(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
قواعد الفقه   (البركتي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: قواعد الفقه

المؤلف: محمد عميم الإحسان المجددي البركتي

الناشر: الصدف ببلشرز - كراتشي

الطبعة: الأولى، 1407 - 1986

عدد الصفحات: 583

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিকহের মূলনীতিসমূহ   (বারকাতি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


কিতাব: ফিকহের মূলনীতিসমূহ

লেখক: মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বারকাতি

প্রকাশক: আস-সাদাফ পাবলিশার্স - করাচি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭ - ১৯৮৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮৩

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم

‌‌الْأُصُول الَّتِي عَلَيْهَا مدَار كتب أَصْحَابنَا الْحَنَفِيَّة من جِهَة الإِمَام الْمُجْتَهد أبي الْحسن الْكَرْخِي (ح

 

1 - الأَصْل أَن مَا ثَبت بِالْيَقِينِ لَا يَزُول بِالشَّكِّ (1)

2 - الأَصْل أَن الظَّاهِر يدْفع الِاسْتِحْقَاق وَلَا يُوجب الِاسْتِحْقَاق (2)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

‌‌সেই মূলনীতিসমূহ যার ওপর আমাদের হানাফী মাযহাবের ফকীহগণের কিতাবসমূহ আবর্তিত, যা ইমাম মুজতাহিদ আবুল হাসান আল-কারখী (রহ.) থেকে বর্ণিত।

 

১ - মূলনীতি হলো: যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, তা সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না। (১)

২ - মূলনীতি হলো: বাহ্যিক অবস্থা প্রাপ্যতার দাবিকে প্রতিহত করে, কিন্তু প্রাপ্যতার অধিকার সাব্যস্ত করে না। (২)
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
3 - الأَصْل أَن من ساعده الظَّاهِر فَالْقَوْل قَوْله وَالْبَيِّنَة على من يَدعِي خلاف الظَّاهِر

4 - الأَصْل أَنه يعْتَبر فِي الدَّعَاوَى مَقْصُود الْخَصْمَيْنِ فِي الْمُنَازعَة دون الظَّاهِر

5 - الأَصْل أَن الظاهرين إِذا كَانَ أَحدهمَا أظهر من الآخر فَالْأَظْهر أولى بِفضل ظُهُور
৩ - মূলনীতি হলো, যার স্বপক্ষে বাহ্যিক অবস্থা বিদ্যমান থাকে, তার কথাই গ্রহণীয় হবে; আর যে ব্যক্তি বাহ্যিক অবস্থার পরিপন্থী দাবি করবে, প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব তারই।

৪ - মূলনীতি হলো, মামলা-মোকদ্দমায় বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের উদ্দেশ্যই ধর্তব্য হবে, কেবল বাহ্যিক দিক নয়।

৫ - মূলনীতি হলো, দুটি বাহ্যিক বিষয়ের মধ্যে যখন একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট হয়, তখন অধিকতর স্পষ্ট বিষয়টিই তার স্পষ্টতার আধিক্যের কারণে অগ্রাধিকারযোগ্য।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
7 - الأَصْل أَن للحالة من الدّلَالَة كَمَا للمقالة

8 - الأَصْل أَنه قد يثبت من جِهَة الْفِعْل مَا لَا يثبت من جِهَة القَوْل كَمَا فِي الصَّبِي

9 - الأَصْل أَن السُّؤَال وَالْخطاب يمْضِي على مَا عَم وَغلب لَا على مَا شَذَّ وندر

10 - الأَصْل أَن جَوَاب السُّؤَال يجْرِي على حِسَاب مَا تعارف كل قوم فِي مكانهم
7 - মূলনীতি এই যে, অবস্থার নির্দেশকতা ঠিক তেমনই, যেমনটি বাচনিক বক্তব্যের নির্দেশকতা।

8 - মূলনীতি এই যে, কর্মের মাধ্যমে এমন কিছু প্রমাণিত হতে পারে যা বক্তব্যের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না, যেমনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

9 - মূলনীতি এই যে, প্রশ্ন ও সম্বোধন সাধারণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা ঘটে তার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা বিরল ও ব্যতিক্রম তার ওপর নয়।

10 - মূলনীতি এই যে, প্রশ্নের উত্তর প্রতিটি জাতির নিজ নিজ স্থানের প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
11 - الأَصْل أَن الْمَرْء يُعَامل فِي حق نَفسه كَمَا أقربه وَلَا يصدق على إبِْطَال حق الْغَيْر وَلَا بإلزام الْغَيْر حَقًا

12 - الأَصْل أَن القَوْل قَول الْأمين مَعَ الْيَمين من غير بَيِّنَة

13 - الأَصْل أَن من الْتزم شَيْئا وَله شَرط لنفوذه فَإِن الَّذِي هُوَ شَرط لنفوذ الآخر يكون فِي الحكم سَابِقًا وَالثَّانِي لاحقا وَالسَّابِق يلْزم للصِّحَّة وَالْجَوَاز

14 - الأَصْل أَن الْمُتَعَاقدين إِذا صرحا بِجِهَة الصِّحَّة صَحَّ العقد وَإِذا صرحا بِجِهَة الْفساد وَإِذا أبهما صرف إِلَى الصِّحَّة
11 - মূলনীতি হলো, কোনো ব্যক্তি তার নিজের হকের ক্ষেত্রে যা স্বীকার করেছে সে অনুযায়ীই তার সাথে আচরণ করা হবে; তবে অন্যের হক বাতিল করার বিষয়ে কিংবা অন্যের ওপর কোনো হক (বাধ্যবাধকতা) আরোপ করার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

12 - মূলনীতি হলো, কোনো প্রমাণ ব্যতিরেকে শপথসহ আমানতদারের বক্তব্যই (প্রামাণ্য) বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে।

13 - মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি কোনো বিষয় পালনের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা কার্যকর হওয়ার জন্য কোনো শর্ত থাকে, তবে যা অন্যটি কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত, তা বিধানের দিক থেকে অগ্রবর্তী এবং দ্বিতীয়টি অনুবর্তী হিসেবে গণ্য হবে; আর শুদ্ধতা ও বৈধতার জন্য অগ্রবর্তী বিষয়টি অপরিহার্য।

14 - মূলনীতি হলো, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষ যদি চুক্তির শুদ্ধতার দিকটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, তবে চুক্তিটি শুদ্ধ হবে; আর যদি তারা ফাসাদ (অশুদ্ধতা)-এর দিকটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে (তবে তা অশুদ্ধ হবে); আর যদি বিষয়টি অস্পষ্ট থাকে, তবে তা শুদ্ধতার দিকেই পরিচালিত হবে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
15 - الأَصْل أَن يفرق بَين الْفساد إِذا دخل فِي أصل العقد وَبَينه إِذا دخل فِي علقَة من علائقه

16 - الأَصْل أَن الضمانات فِي الذِّمَّة لَا تجب إِلَّا بِأحد الْأَمريْنِ أما بِأخذ أَو بِشَرْط فَإِذا عدما لم تجب

17 - الأَصْل أَن الِاحْتِيَاط فِي حُقُوق الله تَعَالَى جَائِز وَفِي حُقُوق الْعباد لَا يجوز

18 - الأَصْل أَنه يفرق بَين الْعلم إِذا ثَبت ظَاهرا وَبَينه إِذا ثَبت يَقِينا
15 - মূলনীতি হলো, চুক্তির মূলে অসারতা (ফাসাদ) প্রবেশ করলে এবং চুক্তির কোনো অনুষঙ্গে তা প্রবেশ করলে—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করা হবে।

16 - মূলনীতি হলো, জিম্মাদারিতে দায়বদ্ধতা কেবল দুটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমেই অবধারিত হয়: হয় গ্রহণের মাধ্যমে অথবা শর্তের মাধ্যমে; যখন এই উভয়টি অনুপস্থিত থাকে, তখন তা অবধারিত হয় না।

