(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: -)
المختصر في أصول الفقه - ت مظهربقا القسم: أصول الفقه
الكتاب: المختصر في أصول الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل
المؤلف: علي بن محمد بن عباس البعلي ثم الدمشقي الحنبلي «علاء الدين» أبو الحسن (المعروف بابن اللحام)
المحقق: د محمد مظهربقا
الناشر: مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي - (كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة)، [جامعة أم القرى لاحقًا]
عام النشر: 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 172
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুখতাসার ফি উসুলিল ফিকহ - সম্পাদনায়: মাজহার বাকা বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
বই: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক সংক্ষিপ্ত সার (আল-মুখতাসার)
লেখক: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আল-বালি অতঃপর আদ-দামাশকি আল-হাম্বলি «আলাউদ্দীন» আবু আল-হাসান (ইবনে আল-লাহহাম নামে পরিচিত)
মুহাক্কিক: ড. মুহাম্মাদ মাজহার বাকা
প্রকাশক: ইসলামিক ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র - (মক্কা মুকাররামায় কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ), [পরবর্তীতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়]
প্রকাশের বছর: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن
قال الشيخ الإمام العالم العلامة أقضى القضاة علاء الدين أبو الحسن على بن عباس البعلى الحنبلى رحمه الله تعالى ورضى عنه
الحمد لله الجاعل التقوى أصل الدين واساسه المبين معنى مجمل الكتاب والمبدع أنواعه وأجناسه المانع أولى الجهل من اتباعه والمانح العلماء اقتباسه
وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له شهادة عبد أدأب فى طاعة مولاه جوارحه وأنفاسه وأشهد أن معمدا عبده ورسوله الذى طهر باتباعه المؤمنين وأذهب عنهم كيد الشيطان وأرجاسه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صلاة دائمة تبوئ قائلها اتباع الحق وتوضح له التباسه
أما بعد فهذا مختصر فى أصول الفقه على مذهب الإمام الربانى أبى عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيبانى رضي الله عنه أجتهدت فى اختصاره وتحريره
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি আলাউদ্দীন আবু আল-হাসান আলী বিন আব্বাস আল-বালী আল-হাম্বলী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকওয়াকে দ্বীনের মূল এবং এর সুস্পষ্ট ভিত্তি করেছেন; যিনি কিতাবের অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়ের মর্মার্থ এবং এর বিভিন্ন প্রকার ও শ্রেণি উদ্ভাবনকারী; যিনি মূর্খদেরকে এর অনুসরণ থেকে বিরত রাখেন এবং ওলামাদেরকে এ থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগ দান করেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এটি এমন এক বান্দার সাক্ষ্য, যে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও নিঃশ্বাসকে স্বীয় মাওলার আনুগত্যে নিয়োজিত করেছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁর অনুসরণের মাধ্যমে তিনি মুমিনদের পবিত্র করেছেন এবং তাদের থেকে শয়তানের চক্রান্ত ও অপবিত্রতা দূর করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সর্বদা রহমত বর্ষিত হোক—এমন রহমত যা এর পাঠকারীকে সত্যের অনুসরণে অধিষ্ঠিত করে এবং তার নিকট সংশয় (التباس) স্পষ্ট করে দেয়।
অতঃপর, এটি ইমাম রব্বানী আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)-এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত সার (مختصر)। আমি এটি সংক্ষেপকরণ এবং পরিমার্জন (تحرير) করার বিষয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وتبيين رموزه وتحبيره محذوف التعليل والدلائل مشيرا إلى الخلاف والوفاق فى غالب المسائل مرتبا ترتيب ابناء زماننا مجيبا سؤال من تكرر سؤاله من إخواننا والله سبحانه المسؤول أن يجعله خالصا لوجهه الكريم نافعا صوابا وأن يثبت أمورنا ويجعل التقوى شعارا لنا وجلبابا بمنه وكرمه فنقول وبالله التوفيق
أصول الفقه مركب من مضاف ومضاف اليه وما كان كذلك فتعريفه من حيث هو مركب إجمالى لقبى وباعتبار كل من مفرداته تفصيلي
فأصول الفقه بالاعتبار الأول العلم بالقواعد التى يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية وبالثانى الأصول الآتى ذكرها
وهى جمع أصل وأصل الشئ ما منه الشئ أو ما استند الشئ فى وجوده اليه أو ما ينبنى عليه غيره أو ما احتيج اليه أقوال
এবং এর সংকেতসমূহের ব্যাখ্যা ও অলঙ্করণ করা হয়েছে কারণসমূহ (علة) ও প্রমাণসমূহ বর্জন করে, অধিকাংশ মাসয়ালায় মতভেদ ও ঐকমত্যের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে, আমাদের সমসাময়িকদের বিন্যাস অনুযায়ী সুবিন্যস্ত করে এবং আমার সেই ভাইদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে যারা বারবার অনুরোধ করেছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ (خالص) করেন, একে উপকারী ও সঠিক (صواب) করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের বিষয়সমূহ সুদৃঢ় করেন এবং তাকওয়াকে আমাদের ভূষণ ও চাদর স্বরূপ করেন। আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি:
উসূলে ফিকহ শব্দটি মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) এর সমন্বয়ে গঠিত। আর যা এরূপ হয়, যৌগিক (مركب) হিসেবে তার সংজ্ঞা হয় সামষ্টিক (إجمالي) ও নামবাচক (لقبي), এবং এর প্রতিটি একক শব্দের বিচারে তা হয় বিস্তারিত (تفصيلي)।
প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে উসূলে ফিকহ হলো এমন সব মূলনীতি (قواعد) সংক্রান্ত জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে শরীয়তের শাখাগত বিধানসমূহ আহরণ করা সম্ভব হয়। আর দ্বিতীয় বিবেচনায় এর অর্থ হলো সেই সকল মূল (أصول) যা সামনে আলোচনা করা হবে।
আর তা (উসূল) হলো 'আসল' (أصل) শব্দের বহুবচন। কোনো বস্তুর 'আসল' বা মূল হলো তা—যা থেকে কোনো কিছুর উৎপত্তি হয়, অথবা অস্তিত্ব লাভের ক্ষেত্রে কোনো বস্তু যার ওপর নির্ভর করে, অথবা যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে, অথবা যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া যায়—এগুলো হলো বিভিন্ন উক্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والفقه لغة الفهم والفهم إدراك معنى الكلام بسرعة قاله ابن عقيل فى الواضح
