(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: -)
أصول الشاشي   (أبو علي الشاشي الحنفي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: أصول الشاشي

وبهامشه: عمدة الحواشي للمولى محمد فيض الحسن الكنكوهي

المؤلف: أبو عل الشاشي (ت 344 هـ)

الناشر: دار الكتاب العربي، بيروت - لبنان

عام النشر: 1402 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 394

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুলুশ শাশী   (আবু আলী আল-শাশী আল-হানাফী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: উসুলুশ শাশী

এবং এর টীকায়: মাওলা মুহাম্মদ ফয়জুল হাসান আল-গাঙ্গুহী বিরচিত উমদাতুল হাওয়াশী

লেখক: আবু আলী আল-শাশী (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন

প্রকাশের বছর: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৪

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌بحث كَون أصُول الْفِقْه أَرْبَعَة

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله الذى أَعلَى منزلَة الْمُؤمنِينَ بكريم خطابه رفع دَرَجَة الْعَالمين بمعاني كِتَابه وَخص المستنبطين مِنْهُم بمزيد الْإِصَابَة وثوابه والصلوة عَليّ النَّبِي وَأَصْحَابه وَالسَّلَام على أبي حنيفَة وأحبابه وَبعد فَإِن أصُول الْفِقْه أَرْبَعَة كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله وَإِجْمَاع الْأمة وَالْقِيَاس فَلَا بُد من الْبَحْث فِي كل وَاحِد من هَذِه الأ قسام ليعلم بذلك طَرِيق تخرج الأ حكام

‌‌الْبَحْث الأول فِي كتاب الله تَعَالَى

 

1 -‌‌ فصل فِي الْخَاص وَالْعَام

 

فالخاص لفظ وضع لِمَعْنى مَعْلُوم أَو لمسمى مَعْلُوم على الِانْفِرَاد كَقَوْلِنَا فِي تَخْصِيص الْفَرد زيد وَفِي تَخْصِيص النَّوْع رجل وَفِي تَخْصِيص الْجِنْس إِنْسَان
উসুল আল-ফিকহ-এর চারটি মূল ভিত্তি হওয়ার বিষয়ে আলোচনা

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহিমান্বিত সম্বোধনের মাধ্যমে মুমিনদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন; তাঁর কিতাবের নিগূঢ় অর্থের দ্বারা আলেমদের মর্তবা বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে যারা মাসয়ালা উদ্ভাবনকারী (مستنبطين), তাঁদেরকে অধিক সঠিকতা ও সওয়াবের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং শান্তি বর্ষিত হোক ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের ওপর। হামদ ও সালাতের পর, নিশ্চয়ই উসুল আল-ফিকহ-এর মূল ভিত্তি চারটি: আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ, উম্মতের ঐকমত্য (إجماع) এবং কিয়াস (قياس)। সুতরাং এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যক, যাতে এর মাধ্যমে শরয়ি বিধানসমূহ আহরণের পদ্ধতি অবগত হওয়া যায়।

প্রথম আলোচনা: আল্লাহর কিতাব প্রসঙ্গে

 

1 -সুনির্দিষ্ট (خاص) ও সাধারণ (عام) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

সুনির্দিষ্ট (خاص) হলো এমন শব্দ, যা এককভাবে কোনো পরিচিত অর্থ অথবা কোনো পরিচিত নামধারী সত্তার জন্য নির্ধারণ (وضع) করা হয়েছে; যেমন ব্যক্তি নির্দেশক হিসেবে আমাদের উক্তি ‘যায়েদ’, প্রকার নির্দেশক হিসেবে ‘পুরুষ’ এবং জাতি নির্দেশক হিসেবে ‘মানুষ’।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - 1‌‌ بحث الْعَام وَالْخَاص

 

وَالْعَام كل لفظ يَنْتَظِم جمعا من الْأَفْرَاد

إِمَّا لفظا كَقَوْلِنَا مُسلمُونَ ومشرقون وَإِمَّا معنى كَقَوْلِنَا من وَمَا

وَحكم الْخَاص من الْكتاب وجوب الْعَمَل بِهِ لَا محَالة فَإِن قابله خبر الْوَاحِد أَو الْقيَاس فَإِن أمكن الْجمع بَينهمَا بِدُونِ تَغْيِير فِي حكم الْخَاص يعْمل بهما وَإِلَّا يعْمل بِالْكتاب وَيتْرك مَا يُقَابله مِثَاله فِي قَوْله تَعَالَى {يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَة قُرُوء} فَإِن لَفْظَة الثَّلَاثَة خَاص فِي تَعْرِيف عدد مَعْلُوم فَيجب الْعَمَل بِهِ

وَلَو حمل الإ قراء على الا طهار كَمَا ذهب إِلَيْهِ الشَّافِعِي بِاعْتِبَار أَن الطُّهْر مُذَكّر دون الْحيض وَقد ورد الْكتاب فِي الْجمع بِلَفْظ التَّأْنِيث دلّ على أَن جمع الْمُذكر وَهُوَ الطُّهْر لزم ترك الْعَمَل بِهَذَا الْخَاص لِأَن من حمله على الطُّهْر لَا يُوجب ثَلَاثَة أطهار بل طهرين وَبَعض الثَّالِث وَهُوَ الَّذِي وَقع فِيهِ الطَّلَاق فَيخرج على هَذَا حكم الرّجْعَة فِي الْحَيْضَة الثَّالِثَة وزواله وَتَصْحِيح نِكَاح الْغَيْر وإبطاله وَحكم الْحَبْس وَالْإِطْلَاق والمسكن والإنفاق وَالْخلْع وَالطَّلَاق وَتزَوج الزَّوْج بأختها وَأَرْبع سواهَا وَأَحْكَام الْمِيرَاث مَعَ كَثْرَة تعدادها وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى
1 - 1‌‌ সাধারণ (العام) ও বিশেষ (الخاص) সংক্রান্ত আলোচনা

 

সাধারণ (العام) হলো এমন প্রত্যেকটি শব্দ যা অনেকগুলো ব্যক্তি বা সত্তাকে একত্রে শামিল করে।

তা শাব্দিক দিক থেকে হতে পারে, যেমন আমাদের কথা: ‘মুসলিমগণ’ ও ‘মুশরিকগণ’; অথবা অর্থগত দিক থেকে হতে পারে, যেমন আমাদের কথা: ‘কে’ (من) এবং ‘যা/কী’ (ما)।

আর কিতাবুল্লাহর বিশেষ (الخاص) বিধানের হুকুম হলো নিশ্চিতভাবে তার ওপর আমল করা ওয়াজিব। অতঃপর যদি তার বিপরীতে কোনো একক বর্ণনা (خبر الواحد) অথবা কিয়াস (القياس) আসে, তবে যদি বিশেষ (الخاص) বিধানের কোনো পরিবর্তন ব্যতিরেকে উভয়টির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তাহলে উভয়টির ওপর আমল করা হবে। অন্যথায় কিতাবুল্লাহর ওপর আমল করা হবে এবং তার বিপরীতটি বর্জন করা হবে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তারা নিজেদেরকে তিন ঋতুস্রাব (قروء) পর্যন্ত প্রতীক্ষায় রাখবে}। এখানে ‘তিন’ শব্দটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বুঝানোর ক্ষেত্রে বিশেষ (الخاص), তাই এর ওপর আমল করা ওয়াজিব।

আর যদি ‘কুরু’ (قروء) শব্দটিকে পবিত্রতা (الأطهار) অর্থে গ্রহণ করা হয়—যেমনটি ইমাম শাফেয়ী মত পোষণ করেছেন এই বিবেচনায় যে, ‘তুহর’ (পবিত্রতা) শব্দটি পুংলিঙ্গ কিন্তু ‘হায়েয’ (ঋতুস্রাব) নয়, আর কুরআন মাজিদে বহুবচনটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে এসেছে যা নির্দেশ করে যে এটি পুংলিঙ্গবাচক শব্দের বহুবচন আর তা হলো ‘তুহর’—তবে এই বিশেষ (الخاص) সংখ্যার ওপর আমল বর্জন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা যারা একে পবিত্রতা অর্থে গ্রহণ করেন, তারা তিনটি পূর্ণ পবিত্রতা আবশ্যক করেন না, বরং দুটি পূর্ণ পবিত্রতা এবং তৃতীয়টির কিছু অংশ আবশ্যক করেন যেটির মধ্যে তালাক প্রদান করা হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তৃতীয় ঋতুস্রাব চলাকালীন রাজআত (রুজু করা) এর বিধান ও তার পরিসমাপ্তি, অন্যের সাথে বিবাহ শুদ্ধ হওয়া বা বাতিল হওয়া, ইদ্দতকালীন অবস্থান ও মুক্তি, বাসস্থান, ভরণপোষণ, খুলা, তালাক, স্ত্রীর বোনের সাথে বিবাহ বা চারজন ছাড়াও অন্য মহিলা বিবাহ করার বিধান এবং মিরাসের বহুবিধ বিধানাবলী উদ্ভূত হয়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - 2‌‌ بحث تَقْسِيم الْعَام إِلَى قسمَيْنِ

 

{قد علمنَا مَا فَرضنَا عَلَيْهِم فِي أَزوَاجهم} خَاص فِي التَّقْدِير الشَّرْعِيّ فَلَا يتْرك الْعَمَل بِهِ بِاعْتِبَار أَنه عقد مَالِي فَيعْتَبر بِالْعُقُودِ الْمَالِيَّة فَيكون تَقْدِير المَال فِيهِ موكولا إِلَى رَأْي الزَّوْجَيْنِ كَمَا ذكره الشَّافِعِي وَفرع على هَذَا أَن التخلي لنفل الْعِبَادَة أفضل من الِاشْتِغَال بِالنِّكَاحِ وأباح إِبْطَاله بِالطَّلَاق كَيفَ مَا شَاءَ الزَّوْج من جمع وتفريق وأباح إرْسَال الثَّلَاث جملَة وَاحِدَة وَجعل عقد النِّكَاح قَابلا للْفَسْخ بِالْخلْعِ وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {حَتَّى تنْكح زوجا غَيره} خَاص فِي وجود النِّكَاح من الْمَرْأَة فَلَا يتْرك الْعَمَل بِهِ بِمَا رُوِيَ عَن النَّبِي عليه السلام

أَيّمَا امرآة نكحت نَفسهَا بِغَيْر إِذن وَليهَا فنكاحها بَاطِل بَاطِل بَاطِل وَيتَفَرَّع مِنْهُ الْخلاف فِي حل الْوَطْء وَلُزُوم الْمهْر وَالنَّفقَة وَالسُّكْنَى وَوُقُوع الطَّلَاق وَالنِّكَاح بعد الطلقات الثَّلَاث على مَا ذهب إِلَيْهِ قدماء أَصْحَابه بِخِلَاف مَا اخْتَارَهُ الْمُتَأَخّرُونَ مِنْهُم

وَأما الْعَام فنوعان عَام خص عَنهُ الْبَعْض وعام لم يخص عَنهُ شَيْء فَهُوَ بِمَنْزِلَة الْخَاص فِي حق لُزُوم الْعَمَل بِهِ لَا محَالة وعَلى هَذَا قُلْنَا إِذا قطع يَد السَّارِق بَعْدَمَا هلك الْمَسْرُوق عِنْده لَا يجب عَلَيْهِ الضَّمَان لِأَن الْقطع جَزَاء جَمِيع مَا اكْتَسبهُ
2 - 2‌‌ সাধারণ (عام) শব্দকে দুই ভাগে বিভক্ত করার আলোচনা

 

{আমরা অবশ্যই জানি তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে তাদের ওপর আমরা যা নির্ধারিত করেছি}—এই আয়াতটি শরয়ী বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ (خاص)। সুতরাং একে কেবল একটি আর্থিক চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করে এর ওপর আমল বর্জন করা যাবে না। অন্যথায় একে কেবল সাধারণ আর্থিক চুক্তির সমতুল্য মনে করলে মোহরের পরিমাণ নির্ধারণ কেবল স্বামী-স্ত্রীর ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত হয়ে পড়বে, যেমনটি ইমাম শাফিঈ উল্লেখ করেছেন। তিনি এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আরও মাসআলা বের করেছেন যে, নফল ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়া বিবাহের কাজে লিপ্ত থাকার চেয়ে উত্তম। আর স্বামী যেভাবে ইচ্ছা তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোকে তিনি বৈধ করেছেন, চাই তা একত্রিতভাবে হোক বা পৃথকভাবে। তিনি একযোগে তিন তালাক প্রদান করাকেও বৈধ করেছেন এবং বিবাহের চুক্তিকে খুলআ (خلع)-এর মাধ্যমে বাতিলযোগ্য করেছেন। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী {যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে}—এটি নারীর পক্ষ থেকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ (خاص)। সুতরাং নবি আলাইহিস সালাম থেকে যা বর্ণিত (مروي) হয়েছে তার কারণে এর ওপর আমল বর্জন করা যাবে না, অর্থাৎ:

“যে নারীই তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল (باطل), বাতিল (باطل), বাতিল (باطل)।” এবং এর থেকে সহবাসের বৈধতা, মোহর, ভরণ-পোষণ, আবাসন ও তালাক কার্যকর হওয়া এবং তিন তালাকের পর পুনরায় বিবাহের মাসআলার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে; যা তার প্রাচীন অনুসারীগণ গ্রহণ করেছেন, যদিও তাদের পরবর্তী অনুসারীগণ ভিন্ন মত বেছে নিয়েছেন।

আর সাধারণ (عام) শব্দ দুই প্রকার: এমন সাধারণ (عام) যার কিছু অংশকে বিশেষায়িত (مخصوص) করা হয়েছে, এবং এমন সাধারণ (عام) যার কোনো অংশকেই বিশেষায়িত (مخصوص) করা হয়নি। এটি (দ্বিতীয় প্রকারটি) আমল করার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বিশেষ (خاص) শব্দের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। এবং এরই ভিত্তিতে আমরা বলেছি যে, চোরের কাছে চুরিকৃত মাল নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যদি তার হাত কাটা হয়, তবে তার ওপর আর কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করা আবশ্যক হবে না। কারণ হাত কাটাই হলো তার সমুদয় কৃতকর্মের বিনিময়।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ২৩)
1 - 3‌‌ بحث عُمُوم كلمة مَا

