(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: -)
الأصول والضوابط القسم: أصول الفقه
الكتاب: الأصول والضوابط
المؤلف: أبو زكريا يحيى بن شرف النووي (ت 676 هـ)
حققه وعلق عليه: د. محمد حسن هيتو [ت 1447 هـ]
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-উসুল (الأصول) ওয়া আদ-দাওয়াবিত (الضوابط) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
বই: আল-উসুল (الأصول) ওয়া আদ-দাওয়াবিত (الضوابط)
লেখক: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন-নাওয়াবী (মৃত্যু (ت) ৬৭৬ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ড. মুহাম্মদ হাসান হিতু [মৃত্যু (ت) ১৪৪৭ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْمُقدمَةبِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على مُحَمَّد واله
الْحَمد لله رب الْعَالمين اللَّهُمَّ صل على مُحَمَّد عَبدك وَرَسُولك النَّبِي الامي وعَلى ال مُحَمَّد وازواجه وَذريته كَمَا صليت على ابراهيم وعَلى ال ابراهيم وَبَارك على مُحَمَّد وعَلى ال مُحَمَّد وازواجه وَذريته كَمَا باركت على ابراهيم وعَلى ال ابراهيم فِي الْعَالمين انك حميد مجيد
واشهد ان لَا اله الا الله وَحده لَا شريك لَهُ واشهد ان مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله ارسله بِالْهدى وَدين الْحق لِيظْهرهُ على الدّين كُله وَلَو كره الْمُشْركُونَ اما بعد
فَهَذِهِ قَوَاعِد وضوابط واصول مهمات ومقاصد مطلوبات يحْتَاج اليها طَالب الْمَذْهَب بل طَالب الْعُلُوم مُطلقًا وَلَا يَسْتَغْنِي عَن مثلهَا من اهل الْفِقْه الا المقتصرون على الرسوم
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল উম্মী নবী মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবার-পরিজন, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর আপনি বরকত দান করুন মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবার-পরিজন, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরদের ওপর, যেমনিভাবে আপনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর জগতসমূহের মাঝে; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। অতঃপর:
এগুলো হলো কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম (قواعد), নীতিমালা (ضوابط), মূলনীতি (أصول) এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ; যা মাযহাবের শিক্ষার্থী বরং সামগ্রিকভাবে সকল জ্ঞানান্বেষীর জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যে যারা কেবল বাহ্যিক রীতিনীতির ওপর সীমাবদ্ধ, তারা ব্যতীত অন্য কেউ এ জাতীয় বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকে বিমুখ হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَالْمَقْصُود بهَا بَيَان الْقَوَاعِد الجامعة والضوابط المضطردات وَجمع الْمسَائِل المتشابهات والتمثيل بِفُرُوع مستخرجة من اصل اَوْ مَبْنِيَّة عَلَيْهِ وَحصر نفائس من الْأَحْكَام المتفرقات وَبَيَان شُرُوط كثير من الْأُصُول المشهورات
واحرص ان شَاءَ الله تَعَالَى فِي جَمِيعهَا على الأيضاح الْجَلِيّ بالعبارات الواضحات
وأسأل الله الْكَرِيم التَّوْفِيق لإتمامه مصونا نَافِعًا مُبَارَكًا وعَلى الله الْكَرِيم اعتمادي واليه تفويضي واستنادي وحسبي الله وَنعم الْوَكِيل وَلَا حول وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه الْعَزِيز الْحَكِيم
এর লক্ষ্য হলো ব্যাপক নীতিমালাসমূহ (القواعد الجامعة) ও সুসংগত বিধিসমূহ (الضوابط المضطردات) স্পষ্ট করা, সমজাতীয় বিষয়াবলিকে সংকলিত করা এবং মূলনীতি (أصل) হতে উৎসারিত কিংবা তার ওপর প্রতিষ্ঠিত শাখা-উপশাখার (فروع) মাধ্যমে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা; সেই সাথে বিভিন্ন বিধানের (الأحكام) গুরুত্বপূর্ণ সারনির্যাসসমূহ একত্রিত করা এবং অনেক প্রসিদ্ধ মৌলনীতির (الأصول) শর্তাবলি ব্যাখ্যা করা।
আল্লাহ তাআলা চাহেন তো আমি এই সব কিছুতেই সুস্পষ্ট বাচনভঙ্গির মাধ্যমে পরিষ্কার ব্যাখ্যার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব।
আমি মহান আল্লাহর নিকট এটি সুরক্ষিত, উপকারী ও বরকতময় হিসেবে সম্পন্ন করার তাওফিক প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা এবং তাঁরই নিকট আমার সকল কাজের সমর্পণ ও আশ্রয়। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مَسْأَلَة 1
مَذْهَب اهل الْحق الايمان بِالْقدرِ واثباته وان جَمِيع الكائنات خَيرهَا وشرها بِقَضَاء الله تَعَالَى وَقدره
وَهُوَ مُرِيد لَهَا كلهَا
وَيكرهُ الْمعاصِي مَعَ انه مُرِيد لَهَا لحكمة يعلمهَا سبحانه وتعالى
وَهل يُقَال انه يرضى الْمعاصِي ويحبها
মাসআলা (مسألة) ১
সত্যপন্থীদের (أهل الحق) মতাদর্শ (مذهب) হলো তাকদিরের (قدر) ওপর বিশ্বাস (إيمان) স্থাপন করা ও তা সাব্যস্ত করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, জগতের সকল সৃষ্টি এবং তাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ মহান আল্লাহর ফয়সালা (قضاء) ও তাকদিরের (قدر) মাধ্যমেই সংঘটিত হয়।
তিনি এই সবকিছুরই ইচ্ছাকারী (مريد)।
তিনি পাপাচারকে (معاصي) অপছন্দ করেন, যদিও তিনি তাঁর বিশেষ প্রজ্ঞার কারণে এগুলোর ইচ্ছাকারী (مريد), যা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা-ই জানেন।
আর পাপাচার (معاصي) সম্পর্কে কি এ কথা বলা যাবে যে, তিনি এতে সন্তুষ্ট হন এবং তা ভালোবাসেন?