17 - মূলনীতি হলো, মহান আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জায়েজ, কিন্তু বান্দার হকের ক্ষেত্রে তা জায়েজ নয়।

18 - মূলনীতি হলো, কোনো বিষয় যখন বাহ্যিকভাবে প্রমাণিত হয় এবং যখন তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করা হবে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
20 - الأَصْل أَنه قد يثبت الشَّيْء تبعا وَحكما وَإِن كَانَ قد يبطل قصدا

21 - الأَصْل أَن الْإِجَازَة اللاحقة كَالْوكَالَةِ السَّابِقَة

22 - الأَصْل أَن الْمَوْجُود فِي حَالَة التَّوَقُّف كالموجود فِي أَصله

23 - الأَصْل أَن الْإِجَازَة إِنَّمَا تعْمل فِي المتوقف لَا فِي الْجَائِز
২০ - মূলনীতি হলো, কোনো বিষয় আনুষঙ্গিক ও বিধানগতভাবে সাব্যস্ত হতে পারে, যদিও তা উদ্দেশ্যগতভাবে বাতিল হতে পারে।

২১ - মূলনীতি হলো, পরবর্তী অনুমোদন পূর্ববর্তী প্রতিনিধিত্বের ন্যায়।

২২ - মূলনীতি হলো, স্থগিত অবস্থায় বিদ্যমান বিষয় তার মূল অবস্থায় বিদ্যমান বিষয়ের ন্যায়।

২৩ - মূলনীতি হলো, অনুমোদন কেবল স্থগিত বিষয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
24 - الأَصْل أَن الْإِجَازَة تصح ثمَّ تستند إِلَى وَقت العقد

25 - الأَصْل أَن الْإِجَازَة فِي الْقَائِم دون الْهَالِك

26 - الأَصْل أَن كل عقد لَهُ مجيز حَال وُقُوعه توقف للإجازة وَإِلَّا لَا

27 - الأَصْل أَن تَعْلِيق الْأَمْلَاك بالأخطار بَاطِل وَتَعْلِيق زَوَالهَا بالأخطار جَائِز

28 - الأَصْل أَن الشَّيْء يعْتَبر مَا لم يعد على مَوْضُوعه بِالنَّقْضِ والإبطال
24 - মূলনীতি হলো এই যে, অনুমোদন বৈধ হয় এবং অতঃপর তা চুক্তির সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।

25 - মূলনীতি হলো এই যে, অনুমোদন কেবল বিদ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বিলুপ্ত বস্তুর ক্ষেত্রে নয়।

26 - মূলনীতি হলো এই যে, প্রতিটি চুক্তি যার সংঘটনকালে অনুমোদন দেওয়ার মতো কেউ থাকে, তা অনুমোদনের অপেক্ষায় স্থগিত থাকে; অন্যথায় নয়।

27 - মূলনীতি হলো এই যে, মালিকানা লাভকে কোনো অনিশ্চিত বিষয়ের ওপর ঝুলিয়ে রাখা বাতিল এবং মালিকানা বিলুপ্তি কোনো অনিশ্চিত বিষয়ের ওপর ঝুলিয়ে রাখা জায়েজ।

28 - মূলনীতি হলো এই যে, কোনো বিষয়কে ততক্ষণ পর্যন্ত ধর্তব্য গণ্য করা হয় যতক্ষণ না তা স্বীয় মূল বিষয়বস্তুকে বাতিল বা খণ্ডন করার পর্যায়ে উপনীত হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
29 - الأَصْل أَن كل آيَة تخَالف قَول أَصْحَابنَا فَإِنَّهَا تحمل على النّسخ أَو على التَّرْجِيح وَالْأولَى أَن تحمل على التَّأْوِيل من جِهَة التَّوْفِيق

30 - الأَصْل أَن كل خبر يَجِيء بِخِلَاف قَول أَصْحَابنَا فَإِنَّهُ يحمل
২৯ - মূলনীতি হলো, প্রতিটি আয়াত যা আমাদের ইমামগণের মতের পরিপন্থী হয়, তা রহিতকরণ অথবা প্রাধান্য প্রদানের ওপর প্রয়োগ করা হবে; তবে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সেটিকে ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ করাই অধিকতর উত্তম।

৩০ - মূলনীতি হলো, প্রতিটি বর্ণনা (হাদিস) যা আমাদের ইমামগণের মতের বিপরীতে আসে, তাকে গণ্য করা হবে
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
على النّسخ أَو على أَنه معَارض بِمثلِهِ ثمَّ صَار إِلَى دَلِيل آخر أَو تَرْجِيح فِيهِ بِمَا يحْتَج بِهِ أَصْحَابنَا من وُجُوه التَّرْجِيح أَو يحمل على التَّوْفِيق وَإِنَّمَا يفعل ذَلِك على حِسَاب قيام الدَّلِيل فَإِن قَامَت دلَالَة النّسخ يحمل عَلَيْهِ وَإِن قَامَت الدّلَالَة على غَيره صرنا إِلَيْهِ
রহিতকরণের ওপর ভিত্তি করে অথবা সমপর্যায়ের কোনো দলিলের মাধ্যমে এটি বিরোধপূর্ণ হওয়ার কারণে, যা পরে অন্য কোনো দলিলের দিকে ধাবিত হয়েছে; অথবা আমাদের ফকিহগণ অগ্রাধিকার প্রদানের যে সকল পদ্ধতির মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, সেগুলোর মাধ্যমে এতে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে; অথবা একে সমন্বয় সাধনের ওপর প্রয়োগ করা হবে। আর এটি কেবল দলিল বিদ্যমান থাকার ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। সুতরাং যদি রহিতকরণের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা সেটির ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর যদি অন্য কোনো বিষয়ের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আমরা সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করব।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২০)
31 - الأَصْل أَن الحَدِيث إِذا ورد عَن الصَّحَابِيّ مُخَالفا لقَوْل أَصْحَابنَا فَإِن كَانَ لَا يَصح كفينا مؤونة جَوَابه وَإِن كَانَ صَحِيحا فِي مورده فقد سبق ذكر أقسامه إِلَّا أَن أحسن الْوُجُوه وأبعدها عَن الشّبَه أَنه إِذا ورد حَدِيث الصَّحَابِيّ فِي غير مَوضِع الْإِجْمَاع أَن يحمل على التَّأْوِيل أَو الْمُعَارضَة بَينه وَبَين صَحَابِيّ مثله

32 - الأَصْل أَنه إِذا مضى بِالِاجْتِهَادِ لَا يفْسخ بِاجْتِهَاد مثله وَيفْسخ بِالنَّصِّ

33 - الأَصْل أَن النَّص يحْتَاج إِلَى التَّعْلِيل بِحكم غَيره لَا بِحكم نَفسه
31 - মূলনীতি হলো, যদি কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীস আমাদের সাথীদের (ইমামদের) মতের পরিপন্থী হয়, তবে সেটি যদি সহীহ না হয়, তবে আমাদের জন্য তার উত্তর প্রদানের প্রয়োজন নেই। আর যদি তা নিজ ক্ষেত্রে সহীহ হয়, তবে ইতিপূর্বে এর প্রকারভেদসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সর্বোত্তম ও সংশয় থেকে দূরবর্তী পন্থা হলো এই যে, যখন সাহাবীর হাদীস ইজমার বহির্ভূত কোনো বিষয়ে বর্ণিত হয়, তখন তাকে তাবিল (ব্যাখ্যা) করা হবে অথবা তার সমপর্যায়ের অন্য কোনো সাহাবীর বর্ণনার সাথে বৈপরীত্যের ওপর ধরা হবে।

32 - মূলনীতি হলো, যখন কোনো কাজ ইজতিহাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন তা অনুরূপ অন্য কোনো ইজতিহাদের মাধ্যমে বাতিল হয় না, তবে নস (স্পষ্ট দলিল) দ্বারা তা বাতিল হয়।