 

إِن كلمة مَا عَامَّة تتَنَاوَل جَمِيع مَا وجد من السَّارِق وَبِتَقْدِير إِيجَاب الضَّمَان يكون الْجَزَاء هُوَ الْمَجْمُوع وَلَا يتْرك الْعَمَل بِالْقِيَاسِ على الْغَصْب وَالدَّلِيل على أَن كلمة مَا عَامَّة مَا ذكره مُحَمَّد رحمه الله إِذا قَالَ الْمولى لجاريته إِن كَانَ مَا فِي بَطْنك غُلَاما فَأَنت حرَّة فَولدت غُلَاما وَجَارِيَة لَا تعْتق وبمثله نقُول فِي قَوْله تَعَالَى {فاقرؤوا مَا تيَسّر من الْقُرْآن} فَإِنَّهُ عَام فِي جَمِيع مَا تيَسّر من الْقُرْآن وَمن ضَرُورَته عدم توقف الْجَوَاز على قِرَاءَة الْفَاتِحَة وَجَاء فِي الْخَبَر أَنه قَالَ لَا صَلَاة إِلَّا بِفَاتِحَة الْكتاب فعملنا بهما على وَجه لَا يتَغَيَّر بِهِ حكم الْكتاب بِأَن نحمل الْخَبَر على نفي الْكَمَال حَتَّى يكون مُطلق الْقِرَاءَة فرضا بِحكم الْكتاب وَقِرَاءَة الْفَاتِحَة وَاجِبَة بِحكم الْخَبَر وَقُلْنَا كَذَلِك فِي قَوْله تَعَالَى {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لم يذكر اسْم الله عَلَيْهِ} أَنه يُوجب حُرْمَة مَتْرُوك التَّسْمِيَة عَامِدًا وَجَاء فِي الْخَبَر أَنه عليه السلام سُئِلَ عَن مَتْرُوك التَّسْمِيَة عَامِدًا فَقَالَ

(كلوه فَإِن تَسْمِيَة الله تَعَالَى فِي قلب كل امرىء مُسلم) فَلَا يُمكن التَّوْفِيق بينهمالأنه لَو ثَبت الْحل بِتَرْكِهَا عَامِدًا لثبت الْحل بِتَرْكِهَا نَاسِيا فَحِينَئِذٍ يرْتَفع حكم الْكتاب فَيتْرك الْخَبَر
১ - ৩‌‌ 'মা' (مَا) শব্দের ব্যাপকতা (عموم) সংক্রান্ত আলোচনা

 

নিশ্চয়ই 'মা' (مَا) শব্দটি ব্যাপক (عامة), যা চোরের নিকট থেকে প্রাপ্ত সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর ক্ষতিপূরণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে সেই সমুদয় বস্তুর সমষ্টিই হবে বিনিময়। আত্মসাতের (الغصب) ওপর ভিত্তি করে প্রণীত সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) ওপর আমল করা এক্ষেত্রে বর্জন করা যাবে না। 'মা' (مَا) শব্দটি যে ব্যাপক (عامة), তার প্রমাণ হিসেবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে: যখন কোনো মুনিব তার দাসীকে বলে, "তোমার গর্ভে যা (مَا) আছে তা যদি পুত্রসন্তান হয় তবে তুমি স্বাধীন।" অতঃপর সে যদি একটি পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে, তবে সে স্বাধীন হবে না। অনুরূপভাবে আমরা মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কেও বলে থাকি— {অতএব তোমরা পাঠ করো কুরআনের যতটুকু (مَا) তোমাদের জন্য সহজ হয়}। নিশ্চয়ই এটি কুরআনের যা কিছু সহজসাধ্য তার সবটুকুর জন্যই ব্যাপক (عام)। এর অপরিহার্য দাবি হলো, নামাজের বৈধতা (الجواز) কেবল সুরা ফাতিহা পাঠের ওপরই নির্ভরশীল নয়। বর্ণনায় (الخبر) এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন, "সুরা ফাতিহা ব্যতীত কোনো নামাজ নেই।" এমতাবস্থায় আমরা এই উভয় দলীলের ওপর এমনভাবে আমল করেছি যাতে কিতাবুল্লাহর বিধান পরিবর্তিত না হয়; আর তা হলো আমরা উক্ত বর্ণনাকে (الخبر) পূর্ণতা অস্বীকার (نفي الكمال) অর্থে গ্রহণ করি, যাতে কিতাবুল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাধারণ কিরাত পাঠ অবশ্যপালনীয় (فرض) সাব্যস্ত হয় এবং বর্ণনার (الخبر) বিধান অনুযায়ী সুরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক (واجب) সাব্যস্ত হয়। মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রেও আমরা একই কথা বলেছি— {আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি}। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বর্জনকারীর পশুকে হারাম করাকে আবশ্যক করে। অথচ বর্ণনায় (الخبر) এসেছে যে, নবী (সা.)-কে ইচ্ছাকৃতভাবে তাসমিয়া বা আল্লাহর নাম পাঠ বর্জনকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:

(তোমরা তা আহার করো, কারণ আল্লাহর নাম প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরেই রয়েছে)। এমতাবস্থায় এই দুটির মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়; কেননা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জনের ক্ষেত্রেও তা হালাল হওয়া সাব্যস্ত হয়, তবে ভুলবশত বর্জনের ক্ষেত্রেও হালাল হওয়া সাব্যস্ত হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় কিতাবুল্লাহর বিধান রহিত হয়ে যায়, বিধায় বর্ণনাটিকে (الخبر) বর্জন করা হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - 4‌‌ بحث الْعَام الْمَخْصُوص مِنْهُ الْبَعْض

 

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {وأمهاتكم اللَّاتِي أرضعنكم} يَقْتَضِي بِعُمُومِهِ حُرْمَة نِكَاح الْمُرضعَة وَقد جَاءَ فِي الْخَبَر

لَا تحرم المصة وَلَا المصتان وَلَا الإملاجة وَلَا الإملاجتان فَلم يُمكن التَّوْفِيق بَينهمَا فَيتْرك الْخَبَر

(وَأما الْعَام الَّذِي خص عِنْد الْبَعْض فَحكمه) أَنه يجب الْعَمَل بِهِ فِي الْبَاقِي مَعَ الِاحْتِمَال فَإِذا أَقَامَ الدَّلِيل على تَخْصِيص الْبَاقِي يجوز تَخْصِيصه بِخَبَر الْوَاحِد أَو الْقيَاس إِلَى أَن يبْقى الثُّلُث بعد ذَلِك لَا يجوز فَيجب الْعَمَل بِهِ وَإِنَّمَا جَازَ ذَلِك لِأَن الْمُخَصّص الَّذِي أخرج الْبَعْض عَن الْجُمْلَة لَو أخرج بَعْضًا مَجْهُولا يثبت الِاحْتِمَال فِي كل فَرد معِين فَجَاز أَن يكون بَاقِيا تَحت حكم الْعَام وَجَاز أَن يكون دَاخِلا تَحت دَلِيل الْخُصُوص فَاسْتَوَى الطرفان فِي حق الْمعِين فَإِذا أَقَامَ الدَّلِيل الشَّرْعِيّ على أَنه من جملَة مَا دخل تَحت دَلِيل الْخُصُوص ترجح جَانب نخصيصه وَإِن كَانَ الْمُخَصّص أخرج بَعْضًا مَعْلُوما عَن الْجُمْلَة جَازَ أَن يكون معلولا بعلة مَوْجُودَة فِي هَذَا الْفَرد الْمعِين فَإِذا قَامَ الدَّلِيل الشَّرْعِيّ على وجود تِلْكَ الْعلَّة فِي غير هَذَا الْفَرد الْمعِين ترجح جِهَة تَخْصِيصه فَيعْمل بِهِ مَعَ وجود الِاحْتِمَال
1 - 4‌‌ ব্যাপক অর্থবোধক (عام) শব্দ যা থেকে কিছু অংশ নির্দিষ্টকরণ (مخصوص) করা হয়েছে তার আলোচনা

 

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের সেই মাতাগণ যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছেন}, এটি তার ব্যাপকতার (عموم) দাবিতে দুগ্ধদাত্রী মাতাকে বিবাহ করা হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে। অথচ হাদিসে এসেছে: "একবার বা দুবার চোষা অথবা এক বা দুবার স্তন্যপান করানো হারাম সাব্যস্ত করে না।" সুতরাং এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়, তাই হাদিসটি পরিত্যাগ করা হবে।

(আর যে ব্যাপক অর্থবোধক (عام) শব্দ থেকে কিছু অংশ নির্দিষ্ট (تخصيص) করা হয়েছে তার বিধান হলো:) সম্ভাব্যতা (احتمাল) থাকা সত্ত্বেও অবশিষ্ট অংশের ওপর আমল করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায় যদি অবশিষ্ট অংশকেও নির্দিষ্ট (تخصيص) করার ব্যাপারে কোনো দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে একব্যক্তির বর্ণিত সংবাদ (خبر الواحد) অথবা সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (القياس) মাধ্যমে তাকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ; যতক্ষণ না এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। এরপরে আর নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) জায়েজ নয়, বরং তার ওপর আমল করা ওয়াজিব। এটি এ কারণেই বৈধ হয়েছে যে, যে নির্দিষ্টকারী (مخصص) দলিলটি সমষ্টি থেকে কিছু অংশকে বের করে দিয়েছে, সে যদি কোনো অজ্ঞাত অংশকে বের করে থাকে, তবে প্রতিটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা (احتمাল) সাব্যস্ত হয়। ফলে সেটি ব্যাপক অর্থবোধক (عام) বিধানের অধীনে অবশিষ্ট থাকাও জায়েজ, আবার নির্দিষ্টকরণ (خصوص) দলিলের অন্তর্ভুক্ত হওয়াও জায়েজ। ফলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে উভয় দিক সমান হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যখন এটি নির্দিষ্টকরণ (خصوص) দলিলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো শরয়ি দলিল (دليل شرعي) প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) দিকটি প্রাধান্য পায়। আর যদি নির্দিষ্টকারী (مخصص) দলিলটি সমষ্টি থেকে কোনো জানা অংশকে বের করে থাকে, তবে হতে পারে তা এমন কোনো কার্যকর কারণের (علة) দরুন হয়েছে যা ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান। সুতরাং যদি এই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো মাঝে সেই কার্যকর কারণটি (علة) বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে শরয়ি দলিল (دليل شرعي) প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তারও নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) দিকটি প্রাধান্য পাবে। ফলে সম্ভাব্যতা (احتمাল) থাকা সত্ত্বেও তার ওপর আমল করা হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي فصل فِي الْمُطلق والمعيد

 

2 - / 1‌‌ بحث الْمُطلق إِذا أمكن الْعَمَل بِهِ لَا يجوز الزِّيَادَة عَلَيْهِ

 

ذهب أَصْحَابنَا إِلَى أَن الْمُطلق من كتاب الله تَعَالَى إِذا أمكن الْعَمَل بِإِطْلَاقِهِ فَالزِّيَادَة عَلَيْهِ بِخَبَر الْوَاحِد وَالْقِيَاس لَا يجوز مِثَاله فِي قَوْله تَعَالَى {فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم} فالمأمور بِهِ هُوَ الْغسْل على الْإِطْلَاق فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ شَرط النِّيَّة وَالتَّرْتِيب والموالاة وَالتَّسْمِيَة بالْخبر وَلَكِن يعْمل بالْخبر على وَجه لَا يتَغَيَّر بِهِ حكم الْكتاب فَيُقَال الْغسْل الْمُطلق فرض بِحكم الْكتاب وَالنِّيَّة سنة بِحكم الْخَبَر

وَكَذَلِكَ قُلْنَا فِي قَوْله تَعَالَى {الزَّانِيَة وَالزَّانِي فاجلدوا كل وَاحِد مِنْهُمَا مائَة جلدَة} إِن الْكتاب جعل جلد الْمِائَة حدا للزِّنَا فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ التَّغْرِيب حدا لقَوْله عليه السلام

(الْبكر بالبكر جلد مائَة وتغريب عَام)

بل يعْمل بالْخبر على وَجه لَا يتَغَيَّر بِهِ حكم الْكتاب فَيكون الْجلد حدا شَرْعِيًّا بِحكم الْكتاب والتغريب مَشْرُوعا سياسة بِحكم الْخَبَر

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {وليطوفوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيق} مُطلق فِي مُسَمّى الطّواف بِالْبَيْتِ فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ شَرط الْوضُوء بالْخبر بل يعْمل بِهِ على وَجه لَا يتَغَيَّر بِهِ حكم الْكتاب بِأَن يكون مُطلق الطّواف فرضا بِحكم الْكتاب وَالْوُضُوء وَاجِبا بِحكم الْخَبَر فَيجْبر النُّقْصَان اللَّازِم بترك الْوضُوء الْوَاجِب بِالدَّمِ وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {واركعوا مَعَ الراكعين}
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিঃশর্ত (مطلق) ও সশর্ত (مقيد) বিষয়াবলি সম্পর্কিত আলোচনা

 

2 - / 1‌‌নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়ের ওপর আমল করা সম্ভব হলে তার ওপর অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করা জায়েজ নেই

 

