(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام في بيان أدلة الأحكام القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإمام في بيان أدلة الأحكام
المؤلف: عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام السلمي (ت 660 هـ)
دراسة وتحقيق: رضوان مختار بن غربية
أصل التحقيق: رسالة ماجستير في الشريعة الإسلامية - قسم أصول الفقه، جامعة أم القرى - مكة المكرمة
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 286
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইমাম ফী বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-ইমাম ফী বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
লেখক: ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুস সালাম আস-সুলামি (মৃ. ৬৬০ হিজরি)
পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: রিদওয়ান মুখতার বিন গারবিয়্যাহ
সম্পাদনার মূল ভিত্তি: ইসলামিক শরীয়াহ বিষয়ে মাস্টার্স থিসিস - উসুলুল ফিকহ বিভাগ، উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - মক্কাতুল মুকাররমাহ
প্রকাশক: দারুল বাশায়েব আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الْحَافِظ الْمُجْتَهد الشَّيْخ عز الدّين ابْن عبد السَّلَام رحمه الله هَذَا بَيَان لأدلة الْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بِالْمَلَائِكَةِ وَالْمُرْسلِينَ وَسَائِر الْعَالمين وَالْأَحْكَام ضَرْبَان
أَحدهمَا مَا كَانَ طلبا لِاكْتِسَابِ فعل أَو تَركه
وَالثَّانِي مَا لَا طلب فِيهِ كالإباحة وَنصب الْأَسْبَاب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, হাফিজ (الحافظ), মুজতাহিদ (المجتهد) শাইখ ইযযুদ্দিন ইবনে আবদিস সালাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি ফেরেশতামণ্ডলী, রাসুলগণ (المرسلين) এবং বিশ্বজগতের অন্যান্য সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের (الأحكام) দলীলসমূহের বর্ণনা। আর বিধানসমূহ (الأحكام) দুই প্রকার:
তার একটি হলো যা কোনো কাজ সম্পাদন বা বর্জনের দাবি (طلب) স্বরূপ।
এবং দ্বিতীয়টি হলো যাতে কোনো দাবি নেই, যেমন বৈধতা (الإباحة) এবং কারণসমূহ (الأسباب) নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
والشرائط والموانع وَالصِّحَّة وَالْفساد وَضرب الْآجَال
এবং শর্তাবলি (الشرائط), প্রতিবন্ধকসমূহ (الموانع), বিশুদ্ধতা (الصحة), অসারতা (الفساد) এবং সময়সীমা নির্ধারণ (ضرب الآجال)
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
وَتَقْدِير الْأَوْقَات وَالْحكم بِالْقضَاءِ وَالْأَدَاء والتوسعة والتضييق وَالتَّعْيِين والتخيير وَنَحْو ذَلِك من الْأَحْكَام الوضعية الخبرية
ثمَّ لَا يتَعَلَّق طلب وَلَا تَخْيِير إِلَّا بِفعل كسبي وَلَا يمدح الشَّرْع شَيْئا من أَفعَال وَلَا يذمه وَلَا يمدح فَاعله وَلَا يذمه وَلَا يوبخ عَلَيْهِ وَلَا يُنكره وَلَا يعد عَلَيْهِ بِثَوَاب وَلَا عِقَاب إِلَّا أَن يكون كسبيا
এবং সময়ের পরিমাপ নির্ধারণ করা এবং কাজা (القضاء), আদা (الأداء), প্রশস্তকরণ (التوسعة), সংকীর্ণকরণ (التضييق), নির্দিষ্টকরণ (التعيين), ঐচ্ছিকতা (التخيير) এবং অনুরূপ নির্ধারণী বর্ণনামূলক বিধানসমূহ (الأحكام الوضعية الخبرية) সংক্রান্ত হুকুম।
অতঃপর কোনো নির্দেশ (طلب) বা ঐচ্ছিকতা (تخيير) কেবল অর্জিত (كسبي) কাজের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়। আর শরিয়ত কোনো কাজের প্রশংসা বা নিন্দা করে না, এবং সেই কাজের কর্তারও প্রশংসা বা নিন্দা করে না, আর এর জন্য তাকে তিরস্কারও করে না এবং বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যানও করে না এবং এর ওপর সওয়াব বা শাস্তির প্রতিশ্রুতিও দেয় না, যতক্ষণ না তা মানুষের অর্জিত (كسبي) কোনো কাজ হয়।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فَإِن علق شَيْء من ذَلِك بِفعل جبلي كَانَ مُتَعَلقا بآثاره كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تأخذكم بهما رأفة فِي دين الله} وَقَوله صلى الله عليه وسلم إِن فِيك لخصلتين يحبهما الله الْحلم والأناة
وَقد تذكر الْأَوْصَاف الْخَمْسَة الجبلية فِي معرض الامتنان كَقَوْلِه تَعَالَى {فَأحْسن صوركُمْ} وَقَوله {لقد خلقنَا الْإِنْسَان فِي أحسن تَقْوِيم} وَأما الحكم الوضعي فَيجوز أَن يعلق بِسَبَب كسبي كنصب الزِّنَا أَو السّرقَة سَببا للحد وَالْقطع وكنصب الْقَتْل سَببا للْقصَاص
সুতরাং যদি এর কোনো কিছু কোনো সহজাত কার্যের (بفعل جبلي) সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তা তার প্রভাবের (بآثاره) সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দুটি গুণ রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন; তা হলো সহিষ্ণুতা (الحلم) এবং ধীরস্থিরতা (الأناة)"।
আর কখনো কখনো পাঁচটি সহজাত বৈশিষ্ট্য (الجبلية) অনুগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তোমাদের আকৃতি দান করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিসমূহকে সুন্দর করেছেন} এবং তাঁর বাণী: {অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে (تقويم)}। পক্ষান্তরে অবস্থাগত বিধান (الحكم الوضعي) কোনো অর্জিত কারণের (بسبب كسبي) সাথে সম্পৃক্ত হওয়া বৈধ; যেমন ব্যভিচার বা চুরিকে হদ (للحد) ও হাত কাটার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা এবং হত্যাকে কিসাসের (للقصاص) কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَيجوز أَن يعلق بِمَا لَيْسَ بكسبي كنصب الزَّوَال سَببا لإِيجَاب الظّهْر وَالصُّبْح سَببا لإِيجَاب الْفجْر ورؤية الْهلَال لإِيجَاب الصّيام وَجل الْأَحْكَام فِي هَذَا الْكتاب على بَيَان أَدِلَّة مَا فِيهِ طلب أَو تَخْيِير
ويستدل على الْأَحْكَام تَارَة بالصيغة وَتارَة بالأخبار وَتارَة بِمَا
আর (বিধানকে) এমন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা বৈধ যা মানুষের অর্জনসাধ্য নয়, যেমন জোহরের বিধান ওয়াজিব হওয়ার কারণ (سبب) হিসেবে সূর্য ঢলে পড়াকে নির্ধারণ করা, ফজরের বিধান ওয়াজিব হওয়ার কারণ (سبب) হিসেবে প্রভাতকালকে এবং সিয়াম ওয়াজিব হওয়ার জন্য নতুন চাঁদ দেখাকে নির্ধারণ করা। এই কিতাবের অধিকাংশ বিধান (أحكام) এমন দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণনার ওপর আবর্তিত যাতে কোনো কিছুর দাবি (طلب) অথবা স্বাধীনতা (تخيير) বিদ্যমান।
এবং বিধানসমূহের (أحكام) ওপর কখনো শব্দরূপ (صيغة) দ্বারা, কখনো বর্ণনাসমূহ (أخبار) দ্বারা এবং কখনো এমন বিষয় দ্বারা দলিল পেশ করা হয় (يستدل) যা...
