(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الكوكب الدري فيما يتخرج على الأصول النحوية من الفروع الفقهية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الكوكب الدري فيما يتخرج على الأصول النحوية من الفروع الفقهية
المؤلف: جمال الدين الإسنوي (ت 772 هـ)
المحقق: د. محمد حسن عواد
(كلية الآداب - الجامعة الأردنية - قسم اللغة العربية)
الناشر: دار عمار - عمان - الأردن
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 441
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওকাব আল-দুররি ফীমা ইয়াতাকাররাজু আলা আল-উসুল আল-নাহবিয়্যাহ মিন আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
কিতাব: আল-কাওকাব আল-দুররি ফীমা ইয়াতাকাররাজু আলা আল-উসুল আল-নাহবিয়্যাহ মিন আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ
লেখক: জামালুদ্দিন আল-ইসনাবি (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ হাসান আওয়াদ
(কলা অনুষদ - জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় - আরবি ভাষা বিভাগ)
প্রকাশক: দার আম্মার - আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله على مَا أفهم من الْبَيَان وألهم من التِّبْيَان وَأشْهد أَن لاإله إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شهاد عقدهَا الْجنان ونطق بهَا اللِّسَان وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الْمُخْتَار من ولد عدنان الْمَبْعُوث بأعظم شان وأفصح لِسَان صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه القادة الْأَعْيَان ذَوي البلاغة والبراعة والمحاسن والأحسان
وَبعد فَإِن علم الْحَلَال وَالْحرَام الَّذِي بِهِ صَلَاح الدُّنْيَا وَالْأُخْرَى وَهُوَ الْمُسَمّى بِعلم الْفِقْه مستمد من علم أصُول الْفِقْه وَعلم الْعَرَبيَّة
فَأَما استمداده من علم الْأُصُول فَوَاضِح وتسميته بأصول الْفِقْه ناطقة بذلك
وَأما الْعَرَبيَّة فَلِأَن أدلته من الْكتاب وَالسّنة عَرَبِيَّة وَحِينَئِذٍ فَيتَوَقَّف فهم تِلْكَ الْأَدِلَّة على فهمها وَالْعلم بمدلولها على علمهَا
وَأما الْحَافِظ للأحاديث الْعَالم بسندها وطرقها (وَجَمِيع رِوَايَاتهَا) من غير أَن يقوى بَاعه فِي العلمين الْمَذْكُورين فَحكمه حكم من اعتنى بِالْكتاب الْعَزِيز فحفظه وأتقن رواياته السَّبع وَأكْثر مِنْهَا وَأحكم سَنَده وَلَا يخفى بعد من
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বয়ান বা স্পষ্ট প্রকাশভঙ্গি করার ক্ষমতা দান করেছেন এবং তিবইয়ান বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করার ইলহাম (প্রেরণা) দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা অন্তর দিয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হয়েছে এবং জিহ্বা দ্বারা যা উচ্চারিত হয়েছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা এবং আদনানের বংশধরদের মধ্যে মনোনীত রাসুল। তাঁকে মহান মর্যাদা এবং সবচেয়ে প্রাঞ্জল ভাষা সহকারে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও বিশিষ্ট নেতৃস্থানীয় সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা ছিলেন উচ্চাঙ্গের বাগ্মিতা, পাণ্ডিত্য, অনন্য গুণাবলি এবং ইহসানের অধিকারী।
অতঃপর, হালাল ও হারামের জ্ঞান যা দুনিয়া ও আখেরাতের সংশোধনের মাধ্যম এবং যা ফিকহ শাস্ত্র (علم الفقه) নামে অভিহিত, তা উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) এবং আরবি ভাষা তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত।
উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্র থেকে এর উদ্ভূত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট, আর 'উসুলুল ফিকহ' নামটির মাধ্যমেই তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত।
আর আরবি ভাষা তত্ত্বের বিষয়টি এজন্য যে, কুরআন ও সুন্নাহ হতে গৃহিত এর দলিলসমূহ আরবি ভাষায় বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সেই দলিলসমূহ অনুধাবন করা আরবি ভাষা বোঝার ওপর এবং সেগুলোর মর্মার্থ অবগত হওয়া উক্ত ভাষা সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি হাদিস মুখস্থকারী এবং এর সনদ (سند), সূত্র (طرق) ও সকল বর্ণনা (روايات) সম্পর্কে বিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও উল্লিখিত দুটি শাস্ত্রে যার পারদর্শিতা নেই, তার অবস্থা সেই ব্যক্তির ন্যায় যে পবিত্র কুরআনের প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেছে, অতঃপর তা মুখস্থ করেছে এবং এর সাতটি কিরাত বা ততোধিক বর্ণনা শৈলী নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছে এবং তার সনদ (سند) সুদৃঢ় করেছে; অথচ তার এই শাস্ত্র হতে দূরত্বের বিষয়টি কারো অজানা নয়।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
ذَكرْنَاهُ عَن الِاجْتِهَاد واستنباط الْأَحْكَام فَإِذا تقرر مَا ذَكرْنَاهُ فقد كَانَ إمامنا الشَّافِعِي رضي الله عنه هُوَ رَأس أَرْبَاب الْمذَاهب فِي هذَيْن العلمين وَعَلِيهِ الْمعول بَينهم فِي كلا الْأَمريْنِ
أما أصُول الْفِقْه فَإِنَّهُ المبتكر لَهُ بِلَا نزاع وَأول من صنف فِيهِ بِالْإِجْمَاع كَمَا أوضحته فِي كتاب التَّمْهِيد
আমরা ইজতিহাদ (الاجتهاد) এবং বিধান আহরণ (استنباط الأحكام) সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি, তা যখন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন নিশ্চিতভাবেই আমাদের ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই উভয় বিদ্যায় মাযহাবসমূহের ইমামদের প্রধান ছিলেন এবং এই উভয় বিষয়েই তাঁদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রধান নির্ভরস্থল।
আর উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) প্রসঙ্গে বলতে গেলে, কোনো বিতর্ক ছাড়াই তিনি এর উদ্ভাবক এবং সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমনটি আমি তামহীদ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
وَأما الْعَرَبيَّة فَكَانَ فِيهَا هُوَ الْكَعْبَة والمحجة وَالَّذِي ينْطق بِهِ فِيهَا حجه كَمَا شهد بِهِ معاصروه من عُلَمَاء هَذَا الْفَنّ مِنْهُم ابْن هِشَام صَاحب سيرة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَعَ كَونه معاصرا لَهُ ومساكنا لَهُ بِمصْر فَإِن الشَّافِعِي مَاتَ سنة أَربع وَمِائَتَيْنِ وَمَات ابْن هِشَام سنة ثَلَاث عشرَة وَقيل ثَمَان عشرَة وَمَا نَقَلْنَاهُ عَن ابْن هِشَام قد نَقله ابْن الصّلاح فِي طبقاته فِي فصل المحمدين عَن ابْن عبد البر الْمَالِكِي بِسَنَدِهِ الصَّحِيح إِلَيْهِ أَعنِي إِلَى ابْن هِشَام وَلأَجل مَا ذَكرْنَاهُ من كَون كَلَامه حجَّة يعبر الإِمَام أَبُو عَمْرو بن الْحَاجِب فِي تصريفه بقوله وَهِي لُغَة الشَّافِعِي كَمَا يَقُول كغة (بني) تَمِيم وَرَبِيعَة وَنَحْوهمَا هَذَا وَهُوَ من المقلدين للْإِمَام مَالك رضي الله عنه إِلَّا أَن علمه وَدينه قد حملاه على الِاعْتِرَاف بذلك وَكَيف لَا يكون الشَّافِعِي أَيْضا بِهَذِهِ الصّفة وَهُوَ من حرم مَكَّة شرفها الله تَعَالَى أَفْخَر دور العبر وَنسبه فِي قُرَيْش إِلَى الْمطلب
আর আরবি ভাষার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এর কেন্দ্রবিন্দু ও রাজপথস্বরূপ। এই বিষয়ে তিনি যা ব্যক্ত করতেন, তা ছিল অকাট্য দলিল (حجة), যেমনটি তাঁর সমসাময়িক এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের রচয়িতা ইবনে হিশাম। তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং মিশরে তাঁর প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করতেন। ইমাম শাফেয়ী ২০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আর ইবনে হিশাম মৃত্যুবরণ করেন ২১৩ হিজরিতে—মতান্তরে ২১৮ হিজরিতে। ইবনে হিশাম থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি, তা ইবনে আস-সালাহ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থের 'মুহাম্মাদ' নামধারী ব্যক্তিদের পরিচ্ছেদে ইবনে আব্দুল বার আল-মালিকী থেকে তাঁর বিশুদ্ধ (الصحيح) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে ইবনে হিশাম পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ তাঁর কথা অকাট্য দলিল (حجة) হওয়ার কারণে—ইমাম আবু আমর ইবনুল হাজিব তাঁর 'তাসরিফ' গ্রন্থে এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, "এটি শাফেয়ীর ভাষা," যেমনটি তিনি বনী তামীম, রাবীআ ও তাঁদের ন্যায় গোত্রগুলোর ভাষার ক্ষেত্রে বলে থাকেন। অথচ তিনি ইমাম মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কিন্তু তাঁর জ্ঞান ও ধার্মিকতা তাঁকে এই সত্যটি স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইমাম শাফেয়ী কেনইবা এমন গুণসম্পন্ন হবেন না, যেখানে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর অধিবাসী—যাকে আল্লাহ তা'আলা শ্রেষ্ঠ আরব জনপদ হিসেবে সম্মানিত করেছেন—এবং কুরাইশ বংশের আল-মুত্তালিব শাখার সাথে তাঁর বংশীয় সম্পর্ক যুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
أخي هَاشم وَذَلِكَ أشرف النّسَب وَقد مدحته قَدِيما ببيتين متعرضا لهَذَا الْمَعْنى وذكرتهما فِي عدَّة تصانيف اشهارا لَهما وهما
يَا من سما نفسا الى نيل العلى
ونحا الى الْعلم الْعَزِيز الرافع
… قلد سمي الْمُصْطَفى ونسيبه
والزم مطالعة الْعَزِيز الرَّافِعِيّ
فَلَمَّا اتّصف امامنا رضي الله عنه بِمَا وصفناه واشتمل على مَا ذَكرْنَاهُ كَانَ مذْهبه أصح مَذَاهِب الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة مدْركا وأرجحها مسلكا وَإِن كَانَ كل مِنْهُم أَمَام هدى وَبِه يتَقرَّب إِلَى الله تَعَالَى ويقتدى رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ وَرَضي عَنَّا بهم وَقد اعتنيت قَدِيما بِهَذَيْنِ العلمين بخصوصهما وصرفت لَهما مُدَّة مديدة همتي وأسهرت فيهمَا ليَالِي طَوِيلَة مقلتي حَتَّى انتصبت للإقراء فيهمَا ولي من الْعُمر دون الْعشْرين سنة وَكَاد نَظَرِي فِي العلمين الْمَذْكُورين يغلب على نَظَرِي فِي علم الْفِقْه وَلم أزل كَذَلِك إِلَى أَن أَرَادَ الله تَعَالَى صرف الهمة عَنْهُمَا وَعَن غَيرهمَا إِلَيْهِ وقصور النّظر غَالِبا عَلَيْهِ حَتَّى برز بِحَمْد الله تَعَالَى من التأليفات الْفِقْهِيَّة الغريبة مَا قضى بِهِ وَقدر وطار اسْمه فِي الْآفَاق واشتهر ثمَّ بعد ذَلِك كُله استخرت الله تَعَالَى فِي تأليف كتابين ممتزجين من الفنين الْمَذْكُورين وَمن الْفِقْه لم يتقدمني اليهما أحد من أَصْحَابنَا
আমার ভাই হাশিম, আর এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বংশধারা। আমি পূর্বে এই অর্থটি সামনে রেখে দুই চরণের কবিতার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছিলাম এবং সেগুলো প্রচারের উদ্দেশ্যে আমার বেশ কিছু গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলাম। তা হলো:
হে সেই ব্যক্তি, যার আত্মা উচ্চতা লাভের অভিপ্রায়ে সুউচ্চ হয়েছে,
এবং যে দুষ্প্রাপ্য ও সুমহান ইলমের দিকে অগ্রসর হয়েছে
… তুমি মুস্তাফা (সা.)-এর নামধারী ও তাঁর বংশধরের অনুসরণ করো,
এবং 'আল-আজিজ' (আল-রাফেয়ি রচিত গ্রন্থ) অধ্যয়নে অবিচল থাকো।