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فِيهِ مذهبان لاصحابنا الْمُتَكَلِّمين حَكَاهُمَا امام الْحَرَمَيْنِ وَغَيره
قَالَ امام الْحَرَمَيْنِ فِي الارشاد مِمَّا اخْتلف اهل الْحق فِي اطلاقه وَمنع اطلاقه الْمحبَّة وَالرِّضَا
فَقَالَ بعض أَئِمَّتنَا لَا يُطلق القَوْل بَان الله تَعَالَى يحب الْمعاصِي ويرضاها لقَوْله تَعَالَى {وَلَا يرضى لِعِبَادِهِ الْكفْر}
قَالَ وَمن حقق من أَئِمَّتنَا لم يلْتَفت الى تهويل الْمُعْتَزلَة لَهُ بل قَالَ الله تَعَالَى يُرِيد الْكفْر وَيُحِبهُ ويرضاه والارادة والمحبة وَالرِّضَا بِمَعْنى وَاحِد
এ বিষয়ে আমাদের কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) দুটি অভিমত রয়েছে, যা ইমামুল হারামাইন এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
ইমামুল হারামাইন 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সত্যপন্থীদের (أهل الحق) নিকট যে বিষয়গুলোর প্রয়োগ বৈধ হওয়া বা না হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তার মধ্যে ‘মুহাব্বাহ’ (ভালোবাসা) ও ‘রিদা’ (সন্তুষ্টি) অন্যতম।
আমাদের আইম্মাগণের (أئمتنا) কেউ কেউ বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা পাপাচারকে ভালোবাসেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন—এ কথা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফর (অবিশ্বাস) পছন্দ করেন না।"
তিনি বলেন, আমাদের আইম্মাগণের (أئمتنا) মাঝে যারা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, তারা মুতাজিলাদের (المعتزلة) ভীতি প্রদর্শনের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি; বরং তারা বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা কুফরির ইচ্ছা পোষণ করেন, তা ভালোবাসেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন। আর ইচ্ছা (الإرادة), ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি মূলত একই অর্থবোধক।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ وَقَوله تَعَالَى {وَلَا يرضى لِعِبَادِهِ الْكفْر} المُرَاد بِهِ الْعباد الموفقون للايمان وأضيفوا الى الله تَعَالَى تَشْرِيفًا لَهُم كَقَوْلِه تَعَالَى {يشرب بهَا عباد الله} أَي خواصهم لَا كلهم وَالله اعْلَم
তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী— {এবং তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না}; এখানে সেই সকল বান্দাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা ঈমানের তাওফিকপ্রাপ্ত। তাঁদের বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে মহান আল্লাহর সাথে তাঁদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী— {আল্লাহর বান্দাগণ তা থেকে পান করবে}। অর্থাৎ এখানে তাঁদের মধ্যে যারা বিশিষ্ট কেবল তাঁদেরকে বোঝানো হয়েছে, সকলকে নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مَسْأَلَة 2
عُقُود الْمُعَامَلَات وَنَحْوهَا اربعة اقسام
احدها جَائِز من الطَّرفَيْنِ كالقرض وَالشَّرِكَة وَالْوكَالَة والوديعة وَالْعَارِية والقراض وَالْهِبَة قبل الْقَبْض والجعالة وَنَحْوهَا
والجعالة جَائِزَة من الطَّرفَيْنِ وان كَانَ بعد الشُّرُوع فِي الْعَمَل لَكِن ان فسخ الْعَامِل فَلَا شَيْء لَهُ وان فسخ الْجَاعِل فِي اثناء الْعَمَل لزمَه أُجْرَة مَا عمل
الثَّانِي لَازم من الطَّرفَيْنِ كَالْبيع بعد الْخِيَار وَالسّلم وَالصُّلْح وَالْحوالَة وَالْمُسَاقَاة والاجارة وَالْهِبَة للاجنبي بعد الْقَبْض وَالْخلْع وَنَحْوهَا
الثَّالِث لَازم من احدهما جَائِز من الاخر
মাসআলা (مسألة) ২
লেনদেন সংক্রান্ত চুক্তি (عقد) ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ চার প্রকারের হয়ে থাকে।
প্রথম প্রকারটি হলো যা উভয় পক্ষের জন্য ঐচ্ছিক (جائز); যেমন: ঋণ বা করজ (قرض), অংশীদারিত্ব (شركة), ওকালতি (وكالة), গচ্ছিত রাখা বা আমানত (وديعة), ধার দেওয়া (عارية), কিরাদ বা মুদারাবা (قراض), হস্তগত করার পূর্বের দান (هبة), জুয়ালা (جعالة) এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।
আর জুয়ালা (جعالة) উভয় পক্ষের জন্যই ঐচ্ছিক (جائز), যদিও তা কাজ শুরু করার পরে হয়। তবে যদি কর্মী (عامل) চুক্তি রদ (فسخ) করে, তবে তার জন্য কোনো বিনিময় নেই। আর যদি নিয়োগকর্তা (جاعل) কাজ চলাকালীন চুক্তি রদ (فسخ) করে, তবে কর্মীর কৃত কাজের পারিশ্রমিক প্রদান করা তার জন্য আবশ্যক হবে।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যা উভয় পক্ষের জন্য আবশ্যিক (لازم); যেমন: ইখতিয়ারের (خيار) সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ক্রয়-বিক্রয় (بيع), সালাম (سلم), সন্ধি (صلح), ঋণ স্থানান্তর বা হাওয়ালা (حوالة), সেচ চুক্তি বা মুসাকাত (مساقاة), ইজারা (اجارة), অপরিচিত কাউকে প্রদানের পর হস্তগত করা হয়েছে এমন দান (هبة), খুলা (خلع) এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।