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮০)
رتب عَلَيْهَا فِي العاجل والآجل من خير أَو شَرّ أَو ضرّ
وَقد نوع الشَّارِع ذَلِك أنواعا كَثِيرَة ترغيبا لِعِبَادِهِ وترهيبا وتقريبا إِلَى أفهامهم فَتَارَة يرغب فِي الْفِعْل يمدحه أَو يمدح فَاعله أَو بِمَا رتبه على الْفِعْل من خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَتارَة يحذر من الْفِعْل بِذِمَّة أَو ذمّ فَاعله أَو توعده على الْفِعْل بشر عَاجل أَو أجل وكل ذَلِك رَاجع إِلَى الْمَنَافِع والمضار
لَكِن ذكر أَنْوَاع الْمَنَافِع والمضار ليعلم عباده مَا هم صائرون إِلَيْهِ من أَنْوَاع بره وإنعامه أَو من أَنْوَاع تعذيبه وانتقامه فَإِنَّهُ لَو اقْتصر على ذَلِك النَّفْع والضر لما أنبأ عَمَّا ينبىء عَنهُ لفظ الْمحبَّة والبغض وَلَفظ الرِّضَا والسخط والتقريب والإبعاد والشقاوة والإسعاد فَإِن اللَّذَّة والألم تَتَفَاوَت بِهَذِهِ الْأَسْبَاب تَفَاوتا شَدِيدا ولهذه الْأَوْصَاف آثَار لَا يخفى تفاوتها على
তিনি এর ওপর ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ, অকল্যাণ বা ক্ষতির ফলাফল নির্ধারণ করেছেন।
শরীয়তপ্রণেতা (الشارع) তাঁর বান্দাদের উৎসাহিত করার (ترغيب) এবং সতর্ক করার (ترهيب) উদ্দেশ্যে এবং তাদের বোধগম্য করার জন্য বিষয়টিকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন। কখনো তিনি কোনো কাজের প্রশংসা করে বা সে কাজের সম্পাদনকারীর প্রশংসা করে অথবা সে কাজের বিনিময়ে ইহকাল ও পরকালে যে কল্যাণ নির্ধারণ করেছেন তা উল্লেখ করে সেটির প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। আবার কখনো কোনো কাজের নিন্দা করে অথবা তার সম্পাদনকারীর নিন্দা জ্ঞাপন করে অথবা পার্থিব বা পরলৌকিক অকল্যাণের হুমকি দিয়ে সেই কাজ থেকে সতর্ক করেন। আর এই সবকিছুই মূলত উপকার ও ক্ষতির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
তবে বিভিন্ন প্রকার উপকার ও ক্ষতির উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো তাঁর বান্দাদের এটি জানানো যে, তারা তাঁর পক্ষ থেকে কোন ধরনের অনুগ্রহ ও অনুকম্পার দিকে অথবা কোন ধরনের শাস্তি ও প্রতিশোধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কেননা, তিনি যদি কেবল উপকার ও ক্ষতির বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে ভালোবাসা ও ঘৃণা, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি, নৈকট্য ও দূরত্ব এবং দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের শব্দগুলো যা নির্দেশ করে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত না। কেননা এই সকল কারণের পরিপ্রেক্ষিতেই সুখ ও দুঃখের মাত্রায় ব্যাপক তারতম্য ঘটে। আর এই গুণাবলির এমন কিছু প্রভাব রয়েছে যার তারতম্য কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮১)
أحد فَلذَلِك عول إِلَيْهَا ليقف عباده على درجاتهم ودركاتهم من عَالم خفياتهم فسبحان من رتب خير الدَّاريْنِ على مَعْرفَته وطاعته وَشر الدَّاريْنِ على معصيتة ومخالفته {أَلا لَهُ الْخلق وَالْأَمر تبَارك الله رب الْعَالمين}
ثمَّ أَدِلَّة الْأَحْكَام ضَرْبَان
أَحدهمَا لَفْظِي يدل بالصيغة تَارَة وبلفظ الْخَبَر أُخْرَى
...এক; ফলশ্রুতিতে তিনি এর ওপর নির্ভর করেছেন যাতে তাঁর বান্দারা তাঁদের গোপন রহস্যের পরিজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে নিজ নিজ মর্যাদা ও হীনতার স্তর সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। সুতরাং মহা পবিত্র সেই সত্তা, যিনি উভয় জগতের কল্যাণকে তাঁর পরিচয় ও আনুগত্যের ওপর এবং উভয় জগতের অকল্যাণকে তাঁর অবাধ্যতা ও বিরোধিতার ওপর বিন্যস্ত করেছেন। {জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই; সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ বরকতময়।}
অতঃপর বিধানের প্রমাণাদি (أدلة الأحكام) দুই প্রকার
তার একটি হলো শাব্দিক (لفظي), যা কখনো রূপকাঠামো (صيغة) দ্বারা এবং কখনো সংবাদের (خبر) শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮২)
وَالثَّانِي معنوي يدل دلَالَة لُزُوم إِمَّا بِوَاسِطَة وَإِمَّا بِغَيْر وَاسِطَة
فَكل فعل طلبه الشَّارِع أَو أخبر عَن طلبه أَو مدحه أَو مدح فَاعله لأَجله أَو نَصبه سَببا لخير عَاجل أَو أجل فَهُوَ مَأْمُور بِهِ وكل فعل طلب الشَّارِع تَركه أَو أخبر أَنه طلب تَركه أَو ذمه أَو ذمّ فَاعله لأَجله أَو نَصبه سَببا لشر عَاجل أَو أجل فَهُوَ مَنْهِيّ عَنهُ
وكل فعل خير الشَّارِع فِيهِ مَعَ اسْتِوَاء طَرفَيْهِ أَو أخبر عَن تِلْكَ التَّسْوِيَة فَهُوَ مُبَاح
দ্বিতীয়টি হলো অর্থগত (معنوي), যা মাধ্যমসহ কিংবা মাধ্যম ব্যতিরেকে অনিবাৰ্যভাবে (لزوم) নির্দেশ করে।
সুতরাং প্রতিটি কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) পালনের তলব করেছেন, অথবা এর তলব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, কিংবা কাজটির প্রশংসা করেছেন, অথবা সেই কাজের প্রেক্ষিতে সম্পাদনকারীর প্রশংসা করেছেন, অথবা একে ইহকাল বা পরকালের কোনো কল্যাণের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তা আদিষ্ট (مأمور به)। আর প্রতিটি কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) বর্জন করার তলব করেছেন, অথবা এর বর্জনের তলব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, কিংবা কাজটির নিন্দা করেছেন, অথবা সেই কাজের প্রেক্ষিতে সম্পাদনকারীর নিন্দা করেছেন, অথবা একে ইহকাল বা পরকালের কোনো অকল্যাণের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তা নিষিদ্ধ (منهي عنه)।
এবং প্রতিটি কাজ যাতে শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) উভয় দিক সমান রাখার সাথে সাথে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন, কিংবা সেই সমতার সংবাদ দিয়েছেন, তা বৈধ (مباح)।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
ويتصرم عرض هَذَا الْكَلَام بِعشْرَة فُصُول
এই আলোচনার উপস্থাপনা দশটি পরিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الْفَصْل الأولفِي الدّلَالَة اللفظية
أما الصيغية فكقوله تَعَالَى {خُذُوا زينتكم عِنْد كل مَسْجِد وكلوا وَاشْرَبُوا وَلَا تسرفوا} فَخُذُوا أَمر وكلوا وَاشْرَبُوا إِبَاحَة وَلَا تسرفوا نهي {اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابطُوا} {ارْكَعُوا واسجدوا واعبدوا} {وَلَا تهنوا وَلَا تحزنوا} {وَلَا تجسسوا وَلَا يغتب بَعْضكُم بَعْضًا} {كلوا مِمَّا رزقكم الله}
প্রথম পরিচ্ছেদশাব্দিক নির্দেশনা (الدلالة اللفظية) প্রসঙ্গে