অতঃপর যখন আমাদের ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) সেই সব গুণে গুণান্বিত হলেন যা আমরা বর্ণনা করেছি এবং তাতে সেই সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি, তখন তাঁর মাযহাব চার ইমামের মাযহাবের মধ্যে দলীল-প্রমাণের দিক থেকে সর্বাধিক সহিহ (أصح) এবং কর্মপদ্ধতির দিক থেকে অধিক প্রাধান্যযোগ্য সাব্যস্ত হলো। যদিও তাঁদের প্রত্যেকেই হেদায়েতের ইমাম এবং তাঁদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয় ও তাঁদের অনুসরণ করা হয় (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন এবং তাঁদের উসিলায় আমাদের ওপরও সন্তুষ্ট হন)। আমি দীর্ঘকাল আগে বিশেষভাবে এই দুটি শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলাম, দীর্ঘ সময় ধরে আমার সমস্ত উদ্যম এই দুটির পেছনে ব্যয় করেছি এবং এগুলোর জন্য আমি দীর্ঘ রাত জেগে আমার চোখকে ক্লান্ত করেছি। এমনকি আমি এই দুটিতে পাঠদানের জন্য নিযুক্ত হয়েছিলাম যখন আমার বয়স বিশ বছরেরও কম ছিল। উল্লিখিত দুটি শাস্ত্রে আমার ব্যুৎপত্তি ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তির ওপর প্রায় প্রাধান্য পেয়ে গিয়েছিল। আমি সেভাবেই ছিলাম যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমার মনোযোগ এই দুটি ও অন্য সব কিছু থেকে তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইলেন এবং আমার দৃষ্টিকে মূলত তাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করলেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসায় এমন সব অনন্য ফিকহি গ্রন্থ প্রকাশ পেল, যা তিনি ফয়সালা ও নির্ধারণ করেছিলেন এবং সেগুলোর নাম দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল ও খ্যাতি লাভ করল। এরপর সেই সব কিছুর পর, আমি উল্লিখিত দুটি শাস্ত্র এবং ফিকহ—এই তিনের সমন্বয়ে দুটি গ্রন্থ রচনার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম, যে কাজে আমাদের সাথীদের মধ্যে ইতিপূর্বে কেউ অগ্রণী হননি।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
أَحدهمَا فِي كَيْفيَّة تَخْرِيج الْفِقْه على الْمسَائِل الْأُصُولِيَّة
وَالثَّانِي فِي كَيْفيَّة تَخْرِيجه على الْمسَائِل النحوية
فأذكر أَولا الْمَسْأَلَة الْأُصُولِيَّة أَو النحوية مهذبة منقحة ثمَّ أتبعهَا بِذكر جملَة مِمَّا يتَفَرَّع عَلَيْهَا ليَكُون ذَلِك تَنْبِيها على مالم أذكرهُ ثمَّ أَن الَّذِي أذكرهُ على أَقسَام فَمِنْهُ مَا يكون جَوَاب أَصْحَابنَا فِيهِ مُوَافقا للقاعدة وَمِنْه مَا يكون مُخَالفا لَهَا وَمِنْه مَا لم أَقف فِيهِ على نقل بِالْكُلِّيَّةِ فأذكر فِيهِ مَا تَقْتَضِيه الْقَاعِدَة مَعَ مُلَاحظَة الْقَاعِدَة المذهبية والنظائر الفروعية وَحِينَئِذٍ فَيعرف النَّاظر فِي ذَلِك مَأْخَذ مَا نَص عَلَيْهِ أَصْحَابنَا وفصلوه ويتنبه بِهِ على اسْتِخْرَاج مَا أهملوه هَذَا مَعَ أَن الْفُرُوع الْمَذْكُورَة مهمة مَقْصُودَة فِي نَفسهَا بِالنّظرِ وَكثير مِنْهَا قد ظَفرت بِهِ فِي كتب غَرِيبَة كَمَا ستراه مُبينًا إِن شَاءَ الله تَعَالَى ثمَّ أنني بدأت بالنوع الأول من هذَيْن النَّوْعَيْنِ وَيسر الله الْفَرَاغ مِنْهُ على النَّحْو الْمَطْلُوب وَالْوَجْه المحبوب مُسَمّى بالتمهيد ثمَّ شرعت فِي الثَّانِي مستعينا بِاللَّه تَعَالَى وسميته بالكوكب الدُّرِّي
وَاعْلَم أنني إِذا أطلقت شَيْئا من الْمسَائِل النحوية فَهِيَ من كتابي شَيخنَا أبي حَيَّان اللَّذين لم يصنف فِي هَذَا الْعلم أجمع مِنْهُمَا وهما
তাদের একটি হলো উসুল সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফিকহ আহরণ (تخريج) করার পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
আর দ্বিতীয়টি হলো ব্যাকরণিক মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে তা আহরণ (تخريج) করার পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
সুতরাং প্রথমে আমি উসুল বা ব্যাকরণিক মাসআলাটি সুশৃঙ্খল ও পরিমার্জিত (منقحة) রূপে বর্ণনা করি, এরপর সেই মাসআলা থেকে উৎসারিত শাখা-প্রশাখাগুলোর (فروع) একটি সমষ্টি উল্লেখ করি, যাতে তা আমার অনুল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অতঃপর আমি যা উল্লেখ করি তা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে: তার মধ্যে কিছু এমন যাতে আমাদের (মাযহাবের) ইমামগণের উত্তর মূলনীতির (قاعدة) অনুকূল হয়; আবার কিছু এমন যা তার পরিপন্থী হয়; আর কিছু বিষয় এমন রয়েছে যেখানে আমি কোনো উদ্ধৃতিই (نقل) পাইনি, এমতাবস্থায় আমি মাযহাবের সাধারণ মূলনীতি ও সদৃশ শাখা মাসআলাগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি মূলনীতির (قاعدة) দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করি। তখন পাঠক এর মাধ্যমে আমাদের ইমামগণ যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার উৎস বা ভিত্তি জানতে পারবেন এবং তারা যা উল্লেখ করেননি তা উদ্ভাবন করার ব্যাপারে সজাগ হতে পারবেন। এর পাশাপাশি বর্ণিত শাখা মাসআলাগুলো (فروع) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিজ সত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লক্ষ্যভুক্ত; যার অনেকগুলোই আমি দুর্লভ (غريب) কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি, যেমনটি ইনশাআল্লাহ আপনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। এরপর আমি এই দুই প্রকারের মধ্যে প্রথমটি দিয়ে শুরু করেছি এবং মহান আল্লাহ কাঙ্ক্ষিত ও পছন্দনীয় পন্থায় তা সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘আল-তামহিদ’। এরপর আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে দ্বিতীয়টি শুরু করেছি এবং এর নাম দিয়েছি ‘আল-কাওকাব আল-দুররি’।
আর জেনে রাখুন যে, আমি যখন ব্যাকরণিক কোনো মাসআলা কোনো নির্দিষ্ট উৎস ছাড়া উল্লেখ করি, তখন তা আমাদের শায়খ আবু হাইয়ানের সেই দুটি কিতাব থেকে গৃহীত, এই শাস্ত্রে যে দুটির চেয়ে অধিক সংকলনকারী আর কোনো কিতাব রচিত হয়নি, আর কিতাব দুটি হলো:
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
الارتشاف وَشرح التسهيل فَإِن لم تكن الْمَسْأَلَة فيهمَا صرحت بذلك
وَإِذا أطلقت شَيْئا من الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة فَهُوَ من الشَّرْح الْكَبِير للرافعي أَو من الرَّوْضَة للنووي رحمهمَا الله تَعَالَى فَإِن لم يكن فيهمَا صرحت بذلك ورتبته على أَرْبَعَة أَبْوَاب الأول فِي الْأَسْمَاء الثَّانِي فِي الْأَفْعَال الثَّالِث فِي الْحُرُوف الرَّابِع فِي تراكيب مُتَعَلقَة بِأَبْوَاب مُتَفَرِّقَة وَقد مهدت بِهَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ طَرِيق التَّخْرِيج لكل ذِي مَذْهَب وَفتحت بهما بَاب التفريغ لكل ذِي مطلب فلتستحضر أَرْبَاب الْمذَاهب مَا يعرض لَهَا من التَّفْرِيع ثمَّ تسلك مَا سلكته فَيحصل بِهِ النَّفْع التَّام للْجَمِيع إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَالله المسؤول أَن ينفع بِهِ مُؤَلفه وكاتبه وقارئه والناظر فِيهِ وَجَمِيع الْمُسلمين بمنه وَكَرمه لَا رب غَيره وَلَا مرجو سواهُ وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل
আল-ইরতিশাফ এবং শারহুত তাসতহিল; যদি আলোচ্য বিষয়টি এই দুই কিতাবে না থাকে, তবে আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।
আমি যখন কোনো ফিকহি বিধান (أحكام فقهية) কোনো সূত্র ছাড়া উল্লেখ করি, তখন তা রাফেয়ীর 'আশ-শারহুল কাবীর' অথবা নববীর 'আর-রাওদাহ' (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) থেকে নেওয়া। আর যদি এই দুই কিতাবে তা না থাকে, তবে আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। আমি গ্রন্থটিকে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি: প্রথম অধ্যায় বিশেষ্য সংক্রান্ত, দ্বিতীয় অধ্যায় ক্রিয়া সংক্রান্ত, তৃতীয় অধ্যায় অব্যয় সংক্রান্ত এবং চতুর্থ অধ্যায় বিভিন্ন পরিচ্ছেদ সংশ্লিষ্ট বাক্য গঠনশৈলী সংক্রান্ত। আমি এই কিতাবদ্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক মাজহাব (مذهب) অনুসারীর জন্য উৎস অনুসন্ধান (تخريج)-এর পথ সুগম করেছি এবং এর মাধ্যমে প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসুর জন্য শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবনের (تفريغ) দ্বার উন্মোচন করেছি। অতএব, বিভিন্ন মাজহাবের (مذهب) পণ্ডিতগণ যেন তাঁদের সামনে উপস্থাপিত উদ্ভূত শাখা-প্রশাখাগুলো (تفريغ) অনুধাবন করেন এবং এরপর আমি যে পথ অবলম্বন করেছি তা অনুসরণ করেন; ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে সকলের জন্য পূর্ণাঙ্গ উপকার সাধিত হবে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যের উসিলায় এর লেখক, লিপিকার, পাঠক, গবেষক এবং সকল মুসলিমকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই এবং তিনি ছাড়া আর কোনো আশা-ভরসার স্থল নেই। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الأول فِي الْأَسْمَاء صلى الله عليه وسلم َ -
- (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - প্রথম অধ্যায়: নামসমূহ প্রসঙ্গে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৩)
فِي الْأَسْمَاء وَفِيه فُصُول يشْتَمل كل مِنْهَا على مسَائِل فصل فِي لفظ الْكَلَام اعْلَم أَن الْكَلَام فِي اللُّغَة اسْم جنس يَقع على الْقَلِيل وَالْكثير كَذَا صرح بِهِ الْجَوْهَرِي ثمَّ زَاد عقبه أيضاحا فَقَالَ يَقع على الْكَلِمَة الْوَاحِدَة وعَلى الْجَمَاعَة مِنْهَا بِخِلَاف الْكَلم فَإِنَّهُ لَا يكون أقل من ثَلَاث كَلِمَات انْتهى فعلى هَذَا إِذا قلت كلمت زيدا فَمَعْنَاه وجهت الْكَلَام إِلَيْهِ
وَقَالَ ابْن عُصْفُور الْكَلَام فِي أصل اللُّغَة اسْم لما يتَكَلَّم بِهِ من الْجمل مفيدة كَانَت أَو غير مفيدة وَمَا ذكره من كَونه اسْما لَا مصدرا مُوَافق لما سبق عَن الْجَوْهَرِي وَحِينَئِذٍ فَيكون اسْما للألفاظ أَو مُشْتَركا بَينهَا وَبَين الْمعَانِي النفسانية وَأما تَقْيِيده بالجمل فمخالف لَهُ وَلغيره وَكَأَنَّهُ عبر بذلك نظرا للْغَالِب هَذَا كُله إِذا لم يسْتَعْمل اسْتِعْمَال الْمصدر كَقَوْلِك سَمِعت كَلَام زيد وَقَوله تَعَالَى {حَتَّى يسمع كَلَام الله} وَنَحْو ذَلِك فَإِن اسْتعْمل اسْتِعْمَاله كَقَوْلِك كلمت زيدا كلَاما أَو تكلم كلَاما فَاخْتَلَفُوا فِيهِ كَمَا قَالَه ابْن الخباز فِي
নামসমূহের আলোচনা প্রসঙ্গে; এতে রয়েছে একাধিক পরিচ্ছেদ, যার প্রতিটি বিভিন্ন মাসআলা (مسائل) অন্তর্ভুক্ত করে। ‘কালাম’ শব্দ (لفظ) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। জেনে রাখুন যে, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কালাম’ হলো একটি জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس), যা অল্প এবং অধিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আল-জাওহারী এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর পরপরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি একটি একক শব্দ (كلمة) এবং শব্দের সমষ্টি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এটি ‘কালিম’ (الكلم) থেকে ভিন্ন; কারণ তা তিনটি শব্দের কম হয় না—উক্তিটি এখানেই সমাপ্ত। এর ভিত্তিতে যখন আপনি বলেন ‘আমি যায়দের সাথে কথা বলেছি’, তখন এর অর্থ হয় ‘আমি তার প্রতি কথাকে নিবদ্ধ করেছি’।
