(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: -)
المحصول لابن العربي القسم: أصول الفقه
الكتاب: المحصول في أصول الفقه
المؤلف: القاضي محمد بن عبد الله أبو بكر بن العربي المعافري الاشبيلي المالكي (ت 543هـ)
المحقق: حسين علي اليدري - سعيد فودة
الناشر: دار البيارق - عمان
الطبعة: الأولى، 1420هـ - 1999
عدد الصفحات: 156
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুল আরাবি রচিত আল-মাহসুল বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
গ্রন্থ: আল-মাহসুল ফি উসুলিল ফিকহ
লেখক: আল-কাজি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আবু বকর বিন আল-আরাবি আল-মাআফিরি আল-ইশবিলি আল-মালিকি (মৃত্যু ৫৪৩ হিজরি)
সম্পাদক: হুসাইন আলী আল-ইয়াদরি - সাঈদ ফাউদা
প্রকাশক: দার আল-বায়ারিক - আম্মান
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على مُحَمَّد وَآله وَسلم
قَالَ الْفَقِيه الإِمَام الْحَافِظ أَبُو بكر مُحَمَّد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الله ابْن الْعَرَبِيّ رضي الله عنه
القَوْل فِي أصُول الْفِقْه أما الْفِقْه فَهُوَ معرفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة
وَأما أُصُوله فَهِيَ أدلته
وَقد قيل معرفَة أَحْكَام أَفعَال الْمُكَلّفين الشَّرْعِيَّة دون الْعَقْلِيَّة وَهِي تَكْمِلَة للْأولِ وَقَرِيب مِنْهُ
فَأَما الدَّلِيل فَهُوَ: الْموصل بِصَحِيح النّظر إِلَى الْمَدْلُول
وأفعال الْمُكَلّفين هِيَ حركاتهم الَّتِي يتَعَلَّق بهَا التكاليف من الْأَوَامِر والنواهي وَهِي على خَمْسَة أضْرب
وَاجِب وَفِي مُقَابلَته مَحْظُور
ومندوب وَفِي مُقَابلَته مَكْرُوه
وواسطة بَينهمَا وَهُوَ الْمُبَاح
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।
ফকিহ (الفقيه), ইমাম, হাফিজ (الحافظ) আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল আরাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন—
উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) সংক্রান্ত আলোচনা অতঃপর ফিকহ হলো শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর এর উসুল (أصول) হলো এর প্রমাণাদি (أدلته)।
বলা হয়ে থাকে যে, এটি হলো মুকাল্লাফ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলির শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে জানা, বুদ্ধিভিত্তিক (العقلية) বিষয়সমূহ ব্যতীত; আর এটি প্রথম সংজ্ঞারই একটি পরিপূরক এবং তার কাছাকাছি।
আর দলিল (الدليل) হলো: যা সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়ের (المدلول) দিকে পৌঁছে দেয়।
মুকাল্লাফ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলি হলো তাদের সেই সকল কর্মতৎপরতা যার সাথে আদেশ ও নিষেধের বিধানসমূহ (التكاليف) সংশ্লিষ্ট হয়, আর তা পাঁচ প্রকার:
ওয়াজিব (واجب) এবং এর বিপরীতে রয়েছে নিষিদ্ধ (محظور)।
পছন্দনীয় (مندوب) এবং এর বিপরীতে রয়েছে অপছন্দনীয় (مكروه)।
এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পর্যায় হলো অনুমোদিত (مباح)।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَاخْتلف فِيهِ هَل هُوَ من الشَّرْع أم لَا على مَا يَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فَأَما الْوَاجِب فَقَالَ بعض عُلَمَائِنَا هُوَ الَّذِي فِي فعله ثَوَاب وَفِي تَركه عِقَاب وَزَاد بَعضهم من حَيْثُ هُوَ ترك لَهُ
والمحظور عَكسه وَهُوَ الَّذِي فِي فعله عِقَاب وَفِي تَركه ثَوَاب
وَالْمَنْدُوب هُوَ الَّذِي فِي فعله ثَوَاب وَلَيْسَ فِي تَركه عِقَاب
وَالْمَكْرُوه هُوَ الَّذِي فِي تَركه ثَوَاب وَلَيْسَ فِي فعله عِقَاب
والمباح هُوَ الَّذِي يَسْتَوِي تَركه وَفعله وَكَذَلِكَ قيل فِي هَذِه الْحُدُود كلهَا من حَيْثُ هُوَ ترك لَهُ
وَهَذِه الْحُدُود كلهَا بَاطِلَة
وَالصَّحِيح
أَن الْوَاجِب هُوَ الَّذِي يذم تَاركه والمحظور هُوَ الَّذِي يذم فَاعله وَالْمَنْدُوب هُوَ الَّذِي يحمد فَاعله وَلَا يذم تَاركه وَالْمَكْرُوه عَكسه والمباح هُوَ مَا لَيْسَ لَهُ مُتَعَلق فِي الشَّرْع على قَول وَقيل مَا وَقع عَلَيْهِ الْعَفو مَا أذن فِيهِ
وَتَحْقِيق ذَلِك وَبَيَانه يَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى
এটি শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যার বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
আবশ্যক (الواجب) সম্পর্কে আমাদের কিছু আলিম বলেছেন যে, এটি এমন কাজ যার পালনে সওয়াব রয়েছে এবং বর্জনে শাস্তি রয়েছে। তাদের কেউ কেউ এই শর্ত যোগ করেছেন যে, এই শাস্তি হবে কেবল বর্জনের কারণে।
নিষিদ্ধ (المحظور) হলো এর বিপরীত; অর্থাৎ যার পালনে শাস্তি রয়েছে এবং বর্জনে সওয়াব রয়েছে।
পছন্দনীয় (المندوب) হলো এমন কাজ যার পালনে সওয়াব রয়েছে কিন্তু বর্জনে কোনো শাস্তি নেই।
অপছন্দনীয় (المكروه) হলো সেই কাজ যার বর্জনে সওয়াব রয়েছে কিন্তু পালনে কোনো শাস্তি নেই।
বৈধ (المباح) হলো সেই কাজ যার পালন ও বর্জন উভয়ই সমান। একইভাবে এই সকল সংজ্ঞার (الحدود) ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, তা কেবল বর্জনের দিক থেকে বিবেচিত।
তবে এই সকল সংজ্ঞাই বাতিল (باطل)।
সঠিক (الصحيح) মত হলো:
আবশ্যক (الواجب) হলো সেই কাজ যার বর্জনকারী নিন্দিত হয়; নিষিদ্ধ (المحظور) হলো সেই কাজ যার সম্পাদনকারী নিন্দিত হয়; পছন্দনীয় (المندوب) হলো সেই কাজ যার সম্পাদনকারী প্রশংসিত হয় কিন্তু বর্জনকারী নিন্দিত হয় না; অপছন্দনীয় (المكروه) এর বিপরীত; এবং বৈধ (المباح) সম্পর্কে এক মতে বলা হয়েছে যে, শরিয়তে এর সাথে কোনো (নির্দেশনামূলক) সম্পর্ক নেই, আবার বলা হয়েছে—যা ক্ষমা করা হয়েছে অথবা যাতে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
এর বিশ্লেষণ ও বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَالْأَحْكَام لَيست من التَّكْلِيف وَلَا من صِفَات الْأَفْعَال وَإِنَّمَا الحكم هُوَ قَول الله سُبْحَانَهُ وَدَلِيله الَّذِي نَصبه علما على الْفِعْل أَو التَّكْلِيف وَهَذِه الْكَلِمَة الَّتِي صدرنا بهَا هِيَ على رسم الْحُدُود
فَأَما الْحَد فَاخْتلف الْعلمَاء فِيهِ على قَوْلَيْنِ
فَمنهمْ من يَجعله القَوْل الْمُفَسّر وَمِنْهُم من يَجعله حَقِيقَة الشَّيْء وخاصيته الَّتِي تتَمَيَّز بهَا من عَن غَيره
فَأَما الحكم فَلَيْسَ بِصفة للأفعال وَإِنَّمَا هُوَ عبارَة عَن خطاب الله فِيهَا كَمَا أَن النُّبُوَّة لَيست بِصفة للنَّبِي وَإِنَّمَا هِيَ عبارَة عَن مطالعة الله تَعَالَى لَهُ بِالْغَيْبِ واتخاذه وَاسِطَة بَينه وَبَين خلقه
وَأما الْمُكَلف وَهُوَ الْبَالِغ المتدارك الْعقل
وَالْبُلُوغ يكون بِوَجْهَيْنِ أَحدهمَا السن وَالثَّانِي الِاحْتِلَام وَهَذَا يبين فِي بَابه من فروع الْفِقْه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَأما المتدارك الْعقل فَهُوَ الْمُمَيز الَّذِي لَا يطرقه فِي عقله خلل من ضد يطْرَأ عَلَيْهِ خلا الذهول وَالنِّسْيَان
বিধানসমূহ (الأحكام) দায়বদ্ধতার (التكليف) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং কাজের কোনো বৈশিষ্ট্যও নয়; বরং বিধান (الحكم) হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী এবং তাঁর স্থাপিত নিদর্শন, যা কোনো কর্ম বা দায়বদ্ধতার পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারিত। আমরা যে শব্দ দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি, তা সংজ্ঞার (الحدود) রূপরেখা অনুযায়ী।
আর সংজ্ঞার (الحد) বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম দুটি মতের ওপর ইখতিলাফ বা মতভেদ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে ব্যাখ্যামূলক উক্তি হিসেবে গণ্য করেন, আবার কেউ কেউ একে বস্তুর প্রকৃত সত্তা ও এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাব্যস্ত করেন যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে।
আর বিধান (الحكم) কাজের কোনো বৈশিষ্ট্য নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আল্লাহর সম্বোধন মাত্র; যেমন নবুওয়াত (النبوة) নবীর কোনো ব্যক্তিগত গুণ নয়, বরং তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁকে অদৃশ্যের বিষয়াদি অবহিত করা এবং তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার নামান্তর।
আর আদিষ্ট ব্যক্তি (المكلف) হলেন তিনি, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ) দুটি পন্থায় হয়ে থাকে: প্রথমটি বয়স এবং দ্বিতীয়টি স্বপ্নদোষ (الاحتلام)। ইনশাআল্লাহ তাআলা ফিকহের শাখাসমূহের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এটি বিশদভাবে বর্ণিত হবে।
আর সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন বলতে সেই বিবেকবান ব্যক্তিকে বোঝায়, যার বিচারবুদ্ধিতে বিপরীতমুখী কোনো ত্রুটি প্রবেশ করে না, তবে অন্যমনস্কতা ও বিস্মৃতি এর ব্যতিক্রম।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فَأَما الْعقل فقد اخْتلف النَّاس فِيهِ واضطربوا فِيهِ اضطرابا شَدِيدا وَالصَّحِيح إِنَّه الْعلم وَهُوَ مَذْهَب شَيخنَا أبي الْحسن رضي الله عنه فرق عِنْده بَين قَوْلنَا عقلت الشَّيْء وَبَين قَوْلنَا علمت وَذَلِكَ مستقصى فِي الْحُدُود إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَأما الْعلم فقد تبَاين النَّاس فِيهِ مَعَ إِنَّه أصل كل قَول ومنتهى كل مطلب وَقَيَّدنَا فِيهِ عشْرين عبارَة أمثلها قَول القَاضِي رحمه الله معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ وَهَذَا لفظ يأباه النُّحَاة لِأَن الْمعرفَة عِنْدهم خلاف الْعلم إِذْ الْمعرفَة عِنْدهم علم وَاحِد وَالْعلم لَا يكون إِلَّا معرفتين وَهَذَا الْمَعْنى يستقصى فِي الْحُدُود إِن شَاءَ الله
وَالصَّحِيح أَن الْعلم لَا يقتنص بشبكة الْحَد وَإِنَّمَا يتَوَصَّل إِلَيْهِ على سَبِيل الرَّسْم المقرب للمعنى
والتكليف هُوَ إلزم الْمُكَلف مَا فِي فعله كلفة وَهِي النصب وَالْمَشَقَّة ومسائلة كَثِيرَة ومتعلقاته طَوِيلَة وجماع أُصُولهَا خمس مسَائِل
الْمَسْأَلَة الأولى فِي تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق
وَقد اخْتلف النَّاس فِيهِ وَاخْتلف فِيهِ عُلَمَاؤُنَا كاختلافهم فَمنهمْ من مَنعه وَمِنْهُم من جوزه
বুদ্ধিবৃত্তি প্রসঙ্গে মানুষ মতভেদ করেছে এবং এ নিয়ে প্রবলভাবে বিচলিত হয়েছে। আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এটি জ্ঞান ছাড়া আর কিছু নয়, যা আমাদের শাইখ আবুল হাসান (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব। তাঁর মতে 'আমি বিষয়টি অনুধাবন করলাম' এবং 'আমি জানলাম'- এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইনশাআল্লাহ সংজ্ঞা সংক্রান্ত আলোচনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আর জ্ঞান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়, যদিও তা প্রতিটি কথার মূল এবং প্রতিটি অনুসন্ধানের শেষ লক্ষ্য। এ ব্যাপারে আমরা বিশটি সংজ্ঞা লিপিবদ্ধ করেছি, যার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলো কাজী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর বক্তব্য— 'জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানাই হলো জ্ঞান'। তবে বৈয়াকরণগণ এই শব্দচয়ন প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা তাদের মতে উপলব্ধি এবং জ্ঞান এক নয়। তাদের নিকট উপলব্ধি হলো একটি একক জ্ঞান, আর জ্ঞান হলো দুটি উপলব্ধির সমষ্টি। ইনশাআল্লাহ এই অর্থটিও সংজ্ঞা সংক্রান্ত আলোচনায় বিস্তারিত আলোচিত হবে।
আর বিশুদ্ধ (الصحيح) কথা হলো, জ্ঞানকে সংজ্ঞার জালে বন্দি করা যায় না; বরং অর্থের কাছাকাছি পৌঁছে দেয় এমন বর্ণনামূলক চিত্রের মাধ্যমেই কেবল সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।
আর দায়িত্ব অর্পণ হলো দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে এমন কাজের আবশ্যক করা যাতে শ্রম বা কষ্ট রয়েছে; আর তা হলো ক্লান্তি ও কাঠিন্য। এর মাসয়ালা অনেক এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দীর্ঘ, তবে এর মূল ভিত্তি হলো পাঁচটি মাসয়ালা।
প্রথম মাসয়ালা সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব অর্পণ প্রসঙ্গে
এ বিষয়ে মানুষ মতভেদ করেছে এবং আমাদের আলেমগণও তাদের ন্যায় মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একে নিষেধ করেছেন, আবার কেউ একে বৈধ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَاحْتج عُلَمَاؤُنَا على ذَلِك بقول الله تَعَالَى (رَبنَا وَلَا تحملنا مَالا طَاقَة لنا بِهِ) وَلَوْلَا حسن وُقُوعه مَا سَأَلُوا دَفعه
وَالصَّحِيح أَن تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق جَائِز عقلا وَاقع شرعا فَإِن الله تَعَالَى كلف الْعباد الْعِبَادَات والوظائف كلهَا قبل أَن يقدروا عَلَيْهَا لِأَن الْقُدْرَة مَعَ الْفِعْل
فَأَما تَكْلِيف الْمحَال فَلَا يجوز عقلا لَكِن إِذا وَردت بِهِ الصِّيغَة شرعا حمل على التكوين والتعجيز كَقَوْلِه تَعَالَى (كونُوا حِجَارَة أَو حديداً) وَكَقَوْلِه تَعَالَى (كونُوا قردة خسئين)
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة اتّفق أهل السّنة على جَوَاز تَكْلِيف الْمُكْره وَخَالف فِي ذَلِك جمَاعَة من المبتدعة وَاحْتج عَلَيْهِم القَاضِي بنهي الْمُكْره على الْقَتْل عَن الْقَتْل مَعَ وجود الْإِكْرَاه وَهَذِه هفوة من القَاضِي لِأَن الْمَنْع من الْفِعْل مَعَ إِلْزَام الْإِقْدَام أعظم فِي الِابْتِلَاء وَالْقَوْم لَا يُنكرُونَ مثل هَذَا وَإِنَّمَا يتَحَقَّق الْخلاف فِي الْأَمر بِفعل الشَّيْء مَعَ الْإِكْرَاه على فعله فَهَذَا مَا جوزناه ومنعوه وَهُوَ فرع من فروع التحسين والتقبيح يَأْتِي فِي بَابه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
আমাদের আলিমগণ এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ওপর এমন বোঝা অর্পণ করবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই।" যদি এটি সংঘটিত হওয়া সংগত না হতো, তবে তারা তা দূর করার প্রার্থনা করতেন না।
আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, অসাধ্য বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ যুক্তির বিচারে বৈধ এবং শরিয়তের বিধানে বাস্তবে বিদ্যমান। কেননা মহান আল্লাহ বান্দাদের ওপর ইবাদত ও সমস্ত কার্যাবলীর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তাদের সক্ষমতা অর্জিত হওয়ার পূর্বে, কারণ সক্ষমতা কাজের সাথেই সৃষ্টি হয়।
তবে অসম্ভব বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ যুক্তির বিচারে বৈধ নয়। কিন্তু শরিয়তে যদি এ ধরণের শব্দের প্রয়োগ ঘটে, তবে তাকে সৃষ্টি এবং অপারগতা প্রদর্শনের অর্থে গ্রহণ করা হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা পাথর অথবা লোহা হয়ে যাও" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।"
দ্বিতীয় মাসআলা আহলে সুন্নাত বাধ্য হওয়া ব্যক্তিকে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে একদল বিদআতি (المبتدعة) দ্বিমত পোষণ করেছেন। কাযী তাদের বিরুদ্ধে এই দলিল পেশ করেছেন যে, হত্যার জন্য বাধ্য হওয়া ব্যক্তিকে হত্যার কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে যদিও সেখানে জবরদস্তি বিদ্যমান। এটি কাযীর একটি বিচ্যুতি, কারণ কোনো কাজের প্রতি সংকল্পবদ্ধ করার পাশাপাশি তা থেকে বিরত রাখা পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি কঠোর। তারা এ জাতীয় বিষয় অস্বীকার করেন না। বরং মতভেদটি মূলত সেই ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যেখানে কোনো কাজ করার জন্য বাধ্য করা সত্ত্বেও সেই কাজটি সম্পাদন করার আদেশ দেওয়া হয়। আমরা এটিকে বৈধ বলেছি এবং তারা তা নিষেধ করেছেন। এটি ভালো ও মন্দ নির্ধারণের একটি শাখা যা ইনশাআল্লাহ তার সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة فِي تَكْلِيف السَّكْرَان
وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ منتش وملتج فَأَما الملتج وَهُوَ لَاحق الْمَجْنُون والناشيء وَسَيَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله
وَأما المنتشي فَلَا خلاف فِيهِ وَفِي مثله نزلت (يَا أَيهَا الَّذين أمنُوا لَا تقربُوا الصَّلَاة وَأَنْتُم سكارى حَتَّى تعلمُوا مَا تَقولُونَ)
الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة اخْتلف الْعلمَاء رحمه الله عَلَيْهِم فِي الْمَجْنُون والناشي والملتج والنائم هَل هم مخاطبون بالتكليف فِي حَال الْجُنُون والسهو وَالسكر وَالنَّوْم أم لَا
وَلَا يظنّ بِمن جوز ذَلِك من عُلَمَائِنَا الْتزم معرفَة الْأَوَامِر والتكليفات مَعَ قيام هَذِه الْمَوَانِع وَإِنَّمَا يتَصَوَّر الْخلاف بَينهم إِذا ارْتَفَعت الْمَوَانِع وَقد ذهبت عبادات مُؤَقَّتَة أَو وَقعت أَسبَاب فَائِتَة فَمنهمْ من ألزم الْأَحْكَام كلهَا بعد الزَّوَال لهَذِهِ الْمَوَانِع وَمِنْهُم من ردهَا وَمِنْهُم من قسم الْحَال وَفرق الْأَحْكَام بِحَسب النَّوَازِل على مَا انْتهى إِلَيْهِ اجْتِهَاد كل فريق فِي طلب الْأَدِلَّة وتتبع مدارك الْأَحْكَام على مَا يَأْتِي بَيَانه فِي مسَائِل الْفِقْه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
তৃতীয় মাসআলা মাতাল ব্যক্তির শরীয়তের বিধান পালনের আবশ্যকতা (تكليف) প্রসঙ্গে
আর তা দুই প্রকার: নেশাগ্রস্ত (منتش) এবং সংজ্ঞাহীন (ملتج)। সংজ্ঞাহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান হলো—সে পাগল ও অপ্রাপ্তবয়স্কর অন্তর্ভুক্ত; ইনশাআল্লাহ সামনে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।
আর নেশাগ্রস্ত (منتش) ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই; আর তার মতো ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যেই অবতীর্ণ হয়েছে: (হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো।)
চতুর্থ মাসআলা উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক, সংজ্ঞাহীন ও ঘুমন্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, তারা কি তাদের উন্মাদনা, বিস্মৃতি (سهو), নেশাগ্রস্ততা ও ঘুমের অবস্থায় শরীয়তের বিধান পালনের আদিষ্ট (مخاطبون بالتكليف) হবে কি না?
