(খণ্ড: ১) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: -)
أصول السرخسي = تمهيد الفصول في الأصول - ت الأفغاني   (شمس الأئمة السرخسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: أصول السرخسي

المؤلف: أبو بكر محمد بن أحمد بن أبي سهل السرخسي (ت 483 هـ)

حقق أصوله: أبو الوفا الأفغاني، رئيس اللجنة العلمية لإحياء المعارف النعمانية [ت 1395 هـ]

الناشر: لجنة إحياء المعارف النعمانية بحيدر آباد بالهند

(وصورته دار المعرفة - بيروت، وغيرها)

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুলুস সারাখসি = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - আফগানীর তাহকীক   (শামসুল আইম্মাহ আস-সারাখসি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: উসুলুস সারাখসি

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি সাহল আস-সারাখসি (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি)

মূল পাঠ যাচাই করেছেন: আবু আল-ওয়াফা আল-আফগানি, লাইজনাতুল ইলমিয়া লি-ইহইয়ায়িল মাআরিফ আন-নুমানিয়্যার প্রধান [মৃত্যু ১৩৯৫ হিজরি]

প্রকাশক: লাইজনাতু ইহইয়ায়িল মাআরিফ আন-নুমানিয়্যাহ, হায়দ্রাবাদ, ভারত

(এবং এটি দারুল মা'রিফা - বৈরুত এবং অন্যান্য প্রকাশনী দ্বারা পুনর্মুদ্রিত হয়েছে)

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٩)
مُقَدّمَة بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْأَجَل الزَّاهِد شمس الْأَئِمَّة أَبُو بكر مُحَمَّد بن أبي سهل السَّرخسِيّ إملاء فِي يَوْم السبت سلخ شَوَّال سنة تسع وَسبعين وَأَرْبَعمِائَة فِي زَاوِيَة من حِصَار أوزجند الْحَمد لله الحميد الْمجِيد المبدىء المعيد الفعال لما يُرِيد ذِي الْبَطْش الشَّديد وَالْأَمر الحميد وَالْحكم الرشيد والوعد والوعيد

نحمده على مَا أكرمنا بِهِ من مِيرَاث النُّبُوَّة ونشكره على مَا هدَانَا إِلَيْهِ بِمَا هُوَ أصل فِي الدّين والمروة وَهُوَ الْعلم الَّذِي هُوَ أنفس الأعلاق وَأجل مكتسب فِي الْآفَاق

فَهُوَ أعز عِنْد الْكَرِيم من الكبريت الْأَحْمَر والزمرد الْأَخْضَر ونثارة الدّرّ والعنبر ونفيس الْيَاقُوت والجوهر من جمعه فقد جمع الْعِزّ والشرف وَمن عَدمه فقد عدم مجامع الْخَيْر واللطف يُقَوي الضَّعِيف وَيزِيد عز الشريف يرفع الخامل الحقير ويمول العائل الْفَقِير بِهِ يطْلب رضَا الرَّحْمَن وتستفتح أَبْوَاب الْجنان وينال الْعِزّ فِي الدّين وَالدُّنْيَا والمحمدة فِي البدء والعقبى لأَجله بعث الله النَّبِيين وختمهم بِسَيِّد الْمُرْسلين وَإِمَام الْمُتَّقِينَ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى آله الطيبين

وَبعد فَإِن من أفضل الْأُمُور وَأَشْرَفهَا عِنْد الْجُمْهُور بعد معرفَة أصل الدّين الِاقْتِدَاء بالأئمة الْمُتَقَدِّمين فِي بذل المجهود لمعْرِفَة الْأَحْكَام فبها يَتَأَتَّى الْفَصْل بَين الْحَلَال وَالْحرَام وَقد سمي الله تَعَالَى ذَلِك فِي مُحكم تَنْزِيله الْخَيْر الْكثير فَقَالَ {وَمن يُؤْت الْحِكْمَة فقد أُوتِيَ خيرا كثيرا} فسر ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَغَيره الْحِكْمَة بِعلم الْفِقْه وَهُوَ المُرَاد بقوله عز وجل {ادْع إِلَى سَبِيل رَبك بالحكمة وَالْمَوْعِظَة الْحَسَنَة} أَي بِبَيَان الْفِقْه ومحاسن الشَّرِيعَة فَقَالَ صلى الله عليه وسلم بِرِوَايَة ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما من يرد الله بِهِ خيرا يفقهه فِي الدّين وَقَالَ عليه السلام خياركم فِي الْجَاهِلِيَّة خياركم فِي الْإِسْلَام إِذا تفقهوا وَإِلَى ذَلِك دَعَا الله الصَّحَابَة الَّذين هم
ভূমিকা। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মহান ইমাম, যাহিদ, শামসুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবু সাহল আস-সারাকসী ৪৭৯ হিজরীর শাওয়াল মাসের শেষ শনিবার উজজান্দ দুর্গের এক কোণে বসে এটি শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত, আদি ও পুনরাবৃত্তিকারী, যা ইচ্ছা করেন তার সম্পাদনকারী, কঠোর পাকড়াওকারী, প্রশংসিত আদেশের অধিকারী, সঠিক প্রজ্ঞাময় এবং প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রদানকারী।

আমরা তাঁর প্রশংসা করি যে তিনি আমাদের নবুওয়তের উত্তরাধিকার দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যে তিনি আমাদের সেই বিষয়ের দিকে হেদায়েত দিয়েছেন যা দ্বীন ও পৌরুষের মূল ভিত্তি। আর তা হলো জ্ঞান, যা সমস্ত মূল্যবান সম্পদের চেয়ে অধিক দামী এবং দিগন্তসমূহে অর্জিত সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়।

এটি উদার ব্যক্তির নিকট লাল গন্ধক, সবুজ পান্না, মুক্তোর কণা, আম্বর এবং মূল্যবান ইয়াকুত ও জওহরের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি তা সংগ্রহ করেছে, সে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে; আর যে তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে কল্যাণ ও অনুগ্রহের সকল উৎস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটি দুর্বলকে শক্তিশালী করে এবং সম্মানিত ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এটি নগণ্য ব্যক্তিকে উচ্চাসীন করে এবং নিঃস্ব দরিদ্রকে সচ্ছল করে। এর মাধ্যমেই দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমেই দ্বীন ও দুনিয়ায় সম্মান এবং আদি ও অন্তে প্রশংসা অর্জিত হয়। এই জ্ঞানের লক্ষ্যেই আল্লাহ নবীগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন রাসূলগণের সরদার ও মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের মাধ্যমে।

অতঃপর, জমহুর উলামাদের নিকট দ্বীনের মূল মূলনীতি জানার পর সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতি মর্যাদাপূর্ণ কাজ হলো বিধিবিধান জানার জন্য পূর্ববর্তী ইমামগণের অনুসরণ করা। কারণ এর মাধ্যমেই হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ গ্রন্থে একে 'প্রচুর কল্যাণ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "যাকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে।" ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অন্যান্যগণ হিকমতের ব্যাখ্যায় ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞানকে বুঝিয়েছেন। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর এই বাণীতেও এটিই উদ্দেশ্য: "তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো।" অর্থাৎ ফিকহের বর্ণনা ও শরীয়তের সৌন্দর্যের মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বর্ণনায় বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ (ফিকহ) দান করেন।" তিনি (আলাইহিস সালাম) আরও বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াত আমলে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ হবে যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে।" আর আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামকেও এরই আহ্বান জানিয়েছেন, যারা...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٠)
أَعْلَام الدّين وقدوة الْمُتَأَخِّرين فَقَالَ {فلولا نفر من كل فرقة مِنْهُم طَائِفَة ليتفقهوا فِي الدّين ولينذروا قَومهمْ إِذا رجعُوا إِلَيْهِم لَعَلَّهُم يحذرون} وَفِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا عبد الله بِشَيْء أفضل من الْفِقْه فِي الدّين ولفقيه وَاحِد أَشد على الشَّيْطَان من ألف عَابِد وَقَالَ صلى الله عليه وسلم قَلِيل من الْفِقْه خير من كثير من الْعَمَل

غير أَن تَمام الْفِقْه لَا يكون إِلَّا باجتماع ثَلَاثَة أَشْيَاء الْعلم بالمشروبات والإتقان فِي معرفَة ذَلِك بِالْوُقُوفِ على النُّصُوص بمعانيها وَضبط الْأُصُول بفروعها ثمَّ الْعَمَل بذلك

فتمام الْمَقْصُود لَا يكون إِلَّا بعد الْعَمَل بِالْعلمِ وَمن كَانَ حَافِظًا للمشروبات من غير إتقان فِي الْمعرفَة فَهُوَ من جملَة الروَاة وَبعد الإتقان إِذا لم يكن عَاملا بِمَا يعلم فَهُوَ فَقِيه من وَجه دون وَجه فَأَما إِذا كَانَ عَاملا بِمَا يعلم فَهُوَ الْفَقِيه الْمُطلق الَّذِي أَرَادَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ هُوَ أَشد على الشَّيْطَان من ألف عَابِد وَهُوَ صفة المقدمين من أَئِمَّتنَا أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَمُحَمّد رضي الله عنهم وَلَا يخفى ذَلِك على من يتَأَمَّل فِي أَقْوَالهم وأحوالهم عَن إنصاف

فَذَلِك الَّذِي دَعَاني إِلَى إملاء شرح فِي الْكتب الَّتِي صنفها مُحَمَّد بن الْحسن رحمه الله بآكد إِشَارَة وأسهل عبارَة

وَلما انْتهى الْمَقْصُود من ذَلِك رَأَيْت من الصَّوَاب أَن أبين للمقتسبين أصُول مَا بنيت عَلَيْهَا شرح الْكتب ليَكُون الْوُقُوف على الْأُصُول معينا لَهُم على فهم مَا هُوَ الْحَقِيقَة فِي الْفُرُوع ومرشدا لَهُم إِلَى مَا وَقع الْإِخْلَال بِهِ فِي بَيَان الْفُرُوع

فالأصول مَعْدُودَة والحوادث ممدودة والمجموعات فِي هَذَا الْبَاب كَثِيرَة للْمُتَقَدِّمين والمتأخرين وَإِنَّا فِيمَا قصدته بهم من المقتدين رَجَاء أَن أكون من الْأَشْبَاه فَخير الْأُمُور الِاتِّبَاع وشرها الابتداع
দ্বীনের প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ ও পরবর্তী প্রজন্মের অনুকরণীয় ইমামগণ বলেছেন: {কেন তাদের প্রতিটি বড় দল থেকে একটি ক্ষুদ্র দল বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সাবধান হয়?} এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণিত হাদিসে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: দ্বীনি ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞা অর্জনের চেয়ে উত্তম কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি। একজন ফকিহ শয়তানের কাছে এক হাজার আবেদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এবং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: অল্প ফিকহ অধিক আমলের চেয়ে উত্তম।

তবে ফিকহের পূর্ণতা তিনটি বিষয়ের সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়: শরয়ি বিধানসমূহ (মাশরুআত) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, সেগুলোর অর্থের মর্মার্থ ও মূলপাঠ (নুসুস) অনুধাবনের মাধ্যমে তাতে পারদর্শিতা অর্জন করা এবং শাখা-প্রশাখার (ফুরু) সাথে মূলনীতিসমূহের (উসুল) সামঞ্জস্য রক্ষা করা, অতঃপর সেই অনুযায়ী আমল করা।

সুতরাং ইলম অনুযায়ী আমল করা ব্যতীত প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। যে ব্যক্তি বিধানসমূহ মুখস্থ রাখে কিন্তু গভীর প্রজ্ঞা ও পারদর্শিতা অর্জন করেনি, সে বর্ণনাকারীদের (রাবি) অন্তর্ভুক্ত। আর পারদর্শিতা অর্জনের পর যদি সে অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল না করে, তবে সে একদিক থেকে ফকিহ হলেও অন্যদিক থেকে ফকিহ নয়। কিন্তু যদি সে তার ইলম অনুযায়ী আমল করে, তবে সে-ই হলো সেই নিরঙ্কুশ ফকিহ যার কথা রাসুলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে সে শয়তানের বিরুদ্ধে এক হাজার আবেদের চেয়েও শক্তিশালী। এটিই আমাদের অগ্রগামী ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বৈশিষ্ট্য। যারা ইনসাফের সাথে তাঁদের বাণী ও জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করবেন, তাঁদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয়।

আর এই বিষয়টিই আমাকে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক রচিত গ্রন্থসমূহের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখাতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা হবে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ইঙ্গিতপূর্ণ এবং সহজবোধ্য ভাষায়।

যখন সেই উদ্দেশ্যটি সমাপ্ত হলো, তখন আমি জ্ঞানান্বেষীদের জন্য সেই সকল মূলনীতি (উসুল) স্পষ্ট করে দেওয়া সমীচীন মনে করলাম যার উপর ভিত্তি করে আমি এই কিতাবগুলোর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছি। যাতে এই মূলনীতিগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান তাদের জন্য শাখা-প্রশাখার (ফুরু) প্রকৃত হাকিকত অনুধাবনে সহায়ক হয় এবং শাখা-প্রশাখার বিবরণে যেখানে কোনো বিচ্যুতি ঘটেছে তা নির্ণয়ে নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

কেননা মূলনীতিসমূহ (উসুল) সীমাবদ্ধ, কিন্তু উদ্ভূত ঘটনাবলি (হাওয়াদিস) অসীম। এই বিষয়ে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমগণের রচিত অনেক সংকলন রয়েছে। আর আমি আমার এই প্রচেষ্টায় তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি এই আশায় যে, যেন তাঁদের সদৃশ হতে পারি। কারণ সর্বোত্তম কাজ হলো অনুসরণ করা (ইত্তিবা) এবং নিকৃষ্টতম কাজ হলো নতুন উদ্ভাবন (বিদআত) করা।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١١)
وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ أتكل وَإِلَيْهِ أبتهل وَبِه أَعْتَصِم وَله أستسلم وبحوله أعتضد وإياه أعْتَمد فَمن اعْتصمَ بِهِ فَازَ بالخيرات سَهْمه ولاح فِي الصعُود نجمه

فأحق مَا يبْدَأ بِهِ فِي الْبَيَان الْأَمر والنهى لِأَن مُعظم الِابْتِلَاء بهما وبمعرفتهما تتمّ معرفَة الْأَحْكَام ويتميز الْحَلَال من الْحَرَام

صلى الله عليه وسلم َ - بَاب الْأَمر صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ رضي الله عنه اعْلَم أَن الْأَمر أحد أَقسَام الْكَلَام بِمَنْزِلَة الْخَبَر والاستخبار وَهُوَ عِنْد أهل اللِّسَان قَول الْمَرْء لغيره افْعَل وَلَكِن الْفُقَهَاء قَالُوا هَذِه الْكَلِمَة إِذا خَاطب الْمَرْء بهَا من هُوَ مثله أَو دونه فَهُوَ أَمر وَإِذا خَاطب بهَا من هُوَ فَوْقه لَا يكون أمرا لِأَن الْأَمر يتَعَلَّق بالمأمور

فَإِن كَانَ الْمُخَاطب مِمَّن يجوز أَن يكون مَأْمُور الْمُخَاطب كَانَ أمرا وَإِن كَانَ مِمَّن لَا يجوز أَن يكون مأموره لَا يكون أمرا كَقَوْل الدَّاعِي اللَّهُمَّ اغْفِر لي وارحمني يكون سؤالا وَدُعَاء لَا أمرا

ثمَّ المُرَاد بِالْأَمر يعرف بِهَذِهِ الصِّيغَة فَقَط وَلَا يعرف حَقِيقَة الْأَمر بِدُونِ هَذِه الصِّيغَة فِي قَول الْجُمْهُور من الْفُقَهَاء

وَقَالَ بعض أَصْحَاب مَالك وَالشَّافِعِيّ يعرف حَقِيقَة المُرَاد بِالْأَمر بِدُونِ هَذِه الصِّيغَة

وعَلى هَذَا يبتني الْخلاف فِي أَفعَال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا مُوجبَة أم لَا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بقوله تَعَالَى {فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره} أَي عَن سمته وطريقته فِي أَفعاله وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا أَمر فِرْعَوْن برشيد} وَالْمرَاد فعله وطريقته وَقَالَ تَعَالَى {وَأمرهمْ شُورَى بَينهم} أَي أفعالهم وَقَالَ تَعَالَى {وتنازعتم فِي الْأَمر} أَي فِيمَا تقدمون عَلَيْهِ من الْفِعْل وَقَالَ تَعَالَى {قل إِن الْأَمر كُله لله}
আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি, তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি, তাঁর মাধ্যমেই আমি সুরক্ষা খুঁজি, তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ করি, তাঁর শক্তিতেই আমি শক্তি লাভ করি এবং তাঁর ওপরই আমি নির্ভর করি। ফলে যে ব্যক্তি তাঁর মাধ্যমে সুরক্ষা তালাশ করে, তার ভাগ্যে কল্যাণের অংশ নির্ধারিত হয় এবং উন্নতির শিখরে তার নক্ষত্র উজ্জ্বল হয়।

বর্ণনার শুরুতে যা দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে যোগ্য তা হলো আদেশ ও নিষেধ। কারণ পরীক্ষার অধিকাংশ বিষয় এই দুটির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এই দুটির জ্ঞানের মাধ্যমেই বিধানাবলির জ্ঞান পূর্ণতা পায় এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হয়।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - আদেশের অধ্যায় - আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: জেনে রাখো যে, সংবাদ (খবর) এবং জিজ্ঞাসার (ইস্তিখবার) মতো 'আদেশ' হলো কথার অন্যতম একটি প্রকার। ভাষাবিদদের মতে, এটি হলো কোনো ব্যক্তির অন্য কাউকে বলা— "তুমি করো"। তবে ফকীহগণ বলেছেন, এই শব্দটি যখন মানুষ তার সমপর্যায়ের বা তার নিচের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলে, তখন তা আদেশ। আর যখন সে তার উপরের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলে, তখন তা আদেশ হয় না; কারণ আদেশ আদিষ্ট ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট।

সুতরাং যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে, সে যদি সম্বোধনকারীর আদিষ্ট হওয়ার যোগ্য হয়, তবে তা আদেশ হবে। আর যদি সে আদিষ্ট হওয়ার যোগ্য না হয়, তবে তা আদেশ হবে না। যেমন দোয়াকারীর এই উক্তি: "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন"—এটি প্রার্থনা ও দোয়া হবে, আদেশ নয়।

অতঃপর জুমহুর ফকীহগণের মতে, আদেশের উদ্দেশ্য কেবল এই নির্দিষ্ট শব্দরূপ (সিগাহ) দিয়েই জানা যায় এবং এই শব্দরূপ ব্যতীত আদেশের প্রকৃত স্বরূপ জানা যায় না।

ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেঈর কোনো কোনো অনুসারী বলেছেন যে, এই শব্দরূপ ছাড়াই আদেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা যায়।

এর ওপর ভিত্তি করেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি ওয়াজিব বা আবশ্যিক কি না, সে বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক থাকে} অর্থাৎ তাঁর কর্মপদ্ধতি ও তাঁর কার্যাবলির তরীকা থেকে। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না} এবং এখানে উদ্দেশ্য হলো তার কাজ ও পদ্ধতি। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {এবং তাদের কাজ তাদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে হয়} অর্থাৎ তাদের কার্যাবলি। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {এবং তোমরা সে বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলে} অর্থাৎ যে কাজের দিকে তোমরা অগ্রসর হয়েছিলে। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই সমস্ত বিষয় আল্লাহর জন্য।}
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٢)
المُرَاد الشَّأْن وَالْفِعْل وَالْعرب تَقول أَمر فلَان سديد مُسْتَقِيم أَي حَاله وأفعاله وَإِذا ثَبت أَن الْأَمر يعبر بِهِ عَن الْفِعْل كَانَ حَقِيقَة فِيهِ يُوضحهُ أَن الْعَرَب تفرق بَين جمع الْأَمر الَّذِي هُوَ القَوْل فَقَالُوا فِيهِ أوَامِر وَالْأَمر الَّذِي هُوَ الْفِعْل فَقَالُوا فِي جمعه أُمُور فَفِي التَّفْرِيق بَين الجمعين دلَالَة على أَن كل وَاحِد مِنْهُ حَقِيقَة وَمن يَقُول إِن اسْتِعْمَال الْأَمر فِي الْفِعْل بطرِيق الْمجَاز والاتساع فَلَا بُد لَهُ من بَيَان الْوَجْه الَّذِي اتَّسع فِيهِ لأَجله لِأَن الاتساع وَالْمجَاز لَا يكون إِلَّا بطرِيق مَعْلُوم يستعار اللَّفْظ بذلك الطَّرِيق لغير حَقِيقَته مجَازًا

وَفِي قَوْله صلى الله عليه وسلم خُذُوا عني مَنَاسِككُم وصلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي تنصيص على وجوب اتِّبَاعه فِي أَفعاله

وَحجَّتنَا فِي ذَلِك أَن المُرَاد بِالْأَمر من أعظم الْمَقَاصِد فَلَا بُد من أَن يكون لَهُ لفظ مَوْضُوع هُوَ حَقِيقَة يعرف بِهِ اعْتِبَارا بِسَائِر الْمَقَاصِد من الْمَاضِي والمستقبل وَالْحَال وَهَذَا لِأَن الْعبارَات لَا تقصر عَن الْمَقَاصِد وَلَا يتَحَقَّق انْتِفَاء الْقُصُور إِلَّا بعد أَن يكون لكل مَقْصُود عبارَة هُوَ مَخْصُوص بهَا ثمَّ قد تسْتَعْمل تِلْكَ الْعبارَة لغيره مجَازًا بِمَنْزِلَة أَسمَاء الْأَعْيَان فَكل عين مُخْتَصّ باسم هُوَ مَوْضُوع لَهُ وَقد يسْتَعْمل فِي غَيره مجَازًا نَحْو أَسد فَهُوَ فِي الْحَقِيقَة اسْم لعين وَإِن كَانَ يسْتَعْمل فِي غَيره مجَازًا يُوضحهُ أَن قَوْلنَا أَمر مصدر والمصادر لَا بُد أَن تُوجد عَن فعل أَو يُوجد عَنْهَا فعل على حسب اخْتِلَاف أهل اللِّسَان فِي ذَلِك ثمَّ لَا تَجِد أحدا من أهل اللِّسَان يُسَمِّي الْفَاعِل للشَّيْء آمرا أَلا ترى أَنهم لَا يَقُولُونَ للآكل والشارب آمرا فَبِهَذَا تبين أَن اسْم الْأَمر لَا يتَنَاوَل الْفِعْل حَقِيقَة وَلَا يُقَال الْأَمر اسْم عَام يدْخل تَحْتَهُ الْمُشْتَقّ وَغَيره لِأَن الْأَمر مُشْتَقّ فِي الأَصْل فَإِنَّهُ يُقَال أَمر يَأْمر أمرا فَهُوَ آمُر وَمَا كَانَ مشتقا فِي الأَصْل لَا يُقَال إِنَّه يتَنَاوَل الْمُشْتَقّ وَغَيره حَقِيقَة وَإِنَّمَا يُقَال ذَلِك فِيمَا هُوَ غير مُشْتَقّ فِي الأَصْل
উদ্দেশ্য হলো অবস্থা ও কাজ। আরবরা বলে "অমুকের বিষয় সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত", অর্থাৎ তার অবস্থা ও কার্যাবলি। যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে 'আমর' শব্দটি দ্বারা কাজ প্রকাশ করা হয়, তখন তা সেই অর্থের ক্ষেত্রে আক্ষরিক (হাকিকত) হবে। এটি স্পষ্ট করে যে, আরবরা 'আমর' শব্দের সেই বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য করে যা 'কথা' (আদেশ) বোঝায়, তারা এর বহুবচন বলে 'আওয়ামির'। আর যে 'আমর' দ্বারা কাজ বোঝায়, তারা তার বহুবচনে বলে 'উমুর'। এই দুই বহুবচনের মধ্যকার পার্থক্য প্রমাণ করে যে, তাদের প্রত্যেকটিই আক্ষরিক (হাকিকত)। যারা দাবি করে যে কাজের ক্ষেত্রে 'আমর' শব্দের ব্যবহার রূপক (মাজাজ) ও সম্প্রসারণমূলক, তাদের অবশ্যই সেই কারণটি বর্ণনা করতে হবে যার ভিত্তিতে এই রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ প্রসারণ ও রূপক কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়া হয় না, যার মাধ্যমে কোনো শব্দকে তার মূল অর্থ বাদ দিয়ে রূপকভাবে অন্য অর্থে ধার নেওয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মকানুন গ্রহণ করো" এবং "তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ"—এতে তাঁর কার্যাবলি অনুসরণের আবশ্যকতা স্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে।

এ বিষয়ে আমাদের যুক্তি হলো, 'আমর' (কাজ বা বিষয়) দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা অতি মহান লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাই এর জন্য এমন একটি শব্দ থাকা আবশ্যক যা এর প্রকৃত অর্থ (হাকিকত) হিসেবে নির্ধারিত হবে, যার মাধ্যমে একে চেনা যায়; যেমনটি অতীত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমানকালসহ অন্যান্য সকল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান। এটি এজন্য যে, ভাবপ্রকাশক শব্দসমূহ লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের তুলনায় অপর্যাপ্ত হয় না। আর এই অপর্যাপ্ততার অভাব তখনই নিশ্চিত হয় যখন প্রতিটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট শব্দ থাকে যা কেবল সেই বিষয়ের জন্যই সুনির্দিষ্ট। এরপর সেই শব্দটিকে অন্য বিষয়ের জন্য রূপকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমনটি ব্যক্তি বা বস্তুর সুনির্দিষ্ট নামের ক্ষেত্রে ঘটে। প্রতিটি সত্তার একটি নির্দিষ্ট নাম থাকে যা তার জন্য নির্ধারিত, তবে কখনো তা অন্যের ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন 'সিংহ', এটি প্রকৃতপক্ষে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর নাম, যদিও এটি অন্য ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, আমাদের বলা 'আমর' শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর মাসদার অবশ্যই কোনো ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হতে হয় অথবা তা থেকে কোনো ক্রিয়া উৎপন্ন হয়—এ বিষয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। এরপর আপনি ভাষাবিদদের কাউকেই কোনো কাজ সম্পাদনকারীকে 'আমির' (আদেশদাতা) বলতে পাবেন না। আপনি কি দেখেন না যে, তারা আহারকারী বা পানকারীকে 'আমির' বলে না? এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, 'আমর' শব্দটি প্রকৃতপক্ষে কাজকে আক্ষরিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে না। আর এমনটি বলা যাবে না যে 'আমর' একটি সাধারণ নাম যার অধীনে বুৎপন্ন (মুশতাক) ও অ-বুৎপন্ন উভয়টিই প্রবেশ করে; কারণ 'আমর' শব্দটি মূলত নিজেই বুৎপন্ন। কেননা বলা হয়: সে আদেশ করেছে, সে আদেশ করছে, আদেশ করা; সুতরাং সে হলো আদেশদাতা। আর যা মূলত বুৎপন্ন, তা আক্ষরিকভাবে বুৎপন্ন ও অ-বুৎপন্ন উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে—এ কথা বলা যায় না। বরং এটি কেবল সেই শব্দের ক্ষেত্রে বলা যায় যা মূলত বুৎপন্ন নয়।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٣)
كاللسان وَنَحْوه وَفِي قَول الْقَائِل رَأَيْت فلَانا يَأْمر بِكَذَا وَيفْعل بِخِلَافِهِ دَلِيل ظَاهر على أَن الْفِعْل غير الْأَمر حَقِيقَة

فَأَما مَا تلوا من الْآيَات فَنحْن لَا ننكر اسْتِعْمَال الْأَمر فِي غير مَا هُوَ حَقِيقَة فِيهِ لِأَن ذَلِك فِي الْقُرْآن على وُجُوه مِنْهَا الْقَضَاء قَالَ الله تَعَالَى {يدبر الْأَمر من السَّمَاء إِلَى الأَرْض} وَقَالَ تَعَالَى {أَلا لَهُ الْخلق وَالْأَمر} وَمِنْهَا الدّين قَالَ الله تَعَالَى {حَتَّى جَاءَ الْحق وَظهر أَمر الله} وَمِنْهَا القَوْل قَالَ الله تَعَالَى {يتنازعون بَينهم أَمرهم} وَمِنْهَا الْوَحْي قَالَ الله تَعَالَى {يتنزل الْأَمر بَينهُنَّ} وَمِنْهَا الْقِيَامَة قَالَ تَعَالَى {أَتَى أَمر الله} وَمِنْهَا الْعَذَاب قَالَ الله تَعَالَى {فَمَا أغنت عَنْهُم آلِهَتهم الَّتِي يدعونَ من دون الله من شَيْء لما جَاءَ أَمر رَبك وَمَا زادوهم غير تتبيب} وَمِنْهَا الذَّنب قَالَ الله تَعَالَى {فذاقت وبال أمرهَا} فإمَّا أَن نقُول كل ذَلِك يرجع إِلَى شَيْء وَاحِد وَهُوَ أَن تَمام ذَلِك كُله بِاللَّه تَعَالَى كَمَا قَالَ تَعَالَى {قل إِن الْأَمر كُله لله} ثمَّ فهمنا ذَلِك بِمَا هُوَ صِيغَة الْأَمر حَقِيقَة فَقَالَ {إِنَّمَا أمره إِذا أَرَادَ شَيْئا أَن يَقُول لَهُ كن فَيكون} وكما قَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا قَوْلنَا لشَيْء إِذا أردناه أَن نقُول لَهُ كن فَيكون} أَو نقُول مَا كَانَ حَقِيقَة لشَيْء لَا يجوز نَفْيه عَنهُ بِحَال وَمَا كَانَ مُسْتَعْملا بطرِيق الْمجَاز لشَيْء يجوز نَفْيه عَنهُ كاسم الْأَب فَهُوَ حَقِيقَة للْأَب الْأَدْنَى فَلَا يجوز نَفْيه عَنهُ ومجاز للْجدّ فَيجوز نَفْيه عَنهُ بِإِثْبَات غَيره ثمَّ يجوز نفي هَذِه الْعبارَة عَن الْفِعْل وَغَيره مِمَّا لَا يُوجد فِيهِ هَذِه الصِّيغَة فَإِن الْإِنْسَان إِذا قَالَ مَا أمرت الْيَوْم بِشَيْء كَانَ صَادِقا وَإِن كَانَ قد فعل أفعالا فَعرفنَا أَن الِاسْتِعْمَال فِيهِ مجَاز وَطَرِيق هَذَا الْمجَاز أَنهم فِي قَوْلهم أَمر فلَان سديد مُسْتَقِيم أجروا اسْم الْمصدر على الْمَفْعُول بِهِ كَقَوْلِهِم هَذَا الدِّرْهَم ضرب الْأَمِير وَهَذَا الثَّوْب نسج الْيمن وأيد مَا قُلْنَا مَا رُوِيَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما خلع نَعْلَيْه فِي الصَّلَاة خلع النَّاس نعَالهمْ فَلَمَّا فرغ قَالَ عليه السلام مَا حملكم على مَا صَنَعْتُم وَلَو كَانَ فعله يُوجب الِاتِّبَاع مُطلقًا لم يكن لهَذَا السُّؤَال مِنْهُ معنى