33 - মূলনীতি হলো, নস (দলীল) অন্য কোনো বিষয়ের হুকুমের জন্য কারণ দর্শানোর (তা'লীল) মুখাপেক্ষী হয়, তার নিজস্ব হুকুমের ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২১)
34 - الأَصْل أَنه يفرق بَين عِلّة الحكم وحكمته فَإِن علته مُوجبَة وحكمته غير مُوجبَة

35 - الأَصْل أَن السَّائِل إِذا سَأَلَ سؤالا يَنْبَغِي للمسؤول أَن لَا يُجيب على الْإِطْلَاق والإرسال لَكِن ينظر فِيهِ ويتفكر أَنه يَنْقَسِم إِلَى قسم وَاحِد أَو إِلَى قسمَيْنِ أَو أَقسَام ثمَّ يُقَابل فِي كل قسم حرفا فحرفا ثمَّ يعدل جَوَابه على مَا يخرج إِلَيْهِ السُّؤَال وَهَذَا الأَصْل تكْثر منفعَته لِأَنَّهُ إِذا أطلق الْكَلَام فَرُبمَا كَانَ سريع الانتقاض لِأَن اللَّفْظ قَلما يجْرِي على عُمُومه

36 - إِن الْحَادِثَة إِذا وَقعت وَلم يجد المؤول فِيهَا جَوَابا ونظيرا فِي كتب أَصْحَابنَا فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لَهُ أَن يستنبط جوابها من غَيرهَا إِمَّا من
৩৪ - মূলনীতি হলো যে, বিধানের কার্যকারণ (ইল্লত) এবং এর প্রজ্ঞার (হিকমত) মধ্যে পার্থক্য করা হবে; কেননা বিধানের কার্যকারণটি বিধানকে অবধারিত করে, আর এর প্রজ্ঞা বিধানকে অবধারিত করে না।

৩৫ - মূলনীতি হলো যে, কোনো প্রশ্নকারী যখন কোনো প্রশ্ন করেন, তখন উত্তরদাতার জন্য উচিত নয় ঢালাওভাবে ও নিঃশর্তভাবে উত্তর প্রদান করা; বরং তাতে দৃষ্টি দেওয়া এবং চিন্তা করা উচিত যে এটি কি একটি ভাগে বিভক্ত, নাকি দুই ভাগে বা ততোধিক ভাগে। অতঃপর প্রতিটি ভাগের শব্দে শব্দে মোকাবিলা করা এবং প্রশ্নের গতিপথ অনুযায়ী উত্তরকে সুবিন্যস্ত করা। এই মূলনীতিটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ; কারণ কথাকে ঢালাওভাবে ব্যক্ত করলে তা দ্রুত খণ্ডনযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কেননা শব্দ খুব কমই সর্বদা তার সামগ্রিক ব্যাপকতায় বজায় থাকে।

৩৬ - নিশ্চয়ই যখন কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে এবং ব্যাখ্যাকার আমাদের ইমামগণের কিতাবসমূহে তার কোনো উত্তর বা সদৃশ কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে না পান, তখন তার জন্য উচিত হলো অন্য কোনো উৎস থেকে তার উত্তর উদ্ভাবন করা; হয়...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الْكتاب أَو من السّنة أَو غير ذَلِك مِمَّا هُوَ الْأَقْوَى فالأقوى فَإِنَّهُ لَا يعد وَحكم هَذِه الْأُصُول

37 - الأَصْل أَن اللَّفْظ إِذا تعدى مَعْنيين أَحدهمَا أجلى من الآخر وَالْآخر أخْفى فَإِن الأجلي أملك من الأخفى

38 - الأَصْل أَنه يجوز أَن يكون أول الْآيَة على الْعُمُوم وَآخِرهَا على الْخُصُوص كَعَكْسِهِ

39 - الأَصْل أَن التوفيقين إِذا تلاقيا وتعارضا وَفِي أَحدهمَا ترك اللَّفْظَيْنِ على الْحَقِيقَة فَهُوَ أولى
কিতাবুল্লাহ অথবা সুন্নাহ অথবা যা কিছু ক্রমানুসারে অধিক শক্তিশালী—তা গণনাযোগ্য নয়। আর এই মূলনীতিসমূহের বিধান হলো—

৩৭ - মূলনীতি এই যে, শব্দ যখন এমন দুটি অর্থের মাঝে আবর্তিত হয় যার একটি অপরটির তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট এবং অন্যটি অধিকতর অস্পষ্ট, তখন অধিকতর স্পষ্ট অর্থটিই অস্পষ্ট অর্থের বিপরীতে প্রাবল্য লাভ করে।

৩৮ - মূলনীতি হলো, কোনো আয়াতের প্রথমাংশ ব্যাপক (আম) এবং শেষাংশ বিশেষ (খাস) হওয়া বৈধ, যেমনটি এর বিপরীত হওয়াও সম্ভব।

৩৯ - মূলনীতি এই যে, যখন দুটি সমন্বয়ধর্মী সমাধান পরস্পরের সম্মুখীন ও সাংঘর্ষিক হয় এবং তাদের একটির মাধ্যমে শব্দদ্বয়কে তাদের প্রকৃত (হাকিকি) অর্থে বহাল রাখা সম্ভব হয়, তবে সেটিই অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
40 - الأَصْل أَن الْبَيَان يعْتَبر بِالِابْتِدَاءِ إِن صَحَّ الِابْتِدَاء وَإِلَّا فَلَا قَوَاعِد الْفِقْه الْمُفْتِي مُحَمَّد عميم الْإِحْسَان المجددي البركتي الرسَالَة الثَّانِيَة أصُول الْمسَائِل الخلافية
৪০ - মূলনীতি হলো: বর্ণনা সূচনার ভিত্তিতেই ধর্তব্য হবে যদি সূচনাটি সঠিক হয়; অন্যথায় নয়। কাওয়ায়েদুল ফিকহ, মুফতি মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বারকাতী, দ্বিতীয় রিসালাহ: মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহের মূলনীতি।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌أصُول الْمسَائِل الخلافية

 

الَّتِي فصلها الإِمَام الْأَجَل أَبُو زيد عبيد الله بن عمر ابْن عِيسَى الدبوسي فِي كِتَابه تأسيس النّظر وَقسمهَا على ثَمَانِيَة أَقسَام

الْقسم الأول مَا فِيهِ خلاف بَين أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى وَبَين صَاحِبيهِ رَحِمهم الله تَعَالَى

1 - الأَصْل عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى أَن مَا غير الْفَرْض فِي أَوله غَيره فِي آخِره وَعِنْدَهُمَا لَيْسَ كَذَلِك

2 - الأَصْل أَن الْمحرم إِذا أخر النّسك عَن الْوَقْت أَو قدمه لزمَه الدَّم عِنْده لَا عِنْدهمَا

3 - الأَصْل أَن الشَّيْء إِذا غلب عَلَيْهِ وجوده يَجْعَل كالموجود حَقِيقَة وَإِن لم يُوجد وَعِنْدَهُمَا لَا حَتَّى يُوجد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ইখতিলাফি মাসয়ালাসমূহের মূলনীতি

 

যা মহান ইমাম আবু যায়েদ উবাইদুল্লাহ বিন উমর ইবনে ঈসা আদ-দাব্বুসী তাঁর 'তাসিসুন নাযার' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং একে আটটি ভাগে বিভক্ত করেছেন।

প্রথম পরিচ্ছেদ: যে সকল মাসয়ালায় ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং তাঁর দুই ছাত্রের (রহ.) মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে

১ - ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নিকট মূলনীতি হলো, যা নামাজের শুরুতে ফরজকে পরিবর্তন করে দেয়, তা নামাজের শেষেও তা পরিবর্তন করবে; কিন্তু তাঁদের (সাহেবাইন) নিকট বিষয়টি এমন নয়।

