(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
التمهيد في تخريج الفروع على الأصول   (الإسنوي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: التمهيد في تخريج الفروع على الأصول

المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الرحيم بن الحسن الإسنوي (ت 772 هـ)

حققه وعلق عليه وخرج نصوصه: د. محمد حسن هيتو [ت 1447 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الثانية، 1401 هـ - 1981 م

عدد الصفحات: 534

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরু আলাল উসুল   (আল-ইসনাভি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: আত-তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরু আলাল উসুল

লেখক: জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম ইবনে হাসান আল-ইসনাভি (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি)

সম্পাদনা, টীকা প্রদান এবং সূত্র নির্দেশ করেছেন: ড. মুহাম্মদ হাসান হিতু [মৃত্যু ১৪৪৭ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة فريد دهره ووحيد عصره جمال الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحِيم بن الْحسن الْإِسْنَوِيّ امتع الله بِبَقَائِهِ الْمُسلمين

الْحَمد لله مزيل أعذار الْمُكَلّفين بإرشاد الْعُقُول وتمهيد الْأُصُول مقيل عثار الْمُجْتَهد مِنْهُم فِيمَا يعْمل بِاجْتِهَادِهِ أَو يَقُول وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة تنيل قَائِلهَا أعظم سَوَّلَ وأبلغ مأمول وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أكْرم نَبِي وأشرف رَسُول صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه ذَوي السَّيْف المسلول وَالْفضل المبذول وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا

وَبعد فَإِن أصُول الْفِقْه علم عظم نَفعه وَقدره وَعلا شرفه وفخره إِذْ هُوَ مثار الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة ومنار الْفَتَاوَى الفرعية الَّتِي بهَا صَلَاح الْمُكَلّفين معاشا ومعادا ثمَّ إِنَّه الْعُمْدَة فِي الِاجْتِهَاد وأهم مَا يتَوَقَّف عَلَيْهِ من الْموَاد كَمَا نَص عَلَيْهِ الْعلمَاء وَوَصفه بِهِ الْأَئِمَّة الْفُضَلَاء وَقد أوضحه الإِمَام فِي الْمَحْصُول فَقَالَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, মহাজ্ঞানী, আল্লামা, তাঁর যুগের অনন্য ও সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম ইবনে হাসান আল-ইসনাভি—আল্লাহ তাঁর দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন—বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক নির্দেশনা প্রদান এবং মূলনীতিসমূহ সুবিন্যস্ত করার মাধ্যমে মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের) ওজর বা অজুহাত দূর করেছেন; এবং মুজতাহিদগণ তাঁদের ইজতিহাদ অনুযায়ী যা কিছু করেন বা বলেন, তাতে তাঁদের পদস্খলন ক্ষমা করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা প্রদানকারীকে তাঁর মহান আকাঙ্ক্ষা ও সর্বোচ্চ প্রত্যাশা লাভে ধন্য করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল। আল্লাহর দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সেই সকল সাহাবীদের ওপর, যারা ছিলেন উন্মুক্ত তলোয়ার ও অবারিত অনুগ্রহের অধিকারী।

অতঃপর, নিশ্চয়ই উসুলুল ফিকহ এমন এক জ্ঞান (ইলম) যার উপকারিতা ও গুরুত্ব অপরিসীম এবং যার মর্যাদা ও গৌরব সুউচ্চ। কারণ এটি হলো শরীয়তের হুকুম-আহকামের উৎসস্থল এবং শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফতোয়ার আলোকবর্তিকা, যার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে মুকাল্লাফদের সংশোধন ও কল্যাণ নিহিত। তদুপরি, এটি ইজতিহাদের মূল ভিত্তি এবং ইজতিহাদ যার ওপর নির্ভরশীল সেই সকল উপকরণের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটি উলামায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং বিদগ্ধ ইমামগণ এর বর্ণনা দিয়েছেন। ইমাম (ফখরুদ্দিন আল-রাজি) তাঁর 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أما علم الْكَلَام فَلَيْسَ شرطا فِي الإجتهاد لعدم ارتباطه بِهِ وَكَذَلِكَ علم الْفِقْه لِأَنَّهُ نتيجته بل يشْتَرط فِيهِ أُمُور وَهُوَ أَن يعرف من الْكتاب وَالسّنة مَا يتَعَلَّق بِالْأَحْكَامِ وَيعرف الْمسَائِل الْمجمع عَلَيْهَا والمنسوخ مِنْهَا وَحَال الروَاة لِأَن الْجَهْل بِشَيْء من هَذِه الْأُمُور قد يُوقع الْمُجْتَهد فِي الْخَطَأ وَأَن يعرف اللُّغَة إفرادا وتركيبا لِأَن الْأَدِلَّة من الْكتاب وَالسّنة عَرَبِيَّة وشرائط الْقيَاس لِأَن الِاجْتِهَاد مُتَوَقف عَلَيْهِ وَكَيْفِيَّة النّظر وَهُوَ تَرْتِيب الْمُقدمَات

فَأَما الْخَمْسَة الْأَوَائِل فَيَكْفِي فِيهَا أَن يكون عِنْده تصنيف مُعْتَمد فِي كل وَاحِد مِنْهَا يرجع إِلَيْهِ عِنْد حُدُوث الْوَاقِعَة فَإِذا رَاجع ذَلِك فَلم يجد فِيهَا غلب على ظَنّه نفي وجوده حَتَّى بَالغ الرَّافِعِيّ وَقَالَ إِنَّه يَكْفِي فِي علم السّنة أَن يكون عِنْده سنَن أبي دَاوُد وَالَّذِي قَالَه مُتَّجه فَإِن ظن الْعَدَم يحصل بِعَدَمِ وجوده فِيهِ وَالظَّن هُوَ الْمُكَلف بِهِ فِي الْفُرُوع وَبَالغ النَّوَوِيّ فِي الرَّد عَلَيْهِ فِي تمثيله بسنن أبي دَاوُد لتوهمه من كَلَامه خلاف مُرَاده وَأما اللُّغَة فَالْمُعْتَبر مِنْهَا معرفَة الْمُفْردَات
ইলমে কালাম ইজতিহাদের জন্য কোনো শর্ত নয়, কারণ এর সাথে ইজতিহাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে ফিকহ শাস্ত্রও নয়, কেননা এটি ইজতিহাদের ফলাফল। বরং এতে এমন কিছু বিষয় শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়, আর তা হলো—কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানা, ইজমা হওয়া মাসআলাসমূহ এবং রহিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানা; কেননা এসব বিষয়ের কোনো একটি সম্পর্কে অজ্ঞতা মুজতাহিদকে ভুলের মধ্যে নিপতিত করতে পারে। এছাড়া শব্দ ও বাক্যগঠন উভয় দিক থেকে ভাষাতত্ত্ব জানা, কারণ কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহ আরবি ভাষায়। আরও প্রয়োজন কিয়াসের শর্তাবলি জানা, কারণ ইজতিহাদ এর ওপর নির্ভরশীল; এবং গবেষণার পদ্ধতি তথা ভূমিকার বিন্যাস প্রক্রিয়া জানা।

পূর্বোক্ত প্রথম পাঁচটি বিষয়ের ক্ষেত্রে এতোটুকু যথেষ্ট যে, তার নিকট এই প্রতিটি বিষয়ের এমন নির্ভরযোগ্য কোনো সংকলন থাকবে যার দিকে কোনো ঘটনা ঘটার সময় সে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে। অতঃপর যখন সে তা পর্যালোচনা করবে এবং তাতে কিছুই পাবে না, তখন তার প্রবল ধারণা হবে যে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকি ইমাম রাফেঈ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেছেন যে, সুন্নাহর ইলমের ক্ষেত্রে তার নিকট 'সুনানে আবু দাউদ' থাকাই যথেষ্ট। তিনি যা বলেছেন তা যুক্তিযুক্ত, কারণ কোনো কিছুর অনুপস্থিতির ধারণা তা বিদ্যমান না থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর ফিকহের শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলাসমূহে প্রবল ধারণাই আমলের ভিত্তি। তবে ইমাম নববী 'সুনানে আবু দাউদ' দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার কারণে তাঁর কঠোর প্রতিবাদ করেছেন, কারণ তিনি ইমাম রাফেঈর কথা থেকে তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্যের বিপরীত কিছু ধারণা করেছিলেন। আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে শব্দাবলির অর্থ জানাই ধর্তব্য।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْوَاقِعَة فِي الْكتاب وَالسّنة وَمَعْرِفَة فهم التراكيب من الفاعلية والمفعولية وَالْإِضَافَة وَنَحْو ذَلِك دون دقائق العلمين وَهَذَا الْمِقْدَار يسير جدا وَمَعَ ذَلِك فَالشَّرْط هُوَ الْقُدْرَة على الِاطِّلَاع عَلَيْهِ عِنْد الِاحْتِيَاج اليه لَا حفظه وترتيب الْمُقدمَات أَيْضا يسير

وَأما شَرَائِط الْقيَاس وَهُوَ الْكَلَام فِي شَرَائِط الأَصْل وَالْفرع وشرائط الْعلَّة وأقسامها ومبطلاتها وَتَقْدِيم بَعْضهَا على بعض عِنْد التَّعَارُض فَهُوَ بَاب وَاسع تَتَفَاوَت فِيهِ الْعلمَاء تَفَاوتا كثيرا وَمِنْه يحصل الِاخْتِلَاف غَالِبا مَعَ كَونه بعض أصُول الْفِقْه

فَثَبت بذلك مَا قَالَه الإِمَام أَن الرُّكْن الْأَعْظَم وَالْأَمر الأهم فِي الِاجْتِهَاد إِنَّمَا هُوَ علم أصُول الْفِقْه

وَكَانَ إمامنا الشَّافِعِي رضي الله عنه هُوَ المبتكر لهَذَا الْعلم بِلَا نزاع وَأول من صنف فِيهِ بِالْإِجْمَاع وتصنيفه الْمَذْكُور فِيهِ مَوْجُود بِحَمْد الله تَعَالَى وَهُوَ الْكتاب الْجَلِيل الْمَشْهُور المسموع عَلَيْهِ الْمُتَّصِل إِسْنَاده الصَّحِيح إِلَى زَمَاننَا الْمَعْرُوف بالرسالة الَّذِي أرسل الإِمَام عبد الرَّحْمَن بن مهْدي من خُرَاسَان إِلَيّ الشَّافِعِي بِمصْر فصنفه لَهُ وتنافس فِي تَحْصِيله عُلَمَاء عصره

على أَنه قد قيل إِن بعض من تقدم على الشَّافِعِي نقل عَنهُ إِلْمَام بِبَعْض مسَائِله فِي أثْنَاء كَلَامه على بعض الْفُرُوع وَجَوَاب عَن سُؤال سَائل لَا يسمن وَلَا يُغني من جوع

وَهل يُعَارض مقَالَة قيلت فِي بعض الْمسَائِل بتصنيف مَوْجُود مسموع
যা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষাগত প্রয়োগে বিদ্যমান এবং বাক্য কাঠামোর ক্ষেত্রে কর্তৃপদ, কর্মপদ, সম্বন্ধপদ ও অনুরূপ বিষয়গুলোর গঠন প্রকৃতি অনুধাবনের জ্ঞান, তবে তা সংশ্লিষ্ট দুই শাস্ত্রের অতি সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়সমূহ ব্যতিরেকে। এই পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত সহজ। তদুপরি, শর্ত হলো প্রয়োজনে তা দেখে নেওয়ার সক্ষমতা থাকা, মুখস্থ রাখা নয়। তদ্রূপ যুক্তির ভূমিকা বা প্রাঙ্গণসমূহ বিন্যস্ত করাও সহজ।

আর কিয়াসের শর্তাবলি—যথা মূল ভিত্তি (আসল), শাখা (ফর), কারণের (ইল্লত) শর্তাবলি, এর প্রকারভেদ, এর অকার্যকরকারী বিষয়সমূহ এবং পারস্পরিক বিরোধের সময় একটিকে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার প্রদানের নিয়মাবলি—তা একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র। এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে ব্যাপক তারতম্য পরিলক্ষিত হয় এবং উসুলুল ফিকহের অংশ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মতভেদ সাধারণত এখান থেকেই সৃষ্টি হয়।

এর মাধ্যমে ইমাম যা বলেছেন তা প্রমাণিত হলো যে, ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ স্তম্ভ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র।

আমাদের ইমাম শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কোনো বিতর্ক ছাড়াই এই শাস্ত্রের উদ্ভাবক এবং সর্বসম্মতভাবে তিনিই এই বিষয়ে প্রথম কিতাব রচয়িতা। তাঁর রচিত সেই গ্রন্থটি আল্লাহর অনুগ্রহে আজও বিদ্যমান। এটি সেই সুমহান ও প্রসিদ্ধ কিতাব যার পঠন-পাঠন ও শ্রুতির ধারা এবং সহিহ সনদ আমাদের সময় পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে, যা 'আর-রিসালাহ' নামে পরিচিত। ইমাম আবদুর রহমান ইবনে মাহদি খোরাসান থেকে মিশরে অবস্থানরত ইমাম শাফিয়ীর নিকট এই বিষয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি এটি তাঁর জন্য রচনা করেন এবং তৎকালীন সময়ের আলিমগণ এটি লাভের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন।

যদিও বলা হয়ে থাকে যে, শাফিয়ীর পূর্বে অতিক্রান্ত কেউ কেউ ফিকহের শাখাগত মাসআলা নিয়ে আলোচনাকালে বা কোনো প্রশ্নকারীর উত্তর প্রদানের সময় এই শাস্ত্রের কিছু বিষয়ের প্রতি সামান্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা অতি নগণ্য যা কোনো উপকারে আসে না এবং কোনো অভাব পূরণ করে না।

আর বিচ্ছিন্নভাবে কোনো মাসআলায় বলা সামান্য কথা কি একটি বিদ্যমান ও পঠিত সুসংগঠিত রচনার সমকক্ষ হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৬)
مستوعب لأبواب الْعلم

وَكنت قَدِيما قد اعتنيت بِهَذَا الْعلم وراجعت غَالب مصنفاته المبسوطة والمتوسطة والمختصره من زمن إمامنا المبتكر لَهُ وَإِلَى زَمَاننَا حَتَّى صنفت فِيهِ بِحَمْد الله تَعَالَى مَا اجْتمع فِيهِ من قَوَاعِد هَذَا الْعلم ومسائله ومقاصده ومذاهب أئمته مَا أَظن أَنه لم يجْتَمع فِي غَيره مَعَ صغر حجمه بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا اشْتَمَل عَلَيْهِ فَإِن تَطْوِيل مبسوطاته إِنَّمَا هُوَ بِذكر أَدِلَّة أَكْثَرهَا ضَعِيف وَأما مسَائِله ومقاصده فمحصورة مضبوطة