وَلما وَاصل صلى الله عليه وسلم وَاصل أَصْحَابه فَأنْكر عَلَيْهِم وَقَالَ إِنِّي لست
যেমন জিহ্বা ও অনুরূপ অঙ্গের মাধ্যমে। আর কোনো বক্তার এই উক্তি যে, "আমি অমুককে এমন বিষয়ে আদেশ দিতে দেখেছি অথচ সে এর বিপরীত কাজ করছে," এটি একটি সুস্পষ্ট দলিল যে প্রকৃতপক্ষে 'কাজ' 'আদেশ' থেকে ভিন্ন।

পক্ষান্তরে তারা যে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছে, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা এটি অস্বীকার করি না যে 'আদেশ' শব্দটি তার প্রকৃত অর্থ ছাড়াও অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। কারণ কুরআনে এর ব্যবহার বিভিন্ন রূপে হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো ফয়সালা; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সব বিষয় পরিচালনা করেন"। তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং আদেশ তাঁরই"। অন্য একটি অর্থ হলো দ্বীন; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যতক্ষণ না সত্য এলো এবং আল্লাহর দ্বীন জয়ী হলো"। অন্য অর্থ হলো কথা; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা নিজেদের মধ্যে তাদের কথা নিয়ে বিতর্ক করছিল"। অন্য অর্থ হলো ওহী; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সেগুলোর মধ্যে ওহী অবতীর্ণ হয়"। অন্য অর্থ হলো কিয়ামত; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহর নির্দেশ এসে পড়েছে"। অন্য অর্থ হলো আজাব; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন আপনার রবের নির্দেশ আসলো, তখন তারা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকত তারা তাদের কোনো উপকারে আসলো না এবং তারা তাদের কেবল বিনাশই বৃদ্ধি করল"। অন্য অর্থ হলো পাপ; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর সে তার কাজের মন্দফল আস্বাদন করল"। এমতাবস্থায় হয় আমরা বলব যে এই সবগুলোই একটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়, আর তা হলো—এই সবকিছুর পূর্ণতা মহান আল্লাহর মাধ্যমে হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, নিশ্চয়ই সব বিষয় আল্লাহর জন্য"। এরপর আমরা একে সেই মাধ্যমে বুঝেছি যা প্রকৃতপক্ষে আদেশের রূপ, তাই তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তাঁর নির্দেশ এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন: 'হও', ফলে তা হয়ে যায়"। এবং যেমন তিনি বলেছেন: "কোনো কিছুর জন্য আমাদের কথা কেবল এটাই যে, যখন আমরা তার ইচ্ছা করি, তখন তাকে বলি: 'হও', ফলে তা হয়ে যায়"। অথবা আমরা বলব যে, যা কোনো কিছুর জন্য প্রকৃত অর্থ, তা থেকে তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা জায়েজ নয়; আর যা রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তা থেকে তা অস্বীকার করা জায়েজ। যেমন 'পিতা' শব্দটি—এটি নিকটবর্তী পিতার জন্য প্রকৃত অর্থ, তাই এটি তার থেকে অস্বীকার করা জায়েজ নয়; কিন্তু এটি দাদার জন্য রূপক, তাই অন্য কাউকে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে দাদার থেকে তা অস্বীকার করা জায়েজ। অতঃপর কাজ বা অন্য যা কিছুতে এই আদেশের রূপটি পাওয়া যায় না, তা থেকে এই শব্দটি অস্বীকার করা জায়েজ। কারণ কোনো মানুষ যদি বলে: "আমি আজ কোনো কিছুর আদেশ দিইনি", তবে সে সত্যবাদী হবে যদিও সে অনেক কাজ করে থাকে। ফলে আমরা জানতে পারলাম যে আদেশের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রূপক। আর এই রূপক ব্যবহারের পদ্ধতি হলো—লোকেরা যখন বলে: "অমুকের কাজ সঠিক ও সুসংহত", তখন তারা ক্রিয়ামূলকে কর্মবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন তাদের কথা: "এই দিরহামটি আমিরের মুদ্রা" এবং "এই কাপড়টি ইয়ামিনের বুনন"। আমাদের এই বক্তব্যকে সেই বর্ণনাটি শক্তিশালী করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাতে তাঁর জুতোজোড়া খুলে ফেললেন, তখন লোকেরাও তাদের জুতো খুলে ফেলল। সালাত শেষে তিনি বললেন: "তোমরা যা করলে, তার পেছনে কী কারণ ছিল?" যদি তাঁর কাজ সাধারণভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক হতো, তবে তাঁর এই প্রশ্নের কোনো অর্থ থাকত না।

আবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বিরতিহীন রোজা রাখলেন, তখন সাহাবীগণও বিরতিহীন রোজা রাখলেন; তখন তিনি তাদের ওপর আপত্তি জানালেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই"
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٤)
كأحدكم إِنِّي أَبيت يطعمني رَبِّي ويسقيني وَفِي اسْتِعْمَال صِيغَة الْأَمر فِي قَوْله خُذُوا عني مَنَاسِككُم وصلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي بَيَان أَن نفس الْفِعْل لَا يُوجب الِاتِّبَاع لَا محَالة فقد كَانُوا مشاهدين لذَلِك وَلَو ثَبت بِهِ وجوب الِاتِّبَاع خلا هَذَا اللَّفْظ عَن فَائِدَة وَذَلِكَ لَا يجوز اعْتِقَاده فِي كَلَام صَاحب الشَّرْع فِيمَا يرجع إِلَى إحكام الْبَيَان

 

‌‌فصل فِي بَيَان مُوجب الْأَمر الَّذِي يذكر فِي مُقَدّمَة هَذَا الْفَصْل

اعْلَم أَن صِيغَة الْأَمر تسْتَعْمل على سَبْعَة أوجه على الْإِلْزَام كَمَا قَالَ الله تَعَالَى {آمنُوا بِاللَّه وَرَسُوله} وَقَالَ تَعَالَى {وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة} وعَلى النّدب كَقَوْلِه تَعَالَى {وافعلوا الْخَيْر} وَقَوله تَعَالَى {وأحسنوا} وعَلى الْإِبَاحَة كَقَوْلِه تَعَالَى {فَكُلُوا مِمَّا أمسكن عَلَيْكُم} وعَلى الْإِرْشَاد إِلَى مَا هُوَ الأوثق كَقَوْلِه تَعَالَى {وَأشْهدُوا إِذا تبايعتم} وعَلى التقريع كَقَوْلِه تَعَالَى {فَأتوا بِسُورَة من مثله} وعَلى التوبيخ كَقَوْلِه تَعَالَى {واستفزز من اسْتَطَعْت مِنْهُم بصوتك} وعَلى السُّؤَال كَقَوْلِه تَعَالَى {رَبنَا تقبل منا}

وَلَا خلاف أَن السُّؤَال والتوبيخ والتقريع لَا يتَنَاوَلهُ اسْم الْأَمر وَإِن كَانَ فِي صُورَة الْأَمر وَلَا خلاف أَن اسْم الْأَمر يتَنَاوَل مَا هُوَ للإلزام حَقِيقَة ويختلفون فِيمَا هُوَ للْإِبَاحَة أَو الْإِرْشَاد أَو النّدب فَذكر الْكَرْخِي والجصاص رحمهمَا الله أَن هَذَا لَا يُسمى أمرا حَقِيقَة وَإِن كَانَ الِاسْم يتَنَاوَلهُ مجَازًا وَاخْتلف فِيهِ أَصْحَاب الشَّافِعِي فَمنهمْ من يَقُول اسْم الْأَمر يتَنَاوَل ذَلِك كُله حَقِيقَة وَمِنْهُم من يَقُول مَا كَانَ للنَّدْب يتَنَاوَلهُ اسْم الْأَمر حَقِيقَة لِأَنَّهُ يُثَاب على فعله ونيل الثَّوَاب يكون بِالطَّاعَةِ وَالطَّاعَة فِي الائتمار بِالْأَمر وَهَذَا لَيْسَ بِقَوي فَإِن نيل الثَّوَاب بِفعل النَّوَافِل من الصَّوْم
তোমাদের কারো মতো আমি নই; নিশ্চয়ই আমি রাত যাপন করি এমতাবস্থায় যে, আমার রব আমাকে খাওয়ান এবং পান করান। আর তাঁর বাণী ‘তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মকানুন গ্রহণ করো’ এবং ‘তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ’—এতে আদেশের শব্দরূপ (সিগাহ) ব্যবহারের মাঝে এ বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে যে, নিছক কর্মটিই অপরিহার্যভাবে অনুসরণকে ওয়াজিব করে না। কেননা তাঁরা (সাহাবীগণ) তা প্রত্যক্ষ করছিলেন; আর যদি কর্মের মাধ্যমেই অনুসরণ ওয়াজিব হওয়া প্রমাণিত হতো, তবে এই শব্দগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ত। আর বর্ণনাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে শরিয়তদাতার বাণীর ব্যাপারে এরূপ বিশ্বাস পোষণ করা বৈধ নয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: আদেশের (আমর) অনিবার্য দাবি বা বিধানের বর্ণনায়, যা এই পরিচ্ছেদের ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে

জেনে রাখুন যে, আদেশের রূপ (সিগাহ) সাতটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: বাধ্যবাধকতা (ইলযাম) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো}। পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব (নদব) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {এবং তোমরা কল্যাণকর কাজ করো} এবং তাঁর বাণী {এবং তোমরা ইহসান করো}। বৈধতা (ইবাহাত) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {অতঃপর তারা তোমাদের জন্য যা ধরে রাখে তা থেকে আহার করো}। অধিকতর নির্ভরযোগ্য বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা (ইরশাদ) দিতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {আর যখন তোমরা কেনাবেচা করো তখন সাক্ষী রেখো}। তিরস্কার বা অক্ষমতা প্রদর্শন (তাকরী’) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো}। ভর্ৎসনা (তাওবীখ) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {তাদের মধ্যে যাকে পারো তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে প্ররোচিত করো}। এবং প্রার্থনা বা আরজি (সুআল) বোঝাতে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন}।

এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, প্রার্থনা, ভর্ৎসনা এবং তিরস্কার—এগুলো ‘আদেশ’ (আমর) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না, যদিও তা আদেশের রূপকাঠামোতে থাকে। এতেও কোনো মতভেদ নেই যে, ‘আদেশ’ শব্দটি প্রকৃত অর্থে (হাকীকাত) বাধ্যবাধকতা মূলক নির্দেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে যা বৈধতা, দিকনির্দেশনা বা পছন্দনীয়তা বোঝাতে আসে, সেগুলোর ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন। আল-কারখী এবং আল-জাসসাস (রহিমাহুমাল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, একে প্রকৃত অর্থে ‘আদেশ’ বলা হয় না, যদিও রূপকভাবে (মাজায) একে আদেশ বলা হয়ে থাকে। ইমাম শাফিঈর অনুসারীগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, আদেশ শব্দটি এ সব কটিকে প্রকৃত অর্থেই অন্তর্ভুক্ত করে। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন, যা পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব (নদব) হওয়ার জন্য আসে, তা প্রকৃত অর্থেই আদেশের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর ওপর সওয়াব পাওয়া যায়, আর সওয়াব অর্জন কেবল আনুগত্যের মাধ্যমেই সম্ভব, আর আনুগত্য হলো আদেশের পালনের নাম। কিন্তু এই যুক্তি শক্তিশালী নয়, কেননা রোজা বা অন্যান্য নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে সওয়াব অর্জিত হওয়া...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَالصَّلَاة لِأَنَّهُ عمل بِخِلَاف هوى النَّفس الأمارة بالسوء على قصد ابْتِغَاء مرضاة الله تَعَالَى كَمَا قَالَ تَعَالَى {وَأما من خَافَ مقَام ربه وَنهى النَّفس عَن الْهوى} وَلَيْسَ من ضَرُورَة هَذَا كَون الْعَمَل مَأْمُورا بِهِ

والفريق الثَّانِي يَقُولُونَ مَا يُفِيد الْإِبَاحَة وَالنَّدْب فموجبه بعض مُوجب مَا هُوَ الْإِيجَاب لِأَن بِالْإِيجَابِ هَذَا وَزِيَادَة فَيكون هَذَا قاصرا لَا مغايرا وَالْمجَاز مَا جَاوز أَصله وتعداه

وَبِهَذَا يتَبَيَّن أَن الِاسْم فِيهِ حَقِيقَة وَهَذَا ضَعِيف أَيْضا فَإِن مُوجب الْأَمر حَقِيقَة الْإِيجَاب وَقطع التَّخْيِير لِأَن ذَلِك من ضَرُورَة الْإِيجَاب وبالإباحة وَالنَّدْب لَا يَنْقَطِع التَّخْيِير

عرفنَا أَن مُوجبه غير مُوجب الْأَمر حَقِيقَة وَإِنَّمَا يتَنَاوَلهُ اسْم الْأَمر مجَازًا

وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن الْعَرَب تسمي تَارِك الْأَمر عَاصِيا وَبِه ورد الْكتاب قَالَ الله تَعَالَى {أفعصيت أَمْرِي} وَقَالَ الْقَائِل أَمرتك أمرا جَازِمًا فعصيتني وَكَانَ من التَّوْفِيق قتل ابْن هَاشم وَقَالَ دُرَيْد بن الصمَّة أَمرتهم أَمْرِي بمنعرج اللوى فَلم يستبينوا الرشد إِلَّا ضحى الْغَد فَلَمَّا عصوني كنت فيهم وَقد أرى غوايتهم فِي أنني غير مهتدي وتارك الْمُبَاح وَالْمَنْدُوب إِلَيْهِ لَا يكون عاصبا فَعرفنَا أَن الِاسْم لَا يتَنَاوَلهُ حَقِيقَة ثمَّ حد الْحَقِيقَة فِي الْأَسَامِي مَا لَا يجوز نَفْيه عَمَّا هُوَ حَقِيقَة فِيهِ ورأينا أَن الْإِنْسَان لَو قَالَ مَا أَمرنِي الله بِصَوْم سِتَّة من شَوَّال كَانَ صَادِقا وَلَو قَالَ مَا أَمرنِي الله بِصَوْم رَمَضَان كَانَ كَاذِبًا وَلَو قَالَ مَا أَمرنِي الله بِصَلَاة الضُّحَى كَانَ صَادِقا وَلَو قَالَ مَا أَمرنِي الله بِصَلَاة الظّهْر كَانَ كَاذِبًا

فَفِي تَجْوِيز نفي صِيغَة الْأَمر عَن الْمَنْدُوب دَلِيل ظَاهر على أَن الِاسْم يتَنَاوَلهُ مجَازًا لَا حَقِيقَة

فَأَما الْكَلَام فِي مُوجب الْأَمر فَالْمَذْهَب عِنْد جُمْهُور الْفُقَهَاء أَن مُوجب مطلقه الْإِلْزَام إِلَّا بِدَلِيل

وَزعم ابْن سُرَيج من أَصْحَاب الشَّافِعِي أَن مُوجبه الْوَقْف حَتَّى يتَبَيَّن المُرَاد بِالدَّلِيلِ وَادّعى أَن هَذَا مَذْهَب الشَّافِعِي فقد ذكر فِي أَحْكَام الْقُرْآن فِي قَوْله {فانكحوا مَا طَابَ لكم من النِّسَاء} أَنه يحْتَمل أَمريْن

وَأنكر هَذَا أَكثر أَصْحَابه وَقَالُوا مُرَاده أَنه يحْتَمل أَن يكون بِخِلَاف الْإِطْلَاق وَهَكَذَا قَالَ فِي الْعُمُوم إِنَّه يحْتَمل الْخُصُوص بِأَن يرد دَلِيل يَخُصُّهُ وَإِن كَانَ الظَّاهِر عِنْده الْعُمُوم
এবং সালাত (নামাজ), কারণ তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মন্দপ্ররোচনাদানকারী নফসের কুপ্রবৃত্তির বিপরীতে একটি আমল; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি হতে নিবৃত্ত রাখে।" তবে এর অনিবার্য দাবি এই নয় যে, উক্ত আমলটি (সর্বাবস্থায়) নির্দেশিত হতে হবে।

দ্বিতীয় দলটি বলেন, যা বৈধতা (ইবাহাত) ও মুস্তাহাব (নাদব) হওয়ার অর্থ প্রদান করে, তার দাবি হলো ওয়াজিব হওয়ার দাবিরই অংশবিশেষ। কারণ ওয়াজিব হওয়ার মধ্যে এটি এবং অতিরিক্ত কিছু বিদ্যমান থাকে। সুতরাং এটি কেবল অপূর্ণাঙ্গ, ভিন্ন কিছু নয়। আর রূপক (মাজায) হলো তা-ই যা তার মূল অর্থকে অতিক্রম করে যায়।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, 'আমর' (নির্দেশ) নামটি এতে প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এটিও দুর্বল মত। কেননা নির্দেশের প্রকৃত দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া এবং ইচ্ছাধিকার রহিত করা; কারণ এটি ওয়াজিব হওয়ার অনিবার্য দাবি। অথচ বৈধতা ও মুস্তাহাবের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধিকার রহিত হয় না।

আমরা বুঝতে পারলাম যে, এর দাবি নির্দেশের প্রকৃত দাবির চেয়ে ভিন্ন, আর 'নির্দেশ' শব্দটি একে কেবল রূপকার্থে অন্তর্ভুক্ত করে।

এর দলিল হলো, আরবরা নির্দেশ বর্জনকারীকে 'অবাধ্য' (আসি) বলে অভিহিত করে এবং পবিত্র কিতাবও সেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে কি তুমি আমার নির্দেশ অমান্য করলে?" জনৈক কবি বলেছেন: "আমি তোমাকে এক চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমার অবাধ্যতা করলে, আর ইবনে হাশিমকে হত্যা করাই ছিল সঠিক কাজ।" দুরাইদ ইবনে সিম্মাহ বলেছেন: "আমি তাদেরকে 'মুনআরাজুল লিওয়া' নামক স্থানে আমার নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু পরদিন পূর্বাহ্ণের আগে তারা সঠিক পথটি বুঝতে পারেনি। অতঃপর তারা যখন আমার অবাধ্য হলো, আমি তাদের সাথেই ছিলাম; যদিও আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে তাদের এই গোমরাহিতে আমিও পথভ্রষ্ট হচ্ছি।" আর মুবাহ (বৈধ) এবং মুস্তাহাব বর্জনকারী ব্যক্তি অবাধ্য বলে গণ্য হয় না। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, এই নামটি প্রকৃত অর্থে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে না। এরপর নামের ক্ষেত্রে হাকিকত বা প্রকৃত অর্থের সংজ্ঞা হলো—যাতে তার প্রকৃত সত্তা থেকে তাকে অস্বীকার করা বৈধ নয়। আমরা দেখি যে, যদি কেউ বলে, "আল্লাহ আমাকে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার নির্দেশ দেননি," তবে সে সত্যবাদী হবে। কিন্তু যদি সে বলে, "আল্লাহ আমাকে রমজানের রোজা রাখার নির্দেশ দেননি," তবে সে মিথ্যাবাদী হবে। আবার যদি সে বলে, "আল্লাহ আমাকে চাশতের সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি," তবে সে সত্যবাদী হবে; কিন্তু যদি সে বলে, "আল্লাহ আমাকে জোহরের সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি," তবে সে মিথ্যাবাদী হবে।

সুতরাং মুস্তাহাব (মানদুব) থেকে নির্দেশের শব্দটিকে অস্বীকার করার বৈধতা এর সুস্পষ্ট দলিল যে, 'নির্দেশ' শব্দটি তাকে রূপকার্থে অন্তর্ভুক্ত করে, প্রকৃত অর্থে নয়।

নির্দেশের দাবির ব্যাপারে কথা হলো—জমহুর ফকিহগণের নিকট মাযহাব হচ্ছে, কোনো দলিল না থাকা পর্যন্ত সাধারণ নির্দেশের দাবি হলো তা বাধ্যতামূলক হওয়া।

শাফিঈ অনুসারীদের মধ্যে ইবনে সুরাইজ দাবি করেছেন যে, নির্দেশের দাবি হলো কোনো দলিল দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা (ওয়াকফ)। তিনি দাবি করেন যে এটিই শাফিঈর মাযহাব। কেননা তিনি আহকামুল কুরআন গ্রন্থে আল্লাহর বাণী—"তবে তোমরা পছন্দমতো নারীদের বিবাহ করো"—প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, এটি দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে।

তাঁর (ইমাম শাফিঈর) অধিকাংশ অনুসারী একে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য হলো যে এটি সাধারণ ব্যবহারের (ইতলাক) বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। একইভাবে তিনি 'আম' বা সাধারণ প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এটি 'খাস' বা বিশেষ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে যদি এমন কোনো দলিল আসে যা তাকে নির্দিষ্ট করে দেয়; যদিও তাঁর নিকট বাহ্যত তা 'আম' বা ব্যাপক অর্থই প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٦)
وَزَعَمُوا أَنه جزم على أَن الْأَمر للْوُجُوب فِي سَائِر كتبه

وَقَالَ بعض أَصْحَاب مَالك إِن مُوجب مطلقه الْإِبَاحَة وَقَالَ بَعضهم مُوجبه النّدب

أما الواقفون فَيَقُولُونَ قد صَحَّ اسْتِعْمَال هَذِه الصِّيغَة لمعان مُخْتَلفَة كَمَا بَينا فَلَا يتَعَيَّن شَيْء مِنْهَا إِلَّا بِدَلِيل لتحَقّق الْمُعَارضَة فِي الِاحْتِمَال وَهَذَا فَاسد جدا فَإِن الصَّحَابَة امتثلوا أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَمَا سمعُوا مِنْهُ صِيغَة الْأَمر من غير أَن اشتغلوا بِطَلَب دَلِيل آخر للْعَمَل وَلَو لم يكن مُوجب هَذِه الصِّيغَة مَعْلُوما بهَا لاشتغلوا بِطَلَب دَلِيل آخر للْعَمَل وَلَا يُقَال إِنَّمَا عرفُوا ذَلِك بِمَا شاهدوا من الْأَحْوَال لَا بِصِيغَة الْأَمر لِأَن من كَانَ غَائِبا مِنْهُم عَن مَجْلِسه اشْتغل بِهِ كَمَا بلغه صِيغَة الْأَمر حسب مَا اشْتغل بِهِ من كَانَ حَاضرا ومشاهدة الْحَال لَا تُوجد فِي حق من كَانَ غَائِبا وَحين دَعَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أبي بن كَعْب رضي الله عنه فَأخر الْمَجِيء لكَونه فِي الصَّلَاة فَقَالَ لَهُ أما سَمِعت الله يَقُول {اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ} فاستدل عَلَيْهِ بِصِيغَة الْأَمر فَقَط وَعرف النَّاس كلهم دَلِيل على مَا قُلْنَا فَإِن من أَمر من تلْزمهُ طَاعَته بِهَذِهِ الصِّيغَة فَامْتنعَ كَانَ ملاما معاتبا وَلَو كَانَ الْمَقْصُود لَا يصير مَعْلُوما بهَا للاحتمال لم يكن معاتبا

ثمَّ كَمَا أَن الْعبارَات لَا تقصر عَن الْمعَانِي فَكَذَلِك كل عبارَة تكون لِمَعْنى خَاص بِاعْتِبَار أصل الْوَضع وَلَا يثبت الِاشْتِرَاك فِيهِ إِلَّا بِعَارِض وَصِيغَة الْأَمر أحد تصاريف الْكَلَام فَلَا بُد من أَن يكون لِمَعْنى خَاص فِي أصل الْوَضع وَلَا يثبت الِاشْتِرَاك فِيهِ إِلَّا بِعَارِض مغير لَهُ بِمَنْزِلَة دَلِيل الْخُصُوص فِي الْعَام

وَمن يَقُول بِأَن مُوجب مُطلق الْأَمر الْوَقْف لَا يجد بدا من أَن يَقُول مُوجب مُطلق النَّهْي الْوَقْف أَيْضا للاحتمال فَيكون هَذَا قولا باتحاد موجبهما وَهُوَ بَاطِل وَفِي القَوْل بِأَن مُوجب الْأَمر الْوَقْف إبِْطَال حقائق الْأَشْيَاء وَلَا وَجه للمصير إِلَيْهِ وَالِاحْتِمَال الَّذِي ذَكرُوهُ نعتبره فِي أَن لَا نجعله محكما بِمُجَرَّد الصِّيغَة لَا فِي أَن لَا يثبت مُوجبه أصلا أَلا ترى أَن من يَقُول لغيره إِن شِئْت فافعل كَذَا وَإِن شِئْت فافعل كَذَا كَانَ مُوجب كَلَامه التَّخْيِير عِنْد الْعُقَلَاء وَاحْتِمَال غَيره وَهُوَ الزّجر قَائِم كَمَا قَالَ الله تَعَالَى {فَمن شَاءَ فليؤمن وَمن شَاءَ فليكفر}
তারা ধারণা করে যে, তিনি তাঁর সকল কিতাবে নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন যে নির্দেশ (আদেশ) ওয়াজিব হওয়ার জন্য হয়ে থাকে।

ইমাম মালিকের অনুসারীদের কেউ কেউ বলেছেন যে, সাধারণ নির্দেশের দাবি হলো তা বৈধতা (ইবাহাত) প্রদান করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন এর দাবি হলো তা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (নাদাব)।

যারা স্থগিতকারী (ওয়াকিফুন), তারা বলেন যে এই শব্দটি (সিগাহ) বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হওয়া প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। অতএব কোনো দলীল ছাড়া এর কোনো একটি অর্থ নির্দিষ্ট করা যাবে না, কারণ এখানে একাধিক সম্ভাবনার দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। আর এটি অত্যন্ত অসার বা ত্রুটিপূর্ণ মত। কেননা সাহাবায়ে কেরাম যখনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে নির্দেশের শব্দ শুনেছেন, তখনই তারা তা পালন করেছেন; তারা আমল করার জন্য অন্য কোনো দলীলের অনুসন্ধানে লিপ্ত হননি। যদি এই শব্দের দাবি বা অর্থ এর মাধ্যমেই জানা না যেত, তবে তারা অবশ্যই আমলের জন্য অন্য দলীলের অনুসন্ধান করতেন। আর এ কথা বলা যাবে না যে, তারা তা কেবল অবস্থার প্রেক্ষাপট (আহওয়াল) দেখে চিনেছিলেন, নির্দেশের শব্দ দ্বারা নয়। কারণ তাদের মধ্যে যারা মজলিসে অনুপস্থিত ছিলেন, তারা নির্দেশের শব্দ পৌঁছানো মাত্রই সে অনুযায়ী আমল শুরু করতেন, যেমনটি উপস্থিত ব্যক্তিগণ করতেন। অথচ যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে তো অবস্থার প্রেক্ষাপট প্রত্যক্ষ করার বিষয়টি পাওয়া যায় না। এবং যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডাকলেন, আর তিনি সালাতে থাকার কারণে আসতে দেরি করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি কি শোননি আল্লাহ বলছেন: 'তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও'?" এখানে তিনি কেবল নির্দেশের শব্দ দ্বারাই দলীল পেশ করেছেন। আমরা যা বলেছি তার সমর্থনে সকল মানুষ একটি দলীল জানে। তা হলো, যাকে আনুগত্য করতে হয় এমন কেউ যদি এই শব্দের মাধ্যমে কাউকে নির্দেশ দেয় আর সে তা অস্বীকার করে, তবে সে ভর্ৎসিত ও তিরস্কৃত হয়। যদি একাধিক সম্ভাবনার কারণে নির্দেশের উদ্দেশ্যটি এর মাধ্যমে জানা না যেত, তবে সে তিরস্কৃত হতো না।

অতঃপর, শব্দাবলি যেমন অর্থের দিক থেকে অপূর্ণ নয়, তেমনি মূল ভাষাগত বিন্যাসের বিচারে প্রতিটি শব্দই একটি বিশেষ অর্থের জন্য হয়ে থাকে। কোনো আনুষঙ্গিক কারণ ছাড়া তাতে একাধিক অর্থের অংশীদারিত্ব (ইশতিরাক) সাব্যস্ত হয় না। আর নির্দেশের রূপটি (সিগাহ) বাক্যের অন্যতম একটি প্রকার। তাই মূল ভাষাগত বিন্যাসে এর জন্য একটি বিশেষ অর্থ থাকা অপরিহার্য। আর কোনো পরিবর্তনকারী কারণ ছাড়া এতে একাধিক অর্থের অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত হবে না, যা সাধারণ (আম) শব্দের ক্ষেত্রে বিশেষ করার (খাস) দলীলের সমতুল্য।