২ - মূলনীতি হলো, মুহরিম ব্যক্তি যখন কোনো ইবাদত (মানাসিক) নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পালন করে, তখন তাঁর মতে তার ওপর দম (কুরবানি) ওয়াজিব হয়, কিন্তু তাঁদের মতে নয়।

৩ - মূলনীতি হলো, কোনো জিনিসের অস্তিত্ব যখন প্রবল হয়, তখন তা বাস্তবে পাওয়া না গেলেও বিদ্যমান বলে গণ্য হয়; কিন্তু তাঁদের নিকট তা বাস্তবে পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান হিসেবে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - الأَصْل أَنه مَتى عرف ثُبُوت الشَّيْء من طَرِيق الْإِحَاطَة والتيقن فَهُوَ على ذَلِك مَا لم يتَيَقَّن بِخِلَافِهِ خلافًا لَهما

5 - الأَصْل أَن مَا يتَنَاوَلهُ اللَّفْظ من طَرِيق الْعُمُوم لَيْسَ كَمَا يتَنَاوَلهُ اللَّفْظ من طَرِيق النَّص وَالْخُصُوص

6 - الأَصْل عِنْد أبي حنيفَة أَن العقد إِذا دخله فَسَاد قوي مجمع عَلَيْهِ أوجب فَسَاده وشاع فِي الْكل وَلَيْسَ كَذَلِك عِنْدهمَا

7 - الأَصْل أَن من جمع كَلَامه بَين مَا يتَعَلَّق بِهِ الحكم وَمَا لَا يتَعَلَّق بِهِ الحكم فَلَا عِبْرَة لما لَا يتَعَلَّق بِهِ الحكم وَالْعبْرَة لما يتَعَلَّق بِهِ الحكم وَالْحكم يتَعَلَّق بِهِ فَكَأَنَّهُ لم يذكر سوى الْمُتَعَلّق بِهِ الحكم خلافًا لَهما

8 - الأَصْل عِنْده أَن مَا يَعْتَقِدهُ أهل الذِّمَّة ويدينونه يتركون عَلَيْهِ وَعِنْدَهُمَا لَا يتركون
৪ - মূলনীতি হলো, যখন কোনো বিষয়ের সাব্যস্ত হওয়া বা বিদ্যমানতা পূর্ণ জ্ঞান ও নিশ্চিত উপায়ে প্রমাণিত হয়, তখন তা সে অবস্থাতেই বহাল থাকবে যতক্ষণ না তার বিপরীতে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়; এটি তাদের দুজনের (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ) মতের পরিপন্থী।

৫ - মূলনীতি হলো, ব্যাপকতা বা সাধারণত্বের (উমুম) মাধ্যমে কোনো শব্দ যা অন্তর্ভুক্ত করে, তা সেই বিষয়ের মতো নয় যা সুস্পষ্ট বর্ণনা (নস) এবং বিশেষত্বের (খুসুস) মাধ্যমে শব্দ অন্তর্ভুক্ত করে।

৬ - ইমাম আবু হানিফার নিকট মূলনীতি হলো, কোনো চুক্তির মধ্যে যদি এমন কোনো শক্তিশালী ও সর্বসম্মত ত্রুটি (ফাসাদ) প্রবেশ করে যা বিষয়টিকে নষ্ট করে দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ চুক্তিটিকে ফাসিদ করে দেয় এবং তা সমগ্র চুক্তিতেই ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু তাদের দুজনের নিকট বিষয়টি তেমন নয়।

৭ - মূলনীতি হলো, কেউ যদি তার বক্তব্যে এমন বিষয়ের সমাবেশ ঘটায় যার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট এবং যার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট নয়, তবে যার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট নয় তার কোনো ধর্তব্য নেই। কেবল বিধান-সংশ্লিষ্ট বিষয়েরই ধর্তব্য হবে এবং বিধান কেবল তার সাথেই যুক্ত হবে; বিষয়টি এমন যেন তিনি বিধান-সংশ্লিষ্ট অংশ ব্যতীত আর কিছুই উল্লেখ করেননি; এটি তাদের দুজনের মতের পরিপন্থী।

৮ - ইমাম আবু হানিফার নিকট মূলনীতি হলো, জিম্মিরা যে আকিদা পোষণ করে এবং যে ধর্ম পালন করে, তাদের সেই অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়া হবে; কিন্তু তাদের দুজনের মতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
9 - الأَصْل أَن من أخبر بِخَبَر ولصدق خَبره عَلامَة لَا يقبل قَوْله إِلَّا بِبَيَان تِلْكَ الْعَلامَة خلافًا لَهما

10 - الأَصْل أَن سَبَب الْإِتْلَاف مَتى سبق ملك الْمَالِك فَإِنَّهُ لَا يُوجب الضَّمَان على الْمُتْلف لمن حدث الْملك لَهُ وَعِنْدَهُمَا يُوجب

11 - الأَصْل أَن الْأذن الْمُطلق إِذا تعرى عَن التُّهْمَة والخيانة لَا يخْتَص بِالْعرْفِ

12 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف وَمُحَمّد رحمهمَا الله تَعَالَى أَن مَا حصل مَفْعُولا بِإِذن الشَّرْع كَانَ كَأَنَّهُ حصل بِإِذن من لَهُ الْولَايَة من بني آدم وَعند أبي حنيفَة يدرج فِيهَا بِشَرْط السَّلامَة

13 - الأَصْل عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله أَنه إِذا صحت التَّسْمِيَة لَا يعْتَبر مُقْتَضى التَّسْمِيَة وَإِذا لم تصح يعْتَبر الْمُقْتَضى
৯ - মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি কোনো সংবাদ প্রদান করে এবং তার সংবাদের সত্যতার কোনো নিদর্শন থাকে, তবে সেই নিদর্শন বর্ণনা করা ব্যতীত তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে না; এটি তাঁদের (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) মতের পরিপন্থী।

১০ - মূলনীতি হলো, যখন বিনষ্টকরণের কারণটি মালিকের মালিকানা লাভের পূর্বেই ঘটে থাকে, তবে যার মালিকানা পরবর্তীতে অর্জিত হয়েছে তার অনুকূলে বিনষ্টকারীর ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয় না; তবে তাঁদের (সাহিবাইন) নিকট তা আবশ্যক হয়।

১১ - মূলনীতি হলো, সাধারণ অনুমতি যখন সন্দেহ ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা কেবল প্রচলিত প্রথার (উরফ) ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না।

১২ - ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-এর নিকট মূলনীতি হলো, শরিয়তের অনুমতিক্রমে যা সম্পাদিত হয়, তা যেন মানুষের পক্ষ থেকে কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির অনুমতিক্রমেই সম্পাদিত হলো; আর ইমাম আবু হানিফার নিকট এটি নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার শর্তে এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৩ - ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট মূলনীতি হলো, যখন নামকরণ (নির্দিষ্টকরণ) শুদ্ধ হয়, তখন সেই নামকরণের আবশ্যিক চাহিদাকে (অর্থাৎ প্রকৃত মূল্য বা মাহরে মিসিলকে) বিবেচনা করা হয় না; আর যখন নামকরণ শুদ্ধ হয় না, তখন সেই আবশ্যিক চাহিদাকেই বিবেচনা করা হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
14 - الأَصْل عِنْده رَحمَه الله تَعَالَى أَنه يعْتَبر التُّهْمَة فِي الْأَحْكَام فَكل من فعل فعلا وتمكنت التُّهْمَة فِي فعله حكم بِفساد فعله

15 - الأَصْل أَن ملك الْمُرْتَد يَزُول بِنَفس الرِّدَّة زوالا مَوْقُوفا وَعِنْدَهُمَا لَا يَزُول مَا لم يقْض القَاضِي بلحوقه بدار الْحَرْب

