(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: -)
السماع لابن القيسراني   (ابن القيسراني محمد بن طاهر المقدسي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: كتاب السماع

المؤلف: أبو الفضل محمد بن طاهر بن علي بن أحمد المقدسي الشيباني، المعروف بابن القيسراني (ت 507هـ)

المحقق: أبو الوفا المراغي

الناشر: وزارة الأوقاف، المجلس الأعلى للشئون الإسلامية - القاهرة / مصر

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল কাইসারানি প্রণীত আস-সামা   (ইবনুল কাইসারানি মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: কিতাব আস-সামা

লেখক: আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির বিন আলী বিন আহমদ আল-মাকদিসি আল-শায়বানি, যিনি ইবনুল কাইসারানি নামে পরিচিত (মৃ. ৫০৭ হিজরি)

সম্পাদক: আবু আল-ওয়াফা আল-মারাগি

প্রকাশক: আওকাফ মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স - কায়রো / মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَبِهِ الْعَوْنُ وَالْعِصْمَةُ

قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرٍ الْمَقْدِسِيُّ رحمه الله:

أَمَّا بَعْدُ، إِنَّ سَائِلا سَأَلَ عَنِ السَّمَاعِ بِسَائِرِ أَنْوَاعِهِ، وَأَحَبَّ أَنْ أُبَيِّنَ ذَلِكَ مُفَصَّلا مُرَتَّبًا، بِذِكْرِ الأَدِلَّةِ، وَإِقَامَةِ الشَّوَاهِدِ:

الْجَوَابُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.

اعْلَمْ أَنَّ اللَّهِ عز وجل بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم َ - بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ إِلَى الْكَافَةِ يَدْعُوهُمْ إِلَى الإِيمَانِ بِوَحْدَانِيَّتِهِ. وَالتَّصْدِيقِ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَأَمَرَهُ أَنْ يُعَلِّمَهُمْ مَا جَهِلُوهُ، وَيُحَذِّرَهُمْ قَبِيحَ مَا ارْتَكَبُوهُ، فَقَالَ عز وجل " الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ، وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ، وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ، وَالأَغْلالَ الَّتِي كَانَت عَلَيْهِم " الآيَةُ.

بَيَانُ ذَلِكَ مِنَ الأَثَرِ، مَا حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّافِعِيُّ بِمَكَّةَ / قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فِرَاسٍ / قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّد ابْن إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْفَضْلِ الرِّيبَلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ قَالَ: حَدثنَا سُفْيَان ابْن عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ الْحَبَشُ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট সাহায্য ও সুরক্ষা প্রার্থনা করছি।

শাইখ, ইমাম, হাফিজ আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

অতঃপর, এক প্রশ্নকারী শ্রবণ (السماع) এবং এর সকল প্রকারভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং তিনি চেয়েছেন যেন আমি দলিলসমূহ উল্লেখ করে এবং সাক্ষ্য (الشواهد) উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত ও সুশৃঙ্খলভাবে বর্ণনা করি:

উত্তর এবং আল্লাহর মাধ্যমেই সামর্থ্য (তাওফিক) লাভ হয়।

জেনে রাখুন যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একনিষ্ঠ ও উদার দ্বীনসহ সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি তাদের আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যতায় বিশ্বাস করার আহ্বান জানান। আর তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি তাদের অজানা বিষয়গুলো শিক্ষা দেন এবং তাদের কৃত মন্দ কাজ সম্পর্কে সতর্ক করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যারা সেই রাসূল, উম্মী নবীর অনুসরণ করে, যার কথা তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যিনি তাদের সৎ কাজের আদেশ দেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন; আর তাদের ওপর থেকে সেই গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ সরিয়ে দেন যা তাদের ওপর ছিল" - আয়াত।

বর্ণনা (الأثر) থেকে এর বিশদ বিবরণ হলো যা আমাদের নিকট মক্কায় বর্ণনা করেছেন আবু আলী হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আশ-শাফিঈ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ফিরাশ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-ফজল আর-রিবালি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদুল্লাহ সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হাবশিরা ছিল...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩০)
يَأْتُونَ فَيَلْعَبُونَ بِحِرَابٍ لَهُمْ، فَكُنْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِ أُذِنِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - وَعَاتِقِهِ حَتَّى أَكَوُنَ أَنَا الَّذِي أَنْصَرِفُ عَنْهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: يَلْعَبُ بَنُو أَرْفِدَةَ أَوْ كَمَا قَالَ: لِيَعْلَمَ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى أَنْ فِي دِينِنَا فُسْحَةً. هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخَرَجَهُ مُسْلِمُ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ وَيَحْيَى بْنِ أَبِي زَائِدَةَ وَمُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ عَنْ هِشَامِ بن عُرْوَة، وَلَفْظهمْ جَاءَ حبش يزفنون فِي الْمَسْجِد.

فَبلغ صلى الله عليه وسلم َ - الرِّسَالَةِ، وَأَدَّى الأَمَانَةَ، وَنَصَحَ الأُمَّةَ وَسن شرع. وَأمر وَنهي كَمَا أَمر صلى الله عليه وسلم َ -، فَلَيْسَ لأَحَدٍ / بَعْدَهُ وَبَعْدَ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدين الَّذين أَمر صلى الله عليه وسلم َ - بِالاقْتِدَاءِ بِهِمْ، وَالاتِّبَاعِ لِسُنَّتِهِمْ أَنْ يُحَرِّمَ مَا أَحَلَّهُ اللَّهِ عز وجل وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - إِلَّا بِدَليِلٍ نَاطِقٍ مِنْ آيَةٍ مُحْكَمَةٍ، أَوْ سُنَّةٍ مَاضِيةٍ صَحِيحَةٍ أَوْ إِجْمَاعٍ عَنِ الأَمَّةِ عَلَى مَقَالَتِهِ، فَأَمَّا الاسْتِدْلالُ بِالْمَوْضُوعَاتِ وَالْغَرَائِبِ وَالأَفْرَادِ مِنْ رِوَايَةِ الْكَذَبَةِ وَالْمَجْرُوحِينَ الَّذِينَ لَا يَقُومُ بِرَوَايَتِهِمْ حُجَّةٌ، وَبِأَقَاوِيلَ مَنْ فَسَّرَ الْقُرْآنَ عَلَى حَسِبِ مُرَادِهِ وَرَأْيِهِ، فَحَاشَا وَكَلَّا أَنْ يُرْجَعَ إِلَى قَوْلِهِمْ. وَيُسْلَكَ طَرِيقُهُمْ؛ إِذْ لَوْ جَازَ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ قَوْلُ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ أَوْلَى مِنْ قَوْلِ غَيْرِهِ. وَإِنِّمَا يُلْتَزَمُ قَولُ مَنْ أُيِّدَ بِالْوَحْيِ وَالتَّنْزِيلِ، وعُصِمَ مِنَ التَّغْيِيرِ وَالتَّبْدِيلِ: قَالَ اللَّهِ عز وجل: " وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى " فَعلمنَا أَنه صلى الله عليه وسلم َ - لَمْ يَأْمُرْ بِأَمْرٍ
তারা আসত এবং তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করত। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কান ও কাঁধের মাঝখান দিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম যতক্ষণ না আমি নিজেই সেখান থেকে ফিরে আসতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "হে বনু আরফিদা, তোমরা খেলা করো," অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন: "যাতে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা জানতে পারে যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে।" এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস। মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি যায়িদা এবং মুহাম্মাদ ইবনে বিশর-এর হাদিস থেকে হিশাম ইবনে উরওয়াহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের বর্ণিত শব্দগুলো ছিল: "হাবশীরা এসে মসজিদে খেলা করছিল।"

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন। তিনি ঠিক সেভাবেই আদেশ ও নিষেধ করেছেন যেভাবে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অতএব, তাঁর পরে এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের পরে—যাঁদের অনুসরণ করতে এবং যাঁদের সুন্নাহর ইত্তিবা করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) যা হালাল করেছেন তা হারাম করার অধিকার অন্য কারও নেই; যদি না কোনো সুস্পষ্ট (محكمة) আয়াত, প্রতিষ্ঠিত সহীহ (صحيحة) সুন্নাহ অথবা তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) থেকে কোনো সুস্পষ্ট দলিল থাকে। আর বানোয়াট (الموضوعات), অপরিচিত (الغرائب) ও একক (الأفراد) বর্ণনা—যা মূলত মিথ্যাবাদী (الكذبة) ও ত্রুটিযুক্ত (المجروحين) ব্যক্তিদের রেওয়ায়েত থেকে সংগৃহীত এবং যাদের বর্ণনার মাধ্যমে কোনো দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না—সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং যারা নিজেদের খেয়ালখুশি ও মত অনুযায়ী কোরআনের ব্যাখ্যা করে, তাদের কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা তাদের পথ অনুসরণ করা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। কারণ যদি এটি বৈধ হতো, তবে কোনো মানুষের কথাই অন্য কারও কথার চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য হতো না। বরং কেবল তাঁরই কথা মান্য করা আবশ্যক যাকে ওহী ও তানযীল দ্বারা সমর্থন করা হয়েছে এবং সকল প্রকার পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: "তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" সুতরাং আমরা জানলাম যে, তিনি (সা.) এমন কোনো বিষয়ে আদেশ দেননি যা...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَلَمْ يَنْهَ عَنْ أَمْرٍ، إِلَّا بِوَحْيٍ مِنَ اللَّهِ عز وجل، وَلذَلِك كَانَ صلى الله عليه وسلم َ - إِذَا سُئِلَ عَنْ أَمْرٍ تَوَقَّفَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْوَحْيُ / وَلَيْسَتْ هَذِهِ الْمَنْزِلَةُ لِغَيْرِهِ، فَيَلْزَمَ قَبُولُ قَوْلِهِ.