ثمَّ إِنِّي استخرت الله تَعَالَى فِي تأليف كتاب يشْتَمل على غَالب مسَائِله وعَلى الْمَقْصُود مِنْهُ وَهُوَ كَيْفيَّة اسْتِخْرَاج الْفُرُوع مِنْهَا

فأذكر أَولا الْمَسْأَلَة الْأُصُولِيَّة بِجَمِيعِ أطرافها منقحة مهذبة ملخصة

ثمَّ اتبعها بِذكر شَيْء مِمَّا يتَفَرَّع عَلَيْهَا ليَكُون ذَلِك تَنْبِيها على مَا لم أذكرهُ

وَالَّذِي أذكرهُ على أَقسَام

فَمِنْهُ مَا يكون جَوَاب أَصْحَابنَا فِيهِ مُوَافقا للقاعدة

وَمِنْه مَا يكون مُخَالفا لَهَا

وَمِنْه مَا لم أَقف فِيهِ على نقل بِالْكُلِّيَّةِ فأذكر فِيهِ مَا تَقْتَضِيه قاعدتنا الْأُصُولِيَّة ملاحظا أَيْضا للقاعدة المذهبية والنظائر الفروعية وَحِينَئِذٍ يعرف النَّاظر فِي ذَلِك مَأْخَذ مَا نَص عَلَيْهِ أَصْحَابنَا وأصلوه وأجملوه
ইলমের অধ্যায়সমূহকে পরিবেষ্টনকারী।

আমি দীর্ঘকাল যাবত এই ইলমের প্রতি যত্নশীল ছিলাম এবং আমাদের ইমাম—যিনি এর উদ্ভাবক—তাঁর সময় থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এর বিস্তৃত, মধ্যম ও সংক্ষিপ্ত প্রায় সকল রচনা পর্যালোচনা করেছি। এমনকি আল্লাহ তায়ালার প্রশংসায় আমি এতে এমন এক কিতাব সংকলন করেছি, যাতে এই ইলমের মূলনীতি, মাসআলা, উদ্দেশ্য এবং ইমামগণের মাযহাবসমূহ এমনভাবে একত্র হয়েছে যা এর ক্ষুদ্র আয়তন সত্ত্বেও অন্য কোথাও এভাবে একত্র হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, এর বিস্তৃত গ্রন্থগুলোর দীর্ঘায়নের কারণ হলো এমন সব দলীল উল্লেখ করা যার অধিকাংশই দুর্বল; অথচ এর মাসআলা ও উদ্দেশ্যসমূহ সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত।

অতঃপর আমি এমন একটি কিতাব রচনার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট ইস্তিখারা করেছি, যা এর অধিকাংশ মাসআলা এবং এর মূল লক্ষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করবে, আর তা হলো—সেসব (মূলনীতি) থেকে কীভাবে শাখা মাসআলা আহরণ করতে হয়।

তাই আমি প্রথমে উসূলের মাসআলাটি তার সকল দিকসহ পরিমার্জিত, সুবিন্যস্ত ও সারসংক্ষেপ আকারে উল্লেখ করব।

এরপর আমি তা থেকে উদ্ভূত কিছু শাখা মাসআলা উল্লেখ করব, যাতে তা আমার অনুল্লিখিত মাসআলাগুলোর প্রতি সঙ্কেতস্বরূপ হয়।

আর আমি যা উল্লেখ করব তা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:

তার মধ্যে কিছু এমন যা আমাদের (মাযহাবের) ফকীহগণের উত্তর মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবার কিছু এমন যা তার বিপরীত।

আবার কিছু এমন যেগুলোতে আমি কোনো উদ্ধৃতিই খুঁজে পাইনি। সে ক্ষেত্রে আমাদের উসূলী মূলনীতি যা দাবি করে আমি তা উল্লেখ করব, পাশাপাশি মাযহাবের সাধারণ মূলনীতি ও সদৃশ শাখা মাসআলাগুলোর প্রতিও লক্ষ্য রাখব। আর এর মাধ্যমে পাঠক আমাদের ফকীহগণ যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা তারা মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং যা তারা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, তার উৎস সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
أَو فصلوه ويتنبه بِهِ على اسْتِخْرَاج مَا أهملوه وَيكون سِلَاحا وعدة للمفتين وعمدة للمدرسين خُصُوصا الْمَشْرُوط فِي حَقهم إِلْقَاء العلمين وَالْقِيَام بالوظيفتين فَإِن الْمَذْكُور جَامع لذَلِك واف بِمَا هُنَالك لَا سِيمَا أَن الْفُرُوع الْمشَار إِلَيْهَا مهمة مَقْصُودَة فِي نَفسهَا بِالنّظرِ وَكثير مِنْهَا قد ظَفرت بِهِ فِي كتب غَرِيبَة أَو عثرت بِهِ فِي غير مظنته أَو استخرجته أَنا وَصورته وكل ذَلِك ستراه مُبينًا إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَقد مهدت بكتابي هَذَا طَرِيق التَّخْرِيج لكل ذِي مَذْهَب وَفتحت بِهِ بَاب التَّفْرِيع لكل ذِي مطلب فلتستحضر أَرْبَاب الْمذَاهب قواعدها الْأُصُولِيَّة وتفاريعها ثمَّ تسلك مَا سلكته فَيحصل بِهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى لجميعهم التمرن على تَحْرِير الْأَدِلَّة وتهذيبها والتبين لمأخذ تضعيفها وتصويبها ويتهيأ لأكْثر المستعدين الملازمين للنَّظَر فِيهِ نِهَايَة الأرب وَغَايَة الطّلب وَهُوَ تمهيد الْوُصُول إِلَى مقَام اسْتِخْرَاج الْفُرُوع من قَوَاعِد الْأُصُول والتعريج إِلَى ارتقاء مقَام ذَوي التَّخْرِيج حقق الله تَعَالَى ذَلِك بمنه وَكَرمه فَلذَلِك سميته بالتمهيد

وَالله المسؤول أَن ينفع بِهِ مُؤَلفه وكاتبه والناظر فِيهِ وَجَمِيع الْمُسلمين بمنه وَكَرمه

ثمَّ شرعت فِي أثْنَاء ذَلِك فِي كتاب آخر على هَذَا الأسلوب بِالنِّسْبَةِ إِلَى علم الْعَرَبيَّة مُسَمّى بالكوكب الدُّرِّي ليقوى بِهِ الاستمداد والتدريج وَيتم بِهِ الاستعداد للتخريج أعَان الله تَعَالَى على ذَلِك كُله بحوله وقوته لارب غَيره وَلَا مرجو سواهُ وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل

অথবা তারা তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে তারা যা অবহেলা করেছেন তা উদ্ভাবন করার বিষয়ে সচেতন হওয়া সম্ভব হবে। এটি মুফতিদের জন্য হাতিয়ার ও সরঞ্জাম এবং শিক্ষকদের জন্য অবলম্বন হবে, বিশেষ করে যাদের ওপর উভয় ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং উভয় দায়িত্ব পালনের শর্তারোপ করা হয়েছে। কেননা এই গ্রন্থটি সেই সবকিছুর সংকলক এবং সেখানে যা প্রয়োজন তার জন্য পর্যাপ্ত। বিশেষ করে নির্দেশিত শাখা বিধানগুলো (ফুরু) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিজস্বভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্দিষ্ট। এর অনেকগুলোই আমি দুর্লভ কিতাবসমূহে পেয়েছি অথবা এমন স্থানে খুঁজে পেয়েছি যেখানে তা পাওয়ার সাধারণ সম্ভাবনা ছিল না, কিংবা আমি নিজেই তা উদ্ভাবন ও রূপদান করেছি। এই সবকিছুই আপনি ইনশাআল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বিবৃত দেখতে পাবেন।

আমি আমার এই কিতাবের মাধ্যমে প্রত্যেক মাযহাবপন্থীর জন্য 'তখরিজ' (মূলনীতি থেকে শাখা বিধান আহরণ) এর পথ সুগম করেছি এবং প্রত্যেক অন্বেষণকারীর জন্য 'তাফরি' (শাখা বিধান বের করা) এর দ্বার উন্মোচন করেছি। অতএব, বিভিন্ন মাযহাবের পণ্ডিতগণ যেন তাদের উসুলি কায়দা (মূলনীতি) এবং সেগুলোর শাখা বিধানসমূহ উপস্থিত রাখেন, অতঃপর আমি যে পথ অনুসরণ করেছি তা অবলম্বন করেন। এর ফলে ইনশাআল্লাহ তাআলা তাদের সকলের জন্য দলিলসমূহকে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করার এবং সেগুলোর দুর্বলতা ও সঠিকতা নির্ণয়ের ভিত্তিগুলো স্পষ্ট করার অনুশীলন অর্জিত হবে। আর যারা এর ওপর নিবিষ্ট থেকে গবেষণায় অভ্যস্ত এমন অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির জন্য এর মাধ্যমে চূড়ান্ত লক্ষ্য ও পরম উদ্দেশ্য অর্জিত হবে। আর তা হলো উসুলের কায়দাগুলো থেকে ফুরু বা শাখা বিধান বের করার মাকামে পৌঁছানোর এবং তখরিজ করার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্তরে আরোহণের পথ সুগম করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তা বাস্তবায়িত করুন। এই কারণেই আমি এর নামকরণ করেছি 'আত-তামহিদ' (সুগমকরণ বা প্রস্তুতি)।

আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় এর লেখক, অনুলিপিকারক, পাঠক এবং সকল মুসলিমকে এর দ্বারা উপকৃত করেন।

এরপর এই কাজের মাঝেই আমি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ওপর এই একই পদ্ধতিতে অন্য একটি কিতাব রচনা শুরু করেছি যার নাম দিয়েছি 'আল-কাওকাব আল-দুররি'; যাতে এর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন ও ক্রমোন্নতি শক্তিশালী হয় এবং তখরিজ বা বিধান আহরণের প্রস্তুতি পূর্ণতা পায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যে এই সবকিছুর ওপর সাহায্য করুন। তিনি ছাড়া কোনো রব নেই এবং তিনি ছাড়া আর কোনো প্রত্যাশার স্থল নেই। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب الحكم الشَّرْعِيّ وأقسامه صلى الله عليه وسلم َ -

 

‌‌مَسْأَلَة 1

 

الحكم الشَّرْعِيّ خطاب الله تَعَالَى الْمُتَعَلّق بِأَفْعَال الْمُكَلّفين بالاقتضاء أَو التَّخْيِير

وَزَاد ابْن الْحَاجِب فِيهِ أَو الْوَضع ليدْخل جعل الشَّيْء سَببا أَو شرطا أَو مَانِعا كجعل الله تَعَالَى زَوَال الشَّمْس مُوجبا لِلظهْرِ وَجعله الطَّهَارَة شرطا لصِحَّة الصَّلَاة والنجاسة مَانِعَة من صِحَّتهَا فَإِن الْجعل الْمَذْكُور حكم شَرْعِي لأَنا إِنَّمَا استفدناه من الشَّارِع وَلَيْسَ فِيهِ طلب وَلَا تَخْيِير لِأَنَّهُ لَيْسَ من أفعالنا حَتَّى يطْلب منا أَو نخير فِيهِ

والأولون تكلفوا فِي إِدْخَال هَذِه الْأَشْيَاء فِي الْحَد
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক - শারয়ী হুকুম ও এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ - আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক -

 

‌‌মাসআলা ১

 

শারয়ী হুকুম হলো মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সেই সম্বোধন, যা কোনো কিছু দাবি করার (তলব) বা পছন্দের সুযোগ (তাখয়ীর) প্রদানের সাথে যুক্ত।

ইবনুল হাজিব এতে 'অথবা নির্ধারণ' (আল-ওয়াদ) কথাটি বৃদ্ধি করেছেন, যাতে কোনো বিষয়কে কারণ, শর্ত বা প্রতিবন্ধক হিসেবে নির্ধারণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়; যেমন মহান আল্লাহ সূর্য ঢলে পড়াকে যোহরের সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে, পবিত্রতাকে সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হিসেবে এবং অপবিত্রতাকে সালাত শুদ্ধ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই উল্লিখিত নির্ধারণও একটি শারয়ী হুকুম, যেহেতু আমরা এটি কেবল শারী' (বিধানদাতা) থেকেই লাভ করেছি। অথচ এতে কোনো তলব (দাবি) বা তাখয়ীর (পছন্দের সুযোগ) নেই, কারণ এটি আমাদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের নিকট তা তলব করা হবে বা আমাদের তাতে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হবে।

আর পূর্ববর্তীগণ এই বিষয়গুলোকে সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪৯)
إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع كَون الحكم الشَّرْعِيّ لَا بُد من تعلقه بالمكلفين 1 ان وطىء الشُّبْهَة الْقَائِمَة بالفاعل وَهُوَ مَا إِذا وطىء أَجْنَبِيَّة على ظن أَنَّهَا زَوجته مثلا هَل يُوصف وَطْؤُهُ بِالْحلِّ أَو الْحُرْمَة وَإِن انْتَفَى عَنهُ الْإِثْم أَو لَا يُوصف بِشَيْء مِنْهَا

فِيهِ ثَلَاثَة أوجه أَصَحهَا الثَّالِث وَبِه أجَاب النَّوَوِيّ فِي كتاب النِّكَاح من فَتَاوِيهِ لِأَن الْحل وَالْحُرْمَة من الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة وَالْحكم الشَّرْعِيّ هُوَ الْخطاب الْمُتَعَلّق بِأَفْعَال الْمُكَلّفين

والساهي والمخطىء وَنَحْوهمَا لَيْسُوا مكلفين

وَجزم فِي الْمُهَذّب بِالْحُرْمَةِ وَقَالَ بِهِ جمَاعَة كَثِيرَة من أَصْحَابنَا وَالْخلاف يجْرِي فِي قتل الْخَطَأ وَفِي أكل الْمُضْطَر للميتة

وَمن أطلق عَلَيْهِ التَّحْرِيم أَو الْإِبَاحَة لم يُقيد التَّعَلُّق بالمكلفين بل بالعباد ليدْخل فِيهِ أَيْضا صِحَة صَلَاة الصَّبِي وَغَيرهَا من الْعِبَادَات وَوُجُوب الغرامة بإتلافه وَإِتْلَاف الْمَجْنُون والبهيمة والساهي وَنَحْو ذَلِك مِمَّا ينْدَرج فِي خطاب الْوَضع كَمَا سَيَأْتِي إيضاحه فِي أَوَاخِر هَذِه الْمُقدمَة

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন শরয়ি হুকুম অবশ্যই মুকাল্লাফদের (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার একটি আনুষঙ্গিক মাসআলা হলো: ১. কর্তার ক্ষেত্রে সংঘটিত সন্দেহযুক্ত সহবাস (ওয়াতউশ শুবহা)—যেমন কেউ কোনো পরনারীর সাথে এই ধারণায় সহবাস করল যে সে তার স্ত্রী—তবে কি তার এই সহবাসকে হালাল বা হারাম হিসেবে অভিহিত করা হবে, যদিও তার থেকে গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়েছে? নাকি এর কোনোটি দ্বারাই একে বিশেষিত করা হবে না?

এই বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয়টি অধিকতর শুদ্ধ। ইমাম নববী তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থের বিবাহ অধ্যায়ে এই উত্তর প্রদান করেছেন। কারণ হালাল ও হারাম হওয়া শরয়ি হুকুমসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর শরয়ি হুকুম হলো মুকাল্লাফদের আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐশী সম্বোধন।

আর বিস্মৃত ব্যক্তি ও ভুলকারী এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য) নন।

'আল-মুহাজ্জাব' গ্রন্থে হারামের ব্যাপারে নিশ্চিত মত ব্যক্ত করা হয়েছে এবং আমাদের মাযহাবের এক বৃহৎ গোষ্ঠী এই মতটি গ্রহণ করেছেন। ভুলবশত হত্যা এবং নিরুপায় ব্যক্তির মৃত প্রাণী ভক্ষণের ক্ষেত্রেও এই মতবিরোধ বিদ্যমান রয়েছে।

আর যারা এর ওপর হারাম বা বৈধতা আরোপ করেছেন, তারা এই সংশ্লিষ্টতাকে মুকাল্লাফদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বান্দাদের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। যাতে এর মধ্যে শিশুর সালাত ও অন্যান্য ইবাদত শুদ্ধ হওয়া এবং শিশুর দ্বারা কোনো কিছু বিনষ্ট হলে জরিমানা প্রদান ওয়াজিব হওয়া, তেমনি পাগল, চতুষ্পদ জন্তু, বিস্মৃত ব্যক্তি ও এই জাতীয়দের দ্বারা কোনো কিছু বিনষ্ট হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত হয়; যা 'খিতাবে ওয়াজ' বা পরিস্থিতিমূলক বিধানের পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি এই ভূমিকার শেষাংশে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে।

(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌مَسْأَلَة 2

 

الْفِقْه الْعلم بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّة العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية واحترزنا بِالْأَحْكَامِ عَن الْعلم بالذوات كزيد وبالصفات كسواده وبالأفعال كقيامه

وَعبر الْآمِدِيّ بقوله هُوَ الْعلم بجملة غالبة من الْأَحْكَام وَهُوَ تَعْبِير حسن

فَإِن ظَاهر إِطْلَاق الْجمع الْمحلى بأل عُمُوم الْعلم بِكُل فَرد وَذَلِكَ لَا يتَصَوَّر فِي أحد من الْمُجْتَهدين وَلَا غَيرهم

واحترزنا بالشرعية عَن الْعَقْلِيَّة كالحسابيات والهندسة وَعَن اللُّغَوِيَّة كرفع الْفَاعِل وَكَذَلِكَ نِسْبَة الشَّيْء إِلَى غَيره إِيجَابا كقام زيد أَو سلبا نَحْو لم يقم

واحترزنا بالعملية عَن العلمية وَهِي أصُول الدّين فَإِن الْمَقْصُود مِنْهَا هُوَ الْعلم الْمُجَرّد أَي الِاعْتِقَاد الْمسند إِلَى الدَّلِيل

وبالمكتسب عَن علم الله تَعَالَى والمكتسب مَرْفُوع على الصّفة للْعلم
মাসআলা 2

 

ফিকহ হলো বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান। আর 'বিধানাবলি' শব্দটির মাধ্যমে আমরা সত্তা সংক্রান্ত জ্ঞান (যেমন: যায়েদ), গুণাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান (যেমন: তার কালো বর্ণ) এবং কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান (যেমন: তার দণ্ডায়মান হওয়া) থেকে পৃথক হয়েছি বা এগুলোকে বাদ দিয়েছি।

আল-আমিদী একে এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, "এটি হলো অধিকাংশ বিধানের সমষ্টির জ্ঞান।" এটি একটি উত্তম অভিব্যক্তি।

কেননা আলিফ-লাম যুক্ত বহুবচন শব্দের বাহ্যিক রূপ প্রতিটি একক বিধানের ব্যাপক জ্ঞানকে বোঝায়, যা কোনো মুজতাহিদ বা অন্য কারো পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়।

আমরা 'শরয়ী' বিশেষণটি ব্যবহারের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান যেমন—পাটিগণিত ও জ্যামিতি, এবং ভাষাগত জ্ঞান যেমন—কর্তার (ফায়েল) রফ’ বা পেশ হওয়া থেকে পৃথক হয়েছি। তেমনিভাবে কোনো বিষয়কে অন্য কিছুর দিকে ইতিবাচকভাবে সম্বন্ধ করা (যেমন: যায়েদ দাঁড়িয়েছে) অথবা নেতিবাচকভাবে সম্বন্ধ করাকেও (যেমন: যায়েদ দাঁড়ায়নি) পৃথক করেছি।

'ব্যবহারিক' বলার মাধ্যমে আমরা তাত্ত্বিক বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়াবলিকে বাদ দিয়েছি, যা হলো দ্বীনের মূলনীতি (উসূলুদ্দীন); কারণ সেগুলোর উদ্দেশ্য হলো বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্থাৎ দলিলের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বাস।

এবং 'অর্জিত' বলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর জ্ঞানকে পৃথক করা হয়েছে; আর 'অর্জিত' শব্দটি 'জ্ঞান' শব্দের বিশেষণ হিসেবে পেশযুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫১)
وبقولنا من أدلتها عَن علم الْمَلَائِكَة وَعلم الرَّسُول الْحَاصِل بِالْوَحْي فَإِن ذَلِك كُله لَا يُسمى فقها بل علما

وبقولنا التفصيلية عَن الْعلم الْحَاصِل للمقلد فِي الْمسَائِل الْفِقْهِيَّة فَإِنَّهُ لَا يُسمى فقها بل تقليدا لِأَنَّهُ أَخذه من دَلِيل إجمالي مطرد فِي كل مَسْأَلَة

وَذَلِكَ لِأَنَّهُ إِذا علم أَن هَذَا الحكم الْمعِين قد أفتى بِهِ الْمُفْتِي وَعلم أَن كل مَا أفتاه بِهِ فَهُوَ حكم الله تَعَالَى فِي حَقه فَيعلم بِالضَّرُورَةِ أَن ذَلِك الْمعِين حكم الله تَعَالَى فِي حَقه وَيفْعل هَكَذَا فِي كل حكم

وَمَا ذَكرْنَاهُ حدا وشرحا هُوَ أقرب إِلَى الصَّوَاب من غَيره وَإِن كَانَ فِيهِ أُمُور ذكرتها فِي الشَّرْح

وَقد أوردوا على هَذَا الْحَد أَن غَالب الْفِقْه مظنون لكَونه مَبْنِيا على العمومات وأخبار الْآحَاد والأقيسة وَغَيرهَا من المظنونات فَكيف يعبرون عَنهُ بِالْعلمِ

وَأَجَابُوا بِأَنَّهُ لما كَانَ المظنون يجب الْعَمَل بِهِ كَمَا فِي الْمَقْطُوع رَجَعَ إِلَى الْعلم بالتقرير السَّابِق

إِذا علمت ذَلِك فَالَّذِي ذَكرُوهُ فِي ضَابِط الْفِقْه يتَفَرَّع عَلَيْهِ مسَائِل كَثِيرَة كالأوقاف والوصايا والأيمان وَالنُّذُور والتعليقات وَغَيرهَا فَنَقُول مثلا
এবং আমাদের বলা "তার দলীলসমূহ হতে" কথাটির মাধ্যমে ফেরেশতাদের জ্ঞান এবং ওহীর মাধ্যমে অর্জিত রাসূলের জ্ঞানকে (সংজ্ঞা হতে) পৃথক করা হয়েছে। কারণ এই সব কিছুকে ফিকহ বলা হয় না, বরং ইলম বা জ্ঞান বলা হয়।

আর আমাদের বলা "বিস্তারিত" কথাটির মাধ্যমে ফিকহী মাসআলাসমূহে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর অর্জিত জ্ঞানকে পৃথক করা হয়েছে। কারণ একে ফিকহ বলা হয় না, বরং তাকলীদ বলা হয়; কারণ সে এটি গ্রহণ করেছে এমন একটি সংক্ষিপ্ত বা সাধারণ দলীল থেকে যা প্রতিটি মাসআলায় একইভাবে প্রযোজ্য।

আর তা এই কারণে যে, সে যখন জানতে পারে যে এই নির্দিষ্ট হুকুমটি মুফতী ফাতওয়া দিয়েছেন এবং জানতে পারে যে মুফতী তাকে যা ফাতওয়া দিয়েছেন তার সবই তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার হুকুম, তখন সে অবধারিতভাবে জানতে পারে যে সেই নির্দিষ্ট বিষয়টিই তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার হুকুম। আর প্রতিটি হুকুমের ক্ষেত্রে সে এরূপই করে থাকে।

আমি সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা হিসেবে যা উল্লেখ করেছি, তা অন্যদের দেওয়া সংজ্ঞার চেয়ে সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী, যদিও এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আমি মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহ্-এ) উল্লেখ করেছি।

এই সংজ্ঞার ওপর তারা এই আপত্তি উত্থাপন করেছেন যে, ফিকহের অধিকাংশ বিষয়ই হলো ধারণা বা প্রবল সম্ভাবনার (মাজনূন) ওপর ভিত্তি করে; কারণ তা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দসমূহ, খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা), কিয়াস এবং অন্যান্য ধারণামূলক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তারা কীভাবে একে ইলম বা জ্ঞান বলে অভিহিত করেন?

তারা এর উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, যখন ধারণামূলক বিষয়ের ওপর আমল করা ঠিক সেভাবেই আবশ্যক হয়ে যায় যেমনটি নিশ্চিত বিষয়ের ওপর আবশ্যক হয়, তখন পূর্বোল্লিখিত বর্ণনার প্রেক্ষিতে এটি ইলম বা জ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়।

আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন ফিকহের মূলনীতি হিসেবে তারা যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে অনেক মাসআলা নির্গত হয়; যেমন ওয়াকফ, অসিয়ত, শপথ, মানত, শর্তযুক্ত বিষয়সমূহ এবং অন্যান্য। আমরা উদাহরণস্বরূপ বলি:
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫২)
إِذا وقف على الْفُقَهَاء فَقَالَ القَاضِي حُسَيْن فِي الْوَقْف من إِحْدَى تعليقتيه صرف إِلَى من يعرف من كل علم شَيْئا فَأَما من تفقه شهرا أَو شَهْرَيْن فَلَا وَلَو وقف على المتفقهة صرف إِلَى من تفقه يَوْمًا مثلا لِأَن الِاسْم صَادِق عَلَيْهِ

وَقَالَ فِي التعليقة الْأُخْرَى يعْطى لمن حصل من الْفِقْه شَيْئا يَهْتَدِي بِهِ إِلَى الْبَاقِي قَالَ وَيعرف بِالْعَادَةِ

وَقَالَ فِي التَّهْذِيب فِي الْوَصِيَّة إِنَّه يصرف لمن حصل من كل نوع وَكَأن هَذَا هُوَ مُرَاد القَاضِي بقوله من كل علم

وَقَالَ فِي التَّتِمَّة فِي بَاب الْوَصِيَّة إِنَّه يرجع فِيهِ إِلَى الْعَادة وَعبر فِي كتاب الْوَقْف بقوله إِلَى من حصل طرفا وَإِن لم يكن متبحرا فقد رُوِيَ أَن من حفظ أَرْبَعِينَ حَدِيثا يعد فَقِيها
যদি ফকিহদের জন্য ওয়াকফ করা হয়, তবে কাজী হুসাইন তাঁর একটি তালীকাতে ওয়াকফ অধ্যায়ে বলেছেন যে, এটি এমন ব্যক্তির জন্য ব্যয় করা হবে যিনি প্রতিটি শাস্ত্র থেকে কিছু জ্ঞান রাখেন। কিন্তু যে ব্যক্তি কেবল এক বা দুই মাস ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন, তিনি এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আর যদি ফিকহ শিক্ষার্থীদের (মুতাকাফফিহ) জন্য ওয়াকফ করা হয়, তবে এটি এমন ব্যক্তির জন্য ব্যয় করা হবে যিনি উদাহরণস্বরূপ একদিন হলেও ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন, কারণ এই নামটি তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

তিনি অন্য তালীকাতে বলেছেন, এটি তাকে দেওয়া হবে যিনি ফিকহ শাস্ত্রের এমন কিছু অংশ অর্জন করেছেন যার মাধ্যমে তিনি অবশিষ্ট বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারেন। তিনি বলেন, এটি প্রচলিত প্রথার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

তিনি তাহযীব গ্রন্থে অসিয়ত অধ্যায়ে বলেছেন যে, এটি এমন ব্যক্তির জন্য ব্যয় করা হবে যিনি প্রতিটি প্রকারের জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর সম্ভবত কাজীর 'প্রতিটি শাস্ত্র' বলার উদ্দেশ্য এটাই ছিল।

তিনি তাতিন্মাহ গ্রন্থে অসিয়ত অধ্যায়ে বলেছেন যে, এ বিষয়ে প্রচলিত প্রথার দিকে ফিরে যেতে হবে। আর ওয়াকফ কিতাবে তিনি এই ভাষায় ব্যক্ত করেছেন যে, এটি এমন ব্যক্তির জন্য হবে যিনি ফিকহের কিছু অংশ অর্জন করেছেন, যদিও তিনি তাতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন না করেন। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ করে, তাকে ফকিহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَقَالَ الْغَزالِيّ فِي الْإِحْيَاء يدْخل الْفَاضِل فِي الْفِقْه وَلَا يدْخل الْمُبْتَدِي من شهر وَنَحْوه والمتوسط بَينهمَا دَرَجَات يجْتَهد الْمُفْتِي فِيهَا والورع لهَذَا الْمُتَوَسّط ترك الْأَخْذ انْتهى

وَمَا ذكره الْغَزالِيّ قد نَقله عَنهُ النَّوَوِيّ فِي كتاب البيع من شرح الْمُهَذّب وَأقرهُ وغالب الْكتب المطولة كالحاوي وَالْبَحْر وتعليقة االقاضي أبي الطّيب وَغَيرهَا لَيْسَ فِيهَا تعرض لهَذِهِ الْمَسْأَلَة