ইবন উসফুর বলেছেন: ভাষার মূলে ‘কালাম’ হলো ঐ সকল বাক্য (جمل) যা উচ্চারণ করা হয়, চাই তা অর্থপূর্ণ (مفيدة) হোক কিংবা অর্থহীন (غير مفيدة)। তিনি এটিকে ক্রিয়ামূল (مصدر) না বলে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন, তা আল-জাওহারী থেকে পূর্বে উদ্ধৃত বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। এমতাবস্থায় এটি উচ্চারিত শব্দের (لفظ) নাম হবে অথবা শব্দ এবং অভ্যন্তরীণ ভাবার্থের (المعاني النفسانية) মধ্যে একটি সাধারণ নাম হবে। তবে একে বাক্যের (جمل) সাথে সীমাবদ্ধ করা আল-জাওহারী এবং অন্যদের মতের পরিপন্থী। সম্ভবত তিনি অধিকাংশ ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রেখে এমনটি বলেছেন। এই সব কিছু তখন প্রযোজ্য, যখন একে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যবহার করা হবে না; যেমন আপনার কথা: ‘আমি যায়দের কথা (كلام) শুনেছি’ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যতক্ষণ না সে আল্লাহর বাণী (كلام) শুনে} এবং এই জাতীয় উদাহরণ। আর যদি একে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘আমি যায়দকে সম্বোধন করে কথা বলেছি’ অথবা ‘সে কথা বলেছে’, তবে এ ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন, যেমনটি ইবনুল খাব্বায উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৪)
شرح الجزولية فَقيل إِنَّه مصدر لأَنهم أعملوه فَقَالُوا كَلَامي زيد أحسن وَقيل انه اسْم مصدر وَنَقله ابْن الخشاب فِي شرح جمل الْجِرْجَانِيّ الْمُسَمّى بالمرتجل عَن الْمُحَقِّقين
والخباز الْمَذْكُور أَولا فِي آخِره زَاي مُعْجمَة (والخشاب) الْمَذْكُور ثَانِيًا بالشين الْمُعْجَمَة وَفِي آخِره بَاء مُوَحدَة وَالدَّلِيل على أَنه اسْم مصدر أَن الْفِعْل الْمَاضِي الْمُسْتَعْمل من هَذِه الْمَادَّة أَرْبَعَة
أَحدهَا كلم ومصدره التكليم كَقَوْلِه تَعَالَى {وكلم الله مُوسَى تكليما} وَكَذَلِكَ الْكَلَام بِكَسْر الْكَاف وَتَشْديد اللَّام كَقَوْلِه تَعَالَى {وكذبوا بِآيَاتِنَا كذابا} كَذَا قَالَه الْجَوْهَرِي وَمُقْتَضى كَلَامه أَن الثَّانِي مقيس وَلَكِن نَص النُّحَاة على خِلَافه
শারহুল জাযুলিয়্যাহ-এ বলা হয়েছে যে, এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), কারণ তারা এটিকে আমলযোগ্য করেছেন। ফলে তারা বলেছেন: 'যায়েদের সাথে আমার কথোপকথন (كلامي) অধিক উত্তম'। আবার বলা হয়েছে যে, এটি একটি নামবাচক ক্রিয়ামূল (اسم مصدر)। ইবনে আল-খাশশাব এটি আল-জোরজানির জুমাল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মুরতাজাল-এ গবেষকগণের (المحققين) উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন।
আর প্রথমে উল্লিখিত 'আল-খাব্বাজ' (الخباز) শব্দটির শেষে নুকতাযুক্ত যা (زاي معجمة) রয়েছে। আর দ্বিতীয়ত উল্লিখিত 'আল-খাশশাব' (الخشاب) শব্দটিতে নুকতাযুক্ত শীন (شين معجمة) এবং শেষে একটি নুকতাযুক্ত বা (باء موحدة) রয়েছে। এটি যে একটি নামবাচক ক্রিয়ামূল (اسم مصدر) তার প্রমাণ হলো, এই মূলধাতু থেকে ব্যবহৃত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي) চারটি।
তার একটি হলো 'কাল্লামা' (كلم), যার ক্রিয়ামূল (مصدر) হলো 'তাকলীম' (التكليم); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ মুসার সাথে স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন (تكليما)"। অনুরূপভাবে 'কাফ' বর্ণে কাসরা এবং 'লাম' বর্ণে তাশদীদসহ 'কিল্লাম' (الكلام) হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তারা আমার নিদর্শনসমূহকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছিল (كذابا)"। আল-জাওহারী এমনই বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ হলো দ্বিতীয়টি কিয়াসভিত্তিক (مقيس), কিন্তু ব্যাকরণবিদগণ (النحاة) এর বিপরীত বিষয়ের ওপর স্পষ্ট মত প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৫)
الثَّانِي تكلم ومصدره التَّكَلُّم بِضَم اللَّام وَمِنْه مَا أنْشدهُ ابْن الخشاب
… ونشتم بالأفعال لَا بالتكلم
…الثَّالِث كالم ومصدره المكالمة وَكَذَا الْكَلَام بِكَسْر الْكَاف وَالتَّخْفِيف كضارب مُضَارَبَة وضرابا إلاأن الثَّانِي لَا ينقاس
الرَّابِع تكالم ومصدره تكالما بِضَم اللَّام فَظهر بذلك أَنه لَيْسَ مصدرا بل اسْم مصدر وَلم يتَعَرَّض فِي الارتشاف لهَذَا الْخلاف
وَلما كَانَ مَقْصُود النُّحَاة إِنَّمَا هُوَ الْبَحْث فِي الْأَلْفَاظ ترجموا الْكَلَام لَا التكليم والتكلم والمكالمة وَنَحْوهَا لِأَنَّهَا مصَادر مدلولها تَوْجِيه الْكَلَام إِلَى المستمع أَو من فِي حكم المستمع كالنائم والساهي تَقول كَلمه يكلمهُ تكليما أَي وَجه الْكَلَام إِلَيْهِ يوجهه توجيها
فَإِن قيل فَمَا الْفرق بَين الْمصدر وَاسم الْمصدر قُلْنَا فرق ابْن يعِيش وَغَيره فَقَالُوا الْمصدر مَدْلُوله الْحَدث وَاسم الْمصدر مَدْلُوله لفظ وَذَلِكَ اللَّفْظ يدل على الْحَدث
وَهَذَا الْفرق يَأْتِي نَحوه فِي الْفِعْل كاسكت مَعَ اسْم الْفِعْل كصه وَخَالف بَعضهم فَقَالَ أَن اسْم الْفِعْل وَاسم الْمصدر كالفعل والمصدر فِي الدّلَالَة وَالْأول هُوَ
দ্বিতীয়ত, 'তাকাল্লামা' (تكلم); এর মাসদার (مصدر) হলো 'তাকাল্লুম' (التكلم), যাতে লাম বর্ণে পেশ রয়েছে। ইবনুল খাশশাব এর থেকে উদ্ধৃত করেছেন
… "এবং আমরা কাজের মাধ্যমে তিরস্কার করি, কথাবার্তার (التكلم) মাধ্যমে নয়"
…তৃতীয়ত, 'কালামা' (كالم); এর মাসদার (مصدر) হলো 'মুকালামাহ' (المكالمة)। একইভাবে 'কিলাম' (الکلام), যা কাফ বর্ণের নিচে যের এবং তাশদীদহীনভাবে পঠিত, যেমন 'দারাবা' (ضارب) থেকে 'মুদারা-বাহ' (مضاربة) এবং 'দিরাব' (ضرابا)। তবে দ্বিতীয় রূপটি নিয়মসিদ্ধ (ينقاس) নয়।
চতুর্থত, 'তাকালামা' (تكالم); এর মাসদার (مصدر) হলো 'তাকালুম' (تكالما), যাতে লাম বর্ণে পেশ রয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, এটি মাসদার (مصدر) নয় বরং ইসমুল মাসদার (اسم مصدر)। 'আল-ইরতিশাফ' গ্রন্থে এই মতপার্থক্য সম্পর্কে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
যেহেতু ব্যাকরণবিদদের (النحاة) উদ্দেশ্য হলো শব্দাবলী নিয়ে গবেষণা করা, তাই তারা 'আল-কালাম' শিরোনাম ব্যবহার করেছেন, 'আত-তাকলীম', 'আত-তাকাল্লুম' বা 'আল-মুকালামাহ' এবং এর সদৃশ শব্দগুলো নয়। কারণ এগুলো হলো মাসদার (مصادر), যেগুলোর অর্থ হলো শ্রোতা অথবা শ্রোতার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি—যেমন ঘুমন্ত বা অন্যমনস্ক ব্যক্তি—এর প্রতি কথা নির্দেশ করা। যেমন আপনি বলেন: 'কাল্লামাহু ইয়ুকাল্লিমুহু তাকলীমান' (كلمه يكلمه تكليما) অর্থাৎ তিনি তার প্রতি কথা নির্দেশ করেছেন।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মাসদার (مصدر) ও ইসমুল মাসদার (اسم مصدر)-এর মধ্যে পার্থক্য কী? তবে আমরা বলব যে, ইবনে ইয়াইশ এবং অন্যান্যরা পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন: মাসদার (مصدر)-এর অর্থ হলো মূল ক্রিয়া বা ঘটনা (الحدث), আর ইসমুল মাসদার (اسم مصدر)-এর অর্থ হলো এমন একটি শব্দ যা সেই ক্রিয়া বা ঘটনার (الحدث) ওপর নির্দেশ করে।
এই ধরণের পার্থক্য ক্রিয়া (الفعل) এবং ইসমুল ফিল (اسم الفعل)-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন 'উসকুুত' (اسكت) এবং 'সাহ' (صه)। তবে কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ইসমুল ফিল (اسم الفعل) ও ইসমুল মাসদার (اسم مصدر) হলো ক্রিয়া (الفعل) ও মাসদার (مصدر)-এর মতোই। আর প্রথম মতটিই হলো...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৬)
الصَّوَاب الْمُوَافق لمدلول اللَّفْظ وَبِه جزم فِي اسْم الْفِعْل شَيخنَا أَبُو حَيَّان فِي أَوَائِل شرح الألفية عِنْد قَول ابْن مَالك كصة (وحيهل) هَذَا كُله فِيمَا يتَعَلَّق بالْكلَام من جِهَة اللُّغَة فتفطن لَهُ فَإِنَّهُ مُشْتَمل على أُمُور مهمه وَأما حَده عِنْد النُّحَاة فَفِيهِ عبارتان أحسنهما أَنه قَول دَال على نِسْبَة إسنادية مَقْصُودَة لذاتها واحترزنا بالإسنادية عَن النِّسْبَة التقييدية كنسبة الْإِضَافَة نَحْو غُلَام زيد وَنسبَة النَّعْت نَحْو جَاءَ الرجل الْخياط واحترزنا بالمقصودة لذاتها عَن الْجمل الَّتِي تقع صلَة نَحْو جَاءَ الَّذِي خرج أَبوهُ
إِذا علمت مَا ذَكرْنَاهُ من تَفْصِيل الْكَلَام لُغَة وَاصْطِلَاحا وَعلمت أَنه يُطلق فِي اللُّغَة على الْكَلِمَة الْوَاحِدَة مستعملة كَانَت أم لَا وَأَن أقل مَا يُمكن أَن تكون الْكَلِمَة على حرفين وَأَن انْتِقَال الْكَلَام والكلمة إِلَى مَا ذكره النجَاة عرف لَهُم حَادث فِي اللُّغَة فيتفرع عَلَيْهِ مَا قَالَه أَصْحَابنَا من إبِْطَال الصَّلَاة بذلك لِأَن قَوْله عليه الصلاة والسلام إِن صَلَاتنَا لَا يصلح فِيهَا شَيْء من كَلَام الْآدَمِيّين متناول لَهُ لُغَة كَمَا تقدم وَعرفا فَإِن الْمغمى عَلَيْهِ وَنَحْوه
শব্দের অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত এবং আমাদের শায়খ আবু হাইয়ান ‘শারহুল আলফিয়্যাহ’-এর শুরুতে ইবনে মালিকের উক্তি ‘সাহ’ এবং ‘হাইয়াহাল’ এর আলোচনায় ক্রিয়া বিশেষ্য (اسم الفعل) প্রসঙ্গে এই মতটিই নিশ্চিত করেছেন। এ সবই ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে ‘কালাম’ বা কথা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন; কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে। আর ব্যাকরণবিদদের নিকট এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে দুটি বক্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে উত্তম হলো: এটি এমন এক কথা যা স্বকীয়ভাবে উদ্দিষ্ট একটি ইসনাদগত সম্পর্কের (نسبة إسنادية) ওপর দালালাত করে। আমরা ‘ইসনাদগত’ (إسنادية) শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধতামূলক সম্পর্ককে (نسبة تقييدية) বাদ দিয়েছি, যেমন ইদাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত সম্পর্ক (نسبة الإضافة) যেমন ‘গুলামু যায়েদ’ এবং গুণবাচক সম্পর্ক (نسبة النعت) যেমন ‘জাআ আর-রাজুলুল খাইয়াতু’। আর ‘স্বকীয়ভাবে উদ্দিষ্ট’ কথাটি দ্বারা আমরা সেই বাক্যগুলোকে বাদ দিয়েছি যা সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة) হিসেবে আপতিত হয়, যেমন ‘জাআল্লাজি খারাজা আবুহু’।
আপনি যখন ভাষাতাত্ত্বিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) দিক থেকে কালামের বিস্তারিত বিবরণ জানলেন এবং এটাও জানলেন যে, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি মাত্র শব্দকেও কালাম বলা হয়, তা ব্যবহৃত হোক বা না হোক; এবং একটি শব্দ ন্যূনতম দুটি বর্ণের হতে পারে; আর ব্যাকরণবিদগণ কালাম ও কালিমাহ শব্দ দুটিকে যে অর্থে ব্যবহার করেছেন তা ভাষাগত দিক থেকে একটি নব উদ্ভাবিত পরিভাষা (عرف)—তখন এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের ফকিহগণ যে মত দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয় যে, এর মাধ্যমে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমাদের এই সালাতে মানুষের কোনো কথার স্থান নেই"—এটি ভাষাগতভাবে সেটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং প্রথাগত (عرفاً) ভাবেও। কেননা মূর্ছিত ব্যক্তি এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
إِذا نطق مثلا بقوله الله وَنَحْوه (يَقُول الْحَاضِرُونَ) قد تكلم فتفطن لما ذكرته من المدارك فَإِنَّهُ يشكل على كثير من النَّاس وَيتَفَرَّع عَلَيْهِ أَيْضا مَا إِذا حلف لَا يتَكَلَّم فَأتى بذلك وَلم أره مَنْقُولًا
مَسْأَلَة لَا يشْتَرط فِي الْكَلَام صدوره من نَاطِق وَاحِد وَلَا قصد الْمُتَكَلّم لكَلَامه وَلَا إِفَادَة الْمُخَاطب شَيْئا يجهله على الصَّحِيح فِي الثَّلَاث كَمَا ذكره فِي الارتشاف
فَأَما الْمَسْأَلَة الأولى فصورتها أَن يتواطأ (مثلا شخصان) على أَن يَقُول أَحدهمَا زيد وَيَقُول الآخر قَائِم
وَمن فروعها مَا إِذا كَانَ لَهُ وكيلان بِإِعْتَاق عبد أَو وَقفه أَو غير ذَلِك فاتفقا على أَن يَقُول أَحدهمَا مثلا هَذَا وَيَقُول الثَّانِي حر وَلَا استحضر فِيهَا الْآن نقلا