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ بِنَيْسَابُورَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنَ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بكر مُحَمَّد بن اسحق بْنِ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: لَيْسَ لأَحَدٍ مَعَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - قَوْلٌ إِذَا صَحَّ الْخَبَرُ عَنْهُ، سَمِعْتُ أَبَا هِشَامٍ مُحَمَّدَ بْنَ يَزِيدَ الرِّفَاعِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ آدَمَ يَقُولُ: لَا يُحْتَاجُ مَعَ قَول رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - إِلَى قَوْلِ أَحَدٍ، وَإِنَّمَا كَانَ يُؤثر سنة النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - وَأَبِي بَكْرٍ وُعُمَرَ رضي الله عنهما، لِيُعْلَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - مَاتَ وَهُوَ عَلَيْهَا، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ بِجُرْجَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ: حَدثنَا الْحسن بن اسحق الْخَوْلانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى / قَالَ: قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ الأَصْلِ: قُرْآنٌ أَوْ سُنَّةٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَقِيَاسٌ عَلَيْهِمَا، وَإِذَا اتَّصَلَ الحَدِيث عَن رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -، وَصَحَّ الإِسْنَادُ فِيهِ فَهُوَ سُنَّةٌ، وَالإِجْمَاعُ أَكْبَرُ مِنْ خَبَرِ الْمُنْفَرِدِ وَالْحَدِيثُ عَلَى ظَاهِرِهِ، وَإِذَا احْتَمَلَ الْحَدِيثُ مَعَانِيَ فَمَا أَشْبَهَ مِنْهَا ظَاهِرَهُ أَوْلاهَا بِهِ، فَإِذَا تَكَافَأَتِ الأَحَادِيثُ فَأَصَحُّهَا إِسْنَادًا أَوْلاهَا، وَلَيْسَ الْمُنْقَطع بِشَيْء مَا عدا مُنْقَطع ابْن الْمُسَيِّبِ، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ: هِيَ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -، وَكِتَابُ اللَّهِ عز وجل، فَمَنْ قَالَ
এবং তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি ব্যতিরেকে কোনো বিষয়ে নিষেধ করতেন না। আর এ কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন, তখন ওহি না আসা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন। এই মর্যাদা অন্য কারো জন্য নয়, ফলে তাঁর কথা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

নিসাবুরে আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন খালাফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীতে অন্য কারো কথার কোনো অবকাশ নেই যদি তাঁর থেকে বর্ণিত সংবাদটি সহিহ বা বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়। আমি আবু হিশাম মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আর-রিফায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন আদমকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর উপস্থিতিতে অন্য কারো কথার প্রয়োজন নেই। আর মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সুন্নাহ উদ্ধৃত করা হতো যাতে এটি জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। জুরজানে আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মাসআদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফিজ হামজা বিন ইউসুফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আবদুল্লাহ বিন আদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন ইসহাক আল-খাওলানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস বিন আবদিল আ'লা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ আমাকে বলেছেন: মূল ভিত্তি হলো কুরআন অথবা সুন্নাহ, আর যদি সেখানে না পাওয়া যায় তবে এই দুটির ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس)। আর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হয় এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ বা বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে সেটিই সুন্নাহ। আর ইজমা (إجماع) একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر المنفرد) অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী। হাদিস তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর গণ্য হবে। যদি কোনো হাদিস একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে, তবে তার মধ্য থেকে যা তার প্রকাশ্য রূপের অধিক সদৃশ, সেটিই অগ্রাধিকারযোগ্য। আর যখন হাদিসসমূহ পরস্পর সমপর্যায়ের মনে হয়, তখন যার সনদ (إسناد) অধিক সহিহ বা বিশুদ্ধ (أصح), সেটিই অগ্রগণ্য। বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনা কোনো নির্ভরযোগ্য বিষয় নয়, ইবনে আল-মুসাইয়িব-এর বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনা ব্যতীত। এবং আবদুল্লাহ বিন আব্বাস বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং আল্লাহর কিতাব। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩২)
بَعْدُ بِرَأْيِهِ فَلا أَدْرِي أَفِي حَسَنَاتِهِ أَوْ سَيِّئَاتِهِ، وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: وَقَعَ فِي نُسْخَةٍ أَخْرَى، قَالَ الشّعبِيّ قَالَ عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ: مَا حَدَّثُوكَ عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم َ - فَخُذْ بِهِ وَمَا حَدَّثُوكَ بِرَأْيِهِمْ فَبُلْ عَلَيْهِ، فَكَانَ فَرْضُ الْمُسْلِمِينَ بَعْدَ الْإِيمَانِ بِاللَّهِ عز وجل وبوحدانيته وبرسوله صلى الله عليه وسلم َ -؛ امْتِثَالَ أَوَامِرِهِ وَنَوَاهِيهِ، قَالَ اللَّهِ عز وجل /: " وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا، وَاتَّقُوا اللَّهِ، إِنَّ اللَّهِ شَدِيدُ الْعقَاب ". وَقَالَ عز وجل: " فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ، ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ ويسلموا تَسْلِيمًا ". وَقَالَ عز وجل: " فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ".

فَلَمَّا افْتَرَضَ اللَّهِ عز وجل عَلَيْنَا فِي هَذِهِ الآيَاتِ وَفِي غَيْرِهَا مِنَ الآيِ مِنْ كِتَابِهِ عز وجل قَبُولَ مَا أَمَرَ بِهِ صلى الله عليه وسلم َ -، وَالنَّهْيَ عَمَّا أَمَرَ بِهِ وَزَجَرَ عَنْهُ، لَمْ نَجِدْ طَرِيقًا إِلَى مَعْرِفَةِ ذَلِكَ بِالْفِعْلِ الصَّحِيحِ عَنِ الثِّقَاتِ الْمَعْرُوفِينَ، دُونَ رِوَايَةِ الضُّعَفَاءِ وَالْمَجْرُوحِينَ، فَمَا اتَّصَلَ بِنَا عَلَى هَذَا الشَّرْطِ قَبِلْنَاهُ، وَأَحْلَلْنَا مَا أَحَلَّهُ اللَّهِ وَحَرَّمَنَا مَا حَرَّمَهُ، وَمَا كَانَ عَلَى غَيْرِ هَذِهِ الشَّرِيطَةِ لَمْ نَلْتَفِتْ إِلَيْهِ، وَلَمْ نَعْمَلْ بِهِ لأَنَّا قَدْ أُمِرْنَا بِقَبُولِ / شَهَادَةِ الْعَدْلِ دُونَ غَيْرِهِ، قَالَ اللَّهِ عز وجل: {يَأَيُّهَا الَّذين آمنو إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تصيبوا قوما بِجَهَالَة} الْآيَة. وَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " مَنْ كَذَبَ عَلِيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ "، وَلَمَّا ظَهَرَ فِي كُلِّ زَمَانٍ أَقْوَامٌ يَتَظَاهَرُونَ بِالشَّكِّ وَالتَّفَرُّسَ يُحَرِّمُونَ مَا أَحَلَّ اللَّهِ عز وَجل
...অতঃপর তিনি নিজ রায়ে যা বলেছেন; আমি জানি না তা কি তাঁর পুণ্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত নাকি মন্দকর্মের। আর শাবি (রহ.) বলেন: অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) বর্ণিত হয়েছে, শাবি তথা আমির ইবনে শারাহিল বলেছেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয় তা গ্রহণ করো, আর তারা তাদের ব্যক্তিগত রায় থেকে যা বলে তা বর্জন করো। সুতরাং মহান আল্লাহর ওপর ঈমান, তাঁর একত্ববাদ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি বিশ্বাসের পর মুসলমানদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্য হলো তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ প্রতিপালন করা। মহান আল্লাহ বলেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" তিনি আরও বলেন: "না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো সংশয় না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" তিনি আরও বলেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।"

অতঃপর আল্লাহ যখন এই আয়াতগুলোতে এবং তাঁর কিতাবের অন্যান্য আয়াতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা এবং যে বিষয়ে তিনি আদেশ ও নিষেধ করেছেন তা মেনে চলা আমাদের ওপর ফরজ করেছেন, তখন আমরা পরিচিত নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ (الصحيح) বর্ণনার মাধ্যমেই তা জানার পথ পেয়েছি; যা দুর্বল (الضعفاء) এবং সমালোচিত (المجروحين) ব্যক্তিদের বর্ণনা ব্যতিরেকে। সুতরাং এই শর্তে যা আমাদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন (اتصل) সূত্রে পৌঁছেছে, আমরা তা গ্রহণ করেছি; আল্লাহ যা হালাল করেছেন আমরা তাকে হালাল মেনেছি এবং যা তিনি হারাম করেছেন আমরা তাকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করেছি। আর যা এই শর্তের বাইরে ছিল, আমরা তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি এবং সে অনুযায়ী আমল করিনি। কেননা আমাদের কেবল ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যদের নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো..."। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" আর যখনই প্রতিটি যুগে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা সন্দেহ ও প্রবৃত্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম ঘোষণা করে...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم َ - جَهْلا مِنْهُمْ وَتَقَرُّبًا إِلَى الْعَامَّةِ بِالتَّعَسُّفِ اسْتِمَالَةً لَهُمْ، وَتَكَثُّرًا بِهِمْ - وَاسْتِخْلاصَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ بِتَعَسُّفِهِمْ - لَا كَثَّرَ اللَّهِ فِي الْمُسْلِمِينَ أَمْثَالَهُمْ - أَصْغَتِ الْعَامَةُ إِلَى قَوْلِهِمْ وظنا مِنْهُمْ أَنَّهُمْ لَا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا عَنْ بَصِيرَةٍ وَوَثِيقَةٍ، وَإِطَلاقُهُمْ عَلَى مَنْ رَأَوْهُ عَلَى غَيْرِ مَا أَمَرَ بِهِ هَؤُلاءِ الْعَامَّةَ - أَنَهُ مُخَالِفٌ لِلسُّنَّةِ، مُرْتَكِبٌ لِلأَمِرِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ، وَأَنَا أُبَيِّنُ ذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهِ عز وجل فِي فَصْلَيْنِ.