والأظهر لا حاجة إلى قيد السرعة وحد الفقه شرعا العلم بالأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال
والفقيه من عرف جملة غالبة وقيل كثيرة منها عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال
واصول الفقه فرض كفاية
وقيل فرض عين حكاه ابن عقيل وغيره
শাব্দিক অর্থে ফিকহ (الفقه) হলো অনুধাবন (الفهم), আর অনুধাবন হলো দ্রুততার সাথে বাক্যের অর্থ উপলব্ধি করা; ইবন আকিল তাঁর ‘আল-ওয়াদিহ’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
অধিকতর স্পষ্ট মতানুসারে দ্রুততার শর্তারোপের কোনো প্রয়োজন নেই। শরয়ি (شرعا) পরিভাষায় ফিকহের সংজ্ঞা হলো—ইস্তিদলাল (بالاستدلال) বা যুক্তিপ্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ (أدلتها التفصيلية) থেকে আহরিত শাখা-প্রশাখামূলক শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية الفرعية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর ফকিহ (الفقيه) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইস্তিদলাল (بالاستدلال) বা যুক্তিপ্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ (أدلتها التفصيلية) থেকে এই বিধানগুলোর অধিকাংশ—মতান্তরে একটি বড় অংশ—সম্পর্কে অবগত।
উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)।
কারো কারো মতে এটি ফরজে আইন (فرض عين); ইবন আকিল ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والمراد الاجتهاد قاله أبو العباس وغيره
وأوجب ابن عقيل وابن البنا وغيرهما تقدم معرفتها
وأوجب القاضى وغيره تقدم معرفة الفروع
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইজতিহাদ (اجتهاد), যা আবু আব্বাস ও অন্যান্যরা বলেছেন।
ইবনে আকীল, ইবনুল বান্না এবং অন্যান্যরা এটি আগে থেকে অবগত থাকাকে আবশ্যক করেছেন।
আল-কাজী এবং অন্যান্যরা ফুরু (الفروع) বা শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহের পূর্বজ্ঞান থাকাকে আবশ্যক করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الدليل لغة المرشد والمرشد الناصب والذاكر وما به الإرشاد
واصطلاحا ما يمكن التوصل بصحيح النظر فيه إلى مطلوب خبرى عند أصحابنا وغيرهم
قال أحمد رضي الله عنه الدال الله عز وجل والدليل القرآن والمبين الرسول صلى الله عليه وسلم والمستدل أولو العلم هذه قواعد الاسلام
وقيل يزاد فى الحد إلى العلم بالمطلوب فتخرج الأمارة وجزم به فى الواضح
وذكره الآمدى قول الأصوليين وأن الأول قول الفقهاء
দলিল (الدليل) শাব্দিক অর্থে তা হলো—পথপ্রদর্শক, দিকনির্দেশনা প্রদানকারী, পথপ্রদর্শনকারী এবং যার মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করা হয়।
আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحا) তা হলো এমন বিষয় যার ওপর সঠিক বিচার-বিশ্লেষণের (بصحيح النظر) মাধ্যমে কোনো কাঙ্ক্ষিত সংবাদমূলক সিদ্ধান্তে (مطلوب خبري) পৌঁছানো সম্ভব হয়, এটি আমাদের ইমামগণ এবং অন্যান্যদের অভিমত।
ইমাম আহমাদ (রা.) বলেছেন: পথপ্রদর্শক হলেন মহান আল্লাহ, দলিল (الدليل) হলো কুরআন, বিশদ বর্ণনাকারী (المبين) হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), এবং দলিল অন্বেষণকারী (المستدل) হলেন ইলমওয়ালা বা জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ; এগুলিই ইসলামের মূল ভিত্তি।
বলা হয়ে থাকে যে, এর সংজ্ঞায় 'কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের জ্ঞান' (العلم بالمطلوب) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, ফলে তা সংকেত বা লক্ষণকে (الأمارة) সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে যায়। 'আল-ওয়াদিহ' গ্রন্থে এই মতটি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।
আল-আমিদি এটি মূলনীতিবিদদের (الأصوليين) অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং প্রথমটি ফকিহদের (الفقهاء) অভিমত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقيل قولان فصاعدا يكون عنه قول آخر
وقيل يستلزم لنفسه فتخرج الأمارة
والنظر الفكر الذى يطلب به علم أو ظن
و
العلم يحد عند أصحابنا قال فى العدة والتمهيد
এবং বলা হয়েছে যে, দুই বা ততোধিক উক্তি যা থেকে অন্য একটি উক্তি নিঃসৃত হয়
এবং আরও বলা হয়েছে যে, যা আপন সত্তাগতভাবেই কোনো কিছুকে অপরিহার্য করে তোলে; ফলে নির্দেশক (الأمارة) এর বহির্ভূত হয়ে যায়
এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (النظر) হলো এমন চিন্তা যার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অথবা প্রবল ধারণা (ظن) অন্বেষণ করা হয়
এবং
জ্ঞান (العلم) সংজ্ঞায়িত (يحد) করা যায় আমাদের (মাযহাবের) আলিমগণের মতে; তিনি 'আল-উদ্দাহ' এবং 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
هو معرفة المعلوم على ما هو به
والأصح صفة توجب تمييزا لا يحتمل النقيض فيدخل إدراك الحواس كالأشعرى وإلا زيد فى الأمور المعنوية
وقيل لا يحد قال أبو المعالى لعسره قال لكن يميز ببحث وتقسيم ومثال
এটি হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী অনুধাবন করা।
এবং সবচেয়ে সঠিক (الأصح) সংজ্ঞা হলো—এটি এমন এক গুণ যা এমন এক সুনির্দিষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করে যেখানে বিপরীত কোনো বিষয়ের সম্ভাবনা থাকে না; ফলে আশআরী মতানুযায়ী এতে ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধিও অন্তর্ভুক্ত হয়, অন্যথায় একে কেবল বিমূর্ত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হতো।
আবার বলা হয়েছে যে, একে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। আবু আল-মাআলি এর কাঠিন্যের কারণে এমনটি বলেছেন। তবে তিনি বলেন যে, একে অনুসন্ধান, শ্রেণীবিন্যাস এবং উদাহরণের মাধ্যমে পৃথক করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال صاحب المحصول لأنه ضرورى من وجهين
أحدهما أن غير العلم لا يعلم ألا بالعلم فلو علم العلم بغيره كان دورا
والثانى أن كل أحد يعلم وجود ضروره
وعلم الله تعالى قديم ليس ضروريا ولا نظريا وفاقا
ولا يوصف سبحانه بأنه عارف ذكره بعضهم إجماعا ووصفه الكرامية بذلك وعلم المخلوق محدث ضرورى ونظرى وفاقا
فالضرورى ما علم من غير نظر والمطلوب بخلافه ذكره فى العدة والتمهيد
'আল-মাহসুল' গ্রন্থের লেখক বলেছেন, কারণ এটি (জ্ঞান) দুই দিক থেকে আবশ্যিক (ضروري)।
প্রথমত, জ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনো কিছু জ্ঞান ছাড়া জানা সম্ভব নয়; ফলে জ্ঞান যদি অন্য কিছুর মাধ্যমে জানা যেত, তবে তা চক্রাকার আবর্তনের (دورا) সৃষ্টি করত।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক ব্যক্তিই তার অস্তিত্বের আবশ্যকতা (ضرورة) সম্পর্কে জানে।