আর রূপগত (الصيغية) নির্দেশনার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো এবং আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না}। এখানে "গ্রহণ করো" হলো একটি আদেশ (أمر), "আহার করো ও পান করো" হলো বৈধতা (إباحة) এবং "অপচয় করো না" হলো নিষেধ (نهي)। (অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী:) {তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং সুসংহত থাকো} {তোমরা রুকু করো, সিজদা করো এবং ইবাদত করো} {তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না} {তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না এবং একে অপরের গীবত করো না} {আল্লাহ তোমাদের যা রিযিক দিয়েছেন তা থেকে আহার করো}।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
{كلوا مِمَّا فِي الأَرْض} {وَإِذا حللتم فاصطادوا}
وَمِثَال الْخَبَر عَن الْإِبَاحَة {أحل لكم صيد الْبَحْر وَطَعَامه} {أحل لكم الطَّيِّبَات} {وَأحل لكم مَا وَرَاء ذَلِكُم} {وَيحل لَهُم الطَّيِّبَات}
فَائِدَة
تمنن الرب بِمَا خلق فِي الْأَعْيَان من الْمَنَافِع يدل على الْإِبَاحَة دلَالَة عرفية إِذْ لَا يَصح التمنن بممنوع مِثَاله كَقَوْلِه تَعَالَى {وَتحمل أثقالكم} {وَمن أصوافها وأوبارها وَأَشْعَارهَا أثاثا ومتاعا إِلَى حِين} {يخرج من بطونها شراب مُخْتَلف ألوانه فِيهِ شِفَاء للنَّاس} {وبالنجم هم يَهْتَدُونَ}
{তোমরা জমিনে যা আছে তা থেকে আহার করো} {এবং যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করো}
বৈধতা (إباحة) সম্পর্কিত সংবাদ (خبر)-এর উদাহরণ হলো: {তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য বৈধ করা হয়েছে} {তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ বৈধ করা হয়েছে} {এবং এগুলোর বাইরে যা রয়েছে তা তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে} {এবং তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ বৈধ করেন}
জ্ঞাতব্য (فائدة)
সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্যে নিহিত নানাবিধ উপকারের মাধ্যমে রবের অনুগ্রহ প্রকাশ করা প্রথাগত (عرفية) নির্দেশনার মাধ্যমে বৈধতার (إباحة) প্রতি ইঙ্গিত করে; কেননা নিষিদ্ধ বিষয় দিয়ে অনুগ্রহ প্রকাশ করা শুদ্ধ নয়। এর উদাহরণ যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তোমাদের বোঝা বহন করে} {এবং তাদের পশম, রোম ও চুল থেকে তোমরা এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী লাভ করো} {তাদের উদর থেকে বিবিধ বর্ণের পানীয় নির্গত হয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য} {এবং নক্ষত্ররাজির সাহায্যে তারা পথনির্দেশ লাভ করে}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
الْفَصْل الثَّانِيفِي تقريب أَنْوَاع أَدِلَّة الْأَمر
كل فعل كسبي عظمه الشَّرْع أَو مدحه أَو مدح فَاعله لأَجله أَو فَرح بِهِ أَو أحبه أَو أهب فَاعله أَو رَضِي بِهِ أَو رَضِي عَن فَاعله أَو وَصفه بالاستقامة أَو الْبركَة أَو الطّيب أَو أقسم بِهِ أَو بفاعله أَو نَصبه سَببا لمحبته أَو لثواب عَاجل أَو آجل أَو نَصبه سَببا لذكره أَو لشكره أَو لهداية أَو لإرضاء فَاعله أَو لمغفرة ذَنبه أَو لتكفيره أَو لقبوله أَو لنصرة فَاعله أَو بشارته أَو وصف فَاعله بالطيب أَو وَصفه بِكَوْنِهِ مَعْرُوفا أَو نقي الْحزن وَالْخَوْف عَن فَاعله أَو وعده بالأمن أَو نَصبه سَببا لولاية الله تَعَالَى أَو وصف فَاعله بالهداية أَو وَصفه بِصفة مدح كالحياة والنور والشفاء أَو دَعَا الله بِهِ الْأَنْبِيَاء فَهُوَ مَأْمُور بِهِ
فَنَذْكُر بعض أَمْثِلَة هَذِه الْأَنْوَاع وَهِي ثَلَاثَة وَثَلَاثُونَ مِثَالا
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদনির্দেশের (أمر) দলিলের প্রকারসমূহের সহজবোধ্য বর্ণনা প্রসঙ্গে
প্রত্যেকটি ঐচ্ছিক কাজ যাকে শরিয়ত মহিমান্বিত করেছে, অথবা তার প্রশংসা করেছে, অথবা সেই কাজের কারণে তার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করেছে, অথবা তাতে আনন্দ প্রকাশ করেছে, অথবা তাকে ভালোবেসেছে, অথবা তার সম্পাদনকারীকে দান বা সম্মান প্রদান করেছে, অথবা তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, কিংবা তার সম্পাদনকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, অথবা তাকে সঠিকতা (استقامة) দ্বারা গুণান্বিত করেছে, অথবা বরকত, অথবা পবিত্রতা দ্বারা বিশেষিত করেছে, অথবা তার নামে কিংবা তার সম্পাদনকারীর নামে শপথ করেছে, অথবা একে আল্লাহর ভালোবাসার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছে, অথবা একে ইহকালীন কিংবা পরকালীন প্রতিদানের কারণ সাব্যস্ত করেছে, অথবা একে তাঁর স্মরণের কারণ, বা তাঁর কৃতজ্ঞতার কারণ, বা হিদায়াতের কারণ, বা তার সম্পাদনকারীর সন্তুষ্টির কারণ, বা তার গুনাহ মাফের উসিলা, বা পাপমোচনের (تكفير) মাধ্যম, বা তা কবুল করার উসিলা, অথবা তার সম্পাদনকারীর জন্য সাহায্যের কারণ, অথবা তাকে সুসংবাদ প্রদান করেছে, অথবা সম্পাদনকারীকে পবিত্র হিসেবে অভিহিত করেছে, অথবা একে সৎকাজ বা সুপরিচিত (معروف) হিসেবে অভিহিত করেছে, অথবা তার সম্পাদনকারী থেকে দুঃখ ও ভয় দূর করেছে, অথবা তাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অথবা একে আল্লাহ তাআলার অভিভাবকত্বের (ولاية) মাধ্যম নির্ধারণ করেছে, অথবা তার সম্পাদনকারীকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হিসেবে অভিহিত করেছে, অথবা তাকে প্রশংসনীয় গুণ যেমন জীবন, নূর এবং আরোগ্য দ্বারা গুণান্বিত করেছে, কিংবা যার মাধ্যমে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম আল্লাহর নিকট দুআ করেছেন; তবে সেই বিষয়টি আদিষ্ট (مأمور به)।
অতএব আমরা এই প্রকারগুলোর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি এবং তা হলো তেত্রিশটি উদাহরণ।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
الْمِثَال الأول تَعْظِيم الْفِعْل وتوقيره {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب وَالْعَمَل الصَّالح يرفعهُ} {هِيَ أَشد وطأ وأقوم قيلا} وَكَذَلِكَ الإتسام بِالْفِعْلِ وَضرب من تَعْظِيمه وتوقيره {وَإنَّك لعلى خلق عَظِيم}
الْمِثَال الثَّانِي مدح الْفِعْل {إِن الصَّلَاة تنْهى عَن الْفَحْشَاء وَالْمُنكر} {ذَلِكُم خير لكم} {ذَلِكُم أزكى لكم وأطهر} {وَمن أحسن دينا} {وَمن أحسن قولا} {لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة} {إِن ذَلِك لمن عزم الْأُمُور} {وَيُؤْت كل ذِي فضل فَضله}
الْمِثَال الثَّالِث مدح الْفَاعِل {أُولَئِكَ هم المفلحون} {وَأُولَئِكَ هم المهتدون}