الْفَصْلُ الأَوَّلُ

يَشْتَمِلُ عَلَى جَوَازِ اسْتِمَاعِهِ بِالأَدِلَّةِ الصَّحِيحَةِ الْوَاضِحَةِ.

الْفَصْلُ الثَّانِي

يَشْتَمِلُ عَلَى مَا احْتَجُّوا بِهِ عَلَى تَحْرِيمِهِ، وَبَيَانِ بُطْلانِهِ، وَاللَّهُ يَعْصِمُنَا مِنَ الأَهْوَاءِ الْمُضِلَّةِ وَالآرَاءِ الْمُضْمَحِلَّةِ، إِنَّهُ جَوَّادٌ كريم.
...এবং তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি—তাদের মূর্খতা ও জবরদস্তিমূলক আচরণের মাধ্যমে জনসাধারণের মন জয় করে নিজেদের দলে ভেড়ানোর হীন প্রচেষ্টা এবং জুলুমের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত করার মানসে—আল্লাহ যেন মুসলিমদের মধ্যে তাদের ন্যায় লোকদের আধিক্য না করেন—সাধারণ মানুষ তাদের কথায় কর্ণপাত করেছে এই ধারণায় যে, তারা বুঝি গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই কথা বলছে। আর তারা সাধারণ মানুষকে যা নির্দেশ দিয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনো পথে কাউকে দেখলে তাকে সুন্নাহর পরিপন্থী এবং নিষিদ্ধ কাজের হোতা বলে আখ্যায়িত করে। আমি ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় বিষয়টি দুটি পরিচ্ছেদে বর্ণনা করব।

প্রথম পরিচ্ছেদ

এটি সঠিক (صحيح) ও সুস্পষ্ট দলীলাদির মাধ্যমে তা শোনার বৈধতা সংবলিত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

এটি তারা এর নিষিদ্ধতার পক্ষে যা দিয়ে দলিল পেশ করেছে তা এবং তার অসারতা বর্ণনা সংবলিত। আল্লাহ আমাদের পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি এবং অসার মতামত থেকে রক্ষা করুন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
(الْقَولُ فِي الْغِنَاءِ عَلَى الإِطْلاقِ)
(সংগীত সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা)
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
صفحة فارغة

খালি পৃষ্ঠা

(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّاذْيَاخِيُّ الْعَدْلُ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عبد الْملك بن الْحسن الإِسْفَرَايِينِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ يَعْقُوب بن إِسْحَق الْحَافِظُ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الإِسْفَرَايِينِيُّ فَالَّذِي قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّد ابْن مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأُمَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحَارِثِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ أَبُو بَكْرٍ، وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الأَنْصَارِ. تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتْ بِهِ الأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثٍ قَالَتْ: وَلَيْسَتَا / بِمُغَنِّيَتَيْنِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَمِزْمَارُ الشَّيْطَانِ فِي بَيت رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَذَلِكَ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا. اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْرَاجه فِي صَحِيحهمَا مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ حَمَّادِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ وَرَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ كَرِوَايَةِ هِشَامٍ [قَالَ] : حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْكَاتِبُ بِشِيرَازَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفِ بْنِ سُفْيَانَ أَبُو جَعْفَرٍ الطَّائِيُّ. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحُوفِيُّ

بِنَيْسَابُورَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ فَرْصَخٍ الإِخْمِيمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ الْخَطَّابِ.
আমাদের নিকট আবু নাসর মুহাম্মদ বিন সাহল বিন মুহাম্মদ আশ-শাযিয়াখি ন্যায়পরায়ণ (العدل) আন-নাইসাবুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুয়াইম আব্দুল মালিক বিন আল-হাসান আল-ইসফারায়িনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানা ইয়াকুব বিন ইসহাক হাফেজ (الحافظ) বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইসমাইল বিন আলী বিন আহমদ আল-ইসফারায়িনি বর্ণনা করেছেন; আর যিনি বলেছেন যে আমাদের নিকট আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে আল-ফাদল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-উমাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন আব্দুল হামিদ আল-হারিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উসামা হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমার নিকট আনসারদের দুটি ছোট মেয়ে ছিল। তারা বুয়াস দিবসে আনসাররা যা বিনিময় করেছিল (কবিতা রূপে) তা গেয়ে শোনাচ্ছিল। তিনি (আয়িশা) বলেন: তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? - আর সেটি ছিল ঈদের দিন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির ঈদ রয়েছে এবং এটি আমাদের ঈদ। বুখারি ও মুসলিম তাঁদের উভয় সহিহ গ্রন্থে আবু উসামা হাম্মাদ বিন উসামা থেকে হিশামের হাদিস হিসেবে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসলিম আজ-জুহরি এটি উরওয়াহ বিন আজ-জুবায়ের থেকে হিশামের বর্ণনার মতোই বর্ণনা করেছেন। [তিনি] বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-কাতিব শিরাজ শহরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আউফ বিন সুফিয়ান আবু জাফর আত-তাঈ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-মুগিরা বর্ণনা করেছেন, এবং আমাদের নিকট আবুল কাসিম আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-হুফি

নাইসাবুরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর বিন ফারসাখ আল-ইখমিমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইমরান বিন আল-খাত্তাব বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ قَالا: حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ / دَخَلَ عَلَيْهَا، وَعِنْدَهَا جَارِيَتَانِ فِي أَيَّامِ مِنًى تُغنيَانِ بدفين، وَرَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - مسجى بِثَوْبِهِ، فانترهما، وكشف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ: دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ، فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ. وَقَالَتْ عَائِشَةُ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ

يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى الْحَبَشَةِ يَلْعَبُونَ فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى أَكُونَ أَنَا أَسْأَمُ، فَاقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِ الْحَرِيصَةِ عَلَى اللَّهْوِ، اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْرَاجِهِ فِي صَحِيحَيْهِمَا مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُمَرَ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَرَوَاهُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ جَمَاعَةٌ، مِنْهُمْ عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ وَصَالِحٌ وَيُونُسُ وَغَيْرُهُمْ وَرَوَاهُ أَبُو الأَسْوَدِ مُحَمَّدُ بن عبد الرَّحْمَن ابْن عُرْوَة كَرِوَايَة هِشَام وَالزهْرِيّ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ الْعَدْلُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ الإِسْفَرَايِينِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: دخل على رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -، وَعِنْدِي جَارِيتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثٍ فَاضْطَجَعَ عَلَى الْفِرَاشِ وَحَوَّلَ وَجْهَهُ، وَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَانْتَهَرَنِي وَقَالَ: مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ عِنْد رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -؟ فَأقبل رَسُول صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ، فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ، فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا، قَالَتْ: وَكَانَ يَوْمَ عِيدٍ يَلْعَبُ، السُّودَانُ
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আবি সালামাহ। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওজায়ি, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর নিকট মিনার দিনগুলোতে দুটি বালিকা দফ বাজিয়ে গান করছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাদর আবৃত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি তাদের ধমক দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরালেন এবং বললেন: "হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কেননা এগুলো ঈদের দিন।" আয়েশা (রা.) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম

তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে আড়াল করছেন এবং আমি হাবশীদের মসজিদের ভেতর খেলাধুলা করতে দেখছিলাম, যতক্ষণ না আমি নিজেই ক্লান্ত হলাম। অতএব তোমরা অল্পবয়সী এবং খেলাধুলাপ্রিয় বালিকাদের আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করো। বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে ইবনে উমর ও আবদুর রহমান ইবনে উমর আওজায়ি-এর হাদিস থেকে যুহরি-এর সূত্রে এটি উদ্ধৃত করার (إخراج) বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন (اتفق)। ইবনে শিহাব থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন (رواه), তাদের মধ্যে রয়েছেন উকাইল ইবনে খালিদ, সালিহ, ইউনুস ও অন্যান্যরা। আবু আল-আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উরওয়াহ এটি হিশাম ও যুহরির বর্ণনার (رواية) ন্যায় বর্ণনা করেছেন (رواه)। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সাহল ন্যায়পরায়ণ (العدل), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবনে হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা আল-ইসফারায়িনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনুল হারিস, তিনি আবু আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমার নিকট দুটি বালিকা বুআছ যুদ্ধের বীরত্বগাথা গাইছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর (রা.) প্রবেশ করে আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে শয়তানের বাঁশি? তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: "হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কেননা এগুলো ঈদের দিন।" অতঃপর তিনি যখন অন্যমনস্ক হলেন, আমি তাদের ইশারা করলাম এবং তারা বেরিয়ে গেল। তিনি বলেন: সেদিন ছিল ঈদের দিন, কৃষ্ণাঙ্গরা খেলা করছিল।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بِالدَّرَقِ وَالْحِرَابِ. فَإِمَّا سَأَلتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -. وَإِمَّا قَالَت: تشتهين تنظرين؟ قلت: نَعَمْ. فَأَقَامَنِي وَرَاءَهُ، خَدِّي عَلَى خَدِّهِ، وَهُوَ يَقُولُ: دُونَكُمْ يَا بَنِي أَرْفِدَةَ حَتَّى إِذَا مَلَلْتُ قَالَ: حَسْبُكِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَاذْهَبِي. اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى رِوَايَتِهِ فِي كِتَابَيْهِمَا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ أَيْضًا، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، هَذَا الَّذِي فِي إِسْنَادِنَا كَمَا أَوْرَدْنَاهُ عَنْهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ / بِالصَّوَابِ. حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ مَهْدِيٌّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنِ مَخْلَدٍ قَالَ: طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نَزَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ مُحَمَّد بن اسحق عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ اسحق بْنِ سَهْلِ بْنِ أَبِي خَيْثَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَتْ جَارِيَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي حِجْرِي فَزَوَّجْتُهَا وَدخل رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَلَمْ يَسْمَعْ غِنَاءً فَقَالَ: يَا عَائِشَةُ؛ أَلا بَعَثْتِ مَعَهَا مَنْ يُغَنِّي؟ فَإِنَّ هَذَا الْحَيَّ مِنَ مِنَ الأَنْصَارِ يُحِبُّونَ الْغِنَاءَ. غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الطَّرِيقِ وَقَدْ أَوْرَدَهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ نَذْكُرُهُ فِي مَوْضِعِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهِ تَعَالَى. وَرَوَاهُ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - كَرِوَايَةِ عَائِشَةَ رضي الله عنها. حَدثنَا أَبُو اسحق إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَصْبَهَانِيُّ بِهَا قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَاصِرُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ أَنَسُ / بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ هُبَيْرَةَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَصِيرُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الأُصْبُعِ، أَنَّ جَمِيلَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا سَأَلتْ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْغِنَاءِ فَقَالَ: نَكَحَ بَعْضُ الأَنْصَارِ بَعْضَ أَهْلِ عَائِشَةَ فَأَهْدَتْهَا إِلَى قُبَاءَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: أَهْدَيْتِ عَرُوسَكِ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: فَأرْسلت مَعهَا

...ঢাল ও বর্শা নিয়ে। হয়তো আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বললেন: "তুমি কি দেখতে চাও?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তখন তিনি আমাকে তাঁর পিছনে দাঁড় করালেন, আমার গাল ছিল তাঁর গালের ওপর। তিনি বলছিলেন: "হে বনী আরফিদাহ! চালিয়ে যাও।" শেষ পর্যন্ত আমি যখন ক্লান্ত হয়ে গেলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমার জন্য কি যথেষ্ট হয়েছে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে তুমি যাও।" ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাঁদের কিতাবদ্বয়ে এই সূত্র থেকেও এর বর্ণনার (رواية) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে; আর মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে। এটিই আমাদের সনদে (إسناد) রয়েছে যেমনটি আমরা তাঁর পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত।

বাগদাদে আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আবদিল ওয়াহহাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমর মাহদী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: তাহের ইবনে খালিদ ইবনে নাজ্জার, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে ইব্রাহিম ইবনে তাহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে সাহল ইবনে আবি খাইসামা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আয়েশা (রা.) বলেন: আমার তত্ত্বাবধানে একজন আনসারি মেয়ে ছিল, আমি তাকে বিয়ে দিয়েছিলাম। এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং কোনো গান শুনতে পেলেন না। তিনি বললেন: "হে আয়েশা! তুমি কি তার সাথে এমন কাউকে পাঠিয়েছ যে গান গাইবে? কেননা আনসারদের এই গোত্রটি গান পছন্দ করে।" এই সূত্রে (طريق) এটি বিরল (غريب)। ইমাম বুখারি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন; ইনশাআল্লাহ আমরা তা যথাস্থানে উল্লেখ করব। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনার (رواية) মতোই এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আসবাহানি সেখানে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাসির আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হামজা আনাস ইবনে খালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে হুবাইরা আবু আবদির রহমান আল-কাসির আমাদের ইবনে জুরাইজ থেকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবুল আসবা সংবাদ দিয়েছেন যে, জামিলা তাকে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-কে গান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: কোনো একজন আনসারি আয়েশা (রা.)-এর পরিবারের কাউকে বিয়ে করেছিলেন, অতঃপর আয়েশা (রা.) তাকে কুবা নামক স্থানে তুলে দেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি তোমার কনেকে পাঠিয়ে দিয়েছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে কি তুমি তার সাথে পাঠিয়েছ..."

(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪০)
بغناء فِي الأَنْصَارَ يُحِبُّونَهُ؟ قَالَتْ: لَا. قَالَ: فَأَدْرِكِيهَا يَا زَيْنَبُ امْرَأَةً كَانَتْ تُغَنِّي بِالْمَدِينَةِ وَرَوَاهُ أَبُو الزُّبَيْرِ مُحَمَّد مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ عَنْ جَابِرِ كَذَلِكَ، حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم قَاسم ابْن أَحْمد الْأَصْبَهَانِيّ بثغرآمد، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَشِيشٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ المقرىء بِمَكَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنِ الأَجْلَحِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَنْكَحَتْ عَائِشَةُ ذَاتَ يَوْمٍ قَرَابَةً لَهَا رَجُلًا مِنَ الأَنْصَارِ، فَجَاءَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - /: فَقَالَ: أهديتم الفناة؟ قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: أَرْسَلْتُمْ مَعَهَا؟ قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: كَلِمَةً ذَهَبَتْ عَنِي. فَقَالَتْ: لَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: إِنَّ الأَنْصَارَ قَوْمٌ فِيهِمْ غَزَلٌ، فَلَوْ بَعَثْتُمْ مَعَهَا مَنْ يَقُولُ:

(أَتَيْنَاكُمْ أَتَيْنَاكُمْ … فَحَيَّانَا وَحَيَّاكُمْ)

 

وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ عَنِ الأَجْلَحِ، حَدَّثَنَا ظُفْرُ بْنُ دَاعِيٍّ الْعَلَوِيُّ الإِسْتَرَابَاذِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ فِي كِتَابِهِ إِلَى أَنْ قَالَ: حَدَّثَنَا على بن مُحَمَّد ابْن إِبْرَاهِيمَ الْفَارِسُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْمُحَارِبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَنْهُ بِمِثْلِهِ. حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَزَّازُ بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكِنَانِي الْمقري، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد ابْن عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مَيْسَرَةَ مَوْلَى فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: / لَلَّهُ أَشُدُ أَذَنًا إِلَى الرَّجُلِ الْحَسَنِ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ مِنْ صَاحِبِ الْقَيْنَةِ إِلَى
...গানের মাধ্যমে যা আনসাররা পছন্দ করে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: হে জয়নাব, তুমি তাকে গিয়ে ধরো (সাহায্য করো); তিনি ছিলেন মদিনার একজন নারী যিনি গান গাইতেন। এবং আবু যুবাইর মুহাম্মদ মুসলিম আল-মাক্কী এটি জাবির (রা.) থেকে অনুরূপ (بمثله) বর্ণনা করেছেন (رواه)। আমাদের নিকট আবুল কাসিম কাসিম ইবনে আহমদ আল-আসবাহানি আমাদ সীমান্ত-দুর্গে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাশিশ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুকরি মক্কায় বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুফি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আজলাহ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) একদিন তাঁর এক আত্মীয়কে আনসারদের এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং বললেন: তোমরা কি মেয়েটিকে (বরের বাড়িতে) পাঠিয়েছ? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা কি তার সাথে কাউকে পাঠিয়েছ? আবু মুহাম্মদ (রাবী) বলেন: একটি শব্দ আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। আয়েশা (রা.) বললেন: না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই আনসাররা এমন এক জাতি যাদের মাঝে কাব্যপ্রীতি বা আমোদ-প্রমোদ রয়েছে; তাই তোমরা যদি তার সাথে এমন কাউকে পাঠাতে যে বলত:

(আমরা তোমাদের নিকট এসেছি, আমরা তোমাদের নিকট এসেছি … তাই তিনি আমাদের ও তোমাদের দীর্ঘজীবী করুন)

 