উদাহরণস্বরূপ, যখন কেউ ‘আল্লাহ’ বা এই জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে, তখন (উপস্থিত ব্যক্তিরা বলে) সে কথা বলেছে। সুতরাং আমি যেসব উপলব্ধির কথা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে মনোযোগী হোন, কারণ এটি অনেক মানুষের কাছেই অস্পষ্ট মনে হয়। এর থেকে আরও একটি মাসআলা উদ্ভূত হয় যে, যদি কেউ শপথ করে যে সে কথা বলবে না এবং পরবর্তীতে সে অনুরূপ কিছু বলে; তবে আমি বিষয়টি কোথাও বর্ণিত (منقول) দেখিনি।
মাসআলা (مسألة) বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী ‘কালাম’ বা বাক্যের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় শর্ত নয়: বাক্যটি একজন মাত্র বক্তার পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া, বক্তার স্বীয় বাক্যের উদ্দেশ্য থাকা এবং শ্রোতাকে এমন কিছু জানানো যা সে জানত না, যেমনটি আল-ইরতিশাফ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম মাসআলা (مسألة)-টির স্বরূপ হলো: যেমন দুইজন ব্যক্তি এই মর্মে একমত হলো যে, একজন বলবে ‘জায়েদ’ এবং অন্যজন বলবে ‘দণ্ডায়মান’।
এর শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কোনো ব্যক্তির দাসের মুক্তিদান বা তা ওয়াকফ করার জন্য কিংবা অন্য কোনো কাজের জন্য দুইজন প্রতিনিধি থাকে এবং তারা একমত হয় যে, একজন বলবে ‘এই দাস’ এবং অপরজন বলবে ‘মুক্ত’, তবে এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে কোনো বর্ণনা (نقل) আমার স্মরণে নেই।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৮)
وَمِنْهَا أذا قَالَ لي عَلَيْك ألف فَقَالَ الْمُدَّعِي عَلَيْهِ إِلَّا عشرَة أَو غير عشرَة وَنَحْو ذَلِك فَهَل يكون مقرا بباقي الْألف فِيهِ خلاف قَالَ فِي التَّتِمَّة الْمَذْهَب أَنه لَا يكون مقرا
ومدرك الْخلاف مَا ذَكرْنَاهُ وَعلله أَيْضا فِي التَّتِمَّة بِأَنَّهُ لم يُوجد مِنْهُ إِلَّا فِي بعض مَا قَالَه خَصمه وَنفي الشَّيْء لَا يدل على ثُبُوت غَيره
وَأما الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فحاصلها إِدْخَال كَلَام الساهي والنائم والطيور وَنَحْو ذَلِك وفائدتها من الْفُرُوع اسْتِحْبَاب سُجُود التِّلَاوَة عِنْد قِرَاءَة هَؤُلَاءِ إِلَّا أَن كَلَام أَصْحَابنَا مشْعر بِعَدَمِ الِاسْتِحْبَاب فِي الْجَمِيع وَمن فَوَائده أَيْضا مَا إِذا حلف أَنه لَا يكلم زيدا وَقد ذكره الرَّافِعِيّ فِي أَوَاخِر تَعْلِيق الطَّلَاق فَقَالَ إِن هذى فَكَلمهُ نَائِما أَو مغمى عَلَيْهِ لم يَحْنَث وَإِن كَلمه مَجْنُونا فَفِيهِ خلاف وَالظَّاهِر تَخْرِيجه على الْجَاهِل وَنَحْوه وَإِن كَانَ سَكرَان حنث فِي الْأَصَح إِلَّا إِذا انْتهى إِلَى السكر الطافح
هَذَا كَلَامه وَالتَّفْصِيل بَين الطافح وَغَيره طَريقَة للْإِمَام وَالْغَزالِيّ ارتضاها الرَّافِعِيّ تَارَة وردهَا تَارَة أُخْرَى
এর মধ্যে একটি বিষয় হলো: যখন কেউ বলে, "আমার তোমার কাছে এক হাজার (পাওনা) আছে," তখন বিবাদী যদি বলে, "দশ ব্যতীত" অথবা "দশ ছাড়া" বা এই জাতীয় কিছু, তবে সে কি অবশিষ্ট এক হাজারের স্বীকৃতি প্রদানকারী (مقرا) হবে? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। 'আত-তাতিম্মাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, মাযহাবের স্বীকৃত সিদ্ধান্ত (المذهب) অনুযায়ী সে স্বীকৃতি প্রদানকারী (مقرا) হিসেবে গণ্য হবে না।
এই মতভেদের ভিত্তি হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি। 'আত-তাতিম্মাহ' গ্রন্থে এর কারণ হিসেবে আরও বলা হয়েছে যে, তার পক্ষ থেকে কেবল তার প্রতিপক্ষের দাবির আংশিক বিষয়ের বক্তব্য পাওয়া গেছে; আর কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা অন্য কোনো বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না।
আর দ্বিতীয় মাসআলাটির সারকথা হলো—অন্যমনস্ক ব্যক্তি, নিদ্রিত ব্যক্তি, পাখি এবং এই জাতীয় প্রাণীর কথাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা। এর প্রায়োগিক মাসআলাগত শাখার (الفرع) উপকারিতা হলো—এদের তিলাওয়াত শ্রবণে সিজদাহ-এ-তিলাওয়াত মুস্তাহাব হওয়া। তবে আমাদের শাফেয়ি ফকিহদের (أصحابنا) বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রেই মুস্তাহাব না হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর আরেকটি উপকারিতা হলো সেই মাসআলাটি যেখানে কেউ শপথ করে যে সে যাইদ-এর সাথে কথা বলবে না। ইমাম রাফেয়ি 'তালিকুত তালাক'-এর শেষ দিকে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: যদি সেই ব্যক্তি প্রলাপ বকে এবং নিদ্রিত বা অচেতন থাকা অবস্থায় তার সাথে কথা বলে, তবে শপথ ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যদি সে উন্মাদ (مجنونا) অবস্থায় তার সাথে কথা বলে, তবে সে ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; এবং এর প্রকাশ্য সমাধান সম্ভবত অজ্ঞ ব্যক্তি (جاهل) বা এই জাতীয় ব্যক্তির হুকুমের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। আর যদি সে নেশাগ্রস্ত হয়, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মতানুযায়ী সে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে, যদি না সে চরম মাত্রার নেশায় (السكر الطافح) পৌঁছে যায়।
এটিই তার বক্তব্য। আর চরম মাত্রার নেশা ও সাধারণ নেশার মধ্যে পার্থক্যের এই পদ্ধতিটি (طريقة) ইমামুল হারামাইন এবং ইমাম গাজালির; যা ইমাম রাফেয়ি কখনো গ্রহণ করেছেন আবার কখনো প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وَأما الْ
مَسْأَلَة الثَّالِثَة فينبني عَلَيْهَا أَيْضا مَا إِذا حلف لَا يتَكَلَّم فَقَالَ مثلا النَّار حارة وَالسَّمَاء فَوق الأَرْض وَنَحْو ذَلِك وَيُؤَيّد عدم تَسْمِيَته كلَاما عندنَا أَنه إِذا قَالَ وَالله لَا أصعد السَّمَاء فَإِن يَمِينه لَا تَنْعَقِد على الصَّحِيح كَمَا قَالَه الرَّافِعِيّ فِي كتاب الْأَيْمَان وَفَائِدَته أَن الْحَالِف على أَن لَا يحلف لَا يَحْنَث بذلك فترجيحهم عدم الِانْعِقَاد مَعَ تَأْكِيد النِّسْبَة بِالِاسْمِ الْمُعظم إِلْحَاق للَّذي أَتَى بِهِ بِعَدَمِ الْكَلَام بِالْكُلِّيَّةِ
مَسْأَلَة
كَمَا يُطلق الْكَلَام فِي اللُّغَة على اللَّفْظ يُطلق أَيْضا على الْمعَانِي النفسانية وَالصَّحِيح فِي الارتشاف وَغَيره أَنه إِطْلَاق مجازي وَقيل مُشْتَرك بَينهمَا وَحكى غَيره قولا ثَالِثا أَنه حَقِيقَة فِي النفساني دون اللساني
إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة إِذا حلف لَا يتَكَلَّم أَو لَا يقْرَأ أَو لَا يذكر فَإِنَّهُ لَا يَحْنَث إِلَّا بِمَا يتَكَلَّم بِهِ بِلِسَانِهِ دونما مَا يجريه على قلبه
وَمِنْهَا قَالُوا فِي حد الْغَيْبَة انها ذكر الشَّخْص بِمَا يكرههُ ثمَّ قَالَ الْغَزالِيّ فِي الْإِحْيَاء وَتَبعهُ النَّوَوِيّ فِي الْأَذْكَار أَنَّهَا تحصل بِالْقَلْبِ كَمَا تحصل بِاللَّفْظِ
আর তৃতীয়
পরিচ্ছেদ (مسألة) এর ক্ষেত্রে ভিত্তি হলো সেই বিষয়ের ওপর, যখন কেউ শপথ করে যে সে কথা বলবে না, এরপর সে উদাহরণস্বরূপ বলল, "আগুন গরম" এবং "আকাশ জমিনের উপরে" অথবা এই জাতীয় কিছু। আমাদের নিকট একে 'কথা' হিসেবে গণ্য না করার স্বপক্ষে যুক্তি হলো যে, যদি কেউ বলে—"আল্লাহর কসম, আমি আকাশে আরোহণ করব না", তবে সঠিক (الصحيح) মতানুযায়ী তার শপথ সংঘটিত হবে না; যেমনটি ইমাম রাফেয়ি 'কিতাবুল আইমান'-এ উল্লেখ করেছেন। এর উপকারিতা হলো এই যে, যে ব্যক্তি শপথ না করার ব্যাপারে শপথ করে, সে এর দ্বারা শপথ ভঙ্গকারী হবে না। মহান আল্লাহর নামের মাধ্যমে সম্বন্ধকে দৃঢ় করা সত্ত্বেও তাদের (ফকিহদের) নিকট শপথটি সংঘটিত না হওয়ার মতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ হলো—সে যা উচ্চারণ করেছে তাকে সম্পূর্ণরূপে 'কথা না বলা'র অন্তর্ভুক্ত করা।
পরিচ্ছেদ (مسألة)
ভাষাতত্ত্বে যেমন উচ্চারিত শব্দের ক্ষেত্রে 'কালাম' (কথা) শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তেমনি মনের অভ্যন্তরীণ অর্থের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। 'আল-ইরতিশাফ' ও অন্যান্য গ্রন্থে সঠিক (الصحيح) মত হলো—এটি একটি রূপক (مجازي) ব্যবহার। কেউ কেউ বলেছেন, এটি উভয়ের মধ্যে সাধারণ (مشترك)। অন্য কেউ তৃতীয় একটি মত বর্ণনা করেছেন যে, এটি অভ্যন্তরীণ অর্থের ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة), কিন্তু মৌখিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে নয়।
যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মাসআলার একটি শাখা হলো—যদি কেউ কথা না বলার, কিরাত পাঠ না করার বা জিকির না করার শপথ করে, তবে সে যতক্ষণ না জিহ্বা দ্বারা তা উচ্চারণ করবে ততক্ষণ শপথ ভঙ্গকারী হবে না; কেবল অন্তরে পরিচালনা করার দ্বারা শপথ ভঙ্গ হবে না।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো—গিবতের সংজ্ঞায় ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা সে অপছন্দ করে। এরপর ইমাম গাজালি 'এহিয়া' গ্রন্থে বলেছেন এবং ইমাম নববী 'আল-আজকার' গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন যে, গিবত যেমন মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে হয়, তেমনি তা অন্তরের মাধ্যমেও হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০০)
وَمِنْهَا اخْتِلَاف أَصْحَابنَا فِي قَوْله عليه الصلاة والسلام فَإِذا كَانَ يَوْم صِيَام أحدكُم فَلَا يرْفث وَلَا يجهل فَإِن امْرُؤ شاتمه أَو قَاتله فَلْيقل إِنِّي صَائِم هَل يَقُول بِقَلْبِه أَو لِسَانه فِيهِ وَجْهَان جزم الرَّافِعِيّ بِالْأولِ فَقَالَ قَالَ الْأَئِمَّة كَذَا وَكَذَا وَمَعْنَاهُ أَنه يذكر نَفسه بذلك لينزجر فَإِنَّهُ لَا معنى لذكره بِاللِّسَانِ إِلَّا إِظْهَار الْعِبَادَة وَهُوَ رِيَاء وَقَالَ النَّوَوِيّ فِي الْأَذْكَار وَفِي لُغَات التَّنْبِيه أظهر الْوَجْهَيْنِ أَنه يَقُول بِلِسَانِهِ وَقَالَ فِي شرح الْمُهَذّب إِنَّه الْأَقْوَى قَالَ فَإِن جمع بَينهمَا فَحسن وَقَالَ إِنَّه يسْتَحبّ تكراره مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا لِأَن ذَلِك أقرب إِلَى إمْسَاك صَاحبه عَنهُ
وَحكى الرَّوْيَانِيّ فِي الْبَحْر وَجها وَاسْتَحْسنهُ انه إِن كَانَ صَوْم رَمَضَان فَيَقُول بِلِسَانِهِ وَإِن كَانَ نفلا (فيقوله بِقَلْبِه) وَحذف فِي الرَّوْضَة مَا نَقله الرَّافِعِيّ (عَن الْأَئِمَّة) فِي الْمَسْأَلَة
এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নবি (সা.)-এর এই বাণীর বিষয়ে আমাদের (শাফেয়ী) আলেমগণের মতভেদ: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সিয়াম পালন করে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের মতো আচরণ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে লড়াই করে, তবে সে যেন বলে, 'আমি সিয়াম পালন করছি'।" তিনি কি এটি মনে মনে বলবেন না কি জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ করবেন—এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। ইমাম রাফেয়ি প্রথমটির ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত (جزم) করেছেন এবং বলেছেন যে, ইমামগণ এরূপ এরূপ বলেছেন। এর অর্থ হলো তিনি নিজেকে এর মাধ্যমে সতর্ক করবেন যেন তিনি সংযত থাকেন; কারণ জিহ্বা দিয়ে তা বলার অর্থ ইবাদত প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু নয়, যা লোক দেখানো (رياء)। ইমাম নববি আল-আযকার এবং লুগাতুত তানবিহ গ্রন্থে বলেছেন যে, দুটি অভিমতের মধ্যে অধিক সুস্পষ্ট (أظهر) হলো তিনি জিহ্বা দ্বারা এটি বলবেন। শারহুল মুহাযযাব গ্রন্থে তিনি বলেছেন যে, এটিই অধিক শক্তিশালী (الأقوى)। তিনি আরও বলেছেন যে, যদি কেউ উভয়টির সমন্বয় করেন তবে তা উত্তম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি দুই বা তিনবার পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব (يستحب), কারণ তা অপরপক্ষকে বিরত রাখার অধিক নিকটবর্তী।