আমাদের ইমামগণ (হানাফি মাযহাবের ফকিহগণ) এই মত পোষণ করেন যে, আল্লাহর কিতাবের কোনো নিঃশর্ত (مطلق) বিধানের ওপর যদি তার মূল রূপ অনুযায়ী আমল করা সম্ভব হয়, তবে একক সংবাদ (خبر الواحد) কিংবা অনুমাননির্ভর তুলনার (قياس) মাধ্যমে তার ওপর অতিরিক্ত শর্তারোপ করা জায়েজ নয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো}। এখানে নির্দেশিত বিষয় হলো নিঃশর্তভাবে (مطلق) ধৌত করা; সুতরাং হাদিসের মাধ্যমে এর ওপর নিয়ত (نية), ধারাবাহিকতা (ترتيب), বিরতিহীনতা (موالاة) এবং বিসমিল্লাহ পাঠের (تسمية) শর্ত যুক্ত করা যাবে না। বরং হাদিসের ওপর এমনভাবে আমল করতে হবে যাতে কিতাবের (কুরআনের) হুকুম পরিবর্তিত না হয়। অতএব বলা হবে, কিতাবের বিধান অনুযায়ী সাধারণ ধৌতকরণ হলো ফরজ (فرض), আর হাদিসের বিধান অনুযায়ী নিয়ত (نية) হলো সুন্নাত (سنة)।

তেমনিভাবে আমরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রেও বলেছি: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত কড়াঘাত করো}। কিতাব (কুরআন) এখানে একশত কড়াঘাতকে ব্যভিচারের জন্য নির্ধারিত দণ্ড (حد) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। সুতরাং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই বাণীর কারণে এর ওপর নির্বাসনকে (تغريب) নির্ধারিত দণ্ড (حد) হিসেবে বৃদ্ধি করা যাবে না:

(অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি হলো একশত কড়াঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন)

বরং হাদিসের ওপর এমনভাবে আমল করা হবে যেন কিতাবের বিধান পরিবর্তিত না হয়। ফলে কিতাবের বিধান অনুযায়ী কড়াঘাত হবে শরয়ি নির্ধারিত দণ্ড (حد شرعي), আর হাদিসের বিধান অনুযায়ী নির্বাসন হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা (سياسة) হিসেবে বৈধ।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যেন প্রাচীন গৃহের (কাবা শরিফ) তাওয়াফ করে}। এটি তাওয়াফ নামক কর্মের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত (مطلق)। সুতরাং হাদিসের মাধ্যমে এর ওপর অজুর (وضوء) শর্ত যুক্ত করা যাবে না। বরং এর ওপর এমনভাবে আমল করা হবে যেন কিতাবের বিধান পরিবর্তিত না হয়; অর্থাৎ কিতাবের বিধান অনুযায়ী সাধারণ তাওয়াফ হবে ফরজ (فرض), আর হাদিসের বিধান অনুযায়ী অজু (وضوء) হবে ওয়াজিব (واجب)। ফলে ওয়াজিব অজু ত্যাগ করার কারণে যে ত্রুটি দেখা দেবে, তা দমের (রক্ত বা পশু কোরবানি) মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তেমনিভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো}।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - / 2‌‌ بحث جَوَاز التوضي بِمَاء الزَّعْفَرَان وَأَمْثَاله

 

مُطلق فِي مُسَمّى الرُّكُوع فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ شَرط التَّعْدِيل بِحكم الْخَبَر وَلَكِن يعْمل بالْخبر على وَجه لَا يتَغَيَّر بِهِ حكم الْكتاب

فَيكون مُطلق الرُّكُوع فرضا بِحكم الْكتاب

وَالتَّعْدِيل وَاجِبا بِحكم الْخَبَر وعَلى هَذَا قُلْنَا

يجوز التوضي بِمَاء الزَّعْفَرَان وَبِكُل مَاء خالطه شَيْء طَاهِر فَغير أحد أَوْصَافه لِأَن شَرط الْمصير إِلَى التَّيَمُّم عدم مُطلق المَاء وَهَذَا قد بَقِي مَاء مُطلقًا فَإِن قيد الْإِضَافَة مَا أَزَال عَنهُ اسْم المَاء بل قَرَّرَهُ فَيدْخل تَحت حكم مُطلق المَاء وَكَانَ شَرط بَقَائِهِ على صفة الْمنزل من السَّمَاء قيدا لهَذَا الْمُطلق وَبِه يخرج حكم مَاء الزَّعْفَرَان والصابون والأشنان وَأَمْثَاله وَخرج عَن هَذِه الْقَضِيَّة المَاء النَّجس بقوله تَعَالَى {وَلَكِن يُرِيد ليطهركم} وَالنَّجس لَا يُفِيد الطَّهَارَة وبهذه الْإِشَارَة علم أَن الْحَدث شَرط لوُجُوب الْوضُوء فَإِن تَحْصِيل الطَّهَارَة بِدُونِ وجود الْحَدث محَال

قَالَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه الْمظَاهر إِذا جَامع امْرَأَته فِي خلال الْإِطْعَام لَا يسْتَأْنف الْإِطْعَام لِأَن الْكتاب مُطلق فِي حق الْإِطْعَام فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ شَرط عدم الْمَسِيس بِالْقِيَاسِ على الصَّوْم بل الْمُطلق يجْرِي على إِطْلَاقه والمقيد على تَقْيِيده

وَكَذَلِكَ قُلْنَا الرَّقَبَة فِي كَفَّارَة الظِّهَار وَالْيَمِين مُطلقَة فَلَا يُزَاد عَلَيْهِ شلاط الْإِيمَان بِالْقِيَاسِ على كَفَّارَة الْقَتْل
২ - / ২‌‌ জাফরান মিশ্রিত পানি এবং অনুরূপ বস্তু দ্বারা ওজু করার বৈধতা সংক্রান্ত আলোচনা

 

রুকু শব্দটি তার নামকরণের ক্ষেত্রে শর্তহীন (مطلق), তাই একক বর্ণনা (خبر) এর ভিত্তিতে এর ওপর রুকু-সিজদায় স্থৈর্য অর্জনের (تعديل) শর্ত যুক্ত করা যাবে না। তবে একক বর্ণনা (خبر) অনুযায়ী এমনভাবে আমল করতে হবে যাতে কিতাবুল্লাহর (আল-কুরআন) বিধান পরিবর্তিত না হয়।

সুতরাং কিতাবুল্লাহর বিধান অনুযায়ী মূল রুকু করা ফরজ,

এবং একক বর্ণনা (خبر) অনুযায়ী তাতে স্থৈর্য অবলম্বন করা ওয়াজিব। আর এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি—

জাফরান মিশ্রিত পানি এবং এমন প্রত্যেক পানি যার সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে পানির কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে ফেলেছে, তা দ্বারা ওজু করা বৈধ। কারণ তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়ার শর্ত হলো শর্তহীন (مطلق) পানির অনুপস্থিতি। আর এটি তো শর্তহীন (مطلق) পানি হিসেবেই অবশিষ্ট রয়েছে। কেননা কোনো কিছুর সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে পানির মূল সত্তা বিলীন হয়ে যায় না, বরং তা সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে; ফলে তা শর্তহীন (مطلق) পানির বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যদি আসমান থেকে পতিত পানির গুণাবলির ওপর অবশিষ্ট থাকাকে শর্ত করা হয়, তবে তা এই শর্তহীন (مطلق) বিষয়ের ওপর একটি সীমাবদ্ধতা (قيد) হিসেবে গণ্য হবে, যার মাধ্যমে জাফরান, সাবান এবং ওশনান মিশ্রিত পানির বিধান রহিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ তাআলার বাণী— "কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান" এর মাধ্যমে অপবিত্র পানি এই আলোচনার বাইরে চলে গেছে। কারণ অপবিত্র বস্তু পবিত্রতা দান করে না। আর এই ইশারার মাধ্যমেই জানা গেল যে, ওজু ওয়াজিব হওয়ার জন্য অপবিত্রতা (حدث) একটি শর্ত; কারণ অপবিত্রতা (حدث) ব্যতিরেকে পবিত্রতা অর্জন করা অসম্ভব।

ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলেন: জিহারকারী ব্যক্তি যদি কাফফারার খাদ্য প্রদানের মধ্যবর্তী সময়ে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তবে তাকে পুনরায় নতুন করে খাদ্য প্রদান শুরু করতে হবে না। কারণ কিতাবুল্লাহ খাদ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শর্তহীন (مطلق), তাই রোজা রাখার ওপর কিয়াস (قياس) করে এর ওপর স্পর্শ না করার শর্ত যুক্ত করা যাবে না। বরং শর্তহীন (مطلق) বিষয় তার শর্তহীনতার ওপর এবং শর্তযুক্ত (مقيد) বিষয় তার নির্দিষ্ট শর্তের (تقييد) ওপর পরিচালিত হবে।

অনুরূপভাবে আমরা বলি: জিহার এবং শপথের কাফফারায় দাস মুক্ত করার বিষয়টি শর্তহীন (مطلق), তাই হত্যার কাফফারার ওপর কিয়াস (قياس) করে এর সাথে ঈমানের শর্ত (شرط) যুক্ত করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌بحث الْمُشْتَرك والمؤول

 

إِن قيل أَن الْكتاب فِي مسح الرَّأْس يُوجب مسح مُطلق الْبَعْض وَقد قيدتموه بِمِقْدَار الناصية بالْخبر وَالْكتاب مُطلق فِي انْتِهَاء الْحُرْمَة الغليظة بِالنِّكَاحِ وَقد قيدتموه بِالدُّخُولِ بِحَدِيث امْرَأَة رِفَاعَة

قُلْنَا إِن الْكتاب لَيْسَ بِمُطلق فِي بَاب الْمسْح فَإِن حكم الْمُطلق أَن يكون الْآتِي بِأَيّ فَرد كَانَ آتِيَا بالمأمور بِهِ والآتي بِأَيّ بعض كَانَ هَهُنَا لَيْسَ بآت بالمأمور بِهِ فَإِنَّهُ لَو مسح على النّصْف أَو على الثُّلثَيْنِ لَا يكون الْكل فرضا وَبِه فَارق الْمُطلق الْمُجْمل

وَأما قيد الدُّخُول فقد قَالَ الْبَعْض أَن النِّكَاح فِي النَّص حمل على الوطءإذ العقد مُسْتَفَاد من لفظ الزَّوْج وَبِهَذَا يَزُول السُّؤَال

وَقَالَ الْبَعْض قيد الدُّخُول ثَبت الْخَبَر وجعلوه من الْمَشَاهِير فَلَا يلْزمهُم تَقْيِيد الْكتاب بِخَبَر الْوَاحِد

‌‌الْفَصْل الثَّالِث فصل فِي الْمُشْتَرك والمؤول

 

الْمُشْتَرك مَا وضع لمعنيين مُخْتَلفين أَو لمعان مُخْتَلفَة الْحَقَائِق مِثَاله قَوْلنَا جَارِيَة فَإِنَّهَا تتَنَاوَل الْأمة والسفينة وَالْمُشْتَرِي فَإِنَّهُ يتَنَاوَل قَابل عقد البيع وكوكب السَّمَاء

وَقَوْلنَا بئن فَأن يحْتَمل الْبَين وَالْبَيَان وَحكم الْمُشْتَرك أَنه إِذا تعين الوحد مرَادا بِهِ
সাধারণ বা সমরূপী (المشترك) এবং ব্যাখ্যাত (المؤول) বিষয়ক আলোচনা

 

যদি বলা হয় যে, কিতাব (আল-কুরআন) মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ (مطلق) ভাবে কোনো একটি অংশ মাসেহ করাকে আবশ্যক করে, অথচ আপনারা বর্ণনার (خبر) মাধ্যমে একে কপালের উপরিভাগ পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন। আবার কিতাব নিকাহর মাধ্যমে চূড়ান্ত হারাম সমাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ (مطلق), অথচ আপনারা রিফাআহ-এর স্ত্রীর হাদিসের মাধ্যমে একে মিলনের শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন।

আমরা বলি যে, মাসেহ করার ক্ষেত্রে কিতাব নিরঙ্কুশ (مطلق) নয়। কেননা নিরঙ্কুশ (مطلق) এর বিধান হলো, যে ব্যক্তি এর যেকোনো একটি স্তর পালন করবে সে আদিষ্ট বিষয় সম্পাদনকারী বলে গণ্য হবে। কিন্তু এখানে যেকোনো অংশ মাসেহকারী আদিষ্ট বিষয় সম্পাদনকারী নয়। কারণ সে যদি মাথার অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ মাসেহ করে, তবে তার পুরোটা ফরজ (فرض) হবে না। আর এ দিক থেকেই নিরঙ্কুশ (مطلق) শব্দটি অস্পষ্ট (مجمل) শব্দ থেকে ভিন্ন।

আর মিলনের শর্তের ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন যে, সুস্পষ্ট পাঠের (نص) মধ্যে নিকাহ শব্দটিকে সহবাস অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে; যেহেতু বিয়ের চুক্তিটি 'স্বামী' শব্দ থেকেই বোঝা যায় এবং এর মাধ্যমেই প্রশ্নের নিরসন ঘটে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, মিলনের শর্তটি বর্ণনার (خبر) মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা একে প্রসিদ্ধ (مشهور) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তাদের ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা কিতাবকে সীমাবদ্ধ করার আবশ্যকতা দেখা দেয় না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ বা সমরূপী (المشترك) এবং ব্যাখ্যাত (المؤول) বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

সাধারণ বা সমরূপী (المشترك) হলো এমন শব্দ যা ভিন্ন ভিন্ন দুটি অর্থের জন্য অথবা বাস্তবতার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের কথা 'জারিয়া', কেননা এটি দাসী এবং নৌকা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে 'মুশতারি', কারণ এটি ক্রয় চুক্তির গ্রহীতা এবং আকাশের গ্রহ উভয়কেই বোঝায়।

এবং আমাদের কথা 'বায়িন', কেননা এটি বিচ্ছিন্নতা এবং স্পষ্ট বর্ণনার সম্ভাবনা রাখে। সাধারণ বা সমরূপী (المشترك) শব্দের বিধান হলো, যখন এর কোনো একটি অর্থ নির্দিষ্ট করা হবে...
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
سقط اعْتِبَار إِرَادَة غَيره وَلِهَذَا أجمع الْعلمَاء رَحِمهم الله تَعَالَى على أَن لفظ القروء الْمَذْكُور فِي كتاب الله تَعَالَى مَحْمُول إِمَّا على الْحيض كَمَا هُوَ مَذْهَبنَا أَو على الطُّهْر كَمَا هُوَ مَذْهَب الشَّافِعِي

