(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: -)
مختصر المؤمل في الرد إلى الأمر الأول   (أبو شامة المقدسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: مختصر المؤمل في الرد إلى الأمر الأول

المؤلف: أبو القاسم شهاب الدين عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم المقدسي الدمشقي المعروف بأبي شامة (ت 665هـ)

المحقق: صلاح الدين مقبول أحمد

الناشر: مكتبة الصحوة الإسلامية - الكويت

سنة النشر: 1403 هـ

عدد الصفحات: 76

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুখতাসার আল-মুআম্মাল ফি আর-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল   (আবু শামা আল-মাকদিসি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: মুখতাসার আল-মুআম্মাল ফি আর-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল

লেখক: আবুল কাসিম শিহাবউদ্দিন আবদুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি, যিনি আবু শামা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি)

সম্পাদক: সালাহউদ্দিন মকবুল আহমদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাহওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ - কুয়েত

প্রকাশের বছর: ১৪০৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌خطْبَة الْكتاب

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالْعَاقبَة لِلْمُتقين وَلَا عدوان إِلَّا على الظَّالِمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أشرف الْمُرْسلين سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي الْأمين وعَلى آله الطيبين الطاهرين وَأَصْحَابه نُجُوم الدّين

وَبعد

1 - فَهَذَا مُخْتَصر من كتاب المؤمل للرَّدّ إِلَى الْأَمر الأول تصنيف الإِمَام الْعَلامَة مُحي السّنة شهَاب الدّين أبي الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم الْمَعْرُوف بِأبي شامة قدس الله روحه قَالَ

أما بعد

2 - فَإِن الْعلم قد درست أَعْلَامه وَقل فِي هَذَا الزَّمَان إتقانه وإحكامه وَأدّى بِهِ الاهمال إِلَى أَن عدم احترامه وَقل إجلاله وإعظامه وَكَاد يجهل حَلَاله وَحَرَامه

هَذَا مَعَ حث الشَّارِع عَلَيْهِ وَوصف الْعلمَاء القائمين بخشيتهم إِيَّاه وَرَفعه درجاتهم وضمه لَهُم مَعَ اللائكة فِي شهاداتهم

قَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء}

وَقَالَ تَعَالَى {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَة وأولو الْعلم}

وَقَالَ تَعَالَى {يرفع الله الَّذين آمنُوا مِنْكُم وَالَّذين أُوتُوا الْعلم دَرَجَات} إِلَى غير ذَلِك من الْآيَات الْكَثِيرَة ولأحاديث المستنيرة

3 - وَقد كَانَ من مضى من الْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين قَائِمين بنشر عُلُوم الِاجْتِهَاد فِي جَمِيع الْآفَاق وهم فِي ذَلِك متفاضلون

فَمنهمْ الْمُحكم لأمر الْكتاب

وَمِنْهُم الْقَائِم بِأَمْر السّنة

وَمِنْهُم الممعن فِي استنباط الْأَحْكَام

وَقل من اجْتمع فِيهِ الْقيام بِجَمِيعِ ذَلِك
গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম পরহেজগারদের জন্য, আর যালিমরা ব্যতীত কারও ওপর কোনো শত্রুতা নেই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রাসূল, আমাদের নেতা বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধর এবং দ্বীনের নক্ষত্রতুল্য সাহাবীগণের প্রতি।

অতঃপর:

1 - এটি ইমাম, আল্লামা, মুহিউস সুন্নাহ, শিহাব উদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম, যিনি আবু শামা নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন), রচিত "কিতাবুল মুআম্মাল লির-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল" নামক গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সার। তিনি বলেন:

অতঃপর:

2 - নিশ্চয়ই ইলমের নিদর্শনসমূহ মিটে গেছে এবং বর্তমান সময়ে এর গভীরতা ও পরিপক্কতা হ্রাস পেয়েছে। অবহেলার কারণে ইলম তার মর্যাদা হারিয়েছে, এর সম্মান ও গৌরব কমে গেছে এবং এর হালাল ও হারাম বিষয়গুলো প্রায় অজ্ঞাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এটি হওয়া সত্ত্বেও শারীআহ প্রবর্তক ইলম অর্জনে উৎসাহিত করেছেন এবং সেই আলেমদের গুণ বর্ণনা করেছেন যারা আল্লাহকে ভয় করেন। তিনি তাঁদের মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন এবং তাঁর নিজের সাক্ষ্যের সাথে ফেরেশতা ও আলেমদের সাক্ষ্যকে সম্পৃক্ত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে}

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানবানগণও (একই সাক্ষ্য দিয়েছেন)}

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বহু স্তরে উন্নীত করবেন}। এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত এবং আলোকিত হাদিস রয়েছে।

3 - অতীতে অতিবাহিত মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামগণ পৃথিবীর সকল প্রান্তে ইজতিহাদ (اجتهاد) সংক্রান্ত ইলম প্রসারে নিয়োজিত ছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা মর্যাদাগতভাবে বিভিন্ন স্তরের ছিলেন।

তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন কুরআনের বিধানে পারদর্শী।

আবার তাঁদের কেউ ছিলেন সুন্নাহ (سنة) প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট।

আর তাঁদের কেউ ছিলেন বিধান উদ্ঘাটনে (استنباط) গভীর জ্ঞানের অধিকারী।

তবে এমন ব্যক্তি খুব কমই ছিলেন যাঁর মধ্যে এই সকল গুণের সমাবেশ ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌فصل فِي مَنَاقِب الإِمَام الشَّافِعِي

 

4 - وَكَانَ من أجعهم وأقومهم بِهِ إمامنا أَبُو عبد الله الْقرشِي المطلبي الشَّافِعِي رضي الله عنه جمع النّسَب الطَّاهِر وَالْعلم الباهر وَكَثْرَة المآثر وَجل المفاخر كَانَ فِيهِ من المناقب والفضائل مَا فرق فِي كثير من الْأَئِمَّة الأفاضل وَيشْهد لَهُ بذلك من كل فِئَة سادة أفاضل

5 - قَالَ الْمُزنِيّ سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول حفظت الْقُرْآن وَأَنا ابْن سبع سِنِين وحفظت الْمُوَطَّأ وَأَنا ابْن عشر

6 - وَقَالَ يُونُس بن عبد الْأَعْلَى كَانَ الشَّافِعِي إِذا أَخذ فِي التَّفْسِير كَأَنَّهُ شهد التَّنْزِيل

7 - وَقَالَ أَحْمد بن مُحَمَّد بن بنت الشَّافِعِي سَمِعت أبي وَعمي يَقُولَانِ كَانَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة إِذا جَاءَهُ شَيْء من التَّفْسِير والفتيا يسئل عَنْهَا الْتفت إِلَى الشَّافِعِي وَقَالَ يَقُول سلوا هَذَا الْغُلَام

8 - وَقَالَ لَهُ شَيْخه مُسلم بن خَالِد وَهُوَ مفتي مَكَّة يَا أَبَا عبد الله أفت فقد آن لَك أَن تُفْتِي وَهُوَ ابْن خمس عشرَة سنة
ইমাম শাফিঈ-এর গুণাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

4 - এবং আমাদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরাইশি আল-মুত্তালিবি আল-শাফিঈ (রা.) ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি পবিত্র বংশমর্যাদা, প্রদীপ্ত জ্ঞান, প্রচুর কীর্তিগাথা এবং মহান শ্রেষ্ঠত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। তাঁর মধ্যে এমন সব গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান ছিল যা অনেক বরেণ্য ইমামদের মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে ছিল। প্রত্যেক দলের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাঁর ব্যাপারে এই সাক্ষ্য প্রদান করেন।

5 - আল-মুযানী বলেন, আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি যে, আমি সাত বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেছি এবং দশ বছর বয়সে মুয়াত্তা মুখস্থ করেছি।

6 - ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা বলেন, শাফিঈ যখন তাফসির বর্ণনা শুরু করতেন, তখন মনে হতো তিনি যেন ওহি অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছেন।

7 - শাফিঈর দৌহিত্র আহমদ বিন মুহাম্মদ বলেন, আমি আমার পিতা ও চাচাকে বলতে শুনেছি যে, সুফিয়ান বিন উয়ায়নার কাছে যখন তাফসির বা ফতোয়া সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন আসত, তখন তিনি শাফিঈর দিকে ইশারা করে বলতেন, তোমরা এই যুবককে জিজ্ঞাসা করো।

8 - মক্কার মুফতি এবং তাঁর উস্তাদ মুসলিম বিন খালিদ তাঁকে বলেছিলেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! ফতোয়া প্রদান করুন, কেননা আপনার ফতোয়া দেওয়ার সময় হয়েছে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ২৯)
9 - وَقَالَ الرّبيع كَانَ الشَّافِعِي يُفْتِي وَهُوَ ابْن خمس عشرَة سنة وَكَانَ يحي اللَّيْل إِلَى أَن مَاتَ

10 - وَقَالَ أَبُو نعيم الْحَافِظ سَمِعت أَحْمد بن مُحَمَّد بنت الشَّافِعِي يَقُول كَانَت الْحلقَة فِي الْفتيا بِمَكَّة فِي الْمَسْجِد الْحَرَام لِابْنِ عَبَّاس وَبعده لعطاء بن أبي رَبَاح وَبعده لعبد الْملك بن جريج وَبعده لمُسلم بن خَالِد وَبعده لسَعِيد بن سَالم

وَبعده لمُحَمد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي وَهُوَ شَاب

11 - قَالَ ابْن مهْدي سَمِعت مَالِكًا يَقُول مَا يأتيني قُرَيْش أفهم من هَذَا الْفَتى يَعْنِي الشَّافِعِي

12 - قَالَ أَبُو عبيد بن سَلام مَا رَأَيْت قطّ أَعقل وَلَا أورع وَلَا أفْصح من
9 - আর-রাবী' বলেন, শাফিঈ পনেরো বছর বয়স থেকেই ফাতাওয়া প্রদান করতেন এবং তিনি মৃত্যু পর্যন্ত রাত জেগে ইবাদত করতেন।

10 - হাফিজ (الحافظ) আবু নুআইম বলেন, আমি শাফিঈর দৌহিত্র (মেয়ের ঘরের নাতি) আহমাদ বিন মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, মক্কার মসজিদুল হারামে ফাতাওয়া প্রদানের মজলিসটি ইবনে আব্বাসের জন্য ছিল, তাঁর পরে আতা বিন আবি রাবাহ-এর জন্য, তাঁর পরে আব্দুল মালিক বিন জুরাইজের জন্য, তাঁর পরে মুসলিম বিন খালিদের জন্য এবং এরপর সাঈদ বিন সালিমের জন্য।

এবং এরপর যুবক থাকাবস্থায় মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈর জন্য।

11 - ইবনে মাহদী বলেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি, কুরাইশদের মধ্যে এই যুবকের—অর্থাৎ শাফিঈর—চেয়ে অধিক সমঝদার আর কেউ আমার নিকট আসেনি।

12 - আবু উবাইদ বিন সাল্লাম বলেন, আমি তাঁর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান, অধিক পরহেজগার (ورع) এবং অধিক বাগ্মী আর কাউকে দেখিনি...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩০)
الشَّافِعِي

13 - قَالَ هِلَال بن الْعَلَاء الرقي أَصْحَاب الحَدِيث عِيَال على الشَّافِعِي فتح لَهُم الأقفال

14 - قَالَ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه لَقِيَنِي أَحْمد بن حَنْبَل بِمَكَّة فَقَالَ تعال أريك رجلا لم تَرَ عَيْنَاك مثله فَأرَانِي الشَّافِعِي

قَالَ فتناظرنا فِي الحَدِيث فَلم أر أعلم مِنْهُ

ثمَّ تناظرنا فِي الْفِقْه فَلم أر أفقه مِنْهُ

ثمَّ تناظرنا فِي الْقُرْآن فَلم أر أَقرَأ مِنْهُ

ثمَّ تناظرنا فِي اللُّغَة فَوَجَدته بَيت اللُّغَة وَمَا رَأَتْ عَيْنَايَ مثله قطّ قَالَ فَلَمَّا فارقناه أَخْبرنِي جمَاعَة من أهل الْفَهم بِالْقُرْآنِ أَنه كَانَ أعلم النَّاس فِي زَمَانه وَأَنه كَانَ قد أُوتِيَ فهما فِي الْقُرْآن

15 - قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل كَانَ الْفُقَهَاء والمحدثون صيادلة فجَاء الشَّافِعِي طَبِيبا صيدلانيا مَا رَأَتْ الْعُيُون مِثَاله

16 - وَقَالَ يرْوى فِي الحَدِيث إِن الله يقيض للنَّاس فِي رَأس كل مائَة سنة من يعلمهُمْ السّنَن وينفي عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْكَذِب فَنَظَرْنَا فَإِذا فِي
আশ-শাফিঈ

১৩ - হিলাল ইবনে আল-আলা আর-রাক্কি বলেন, হাদিস বিশারদগণ আশ-শাফিঈর ওপর নির্ভরশীল; তিনি তাদের জন্য রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

১৪ - ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ বলেন, মক্কায় আহমদ ইবনে হাম্বলের সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন, "আসুন, আমি আপনাকে এমন এক ব্যক্তিকে দেখাব যার মতো আপনার দু'চোখ কখনো দেখেনি।" অতঃপর তিনি আমাকে আশ-শাফিঈকে দেখালেন।

তিনি বলেন, অতঃপর আমরা হাদিস নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে বড় বিদ্বান (أعلم) আর কাউকে দেখিনি।