আমাদের আলেমদের মধ্যে যারা এটিকে বৈধ মনে করেছেন, তাদের সম্পর্কে এমন ধারণা করা যাবে না যে, তারা এই প্রতিবন্ধকগুলো বিদ্যমান থাকা অবস্থায় নির্দেশনাবলি ও দায়িত্বসমূহ অনুধাবন করাকে আবশ্যক করেছেন। বরং তাদের মধ্যকার এই মতভেদ তখনই কল্পনা করা হয় যখন এই প্রতিবন্ধকগুলো দূর হয়ে যায় এবং ইতোমধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদত অতিবাহিত হয়ে যায় অথবা কোনো অতিবাহিত কারণ (أسباب) সংঘটিত হয়। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই প্রতিবন্ধকগুলো দূর হওয়ার পর সমস্ত বিধান কার্যকর করাকে আবশ্যক করেছেন, কেউ কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, আবার কেউ কেউ অবস্থাকে বিভক্ত করেছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধানের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। প্রতিটি দল দলিল অন্বেষণ এবং বিধানের উৎস অনুসন্ধানে যার যার গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) আলোকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাসমূহে ইনশাআল্লাহ তা সামনে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْمَسْأَلَة الْخَامِسَة فِي تَكْلِيف الْكفَّار بِفُرُوع الشَّرِيعَة وَقد اخْتلف فِي ذَلِك عُلَمَاؤُنَا وَغَيرهم على قَوْلَيْنِ فَمنهمْ من قَالَ لَا تصح مخاطبتهم بِأَمْر لِاسْتِحَالَة وُقُوع الْفِعْل مِنْهُم حَال كفرهم
وَمِنْهُم من قَالَ هم مخاطبون بذلك وتلوا فِي ذَلِك قُرْآنًا وسطروا فِيهِ آيَات مِنْهَا مَا يتَطَرَّق غليه الِاحْتِمَال الْقوي وَمِنْهَا الضَّعِيف
وَالطَّرِيق فِي الْمَسْأَلَة الْكَلَام على فصليها جَمِيعًا من جَوَاز تكليفهم وَمن وجود تكليفهم
فَأَما الْجَوَاز فَظَاهر لِأَنَّهُ لَا يمْتَنع أَن يُقَال للْكَافِرِ صل ويتضمن الْأَمر بِالصَّلَاةِ الْأَمر بشرطها فِي الْإِيمَان إِذْ لَا يتَوَصَّل إِلَى فعلهَا إِلَّا بِهِ كَمَا يُؤمر الْمُحدث الْقَارِي الْمُدبر بِالصَّلَاةِ وَلَا يتَوَصَّل إِلَيْهَا إِلَّا بعد هَذِه الشُّرُوط الثَّلَاثَة فَإِذا ثَبت فصل الْجَوَاز بِهَذِهِ النُّكْتَة
فالدليل على وجود ذَلِك فِي الشَّرْع ظواهر الْكتاب وأمثلها فِي التَّعْلِيق قَوْله تَعَالَى (مَا سلككم فِي سقر قَالُوا لم نك من الْمُصَلِّين وَلم نك نطعم الْمِسْكِين) فَإِن قيل أَرَادَ تَعَالَى لم تَكُ على اعْتِقَاد الْمُصَلِّين قُلْنَا إِنَّمَا يعدل علن الظَّاهِر لضَرُورَة دَاعِيَة وَلَا ضَرُورَة هَا هُنَا لما تقدم من الْجَوَاز وَالله أعلم
পঞ্চম মাসয়ালা: শরীয়তের শাখা-প্রশাখার (ফুরু-উশ-শরীয়াহ) বিধিবিধান পালনে কাফিরদের বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে এই বিষয়ে আমাদের আলিমগণ এবং অন্যান্যগণ দুটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে একদল বলেছেন, কাফিরদের কোনো নির্দেশের মাধ্যমে সম্বোধন করা সঠিক নয়; কারণ কুফরি অবস্থায় তাদের থেকে ইবাদত সংঘটিত হওয়া অসম্ভব।
অন্যদল বলেছেন, তারা এসকল বিধানের মাধ্যমে সম্বোধিত। তারা এ বিষয়ে কুরআন থেকে দলিল পেশ করেছেন এবং এমন কিছু আয়াত লিপিবদ্ধ করেছেন যার কোনোটিতে প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান, আবার কোনোটি দুর্বল (ضعيف)।
এই মাসয়ালার সমাধানের পদ্ধতি হলো এর উভয় পরিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করা: তাদের শরয়ি দায়বদ্ধ করার বৈধতা এবং বাস্তবে তাদের ওপর সেই দায়বদ্ধতা বিদ্যমান থাকা।
বৈধতার বিষয়টি তো সুস্পষ্ট, কারণ কোনো কাফিরকে 'নামাজ পড়ো' বলা অসম্ভব নয়। নামাজের আদেশ তার শর্ত অর্থাৎ ঈমানের আদেশের অন্তর্ভুক্ত; কেননা ঈমান ব্যতীত নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়। যেমন অপবিত্র ব্যক্তি বা কিরাত পাঠকারীকে নামাজের আদেশ দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট শর্তসমূহ পূরণ ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই সূক্ষ্ম পয়েন্টের মাধ্যমে বৈধতার বিষয়টি প্রমাণিত হলো।
আর শরীয়তে এর অস্তিত্বের প্রমাণ হলো কিতাবুল্লাহর প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থসমূহ। এ প্রসঙ্গে দলিল হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "(জাহান্নামীরা বলবে) তারা বলবে, আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং আমরা অভাবীদের খাদ্য দান করতাম না।" যদি বলা হয় যে, মহান আল্লাহ এর দ্বারা 'নামাজিদের বিশ্বাস বা আকিদা পোষণ না করা' বুঝিয়েছেন, তবে আমরা বলব যে, কেবল অনিবার্য প্রয়োজনেই প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ পরিত্যাগ করা হয়, আর এখানে তেমন কোনো অনিবার্য প্রয়োজন নেই যেহেতু ইতিপূর্বে এর বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَائِدَة حق كل من يحاول الْخَوْض فِي فن من الْعُلُوم إِذا علم مَقْصُوده مِنْهُ أَن يحاول بدءا الْإِحَاطَة بسواقه الَّتِي لَا بُد لَهُ مِنْهَا فِي مَعْرفَته وشروطه الَّتِي هِيَ مَعُونَة عَلَيْهِ
وَلِهَذَا الْبَاب الَّذِي تصدينا لَهُ وأشرعنا مَقَاصِد القَوْل فِيهِ عشرَة سوابق هِيَ المبينة لَهُ والمعينة عَلَيْهِ
السَّابِقَة الأولى فِي وَجه بَيَان الْحَاجة إِلَى الْعبارَة الَّتِي بهَا يَقع الْبَيَان فَنَقُول لما كَانَ الْإِنْسَان مدنيا بالجبلة مفتقراً إِلَى الصُّحْبَة بِالضَّرُورَةِ لِأَنَّهُ خلق خلقا لَا ستقل بمعاشه وَلَا يستبد بمنافعه بل هُوَ مفتقر فِي ذَلِك إِلَى غَيره وَكَانَ ذَلِك الْغَيْر إِمَّا مجتمعنا مَعَه وَإِمَّا مبايناً عَنهُ وَالْمَنْفَعَة الَّتِي يفْتَقر إِلَيْهَا إِمَّا حَاضِرَة وَإِمَّا غَائِبَة وَكَانَت الْإِشَارَة مَوْضُوعَة لاخْتِلَاف الْمَنْفَعَة وسد الْخلَّة فِي الْحَاضِر وَوضعت الْعبارَة لتقوم مقَام ذَلِك فِي الْغَائِب فَهَذِهِ حِكْمَة الله تَعَالَى فِي وضع الْعبارَات الدَّالَّة على الْمعَانِي
فَإِذا فهمت هَذَا فقد فرض عُلَمَاؤُنَا رَحْمَة الله عَلَيْهِم مَسْأَلَة وَهِي أَن اللُّغَات هَل هِيَ تَوْقِيف من الْمعلم الْأَعْظَم وَهُوَ الْبَارِي تَعَالَى أَو هِيَ متواضعة مُتَّفق عَلَيْهَا بَين النَّاس فَمنهمْ من قَالَ بالقولين الْمَذْكُورين وَمِنْهُم من قَالَ أما مَا بِهِ يكون الِاتِّفَاق وَمنع التَّوَاضُع فَلَا بُد فِيهِ من التَّوْقِيف وَأما مَا وَرَاء ذَلِك فَجَائِز أَن يكون تَوْفِيقًا وَجَائِز أَن يكون تواضعا
উপকারিতা বিজ্ঞানের কোনো একটি শাখায় (فن) যারা নিমগ্ন হতে চান, তাদের লক্ষ্য যখন নির্ধারিত হয়ে যায়, তখন তাদের জন্য সমীচীন হলো প্রথমে তার প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা, যা তার পরিচিতির জন্য অপরিহার্য এবং তার শর্তাবলি (شروط) অনুধাবন করা, যা তাকে এ বিষয়ে সহায়তা করবে।
আর আমরা যে অধ্যায়টির অবতারণা করেছি এবং যে বিষয়ে আলোচনার সংকল্প করেছি, তার দশটি প্রারম্ভিক বিষয় রয়েছে যা একে স্পষ্ট করে এবং একে বুঝতে সহায়তা করে।
প্রথম প্রারম্ভিকা: ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার প্রয়োজনীয়তার স্বরূপ বর্ণনা আমরা বলি, মানুষ যেহেতু স্বভাবগতভাবেই সামাজিক এবং অনিবার্যভাবে তার সঙ্গ লাভের প্রয়োজন হয়, কারণ তাকে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যে সে একাকী তার জীবনোপকরণ সংগ্রহ করতে পারে না এবং তার প্রয়োজনসমূহ একাকী মেটাতে পারে না; বরং সে এ ক্ষেত্রে অন্যের মুখাপেক্ষী। আর সেই অন্য সত্তাটি হয় তার সাথে অবস্থানকারী অথবা তার থেকে পৃথক। আবার যে উপযোগিতাটি তার প্রয়োজন, তা হয় উপস্থিত অথবা অনুপস্থিত। উপস্থিত ক্ষেত্রে উপযোগিতার বিভিন্নতা ও অভাব পূরণের জন্য ইশারা বা ইঙ্গিত সাব্যস্ত করা হয়েছে, আর অনুপস্থিত ক্ষেত্রে সেই ইঙ্গিতের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য ভাষার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থ বা মর্ম বুঝানোর জন্য ভাষা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটিই মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা।
যখন আপনি এটি বুঝতে পারলেন, তখন আমাদের উলামায়ে কেরাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) একটি মাসআলা উপস্থাপন করেছেন যে, ভাষা কি মহান শিক্ষক তথা মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্দেশিত (توقيف) নাকি এটি মানুষের মাঝে পারস্পরিক সমঝোতা (تواضع) ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সৃষ্টি? তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লিখিত দুই মতের যেকোনো একটির কথা বলেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, যার মাধ্যমে ঐক্যমত্য বা সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে অবশ্যই নির্দেশিত (توقيف) হওয়া আবশ্যক; আর এর বাইরে যা রয়েছে, তা ঐশ্বরিক সহায়তা হওয়া যেমন সম্ভব, তেমনি পারস্পরিক সমঝোতা (تواضع) হওয়াও সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَتعلق الألوان بقوله تَعَالَى (وَعلم أَدَم الْأَسْمَاء كلهَا) قَالُوا هَذَا نَص على أَن الْبَارِي وَتَعَالَى قد فاتح آدم صلى الله على نَبينَا وَعَلِيهِ بِالْبَيَانِ فَهَذِهِ بالعبارة وَهَذِه اية لَا مُتَعَلق فِيهَا لوَجْهَيْنِ
أَحدهمَا أَنَّهَا مَبْنِيَّة على القَوْل بِالْعُمُومِ وَسَيَأْتِي الْخلاف فِيهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَالثَّانِي أَن الْمُعْتَرض قَالَ لَا إِشْكَال فِيهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى علم آدم الْأَسْمَاء كلهَا وَهل علمه مَا كَانَ قبل مَعْلُوما متواضعاً أم ابتدأه مفاتحة بِمَا لم يكن قبل هَذَا هُوَ مَوضِع الْخلاف وَلَا تتناوله الْآيَة بِبَيَان
وَالصَّحِيح أَن الْأَمر مُحْتَمل فَجَائِز أم يكون بتوقيف وَتَعْلِيم وَجَائِز أَن يكون بمواضعه واتفاق
وَالدَّلِيل الْقَاطِع عَلَيْهِ مَا نشاهد من لقن الطِّفْل عَن أَبَوَيْهِ مَا لم يتواضعا مَعَه عَلَيْهِ فَمن الْجَائِز إِذا بعد ثُبُوت هَذِه الْمُشَاهدَة التَّعْلِيم والتواضع فِي أصل اللُّغَة كلهَا وَفِي بَعْضهَا وَهَذَانِ الجائزان لَيْسَ فِي الشَّرْع قَاطع يتَعَيَّن وَاحِد مِنْهُمَا بِهِ