তৃতীয় প্রকারটি হলো যা এক পক্ষের জন্য আবশ্যিক (لازم) এবং অন্য পক্ষের জন্য ঐচ্ছিক (جائز)।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كَالرَّهْنِ لَازم بعد الْقَبْض فِي حق الرَّاهِن جَائِز فِي حق الْمُرْتَهن وَالْكِتَابَة لَازِمَة فِي حق السَّيِّد دون العبيد
وَالضَّمان وَالْكَفَالَة جائزتان من جِهَة الْمَضْمُون لَهُ دون الضَّامِن
الرَّابِع لَازم من احدهما مَعَ خلاف فِي الاخر وَهُوَ النِّكَاح لَازم من جِهَة الْمَرْأَة وَفِي الزَّوْج وَجْهَان
احدهما جَائِز من جِهَته لقدرته على الطَّلَاق
وأصحهما لَازم كَالْبيع وَقدرته على الطَّلَاق لَيست فسخا وانما تصرف فِي الْمَمْلُوك وَلَا يلْزم من ذَلِك كَونه جَائِزا كَمَا ان المُشْتَرِي يملك بيع الْمَبِيع
والمسابقة على قَول جَائِزَة وَفِي الاظهر لَازِمَة
যেমন বন্ধক (رهن), যা দখল (قبض) করার পর বন্ধকদাতার (راهن) ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক (لازم) এবং বন্ধকগ্রহীতার (مرتهن) ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক (جائز); এবং মুক্তিচুক্তি (كتابة) যা মনিবের (سيد) ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক (لازم), দাসের (عبيد) ক্ষেত্রে নয়।
জামিনদারী (ضمان) ও জিম্মাদারী (كفالة) পাওনাদারের (مضمون له) পক্ষ থেকে ঐচ্ছিক (جائز), কিন্তু জামিনদাতার (ضامن) পক্ষ থেকে নয়।
চতুর্থ প্রকার হলো এমন চুক্তি যা এক পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক (لازم), তবে অপর পক্ষের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে; আর তা হলো বিবাহ (نكاح), যা নারীর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক (لازم), কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
এর মধ্যে একটি অভিমত হলো, এটি তার পক্ষ থেকে ঐচ্ছিক (جائز), যেহেতু তার তালাক (طلاق) দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
আর এই দুটির মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) অভিমত হলো, এটি বিক্রয় চুক্তির ন্যায় বাধ্যতামূলক (لازم)। তার তালাক (طلاق) প্রদানের ক্ষমতা চুক্তি বাতিল (فسخ) করা নয়, বরং তা কেবল মালিকানাধীন বিষয়ের ওপর অধিকার প্রয়োগ মাত্র। এর দ্বারা চুক্তিটি ঐচ্ছিক (جائز) হওয়া আবশ্যক হয় না, ঠিক যেমন ক্রেতা ক্রয়কৃত বস্তু পুনরায় বিক্রয় করার মালিকানা লাভ করে।
এবং প্রতিযোগিতার (مسابقة) চুক্তি একটি মতানুসারে ঐচ্ছিক (جائز), তবে অধিকতর স্পষ্ট (أظهر) মতানুসারে এটি বাধ্যতামূলক (لازم)।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مَسْأَلَة 3
اذا انْعَقَد البيع لم يتَطَرَّق اليه الْفَسْخ الا بِأحد سَبْعَة اسباب 1 خِيَار الْمجْلس 2 وَخيَار الشَّرْط 3 وَخيَار الْعَيْب 4 وَخيَار الْخلف بَان شَرطه كَاتبا فَخرج غير كَاتب 5 والاقالة 6 والتحالف 7 وَتلف الْمَبِيع قبل الْقَبْض
মাসআলা (مسألة) 3
যখন ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন সাতটি কারণের কোনো একটি ব্যতীত তাতে চুক্তি রদ (فسخ) করার অবকাশ থাকে না: ১. মজলিসের ইখতিয়ার (خيار المجلس), ২. শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط), ৩. ত্রুটির ইখতিয়ার (خيار العيب), ৪. গুণগত পার্থক্যের ইখতিয়ার (خيار الخلف)—যেমন লেখক হওয়ার শর্ত করা হয়েছিল কিন্তু সে অ-লেখক সাব্যস্ত হলো, ৫. ইকালা (إقالة) বা পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি রদ, ৬. পারস্পরিক শপথ গ্রহণ (تحالف) এবং ৭. হস্তগত করার (قبض) পূর্বে বিক্রয়লব্ধ পণ্যের বিনাশ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مَسْأَلَة 4
مِمَّا يقوم فِيهِ الْوَطْء مقَام اللَّفْظ 1 وَطْء البَائِع فِي مُدَّة الْخِيَار فَيكون فسخا 2 وَلَا يقوم وَطْء الرَّجْعِيَّة مقَام لفظ الرّجْعَة عندنَا 3 واما وَطْء من اعْتِقْ احدى أمتيه
اَوْ طلق احدى امرأتيه
أَو أسلم على أَكثر من ارْبَعْ نسْوَة
أَو أَرَادَ الرُّجُوع فِي جَارِيَة ثَبت لَهُ الرُّجُوع فِيهَا بافلاس المُشْتَرِي
اَوْ بِوُجُود عيب فِي الثّمن اَوْ المُشْتَرِي الْجَارِيَة الْمَبِيعَة فِي مُدَّة الْخِيَار 3 فَفِي قيام الْوَطْء فِي جَمِيع هَذِه الصُّور مقَام اللَّفْظ وَجْهَان يخْتَلف الرَّاجِح
মাসয়ালা (مسألة) ৪
যেসব ক্ষেত্রে সহবাস (وطء) মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হয় ১ ইখতিয়ারের মেয়াদে (مدة الخيار) বিক্রেতার সহবাস (وطء) করা, যা চুক্তি বাতিল (فسخ) হিসেবে গণ্য হবে ২ আমাদের নিকট রাজয়ী (رجعية) তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে সহবাস (وطء) করা রাজআত (رجعة) এর মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হয় না ৩ আর যে ব্যক্তি তার দুই দাসীর একজনকে মুক্ত করেছে
অথবা তার দুই স্ত্রীর একজনকে তালাক দিয়েছে
অথবা চারজনের অধিক স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছে
অথবা এমন কোনো দাসীকে ফেরত নিতে চায় যার ক্ষেত্রে ক্রেতা দেউলিয়া হওয়ার কারণে তার জন্য ফেরত নেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে
অথবা মূল্যের মধ্যে ত্রুটি পাওয়ার কারণে, অথবা ইখতিয়ারের মেয়াদে (مدة الخيار) বিক্রিত দাসীর ক্ষেত্রে ক্রেতার সহবাস (وطء) করা ৩; এই সকল ক্ষেত্রে সহবাস (وطء) মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে এবং এর মধ্যে বিশুদ্ধতর (الراجح) মতটি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - واما وَطْء الْمُوصى بهَا فان اتَّصل بِهِ احبال كَانَ رُجُوعا وان عزل فَلَا وان انْزِلْ وَلم يحبل فَوَجْهَانِ اصحهما لَيْسَ بِرُجُوع وَقَالَ ابْن الْحداد رُجُوع 5 وَطْء الاب جَارِيَة وَهبهَا لوَلَده حرَام قطعا وَلَيْسَ رُجُوعا فِي أصح الْوَجْهَيْنِ
4 - আর অসিয়তকৃত দাসীর সাথে যৌনমিলন (وطء) করার বিষয়টি হলো, যদি তার ফলে গর্ভধারণ ঘটে তবে তা প্রত্যাহার (رجوع) বলে গণ্য হবে। আর যদি আজল (عزل) করা হয় তবে তা প্রত্যাহার নয়। আর যদি বীর্যপাত হয় কিন্তু গর্ভধারণ না ঘটে তবে এ ব্যাপারে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) হলো এটি প্রত্যাহার নয়। ইবনুল হাদ্দাদ বলেন, এটি প্রত্যাহার (رجوع)। 5 - পিতার জন্য এমন দাসীর সাথে যৌনমিলন (وطء) করা যা তিনি তার সন্তানকে দান করেছেন, তা অকাট্যভাবে হারাম (حرام); এবং দুটি অভিমতের মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح) অভিমত অনুযায়ী এটি প্রত্যাহার (رجوع) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مَسْأَلَة 5
قَالَ اصحابنا حكم العقد الْفَاسِد حكم الصَّحِيح فِي الضَّمَان
فَمَا ضمن صَحِيحه ضمن فاسده وَمَا لَا فَلَا
মাসআলা (مسألة) 5
আমাদের ফকিহগণ বলেছেন, জিম্মাদারি বা দায়ের (ضمان) ক্ষেত্রে ফাসিদ (فاسد) চুক্তির বিধান সহিহ (صحيح) চুক্তির বিধানের অনুরূপ।
সুতরাং যা তার সহিহ (صحيح) অবস্থায় দায়বদ্ধতা সাব্যস্ত করে, তা তার ফাসিদ (فاسد) অবস্থাতেও দায়বদ্ধতা সাব্যস্ত করে; আর যা করে না, তা করে না।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَحكي فِي الْهِبَة الْفَاسِدَة وَجه انها مَضْمُونَة وَالْمذهب لَا تضمن لَان صحيحتها لَيست مَضْمُونَة
এবং ফাসেদ বা অবৈধ (فاسدة) হেবা বা দানের ক্ষেত্রে একটি অভিমত (وجه) বর্ণিত হয়েছে যে তা দায়বদ্ধ (مضمونة); তবে মাযহাব (المذهب) হলো তা দায়বদ্ধ (تضمن) নয়, কারণ এর সহিহ বা বৈধ (صحيحة) রূপটি দায়বদ্ধ (مضمونة) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مَسْأَلَة 6
فِي ضبط جمل من المقدرات الشَّرْعِيَّة
وَهِي ثَلَاثَة اقسام
قسم تَقْدِيره تَحْدِيد
وَقسم تقريب
وَقسم مُخْتَلف فِيهِ
فَمن التَّحْدِيد
طَهَارَة الاعضاء فِي الْوضُوء ثَلَاثًا ثَلَاثًا
وَمِنْه تَقْدِير مُدَّة مسح الْخُف بِيَوْم وليله حضرا وَثَلَاثَة سفرا
والاستنجاء بِثَلَاثَة احجار
وَغسل ولوغ الْكَلْب بِسبع
واكثر الْحيض واقل الطُّهْر بِخَمْسَة عشر يَوْمًا
واوقات الصَّلَوَات
মাসআলা ৬
শরয়ি পরিমাপসমূহের (المقدرات الشرعية) কতিপয় নীতিমালা সুবিন্যস্তকরণ প্রসঙ্গে
তা তিন প্রকার
এক প্রকার যার পরিমাণ সুনির্দিষ্টকরণ (تحديد)
এক প্রকার যা আনুমানিক (تقريب)
এক প্রকার যা নিয়ে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে
সুনির্দিষ্টকরণের (تحديد) অন্তর্ভুক্ত হলো
ওযুর অঙ্গসমূহ তিনবার তিনবার করে ধৌত করা
চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করার সময়সীমা মুকিম অবস্থায় একদিন ও একরাত এবং মুসাফির অবস্থায় তিনদিন নির্ধারণ করা
তিনটি পাথর দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা
কুকুরের চেটে দেওয়া পাত্র সাতবার ধৌত করা
ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা এবং পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময়সীমা পনেরো দিন হওয়া
এবং সালাতের ওয়াক্তসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَاشْتِرَاط اربعين لانعقاد الْجُمُعَة
والتكبيرات الزَّوَائِد فِي صَلَاة الْعِيد وَالِاسْتِسْقَاء وخطب الْعِيد
وَالِاسْتِغْفَار فِي اول خطْبَة الاسْتِسْقَاء
وَنصب الزَّكَاة فِي الابل وَالْبَقر وَالْغنم وَالذَّهَب وَالْفِضَّة وعروض التِّجَارَة وَقدر الْوَاجِب فِيهَا وَفِي زَكَاة الْفطر
وَالْكَفَّارَة
وَمِنْه الاجال فِي حول الزَّكَاة
وتعريف اللّقطَة
وَالْعدَد
ودية الْخَطَأ على الْعَاقِلَة اَوْ غَيرهم
وَفِي نفي الزَّانِي
وَفِي انْتِظَار الْعنين
وَالْمولى
وَالسّن الَّذِي يُؤثر فِيهِ الرَّضَاع
জুমা (الجمعة) অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য চল্লিশ জনের উপস্থিতিকে শর্ত গণ্য করা
ঈদের নামাজ, ইস্তিসকা (الاستسقاء) এবং ঈদের খুতবাসমূহে অতিরিক্ত তাকবিরসমূহ (التكبيرات الزوائد)
ইস্তিসকার (الاستسقاء) প্রথম খুতবায় ইস্তিগফার (الاستغفار) করা
উট, গরু, ছাগল-ভেড়া, সোনা, রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতের নিসাবসমূহ (نصب) এবং তাতে ও যাকাতুল ফিতরের (زكاة الفطر) ক্ষেত্রে ওয়াজিবের (الواجب) পরিমাণ
কাফফারা (الكفارة)
যাকাতের বর্ষপূর্তির (حول) সময়সীমাও এর অন্তর্ভুক্ত
কুড়িয়ে পাওয়া মালের (اللقطة) পরিচয় প্রদান বা ঘোষণা করা
ইদ্দত (العدد)
ভুলবশত হত্যার দিয়াত (دية الخطأ) ‘আকিলা’ (العاقلة) বা অন্যদের ওপর ন্যস্ত হওয়া
