(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: -)
الورقات   (الجويني، أبو المعالي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الورقات

المؤلف: عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني، أبو المعالي، ركن الدين، الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)

المحقق: د. عبد اللطيف محمد العبد

عدد الصفحات: 31

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ওয়ারাকাত   (আল-জুওয়াইনি, আবু আল-মা'আলি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: আল-ওয়ারাকাত

লেখক: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, আবু আল-মা'আলি, রুকন উদ্দিন, যিনি ইমামুল হারামাইন হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)

মুহাক্কিক: ড. আব্দুল লতিফ মুহাম্মদ আল-আবদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌معنى أصُول الْفِقْه

 

هَذِه وَرَقَات تشْتَمل على فُصُول من أصُول الْفِقْه وَذَلِكَ مؤلف من جزأين مفردين

فَالْأَصْل مَا بني عَلَيْهِ غَيره وَالْفرع مَا يبْنى على غَيره

وَالْفِقْه معرفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الَّتِي طريقها الِاجْتِهَاد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) সংজ্ঞা

 

এগুলো উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) কতিপয় পরিচ্ছেদ সংবলিত কয়েকটি পৃষ্ঠা এবং তা (উসুলুল ফিকহ শব্দটি) দুটি স্বতন্ত্র অংশ দ্বারা গঠিত।

সুতরাং মূল (أصل) হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে; আর শাখা (فرع) হলো তা, যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

আর ফিকহ (الفقه) হলো এমন শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার অর্জনের পথ হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أَنْوَاع الحكم

 

وَالْأَحْكَام سَبْعَة الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب والمباح والمحظور وَالْمَكْرُوه وَالصَّحِيح وَالْبَاطِل

فَالْوَاجِب مَا يُثَاب على فعله ويعاقب على تَركه

وَالْمَنْدُوب مَا يُثَاب على فعله وَلَا يُعَاقب على تَركه

والمباح مَا لَا يُثَاب على فعله وَلَا يُعَاقب على تَركه

والمحظور مَا يُثَاب على تَركه ويعاقب على فعله

وَالْمَكْرُوه مَا يُثَاب على تَركه وَلَا يُعَاقب على فعله

وَالصَّحِيح مَا يتَعَلَّق بِهِ النّفُوذ ويعتد بِهِ

وَالْبَاطِل مَا لَا يتَعَلَّق بِهِ النّفُوذ وَلَا يعْتد بِهِ
হুকুমের (الحكم) প্রকারভেদ

 

হুকুম (الأحكام) সাত প্রকার: ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب), মুবাহ (المباح), মাহযুর (المحظور), মাকরূহ (المكروه), সহিহ (الصحيح) এবং বাতিল (الباطل)।

ওয়াজিব (الواجب) হলো তা, যার ওপর আমল করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।

মানদুব (المندوب) হলো তা, যার ওপর আমল করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু বর্জন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় না।

মুবাহ (المباح) হলো তা, যার ওপর আমল করলে সওয়াব নেই এবং বর্জন করলেও কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

মাহযুর (المحظور) হলো তা, যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা লিপ্ত হলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।

মাকরূহ (المكروه) হলো তা, যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু লিপ্ত হলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় না।

সহিহ (الصحيح) হলো তা, যার সাথে কার্যকারিতা (النفوذ) সম্পৃক্ত এবং শরয়ি দৃষ্টিতে যা ধর্তব্য (يعتد به) হয়।

বাতিল (الباطل) হলো তা, যার সাথে কার্যকারিতা (النفوذ) সম্পৃক্ত নয় এবং শরয়ি দৃষ্টিতে যা ধর্তব্য (يعتد به) হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الْفرق بَين الْفِقْه وَالْعلم وَالظَّن وَالشَّكّ

 

وَالْفِقْه أخص من الْعلم وَالْعلم معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ وَالْجهل تصور الشَّيْء على خلاف مَا هُوَ بِهِ

وَالْعلم الضَّرُورِيّ مَا لم يَقع عَن نظر واستدلال كَالْعلمِ الْوَاقِع بِإِحْدَى الْحَواس الْخمس الَّتِي هِيَ السّمع وَالْبَصَر والشم والذوق واللمس أَو التَّوَاتُر

وَأما الْعلم المكتسب فَهُوَ الْمَوْقُوف على النّظر وَالِاسْتِدْلَال وَالنَّظَر هُوَ الْفِكر فِي حَال المنظور فِيهِ وَالِاسْتِدْلَال طلب الدَّلِيل وَالدَّلِيل هُوَ المرشد إِلَى الْمَطْلُوب لِأَنَّهُ عَلامَة عَلَيْهِ

وَالظَّن تَجْوِيز أَمريْن أَحدهمَا أظهر من الآخر

وَالشَّكّ تَجْوِيز أَمريْن لَا مزية لأَحَدهمَا على الآخر

وَعلم أصُول الْفِقْه طرقه على سَبِيل الْإِجْمَال وَكَيْفِيَّة الِاسْتِدْلَال بهَا
ফিকহ (الفقه), ইলম (العلم), প্রবল ধারণা (الظن) ও সংশয় (الشك)-এর মধ্যকার পার্থক্য

 

ফিকহ (الفقه) হলো ইলম (العلم)-এর তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট। আর ইলম হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানা। অন্যদিকে অজ্ঞতা (الجهل) হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপের বিপরীতে কল্পনা করা।

আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) হলো তা, যা কোনো চিন্তা (النظر) ও গবেষণার (الاستدلال) ওপর নির্ভর করে অর্জিত হয় না; যেমন— পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, যথা: শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, আস্বাদন ও স্পর্শ অথবা যা নিরবচ্ছিন্ন সংবাদের (التواتر) মাধ্যমে অর্জিত হয়।

আর অর্জিত জ্ঞান (العلم المكتسب) হলো যা চিন্তা (النظر) ও গবেষণার (الاستدلال) ওপর নির্ভরশীল। চিন্তা (النظر) হলো পর্যালোচিত বিষয়ের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা। আর গবেষণা (الاستدلال) হলো দলিলের (الدليل) অনুসন্ধান করা। দলিল (الدليل) হলো যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের পথপ্রদর্শক, কারণ তা উক্ত বিষয়ের চিহ্নস্বরূপ।

প্রবল ধারণা (الظن) হলো এমন দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যার মধ্যে একটি অপরটির তুলনায় অধিক স্পষ্ট বা প্রবল।

আর সংশয় (الشك) হলো এমন দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যার কোনো একটির ওপর অপরটির কোনো প্রাধান্য নেই।

আর উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর ইলম হলো সামগ্রিকভাবে এর উৎস বা পদ্ধতিসমূহ এবং সেগুলোর মাধ্যমে দালিলিক প্রমাণের (الاستدلال) নিয়মাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أَبْوَاب أصُول الْفِقْه

 