16 - الأَصْل أَن حُقُوق الْأَشْيَاء مُعْتَبرَة بأصولها عِنْدهمَا وَقد اعتبرها أَبُو حنيفَة رح مُلْحقَة بهَا

17 - الأَصْل أَن أم الْوَلَد لَيست بِمَال وَلَا قيمَة لَهَا عِنْده خلافًا لَهما

18 - الأَصْل أَن كل مَمْلُوك أغل غلَّة أَو وهب لَهُ هبة فالغلة وَالْهِبَة
১৪ - তাঁর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নিকট মূলনীতি হলো, তিনি আইনি বিধানাবলির ক্ষেত্রে 'তোহমত' বা সন্দেহের বিষয়টিকে বিবেচনা করেন। সুতরাং, যে ব্যক্তিই কোনো কাজ করল এবং তার সে কাজে সন্দেহের অবকাশ তৈরি হলো, তবে তার সেই কাজটি ত্রুটিপূর্ণ বা ফাসাদ বলে গণ্য হবে।

১৫ - মূলনীতি হলো, মুরতাদের মালিকানা ধর্মত্যাগের কারণেই স্থগিতভাবে (মাওকুফ) বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু তাঁদের (সাহেবাইন) মতে, যতক্ষণ না বিচারক তার দারুল হারবে (শত্রু ভূখণ্ড) চলে যাওয়ার ফয়সালা প্রদান করেন, ততক্ষণ মালিকানা বিলুপ্ত হবে না।

১৬ - মূলনীতি হলো, তাঁদের (সাহেবাইন) মতে বস্তুর আনুষঙ্গিক অধিকারসমূহ তার মূলের নিরিখে বিবেচিত হয়; আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সেগুলোকে মূলের সাথে সংযুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

১৭ - মূলনীতি হলো, উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) কোনো সম্পদ নয় এবং তাঁর নিকট এর কোনো আর্থিক মূল্য নেই, যা তাঁদের (সাহেবাইন) মতের পরিপন্থী।

১৮ - মূলনীতি হলো, কোনো মালিকানাধীন দাস যদি কোনো মুনাফা অর্জন করে অথবা তাকে কোনো উপহার প্রদান করা হয়, তবে সেই মুনাফা ও উপহার...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
للْمولى تمّ الْملك أَو انْتقصَ سَوَاء كَانَ فِي ضَمَان الْمَالِك أَو فِي غير ضَمَان الْمَالِك فالغلة لَهُ تمّ الْملك أَو انْتقصَ فَإِن كَانَ فِي ضَمَان غَيره فَملك الْغلَّة مَوْقُوف حَتَّى يظْهر هَل يتم الْملك أم لَا

19 - الأَصْل عِنْد أبي حنيفَة رح أَن كل من لَا يقدر بِنَفسِهِ فَوسعَ غَيره لَا يكون وسعا لَهُ وَعِنْدَهُمَا يكون وسعا لَهُ

20 - الأَصْل أَن الْحُقُوق إِذا تعلّقت بِالذِّمةِ وَجب استيفاؤها من الْعين فَإِذا ازدحمت فِي الْعين وضاعت عَن ايفائها قسمت الْعين على طَرِيق الْعَوْل وَإِذا كَانَت الْحُقُوق مُتَعَلقَة بِعَينهَا قسم بَينهم على طَرِيق الْمُنَازعَة عِنْد أبي حنيفَة وَعِنْدَهُمَا كل عين تضايقت عَن الْحُقُوق نظر فِيهَا فَمَا كَانَ مِنْهَا لَو انْفَرد صَاحبه لَا يسْتَحق الْعين كلهَا فَإِن الْعين تقسم على طَرِيق الْمُنَازعَة وَمَا كَانَ مِنْهَا لَو انْفَرد صَاحبه اسْتحق الْكل وَإِنَّمَا ينقصهُ انضمام غَيره إِلَيْهِ فَإِنَّهُ يقسم على طَرِيق الْعَوْل
মালিকের জন্য (মালিকানা) পূর্ণ হোক বা অসম্পূর্ণ থাকুক, তা মালিকের জিম্মায় থাকুক বা মালিকের জিম্মার বাইরে থাকুক, তার লভ্যাংশ বা উৎপন্ন বস্তু তারই হবে, মালিকানা পূর্ণ হোক বা অসম্পূর্ণ। কিন্তু যদি তা অন্যের জিম্মায় থাকে, তবে লভ্যাংশের মালিকানা স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে মালিকানা পূর্ণ হবে কি না।

১৯ - ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর নিকট মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি নিজে সক্ষম নয়, অন্যের সামর্থ্য তার জন্য সামর্থ্য বলে গণ্য হবে না। আর সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ)-এর মতে, তা তার জন্য সামর্থ্য বলে গণ্য হবে।

২০ - মূলনীতি হলো, যখন অধিকার বা পাওনাগুলো জিম্মায় (দায়বদ্ধতায়) সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তা নির্দিষ্ট বস্তু থেকে আদায় করা আবশ্যক হয়। সুতরাং যখন নির্দিষ্ট বস্তুর ওপর পাওনার ভিড় হয় এবং তা সকলের পাওনা পরিশোধে অপর্যাপ্ত হয়, তখন ঐ বস্তু 'আউল' (অনুপাত ভিত্তিক বণ্টন) পদ্ধতিতে ভাগ করা হবে। আর যখন অধিকারগুলো সরাসরি ঐ নির্দিষ্ট বস্তুর সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে, তখন ইমাম আবু হানিফার নিকট তা পাওনাদারদের মধ্যে 'মুনায়াত' (বিবাদ নিরসন) পদ্ধতিতে বণ্টন করা হবে। সাহেবাইনের মতে, প্রতিটি নির্দিষ্ট বস্তু যা অধিকার আদায়ে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে লক্ষ্য করা হবে—যদি বিষয়টি এমন হয় যে দাবিদার একা হলে পুরো বস্তুর হকদার হতো না, তবে তা 'মুনায়াত' পদ্ধতিতে বণ্টন করা হবে। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যে দাবিদার একা হলে পুরোটির হকদার হতো এবং কেবল অন্যের অন্তর্ভুক্তির কারণে তার অংশ কমছে, তবে তা 'আউল' পদ্ধতিতে বণ্টন করা হবে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
21 - الأَصْل عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى أَن الْإِنْسَان يجوز أَن لَا يملك الشَّيْء بِنَفسِهِ قصدا ويملكه بتفويضه إِلَى غَيره وَيجوز أَن لَا يملك قصدا ويملكه حكما

22 - الأَصْل أَن نفي مُوجب العقد لَا يجوز وَنفي مُوجب الشَّرْط يجوز وَعِنْدَهُمَا نفي مُوجب العقد جَائِز

‌‌الْقسم الثَّانِي مَا فِيهِ خلاف بَين الشَّيْخَيْنِ أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَبَين مُحَمَّد رَحِمهم الله تَعَالَى

 

23 - الأَصْل عِنْد الشَّيْخَيْنِ أَن فَسَاد أَفعَال الصَّلَاة لَا يُوجب فَسَاد حُرْمَة الصَّلَاة خلافًا لمُحَمد رَحمَه الله تَعَالَى
২১ - ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর নিকট মূলনীতি হলো, মানুষের জন্য এটি সম্ভব যে সে কোনো বস্তুর মালিক সরাসরি নিজে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হবে না, বরং তা অন্যের নিকট অর্পণ করার মাধ্যমে মালিকানা লাভ করবে। আবার এটিও সম্ভব যে সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মালিক হবে না, তবে আইনি হুকুমে (হুকমান) মালিক হবে।

২২ - মূলনীতি হলো, চুক্তির অপরিহার্য ফলাফল (মুজাব) অস্বীকার করা জায়েজ নয়, তবে শর্তের অপরিহার্য ফলাফল অস্বীকার করা জায়েজ। আর তাঁদের (সাহিবাইন) মতে, চুক্তির অপরিহার্য ফলাফল অস্বীকার করা জায়েজ।