আল্লাহ তাআলার জ্ঞান অনাদি (قديم); তা আবশ্যিক (ضروري) নয় এবং চিন্তাপ্রসূত (نظري) নয়—এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে।
আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তাকে 'আরিফ' বা পরিচয় লাভকারী (عارف) হিসেবে অভিহিত করা যাবে না; কেউ কেউ একে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও কাররামিয়্যাহ সম্প্রদায় তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষায়িত করেছে। আর সৃষ্টির জ্ঞান হলো সৃজিত (محدث), যা আবশ্যিক (ضروري) এবং চিন্তাপ্রসূত (نظري)—এ বিষয়েও ঐকমত্য রয়েছে।
সুতরাং আবশ্যিক (ضروري) জ্ঞান হলো তা যা কোনো প্রকার চিন্তা-গবেষণা (نظر) ছাড়াই অর্জিত হয়, আর উদ্দিষ্ট (المطلوب) বিষয় এর বিপরীত; এটি 'আল-উদ্দাহ' এবং 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
والذكر الحكمى إما أن يحتمل متعلقه النقيض بوجه أولا والثانى العلم والأول إما أن يحتمل النقيض عند الذاكر لو قدره أولا والثانى الإعتقاد فإن طابق فصحيح وإلا ففاسد
والأول إما أن يحتمل النقيض وهو راجح أو لا والراجح الظن والمرجوح الوهم والمساوى الشك
وقد علم بذلك حدودها
و
العقل بعض العلوم الضرورية عند الجمهور
قال أحمد العقل غريزة يعنى غير مكتسب
قاله القاضى
وذهب بعض الناس إلى أنه اكتساب
وبعضهم أنه كل العلوم الضرورية
وبعضهم أنه جوهر بسيط
وبعضهم أنه مادة وطبيعة
والعقل يختلف فعقل بعض الناس اكثر من بعض قاله أصحابنا
বিচারমূলক উপলব্ধি (الذكر الحكمي) হয় এমন যে, তার সংশ্লিষ্ট বিষয়টির বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা কোনোভাবে থাকে, অথবা থাকে না। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো জ্ঞান (العلم)। আর প্রথম প্রকারটি হয় এমন যে, স্মরণকারী ব্যক্তি সেটি কল্পনা করলে তার নিকট বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথবা থাকে না। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বিশ্বাস (الإعتقاد); যদি তা বাস্তবের সাথে মিলে যায় তবে তা সঠিক (صحيح), অন্যথায় তা ভ্রান্ত (فاسد)।
আর প্রথম প্রকারটি হয় এমন যে, বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তা প্রবল হয় অথবা হয় না। প্রবল সম্ভাবনাটিকে বলা হয় প্রবল ধারণা (الظن), দুর্বল সম্ভাবনাটিকে বলা হয় ক্ষীণ ধারণা (الوهم), আর সমপর্যায়ের সম্ভাবনাকে বলা হয় সন্দেহ (الشك)।
এর মাধ্যমে এগুলোর সংজ্ঞা বা সীমা (حدودها) জানা গেল।
বুদ্ধি (العقل) জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের (الجمهور) মতে এটি কিছু আবশ্যিক জ্ঞানের (العلوم الضرورية) অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম আহমাদ বলেন, বুদ্ধি (العقل) হলো একটি সহজাত প্রবৃত্তি (غريزة); অর্থাৎ এটি অনর্জিত (غير مكتسب)।
কাযী (আবু ইয়ালা) এটি বর্ণনা করেছেন।
কিছু লোক এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এটি একটি অর্জিত (اكتساب) বিষয়।
কেউ কেউ মনে করেন, এটি সকল আবশ্যিক জ্ঞানের (العلوم الضرورية) সমষ্টি।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি একটি মৌলিক সত্তা (جوهر بسيط)।
কারো কারো মতে, এটি পদার্থ (مادة) ও প্রকৃতি (طبيعة)।
বুদ্ধি বা বিবেকের ক্ষেত্রে তারতম্য হয়ে থাকে, তাই একজনের বুদ্ধি অন্যজনের তুলনায় বেশি হতে পারে—আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীগণ একথাই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وخالف ابن عقيل والمعتزله والأشعرية
ومحله القلب عند أصحابنا والأشعرية وحكى عن الأطباء حتى قال ابن الأعرابى وغيره العقل القلب والقلب العقل
واشهر الروايتين عن أحمد رحمه الله تعالى هو فى الدماغ
ومن لطف الله تعالى إحداث الموضوعات اللغوية لتعبر عما فى الضمير
وهى أفيد من الاشارة والمثال وايسر فلنتكلم على حدها واقسامها وابتداء وضعها وطريق معرفتها
الحد كل لفظ وضع لمعنى
أقسامها مفرد ومركب
والمفرد اللفظ بكلمة واحدة
ইবন আকিল, মুতাযিলা এবং আশআরিয়াগণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
আমাদের (হাম্বলি) অনুসারীগণ এবং আশআরিয়াদের মতে এর স্থান হলো অন্তর। চিকিৎসকদের নিকট থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে, এমনকি ইবনুল আরাবি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: বুদ্ধিই হলো অন্তর এবং অন্তরই হলো বুদ্ধি।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধটি হলো যে, বুদ্ধির অবস্থান মস্তিষ্কে।
মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো ভাষাগত পারিভাষিক (الموضوعات) শব্দাবলির উদ্ভব ঘটানো, যাতে মনের ভাব ব্যক্ত করা যায়।
এটি ইশারা বা উদাহরণের চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ ও সহজ। অতএব, আমরা এর সংজ্ঞা (حد), প্রকারভেদ (أقسام), এর প্রচলনের সূচনা এবং তা জানার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।
সংজ্ঞা (الحد) হলো: এমন প্রতিটি শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর প্রকারসমূহ (أقسام) হলো: একক (مفرد) এবং যৌগিক (مركب)।
আর একক (المفرد) হলো এমন শব্দ যা একটি মাত্র শব্দ দ্বারা গঠিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقيل ما وضع لمعنى ولا جزء له يدل فيه
والمركب بخلافه فيهما
فنحو بعلبك مركب على الأول لا الثانى ونحو يضرب بالعكس
ويلزمهم ان نحو ضارب ومخرج مما لا ينحصر مركب
وينقسم المفرد إلى اسم وفعل وحرف
ودلالته اللفظية فى كمال معناها دلالة مطابقة
وفى بعض معناها دلالة تضمن كدلالة الجدران على البيت
وغير اللفظية دلالة التزام كدلالته على المبانى
ولم يشترط الأصوليون فى كون اللازم ذهنيا واشترطه المنطقيون
والمركب جملة وغير جملة
فالجملة ما وضع لإفادة نسبة
ولا يتاتى إلا فى اسمين أو فعل واسم
ولا يرد حيوان ناطق وكاتب فى زيد كاتب لأنها لم توضع لإفادة نسبة
বলা হয়ে থাকে যে, যা একটি নির্দিষ্ট অর্থের জন্য গঠিত এবং তার কোনো অংশ সেই অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না।
পক্ষান্তরে যৌগিক (مركب) শব্দ এই উভয় ক্ষেত্রে এর বিপরীত।
সুতরাং 'বালবাক'-এর মতো শব্দ প্রথম সংজ্ঞানুযায়ী যৌগিক (مركب), কিন্তু দ্বিতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী নয়; আর 'ইয়াযরিবু'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত।
আর তাদের সংজ্ঞানুযায়ী এটি আবশ্যক হয় যে, 'দারিব' ও 'মুখরিজ'-এর মতো অগণিত শব্দগুলোও যৌগিক (مركب) হিসেবে গণ্য হবে।