وَقَالَ مُحَمَّد إِذا أوصى لموَالِي بني فلَان ولبني فلَان موَالٍ من أَعلَى وموال من أَسْفَل فَمَاتَ بطلت الْوَصِيَّة فِي حق الْفَرِيقَيْنِ لِاسْتِحَالَة الْجمع بَينهمَا وَعدم الرجحان

وَقَالَ أَبُو حنيفَة إِذا قَالَ لزوجته أَنْت عَليّ مثل أُمِّي لَا يكون مُظَاهرا لِأَن اللَّفْظ مُشْتَرك بَين الْكَرَامَة وَالْحُرْمَة فَلَا يتَرَجَّح جِهَة الْحُرْمَة إِلَّا بِالنِّيَّةِ

وعَلى هَذَا قُلْنَا لَا يجب النظير فِي جَزَاء الصَّيْد لقَوْله تَعَالَى {فجزاء مثل مَا قتل من النعم} لِأَن الْمثل مُشْتَرك بَين الْمثل صُورَة وَبَين الْمثل معنى وَهُوَ الْقيمَة وَقد أُرِيد الْمثل من حَيْثُ الْمَعْنى بِهَذَا النَّص فِي قتل إِذْ لَا عُمُوم للمشترك أصلا فَيسْقط اعْتِبَار الصُّورَة لِاسْتِحَالَة الْجمع

ثمَّ إِذا ترجح بعض وُجُوه الْمُشْتَرك بالغالب الرَّأْي يصير مؤلا وَحكم المؤول وجوب الْعَمَل بِهِ مَعَ احْتِمَال الْخَطَأ ومثاله فِي الحكميات مَا قُلْنَا إِذا أطلق الثّمن ومثاله فِي الحكميات مَا قُلْنَا إِذا أطلق فِي البيع كَانَ على غَالب نقد الْبَلَد وَذَلِكَ بطرِيق التَّأْوِيل

وَلَو كَانَت النُّقُود مُخْتَلفَة فسد البيع لما ذكرنَا وَحمل الإقراء على الْحيض
অন্য কোনো অর্থ গ্রহণের সম্ভাবনা রহিত হয়ে যায়। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা) এ বিষয়ে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর কিতাবে উল্লেখিত 'কুরু' শব্দবর্ণনাটি হয় মাসিকের (حيض) ওপর প্রয়োগ করা হবে, যা আমাদের মাযহাব; অথবা পবিত্রতার (طهر) ওপর প্রয়োগ করা হবে, যা ইমাম শাফিয়ীর মাযহাব।

ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, যদি কেউ অমুক গোত্রের উচ্চ পর্যায়ের মুক্তকারী মনিব এবং নিম্ন পর্যায়ের আযাদকৃত গোলামদের জন্য অসিয়ত করে এবং মারা যায়, তবে উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে অসিয়ত বাতিল হয়ে যাবে। কারণ উভয়ের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করা অসম্ভব এবং কোনো একটি পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।

ইমাম আবু হানিফা (র.) বলেন, যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে 'তুমি আমার জন্য আমার মায়ের মতো', তবে সে জিহারকারী (مظاهر) হবে না। কারণ এই শব্দটি সম্মান এবং হারাম হওয়া—উভয় অর্থের মধ্যে যৌথভাবে ব্যবহৃত (مشترك); তাই নিয়ত (نية) ব্যতীত হারাম হওয়ার দিকটি প্রাধান্য পাবে না।

এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, শিকারের বিনিময়ের ক্ষেত্রে হুবহু সদৃশ হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "তবে শিকার করা প্রাণীর অনুরূপ গবাদি পশুই এর বিনিময়।" এখানে 'অনুরূপ' (مثل) শব্দটি বাহ্যিক অবয়বগত সাদৃশ্য এবং অর্থগত সাদৃশ্য তথা মূল্যের মধ্যে যৌথভাবে ব্যবহৃত (مشترك)। এই নসের (نص) মাধ্যমে হত্যার ক্ষেত্রে অর্থগত সাদৃশ্যই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। যেহেতু যৌথভাবে ব্যবহৃত (مشترك) শব্দের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাপকতা (عموم) নেই, তাই সমন্বয়ের অসম্ভবতার কারণে বাহ্যিক অবয়বগত সাদৃশ্যের বিষয়টি রহিত হয়ে যায়।

অতঃপর প্রবল ধারণার (غالب الرأي) মাধ্যমে যদি যৌথভাবে ব্যবহৃত (مشترك) শব্দের কোনো একটি অর্থ প্রাধান্য পায়, তবে তা ব্যাখ্যাকৃত (مؤول) শব্দে পরিণত হয়। আর ব্যাখ্যাকৃত (مؤول) শব্দের বিধান হলো, ভুলের সম্ভাবনা (احتمال الخطأ) থাকা সত্ত্বেও সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো—যেমন আমরা বলেছি—যদি কেনাবেচায় মুদ্রার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা হয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রচলিত মুদ্রার ওপর প্রয়োগ হবে। আর এটি ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।

যদি প্রচলিত মুদ্রাসমূহ বিভিন্ন ধরণের হয়, তবে আমাদের উল্লিখিত কারণে কেনাবেচা বাতিল (فسد) হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে 'ইকরা' শব্দটিকে মাসিকের (حيض) অর্থে গ্রহণ করাও এরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌بحث الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

 

حمل النِّكَاح فِي الْآيَة على الوطىء وَحمل الْكِنَايَات حَال مذاكرة الطَّلَاق على الطَّلَاق من هَذَا الْقَبِيل وعَلى هَذَا قُلْنَا الدّين الْمَانِع من الزَّكَاة يصرف إِلَى أيسر الْمَالَيْنِ قَضَاء للدّين

فرع مُحَمَّد على هَذَا فَقَالَ إِذا تزوج امْرَأَة على نِصَاب وَله نِصَاب من الْغنم ونصاب من الدَّرَاهِم يصرف الدّين إِلَى الدَّرَاهِم حَتَّى لَو حَال عَلَيْهِمَا الْحول تجب الزَّكَاة عِنْده فِي نِصَاب الْغنم وَلَا تجب فِي الدَّرَاهِم وَلَو ترجح بعض وُجُوه الْمُشْتَرك بِبَيَان من قبل الْمُتَكَلّم كَانَ مُفَسرًا وَحكمه أَنه يجب الْعَمَل بِهِ يَقِينا

مِثَاله إذاقال لفُلَان عَليّ عشرَة دَرَاهِم من نقد بخاري فَقَوله من نقد بخاري تَفْسِير لَهُ فلولا ذَلِك لَكَانَ منصرفا إِلَى غَالب نقد الْبَلَد بطرِيق التَّأْوِيل فيترجح الْمُفَسّر فَلَا يجب نقد الْبَلَد

‌‌الْفَصْل الرَّابِع فصل فِي الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

 

كل لفظ وَضعه وَاضع اللُّغَة بِإِزَاءِ شَيْء فَهُوَ حَقِيقَة لَهُ وَلَو اسْتعْمل فِي غَيره يكون مجَازًا لَا حَقِيقَة
প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز) সংক্রান্ত আলোচনা

 

আয়াতে 'নিকাহ' শব্দটিকে সহবাসের (الوطىء) অর্থে গ্রহণ করা এবং তালাক বিষয়ে আলোচনার সময় ইঙ্গিতমূলক শব্দাবলিকে (كنايات) তালাকের অর্থে প্রয়োগ করা এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, ঋণ যা জাকাত ওয়াজিব হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক, তা ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে দুই প্রকার সম্পদের মধ্যে যা অধিকতর সহজলভ্য সেটির দিকে ধাবিত হবে।

ইমাম মুহাম্মদ এই মূলনীতির ওপর একটি মাসআলা বের করেছেন; তিনি বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি নিসাব পরিমাণ মোহরের বিনিময়ে কোনো নারীকে বিবাহ করে এবং তার নিকট এক নিসাব পরিমাণ ছাগল ও এক নিসাব পরিমাণ দিরহাম থাকে, তবে উক্ত ঋণ (মোহর) দিরহামের ওপর ধার্য করা হবে। ফলে যদি এগুলোর ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়, তবে তার নিকট ছাগলের নিসাবের ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে, কিন্তু দিরহামের ওপর ওয়াজিব হবে না। আর যদি বক্তার পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনার মাধ্যমে দ্ব্যর্থবোধক (مشترك) শব্দের কোনো একটি দিক প্রাধান্য পায়, তবে তা সুষ্পষ্টভাবে ব্যাখ্যাকৃত (مفسر) হিসেবে গণ্য হবে। এর বিধান হলো, নিশ্চিতভাবে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব।

এর উদাহরণ হলো: যখন কেউ বলে, 'অমুকের নিকট আমার বুখারি মুদ্রার দশ দিরহাম পাওনা রয়েছে'; তখন তার এই উক্তি 'বুখারি মুদ্রা' হলো এর জন্য একটি ব্যাখ্যা। যদি এই ব্যাখ্যা না থাকত, তবে ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) পদ্ধতির মাধ্যমে একে শহরের প্রচলিত মুদ্রার অর্থে গ্রহণ করা হতো। সুতরাং সুষ্পষ্টভাবে ব্যাখ্যাকৃত (مفسر) অর্থটিই প্রাধান্য পাবে, ফলে শহরের প্রচলিত মুদ্রা প্রদান করা ওয়াজিব হবে না।

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز) বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

ভাষার প্রণেতা কোনো বস্তুর বিপরীতে যে শব্দই নির্ধারণ করেছেন, তা সেই বস্তুর জন্য প্রকৃত অর্থ (حقيقة)। আর যদি শব্দটি অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা রূপক অর্থ (مجاز) হবে, প্রকৃত অর্থ (حقيقة) নয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ثمَّ الْحَقِيقَة مَعَ الْمجَاز لَا يَجْتَمِعَانِ ارادة من لفظ وَاحِد فِي حَالَة وَاحِدَة وَلِهَذَا قُلْنَا لما أُرِيد مَا يدْخل فِي الصَّاع بقوله عليه السلام

(لَا تَبِيعُوا الدِّرْهَم بِالدِّرْهَمَيْنِ وَلَا الصَّاع بالصاعين) وَسقط اعْتِبَار نفس الصَّاع حَتَّى جَازَ بيع الْوَاحِد مِنْهُ بالإثنين

وَلما أُرِيد الوقاع من آيَة الْمُلَامسَة سقط اعْتِبَار إِرَادَة الْمس بِالْيَدِ
অতঃপর, একই প্রেক্ষাপটে একটি শব্দ থেকে একই সাথে আভিধানিক অর্থ (حقيقة) এবং রূপক অর্থ (مجاز) উদ্দেশ্য করা অসম্ভব। এই কারণে আমরা বলেছি যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—

"(তোমরা এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম এবং এক সা'-এর বিনিময়ে দুই সা' বিক্রয় করো না)" দ্বারা যখন সা'-এর অভ্যন্তরে যা পরিমাপ করা হয় তা উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তখন স্বয়ং সা'-এর পাত্রটির বিবেচনা রহিত হয়ে যায়, এমনকি একটির বিনিময়ে দুটি বিক্রয় করাও বৈধ হয়ে যায়।

আর যখন স্পর্শ (الملامسة) সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা সহবাস উদ্দেশ্য করা হয়, তখন হাত দিয়ে স্পর্শ করার বিষয়টি বিবেচনার বাইরে চলে যায়।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

 

قَالَ مُحَمَّد إذاأوصى لمواليه وَله موَالٍ أعتقهم ولمواليه موَالٍ اعتقوهم كَانَت الْوَصِيَّة لمواليه دون موَالِي موَالِيه

وَفِي السّير الْكَبِير لَو استأمن أهل الْحَرْب على آبَائِهِم لَا تدخل الأجداد فِي الْأمان وَلَو استأمنوا على أمهاتهم لَا يثبت الْأمان فِي حق الْجدَّات

وعَلى هَذَا قُلْنَا إِذا أوصى لأبكار بني فلَان لَا تدخل المصابة بالفجورفي حكم الْوَصِيَّة

وَلَو أوصى لبني فلَان وَله بنُون وَبَنُو بنيه كَانَت الْوَصِيَّة لِبَنِيهِ دون بني بنيه

قَالَ أَصْحَابنَا لَو حلف لَا ينْكح فُلَانَة وَهِي أَجْنَبِيَّة كَانَ ذَلِك على العقد حَتَّى لَو زنا بهَا لَا يَحْنَث

وَلَئِن قَالَ إِذا حلف لَا يضع قدمه فِي دَار فلَان يَحْنَث لَو دَخلهَا حافيا أَو متنعلا أَو رَاكِبًا وَكَذَلِكَ لَو حلف لَا يسكن دَار فلَان يَحْنَث لَو كَانَت الدَّار ملكا لفُلَان أَو كَانَت بِأُجْرَة اَوْ عَادِية وَذَلِكَ جمع بَين الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

وَكَذَلِكَ لَو قَالَ عَبده حر يَوْم يقدم فلَان فَقدم فلَان لَيْلًا أَو نَهَارا يَحْنَث

قُلْنَا وضع الْقدَم صَار مجَازًا عَن الدُّخُول بِحكم الْعرف وَالدُّخُول لَا يتَفَاوَت فِي الْفَصْلَيْنِ وَدَار فلَان صَار مجَازًا عَن دَار مسكونة لَهُ وَذَلِكَ لَا يتَفَاوَت بَين أَن يكون ملكا لَهُ أَو كَانَت بِأُجْرَة لَهُ
প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) ও রূপক অর্থ (المجاز)

 

ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, যদি কেউ তার মুক্তদাসদের (موالي) জন্য অসিয়ত করে, অথচ তার এমন কিছু মুক্তদাস আছে যাদের সে নিজে মুক্ত করেছে এবং তার সেই মুক্তদাসদেরও এমন কিছু মুক্তদাস আছে যাদের তারা মুক্ত করেছে; তবে সেই অসিয়ত কেবল তার সরাসরি মুক্তদাসদের (موالي) জন্য কার্যকর হবে, তার মুক্তদাসদের মুক্তদাসদের জন্য নয়।