প্রথম উদাহরণ: কর্মের (الفعل) মাহাত্ম্য বর্ণনা ও সম্মান প্রদর্শন। {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহন করে এবং সৎকর্ম (العمل الصالح) তাকে উন্নীত করে।} {নিশ্চয়ই তা অধিক প্রভাব বিস্তারকারী এবং বাক্যে অধিক সুদৃঢ়।} তদ্রূপ কর্মের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হওয়াও সেই কর্মের মাহাত্ম্য ও সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রকার। {আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।}
দ্বিতীয় উদাহরণ: কর্মের (الفعل) প্রশংসা করা। {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ (المنكر) থেকে বিরত রাখে।} {এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।} {এটাই তোমাদের জন্য অধিক পরিশুদ্ধ ও অধিক পবিত্র।} {দীনের ক্ষেত্রে কে অধিক উত্তম?} {কথায় কে অধিক উত্তম?} {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।} {নিশ্চয়ই তা দৃঢ় সংকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজ।} {এবং তিনি প্রত্যেক মর্যাদাবানকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করেন।}
তৃতীয় উদাহরণ: সম্পাদনকারীর (الفاعل) প্রশংসা করা। {তারাই সফলকাম।} {আর তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
{أُولَئِكَ هم الراشدون} {نعم العَبْد إِنَّه أواب} {أُولَئِكَ هم خير الْبَريَّة} {وَأُولَئِكَ هم أولُوا الْأَلْبَاب}
الْمِثَال الرَّابِع الْفَرح بِالْفِعْلِ لله أفرح بتوبة أحدكُم من أحدكُم بضالته إِذا وجدهَا
الْمِثَال الْخَامِس حب الْفِعْل إِن الله يحب أَن تُؤْتى رخصه كَمَا يجب أَن تُؤْتى عَزَائِمه وَلَا أحد أحب إِلَيْهِ الْمَدْح من الله عز وجل لَا أحد
{তারাই সৎপথপ্রাপ্ত} {কতই না চমৎকার বান্দা! নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী} {তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ} {এবং তারাই হলো বোধশক্তিসম্পন্ন}
চতুর্থ উদাহরণ: মহান আল্লাহর কোনো কার্যের মাধ্যমে আনন্দিত হওয়া। আল্লাহ তোমাদের কোনো ব্যক্তির তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে তার হারিয়ে যাওয়া বাহনটি ফিরে পেয়ে আনন্দিত হয়।
পঞ্চম উদাহরণ: কোনো কাজকে ভালোবাসা। নিশ্চয়ই আল্লাহ এটি পছন্দ করেন যে তাঁর দেওয়া সহজ বিধানগুলো গ্রহণ করা হোক, যেমনিভাবে তিনি পছন্দ করেন যে তাঁর দেওয়া মূল বিধানগুলো পালন করা হোক। আর মহান আল্লাহ অপেক্ষা অধিক প্রশংসা প্রিয় আর কেউ নেই, কেউ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯০)
أحب إِلَيْهِ الْعذر من الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ قَوْله صلى الله عليه وسلم لأشج عبد الْقَيْس إِن فِيك لخصلتين يحبهما الله الْحلم والأناة
وَقَوله إِنَّك عَفْو تحب الْعَفو أَي يحب أَن يعْفُو بَعْضنَا عَن بعض
আল্লাহ তাআলার নিকট ওজর (বান্দার পক্ষ থেকে পেশকৃত ত্রুটি স্বীকার বা ওজুহাত) অপেক্ষা অধিক প্রিয় আর কিছুই নেই। অনুরূপভাবে আশাজ্জ আব্দুল কায়েস-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ: "নিশ্চয়ই তোমার মাঝে এমন দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা আল্লাহ পছন্দ করেন; আর তা হলো সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা।"
এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন।" অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এটি পছন্দ করেন যেন আমরা একে অপরকে ক্ষমা করি।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯১)
السَّادِس حب الْفَاعِل {إِن الله يحب التوابين وَيُحب المتطهرين} {يحب الْمُتَّقِينَ} يحب الصابرين {يحب الْمُحْسِنِينَ} {يحب الَّذين يُقَاتلُون فِي سَبيله صفا}
السَّابِع الرِّضَا بِالْفِعْلِ {ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} {وَإِن تشكروا يرضه لكم} {وَرَضي لَهُ قولا} {وليمكنن لَهُم دينهم الَّذِي ارتضى لَهُم} {وَأَن أعمل صَالحا ترضاه}
الثَّامِن الرِّضَا عَن الْفَاعِل {رضي الله عنهم} {يبشرهم رَبهم برحمة مِنْهُ ورضوان} {ورضوان من الله أكبر}
التَّاسِع رضَا الْفَاعِل عَن ربه {وَرَضوا عَنهُ} {لَعَلَّك ترْضى}
ষষ্ঠত: আমলকারীর প্রতি ভালোবাসা। {নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} {তিনি মুত্তাকীদের ভালোবাসেন} তিনি ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন {তিনি সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন} {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে}
সপ্তমত: কর্মের প্রতি সন্তুষ্টি। {আর আমি তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছি} {আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য তাতে সন্তুষ্ট হবেন} {এবং যার কথা তিনি পছন্দ করেছেন} {আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন} {এবং আমি যেন এমন সৎকর্ম করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন}
অষ্টমত: আমলকারীর প্রতি সন্তুষ্টি। {আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} {তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে দয়া ও সন্তুষ্টির সুসংবাদ প্রদান করেন} {এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ}
নবমত: প্রতিপালকের প্রতি আমলকারীর সন্তুষ্টি। {এবং তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে} {যাতে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯২)
{عيشة راضية}
الْعَاشِر وصف الْفِعْل بالاستقامة {الصِّرَاط الْمُسْتَقيم} {ذَلِك الدّين الْقيم} {لَكَانَ خيرا لَهُم وأقوم} {إِن هَذَا الْقُرْآن يهدي للَّتِي هِيَ أقوم} {دينا قيمًا} {ثمَّ استقاموا} {وَذَلِكَ دين الْقيمَة}
الْحَادِي عشر وصف الْفِعْل بِالْبركَةِ {تَحِيَّة من عِنْد الله مباركة طيبَة} التَّحِيَّات المباركات الطَّيِّبَات لله
{সন্তোষজনক জীবন (عيشة راضية)}
দশম: কর্মকে অবিচলতা (استقامة) দ্বারা গুণান্বিত করা; {সরল পথ (الصراط المستقيم)} {এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন (الدين القيم)} {তা তাদের জন্য কল্যাণকর ও অধিকতর সুদৃঢ় (أقوم) হতো} {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন এক পথের দিশা দেয় যা অধিকতর সুদৃঢ় (أقوم)} {সুপ্রতিষ্ঠিত আদর্শ (دينا قيما)} {অতঃপর তারা অবিচল (استقاموا) ছিল} {আর এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন (دين القيمة)}
একাদশ: কর্মকে বরকত (البركة) দ্বারা গুণান্বিত করা; {আল্লাহর পক্ষ হতে এক বরকতময় (مباركة) ও পবিত্র অভিবাদন}, "সমস্ত অভিবাদন, বরকতসমূহ (المباركات) ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য।"