ব্যভিচারীকে নির্বাসিত (نفي) করার প্রসঙ্গে
পুরুষত্বহীন ব্যক্তির (العنين) প্রতীক্ষার মেয়াদের ক্ষেত্রে
মাওলা (المولى) প্রসঙ্গে
দুগ্ধপানের (الرضاع) যে বয়সে হুকুম কার্যকর হয়
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَتَقْدِير جلد الزَّانِي بِمِائَة جلدَة والقاذف ثَمَانِينَ والشارب بِأَرْبَعِينَ وَالرَّقِيق على النّصْف
وَتَقْدِير نِصَاب السّرقَة بِربع دِينَار وَغير ذَلِك
وَمن التَّقْدِير الَّذِي للتقريب
سنّ الرَّقِيق الْمُسلم فِيهِ وَالْمُوكل فِي شراه لمن اسْلَمْ فِي عبد سنة عشر سِنِين فانه يسْتَحق ابْن عشر تَقْرِيبًا
اَوْ وَكله فِي شِرَاء ابْن عشر
لانه يتَعَذَّر تَحْصِيل ابْن عشر تحديدا بالاوصاف الْمَشْرُوطَة
وَمن التَّقْدِير الْمُخْتَلف فِيهِ
تَقْدِير الْقلَّتَيْنِ بِخَمْسِمِائَة رَطْل
وَسن الْحيض بتسع سِنِين
والمسافة بَين الصفين بثلاثمائة ذِرَاع
ومسافة الْقصر بِثمَانِيَة واربعين ميلًا
ونصاب المعشرات بِأَلف وسِتمِائَة رَطْل بالبغدادي
ব্যভিচারীর দোররা নির্ধারণ একশত বেত্রাঘাত, অপবাদ দানকারীর (قاذف) আশি এবং মদ্যপায়ীর চল্লিশ, আর দাসের (رقيق) ক্ষেত্রে এর অর্ধেক।
চুরির নিসাব (نصاب) এক চতুর্থাংশ দিনার নির্ধারণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
এবং সেই সকল পরিমাপ যা নিকটবর্তী (تقريب) বা আনুমানিকের জন্য।
সালাম চুক্তিতে (سلم) নির্দেশিত দাসের বয়স এবং যার ক্রয়ের ভার দেওয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রে—যদি কেউ দশ বছর বয়সের দাসের ব্যাপারে সালাম চুক্তি করে, তবে সে আনুমানিক (تقريبا) দশ বছর বয়সী দাসের হকদার হবে।
অথবা তাকে দশ বছর বয়সী দাস ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করল।
কারণ শর্তযুক্ত গুণাগুণ অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে (تحديدا) ঠিক দশ বছর বয়সী দাস পাওয়া অসম্ভব।
এবং সেই সকল পরিমাপ যার ব্যাপারে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে।
কুল্লাতাইন (قلتين) এর পরিমাণ পাঁচশত রতল (رطل) নির্ধারণ করা।
এবং ঋতুস্রাবের (حيض) বয়স নয় বছর নির্ধারণ করা।
এবং দুই কাতারের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিনশত হাত (ذراع) হওয়া।
এবং কসরের (قصر) দূরত্ব আটচল্লিশ মাইল হওয়া।
এবং ওশর বা দশমাংশ প্রযোজ্য ফসলের নিসাব (نصاب) বাগদাদী মাপে এক হাজার ছয়শত রতল নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وفيهَا كلهَا وَجْهَان
الاصح فِي الْقلَّتَيْنِ وَالْحيض والمسافة بَين الصفين التَّقْرِيب
وَفِي مَسَافَة الْقصر ونصاب المعشرات التَّحْدِيد
وَوجه التَّقْرِيب انه مُجْتَهد فِي هَذَا التَّقْدِير وَمَا قاربه فِي مَعْنَاهُ بِخِلَاف الْمَنْصُوص على تحديده
وَفِي تَقْدِير سنّ الْبلُوغ بِخمْس عشرَة سنة طَرِيقَانِ
الْمَذْهَب الْقطع بِأَنَّهُ تَحْدِيد
وَالثَّانِي على وَجْهَيْن ثَانِيهمَا انه تقريب حَكَاهُ الرَّافِعِيّ وَغَيره وَالله اعْلَم
আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
দুই মশক বা কুল্লাতাইন (القلتين), ঋতুস্রাব এবং কাতারদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের ক্ষেত্রে অধিক সঠিক (الأصح) মতটি হলো আনুমানিক (التقريب)।
আর সফরের দূরত্ব এবং ফসলের যাকাতের নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তা হলো সুনির্দিষ্ট নির্ধারণ (التحديد)।
আনুমানিক হওয়ার যুক্তি হলো যে, এই পরিমাপটি গবেষণালব্ধ (مجتهد) এবং যা এর নিকটবর্তী তা-ও এর অর্থভুক্ত; এটি সেই বিষয়ের বিপরীত যার সুনির্দিষ্ট সীমার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (المنصوص) বিধান রয়েছে।
সাবালকত্বের বয়স পনেরো বছর নির্ধারণের বিষয়ে দুটি পদ্ধতি (طريقان) রয়েছে।
মাযহাবের (المذهب) সুনিশ্চিত (القطع) সিদ্ধান্ত হলো এটি সুনির্দিষ্ট নির্ধারণ (تحديد)।
দ্বিতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (وجهين) রয়েছে, যার দ্বিতীয়টি হলো এটি আনুমানিক (تقريب); যা ইমাম রাফেয়ি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَسْأَلَة 7
فِي بَيَان اقسام الرُّخص
وَهِي ثَلَاثَة اقسام
احدهما رخصَة يجب فعلهَا كمن خص بلقمة وَلم يجد مَا يسيغها بِهِ الا خمرًا يجب اساغتها بهَا
وكالمضطر الى اكل الْميتَة وَغَيرهَا من النَّجَاسَات يلْزمه اكلها على الصَّحِيح الَّذِي قطع بِهِ الْجُمْهُور
وَقَالَ بعض اصحابنا يجوز وَلَا يجب
الثَّانِي رخصَة مُسْتَحبَّة كقصر الصَّلَاة فِي السّفر وَالْفطر لمن شقّ عَلَيْهِ الصَّوْم
মাসআলা (مسألة) ৭
অনুমোদনের (رخص) প্রকারভেদ বর্ণনায়
তা তিন প্রকার (أقسام)
প্রথমত: এমন অনুমোদন (رخصة) যা পালন করা ওয়াজিব (واجب); যেমন- যার গলায় লোকমা আটকে যায় এবং তা নামানোর জন্য মদ (خمر) ব্যতীত অন্য কিছু পায় না, তবে তা দিয়ে লোকমা নামানো তার জন্য ওয়াজিব (واجب)।
এবং মৃত প্রাণী (ميتة) ও অন্যান্য অপবিত্র বস্তু (نجاسات) ভক্ষণে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির জন্য তা খাওয়া আবশ্যক, এটিই সঠিক (صحيح) মত যা জমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরাম অকাট্যভাবে ব্যক্ত করেছেন।