السَّابِقَة الثَّانِيَة قسم عُلَمَاؤُنَا رحمهم الله الْعبارَة إِلَى قسمَيْنِ
أَحدهمَا الْحَقِيقَة وَالْأُخْرَى الْمجَاز
فالحقيقة كل مَا دلّ بموضوعه على المُرَاد بِهِ أصلا
আলওয়ান (বা পক্ষসমূহ) মহান আল্লাহর বাণী "(এবং তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন)"-এর সাথে সম্পৃক্ত। তাঁরা বলেন, এটি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পাঠ (نص) যে, মহান বারী তা'আলা আদম (আমাদের নবী ও তাঁর উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর মাধ্যমে অভিব্যক্তির শুভ সূচনা করেছেন। এটি শব্দের বাচনভঙ্গির মাধ্যমে প্রমাণিত, তবে এই আয়াতের সাথে বিষয়টির সম্পৃক্ততা না থাকার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।
প্রথমটি হলো, এটি ব্যাপকতা (العموم)-এর প্রবচনের ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত, আর এই বিষয়ে মতপার্থক্য অচিরেই আসবে ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয়টি হলো, আপত্তিপ্রদানকারী বলেন যে, ইনশাআল্লাহ এতে কোনো সমস্যা নেই যে, আল্লাহ আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন। তবে তাঁকে কি এমন কিছু শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল যা আগে থেকেই পরিচিত ও প্রচলিত (متواضع) ছিল, নাকি তিনি এমন কিছু দিয়ে সূচনা করেছিলেন যা আগে ছিল না—সেটিই হলো মতপার্থক্যের ক্ষেত্র, এবং আয়াতটি স্পষ্টভাবে এটি আলোচনা করে না।
সঠিক (الصحيح) মত হলো, বিষয়টি উভয় সম্ভাবনাই রাখে। সুতরাং এটি ওহী বা ঐশ্বরিক নির্দেশনা (توقيف) ও শিক্ষার মাধ্যমে হওয়া সম্ভব, আবার তা পারস্পরিক রীতি বা ঐকমত্যের (اتفاق) মাধ্যমে হওয়াও সম্ভব।
এর ওপর অকাট্য প্রমাণ (الدليل القاطع) হলো, আমরা একটি শিশুকে তার পিতামাতার কাছ থেকে যা শিখতে দেখি, যে বিষয়ে তারা তার সাথে কোনো পূর্বনির্ধারিত চুক্তিতে আসেনি। সুতরাং, এই প্রত্যক্ষ প্রমাণের পরে সম্পূর্ণ ভাষার মূলে অথবা এর কিছু অংশে শিক্ষা বা প্রচলিত রীতি হওয়া সম্ভব। আর এই দুটি সম্ভাব্য বিষয়ের মধ্যে শরিয়তে এমন কোনো অকাট্য দলিল নেই যার মাধ্যমে যেকোনো একটিকে সুনির্দিষ্ট করা যায়।
দ্বিতীয় উপক্রমণিকা আমাদের উলামাগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) শব্দ বা অভিব্যক্তিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন।
একটি হলো আক্ষরিক অর্থ (الحقيقة) এবং অন্যটি হলো রূপক অর্থ (المجاز)।
সুতরাং আক্ষরিক অর্থ (الحقيقة) হলো সেই শব্দ যা তার মূল ভাষাগত কাঠামোর মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দিষ্ট অর্থকে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَأما الْمجَاز فترددت عبارتهم فِيهِ تردداً يدل على تَقْصِير الْمعرفَة بِهِ وَأقرب عبارَة فِيهِ أَن يُقَال إِنَّه على وَجْهَيْن
أَحدهمَا التَّشْبِيه كَقَوْلِك فِي الشجاع أَسد وَفِي البليد حمَار تَشْبِيها للعاقل بِغَيْر الْعَاقِل
وَالثَّانِي التسبيب وَهُوَ على وَجْهَيْن
أَحدهمَا أَن يعبر عَن الشَّيْء بمقدمته السَّابِقَة لَهُ
وَالثَّانِي أَن يعبر عَنهُ بفائدته
قَالَ ذُو الرمة
(حَتَّى ذَوي الْعود فِي الثرى
… وكف الثريا فِي ملاله الهجر)
فَهَذَا قسم
وَقَالَ ابْن أَحْمد
(كثور الْعَذَاب الْفَرد يضْربهُ الندى
… وتجلى الندى فِي مَتنه وتحددا)
وَقَالَ رويشد الطَّائِي
(وَقل لَهُم بالعدب والتمسوا قولا يبريكم إِنِّي أَنا الْمَوْت وَهُوَ كثير فِي الِاسْتِعَارَة مَوْجُود فِي الْقُرْآن
আর রূপক (مجاز) সম্পর্কে তাদের বর্ণনায় এমন দোদুল্যমানতা প্রকাশ পেয়েছে যা এ বিষয়ে জ্ঞানের অপর্যাপ্ততা নির্দেশ করে। এ সম্পর্কে সবচেয়ে নিকটতর বর্ণনা হলো এটি দুই প্রকারের হয়
প্রথমটি হলো উপমা (تشبيه), যেমন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘সিংহ’ এবং স্থূলবুদ্ধি ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘গাধা’ বলা; যা বুদ্ধিমান সত্তাকে বিবেকহীন সত্তার সাথে সাদৃশ্য প্রদানের অন্তর্ভুক্ত
দ্বিতীয়টি হলো কারণিকতা (تسبيب), যা দুই প্রকারের হয়
একটি হলো কোনো বিষয়কে তার পূর্ববর্তী ভূমিকা বা উপাদানের মাধ্যমে প্রকাশ করা
দ্বিতীয়টি হলো কোনো বিষয়কে তার উপযোগিতা বা ফলাফলের মাধ্যমে প্রকাশ করা
যু-রুম্মাহ বলেছেন
(এমনকি মাটিতে কাষ্ঠল ডালসমূহ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত
… এবং সুরাইয়া নক্ষত্রের হাত যখন বিচ্ছেদের অবসাদে ক্লান্ত হয়ে পড়ে)
এটি একটি প্রকার
ইবনে আহমাদ বলেছেন
(একাকী বন্য ষাঁড়ের মতো যাকে শিশির সিক্ত করে
… এবং তার পিঠে শিশির জমা হয়ে তা স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়)
রুয়াইশিদ আত-তাই বলেছেন
(আর তাদের আদাব-এ বলো এবং এমন কথা সন্ধান করো যা তোমাদের নির্দোষ প্রমাণ করবে; নিশ্চয়ই আমিই মৃত্যু)। এটি রূপক অলঙ্কারের (استعارة) ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রচলিত এবং কুরআনেও বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
السَّابِقَة الثَّالِثَة اخْتلف النَّاس هَل فِي كتاب الله تَعَالَى مجَاز أم لَا؟
فَمَنعه الْأَقَل وَجوزهُ الْأَكْثَر وَمن أجل من مَنعه قدرا الْأُسْتَاذ أَبُو إِسْحَاق الإِسْفِرَايِينِيّ رحمه الله
فَأَما تَحْقِيق هَذِه الْمَسْأَلَة فبابها الْأُصُول الدِّينِيَّة لَكِن مَعَ هَذَا نشِير إِلَى نبذة كَافِيَة فِي غرضنا فَنَقُول
إِن عَنى الْأُسْتَاذ بِنَفْي الْمجَاز نفي الِاسْتِعَارَة فكثير من الْقُرْآن ترد عَلَيْهِ لَا سِيمَا فِي سُورَة يُوسُف عليه السلام فَإِن فِيهَا استعارات عَظِيمَة
وَإِن عَنى بالمجاز أمرا تجوز بِهِ وَلم يجر مجْرى الْحَقِيقَة فَلَيْسَ من الشَّرِيعَة
السَّابِقَة الرَّابِعَة قسم بعض النَّاس الْأَسْمَاء إِلَى قسمَيْنِ لغوية وشرعية
وَقسمهَا بَعضهم إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام لغوية ودينية وشرعية
فاللغوية كالألفاظ الَّتِي انْفَرَدت اللُّغَة بهَا لم يجر لَهَا فِي الشَّرِيعَة ذكر
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (السابقة الثالثة) মহান আল্লাহর কিতাবে রূপক (مجاز) আছে কি নেই, তা নিয়ে আলিমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
অল্পসংখ্যক এটি অস্বীকার করেছেন এবং অধিকাংশ একে জায়েজ বা বৈধ (جوز) বলেছেন। যারা এটি অস্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব হলেন উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী (রাহিমাহুল্লাহ)।
এই মাসআলার বিস্তারিত বিশ্লেষণ মূলত দ্বীনি উসুল (الأصول الدينية) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, তবুও আমরা আমাদের উদ্দেশ্যের প্রেক্ষিতে এখানে একটি পর্যাপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি। আমরা বলি:
উস্তাদ যদি রূপক (مجاز) অস্বীকার করার দ্বারা রূপক অলংকার (استعارة) অস্বীকার করা বুঝিয়ে থাকেন, তবে কুরআনের অনেক আয়াতই তা নাকচ করে দেয়; বিশেষ করে সূরা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে, কারণ এতে মহান রূপক অলংকারসমূহ (استعارات) বিদ্যমান রয়েছে।
আর যদি তিনি রূপক (مجاز) দ্বারা এমন কিছু বুঝিয়ে থাকেন যা মূল সীমা অতিক্রম করে এবং যা আভিধানিক বাস্তবতা (حقيقة) হিসেবে গণ্য নয়, তবে তা শরিয়াহর অন্তর্ভুক্ত নয়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (السابقة الرابعة) কেউ কেউ বিশেষ্যসমূহকে (الأسماء) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: ভাষাগত (لغوية) এবং শরয়ী (شرعية)।
আবার কেউ কেউ এগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: ভাষাগত (لغوية), দ্বীনি (دينية) এবং শরয়ী (شرعية)।
ভাষাগত (لغوية) হলো সেই সকল শব্দ যা শুধুমাত্র ভাষার সাথেই বিশিষ্ট এবং শরিয়াহর পরিভাষায় সেগুলোর কোনো আলোচনা আসেনি।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأما الدِّينِيَّة فكالإيمان وَالْكفْر وَالْفِسْق
وَأما الشَّرْعِيَّة فكالصلاة وَالزَّكَاة وَالصَّوْم
وَفَائِدَة هَذَا الْخلاف أَن الْأَلْفَاظ هَل جَاءَت فِي الشَّرِيعَة على مَعَانِيهَا فِي اللُّغَة أم جَاءَت مُغيرَة
فَمن النَّاس من قَالَ أَنَّهَا مبقاة على اصلها فَإِن الْإِيمَان هُوَ التَّصْدِيق لُغَة وَشرعا وَالصَّلَاة هِيَ الدُّعَاء لُغَة وَشرعا وَالصَّوْم هُوَ الْإِمْسَاك لُغَة وَشرعا وَالْفِسْق هُوَ الْخُرُوج عَن شَيْء لُغَة وَشرعا
وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّهَا منقولة مُغيرَة فَإِن الْإِيمَان وَإِن كَانَ فِي اللُّغَة التَّصْدِيق فَإِنَّهُ مَوْضُوع فِي الشَّرِيعَة على تَصْدِيق مَا على وَجه مَا وَكَذَلِكَ الصَّلَاة فِي الشَّرِيعَة هِيَ عبارَة عَن دُعَاء مقترن بِأَفْعَال كالركوع وَالسُّجُود
وَالصَّحِيح لَا يتَبَيَّن إِلَّا ببسط مُقَدّمَة تغني عَن كثير من التَّطْوِيل وَهِي أننا نقُول بِأَن الشَّرِيعَة تصرفت فِي ألفاظها تصرف أهل اللُّغَة فِي ألفاظهم وَأهل اللُّغَة لما سموا الْمُسَمّى على اللَّفْظ الْجَارِي وقصروه أَيْضا عَلَيْهِ
وَاللَّفْظ الْجَارِي تَارَة عمموه وَتارَة خصصوه
فَالْأول كَقَوْلِنَا دَابَّة فَإِنَّهَا وَإِن كَانَت جَارِيَة فِي كل مَا يدب لَكِنَّهَا مَخْصُوصَة بِبَعْض الْجَارِي عِنْدهم
وكقولهم قَارُورَة فَإِنَّهَا مَقْصُورَة على بعض مَا يسْتَقرّ فِيهِ فَإِن الدَّار لَا تسمى قَارُورَة.
وَالثَّانِي كتسميتهم الْأَذَى غائطا لِأَنَّهُ مَحل لَهُ فتصرفت الشَّرِيعَة على هذَيْن الْوَجْهَيْنِ
আর দ্বীনি (ধর্মীয়) পরিভাষাগুলোর উদাহরণ হলো ইমান, কুফর এবং পাপাচার (الفسق)।
আর শরয়ী (আইনগত) পরিভাষাগুলোর উদাহরণ হলো সালাত, জাকাত এবং সাওম।
এই মতপার্থক্যের ফায়দা (উপকারিতা) হলো—শরিয়তে শব্দগুলো কি তাদের আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে নাকি পরিবর্তিত অর্থে এসেছে?