ইমাম রুয়ানি আল-বাহর গ্রন্থে একটি অভিমত (وجهًا) বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকে উত্তম গণ্য (استحسنه) করেছেন যে, যদি এটি রমজানের সিয়াম হয় তবে তিনি জিহ্বা দিয়ে বলবেন, আর যদি নফল (نفلا) হয় তবে (তিনি তা মনে মনে বলবেন)। আর আর-রাওদাহ গ্রন্থে ইমাম রাফেয়ি (ইমামগণের (الأئمة) থেকে) এই মাসআলায় যা বর্ণনা করেছিলেন তা বাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০১)
وَمِنْهَا صِحَة النّذر بِدُونِ لفظ (بل بِالنِّيَّةِ وَحدهَا) فِيهِ وَجْهَان أصَحهمَا عدم الصِّحَّة
مَسْأَلَة يُطلق الْكَلَام أَيْضا على الْكِتَابَة وَالْإِشَارَة وَمَا يفهم من حَال الشَّيْء إِلَّا أَن الصَّحِيح كَمَا قَالَه فِي الارتشاف أَنه إِطْلَاق مجازي وَلَيْسَ من بَاب الِاشْتِرَاك إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة مَا إِذا حلف لَا يكلمهُ فكاتبه أَو أَشَارَ إِلَيْهِ فَإِن فِيهِ قَوْلَيْنِ مشهورين أصَحهمَا عدم الْحِنْث لما ذَكرْنَاهُ
وَمِنْهَا من لَهُ زوجتان إِذا قَالَ إِحْدَاهمَا طَالِق وَأَشَارَ إِلَى واجدة مِنْهُمَا فَإِن الطَّلَاق يَقع عَلَيْهَا كَمَا ستعرفه بعد هَذَا فِي أثْنَاء كَلَام ننقله عَن الرَّافِعِيّ
وَمِنْهَا إِذا كَانَ قَادِرًا على النُّطْق فَكتب زَوْجَتي فُلَانَة طَالِق وَلم ينْو فَالصَّحِيح أَن الطَّلَاق لَا يَقع فَإِن نوى فوجوه أَصَحهَا وُقُوعه
وَثَالِثهَا يَقع من الْغَائِب دون الْحَاضِر وَيجْزِي بِمَا ذَكرْنَاهُ جَمِيعه فِي البيع وَنَحْوه
وَاعْلَم أَنا حَيْثُ شرطنا النِّيَّة هَهُنَا فَالْقِيَاس اشْتِرَاطهَا فِي جَمِيع اللَّفْظ الَّذِي لَا بُد مِنْهُ لَا فِي لفظ الطَّلَاق خَاصَّة لأَنا إِنَّمَا اشترطنا النِّيَّة فِيهِ لكَونه غير ملفوظ بِهِ لَا لانْتِفَاء الصراحة فِيهِ وَهَذَا الْمَعْنى مَوْجُود فِي الْجَمِيع وَحِينَئِذٍ فينوي الزَّوْجَة حِين يكْتب زَوْجَتي وَالطَّلَاق حِين يكْتب
এর মধ্যে একটি হলো মৌখিক উচ্চারণ ব্যতীত (বরং কেবল নিয়তের মাধ্যমে) মানতের বৈধতা; এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো এটি বৈধ না হওয়া।
মাসআলা লিখন, ইঙ্গিত এবং কোনো বিষয়ের অবস্থা থেকে যা বোঝা যায়, তার ওপরও 'কালাম' (কথা) শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো—যেমনটি 'আল-ইরতশাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে—এটি একটি রূপক ব্যবহার এবং এটি সমার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়। যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মাসআলার শাখা-প্রশাান্তিক বিষয়গুলোর একটি হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে কারো সাথে কথা বলবে না, অতঃপর সে তাকে চিঠি লিখল অথবা তার প্রতি ইঙ্গিত করল, তবে এক্ষেত্রে দুটি প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত রয়েছে; আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো এতে শপথ ভঙ্গ হবে না।
এর মধ্যে আরেকটি হলো: যার দুইজন স্ত্রী আছে, সে যদি বলে 'তাদের একজন তালাকপ্রাপ্ত' এবং তাদের একজনের দিকে ইঙ্গিত করে, তবে তালাক তার ওপরই পতিত হবে; যেমনটি আপনি এর পরে ইমাম রাফি'য়ির উদ্ধৃতিতে আমাদের আলোচনার মধ্যে জানতে পারবেন।
এর মধ্যে আরও একটি হলো: যদি কেউ কথা বলতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও লেখে যে 'আমার অমুক স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত' এবং সে কোনো নিয়ত না করে, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো তালাক পতিত হবে না। আর যদি সে নিয়ত করে থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি অভিমতসমূহ (وجوه) রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত হলো তালাক পতিত হওয়া।
তৃতীয় মতটি হলো: এটি অনুপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কার্যকর হবে, উপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নয়। আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি তা ক্রয়-বিক্রয় এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
জেনে রাখুন যে, আমরা যেখানে নিয়তকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছি, সেখানে যৌক্তিক অনুমান (قياس) হলো সেই সমস্ত শব্দের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত হওয়া যা অপরিহার্য, কেবল তালাক শব্দের জন্য নির্দিষ্ট নয়। কারণ আমরা এতে নিয়ত শর্ত করেছি শব্দটি উচ্চারিত না হওয়ার কারণে, এতে স্পষ্টতার অভাবের কারণে নয়। আর এই বিষয়টি সবকিছুর মধ্যেই বিদ্যমান। এমতাবস্থায় স্বামী যখন 'আমার স্ত্রী' লিখবে তখন স্ত্রীর নিয়ত করবে এবং যখন 'তালাক' লিখবে তখন তালাকের নিয়ত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০২)
طَالِق فَلَو كَانَ لَهُ زوجتان فَإِن عين وَاحِدَة بِقَلْبِه فَلَا كَلَام وَإِن لم يعين نظر إِن انْتَفَى التَّعْيِين فِي خطه أَيْضا عين بعد ذَلِك مَا أَرَادَ مِنْهُمَا وَإِن عين فِي الْخط فَالْقِيَاس أَنه لَا بُد أَن يَنْوِي الْمعينَة أَيْضا عِنْد كتَابَتهَا فَإِن لم ينوها فَلَا أثر لتعيينها بالخط نعم حكى الرَّافِعِيّ وَجْهَيْن من غير تَرْجِيح فِيمَن لَو كَانَ لَهُ زوجتان فَقَالَ امْرَأَتي طَالِق وَأَشَارَ إِلَى احداهما ثمَّ قَالَ أردْت الآخرى
أَحدهمَا يقبل ذَلِك مِنْهُ وَالثَّانِي لَا بل تطلقان فَيتَّجه جَرَيَان الْوَجْهَيْنِ هُنَا لِأَن التَّعْيِين بالخط لَا يتقاعد عَن الْإِشَارَة وَقد علم من كَلَام الرَّافِعِيّ هُنَا أَن الْإِشَارَة إِذا لم يعارضها شيءيؤخذ بهَا وَهَذَا هُوَ الْكَلَام الَّذِي سبق فِي الْمِثَال السَّابِق الْوَعْد بِذكرِهِ
فصل فِي الْمُضْمرَات
مَسْأَلَة الضَّمِير إِذا سبقه مُضَاف ومضاف إِلَيْهِ وَأمكن عوده على كل مِنْهُمَا على انْفِرَاد كَقَوْلِك مَرَرْت بِغُلَام زيد فأكرمته فَإِنَّهُ يعود على الْمُضَاف دون الْمُضَاف إِلَيْهِ لِأَن الْمُضَاف هُوَ الْمُحدث عَنهُ والمضاف إِلَيْهِ وَقع ذكره بطرِيق التبع وَهُوَ تَعْرِيف الْمُضَاف أَو تَخْصِيصه كَذَا ذكره أَبُو حَيَّان فِي تَفْسِيره وَكتبه النحوية وأبطل بِهِ اسْتِدْلَال ابْن حزم وَمن نحا نَحوه كالماوردي فِي الْحَاوِي على نَجَاسَة
তালাকপ্রাপ্তা; যদি তার দুজন স্ত্রী থাকে এবং সে মনে মনে একজনকে নির্দিষ্ট করে তবে কোনো কথা নেই। আর যদি সে নির্দিষ্ট না করে তবে দেখা হবে—যদি তার লেখাতেও নির্দিষ্টকরণের বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, তবে এর পরে সে যা ইচ্ছা করবে তাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্দিষ্ট করবে। আর যদি সে লেখায় নির্দিষ্ট করে থাকে, তবে অনুমান (قياس) হলো—তা লেখার সময়ও নির্দিষ্টকৃত স্ত্রীকে নিয়ত করা আবশ্যক। যদি সে তাকে নিয়ত না করে তবে লেখার মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। হ্যাঁ, ইমাম রাফেয়ী রহ. কোনোটিকেই প্রাধান্য না দিয়ে দুটি অভিমত (وجهين) বর্ণনা করেছেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যার দুইজন স্ত্রী আছে এবং সে বলল: ‘আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’ এবং তাদের একজনের দিকে ইশারা করল, অতঃপর বলল: ‘আমি অন্যজনকে বুঝাতে চেয়েছি’।
এর মধ্যে একটি মত হলো এটি তার থেকে গ্রহণ করা হবে, আর দ্বিতীয়টি হলো তা গ্রহণ করা হবে না বরং তারা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। সুতরাং এখানেও উভয় মতের প্রয়োগ যৌক্তিক, কারণ লেখার মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ ইশারার চেয়ে কম গুরুত্ববহ নয়। ইমাম রাফেয়ীর আলোচনা থেকে এখানে জানা গেছে যে, ইশারার বিপরীতে যখন কোনো কিছু না থাকে তখন সেটিই গ্রহণ করা হয়। আর এটিই সেই আলোচনা যা পূর্বের উদাহরণে উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সর্বনামসমূহ (المضمرات) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ মাসআলা (مسألة) সর্বনাম (ضمير) যখন এমনভাবে আসে যে তার পূর্বে একটি মুদাফ (مضاف) ও একটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) থাকে এবং সেটি পৃথকভাবে উভয়ের দিকেই ফেরার অবকাশ রাখে—যেমন তোমার কথা: ‘আমি যায়দ-এর দাসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং তাকে সম্মান করলাম’—তবে সেটি মুদাফ (مضاف)-এর দিকে ফিরবে, মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর দিকে নয়। কারণ মুদাফ (مضاف) হলো মূল আলোচ্য বিষয়, আর মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর উল্লেখ এসেছে কেবল অনুগামী হিসেবে, যা মুদাফ (مضاف)-কে পরিচয় করিয়ে দেয় অথবা বিশেষায়িত করে। আবু হাইয়্যান তাঁর তাফসীর ও ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে এমনই উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি ইবনে হাযম ও তাঁর অনুসারীদের যেমন আল-হাবি কিতাবে আল-মাওয়ার্দীর নাপাকি বা অপবিত্রতা (نجاسة) সংক্রান্ত দলিল প্রদানকে (استدلال) বাতিল করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
الْخِنْزِير بقوله تَعَالَى {أَو لحم خِنْزِير فَإِنَّهُ رِجْس} حَيْثُ زَعَمُوا أَن الضَّمِير فِي قَوْله تَعَالَى فَإِنَّهُ يعود إِلَى الْخِنْزِير وعللوه بِأَنَّهُ أقرب مَذْكُور إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْ
مَسْأَلَة مَا إِذا قَالَ لَهُ عَليّ الف دِرْهَم وَنصفه فَالْقِيَاس أَنه يلْزمه ألف وَخَمْسمِائة لَا ألف وَنصف دِرْهَم وَهَكَذَا القَوْل فِي الْوَصَايَا والبياعات والوكالات والإجازات وَغَيرهَا من الْأَبْوَاب
مَسْأَلَة
من الْمُضْمرَات أَنْت بِفَتْح التَّاء فِي الْمُذكر وَكسرهَا فِي الْمُؤَنَّث وَاخْتلفُوا فَقَالَ الْفراء جَمِيعه هُوَ الضَّمِير وَقَالَ ابْن كيسَان الِاسْم مِنْهُ التَّاء فَقَط وَهِي التَّاء الَّتِي فِي فعلت وَلَكِن زيد مَعهَا أَن تكثيرا للفظ وَاخْتَارَهُ أَبُو حَيَّان وَذهب جمهود الْبَصرِيين إِلَى الْعَكْس فَقَالُوا الِاسْم هُوَ أَن وَالتَّاء حرف خطاب وَفَائِدَة الْخلاف فِيمَا لَو سمي بِهِ فَعِنْدَ الْفراء يعرب وَعند غَيره يحْكى لكَونه مركبا من اسْم وحرف كَذَا جزم بِهِ فِي الارتشاف
শূকর প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা শূকরের গোশত, কারণ তা অপবিত্র (رجس)}। এখানে তারা দাবি করেন যে, মহান আল্লাহর বাণী 'ফাইননাহু' (فإنه)-এর মধ্যে বিদ্যমান সর্বনামটি (الضمير) শূকরের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। তারা এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, এটিই নিকটতম উল্লিখিত বিষয় (أقرب مذكور)। আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এই
মাসআলার (مسألة) একটি প্রায়োগিক শাখা হলো—যদি কেউ বলে: 'আমার নিকট তার এক হাজার দিরহাম এবং তার অর্ধেক পাওনা আছে', তবে কিয়াস (القياس) অনুযায়ী তার ওপর দেড় হাজার দিরহাম প্রদান আবশ্যক হবে, এক হাজার এবং একটি দিরহামের অর্ধেক নয়। অসিয়ত (وصايا), ক্রয়-বিক্রয় (بياعات), প্রতিনিধিত্ব (وكالات), ইজারা (إجازات) এবং অন্যান্য অধ্যায়ের ক্ষেত্রেও অভিন্ন বিধান প্রযোজ্য।
মাসআলা (مسألة)