এবং একক (مفرد) শব্দ বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)—এই তিন ভাগে বিভক্ত।
আর পূর্ণ অর্থের ক্ষেত্রে শব্দের শাব্দিক নির্দেশ হলো সমজাতীয় নির্দেশ (دلالة مطابقة)।
এবং অর্থের অংশবিশেষের ক্ষেত্রে তা হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশ (دلالة تضمن); যেমন ঘর বলতে দেয়ালকে বুঝানো।
আর শাব্দিক অর্থবহির্ভূত নির্দেশ হলো অপরিহার্য নির্দেশ (دلالة التزام); যেমন ঘর বলতে তার ভিত্তিকে বুঝানো।
উসুলবিদগণ (الأصوليون) অপরিহার্য বিষয়টি কেবল মানসিক হওয়ার শর্তারোপ করেননি, তবে যুক্তিবিদগণ (المنطقيون) এই শর্ত প্রদান করেছেন।
এবং যৌগিক (مركب) শব্দ বাক্য (جملة) এবং বাক্য নয়—এই দুই প্রকার।
সুতরাং বাক্য (جملة) হলো এমন শব্দ যা কোনো অন্বয় বা সম্পর্ক প্রকাশের জন্য গঠিত।
আর এটি দুটি বিশেষ্য (اسم) অথবা একটি ক্রিয়া (فعل) ও একটি বিশেষ্যের (اسم) সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়।
আর 'বাকশক্তিমান প্রাণী' এবং 'যায়েদ লেখক' বাক্যের মধ্যে 'লেখক' শব্দটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ এগুলো কোনো সম্পর্কের সংবাদ প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وللمفرد باعتبار وحدته ووحدة مدلوله أربعة اقسام
فالأول إن اشترك فى مفهومه كثيرون فهو الكلى
فإن تفاوت كالوجود للخالق والمخلوق فمشكك والا فمتواطئ
وأن لم يشترك فجزئى
ويقال للنوع أيضا جزئى
والكلى ذاتى وعرضى
والثانى من الأربعة متقابلة متباينة
الثالث إن كان حقيقة للمتعدد فمشترك والا فحقيقة ومجاز
الرابع مترادفة
وكلها مشتق وغير مشتق صفة وغير صفة
مسألة المشترك واقع عند أصحابنا والحنفية والشافعية
ومنع منه ابن الباقلانى وثعلب
একক শব্দের (مفرد) একত্ব এবং তার অর্থের একত্বের বিচারে চারটি প্রকার রয়েছে।
প্রথম প্রকার হলো, যদি এর ধারণায় অনেকে অংশীদার হয়, তবে তাকে সামগ্রিক (كلي) বলা হয়।
যদি তার মধ্যে তারতম্য থাকে—যেমন স্রষ্টা ও সৃষ্টির অস্তিত্বের বিষয়টি—তবে তা ক্রমিক তারতম্যপূর্ণ (مشكك); অন্যথায় তা সমপর্যায়ভুক্ত (متواطئ)।
আর যদি তাতে অংশীদারিত্ব না থাকে, তবে তা আংশিক বা বিশেষ (جزئي)।
প্রজাতিকেও (نوع) আংশিক বা বিশেষ (جزئي) বলা হয়।
সামগ্রিক (كلي) বিষয়গুলো সত্তাগত (ذاتي) এবং আপতিক (عرضي) হয়ে থাকে।
চার প্রকারের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো বিপরীতমুখী (متقابلة) এবং স্বতন্ত্র (متباينة)।
তৃতীয় প্রকার হলো, যদি তা একাধিক বিষয়ের জন্য প্রকৃত (حقيقة) হয়, তবে তা সমোচ্চারিত অনেকার্থক (مشترك); অন্যথায় তা প্রকৃত (حقيقة) এবং রূপক (مجاز)।
চতুর্থ প্রকার হলো সমার্থক (مترادفة)।
এগুলোর প্রতিটিই ব্যুৎপন্ন (مشتق) ও অব্যুৎপন্ন এবং বিশেষণ (صفة) ও অ-বিশেষণ হতে পারে।
সমোচ্চারিত অনেকার্থক (مشترك) সংক্রান্ত মাসআলা: এটি আমাদের (হাম্বলি) আলিমগণ, হানাফি এবং শাফিয়িগণের নিকট সংঘটিত ও স্বীকৃত।
তবে ইবনে বাকিলানি এবং সা’লাব এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
والأبهرى والبلخى
ومنع منه بعضهم فى القرآن
وبعضهم فى الحديث ايضا
قال بعض أصحابنا ولا يجب فى اللغة
وقيل بلى
مسألة المترادف واقع عند أصحابنا والحنفية والشافعية خلافا لثعلب وابن فارس مطلقا وللإمام فى الأسماء الشرعية
আল-আভারী এবং আল-বালখী
এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ করেছেন
এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিসের ক্ষেত্রেও এটি নিষিদ্ধ করেছেন
আমাদের একদল আলেম বলেছেন যে, ভাষার ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক (واجب) নয়
এবং বলা হয়েছে যে, হ্যাঁ (তা আবশ্যক)
সমার্থক (المترادف) শব্দ সংক্রান্ত মাসআলা এটি আমাদের আলেমগণ, হানাফি এবং শাফিঈদের নিকট বাস্তবসম্মত বা বিদ্যমান (واقع); যা নিঃশর্তভাবে (مطلقا) ছা'লাব এবং ইবনে ফারিসের মতের পরিপন্থী এবং শরয়ি নামসমূহের (الأسماء الشرعية) ক্ষেত্রে ইমামের মতের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
والحد والمحدود ونحو عطشان نطشان غير مترادفين على الأصح
ويقوم كل مترادف مقام الآخر إن لم يكن تعبد بلفظه خلافا للإمام مطلقا وللبيضاوي والهندى وغيرهما اذا كانا من لغتين
مسألة الحقيقة اللفظ المستعمل فى وضع أول
وهى لغوية وعرفية وشرعية كالاسد والدابة والصلاة
والمجاز اللفظ المستعمل فى غير وضع اول على وجه يصح
ولا بد من العلاقة
সংজ্ঞার্থ (الحد) এবং সংজ্ঞায়িত বস্তু (المحدود) এবং ‘আতশান-নাতশান’ (তৃষ্ণার্ত ও তার অনুগামী শব্দ) এর মতো শব্দসমূহ অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মতানুসারে সমার্থক (مترادف) নয়।
প্রতিটি সমার্থক (مترادف) শব্দ অপরটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে যদি তার নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা ইবাদত করা (تعبد) নির্ধারিত না থাকে; যা ইমাম (রাযী)-এর নিঃশর্ত মত এবং বায়যাভী, হিন্দি ও অন্যদেরও ভিন্নমতের বিপরীত যখন শব্দ দুটি ভিন্ন ভিন্ন ভাষার হয়।
মাসআলা: হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) হলো সেই শব্দ যা তার প্রাথমিক অবস্থানে (وضع أول) ব্যবহৃত হয়।
আর এটি আভিধানিক (لغوية), প্রথাগত (عرفية) এবং শরয়ি (شرعية); যেমন: সিংহ, চতুষ্পদ জন্তু এবং সালাত।
আর মাজায বা রূপক অর্থ (المجاز) হলো সেই শব্দ যা তার প্রাথমিক অবস্থান (وضع أول) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে শুদ্ধভাবে ব্যবহৃত হয়।
আর (এক্ষেত্রে) অবশ্যই একটি সম্পর্ক (العلاقة) থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وقد تكون بالشكل كالانسان للصورة
أو فى صفة ظاهرة كالاسد على الشجاع لا على الأبخر لخفائها
أو لأنه كان عليها كالعبد على العتيق
أو آئل كالخمر للعصير
أو للمجاورة مثل جرى الميزاب
ولا يشترط النقل فى الآحاد على الأصح
واللفظ قبل استعماله ليس حقيقة ولا مجازا
ويعرف المجاز بوجوه
بصحة النفى كقوله للبليد ليس بحمار عكس الحقيقة وبعدم اطراده ولا عكس
وبجمعه على خلاف جمع الحقيقة كأمور جمع أمر للفعل وامتناع أوامر ولا عكس
এবং এটি কখনো আকৃতিগতভাবে হতে পারে, যেমন কোনো প্রতিকৃতির ক্ষেত্রে 'মানুষ' শব্দটির প্রয়োগ
অথবা কোনো প্রকাশ্য গুণের কারণে হতে পারে, যেমন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সিংহ' শব্দের প্রয়োগ; তবে দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাসের অধিকারীর ক্ষেত্রে নয়, কারণ তা সেখানে অপ্রকাশ্য