একদল লোক বলেছেন যে, শব্দগুলো তাদের মূল অর্থের ওপরই বহাল আছে; কেননা আভিধানিক ও শরয়ী উভয় অর্থেই ইমান হলো বিশ্বাস স্থাপন করা, সালাত হলো দোয়া করা, সাওম হলো বিরত থাকা এবং পাপাচার (الفسق) হলো কোনো কিছু থেকে বের হয়ে যাওয়া।
আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এগুলো স্থানান্তরিত ও পরিবর্তিত হয়েছে; কেননা ইমান যদিও আভিধানিক অর্থে বিশ্বাস স্থাপন করা, কিন্তু শরিয়তে একে একটি বিশেষ পদ্ধতির বিশ্বাসের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে, শরিয়তে সালাত হলো এমন এক দোয়ার নাম যা রুকু ও সিজদার মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজের সাথে সম্পৃক্ত।
আর সঠিক (الصحيح) বিষয়টি এমন একটি বিস্তারিত ভূমিকার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে যা দীর্ঘ আলোচনার আবশ্যকতা দূর করবে; আর তা হলো—আমরা বলি যে, শরিয়ত তার শব্দাবলির ব্যবহারে সেরূপই আচরণ করেছে যেরূপ ভাষাবিদগণ তাদের শব্দাবলির ক্ষেত্রে করেছেন। আর ভাষাবিদগণ যখন কোনো নামকে কোনো প্রচলিত শব্দের ভিত্তিতে রেখেছেন, তখন তারা তা সেই নির্দিষ্ট অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
আর প্রচলিত শব্দকে তারা কখনো ব্যাপক করেছেন এবং কখনো বিশেষ করেছেন।
প্রথমটি হলো আমাদের 'দাব্বাহ' (প্রাণী) বলার মতো; কেননা এটি যদিও বিচরণকারী প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, কিন্তু তাদের নিকট তা কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিচরণকারীর জন্য বিশেষায়িত।
এবং তাদের 'কারুরা' (পাত্র) বলার মতো; এটি কেবল এমন কিছু বস্তুর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ যাতে কোনো কিছু স্থির থাকে, অথচ ঘরকে 'কারুরা' বলা হয় না।
আর দ্বিতীয়টি হলো ময়লা-আবর্জনাকে 'গায়েত' হিসেবে নামকরণ করা, কারণ জায়গাটি হলো ময়লার আধার; সুতরাং শরিয়ত এই দুই পদ্ধতিতেই শব্দাবলির ক্ষেত্রে আচরণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فالإيمان وَإِن كَانَ تَصْدِيقًا مُطلقًا فِي اللُّغَة لكنه مَقْصُور كقصر الدَّابَّة وَالْحج وَإِن كَانَ الْقَصْد الْعَام فَهُوَ مَخْصُوص ببقعة كتخصيص القارورة
وَأما الثَّانِي فَقَوله عزوجل (حرمت عَلَيْكُم أُمَّهَاتكُم) فَإِنَّهُ لما كَانَ مَوضِع التَّحْرِيم الْأُم سميت الْأُم سميت بِهِ كَمَا أَنه لما الْغَائِط مَوضِع الْأَذَى سمي بِهِ
السَّابِقَة الْخَامِسَة اخْتلف النَّاس فِي جَرَيَان الْقيَاس فِي اللُّغَة فمنعم من جوزه وَمِنْهُم من مَنعه وَمن الْوَاجِب تَنْقِيح مَحل النزاع حَتَّى يتَبَيَّن النزاع فَنَقُول أما جَرَيَان الْأَفْعَال بِحَسب وُرُود المصادر أَو جَرَيَان المصادر بِحَسب وُرُود الْأَفْعَال على اخْتِلَاف عُلَمَاء النَّحْو فِي هَذَا الأَصْل فَلَا خلاف بِأَنَّهُ جَائِز
وَأما تَسْمِيَة الدَّار فرسا وَنَحْوه فَلَا خلاف فِي أَنه لَا يجوز فَأَما كل لفظ مُشْتَقّ تُوجد الْإِشَارَة إِلَى اشتقاقه فَهَذَا مَا اخْتلف الْعلمَاء فِيهِ وعينوا فِيهِ
مَسْأَلَةوَهِي أَن النَّبِيذ المعتصر من غير الْعِنَب أَو النَّبِيذ المعتصر من الْعِنَب إِذا طبخ هَل يُسمى خمرًا اعْتِبَار أَن فِيهِ معنى الخمرية
فَمن أجل من جوزه الْأُسْتَاذ أَبُو إِسْحَاق الاسفرايني اعْتِبَارا بِالْقِيَاسِ فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة
وَهَذِه وهلة فَإِن الْقيَاس فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة إِنَّمَا جَازَ لقِيَام الدَّلِيل عَلَيْهِ وَلم يقم هَا هُنَا دَلِيل على جَوَازه بل قَامَ على خلَافَة لأَنا نعلم أَن
সুতরাং ঈমান শব্দটির আভিধানিক অর্থ সাধারণভাবে কোনো কিছুকে সত্য বলে মেনে নেওয়া হলেও এটি একটি বিশেষ অর্থে সীমাবদ্ধ, যেমন 'দাব্বাহ' (চতুষ্পদ জন্তু) শব্দটির সীমাবদ্ধতা। তদ্রূপ হজ্জ শব্দের অর্থ সাধারণ সংকল্প বা উদ্দেশ্য হলেও তা একটি বিশেষ স্থানের সাথে নির্দিষ্ট, যেমন 'কারুরা' (কাঁচের পাত্র) শব্দটির বিশেষায়ণ।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর বাণী (তোমাদের জন্য তোমাদের মাতাদের হারাম করা হয়েছে)। এখানে যেহেতু হারামের বিষয়টি মায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই মাতাকে সেই নামেই অভিহিত করা হয়েছে। ঠিক যেমন 'গায়েত' (মল) অপবিত্রতার স্থান হওয়ায় তাকে ওই নামেই নামকরণ করা হয়েছে।
পঞ্চম ভূমিকা ভাষার ক্ষেত্রে কিয়াস বা সাদৃশ্যবিধান (قياس)-এর প্রয়োগ নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বৈধ (جائز) বলেছেন, আবার কেউ কেউ একে নিষিদ্ধ করেছেন। এই বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য বিবাদের মূল ক্ষেত্রটি সংস্কার করা আবশ্যক। আমরা বলি: মূল ধাতু থেকে ক্রিয়াপদের নির্গমন অথবা ক্রিয়াপদ থেকে মূল ধাতুর নির্গমন সম্পর্কে নাহুবিদদের যে মতভেদ রয়েছে— সেই মূলনীতির ভিত্তিতে এর প্রয়োগ বৈধ (جائز) হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।
কিন্তু কোনো ঘরকে ঘোড়া বা অনুরূপ নামে নামকরণ করার বিষয়টি যে বৈধ নয়, সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। তবে এমন প্রতিটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) শব্দ, যার ব্যুৎপত্তির দিকে ইশারা পাওয়া যায়, সে বিষয়েই আলিমগণ মতভেদ করেছেন এবং এতে নিজেদের অবস্থান নির্দিষ্ট করেছেন।
মাসআলাবিষয়টি হলো, আঙুর ব্যতীত অন্য কিছু থেকে নিংড়ানো নাবীয অথবা আঙুর থেকে নিংড়ানো নাবীয যদি জ্বাল দেওয়া হয়, তবে সেটিতে মাদকতার অর্থ বিদ্যমান থাকার বিবেচনায় তাকে কি 'খামর' বা মদ বলা হবে?
যারা একে বৈধ (جائز) বলেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী; তিনি শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس)-এর ওপর ভিত্তি করে এটি বিবেচনা করেছেন।
এটি একটি বড় ভুল; কেননা শরয়ি বিধানে কিয়াস (قياس) কেবল তখনই বৈধ (جائز) হয় যখন তার সপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান থাকে। অথচ এখানে এর বৈধতার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, বরং এর বিপরীতেই প্রমাণ বিদ্যমান। কারণ আমরা জানি যে...
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
القارورة من الِاسْتِقْرَار وَهِي مَخْصُوصَة بذلك وَالدَّار من الدوران وَهِي مَخْصُوصَة بِهِ فِي أَشْيَاء كَثِيرَة لَا سِيمَا وَالْعرب قد استغرقت بِالْبَيَانِ جَمِيع الْمعَانِي بالألفاظ حَتَّى مَا قيل مسكوتا عَنهُ مِنْهُمَا
وَالْقِيَاس قيل فَالْقِيَاس فِي هَذِه الْمَسْأَلَة إِنَّمَا هُوَ فِي حكم الشَّرْعِيّ وَهُوَ حمل النَّبِيذ فِي التَّحْرِيم على الْخمر
فَالْجَوَاب إِن هَذِه غَفلَة فَإِن حمل النَّبِيذ على الْخمر فِي التَّحْرِيم إِنَّمَا يَنْبَغِي على حمل النَّبِيذ على الْخمر فِي الِاسْم وَالْأول وَإِن كَانَ قِيَاسا شَرْعِيًّا فَالثَّانِي قِيَاس لغَوِيّ وَفِيه اخْتَلَفْنَا وَقد بَينا إِنَّه لَا يجوز وَالله أعلم
السَّابِقَة السَّادِسَة صِيغَة النَّفْي وَهِي لَا إِذا اتَّصَلت باسم كَقَوْلِك لَا رجل فِي الدَّار مِمَّا اخْتلفت النَّاس فِيهِ فَصَارَ صائرون إِلَى أَنَّهَا مجملة لَا يسوغ الِاحْتِجَاج بهَا وَمِنْهُم من صَار إِلَى أَنَّهَا عَامَّة وَمِنْهُم من صَار إِلَى أَنَّهَا ظَاهِرَة يجوز التَّمَسُّك بهَا فِي الْأَحْكَام وَالْمَسْأَلَة تتَصَوَّر فِي كثير من الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة بيد أَنا نضرب مِنْهَا مِثَالا وَاحِدًا فَنَقُول
قَالَ النَّبِي لَا صِيَام لمن لم يبيت من اللَّيْل ويروي لمن لم يؤرض فَتعلق بذلك عُلَمَاؤُنَا رضي الله عنهم على أَصْحَاب أبي
'কারুরা' শব্দটি 'ইস্তিকরার' (স্থির হওয়া) থেকে উদ্ভূত এবং এটি নির্দিষ্টভাবে এর জন্যই ব্যবহৃত। আর 'দার' শব্দটি 'দাওরান' (আবর্তন) থেকে উদ্ভূত এবং এটি বহুবিধ বিষয়ে নির্দিষ্ট। বিশেষ করে আরবরা শব্দের মাধ্যমে সমস্ত অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণতা অর্জন করেছে, এমনকি তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিষয় অনুক্ত রাখা হয়েছে—এমন কথা বলা যায় না।
এবং কিয়াস (قياس) প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, এই মাসআলায় কিয়াস (قياس) কেবল শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর তা হলো হারামের বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'নাবিজ'কে (খেজুরের পানীয়) 'খামর' বা মদের ওপর কিয়াস (قياس) করা।
এর উত্তর হলো, এটি একটি অসতর্কতা। কারণ হারামের ক্ষেত্রে নাবিজকে মদের ওপর কিয়াস করা মূলত নামের ক্ষেত্রে নাবিজকে মদের ওপর কিয়াস করার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। প্রথমটি যদি শরয়ি কিয়াস (قياس شرعي) হয়, তবে দ্বিতীয়টি ভাষাগত কিয়াস (قياس لغوي)। আর এই বিষয়েই আমাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে এটি বৈধ নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ না-বোধক শব্দ (صيغة النفي), আর তা হলো 'লা' (لا) যখন কোনো বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়—যেমন আপনার উক্তি 'ঘরে কোনো লোক নেই'। এটি এমন একটি বিষয় যার মধ্যে মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে এটি অস্পষ্ট (مجملة), যার মাধ্যমে দলিল (احتجاج) পেশ করা সংগত নয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি ব্যাপক (عامة)। আবার কারও মতে এটি সুস্পষ্ট (ظاهرة), যার ওপর ভিত্তি করে বিধানের ক্ষেত্রে দলিল গ্রহণ করা বৈধ। এই মাসআলাটি অনেক শরয়ি দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তবে আমরা এখান থেকে কেবল একটি উদাহরণ পেশ করছি এবং বলছি:
নবী বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতের বেলা রোযার নিয়ত করেনি, তার কোনো রোযা নেই।" এবং বর্ণিত (يروى) হয়েছে: "যে ব্যক্তি রোযাকে আবশ্যক করে নেয়নি।" আমাদের ওলামায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই দলিলের ওপর ভিত্তি করে আবু হানিফার অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
حنيفَة فِي قَوْلهم أَن صَوْم رَمَضَان بنية من النَّهَار جَائِز فَقَالُوا لَا حجَّة فِي ذها الحَدِيث فَإِنَّهُ يحْتَمل أَن يُرِيد لَا صِيَام مَوْجُود أَو يحْتَمل أَن يُرِيد لَا صِيَام مجزيا فَيسْقط الِاحْتِجَاج بِهِ لاحْتِمَاله فَقَالَ عُلَمَاؤُنَا رحمهم الله لَا يَصح أَن يكون المُرَاد بِهَذَا النَّفْي نفي الْوُجُود لِأَن النَّبِي لم يبْعَث لبَيَان الحسيات فيتصرف فِيهَا بِنَفْي أَو إِثْبَات وَإِنَّمَا بعث لبَيَان الشرعيات فَإِذا أثبت شَيْئا فمنعاه ثُبُوته فِي الشَّرْع وَإِذا نفى شَيْئا فمنعاه نَفْيه فِي الشَّرْع فَكَأَنَّهُ قَالَ لَا صِيَام شَرْعِيًّا لمن لم يبيت من اللَّيْل فَإِذا نَفَاهُ شرعا فَلم يبْق للْقَوْم حجَّة وَلَكِن مَال حبر من أحبارنا إِلَى أَن الْإِجْمَال يبْقى فِيهِ وَإِن كَانَ مَعْنَاهُ لَا صِيَام شَرْعِيًّا لِأَنَّهُ يتَرَدَّد بَين نفي الْأَجْزَاء وَبَين نفي الْفَضِيلَة وسنستقصي ذَلِك فِي كتاب التَّأْوِيل إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَإِنَّمَا جعلنَا هَذَا الدستور فِي السوابق حَتَّى يرد على مَا يتَّصل بِهِ من اللواحق بِمَشِيئَة الله تَعَالَى
السَّابِقَة السَّابِعَة صِيغَة الْإِثْبَات اتَّصَلت بالنكرات أَو المعارف فَهِيَ للخصوص كَقَوْلِك كرم رجلا وَلَا خلاف فِي هَذَا اللَّهُمَّ إِلَّا أَنَّهَا إِذا تناولت الِاسْم فِي هَذَا الْبَاب فَهِيَ على قسمَيْنِ
أَحدهمَا أَن يتَعَلَّق الحكم باسم جامد أَو يتَعَلَّق الحكم باسم مُشْتَقّ فَإِذا تعلق باسم جامد كَقَوْلِك أكْرم هَذَا
وَإِذا تعلق باسم مُشْتَقّ كَقَوْلِك أكْرم الْعَالم واحترم الشَّيْخ فَهَذَا يُفِيد مَعْنيين أَحدهمَا يُفِيد بَيَان الحكم وَهُوَ الْإِكْرَام وَالثَّانِي بَيَان الْعلَّة وَهِي
হানিফাহর অনুসারীদের মতে রমজানের রোজা দিনের বেলা নিয়ত করা বৈধ (جائز)। তারা বলেন যে, এই হাদিসে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে এখানে 'কোনো রোজা নেই' দ্বারা অস্তিত্বহীনতা বোঝানো হয়েছে অথবা সম্ভাবনা রয়েছে যে এখানে 'কোনো রোজা গ্রহণযোগ্য (مجزي)' নয় তা বোঝানো হয়েছে। ফলে এর সম্ভাব্যতার কারণে এটি দ্বারা দলিল পেশ করা (احتجاج) বাতিল হয়ে যায়। আমাদের উলামায়ে কেরাম (رحمهم الله) বলেন যে, এই নাকচকরণ (نفي) দ্বারা অস্তিত্বের অনস্তিত্ব বোঝানো সঠিক নয়; কারণ নবী (সা.) বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলি বর্ণনার জন্য প্রেরিত হননি যে তিনি তাতে কোনো কিছু নফি (نفي) বা ইসবাত (إثبات) করবেন। বরং তিনি শরয়ি বিষয়াবলি বর্ণনার জন্য প্রেরিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যখন কোনো কিছু সাব্যস্ত করেন, তার অর্থ হলো শরয়িভাবে তার অস্তিত্ব থাকা; আর যখন কোনো কিছু নাকচ করেন, তার অর্থ হলো শরয়িভাবে তার অস্তিত্ব না থাকা। সুতরাং বিষয়টি যেন এমন যে, তিনি বলেছেন: 'যে রাতে নিয়ত করেনি তার কোনো শরয়ি রোজা নেই'। যখন তিনি শরয়িভাবে তা নাকচ করে দিলেন, তখন তাদের পক্ষে আর কোনো দলিল (حجة) অবশিষ্ট থাকল না। তবে আমাদের পণ্ডিতগণের মধ্য থেকে কেউ কেউ মনে করেন যে, এখানে অস্পষ্টতা (إجمাল) বিদ্যমান থাকে, যদিও এর অর্থ ‘কোনো শরয়ি রোজা নেই’ হয়; কারণ এটি গ্রহণযোগ্যতা (إجزاء) নাকচ করা এবং ফাজিলত (فضيلة) নাকচ করার মাঝে দোদুল্যমান থাকে। আমরা ইনশাআল্লাহ কিতাবুত তাবিল-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা এই মূলনীতিটি এই পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছি যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী বিষয়গুলোর সাথে এর সংযোগ স্থাপিত হয়।