সর্বনামসমূহের (المضمرات) একটি হলো 'আংতা' (أنت), যা পুংলিঙ্গে (مذكر) 'তা' বর্ণে ফাতহা এবং স্ত্রীলিঙ্গে (مؤنث) কাসরা সহযোগে গঠিত। এ বিষয়ে ভাষাবিদগণ মতভেদ করেছেন। আল-ফাররা বলেন, সমগ্র শব্দটিই হলো সর্বনাম (الضمير)। ইবনে কায়সান বলেন, এর মধ্যে কেবল 'তা' বর্ণটিই বিশেষ্য (الاسم); যা মূলত 'ফাআলতু' (فعلت) ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত 'তা'-এর অনুরূপ, তবে শব্দের কলেবর বৃদ্ধির জন্য এর শুরুতে 'আন' (أن) যুক্ত করা হয়েছে। আবু হাইয়ান এই মতটিকেই পছন্দ করেছেন। বসরার জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ ভাষাবিদ এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেন, 'আন' (أن) অংশটিই হলো বিশেষ্য (الاسم) এবং 'তা' হলো সম্বোধনসূচক বর্ণ (حرف خطاب)। এই মতপার্থক্যের প্রায়োগিক ফলাফল সেখানে পরিলক্ষিত হয় যেখানে একে নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আল-ফাররার মতে, সেক্ষেত্রে এটি পরিবর্তনশীল (يعرب) হবে। কিন্তু অন্যদের মতে, এটি হুবহু (يحكى) উচ্চারিত হবে; যেহেতু এটি বিশেষ্য ও বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক রূপ। 'আল-ইরতিশাফ' গ্রন্থে বিষয়টি এভাবেই সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
وَرَأَيْت فِي شرح ابْن بابشاذ للجمل مَا يُخَالف ذَلِك فَإِنَّهُ لما تكلم على تفعلين وَقَالَ أَن الْيَاء فِيهِ اسْم عِنْد سِيبَوَيْهٍ وحرف يدل على التَّأْنِيث عِنْد الْأَخْفَش قَالَ فَلَو سمي بِهِ فَإِنَّهُ يحْكى عِنْد سِيبَوَيْهٍ ويعرب عِنْد الأخفس إِذا لم يسم بِهِ مَعَ الضَّمِير هَذَا كَلَامه مَعَ كَونه مركبا من فعل وحرف وَهُوَ بالحكاية أولى وذكرته للشَّيْخ فِي وَقت فسلمه وَقَالَ إِذا قُلْنَا بالإعراب فيعرب إِعْرَاب مَا لَا ينْصَرف للعلمية وَشبه العجمة لِأَنَّهُ لَا نَظِير لَهُ فِي كَلَام الْعَرَب وَذهب بعض الْمُتَقَدِّمين فِي أَنْت إِلَى قَول عَجِيب لَا أصل لَهُ وَهُوَ أَنه مركب من الف أقوم وَنون نقوم وتاء تقوم وَقَالَ فِي أَنا انه مركب من الْألف وَالنُّون المذكورتين إِذا علمت ذَلِك فقد ذكر فِي الارتشاف وَغَيره أَنه قد يشار إِلَى الْمُؤَنَّث بِإِشَارَة الْمُذكر على إِرَادَة الشَّخْص وَعَكسه كَذَلِك أَيْضا بِتَقْدِير الذَّات أَو التَّسْمِيَة وَنَحْوهمَا وَمثله الضَّمِير وَمن فروع الْمَسْأَلَة ماإذا قَالَ
আমি ইবনে বাবশাযের 'শারহুল জুমাল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর বিপরীত একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি। তিনি যখন 'তাফ'আলিনা' সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন বলেছেন যে—সিবওয়াইহ-এর মতে এতে বিদ্যমান 'ইয়া' বর্ণটি একটি বিশেষ্য, কিন্তু আখফাশ-এর মতে এটি স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক একটি বর্ণ। তিনি বলেন, যদি একে নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে সিবওয়াইহ-এর মতে এটি হুবহু অনুকরণ হিসেবে পঠিত হবে, আর আখফাশ-এর মতে—যদি একে সর্বনামসহ নাম হিসেবে ব্যবহার করা না হয়—তবে তা রূপান্তরযোগ্য হবে। এটিই তাঁর বক্তব্য, যদিও শব্দটি ক্রিয়া ও বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত এবং একে হুবহু অনুকরণ হিসেবে গণ্য করাই অধিকতর সমীচীন। আমি এক সময় শায়খের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি তা মেনে নেন এবং বলেন: যদি আমরা একে রূপান্তরযোগ্য বলি, তবে এটি রূপান্তর-অযোগ্য হিসেবে রূপান্তর হবে—এর নির্দিষ্ট নাম হওয়া এবং অনারব শব্দের সদৃশ হওয়ার কারণে; যেহেতু আরবদের ভাষায় এর কোনো নজির নেই। পূর্বসূরিদের কেউ কেউ 'আনতা' সম্পর্কে একটি অদ্ভুত কথা বলেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له); তা হলো—এটি 'আকূমু'-এর আলিফ, 'নাকূমু'-এর নূন এবং 'তাকূমু'-এর তা-এর সমন্বয়ে গঠিত। তিনি 'আনা' সম্পর্কেও বলেছেন যে, এটি উল্লিখিত আলিফ এবং নূন দ্বারা গঠিত। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, আল-ইরতিশাফ ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কখনও কখনও ব্যক্তির সত্তা বুঝানোর উদ্দেশ্যে পুংলিঙ্গবাচক ইশারা দিয়ে স্ত্রীলিঙ্গকে নির্দেশ করা হয়, আবার সত্তা বা নামকরণের বিবেচনা অনুযায়ী এর বিপরীতটিও হয়ে থাকে। সর্বনামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এই মাসআলার একটি শাখা হলো যখন কেউ বলে—
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
لامْرَأَة زَنَيْت بِفَتْح التَّاء أَو لرجل زَنَيْت بِكَسْرِهَا فَإِنَّهُ يكون قذفا كَمَا قَالَه الرَّافِعِيّ فِي أَوَائِل اللّعان قَالَ وَكَذَا زَانِيَة للرجل وزان للْمَرْأَة على الْمَشْهُور وَفِيه قَول قديم انْتهى وَقِيَاس الطَّلَاق وَالْعِتْق وَنَحْوهمَا على مَا ذَكرْنَاهُ وَاضح
مَسْأَلَة ضمير الْغَائِب قد يعود على غير ملفوظ بِهِ كَالَّذي يفسره سِيَاق الْكَلَام فَمن فروع الْمَسْأَلَة مَا إِذا قَالَ عَليّ دِرْهَم وَنصفه فَإِنَّهُ يلْزمه دِرْهَم كَامِل وَنصف وَالتَّقْدِير كَمَا قَالَه ابْن مَالك وَنصف دِرْهَم آخر إِذْ لَو كَانَ عَائِدًا إِلَى الْمَذْكُور لَكَانَ يلْزمه دِرْهَم وَاحِد وَيكون قد أعَاد النّصْف تَأْكِيدًا وَعطفه لتغاير الْأَلْفَاظ
وَمِنْهَا لَو قَالَ الزَّوْج امْرَأَته طَالِق وعنى نَفسه قَالَ الرَّافِعِيّ فَفِي وُقُوع الطَّلَاق احْتِمَالَانِ حَكَاهُمَا القَاضِي شُرَيْح الرَّوْيَانِيّ عَن جده أبي الْعَبَّاس زَاد فِي الرَّوْضَة فَقَالَ أرجحهما الْوُقُوع
مَسْأَلَة
الضَّمِير الْمَرْفُوع للْوَاحِد الْمُتَكَلّم تَاء مَضْمُومَة وللمخاطب تَاء مَفْتُوحَة إِذا تقرر هَذَا فَمن فروع الْمَسْأَلَة مَا إِذا قَالَ البَائِع بِعْتُك أَو الْوَلِيّ
কোনো নারীর ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে ফাতাহ (জবর) যোগে 'যানিইতা' (তুমি জিনা করেছ) বলা অথবা কোনো পুরুষের ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে 'যানিইতি' বলা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি ইমাম রাফেয়ি 'লিআন' অধ্যায়ের শুরুর দিকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সুপরিচিত (مشهور) মত অনুযায়ী পুরুষের জন্য 'যানিয়াহ' (ব্যভিচারিণী) এবং নারীর জন্য 'যানি' (ব্যভিচারী) বলাও অনুরূপ হবে; এতে একটি প্রাচীন মতও রয়েছে। সমাপ্ত। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর বিবাহবিচ্ছেদ, দাসমুক্তি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান স্পষ্ট।
মাসআলা নামপুরুষের সর্বনাম (যমির) কখনো এমন কিছুর দিকে ফিরে যায় যা শব্দে উচ্চারিত হয়নি, বরং কথার প্রসঙ্গ যা ব্যাখ্যা করে। এই মাসআলার একটি শাখা হলো—যদি কেউ বলে: ‘আমার ওপর এক দিরহাম এবং তার অর্ধেক পাওনা রয়েছে’, তবে তার ওপর পূর্ণ এক দিরহাম এবং আরও অর্ধেক আবশ্যক হবে। এর ব্যাখ্যা ইবনে মালিক যেভাবে করেছেন তা হলো—‘অন্য একটি দিরহামের অর্ধেক’। কারণ যদি এটি উল্লিখিত দিরহামের দিকেই ফিরে যেত, তবে তার ওপর কেবল এক দিরহামই আবশ্যক হতো এবং শব্দ পরিবর্তনের কারণে তা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অর্ধেকের পুনরাবৃত্তি ও সংযোগ হিসেবে গণ্য হতো।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো—যদি স্বামী বলে: ‘তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’ এবং এর মাধ্যমে সে নিজেকেই উদ্দেশ্য করে। রাফেয়ি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে যা কাজী শুরাইহ আর-রওইয়ানি তার দাদা আবু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। রওদাহ গ্রন্থে আরও যুক্ত করা হয়েছে যে, এ দুটির মধ্যে অগ্রগণ্য মত হলো তালাক কার্যকর হওয়া।
মাসআলা
উত্তম পুরুষের (একবচন) জন্য পেশযুক্ত ‘তা’ এবং মধ্যম পুরুষের জন্য জবরযুক্ত ‘তা’ কর্তাবাচক সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন এই মাসআলার শাখাগুলোর মধ্যে একটি হলো—যখন বিক্রেতা বলে: ‘আমি তোমার কাছে বিক্রি করলাম’ অথবা অভিভাবক...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
للزَّوْج زَوجتك بِفَتْح التَّاء وَنَحْو ذَلِك فَالْقِيَاس أَن العقد لَا يَصح لِأَنَّهُ خطأ يخل بِالْمَعْنَى فَإِن مَدْلُوله أَن الْمُخَاطب قد بَاعَ نَفسه أَو زَوجهَا
وَإِذا اخل بِهِ بَطل كَمَا لَو قَالَ الْمُصَلِّي أَنْعَمت بِضَم التَّاء أَو كسرهَا بِخِلَاف مالو قَالَ الْحَمد لله بِكَسْر الدَّال وَذكر الْغَزالِيّ فِي فَتَاوِيهِ مَا يُوضح ذَلِك فَقَالَ فِي الْ
مَسْأَلَة الْعَاشِر بعد الْمِائَة إِذا قَالَ الْوَلِيّ زوجت لَك أَو زوجت إِلَيْك صَحَّ لِأَن الْخَطَأ فِي الصِّيغَة إِذا لم يخل بِالْمَعْنَى ينزل منزلَة الْخَطَأ فِي الْإِعْرَاب بالتذكير والتأنيث وَلَو قَالَ زوجتكه وَأَشَارَ إِلَى ابْنَته صَحَّ هَذَا كَلَامه
مَسْأَلَة
الظَّاهِر قد يَقع موقع الضَّمِير فِي الصِّلَة وَغَيرهَا وَمِنْه قَول الْعَرَب (أَبُو سعيد الَّذِي رويت عَن الْخُدْرِيّ) أَي عَنهُ وَقَول الشَّاعِر
… فيا رب ليلى أَنْت فِي كل موطن
… وَأَنت الَّذِي فِي رَحْمَة الله أطمع
… أَي فِي رَحمته
وَمذهب سِيبَوَيْهٍ أَن ذَلِك لَا ينقاس وَخَالف فِيهِ بَعضهم
স্বামীর ক্ষেত্রে ‘যাওয়াজতুকা’ (আমি তোমাকে বিবাহ দিয়েছি) শব্দে ‘তা’ বর্ণে জবর প্রদান এবং এই জাতীয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রে বিধিসম্মত নিয়ম বা কিয়াস (قياس) হলো যে, এই চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হবে না। কারণ এটি এমন একটি ভুল যা অর্থের ব্যাঘাত ঘটায়; কেননা এর অর্থ দাঁড়ায় যে, সম্বোধনকারী ব্যক্তি নিজেকে বিক্রয় করেছে অথবা তাকে বিবাহ দিয়েছে।
আর যখন এটি অর্থের ব্যাঘাত ঘটায়, তখন তা বাতিল (باطل) হয়ে যায়। যেমন কোনো নামাজি যদি ‘আনআমতা’ শব্দে ‘তা’ বর্ণে পেশ বা জের দিয়ে পাঠ করেন; তবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দে ‘দাল’ বর্ণে জের দিয়ে পড়ার বিষয়টি এর বিপরীত। ইমাম গাজালি তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্ট করে যা বলেছেন তা হলো: ১১০তম মাসআলায় (مسألة) তিনি বলেছেন, যদি অভিভাবক বলেন ‘যাওয়াজতু লাকা’ (আমি তোমার জন্য বিবাহ দিয়েছি) অথবা ‘যাওয়াজতু ইলাইকা’ (আমি তোমার নিকট বিবাহ দিয়েছি), তবে তা সঠিক (صحيح) হবে। কারণ বাক্যরীতির গঠন বা সিগার (صيغة) ভুল যদি অর্থের ব্যাঘাত না ঘটায়, তবে তা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের ব্যাকরণগত তথা ই'রাব (إعراب) সংক্রান্ত ভুলের সমতুল্য গণ্য হবে। আর যদি তিনি বলেন ‘যাওয়াজতুকাহু’ এবং নিজের মেয়ের দিকে ইশারা করেন, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে। এটিই তাঁর বক্তব্য।
মাসআলা (مسألة)
স্পষ্ট বিশেষ্য (الظاهر) কখনও কখনও বাক্য সংযোগকারী বা সিলাহ (صلة) এবং অন্যান্য স্থানে সর্বনামের (ضمير) স্থলাভিষিক্ত হয়। এর উদাহরণ হলো আরবদের প্রবাদ: “আবু সাঈদ, যার থেকে তুমি খুদরি হিসেবে বর্ণনা করেছ”, অর্থাৎ যার থেকে। আর কবির পঙ্ক্তি:
… “হে লায়লার রব, আপনি প্রতিটি স্থানে উপস্থিত
… এবং আপনিই সেই সত্তা যার কাছে আমি আল্লাহর রহমতে প্রত্যাশা রাখি”
… অর্থাৎ যার রহমতে।
সিবওয়াইহ-এর মাযহাব (مذهب) হলো, এটি নিয়মিত নিয়ম বা কিয়াস (قياس) হিসেবে গণ্য হবে না; তবে কেউ কেউ এ বিষয়ে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْ
مَسْأَلَة مَا نَقله الرَّافِعِيّ فِي كتاب الطَّلَاق عَن القَاضِي شُرَيْح الرَّوْيَانِيّ أَنه لَو قيل لرجل اسْمه زيد يَا زيد فَقَالَ امْرَأَة زيد طَالِق قَالَ جدي أَبُو الْعَبَّاس تطلق امْرَأَته وَقيل لَا تطلق حَتَّى يُرِيد نَفسه لجَوَاز إِرَادَة زيد آخر قَالَ الرَّافِعِيّ عقبه فَيَجِيء هَذَا الْوَجْه فِيمَا إِذا قَالَ فَاطِمَة طَالِق وَاسم زَوجته فَاطِمَة قَالَ وَيُشبه أَن يكون هُوَ الْأَصَح ليَكُون قَاصِدا تطليق زَوجته
مَسْأَلَة