وأبواب أصُول الْفِقْه أَقسَام الْكَلَام وَالْأَمر وَالنَّهْي وَالْعَام وَالْخَاص والمجمل والمبين وَالظَّاهِر والمؤول وَالْأَفْعَال والناسخ والمنسوخ وَالْإِجْمَاع وَالْأَخْبَار وَالْقِيَاس والحظر وَالْإِبَاحَة وترتيب الْأَدِلَّة وَصفَة الْمُفْتى والمستفتى وَأَحْكَام الْمُجْتَهدين
উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর অধ্যায়সমূহ

 

আর উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর অধ্যায়গুলো হলো: বাক্যের প্রকারভেদ (أقسام الكلام), আদেশ (الأمر), নিষেধ (النهي), সাধারণ (العام), বিশেষ (الخاص), সংক্ষিপ্ত (المجمل), সুস্পষ্ট (المبين), আপাত অর্থ (الظاهر), ব্যাখ্যাত (المؤول), কর্মসমূহ (الأفعال), রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ), ইজমা (الإجماع), খবর বা বর্ণনা (الأخبار), কিয়াস (القياس), নিষিদ্ধকরণ (الحظر), বৈধকরণ (الإباحة), দলীলসমূহের বিন্যাস (ترتيب الأدلة), মুফতির গুণাবলি (صفة المفتي) ও ফতোয়া প্রার্থীর বিবরণ (المستفتى), এবং মুজতাহিদগণের বিধানসমূহ (أحكام المجتهدين)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أَقسَام الْكَلَام

 

فَأَما أَقسَام الْكَلَام فَأَقل مَا يتركب مِنْهُ الْكَلَام اسمان أَو اسْم وَفعل أَو فعل وحرف أَو اسْم وحرف

وَالْكَلَام يَنْقَسِم إِلَى أَمر وَنهي وَخبر واستخبار وينقسم أَيْضا إِلَى تمن وَعرض وَقسم

وَمن وَجه آخر يَنْقَسِم إِلَى حَقِيقَة ومجاز فالحقيقة مَا بَقِي فِي الِاسْتِعْمَال على مَوْضُوعه وَقيل مَا اسْتعْمل فِيمَا اصْطلحَ عَلَيْهِ من المخاطبة

وَالْمجَاز مَا تجوز عَن مَوْضُوعه والحقيقة إِمَّا لغوية وَإِمَّا شَرْعِيَّة وَإِمَّا عرفية

وَالْمجَاز إِمَّا أَن يكون بِزِيَادَة أَو نُقْصَان أَو نقل أَو اسْتِعَارَة
কালাম বা বাক্যের প্রকারভেদ (أقسام الكلام)

 

কালাম বা বাক্যের প্রকারভেদ সম্পর্কে বক্তব্য হলো, বাক্য গঠিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম উপাদান হলো দুটি বিশেষ্য (اسمان), অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়া (اسم وفعل), অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি অব্যয় (فعل وحرف), অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি অব্যয় (اسم وحرف)।

বাক্য বা কালাম বিভক্ত হয় আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), সংবাদ (خبر) এবং জিজ্ঞাসার (استخبار) মধ্যে। এছাড়াও এটি আকাঙ্ক্ষা (تمن), প্রস্তাব (عرض) এবং শপথ (قسم) হিসেবেও বিভক্ত হয়।

অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে কালাম প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থের (مجاز) দিকে বিভক্ত। প্রকৃত অর্থ (حقيقة) হলো যা তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব বিষয়ের ওপর বহাল থাকে। আবার বলা হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্বোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়।

আর রূপক অর্থ (مجاز) হলো যা তার মূল অর্থকে অতিক্রম করে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রকৃত অর্থ (حقيقة) হয় ভাষাগত (لغوية), অথবা শরয়ি (شرعية), অথবা প্রথাগত (عرفية)।

আর রূপক অর্থ (مجاز) হয় বৃদ্ধির মাধ্যমে (بزيادة), অথবা হ্রাসের মাধ্যমে (نقصان), অথবা স্থানান্তরের মাধ্যমে (نقل), অথবা রূপক বা ধারের মাধ্যমে (استعارة)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১২)
فالمجاز بِالزِّيَادَةِ مثل قَوْله تَعَالَى {لَيْسَ كمثله شَيْء}

وَالْمجَاز بِالنُّقْصَانِ مثل قَوْله تَعَالَى {واسأل الْقرْيَة}

وَالْمجَاز بِالنَّقْلِ كالغائط فِيمَا يخرج من الْإِنْسَان وَالْمجَاز بالاستعارة كَقَوْلِه تَعَالَى {جدارا يُرِيد أَن ينْقض}
আধিক্যজনিত রূপক (المجاز بالزيادة) হলো মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}

এবং সংক্ষিপ্তকরণজনিত রূপক (المجاز بالنقصان) হলো মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {এবং জনপদকে জিজ্ঞেস করো}

আর অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে রূপক (المجاز بالنقل) হলো মানুষের নির্গত মলের ক্ষেত্রে ‘গাইত’ (الغائط) শব্দের ব্যবহারের মতো; এবং রূপক অলঙ্কার (المجاز بالاستعارة) হলো মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {একটি প্রাচীর যা ধসে পড়তে চাচ্ছিল}
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 -‌‌ الْأَمر

 

وَالْأَمر استدعاء الْفِعْل بالْقَوْل مِمَّن هُوَ دونه على سَبِيل الْوُجُوب

وصيغته افْعَل وَهِي عِنْد الْإِطْلَاق والتجرد عَن الْقَرِينَة تحمل عَلَيْهِ إِلَّا مَا دلّ الدَّلِيل على أَن المُرَاد مِنْهُ النّدب أَو الْإِبَاحَة وَلَا تَقْتَضِي التّكْرَار على الصَّحِيح إِلَّا مَا دلّ الدَّلِيل على قصد التّكْرَار وَلَا تقتضى الْفَوْر

وَالْأَمر بإيجاد الْفِعْل أَمر بِهِ وَبِمَا لَا يتم الْفِعْل إِلَّا بِهِ كالأمر بِالصَّلَاةِ فَإِنَّهُ أَمر بِالطَّهَارَةِ المؤدية إِلَيْهَا وَإِذا فعل يخرج الْمَأْمُور عَن الْعهْدَة
২ -‌‌ আদেশ (الأمر)

 

আদেশ (الأمر) হলো মর্যাদায় নিম্নস্থ কারো নিকট থেকে মৌখিকভাবে কোনো কাজ তলব করা, যা আবশ্যকতা (وجوب) হিসেবে গণ্য হয়।

এর রূপ হলো 'তুমি করো' (افعل)। কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) ব্যতীত শর্তহীনভাবে (إطلاق) ব্যবহৃত হলে এটি সেই আদেশের (আবশ্যকতা) ওপরই বর্তায়; যদি না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পছন্দনীয় (ندব) অথবা বৈধ (إباحة) কাজ। সঠিক (صحيح) মতানুসারে, এটি কাজের পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, যদি না পুনরাবৃত্তির সপক্ষে কোনো দলীল থাকে এবং এটি অবিলম্বে (فور) পালনেরও দাবি রাখে না।