আমাদের কোনো কোনো সাথী (আলেম) বলেছেন: এটি জায়েজ (جائز), ওয়াজিব (واجب) নয়।
দ্বিতীয়ত: মুস্তাহাব (مستحب) অনুমোদন (رخصة); যেমন- সফরে নামাজ কসর (قصر) করা এবং যার জন্য রোজা রাখা কষ্টকর তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা (فطر)।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَكَذَا الابراد فِي شدَّة الْحر على الاصح
الثَّالِث رخصَة تَركهَا افضل من فعلهَا كمسح الْخُف وَالتَّيَمُّم لمن وجد المَاء يُبَاع بِأَكْثَرَ من ثمن مثله
وَالْفطر لمن لَا يتَضَرَّر بِالصَّوْمِ
وعد ابو سعيد الْمُتَوَلِي وَالْغَزالِيّ فِي الْبَسِيط من هَذَا الْقسم الْجمع بَين الصَّلَاتَيْنِ فِي السّفر
অনুরূপভাবে তীব্র গরমে সালাত ঠাণ্ডা করে আদায় করাও বিশুদ্ধতর মত (الأصح) অনুযায়ী উত্তম।
তৃতীয় প্রকার হলো এমন সহজসাধ্য বিধান (رخصة), যা পালন করার চেয়ে বর্জন করা উত্তম; যেমন মোজার ওপর মাসেহ করা এবং ঐ ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম (التيمم) করা, যে এমন পানি পেয়েছে যা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে।
এবং ওই ব্যক্তির জন্য সাওম ভঙ্গ করা (বা না রাখা), যার সাওম পালনে কোনো শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
আবু সাঈদ আল-মুতাওয়াল্লি এবং আল-গাজালি তাঁর আল-বাসিত গ্রন্থে সফরে দুই সালাত একত্রে আদায় করাকে (الجمع بين الصلاتين) এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَنقل الْغَزالِيّ الِاتِّفَاق على ان ترك الْجمع أفضل بِخِلَاف الْقصر
وَفرقُوا بِوَجْهَيْنِ
احدهما ان الْقصر خُرُوجًا من الْخلاف وَفِي ترك الْجمع خُرُوجًا من الْخلاف ايضا
فان ابا حنيفَة واخرين يوجبون الْقصر ويبطلون الْجمع
وَالثَّانِي ان الْجمع يلْزم مِنْهُ اخلاء وَقت الْعِبَادَة الاصلي عَن الْعِبَادَة بِخِلَاف الْقصر
قَالُوا والاحاديث الْوَارِدَة فِي الْجمع لَيست نصوصا فِي الِاسْتِحْبَاب بل فِيهَا جَوَاز فعله وَلَا يلْزم مِنْهُ الِاسْتِحْبَاب
ইমাম গাজালি এই মর্মে ঐকমত্য (إتفاق) বর্ণনা করেছেন যে, সালাত একত্র করা বর্জন (ترك الجمع) করাই উত্তম, তবে সালাত সংক্ষিপ্ত করার (قصر) বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।
তাঁরা দুটি কারণে এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
একটি হলো, সালাত সংক্ষিপ্ত করার (قصر) মাধ্যমেও মতবিরোধ (خلاف) থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় এবং সালাত একত্র করা বর্জনের (ترك الجمع) মাধ্যমেও মতবিরোধ (خلاف) থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।
কেননা ইমাম আবু হানিফা ও অন্যান্যগণ সালাত সংক্ষিপ্ত করাকে (قصر) আবশ্যক (واجب) মনে করেন এবং সালাত একত্র করাকে (جمع) বাতিল (باطل) গণ্য করেন।
দ্বিতীয়ত, সালাত একত্র করার (جمع) ফলে ইবাদতের মূল সময়টি ইবাদতশূন্য রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা সালাত সংক্ষিপ্ত করার (قصر) ক্ষেত্রে হয় না।
তাঁরা বলেন, সালাত একত্র করার (جمع) বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ক্ষেত্রে অকাট্য দলিল (نص) নয়, বরং এগুলোতে কেবল তা করার বৈধতা (جواز) বর্ণিত হয়েছে এবং তা থেকে মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া আবশ্যক হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مَسْأَلَة 8
قَالَ اصحابنا رخص السّفر ثَمَان
ثَلَاث تخْتَص بالطويل
وثنتان لَا تختصان
وَثَلَاث فِيهَا قَولَانِ
فالمختص الْقصر وَالْفطر وَالْمسح على الْخُف ثَلَاثًا وَغير الْمُخْتَص ترك الْجُمُعَة واكل الْميتَة
وَالثَّلَاث اللواتي فِيهِنَّ قَولَانِ الْجمع بَين الصَّلَاتَيْنِ والاصح اخْتِصَاصه بالطويل
والتنقل على الدَّابَّة واسقاط الْفَرْض بِالتَّيَمُّمِ والاصح عدم اختصاصهما
মাসআলা (مسألة) ৮
আমাদের (মাযহাবের) ইমামগণ বলেছেন যে, সফরের অবকাশসমূহ (رخص) আটটি।
তিনটি দীর্ঘ সফরের সাথে নির্দিষ্ট (مختص)।
এবং দুটি (দীর্ঘ সফরের সাথে) নির্দিষ্ট নয়।
এবং তিনটির ক্ষেত্রে দুটি অভিমত (قولان) রয়েছে।
দীর্ঘ সফরের জন্য নির্দিষ্টগুলো হলো: নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (قصر), সিয়াম ভঙ্গ করা (فطر) এবং তিন দিনব্যাপী মোজার ওপর মাসাহ (مسح) করা। আর নির্দিষ্ট নয় এমনগুলো হলো: জুমার নামাজ ত্যাগ করা এবং মৃত প্রাণী (ميتة) ভক্ষণ করা।
আর যে তিনটির ব্যাপারে দুটি অভিমত (قولان) রয়েছে, সেগুলো হলো: দুই নামাজ একত্রীকরণ (جمع); এক্ষেত্রে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো এটি দীর্ঘ সফরের সাথে নির্দিষ্ট (اختصاص)।
সওয়ারির ওপর নফল নামাজ (تنفل) আদায় করা এবং তায়াম্মুমের (تيمم) মাধ্যমে ফরজের বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়া; অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী এ দুটি দীর্ঘ সফরের সাথে নির্দিষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَالسّفر الطَّوِيل ثَمَانِيَة واربعون ميلًا بالهاشمي والميل سِتَّة الاف ذِرَاع
قَالَ القلعي رحمه الله والذراع هُنَا ارْبَعْ وَعِشْرُونَ اصبعا معتدلات والاصبع سِتّ شعيرات معتدلة مُعْتَرضَة
وَنقل ابْن الصّباغ وَغَيره ان للشَّافِعِيّ رحمه الله فِي مَسَافَة الْقصر سَبْعَة نُصُوص مُخْتَلفَة اللَّفْظ المُرَاد بهَا كلهَا شَيْء وَاحِد
দীর্ঘ সফর হলো হাশেমী পরিমাপ অনুযায়ী আটচল্লিশ মাইল এবং এক মাইল ছয় হাজার হাতের সমান।
আল-কালায়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে হাত বলতে চব্বিশটি মধ্যমাকৃতির আঙুল এবং প্রতিটি আঙুল হলো আড়াআড়িভাবে রাখা ছয়টি মধ্যমাকৃতির যব।
ইবনুস সাব্বাগ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, কসর বা নামাজের সংক্ষেপকরণের দূরত্বের বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভিন্ন ভিন্ন শব্দের সাতটি পাঠ (نصوص) রয়েছে, তবে এগুলোর সবগুলোর দ্বারা মূলত একই উদ্দেশ্য বুঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
قَالَ فِي مَوضِع ثَمَانِيَة واربعون ميلًا
وَفِي مَوضِع سِتَّة واربعون
وَفِي مَوضِع اكثر من اربعين
وَفِي مَوضِع اربعون
وَفِي مَوضِع مسيرَة يَوْمَيْنِ
وَفِي مَوضِع مسيرَة لَيْلَتَيْنِ
وَفِي مَوضِع مسيرَة يَوْم وَلَيْلَة
قَالَ اصحابنا المُرَاد بِالْجَمِيعِ شَيْء وَاحِد وَهُوَ ثَمَانِيَة واربعون ميلًا هاشمية وَهِي مرحلتان بسير الاثقال ودبيب الاقدام
قَالُوا وَقَوله سِتَّة واربعون تَركه الاول والاخير وَهُوَ عَادَة معرفَة للْعَرَب
وَقَوله اكثر من اربعين اراد ثَمَانِيَة واربعين
وَقَوله اربعون اراد اربعين اموية وَهِي ثَمَانِيَة واربعون هاشمية
وَقَوله يَوْمَانِ اراد من غير لَيْلَة بَينهمَا
وَقَوله ليلتان اراد من غير يَوْم بَينهمَا
وَقَوله يَوْم وَلَيْلَة اراد الْيَوْم مَعَ اللَّيْلَة
وكل ذَلِك ثَمَانِيَة واربعون ميلًا هاشمية وَالله اعْلَم
قَالَ اصحابنا لَا يُبَاح شَيْء من رخص السّفر الثمان لعاص
তিনি এক স্থানে আটচল্লিশ মাইল উল্লেখ করেছেন
অন্য এক স্থানে ছেচল্লিশ
অন্য এক স্থানে চল্লিশের অধিক
অন্য এক স্থানে চল্লিশ
অন্য এক স্থানে দুই দিনের পথ
অন্য এক স্থানে দুই রাতের পথ
অন্য এক স্থানে এক দিন ও এক রাতের পথ
আমাদের (মাযহাবের) আলেমগণ বলেছেন, এই সবগুলোর দ্বারা মূলত একই বিষয় উদ্দেশ্য, আর তা হলো আটচল্লিশ হাশেমী মাইল। আর এটি ভারী মালপত্র নিয়ে পথ চলা এবং সাধারণ পদযাত্রার গতিতে দুই মঞ্জিল (مرحلة) সমপরিমাণ
তাঁরা বলেন, তাঁর "ছেচল্লিশ" উক্তিটির ক্ষেত্রে (গণনার সুবিধার্থে) প্রথম ও শেষাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আরবদের একটি পরিচিত অভ্যাস
আর তাঁর "চল্লিশের অধিক" উক্তিটি দ্বারা আটচল্লিশই উদ্দেশ্য
এবং তাঁর "চল্লিশ" উক্তিটি দ্বারা চল্লিশ উমাইয়্যা মাইল উদ্দেশ্য, যা আটচল্লিশ হাশেমী মাইলের সমান
আর তাঁর "দুই দিন" উক্তিটি দ্বারা মধ্যবর্তী রাত ব্যতিরেকে বুঝিয়েছেন
আর তাঁর "দুই রাত" উক্তিটি দ্বারা মধ্যবর্তী দিন ব্যতিরেকে বুঝিয়েছেন
আর তাঁর "এক দিন ও এক রাত" উক্তিটি দ্বারা রাতের সাথে দিনকেও বুঝিয়েছেন
আর এর সবই হলো আটচল্লিশ হাশেমী মাইল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ
আমাদের আলেমগণ বলেছেন, কোনো অবাধ্য বা পাপী (عاص) ব্যক্তির জন্য সফরের আটটি ছাড় বা অবকাশের (رخص) কোনোটিই বৈধ নয়
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بِسَفَرِهِ حَتَّى يَتُوب الا التَّيَمُّم فَفِيهِ ثَلَاثَة اوجه
اصحها يلْزمه التَّيَمُّم وَيلْزمهُ الاعادة
وَالثَّانِي يجب التَّيَمُّم وَلَا اعادة
وَالثَّالِث يحرم التَّيَمُّم وَيجب الْقَضَاء وَيكون معاقبا على الْمعْصِيَة وعَلى تَفْوِيت الصَّلَاة بِغَيْر عذر
তার তওবা না করা পর্যন্ত তার সফরের ক্ষেত্রে—তবে তায়াম্মুমের মাসআলা ভিন্ন, এতে তিনটি অভিমত (أوجه) রয়েছে।
সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত হলো: তার ওপর তায়াম্মুম করা আবশ্যক এবং সালাত পুনরায় আদায় (إعادة) করাও আবশ্যক।
দ্বিতীয় অভিমত হলো: তায়াম্মুম করা আবশ্যক (يجب), তবে পুনরায় আদায়ের (إعادة) প্রয়োজন নেই।
তৃতীয়টি হলো: তায়াম্মুম করা হারাম (يحرم) এবং কাজা (القضاء) করা আবশ্যক (يجب); আর সে তার পাপাচারের জন্য এবং কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর ব্যতীত সালাত নষ্ট করার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হবে।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
قَالُوا وانما لَا يُبَاح لَهُ شَيْء مِنْهَا لانه مقصر وقادر على استباحتها كلهَا فِي الْحَال بِالتَّوْبَةِ
واما العَاصِي فِي سَفَره وَهُوَ الَّذِي يكون سَفَره مُبَاحا لكنه يرتكب فِي طَرِيقه مَعْصِيّة كشرب الْخمر وَغَيره فتباح لَهُ الرُّخص وَالله اعْلَم
তাঁরা বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তার জন্য এর কোনোটিই বৈধ (مباح) নয়; কারণ সে ত্রুটিকারী এবং সে তওবার (توبة) মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ এ সবগুলোকে নিজের জন্য বৈধ করে নিতে সক্ষম।
আর যে ব্যক্তি তার সফরে অবাধ্য (عاصي) - অর্থাৎ যার সফরটি বৈধ (مباح) কিন্তু সে পথিমধ্যে কোনো পাপাচার (معصية) যেমন মদ্যপান বা অন্য কিছুতে লিপ্ত হয় - তবে তার জন্য সহজতাসমূহ (رخص) বৈধ হবে। আর আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
مَسْأَلَة 9
اذا تعَارض اصل وَظَاهر اَوْ اصلان جرى فيهمَا غَالِبا قَولَانِ للشَّافِعِيّ رحمه الله اَوْ وَجْهَان للأصحاب كَثوب خمار وقصاب متدين بِالنَّجَاسَةِ وطين شَارِع وَلَا يتَحَقَّق نَجَاسَته والمقبرة شكّ فِي نبشها
وَادّعى القَاضِي حُسَيْن وَالْمُتوَلِّيّ
মাসআলা (مسألة) 9
যখন একটি মূলনীতি (أصل) ও একটি বাহ্যিক অবস্থা (ظاهر) অথবা দুটি মূলনীতি (أصلان) পরস্পর বিরোধী হয়, তখন সেগুলোতে সাধারণত ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে দুটি মত (قولان) অথবা তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকে দুটি অভিমত (وجهان) পাওয়া যায়। যেমন—মদ প্রস্তুতকারক এবং অপবিত্রতার (نجاسة) সংস্পর্শে থাকা কসাইয়ের কাপড়, রাস্তার কাদা যার অপবিত্রতা (نجاسة) নিশ্চিত নয় এবং এমন কবরস্থান যার মাটি খুঁড়ে ফেলার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আর কাজী হুসাইন ও আল-মুতাওয়াল্লি দাবি করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
والهروي اطراد الْقَوْلَيْنِ
وغلطوهم فِي ذَلِك
فقد يجْزم بِالظَّاهِرِ كمن اقام بَيِّنَة على غَيره بدين اَوْ اخبر ثِقَة بِنَجَاسَة مَاء اَوْ ثوب وَبَين السَّبَب كَمَسْأَلَة الظبية الَّتِي ذكرهَا الشَّافِعِي رحمه الله والاصحاب وَهِي لَو رأى حَيَوَانا ظَبْيَة اَوْ غَيرهَا بَال فِي مَاء كثير فَرَآهُ متغيرا وَاحْتمل ان يكون تغيره بالبول وبطول الْمكْث
قَالَ الشَّافِعِي والاصحاب يحكم بِنَجَاسَتِهِ لَان الظَّاهِر ان تغيره بالبول
فَهَذِهِ الْمسَائِل واشباهها يعْمل فِيهَا بِالظَّاهِرِ وَيتْرك الاصل بِلَا خلاف
وَقد يجْزم بالاصل كمن ظن طَهَارَة اَوْ حَدثا اَوْ انه صلى ثَلَاثًا اَوْ اربعا اَوْ طَلَاقا اَوْ عتقا وَنَحْوهَا فَإِنَّهُ يعْمل بالاصل وَلَا اعْتِبَار بِالظَّاهِرِ بِلَا خلاف
আর আল-হারাবী উভয় মতের অভিন্ন প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন।
এবং উলামাগণ তাঁদের এ বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করেছেন।
কখনো বাহ্যিক অবস্থার (ظاهر) ওপর ভিত্তি করে দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়; যেমন কেউ অন্যের বিরুদ্ধে ঋণের প্রমাণ (بينة) পেশ করলে, অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি পানি বা কাপড়ের অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ দিলে এবং তার কারণ ব্যাখ্যা করলে। যেমন হরিণীর মাসআলাটি, যা ইমাম শাফিঈ রহিমাহুল্লাহ ও তাঁর অনুসারীগণ উল্লেখ করেছেন। তা হলো: যদি কেউ কোনো প্রাণীকে—হরিণী বা অন্য কোনো পশুকে—প্রচুর পরিমাণ পানিতে প্রস্রাব করতে দেখে এবং পানিকে পরিবর্তিত হতে দেখে, আর এক্ষেত্রে পানি পরিবর্তনের কারণ প্রস্রাব হওয়া বা দীর্ঘ সময় জমে থাকা—উভয় সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে।
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন, পানিটি অপবিত্র হওয়ার ফায়সালা দেওয়া হবে, কারণ বাহ্যিক অবস্থা (ظاهر) অনুযায়ী এর পরিবর্তন প্রস্রাবের কারণেই হয়েছে।
এই মাসআলাগুলো এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই বাহ্যিক অবস্থার (ظاهر) ওপর আমল করা হয় এবং মূল অবস্থাকে (أصل) বর্জন করা হয়।
আবার কখনো মূল অবস্থার (أصل) ওপর ভিত্তি করে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; যেমন কারো পবিত্রতা বা অশুচিতা (حدث) অর্জনের বিষয়ে সংশয় হলে, কিংবা সে তিন না চার রাকাত সালাত আদায় করেছে সে বিষয়ে, অথবা তালাক বা দাসমুক্তির মতো বিষয়ে সংশয় হলে—এসব ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই মূল অবস্থার (أصل) ওপর আমল করা হয় এবং বাহ্যিক অবস্থার (ظاهر) কোনো বিবেচনা করা হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল উসুল ওয়াদ দাওয়াবিত
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَالصَّوَاب فِي الضَّابِط مَا قَالَه الْمُحَقِّقُونَ انه يرجح احدهما بمرجح جزم بِهِ والا فَفِيهِ الْقَوْلَانِ
والاصح من الْقَوْلَيْنِ فِي مُعظم الصُّور الاخذ بالاصل وَالله اعْلَم
تمّ الْكتاب بعون الْملك
আর নীতিমালার (الضابط) ক্ষেত্রে সঠিক (الصواب) মত হলো সেটিই যা গবেষকগণ (المحققون) বলেছেন যে, সুনিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে দুটির মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য (يرجح) দেওয়া হবে; অন্যথায় এ বিষয়ে দুটি মত (القولان) কার্যকর থাকবে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে উক্ত দুই মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) হলো মূল নীতি অনুসরণ করা (الأخذ بالأصل)। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মালিক আল্লাহর সাহায্যে কিতাবটি সমাপ্ত হলো।