এবং আস-সিয়ার আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি যুদ্ধরত শত্রুরা (أهل الحرب) তাদের পিতাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করে, তবে দাদারা সেই নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যদি তারা তাদের মায়েদের জন্য নিরাপত্তা চায়, তবে নানি-দাদিদের ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা সাব্যস্ত হবে না।

এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, যদি কেউ অমুক বংশের কুমারী কন্যাদের জন্য অসিয়ত করে, তবে ব্যভিচারের (فجور) কারণে সতীত্ব হারানো নারী অসিয়তের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

আর যদি কেউ অমুকের পুত্রদের জন্য অসিয়ত করে এবং তার পুত্র ও পৌত্র (পুত্রের পুত্র) উভয়ই বিদ্যমান থাকে, তবে সেই অসিয়ত কেবল তার পুত্রদের জন্য হবে, পৌত্রদের জন্য নয়।

আমাদের ফকিহগণ বলেন, যদি কেউ শপথ করে যে সে অমুক অনাত্মীয় নারীকে (أجنبية) বিবাহ করবে না, তবে তা বিবাহ চুক্তির ওপর প্রযোজ্য হবে; এমনকি যদি সে তার সাথে ব্যভিচারও (زنا) করে, তবুও সে শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে না।

আর যদি সে শপথ করে যে সে অমুকের ঘরে ‘পা রাখবে না’, তবে সে সেখানে খালি পায়ে, জুতো পরিহিত অবস্থায় কিংবা আরোহী হয়ে প্রবেশ করলেই শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে। অনুরূপভাবে, যদি সে শপথ করে যে সে অমুকের ঘরে বসবাস করবে না, তবে সেই ঘরটি অমুকের মালিকানাধীন হোক বা ভাড়ায় নেওয়া হোক কিংবা ব্যবহারের জন্য ধার করা (عادية) হোক—সবক্ষেত্রেই সে শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে। আর এটি প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) ও রূপক অর্থ (المجاز)-এর সমন্বয়ের অন্তর্ভুক্ত।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ বলে যে—তার দাসটি সেই ‘দিন’ মুক্ত হবে যে দিন অমুক ব্যক্তি আসবে; অতঃপর অমুক ব্যক্তি রাতে আসুক বা দিনে, সে শপথ ভঙ্গকারী হবে (অর্থাৎ দাসটি মুক্ত হয়ে যাবে)।

আমরা বলি যে, ‘পা রাখা’ শব্দটি প্রচলিত প্রথা বা উরফের (عرف) ভিত্তিতে প্রবেশের একটি রূপক অর্থ (مجاز) হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর প্রবেশের ক্ষেত্রে এই দুই অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এবং ‘অমুকের ঘর’ শব্দটি তার বসবাসের ঘরের একটি রূপক অর্থ (مجاز) হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর এতে ঘরটি তার নিজস্ব মালিকানাধীন হওয়া বা ভাড়ায় হওয়ার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
4 - / 1‌‌ بحث تَقْسِيم الْحَقِيقَة إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام

 

وَالْيَوْم فِي مَسْأَلَة الْقدوم عبارَة عَن مُطلق الْوَقْت لِأَن الْيَوْم إِذا أضيف إِلَى فعل لَا يَمْتَد يكون عبارَة عَن مُطلق الْوَقْت كَمَا عرف فَكَانَ الْحِنْث بِهَذَا الطَّرِيق لَا بطرِيق الْجمع بَين الْحَقِيقَة وَالْمجَاز

ثمَّ الْحَقِيقَة أَنْوَاع ثَلَاثَة متعذرة ومهجورة ومستعملة

وَفِي الْقسمَيْنِ الْأَوَّلين يُصَار إِلَى الْمجَاز بالِاتِّفَاقِ

وَنَظِير المتعذرة إِذا حلف لَا يَأْكُل من هَذِه الشَّجَرَة أَو من هَذِه الْقدر فَإِن أكل الشَّجَرَة وَالْقدر مُتَعَذر فَيَنْصَرِف ذَلِك إِلَى ثَمَرَة الشَّجَرَة وَإِلَى مَا يحل فِي الْقدر حَتَّى لَو أكل من عين الشَّجَرَة أَو من عين الْقدر بِنَوْع تكلّف لَا يَحْنَث

وعَلى هَذَا قُلْنَا إِذا حلف لَا يشرب من هَذِه البير ينْصَرف ذَلِك إِلَى الاغتراف حَتَّى لَو فَرضنَا أَنه لَو كرع بِنَوْع تكلّف لَا يَحْنَث بالِاتِّفَاقِ

وَنَظِير المهجورة لَو حلف لَا يضع قدمه فِي دَار فلَان فَإِن إِرَادَة وضع الْقدَم مهجورة عَادَة

وعَلى هَذَا قُلْنَا التَّوْكِيل بِنَفس الْخُصُومَة ينْصَرف إِلَى مُطلق جَوَاب الْخصم حَتَّى يسع للْوَكِيل أَن يُجيب بنعم كَمَا يَسعهُ أَن يُجيب بِلَا لِأَن التَّوْكِيل بِنَفس الْخُصُومَة مهجور شرعا وَعَادَة
4 - / 1‌‌ প্রকৃত অর্থকে (الحقيقة) তিন ভাগে বিভক্ত করার আলোচনা

 

আর আগমনের মাসআলায় 'আজ' শব্দটি সাধারণ সময়ের (مطلق الوقت) অভিব্যক্তি মাত্র। কারণ 'আজ' শব্দটি যখন এমন কোনো ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তখন তা সাধারণ সময়ের অভিব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয় যেমনটি সুপরিচিত। সুতরাং, কসম ভঙ্গ হওয়া (الحنث) এই পদ্ধতিতেই হবে, প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) ও রূপক অর্থকে (المجاز) একত্রিত করার পদ্ধতিতে নয়।

অতঃপর প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) তিন প্রকার: দুঃসাধ্য (متعذرة), পরিত্যক্ত (مهجورة) এবং প্রচলিত (مستعملة)।

আর প্রথম দুই প্রকারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) রূপক অর্থের (المجاز) দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়।

দুঃসাধ্যের (المتعذرة) উদাহরণ হলো—যদি কেউ কসম করে যে সে এই গাছ থেকে খাবে না অথবা এই ডেকচি থেকে খাবে না। এমতাবস্থায় গাছ খাওয়া এবং ডেকচি খাওয়া দুঃসাধ্য (متعذر), তাই এটি গাছের ফলের দিকে এবং ডেকচিতে যা রান্না করা হয় তার দিকে ধাবিত হবে। এমনকি সে যদি কষ্ট করে গাছের মূল অংশ বা ডেকচির মূল অংশ চিবিয়ে খায়, তবুও সে কসম ভঙ্গকারী (يحنث) হবে না।

এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলি, যদি কেউ কসম করে যে সে এই কূপ থেকে পান করবে না, তবে তা পানি তুলে পান করার দিকে ধাবিত হবে। এমনকি আমরা যদি ধরে নিই যে সে কষ্ট করে সরাসরি কূপে মুখ লাগিয়ে পান করেছে, তবুও সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) সে কসম ভঙ্গকারী (يحنث) হবে না।

আর পরিত্যক্তের (المهجورة) উদাহরণ হলো—যদি কেউ কসম করে যে সে অমুকের বাড়িতে পা রাখবে না। কারণ প্রকৃতপক্ষে পা রাখার বিষয়টি সাধারণত পরিত্যক্ত (مهجورة)।

এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলি, বিবাদের (الخصومة) জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ (التوكيل) করা প্রতিপক্ষের সাধারণ জবাব প্রদানের দিকে ধাবিত হয়; এমনকি প্রতিনিধির জন্য 'হ্যাঁ' বলে উত্তর দেওয়া যেমন বৈধ, তেমনি 'না' বলে উত্তর দেওয়াও বৈধ। কারণ সরাসরি বিবাদের (الخصومة) জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা শরয়ি ও অভ্যাসগত উভয় দিক থেকেই পরিত্যক্ত (مهجور)।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَلَو كَانَت الْحَقِيقَة مستعملة فَإِن لم يكن لَهَا مجَاز مُتَعَارَف فالحقيقة أولى بِلَا خلاف فَإِن كَانَ لَهَا مجَاز مُتَعَارَف
আর যদি শাব্দিক অর্থ (حقيقة) ব্যবহৃত হয়, তবে যদি তার কোনো প্রচলিত (متعارف) রূপক অর্থ (مجاز) না থাকে, তবে কোনো মতভেদ (خلاف) ছাড়াই শাব্দিক অর্থ (حقيقة) অগ্রাধিকারযোগ্য। আর যদি তার কোনো প্রচলিত (متعارف) রূপক অর্থ (مجاز) থাকে—
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৫২)
4 - / 2‌‌ بحث كَون الْمجَاز خلفا عَن الْحَقِيقَة عِنْد أبي حنيفَة

 

فالحقيقة أولى عِنْد أبي حنيفَة

وَعِنْدَهُمَا الْعَمَل بِعُمُوم الْمجَاز أولى مِثَاله لَو حلف لَا يَأْكُل من هَذِه الْحِنْطَة ينْصَرف ذَلِك إِلَى عينهَا عِنْده حَتَّى لَو أكل من الْخبز الْحَاصِل مِنْهَا لَا يَحْنَث عِنْده وَعِنْدَهُمَا ينْصَرف إِلَى مَا تتضمنه الْحِنْطَة بطرِيق عُمُوم الْمجَاز فَيحنث بأكلها وبأكل الْخبز الْحَاصِل مِنْهَا

وَكَذَا لَو حلف لَا يشرب من الْفُرَات ينْصَرف إِلَى الشّرْب مِنْهَا كرعا عِنْده وَعِنْدَهُمَا إِلَى الْمجَاز الْمُتَعَارف وَهُوَ شرب مَائِهَا بِأَيّ طَرِيق كَانَ

ثمَّ الْمجَاز عِنْد أبي حنيفَة خلف عَن الْحَقِيقَة فِي حق اللَّفْظ وَعِنْدَهُمَا خلف عَن الْحَقِيقَة فِي حق الحكم حَتَّى لَو كَانَت الْحَقِيقَة مُمكنَة فِي نَفسهَا إِلَّا أَنه امْتنع الْعَمَل بهَا لمَانع يُصَار إِلَى الْمجَاز وَإِلَّا صَار الْكَلَام لَغوا

وَعِنْده يُصَار إِلَى الْمجَاز وَإِن لم تكن الْحَقِيقَة مُمكنَة فِي نَفسهَا

أَمْثَاله إِذا قَالَ لعَبْدِهِ وَهُوَ أكبر سنا مِنْهُ هَذَا ابْني

لَا يُصَار إِلَى الْمجَاز عِنْدهمَا لِاسْتِحَالَة الْحَقِيقَة

وَعِنْده يُصَار إِلَى الْمجَاز حَتَّى يعْتق العَبْد
4 - / 2‌‌ ইমাম আবু হানিফার মতে রূপক (المجاز) প্রকৃত অর্থের (الحقيقة) স্থলাভিষিক্ত হওয়া বিষয়ক আলোচনা

 

সুতরাং ইমাম আবু হানিফার মতে প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) গ্রহণ করাই উত্তম।

আর সাহিবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ)-এর নিকট রূপক অর্থের ব্যাপকতা (عموم المجاز) অনুযায়ী আমল করা অধিকতর উত্তম। উদাহরণস্বরূপ: যদি কেউ শপথ করে যে, সে এই গম থেকে খাবে না, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে এটি সেই গমের মূল সত্তার (عين) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এমনকি যদি সে সেই গম থেকে প্রস্তুতকৃত রুটি খায়, তবে তাঁর মতে শপথ ভঙ্গ হবে না। কিন্তু সাহিবাইনের মতে এটি রূপক অর্থের ব্যাপকতা (عموم المجاز) অনুযায়ী গমের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; ফলে সরাসরি গম খেলে এবং তা থেকে প্রস্তুতকৃত রুটি খেলেও শপথ ভঙ্গ হবে।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ শপথ করে যে, সে ফোরাত নদী থেকে পান করবে না; তবে ইমাম আবু হানিফার মতে এর দ্বারা সরাসরি মুখ লাগিয়ে (كرعا) পান করা উদ্দেশ্য হবে। আর সাহিবাইনের মতে এটি প্রচলিত রূপক (المجاز المتعارف) অর্থের দিকে ধাবিত হবে, আর তা হলো যেকোনো উপায়েই সেই নদীর পানি পান করা।

অতঃপর ইমাম আবু হানিফার মতে রূপক (المجاز) হলো শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থের (الحقيقة) স্থলাভিষিক্ত। আর সাহিবাইনের মতে এটি বিধানের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থের স্থলাভিষিক্ত। এমনকি যদি প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) স্বয়ং সম্ভব হয়, কিন্তু কোনো বাধার কারণে তার ওপর আমল করা অসম্ভব হয়, তবে রূপক (المجاز) অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া হবে, অন্যথায় কথাটি অর্থহীন (لغو) হয়ে যাবে।

আর ইমাম আবু হানিফার মতে রূপক (المجاز) অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া হবে যদিও প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) স্বয়ং সম্ভব না হয়।

এর উদাহরণ হলো, যখন কেউ তার এমন কোনো দাসের ব্যাপারে বলে যে তার চেয়ে বয়সে বড়, "এটি আমার পুত্র"।

সাহিবাইনের মতে এখানে রূপক (المجاز) অর্থের দিকে যাওয়া হবে না, কারণ প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) অসম্ভব।

কিন্তু ইমাম আবু হানিফার মতে এখানে রূপক (المجاز) অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া হবে, যার ফলে দাসটি মুক্ত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وعَلى هَذَا يخرج الحكم فِي قَوْله لَهُ عَليّ ألف أَو على هَذَا الْجِدَار وَقَوله عَبدِي أَو حماري حر وَلَا يلْزم على هَذَا إِذا قَالَ لامْرَأَته هَذِه ابْنَتي وَلها نسب مَعْرُوف من غَيره حَيْثُ لاتحرم عَلَيْهِ
আর এরই ভিত্তিতে এই উক্তির বিধান (حكم) আহরিত হয় যে, ‘আমার নিকট তার এক হাজার পাওনা রয়েছে অথবা এই দেয়ালের ওপর’; এবং তার এই উক্তি: ‘আমার দাস অথবা আমার গাধা স্বাধীন’। আর এটি সেই ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয় না যখন কেউ তার স্ত্রীকে বলে: ‘এ আমার কন্যা’, অথচ অন্য কারো থেকে তার সুপরিচিত বংশপরম্পরা (نسب) বিদ্যমান থাকে, যার ফলে সে তার জন্য নিষিদ্ধ হয় না।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَلَا يَجْعَل ذَلِك مجَازًا عَن الطَّلَاق سَوَاء كَانَت الْمَرْأَة أَصْغَر سنا مِنْهُ أَو كبرى لِأَن هَذَا اللَّفْظ لَو صَحَّ مَعْنَاهُ لَكَانَ منافيا للنِّكَاح فَيكون منافيا لحكمه هُوَ الطَّلَاق وَلَا اسْتِعَارَة مَعَ وجود التَّنَافِي

بِخِلَاف قَوْله هَذَا ابْني فَإِن الْبُنُوَّة لَا تنَافِي ثُبُوت الْملك للْأَب بل يثبت الْملك لَهُ ثمَّ يعْتق عَلَيْهِ

‌‌الْفَصْل الْخَامِس فصل فِي تَعْرِيف طَرِيق الِاسْتِعَارَة

 

اعْلَم أَن الِاسْتِعَارَة فِي أَحْكَام الشَّرْع مطردَة بطريقين

أَحدهمَا لوُجُود الِاتِّصَال بَين الْعلَّة وَالْحكم

وَالثَّانِي لوُجُود الِاتِّصَال بَين السَّبَب والمحض وَالْحكم

فَالْأول مِنْهُمَا يُوجب صِحَة الِاسْتِعَارَة من الطَّرفَيْنِ

وَالثَّانِي يُوجب صِحَّتهَا من أحد الطَّرفَيْنِ وَهُوَ اسْتِعَارَة الأَصْل للفرع

مِثَال الأول فِيمَا إِذا قَالَ إِن ملكت عبدا فَهُوَ حر فَملك نصف العَبْد فَبَاعَهُ ثمَّ ملك النّصْف الآخر لم يعْتق إِذْ لم يجْتَمع فِي ملكه كل العَبْد

وَلَو قَالَ إِن اشْتريت عبدا فَهُوَ حر فَاشْترى نصف العَبْد فَبَاعَهُ ثمَّ
এবং এটিকে তালাকের রূপক অর্থ (مجاز) হিসেবে গণ্য করা হবে না, চাই স্ত্রী তার চেয়ে বয়সে ছোট হোক বা বড়; কারণ এই শব্দটির অর্থ যদি সঠিক হয় তবে তা বিবাহের পরিপন্থী হবে, ফলে তা এর বিধান অর্থাৎ তালাকের পরিপন্থী হবে। আর বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকলে রূপক (استعارة) ব্যবহার করা বৈধ নয়।

পক্ষান্তরে, তার কথা "এটি আমার ছেলে" এর বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সন্তান হওয়া পিতার মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী নয়, বরং তার জন্য মালিকানা সাব্যস্ত হয় এবং এরপর সে (দাসটি) তার অধীনে মুক্ত হয়ে যায়।

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রূপক (استعارة) প্রয়োগের পদ্ধতির পরিচিতি

 

জেনে রাখুন যে, শরীয়তের বিধানাবলীতে রূপক (استعارة) ব্যবহারের বিষয়টি দুটি পদ্ধতিতে প্রচলিত।

এর একটি হলো কারণ (علة) এবং বিধানের (حكم) মধ্যে সংযোগ বিদ্যমান থাকার কারণে।

দ্বিতীয়টি হলো হেতু (سبب) এবং বিশুদ্ধ বিধানের মধ্যে সংযোগ বিদ্যমান থাকার কারণে।

প্রথম পদ্ধতিটি উভয় দিক থেকে রূপক (استعارة) ব্যবহারের বিশুদ্ধতাকে সাব্যস্ত করে।

আর দ্বিতীয়টি যেকোনো এক দিক থেকে এর বিশুদ্ধতাকে সাব্যস্ত করে, আর তা হলো মূলের (أصل) স্থলে শাখার (فرع) জন্য রূপক (استعارة) ব্যবহার করা।

প্রথমটির উদাহরণ হলো: যদি কেউ বলে, "যদি আমি কোনো দাসের মালিক হই, তবে সে মুক্ত", এরপর সে দাসের অর্ধাংশের মালিক হলো এবং তা বিক্রি করে দিল, তারপর অন্য অর্ধাংশের মালিক হলো, তবে সে মুক্ত হবে না; কারণ তার মালিকানায় পুরো দাসটি একত্রিত হয়নি।

আর যদি সে বলে, "যদি আমি কোনো দাস ক্রয় করি, তবে সে মুক্ত", অতঃপর সে দাসের অর্ধেক ক্রয় করল এবং তা বিক্রি করে দিল, এরপর...
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
اشْترى النّصْف الآخر عتق النّصْف الثَّانِي

وَلَو عَنى بِالْملكِ الشِّرَاء أَو بِالشِّرَاءِ الْملك صحت نِيَّته بطرِيق الْمجَاز لِأَن الشِّرَاء عِلّة الْملك وَالْملك حكمه فعمت الِاسْتِعَارَة بَين الْعلَّة والمعلول من الطَّرفَيْنِ
সে যদি অন্য অর্ধাংশ ক্রয় করে, তবে দ্বিতীয় অর্ধাংশ স্বাধীন হয়ে যাবে।

আর যদি সে মালিকানা দ্বারা ক্রয় অথবা ক্রয় দ্বারা মালিকানা উদ্দেশ্য করে, তবে রূপক (مجاز) পন্থায় তার নিয়ত সঠিক হবে; কারণ ক্রয় হলো মালিকানার কারণ (علة) এবং মালিকানা হলো তার বিধান (حكم)। ফলে উভয় দিক থেকে কারণ (علة) ও কার্যের (معلول) মধ্যে রূপক অলংকার (استعارة) ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬০)
إلاإنه فِيمَا يكون تَخْفِيفًا فِي حَقه لَا يصدق فِي حق الْقَضَاء خَاصَّة لِمَعْنى التُّهْمَة لَا لعدم صِحَة الِاسْتِعَارَة

وَمِثَال الثَّانِي إِذا قَالَ لامْرَأَته حررتك وَنوى بِهِ الطَّلَاق يَصح لِأَن التَّحْرِير بحقيقته يُوجب زَوَال ملك الْبضْع بِوَاسِطَة زَوَال ملك الرقبه فَكَانَ سَببا مَحْضا لزوَال ملك الْمُتْعَة فَجَاز أَن يستعار عَن الطَّلَاق الَّذِي هُوَ مزيل لملك الْمُتْعَة

وَلَا يُقَال لَو جعل مجَازًا عَن الطَّلَاق لوَجَبَ أَن يكون الطَّلَاق الْوَاقِع بِهِ رَجْعِيًا كصريح الطَّلَاق

لأَنا نقُول لَا نجعله مجَازًا عَن الطَّلَاق بل عَن المزيل لملك الْمُتْعَة وَذَلِكَ فِي الْبَائِن إِذْ لرجعي لَا يزِيل ملك الْمُتْعَة عندنَا

وَلَو قَالَ لأمته طَلقتك وَنوى بِهِ التَّحْرِير لَا يَصح لِأَن الأَصْل جَازَ أَن يثبت بِهِ الْفَرْع وَأما الْفَرْع فَلَا يجوز أَن يثبت بِهِ الأَصْل وعَلى هَذَا نقُول

ينْعَقد النِّكَاح بِلَفْظ الْهِبَة وَالتَّمْلِيك وَالْبيع لِأَن الْهِبَة بحقيقتها توجب ملك الرَّقَبَة وَملك الرَّقَبَة يُوجب ملك الْمُتْعَة فِي الْإِمَاء فَكَانَت الْهِبَة سَببا مَحْضا لثُبُوت ملك الْمُتْعَة فَجَاز أَن يستعار عَن النِّكَاح
তবে এটি কেবল ঐ ক্ষেত্রে যেখানে তার জন্য লঘুকরণ (تخفيف) হয়; বিচারিক সিদ্ধান্তের (القضاء) ক্ষেত্রে তাকে বিশেষভাবে সত্য বলে গণ্য করা হবে না অপবাদের (التهمة) আশঙ্কার কারণে, রূপক ব্যবহারের (استعارة) অযোগ্যতার কারণে নয়।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো, যখন কেউ তার স্ত্রীকে বলল, ‘আমি তোমাকে স্বাধীন করলাম’ এবং এর দ্বারা তালাক (الطلاق) প্রদানের নিয়ত করল, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে। কারণ আক্ষরিক অর্থে মুক্তি প্রদান (التحرير) সত্তার মালিকানা (ملك الرقبة) বিলুপ্তির মাধ্যমে আনুষঙ্গিকভাবে বৈবাহিক অধিকারের মালিকানা (ملك البضع) বিলুপ্তিকেও আবশ্যক করে। ফলে এটি সম্ভোগের অধিকার (ملك المتعة) বিলুপ্ত হওয়ার একটি নিছক কারণ হয়ে দাঁড়াল। অতএব, একে তালাকের (الطلاق) পরিবর্তে রূপক (استعارة) হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ হবে, যা সম্ভোগের অধিকার বিলুপ্তকারী।

আর এমনটি বলা যাবে না যে, যদি একে তালাকের (الطلاق) রূপক (مجاز) হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে এর মাধ্যমে সংঘটিত তালাকটি সুস্পষ্ট (صريح) তালাকের ন্যায় রাজয়ী (رجعي) হওয়া আবশ্যক ছিল।

কারণ আমরা বলি যে, আমরা একে সরাসরি তালাকের (الطلاق) রূপক (مجاز) বানাচ্ছি না, বরং সম্ভোগের অধিকার বিলুপ্তকারীর রূপক বানাচ্ছি। আর তা বায়েন (بائن) তালাকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, কেননা আমাদের নিকট রাজয়ী (رجعي) তালাক সম্ভোগের অধিকারকে বিলুপ্ত করে না।

আর যদি কেউ তার দাসীকে বলে, ‘আমি তোমাকে তালাক (الطلاق) দিলাম’ এবং এর মাধ্যমে সে মুক্তি প্রদানের (التحرير) নিয়ত করে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না। কারণ মূল (الأصل) দ্বারা শাখা (الفرع) সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব হলেও, শাখা (الفرع) দ্বারা মূল (الأصل) সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলি—

হিবা (هبة) বা দান, মালিকানা প্রদান (تمليك) এবং বিক্রয় (البيع) শব্দের মাধ্যমে নিকাহ (النكاح) সংঘটিত হয়। কারণ হিবা (هبة) তার আক্ষরিক অর্থে সত্তার মালিকানা (ملك الرقبة) প্রদানকে আবশ্যক করে, আর দাসীদের ক্ষেত্রে সত্তার মালিকানা সম্ভোগের অধিকারকে (ملك المتعة) আবশ্যক করে। ফলে হিবা (هبة) সম্ভোগের অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার একটি নিছক কারণ হয়ে দাঁড়াল। অতএব, একে নিকাহের (النكاح) পরিবর্তে রূপক (استعارة) হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَكَذَلِكَ لفظ التَّمْلِيك وَالْبيع لَا ينعكس حَتَّى لَا ينْعَقد البيع وَالْهِبَة بِلَفْظ النِّكَاح

ثمَّ فِي كل مَوضِع يكون الْمحل مُتَعَيّنا لنَوْع من الْمجَاز لَا يحْتَاج فِيهِ إِلَى النِّيَّة لَا يُقَال وَلما كَانَ إِمْكَان الْحَقِيقَة شرطا لصِحَّة الْمجَاز عِنْدهمَا
অনুরূপভাবে মালিকানা প্রদান (تمليك) এবং ক্রয়-বিক্রয় (بيع) শব্দটির ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত হয় না, যার ফলে বিবাহ (نكاح) শব্দের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় (بيع) ও দান (هبة) সংঘটিত হয় না।

অতঃপর প্রতিটি ক্ষেত্রে যেখানে প্রেক্ষিতটি কোনো এক প্রকার রূপক (مجاز) অর্থের জন্য সুনির্দিষ্ট থাকে, সেখানে নিয়ত (نية) করার প্রয়োজন হয় না। এমনটি বলা যাবে না যে, যেহেতু তাঁদের উভয়ের নিকট রূপক (مجاز) শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রকৃত (حقيقة) অর্থ সম্ভব হওয়া একটি শর্ত (شرط)।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
كَيفَ يُصَار إِلَى الْمجَاز فِي صُورَة النِّكَاح بِلَفْظ الْهِبَة مَعَ أَن تمْلِيك الْحرَّة بِالْبيعِ وَالْهِبَة محَال

لأَنا نقُول ذَلِك مُمكن فِي الْجُمْلَة بِأَن ارْتَدَّت وَلَحِقت بدار الْحَرْب ثمَّ سبيت وَصَارَ هَذَا نَظِير مس السَّمَاء واخواته

‌‌الْفَصْل السَّادِس فصل فِي الصَّرِيح وَالْكِنَايَة

 

الصَّرِيح لفظ يكون المُرَاد بِهِ ظَاهرا كَقَوْلِه بِعْت واشتريت وَأَمْثَاله

وَحكمه أَنه يُوجب ثُبُوت مَعْنَاهُ بِأَيّ طَرِيق كَانَ من إِخْبَار أَو نعت أَو نِدَاء

وَمن حكمه أَنه يَسْتَغْنِي عَن النِّيَّة وعَلى هَذَا قُلْنَا

إِذا قَالَ لامْرَأَته أَنْت طَالِق أَو طَلقتك أَو يَا طَالِق يَقع الطَّلَاق نوى بِهِ الطَّلَاق أَو لم ينْو

وَكَذَا لَو قَالَ لعَبْدِهِ أَنْت حر أَو حررتك أَو يَا حر

وعَلى هَذَا قُلْنَا إِن التَّيَمُّم يُفِيد الطَّهَارَة لِأَن قَوْله تَعَالَى {وَلَكِن يُرِيد ليطهركم} صَرِيح فِي حُصُول الطَّهَارَة بِهِ
কীভাবে বিবাহের ক্ষেত্রে দান (هبة) শব্দের মাধ্যমে রূপক (مجاز) অর্থের আশ্রয় নেওয়া সম্ভব, যেখানে বিক্রয় বা দানের (هبة) মাধ্যমে কোনো স্বাধীন নারীকে মালিকানাধীন করা অসম্ভব?

এর উত্তরে আমরা বলি যে, এটি সাধারণভাবে সম্ভব; যেমন কোনো নারী ধর্মত্যাগী হয়ে দারুল হারবে চলে গেল, অতঃপর তাকে যুদ্ধবন্দী করা হলো (এবং দাসীতে পরিণত করা হলো)। এটি "আকাশ স্পর্শ করা" এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোর অনুরূপ।

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: স্পষ্ট (صريح) এবং ইঙ্গিতবহ (كناية) শব্দ বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

স্পষ্ট (صريح) হলো এমন শব্দ যার দ্বারা উদ্দেশ্য প্রকাশ্য (ظاهر) হয়, যেমন কারো কথা: "আমি বিক্রি করলাম", "আমি ক্রয় করলাম" এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ।

আর এর বিধান (حكم) হলো—এটি যেকোনো পদ্ধতিতেই হোক না কেন (সংবাদ প্রদান, বিশেষণ বা সম্বোধন), তা তার অর্থের সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে।

এর আরও একটি বিধান (حكم) হলো—এটি নিয়ত (نية) থেকে অমুখাপেক্ষী। এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলি:

যখন কেউ তার স্ত্রীকে বলে, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অথবা "আমি তোমাকে তালাক (طلاق) দিলাম", অথবা "হে তালাকপ্রাপ্তা", তবে তালাক (طلاق) কার্যকর হবে; চাই সে এর দ্বারা তালাকের (طلاق) নিয়ত (نية) করুক বা না করুক।

অনুরূপভাবে যদি কেউ তার দাসকে বলে, "তুমি মুক্ত", অথবা "আমি তোমাকে মুক্ত করলাম", অথবা "হে মুক্ত ব্যক্তি"।

এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলি যে, তায়াম্মুম (تيمم) পবিত্রতা (طهارة) দান করে। কেননা আল্লাহ তাআলার বাণী—"কিন্তু তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান"—এর দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) অর্জিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট (صريح)।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَللشَّافِعِيّ فِيهِ قَولَانِ

أَحدهمَا أَنه طَهَارَة ضَرُورِيَّة

وَالْآخر انه لَيْسَ بِطَهَارَة بل هُوَ ساترا للْحَدَث وعَلى هَذَا يخرج الْمسَائِل على المذهبين

من جَوَازه قبل الْوَقْت إداء الفرضين بِتَيَمُّم وَاحِد

وأمامة المتيم للمتوضئين

وجوازه بِدُونِ خوف تلف النَّفس أَو الْعُضْو بِالْوضُوءِ

وجوازه للعيد والجنازة

وجوازه بنية الطَّهَارَة

وَالْكِنَايَة هِيَ مَا استتر مَعْنَاهُ

وَالْمجَاز قبل أَن يصير متعارفا بِمَنْزِلَة الْكِنَايَة وَحكم الْكِنَايَة ثُبُوت الحكم بهَا
এ বিষয়ে ইমাম শাফেয়ীর দুটি অভিমত রয়েছে

তার একটি হলো, এটি একটি জরুরি পবিত্রতা (طهارة ضرورية)

আর দ্বিতীয়টি হলো, এটি কোনো পবিত্রতা (طهارة) নয়, বরং এটি অপবিত্রতা (حدث) গোপনকারী মাত্র; আর এর ওপর ভিত্তি করেই উভয় মতানুসারে মাসআলাসমূহ উদ্ভূত হয়—

ওয়াক্ত হওয়ার আগে এর বৈধতা এবং এক তায়াম্মুমের মাধ্যমে দুটি ফরজ আদায় করা

এবং অযুকারীদের জন্য তায়াম্মুমকারীর ইমামতি

অযুর কারণে প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা না থাকলেও এর বৈধতা

ঈদ ও জানাজার নামাজের জন্য এর বৈধতা

পবিত্রতার (طهارة) নিয়তসহ এর বৈধতা

পরোক্ষ উক্তি (كناية) হলো তা-ই, যার অর্থ প্রচ্ছন্ন থাকে

রূপক অর্থ (مجاز) সুপরিচিত হওয়ার আগে তা পরোক্ষ উক্তির (كناية) পর্যায়ভুক্ত এবং পরোক্ষ উক্তির (كناية) বিধান হলো এর দ্বারা হুকুম সাব্যস্ত হওয়া
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
عِنْد وجود النِّيَّة أَو بِدلَالَة الْحَال إِذْ لَا بُد لَهُ من دَلِيل يَزُول بِهِ التَّرَدُّد ويترجح بِهِ بعض الْوُجُوه وَلِهَذَا الْمَعْنى سمي لفظ الْبَيْنُونَة وَالتَّحْرِيم كِنَايَة فِي بَاب الطَّلَاق لِمَعْنى التَّرَدُّد واستتار المُرَاد لَا أَنه يعْمل عمل الطَّلَاق وَيتَفَرَّع مِنْهُ حكم الْكِنَايَات فِي حق عدم ولَايَة الرّجْعَة

ولوجود معنى التَّرَدُّد فِي الْكِنَايَة لَا يُقَام بهَا الْعُقُوبَات حَتَّى لَو أقرّ على نَفسه فِي بَاب الزِّنَا وَالسَّرِقَة لَا يُقَام عَلَيْهِ الْحَد مَا لم يذكر اللَّفْظ الصَّرِيح ولهذاالمعنى لَا يُقَام الْحَد على الْأَخْرَس بِالْإِشَارَةِ

وَلَو قذف رجلا بِالزِّنَا فَقَالَ الآخر صدقت لَا يجب الْحَد لاحْتِمَال التَّصْدِيق لَهُ فِي غَيره

‌‌الْفَصْل السَّابِع فصل فِي المتقابلات يعْنى بهَا الظَّاهِر وَالنَّص والمفسر والمحكم مَعَ مَا يقابلها من الْخَفي والمشكل والمجمل والمتشابه

 

فَالظَّاهِر اسْم لكل كَلَام ظهر المُرَاد بِهِ للسامع بِنَفس السماع من غير تَأمل

وَالنَّص مَا سيق الْكَلَام لأَجله ومثاله فِي قَوْله تَعَالَى {وَأحل الله البيع وَحرم الرِّبَا} فالآية سيقت لبَيَان التَّفْرِقَة بَين البيع والربا ردا لما ادَّعَاهُ الْكفَّار من التَّسْوِيَة بَينهمَا حَيْثُ قَالُوا {إِنَّمَا البيع مثل الرِّبَا}
নিয়ত বিদ্যমান থাকার সময় অথবা অবস্থার প্রেক্ষাপটে, কেননা এর জন্য এমন একটি দলিলের প্রয়োজন যার মাধ্যমে দ্বিধা দূর হয় এবং কোনো একটি দিক প্রাধান্য পায়। এই অর্থের কারণেই তালাকের অধ্যায়ে 'বাইনুনাহ' (বিচ্ছেদ) এবং 'তাহরিম' (নিষিদ্ধকরণ) শব্দ দুটিকে রূপক (كناية) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; দ্বিধা বিদ্যমান থাকা এবং উদ্দেশ্য প্রচ্ছন্ন থাকার কারণে। এটি সরাসরি তালাকের মতো কার্যকর হয় না, বরং এখান থেকেই রূপক শব্দাবলির (كنايات) ক্ষেত্রে রাজআ বা প্রত্যাবর্তনের অধিকার না থাকার বিধানটি উৎসারিত হয়।

রূপক বা অস্পষ্ট অভিব্যক্তির (كناية) মধ্যে দ্বিধার অর্থ বিদ্যমান থাকার কারণে এর দ্বারা দণ্ডবিধি কার্যকর করা হয় না। এমনকি কেউ যদি ব্যভিচার বা চুরির অধ্যায়ে নিজের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিও দেয়, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত সে স্পষ্ট (صريح) শব্দ উচ্চারণ না করবে, ততক্ষণ তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হবে না। এই কারণেই ইশারার মাধ্যমে বোবা ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করা হয় না।

যদি কেউ কোনো ব্যক্তিকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় এবং অন্যজন বলে, "তুমি সত্য বলেছ", তবে নির্ধারিত দণ্ড (حد) ওয়াজিব হবে না; কারণ এখানে অন্য কোনো বিষয়ে তাকে সত্যয়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: পরস্পর বিপরীত শব্দাবলি প্রসঙ্গে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকাশ্য (ظاهر), সুস্পষ্ট (نص), ব্যাখ্যায়িত (مفسر) এবং সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم) শব্দাবলি এবং এগুলোর বিপরীতে থাকা প্রচ্ছন্ন (خفي), জটিল (مشكل), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও অস্পষ্ট (متشابه) শব্দাবলি।

 

প্রকাশ্য (ظاهر) হলো এমন প্রতিটি কালামের নাম, যার দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা শ্রোতার কাছে শোনা মাত্রই কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই স্পষ্ট হয়ে যায়।

সুস্পষ্ট (نص) হলো তা, যার জন্য কালাম বা কথাটি মূলত আনয়ন করা হয়েছে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন}। এই আয়াতটি মূলত ব্যবসা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে, কাফেরদের সেই দাবির প্রতিবাদে যেখানে তারা উভয়কে সমান দাবি করে বলেছিল: {নিশ্চয়ই ব্যবসা তো সুদের মতোই}।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَقد علم حل البيع وَحُرْمَة الرِّبَا بِنَفس السماع فَصَارَ ذَلِك نصا فِي التَّفْرِقَة ظَاهرا فِي حل البيع وَحُرْمَة الرِّبَا

এবং কেবল শ্রবণের মাধ্যমেই ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা এবং সুদের অবৈধতা পরিজ্ঞাত হয়েছে; ফলে এটি (উভয়ের মাঝে) পার্থক্যের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা ও সুদের নিষিদ্ধতার বিষয়ে প্রকাশ্য (ظاهر) দলিলে পরিণত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৭২)
7 - / 1‌‌ بحث وجوب الْعَمَل بِحكم الظَّاهِر وَالنَّص

 

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {فانكحوا مَا طَابَ لكم من النِّسَاء مثنى وَثَلَاث وَربَاع}

سيق الْكَلَام لبَيَان الْعدَد وَقد علم الْإِطْلَاق وَالْإِجَازَة بِنَفس السماع فَصَارَ ذَلِك ظَاهرا فِي حق الْإِطْلَاق نصا فِي بَيَان الْعدَد

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {لَا جنَاح عَلَيْكُم إِن طلّقْتُم النِّسَاء مَا لم تمَسُّوهُنَّ أَو تفرضوا لَهُنَّ فَرِيضَة}

نَص فِي حكم من لم يسم لَهَا الْمهْر

وَظَاهر فِي استبداد الزَّوْج بِالطَّلَاق

وَإِشَارَة إِلَى أَن النِّكَاح بِدُونِ ذكر الْمهْر يَصح

وَكَذَلِكَ قَوْله عليه السلام من ملك ذَا رحم محرم مِنْهُ عتق عَلَيْهِ

نَص فِي اسْتِحْقَاق الْعتْق للقريب

وَظَاهر فِي ثُبُوت الْملك لَهُ

وَحكم الظَّاهِر وَالنَّص وجوب الْعَمَل بهما عَاميْنِ كَانَا أَو خاصين مَعَ احْتِمَال إِرَادَة الْغَيْر وَذَلِكَ بِمَنْزِلَة الْمجَاز مَعَ الْحَقِيقَة

وعَلى هذاقلنا إِذا اشْترى قَرِيبه حَتَّى عتق عَلَيْهِ يكون هُوَ معتقا وَيكون الْوَلَاء لَهُ وَإِنَّمَا يظْهر التَّفَاوُت بَينهمَا عِنْد الْمُقَابلَة
৭ - / ১‌‌ প্রকাশ্য (ظاهر) এবং সুস্পষ্ট (نص) দলিলের বিধান অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা সংক্রান্ত আলোচনা

 

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের বিয়ে করো—দুই, তিন অথবা চার জন করে।}

এই বক্তব্যটি সংখ্যা বর্ণনার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে, আর কেবল শ্রবণের মাধ্যমেই এর ব্যাপকতা ও বৈধতা অনুধাবন করা যায়। সুতরাং এটি ব্যাপকতার ক্ষেত্রে প্রকাশ্য (ظاهر) এবং সংখ্যা বর্ণনার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (نص) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ না করে থাকো অথবা তাদের জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ না করে থাকো, তবে এমতাবস্থায় তাদের তালাক দিলে তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই।}

এটি সেই নারীর বিধানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (نص), যার জন্য মোহর নির্ধারিত হয়নি।

এবং তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে স্বামীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিষয়ে এটি প্রকাশ্য (ظاهر)।

এবং এটি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত (إشارة) যে, মোহর উল্লেখ করা ছাড়াই বিবাহ সহিহ হয়।

অনুরূপভাবে নবীজি (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার কোনো মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হবে, সে তার পক্ষ থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে।"

এটি আত্মীয়ের আজাদি লাভের হকের বিষয়ে সুস্পষ্ট (نص)।

এবং তার ওপর মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশ্য (ظاهر)।

প্রকাশ্য (ظاهر) ও সুস্পষ্ট (নص)-এর বিধান হলো—উভয়টি সাধারণ (عام) হোক কিংবা বিশেষ (خاص), এ দুটির ওপর আমল করা ওয়াজিব। যদিও এতে ভিন্ন কোনো অর্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; আর এটি আক্ষরিক (حقيقة) অর্থের উপস্থিতিতে রূপক (مجاز) অর্থের সম্ভাবনার পর্যায়ের মতো।

এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, যখন কেউ তার কোনো নিকটাত্মীয়কে ক্রয় করে এবং এর ফলে সে স্বাধীন হয়ে যায়, তখন ক্রেতাই মুক্তিদাতা (معتق) হিসেবে গণ্য হবে এবং উত্তরাধিকারের অধিকার (ولاء) তারই থাকবে। মূলত এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য কেবল তখনই প্রকাশ পায় যখন উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
وَلِهَذَا لَو قَالَ لَهَا طَلِّقِي نَفسك فَقَالَت أبنت نَفسِي يَقع الطَّلَاق رَجْعِيًا

لِأَن هَذَا نَص فِي الطَّلَاق وَظَاهر فِي الْبَيْنُونَة فيترجح الْعَمَل بِالنَّصِّ

وَكَذَلِكَ قَوْله عليه السلام لأهل عرينة

(إشربوا من أبوالها والبانها)

نَص فِي بَيَان سَبَب الشِّفَاء

وَظَاهر فِي إجَازَة شرب الْبَوْل

وَقَوله عليه السلام

(استنزهوا من الْبَوْل فَإِن عَامَّة عَذَاب الْقَبْر مِنْهُ)

نَص فِي وجوب الِاحْتِرَاز عَن الْبَوْل فيترجح النَّص على الظَّاهِر فَلَا يحل شرب الْبَوْل أصلا
এজন্য যদি তিনি (স্বামী) তাকে (স্ত্রীকে) বলেন, "তুমি নিজেকে তালাক দাও", আর সে (স্ত্রী) বলে, "আমি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করলাম", তবে তালাকটি রাজঈ (رجعي) হবে।

কারণ এটি তালাকের ক্ষেত্রে অকাট্য পাঠ (نص) এবং বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আপাত অর্থ (ظاهر), ফলে অকাট্য পাঠ (نص) অনুযায়ী আমল করাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

অনুরূপভাবে উরাইনা গোত্রের লোকদের প্রতি তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী:

(তোমরা এগুলোর মূত্র ও দুধ পান করো)

এটি আরোগ্যের কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে অকাট্য পাঠ (نص)।

এবং মূত্র পান করার বৈধতার ক্ষেত্রে আপাত অর্থ (ظاهر)।

আর তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী:

(তোমরা মূত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন করো, কেননা কবরের অধিকাংশ আজাব এর কারণেই হয়ে থাকে)

এটি মূত্র থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে অকাট্য পাঠ (نص), সুতরাং আপাত অর্থের (ظاهر) ওপর অকাট্য পাঠকে (نص) প্রাধান্য দেওয়া হবে; তাই মূত্র পান করা মোটেও বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
7 - / 2‌‌ بحث تَرْجِيح الْمُفَسّر على النَّص

 

وَقَوله عليه السلام

(مَا سقته السَّمَاء فَفِيهِ الْعشْر) نَص فِي بَيَان الْعشْر

وَقَوله عليه السلام لَيْسَ

(فِي الخضروات صَدَقَة) مؤول فِي نفي الْعشْر لِأَن الصَّدَقَة تحْتَمل وُجُوهًا فيترجح الأول على الثَّانِي

وَأما الْمُفَسّر فَهُوَ مَا ظهر المُرَاد بِهِ من اللَّفْظ بِبَيَان من قبل الْمُتَكَلّم بِحَيْثُ لَا يبْقى مَعَه احْتِمَال التَّأْوِيل والتخصيص مِثَاله

فِي قَوْله تَعَالَى {فَسجدَ الْمَلَائِكَة كلهم أَجْمَعُونَ} فاسم الْمَلَائِكَة ظَاهر فِي الْعُمُوم إِلَّا أَن احْتِمَال التَّخْصِيص قَائِم فانسد بَاب التَّخْصِيص بقوله (كلهم) ثمَّ بَقِي احْتِمَال التَّفْرِقَة فِي السُّجُود فانسد بَاب التَّأْوِيل بقوله أَجْمَعُونَ

وَفِي الشرعيات إِذا قَالَ تزوجت فُلَانَة شهرا بِكَذَا فَقَوله تزوجت ظَاهر فِي النِّكَاح إِلَّا أَن احْتِمَال الْمُتْعَة قَائِم فبقوله شهرا فسر المُرَاد بِهِ فَقُلْنَا هَذَا مُتْعَة وَلَيْسَ بِنِكَاح

وَلَو قَالَ لفُلَان عَليّ ألف من ثمن هَذَا العَبْد أَو من ثمن هَذَا الْمَتَاع فَقَوله عَليّ ألف نَص فِي لُزُوم الْألف إِلَّا أَن احْتِمَال التَّفْسِير بَاقٍ

فبقوله من ثمن هَذَا العَبْد اَوْ من ثمن هَذَا الْمَتَاع بَين المُرَاد بِهِ فيترجح الْمُفَسّر على النَّص حَتَّى لَا يلْزمه المَال إِلَّا عِنْد قبض العَبْد أَو الْمَتَاع
7 - / 2‌‌ মুফাসসারকে (المفسر) নাসের (النص) ওপর প্রাধান্য দেওয়ার আলোচনা

 

রাসুলুল্লাহ (عليه السلام)-এর বাণী:

(আকাশ যা সেচন করে তাতে ওশর বা দশমাংশ রয়েছে)—এটি ওশর বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নাস (نص)।

এবং রাসুলুল্লাহ (عليه السلام)-এর বাণী:

(শাকসবজিতে কোনো সদকা নেই)—এটি ওশর অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুআউওয়াল (مؤول); কারণ সদকা শব্দটি বিভিন্ন অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। ফলে দ্বিতীয়টির ওপর প্রথমটি প্রাধান্য পাবে।

আর মুফাসসার (المفسر) হলো এমন শব্দ, যা দ্বারা বক্তার পক্ষ থেকে এমন বর্ণনার মাধ্যমে উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সেখানে আর কোনো ব্যাখ্যা (التأويل) বা সুনির্দিষ্টকরণের (التخصيص) অবকাশ অবশিষ্ট থাকে না। এর উদাহরণ হলো:

মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর সকল ফেরেশতা একত্রে সিজদাহ করল}। এখানে 'ফেরেশতা' শব্দটি ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে জাহির (ظاهر); তবে সেখানে সুনির্দিষ্টকরণের (التخصيص) সম্ভাবনা বিদ্যমান ছিল। অতঃপর "তারা সকলে" (كلهم) বলার মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজদাহর ক্ষেত্রে পৃথক হওয়ার বা সময়ের ব্যবধানের সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকে, যা "একত্রে" (أجمعون) শব্দটির মাধ্যমে ব্যাখ্যার (التأويل) পথ বন্ধ করে দেয়।

শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো—যদি কেউ বলে: "আমি অমুক নারীকে এক মাসের জন্য এত বিনিময়ে বিবাহ করলাম", তবে তার "আমি বিবাহ করলাম" উক্তিটি বিবাহের ক্ষেত্রে জাহির (ظاهر)। কিন্তু এখানে মুতআহ (المتعة) হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে যখন সে "এক মাস" বলল, তখন তার উদ্দেশ্যটি ব্যাখ্যা (فسر) হয়ে গেল। ফলে আমরা বলব যে এটি মুতআহ, বিবাহ নয়।

যদি কেউ বলে: "অমুকের নিকট আমার এক হাজার টাকা পাওনা রয়েছে এই দাসের মূল্য বাবদ অথবা এই পণ্যের মূল্য বাবদ", তবে তার উক্তি "আমার ওপর এক হাজার টাকা" হলো এক হাজার টাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে নাস (نص)। তবে এর বিশদ বর্ণনার (التفسير) সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকে।

অতঃপর তার বক্তব্য "এই দাসের মূল্য বাবদ অথবা এই পণ্যের মূল্য বাবদ" দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেল। ফলে মুফাসসার (المفسر) নাসের (النص) ওপর প্রাধান্য পাবে, এমনকি দাস বা পণ্যটি হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই অর্থ পরিশোধ করা তার ওপর আবশ্যক হবে না।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
وَقَوله لفُلَان عَليّ ألف ظَاهر فِي الْإِقْرَار نَص فِي نقد الْبَلَد فَإِذا قَالَ من نقد بلد كَذَا يتَرَجَّح الْمُفَسّر على النَّص فَلَا يلْزمه نقد الْبَلَد بلد نقد بلد كَذَا وعَلى هَذَا نَظَائِره
এবং তাঁর উক্তি: 'অমুকের নিকট আমার এক হাজার (ঋণ) আছে', এটি স্বীকৃতির (إقرار) ক্ষেত্রে প্রকাশ্য (ظاهر) এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত মুদ্রার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট (نص)। সুতরাং তিনি যদি বলেন 'অমুক দেশের মুদ্রায়', তবে ব্যাখ্যাত বিষয়টি (مفسر) সুনির্দিষ্ট পাঠের (نص) ওপর প্রাধান্য পাবে। ফলে তাঁর ওপর নিজ দেশের মুদ্রা প্রদান করা আবশ্যক হবে না, বরং উল্লিখিত দেশের মুদ্রাই আবশ্যক হবে। এবং অনুরূপ দৃষ্টান্তসমূহও এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুশ শাশী (পৃষ্ঠা: ৮০)
7 - / 3‌‌ بحث الْخَفي والمشكل والمجمل والمتشابه

 

وَأما الْمُحكم فَهُوَ مَا ازْدَادَ قُوَّة على الْمُفَسّر بِحَيْثُ لَا يجوز خِلَافه أصلا مِثَاله فِي الْكتاب {أَن الله بِكُل شَيْء عليم} {إِن الله لَا يظلم النَّاس شَيْئا} وَفِي الحكميات مَا قُلْنَا فِي الْإِقْرَار إِنَّه لفُلَان عَليّ ألف من ثمن هَذَا العَبْد فَإِن هَذَا اللَّفْظ مُحكم فِي لُزُومه بَدَلا عَنهُ وعَلى هَذَا نَظَائِره

وَحكم الْمُفَسّر والمحكم لُزُوم الْعَمَل بهما لَا محَالة

ثمَّ لهَذِهِ الْأَرْبَعَة أَرْبَعَة أُخْرَى تقَابلهَا

فضد الظَّاهِر الْخَفي

وضد النَّص الْمُشكل

وضد الْمُفَسّر الْمُجْمل

وضد الْمُحكم الْمُتَشَابه

فالخفي مَا أخْفى المُرَاد بهَا بِعَارِض لَا من حَيْثُ الصِّيغَة مِثَاله فِي قَوْله تَعَالَى {وَالسَّارِق والسارقة فَاقْطَعُوا أَيْدِيهِمَا} فَإِنَّهُ ظَاهر فِي حق السَّارِق خَفِي فِي حق الطرار والنباش

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {الزَّانِيَة وَالزَّانِي} ظاهرفي حق الزَّانِي خَفِي فِي حق اللوطي

وَلَو حلف لَا يَأْكُل فَاكِهَة كَانَ ظَاهرا فِيمَا يتفكه بِهِ خفِيا فِي حق الْعِنَب وَالرُّمَّان
৭ - / ৩‌‌ গোপন (الخفي), অস্পষ্ট (المشكل), সংক্ষিপ্ত (المجمل) এবং সদৃশ (المتشابه) সংক্রান্ত আলোচনা

 

আর সুনিশ্চিত (المحكم) হলো তা, যা ব্যাখ্যাত (المفسر) অপেক্ষা শক্তিমত্তায় অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বিরোধিতা করা একেবারেই বৈধ নয়। কিতাবুল্লাহ-তে এর উদাহরণ হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত" এবং "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না"। আর বিধানগত বিষয়সমূহে এর উদাহরণ হলো স্বীকৃতির (ইকরার) ক্ষেত্রে আমাদের এই কথা যে, "অমুক ব্যক্তির প্রাপ্য এই দাসের মূল্য বাবদ আমার নিকট এক হাজার মুদ্রা রয়েছে।" কেননা এই শব্দটি এর বিনিময় হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত (محكم) এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোও অনুরূপ।

ব্যাখ্যাত (المفسر) এবং সুনিশ্চিত (المحكم) এর বিধান হলো যে, কোনো সন্দেহাতীতভাবে এ দুটির ওপর আমল করা অপরিহার্য।

অতঃপর এই চারটির বিপরীতে আরও চারটি প্রকার রয়েছে।

স্পষ্ট (الظاهر) এর বিপরীত হলো গোপন (الخفي)।

দ্ব্যর্থহীন (النص) এর বিপরীত হলো অস্পষ্ট (المشكل)।

ব্যাখ্যাত (المفسر) এর বিপরীত হলো সংক্ষিপ্ত (المجمل)।

সুনিশ্চিত (المحكم) এর বিপরীত হলো সদৃশ (المتشابه)।

গোপন (الخفي) হলো তা, যার দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থটি শব্দের কাঠামোর কারণে নয় বরং কোনো বাহ্যিক কারণে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। মহান আল্লাহর বাণীতে এর উদাহরণ হলো: "চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও।" এই আয়াতটি চোরের ক্ষেত্রে স্পষ্ট (ظاهر), কিন্তু পকেটমার ও কাফন চোরের ক্ষেত্রে গোপন (خفي)।

একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী"—এটি ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে স্পষ্ট (ظاهر), কিন্তু সমকামীর ক্ষেত্রে গোপন (خفي)।

আর যদি কেউ শপথ করে যে সে কোনো ফল খাবে না, তবে তা মুখরোচক খাবার হিসেবে ব্যবহৃত ফলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট (ظاهرا) হলেও আঙুর ও ডালিমের ক্ষেত্রে তা গোপন (خفيا)।