কোনো কাজ সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়ার অর্থ হলো—সেই কাজের আদেশ এবং এমন সব আনুষঙ্গিক বিষয়েরও আদেশ যার ব্যতীত কাজটি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়; যেমন সালাত আদায়ের আদেশ দেওয়া হলে তা মূলত সালাতের দিকে নিয়ে যাওয়া পবিত্রতা অর্জনেরও আদেশ। আর যখন কাজটি সম্পাদন করা হয়, তখন আদিষ্ট ব্যক্তি তার দায়বদ্ধতা থেকে অব্যাহতি লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
تَنْبِيه من يدْخل فِي الْأَمر وَالنَّهْي وَمن لَا يدْخل يدْخل فِي خطاب الله تَعَالَى الْمُؤْمِنُونَ وَأما الساهي وَالصَّبِيّ وَالْمَجْنُون فهم غير داخلين فِي الْخطاب

وَالْكفَّار مخاطبون بِفُرُوع الشَّرِيعَة وَبِمَا لَا تصح إِلَّا بِهِ وَهُوَ الْإِسْلَام لقَوْله تَعَالَى {مَا سلككم فِي سقر قَالُوا لم نك من الْمُصَلِّين}

وَالْأَمر بالشَّيْء نهي عَن ضِدّه وَالنَّهْي عَن الشَّيْء أَمر بضده
সতর্কীকরণ: যারা আদেশ (أمر) ও নিষেধের (نهي) অন্তর্ভুক্ত এবং যারা অন্তর্ভুক্ত নয়; আল্লাহ তাআলার সম্বোধনের (خطاب) মধ্যে মুমিনগণ অন্তর্ভুক্ত। আর যারা বিস্মৃতিপরায়ণ, শিশু ও পাগল—তারা এই সম্বোধনের (خطاب) অন্তর্ভুক্ত নয়।

এবং কাফিরগণ শরীয়তের শাখা-প্রশাখা (فروع الشريعة) এবং যা ব্যতীত তা শুদ্ধ হয় না—অর্থাৎ ইসলাম—উভয় বিষয়ের মাধ্যমেই সম্বোধিত। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "কী তোমাদেরকে সাকারে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।"

আর কোনো বিষয়ে আদেশ (أمر) প্রদান করা তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ (نهي) করার শামিল এবং কোনো বিষয়ে নিষেধ (نهي) করা তার বিপরীত বিষয়ের জন্য আদেশ (أمر) প্রদান করার শামিল।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 -‌‌ النَّهْي

 

وَالنَّهْي استدعاء التّرْك بالْقَوْل مِمَّن هُوَ دونه على سَبِيل الْوُجُوب وَيدل على فَسَاد الْمنْهِي عَنهُ

وَترد صِيغَة الْأَمر وَالْمرَاد بِهِ الْإِبَاحَة أَو التهديد أَو التَّسْوِيَة أَو التكوين
৩ -‌‌ নিষেধ (النهي)

 

আর নিষেধ (النهي) হলো উচ্চতর কোনো সত্তার পক্ষ থেকে নিম্নতর কাউকে কথার মাধ্যমে কোনো কাজ বর্জন করার (الترك) দাবি জানানো, যা আবশ্যকতা (الوجوب) হিসেবে গণ্য এবং এটি নিষিদ্ধ বিষয়ের (المنهي عنه) অসারতা বা অবৈধতা (فساد) নির্দেশ করে।

কখনও নির্দেশের (الأمر) শব্দরূপ ব্যবহৃত হয় কিন্তু তা দ্বারা বৈধতা (الإباحة), অথবা ধমক (التهديد), অথবা সমতা (التسوية), কিংবা অস্তিত্ব দান বা সৃষ্টি করা (التكوين) উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
4 -‌‌ الْعَام وَالْخَاص

 

وَأما الْعَام فَهُوَ مَا عَم شَيْئَيْنِ فَصَاعِدا من قَوْله عممت زيدا وعمرا بالعطاء وعممت جَمِيع النَّاس بالعطاء

وألفاظ أَرْبَعَة الِاسْم الْوَاحِد الْمُعَرّف بِالْألف وَاللَّام وَاسم الْجمع الْمُعَرّف بِاللَّامِ والأسماء المبهمة ك من فِيمَن يعقل وَمَا فِيمَا لَا يعقل وَأي فِي الْجَمِيع وَأَيْنَ فِي الْمَكَان وَمَتى فِي الزَّمَان وَمَا فِي الِاسْتِفْهَام وَالْجَزَاء وَغَيره وَلَا فِي النكرات

والعموم من صِفَات النُّطْق وَلَا يجوز دَعْوَى الْعُمُوم فِي غَيره من الْفِعْل وَمَا يجْرِي مجْرَاه

وَالْخَاص يُقَابل الْعَام والتخصيص تَمْيِيز بعض الْجُمْلَة وَهُوَ يَنْقَسِم إِلَى مُتَّصِل ومنفصل

فالمتصل الِاسْتِثْنَاء وَالتَّقْيِيد بِالشّرطِ وَالتَّقْيِيد بِالصّفةِ

وَالِاسْتِثْنَاء إِخْرَاج مَا لولاه لدخل فِي الْكَلَام وَإِنَّمَا يَصح بِشَرْط أَن يبْقى من المشتثنى مِنْهُ شَيْء وَمن شَرطه أَن يكون مُتَّصِلا بالْكلَام

وَيجوز تَقْدِيم الِاسْتِثْنَاء على الْمُسْتَثْنى مِنْهُ وَيجوز الِاسْتِثْنَاء من الْجِنْس وَمن غَيره
4 -‌‌ সাধারণ (عام) এবং বিশেষ (خاص)

 

আর সাধারণ (عام) হলো এমন শব্দ যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন কারো উক্তি: "আমি জায়েদ ও আমরকে দানের মাধ্যমে সাধারণ (عام) করেছি (অর্থাৎ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছি)" এবং "আমি সকল মানুষকে দানের মাধ্যমে সাধারণ (عام) করেছি।"

সাধারণ (عام)-এর শব্দ চারটি: আলিফ ও লাম যুক্ত একবচন বিশেষ্য (الاسم الواحد المعرف بالألف واللام), লাম যুক্ত বহুবচন বিশেষ্য (اسم الجمع المعرف باللام), অস্পষ্ট বিশেষ্যসমূহ (الأسماء المبهمة) যেমন—বিবেচনাশক্তিসম্পন্নদের ক্ষেত্রে ‘মান’ (من), বিবেচনাশক্তিহীনদের ক্ষেত্রে ‘মা’ (ما), সবকিছুর ক্ষেত্রে ‘আইয়্যু’ (أي), স্থানের ক্ষেত্রে ‘আইনা’ (أين), সময়ের ক্ষেত্রে ‘মাতা’ (متى), প্রশ্নবোধক, বিনিময় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘মা’ (ما), এবং অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرات) ক্ষেত্রে ‘লা’ (لا)।

ব্যাপকতা (العموم) হলো বচনের (النطق) অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বচন ব্যতীত অন্য কিছু যেমন কাজ (الفعل) বা অনুরূপ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে ব্যাপকতার (العموم) দাবি করা বৈধ নয়।