অথবা পূর্বে সেই অবস্থায় ছিল বলে হতে পারে, যেমন মুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'দাস' শব্দটির ব্যবহার
অথবা পরিণতির বিবেচনায় হতে পারে, যেমন আঙ্গুরের রসের ক্ষেত্রে 'মদ' শব্দটির প্রয়োগ
অথবা নৈকট্যের কারণে হতে পারে, যেমন: 'নর্দমা প্রবাহিত হচ্ছে' বলা
বিশুদ্ধতম (الأصح) মত অনুযায়ী, একক (الآحاد) শব্দপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ভাষাগত উদ্ধৃতি (النقل) শর্ত নয়
শব্দ ব্যবহারের পূর্বে তা প্রকৃত (حقيقة) বা রূপক (مجاز) কোনোটিই নয়
রূপক (مجاز) কতিপয় নিদর্শনের মাধ্যমে চেনা যায়
অস্বীকার করার বৈধতার মাধ্যমে, যেমন নির্বোধ ব্যক্তিকে বলা হয়: 'সে গাধা নয়', যা প্রকৃত (حقيقة) অর্থের বিপরীত; এবং এর ধারাবাহিকতার (اطراد) অভাবের মাধ্যমে, যদিও এর বিপরীতটি সত্য নয়
এবং প্রকৃত (حقيقة) অর্থের পরিপন্থী বহুবচন হওয়ার মাধ্যমে; যেমন কর্ম অর্থে ব্যবহৃত 'আমর' শব্দের বহুবচন হলো 'উমুর', যেখানে 'আওয়ামির' ব্যবহার করা অসম্ভব; যদিও এর বিপরীতটি সত্য নয়
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وبالتزام تقييده مثل جناح الذل ونار الحرب
وبتوقفه على المسمى الآخر مثل {ومكروا ومكر الله}
والحقيقة لا تستلزم المجاز
وبالعكس الأصح الاستلزام
مسألة والمجاز واقع خلافا للاستاذ وأبى العباس وغيرهما
وعلى الأول المجاز أغلب وقوعا
قال ابن جنى أكثر اللغة مجاز
قال أبو العباس المشهور أن الحقيقة والمجاز من عوارض الألفاظ
এবং তাকে সীমাবদ্ধকরণের (تقييد) আবশ্যকতা দ্বারা, যেমন ‘বিনয়ের ডানা’ এবং ‘যুদ্ধের আগুন’
এবং অন্য নামকৃত বিষয়ের উপর তার নির্ভরশীল হওয়ার মাধ্যমে, যেমন {তারা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং আল্লাহও কৌশল (মকর) করেছিলেন}
প্রকৃত অর্থ (حقيقة) রূপক অর্থকে (مجاز) অপরিহার্য করে না
বিপরীতভাবে, অধিকতর সঠিক মত হলো রূপক অর্থ প্রকৃত অর্থকে অপরিহার্য করে
মাসআলা: আল-উস্তাদ, আবু আব্বাস এবং অন্যান্যদের ভিন্নমতের বিপরীতে রূপক অর্থের (مجاز) বাস্তবতা বিদ্যমান
প্রথম মতানুসারে, রূপক অর্থের (مجاز) প্রয়োগই অধিকতর
ইবনে জিন্নি বলেছেন, ভাষার অধিকাংশ অংশই হলো রূপক (مجاز)
আবু আব্বাস বলেছেন, প্রসিদ্ধ অভিমত হলো যে প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز) শব্দেরই বৈশিষ্ট্য (عوارض)
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وهو فى القرآن عند أكثر أصحابنا وغيرهم
قال إمامنا فى قوله تعالى {إنا نحن} هذا من مجاز اللغة
وأوله أبو العباس على الجائز فى اللغة ومنع منه بعض الظاهرية وابن حامد
وحكاه الفخر إسماعيل رواية وحكاه أبو الفضل التميمى من أصحابنا
وحكى عن ابن داؤود منعه فى الحديث ايضا
وقد يكون المجاز فى الاسناذ خلافا لقوم
এটি আমাদের অধিকাংশ সাথী (আলেম) এবং অন্যদের মতে কুরআনে বিদ্যমান।
মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয় আমরা} সম্পর্কে আমাদের ইমাম বলেছেন যে, এটি ভাষার অলঙ্কার (مجاز)।
আবু আল-আব্বাস ভাষাগতভাবে এটি বৈধ হওয়ার ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তবে কতিপয় জাহিরিপন্থী এবং ইবনে হামিদ তা নিষেধ করেছেন।
ফখর ইসমাইল একে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু আল-ফদল আত-তামিমিও তা বর্ণনা করেছেন।
এবং ইবনে দাউদ থেকে হাদিসের ক্ষেত্রেও এটি নিষেধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।
আর একদলের ভিন্নমতের বিপরীতে সনদের (الإسناد) ক্ষেত্রেও অলঙ্কার (مجاز) হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وفى الأفعال والحروف وفاقا لابن عبد السلام والنقشوانى
ومنع الإمام الحرف مطلقا والفعل والمشتق الا بالتبع
ولا يكون فى الأعلام قال ابن عقيل فى الواضح خلافا للغزالى فى متلمح الصفة
ويجوز الاستدلال بالمجاز ذكره القاضى وابن عقيل وابن الزاغونى
এবং ইবনে আবদুস সালাম ও আল-নাকশওয়ানীর মতের সাথে সংগতি রেখে ক্রিয়া (أفعال) ও অব্যয়ের (حروف) ক্ষেত্রেও রূপক সাব্যস্ত হয়।
আর ইমাম অব্যয়কে (حروف) নিরঙ্কুশভাবে এবং ক্রিয়া (أفعাল) ও উদ্ভূত শব্দকে (مشتق) কেবল অনুগামী (تبع) হওয়া ব্যতীত রূপক হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।
এটি ব্যক্তিবাচক বিশেষ্যের (أعلام) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না; ইবন আকীল আল-ওয়াদিহ গ্রন্থে এটি বলেছেন, যা গুণবাচক ইঙ্গিতবাহী বিশেষ্যের (متلمح الصفة) ক্ষেত্রে ইমাম গাযালীর মতের পরিপন্থী।
আর রূপক (مجاز) দ্বারা দলিল পেশ (استدلال) করা বৈধ; এটি আল-কাযী, ইবন আকীল এবং ইবনুল যাগূনী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ولا يقاس على المجاز فلا يقال سل البساط ذكره ابن عقيل
وذكر ابن الزغونى فيه خلافا عن بعض أصحابنا بناء على ثبوت اللغة قياسا
مسألة إذا دار اللفظ بين المجاز والاشتراك فالمجاز اولى ذكره بعض أصحابنا وغيرهم
وفى تعارض الحقيقة المرجوحة والمجاز الراجح أقوال ثالثها مجمل واللفظ لحقيقته حتى يقوم دليل المجاز
مسألة الحقيقة الشرعية واقعة عندنا وقيل لا شرعية بل اللغوية باقية وزيدت شروطا فهى حقيقة لغوية ومجاز شرعى
مسألة فى القرآن المعرب عند ابن الزاغونى والمقدسى ونفاه الأكثر
مسألة المشتق فرع وافق أصلا
وهو الاسم عند البصريين
وعند الكوفيين الفعل بحروفه الأصول ومعناه كخفق من الخفقان فيخرج ما وافق بمعناه كحبس ومنع وما وافق بحزوفه كذهب وذهاب
রূপকের (مجاز) ওপর অনুমান (قياس) করা যাবে না, সুতরাং 'গালিচাকে জিজ্ঞেস করো'—এমন প্রয়োগ করা যাবে না; এটি ইবন আকিল উল্লেখ করেছেন।
আর ইবনুল যাগূনী এ বিষয়ে আমাদের মাযহাবের কোনো কোনো সঙ্গীর থেকে ভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন, যা ভাষা অনুমানের (قياس) মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে।
মাসআলা: যদি শব্দটি রূপক (مجاز) এবং একাধিক অর্থবোধকতার (اشتراك) মধ্যে আবর্তিত হয়, তবে রূপকই (مجاز) অগ্রাধিকারযোগ্য। এটি আমাদের কিছু সঙ্গী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।
অপ্রধান আক্ষরিক অর্থ (حقيقة مرجوحة) এবং প্রধান রূপক অর্থের (مجاز راجح) বিরোধ দেখা দিলে কয়েকটি মত রয়েছে; তৃতীয় মতটি হলো এটি অস্পষ্ট (مجمل)। আর শব্দ তার আক্ষরিক অর্থেই (حقيقة) বহাল থাকে যতক্ষণ না রূপকের (مجاز) পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।
মাসআলা: আমাদের নিকট শরয়ি হাকিকত (حقيقة شرعية) বাস্তবতা। বলা হয়ে থাকে যে, কোনো শরয়ি হাকিকত নেই, বরং ভাষাগত অর্থই অবশিষ্ট থাকে এবং তাতে কিছু শর্তারোপ করা হয়; ফলে তা ভাষাগত হাকিকত (حقيقة لغوية) এবং শরয়ি রূপক (مجاز شرعي)।