অতঃপর আমরা ফিকহ নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকিহ (أفقه) আর কাউকে দেখিনি।

অতঃপর আমরা কুরআন নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞ (أقرأ) আর কাউকে দেখিনি।

অতঃপর আমরা ভাষা নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁকে ভাষার ভাণ্ডার হিসেবে পেলাম। আমার দু'চোখ কখনো তাঁর মতো কাউকে দেখেনি। তিনি বলেন, যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলাম, তখন একদল কুরআন বিশেষজ্ঞ আমাকে অবহিত করলেন যে, তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় আলিম ছিলেন এবং তাঁকে কুরআনের বিশেষ প্রজ্ঞা দান করা হয়েছিল।

১৫ - আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, ফকিহগণ (فقهاء) এবং হাদিস বিশারদগণ (محدثون) ছিলেন ওষুধ প্রস্তুতকারকের মতো, অতঃপর আশ-শাফিঈ একজন চিকিৎসক ও ওষুধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আবির্ভূত হলেন। চোখ তাঁর মতো আর কাউকে দেখেনি।

১৬ - তিনি আরও বলেন, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি শতাব্দীর শিরোভাগে মানুষের জন্য এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি তাদের সুন্নাহসমূহ (سنن) শিক্ষা দেবেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত মিথ্যা (كذب) দূর করবেন। অতঃপর আমরা লক্ষ্য করলাম এবং দেখলাম যে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩১)
رَأس الْمِائَة عمر بن عبد الْعَزِيز وَفِي رَأس الْمِائَتَيْنِ الشَّافِعِي

17 - وَقَالَ إِذا سُئِلت عَن مَسْأَلَة لَا أعرف فِيهَا خَبرا قلت فِيهَا بقول الشَّافِعِي لِأَنَّهُ إِمَام عَالم من قُرَيْش

وَرُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ عَالم قُرَيْش يمْلَأ الأَرْض علما

18 - وَقَالَ كَلَام الشَّافِعِي فِي اللُّغَة حجَّة

19 - وَقَالَ أَبُو عُثْمَان الْمَازِني الشَّافِعِي عندنَا حجَّة فِي النَّحْو

20 - وَقَالَ أَبُو ثَوْر إِبْرَاهِيم بن خَالِد كَانَ الشَّافِعِي من معادن الْفِقْه
প্রথম শতকের শিরোমণি হলেন উমর ইবন আবদুল আজিজ এবং দ্বিতীয় শতকের শিরোমণি হলেন ইমাম শাফিঈ।

17 - এবং তিনি বলেছেন, যখন আমাকে এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যার ব্যাপারে আমার নিকট কোনো বর্ণনা (خبر) জানা নেই, তখন আমি ইমাম শাফিঈর মতানুসারে উত্তর প্রদান করি; কারণ তিনি কুরাইশ বংশীয় একজন ইমাম ও বিজ্ঞ আলিম।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "কুরাইশ বংশের একজন আলিম পৃথিবীকে জ্ঞান (ইলম) দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন।"

18 - এবং তিনি বলেছেন, ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈর বক্তব্য হলো অকাট্য প্রমাণ (حجة)।

19 - আবু উসমান আল-মাজিনী বলেছেন, আমাদের নিকট ব্যাকরণ শাস্ত্রে ইমাম শাফিঈ হলেন অকাট্য প্রমাণ (حجة)।

20 - আবু সাওর ইবরাহিম ইবন খালিদ বলেছেন, ইমাম শাফিঈ ছিলেন ফিকহ শাস্ত্রের আকর বা খনিস্বরূপ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩২)
وجهابذة الْأَلْفَاظ ونقاد الْمعَانِي

21 - قَالَ الْحسن بن مُحَمَّد بن صباح الزَّعْفَرَانِي كَانَ أَصْحَاب الحَدِيث رقودا حَتَّى جَاءَ الشَّافِعِي فأيقظهم فتيقظوا

ومناقبه كَثِيرَة قد ألفت فِيهَا المؤلفات العديدة

‌‌فصل فِي صفة أهل الْعلم

 

22 - قَالَ عبد الله بن مَسْعُود لَيْسَ الْعلم بِكَثْرَة الحَدِيث وَلَكِن الْعلم خشيَة الله

23 - قَالَ مَالك بن أنس لَيْسَ الْعلم بِكَثْرَة الرِّوَايَة وَلكنه نور يَجعله الله فِي قلب من يَشَاء من خلقه

24 - وَفِي رِوَايَة الْعلم وَالْحكمَة نور يهدي بِهِ الله من يَشَاء وَلَيْسَ بِكَثْرَة الْمسَائِل
শব্দশৈলীর পারদর্শী এবং অর্থের সূক্ষ্ম সমালোচকগণ

21 - হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ আল-জাফরানী বলেন, হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) নিদ্রিত ছিলেন যতক্ষণ না শাফিয়ী আসলেন এবং তাঁদের জাগ্রত করলেন, ফলে তাঁরা জাগ্রত হলেন।

এবং তাঁর মর্যাদা (مناقب) অসংখ্য, এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

‌‌ইলমের অধিকারীদের গুণাবলি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

22 - আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, অধিক হাদিস জানার নাম ইলম নয়, বরং আল্লাহভীতিই হলো ইলম।

23 - মালিক ইবনে আনাস বলেন, অধিক বর্ণনার (رواية) নাম ইলম নয়, বরং এটি একটি নূর যা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যার অন্তরে ইচ্ছা দান করেন।

24 - এবং অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ইলম ও হিকমত হলো একটি নূর যার মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন, এবং অধিক মাসআলা (مسائل) জানার নাম ইলম নয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
25 - قَالَ الْأَوْزَاعِيّ كَانَ هَذَا الْعلم كَرِيمًا يتلقاه الرجل بَينهم فَلَمَّا كتب ذهب نوره وَصَارَ إِلَى غير أَهله

26 - وَفِي رِوَايَة كَانَ هَذَا الْعلم سنيا شريفا إِذْ كَانَ النَّاس يتلقونه بَينهم الخ

27 - قَالَ إِذا أَرَادَ الله بِقوم شرا فتح عَلَيْهِم الجدل ومنعهم الْعَمَل

28 - وَقَالَ مَالك لَيْسَ الجدل من الدّين فِي شَيْء

29 - وَقَالَ أَيْضا المراء فِي الْعلم يقسي الْقُلُوب وَيُورث الضغائن

30 - وَفِي جَامع التِّرْمِذِيّ عَن أبي أُمَامَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا ضل قوم بعد هدى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الجدل ثمَّ تَلا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هَذِه الْآيَة {مَا ضربوه لَك إِلَّا جدلا بل هم قوم خصمون}

قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح

31 - قَالَ بل كَانَ الْعلمَاء من السّلف الصَّالح أهل نسك وَعبادَة وورع وزهادة أرضوا الله تَعَالَى بعلمهم وصانوا الْعلم فصانهم وتدرعوا من الْأَعْمَال الصَّالِحَة بِمَا زانهم وَلم يشنهم الْحِرْص على الدُّنْيَا وخدمة أَهلهَا بل أَقبلُوا على طَاعَة
25 - ইমাম আওজায়ী বলেন, "এই ইলম বা জ্ঞান ছিল অত্যন্ত সম্মানিত যা মানুষ একে অপরের থেকে সরাসরি গ্রহণ করত; কিন্তু যখন এটি লিপিবদ্ধ করা হলো তখন এর নূর চলে গেল এবং তা অযোগ্যদের হাতে পৌঁছে গেল।"

26 - অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে, "এই ইলম ছিল উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত যখন মানুষ একে অপরের থেকে এটি গ্রহণ করত..." ইত্যাদি।

27 - তিনি বলেন, "আল্লাহ যখন কোনো জাতির অমঙ্গল চান, তখন তাদের জন্য বাদানুবাদের (جدل) পথ খুলে দেন এবং তাদের আমল থেকে বঞ্চিত করেন।"

28 - ইমাম মালেক বলেন, "দ্বীনের কোনো বিষয়েই বাদানুবাদের (جدل) কোনো স্থান নেই।"

29 - তিনি আরও বলেন, "ইলম নিয়ে বিতর্ক (مراء) অন্তরকে পাষাণ করে দেয় এবং বিদ্বেষের জন্ম দেয়।"

30 - জামে তিরমিজিতে আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "কোনো জাতি হিদায়াত প্রাপ্ত হওয়ার পর ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তারা বাদানুবাদে (جدل) লিপ্ত হয়।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: "তারা কেবল বাদানুবাদের (جدل) উদ্দেশ্যেই আপনার কাছে এটি পেশ করেছে; বরং তারা তো এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়।"

আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

31 - তিনি বলেন, "বরং সালাফে সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত উলামায়ে কেরাম ছিলেন ইবাদত, পরহেজগারী ও দুনিয়াবিমুখতার মূর্ত প্রতীক। তাঁরা তাঁদের ইলমের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করেছেন এবং ইলমের মর্যাদা রক্ষা করেছেন, ফলে ইলমও তাঁদেরকে সম্মানিত করেছে। তাঁরা নেক আমলের মাধ্যমে নিজেদের সুশোভিত করেছেন। দুনিয়ার প্রতি লালসা কিংবা দুনিয়াদারদের পদলেহন তাঁদের কলঙ্কিত করতে পারেনি; বরং তাঁরা আল্লাহর আনুগত্যের প্রতিই ধাবিত ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الله الَّتِي خلقُوا لأَجلهَا

32 - فَأُولَئِك هم الَّذين عناهم الشَّافِعِي بقوله مَا أحد أولى بخلقه من الْفُقَهَاء وَفِي رِوَايَة إِن لم يكن الْفُقَهَاء الْعَامِلُونَ أَوْلِيَاء الله فَمَا لله ولي

33 - قَالَ ابْن عَبَّاس لَو أَن الْعلمَاء أخذُوا الْعلم بِحقِّهِ لأحبهم الله وَالْمَلَائِكَة والصالحون من عباده ولهابهم النَّاس لفضل الْعلم وشرفه

34 - قَالَ وهب بن مُنَبّه إِن الْفُقَهَاء فِيمَا خلا حملُوا الْعلم فَأحْسنُوا حمله فاحتاجت إِلَيْهِم الْمُلُوك وَأهل الدُّنْيَا وَرَغبُوا فِي عَمَلهم فَلَمَّا كَانَ بِأُجْرَة فَشَتْ عُلَمَاء فحملوا الْعلم فَلم يحسنوا حمله فطرحوا علمهمْ على الْمُلُوك وَأهل الدُّنْيَا فاهتضموهم واحتقروهم

35 - وَقَالَ أَيْضا كَانَ الْعلمَاء قبلنَا قد استغنوا بعلمهم عَن دنيا غَيرهم فَكَانُوا لَا يلتفتون إِلَى دنياهم وَكَانَ أهل الدُّنْيَا يبذلون دنياهم فِي علمهمْ فَأصْبح أهل الْعلم منا الْيَوْم يبذلون لأهل الدُّنْيَا علمهمْ رَغْبَة فِي دنياهم وَأصْبح أهل الدُّنْيَا قد زهدوا فِي علمهمْ لما رَأَوْا من سوء مَوْضِعه عِنْدهم

36 - اللَّهُمَّ فجنبنا طَريقَة قوم لم يقومُوا بِحَق الْعلم وَأَرَادُوا بِهِ الدُّنْيَا وأعرضوا عَمَّا لَهُم بِهِ فِي الْآخِرَة من الدرجَة الْعليا فَلم يهنئوا بحلاوته وَلم يتمتعوا بنضارته بل خلقت عِنْدهم ديباجته ورثت حَاله

37 - وَعرف مِقْدَاره جمَاعَة من السَّادة فعظموه وبجلوه ووقروه واستغنوا بِهِ ورأوه بعد الْمعرفَة أفضل مَا أعطي الْبشر واحتقروا فِي جنبه كل مفتخر وتلو {فَمَا آتَانِي الله خير مِمَّا آتَاكُم}
আল্লাহর সেই উদ্দেশ্য যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে

32 - তাঁরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন যে, ‘ফকিহদের (الفقهاء) চেয়ে সৃষ্টিজগতের মধ্যে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী আর কেউ নেই।’ অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে: ‘যদি আমলকারী ফকিহগণ (الفقهاء) আল্লাহর ওলি (أولياء) না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলি (ولي) নেই।’

33 - ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, ‘আলেমগণ যদি ইলমকে তার যথার্থ হকের সাথে গ্রহণ করতেন, তবে আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং তাঁর নেককার বান্দারা তাঁদের ভালোবাসতেন এবং ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের কারণে মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা ও সমীহ করত।’

34 - ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, ‘অতীতের ফকিহগণ (الفقهاء) ইলম বহন করতেন এবং তা অতি উত্তমভাবে বহন করতেন, ফলে রাজা-বাদশাহ ও দুনিয়াদার লোকেরা তাঁদের মুখাপেক্ষী হতো এবং তাঁদের আমলের প্রতি অনুরাগী হতো। কিন্তু যখন ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিময় বা পারিশ্রমিক প্রথা ছড়িয়ে পড়ল, তখন এমন আলেমদের উদ্ভব হলো যারা ইলম বহন করলেও তা সঠিকভাবে বহন করেনি। তারা তাদের ইলমকে রাজা-বাদশাহ ও দুনিয়াদারদের দ্বারে সঁপে দিল; ফলে দুনিয়াদাররা তাঁদের লাঞ্ছিত ও তুচ্ছজ্ঞান করতে শুরু করল।’