বিশেষ (خاص) হলো সাধারণের (عام) বিপরীত। আর বিশেষিতকরণ (التخصيص) হলো কোনো সমষ্টির অংশবিশেষকে পৃথক করা। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: সংযুক্ত (متصل) এবং বিযুক্ত (منفصل)।

সংযুক্ত (المتصل) প্রকারগুলো হলো: ব্যতিক্রম (الاستثناء), শর্তের মাধ্যমে সীমাবদ্ধকরণ (التقييد بالشرط) এবং গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধকরণ (التقييد بالصفة)।

ব্যতিক্রম (الاستثناء) হলো এমন কিছুকে বের করে দেওয়া যা না থাকলে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হতো। এটি কেবল তখনই সঠিক হবে যখন যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তার কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে। আর এর একটি শর্ত হলো এটি আলোচনার সাথে সংযুক্ত হতে হবে।

ব্যতিক্রমকে (الاستثناء) যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তার আগে নিয়ে আসা বৈধ। এছাড়া একই জাতীয় শ্রেণি (الجنس) বা ভিন্ন জাতীয় শ্রেণি থেকেও ব্যতিক্রম (الاستثناء) করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَالشّرط يجوز أَن يتَأَخَّر عَن الْمَشْرُوط وَيجوز أَن يتَقَدَّم عَن الْمَشْرُوط والمقيد بِالصّفةِ يحمل عَلَيْهِ الْمُطلق كالرقبة قيدت بِالْإِيمَان فِي بعض الْمَوَاضِع وأطلقت فِي بعض الْمَوَاضِع فَيحمل الْمُطلق على الْمُقَيد

وَيجوز تَخْصِيص الْكتاب بِالْكتاب وَتَخْصِيص الْكتاب وَتَخْصِيص الْكتاب بِالسنةِ وَتَخْصِيص السّنة بِالْكتاب وَتَخْصِيص السّنة بِالسنةِ وَتَخْصِيص النُّطْق بِالْقِيَاسِ ونعني بالنطق قَول الله سبحانه وتعالى وَقَول الرَّسُول صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
শর্ত (شرط) শর্তযুক্ত বিষয় (مشروط) থেকে বিলম্বে হওয়া বৈধ এবং শর্তযুক্ত বিষয়ের অগ্রে হওয়াও বৈধ। আর গুণ দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيد) বিষয়ের ওপর শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে প্রয়োগ করা হয়। যেমন ‘দাস’ (رقبة) শব্দটিকে কিছু স্থানে ঈমানের গুণ দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়েছে এবং অন্য কিছু স্থানে শর্তহীন (مطلق) রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় শর্তহীন (مطلق) বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ (مقيد) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে।

কিতাবকে কিতাব দ্বারা নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ, কিতাবকে নির্দিষ্ট করা এবং কিতাবকে সুন্নাহ দ্বারা নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ, সুন্নাহকে কিতাব দ্বারা নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ, সুন্নাহকে সুন্নাহ দ্বারা নির্দিষ্ট (تخصيص) করা বৈধ এবং সুস্পষ্ট ভাষ্যকে (نطق) কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে নির্দিষ্ট (تخصيص) করাও বৈধ। আর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نطق) বলতে আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীকে বুঝিয়ে থাকি।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
5 -‌‌ الْمُجْمل والمبين

 

والمجمل مَا افْتقر إِلَى الْبَيَان وَالْبَيَان إِخْرَاج الشَّيْء من حيّز الْإِشْكَال إِلَى حيّز التجلي

وَالنَّص مَا لَا يحْتَمل إِلَّا معنى وَاحِدًا وَقيل مَا تَأْوِيله تَنْزِيله وَهُوَ مُشْتَقّ من منصة الْعَرُوس وَهُوَ الْكُرْسِيّ
5 -‌‌সংক্ষিপ্ত (المجمل) ও সুস্পষ্ট (المبين)

 

সংক্ষিপ্ত (المجمل) হলো তা-ই যা স্পষ্টকরণের (البيان) মুখাপেক্ষী। আর স্পষ্টকরণ (البيان) হলো কোনো বিষয়কে অস্পষ্টতার (الإشكال) পরিমণ্ডল থেকে সুস্পষ্টতার (التجلي) পরিমণ্ডলে বের করে আনা।

অকাট্য পাঠ (النص) হলো তা-ই যা কেবল একটি মাত্র অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। আর বলা হয়ে থাকে যে, যার ব্যাখ্যাই (التأويل) হলো তার অবতরণ (التنزيل) (অর্থাৎ পাঠ করার সাথে সাথেই যার অর্থ স্পষ্ট হয়ে যায়)। এটি কনের মঞ্চ (منصة العروس) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা হলো উচ্চাসন বা চেয়ার।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
6 -‌‌ الظَّاهِر والمؤول

 

وَالظَّاهِر مَا احْتمل أَمريْن أَحدهمَا أظهر من الآخر ويؤول الظَّاهِر بِالدَّلِيلِ وَيُسمى الظَّاهِر بِالدَّلِيلِ
6 -‌‌ প্রকাশ্য (الظاهر) এবং ব্যাখ্যাকৃত (المؤول)

 

প্রকাশ্য (الظاهر) হলো এমন বিষয় যা দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে এবং যার একটি অন্যটির চেয়ে অধিক স্পষ্ট। আর প্রমাণের (الدليل) ভিত্তিতে প্রকাশ্য (الظاهر) বিষয়ের ব্যাখ্যা করা হয় এবং একে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ্য (الظاهر بالدليل) বলে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২০)
7 -‌‌ الْأَفْعَال

 

فعل صَاحب الشَّرِيعَة لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون على وَجه الْقرْبَة وَالطَّاعَة أَو غير ذَلِك

فَإِن دلّ دَلِيل على الِاخْتِصَاص بِهِ يحمل على الِاخْتِصَاص وَإِن لم يدل لَا يخصص بِهِ لِأَن الله تَعَالَى يَقُول {لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة}

فَيحمل على الْوُجُوب عِنْد بعض أَصْحَابنَا وَمن بعض أَصْحَابنَا من قَالَ يحمل على النّدب وَمِنْهُم من قَالَ يتَوَقَّف عَنهُ

فَإِن كَانَ على وَجه غير الْقرْبَة وَالطَّاعَة فَيحمل على الْإِبَاحَة فِي حَقه وحقنا وَإِقْرَار صَاحب الشَّرِيعَة على القَوْل الصَّادِر من أحد هُوَ قَول صَاحب الشَّرِيعَة وَإِقْرَاره على الْفِعْل كَفِعْلِهِ

وَمَا فعل فِي وقته فِي غير مَجْلِسه وَعلم بِهِ وَلم يُنكره فَحكمه حكم مَا فعل فِي مَجْلِسه
7 -‌‌ কার্যাবলি (الأفعال)

 

শরিয়ত প্রণেতার (صاحب الشريعة) কর্ম দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা আল্লাহ্‌র নৈকট্য ও আনুগত্যের (القربة والطاعة) উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হবে, অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে।

যদি কোনো দলীল এটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট (الاختصاص) হওয়ার প্রমাণ দেয়, তবে তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হিসেবেই গণ্য হবে। আর যদি কোনো দলীল তা প্রকাশ না করে, তবে তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ}।

আমাদের (মাযহাবের) কোনো কোনো ফকিহ্‌র মতে এটি ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। আবার আমাদের একদল ফকিহ্‌ বলেছেন, এটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (الندب) হওয়ার অর্থ বহন করে। আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত (يتوقف) রাখার কথা বলেছেন।

যদি কাজটি নৈকট্য ও আনুগত্যের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে সম্পাদিত হয়, তবে তা তাঁর ক্ষেত্রে এবং আমাদের ক্ষেত্রে বৈধ (الإباحة) হিসেবে গণ্য হবে। আর কারো কোনো বক্তব্যের ওপর শরিয়ত প্রণেতার (صاحب الشريعة) মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করা স্বয়ং শরিয়ত প্রণেতারই বক্তব্যের সমতুল্য। একইভাবে কোনো কাজের ওপর তাঁর মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করা তাঁর নিজের কাজের মতোই গণ্য।

আর তাঁর সময়কালে তাঁর মজলিসের বাইরে যা কিছু করা হয়েছে এবং তিনি সে সম্পর্কে অবগত হয়েছেন অথচ তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেননি, তার বিধানও তাঁর মজলিসে সম্পাদিত কাজের বিধানের মতোই হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২১)
8 -‌‌ النّسخ

 

وَأما النّسخ فَمَعْنَاه لُغَة الْإِزَالَة وَقيل مَعْنَاهُ النَّقْل من قَوْلهم نسخت مَا فِي هَذَا الْكتاب أَي نقلته

وَحده هُوَ الْخطاب الدَّال على رفع الحكم الثَّابِت بِالْخِطَابِ الْمُتَقَدّم على وَجه لولاه لَكَانَ ثَابتا مَعَ تراخيه عَنهُ

وَيجوز نسخ الرَّسْم وَبَقَاء الحكم وَنسخ الحكم وَبَقَاء الرَّسْم
৮ -‌‌ রহিতকরণ (النسخ)

 

আর রহিতকরণ (النسخ)-এর আভিধানিক অর্থ হলো বিলুপ্ত করা। আবার বলা হয় এর অর্থ হলো স্থানান্তর করা; যেমন তাদের প্রবাদ: 'আমি এই কিতাবে যা আছে তা রহিত (نسخت) করেছি' অর্থাৎ আমি তা স্থানান্তর করেছি।

আর এর পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো: এমন এক সম্বোধন (الخطاب) যা পূর্ববর্তী সম্বোধন দ্বারা সাব্যস্ত হওয়া বিধান (الحكم)-কে এমনভাবে রহিত করার প্রমাণ দেয় যে, যদি এই সম্বোধনটি না থাকত তবে বিধানটি বহাল থাকত; আর এটি পূর্ববর্তী সম্বোধনের কিছুকাল পরে আসতে হবে।

আর শব্দ বা পাঠ রহিত (نسخ) হওয়া এবং বিধান (الحكم) অবশিষ্ট থাকা বৈধ, আবার বিধান (الحكم) রহিত (نسخ) হওয়া এবং শব্দ বা পাঠ অবশিষ্ট থাকাও বৈধ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২২)
والنسخ إِلَى بدل وَإِلَى غير بدل وَإِلَى مَا هُوَ أغْلظ وَإِلَى مَا هُوَ أخف

وَيجوز نسخ الْكتاب بِالْكتاب وَنسخ السّنة بِالْكتاب وَنسخ السّنة بِالسنةِ

وَيجوز نسخ الْمُتَوَاتر بالمتواتر مِنْهُمَا وَنسخ الْآحَاد بالآحاد وبالمتواتر وَلَا يجوز نسخ الْمُتَوَاتر بالآحاد
রহিতকরণ (نسخ) কোনো বিকল্পের প্রতি হতে পারে, আবার কোনো বিকল্প ছাড়াই হতে পারে। এটি কখনো পূর্বের তুলনায় কঠিনতর বিধানের দিকে হতে পারে, আবার কখনো পূর্বের তুলনায় সহজতর বিধানের দিকেও হতে পারে।

কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ (نسخ), কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ) এবং সুন্নাহর মাধ্যমে সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ) বৈধ।

উভয় উৎসের (কুরআন ও সুন্নাহ) ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির (متواتر) দ্বারা মুতাওয়াতির (متواتر)-কে রহিতকরণ (نسخ) এবং আহাদ (آحاد) দ্বারা আহাদ (آحاد)-কে ও মুতাওয়াতির (متواتر) দ্বারা আহাদ (آحاد)-কে রহিতকরণ (نسخ) বৈধ। তবে আহাদ (آحاد) দ্বারা মুতাওয়াতির (متواتر)-কে রহিতকরণ (نسخ) করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
تَنْبِيه فِي التَّعَارُض إِذا تعَارض نطقان فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يَكُونَا عَاميْنِ أَو خاصين أَو أَحدهمَا عَاما وَالْآخر خَاصّا أَو كل وَاحِد مِنْهُمَا عَاما من وَجه وخاصا من وَجه

فَإِن كَانَا عَاميْنِ فَإِن أمكن الْجمع بَينهمَا جمع وَإِن لم يُمكن الْجمع بَينهمَا يتَوَقَّف فيهمَا إِن لم يعلم التَّارِيخ فَإِن علم التَّارِيخ ينْسَخ الْمُتَقَدّم بالمتأخر وَكَذَا إِذا كَانَا خاصين

وَإِن كَانَ أَحدهمَا عَاما وَالْآخر خَاصّا فيخصص الْعَام بالخاص وَإِن كَانَ أَحدهمَا عَاما من وَجه وخاصا من وَجه فيخص عُمُوم كل وَاحِد مِنْهُمَا بِخُصُوص الآخر
বৈপরিত্য (تعارض) সংক্রান্ত সতর্কবার্তা: যখন দুটি বাচনিক দলিলের মধ্যে বৈপরিত্য (تعارض) দেখা দেয়, তখন বিষয়টি কয়েকটি অবস্থার বাইরে থাকে না: হয় উভয়ই সাধারণ (عام), অথবা উভয়ই বিশেষ (خاص), অথবা তাদের একটি সাধারণ (عام) এবং অন্যটি বিশেষ (خاص), অথবা প্রত্যেকটি এক দিক থেকে সাধারণ (عام من وجه) এবং অন্য দিক থেকে বিশেষ (خاص من وجه)।

যদি উভয়ই সাধারণ (عام) হয় এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা সম্ভব হয়, তবে সমন্বয় সাধন করা হবে। আর যদি সমন্বয় (جمع) করা সম্ভব না হয় এবং ইতিহাস জানা না থাকে, তবে উভয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত (توقف) রাখা হবে। কিন্তু যদি ইতিহাস জানা থাকে, তবে পরবর্তী দলিল দ্বারা পূর্ববর্তী দলিলটি রহিত (نسخ) করা হবে। উভয়টি বিশেষ (خاص) হওয়ার ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

