(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
تخريج الفروع على الأصول القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: تخريج الفروع على الأصول
المؤلف: أبو المناقب شهاب الدين محمود بن أحمد الزنجاني (ت 656 هـ)
المحقق: د. محمد أديب صالح [ت 1438 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1398 هـ - 1978 م
عدد الصفحات: 393
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাকরিজুল ফুরু আলাল উসুল বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: তাকরিজুল ফুরু আলাল উসুল
লেখক: আবু আল-মানাকিব শিহাব আল-দিন মাহমুদ ইবনে আহমাদ আল-জানজানি (মৃত্যু ৬৫৬ হি.)
তাহকীককারী: ড. মুহাম্মাদ আদিব সালেহ [মৃত্যু ১৪৩৮ হি.]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাত আল-রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৯৮ হি. - ১৯৭৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৩
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة المحققبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على معلم الخير محمد وعلى آله وصحابته، عاش الزنجاني الفترة الأخيرة من الدور الخامس في ادوار الفقه الاسلامي الذي يمتد في رأي العلماء من القرن الرابع إلى سقوط بغداد في النصف الثاني من القرن السابع الهجري.
ولئن اتسم هذا الدور بطابع التقليد - فلم نجد بعد أبي جعفر الطبري المتوفى سنة 310 هـ إماما من أئمة الاجتهاد المطلق - لقد رأينا فيه رجالا كانوا منارات في الظلام ومعالم في طريق المعرفة، ممن لم يقفوا عند التقليد المحض، بل ساروا على بينة من الأمر. فجمعوا الآثار، ورجحوا بين الروايات، وخرجوا علل الأحكام، وحاولوا أن يردوا الفروع الى أصولها، وكانت لهم مواقف مشهودة في بيان الحق والدلالة عليه.
وأبو البقاء، أو أبو المناقب محمود بن أحمد الزنجاني الشافعي - نسبة إلى مدينة زنجان على حد آذربيجان من بلاد الجبل - أحد هؤلاء الاعلام، وقد قضى في كائنة بغداد سنة ست وخمسين وستمائة للهجرة، بعد أن سلخ حياة زاخرة بالعلم والتأليف، وبعد أن أصبح نائب قاضي القضاة أو قاضي القضاة في العاصمة
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং কল্যাণের শিক্ষক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। ইমাম জানজানি ইসলামি ফিকহের ইতিহাসের পঞ্চম পর্যায়ের শেষ দিকে বসবাস করেছেন, যা আলেমদের মতে চতুর্থ হিজরি শতাব্দী থেকে শুরু করে সপ্তম হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাগদাদের পতন পর্যন্ত বিস্তৃত।
যদিও এই পর্যায়টি অন্ধ অনুকরণের (التقليد) বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল—কেননা ৩১০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু জাফর আত-তাবারির পরে আমরা আর কোনো নিরঙ্কুশ ইজতিহাদ (الاجتهاد المطلق) সম্পাদনকারী ইমামের দেখা পাই না—তথাপি আমরা এই যুগে এমন কিছু মনীষীর সন্ধান পাই যারা ছিলেন অন্ধকারের আলোকবর্তিকা এবং জ্ঞানের পথের দিশারি। তারা নিছক অনুকরণের (التقليد المحض) ওপর স্থবির থাকেননি, বরং বিষয়াদি সম্পর্কে সুষ্পষ্ট প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পথ চলেছেন। তারা হাদিস ও বর্ণনাগুলো (الآثار) সংকলন করেছেন, বিভিন্ন বর্ণনার (الروايات) মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণ করেছেন, বিধানগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) উদ্ঘাটন করেছেন এবং শাখা বিষয়গুলোকে তাদের মূলনীতির (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সত্য প্রকাশ এবং সত্যের দিকে পথনির্দেশনায় তাদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
আর আবুল বাকা অথবা আবুল মানাকিব মাহমুদ ইবনে আহমাদ আল-জানজানি আশ-শাফিয়ি—জাবাল অঞ্চলের আজারবাইজান সীমান্তের জানজান শহরের নিবাসী—ছিলেন এই বিশিষ্ট মনীষীদেরই একজন। ৬৫৬ হিজরিতে বাগদাদের সেই মহা বিপর্যয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তিনি জ্ঞানচর্চা ও গ্রন্থ রচনায় এক প্রাচুর্যময় জীবন অতিবাহিত করেছিলেন এবং তৎকালীন রাজধানীতে প্রধান বিচারপতির সহকারী অথবা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
التي أحرقتها نار الفتنة، فسقطت على أيدي التتار، وكانت النكبة الكبرى التي أحاطت بالكثير من ورائعنا وذخائرنا الفكرية.
وأغلب الظن ان جملة من آثار الزنجاني قد فقدت فيما، فلقد ذكر العلماء في ترجمته أنه درس بالنظامية ثم بالمستنصرية، وأنه علا شأنه في اللغة، وعلم الخلاف والأصول والتفسير وألف فيها حتى قال الذهبي عنه: «كان من بحور العلم له تصانيف». وقال ابن النجار: «برع في المذهب والخلاف والأصول» ويذكر بعض المترجمين له أنه صنف تفسيرا للقرآن، وانه حدث عن الإمام الناصر لدين الله بالإجازة، وروى عنه الدمياطي
(1). ولكن لم يظهر من مصنفاته إلا النزر اليسير. فقد وصلنا كتاب في العربية اختصر فيه صحاح الجوهري وأسماه - كما يقول القوطي - «ترويح الأرواح في تهذيب الصحاح»
(2).
أما في الشريعة: فلم نعثر حتى الآن إلا على الكتاب الذي نحن في صدد الحديث عنه وهو: «تخريج الفروع على الأصول» وقد أشار في ثناياه إلى كتاب آخر أسماه «درر الغرر»
(3).
وترجع صلتي بكتاب «تخريج الفروع على الأصول» إلى ما قبل عامين اثنين حين وقعت على نسخة مخطوطة منه في دار الكتب المصرية بالقاهرة، وأنا
--------------------------------------------
যা ফিতনার আগুনে দগ্ধ হয়েছিল, অতঃপর তাতারীদের হাতে তার পতন ঘটে এবং এটি ছিল এক মহাপর্যয় যা আমাদের অনেক চমৎকার ও মূল্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে গ্রাস করেছিল।
প্রবল ধারণা এই যে, জানজানির বহু কর্ম এর মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে। আলেমগণ তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিজামিয়া এবং এরপর মুস্তানসিরিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেছেন। ভাষা, ইলমুল খিলাফ (বিরোধপূর্ণ মাসআলা), উসুল (মূলনীতি) ও তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি এসব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন; এমনকি আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র, তাঁর অনেক সংকলন রয়েছে।" ইবনুন নাজ্জার বলেন: "তিনি মাজহাব, ইলমুল খিলাফ এবং উসুলে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।" তাঁর কোনো কোনো জীবনীকার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কুরআনের একটি তাফসীর রচনা করেছিলেন এবং তিনি ইমাম নাসের লি-দীনিল্লাহ থেকে অনুমতি (إجازة) সাপেক্ষে বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আদ-দামইয়াতি
(১)। তবে তাঁর রচনাবলির অতি সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে। আরবি ভাষায় আমরা একটি গ্রন্থ পেয়েছি যাতে তিনি আল-জওহরীর ‘সিহাহ’ সংকলনটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং আল-কুতি যেমনটি বলেছেন, এর নামকরণ করেছেন—‘তারউইহুল আরওয়াহ ফি তাহজিবুস সিহাহ’
(২)।
আর শরিয়ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে: আমরা এখন পর্যন্ত কেবল সেই বইটিই খুঁজে পেয়েছি যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, আর সেটি হলো: ‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’। তিনি এর ভেতরে ‘দুরারুল গুরার’ নামক অন্য একটি কিতাবের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন
(৩)।
‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’ কিতাবটির সাথে আমার সম্পর্কের সূত্রপাত দুই বছর আগে, যখন আমি কায়রোতে দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই, আর আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أحضر لرسالة الدكتوراه، حيث اشتدت صلتي بكتب الأصول والقواعد واختلاف الفقهاء، وما ان وقع بصري على بعض مسائله، حتى استهوتني قراءته، ورأيتني مسوقا إلى الصلة بكتاب، يسير مؤلفه وفق منهج مرسوم، وخطة واضحة المعالم تخرج بقارئ الفقه وأصوله من حدود النظريات المحبوءة أحيانا، إلى التطبيق العملي الواضح.
وهي طريقة لشد ماهفت إليها النفس منذ أيام الدراسة في الأزهر والحقوق.
وأدركت بعد قراءة الكتاب والامعان فيه، ان من الخير أن يخرج مثل هذا المؤلف إلى عالم النور ليملأ في الجانب التشريعي من المكتبة الاسلامية فراغا يشعر به رواد الفقه الاسلامي وخصوصا أولئك الذين يرون في هذا الفقه - والحق مايرون - أهلية الإمامة فيما عرف الناس في الماضي، ويعرفون اليوم، من فقه وقانون.
وعلى ضيق في الوقت استعنت الله في تحقيقه وإخراجه، آملا أن يكون لي من ملاحظات الباحثين ما يساعد في طبعة ثانية على استدراك ما يكون قد فات إن شاء الله.
والكتاب محاولة منهجية ناجحة، وأنموذج رائع المخطط يرسم علاقة الفروع والجزئيات من أحكام الفقه، بأصولها وضوابطها، من القواعد والكليات ضمن إطار لتقييد الاختلاف بين المذهبين الشافعي والحنفي، وبيان الأصل الذي ترد اليه كل مسألة خلافية فيهما.
وفي رد الجزئيات إلى الكليات، وبيان الأصول التي ينتمي اليها الاختلاف، تعريف بأن الاختلاف في جملته لم يكن من الاختلاف المحرم، لأنه لم ينشأ عن عبث أو هوى، وانما كان في حدود ما يحل الاختلاف فيه
(1).
--------------------------------------------
আমি যখন আমার ডক্টরেট থিসিসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন মূলনীতি (أصول), মূলসূত্র (قواعد) এবং ফকিহদের মতভেদ সংক্রান্ত গ্রন্থরাজির সাথে আমার সম্পর্ক নিবিড় হয়ে ওঠে। যখনই আমার দৃষ্টি এর কিছু মাসআলার ওপর নিবদ্ধ হলো, তখনই এর পাঠ আমাকে বিমোহিত করল। আমি নিজেকে এমন একটি গ্রন্থের সাথে সম্পৃক্ত হতে প্রলুব্ধ দেখলাম, যার লেখক একটি সুনির্দিষ্ট মানহাজ (منهج) এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছেন; যা ফিকহ ও এর উসুল (أصول) এর পাঠককে কখনও কখনও তাত্ত্বিক সীমানা থেকে বের করে স্পষ্ট বাস্তব প্রয়োগের দিকে নিয়ে আসে।
এটি এমন একটি পদ্ধতি যার প্রতি আল-আজহার এবং আইন অনুষদে পড়াশোনার দিন থেকেই আমার মন প্রবলভাবে লালায়িত ছিল।
বইটি পাঠ এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এই ধরণের একটি রচনার আলোতে আসা কল্যাণকর, যাতে এটি ইসলামি গ্রন্থাগারের আইন প্রণয়ন বিষয়ক বিভাগে এমন একটি শূন্যতা পূরণ করতে পারে যা ইসলামি ফিকহ বিশারদগণ অনুভব করেন; বিশেষ করে যারা এই ফিকহের মধ্যে—এবং তাদের এই উপলব্ধি সঠিক—অতীত ও বর্তমানে মানুষের জানা ফিকহ ও আইনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের যোগ্যতা দেখতে পান।
সময়ের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও আমি এর সম্পাদনা (تحقيق) এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, এই আশায় যে গবেষকদের মন্তব্যগুলো আমাকে দ্বিতীয় সংস্করণে—আল্লাহ চাইলে—যা কিছু বাদ পড়েছে তা সংশোধন করতে সাহায্য করবে।
বইটি একটি সফল পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা এবং একটি চমৎকার কাঠামোর দৃষ্টান্ত, যা ফিকহি আহকামের শাখা ও খুটিনাটি বিষয়গুলোর সাথে সেগুলোর মূলনীতি (أصول), বিধিবিধান (ضوابط), মূলসূত্র (قواعد) এবং সামগ্রিক নীতি (كليات) সমূহের সম্পর্ক চিত্রায়িত করে। এটি মূলত শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবের মধ্যকার মতভেদকে সীমাবদ্ধ করার এবং প্রতিটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা যে মূল উৎস (أصل) এর দিকে ফিরে যায়, তা স্পষ্ট করার একটি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।
খুটিনাটি বিষয়গুলোকে সামগ্রিক নীতি (كليات) সমূহের দিকে ফিরিয়ে আনা এবং যে মূলনীতি (أصول) সমূহের ওপর ভিত্তি করে মতভেদগুলো গড়ে উঠেছে তা বর্ণনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, সামগ্রিকভাবে এই মতভেদগুলো নিষিদ্ধ মতভেদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কারণ এটি কোনো অসারতা বা খেয়াল-খুশি থেকে উদ্ভূত হয়নি, বরং তা ছিল মতভেদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كما ان في ذلك تربية للملكة الفقهية المؤهلة للاستدلال والترجيح، القادرة على تفريع المسائل من قواعدها الكبرى، وامكان رد الجديد من احكام الحوادث الطارئة الى ما يثبت نسبها اليه من الأصول.
لذا رأينا العلماء الاولين يعطون أهمية كبرى لمعرفة ما إليه مرد الاختلاف بين الأئمة، بحيث لا يكون طالب الفقه فقيها مالم يعرف كيف بحثوا، وكيف استدلوا، وبالتالي يعلم ان الاختلاف في الجزئيات كان ثمرة تباين الانظار أو تباعدها في الحكم على الأسس التي عنها تفرعت تلك الجزئيات
(1).
وفي المقدمة أشار المؤلف الى ان القدرة على التفريع لا تكون إلا بمعرفة وجه الارتباط بين الاحكام الفرعية وادلتها «فالذي لا يهتدي إلى وجه الارتباط بين احكام الفروع وادلتها - التي هي أصول الفقه - لا يتسع له المجال ولا يمكنه التفريع عليها بحال».
لذلك كان طبيعيا أن لا يقصد إلى أن يكون كتابه مصنفا في اصول الفقه، او كتابا في القواعد أو الفروع. وإنما أراده كتابا يجمع بين الأصول والفروع في مسلك متميز - لم يجد من يسلكه من قبل - يبتغي الدلالة على الطريق، طريق معرفة بناء فروع الأحكام على أصولها، وذلك برد الجزئيات إلى الكليات ليتسنى التفريع وإمكان إيجاد لما يجد من حوادث لا تتناهى مع الزمن وذلك قوله:
(فبدأت بالمسألة الأصولية التي ترد اليها الفروع في كل قاعدة، وضمنتها ذكر الحجة الأصولية من الجانبين، ثم رددت الفروع الناشئة منها اليها، فتحرر الكتاب مع صغر حجمه حاويا لقواعد الأصول، جامعا لقوانين الفروع).
--------------------------------------------
একইভাবে এর মধ্যে এমন এক ফিকহী মেধা (الملكة الفقهية) গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ রয়েছে, যা দলিলভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (استدلال) ও প্রাধান্য নির্ধারণের (ترجيح) উপযোগী এবং যা মৌলিক নীতিমালা থেকে মাসআলার শাখা-প্রশাখা বিন্যাস (تفريع) করতে সক্ষম। সেই সাথে এর ফলে সময়ের ব্যবধানে উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতির বিধানগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, যার সাথে সেগুলোর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত।
একই কারণে আমরা দেখি যে, পূর্ববর্তী আলেমগণ ইমামগণের মধ্যকার মতপার্থক্যের উৎসগুলো জানার ক্ষেত্রে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করতেন; যেন ফিকহশাস্ত্রের একজন শিক্ষার্থী ততক্ষণ পর্যন্ত ফকিহ হতে না পারে যতক্ষণ না সে তাঁরা কীভাবে গবেষণা করেছেন এবং কীভাবে দলিল পেশ (استدلال) করেছেন তা জানতে পারে। ফলস্বরূপ সে অনুধাবন করতে পারে যে, খুঁটিনাটি বিষয়ের (جزئيات) মতপার্থক্য মূলত সেই ভিত্তিগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা বা দূরত্বেরই ফল ছিল, যেখান থেকে ওই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো (جزئيات) উৎসারিত হয়েছে
(1)।
ভূমিকার মধ্যে লেখক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের (تفريع) সক্ষমতা অর্জিত হয় না শাখা-বিধান (فروع) এবং সেগুলোর দলিলের মধ্যকার সম্পর্কের ধরণ জানা ব্যতীত। "যে ব্যক্তি শাখা-বিধান (فروع) এবং সেগুলোর দলিলসমূহের—যা মূলত উসুলুল ফিকহ—মধ্যকার সম্পর্কের সূত্র খুঁজে পায় না, তার জন্য এ শাস্ত্রের পরিধি প্রশস্ত হয় না এবং কোনো অবস্থাতেই তার পক্ষে সেগুলোর ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা বিন্যাস (تفريع) করা সম্ভব নয়।"
একই কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর লক্ষ্য এমনটি ছিল না যে, তাঁর বইটি কেবল উসুলুল ফিকহ, মূলনীতি (قواعد) বা শাখা-বিধান (فروع) সংক্রান্ত কোনো গ্রন্থ হবে। বরং তিনি চেয়েছিলেন এটি এমন এক কিতাব হোক যা এক অনন্য পদ্ধতিতে মূলনীতি (أصول) ও শাখা-বিধানের (فروع) সমন্বয় ঘটাবে—যে পথ ইতিপূর্বে কেউ অবলম্বন করেনি—যার লক্ষ্য হলো সেই পথের দিশা দেওয়া, যে পথে মূলনীতির ওপর শাখা-বিধানের ভিত্তি স্থাপিত হয়। আর তা হলো খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে (جزئيات) সামগ্রিক মূলনীতির (كليات) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে, যেন শাখা-প্রশাখা বিন্যাস (تفريع) সহজ হয় এবং সময়ের সাথে সাথে উদ্ভূত অগণিত ঘটনার সমাধান বের করা সম্ভব হয়। যেমনটি তাঁর উক্তি:
(আমি প্রতিটি মূলনীতির (قاعدة) ক্ষেত্রে সেই মৌলিক মাসআলা (المسألة الأصولية) দিয়ে শুরু করেছি যার দিকে শাখা-বিধানগুলো (فروع) প্রত্যাবর্তন করে। আর আমি এতে উভয় পক্ষের মৌলিক দলিলসমূহ (الحجة الأصولية) অন্তর্ভুক্ত করেছি। অতঃপর আমি তা থেকে উৎসারিত শাখা-বিধানগুলোকে (فروع) সেটির দিকে ফিরিয়ে এনেছি। ফলে গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও উসুলের নিয়মাবলী (قواعد الأصول) এবং শাখা-বিধানের বিধিবিধান (قوانين الفروع) ধারণকারী একটি সংকলন হিসেবে সুসংগত হয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا: ويلاحظ المؤلف قد اقتصر في البحث على مذهبي الحنفية والشافعية - كما قدمنا - إلا ما كان من نقله مسألة في الطلاق عن الإمام مالك رحمه الله (ص 12).
وواضح انه لم يقتصر في الضوابط على مسائل أصول الفقه، بل كان للقواعد الفقهية عنده دور ملحوظ حتى انه تجوز في استعمال كلمة الأصول بعض الأحيان حتى شملت مع أصول الفقه قواعد الفقه.
وما احسب ان الأمر يحتاج إلى ضرب الأمثلة، فخطوات الكتاب كلها قائمة على هذا.
وقد يصادف أن تكون ضوابط الكتاب أو الباب الواحد مشتركة بين مسائل الأصول والقواعد، كما حدث في كتاب النكاح
(1)؛ فقد طوى المؤلف مسائله التي أتى بها تحت خمسة من ضوابط الأصول هي:
الأمر بالشيء ليس نهيا عن ضده.
راوي الأصل ينكر رواية الفروع.
متى يحمل المطلق على المقيد.
حكم الشيء هل يدور مع أثره وجودا وعدما.
حكم اللفظ إذا دار بين معناه الشرعي ومعناه الحقيقي.
وثلاث من القواعد الفقهية هي:
شهادة النساء وهل هي ضرورية أو أصلية.
قرب القرابة واعتباره في الاستقلال بالنكاح.
ولاية الاجبار في حق البنات هل تعلل بالبكارة أو بالصغر؟ وإن كانت هذه الأخيرة لها وجه من الأصول وآخر من القواعد.
--------------------------------------------
লক্ষ্যণীয় যে: লেখক তাঁর গবেষণায় হানাফি ও শাফেয়ী মাজহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—কেবল ইমাম মালিক (রহ.) থেকে বর্ণিত তালাক সংক্রান্ত একটি মাসয়ালা ব্যতীত (পৃ. ১২)।
এটা স্পষ্ট যে, তিনি মূলনীতির (الضوابط) ক্ষেত্রে কেবল উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর মাসয়ালাসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁর কাছে ফিকহি নীতিমালাসমূহের (القواعد الفقهية) একটি লক্ষ্যণীয় ভূমিকা ছিল। এমনকি তিনি কখনও কখনও 'উসুল' শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন, যা উসুল আল-ফিকহ-এর পাশাপাশি ফিকহি নীতিমালাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আমি মনে করি না যে এ বিষয়ে উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন আছে, কারণ কিতাবটির প্রতিটি পদক্ষেপ এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
কখনও এমন হতে পারে যে, কিতাব বা কোনো একটি অধ্যায়ের মূলনীতিগুলো উসুল (الأصول) এবং কায়েদা (القواعد) উভয় ধরনের মাসয়ালার মধ্যে সাধারণ হতে পারে; যেমনটি 'কিতাবুন নিকাহ'
(১)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। সেখানে লেখক তাঁর উপস্থাপিত মাসয়ালাগুলোকে উসুল-এর পাঁচটি মূলনীতির (الضوابط) অধীনে আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো:
কোনো বিষয়ের আদেশ তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা নয়।
মূল বর্ণনাকারী কর্তৃক শাখা বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে অস্বীকার করা।
কখন শর্তহীন (المطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (المقيد) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে।
কোনো বিষয়ের হুকুম কি তার প্রভাব বা ফলের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ওপর আবর্তিত হয়?
কোনো শব্দের হুকুম যখন তার শরয়ি অর্থ ও আভিধানিক বা প্রকৃত অর্থের মধ্যে দোলায়মান হয়।
আর তিনটি ফিকহি নীতিমালা (القواعد الفقهية) হলো:
নারীদের সাক্ষ্যদান এবং তা কি জরুরি নাকি মৌলিক।
নিকটাত্মীয়তা এবং বিবাহের ক্ষেত্রে তার স্বতন্ত্র বিবেচ্য হওয়া।
মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবকত্বের বাধ্যবাধকতা কি কুমারিত্বের কারণে নাকি নাবালিকা হওয়ার কারণে? যদিও শেষোক্ত বিষয়টি উসুল (الأصول) এবং কায়েদা (القواعد) উভয় দিক থেকেই বিবেচনাযোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومع التزام المؤلف ان لا تبتعد المسألة الواردة تحت الباب الفقهي عن نسبتها إليه - سيرا مع طريقته في تخريج مسائل ذلك الباب على أصولها - فقد سمح لنفسه - في القليل النادر - أن يورد مسألة أو أكثر من غير أسرة الكتاب أو الباب الفقهي الذي يكون مقصود البحث.
فمثلا أورد تحت كتاب الطهارة مسألتي تعين لفظه التكبير، وقراءة الفاتحة في الصلاة
(1) لأنه رآها مرتبطتين بقاعدة التعليل والتعبد التي كانت عماد الضبط في الكتاب المذكور.
كما أتى بمسألة تعليق الطلاق بالملك في كتاب البيوع، لأن هذه المسألة تنتمي في نظره إلى قاعدة أصولية أتى بها ضابطا من ضوابط مسائل البيوع وهي «دخول الشرط على السبب هل يمنع انعقاده سببا»
(2).
ويبدو أن السير ضمن الخطوط العامة للمنهج في التخريج هو الذي جعله يتسامح بمثل هذا الأمر.
نقرر هذا مع اعترافنا - كما أشرنا من قبل - ان وقوع ذلك في الكتاب يتسم بطابع القلة، وهو أمر لا يخرج الزنجاني عن طريقته العامة في التزام ضبط أبواب الفقه وتخريج مسائله على أصول وقوانين.
ولعل هذا الاتجاه، هو الذي يسوغ مانراه أحيانا، من دعوى ارتباط منزع الأحكام في العديد من المسائل بأصل ما، أو قاعدة من القواعد، مع ان الحكم قد يكون له أدلة غير هذا الارتباط.
وذلك كالذي ذكره في مسائل الطهارة حين أصل لها بالتعليل والتعبد، فهو يقرر أن الحنفية جنحوا إلى كذا تشوفا إلى التعليل، وان الشافعية جنحوا
--------------------------------------------
লেখক ফিকহী অধ্যায়ের অধীনে বর্ণিত মাসআলাটি সেই অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রাখা নিশ্চিত করার সাথে সাথে—সেই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহকে তাদের মূলনীতির (أصول) আলোকে তখরীজ (تخريজ) করার পদ্ধতির অনুসরণে—তিনি কদাচিৎ গবেষণার মূল বিষয়বস্তুভুক্ত কিতাব বা ফিকহী অধ্যায়ের বাইরের এক বা একাধিক মাসআলা উল্লেখ করার অবকাশ নিয়েছেন।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি পবিত্রতা (কিতাবুত তাহারাত) অধ্যায়ের অধীনে নামাজের তাকবীরের শব্দ নির্ধারণ এবং সুরা ফাতিহা পাঠের দুটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন
(১); কারণ তিনি এই দুটিকে কারণ অনুসন্ধান (تعليل) ও ইবাদতগত আনুগত্যের (تعبد) মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট মনে করেছেন, যা উল্লিখিত কিতাবের বিন্যাসের মূল ভিত্তি ছিল।
অনুরূপভাবে তিনি ক্রয়-বিক্রয় (কিতাবুল বুয়ূ) অধ্যায়ে মালিকানার সাথে তালাককে ঝুলিয়ে দেওয়ার মাসআলাটি নিয়ে এসেছেন, কারণ তাঁর দৃষ্টিতে এই মাসআলাটি এমন একটি উসূলী মূলনীতির (قاعدة أصولية) অন্তর্ভুক্ত যা তিনি ক্রয়-বিক্রয়ের মাসআলাসমূহের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে এনেছেন, আর তা হলো: «সববের ওপর শর্তের অনুপ্রবেশ কি একে সবব হিসেবে কার্যকর হতে বাধা দেয়?»
(২)।
মনে হয় যে, তখরীজ (تخريج)-এর পদ্ধতির সাধারণ রূপরেখার মধ্যে চলাই তাঁকে এই ধরণের বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আমরা এটি স্বীকার করার মাধ্যমেই সাব্যস্ত করছি যে—যেমনটি আমরা আগেও ইঙ্গিত করেছি—কিতাবটিতে এমন ঘটনার উপস্থিতি খুবই নগণ্য, এবং এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা জানজানিকে ফিকহী অধ্যায়সমূহের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মূলনীতি (أصول) ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে মাসআলা তখরীজ (تخريজ) করার তাঁর সাধারণ পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত করে।
সম্ভবত এই প্রবণতাটিই মাঝে মাঝে আমাদের পরিলক্ষিত বিষয়টিকে যুক্তিসঙ্গত করে তোলে, যেখানে দাবি করা হয় যে বহু মাসআলার বিধানের উৎস কোনো একটি মূল (أصل) বা কোনো মূলনীতির (قاعدة) সাথে সংশ্লিষ্ট, যদিও সেই বিধানের পেছনে এই সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও অন্যান্য দলিল থাকতে পারে।
এটি ঠিক তেমনই, যেমনটি তিনি পবিত্রতার মাসআলাসমূহে উল্লেখ করেছেন যখন তিনি সেগুলোকে কারণ অনুসন্ধান (تعليل) ও ইবাদতগত আনুগত্যের (تعبد) ভিত্তিতে মূল নির্ণয় করেছেন। ফলে তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, হানাফীগণ কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) দিকে লক্ষ্য রেখে অমুক বিষয়ের দিকে ঝুঁকেছেন এবং শাফেয়ীগণ ঝুঁকেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إلى كذا سيرا مع أصل التعبد، يقرر هذا مع وجود أدلة لكل من الفريقين على الذي جنح اليه من الأحكام.
فأغلب الظن أنه يرى في أمثال هذه المسائل أن السلك الذي انتظم أدلة الحنفية هو التعليل، وفي مقابله التعبد عند الشافعية.
فطريقة الاستدلال تسيرها روح معينة قائمة على اعتبار التعليل أو التعبد في تلك الأحكام، وهذا كاف عنده في ارتباط الفرع بالأصل، مادام لكل إمام سنده من الشرع، ولم يكن ما جنح اليه عن هوى أو تغاض عن مدلولات الشريعة وروحها العامة.
ونود أن نشير إلى انه في تحريره لقواعد أصول الفقه قد نزع في عدد منها إلى غير ما اشتهر عند جمهور الأصوليين من متقدمين أو متأخرين، كما حدث في مسائل الأمر المطلق واقتضائه التكرار والفور، واقتضاء الأمر بالشئ النهي عن ضده، ومسألة العموم في المقتضى
(1).
وفي مسألة المصلحة - رغم الأخذ والرد حول رأي الشافعي فيها وما يحكيه في كتاب «ابطال الاستحسان» من كلام يشمل بعضه مع استحسان الحنفية، المصالح المرسلة عند المالكية - اعتبر مؤلفنا ان من الجائز عند الشافعي التمسك بالمصلح المستندة إلى كلي الشرع، وإن لم تكن مستندة إلى الجزئيات الخاصة المعينة
(2).
وهذا حين يدل على شيء فإنما يدل على ان الزنجاني على جانب يذكر من فقه النفس وفهم مقاصد الشريعه، والادراك لمرامي الأئمة في اجتهادهم، وما ذهبوا اليه عند استنباط الأحكام من حفاظ على حدود الشريعة، والتزام الجادة التي سلكها سلف هذه الأمة من قبل.
--------------------------------------------
ইবাদতগত মূলনীতি (أصل التعبد)-এর সাথে সঙ্গতি রেখে তিনি বিষয়টিকে এভাবেই সাব্যস্ত করেন, যেখানে ফকিহদের গৃহীত বিধানের স্বপক্ষে উভয় পক্ষেরই দলিল বিদ্যমান।
প্রবল ধারণা এই যে, তিনি এ জাতীয় মাসয়ালাগুলোর ক্ষেত্রে মনে করেন যে, হানাফিগণের দলিলসমূহকে যে সুত্রটি সুসংবদ্ধ করেছে তা হলো কারণ অনুসন্ধান (التعليل), আর এর বিপরীতে শাফিঈগণের নিকট তা হলো ইবাদতগত আনুগত্য (التعبد)।
সুতরাং দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি (الاستدلال) একটি বিশেষ চেতনার মাধ্যমে পরিচালিত যা ঐ বিধানগুলোর ক্ষেত্রে কারণ অনুসন্ধান (التعليل) অথবা ইবাদতগত আনুগত্যকে (التعبد) বিবেচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর নিকট মূলনীতির (الأصل) সাথে শাখার (الفرع) সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক ইমামের শরয়ি ভিত্তি বিদ্যমান থাকে এবং তিনি যে মতের দিকে ঝুঁকেছেন তা খেয়াল-খুশি কিংবা শরিয়তের মর্মার্থ ও এর সাধারণ চেতনার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শনের কারণে না হয়।
আমরা এই দিকে ইঙ্গিত দিতে চাই যে, উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর নিয়মাবলী সম্পাদনার ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুর (جمهور) উসুলবিদদের নিকট যা প্রসিদ্ধ তার বাইরে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন; যেমনটি ঘটেছে শর্তহীন আদেশ (الأمر المطلق) এবং তা পুনরাবৃত্তি (التكرار) ও অবিলম্বে পালনযোগ্যতার (الفور) দাবি রাখে কি না—সেই মাসয়ালায়, এবং কোনো কাজের আদেশ তার বিপরীত কাজকে নিষেধ (النهي عن ضده) করার দাবি রাখে কি না—সেই মাসয়ালায়, এবং মোক্তাযার (المقتضى) ক্ষেত্রে ব্যাপকতা (العموم) সংক্রান্ত মাসয়ালায়
(১)।
মাসলাহাত (المصلحة) সংক্রান্ত মাসয়ালায়—যদিও এ বিষয়ে শাফিঈর অভিমত নিয়ে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা রয়েছে এবং তিনি ‘ইবতালুল ইসতিহসান’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তার কিছু অংশ হানাফিদের ইসতিহসান (الاستحسان) ও মালিকিগণের মাসালিহে মুরসালাহ (المصالح المرسلة)-কে অন্তর্ভুক্ত করে—তবুও আমাদের লেখক বিবেচনা করেছেন যে, শাফিঈর নিকট শরিয়তের সামগ্রিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল মাসলাহাত (المصلحة) গ্রহণ করা বৈধ, যদিও তা নির্দিষ্ট কোনো আংশিক দলিলের (الجزئيات) ওপর ভিত্তি করে না হয়
(২)।
এটি যখন কোনো কিছুর ওপর প্রমাণ বহন করে, তখন তা এই বিষয়েরই প্রমাণ দেয় যে, যিনজানি ফিকহী প্রজ্ঞা (فقه النفس), মাকাসিদে শরিয়াহ (مقاصد الشريعة) অনুধাবন এবং ইমামদের ইজতিহাদের (اجتهاد) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থানের অধিকারী ছিলেন। সেই সাথে বিধান আহরণ (استنباط)-এর সময় শরিয়তের সীমারেখা রক্ষা এবং এই উম্মতের সালাফ (سلف)-দের অনুসৃত সঠিক পথে অটল থাকার বিষয়ে ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والمؤلف - وهو شافعي المذهب - يحاول في عرضه للمسائل - أصلية كانت أو فرعية - أن يعطي كل ذي حقه، ودفاعه عن وجهة النظر في المذهب كان نادرا واقتصر على بعض المسائل الأصولية.
1 - فقد رد على الحنفية قولهم بعدم جواز القياس في القياس (56 - 57).
2 - كما رد على الحنفية والقدرية قولهم بأن حديث رفع الخطأ والنسيان مجمل لا يجوز الاحتجاج به (ص 148 - 149).
3 - ودافع عن الشافعية في جواز تخصيص عموم الكتاب بالقياس (ص 176).
غير انه في نقله لبعض الأقوال، تبدو له وجهة نطر معينة، كما حدث في حكم الاستنابة في الحج عند الحنفية، حيث ترك ما عليه ظاهر المذهب، وأخذ بقول محمد بن الحسن رحمه الله (ص 61) وكما حدث في حكم غسل المرأة زوجها المتوفى (ص 39) وفي مسألة رجوع الزوج على زوجته بما وهب لها إذا طلقها قبل الدخول عند الشافعية (ص 96).
قبل «تخريج الفروع … » وبعدهوالطريق التي سلكها الزنجاني قد بدأها في القرن الخامس الهجري - بعد تطور علم الاختلاف - أبو زيد عبيد الله بن عمر بن عيسى الدبوسي من أئمة الحنفية المتوفى سنة 430 هـ، فقد وضع كتابا في اختلاف الفقهاء أسماه «تأسيس النظر»
(1) وأقامه على ثمانية أقسام شملت الاختلاف بين أبي حنيفة وبين أصحابه مجتمعين ومفترقين، وبين الحنفية وبين الإمام مالك، وبينهم وبين الامام الشافعي. وألحق بالأقسام الثمانية قسما ذكر فيه أصولا اشتملت على
--------------------------------------------
লেখক—যিনি শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী—মাসআলাসমূহ (মৌলিক বা শাখা যাই হোক না কেন) উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের যথাযথ মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। নিজ মাযহাবের দৃষ্টিভঙ্গির স্বপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা ছিল বিরল এবং তা কেবল কিছু উসূলি মাসআলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল।
১ - তিনি হানাফীগণের ‘কিয়াসের ওপর কিয়াস’ জায়েয না হওয়ার বক্তব্যটি খণ্ডন করেছেন (৫৬ - ৫৭)।
২ - অনুরূপভাবে তিনি হানাফী ও কাদারিয়াদের এই বক্তব্য খণ্ডন করেছেন যে, ভুল ও বিস্মৃতি সংক্রান্ত হাদিসটি মুজমাল (مجمل), যার মাধ্যমে দলিল পেশ করা (الاحتجاج) জায়েয নয় (পৃ. ১৪৮ - ১৪৯)।
৩ - এবং তিনি কিতাবুল্লাহর সাধারণ নির্দেশকে কিয়াস দ্বারা নির্দিষ্ট করার বৈধতার বিষয়ে শাফিঈগণের পক্ষ সমর্থন করেছেন (পৃ. ১৭৬)।
তবে কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে তাঁর মাঝে একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে, যেমনটি হানাফী মাযহাব মতে হজের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করার বিধানের ক্ষেত্রে ঘটেছে। সেখানে তিনি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতটি পরিহার করে ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রহ.)-এর মত গ্রহণ করেছেন (পৃ. ৬১)। আবার যেমনটি ঘটেছে মৃত স্বামীকে স্ত্রীর গোসল করানোর বিধানের ক্ষেত্রে (পৃ. ৩৯) এবং শাফিঈ মাযহাব মতে বাসর রাতের আগে তালাক দিলে স্বামী তার স্ত্রীকে যা দান করেছে তা ফেরত পাওয়ার মাসআলায় (পৃ. ৯৬)।
«তাখরিজুল ফুরু … » এর পূর্বে ও পরেজানজানি যে পথ অনুসরণ করেছেন, হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে—ইলমুল ইখতিলাফ (মতপার্থক্য বিষয়ক জ্ঞান)-এর বিকাশের পর—হানাফী ইমামগণের অন্যতম আবু যায়িদ উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে ঈসা আদ-দাব্বুসি (মৃত্যু ৪৩০ হি.) তার সূচনা করেছিলেন। তিনি ফকিহদের মতপার্থক্য বিষয়ে «তাসিসুন নাজর» নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং একে আটটি ভাগে বিন্যস্ত করেন। এতে ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর শাগরিদদের সম্মিলিত ও পৃথক পৃথক মতভেদ এবং হানাফীগণের সাথে ইমাম মালেক ও ইমাম শাফিঈর মতভেদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি এই আটটি ভাগের সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেন যাতে এমন কিছু মূলনীতি উল্লেখ করেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مسائل خلافية متفرقة.
وعلى سير الكتابين في رد الفروع إلى أصولها، فإن بين الطريقين وما تثمر كل منهما، بعض الفوارق يمكن إجمالها فيما يلي:
كان ملاك الأمر عند الدبوسي: بيان الأصول البي اليها مرد الاختلاف بشكل عام، كما انه لم يلتزم السير وراء أبواب الفقه بحيث يضبطها بتخريج فروعها على الأصول، وإنما كانت مهمته أن يأتي بالأصل الذي يقوم عليه الاختلاف ثم يأتي بأمثلة مما يتفرع عليه من مسائل، غير حريص على أن تكون تلك المسائل منتمية إلى باب معين من أبواب الفقه، فقد تأتي متقاربة، وقد تأتي من عدة أبواب.
جاء في قسم الاختلاف بين الحنفية والشافعي: الأصل عندنا ان كل فعل استحق فعله على جهة بعينها، فعلى أي وجه حصل كان من الوجوه المستحق عليها كرد الوديعة والغصب.
وعلى هذا مسائل: منها:
1 - ان من صام رمضان بنية النفل أو بنية مبهمة اجزأه عن الغرض.
2 - من سجد في الصلاة المكتوبة سجدة يريد بها النفل كانت فرضا.
3 - إذا وهبت المرأة صداقها لزوجها قبل القبض ثم طلقها قبل الدخول فلا شيء عليها استحسانا ويرجع الزوج عليها بنصف الصداق قياسا.
4 - من غصب طعاما ثم أطعم المغصوب منه برئ من الضمان
(1).
فهذه أربع مسائل من أبواب فقهية متفرقة جمع بينها ارتباطها بأصل واحد.
أما الزنجاني: فقد قامت طريقته - كما تقدم - على السير وراء أبواب
--------------------------------------------
বিভিন্ন মতভেদপূর্ণ মাসআলা (مسائل)।
শাখা মাসআলাগুলোকে (فروع) তাদের মূলনীতির (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় কিতাবের কর্মপদ্ধতি এবং তাদের ফলাফলগত কিছু পার্থক্যের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
ইমাম দাব্বুসির নিকট মূল লক্ষ্য ছিল: সাধারণত যেসব মূলনীতির (أصول) দিকে মতভেদগুলো ফিরে যায় তা বর্ণনা করা। তিনি ফিকহের অধ্যায়গুলো এমনভাবে অনুসরণ করতে বাধ্য ছিলেন না যাতে শাখা মাসআলাগুলোর (فروع) বিন্যাসকে মূলনীতির (أصول) ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বরং তার মূল কাজ ছিল এমন মূলনীতি (أصل) উপস্থাপন করা যার ওপর ভিত্তি করে মতভেদ সৃষ্টি হয়, অতঃপর সেই মূলনীতি থেকে উদ্ভূত কিছু শাখা মাসআলার (فروع) উদাহরণ পেশ করা। তিনি এই মাসআলাগুলো ফিকহের কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতেন না; ফলে সেগুলো একই বিষয়ের কাছাকাছি হতে পারত অথবা বিভিন্ন অধ্যায় থেকেও হতে পারত।
হানাফি এবং শাফেয়ি মাজহাবের মধ্যকার মতভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে এসেছে: আমাদের নিকট মূলনীতি (أصل) হলো, প্রতিটি কাজ যা একটি নির্দিষ্ট পন্থায় আদায় করা আবশ্যক হয়, তা যেভাবেই আদায় হোক না কেন, তা আদায়যোগ্য পন্থা হিসেবেই গণ্য হবে; যেমন আমানত (وديعة) ফেরত দেওয়া এবং জোরপূর্বক দখলকৃত (غصب) বস্তু ফিরিয়ে দেওয়া।
এর ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা (مسائل) রয়েছে, তন্মধ্যে:
1 - যে ব্যক্তি রমজান মাসে নফল (نفل) নিয়তে অথবা অস্পষ্ট নিয়তে রোজা রাখল, তা তার ফরজ (فرض) আদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে।
2 - যে ব্যক্তি ফরজ (فرض) নামাজে নফল (نفل) নিয়তে সিজদা করল, তা ফরজ (فرض) হিসেবেই গণ্য হবে।
3 - যদি কোনো নারী কবজা করার পূর্বেই তার মোহরানা স্বামীকে দান করে দেয় এবং স্বামী মিলনের পূর্বেই তাকে তালাক দেয়, তবে ইস্তাহসান (استحسان) অনুযায়ী তার ওপর কোনো কিছু বর্তাবে না; কিন্তু কিয়াস (قيাস) অনুযায়ী স্বামী তার কাছ থেকে মোহরানার অর্ধেক ফেরত পাবে।
4 - কেউ যদি কোনো খাদ্যদ্রব্য জোরপূর্বক দখল (غصب) করে এবং পরে যার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছিল তাকেই তা খাওয়ায়, তবে সে জামানত (ضمان) থেকে দায়মুক্ত হবে।
এগুলো ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ের চারটি মাসআলা (مسائل) যা একটি মাত্র মূলনীতির (أصل) সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে একত্রিত হয়েছে।
পক্ষান্তরে ইমাম জানজানি: তার পদ্ধতি ছিল—যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে—ফিকহি অধ্যায়গুলোর (أبواب) ধারাক্রম অনুসরণ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفقه ملتزما تخريج فروعها على الأصول التي تنتمي إليها، ضمن حدود المذهبين الشافعي والحنفي.
فاذا كان المهم عند الدبوسي، أن تنسب المسائل المنثورة في أبواب الفقه المختلفة إلى الأصل الذي تفرعت عنه، إن الزنجاني يسلك المنهج الذي يؤدي إلى ضبط فروع الكتاب او الباب الفقهي بضوابط من الاصول أو قواعد الفقه بحيث تصبح الفروع منتظمة في سلك يردها مجتمعة أو على انفراد لتنطوي كلها تحت ذلك الكتاب أو الباب الذي كان عنوان تلك الفروع.
لذا فقد تنتمي الجزئيات ضمن الباب الفقهي الى عدة ضوابط، ولكنها - إلا في النادر - تخرج عن انتسابها الى ذلك الباب.
وهكذا نجد انفسنا أمام محاولة لضبط فروع الفقه في المذهبين من جهة والتزام خط متساوق مع تقسيمات الفقهاء من جهة ثانية، ومحتوى كتاب التخريج أمثلة لما نقول.
ثم ان الزنجاني قد أكثر من مسائل اصول الفقه بينما لم يأت الدبوسي إلا بعدد يسير منها (ص 77، 64، 55، 47، 28).
وبعد ذلك: فإن الدبوسي لا يعني بتحرير مسألة الاصول او القاعدة الفقهية من ناحية الاحتجاج لها وتأييد المعنى الذي قامت عليه، بل يكتفي - إلا على الندرة - بايراد تلك المسألة، أو القاعدة وكأنه يعتبرها من المسلمات، وعلى العكس من ذلك صنيع الزنجاني.
***
أما بعد الزنجاني: فلم نجد من سلك سبيله في الجمع عند ضبط المسائل بين مسائل الاصول وقوانين الفروع - على حد تعبيره - وإنما كان العلماء على فريقين.
ফিকহশাস্ত্রের শাখাগুলোকে (فروع) যে মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত সেগুলোর ভিত্তিতে আহরণ (تخريج) করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, যা শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবদ্বয়ের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সুতরাং দাবুসীর নিকট যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হলো ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে থাকা মাসআলাগুলোকে (المسائل) সেই মূলনীতির (الأصل) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যেখান থেকে সেগুলো শাখা হিসেবে নির্গত হয়েছে। পক্ষান্তরে যানজানি এমন একটি পদ্ধতি (المنهج) অবলম্বন করেন যা কোনো কিতাব বা ফিকহী অধ্যায়ের শাখা বিষয়গুলোকে (فروع) উসূলের মানদণ্ড (ضوابط) বা ফিকহের নীতিমালার (قواعد الفقه) মাধ্যমে সুসংবদ্ধ করার দিকে নিয়ে যায়, যাতে শাখাগুলো (الفروع) এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যা সেগুলোকে একক বা সমষ্টিগতভাবে সেই কিতাব বা অধ্যায়ের অধীনে ফিরিয়ে নেয় যা ঐ শাখাগুলোর শিরোনাম ছিল।
তাই একটি ফিকহী অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত খুটিনাটি বিষয়গুলো (الجزئيات) একাধিক নিয়মের (ضوابط) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে বিরল (النادر) ক্ষেত্র ব্যতীত সেগুলো সেই নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সম্বন্ধের বাইরে যায় না।
এভাবে আমরা একদিকে উভয় মাযহাবের ফিকহী শাখাগুলোকে (فروع) সুসংবদ্ধ করার এবং অন্যদিকে ফকিহদের (الفقهاء) শ্রেণিবিভাগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ধারা বজায় রাখার প্রচেষ্টার সম্মুখীন হই; আর কিতাবুত তাখরিজের বিষয়বস্তু আমাদের এই বক্তব্যেরই উদাহরণ।
অতঃপর যানজানি উসূলে ফিকহের মাসআলাসমূহ (مسائل) অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দাবুসী সেগুলোর মাত্র সামান্য কিছু অংশ (পৃষ্ঠা ৭৭, ৬৪, ৫৫, ৪৭, ২৮) নিয়ে এসেছেন।
এরপর: দাবুসী উসূলের মাসআলা (مسألة الاصول) বা ফিকহী কায়েদাকে (القاعدة الفقهية) সপক্ষে দলিল (الاحتجاج) প্রদান এবং এর ভিত্তিগত অর্থকে সমর্থনের দিক থেকে সুবিন্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। বরং তিনি—অত্যন্ত বিরল (الندرة) ক্ষেত্র ব্যতীত—সেই মাসআলা বা কায়েদাকে এমনভাবে উপস্থাপনেই ক্ষান্ত হয়েছেন যেন তিনি সেগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ (المسلمات) বলে গণ্য করেন। পক্ষান্তরে যানজানির কর্মপদ্ধতি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
***
যানজানির পরবর্তী সময়ের কথা বলতে গেলে: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি মাসআলা সুসংবদ্ধ করার ক্ষেত্রে উসূলের মাসআলা (مسائل الاصول) এবং শাখা আইনের (قوانين الفروع) —তাঁর বর্ণনানুসারে— সমন্বয় সাধনে তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন। বরং আলেমগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الأول - أولئك الذين ضبطوا الفروع عن طريق القواعد وذلك مانراه عند من كتبوا في قواعد الفقه - أو الأشباه والنظائر أو الفروق بدءا من العز بن عبد السلام المتوفى سنة 660 هـ الى عبد الوهاب الشعراني المتوفى سنة 938 هـ الذي ألف كتابا أسماه «المقاصد السنية في القواعد الشرعية» - مخطوط اختصر فيه «قواعد الزكشي» - مخطوط -.
وآخر ما اطلعنا عليه في هذا الباب «الفرائد البهية في القواعد الفقهية» للسيد محمود حمزة مفتي دمشق المتوفى سنة 305 هـ طبع دمشق سنة 1928.
الثاني - أولئك الذين حاولوا تحرير مسائل الاصول فقط، وبيان ما يمكن أن يتفرع عليها من مسائل الفقه، كالذي نراه عند الإسنوي الشافعي المتوفى سنة 772 هـ في كتابه الذي سماه «التمهيد في استخراج المسائل الفروعية من القواعد الأصولية» فمثلا أتى بمسألة «العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب» وبعد أن حررها جاء لها بفرعين من مبحثي العرايا وحكم السلام
(1). ولأحد الشيعة كتاب أسماه «كشف الفوائد من تمهيد القواعد» في أصول الشيعة الإمامية - مخطوط - ذكر في مقدمته - وهو غير معروف الاسم -
(2) انه ألفه في تخريج الفروع على الأصول وفق تمهيد الإسنوي، وفي ذيله رسالة تفهرس للمسائل حسب أبواب الفقه وقد فرغ من تأليفه سنة 968 هـ.
على طريقة الإسنوي ألف محمد بن عبد الله التمرتاشي الحنفي سنة 1004 هـ كتابا أسماه «الوصول إلى قواعد الأصول» - مخطوط - وذكر في مقدمته انه سار به سيرة الإسنوي في التمهيد، فمثلا بعد أن أتى بمسألة «ان الحكم إذا أضيف الى مسمى خاص او علق بشرط خاص لم يكن دليلا على نفي الحكم
--------------------------------------------
প্রথম—যাঁরা মূলনীতিসমূহের (القواعد) মাধ্যমে শাখা-প্রশাখাগুলোকে (الفروع) সুসংবদ্ধ করেছেন। এটি আমরা তাঁদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি যাঁরা ফিকহী মূলনীতি (قواعد الفقه), অথবা আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির কিংবা আল-ফুরুক বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন; যা শুরু হয়েছে হিজরি ৬৬০ সনে ইন্তেকালকারী ইয বিন আবদুস সালাম থেকে হিজরি ৯৩৮ সনে ইন্তেকালকারী আবদুল ওয়াহাব আশ-শা'রানি পর্যন্ত, যিনি «আল-মাকাসিদ আস-সানিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদ আশ-শারইয়্যাহ» নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এটি একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط), যাতে তিনি «কাওয়াইদ আল-যারকাশী»-কে সংক্ষিপ্ত করেছেন—যা একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط)।
এই পরিচ্ছেদে আমাদের দৃষ্টিতে আসা সর্বশেষ গ্রন্থটি হলো দামেস্কের মুফতি সাইয়্যিদ মাহমুদ হামযা (মৃত্যু: ৩০৫ হি.)-এর রচিত «আল-ফারায়িদ আল-বাহিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ», যা ১৯২৮ সালে দামেস্কে মুদ্রিত হয়েছে।
দ্বিতীয়—যাঁরা শুধুমাত্র উসুলের (الأصول) মাসআলাসমূহ (مسائل) বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর ফিকহের যে শাখা-প্রশাখাগুলো (الفروع) বিন্যস্ত হতে পারে তা স্পষ্ট করেছেন। যেমনটি আমরা হিজরি ৭৭২ সনে ইন্তেকালকারী আল-ইসনাওয়ী আশ-শাফিয়ী-এর গ্রন্থে দেখতে পাই, যার নাম তিনি দিয়েছেন «আত-তামহিদ ফি ইস্তিখরাজ আল-মাসাইল আল-ফুরুইয়্যাহ মিন আল-কাওয়াইদ আল-উসুলিয়্যাহ»। উদাহরণস্বরূপ, তিনি একটি মাসআলা (مسألة) উপস্থাপন করেছেন: «বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের (اللفظ) ব্যাপকতা (عموم), কারণের (السبب) বিশেষত্ব (خصوص) নয়»; এবং এটি বিশ্লেষণ করার পর তিনি 'আরায়া' এবং 'সালাম'-এর বিধান (حكم) সম্পর্কিত আলোচনা থেকে এর অধীনে দুটি শাখা-প্রশাখা (فرعين) নিয়ে এসেছেন
(১)। জনৈক শিয়া লেখকেরও ইমামিয়া শিয়াদের উসুল (أصول) বিষয়ে একটি গ্রন্থ আছে যার নাম «কাশফ আল-ফাওয়াইদ মিন তামহিদ আল-কাওয়াইদ»—এটি একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط)। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—যদিও তাঁর নাম অজ্ঞাত—
(২) যে তিনি আল-ইসনাওয়ীর 'তামহিদ'-এর অনুসরণে উসুলের (الأصول) ওপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখাগুলোর আহরণ (تخريج) নিয়ে এটি রচনা করেছেন। এর পরিশিষ্টে একটি রিসালাহ আছে যা ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী মাসআলাসমূহের (المسائل) নির্ঘণ্ট প্রদান করে এবং ৯৬৮ হিজরিতে তিনি এটি রচনা সমাপ্ত করেন।
আল-ইসনাওয়ীর পদ্ধতিতে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আত-তিমুরতাশি আল-হানাফি ১০০৪ হিজরিতে «আল-উসুল ইলা কাওয়াইদ আল-উসুল» নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন—যা পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে আছে। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে 'তামহিদ'-এ আল-ইসনাওয়ীর পথ অনুসরণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, এই মাসআলাটি (مسألة) উপস্থাপনের পর যে: «যখন কোনো বিধান (الحكم) নির্দিষ্ট কোনো নাম বা শর্তের সাথে যুক্ত হয়, তখন সেটি উক্ত বিধানটিকে (الحكم) অস্বীকার করার দলিল হিসেবে গণ্য হয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
عند عدم الوصف أو الشرط، فرع عليها عددا من المسائل منها: جواز نكاح الأمة عند طول الحرة.
وان المبتوتة تستحق النفقة وإن كانت غير حامل.
وان الزنى يوجب حرمة المصاهرة.
النسختان المخطوطتان وعملنا في التحقيق:بعد اطلاعي على مخطوطة الكتاب في دار الكتب المصرية، وعزمي على تحقيقه حاولت جاهدا التفتيش في مظان وجود المخطوطات سواء فى البلاد العربية أو في غيرها، لعلي أجد له نسخا أخرى من اجل المقارنة - فلم اضفر إلا بنسخة مكتبة الأزهر - وعبثا جددت المحاولة والاتصال والكني لم أقف على جديد.
وهكذا كان بين يدي للعمل نسختان فقط.
الأولى - نسخة دار الكتب وقد رمزت لها بالحرف [د].
الثانية - نسخة الأزهر وقد رمزت لها بالحرف [ز].
وتقع نسخة دار الكتب في (93) ورقة من القطع الصغير، مكتوبة بخط عادي في القرن التاسع حيث تمت كتابتها - كما ذكر في آخرها - سنة 818 هـ.
ولم يختلف الخط من بدء مقدمة المؤلف حتى آخر الكتاب، غير ان ورقة واحدة قبل المقدمة - وعليها اسم الكتاب ونبذة مختصرة من ترجمة المؤلف - جاء بخط مختلف بعض الشيء.
أما نسخة الأزهر: فتقع في (55) ورقة من القطع الصغير ضمن مجموعة في مجلد بخطوط مختلفة، بها خروم. ومسطرتها مختلفة من ورقة 163 الى 318 والخروم تقع في ثلاثة مواضع وجاءت في المطبوعة كما يلي:
الاول - يبدأ من (ص 59) عند الكلام على مسألة المباح وينتهي في (ص 80) أول مسألة الصلح على الانكار.
الثاني - يبدأ من (ص 82) في مسألة قول الصحابي وينتهي في (ص 87) بمسألة الايجاب والقبول.
الثالث - يبدأ من (ص 137) في مسألة الإشهاد على النكاح وينتهي في
যখন কোনো বৈশিষ্ট্য বা শর্ত বিদ্যমান না থাকে, তখন তিনি এর ওপর ভিত্তি করে বেশ কিছু মাসআলাহ (বিধান) আহরণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: স্বাধীন নারী সত্ত্বে দাসীকে বিবাহের বৈধতা।
এবং তিন তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারী খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য, এমনকি সে গর্ভবতী না হলেও।
এবং ব্যভিচার বৈবাহিক আত্মীয়তার নিষিদ্ধতা (حرمة المصاهرة) সাব্যস্ত করে।
পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) দুটি এবং সম্পাদনায় (تحقيق) আমাদের কর্মপদ্ধতি:‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-তে সংরক্ষিত এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর এবং এটি সম্পাদনা (تحقيق) করার সংকল্প করার পর, আমি আরব দেশ বা এর বাইরে অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) খোঁজার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন তুলনামূলক পর্যালোচনার জন্য আরও কোনো কপি পাওয়া যায়। কিন্তু আমি আল-আজহার লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিটি ছাড়া আর কিছুই সংগ্রহ করতে পারিনি। বারবার চেষ্টা এবং যোগাযোগ করা সত্ত্বেও নতুন কোনো কপির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এভাবে আমার কাজের জন্য কেবল দুটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) হস্তগত হয়েছিল।
প্রথমটি - দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি, যেটিকে আমি [د] প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়টি - আল-আজহারের পাণ্ডুলিপি, যেটিকে আমি [ز] প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপিটি ৯৩টি ছোট আকারের পৃষ্ঠায় (ورقة) সমাপ্ত। এটি নবম হিজরি শতকে সাধারণ হস্তলিপিতে লিখিত, যা পাণ্ডুলিপির শেষে উল্লিখিত তথ্যমতে ৮১৮ হিজরিতে সম্পন্ন হয়েছে।
লেখকের ভূমিকা (مقدمة) থেকে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত হস্তলিপিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি; তবে ভূমিকার আগের একটি পৃষ্ঠা—যেখানে বইটির নাম এবং লেখকের জীবনীর (ترجمة) সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে—তার হস্তলিপি কিছুটা ভিন্ন।
আল-আজহারের পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে: এটি বিভিন্ন হস্তলিপিতে লিখিত একটি সংকলনের (مجموعة) অন্তর্ভুক্ত ৫৫টি ছোট আকারের পৃষ্ঠায় (ورقة) সমাপ্ত এবং এতে কিছু ছেঁড়া বা অস্পষ্ট অংশ (خروم) রয়েছে। এর লাইনের বিন্যাস ১৬৩ থেকে ৩১৮ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন। এর ছেঁড়া অংশগুলো তিনটি স্থানে রয়েছে, যা মুদ্রিত কপিতে নিম্নরূপ দেখা যায়:
প্রথমটি - পৃষ্ঠা ৫৯-এ ‘বৈধ’ (مباح) সংক্রান্ত মাসআলাহর আলোচনা থেকে শুরু হয়েছে এবং পৃষ্ঠা ৮০-তে ‘অস্বীকৃতিমূলক আপোষ’ (الصلح على الإنكار) সংক্রান্ত মাসআলাহর প্রারম্ভে শেষ হয়েছে।
দ্বিতীয়টি - পৃষ্ঠা ৮২-তে ‘সাহাবীর উক্তি’ (قول الصحابي) সংক্রান্ত মাসআলাহ থেকে শুরু হয়েছে এবং পৃষ্ঠা ৮৭-তে ‘প্রস্তাব ও গ্রহণ’ (الإيجاب والقبول) সংক্রান্ত মাসআলাহতে শেষ হয়েছে।
তৃতীয়টি - পৃষ্ঠা ১৩৭-এ ‘বিবাহের সাক্ষ্য প্রদান’ (الإشهاد على النكاح) সংক্রান্ত মাসআলাহ থেকে শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(ص 166) عند رأي الحنفية في المشترك.
وقد عنيت قبل كل شيء بتحرير النص لأقدم كلام المؤلف بأمانة الى القارئ وعلى الرغم من التصحيف الكثير وما يعترض من وهم الناسخين الى جانب النقص في نسخة الأزهر، فقد كانت المقارنة بين النسختين في الموجود، والعودة الى المصادر - إن لم تجد المقارنة - تحل الاشكال وتوضح المراد ولو بعد لأي وكثير من التنقيب
وقد اخترت نسخة دار الكتب لتكون الأصل في التحقيق لميزتها الاساسية وهي خلوها من الخروم؛ ولكن ذلك لم يمنع من أن تكون [ز] مستندا فيما قد يسد النقص أو يهدي الى الصواب، وقد حدث مثل هذا في أكثر من موطن وأشرنا اليه في الحاشية.
من ذلك ما وقع في احتجاج الحنفية لمسألة من مسائل الأمر أخذناه من [ز] وكان ساقطا من [د] (ص 58) وفي مسألة شهادة النساء حصل في [د] سقط من اول العبارة وفي [ز] سقط من آخرها وبجمع الكلام منهما استقامت العبارة (ص 137).
على أن في [ز] زيادات بعض الأحيان الأحيان رأيت اثباتها فى الصلب وأشرت إلى ذلك في الحاشية، كالذي حصل في جزء من مقدمة المؤلف (ص 2 - 3) وفي مسألة العموم وصيغته (ص 137).
وقيام الكتاب على التفريع دعاني الى ترقيم المسائل الكبرى منها والصغرى تسهيلا على القارئ اذ بدون ذلك لا يخلو الامر عن مشقة وعنت.
وحرصت على المخالفة بين الترقيمين ليتميز أحدهما عن الآخر، وجعلت المسألة دائما في بدء سطر جديد وكلمة «منها» التي تترد عند المؤلف حين التفريع رأيت من الفائدة إبرازها بخط أكثر وضوحا.
وفي عناوين المباحث صادف سقط في [د] وجدته في [ز] كما في «مسائل التيمم» ص 20، وفي ص 124 وجدنا زمرة من المسائل في موضع عنوانها بياض فأثبتنا لها عنوانا على طريقة المؤلف.
(পৃষ্ঠা ১৬৬) মুশ্তারাক বা একাধিক অর্থবোধক (المشترك) শব্দের ক্ষেত্রে হানাফী মতানুসারে।
আমি পাঠ্যটি সম্পাদনার (تحرير النص) ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি, যাতে গ্রন্থকারের বক্তব্য বিশ্বস্ততার সাথে পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপন করতে পারি। পাণ্ডুলিপিতে প্রচুর পরিমাণে শব্দের বিকৃতি (التصحيف) এবং অনুলিপিকারীদের বিভ্রান্তি (وهم) থাকা সত্ত্বেও, এবং আল-আজহার পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, বিদ্যমান কপিদ্বয়ের মধ্যে তুলনা এবং কোনো ক্ষেত্রে তুলনা সম্ভব না হলে মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করার মাধ্যমে জটিলতাগুলো নিরসন হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ স্পষ্ট হয়েছে, যদিও তা অর্জনে অনেক ধৈর্য ও ব্যাপক অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়েছে।
আমি 'দারুল কুতুব' পাণ্ডুলিপিটিকে সম্পাদনার (التحقيق) মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে, আর তা হলো এটি অসম্পূর্ণতা বা ছিদ্র থেকে মুক্ত। তবে এটি ঘাটতি পূরণ বা সঠিক পাঠে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে [যা] পাণ্ডুলিপিটিকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধা দেয়নি। অনেক স্থানেই এমনটি ঘটেছে এবং আমরা তা টীকায় (الحاشية) উল্লেখ করেছি।
এর মধ্যে একটি উদাহরণ হলো 'আমর' বা নির্দেশবাচক শব্দ (الأمر) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে হানাফীদের দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে; আমরা তা [যা] পাণ্ডুলিপি থেকে গ্রহণ করেছি কারণ তা [দাল] পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ (ساقطا) পড়েছিল (পৃষ্ঠা ৫৮)। এছাড়া নারীদের সাক্ষ্য প্রদান সংক্রান্ত মাসআলায় [দাল] পাণ্ডুলিপিতে বাক্যের শুরু থেকে কিছু অংশ বাদ (سقط) পড়েছিল এবং [যা] পাণ্ডুলিপিতে শেষ থেকে কিছু অংশ বাদ (سقط) পড়েছিল; উভয়টির সমন্বয়ে বক্তব্যটি সুসংগত হয়েছে (পৃষ্ঠা ১৩৭)।
তাছাড়া [যা] পাণ্ডুলিপিতে মাঝে মাঝে কিছু অতিরিক্ত অংশ পাওয়া গেছে যা আমি মূল পাঠে (الصلب) অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি এবং তা টীকায় (الحاشية) নির্দেশ করেছি। যেমনটি গ্রন্থকারের ভূমিকার একটি অংশে (পৃষ্ঠা ২-৩) এবং 'উমুম' বা ব্যাপকতা (العموم) ও এর গঠন সংক্রান্ত মাসআলায় (পৃষ্ঠা ১৩৭) ঘটেছে।
কিতাবটি শাখা-প্রশাখা নির্ণয় বা তাফরী (التفريع) ভিত্তিক হওয়ায় আমি বড় ও ছোট মাসআলাগুলোকে নম্বর প্রদান করেছি পাঠকের সুবিধার্থে, কারণ এটি ব্যতীত বিষয়টি শ্রমসাধ্য ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়াত।
আমি দুই ধরণের নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি যাতে একটি থেকে অন্যটি আলাদা করা যায়। আমি প্রতিটি মাসআলাকে সর্বদা নতুন লাইনের শুরুতে রেখেছি। আর শাখা-প্রশাখা বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখকের বারবার ব্যবহৃত 'মিনহা' (منها) শব্দটিকে আরও স্পষ্ট অক্ষরে ফুটিয়ে তোলা ফলপ্রসূ মনে করেছি।
আলোচনার শিরোনামগুলোর ক্ষেত্রে [দাল] পাণ্ডুলিপিতে কিছু পাঠচ্যুতি (سقط) ঘটেছিল যা আমি [যা] পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি, যেমনটি ২০ পৃষ্ঠার 'তায়াম্মুমের মাসআলা' এর শিরোনামের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আর ১২৪ পৃষ্ঠায় আমরা একগুচ্ছ মাসআলা পেয়েছি যেখানে শিরোনামের স্থানটি শূন্য ছিল, তাই আমরা গ্রন্থকারের পদ্ধতি অনুসরণ করে সেখানে একটি শিরোনাম নির্ধারণ করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وجاءت فروع الأحكام في اختلاف الدارين بدون عنوان إذ وجد بياض في [د] آخر كلمة من مسائل الصداق عند قول المؤلف «من غير كفؤ» وبين اول مبحث اختلاف الدارين وكانت هذه الصفحات ضمن الخرم الثالث في [ز] فرأينا أن نضع العنوان «مسائل اختلاف الدارين» ص 143.
وعلى زمرة من مسائل الرجعة في الطلاق وجدنا «كتاب الوصية» فاستبدلناه حرصا على التطابق والانسجام بين العنوان وفاتحته «بمسائل الرجعة» وأوضحنا ذلك في الحاشية هناك ص 154.
وفي شأن الهمزة رأيناها مسهلة على الغالب في وسط الكلمة كما في مسايل خايض
… فقطعناها تيسيرا للقارئ.
وقد التزمت نسخة [د] «كلمة رضي الله عنه» للشافعي و«رحمه الله» لأبي حنيفة ولم يلتزم ذلك في [ز] بالنسبة إلى أبي حنيفة بل كانت تستبدل «رحمه الله» احيانا ب «رضي الله عنه» فرأينا إثبات «رضي الله عنه» لكل من الإمامين رحمهما الله.
وفي الآيات الكريمة، كان طبيعيا أن تنسب الآية مرقمة إلى سورتها.
أما الحاديث: فقد عزوتها إلى دو اوينها من السنة وحرصت على الرجوع الى مظان علوم الحديث لا تثبت مماقاله الأئمة في قيمة هذه الأحاديث وتخريجها وكنت اذكر الروايات المتعددة على وجوهها إذا وجدت حاجة لذلك.
وإذ كانت مباحث المؤلف تشمل إلى جانب نصوص الآيات والأحاديث - مسائل أصول الفقه - والقواعد الفقهية وفروع الاحكام، كان لا بد من الرجوع قدر المستطاع إلى مظان ذلك كله في كتب التفسير والحديث - خصوصا ما يختص منها بنصوص الاحكام - وفي كتب أصول الفقه، ما كتب على طريقة المتكلمين، وما كتب على طريقة الحنفية - وفي كتب القواعد الفقهية والاشباه والنظائر وفي كتب الفروع في المذهبين، أو ما يعنى بالمقارنة وذكر الاختلاف
'ইখতিলাফুদ দারাইন' (দুই অঞ্চলের ভিন্নতা) সংক্রান্ত বিধানের শাখাগুলো কোনো শিরোনাম ছাড়াই এসেছে। কারণ পাণ্ডুলিপি [দ]-এ মোহর সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর শেষ শব্দ—যেখানে লেখক বলেছেন 'মান গায়রি কুফউন' (সমতাবিহীন)—এবং 'ইখতিলাফুদ দারাইন' এর প্রথম আলোচনার মধ্যবর্তী স্থানে একটি শূন্যস্থান পাওয়া গেছে। এই পৃষ্ঠাগুলো পাণ্ডুলিপি [য] এর তৃতীয় বিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই আমরা ১৪৩ পৃষ্ঠায় 'মাসায়িলু ইখতিলাফিদ দারাইন' (দুই অঞ্চলের ভিন্নতা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ) শিরোনামটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তালাকের ক্ষেত্রে 'রুজু' (প্রত্যাবর্তন) সংক্রান্ত একদল মাসআলার ওপর আমরা 'কিতাবুল ওসিয়্যাহ' (ওসিয়ত অধ্যায়) শিরোনামটি পেয়েছি। শিরোনাম এবং এর প্রারম্ভিক আলোচনার মধ্যে মিল ও সামঞ্জস্য বজায় রাখার স্বার্থে আমরা একে 'মাসায়িলুর রুজু' (রুজু সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ) দ্বারা পরিবর্তন করেছি এবং ১৫৪ পৃষ্ঠার পাদটীকায় তা স্পষ্ট করেছি।
হামজার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে, শব্দের মাঝখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে 'তাসহিল' বা সহজ করে লেখা হয়েছে, যেমন: 'মাসায়েল', 'খায়েয'
… ইত্যাদি। পাঠকের সুবিধার্থে আমরা একে যথাযথ রূপ (হামজাযুক্ত) প্রদান করেছি।
পাণ্ডুলিপি [দ]-এ ইমাম শাফিঈর জন্য 'রাযিয়াল্লাহু আনহু' এবং ইমাম আবু হানিফার জন্য 'রাহিমাহুল্লাহ' শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রক্ষা করা হয়েছে। তবে পাণ্ডুলিপি [য]-এ ইমাম আবু হানিফার ক্ষেত্রে তা মেনে চলা হয়নি; বরং কখনো কখনো 'রাহিমাহুল্লাহ'-এর পরিবর্তে 'রাযিয়াল্লাহু আনহু' ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আমরা উভয় ইমামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) ক্ষেত্রে 'রাযিয়াল্লাহু আনহু' শব্দটিকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পবিত্র আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আয়াতকে তার নির্দিষ্ট সূরার নাম ও নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছে।
আর হাদিসের ক্ষেত্রে: আমি হাদিসগুলোকে সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহের বরাতে উল্লেখ করেছি। এই হাদিসগুলোর মান ও তাখরিজ (تخريج) সম্পর্কে ইমামগণ যা বলেছেন, তা নিশ্চিত করার জন্য আমি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) উৎসগ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম। প্রয়োজন মনে করলে আমি বিভিন্ন বর্ণনার (روايات) রূপগুলোও উল্লেখ করেছি।
যেহেতু লেখকের গবেষণার পরিধি আয়াত ও হাদিসের বক্তব্যের পাশাপাশি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) এর মাসআলা, ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية) এবং বিধানের প্রায়োগিক শাখা (الفروع) গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাই সাধ্যানুযায়ী এই সবকিছুর মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক ছিল। এর মধ্যে রয়েছে তাফসির ও হাদিসের কিতাবসমূহ—বিশেষ করে যা বিধান সংশ্লিষ্ট—এবং উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহ; যার মধ্যে মুতাকাল্লিমিনদের পদ্ধতিতে (طريقة المتكلمين) লিখিত এবং হানাফি পদ্ধতিতে (طريقة الحنفية) লিখিত উভয় প্রকার গ্রন্থই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ফিকহি মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, যেমন আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির এবং উভয় মাযহাবের প্রায়োগিক শাখা (الفروع) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ অথবা তুলনামূলক ফিকহ ও মতপার্থক্য বিষয়ক গ্রন্থগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
في غيرهما، وقد ذكرت في الحاشية عند تحرير المسائل ما يجب ذكره وإيضاح الرأي فيه مغزوا إلى مراجعه، وما لم أر ضرورة لذكره أشرت إلى موطن بحثه من المراجع في الصفحة والكتاب.
على اني بعد هذا كله سأترك الإمام الزنجاني رحمه الله مع القارئ الذي ما أحسب إلا أنه من أسرة هذا النوع من علوم الاسلام، وعلى معرفة بالطريقة التي تصاغ عليها تعابير أولئك الأئمة في الأصول والفقه والقواعد، وكيف تدل العبارة على معناه وتؤدي الغرض الذي يريده المؤلفون، وان كان صاحبنا يتميز بمنهجية فريدة ألمحنا اليها من ذي قبل.
وإذا كنت التزمت هذه الطريق، فلأن تحقيق المخطوط في نظري ليس شرحا للكتاب، وإنما هو تقديم النص محققا بأمانة علمية، وعلم ما من شأنه خدمة هذا النص ووضعه أمام القارئ بشكل سليم ودقيق، أما الشرح: فله شأن آخر.
ولعل قادمات الايام تحمل من ملاحظات القراء والباحثين ما يساعد على استكمال ما يكون قد فاتني عمله، عسى أن نسهم مع العاملين في متابعة الطريق، طريق خدمة هذه الشريعة التي ما تزال مناهل أحكامها الخالدة على مر الزمن مخبوءة من الباحثين الذين يريدون لهذه الأمة أن تحقق ذاتها فتحتكم دائما إلى ما لديها من تشريع، غير غافلة عن الافادة من ثمرات التطور الحقوقي عند الآخرين، وأن تمد العالم - كما أمدته من قبل - بأعظم ثروة فقهية عرفها الانسان، والله الموفق وهو حسبنا ونعم الوكيل.
دمشق
في 15 من ذي الحجة 1381
الموافق 5/ 1962/19
এ দুটি ব্যতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে, আমি মাসআলাগুলো সম্পাদনার সময় পাদটীকায় প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট উৎসগুলোর বরাতে নিজস্ব অভিমত সুস্পষ্ট করেছি। আর যেসব বিষয় উল্লেখ করা আমি অপরিহার্য মনে করিনি, সেক্ষেত্রে মূল গ্রন্থের পৃষ্ঠা ও প্রাসঙ্গিক কিতাবের নাম উল্লেখ করে সেই আলোচনার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
এতসবের পর আমি ইমাম জানজানি (রহ.)-কে এমন একজন পাঠকের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি, যাকে আমি ইসলামের এই শাস্ত্রীয় ধারারই একজন সদস্য বলে মনে করি; যিনি মূলনীতি (أصول), ফিকহ (فقه) এবং মূলসূত্র (قواعد) বিষয়ক ওইসব ইমামদের ব্যবহৃত পরিভাষা এবং সেগুলোর প্রয়োগশৈলী সম্পর্কে সম্যক অবগত। পাঠক এও জানেন যে, কীভাবে একটি ইবারত বা বাক্য তার অর্থের ওপর দلالত করে এবং গ্রন্থকারদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করে; যদিও আমাদের আলোচ্য লেখক এক অনন্য পদ্ধতির অধিকারী, যার প্রতি আমি আগেই ইঙ্গিত করেছি।
আমি এই পথ অনুসরণ করেছি কারণ আমার দৃষ্টিতে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) মানে কোনো কিতাবের ব্যাখ্যা (شرح) করা নয়; বরং এটি হলো বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার সাথে একটি মূল পাঠকে সম্পাদিত আকারে উপস্থাপন করা এবং এমন জ্ঞান সরবরাহ করা যা এই পাঠটির সেবায় কাজে লাগে এবং পাঠকের সামনে একে নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে। আর ব্যাখ্যা (شرح)-এর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সম্ভবত আগত দিনগুলোতে পাঠক ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণগুলো আমার কাজের অসম্পূর্ণতা দূর করতে সহায়ক হবে। আশা করি, আমরা এই শরিয়ত (شريعة)-এর খিদমতের পথে অন্যান্য কর্মীদের সাথে অবদান রাখতে পারব, যার শাশ্বত বিধানের উৎসধারাগুলো গবেষকদের কাছে কালক্রমে এখনো প্রচ্ছন্ন রয়ে গেছে। যারা চান যে এই উম্মাহ নিজের আত্মপরিচয় খুঁজে পাক এবং সর্বদা নিজেদের শরয়ি বিধানের কাছেই ফয়সালা পেশ করুক; পাশাপাশি অন্যদের আইনি বিবর্তনের সুফল গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও বিমুখ না হোক এবং বিশ্বকে—আগের মতোই—মানুষের জানা শ্রেষ্ঠতম ফিকহ (فقه)-এর সম্পদে সমৃদ্ধ করুক। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
দামেস্ক
১৫ই জিলহজ ১৩৮১ হিজরি
মুতাবেক ১৯/৫/১৯৬২ ইংরেজি
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله الذي له ما في السموات والأرض وله الحمد في الآخرة وهو الحكيم الخبير، وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ومولانا محمد رسول الله وخاتم النبيين وعلى آله وصحابته ومن تبعهم باحسان إلى يوم الدين. وبعد:
فهذه هي الطبعة الثانية من كتاب «تخريج الفروع على الأصول» التي تخرج إلى النور بعد زمن من نفاد الطبعة الاولى وكانت عن نسختين مخطوطتين وإنما كان ذلك لأسباب خارجة عن إرادتي، وخيرة الله هي الخير.
والذي كان يدعوني إلى إعادة طبع الكتاب مع نفاد نسخة والسؤال عنه، ما لمست من رغبة من لا تسعني مخالفتهم وتقدير أهل الاختصاص لهذا المؤلف الذي أبدع صاحبه الزنجاني رحمه الله في تحقيق الغاية التي أرادها من بيان علاقة الفروع بالاصول والقواعد الفقهية، حتى كان التطابق كاملا بين العنوان والمضمون.
ولقد عنيت عدة جامعات بالكتاب وأقرته الجامعة الازهرية من سنين ليكون واحدا من الكتب المقررة في الدراسات العليا لطلابها.
ومن خلال التدريس والمعاناه، رأيت استكمالا لعناصر الإفادة من المؤلف ومنهج صاحبه رحمه الله، أن أعود إلى عملي في التحقيق من جديد، فأزيد
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা (مقدمة)সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আখিরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই; আর তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যিনি আল্লাহর রাসূল ও শেষ নবী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। এরপর:
এটি হলো ‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’ গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ, যা প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পর আলোর মুখ দেখছে। প্রথম সংস্করণটি দুটি পাণ্ডুলিপি (نسختين مخطوطتين)-র ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই বিলম্ব আমার ইচ্ছাধীন ছিল না, বরং কিছু অনিবার্য কারণে হয়েছে; আর আল্লাহর সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম।
প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাওয়া এবং এটি সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসার পাশাপাশি যাদের অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় তাদের আগ্রহ এবং এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে গ্রন্থটির মূল্যায়নের কারণে আমি এটি পুনর্মুদ্রণে উৎসাহিত হয়েছি। এর লেখক আজ-জানজানি (রহিমাহুল্লাহ) মূলনীতি (أصول) ও ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية)-র সাথে শাখা-প্রশাখা (فروع)-র সম্পর্ক বর্ণনার যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন, তা অর্জনে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা দেখিয়েছেন; ফলে বইটির শিরোনাম ও বিষয়বস্তুর মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য বজায় রয়েছে।
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এই বইটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক বছর আগেই তাদের উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য এটিকে নির্ধারিত পাঠ্যবই হিসেবে গ্রহণ করেছে।
দীর্ঘদিন পাঠদান ও এই বিষয়ের শ্রমসাধ্য গবেষণার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি অনুভব করেছি যে, গ্রন্থটি এবং এর লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) পদ্ধতি (منهج) থেকে উপকারের উপকরণগুলো পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমার সম্পাদনা (تحقيق)-র কাজে পুনরায় ফিরে যাওয়া প্রয়োজন, যাতে আমি আরও বৃদ্ধি করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكتاب في حواشيه ما تحصل لدي من استقصاء كامل لجميع القواعد الاصولية والقواعد الفقهية والاحكام التي تفرعت عن كل قاعدة وتحرير ذلك كله من مظانه الاولى وإثبات ذلك برقم الجزء والصفحة، مع الاشارة الى ما يمكن أن يكون من تخالف بين ما نص عليه المؤلف وبين الذي نراه في تلكالمظان من كتب الاصول وقواعد الفقه والفروع وخصوصا في شأن عزو قاعدة أصولية أو حكم فرعي للحنفية، أو الشافعية، أو للحنفية ويكون القول لبعض أثمتهم فقط.
والذين عانوا مثل هذه الأمور يعلمون كم يكلف تتبع القضايا في مظانها وتمحيصها بميزان لا يعول، من الجهد والوقت
… والله المستعان.
وكان اجتهادي في الطبعة الأولى أن أقتصر بعد تقديم النص بأمانة، على تحرير بعض المسائل وأدع للقارئ أن يعود للباقي في المظان التي ذكرتها له في الحواشي، ولكني وجدت بعد ذلك - وقد قرر الكتاب للدراسات العليا - في بعض الجامعات كما ذكرت، أن أعاون القارئ - على وجه العموم - والطالب على وجه الخصوص بهذا التتبع الشامل، وتمحيص القضايا تمحيصا يأخذ بيده - بجانب منهج الكتاب - إلى حيث الإسهام في أن تتكون عنده الملكة القادرة على رد الفروع إلى الأصول، وإدراك اثر الاختلاف في قواعد الاصول والفقه فيما كان من الفروع، والنسبة بين كل فرع وأصله، والإحاطة ببعض وجوه الاختلاف بين الأئمة إن وقع، خصوصا وان التطلع قائم في أوساطنا العلمية هنا وهناك الى معرفة طبيعة الصلة بين الأصول والفروع، وعدم النظر إلى الأحكام مبتورة عن مصادرها.
وبعد ذلك: تظلل واحدة من القضايا الكبرى التي يجليها الكتاب، إدراك العلاقة الطبيعية بين تحرير النصوص، وفقه النصوص، والنسب الواضح بين مناهج الاستنباط عند العلماء، وبين ما أثمر ذلك من أحكام.
وفي تقديري: أن العناية بهذا الطراز من البحث «تخريج الفروع على لأصول» صنيع الزنجاني أجزل الله مثوبته تسهم في ردم فجوة موهومة أو
এই গ্রন্থের টীকাগুলোতে আমি উসুল সংক্রান্ত মূলনীতি (القواعد الأصولية), ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) এবং প্রতিটি মূলনীতি থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ (الأحكام)-এর একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের নির্যাস সংকলন করেছি। এই সবকিছুকে তাদের মূল উৎস থেকে যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে লেখক যা বর্ণনা করেছেন এবং উসুল, ফিকহী মূলনীতি ও শাখা মাসআলার মূল গ্রন্থগুলোতে যা পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈপরীত্যের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে; বিশেষ করে কোনো উসুল সংক্রান্ত মূলনীতি (القواعد الأصولية) বা শাখা বিধান (حكم فرعي)-কে হানাফী বা শাফিয়ী মাযহাবের দিকে নিসবত করার ক্ষেত্রে, অথবা হানাফীদের দিকে নিসবত করা হয়েছে অথচ সেটি কেবল তাদের কোনো কোনো ইমামের বক্তব্য মাত্র।
যারা এই ধরণের বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তারা জানেন যে, বিষয়গুলোকে তাদের মূল উৎস থেকে অনুসন্ধান করা এবং একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ডের মাধ্যমে সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করা কতটা শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার
… আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।
প্রথম সংস্করণে আমার প্রচেষ্টা ছিল মূল পাঠ্যটি আমানতদারিতার সাথে উপস্থাপনের পর কেবল কিছু মাসআলা বিশ্লেষণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং বাকি বিষয়গুলো মূল উৎস থেকে দেখে নেওয়ার ভার পাঠকের ওপর ছেড়ে দেওয়া, যার উল্লেখ আমি টীকাগুলোতে করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখলাম যে—ইতিমধ্যেই আমি উল্লেখ করেছি—বইটি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তখন আমি সাধারণ পাঠক এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য হলো বইটির পাঠদান পদ্ধতির পাশাপাশি পাঠকের মাঝে এমন এক যোগ্যতা (الملكة) তৈরি করতে সাহায্য করা, যা শাখা বিষয়াদিকে (الفروع) মূলনীতির (الأصول) দিকে প্রত্যাবর্তন করাতে সক্ষম হয়। এছাড়া উসুল ও ফিকহী মূলনীতির পার্থক্যের ফলে শাখা মাসআলাগুলোতে যে প্রভাব পড়ে তা অনুধাবন করা, প্রতিটি শাখা মাসআলার সাথে তার মূলনীতির সম্পর্ক বোঝা এবং ইমামদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য থাকলে তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হওয়া। বিশেষ করে যখন আমাদের বর্তমান ইলমী অঙ্গনে উসুল ও শাখা মাসআলার (الفروع) মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি জানার এবং বিধানসমূহকে (الأحكام) তাদের উৎস থেকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখার একটি আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান রয়েছে।
অতঃপর: এই বইটি যে বড় বড় বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পাঠ্য বিশ্লেষণ এবং পাঠ্যের সঠিক ফিকহ বা অনুধাবনের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ক অনুধাবন করা। সেই সাথে ওলামায়ে কেরামের মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতি (مناهج الاستنباط) এবং তার ফলে অর্জিত বিধানসমূহ (الأحكام)-এর মধ্যকার সুস্পষ্ট যোগসূত্র অনুধাবন করা।
আমার বিবেচনায়: গবেষণার এই বিশেষ ধারা—অর্থাৎ 'মূলনীতির ভিত্তিতে শাখা মাসআলা উদ্ভাবন' (تخريج الفروع على لأصول)—এর প্রতি যত্নশীল হওয়া, যা জানজানী করেছেন (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন), তা একটি কাল্পনিক শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখে অথবা
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
غير موهومة بين من تغلب عليهم العناية بسند النص ومن تغلب عليهم العناية بفقهه وينشأ عن ذلك ما ينشأ من تباعد وجهات النظر في بعض الأحيان.
وأخيرا: إن النظرة الموضوعية للمناهج التي قام عليها الاستنباط، والقواعد الفقهية التي حررها العلماء، ووضع كل من النص وفقهه موضعه تصل بنا - مع العمل الجاد - إلى نتائج طيبة في هذه السبيل إن شاء الله، ليس أقلها أن يكون النص في نظرنا هو المتبوع لا التابع، وأن يكون عمل أئمة الهدى رحمهم الله فيما استنبطوا من الكتاب والسنة
… بحسبان. وأن تستبين مدلولات كل من الاجتهاد والاتباع والتقليد.
وإنى تارك للقارئ الكريم - كما ذكرت في الطبعة الأولى - أن يعيش مع المؤلف فكل ما فيه أمثلة للذي أشرت إليه في صدر هذا الكلام. وقد زودت الكتاب بمجموعة من الفهارس كانت للآيات والاحاديث والاعلام، والقواعد الاصولية، والقواعد الفقهية كل على حدة، وللأحكام الفرعية، ثم لموضوعات الكتاب بوجه عام. وأرجو أن يكون ما قدمته من بحث وتعليق في سبيل أن تتحقق الفائدة من «تخريج الفروع على الأصول» على خير ما أؤمل، زلفاي إلى مرضاة الله عز وجل فإن عطاءه هو العطاء. وما يكون من تقصير بعد ذلك فهو من نفسي. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
دمشق 4 من جمادى الأولى 1398
12 من نيسان 1978
محمد أديب صالح
--------------------------------------------
এটি মোটেও কাল্পনিক বিষয় নয় তাদের মাঝে যাদের কাছে পাঠ্যের সনদের (سند) প্রতি গুরুত্ব প্রদান প্রবল এবং যাদের কাছে পাঠ্যের ফিকহ বা মর্মার্থের প্রতি গুরুত্ব প্রদান প্রবল; আর এ থেকেই মাঝে মাঝে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে: ইস্তিনবাত বা মাসআলা আহরণের (استنباط) ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মানহাজ বা পদ্ধতিগুলোর প্রতি বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, উলামায়ে কেরাম কর্তৃক সম্পাদিত ফিকহি মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) এবং নস ও এর ফিকহ উভয়কে নিজ নিজ স্থানে রাখা—কঠোর পরিশ্রমের সাথে—আমাদের এই পথে উত্তম ফলাফলের দিকে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এর অন্যতম দিক হলো আমাদের দৃষ্টিতে নস হবে অনুসরণীয়, অনুসারী নয়; আর হিদায়াতের ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যা ইস্তিনবাত বা আহরণ (استنباط) করেছেন তা যথাযথ বিবেচনায় রাখা। এছাড়া ইজতিহাদ (اجتهاد), ইত্তিবা (اتباع) এবং তাকলিদ (تقليد)-এর তাৎপর্যগুলো স্পষ্ট হওয়া।
আমি সম্মানিত পাঠকের জন্য ছেড়ে দিচ্ছি—যেমনটি আমি প্রথম সংস্করণে উল্লেখ করেছিলাম—মূল লেখকের সাথে অবগাহন করতে, কারণ এতে থাকা সবকিছুই আমার বক্তব্যের শুরুতে নির্দেশিত বিষয়ের উদাহরণ। আমি বইটিতে একগুচ্ছ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যার মধ্যে রয়েছে আয়াত, হাদিস, ব্যক্তি পরিচিতি, উসুলি মূলনীতি (القواعد الأصولية) এবং ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية)—প্রতিটি পৃথকভাবে; এছাড়া রয়েছে শাখা বিধানসমূহ এবং সবশেষে বইটির সাধারণ বিষয়াবলি। আমি আশা করি, 'তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল' থেকে কাঙ্ক্ষিত ফায়দা অর্জনের পথে আমার উপস্থাপিত গবেষণা ও টীকাগুলো সহায়ক হবে, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অসিলা হবে; কারণ তাঁর দানই প্রকৃত দান। এরপরও যদি কোনো ত্রুটি থাকে তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে। আমাদের শেষ আহ্বান হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দামেস্ক, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৩৯৮
১২ এপ্রিল ১৯৭৮
মুহাম্মদ আদিব সালিহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أودع أسرار الهيبة صدور أوليائه وخص بلطائف حكمته المصطفين من علمائه والصلاة على خيرته من خلقه محمد سيد أنبيائه صلاة دائمة دوام أرضه وسمائه وبعد فإن الواجب على كل خائض في علم من العلوم أن يحيط علما كليا بموضوع ذلك العلم وغايته التي ينتهي إليها ليجد من نفسه باعثا على النظر فيه وموضوع علم الفقه هو أفعال العباد وحقيقته تهذيبات دينية وسياسات شرعية شرعت لمصالح العباد إما في معادهم كأبواب العبادات أو في معاشهم كأبواب البياعات والمناكحات وأحكام الجنايات وهو المقصد الأقصى في إبتعاث
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ওলিগণের অন্তরে গাম্ভীর্যের রহস্যসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন এবং তাঁর আলেমদের মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তিদের স্বীয় হিকমতের সূক্ষ্ম নিগূঢ় রহস্যসমূহ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, আম্বিয়াগণের সর্দার মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর; এমন দরুদ যা আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত চিরস্থায়ী হবে। অতঃপর, যেকোনো বিদ্যায় মনোনিবেশকারীর জন্য আবশ্যক হলো সেই বিদ্যার বিষয়বস্তু এবং তার চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে একটি সামগ্রিক জ্ঞান রাখা, যাতে সে সেই বিষয়ে নিবিড় গবেষণার এক বিশেষ প্রেরণা খুঁজে পায়। আর ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো বান্দাদের কার্যাবলি এবং এর প্রকৃত স্বরূপ হলো দ্বীনি সংস্কার ও শরয়ি নীতিমালা, যা বান্দাদের কল্যাণের জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; চাই তা তাদের পরকালীন মুক্তির বিষয়ে হোক—যেমন ইবাদতের অধ্যায়সমূহ, অথবা তাদের ইহকালীন জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে হোক—যেমন ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং দণ্ডবিধির অধ্যায়সমূহ। আর এটিই হলো (রাসূলগণের) প্রেরণের মূল লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المرسلين صلى الله عليهم أجمعين فإنهم لم يبعثوا إلا لتعريف العباد أحكام هذه الأفعال من الحلال والحرام والواجب والمندوب والمكروه والمباح ليتوصلوا بتهذيبها إلى العلم بالله تعالى وملائكته وكتبه ورسله والأدلة التي يستفاد بها هذه الأحكام هي التي تسمى أصول الفقه ثم لا يخفى عليك أن الفروع إنما تبنى على الأصول وأن من لا يفهم كيفية الاستنباط ولا يهتدي إلى وجه الارتباط بين أحكام الفروع وأداتها التي هي أصول الفقه لا يتسع له المجال ولا يمكنه التفريع عليها بحال فإن المسائل الفرعية على أتساعها وبعد غاياتها لها أصول معلومة وأوضاع منظومة ومن لم يعرف أصولها لم يحط بها علما وحيث لم أر أحدا من العلماء الماضين والفقهاء المتقدمين تصدى لحيازة هذا المقصود بل استقل علماء الأصول بذكر الأصول المجردة
রাসূলগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; তাঁদেরকে কেবল বান্দাদের কার্যাবলীর বিধানসমূহ তথা হালাল (حلال), হারাম (حرام), ওয়াজিব (واجب), পছন্দনীয় (مندوب), অপছন্দনীয় (مكروه) এবং বৈধ (مباح) সম্পর্কে অবগত করার জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে তারা এই কাজগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের পরিচয় লাভে সক্ষম হতে পারে। আর যে সকল দলিল বা প্রমাণের মাধ্যমে এই বিধানগুলো লাভ করা যায়, সেগুলোকে ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বলা হয়। অতঃপর আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, শাখাগত বিষয়সমূহ (الفروع) মূলত মূলনীতিসমূহের (الأصول) ওপরই ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যে ব্যক্তি বিধান আহরণ পদ্ধতি (الاستنباط) বোঝে না এবং শাখাগত বিধান ও সেগুলোর উপকরণের—যা মূলত ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)—মধ্যেকার সম্পর্কের ধরন সম্পর্কে অবগত নয়, তার জন্য গবেষণার ক্ষেত্র প্রশস্ত হয় না এবং কোনো অবস্থাতেই তার পক্ষে মূলনীতি থেকে শাখা বের করা (التفريع) সম্ভব নয়। কেননা শাখাগত মাসআলাসমূহ (المسائل الفرعية) তার ব্যাপকতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও তার সুনির্দিষ্ট মূলনীতি ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এগুলোর মূলনীতি সম্পর্কে অবগত নয়, সে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ করতে পারে না। যেহেতু আমি অতীত ও পূর্ববর্তী ফকিহগণের কাউকেই এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আত্মনিয়োগ করতে দেখিনি, বরং উসুল শাস্ত্রবিদগণ (علماء الأصول) কেবলমাত্র বিমূর্ত মূলনীতিসমূহ (الأصول المجردة) বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وعلماء الفروع بنقل المسائل المبددة من غير تنبيه على كيفية استنادها إلى تلك الأصول أحببت أن أتحف ذوي التحقيق من المناظرين بما يسر الناظرين فحررت هذا الكتاب كاشفا عن النبأ اليقين فذللت فيه مباحث المجتهدين وشفيت غليل المسترشدين فبدأت بالمسألة الأصولية التي ترد إليها الفروع في كل قاعدة وضمنتها ذكر الحجة الأصولية من الجانبين ثم رددت الفروع الناشئة منها إليها فتحرر الكتاب مع صغر حجمه حاويا لقواعد الأصول جامعا لقوانين الفروع واقتصرت على ذكر المسائل التي تشتمل عليها تعاليق الخلاف روما للاختصار وجعلت ما ذكرته أنموذجا لما لم أذكره ودليلا على الذي لا تراه من الذي ترى ووسمته بتخريج الفروع على الأصول تطبيقا للاسم على المعنى وتقربت به إلى من
এবং ফিকহ শাস্ত্রের শাখা মাসআলা (فروع) বিশেষজ্ঞ আলেমগণ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মাসআলাসমূহ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সেগুলো কীভাবে ঐ সকল মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত প্রদান করা ছাড়াই তা বর্ণনা করেন। তাই আমি বিতর্কবিদদের মধ্য থেকে যারা গবেষক, তাদেরকে এমন কিছু উপহার দিতে চেয়েছি যা পাঠকদের দৃষ্টিকে তৃপ্ত করবে। ফলে আমি এই কিতাবটি অকাট্য সংবাদ উন্মোচনের উদ্দেশ্যে পরিমার্জিতভাবে রচনা করেছি, এতে আমি মুজতাহিদগণের (مجتهدين) গবেষণার বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করেছি এবং সত্যানুসন্ধানীদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছি। আমি প্রতিটি মূলসূত্রের (قاعدة) ক্ষেত্রে সেই মৌলিক মাসআলা (أصولية) দিয়ে শুরু করেছি যার দিকে শাখা মাসআলাগুলো (فروع) প্রত্যাবর্তন করে, এবং এতে উভয় পক্ষের উসূলী দলিল (حجة أصولية) উল্লেখ করেছি। এরপর আমি এ থেকে উদ্ভূত শাখা মাসআলাগুলোকে (فروع) পুনরায় সেই মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি। ফলে কিতাবটি কলেবরে ছোট হওয়া সত্ত্বেও উসূলের মূলনীতি (قواعد الأصول) এবং ফুরু’র বিধানাবলিকে (قوانين الفروع) সুসংবদ্ধভাবে ধারণকারী হিসেবে প্রস্তুত হয়েছে। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি কেবল সেই মাসআলাগুলো উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা মতপার্থক্যমূলক টীকা (تعاليق الخلاف) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি যা উল্লেখ করেছি তাকে অনুল্লেখিত বিষয়ের জন্য নমুনা এবং যা প্রত্যক্ষ করা যায় তাকে অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের জন্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি 'তাখরিজ আল-ফুরু 'আলাল উসূল' যাতে নামের সাথে অর্থের পূর্ণ সামঞ্জস্য থাকে; এবং এর মাধ্যমে আমি তাঁর নৈকট্য প্রার্থনা করছি যিনি...
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
توالت علي نعمه وتواترت لدي مننه افتخارا بولائه واستظلالا بفنائه أعني المولى الصاحب الكبير العالم العادل المؤيد المظفر المنصور ولي النعم مؤيد الدين مهد الإسلام اختيار الإمام افتخار الأنام سديد الدولة جلال الملة المعظمة صفي الإمامة المكرمة تاج الملوك والسلاطين شرف الحضرتين ذا الريا ستين أبا الحسن محمد بن محمد ابن عبد الكريم أمين أمير المؤمنين إحياء لمعالم الدين وإبقاء لجميل ذكره في العالمين ولست أطمع في القيام بشكر أياديه ولا بعض ما أولانيه لكنه طوق المجتهد ووسع المعتضد.
فما تكلف نفس فوق طاقتها
… ولا تجود يد إلا بما تجد
أمتعه الله تعالى بدوام دولة المتقين ونائب رب العالمين المتمسك بحبل الله المتين سيدنا ومولانا الإمام الناصر لدين الله أمير المؤمنين أعز الله به الدنيا والدين ونصر الإسلام والمسلمين بخلود أيامها ونشر في الآفاق ألويتها المنشورة وأعلامها وأنفذ في المشارق والمغارب أوامرها المطاعة وأحكامها وظفرها بالباغي والمطالب
তাঁর অনুগ্রহসমূহ আমার ওপর ক্রমাগত বর্ষিত হয়েছে এবং তাঁর দানসমূহ আমার নিকট ধারাবাহিকভাবে (متواترة) পৌঁছেছে, তাঁর প্রতি আনুগত্যের গর্বে এবং তাঁর আশ্রয়ের ছায়াতলে থেকে। আমি উদ্দেশ্য করছি মহান অধিপতি, বিশিষ্ট সহচর, প্রাজ্ঞ আলেম, ন্যায়পরায়ণ, ঐশ্বরিক সাহায্যপ্রাপ্ত, বিজয়ী, সাহায্যপ্রাপ্ত, নিয়ামতের অভিভাবক, দ্বীনের সাহায্যকারী, ইসলামের ভিত্তি, ইমামের মনোনীত, সৃষ্টির গৌরব, রাষ্ট্রের সুদৃঢ় স্তম্ভ, মহান মিল্লাতের মহিমা, সম্মানিত ইমামতের মনোনীত ব্যক্তি, রাজা ও সুলতানদের মুকুট, দুই দরবারের গৌরব, দুই নেতৃত্বের অধিকারী আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনে আবদিল কারিমকে, যিনি আমিরুল মুমিনীনের বিশ্বস্ত; যা দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং বিশ্ববাসীর মাঝে তাঁর সুখ্যাতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। আমি তাঁর অনুগ্রহের বা তিনি আমাকে যা প্রদান করেছেন তার সামান্য অংশেরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উচ্চাশা রাখি না, তবে এটি একজন প্রচেষ্টাকারীর সাধনা এবং সাহায্যপ্রার্থীর সামর্থ্য মাত্র।
কেননা কোনো প্রাণকেই তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ভার দেওয়া হয় না
… আর সামর্থ্যে যা কুলায়, হাত তার অতিরিক্ত কিছু দান করতে পারে না
মহান আল্লাহ তাঁকে মুত্তাকিদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব এবং রব্বুল আলামীনের প্রতিনিধি, আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী আমাদের নেতা ও অভিভাবক ইমাম আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ আমিরুল মুমিনীনের ছায়াতলে দীর্ঘজীবী করুন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দুনিয়া ও দ্বীনকে সম্মানিত করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় দান করুন তাঁর শাসনকালকে চিরস্থায়ী করার মাধ্যমে, দিগন্তজুড়ে তাঁর উড্ডীন পতাকা ও নিশানসমূহ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে তাঁর মান্য আদেশ ও বিধানসমূহ কার্যকর করার মাধ্যমে এবং বিদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তাঁকে বিজয় দান করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وخلدها تخليد الكواكب ما وخدت قلوص براكب بمنة وجوده والله الموفق
এবং তিনি ইহাকে নক্ষত্ররাজির স্থায়িত্বের ন্যায় চিরস্থায়ী করুন যতক্ষণ কোনো আরোহীকে নিয়ে উষ্ট্রী দ্রুতগতিতে পথ চলে; তাঁরই অনুগ্রহ ও মহানুভবতায়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
كتاب الطهارةمسألة
ذهب الشافعي رضي الله عنه وجماهير أهل السنة إلى أن الطهارة والنجاسة وسائر المعاني الشرعية كالرق والملك والعتق والحرية وسائر الأحكام الشرعية ككون المحل طاهرا أو نجسا وكون الشخص حرا أو مملوكا مرقوقا ليست من صفات الأعيان المنسوبة إليها بل أثبتها الله تحكما وتعبدا غير معللة لا راد لقضائه ولا معقب لحكمه لا يسال عما يفعل وهم يسألون ولا تصل آراؤنا الكليلة وعقولنا الضعيفة وأفكارنا القاصرة إلى الوقوف على حقائقها وما يتعلق بها من مصالح العباد فذلك حاصل ضمنا
পবিত্রতা (طهارة) অধ্যায়মাসআলা (مسألة)
ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং আহলে সুন্নাহর অধিকাংশ আলেম (جماهير) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, পবিত্রতা (طهارة), অপবিত্রতা (نجاسة) এবং অন্যান্য যাবতীয় শরয়ি বিষয়াদি—যেমন দাসত্ব (رق), মালিকানা (ملك), দাসমুক্তি (عتق) ও স্বাধীনতা (حرية) এবং যাবতীয় শরয়ি বিধান (أحكام شرعية); যেমন কোনো স্থান পবিত্র (طاهر) বা অপবিত্র (نجس) হওয়া এবং কোনো ব্যক্তি স্বাধীন (حر), মালিকানাধীন (مملوك) বা কৃতদাস (مرقوق) হওয়া—এগুলো সংশ্লিষ্ট বস্তুর কোনো সত্তাগত বৈশিষ্ট্য (صفات الأعيান) নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এগুলোকে নিরঙ্কুশ আধিপত্যের ভিত্তিতে (تحكما) এবং ইবাদত বা আনুগত্যের নিরিখে (تعبدا) সাব্যস্ত করেছেন যা কোনো কারণ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় (غير معللة)। তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই এবং তাঁর হুকুমের কোনো পরিবর্তনকারী নেই; তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। আমাদের পরিশ্রান্ত দৃষ্টি, দুর্বল বুদ্ধি এবং সীমাবদ্ধ চিন্তা এগুলোর প্রকৃত রহস্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বান্দাদের কল্যাণসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম নয়; তবে তা এর মধ্যেই পরোক্ষভাবে নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وتبعا لا أصلا ومقصودا إذ ليست المصلحة واجبة الحصول في حكمه واحتج في ذلك بأن الله تعالى إذا جاز أن يعاقب الكافر على كفره والفاسق على فسقه ولا مصلحة لأحد فيه جاز أن يشرع الشرائع وإن تعلق بها مفسدة ولا يتعلق بها مصلحة لأحد ولذلك الله تعالى كلف الإنسان ما ليس في وسعه فقال تعالى {فأتوا بعشر سور مثله مفتريات} {فأتوا بسورة مثله} وقال للملائكة {أنبئوني بأسماء هؤلاء إن كنتم صادقين} وكل ذلك تكليف للإنسان ما ليس في وسعه وذلك ضرر لا مصلحة فيه وسر هذه القاعدة أن الله تعالى مالك الملك وخالق الخلق
এবং এটি আনুষঙ্গিকভাবে, মৌলিকভাবে বা উদ্দেশ্যগতভাবে নয়; কেননা তাঁর বিধানে জনকল্যাণ (مصلحة) অর্জিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে তিনি যুক্তি প্রদান করেছেন যে, মহান আল্লাহ যদি কাফিরকে তার কুফরির জন্য এবং পাপাচারীকে তার পাপাচারের জন্য শাস্তি প্রদান করতে পারেন—যাতে কারো কোনো কল্যাণ নেই—তবে তিনি এমন জীবনবিধান প্রণয়ন করতে পারেন যার সাথে অনিষ্ট (مفسدة) জড়িত এবং তাতে কারো কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) নিহিত নেই। এই কারণেই মহান আল্লাহ মানুষকে এমন বিষয়ের দায়িত্বারোপ করেছেন যা তার সাধ্যাতীত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তবে তোমরা এর মতো বানিয়ে আনা দশটি সূরা নিয়ে এসো" এবং "তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো।" তিনি ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করেও বলেছেন, "তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও।" আর এর সবই হচ্ছে মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়ের দায়িত্বারোপ এবং তা একটি কষ্টকর বিষয় যাতে কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) নেই। এই মূলনীতির (قاعدة) রহস্য হলো, মহান আল্লাহ নিখিল বিশ্বের অধিপতি এবং সৃষ্টির স্রষ্টা।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
يتصرف في عباده كيف يشاء ولا كذلك الواحد منا فإنه إذا أضر بغيره كان متصرفا في ملك الغير بالضرر وذلك ظلم وعدوان وذهب المنتمون إلى أبي حنيفة رضي الله عنه من علماء الأصول إلى أن الأحكام الشرعية صفات للمحال والأعيان المنسوبة إليها أثبتها الله تعالى وشرعها معللة بمصالح العباد لا غير كما أن الحسن والقبح والوجوب والحظر والندب والكراهة والإباحة من صفات الأفعال التي تضاف إليها غير أنهم قسموا أحكام الأفعال إلى ما يعرف بمجرد العقل والى ما يعرف بأدلة الشرع على ما سيأتي أما أحكام الأعيان فقد اتفقوا على أنها كلها تعرف بأدلة شرعية ولا تعرف بمجرد العقل وأنها كلها تثبت بإثبات الله تعالى
তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন, কিন্তু আমাদের কারো ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। কেননা মানুষ যখন অন্যের ক্ষতি করে, তখন সে অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ করে এবং সেটি জুলুম ও সীমালঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর অনুসারী উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ (علماء الأصول) এই মত পোষণ করেছেন যে, শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সেই সকল বিষয় ও সত্তার বৈশিষ্ট্য যার দিকে এগুলোকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এগুলোকে সাব্যস্ত করেছেন এবং কেবল বান্দাদের কল্যাণের হিকমতের ওপর ভিত্তি করেই তা প্রবর্তন করেছেন। যেমন সৌন্দর্য (حسن), কদর্যতা (قبح), আবশ্যকতা (وجوب), নিষিদ্ধতা (حظر), পছন্দনীয়তা (ندب), অপছন্দনীয়তা (كراهة) এবং বৈধতা (إباحة) হলো সেই সকল কর্মের গুণাগুণ যা এগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তবে তাঁরা কর্মের বিধানসমূহকে এমন ভাগে বিভক্ত করেছেন যা নিছক বিবেকের মাধ্যমে জানা যায় এবং যা শরয়ি দলিলসমূহের (أدلة الشرع) মাধ্যমে জানা যায়, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। আর সত্তাগত বিষয় বা বস্তুর বিধানের ক্ষেত্রে তাঁরা একমত হয়েছেন যে, এগুলোর সবকটিই শরয়ি দলিলসমূহের (أدلة شرعية) মাধ্যমে জানা যায় এবং কেবল বিবেকের মাধ্যমে তা অবগত হওয়া সম্ভব নয়; বরং এ সবই মহান আল্লাহর নির্ধারণের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
واحتجوا في ذلك بقياس الشاهد على الغائب بناء على قاعدة التحسين والتقبيح وزعموا أن شرع الحكم لا لمصلحة عبث وسفه والعبث قبيح عقلا وهو كإقدام الرجل اللبيب على كيل الماء من بحر إلى بحر فإنه يقبح منه ذلك ويستحق الذم عليه وإذا تمهدت هذه القاعدة فنقول الشافعي رضي الله عنه حيث رأى أن التعبد في الأحكام هو الأصل غلب احتمال التعبد وبني مسائله في الفروع عليه وأبو حنيفة رضي الله عنه حيث رأى أن التعليل هو الأصل بنى مسائله في الفروع عليه فتفرع عن الأصلين المذكورين مسائل منها أن الماء يتعين لإزالة النجاسة عند الشافعي رضي الله عنه ولا يلحق غيره به تغليبا للتعبد وقال أبو حنيفة رضي الله عنه يلحق به كل مائع طاهر مزيل للعين والأثر تغليبا للتعليل
তারা এ বিষয়ে ভালো ও মন্দ সাব্যস্তকরণের (التحسين والتقبيح) মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে অদৃশ্যের ওপর দৃশ্যমানের তুলনা করার (قياس) মাধ্যমে যুক্তি দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, কোনো কল্যাণ (مصلحة) ব্যতিরেকে বিধান প্রণয়ন করা নিরর্থকতা (عبث) ও মূর্খতা; আর বুদ্ধির বিচারে নিরর্থকতা হলো মন্দ (قبيح)। এটি এমন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজের মতো, যে এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্রে পানি মেপে স্থানান্তর করার পদক্ষেপ নেয়; তার এই কাজ যেমন মন্দ (قبيح) বলে গণ্য হয় এবং সে তজ্জন্য নিন্দার যোগ্য হয়, (বিষয়টি তেমনই)। যখন এই মূলনীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমরা বলি যে, ইমাম শাফিঈ (রা.) যেহেতু বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ইবাদতগত আনুগত্যকে (التعبد) মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছেন, তাই তিনি ইবাদতগত আনুগত্যের সম্ভাবনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁর ফিকহী শাখা-প্রশাখার (الفروع) মাসআলাগুলো সাজিয়েছেন। আর ইমাম আবু হানিফা (রা.) যেহেতু যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধানকে (التعليل) মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন, তাই তিনি এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁর শাখা-প্রশাখার (الفروع) মাসআলাগুলো সাজিয়েছেন। উল্লিখিত এই দুটি মূলনীতি থেকে বেশ কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়েছে, যার একটি হলো—ইমাম শাফিঈর (রা.) নিকট অপবিত্রতা (النجاسة) দূর করার জন্য পানিই নির্দিষ্ট এবং ইবাদতগত আনুগত্যের (التعبد) দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে অন্য কোনো কিছুকে এর সমপর্যায়ভুক্ত করা হয় না। আর ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলেছেন, যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধানকে (التعليل) প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে অপবিত্রতার মূল বস্তু ও চিহ্ন দূরকারী প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থই পানির হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ومنها أن الماء المتغير بالطاهرات كالزعفران والأشنان إذا تفاحش تغيره لم يجز التوضي به عند الشافعي رضي الله عنه بناء على الأصل المذكور فإنه تعبد باستعمال الماء بالاتفاق والميع اسم الماء وهذا لا يندرج تحت اسم المطلق ومنها أن التوضي بنبيذ التمر عند عدم الماء في السفر ممتنع عندنا وعنده جائز
এর মধ্য হতে একটি বিষয় এই যে, জাফরান ও ওশনানের মতো পবিত্র বস্তু দ্বারা পানির পরিবর্তন যদি অত্যধিক হয়, তবে ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর নিকট তা দ্বারা অজু করা বৈধ (جائز) নয়। এটি উল্লিখিত মূলনীতি (أصل)-এর ওপর ভিত্তি করে; কেননা সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاق) পানির ব্যবহার একটি ইবাদত (تعبد)। আর তরলতা (الميع) পানিরই নামান্তর এবং এটি সাধারণ (مطلق) পানির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্য হতে আরেকটি বিষয় হলো, সফর অবস্থায় পানির অনুপস্থিতিতে খেজুরের নাবিয দিয়ে অজু করা আমাদের নিকট নিষিদ্ধ (ممتنع), কিন্তু তাঁর নিকট তা বৈধ (جائز)।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজুল ফুরু আলাল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومنها أن جلد الكلب لا يطهر بالدباغ عند الشافعي رضي الله عنه تغليبا للتعبد بترجيح الاجتناب على الإقتراب وعندهم يطهر تشوقا إلى التعليل ومنها أن ذكاة ما لا يؤكل لحمه لا يفيد طهارة الجلد عندنا مراعاة للتعبد كما في ذكاة المجوس ونجاسة اللحم من هذا الذبيح وعندهم يطهر تشوقا إلى تعليل الطهارة بسفح الدم والرطوبات المتعفنة
এর মধ্যে একটি বিষয় হলো, ইমাম শাফেঈ (রা.)-এর নিকট কুকুরের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (دباغ) মাধ্যমে পবিত্র (طهر) হয় না; মূলত সংশ্রব লাভের চেয়ে পরিহার করার দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক ইবাদতের (تعبد) অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এমনটি হয়েছে। পক্ষান্তরে তাদের নিকট কারণভিত্তিক বিশ্লেষণের (تعليل) আকাঙ্ক্ষায় এটি পবিত্র হয়। আরেকটি উদাহরণ হলো, আমাদের নিকট যে পশুর গোশত খাওয়া বৈধ নয়, তার জবেহ (ذكاة) চামড়ার পবিত্রতা (طهارة) নিশ্চিত করে না; এটি মূলত আনুষ্ঠানিক ইবাদতের (تعبد) প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে, যেমনটি অগ্নিপূজকদের জবেহ এবং এই জবেহকৃত পশুর গোশতের অপবিত্রতার (نجاسة) ক্ষেত্রে দেখা যায়। পক্ষান্তরে তাদের নিকট রক্ত প্রবাহিত করা এবং পচনশীল আর্দ্রতা অপসারিত হওয়ার কারণভিত্তিক বিশ্লেষণের (تعليل) মাধ্যমে এটি পবিত্র হয়।