আর যারা বলে যে সাধারণ নির্দেশের দাবি হলো স্থগিত রাখা (ওয়াকফ), তারা এই একই সম্ভাবনার কারণে সাধারণ নিষেধের দাবিকেও স্থগিত বলতে বাধ্য হবে। ফলে এটি নির্দেশ ও নিষেধের দাবিকে একই রকম বলার নামান্তর হবে, যা বাতিল বা ভিত্তিহীন। আর নির্দেশের দাবিকে স্থগিত বলা মানে হলো বস্তুর হাকিকত বা প্রকৃত সত্তাকে বাতিল করা, যার দিকে ধাবিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তারা যে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে, তাকে আমরা এভাবে বিবেচনা করি যে, কেবল শব্দের ভিত্তিতেই আমরা একে অকাট্য (মুহকাম) বলব না, তার মানে এই নয় যে এর দাবি আদৌ সাব্যস্ত হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, কেউ যখন অন্যকে বলে, 'তুমি চাইলে এটি করো, আর চাইলে ওটি করো', তখন বুদ্ধিমানদের নিকট তার কথার দাবি হয় ইচ্ছাধিকার (তাখয়ীর)। যদিও এর বিপরীতে অন্য একটি সম্ভাবনা অর্থাৎ ধমক প্রদান (যাজর) বিদ্যমান থাকে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক।"
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَأما الَّذين قَالُوا مُوجبه الْإِبَاحَة اعتبروا الِاحْتِمَال لكِنهمْ قَالُوا من ضَرُورَة الْأَمر ثُبُوت صفة الْحسن للْمَأْمُور بِهِ فَإِن الْحَكِيم لَا يَأْمر بالقبيح فَيثبت بمطلقه مَا هُوَ من ضَرُورَة هَذِه الصِّيغَة وَهُوَ التَّمْكِين من الْإِقْدَام عَلَيْهِ وَالْإِبَاحَة وَهَذَا فَاسد أَيْضا فصفة الْحسن بِمُجَرَّدِهِ تثبت بِالْإِذْنِ وَالْإِبَاحَة وَهَذِه الصِّيغَة مَوْضُوعَة لِمَعْنى خَاص فَلَا بُد أَن تثبت بمطلقها حسنا بِصفة وَيعْتَبر الْأَمر بِالنَّهْي فَكَمَا أَن مُطلق النَّهْي يُوجب قبح الْمنْهِي عَنهُ على وَجه يجب الِانْتِهَاء عَنهُ فَكَذَلِك مُطلق الْأَمر يَقْتَضِي حسن الْمَأْمُور بِهِ على وَجه يجب الائتمار

وَالَّذين قَالُوا بالندب ذَهَبُوا إِلَى أَن الْأَمر لطلب الْمَأْمُور بِهِ من الْمُخَاطب وَذَلِكَ يرجح جَانب الْإِقْدَام عَلَيْهِ ضَرُورَة

وَهَذَا التَّرْجِيح قد يكون بالإلزام وَقد يكون بالندب فَيثبت أقل الْأَمريْنِ لِأَنَّهُ الْمُتَيَقن بِهِ حَتَّى يقوم الدَّلِيل على الزِّيَادَة وَهَذَا ضَعِيف فَإِن الْأَمر لما كَانَ لطلب الْمَأْمُور بِهِ اقْتضى مطلقه الْكَامِل من الطّلب إِذْ لَا قُصُور فِي الصِّيغَة وَلَا فِي ولَايَة الْمُتَكَلّم فَإِنَّهُ مفترض الطَّاعَة بِملك الْإِلْزَام

ثمَّ إِمَّا أَن يكون الْأَمر حَقِيقَة فِي الْإِيجَاب خَاصَّة فَعِنْدَ الْإِطْلَاق يحمل على حَقِيقَة أَو يكون حَقِيقَة فِي الْإِيجَاب وَالنَّدْب جَمِيعًا فَيثبت بمطلقه الْإِيجَاب لتَضَمّنه النّدب وَالزِّيَادَة لَا يجوز أَن يُقَال هُوَ للنَّدْب حَقِيقَة وللإيجاب مجَازًا لِأَن هَذَا يُؤَدِّي إِلَى تصويب قَول من قَالَ إِن الله لم يَأْمر بِالْإِيمَان وَلَا بِالصَّلَاةِ وَبطلَان هَذَا لَا يخفى على ذِي لب

وَمَا قَالُوا يبطل بِلَفْظ الْعَام فَإِنَّهُ يتَنَاوَل الثَّلَاثَة فَمَا فَوق ذَلِك ثمَّ عِنْد الْإِطْلَاق لَا يحمل على الْمُتَيَقن وَهُوَ الْأَقَل وَإِنَّمَا يحمل على الْجِنْس لتكثير الْفَائِدَة بِهِ

وَكَذَا صِيغَة الْأَمر وَلَو لم يكن فِي القَوْل بِمَا قَالُوا إِلَّا ترك الْأَخْذ بِالِاحْتِيَاطِ لَكَانَ ذَلِك كَافِيا فِي وجوب الْمصير إِلَى مَا قُلْنَا فَإِن الْمَنْدُوب بِفِعْلِهِ يسْتَحق الثَّوَاب وَلَا يسْتَحق بِتَرْكِهِ الْعقَاب وَالْوَاجِب يسْتَحق بِفِعْلِهِ الثَّوَاب وَيسْتَحق بِتَرْكِهِ الْعقَاب فَالْقَوْل بِأَن مُقْتَضى مُطلق الْأَمر الْإِيجَاب وَفِيه معنى الِاحْتِيَاط من كل وَجه أولى
আর যারা বলেছেন যে, আদেশের আবশ্যিক দাবি হলো বৈধতা (ইবাহাত), তারা এর সম্ভাবনাকে বিবেচনা করেছেন। তবে তারা বলেছেন, আদেশের অপরিহার্য দাবি হলো আদিষ্ট বিষয়ের জন্য 'হাসান' বা উত্তম হওয়ার গুণ সাব্যস্ত হওয়া; কারণ প্রজ্ঞাবান সত্তা কোনো মন্দ কাজের আদেশ দেন না। সুতরাং আদেশের নিঃশর্ত প্রয়োগের মাধ্যমে তা-ই সাব্যস্ত হবে যা এই শব্দরূপের জন্য অপরিহার্য, আর তা হলো সেই কাজটি করার সামর্থ্য প্রদান এবং বৈধতা। এই অভিমতটিও অসার। কারণ, শুধুমাত্র উত্তম হওয়ার গুণ তো অনুমতি ও বৈধতার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়ে যায়, অথচ এই শব্দরূপটি (আদেশ) একটি বিশেষ অর্থের জন্য প্রণীত হয়েছে। তাই এর নিঃশর্ত প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বিশেষ গুণের সাথে উত্তম হওয়া সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে আদেশকে নিষেধের ওপর কিয়াস করা হবে; যেমন নিঃশর্ত নিষেধ নিষিদ্ধ বিষয়ের মন্দ হওয়াকে এমনভাবে আবশ্যক করে যাতে তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব হয়ে যায়, তেমনি নিঃশর্ত আদেশ আদিষ্ট বিষয়টির উত্তম হওয়াকে এমনভাবে দাবি করে যাতে তা পালন করা ওয়াজিব হয়।

আর যারা মুস্তাহাব (নাদব) হওয়ার কথা বলেছেন, তারা এই মত পোষণ করেছেন যে, আদেশ হলো সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট থেকে আদিষ্ট কাজটি তলব করা বা চাওয়া, আর এটি অপরিহার্যভাবেই কাজটি করার দিকটিকে অগ্রাধিকার দেয়।

এই অগ্রাধিকার দান কখনও বাধ্যবাধকতার (ইলজাম) মাধ্যমে হয়, আবার কখনও মুস্তাহাব (নাদব) হওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং এই দুই অবস্থার মধ্যে ন্যূনতমটি সাব্যস্ত হবে, কারণ সেটিই নিশ্চিত; যতক্ষণ না অতিরিক্তের (ওয়াজিব হওয়ার) ওপর কোনো দলিল পাওয়া যায়। এই যুক্তিটি দুর্বল। কেননা আদেশ যখন আদিষ্ট বিষয়টি তলব করার জন্য হয়, তখন এর নিঃশর্ত প্রয়োগ পূর্ণাঙ্গ তলবকেই দাবি করে। কারণ এই শব্দরূপে কোনো ত্রুটি নেই এবং বক্তার কর্তৃত্বের মধ্যেও কোনো সীমাবদ্ধতা নেই; কেননা তিনি তাঁর বাধ্য করার ক্ষমতার কারণে আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী।

অতঃপর, হয় আদেশ শব্দটি কেবল ওয়াজিব (ইজাব) হওয়ার ক্ষেত্রে হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে—সেক্ষেত্রে নিঃশর্ত প্রয়োগের সময় তা প্রকৃত অর্থেই গণ্য হবে। অথবা তা ওয়াজিব ও মুস্তাহাব উভয় অর্থেই হাকিকত। সেক্ষেত্রে এর নিঃশর্ত প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হবে, কারণ এটি মুস্তাহাব এবং অতিরিক্ত অংশ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটা বলা বৈধ নয় যে, এটি মুস্তাহাবের জন্য হাকিকত এবং ওয়াজিবের জন্য মাজায (অলঙ্কারিক), কারণ এটি সেই ব্যক্তির বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণ করার দিকে নিয়ে যাবে যে বলে—আল্লাহ ঈমান আনার বা সালাত আদায়ের 'আদেশ' দেননি। এই বক্তব্যের অসারতা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে গোপন নয়।

তারা যা বলেছে তা 'আম' (সাধারণ) শব্দের উদাহরণ দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। কেননা 'আম' শব্দ তিন বা ততোধিক সংখ্যাকে শামিল করে। অতঃপর নিঃশর্ত প্রয়োগের সময় একে ন্যূনতম নিশ্চিত সংখ্যার ওপর প্রয়োগ করা হয় না, বরং অধিক উপকার লাভের উদ্দেশ্যে একে পুরো শ্রেণির (জ্বিনস) ওপর প্রয়োগ করা হয়।

আদেশের শব্দরূপটিও ঠিক তেমন। তাদের বক্তব্যে যদি 'সতর্কতা' (ইহতিয়াত) বর্জন করা ছাড়া আর কোনো ত্রুটি নাও থাকত, তবুও আমাদের বক্তব্যে ফিরে আসা ওয়াজিব হওয়ার জন্য সেটিই যথেষ্ট হতো। কারণ, মুস্তাহাব কাজ করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু বর্জন করলে শাস্তির যোগ্য হতে হয় না। পক্ষান্তরে ওয়াজিব কাজ করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জন করলে শাস্তির যোগ্য হতে হয়। সুতরাং এই কথা বলাই অধিকতর সমীচীন যে, নিঃশর্ত আদেশের দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া, কারণ এর মধ্যে সব দিক থেকেই সতর্কতার অর্থ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٨)
ثمَّ الدَّلِيل على صِحَة قَوْلنَا من الْكتاب قَوْله تَعَالَى {وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا أَن يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم} فَفِي نفي التَّخْيِير بَيَان أَن مُوجب الْأَمر الْإِلْزَام ثمَّ قَالَ تَعَالَى {وَمن يعْص الله وَرَسُوله} وَلَا يكون عَاصِيا بترك الِامْتِثَال إِلَّا أَن يكون مُوجبه الْإِلْزَام وَقَالَ {مَا مَنعك أَلا تسْجد إِذْ أَمرتك} أَي أَن تسْجد فقد ذمه على الِامْتِنَاع من الِامْتِثَال والذم بترك الْوَاجِب وَقَالَ تَعَالَى {فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره أَن تصيبهم فتْنَة} وَخَوف الْعقُوبَة فِي ترك الْوَاجِب وَلَا معنى لقَوْل من يَقُول ترك الائتمار لَا يكون خلافًا فَإِن الْمَأْمُور فِي الصَّوْم هُوَ الْإِمْسَاك وَلَا شكّ فِي أَن ترك الائتمار بِالْفطرِ من غير عذر يكون خلافًا فِيمَا هُوَ الْمَأْمُور بِهِ

ثمَّ الْأَمر يطْلب الْمَأْمُور بآكد الْوُجُوه يشْهد بِهِ الْكتاب وَالْإِجْمَاع والمعقول

أما الْكتاب فَقَوله تَعَالَى {وَمن آيَاته أَن تقوم السَّمَاء وَالْأَرْض بأَمْره} فإضافة الْوُجُود وَالْقِيَام إِلَى الْأَمر ظَاهره يدل على أَن الإيجاد يتَّصل بِالْأَمر وَكَذَلِكَ قَوْله {إِنَّمَا أمره إِذا أَرَادَ شَيْئا أَن يَقُول لَهُ كن فَيكون} فَالْمُرَاد حَقِيقَة هَذِه الْكَلِمَة عندنَا لَا أَن يكون مجَازًا عَن التكوين كَمَا زعم بَعضهم فَإنَّا نستدل بِهِ على أَن كَلَام الله غير مُحدث وَلَا مَخْلُوق لِأَنَّهُ سَابق على المحدثات أجمع وحرف الْفَاء للتعقيب

فَبِهَذَا يتَبَيَّن أَن هَذِه الصِّيغَة لطلب الْمَأْمُور بآكد الْوُجُوه وَالْإِجْمَاع دَلِيل عَلَيْهِ فَإِن من أَرَادَ أَن يطْلب عملا من غَيره لَا يجد لفظا مَوْضُوعا لإِظْهَار مَقْصُوده سوى قَوْله افْعَل وَبِهَذَا يثبت أَن هَذِه الصِّيغَة مَوْضُوعَة لهَذَا الْمَعْنى خَاصَّة كَمَا أَن اللَّفْظ الْمَاضِي مَوْضُوع للمضي والمستقبل للاستقبال وَكَذَلِكَ الْحَال

ثمَّ سَائِر الْمعَانِي الَّتِي وضعت
অতঃপর আমাদের বক্তব্যের সঠিকতার স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) থেকে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা দেন, তখন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না}। সুতরাং পছন্দের অধিকার অস্বীকার করার মাধ্যমেই এটি স্পষ্ট হয় যে, আদেশের দাবি হলো আবশ্যিকতা (ইলযাম)। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়}। আর নির্দেশ পালনে বিরত থাকার কারণে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত অবাধ্য বলে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না সেই নির্দেশের দাবি আবশ্যিকতা হয়। তিনি আরও বলেন: {আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম তখন তোমাকে সেজদা করতে কিসে বাধা দিল?} অর্থাৎ তুমি সেজদা করবে। এখানে নির্দেশ পালনে বিরত থাকার কারণে তাকে নিন্দা করা হয়েছে, আর নিন্দা কেবল ওয়াজিব (আবশ্যক) বর্জনের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে}। আর শাস্তির ভয় কেবল ওয়াজিব বর্জনের ক্ষেত্রেই দেখানো হয়। আর যারা বলে যে নির্দেশ পালন না করা বিরোধিতা নয়, তাদের এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। কেননা রোজার ক্ষেত্রে আদিষ্ট বিষয় হলো পানাহার থেকে বিরত থাকা; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো ওজর ছাড়াই ইফতার করার (রোজা ভাঙার) মাধ্যমে নির্দেশ পালন না করা মূলত আদিষ্ট বিষয়ের বিরোধিতা হিসেবে গণ্য হয়।

অতঃপর, আদেশ আদিষ্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে তলব করে, যার সাক্ষ্য দেয় কিতাব (কুরআন), ইজমা ও আকল (যুক্তি)।

কিতাবের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে}। সুতরাং অস্তিত্ব ও স্থিতিশীলতাকে আদেশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা বাহ্যত এটিই প্রমাণ করে যে, অস্তিত্ব দান করা (ইজাদ) আদেশের সাথেই সংযুক্ত। তদ্রূপ তাঁর বাণী: {তাঁর আদেশ তো কেবল এই যে, যখন তিনি কোনো কিছু করতে চান তখন তাকে বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়}। আমাদের নিকট এখানে এই শব্দের হাকিকত বা প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য, এটি সৃষ্টির রূপক (মাজায) নয় যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেছেন। কারণ আমরা এর মাধ্যমে এই দলিল পেশ করি যে, আল্লাহর কালাম কোনো নতুন সৃষ্টি বা মাখলুক নয়। কেননা এটি সমস্ত সৃষ্টির পূর্ববর্তী, আর 'ফা' বর্ণটি অব্যবহিত পর্যায়ক্রম বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই রূপকাঠামো (সিগাহ) আদিষ্ট বিষয়কে অত্যন্ত জোরালোভাবে তলব করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ইজমাও এর প্রমাণ বহন করে; কেননা যে ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে কোনো কাজ তলব করতে চায়, সে নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশের জন্য ‘তুমি করো’ শব্দ ছাড়া অন্য কোনো নির্ধারিত শব্দ পায় না। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, এই রূপকাঠামোটি নির্দিষ্টভাবে এই অর্থের জন্যই নির্ধারিত, যেমন অতীতকালের শব্দ অতীতের জন্য এবং ভবিষ্যৎকালের শব্দ ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত; আর বর্তমান কাল এবং অন্যান্য যে সকল অর্থের জন্য শব্দসমূহ নির্ধারিত হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

অতঃপর অন্যান্য যে সকল অর্থের জন্য শব্দসমূহ নির্ধারিত হয়েছে...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ١٩)
الْأَلْفَاظ لَهَا كَانَت لَازِمَة لمطلقها إِلَّا أَن يقوم الدَّلِيل بِخِلَافِهِ فَكَذَلِك معنى طلب الْمَأْمُور بِهَذِهِ الصِّيغَة وَلِأَن قَوْلنَا أَمر فعل مُتَعَدٍّ لَازمه ائتمر والمتعدي لَا يتَحَقَّق بِدُونِ اللَّازِم فَهَذَا يَقْتَضِي أَن لَا يكون أمرا بِدُونِ الائتمار كَمَا لَا يكون كسرا بِدُونِ الانكسار وَحَقِيقَة الائتمار بِوُجُود الْمَأْمُور بِهِ إِلَّا أَن الْوُجُود لَو اتَّصل بِالْأَمر وَلَا صنع للمخاطب فِيهِ سقط التَّكْلِيف وَهَذَا لَا وَجه لَهُ لِأَن فِي الائتمار للمخاطب ضرب اخْتِيَار بِقدر مَا يَنْتَفِي بِهِ الْجَبْر وَيسْتَحق الثَّوَاب بالإقدام على الائتمار وَذَلِكَ لَا يتَحَقَّق إِذا اتَّصل الْوُجُود بِصِيغَة الْأَمر فَلم تثبت حَقِيقَة الْوُجُود بِهَذِهِ الصِّيغَة تَحَرُّزًا عَن القَوْل بالجبر فأثبتنا بِهِ آكِد مَا يكون من وُجُوه الطّلب وَهُوَ الْإِلْزَام أَلا ترى أَن بِمُطلق النَّهْي يثبت آكِد مَا يكون من طلب الإعدام وَهُوَ وجوب الِانْتِهَاء وَلَا يثبت الانعدام بِمُطلق النَّهْي وَكَذَلِكَ بِالْأَمر لِأَن إِحْدَى الصيغتين لطلب الإيجاد وَالْأُخْرَى لطلب الإعدام

وَمن فروع هَذَا الْفَصْل الْأَمر بعد الْحَظْر فَالصَّحِيح عندنَا أَن مطلقه للْإِيجَاب أَيْضا لما قَررنَا أَن الْإِلْزَام مُقْتَضى هَذِه الصِّيغَة عِنْد الْإِمْكَان إِلَّا أَن يقوم دَلِيل مَانع

وَبَعض أَصْحَاب الشَّافِعِي يَقُولُونَ مُقْتَضَاهُ الْإِبَاحَة لِأَنَّهُ لإِزَالَة الْحَظْر وَمن ضَرُورَته الْإِبَاحَة فَقَط فَكَأَن الْآمِر قَالَ كنت منعتك عَن هَذَا فَرفعت ذَلِك الْمَنْع وأذنت لَك فِيهِ

فاستدلوا على هَذَا بقوله تَعَالَى {فَإِذا قضيت الصَّلَاة فَانْتَشرُوا فِي الأَرْض وابتغوا من فضل الله}

وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَإِذا حللتم فاصطادوا} وَلَكنَّا نقُول إِبَاحَة الِاصْطِيَاد للْحَلَال بقوله {أحل لكم الطَّيِّبَات} الْآيَة لَا بِصِيغَة الْأَمر مَقْصُودا بِهِ وَكَذَلِكَ إِبَاحَة البيع بعد الْفَرَاغ من الْجُمُعَة بقوله {وَأحل الله البيع} لَا بِصِيغَة الْأَمر ثمَّ صِيغَة الْأَمر لَيست لإِزَالَة الْحَظْر وَلَا لرفع الْمَنْع بل لطلب الْمَأْمُور بِهِ وارتفاع الْحَظْر وَزَوَال الْمَنْع من ضَرُورَة هَذَا الطّلب فَإِنَّمَا يعْمل مُطلق اللَّفْظ فِيمَا يكون مَوْضُوعا لَهُ حَقِيقَة
শব্দের অর্থসমূহ তার নিরঙ্কুশ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনিবার্য থাকে, যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। তদ্রূপ এই শব্দরূপের (সিগাহ) মাধ্যমে আদিষ্ট বিষয় তলব বা প্রার্থনা করার অর্থও অনিবায। কারণ আমাদের 'আদেশ' (আমর) বলা একটি সকর্মক ক্রিয়া, যার অনিবার্য ফল হলো 'আদেশ পালন করা' (ইইতিমার)। আর সকর্মক ক্রিয়া তার অনিবার্য ফল ব্যতিরেকে বাস্তবে রূপ লাভ করে না। সুতরাং এটি দাবি করে যে, আদেশ পালন করা ব্যতীত তা আদেশ হিসেবে গণ্য হবে না, যেমনটি ভেঙে যাওয়া ব্যতীত ভাঙা সম্পন্ন হয় না। আর আদেশ পালনের বাস্তবতা হলো আদিষ্ট বিষয়টির অস্তিত্ব লাভ করা। তবে যদি অস্তিত্ব আদেশের সাথে সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশ পায় এবং এতে আদিষ্ট ব্যক্তির কোনো হাত না থাকে, তবে দায়বদ্ধতা (তাকলিফ) বাতিল হয়ে যায়। আর এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কারণ আদেশ পালনের ক্ষেত্রে আদিষ্ট ব্যক্তির এক প্রকার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন যার মাধ্যমে বাধ্যবাধকতা (জবর) দূরীভূত হয় এবং আদেশ পালনে অগ্রসর হওয়ার কারণে সে সওয়াবের অধিকারী হয়। আর আদেশের সিগাহর সাথে সাথে অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়ে গেলে তা বাস্তবায়িত হয় না। তাই বাধ্যবাধকতার (জবর) মতবাদ থেকে বাঁচতে এই সিগাহর মাধ্যমে অস্তিত্বের প্রকৃত বাস্তবতা সাব্যস্ত হয়নি। বরং এর মাধ্যমে আমরা তলব বা চাওয়ার প্রকারভেদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো রূপটি সাব্যস্ত করেছি, আর তা হলো আবশ্যকতা (ইলযাম)। আপনি কি দেখেন না যে, সাধারণ নিষেধের মাধ্যমে কোনো কিছু বিলোপ করার তলবের সবচেয়ে জোরালো রূপ সাব্যস্ত হয়, যা হলো বিরত থাকার ওয়াজিব হওয়া? অথচ সাধারণ নিষেধের মাধ্যমে সরাসরি অনস্তিত্ব সাব্যস্ত হয় না। আদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। কারণ এই দুই সিগাহর একটি অস্তিত্ব সৃষ্টির তলব করার জন্য এবং অন্যটি বিলোপ সাধনের তলব করার জন্য।

এই পরিচ্ছেদের একটি শাখা হলো নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ। আমাদের নিকট সঠিক মত হলো, এর নিরঙ্কুশ রূপটি ওয়াজিব হওয়ার জন্যই, যেমনটি আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি যে, সামর্থ্য থাকাকালীন এই সিগাহর দাবি হলো আবশ্যকতা, যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধক দলিল উপস্থিত হয়।

ইমাম শাফেঈর কোনো কোনো অনুসারী বলেন, এর দাবি হলো কেবল বৈধতা। কারণ এটি নিষেধাজ্ঞাকে দূরীভূত করার জন্য আসে, আর তার অনিবার্য দাবি হলো কেবল বৈধতা সাব্যস্ত হওয়া। যেন আদেশদাতা বললেন, আমি তোমাকে এটি থেকে নিষেধ করেছিলাম, এখন সেই নিষেধ তুলে নিলাম এবং তোমাকে এর অনুমতি দিলাম।

তারা এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো}।

এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল দেন: {আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন শিকার করো}। কিন্তু আমরা বলি, ইহরামমুক্ত অবস্থায় শিকারের বৈধতা মহান আল্লাহর বাণী {তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে} -এই আয়াতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, আদেশের সিগাহর মাধ্যমে নয় যা এখানে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তদ্রূপ জুমার সালাত থেকে অবসর হওয়ার পর কেনাবেচার বৈধতা মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন} -এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, আদেশের সিগাহর মাধ্যমে নয়। অধিকন্তু, আদেশের সিগাহ নিষেধাজ্ঞাকে দূরীভূত করার জন্য কিংবা বারণ তুলে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত নয়, বরং আদিষ্ট বিষয় তলব করার জন্য নির্ধারিত। আর নিষেধাজ্ঞা ও বারণ দূর হওয়া হলো এই তলব বা চাওয়ার একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ মাত্র। সুতরাং শব্দের নিরঙ্কুশ রূপ কেবল সেই অর্থেই কার্যকর হয় যার জন্য সেটিকে প্রকৃতপক্ষে গঠন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌فصل فِي بَيَان مُقْتَضى مُطلق الْأَمر فِي حكم التّكْرَار

الصَّحِيح من مَذْهَب عُلَمَائِنَا أَن صِيغَة الْأَمر لَا توجب التّكْرَار وَلَا تحتمله وَلَكِن الْأَمر بِالْفِعْلِ يَقْتَضِي أدنى مَا يكون من جنسه على احْتِمَال الْكل وَلَا يكون مُوجبا للْكُلّ إِلَّا بِدَلِيل

وَقَالَ بعض مَشَايِخنَا هَذَا إِذا لم يكن مُعَلّقا بِشَرْط وَلَا مُقَيّدا بِوَصْف فَإِن كَانَ فمقتضاه التّكْرَار بِتَكَرُّر مَا قيد بِهِ

وَقَالَ الشَّافِعِي مطلقه لَا يُوجب التّكْرَار وَلَكِن يحْتَملهُ وَالْعدَد أَيْضا إِذا اقْترن بِهِ دَلِيل

وَقَالَ بَعضهم مطلقه يُوجب التّكْرَار إِلَّا أَن يقوم دَلِيل يمْنَع مِنْهُ ويحكى هَذَا عَن الْمُزنِيّ وَاحْتج صَاحب هَذَا الْمَذْهَب بِحَدِيث أَقرع بن حَابِس رضي الله عنه حَيْثُ سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْحَج أَفِي كل عَام أم مرّة فَقَالَ بل مرّة وَلَو قلت فِي كل عَام لَوَجَبَتْ وَلَو وَجَبت مَا قُمْتُم بهَا فَلَو لم تكن صِيغَة الْأَمر فِي قَوْله حجُّوا مُحْتملا التّكْرَار أَو مُوجبا لَهُ لما أشكل عَلَيْهِ ذَلِك فقد كَانَ من أهل اللِّسَان ولكان يُنكر عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سُؤَاله عَمَّا لَيْسَ من محتملات اللَّفْظ فحين اشْتغل بِبَيَان معنى دفع الْحَرج فِي الِاكْتِفَاء بِمرَّة وَاحِدَة عرفنَا أَن مُوجب هَذِه الصِّيغَة التّكْرَار

ثمَّ الْمرة من التّكْرَار بِمَنْزِلَة الْخَاص من الْعَام وَمُوجب الْعَام الْعُمُوم حَتَّى يقوم دَلِيل الْخُصُوص

وَبَيَان هَذَا أَن قَول الْقَائِل افْعَل طلب الْفِعْل بِمَا هُوَ مُخْتَصر من الْمصدر الَّذِي هُوَ نِسْبَة الِاسْم وَهُوَ الْفِعْل وَحكم الْمُخْتَصر مَا هُوَ حكم المطول وَالِاسْم يُوجب إِطْلَاقه الْعُمُوم حَتَّى يقوم دَلِيل الْخُصُوص فَكَذَلِك الْفِعْل لِأَن للْفِعْل كلا وبعضا كَمَا للْمَفْعُول فمطلقه يُوجب الْكل ويحتمله ثمَّ الْكل لَا يتَحَقَّق إِلَّا بالتكرار

واعتبروا الْأَمر بِالنَّهْي فَكَمَا أَن النَّهْي يُوجب إعدام الْمنْهِي عَنهُ عَاما فَكَذَلِك الْأَمر يُوجب إيجاده تَمامًا حَتَّى يقوم دَلِيل الْخُصُوص وَذَلِكَ يُوجب التّكْرَار لَا محَالة
পুনরাবৃত্তির হুকুমের ক্ষেত্রে আদেশের নিঃশর্ত রূপের দাবি বর্ণনার অধ্যায়

আমাদের ওলামায়ে কেরামের মাযহাব অনুযায়ী সঠিক মত হলো, আদেশের শব্দবিন্যাস পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে না এবং এর সম্ভাবনাও রাখে না। তবে কোনো কাজ করার আদেশ সেই জাতীয় কাজের সর্বনিম্ন স্তরটুকুই দাবি করে, যদিও তা পূর্ণ সমষ্টির সম্ভাবনা রাখে; কিন্তু কোনো দলিল ব্যতীত তা পূর্ণ সমষ্টির জন্য ওয়াজিব হবে না।

আমাদের মাশায়েখদের কেউ কেউ বলেছেন, এটি তখনই প্রযোজ্য যখন আদেশটি কোনো শর্তের সাথে যুক্ত না থাকে অথবা কোনো গুণের দ্বারা সীমাবদ্ধ না হয়। কিন্তু যদি তা হয়, তবে আদেশটি যার সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আদেশেরও পুনরাবৃত্তি হওয়া দাবি করে।

ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন, আদেশের নিঃশর্ত রূপ পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে না, তবে এর সম্ভাবনা রাখে; এমনকি যদি এর সাথে কোনো দলিল যুক্ত থাকে তবে তা সংখ্যারও সম্ভাবনা রাখে।