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الثَّانِي عشر وصف الْفِعْل بِكَوْنِهِ قربَة {ويتخذ مَا ينْفق قربات عِنْد الله وصلوات الرَّسُول أَلا إِنَّهَا قربَة لَهُم} {واسجد واقترب} وَمن تقرب إِلَى شبْرًا تقربت إِلَيْهِ ذِرَاعا
الثَّالِث عشر وصف الْفَاعِل بالتقريب {أُولَئِكَ المقربون} {عينا يشرب بهَا المقربون} {عِنْد مليك مقتدر} {لَهُم أجرهم عِنْد رَبهم} أَنا جليس من ذَكرنِي
দ্বাদশ: কোনো কাজকে আল্লাহ্র নৈকট্য (قربة) হিসেবে অভিহিত করা। {সে যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের মাধ্যম (قربات) এবং রাসূলের দোয়া হিসেবে গ্রহণ করে; জেনে রেখো! তা তাদের জন্য আল্লাহ্র সান্নিধ্য (قربة) লাভের অসিলা।} {সিজদা করো এবং আল্লাহ্র নিকটবর্তী (اقترব) হও।} এবং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে (تقرب), আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই।"
ত্রয়োদশ: আমলকারী ব্যক্তিকে সান্নিধ্য প্রদানের মাধ্যমে (بالتقريب) ভূষিত করা। {তারাই হলো নৈকট্যপ্রাপ্ত (المقربون)।} {এমন এক প্রস্রবণ যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তগণ (المقربون) পান করবে।} {সর্বশক্তিমান অধিপতির সান্নিধ্যে।} {তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার রয়েছে।} "যে আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সঙ্গী।"
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
الرَّابِع عشر وصف الْفِعْل بالطيب {وهدوا إِلَى الطّيب من القَوْل} {مثلا كلمة طيبَة} {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب} طبت وطاب ممشاك التَّحِيَّات المباركات الطَّيِّبَات لله
الْخَامِس عشر وصف الْفَاعِل بالطيب {قل لَا يَسْتَوِي الْخَبيث وَالطّيب} {ليميز الله الْخَبيث من الطّيب} {تتوفاهم الْمَلَائِكَة طيبين} {سَلام عَلَيْكُم طبتم}
السَّادِس عشر الْقسم بالفاعل {وَالصَّافَّات صفا فالزاجرات زجرا فالتاليات ذكرا} {فَالْمُقَسِّمَات أمرا} {والمرسلات عرفا} إِن جَعَلْنَاهُ لجَماعَة الرُّسُل أَو الْمَلَائِكَة {وَلَا أقسم بِالنَّفسِ اللوامة}
চতুর্দশ: কাজকে পবিত্র (طيب) হিসেবে বিশেষায়িত করা। {এবং তাদেরকে পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল}, {একটি পবিত্র বাক্যের উপমা}, {তাঁরই দিকে আরোহণ করে পবিত্র বাক্যসমূহ}। আপনি পবিত্র হয়েছেন এবং আপনার পথচলা পবিত্র হয়েছে। যাবতীয় অভিবাদন, বরকতময় ও পবিত্র বিষয়সমূহ (طيبات) আল্লাহর জন্য।
পঞ্চদশ: কর্তাকে পবিত্র (طيب) হিসেবে বিশেষায়িত করা। {বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র (طيب) সমান নয়}, {যাতে আল্লাহ অপবিত্র থেকে পবিত্রকে (طيب) পৃথক করেন}, {ফেরেশতারা যাদের পবিত্র (طيبين) অবস্থায় মৃত্যু ঘটায়}, {আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, আপনারা পবিত্র (طبتم) হয়েছেন}।
ষোড়শ: কর্তার মাধ্যমে শপথ করা। {শপথ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোদের, অতঃপর শপথ ধমক প্রদানকারীদের, অতঃপর শপথ পাঠকারীদের}, {শপথ কর্ম বণ্টনকারীদের}, {শপথ একাদিক্রমে প্রেরিতদের (مرسلات)}—যদি আমরা একে রাসূলগণের জামাত অথবা ফেরেশতাদের জন্য সাব্যস্ত করি। {এবং আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার}।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
أقسم بِنَفس الْمُؤمن لِكَثْرَة لومها إِيَّاه فِي ذَات الله تَعَالَى والإقسام بخيل الْمُجَاهدين فِي قَوْله {وَالْعَادِيات ضَبْحًا} تَنْبِيه على تَعْظِيم الْمُجَاهدين وتوقيرهم بطرِيق الأولى
السَّابِع عشر الْقسم بِالْفِعْلِ كَقَوْلِه {وَالْفَجْر وليال عشر وَالشَّفْع وَالْوتر}
মুমিনের নফস আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তাকে অধিক পরিমাণে ভর্ৎসনা করার কারণে তিনি তার কসম খেয়েছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী— {কসম সেইসব ঘোড়ার যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায়}—এ মুজাহিদদের ঘোড়ার শপথ গ্রহণ মূলত মুজাহিদদের মাহাত্ম্য এবং অগ্রগণ্য হিসেবে (بطريق الأولى) তাদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের প্রতি একটি নির্দেশনা।
সপ্তদশ: কার্যের (بالفعل) মাধ্যমে শপথ; যেমন তাঁর বাণী— {কসম ঊষার, কসম দশ রজনীর এবং কসম জোড় ও বেজোড়ের}।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
إِن حمل على الصَّلَوَات فَإِنَّهُ يرجع إِلَى تَعْظِيم الْفِعْل فَإِنَّهُم لَا يقسمون إِلَّا بِمَا يحترمون ويعظمون
الثَّامِن عشر نصب الْفِعْل سَببا لمحبة الله تَعَالَى {فَاتبعُوني يحببكم الله} وَلَا يزَال عَبدِي يتَقرَّب إِلَيّ بالنوافل حَتَّى أحبه {يُحِبهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} وَفِيه نظر
التَّاسِع عشر نصب الْفِعْل سَببا لثواب عَاجل {فآتاهم الله ثَوَاب الدُّنْيَا} {وَآتَيْنَاهُ أجره فِي الدُّنْيَا} {وأثابهم فتحا قَرِيبا ومغانم كَثِيرَة يأخذونها} {وَلَو أَن أهل الْقرى آمنُوا وَاتَّقوا لفتحنا عَلَيْهِم بَرَكَات من السَّمَاء وَالْأَرْض} {وَلَو أَنهم أَقَامُوا التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَمَا أنزل إِلَيْهِم من رَبهم لأكلوا من فَوْقهم وَمن تَحت أَرجُلهم}
যদি এটি নামাজসমূহের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আমলের মহত্ত্বের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; কেননা তারা কেবল সেই বিষয়ের মাধ্যমেই শপথ করে যাকে তারা সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।
আঠারোতম: আমলকে মহান আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। যেমন: {তোমরা আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} এবং [হাদিসে এসেছে:] "আমার বান্দা নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি।" [আরও এরশাদ হয়েছে:] {তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে}। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে।
উনিশতম: আমলকে আশু বা দুনিয়াবি প্রতিদানের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। যেমন: {অতঃপর আল্লাহ তাদের দুনিয়ার প্রতিদান দান করলেন}, {এবং আমরা তাকে দুনিয়াতে তার প্রতিদান দিয়েছি}, {এবং তিনি তাদের প্রতিদান স্বরূপ দিয়েছেন আসন্ন বিজয় এবং প্রচুর গনিমত যা তারা লাভ করবে}, {আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমরা তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম}, {আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তবে তারা তাদের মাথার ওপর থেকে এবং পায়ের নিচ থেকে আহার্য লাভ করত}।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