সপ্তম সূত্র ইতিবাচক রূপ (صيغة الإثبات) যখন অনির্দিষ্ট (نكرة) বা নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা বিশেষীকরণের (خصوص) অর্থ প্রদান করে। যেমন আপনার উক্তি: 'একজন ব্যক্তিকে সম্মান করো'। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে শর্ত হলো, যখন তা এই পরিচ্ছেদে কোনো বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তা দুই প্রকার।
প্রথমটি হলো হুকুম কোনো অজাত (جامد) বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া অথবা হুকুম কোনো ব্যুৎপন্ন (مشتق) বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। যখন তা অজাত (جامد) বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'একে সম্মান করো'।
আর যখন তা ব্যুৎপন্ন (مشتق) বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'আলেমকে সম্মান করো' এবং 'শায়খকে শ্রদ্ধা করো', তখন তা দুটি অর্থ প্রদান করে। এর একটি হলো হুকুমের বর্ণনা—আর তা হলো সম্মান করা; এবং দ্বিতীয়টি হলো কারণ (علة) বর্ণনা করা—আর তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْعلم والشيخوخة فَيُفِيد بِلَفْظِهِ الحكم ويفيد بِمَعْنَاهُ التَّعَدِّي إِلَى كل عَالم وَشَيخ ومثاله فِي الشَّرِيعَة قَوْله تَعَالَى (وَالسَّارِق والسارقة فَاقْطَعُوا أَيْدِيهِمَا) مَعْنَاهُ لسرقتهما (والزانية وَالزَّانِي فاجلدوا كل وَاحِد مِنْهُمَا مائَة جلدَة) مَعْنَاهُ لزناهما وَسَيَأْتِي بمستقصى فِي كتاب التَّأْوِيل إِن شَاءَ الله تَعَالَى
السَّابِقَة الثَّامِنَة انقسمت الْأَسْمَاء فِي اللُّغَة فِي دلالتها على الْمعَانِي إِلَى قسمَيْنِ
حد أأحدهما أأأأاتليبت لط أأأأايبتلاتنسي بالتنيباتنلا يتلاتيبال يبتنللا يبت أَحدهمَا مَا يدل على معنى وَاحِد لَا يشْتَرك مَعَه فِيهِ سواهُ وَذَلِكَ كثير فِي اللُّغَة
وَالثَّانِي مَا يدل على مَعْنيين وَهُوَ على قسمَيْنِ
أَحدهمَا أَن يكون المعنيان حقيقيين كَقَوْلِك عين فَإِنَّهُ يدل بِحكم الِاشْتِرَاك على أَكثر من ثَمَانِيَة أَشْيَاء
وكقولنا قرء فَإِنَّهُ يدل على مَعْنيين مُخْتَلفين هما الْحيض وَالطُّهْر
وَالثَّانِي أَن يكون أَحدهمَا حَقِيقَة وَالْآخر مجَازًا كَقَوْلِنَا لمس وَنِكَاح فَإِنَّهُ حَقِيقَة فِي اللَّمْس بِالْيَدِ كِنَايَة عَن الْجِمَاع وَالنِّكَاح حَقِيقَة فِي الْوَطْء كِنَايَة عَن العقد فَهَذَا مِمَّا اخْتلف الْعلمَاء فِيهِ
জ্ঞান ও বার্ধক্য, যা তার শব্দ দ্বারা বিধান (الحكم) প্রদান করে এবং তার মর্ম দ্বারা প্রতিটি আলেম ও বয়োবৃদ্ধের ক্ষেত্রে বিধানটির সম্প্রসারণ (التعدي) বুঝায়। শরিয়তে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (চোর ও চোরনী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও), যার অর্থ হলো তাদের চুরির কারণে। এবং (ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো), যার অর্থ হলো তাদের ব্যভিচারের কারণে। অচিরেই 'কিতাবুত তাবিল'-এ বিস্তারিতভাবে এটি আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।
অষ্টম ভূমিকা ভাষাগত দিক থেকে অর্থের ওপর নির্দেশের ভিত্তিতে বিশেষ্যসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথমটি হলো যা কেবল একটি অর্থকেই নির্দেশ করে যার মধ্যে অন্য কেউ শরিক হয় না; ভাষায় এর উদাহরণ অনেক।
দ্বিতীয়টি হলো যা দুটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং এটি আবার দুই প্রকার।
এর একটি হলো যার উভয় অর্থই প্রকৃত (حقيقي), যেমন আপনার বলা 'আইন' (عين), কারণ এটি সমার্থকতার (الاشتراك) ভিত্তিতে আটটিরও বেশি বস্তুর ওপর নির্দেশ করে।
এবং যেমন আমাদের বলা 'কুরু' (قرء), যা ঋতুস্রাব (حيض) ও পবিত্রতা (طهر) নামক দুটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থের ওপর নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়টি হলো যার একটি অর্থ প্রকৃত (حقيقة) এবং অপরটি রূপক (مجاز); যেমন আমাদের বলা 'লামস' (স্পর্শ করা) ও 'নিকাহ' (বিবাহ)। 'লামস' শব্দটি হাত দিয়ে স্পর্শ করার ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) এবং তা সহবাসের জন্য পরোক্ষ অর্থ (كناية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর 'নিকাহ' শব্দটি সহবাসের ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) এবং তা বিয়ের চুক্তির জন্য পরোক্ষ অর্থ (كناية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَمنهمْ من صَار إِلَى حمله على الْجَمِيع وَقَالَ إِنَّه يجوز أَن يُرِيد الْمعبر بِهَذِهِ الْأَلْفَاظ جَمِيع مَا تتناوله من الْمعَانِي على اخْتِلَاف أَنْوَاعهَا أَو اتقانها
وَمِنْهُم من قَالَ ذَا كَانَت الماني متمائلة فَكَذَلِك جَائِز وَأما إِذا كَانَت مُخْتَلفَة كالقرء وَالنِّكَاح فَإِنَّهُ لَا يجوز للمعبر أَن يُرِيدهُمَا مَعًا فِي عبارَة وَاحِدَة لِأَنَّهُمَا مُخْتَلِفَانِ فَلَا يجوز أَن يقْصد الْمعبر بهما مَعَانِيهَا الْمُخْتَلفَة كَمَا لَا يجوز أَن يُرِيد بِصِيغَة افْعَل الْوَعيد وَالْوُجُوب لاختلافها وَهَذَا ضَعِيف وسنشبع القَوْل فِيهِ فِي كتاب التَّأْوِيل إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَلَكِن نشِير إِلَى نكنة تكسر المتشوف إِلَى معرفَة الصَّحِيح فِي هَذَا فَنَقُول لَا يَصح للنَّاظِر أَن يَدعِي اسْتِحَالَة فِي قصد الْمعبر بِالِاسْمِ الْوَاحِد عَن جَمِيع مَعَانِيه على اخْتِلَافهمَا ويعمها الحكم كُله جَازَ أَن يقصدهما فِي الْإِثْبَات فَهَذَا ظَاهر
وَأما تعلقهم بِأَن الصِّيغَة هِيَ فعل لَا يَصح أَن يُرِيد بهَا الْوُجُوب والتهديد فَإِنَّمَا امْتنع ذَلِك لِاسْتِحَالَة تعلق الْقَصْد بهما فِي حَالَة وَاحِدَة من جِهَة وَاحِدَة بِخِلَاف مَسْأَلَتنَا فَإِنَّهُ يَصح أَن يجتمعا فِي اللَّفْظ وَالْقَصْد فَلذَلِك جَازَ وَالله أعلم
السَّابِقَة التَّاسِعَة وَهِي اللَّفْظ الصَّرِيح إِذا احْتمل الشَّيْء وضده فَلَا يَخْلُو أَن يكون احتمالهما سَوَاء أَو يكون فِي أحد المحتملين أظهر فَإِن كَانَ فِي أحد المحتملين أظهر فَهُوَ الظَّاهِر فَلَا خلاف فِي صِحَة التَّعْلِيق بِهِ فِي الْأَحْكَام وَإِن كَانَ الِاحْتِمَال وَاحِدًا فَهُوَ الْعُمُوم وَسَيَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ إِن كَانَ خلافين
তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সামগ্রিক অর্থে গ্রহণ করার মত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন যে, বচনকারের জন্য এই শব্দগুলোর মাধ্যমে তার অন্তর্ভুক্ত সকল অর্থকে উদ্দেশ্য করা বৈধ, চাই তার প্রকারভেদ ভিন্ন হোক বা তার গঠনশৈলী সুসংহত হোক।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যদি অর্থগুলো সদৃশ হয় তবে তাও বৈধ। কিন্তু যদি সেগুলো ভিন্ন হয়—যেমন ‘কুরু’ এবং ‘নিকাহ’—তবে বচনকারের জন্য একই বাক্যে উভয়টিকে উদ্দেশ্য করা বৈধ নয়; যেহেতু সেগুলো পরস্পর ভিন্ন। তাই বচনকারের জন্য সেগুলোর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয়, যেমনটি ‘ইফআল’ শব্দরূপ (صيغة) দিয়ে একই সাথে সতর্কবাণী এবং আবশ্যকতা (وجوب) বোঝানো বৈধ নয়; কারণ তারা ভিন্ন। তবে এই অভিমতটি দুর্বল (ضعيف) এবং আমরা ‘কিতাবুত তাবীল’-এ ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
তবে আমরা এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছি যা এই বিষয়ে সঠিক (صحيح) সমাধানটি জানার আগ্রহকে প্রশমিত করবে। আমরা বলছি, একজন পর্যালোচনাকারীর জন্য এটি দাবি করা সঠিক নয় যে, বচনকারের পক্ষ থেকে একটি শব্দের মাধ্যমে তার সকল ভিন্ন ভিন্ন অর্থ উদ্দেশ্য করা অসম্ভব। আর বিধানটি যখন সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে, তখন ইতিবাচকতা (إثبات) এর ক্ষেত্রে উভয়টিকে উদ্দেশ্য করা বৈধ; আর এটিই সুস্পষ্ট (ظاهر)।
আর তাদের এই যুক্তি যে—শব্দরূপ (صيغة) এর মাধ্যমে একই সাথে আবশ্যকতা (وجوب) এবং হুমকি বোঝানো সঠিক নয়—তা কেবল এই কারণে নিষিদ্ধ যে, একই অবস্থায় একই দিক থেকে উভয়টিকে উদ্দেশ্য করা অসম্ভব। কিন্তু আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এখানে শব্দ এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে উভয়টির সমন্বয় হওয়া সম্ভব। তাই এটি বৈধ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
নবম পরিচ্ছেদ তা হলো সুস্পষ্ট শব্দ (لفظ صريح), যখন তা কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত উভয়টির সম্ভাবনা রাখে। সেক্ষেত্রে সেই দুই সম্ভাবনার মাত্রা হয় সমান হবে অথবা কোনো একটি সম্ভাবনা অধিকতর প্রবল হবে। যদি কোনো একটি সম্ভাবনা অধিকতর প্রবল হয়, তবে সেটিই সুস্পষ্ট (ظاهر)। সুতরাং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এর ওপর ভিত্তি করার শুদ্ধতা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। আর যদি সম্ভাব্যতা একই পর্যায়ের হয়, তবে তা হলো ব্যাপক অর্থবোধকতা (عموم)। ইনশাআল্লাহ সামনে এর ব্যাখ্যা আসবে। একইভাবে যদি তা দুটি ভিন্ন বিষয় হয় তবেও একই নিয়ম।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
السَّابِقَة الْعَاشِرَة الْكَلَام فِي اللُّغَة يَنْقَسِم إِلَى اللَّفْظ وَإِلَى الْمَعْنى
أما اللَّفْظ فَهُوَ الْمعبر عَن الْمَعْنى فَلَا غنى عَنهُ على سبق بَيَانه وَأما الْمَعْنى فَهُوَ المُرَاد بِاللَّفْظِ وسنبرم فيهمَا عقدين يظْهر الْمَقْصُود بهما إِن شَاءَ الله تَعَالَى
العقد الأول فِي شرح اللَّفْظ فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
الْكَلم يقسم إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام اسْم وَفعل وحرف وَلم يقل الْكَلَام ن الْكَلَام هُوَ الْمُفْهم وَلَا يَقع الإفهام إِلَّا بِالْجُمْلَةِ وَالْجُمْلَة تتركب من اسْمَيْنِ وتتركب من اسْم وَفعل وتتركب من شَرط وَجَزَاء كَقَوْلِك إِن جئتني أكرمتك وَلَيْسَ تتركب من حرف وَاسم وَإِن وجدت فلنيابة الْحَرْف عَن الْفِعْل ودلالته وَاحِد وَذَلِكَ فِي بَاب وَاحِد وَهُوَ النداء خَاصَّة وَقد يُقيد الْكَلَام باسم وَاحِد وَذَلِكَ فِي جَوَاب الِاسْتِفْهَام الْمُحَقق الْمُقدر
فالاسم الْكَلَام باسم وَاحِد على معنى غير مشْعر بِزَمَان يخْتَص بِهِ
وَالْفِعْل كل مَا دلّ على معنى وزمان مَعًا وَهُوَ يَنْقَسِم بانقسام الزَّمَان مَاض تقضي وحاضر أَنْت فِيهِ ومستقبل تستأنفه
فالماضي مَا لم يكن فِي أَوله حرف زَائِد والآخران مَا كَانَ فِي أَولهمَا إِحْدَى الزَّوَائِد وَهِي حرف الْمَدّ اللين أَصْلهَا الْيَاء تَقول يقوم زيد وَثَانِيها التَّاء وَهِي بدل من الْوَاو فِي قَوْلك تقوم أَنْت والإبدال فِي مثل هَذَا كثير شَائِع والهمزة فِي قَوْلك أقوم بدل من الإلف لِأَنَّهَا جعلت سَاكِنة لَا يُمكن النُّطْق بهَا وَالنُّون فِي قَوْلك نقوم نَحن ملتحقة بهَا لِأَن فِيهِ غنة فألحقوها بأختها وينفصل الْحَاضِر من الْمُسْتَقْبل باقتران
দশম উপক্রমণিকা (السابقة العاشرة) ভাষাতত্ত্বে বক্তব্য (الكلام) শব্দ (اللفظ) ও অর্থ (المعنى) —এই দুই ভাগে বিভক্ত।
শব্দের (اللفظ) ক্ষেত্রে বলা যায় যে, এটি হলো অর্থের প্রকাশ মাধ্যম, তাই এর প্রয়োজনীয়তা পূর্বেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর অর্থ (المعنى) হলো শব্দ (اللفظ) দ্বারা যা উদ্দেশ্য করা হয়। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা এই উভয় বিষয়ে দুটি পরিচ্ছেদ (عقدين) বিন্যস্ত করব, যার মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে।
প্রথম পরিচ্ছেদ (العقد الأول) শব্দ (اللفظ)-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে; আমরা বলছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি:
পদ (الكلم) তিন প্রকার: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। লেখক এখানে 'বক্তব্য বা বাক্য (الكلام)' বলেননি, কারণ বাক্য (الكلام) হলো তা যা অর্থ বা বোধ প্রদান করে। আর পূর্ণ বাক্য (الجملة) ব্যতিরেখে অর্থ প্রকাশ পায় না। একটি পূর্ণ বাক্য (الجملة) দুটি বিশেষ্য (اسم) নিয়ে গঠিত হয়, অথবা একটি বিশেষ্য (اسم) ও একটি ক্রিয়া (فعل) নিয়ে গঠিত হয়, কিংবা শর্ত (شرط) ও প্রতিদান (جزاء) নিয়ে গঠিত হয়; যেমন আপনার উক্তি: "যদি তুমি আমার কাছে আসো, তবে আমি তোমাকে সম্মান করব"। বাক্য (الكلام) কখনো অব্যয় (حرف) ও বিশেষ্য (اسم) দ্বারা গঠিত হয় না; তবে যদি এমনটি পাওয়া যায়, তবে তা অব্যয়টি (حرف) ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে এবং একই অর্থ নির্দেশ করার কারণে হয়। এটি কেবল একটি অধ্যায়েই ঘটে, আর তা হলো সম্বোধন (النداء)। কখনো কখনো বাক্য (الكلام) একটি মাত্র বিশেষ্য (اسم) দ্বারা সীমাবদ্ধ হতে পারে, যা সুনিশ্চিত বা উহ্য কোনো প্রশ্নের উত্তরে ঘটে থাকে।
বিশেষ্য (اسم) হলো এমন শব্দ দ্বারা গঠিত বক্তব্য (الكلام), যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়াই অর্থ প্রকাশ করে।