এবং মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল এটি আজলাহ থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)। আমাদের নিকট যুফর ইবনে দায়ি আল-আলাভি আল-ইস্তরাবাদি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং এ পর্যন্ত বলেছেন যে: আমাদের নিকট আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-ফারিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-মুহারিবি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল থেকে, তিনি তাঁর থেকে অনুরূপ (بمثله) বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-বাজ্জাজ বাগদাদে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহিম আল-কিনানি আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাগাউয়ি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনে রাশিদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আওজায়ি থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ফাদালাহ ইবনে উবাইদের মুক্তদাস (مولى) মায়সারাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো গায়িকার প্রভু তার গায়িকার গানের প্রতি যতটা কান পেতে থাকে, আল্লাহ তাআলা সুমিষ্ট স্বরে উচ্চকণ্ঠে কুরআন পাঠকারী ব্যক্তির তিলাওয়াতের প্রতি তার চেয়েও অধিক নিবিষ্ট হয়ে কান পাতেন।"
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪১)
قَيْنَتِهِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَاكِمُ فِي كِتَابِ الْمُسْتَدْرِكِ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ. وَقَالَ الْحَاكِمُ: فِيهِ نَظَرٌ، فَإِنَّهُمَا لَمْ يُخَرِّجَا هَذِه التَّرْجَمَة. فَكيف يلْزمهُمَا هَذَا الْحَدِيثُ؟ بَلْ أَخْرَجَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَاجَةَ فِي سُنَنِهِ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعِيدٍ الرَّمْلِيّ عَن الْوَلِيد ابْن مُسْلِمٍ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَوَجْهُ الاحْتِجَاجِ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ، هُوَ أَنَّ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - أَثْبَتَ أَنَّ اللَّهِ عز وجل يَسْتَمِعُ إِلَى حَسَنِ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ كَمَا يَسْتَمِعُ صَاحِبُ الْقَيْنَةِ إِلَى قَيْنَتِهِ فَأَثْبَتَ تَحْلِيلَ السَّمَاعِ، إِذْ لَا يَجُوزُ أَنْ تَقِيسَ عَلَى مُحَرَّمٍ وَلِهَذَا الْحَدِيثِ أَمْثَالٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ أخبرناه أَبُو عمر وَعبد الْوَهَّاب بن مُحَمَّد بن اسحق بأصبهان، قَالَ: أخبرنَا زين الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ هِنْد الْحَافِظُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو حَدثنَا يُونُس ابْن عَبْدِ الأَعْلَى / حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: مَا أَذِنَ اللَّهِ عز وجل لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ عَنْ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى كَمَا أَخْرَجْنَاهُ. أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّرِيفِينِيُّ بِبَغْدَادَ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَرَّاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الأَشْعَثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ؛ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ [كَانَ] يَسِيرُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ فِي خِلافَتِهِ وَمَعَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ، فَتَرَنَّمَ عُمَرُ بِبَيْتٍ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ لَيْسَ مَعَهُ عِرَاقِيٌّ غير غَيْرَكَ فَلْيَقُلْهَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ! فَاسْتَحْيَى

...তাঁর গায়িকার গান। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বলেন: এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যা বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী, তবে তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। হাকিম (অন্যত্র) বলেন: এতে পর্যবেক্ষণযোগ্য (فيه نظر) বিষয় রয়েছে, কারণ তাঁরা এই শিরোনাম বা সূত্রটি (الترجمة) বর্ণনা করেননি। সুতরাং এই হাদিসটি তাঁদের ওপর কীভাবে প্রযোজ্য হতে পারে? বরং এটি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে রশিদ ইবনে সাইদ আল-রামলি থেকে এবং তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই হাদিস হতে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি (وجه الاحتجاج) হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করেন যেমনটি কোনো গায়িকার মালিক তাঁর গায়িকার গান শুনে থাকে। ফলে তিনি গান বা সুর শ্রবণের বৈধতাকে সাব্যস্ত করেছেন, কেননা কোনো হারাম বিষয়ের ওপর কিয়াস (تقيس) করা বৈধ নয়। এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা সহিহাইন গ্রন্থে বিদ্যমান। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ওমর ও আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আসফাহানে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যাইনুল ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হিন্দ আল-হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: “আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কোনো বিষয়ের প্রতি এমনভাবে কর্ণপাত (أذن) করেননি যেমনটি তিনি সুমধুর স্বরে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি করেছেন।” এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সারিফিনি বাগদাদে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ওমর আল-ওয়াররাক। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-আশ’আস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালেহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনবাসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়া যে, হারিস ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মক্কার পথে ওমর ইবনে আল-খাত্তাবের খিলাফতকালে তাঁর সাথে সফর করছিলেন এবং তাঁর সাথে মুহাজির ও আনসারগণ ছিলেন। তখন ওমর (রা.) একটি কবিতার পঙ্ক্তি গুঞ্জরণ করলেন। তখন ইরাকবাসীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আপনি ছাড়া আর কোনো ইরাকি এখানে নেই, হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কি এটি পুনরায় বলবেন? তখন তিনি লজ্জা পেলেন।

(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪২)
عُمَرُ وَضَرَبَ رَاحِلَتَهُ حَتَّى انْقَطَعَتْ مِنَ الْمَوْكِبِ /، وَإِسْنَادُ هَذِهِ الْحِكَايَةِ كَالأَخْذِ بِالْيَدِّ فِي الصِّحَةِ، وَيِزِيدُ ذَلِكَ وُضُوحًا مَا حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَدِيبُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدُ الرَّحْمَنِ الصُّوفِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْحَجَّاجِيُّ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَتَّابٍ الرَّقِّيُّ قَالَ: حَدثنَا هشان بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عمر عَن يحيى ابْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي الْحَجِّ الأَكْبَرِ حَتَّى إِذَا كَانَ عُمَرُ بِالرَّوْحَاءِ كَلَّمَ النَّاسَ رِيَاحُ بْنُ الْمُعْتَرِفِ وَكَانَ حَسَنَ الصَّوْتِ بِغِنَاءِ الأَعْرَابِ، فَقَالُوا: أَسْمِعْنَا، وَقَصِّرْ عَنَّا الطَّرِيقَ فَقَالَ إِنِّي أُفَرَقُ مِنْ عُمَرَ. قَالَ فَكَلَّمَ الْقَوُمُ عُمَرَ: إِنَّا كَلَّمْنَا رِيَاحًا يُسْمِعُنَا وَيُقَصِّرُ عَنَّا الْمَسِيرَ فَأَبَى إِلَّا أَنْ تَأَذَنَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ: يَا رِيَاحُ، أَسْمِعْهُمْ وَقَصِّرْ عَنْهُمُ الْمَسِيرَ، فَإِذَا أَسْحَرْتَ فَارْفَعْ وَخَذِّلْهُمْ مِنْ شِعْرِ ضِرَارِ بْنِ الْخَطَّابِ، فَرَفَعَ عَقِيرَتَهُ يَتَغَنَّى وَهُمْ مُحْرِمُونَ، قَرَأْتُ بِخَطِّ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيم بن سَلمَة الْقطَّان بقزرين فِي كِتَابه الموسوم بِجَامِعِ السُّنَنِ / حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسْدِيُّ، وَسَأَلَهُ أَبُو الْقَاسِم لحراني رحمه الله قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَبَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ مَرَّ بِرَجُلٍ يَتَغَنَّى. فَقَالَ: إِنَّ الْغِنَاءَ زَادُ الْمُسَافِرِ. أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الصَّرِيفِينِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُخْلِصُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الطوسي قَالَ: حَدثنَا الزبير
উমর (রা.) এবং তিনি তাঁর বাহনটিকে আঘাত করলেন এমনকি সেটি কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল /, এবং এই বিবরণটির বর্ণনাপরম্পরা (إسناد) বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের মতো। বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে যা আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-আদীব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আস-সুফী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আল-হাজ্জাজী আল-হাফিজ (حافظ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আত্তাব আর-রাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা হজুল আকবরের সফরে উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে বের হলাম। উমর যখন রাওহা নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন রিয়াহ ইবনে আল-মুতারিফ লোকদের সাথে কথা বললেন; তিনি বেদুইন ছন্দে গাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তারা বলল: আমাদের কিছু শোনান এবং আমাদের সফরের পথ সংক্ষিপ্ত (সহজ) করে দিন। তিনি বললেন: আমি উমরকে ভয় পাই। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কওমের লোকেরা উমরের সাথে কথা বলল যে, আমরা রিয়াহকে আমাদের কিছু শোনাতে এবং পথচলার ক্লান্তি লাঘব করতে বলেছিলাম, কিন্তু সে আপনার অনুমতি ব্যতীত তা করতে অস্বীকার করছে। তখন তিনি তাকে বললেন: হে রিয়াহ, তাদের শোনাও এবং তাদের জন্য সফরের পথ সংক্ষিপ্ত করে দাও। যখন শেষ রাত হবে তখন তুমি আওয়াজ উঁচুতে তুলে থামিয়ে দাও এবং তাদের দিরার ইবনুল খাত্তাবের কবিতা শোনাও। এরপর তিনি উচ্চকণ্ঠে গেয়ে উঠলেন এমতাবস্থায় যে তারা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি কাজভিনে আবুল হাসান আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সালামাহ আল-কাত্তানের হস্তাক্ষরে তাঁর জামিউস সুনান নামক কিতাবে পড়েছি / আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদী, এবং তাঁকে আবুল কাসিম আল-হাররানী (রহিমাহুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবনে আব্বাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতা থেকে যে, উমর এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে গুণগুণিয়ে গাইছিল। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই গান বা ছন্দ মুসাফিরের পাথেয়। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আস-সারিফীনি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আল-মুখলিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সুলাইমান আত-তূসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুবাইর।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ابْن بَكَّارٍ. قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بن عمر ابْن الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ. قَالَ: كُنْتُ أُحِسُّ مِنْ نَفْسِي بِحُسْنِ صَوْتٍ، وَكَانَ صَوْتُ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ كَرُغَاءِ الْبَعِيرِ، فَقَالَ: أَنَا أَحْسَنُ مِنْكَ صَوْتًا، فَقَالَ لَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ احْدُوَا حَتَّى أَسْمَعَ، فَغَنَّيْنَا غِنَاءَ الرُّكْبَانِ، فَقُلْتُ لأَبِي: أَيُّنَا أَحْسَنُ صَوْتًا؟ فَقَالَ: أَنْتُمَا كُحِمَارَيِ الْعَبَّادِيِّ، أَرَادَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنه قَوْلَ الشَّاعِرِ:

(حِمَارَا عَبَادِيٍّ إِذَا قِيلَ بَيِّنَا … بِشَرِّهِمَا يَوْمًا يَقُولُ كِلاهُمَا)

/ أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ وَعَبْدُ الْبَاقِي بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ بِبَغْدَادَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الذَّهَبِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْمِنْقَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الأَصَّمِعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي امْرَأَةُ عَمْرِو بْنِ الأَصْمَعِ قَالَتْ مَرَرَنَا - وَنَحْنُ جَوَارٍ - بِمَجْلِسِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَمَعَنَا جَارِيَةٌ تُغَنِّي وَمَعَهَا دُفٌّ وَهِيَ تَقُولُ:

(لَئِنْ فَتَنْتَنِي فَهِيَ بِالأَمْسِ أَفْتَنْتَ … سَعِيدًا فَأَمْسَى قَدْ قَلَى كُلَّ مُسْلِمٍ)

 

(وَأَلْقِي مَفَاتِيحَ الْقِرَاءَةَ وَاشْتَرِي … وِصَالَ الْغَوَانِي بِالْكِتَابِ الْمُنَمْنَمِ)

فَقَالَ سَعِيدٌ. كذبتين كذبتين قَالَ الأَصْمَعِيُّ: وَحَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ. قَالَ: مَرَّ الشَّعْبِيُّ بِجَارِيَةٍ تُغَنِّي وَهِيَ تَقُولُ:

(فُتِنَ الشَّعْبِيُّ لَمَّا … ... … ... .)
ইবনে বাক্কার বলেন: ওবায়দুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে আবু বকর ইবনে ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হামজাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি নিজের মাঝে সুকণ্ঠের অনুভূতি পেতাম, আর সালেম ইবনে আবদুল্লাহর কণ্ঠস্বর ছিল উটের ডাকের মতো। সে বলল: আমি তোমার চেয়ে সুরেলা কণ্ঠের অধিকারী। তখন আবদুল্লাহ ইবনে ওমর আমাদের বললেন: তোমরা উট চালনার গান (হুদা) গাও যাতে আমি শুনতে পাই। আমরা আরোহীদের ন্যায় গান গাইলাম। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আমাদের মধ্যে কার কণ্ঠ অধিক সুন্দর? তিনি বললেন: তোমরা দুজনেই আবাদীর দুই গাধার মতো। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে কবির এই উক্তিটি বুঝাতে চেয়েছিলেন:

(আবাদীর দুই গাধা; যখন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব যাচাই করতে বলা হয় … তখন তাদের প্রত্যেকেই অন্যজনের নিকৃষ্ট হওয়ার কথা বলে)

/ বাগদাদে আবু মনসুর এবং আবদুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আয-যাহাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-মিনকারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আবি যায়িদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আসমা’র স্ত্রী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা যখন কিশোরী ছিলাম, তখন সাইদ ইবনে জুবায়েরের মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের সাথে একজন দাসী ছিল যে গান গাইছিল এবং তার কাছে একটি দফ (খঞ্জনি) ছিল। সে বলছিল:

(যদি তুমি আমাকে মোহাচ্ছন্ন করে থাকো, তবে সে তো গতকালই … সাইদকে মোহাচ্ছন্ন করেছে, ফলে সে আজ সকল মুসলিমকে বিবাগী করেছে)

 

(এবং আমি তিলাওয়াতের চাবিকাঠিগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়েছি এবং ক্রয় করেছি … কারুকার্যখচিত কিতাবের বিনিময়ে রূপসীদের সান্নিধ্য)

তখন সাইদ বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, তুমি মিথ্যা বলেছ। আল-আসমাঈ বলেন: ওমর ইবনে আবি যায়িদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আশ-শা'বী এক দাসীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে গান গাইছিল এবং বলছিল:

(শা'বী মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন যখন … ... … ... .)
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَلَمَّا رَأَتِ الشَّعْبِيَّ سَكَتَتْ، فَقَالَ لَهَا الشَّعْبِيُّ:

( … ... … ... رَفَعَ الطَّرْفَ إِلَيْهَا)

 

أخبرنَا أَبُو الْفَتْح عَبدُوس عبد اللَّهِ الْهَمَدَانِيُّ بِهَا، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى الْحَلَقَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّفَّارُ الْهَرَوِيُّ /، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْخَرَائِطِيُّ: قَالَ: حَدَّثَنَا يَمُوتُ بْنُ الْمزرعِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ سحنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: أَتَيْتُ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ عَبْدِ الْمُطِّلِبِ أَسأَلُهُ عَنْ بَيْعَةِ الْجِنِّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم َ - بِمَسْجِدِ الأَحْزَابِ، مَا كَانَ بَدْؤُهَا؟ فَوَجَدْتُهُ مُسْتَلِقِيًا وَهُوَ يَتَغَنَّى:

(فَمَا رَوْضَةٌ بِالْحَزْنِ طَيِّبَةُ الثَّرَى … يَمُجُّ النَّدَى جَثْجَاثُهَا وَعَرَارُهَا)

 

(بِأَطْيَبَ مِنْ أَرْدَانِ عَزَّةَ مَوْهِنًا … وَقَدْ أُوقِدَتْ بِالْمِنْدَلِ الرَّطْبِ نَارُهَا)

 

(مِنَ الْخَفِرَاتِ الْبِيضِ لَمْ تَلْقَ شِقْوَةً … وَبِالْحَسَبِ الْمَكْنُونِ صَافٍ تِجَارُهَا)
যখন তিনি আশ-শাবিকে দেখলেন তিনি নীরব হয়ে গেলেন, অতঃপর আশ-শাবি তাকে বললেন:

( … ... … ... তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন)

 

আবুল ফাতহ আবদুস আবদুল্লাহ আল-হামাদানি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-হালাকানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ আস-সাফফার আল-হারাওয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-খারাতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا): তিনি বলেন: ইয়ামুত ইবনুল মুজাররা' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ সাহন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের নিকট এলাম তাকে মাসজিদুল আহযাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি জিনদের আনুগত্যের শপথ (بيعة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, এর সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তখন আমি তাকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় পেলাম এবং তিনি গুনগুন করে গাইছিলেন:

(উঁচু ভূমির কোনো বাগান, যার মাটি অত্যন্ত সুগন্ধময় … যার জাসজাস ও আরার লতা শিশির ঝরায়, তা-ও অধিকতর সুগন্ধযুক্ত নয়)

 

(নিশুতি রাতে 'আজ্জাহর জামার আস্তিনের সুগন্ধ অপেক্ষা … যখন সিক্ত চন্দন কাঠ দ্বারা তার আগুন প্রজ্বলিত করা হয়।)

 

(সে সেই লাজুক ও গৌরবর্ণা নারীদের অন্তর্ভুক্ত যে কোনো দৈন্যের শিকার হয়নি … এবং সুরক্ষিত আভিজাত্যের কারণে যার লেনদেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন।)
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
(فَإِنْ بَرَزَتْ كَانَتْ لِعَيْنِكَ قُرَّةً … وَإِنْ غِبْتَ عَنْهَا لَمْ يَعُمَّكَ عَارُهَا)

 

فَقُلْتُ لَهُ: أَتُغَنِّي أَصْلَحَكَ اللَّهِ. وَأَنْتَ فِي جَلالَتِكَ وَشَرَفِكَ {} ؟ أما وَالله لَا حدون بهَا ركبان نجد، قَالَ: فو اللَّهِ مَا اكْتَرَثَ بِي وَعَادَ يَتَغَنَّى

(فَمَا ظَبْيَةٌ أَدْمَاءُ خَفَّاقَةُ الْحَشَا … تجوب يظلفيها مُتُونَ الْخَمَائِلِ)

 

(بِأَحْسَنَ مِنْهَا إِذْ تَقُولُ تَذَلُّلا … وَأَدْمُعِهَا تَذْرِفْنَ حَشْوَ الْمَكَاحِلِ)

 

(تَمَتَّعْ بِذَا الْيَوْمِ الْقَصِيرِ فَإِنَّهُ … رَهِينٌ بِأَيَّامِ السُّرُورِ الأَطَاوِلِ /)

 

قَالَ: فَنِدِمْتُ عَلَى قَوْلِي لَهُ أَصْلَحَكَ فَقُلْتُ لَهُ: أَتُحَدِّثَنِي فِي هَذَا بِشَيْءٍ؟ فَقَالَ: نَعَمْ حَدَّثَنِي أَبِي. قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وأشعب يُغْنِيه

(مغيرية كَالْبَدْرِ شُبِّهَ وَجْهُهَا … مُطَهَّرَةُ الأَثْوَابِ وَالْعِرْضُ وَافِرٌ)

 

(لَهَا حَسَبٌ زَاكٍ وَعِرْضٌ مُهَذَّبٌ … وَعَنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ مِنَ الأَمْرِ زَاجِرٌ)

 

(مِنَ الْخَفِرَاتِ الْبِيضِ لَمْ تَلْقَ رِيبَةٌ … وَلَمْ يستلمها عَنْ تُقَى اللَّهِ شَاعِرٌ)
(যদি সে আত্মপ্রকাশ করে তবে সে তোমার চোখের শীতলতা হবে … আর যদি তুমি তার থেকে অনুপস্থিত থাকো তবে তার কলঙ্ক তোমাকে স্পর্শ করবে না)

 

আমি তাকে বললাম: আল্লাহ আপনার অবস্থার সংশোধন করুন, আপনি কি গান গাইছেন? অথচ আপনি আপনার এতো মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী! আল্লাহর শপথ, নজদের আরোহীরা অবশ্যই এগুলো নিয়ে পথ চলবে। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, তিনি আমার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ করলেন না এবং পুনরায় গাইতে লাগলেন:

(এমন কোনো লোহিতবর্ণের চঞ্চল হৃদয়ের হরিণী নয় … যে তার খুর দিয়ে কুঞ্জবনের গভীরতা মাড়িয়ে চলে)

 