মাসআলা: কুরআনে ব্যবহৃত অ-আরবি শব্দ (معرب) প্রসঙ্গে: ইবনুল যাগূনী ও আল-মাকদিসির মতে এটি বিদ্যমান, তবে অধিকাংশ আলিম তা অস্বীকার করেছেন।
মাসআলা: উদ্ভূত শব্দ (مشتق): এটি এমন একটি শাখা যা মূলের অনুগামী।
আর বসরার ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি বিশেষ্য (اسم)।
আর কুফার ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি এমন ক্রিয়া (فعل) যা তার মূল বর্ণ ও অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যেমন 'খাফাকান' থেকে 'খাফাকা'। ফলে যা কেবল অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমন 'হাবাসা' ও 'মানাআ'; আর যা কেবল মূল বর্ণের দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন 'যাহাবা' ও 'যাহাব'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
والاشتقاق الأصغر اتفاق القولين فى الحروف وترتيبها
والأوسط فى الحروف
والأكبر اتفاق القولين من جنس الحروف كاتفاقهما فى حروف الحلق
وقد يطرد المشتق كاسم الفاعل والمفعول والصفة المشبهة بهما وقد يختص كالقارورة والدبران
مسألة إطلاق الاسم المشتق قبل وجود الصفة المشتق منها مجاز ذكره جماعة إجماعا والمراد إذا أريد الفعل فإن اريدت الصفة المشبهة بالفاعل كقولهم سيف قطوع ونحوه فقال القاضى وغيره هو حقيقة لعدم صحة النفى وقيل مجاز
فأما أسماء الله تعالى وصفاته فقديمة وهى حقيقة عند إمامنا وأصحابه وجمهور أهل السنة
وحال وجود الصفة حقيقة إجماعا
والمراد حال التلبس لا النطق قاله القاضى وأبو الطيب
ক্ষুদ্রতর ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق الأصغر) হলো বর্ণ এবং তাদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে দুটি শব্দের ঐকমত্য বা মিল থাকা।
এবং মধ্যম ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق الأوسط) হলো কেবল বর্ণের ক্ষেত্রে মিল থাকা।
আর বৃহত্তর ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق الأكبر) হলো বর্ণের গোত্র বা মাখরাজের দিক থেকে দুটি শব্দের মধ্যে মিল থাকা, যেমন কণ্ঠনালীয় বর্ণসমূহের (حروف الحلق) ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক মিল।
কখনো ব্যুৎপন্ন শব্দ (المشتق) নিয়মিত বা ব্যাপক হয়, যেমন কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) এবং এই দুইয়ের সদৃশ বিশেষণ (الصفة المشبهة); আবার কখনো তা সুনির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য খাস হয়, যেমন 'কারুরা' (পাত্র) এবং 'দাবারান' (একটি নক্ষত্র)।
মাসআলা: যে গুণ থেকে শব্দটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে, সেই গুণ বিদ্যমান হওয়ার পূর্বে ব্যুৎপন্ন বিশেষ্যের (الاسم المشتق) প্রয়োগ করা রূপক (مجاز); একদল আলিম একে সর্বসম্মত (إجماعا) বলে উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যখন কোনো ক্রিয়া (الفعل) উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু যদি কর্তৃবাচকের সদৃশ বিশেষণ উদ্দেশ্য হয়, যেমন তাদের উক্তি 'কর্তনকারী তলোয়ার' এবং এই জাতীয় শব্দ, তবে কাজী এবং অন্যরা বলেছেন যে এটি প্রকৃত (حقيقة); কারণ এক্ষেত্রে নেতিবাচকতা (النفي) সঠিক নয়। কেউ কেউ একে রূপক (مجاز) বলেছেন।
পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি অনাদি (قديمة)। আমাদের ইমাম, তাঁর অনুসারীগণ এবং জুমহুর আহলে সুন্নাতের (جمهور أهل السنة) নিকট এগুলো প্রকৃত (حقيقة) অর্থেই ব্যবহৃত।
আর গুণটি বিদ্যমান থাকার অবস্থায় তার প্রয়োগ সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعا) প্রকৃত (حقيقة)।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার (حال التلبস) সময়, উচ্চারণের (النطق) সময় নয়; এটি কাজী এবং আবু তায়্যিব বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وبعد انقضاء الصفة حقيقة أو مجاز أو حقيقة إن لم يكن بقاء المعنى كالمصادر السيالة أقوال
وقيل إن طرأ على المجمل وصف وجودى يناقض الأول لم يسم بالأول إجماعا
مسألة شرط المشتق صدق أصله خلافا لأبى على وابنه فإنهما قالا بعالمية الله تعالى دون علمه وعللاها به فينا
مسألة لا يشق اسم الفاعل لشيء والفعل قائم بغيره خلافا للمعتزلة
مسألة الأبيض ونحوه من المشتق يدل على ذات متصفة بالبياض لا على خصوص من جسم وغيره بدليل صحة الأبيض جسم
مسألة تثبت اللغة قياسا عند أكثر أصحابنا
গুণের (صفة) অবসান ঘটার পর তা কি প্রকৃত (حقيقة) নাকি রূপক (مجاز), অথবা যদি অর্থ বিদ্যমান থাকা সম্ভব না হয় যেমন ক্ষণস্থায়ী উৎসের (المصادر السيالة) ক্ষেত্রে তবে তা কি প্রকৃত (حقيقة) হবে—এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিমত (أقوال) রয়েছে।
আর বলা হয়েছে যে, যদি অস্পষ্ট বিষয়ের (المجمل) ওপর এমন কোনো অস্তিত্বমান গুণ (وصف وجودي) আপতিত হয় যা প্রথমটির বিপরীত, তবে সর্বসম্মতভাবে (إجماعا) তাকে আর প্রথম নামে অভিহিত করা যাবে না।
মাসআলা: প্রতিপাদিত শব্দের (المشتق) শর্ত হলো তার মূল অর্থের সত্যতা পাওয়া। এটি আবু আলী এবং তাঁর পুত্রের মতের পরিপন্থী, কেননা তাঁরা মহান আল্লাহর জ্ঞান (علم) গুণটি সাব্যস্ত না করেই তাঁর 'আলিম' বা পরিজ্ঞাত হওয়াকে স্বীকার করেছেন এবং আমাদের ক্ষেত্রে তা দ্বারা কারণ দর্শিয়েছেন।
মাসআলা: কোনো সত্তার জন্য কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) গঠন করা যাবে না যখন সেই ক্রিয়াটি (الفعل) অন্য কারো মাধ্যমে সম্পন্ন হয়; এক্ষেত্রে মুতাজিলাগণ ভিন্নমত পোষণ করেন।
মাসআলা: 'সাদা' (الأبيض) এবং এ জাতীয় প্রতিপাদিত শব্দ (المشتق) এমন একটি সত্তাকে নির্দেশ করে যা শুভ্রতা গুণে গুণান্বিত, নির্দিষ্ট কোনো দেহ বা অন্য কিছুর জন্য নয়; এর প্রমাণ হলো 'সাদা একটি দেহ'—এই উক্তিটি শুদ্ধ হওয়া।
মাসআলা: কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে ভাষা সাব্যস্ত হয়; এটি আমাদের অধিকাংশ সঙ্গীদের অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
ونفاه أبو الخطاب وأكثر الحنفية
وللشافعية قولان واختلفوا فى الراجح
وللنحاة قولان اجتهادا
والإجماع على منعه فى الأعلام والألقاب قاله ابن عقيل وغيره وكذا مثل إنسان ورجل ورفع الفاعل
ومحل الخلاف الاسم الموضوع لمسمى مستلزم لمعنى فى محله وجودا وعدما كالخمر للنبيذ لتخمير العقل والسارق للنباش للأخذ خفية والزانى للائط للوطء المحرم
مسائل الحروفالواو لمطلق الجمع لا لترتيب ولا معية عند الأكثر
আবু আল-খাত্তাব এবং অধিকাংশ হানাফী আলেম একে অস্বীকার করেছেন।
শাফেয়ীগণের এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে এবং তাঁরা কোনটি অগ্রগণ্য (الراجح) তা নিয়ে মতভেদ করেছেন।