আর ক্রিয়া (فعل) হলো যা একই সাথে অর্থ ও সময় উভয়টি নির্দেশ করে। সময়ের বিভাজন অনুযায়ী এটিও বিভক্ত: অতীত (ماضي) যা অতিবাহিত হয়েছে, বর্তমান (حاضر) যাতে আপনি অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যৎ (مستقبل) যা আপনি পরবর্তীতে শুরু করবেন।
অতীত (ماضي) হলো এমন রূপ যার শুরুতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ (حرف زائد) থাকে না। আর শেষোক্ত দুটি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) হলো যার শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণগুলোর কোনো একটি থাকে; আর তা হলো 'মাদ ও লিন'-এর হরফ যার মূল হলো 'ইয়া (الياء)', যেমন আপনি বলেন: 'জায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে' (يقوم زيد)। দ্বিতীয়টি হলো 'তা (التاء)', যা 'ওয়াও (الواو)'-এর পরিবর্তে আসে; যেমন আপনার উক্তি: 'তুমি দণ্ডায়মান হচ্ছ' (تقوم أنت), আর এই ধরণের বর্ণ বিনিময় (الإبدال) অত্যন্ত প্রচলিত ও সাধারণ বিষয়। 'আকুমু' (أقوم) শব্দে হামজাহ (الهمزة) হলো আলিফ (الألف)-এর পরিবর্তে, কারণ একে সাকিন বা স্থির করা হয়েছে যা উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। আর 'নাকুমু' (نقوم) শব্দে 'নুন (النون)' তার সাথে যুক্ত হয়েছে কারণ এতে গুন্নাহ (غنة) রয়েছে, তাই তারা একে তার সমজাতীয় বর্ণের সাথে যুক্ত করেছে। বর্তমান (الحاضر) কাল ভবিষ্যৎ (المستقبل) থেকে পৃথক হয়... [সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে]
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قَوْلك الْآن لِأَنَّك تَقول أقوم يحْتَمل الْحَاضِر والمستقبل فَإِذا قلت الْآن حصلته للحضور
وَأما الْحَرْف فَهُوَ مَا يُفِيد معنى فِي غَيره والأسماء على ضَرْبَيْنِ مَبْنِيَّة ومعربة فالمبنية كَقَوْلِك من وَكَيف وَإِنَّمَا سمي مَبْنِيا لثُبُوته على حَرَكَة وَاحِدَة تَشْبِيها بِالْبِنَاءِ لَا غير
والمعرب على ضَرْبَيْنِ مُتَمَكن وَأمكن فالمتمكن كعمرو والأمكن كزيد
وَأما الْحَرْف فَهُوَ مَا يُرَاد لغيره وَيدل على الْمَعْنى فِيهِ وَهُوَ على قسمَيْنِ مَقْطُوع وموصول
فَأَما الْمَقْطُوع فَهُوَ حُرُوف المعجم السالمة عبارَة ووصفا عَنْهَا المثبتة معنى كَمَا تقدم فِيهَا وأمهاتها فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهَا خَمْسَة
أَولهمَا الْبَاء وَقد غلط فِيهَا كثير من الْعلمَاء وظنوها للتبغيض وَذَلِكَ خطأ بَين أما أَنَّهَا قد تكون صلَة للأفعال فِي قَوْلك خذت وَنَصَحْت وشكرت وَنَحْوه وَالَّذِي أوجب ذَلِك قَوْله سُبْحَانَهُ (وأمسحوا برؤؤسكم) فزعموا أَنَّهَا تفِيد التبغيض هَا هُنَا بَينا فِي كتاب الْأَحْكَام أَنَّهَا من بَاب الْمَفْهُوم عكساً كَقَوْل الشَّاعِر
(وعصفت بالكثتين عصف الأئمد
… وَذَلِكَ لحكمة بديعة بَيَانهَا فِي موضعهَا)
আপনার বক্তব্য 'এখন', কারণ আপনি যখন বলেন 'আমি দাঁড়াচ্ছি', তখন তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় কালের সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং যখন আপনি 'এখন' বলেন, তখন আপনি একে বর্তমানের জন্য নির্দিষ্ট করলেন।
আর অব্যয় (حرف) হলো যা অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রদান করে। আর বিশেষ্যসমূহ দুই প্রকার: অপরিবর্তনীয় (مبني) এবং পরিবর্তনশীল (معرب)। অপরিবর্তনীয় (مبني) যেমন আপনার উক্তি 'কে' (من) এবং 'কেমন' (كيف)। একে অপরিবর্তনীয় (مبني) নামকরণ করা হয়েছে কেবল একটি হারাকাতের ওপর স্থির থাকার কারণে যা নির্মাণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, অন্য কিছু নয়।
আর পরিবর্তনশীল (معرب) শব্দ দুই প্রকার: সুপ্রতিষ্ঠিত (متمكن) এবং অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত (أمكن)। সুপ্রতিষ্ঠিত (متمكن) যেমন 'আমর' এবং অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত (أمكن) যেমন 'যায়েদ'।
আর অব্যয় (حرف) হলো যা অন্যের জন্য উদ্দেশ্য হয় এবং তাতে বিদ্যমান অর্থের দিকে নির্দেশ করে। এটি দুই প্রকার: বিচ্ছিন্ন (مقطوع) এবং সংযুক্ত (موصول)।
বিচ্ছিন্ন (مقطوع) হলো বর্ণমালার সেই অক্ষরসমূহ যা বর্ণনা ও গুণাগুণের দিক থেকে অবিকৃত এবং যা অর্থ সাব্যস্তকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এগুলোর মূল ভিত্তি পাঁচটি।
তার প্রথমটি হলো 'বা' (ب)। অনেক আলেম এ ব্যাপারে ভুল করেছেন এবং তারা ধারণা করেছেন যে এটি আংশিকতা (تبعيض) বুঝানোর জন্য আসে। এটি একটি স্পষ্ট ভুল। মূলত এটি ক্রিয়াসমূহের জন্য সংযোজক (صلة) হতে পারে, যেমন আপনার উক্তি— 'আমি গ্রহণ করেছি', 'আমি উপদেশ দিয়েছি', 'আমি শুকরিয়া আদায় করেছি' এবং এই জাতীয় শব্দে। যে বিষয়টি তাদের এই ধারণায় বাধ্য করেছে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো"। তারা মনে করেছে যে এখানে এটি আংশিকতা (تبعيض) অর্থ প্রদান করে। আমরা 'কিতাবুল আহকাম'-এ ব্যাখ্যা করেছি যে এটি বিপরীত অর্থ বা মাফহুম (مفهوم عكسا) পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি কবির উক্তিতে পাওয়া যায়—
(এবং তিনি দুই গুচ্ছ চুলের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বাতাসের মতো বয়ে গেলেন
… আর এটি একটি চমৎকার হিকমতের কারণে যা তার যথাস্থানে বর্ণিত হয়েছে।)
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الثَّانِي الْوَاو وَقد غلط فِيهَا جمَاعَة من الْعلمَاء حَتَّى اعتقدوها للتَّرْتِيب وَهِي لَا تَقْتَضِي جمعا وَلَا ترتيبا
وَالدَّلِيل على صِحَة ذَلِك دُخُولهَا حَيْثُ يَسْتَحِيل التَّرْتِيب وَهُوَ بَاب المفاعلة بيد أَنَّهَا فِي بَاب الْعَطف تدل على تقدم الأهم فالأهم وَلذَلِك قَالَ وَقد وقف على الصَّفَا نبدأ بِمَا بَدَأَ الله بِهِ
وَأما الْفَاء فَهِيَ للتعقيب وَمن ضرورتها التَّرْتِيب وَمن روابطها التسبيب وَهِي ثَلَاثَة مرتبطة
وَمَا ثمَّ فقد غلط فِيهَا بعض عُلَمَائِنَا فَقَالَ إِن ثمَّ تَقْتَضِي المهلة فِي موضعهَا وَقد تَأتي لغير ذَلِك كَقَوْل الشَّاعِر
(كهز الرديني تَحت العجاج
… جرى فِي الأنابيب ثمَّ اضْطربَ)
فَجعل الِاضْطِرَاب بعد الهز وَهُوَ هُوَ وَمَعَهُ وَأبْعد من هَذِه قَول الشَّاعِر
(إِن من سَاد ثمَّ سَاد أَبوهُ
… ثمَّ قد سَاد بعد ذَلِك جده)
وَالصَّحِيح من القَوْل الَّذِي يبين الْمَعْنى ويكشف جَوَاب السُّؤَال ثمَّ لَا تكون أبدا إِلَّا التَّرْتِيب والمهلة على بَابهَا فِي كل مَوضِع إِلَّا أَنَّهَا تذكر لترتيب الْمعَانِي وَقد تذكر لترتيب الْكَلَام
وَأما الْخَامِس فَهُوَ الْكَاف وَهُوَ أَن كَانَ مُفردا مَقْطُوعًا فَإِنَّهُ مَوْصُول الْمَعْنى لِأَنَّهُ مَوْضُوع للتبيخ وَهُوَ معنى مستقيل بيد أَن بَعضهم قد رام أَن
দ্বিতীয়ত ‘ওয়াও’ (الواو) অক্ষরটি। এ বিষয়ে একদল আলেম ভুল করেছেন, এমনকি তারা এটিকে ক্রমের (للترتيب) জন্য নির্ধারিত বলে বিশ্বাস করেছেন; অথচ এটি না কোনো একত্রিকরণ (جمعا) আর না কোনো ক্রমের (ترتيبا) দাবি রাখে।
এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ হলো এমন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যেখানে ক্রম (الترتيب) অসম্ভব, আর তা হলো মুফাআলাহ (المفاعلة) অধ্যায়। তবে এটি আতাফ বা সংযোজন (العطف) এর ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার প্রদানের নির্দেশ দেয়। এ কারণেই নবী (সা.) সাফা পাহাড়ে দণ্ডায়মান হয়ে বলেছিলেন: "আমরা তা দিয়েই শুরু করব যা দ্বারা আল্লাহ শুরু করেছেন।"
আর ‘ফা’ (الفاء) অক্ষরটি অব্যবহিত পর্যায়ক্রমের (للتعقيب) জন্য ব্যবহৃত হয়, যার অন্যতম আবশ্যিক দাবি হলো ক্রম (الترتيب)। এর একটি সংশ্লিষ্ট দিক হলো কার্যকারণ সম্পর্ক (التسبيب); আর এই তিনটি বিষয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আর ‘সুম্মা’ (ثم) এর ব্যাপারে আমাদের কতিপয় আলেম ভুল করে বলেছেন যে, ‘সুম্মা’ সর্বদা তার নিজ অবস্থানে বিলম্ব বা বিরতি (المهلة) দাবি করে। অথচ এটি কখনও কখনও এর ব্যতিক্রম অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তি:
(ধূলিঝড়ের নিচে রুদাইনি বল্লম সঞ্চালনের মতো
… যা নলগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলো এবং অতঃপর আন্দোলিত হলো)
এখানে তিনি সঞ্চালনের পর আন্দোলনকে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি মূলত অভিন্ন এবং সঞ্চালনের সাথেই ঘটে। এর চেয়েও দূরবর্তী উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:
(নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি যে নেতৃত্ব প্রদান করল, এরপর তার পিতা নেতৃত্ব দিলেন
… অতঃপর তার দাদাও তার পরে নেতৃত্ব দিলেন)
বিশুদ্ধ কথা যা প্রকৃত অর্থকে সুস্পষ্ট করে এবং জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদান করে তা হলো: ‘সুম্মা’ (ثم) সর্বদা তার মূল অর্থ অর্থাৎ ক্রম (الترتيب) এবং বিরতির (المهلة) জন্যই আসে, তবে কখনও কখনও তা অর্থের ক্রম (لترتيب المعاني) বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও বক্তব্যের ধারাবাহিকতা (لترتيب الكلام) প্রকাশের জন্য আসে।
আর পঞ্চমটি হলো ‘কাফ’ (الكاف); এটি যদি একক ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে তবুও অর্থের দিক থেকে এটি সংযুক্ত, কারণ এটি তুলনার (للتشبيه) জন্য নির্ধারিত এবং এটি একটি স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে। তবে তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
يكون حرفا مَقْطُوعًا وَزعم إِنَّه قد جَاءَ زَائِدا لذَلِك فِي قَوْله تَعَالَى (لَيْسَ كمثله شيئ) وَفِي قَول الشَّاعِر
(وصاليات ككما يوبقين)
وَالْكَاف فِي هذاين المثالين حرف معنى مُسْتَقل مُفِيد وَقد بَينا ذَلِك فِي كتاب المشكلين
وَأما الْحُرُوف الموصولة فَهِيَ كَثِيرَة جدا لَكنا نذْكر أمهاتها خَمْسَة عشر حرفا لابتغاء الْأَحْكَام عَلَيْهَا وَتعلق الْفَتْوَى بهَا
أَولهَا أما وَهُوَ حرف وضع لتجريد عَنهُ من توقع الِاشْتِرَاك فِي الْخَبَر وَهُوَ مركب من حرفين أَن وَمَا
وجعلوه فِي الإفادة نَائِبا وناب حرف الشَّرْط وَالْفِعْل الْمُتَّصِل بِهِ وَلذَلِك دخلت فِي جَوَابه الْفَاء تَقول أما زيد فمنطلق التَّقْدِير مهما يكن من شَيْء فزيد منطلق وَوجه تركيبها وتفصيلها وَاسْتِيفَاء الْكَلَام عَلَيْهَا وعَلى أخواتها اللَّاتِي يَأْتِين بعْدهَا مُبين فِي ملجئة المتفقهين
الثَّانِي إِنَّمَا وَهِي كلمة مفيدة للنَّفْي وَالْإِثْبَات مركبة من إِن وَمَا وَعبارَة أهل سَمَرْقَنْد فِيهَا إِنَّهَا حرف مَوْضُوع لتحقيق الْمُتَّصِل وتلحيق الْمُنْفَصِل
এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مقطوع) অক্ষর হতে পারে এবং দাবি করা হয়েছে যে, এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে অতিরিক্ত (زائد) হিসেবে এসেছে: 'লাইসা কামিসলিহি শাইয়ুন' (তাঁর সদৃশ কিছুই নেই) এবং কবির উক্তিতে:
(ওয়াসালিয়াতিন কাকামা ইউবাকিনা)
এই দুটি উদাহরণে 'কাফ' অক্ষরটি একটি স্বতন্ত্র ও অর্থবোধক (حرف معنى) অক্ষর। আমরা এটি কিতাবুল মুশকিলাইন গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
আর সংযুক্ত অক্ষরগুলোর (الحروف الموصولة) সংখ্যা অনেক, তবে বিধান (أحكام) অন্বেষণ এবং ফতোয়ার (فتوى) সংশ্লিষ্টতার খাতিরে আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে প্রধান পনেরটি অক্ষর উল্লেখ করছি।
প্রথমটি হলো আম্মা (أما) এটি এমন একটি অক্ষর যা সংবাদের (خبر) মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত করার জন্য গঠন করা হয়েছে। এটি 'আন' (أن) এবং 'মা' (ما)—এই দুটি অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত।
অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে তারা এটিকে স্থলাভিষিক্ত (نائب) সাব্যস্ত করেছেন এবং এটি শর্তের অব্যয় (حرف الشرط) ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। একারণেই এর জওয়াবে (উত্তরে) 'ফা' (فاء) যুক্ত হয়। যেমন আপনি বলেন, 'আম্মা যায়দুন ফা-মুনতালিকুন'। এর মূল পাঠ হলো—'মাহমা ইয়াকুন মিন শাইয়িন ফাযায়দুন মুনতালিকুন'। এর গঠনরীতি, বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং এর পরবর্তী সমজাতীয় শব্দগুলোর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা মুলজিআতুল মুতাফাক্কিহীন গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো ইন্নামা (إنما) এটি না-বাচকতা (نفي) ও হ্যাঁ-বাচকতা (إثبات) উভয় অর্থ প্রদানকারী একটি শব্দ, যা 'ইন্না' (إن) এবং 'মা' (ما) এর সমন্বয়ে গঠিত। সমরকন্দী আলেমদের পরিভাষায় এটি এমন একটি অক্ষর যা সংযুক্ত বিষয়কে সুদৃঢ় করার (تحقيق المتصل) এবং বিচ্ছিন্ন বিষয়কে জুড়ে দেওয়ার (تلحيق المنفصل) জন্য গঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَعبارَة أهل الْعرَاق إِنَّهَا مَوْضُوعَة لتخصيص الْمخبر عَنهُ بالْخبر قَالَ تَعَالَى (إِنَّمَا الله إِلَه وحد) وَقَالَ إِنَّمَا الْكَرِيم يُوسُف وَقَالَت الْعَرَب إِنَّمَا الشجاع عنترة
الثَّالِث مَا وَلها أحد عشر موضعا أَصْلهَا النَّفْي وَالْإِثْبَات فَمن فروع الْإِثْبَات أَنَّهَا تكون بِمَعْنى من قَالَه أَبُو عبد الله المغربي وَاحْتج بقوله تَعَالَى (وَالسَّمَاء وَمَا بناها) وَأنكر بَعضهم إِنْكَاره وَإِنَّمَا هِيَ بِمَعْنى الَّذِي بِمَعْنى من فأسقط أَبُو عبد الله الْوَاسِطَة وَهِي الَّذِي وَقَالَ إِنَّهَا بِمَعْنى من ذَلِك فَاسد للقانون اللّغَوِيّ