35 - তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ ইলমের মাধ্যমে অন্যের দুনিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন, তাই তাঁরা অন্যের পার্থিব সম্পদের দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না; বরং দুনিয়াদাররাই তাঁদের ইলমের বিনিময়ে পার্থিব সম্পদ ব্যয় করত। অথচ আজ আমাদের মধ্যকার আহলে ইলম বা আলেম সমাজ দুনিয়ার লোভে দুনিয়াদারদের কাছে ইলম বিলিয়ে দিচ্ছে, আর দুনিয়াদাররা আলেমদের কাছে ইলমের অমর্যাদা দেখে সেই ইলমের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে।’

36 - হে আল্লাহ! আমাদের সেই সম্প্রদায়ের পথ থেকে দূরে রাখুন যারা ইলমের হক আদায় করেনি এবং ইলমের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করেছে; ফলে তারা আখিরাতে তাদের জন্য নির্ধারিত সুউচ্চ মর্যাদা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা ইলমের মিষ্টতা উপভোগ করতে পারেনি এবং এর সজীবতা দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি; বরং তাদের কাছে ইলমের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গেছে এবং এর অবস্থা জীর্ণ হয়ে পড়েছে।

37 - তবে একদল মহৎ ব্যক্তি ইলমের মর্যাদা অনুধাবন করেছেন, তাঁরা একে সম্মান করেছেন, মহিমান্বিত করেছেন এবং শ্রদ্ধা করেছেন। তাঁরা ইলমের মাধ্যমেই অমুখাপেক্ষী হয়েছেন এবং ইলমকে চেনার পর একে মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ দান হিসেবে গণ্য করেছেন। এর বিপরীতে তাঁরা দম্ভ প্রকাশকারী প্রতিটি বিষয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করেছেন: {আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদের দেওয়া জিনিসের চেয়ে অনেক উত্তম}।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
38 - وَكَيف لَا يكون الْأَمر كَذَلِك وَالْعلم حَيَاة وَالْجهل موت فبينهما كَمَا بَين الْحَيَاة وَالْمَوْت وَلَقَد أحسن من قَالَ

وَفِي الْجَهْل قبل الْمَوْت موت لأَهله

وأجسامهم قبل الْقُبُور قُبُور … وَإِن امْرَءًا لم يحيى بِالْعلمِ ميت

وَلَيْسَ لَهُ حَتَّى النشور نشور

39 - وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن عبد الله عَن عبد الله بن عمر من قَرَأَ الْقُرْآن فَكَأَنَّمَا أدرجت النُّبُوَّة بَين جَنْبَيْهِ إِلَّا أَنه لَا يُوحى إِلَيْهِ وَمن قَرَأَ الْقُرْآن فَرَأى أَن أحدا من الْخلق أعطي أفضل مِمَّا أعطي فقد حقر مَا عظم الله وَعظم مَا حقر الله

‌‌فصل فِي قبض الْعلمَاء وفشو الْجَهْل

 

40 - وَصَحَّ من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعا ينتزعه من النَّاس وَلَكِن يقبض الْعلم بِقَبض الْعلمَاء حَتَّى إِذا لم يبْق عَالما اتخذ النَّاس رؤوسا جُهَّالًا فسئلوا فأفتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا

41 - وَمَا أعظم حَظّ من بذل نَفسه وجهدها فِي تَحْصِيل الْعلم حفظا على النَّاس لما بقى فِي أَيْديهم مِنْهُ

42 - فَإِنَّهُ فِي هَذِه الْأَزْمِنَة قد غلب على أَهلهَا الكسل والملل وَحب الدُّنْيَا وَقد قنع الْحَرِيص مِنْهُم من عُلُوم الْقُرْآن بِحِفْظ سوره وَنقل بعض قراءاته وغفل عَن علم تَفْسِيره ومعانيه واستنباط أَحْكَامه الشَّرِيفَة من مَعَانِيه

وَاقْتصر من علم الحَدِيث على سَماع من بعض الْكتب على شُيُوخ أَكْثَرهم
৩৮ - বিষয়টি কেনই বা এমন হবে না? জ্ঞান হলো জীবন আর অজ্ঞতা হলো মৃত্যু; ফলে এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য ঠিক জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্যের ন্যায়। আর সেই ব্যক্তি কতই না চমৎকার বলেছেন—

মৃত্যুর পূর্বেই অজ্ঞতা তার অধিকারীদের জন্য এক প্রকার মৃত্যু,

আর কবরে যাওয়ার পূর্বেই তাদের দেহগুলো কবরের ন্যায়। … যে ব্যক্তি জ্ঞানের আলোয় জীবন লাভ করেনি সে মৃত,

পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার জন্য কোনো পুনরুত্থান নেই।

৩৯ - ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল সে যেন তার পাঁজরের মাঝে নবুওয়াতকে ধারণ করল, তবে পার্থক্য এই যে তার নিকট ওহী আসে না। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং মনে করল যে সৃষ্টির অন্য কাউকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দেওয়া হয়েছে, তবে সে মহান আল্লাহ যাকে বড় করেছেন তাকে তুচ্ছ করল এবং আল্লাহ যাকে তুচ্ছ করেছেন তাকে বড় করল।

‌‌আলেমদের তিরোধান এবং মূর্খতার বিস্তার সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

৪০ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে সহীহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের নিকট থেকে জ্ঞানকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যু বা তিরোধানের মাধ্যমেই জ্ঞানকে উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"

৪১ - সেই ব্যক্তির ভাগ্য কতই না প্রসন্ন, যে মানুষের নিকট দ্বীনের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা সংরক্ষণের নিমিত্তে জ্ঞান অর্জনে নিজের জীবন ও প্রচেষ্টা বিলিয়ে দেয়।

৪২ - কেননা বর্তমান সময়ের মানুষের ওপর অলসতা, ক্লান্তি ও দুনিয়ার মহব্বত প্রবল হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা অতি উৎসাহী, তারাও কুরআনের জ্ঞান থেকে কেবল এর সূরাসমূহ মুখস্থ করা এবং কিছু কেরাআত (قراءات) বর্ণনা করার মধ্যেই তুষ্ট থাকে; অথচ তারা এর তাফসির (تفسير), অর্থ এবং এর অর্থ থেকে মহিমান্বিত শরয়ি বিধানাবলি (أحكام) আহরণ বা ইস্তিনবাত (استنباط) করার ব্যাপারে উদাসীন।

আর হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তারা তাদের অধিকাংশ শায়খদের নিকট থেকে কিছু কিতাব শ্রবণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَجْهَل مِنْهُ بِعلم الرِّوَايَة فضلا عَن الدِّرَايَة

وَمِنْهُم من قنع بزبالة أذهان الرِّجَال وكناسة أفكارهم وبالنقل عَن أهل مذْهبه

وَقد سُئِلَ بعض العارفين عَن معنى الْمَذْهَب فَأجَاب أَن مَعْنَاهُ دين مبدل قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تَكُونُوا من الْمُشْركين من الَّذين فرقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا كل حزب بِمَا لديهم فَرِحُونَ}

44 - أَلا وَمَعَ هَذَا يخيل إِلَيْهِ أَنه من رُؤُوس الْعلمَاء وَهُوَ عِنْد الله وَعند عُلَمَاء الدّين من أَجْهَل الْجُهَّال بل بِمَنْزِلَة قسيس النَّصَارَى أَو حبر الْيَهُود لِأَن الْيَهُود وَالنَّصَارَى مَا كفرُوا إِلَّا بابداعهم فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع

45 - وَقد صَحَّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم (لتركبن سنَن من كَانَ قبلكُمْ) الحَدِيث

‌‌فصل فِي حَالَة السّلف الصَّالح فِي تدافع الْفَتْوَى عِنْد حُدُوث الْحَادِثَة

 

46 - وَالْعلم بِالْأَحْكَامِ واستنباطها كَانَ أَولا حَاصِلا للصحابة رضي الله عنهم فَمن بعدهمْ فَكَانُوا إِذا نزلت بهم النَّازِلَة بحثوا عَن حكم الله تَعَالَى فِيهَا من كتاب الله وَسنة نبيه وَكَانُوا يتدافعون الْفَتْوَى وَيَوَد كل مِنْهُم لَو كَفاهُ إِيَّاهَا غَيره
হাদিস বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক অজ্ঞ আর কেউ নেই, হাদিসের অর্থ ও মর্মার্থ অনুধাবন (دراية) তো বহু দূরের কথা।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মানুষের মেধার আবর্জনা, চিন্তার উচ্ছিষ্ট এবং নিজ মাজহাবের অনুসারীদের থেকে প্রাপ্ত নকলকৃত বিষয়ের ওপর তুষ্ট থাকে।

জনৈক তত্ত্বজ্ঞানীকে মাজহাবের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, এর অর্থ হলো পরিবর্তিত দ্বীন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডিত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।"

44 - সাবধান! এতদসত্ত্বেও সে নিজেকে শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, অথচ সে আল্লাহর নিকট এবং দ্বীনের আলেমদের নিকট চরম মূর্খদের একজন। বরং সে খ্রিস্টান পাদ্রি কিংবা ইহুদি ধর্মযাজকদের সমতুল্য। কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের মূলনীতি (أصول) এবং শাখা-প্রশাখায় (فروع) নব-উদ্ভাবনের (إبداع) কারণেই কেবল কুফরি করেছিল।

45 - আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে..." (হাদিস)।

‌‌নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সলফে সালেহীনদের একে অপরকে এগিয়ে দেওয়ার (নিজে বিরত থাকার) অবস্থা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

46 - বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ঘাটন (استنباط) করার সক্ষমতা শুরুতে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাদের পরবর্তীগণের মাঝে বিদ্যমান ছিল। যখনই কোনো নতুন সমস্যা তাদের সম্মুখে উপস্থিত হতো, তখন তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ হতে সে বিষয়ে মহান আল্লাহর বিধান অনুসন্ধান করতেন। তারা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে একে অপরকে এগিয়ে দিতেন এবং তাদের প্রত্যেকেই কামনা করতেন যেন অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালন করে দেয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌فصل فِي السُّؤَال عَن الْحَادِثَة وَالْكَلَام فِيهَا قبل وُقُوعهَا

 

47 - وَكَانَ جمَاعَة مِنْهُم يكْرهُونَ الْكَلَام فِي مَسْأَلَة لم تقع وَيَقُولُونَ للسَّائِل عَنْهَا أَكَانَ ذَلِك فَإِن قَالَ لَا قَالُوا دَعه حَتَّى يَقع ثمَّ نجتهد فِيهِ

48 - كل ذَلِك يَفْعَلُونَهُ خوفًا من الهجوم على مَا لَا علم لَهُم بِهِ واشتغالا بِمَا هُوَ الأهم من الْعِبَادَة وَالْجهَاد فَإِذا وَقعت الْمَسْأَلَة لم يكن بُد من النّظر فِيهَا

49 - وَقَالَ الْحَافِظ الْبَيْهَقِيّ وَقد كره بعض السّلف للعوام الْمَسْأَلَة عَمَّا لم يكن وَلم يمض كتاب وَلَا سنة

وكرهوا للمسئول الِاجْتِهَاد فِيهِ قبل أَن يَقع لِأَن الِاجْتِهَاد إِنَّمَا أُبِيح للضَّرُورَة وَلَا ضَرُورَة قبل الْوَاقِعَة فَلَا يغنيهم مَا مضى من الِاجْتِهَاد

وَاحْتج فِي ذَلِك بِمَا روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من حسن إِسْلَام الْمَرْء تَركه مَا لَا يعنيه
‌‌কোনো ঘটনা ঘটার আগে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা এবং আলোচনা করার পরিচ্ছেদ

 

47 - তাঁদের (সালাফদের) একটি দল এমন কোনো মাসআলা নিয়ে কথা বলা অপছন্দ করতেন যা এখনো সংঘটিত হয়নি। তাঁরা এ বিষয়ে প্রশ্নকারীকে জিজ্ঞাসা করতেন, "এটি কি ঘটেছে?" যদি সে বলত "না", তবে তাঁরা বলতেন, "এটি ঘটা পর্যন্ত ছেড়ে দাও, অতঃপর (যখন ঘটবে) তখন আমরা তা নিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করব।"

48 - তাঁরা এসব করতেন যে বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান নেই সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ভয় থেকে এবং ইবাদত ও জিহাদের মতো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কাজে আত্মনিয়োগ করার কারণে। তবে যখন মাসআলাটি বাস্তবে সংঘটিত হতো, তখন সেটি নিয়ে পর্যালোচনা করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকত না।

49 - হাফিজ (الحافظ) বাইহাকী বলেন: কোনো কোনো পূর্বসূরি (سلف) সাধারণ মানুষের জন্য এমন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা অপছন্দ করেছেন যা এখনো ঘটেনি এবং যে বিষয়ে কুরআন কিংবা সুন্নাহ (سنة) থেকে কোনো সমাধান আসেনি।

তাঁরা উত্তরদাতার জন্য কোনো বিষয় ঘটার আগেই তা নিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা অপছন্দ করতেন; কারণ ইজতিহাদ (اجتهاد) কেবল প্রয়োজনের তাগিদেই বৈধ করা হয়েছে, আর ঘটনা ঘটার আগে কোনো আবশ্যকতা বা জরুরত (ضرورة) নেই। ফলে পূর্বের ইজতিহাদ (اجتهاد) তাদের জন্য যথেষ্ট হবে না।

তিনি এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।"
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
50 - وَعَن طَاوُوس قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَهُوَ على الْمِنْبَر أحرج الله على كل امْرِئ مُسلم سَأَلَ عَن شَيْء لم يكن فَإِنَّهُ قد بَين مَا هُوَ كَائِن

51 - وَفِي رِوَايَة لَا يحل لكم أَن تسألوا عَمَّا لم يكن فَإِن الله تبارك وتعالى قد قضى فِيمَا هُوَ كَائِن

52 - قلت هَذَا معنى قَوْله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تسألوا عَن أَشْيَاء إِن تبد لكم تَسُؤْكُمْ}

53 - وَعَن عبد الرَّحْمَن بن شُرَيْح أَن عمر بن الْخطاب كَانَ يَقُول إيَّاكُمْ وَهَذِه العضل فَإِنَّهَا إِذا نزلت بعث الله لَهَا من يقيمها ويفسرها

54 - قلت إِنَّمَا يضْطَر إِلَى الِاجْتِهَاد فِي الْأَحْكَام الْحُكَّام وَلم يَأْتِ الِاجْتِهَاد لغير الْحُكَّام لحَدِيث معَاذ (إِن لم أجد فِي كتاب الله تَعَالَى فبسنة رَسُول
50 - তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলেছিলেন: আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির ওপর শপথ দিয়েছেন যেন সে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন না করে যা এখনও ঘটেনি; কারণ যা কিছু ঘটার তা আল্লাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন।

51 - অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: যা এখনও ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়; কারণ মহান আল্লাহ যা কিছু ঘটার তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

52 - আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ: {হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের নিকট তা কষ্টকর মনে হবে।}

53 - আবদুর রহমান ইবনে শুরাইহ থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন: “তোমরা এই জটিল মাসআলাগুলো (العضل) থেকে বেঁচে থাকো; কারণ যখন এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়, আল্লাহ এমন কাউকে পাঠান যে তা সমাধান ও ব্যাখ্যা করে দেয়।”

54 - আমি (গ্রন্থকার) বলছি, বিচারকগণই কেবল বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে বাধ্য হন। মুয়াজ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে বিচারক ছাড়া অন্যদের জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) এর বিষয়টি আসেনি, যেখানে তিনি বলেছিলেন: (যদি আমি আল্লাহর কিতাবে কোনো সমাধান না পাই, তবে আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী...)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الله وَإِن لم أجد فِي سنة رَسُول الله أجتهد برأيي) لِأَنَّهُ كَانَ حَاكما

55 - وَقَوله صلى الله عليه وسلم (أَقْْضِي بَيْنكُم برأيي فِيمَا لم ينزل عَليّ فِيهِ شَيْء) وَهُوَ حَاكم

56 - وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {وَدَاوُد وَسليمَان إِذْ يحكمان فِي الْحَرْث} وَكَانَا حاكمين

57 - فالاجتهاد بِمَنْزِلَة الْميتَة قَالَ الثَّعْلَبِيّ وَالشَّافِعِيّ وَلَا يحل تناولهما إِلَّا عِنْد المخمصة

وَالَّذِي لَيْسَ بحاكم ويجتهد بِرَأْيهِ فَمثله كَمثل رجل قعد فِي بَيته وَيَقُول إِنَّمَا جَازَ أكل الْميتَة لفُلَان وَيجوز أكلهَا لي أَيْضا

58 - فَكَذَلِك لَا يجوز لأحد أَن يحْتَج بقول الْمُجْتَهد لِأَن الْمُجْتَهد يُخطئ ويصيب فَإِذا كَانَ شَيْء يحْتَمل أَن يكون صَوَابا وَخطأ فَتَركه أولى مثل الشُّبُهَات من الطَّعَام تَركه لَهَا أولى من تنَاوله

59 - وَعَن الصَّلْت بن رشد قَالَ سَأَلت طاوسا عَن شَيْء فَانْتَهرنِي فَقَالَ أَكَانَ هَذَا قلت نعم قَالَ الله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ قلت الله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ قَالَ إِن أَصْحَابنَا حدثونا عَن معَاذ بن جبل رضي الله عنه قَالَ يَا أَيهَا النَّاس لَا تعجلوا بالبلاء قبل نُزُوله فَيذْهب بكم هَهُنَا وَهَهُنَا وَإِن لم تعجلوا قبل نُزُوله لم يَنْفَكّ الْمُسلمُونَ أَن يكون فيهم من إِذا سُئِلَ سدد

60 - وَعَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تستعجلوا بالبلية قبل نُزُولهَا فَإِنَّكُم إِذا فَعلْتُمْ ذَلِك لَا يزَال مِنْكُم من يوفق ويسدد وَإِنَّكُمْ إِن استعجلتم بهَا قبل نُزُولهَا تفرقتم
...আল্লাহর [কিতাবে], আর যদি আমি রাসূলুল্লাহর সুন্নাহতেও তা না পাই, তবে আমি আমার রায় অনুযায়ী ইজতিহাদ (أجتهد برأيي) করব); কেননা তিনি একজন বিচারক ছিলেন।

55 - এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (যে বিষয়ে আমার প্রতি কোনো ওহী অবতীর্ণ হয়নি, সে বিষয়ে আমি তোমাদের মধ্যে আমার রায় দ্বারা ফয়সালা করি); আর তিনি ছিলেন একজন বিচারক।

56 - অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং দাউদ ও সুলায়মানকে স্মরণ করুন, যখন তাঁরা শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে বিচার করছিলেন}; এবং তাঁরা উভয়ই বিচারক ছিলেন।

57 - সুতরাং ইজতিহাদ (الاجتهاد) হচ্ছে মৃত প্রাণীর (মাংসের) সমতুল্য। ছা’লাবী ও শাফিঈ বলেছেন: চরম সংকটাপন্ন অবস্থা ব্যতীত এ দুটির কোনোটিই গ্রহণ করা বৈধ নয়।

আর যে ব্যক্তি বিচারক নয় অথচ নিজ রায় দ্বারা ইজতিহাদ (الاجتهاد) করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায় যে নিজ গৃহে বসে বলে যে, অমুক ব্যক্তির জন্য যেহেতু মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা বৈধ হয়েছে, সেহেতু আমার জন্যও তা ভক্ষণ করা বৈধ হবে।

58 - অনুরূপভাবে কোনো মুজতাহিদের (المجتهد) উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করা কারো জন্য বৈধ নয়, কেননা মুজতাহিদ (المجتهد) ভুলও করতে পারেন আবার সঠিকও হতে পারেন। সুতরাং কোনো বিষয় যখন সঠিক ও ভুল হওয়ার উভয় সম্ভাবনা রাখে, তখন তা বর্জন করাই শ্রেয়; যেমন খাদ্যের ক্ষেত্রে সন্দেহযুক্ত (الشبهات) বিষয়সমূহ, যা গ্রহণ করার চেয়ে বর্জন করাই উত্তম।

59 - সালত ইবনে রুশদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তাউসকে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন: এটি কি ঘটেছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই? আমি বললাম: সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি বললেন: আমাদের সাথীরা মু’আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: হে লোকসকল! তোমরা বিপদ আসার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না, নতুবা তা তোমাদেরকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে এদিকে-ওদিকে নিয়ে যাবে। আর যদি তোমরা বিপদ আসার পূর্বে তাড়াহুড়ো না করো, তবে মুসলমানদের মধ্যে সর্বদা এমন ব্যক্তি বিদ্যমান থাকবে যাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে সঠিক উত্তর প্রদানে সমর্থ হবে।

60 - এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: তোমরা বিপদ ঘটার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। কেননা তোমরা যদি তা না করো, তবে তোমাদের মধ্যে সর্বদা এমন কেউ থাকবে যাকে তাওফিক দান করা হবে এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করা হবে। আর যদি তোমরা তা ঘটার আগেই তাড়াহুড়ো করো, তবে তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪০)
61 - وَكَانَ ابْن عمر إِذا سُئِلَ عَن الْفَتْوَى يَقُول إذهب إِلَى هَذَا الْأَمِير الَّذِي تقلد أُمُور النَّاس ووضعها فِي عُنُقه إِشَارَة إِلَى أَن الْفَتْوَى والقضايا وَالْأَحْكَام من تَوَابِع الْولَايَة والسلطنة

62 - قلت بِهَذَا السَّبَب أخذُوا سنَن الْيَهُود وَالنَّصَارَى وَزَادُوا عَلَيْهِم حَتَّى صَارُوا اثْنَتَيْنِ وَسبعين فرقة وَحكم عَلَيْهِم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنهم من أَصْحَاب النَّار كَمَا شهد للعشرة أَنهم من أَصْحَاب الْجنَّة

63 - وَقَالَ مَسْرُوق سَأَلت أبي بن كَعْب عَن شَيْء قَالَ أَكَانَ بعد قلت لَا قَالَ فاصبر حَتَّى يكون فَإِن كَانَ اجتهدنا لَك رَأينَا

64 - وَقَالَ عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى أدْركْت مائَة وَعشْرين من الْأَنْصَار من أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم مَا مِنْهُم أحد يحدث بِحَدِيث إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ إِيَّاه وَلَا
61 - ইবনে উমরকে যখন কোনো ফতোয়া (فتوى) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন, "তুমি সেই আমিরের কাছে যাও যে জনগণের বিষয়াবলির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে এবং তা নিজের স্কন্ধে তুলে নিয়েছে।" এটি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত ছিল যে, ফতোয়া (فتوى), বিচারিক মামলা ও বিধিবিধান মূলত শাসন ও কর্তৃত্বের অনুগামী বিষয়।

62 - আমি বলি: এই কারণেই তারা ইহুদি ও নাসারাদের রীতিনীতি গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোর ওপর আরও সংযোজন করেছে, ফলে তারা বাহাত্তরটি উপদলে (فرقة) বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন, ঠিক যেমন তিনি সেই দশজনের (দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি) ব্যাপারে জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

63 - মাসরুক বলেন: আমি উবাই ইবনে কাবকে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, "সেটি কি সংঘটিত হয়েছে?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তবে তা সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। যখন তা ঘটবে, তখন আমরা তোমার জন্য আমাদের রায় (رأي) অনুযায়ী ইজতিহাদ (اجتهاد) করব।"

64 - আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা বলেন: আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের মধ্য থেকে একশত বিশ জন আনসারিকে পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন, কিন্তু মনে মনে এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন না যে তাঁর অন্য কোনো ভাই যেন তাঁর হয়ে এই দায়িত্বটি পালন করে দেয় (অর্থাৎ বর্ণনার ভার গ্রহণ করে তাঁকে দায়মুক্ত করে দেয়)। এবং...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪১)
يستفتى عَن شَيْء إِلَّا ود أَن أَخَاهُ كَفاهُ إِيَّاه وَفِي رِوَايَة يسْأَل أحدهم الْمَسْأَلَة فيردها هَذَا إِلَّا هَذَا حَتَّى ترجع إِلَى الأول

‌‌فصل فِي التنفير من القَوْل بِالرَّأْيِ

 

65 - ثمَّ بعد الصَّحَابَة أَرَادَ الله أَن يصدق نبيه فِي قَوْله تفترق أمتِي على بضع وَسبعين فرقة أعظمها فرقة على أمتِي قوم يقيسون الْأُمُور برأيهم فيحللون الْحَرَام ويحرمون الْحَلَال وَرَوَاهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده عَن جُبَير بن نفير عَن عَوْف بن مَالك عَنهُ صلى الله عليه وسلم

66 - فكثرت الوقائع والنوازل فِي التَّابِعين وَمن بعدهمْ واجتهدوا بآرائهم لمن اضْطر وَمن لم يضْطَر ووصلت إِلَى من بعدهمْ من الْفُقَهَاء ففرعوا عَلَيْهَا وقاسوا واجتهدوا فِي إِلْحَاق غَيرهَا بهَا فتضاعفت مسَائِل الْفِقْه وشككهم إِبْلِيس ووسوس فِي صُدُورهمْ

67 - وَاخْتلفُوا اخْتِلَافا كثيرا من غير تَقْلِيد فقد نهى إمامنا الشَّافِعِي عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره كَمَا سَنذكرُهُ فِي فصل

68 - وَكَانَت تِلْكَ الْأَزْمِنَة مَمْلُوءَة بالمجتهدين فَكل صنف على مَا رأى وَتعقب بَعضهم بَعْضًا مستمدين من الْأَصْلَيْنِ الْكتاب وَالسّنة وترجيح الرَّاجِح من أَقْوَال السّلف الْمُخْتَلفَة بِغَيْر هوى وَلم يزل الْأَمر على مَا وصفت إِلَى أَن اسْتَقَرَّتْ الْمذَاهب الْمُدَوَّنَة

69 - ثمَّ اشتهرت الْمذَاهب الْأَرْبَعَة وهجر غَيرهَا فقصرت همم أتباعهم إِلَّا قَلِيلا مِنْهُم فقلدوا بَعْدَمَا كَانَ التَّقْلِيد لغير الرُّسُل حَرَامًا بل صَارَت أَقْوَال أئمتهم عِنْدهم بِمَنْزِلَة الْأَصْلَيْنِ وَذَلِكَ معنى قَوْله تَعَالَى {اتَّخذُوا أَحْبَارهم وَرُهْبَانهمْ أَرْبَابًا من دون الله}
তাদের কাউকে কোনো বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হলে তিনি একান্তভাবে কামনা করতেন যে তার অন্য কোনো ভাই যেন তার পক্ষ থেকে তা সমাধান করে দেন। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে, তাদের কাউকে কোনো মাসয়ালা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা একজনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, তিনি আবার অন্যজনের কাছে, এভাবে সেটি পুনরায় প্রথম ব্যক্তির কাছেই ফিরে আসত।

‌ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) ভিত্তিতে কথা বলার ব্যাপারে সতর্কীকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

৬৫ - অতঃপর সাহাবীগণের যুগের পর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর বাণীকে সত্য প্রমাণিত করতে চাইলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন: "আমার উম্মত সত্তরটিরও বেশি দলে (فرقة) বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর দলটি হবে এমন যারা বিষয়গুলোকে তাদের ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) দিয়ে পরিমাপ (قياس) করবে; ফলে তারা হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম সাব্যস্ত করবে।" এটি আল-বজ্জার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে জুবাইর ইবনে নুফাইর-এর সূত্রে আউফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৬৬ - এরপর তাবেঈ ও তাদের পরবর্তী যুগে নিত্যনতুন ঘটনা ও উদ্ভূত সমস্যার (النوازل) আধিক্য দেখা দিল। যারা নিরুপায় ছিলেন এবং যারা নিরুপায় ছিলেন না, তারা সকলে নিজ নিজ অভিমত (الرأي) অনুযায়ী ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে লাগলেন। এ সকল বিষয় তাদের পরবর্তী ফকিহদের কাছে পৌঁছালে তারা সেগুলোর শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন করলেন এবং সেগুলোর ওপর কিয়াস (قياس) ও ইজতিহাদ (اجتهاد) করে অন্যান্য মাসয়ালাকেও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে ফিকহ শাস্ত্রের মাসয়ালা বহুগুণ বৃদ্ধি পেল এবং ইবলিস তাদের মনে সংশয় ও কুমন্ত্রণা তৈরি করল।

৬৭ - আর তারা কোনো প্রকার তাকলিদ (تقليد) ছাড়াই ব্যাপক মতভেদে লিপ্ত হলেন। অথচ আমাদের ইমাম শাফেয়ী তাঁর নিজের কিংবা অন্য কারোর তাকলিদ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন, যা আমরা পরবর্তী কোনো এক পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব।

৬৮ - সেই সময়গুলো মুজতাহিদগণে (المجتهدون) পরিপূর্ণ ছিল। প্রতিটি শ্রেণি তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা অনুযায়ী চলতেন এবং তারা কিতাব ও সুন্নাহ—এই দুই মূল উৎস (الأصلان) থেকে নির্যাস গ্রহণ করে একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা করতেন। তারা কোনো প্রকার খেয়াল-খুশি ছাড়াই সালাফদের বিভিন্ন মতের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটিকে প্রাধান্য দিতেন। বিষয়টি আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি সেভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না সংকলিত মাজহাবগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৬৯ - অতঃপর চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং অন্যগুলো পরিত্যক্ত হয়। ফলে তাদের অনুসারীদের সংকল্প ও উদ্যম কমে গেল—খুব সামান্য সংখ্যক ব্যতীত। তারা অন্ধ অনুসরণ বা তাকলিদ (تقليد) করতে শুরু করল, অথচ রাসুলগণ ব্যতীত অন্য কারো তাকলিদ (تقليد) করা নিষিদ্ধ ছিল। বরং তাদের নিকট তাদের ইমামদের বক্তব্যগুলো কুরআন ও সুন্নাহর মতো দুটি মূল উৎসের (الأصلان) মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলো। আর এটিই হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মর্মার্থ: "তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদেরকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।"
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪২)
70 - فَعدم المجتهدون وَغلب المقلدون وَكثر التعصب وَكفر بالرسول حَيْثُ قَالَ يبْعَث الله فِي كل مائَة سنة من يَنْفِي تَحْرِيف الغالين وانتحال المبطلين

71 - وحجروا على رب الْعَالمين مثل الْيَهُود أَن لَا يبْعَث بعد أئمتهم وليا مُجْتَهدا حَتَّى آل بهم التعصب إِلَى أَن أحدهم إِذا أورد عَلَيْهِ شَيْء من الْكتاب وَالسّنة الثَّابِتَة على خِلَافه يجْتَهد فِي دَفعه بِكُل سَبِيل من التآويل الْبَعِيدَة نصْرَة لمذهبه وَلقَوْله وَلَو وصل ذَلِك إِلَى إِمَامه الَّذِي يقلده لقابله ذَلِك الإِمَام بالتعظيم وَصَارَ إِلَيْهِ وتبرأ من رَأْيه مستعيذا بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَحمد الله على ذَلِك

72 - ثمَّ تفاقم الْأَمر حَتَّى صَار كثير مِنْهُم لَا يرَوْنَ الِاشْتِغَال بعلوم الْقُرْآن والْحَدِيث ويرون أَن مَا هم عَلَيْهِ هُوَ الَّذِي يَنْبَغِي الْمُوَاظبَة عَلَيْهِ فبدلوا بالطيب خبيثا
70 - অতঃপর মুজতাহিদগণের (مجتهدون) অভাব দেখা দিল এবং অন্ধ অনুসারীদের (مقلدون) প্রাধান্য সৃষ্টি হলো। গোঁড়ামি বৃদ্ধি পেল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করা হলো, যেখানে তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা প্রতি একশ বছরে এমন ব্যক্তি পাঠাবেন যিনি চরমপন্থীদের বিকৃতি (تحريف) এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার (انتحال) দূর করবেন।

71 - তারা ইহুদিদের ন্যায় রাব্বুল আলামীনের ওপর এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করল যে, তাদের ইমামদের পর তিনি আর কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) ওলি প্রেরণ করবেন না। এই গোঁড়ামি তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, যখন তাদের কাছে কুরআন বা সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর (السنة الثابتة) কোনো দলিল তাদের মতের বিরুদ্ধে পেশ করা হয়, তখন তারা নিজ মাযহাব ও মতাদর্শকে বিজয়ী করার জন্য দূরবর্তী ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে যেকোনো উপায়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। অথচ যদি এই বিষয়টি সেই ইমামের নিকট পৌঁছাত যার তারা অনুসরণ করে, তবে সেই ইমাম একে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করতেন, এই দলিলের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন এবং নিজের রায় (رأي) থেকে বিমুখ হয়ে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন ও এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করতেন।

72 - অতঃপর পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটল যে, তাদের মধ্যে অনেকেই কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানচর্চায় (علوم) আত্মনিয়োগ করা সমীচীন মনে করে না। বরং তারা মনে করে যে, তারা বর্তমানে যে বিষয়ের ওপর রয়েছে সেটিই সর্বদা আঁকড়ে ধরা উচিত। এভাবে তারা পবিত্র বা উত্তমের বদলে অপবিত্র বা নিকৃষ্টকে গ্রহণ করে নিল।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وبالحق بَاطِلا {اشْتَروا الضَّلَالَة بِالْهدى فَمَا ربحت تِجَارَتهمْ وَمَا كَانُوا مهتدين}

‌‌فصل فِي كَلَام الْعلمَاء فِي الرَّأْي وَالْقِيَاس

 

73 - ثمَّ نبغ قوم آخَرُونَ صَارَت عقيدتهم فِي الِاشْتِغَال بعلوم الْأَصْلَيْنِ يرَوْنَ أَن الأولى مِنْهُ الِاقْتِصَار على نكت خلافية وضعوها وأشكال منطقية ألفوها

74 - وَقد قَالَ عمر بن الْخطاب اتهموا الرَّأْي على الدّين

75 - وَقَالَ سهل بن حنيف اتَّقوا الرَّأْي فِي دينكُمْ

76 - وَقَالَ عبد الله بن مَسْعُود يحدث قوم يقيسون الْأَمر برأيهم فيهدم الْإِسْلَام ويثلم

77 - مَا عبدت الشَّمْس وَالْقَمَر إِلَّا بِالرَّأْيِ وَلَا قَالَت النَّصَارَى وَلَا أَن الله هُوَ الْمَسِيح بن مَرْيَم وَلَا اتخذ الله ولدا أَلا بِالرَّأْيِ وَكَذَلِكَ كل من عبد شَيْئا من دون الله إِنَّمَا عَبده بِرَأْيهِ فَانْظُر إِلَى قَول السامري {وَكَذَلِكَ سَوَّلت لي نَفسِي}

78 - وَقَالَ عبد الله بن عمر لَا يزَال النَّاس على الطَّرِيق مَا اتبعُوا الْأَثر
এবং সত্যের বদলে মিথ্যা। {তারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে; সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না।}

‌‌ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) ও কিয়াস (القياس) সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের বক্তব্য বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

73 - অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হলো, যাদের আদর্শ ছিল দ্বীনের মৌলিক দুই শাস্ত্রের (উসুল) চর্চায় মনোনিবেশ করা; তারা মনে করত এর চেয়ে উত্তম হলো তাদের উদ্ভাবিত কিছু বিতর্কিত সূক্ষ্ম বিষয় এবং তাদের সংকলিত কিছু যুক্তিবিদ্যার রূপরেখার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।

74 - উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) বলেছেন: দ্বীনের ব্যাপারে ব্যক্তিগত অভিমতকে (الرأي) অভিযুক্ত (সন্দেহ) করো।

75 - সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) বলেছেন: তোমাদের দ্বীনের বিষয়ে ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) থেকে বেঁচে থাকো।

76 - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনি বিষয়সমূহকে তাদের নিজস্ব অভিমত (الرأي) দিয়ে অনুমান (القياس) করবে, যার ফলে ইসলাম ধ্বংস হবে এবং তাতে ফাটল ধরবে।

77 - সূর্য ও চন্দ্রের পূজা কেবল ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) কারণেই করা হয়েছে। নাসারারা (খ্রিস্টান) যে বলেছে—আল্লাহই মসীহ ইবনে মারইয়াম, কিংবা আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন—তাও কেবল ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) ফলেই হয়েছে। একইভাবে আল্লাহ ছাড়া যারা অন্য কিছুর উপাসনা করেছে, তারা কেবল তাদের ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) বশবর্তী হয়েই তা করেছে। সামেরীর উক্তির দিকে লক্ষ্য করুন: {এভাবেই আমার নফস আমাকে প্ররোচিত করেছে।}

78 - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: মানুষ ততক্ষণ সঠিক পথে থাকবে যতক্ষণ তারা অবিকৃত বর্ণনা (الأثر) অনুসরণ করবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
79 - روى الشّعبِيّ عَن عبد الله بن عمر إيَّاكُمْ وَأَصْحَاب الرَّأْي فَإِنَّهُم أَعدَاء السّنَن أعيتهم الْأَحَادِيث أَن يحفظوها فَقَالُوا بِالرَّأْيِ فضلوا وأضلوا

80 - وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ عَلَيْك بآثار من سلف وَإِن رفضك النَّاس وَإِيَّاك ورأي الرِّجَال وَإِن زخرفوه لَك بالْقَوْل

81 - وَقَالَ أَيْضا إِذا بلغك عَن رَسُول الله حَدِيثا فإياك أَن تَقول بِغَيْرِهِ فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ مبلغا عَن الله تبارك وتعالى

82 - وَقَالَ أَيْضا الْعلم مَا جَاءَ عَن أَصْحَاب مُحَمَّد وَمَا لم يَجِيء عَن أَصْحَاب مُحَمَّد فَلَيْسَ بِعلم يَعْنِي مَا لم يَجِيء أَصله مِنْهُم

83 - قَالَ الشّعبِيّ إِذا جَاءَك الْخَبَر عَن أَصْحَاب مُحَمَّد فضعه على رَأسك وَإِذا جَاءَك عَن التَّابِعين فَاضْرب بِهِ أقفيتهم

84 - وَقَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ الْعلم كُله بالآثار

85 - وَقَالَ ابْن مبارك ليكن الَّذِي تعتمد عَلَيْهِ الْأَثر وَخذ من الرَّأْي مَا يُفَسر لَك الحَدِيث

86 - وَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل سَأَلت الشَّافِعِي عَن الْقيَاس فَقَالَ عِنْد
79 - আশ-শা'বী বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে: "তোমরা ব্যক্তিগত মতামত পোষণকারী (أصحاب الرأي) ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকো, কেননা তারা সুন্নাহর (السنن) শত্রু। হাদিস মুখস্থ রাখা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, ফলে তারা ব্যক্তিগত মতামত (بالرأي) দিয়ে কথা বলেছে; ফলশ্রুতিতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে।"

80 - ইমাম আওযাঈ বলেছেন, "তুমি পূর্বসূরিদের বর্ণনার (آثار من سلف) ওপর অবিচল থাকো, যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর লোকদের ব্যক্তিগত মতামত (رأي الرجال) থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তারা কথার চাকচিক্য দিয়ে তা তোমার কাছে সুশোভিত করে পেশ করুক।"

81 - তিনি আরও বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ থেকে যখন তোমার কাছে কোনো হাদিস পৌঁছাবে, তখন খবরদার তার বিপরীতে কোনো কথা বলবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দানকারী ছিলেন।"

82 - তিনি আরও বলেছেন, "জ্ঞান তো সেটিই যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের পক্ষ থেকে এসেছে। আর যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের পক্ষ থেকে আসেনি তা প্রকৃত জ্ঞান নয়; অর্থাৎ যার মূল ভিত্তি তাদের থেকে বর্ণিত হয়নি।"

83 - আশ-শা'বী বলেছেন, "যখন তোমার কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ (الخبر) আসে, তখন তা শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করো। আর যখন তাবিঈদের (التابعين) পক্ষ থেকে কিছু আসবে, তখন তা বর্জন করো।"

84 - সুফিয়ান আস-সাওরি বলেছেন, "সমগ্র জ্ঞানই বর্ণনার (بالآثار) মধ্যে নিহিত।"

85 - ইবনুল মুবারক বলেছেন, "তোমার নির্ভরতার ভিত্তি যেন হয় বর্ণনা (الأثر); আর ব্যক্তিগত মতামত (الرأي) থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যা তোমার কাছে হাদিসকে ব্যাখ্যা করে।"

86 - আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন, "আমি ইমাম শাফিঈকে কিয়াস (القياس) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন..."

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الضرورات وَكَانَ أحسن أَمر الشَّافِعِي عِنْدِي أَنه إِذا سمع الْخَبَر لم يكن عِنْده قَالَ بِهِ وَترك قَوْله

87 - وَقَالَ الشّعبِيّ الْقيَاس كالميتة إِذا احتجت إِلَيْهَا فشأنك بهَا

88 - قلت مَا احسن قَول الْقَائِل

تجنب ركُوب الرَّأْي فَالرَّأْي رِيبَة

عَلَيْك بآثار النَّبِي مُحَمَّد … فَمن يركب الآراء يعم عَن الْهدى

وَمن يتبع الْآثَار يهدي ويحمد

89 - وَقَول بعض المغاربة

لَا ترغبن عَن الحَدِيث وَأَهله

فَالرَّأْي ليل والْحَدِيث نَهَار

90 - وَقَول الْقَائِل

انْظُر بِعَين الْهدى إِن كنت ذَا نظر

فَإِنَّمَا الْعلم مَبْنِيّ على الْأَثر … لَا ترْضى غير رَسُول الله مُتبعا

مَا دمت تقدر فِي حكم على خبر

فصل فِي وجوب الرُّجُوع إِلَى الْكتاب وَالسّنة

91 - وَلم يخْتَلف الْمُفَسِّرُونَ فِيمَا وقفت عَلَيْهِ من كتبهمْ فِي أَن قَوْله تَعَالَى {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول} تَقْدِيره إِلَى قَول الله وَقَول الرَّسُول

92 - فَيجب رد جَمِيع مَا اخْتلف فِيهِ إِلَى ذَلِك فَمَا كَانَ أقرب إِلَيْهِ اعْتمد صِحَّته
...জরুরি অবস্থা। আমার মতে শাফিঈর সবচেয়ে উত্তম বিষয় ছিল এই যে, যখন তিনি কোনো বর্ণনা (خبر) শুনতেন যা তাঁর নিকট ছিল না, তখন তিনি সেটি গ্রহণ করতেন এবং নিজের উক্তি বর্জন করতেন।

87 - ইমাম শাবী বলেন, কিয়াস (قياس) মৃত প্রাণীর মতো; যখন তুমি নিরুপায় হয়ে এর মুখাপেক্ষী হবে, তখনই কেবল তা তোমার জন্য (বৈধ)।

88 - আমি বললাম, কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:

ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) অনুসরণ পরিহার করো, কারণ অভিমত হলো সংশয়।

তুমি নবী মুহাম্মদের আসার (آثار) আঁকড়ে ধরো … যে ব্যক্তি ব্যক্তিগত মতামতের ওপর সওয়ার হয়, সে হেদায়েত থেকে অন্ধ হয়ে যায়।

আর যে আসার (آثار) অনুসরণ করে, সে সুপথপ্রাপ্ত হয় এবং প্রশংসিত হয়।

89 - মাগরেববাসীদের কারো উক্তি:

তুমি হাদিস এবং এর অনুসারীদের থেকে বিমুখ হয়ো না;

কারণ ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) হলো রাত আর হাদিস হলো দিন।

90 - কবির উক্তি:

তুমি যদি বিচক্ষণ হও তবে হেদায়েতের দৃষ্টিতে তাকাও;

কারণ জ্ঞান কেবল আসার (أثر)-এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত … যতক্ষণ তুমি কোনো ফয়সালার ক্ষেত্রে বর্ণনা (خبر) লাভে সক্ষম,

ততক্ষণ আল্লাহর রাসুল ব্যতীত অন্য কাউকে অনুসরণীয় হিসেবে গ্রহণ করো না।

কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

91 - মুফাসসিরগণের যে সকল কিতাব আমি অধ্যয়ন করেছি, তাতে আল্লাহ তাআলার বাণী—"অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও"—এর ব্যাখ্যায় তাঁদের মাঝে কোনো মতভেদ পাইনি যে, এর মর্মার্থ হলো আল্লাহর বাণী ও রাসুলের বাণীর দিকে ফিরিয়ে দেয়া।

92 - সুতরাং মতভেদপূর্ণ সকল বিষয় সেদিকেই ফিরিয়ে দেয়া ওয়াজিব; অতঃপর যা তার (দলিলের) অধিক নিকটবর্তী হবে, সেটিরই বিশুদ্ধতা (صحة) স্বীকৃত হবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَأخذ بِهِ

93 - وَلذَلِك قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه ردوا الجهالات إِلَى السّنة وَفِي رِوَايَة يرد النَّاس من الجهالات إِلَى النَّاس

94 - وَهَذِه كَانَت طَريقَة الْعلمَاء الْأَعْلَام أَئِمَّة الدّين وَهِي طَريقَة إمامنا أبي عبد الله الشَّافِعِي

95 - وَلِهَذَا قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل

مَا من أحد وضع الْكتاب حَتَّى ظهر خطأه أتبع للسّنة من الشَّافِعِي

96 - ثمَّ ان الشَّافِعِي رحمه الله احتاط لنَفسِهِ وَعلم أَن الْبشر لَا يَخْلُو من السَّهْو والغفلة وَعدم الِاحْتِيَاط فصح عَنهُ من غير وَجه أَنه أَمر إِذا وجد قَوْله على مُخَالفَة الحَدِيث الصَّحِيح الَّذِي يَصح الِاحْتِجَاج بِهِ أَن يتْرك قَوْله وَيُؤْخَذ بِالْحَدِيثِ

97 - أَنبأَنَا الْفَاضِل أَبُو الْقَاسِم عَمَّن أخبرهُ الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد بن الْحُسَيْن
এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে।

93 - আর এ কারণেই ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "তোমরা মূর্খতাসমূহকে সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে: "মানুষকে মূর্খতা থেকে (সুন্নাহর অনুসারী) মানুষের দিকে ফিরিয়ে আনা হবে।"

94 - আর এটিই ছিল বরেণ্য আলেম ও দ্বীনের ইমামগণের পথ; এবং এটি আমাদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈরও পথ।

95 - আর একারণেই আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন:

এমন কেউ কিতাব রচনা করেনি যার ভুল প্রকাশ পায়নি, যিনি শাফিঈর চেয়ে সুন্নাহর অধিক অনুসারী ছিলেন।

96 - অতঃপর ইমাম শাফিঈ (রহ.) নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং তিনি জানতেন যে, মানুষ ভুল, বিস্মৃতি ও অসতর্কতার ঊর্ধ্বে নয়। তাই তাঁর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন—যখনই তাঁর কোনো বক্তব্য এমন সহিহ (صحيح) হাদিসের বিপরীতে পাওয়া যাবে যা দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (الاحتجاج), তখন যেন তাঁর বক্তব্য বর্জন করা হয় এবং হাদিসটিকেই গ্রহণ করা হয়।

97 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহৎ ব্যক্তিত্ব আবুল কাসিম, তাঁর নিকট থেকে যিনি সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইনকে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْبَيْهَقِيّ أَنبأَنَا أَبُو عبد الله الْحَافِظ حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يَعْقُوب قَالَ سَمِعت الرّبيع بن سُلَيْمَان يَقُول سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول

إِذا وجدْتُم فِي كتابي خلاف سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقولُوا بسنته ودعوا مَا قلت

98 - وَقَالَ صَاحب الشَّافِعِي الْمُزنِيّ فِي أول مُخْتَصره اختصرت هَذَا الْكتاب من علم مُحَمَّد بن ادريس الشَّافِعِي رحمه الله وَمن معنى قَوْله لأقربه على من أَرَادَهُ مَعَ اعلاميه نَهْيه عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره لينْظر فِيهِ لدينِهِ ويحتاط فِيهِ لنَفسِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

أَي مَعَ إعلامي من أَرَادَ علم الشَّافِعِي نهى الشَّافِعِي عَن تَقْلِيده وتقليد غَيره

99 - قَالَ الْمَاوَرْدِيّ صَاحب الْحَاوِي قَوْله ويحتاط لنَفسِهِ أَي كَطَلَب السّلف الصَّالح يتبعُون الصَّوَاب حَيْثُ كَانَ ويجتهدون فِي طلبه وَينْهَوْنَ عَن التَّقْلِيد

‌‌فصل فِي الرُّجُوع إِلَى كتب السّنة وتمييز الطّيب من الْخَبيث من الْأَحَادِيث

 

100 - ثمَّ إِن المصنفين من أَصْحَابنَا المتصفين بِالصِّفَاتِ الْمُتَقَدّمَة من الاتكال
বায়হাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ (حافظ) আমাদের বলেছেন, আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আমি আল-রবি বিন সুলায়মানকে বলতে শুনেছি, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:

যখন তোমরা আমার কিতাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু পাবে, তখন তোমরা তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করো এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো।

98 - আর শাফেয়ীর শিষ্য আল-মুযানী তাঁর মুখতাসার-এর শুরুতে বলেছেন: আমি এই কিতাবটি মুহাম্মদ বিন ইদরীস আল-শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জ্ঞান এবং তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে সংক্ষেপিত করেছি, যাতে তা জ্ঞানপিপাসুদের নিকটবর্তী করা যায়; সেই সাথে তাকে এ সংবাদও দিয়েছি যে, তিনি (শাফেয়ী) তাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে এবং অন্য কাউকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন, যাতে সে নিজের দ্বীনের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে পারে এবং নিজের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি শাফেয়ীর জ্ঞান অর্জন করতে চায় তাকে এই সংবাদ প্রদান করা যে, শাফেয়ী তাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে এবং অন্য কাউকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন।

99 - আল-হাবী গ্রন্থের রচয়িতা আল-মাওয়ারদী বলেছেন, তাঁর উক্তি "নিজের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করবে" এর অর্থ হলো নেককার পূর্বসূরীদের (سلف صالح) অন্বেষণের মতো, তাঁরা সত্য যেখানেই থাকুক তা অনুসরণ করতেন এবং তা অন্বেষণে গবেষণা (اجتهاد) করতেন, আর তাঁরা অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করতেন।

‌‌সুন্নাহর কিতাবসমূহের দিকে ফিরে আসা এবং হাদিসসমূহের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (طيب) ও বর্জনীয় (خبيث) পৃথকীকরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

100 - অতঃপর আমাদের সাথীদের মধ্যে যারা রচয়িতা এবং পূর্বোল্লিখিত গুণাবলীতে গুণান্বিত, তাঁরা নির্ভরশীলতার...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
على نُصُوص إمَامهمْ معتمدون عَلَيْهَا اعْتِمَاد الْأَئِمَّة قبلهم على الْأَصْلَيْنِ الْكتاب وَالسّنة قد وَقع فِي مصنفاتهم خلل كثير من وَجْهَيْن عظيمين

101 - الأول إِنَّهُم يَخْتَلِفُونَ كثيرا فِيمَا يلقونه من نُصُوص الشَّافِعِي وَفِيمَا يصححونه مِنْهَا وَصَارَت لَهُم طرق مُخْتَلفَة خراسانية وعراقية

فترى هَؤُلَاءِ ينقلون عَن إمَامهمْ خلاف مَا يَنْقُلهُ هَؤُلَاءِ والمرجع فِي هَذَا كُله إِلَى إِمَام وَاحِد وَكتبه مدونة مروية مَوْجُودَة أَفلا كَانُوا يرجعُونَ إِلَيْهَا وينقون تصانيفهم من كَثْرَة اخْتلَافهمْ عَلَيْهَا

وأجود تصانيف أَصْحَابنَا من الْكتب فِيمَا يتَعَلَّق بنصوص الشَّافِعِي كتاب التَّقْرِيب أثنى عَلَيْهِ أخبر الْمُتَأَخِّرين بنصوص الشَّافِعِي وَهُوَ الإِمَام الْحَافِظ ابو بكر الْبَيْهَقِيّ

10 - (الْوَجْه الثَّانِي) مَا يَفْعَلُونَهُ فِي الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة والْآثَار المروية من كَثْرَة استدلالهم بالأحاديث الضعيفة على مَا يذهبون إِلَيْهِ نصْرَة لقَولهم وينقصون من أَلْفَاظ الحَدِيث وَتارَة يزِيدُونَ فِيهِ

وَمَا أَكْثَره فِي كتب أبي الْمَعَالِي وَصَاحبه أبي حَامِد نَحْو

اذا اخْتلف الْمُتَبَايعَانِ وترادا
তারা তাদের ইমামের বক্তব্যের (نصوص) ওপর সেভাবেই নির্ভর করেন, যেভাবে তাদের পূর্ববর্তী ইমামগণ কিতাব ও সুন্নাহ নামক মূল উৎসদ্বয়ের ওপর নির্ভর করতেন। তবে তাদের সংকলনগুলোতে দুটি বড় কারণে অনেক বিচ্যুতি ঘটেছে।

101 - প্রথমটি হলো, তারা ইমাম শাফেয়ীর যেসব বক্তব্য (نصوص) বর্ণনা করেন এবং এর মধ্যে যেগুলোকে তারা সহিহ সাব্যস্ত (يصححونه) করেন, সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। তাদের মাঝে খোরাসানি ও ইরাকি নামক বিভিন্ন ধারা (طرق) তৈরি হয়েছে।

আপনি দেখবেন, এক দল তাদের ইমামের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করছেন, অন্য দল তার বিপরীত বর্ণনা করছেন। অথচ এই সবকিছুরই মূল সূত্র একজন ইমাম এবং তাঁর কিতাবসমূহ সংকলিত, বর্ণিত ও বিদ্যমান রয়েছে। তবে কেন তারা সেগুলোর দিকে ফিরে যান না এবং ইমামের বক্তব্যের ওপর তাদের এই প্রচুর মতভেদ থেকে নিজেদের রচনাগুলোকে পরিচ্ছন্ন করেন না?

ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যের (نصوص) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের সাথীদের কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হলো ‘কিতাবুত তাকরিব’। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যের (نصوص) ব্যাপারে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি—যিনি হলেন ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আল-বায়হাকী—এই কিতাবটির প্রশংসা করেছেন।

10 - (দ্বিতীয় দিক) তারা নববী হাদিস এবং বর্ণিত আছার (آثار) সমূহের ক্ষেত্রে যা করেন; অর্থাৎ নিজেদের মতের সমর্থনে প্রচুর পরিমাণে দুর্বল (ضعيفة) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন। তারা কখনও হাদিসের শব্দ কমিয়ে ফেলেন, আবার কখনও তাতে শব্দ বৃদ্ধি করেন।

আবু আল-মাআলি এবং তাঁর সাথী আবু হামিদের কিতাবসমূহে এর উদাহরণ অনেক, যেমন:

যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা মতভেদ করে এবং একে অপরের পণ্য ও মূল্য ফিরিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৪৯)
103 - وَمن العجيب مَا ذكره صَاحب الْمُهَذّب فِي أول بَاب إِزَالَة النَّجَاسَة قَالَ

وَأما الْغَائِط فَهُوَ نجس لقَوْله صلى الله عليه وسلم لعمَّار إِنَّمَا تغسل ثَوْبك من الْغَائِط وَالْبَوْل والمني وَالدَّم والقيء

ثمَّ ذكر طَهَارَة مني الْآدَمِيّ وَلم يتَعَرَّض للجواب عَن هَذَا الحَدِيث الَّذِي هُوَ حجَّة خَصمه وَلم يكن لَهُ حَاجَة إِلَى ذكره أصلا فَإِن الْغَائِط لَا ضَرُورَة إِلَى الِاسْتِدْلَال على نَجَاسَته بِهَذَا الحَدِيث الضَّعِيف المنتهض حجَّة عَلَيْهِ فِي أَمر آخر

104 - وَمن قَبِيح مَا يَأْتِي بِهِ بَعضهم أَن يحْتَج بِخَبَر ضَعِيف وَهُوَ دَلِيل خَصمه عَلَيْهِ فيوردونه معرضين عَمَّا كَانُوا ضَعَّفُوهُ

وَفِي كتاب الْحَاوِي والشامل وَغَيرهمَا شَيْء كثير من هَذَا
103 - বিস্ময়কর বিষয় হলো 'আল-মুহায্যাব' গ্রন্থের লেখক অপবিত্রতা দূরীকরণ অধ্যায়ের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

"আর মল তো অপবিত্র (نجس); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আম্মারকে বলেছিলেন: 'তুমি তোমার কাপড় ধৌত করবে মল, মূত্র, বীর্য, রক্ত ও বমি হতে'।"

অতঃপর তিনি মানুষের বীর্যের পবিত্রতা (طهارة) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, কিন্তু এই হাদিসটির কোনো উত্তর প্রদান করেননি যা কি না তাঁর প্রতিপক্ষের প্রমাণ (حجة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনই তাঁর ছিল না; কেননা মলের অপবিত্রতা প্রমাণের জন্য এই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে দলীল পেশ করার কোনো আবশ্যকতা নেই, যা অন্য একটি বিষয়ে বরং তাঁর বিরুদ্ধেই প্রমাণ (حجة) হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়।

104 - কোনো কোনো লেখকের পক্ষ থেকে কৃত একটি কদর্য কাজ হলো যে, তাঁরা এমন কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা (خبر) দ্বারা দলীল পেশ করেন যা মূলত তাঁদের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিপক্ষের দলিল হিসেবে গণ্য হয়; তাঁরা এটি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তাঁরা এটি ইতিপূর্বে দুর্বল সাব্যস্ত (ضعفوه) করার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

'আল-হাউই', 'আশ-শামিল' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এই ধরনের প্রচুর উদাহরণ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫০)
وهم مقلدون لامامهم الشَّافِعِي فَهَلا اتبعُوا طَرِيقَته فِي ترك الِاحْتِجَاج بالضعيف وعقبه على من احْتج بِهِ وتبيين ضعفه

105 - ثمَّ إِن مذْهبه ترك الِاحْتِجَاج بالمراسيل إِلَّا بِشُرُوط

وَلَو ذكر سَنَد الحَدِيث وَعرفت عَدَالَة رِجَاله إِلَى التَّابِعِيّ وَسقط من السَّنَد ذكر الصَّحَابِيّ كَانَ مُرْسلا

ويوردون هَؤُلَاءِ المصنفون هَذِه الْأَحَادِيث محتجين بهَا بِلَا إِسْنَاد أصلا فَيَقُولُونَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ويظنون أَن ذَلِك حجَّة
তারা তাদের ইমাম শাফিঈর অনুসারী (مقلد); সুতরাং তারা কেন দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) বর্জন করার ক্ষেত্রে, যারা তা দলিল হিসেবে ব্যবহার করে তাদের প্রতি তাঁর সমালোচনা এবং হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করল না?

105 - অতঃপর, তাঁর মাযহাব হলো নির্দিষ্ট শর্ত ব্যতীত মুরসাল (مرسل) হাদিসসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) বর্জন করা।

যদি হাদিসের সনদ (سند) উল্লেখ করা হতো এবং তাবিঈ (تابعي) পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিশ্চিত হওয়া যেত, আর সনদ (سند) থেকে সাহাবী (صحابي)-র উল্লেখ বাদ পড়ে যেত, তবে তা মুরসাল (مرسل) হিসেবে গণ্য হতো।

আর এই গ্রন্থকারগণ (مصنفون) কোনো প্রকার সনদ (إسناد) ছাড়াই এই হাদিসগুলো দলিল হিসেবে পেশ করে উল্লেখ করেন; তারা বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", এবং তারা ধারণা করেন যে এটি একটি দলিল (حجة)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫১)
وإمامهم يرى أَنه لَو سقط من السَّنَد الصَّحَابِيّ وَحده لم يكن حجَّة وَكَذَا لَو سقط غير الصَّحَابِيّ من السَّنَد

106 - فليتهم إِذا عجزوا عَن أَسَانِيد الْأَحَادِيث وَمَعْرِفَة رجالها عزوها إِلَى الْكتب الَّتِي أخذوها مِنْهَا

وَلَكنهُمْ لم يَأْخُذُوا تِلْكَ الْأَحَادِيث إِلَّا من كتب من سبقهمْ من مشايخهم مِمَّن هُوَ على مثل حَالهم فبعضهم يَأْخُذهُ من بعض فَيَقَع التَّغْيِير وَالزِّيَادَة وَالنُّقْصَان فِيمَا صَحَّ أَصله ويختلط الصَّحِيح بالسقيم وَهَذَا كُله غير مُسْتَقِيم

‌‌فصل فِي بَيَان أَن الْأَحْكَام تثبت بالأدلة من دواوين السّنة الْمُعْتَبرَة

 

107 - بل الْوَاجِب فِي الِاسْتِدْلَال على الْأَحْكَام وَبَيَان الْحَلَال وَالْحرَام أَن من يسْتَدلّ بِحَدِيث يذكر مُسْتَنده وَيتَكَلَّم عَلَيْهِ بِمَا يجوز الِاسْتِدْلَال بِهِ أَو يعزوه إِلَى كتاب مَشْهُور من كتب أهل الحَدِيث الْمُعْتَبرَة فَيرجع من يطْلب صِحَة الحَدِيث وسقمه إِلَى ذَلِك الْكتاب وَينظر فِي سَنَده وَمَا قَالَ ذَلِك المُصَنّف أَو غَيره فِيهِ

108 - وَقد يسر الله تَعَالَى وَله الْحَمد الْوُقُوف على مَا يثبت من الْأَحَادِيث وتجنب مَا ضعف مِنْهَا بِمَا جمعه عُلَمَاء الحَدِيث فِي كتبهمْ من الْجَوَامِع وَالْمَسَانِيد
তাদের ইমাম মনে করেন যে, যদি সনদ (سند) থেকে শুধুমাত্র সাহাবি (صحابي) বাদ পড়ে যান, তবে সেটি দলিল (حجة) হবে না এবং একইভাবে যদি সনদ (سند) থেকে সাহাবি ব্যতীত অন্য কেউ বাদ পড়ে যান (তবেও তা দলিল হবে না)।

১০৬ - হায়! তারা যদি হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) এবং রাবিদের (رجال) পরিচয় বর্ণনায় অক্ষম হয়, তবে তারা যে কিতাব থেকে হাদিসগুলো গ্রহণ করেছে সেগুলোর দিকে যদি তা নিসবত করত!

কিন্তু তারা এই হাদিসগুলো তাদের পূর্ববর্তী মাশায়েখদের কিতাব থেকেই গ্রহণ করেছে, যাদের অবস্থা তাদের মতোই ছিল। ফলে একেকজন অন্যের থেকে হাদিস গ্রহণ করে, যার দরুন মূল সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোতেও পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন ঘটে থাকে এবং সহিহ (صحيح) হাদিস অসুস্থ বা দুর্বল (سقيم) হাদিসের সাথে মিশে যায়। আর এ সব কিছুই সঠিক পদ্ধতি নয়।

‌‌সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য সংকলনসমূহের দলিলের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত হওয়ার বর্ণনার পরিচ্ছেদ

 

১০৭ - বরং বিধানের ক্ষেত্রে দলিল পেশ করা এবং হালাল ও হারাম বর্ণনার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো—যে ব্যক্তি কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করবে, সে যেন তার সনদ (مستند) উল্লেখ করে এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করে, অথবা হাদিসবিদদের নির্ভরযোগ্য কোনো প্রসিদ্ধ কিতাবের দিকে তা নিসবত করে। যাতে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (سقم) অন্বেষণকারী ব্যক্তি ওই কিতাবের দিকে রুজু করতে পারে এবং তার সনদ (سند) ও সে বিষয়ে গ্রন্থকার বা অন্য কেউ কী বলেছেন তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

১০৮ - আর আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন—সকল প্রশংসা তাঁরই—যাতে হাদিস বিশারদগণ তাঁদের জামে ও মুসনাদ কিতাবসমূহে যা সংকলন করেছেন, তার মাধ্যমে প্রমাণিত হাদিসগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিসগুলো বর্জন করা যায়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫২)
109 - فالجوامع هِيَ الْمرتبَة على الْأَبْوَاب من الْفِقْه والرقاق والمناقب وَغير ذَلِك

110 - فَمِنْهَا مَا اشْترط فِيهِ الصِّحَّة إِذْ لَا يذكر فِيهِ إِلَّا حَدِيث صَحِيح على مَا اشْتَرَطَهُ مُصَنفه ككتابي البُخَارِيّ وَمُسلم

وَمَا الْحق بهما واستدرك عَلَيْهِمَا

111 - وكصحيح إِمَام الْأَئِمَّة مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن خُزَيْمَة وَكتاب أبي عِيسَى الترميذي وَهُوَ كتاب جليل مُبين فِيهِ الحَدِيث الصَّحِيح وَالْحسن والغريب والضعيف
109 - জামি (الجوامع) হলো সেই সকল গ্রন্থ যা ফিকহ (الفقه), রিকাক (الرقاق), মানাকিব (المناقب) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের অধ্যায় (الأبواب) অনুযায়ী বিন্যস্ত।

110 - এগুলোর মধ্যে এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যাতে সহিহ (الصحة) হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে; কারণ তার সংকলক (مصنفه) কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেখানে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসই উল্লেখ করা হয়, যেমন বুখারি ও মুসলিমের কিতাবদ্বয়।

এবং যা এই দুই কিতাবের সাথে সংযুক্ত (ألحق) করা হয়েছে কিংবা এই দুইয়ের পরিপূরক হিসেবে সংকলিত (استدرك) হয়েছে।

111 - যেমন ইমামুল আইম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজায়মার সহিহ এবং আবু ঈসা তিরমিজির কিতাব; এটি একটি সুমহান কিতাব যাতে সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن), গরিব (الغريب) এবং দুর্বল (الضعيف) হাদিসসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَفِيه عَن الْأَئِمَّة فقه كثير

112 - ثمَّ سنَن أبي دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَمن بعدهمْ سنَن أبي الْحسن الدَّارَقُطْنِيّ والتقاسيم لأبي حَاتِم بن حبَان وَغَيرهمَا

113 - ثمَّ مَا رتبه وَجمعه الْحَافِظ أَبُو بكر الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه الْكُبْرَى من الْأَوْسَط وَالصَّغِير الَّتِي اتى بهَا على تَرْتِيب مُخْتَصر الْمُزنِيّ وقربها إِلَى الْفُقَهَاء بِجهْدِهِ

