض وَالْكَلَام لَا شكّ فِي أَنه عرض يحْتَاج إِلَى مَحل يقوم بِهِ وَهُوَ الْجَوْهَر وَهُوَ يَقْتَضِي أَن وجود الْجَوْهَر سَابق على وجود الْعرض فَإِذا قُلْنَا بالْكلَام النَّفْسِيّ لزم أَن يكون ذَلِك الْعرض قَائِما بالجوهر وَهُوَ النَّفس وَلزِمَ مِنْهُ إِثْبَات النَّفس لله تَعَالَى وحدوث الْكَلَام ضَرُورَة أَن الْعرض حَادث لَا محَالة وَحِينَئِذٍ فإمَّا أَن نبقي الْكَلَام على ظَاهره وندعي حُدُوث كَلَامه تَعَالَى وَثُبُوت النفسية لَهُ تَعَالَى وَهُوَ خلاف الْمَطْلُوب تنزيهه تَعَالَى عَن سمات الْحَوَادِث وَيلْزم مِنْهُ أَن الْكَلَام صفة لله تَعَالَى قَائِمَة بِذَاتِهِ وَهُوَ حَادث والمركب من الْحَادِث وَالْقَدِيم حَادث وينتج الدَّلِيل أَنه تَعَالَى حَادث وَهُوَ خلاف الْمُدعى لِأَنَّهُ إِقَامَة الدَّلِيل على قدم الصِّفَات والذات مَعًا وَإِمَّا أَن نجنح إِلَى التَّأْوِيل فَنَقُول كَلَام نَفسِي يَلِيق بِذَاتِهِ فَيُقَال لَهُ حِينَئِذٍ قل من أول الْأَمر وكلم الله مُوسَى تكليما بِكَلَام يَلِيق بِذَاتِهِ تَعَالَى وَاقْتصر على هَذَا ودع عَنْك ذَلِك التَّطْوِيل الَّذِي لَيْسَ هُوَ من شَأْن البلغاء والعقلاء وَمثل هَذَا يُقَال فِي تَأْوِيل الْيَد بِالْقُدْرَةِ والاستواء بِالِاسْتِيلَاءِ فَإِن الْقُدْرَة صفة مُشْتَركَة بَين الْخَالِق والمخلوق فَإِذا قلت بهَا لزمك أَن تَقول قدرَة تلِيق بِذَاتِهِ تَعَالَى فاطرح هَذَا وَقل يَد تلِيق بِذَاتِهِ تَعَالَى وَأَيْضًا فالقدرة عرض تحْتَاج إِلَى أَن تقوم بالجوهر وَيلْزم فِي ذَلِك مَا لزم فِي صفة الْكَلَام من الْحُدُوث لله تَعَالَى وَأما الِاسْتِيلَاء فَإِن مادته تَقْتَضِي سبق مستول سَابق وَأَن الثَّانِي قهر الأول وَاسْتولى على مَا كَانَ مستوليا عَلَيْهِ فليت شعري من كَانَ المستولي أَولا على الْعَرْش حَتَّى إِن الله تَعَالَى قهره وَاسْتولى عَلَيْهِ أَلا يرى أَن قَوْلهم اسْتَوَى بشر على الْعرَاق

অন্য একটি বিষয় হলো, সত্তাসমূহ হয় জাওহার নতুবা আরায। আর কথা যে একটি আরায তাতে কোনো সন্দেহ নেই, যার জন্য এমন একটি আধারের প্রয়োজন যাতে সে অবস্থান করতে পারে, আর তা হলো জাওহার। এটি দাবি করে যে জাওহারের অস্তিত্ব আরাযের অস্তিত্বের অগ্রবর্তী। সুতরাং আমরা যদি সত্তাগত কথার প্রবক্তা হই, তবে আবশ্যক হয় যে সেই আরাযটি কোনো জাওহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে, আর তা হলো নফস। এর ফলে আল্লাহ তাআলার জন্য নফস সাব্যস্ত করা এবং কথার নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, কারণ আরায আবশ্যিকভাবেই নতুনভাবে সৃষ্ট। এমতাবস্থায় হয় আমাদের কথাকে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার কথা নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার দাবি করতে হবে এবং তাঁর জন্য নফস হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করতে হবে—যা তাঁকে নতুনভাবে সৃষ্ট বস্তুর বৈশিষ্ট্য থেকে পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এর ফলে এটিও আবশ্যক হয় যে, কথা আল্লাহ তাআলার একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান এবং তা নতুনভাবে সৃষ্ট; অথচ নতুনভাবে সৃষ্ট এবং অনাদি বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত বস্তু নতুনভাবে সৃষ্টই হয়। এই দলিলের ফলাফল এই দাঁড়ায় যে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নতুনভাবে সৃষ্ট, যা দাবিকৃত বিষয়ের বিপরীত। কারণ দলিলের উদ্দেশ্য ছিল গুণাবলি এবং সত্তা উভয়ই অনাদি হওয়া প্রমাণ করা। অথবা আমাদের ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকতে হবে এবং বলতে হবে: এটি এমন এক সত্তাগত কথা যা তাঁর সত্তার উপযোগী। তখন তাকে বলা হবে: আপনি শুরু থেকেই কেন বললেন না যে, ‘এবং আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন’ এমন এক কথার মাধ্যমে যা আল্লাহ তাআলার সত্তার উপযোগী? এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকুন এবং সেই দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করুন যা অলঙ্কারবিদ ও বুদ্ধিমানদের কাজ নয়। অনুরূপ কথা আল্লাহর হাত-কে ক্ষমতা দ্বারা এবং উঠা-কে কর্তৃত্ব গ্রহণ দ্বারা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ ক্ষমতা হলো এমন একটি গুণ যা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সাধারণ। সুতরাং আপনি যদি তা বলেন, তবে আপনাকে বলতে হবে এটি এমন এক ক্ষমতা যা তাঁর সত্তার উপযোগী। তাই এটি বর্জন করুন এবং বলুন: এটি আল্লাহর হাত যা তাঁর সত্তার উপযোগী। এছাড়া ক্ষমতা হলো একটি আরায যা কোনো জাওহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মুখাপেক্ষী, যার ফলে কথার গুণের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার জন্য যে নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয়েছিল, এখানেও তাই হবে। আর কর্তৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে কথা হলো, এর মূল উপাদান দাবি করে যে ইতিপূর্বে অন্য কোনো কর্তৃত্বকারী অগ্রবর্তী ছিল এবং দ্বিতীয় জন প্রথম জনকে পরাভূত করে তার শাসনাধীন বিষয়ের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছে। হায়! আমি যদি জানতাম আরশের ওপর প্রথম কর্তৃত্বকারী কে ছিল যাকে আল্লাহ তাআলা পরাভূত করে তার ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছেন! তারা কি দেখে না যে তাদের উক্তি: বিশর ইরাকের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছে

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫২)
يُنَادي على أَن الْعرَاق لم يكن بيد بشر بل كَانَ فِي يَد غَيره ثمَّ إِن بشرا غلب ذَلِك المستولي وَضم الْعرَاق إِلَيْهِ أفيليق بشأن عَاقل أَن يصف ربه بِتِلْكَ الصِّفَات تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

وَحَيْثُ تبين أَن الْحق الصراح هُوَ مَذْهَب السّلف وَأَن هَذَا الْمَذْهَب ظهر على لِسَان الْأَئِمَّة وأخصهم بذلك الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل وَجب علينا أَن ننقل لطلاب الْيَقِين كَلَامه بنصه ليهتدوا بِهِ إِلَى الصِّرَاط الْمُسْتَقيم فَنَقُول روى القَاضِي أَبُو يعلى مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن خلف الْفراء فِي الطَّبَقَات والحافظ أَبُو الْفرج عبد الرَّحْمَن بن عَليّ بن الْجَوْزِيّ الْحَنْبَلِيّ فِي كِتَابه مَنَاقِب الإِمَام أَحْمد وَذكر القَاضِي برهَان الدّين إِبْرَاهِيم بن مُفْلِح فِي كِتَابه الْمَقْصد الأرشد أَن أَبَا بكر أَحْمد بن مُحَمَّد البردعي التَّمِيمِي قَالَ لما أشكل على مُسَدّد بن مسر هد أَمر الْفِتْنَة يَعْنِي فِي القَوْل بِخلق الْقُرْآن وَمَا وَقع فِيهِ النَّاس من الِاخْتِلَاف فِي الْقدر والرفض والاعتزال وَخلق الْقُرْآن والإرجاء كتب إِلَى أَحْمد بن حَنْبَل أَن أكتب إِلَيّ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا ورد الْكتاب على أَحْمد بن حَنْبَل بَكَى وَقَالَ إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون يزْعم هَذَا الْبَصْرِيّ أَنه قد أنْفق على الْعلم مَالا عَظِيما وَهُوَ لَا يَهْتَدِي إِلَيّ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَكتب إِلَيْهِ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله الَّذِي جعل فِي كل زمَان بقايا من أهل الْعلم يدعونَ من ضل إِلَى الْهدى وَينْهَوْنَ عَن الردى ويحيون بِكِتَاب الله الْمَوْتَى
এটি একথাই ঘোষণা করে যে, ইরাক কোনো মানুষের হাতে ছিল না, বরং তা অন্য কারো হাতে ছিল; অতঃপর বিশর সেই বিজয়ী দখলদারকে পরাজিত করে ইরাককে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। কোনো বিবেকবান ব্যক্তির পক্ষে কি এটা শোভনীয় যে সে তার রবকে এই সকল গুণের মাধ্যমে বিশেষিত করবে? আল্লাহ তাআলা তাদের এসব কথা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং অতি সুমহান।

যেহেতু এটা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সালাফে সালেহীনের মাযহাবই হলো ধ্রুব সত্য এবং এই মাযহাব আইম্মায়ে কেরামের যবানীতে প্রকাশিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ছিলেন অনন্য; তাই যারা নিশ্চিত জ্ঞান অন্বেষণ করছেন, তাদের নিকট ইমাম আহমাদের বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাতে তারা এর মাধ্যমে সরল পথের দিশা পায়। সুতরাং আমরা বলছি: কাযী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন খালাফ আল-ফাররা ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে, হাফেয আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী ইবনুল জাওযী আল-হাম্বলী তাঁর ‘মানাকিবে ইমাম আহমাদ’ গ্রন্থে এবং কাযী বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম বিন মুফলিহ তাঁর ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-বারদাঈ আত-তামিমী বলেছেন: যখন মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদের নিকট ফিতনার বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়ল—অর্থাৎ কুরআন সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত বক্তব্য এবং তকদীর, রাফয, ইতিযাল, কুরআন সৃষ্টি ও ইরজা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল—তখন তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট পত্র লিখলেন যে, “আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ লিখে পাঠান।” ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট যখন সেই পত্র পৌঁছল, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই বসরীবাসী ব্যক্তি দাবি করেন যে তিনি ইলমের পেছনে প্রচুর সম্পদ ব্যয় করেছেন, অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সঠিক দিশা পাচ্ছেন না।” অতঃপর তিনি তাঁকে লিখলেন: “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রত্যেক যুগে কিছু সংখ্যক অবশিষ্ট আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের রেখেছেন যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের পথে ডাকেন, ধ্বংসের পথ থেকে বারণ করেন এবং আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন।”
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وبسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أهل الْجَهَالَة والردى فكم من قيل لإبليس قد أحيوه وَكم من ضال تائه قد هدوه فَمَا أحسن آثَارهم على النَّاس ينفون عَن دين الله تَحْرِيف الغالين وانتحال المبطلين وَتَأْويل الضَّالّين الَّذين عقدوا ألوية الْبدع وأطلقوا عنان الْفِتْنَة مخالفين فِي الْكتاب يَقُولُونَ على الله وَفِي الله {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ علوا كَبِيرا} فِي كِتَابه بِغَيْر علم

فنعوذ بِاللَّه من كل فتْنَة مضلة وَصلى الله على مُحَمَّد النَّبِي وَآله وَسلم تَسْلِيمًا

أما بعد وفقنا الله وَإِيَّاكُم لكل مَا فِيهِ رِضَاهُ وطاعته وجنبنا وَإِيَّاكُم مَا فِيهِ سخطه واستعملنا وَإِيَّاكُم عمل الخاشعين لَهُ العارفين بِهِ الْخَائِفِينَ مِنْهُ فَإِنَّهُ المسؤول ذَلِك وأوصيكم وَنَفْسِي بتقوى الله الْعَظِيم وَلُزُوم السّنة وَالْجَمَاعَة فقد علمْتُم مَا حل بِمن خالفها وَمَا جَاءَ فِيمَن أتبعهَا فَإِنَّهُ بلغنَا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِن الله ليدْخل العَبْد الْجنَّة بِالسنةِ يتَمَسَّك بهَا وآمركم أَن لَا تؤثروا على الْقُرْآن شَيْئا فَإِنَّهُ كَلَام الله وَمَا تكلم الله بِهِ فَلَيْسَ بمخلوق وَمَا أخبر بِهِ عَن الْقُرُون الْمَاضِيَة فَلَيْسَ بمخلوق وَمَا فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَمَا فِي الْمُصحف وتلاوة النَّاس وكيفما قرىء وكيفما وصف فَهُوَ كَلَام الله غير مَخْلُوق فَمن قَالَ مَخْلُوق فَهُوَ كَافِر بِاللَّه الْعَظِيم وَمن لم يكفره فَهُوَ كَافِر ثمَّ من بعد كتاب الله سنة نبيه صلى الله عليه وسلم والْحَدِيث عَنهُ وَعَن المهديين من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ من بعدهمْ والتصديق
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে [তারা মোকাবিলা করেন] মূর্খতা ও ধ্বংসের অনুসারীদের। ইবলিসের হাতে মৃতপ্রায় কতজনকে তারা পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং কত পথভ্রষ্ট বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে তারা সুপথ দেখিয়েছেন। মানুষের ওপর তাদের অবদান কতই না উত্তম! তারা আল্লাহর দীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং পথভ্রষ্টদের অপব্যাখ্যা দূর করেন; যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উড়িয়েছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে, যারা কিতাবের বিরুদ্ধাচরণ করে। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর কিতাব বিষয়ে জ্ঞান ছাড়াই এমন কথা বলে—তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ, তারা যা বলে তা থেকে তিনি অতি মহান।