ব্যাকরণবিদদের নিকটও গবেষণালব্ধ (اجتهاد) দুটি মত রয়েছে।
ব্যক্তিনাম এবং উপাধির ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) রয়েছে— যা ইবনে আকিল এবং অন্যান্যরা ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে 'মানুষ', 'ব্যক্তি' এবং কর্তার রফ বা পেশযুক্ত হওয়া (رفع الفاعل) এর ক্ষেত্রেও একই বিধান।
আর মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু (محل الخلاف) হলো এমন একটি নাম যা এমন একটি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত, যা তার অবস্থানে অস্তিত্বমান বা অনুপস্থিত অর্থের আবশ্যকতা দাবি করে। যেমন— বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করার কারণে 'নাবিয'কে মদ (الخمر) বলা, গোপনে হস্তগত করার কারণে 'কবর চোর'কে চোর (السارق) বলা এবং নিষিদ্ধ মৈথুনের কারণে 'সমকামী'কে ব্যভিচারী (الزاني) বলা।
অব্যয় সংক্রান্ত মাসআলাসমূহঅধিকাংশের মতে 'ওয়াও' (الواو) বর্ণটি কেবলমাত্র সাধারণ সমষ্টির (مطلق الجمع) অর্থ প্রকাশ করে; এটি ধারাবাহিকতা (ترتيب) কিংবা এককালীনতা (معية) বোঝানোর জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وكلام أصحابنا يدل على أن الجمع المعية
وذكر فى التمهيد وغيره ما يدل على أنه إجماع أهل اللغة لإجماعهم أنها فى الأسماء المختلفة كواو الجمع وياء التثنية فى المتماثلة واحتج به ابن عقيل وغيره وفيه نظر
وقال الحلوانى وثعلب من أصحابنا وغيرهما من النحاة والشافعية أنها للترتيب
وقال أبو بكر إن كان كل واحد من المعطوف عليه شرطا فى صحة الآخر كآية الوضوء فللترتيب والا فلا
আমাদের সঙ্গীদের (أصحابنا) বক্তব্য নির্দেশ করে যে, একত্রীকরণ (الجمع) মূলত সাথে থাকা (المعية) বোঝায়।
'আত-তামহীদ' ও অন্যান্য গ্রন্থে এমন কিছু উল্লেখ করা হয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি ভাষাবিদদের ঐক্যমত (إجماع); কারণ ভিন্ন ভিন্ন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'ওয়াও' এর ব্যবহার ঠিক তেমন যেমন সমজাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে বহুবচনের ওয়াও (واو الجمع) এবং দ্বিবচনের ইয়া (ياء التثنية)। ইবনে আকিল ও অন্যান্যরা একে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, তবে এতে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে।
আমাদের সঙ্গীদের মধ্য হতে আল-হালওয়ানি ও ছা’লাব এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদ ও শাফেয়িগণ বলেছেন যে, এটি পর্যায়ক্রম (الترتيب) বোঝানোর জন্য আসে।
আবু বকর বলেছেন, যদি সংযোজিত বিষয়গুলোর (المعطوف عليه) প্রতিটি অন্যটির শুদ্ধতার জন্য শর্ত (شرط) হয়—যেমন অজুর আয়াত—তবে তা পর্যায়ক্রমের (الترتيب) জন্য হবে, অন্যথায় নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
والفاء للترتيب وللتعقيب فى كل شئ بحسبه
ومن لابتداء الغاية حقيقة عند أصحابنا وأكثر النحاة
وقيل حقيقة فى التبعيض وقاله ابن عقيل وقيل فى التبيين
والى لانتهاء الغاية وابتداء الغاية داخل لا ما بعدها فى الأصح وفاقا لمالك والشافعى
আর 'ফা' (অব্যয়টি) পর্যায়ক্রম (الترتيب) এবং অবিলম্বতা (التعقيب) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রতিটি বিষয়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিবেচিত হবে।
আর 'মিন' (অব্যয়টি) আমাদের আলিমগণ এবং অধিকাংশ বৈয়াকরণবিদের নিকট আভিধানিকভাবে প্রারম্ভিক সীমা (ابتداء الغاية) নির্দেশক।
বলা হয়ে থাকে যে এটি আভিধানিকভাবে আংশিকতা (التبعيض) প্রকাশের জন্য; ইবনে আকীল এই মতটি প্রদান করেছেন। আবার কারো মতে এটি স্পষ্টীকরণ (التبيين)-এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
আর 'ইলা' (অব্যয়টি) সমাপ্তি সীমা (انتهاء الغاية) বুঝানোর জন্য। বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী প্রারম্ভিক সীমা এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কিন্তু এর পরবর্তী অংশ অন্তর্ভুক্ত হবে না; আর এই মতটি ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈর মতের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وقال أبو بكر إن كانت الغاية من جنس المحدود كالمرافق دخلت والا فلا
وحكاه القاضى عن أهل اللغة
وعلى للاستعلاء وهى للايجاب قاله أصحابنا وغيرهم
وفى للظرف قال بعض أصحابنا حتى فى {ولأصلبنكم في جذوع النخل} كقول البصريين
وأكثر أصحابنا بمعنى على كقول الكوفيين
قال بعض أصحابنا وللتعليل نحو {لمسكم فيما أخذتم} وللسببية نحو دخلت امرأة النار فى هرة حبستها
وضعفه بعضهم لعدم ذكره لغة
আবু বকর বলেছেন যে, যদি সীমার শেষ প্রান্তটি সীমিত বস্তুর সমজাতীয় হয়, যেমন কনুই (অজুর ক্ষেত্রে), তবে তা সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় হবে না।
এবং আল-কাজি ভাষাবিদদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং 'আলা' শ্রেষ্ঠত্ব (استعلاء) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি আবশ্যকতা (إيجاب) প্রমাণের জন্য আসে; আমাদের সাথীগণ এবং অন্যরা একথাই বলেছেন।
এবং 'ফী' আধার (ظرف) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; আমাদের কিছু সাথী বলেছেন যে, এমনকি {আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ করব} আয়াতের ক্ষেত্রেও এটি পাত্র বা আধার অর্থেই ব্যবহৃত, যা বসরার ব্যাকরণবিদদের মত।
তবে আমাদের অধিকাংশ সাথী মনে করেন এটি 'আলা' বা 'উপরে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি কুফার ব্যাকরণবিদরা বলেছেন।
আমাদের কিছু সাথী বলেছেন যে, এটি কারণ দর্শানো (تعليل) অর্থেও আসে, যেমন: {তোমরা যা গ্রহণ করেছ সে কারণে তোমাদের ওপর আপতিত হতো}; এবং এটি কারণ বা হেতু (سببية) বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'এক নারী একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছিল যাকে সে আটকে রেখেছিল'।
এবং তাদের কেউ কেউ একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, যেহেতু ভাষাতাত্ত্বিকভাবে এর কোনো উল্লেখ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وذكر أصحابنا والنحاة للام أقسام وفى التمهيد هى حقيقة فى الملك لا يعدل عنه إلا بدليل
مسألة ليس بين اللفظ ومدلوله مناسبة طبيعية عند الأكثر خلافا لعباد بن سليمان المعتزلى
مسألة مبدأ اللغات توقيف من الله تعالى بالهام أو وحى أو كلام عند أبى الفرج المقدسى وصاحب الروضة وغيرهما