إِذا اشتركت الْجُمْلَة الأولى وَالْجُمْلَة المعطوفة عَلَيْهَا فِي اسْم جَازَ أَن تَأتي بِهِ فِي الثَّانِيَة ظَاهرا كَقَوْلِك فِي كلمتي الشَّهَادَة أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله وضميرا كَقَوْلِه من يطع الله وَالرَّسُول فقد رشد وَمن يعصهما فقد غوى إِذا علمت ذَلِك فيتفرع عَلَيْهِ مَا إِذا أَتَى بِهِ فِي التَّشَهُّد فِي الصَّلَاة (ضميرا) فَقَالَ رَسُول فَفِي الاكتقاء بِهِ وَجْهَان وَاخْتلف فِي ذَلِك تَصْحِيح الرَّافِعِيّ وَالنَّوَوِيّ كَمَا اوضحته فِي الْمُهِمَّات فَرَاجعه
আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এই
মাসআলার (مسألة) একটি শাখা হলো যা ইমাম রাফেয়ী ‘কিতাবুত তালাক’-এ কাজী শুরাইহ আর-রুইয়ানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি ‘যায়েদ’ নামক এক ব্যক্তিকে বলা হয়— ‘হে যায়েদ’, আর সে বলে— ‘যায়েদের স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’, তবে আমার দাদা আবুল আব্বাস বলেছেন: তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। আবার বলা হয়েছে: যতক্ষণ না সে নিজেকে উদ্দেশ্য করবে ততক্ষণ তালাক হবে না, কারণ অন্য কোনো যায়েদকে উদ্দেশ্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইমাম রাফেয়ী এর পরপরই বলেছেন: এই প্রেক্ষিতটি তখন আসবে যখন কেউ বলবে— ‘ফাতিমা তালাকপ্রাপ্তা’ অথচ তার স্ত্রীর নামও ফাতিমা। তিনি বলেন: এটিই সঠিকতর (الأصح) হওয়ার অধিক সদৃশ, যাতে সে নিজ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সংকল্পকারী হতে পারে।
মাসআলা (مسألة)
যদি প্রথম বাক্য এবং তার উপর আতফকৃত (সংযুক্ত) বাক্যটি একটি বিশেষ্যে (اسم) অংশীদার হয়, তবে দ্বিতীয় বাক্যে সেই বিশেষ্যটিকে প্রকাশ্য রূপ (ظاهرا) হিসেবে আনা বৈধ, যেমন শাহাদাত কালিমার ক্ষেত্রে আপনার উক্তি— ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’। অথবা সর্বনাম (ضميرا) হিসেবেও আনা যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী— ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হলো, আর যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট হলো’। আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এর থেকে এই বিষয়টি উদ্ভূত হয় যে, যদি সালাতের তাশাহহুদের মধ্যে সর্বনাম (ضميرا) ব্যবহার করে ‘রাসূল’ (রাসূলুহু) বলা হয়, তবে তা যথেষ্ট হওয়া সম্পর্কে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। এই বিষয়ে ইমাম রাফেয়ী ও ইমাম নববীর বিশুদ্ধকরণ বা যাচাইয়ের (تصحيح) ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ঘটেছে, যেমনটি আমি ‘আল-মুহিম্মাত’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি; সুতরাং তা দেখে নিন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
مَسْأَلَة الْفَصْل صِيغَة ضمير مَرْفُوع مُنْفَصِل يُؤْتى بِهِ بَين الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر كَقَوْلِك زيد هُوَ الْقَائِم أَو مَا أَصله الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر نَحْو كَانَ زيد هُوَ الْقَائِم وَهَكَذَا إِن وظننت وإخواتهما وَهُوَ حرف عِنْد الْأَكْثَرين وَصَححهُ ابْن عُصْفُور وَقيل اسْم وعَلى هَذَا فَلَا مَوضِع لَهُ من الْإِعْرَاب وَقيل مَحَله مَحل مَا قبله وَقيل مَا بعده إِذا علمت ذَلِك ففائدته هِيَ التوكيد على الْمَشْهُور كَمَا قَالَه فِي الارتشاف
আলোচ্য বিষয় ‘ফাসল’ (বিচ্ছেদসূচক সর্বনাম) হলো পৃথক কর্তৃবাচক সর্বনামের এমন একটি রূপ যা উদ্দেশ্য ও বিধেয়-এর মাঝে ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ, সে-ই দণ্ডায়মান’। অথবা এমন পদের মাঝে যা মূলত উদ্দেশ্য ও বিধেয় ছিল, যেমন: ‘জায়েদ দণ্ডায়মান ছিল’ এবং একইভাবে ‘ইন্না’, ‘জানানতু’ ও তাদের সমজাতীয় শব্দাবলির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের নিকট এটি একটি অব্যয় এবং ইবনে উসফুর একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। কারো মতে এটি একটি বিশেষ্য; এই মতানুসারে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই। আবার বলা হয়েছে এর ব্যাকরণিক স্থান হবে তার পূর্ববর্তী শব্দের অনুরূপ, আর কেউ বলেছেন তার পরবর্তী শব্দের অনুরূপ। আপনি যখন বিষয়টি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে প্রসিদ্ধ মতানুসারে এর উপকারিতা হলো গুরুত্বারোপ করা, যেমনটি ‘আল-ইরতিশাফ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
وَقَالَ السُّهيْلي فَائِدَته الْحصْر ويبنى عَلَيْهِ التَّعَالِيق كلهَا كَقَوْلِه وَالله إِن زيدا هُوَ الْقَائِم هَل يَحْنَث إِذا كَانَ غَيره أَيْضا قد قَامَ
فصل فِي الموصولات
مَسْأَلَة الأَصْل فِي من اطلاقها على الْعَاقِل وَتَقَع أَيْضا على الْمُخْتَلط بِمن يعقل كَقَوْلِه تَعَالَى {وَمِنْهُم من يمشي على رجلَيْنِ} فَإِنَّهُ يشْتَمل على الْإِنْسَان والطائر وعَلى الْمنزل منزلَة من يعقل كَقَوْلِه تَعَالَى {وَمن أضلّ مِمَّن يَدْعُو من دون الله من لَا يستجيب لَهُ} يَعْنِي الْأَصْنَام وَقَول الشَّاعِر
… أسرب القطا هَل من يعير جنَاحه
… لعَلي إِلَى من قد هويت أطير
…فَإِن عبَادَة الْأَصْنَام ومخاطبة القطا تَنْزِيل لَهما منزلَة الْعَاقِل وَذهب قطرب إِلَى من تقع على مَا لَا يعقل من غير اشْتِرَاط شَيْء بِالْكُلِّيَّةِ وَأما مَا فَهِيَ لما لَا يعقل وَتَقَع أَيْضا كَمَا قَالَه ابْن مَالك على الْمُخْتَلط بالعاقل كَقَوْلِه تَعَالَى {وَللَّه يسْجد مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْض من دَابَّة} ولصفات
সুহাইলি বলেন, এর ফায়দা হলো সীমাবদ্ধতা (الحصر) করা এবং এর ওপর ভিত্তি করেই সমস্ত স্থগিত বা শর্তযুক্ত বিষয়সমূহ (التعاليق) আবর্তিত হয়। যেমন কারো উক্তি: "আল্লাহর শপথ, জায়েদই একমাত্র দণ্ডায়মান ব্যক্তি।" এখন অন্য কেউও যদি দাঁড়িয়ে থাকে তবে সে কি শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে?
সংযোজক অব্যয় (الموصولات) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
মাসআলা (مسألة) 'মান' (من) এর মূল ব্যবহার হলো একে জ্ঞানসম্পন্ন (العاقل) সত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা। তবে এটি জ্ঞানসম্পন্নদের সাথে মিশ্রিত (المختلط) সত্তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের মধ্যে কেউ দুই পায়ে হাঁটে}। এটি মানুষ এবং পাখি—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আবার কখনো যা জ্ঞানসম্পন্ন নয় তাকে জ্ঞানসম্পন্নের মর্যাদায় আসীন (المنزل منزلة من يعقل) করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেয় না?} এখানে 'কাউকে' বলতে প্রতিমাসমূহকে বোঝানো হয়েছে। এবং কবির উক্তি:
... হে কাত্তা পাখির দল! তোমাদের মধ্যে কি কেউ আছে যে তার ডানা ধার দেবে?
... সম্ভবত আমি যার প্রতি আসক্ত তার কাছে উড়ে যেতে পারতাম
...কেননা মূর্তিপূজা এবং কাত্তা পাখিকে সম্বোধন করা—উভয়টিকেই এখানে জ্ঞানসম্পন্ন (العاقل) সত্তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কুতরুবের মত হলো—'মান' (من) অব্যয়টি কোনো শর্ত ছাড়াই জ্ঞানহীন (ما لا يعقل) বস্তুর ওপর আপতিত হতে পারে। আর 'মা' (ما) অব্যয়টি জ্ঞানহীন (لما لا يعقل) সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়; তবে ইবনে মালিক যেমনটি বলেছেন, এটি জ্ঞানসম্পন্নদের সাথে মিশ্রিত (المختلط بالعاقل) সত্তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বিচরণশীল যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়}। এছাড়া গুণের (صفات) বর্ণনায়...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১০)
من يعقل كَقَوْلِه تَعَالَى {وَالسَّمَاء وَمَا بناها} أَي وبانيها وَقَوله تَعَالَى {فانكحوا مَا طَابَ لكم من النِّسَاء} وَذهب جمَاعَة إِلَى أَنَّهَا تطلق أَيْضا على من يعقل بِلَا شَرط وَادّعى ابْن خروف أَنه مَذْهَب سِيبَوَيْهٍ وَتطلق ايضا (مَا) على الْعَاقِل إِذا كَانَ مُبْهما لَا يعلم أذكر هُوَ أم أُنْثَى كَقَوْلِه تَعَالَى {إِنِّي نذرت لَك مَا فِي بَطْني محررا} وَاعْلَم أَن مَا وَقع فِي هَذَا
বিবেকবান সত্তা (من يعقل); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন}, অর্থাৎ আকাশ নির্মাণকারী। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নারীদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট যারা পছন্দনীয়, তাদের বিবাহ করো}। একদল বিশেষজ্ঞ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি কোনো শর্ত ছাড়াই বিবেকবান সত্তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং ইবনে খারুফ দাবি করেছেন যে, এটিই সিবওয়াইহ-এর মাজহাব (مذهب)। এছাড়া 'মা' শব্দটি বিবেকবান সত্তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যখন তা অস্পষ্ট (مبهم) থাকে এবং সেটি পুরুষ না কি নারী তা পরিজ্ঞাত থাকে না; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য আমার গর্ভে যা আছে তা উৎসর্গ করার মানত করলাম}। জেনে রাখুন যে, এই ক্ষেত্রে যা ঘটেছে...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১১)
الْفَصْل جَمِيعه من التَّعْبِير بِالْعقلِ هُوَ التَّعْبِير الْمَعْرُوف عِنْد النُّحَاة وَالصَّوَاب كَمَا قَالَه ابْن عُصْفُور فِي شرح المقرب وَفِي تصنيفه الْمُسَمّى بأمثلة المقرب إِنَّمَا هُوَ التَّعْبِير بأولي الْعلم لِأَن من يُطلق على الله تَعَالَى كَقَوْلِه {أَفَمَن يخلق} وَقَوله {وَمن عِنْده علم الْكتاب} والبارىءسبجانه وَتَعَالَى يُوصف بِالْعلمِ وَلَا يُوصف بِالْعقلِ وَلأَجل ذَلِك يقسمون الْعُقَلَاء إِلَى ثَلَاثَة أَنْوَاع فَقَط وَهِي الْمَلَائِكَة وَالْإِنْس وَالْجِنّ إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة مَا إِذا
পরিচ্ছেদের সম্পূর্ণ অংশটি ‘আকল’ (العقل) পরিভাষার মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করা সংক্রান্ত, যা ব্যাকরণবিদদের (النحاة) নিকট সুপরিচিত। তবে সঠিক অভিমত হলো—যেমনটি ইবনে উসফুর শারহুল মুকাররিব এবং তাঁর আমসিলাতুল মুকাররিব নামক গ্রন্থে ব্যক্ত করেছেন—মূলত এটি ‘জ্ঞানের অধিকারী’ (أولي العلم) পরিভাষা ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ ‘মান’ (من) শব্দটি মহান আল্লাহর শানেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: {তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন...} এবং তাঁর বাণী: {এবং যাঁর নিকট কিতাবের জ্ঞান রয়েছে}। আর মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ‘জ্ঞান’ (العلم) গুণে গুণান্বিত করা হয়, কিন্তু ‘আকল’ (العقل) দ্বারা নয়। আর এ কারণেই তাঁরা বিবেকবান সত্তাগুলোকে (العقلاء) কেবল তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেন; আর সেগুলো হলো: ফেরেশতা, মানুষ এবং জিন। যখন আপনি এটি অবগত হলেন, তখন এই মাসআলার (المسألة) অন্যতম শাখা (فروع) হলো এই যে...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১২)
وَقع عَلَيْهِ حجر من سطح فَقَالَ الزَّوْج إِن لم تخبريني السَّاعَة من رَمَاه فَأَنت طَالِق فَفِي فَتَاوَى القَاضِي الْحُسَيْن أَنَّهَا ان قَالَت رَمَاه مَخْلُوق لم تطلق وَإِن قَالَت رَمَاه آدَمِيّ طلقت لجَوَاز أَن يكون رَمَاه كلب أَو ريح كَذَا نَقله عَنهُ الرَّافِعِيّ فِي الطّرف السَّابِع من تَعْلِيق الطَّلَاق وَأقرهُ لَكِن الِاكْتِفَاء بِلَفْظ الْمَخْلُوق مَعَ كَون السُّؤَال بِمن الْمَوْضُوعَة للعقلاء لَا يَسْتَقِيم ثمَّ أَن السَّائِل بهَا إِنَّمَا يُجَاب بِتَعْيِين الشَّخْص لَا بالنوع وَلَا يَصح أَن يُقَال عبر بِمن لاشتباه الْحَال لِأَن الِاشْتِبَاه إِنَّمَا يسوغ التَّعْبِير بِمَا لَا بِمن وَمِنْهَا إِذا أوصى بِمَا تحمله هَذِه الْجَارِيَة فَإِن الْوَصِيَّة تصح وَيُعْطى وَلَدهَا وَإِن كَانَ التَّعْبِير بِمَا لما سبق من الِاشْتِبَاه