‌‌দ্বিতীয় বিভাগ: যাতে শায়খাইন (আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ) এবং ইমাম মুহাম্মাদ (রাহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা)-এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

 

২৩ - শায়খাইনের নিকট মূলনীতি হলো, নামাজের কার্যাবলীর ত্রুটি (ফাসাদ) নামাজের হুরমত (তাহরীমা) নষ্ট হওয়াকে অপরিহার্য করে না; যা ইমাম মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
24 - الأَصْل عِنْد الشَّيْخَيْنِ أَن كل عقد امْتنع عَن الْفَسْخ بِالْإِقَامَةِ فَلَا تحالف وَلَا ترَاد إِلَّا إِذا اخْتلفَا فِي الْبَدَل كَالْعِتْقِ وَقَالَ مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى فِيهِ تحالف وتراد

25 - الأَصْل عِنْد الشَّيْخَيْنِ رحمهمَا الله أَن كل إِخْبَار لَا يلْزم القَاضِي الْقَضَاء بِغَيْر مخبره وَلَا يتَوَصَّل إِلَى الْقَضَاء إِلَّا بِهِ فالعدالة من شَرطه وَلَيْسَ الْعدَد من شَرطه كأخبار الْآحَاد فِي الْأَحْكَام فَإِن القَاضِي إِذا قضى بهَا على رجل بِعَيْنِه فِي حَادِثَة بِعَينهَا كَانَ قَضَاءَهُ عَلَيْهِ بِبَيِّنَة أَو بِإِقْرَار أَو بنكول وَلم يكن قَضَاءَهُ عَلَيْهِ بذلك الْخَبَر وَأَن كَانَ لَا يتَوَصَّل إِلَى الْقَضَاء بِتِلْكَ الْحجَّة إِلَّا بِهَذَا الْخَبَر وَعِنْده الْعدَد من شَرطه

26 - الأَصْل عِنْد الشَّيْخَيْنِ أَن كل عصير استخرج بِالْمَاءِ فطبخ أدنى طبخه فالقليل مِنْهُ غير الْمُسكر حَلَال كالدبس والرب وَعند مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى لَا
24 - দুই শায়খের নিকট মূলনীতি হলো, যে সকল চুক্তি ইকালার (চুক্তি বাতিলের) মাধ্যমে বাতিলযোগ্য নয়, তাতে তাহালুফ (উভয় পক্ষের শপথ) এবং তারাদ (বিনিময় ফেরত) নেই; তবে যদি তারা বিনিময়ের ব্যাপারে মতভেদ করে, যেমন দাসমুক্তি (ইত্ক)। ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) এক্ষেত্রে তাহালুফ ও তারাদ সাব্যস্ত করেছেন।

25 - দুই শায়খের (রহিমাহুমাল্লাহ) নিকট মূলনীতি হলো, এমন প্রত্যেক সংবাদ যার সংবাদদাতার তথ্য ব্যতীত বিচারকের জন্য ফয়সালা করা আবশ্যক হয় না এবং যা ছাড়া ফয়সালায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাতে সততা (আদালাত) শর্ত, তবে সংখ্যা (একাধিক ব্যক্তি হওয়া) শর্ত নয়; যেমন শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে খবর-এ ওয়াহিদ। কেননা বিচারক যখন এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফয়সালা করেন, তখন তার সেই ফয়সালা সাক্ষ্য, স্বীকৃতি অথবা শপথ প্রত্যাখ্যানের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে; নিছক সেই সংবাদের ভিত্তিতে তার ফয়সালা হয় না, যদিও সেই দলিলের মাধ্যমে ফয়সালায় পৌঁছানো এই সংবাদ ব্যতীত সম্ভব ছিল না। আর ইমাম মুহাম্মদের নিকট এতে সংখ্যাও শর্ত।

26 - দুই শায়খের নিকট মূলনীতি হলো, পানির সাহায্যে নিষ্কাশিত প্রতিটি রস যদি সামান্য জ্বাল দেওয়া হয়, তবে তার এমন স্বল্প পরিমাণ যা নেশা উদ্রেক করে না তা হালাল; যেমন খেজুরের গুড় (ডিবস) ও ফলের ঘন রস (রুব্ব)। ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর নিকট তা হালাল নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الْقسم الثَّالِث مَا فِيهِ خلاف بَين الطَّرفَيْنِ أبي حنيفَة وَمُحَمّد وَبَين أبي يُوسُف رَحِمهم الله تَعَالَى

 

27 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَنه إِذا لم يَصح الشَّيْء لم يَصح مَا فِي ضمنه وَعند أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله تَعَالَى يجوز أَن يثبت مَا فِي ضمنه وَإِن لم يَصح

28 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَن الْيَمين تَنْعَقِد وَإِن كَانَ الْمَعْقُود عَلَيْهِ فائتا وَعِنْدَهُمَا رحمهمَا الله تَعَالَى لَا تَنْعَقِد إِلَّا على مَعْقُود عَلَيْهِ فَإِذا لم تَنْعَقِد فَلَا كَفَّارَة فِيهَا عِنْدهمَا رحمهمَا الله تَعَالَى

29 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَن الشُّرُوط الْمُتَعَلّقَة بِالْعقدِ بعد العقد كالموجود لَدَى العقد وَعِنْدَهُمَا رحمهمَا الله تَعَالَى لَا يَجْعَل كالموجود
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (এক পক্ষ) এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ

 

২৭ - ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মূলনীতি হলো, যখন কোনো বিষয় সহিহ বা শুদ্ধ হয় না, তখন তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোও সহিহ হয় না। আর ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর নিকট মূল বিষয়টি সহিহ না হলেও তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব।

২৮ - ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মূলনীতি হলো, শপথের বিষয়বস্তু (মাকুদ আলাইহি) অতীত বা অসম্ভব হলেও শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। আর তাঁদের দুজনের (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ) মতে, শপথের বিষয়বস্তু বিদ্যমান না থাকলে শপথ অনুষ্ঠিত হয় না। সুতরাং তাঁদের মতে, যখন শপথই অনুষ্ঠিত হলো না, তখন তাতে কোনো কাফফারাও নেই।

২৯ - ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মূলনীতি হলো, চুক্তির পর চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি যুক্ত করা চুক্তিকালীন বিদ্যমান শর্তের মতোই। কিন্তু তাঁদের দুজনের (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ) নিকট তা চুক্তিকালীন বিদ্যমান শর্তের মতো গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الْقسم الرَّابِع مَا فِيهِ خلاف بَين الصاحبين بَين أبي يُوسُف وَبَين مُحَمَّد رحمهمَا الله تَعَالَى

 

30 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَن الشَّيْء يجوز أَن يصير تَابعا لغيره وَإِن كَانَ لَهُ حكم نَفسه بانفراد وَعند مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى إِذا كَانَ لَهُ حكم نَفسه لَا يصير تَابعا لغيره

31 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى الْعَارِض فِي العقد الْمَوْقُوف قبل تَمَامه لَا يَجْعَل كالموجود لَدَى العقد وَعند مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى يَجْعَل كالموجود لَدَى العقد

32 - الأَصْل أَن الْبَقَاء على الشَّيْء لَهُ حكم الِابْتِدَاء فِي بعض الْمَوَاضِع وَعند مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى يجوز أَن يعْطى لَهُ حكم الِابْتِدَاء
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দুই ইমাম—আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)—এর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ

 

৩০ - ইমাম আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট মূলনীতি হলো, কোনো বস্তু অন্য কিছুর অনুগামী হওয়া বৈধ, যদিও স্বতন্ত্রভাবে সেটির নিজস্ব বিধান থাকে। আর ইমাম মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট, যদি সেটির নিজস্ব স্বতন্ত্র বিধান থাকে, তবে তা অন্য কিছুর অনুগামী হতে পারে না।

৩১ - ইমাম আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট মূলনীতি হলো, স্থগিত চুক্তি (আকদ মাওকুফ) পূর্ণতা পাওয়ার পূর্বে যে আপদ বা ঘটনা ঘটে, তাকে চুক্তিকালীন বিদ্যমান অবস্থার ন্যায় গণ্য করা হয় না। পক্ষান্তরে ইমাম মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট একে চুক্তিকালীন বিদ্যমান অবস্থার ন্যায় গণ্য করা হয়।

৩২ - মূলনীতি হলো, কোনো বিষয়ের ওপর বহাল থাকা কিছু ক্ষেত্রে নতুনভাবে সূচনার বিধান রাখে। আর ইমাম মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট, একে নতুন সূচনার বিধান প্রদান করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
33 - الأَصْل عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى أَن إِيجَاب الْحق لله تَعَالَى فِي الْغَيْر يزِيل ملك الْمَالِك وَعند مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى لَا يُزِيلهُ

‌‌الْقسم الْخَامِس فِيهِ خلاف بَين أَصْحَابنَا الثَّلَاثَة وَبَين زفر رَحِمهم الله تَعَالَى

 

34 - الأَصْل أَن الشَّيْء إِذا أقيم غَيره فِي حكم فَإِنَّهُ لَا يقوم مقَامه فِي جَمِيع الْأَحْكَام وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى يقوم مقَامه فِي جَمِيع الْأَحْكَام

35 - الأَصْل أَنه يجوز أَن يتَوَقَّف الحكم فِي الْعُقُود وَغَيرهَا لِمَعْنى يطْرَأ عَلَيْهَا وَيحدث فِيهَا عندنَا وَعند زفر رَحِمهم الله تَعَالَى
33 - ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মূলনীতি হলো, অন্যের সম্পদে মহান আল্লাহর হক সাব্যস্ত হওয়া মালিকের মালিকানাকে বিলুপ্ত করে দেয়। আর ইমাম মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তা বিলুপ্ত করে না।

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এতে আমাদের তিনজন ইমাম এবং ইমাম যুফার (রাহিমাহুল্লাহ)-গণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে

 

34 - মূলনীতি হলো, কোনো বিষয় যখন অন্য বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত হয় কোনো বিধানের ক্ষেত্রে, তখন তা সকল বিধানের ক্ষেত্রে মূল বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত হয় না। আর ইমাম যুফার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তা সকল বিধানের ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত হয়।

35 - মূলনীতি হলো, আমাদের নিকট এবং ইমাম যুফার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট চুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কোনো কারণের উদ্ভব হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট বিধান স্থগিত হওয়া বৈধ।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مَتى وَقع الشَّيْء جَائِزا أَو فَاسِدا لَا يَنْقَلِب عَن حَاله لِمَعْنى يطْرَأ عَلَيْهِ إِلَّا بالتجديد والإستيناف

36 - الأَصْل أَن الْعَارِض فِي الْأَحْكَام انْتِهَاء لَهُ حكم يُخَالف حكم الْمَوْجُود ابْتِدَاء وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى حكمه حكم الْمَوْجُود ابْتِدَاء

37 - الأَصْل أَن مَا لَا يتَجَزَّأ فوجود بعضه كوجود كُله وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى لَيْسَ كَذَلِك

38 - الأَصْل أَن الْخلاف فِي الصّفة غير مُعْتَبر وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى مُعْتَبر

39 - الأَصْل أَن الْقَلِيل من الشَّيْء مَعْفُو عَنهُ وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى لَا يكون معفوا
যখন কোনো বিষয় বৈধ কিংবা অবৈধভাবে সংঘটিত হয়, তখন কোনো আকস্মিক বিষয়ের কারণে তার অবস্থার পরিবর্তন হয় না, কেবল নতুন করে সম্পাদন এবং পুনরায় আরম্ভ করা ছাড়া।

৩৬ - মূলনীতি হলো, বিধানে শেষের দিকে কোনো আপতিত বিষয়ের হুকুম শুরুতে বিদ্যমান বিষয়ের হুকুমের বিপরীত হয়ে থাকে; আর ইমাম জুফার (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, এর হুকুম শুরুতে বিদ্যমান বিষয়ের হুকুমেরই অনুরূপ।

৩৭ - মূলনীতি হলো, যা অবিভাজ্য তার কিয়দাংশের অস্তিত্ব পুরোটির অস্তিত্বের নামান্তর; আর ইমাম জুফার (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, তা এমন নয়।

৩৮ - মূলনীতি হলো, গুণগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য ধর্তব্য নয়; আর ইমাম জুফার (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, তা ধর্তব্য।

৩৯ - মূলনীতি হলো, কোনো বিষয়ের সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য; আর ইমাম জুফার (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, তা ক্ষমাযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
40 - الأَصْل أَن الْعبْرَة بِمَا يتَعَلَّق بِهِ الحكم لَا بِمَا يظْهر بِهِ الحكم وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى الَّذِي يظْهر بِهِ الحكم كَالَّذي يتَعَلَّق بِهِ الحكم

41 - الأَصْل أَن نِيَّة التَّمْيِيز فِي الْجِنْس الْوَاحِد لَا تعْمل وَعند زفر رَحمَه الله تَعَالَى تعْمل

‌‌الْقسم السَّادِس مَا فِيهِ خلاف بَين أَئِمَّتنَا وَبَين الإِمَام مَالك رَحمَه الله تَعَالَى

 

42 - الأَصْل عندنَا أَن الْخَبَر الْمَرْوِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من طَرِيق الْآحَاد مقدم على الْقيَاس وَعند مَالك
40 - মূলনীতি হলো, বিধান যার সাথে সংশ্লিষ্ট সেটিরই বিবেচনা হবে, বিধান যার মাধ্যমে প্রকাশ পায় তার নয়। আর ইমাম যুফার (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মতে, বিধান যার মাধ্যমে প্রকাশ পায় তা বিধান যার সাথে সংশ্লিষ্ট তার মতোই।

41 - মূলনীতি হলো, একই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে পার্থক্য করার নিয়ত কার্যকর হয় না। তবে ইমাম যুফার (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মতে, তা কার্যকর হয়।

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আমাদের ইমামগণ এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ

 

42 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একক সূত্রের বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ) কিয়াসের ওপর অগ্রগণ্য। আর ইমাম মালিকের মতে...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
رَضِي الله عَنهُ الْقيَاس الصَّحِيح مقدم على خبر الْآحَاد

43 - الأَصْل عندنَا الْعَزْم على الشَّيْء لَيْسَ بِمَنْزِلَة الْمُبَاشرَة وَعند مَالك رَحمَه الله تَعَالَى بِمَنْزِلَة الْمُبَاشرَة
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, সঠিক কিয়াস খবরুল ওয়াহিদ অপেক্ষা অগ্রগণ্য।

৪৩ - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো কোনো বিষয়ের প্রতি দৃঢ় সংকল্প করা সরাসরি তা সম্পাদন করার সমতুল্য নয়, আর ইমাম মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর নিকট তা সরাসরি সম্পাদন করার সমতুল্য।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌الْقسم الرَّابِع مَا فِيهِ خلاف بَين أَئِمَّتنَا وَبَين الْفَقِيه ابْن أبي ليلى رَحِمهم الله تَعَالَى

 

44 - الأَصْل عِنْد ابْن أبي ليلى أَن من ملك شَيْئا بِنَفسِهِ ملك تفويضا إِلَى غَيره وَعِنْدنَا يجوز أَن يملك فِي بعض الْمَوَاضِع وَلَا يملك فِي بَعْضهَا

45 - الأَصْل عَن ابْن أبي ليلى فِي بَاب الْمُعَامَلَات أَن العقد إِذا ورد الْفَسْخ على بعضه انْفَسَخ كُله