আমাদের সাথীগণ এবং ব্যাকরণবিদগণ 'লাম' অক্ষরের বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করেছেন এবং 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে এটি মালিকানা অর্থে মূল অর্থ (حقيقة) হিসেবে গণ্য, যা কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত পরিবর্তনযোগ্য নয়।
মাসআলা: অধিকাংশ আলিমের মতে শব্দ এবং তার নির্দেশিত অর্থের মধ্যে কোনো প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য নেই, তবে আব্বাদ ইবনে সুলাইমান আল-মুতাজিলী এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
মাসআলা: আবু আল-ফারাজ আল-মাকদিসি, আর-রওজা গ্রন্থের লেখক এবং অন্যদের মতে ভাষার সূচনা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐশীভাবে নির্ধারিত (توقيف), যা ইলহাম, ওহি অথবা বাণীর মাধ্যমে প্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
البهشمية وضعها البشر واحد أو جماعة
الأستاذ القدر المحتاج اليه فى التعريف توقيف وغيره محتمل
ابن عقيل بعضها توقيف وبعضها اصطلاح وذكره عن المحققين وعنده الاصطلاح بعد خطابه تعالى وأبطل القول بسبقه له
الأحكام: لا حاكم إلا الله تعالى
فالعقل لا يحسن ولا يقبح ولا يوجب ولا يحرم عند أكثر أصحابنا
وقال أبو الحسن التميمى العقل يحسن ويقبح ويوجب ويحرم
مسألة فعل الله تعالى وأمره لعله وحكمه ينكره كثير من أصحابنا والمالكية والشافعية
বাহশামিয়াদের মতে ভাষার প্রচলন ঘটেছে একজন অথবা একদল মানুষের মাধ্যমে।
আল-উস্তাযের মতে, পরিচয়ের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা প্রত্যাদিষ্ট (توقيف), আর অবশিষ্ট অংশ পরিভাষাগত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইবনে আকীল মনে করেন, ভাষার কিছু অংশ প্রত্যাদিষ্ট (توقيف) এবং কিছু অংশ পরিভাষাগত (اصطلاح); তিনি এটি বিজ্ঞ গবেষকদের (المحققين) উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, মহান আল্লাহর বাণীর পরেই পরিভাষার উদ্ভব হয়েছে এবং পরিভাষা আগে আসার মতবাদকে তিনি বাতিল করে দিয়েছেন।
বিধানসমূহ (الأحكام): মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো বিধানদাতা নেই।আমাদের অধিকাংশ সঙ্গীর মতে, বুদ্ধি বা বিবেক কোনো বিষয়কে উত্তম (يحسن) বা মন্দ (يقبح) করতে পারে না, এবং কোনো কিছু আবশ্যক (يوجب) বা নিষিদ্ধ (يحرم) করতে পারে না।
আবু আল-হাসান আত-তামীমী বলেন, বুদ্ধি ভালো-মন্দ (يحسن ويقبح) নির্ধারণ করতে পারে এবং কোনো কিছু আবশ্যক (يوجب) ও নিষিদ্ধ (يحرم) করতে পারে।
মাসআলা: মহান আল্লাহ তাআলার কাজ ও নির্দেশ কোনো কারণ (علة) বা প্রজ্ঞার (حكمة) প্রেক্ষিতে হওয়াকে আমাদের অনেক সঙ্গী এবং মালিকি ও শাফেয়ি মাযহাবের ফকীহগণ অস্বীকার করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقاله الجهمية والاشعرية والظاهرية
ويثبته آخرون من أصحابنا وغيرهم
وذكر بعضهم اجماع السلف
مسألة شكر المنعم من قال العقل يحسن ويقبح أوجبه عقلا
ومن نفاه أوجبه شرعا وذكره أبو الخطاب ومعناه لابن عقيل
مسألة الأعيان المنتفع بها قبل السمع على الاباحة عند التميمى وابى الفرج المقدسى وأبى الخطاب والحنفية
وعلى الحظر عند ابن حامد والحلوانى فعلية يباح تنفس وسد رمق
ذكره بعضهم اجماعا
وعلى الوقف عند ابى الحسن الجزرى
জহমিয়্যাহ, আশআরিয়্যাহ এবং জাহিরিয়্যাহগণ এটি বলেছেন।
এবং আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের মধ্যে অন্য অনেকে এবং অন্যরা এটি সাব্যস্ত করেছেন।
এবং তাদের কেউ কেউ পূর্বসূরিদের (سلف) সর্বসম্মতি (إجماع) উল্লেখ করেছেন।
নিয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় সংক্রান্ত মাসয়ালা যারা বলেন যে, আকল বা বুদ্ধি ভালো সাব্যস্ত করে (يحسن) এবং মন্দ সাব্যস্ত করে (يقبح), তারা একে যৌক্তিকভাবেই ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন।
আর যারা একে অস্বীকার করেছেন, তারা একে শরয়িভাবে (شرعا) ওয়াজিব বলেছেন। আবু আল-খাত্তাব এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আকিলের মতে এর অর্থও তাই।
ওহি শ্রবণ (سمع) আসার পূর্বে উপকারী বস্তুসমূহ মূলত বৈধতা (إباحة) হওয়ার মাসয়ালা এটি তামিমি, আবু আল-ফারাজ আল-মাকদিসি, আবু আল-খাত্তাব এবং হানাফিদের নিকট স্বীকৃত।
আর ইবন হামিদ ও হালওয়ানির নিকট এটি নিষিদ্ধতার (حظر) অন্তর্ভুক্ত; এমতাবস্থায় শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ এবং জীবন রক্ষার মতো সামান্য আহার গ্রহণ বৈধ।
তাদের কেউ কেউ একে সর্বসম্মতি (إجماع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আর আবু আল-হাসান আল-জাজারির মতে এটি স্থগিত রাখার (وقف) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসার ফী উসুলিল ফিকহ - তাহকীক মাজহার বাকা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
والصيرفى وهو المذهب عند ابن عقيل وغيره
فعليه لا إثم بالتناول كفعل البهيمة
وفى افتأله بالتناول خلاف لنا
وفرض ابن عقيل المسألة فى الأقوال والأفعال قبل السمع
الحكم الشرعىقيل خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع
وقيل مقتضى خطاب الشرع إلى آخره
وفى تسمية الكلام فى الأزل خطابا خلاف
ثم الخطاب إما أن يرد باقتضاء الفعل مع الجزم وهو الايجاب
أو لا مع الجزم وهو الندب
أو باقتضاء الترك مع الجزم وهو التحريم
أو لا مع الجزم وهو الكراهة
এবং সায়রাফি; আর এটিই ইবনে আকিল ও অন্যদের নিকট মাযহাব (المذهب)।
এর ভিত্তিতে, (শরীয়ত আসার পূর্বে) কোনো কিছু গ্রহণের ক্ষেত্রে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় কোনো গুনাহ নেই।
আর তার এককভাবে তা গ্রহণের বৈধতা নিয়ে আমাদের মধ্যে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
ইবনে আকিল মাসআলাটিকে ওহী বা শ্রুতির (سمع) পূর্ববর্তী কথা ও কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত করেছেন।
শরয়ী বিধান (الحكم الشرعى)বলা হয়েছে: এটি মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়তের সম্বোধন (خطاب), যা দাবি (اقتضاء), পছন্দ (تخيير) অথবা নিরূপণের (الوضع) মাধ্যমে হয়ে থাকে।
আবার বলা হয়েছে: এটি শরীয়তের সম্বোধনের দাবি (مقتضى), শেষ পর্যন্ত।
অনাদিকালের কালাম বা কথাকে 'সম্বোধন' (خطاب) হিসেবে অভিহিত করার ব্যাপারে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
অতঃপর সম্বোধন হয়তো দৃঢ়তার সাথে কোনো কাজ করার দাবি নিয়ে আসে, আর তা হলো ওয়াজিব করা (الايجاب)।
অথবা দৃঢ়তা ব্যতীত (দাবি করে), আর তা হলো মুস্তাহাব (الندب)।
অথবা দৃঢ়তার সাথে কোনো কাজ বর্জনের দাবি করে, আর তা হলো হারাম করা (التحريم)।
অথবা দৃঢ়তা ব্যতীত (বর্জনের দাবি করে), আর তা হলো অপছন্দনীয় (الكراهة)