আমরা প্রত্যেক বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আল্লাহ আমাদের ও আপনাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি ও আনুগত্যের কাজে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়গুলো থেকে আমাদের ও আপনাদেরকে দূরে রাখুন। তিনি আমাদের ও আপনাদেরকে তাঁর প্রতি বিনয়ী, তাঁকে পরিচয়কারী এবং তাঁকে ভয়কারীদের আমলে নিয়োজিত করুন; কেননা তিনিই একমাত্র প্রার্থিত। আমি আপনাদেরকে এবং নিজেকে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং সুন্নাহ ও জামাআতের পথ আঁকড়ে ধরার উপদেশ দিচ্ছি। কারণ আপনারা জানেন যারা এর বিরোধিতা করেছে তাদের কী দশা হয়েছে এবং যারা এর অনুসরণ করেছে তাদের বিষয়ে কী বর্ণিত হয়েছে। আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বান্দাকে সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" আমি আপনাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যে আপনারা কুরআনের ওপর কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দেবেন না। কারণ এটি আল্লাহর কালাম। আল্লাহ যা বলেছেন তা সৃষ্টি নয়; অতীত প্রজন্মসমূহ সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাও সৃষ্টি নয়। লাওহে মাহফুজে যা আছে, মুসহাফে যা আছে, মানুষের তিলাওয়াত এবং যেভাবে তা পাঠ করা হোক বা বর্ণনা করা হোক—সবই আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি একে সৃষ্টি বলবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। আর যে তাকে কাফির বলবে না, সেও কাফির। এরপর আল্লাহর কিতাবের পর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর থেকে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়াতপ্রাপ্ত সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীগণের থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ এবং তা সত্যায়ন করা...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৪)
بِمَا جَاءَت بِهِ الرُّسُل وَاتِّبَاع السّنة نجاة وَهِي الَّتِي نقلهَا أهل الْعلم كَابِرًا عَن كَابر واحذروا رَأْي جهم فَإِنَّهُ صَاحب رَأْي وَكَلَام وخصومات وَأما الْجَهْمِية فقد أجمع من أدركنا من أهل الْعلم أَنهم قَالُوا إِن الْجَهْمِية افْتَرَقت ثَلَاث فرق فَقَالَت طَائِفَة مِنْهُم الْقُرْآن كَلَام الله وَهُوَ مَخْلُوق وَقَالَت طَائِفَة الْقُرْآن كَلَام الله وسكتت وَهِي الواقفة الملعونة

وَقَالَت طَائِفَة مِنْهُم ألفاظنا بِالْقُرْآنِ مخلوقة فَهَؤُلَاءِ كلهم جهمية كفار يستتابون فَإِن تَابُوا وَإِلَّا قتلوا

وَأجْمع من أدركنا من أهل الْعلم على أَن من هَذِه مقَالَته إِن لم يتب لم يناكح وَلَا يجوز قَضَاؤُهُ وَلَا تُؤْكَل ذَبِيحَته وَالْإِيمَان قَول وَعمل يزِيد وَينْقص زِيَادَته إِذا أَحْسَنت ونقصانه إِذا أساءت وَيخرج الرجل من الْإِيمَان إِلَى الْإِسْلَام فَإِن تَابَ رَجَعَ إِلَى الْإِيمَان وَلَا يُخرجهُ من الْإِسْلَام إِلَّا الشّرك بِاللَّه الْعَظِيم أَو برد فَرِيضَة من فَرَائض الله جاحدا لَهَا فَإِن تَركهَا كسلا أَو تهاونا بهَا كَانَ فِي مَشِيئَة الله إِن شَاءَ عذبه وَإِن شَاءَ عَفا عَنهُ

وَأما الْمُعْتَزلَة فقد أجمع من أدركنا من أهل الْعلم أَنهم يكفرون بالذنب وَمن كَانَ مِنْهُم كَذَلِك فقد زعم أَن آدم كَانَ كَافِرًا وَأَن إخْوَة يُوسُف حِين كذبُوا أباهم عليه السلام كَانُوا كفَّارًا وأجمعت الْمُعْتَزلَة على أَن من سرق حَبَّة فَهُوَ كَافِر وَفِي لفظ فِي النَّار تبين مِنْهُ امْرَأَته ويستأنف الْحَج إِن كَانَ حج فَهَؤُلَاءِ الَّذين يَقُولُونَ بِهَذِهِ الْمقَالة كفَّارًا وحكمهم أَلا يكلموا وَلَا يناكحوا وَلَا تُؤْكَل ذَبَائِحهم وَلَا تقبل شَهَادَتهم حَتَّى يتوبوا
রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধরা এবং সুন্নাহর অনুসরণের মধ্যেই মুক্তি নিহিত; আর এটিই সেই পথ যা ইলম অন্বেষণকারীগণ একে অপরের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। আর তোমরা জহমের রায় (মতাদর্শ) থেকে সতর্ক থাকো, কারণ সে ছিল রায়, কালাম এবং ঝগড়া-বিবাদের অনুসারী। আর জহমিয়াদের ব্যাপারে আমরা যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি সেই আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জহমিয়ারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়েছে। তাদের একদল বলেছে: 'কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে তা সৃষ্টি'। অন্য একদল বলেছে: 'কুরআন আল্লাহর কালাম'—অতঃপর তারা মৌনতা অবলম্বন করেছে; এরা হলো অভিশপ্ত ওয়াকেফা (নিষ্ক্রিয়) দল। আর তাদের আরেকটি দল বলেছে: 'কুরআন পাঠে আমাদের উচ্চারণসমূহ সৃষ্টি'। এরা সকলেই জহমিয়া কাফের; তাদের তওবা করতে বলা হবে, যদি তারা তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে।

আমরা যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি সেই আলেমগণ এ বিষয়েও ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার বক্তব্য এমন হবে, সে যদি তওবা না করে তবে তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না, তার বিচারকার্য পরিচালনা করা বৈধ হবে না এবং তার জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। আর ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম; যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। তোমার নেক আমলের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায় এবং মন্দ কাজের মাধ্যমে তা হ্রাস পায়। মানুষ ঈমান থেকে বের হয়ে ইসলামের গণ্ডিতে প্রবেশ করে, অতঃপর যদি সে তওবা করে তবে পুনরায় ঈমানে ফিরে আসে। মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা অথবা আল্লাহর কোনো ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তা প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া অন্য কোনো কারণে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না। আর যদি সে অলসতা বা অবহেলার কারণে কোনো ফরজ ত্যাগ করে, তবে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; তিনি চাইলে তাকে আজাব দেবেন আর চাইলে ক্ষমা করে দেবেন।

আর মুতাজিলাদের ব্যাপারে আমরা যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি সেই আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, তারা গুনাহের কারণে মানুষকে কাফের সাব্যস্ত করে। তাদের মধ্যে যারা এই মত পোষণ করে, তারা দাবি করে যে (গুনাহের কারণে) আদম আলাইহিস সালাম কাফের ছিলেন এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা যখন তাদের পিতার কাছে মিথ্যা বলেছিল তখন তারাও কাফের ছিল। মুতাজিলারা এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি সামান্য একটি শস্যদানাও চুরি করবে সে কাফের; অন্য বর্ণনামতে—সে জাহান্নামী, তার স্ত্রী তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সে যদি পূর্বে হজ করে থাকে তবে তাকে পুনরায় হজ করতে হবে। সুতরাং যারা এই ধরনের বক্তব্য দেয় তারা কাফের। তাদের বিধান হলো—তওবা না করা পর্যন্ত তাদের সাথে কথা বলা হবে না, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না, তাদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া হবে না এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَأما الرافضة فقد أجمع من أدركنا من أهل الْعلم أَنهم قَالُوا إِن عليا بن أبي طَالب أفضل من أبي بكر الصّديق وَأَن إِسْلَام عَليّ كَانَ أقدم من إِسْلَام أبي بكر فَمن زعم أَن عليا بن أبي طَالب أفضل من أبي بكر فقد رد الْكتاب وَالسّنة يَقُول الله تَعَالَى {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ} الْفَتْح 92 فَقدم الله أَبَا بكر بعد النَّبِي وَلم يقدم عليا وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَو كنت متخذا خَلِيلًا لاتخذت أَبَا بكر خَلِيلًا وَلَكِن الله قد اتخذ صَاحبكُم خَلِيلًا يَعْنِي نَفسه وَلَا نَبِي بعدِي وَمن زعم أَن إِسْلَام عَليّ كَانَ أقدم من إِسْلَام أبي بكر فقد أَخطَأ لِأَن أَبَا بكر أسلم وَهُوَ يَوْمئِذٍ ابْن خمس وَثَلَاثِينَ سنة وَعلي يَوْمئِذٍ ابْن سبع سِنِين لم تجر عَلَيْهِ الْأَحْكَام وَالْحُدُود والفرائض

ونؤمن بِالْقضَاءِ وَالْقدر خَيره وشره وحلوه ومره من الله وَأَن الله خلق الْجنَّة قبل خلق الْخلق وَخلق لَهَا أَهلا وَنَعِيمهَا دَائِم فَمن زعم أَنه يبيد من الْجنَّة شَيْء فَهُوَ كَافِر وَخلق النَّار قبل خلق الْخلق وَخلق لَهَا أَهلا وعذابها دَائِم وَأَن الله يخرج أَقْوَامًا من النَّار بشفاعة النَّبِي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَأَن أهل الْجنَّة يرَوْنَ رَبهم بِأَبْصَارِهِمْ لَا محَالة وَأَن الله كلم مُوسَى تكليما وَاتخذ إِبْرَاهِيم خَلِيلًا
আর রাফেজিদের ব্যাপারে আমাদের সমসাময়িক সকল আলেম একমত হয়েছেন যে, তারা বলে যে আলী ইবনে আবি তালিব আবু বকর সিদ্দিকের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আলীর ইসলাম গ্রহণ আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ছিল। যে ব্যক্তি দাবি করবে যে আলী ইবনে আবি তালিব আবু বকর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, সে যেন কিতাব ও সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করল। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং যারা তার সাথে আছে" (আল-ফাতহ: ২৯)। এখানে আল্লাহ নবীর পরেই আবু বকরের নাম উল্লেখ করেছেন এবং আলীকে আগে উল্লেখ করেননি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি আমি কাউকে খলিল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে আল্লাহ তোমাদের সাথীকে (অর্থাৎ নিজেকে) খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আমার পরে কোনো নবী নেই।" আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে আলীর ইসলাম গ্রহণ আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের আগে ছিল, সে ভুল করেছে; কারণ আবু বকর যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর, আর আলীর বয়স তখন ছিল সাত বছর, যার ওপর তখনও শরিয়তের বিধানসমূহ, দণ্ডবিধি বা ফরজসমূহ কার্যকর হওয়ার বয়স হয়নি।

এবং আমরা ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান রাখি—তা ভালো হোক বা মন্দ, মিষ্টি হোক বা তেতো, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ সৃষ্টির সৃষ্টির পূর্বেই জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন এবং এর নেয়ামত চিরস্থায়ী। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে জান্নাতের কোনো কিছু বিলীন বা ধ্বংস হয়ে যাবে, সে কাফের। এবং তিনি সৃষ্টির সৃষ্টির পূর্বেই জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন এবং এর শাস্তি চিরস্থায়ী। আর আল্লাহ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে অনেক সম্প্রদায়কে বের করবেন। আর জান্নাতবাসীরা অবশ্যই তাদের পালনকর্তাকে তাদের স্বচক্ষে দেখবেন। আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং ইব্রাহীমকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَالْمِيزَان حق والصراط حق والأنبياء حق وَعِيسَى ابْن مَرْيَم عبد الله وَرَسُوله وكلمته وَالْإِيمَان بالحوض والشفاعة وَالْإِيمَان بالعرش والكرسي وَالْإِيمَان بِملك الْمَوْت وَأَنه يقبض الْأَرْوَاح ثمَّ ترد إِلَى الأجساد فِي الْقُبُور ويسألون عَن الْإِيمَان والتوحيد وَالرسل وَالْإِيمَان بمنكر وَنَكِير وَعَذَاب الْقَبْر وَالْإِيمَان بالنفخ فِي الصُّور والصور قرن ينْفخ فِيهِ إسْرَافيل وَأَن الْقَبْر الَّذِي هُوَ بِالْمَدِينَةِ قبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَعَه أَبُو بكر وَعمر وَقُلُوب الْعباد بَين إِصْبَعَيْنِ من أَصَابِع الرَّحْمَن عز وجل والدجال خَارج فِي هَذِه الْأمة لَا محَالة وَينزل عِيسَى ابْن مَرْيَم إِلَى الأَرْض فيقتله بِبَاب لد وَمَا أنكرته الْعلمَاء من أهل السّنة من الشُّبْهَة فَهُوَ مُنكر واحذروا الْبدع كلهَا وَلَا عين تطرف بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم أفضل من أبي بكر وَلَا عين تطرف بعد أبي بكر أفضل من عمر وَلَا بعد عمر عين تطرف أفضل من عُثْمَان