46 - الأَصْل عِنْد بن أبي ليلى أَنه يعْتَبر حُقُوق الله تَعَالَى بِحُقُوق الْعباد

47 - الأَصْل عِنْد ابْن أبي ليلى أَن الْجَهَالَة إِذا قلت لَا تُؤثر فِي الْفساد وَإِن كثرت توجب وَعند عُلَمَائِنَا أَن مَا لَا تقع الْمُنَازعَة فِيهِ إِلَى القَاضِي فَلَا أثر لقلَّة الْجَهَالَة وَلَا لكثرتها فِي فَسَاده
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আমাদের ইমামগণ এবং ফকিহ ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা)-এর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ

 

৪৪ - ইবনে আবি লায়লার নিকট মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি নিজে কোনো কিছুর মালিকানা লাভ করে, সে তা অন্যের প্রতি অর্পণ করারও মালিকানা লাভ করে। আর আমাদের নিকট কিছু ক্ষেত্রে সে এর মালিকানা লাভ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে লাভ করে না।

৪৫ - লেনদেন অধ্যায়ে ইবনে আবি লায়লার নিকট মূলনীতি হলো, চুক্তির কোনো অংশ বাতিল হওয়ার অর্থ হলো পুরো চুক্তিটিই বাতিল হয়ে যাওয়া।

৪৬ - ইবনে আবি লায়লার নিকট মূলনীতি হলো, তিনি মহান আল্লাহর হকসমূহকে বান্দার হকসমূহের সাথে তুলনা করেন।

৪৭ - ইবনে আবি লায়লার নিকট মূলনীতি হলো, অজ্ঞাত বিষয় (জাহালাত) যদি নগণ্য হয় তবে তা চুক্তি নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না, তবে যদি তা অধিক হয় তবে তা চুক্তি নষ্ট হওয়ার কারণ হয়। আর আমাদের ওলামায়ে কেরামের নিকট মূলনীতি হলো, যে বিষয়ে বিচারকের নিকট কোনো বিবাদ উপস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, সে ক্ষেত্রে জাহালাত কম হোক বা বেশি হোক, তা চুক্তি নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব রাখে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
48 - الأَصْل عِنْد ابْن أبي ليلى أَن الْحق الْوَاحِد لَا يجوز أَن يثبت فِي محلين مُخْتَلفين

‌‌الْقسم الثَّامِن مَا فِيهِ خلاف بَين أَئِمَّتنَا وَبَين الإِمَام الشَّافِعِي رَحِمهم الله تَعَالَى

بِصَلَاة أَمَامه وَتجوز بجوازها وَعند الشَّافِعِي صَلَاة الْمُقْتَدِي غير مُتَعَلقَة بهَا بذلك الْمَعْنى

50 - الأَصْل عندنَا أَن كل عبَادَة جَازَ نفلها على صفة فِي عُمُوم الْأَحْوَال جَازَ فَرضهَا على تِلْكَ الصّفة بِحَال من الْأَحْوَال وَعِنْده لم يجز

51 - عندنَا أَن الْقُدْرَة على الأَصْل أَي على الْمُبدل قبل اسْتِيفَاء الْمَقْصُود بِالْبَدَلِ ينْتَقل الحكم إِلَى الْمُبدل وَعِنْده لَا ينْتَقل
48 - ইবনে আবি লায়লার নিকট মূলনীতি হলো যে, একটি একক হক বা অধিকার ভিন্ন ভিন্ন দুটি স্থানে সাব্যস্ত হওয়া বৈধ নয়।

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: আমাদের ইমামগণ এবং ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর মধ্যকার মতভেদসমূহ

তার ইমামের নামাজের মাধ্যমে এবং তা বৈধ হওয়ার দ্বারাই তা বৈধ হয়; আর শাফেয়ীর নিকট মুকতাদীর নামাজ সেই অর্থে তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

50 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো যে, যে সকল ইবাদতের নফল সাধারণ অবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আদায় করা বৈধ, বিশেষ কোনো অবস্থায় তার ফরজও সেই পদ্ধতিতে আদায় করা বৈধ; তবে তাঁর নিকট তা বৈধ নয়।

51 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো যে, বিকল্পের (বদল) মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করার আগে আসলের ওপর (অর্থাৎ যার পরিবর্তে বিকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর) সামর্থ্য লাভ করলে বিধানটি আসলের দিকেই ফিরে যাবে; তবে তাঁর নিকট তা ফিরে যাবে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
52 - الأَصْل أَن من وَجَبت عَلَيْهِ الصَّدَقَة إِذا تصدق على وَجه يَسْتَوْفِي بِهِ مُرَاد النَّص مِنْهُ أَجزَأَهُ عَمَّا وَجب عَلَيْهِ وَعِنْده لَا يجْزِيه

53 - الأَصْل عندنَا أَن قَول الصَّحَابِيّ مقدم على الْقيَاس إِذا لم يُخَالِفهُ أحد من نظرائه لِأَنَّهُ لَا يجوز أَن يُقَال أَنه قَالَه من طَرِيق الْقيَاس لِأَن الْقيَاس يُخَالِفهُ فَالظَّاهِر أَنه قَالَ سَمَاعا وَعند الشَّافِعِي الْقيَاس مقدم لِأَنَّهُ لَا يرى بتقليد الصَّحَابِيّ وَلَا الْأَخْذ بِرَأْيهِ

54 - الأَصْل عندنَا أَن المضمونات تملك بِالضَّمَانِ السَّابِق ويستند الْملك فِيهَا إِلَى وَقت وجوب الضَّمَان وَعِنْده المضمونات لَا تملك بِالضَّمَانِ السَّابِق

55 - الأَصْل عندنَا أَن الْحق بِالْغَنِيمَةِ يتَعَلَّق بِالْأَخْذِ ويستقر بالإحراز بِالدَّار وَيَقَع الْملك بِنَفس الْقِسْمَة وَعند الشَّافِعِي يَقع الْملك بِنَفس الْأَخْذ
52 - মূলনীতি হলো, যার ওপর সদকা ওয়াজিব হয়েছে, সে যদি এমনভাবে তা প্রদান করে যার মাধ্যমে নসের (শরয়ি ভাষ্যের) উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়, তবে তা তার ওয়াজিব আদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। আর তাঁর মতে, তা যথেষ্ট হবে না।

53 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো, সাহাবীর বক্তব্য কিয়াসের (অনুমানের) ওপর প্রাধান্য পাবে যখন তাঁর সমপর্যায়ের অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা না করেন। কারণ এটি বলা বৈধ নয় যে, তিনি কিয়াসের ভিত্তিতে এটি বলেছেন, যেহেতু কিয়াস এর পরিপন্থী। সুতরাং প্রকাশ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি শ্রবণের মাধ্যমে (রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনে) তা বলেছেন। আর ইমাম শাফিঈর মতে কিয়াস প্রাধান্য পাবে; কারণ তিনি সাহাবীর তাকলিদ করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত রায় গ্রহণ করা (দলিল হিসেবে) মানেন না।

54 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো, ক্ষতিপূরণযোগ্য বস্তুসমূহ পূর্ববর্তী ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে মালিকানাভুক্ত হয় এবং এই মালিকানা ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হওয়ার সময়ের দিকে ফিরে যায়। আর তাঁর মতে, ক্ষতিপূরণযোগ্য বস্তুসমূহ পূর্ববর্তী ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মালিকানাভুক্ত হয় না।

55 - আমাদের নিকট মূলনীতি হলো, গনিমতের মালের অধিকার তা হস্তগত করার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, নিরাপদ স্থানে (দারুল ইসলামে) নিয়ে আসার মাধ্যমে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং বণ্টনের মাধ্যমে মালিকানা কার্যকর হয়। আর ইমাম শাফিঈর মতে, হস্তগত করার মাধ্যমেই মালিকানা অর্জিত হয়।