কেউ কেউ বলেছেন, আদেশের নিঃশর্ত রূপ পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে, যতক্ষণ না এটি প্রতিহত করার কোনো দলিল পাওয়া যায়। এটি ইমাম মুযানী (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই মাযহাবের প্রবক্তা আকরা ইবনে হাবিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তা কি প্রতি বছর নাকি একবার? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "বরং একবার। আর আমি যদি বলতাম প্রতি বছর, তবে তাই ওয়াজিব হয়ে যেত, আর যদি তা ওয়াজিব হতো তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না।" সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী "তোমরা হজ করো"-এর মধ্যে যদি আদেশের শব্দবিন্যাসটি পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা না রাখত অথবা তা ওয়াজিব না করত, তবে তাঁর (আকরা ইবনে হাবিসের) কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হতো না; অথচ তিনি আরবী ভাষার পণ্ডিত ছিলেন। তদুপরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য তিরস্কার করতেন যা শব্দের সম্ভাব্য অর্থের বহির্ভূত। সুতরাং যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবারের মাধ্যমে দায়মুক্তি ও কষ্ট লাঘবের অর্থ বর্ণনায় মনোনিবেশ করলেন, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে এই শব্দবিন্যাসটির দাবি হলো পুনরাবৃত্তি।

অতঃপর পুনরাবৃত্তির তুলনায় 'একবার' হলো সাধারণের (আম) বিপরীতে বিশেষের (খাস) মতো। আর সাধারণের বিধান হলো ব্যাপকতা, যতক্ষণ না বিশেষ হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়।

এর ব্যাখ্যা হলো, কোনো বক্তার উক্তি "তুমি করো" হলো সেই ক্রিয়াটি সম্পাদনের দাবি, যা মূলত মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে সংক্ষিপ্ত রূপ—আর মাসদার হলো নামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত এবং যা মূলত ক্রিয়া। আর সংক্ষিপ্ত শব্দের হুকুম তাই যা বিস্তারিত শব্দের হুকুম। আর নামের নিঃশর্ত প্রয়োগ ব্যাপকতা ওয়াজিব করে যতক্ষণ না বিশেষ হওয়ার দলিল পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান; কারণ মাফউল (কর্ম)-এর মতো ক্রিয়ারও সমষ্টি (কুল) ও অংশ (বায) রয়েছে। সুতরাং এর নিঃশর্ত রূপ সমষ্টিকে ওয়াজিব করে এবং তার সম্ভাবনা রাখে। আর সেই সমষ্টি পুনরাবৃত্তি ব্যতীত অর্জিত হয় না।

তাঁরা আদেশকে নিষেধের সাথে তুলনা করেছেন। সুতরাং নিষেধ যেভাবে নিষিদ্ধ বিষয়টিকে সাধারণভাবে অস্তিত্বহীন করা ওয়াজিব করে, তেমনি আদেশও আদেশকৃত বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে অস্তিত্ব দান করা ওয়াজিব করে, যতক্ষণ না বিশেষ হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর তা অনিবার্যভাবে পুনরাবৃত্তির দাবি রাখে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَأما الشَّافِعِي رحمه الله فاحتج بِنَحْوِ هَذَا أَيْضا وَلَكِن على وَجه يتَبَيَّن بِهِ الْفرق بَين الْأَمر وَالنَّهْي وَيثبت بِهِ الِاحْتِمَال دون الْإِيجَاب وَذَلِكَ أَن قَوْله افْعَل يَقْتَضِي مصدرا على سَبِيل التنكير أَي افْعَل فعلا

بَيَانه فِي قَوْله طلق أَي طلق طَلَاقا وَإِنَّمَا أَثْبَتْنَاهُ على سَبِيل التنكير لِأَن ثُبُوته بطرِيق الِاقْتِضَاء للْحَاجة إِلَى تَصْحِيح الْكَلَام وبالمنكر يحصل هَذَا الْمَقْصُود فَيكون الثَّابِت بِمُقْتَضى هَذِه الصِّيغَة مَا هُوَ نكرَة فِي الْإِثْبَات والنكرة فِي الْإِثْبَات تخص كَقَوْلِه تَعَالَى {فَتَحْرِير رَقَبَة} وَلَكِن احْتِمَال التّكْرَار وَالْعدَد فِيهِ لَا يشكل لِأَن ذَلِك الْمُنكر مُتَعَدد فِي نَفسه

أَلا ترى أَنه يَسْتَقِيم أَن يقرن بِهِ على وَجه التَّفْسِير وَتقول طَلقهَا اثْنَتَيْنِ أَو مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا وَيكون ذَلِك نصبا على التَّفْسِير وَلَو لم يكن اللَّفْظ مُحْتملا لَهُ لم يستقم تَفْسِيره بِهِ بِخِلَاف النَّهْي فصيغة النَّهْي عَن الْفِعْل تَقْتَضِي أَيْضا مصدرا على سَبِيل التنكير أَي لَا تفعل فعلا وَلَكِن النكرَة فِي النَّفْي تعم

قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تُطِع مِنْهُم آثِما أَو كفورا} وَمن قَالَ لغيره لَا تَتَصَدَّق من مَالِي يتَنَاوَل النَّهْي كل دِرْهَم من مَاله بِخِلَاف قَوْله تصدق من مَالِي فَإِنَّهُ لَا يتَنَاوَل الْأَمر إِلَّا الْأَقَل على احْتِمَال أَن يكون مُرَاده كل مَاله وَلِهَذَا قَالَ إِن مُطلق الصِّيغَة لَا توجب التّكْرَار لِأَن ثُبُوت الْمصدر فِيهِ بطرِيق الِاقْتِضَاء وَلَا عُمُوم للمقتضى يُوضحهُ أَن هَذِه الصِّيغَة أحد أَقسَام الْكَلَام فَتعْتَبر بِسَائِر الْأَقْسَام

وَقَول الْقَائِل دخل فلَان الدَّار إِخْبَار عَن دُخُوله على احْتِمَال أَن يكون دخل مرّة أَو مرَّتَيْنِ أَو مرَارًا فَكَذَلِك قَوْله ادخل يكون طلب الدُّخُول مِنْهُ على احْتِمَال أَن يكون المُرَاد مرّة أَو مرَارًا ثمَّ الْمُوجب مَا هُوَ الْمُتَيَقن بِهِ دون الْمُحْتَمل

وَأما الَّذين قَالُوا فِي الْمُعَلق بِالشّرطِ أَو الْمُقَيد بِالْوَصْفِ إِنَّه يتَكَرَّر بِتَكَرُّر الشَّرْط وَالْوَصْف استدلوا بالعبادات الَّتِي أَمر الشَّرْع بهَا مُقَيّدا بِوَقْت أَو حَال وبالعقوبات الَّتِي أَمر الشَّرْع بإقامتها مُقَيّدا بِوَصْف أَن ذَلِك يتَكَرَّر بِتَكَرُّر مَا قيد بِهِ

قَالَ رضي الله عنه وَالصَّحِيح عِنْدِي أَن هَذَا لَيْسَ بِمذهب عُلَمَائِنَا رحمهم الله فَإِن من قَالَ لامْرَأَته إِذا دخلت الدَّار فَأَنت طَالِق لم تطلق بِهَذَا اللَّفْظ إِلَّا مرّة وَإِن تكَرر مِنْهَا الدُّخُول
আর ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) এ জাতীয় দলীলই পেশ করেছেন, তবে এমনভাবে যা দ্বারা আদেশ ও নিষেধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয় এবং এর মাধ্যমে আবশ্যকতা ছাড়াই সম্ভাব্যতা প্রমাণিত হয়। আর তা হলো, তাঁর বক্তব্য 'তুমি করো' শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে একটি ক্রিয়ামূল দাবি করে, অর্থাৎ 'তুমি একটি কাজ করো'।

এর ব্যাখ্যা হলো তাঁর বক্তব্য 'তালাক দাও', অর্থাৎ 'তুমি একটি তালাক দাও'। আমরা এটি অনির্দিষ্ট হিসেবে সাব্যস্ত করেছি কারণ বাক্যের শুদ্ধতার প্রয়োজনে এটি উহ্য দাবি হিসেবে প্রমাণিত হয়। আর অনির্দিষ্ট বিষয় দ্বারাই এই উদ্দেশ্য সাধিত হয়। সুতরাং এই শব্দের রূপ দ্বারা যা সাব্যস্ত হবে তা হলো হ্যাঁ-বোধক বাক্যে একটি অনির্দিষ্ট বিষয়। আর হ্যাঁ-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট শব্দ নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তবে একজন দাস মুক্ত করা"। কিন্তু এখানে পুনরাবৃত্তি এবং সংখ্যার সম্ভাবনা কোনো অস্পষ্টতা তৈরি করে না, কারণ সেই অনির্দিষ্ট বিষয়টি তার নিজের মধ্যেই সংখ্যাধিক্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

আপনি কি দেখছেন না যে, ব্যাখ্যার খাতিরে এর সাথে সংখ্যা যুক্ত করা সঠিক হয় এবং আপনি বলতে পারেন যে 'তাকে দুইবার বা দুই তালাক দাও' অথবা 'তিনটি দাও', যা ব্যাখ্যামূলক নসব হিসেবে গণ্য হবে। যদি শব্দটি এর সম্ভাবনা না রাখত, তবে এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সঠিক হতো না। পক্ষান্তরে নিষেধের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা কোনো কাজ থেকে নিষেধের রূপটিও অনির্দিষ্টভাবে একটি ক্রিয়ামূল দাবি করে, অর্থাৎ 'তুমি কোনো কাজ করো না'। কিন্তু না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট শব্দ ব্যাপকতা প্রকাশ করে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাদের মধ্যে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করো না।" আর যে ব্যক্তি অন্য কাউকে বলে 'আমার সম্পদ থেকে সদকা করো না', তবে এই নিষেধ তার সম্পদের প্রতিটি দিরহামকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এটি তার 'আমার সম্পদ থেকে সদকা করো' বলার বিপরীত; কারণ এক্ষেত্রে আদেশটি কেবল ন্যূনতম পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যদিও তার পুরো সম্পদ উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একারণেই তিনি বলেছেন যে, আদেশের মূল রূপটি পুনরাবৃত্তিকে আবশ্যক করে না; কারণ ক্রিয়ামূলটি এখানে উহ্য দাবি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং উহ্য বিষয়ের কোনো ব্যাপকতা থাকে না। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, এই রূপটি বাক্যের অন্যতম একটি প্রকার, তাই একে অন্যান্য প্রকারের সাথে তুলনা করা হবে।

আর কারো এই কথা 'অমুক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেছে'—তার প্রবেশের সংবাদ দেয়, যেখানে সম্ভাবনা রয়েছে যে সে একবার বা দুইবার বা একাধিকবার প্রবেশ করেছে। অনুরূপভাবে তার কথা 'তুমি প্রবেশ করো'—তা হবে প্রবেশের দাবি, যেখানে সম্ভাবনা রয়েছে যে উদ্দেশ্য একবার বা একাধিকবার। অতঃপর যা নিশ্চিত, কেবল তাই আবশ্যকীয় হবে, যা সম্ভাব্য তা নয়।

আর যারা শর্তযুক্ত বা গুণাবলি দ্বারা সীমাবদ্ধ আদেশের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, শর্ত বা গুণের পুনরাবৃত্তির ফলে আদেশটিও পুনরাবৃত্ত হবে, তারা সেই ইবাদতগুলো দ্বারা দলীল পেশ করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে শরীয়ত কোনো সময় বা অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করে আদেশ দিয়েছে। আবার তারা সেই দণ্ডবিধিগুলোর মাধ্যমেও দলীল দিয়েছেন যেগুলো শরীয়ত কোনো গুণের সাথে সীমাবদ্ধ করে কায়েম করার আদেশ দিয়েছে যে, সেই সীমাবদ্ধ বিষয়ের পুনরাবৃত্তির ফলে তা পুনরাবৃত্ত হবে।

তিনি বলেন: আমার নিকট সঠিক হলো এই যে, এটি আমাদের আলিমগণের অভিমত নয়। কেননা যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে 'তুমি যদি ঘরে প্রবেশ করো তবে তুমি তালাক', তবে এই শব্দের কারণে সে একবারই তালাকপ্রাপ্ত হবে, যদিও তার পক্ষ থেকে ঘরে প্রবেশ করার বিষয়টি বারবার ঘটে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَلم تطلق إِلَّا وَاحِدَة وَإِن نوى أَكثر من ذَلِك وَهَذَا لِأَن الْمُعَلق بِالشّرطِ عِنْد وجود الشَّرْط كالمنجز وَهَذِه الصِّيغَة لَا تحْتَمل الْعدَد والتكرار عِنْد التَّنْجِيز فَكَذَلِك عِنْد التَّعْلِيق بِالشّرطِ إِذا وجد الشَّرْط وَإِنَّمَا يحْكى هَذَا الْكَلَام عَن الشَّافِعِي رحمه الله فَإِنَّهُ أوجب التَّيَمُّم لكل صَلَاة وَاسْتدلَّ عَلَيْهِ بقوله تَعَالَى {إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة} إِلَى قَوْله {فَتَيَمَّمُوا} وَقَالَ ظَاهر هَذَا الشَّرْط يُوجب الطَّهَارَة عِنْد الْقيام إِلَى كل صَلَاة غير أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما صلى صلوَات بِوضُوء وَاحِد ترك هَذَا فِي الطَّهَارَة بِالْمَاءِ لقِيَام الدَّلِيل فَبَقيَ حكم التَّيَمُّم على مَا اقْتَضَاهُ أصل الْكَلَام

وَهَذَا سَهْو فَالْمُرَاد بقوله {إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة} أَي وَأَنْتُم محدثون عَلَيْهِ اتّفق أهل التَّفْسِير وَبِاعْتِبَار إِضْمَار هَذَا السَّبَب يَسْتَوِي حكم الطَّهَارَة بِالْمَاءِ وَالتَّيَمُّم وَهَذَا هُوَ الْجَواب عَمَّا يستدلون بِهِ من الْعِبَادَات والعقوبات فَإِن تكررها لَيْسَ بِصِيغَة مُطلق الْأَمر وَلَا بِتَكَرُّر الشَّرْط بل بتجدد السَّبَب الَّذِي جعله الشَّرْع سَببا مُوجبا لَهُ فَفِي قَوْله تَعَالَى {أقِم الصَّلَاة لدلوك الشَّمْس} أَمر بِالْأَدَاءِ وَبَيَان للسبب الْمُوجب وَهُوَ دلوك الشَّمْس فقد جعل الشَّرْع ذَلِك الْوَقْت سَببا مُوجبا للصَّلَاة إِظْهَارًا لفضيلة ذَلِك الْوَقْت بِمَنْزِلَة قَول الْقَائِل أد الثّمن للشراء وَالنَّفقَة للنِّكَاح يفهم مِنْهُ الْأَمر بِالْأَدَاءِ وَالْإِشَارَة إِلَى السَّبَب الْمُوجب لما طُولِبَ بِأَدَائِهِ

وَلما أشكل على الْأَقْرَع بن حَابِس رضي الله عنه حكم الْحَج حَتَّى سَأَلَ فقد كَانَ من الْمُحْتَمل أَن يكون وَقت الْحَج هُوَ السَّبَب الْمُوجب لَهُ بِجعْل الشَّرْع إِيَّاه لذَلِك بِمَنْزِلَة الصَّوْم وَالصَّلَاة وَمن الْمُحْتَمل أَن يكون السَّبَب مَا هُوَ غير متكرر وَهُوَ الْبَيْت وَالْوَقْت شَرط الْأَدَاء وَالنَّبِيّ عليه السلام بَين لَهُ بقوله بل مرّة أَن السَّبَب هُوَ الْبَيْت وَفِي قَوْله عليه السلام وَلَو قلت فِي كل عَام لَوَجَبَتْ دَلِيل على أَن مُطلق الْأَمر لَا يُوجب التّكْرَار لِأَنَّهُ لَو كَانَ مُوجبا لَهُ كَانَ الْوُجُوب فِي كل عَام بِصِيغَة الْأَمر لَا بِهَذَا القَوْل مِنْهُ وَقد نَص على أَنَّهَا كَانَت تجب بقوله لَو قلت فِي كل عَام

 

ثمَّ الْحجَّة لنا فِي أَن هَذِه الصِّيغَة لَا توجب التّكْرَار وَلَا تحتمله أَن قَوْله افْعَل

এবং একটির বেশি তালাক পতিত হবে না, যদিও সে তার চেয়ে বেশি নিয়ত করে থাকে। আর এটি এ কারণে যে, শর্তের সাথে ঝুলন্ত বিষয় শর্ত পাওয়া যাওয়ার সময় সরাসরি কার্যকর বিষয়ের মতোই হয়ে যায়। আর এই শব্দ বিন্যাসটি সরাসরি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংখ্যা বা পুনরাবৃত্তির অবকাশ রাখে না; তেমনি শর্ত পাওয়া যাওয়ার সময় শর্তের সাথে ঝুলন্ত থাকার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এই কথাটি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে। কেননা তিনি প্রত্যেক নামাজের জন্য তায়াম্মুম করা ওয়াজিব করেছেন এবং এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী "যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও" থেকে তাঁর বাণী "অতঃপর তায়াম্মুম করো" পর্যন্ত দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন, এই শর্তের বাহ্যিক রূপটি প্রত্যেক নামাজের জন্য দাঁড়ানোর সময় পবিত্রতা অর্জন করাকে ওয়াজিব করে। তবে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যেহেতু এক ওজু দিয়ে একাধিক নামাজ পড়েছেন, তাই দলিলের ভিত্তিতে পানির দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি বর্জন করা হয়েছে। ফলে তায়াম্মুমের বিধান মূল শব্দের দাবি অনুযায়ী স্বস্থানে বহাল রয়ে গেছে।

আর এটি একটি ভ্রান্তি। মহান আল্লাহর বাণী "যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও" এর অর্থ হলো "যখন তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো"—এর ওপর তাফসিরবিদগণ একমত হয়েছেন। এই কারণটিকে উহ্য ধরার ভিত্তিতে পানির দ্বারা পবিত্রতা এবং তায়াম্মুমের বিধান সমান হয়ে যায়। আর ইবাদত এবং দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে তারা যে দলিল পেশ করেন, এটিই তার উত্তর। কারণ সেগুলোর পুনরাবৃত্তি সাধারণ আদেশের শব্দের কারণে হয় না, আবার শর্তের পুনরাবৃত্তির কারণেও হয় না; বরং সেই কারণটি নতুন করে সৃষ্টি হওয়ার কারণে হয় যাকে শরিয়ত ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। মহান আল্লাহর বাণী "সূর্য ঢলে পড়ার সময় নামাজ কায়েম করো"—এর মধ্যে আদায় করার আদেশ এবং ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে সূর্য ঢলে পড়ার বর্ণনা রয়েছে। শরিয়ত সেই সময়কে নামাজের ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছে সেই সময়ের মর্যাদা প্রকাশের জন্য; যেমন কোনো ব্যক্তির এই কথা "ক্রয়ের কারণে মূল্য পরিশোধ করো" এবং "নিকাহের কারণে ভরণপোষণ দাও"—এ থেকে আদায়ের আদেশ এবং যে হকটি আদায়ের দাবি করা হয়েছে তার কারণের প্রতি ইঙ্গিত ফুটে ওঠে।

আর যখন আকরা বিন হাবিস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) এর নিকট হজের বিধান অস্পষ্ট মনে হলো এবং তিনি এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন, তখন হজ আদায়ের সময়টিই এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, শরিয়ত একে রোজা ও নামাজের মতো নির্ধারণ করার মাধ্যমে। আবার এটিও সম্ভাবনা ছিল যে, এর কারণ এমন কিছু যা পুনরাবৃত্তি হয় না, আর তা হলো বায়তুল্লাহ; আর সময় হলো তা আদায়ের শর্ত। তখন নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর বাণীর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করে দিলেন যে— "বরং একবার"—অর্থাৎ এর কারণ হলো বায়তুল্লাহ। আর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বাণী "আমি যদি বলতাম তবে প্রতি বছর ওয়াজিব হয়ে যেত"—এটি এই কথার দলিল যে, আদেশের সাধারণ শব্দ পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে না। কেননা আদেশ যদি পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করত, তবে প্রতি বছর ওয়াজিব হওয়াটা আদেশের শব্দের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হতো, তাঁর এই বাণীর কারণে নয়। অথচ তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তা ওয়াজিব হতো তাঁর এই উক্তির কারণে যে "আমি যদি বলতাম তবে প্রতি বছর..."।

 

অতঃপর আমাদের দলিল হলো যে, এই শব্দ বিন্যাসটি পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে না এবং এর সম্ভাবনাও রাখে না; কারণ "তুমি করো" এই কথাটি

(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
لطلب فعل مَعْلُوم بحركات تُوجد مِنْهُ وتنقضي وَتلك الحركات لَا تبقى وَلَا يتَصَوَّر عودهَا إِنَّمَا المتصور تجدّد مثلهَا وَلِهَذَا يُسمى تَكْرَارا مجَازًا من غير أَن يشكل على أحد أَن الثَّانِي غير الأول

وَبِهَذَا تبين أَنه لَيْسَ فِي هَذِه الصِّيغَة احْتِمَال الْعدَد وَلَا احْتِمَال التّكْرَار أَلا ترى أَن من يَقُول لغيره اشْتَرِ لي عبدا لَا يتَنَاوَل هَذَا أَكثر من عبد وَاحِد وَلَا يحْتَمل الشِّرَاء مرّة بعد مرّة أَيْضا وَكَذَلِكَ قَوْله زَوجنِي امْرَأَة لَا يحْتَمل إِلَّا امْرَأَة وَاحِدَة وَلَا يحْتَمل تزويجا بعد تَزْوِيج إِلَّا أَن مَا بِهِ يتم فعله عِنْد الحركات الَّتِي تُوجد مِنْهُ لَهُ كل وَبَعض فَيثبت بالصيغة الْيَقِين الَّذِي هُوَ الْأَقَل للتيقن بِهِ وَيحْتَمل الْكل حَتَّى إِذا نَوَاه عملت نِيَّته فِيهِ وَلَيْسَ فِيهِ احْتِمَال الْعدَد أصلا فَلَا تعْمل نِيَّته فِي الْعدَد وعَلى هَذَا قُلْنَا إِذا قَالَ لامْرَأَته طَلِّقِي نَفسك أَو لأَجْنَبِيّ طَلقهَا إِنَّه يتَنَاوَل الْوَاحِد إِلَّا أَن يَنْوِي الثَّلَاث فتعمل نِيَّته لِأَن ذَلِك كل فِيمَا يتم بِهِ فعل الطَّلَاق وَلَو نوى اثْنَتَيْنِ لم تعْمل نِيَّته لِأَنَّهُ مُجَرّد نِيَّة الْعدَد إِلَّا أَن تكون الْمَرْأَة أمة فَتكون نِيَّته الثِّنْتَيْنِ فِي حَقّهَا نِيَّة كل الطَّلَاق وَكَذَلِكَ لَو قَالَ لعَبْدِهِ تزوج يتَنَاوَل امْرَأَة وَاحِدَة إِلَّا أَن يَنْوِي اثْنَتَيْنِ فتعمل نِيَّته لِأَنَّهُ كل النِّكَاح فِي حق العَبْد لَا لِأَنَّهُ نوى الْعدَد وَلَا معنى لما قَالُوا إِن صِحَة اقتران الْعدَد والمرات بِهَذِهِ الصِّيغَة على سَبِيل التَّفْسِير لَهَا دَلِيل على أَن الصِّيغَة تحْتَمل ذَلِك لِأَن هَذَا الْقرَان عمله فِي تَغْيِير مُقْتَضى الصِّيغَة لَا فِي التَّفْسِير لما هُوَ من محتملات تِلْكَ الصِّيغَة بِمَنْزِلَة اقتران الشَّرْط وَالْبدل بِهَذِهِ الصِّيغَة

أَلا ترى أَن قَول الْقَائِل لامْرَأَته أَنْت طَالِق ثَلَاثًا لَا يحْتَمل وُقُوع الثِّنْتَيْنِ بِهِ مَعَ قيام الثَّلَاث فِي ملكه وَلَا التَّأْخِير إِلَى مُدَّة وَلَو قرن بِهِ إِلَّا وَاحِدَة إِلَى شهر أَو اثْنَتَيْنِ كَانَ صَحِيحا وَكَانَ عَاملا فِي تَغْيِير مُقْتَضى الصِّيغَة لَا أَن يكون مُفَسرًا لَهَا وَلِهَذَا قُلْنَا إِذا قرن بالصيغة ذكر الْعدَد فِي الْإِيقَاع يكون الْوُقُوع بِلَفْظ الْعدَد لَا بِأَصْل الصِّيغَة حَتَّى لَو قَالَ لامْرَأَته طَلقتك ثَلَاثًا أَو قَالَ وَاحِدَة فَمَاتَتْ الْمَرْأَة قبل ذكر الْعدَد لم يَقع شَيْء
একটি নির্দিষ্ট কাজ দাবি করার জন্য এমন কিছু নড়াচড়া প্রয়োজন যা সম্পাদিত হয় এবং শেষ হয়ে যায়। সেই নড়াচড়াগুলো স্থায়ী হয় না এবং সেগুলোর পুনরাবর্তনও কল্পনা করা যায় না। বরং কেবল সেগুলোর সদৃশ বিষয়ের নতুন করে সৃষ্টি হওয়া কল্পনা করা যায়। এই কারণেই একে রূপকভাবে 'পুনরাবৃত্তি' বলা হয়, যাতে কারো নিকট এটি অস্পষ্ট না থাকে যে দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকে ভিন্ন।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, এই শব্দের কাঠামোর (সিগা) মধ্যে সংখ্যার সম্ভাবনা নেই এবং পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাও নেই। আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি অন্যকে বলে "আমার জন্য একজন দাস ক্রয় করো", এটি একজনের বেশি দাসকে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং বারবার ক্রয় করার সম্ভাবনাও রাখে না। একইভাবে "আমাকে একজন মহিলার সাথে বিবাহ দাও" কথাটি কেবল একজন মহিলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এক বিবাহের পর পুনরায় বিবাহের সম্ভাবনা রাখে না। তবে কথা হলো, যে কার্যের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয়, সেই সম্পাদিত নড়াচড়াগুলোর একটি সমষ্টি (কুল্ল) এবং অংশ (বা'জ) থাকে। সুতরাং এই শব্দের দ্বারা সেই সুনিশ্চিত বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যা পরিমাণে সর্বনিম্ন, কারণ তা নিশ্চিত। আর এটি সমষ্টির সম্ভাবনাও রাখে, এমনকি যদি সে তা নিয়ত করে তবে তার নিয়ত কার্যকর হবে। কিন্তু এতে সংখ্যার কোনো সম্ভাবনা আদতে নেই, তাই সংখ্যার ক্ষেত্রে তার নিয়ত কার্যকর হবে না। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, যখন কেউ তার স্ত্রীকে বলে "তুমি নিজেকে তালাক দাও" অথবা কোনো ভিন্ন ব্যক্তিকে বলে "তাকে তালাক দাও", তখন এটি একটি তালাককেই বুঝাবে, যদি না সে তিন তালাকের নিয়ত করে। তবে তিন তালাকের নিয়ত করলে তার নিয়ত কার্যকর হবে কারণ তালাকের কাজ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সমষ্টি। আর যদি সে দুই তালাকের নিয়ত করে তবে তার নিয়ত কার্যকর হবে না, কারণ এটি নিছক সংখ্যার নিয়ত। তবে স্ত্রী যদি দাসী হয়, সেক্ষেত্রে দুই তালাকের নিয়ত করা তার জন্য তালাকের সমষ্টির নিয়ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় তা কার্যকর হবে। একইভাবে যদি কেউ তার দাসকে বলে "বিবাহ করো", তবে এটি একজন স্ত্রীকেই বুঝাবে, যদি না সে দুইজনের নিয়ত করে। তবে দুইজনের নিয়ত করলে তার নিয়ত কার্যকর হবে কারণ দাসের ক্ষেত্রে এটিই বিবাহের পূর্ণ সংখ্যা (সমষ্টি), নিছক সংখ্যার নিয়ত করার কারণে নয়। আর তারা যা বলে যে—এই শব্দের সাথে ব্যাখ্যা হিসেবে সংখ্যা বা বারের উল্লেখ সংযুক্ত হওয়া বৈধ হওয়া একথার দলিল যে শব্দটি তা ধারণ করে—একথার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এই সংযুক্তি শব্দের কাঠামোর দাবিকে পরিবর্তন করার জন্য কার্যকর হয়, শব্দের সম্ভাব্য অর্থের ব্যাখ্যা হিসেবে নয়; যেমনটি এই শব্দের কাঠামোর সাথে শর্ত বা বিকল্প যুক্ত করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আপনি কি দেখেন না যে, যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে "তুমি তিন তালাক", তবে তার মালিকানায় তিন তালাক অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও এর দ্বারা দুই তালাক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না, অথবা কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। কিন্তু যদি সে এর সাথে "এক মাস পর এক তালাক" বা "দুই তালাক" যুক্ত করে, তবে তা শুদ্ধ হবে এবং এটি শব্দের কাঠামোর দাবিকে পরিবর্তনকারী হিসেবে গণ্য হবে, তার ব্যাখ্যাকারী হিসেবে নয়। এই কারণেই আমরা বলেছি যে, যখন শব্দের কাঠামোর সাথে তালাক কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংখ্যার উল্লেখ যুক্ত করা হয়, তখন তালাক কার্যকর হওয়া সংখ্যার শব্দের ওপর নির্ভর করে, মূল শব্দের ওপর নয়। এমনকি যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে "আমি তোমাকে তালাক দিলাম তিন..." অথবা বলল "এক...", আর সংখ্যার উল্লেখ করার আগেই স্ত্রী মারা যায়, তবে কিছুই কার্যকর হবে না।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَبِهَذَا تبين أَن عمل هَذَا الْقرَان فِي التَّغْيِير وَالتَّفْسِير يكون مقررا للْحكم الْمُفَسّر لَا مغيرا يُحَقّق مَا ذَكرْنَاهُ أَن قَول الْقَائِل اضْرِب أَي اكْتسب ضربا وَقَوله طلق أَي أوقع طَلَاقا وَهَذِه صِيغَة فَرد فَلَا تحْتَمل الْجمع وَلَا توجبه وَفِي التّكْرَار وَالْعدَد جمع لَا محَالة والمغايرة بَين الْجمع والفرد على سَبِيل المضادة فَكَمَا أَن صِيغَة الْجمع لَا تحْتَمل الْفَرد حَقِيقَة فَكَذَا صِيغَة الْفَرد لَا تحْتَمل الْجمع حَقِيقَة بِمَنْزِلَة الِاسْم الْفَرد نَحْو قَوْلنَا زيد لَا يحْتَمل الْجمع وَالْعدَد فالبعض مِمَّا تتناوله هَذِه الصِّيغَة فَرد صُورَة وَمعنى وكل فَرد من حَيْثُ الْجِنْس معنى فَإنَّك إِذا قابلت هَذَا الْجِنْس بِسَائِر الْأَجْنَاس كَانَ جِنْسا وَاحِدًا وَهُوَ جمع صُورَة فَعِنْدَ عدم النِّيَّة لَا يتَنَاوَل إِلَّا الْفَرد صُورَة وَمعنى وَلَكِن فِيهِ احْتِمَال الْكل لكَون ذَلِك فَردا معنى بِمَنْزِلَة الْإِنْسَان فَإِنَّهُ فَرد لَهُ أَجزَاء وأبعاض وَالطَّلَاق أَيْضا فَرد جِنْسا وَله أَجزَاء وأبعاض فتعمل نِيَّة الْكل فِي الْإِيقَاع وَلَا تعْمل نِيَّة الثِّنْتَيْنِ أصلا لِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ معنى الفردية صُورَة وَلَا معنى فَلم يكن من محتملات الْكَلَام أصلا وعَلى هَذَا الأَصْل تخرج أَسمَاء الْأَجْنَاس مَا يكون مِنْهَا فَردا صُورَة أَو حكما

أما الصُّورَة فكالماء وَالطَّعَام إِذا حلف لَا يشرب مَاء أَو لَا يَأْكُل طَعَاما يَحْنَث بِأَدْنَى مَا يتَنَاوَلهُ الِاسْم على احْتِمَال الْكل حَتَّى إِذا نوى ذَلِك لم يَحْنَث أصلا

وَلَو نوى مِقْدَارًا من ذَلِك لم تعْمل نِيَّته لخلو الْمَنوِي عَن صِيغَة الفردية صُورَة وَمعنى والفرد حكما كاسم النِّسَاء إِذا حلف لَا يتَزَوَّج النِّسَاء فَهَذِهِ صِيغَة الْجمع وَلَكِن جعلت عبارَة عَن الْجِنْس مجَازًا لأَنا لَو جعلناها جمعا لم يبْق لحرف اللَّام الَّذِي هُوَ للمعهود فِيهِ فَائِدَة وَلَو جَعَلْنَاهُ جِنْسا كَانَ حرف الْعَهْد فِيهِ مُعْتَبرا فَإِنَّهُ يتَنَاوَل الْمَعْهُود من ذَلِك الْجِنْس وَيبقى معنى الْجمع مُعْتَبرا فِيهِ أَيْضا بِاعْتِبَار الْجِنْس فَيتَنَاوَل أدنى مَا ينْطَلق عَلَيْهِ اسْم الْجِنْس على احْتِمَال الْكل حَتَّى إِذا نَوَاه لم يَحْنَث قطّ وعَلى هَذَا لَو حلف لَا يَشْتَرِي العبيد أَو لَا يكلم بني آدم أَو وكل وَكيلا بِأَن يَشْتَرِي لَهُ الثِّيَاب فَإِن التَّوْكِيل صَحِيح بِخِلَاف مَا لَو وَكله بِأَن يَشْتَرِي لَهُ أثوابا على مَا بَيناهُ فِي الزِّيَادَات
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, পরিবর্তন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই অনুষঙ্গের কাজ হলো ব্যাখ্যাত বিধানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা, পরিবর্তন করা নয়। এটি আমাদের সেই বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করে যে, কোনো বক্তার উক্তি 'প্রহার করো' এর অর্থ হলো 'প্রহার অর্জন করো', এবং তার উক্তি 'তালাক দাও' এর অর্থ হলো 'তালাক পতিত করো'। আর এটি একটি একবচনের রূপ, যা বহুবচনের সম্ভাবনা রাখে না এবং তা আবশ্যকও করে না। তবে পুনরাবৃত্তি ও সংখ্যার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বহুবচন বিদ্যমান। একবচন ও বহুবচনের মধ্যকার ভিন্নতা হলো বৈপরীত্যের ভিত্তিতে। সুতরাং, বহুবচনের রূপ যেভাবে প্রকৃত অর্থে একবচনের সম্ভাবনা রাখে না, তেমনি একবচনের রূপও প্রকৃত অর্থে বহুবচনের সম্ভাবনা রাখে না; যেমন একক নাম—উদাহরণস্বরূপ 'যায়েদ'—যা বহুবচন ও সংখ্যার সম্ভাবনা রাখে না। সুতরাং এই শব্দরূপটি যা কিছুকে শামিল করে, তার কিছু অংশ রূপ ও অর্থের দিক থেকে একবচন। আর প্রতিটি একক সত্তা শ্রেণির (জিনস) দিক থেকে একটি অর্থ বহন করে। কেননা আপনি যখন এই শ্রেণিকে অন্য সব শ্রেণির বিপরীতে স্থাপন করবেন, তখন এটি একটি একক শ্রেণি হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা রূপগতভাবে বহুবচন। সুতরাং নিয়ত না থাকলে এটি রূপ ও অর্থের দিক থেকে কেবল একবচনকেই শামিল করবে। তবে এতে 'সমগ্র' বা 'কুল'-এর সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এটি অর্থগতভাবে একবচন; যেমন 'মানুষ', যা একক হলেও তার বিভিন্ন অংশ ও অবয়ব রয়েছে। তালাকও শ্রেণির দিক থেকে একবচন এবং এরও বিভিন্ন অংশ ও দিক রয়েছে। ফলে তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে 'সমগ্র' বা তিন তালাকের নিয়ত কার্যকর হবে, কিন্তু দুইয়ের নিয়ত মোটেও কার্যকর হবে না। কারণ এতে রূপগত বা অর্থগত কোনোভাবেই দ্বিবচনের অর্থ নেই, ফলে তা শব্দের সম্ভাব্য অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই সেই সব জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহ নির্গত হয় যা রূপগত বা বিধানগতভাবে একবচন।

রূপগত একবচনের উদাহরণ হলো পানি ও খাদ্য। যদি কেউ শপথ করে যে সে 'পানি পান করবে না' বা 'খাবার খাবে না', তবে সেই নামের অন্তর্ভুক্ত ন্যূনতম কিছু গ্রহণের দ্বারাই তার শপথ ভঙ্গ হবে, যদিও এতে 'সমগ্র' বা সবটুকু পানির সম্ভাবনাও থাকে। এমনকি সে যদি সবটুকু পান করার নিয়ত করে, তবে (ন্যূনতম পানে) তার শপথ ভঙ্গ হবে না।

আর সে যদি এর নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণের নিয়ত করে, তবে তার নিয়ত কার্যকর হবে না; কারণ যা নিয়ত করা হয়েছে তা রূপগত ও অর্থগত একবচনের রূপ থেকে মুক্ত। আর বিধানগত একবচন হলো 'নিসা' (নারীগণ) শব্দের মতো। কেউ যদি শপথ করে যে সে 'নারীদের বিবাহ করবে না', তবে এটি বহুবচনের শব্দরূপ হলেও রূপকভাবে একে জাতিবাচক বা শ্রেণির অভিব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারণ আমরা যদি একে বহুবচন হিসেবে গণ্য করি, তবে এতে থাকা 'লাম' অক্ষরটি—যা পরিচিত নির্দিষ্ট কিছুর জন্য আসে—তার কোনো উপযোগিতা থাকে না। আর যদি আমরা একে জাতিবাচক শব্দ হিসেবে গণ্য করি, তবে পরিচিতি জ্ঞাপক অক্ষরটি এতে গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা তা ওই শ্রেণির পরিচিত বা নির্দিষ্ট অংশকে শামিল করবে এবং শ্রেণির বিবেচনায় এতে বহুবচনের অর্থও অবশিষ্ট থাকবে। ফলে এটি সেই জাতিবাচক নামের অন্তর্ভুক্ত ন্যূনতম অংশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যদিও এতে 'সমগ্র' বা সবটুকুর সম্ভাবনা থাকে। এমনকি সে যদি সমগ্রের নিয়ত করে, তবে সে কখনোই শপথ ভঙ্গকারী হবে না। এই ভিত্তিতেই, যদি কেউ শপথ করে যে সে 'দাসদের ক্রয় করবে না' কিংবা 'আদম সন্তানদের সাথে কথা বলবে না', অথবা কোনো প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যে সে তার জন্য 'কাপড়সমূহ' ক্রয় করবে, তবে এই প্রতিনিধিত্ব সহীহ হবে। এটি তার বিপরীত, যদি সে তাকে 'কয়েকটি কাপড়' ক্রয় করার দায়িত্ব দিত, যেমনটি আমরা 'আয-যিয়াদাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَحكي عَن عِيسَى بن أبان رحمه الله أَنه كَانَ يَقُول صِيغَة مُطلق الْأَمر فِيمَا لَهُ نِهَايَة مَعْلُومَة تحْتَمل التّكْرَار وَإِن كَانَ لَا يُوَجه إِلَّا بِالدَّلِيلِ وَفِيمَا لَيست لَهُ نِهَايَة مَعْلُومَة لَا تحْتَمل التّكْرَار لِأَن فِيمَا لَا نِهَايَة لَهُ يعلم يَقِينا أَن الْمُخَاطب لم يرد الْكل فَإِن ذَلِك لَيْسَ فِي وسع الْمُخَاطب وَلَا طَرِيق لَهُ إِلَى مَعْرفَته وَهَذَا نَحْو قَوْله صم وصل فَلَيْسَ لهَذَا الْجِنْس من الْفِعْل نِهَايَة مَعْلُومَة وَإِنَّمَا يعجز العَبْد عَن إِقَامَته بِمَوْتِهِ فَعرفنَا يَقِينا أَن المُرَاد بِهَذَا الْخطاب الْفَرد مِنْهُ خَاصَّة وَأما فِيمَا لَهُ نِهَايَة مَعْلُومَة كَالطَّلَاقِ وَالْعدة فَالْكل من محتملات الْخطاب وَذَلِكَ تَارَة يكون بتكرار التَّطْلِيق وَتارَة يكون بِالْجمعِ بَين التطليقات فِي اللَّفْظ فَيكون صِيغَة الْكَلَام مُحْتملا لَهُ كُله

وَخرج على هَذَا الأَصْل قَول الرجل لامْرَأَته أَنْت طَالِق للسّنة أَو للعدة فَإِنَّهُ يحْتَمل نِيَّة الثَّلَاث فِي الْإِيقَاع جملَة وَاحِدَة وَنِيَّة التّكْرَار فِي أَن يَنْوِي وُقُوع كل تَطْلِيقَة فِي طهر على حِدة

وَفِيمَا قَرَّرْنَاهُ من الْكَلَام دَلِيل على ضعف مَا ذهب إِلَيْهِ إِذا تَأَمَّلت

وَالْكَلَام فِي مُقْتَضى صِيغَة الْفَرد دون مَا إِذا قرن بِهِ مَا يدل على التَّغْيِير من قَوْله للسّنة أَو للعدة

وَاسْتدلَّ الْجَصَّاص رحمه الله على بطلَان قَول من يَقُول إِن مُطلق صِيغَة الْأَمر تَقْتَضِي التّكْرَار فَقَالَ بالامتثال مرّة وَاحِدَة يستجيز كل أحد أَن يَقُول إِنَّه أَتَى بالمأمور بِهِ وَخرج عَن مُوجب الْأَمر وَكَانَ مصيبا فِي ذَلِك فَلَو كَانَ مُوجبه التّكْرَار لَكَانَ آتِيَا بِبَعْض الْمَأْمُور بِهِ وَلَا معنى لقَوْل من يَقُول فَإِذا أَتَى بِهِ ثَانِيًا وثالثا يُقَال أَيْضا فِي الْعَادة أَتَى بالمأمور بِهِ لِأَن قَائِل هَذَا لَا يكون مصيبا فِي ذَلِك فِي الْحَقِيقَة فَإِن الْمُخَاطب فِي الْمرة الثَّانِيَة مُتَطَوّع من عِنْده بِمثل مَا كَانَ مَأْمُورا بِهِ لَا أَن يكون آتِيَا بالمأمور بِهِ بِمَنْزِلَة الْمُصَلِّي أَربع رَكْعَات فِي الْوَقْت بعد صَلَاة الظّهْر يكون مُتَطَوعا بِمثل مَا كَانَ مَأْمُورا بِهِ إِلَّا أَن الَّذِي يُسَمِّيه آتِيَا بالمأمور بِهِ إِنَّمَا يُسَمِّيه بذلك توسعا ومجازا فَلهَذَا لَا نُسَمِّيه كَاذِبًا وَالله أعلم
ঈসা ইবনে আবান (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: যে বিষয়ের একটি জানা সীমা রয়েছে, সেক্ষেত্রে আদেশের সাধারণ রূপ (সিগাহ) পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা রাখে, যদিও এটি দলিল ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। আর যে বিষয়ের কোনো জানা সীমা নেই, তা পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা রাখে না। কারণ, যার কোনো সীমা নেই, সেখানে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, সম্বোধনকারী সবটুকু উদ্দেশ্য করেননি; কেননা তা সম্বোধিত ব্যক্তির সাধ্যের বাইরে এবং তা জানার কোনো পথও তার নেই। এটি ‘রোজা রাখো’ ও ‘নামাজ পড়ো’ বলার মতো। এই জাতীয় কাজের কোনো জানা সীমা নেই; বান্দা কেবল তার মৃত্যুর মাধ্যমেই তা পালন করতে অক্ষম হয়। সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে জানলাম যে, এই সম্বোধনের মাধ্যমে কেবল একটি একক কাজই উদ্দেশ্য।

আর যে বিষয়ের জানা সীমা রয়েছে, যেমন তালাক ও ইদ্দত, সেখানে সবকিছুই সম্বোধনের সম্ভাব্যতার অন্তর্ভুক্ত। এটি কখনো তালাকের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয়, আবার কখনো শব্দে তালাকসমূহকে একত্রিত করার মাধ্যমে হয়। ফলে বাক্যের গঠনটি এর সবটুকুর সম্ভাবনা রাখে।

এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীকে বলা ‘তোমাকে সুন্নাহ অনুযায়ী বা ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দিলাম’ কথাটি নির্গত হয়। কেননা এটি একযোগে তিন তালাক প্রদানের নিয়ত এবং প্রতিটি পবিত্রতায় আলাদা আলাদাভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার নিয়ত—উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে।

আমরা যে আলোচনা সুপ্রতিষ্ঠিত করলাম, আপনি চিন্তা করলে তাতে তার মতামতের দুর্বলতার প্রমাণ পাবেন।

আর আলোচনাটি হলো একক শব্দের দাবি সম্পর্কে, তার সাথে ‘সুন্নাহ অনুযায়ী’ বা ‘ইদ্দত অনুযায়ী’ বলার মতো কোনো পরিবর্তনকারী বিষয় যুক্ত হওয়া সম্পর্কে নয়।

আল-জাসসাস (রহিমাহুল্লাহ) ঐ ব্যক্তির মতের অসারতার ওপর দলিল পেশ করেছেন যে বলে—আদেশের সাধারণ রূপ পুনরাবৃত্তি দাবি করে। তিনি বলেছেন: একবার পালন করার মাধ্যমেই প্রত্যেকে এ কথা বলার অনুমতি পায় যে, সে আদিষ্ট বিষয় সম্পাদন করেছে এবং আদেশের দাবি থেকে মুক্ত হয়েছে, আর সে এই উক্তিতে সঠিক। যদি আদেশের দাবি পুনরাবৃত্তি হতো, তবে সে আদিষ্ট বিষয়ের কেবল আংশিক সম্পাদনকারী হিসেবে গণ্য হতো। আর যারা বলে—দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার পালন করলেও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তাকে ‘আদিষ্ট বিষয় সম্পাদনকারী’ বলা হয়, তাদের এই কথার কোনো অর্থ নেই। কারণ এই বক্তা প্রকৃত অর্থে সঠিক নয়। কেননা দ্বিতীয়বার পালন করার সময় সম্বোধিত ব্যক্তি তার নিজের পক্ষ থেকে আদিষ্ট বিষয়ের অনুরূপ একটি কাজ স্বেচ্ছায় পালনকারী মাত্র; সে আদিষ্ট বিষয়টির মূল সম্পাদনকারী নয়। এটি যোহরের নামাজের পর ওয়াক্তের মধ্যে চার রাকাত নামাজ আদায়কারীর মতো, যে আদিষ্ট বিষয়ের অনুরূপ কাজ স্বেচ্ছায় পালন করে। তবে যে ব্যক্তি তাকে ‘আদিষ্ট বিষয় সম্পাদনকারী’ বলে, সে মূলত প্রশস্ততা ও রূপক অর্থে তা বলে থাকে। এই কারণে আমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলব না। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌فصل فِي بَيَان مُوجب الْأَمر فِي حكم الْوَقْت

 

الْأَمر نَوْعَانِ مُطلق عَن الْوَقْت ومقيد بِهِ فنبدأ بِبَيَان الْمُطلق قَالَ رضي الله عنه وَالَّذِي يَصح عِنْدِي فِيهِ من مَذْهَب عُلَمَائِنَا رحمهم الله أَنه على التَّرَاخِي فَلَا يثبت حكم وجوب الْأَدَاء على الْفَوْر بِمُطلق الْأَمر نَص عَلَيْهِ فِي الْجَامِع فَقَالَ فِيمَن نذر أَن يعْتَكف شهرا يعْتَكف أَي شهر شَاءَ وَكَذَلِكَ لَو نذر أَن يَصُوم شهرا

وَالْوَفَاء بِالنذرِ وَاجِب بِمُطلق الْأَمر

وَفِي كتاب الصَّوْم أَشَارَ فِي قَضَاء رَمَضَان إِلَى أَنه يقْضِي مَتى شَاءَ وَفِي الزَّكَاة وَصدقَة الْفطر وَالْعشر الْمَذْهَب مَعْلُوم فِي أَنه لَا يصير مفرطا بِتَأْخِير الْأَدَاء وَأَن لَهُ أَن يبْعَث بهَا إِلَى فُقَرَاء قرَابَته فِي بَلْدَة أُخْرَى

وَكَانَ أَبُو الْحسن الْكَرْخِي رحمه الله يَقُول مُطلق الْأَمر يُوجب الْأَدَاء على الْفَوْر وَهُوَ الظَّاهِر من مَذْهَب الشَّافِعِي رحمه الله فقد ذكر فِي كِتَابه إِنَّا استدللنا بِتَأْخِير رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْحَج مَعَ الْإِمْكَان على أَن وقته موسع وَهَذَا مِنْهُ إِشَارَة إِلَى أَن مُوجب مُطلق الْأَمر على الْفَوْر حَتَّى يقوم الدَّلِيل

وَبَعض أَصْحَاب الشَّافِعِي يَقُول هُوَ مَوْقُوف على الْبَيَان لِأَنَّهُ لَيْسَ فِي الصِّيغَة مَا ينبىء عَن الْوَقْت فَيكون مُجملا فِي حَقه وَهَذَا فَاسد جدا فَإِنَّهُم يوافقونا على ثُبُوت أصل الْوَاجِب بِمُطلق الْأَمر وَذَلِكَ يُوجب الْأَدَاء عِنْد الْإِمْكَان وَلَا إِمْكَان إِلَّا بِوَقْت فَثَبت بِدَلِيل الْإِشَارَة إِلَى الْوَقْت بِهَذَا الطَّرِيق

ثمَّ بِهَذَا الْكَلَام يسْتَدلّ الْكَرْخِي فَيَقُول وَقت الْأَدَاء ثَابت بِمُقْتَضى الْحَال وَمُقْتَضى الْحَال دون مُقْتَضى اللَّفْظ وَلَا عُمُوم لمقْتَضى اللَّفْظ فَكَذَلِك لَا عُمُوم لما ثَبت بِمُقْتَضى الْحَال وَأول أَوْقَات إِمْكَان الْأَدَاء مُرَاد بالِاتِّفَاقِ حَتَّى لَو أدّى فِيهِ كَانَ ممتثلا لِلْأَمْرِ فَلَا يثبت مَا بعده مرَادا إِلَّا بِدَلِيل يُوضحهُ أَن التَّخْيِير يَنْتَفِي بِمُطلق الْأَمر بَين الْأَدَاء وَالتّرْك
সময়ের বিধানের ক্ষেত্রে আদেশের চাহিদাবর্ণনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

আদেশ দুই প্রকার: সময় থেকে মুক্ত এবং সময়ের সাথে শর্তযুক্ত। সুতরাং আমরা সময়ের শর্তমুক্ত আদেশের বর্ণনা দিয়ে শুরু করছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, আমাদের ওলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) মাযহাব অনুযায়ী এ বিষয়ে আমার নিকট যা সঠিক তা হলো—এটি বিলম্বিতভাবে আদায়যোগ্য। সুতরাং সাধারণ আদেশের মাধ্যমে অবিলম্বে আদায়ের বিধান সাব্যস্ত হয় না। ‘আল-জামি’ গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে; সেখানে তিনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে এক মাস ইতিকাফ করার মানত করেছে—সে তার ইচ্ছামতো যে কোনো মাসে ইতিকাফ করতে পারবে। অনুরূপভাবে যদি সে এক মাস রোজা রাখার মানত করে।

আর মানত পূর্ণ করা সাধারণ আদেশের ভিত্তিতেই ওয়াজিব।

রোজার কিতাবে রমজানের কাজার বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ব্যক্তি যখন ইচ্ছা তা কাজা করতে পারবে। আর জাকাত, সদকাতুল ফিতর এবং ওশরের ক্ষেত্রে মাযহাবের জানা মত হলো—আদায় করতে বিলম্ব করার কারণে সে অবহেলাকারী হিসেবে গণ্য হবে না এবং অন্য শহরের দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের কাছে তা পাঠানোর অধিকার তার রয়েছে।

আবু হাসান আল-কারখী (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলতেন, সাধারণ বা অনির্ধারিত আদেশ অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব করে। ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-এর মাযহাবের প্রকাশ্য মতও এটিই। কারণ তিনি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ বিলম্বিত করার দ্বারা আমরা এই দলিল পেশ করেছি যে, হজের সময় প্রশস্ত। তাঁর এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কোনো দলিল না থাকা পর্যন্ত সাধারণ আদেশের চাহিদা হলো অবিলম্বে আদায় করা।

ইমাম শাফেয়ীর কোনো কোনো অনুসারী বলেন, এটি স্পষ্ট ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল; কারণ শব্দের কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা সময় সম্পর্কে অবগত করে, ফলে সময়ের ক্ষেত্রে এটি অস্পষ্ট বা মুজমাল হিসেবে গণ্য হবে। এই মতটি অত্যন্ত অসার; কেননা তারা সাধারণ আদেশের মাধ্যমে মূল ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আমাদের সাথে একমত। আর ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়া সক্ষমতা থাকা অবস্থায় তা আদায়ের দাবি রাখে, আর সময় ছাড়া সক্ষমতা সম্ভব নয়। সুতরাং এই উপায়ে ইঙ্গিতের দলিলে সময় সাব্যস্ত হয়ে যায়।

অতঃপর আল-কারখী এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করে বলেন যে, আদায়ের সময়টি উপস্থিত অবস্থার চাহিদায় সাব্যস্ত হয়। আর অবস্থার চাহিদা শব্দের চাহিদার তুলনায় নিম্নতর। শব্দের চাহিদাতে যেহেতু ব্যাপকতা নেই, তেমনি অবস্থার চাহিদায় যা সাব্যস্ত হয় তাতেও ব্যাপকতা থাকবে না। আর আদায়ের সক্ষমতার প্রথম সময়টি সর্বসম্মতভাবে উদ্দেশ্য, এমনকি যদি কেউ সেই সময়েই আদায় করে তবে সে আদেশের অনুসারী বলে গণ্য হবে। সুতরাং এর পরবর্তী সময়গুলো উদ্দেশ্য হিসেবে ততক্ষণ সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না কোনো দলিল তা স্পষ্ট করে যে, সাধারণ আদেশের মাধ্যমে আদায় করা বা বর্জন করার মধ্যকার ইচ্ছাধিকার রহিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فَيثبت هَذَا الحكم وَهُوَ انْتِفَاء التَّخْيِير فِي أول أَوْقَات إِمْكَان الْأَدَاء كَمَا ثَبت حكم الْوُجُوب والتفويت حرَام بالِاتِّفَاقِ وَفِي هَذَا التَّأْخِير تَفْوِيت لِأَنَّهُ لَا يدْرِي أيقدر على الْأَدَاء فِي الْوَقْت الثَّانِي أَو لَا يقدر وبالاحتمال الثَّانِي لَا يثبت التَّمَكُّن من الْأَدَاء على وَجه يكون مُعَارضا للمتيقن بِهِ فَيكون تَأْخِيره عَن أول أَوْقَات الْإِمْكَان تفويتا وَلِهَذَا اسْتحْسنَ ذمه على ذَلِك إِذا عجز عَن الْأَدَاء وَلِأَن الْأَمر بِالْأَدَاءِ يفيدنا الْعلم بِالْمَصْلَحَةِ فِي الْأَدَاء وَتلك الْمصلحَة تخْتَلف باخْتلَاف الْأَوْقَات وَلِهَذَا جَازَ النّسخ فِي الْأَمر وَالنَّهْي وبمطلق الْأَمر يثبت الْعلم بِالْمَصْلَحَةِ فِي الْأَدَاء فِي أول أَوْقَات الْإِمْكَان وَلَا يثبت الْمُتَيَقن بِهِ فِيمَا بعده

ثمَّ الْمُتَعَلّق بِالْأَمر اعْتِقَاد الْوُجُوب وَأَدَاء الْوَاجِب وَأَحَدهمَا وَهُوَ الِاعْتِقَاد يثبت بِمُطلق الْأَمر للْحَال فَكَذَلِك الثَّانِي وَاعْتبر الْأَمر بِالنَّهْي والانتهاء الْوَاجِب بِالنَّهْي يثبت على الْفَوْر فَكَذَلِك الائتمار الْوَاجِب بِالْأَمر

وَحجَّتنَا فِي ذَلِك أَن قَول الْقَائِل لعَبْدِهِ افْعَل كَذَا السَّاعَة يُوجب الائتمار على الْفَوْر وَهَذَا أَمر مُقَيّد وَقَوله افْعَل مُطلق وَبَين الْمُطلق والمقيد مُغَايرَة على سَبِيل الْمُنَافَاة فَلَا يجوز أَن يكون حكم الْمُطلق مَا هُوَ حكم الْمُقَيد فِيمَا يثبت التَّقْيِيد بِهِ لِأَن فِي ذَلِك إِلْغَاء صفة الْإِطْلَاق وَإِثْبَات التَّقْيِيد من غير دَلِيل فَإِنَّهُ لَيْسَ فِي الصِّيغَة مَا يدل على التَّقْيِيد فِي وَقت الْأَدَاء فإثباته يكون زِيَادَة وَهُوَ نَظِير تَقْيِيد الْمحل فَإِن من قَالَ لعَبْدِهِ تصدق بِهَذَا الدِّرْهَم على أول فَقير يدْخل يلْزمه أَن يتَصَدَّق على أول من يدْخل إِذا كَانَ فَقِيرا وَلَو قَالَ تصدق بِهَذَا الدِّرْهَم لم يلْزمه أَن يتَصَدَّق بِهِ على أول فَقير يدْخل وَكَانَ لَهُ أَن يتَصَدَّق بِهِ على أَي فَقير شَاءَ لِأَن الْأَمر مُطلق فتعيين الْمحل فِيهِ يكون زِيَادَة وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه يتَحَقَّق الِامْتِثَال بِالْأَدَاءِ فِي أَي جُزْء عينه من أَوْقَات الْإِمْكَان فِي عمره وَلَو تعين للْأَدَاء الْجُزْء الأول لم يكن ممتثلا بِالْأَدَاءِ بعده وَفِي اتِّفَاق الْكل
সুতরাং এই বিধানটি সাব্যস্ত হয়, আর তা হলো আদায়ের সক্ষমতা হওয়ার প্রথম সময়ে ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ না থাকা, যেমনটি ওয়াজিব হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয়। আর ঐকমত্য অনুযায়ী ওয়াজিব নষ্ট করা হারাম। আর এই বিলম্বের মধ্যে ওয়াজিব নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিদ্যমান, কারণ সে জানে না যে দ্বিতীয় সময়ে সে আদায়ের সক্ষমতা লাভ করবে কি না। আর দ্বিতীয় সম্ভাবনার মাধ্যমে আদায়ের সক্ষমতা এমনভাবে সাব্যস্ত হয় না যা সুনিশ্চিত বিষয়ের পরিপন্থী হতে পারে। অতএব, সক্ষমতার প্রথম সময় থেকে বিলম্ব করা ওয়াজিব নষ্ট করার নামান্তর। একারণেই সে যদি আদায়ে অক্ষম হয়ে পড়ে তবে তাকে তিরস্কার করা উত্তম মনে করা হয়েছে। আর যেহেতু আদায়ের নির্দেশ আমাদের আদায়ের মধ্যকার মাসলাহাত বা কল্যাণের জ্ঞান প্রদান করে, আর সেই কল্যাণ সময়ের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই কারণেই আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (মানসুখ হওয়া) জায়েজ। আর নিঃশর্ত আদেশের মাধ্যমে সক্ষমতার প্রথম সময়ে আদায়ের কল্যাণের জ্ঞান সাব্যস্ত হয়, কিন্তু এর পরবর্তী সময়ের ব্যাপারে তা সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয় না।

অতঃপর আদেশের সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা হলো ওয়াজিব হওয়ার বিশ্বাস এবং ওয়াজিব আদায় করা। এর মধ্যে একটি অর্থাৎ বিশ্বাস স্থাপন করা নিঃশর্ত আদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সাব্যস্ত হয়, তেমনিভাবে দ্বিতীয়টিও সাব্যস্ত হবে। আর আদেশের বিষয়টি নিষেধের মাধ্যমে বিবেচনা করুন; নিষেধের মাধ্যমে বর্জন করা (ইনতিহা) যেমন তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তদ্রূপ আদেশের মাধ্যমে আনুগত্য করাও (আইতিমার) তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

এ বিষয়ে আমাদের দলিল হলো—কোনো ব্যক্তির তার দাসের উদ্দেশ্যে বলা যে "এই মুহূর্তে এটি করো", তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুগত্য করা ওয়াজিব করে। এটি একটি শর্তযুক্ত আদেশ। আর তার উক্তি "করো" এটি নিঃশর্ত। আর নিঃশর্ত (মুতলাক) ও শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ)-এর মধ্যে বৈপরীত্যের ভিত্তিতে ভিন্নতা বিদ্যমান। সুতরাং যে বিষয়ে শর্ত সাব্যস্ত হয়, সেখানে মুকাইয়্যাদ-এর যে বিধান তা মুতলাক-এর বিধান হওয়া জায়েজ নয়। কারণ এতে নিঃশর্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যকে বাতিল করা এবং কোনো দলিল ছাড়াই শর্ত সাব্যস্ত করা হবে। কেননা শব্দের গঠনের (সিগাহ) মধ্যে আদায়ের সময়ের ব্যাপারে শর্তযুক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং তা সাব্যস্ত করা হবে একটি অতিরিক্ত বিষয়। আর এটি নির্দিষ্ট স্থানের শর্তযুক্ত হওয়ার অনুরূপ। যেমন, কেউ যদি তার দাসের উদ্দেশ্যে বলে যে "প্রথম যে দরিদ্র ব্যক্তি প্রবেশ করবে তাকে এই দিরহামটি দান করো", তবে প্রথম প্রবেশকারী ব্যক্তি যদি দরিদ্র হয় তবে তাকেই দান করা তার জন্য আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি সে বলে "এই দিরহামটি দান করো", তবে প্রথম প্রবেশকারী দরিদ্র ব্যক্তিকেই তা দান করা তার জন্য আবশ্যক হবে না। বরং সে যে কোনো দরিদ্রকে ইচ্ছা দান করতে পারবে। কারণ নির্দেশটি নিঃশর্ত, তাই এতে নির্দিষ্ট পাত্র নির্ধারণ করা অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। এর প্রমাণ হলো—সে তার জীবনের সক্ষমতার সময়ের মধ্য থেকে যে কোনো অংশেই তা আদায় করুক না কেন, তার মাধ্যমে নির্দেশ পালন সাব্যস্ত হবে। যদি আদায়ের জন্য প্রথম অংশটিই নির্দিষ্ট হতো, তবে এর পরবর্তী সময়ে আদায়ের মাধ্যমে সে নির্দেশ পালনকারী সাব্যস্ত হতো না। আর এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
على أَنه مؤدي الْوَاجِب مَتى أَدَّاهُ إِيضَاح لما قُلْنَا

وَبِهَذَا تبين فَسَاد مَا قَالَ إِن الْمصلحَة فِي الْأَدَاء غير مَعْلُوم إِلَّا فِي أول أَوْقَات الْإِمْكَان فَإِن الْمُطَالبَة بِالْأَدَاءِ وامتثال الْأَمر لَا يحصل إِلَّا بِهِ أَلا ترى أَن بعد الانتساخ لَا يبْقى ذَلِك فَعرفنَا أَن بِمُطلق الْأَمر يصير معنى الْمصلحَة فِي الْأَدَاء مَعْلُوما لَهُ فِي أَي جُزْء أَدَّاهُ من عمره مَا لم يظْهر ناسخه والتفويت حرَام كَمَا قَالَ إِلَّا أَن الْفَوات لَا يتَحَقَّق إِلَّا بِمَوْتِهِ وَلَيْسَ فِي مُجَرّد التَّأْخِير تَفْوِيت لِأَنَّهُ مُتَمَكن من الْأَدَاء فِي كل جُزْء يُدْرِكهُ من الْوَقْت بعد الْجُزْء الأول حسب تمكنه فِي الْجُزْء الأول وَمَوْت الْفجأَة نَادِر وَبِنَاء الْأَحْكَام على الظَّاهِر دون النَّادِر

فَإِن قيل فوقت الْمَوْت غير مَعْلُوم لَهُ وبالإجماع بعد التَّمَكُّن من الْأَدَاء إِذا لم يؤد حَتَّى مَاتَ يكون مفرطا مفوتا آثِما فِيمَا صنع فبه يتَبَيَّن أَنه لَا يَسعهُ التَّأْخِير

قُلْنَا الْوُجُوب ثَابت بعد الْأَمر وَالتَّأْخِير فِي الْأَدَاء مُبَاح لَهُ بِشَرْط أَن لَا يكون تفويتا وَتَقْيِيد الْمُبَاح بِشَرْط فِيهِ خطر مُسْتَقِيم فِي الشَّرْع كالرمي إِلَى الصَّيْد مُبَاح بِشَرْط أَن لَا يُصِيب آدَمِيًّا وَهَذَا لِأَنَّهُ مُتَمَكن من ترك هَذَا التَّرَخُّص بِالتَّأْخِيرِ وَلَا يُنكر كَونه مَنْدُوبًا للمسارعة إِلَى الْأَدَاء

قَالَ الله تَعَالَى {فاستبقوا الْخيرَات} فَقُلْنَا بِأَنَّهُ يتَمَكَّن من الْبناء على الظَّاهِر من التَّأْخِير مَا دَامَ يَرْجُو أَن يبْقى حَيا عَادَة وَإِن مَاتَ كَانَ مفرطا لتمكنه من ترك التَّرَخُّص بِالتَّأْخِيرِ

ثمَّ هَذَا الحكم إِنَّمَا يثبت فِيمَا لَا يكون مُسْتَغْرقا لجَمِيع الْعُمر فَأَما مَا يكون مُسْتَغْرقا لَهُ فَلَا يتَحَقَّق فِيهِ هَذَا الْمَعْنى واعتقاد الْوُجُوب مُسْتَغْرق جَمِيع الْعُمر وَكَذَلِكَ الِانْتِهَاء الَّذِي هُوَ مُوجب النَّهْي يسْتَغْرق جَمِيع الْعُمر

فَأَما أَدَاء الْوَاجِب فَلَا يسْتَغْرق جَمِيع الْعُمر فَلَا يتَعَيَّن للْأَدَاء جُزْء من الْعُمر إِلَّا بِدَلِيل فَإِن جَمِيع الْعُمر فِي أَدَاء هَذَا الْوَاجِب كجميع وَقت الصَّلَاة لأَدَاء الصَّلَاة وَهُنَاكَ لَا يتَعَيَّن الْجُزْء الأول من الْوَقْت للْأَدَاء فِيهِ على وَجه لَا يَسعهُ التَّأْخِير عَنهُ فَكَذَلِك هَهُنَا

وَمن أَصْحَابنَا من جعل هَذَا الْفَصْل على الْخلاف الْمَشْهُور بَين أَصْحَابنَا فِي الْحَج
একজন ব্যক্তি যখনই ওয়াজিব আদায় করে, তখনই সে তার দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে গণ্য হয়—এটি আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে সেই মতের অসারতা প্রমাণিত হয় যাতে বলা হয়েছে যে, প্রথম সম্ভাব্য সময় ব্যতীত ওয়াজিব আদায়ের কল্যাণকর দিকটি (মাসলাহাত) অজ্ঞাত থাকে; কারণ নির্দেশের দাবি এবং আনুগত্য কেবল তখনই অর্জিত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, হুকুম রহিত হওয়ার (নাসখ) পর সেই দাবি আর অবশিষ্ট থাকে না? সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, সাধারণ নির্দেশের (মুতলাক আমর) মাধ্যমে আদায়ের কল্যাণের বিষয়টি বান্দার কাছে তার জীবনের যেকোনো অংশে আদায়ের ক্ষেত্রে জ্ঞাত হয়ে যায়, যতক্ষণ না এর রহিতকারী কোনো বিধান প্রকাশ পায়। আর সুযোগ নষ্ট করা (তাফউীত) হারাম যেমনটি বলা হয়েছে; তবে মৃত্যু ব্যতীত সুযোগ নষ্ট হওয়া বা সময় ফুরিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হয় না। কেবল বিলম্ব করার মাধ্যমে সুযোগ নষ্ট হয় না, কারণ প্রথম মুহূর্তের সক্ষমতার ন্যায় সে পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্তেই তা আদায়ে সক্ষম। আর আকস্মিক মৃত্যু একটি বিরল ঘটনা, আর শরয়ি বিধিবিধান বিরল ঘটনার ওপর নয় বরং বাহ্যিক ও স্বাভাবিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

যদি বলা হয় যে, মৃত্যুর সময় তো বান্দার জানা নেই। আর ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদায়ে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যদি সে আদায় না করে এবং এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সে যা করেছে তার কারণে সে অবহেলাকারী, সুযোগ নষ্টকারী এবং পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় যে, তার জন্য বিলম্ব করার অবকাশ নেই।

আমরা বলি, নির্দেশের মাধ্যমেই ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় এবং তা আদায়ে বিলম্ব করা বান্দার জন্য বৈধ (মুবাহ), তবে শর্ত হলো তা যেন সুযোগ নষ্ট করার (তাফউীত) পর্যায়ে না পৌঁছে। কোনো বৈধ কাজকে এমন শর্তের সাথে যুক্ত করা যাতে ঝুঁকি বিদ্যমান—তা শরিয়তে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়। যেমন শিকারের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ করা বৈধ, তবে শর্ত হলো তা যেন কোনো মানুষের গায়ে না লাগে। এটি এজন্য যে, বিলম্ব করার এই সুযোগ বা রুখসত পরিত্যাগ করতে সে সক্ষম। আর দ্রুত আদায়ের (মুসারায়াত) দিকে ধাবিত হওয়া যে উত্তম বা মানদুব, তা অস্বীকার করা যায় না।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমরা ভালো কাজের দিকে প্রতিযোগিতা করো।" সুতরাং আমরা বলি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা স্বাভাবিকভাবে জীবিত থাকার আশা রাখে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বের ক্ষেত্রে বাহ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করা তার জন্য সম্ভব। তবে যদি সে মারা যায়, তবে সে অবহেলাকারী হিসেবে গণ্য হবে, কারণ বিলম্বের এই ছাড় বা রুখসত ত্যাগ করার সক্ষমতা তার ছিল।

পক্ষান্তরে ওয়াজিব আদায় করার বিষয়টি পুরো জীবনকে পরিব্যপ্ত করে না। সুতরাং কোনো স্বতন্ত্র দলীল ব্যতীত আদায়ে সক্ষম হওয়ার জন্য জীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত হয় না। কারণ এই ওয়াজিব আদায়ের ক্ষেত্রে পুরো জীবন হলো সালাত আদায়ের জন্য সালাতের পুরো ওয়াক্তের ন্যায়। সেখানে যেমন আদায়ের জন্য ওয়াক্তের প্রথম অংশ এমনভাবে নির্দিষ্ট নয় যে বিলম্ব করা জায়েয হবে না, এখানেও বিষয়টি ঠিক তদ্রূপ।

আমাদের কোনো কোনো ফকিহ এই অধ্যায়টিকে হজ্জের ব্যাপারে আমাদের ইমামদের মধ্যে বিদ্যমান প্রসিদ্ধ মতভেদের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أَنه على الْفَوْر أم على التَّرَاخِي قَالَ رضي الله عنه وَعِنْدِي أَن هَذَا غلط من قَائِله فَالْأَمْر بأَدَاء الْحَج لَيْسَ بِمُطلق بل هُوَ موقت بأشهر الْحَج وَهِي شَوَّال وَذُو الْقعدَة وَعشر من ذِي الْحجَّة وَقد بَينا أَن الْمُطلق غير الْمُقَيد بِوَقْت وَلَا خلاف أَن وَقت أَدَاء الْحَج أشهر الْحَج

ثمَّ قَالَ أَبُو يُوسُف رحمه الله تتَعَيَّن أشهر الْحَج من السّنة الأولى للْأَدَاء إِذا تمكن مِنْهُ وَقَالَ مُحَمَّد رحمه الله لَا تتَعَيَّن ويسعه التَّأْخِير وَعَن أبي حنيفَة رضي الله عنه فِيهِ رِوَايَتَانِ ف مُحَمَّد يَقُول الْحَج فرض الْعُمر وَوقت أَدَائِهِ أشهر الْحَج من سنة من سني الْعُمر وَهَذَا الْوَقْت متكرر فِي عمر الْمُخَاطب فَلَا يجوز تعْيين أشهر الْحَج من السّنة الأولى إِلَّا بِدَلِيل وَالتَّأْخِير عَنْهَا لَا يكون تفويتا بِمَنْزِلَة تَأْخِير قَضَاء رَمَضَان

وَتَأْخِير صَوْم الشَّهْرَيْنِ فِي الْكَفَّارَة فالأيام والشهور تَتَكَرَّر فِي الْعُمر وَلَا يكون مُجَرّد التَّأْخِير فِيهَا تفويتا فَكَذَلِك الْحَج أَلا ترى أَنه مَتى أدّى كَانَ مُؤديا للْمَأْمُور

وَأَبُو يُوسُف يَقُول أشهر الْحَج من السّنة الأولى بعد الْإِمْكَان مُتَعَيّن الْأَدَاء لِأَنَّهُ فَرد فِي هَذَا الحكم لَا مُزَاحم لَهُ وَإِنَّمَا يتَحَقَّق التَّعَارُض وينعدم التَّعْيِين بِاعْتِبَار الْمُزَاحمَة وَلَا يدْرِي أَنه هَل يبْقى إِلَى السّنة الثَّانِيَة ليَكُون أشهر الْحَج مِنْهَا من جملَة عمره أم لَا وَمَعْلُوم أَن الْمُحْتَمل لَا يُعَارض المتحقق فَإِذا ثَبت انْتِفَاء الْمُزَاحمَة كَانَت هَذِه الْأَشْهر متعينة للْأَدَاء فالتأخير عَنْهَا يكون تفويتا كتأخيرة الصَّلَاة عَن الْوَقْت وَالصَّوْم عَن الشَّهْر إِلَّا أَنه إِذا بَقِي حَيا إِلَى أشهر الْحَج من السّنة الثَّانِيَة فقد تحققت الْمُزَاحمَة الْآن وَتبين أَن الأولى لم تكن متعينة فَلهَذَا كَانَ مُؤديا فِي السّنة الثَّانِيَة وَقَامَ أشهر الْحَج من هَذِه السّنة مقَام الأولى فِي التَّعْيِين لِأَنَّهُ لَا يتَصَوَّر الْأَدَاء فِي وَقت مَاض وَلَا يدْرِي أيبقى بعد هَذَا أم لَا وَهَذَا بِخِلَاف الْأَمر الْمُطلق فبالتأخير عَن أول أَوْقَات الْإِمْكَان لَا يَزُول تمكنه من الْأَدَاء هُنَاكَ وَهَهُنَا يَزُول تمكنه من الْأَدَاء بِمُضِيِّ يَوْم عَرَفَة إِلَى أَن يدْرك هَذَا الْيَوْم من السّنة الثَّانِيَة وَلَا يدْرِي أيدركه أم لَا وَبِخِلَاف قَضَاء رَمَضَان فتأخيره عَن الْيَوْم الأول لَا يكون تفويتا أَيْضا لتمكنه مِنْهُ فِي الْيَوْم الثَّانِي وَلَا يُقَال بمجيء اللَّيْل يَزُول تمكنه ثمَّ لَا يدْرِي أيدرك الْيَوْم الثَّانِي أم لَا لِأَن الْمَوْت فِي لَيْلَة وَاحِدَة قبل
এটি অবিলম্বে আদায়যোগ্য নাকি বিলম্বে আদায়যোগ্য? তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমার মতে, এটি যিনি বলেছেন তাঁর পক্ষ থেকে একটি ভুল। কেননা হজ আদায়ের নির্দেশটি নিঃশর্ত বা সাধারণ নয়, বরং এটি হজের মাসসমূহের মাধ্যমে সময় নির্ধারিত। আর হজের মাসসমূহ হলো শওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের দশ দিন। আমরা ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা করেছি যে, নিঃশর্ত (মুতলাক) বিষয়টি সময় দ্বারা সীমাবদ্ধ (মুকাইয়্যাদ) বিষয় থেকে ভিন্ন। আর এতে কোনো মতভেদ নেই যে, হজ আদায়ের সময় হলো হজের মাসসমূহ।

অতঃপর ইমাম আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: যদি সক্ষমতা থাকে, তবে প্রথম বছরের হজের মাসগুলোই আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: তা নির্দিষ্ট হয় না এবং বিলম্বে আদায়ের অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ বলেন: হজ হলো জীবনের একটি ফরজ ইবাদত এবং তা আদায়ের সময় হলো জীবনের কোনো এক বছরের হজের মাসসমূহ। আর এই সময়টি সম্বোধিত ব্যক্তির জীবনে বারবার ফিরে আসে। সুতরাং দলিল ছাড়া প্রথম বছরের হজের মাসসমূহকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া বৈধ নয়। আর প্রথম বছর থেকে বিলম্ব করা সময় বিনষ্টকারী (তাফউইত) হবে না, যেমনটি রমজানের কাজা আদায়ে বিলম্ব করার মতো।

এবং কাফফারার দুই মাস রোজা রাখতে বিলম্ব করার মতো। কেননা দিন ও মাসসমূহ জীবনে বারবার ফিরে আসে এবং এগুলোতে কেবল বিলম্ব করা সময় বিনষ্টকারী হয় না। হজের বিষয়টিও তদ্রূপ। আপনি কি দেখছেন না যে, সে যখনই তা আদায় করবে, তখন সে আদিষ্ট বিষয়টির আদায়কারী হিসেবেই গণ্য হবে?

ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: সক্ষম হওয়ার পর প্রথম বছরের হজের মাসসমূহ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট, কারণ এই বিধানের ক্ষেত্রে এটি একক এবং এর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিকল্প নেই। মূলত বৈপরীত্য তখনই সৃষ্টি হয় এবং নির্দিষ্টতা তখনই বিলুপ্ত হয় যখন বিকল্পের উপস্থিতি বিবেচনায় আসে। অথচ সে জানে না যে সে দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে কি না, যাতে সেই বছরের হজের মাসগুলো তার আয়ুর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর এটি জানা কথা যে, সম্ভাব্য কোনো বিষয় (বেঁচে থাকা) সুনিশ্চিত বিষয়ের (বর্তমান সুযোগ) মোকাবিলা করতে পারে না। সুতরাং যখন বিকল্পের অনুপস্থিতি প্রমাণিত হলো, তখন এই মাসগুলোই আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেল। অতএব, এই সময় থেকে বিলম্ব করা হবে ইবাদতকে বিনষ্ট করা, যেমন সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে এবং রোজাকে তার মাস থেকে বিলম্বিত করা। তবে সে যদি দ্বিতীয় বছরের হজের মাস পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে এখন বিকল্পের বিষয়টি বাস্তবে রূপ নিল এবং স্পষ্ট হলো যে প্রথম বছরটি (এককভাবে) নির্দিষ্ট ছিল না। এই কারণে সে দ্বিতীয় বছরেও আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে। আর এই বছরের হজের মাসগুলো নির্দিষ্টতার ক্ষেত্রে প্রথম বছরের স্থলাভিষিক্ত হবে; কারণ অতীত সময়ে ইবাদত আদায় করা সম্ভব নয়, আর সে জানে না এরপর সে বেঁচে থাকবে কি না। এটি সাধারণ আদেশের (আমর মুতলাক) মতো নয়; কারণ সেখানে প্রথম সম্ভাব্য সময় থেকে বিলম্ব করার ফলে আমল করার সক্ষমতা বিলুপ্ত হয় না। কিন্তু এখানে আরাফার দিন অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে আমল করার সক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় বছরের সেই দিনটি পায়। আর সে জানে না সে তা পাবে কি না। এটি রমজানের কাজা আদায়ের মতোও নয়; কারণ প্রথম দিন থেকে তা বিলম্ব করা সময় নষ্ট করা নয়, যেহেতু দ্বিতীয় দিনে তা আদায়ের সক্ষমতা থাকে। আর এমনটি বলা যাবে না যে রাত আসার মাধ্যমে সক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সে জানে না দ্বিতীয় দিনটি পাবে কি না, কারণ এক রাতের মধ্যে মৃত্যু...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ظُهُور علاماته يكون فَجْأَة وَهُوَ نَادِر وَلَا يبْنى الحكم عَلَيْهِ وَإِنَّمَا يبْنى على الظَّاهِر بِمَنْزِلَة موت الْمَفْقُود فَإِنَّهُ إِذا لم يبْق أحد من أقرانه حَيا يحكم بِمَوْتِهِ بِاعْتِبَار الظَّاهِر لِأَن بَقَاءَهُ بعد موت أقرانه نَادِر فَأَما مَوته فِي سنة لَا يكون نَادرا فَيثبت احْتِمَال الْمَوْت والحياة فِي هَذِه الْمدَّة على السوَاء فَلهَذَا كَانَ التَّأْخِير تفويتا وعَلى هَذَا صَوْم الْكَفَّارَة وَالتَّأْخِير هُنَاكَ لَا يكون تفويتا لِأَن تمكنه من الْأَدَاء لَا يَزُول بِمُضِيِّ بعض الشُّهُور

فَأَما النَّوْع الثَّانِي وَهُوَ الموقت فَإِنَّهُ يَنْقَسِم على ثَلَاثَة أَقسَام فَالْأول مَا يكون الْوَقْت ظرفا للْوَاجِب بِالْأَمر وَلَا يكون معيارا وَالثَّانِي مَا يكون الْوَقْت معيارا لَهُ وَالثَّالِث مَا هُوَ مُشكل مشتبه

فنبدأ بِبَيَان الْقسم الأول وَذَلِكَ وَقت الصَّلَاة فَإِن الله تَعَالَى قَالَ {إِن الصَّلَاة كَانَت على الْمُؤمنِينَ كتابا موقوتا} ثمَّ الْوَقْت يكون ظرفا للْأَدَاء وشرطا لَهُ وسببا للْوُجُوب وَبَيَانه أَنه ظرف للْأَدَاء لصِحَّته فِي أَي جُزْء من أَجزَاء الْوَقْت أدّى وَهَذَا لِأَن الصَّلَاة عبَادَة مَعْلُومَة بأركانها فَإِذا لم يطول أَرْكَانهَا يصير مُؤديا فِي جُزْء قَلِيل من الْوَقْت فَإِذا طول مِنْهَا ركنا يخرج الْوَقْت قبل أَن يصير مُؤديا لَهَا فَعرفنَا أَن الْوَقْت لَيْسَ بمعيار وَلكنه ظرف للْأَدَاء وَهُوَ شَرط أَيْضا

فالأداء إِنَّمَا يتَحَقَّق فِي الْوَقْت وَالتَّأْخِير عَنهُ يكون تفويتا وَمَعْلُوم أَن الْأَدَاء بأركان يتَحَقَّق من الْمُؤَدِّي قبل خُرُوج الْوَقْت فَعرفنَا أَن خُرُوج الْوَقْت مفوت بِاعْتِبَار أَنه يفوت بِهِ شَرط الْأَدَاء

وَبَيَان أَنه سَبَب للْوُجُوب أَنه لَا يجوز تَعْجِيلهَا قبله وَأَن الْوَاجِب تخْتَلف صفته باخْتلَاف الْأَوْقَات فَهَذَا عَلامَة كَون الْوَقْت سَببا لوُجُوبهَا فَأَما مَا هُوَ الدَّلِيل على ذَلِك نذكرهُ فِي بَيَان أَسبَاب الشَّرَائِع فِي مَوْضِعه ثمَّ لَا يُمكن جعل جَمِيع الْوَقْت سَببا للْوُجُوب لِأَنَّهُ ظرف للْأَدَاء فَلَو جعل جَمِيع الْوَقْت سَببا لحصل الْأَدَاء قبل وجود السَّبَب أَولا يتَحَقَّق الْأَدَاء فِيمَا هُوَ ظرف للْأَدَاء فَإِن شُهُود جَمِيع الْوَقْت لَا يكون إِلَّا بعد مُضِيّ الْوَقْت فَلَا بُد أَن يَجْعَل جُزْء من الْوَقْت سَببا للْوُجُوب لِأَنَّهُ لَيْسَ بَين الْكل والجزء الَّذِي هُوَ أدنى
এর লক্ষণসমূহের প্রকাশ হঠাৎ ঘটে থাকে এবং তা বিরল, আর এর ওপর ভিত্তি করে কোনো হুকুম বা বিধান প্রদান করা হয় না। বরং হুকুমের ভিত্তি হয় বাহ্যিক অবস্থার ওপর, যেমন নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি। কেননা যখন তার সমসাময়িকদের কেউ আর জীবিত থাকে না, তখন বাহ্যিক বিবেচনায় তার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়; কারণ তার সমসাময়িকদের মৃত্যুর পরও তার বেঁচে থাকাটা বিরল। পক্ষান্তরে, এক বছরের মধ্যে তার মৃত্যু হওয়াটা বিরল কোনো বিষয় নয়, তাই এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু ও জীবনের সম্ভাবনা সমানভাবে বিদ্যমান থাকে। এই কারণেই বিলম্ব করাটা আমল হাতছাড়া করার নামান্তর। আর কাফফারার রোজা এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয়; সেখানে বিলম্ব করাটা আমল হাতছাড়া হওয়া হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ কিছু মাস অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে তা আদায় করার সক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো 'মুয়াক্কাত' (সময় নির্ধারিত ইবাদত), এটি তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো যার জন্য সময়টি আদেশের মাধ্যমে ওয়াজিবের জন্য 'যরফ' (আধার) হয় কিন্তু 'মে'য়ার' (পরিমাপক) হয় না। দ্বিতীয়টি হলো যার জন্য সময়টি 'মে'য়ার' বা পরিমাপক হিসেবে গণ্য হয়। আর তৃতীয়টি হলো যা অস্পষ্ট ও সন্দেহযুক্ত।

আমরা প্রথম প্রকারের বর্ণনা দিয়ে শুরু করছি, আর তা হলো নামাজের সময়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে।" অতঃপর এই সময়টি আদায়ের জন্য 'যরফ' (আধার), তার জন্য শর্ত এবং ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য হয়। এর ব্যাখ্যা হলো, এটি আদায়ের জন্য আধার হওয়ার অর্থ হলো সময়ের যেকোনো অংশে তা আদায় করলে তা সহিহ হবে। আর এর কারণ হলো নামাজ এমন একটি ইবাদত যার রুকনসমূহ সুনির্ধারিত। যদি কেউ এর রুকনগুলোকে দীর্ঘায়িত না করে, তবে সে সময়ের অতি সামান্য অংশেই তা আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে এর কোনো রুকনকে দীর্ঘায়িত করে তবে আদায় সম্পন্ন হওয়ার আগেই সময় শেষ হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, সময়টি এখানে পরিমাপক নয়, বরং আদায়ের জন্য আধার; এবং এটি একটি শর্তও বটে।

সুতরাং আদায় কেবল সময়ের ভেতরেই সম্পন্ন হয় এবং তা বিলম্বিত করা মানে হচ্ছে আমলটিকে হাতছাড়া করা। এটি সুবিদিত যে, রুকনসহ নামাজ আদায় করা কেবল সময় শেষ হওয়ার আগেই আদায়কারীর পক্ষ থেকে সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে আমরা জানলাম যে, সময়ের প্রস্থান হলো আমল বিনষ্টকারী, এই বিবেচনায় যে এর মাধ্যমে আদায়ের একটি শর্ত হাতছাড়া হয়ে যায়।

আর এটি যে ওয়াজিব হওয়ার কারণ, তার প্রমাণ হলো সময়ের আগে তা দ্রুত আদায় করা জায়েয নেই এবং সময়ের ভিন্নতার কারণে ওয়াজিবের গুণগত বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটি সময়কে ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করার নিদর্শন। তবে এর ওপর দলিল কী, তা আমরা শরিয়তের কারণসমূহের বর্ণনায় নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করব। আর সম্পূর্ণ সময়কে ওয়াজিব হওয়ার কারণ বানানো সম্ভব নয়, কারণ এটি আদায়ের জন্য আধার। যদি সম্পূর্ণ সময়কে কারণ বানানো হতো, তবে কারণ অস্তিত্বে আসার আগেই আদায় সম্পন্ন হয়ে যেত, অথবা যা আদায়ের আধার তাতে আদায় সম্পন্ন হতো না। কারণ পুরো সময় প্রত্যক্ষ করা কেবল সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই সম্ভব। তাই সময়ের একটি অংশকেই ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে হবে, কারণ সমস্ত সময় এবং তার নূন্যতম অংশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣١)
مِقْدَار مَعْلُوم وَإِذا تقرر هَذَا قُلْنَا الْجُزْء الأول من الْوَقْت سَبَب للْوُجُوب فبإدراكه يثبت حكم الْوُجُوب وَصِحَّة أَدَاء الْوَاجِب

هَذَا معنى مَا نقل عَن مُحَمَّد بن شُجَاع رحمه الله أَن الصَّلَاة تجب بِأول جُزْء من الْوَقْت وجوبا موسعا وَهُوَ الْأَصَح

وَأكْثر الْعِرَاقِيّين من مَشَايِخنَا يُنكرُونَ هَذَا وَيَقُولُونَ الْوُجُوب لَا يثبت فِي أول الْوَقْت وَإِنَّمَا يتَعَلَّق الْوُجُوب بآخر الْوَقْت ويستدلون على ذَلِك بِمَا لَو حَاضَت الْمَرْأَة فِي آخر الْوَقْت فَإِنَّهَا لَا يلْزمهَا قَضَاء تِلْكَ الصَّلَاة إِذا طهرت والمقيم إِذا سَافر فِي آخر الْوَقْت يُصَلِّي صَلَاة الْمُسَافِرين وَلَو ثَبت الْوُجُوب بِأول جُزْء من الْوَقْت لَكَانَ الْمُعْتَبر حَاله عِنْد ذَلِك وَكَذَلِكَ لَو مَاتَ فِي الْوَقْت لَقِي الله وَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَلَو ثَبت الْوُجُوب فِي أول الْوَقْت لكَانَتْ الرُّخْصَة فِي التَّأْخِير بعد ذَلِك مُقَيّدَة بِشَرْط أَلا يفوتهُ كَمَا بَينا فِي الْأَمر الْمُطلق

ثمَّ اخْتلف هَؤُلَاءِ فِي صفة الْمُؤَدِّي فِي أول الْوَقْت فَمنهمْ من يَقُول هُوَ نفل يمْنَع لُزُوم الْفَرْض إِيَّاه فِي آخر الْوَقْت إِذا كَانَ على صفة يلْزمه الْأَدَاء فِيهَا بِحكم الْخطاب قَالَ لِأَنَّهُ يتَمَكَّن من ترك الْأَدَاء فِي أول الْوَقْت لَا إِلَى بدل وَهَذَا حد النَّفْل وَلَكِن بِأَدَائِهِ يحصل مَا هُوَ الْمَطْلُوب وَهُوَ إِظْهَار فَضِيلَة الْوَقْت فَيمْنَع لُزُوم الْفَرْض إِيَّاه فِي آخر الْوَقْت أَو يُغير صفة ذَلِك الْمُؤَدِّي حِين أدْرك آخر الْوَقْت بِمَنْزِلَة مصلي الظّهْر فِي بَيته يَوْم الْجُمُعَة إِذا شهد الْجُمُعَة مَعَ الإِمَام تَتَغَيَّر صفة الْمُؤَدى قبلهَا فَيصير نفلا بعد أَن كَانَ فرضا وَهَذَا غلط بَين فَإِنَّهُ لَا تتأدى لَهُ هَذِه الصَّلَاة إِلَّا بنية الظّهْر وَالظّهْر اسْم للْفَرض دون النَّفْل وَلَو نوى النَّفْل كَانَ مُؤديا للصَّلَاة وَلَا يمْنَع ذَلِك لُزُوم الْفَرْض إِيَّاه فِي آخر الْوَقْت وَلَا تَتَغَيَّر صفة الْمُؤَدى إِلَى صفة الْفَرْضِيَّة وَهَذَا لِأَن بِاعْتِبَار آخر الْوَقْت يجب الْأَدَاء وَلَيْسَ لوُجُوب الْأَدَاء أثر فِي الْمُؤَدى فَكيف يكون مغيرا صفة الْمُؤَدى وَمن يَقُول بِهَذَا القَوْل لَا يجد بدا من أَن يَقُول إِذا أدّيت الْجُمُعَة فِي أول الْوَقْت كَانَ الْمُؤَدى نفلا والتنفل بِالْجمعَةِ غير مَشْرُوع وَفِي قَول النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
একটি পরিমিত পরিমাণ। আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন আমরা বলি যে, সময়ের প্রথম অংশ ওয়াজিব হওয়ার কারণ। সুতরাং তা পাওয়ার মাধ্যমে ওয়াজিব হওয়ার বিধান এবং ওয়াজিব আদায়ের বৈধতা সাব্যস্ত হয়।

মুহাম্মাদ ইবনে শুজা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মর্মার্থ এটাই যে, সালাত সময়ের প্রথম অংশেই প্রশস্ত ওয়াজিব হিসেবে ওয়াজিব হয়ে যায়, আর এটিই অধিকতর সঠিক মত।

আমাদের মাশায়েখদের মধ্যে অধিকাংশ ইরাকি আলেম এটি অস্বীকার করেন। তারা বলেন, সময়ের শুরুতে ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় না, বরং ওয়াজিব সময়ের শেষ অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। তারা এর স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেন যে, যদি কোনো নারী সময়ের শেষ অংশে ঋতুবতী হয়, তবে পবিত্র হওয়ার পর তার ওপর সেই সালাতের কাজা করা আবশ্যক হয় না। তদ্রূপ কোনো মুকীম ব্যক্তি যদি সময়ের শেষ অংশে সফরে বের হয়, তবে সে মুসাফিরের সালাত আদায় করবে। অথচ যদি সময়ের প্রথম অংশেই ওয়াজিব সাব্যস্ত হতো, তবে সেই সময়ের অবস্থাই ধর্তব্য হতো। একইভাবে যদি কেউ সময়ের ভেতরেই মারা যায়, তবে সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার ওপর কোনো দায় থাকবে না। আর যদি সময়ের শুরুতেই ওয়াজিব সাব্যস্ত হতো, তবে এরপরে দেরি করার সুযোগটি এই শর্তে সীমাবদ্ধ থাকত যে যেন তা ফউত না হয়, যেমনটি আমরা নিঃশর্ত আদেশের আলোচনায় বর্ণনা করেছি।

অতঃপর সময়ের শুরুতে আদায়কৃত সালাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারা মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এটি নফল, যা সময়ের শেষ অংশে তার ওপর ফরজের আবশ্যকতাকে প্রতিহত করে, যখন সে এমন অবস্থায় থাকে যে শরয়ি নির্দেশ অনুযায়ী তার ওপর সালাত আদায় করা আবশ্যক হয়। তিনি বলেন, কারণ সে কোনো বিনিময় ছাড়াই সময়ের শুরুতে আদায় পরিত্যাগ করতে সক্ষম, আর এটিই নফলের সংজ্ঞা। তবে এটি আদায়ের মাধ্যমে যা উদ্দিষ্ট তা অর্জিত হয়, আর তা হলো সময়ের ফজিলত প্রকাশ করা। ফলে এটি সময়ের শেষ অংশে ফরজের আবশ্যকতাকে প্রতিহত করে অথবা সময়ের শেষ অংশ পাওয়ার পর সেই আদায়কৃত সালাতের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যায়; যেমন জুমার দিনে বাড়িতে জোহরের সালাত আদায়কারী ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে জুমার সালাতে উপস্থিত হয়, তবে এর আগে আদায়কৃত সালাতের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং ফরজ হওয়ার পর তা নফল হয়ে যায়। আর এটি একটি সুস্পষ্ট ভুল। কারণ জোহরের নিয়ত ছাড়া এই সালাত আদায় হবে না, আর জোহর হলো ফরজের নাম, নফলের নয়। যদি সে নফলের নিয়ত করত, তবে সে সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হতো ঠিকই, কিন্তু তা সময়ের শেষ অংশে তার ওপর ফরজ হওয়াকে প্রতিহত করত না এবং আদায়কৃত সালাতের বৈশিষ্ট্যও ফরজ হওয়ার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তিত হতো না। এর কারণ হলো, সময়ের শেষ অংশের বিবেচনায় আদায় ওয়াজিব হয়, আর আদায়ের এই ওয়াজিব হওয়ার কোনো প্রভাব পূর্বেই আদায়কৃত বিষয়ের ওপর পড়ে না। সুতরাং এটি কীভাবে আদায়কৃত বিষয়ের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী হবে? আর যারা এই মত পোষণ করেন, তারা এই কথা বলতে বাধ্য হবেন যে, যদি জুমার সালাত সময়ের শুরুতে আদায় করা হয় তবে তা নফল হবে; অথচ জুমার মাধ্যমে নফল আদায় করা শরয়িভাবে অনুমোদিত নয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে রয়েছে:
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَإِن أول وَقت الظّهْر حِين تَزُول الشَّمْس مَا يبطل مَا قَالُوا لِأَن المُرَاد وَقت الْأَدَاء وَوقت الْوُجُوب فعلى مَا قَالَ هَذَا الْقَائِل لَا يكون هَذَا وَقت الْوُجُوب وَلَا وَقت أَدَاء الظّهْر فَهُوَ مُخَالف للنَّص

وَمِنْهُم من قَالَ الْمُؤَدى فِي أول الْوَقْت مَوْقُوف على مَا يظْهر من حَاله فِي آخر الْوَقْت وَهَكَذَا القَوْل فِي الزَّكَاة إِذا عجلها قبل الْحول وَاسْتدلَّ عَلَيْهِ بِمَا قَالَ مُحَمَّد رحمه الله فِي الزِّيَادَات إِذا عجل شَاة أَرْبَعِينَ وَدفعهَا إِلَى السَّاعِي ثمَّ تمّ الْحول وَفِي يَده ثَمَان وَثَلَاثُونَ فَلهُ أَن يسْتَردّ الْمَدْفُوع من السَّاعِي وَإِن كَانَ السَّاعِي تصدق بِهِ كَانَ تَطَوّعا لَهُ وَلَو تمّ الْحول وَفِي يَده تسع وَثَلَاثُونَ وَجَبت عَلَيْهِ الزَّكَاة إِذا كَانَ الْمُؤَدى قَائِما فِي يَد السَّاعِي بِعَيْنِه وَجَاز عَن الزَّكَاة وَهَذَا ضَعِيف أَيْضا فالأداء لَا يَصح إِلَّا بنية الظّهْر وَالظّهْر اسْم للْفَرض خَاصَّة وَلَو نوى الْفَرْض صحت نِيَّته وَلَو نوى النَّفْل لم تصح نِيَّته فِي حق أَدَاء الْفَرِيضَة فَلَو كَانَ حكم الْمُؤَدى التَّوَقُّف لاستوت فِيهِ النيتان ولتأدى بِمُطلق نِيَّة الصَّلَاة وَالْقَوْل بالتوقف فِي فعل قد أَمْضَاهُ لَا يكون قَوِيا فِي الصَّلَاة وَالزَّكَاة جَمِيعًا وَكَانَ الْكَرْخِي رحمه الله يَقُول الْمُؤَدى فرض على أَن يكون الْوُجُوب مُتَعَلقا بآخر الْوَقْت أَو بِالْفِعْلِ لِأَن الْوُجُوب إِنَّمَا لَا يثبت بِأول الْوَقْت لِانْعِدَامِ الدَّلِيل الْمعِين لذَلِك الْجُزْء فِي كَونه سَببا وبفعل الْأَدَاء يحصل التَّعْيِين فَيكون الْمُؤَدى وَاجِبا بِمَنْزِلَة مَا لَو بَاعَ قَفِيزا من صبرَة يتَعَيَّن البيع فِي قفيز بِالتَّسْلِيمِ وَلَو أدّى شَاة من أَرْبَعِينَ فِي الزَّكَاة يتَعَيَّن الْمُؤَدى وَاجِبا بِالْأَدَاءِ والحانث بِالْيَمِينِ إِذا كفر بِأحد الْأَشْيَاء يتَعَيَّن ذَلِك وَاجِبا بِأَدَائِهِ وَهَذَا فِي الْحَقِيقَة رُجُوع إِلَى مَا قُلْنَا فَفِي هَذِه الْفُصُول الْوُجُوب ثَابت بِأَصْل السَّبَب قبل تعين الْوَاجِب بِالْأَدَاءِ فَكَذَلِك هُنَا الْوُجُوب ثَابت بِإِدْرَاك الْجُزْء الأول من الْوَقْت وَالتَّعْيِين يحصل بِالْأَدَاءِ وَهَذَا لِأَنَّهُ لَا يُمكن إِثْبَات حكم الْوُجُوب بعد الْأَدَاء مَقْصُورا على الْحَال لِأَنَّهُ إِنَّمَا يجب على الْمَرْء مَا يَفْعَله لَا مَا قد فعله وَإِذا تقدم الْوُجُوب على الْفِعْل ضَرُورَة يتَحَقَّق بِهِ مَا قُلْنَا إِن الْوُجُوب وَصِحَّة الْأَدَاء يثبت بالجزء الأول من الْوَقْت

ثمَّ قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله لما تقرر الْوُجُوب لزمَه الْأَدَاء على وَجه لَا يتَغَيَّر بِتَغَيُّر حَاله بعد ذَلِك بِعَارِض من حيض أَو سفر وَقُلْنَا
যোহরের ওয়াক্তের শুরু যেহেতু সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে, তাই তাদের বক্তব্য বাতিল হয়ে যায়। কারণ উদ্দেশ্য হলো আদায়ের ওয়াক্ত এবং ওয়াজিব হওয়ার ওয়াক্ত। সুতরাং এই প্রবক্তার কথানুসারে এটি ওয়াজিব হওয়ার ওয়াক্তও হবে না এবং যোহরের আদায়ের ওয়াক্তও হবে না, যা নস (শরয়ী দলীল)-এর পরিপন্থী।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, ওয়াক্তের শুরুতে যা আদায় করা হয় তা ওয়াক্তের শেষে তার অবস্থার ওপর স্থগিত থাকে। যাকাতের ক্ষেত্রেও একই কথা, যখন তা বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অগ্রিম প্রদান করা হয়। এর স্বপক্ষে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) 'যিয়াদাত' গ্রন্থে যা বলেছেন তা দ্বারা দলীল পেশ করা হয়েছে: যদি কেউ চল্লিশটি ছাগলের মধ্যে একটি ছাগল অগ্রিম যাকাত হিসেবে দিয়ে দেয় এবং তা যাকাত আদায়কারীর কাছে হস্তান্তর করে, এরপর বছর পূর্ণ হওয়ার সময় তার কাছে আটত্রিশটি অবশিষ্ট থাকে, তবে আদায়কারীর কাছ থেকে সেই প্রদত্ত ছাগলটি ফেরত নেওয়ার অধিকার তার থাকবে। আর যদি আদায়কারী তা সদকা করে দেয়, তবে তা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি বছর পূর্ণ হওয়ার সময় তার কাছে উনচল্লিশটি থাকে, তবে তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে যদি আদায়কৃত সম্পদটি আদায়কারীর নিকট সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যমান থাকে এবং তা যাকাত হিসেবে গণ্য হওয়া বৈধ হবে। এটিও একটি দুর্বল মত। কারণ যোহরের নিয়ত ছাড়া আদায় সহীহ হয় না, আর যোহর শব্দটি বিশেষভাবে ফরযের নাম। যদি সে ফরযের নিয়ত করে তবে তার নিয়ত সহীহ হবে, আর যদি নফলের নিয়ত করে তবে ফরয আদায়ের ক্ষেত্রে তার নিয়ত সহীহ হবে না। যদি আদায়কৃত কাজের হুকুম স্থগিত হওয়া হতো, তবে উভয় নিয়ত সমান হতো এবং সালাতের সাধারণ নিয়ত দ্বারাই তা আদায় হয়ে যেত। আর যে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে তাতে স্থগিত হওয়ার কথা বলা সালাত ও যাকাত কোনোটির ক্ষেত্রেই শক্তিশালী নয়। ইমাম কারখী (রহ.) বলতেন, আদায়কৃত বিষয়টি ফরয এই শর্তে যে, ওয়াজিব হওয়া বিষয়টি ওয়াক্তের শেষ সময়ের সাথে অথবা কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কেননা ওয়াক্তের শুরুতে ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয় না, কারণ ওয়াক্তের ঐ অংশটি কারণ (সবব) হওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো দলীল নেই। আর আদায়ের মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। ফলে আদায়কৃত বিষয়টি ওয়াজিব হয়ে যায়, যেমন কেউ যদি শস্যের স্তূপ থেকে এক কফিজ বিক্রি করে, তবে হস্তান্তরের মাধ্যমে সেই এক কফিজের মধ্যে বিক্রয়টি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর যদি যাকাত হিসেবে চল্লিশটির মধ্য থেকে একটি ছাগল আদায় করে, তবে আদায়ের মাধ্যমে আদায়কৃত ছাগলটিই ওয়াজিব হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তেমনি শপথ ভঙ্গকারী যদি নির্ধারিত বিষয়গুলোর কোনো একটির মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে, তবে আদায়ের মাধ্যমেই তা ওয়াজিব হিসেবে সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। এটি প্রকৃতপক্ষে আমরা যা বলেছি তার দিকেই প্রত্যাবর্তন। এই পরিচ্ছেদগুলোতে আদায় করার মাধ্যমে ওয়াজিব সুনির্দিষ্ট হওয়ার পূর্বেই মূল কারণের ভিত্তিতে ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়ে আছে। তদ্রূপ এখানেও ওয়াক্তের প্রথম অংশ পাওয়ার মাধ্যমেই ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় এবং আদায়ের মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট হয়। এর কারণ হলো, আদায়ের পরে বর্তমান অবস্থার ওপর সীমাবদ্ধ করে ওয়াজিব হওয়ার হুকুম সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের ওপর তা-ই ওয়াজিব হয় যা সে করছে, যা সে ইতিপূর্বে করে ফেলেছে তা নয়। আর যখন কাজের পূর্বে ওয়াজিব হওয়া অবধারিত হয়, তখন আমরা যা বলেছি তা-ই প্রমাণিত হয় যে, ওয়াজিব হওয়া এবং আদায়ের বৈধতা ওয়াক্তের প্রথম অংশের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।

অতঃপর ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন, যখন ওয়াজিব সুনির্দিষ্ট হয়ে গেল, তখন তার ওপর আদায় করা এমনভাবে আবশ্যক হলো যা পরবর্তীতে ঋতুস্রাব বা সফরের মতো কোনো পরিস্থিতির কারণে অবস্থার পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হবে না। আর আমরা বলেছি...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
نَحن الْأَدَاء إِنَّمَا يجب بِالطَّلَبِ أَلا ترى أَن الرّيح إِذا هبت بِثَوْب إِنْسَان وألقته فِي حجر غَيره فالثوب ملك لصَاحبه وَلَا يجب على من فِي حجره أَدَاؤُهُ إِلَيْهِ قبل طلبه لِأَن حُصُوله فِي حجره كَانَ بِغَيْر صنعه فَكَذَلِك هَهُنَا الْوُجُوب تسببه كَانَ جبرا إِذْ لَا صنع للْعَبد فِيهِ فَإِنَّمَا يلْزمه أَدَاء الْوُجُوب عِنْد طلب من لَهُ الْحق وَقد خَيره من لَهُ الْحق فِي الْأَدَاء مَا لم يتضيق الْوَقْت يقرره أَن وجوب الْأَدَاء لَا يتَّصل بِثُبُوت حكم الْوُجُوب لَا محَالة فَإِن البيع بِثمن مُؤَجل يُوجب الثّمن فِي الْحَال إِذْ لَو كَانَ وجوب الثّمن مُتَأَخِّرًا إِلَى مُضِيّ الْأَجَل لم يَصح البيع ثمَّ وجوب الْأَدَاء يكون مُتَأَخِّرًا إِلَى حُلُول الْأَجَل فههنا أَيْضا وجوب الْأَدَاء يتَأَخَّر إِلَى توجه الْمُطَالبَة وَذَلِكَ بِاعْتِبَار استطاعة تكون مَعَ الْفِعْل فَقبل فعل الْأَدَاء لم تثبت الْمُطَالبَة على وَجه يَنْقَطِع بِهِ الْخِيَار وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن النَّائِم والمغمى عَلَيْهِ فِي جَمِيع الْوَقْت يثبت حكم الْوُجُوب فِي حَقّهمَا ثمَّ الْخطاب بِالْأَدَاءِ يتَأَخَّر إِلَى مَا بعد الانتباه والإفاقة

وَالْحَاصِل أَنه يتَعَيَّن للسَّبَبِيَّة الْجُزْء الَّذِي يتَّصل بِهِ الْأَدَاء من الْوَقْت فَإِن اتَّصل بالجزء الأول كَانَ هُوَ السَّبَب وَإِلَّا تنْتَقل السَّبَبِيَّة إِلَى آخر الْجُزْء الثَّانِي ثمَّ إِلَى الثَّالِث هَكَذَا لمعنيين أَحدهمَا أَن فِي الْمُجَاوزَة عَن الْجُزْء الَّذِي يتَّصل بِهِ الْأَدَاء فِي جعله سَببا لَا ضَرُورَة وَلَيْسَ بَين الْأَدْنَى وَالْكل مِقْدَار يُمكن الرُّجُوع إِلَيْهِ وَالثَّانِي أَنه إِذا لم يتَّصل الْأَدَاء بالجزء الَّذِي تتَعَيَّن بِهِ السَّبَبِيَّة يكون تفويتا كَمَا إِذا لم يتَّصل الْأَدَاء بالجزء الْأَخير من الْوَقْت يكون تفويتا حَتَّى يصير دينا فِي الذِّمَّة وَلَا وَجه لجعله مفوتا مَا بَقِي الْوَقْت لِأَن الشَّرْع خَيره فِي الْأَدَاء فَعرفنَا أَن هَذَا الْمَعْنى تَخْيِير لَهُ فِي نقل السَّبَبِيَّة من جُزْء إِلَى جُزْء مَا بَقِي الْوَقْت وَاسِعًا يبْقى هَذَا الْخِيَار لَهُ فَلَا يكون مفرطا وَلِهَذَا لَا يلْزمه شَيْء إِذا مَاتَ وَلَا إِذا حَاضَت الْمَرْأَة لِأَن الِانْتِقَال يتَحَقَّق فِي حَقّهَا لبَقَاء خِيَارهَا والجزء الَّذِي تُدْرِكهُ من الْوَقْت بعد الْحيض لَا يُوجب عَلَيْهَا الصَّلَاة والجزء الَّذِي يُدْرِكهُ الْمُسَافِر بَعْدَمَا صَار مُسَافِرًا لَا يُوجب عَلَيْهِ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ
আমরা বলি: আদায় (সম্পাদন) কেবল তলব বা দাবির মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন বাতাস কোনো ব্যক্তির কাপড় উড়িয়ে নিয়ে অন্য কারো কোলে ফেলে দেয়, তখন কাপড়টি তার মালিকেরই থাকে এবং যার কোলে পড়েছে তার ওপর মালিকের দাবির আগে তা আদায় করা ওয়াজিব হয় না? কারণ তার কোলে কাপড়টির আসা তার নিজস্ব কোনো কর্মের মাধ্যমে হয়নি। তদ্রূপ এখানেও ওয়াজিব হওয়ার কারণটি ছিল বাধ্যতামূলক, যেহেতু এতে বান্দার কোনো হাত (ইখতিয়ার) নেই। সুতরাং যার হক রয়েছে তার দাবির সময়ই কেবল আদায় করা ওয়াজিব হয়। আর যার হক রয়েছে তিনি আদায়ের ক্ষেত্রে তাকে ততক্ষণ অবকাশ দিয়েছেন যতক্ষণ না সময় সংকীর্ণ হয়ে যায়। এটি এই কথাটিকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, আদায়ের ওয়াজিব হওয়া অপরিহার্যভাবে ওয়াজিবের বিধান সাব্যস্ত হওয়ার সাথে সংযুক্ত নয়। কেননা বিলম্বিত মূল্যে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্য বর্তমানেই ওয়াজিব হয়; কারণ যদি মূল্য ওয়াজিব হওয়া নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত হতো, তবে বিক্রয় শুদ্ধ হতো না। অথচ আদায় ওয়াজিব হওয়া নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যন্ত বিলম্বিত থাকে। তাই এখানেও আদায় ওয়াজিব হওয়া দাবি উত্থাপন পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। আর তা সেই সক্ষমতার বিচারে যা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। সুতরাং আদায়ের কর্মের পূর্বে এমনভাবে দাবি সাব্যস্ত হয় না যা ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগকে রহিত করে দেয়। এর প্রমাণ হলো, নিদ্রিত ব্যক্তি এবং বেহুঁশ ব্যক্তি পুরো সময় জুড়ে তাদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়ার বিধান সাব্যস্ত থাকে, কিন্তু আদায়ের নির্দেশ জাগ্রত হওয়া এবং হুঁশ ফেরার পর পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

সারকথা হলো, সময়ের সেই অংশটিই কারণ (সাবাবিয়াহ) হিসেবে নির্ধারিত হয় যার সাথে আদায় সংযুক্ত হয়। যদি প্রথম অংশের সাথে আদায় সংযুক্ত হয়, তবে সেটিই কারণ হবে; অন্যথায় কারণ হওয়ার বিষয়টি দ্বিতীয় অংশের শেষে স্থানান্তরিত হবে, এরপর তৃতীয় অংশে—এভাবে দুটি কারণে: প্রথমত, আদায় যে অংশের সাথে যুক্ত হয় তাকে বাদ দিয়ে অন্য অংশকে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করার কোনো আবশ্যকতা নেই; আর নিম্নতম অংশ এবং পূর্ণ সময়ের মধ্যে এমন কোনো পরিমাণ নেই যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, কারণ হওয়ার জন্য নির্ধারিত অংশের সাথে যদি আদায় যুক্ত না হয়, তবে তা নষ্ট করা (তাফওয়িত) হিসেবে গণ্য হবে; যেমন যদি ওয়াক্তের শেষ অংশের সাথে আদায় যুক্ত না হয় তবে তা নষ্ট করা বলে গণ্য হয়, এমনকি তা জিম্মায় ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। আর যতক্ষণ সময় বাকি আছে ততক্ষণ তাকে নষ্টকারী সাব্যস্ত করার কোনো অবকাশ নেই, কারণ শরীয়ত তাকে আদায়ের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দিয়েছে। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, এই অর্থটি হলো সময়ের ব্যাপ্তিকাল পর্যন্ত এক অংশ থেকে অন্য অংশে কারণ হওয়ার বিষয়টি স্থানান্তরিত করার ইখতিয়ার। যতক্ষণ সময় প্রশস্ত থাকে ততক্ষণ তার এই ইখতিয়ার অবশিষ্ট থাকে, ফলে সে অবহেলাকারী গণ্য হবে না। এই কারণেই সে যদি মারা যায় তবে তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না, আর যদি নারীর মাসিক শুরু হয় তবে তার ক্ষেত্রেও কিছু আবশ্যক হবে না; কারণ তার ইখতিয়ার অবশিষ্ট থাকায় এই রূপান্তর তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। আর মাসিকের পর সময়ের যে অংশ সে পায় তা তার ওপর সালাত ওয়াজিব করে না। আর মুসাফির ব্যক্তি মুসাফির হওয়ার পর সময়ের যে অংশ পায়, তা তার ওপর কেবল দুই রাকাত ওয়াজিব করে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ثمَّ قَالَ زفر رحمه الله إِذا تضيق الْوَقْت على وَجه لَا يفصل عَن الْأَدَاء تتَعَيَّن السَّبَبِيَّة فِي ذَلِك الْجُزْء أَلا ترى أَنه يَنْقَطِع خِيَاره وَلَا يَسعهُ التَّأْخِير بعد ذَلِك فَلَا يتَغَيَّر بِمَا يعْتَرض بعد ذَلِك من سفر أَو مرض وَقُلْنَا نَحن إِنَّمَا لَا يَسعهُ التَّأْخِير كي لَا يفوت شَرط الْأَدَاء وَهُوَ الْوَقْت على مَا بَينا أَن الْوَقْت ظرف للْأَدَاء وَمَا بعده من آخر الْوَقْت صَالح لانتقال السَّبَبِيَّة إِلَيْهِ فَيحصل الِانْتِقَال بِالطَّرِيقِ الَّذِي قُلْنَا إِلَى آخر جُزْء من أَجزَاء الْوَقْت فتتعين السَّبَبِيَّة فِيهِ ضَرُورَة إِذا لم يبْق بعده مَا يحْتَمل انْتِقَال السَّبَبِيَّة إِلَيْهِ فَيتَحَقَّق التفويت بمضيه وَيعْتَبر صفة ذَلِك الْجُزْء وحاله عِنْد ذَلِك الْجُزْء حَتَّى إِذا كَانَت حَائِضًا لَا يلْزمهَا الْقَضَاء وَإِذا طهرت عَن الْحيض عِنْد ذَلِك الْجُزْء وأيامها عشرَة تلزمها الصَّلَاة نَص عَلَيْهِ فِي نَوَادِر أبي سُلَيْمَان فَإِذا أسلم الْكَافِر أَو أدْرك الصَّبِي عِنْد ذَلِك الْجُزْء يلْزمهُمَا الصَّلَاة وَإِذا كَانَ مُسَافِرًا عِنْد ذَلِك الْجُزْء يلْزمه صَلَاة السّفر وَلِهَذَا قُلْنَا إِنَّه إِذا طلعت الشَّمْس وَهُوَ فِي خلال الْفجْر يفْسد الْفَرْض لِأَن الْجُزْء الَّذِي يتَّصل بِهِ طُلُوع الشَّمْس من الْوَقْت سَبَب صَحِيح تَامّ فَثَبت الْوُجُوب بِصفة الْكَمَال فَلَا يتَأَدَّى فِي الْأَدَاء مَعَ النُّقْصَان بِخِلَاف مَا إِذا غربت الشَّمْس وَهُوَ فِي خلال صَلَاة الْعَصْر فَإِن الْجُزْء الَّذِي يتَّصل بِهِ الْغُرُوب من الْوَقْت فِي الْمَعْنى سَبَب فَاسد للنَّهْي الْوَارِد عَن الصَّلَاة بعد مَا تحمر الشَّمْس فَيثبت الْوُجُوب مَعَ النُّقْصَان بِحَسب السَّبَب وَقد وجد الْأَدَاء بِتِلْكَ الصّفة وَلَا يدْخل على هَذَا مَا إِذا انْعَدم مِنْهُ الْأَدَاء أصلا ثمَّ أدّى فِي الْيَوْم الثَّانِي بَعْدَمَا احْمَرَّتْ الشَّمْس فَإِنَّهُ لَا يجوز لِأَنَّهُ إِذا لم يشْتَغل بِالْأَدَاءِ حَتَّى مُضِيّ الْوَقْت فَحكم السَّبَبِيَّة يكون مُضَافا إِلَى جَمِيع الْوَقْت وَهُوَ سَبَب صَحِيح تَامّ وَإِنَّمَا يتَأَدَّى بِصفة النُّقْصَان عِنْد ضعف السَّبَب إِذا لم يصر دينا فِي الذِّمَّة واشتغاله بِالْأَدَاءِ يمْنَع صَيْرُورَته دينا فِي ذمَّته فَأَما إِذا لم يشْتَغل بِالْأَدَاءِ حَتَّى تحقق التفويت بِمُضِيِّ الْوَقْت صَار دينا فِي ذمَّته فَيثبت بِصفة الْكَمَال وَهَذَا هُوَ الِانْفِصَال عَن الْإِشْكَال الَّذِي يُقَال على هَذَا وَهُوَ مَا إِذا أسلم الْكَافِر بَعْدَمَا احْمَرَّتْ الشَّمْس وَلم يصل ثمَّ أَدَّاهَا فِي الْيَوْم

এরপর যুফার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যখন সময় এমনভাবে সংকীর্ণ হয়ে যায় যে তা আদায় থেকে পৃথক করা যায় না, তখন সময়ের সেই অংশেই 'কারণতা' (সাবাবিয়্যাহ) নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আপনি কি দেখছেন না যে, তখন তার ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগ ছিন্ন হয়ে যায় এবং এরপর বিলম্ব করার অবকাশ থাকে না? তাই এরপর সফর কিংবা অসুস্থতার মতো যা-ই সামনে আসুক না কেন, তার কারণে হুকুমের কোনো পরিবর্তন হয় না। আর আমরা (আহনাফ) বলি যে, তার জন্য বিলম্ব করা কেবল এজন্যই সমীচীন নয় যাতে আদায়ের শর্ত অর্থাৎ 'সময়' অতিবাহিত হয়ে না যায়—যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে, সময় হলো আদায়ের জন্য একটি আধার (জরফ), এবং শেষ সময়ের পরবর্তী অংশগুলোও কারণতা স্থানান্তরের যোগ্য। অতএব, আমরা যেভাবে বলেছি সেই তরিকায় সময়ের শেষ অংশ পর্যন্ত কারণতার স্থানান্তর চলতে থাকে; অতঃপর যখন এরপর কারণতা স্থানান্তরের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না, তখন অপরিহার্যভাবেই শেষ অংশে কারণতা নির্দিষ্ট হয়ে যায়। ফলে সেই সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে 'নামাজ ছুটে যাওয়া' (তাফউইত) প্রমাণিত হয়। এমতাবস্থায় সময়ের সেই অংশের গুণ ও সেই সময়ের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হুকুম বিবেচিত হবে। এমনকি যদি সেই সময়ে কোনো নারী ঋতুবতী (হায়েজ) থাকে, তবে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হবে না। আর যদি ঋতুস্রাব থেকে সেই সময়ে পবিত্র হয় এবং তার ঋতুকাল দশ দিন হয়ে থাকে, তবে তার ওপর নামাজ আবশ্যক হবে; যা আবু সুলায়মানের 'নাওয়াদির' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং যদি কোনো কাফের সেই সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে অথবা কোনো শিশু বালেগ হয়, তবে তাদের উভয়ের ওপর নামাজ আবশ্যক হবে। আর যদি সেই সময়ে কেউ মুসাফির থাকে, তবে তার ওপর সফরের নামাজ আবশ্যক হবে। এই কারণেই আমরা বলেছি যে, যদি ফজর নামাজের মাঝখানে সূর্য উদিত হয় তবে ফরজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ সময়ের যে অংশটি সূর্যোদয়ের সাথে সংযুক্ত, তা একটি সহিহ ও পূর্ণাঙ্গ কারণ। ফলে পূর্ণাঙ্গ গুণের সাথেই নামাজ ওয়াজিব হয়েছে, যা ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় আদায় সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে আসর নামাজের মাঝখানে সূর্য অস্ত যাওয়ার বিষয়টি এর ভিন্ন। কেননা সময়ের যে অংশটি সূর্যাস্তের সাথে সংযুক্ত, তা প্রকৃতপক্ষে একটি 'ফাসিদ' বা ত্রুটিযুক্ত কারণ; কারণ সূর্য লাল বর্ণ ধারণ করার পর নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে কারণ অনুযায়ী ত্রুটিযুক্ত অবস্থাতেই নামাজের আবশ্যকতা সাব্যস্ত হয় এবং সেই গুণেই আদায় সম্পন্ন হয়। তবে যে ব্যক্তি আদৌ নামাজ আদায় করেনি এবং পরবর্তী দিন সূর্য লাল হওয়ার পর তা আদায় করেছে, তার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ এটি জায়েজ নয়; কেননা সে যদি সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত নামাজে লিপ্ত না হয়, তবে কারণতার বিধান পুরো সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে, যা একটি সহিহ ও পূর্ণাঙ্গ কারণ। আর কারণ দুর্বল হলে কেবল তখনই ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় তা আদায় হতে পারে যদি তা জিম্মায় 'ঋণ' (দাইন) হিসেবে সাব্যস্ত না হয়। আর নামাজে লিপ্ত থাকা একে জিম্মায় ঋণ হিসেবে গণ্য হতে বাধা দেয়। কিন্তু সে যদি নামাজে লিপ্ত না হয় এবং সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে নামাজটি ছুটে যাওয়া নিশ্চিত হয়, তবে তা তার জিম্মায় ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হয় এবং পূর্ণাঙ্গ গুণেই তা সাব্যস্ত হয়। এটিই মূলত সেই সমস্যার সমাধান যা এ বিষয়ে উত্থাপন করা হয়; আর তা হলো সেই মাসআলা—যখন কোনো কাফের সূর্য লাল হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং নামাজ না পড়ে পরবর্তী দিনে তা আদায় করে।

(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الثَّانِي بَعْدَمَا احْمَرَّتْ الشَّمْس فَإِنَّهُ لَا يجوز لِأَنَّهُ مَعَ تمكن النُّقْصَان فِي السَّبَبِيَّة إِذا مضى الْوَقْت صَار الْوَاجِب دينا فِي ذمَّته بِصفة الْكَمَال

وَمَا ذهب إِلَيْهِ زفر ضَعِيف فَإِن من تذكر صَلَاة الظّهْر وَقد بَقِي إِلَى وَقت تغير الشَّمْس مِقْدَار مَا يُمكنهُ أَن يُصَلِّي فِيهِ رَكْعَة أَو رَكْعَتَيْنِ يمْنَع من الِاشْتِغَال بِالْأَدَاءِ وَإِن كَانَ وَقت التَّذَكُّر وقتا للفائتة بِالنَّصِّ لِأَنَّهُ لَا يتَمَكَّن من الْأَدَاء قبل تغير الشَّمْس وَإِذا تَغَيَّرت فَسدتْ صلَاته فَكَذَلِك عِنْد تضيق الْوَقْت يُؤمر بِالْأَدَاءِ وَلَا يَسعهُ التَّأْخِير لَا بِاعْتِبَار أَن السَّبَبِيَّة تتَعَيَّن فِي ذَلِك الْجُزْء وَلَكِن ليتَمَكَّن من الْأَدَاء فِيمَا هُوَ ظرف للْأَدَاء وَهُوَ الْوَقْت وَهَذَا التَّمَكُّن يفوت بِالتَّأْخِيرِ بعْدهَا

وَمن حكم هَذَا الْوَقْت أَن التَّعْيِين لَا يثبت بقوله حَتَّى لَو قَالَ عينت هَذَا الْجُزْء إِن لم يشْتَغل بِالْأَدَاءِ بعده لَا يتَعَيَّن لِأَن خِيَاره لم يَنْقَطِع وَله أَن يُؤَخر الْأَدَاء بعد هَذَا القَوْل وَالتَّعْيِين من ضَرُورَة انْقِطَاع خِيَاره فِي نقل السَّبَبِيَّة من جُزْء إِلَى جُزْء وَذَلِكَ لَا يتم إِلَّا بِفعل الْأَدَاء كالمكفر إِذا قَالَ عينت الطَّعَام للتكفير بِهِ لَا يتَعَيَّن مَا لم يُبَاشر التَّكْفِير بِهِ وَلَا معنى لقَوْل من يَقُول إِن نقل السَّبَبِيَّة من جُزْء إِلَى جُزْء تصرف فِي المشروعات وَلَيْسَ ذَلِك إِلَى العَبْد لِأَن الشَّرْع لما خَيره فقد جعل لَهُ هَذِه الْولَايَة فَيثبت لَهُ حق التَّصَرُّف بِهَذِهِ الصّفة لِأَن الشَّرْع قد ولاه ذَلِك كَمَا ثَبت لَهُ ولَايَة الْإِيجَاب فِيمَا كَانَ مَشْرُوعا غير وَاجِب بنذره

وَمن حكمه أَنه لَا يمْنَع صِحَة أَدَاء صَلَاة أُخْرَى فِيهِ لِأَن الْوَقْت ظرف للْأَدَاء وللواجب أَرْكَان مَعْلُومَة يُؤَدِّيهَا بمنافع هِيَ حَقه وَبعد الْوُجُوب بقيت الْمَنَافِع حَقًا لَهُ أَيْضا فَكَانَ لَهُ أَن يتَصَرَّف فِيهَا بِالصرْفِ إِلَى أَدَاء وَاجِب آخر بِمَنْزِلَة من دفع ثوبا إِلَى خياط ليخيطه فِي هَذَا الْيَوْم فَإِنَّهُ يسْتَحق على الْخياط إِقَامَة الْعَمَل وَلَا يتَعَذَّر عَلَيْهِ خياطَة ثوب آخر فِي ذَلِك الْيَوْم لِأَن مَنَافِعه بقيت حَقًا لَهُ بعد مَا اسْتحق عَلَيْهِ خياطَة الثَّوْب بِالْإِجَارَة
দ্বিতীয়ত, সূর্য লাল বর্ণ ধারণ করার পর; কেননা এটি জায়েজ নয়। কারণ, সববিয়্যাত বা কারণ হওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যদি সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে উক্ত ওয়াজিব পূর্ণাঙ্গ গুণের সাথে তার জিম্মায় ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

ইমাম যুফার (র.) যে মত গ্রহণ করেছেন তা দুর্বল। কেননা, যে ব্যক্তির জোহরের নামাজের কথা মনে পড়ল অথচ সূর্যের রং পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র এক বা দুই রাকাত পড়ার মতো সময় বাকি আছে, তাকে অদা করার কাজে লিপ্ত হতে নিষেধ করা হবে। যদিও নস অনুযায়ী স্মরণ হওয়ার সময়টিই ফউত হওয়া (কাজা) নামাজের সময়, তবুও তাকে বাধা দেওয়া হবে; কারণ সূর্যের রং পরিবর্তন হওয়ার আগে সে অদা সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে না। আর যদি সূর্যের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। একইভাবে যখন সময় সংকীর্ণ হয়ে যায়, তখন তাকে অদা করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বিলম্ব করার অবকাশ থাকে না; এটি এই বিবেচনায় নয় যে, সববিয়্যাত সময়ের সেই অংশের সাথে নির্দিষ্ট হয়ে গেছে, বরং এজন্য যাতে সে অদার পাত্র অর্থাৎ সময়ের মধ্যে অদা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। আর এই সক্ষমতা উক্ত সময়ের পরে বিলম্ব করার দ্বারা হাতছাড়া হয়ে যায়।

এই সময়ের একটি বিধান হলো যে, কেবল মুখের কথার দ্বারা নির্ধারণ সাব্যস্ত হয় না। এমনকি সে যদি বলে, 'আমি সময়ের এই অংশটি নির্দিষ্ট করলাম', কিন্তু এরপর অদা করার কাজে লিপ্ত না হয়, তবে তা নির্দিষ্ট হবে না। কারণ তার এখতিয়ার বা নির্বাচনের সুযোগ তখনও ছিন্ন হয়নি; এই কথা বলার পরেও অদা বিলম্বিত করার অধিকার তার রয়েছে। সববিয়্যাতকে এক অংশ থেকে অন্য অংশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এখতিয়ার সমাপ্ত হওয়ার অনিবার্য দাবি হলো নির্ধারণ (তায়্যিন), আর তা অদা করার কাজ শুরু করা ব্যতীত পূর্ণ হয় না। যেমন কাফফারা প্রদানকারী যদি বলে, 'আমি এই খাদ্যদ্রব্য কাফফারার জন্য নির্দিষ্ট করলাম', তবে যতক্ষণ না সে কাফফারা প্রদানের কাজ শুরু করবে, ততক্ষণ তা নির্দিষ্ট হবে না। আর যারা বলেন যে, সববিয়্যাতকে এক অংশ থেকে অন্য অংশে স্থানান্তর করা শরিয়ত কর্তৃক প্রবর্তিত বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং এটি বান্দার এখতিয়ারভুক্ত নয়—তাদের এই কথার কোনো অর্থ নেই। কেননা শরিয়ত যখন তাকে এখতিয়ার প্রদান করেছে, তখন তাকে এই কর্তৃত্বও (বিলায়েত) দান করেছে। সুতরাং এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তার হস্তক্ষেপ করার অধিকার সাব্যস্ত হবে; কারণ শরিয়ত তাকে এর দায়িত্ব প্রদান করেছে, যেমনটি মানতের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত কিন্তু অ-ওয়াজিব বিষয়কে ওয়াজিব করার ক্ষেত্রে তার কর্তৃত্ব সাব্যস্ত হয়।

এর আরেকটি বিধান হলো যে, এটি ওই সময়ে অন্য কোনো নামাজ আদায়ের বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না। কারণ সময় হলো অদা করার একটি পাত্র। আর ওয়াজিবের নির্দিষ্ট কিছু রুকন রয়েছে যা সে তার নিজস্ব সামর্থ্য ও শক্তি দ্বারা আদায় করে, যা তার অধিকারভুক্ত। ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়ার পরেও সেই সামর্থ্যসমূহ তার অধিকার হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং অন্য কোনো ওয়াজিব আদায়ের পেছনে সেগুলো ব্যয় করার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করার অধিকার তার রয়েছে। এটি সেই ব্যক্তির সদৃশ, যে দর্জিকে কোনো কাপড় দিল আজই তা সেলাই করার জন্য; এমতাবস্থায় সে দর্জির নিকট থেকে কাজ বুঝে পাওয়ার হকদার, কিন্তু ওই দিন দর্জির পক্ষে অন্য কোনো কাপড় সেলাই করা অসম্ভব হয়ে যায় না। কারণ ইজারা বা চুক্তির মাধ্যমে কাপড় সেলাই করার কাজ আবশ্যক হওয়ার পরেও দর্জির সামর্থ্যসমূহ তার নিজস্ব অধিকার হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَمن حكمه أَنه لَا يتَأَدَّى إِلَّا بِالنِّيَّةِ لِأَن صرف مَا هُوَ حَقه من الْمَنَافِع إِلَى أَدَاء الْوَاجِب عَلَيْهِ لَا يكون إِلَّا بِالنِّيَّةِ

وَمن حكمه اشْتِرَاط تعْيين النِّيَّة فِيهِ لِأَن مَنَافِعه لما بقيت على صفة يصلح لأَدَاء فرض الْوَقْت وَغَيره من الصَّلَوَات بهَا لم يتَعَيَّن فرض الْوَقْت مَا لم يُعينهُ بِالنِّيَّةِ وَاشْتِرَاط تعْيين الْوَقْت لإصابة فرض الْوَقْت حكم ثَبت شرعا فَلَا يسْقط ذَلِك بتقصير يكون من العَبْد فِي الْأَدَاء حَتَّى إِذا تضيق الْوَقْت على وَجه لَا يسع إِلَّا لأَدَاء الْفَرْض أَو لَا يسع لَهُ أَيْضا لَا يسْقط اعْتِبَار نِيَّة التَّعْيِين فِيهِ بِهَذَا الْمَعْنى

وَأما الْقسم الثَّانِي وَهُوَ مَا يكون الْوَقْت معيارا لَهُ كَصَوْم رَمَضَان لِأَن ركن الصَّوْم هُوَ الْإِمْسَاك ومقداره لَا يعرف إِلَّا بوقته فَكَانَ الْوَقْت معيارا لَهُ بِمَنْزِلَة الْكَيْل فِي المكيلات

وَمن حكمه أَن الْإِمْسَاك الَّذِي يُوجد مِنْهُ فِي الْأَيَّام من شهر رَمَضَان لما تعين لأَدَاء الْفَرْض لم يبْق غَيره مَشْرُوعا فِيهِ إِذْ لَا تصور لأَدَاء صَومينِ بإمساك وَاحِد وَمَا يتَصَوَّر فِي هَذَا الْوَقْت لَا يفضل عَن الْمُسْتَحق بِحَال فَلَا يكون غَيره مَشْرُوعا فِيهِ مُسْتَحقّا وَلَا مُتَصَوّر الْأَدَاء شرعا

ثمَّ قَالَ أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد رحمهمَا الله يَسْتَوِي فِي هَذَا الحكم الْمُسَافِر والمقيم لِأَن وجوب صَوْم الشَّهْر يثبت بِشُهُود الشَّهْر فِي حق الْمُسَافِر وَلِهَذَا صَحَّ الْأَدَاء إِلَّا أَن الشَّرْع مكنه من التَّرَخُّص بِالْفطرِ لدفع الْمَشَقَّة عَنهُ فَإِذا ترك التَّرَخُّص كَانَ هُوَ والمقيم سَوَاء فَيكون صَوْمه عَن فرض رَمَضَان فتلغو نِيَّته لتطوع أَو لواجب آخر

وَأَبُو حنيفَة رحمه الله يَقُول إِذا نوى الْمُسَافِر وَاجِبا آخر صَحَّ صَوْمه عَمَّا نوى لِأَن انْتِفَاء صَوْم آخر فِي هَذَا الزَّمَان لَيْسَ من حكم الْوُجُوب وَاسْتِحْقَاق الْأَدَاء بمنافعه فَذَلِك مَوْجُود فِيمَا كَانَ الْوَقْت ظرفا لَهُ بل هُوَ من حكم تعينه مُسْتَحقّا للْأَدَاء فِيهِ وَلَا تعين فِي حق الْمُسَافِر فَهُوَ مُخَيّر بَين الْأَدَاء أَو التَّأْخِير إِلَى عدَّة من أَيَّام أخر فَلَا تَنْفِي صِحَة أَدَاء صَوْم آخر مِنْهُ بِهَذَا الْإِمْسَاك وَلِأَن الْوُجُوب وَإِن ثَبت فِي حَقه وَلَكِن التَّرَخُّص بِتَأْخِير أَدَاء الْوَاجِب ثَابت فِي حَقه أَيْضا وَهُوَ مَا ترك التَّرَخُّص حِين
এর একটি হুকুম হলো, নিয়ত ব্যতীত এটি আদায় হবে না। কারণ, তার নিজের প্রাপ্য উপকারসমূহকে তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব আদায়ের দিকে নিবিষ্ট করা নিয়ত ছাড়া সম্ভব নয়।

এর আরেকটি হুকুম হলো এতে নিয়ত সুনির্দিষ্ট করা শর্ত। কারণ এর উপকারিতাগুলো যখন এমন অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে যা বর্তমান সময়ের ফরজ এবং অন্যান্য সালাত আদায়ের জন্য উপযুক্ত, তখন নিয়তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত বর্তমান সময়ের ফরজ নির্ধারিত হয় না। আর বর্তমান সময়ের ফরজ পালনের জন্য সময় সুনির্দিষ্ট করার শর্তটি শরিয়ত কর্তৃক সাব্যস্ত একটি বিধান। সুতরাং আদায়ের ক্ষেত্রে বান্দার পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটির কারণে তা রহিত হবে না। এমনকি যদি সময় এতটা সংকীর্ণ হয়ে যায় যে তাতে কেবল ফরজ আদায় করা সম্ভব অথবা তাও সম্ভব নয়, তবুও এই অর্থে নিয়ত সুনির্দিষ্ট করার আবশ্যকতা রহিত হবে না।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো সেটি, যার জন্য সময় একটি পরিমাপক হিসেবে গণ্য হয়, যেমন রমজানের রোজা। কারণ রোজার রুকন হলো বিরত থাকা (ইমসাক), আর এর পরিমাণ সময় ছাড়া জানা সম্ভব নয়। ফলে সময় এর জন্য পরিমাপক হিসেবে গণ্য হয়, যেমন পরিমাপযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রে পাত্র।

এর একটি হুকুম হলো, রমজান মাসের দিনগুলোতে যে বিরত থাকা পাওয়া যায়, তা যেহেতু ফরজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে, তাই সে সময়ে অন্য কিছু শরিয়তসম্মত থাকে না। কারণ একই বিরত থাকার মাধ্যমে দুই রোজা আদায়ের কোনো অবকাশ নেই। আর এই সময়ে যা সম্ভব তা কোনোভাবেই নির্ধারিত হকের অতিরিক্ত হয় না। ফলে অন্য কোনো কিছু এতে শরিয়তসম্মত হিসেবে সাব্যস্ত হবে না এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে তা আদায় হওয়াও সম্ভব নয়।

অতঃপর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন, এই হুকুমের ক্ষেত্রে মুসাফির ও মুকিম সমান। কারণ মুসাফিরের ক্ষেত্রে রমজান মাসের উপস্থিতির দ্বারাই রোজার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হয়। এই কারণেই রোজা আদায় করা শুদ্ধ হয়। তবে শরিয়ত তাকে কষ্ট দূর করার জন্য রোজা ভঙ্গের অবকাশ প্রদান করেছে। সুতরাং সে যদি অবকাশ গ্রহণ না করে, তবে সে ও মুকিম সমান হয়ে যাবে। ফলে তার রোজা রমজানের ফরজ হিসেবেই গণ্য হবে এবং নফল বা অন্য কোনো ওয়াজিবের নিয়ত বাতিল হয়ে যাবে।

আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, মুসাফির যদি অন্য কোনো ওয়াজিবের নিয়ত করে, তবে সে যা নিয়ত করেছে তা-ই শুদ্ধ হবে। কারণ এই সময়ে অন্য রোজার অনুপস্থিতি রোজার আবশ্যকতা কিংবা উপকারিতার মাধ্যমে আদায় সাব্যস্ত হওয়ার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সেটি তো ঐ ক্ষেত্রে বিদ্যমান যেখানে সময় একটি আধার হিসেবে থাকে। বরং এটি সময়টি আদায়ের জন্য নির্ধারিত হওয়ার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর মুসাফিরের ক্ষেত্রে সময়টি নির্ধারিত নয়; বরং সে এটি আদায় করা বা অন্য দিনগুলোতে পিছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখতিয়ারপ্রাপ্ত। সুতরাং এই বিরত থাকা দ্বারা অন্য রোজা আদায়ের শুদ্ধতা নাকচ হবে না। আর যদিও তার ওপর আবশ্যকতা সাব্যস্ত হয়েছে, কিন্তু ওয়াজিব আদায় বিলম্বিত করার অবকাশও তার জন্য সাব্যস্ত। আর সে যখন অবকাশ বর্জন করে...
(খণ্ড: ١) উসুলুস সারাখসী = তামহীদুল ফুসুল ফিল উসুল - তাহকীক আল-আফগানী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
مَا صرف الْإِمْسَاك إِلَى مَا هُوَ دين فِي ذمَّته فَإِن ذَلِك أهم عِنْده وَإِذا كَانَ هُوَ بِالْفطرِ مترخصا لِأَن فِيهِ رفقا بِبدنِهِ فَلِأَن يكون فِي صرفه إِلَى وَاجِب آخر مترخصا لِأَنَّهُ نظر مِنْهُ لدينِهِ كَانَ أولى وعَلى الطَّرِيق الأول إِذا نوى النَّفْل كَانَ صَائِما عَن النَّفْل وعَلى الطَّرِيق الثَّانِي يكون صَائِما عَن الْفَرْض لِأَنَّهُ فِي نِيَّة النَّفْل لَا يكون مترخصا بِالصرْفِ إِلَى مَا هُوَ الأهم وَفِيه رِوَايَتَانِ عَن أبي حنيفَة رحمه الله

فَأَما الْمَرِيض إِذا صَامَ كَانَ صَوْمه عَن صَوْم رَمَضَان وَإِن نوى عَن وَاجِب آخر أَو نوى النَّفْل لِأَن الرُّخْصَة فِي حق الْمَرِيض إِنَّمَا تثبت إِذا تحقق عَجزه عَن أَدَاء الصَّوْم وَإِذا صَامَ فقد انْعَدم دَلِيل سَبَب الرُّخْصَة فِي حَقه فَكَانَ هُوَ كَالصَّحِيحِ وَأما الرُّخْصَة فِي حق الْمُسَافِر بِاعْتِبَار سَبَب ظَاهر قَامَ مقَام الْعذر الْبَاطِن وَهُوَ السّفر وَذَلِكَ لَا يَنْعَدِم بِفعل الصَّوْم فَيبقى لَهُ حق التَّرَخُّص وَهُوَ فِي نِيَّته وَاجِبا آخر مترخص كَمَا بَيناهُ

وَقَالَ زفر رحمه الله وَلما تعين صَوْم الْفَرْض مَشْرُوعا فِي هَذَا الزَّمَان وركن الصَّوْم هُوَ الْإِمْسَاك فَالَّذِي يتَصَوَّر فِيهِ من الْإِمْسَاك مُسْتَحقّ الصّرْف إِلَيْهِ فَلَا يتَوَقَّف الصِّحَّة على عَزِيمَة مِنْهُ بل على أَي وَجه أَتَى بِهِ يكون من الْمُسْتَحق كمن اسْتَأْجر خياط 8 اليخيط لَهُ ثوبا بِعَيْنِه بِيَدِهِ فَسَوَاء خاطه على قَصده الْإِعَانَة أَو غَيره يكون من الْوَجْه الْمُسْتَحق وَمن عَلَيْهِ الزَّكَاة فِي نِصَاب بِعَيْنِه إِذا وهبه للْفَقِير يكون مُؤديا لِلزَّكَاةِ وَإِن لم ينْو لهَذَا الْمَعْنى

وَلَكنَّا نقُول مَعَ تعين الصَّوْم مَشْرُوعا مَنَافِعه الَّتِي تُوجد فِي الْوَقْت بَاقِيَة حَقًا لَهُ وَهُوَ مَأْمُور بِأَن يُؤَدِّي بِمَا هُوَ حَقه مَا هُوَ مُسْتَحقّ عَلَيْهِ من الْعِبَادَة وَذَلِكَ بأَدَاء يكون مِنْهُ على اخْتِيَار فَلَا يتَحَقَّق ذَلِك بِدُونِ الْعَزِيمَة لِأَنَّهُ مَا لم يعزم على الصَّوْم لَا يكون صارفا مَاله إِلَى مَا هُوَ مُسْتَحقّ عَلَيْهِ فَإِن عدم الْعَزْم لَيْسَ بِشَيْء وَإِنَّمَا لَا يتَحَقَّق مِنْهُ صرف مَنَافِعه إِلَى أَدَاء صَوْم آخر لِأَنَّهُ غير مَشْرُوع فِي هَذَا الْوَقْت كَمَا لَا يتَحَقَّق مِنْهُ أَدَاء صَوْم بِاللَّيْلِ لِأَنَّهُ غير مَشْرُوع فِيهِ بِخِلَاف الْأَجِير فَفِي أجِير الْوَاحِد الْمُسْتَحق مَنَافِعه بِعَيْنِه وَفِي الْأَجِير الْمُشْتَرك الْمُسْتَحق هُوَ الْوَصْف

তিনি যখন পানাহার থেকে বিরত থাকাকে তার যিম্মায় থাকা ঋণের (ওয়াজিব রোজা) দিকে নিবিষ্ট করলেন, তখন সেটি তার নিকট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর যেহেতু তিনি রোজা না রাখার ক্ষেত্রে ছাড় (রুখসত) প্রাপ্ত ছিলেন কারণ এতে তার শরীরের জন্য সহজতা রয়েছে, সেহেতু এই রোজা অন্য কোনো ওয়াজিবের দিকে নিবিষ্ট করার ক্ষেত্রেও ছাড় প্রাপ্ত হওয়া অধিক সমীচীন; কারণ এতে তার দ্বীনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী যদি তিনি নফলের নিয়ত করেন, তবে তিনি নফল রোজা পালনকারী হিসেবে গণ্য হবেন। আর দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তিনি ফরজের রোজা পালনকারী হিসেবে গণ্য হবেন, কারণ নফলের নিয়ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নিবিষ্ট হওয়ার কারণে তিনি ছাড়প্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন না। এ বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখেন, তবে তা রমজানের রোজা হিসেবেই গণ্য হবে; যদিও তিনি অন্য কোনো ওয়াজিব বা নফলের নিয়ত করেন। কারণ অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাড় কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় যখন রোজা পালনে তার অক্ষমতা নিশ্চিত হয়। আর যখন তিনি রোজা রাখলেন, তখন তার ক্ষেত্রে ছাড়ের কারণের প্রমাণ বিলুপ্ত হয়ে গেল। ফলে তিনি সুস্থ ব্যক্তির ন্যায় গণ্য হবেন। কিন্তু মুসাফিরের (ভ্রমণকারীর) ক্ষেত্রে ছাড় একটি দৃশ্যমান কারণের (সফর) ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে যা একটি গোপন ওযরের (কষ্ট) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, আর সেটি রোজা পালনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয় না। ফলে তার ছাড় পাওয়ার অধিকার অবশিষ্ট থাকে এবং অন্য ওয়াজিবের নিয়ত করার ক্ষেত্রে তিনি ছাড়প্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবেই গণ্য হন, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।

ইমাম যুফার (রহ.) বলেন, যেহেতু এই সময়ে ফরয রোজা শরীয়তসম্মতভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং রোজার রুকন হলো পানাহার থেকে বিরত থাকা (ইমসাক), তাই এই সময়ের যে বিরতি তা ফরজের দিকেই নিবিষ্ট হওয়া সাব্যস্ত। সুতরাং এর শুদ্ধতা তার দৃঢ় সংকল্পের (আযিমত) ওপর নির্ভর করে না; বরং যেভাবেই তিনি এটি আদায় করুন না কেন, তা নির্ধারিত ওয়াজিব হিসেবেই গণ্য হবে। যেমন কেউ যদি কোনো দর্জিকে নিজের হাতে একটি নির্দিষ্ট কাপড় সেলাই করার জন্য ভাড়া করে, তবে সে সাহায্যের নিয়তে সেলাই করুক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, তা নির্ধারিত কাজের আদায় হিসেবেই গণ্য হবে। তেমনি যার ওপর একটি নির্দিষ্ট নিসাবের যাকাত ওয়াজিব, সে যদি তা কোনো দরিদ্রকে দান করে দেয়, তবে সে যাকাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে এই নির্দিষ্ট অর্থ (যাকাত আদায়ের নিয়ত) না করে।

কিন্তু আমরা বলি যে, রোজা শরীয়তসম্মতভাবে নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও ঐ সময়ে বিদ্যমান তার শারীরিক সামর্থ্য বা উপকারিতা তার নিজেরই অধিকার হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। আর তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সে তার নিজের অধিকারভুক্ত বিষয় দ্বারা তার ওপর অর্পিত ইবাদতটি আদায় করে। আর এটি তার নিজের ইচ্ছায় আদায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। সুতরাং সংকল্প বা নিয়ত ছাড়া এটি বাস্তবায়িত হবে না। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত সে রোজার সংকল্প না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার বিষয়টিকে ওয়াজিবের দিকে নিবিষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা সংকল্পের অনুপস্থিতি কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে অন্য রোজার দিকে তার শারীরিক সামর্থ্য নিবিষ্ট করা এই কারণে বাস্তবায়িত হয় না যে, এই সময়ে তা শরীয়তসম্মত নয়; যেমনটি রাতের বেলা রোজা আদায় করা বাস্তবায়িত হয় না, কারণ ঐ সময়ে তা শরীয়তসম্মত নয়। এটি ঐ নির্দিষ্ট শ্রমিকের (আজিরে ওয়াহেদ) ক্ষেত্র থেকে ভিন্ন যার শারীরিক সামর্থ্য সুনির্দিষ্টভাবে পাওনাদারের অধিকারভুক্ত, আর যৌথ শ্রমিকের (আজিরে মুশতারেক) ক্ষেত্রে যা পাওনাদারের অধিকার তা হলো কাজের গুণগত মান।