وَمِنْهَا إِذا قَالَ غصبتك مَا تعلم فَإِنَّهُ لَا يلْزمه شَيْء لِأَنَّهُ قد يغصب نَفسه فيحبسه كَذَا ذكره فِي بَاب الْإِقْرَار من زَوَائِد الرَّوْضَة عَن الْأَصْحَاب لكنه ذكر بعده أَنه لَو قَالَ غصبتك شَيْئا ثمَّ قَالَ أردْت نَفسك لم يقبل وَالَّذِي ذكره مُشكل
ছাদ থেকে তার ওপর একটি পাথর পড়ল। তখন স্বামী (তার স্ত্রীকে) বলল, "যদি তুমি এখনই আমাকে না জানাও যে এটি কে নিক্ষেপ করেছে, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা (طالق)।" কাজী আল-হুসাইনের ফাতাওয়াতে রয়েছে যে, স্ত্রী যদি বলে "কোনো সৃষ্টজীব (مخلوق) এটি নিক্ষেপ করেছে", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা (طالق) হবে না। আর যদি বলে "কোনো মানুষ (آدمي) এটি নিক্ষেপ করেছে", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা (طالق) হয়ে যাবে; কারণ পাথরটি কোনো কুকুর বা বাতাসের মাধ্যমেও নিক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাফেয়ি ‘তালিকুত তালাক’-এর সপ্তম পরিচ্ছেদে তার থেকে এমনটিই বর্ণনা করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন। কিন্তু ‘কে’ (من) শব্দের মাধ্যমে প্রশ্ন করা সত্ত্বেও—যা সাধারণত বিবেকবানদের জন্য নির্ধারিত—কেবল ‘সৃষ্টজীব’ শব্দ দ্বারা উত্তর দেওয়া সংগতিপূর্ণ নয়। অধিকন্তু, এই শব্দের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়ের মাধ্যমেই উত্তর দিতে হয়, কোনো সাধারণ শ্রেণির মাধ্যমে নয়। আর অবস্থা অস্পষ্ট হওয়ার কারণে এখানে ‘কে’ (من) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে—এমনটি বলাও সঠিক নয়; কারণ অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে ‘কী’ (ما) শব্দ ব্যবহার করাই বিধেয়, ‘কে’ (من) নয়।
এর আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো, যখন কেউ এই মর্মে অসিয়ত করে যে, "এই দাসী যা (ما) গর্ভধারণ করে আছে", তখন সেই অসিয়তটি সঠিক (صحيح) হবে এবং তার সন্তানকে তা প্রদান করা হবে; যদিও পূর্বোক্ত অস্পষ্টতার কারণে এখানে ‘কী’ (ما) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো, যখন সে বলল, "তুমি যা জানো, আমি তোমার কাছ থেকে তা জবরদখল করেছি", তখন তার ওপর কিছুই আবশ্যক হবে না; কারণ সে হয়তো তাকে ব্যক্তিগতভাবে জবরদখল করেছে তথা তাকে বন্দি করে রেখেছে। ‘যাওয়ায়েদুল রওজা’-র স্বীকৃতি অধ্যায়ে আসহাবদের পক্ষ থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে বলে "আমি তোমার কোনো কিছু জবরদখল করেছি" এবং পরে বলে "আমি তোমার সত্তাকেই বুঝিয়েছি", তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা সমস্যাযুক্ত (مشكل)।
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
وَمِنْهَا لَو كَانَ فِي يَد شخص عين فَقَالَ وهبنيها أبي وأقبضنيها فِي صِحَّته وَأقَام بذلك بَيِّنَة فَأَقَامَ بَاقِي الْوَرَثَة بَيِّنَة بِأَن الْأَب رَجَعَ فِيمَا وهبه لِابْنِهِ وَلم تذكر الْبَيِّنَة مَا رَجَعَ فِيهِ قَالَ الْغَزالِيّ فِي فَتَاوِيهِ لَا تنْزع الْعين من يَده بِهَذِهِ الْبَيِّنَة لاحْتِمَال أَن هَذِه الْعين لَيست من المرجوع فِيهِ وَنَقله عَنهُ أَيْضا النَّوَوِيّ فِي آخر الْهِبَة من زَوَائِد الرَّوْضَة وَأقرهُ وَلم يفرقُوا بَين أَن تكون تِلْكَ الْعين جَارِيَة مثلا أَو بَهِيمَة
وَمِنْهَا قَول الْأَصْحَاب أَن من جملَة شُرُوط الْحَج أَن يكون المصروف فَاضلا عَن مؤونة من تلْزمهُ مؤونته هَذَا التَّعْبِير يَقْتَضِي أَنه إِذا كَانَ مَالِكًا لبهيمة يحْتَاج إِلَى ركُوبهَا أَو كَانَت زمنة لَا يرغب فِيهَا رَاغِب فَلَا نظر ألى مؤونتها وَهُوَ بَاطِل بِلَا شكّ
مَسْأَلَة صِيغَة مَا قَول الْقَائِل أُعْطِيك مَا شِئْت وَنَحْو ذَلِك يجوز أَن تكون مَوْصُولَة أَي الَّذِي شِئْت وَأَن تكون مَصْدَرِيَّة ظرفية أَي مُدَّة مشيئتك إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة مَا إِذا قَالَ لامْرَأَته أَنْت طَالِق مَا شِئْت فَيحْتَمل أَن يكون المُرَاد الْمِقْدَار الَّذِي شِئْت فَيرجع فِيهِ إِلَى الْعدَد الَّذِي تشاؤه الْمَرْأَة من الطَّلَاق وَيتَّجه اشْتِرَاط الْفَوْرِيَّة فِيهِ كَقَوْلِه إِن شِئْت فَأَنت طَالِق وَيحْتَمل أَن يُرِيد مُدَّة مشيئتك للطَّلَاق فَتطلق عِنْد مشيئتها لَهُ فِي أَي وَقت شَاءَت وَلَكِن
এসবের অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কোনো ব্যক্তির দখলে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু থাকে এবং সে বলে যে, "আমার পিতা এটি আমাকে দান করেছেন এবং তাঁর সুস্থাবস্থায় আমাকে এর দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন," এবং সে এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করে। অতঃপর অবশিষ্ট ওয়ারিশরা এই মর্মে প্রমাণ পেশ করে যে, পিতা তাঁর পুত্রকে যা দান করেছিলেন তা থেকে তিনি ফিরে এসেছেন, কিন্তু সেই প্রমাণে কী ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। আল-গাজালি তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেছেন: এই প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বস্তু তার নিকট থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে এই বস্তুটি ফিরিয়ে নেওয়া জিনিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমাম আন-নওয়াবিও রওজাতুত তালিবিন-এর অতিরিক্ত আলোচনা অংশে হিবা বা দান অধ্যায়ের শেষে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন। তাঁরা এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি যে সেই বস্তুটি কোনো দাসী কি না অথবা কোনো চতুষ্পদ প্রাণী কি না।
এসবের অন্তর্ভুক্ত হলো আসহাবগণের (মাযহাবের ইমামগণ) বক্তব্য যে, হজের অন্যতম শর্ত হলো ব্যয়যোগ্য অর্থ তার ওপর যাদের ভরণপোষণ ওয়াজিব তাদের ব্যয়নির্বাহের অতিরিক্ত হওয়া। এই অভিব্যক্তিটি দাবি করে যে, যদি সে এমন কোনো পশুর মালিক হয় যার ওপর আরোহণের প্রয়োজন তার রয়েছে, অথবা সেটি যদি এমন রুগ্ন হয় যাতে কারো আগ্রহ নেই, তবে তার ভরণপোষণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না; আর এটি নিঃসন্দেহে বাতিল (باطل)।
মাসআলা কারো উক্তি: "আমি তোমাকে দেব যা তুমি চাও" এবং এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে 'মা' (ما) শব্দটির রূপ—সংযুক্ত (موصولة) হতে পারে অর্থাৎ "যা তুমি চাও", আবার ক্রিয়ামূলীয় ও কালবাচক (مصدرية ظرفية) হতে পারে অর্থাৎ "তোমার চাওয়ার সময়কাল পর্যন্ত"। যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মাসআলার একটি শাখা হলো: যখন কেউ তার স্ত্রীকে বলে, "তোমার যেমন ইচ্ছা তেমন তালাক," তখন সম্ভাবনা থাকে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "যে পরিমাণ তুমি চাও", ফলে স্ত্রী তালাকের যে সংখ্যাটি চাইবে সেদিকেই এটি প্রত্যাবর্তিত হবে। আর এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতার শর্তারোপের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত হয়, যেমনটি তার এই উক্তিতে হয়: "যদি তুমি চাও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা।" আবার এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে সে এর দ্বারা "তোমার তালাক চাওয়ার সময়কাল" উদ্দেশ্য নিয়েছে, এমতাবস্থায় সে যখনই তালাক চাইবে তখনই সে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে, কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
আল কাওকাবুদ দুররি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহবিয়্যাহ মিনাল ফুরুয়িল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
طَلْقَة وَاحِدَة فَإِن مَاتَ قبل الْبَيَان نظر إِن لم يكن صدر من الْمَرْأَة أحد الْأَمريْنِ لم يَقع شَيْء وَإِن صَدرا مَعًا وَقعت طَلْقَة وَاحِدَة لِأَنَّهَا المتيقنة وَمَا زَاد إِنَّمَا يَقع على تَقْدِير أَن يكون المُرَاد هُوَ الْعدَد وَنحن نشك فِي ذَلِك وَإِنَّمَا حملنَا الْمَشِيئَة هُنَا على مَشِيئَة الطَّلَاق لِأَنَّهُ الْمَفْهُوم مِنْهُ وَلِهَذَا حملوها عَلَيْهَا فِي قَوْله إِن شِئْت فَأَنت طَالِق
وَمِنْهَا إِذا قَالَ أَنْت طَالِق مَا شَاءَ الله وَقِيَاس مَا سبق أَن لَا يَقع شَيْء على التَّقْدِيرَيْنِ لأَنا لَا نعلم مَشِيئَة الله تَعَالَى لذَلِك لَكِن نقل الرَّافِعِيّ فِي آخر بَاب الِاسْتِثْنَاء عَن الْمُتَوَلِي وَغَيره إِطْلَاق القَوْل بِوُقُوع طَلْقَة وَعلله بِأَن الْيَقِين وإطلاقه مُشكل وَيَنْبَغِي حمله على مَا إِذا أَرَادَ الْمِقْدَار الَّذِي شاءه الله تَعَالَى
فصل فِي الْمُعَرّف بالأداة
مَسْأَلَة إِذا احْتمل كَون أل للْعهد وَكَونهَا (لغيره) (كالعموم أَو الْجِنْس) فَإنَّا نحملها على الْمَعْهُود كَمَا قَالَه ابْن مَالك فِي التسهيل) لِأَن تقدمه قرينَة مرشدة إِلَيْهِ (مِثَاله قَوْله) تَعَالَى {كَمَا أرسلنَا إِلَى فِرْعَوْن رَسُولا فعصى فِرْعَوْن الرَّسُول} إِذا علمت ذَلِك فَمن فروع الْمَسْأَلَة إِذا
এক তালাক। যদি বর্ণনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়, তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে; যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে দুটি বিষয়ের একটিও না ঘটে থাকে, তবে কিছুই কার্যকর হবে না। আর যদি উভয়টি একসাথে ঘটে, তবে এক তালাক কার্যকর হবে, কারণ তা সুনিশ্চিত (المتيقنة)। এর অতিরিক্ত কেবল তখনই কার্যকর হতে পারে যখন উদ্দেশ্যটি সংখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথচ আমরা এ বিষয়ে সন্দিহান। আমরা এখানে ইচ্ছাকে তালাকের ইচ্ছা হিসেবেই গণ্য করেছি কারণ তা থেকেই এটি বোধগম্য হয়। আর এই কারণেই তারা "তুমি যদি চাও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা" এই উক্তির ক্ষেত্রেও একে তালাকের ইচ্ছার ওপর প্রয়োগ করেছেন।
এর মধ্যে একটি হলো যখন সে বলে: "আল্লাহ যা চান তুমি সে পরিমাণ তালাকপ্রাপ্তা"। পূর্বের কিয়াস অনুযায়ী উভয় সম্ভাবনাতেই কোনো তালাক কার্যকর হবে না, কারণ এ বিষয়ে আমরা মহান আল্লাহর ইচ্ছা জানি না। তবে রাফেয়ী 'ব্যতিক্রম' (الاستثناء) অধ্যায়ের শেষে মুতাওয়াল্লী ও অন্যান্যদের থেকে এক তালাক কার্যকর হওয়ার সাধারণ অভিমতটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে এটি সুনিশ্চিত (اليقين)। কিন্তু এর নিঃশর্ত প্রয়োগ সমস্যাযুক্ত; বরং একে ওই অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা উচিত যখন সে আল্লাহ তাআলা যে পরিমাণ চেয়েছেন সেই পরিমাণটিই উদ্দেশ্য করে।
পরিচ্ছেদ: অব্যয় দ্বারা নির্দিষ্টকরণ (المعرف) প্রসঙ্গে
মাসয়ালা (مسألة) যখন 'আলিফ-লাম' (ال) দ্বারা পূর্ব-নির্দেশিত (العهد) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং অন্য কিছু (যেমন: ব্যাপকতা (العموم) অথবা সাধারণ শ্রেণি (الجنس)) হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে, তখন আমরা তাকে পূর্ব-নির্দেশিত অর্থেই গ্রহণ করব, যেমনটি ইবনে মালিক 'তাসহিল' গ্রন্থে বলেছেন। কেননা ইতিপূর্বে তার উল্লেখ থাকা একটি নির্দেশক চিহ্ন (قرينة) যা সেই অর্থের দিকে পরিচালিত করে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর ফেরাউন সেই রাসূলকে (الرسول) অমান্য করল।" আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মাসয়ালার শাখা-প্রশাখাগুলোর (ফুরু) অন্তর্ভুক্ত হলো যখন...