الْحَرْف الرَّابِع أَو وَقد عد أَصْحَابنَا لَهَا مَوَاضِع سَبْعَة أَو ثَمَانِيَة أمهاتها موضعان أَحدهمَا التَّرَدُّد وَالْآخر التَّفْصِيل وَيدخل تَحت قَوْلنَا التَّرَدُّد التَّخْيِير
وللتخيير خَمْسَة شُرُوط تَأتي فِي بَاب الْأَمر بِالْوَاحِدِ من أَشْيَاء على التَّخْيِير إِن شَاءَ الله تَعَالَى
ইরাকী বিশেষজ্ঞদের পরিভাষা অনুযায়ী, এটি (ইন্নামা) সংবাদপ্রদত্ত বিষয়কে সংবাদের সাথে নির্দিষ্ট করার জন্যই প্রবর্তিত (موضوعة) হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: (আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ)। এবং বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই ইউসুফ হলেন মহৎ। আর আরবরা বলেছে: নিশ্চয়ই আন্তারাহ হলেন বীর।
তৃতীয়: মা (ما) এর এগারোটি ব্যবহারের ক্ষেত্র রয়েছে। এর মূল উৎস হলো না-বোধকতা (نفي) এবং হ্যাঁ-বোধকতা (إثبات)। হ্যাঁ-বোধকতার একটি শাখা হলো এটি ‘কে বা যে’ (من) এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া; এটি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবী বলেছেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী—"শপথ আসমানের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন"—দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। কেউ কেউ তাঁর এই মতকে অস্বীকার করেছেন; মূলত এটি ‘যা বা যিনি’ (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা ‘কে বা যে’ (من) এর অর্থ প্রদান করে। ফলে আবু আব্দুল্লাহ মধ্যবর্তী মাধ্যম অর্থাৎ ‘যা বা যিনি’ (الذي)-কে বিলুপ্ত করে সরাসরি একে ‘কে বা যে’ (من) এর অর্থে গণ্য করেছেন; ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মানুযায়ী তা অশুদ্ধ (فاسد)।
চতুর্থ বর্ণ: আও (أو) আমাদের পণ্ডিতগণ এর জন্য সাতটি বা আটটি ব্যবহারের ক্ষেত্র গণনা করেছেন। এগুলোর মূল উৎস দুটি: একটি হলো সংশয় (تردد) এবং অন্যটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ (تفصيل)। আমাদের সংশয় (تردد) সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হলো পছন্দের স্বাধীনতা (تخيير)।
পছন্দের স্বাধীনতার (تخيير) জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা একাধিক বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট করার আদেশ (الأمر) সংক্রান্ত অধ্যায়ে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْحَرْف الْخَامِس حرف من قَالَ عُلَمَاؤُنَا هِيَ لابتداء الْغَايَة تَارَة وللتبغيض أُخْرَى وَرَأَيْت أَبُو بكر بن السراج رحمه الله قَالَ فِي شَرحه لكتاب سِيبَوَيْهٍ رحمه الله إِنَّهَا لَا تكون إِلَّا لابتداء الْغَايَة وَأَنَّهَا لَا تكون للتبغيض بِحَال وَهَذَا الَّذِي قَالَه صَحِيح المَال فَإِن كَانَ تبغيض ابْتِدَاء غَايَة وَلَيْسَ كل ابْتِدَاء غَايَة تبغيض
الْحَرْف السَّادِس هَل وَهِي أم حُرُوف الِاسْتِفْهَام وَمَا وَرَاءَهَا من حُرُوف الِاسْتِفْهَام تال لَهَا وَقد ظن بعض النَّاس إِنَّهَا بِمَعْنى قد فِي قَوْله تَعَالَى (هَل أَتَى على الْإِنْسَان حِين من الدَّهْر) وَالصَّحِيح إِنَّهَا على بَابهَا فِي هَذَا الْموضع وسواه وَلَكِن قد تكون بِمَعْنى التَّقْرِير لِأَنَّهُ اسْتِفْهَام مُقَرر فَهُوَ بِمَنْزِلَة الْمُحَقق
الْحَرْف السَّابِع الْألف وَاللَّام قَالَ عُلَمَاؤُنَا إِنَّهَا ترد للحصر فِي قَوْله تَعَالَى المَال الْإِبِل وَالنَّاس الْعَرَب وَالَّذِي يَعْتَقِدهُ أَرْبَاب الصِّنَاعَة إِنَّهَا تَارَة تكون لبَيَان الْجِنْس وَتارَة لبَيَان الْعَهْد والحصر من مقتضيات الْجِنْس وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي إِنَّه سُئِلَ عَن أكْرم النَّاس فَقَالَ الْكَرِيم بن الْكَرِيم بن الْكَرِيم يُوسُف بن يَعْقُوب بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم قَالُوا لَيْسَ عَن هَذَا نَسْأَلك قَالَ
পঞ্চম বর্ণ: ‘মিন’ অব্যয় আমাদের আলেমগণ বলেছেন যে, এটি কখনও প্রারম্ভিক সীমা বোঝাতে এবং কখনও আংশিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আমি আবু বকর ইবনে আস-সাররাজ (রহ.)-কে সিবওয়াইহ (রহ.)-এর কিতাবের ব্যাখ্যায় বলতে দেখেছি যে, এটি কেবল প্রারম্ভিক সীমা বোঝাতেই ব্যবহৃত হয় এবং কোনো অবস্থাতেই আংশিকতা বোঝাতে আসে না। তিনি যা বলেছেন তার পরিণতি সঠিক (صحيح); কেননা আংশিকতাও এক প্রকার প্রারম্ভিক সীমা, তবে প্রতিটি প্রারম্ভিক সীমাই আংশিকতা নয়।
ষষ্ঠ বর্ণ: ‘হাল’ এটি হলো প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহের মূল, আর এর পরবর্তী অন্যান্য প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহ এর অনুসারী। কিছু লোক ধারণা করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী—"মানুষের ওপর কি এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি"—এই আয়াতে এটি ‘কাদ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সঠিক (صحيح) বিষয়টি হলো, এটি এই স্থানে এবং অন্য সকল স্থানে তার নিজস্ব অর্থেই বিদ্যমান। কিন্তু এটি কখনও স্বীকৃতি প্রদানের অর্থে হতে পারে, কারণ এটি একটি সুনিশ্চিত প্রশ্ন, যা প্রমাণের সমতুল্য।
সপ্তম বর্ণ: আলিফ এবং লাম আমাদের আলেমগণ বলেছেন যে, এটি সীমাবদ্ধকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী—"সম্পদ হলো উট এবং মানুষ হলো আরব"। আর শাস্ত্রবিশারদগণ মনে করেন যে, এটি কখনও শ্রেণি বা জাতি বর্ণনার জন্য এবং কখনও পূর্বপরিচিতি প্রকাশের জন্য আসে; আর সীমাবদ্ধকরণ হলো জাতিগত অর্থের অনিবার্য দাবি। নবী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "সম্মানিতর পুত্র সম্মানিত, তার পুত্র সম্মানিত—ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম"। তাঁরা বললেন: "আমরা আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছি না", তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَعَن معادن الْعَرَب تسئلوني قَالُوا نعم قَالَ خيارهم فِي الْجَاهِلِيَّة خيارهم فِي الْإِسْلَام إِذا فقهوا
الْحَرْف الثَّامِن لَو وَهُوَ حرف يرد فِي لِسَان الْعَرَب لِامْتِنَاع الشَّيْء لِامْتِنَاع غَيره وَلَا معنى لَهُ سواهُ وَقد ظن إِنَّه يرد بِمَعْنى إِن فِي قَوْله تَعَالَى (وَلَو أَعجبتكُم) قَالُوا الْمَعْنى هُنَا وَإِن أعجبكم وَهَذَا لَيْسَ بِصَحِيح بل هُوَ على بَابهَا وَقد بَينا ذَلِك فِي كتاب الْأَحْكَام
الْحَرْف التَّاسِع لَوْلَا وَهُوَ حرف يدل على امْتنَاع الشَّيْء لثُبُوت غَيره وَقد اخْتلف النَّاس فِي لَو لَوْلَا هَل يفتقران إِلَى جَوَاب أم لَا
وَالصَّحِيح افتقارهما إِلَيْهِ وَقد تخرج لَوْلَا عَن هَذَا الْبَاب الَّذِي حددناه بِهِ فَتكون بِمَعْنى التَّرْغِيب وَلَا تفْتَقر حِينَئِذٍ إِلَى جَوَاب اتِّفَاقًا
الْحَرْف الْعَاشِر إِلَى وَهُوَ مَوْضُوع لبَيَان الْغَايَة وَهِي إِذا اتَّصَلت بِمن وانتظم الْكَلَام بهَا كَانَت حدا فَلَا يَخْلُو أَن تكون من جنس الْمَحْدُود أَو من غير جنسه فَإِن كَانَت من جنسه دخل فِيهِ وَإِن كَانَ من غير جنسه وقف عِنْده وَقد ظن بَعضهم أَنَّهَا تكون بِمَعْنى مَعَ وَهُوَ غلط بَين لَا تَقْتَضِيه اللُّغَة وَلَا تدل عَلَيْهِ الشَّرِيعَة وَغسل الْمرَافِق لم يكن بِمُقْتَضى إِلَى وَإِنَّمَا كَانَ بِالدَّلِيلِ الَّذِي بَيناهُ فِي كتاب الْإِنْصَاف
তোমরা কি আমাকে আরবের খনিসমূহ (মূল উৎস) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন: জাহেলি যুগে তাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলামেও তারাই শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করে।
অষ্টম অব্যয়: লাও (لَوْ) এটি এমন একটি অব্যয় যা আরবদের ভাষায় কোনো কিছুর অসম্ভবতা অন্য একটি বিষয়ের অসম্ভবতার কারণে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ছাড়া এর অন্য কোনো অর্থ নেই। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে এটি মহান আল্লাহর বাণী "যদিও তা তোমাদের চমৎকার লাগে (وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ)" এর মধ্যে 'ইন' (إِنْ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা বলেন যে এখানে অর্থ হলো: "আর যদিও তোমাদের কাছে চমৎকার লাগে"। তবে এটি সঠিক (صحيح) নয়; বরং এটি তার নিজস্ব অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা 'কিতাবুল আহকাম'-এ এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি।
নবম অব্যয়: লাওলা (لَوْلَا) এটি এমন একটি অব্যয় যা অন্য কোনো বিষয়ের বিদ্যমানতার কারণে কোনো কিছুর অসম্ভাব্যতা নির্দেশ করে। 'লাও' (لَوْ) এবং 'লাওলা' (لَوْلَا) শব্দ দুটির উত্তরের (জওয়াব) প্রয়োজন আছে কি নেই—এ বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন।
এবং সঠিক (صحيح) মত হলো যে উভয়েরই উত্তরের প্রয়োজন হয়। তবে কখনো কখনো 'লাওলা' (لَوْلَا) আমরা যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছি তার বাইরে ব্যবহৃত হয়; তখন এটি উৎসাহ প্রদানের (ترغيب) অর্থে আসে এবং তখন সর্বসম্মতভাবে আর উত্তরের প্রয়োজন হয় না।
দশম অব্যয়: ইলা (إِلَى) এটি গন্তব্য বা সীমানা (গায়াত) বর্ণনার জন্য নির্ধারিত। যখন এটি 'মিন' (مِنْ) এর সাথে যুক্ত হয় এবং বাক্য সুসংগঠিত হয়, তখন তা একটি সীমা নির্দেশ করে। এক্ষেত্রে বিষয়টি হয় সীমায়িত বস্তুর স্বগোত্রীয় হবে অথবা ভিন্ন জাতীয় হবে। যদি তা স্বগোত্রীয় হয় তবে তা সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে, আর যদি ভিন্ন জাতীয় হয় তবে সীমার পূর্বেই তা সমাপ্ত হবে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে এটি 'মাআ' (مَعَ) অর্থে ব্যবহৃত হয়; এটি একটি স্পষ্ট ভুল যা ভাষা বা শরিয়ত কোনোটিই সমর্থন করে না। কনুই ধৌত করার বিষয়টি 'ইলা' (إِلَى) অব্যয়ের কারণে আবশ্যক হয়নি; বরং তা সেই দলিলের ভিত্তিতে হয়েছে যা আমরা 'কিতাবুল ইনসাফ'-এ বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْحَرْف الْحَادِي عشر بلَى وَهِي لاستدراك الْمَنْفِيّ بِجَوَاب نفي يقْتَرن بِهِ اسْتِفْهَام وَهِي بديلة نعم وَلَا يَصح أَن تكون مَعهَا حَتَّى قَالَ عُلَمَاؤُنَا لَو قَالَ بَنو آدم فِي جَوَاب قَول رَبهم (أَلَسْت بربكم) نعم لكفروا لِأَنَّهُ كَانَ يكون إِثْبَاتًا لما سئلوا عَنهُ وَهِي نفي الربوبية
الْحَرْف الثَّانِي عشر على وَهِي تكون على ثَلَاثَة أنحاء
وَالْأول الِاسْم تَقول أَخَذته من على الدَّابَّة
وَتَكون فعلا فَتَقول أَخَذته من على الدَّابَّة
وَتَكون حرفا فِي قَوْلك عَلَوْت عَلَيْهِ
قَالَ لنا الطوسي رحمه الله قَالَ لنا الإِمَام أَبُو عبد الله المغربي رحمه الله لَا تكون على فعلا أبدا وَإِن أُرِيد بهَا الْفِعْل فَلَيْسَتْ تِلْكَ وَإِن شابهتها فِي الصُّورَة
والمقدر الَّذِي يتَعَلَّق بِهِ الْفِقْه فِي ابتناء الْأَحْكَام فقد بَيناهُ وَمَا تقدم من وَقَول أبي عبد الله المغربي بحث نحوي لسنا الْآن لَهُ
الْحَرْف الثَّالِث عشر حَتَّى وَهِي حرف مَوْضُوع للغاية الْمَحْضَة لكنه قد يكون عطفا وخاصيتها إِذا كَانَت عطفا أَلا تعطف إِلَّا بَين الجنسين وَقد تكون للاستئناف فيتضمن
একাদশ বর্ণ (حرف): বালা (بلى) এটি নাবোধক (منفي) বাক্যের সংশোধনের (استدراك) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রশ্নবোধক অব্যয়ের সাথে যুক্ত থাকে। এটি 'না’আম' (نعم) এর বিকল্প, তবে এর সাথে 'না’আম' (نعم) হওয়া শুদ্ধ নয়। এমনকি আমাদের আলিমগণ বলেছেন, যদি বনী আদম তাদের রবের বাণীর উত্তরে—"আমি কি তোমাদের রব নই?"—'না’আম' (نعم) বলত, তবে তারা কুফরি করত। কারণ সেক্ষেত্রে এটি জিজ্ঞাসিত বিষয়ের স্বীকৃতি হতো, আর তা হলো প্রভুত্ব অস্বীকার (نفي) করা।
দ্বাদশ বর্ণ (حرف): আলা (على) এটি তিনভাবে হতে পারে:
প্রথমটি হলো বিশেষ্য (اسم); আপনি বলবেন: ‘আমি এটি চতুষ্পদ জন্তুর উপর থেকে নিয়েছি’।
এটি ক্রিয়া (فعل) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; আপনি বলবেন: ‘আমি এটি চতুষ্পদ জন্তুর উপর থেকে নিয়েছি’।
আবার আপনার এই উক্তিতে এটি অব্যয় (حرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়: ‘আমি তার উপর আরোহণ করেছি’।
তুসী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের বলেছেন যে, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের বলেছেন: ‘আলা’ (على) কখনোই ক্রিয়া (فعل) হয় না। যদি এর দ্বারা ক্রিয়া বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে সেটি এই শব্দ নয়, যদিও তা বাহ্যিক রূপের দিক থেকে এর সদৃশ।
বিধিবিধান (أحكام) নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফিকহ (فقه) সংশ্লিষ্ট যে প্রাক্কলিত (مقدر) বিষয় রয়েছে, তা আমরা বর্ণনা করেছি। আর আবু আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবীর পূর্বোক্ত কথাটি হলো একটি ব্যাকরণিক (نحوي) আলোচনা, যা বর্তমানে আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
ত্রয়োদশ বর্ণ (حرف): হাত্তা (حتى) এটি একটি অব্যয় (حرف) যা নিছক প্রান্তিকতা বা শেষসীমা (غاية) বুঝানোর জন্য নির্ধারিত। তবে এটি সংযোজক অব্যয় (عطف) হিসেবেও হতে পারে। এটি সংযোজক (عطف) হওয়ার বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কেবল সমজাতীয় দুইয়ের মাঝেই সংযোজন ঘটায়। আবার এটি প্রারম্ভিক (استئناف) অব্যয় হিসেবেও হতে পারে, যা অন্তর্ভুক্ত করে...