وَلَا بعد عُثْمَان بن عَفَّان عين تطرف أفضل من عَليّ بن أبي طَالب قَالَ أَحْمد كُنَّا نقُول أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان ونسكت عَن عَليّ حَتَّى صَحَّ لنا حَدِيث ابْن عمر بالتفضيل
মিযান সত্য, সিরাত সত্য এবং নবীগণ সত্য। আর ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী। হাউজ ও শাফায়াতের প্রতি ঈমান রাখা এবং আরশ ও কুরসীর প্রতি ঈমান রাখা আবশ্যক। মালাকুল মাউতের প্রতি ঈমান রাখা এবং এটি বিশ্বাস করা যে তিনি রূহসমূহ কবজ করেন, অতঃপর কবরের মাঝে রূহগুলো পুনরায় দেহের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের ঈমান, তাওহীদ ও রাসূলদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। মুনকার ও নাকীরের প্রতি ঈমান রাখা এবং কবরের আজাবের প্রতি বিশ্বাস রাখা। সূরে ফুঁ দেওয়ার প্রতি ঈমান রাখা; আর সূর হলো একটি শিঙা যাতে ইসরাফিল ফুঁ দেবেন। আর মদিনায় যে কবরটি রয়েছে সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর, যার সাথে আবু বকর ও উমর রয়েছেন। আর বান্দাদের অন্তরসমূহ দয়াময় আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে। এই উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ ঘটা অনিবার্য; আর ঈসা ইবনে মারইয়াম পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং লুদ নামক তোরণের নিকট তাকে হত্যা করবেন। আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ সংশয়ের বশবর্তী হয়ে যে বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা বর্জনীয়। আর সকল প্রকার বিদআত থেকে সতর্ক থাকো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর কোনো চক্ষু পল্লব আবু বকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখেনি, আবু বকরের পর উমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখেনি এবং উমরের পর উসমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখেনি।

আর উসমান ইবনে আফফানের পর আলী ইবনে আবি তালিবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে কোনো চক্ষু দেখেনি। আহমাদ বলেন: আমরা বলতাম আবু বকর, উমর ও উসমান, আর আলীর ব্যাপারে নীরব থাকতাম—যতক্ষণ না ইবনে উমরের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত হাদিসটি আমাদের নিকট বিশুদ্ধরূপে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৭)
قَالَ أَحْمد هم وَالله الْخُلَفَاء الراشدون المهديون

وَإِنَّا نشْهد للعشرة أَنهم فِي الْجنَّة أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَسعد وَسَعِيد وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَأَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح فَمن شهد لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالْجنَّةِ شَهِدنَا لَهُ بهَا

وَرفع الْيَدَيْنِ فِي الصَّلَاة زِيَادَة فِي الْحَسَنَات والجهر بآمين عِنْد قَول الإِمَام وَلَا الضَّالّين وَالصَّلَاة على من مَاتَ من أهل هَذِه الْقبْلَة وحسابهم على الله عز وجل وَالْخُرُوج مَعَ كل إِمَام خرج فِي غَزْوَة وَحجَّة وَالصَّلَاة خلف كل بر وَفَاجِر صَلَاة الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ وَالدُّعَاء لأئمة الْمُسلمين بالصلاح وَلَا نخرج عَلَيْهِم بِالسَّيْفِ وَلَا نُقَاتِل فِي الْفِتْنَة وَلَا نبالي على أحد من الْمُسلمين أَن يَقُول فلَان فِي الْجنَّة وَفُلَان فِي النَّار إِلَّا الْعشْرَة الَّذين شهد لَهُم النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالْجنَّةِ والكف عَن مساوىء أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تحدثُوا بفضائلهم وأمسكوا عَمَّا شجر بَينهم وَلَا تشَاور أهل الْبدع فِي دينك وَلَا ترافق أحدا مِنْهُم فِي سفرك وصفوا الله بِمَا وصف بِهِ نَفسه وانفوا عَن الله مَا نَفَاهُ عَن نَفسه واحذروا الْجِدَال مَعَ أَصْحَاب الْأَهْوَاء وَلَا نِكَاح إِلَّا بولِي وخاطب وشاهدي عدل والمتعة حرَام إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَالتَّكْبِير على الْجَنَائِز أَربع فَإِن كبر الإِمَام خمْسا فَكبر مَعَه كَفعل عَليّ بن أبي طَالب قَالَ عبد الله بن مَسْعُود كبر مَا
আহমদ (রহ.) বলেন, আল্লাহর কসম, তাঁরাই হলেন খুলাফায়ে রাশিদীন ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খলীফা।

এবং আমরা সেই দশজন সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করি যে তাঁরা জান্নাতী: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, সাদ, সাঈদ, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাঁর জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন, আমরাও তাঁর জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দিই।

সালাতে দুই হাত উত্তোলন করা (রফিউল ইয়াদাইন) নেক আমল বৃদ্ধির কারণ। ইমাম যখন 'ওয়ালাদ দ্বোয়াল্লীন' বলবেন তখন উচ্চস্বরে আমীন বলা। এই কিবলার অনুসারীদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তাদের জানাজা পড়া এবং তাদের হিসাব মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। প্রত্যেক ইমামের অধীনে জিহাদ ও হজ্জে অংশগ্রহণ করা এবং প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারী ইমামের পেছনে জুমুআ ও দুই ঈদের সালাত আদায় করা। মুসলিম শাসকদের কল্যাণের জন্য দোয়া করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ না করা। ফিতনার সময় লড়াই না করা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে দশজন সাহাবীর জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁরা ব্যতীত অন্য কোনো মুসলিমের ব্যাপারে আমরা 'অমুক জান্নাতী' বা 'অমুক জাহান্নামী' বলার কোনো পরোয়া করি না (অর্থাৎ নিশ্চিত করে বলি না)। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের দোষ-ত্রুটি চর্চা করা থেকে বিরত থাকা; তাঁদের মর্যাদা বর্ণনা করা এবং তাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা। তোমার দ্বীনি বিষয়ে বিদআতিদের সাথে পরামর্শ করো না এবং ভ্রমণেও তাদের কাউকে সঙ্গী করো না। আল্লাহ নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন তোমরাও আল্লাহকে সেভাবেই গুণান্বিত করো এবং আল্লাহ নিজের জন্য যা অস্বীকার করেছেন তোমরাও তা অস্বীকার করো। প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বিতর্ক করা থেকে সতর্ক থাকো। অভিভাবক, প্রস্তাবকারী এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মুতআ বিবাহ হারাম। জানাজার তাকবীর চারটি; তবে ইমাম যদি পাঁচটি তাকবীর দেন তবে তাঁর সাথে তাকবীর দাও যেভাবে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ইমাম যা তাকবীর প্রদান করেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৮)
كبر إمامك قَالَ أَحْمد خالفني الشَّافِعِي فَقَالَ إِن زَاد على أَربع تَكْبِيرَات تُعَاد الصَّلَاة وَاحْتج عَليّ بِحَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه صلى على جَنَازَة فَكبر أَرْبعا وَفِي رِوَايَة صلى على النَّجَاشِيّ فَكبر أَرْبعا وَزَاد ابْن مُفْلِح فِي الْمَقْصد الأرشد وَمن طلق ثَلَاثًا فِي لفظ وَاحِد فقد جهل وَحرمت عَلَيْهِ زَوجته وَلم أجد هَذِه الزِّيَادَة فِي رِوَايَة الْحَافِظ ابْن الْجَوْزِيّ وَالْمسح على الْخُفَّيْنِ للْمُسَافِر ثَلَاثَة أَيَّام ولياليهن وللمقيم يَوْم وَلَيْلَة وَصَلَاة اللَّيْل وَالنَّهَار مثنى مثنى وَلَا صَلَاة قبل الْعِيد وَإِذا دخلت الْمَسْجِد فَلَا تجْلِس حَتَّى تصلي رَكْعَتَيْنِ تَحِيَّة الْمَسْجِد وَالْوتر رَكْعَة وَالْإِقَامَة فُرَادَى أَحبُّوا أهل السّنة على مَا كَانَ مِنْهُم أماتنا الله وَإِيَّاكُم على الْإِسْلَام وَالسّنة ورزقنا وَإِيَّاكُم الْعلم ووفقنا وَإِيَّاكُم لما يحب ويرضى هَذَا آخر مَا اتَّصل بِنَا مِمَّا كتبه الإِمَام إِلَى مُسَدّد رحمهمَا الله تَعَالَى

وَفِي الْأُصُول الَّتِي نقلنا عَنْهَا خلاف فِي بعض الْمسَائِل بِحَيْثُ تُوجد الْمَسْأَلَة فِي رِوَايَة ابْن الْجَوْزِيّ وَلم تُوجد فِيمَا نَقله صَاحب الْمَقْصد وَقد ضممنا زِيَادَة بعض إِلَى بعض
আপনার ইমাম তাকবির দিলেন। আহমাদ রহ. বলেন: শাফিঈ আমার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, যদি চার তাকবিরের অধিক করা হয় তবে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। তিনি আমার বিপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি একটি জানাজার সালাত আদায় করেছেন এবং তাতে চার তাকবির দিয়েছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি নাজাশীর জানাজার সালাত আদায় করেছেন এবং চার তাকবির দিয়েছেন। ইবনে মুফলিহ 'আল-মাকসাদ আল-আরশাদ' গ্রন্থে বর্ধিত করেছেন যে: যে ব্যক্তি এক শব্দে তিন তালাক দিল, সে অজ্ঞতার কাজ করল এবং তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে গেল। আমি এই বর্ধিত অংশটি হাফেজ ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় পাইনি। মুসাফিরের জন্য চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার সময়সীমা তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত। রাত ও দিনের সালাত দুই দুই রাকাত করে। ঈদের সালাতের আগে কোনো সালাত নেই। যখন আপনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তখন দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত আদায় করার আগে বসবেন না। বিতর হলো এক রাকাত। ইকামতের শব্দগুলো একবার করে। আহলুস সুন্নাহকে ভালোবাসুন তাদের অবস্থা যাই হোক না কেন। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ইসলাম ও সুন্নাহর ওপর মৃত্যু দান করুন, আমাদের ও আপনাদের জ্ঞান দান করুন এবং আমাদের ও আপনাদের সেই কাজের তৌফিক দিন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। ইমাম মুসাদ্দাদের প্রতি যা লিখেছিলেন, তার মধ্যে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে এটিই তার সমাপ্তি, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন।

আমরা যে মূল উৎসগুলো থেকে বর্ণনা করেছি সেগুলোতে কিছু বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন কোনো মাসআলা ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় পাওয়া যায় কিন্তু 'মাকসাদ' প্রণেতার বর্ণনায় পাওয়া যায় না; তাই আমরা একজনের অতিরিক্ত অংশ অন্যজনের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَأما التَّصْرِيح باللعن فَلم نجده إِلَّا فِيمَا نَقله الْبُرْهَان بن مُفْلِح وَلَعَلَّه من زِيَادَة الروَاة فَإِن ورع وزهده يَأْبَى لَهُ ذَلِك وَبَقِي فِي هَذِه الرسَالَة مَوَاضِع تحْتَاج إِلَى بَيَان لَا بَأْس بإيراده فلنذكره على شريطة التَّلْخِيص فَنَقُول الْموضع الأول قَول الإِمَام فِي قدم الْقُرْآن وَمَا فِي الْمُصحف وتلاوة النَّاس غير مَخْلُوق مَعْنَاهُ أَن الْقُرْآن مهما تكيف بكيفية فَهُوَ كَلَام الله وَكَلَامه تَعَالَى غير مَخْلُوق سَوَاء كتب فِي الْمَصَاحِف أَو تكلم بِهِ التَّالِي فَإِنَّهُ لَا يخرج عَن كَونه كَلَام الله تَعَالَى وَإِيَّاك أَن تذْهب فِي كَلَامه مَذْهَب سعد الدّين مَسْعُود التَّفْتَازَانِيّ فِي شَرحه لعقائد النَّسَفِيّ حَيْثُ نسب إِلَى بعض الْأَصْحَاب أَنهم يَقُولُونَ بقدم جلد الْمُصحف والكاغد والحبر الَّذِي كتب بِهِ الكاغد فَتكون قد أعظمت الافتراء على الْقَوْم ونسبت إِلَيْهِم مَا لم يقل بِهِ عَاقل فضلا عَن أَئِمَّة أَعْلَام وَلم تدر أَن مُرَادهم تَنْزِيه كَلَام الله تَعَالَى عَن أَن ينْسب إِلَيْهِ كَونه مخلوقا فَإِنَّهُ مهما قرىء أَو كتب فَلَا يخرج عَن كَونه كَلَام الله تَعَالَى وَلَا يَلِيق بِأحد أَن يَدعِي أَن كَلَامه تَعَالَى مَخْلُوق فحقق هَذَا الْمقَام واطرح التعصب ينور الله قَلْبك بِنور الْإِيمَان والعرفان