{للَّذين أَحْسنُوا فِي هَذِه الدُّنْيَا حَسَنَة} {وَإِن تصبروا وتتقوا لَا يضركم كيدهم شَيْئا} {إِن تصبروا وتتقوا ويأتوكم من فورهم هَذَا يمددكم ربكُم بِخَمْسَة آلَاف من الْمَلَائِكَة} {وَمن يتق الله يَجْعَل لَهُ مخرجا وَيَرْزقهُ من حَيْثُ لَا يحْتَسب} {سَيجْعَلُ لَهُم الرَّحْمَن ودا} كَمَا فِي الحَدِيث إِن الله إِذا أحب عبدا نَادَى جِبْرِيل أَنِّي أحب فلَانا فَأَحبهُ فَيُحِبهُ جِبْرِيل ثمَّ يُنَادي فِي السَّمَاء إِن الله قد أحب فلَانا فَأَحبُّوهُ فَيُحِبهُ أهل السَّمَاء ثمَّ يوضع لَهُ الْقبُول فِي الأَرْض {من عمل صَالحا من ذكر أَو أُنْثَى وَهُوَ مُؤمن فلنحيينه حَيَاة طيبَة} على أحد الْأَقْوَال {آتيناه حكما وعلما وَكَذَلِكَ نجزي الْمُحْسِنِينَ}
{যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ।} {আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।} {যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা যদি এই মুহূর্তেই তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার সুচিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।} {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।} {পরম দয়াময় অবশ্যই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন।} যেমনটি হাদিসে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, ‘আমি অমুককে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ অতঃপর জিবরীল তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানবাসীদের মাঝে ঘোষণা করে দেন যে, ‘আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।’ ফলে আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়।” {মুমিন হয়ে যে ব্যক্তি সৎকর্ম সম্পাদন করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, তাকে আমি অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব} —এটি বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি। {আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছি এবং এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
{يمتعكم مَتَاعا حسنا إِلَى أجل مُسَمّى} {يُرْسل السَّمَاء عَلَيْكُم مدرارا ويزدكم قُوَّة إِلَى قوتكم} {يُرْسل السَّمَاء عَلَيْكُم مدرارا ويمددكم بأموال وبنين} {يغْفر لكم من ذنوبكم ويؤخركم إِلَى أجل مُسَمّى} إِن الله لَا يظلم الْمُؤمن من حَسَنَاته شَيْئا يعْطى بهَا فِي الدُّنْيَا ويثاب بهَا فِي الْآخِرَة
الْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لثواب آجل وَهُوَ أَكثر وعود الْقُرْآن {فَمن يعْمل مِثْقَال ذرة خيرا يره} {وَإِن تَكُ حَسَنَة يُضَاعِفهَا وَيُؤْت من لَدنه أجرا عَظِيما} {فَمن عَفا وَأصْلح فَأَجره على الله} {جزاؤهم عِنْد رَبهم جنَّات عدن تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار} {من ذَا الَّذِي يقْرض الله قرضا حسنا فيضاعفه لَهُ أضعافا كَثِيرَة} {وَمن يطع الله وَرَسُوله فقد فَازَ فوزا عَظِيما}
الْحَادِي وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لذكر الله تَعَالَى {فاذكروني أذكركم}
{তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন} {তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরও শক্তি বৃদ্ধি করবেন} {তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন} {তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেবেন} নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের কোনো নেক আমলের প্রতি জুলুম করেন না; তাকে এর বিনিময়ে দুনিয়াতে প্রতিদান দেওয়া হয় এবং আখেরাতে এর সওয়াব প্রদান করা হয়।
বিশতম: কোনো কর্মকে পরকালীন প্রতিদানের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা, আর এটিই কুরআনের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির ভিত্তি। {অতঃপর যে অণু পরিমাণ নেক কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে} {আর যদি তা নেক কাজ হয় তবে তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান দান করেন} {অতঃপর যে ব্যক্তি ক্ষমা করে এবং আপস-নিষ্পত্তি করে, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়} {তাদের রবের নিকট তাদের প্রতিদান হলো চিরস্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত} {কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন} {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল}।
একুশতম: কোনো কর্মকে আল্লাহ তাআলার স্মরণের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। {সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব}।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
{وَلذكر الله أكبر} أَي وَلذكر الله إيَّاكُمْ أكبر من ذكركُمْ إِيَّاه من ذَكرنِي فِي نَفسه ذكرته فِي نَفسِي وَمن ذَكرنِي فِي مَلأ ذكرته فِي مَلأ خير مِنْهُم وَأكْثر
الثَّانِي وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لشكر الله عز وجل {وَمن تطوع خيرا فَإِن الله شَاكر عليم} {وَكَانَ الله شاكرا عليما} {إِن رَبنَا لغَفُور شكور}
الثَّالِث وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا للهداية {وَالَّذين جاهدوا فِينَا لنهدينهم سبلنا} {إِن تتقوا الله يَجْعَل لكم فرقانا} أَي هِدَايَة تفرقون بهَا بَين الْحق وَالْبَاطِل {وَمن يُؤمن بِاللَّه يهد قلبه} {ولهديناهم صراطا مُسْتَقِيمًا}
{আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ} অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর স্মরণ তোমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে স্মরণের চেয়েও মহত্তর। যে ব্যক্তি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে মনে মনে স্মরণ করি; আর যে ব্যক্তি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম ও বৃহত্তর সমাবেশে স্মরণ করি।
দ্বাবিংশ: কোনো আমলকে মহান আল্লাহর গুণগ্রাহিতা লাভের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। {আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ।} {আর আল্লাহ হলেন গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ।} {নিশ্চয়ই আমাদের পালনকর্তা পরম ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।}