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
عطف الْجمل معنى وَلَا يَصح أَن يتَوَهَّم لَهَا معنى من رفع أَو إِزَالَة سوى الْغَايَة
الْحَرْف الرَّابِع عشر مذ وَهُوَ مَوْضُوع للإيصال بِالزَّمَانِ أَو مَا يكون فِي حكم الزَّمَان لَيْسَ للمكان فِيهِ مدْخل وَإِن اتَّصل بِمَا يتَوَهَّم عَن هَذَا فَهِيَ رَاجِعَة إِلَيْهِ عِنْد التَّحْقِيق وَذَلِكَ بَين فِي مَوْضِعه
الْحَرْف الْخَامِس عشر إِلَّا وَهِي أم حُرُوف الِاسْتِثْنَاء وَهِي عندنَا لبَيَان مُرَاد الْمخبر فِيمَا سبق قبلهَا من الْخَبَر وَذَلِكَ نوع من الْعُمُوم وَالْخُصُوص وَله أَبْوَاب ومسائل يكثر تعدادها سَيَأْتِي بَيَانهَا فِي موَاضعهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَا أ / اأم أما القَوْل فِي الْمَعْنى
وَهُوَ الْمَقْصُود الْأَكْبَر من غرضنا وَعَلِيهِ يَنْبَغِي الْكتاب كُله
فَنَقُول إِن الْكَلَام فِي اللُّغَة على ضَرْبَيْنِ مهمل ومستعمل
فالمهمل كل قَول نظم من حُرُوف المعجم نظما لَا يُفِيد فِي لُغَة الْعَرَب شَيْئا
والمستعمل على ضَرْبَيْنِ مِنْهُ مَا يُفِيد فِي غير مَا وضع لَهُ كالألقاب وَمِنْه مَا يُفِيد فِيمَا وضع لَهُ وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ مجَاز وَحَقِيقَة وَقد تقدم بيانهما وكل كَلَام يُفِيد مَا وضع لَهُ بَين المتخاطبين لَا بُد لَهُ من شُرُوط كثير عَددهَا مِنْهَا أصلان كبيران
বাক্যের অর্থগত সংযোগ; এবং লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ব্যতীত এর জন্য বিলোপ বা অপসারণের অন্য কোনো অর্থ কল্পনা করা সঠিক নয়।
চতুর্দশ বর্ণ: মুয এটি সময়ের সাথে অথবা সময়ের বিধানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্ধারিত, স্থানের এতে কোনো প্রবেশাধিকার নেই। যদি এটি এমন কিছুর সাথে যুক্ত হয় যা দ্বারা অন্য কিছু ধারণা করা হয়, তবে সূক্ষ্ম অনুসন্ধানে তা সময়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং এটি তার স্ব-স্থানে সুস্পষ্ট।
পঞ্চদশ বর্ণ: ইল্লা এটি ব্যতিরেক বা ইতিস্তাসনা-এর মূল বর্ণ। আমাদের নিকট এটি সংবাদদাতার সেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত সংবাদে গত হয়েছে। এটি সাধারণতা (عموم) এবং বিশেষত্ব (خصوص)-এর একটি প্রকার। এর বহু অধ্যায় ও মাসআলা রয়েছে যা সংখ্যায় প্রচুর, ইনশাআল্লাহ তাআলা যথা স্থানে সেগুলোর বর্ণনা আসবে।
অর্থের আলোচনা প্রসঙ্গে
এটিই আমাদের উদ্দেশ্যের প্রধান লক্ষ্য এবং এর ওপরই সমগ্র কিতাবটি বিন্যস্ত হওয়া সমীচীন।
আমরা বলি যে, ভাষার ক্ষেত্রে বাক্য (কালাম) দুই প্রকার: অব্যবহৃত (مهمل) এবং ব্যবহৃত (مستعمل)।
অব্যবহৃত (مهمل) হলো সেই শব্দ যা বর্ণমালার বিন্যাসে গঠিত কিন্তু আরবি ভাষায় কোনো অর্থ প্রদান করে না।
আর ব্যবহৃত (مستعمل) দুই প্রকার: এর একটি হলো যা তার মূল অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমন উপাধি; আর অন্যটি যা তার নিজস্ব মূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এটি আবার দুই প্রকার: রূপক (مجاز) এবং প্রকৃত (حقيقة); ইতিপূর্বে এ দুটির বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যে সকল বাক্য কথোপকথনকারীদের মধ্যে তার নিজস্ব মূল অর্থ প্রকাশ করে, তার জন্য অনেকগুলো শর্ত থাকা আবশ্যক, যার মধ্যে দুটি বড় মূলনীতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
أَحدهمَا إِنَّه لَا بُد من إِرَادَة الْمُخَاطب إِفَادَة الْمُخَاطب معنى مَا فَإِن لم يرد ذَلِك كَانَ القَوْل عَبَثا إِلَّا على وَجه بَيناهُ فِي مَوْضِعه
الثَّانِي أَن يُرِيد إفادته مَقْصُور الْخطاب وَالْمرَاد بِهِ بِمَا يَصح فهمه لَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْبَيَان وَله حَقِيقَة ومراتب تجمعهما مسَائِل خمس
الْمَسْأَلَة الأولى فِي حَقِيقَة الْبَيَان قَالَ الصَّيْرَفِي وَكَانَ من عُلَمَاء الْأُصُول
وَهُوَ إِخْرَاج الشَّيْء من حيّز الْإِشْكَال إِلَى حيّز التجلي
وَهَذَا ضَعِيف فَإِن الحيز والتجلي لفظان مشكلان فَكيف يتَبَيَّن بهما وَقَالَ آخَرُونَ
الْبَيَان هُوَ الْعلم وَهَذَا ضَعِيف لِأَنَّهُ لَو اطرد لانعكس وَلَا يَصح أَن يُقَال الْعلم هُوَ الْبَيَان فَإِنَّهُ لَا يَصح ذَلِك فِيهِ إِذْ الْبَيَان والتبين يَقْتَضِي سبق استبهام فَيخرج عَنهُ علم الله تَعَالَى
وَقَالَ قَائِلُونَ الْبَيَان هُوَ الظُّهُور يُقَال بَان لي أَمر كَذَا وَبَانَتْ الْمَرْأَة من زَوجهَا وَالصديق من صديقه وَهُوَ ظُهُور على وَجه مَا فرقت بَين ذَلِك كُله المصادر وَهَذَا الْحَد وَإِن كَانَ يحوم على الْحَقِيقَة لكنه مُشْتَرك بَين الْأَجْسَام والمعاني
وَالصَّحِيح مَا حد بِهِ أَبُو الباقلاني رحمه الله لِسَان الْأمة قَالَ الْبَيَان هُوَ الدَّلِيل وَهَذَا صَحِيح لفظا وَمعنى طردا وعكسا
এর মধ্যে প্রথমটি হলো এই যে, বক্তার অবশ্যই শ্রোতাকে কোনো একটি অর্থ বোঝানোর উদ্দেশ্য থাকতে হবে। যদি তিনি তা ইচ্ছা না করেন, তবে কথাটি নিরর্থক হবে, কেবল আমরা যা অন্য স্থানে ব্যাখ্যা করেছি সেই প্রেক্ষিত ব্যতীত।
দ্বিতীয়টি হলো, তিনি শ্রোতাকে সম্বোধনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বোঝাতে চাইবেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তার পক্ষে বোঝা সঠিক হয়। আর এটিই হলো স্পষ্টীকরণ (البيان)। এর প্রকৃত রূপ ও বিভিন্ন স্তর রয়েছে যা পাঁচটি মাসআলা বা বিষয় একত্রিত করেছে।
প্রথম মাসআলা: স্পষ্টীকরণের (البيان) প্রকৃত রূপ প্রসঙ্গে উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত আল-সাইরাফি বলেছেন:
তা হলো কোনো বস্তুকে অস্পষ্টতার (إشكال) গণ্ডি থেকে স্পষ্টতার (تجلي) গণ্ডিতে বের করে আনা।
কিন্তু এই মতটি দুর্বল (ضعيف); কারণ গণ্ডি (الحيز) এবং স্পষ্টতা (التجلي) শব্দ দুটি নিজেই অস্পষ্ট, তবে সেই দুটির মাধ্যমে কীভাবে স্পষ্টীকরণ সম্ভব? অন্যান্যরা বলেছেন:
স্পষ্টীকরণ (البيان) হলো জ্ঞান (العلم)। এটিও দুর্বল (ضعيف); কারণ যদি তা সংজ্ঞার শর্তে সংগতিপূর্ণ (اطرد) হতো তবে তা বিপরীতভাবেও (انعكس) প্রযোজ্য হতো। অথচ 'জ্ঞানই হলো স্পষ্টীকরণ' বলা সঠিক নয়; কারণ এতে তা প্রযোজ্য হয় না, যেহেতু স্পষ্টীকরণ (البيان) ও স্পষ্ট হওয়া (التبين) এর পূর্বে অস্পষ্টতা থাকা আবশ্যক, ফলে মহান আল্লাহর জ্ঞান এর বহির্ভূত হয়ে পড়ে।
অন্য একদল বলেছেন: স্পষ্টীকরণ (البيان) হলো প্রকাশ পাওয়া (الظهور)। বলা হয়: আমার কাছে অমুক বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, কিংবা স্ত্রী তার স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অথবা বন্ধু তার বন্ধু থেকে। এটি এক প্রকার প্রকাশ পাওয়া যা এই সবকিছুর মাঝে মাসদার বা মূলশব্দ দ্বারা পার্থক্য করা হয়েছে। এই সংজ্ঞাটি যদিও প্রকৃত সত্যের (الحقيقة) চারপাশেই আবর্তিত হয়, তবে এটি বস্তুগত দেহ ও অর্থগত বিষয়ের মাঝে সাধারণ (مشترك)।
আর সঠিক (صحيح) হলো সেটিই, যার মাধ্যমে উম্মতের মুখপাত্র আবু বকর আল-বাকিল্লানি (রহ.) সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: স্পষ্টীকরণ (البيان) হলো প্রমাণ (الدليل)। আর এটি শব্দ ও অর্থগতভাবে এবং সংজ্ঞার শর্তানুসারে সঠিক (صحيح)।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فِي مراتبه أول من رتبها الشَّافِعِي رضي الله عنه قَالَ هُوَ على خمس مَرَاتِب
أَولهَا مَا يُدْرِكهُ الْعَوام الجفلى كَقَوْلِه تَعَالَى (فَصِيَام ثَلَاثَة أَيَّام فِي الْحَج وَسَبْعَة إِذا رجعتم تِلْكَ عشرَة كَامِلَة)
الثَّانِي مَا يُدْرِكهُ الْخَواص من أولى الحجى كآية الْوضُوء فَإِنَّهَا تحْتَاج لى معارف كَثِيرَة مِنْهَا الْوَاو وَالْفَاء وَغير ذَلِك
الثَّالِث مَا تولى الله تَعَالَى تَنْزِيله وَوَقعت الإحالة على النَّبِي فِي بَيَانه كَقَوْلِه تَعَالَى (وَأقِيمُوا الصَّلَاة وءاتوا الزَّكَاة) وَكَقَوْلِه سُبْحَانَهُ (وَأحل الله البيع وَحرم الرِّبَا) فِي أحد الْقَوْلَيْنِ
الرَّابِع مَا تولى النَّبِي بَيَان أَصله وَوَصفه كَحَدِيث عبَادَة لَا تَبِيعُوا الذَّهَب إِلَى آخِره
الْخَامِس الْقيَاس وَقد رد عَلَيْهِ جمَاعَة من الْعلمَاء هَذَا التَّرْتِيب بِتَرْكِهِ للْإِجْمَاع وَهُوَ من أعظم الْأُصُول وَذكروا ترتيبها على وَجه يطول وَالَّذِي يفتقرون إِلَيْهِ الْآن
দ্বিতীয় মাসআলা: এর স্তরসমূহ (مراتب) প্রসঙ্গে সর্বপ্রথমে ইমাম শাফিঈ (রা.) একে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি পাঁচটি স্তরে (مراتب) বিভক্ত।
প্রথম স্তর: যা সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে অনুধাবন করতে পারে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর হজের দিনগুলোতে তিন দিন রোজা রাখবে এবং যখন তোমরা ফিরে আসবে তখন সাত দিন; এই হলো পূর্ণ দশ দিন।)
দ্বিতীয় স্তর: যা কেবল প্রজ্ঞাবান ও বিদগ্ধজনরাই অনুধাবন করতে পারেন, যেমন ওজুর আয়াত; কেননা এটি অনুধাবনের জন্য অনেক গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন, যেমন 'ওয়াও' (الواو) এবং 'ফা' (الفاء)-এর ব্যবহার ও অন্যান্য বিষয়াদি।
তৃতীয় স্তর: যেটির অবতরণ আল্লাহ তাআলা নিজেই করেছেন, কিন্তু এর বর্ণনার (بيان) দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নবী (সা.)-এর ওপর। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা নামাজ কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো) এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন)—এটি দুই মতের একটি মত অনুযায়ী।
চতুর্থ স্তর: যেটির মূল ভিত্তি এবং বিবরণ স্বয়ং নবী (সা.) বর্ণনা (بيان) করেছেন; যেমন উবাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস: (তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করো না...) শেষ পর্যন্ত।
পঞ্চম স্তর: কিয়াস (القياس) একদল আলেম এই বিন্যাসের সমালোচনা করেছেন। কারণ তিনি এতে ইজমা (الإجماع)-কে বাদ দিয়েছেন, অথচ এটি অন্যতম প্রধান মূলনীতি (الأصول)। তাঁরা এর বিন্যাস দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন, যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল মাহসুল লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فِي هَذِه العجالة أَنا قدمنَا أَن الْبَيَان هُوَ الدَّلِيل فمراتب الْبَيَان كمراتب الْأَدِلَّة وأصل الْأَدِلَّة فِي غرضنا هَذَا كتاب الله تَعَالَى ثمَّ بعد ذَلِك تتنوع إِلَى مَا تنشأ عَنهُ فمرتبته بِحَسب قربه مِنْهُ كَقَوْلِه النَّبِي فَإِنَّهُ يَلِيهِ وَإِجْمَاع الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم فَإِنَّهُ يَلِيهِ وَإِجْمَاع الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم فَإِنَّهُ تالية وَكَلَام الله تَعَالَى الْمنزل علينا بِاللِّسَانِ الْعَرَبِيّ يخْتَلف بِحَسب اخْتِلَاف اللِّسَان الَّذِي نزل بِهِ فالنص أَعْلَاهُ وَالظَّاهِر تلوه وَهَكَذَا كلما تَبَاعَدت فِي الْأَمريْنِ جَمِيعًا تفاوتت ومدركها لَا يتَبَيَّن إِلَّا بمباشرتها
الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة فِي تَأْخِير الْبَيَان عَن وَقت الْحَاجة وَقد اتّفق الجفلى على أَن ذَلِك لَا يجوز لِأَنَّهُ تَكْلِيف مَالا يُطَاق وَلما تكَرر ذكر ذَلِك فِي الْكتب اتّفق عَلَيْهِ الْعلمَاء قَدِيما وحديثا وَلم يعرف فِيهِ نزاع من موالف وَلَا مُخَالف لاحظته مرّة فَظهر لي إِن ذَلِك جَائِز وَلَا يكون من بَاب تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق بل يكون رفعا للْحكم واسقاطا لَهُ
الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة تَأْخِير الْبَيَان إِلَى وَقت الْحَاجة زعمت طَائِفَة أَنه لَا يجوز معظمهم من الْمُعْتَزلَة وباقيهم من سَائِر المبتدعة وَالدَّلِيل على جَوَازه أَنه لَا اسْتِحَالَة فِي أَن يَقُول السَّيِّد لعَبْدِهِ خطّ لي هَذَا الثَّوْب غَدا فَإِذا من الْغَد يبين لَهُ الْكَيْفِيَّة وتعسا للمعتزلة فَإِنَّهُم قَالُوا إِن النّسخ بَيَان لانقضاء مُدَّة الْعِبَادَة فَكيف أَنْكَرُوا مَا جوزوا
وَأما الدَّلِيل على وُقُوعه فكثير نذْكر مِنْهَا ثَلَاثَة أُمُور
الأول إِن الله تبارك وتعالى أَمر بني إِسْرَائِيل بِذبح الْبَقَرَة فِي وَقت ثمَّ بَين لَهُم صفتهَا فِي آخر
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা (البيان) হলো প্রমাণ (الدليل)। সুতরাং ব্যাখ্যার (البيان) স্তরসমূহ প্রমাণের (الدليل) স্তরসমূহের মতোই। আমাদের এই উদ্দেশ্যে প্রমাণের (الدليل) মূল উৎস হলো মহান আল্লাহর কিতাব। এরপর এটি যে উৎসগুলো থেকে উৎসারিত হয় সে অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার হয়। সুতরাং এর মর্যাদা সেটির সাথে নৈকট্যের ওপর নির্ভরশীল; যেমন—নবী (সা.)-এর বাণী, যা কিতাবুল্লাহর পরবর্তী স্তরের; এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঐক্যমত (إجماع), যা এর অনুবর্তী। আরবি ভাষায় আমাদের প্রতি নাযিলকৃত মহান আল্লাহর কালাম যে ভাষায় নাযিল হয়েছে সেই ভাষার বৈচিত্র্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। সুতরাং অকাট্য স্পষ্ট পাঠ (النص) হচ্ছে সর্বোচ্চ স্তরের এবং আপাত অর্থ (الظاهر) এর পরবর্তী। এভাবেই যখন এই উভয় বিষয় থেকে দূরে সরে যায়, তখন এর স্তরের তারতম্য ঘটে। আর এর স্বরূপ সরাসরি অধ্যয়ন বা প্রয়োগ ব্যতীত স্পষ্ট হয় না।
তৃতীয় মাসআলা: প্রয়োজনের সময় থেকে ব্যাখ্যা (البيان) বিলম্বিত করা প্রসঙ্গে আলেমদের সাধারণ জামাত এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এটি বৈধ নয়; কারণ এটি সাধ্যাতীত দায়িত্ব প্রদান (تكليف مالا يطاق)। কিতাবসমূহে বারবার এর উল্লেখ থাকায় প্রাচীন ও আধুনিক কালের ওলামায়ে কেরাম এর ওপর একমত হয়েছেন এবং এর স্বপক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মতভেদ জানা যায়নি। তবে আমি একবার এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমার নিকট এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটি জায়েজ বা বৈধ। এটি সাধ্যাতীত দায়িত্ব প্রদানের অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং এটি হবে বিধান তুলে নেওয়া বা রহিত করার নামান্তর।
চতুর্থ মাসআলা: প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত ব্যাখ্যা (البيان) বিলম্বিত করা একদল লোক ধারণা করেছে যে এটি বৈধ নয়, যাদের অধিকাংশ মুতাজিলা (المعتزلة) এবং অবশিষ্টরা অন্যান্য বিদয়াতি (المبتدعة) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর বৈধতার পক্ষে দলিল হলো—এতে অসম্ভব কিছু নেই যে, একজন মুনিব তার দাসকে বললেন: "আগামীকাল আমার জন্য এই কাপড়টি সেলাই করো", অতঃপর পরের দিন তিনি তাকে সেলাইয়ের পদ্ধতি বর্ণনা করে দিলেন। মুতাজিলাদের জন্য দুর্ভোগ! কারণ তারা নিজেরাই বলেছে যে, রহিতকরণ (النسخ) হলো ইবাদতের সময়কাল শেষ হওয়ার বর্ণনা (البيان); সুতরাং তারা যা ইতিপূর্বে বৈধ করেছে, তা আবার অস্বীকার করে কীভাবে?
আর এটি সংঘটিত হওয়ার পক্ষে অনেক দলিল রয়েছে, আমরা তার মধ্য থেকে তিনটি বিষয় উল্লেখ করছি:
প্রথমত: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বনী ইসরাঈলকে এক সময়ে একটি গাভী জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর অন্য সময়ে তাদের নিকট সেটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছিলেন।