(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: -)
الاستغراب القسم: كتب عامة
الكتاب: الاستغراب
المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
عدد الصفحات: 36
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442
আল-ইস্তিগরাব বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-ইস্তিগরাব
লেখক: ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ায়লান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬
[গ্রন্থটি অমুদ্রিত]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১)
الاستغراب
د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
একক বা বিরলতা (الاستغراب)
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়লান
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمةالحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خاتم الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فهذا بحث مختصر عن الاستغراب، وتأتي أهمية الكتابة في هذا الموضوع لمعرفة هذا العلم الجديد، والموقف الصحيح منه، لأن المسلم يجب أن يكون على جانب كبير من الإدراك واليقظة والاهتمام بأمر دينه وأمته، وعلى علم وبصيرة بما يدور حوله من الآراء والمناهج والاتجاهات ليكون خير داع إلى الهدى وخير منقذ من الضلالة.
خطة البحث:يشتمل البحث على مقدمة وخمسة فصول وخاتمة.
المقدمة وتشتمل على: الموضوع وأهميته، وخطة البحث.
الفصل الأول: تعريف علم الاستغراب ونشأته.
- المبحث الأول: تعريف الاستغراب.
- المبحث الثاني: تعريف التغريب.
- المبحث الثالث: الفرق بين الاستغراب والتغريب.
- المبحث الرابع: نشأة علم الاستغراب
الفصل الثاني: أهمية علم الاستغراب.
الفصل الثالث: الموقف الصحيح من علم الاستغراب.
الفصل الرابع: ضوابط دراسة علم الاستغراب.
الفصل الخامس: نماذج من دراسة الغرب.
الخاتمة: أبرز النتائج.
أسأل الله عز وجل أن يكون خالصا لوجه الكريم.
والله أعلم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
د: عبد المجيد بن محمد الوعلان
awalaan@gmail.com
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল এবং নবি ও রাসুলগণের সমাপক। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
এটি ‘ইস্তিগরিব’ বা পাশ্চাত্যবিদ্যা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এই নতুন শাস্ত্রকে জানা এবং এ বিষয়ে সঠিক অবস্থান গ্রহণের মধ্যে। কারণ একজন মুসলিমের জন্য তার দ্বীন ও উম্মাহর বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, জাগ্রত এবং মনোযোগী হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি নিজের চারপাশে চলমান বিভিন্ন মতবাদ, পদ্ধতি ও প্রবণতা সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকা প্রয়োজন, যাতে সে হেদায়েতের পথে উত্তম আহ্বানকারী এবং গোমরাহি থেকে উদ্ধারকারী হতে পারে।
গবেষণার পরিকল্পনা:গবেষণাটি একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
ভূমিকা: বিষয়বস্তু ও এর গুরুত্ব এবং গবেষণার পরিকল্পনা।
প্রথম অধ্যায়: পাশ্চাত্যবিদ্যার সংজ্ঞা এবং এর উদ্ভব।
- প্রথম পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যবিদ্যার সংজ্ঞা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যকরণের সংজ্ঞা।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যবিদ্যা এবং পাশ্চাত্যকরণের মধ্যে পার্থক্য।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যবিদ্যার উদ্ভব।
দ্বিতীয় অধ্যায়: পাশ্চাত্যবিদ্যার গুরুত্ব।
তৃতীয় অধ্যায়: পাশ্চাত্যবিদ্যা সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।
চতুর্থ অধ্যায়: পাশ্চাত্যবিদ্যা অধ্যয়নের নীতিমালা।
পঞ্চম অধ্যায়: পাশ্চাত্য বিষয়ক অধ্যয়নের কিছু নমুনা।
উপসংহার: প্রধান ফলাফলসমূহ।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান
awalaan@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفصل الأول: تعريف علم الاستغراب ونشاته
المبحث الأول: تعريف الاستغرابهذا المصطلح ربما فهم منه أول ظهوره: مجموعة من أبناء الأمة الإسلامية الذين تأثروا بالغرب في سلوكهم وأخلاقهم وأفكارهم. وهذا المصطلح هو التغريب فأصبح هؤلاء يعرفون بالمستغربين. وليس كل مستغرب بهذا المعنى ينطوي تحت علم الاستغراب.
أما الاستغراب الذي نتحدث عنه فهو محاولة معرفة الغرب من الداخل معرفة علمية موضوعية موثقة.
فالاستغراب كمصطلح هو ما يقابل الاستشراق، وهذا العلم يمكننا من دراسة الغرب، فهو: العلم الذي يهتم بدراسة الغرب (أوروبا وأمريكا) من جميع النواحي العقدية، والتشريعية، والتاريخية، والجغرافية، والاقتصادية، والسياسية، والثقافية .. الخ.
وهذا المجال لم يصبح بعد علماً مستقلاً، ولكن من المتوقع في ضوء النهضة العلمية التي تشهدها البلاد العربية والإسلامية أن تقوم مراكز البحث العلمي ووزارات التعليم العالي في العالم الإسلامي بشحذ الهمم وتسرع الخطى وتغذ السير لإنشاء أقسام علمية تدرس الغرب دراسة علمية ميدانية تخصصية في المجالات العقدية والفكرية والتاريخية والاقتصادية والسياسية.
وقد قدّم حسن حنفي مبرراته لتحولنا من ذات مدروسة إلى ذات دارسة بقوله عن مهمة علم الاستغراب بأنها " فك عقدة النقص التاريخية في علاقة الأنا بالآخر والقضاء على مركب العظمة لدى الآخر الغربي بتحويله من ذات دارس إلى موضوع مدروس، والقضاء على مركب النقص لدى الأنا بتحويله من موضوع مدروس إلى ذات دارس، مهمته القضاء على الإحساس بالنقص أمام الغرب، لغة وثقافة وعلماً ومذاهب ونظريات وآراء مما يخلق فيهم إحساساً بالدونية
… "، ويقول في موضع آخر إن " مهمة علم الاستغراب هو القضاء على المركزية الأوروبية
… مهمة هذا العلم الجديد رد ثقافة الغرب إلى حدوده الطبيعية بعد أن انتشر خارج حدوده أبان عنفوانه الاستعماري من خلال سيطرته على أجهزة الإعلام وهيمنته على وكالات الأنباء، ودور النشر الكبرى، ومراكز الأبحاث العلمية، والاستخبارات العامة
… "
(1).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আল-ইস্তিগরাব (الاستغراب) বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও এর উদ্ভব
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-ইস্তিগরাব (الاستغراب)-এর সংজ্ঞাএই পরিভাষাটি যখন প্রথম আবির্ভূত হয়, তখন সম্ভবত এটি দ্বারা মুসলিম উম্মাহর এমন একদলকে বোঝানো হতো যারা তাদের আচরণ, নৈতিকতা ও চিন্তাধারায় পাশ্চাত্য দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। আর এই পরিভাষাটি মূলত পাশ্চাত্যায়ন (التغريب), যার ফলে তারা পাশ্চাত্যঘেঁষা (المستغربين) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে এই অর্থে ব্যবহৃত প্রতিটি পাশ্চাত্যঘেঁষা ব্যক্তি 'আল-ইস্তিগরাব' (الاستغراب) বা পাশ্চাত্যতত্ত্ব বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত নয়।
পক্ষান্তরে আমরা এখানে যে 'আল-ইস্তিগরাব' (الاستغراب) সম্পর্কে আলোচনা করছি, তা হলো পাশ্চাত্যকে ভেতর থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও প্রামাণ্য (موثقة) উপায়ে জানার একটি প্রচেষ্টা।
পরিভাষা হিসেবে 'আল-ইস্তিগরাব' (الاستغراب) হলো 'আল-ইস্তিশরাক' (الاستشراق) বা প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতিরূপ। এই বিজ্ঞানটি আমাদের পাশ্চাত্য অধ্যয়নে সক্ষম করে তোলে; মূলত এটি এমন এক বিজ্ঞান যা ইউরোপ ও আমেরিকার আক্বিদা সংক্রান্ত (العقدية), বিধান সংক্রান্ত (التشريعية), ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতিসহ সকল দিক নিয়ে পর্যালোচনার গুরুত্ব প্রদান করে।
এই ক্ষেত্রটি এখনও একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে গড়ে ওঠেনি। তবে আরব ও মুসলিম বিশ্বে বর্তমানে যে বৈজ্ঞানিক জাগরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার আলোকে আশা করা যায় যে, মুসলিম বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলো তাদের প্রচেষ্টাকে আরও শাণিত করবে এবং আক্বিদা, চিন্তা, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যকে বিজ্ঞানসম্মত, মাঠপর্যায়ে ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অধ্যয়নের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
হাসান হানাফি 'অধ্যয়নকৃত সত্তা' থেকে 'অধ্যয়নকারী সত্তা'য় আমাদের রূপান্তরের যৌক্তিকতা তুলে ধরে 'আল-ইস্তিগরাব' (الاستغراب) বিজ্ঞানের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন যে, এর কাজ হলো: "আমিত্ব ও অন্যের (الأنا والآخر) মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাজমান ঐতিহাসিক হীনম্মন্যতাবোধের গ্রন্থি উন্মোচন করা এবং পাশ্চাত্যকে 'অধ্যয়নকারী সত্তা' থেকে 'অধ্যয়নকৃত বিষয়ে' পরিণত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ববোধের অহমিকা নির্মূল করা। এছাড়া আমাদের মধ্যকার হীনম্মন্যতাবোধ দূর করে আমাদের 'অধ্যয়নকৃত বিষয়' থেকে 'অধ্যয়নকারী সত্তা'য় পরিণত করা। এর মূল লক্ষ্য হলো পাশ্চাত্যের ভাষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, মতবাদ, তত্ত্ব ও চিন্তাধারার সামনে যে হীনম্মন্যতাবোধ তৈরি হয়—যা তাদের মধ্যে এক প্রকার নিম্নম্মন্যতা (الدونية) সৃষ্টি করে—তা দূরীভূত করা..."। তিনি অন্যত্র বলেন, "আল-ইস্তিগরাব (الاستغراب) বিজ্ঞানের লক্ষ্য হলো ইউরোপকেন্দ্রিকতা (المركزية الأوروبية) দূর করা... এই নতুন বিজ্ঞানের কাজ হলো পাশ্চাত্যের সংস্কৃতিকে তার স্বাভাবিক সীমানায় ফিরিয়ে আনা; বিশেষ করে তাদের ঔপনিবেশিক শক্তিমত্তার সময় যখন তারা গণমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা, বড় বড় প্রকাশনা সংস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে প্রভাব বিস্তার করেছিল..."।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومهمته كذلك هي القضاء على ثنائية المركز والأطراف على مستوى الثقافة والحضارة. فمهما حاول رجال السياسة والاقتصاد القضاء على هذه الثنائية في ميدان السياسة والاقتصاد دون القضاء عليها مسبقاً في الثقافة فإن تبعية الأطراف للمركز في السياسة والاقتصاد قائمة.
ومن مهمة علم الاستغراب إعادة التوازن لثقافة المجتمعات، بدل هذه الكفة الراجحة للوعي الأوروبي والكفة المرجوحة للوعي اللاأوروبي. فطالما آن الكفتين غير متعادلتين سيظل الوعي الأوروبي هو الذي يمد ثقافة المجتمعات بنتاجه الفكري والعلمي وكأنه هو النمط الوحيد للإنتاج. وبالتالي يستمر هذا الظلم التاريخي الواقع على الثقافات غير المتميزة في سبيل الثقافة المتميزة.
ولا يتضمن هذا العلم الجديد مجرد إعلان لنوايا وتعبير عن أماني لدينا جميعاً بل أنه يمكن أن يحتوي على عدة بحوث عديدة ومراجعات للمفاهيم والتصورات من أجل إيجاد رؤى بديلة عن رؤي الوعي الأوربي
(1).
ولا بد أن نبين أن المقصود بالدراسة في علم الاستغراب ليس هو فقط العدو الخارجي ولكن ثمة أناس من أبناء جلدتنا يمكن أن يكونوا أخطر من العدو الخارجي: هم أولئك الذين تأثروا بالفكر الغربي وأصبحت لهم مواقف مختلفة في النواحي الفكرية والثقافية والسياسية لا تتفق مع المنهج الإسلامي في التفكير، فقد يبدي عداءً للغرب أو للآخر الحقيقي ولكنه في الوقت نفسه يتبنى كثيراً المواقف المنافية لمصالح الأمة الإسلامية.
--------------------------------------------
এবং এর উদ্দেশ্য হলো সংস্কৃতি ও সভ্যতার স্তরে কেন্দ্র ও প্রান্তের দ্বিমুখীতা দূর করা। রাজনীতি ও অর্থনীতির ব্যক্তিত্বরা যদি সংস্কৃতিতে এই দ্বিমুখীতা আগে দূর না করে কেবল রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে তা দূর করার চেষ্টা করেন, তবে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কেন্দ্রের প্রতি প্রান্তের পরাধীনতা বজায় থাকবে।
আর পাশ্চাত্যবিদ্যার (علم الاستغراب) অন্যতম কাজ হলো সমাজের সংস্কৃতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা; ইউরোপীয় চেতনার এই অগ্রগণ্য (راجح) পাল্লা এবং অ-ইউরোপীয় চেতনার অনগ্রগণ্য (مرجوح) পাল্লার পরিবর্তে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দুই পাল্লা ভারসাম্যপূর্ণ না হবে, ততক্ষণ ইউরোপীয় চেতনাই তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক ফসল দিয়ে সমাজের সংস্কৃতিকে রসদ জোগাতে থাকবে, যেন এটিই উৎপাদনের একমাত্র ধরণ। এর ফলে তথাকথিত শ্রেষ্ঠ সংস্কৃতির দাপটে বৈশিষ্ট্যহীন সংস্কৃতিগুলোর ওপর এই ঐতিহাসিক জুলুম চলতেই থাকবে।
এই নতুন শাস্ত্রটি কেবল আমাদের সবার ইচ্ছা ঘোষণা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইউরোপীয় চেতনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি অন্বেষণে এটি বিভিন্ন গবেষণা এবং ধারণা ও চিন্তাধারার পর্যালোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে
(১)।
আমাদের অবশ্যই এটি স্পষ্ট করতে হবে যে, পাশ্চাত্যবিদ্যার আলোচনার উদ্দেশ্য কেবল বহিঃশত্রু নয়, বরং আমাদের স্বজাতীয়দের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বহিঃশত্রুর চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারেন: তারা হলেন সেই সমস্ত লোক যারা পাশ্চাত্য চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন অবস্থান গ্রহণ করেছেন যা চিন্তা-গবেষণার ইসলামি পদ্ধতির (منهج) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা হয়তো পাশ্চাত্যের প্রতি বা প্রকৃত 'অন্য'দের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু একই সাথে তারা উম্মাহর স্বার্থপরিপন্থী বহু অবস্থান গ্রহণ করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الثاني: تعريف التغريبالتغريب هو: مجموعة الأفكار والمفاهيم والممارسات المتلقاة من الكفار والتي يقصد بها صرف الأمة عن دينها. واشتقاقها من الغرب لغالبية دورهم في هذا المجال، وإلا فالكفر ملة واحدة، فالمقصود من التغريب: تحويل سلوك المسلمين، وعاداتهم، وتقاليدهم، وقيمهم، وأعرافهم، وثقافتهم لتكون تابعة للغرب. لينفوا بذلك جذور الإسلام العقائدية في تصرفات المسلمين.
فهو تيار فكرى كبير ذو أبعاد سياسيه واجتماعيه وثقافيه، ومقصده محو الهوية الإسلامية
(1). ومن أهم أفكاره:
أ - تشجيع فكرة إيجاد فكر إسلامي متطور لتحتمي في دروبه الحياة الغربية وبالتالي محو الطابع المميز للشخصية المسلمة في المأكل والملبس والتفكير والتصرفات ..... الخ
ب - الدعوة الوطنية والدعوة للحرية والقومية المجردة عن الدين.
ج - المطالبة بحقوق المرأة -زعموا-وتحريرها بعيداً عن الدين.
د - نشر فكرة العالمية والإنسانية -العولمة-.
فالتغريب اسم للمصطلح الذي يهدف قادة الغرب وعلماؤه ومن سار على نهجهم إلى تحقيقه من وراء جهودهم التي يكيدون بها الإسلام وأهله.
فبعد أن فشلت بعض الحملات العسكرية أيام الاستعمار نشأت فكرة التغريب عند ساسة الغرب ومخططيه، وهي أنه ينبغي أن تكون الجيوش الاستعمارية بعيدة عن المواجهات لأنها تثير ردود فعل عنيفة، وأنه ينبغي أن يبذلوا الأسباب لتستسلم الأمم المسلمة للثقافة والحضارة الغربية بنفسها طواعية، وهدفها تذويب الشخصية المسلمة في الشخصية الغربية بحيث لا ترى إلا بالمنظور الغربي، ولا تعتنق من الأفكار والمناهج إلا ما هو مستورد من الغرب، وتبتعد عن قيمها وعقائدها وأخلاقها المستمدة من شريعة الإسلام وتعتنق هذه الديانة الجديدة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যকরণ (تغريب)-এর সংজ্ঞাপাশ্চাত্যকরণ (تغريب) হলো: অবিশ্বাসী (كفار)-দের নিকট থেকে সংগৃহীত এমন কিছু চিন্তা, ধারণা ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যার উদ্দেশ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা। এই শব্দটির উৎপত্তি 'পাশ্চাত্য' (الغرب) শব্দ থেকে, কারণ এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকাই প্রধান; অন্যথায় কুফর (كفر) মূলত একই আদর্শের অনুসারী। সুতরাং পাশ্চাত্যকরণের (تغريب) মূল উদ্দেশ্য হলো: মুসলমানদের আচরণ, অভ্যাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, প্রথা ও সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যের অনুগামী হিসেবে পরিবর্তন করা; যাতে তারা এর মাধ্যমে মুসলমানদের কর্মকাণ্ডে ইসলামের আকিদাগত (عقائدية) ভিত্তি বিলোপ করতে পারে।
এটি একটি বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতধারা যার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তৃতি রয়েছে এবং এর লক্ষ্য হলো ইসলামী পরিচয় (الهوية الإسلامية) মুছে ফেলা
(১)। এর প্রধান চিন্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক - একটি 'উন্নত ইসলামী চিন্তা' তৈরির ধারণাকে উৎসাহিত করা, যার আড়ালে পাশ্চাত্য জীবনধারা আশ্রয় নিতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে আহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হয়ে যায়।
খ - ধর্মহীন জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও দ্বীন-বিযুক্ত দেশপ্রেমের দাওয়াত দেওয়া।
গ - তথাকথিত নারী অধিকারের দাবি এবং ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে নারী মুক্তির আহ্বান জানানো।
ঘ - বিশ্বজনীনতা ও মানবতাবাদের নামে বিশ্বায়ন (عولمة)-এর ধারণা প্রচার করা।
পাশ্চাত্যকরণ (تغريب) মূলত এমন একটি পরিভাষা, যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের নেতা ও পণ্ডিতগণ এবং তাদের অনুসারীরা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে।
উপনিবেশিক যুগে কিছু সামরিক অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদ ও পরিকল্পনাকারীদের মাঝে পাশ্চাত্যকরণের (تغريب) ধারণাটি জন্ম নেয়। আর তা হলো—উপনিবেশিক সেনাবাহিনীগুলোকে সম্মুখ যুদ্ধ থেকে দূরে রাখা উচিত, কারণ তা তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বরং তাদের এমন সব উপায় অবলম্বন করা উচিত যাতে মুসলিম জাতিগুলো স্বেচ্ছায় পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও সভ্যতার কাছে আত্মসমর্পণ করে। এর লক্ষ্য হলো মুসলিম ব্যক্তিত্বকে পাশ্চাত্য ব্যক্তিত্বের মাঝে বিলীন করে দেওয়া, যাতে তারা কেবল পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই সবকিছু দেখে এবং পাশ্চাত্য থেকে আমদানিকৃত চিন্তা ও আদর্শ ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ না করে। এভাবে তারা ইসলামী শরিয়ত থেকে উদ্ভূত নিজস্ব মূল্যবোধ, আকিদা (عقيدة) ও নৈতিকতা থেকে দূরে সরে গিয়ে এই নব্য ধর্মাদর্শ গ্রহণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الثالث: الفرق بين الاستغراب والتغريبمن خلال التعريف السابق للاستغراب والتغريب يتضح لنا:
أن الاستغراب محاولة معرفة الغرب من الداخل معرفة علمية موضوعية موثقة. وهو كمصطلح يقابل الاستشراق، وهذا العلم يمكننا من دراسة الغرب، فهو: العلم الذي يهتم بدراسة الغرب (أوروبا وأمريكا) من جميع النواحي العقدية، والتشريعية، والتاريخية، والجغرافية، والاقتصادية، والسياسية، والثقافية .. الخ. بخلاف التغريب الذي يهدف إلى طبع العرب والمسلمين عامة بطابع الحضارة الغربية والثقافة الغربية مما يساعد على إيجاد روابط الود والتفاهم-زعموا-.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিগরাব (পাশ্চাত্যতত্ত্ব) ও তাগরীব (পাশ্চাত্যকরণ)-এর মধ্যকার পার্থক্যইস্তিগরাব ও তাগরীব-এর পূর্বোক্ত সংজ্ঞার মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে:
ইস্তিগরাব হলো ভেতর থেকে পাশ্চাত্যকে বিজ্ঞানসম্মত, বস্তুনিষ্ঠ এবং নির্ভরযোগ্য (موثقة) পদ্ধতিতে জানার একটি প্রচেষ্টা। পরিভাষা হিসেবে এটি ইস্তিশরাক (প্রাচ্যতত্ত্ব)-এর বিপরীত। এই বিজ্ঞান আমাদের পাশ্চাত্য সম্পর্কে অধ্যয়নে সক্ষম করে তোলে; অর্থাৎ এটি এমন এক বিদ্যা যা পাশ্চাত্যের (ইউরোপ ও আমেরিকা) আকিদাহগত (عقدية), আইনি, ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ সকল দিক নিয়ে পর্যালোচনার আলোচনা করে। পক্ষান্তরে তাগরীব বা পাশ্চাত্যকরণের লক্ষ্য হলো সাধারণত আরব ও মুসলিমদের ওপর পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির ছাপ অঙ্কিত করা, যা—তাদের দাবি অনুযায়ী—পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সমঝোতার বন্ধন সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الرابع: نشأة علم الاستغرابإن المسلمين في عصور ازدهارهم اهتموا بعقائد الأمم الأخرى وأسسوا علم الملل والنحل، وكتب في ذلك ابن حزم والبغدادي وابن تيمية وابن قيم الجوزية وغيرهم كثير.
لذلك فإن المسلمين الأوائل لم يجدوا صعوبة في التعرف على الشعوب الأخرى والتفاعل معها وأخذ ما يفيدهم مما لدى الأمم الأخرى من وسائل المدنيّة، دون أن تتأثر عقائدهم، حيث أخذوا الديوان والبريد وبعض الصناعات المهمة مثل صناعة الورق (الكاغد) التي طورّها المسلمون حتى أصبحت صناعات إسلامية.
واستمرت معرفتنا بالأخر حتى عندما التقى المسلمون بالنصارى في الحروب الصليبية فقدم لنا أسامة بن منقذ وصفاً دقيقاً لطباع الإفرنج، فهو يصف شجاعتهم وقوتهم وجلدهم، ولكنه يتعجب من ضعف غيرتهم أو عدمها على الأعراض، ويتحدث عن هذه النقطة بتفاصيل دقيقة مثيرة للاهتمام
(1).
ولعل بداية دراسة الغرب كانت فيما نقله رفاعة الطهطاوي وخير الدين التونسي وغيرهما عن أوروبا وكان من أبرز ما اهتما به النظام السياسي الغربي القائم على الانتخاب والحريات السياسية. كما اهتما بجوانب من الحياة الاجتماعية في الغرب وعلاقة الرجل بالمرأة. وكانت تلك النظرة التي ظهرت في كتابات التونسي والطهطاوي في وقت كانت قوة الغرب في عنفوانها وكان العالم الإسلامي يقاسي من ويلات التخلف فلا بد أن يصاب هؤلاء بالانبهار بالنموذج الغربي وإن كانا قد حاولا أن يربطا المحاسن الغربية (في نظرهم) بما في الإسلام.
وقد تجددت الدعوة لدراسة الغرب في منتصف هذا القرن في أحد مؤتمرات المستشرقين الدولية فقد أشار رودي بارت في كتابه الدراسات العربية والإسلامية في الجامعات الألمانية إلى أهمية أن يتوجه العالم الإسلامي لدراسة الغرب أسوة بما يفعله الغرب في دراساته للعالم الإسلامي.
وقد تناول هذا الموضوع الدكتور السيد محمد الشاهد في خطة علمية قدمها لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية عام 1410 وذكر حول أهداف هذه الدراسة: " طلب علوم الغرب للإفادة من صالحها وبيان فساد طالحها، والخلفية الفكرية للفكر الغربي."
(2)، وأوضح من ضمن الموضوعات التي يمكن دراستها:
(أ) دراسة عقيدة الغرب دراسة موضوعية بعيداً عن الحماسة والعاطفة.
(ب) وذكر في مقالة أخرى أن " علينا أن نبحث عن مخرج من موقفنا الضعيف إلى موقع قوي مؤثر، ولا يمكن ذلك إلاّ بدراسة علمية صادقة لما عليه أعداؤنا ولا حرج أن نتعلم من تجاربهم ومناهجهم ونأخذ منها ما ينفعنا ونترك منها ما عدا ذلك"
(3).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যতত্ত্বের (الاستغراب) উদ্ভবমুসলিমগণ তাঁদের উৎকর্ষের যুগে অন্যান্য জাতির আকিদা-বিশ্বাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং ধর্ম ও মতবাদতত্ত্ব (الملل والنحل) শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ইবনে হাজম, আল-বাগদাদি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া এবং আরও অনেক তাত্ত্বিক এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
ফলে প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের জন্য অন্যান্য জাতিসত্তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা, তাঁদের সাথে মিথস্ক্রিয়া ঘটানো এবং তাঁদের নিকট হতে পার্থিব সভ্যতার উপকারী উপাদানসমূহ গ্রহণ করা কঠিন ছিল না; এতে তাঁদের আকিদা (عقيدة) প্রভাবিত হয়নি। তাঁরা দিওয়ান, ডাক ব্যবস্থা এবং কাগজ (الكاغد) শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিল্প গ্রহণ করেছিলেন, যা মুসলিমদের মাধ্যমে বিকশিত হয়ে ইসলামি শিল্পে পরিণত হয়েছিল।
অপরের সম্পর্কে আমাদের এই জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল, এমনকি ক্রুসেড যুদ্ধের সময় যখন মুসলিমদের সাথে নাসারাদের (খ্রিস্টান) সাক্ষাৎ ঘটেছিল তখনও। উসামা ইবনে মুনকিজ আমাদের নিকট ইউরোপীয়দের (الإفرنج) স্বভাব-চরিত্রের এক সূক্ষ্ম বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। তিনি তাঁদের সাহসিকতা, শক্তি ও সহনশীলতার প্রশংসা করেছেন, কিন্তু মান-সম্মান বা পর্দার বিষয়ে তাঁদের আত্মমর্যাদাবোধের (غيرة) অভাব বা অনুপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি এই বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয় বর্ণনায় তুলে ধরেছেন
(১)।
পাশ্চাত্য নিয়ে অধ্যয়নের সূচনা সম্ভবত রিফায়াহ আত-তহতাবি, খাইরুদ্দিন আল-তিউনিসি এবং অন্যদের ইউরোপ সম্পর্কিত বর্ণনা থেকে শুরু হয়েছিল। তাঁদের আগ্রহের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত পাশ্চাত্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তদুপরি, তাঁরা পাশ্চাত্যের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক এবং নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিও মনোনিবেশ করেছিলেন। তিউনিসি ও তহতাবির লেখায় এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেয়েছিল যখন পাশ্চাত্যের শক্তি ছিল তুঙ্গে এবং মুসলিম বিশ্ব অনগ্রসরতার যন্ত্রণায় ভুগছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা পাশ্চাত্য মডেলের প্রতি মুগ্ধ হয়েছিলেন, যদিও তাঁরা পাশ্চাত্যের গুণাবলিকে (তাঁদের দৃষ্টিতে) ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এই শতাব্দীর মধ্যভাগে এক আন্তর্জাতিক প্রাচ্যবিদ সম্মেলনে পাশ্চাত্য অধ্যয়নের এই আহ্বান পুনরুজ্জীবিত হয়। রুডি পার্ট তাঁর 'জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ও ইসলামি শিক্ষা' নামক গ্রন্থে এই গুরুত্বারোপ করেন যে, পাশ্চাত্য যেভাবে মুসলিম বিশ্ব নিয়ে গবেষণা করে, মুসলিম বিশ্বেরও উচিত ঠিক একইভাবে পাশ্চাত্যকে নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করা।
ড. আস-সাইয়িদ মুহাম্মদ আল-শাহিদ ১৪১০ হিজরিতে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশকৃত একটি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনায় এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন। এই গবেষণার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন: "পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান হতে কল্যাণকর অংশ গ্রহণ, অকল্যাণকর বিষয়ের অসারতা প্রকাশ এবং পাশ্চাত্য চিন্তাধারার তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করা।"
(২) তিনি গবেষণার যোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে স্পষ্ট করেছেন:
(ক) আবেগ ও উত্তেজনা পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠভাবে পাশ্চাত্যের আকিদা (عقيدة) বা ধর্মবিশ্বাসের অধ্যয়ন।
(খ) তিনি অন্য একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, "আমাদের বর্তমান দুর্বল অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছানোর পথ খুঁজতে হবে। আমাদের শত্রুদের বর্তমান অবস্থার ব্যাপারে একটি সত্যনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন (دراسة علمية) ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও কর্মপদ্ধতি হতে শিক্ষা গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই; আমরা তাঁদের নিকট থেকে কল্যাণকর অংশ গ্রহণ করব এবং অবশিষ্ট অংশ বর্জন করব।"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
كما أصدر الدكتور حسن حنفي كتابا ضخما بعنوان: مقدمة في علم الاستغراب، تناول فيه أهمية دراسة الغرب فأوضح أن مهمة علم "الاستغراب" هي: " فك عقدة النقص التاريخية في علاقة الأنا بالآخر، والقضاء على مركب العظمة لدى الآخر بتحويله من ذات دارس إلى موضوع مدروس، والقضاء على مركب النقص لدى الأنا بتحويله من موضوع مدروس إلى ذات دارس. مهمته القضاء على الإحساس بالنقص أمام الغرب لغة وثقافة وعلماً ومذاهب ونظريات وآراء".
(1)ومن النماذج في بداية دراسة الغرب:
1 - قيام د. محمد بن سعود البشر الأستاذ المتخصص في الإعلام بترجمة عدد من الكتب التي صدرت في الولايات المتحدة الأمريكية وتتحدث عن واقع تلك المجتمعات وهي كتاب (يوم أن اعترفت أمريكا بالحقيقة) وكتاب (السقوط من الداخل) وغيرها من الكتب.
2 - د. مازن مطبقاني (الغرب من الداخل: دراسة للظواهر الاجتماعية).
3 - الشيخ الدكتور جعفر شيخ إدريس: " موقفنا من الحضارات والأديان الأخرى: رؤية شرعية"
(2).
4 - د. عبد الراضي عبد المحسن في كتاب المعتقدات الدينية لدى الغرب.
5 - د. عبد الراضي عبد المحسن في كتاب ماذا يريد الغرب من القرآن.
6 - وقد قام مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية في عام 1426 هـ/2005 م بتأسيس وحدة دراسات العالم الغربي (يشمل أوروبا والأمريكيتين) إدراكاً منه بأهمية مثل هذه الوحدة المتخصصة في ترقية وتنشيط العلاقات المتبادلة بين العالم العربي الإسلامي من جهة والعالم الغربي من جهة أخرى.
وكان من أهداف الوحدة:
- تأسيس قاعدة معلومات متخصصة عن العالم الغربي تغطي ما نشر عنه في وسائط المعلومات المختلفة في شتى المجالات: الحضارية والثقافية والفكرية والاقتصادية والسياسية والاجتماعية.
- إعداد البحوث والدراسات المتعلقة بالعالم الغربي.
- تشجيع الباحثين والدارسين من العرب والمسلمين على التخصص في مجالات الدراسات الغربية.
- الإسهام في تنمية الوعي العربي الإسلامي وتنويره بما يدور في العالم الغربي من خلال فعاليات ونشاطات الوحدة المختلفة.
- تطوير أدوات الاتصال بالعالم الغربي وفتح مجالات الحوار الأكاديمي المباشر معه من خلال الندوات والمحاضرات وغيرها.
- استثمار الطاقات العلمية العربية المهتمة والمتخصصة في دراسات الغرب وعلومه وتوظيفها والعمل على تأسيس رابطة علمية تجمعهم لإثراء الجانب المعرفي بما يخدم الصالح العربي الإسلامي
--------------------------------------------
كما أصدر الدكتور حسن حنفي كتابا ضخما بعنوان: مقدمة في علم الاستغراب، تناول فيه أهمية دراسة الغرب فأوضح أن مهمة علم "الاستغراب" هي: " فك عقدة النقص التاريخية في علاقة الأنا بالآخر، والقضاء على مركب العظمة لدى الآخر بتحويله من ذات دارس إلى موضوع مدروس، والقضاء على مركب النقص لدى الأنا بتحويله من موضوع مدروس إلى ذات دارس. مهمته القضاء على الإحساس بالنقص أمام الغرب لغة وثقافة وعلماً ومذاهب ونظريات وآراء".
(১)পাশ্চাত্য অধ্যয়নের শুরুর দিকের কিছু নিদর্শন হলো:
১ - গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-বিশর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত এবং সেখানকার সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এমন বেশ কিছু বই অনুবাদ করেছেন। যেমন— 'ইয়াওমা আন আ'তারাফাত আমরিকা বিল হাকিকাহ' (যেদিন আমেরিকা সত্য স্বীকার করেছিল) এবং 'আস-সুকুতু মিনাদ দাখিল' (ভিতর থেকে পতন) ও অন্যান্য গ্রন্থ।
২ - ড. মাজেন মুতবাকানি (আল-গারবু মিনাদ দাখিল: দিরাসাতুন লিলজাওয়াহিরিল ইজতিমায়িয়াহ - ভিতর থেকে পাশ্চাত্য: সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি গবেষণা)।
৩ - শেখ ড. জাফর শেখ ইদ্রিস: "মাওকিফুনা মিনাল হাদারাত ওয়াল আদিয়ানিল উখরা: রুইয়াহ শারইয়্যাহ" (অন্যান্য সভ্যতা ও ধর্মের প্রতি আমাদের অবস্থান: একটি শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি)
(২)。
৪ - ড. আব্দুর রাজি আব্দুল মুহসিন তাঁর 'পাশ্চাত্যের ধর্মীয় বিশ্বাস' গ্রন্থে।
৫ - ড. আব্দুর রাজি আব্দুল মুহসিন তাঁর 'পাশ্চাত্য কুরআন থেকে কী চায়' গ্রন্থে।
৬ - কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ১৪২৬ হিজরি/২০০৫ খ্রিস্টাব্দে 'পাশ্চাত্য বিশ্ব অধ্যয়ন ইউনিট' (ইউরোপ ও আমেরিকা অন্তর্ভুক্ত) প্রতিষ্ঠা করে। এক দিকে আরব-ইসলামি বিশ্ব এবং অন্য দিকে পাশ্চাত্য বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সক্রিয় করার ক্ষেত্রে এ ধরণের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই ইউনিটের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল:
- পাশ্চাত্য বিশ্ব সম্পর্কে একটি বিশেষায়িত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা, যা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, চিন্তা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক খাতের তথ্যগুলো সংগ্রহ করবে।
- পাশ্চাত্য বিশ্ব সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রস্তুত করা।
- পাশ্চাত্য গবেষণার ক্ষেত্রগুলোতে আরব ও মুসলিম গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বিশেষায়িত হতে উৎসাহিত করা।
- ইউনিটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও তৎপরতার মাধ্যমে পাশ্চাত্য বিশ্বে যা ঘটছে সে সম্পর্কে আরব-ইসলামি সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা।
- পাশ্চাত্য বিশ্বের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উন্নয়ন করা এবং সেমিনার ও বক্তৃতার মাধ্যমে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপের পথ উন্মোচন করা।
- পাশ্চাত্য গবেষণা ও বিজ্ঞানে আগ্রহী ও পারদর্শী আরব মেধাগুলোকে কাজে লাগানো এবং তাদের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার কাজ করা, যাতে আরব-ইসলামি স্বার্থের অনুকূলে জ্ঞানতাত্ত্বিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الثاني: أهمية علم الاستغرابلمّا كانت الحضارة الغربية بشقيها الأوروبي والأمريكي هي السائدة والمتفوقة اليوم فمن الواجب على المسلمين أن يعرفوها معرفة وثيقة وعلمية.
ولقد أضاع المسلمون كثيراً من الوقت منبهرين بما حققه الغرب، دون أن يتأملوا ويدركوا سر حركة التاريخ في الغرب، فنرى بعضاً من الباحثين والمفكرين المسلمين بمختلف انتماءاتهم يجهلون حقيقة الحياة الغربية والحضارة الغربية بالرغم من أنهم يعرفونها نظرياً، كما أنهم ما زالوا يجهلون تاريخ حضارتها.
وإنه بدون معرفة حركة تاريخ هذه الحضارة والمنطق الداخلي الذي يحكمها، فإننا لن ندرك سر قوتها ولا مكامن ضعفها، ولن نعرف كيف تكوّنت، وكيف أنها في طريق التحلّل والزوال لِما اشتملت عليه من ألوان التناقض، وضروب التعارض مع السنن الإلهية. وتحديد الصلة بالغرب وبغيره من الكيانات الحضارية، يعطينا تحديدين مهمين:
التحديد الأول: هو التحديد السلبي، وذلك من خلال إدراك نسبية الظواهر الغربية، ومعرفة أوجه النقص فيها وأوجه القوة الحقيقية.
أما التحديد الثاني: فهو التحديد الإيجابي، من خلال تحديد ما يمكن أن نساهم به في ترشيد الحضارة الإنسانية وهدايتها
(1).
وليكن معروفاً أن دراستنا للغرب يجب أن تتم وفق أسس معينه بحيث نفيد من معطيات الحضارة الغربية المعاصرة فيما لا يتعارض مع أسس الحضارة الإسلامية وثوابتها.
فالحدود الفاصلة بين المسلم وغيره واضحة جداً لدى المسلم، والحديث عن المسلم يحتاج إلى تحديد المعالم المميزة للنموذج الثقافي الإسلامي عن النموذج الغربي، والغير والآخر
(2) ليس هو فقط النصراني أو اليهودي أو المنافق بل الآخر أيضاً أناس من أبناء جلدتنا يتكلمون بألسنتنا ويتسمون بأسمائنا ولكنهم اختاروا نهجاً يجعلهم أقرب إلى الآخر، فهم ليسوا في الصف الإسلامي وإن زعموا أنهم حريصون على مصالح الأمة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: পশ্চিমা-জ্ঞানতত্ত্ব (ইস্তিগরাব) বিজ্ঞানের গুরুত্বযেহেতু বর্তমানে ইউরোপীয় ও আমেরিকান উভয় ধারার পশ্চিমা সভ্যতা প্রভাবশালী ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী, তাই মুসলমানদের জন্য এই সভ্যতা সম্পর্কে গভীর ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য।
মুসলমানরা পশ্চিমা বিশ্বের অর্জনের প্রতি মুগ্ধ হয়ে অনেক সময় অপচয় করেছে, অথচ তারা পশ্চিমের ইতিহাসের গতিধারার রহস্য সম্পর্কে চিন্তা ও উপলব্ধি করেনি। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন আদর্শের অনুসারী মুসলিম গবেষক ও চিন্তাবিদদের অনেকে তাত্ত্বিকভাবে পশ্চিমা জীবন ও সভ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকলেও তারা এর প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ; তদুপরি তারা এখনও এই সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান রাখে না।
এই সভ্যতার ইতিহাসের গতিধারা এবং একে পরিচালিতকারী অভ্যন্তরীণ দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে আমরা এর শক্তির রহস্য বা দুর্বলতার দিকগুলো উপলব্ধি করতে পারব না। আমরা জানতে পারব না এটি কীভাবে গঠিত হয়েছে এবং কেন এটি ক্রমশ ক্ষয় ও বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে—কেননা এতে রয়েছে নানা বৈপরীত্য এবং ঐশী বিধানের সাথে বিভিন্ন ধরনের সংঘাত। পশ্চিমা বিশ্ব এবং অন্যান্য সভ্য সত্তার সাথে সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ আমাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান করে:
প্রথম দিক: এটি হলো নেতিবাচক নির্ধারণ, যা পশ্চিমা প্রপঞ্চগুলোর আপেক্ষিকতা উপলব্ধি করা এবং এর ত্রুটিসমূহ ও প্রকৃত শক্তির দিকগুলো অনুধাবনের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
দ্বিতীয় দিক: এটি হলো ইতিবাচক নির্ধারণ, যার মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং হেদায়েতের ক্ষেত্রে আমরা কী অবদান রাখতে পারি তা নিরূপিত হয়
(১)।
এটি অবগত থাকা আবশ্যক যে, পশ্চিমা বিশ্ব নিয়ে আমাদের অধ্যয়ন অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট ভিত্তির ওপর হতে হবে, যাতে আমরা সমসাময়িক পশ্চিমা সভ্যতার উপাদানগুলো থেকে ততটুকুই গ্রহণ করতে পারি যা ইসলামি সভ্যতার মূলভিত্তি ও অপরিবর্তনীয় নীতিগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
একজন মুসলিমের কাছে স্বীয় সত্তা ও অপরের মধ্যকার বিভাজন রেখা অত্যন্ত স্পষ্ট। একজন মুসলিম সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে পশ্চিমা আদর্শ থেকে ইসলামি সাংস্কৃতিক কাঠামোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। 'অন্য' বা 'অপর'
(২) বলতে শুধু খ্রিস্টান, ইহুদি বা কপট (منافق) ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং 'অন্য' বলতে আমাদেরই স্বজাতিভুক্ত এমন ব্যক্তিদেরও বোঝায় যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে এবং আমাদের মতই নাম ধারণ করে, কিন্তু তারা এমন এক জীবনদর্শন বেছে নিয়েছে যা তাদের অন্যদের নিকটতর করে তুলেছে। তারা ইসলামি আদর্শের অনুসারী নয়, যদিও তারা দাবি করে যে তারা উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعندما خرج المسلمون من الجزيرة العربية منطلقين من طيبة الطيبة، كانوا أولا يعرفون دينهم معرفة حقيقية، ويعرفون ما يدعون إليه، كما كانوا يعرفون الأمم الأخرى، دخل أحد رسل جيش سعد ابن أبي وقاص رضي الله على القائد الفارسي، وأراد أن يجلس معه على سريره، فحاول الحرس منعه، فقال لهم: (كنا نظنكم أولي أحلام تتساوون فيما بينكم، فإذ بكم يستعبد بعضكم بعضا) ثم أضاف تلك المقولة البليغة: (إن قوما هذا حالهم فمصيرهم إلى زوال)
(1)، وكان المسلمون يعرفون الروم ونظام حياتهم، فلذلك نجحوا تماما في دعوتهم.
وقد أهتم علماء المسلمين بعقائد الآخر وفكره وثقافته ومن هؤلاء ابن حزم في الفصل والبغدادي في الفرق والأشعري في مقالات الإسلاميين وابن تيميه في الجواب الصحيح والغزالي في تهافت الفلاسفة وفضائح الباطنية.
وفي الوقت الذي توقفنا أو تراجعنا عن معرفة أنفسنا، وكذلك عن معرفة الآخر، انتبه الغرب إلى هذا الأمر، فبدأ نشاطه العلمي بدراسة الحضارة الإسلامية ومنجزاتها في شتى المجالات.
وقد كثفت أوربا جهودها في مجالين: -بالإضافة إلى الجهود الضخمة في الترجمة والنقل عن اللغة العربية واللغات الإسلامية الأخرى- بدءوا في إرسال الرحالة المستكشفين إلى عالمنا الإسلامي، تزيا بعضهم بأزياء البلاد التي زارها، وأعلن بعضهم إسلامه ليعمقوا في معرفتنا
(2). وساند هذا الجهد نشاط الاستشراق، فعقدوا المؤتمرات السنوية للجمعية الدولية للمستشرقين.
وليست المؤتمرات هي النشاط الوحيد، فإنهم أسسوا مئات الأقسام العلمية للدراسات العربية والإسلامية، وأنشأوا مراكز البحوث والمعاهد وعقدوا وما زالوا مئات الندوات والمؤتمرات، ونشروا ألوف أو عشرات الألوف من الكتب والدوريات، ولم يكتفوا بجهودهم وحدهم في معرفتنا، بل استقدموا أبناء الأمة الإسلامية للدراسة عندهم وبخاصة طلاب الدراسات العليا، فأصبحت رسائل الماجستير والدكتوراه تنقل إليهم أدق التفاصيل في حياتنا الاجتماعية والاقتصادية والسياسية والأدبية والثقافية، وكذلك بعض الندوات والمؤتمرات التي تعقد في بعض البلاد العربية الإسلامية بتمويل من بعض المؤسسات العلمية الغربية حيث يحضرها بعض المراقبين من الغربيين.
حيث يقوم هؤلاء المستشرقون بدراساتهم تلك من أجل تقديم دراساتهم ونصائحهم ووصاياهم:
1) للمبشرين بغية تحقيق أهداف التنصير.
2) وللدوائر الاستعمارية بغية تحقيق أهداف الاستعمار الفكري والعقائدي والمادي.
من هنا فإنه من الواجب علينا نحن المسلمين أن نولي اهتماماً بالغاً بثقافتنا الحضارية وهويتنا الإسلامية.
--------------------------------------------
যখন মুসলিমগণ পবিত্র মদীনা (তায়্যিবা) হতে যাত্রা শুরু করে আরব উপদ্বীপ থেকে বের হলেন, তখন তারা প্রথমত নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান রাখতেন এবং কীসের দিকে তারা দাওয়াত দিচ্ছেন তা জানতেন; একইভাবে তারা অন্যান্য জাতিসমূহ সম্পর্কেও অবহিত ছিলেন। সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর বাহিনীর জনৈক দূত পারস্য সেনাপতির নিকট প্রবেশ করলেন এবং তার সাথে আসনে বসতে চাইলেন। প্রহরীরা তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাদের বললেন: "আমরা মনে করতাম তোমরা বুদ্ধিমান এবং নিজেদের মাঝে সমতা বজায় রাখো, কিন্তু এখন দেখছি তোমাদের একে অপরকে দাসে পরিণত করে রেখেছে।" অতঃপর তিনি সেই সারগর্ভ উক্তিটি যোগ করেন: "যে জাতির অবস্থা এমন, তাদের পরিণতি হলো পতন।"
(১) মুসলিমগণ রোমীয়দের এবং তাদের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানতেন, ফলে তারা তাদের দাওয়াত প্রসারে পূর্ণরূপে সফল হয়েছিলেন।
মুসলিম উলামায়ে কেরাম অন্যদের আকিদা, চিন্তা-চেতনা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: 'আল-ফাসল' গ্রন্থে ইবনে হাজম, 'আল-ফারক্ব' গ্রন্থে আল-বাগদাদি, 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন' গ্রন্থে আল-আশআরি, 'আল-জওয়াবুস সহীহ' গ্রন্থে ইবনে তাইমিয়া এবং 'তাহাফুতুল ফালাসিফা' ও 'ফাদায়িহুল বাতিনিয়্যাহ' গ্রন্থে আল-গাজালি।
যখন আমরা নিজেদের এবং অন্যদের জানার ক্ষেত্রে স্থবির হয়ে গেলাম অথবা পিছিয়ে পড়লাম, তখন পশ্চিমারা এ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠল। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতা ও এর অর্জনগুলো নিয়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু করল।
ইউরোপ দুটি ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করল—আরবি এবং অন্যান্য ইসলামি ভাষা থেকে অনুবাদ ও স্থানান্তরের বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি—তারা মুসলিম বিশ্বে পর্যটক-অভিযাত্রী পাঠানো শুরু করল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভ্রমণকৃত দেশের পোশাক পরিধান করত এবং কেউ কেউ আমাদের সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল।
(২) এ প্রচেষ্টাকে প্রাচ্যতত্ত্বের (ওরিয়েন্টালিজম) তৎপরতা সহায়তা করেছিল; ফলে তারা আন্তর্জাতিক প্রাচ্যতত্ত্ববিদ সমিতির বার্ষিক সম্মেলনগুলো আয়োজন করতে লাগল।
কেবল সম্মেলনগুলোই একমাত্র তৎপরতা ছিল না; বরং তারা আরবি ও ইসলামি গবেষণার জন্য শত শত শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে, গবেষণা কেন্দ্র ও ইন্সটিটিউট স্থাপন করেছে এবং শত শত সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন করেছে (যা এখনও অব্যাহত আছে)। তারা হাজার হাজার বা দশ হাজারেরও বেশি বই ও সাময়িকী প্রকাশ করেছে। আমাদের জানার ক্ষেত্রে তারা কেবল নিজেদের প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের তাদের কাছে অধ্যয়নের জন্য নিয়ে গেছে, বিশেষ করে উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের। ফলে মাস্টার্স এবং পিএইচডি থিসিসগুলো আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণ তাদের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করে। একইভাবে কিছু মুসলিম দেশে পশ্চিমা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে আয়োজিত সেমিনার ও কনফারেন্সগুলোও এতে ভূমিকা রাখে, যেখানে পশ্চিমা পর্যবেক্ষকগণ উপস্থিত থাকেন।
এই প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ তাদের এই গবেষণা ও পরামর্শগুলো প্রদান করেন মূলত:
১) মিশনারিদের জন্য, যাতে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
২) ঔপনিবেশিক মহলের জন্য, যাতে বুদ্ধিবৃত্তিক, আদর্শিক ও বস্তুগত উপনিবেশ স্থাপনের উদ্দেশ্য সফল হয়।
এখান থেকেই আমাদের তথা মুসলিমদের জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা যেন আমাদের তামাদ্দুনিক সংস্কৃতি এবং ইসলামি পরিচয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وإنها فرصة سانحة للجامعات في البلاد الإسلامية والعربية للتصدي لمثل تلك الأفكار الهدامة التي يواجهها المسلمون في شريعتهم وتراثهم وفكرهم من قبل أغلب المستشرقين بأن يكون هناك أقسام خاصة في الجامعات تتولى الدراسات الغربية وهو ما يسمى بالاستغراب؛ لأن أفضل وسيلة للتخاطب مع هؤلاء المستشرقين والرد على ادعائهم ليس بالدفاع فقط ولكن بدراسة حياتهم الخاصة والعامة وتراثهم وثقافتهم لمعرفة نقاط الضعف والقوة.
فوجود مثل هذه المراكز والأقسام العلمية المتخصصة في دراسة الغرب قد يضفي نوعاً جديداً من طرق البحث العلمي عبر استخدام الوسائل العلمية المتاحة من خلال دراسات وثائقية واستطلاعية وعبر المشاركة بالملاحظة عن طريق الاندماج الفعلي في المجتمع فنحن أولى من يقوم بدراسة الغرب (شعوبه، تاريخه، أديانه، لغاته، أوضاعه الاجتماعية وعلاقاته الأسرية، مشكلاته الاقتصادية، وحضارته ...... ).
يقول الشيخ أحمد ديدات لأحد منسوبي قسم الاستشراق بكلية الدعوة بالمدينة: "لا أدري ماذا تفعلون أنتم في هذا القسم، لعلكم تقرؤون كتابات المستشرقين الذين يتهمون الإسلام بشتى التهم وتبدؤون بالدفاع عن الإسلام، أو ما يسمى الدفاع التبريري". إلى أن قال: "علينا أن نترك هذا الأسلوب من العمل أي لا ننتظر حتى يهاجموا الإسلام أو المسلمين بل علينا أن نأخذ المبادرة".
ثم قال: ينبغي أن نخاطب الغرب قائلين لهم: "انظروا إلى أوضاعكم الاجتماعية والاقتصادية والسياسية، إنكم تعيشون في ضنك مستمر وأزمات متواصلة. هذه حضارتكم قد حطّمت الأسرة؛ فالطلاق لديكم في ارتفاع مستمر، والزواج لم يعد زواجاً حقيقياً فقد ارتفعت نسبة الرجال الذين يعيشون مع نساء دون زواج. ويعاني أطفالكم من العيش بلا آباء، وسجونكم مليئة بالقتلة والمجرمين والمدمنين ومروجي المخدرات، وتعاني مجتمعاتكم من الشذوذ والإدمان على المخدرات والخمور، فماذا أنتم فاعلون لحل هذه المصائب؟ إن عليكم أن تعرفوا أن الحل لكل هذه الأزمات موجود في الإسلام".
فعلى سبيل المثال لا الحصر قضية حقوق المرأة حيث تبين للدارس المبتعث والمشارك لحياتهم عن قرب بأن موضوع حقوق المرأة ما هي إلا وسيلة للوصول إلى مبتغاهم من الدول غير الغربية، فالواقع لديهم ليس هناك تطبيق فعلي لحقوق المرأة كما هو مأمور به في الإسلام؛ بل إن كل ما يدعونه ويتغنون به حول تلك الحقوق ما هو إلا زيف وتزوير للحقائق فالواقع كما قيل (ليس راءٍ كمن سمع)
(1).
--------------------------------------------
ইসলামি ও আরব বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ যাতে তারা অধিকাংশ প্রাচ্যবিদ (المستشرقين)-দের পক্ষ থেকে মুসলমানদের শরিয়ত, ঐতিহ্য এবং চিন্তাধারার ওপর যে বিধ্বংসী ধ্যান-ধারণা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা মোকাবিলা করতে পারে। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ বিভাগ থাকা প্রয়োজন যা পশ্চিমা অধ্যয়ন নিয়ে কাজ করবে—যাকে বলা হয় পাশ্চাত্যতত্ত্ব (الاستغراب); কারণ এই প্রাচ্যবিদদের সাথে যোগাযোগের এবং তাদের দাবির জবাব দেওয়ার সর্বোত্তম উপায় কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং তাদের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করার জন্য তাদের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবন, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি অধ্যয়ন করা।
পশ্চিমা বিশ্ব অধ্যয়নে এই ধরণের বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র ও বিভাগগুলোর অস্তিত্ব দালিলিক ও জরিপমূলক গবেষণা এবং সমাজে প্রত্যক্ষ সংমিশ্রণের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির ব্যবহারের দ্বারা বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন ধারার সংযোজন করতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বকে (তাদের জনগোষ্ঠী, ইতিহাস, ধর্মসমূহ, ভাষাসমূহ, সামাজিক অবস্থা ও পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং তাদের সভ্যতা...) নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য আমরাই সবচেয়ে যোগ্য।
শেখ আহমেদ দিদাত মদিনার দাওয়া অনুষদের প্রাচ্যতত্ত্ব বিভাগের একজন সদস্যকে বলেছিলেন: "আমি জানি না আপনারা এই বিভাগে কী করছেন। সম্ভবত আপনারা প্রাচ্যবিদ (المستشرقين)-দের লেখনিগুলো পড়েন যারা ইসলামের ওপর নানা অপবাদ আরোপ করে এবং আপনারা ইসলামের প্রতিরক্ষা বা তথাকথিত 'কৈফিয়তদানকারী প্রতিরক্ষা' শুরু করেন।" তিনি আরও বলেন: "আমাদের কাজের এই পদ্ধতি পরিহার করা উচিত, অর্থাৎ ইসলাম বা মুসলমানদের ওপর তাদের আক্রমণের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা চলবে না, বরং আমাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে।"
অতঃপর তিনি বলেন: আমাদের উচিত পশ্চিমের উদ্দেশ্যে বলা: "তোমরা তোমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকাও; তোমরা নিরন্তর সংকীর্ণতা ও অবিরাম সংকটের মধ্যে বাস করছ। তোমাদের এই সভ্যতা পরিবার প্রথাকে ধ্বংস করে দিয়েছে; তোমাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার ক্রমাগত বাড়ছে এবং বিবাহ এখন আর প্রকৃত বিবাহ হিসেবে অবশিষ্ট নেই, কারণ বিবাহ বহির্ভূতভাবে নারী-পুরুষের একত্রে বসবাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তোমাদের শিশুরা পিতৃহীন অবস্থায় বড় হওয়ার কষ্টে ভুগছে, আর তোমাদের কারাগারগুলো খুনি, অপরাধী, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীতে পরিপূর্ণ। তোমাদের সমাজগুলো বিকৃতি এবং মাদক ও অ্যালকোহলের আসক্তিতে জর্জরিত। এই বিপদগুলো সমাধানের জন্য তোমরা কী করছ? তোমাদের জানা উচিত যে, এই সমস্ত সংকটের সমাধান ইসলামেই বিদ্যমান।"
উদাহরণস্বরূপ, নারী অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। সেখানে অবস্থানরত এবং তাদের জীবনযাত্রা নিকট থেকে পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষার্থীর কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নারী অধিকারের বিষয়টি অ-পশ্চিমা দেশগুলোতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের একটি মাধ্যম মাত্র। বাস্তবে সেখানে নারী অধিকারের তেমন কোনো প্রয়োগ নেই যেমনটি ইসলামে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; বরং এই অধিকারগুলো সম্পর্কে তারা যা কিছু দাবি করে বা উচ্চবাচ্য করে, তা কেবল সত্যের অপলাপ ও জালিয়াতি মাত্র। বাস্তবতা হচ্ছে যেমনটি বলা হয়— ‘চাক্ষুষ দর্শন শ্রবণের মতো নয়’ (ليس راءٍ كمن سمع)
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وتأتي أهمية دراسة الغرب لمواجهة حالة الانبهار التي أصابت كثيراً من أبناء الأمة الإسلامية، حيث ظهر من أبناء المسلمين من درس في الغرب ورجع إلينا متشبعاً بالروح الغربية حريصاً على تقليد الغرب في كل شيء، فقد علّمتنا التجارب ومواضي الحوادث بأن المقلدين من كل أمة المنتحلين أطوار غيرها يكونون فيها منافذ وكوى لتطرق الأعداء عليها،
… ويصير أولئك المقلدون طلائع لجيوش الغالبين وأرباب الغارات يمهدون لهم السبيل يفتحون الأبواب ثم يثبتون أقدامهم ويمكنون سلطانهم.
فكان لابد من معرفة الغرب معرفة حقيقية: " ففي مثل هذه الأجواء يجب الاستمرار في دراسة الغرب والاطلاع على عوراته وعيوبه وتبصير الأمة بها ولا بد كذلك من دراسة إيجابيات الغرب فإن للسلف أقوالاً في وصف أعدائهم لم يمنعهم الإسلام من ذكر محاسنهم وهذا ما جاء في قوله تعالى {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} [المائدة: 8] [المائدة: 8.]،
… إننا بحاجة لدراسة الغرب كيف نهض نهضته الصناعية المدنية، وكيف بنى مؤسساته ثم كيف بدأ الانهيار حتى نأخذ بأسباب الانطلاق ونتجنب أسباب الانهيار"
(1).
وحين نريد دراسة الغرب ومؤسساته وهيئاته لأمرين، فالأول: أمر له أهميته الخاصة وهو أن هذه الأمة هي أمة الدعوة والشهادة؛ فإن الأنبياء عليهم السلام قبل نبينا محمد صلى الله عليه وسلم كانوا يُكَلّفون بدعوة أقوامهم بينما الدعوة الإسلامية موجهة إلى العالم أجمع، وقد كلّف المسلمون جميعاً بحمل هذه الأمانة قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]، وجاء من حديث سهل بن سعد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (والله لأن يهدي الله بك رجلا واحداً خير لك من حمر النعم)
(2).
والثاني: نحن بحاجة للأخذ بأسباب القوة المادية التي وصلوا إليها، والله سبحانه وتعالى يقول: {يُعْجِزُونَ (59) وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ} [الأنفال: 60].
--------------------------------------------
পশ্চিমকে নিয়ে পড়াশোনা করার গুরুত্ব মূলত মুসলিম উম্মাহর অনেক সন্তানের মধ্যে যে মোহগ্রস্ততা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্য। মুসলিমদের মধ্যে এমন একদল আত্মপ্রকাশ করেছে যারা পশ্চিমে পড়াশোনা করেছে এবং পশ্চিমা ভাবধারায় সিক্ত হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে এবং প্রতিটি বিষয়ে পশ্চিমকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে উন্মুখ। অভিজ্ঞতা এবং অতীত ঘটনাপ্রবাহ আমাদের শিখিয়েছে যে, যে কোনো জাতির যারা অনুকরণকারী এবং অন্য জাতির রীতি-নীতি গ্রহণকারী হয়, তারা মূলত সেই জাতির অভ্যন্তরে শত্রুদের প্রবেশের পথ ও ছিদ্র হিসেবে কাজ করে, … এবং ঐ অনুকরণকারীরা বিজয়ীদের অগ্রগামী বাহিনী ও আক্রমণকারীদের হোতা হিসেবে তাদের জন্য পথ প্রশস্ত করে, দ্বার উন্মুক্ত করে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থান দৃঢ় করে ও তাদের কর্তৃত্ব সুসংহত করে।
তাই পশ্চিম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য ছিল: "এই জাতীয় পরিবেশে পশ্চিম নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখা, তাদের দুর্বলতা ও ত্রুটিসমূহ পর্যবেক্ষণ করা এবং উম্মাহকে সে বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। একইভাবে পশ্চিমের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েও পড়াশোনা করা আবশ্যক। কেননা পূর্বসূরিদের (السلف) মধ্যে শত্রুদের গুণাবলি বর্ণনায় এমন বক্তব্য রয়েছে যেখানে ইসলাম তাদের ভালো দিকগুলো উল্লেখ করতে বাধা দেয়নি। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করো, এটি তাকওয়ার নিকটতর} [আল-মায়িদা: ৮],
… আমাদের পশ্চিমকে নিয়ে জানার প্রয়োজন রয়েছে এই উদ্দেশ্যে যে, তারা কীভাবে তাদের শিল্প ও নাগরিক বিপ্লব ঘটিয়েছে, কীভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে এবং কীভাবে তাদের পতন শুরু হয়েছে, যাতে আমরা তাদের উত্থানের কারণগুলো গ্রহণ করতে পারি এবং পতনের কারণগুলো এড়িয়ে চলতে পারি।"
(১)।
যখন আমরা পশ্চিম এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই, তখন তা দুটি কারণে। প্রথমত: এর একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে আর তা হলো এই উম্মাহ হলো দাওয়াত এবং সাক্ষ্য প্রদানকারী উম্মাহ। আমাদের নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ববর্তী নবিগণ (আলাইহিমুস সালাম) নিজ নিজ কওমের কাছে দাওয়াতি কাজের জন্য আদিষ্ট হতেন, কিন্তু ইসলামের দাওয়াত সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য নির্দেশিত। আর এই আমানত বহনের দায়িত্ব সকল মুসলিমের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলো, এটিই আমার পথ, আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত জ্ঞানসহকারে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮]। সাহল ইবনে সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস-এ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আল্লাহর কসম, তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম)
(২)।
দ্বিতীয়ত: তারা যে বস্তুগত শক্তির শিখরে পৌঁছেছে, আমাদের সেই উপায়-উপকরণগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের আতঙ্কিত করবে} [আল-আনফাল: ৬০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثالث: الموقف الصحيح من علم الاستغرابلا يخفى على أحد دور المستشرقين في نقل الحضارة الإسلامية إلى أوروبا، وكذلك دورهم في إدارة المعارك الثقافية والسياسية ضد الإسلام، وعلى الرغم من وجود العديد من المستشرقين والمثقفين الغربيين المنصفين، إلا أن هذا العلم كان له الدور الأكبر في الحرب ضد الإسلام.
ومن الملاحظ أن ما أفاده الغرب من هذا العلم، إنما تركز حول الأمور العلمية والأخلاقيات الاجتماعية والسياسية ولم يفيدوا مطلقا من العقيدة، ومما لا شك فيه أن هذا الأمر لم يكن مصادفة، بل كان وراءه تخطيط محكم، ضمن لهم الاستفادة من كل ما لدى الحضارة الإسلامية، دون مساس بالعقيدة التي انبنت عليها دولهم وممالكهم.
واليوم وبعد أن انقلبت الأوضاع، وصار الغرب مركز التقدم في العلوم الدنيوية والتقنية، كان من الطبيعي أن تتجه إليه بلاد الإسلام، محاولة الاستفادة مما توصلوا إليه من تقدم في مختلف المجالات، وهذا لا غبار عليه من حيث المبدأ، ولكن مع الأسف، كان هذا التوجه عشوائيا، وغير محصن بقوة العقيدة، فكان من نتيجة ذلك تشوهات فكرية وأخلاقية لا حصر لها، حتى أصبح بعضنا بلا هوية.
ولهذا فعلى الأمة إرساء قواعد علمية، تنظم عملية التواصل بيننا وبين هذه الحضارة، بحيث نستفيد منها دون مساس بثوابت العقيدة الإسلامية.
وقد استفاد النبي صلى الله عليه وسلم من تجارب الأمم في الأمور العادية والعلمية فعن عائشة رضي الله عنها عن جدامة بنت وهب الأسدية رضي الله عنها أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «لقد هممت أن أنهى عن الغيلة حتى ذكرت أن الروم وفارس يصنعون ذلك فلا يضر أولادهم»
(1).
إن وجود هذا العلم لا يتوقف على أهمية فرز ما نأخذه من الغرب واستخلاص ما يناسبنا وترك ما عداه، ولكن تحقيق هذا المبدأ لن يتم ما لم نقم بوضع قواعد علمية محددة، تضمن تحقيقه، كما أن طلاب هذا العلم سيكون هدفهم من البداية واضحا جليا لا تشوبه شائبة
… نقل ما يفيد الأمة الإسلامية، وهو ما يضعف احتمال افتتانهم بالحياة الغربية ومفاسدها.
فلا بد من إعداد الأمة الإسلامية نفسها بأن تكون لها الهيبة والرهبة في نفس الآخرين. وهذا ما يؤيده الأمر الرباني في قوله تعالى: {يُعْجِزُونَ (59) وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ} [الأنفال: 60]، ويؤيده قول المصطفى صلى الله عليه وسلم: (المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف وفي كل خير)
(2).
إن علماء الأمة الإسلامية لا يرون تعارضاً بين الأخذ بوسائل المدينة المعاصرة مع المحافظة على الشخصية الإسلامية والقيم الإسلامية.
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: অক্সিডেন্টালিজম (প্রতীচ্যবিদ্যা) সংক্রান্ত সঠিক অবস্থানইউরোপে ইসলামী সভ্যতা হস্তান্তরে প্রাচ্যবিদদের ভূমিকা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনায় তাদের ভূমিকা কারো কাছেই গোপন নয়। যদিও অনেক ইনসাফপন্থী প্রাচ্যবিদ ও পশ্চিমা বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তবে এই শাস্ত্রটি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এটি লক্ষণীয় যে, পশ্চিমারা এই শাস্ত্র থেকে যা গ্রহণ করেছে তা মূলত বৈজ্ঞানিক বিষয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; তারা আকিদার (বিশ্বাস) ক্ষেত্রে এটি থেকে মোটেও উপকৃত হয়নি। নিঃসন্দেহে এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল এক সুনিপুণ পরিকল্পনা, যা তাদের জন্য ইসলামী সভ্যতার সবকিছু থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল—তাদের রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য যে আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত তাতে কোনো আঘাত না করেই।
আজ যখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে এবং পশ্চিমা বিশ্ব পার্থিব জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তখন মুসলিম দেশগুলোর জন্য তাদের দিকে ধাবিত হওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অর্জিত অগ্রগতি থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করা স্বাভাবিক ছিল। নীতিগতভাবে এতে কোনো দোষ নেই, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই ঝোঁকটি ছিল বিশৃঙ্খল এবং আকিদার সুদৃঢ় শক্তি দ্বারা সুরক্ষিত নয়। এর ফলে অগণিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকৃতি ঘটেছে, এমনকি আমাদের কেউ কেউ স্বীয় পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে।
এজন্য উম্মাহর উচিত এমন বৈজ্ঞানিক মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা, যা আমাদের এবং এই সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে; যাতে আমরা ইসলামী আকিদার মৌলিক বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার আপস না করেই তা থেকে উপকৃত হতে পারি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে অন্য জাতিগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়েছেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি জুদামাহ বিনতে ওয়াহাব আল-আসাদিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমি 'গিলাহ' (স্তন্যদানকালীন সহবাস) নিষিদ্ধ করার সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু পরে মনে পড়ল যে রোম ও পারস্যের লোকেরা তা করে থাকে এবং এতে তাদের সন্তানদের কোনো ক্ষতি হয় না।"
(১)।
এই শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা কেবল পশ্চিম থেকে আমরা যা গ্রহণ করি তা যাচাই-বাছাই করা এবং আমাদের জন্য যা উপযুক্ত তা গ্রহণ করে বাকিগুলো বর্জন করার গুরুত্বের ওপরই নির্ভর করে না; বরং এই নীতি বাস্তবায়ন ততক্ষণ সম্ভব হবে না যতক্ষণ না আমরা সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করি যা এর বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুরু থেকেই অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট হতে হবে... অর্থাৎ ইসলামী উম্মাহর জন্য যা উপকারী তা স্থানান্তর করা। এটি পশ্চিমা জীবনধারা ও তার অপকারিতাগুলোর প্রতি তাদের মোহগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করবে।
তাই মুসলিম উম্মাহর নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করা আবশ্যক যাতে অন্যদের মনে তাদের প্রতি এক প্রকার গাম্ভীর্য ও সম্ভ্রমবোধ থাকে। এটি মহান আল্লাহর সেই নির্দেশেরই প্রতিফলন যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন: {তারা (আল্লাহকে) অপারগ করতে পারবে না (৫৯); আর তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের ভীত করবে} [আল-আনফাল: ৬০]। এটি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর দ্বারাও সমর্থিত: (একজন শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল (ضعيف) মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয় এবং প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে)
(২)।
ইসলামী উম্মাহর আলেমগণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে সমকালীন আধুনিক সভ্যতার উপকরণসমূহ গ্রহণের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য দেখেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولقد طالب الدكتور حسن حنفي في كتابه الاستغراب أن نأخذ المبادرة لدراسة الغرب ولمعرفته معرفة علمية موثقة، ولا ننتظر أن يخبرنا الغرب عن نفسه فقط حتى لا نتحول إلى مجرد متلقين لما يقوله الغرب عن نفسه وعنّا.
ومعرفة الآخر أمر أساسي حيث إن القرآن الكريم قد قسم الناس إلى ثلاثة أقسام في سورة البقرة فهم إما مؤمنون أو كافرون أو منافقون. ثم وضح صفات كل فئة في سور القرآن الكريم. كما جاءت السنّة النبوية المطهرة توضح هوية المسلم ليستطيع بعد ذلك أن يعرف الآخرين معرفة صحيحة متمسكاً بهويته ومستعلياً بإيمانه.
والآخر في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم كانوا كفار قريش، واليهود، والنصارى، والمنافقون. وقد قدمت الآيات الكريم صوراً واضحة لكل فئة من هؤلاء، وأوضحت كيفية التعامل معهم، فبالإضافة إلى توضيح صورة الآخر عقديا فقد اهتم أيضا بالجوانب الأخرى، فها هي صورة العربي الجاهلي وموقفه من المرأة: {يَشْتَهُونَ (57) وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ (58) يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا} [النحل: 58 - 59]. وأوضح القرآن الكريم انحرافات قوم لوط وانحرافات قوم شعيب، وقد روى البخاري عن عائشة رضي الله عنها صور النكاح في الجاهلية مقارنة إياها بالصورة التي ارتضاها الإسلام
(1).
ويقول أحمد شحلان عن دراسة الغرب: " أليس من الجميل أن يصبح في جامعاتنا أقسام نسميها أقسام الاستغراب في مقابل الاستشراق؟ أليس من الجميل أن نعتبر الطرف الآخر هو أيضاً موضوع الدرس والتنقيب؟ "
(2).
ولذا يقول الدكتور مازن مطبقاني: "إننا نحتاج بالفعل إلى إنشاء كلية للدراسات الأوروبية (والأمريكية) ولا بد من التفكير الجاد في هذا الاقتراح بإنشاء كلية متخصصة لدراسة الغرب دراسة عميقة، وهذه الدعوة موجهة إلى الجامعات الإسلامية بعامة وإلى الجامعات في بلادنا بخاصة. وإن جامعة الإمام التي كانت سبّاقة ورائدة في دراسة الاستشراق لقادرة بإذن الله على مثل هذه المشروعات الكبرى بعد دراستها من قبل المتخصصين. ونبهت إلى أن الذي يدرس الغرب ينبغي له أن يكون على معرفة عميقة وصحيحة بالإسلام، حتى يكون قادراً على فهم الغرب من منطلق إسلامي"
(3).
--------------------------------------------
ডক্টর হাসান হানিফি তাঁর 'আল-ইস্তিগরব' (পাশ্চাত্যতত্ত্ব) গ্রন্থে পাশ্চাত্যকে জানবার এবং তাদের সম্পর্কে তথ্যনির্ভর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদেরকেই উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন; পাশ্চাত্য কেবল তাদের নিজেদের সম্পর্কে আমাদের জানাবে—সেই অপেক্ষায় আমাদের বসে থাকা উচিত নয়, যাতে আমরা কেবল তাদের নিজেদের সম্পর্কে এবং আমাদের সম্পর্কে তাদের দেওয়া তথ্যের নিছক গ্রহীতায় পরিণত না হই।
অপরকে (The Other) জানা একটি মৌলিক বিষয়, কেননা পবিত্র কুরআন সূরা আল-বাকারায় মানুষকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে; তারা হয় মুমিন, না হয় কাফির অথবা মুনাফিক। এরপর পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরায় প্রতিটি শ্রেণির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তেমনিভাবে পবিত্র সুন্নাহ (سنة)-ও একজন মুসলিমের পরিচয় সুস্পষ্ট করেছে, যাতে সে নিজের আত্মপরিচয়ে অটল থেকে এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে অন্যদের সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে 'অপর' (অন্যান্য পক্ষ) ছিল কুরাইশ কাফির, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুনাফিকগণ। পবিত্র আয়াতসমূহ এদের প্রতিটি শ্রেণির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে এবং তাদের সাথে আচরণের পদ্ধতিও স্পষ্ট করেছে। আকিদাগত দিক থেকে অপরের চিত্র পরিস্ফুট করার পাশাপাশি অন্যান্য দিকগুলোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই যে জাহেলি আরবের চিত্র এবং নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি: {তারা যা চায় (৫৭) যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। (৫৮) তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে; সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত নেয় তা কতই না নিকৃষ্ট।} [আন-নাহল: ৫৮-৫৯]। পবিত্র কুরআন লুত (আ.)-এর কওম এবং শুআইব (আ.)-এর কওমের বিচ্যুতিগুলোও স্পষ্ট করেছে। আর আয়েশা (রা.) থেকে ইমাম বুখারি জাহেলি যুগের বিবাহের চিত্র বর্ণনা করেছেন এবং ইসলামের পছন্দকৃত পদ্ধতির সাথে তার তুলনা করেছেন
(1).
পাশ্চাত্য অধ্যয়ন সম্পর্কে আহমদ শাহলান বলেন: "এটি কি চমৎকার বিষয় হতো না যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে 'ইস্তিশরাক' বা প্রাচ্যতত্ত্বের বিপরীতে 'ইস্তিগরব' বা পাশ্চাত্যতত্ত্ব নামে বিভাগ থাকত? এটি কি চমৎকার হতো না যদি আমরা অপর পক্ষকেও অধ্যয়ন ও গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে গণ্য করতাম?"
(2).
এ প্রসঙ্গে ডক্টর মাজেন মুতুব্বাকানি বলেন: "ইউরোপীয় (এবং আমেরিকান) অধ্যয়ন বিষয়ক একটি অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য সত্যিই জরুরি। পাশ্চাত্যকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করার জন্য একটি বিশেষায়িত অনুষদ গঠনের এই প্রস্তাব নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবা প্রয়োজন। এই আহ্বান সাধারণভাবে সকল ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি এবং বিশেষভাবে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি জানানো হচ্ছে। ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়, যা প্রাচ্যতত্ত্ব অধ্যয়নে অগ্রগামী ও পথিকৃৎ ছিল, বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার পর ইনশাআল্লাহ এই ধরণের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম। আমি এ বিষয়ে সতর্ক করেছি যে, যিনি পাশ্চাত্য নিয়ে অধ্যয়ন করবেন, তাকে ইসলাম সম্পর্কে গভীর ও সঠিক জ্ঞান রাখতে হবে, যাতে তিনি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পাশ্চাত্যকে বুঝতে সক্ষম হন।"
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ويقول أيضا: " أليس الغرب أمة يجب أن نتوجه إليهم بالدعوة ونحن مطالبون بالشهادة على الأمم فكيف للشاهد أن يشهد دون أن يعرف معرفة دقيقة موضوع شهادته"
(1).
وقد ازدادت الأصوات المنادية بدارسة الغرب فقد كتب قسطنطين زريق يقول: " إن الحضور الأمريكي في الذهن العربي ليس في مجمله صحيحاً وكافياً لأنه ليس وليداً لدينا من معرفة صادقة وموثوق بها ومن علم حي متنام"
(2).
ولذا تجد أن الغرب يسعى لطلب الكتابة عن الشرق من قبل أهله، فهذا معهد الدراسات الإسلامية في جامعة مقيل قد وجه طلابه المسلمين ليكتبوا عن بلادهم، وأقنعهم بأن هذه الكتابة ستكون في مصلحتهم لأنهم سينظرون إلى مشكلاتهم من بعد (مسافة) وربما قيل لهم " إنكم ستحررون هناك من بعض القيود في بلادكم".
ولكن الأمر المراد من هذا هو أن تتحول بعض الرسائل إلى نوع من التجسس على العالم العربي الإسلامي، بما تقدمه من معلومات يصعب على الغربيين الوصول إليها، كما أشار إلى ذلك أحمد غراب من توجيه بعض الأساتذة تلاميذهم من العرب والمسلمين دراسة قضايا معينة في بلادهم
(3).
وفي الطرف الأخر نجد من يعترض على هذا العلم ويرفضه ويرفض المبالغة فيه، فهذا عبد الرحمن العرابي ينتقد الاهتمام الزائد بالغرب والكتابة عنه، وكتب هاشم صالح منتقداً الدعوة إلى " علم الاستغراب" بدعوى أننا ما زلنا غير قادرين على الوصول إلى ما وصل إليه الغرب من تقدم في العلوم ومناهج البحث، بل إنه استهزأ بمشروع حسن حنفي في دراسة الغرب (الاستغراب) بقوله: " كيف يمكن لهذا "العلم" الغريب الشكل أن ينهض على أسس قويمة إذا كنّا عاجزين حتى الآن عن استيعاب الثورات اللاهوتية والابستمولوجية والفلسفية للفكر الغربي، وإذا كنّا عاجزين عن إحداث مثلها في ساحة الفكر العربي؟ وكيف يمكن لنا أن نقف موقف الند من الغرب إذا كنّا لا نملك أبسط المقومات حتى مشروع الترجمة لم نقم به كما ينبغي"
(4).
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: "পাশ্চাত্য কি এমন এক জাতি নয় যাদের কাছে আমাদের দাওয়াত নিয়ে যাওয়া উচিত? অথচ আমাদের ওপর জাতিসমূহের ওপর সাক্ষী হওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং একজন সাক্ষী কীভাবে সাক্ষ্য দেবে যদি সে তার সাক্ষ্যের বিষয়টি সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞান না রাখে?"
(১).
পাশ্চাত্য নিয়ে অধ্যয়নের ডাক দিয়ে উচ্চকিত কণ্ঠস্বরগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন কনস্টানটাইন জুরাইক লিখেছেন: "আরব মানসে আমেরিকান উপস্থিতি সামগ্রিকভাবে সঠিক ও পর্যাপ্ত নয়; কারণ এটি আমাদের কাছে কোনো সত্য ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞান কিংবা কোনো জীবন্ত ও ক্রমবিকাশমান বিজ্ঞান থেকে উদ্ভূত হয়নি"
(২).
এজন্য দেখা যায় যে, পাশ্চাত্য প্রাচ্যের অধিবাসীদের মাধ্যমেই প্রাচ্য সম্পর্কে লেখানোর চেষ্টা করে। যেমন ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক স্টাডিজ তার মুসলিম ছাত্রদের তাদের নিজেদের দেশ সম্পর্কে লিখতে নির্দেশনা দিয়েছে এবং তাদের আশ্বস্ত করেছে যে এই লেখা তাদের স্বার্থেই হবে, কারণ তারা দূর থেকে (একটি দূরত্ব বজায় রেখে) তাদের সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। সম্ভবত তাদের বলা হয়েছিল, "সেখানে আপনারা আপনাদের দেশের কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকবেন।"
কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো কিছু গবেষণাপত্রকে আরব-ইসলামী বিশ্বের ওপর এক ধরনের গুপ্তচরবৃত্তিতে রূপান্তর করা, কারণ এতে এমন সব তথ্য সরবরাহ করা হয় যা পশ্চিমাদের পক্ষে সংগ্রহ করা কঠিন। যেমনটি আহমেদ ঘুরাব উল্লেখ করেছেন যে, কিছু শিক্ষক তাদের আরব ও মুসলিম ছাত্রদের তাদের দেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন
(৩).
অন্যদিকে, আমরা এমন কাউকে পাই যারা এই বিদ্যার বিরোধিতা করেন এবং একে প্রত্যাখ্যান করেন ও এতে অতিরঞ্জনের নিন্দা জানান। যেমন আবদুর রহমান আল-আরাবি পাশ্চাত্যের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ এবং সে বিষয়ে লেখালেখির সমালোচনা করেছেন। হাশিম সালেহ "অক্সিডেন্টালিজম" (পাশ্চাত্য বিদ্যা)-এর আহ্বানের সমালোচনা করে লিখেছেন যে, আমরা এখনও বিজ্ঞান ও গবেষণা পদ্ধতির ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য যে উন্নতি সাধন করেছে সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হইনি। বরং তিনি হাসান হানাফির পাশ্চাত্য অধ্যয়ন (অক্সিডেন্টালিজম) প্রকল্পের উপহাস করে বলেছেন: "এই অদ্ভুত আকৃতির 'বিদ্যা' কীভাবে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যদি আমরা পাশ্চাত্যের ধর্মতাত্ত্বিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক বিপ্লবগুলো অনুধাবনে আজ পর্যন্ত অক্ষম হই এবং যদি আমরা আরব চিন্তাধারার ক্ষেত্রে অনুরূপ কিছু ঘটাতে অপরাগ হই? আর কীভাবে আমরা পাশ্চাত্যের সমকক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে পারি যদি আমাদের কাছে ন্যূনতম সক্ষমতা না থাকে, এমনকি আমরা অনুবাদ প্রকল্পটিও যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারিনি?"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فنقول لهما إن الذي يدرس الغرب ينبغي له أن يكون على معرفة عميقة وصحيحة بالإسلام، حتى يكون قادراً على فهم الغرب من منطلق إسلامي، ولابد أن تنطلق رحلتة لمعرفة الآخر من أسس شرعية، ويحدد الشيخ الدكتور جعفر شيخ إدريس ذلك في عدة نقاط هي:
1 - الدعوة إلى الحق عملا بقوله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125] [النحل: 25.].
2 - إعداد القوة الرادعة، فلابد أن يكون للمسلمين قوة حتى لا يظهر أحد تحدثه نفسه بالغزو، وحتى لا يكون المسلمون فتنة حيث نكون على الحق ونكون الأضعف فينفر الناس من الحق الذي معنا. (القوة من أجل السلام).
3 - الجنوح للسلم.
4 - تبادل المنافع
(1).
--------------------------------------------
আমরা তাদের দুজনকে বলি যে, পাশ্চাত্য নিয়ে যিনি পড়াশোনা করেন, ইসলাম সম্পর্কে তাঁর গভীর ও সঠিক (صحيح) জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে তিনি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাশ্চাত্যকে বুঝতে সক্ষম হন। অন্যের সম্পর্কে জানার এই সফর অবশ্যই শরয়ি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শুরু হতে হবে। শাইখ ড. জাফর শাইখ ইদ্রিস বিষয়টি কয়েকটি পয়েন্টে এভাবে নির্ধারণ করেছেন:
1 - সত্যের পথে দাওয়াত; মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী আমল করে: {তোমার রবের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম (حسن) উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} [আন-নাহল: ১২৫] [আন-নাহল: ২৫.]।
2 - প্রতিরোধমূলক শক্তি সঞ্চয়; মুসলিমদের অবশ্যই এমন শক্তি অর্জন করতে হবে যাতে কেউ মনে মনেও আক্রমণের সাহস না পায় এবং মুসলিমরা যেন ফিতনার সম্মুখীন না হয়—যেখানে আমরা সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও দুর্বল হওয়ার কারণে মানুষ আমাদের সাথে থাকা সত্য থেকে বিমুখ হয়ে যায়। (শান্তির জন্য শক্তি)।
3 - শান্তির দিকে ঝোঁকা।
4 - পারস্পরিক কল্যাণ বিনিময়
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الرابع: ضوابط دراسة علم الاستغرابقبل ذكر ضوابط دراسة علم الاستغراب لأبد من التأكيد على أمرين، أولهما: تثبيت الهوية الخاصة بالمؤمنين بتوضيح عقائدهم، وصفاتهم، وأخلاقهم، وعلاقاتهم.
ثانيا: معرفة الآخر بعقائده وصفاته، وأخلاقه، وعلاقاته
…ثم إن لهذا العلم كغيره من العلوم ضوابط ينبغي الالتزام بها، وهذه الضوابط ليست خاصة به، بل هي عامة في كل أمر يراد بحثه فمن هذه الضوابط:
الضابط الأول: الإخلاص:وهو أن يبتغي الإنسان بعلمه وعمله وجه الله تعالى، قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا (110)} [الكهف: 110] فالعمل المتقبل من العبد ما كان موافقاً للشرع، مراداً به وجه الله وحده
(1). وفي الحديث الصحيح عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى"
(2). فمدار صحة الأعمال أو فسادها النية.
والقائم بالدفاع عن الحق، والدعوة إليه، والمجادلة من أجله أشد حاجة إلى الإخلاص من غيره. لذا فإن توفر سلامة النية، والقصد شرط أساسي لمن يشتغل بدراسة علم الاستغراب، فلابد أن يكون قصده في هذا حراسة الدين، والذب عنه، ودلالة الناس على الهدى، وتثبيتهم عليه
(3)، وألا يكون له أي غرض آخر.
قال إمام الحرمين الجويني موضحاً آداب الجدل: "فأول شيء فيه مما على الناظر أن يقصد التقرب إلى الله -سبحانه- وطلب مرضاته في امتثال أمره سبحانه فيما أمر به ويبالغ قدر طاقته في البيان والكشف، عن تحقيق الحق وتمحيق الباطل، ويتقي الله أن يقصد بنظره المباهاة وطلب الجاه والتكسب والممارة، والمحك، والرياء، ويحذر أليم عقاب الله -سبحانه- ولا يكن قصده الظفر بالخصم، والسرور بالغلبة، والقهر، فإنه من دأب الأنعام الفحولة، كالكباش، والديكة"
(4).
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়: ইস্তিগরাব (পাশ্চাত্যতত্ত্ব) বিজ্ঞান পাঠের নীতিমালাইস্তিগরাব বিজ্ঞান পাঠের নীতিমালা উল্লেখ করার পূর্বে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক। প্রথমত: মুমিনদের আকিদা, গুণাবলি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব পরিচিতিকে সুদৃঢ় করা।
দ্বিতীয়ত: অন্যের আকিদা, গুণাবলি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সম্পর্কসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া
…অতঃপর অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো এই বিজ্ঞানেরও কিছু নীতিমালা রয়েছে যা অনুসরণ করা উচিত। এই নীতিমালাগুলো কেবল এর জন্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং প্রতিটি গবেষণালব্ধ বিষয়ের জন্য সাধারণ। এই নীতিমালাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রথম নীতিমালা: ইখলাস (নিষ্ঠা):আর তা হলো—মানুষ তার জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। (১১০)} [সূরা কাহাফ: ১১০]। সুতরাং বান্দার সেই আমলই গ্রহণযোগ্য হয় যা শরিয়তসম্মত এবং যার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকে
(১)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে"
(২)। সুতরাং আমল সঠিক হওয়া বা নষ্ট হওয়া নিয়তের ওপর আবর্তিত।
সত্যের প্রতিরক্ষা, এর দিকে দাওয়াত প্রদান এবং এর সপক্ষে বিতর্কে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য অন্যের তুলনায় ইখলাসের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। অতএব, ইস্তিগরাব বিজ্ঞান পাঠে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সঠিক উদ্দেশ্য থাকা একটি মৌলিক শর্ত। এক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হতে হবে দ্বীনের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা করা, মানুষকে হিদায়াতের পথ দেখানো এবং তাদের ওপর হিদায়াতকে সুদৃঢ় করা
(৩); এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়।
ইমামুল হারামাইন জুওয়াইনি বিতর্কের আদব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এ বিষয়ে প্রথম যে বিষয়টি গবেষকের ওপর আবশ্যক তা হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য অন্বেষণ করা এবং তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা। এছাড়া সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যাকে মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয়টির বর্ণনা ও উন্মোচনে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করা। গবেষক যেন তার গবেষণার মাধ্যমে অহংকার, পদমর্যাদা লাভ, উপার্জনের আকাঙ্ক্ষা, অহেতুক তর্ক, বিতণ্ডা ও লোক-দেখানো মনোভাব থেকে আল্লাহকে ভয় করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকে। আর তার উদ্দেশ্য যেন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা এবং বিজয় ও দমনের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করা না হয়; কারণ এটি চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাব, যেমন ভেড়া ও মোরগের লড়াই"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الضابط الثاني: العلم:العلم من الأمور الضرورية، والضوابط المهمة لمن يشتغل بعلم الاستغراب، وذلك أن المشتغل بدراسة علم الاستغراب إذا لم يكن مؤهلاً لها كان ضرره أكثر من نفعه.
فالعلم من أهم الشروط التي يجب توفرها على من يقوم بوظيفة الدفاع عن الدين، وذلك أن العلم قبل العمل، قال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ (19)} [محمد: 19] [محمد: 19]، وقد تنبه الإمام البخاري رحمه الله لهذا، فبوب لهذه الآية بقوله: باب العلم قبل القول والعمل
(1).
فالعلم مقدم على القول والعمل، لأنه شرط في صحة القول والعمل، فلا يعتبران إلا به
(2).
ومن الأدلة الدالة على ذم القول قبل العلم قوله تعالى {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ (8)} [الحج: 8]
(3)، فالآية دلت على ذم المجادل بغير علم، وقال تعالى في ذم أهل الكتاب الذين جادلوا بغير علم {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ (65) هَاأَنْتُمْ هَؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (66)} [آل عمران: 65 - 66]
(4).
والعلم يشمل في مجال دراسة علم الاستغراب العلم بالإسلام من مصادره الأساسية من الكتاب والسنة، وما يفسرهما من أقوال السلف، أو يساعد على فهمهما من علوم الآلة كاللغة العربية، كما يشمل العلم بشبهات أهل الأديان والملل، وطرق الرد عليها
(5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মূলনীতি (الضابط): জ্ঞান (العلم):জ্ঞান (العلم) হলো সেই সকল অপরিহার্য বিষয় ও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির (الضوابط) অন্তর্ভুক্ত, যা পাশ্চাত্যতত্ত্ব (علم الاستغراب) নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য আবশ্যক। কারণ, পাশ্চাত্যতত্ত্ব গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তি যদি এর জন্য উপযুক্ত না হন, তবে তার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
সুতরাং দ্বীন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য জ্ঞান (العلم) অর্জন করা অন্যতম প্রধান শর্ত (الشروط)। কেননা, আমলের পূর্বে জ্ঞানের স্থান। মহান আল্লাহ বলেন: {জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর মুমিন নর-নারীদের জন্যও। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন।} [মুহাম্মদ: ১৯]। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন এবং এই আয়াতের আলোকে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে: "কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জনের অধ্যায়"
(১)।
সুতরাং জ্ঞান (العلم) হলো কথা ও কাজের অগ্রগামী; কারণ কথা ও কাজ সঠিক হওয়ার জন্য এটি একটি শর্ত (شرط)। জ্ঞান ব্যতীত এ দুটির কোনোটিই গ্রহণযোগ্য হয় না
(২)।
জ্ঞান (العلم) ব্যতিরেকে কথা বলার নিন্দায় দলিলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কোনো জ্ঞান (علم), কোনো পথনির্দেশক (هدى) কিংবা কোনো আলোদানকারী কিতাব (كتاب منير) ছাড়াই।} [হজ: ৮]
(৩)। এই আয়াতটি জ্ঞানহীন বিতর্ককারীর নিন্দার প্রমাণ বহন করে। মহান আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিন্দায়, যারা জ্ঞান ছাড়াই বিতর্ক করেছিল, বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কেন ইবরাহিম সম্পর্কে বিতর্ক করছ? অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তার পরেই নাজিল করা হয়েছে। তবে কি তোমরা বুঝবে না? দেখ, তোমরা তো সেই সব লোক যারা ঐ বিষয়ে বিতর্ক করছিলে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান (علم) ছিল, তবে কেন তোমরা সেই বিষয়ে বিতর্ক করছ যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান (علم) নেই? আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।} [আল ইমরান: ৬৫ - ৬৬]
(৪)।
পাশ্চাত্যতত্ত্ব (علم الاستغراب) গবেষণার ক্ষেত্রে জ্ঞানের পরিধি হলো ইসলাম সম্পর্কে এর মৌলিক উৎস অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ হতে অর্জিত জ্ঞান, সলফদের (السلف) বাণীর আলোকে যা এ দুটির ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এ দুটিকে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে এমন সহায়ক শাস্ত্র (علوم الآلة) যেমন আরবি ভাষা। একইসাথে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সংশয়সমূহ (شبهات) এবং তা খণ্ডন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الضابط الثالث: تقدير المصلحة والمفسدة في دراسة علم الاستغراب:فدراسة علم الاستغراب، والاشتغال به لا تخلو من مخاطر ومزالق قد تضر المشتغل بها، كأن تترك شبهات أهل تلك الأديان في قلبه شيئاً، وقد يلحق ضرراً منها بالحق الذي معه، وذلك فيما إذا ضعف عن رد شبهات الخصوم، كما يمكن أن تؤدي دراستها إلى نشرها، وترويج مبادئها، لاسيما إذا لم يحكم الرد عليها.
لهذا ينبغي قبل التعرض إلى دراسة هذا العلم أن يقدر في هذه الدراسة المصلحة، والمفسدة، وقول المعتمد في تقدير المصلحة، والمفسدة قول العلماء المؤتمنين على دينهم
(1).
الضابط الرابع: الرجوع إلى المصادر:الرجوع إلى مصادر العقائد المبحوثة، ونقل النصوص منها بألفاظها، والدقة في نسبة الآراء إلى أهله.
أما نسبة الأقوال إلى الناس من غير طريق صحيحة، أو من طريق مشكوك في صحتها، أو من طريق لا يعرف مدى التزامها بالصدق والعدل، فإن هذا من باب الظن الذي نهينا عن إتباعه، كما قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ} [الحجرات: 12]
(2) وذم الله -تعالى- متبعي الظن والهوى فقال: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ} [النجم: 23]
(3).
وقد التزم هذا علماء السلف، فهذا شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمة الله تعالى- يقول في رده على النصارى: "وأنا أذكر ما ذكروه بألفاظهم بأعيانها فصلاً فصلاً، واتبع كل فصل مما يناسبه من الجواب فرعاً وأصلاً، وعقداً وحلاً"
(4).
وبما أن هذا العلم يتعلق بالغرب فإننا بحاجة إلى من يتعلم اللغات الغربية ليصل إلى مستوى رفيع في التمكن من هذه اللغات، وبالتالي الدراسة في الجامعات الغربية والتركيز في قضايا الغرب وليس دراسة موضوعات تخص العالم الإسلامي. كما أننا بحاجة إلى من يتعمق في علم الاجتماع الغربي ليعرف مجتمعاتهم كأنه واحد منهم. ولم تعد هذه المسألة صعبة؛ فإن في الغرب اليوم كثيراً من المسلمين من أصول أوروبية وأمريكية يستطيعون تعرف بيئاتهم معرفة حقيقية ولا يعوقهم شيء في التوصل إلى المعلومات التي يرغبون في الحصول عليها.
--------------------------------------------
তৃতীয় নীতিমালা: পাশ্চাত্যতত্ত্ব (ইস্তিগরাব) অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কল্যাণ ও অকল্যাণের বিচার:পাশ্চাত্যতত্ত্ব (ইস্তিগরাব) অধ্যয়ন এবং এতে ব্যাপৃত হওয়া এমন কিছু ঝুঁকি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয় যা গবেষকের ক্ষতি করতে পারে; যেমন এই ধর্মাবলম্বীদের সংশয়গুলো তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে। আবার তার কাছে থাকা ধ্রুব সত্যের ওপরও এর দ্বারা ক্ষতি পৌঁছাতে পারে, যদি সে প্রতিপক্ষের সংশয় নিরসনে দুর্বল হয়। তদুপরি এই বিষয়গুলো অধ্যয়নের ফলে তা প্রচার এবং এর মূলনীতিগুলোর প্রসার ঘটার সম্ভাবনাও থাকে, বিশেষ করে যদি এর খণ্ডন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হয়।
তাই এই শাস্ত্রটি অধ্যয়নে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে এর কল্যাণ ও অকল্যাণের দিকটি বিচার করা উচিত। আর কল্যাণ ও অকল্যাণ নিরূপণে নির্ভরযোগ্য বক্তব্য হলো সেই সব উলামায়ে কিরামের বক্তব্য, যারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত।
(1)
চতুর্থ নীতিমালা: মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন:গবেষণাধীন আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহের মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া, সেখান থেকে মূল পাঠ বা উদ্ধৃতিগুলো অবিকল শব্দে উদ্ধৃত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে মতামতের নিসবত বা সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা বজায় রাখা।
তবে সহিহ (صحيحة) কোনো মাধ্যম ব্যতীত, কিংবা যার বিশুদ্ধতা সংশয়াচ্ছন্ন (مشكوك في صحتها) এমন কোনো মাধ্যম থেকে, অথবা এমন কোনো সূত্রের মাধ্যমে মানুষের দিকে কোনো বক্তব্য নিসবত করা—যার সত্যবাদিতা (الصدق) ও ন্যায়পরায়ণতার (العدل) সীমা জানা নেই—তবে তা সেই ধারণার অন্তর্ভুক্ত যা অনুসরণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ।} [হুজুরাত: ১২]
(2) আল্লাহ তাআলা ধারণা ও প্রবৃত্তির অনুসারীদের নিন্দা করে বলেছেন: {তারা তো কেবল ধারণা এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে।} [নাজম: ২৩]
(3)সালাফী উলামায়ে কিরাম এটি মেনে চলেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) খ্রিষ্টানদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন: "তারা যা বলেছে আমি তা অবিকল তাদের শব্দেই পরিচ্ছেদ অনুযায়ী উল্লেখ করছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে মূল ও শাখা তথা বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্তভাবে যথাযথ উত্তর প্রদান করছি।"
(4)যেহেতু এই শাস্ত্রটি পাশ্চাত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই আমাদের এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন যারা পাশ্চাত্য ভাষা শিখবে যাতে তারা এই ভাষাগুলোতে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করতে পারে। ফলস্বরূপ, তারা পাশ্চাত্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করবে এবং পাশ্চাত্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করবে, কেবল মুসলিম বিশ্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নয়। তদুপরি, আমাদের এমন ব্যক্তিদেরও প্রয়োজন যারা পাশ্চাত্যের সমাজবিজ্ঞানে গভীর জ্ঞান অর্জন করবে যাতে তারা তাদের সমাজ সম্পর্কে এমনভাবে জানতে পারে যেন তারা তাদেরই একজন। বর্তমানে এই বিষয়টি আর কঠিন নয়; কারণ বর্তমানে পাশ্চাত্যে ইউরোপীয় ও আমেরিকান বংশোদ্ভূত অনেক মুসলিম রয়েছেন যারা তাদের পরিবেশ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান রাখেন এবং কাঙ্ক্ষিত তথ্য লাভের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
الضابط الخامس: التجرد من الهوى:فإن الهوى يحمل على الاختلاف وقول الإفك، وقد قال الله تبارك وتعالى: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ} [النجم: 23]
(1). وقال تعالى: {الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ} [ص: 26]
(2).
الضابط السادس: العدل والإنصاف:العدل والإنصاف، والأمانة العلمية من أهم الخصال التي ينبغي أن يتحلى بها المختلفون، والمختصمون، لئلا يقع ظلم على أي طرف منهما، قال تعالى {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا} [النساء: 135]
(3) وقال تعالى: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا} [الأنعام: 152]
(4).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله مبيناً وجوب العدل في كل حال، وتحريم الظلم مطلقاً: "ومعلوم أنا إذا تكلمنا فيمن هو دون الصحابة، مثل الملوك المختلفين على الملك، والعلماء والمشايخ المختلفين في العلم والدين، وجب أن يكون الكلام بعلم وعدل، لا بجهل وظلم، فإن العدل واجب لكل أحد على كل أحد في كل حال، والظلم محرم مطلقاً، لا يباح قط بحال، قال تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} [المائدة: 8]
(5)، وهذه الآية نزلت بسبب بغضهم للكفار، وهو بغض مأمور به، فإذا كان البغض الذي أمر الله به قد نهى صاحبه أن يظلم من أبغضه فكيف في بغض مسلم"
(6).
--------------------------------------------
পঞ্চম মূলনীতি: প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত থাকা:বস্তুত কুপ্রবৃত্তি মতবিরোধ এবং মিথ্যাচারের দিকে ধাবিত করে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে} [নাজম: ২৩]
(১)। তিনি আরও ইরশাদ করেন: {প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে} [সোয়াদ: ২৬]
(২)।
ষষ্ঠ মূলনীতি: ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফ:ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফ (العدل والإنصاف) এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারি (الأمانة العلمية) হলো সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ গুণের অন্তর্ভুক্ত যা মতবিরোধকারী ও বিবাদমান পক্ষগুলোর ধারণ করা উচিত, যাতে কোনো পক্ষের প্রতি জুলুম না হয়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফের (بالقسط) ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক বা বিত্তহীন, আল্লাহই উভয়ের জন্য শ্রেষ্ঠতর অভিভাবক। অতএব, তোমরা ইনসাফ (تعدلوا) বর্জন করে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না} [নিসা: ১৩৫]
(৩)। তিনি আরও ইরশাদ করেন: {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ (فاعدلوا) বজায় রেখো} [আনআম: ১৫২]
(৪)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সর্বাবস্থায় ইনসাফ (العدل) বজায় রাখার আবশ্যকতা এবং সাধারণভাবে জুলুমের নিষিদ্ধতা বর্ণনা করে বলেন: "এটি সুপরিজ্ঞাত যে, সাহাবীগণের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের সম্পর্কে যখন আমরা আলোচনা করব—যেমন রাজত্বের বিষয়ে মতবিরোধকারী শাসকগণ কিংবা ইলম ও দ্বীনের বিষয়ে মতভেদকারী উলামা ও মাশায়েখগণ—তখন সেই আলোচনা ইলম ও ইনসাফের (عدل) ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যিক (وجب); অজ্ঞতা ও জুলুমের ভিত্তিতে নয়। কারণ ইনসাফ (العدل) প্রত্যেকের জন্য, প্রত্যেকের প্রতি এবং সর্বাবস্থায় আবশ্যিক (واجب); আর জুলুম নিরঙ্কুশভাবে নিষিদ্ধ (محرم), যা কোনো অবস্থাতেই কখনও বৈধ নয়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ (تعدلوا) বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ (اعدلوا) করো, এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} [মায়িদাহ: ৮]
(৫)। এই আয়াতটি কাফেরদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের কারণে নাযিল হয়েছিল, যা এমন এক বিদ্বেষ যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ যে বিদ্বেষের নির্দেশ দিয়েছেন, সেই বিদ্বেষের কারণেও যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার প্রতি জুলুম করতে নিষেধ করা হয়, তবে একজন মুসলিমের প্রতি বিদ্বেষের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে?"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الخامس: نماذج من دراسة الغرببعد ذكر تعريف علم الاستغراب وأهميته وضوابط دراسته والموقف الصحيح منه نذكر نماذج من دراسة الغرب حتى تتبين أهمية هذا العلم وكيف يمكن الاستفادة منه في الدعوة إلى الحق ورد الباطل، وتبيين ما عليه الغرب من الضلال وعدم الانخداع بهم وبما وصلوا إليه من تطور في أمور الدنيا التي قال الله عنهم فيها: {يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ (7)} [الروم: 7] [الروم: 7].
وهذا جانب من الجوانب التي تم دراستها، وهي الظواهر الاجتماعية وهي: الزواج، والأسرة، والظلم الاجتماعي، والعلاقات العرقية، والانحرافات السلوكية.
أولاً: الأسرة: الزواج والطلاق وعدد الأفراد:إن مظاهر الأوضاع الأسرية في الغرب، وفقا للمصادر الغربية، ومنها التقرير السنوي الذي تصدره الحكومة البريطانية، وعنوانه: " التقرير المنزلي العام لسنة 1993".
يذكر أن حجم الأسرة البريطانية بدأ يتقلص بالنسبة للبريطانيين البيض، فقد كان حجم الأسرة البريطانية يتكون من 2.91 فرد عام 1971 ثم أصبح 2.44 فرد عام 1993. ويشير التقرير إلى أن أسر البريطانيين من أصل هندي أو باكستاني أكبر حجما.
أما عدد الأطفال في الأسرة فقد وصل إلى 1.8 فردا منذ بداية الثمانينات، وهذا العدد يتضمن الأطفال المتبنين وأطفال أحد الزوجين.
ومن المظاهر المهمة في تكوين الأسرة البريطانية أن الأسرة المكونة من والد واحد (أب أو أم) ارتفع من 8% عام 1971 إلى 22% عام 1993. وبالنسبة للأمهات الوحيدات فقد ارتفع من 8% عام 1971 إلى 22% عام 1993. وبالنسبة للأمهات الوحيدات فقد ارتفعت نسبتهن من 1% عام 1971 إلى 18% عام 1993.
وكتبت إيان موراي حول التقرير السنوي للسكان قائلة: " إن الأسرة البريطانية التقليدية المكونة من أبوين أصبحت أكثر ندرة وفقاً لآخر تقرير سكاني حكومي، فإن الترتيب الأكثر شيوعاً للأسرة هو رجل وامرأة بلا أطفال، ووفقاً للإحصائيات التي تم إعدادها من أبريل عام 1991 حتى مارس 1992 فإن زوجاً (رجل وامرأة) من بين كل خمس أزواج لا يعيشون تحت مظلة الزواج، وأسرة واحدة من بين سبع أسر يعولها والد واحد (أب أو أم) وعائلة من بين كل ثنتي عشرة عائلة تتضمن طفلاً من زواج سابق لأحد الزوجين.
পঞ্চম অধ্যায়: পাশ্চাত্য অধ্যয়নের কিছু নমুনাপাশ্চাত্যতত্ত্বের সংজ্ঞা, গুরুত্ব, এর অধ্যয়নের নীতিমালা এবং এ বিষয়ে সঠিক অবস্থান উল্লেখ করার পর আমরা পাশ্চাত্য অধ্যয়নের কিছু নমুনা তুলে ধরব, যাতে এই শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং সত্যের দিকে আহ্বান ও মিথ্যার খণ্ডনে এর উপযোগিতা স্পষ্ট হয়। সেই সাথে পাশ্চাত্যের ভ্রষ্টতা এবং তাদের পার্থিব উন্নতি দেখে প্রলুব্ধ না হওয়ার বিষয়টিও ফুটে ওঠে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, আর তারা পরকাল সম্পর্কে একেবারেই গাফেল।} [সূরা আর-রুম: ৭]।
এটি অধ্যয়নকৃত বিষয়গুলোর একটি দিক, যা হলো সামাজিক প্রপঞ্চসমূহ; যথা: বিবাহ, পরিবার, সামাজিক বৈষম্য, জাতিগত সম্পর্ক এবং আচরণগত বিচ্যুতি।
প্রথমত: পরিবার: বিবাহ, তালাক এবং সদস্য সংখ্যা:পাশ্চাত্য উৎসসমূহ অনুযায়ী পাশ্চাত্যের পারিবারিক অবস্থার চিত্র, যার মধ্যে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অন্যতম, যার শিরোনাম: "১৯৯৩ সালের সাধারণ গৃহস্থালি প্রতিবেদন"।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পরিবারের আকার সংকুচিত হতে শুরু করেছে। ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ছিল ২.৯১ জন, যা ১৯৯৩ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২.৪৪ জনে। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতীয় বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশদের পরিবারের আকার তুলনামূলক বড়।
পরিবারের শিশু সংখ্যার ক্ষেত্রে দেখা যায়, আশির দশকের শুরু থেকে এটি ১.৮ জনে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যার মধ্যে দত্তক নেওয়া শিশু ও স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজনের আগের পক্ষের সন্তানও অন্তর্ভুক্ত।
ব্রিটিশ পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একক অভিভাবক (পিতা বা মাতা) বিশিষ্ট পরিবারের হার ১৯৭১ সালের ৮% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯৩ সালে ২২% এ দাঁড়িয়েছে। আর একক মায়েদের হার ১৯৭১ সালের ১% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯৩ সালে ১৮% এ উন্নীত হয়েছে।
ইয়ান মারে জনসংখ্যা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর লিখেছেন: "সর্বশেষ সরকারি জনসংখ্যা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবা-মা সমন্বিত ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ পরিবার এখন আরও বিরল হয়ে পড়েছে। পরিবারের সবচেয়ে সাধারণ বিন্যাস হলো সন্তানহীন পুরুষ ও নারী। ১৯৯১ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৯২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রস্তুতকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ জোড়া দম্পতির (পুরুষ ও নারী) মধ্যে এক জোড়া দম্পতি বিবাহের বন্ধন ছাড়াই বসবাস করছে। প্রতি সাতটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার একক অভিভাবক (পিতা বা মাতা) দ্বারা পরিচালিত এবং প্রতি বারোটি পরিবারের মধ্যে একটিতে স্বামী বা স্ত্রীর আগের বিবাহের সন্তান রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد كتبت ليزلي وايت حول انخفاض معدل الزواج في بريطانيا فقالت: " إن مؤسسة الزواج تكاد تختفي في بلادنا، فقد أصبح الإقبال على الزواج أقل وفي سن متأخرة، وارتفعت نسبة الطلاق حتى وصلت 40% وهي أعلى نسبة في أوربا. وبالنسبة لانخفاض الزواج فقد انخفض بنسبة الثلث عام 1992، وتصف الكاتبة موقف البريطانيين من الزواج فتقول " لقد أصبح الزواج مخيفا جدا، فمن الصعب جدا أن يقدم الناس على الزواج".
ومن النتائج التي حدثت أن أصبح متوسط عمر المرأة عند إنجاب أول طفل هو 28.6 سنة، وهناك عشرون في المائة من النساء لا يفكرن في الإنجاب مطلقا، ويفضلون إنفاق أموالهم على الترفيه والمتع الذاتية، أو هكذا يظنون.
وفي التقرير الحكومي البريطاني السابق أن عدد النساء اللاتي لم يتزوجن قد ارتفع من 18% عام 1979 إلى 28% عام 1993، أما العيش مع الرجل دون زواج فقد ارتفع من 9% عام 1981 إلى 23% عام 1993.
ويشير تقرير موراي إلى ارتفاع نسبة الزواجات التجريبية (يعيش الرجل مع المرأة كأزواج دون عقد رسمي) فثمة امرأة من كل أربعة نساء تعيش مع رجل بلا زواج، بينما تمتنع الأخريات عن الإقدام على الزواج كليا.
وقد علق المفوض الأوروبي بيدريج فلين المكلف بحقيبة العمل والشؤون الاجتماعية في الاتحاد الأوروبي إن الدراسة الديموغرافية لطبيعة سكان الاتحاد الأوروبي لعام 1995 قد أكدت التوجهات التي أشارت إليها الدراسة المماثلة التي أجريت عام 1994 التي حذرت من شيخوخة مرتفعة المعدلات في أوروبا الغربية
… وهو الأمر الذي سوف يتسبب في اختلال النظم الاجتماعية المعمول بها حالياً حيث لن يكون هناك أعداد كافية من العاملين لتأمين المنح الهائلة لكبار السن المتقاعدين الذين سيشكلون الغالبية العظمى عام 2025
(1).
وكتب ديفيد بلانكنهورن عن الأسرة في الولايات المتحدة يقول: (هذه الليلة سينام أربعون في المائة من أطفال أمريكا بعيدا عن المنازل التي يعيش فيها آباؤهم، ويضيف بأن فقدان الأب يعد من أكثر الاتجاهات الديموغرافية (السكانية) إيلاما لهذا الجيل، فهي السبب الأول لتراجع صحة الطفل في مجتمعنا، وهي الدافع لكثير من المشكلات الاجتماعية من الجريمة إلى عمل الصغار إلى التحرش الجنسي بالأطفال، ويقدم المؤلف بعض الأرقام في هذا المجال وهي:
أ - كانت نسبة الأطفال الذين يعيشون مع آبائهم عام 1960 هي 82.4% وتراجعت هذه النسبة حاليا إلى 61.7%.
ب - كانت نسبة الذين يعيشون بعيدا عن آبائهم عام 1960 هي 17.5% وبلغت هذه النسبة عام 1990 36.3%.
--------------------------------------------
লেসলি হোয়াইট ব্রিটেনে বিয়ের হার হ্রাসের বিষয়ে লিখেছেন। তিনি বলেছেন: "আমাদের দেশে বিবাহ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে; বিবাহের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে এবং তা অনেক দেরিতে হচ্ছে। বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়ে ৪০% এ পৌঁছেছে, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিয়ের হার হ্রাসের ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালে তা এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। লেখিকা বিয়ের ব্যাপারে ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করে বলেন, 'বিয়ে এখন অত্যন্ত ভীতিকর হয়ে উঠেছে, মানুষের পক্ষে বিয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে'।"
এর অন্যতম ফলাফল হলো, প্রথম সন্তান জন্মদানের সময় নারীর গড় বয়স এখন ২৮.৬ বছর। বিশ শতাংশ নারী সন্তান জন্মদানের কথা একেবারেই ভাবেন না; তারা তাদের অর্থ বিনোদন এবং আত্মতুষ্টির পেছনে ব্যয় করাকে প্রাধান্য দেন—অথবা তারা অন্তত তেমনটাই মনে করেন।
পূর্বোক্ত ব্রিটিশ সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অবিবাহিত নারীর সংখ্যা ১৯৭৯ সালের ১৮% থেকে বেড়ে ১৯৯৩ সালে ২৮% হয়েছে। অন্যদিকে, বিবাহ বহির্ভূত একত্রে বসবাসের হার ১৯৮১ সালের ৯% থেকে বেড়ে ১৯৯৩ সালে ২৩% এ দাঁড়িয়েছে।
মুরে রিপোর্ট নির্দেশ করছে যে, পরীক্ষামূলক বিবাহের (যেখানে নারী ও পুরুষ কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই দম্পতি হিসেবে বসবাস করে) হার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন নারী বিবাহ ছাড়াই পুরুষের সাথে বসবাস করছেন, অন্যদিকে বাকিরা বিয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মসংস্থান ও সামাজিক বিষয়ক কমিশনার প্যাড্রিগ ফ্লিন মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৯৫ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনসংখ্যার প্রকৃতি বিষয়ক জনতাত্ত্বিক গবেষণাটি ১৯৯৪ সালের অনুরূপ গবেষণার ইঙ্গিতসমূহকে নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৪ সালের সেই গবেষণায় পশ্চিম ইউরোপে উচ্চ হারে বার্ধক্য বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল
… যা বর্তমানে প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর ভারসাম্যহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ ২০২৫ সালে যখন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণরা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠে পরিণত হবেন, তখন তাদের বিশাল ভাতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ থাকবে না
(১)।
ডেভিড ব্লাঙ্কেনহর্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার সম্পর্কে লিখেছেন: (আজ রাতে আমেরিকার ৪০ শতাংশ শিশু তাদের বাবার ঘর থেকে দূরে রাত কাটাবে)। তিনি আরও যোগ করেন যে, বাবার অনুপস্থিতি এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বেদনাদায়ক জনতাত্ত্বিক (জনসংখ্যা বিষয়ক) প্রবণতাগুলোর একটি। এটি আমাদের সমাজে শিশুদের স্বাস্থ্য অবনতির প্রধান কারণ এবং অপরাধ থেকে শুরু করে শিশুশ্রম ও শিশুদের যৌন হয়রানির মতো অনেক সামাজিক সমস্যার মূল চালিকাশক্তি। লেখক এই ক্ষেত্রে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, যা হলো:
ক - ১৯৬০ সালে যেসকল শিশু তাদের বাবার সাথে বসবাস করত তাদের হার ছিল ৮২.৪%, যা বর্তমানে কমে ৬১.৭% এ দাঁড়িয়েছে।
খ - ১৯৬০ সালে বাবার কাছ থেকে দূরে থাকা শিশুদের হার ছিল ১৭.৫%, যা ১৯৯০ সালে ৩৬.৩% এ পৌঁছেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أشار ريتشارد نيكسون إلى تضاعف حالات الطلاق أربع مرات وأصبح طفل واحد من كل ثمانية يعيش على حساب الرعاية الاجتماعية أي أكثر بثلاثة أضعاف ما كان عليه الحال عام 1960
(1).
وعن ألمانيا ينقل لنا نبيل شبيب بعض الإحصائيات منها: أن ثلث الأطفال المولودين هناك ليسوا شرعيين
(2)، وهي نفس النسبة لكل من بريطانيا والولايات المتحدة كما نقل الدكتور عبد القادر طاش عن الكاتبة غريتوود هلمفار أستاذة التاريخ بجامعة سيتي بمدينة نيويورك، وأضاف بأن إيطاليا تعاني من التناقص السكاني، وهي (ظاهرة توشك أن تتحول فعليا إلى أزمة على أبواب القرن الحادي والعشرين على امتداد الأمة الإيطالية
(3).
ثانياً: الأطفال والجريمةإذا كانت هذه حال الأسرة في الغرب فكيف تصير حال أطفالهم؟ لاشك أنهم سيتأثرون بالفعل، وقد بلغ عدد الجرائم التي يرتكبها الأطفال ونوعها حداً جعلهم يلجأون إلى حظر التجول على الأطفال والشباب ليلا، وأصبحت قضية حظر التجول من القضايا السياسية التي تتنافس الأحزاب في مواقفها منها.
حمل السلاح والعنفذكر تقرير حكومي بريطاني أن ثلث تلاميذ بريطانيا في سن الخامسة عشرة استبدلوا الأسلحة بالكتب الدراسية، تقول الإحصائيات إن واحداً من خمسين تلميذاً في المدارس البريطانية يحمل مسدسا، هذه الأوضاع جعلت ربع الطلاب يتخوفون من الذهب إلى المدرسة، بينما ثلث الطالبات في المدارس الثانوية المختلفة يتخوفن من الاعتداءات الجسدية
(4).
--------------------------------------------
রিচার্ড নিক্সন উল্লেখ করেছেন যে, বিবাহবিচ্ছেদের হার চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি আটজন শিশুর মধ্যে একজন সামাজিক কল্যাণের (সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার) ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছে, যা ১৯৬০ সালের পরিস্থিতির তুলনায় তিন গুণ বেশি
(১)।
জার্মানি সম্পর্কে নাবিল শাবিব কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: সেখানে জন্ম নেওয়া শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই অবৈধ
(২)। নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক লেখিকা গারট্রুড হিমেলফার্ব-এর বরাতে ডক্টর আব্দুল কাদির তাশ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এই অনুপাত একই। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, ইতালি জনসংখ্যা হ্রাসের সমস্যায় ভুগছে, যা এমন একটি প্রপঞ্চ (ظاهرة) যা একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে সমগ্র ইতালীয় জাতির জন্য কার্যত একটি সংকটে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে
(৩)।
দ্বিতীয়: শিশু ও অপরাধপশ্চিমে যদি পরিবারের এই দশা হয়, তবে তাদের শিশুদের অবস্থা কী হবে? নিঃসন্দেহে তারা এর দ্বারা প্রভাবিত হবে। শিশুদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা এবং ধরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কর্তৃপক্ষ রাতে শিশু ও কিশোরদের জন্য সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করার পথ অবলম্বন করছে। এই সান্ধ্য আইনের বিষয়টি এখন এমন এক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে তাদের অবস্থানের মাধ্যমে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
অস্ত্র বহন ও সহিংসতাব্রিটিশ সরকারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রিটেনের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ্যবইয়ের বদলে অস্ত্র বেছে নিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটিশ স্কুলগুলোর প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পিস্তল বহন করে। এই পরিস্থিতির কারণে এক-চতুর্থাংশ ছাত্র স্কুলে যেতে ভয় পায়, অন্যদিকে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ ছাত্রী শারীরিক লাঞ্ছনার আশঙ্কায় থাকে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حظر التجولومن أجل مواجهة جرائم الأطفال فقد بدأت العديد من المدن الأمريكية فرص حظر التجول ليلا على الشباب في سن ما دون الثامنة عشرة أو السابعة عشرة.
وقد انتقلت فكرة حظر التجول من أمريكا إلى بريطانيا وقد دعا لها كل من حزب العمال وحزب المحافظين جزءا من برنامجه السياسي، ولكن هناك من يعارض هذا الحظر، ومن هؤلاء أحد الوزراء البريطانيين الذي يقول: (إن الحظر إهانة للغالبية من الشباب الحسني السلوك، وهذه السياسة تذكر بسياسة الأخ الأكبر في النظام الاشتراكي الذي يريد السيطرة على كل شيء).
فإلى كل من يطالب بتقليد الغرب في تربيته نقول: قد اقتنعنا مدة طويلة بتفوق الغرب في شتى المجالات ومنها التربية بلا شك، وأرسلنا أعداداً كبيرة من طلاب الدراسات العليا للحصول على درجتي الماجستير والدكتوراه في التربية في الغرب، وهذا الواقع يؤكد فشل تربيتهم، أما التربية الإسلامية الصحيحة فهل فكرنا لماذا يتقدم شبابنا الذين لم يبلغوا الخامسة عشرة للدخول إلى المعارك، وكان هذا في أُحُد وفي الخندق وغيرها، ألم يكن أسامة بن زيد رضي الله عنهما في السابعة عشرة حينما ولاه الرسول صلى الله عليه وسلم قيادة جيش للتوجه إلى الشام. وكم كان سن محمد بن القاسم الثقفي ومحمد الفاتح وغيرهما؟
إن التكليف في الإسلام يبدأ بالبلوغ الذي لا يتجاوز الخامسة عشرة، أليس في هذا دليل على أن تربيتنا أنجح من تربيتهم فمن يعيد الثقة إلينا؟
جرائم الاستغلال الجنسي للأطفالرُوِّعت بلجيكا أخبار المجرم الذي اختطف عدداً من الفتيات وتم اكتشاف جثثهن في حديقة منزله، ثم قادت التحريات إلى أن المجرم إنما هو فرد من عصابة تقوم باختطاف الأطفال لاستغلالهم في الدعارة. وقد كتبت جريدة "الحياة" تقول: " لا تزال بلجيكا تعيش حالة ذهول بعد كشف التفاصيل المروِّعة لأعمال شبكة من الشاذين الذين يقيمون علاقات جنسية مع الأطفال. وهذه القضية تعد الأخيرة في سلسلة شبكات مماثلة كشف عن تورطها في ارتكاب جرائم جنسية ضد أطفال أوروبا وأمريكا الشمالية خلال السنوات الأخيرة"
(1).
--------------------------------------------
সান্ধ্য আইন (حظر التجول)শিশু ও কিশোর অপরাধ মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে আমেরিকার অনেক শহর আঠারো বা সতেরো বছরের কম বয়সী তরুণদের ওপর রাতে সান্ধ্য আইন (حظر التجول) আরোপ করা শুরু করেছে।
সান্ধ্য আইনের (حظر التجول) এই ধারণাটি আমেরিকা থেকে ব্রিটেনেও পৌঁছেছে। লেবার পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টি উভয়ই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতাকারীও আছেন, যাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন: (এই নিষেধাজ্ঞা অধিকাংশ সদাচারী তরুণদের জন্য এক প্রকার অবমাননা। এই নীতিটি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার 'বিগ ব্রাদার' নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়)।
যারা শিক্ষা ও লালন-পালনের (تربية) ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অনুকরণ (تقليد) করার দাবি জানান, তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলি: আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষা ও লালন-পালনের (تربية) ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ কারণে আমরা বিপুল সংখ্যক উচ্চশিক্ষার্থীবৃন্দকে পশ্চিমের দেশগুলোতে শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা তাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে সঠিক ইসলামি শিক্ষা ও লালন-পালনের (تربية) কথা যদি বলি, আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কেন আমাদের কিশোররা পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যুদ্ধে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসত? উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা গেছে। উসামা ইবনে যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা কি মাত্র সতেরো বছর বয়সে ছিলেন না যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সিরিয়া অভিযানের জন্য একটি সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন? এছাড়া মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফি, মুহাম্মদ আল-ফাতিহ এবং অন্যদের বয়সই বা কত ছিল?
ইসলামে শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ (التكليف) শুরু হয় সাবালকত্বের (البلوغ) মাধ্যমে, যা সাধারণত পনেরো বছর অতিক্রম করে না। এটি কি এই বিষয়ের প্রমাণ নয় যে, আমাদের লালন-পালন (تربية) পদ্ধতি তাদের পদ্ধতির চেয়ে সফল? সুতরাং আমাদের মাঝে সেই আত্মবিশ্বাস কে ফিরিয়ে দেবে?
শিশুদের যৌন নিপীড়নের অপরাধসমূহএক অপরাধীর খবরে বেলজিয়াম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল, যে বেশ কয়েকজন তরুণীকে অপহরণ করেছিল এবং তার বাড়ির বাগানে তাদের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই অপরাধী একটি চক্রের সদস্য ছিল যারা শিশুদের অপহরণ করে পতিতাবৃত্তিতে ব্যবহার করত। "আল-হায়াত" পত্রিকা লিখেছে: "বিকৃত রুচির ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্কের ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত প্রকাশের পর বেলজিয়াম এখনও স্তব্ধ হয়ে আছে, যারা শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধে লিপ্ত থাকার দায়ে প্রকাশিত হওয়া অনুরূপ ধারাবাহিক নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে সর্বশেষ।"
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد تداعت مائة وست وعشرون دولة لعقد مؤتمر دولي لمكافحة الاستغلال التجاري الجنسي للأطفال، -هل غير التجاري مسموح به؟ - وتتضمن الوفود المشاركة عدد من الأطباء وعلماء النفس، وعلماء الاجتماع ورجال القانون. وسوف يناقش المؤتمر تسعة موضوعات تتصل بنشاطات الشبكات الإجرامية وتعريف الاستغلال الجنسي وتعريف الأطفال، والعقوبات التي ينبغي إنزالها بالشبكات التي تعمل في هذا المجال
(1).
وقد أصبح المؤتمر فرصة لفضح كثير من الممارسات الأوروبية في مجال الدعارة والصور الفاحشة سواء بالنسبة للأطفال أو الكبار فقد أورد تقرير وكالة الأنباء الفرنسية أن تقريراً إيطالياً كشف عن" أرقام مثيرة للصدمة بالنسبة لممارسات دعارة الأطفال ولا سيما في جنوب إيطاليا، وذكر التقرير أن الفضيحة التي أثيرت منذ شهرين في مدينة باليرمو بجزيرة صقلية حول استغلال عدد من الأطفال الإيطاليين دون العاشرة في الدعارة المباشرة مع بالغين ليست هي حالات معزولة بحال"
(2).
ثالثاً: الجريمة في المجتمعات الغربيةلا تكاد تخلوا الصحف ووسائل الإعلام الأخرى طوال العام من الحديث عن الجريمة التي أخذت أبعادا أخرى حيث إن " فئة الشباب الذكور هم الفئة التي تنفذ جرائم القتل والموت في المجتمع الأمريكي، وإن نسبة الانتحار بين الشباب تفوق عشرين ضعفا مثيلتها في أوروبا وأربعين ضعفا عن اليابان"
(3).
الاغتصابكما عانى الشباب والأطفال من توجه الجريمة ضدهم فقد نالت المرأة نصيبها من الجريمة ضدها، ولاسيما جريمة الاغتصاب، فقد نشر (مركز الضحايا الوطني) و (مركز الأبحاث ومعالجة ضحايا الاغتصاب) أن ثمان وسبعين امرأة يتعرضن للاغتصاب كل ساعة أي 683 ألف امرأة سنويا)
(4).
--------------------------------------------
শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ১২৬টি দেশ একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য একত্রিত হয়েছে। —অ-বাণিজ্যিক কি অনুমোদিত? — অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং আইন বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সম্মেলনটি অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড, যৌন শোষণের সংজ্ঞা, শিশুদের সংজ্ঞা এবং এই ক্ষেত্রে সক্রিয় চক্রগুলোর ওপর যে দণ্ড আরোপ করা উচিত, সে সম্পর্কিত নয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে
(১).
এই সম্মেলনটি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক—উভয় ক্ষেত্রেই বেশ্যাবৃত্তি এবং অশ্লীল ছবির প্রসারে ইউরোপীয় অনেক কর্মকাণ্ড উন্মোচন করার একটি সুযোগে পরিণত হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি ইতালীয় প্রতিবেদনে "শিশুদের বেশ্যাবৃত্তির বিষয়ে বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান" প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই মাস আগে সিসিলি দ্বীপের পালেরমো শহরে দশ বছরের কম বয়সী বেশ কিছু ইতালীয় শিশুকে প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে সরাসরি বেশ্যাবৃত্তিতে লিপ্ত করার যে কেলেঙ্কারিটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়
(২).
তৃতীয়: পাশ্চাত্য সমাজে অপরাধবছরজুড়ে সংবাদপত্র এবং অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতে অপরাধ বিষয়ক আলোচনা লেগেই থাকে, যা বর্তমানে ভিন্ন মাত্রা ধারণ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, "আমেরিকান সমাজে যুবক পুরুষরাই মূলত হত্যা ও মৃত্যুর মতো অপরাধগুলো সংঘটিত করছে এবং যুবকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ইউরোপের তুলনায় ২০ গুণ এবং জাপানের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি"
(৩).
ধর্ষণযুবক ও শিশুরা যেভাবে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপরাধের শিকার হয়েছে, তেমনি নারীরাও তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের শিকার হয়েছে, বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার। 'ন্যাশনাল ভিকটিম সেন্টার' এবং 'ধর্ষণ শিকার গবেষণা ও চিকিৎসা কেন্দ্র' প্রকাশ করেছে যে, প্রতি ঘণ্টায় ৭৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন, অর্থাৎ বছরে ৬ লক্ষ ৮৩ হাজার নারী
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أما التعرض للمضايقات الجسدية أو التحرش الجنسي فحدث ولا حرج، فإذا كان الاغتصاب يصعب تحديد حالاته بدقة لأن نسبة كبيرة من النساء لا يبلغن عن حدوثه وذلك لصعوبة إثباته أو للمضايقات التي يتعرض لها إذا ما أقدمن على الشكوى، فإن تعرض المرأة للمضايقات الجنسية بلغ حداً كبيراً، ومما يلفت الانتباه أن ثلثي الشرطيات البريطانيات يتعرضن للمضايقات الجنسية من زملائهن في العمل مما أدى إلى قيام إدارة الشرطة بتكليف عالمة نفس بدراسة الوضع واقتراح الحلول المناسبة.
وقد انزعجت الشرطة في لندن من ازدياد حوادث الاغتصاب لذلك قامت بإصدار بعض التعليمات لمواجهة هذه الحوادث ومن التعليمات:
أ - الاحتشام في اللباس.
ب - عدم وضع الأيدي في الجيوب حتى تكون المرأة مستعدة للدفاع إذا ما تعرضت للاعتداء.
ج - عدم الجلوس في الحافلات في الطابق العلوي إذا كانت الحافلة خالية، والحرص على الركوب قريبا من السائق.
كما أن الاختلاط الذي يعيشه الغرب يتسبب إلى حد ما فيما يعانيه الغرب، حتى إن مجلة "المختار" قد نشرت تحقيقاً حول الاختلاط في العمل في مجالات الحياة المختلفة وما يتسبب فيه من إثارة الغرائز هو أحد أسباب انتشار الجرائم الجنسية. ومما أوردته المجلة في تحقيقها: " أينما يعمل الرجال والنساء معاً فإن "الافتتان" يأتي بوحي من واقع الميدان (العمل المختلط) وليس هذا الانجذاب بسبب سيطرة إفرازات زائدة لهرمون "الادريانين" فحسب، ولكن في أي مكان عمل (مختلط طبعاً) من المعمل إلى المكتبة العامة"
(1).
ولعل من أسباب هذه الأوضاع أن الحضارة الغربية كما يرى علي عزت بيجوفتش قد "أحالت المرأة إلى موضوع إعجاب أو استغلال، ولكنها حُرِمَت من شخصيتها وهو الشيء الوحيد الذي يستحق التقدير والاحترام. وهذا الموضوع مشهود بشكل مضطرد، وقد أصبح أكثر وضوحاً في مواكب الجمال أو في بعض مهن نسائية معينة مثل "الموديلات." وفي هذه الحالات لم تعد المرأة شخصية ولا حتى كائناً إنسانياً وإنما هي لا تكاد تكون أكثر من "حيوان جميل"
(2).
--------------------------------------------
শারীরিক হেনস্থা কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তো বর্ণনাতীত। ধর্ষণের প্রকৃত ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ দুরূহ; কারণ নারীদের একটি বড় অংশই তা রিপোর্ট করেন না। এর কারণ যেমন বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন, তেমনি অভিযোগ করতে গেলে যে ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় তাও একটি বড় কারণ। নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি বর্তমানে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ব্রিটিশ নারী পুলিশদের দুই-তৃতীয়াংশই কর্মস্থলে সহকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন। এর ফলে পুলিশ প্রশাসন একজন মনোবিজ্ঞানীকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উপযুক্ত সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করেছে।
লন্ডন পুলিশ ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন হয়ে এসব ঘটনা মোকাবিলায় কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক - পোশাক-পরিচ্ছদে শালীনতা বজায় রাখা।
খ - পকেটে হাত না রাখা, যাতে আক্রমণের শিকার হলে নারী আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।
গ - বাস খালি থাকলে বাসের উপরের তলায় না বসা এবং চালকের কাছাকাছি বসার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা।
পাশ্চাত্যের বর্তমান জীবনযাত্রায় যে অবাধ মেলামেশা বিদ্যমান, তা তাদের এই দুর্দশার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এমনকি 'আল-মুখতার' ম্যাগাজিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মস্থলে অবাধ মেলামেশা এবং এর ফলে প্রবৃত্তি উত্তেজিত হওয়া সম্পর্কে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা যৌন অপরাধ বিস্তারের অন্যতম কারণ। ম্যাগাজিনটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে: "যেখানেই নারী ও পুরুষ একত্রে কাজ করে, সেখানে 'মোহ' বা 'আকর্ষণ' কর্মক্ষেত্রের বাস্তব পরিবেশ (অবাধ মেলামেশা) থেকেই উৎসারিত হয়। এই আকর্ষণ কেবল 'অ্যাড্রেনালিন' হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে নয়, বরং ল্যাবরেটরি থেকে পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত যেকোনো (অবশ্যই মেলামেশাপূর্ণ) কর্মস্থলেই এটি ঘটে থাকে।"
(1).
সম্ভবত এসব পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো—আলী ইজ্জত বিগোভিচের মতে—পাশ্চাত্য সভ্যতা নারীকে "প্রশংসা বা ভোগের সামগ্রীতে পরিণত করেছে, কিন্তু তাকে তার ব্যক্তিত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে; অথচ ব্যক্তিত্বই হলো সম্মান ও শ্রদ্ধার একমাত্র যোগ্য বিষয়। এই বিষয়টি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু নারীসুলভ পেশা যেমন 'মডেলিং'-এর ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে নারী আর কোনো স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব বা এমনকি কোনো মানবসত্তাও নন, বরং তিনি কেবল একটি 'সুশ্রী প্রাণীর' চেয়ে বেশি কিছু নন।"
(2).<
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
اغتصاب الذكورولم تقتصر جرائم الاغتصاب في الغرب على اغتصاب النساء بل إن الغرب بدأ يشهد أمراً عجباً وهو تعرض الرجال للاغتصاب، فقد ذكرت صحيفة التايمز اللندنية أن الرجال أصبحوا هم أيضا ضحايا الاغتصاب، وأن القانون قد يعترف بجريمة جديدة هي اغتصاب الرجال، فالقانون الذي وضع عام 1956 لا يعترف باغتصاب الرجال، ولكن الاتجاه الآن إلى اعتبار الاغتصاب جريمة بغض النظر على من وقعت رجلا أو امرأة، وقدمت الصحيفة بعض الأرقام حول حوادث اغتصاب الرجال فقد وصلت إلى الشرطة 516 حالة عام 1982 ارتفعت إلى 1255 حالة عام 1992. أما حالات التحرش بالرجال فقد ارتفعت من 2082 حالة عام 1982 إلى 3119 عام 1992 وأشارت الصحيفة إلى أن مثل هذه الحالات تقع في السجون.
رابعاً: العلاقات الاجتماعيةترتبط العلاقات الاجتماعية ارتباطاً وثيقاً بالمبادئ والقيم والعقائد التي يتبناها المجتمع. وبناء على ذلك أصبح المجتمع الغربي يتكون من طبقات يمتلك بعضها القوة فتستأثر بأفضل المنتجات الاجتماعية لنفسها وتترك الأعمال الأشق والأقذر لغيرها من الطبقات، وقدراً أقل من الناتج الاجتماعي. وكان هذا التقسيم يتم عن طريق التقاليد الاجتماعية والدينية التي احتوت على قوة نفسيه في الناس مما يجعل تهديد القوة المادية غير ضروري.
ويستنتج فروم أن المشكلة بين رأس المال والعمال أكبر بكثير من المشكلة بين طبقتين وأكبر من صراعهم من أجل نصيب أكبر من الناتج الاجتماعي؛ إنها مشكلة بين مجموعتين من القيم؛ إنها بين عالم الأشياء وتثمينها، وعالم الحياة وإنتاجيتها. ونتيجة لهذه التطورات " أصبحت الطبقة العمالية نموذجاً لجماعة مُسْتَغَلّة يُتلاعب بها، ويمكن مداهنتها والإشادة بها، ولكن يندر استشارتها أو ابتاع رأيها، إن أكبر طبقتين عماليتين في العالم تلك التي في الولايات المتحدة والتي في الاتحاد السوفيتي، ليس لهما تأثير حقيقي على البناء السياسي في دولتيهما وعلى القرارات التي تتخذ فيهما"
(1).
--------------------------------------------
পুরুষদের ওপর যৌন নিপীড়নপাশ্চাত্যে ধর্ষণের অপরাধ কেবল নারীদের ধর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সেখানে এক আশ্চর্যজনক বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে, আর তা হলো পুরুষদের ধর্ষণের শিকার হওয়া। লন্ডনের ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকা উল্লেখ করেছে যে, পুরুষরাও এখন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এবং আইন একটি নতুন অপরাধ হিসেবে পুরুষদের ধর্ষণকে স্বীকৃতি দিতে পারে। ১৯৫৬ সালে প্রণীত আইনে পুরুষদের ধর্ষণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তবে বর্তমানে প্রবণতা হলো ধর্ষণকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, তা যার ওপরেই ঘটুক না কেন—হোক সে পুরুষ বা নারী। পত্রিকাটি পুরুষ ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে কিছু পরিসংখ্যান পেশ করেছে; ১৯৮২ সালে পুলিশের কাছে ৫১৬টি অভিযোগ এসেছিল, যা ১৯৯২ সালে বেড়ে ১২৫৫টি-তে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পুরুষদের যৌন হয়রানির ঘটনা ১৯৮২ সালের ২০৮২টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯২ সালে ৩১১৯টি-তে পৌঁছেছে। পত্রিকাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের ঘটনাগুলো সাধারণত কারাগারগুলোতে ঘটে থাকে।
চতুর্থ: সামাজিক সম্পর্কসমূহসামাজিক সম্পর্কসমূহ সেই নীতিমালা, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যা সমাজ গ্রহণ করে। এর ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমা সমাজ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে কিছু শ্রেণী ক্ষমতার অধিকারী। তারা সমাজের সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজেদের জন্য কুক্ষিগত করে রাখে এবং কঠিন ও নোংরা কাজগুলো অন্যান্য শ্রেণীর জন্য ফেলে রাখে, আর তাদের ভাগে সামাজিক উৎপাদনের সামান্য অংশই জোটে। এই বিভাজনটি সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো, যা মানুষের মাঝে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক শক্তি সঞ্চার করেছিল যার ফলে বস্তুগত শক্তির হুমকির আর প্রয়োজন হতো না।
এরিক ফ্রম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পুঁজি ও শ্রমিকের মধ্যকার সমস্যাটি কেবল দুটি শ্রেণীর মধ্যকার সমস্যার চেয়ে অনেক বড় এবং সামাজিক উৎপাদনের বড় অংশের জন্য তাদের সংগ্রামের চেয়েও বিশাল। এটি মূলত দুটি ভিন্ন মূল্যবোধের সংঘাত; এটি বস্তু ও তার মূল্যায়নের জগত এবং জীবন ও তার উৎপাদনশীলতার জগতের মধ্যকার সমস্যা। এই বিবর্তনের ফলে "শ্রমিক শ্রেণী একটি শোষিত ও চালিত গোষ্ঠীর মডেলে পরিণত হয়েছে, যাদেরকে প্রলুব্ধ করা যায় এবং প্রশংসায় ভাসানো যায়, কিন্তু তাদের সাথে পরামর্শ করা বা তাদের মতামত গ্রহণ করার বিষয়টি বিরল। বিশ্বের দুটি বৃহত্তম শ্রমিক শ্রেণী—একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যটি সোভিয়েত ইউনিয়নে—তাদের নিজ নিজ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো এবং সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের ওপর কোনো প্রকৃত প্রভাব নেই"
(1)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد وصل الأمر بالرأسمالية أن لا يبالي الرأسماليون في تدمير المنتجات الزراعية، بل كما يقول فروم إننا بدل أن نفرح بالمحصول الجيد نقوم بإحراقه أو رميه في البحر في الوقت الذي يوجد ملايين من البشر لا يجدون لقمة العيش، ويبررون ذلك " من أجل استقرار السوق".
وليت الأمر توقف عند تدمير المنتجات بل وصل الأمر بالرأسمالية أن تدمر حياة العمال حرصاً على استمرار مستوى الأرباح أو تخفيض تكاليف الإنتاج. وقد أعدت مجلة نيوزويك ملفاً خاصاً أطلقت عليه (الرأسماليون القتلة) أوردت فيه أعداد العمال الذين قامت بعض كبريات الشركات الأمريكية بفصلهم عن العمل.
فشركة آي تي أند تي قام رئيسها بفصل أربعين ألف عامل، وقام مدير شركة إي بي إم بفصل ستين ألف موظف في يوليو عام 1993، وقام مدير شركة جنرال موتورز بفصل أربعة وسبعين ألف موظف. وتقول المجلة أن هؤلاء العمال وإن وجدوا تعويضاً لدى مصلحة العاطلين عن العمل، لكن ما قيمة الإنسان بلا عمل
… كما أن إحدى الشركات قامت بتخفيض رواتب كبار الموظفين-مؤقتاً- بنسبة خمس وعشرين في المائة حتى لا تضطر لفصل أي من موظفيها
(1).
التفرقة العنصريةومن مظاهر ضعف العلاقات الاجتماعية ازدياد التفرقة العنصرية ضد السود والملونين حتى إن أندرو شايير مؤلف كتاب (نحن القوة الأولى) يقول عن السود: " إنهم هنا في أمريكا يعيشون كأفراد غرباء وأجانب على أرض ولدوا وترعرعوا فيها، ولا يعرفون سواها .. يمكننا النظر إلى أمريكا على أنها دولة تتكون من شعبين: البيض وهم الأغلبية المسيطرة، والسود وهم الأقلية المضطهدة"
(2).
وتظهر معاناة السود من أصل أفريقي في الأرقام الآتية: فهم يشكلون 45% بين المساجين في الولايات المتحدة، ومن النواحي الاجتماعية فالأسر ذات الوالد الواحد ارتفعت بين السود لتبلغ 56% من عدد الأسر، أما حالات الولادات خارج الزواج فهي بين السود 63%
(3).
--------------------------------------------
পুঁজিবাদ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুঁজিবাদীরা কৃষি পণ্য ধ্বংস করতেও দ্বিধাবোধ করে না; বরং ফ্রয়ম যেমনটি বলেছেন, আমরা ভালো ফলনে আনন্দিত হওয়ার পরিবর্তে তা পুড়িয়ে ফেলি কিংবা সাগরে নিক্ষেপ করি এমন এক সময়ে যখন কোটি কোটি মানুষ একমুঠো খাবারের সংস্থান করতে পারছে না। আর তারা একে "বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে" বলে ন্যায্যতা দান করে।
বিষয়টি যদি কেবল পণ্য ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত! বরং পুঁজিবাদ মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কিংবা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করার লোভে শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউজউইক ম্যাগাজিন "ঘাতক পুঁজিবাদী" শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যেখানে তারা আমেরিকার বড় বড় কোম্পানিগুলো কর্তৃক ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখ করেছে।
আইটি অ্যান্ড টি (AT&T) কোম্পানির প্রধান ৪০ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করেছেন, আইবিএম (IBM) কোম্পানির পরিচালক ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে ৬০ হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছেন এবং জেনারেল মোটরস কোম্পানির পরিচালক ৭৪ হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছেন। ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করেছে যে, এই শ্রমিকরা বেকার ভাতা কেন্দ্র থেকে হয়তো কিছু ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে, কিন্তু কর্মহীন একজন মানুষের জীবনের মূল্য আর কতটুকু থাকে... অথচ একটি কোম্পানি তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন সাময়িকভাবে ২৫ শতাংশ হ্রাস করেছিল যেন তাদের কোনো কর্মচারীকে ছাঁটাই করতে না হয়
(১)।
বর্ণবৈষম্যসামাজিক সম্পর্কের দুর্বলতার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের বৃদ্ধি। এমনকি 'উই আর দ্য ফার্স্ট পাওয়ার' (نحن القوة الأولى) গ্রন্থের লেখক অ্যান্ড্রু শায়ার কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারা এখানে আমেরিকায় এমন এক ভূমিতে অপরিচিত ও বিদেশি হিসেবে বসবাস করছে যেখানে তারা জন্মগ্রহণ করেছে এবং বেড়ে উঠেছে, অথচ এটি ছাড়া তারা অন্য কিছু চেনেও না। আমরা আমেরিকাকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে পারি যা দুটি জাতি নিয়ে গঠিত: শ্বেতাঙ্গ, যারা প্রভাবশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং কৃষ্ণাঙ্গ, যারা নিপীড়িত সংখ্যালঘু"
(২)।
আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গদের দুর্ভোগ নিচের পরিসংখ্যানগুলোতে ফুটে ওঠে: তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্দীদের মধ্যে ৪৫%। সামাজিক দিক থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে একক অভিভাবক বিশিষ্ট পরিবারের হার বৃদ্ধি পেয়ে মোট পরিবারের ৫৬% এ দাঁড়িয়েছে। আর কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত জন্মের হার ৬৩%
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিগরাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وذكر كارل بيل - مدير مجلس الصحة العقلية بشيكاغو - إن المواطنين السود لا يزالون يتعرضون يومياً للإهانة والعنف بحيث أصبح ذلك جزءاً من شعورهم المحبط
(1).
وقد ظهرت في السنوات الأخيرة جماعات متطرفة في المجتمعات الغربية ومن هذه الجماعات جماعة تطلق على نفسها "الأحرار" والتي تتزعم حرباً عرقية ودينية ضد السود وبقية الملونين الذين لا ينحدرون من أصول شمال أوروبية، ويزعم هؤلاء أنهم -البيض- شعب الله المختار، وأن الولايات المتحدة الأمريكية هي أرض الميعاد وليست أرض فلسطين (إسرائيل). ويبلغ تعداد هذه الجماعة من عشرة آلاف إلى أربعين ألفاً.
وتشهد فرنسا تطرفاً عرقيا حيث ارتفعت الطوائف المتطرفة بنسبة خمسين في المائة في الفترة من 1983 حتى 1995، فهناك مائة واثنتين وسبعين مجموعة ترتبط بها ثمانمائة فرقه تابعة لها بينها خمس عشرة طائفة تتميز بخطورتها الشديدة على الأوضاع العامة. وقد أشارت مجلة لو بوينت إلى أن الحكومة الفرنسية تتغاضى عن هذه المجموعات المتطرفة، كما أشار السيد ولد أباه إلى أن الأصوليين في أمريكا كان لهم تأثير كبير في انتخاب الرئيس ريجان وأن هؤلاء قد بلغوا درجة عالية من التنظيم حيث إن لهم جامعات، وكليات طب، ومدارس وإذاعات ومحطات تلفاز
(2).
ومن مظاهر التفرقة الاجتماعية التفرقة ضد النساء المصابات بأمراض القلب حيث يحصلن على عناية أقل من الرجال من حيث الأدوية، وفي الغالب يواجهن الموت أكثر من الرجال، كما أكدت ذلك ثلاث دراسات مختلفة، وهناك أدلة على أن الأطباء يميزون الرجال المصابين بالقلب على النساء، فقد فحص الباحثون ثمانمائة حالة على مدى خمس سنوات فوجدوا أن ثلث النساء قد توفين بعد ست أشهر من الإصابة بأول أزمة قلبية.
خامساً: الأخلاق:يقول مؤلفا كتاب (مواجهة أزمة أمريكا الأخلاقية): "لقد أصبح من المؤلم بوضوح أن القيم الأخلاقية ليست كما يجب، قد تكون متطورة من بعض النواحي، لكن هذه الأخلاق تواجه الانهيار عموما، وما زالت منذ مدة طويلة." ويضيفان: " إن مجتمعنا مصاب بالفساد والفوضى، كثير من الأمريكيين يتجاهلون مسألة الصح والخطأ (الحق والباطل) إنهم يهتمون بمنافعهم الذاتية، ويبررون سلوكهم غير الأخلاقي."
--------------------------------------------
শিকাগোর মানসিক স্বাস্থ্য পরিষদের পরিচালক কার্ল বেল উল্লেখ করেছেন যে, কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকরা এখনও প্রতিদিন অবমাননা ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা তাদের হতাশাগ্রস্ত অনুভূতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে
(১).
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা সমাজে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী নিজেদেরকে "আহরার" (মুক্ত/স্বাধীন) বলে পরিচয় দেয়, যারা কৃষ্ণাঙ্গ এবং উত্তর ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত নয় এমন অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে জাতিগত ও ধর্মীয় যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা দাবি করে যে তারা (শ্বেতাঙ্গরা) আল্লাহর মনোনীত জাতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই হলো প্রতিশ্রুত ভূমি, ফিলিস্তিন (ইসরায়েল) নয়। এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা দশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজারের মধ্যে।
ফ্রান্সে জাতিগত চরমপন্থা দেখা দিচ্ছে, যেখানে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে চরমপন্থী সম্প্রদায়ের সংখ্যা পঞ্চাশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ১৭২টি গোষ্ঠী রয়েছে যাদের সাথে ৮০০টি উপদল যুক্ত, যার মধ্যে ১৫টি সম্প্রদায় জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত। ল্য পয়েন্ট (Le Point) সাময়িকী ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ফরাসি সরকার এই চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে উপেক্ষা করছে। একইভাবে জনাব সাইয়্যেদ উলদ আব্বাহ উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকার মৌলবাদীদের প্রেসিডেন্ট রেগান নির্বাচনে বিশাল প্রভাব ছিল এবং তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছে; তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, স্কুল এবং রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশন রয়েছে
(২).
সামাজিক বৈষম্যের একটি দিক হলো হৃদরোগে আক্রান্ত নারীদের প্রতি বৈষম্য। ওষুধের ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের তুলনায় কম সেবা পায় এবং প্রায়ই পুরুষদের তুলনায় বেশি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়, যা তিনটি ভিন্ন গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে। এমন প্রমাণ রয়েছে যে চিকিৎসকরা হৃদরোগে আক্রান্ত পুরুষদের নারীদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। গবেষকরা পাঁচ বছর ধরে ৮০০টি ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রথম হার্ট অ্যাটাকের ছয় মাস পরই মারা গেছেন।
পঞ্চম: নৈতিকতা:'ফেসিং আমেরিকাস মোরাল ক্রাইসিস' (Facing America’s Moral Crisis) বইয়ের লেখকদ্বয় বলেন: "এটি স্পষ্টতই বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে নৈতিক মূল্যবোধ যেমন হওয়া উচিত তেমন নেই। কিছু দিক থেকে এটি উন্নত হতে পারে, কিন্তু সাধারণভাবে এই নৈতিকতা পতনের সম্মুখীন হচ্ছে এবং দীর্ঘকাল ধরে তা অব্যাহত রয়েছে।" তারা আরও যোগ করেন: "আমাদের সমাজ দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত, অনেক আমেরিকান সঠিক ও ভুলের (সত্য ও মিথ্যার) বিষয়টি উপেক্ষা করে; তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ভাবে এবং তাদের অনৈতিক আচরণকে ন্যায়সংগত করার চেষ্টা করে।"
--------------------------------------------