إِذا علمت ذَلِك فقد وَقع هُنَا للرافعي شَيْء عَجِيب تبعه عَلَيْهِ النَّوَوِيّ فِي الرَّوْضَة وَنَقله عَنهُ ايضا ابْن الرّفْعَة ساكتا عَلَيْهِ
ইমাম গাজালী ‘ইহইয়া’ গ্রন্থে বলেছেন, ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত হবেন, কিন্তু মাসখানেক সময় অতিবাহিত করা কোনো শিক্ষানবিশ বা অনুরূপ কেউ এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আর এই উভয়ের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্তর রয়েছে যার ব্যাপারে মুফতি ইজতিহাদ করবেন। আর এই মধ্যবর্তী ব্যক্তির জন্য পরহেজগারী হলো তা গ্রহণ করা বর্জন করা। সমাপ্ত।

ইমাম গাজালী যা উল্লেখ করেছেন, ইমাম নববী ‘শারহুল মুহাযযাব’-এর ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে তা তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন। আর ‘আল-হাউই’, ‘আল-বাহর’ ও কাজী আবু তাইয়্যেবের ‘তালিকাহ’সহ অধিকাংশ বিস্তারিত গ্রন্থাবলিতে এই মাসআলাটি আলোচিত হয়নি।

আপনি যখন এ কথা অবগত হলেন, তখন এখানে ইমাম রাফিয়ীর ক্ষেত্রে একটি বিস্ময়কর বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে, ‘রাওদাহ’ গ্রন্থে ইমাম নববী তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং ইবনুর রিফ’আহও এ ব্যাপারে নিরব থেকে তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৪)
فَقَالَ فِي بَاب الْوَقْف وَيصِح الْوَقْف على المتفقهة وهم المشتغلون بتحصيل الْفِقْه مبتديهم ومنتهيهم وعَلى الْفُقَهَاء وَيدخل فِيهِ من حصل مِنْهُ شَيْئا وَإِن قل

هَذَا كَلَامه

وَمَا ذكره فِي دُخُول مُحَصل الشَّيْء إِن قل فِي مُسَمّى الْفَقِيه حَتَّى يسْتَحق من حصل الْمَسْأَلَة الْوَاحِدَة مُخَالف لجَمِيع مَا سبق وَلَا أعلم أحدا ذكره وكما أَنه مُخَالف للمنقول فِي الْمَذْهَب فَهُوَ مُخَالف للقاعدة النحوية لِأَن الْفُقَهَاء جمع فَقِيه وفقيه اسْم فَاعل من فقه بِضَم الْقَاف إِذا صَار الْفِقْه لَهُ سجية وَأما الْمَكْسُورَة فَمَعْنَاه فهم والمفتوح مَعْنَاهُ أَنه سبق غَيره إِلَى الْفَهم على قَاعِدَة أَفعَال المغالبة وَقِيَاس اسْم فاعلهما فَاعل وَهُوَ فاقه

وَقد أعَاد الرَّافِعِيّ الْمَسْأَلَة فِي بَاب الْوَصِيَّة وَزَاد شَيْئا آخر رددنا بعضه عَلَيْهِ أَيْضا فِي كتاب الْمُهِمَّات فليطلب مِنْهُ

وَاعْلَم أَن الظَّاهِرِيَّة لَا يسْتَحقُّونَ مِمَّا هُوَ مرصد باسم الْفُقَهَاء
তিনি ওয়াকফ অধ্যায়ে বলেছেন: মুতাফাক্কিহাহদের (ফিকহ শিক্ষার্থীদের) জন্য ওয়াকফ করা বৈধ। আর তারা হলেন ফিকহ অর্জনে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ, হোক তারা প্রাথমিক স্তরের কিংবা উচ্চস্তরের। আর (ওয়াকফ বৈধ) ফুকাহাদের (ফকীহগণের) জন্য, এবং এর মধ্যে এমন ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত হবে যে এর সামান্য কিছুও অর্জন করেছে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।

এটিই তাঁর বক্তব্য।

'ফকীহ' পরিভাষার অন্তর্ভুক্তিতে সামান্য কিছু অর্জনকারী ব্যক্তিকেও শামিল করা সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন—যাতে কেবল একটি মাসআলা অর্জনকারীও হকদার হয়ে যায়—তা ইতিপূর্বে বর্ণিত সবকিছুর বিরোধী। আমি এমন কাউকে জানি না যিনি এটি উল্লেখ করেছেন। আর যেহেতু এটি মাযহাবের বর্ণিত বর্ণনার পরিপন্থী, তেমনি এটি ব্যাকরণগত নিয়মেরও পরিপন্থী। কারণ 'ফুকাহা' শব্দটি 'ফকীহ' শব্দের বহুবচন। আর 'ফকীহ' শব্দটি 'ফাকুহা' (ক্বাফ বর্ণে পেশসহ) ক্রিয়া থেকে ইসমে ফায়েল, যা তখন ব্যবহৃত হয় যখন ফিকহ তার মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়। আর কসরাহ (যের) যুক্ত ক্রিয়ার অর্থ হলো 'বুঝা', এবং ফাতহাহ (জবর) যুক্ত ক্রিয়ার অর্থ হলো বুঝার ক্ষেত্রে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া—প্রতিযোগিতামূলক ক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী; আর এই দুই ক্ষেত্রে ইসমে ফায়েলে রূপান্তর হবে 'ফায়িল' ওজনে, যা হলো 'ফাকিহ'।

ইমাম রাফেয়ী ওসিয়ত অধ্যায়ে এই মাসআলাটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এবং অতিরিক্ত কিছু বিষয় বৃদ্ধি করেছেন, যার কিছু অংশ আমরা 'কিতাবুল মুহিম্মাত'-এ খণ্ডন করেছি; সুতরাং তা সেখান থেকে সন্ধান করা উচিত।

জেনে রাখুন যে, যাহেরীগণ ফুকাহাদের নামে বরাদ্দকৃত সম্পদ থেকে কোনো কিছুর হকদার হবে না।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৫)
شَيْئا كَذَا نَقله ابْن الصّلاح فِي فَوَائِد رحلته عَن ابْن سُرَيج وَأجَاب بِهِ جمَاعَة من اصحابنا وَقد انْتهى الْكَلَام على هَذِه الْمَسْأَلَة

وَأما وجوب الْعَمَل فِي الْفُرُوع بالمظنون فيتفرع عَلَيْهِ فروع كَثِيرَة بَعْضهَا مُوَافق للقاعدة كظن طَهَارَة المَاء وَالثَّوْب فِي الِاجْتِهَاد وَكَذَا اسْتِقْبَال الْقبْلَة وَدخُول وَقت الصَّلَاة وَالصَّوْم وَغير ذَلِك

وَمِنْهَا إِذا جومعت الْمَرْأَة وأنزلت ثمَّ خرج مِنْهَا مَاء الرجل بعد غسلهَا فَإِن الْغسْل يجب عَلَيْهَا لِأَن الظَّاهِر اخْتِلَاط الماءين فَيخرج مِنْهَا مَاؤُهَا أَيْضا كَذَا ذكره الرَّافِعِيّ حكما وتعليلا

وَمن الْفُرُوع الْمُخَالفَة

مَا إِذا قَالَ لَهُ عَليّ ألف فِي علمي أَو فِي ظَنِّي لزمَه فِي الأول دون الثَّانِي كَذَا جزم بِهِ الرَّافِعِيّ فِي الْبَاب الاول من ابواب الْإِقْرَار

فَلَو قَالَ فِي رَأْيِي فَجَوَابه يعلم مِمَّا أذكرهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى فِي أول
ইবনে আস-সালাহ তার ‘ফাওয়াইদু রিহলাতিহী’ গ্রন্থে ইবনে সুরাইজ থেকে এটি এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন এবং আমাদের একদল সঙ্গী এর মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন। এই মাসআলাটি সম্পর্কে আলোচনা এখানেই শেষ হলো।

আর ফিকহী শাখা-প্রশাখায় প্রবল ধারণার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার প্রসঙ্গে অনেক শাখা মাসআলা উদ্ভূত হয়। এর মধ্যে কিছু মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন ইজতিহাদের ভিত্তিতে পানি ও পোশাকের পবিত্রতার ধারণা করা; একইভাবে কিবলার দিকে মুখ করা, নামাজের ওয়াক্ত প্রবেশ করা, রোজা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।

এগুলোর মধ্যে একটি হলো—যদি কোনো নারীর সাথে সহবাস করা হয় এবং তার বীর্যপাত ঘটে, অতঃপর গোসল করার পর তার শরীর থেকে পুরুষের বীর্য নির্গত হয়, তবে তার ওপর পুনরায় গোসল ওয়াজিব হবে। কারণ বাহ্যত উভয় বীর্য মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে তার বীর্যও নির্গত হয়েছে। ইমাম রাফেঈ এভাবেই হুকুম এবং কারণসহ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

আর বৈপরীত্যপূর্ণ শাখা মাসআলাসমূহের মধ্যে রয়েছে:

যখন কেউ বলে: ‘আমার জানামতে আমার ওপর তার পাওনা এক হাজার রয়েছে’ অথবা ‘আমার প্রবল ধারণা অনুযায়ী’; তবে প্রথম ক্ষেত্রে তা তার ওপর আবশ্যক হবে, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নয়। ইমাম রাফেঈ ‘ইকরার’ (স্বীকৃতি) অধ্যায়গুলোর প্রথম পরিচ্ছেদে এ বিষয়টি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর যদি সে বলে ‘আমার মতে’, তবে এর উত্তর ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি শুরুতে যা উল্লেখ করব তা থেকে জানা যাবে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الِاشْتِرَاك فَرَاجعه

وَمِنْهَا إِذا تَيَقّن الطَّهَارَة وَظن الحَدِيث فَإنَّا لَا نَأْخُذ بِالظَّنِّ الْمَذْكُور بل يستصحب يَقِين الطَّهَارَة بِخِلَاف عَكسه وَهُوَ مَا إِذا تَيَقّن الْحَدث وَظن الطَّهَارَة فَإِنَّهُ يَأْخُذ بِالطَّهَارَةِ المظنونة لرجحانها فَإِن اسْتَوَى الطرفان وَهُوَ الشَّك لم نَأْخُذ بِهِ

كَذَا جزم بِهِ الرَّافِعِيّ فِي الشَّرْح الْكَبِير وَمَا ذكره فِي الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة قد تبعه عَلَيْهِ صَاحب الْحَاوِي الصَّغِير وَمُقْتَضى كَلَام الْأَصْحَاب أَنه لَا يُؤْخَذ بِالظَّنِّ وَأَنه لَا فرق بَين التَّسَاوِي والرجحان وَبِه صرح النَّوَوِيّ فِي الدقائق وَنَقله فِي الذَّخَائِر عَن الْأَصْحَاب فَقَالَ قَالَ أَصْحَابنَا يُؤْخَذ فِي الطَّرفَيْنِ بِالْيَقِينِ لَا بِالظَّنِّ ثمَّ قَالَ وَيحْتَمل عِنْدِي تخريجهما على الْقَوْلَيْنِ فِي تعَارض الأَصْل وَالظَّاهِر
অংশীদারিত্ব, সুতরাং আপনি বিষয়টি সেখানে পুনরায় দেখে নিন।

আর তার মধ্যে একটি হলো: যখন সে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় এবং অপবিত্রতা (হাদাস) ঘটার ধারণা পোষণ করে; তখন আমরা উক্ত ধারণাকে গ্রহণ করি না, বরং পবিত্রতার নিশ্চিত অবস্থাকেই বহাল রাখা হয়। এর বিপরীত বিষয়টি ভিন্ন; আর তা হলো যখন সে অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় এবং পবিত্রতার ধারণা পোষণ করে, তখন সে তার প্রাবল্যের কারণে ধারণাকৃত পবিত্রতাকেই গ্রহণ করবে। তবে যদি উভয় দিক সমান হয়—যা হলো সন্দেহ—সেক্ষেত্রে আমরা তা গ্রহণ করি না।

ইমাম রাফেয়ি ‘আশ-শারহুল কাবীর’ গ্রন্থে এভাবেই দৃঢ়তার সাথে মত দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় মাসআলায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন, ‘আল-হাভি আস-সাগীর’ গ্রন্থের লেখকও সে বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন। তবে আসহাবগণের বক্তব্যের দাবি হলো যে, ধারণার ওপর ভিত্তি করা হবে না এবং সমতা ও প্রাবল্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইমাম নববি ‘আদ-দাকায়িক’ গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং ‘আয-যাখায়ের’ গ্রন্থে আসহাবগণের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন: “আমাদের আসহাবগণ বলেছেন, উভয় অবস্থায় নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা হবে, ধারণার ওপর নয়।” এরপর তিনি বলেন, “আমার নিকট সম্ভাব্যতা হলো যে, এই দুই মাসআলার সমাধান মূল নীতি (আসল) এবং প্রকাশ্য অবস্থার (জাহির) মধ্যকার বিরোধ সংক্রান্ত দুটি মতের ভিত্তিতে বের (তাখরিজ) করা হবে।”
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَلأَجل ذَلِك قَالَ ابْن الرّفْعَة فِي الْكِفَايَة إِن مَا قَالَه الرَّافِعِيّ لم نره لغيره

وَاعْلَم أَن صَاحب الشَّامِل وَغَيره قد قَالُوا إِنَّمَا قُلْنَا ينْتَقض الْوضُوء بِالنَّوْمِ مُضْطَجعا لِأَن الظَّاهِر خُرُوج الْحَدث وَحِينَئِذٍ يصدق أَن يُقَال رفعنَا يَقِين الطَّهَارَة بطن الْحَدث لَا بِالْعَكْسِ وَهَذَا عكس مَا يَقُول الرَّافِعِيّ

وَسبب الْفرق أَن الصَّلَاة فِي ذمَّته بِيَقِين

فَتَأمل مَا ذكرته نقلا واستدلالا فَإِنَّهُ مُهِمّ

وَذكر أَيْضا نَحوه الْبَغَوِيّ فِي التَّهْذِيب فَقَالَ إِذا تَيَقّن الطَّهَارَة وتيقن أَنه رَأْي رُؤْيا بعْدهَا وَلَا يذكر هَل كَانَ مُضْطَجعا أم لَا فَعَلَيهِ الْوضُوء وَلَا يحمل على النّوم قَاعِدا لِأَنَّهُ خلاف الْمُعْتَاد

هَذَا كَلَامه وَلَا شكّ أَن الرَّافِعِيّ قصد مَا ذكره ابْن الصّباغ وَالْبَغوِيّ فانعكس عَلَيْهِ

وَيُؤَيِّدهُ أَيْضا مَا سبق نَقله عَن الرَّافِعِيّ فِي خُرُوج مَاء الْمَرْأَة بعد إنزالها واغتسالها وَقد حذف النَّوَوِيّ هَذِه الْمَسْأَلَة من الرَّوْضَة وَكَانَ الصَّوَاب ذكرهَا والتنبيه على مَا فِيهَا
এজন্যই ইবনুর রিফআ 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে বলেছেন যে, ইমাম রাফেঈ যা বলেছেন তা আমরা অন্য কারো কাছে দেখিনি।

জেনে রাখুন যে, 'আশ-শামিল' গ্রন্থের লেখক এবং অন্যান্যরা বলেছেন: আমরা কেবল একারণেই বলেছি যে কাত হয়ে বা শুয়ে ঘুমালে ওযু ভেঙে যায় কারণ প্রবল ধারণা হলো অপবিত্রতা নির্গত হওয়া। এমতাবস্থায় এটি বলা সঠিক হবে যে, আমরা অপবিত্রতার প্রবল ধারণার মাধ্যমে পবিত্রতার নিশ্চিত অবস্থাকে অপসারিত করেছি, এর বিপরীত নয়। আর এটি ইমাম রাফেঈ যা বলেছেন তার ঠিক বিপরীত।

আর পার্থক্যের কারণ হলো এই যে, সালাত তার জিম্মায় নিশ্চিতভাবে দায়বদ্ধ হয়ে আছে।

সুতরাং উদ্ধৃতি ও যুক্তির আলোকে আমি যা উল্লেখ করেছি তা গভীরভাবে অনুধাবন করুন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইমাম বাগাবীও 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করে বলেছেন: যদি কেউ পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত থাকে এবং নিশ্চিতভাবে জানে যে এরপর সে স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু সে কি শুয়ে ছিল না কি ছিল না তা মনে করতে পারছে না, তবে তার ওপর ওযু করা আবশ্যক। আর এটিকে বসে ঘুমানোর ওপর প্রয়োগ করা হবে না, কারণ তা স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী।

এটিই তাঁর বক্তব্য। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম রাফেঈ ইবনুস সাব্বাগ ও ইমাম বাগাবী যা উল্লেখ করেছেন তা-ই উদ্দেশ্য করেছিলেন, কিন্তু বিষয়টি তাঁর কাছে উল্টো হয়ে গেছে।

নারীর বীর্যপাত ও গোসলের পর পুনরায় বীর্য নির্গত হওয়ার বিষয়ে ইমাম রাফেঈর নিকট থেকে ইতোপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তাও একে সমর্থন করে। ইমাম নববী 'আর-রাওদাহ' গ্রন্থ থেকে এই মাসআলাটি বাদ দিয়েছেন, অথচ এটি উল্লেখ করা এবং এতে যা রয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া অধিকতর সংগত ছিল।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৮)
‌‌مَسْأَلَة 3

 

الْفَرْض وَالْوَاجِب عندنَا مُتَرَادِفَانِ

وَقَالَت الْحَنَفِيَّة إنَّهُمَا متباينان فَقَالُوا إِن ثَبت التَّكْلِيف بِدَلِيل قَطْعِيّ بِالْكتاب وَالسّنة المتواترة فَهُوَ الْفَرْض كالصلوات الْخمس وَإِن ثَبت بِدَلِيل ظَنِّي كَخَبَر الْوَاحِد وَالْقِيَاس المظنون فَهُوَ الْوَاجِب ومثلوه بالوتر على قاعدتهم

فَإِن ادعوا أَن التَّفْرِقَة شَرْعِيَّة أَو لغوية فَلَيْسَ فِي اللُّغَة وَلَا فِي الشَّرْع مَا يَقْتَضِيهِ

وَإِن كَانَت اصطلاحية فَلَا مشاحة فِي الِاصْطِلَاح

إِذا علمت ذَلِك فَمن الْفُرُوع الْمُخَالفَة لهَذِهِ الْقَاعِدَة

1 - أَنه إِذا قَالَ الطَّلَاق لَازم لي أَو وَاجِب عَليّ طلقت زَوجته للْعُرْف بِخِلَاف مَا إِذا قَالَ فرض عَليّ لعدم الْعرف فِيهِ

كَذَا ذكره الرَّافِعِيّ فِي كتاب الطَّلَاق عَن زيادات الْعَبَّادِيّ وَنقل عَن البوشنجي أَن الْجَمِيع كنايات ثمَّ نقل عَن الْأَكْثَرين أَن قَوْله طَلَاقك لَازم لي صَرِيح
‌মাসআলা ৩

 

আমাদের নিকট ফরজ এবং ওয়াজিব সমার্থবোধক।

হানাফীগণ বলেছেন যে, এই দুইটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তারা বলেন, যদি কোনো বিধান কুরআন এবং সুন্নাতে মুতাওয়াতিরাহ-র মতো অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়, তবে তা ফরজ; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। আর যদি তা খবরুল ওয়াহিদ এবং ধারণাপ্রসূত কিয়াসের মতো অনুমিত দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়, তবে তা ওয়াজিব। তারা তাদের এই মূলনীতি অনুযায়ী বিতর সালাতকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন।

তারা যদি দাবি করেন যে, এই পার্থক্য শরয়ি অথবা ভাষাগত, তবে ভাষা বা শরীয়তে এমন কোনো ভিত্তি নেই যা এটি দাবি করে।

আর যদি এটি কেবল পারিভাষিক হয়, তবে পরিভাষা নিয়ে কোনো বিবাদ নেই।

আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এই মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় শাখা বিধান নিম্নরূপ:

১ - যদি কেউ বলে যে, "তালাক আমার জন্য অপরিহার্য (লাজিম)" অথবা "আমার ওপর ওয়াজিব", তবে লোকপ্রথা বা উরফের কারণে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হয়ে যাবে; বিপরীতে যদি সে বলে "আমার ওপর ফরজ", তবে এক্ষেত্রে উরফ বা লোকপ্রথা না থাকার কারণে তা হবে না।

ইমাম রাফেয়ী 'কিতাবুত তালাক'-এ আল-আব্বাদীর 'যিয়াদাত' থেকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আল-বুশাঞ্জী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এগুলোর সবগুলোই কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক)। অতঃপর অধিকাংশ আলিমের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার কথা "তোমার তালাক আমার জন্য অপরিহার্য (লাজিম)" এটি একটি সরীহ বা স্পষ্ট উক্তি।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌مَسْأَلَة 4

 

والبطلان وَالْفساد عندنَا مُتَرَادِفَانِ فَنَقُول مثلا بطلت الصَّلَاة وفسدت

وَقَالَ أَبُو حنيفَة إنَّهُمَا متباينان

فالباطل عِنْده مالم يشرع بِالْكُلِّيَّةِ كَبيع مَا فِي بطُون الْأُمَّهَات

وَالْفَاسِد مَا يشرع أَصله وَلَكِن امْتنع لاشْتِمَاله على وصف كالربا

إِذا علمت ذَلِك فقد ذكر أَصْحَابنَا فروعا مُخَالفَة لهَذِهِ الْقَاعِدَة فرقوا فِيهَا بَين الْفَاسِد وَالْبَاطِل

وَقد حصرها النَّوَوِيّ فِي تصنيفه الْمُسَمّى بالدقائق فِي أَرْبَعَة وَهُوَ الْحَج وَالْعَارِية وَالْكِتَابَة وَالْخلْع وَلم يذكر صورها

فَأَما تَصْوِير الْكِتَابَة وَالْخلْع فَوَاضِح فَإِن الْبَاطِل مِنْهُم مَا كَانَ على عوض غير مَقْصُود كَالدَّمِ أَو رَجَعَ إِلَى خلل فِي الْعَاقِد كالصغر والسفه وَالْفَاسِد خِلَافه

وَحكم الْبَاطِل أَنه لَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ مَال وَالْفَاسِد يَتَرَتَّب عَلَيْهِ الْعتْق وَالطَّلَاق وَيرجع الزَّوْج وَالسَّيِّد بِالْقيمَةِ

وَأما الْحَج فَيبْطل بِالرّدَّةِ وَيفْسد بِالْجِمَاعِ

وَحكم الْبَاطِل أَنه لَا يجب الْمُضِيّ فِيهِ بِخِلَاف الْفَاسِد هَذَا صُورَة طريان الْفساد

وَأما الْفَاسِد ابْتِدَاء فصورته إِذا أحرم بِالْعُمْرَةِ ثمَّ جَامع
চতুর্থ মাসয়ালা 4

 

আমাদের নিকট বাত্বিল (অসারতা) এবং ফাসাদ (ত্রুটিপূর্ণতা) পরস্পর সমার্থক। সুতরাং আমরা উদাহরণস্বরূপ বলি, সালাত বাত্বিল হয়েছে এবং ফাসাদ হয়েছে।

আর ইমাম আবু হানিফা বলেছেন যে, এ দুটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থবোধক।

তাঁর নিকট বাত্বিল হলো তা, যা মৌলিকভাবে শরয়ি বিধান হিসেবে স্বীকৃত নয়, যেমন পশুর গর্ভস্থ ভ্রূণ বিক্রয় করা।

আর ফাসাদ হলো তা, যার মূল শরয়ি বিধান হিসেবে স্বীকৃত কিন্তু কোনো একটি গুণের কারণে তা নিষিদ্ধ হয়েছে, যেমন সুদ।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন আমাদের সাথীগণ (শাফেয়ী ফকীহগণ) এই মূলনীতির বিপরীত এমন কিছু শাখা-মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তারা ফাসাদ এবং বাত্বিলের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

ইমাম নববী তাঁর ‘আদ-দাকাইক’ নামক গ্রন্থে এগুলোকে চারটিতে সীমাবদ্ধ করেছেন, আর সেগুলো হলো: হজ, আরিয়াহ (ব্যবহারের জন্য ধার), কিতাবাত (মুক্তির চুক্তি) এবং খুল্' (বিনিময়ে বিচ্ছেদ); তবে তিনি সেগুলোর রূপ বর্ণনা করেননি।

কিতাবাত এবং খুল্-এর বিষয়টি স্পষ্ট; কেননা এগুলোর মধ্যে যা উদ্দেশ্যহীন বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে হয় যেমন রক্ত, অথবা চুক্তিকারীর কোনো ত্রুটির কারণে হয় যেমন নাবালকতা ও নির্বুদ্ধিতা, তবে তা বাত্বিল। আর ফাসাদ হলো এর বিপরীত।

বাত্বিলের বিধান হলো এর ওপর কোনো আর্থিক লেনদেন সাব্যস্ত হয় না, কিন্তু ফাসাদের ক্ষেত্রে দাসমুক্তি ও তালাক কার্যকর হয় এবং স্বামী ও মনিব বিনিময় মূল্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।

আর হজ ধর্মত্যাগের কারণে বাত্বিল হয়ে যায় এবং সহবাসের কারণে ফাসাদ হয়।

বাত্বিলের বিধান হলো এতে আর সামনে অগ্রসর হওয়া বা তা পূর্ণ করা আবশ্যক নয়, ফাসাদের বিষয়টি এর বিপরীত। এটি হলো হজে ফাসাদ আপতিত হওয়ার রূপ।

আর শুরু থেকেই ফাসাদ হওয়ার রূপ হলো, যখন কেউ উমরার ইহরাম বাঁধে এবং এরপর সহবাস করে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَأدْخل عَلَيْهِ الْحَج فَإِن الْأَصَح أَنه ينْعَقد فَاسِدا وَقيل صَحِيحا ثمَّ يفْسد وَقيل بل صَحِيحا وتستمر صِحَّته وَقيل لَا ينْعَقد بِالْكُلِّيَّةِ

وَأما إِذا أحرم مجامعا فَإِن الْأَصَح عِنْد الرَّافِعِيّ أَنه ينْعَقد أَيْضا فَاسِدا

كَذَا قَالَه فِي بَاب مَوَاقِيت الْحَج قبيل الْكَلَام على الْمِيقَات المكاني وَلَكِن حذفه من الرَّوْضَة وَقد ذكره الرَّافِعِيّ فِي مَوْضِعه وَهُوَ بَاب مُحرمَات الْإِحْرَام وَلم يصحح شَيْئا وَصحح النَّوَوِيّ من زوائده عدم الِانْعِقَاد

واما الْعَارِية فقد صورها الْغَزالِيّ فِي الْوَسِيط فِي بَاب الْعَارِية فَإِنَّهُ حكى الْخلاف فِي صِحَة إِعَارَة الدَّرَاهِم وَالدَّنَانِير ثمَّ قَالَ بعد ذَلِك مَا نَصه فَإِن أبطلناها فَفِي طَريقَة الْعرَاق أَنَّهَا مَضْمُونَة لِأَنَّهَا إِعَارَة فَاسِدَة وَفِي طَرِيق المراوزة أَنَّهَا غير مَضْمُونَة لِأَنَّهَا غير قَابِلَة للإعارة فَهِيَ بَاطِلَة

وَمَا ذكره النَّوَوِيّ من حصر التَّفْرِقَة فِي الْأَرْبَعَة مَمْنُوع بل يتَصَوَّر أَيْضا الْفرق فِي كل عقد صَحِيح غير مَضْمُون كَالْإِجَارَةِ وَالْهِبَة وَغَيرهمَا

فَإِنَّهُ لَو صدر من سَفِيه أَو صبي وَتَلفت الْعين فِي يَده المسأجر والمتهب وَجب الضَّمَان وَلَو كَانَ فَاسِدا لم يجب ضَمَانهَا كَمَا صرح هُوَ بِهِ فِي بَاب الْإِجَارَة وَبَاب الْهِبَة لِأَن فَاسد كل عقد كصحيحه فِي الضَّمَان وَعَدَمه

فَإِن قلت بل هَذَا العقد فَاسد وَلَا أسلم فِيهِ التَّفْرِقَة

قلت فَيلْزم فَسَاد هَذِه الْقَاعِدَة الْمَشْهُورَة لَا سِيمَا وَعقد السَّفِيه هُنَا كعقده للكتابة وَقد جعلوها بَاطِلَة
এবং তিনি এর মধ্যে হজকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা অধিকতর বিশুদ্ধ (আসাহ) মত হলো, এটি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হিসেবে সংঘটিত হবে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি সহিহ হিসেবে শুরু হবে এবং পরবর্তীতে ফাসিদ হয়ে যাবে। আবার কেউ বলেছেন, বরং এটি সহিহ হবে এবং এর বৈধতা অব্যাহত থাকবে। আর কেউ কেউ বলেছেন, এটি আদপেই সংঘটিত হবে না।

আর যদি কেউ সহবাসে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ইহরাম বাঁধে, তবে ইমাম রাফিয়ির নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, এটিও ফাসিদ হিসেবেই সংঘটিত হবে।

হজ অধ্যায়ে মিকাত বা স্থানভিত্তিক সীমানা সংক্রান্ত আলোচনার ঠিক আগে তিনি এরূপই বলেছেন; কিন্তু ইমাম নববী এটি 'রওজাহ' গ্রন্থ থেকে বাদ দিয়েছেন। তবে ইমাম রাফিয়ি তাঁর যথাস্থানে অর্থাৎ 'ইহরামের নিষিদ্ধ কার্যাবলি' অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে কোনো মতকেই বিশুদ্ধ বলেননি। ইমাম নববী তাঁর 'জাওয়াইদ' (সংযোজনী)-এ 'সংঘটিত না হওয়া'র মতটিকে বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন।

আর আরিয়াহ (ব্যবহারের জন্য ধার) প্রসঙ্গে ইমাম গাজালি 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থের আরিয়াহ অধ্যায়ে এর রূপরেখা দিয়েছেন। তিনি দিরহাম ও দিনার ধার দেওয়ার বৈধতা নিয়ে মতভেদ বর্ণনা করেছেন এবং এরপর যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "যদি আমরা একে বাতিল গণ্য করি, তবে ইরাকি পদ্ধতিতে এটি জামানতযোগ্য (ক্ষতিপূরণ আবশ্যক), কারণ এটি একটি ফাসিদ আরিয়াহ। আর মারওয়াজি পদ্ধতিতে এটি জামানতযোগ্য নয়, কারণ এটি ঋণ দেওয়ার যোগ্যই নয়, ফলে তা বাতিল।"

ইমাম নববী পার্থক্যের ক্ষেত্রকে চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে কথা উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়; বরং প্রতিটি এমন সহিহ চুক্তির ক্ষেত্রে এই পার্থক্য কল্পনা করা সম্ভব যা জামানতযোগ্য নয়, যেমন ইজারা (ভাড়া), হিবা (দান) এবং অন্যান্য।

কেননা যদি কোনো নির্বোধ (সাফিহ) বা শিশুর পক্ষ থেকে চুক্তিটি সম্পাদিত হয় এবং ভাড়াটিয়া বা হিবা গ্রহণকারীর হাতে মূল সম্পদটি বিনষ্ট হয়, তবে ক্ষতিপূরণ (জামান) দেওয়া আবশ্যক হবে। কিন্তু চুক্তিটি যদি ফাসিদ হতো তবে তার ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হতো না, যেমনটি ইমাম নববী স্বয়ং ইজারা ও হিবা অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। কারণ প্রতিটি চুক্তির ফাসিদ রূপ জামানত থাকা বা না থাকার ক্ষেত্রে তার সহিহ রূপের অনুরূপ হয়ে থাকে।

যদি আপনি বলেন, "বরং এই চুক্তিটি ফাসিদ এবং আমি এতে পার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করি না।"

তবে আমি বলব, সেক্ষেত্রে এই প্রসিদ্ধ নীতিটি বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। বিশেষ করে এখানে নির্বোধের চুক্তিটি তার কিতাবাত (দাসের মুক্তি) চুক্তির মতোই, অথচ ফকিহগণ সেটিকে বাতিল সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬১)
ثمَّ إِن أَصْحَابنَا قد ذكرُوا فِي البيع أَيْضا هَذِه التَّفْرِقَة وَقد تعرض لَهُ النَّوَوِيّ فِي البيع من شرح الْمُهَذّب فِي بَاب مَا يفْسد البيع من الشَّرْط فَإِنَّهُ ذكر أَن البيع الْفَاسِد يملك عِنْد أبي حنيفَة حَتَّى إِذا وطىء فِيهِ فَلَا حد ثمَّ قَالَ هَذَا إِذا اشْتَرَاهُ بِشَرْط فَاسد أَو خمر أَو خِنْزِير فَإِن اشْتَرَاهُ بميتة أَو دم أَو عذرة أَو نَحْو ذَلِك مِمَّا لَيْسَ هُوَ مَالا عِنْد اُحْدُ من النَّاس لم يملكهُ أصلا هَذَا كَلَامه

وَاعْلَم أَن هَذِه التَّفْرِقَة يتَّجه مَجِيء مثلهَا فِي تَفْرِيق الصَّفْقَة حَتَّى إِذا أجَاز فَلَا يُجِيز إِلَّا بِجَمِيعِ الثّمن فِي الدَّم وَنَحْوه

‌‌مَسْأَلَة 5

 

ذهب الْجُمْهُور إِلَى أَن الْمُبَاح حسن

وَقَالَ بعض الْمُعْتَزلَة لَيْسَ بِحسن وَلَا قَبِيح

وَالْخلاف نَشأ من تفسيرهم للأفعال

فالأشاعرة قَالُوا الْفِعْل إِن نهى الشَّارِع عَنهُ كَانَ قبيحا محرما كَانَ اَوْ مَكْرُوها
এরপর আমাদের সঙ্গীরা কেনাবেচার ক্ষেত্রেও এই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী শারহুল মুহাযযাব-এর কেনাবেচা অধ্যায়ে 'যে শর্ত কেনাবেচাকে ফাসিদ করে দেয়' পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফার মতে ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) কেনাবেচায় মালিকানা অর্জিত হয়, এমনকি তাতে সহবাস করা হলেও কোনো হদ্দ (নির্ধারিত দণ্ড) কার্যকর হয় না। এরপর তিনি বলেছেন যে, এটি তখন হবে যখন ফাসিদ শর্ত কিংবা মদ বা শুকরের বিনিময়ে কেনা হয়। কিন্তু যদি মৃত প্রাণী, রক্ত, মল বা এমন কিছুর বিনিময়ে কেনা হয় যা কোনো মানুষের নিকট সম্পদ (মাল) হিসেবে গণ্য নয়, তবে সে তার আদৌ মালিক হবে না—এটিই তাঁর বক্তব্য।

জেনে রাখুন যে, এই পার্থক্যের বিষয়টি চুক্তি বিভাজনের (তাফরিকুস সাফকাহ) ক্ষেত্রেও আসার অবকাশ রাখে, এমনকি যদি তা অনুমোদন করা হয়, তবে রক্ত বা অনুরূপ জিনিসের ক্ষেত্রে পূর্ণ মূল্যের বিনিময়ে ছাড়া তা অনুমোদিত হবে না।

‌‌মাসআলা ৫

 

জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এই মত পোষণ করেছেন যে, মুবাহ (বৈধ) কাজ উত্তম (হাসান)।

আর কিছু সংখ্যক মুতাজিলা বলেছেন, এটি উত্তমও নয় আবার মন্দও (কাবিহ) নয়।

এই মতভেদের উৎপত্তি হয়েছে কার্যাবলির ব্যাপারে তাঁদের ব্যাখ্যার কারণে।

আশআরীগণ বলেন, শরীয়াত প্রণেতা যদি কোনো কাজ থেকে নিষেধ করেন তবে তা মন্দ (কাবিহ) বলে গণ্য হবে, চাই তা হারাম হোক কিংবা মাকরুহ।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَإِن لم ينْه عَنهُ كَانَ حسنا سَوَاء أَمر بِهِ كالواجب وَالْمَنْدُوب أم لَا كالمباح

وَقَالَ جُمْهُور الْمُعْتَزلَة مَا لَيْسَ لَهُ ان يَفْعَله فَهُوَ الْقَبِيح وَإِلَّا فَهُوَ الْحق

فانتظم من الحدين أَن الْمُبَاح حسن عِنْدهم وَإِن اخْتلفَا فِي الْمَكْرُوه

وَقَالَ بعض الْمُعْتَزلَة إِن اشْتَمَل الْفِعْل على صفة توجب الذَّم وَهُوَ الْحَرَام فقبيح أَو على صفة توجب الْمَدْح كالواجب وَالْمَنْدُوب فَحسن وَمَا لم يشْتَمل على احدهما كالمكروه والمباح فَلَيْسَ بِحسن وَلَا قَبِيح

فتلخص أَن قَائِل هَذَا مُخَالف لمن تقدم فِي دُخُول الْمُبَاح وَكَذَلِكَ فِي الْمَكْرُوه أَيْضا

وَفَائِدَة الْخلاف فِيمَا إِذا قطع يَد الْجَانِي قصاصا فَمَاتَ فَإِنَّهُ لَا ضَمَان فِيهِ عندنَا لقَوْله تَعَالَى {مَا على الْمُحْسِنِينَ من سَبِيل} والمحسن من أَتَى بالْحسنِ فيندرج فِي الْآيَة عِنْد من قَالَ بِأَنَّهُ حسن

وَقَالَ أَبُو حنيفَة يضمن

وَكَذَلِكَ يَأْتِي هَذَا الْعَمَل فِي كل مَوضِع كَانَ الْقصاص مَكْرُوها
যদি তা থেকে নিষেধ না করা হয়, তবে তা হাসান (উত্তম), চাই তা করার আদেশ দেওয়া হোক—যেমন ওয়াজিব ও মানদুব—অথবা না হোক—যেমন মুবাহ।

জুমহুর মুতাজিলাগণ বলেন, যা করার অধিকার তার নেই তা কাবিহ (মন্দ), অন্যথায় তা হক (হাসান)।

সুতরাং এই দুটি সংজ্ঞা থেকে এটি বিন্যস্ত হলো যে, মুবাহ তাদের নিকট হাসান, যদিও মাকরূহ-এর বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।

কতিপয় মুতাজিলা বলেন, যদি কাজটি এমন কোনো গুণ ধারণ করে যা নিন্দার উদ্রেক করে—আর তা হলো হারাম—তবে তা কাবিহ। অথবা যদি এমন কোনো গুণ ধারণ করে যা প্রশংসার উদ্রেক করে—যেমন ওয়াজিব ও মানদুব—তবে তা হাসান। আর যা এর কোনোটিই ধারণ করে না—যেমন মাকরূহ ও মুবাহ—তা হাসানও নয়, কাবিহও নয়।

সারকথা এই যে, এই মতের প্রবক্তা মুবাহ এবং মাকরূহকে (হাসানের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে) পূর্ববর্তীদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

এই মতপার্থক্যের ফল সেই ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় যখন কিসাস হিসেবে অপরাধীর হাত কাটা হয় এবং সে মারা যায়; এমতাবস্থায় আমাদের নিকট কোনো জরিমানা নেই। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "মুহসিনদের বিরুদ্ধে কোনো পথ নেই।" আর মুহসিন হলেন তিনি যিনি হাসান কাজ করেন; সুতরাং যারা একে হাসান বলেন, তাদের নিকট এটি এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইমাম আবু হানিফা বলেন, জরিমানা দিতে হবে।

অনুরূপভাবে এই বিষয়টি প্রতিটি সেই স্থানে প্রযোজ্য হবে যেখানে কিসাস গ্রহণ করা মাকরূহ।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌مَسْأَلَة 6

 

الْعِبَادَة إِن وَقعت فِي وَقتهَا الْمعِين لَهَا أَولا شرعا وَلم تسبق بِأُخْرَى على نوع من الْخلَل كَانَت أَدَاء وَإِن سبقت بذلك كَانَت إِعَادَة وَإِن وَقعت بعد الْوَقْت الْمَذْكُور كَانَت قَضَاء

واحترزنا بقولنَا فِي الْأَدَاء أَولا عَن قَضَاء رَمَضَان فَإِنَّهُ مُؤَقّت بِمَا قبل رَمَضَان الَّذِي بعده وَمَعَ ذَلِك هُوَ قَضَاء لِأَنَّهُ تَوْقِيت ثَان لَا تَوْقِيت أول

إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة

1 - مَا إِذا احرم بِالْحَجِّ ثمَّ أفْسدهُ فَإِن المأتي بِهِ بعد ذَلِك يكون قَضَاء كَمَا صرح بِهِ الْأَصْحَاب

وَسَببه أَنه بِمُجَرَّد إِحْرَامه يضيق عَلَيْهِ الْإِتْيَان بِهِ فِي ذَلِك الْعَام اتِّفَاقًا وَلِهَذَا لَا يجوز لَهُ ابقاؤه على إِحْرَامه إِلَى عَام آخر

2 - وَمِنْهَا إِذا أحرم بِالصَّلَاةِ فِي وَقتهَا ثمَّ أفسدها وأتى بهَا ثَانِيًا فِي الْوَقْت فَإِنَّهُ يكون أَيْضا قَضَاء كَذَا صرح بِهِ القَاضِي الْحُسَيْن فِي تَعْلِيقه وَالْمُتوَلِّيّ فِي التَّتِمَّة وَالرُّويَانِيّ فِي الْبَحْر كلهم
মাসআলা ৬

 

ইবাদত যদি শরীয়ত কর্তৃক তার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হয় এবং এর আগে কোনো প্রকার ত্রুটিযুক্ত অন্য কোনো ইবাদত অতিবাহিত না হয়ে থাকে, তবে তা 'আদা' (যথাসময়ে আদায়)। আর যদি ইতিপূর্বে এমন কিছু (ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত) ঘটে থাকে, তবে তা 'ইআদাহ' (পুনরায় আদায়)। আর যদি তা উল্লিখিত সময়ের পরে সম্পন্ন করা হয়, তবে তা 'কাযা' হিসেবে গণ্য হবে।

আদা-এর সংজ্ঞায় আমরা 'প্রাথমিকভাবে' কথাটি বলে রমজানের কাযা থেকে সতর্ক হয়েছি। কারণ রমজানের কাযা পরবর্তী রমজান আসার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের সাথে নির্ধারিত, তা সত্ত্বেও তা 'কাযা'; কেননা এটি দ্বিতীয়বারের সময় নির্ধারণ, প্রাথমিক সময় নির্ধারণ নয়।

আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তবে এই মাসআলার কিছু শাখা নিম্নরূপ:

১ - যদি কেউ হজের ইহরাম বাঁধার পর তা নষ্ট করে ফেলে, তবে পরবর্তীতে যা সম্পাদন করা হবে তা 'কাযা' হবে, যেমনটি আসহাবগণ (মাযহাবের ফকীহগণ) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

এর কারণ হলো, ইহরাম বাঁধার সাথে সাথেই ওই বছরই হজ সম্পন্ন করা তার জন্য অবধারিত হয়ে যায়—এ বিষয়ে সকলে একমত। আর এ কারণেই তার পক্ষে পরবর্তী বছর পর্যন্ত ইহরাম বজায় রাখা বৈধ নয়।

২ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ নামাজের ওয়াক্ত থাকাকালীন নামাজের ইহরাম বাঁধার পর তা নষ্ট করে ফেলে এবং ওয়াক্তের মধ্যেই পুনরায় তা আদায় করে, তবে সেটিও 'কাযা' হবে। কাযী আল-হুসাইন তাঁর 'তালীক'-এ, আল-মুতাওয়াল্লী তাঁর 'তাতিন্মাহ'-এ এবং আর-রূয়ানী তাঁর 'আল-বাহর'-এ—তাঁরা সকলেই এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৪)
فِي صفة الصَّلَاة فِي الْكَلَام على النِّيَّة

وَسَببه أَن وَقت الْإِحْرَام بهَا قد فَاتَ وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه لَو أَرَادَ الْخُرُوج مِنْهَا لم يجز على الْمَعْرُوف

وَخَالفهُم الشَّيْخ أَبُو اسحق الشِّيرَازِيّ فَجزم بِأَنَّهَا تكون أَدَاء ذكر ذَلِك فِي كتاب اللمع لَهُ وَهُوَ من تصانيفه فِي أصُول الْفِقْه

وَقِيَاس الأول أَن ذَلِك لَو وَقع فِي الْجُمُعَة لامتنع استئنافها لِأَن الْجُمُعَة لَا تقضى وَأَنه لَو وَقع ذَلِك فِي الصَّلَاة الْمَقْصُورَة لامتنع قصرهَا إِذا منعنَا قصر الْفَوَائِت

 

‌‌مَسْأَلَة 7

 

إِذا ظن الْمُكَلف أَنه لَا يعِيش إِلَى آخر وَقت الْعِبَادَة الموسعة تضيقت الْعِبَادَة عَلَيْهِ وَلَا يجوز إخْرَاجهَا عَن الْوَقْت الَّذِي غلب على ظَنّه أَنه لَا يبْقى بعده لِأَن التَّكْلِيف فِي الْفُرُوع دائر مَعَ الظَّن

وَقد استفدنا من هَذَا التَّعْلِيل أَن ذكر الْمَوْت وَقع على سَبِيل الْمِثَال وَأَن الضَّابِط فِي ذَلِك هُوَ ظن الْإِخْرَاج عَن وقته بِأَيّ سَبَب كَانَ إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة

1 - ان تعتاد الْمَرْأَة طرُو الْحيض عَلَيْهَا فِي أثْنَاء الْوَقْت من يَوْم معِين فَإِن الْفَرْض يتضيق عَلَيْهَا أَيْضا كَمَا نبه عَلَيْهِ إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي الْكَلَام
নামাযের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায়, নিয়ত প্রসঙ্গে আলোচনার অধীনে।

আর এর কারণ হলো যে, এর মাধ্যমে তাহরিমা বাঁধার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং এর দলিল হলো এই যে, যদি সে তা থেকে বের হতে চাইত, তবে সুপরিচিত মত অনুযায়ী তা বৈধ হতো না।

আর শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে তা 'আদা' (যথাসময়ে আদায়) হিসেবে গণ্য হবে; তিনি এটি তাঁর 'আল-লুমা' কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তাঁর অন্যতম রচনা।

আর প্রথম মতের কিয়াস হলো যে, যদি এটি জুমার ক্ষেত্রে ঘটত তবে তা পুনরায় শুরু করা অসম্ভব হতো, কারণ জুমা কাজা হয় না। আর যদি এটি কসর সালাতের ক্ষেত্রে ঘটত তবে তা কসর করা অসম্ভব হতো যদি আমরা কাজা নামাযের কসর করাকে নিষিদ্ধ মনে করি।

 

‌‌মাসয়ালা ৭

 

যখন কোনো মুকাল্লাফ ব্যক্তি ধারণা করে যে সে প্রশস্ত সময়বিশিষ্ট ইবাদতের শেষ সময় পর্যন্ত জীবিত থাকবে না, তখন সেই ইবাদতটি তার ওপর সংকীর্ণ (অবিলম্বে পালনীয়) হয়ে যায়। এবং তার জন্য সেটিকে এমন সময়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া জায়েজ নয় যে সময় পর্যন্ত সে জীবিত না থাকার প্রবল ধারণা পোষণ করে। কারণ ফিকহী শাখা-প্রশাখার বিধিবিধানগুলো প্রবল ধারণার ওপর আবর্তিত হয়।

আর এই কারণ দর্শানো থেকে আমরা এটি বুঝতে পেরেছি যে, মৃত্যুর উল্লেখ এখানে কেবল উদাহরণ হিসেবে করা হয়েছে এবং এর মূল নীতি হলো যেকোনো কারণেই হোক ইবাদতটি তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল ধারণা হওয়া। যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মাসয়ালার শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - কোনো মহিলার যদি কোনো নির্দিষ্ট দিনে নামাযের সময়ের মাঝখানেই ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে তার ওপরও সেই ফরজটি সংকীর্ণ হয়ে যাবে (অর্থাৎ দ্রুত আদায় করা ওয়াজিব হবে), যেমনটি ইমামুল হারামাইন তাঁর আলোচনায় সতর্ক করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৫)
على مبادرة الْمُسْتَحَاضَة

 

‌‌مَسْأَلَة 8

 

إِذا لم يُبَادر الْمُكَلف فِي الْمَسْأَلَة السَّابِقَة وَبَان لَهُ خطأ ظَنّه بِأَن عَاشَ فَفعل بعد الْوَقْت الَّذِي ظَنّه فَقَالَ القَاضِي أَبُو بكر قَضَاء اعْتِبَارا بظنه الْمُقْتَضِي للتضييق

وَقَالَ الْغَزالِيّ يكون أَدَاء لِأَن ظَنّه قد بَان لَهُ أَنه خطأ وَيتَخَرَّج على الْقَاعِدَة فروع

أَحدهَا إِذا بَاعَ مَال أَبِيه مثلا على ظن أَنه حَيّ فَبَان مَيتا فَفِيهِ قَولَانِ مدركهما مَا ذَكرْنَاهُ

وَالْقَوْلَان يجريان كَمَا قَالَ الرَّافِعِيّ فِيمَا إِذا زوج أمة أَبِيه أَو بَاعَ العَبْد على أَنه آبق أَو مكَاتب فَبَان رَاجعا أَو فاسخا للكتابة
মুস্তাহাযা নারীর (ইবাদতে) ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয়ে

 

‌‌মাসয়ালা ৮

 

যদি পূর্ববর্তী মাসয়ালায় দায়বদ্ধ ব্যক্তি (মুকাল্লাফ) ত্বরান্বিত উদ্যোগ না নেয় এবং পরবর্তীতে তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়—অর্থাৎ সে জীবিত থাকে—অতঃপর সে তার ধারণাকৃত সময়ের পরে আমলটি সম্পাদন করে, তবে কাজী আবু বকর বলেছেন: এটি ‘কাযা’ হিসেবে গণ্য হবে; তার সেই ধারণাকে বিবেচনায় নিয়ে যা সময়কে সংকীর্ণ করে দিয়েছিল।

ইমাম গাযালী বলেন: এটি ‘আদা’ হিসেবে গণ্য হবে, কারণ তার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে তার ধারণাটি ভুল ছিল। আর এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি শাখা মাসয়ালা নির্গত হয়।

তার মধ্যে একটি হলো: উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি তার পিতার সম্পদ এই ধারণায় বিক্রি করে যে তিনি জীবিত আছেন, কিন্তু পরে দেখা গেল যে তিনি মৃত ছিলেন; তবে এক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে যার ভিত্তি হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি।

ইমাম রাফেঈ যেমনটি বলেছেন, এই দুটি অভিমত সেই ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যখন কেউ তার পিতার দাসীকে বিবাহ দেয়, অথবা কোনো গোলামকে পলাতক কিংবা ‘মুকাতাব’ (মুক্তির চুক্তিবদ্ধ) মনে করে বিক্রি করে দেয়, কিন্তু পরে দেখা যায় যে সে ফিরে এসেছে অথবা তার মুক্তির চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৬)
الثَّانِي إِذا بَاعَ شَيْئا وَهُوَ يظنّ أَنه لغيره فَبَان لنَفسِهِ فقد جزم إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي كتاب الرّجْعَة من النِّهَايَة بِالصِّحَّةِ وَفرق بَين هَذَا وَبَين الْمَسْأَلَة السَّابِقَة بِأَن الْجَهْل هُنَاكَ قد اسْتندَ إِلَى أصل وَهُوَ بَقَاء ملك الْأَب فقوي فَأبْطل

الثَّالِث إِذا وطىء أمة نَفسه جَاهِلا بِأَنَّهَا لَهُ فعقلت مِنْهُ فَفِي ثُبُوت الِاسْتِيلَاد وَجْهَان أصَحهمَا الثُّبُوت كَذَا ذكره الرَّافِعِيّ فِي كتاب الْغَصْب وَكتاب الْوَصِيَّة

الرَّابِع إِذا وطىء زَوجته ظَانّا أَنَّهَا أَجْنَبِيَّة فَإِنَّهَا تحل لمن طَلقهَا ثَلَاثًا كَمَا جزم بِهِ الرَّافِعِيّ وَلَا نزاع فِي أَنه يَأْثَم بل يجب الْحَد على وَجه حَكَاهُ ابْن الصّلاح فِي فَوَائِد رحلته

الْخَامِس إِذا حمل نَجَاسَة ظَانّا انها من الطاهرات وفيهَا قَولَانِ اصحهما بطلَان الصَّلَاة

السَّادِس إِذا أكل مُعْتَقدًا أَنه ليل ثمَّ بَان أَنه نَهَار فَإِنَّهُ يلْزمه الْقَضَاء

السَّابِع إِذا رَأَوْا سوادا فظنوه عدوا فصلوا صَلَاة شدَّة الْخَوْف ثمَّ بَان أَنه لَيْسَ بعدو أَو تحققوا أَنه عَدو وَلَكِن بَان أَنه كَانَ بَينهم
দ্বিতীয়: যদি কেউ কোনো কিছু এই মনে করে বিক্রয় করে যে তা অন্যের মালিকানাধীন, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে তা তার নিজেরই ছিল, তবে ইমামুল হারামাইন ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থের ‘কিতাবুর রাজআ’ অংশে এটি সহীহ বা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই মাসআলা এবং পূর্ববর্তী মাসআলার মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই বলে যে, সেখানে অজ্ঞতা একটি মূল ভিত্তির (তথা পিতার মালিকানা বহাল থাকা) ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা শক্তিশালী হওয়ার কারণে লেনদেনকে বাতিল করে দিয়েছিল।

তৃতীয়: যদি কেউ নিজের ক্রীতদাসীর সাথে এই অজ্ঞতাবশত সহবাস করে যে সে তার মালিকানাধীন নয়, এবং সেই দাসী তার মাধ্যমে গর্ভবতী হয়, তবে ‘ইস্তিলাদ’ (সন্তান প্রসবকারিনী হওয়ার আইনি মর্যাদা) সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। এর মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত হলো তা সাব্যস্ত হওয়া। ইমাম রাফেয়ী ‘কিতাবুল গাসব’ এবং ‘কিতাবুল ওসিয়্যাত’-এ এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

চতুর্থ: যদি কেউ তার নিজ স্ত্রীর সাথে এই মনে করে সহবাস করে যে সে একজন পরনারী, তবে ওই স্ত্রী তার পূর্বের স্বামীর জন্য (যে তাকে তিন তালাক দিয়েছিল) হালাল হয়ে যাবে, যেমনটি ইমাম রাফেয়ী দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে সে পাপিষ্ঠ হবে, বরং ইবনে সালাহ তার ‘ফাওয়াইদু রিহলাতিহি’ গ্রন্থে একটি অভিমত বর্ণনা করেছেন যে, তার ওপর ‘হদ’ বা নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা ওয়াজিব।

পঞ্চম: যদি কেউ অপবিত্র বস্তু বহন করে এই মনে করে যে তা পবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত, তবে এ ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে; যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ হলো নামাজ বাতিল হয়ে যাওয়া।

ষষ্ঠ: যদি কেউ রাত মনে করে খাবার গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে তখন দিন ছিল, তবে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হবে।

সপ্তম: যদি তারা কোনো অস্পষ্ট কালো ছায়া দেখে এবং তাকে শত্রু মনে করে ‘সালাতুল খওফ’ (ভীতিসংকুল অবস্থার নামাজ) আদায় করে, অতঃপর প্রকাশ পায় যে তা শত্রু ছিল না; অথবা নিশ্চিত হয় যে তা শত্রু ছিল কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে শত্রু তাদের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৭)
حَائِل من خَنْدَق أَو نَار أم مَاء أَو بَان أَنه كَانَ بقربهم حصن كَانَ يُمكنهُم التحصن فِيهِ أَو ظنُّوا أَن الْكفَّار أَكثر من الضعْف فصلوا منهزمين ثمَّ بَان خِلَافه فَفِي الْجَمِيع قَولَانِ أصَحهمَا وجوب الْقَضَاء

الثَّامِن مسَائِل مُتَعَلقَة بالعدة نقدم عَلَيْهَا مُقَدّمَة وَهِي أَن الْحرَّة تَعْتَد بِثَلَاثَة أَقراء والرقيقة والمبعضة إِذا وطِئت بِنِكَاح فَاسد أَو شُبْهَة نِكَاح تَعْتَد بقرءين كَمَا لَو طلقت وَإِن وطِئت بِشُبْهَة ملك الْيَمين استبرأت بقرء وَاحِد

إِذا تقرر هَذَا فَلَو وطىء أمة أَجْنَبِي يَظُنهَا أمته لَزِمَهَا قرء وَاحِد وَلَو ظَنّهَا زَوجته الْمَمْلُوكَة فَهَل يلْزمهَا قرء أم قرءان اعْتِبَارا بظنه وَجْهَان أصَحهمَا قرءان وَإِن ظَنّهَا زَوجته الْحرَّة فَهَل يجب قرء وَاحِد أم اثْنَان أم ثَلَاثَة فِيهِ اوجه أَصَحهَا الثَّالِث

هَذَا كُله إِذا وطىء أمة

فَإِن وطىء حرَّة نظر إِن ظَنّهَا أمته لَزِمَهَا ثَلَاثَة أَقراء لِأَن الظَّن لَا يُؤثر فِي الِاحْتِيَاط دون المساهلة وَقيل يَجِيء الْوَجْهَانِ فِي أَنا نعتبر ظَنّه أَو الْوَاقِع وَإِن ظَنّهَا زَوجته الْمَمْلُوكَة فَوَجْهَانِ أشبههما كَمَا قَالَه الرَّافِعِيّ النّظر إِلَى ظَنّه لِأَن الْعدة لحقته فعلى هَذَا يجب قرءان وَالثَّانِي ثَلَاثَة نظرا إِلَى الْوَاقِع
খন্দক (পরিখা), আগুন বা পানির কোনো অন্তরায়; অথবা যদি স্পষ্ট হয় যে তাদের নিকটেই কোনো দুর্গ ছিল যাতে তারা আশ্রয় নিতে পারত; অথবা তারা ধারণা করেছিল যে কাফিরদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি, ফলে তারা পলায়নপর অবস্থায় সালাত আদায় করল এবং পরে এর বিপরীতটি প্রকাশ পেল; এই সবকটি ক্ষেত্রেই দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক মতটি হলো (সালাত) কাজা করা ওয়াজিব হওয়া।

অষ্টম: ইদ্দত সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ। এর শুরুতে আমরা একটি ভূমিকা পেশ করছি: স্বাধীন নারী তিন 'কুরু' (ঋতুস্রাব বা পবিত্রতা) পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবেন। আর দাসী বা আংশিক স্বাধীন নারী যদি ফাসিদ বিবাহ বা বিবাহের সন্দেহে (শুবহাতুন নিকাহ) সহবাসের শিকার হন, তবে তিনি দুই 'কুরু' পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবেন, যেমনটি তাকে তালাক দেওয়া হলে করা হতো। আর যদি মালিকানাস্বত্বের সন্দেহে (শুবহাতু মিলকিল ইয়ামিন) সহবাস করা হয়, তবে একটি 'কুরু'র মাধ্যমে ইস্তিবরা (গর্ভাশয় মুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া) করবেন।

এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর: যদি কেউ অন্য কারো দাসীর সাথে সহবাস করে এবং মনে করে যে সে তার নিজের দাসী, তবে উক্ত দাসীর জন্য এক 'কুরু' ইদ্দত পালন করা আবশ্যক হবে। আর যদি সে তাকে তার দাসী-স্ত্রী মনে করে থাকে, তবে তার কি এক 'কুরু' নাকি দুই 'কুরু' পালন করা আবশ্যক হবে—তার ধারণার প্রেক্ষিতে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক হলো দুই 'কুরু'। আর যদি সে তাকে তার স্বাধীন স্ত্রী মনে করে থাকে, তবে কি এক, দুই নাকি তিন 'কুরু' ওয়াজিব হবে? এ বিষয়ে কয়েকটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক হলো তৃতীয়টি।

এ সবটুকুই তখন প্রযোজ্য যখন সে কোনো দাসীর সাথে সহবাস করবে।

কিন্তু যদি সে কোনো স্বাধীন নারীর সাথে সহবাস করে, তবে দেখা হবে: যদি সে তাকে নিজের দাসী মনে করে থাকে, তবে উক্ত নারীর জন্য তিন 'কুরু' ইদ্দত পালন করা আবশ্যক; কারণ শিথিলতার পরিবর্তে সতর্কতার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ধারণার কোনো প্রভাব নেই। বলা হয়েছে যে, আমরা কি তার ধারণাকে গণ্য করব নাকি বাস্তবতাকে—এ বিষয়ে দুটি অভিমত প্রযোজ্য হবে। আর যদি সে তাকে তার দাসী-স্ত্রী মনে করে থাকে, তবে দুটি অভিমত রয়েছে; ইমাম রাফেয়ী যেমনটি বলেছেন, তার মধ্যে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ মতটি হলো তার ধারণার দিকে লক্ষ করা, কারণ ইদ্দত তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। সেই হিসেবে দুই 'কুরু' ওয়াজিব হবে। আর দ্বিতীয় মতটি হলো বাস্তবতার নিরিখে তিন 'কুরু' (ওয়াজিব হবে)।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌مَسْأَلَة 9

 

الْأَمر بِالْأَدَاءِ هَل هُوَ أَمر بِالْقضَاءِ على تَقْدِير خُرُوج الْوَقْت

فِيهِ مذهبان أصَحهمَا عِنْد الإِمَام فَخر الدّين والآمدي وأتباعهما أَنه لَا يكون أمرا بِهِ

إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة

1 - مالو قَالَ لوَكِيله أد عني زَكَاة الْفطر فَخرج الْوَقْت هَل لَهُ أَن يُخرجهَا بعده

يتَّجه تَخْرِيجه على هَذِه الْقَاعِدَة

2 - وَمِنْهَا إِذا نذر أضْحِية ووكل شخصا فِي ذَبحهَا وأداها إِلَى الْفُقَرَاء فَخرج وَقتهَا وَهِي كالمسألة السَّابِقَة

3 - وَمِنْهَا وَإِن لم يُوصف بِالْأَدَاءِ وَالْقَضَاء مَا إِذا قَالَ بِعْ هَذِه السّلْعَة فِي هَذَا الشَّهْر فَلم يتَّفق بيعهَا فِيهِ فَلَيْسَ لَهُ بيعهَا بعد ذَلِك كَمَا ذكره الرَّافِعِيّ فِي الْبَاب الأول من أَبْوَاب الْوكَالَة وَزَاد فِي الرَّوْضَة
মাসআলা ৯

 

যথা সময়ে আদায়ের নির্দেশ কি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তা কাজা করার নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে?

এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। ইমাম ফখরুদ্দীন ও আল-আমিদী এবং তাঁদের অনুসারীদের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ মতটি হলো, এটি তার (কাজা করার) জন্য নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে না।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখাসমূহ হলো:

১ - যদি কেউ তার প্রতিনিধিকে বলে, 'আমার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করো' এবং এরপর সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে কি তার জন্য এরপর তা আদায় করা বৈধ হবে?

এই মাসআলাটি উক্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সমাধান করা সঙ্গত হবে।

২ - এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কুরবানীর মানত করে এবং তা জবাই করার জন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এবং তা দরিদ্রদের দান করে, অতঃপর সময় অতিবাহিত হয়ে যায়; এটি পূর্বোক্ত মাসআলার মতোই।

৩ - এর মধ্যে আরও রয়েছে—যদিও একে আদায় বা কাজা হিসেবে অভিহিত করা হয় না—যখন কেউ বলে 'এই পণ্যটি এই মাসের মধ্যে বিক্রি করো', কিন্তু উক্ত মাসের মধ্যে তা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি; তবে এরপর তার জন্য তা বিক্রি করার অধিকার থাকবে না, যেমনটি ইমাম রাফেয়ী ওকালত অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং রওজা গ্রন্থে এটি সংযোজন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬৯)
فَقَالَ وَكَذَلِكَ الْعتْق وَأما الطَّلَاق فَفِي الشَّامِل وَغَيره عَن الداركي انه إِذا كَانَت مُطلقَة يَوْم الْجُمُعَة كَانَت مُطلقَة فِي يَوْم السبت قَالَ النَّوَوِيّ وَفِيه نظر

 

‌‌مَسْأَلَة 10

 

قَالَ الْآمِدِيّ فِي الإحكام يجوز عندنَا دُخُول النِّيَابَة فِيمَا كلف بِهِ من الْأَفْعَال الْبَدَنِيَّة خلافًا للمعتزلة

وَاسْتَدَلُّوا بِأَن الْوُجُوب إِنَّمَا كَانَ لقهر النَّفس وَكسرهَا والنيابة تأبى ذَلِك
তিনি বললেন, দাসমুক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। আর তালাকের বিষয়ে 'আশ-শামিল' ও অন্যান্য কিতাবে আদ-দারাকি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি তাকে জুমার দিনে তালাক দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সে শনিবারও তালাকপ্রাপ্তা হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম আন-নববী বলেন, এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

 

‌‌মাসয়ালা ১০

 

আল-আমিদি 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট শারীরিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত তাকলিফ বা নির্দেশিত বিষয়গুলোতে প্রতিনিধিত্ব (নিয়াবাত) প্রবেশ করা বৈধ, যা মুতাজিলাদের মতের পরিপন্থী।

তারা দলিল পেশ করেছেন যে, ওয়াজিব বা আবশ্যকতা নির্ধারণ করা হয়েছে নফসকে দমিত ও চূর্ণ করার জন্য, আর প্রতিনিধিত্ব সেই উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭০)
واجاب أَصْحَابنَا بِأَن النِّيَابَة لَا تأباه لما فِيهَا من بذل الْمُؤْنَة أَو تحمل الْمِنَّة

وَمن فروع الْ‌‌مَسْأَلَة

1 - مَا اسْتدلَّ بِهِ الْآمِدِيّ وَهُوَ النِّيَابَة فِي حج الْفَرْض عَن الْمَيِّت والمعضوب وَكَذَا فِي حج النَّفْل للْوَارِث فِي أصح الْقَوْلَيْنِ

2 - وَمِنْهَا صب المَاء على أَعْضَاء المتطهر وَكَذَا الْمُتَيَمم وَقيل يمْتَنع عِنْد الْقُدْرَة

3 - وَمِنْهَا صَوْم الْوَلِيّ عَن الْمَيِّت كَمَا اخْتَارَهُ النَّوَوِيّ وَجَمَاعَة

4 - وَمِنْهَا رَكعَتَا الطّواف يفعلهما الْأَجِير عَن الَّذِي يحجّ عَنهُ تبعا للطَّواف كَذَا ذكره الرَّافِعِيّ فِي كتاب الْوَصِيَّة وَحكى مَعَه وَجها أَن الرَّكْعَتَيْنِ تقعان عَن الْأَجِير وَلَكِن تَبرأ ذمَّة المحجوج عَنهُ بِمَا فعل وَقِيَاس وقوعهما عَن الْمَيِّت عِنْد فعل الْأَجِير أَن تقعا للصَّبِيّ إِذا حج عَنهُ الْوَلِيّ

 

مَسْأَلَة 11

 

الرُّخْصَة فِي اللُّغَة هِيَ التسهيل فِي الْأَمر

والعزم هُوَ الْقَصْد الْمُؤَكّد
আমাদের সঙ্গীরা উত্তর দিয়েছেন যে, প্রতিনিধিত্ব করা একে অস্বীকার করে না, কারণ এতে ব্যয়ভার বহন করা অথবা অনুগ্রহ গ্রহণের বিষয়টি রয়েছে।

এবং মাসআলাটির শাখা-প্রশাখা হলো

১ - ইমাম আমিদী যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আর তা হলো মৃত ব্যক্তি এবং অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে ফরয হজে প্রতিনিধিত্ব; আর একইভাবে দুই মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মতানুসারে ওয়ারিশের পক্ষ থেকে নফল হজের ক্ষেত্রেও।

২ - তার মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা অর্জনকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি ঢেলে দেওয়া এবং একইভাবে তায়াম্মুমকারীর ক্ষেত্রেও; আর বলা হয়েছে যে, সক্ষমতা থাকা অবস্থায় এটি নিষিদ্ধ।

৩ - তার মধ্যে রয়েছে মৃতের পক্ষ থেকে অভিভাবকের রোজা রাখা, যেমনটি ইমাম নববী ও একদল আলেম পছন্দ করেছেন।

৪ - তার মধ্যে রয়েছে তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ, যা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োজিত ব্যক্তি তাওয়াফের অনুবর্তী হিসেবে ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করবে যার পক্ষ থেকে সে হজ করছে। ইমাম রাফেয়ি 'কিতাবুল ওসিয়াহ'-তে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে একটি মত বর্ণনা করেছেন যে, এই দুই রাকাত নামাজ আদায়কারীর পক্ষ থেকেই গণ্য হবে, তবে যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে সে তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। আজীরের আমলের মাধ্যমে তা মৃতের পক্ষ থেকে গণ্য হওয়ার কিয়াস হলো যে, অভিভাবক যখন শিশুর পক্ষ থেকে হজ করবেন তখন তা শিশুর পক্ষ থেকেই গণ্য হবে।

 

মাসআলা ১১

 

আভিধানিক অর্থে রুখসত হলো কোনো বিষয়ে সহজ করা।

আর আযম হলো সুনিশ্চিত সংকল্প।
(খণ্ড: ১) আত তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরুয়ি আলাল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭১)
وَأما فِي الشَّرْع فالرخصة هِيَ الحكم الثَّابِت على خلاف الدَّلِيل لعذر هُوَ الْمَشَقَّة والحرج

واحترزنا بالقيد الْأَخير عَن التكاليف كلهَا فَإِنَّهَا أَحْكَام ثَابِتَة على خلاف الأَصْل وَالْأَصْل من الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة وَمَعَ ذَلِك لَيْسَ بِرُخْصَة لِأَنَّهَا لم تثبت لأجل الْمَشَقَّة

وَمَا ذَكرْنَاهُ من كَون الرُّخْصَة والعزيمة من أَقسَام الحكم ذكره الْغَزالِيّ فِي كتبه وَصَاحب الْحَاصِل والبيضاوي فِي منهاجه وَجعلهَا الإِمَام والآمدي وَابْن الْحَاجِب من اقسام الْفِعْل

إِذا علمت ذَلِك فالرخصة تَنْقَسِم إِلَى أَرْبَعَة اقسام

الْقسم الأول أَن تكون وَاجِبَة فَمِنْهَا

1 - حل الْميتَة للْمُضْطَر وَقيل لَا يلْزمه الْأكل بل لَهُ أَن يصبر إِلَى الْمَوْت
আর শরীয়তের পরিভাষায়, রুখসাত হলো কষ্ট ও সংকীর্ণতার ন্যায় ওজরের কারণে দলিলের পরিপন্থী হিসেবে সাব্যস্ত বিধান।

আমরা শেষ শর্তটির মাধ্যমে সমস্ত শারঈ দায়িত্বসমূহকে (তাকলিফ) বাদ দিয়েছি; কেননা সেগুলো মূলনীতির বিপরীত সাব্যস্ত বিধান এবং মূলনীতি শারঈ দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো রুখসাত নয়, কারণ তা কষ্টের কারণে সাব্যস্ত হয়নি।

রুখসাত ও আজিমাত বিধানের প্রকারভেদ হওয়ার বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা ইমাম গাজালি তাঁর কিতাবসমূহে, আল-হাসিল-এর গ্রন্থকার এবং বায়দাভি তাঁর মিনহাজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ইমাম (রাজি), আমেদি এবং ইবনুল হাজিব একে কার্যের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন জেনে রাখুন যে রুখসাত চার ভাগে বিভক্ত।

প্রথম প্রকার: রুখসাত ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়া। তার অন্তর্ভুক্ত হলো:

১ - নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ বৈধ হওয়া। বলা হয়েছে যে, তার জন্য তা খাওয়া আবশ্যক নয়, বরং মৃত্যু পর্যন্ত তার ধৈর্য ধারণ করার সুযোগ রয়েছে।