114 - فَلَا عذر لَهُم وَلَا سِيمَا الشَّافِعِيَّة مِنْهُم فِي تجنب الِاشْتِغَال بِهَذِهِ الْكتب النفيسة المصنفة فِي شروحها وغريبها بل أفنوا زمانهم وعمرهم بِالنّظرِ فِي أَقْوَال من سبقهمْ من الْمُتَأَخِّرين وَتركُوا النّظر فِي نُصُوص نَبِيّهم الْمَعْصُوم وآثار أَصْحَابه الَّذين شهدُوا الْوَحْي وعاينوا الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وفهموا مُرَاد النَّبِي فِيمَا خاطبهم بقرائن الْأَحْوَال إِذْ الْخَبَر لَيْسَ كالمعاينة

فَلَا جرم لَو حرم هَؤُلَاءِ رُتْبَة الِاجْتِهَاد وبقوا مقلدين
এবং এতে ইমামগণের নিকট হতে প্রাপ্ত প্রচুর ফিকহী জ্ঞান রয়েছে।

112 - অতঃপর সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ এবং তাদের পরবর্তী যুগের সুনানে আবুল হাসান দারা কুতনী, আবু হাতিম ইবনে হিব্বানের আত-তাকাসিম ও অন্যান্য কিতাবসমূহ।

113 - অতঃপর হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী তার সুনানে কুবরা, আওসাত ও সগির-এ যা বিন্যস্ত ও সংকলন করেছেন; যা তিনি মুখতাসারুল মুযানীর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন এবং স্বীয় প্রচেষ্টায় ফকিহগণের নিকট তা সহজবোধ্য করে তুলেছেন।

114 - সুতরাং এই মূল্যবান কিতাবসমূহ এবং এগুলোর ব্যাখ্যা ও দুর্বোধ্য শব্দের (غريب) বিশ্লেষণ সংবলিত গ্রন্থাবলীতে মনোনিবেশ বর্জন করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো অজুহাত নেই, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা শাফেঈ। বরং তারা পরবর্তী যুগের (المتأخرين) পূর্বসূরিদের বক্তব্যের পর্যালোচনায় নিজেদের সময় ও জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তারা তাদের নিষ্পাপ নবীর অকাট্য ভাষ্য (نصوص) ও তাঁর সাহাবীদের আসার (آثار) পর্যালোচনা বর্জন করেছেন; যারা ওহী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সরাসরি দেখেছেন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার নিরিখে নবী তাদের প্রতি যা সম্বোধন করেছেন তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করেছেন। কেননা শোনা সংবাদ (الخبر) তো চাক্ষুষ দর্শনের (المعاينة) মতো নয়।

তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যদি তারা ইজতিহাদের (اجتهاد) মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হন এবং কেবল মুকাল্লিদ (مقلدين) হিসেবেই থেকে যান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌عذر الْعلمَاء فِي الصَّدْر الأول لَا يُوجد الْآن لتوفر كتب الحَدِيث

 

115 - وَقد كَانَ الْعلمَاء فِي الصَّدْر الأول معذورين فِي ترك مَا لم يقفوا عَلَيْهِ من الحَدِيث لِأَن الْأَحَادِيث لم تكن حِينَئِذٍ بَينهم مدونة إِنَّمَا كَانَت تتلقى من أَفْوَاه الرِّجَال وهم متفرقون فِي الْبِلَاد

116 - وَلَو كَانَ الشَّافِعِي وجد فِي زَمَانه كتابا فِي أَحْكَام السّنَن أكبر من الْمُوَطَّأ لحفظه مُضَافا إِلَى مَا تَلقاهُ من أَفْوَاه مشايخه

فَلهَذَا كَانَ الشَّافِعِي بالعراق يَقُول لِأَحْمَد بن حَنْبَل أعلموني بِالْحَدِيثِ الصَّحِيح أصر عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَة إِذا صَحَّ عنْدكُمْ الحَدِيث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقولُوا لي حَتَّى أذهب إِلَيْهِ

117 - ثمَّ جمع الْحفاظ الْأَحَادِيث المحتج بهَا فِي الْكتب ونوعوها وقسموها وسهلوا الطَّرِيق إِلَيْهَا فبوبوها وترجموها وبينوا ضعف كثير مِنْهَا وَصِحَّته وَتَكَلَّمُوا فِي عَدَالَة الرِّجَال وجرح الْمَجْرُوح مِنْهُم وَفِي علل الْأَحَادِيث وَلم يدعوا للمشتغل شَيْئا يتعلل بِهِ

وفسروا الْقُرْآن والْحَدِيث وَتَكَلَّمُوا على غريبها وفقهها وكل مَا يتَعَلَّق بهَا فِي مصنفات عديدة جليلة فالآلات متهيئة لطَالب صَادِق وَلِذِي همة وذكاء وفطنة
হাদিস গ্রন্থসমূহের সহজলভ্যতার কারণে প্রাথমিক যুগের আলেমদের ওজর এখন আর বিদ্যমান নেই

 

১১৫ - প্রাথমিক যুগের আলেমগণ যেসব হাদিস সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি তা বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁরা ওজরপ্রাপ্ত ছিলেন; কেননা সেই সময়ে হাদিসসমূহ তাঁদের মাঝে গ্রন্থবদ্ধ ছিল না, বরং তা বর্ণনাকারীদের মুখ থেকে শ্রুতির মাধ্যমে গ্রহণ করা হতো আর বর্ণনাকারীগণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।

১১৬ - ইমাম শাফিঈ যদি তাঁর যুগে সুন্নাহর বিধানাবলি সংক্রান্ত মুয়াত্তা অপেক্ষা বড় কোনো কিতাব পেতেন, তবে তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট থেকে যা সরাসরি শুনেছেন তার পাশাপাশি সেটিও মুখস্থ করে নিতেন।

এ কারণেই ইমাম শাফিঈ ইরাকে থাকাকালীন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতেন: "আমাকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সম্পর্কে অবহিত করবেন যেন আমি তা অবলম্বন করি।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "আপনাদের নিকট আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হলে আমাকে জানাবেন, যেন আমি সেটি অনুসরণ করতে পারি।"

১১৭ - অতঃপর হাদিস বিশারদগণ দলিলযোগ্য (المحتج بها) হাদিসসমূহ কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন এবং সেগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ ও বিন্যস্ত করেছেন। তাঁরা হাদিস পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সহজ করে দিয়েছেন; ফলে তাঁরা অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেছেন, শিরোনাম যুক্ত করেছেন এবং এগুলোর অনেকগুলোর দুর্বলতা (ضعف) ও বিশুদ্ধতা (صحة) স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং তাঁদের মধ্য থেকে সমালোচিত (المجروح) ব্যক্তিদের সমালোচনা (جرح) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য ওজর পেশ করার মতো কোনো অবকাশই বাকি রাখেননি।

তাঁরা কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন এবং এগুলোর দুর্বোধ্য শব্দ (غريب) ও ফিকহ (فقه) এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে অসংখ্য মহান গ্রন্থ রচনা করেছেন। সুতরাং সত্যনিষ্ঠ শিক্ষার্থী এবং উচ্চ হিম্মত ও প্রখর মেধাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য জ্ঞানার্জনের সকল উপকরণ এখন সুপ্রস্তুত।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল মুয়াম্মাল ফির রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল (পৃষ্ঠা: ৫৫)
118 - وأئمة الحَدِيث هم المعتبرون الْقدْوَة فِي فنهم فَوَجَبَ الرُّجُوع إِلَيْهِم فِي ذَلِك وَعرض آراء الْفُقَهَاء على السّنَن والْآثَار الصَّحِيحَة فَمَا ساعده الْأَثر فَهُوَ الْمُعْتَبر وَإِلَّا فَلَا نبطل الْخَبَر بِالرَّأْيِ وَلَا نضعفه إِن كَانَ على خلاف وُجُوه الضعْف من علل الحَدِيث الْمَعْرُوفَة عِنْد أَهله أَو بِإِجْمَاع الكافة على خِلَافه

119 - فقد يظْهر ضعف الحَدِيث وَقد يخفى وَأقرب مَا يُؤمر بِهِ فِي ذَلِك أَنَّك إِذا رَأَيْت حَدِيثا خَارِجا عَن دواوين الْإِسْلَام كالموطأ ومسند أَحْمد والصحيحين وَسنَن أبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَنَحْوهَا مِمَّا تقدم ذكره وَمِمَّا لم نذكرهُ فَانْظُر فِيهِ فَإِن كَانَ لَهُ نَظِير فِي الصِّحَاح والحسان قرب أمره وَإِن رَأَيْته يباين الْأُصُول وارتبت بِهِ فَتَأمل رجال إِسْنَاده وَاعْتبر أَحْوَالهم من الْكتب المصنفة فِي ذَلِك

120 - وأصعب الْأَحْوَال أَن يكون رجال الْإِسْنَاد كلهم ثِقَات وَيكون متن الحَدِيث مَوْضُوعا عَلَيْهِم أَو مقلوبا أَو قد جرى فِيهِ تَدْلِيس وَلَا يعرف هَذَا إِلَّا النقاد من عُلَمَاء الحَدِيث فَإِن كنت من أَهله فبه وَإِلَّا فاسأل عَنهُ أَهله

121 - قَالَ الْأَوْزَاعِيّ كُنَّا نسْمع الحَدِيث فنعرضه على أَصْحَابنَا كَمَا نعرض الدِّرْهَم الزيف فَمَا عرفُوا مِنْهُ أخذناه وَمَا أَنْكَرُوا تَرَكْنَاهُ

122 - فالتوصل إِلَى الِاجْتِهَاد بعد جمع السّنَن فِي الْكتب الْمُعْتَمدَة إِذا رزق الْإِنْسَان الْحِفْظ والفهم وَمَعْرِفَة اللِّسَان أسهل مِنْهُ قبل ذَلِك لَوْلَا قلَّة همم الْمُتَأَخِّرين وَعدم المعتبرين

وَمن أكبر أَسبَاب تعصبهم تقيدهم بِرِفْق الْوُقُوف وجمود أَكثر المتصدرين مِنْهُم على مَا هُوَ الْمَعْرُوف الَّذِي هُوَ مُنكر مألوف
118 - হাদিসের ইমামগণই তাঁদের বিদ্যায় নির্ভরযোগ্য আদর্শ। তাই এই বিষয়ে তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা এবং ফকিহদের মতামতগুলোকে সুন্নাহ ও সহিহ (صحيحة) আছারসমূহের ওপর উপস্থাপন করা আবশ্যক। যে মতটিকে বর্ণনা সমর্থন করবে, সেটিই গ্রহণযোগ্য। অন্যথায় আমরা নিছক রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমত) ভিত্তিতে সংবাদকে বাতিল করব না এবং একে দুর্বলও বলব না, যদি না তা হাদিস বিশারদদের নিকট সুপরিচিত হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) কিংবা সর্বসম্মত ঐকমত্যের পরিপন্থী হওয়ার মতো কোনো দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে।

119 - হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) কখনো প্রকাশ্য থাকে, আবার কখনো তা প্রচ্ছন্ন থাকে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী নির্দেশ হলো, যখন আপনি কোনো হাদিস ইসলামের প্রধান সংকলনসমূহ—যেমন মুয়াত্তা, মুসনাদ আহমদ, সহিহাইন, সুনান আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং এই জাতীয় পূর্বোল্লিখিত ও অনুল্লিখিত কিতাবসমূহের বাইরে দেখবেন, তখন তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদি সহিহ (صحاح) বা হাসান (حسان) হাদিসসমূহে এর কোনো সদৃশ বর্ণনা থাকে, তবে বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতার নিকটবর্তী হবে। আর যদি দেখেন যে তা মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী এবং আপনার মনে খটকা তৈরি হয়, তবে এর সনদ (إسناد)-এর রাবিদের নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করুন এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁদের অবস্থা যাচাই করুন।

120 - সবচেয়ে কঠিন অবস্থা হলো যখন সনদের সকল রাবিই নির্ভরযোগ্য (ثقات) হন, কিন্তু হাদিসের মতনটি তাঁদের ওপর আরোপ করা জাল (موضوع), অথবা তা ওলটপালট করা (مقلوب), কিংবা তাতে তাদাল্লুস (تدليس) সংঘটিত হয়েছে। হাদিস বিশারদ সমালোকগণ ব্যতীত অন্য কেউ এটি অনুধাবন করতে পারে না। আপনি যদি এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হন তবে ভালো, অন্যথায় এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট জিজ্ঞাসা করুন।

121 - ইমাম আওযায়ী বলেছেন: আমরা হাদিস শুনতাম এবং তা আমাদের সাথীদের নিকট উপস্থাপন করতাম যেমনটি আমরা নকল দিরহাম যাচাই করার জন্য পেশ করি। তাঁরা যা চিনতে পারতেন তা আমরা গ্রহণ করতাম, আর যা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করতেন তা আমরা পরিত্যাগ করতাম।

122 - নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে সুন্নাহ সংকলিত হওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি হেফজ, প্রজ্ঞা ও ভাষাজ্ঞানে ধন্য হন, তবে তার জন্য ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে সহজ। কিন্তু পরবর্তী যুগের লোকদের হিম্মতের অভাব এবং যোগ্য লোকের স্বল্পতাই এর অন্তরায়। তাঁদের অন্ধ অনুকরণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওয়াকফকৃত সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে নিজেদের আবদ্ধ রাখা এবং নেতৃস্থানীয় অধিকাংশের এমন সব পরিচিত বিষয়ের ওপর স্থবির হয়ে থাকা যা প্রকৃতপক্ষে একটি পরিচিত মুনকার (منكر) বা গর্হিত বিষয়।