যদি একটি সাধারণ (عام) এবং অন্যটি বিশেষ (خاص) হয়, তবে বিশেষ (خاص) দলিলের মাধ্যমে সাধারণ (عام) দলিলকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করা হবে। আর যদি উভয়টি এক দিক থেকে সাধারণ (عام من وجه) এবং অন্য দিক থেকে বিশেষ (خاص من وجه) হয়, তবে প্রত্যেকটির সাধারণত্বকে (عموم) অপরটির বিশেষত্ব (خصوص) দ্বারা নির্দিষ্ট (تخصيص) করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
9 -‌‌ الْإِجْمَاع

 

وَإِمَّا الْإِجْمَاع فَهُوَ اتِّفَاق عُلَمَاء الْعَصْر على حكم الْحَادِثَة ونعني بالعلماء الْفُقَهَاء ونعني بالحادثة الْحَادِثَة الشَّرْعِيَّة

وَإِجْمَاع هَذِه الْأمة حجَّة دون غَيرهَا لقَوْله صلى الله عليه وسلم لاتجتمع أمتِي على ضَلَالَة وَالشَّرْع ورد بعصمة هَذِه الْأمة

وَالْإِجْمَاع حجَّة على الْعَصْر الثَّانِي وَفِي أَي عصر كَانَ وَلَا يشْتَرط انْقِرَاض الْعَصْر على الصَّحِيح

فَإِن قُلْنَا انْقِرَاض الْعَصْر شَرط فَيعْتَبر قَول من ولد فِي حياتهم وتفقه وَصَارَ من أهل الِاجْتِهَاد فَلهم أَن يرجِعوا عَن ذَلِك الحكم

وَالْإِجْمَاع يَصح بقَوْلهمْ وبفعلهم وَبقول الْبَعْض وبفعل الْبَعْض وانتشار ذَلِك وسكوت البَاقِينَ وَقَول الْوَاحِد من الصَّحَابَة لَيْسَ بِحجَّة على غَيره على القَوْل الْجَدِيد
৯ -‌‌ ঐক্যমত (إجماع)

 

আর ঐক্যমত (إجماع) হলো কোনো ঘটনার বিধানের (حكم) ব্যাপারে সমকালীন আলেমদের ঐকমত্য। এখানে আলেম বলতে আমরা ফকিহগণকে (الفقهاء) বুঝিয়েছি এবং ঘটনা বলতে শরয়ি (شرعية) বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে বুঝিয়েছি।

এই উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) অন্য যে কারো তুলনায় দলিল (حجة); কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আমার উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।" আর শরিয়ত এই উম্মতকে ভুল থেকে সুরক্ষা বা অভ্রান্ততা (عصمة) দান করেছে।

ঐক্যমত (إجماع) পরবর্তী যুগের জন্য এবং যেকোনো যুগের জন্য দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী, ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়া শর্ত নয়।

যদি আমরা বলি যে যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়া একটি শর্ত, তবে তাদের জীবদ্দশায় যারা জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্য হয়েছেন, তাদের মতামতও বিবেচনাযোগ্য হবে এবং তাদের সেই পূর্বঘোষিত বিধান (حكم) থেকে ফিরে আসার অধিকার থাকবে।

ঐক্যমত (إجماع) আলেমদের বক্তব্য ও কর্মের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়; আবার কারো বক্তব্য বা কর্মের প্রচার এবং বাকিদের মৌনসম্মতির মাধ্যমেও তা সহিহ (يصح) হয়। ইমাম শাফেয়ির নতুন অভিমত (القول الجديد) অনুযায়ী, কোনো একজন সাহাবীর (صحابي) ব্যক্তিগত বক্তব্য অন্য কারো জন্য দলিল (حجة) নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
10 -‌‌ الْأَخْبَار

 

وَأما الْأَخْبَار فَالْخَبَر مَا يدْخلهُ الصدْق وَالْكذب وَالْخَبَر يَنْقَسِم إِلَى قسمَيْنِ آحَاد ومتواتر

فالمتواتر مَا يُوجب الْعلم وَهُوَ أَن يرْوى جمَاعَة لَا يَقع التواطؤ على الْكَذِب من مثلهم إِلَى أَن يَنْتَهِي إِلَى الْمخبر عَنهُ وَيكون فِي الأَصْل عَن مُشَاهدَة أَو سَماع لَا عَن اجْتِهَاد

والآحاد هُوَ الَّذِي يُوجب الْعَمَل وَلَا يُوجب الْعلم وينقسم إِلَى مُرْسل ومسند

فَالْمُسْنَدُ مَا اتَّصل إِسْنَاده والمرسل مَا لم يتَّصل إِسْنَاده فَإِن كَانَ من مَرَاسِيل غير الصَّحَابَة فَلَيْسَ ذَلِك حجَّة إِلَّا مَرَاسِيل سعيد بن الْمسيب فَإِنَّهَا فتشت فَوجدت مسانيد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

والعنعنة تدخل على الْأَسَانِيد وَإِذا قَرَأَ الشَّيْخ يجوز للراوي أَن يَقُول حَدثنِي أَو أَخْبرنِي وَإِذا قَرَأَ هُوَ على الشَّيْخ فَيَقُول أَخْبرنِي وَلَا يَقُول حَدثنِي وَإِن أجَازه الشَّيْخ من غير قِرَاءَة فَيَقُول أجازني أَو أَخْبرنِي إجَازَة
10 -‌সংবাদসমূহ (الأخبار)

 

আর সংবাদসমূহ (الأخبار) প্রসঙ্গে: সংবাদ (الخبر) হলো এমন বিষয় যাতে সত্য এবং মিথ্যা—উভয়টিরই সম্ভাবনা থাকে। সংবাদ (الخبر) দুই ভাগে বিভক্ত: একক (آحاد) এবং অবিরত (متواتর)।

অবিরত (المتواتر) হলো যা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে। আর তা হলো এমন এক জনসমষ্টির বর্ণনা করা, যাদের ন্যায় একদল থেকে অন্য দল বর্ণিত হয়ে আসা পর্যন্ত যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া (التواطؤ) অসম্ভব, যা মূল বক্তা (المخبر عنه) পর্যন্ত পৌঁছে। আর এর মূল ভিত্তি হতে হবে চাক্ষুষ দর্শন (مشاهدة) অথবা শ্রবণের (سماع) ওপর, গবেষণার (اجتهاد) ওপর নয়।

আর একক (الآحاد) সংবাদ হলো তা যা আমল করা অপরিহার্য করে কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে না। এটি মুরসাল (مرسل) এবং মুসনাদ—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

মুসনাদ হলো যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (اتصل)। আর মুরসাল (مرسل) হলো যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন নয়। যদি তা সাহাবি (الصحابة) ব্যতীত অন্যদের মুরসাল বর্ণনা (مراسيل) হয়, তবে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; তবে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব-এর মুরসাল বর্ণনাগুলো (مراسيل) ব্যতীত। কেননা সেগুলো অনুসন্ধান (فتشت) করে দেখা গেছে যে, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত মুসনাদ।