ত্রয়োবিংশ: কোনো আমলকে হেদায়েতের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। {আর যারা আমার পথে সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।} {যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান অর্থাৎ এমন হেদায়েত দান করবেন যার মাধ্যমে তোমরা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করতে পারবে।} {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন।} {এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করতাম।}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০০)
{يهْدِيهم رَبهم بإيمَانهمْ} {فسيدخلهم فِي رَحْمَة مِنْهُ وَفضل ويهديهم إِلَيْهِ صراطا مُسْتَقِيمًا}
الرَّابِع وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لمغفرة الخطيئات وتكفير السَّيِّئَات {إِن الْحَسَنَات يذْهبن السَّيِّئَات} {وَإِن تخفوها وتؤتوها الْفُقَرَاء فَهُوَ خير لكم وَيكفر عَنْكُم من سَيِّئَاتكُمْ} {وَمن يتق الله يكفر عَنهُ سيئاته} {فَالَّذِينَ آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات لَهُم مغْفرَة ورزق كريم} من حج هَذَا الْبَيْت فَلم يرْفث وَلم يفسق خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه {إِن تجتنبوا كَبَائِر مَا تنهون عَنهُ نكفر عَنْكُم سَيِّئَاتكُمْ وَنُدْخِلكُمْ مدخلًا كَرِيمًا} دخل فِيهِ مَا تَركه كَبِيرَة من المأمورات وَالصَّلَاة إِلَى الصَّلَاة كَفَّارَة لما بَينهمَا مَا اجْتنبت الْكَبَائِر
{তাদের ঈমানের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন} {অতঃপর তিনি তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাদেরকে তাঁর নিজের দিকে পরিচালিত করার জন্য সরল পথ প্রদর্শন করবেন}
চব্বিশতম পরিচ্ছেদ: আমলসমূহকে পাপ মার্জনা এবং মন্দ কাজসমূহের কাফফারা হওয়ার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। {নিশ্চয়ই নেক কাজসমূহ মন্দ কাজগুলোকে মিটিয়ে দেয়} {আর যদি তোমরা তা গোপন করো এবং অভাবীদেরকে প্রদান করো, তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন} {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দেন} {সুতরাং যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা} যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কথা বা কাজ করল না এবং কোনো পাপাচার করল না, সে তার পাপসমূহ থেকে সেদিনের মতোই পবিত্র হয়ে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। {তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা বড় গুনাহ, যদি তোমরা তা পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব} এর অন্তর্ভুক্ত ঐ সমস্ত আদিষ্ট বিষয় যা বর্জন করা বড় গুনাহের শামিল। আর এক নামাজ হতে অন্য নামাজ তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ, যতক্ষণ পর্যন্ত বড় গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الْخَامِس وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لإِصْلَاح الْعَمَل {اتَّقوا الله وَقُولُوا قولا سديدا يصلح لكم أَعمالكُم وَيغْفر لكم ذنوبكم} {لَكَانَ خيرا لَهُم وَأَشد تثبيتا} جعل الله الْعَمَل سَببا للتثبيت
السَّادِس وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لقبُول الْعَمَل {أُولَئِكَ الَّذين نتقبل عَنْهُم أحسن مَا عمِلُوا} {فتقبلها رَبهَا بِقبُول حسن} {إِنَّمَا يتَقَبَّل الله من الْمُتَّقِينَ} {فَتقبل من أَحدهمَا}
السَّابِع وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا لمعونة الْفَاعِل ونصرته {أَن الله مَعَ الْمُتَّقِينَ} {وَالله يحب الْمُحْسِنِينَ} {إِن الله مَعَ الصابرين} {ولينصرن الله من ينصره} {إِن تنصرُوا الله ينصركم}
الثَّامِن وَالْعشْرُونَ نصب الْفِعْل سَببا للبشارة {وَبشر الْمُؤمنِينَ} {وَبشر الصابرين} {وَبشر الْمُحْسِنِينَ} {وَبشر الَّذين آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات} {يبشرهم رَبهم برحمة مِنْهُ ورضوان}
২৫তম: আমল সংশোধনের কারণ হিসেবে কর্মকে নির্ধারণ করা। {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন।} {তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর এবং সুদৃঢ় থাকার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী হতো।} আল্লাহ আমলকে দৃঢ়তা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
২৬তম: আমল কবুল (قبول) হওয়ার কারণ হিসেবে কর্মকে নির্ধারণ করা। {তারাই সে সমস্ত লোক যাদের সর্বোত্তম আমলগুলো আমি কবুল করি।} {অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে উত্তমভাবে কবুল (قبول) করলেন।} {নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন।} {অতঃপর তাদের একজনের থেকে তা কবুল করা হলো।}
২৭তম: আমলকারীর সাহায্য ও বিজয়ের কারণ হিসেবে কর্মকে নির্ধারণ করা। {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।} {আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।} {নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁর সাহায্য করে।} {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন।}
২৮তম: সুসংবাদ প্রাপ্তির কারণ হিসেবে কর্মকে নির্ধারণ করা। {আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন।} {এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।} {এবং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন।} {আর আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিন যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে।} {তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে রহমত ও সন্তুষ্টির সুসংবাদ দিচ্ছেন।}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০২)
{لَهُم الْبُشْرَى فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة} {بشراكم الْيَوْم جنَّات تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار}
التَّاسِع وَالْعشْرُونَ وصف الْفِعْل بِكَوْنِهِ مَعْرُوفا فِي الْأَصْنَاف {قَول مَعْرُوف ومغفرة خير من صَدَقَة يتبعهَا أَذَى} {خُذ الْعَفو وَأمر بِالْعرْفِ} {تأمرون بِالْمَعْرُوفِ} {وَقُولُوا لَهُم قولا مَعْرُوفا} {ولتكن مِنْكُم أمة يدعونَ إِلَى الْخَيْر ويأمرون بِالْمَعْرُوفِ}
الثَّلَاثُونَ نفي الْحزن وَالْخَوْف عَن الْفَاعِل {فَلَا خوف عَلَيْهِم وَلَا هم يَحْزَنُونَ} {أَلا تخافوا وَلَا تحزنوا} {فَلَا يخَاف ظلما وَلَا هضما}