الْموضع الثَّانِي قَوْله واحذروا رَأْي جهم أَرَادَ بِهِ جهما بن صَفْوَان وَهُوَ من الجبرية الْخَالِصَة ظَهرت بدعته بترمز وَقَتله سلم بن يمر فِي آخر ملك بني أُميَّة وَوَافَقَ الْمُعْتَزلَة فِي نفي الصِّفَات الأزلية وَزَاد عَلَيْهِم بأَشْيَاء مِنْهَا قَوْله لَا يجوز أَن يُوصف الْبَارِي تَعَالَى بِصفة تكون مُشْتَركَة بَينه وَبَين خلقه لِأَن ذَلِك يَقْتَضِي تَشْبِيها فَقَالَ لَا يجوز أَن يُوصف تَعَالَى بِكَوْنِهِ حَيا عَالما وَأثبت كَونه قَادِرًا فَاعِلا لِأَنَّهُ لَا يُوصف شَيْء من خلقه بِالْقُدْرَةِ وَالْفِعْل والخلق
আর অভিশাপ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে আমরা বুরহান ইবন মুফলিহ যা বর্ণনা করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। সম্ভবত এটি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে সংযোজন, কেননা তাঁর পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতা এমন কাজ থেকে তাঁকে বিরত রাখে। এই রিসালায় (পুস্তিকা) আরও কিছু বিষয় রয়ে গেছে যা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলো উপস্থাপন করতে কোনো অসুবিধা নেই, তাই আমরা সংক্ষেপে সেগুলো আলোচনা করছি। আমরা বলছি, প্রথম বিষয়টি হলো কুরআনের অনাদিত্ব (কাদিম হওয়া) সম্পর্কে ইমামের বক্তব্য এবং মাসহাফে যা আছে ও মানুষের তিলাওয়াত মাখলুক বা সৃষ্টি নয়—এ সম্পর্কিত কথা। এর অর্থ হলো, কুরআন যেভাবেই প্রকাশ পাক না কেন, তা আল্লাহর কালাম (বাণী)। আর মহান আল্লাহর কালাম মাখলুক বা সৃষ্টি নয়। তা মাসহাফসমূহে লিখিত হোক কিংবা তিলাওয়াতকারীর কণ্ঠে উচ্চারিত হোক, তা আল্লাহর কালাম হওয়ার বহির্ভূত নয়। খবরদার! আপনি তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাপারে সা’দ উদ্দিন মাসউদ আত-তাফতাজানির মত গ্রহণ করবেন না, যা তিনি ‘শারহু আকাইদিন নাসাফি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি কোনো কোনো সাথীর (আসহাব) দিকে এই মতটি নিসবত (আরোপ) করেছেন যে, তাঁরা মাসহাফের চামড়া, কাগজ এবং কাগজে লিখিত কালিকেও অনাদি (কাদিম) বলেন। এমনটি করলে আপনি এই কাওমের (পূর্বসূরিদের) প্রতি এক বিশাল অপবাদারোপ করবেন এবং তাঁদের দিকে এমন বিষয়ের নিসবত করবেন যা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তিও বলে না, প্রখ্যাত ইমামগণ তো দূরের কথা। আপনি বুঝতে পারেননি যে, তাঁদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কালামকে ‘মাখলুক’ (সৃষ্ট) হওয়া থেকে পবিত্র ঘোষণা করা। কেননা তা যেভাবে পড়া হোক বা লেখা হোক, আল্লাহর কালাম হওয়া থেকে বের হয়ে যায় না। আর আল্লাহর কালাম সৃষ্টি—এমন দাবি করা কারো জন্যই শোভা পায় না। অতএব এই বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করুন এবং গোঁড়ামি পরিত্যাগ করুন, আল্লাহ আপনার অন্তরকে ঈমান ও মারেফাতের নূরে আলোকিত করবেন।

দ্বিতীয় বিষয়: তাঁর কথা— “তোমরা জহমের মতবাদ থেকে সতর্ক থাকো”। এর দ্বারা তিনি জহম ইবনে সাফওয়ানকে বুঝিয়েছেন। সে ছিল কট্টর জাবরিয়াপন্থী। তিরমিজে তার বিদআত প্রকাশ পায় এবং বনু উমাইয়াদের শাসনের শেষ দিকে সালম ইবনে ইয়ামুর তাকে হত্যা করেন। সে মহান আল্লাহর চিরন্তন গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের সাথে একমত ছিল এবং তাদের চেয়েও কিছু বিষয়ে বাড়িয়ে বলেছিল। তার মধ্যে একটি হলো— মহান আল্লাহকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা জায়েজ নয় যা তাঁর এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে সাধারণ বা অভিন্ন, কারণ তা ‘তাশবিহ’ (সাদৃশ্য দান) এর দাবি রাখে। তাই সে বলল: আল্লাহকে ‘হাই’ (চিরঞ্জীব) ও ‘আলিম’ (সর্বজ্ঞ) হিসেবে গুণান্বিত করা যাবে না। তবে সে তাঁকে ‘কাদির’ (ক্ষমতাবান) ও ‘ফায়িল’ (কর্তা) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। কারণ তার মতে, সৃষ্টির কোনো কিছুকে প্রকৃত কুদরত (ক্ষমতা), কর্ম এবং সৃষ্টির গুণে গুণান্বিত করা যায় না।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَمِنْهَا أَنه أثبت لله تَعَالَى علوما حَادِثَة لَا فِي مَحل قَالَ لَا يجوز أَن يعلم الشَّيْء قبل خلقه لِأَنَّهُ لَو علم ثمَّ خلق أفيبقى علمه على مَا كَانَ أَو لم يبْق فَإِن بَقِي فَهُوَ جهل فَإِن الْعلم بِأَن سيوجد غير الْعلم بِأَن قد وجد وَإِن لم يبْق فقد تغير والمتغير مَخْلُوق لَيْسَ بقديم وَوَافَقَ فِي هَذَا مَذْهَب هِشَام بن الحكم قَالَ وَإِذا ثَبت حُدُوث الْعلم فَلَيْسَ يَخْلُو إِمَّا أَن يحدث فِي ذَاته تَعَالَى وَذَلِكَ يُؤَدِّي إِلَى التَّغَيُّر فِي ذَاته وَأَن يكون محلا للحوادث وَإِمَّا أَن يحدث فِي مَحل فَيكون الْمحل مَوْصُوفا بِهِ لَا الْبَارِي تَعَالَى فَتعين أَنه لَا مَحل لَهُ فَأثْبت علوما حَادِثَة بِعَدَد المعلومات الْمَوْجُودَة وَمِنْهَا قَوْله فِي الْقُدْرَة الْحَادِثَة إِن الْإِنْسَان لَيْسَ يقدر على شَيْء وَلَا يُوصف بالاستطاعة وَإِنَّمَا هُوَ مجبور فِي أَفعاله لَا قدرَة لَهُ وَلَا إِرَادَة وَلَا اخْتِيَار وَإِنَّمَا يخلق الله تَعَالَى الْأَفْعَال فِيهِ على حسب مَا يخلق فِي سَائِر الجمادات وينسب إِلَيْهِ الْأَفْعَال مجَازًا كَمَا ينْسب إِلَى الجمادات كَمَا يَقُول أثمرت الشَّجَرَة وجري المَاء وتحرك الْحجر وطلعت الشَّمْس وغربت وتغيمت السَّمَاء وأمطرت وأزهرت الأَرْض وأنبتت إِلَى غير ذَلِك وَالثَّوَاب وَالْعِقَاب جبر كَمَا أَن الْأَفْعَال جبر قَالَ وَإِذا ثَبت الْجَبْر فالتكليف أَيْضا كَانَ جبرا

وَمِنْهَا قَوْله إِن حركات أهل الْجنَّة وَالنَّار تَنْقَطِع وَالْجنَّة وَالنَّار تفنيان بعد دُخُول أَهلهَا فِيهَا وتلذذ أهل الْجنَّة بنعيمها وتألم أهل النَّار بجحيمها إِذْ لَا يتَصَوَّر حركات لَا تتناهى آخرا كَمَا لَا تتَصَوَّر حركات لَا تتناهى أَولا وَحمل قَوْله تَعَالَى {خَالِدِينَ فِيهَا} هود 107 على التَّأْكِيد وَالْمُبَالغَة دون الْحَقِيقَة فِي التخليد كَمَا يُقَال خلد ملك فلَان وَاسْتشْهدَ على الِانْقِطَاع بقوله تَعَالَى {خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ} هود 107 فالآية
এগুলোর মধ্যে একটি হলো, তিনি মহান আল্লাহর জন্য এমন নশ্বর জ্ঞান সাব্যস্ত করেছেন যা কোনো আধারে অবস্থিত নয়। তিনি বলেন, কোনো বস্তু সৃষ্টির পূর্বে তা জানা আল্লাহর জন্য জায়েজ নয়; কারণ যদি তিনি তা জানেন এবং এরপর সৃষ্টি করেন, তবে কি তাঁর সেই জ্ঞান পূর্বের অবস্থায় বহাল থাকবে নাকি থাকবে না? যদি বহাল থাকে তবে তা মূর্খতা; কেননা কোনো বস্তু 'অস্তিত্ব লাভ করবে' এমন জ্ঞান এবং 'অস্তিত্ব লাভ করেছে' এমন জ্ঞান এক নয়। আর যদি বহাল না থাকে তবে তা পরিবর্তিত হয়ে গেল, আর পরিবর্তনশীল বস্তু হলো সৃষ্টি, তা অনাদি নয়। এ বিষয়ে তিনি হিশাম বিন হাকামের মতবাদের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, যখন জ্ঞানের নশ্বরতা প্রমাণিত হলো, তখন হয় তা মহান আল্লাহর সত্তার মাঝে সৃষ্টি হবে, যা তাঁর সত্তার পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে এবং তাঁকে নশ্বর ঘটনাবলির আধারে পরিণত করবে; অথবা তা অন্য কোনো আধারে সৃষ্টি হবে, ফলে আল্লাহ নন বরং সেই আধারটিই ওই জ্ঞানের গুণে গুণান্বিত হবে। সুতরাং এটি সুনির্দিষ্ট হলো যে, সেই জ্ঞানের কোনো আধার নেই। ফলে তিনি বিদ্যমান জ্ঞাত বিষয়াবলির সংখ্যা অনুযায়ী অনেকগুলো নশ্বর জ্ঞান সাব্যস্ত করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নশ্বর ক্ষমতার ব্যাপারে তাঁর অভিমত যে, মানুষ কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না এবং তাকে সক্ষমতা দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না। বরং মানুষ তার কার্যাবলিতে সম্পূর্ণ বাধ্য, তার কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা বা স্বাধীনতা নেই। মহান আল্লাহ অন্যান্য জড়বস্তুর মধ্যে যেভাবে কাজ সৃষ্টি করেন, মানুষের মধ্যেও ঠিক সেভাবেই কাজ সৃষ্টি করেন। জড়বস্তুর দিকে যেভাবে কাজকে রূপকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়, মানুষের দিকেও কাজকে সেভাবেই রূপকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়; যেমন বলা হয়: গাছ ফল দিয়েছে, পানি প্রবাহিত হয়েছে, পাথর নড়েছে, সূর্য উদিত হয়েছে ও অস্ত গিয়েছে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে ও বৃষ্টি দিয়েছে, পৃথিবী পুষ্পিত হয়েছে ও উদ্ভিদ জন্মেছে ইত্যাদি। আর সওয়াব ও আজাবও বাধ্যবাধকতা, যেমন কাজসমূহ বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, যখন এই বাধ্যবাধকতা প্রমাণিত হলো, তখন শরিয়তের বিধান আরোপ করাও ছিল এক প্রকার বাধ্যবাধকতা।

এগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো তাঁর এই দাবি যে, জান্নাতী ও জাহান্নামীদের নড়াচড়া একসময় বন্ধ হয়ে যাবে এবং জান্নাত ও জাহান্নাম তাদের অধিবাসীদের প্রবেশের পর, জান্নাতীদের নেয়ামত ভোগ করার পর এবং জাহান্নামীদের আজাবের কষ্ট ভোগ করার পর বিলীন হয়ে যাবে। কারণ, যে নড়াচড়ার কোনো সমাপ্তি নেই তা কল্পনা করা যায় না, ঠিক যেমন যে নড়াচড়ার কোনো শুরু নেই তাও কল্পনা করা যায় না। আর তিনি মহান আল্লাহর বাণী "তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে" (হুদ ১০৭)-কে চিরস্থায়িত্বের প্রকৃত অর্থের পরিবর্তে গুরুত্বারোপ ও অতিশয়োক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; যেমন বলা হয়ে থাকে: অমুকের রাজত্ব চিরস্থায়ী হোক। আর এই সমাপ্তির সপক্ষে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে যতক্ষণ আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার রব যা ইচ্ছা করেন" (হুদ ১০৭)। সুতরাং এই আয়াতটি...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬১)
اشْتَمَلت على شَرْطِيَّة واستثناء وَالْخُلُود والتأبيد لَا شَرط فِيهِ وَلَا اسْتثِْنَاء وَمِنْهَا قَوْله من أَتَى بالمعرفة ثمَّ جحد بِلِسَانِهِ لم يكفر بجحده لِأَن الْعلم والمعرفة لَا يزولان بالجحد فَهُوَ مُؤمن قَالَ وَالْإِيمَان لَا يَتَبَعَّض أَي لَا يَنْقَسِم إِلَى عقد وَقَول وَعمل قَالَ وَلَا يتفاضل أَهله فِيهِ فإيمان الْأَنْبِيَاء وإيمان الْأمة على نمط وَاحِد إِذْ المعارف لَا تتفاضل وَكَانَ السّلف كلهم من أَشد الرادين على جهم ونسبته إِلَى التعطيل الْمَحْض وَهُوَ أَيْضا مُوَافق للمعتزلة فِي نفي رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ لرَبهم يَوْم الْقِيَامَة وَفِي إِثْبَات خلق الْكَلَام وَإِيجَاب المعارف بِالْعقلِ قبل وُرُود الشَّرْع وَقد شن الْغَارة على جهم وَأَتْبَاعه وإخوانه من المبتدعة أساطين الْعلمَاء

وردوا استدلالهم وَأكْثر من نصب نَفسه لبَيَان الْحق وَالرَّدّ عَلَيْهِم من طريقي الْعقل وَالنَّقْل الإِمَام أَبُو مُحَمَّد عَليّ بن أَحْمد بن حزم الظَّاهِرِيّ ثمَّ شيخ الْإِسْلَام أَحْمد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي ثمَّ صَاحبه شمس الدّين مُحَمَّد بن قيم الجوزية قدس الله أسرارهم فَمن أَرَادَ الِاطِّلَاع على كسر جيوشهم وغلبتهم فِي ميدان الِاسْتِدْلَال فَعَلَيهِ بكتب هَؤُلَاءِ الْأَعْلَام وَلَو أننا اشترطنا فِي كتَابنَا هَذَا الِاخْتِصَار لاقتفينا أثر أُولَئِكَ النُّجُوم فاهتدينا بهم وعسانا إِن شرعنا بشرح نونية ابْن الْقيم أَن نأتي بِمَا يَكْفِي ويشفي

الْموضع الثَّالِث ذكر الإِمَام رضي الله عنه الْمُعْتَزلَة وهم طوائف كَثِيرَة استوفى أقسامها من ألف فِي الْملَل والنحل كَأبي مَنْصُور الْبَغْدَادِيّ وَأبي الْفَتْح مُحَمَّد بن عبد الْكَرِيم الشهرستاني وَلَكنهُمْ على كثرتهم يعمهم القَوْل بأصول اتَّخَذُوهَا أساسا لمداركهم ونحلتهم وَهِي قَوْلهم إِن الله تَعَالَى قديم والقدم أخص وصف ذَاته وَنَفَوْا
এটি শর্ত এবং ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল, আর চিরস্থায়ী ও অনন্তকালের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত বা ব্যতিক্রম নেই। তার উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো: যে ব্যক্তি মারিফত (আল্লাহর পরিচয়) লাভ করেছে এবং এরপর মুখে তা অস্বীকার করেছে, সে তার অস্বীকারের কারণে কাফির হবে না; কারণ ইলম (জ্ঞান) ও মারিফত অস্বীকারের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না, তাই সে মুমিন। তিনি বলেন: ঈমান খণ্ডনযোগ্য নয়, অর্থাৎ এটি বিশ্বাস, কথা এবং কর্মে বিভক্ত হয় না। তিনি আরও বলেন: ঈমানদারদের মধ্যে কোনো তারতম্য নেই, তাই নবীদের ঈমান এবং উম্মতের ঈমান একই পর্যায়ের; কারণ মারিফতে কোনো তারতম্য হয় না। সালাফে সালেহীন সকলেই জাহমের কঠোর প্রতিবাদকারী ছিলেন এবং তাকে খাঁটি 'তাতীল' (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার)-এর দিকে সম্বন্ধ করতেন। সে কিয়ামতের দিন মুমিনদের জন্য তাদের রবকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে, কালামকে (আল্লাহর কথা) সৃষ্টি হিসেবে প্রমাণের ক্ষেত্রে এবং শরিয়ত আসার আগে বিবেকের মাধ্যমে মারিফত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে মুতাজিলাদের সাথে একমত ছিল। প্রথিতযশা আলেমগণ জাহম, তার অনুসারী এবং বিদআতি ভাইদের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছেন।

এবং তারা তাদের দলিলসমূহ খণ্ডন করেছেন। সত্য প্রকাশ এবং যুক্তি ও বর্ণনার মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে যারা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন হাযম আয-যাহিরি, অতঃপর শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি, অতঃপর তার সাথী শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (আল্লাহ তাদের গোপনীয়তাকে পবিত্র করুন)। সুতরাং যে ব্যক্তি দলিল-প্রমাণের ময়দানে তাদের বাহিনীর পরাজয় ও আধিপত্য সম্পর্কে জানতে চায়, সে যেন এই মহান আলেমদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে। যদি আমরা আমাদের এই কিতাবে সংক্ষেপ করার শর্ত না রাখতাম, তবে আমরা সেই নক্ষত্রতুল্য আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতাম এবং তাদের মাধ্যমে হিদায়েত লাভ করতাম। আশা করা যায় যে, আমরা যদি ইবনুল কাইয়্যিমের 'নুনিয়া' কাব্যের ব্যাখ্যা শুরু করি, তবে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক আলোচনা উপস্থাপন করতে পারব।

তৃতীয় স্থান: ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) মুতাজিলাদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা অনেকগুলো দলে বিভক্ত। যারা 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' (ধর্ম ও মতবাদ) বিষয়ে কিতাব লিখেছেন, যেমন আবু মনসুর আল-বাগদাদি এবং আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আশ-শাহরাস্তানি, তারা তাদের শ্রেণিবিভাগ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা সংখ্যায় অনেক হলেও কতগুলো মূলনীতির ওপর তারা একমত, যেগুলোকে তারা তাদের উপলব্ধি ও মতাদর্শের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সেগুলো হলো—তাদের দাবি যে, আল্লাহ তায়ালা অনাদি (কাদিম), এবং অনাদিত্ব (কাদাম) হলো তাঁর সত্তার বিশেষতম গুণ; এবং তারা অস্বীকার করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬২)
الصِّفَات الْقَدِيمَة أصلا فَقَالُوا هُوَ عَالم بِذَاتِهِ قَادر بِذَاتِهِ لَا بِعلم وَلَا قدرَة وحياة هِيَ صِفَات قديمَة وَمَعَان قَائِمَة بِهِ لِأَنَّهُ لَو شاركته الصِّفَات فِي الْقدَم الَّذِي هُوَ أخص الْوَصْف لشاركته فِي الألهية وَاتَّفَقُوا على أَن كَلَامه مُحدث مَخْلُوق فِي مَحل وَهُوَ حرف وَصَوت كتب أَمْثَاله فِي الْمَصَاحِف حكايات عَنهُ فأينما وجد فِي الْمحل عرض فقد فني فِي الْحَال وَاتَّفَقُوا على أَن الْإِرَادَة والسمع وَالْبَصَر لَيست مَعَاني قَائِمَة بذاتها لَكِن اخْتلفُوا فِي وُجُوه وجودهَا ومحامل مَعَانِيهَا وَاتَّفَقُوا على رُؤْيَة الله تَعَالَى بالأبصار فِي دَار الْقَرار وَنفي التَّشْبِيه عَنهُ من كل وَجه جِهَة ومكانا وَصُورَة وجسما وتحيزا وانتقالا وزوالا وتغيرا وتأثرا وأحبوا تَأْوِيل الْآيَات المتشابهة الَّتِي يشْتَبه فِيهَا وَسموا هَذَا النمط توحيدا وَاتَّفَقُوا على أَن العَبْد قَادر خَالق لأفعاله خَيرهَا وشرها مُسْتَحقّ على مَا يَفْعَله ثَوابًا وعقابا فِي الدَّار الْآخِرَة والرب منزه أَن يُضَاف إِلَيْهِ شَرّ وظلم وَفعل هُوَ كفر ومعصية لِأَنَّهُ لَو خلق الظُّلم كَانَ ظَالِما كَمَا لَو خلق الْعدْل كَانَ عادلا وَاتَّفَقُوا على أَن الْحَكِيم لَا يفعل إِلَّا الصّلاح وَالْخَيْر وَيجب من حَيْثُ الْحِكْمَة رِعَايَة مصَالح الْعباد وَأما الْأَصْلَح والألطف فَفِي وُجُوبه خلاف عِنْدهم وَسموا هَذَا النمط عدلا وَاتَّفَقُوا على أَن الْمُؤمن إِذا خرج من الدُّنْيَا على طَاعَة وتوبة اسْتحق الثَّوَاب والعوض والتفضيل معنى آخر وَرَاء الثَّوَاب وَإِذا خرج من غير تَوْبَة عَن كَبِيرَة ارتكبها اسْتحق الخلود فِي النَّار وَلَكِن يكون عِقَابه أخف من عِقَاب الْكفَّار وَسموا هَذَا النمط وَعدا ووعيدا

তারা মূলত অনাদি গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে: তিনি স্বীয় সত্তার দ্বারাই পরিজ্ঞাত (আলেম), স্বীয় সত্তার দ্বারাই ক্ষমতাশীল (কাদির); কোনো জ্ঞান, ক্ষমতা বা জীবনের মাধ্যমে নয় যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো অনাদি গুণ। কারণ, যদি গুণাবলি অনাদিত্বের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে শরিক হতো—যা আল্লাহর সত্তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য—তবে গুণাবলিও উপাস্যত্বে তাঁর শরিক হয়ে যেত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, তাঁর কালাম (কথা) নবসৃষ্ট এবং কোনো আধারে মাখলুক (সৃষ্ট)। এটি অক্ষর ও শব্দের সমষ্টি, যার অনুরূপ বিষয়গুলো মুসহাফসমূহে তাঁর পক্ষ থেকে কাহিনী বা বর্ণনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং যেখানেই এটি কোনো আধারে ক্ষণস্থায়ী গুণ হিসেবে পাওয়া যায়, তা তৎক্ষণাৎ বিলীন হয়ে যায়। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ইচ্ছা, শ্রবণ ও দর্শন তাঁর সত্তায় বিদ্যমান কোনো স্বতন্ত্র অর্থ (গুণ) নয়; তবে তারা এগুলোর অস্তিত্বের ধরণ এবং এগুলোর অর্থের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছে। তারা পরকালে চর্মচক্ষুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দর্শন অস্বীকার করার এবং তাঁর থেকে যাবতীয় দিক, স্থান, আকৃতি, দেহ, স্থান পরিবেষ্টন, স্থানান্তর, অপসারণ, পরিবর্তন ও প্রভাবিত হওয়ার মতো সব ধরণের সাদৃশ্য নাকচ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তারা অস্পষ্ট বা রূপক আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (তাবিল) করা পছন্দ করেছে এবং এই পদ্ধতিকে তারা ‘তাওহীদ’ নামে অভিহিত করেছে। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, বান্দা তার নিজের কর্মের—চাই তা ভালো হোক বা মন্দ—সক্ষম স্রষ্টা; সে তার কৃতকর্মের জন্য পরকালে সওয়াব বা আজাবের অধিকারী হবে। আর রব (আল্লাহ) মন্দ, জুলুম এবং কুফর ও পাপাচারমূলক কাজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া থেকে পবিত্র। কারণ, তিনি যদি জুলুম সৃষ্টি করতেন তবে তিনি জালিম হতেন, যেমনটা ন্যায়বিচার সৃষ্টি করলে তিনি ন্যায়বিচারক হতেন। তারা একমত হয়েছে যে, প্রজ্ঞাবান (আল্লাহ) কল্যাণ ও উত্তম ছাড়া কিছু করেন না; এবং প্রজ্ঞার দাবি হলো বান্দাদের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে বান্দার জন্য ‘সবচেয়ে কল্যাণকর’ ও ‘সবচেয়ে মেহেরবানি’ কাজ করা তাঁর ওপর ওয়াজিব কি না, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ আছে। তারা এই পদ্ধতিকে ‘আদল’ (ন্যায়বিচার) নামে অভিহিত করেছে। তারা একমত হয়েছে যে, কোনো মুমিন যদি আনুগত্য ও তাওবার ওপর থেকে দুনিয়া ত্যাগ করে, তবে সে সওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবে; আর ‘তাফদিল’ (অতিরিক্ত অনুগ্রহ) হলো সওয়াবের অতিরিক্ত অন্য একটি বিষয়। কিন্তু সে যদি কোনো কবিরা গুনাহ করে তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে, তবে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকার উপযোগী হবে, তবে তার আজাব কাফিরদের আজাবের চেয়ে হালকা হবে। তারা এই পদ্ধতিকে ‘ওয়াদ ও ওয়াইদ’ (প্রতিশ্রুতি ও ধমক) নামে অভিহিত করেছে।

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَاتَّفَقُوا على أَن أصُول الْمعرفَة وشكر النِّعْمَة وَاجِب قبل وُرُود السّمع وَالْحسن والقبيح يجب معرفتهما بِالْعقلِ واعتناق الْحسن وَاجْتنَاب الْقَبِيح وَاجِب كَذَلِك وورود التكاليف إلطاف للباري تَعَالَى أرسلها إِلَى الْعباد بتوسط الْأَنْبِيَاء عليهم السلام امتحانا واختبارا ليهلك من هلك عَن بَيِّنَة ويحيي من حييّ عَن بَيِّنَة وَاخْتلفُوا فِي الْإِمَامَة وَالْقَوْل فِيهَا نصا واختيارا فَهَذِهِ أصُول مذاهبهم وَأما الْفُرُوع فللطوائف فِيهَا اخْتِلَاف يطول بَيَانه

الْموضع الرَّابِع ذكر الإِمَام رضي الله عنه الرافضة وهم أَيْضا فرق ويجمعهم القَوْل بِوُجُوب التَّعْيِين والتخصيص فَإِنَّهُم شايعوا عليا عليه السلام على الْخُصُوص وَقَالُوا بإمامته وخلافته نصا ووصاية إِمَّا جليا وَإِمَّا خفِيا واعتقدوا أَن الْإِمَامَة لَا تخرج من أَوْلَاده وَإِن خرجت فبظلم يكون من غَيره أَو بتقية من عِنْده قَالُوا وَلَيْسَت الْإِمَامَة قَضِيَّة مصلحية تناط بِاخْتِيَار الْعَامَّة وينتصب الإِمَام بنصبهم بل هِيَ قَضِيَّة أصولية هِيَ ركن الدّين لَا يجوز للرسول عليه الصلاة والسلام إغفاله وإهماله وَلَا تفويضه إِلَى الْعَامَّة وإرساله وَقَالُوا بِثُبُوت عصمَة الْأَئِمَّة وجوبا عَن الْكَبَائِر والصغائر وَالْقَوْل بالتولي والتبري قولا وفعلا وعقدا إِلَّا فِي حَال التقية ويخالفهم بعض الزيدية فِي ذَلِك وَالْإِمَام رضي الله عنه رد على المفضلة فَقَط وترفع عَن أَن يذكر مِنْهُم من ينْسب الشَّيْخَيْنِ للاتفاق على قَبِيح مقاصدهم وَقد أحسن ابْن حزم حَيْثُ قَالَ فِي كِتَابه الْفَصْل فِي الْملَل والأهواء والنحل بعد أَن أتم الْكَلَام على المرجئة وَالْأَصْل فِي أَكثر خُرُوج هَذِه الطوائف عَن ديانَة الْإِسْلَام أَن الْفرس كَانُوا من سَعَة الْملك وعلو الْيَد على جَمِيع الْأُمَم وجلالة الحظير فِي أنفسهم حَتَّى إِنَّهُم كَانُوا يسمون أنفسهم الْأَحْرَار وَالْأَبْنَاء وَكَانُوا يعدون سَائِر النَّاس عبيدا لَهُم فَلَمَّا امتحنوا بِزَوَال الدولة عَنْهُم على
এবং তারা একমত হয়েছেন যে, ওহী পৌঁছানোর পূর্বেই পরিচিতি লাভের মূলনীতিসমূহ এবং নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ওয়াজিব। ভালো এবং মন্দ উভয়কেই বিবেকের মাধ্যমে জানা আবশ্যক এবং একইভাবে কল্যাণকে গ্রহণ করা ও মন্দকে বর্জন করাও ওয়াজিব। ইবাদতকারীদের উপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ (তাকলিফ) হলো মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে এক প্রকার অনুগ্রহ, যা তিনি নবিগণের (আলাইহিমুস সালাম) মাধ্যমে বান্দাদের নিকট পাঠিয়েছেন পরীক্ষা ও যাচাই করার জন্য; যাতে ধ্বংসপ্রাপ্তরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং জীবিতরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। তারা ইমামত এবং এই বিষয়ে নস (স্পষ্ট ঘোষণা) নাকি নির্বাচনের মাধ্যমে হবে—তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। এগুলোই হলো তাদের মাযহাবের মূলনীতিসমূহ। আর শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে এমন অনেক মতভেদ রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ।

চতুর্থ বিষয়: ইমাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাফেজিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত। ইমাম নির্ধারণ করা এবং নির্দিষ্ট করার আবশ্যকতা—এই মতটি তাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কেননা তারা বিশেষভাবে আলী (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী এবং তারা সুস্পষ্ট ঘোষণা (নস) ও অসিয়তের মাধ্যমে তাঁর ইমামত ও খিলাফতের দাবি করে, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। তারা বিশ্বাস করে যে, ইমামত তাঁর সন্তানদের গণ্ডি থেকে বের হবে না; আর যদি বের হয়, তবে তা অন্যের পক্ষ থেকে জুলুমের কারণে অথবা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে তাকিয়ার (আত্মরক্ষামূলক গোপনীয়তা) কারণে হবে। তারা বলে, ইমামত কোনো জনকল্যাণমূলক বিষয় নয় যা সাধারণ মানুষের নির্বাচনের ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং তাদের নিয়োগের মাধ্যমে ইমাম নিযুক্ত হবে; বরং এটি একটি মৌলিক বিষয় যা দ্বীনের স্তম্ভ। রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পক্ষে এটি উপেক্ষা করা, অবহেলা করা কিংবা সাধারণ মানুষের হাতে সোপর্দ করা সম্ভব নয়। তারা ইমামদের কবিরা ও সগিরা গুনাহ হতে নিষ্পাপ হওয়া আবশ্যক বলে দাবি করে এবং তাকিয়ার অবস্থা ব্যতীত কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে ‘তাওয়াল্লি’ (বন্ধুত্ব) ও ‘তাবাররি’ (বিচ্ছিন্নতা) পোষণের কথা বলে। কিছু জায়েদি এই বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেন। ইমাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শুধুমাত্র মুফাদ্দিলাদের খণ্ডন করেছেন এবং তাদের মধ্যে যারা শায়খাইনকে অভিযুক্ত করে তাদের কথা উল্লেখ করা থেকে নিজেকে ঊর্ধ্বে রেখেছেন, কারণ তাদের হীন উদ্দেশ্য সম্পর্কে সকলে একমত। ইবনে হাজম তাঁর ‘আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থে মুরজিয়াদের আলোচনা শেষ করার পর চমৎকার বলেছেন: ‘ইসলাম ধর্ম থেকে এই দলগুলোর অধিকাংশের বিচ্যুত হওয়ার মূল কারণ হলো—পারস্যবাসীরা বিশাল রাজত্ব ও সকল জাতির উপর আধিপত্যের অধিকারী ছিল এবং নিজেদের সম্পর্কে তাদের উচ্চ মর্যাদা পোষণ করত। এমনকি তারা নিজেদের ‘স্বাধীন’ ও ‘অভিজাত’ বলে অভিহিত করত এবং অবশিষ্ট সমস্ত মানুষকে তাদের দাস মনে করত। অতঃপর যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হলো তখন...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৪)
أَيدي الْعَرَب وَكَانَت الْعَرَب أقل الْأُمَم عِنْد الْفرس خطرا تعاظمهم الْأَمر وتضاعفت لديهم الْمُصِيبَة وراموا كيد الْإِسْلَام بالمحاربة فِي أَوْقَات شَتَّى وَفِي كل ذَلِك يظْهر الله سبحانه وتعالى الْحق وَكَانَ من قائمتهم ستقادة واستاسيس وَالْمقنع وبابك وَغَيرهم

وَقبل هَؤُلَاءِ رام ذَلِك عمار الملقب بخداش وَأَبُو سلم السراج فَرَأَوْا أَن كيد الْإِسْلَام على الْحِيلَة أنجع فأظهر قوم مِنْهُم الْإِسْلَام واستمالوا أهل التَّشَيُّع بِإِظْهَار محبَّة أهل بَيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم واستشناع ظلم عَليّ رضي الله عنه ثمَّ سلكوا بهم مسالك شَتَّى حَتَّى أخرجوهم عَن الْإِسْلَام فقوم مِنْهُم أدخلوهم إِلَى القَوْل بِأَن رجلا ينْتَظر يدعى الْمهْدي عِنْده حَقِيقَة الدّين إِذْ لَا يجوز أَن يُؤْخَذ الدّين من هَؤُلَاءِ الْكفَّار إِذا نسبوا أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى الْكفْر وَقوم خَرجُوا إِلَى نبوة من ادعوا لَهُ النُّبُوَّة وَقوم سلكوا بهم المسلك الْقَائِل صَاحبه بالحلول وَسُقُوط الشَّرَائِع وَآخَرُونَ تلاعبوا فأوجبوا عَلَيْهِم خمسين صَلَاة فِي كل يَوْم وَلَيْلَة وَآخَرُونَ قَالُوا بل هِيَ سبع عشرَة صَلَاة فِي كل صَلَاة خمس عشرَة رَكْعَة وَهَذَا قَول عبد الله بن عمر بن الْحَارِث الْكِنْدِيّ قبل أَن يصير خارجيا صفريا وَقد سلك هَذَا المسلك أَيْضا عبد الله بن سبأ الْحِمْيَرِي الْيَهُودِيّ فَإِنَّهُ لَعنه الله أظهر الْإِسْلَام لكيد أَهله فَهُوَ كَانَ أصل إثارة النَّاس على عُثْمَان رضي الله عنه وأحرق عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه مِنْهُم طوائف أعْلنُوا لَهُ بالألهية وَمن هَذِه الْأُصُول الملعونة حدثت الإسماعيلية والقرامطة وهما طَائِفَتَانِ مجاهرتان بترك الْإِسْلَام جملَة قائلتان بالمجوسية الْمَحْضَة ثمَّ مَذْهَب مردك الموبذ الَّذِي كَانَ على عهد أنوشروان ابْن قيماد ملك الْفرس وَكَانَ يَقُول بِوُجُوب تأسي النَّاس فِي النِّسَاء وَالْأَمْوَال
আরবদের হাতে (ক্ষমতা চলে গেল), অথচ পারসিকদের কাছে আরবরা ছিল জাতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে তুচ্ছ। তাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে দাঁড়াল এবং তাদের বিপদ বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। তারা বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করল। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেই মহান আল্লাহ সত্যকে প্রকাশ ও বিজয়ী করলেন। তাদের নেতাদের মধ্যে ছিল সানপাদ, উস্তাদাসিস, আল-মুকান্না, বাবাক ও অন্যান্যরা।

তাদের পূর্বে আম্মার (যার উপাধি ছিল খিদাশ) এবং আবু সালাম আস-সাররাজ এই চেষ্টা করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, ছলাকলার মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা অধিক ফলপ্রসূ। ফলে তাদের একটি দল বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওপর কৃত অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যমে শিয়া মতাবলম্বীদের আকৃষ্ট করল। অতঃপর তারা তাদেরকে বিভিন্ন পথে পরিচালিত করল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে নিল। তাদের একদল মানুষকে এই বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করল যে, 'মাহদী' নামক এক প্রতীক্ষিত ব্যক্তির নিকট দীনের প্রকৃত স্বরূপ রয়েছে; কেননা তাদের দাবি অনুযায়ী এই 'কাফিরদের' (সাহাবায়ে কেরাম) থেকে দীন গ্রহণ করা জায়েজ নয়। অন্য একদল তাদেরকে সেই ব্যক্তিদের নবুওয়াতের দিকে ধাবিত করল যাদের জন্য তারা নবুওয়াত দাবি করেছিল। আরেক দল তাদেরকে সেই পথে নিয়ে গেল যে পথের প্রবক্তারা অবতারবাদ (হুলুল) এবং শরীয়তের বিধান রহিত হওয়ার কথা বলে। অন্য একদল ধর্ম নিয়ে খেলা শুরু করল এবং তাদের ওপর দিনে ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দিল। আবার অন্য একদল বলল, বরং সালাত সতেরো ওয়াক্ত এবং প্রতি ওয়াক্তে পনেরো রাকাত। এটি ছিল আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন হারিস আল-কিন্ডির বক্তব্য, খারিজিদের সাফরিয়াহ উপদলে যোগ দেওয়ার আগে। এই পথে আব্দুল্লাহ বিন সাবা আল-হিময়ারি ইহুদিও চলেছিল—আল্লাহ তাকে লানত করুন। সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করেছিল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে মানুষকে উত্তেজিত করার মূল হোতা ছিল সে। আর আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের মধ্য থেকে এমন কিছু দলকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন যারা তার জন্য উপাস্য হওয়ার দাবি ঘোষণা করেছিল। এই অভিশপ্ত মূলগুলো থেকেই ইসমাইলিয়া ও কারামিতা উপদলের উদ্ভব হয়েছে। এই দুটি দলই সামগ্রিকভাবে ইসলাম ত্যাগের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে এবং তারা খাটি অগ্নিপূজক মতবাদে বিশ্বাসী। এরপর আসে মাজদাক মোবেদের মতবাদ, যে পারস্য সম্রাট আনুশিরওয়ান ইবনে কুবাদ-এর আমলে ছিল; সে নারী ও সম্পদের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে অংশীদারিত্ব বা সাম্য বজায় রাখা আবশ্যক বলে প্রচার করত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৫)
قَالَ ابْن حزم فَإِذا بلغ النَّاس إِلَى هذَيْن الشعبين أَخْرجُوهُ عَن الْإِسْلَام كَيفَ شاؤوا إِذْ هَذَا هُوَ غرضهم فَقَط فَالله الله عباد الله اتَّقوا الله فِي أَنفسكُم وَلَا يَغُرنكُمْ أهل الْكفْر والإلحاد وَمن موه كَلَامه بِغَيْر برهَان لَكِن تمويهات وَوعظ على خلاف مَا أَتَاكُم بِهِ كتاب ربكُم وَكَلَام نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم فَلَا خير فِيمَا سواهُمَا

وَاعْلَمُوا أَن دين الله ظَاهر لَا بَاطِن فِيهِ وجهر لَا سر تَحْتَهُ كُله برهَان وَلَا مُسَامَحَة فِيهِ واتهموا كل من يَدْعُو أَن يتبع بِلَا برهَان وكل من ادّعى للديانة سرا وَبَاطنا فَهِيَ دعاوى ومخارق وَاعْلَمُوا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يكتم من الشَّرِيعَة كلمة فَمَا فَوْقهَا وَلَا اطلع أخص النَّاس بِهِ من زَوْجَة أَو ابْنة أَو عَم أَو ابْن عَم أَو صَاحب على شَيْء من الشَّرِيعَة كتمه عَن الْأَحْمَر وَالْأسود ورعاة الْغنم وَلَا كَانَ عِنْده عليه الصلاة والسلام سر وَلَا رمز وَلَا بَاطِن غير مَا دعى النَّاس كلهم إِلَيْهِ وَلَو كتمهم شَيْئا لما بلغ كَمَا أَمر وَمن قَالَ هَذَا فَهُوَ كَافِر فإياكم وكل قَول لم يبين سَبيله وَلَا وضح دَلِيله وَلَا تعوجا عَن مَا مضى عَلَيْهِ نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه رضي الله عنهم قَالَ وَجُمْلَة الْخَيْر كُله أَن تلتزموا مَا قصّ عَلَيْكُم ربكُم تَعَالَى فِي الْقُرْآن بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين لم يفرط فِيهِ من شَيْء تبيانا لكل شَيْء وَمَا صَحَّ عَن نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم بِرِوَايَة الثِّقَات من أَئِمَّة أَصْحَاب الحَدِيث رضي الله عنهم مُسْندًا إِلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فهما طريقتان يوصلانكم إِلَى رِضَاء ربكُم عز وجل هَذَا كَلَامه فقد نَادَى بِالْحَقِّ علنا وَأَبَان عَن عقيدة الْفرْقَة النَّاجِية فرحمه الله تَعَالَى

الْموضع الْخَامِس قَول الإِمَام رضي الله عنه كُنَّا نقُول أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان ونسكت عَن عَليّ حَتَّى صَحَّ لنا حَدِيث ابْن عمر
ইবনে হাজম বলেন, সুতরাং যখন তারা মানুষকে এই দুটি প্রান্তের দিকে নিয়ে পৌঁছায়, তারা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় যেভাবে তারা চায়; কারণ এটিই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। অতএব আল্লাহর ভয় করুন, হে আল্লাহর বান্দাগণ! নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন এবং কুফর ও নাস্তিকতার অনুসারীরা যেন আপনাদের প্রতারিত না করে। আর যে ব্যক্তি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার কথাকে সুশোভিত করে, বরং তা কেবল চাতুরি এবং এমন উপদেশ যা আপনাদের রবের কিতাব ও আপনাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর পরিপন্থী, তবে সেই দুটি ব্যতীত অন্য কিছুর মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।

আর জেনে রাখুন যে, আল্লাহর দ্বীন প্রকাশ্য, এতে কোনো গোপন রহস্য নেই; এটি সুস্পষ্ট, এর অন্তরালে কোনো গোপন বিষয় নেই। এর পুরোটাই অকাট্য দলিল এবং এতে কোনো শিথিলতা নেই। এবং সন্দেহ করুন তাকে যে প্রমাণ ছাড়া অনুসরণ করার আহ্বান জানায়, আর যে ব্যক্তিই দ্বীনের জন্য কোনো গোপন বা বাতেনি বিষয়ের দাবি করে, তবে সেগুলো নিছক দাবি ও ধোঁকাবাজি। আর জেনে রাখুন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরীয়তের একটি শব্দ বা তার অধিক কোনো কিছুই গোপন করেননি। তিনি তাঁর নিকটতম ব্যক্তি—স্ত্রী, কন্যা, চাচা, চাচাতো ভাই কিংবা কোনো সঙ্গী—কাউকেই শরীয়তের এমন কোনো বিষয়ে অবগত করেননি যা তিনি সাধারণ মানুষ ও মেষপালকদের নিকট গোপন রেখেছেন। তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিকট এমন কোনো গোপন রহস্য, সংকেত বা বাতেনি বিষয় ছিল না যা তিনি সকল মানুষকে যা দিয়ে আহ্বান করেছেন তার বাইরে। যদি তিনি তাদের নিকট কিছু গোপন করতেন, তবে তিনি আদিষ্ট অনুযায়ী রিসালাত পৌঁছে দিতেন না। আর যে ব্যক্তি এমন কথা বলে, সে কাফের। সুতরাং আপনারা সাবধান থাকুন এমন প্রত্যেক কথা থেকে যার পথ স্পষ্ট নয় এবং যার দলিল সুস্পষ্ট নয়। এবং আপনাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যে পথের ওপর ছিলেন, তা থেকে বিচ্যুত হবেন না। তিনি বলেন, যাবতীয় কল্যাণের সারকথা হলো আপনারা সেই বিষয়ের ওপর অটল থাকবেন যা আপনাদের মহান রব পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বর্ণনা করেছেন, যাতে কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি বরং সবকিছুর বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে। এবং যা আপনাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুহাদ্দিস ইমামগণের মধ্যে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই দুটিই হলো সেই পথ যা আপনাদেরকে আপনাদের মহান রবের সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাবে। এগুলোই তাঁর বক্তব্য; তিনি প্রকাশ্যে সত্যের ঘোষণা দিয়েছেন এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদা সুস্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

পঞ্চম বিষয়: ইমামের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উক্তি—আমরা বলতাম আবু বকর, উমর ও উসমান এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে নীরব থাকতাম, যতক্ষণ না আমাদের নিকট ইবনে উমরের হাদীসটি সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৬)
بالتفضيل يُشِير إِلَى أَنه رضي الله عنه كَانَ يَدُور مَعَ الدَّلِيل الصَّحِيح كَيْفَمَا دَار فَإِذا أشكل عَلَيْهِ سكت إِلَى أَن يتجلى لَهُ الْحق وَلما كَانَ عِنْده تردد فِي حَدِيث ابْن عمر من حَيْثُ الصِّحَّة وَعدمهَا أطرح الْميل القلبي وَلم يعبأ بِهِ فَلَمَّا تبين لَهُ صِحَّته باح بمضمونه وَلَيْسَ سُكُوته أَيْضا إِلَّا عَن دَلِيل فقد قَالَ فِي مُسْنده حَدثنَا أَبُو مُعَاوِيَة حَدثنَا سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أَبِيه عَن ابْن عمر قَالَ كُنَّا نعد وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَيّ وَأَصْحَابه متوافرون أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان ثمَّ نسكت وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح غَرِيب من هَذَا الْوَجْه يستغرب من حَدِيث عبيد الله بن عمر وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من غير وَجه عَن ابْن عمر انْتهى
শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সহীহ দলীল যেদিকে আবর্তিত হয়, সেদিকেই আবর্তিত হতেন। যখন কোনো বিষয় তাঁর নিকট অস্পষ্ট মনে হতো, তখন সত্য প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নীরবতা অবলম্বন করতেন। আর যখন ইবনে উমরের হাদীসের বিশুদ্ধতা ও অবিশুদ্ধতা নিয়ে তাঁর নিকট দ্বিধা ছিল, তখন তিনি হৃদয়ের ঝোঁককে বর্জন করেছিলেন এবং এর প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। অতঃপর যখন এর বিশুদ্ধতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো, তখন তিনি এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করলেন। তাঁর নীরবতাও দলীল ব্যতীত ছিল না। কারণ তিনি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুহাইল ইবনে আবি সালিহ তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবদ্দশায় এবং তাঁর সাহাবীদের পর্যাপ্ত উপস্থিতিতে আমরা শ্রেষ্ঠত্ব গণনা করতাম: আবু বকর, উমর ও উসমান; এরপর আমরা নীরব থাকতাম। ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এই হাদীসটি এই দিক থেকে হাসান সহীহ গরীব। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমরের হাদীস হিসেবে এটি বিরল মনে করা হয়, তবে ইবনে উমরের সূত্রে অন্যান্য মাধ্যম থেকেও এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইতি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وَقَوله من غير وَجه أَشَارَ بِهِ إِلَى مَا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فَلَيْسَ بغريب من هَذَا الْوَجْه وَأما الحَدِيث الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الإِمَام فَإِنِّي كشفت عَلَيْهِ فِي الْمسند فَلم أَجِدهُ وَلست أَدْرِي هَل هُوَ فِيهِ فزاغ عَنهُ الْبَصَر أم هُوَ مَفْقُود مِنْهُ وَكَذَلِكَ فتشت عَلَيْهِ فِي الْكتب السِّتَّة فَلم أَجِدهُ لكنني وجدت أَن الْحَافِظ أَبَا الْقَاسِم عَليّ بن عَسَاكِر الدِّمَشْقِي رَوَاهُ فِي تَرْجَمَة أبي بكر الصّديق رضي الله عنه من تَارِيخه الْكَبِير عَن ابْن عمر قَالَ كُنَّا نقُول وَرَسُول الله حَيّ أفضل الْأمة بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ فَيبلغ ذَلِك رَسُول الله وَلَا يُنكره وَفِي لفظ ثمَّ نَدع أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلَا نفاضل بَينهم

وَحَيْثُ إِن الإِمَام أَشَارَ إِلَى صِحَة هَذَا الحَدِيث تركنَا الْكَلَام عَلَيْهِ اكْتِفَاء بتوثيق إِمَام الْمُحدثين

وَقد أخرج ابْن عَسَاكِر رضي الله عنه أَنه قَالَ من فضلني على أبي بكر وَعمر جلدته جلد المفتري وَهل أَنا إِلَّا حَسَنَة من حَسَنَات أبي بكر وَعمر

وَله كَلَام غير هَذَا ذكرته فِي كتابي تَهْذِيب تَارِيخ ابْن عَسَاكِر

وروى الْحَافِظ ابْن الْجَوْزِيّ وَالْقَاضِي أَبُو يعلى فِي طبقاته وبرهان الدّين بن مُفْلِح فِي الْمَقْصد الأرشد عَن مُحَمَّد بن حميد الأندراني عَن الإِمَام أَحْمد أَنه قَالَ صفة الْمُؤمن من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وَأقر بِجَمِيعِ مَا أَتَت بِهِ الْأَنْبِيَاء وَالرسل وَعقد قلبه على مَا ظهر من لِسَانه وَلم يشك فِي إيمَانه وَلم يكفر أحدا من أهل التَّوْحِيد بذنب وأرجأ مَا غَابَ عَنهُ من الْأُمُور إِلَى الله عز وجل وفوض أمره إِلَى الله وَلم يقطع بِالذنُوبِ الْعِصْمَة من عِنْد الله وَعلم
এবং তাঁর উক্তি ‘একের অধিক সূত্রে’ এর মাধ্যমে তিনি ইমাম আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, সুতরাং এই দিক থেকে এটি কোনো অপরিচিত বিষয় নয়। আর যে হাদিসের প্রতি ইমাম ইঙ্গিত করেছেন, আমি সেটি ‘মুসনাদ’-এ তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি কিন্তু তা পাইনি। আমি জানি না এটি কি সেখানে ছিল আর আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, নাকি এটি সেখান থেকে হারিয়ে গেছে। অনুরূপভাবে আমি ছয় কিতাবেও (কুতুবুস সিত্তা) এটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু পাইনি। তবে আমি পেয়েছি যে হাফিজ আবুল কাসিম আলী ইবনু আসাকির আদ-দিমাশকি তাঁর ‘তারিখে কাবির’-এ আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনীতে ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবিত থাকাবস্থায় আমরা বলতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী। এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাত এবং তিনি এর কোনো প্রতিবাদ করতেন না।” অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, “অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের ছেড়ে দিতাম এবং তাঁদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করতাম না।”

যেহেতু ইমাম এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তাই আমরা মুহাদ্দিসগণের ইমামের প্রামাণিকতাকে যথেষ্ট মনে করে এর ওপর আলোচনা করা ত্যাগ করেছি।

ইবনু আসাকির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে তিনি (আলী) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাকে আবু বকর ও উমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেবে, আমি তাকে অপবাদকারীর দণ্ড হিসেবে চাবুক পেটা করব। আমি তো আবু বকর ও উমরের পুণ্যসমূহের মধ্য হতে একটি পুণ্য বৈ কিছু নই।”

তাঁর আরও কিছু কথা রয়েছে যা আমি আমার ‘তহজিবুত তারিখ ইবনে আসাকির’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

হাফিজ ইবনুল জাওযী, কাযী আবু ইয়ালা তাঁর ‘তাবাকাত’-এ এবং বুরহানুদ্দীন ইবনু মুফলিহ তাঁর ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনু হুমাইদ আল-আন্দারানি থেকে এবং তিনি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। নবী ও রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর প্রতি সে স্বীকৃতি প্রদান করে। তার মুখ দিয়ে যা প্রকাশিত হয় তার ওপর স্বীয় অন্তরকে সুদৃঢ় রাখে। নিজের ঈমানের ব্যাপারে সে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না। তাওহিদপন্থীদের কাউকেই কোনো পাপের কারণে কাফির বলে গণ্য করে না। তার অগোচরে থাকা বিষয়াবলি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সোপর্দ করে এবং নিজের যাবতীয় বিষয় আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করে। গুনাহের কারণে আল্লাহর পক্ষ হতে নিরাপত্তা (মাসুমিয়াত) ছিন্ন হয়ে গেছে বলে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে না এবং সে জানে যে...”
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৮)
أَن كل شَيْء بِقَضَاء الله وَقدره الْخَيْر وَالشَّر جَمِيعًا وَرَجا لمحسن أمة مُحَمَّد وتخوف على مسيئتهم وَلم ينزل أحدا من أمة مُحَمَّد الْجنَّة بِالْإِحْسَانِ وَلَا النَّار بذنب اكْتَسبهُ حَتَّى يكون الله الَّذِي ينزل بخلقه كَيفَ يَشَاء وَعرف حق السّلف الَّذين اخْتَارَهُمْ الله لصحبة نبيه وَقدم أَبَا بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعرف حق عَليّ بن أبي طَالب وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَسعد بن أبي وَقاص وَسَعِيد بن زيد بن عَمْرو بن نفَيْل على سَائِر الصَّحَابَة فَإِن هَؤُلَاءِ التِّسْعَة الَّذين كَانُوا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم على جبل حراء فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اسكن حراء فَمَا عَلَيْك إِلَّا نَبِي أَو صديق أَو شَهِيد وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عاشرهم وترحم على جَمِيع أَصْحَاب مُحَمَّد صَغِيرهمْ وَكَبِيرهمْ وَحدث بفضائلهم وَأمْسك عَمَّا شجر بَينهم وَصَلَاة الْعِيدَيْنِ والخسوف وَالْجُمُعَة وَالْجَمَاعَات مَعَ كل أَمِير بر أَو فَاجر وَالْمسح على الْخُفَّيْنِ فِي السّفر والحضر وَالْقصر فِي السفير

وَالْقُرْآن كَلَام الله وتنزيله وَلَيْسَ بمخلوق وَالْإِيمَان قَول وَعمل يزِيد وَينْقص وَالْجهَاد مَاض مُنْذُ بعث الله مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم إِلَى آخر عِصَابَة يُقَاتلُون الدَّجَّال لَا يضرهم جور جَائِر

وَالشِّرَاء وَالْبيع حَلَال إِلَى يَوْم الْقِيَامَة على حكم الْكتاب وَالسّنة
নিশ্চয়ই সবকিছু আল্লাহর ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী হয়—ভালো এবং মন্দ উভয়ই। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের নেককারদের জন্য জান্নাতের আশা পোষণ করেন এবং তাদের পাপাচারীদের ব্যাপারে ভয় করেন। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কাউকেই তার নেক আমলের কারণে নিশ্চিত জান্নাতি বলেন না এবং কোনো অর্জিত পাপের কারণে নিশ্চিত জাহান্নামীও বলেন না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে যেভাবে ইচ্ছা ফয়সালা করেন। তিনি সেই সকল পূর্বসূরিদের (সালাফ) মর্যাদা স্বীকার করেন যাদের আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। তিনি আবু বকর, ওমর ও উসমানকে অগ্রগণ্য রাখেন। তিনি আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা, জুবায়ের, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং সাঈদ ইবনে জাইদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইলের মর্যাদা অন্যান্য সকল সাহাবীদের ওপর স্বীকার করেন। কেননা এই নয়জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হেরা পাহাড়ে ছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "হে হেরা! স্থির হও, কারণ তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক অথবা একজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁদের দশম ব্যক্তি। তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছোট-বড় সকল সাহাবীর জন্য রহমতের দোয়া করেন, তাঁদের মর্যাদা বর্ণনা করেন এবং তাঁদের মাঝে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেন। আর দুই ঈদ, সূর্যগ্রহণ, জুমুআ ও জামাতের সালাত প্রত্যেক সৎ বা পাপাচারী আমিরের সাথে আদায় করা, সফর ও আবস্থানে থাকাকালীন চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা এবং সফরে সালাত সংক্ষিপ্ত (কসর) করাকেও তিনি সাব্যস্ত করেন।

আর কুরআন আল্লাহর কালাম ও তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং তা সৃষ্টি নয়। ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। জিহাদ জারি রয়েছে সেই সময় থেকে যখন আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন এবং তা সেই শেষ দল পর্যন্ত চলতে থাকবে যারা দাজ্জালের সাথে লড়াই করবে; কোনো অত্যাচারীর জুলুম তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।

কিতাব ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় হালাল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَالتَّكْبِير على الْجَنَائِز أَرْبعا وَالدُّعَاء لأئمة الْمُسلمين بالصلاح وَلَا تخرج عَلَيْهِم بسيفك وَلَا تقَاتل فِي فتْنَة والزم بَيْتك

وَالْإِيمَان بِعَذَاب الْقَبْر وَالْإِيمَان بمنكر وَنَكِير وَالْإِيمَان بالحوض والشفاعة

وَالْإِيمَان بِأَن أهل الْجنَّة يرَوْنَ رَبهم تبارك وتعالى

وَالْإِيمَان بِأَن الْمُوَحِّدين يخرجُون من النَّار بَعْدَمَا امتحشوا كَمَا جَاءَت الْأَحَادِيث فِي هَذِه الْأَشْيَاء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نؤمن بتصديقها وَلَا نضرب لَهَا الْأَمْثَال

هَذَا مَا اجْتمع عَلَيْهِ الْعلمَاء فِي جَمِيع الْآفَاق انْتَهَت رِوَايَة الأندراني وتليها رِوَايَة عَبدُوس

روى أَبُو يعلى فِي الطَّبَقَات والخلال والحافظ ابْن الْجَوْزِيّ فِي المناقب عَن عَبدُوس بن مَالك أَبُو مُحَمَّد الْعَطَّار قَالَ سَمِعت أَبَا عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل يَقُول أصُول السّنة عندنَا التَّمَسُّك بِمَا كَانَ عَلَيْهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم وَترك الْبدع وكل بِدعَة فَهِيَ ضَلَالَة وَترك المراء والجدال والخصومات فِي الدّين

وَالسّنة عندنَا آثَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالسّنة تفسر الْقُرْآن وَهِي دَلَائِل الْقُرْآن وَلَيْسَ فِي السّنة قِيَاس وَلَا تضرب لَهَا الْأَمْثَال وَلَا تدْرك بالعقول وَلَا الْأَهْوَاء وَإِنَّمَا هُوَ الِاتِّبَاع وَترك الْهوى

وَمن السّنة اللَّازِمَة الَّتِي من ترك مِنْهَا خصْلَة لم يقبلهَا ويؤمن بهَا لم يكن من أَهلهَا الْإِيمَان بِالْقدرِ خَيره وشره والتصديق بالأحاديث فِيهِ وَالْإِيمَان بهَا وَلَا يُقَال لم وَلَا كَيفَ إِنَّمَا هُوَ التَّصْدِيق وَالْإِيمَان بهَا وَمن لم يعرف تَفْسِير الحَدِيث ويبلغه عقله فقد كفى ذَلِك واحكم لَهُ فَعَلَيهِ الْإِيمَان بِهِ وَالتَّسْلِيم لَهُ مثل
জানাজার নামাজে চারটি তাকবীর প্রদান করা, মুসলিমদের ইমামদের জন্য কল্যাণের দোয়া করা, তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ না করা, কোনো ফিতনায় যুদ্ধ না করা এবং নিজের ঘরে অবস্থান করা।

কবরের আজাবের প্রতি ঈমান রাখা, মুনকার ও নাকিরের প্রতি ঈমান রাখা এবং হাউজ ও শাফায়াতের প্রতি ঈমান রাখা।

জান্নাতবাসীরা তাদের বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তাকে দেখতে পাবেন—এই বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখা।

তাওহীদবাদীরা জাহান্নাম থেকে দগ্ধ হওয়ার পর বের হবে—এ বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখা, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসব বিষয়ে হাদিস এসেছে। আমরা সেগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং সেগুলোর জন্য কোনো উদাহরণ বা উপমা পেশ করি না।

এগুলো এমন বিষয় যার ওপর দিগন্তের সকল আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এখানে আন্দরানীর বর্ণনা শেষ হলো এবং এর পরে আব্দুসের বর্ণনা শুরু হচ্ছে।

আবু ইয়ালা ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে, খিলাল এবং হাফিজ ইবনুল জাওযী ‘মানাকিব’ গ্রন্থে আব্দুস বিন মালিক আবু মুহাম্মাদ আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, “আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ যার ওপর ছিলেন তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জন করা। আর প্রতিটি বিদআতই হলো গোমরাহি। দ্বীনের বিষয়ে বাকবিতণ্ডা, তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-বিবাদ ত্যাগ করা।”

আমাদের নিকট সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসার (নিদর্শনসমূহ)। সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এটি কুরআনের দলিল স্বরূপ। সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস (অনুমান) নেই, এর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করা যায় না, এটি বুদ্ধি বা প্রবৃত্তির দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বরং এটি কেবলই অনুসরণ এবং প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়ার নাম।

অপরিহার্য সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত—যার কোনো একটি বৈশিষ্ট্য কেউ ত্যাগ করলে, গ্রহণ না করলে এবং বিশ্বাস না করলে সে সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না—তা হলো তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখা এবং এ সম্পর্কিত হাদিসসমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ও সেগুলোর প্রতি ঈমান রাখা। “কেন” বা “কীভাবে” এ জাতীয় প্রশ্ন করা যাবে না, বরং বিষয়গুলো কেবল সত্য বলে বিশ্বাস করা ও ঈমান রাখাই কর্তব্য। যে ব্যক্তি কোনো হাদিসের ব্যাখ্যা জানে না এবং যার বুদ্ধি সেখানে পৌঁছাতে পারে না, তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট এবং তার ওপর তা স্থির হবে; সুতরাং তার কর্তব্য হলো সেই বিষয়ের ওপর ঈমান আনা এবং তার প্রতি আত্মসমর্পণ করা, যেমন—
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা মাযহিবিল ইমাম আহমাদ লিইবনি বাদরান (পৃষ্ঠা: ৭০)
حَدِيث الصَّادِق المصدوق وَمثل مَا كَانَ مثله فِي الْقَضَاء وَالْقدر وَمثل أَحَادِيث الرُّؤْيَة كلهَا وَإِن نبت عَن الأسماع واستوحش مِنْهَا المستمع فَإِنَّمَا عَلَيْهِ الْإِيمَان بهَا وَأَن لَا يرد فِيهَا حرفا وَاحِدًا وَغَيرهَا من الْأَحَادِيث المأثورات عَن الثِّقَات وَأَن لَا يُخَاصم أحدا وَلَا يناظره وَلَا يتَعَلَّم الْجِدَال فَإِن الْكَلَام فِي الْقدر والرؤية وَالْقُرْآن وَغَيرهَا من السّنَن مَكْرُوه مَنْهِيّ عَنهُ لَا يكون صَاحبه وَإِن أصَاب بِكَلَامِهِ السّنة من أهل السّنة حَتَّى يدع الْجِدَال وَيسلم ويؤمن بالآثار وَالْقُرْآن كَلَام الله وَلَيْسَ بمخلوق وَلَا يضعف أَن يَقُول الْقُرْآن لَيْسَ بمخلوق فَإِن كَلَام الله لَيْسَ ببائن مِنْهُ وَلَيْسَ مِنْهُ شَيْء مَخْلُوق

وَإِيَّاك ومناظرة من أحدث فِيهِ وَمن قَالَ بِاللَّفْظِ وَغَيره وَمن وقف فِيهِ فَقَالَ لَا أَدْرِي أمخلوق أَو لَيْسَ بمخلوق وَإِنَّمَا هُوَ
সাদিকুল মাসদুক (সত্যবাদী ও সত্য দ্বারা সত্যায়িত রাসূল) এর হাদীস এবং ফয়সালা ও তাকদীর (ভাগ্য) সম্পর্কিত তদ্রূপ অন্যান্য হাদীসসমূহ এবং আল্লাহর দীদার বা দেখার সকল হাদীসসমূহ—যদি তা শ্রবণে অদ্ভুত ঠেকে এবং শ্রোতা তা শুনে শঙ্কিতও হয়, তবুও তার ওপর কর্তব্য হলো সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং এর একটি অক্ষরও প্রত্যাখ্যান না করা। এছাড়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নিকট থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসসমূহের ক্ষেত্রেও একই কথা। আর সে যেন কারও সাথে ঝগড়া না করে, বিতর্ক না করে এবং তর্কবিদ্যা শিক্ষা না করে। কেননা তাকদীর, আল্লাহর দীদার, কুরআন এবং সুন্নাহর অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ। এর লিপ্ত ব্যক্তি যদিও তার কথার মাধ্যমে সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক কথা বলে, তবুও সে আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হবে না যতক্ষণ না সে বিতর্ক বর্জন করে, আত্মসমর্পণ করে এবং বর্ণিত আসারসমূহের ওপর ঈমান আনে। আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়। কুরআন সৃষ্ট নয়—একথা বলতে সে যেন কোনো প্রকার দুর্বলতা প্রকাশ না করে। কারণ আল্লাহর কালাম তাঁর থেকে পৃথক কোনো বিষয় নয় এবং তাঁর কোনো কিছুই সৃষ্ট নয়।

আর তুমি সাবধান থেকো তাদের সাথে বিতর্ক করা থেকে যারা এতে নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটিয়েছে এবং যারা উচ্চারণ (লাফজ) বা অন্যান্য বিষয়ে কথা বলে, আর যারা এ বিষয়ে থমকে গিয়ে বলে যে, "আমি জানি না তা সৃষ্ট কি না"; বরং তা হলো...