আর 'আনআনা' (العنعنة) সনদসমূহের (الأسانيد) অন্তর্ভুক্ত হয়। যখন শায়খ পাঠ করেন, তখন বর্ণনাকারীর (للراوي) জন্য 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثني) অথবা 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني) বলা বৈধ। আর যদি ছাত্র নিজে শায়খের নিকট পাঠ করে, তবে সে বলবে 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني), কিন্তু 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثني) বলবে না। আর যদি শায়খ পাঠ ছাড়াই তাকে অনুমতি প্রদান করেন, তবে সে বলবে 'তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন' (أجازني) অথবা 'তিনি আমাকে অনুমতির (إجازة) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
11 -‌‌ الْقيَاس

 

وَأما الْقيَاس فَهُوَ رد الْفَرْع إِلَى الأَصْل بعلة تجمعهما فِي الحكم وَهُوَ يَنْقَسِم إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام إِلَى قِيَاس عِلّة وَقِيَاس دلَالَة وَقِيَاس شبه

فَقِيَاس الْعلَّة مَا كَانَت الْعلَّة فِيهِ مُوجبَة للْحكم وَقِيَاس الدّلَالَة هُوَ الِاسْتِدْلَال بِأحد النظيرين على الآخر وَهُوَ أَن تكون الْعلَّة دَالَّة على الحكم وَلَا تكون مُوجبَة للْحكم

وَقِيَاس الشّبَه هُوَ الْفَرْع المتردد بَين أصلين وَلَا يُصَار إِلَيْهِ مَعَ إِمْكَان مَا قبله

وَمن شَرط الْفَرْع أَن يكون مناسبا للْأَصْل وَمن شَرط الأَصْل أَن يكون ثَابتا بِدَلِيل مُتَّفق عَلَيْهِ بَين الْخَصْمَيْنِ

وَمن شَرط الْعلَّة أَن تطرد فِي معلولاتها فَلَا تنتفض لفظا وَلَا معنى

وَمن شَرط الحكم أَن يكون مثل الْعلَّة فِي النَّفْي وَالْإِثْبَات أَي فِي الْوُجُود والعدم فَإِن وجدت الْعلَّة وجد الحكم وَالْعلَّة هِيَ الجالبة للْحكم
11 -‌‌ আল-কিয়াস (القياس)

 

আর আল-কিয়াস (القياس) হলো কোনো একটি শাখা (الفرع)-কে মূল (الأصل)-এর সাথে এমন একটি কার্যকর কারণ (علة)-এর ভিত্তিতে সংযুক্ত করা যা বিধান (الحكم)-এর ক্ষেত্রে উভয়কে একত্রিত করে। আর এটি তিন প্রকারে বিভক্ত: কারণভিত্তিক কিয়াস (قياس علة), নির্দেশক কিয়াস (قياس دلالة) এবং সাদৃশ্যপূর্ণ কিয়াস (قياس شبه)।

অতঃপর কারণভিত্তিক কিয়াস (قياس علة) হলো সেটিই, যাতে কার্যকর কারণ (العلة) বিধান (الحكم)-কে অবধারিত করে। আর নির্দেশক কিয়াস (قياس دلالة) হলো সমজাতীয় দুটির একটির মাধ্যমে অপরটির ওপর দলীল পেশ করা (الاستدلال), আর তা হলো কার্যকর কারণ (العلة) বিধানের ওপর নির্দেশক (دالة) হবে কিন্তু বিধানকে অবধারিত করবে না।

সাদৃশ্যপূর্ণ কিয়াস (قياس شبه) হলো এমন শাখা (الفرع) যা দুটি মূল (أصلين)-এর মাঝে দোদুল্যমান (المتردد), এবং এর পূর্ববর্তী প্রকারগুলো প্রয়োগ করা সম্ভব হলে এটি গ্রহণ করা হবে না।

শাখা (الفرع)-এর শর্ত হলো একে মূল (الأصل)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আর মূল (الأصل)-এর শর্ত হলো একে এমন দলীল দ্বারা সাব্যস্ত হতে হবে যা বিবদমান উভয় পক্ষের নিকট স্বীকৃত বা ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)।

কার্যকর কারণ (العلة)-এর শর্ত হলো এটি তার ফলাফলসমূহে সুসংগত বা অবিচ্ছিন্ন (تطرد) থাকবে, ফলে শাব্দিক বা অর্থগত কোনোভাবেই তা বিচ্যুত হবে না।

বিধান (الحكم)-এর শর্ত হলো নাস্তিবোধক (النفي) ও অস্তিবোধক (الإثبات) হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থাৎ অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর কারণ (العلة)-এর অনুরূপ হওয়া। সুতরাং যদি কার্যকর কারণ (العلة) পাওয়া যায় তবে বিধান (الحكم)-ও পাওয়া যাবে। আর কার্যকর কারণ (العلة) হলো তা-ই যা বিধান (الحكم)-কে আনয়ন করে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
12 -‌‌ الْحَظْر وَالْإِبَاحَة

 

وَأما الْحَظْر وَالْإِبَاحَة فَمن النَّاس من يَقُول إِن الْأَشْيَاء على الْحَظْر إِلَّا مَا أباحته الشَّرِيعَة فَإِن لم يُوجد فِي الشَّرِيعَة مَا يدل على الْإِبَاحَة يتَمَسَّك بِالْأَصْلِ وَهُوَ الْحَظْر

وَمن النَّاس من يَقُول بضده وَهُوَ أَن الأَصْل فِي الْأَشْيَاء أَنَّهَا على الْإِبَاحَة إِلَّا مَا حظره الشَّرْع وَمعنى اسْتِصْحَاب الْحَال الَّذِي يحْتَج بِهِ أَن يستصحب الأَصْل عِنْد عدم الدَّلِيل الشَّرْعِيّ
১২ -‌‌ নিষেধাজ্ঞা (الحظر) ও বৈধতা (الإباحة)

 

আর নিষেধাজ্ঞা (الحظر) ও বৈধতা (الإباحة) প্রসঙ্গে আলেমদের মাঝে এমন কিছু লোক আছেন যারা বলেন যে, সকল বিষয় মূলত নিষিদ্ধ (الحظر), যতক্ষণ না শরিয়ত তা বৈধ করে। সুতরাং শরিয়তে যদি এমন কিছু পাওয়া না যায় যা বৈধতা নির্দেশ করে, তবে মূল অবস্থার (الأصل) ওপর অটল থাকতে হবে, আর তা হলো নিষেধাজ্ঞা (الحظر)।

আবার মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এর বিপরীত কথা বলেন, আর তা হলো—বস্তুর মূল বিধান হলো বৈধতা (الإباحة), যতক্ষণ না শরিয়ত তা নিষিদ্ধ করে। আর ‘পূর্বাবস্থার অনুবৃত্তি’ (استصحاب الحال), যা দলিল হিসেবে পেশ করা হয়, তার অর্থ হলো—শরয়ি দলিলের (الدليل الشرعي) অনুপস্থিতিতে মূল অবস্থাকে (الأصل) বহাল রাখা।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
13 -‌‌ تَرْتِيب الْأَدِلَّة

 

وَأما الْأَدِلَّة فَيقدم الْجَلِيّ مِنْهَا على الْخَفي والموجب للْعلم على الْمُوجب للظن والنطق على الْقيَاس وَالْقِيَاس الْجَلِيّ على الْخَفي

فَإِن وجد فِي النُّطْق مَا يُفَسر الأَصْل يعْمل بالنطق وَإِلَّا فيستصحب الْحَال
13 -‌‌ দলিলসমূহের বিন্যাসক্রম (ترتيب الأدلة)

 

আর দলিলসমূহের ক্ষেত্রে, অস্পষ্ট (الخفي) বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট (الجلي) বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে; প্রবল ধারণা দানকারী (الموجব للظن) বিষয়ের ওপর নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী (الموجব للعلم) বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে; এবং কিয়াস (القياس)-এর ওপর সুস্পষ্ট বক্তব্য (النطق)-কে প্রাধান্য দেওয়া হবে; আর অস্পষ্ট (الخفي) কিয়াসের ওপর সুস্পষ্ট (الجلي) কিয়াসকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

যদি সুস্পষ্ট বক্তব্যের (النطق) মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা মূল বিষয়কে (الأصل) ব্যাখ্যা করে, তবে সেই সুস্পষ্ট বক্তব্য (النطق) অনুযায়ী আমল করা হবে; অন্যথায় পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (استصحاب الحال) নীতি অনুসরণ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
14 -‌‌ شُرُوط الْمُفْتِي

 

وَمن شَرط الْمُفْتِي أَن يكون عَالما بالفقه أصلا وفرعا خلافًا ومذهبا وَأَن يكون كَامِل الْأَدِلَّة فِي الِاجْتِهَاد عَارِفًا بِمَا يحْتَج إِلَيْهِ فِي استنباط الْأَحْكَام وَتَفْسِير الْآيَات الْوَارِدَة فِي الْأَحْكَام وَالْأَخْبَار الْوَارِدَة فِيهَا
14 -‌‌ মুফতির শর্তাবলি (شروط المفتي)

 

আর মুফতির শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো—তাকে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصل) ও শাখা-প্রশাখা (فرع), মতভেদ (خلاف) এবং মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী হতে হবে। এ ছাড়া তাকে ইজতিহাদের (اجتهاد) দলিলসমূহে পূর্ণ পারদর্শী হতে হবে এবং বিধান আহরণের (استنباط) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। আর তাকে বিধান সংশ্লিষ্ট অবতীর্ণ আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (تفسير) এবং এ সংক্রান্ত বর্ণিত বর্ণনার (أخبار) বিষয়েও পূর্ণ জ্ঞান রাখতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
15 -‌‌ شُرُوط المستفتي

 

وَمن شُرُوط المستفتي أَن يكون من أهل التَّقْلِيد وَلَيْسَ للْعَالم أَن يُقَلّد والتقليد قبُول قَول الْقَائِل بِلَا حجَّة

فعلى هَذَا قبُول قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُسمى تقليدا وَمِنْهُم من قَالَ التَّقْلِيد قبُول قَول الْقَائِل وَأَنت لَا تَدْرِي من أَيْن قَالَه

فَإِن قُلْنَا إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُول بِالْقِيَاسِ فَيجوز أَن يُسمى قبُول قَوْله تقليدا
১৫ -‌‌ মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর (المستفتي) শর্তাবলি

 

মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর (المستفتي) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো তাকে অনুকরণের অনুসারীদের (أهل التقليد) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে; আর একজন আলেমের (العالم) জন্য অনুকরণ (يقلد) করা বৈধ নয়। আর অনুকরণ (التقليد) হলো প্রমাণ বা দলিল (حجة) ব্যতীত কোনো প্রবক্তার কথা গ্রহণ করা।

এই সংজ্ঞা অনুসারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা গ্রহণ করাকেও অনুকরণ (تقليدا) বলা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, অনুকরণ (التقليد) হলো কোনো প্রবক্তার কথা এমন অবস্থায় গ্রহণ করা যে আপনি জানেন না তিনি তা কোথা থেকে (কোন উৎস থেকে) বলেছেন।

যদি আমরা বলি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়াসের (القياس) ভিত্তিতে কথা বলতেন, তবে তাঁর কথা গ্রহণ করাকে অনুকরণ (تقليدا) হিসেবে অভিহিত করা বৈধ হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
16 -‌‌ الِاجْتِهَاد

 

وَأما الِاجْتِهَاد فَهُوَ بذل الوسع فِي بُلُوغ الْغَرَض فالمجتهد إِن كَانَ كَامِل الْآلَة فِي الِاجْتِهَاد فِي الْفُرُوع فَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَإِن اجْتهد وَأَخْطَأ فَلهُ أجر وَاحِد

وَمِنْهُم من قَالَ كل مُجْتَهد فِي الْفُرُوع مُصِيب وَلَا يجوز كل مُجْتَهد فِي الْأُصُول الكلامية مُصِيب لِأَن ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى تصويب أهل الضَّلَالَة وَالْمَجُوس وَالْكفَّار والملحدين 3 وَدَلِيل من قَالَ لَيْسَ كل مُجْتَهد فِي الْفُرُوع مصيبا قَوْله صلى الله عليه وسلم من اجْتهد وَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَمن اجْتهد وَأَخْطَأ فَلهُ أجر وَاحِد

وَوجه الدَّلِيل أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم خطأ الْمُجْتَهد تَارَة وَصَوَّبَهُ أُخْرَى
১৬ -‌‌ ইজতিহাদ (الاجتهاد)

 

আর ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। সুতরাং মুজতাহিদ (مجتهد) যদি শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলার (الفروع) ইজতিহাদে পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন হন এবং সঠিক (أصاب) সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। আর যদি তিনি ইজতিহাদ (اجتهد) করেন এবং ভুল (أخطأ) করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।

আলেমদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা বলেন, শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় (الفروع) প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক (مصيب)। তবে ইলমে কালামের মূলনীতিসমূহে (الأصول الكلامية) প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক—একথা বলা বৈধ নয়; কারণ এটি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, অগ্নিপূজক, কাফির ও নাস্তিকদের মতবাদকে সঠিক সাব্যস্ত করার দিকে নিয়ে যাবে। আর যারা বলেন যে শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় (الفروع) প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক (مصيب) নন, তাঁদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهد) করল এবং সঠিক (أصاب) হলো, তার জন্য রয়েছে দুটি প্রতিদান; আর যে ইজতিহাদ (اجتهد) করল এবং ভুল (أخطأ) করল, তার জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।"

দলিলটির প্রয়োগরীতি হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুজতাহিদকে (المجتهد) কখনো ভুলকারী (خطأ) সাব্যস্ত করেছেন, আবার কখনো সঠিক (صوب) সাব্যস্ত করেছেন।