الْحَادِي وَالثَّلَاثُونَ الْوَعْد بأمن الْآخِرَة {ادخلوها بِسَلام آمِنين} {يدعونَ فِيهَا بِكُل فَاكِهَة آمِنين} {وهم فِي الغرفات آمنون} {أم من يَأْتِي آمنا يَوْم الْقِيَامَة} {أُولَئِكَ لَهُم الْأَمْن} فِيهِ نظر
الثَّانِي وَالثَّلَاثُونَ دُعَاء الْأَنْبِيَاء بِالْفِعْلِ {توفني مُسلما وألحقني بالصالحين}
{তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালে।} {আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ হলো এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত।}
উনত্রিশতম: বিভিন্ন শ্রেণিতে কোনো কর্মকে সুপরিচিত (معروف) হিসেবে অভিহিত করা। {উত্তম কথা ও ক্ষমা সেই দান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যার পেছনে কষ্টদায়ক আচরণ থাকে।} {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং সৎ কাজের (بالعرف) নির্দেশ দিন।} {তোমরা সৎ কাজের (بالمعروف) আদেশ দাও।} {আর তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত (معروفا) কথা বলো।} {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের (بالمعروف) আদেশ দেবে।}
ত্রিশতম: আমলকারীর থেকে ভয় ও দুশ্চিন্তা অপনোদন করা। {তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} {তোমরা ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না।} {সে কোনো জুলুম বা প্রাপ্য হ্রাসের ভয় করবে না।}
একত্রিশতম: পরকালীন নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। {তোমরা শান্তিতে ও নিরাপদে সেখানে প্রবেশ করো।} {তারা সেখানে নিশ্চিন্তে সকল প্রকার ফলমূল প্রার্থনা করবে।} {তারা উচ্চকক্ষসমূহে নিরাপদ থাকবে।} {নাকি সেই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদ হয়ে উপস্থিত হবে?} {তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা।} এটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে (فيه نظر)।
বত্রিশতম: আমলের বিষয়ে নবীদের দোয়া। {তুমি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করো এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করো।}
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
{رَبنَا واجعلنا مُسلمين لَك وَمن ذريتنا أمة مسلمة لَك وأرنا مناسكنا وَتب علينا}
الثَّالِث وَالثَّلَاثُونَ نصب الْفِعْل سَببا لولاية الله تَعَالَى {الله ولي الَّذين آمنُوا} {وَهُوَ يتَوَلَّى الصَّالِحين} {وَهُوَ وليهم بِمَا كَانُوا يعْملُونَ} وَقد يتَعَلَّق بعض هَذِه الْأَدِلَّة باجتناب الْحَرَام كَقَوْلِه {وَالَّذين لَا يدعونَ مَعَ الله إِلَهًا آخر} فَإِنَّهُ مدحهم باجتناب الْمحرم كَمَا مدحهم بِفعل الْوَاجِب وَلذَلِك مدحهم بقوله {وَالَّذين يجتنبون كَبَائِر الْإِثْم وَالْفَوَاحِش} وكل هَذِه الْأَدِلَّة عَائِدَة إِلَى الْمَدْح والوعد وَلَكِن لما اخْتلفت أَنْوَاع الوعود والمدائح عددت هَذِه الْأَنْوَاع لينْتَفع بهَا المتدرب فِي مضانها
{হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত সৃষ্টি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন।}
তেত্রিশতম: আমলকে মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব (ولاية) লাভের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা। {আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক} {এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন} {এবং তাদের কর্মের কারণে তিনিই তাদের অভিভাবক}। এই দলীলসমূহের কোনো কোনোটি হারাম (حرام) বর্জনের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না}। কারণ তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন নিষিদ্ধ (محرم) বিষয় বর্জনের মাধ্যমে, যেমন তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন আবশ্যকীয় (واجب) কাজ পালনের মাধ্যমে। আর একারণেই তিনি তাদের প্রশংসা করে বলেছেন: {এবং যারা কবিরা গুনাহ (كبائر الإثم) ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে}। এই সকল দলীলই প্রশংসা এবং প্রতিশ্রুতির (وعد) দিকে ফিরে যায়; তবে যেহেতু প্রতিশ্রুতি এবং প্রশংসার প্রকারভেদ ভিন্ন, তাই এই প্রকারগুলোকে গণনা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থী তার যথাযথ ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
{بالصالحين} {رَبنَا واجعلنا مُسلمين لَك وَمن ذريتنا أمة مسلمة لَك وأرنا مناسكنا وَتب علينا}
الثَّالِث وَالثَّلَاثُونَ نصب الْفِعْل سَببا لولاية الله تَعَالَى {الله ولي الَّذين آمنُوا} {وَهُوَ يتَوَلَّى الصَّالِحين} {وَهُوَ وليهم بِمَا كَانُوا يعْملُونَ} وَقد يتَعَلَّق بعض هَذِه الْأَدِلَّة باجتناب الْحَرَام كَقَوْلِه {وَالَّذين لَا يدعونَ مَعَ الله إِلَهًا آخر} فَإِنَّهُ مدحهم باجتناب الْمحرم كَمَا مدحهم بِفعل الْوَاجِب وَلذَلِك مدحهم بقوله {وَالَّذين يجتنبون كَبَائِر الْإِثْم وَالْفَوَاحِش} وكل هَذِه الْأَدِلَّة عَائِدَة إِلَى الْمَدْح والوعد وَلَكِن لما اخْتلفت أَنْوَاع الوعود والمدائح عددت هَذِه الْأَنْوَاع لينْتَفع بهَا المتدرب فِي مضانها
{নেককারদের সাথে (بالصالحين)} {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত (أمة مسلمة) গড়ে তুলুন। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি (مناسكنا) দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তওবা কবুল করুন।}
তেত্রিশতম (الثالث والثلاثون): আমলকে মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব (ولاية) লাভের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। {আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক (ولي)}। {এবং তিনি নেককারদের (الصالحين) অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন}। {এবং তারা যা করত তার কারণে তিনি তাদের অভিভাবক (ولي)}। আর এই সকল দলিলের (الأدلة) কোনো কোনটি হারাম (الحرام) বর্জন করার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না}। কেননা তিনি তাদের নিষিদ্ধ (المحرم) বিষয় বর্জনের কারণে প্রশংসা করেছেন, ঠিক যেভাবে তিনি তাদের ওয়াজিব (الواجب) কাজ সম্পাদনের জন্য প্রশংসা করেছেন। আর এ কারণেই তিনি তাদের এই বলে প্রশংসা করেছেন: {এবং যারা কবিরা গুনাহ (كبائر الإثم) ও অশ্লীল কাজ (الفواحش) থেকে বেঁচে থাকে}। এই সকল দলিলই (الأدلة) প্রশংসা (المدح) এবং প্রতিশ্রুতির (الوعد) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যেহেতু প্রতিশ্রুতি ও প্রশংসার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, তাই আমি এই প্রকারগুলো গণনা করেছি যেন শিক্ষার্থী (المتدرب) তার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এগুলো থেকে উপকৃত হতে পারে।