(তার চেয়ে অধিক সুন্দর নয় যখন সে বিনম্রভাবে কথা বলে … এবং তার অশ্রুগুলো সুরমাদানির ভেতরে প্রবাহিত হয়)

 

(এই সংক্ষিপ্ত দিনটিকে উপভোগ করো, কেননা এটি … দীর্ঘ আনন্দময় দিনগুলোর নিকট বন্ধক স্বরূপ)

 

তিনি বললেন: তার প্রতি আমার এই উক্তির কারণে আমি লজ্জিত হলাম। অতঃপর আমি তাকে বললাম: আপনি কি এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বর্ণনা করবেন (حدثني)? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)। তিনি বললেন: আমি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন আশআব তাকে গেয়ে শোনাচ্ছিলেন:

(মুগিরি বংশীয় এক নারী যার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনীয় … তার পোশাক পবিত্র এবং তার সম্মান অটুট)

 

(তার রয়েছে পবিত্র বংশমর্যাদা ও মার্জিত সম্মান … এবং প্রতিটি অপছন্দনীয় কাজ থেকে সে বিরত থাকে)

 

(সে এমন এক লজ্জাবতী সুন্দরী যে কোনো সন্দেহের সম্মুখীন হয়নি … এবং কোনো কবিই তাকে আল্লাহর তাকওয়া থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি)
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فَقَالَ لَهُ سَالِمٌ: زِدْنِي؛ فَغَنَّى:

(أَلَمَّتْ بِنَا وَاللَّيْلُ دَاجٍ كَأَنَّهُ … جَنَاحُ غُرَابٍ عَنْهُ قَدْ نفَضَ الْقَطْرَ)

 

(فَقُلْتُ: أَعَطَّارٌ ثَوَى فِي رِحَالِنَا … وَمَا احْتَمَلَتْ لَيْلَى سِوَى رِيحِهَا عِطْرًا)

 

فَقَالَ سَالِمٌ: وَاللَّهِ لَوْلا أَنْ تَدَاوَلَتْهُ الرُّوَاةُ، لأَجْزَلْتُ جَائِزَتَكَ، فَإِنَّكَ مِنْ هَذَا الأَمْرِ بِمَكَانٍ. أَخْبَرَنَا ظُفْرُ بْنُ دَاعِيٍّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ فِيمَا كَتَبَ بِهِ إِلَيَّ. قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الصُّعْلُوكِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ الدرستي يَقُولُ: بَلَغَنِي عَنْ / مُصْعَبٍ الزُّبَيْرِيِّ قَالَ: حَضَرْتُ مَجْلِسَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَسَأَلَهُ أَبُو مُصْعَبٍ عَنِ السَّمَاعِ فَقَالَ: مَالِكٌ: مَا أَدْرِي، أَهْلُ الْعِلْمِ بِبِلَدِنَا لَا يُنْكِرُونَ ذَلِكَ. وَلا يَقْعُدُونَ عَنْهُ، وَلا يُنْكِرُهُ إِلَّا غَبِيٌّ جَاهِلٌ، أَوْ نَاسِكٌ عِرَاقِيٌّ غَلِيظُ الطَّبْعِ، أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَجَّاجِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّد عبد اللَّهِ بن أَحْمد المقرى السِّمْسَارُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ بِلالٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ - وَكَانَ النَّاسُ يتبركون بِهِ - قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُزَنِيُّ، قَالَ: مَرَرَنَا مَعَ الشَّافِعِي وَإِبْرَاهِيم إِبْرَاهِيم بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَلَى دَارِ قَوْمٍ وَجَارِيَةٌ تُغَنِّي:

(خَلِيلَيَّ مَا بَالُ الْمَطَايَا كَأَنَّنَا … نَرَاهَا عَلَى الأَعْقَابِ بِالْقَوْمِ تَنْكِصُ)

 

فَقَالَ الشَّافِعِيُّ: مِيلُوا بِنَا نَسْمَعُ، فَلَمَّا فَرَغَتْ قَالَ الشَّافِعِيُّ لإِبْرَاهِيمَ أَيُطْرِبُكَ هَذَا قَالَ: لَا. قَالَ: فَمَا لَكَ حِسٌّ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ / قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ الْحُسَيْنُ الصُّوفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ الْفَرْغَانِيُّ يَقُولُ: سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ يَقُولُ: كُنْتُ أُحِبُّ السَّمَاعَ، وَكَانَ أَبِي يَكْرَهُ ذَلِكَ، فَوَاعَدْتُ
সালেম তাকে বললেন: আমাকে আরও শুনিয়ো; তখন সে গাইল:

(সে আমাদের নিকট এল যখন রাত ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার, যেন তা … কাকের ডানা যা থেকে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ছে)

 

(আমি বললাম: আমাদের যাত্রাবিরতির স্থানে কি কোনো সুগন্ধি বিক্রেতা অবস্থান নিয়েছে? … অথচ লায়লা তার সুবাস ছাড়া অন্য কোনো সুগন্ধি বহন করেনি)

 

সালেম বললেন: আল্লাহর কসম, বর্ণনাকারীরা (الرواة) যদি এটি নিয়ে চর্চা না করত, তবে আমি তোমাকে বড় কোনো পুরস্কার দিতাম; কারণ তুমি এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের অধিকারী। যফর ইবন দায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবদুর রহমান আমাকে যা লিখে (كتب) জানিয়েছেন তাতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: আমি আবু সাহল মুহাম্মাদ ইবন সুলাইমান আস-সুলুকীকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মাদ আদ-দারাস্তীকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: মুসআব ইবন আয-যুবাইরী থেকে আমার নিকট পৌঁছেছে (بلغني) যে, তিনি বলেছেন: আমি মালিক ইবন আনাসের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন আবু মুসআব তাঁকে সামা বা গান শোনা (السماع) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। মালিক বললেন: আমি জানি না, তবে আমাদের শহরের আলেম সমাজ একে অস্বীকার করেন না। তারা এটি শোনা থেকে বিরতও থাকেন না। কেবল কোনো নির্বোধ জাহেল অথবা রূঢ় স্বভাবের ইরাকি আবিদ (ناسك) ছাড়া আর কেউ একে অস্বীকার করে না। আবু সা’দ ইসমাইল ইবন মুহাম্মাদ আল-হাজ্জাজী নিসাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ আল-মু্ক্রী আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আহমাদ ইবন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আব্বাস ইবন বিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি সাদ ইবন মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ—যাঁর থেকে মানুষ বরকত গ্রহণ করত—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: মুযানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমরা শাফিয়ী এবং ইবরাহিম ইবন ইসমাইলের সাথে এক গোত্রের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় এক দাসী গাইছিল:

(হে আমার দুই বন্ধু, উটগুলোর কী হলো? যেন আমরা … তাদের দেখছি যে তারা গোত্রের লোকদের নিয়ে পেছনে ফিরে যাচ্ছে)

 

শাফিয়ী বললেন: আমাদের সাথে একটু থামো যাতে আমরা শুনি, যখন সে শেষ করল, শাফিয়ী ইবরাহিমকে বললেন: এটি কি তোমাকে আনন্দিত করছে? তিনি বললেন: না। শাফিয়ী বললেন: তবে তো তোমার মাঝে কোনো অনুভূতিই নেই। আবু বকর আহমাদ ইবন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ আল-হুসাইন আস-সুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস আল-ফারগানীকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: আমি সালেহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: আমি গান শোনা (السماع) পছন্দ করতাম, কিন্তু আমার পিতা তা অপছন্দ করতেন, তাই আমি অঙ্গীকার করলাম...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
لَيْلَةً ابْنَ الْخَبَّازَةِ فَمَكَثَ عِنْدِي إِلَى أَنْ عَلِمْتُ أَنْ أَبِي نَامَ، فَأَخَذَ يُغَنِّي، فَسَمِعْتُ حِسَّهُ فَوْقَ السَّطْحِ، فَصَعَدْتُ فَرَأَيْتُ أَبِي فَوْقَ السَّطْحِ يَسْتَمِعُ مَا يُغَنَّى. وَذَيْلُهُ تَحْتَ إِبِطِهِ، وَهُوَ يَتَبَخْتَرُ كَأَنَّهُ يَرْقُصُ وَقَدْ رُوِيَتْ هَذِهِ الْحِكَايَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ. أَخْبَرَنَا بِهَا أَبُو غَالِبٍ الذُّهْليُّ بِبَغْدَادَ وَقَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَافِظُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ الثَّوْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ القَوَّاسُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بكر بن مَالك بحكى - أَظُنهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ - قَالَ: كنت أَدْعُو بن الْخَبَّازَةِ، وَكَانَ أَبِي يَنْهَانَا عَنِ الْمُغَنِّينَ، فَكَنْتُ إِذَا كَانَ عِنْدِي أَكْتُمُهُ مِنْ أَبِي لِئَلا يَسْمَعَ، قَالَ: وَكَانَ ذَاتَ لَيْلَةٍ عِنْدِي، وَكَانَ يَقُولُ فَعَرَضَتْ / لأَبِي عِنْدَنَا حَاجَةٌ فِي زُقَاقٍ فَجَاءَ وَسَمِعَهُ يَقُولُ: فَتَسَمَّعَ فَوْقَعَ فِي سَمْعِهِ شَيْءٌ مِنْ قَوْلِهِ، فَخَرَجْتُ لأُنْظُرَ فَإِذَا بِأَبِي يَتَرَجَّحُ ذَاهِبًا وَجَائِيًا فَرَدَدْتُ الْبَابَ، وَدَخَلْتُ فَلَمَّا كَانَ فِي الْغَدِ، قَالَ: لِي: يَا بُنَيَّ إِذَا كَانَ مِثْلَ هَذَا، نِعْمَ هَذَا الْكَلامُ وَمَعْنَاهُ، ابْنُ لخبازة هَذَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا أَبُو بَكْرٍ الشَّاعِرُ، وَكَانَ عَاصَرَ أَحْمَدَ رَثَاهُ حِينَ مَاتَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ بِبَغْدَادَ رحمه الله قَالَ: سَأَلْتُ الشَّرِيفَ أَبَا عَلِيٍّ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي مُوسَى الْهَاشِمِيُّ عَنِ السَّمَاعِ، فَقَالَ لِي. مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ فِيهِ، غَيْرَ أَنِي حَضَرْتُ دَارَ شَيْخِنَا أَبِي الْحَسَنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيِّ سَنَةَ سبعين وثلثمائة فِي دَعْوَةٍ عَمِلَهَا لأَصْحَابِهِ حَضَرَهَا أَبُو بَكْرٍ الأَبْهَرِيُّ شَيْخُ الْمَالِكِيِّينَ، وَأَبُو الْقَاسِمِ الدَّارَكِيُّ شَيْخُ الشَّافِعِيِّينَ، وَأَبُو الْحَسَنِ طَاهِرُ بْنُ الْحَسَنِ شَيْخُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَأَبُو الْحَسَنِ بْنُ سَمْعُونَ شَيْخُ الْوُعَّاظِ وَالزُّهَّادِ. وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ / [مُحَمَّدُ] بْنُ مُجَاهِدٍ شَيْخُ الْمُتَكَلِّمِينَ، وَصَاحِبُهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ الْبَاقِلَّانِيِّ فِي دَارِ شَيْخِنَا أَبِي الْحَسَنِ التَّمِيمِيِّ شَيْخِ الْحَنَابِلَةِ، فَقَالَ أَبُو عَلِيٍّ: لَوْ سَقَطَ السَّقْفُ عَلَيهِمْ لَمْ يَبْقَ بِالْعِرَاقِ مَنْ يُفْنَى فِي حَادِثَةٍ، يُشْبِهُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ

এক রাতে ইবনুল খাব্বাজা আমার কাছে অবস্থান করল। আমি ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না বুঝতে পারলাম যে আমার পিতা ঘুমিয়ে পড়েছেন। এরপর সে গান গাইতে শুরু করল। আমি ছাদের উপর তার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি উপরে উঠে দেখলাম আমার পিতা ছাদের উপর গান শুনছেন। তাঁর চাদরের প্রান্ত বগলের নিচে গোঁজা ছিল এবং তিনি এমনভাবে দুলছিলেন যেন তিনি নাচছেন। এই কাহিনীটি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে। বাগদাদে আবু গালিব আল-জুহলি আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ (الحافظ) আবু বকর, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-হুসাইন আস-সাওরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) ইউসুফ ইবনে উমর আল-কাওয়াস, তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন মালেককে বর্ণনা করতে শুনেছি - আমার ধারণা তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ থেকে বর্ণনা করছেন - তিনি বলেন: আমি ইবনুল খাব্বাজাকে আমন্ত্রণ জানাতাম, আর আমার পিতা আমাদের গায়কদের ব্যাপারে নিষেধ করতেন। তাই সে যখন আমার কাছে থাকত, আমি তাকে আমার পিতার কাছে গোপন রাখতাম যাতে তিনি শুনতে না পান। তিনি বলেন: এক রাতে সে আমার কাছে ছিল এবং সে কিছু গাইছিল। তখন আমার পিতার একটি প্রয়োজনে আমাদের গলিতে আসার দরকার পড়ল। তিনি এসে তার গান শুনলেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং তার কথার কিছু অংশ তাঁর কানে পৌঁছাল। আমি দেখার জন্য বের হলাম এবং দেখলাম আমার পিতা এদিক-ওদিক দুলছেন। আমি দরজা বন্ধ করে ভেতরে চলে গেলাম। পরদিন তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস, যখন এই ধরণের চমৎকার কথা এবং অর্থ হবে, তখন তা ভালো। এই ইবনুল খাব্বাজা হলেন কবি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া। তিনি ইমাম আহমদের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর শোকগাথা রচনা করেছিলেন। বাগদাদে আবু মুহাম্মদ আল-তামিমি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি শরীফ আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু মুসা আল-হাশিমীকে আধ্যাত্মিক সংগীত শ্রবণ (السماع) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: আমি এ বিষয়ে কী বলব তা জানি না, তবে আমি ৩৭০ হিজরিতে আমাদের শাইখ (الشيخ) আবু আল-হাসান আবদুল আজিজ ইবনে আল-হারিস আল-তামিমির বাসভবনে তাঁর বন্ধুদের জন্য আয়োজিত একটি দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে মালিকি মাযহাবের শাইখ (الشيخ) আবু বকর আল-আভহারি, শাফেয়ি মাযহাবের শাইখ (الشيخ) আবু আল-কাসিম আদ-দারাকি, হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) শাইখ (الشيخ) আবু আল-হাসান তাহির ইবনে আল-হাসান, নসিহতকারীদের (الوعاظ) ও সংসারবিরাগীদের (الزهاد) শাইখ (الشيخ) আবু আল-হাসান ইবনে সামউন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) শাইখ (الشيخ) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিদ এবং তাঁর সঙ্গী আবু বকর ইবনুল বাকিলানি আমাদের শাইখ (الشيخ) আবু আল-হাসান আল-তামিমির বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন, যিনি হাম্বলিদের শাইখ (الشيخ) ছিলেন। তখন আবু আলী বললেন: যদি ছাদটি তাঁদের ওপর ভেঙে পড়ত, তবে ইরাকে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকত না যে কোনো উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে তাঁদের একজনের সমতুল্য হতে পারত।

(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৮)
أَبُو عَبْدِ اللَّهِ غُلامُ بَابَا وَكَانَ هَذَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ بِصَوْتٍ حَسَنٍ وَرُبَّمَا قَالَ شَيْئًا. فَقِيلَ لَهُ: قُلْ لَنَا: فَقَالَ وَهُمْ يَسْمَعُونَ:

(خَطَّتْ أَنَامِلُهَا فِي بَطْنِ قِرْطَاسٍ … رِسَالَةً بِعَبِيرٍ لَا بِأَنْقَاسٍ)

 

(ابْرُزْ فَدَيْتُكَ لِي مِنْ غَيْرِ محتشم … فَإِن حبك لي قَدْ شَاعَ فِي النَّاسِ)

 

(فَكَانَ قَوْلِي لِمَنْ أَدَّى رِسَالَتَهَا … قِفْ لِي لأَمْشِي عَلَى الْعَيْنَيْنِ وَالرَّاسِ)

 

قَالَ أَبُو عَلِيٍّ / فَعِنْدَمَا رَأَيْتُ هَذَا لم يمكنني أَنْ أُفْتِيَ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ بِحَظْرٍ وَلا إِبَاحَةٍ وَهَذَا الْقَدْرُ فِي الْبَابِ كَافٍ إِنْ شَاءَ اللَّهِ، فَإِنَّا أَوْرَدْنَا الصَّحِيحَ عَنْ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بِمَا يَلِيقُ بِهِ مِنَ الْغَرِيبِ، وَمَا فَعَلَهُ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ وَأَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ، وَهَذَا الإِجْمَاعُ الْمُنْعَقِدُ مِنْ غَيْرِ خَلافٍ وَقَعَ فِي / هَذِهِ الْفِرَقِ. وَهُمْ أَهْلُ الْعَقْدِ وَالْحَلِّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
আবু আব্দুল্লাহ গোলাম বাবা। তিনি অত্যন্ত সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং কখনো কখনো কাব্য আবৃত্তি করতেন। তাঁকে বলা হলো: আমাদের কিছু শোনান। তখন তিনি বললেন এবং তাঁরা শুনছিলেন:

(তার অঙ্গুলিগুলো কাগজের বক্ষে লিখেছে … সুগন্ধি দ্বারা এক বার্তা, কালি দিয়ে নয়)

 

(আমার জন্য বেরিয়ে এসো, আমি তোমার জন্য উৎসর্গিত হই, কোনো দ্বিধা ছাড়াই … কারণ তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে)

 

(যে তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল, তার প্রতি আমার কথা ছিল … আমার জন্য একটু থামো, যাতে আমি চোখ ও মাথার ওপর ভর দিয়ে হাঁটতে পারি)

 

আবু আলী বলেন: যখন আমি এটি দেখলাম, তখন আমার পক্ষে এই মাসআলায় নিষিদ্ধতা (حظر) বা বৈধতা (إباحة) সংক্রান্ত কোনো ফতোয়া দেওয়া সম্ভব হলো না। আর ইনশাআল্লাহ, এই অধ্যায়ে এই পরিমাণ বর্ণনাই যথেষ্ট। কেননা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা উল্লেখ করেছি—যা এর উপযুক্ত অনন্য (غريب) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও মুসলিম ইমামগণ যা করেছেন তাও বর্ণনা করেছি। আর এটিই হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠিত ঐক্যমত্য (إجماع), যা এই দলগুলোর মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই সম্পাদিত হয়েছে। আর তাঁরাই হলেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিরসনের অধিকারী (أهل العقد والحل) ব্যক্তিবর্গ। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْقَوْلُ فِي ضَرْبِ الدُّفِّ وَاسْتِمَاعِهِ

غَيْرَ مَا تَقَدَّمَ فِي الأَحَادِيثِ قبيل
দফ বাজানো এবং তা শ্রবণ করার বিষয়ে আলোচনা

পূর্ববর্তী হাদিসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫০)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَأَمَّا ضَرْبُ الدُّفِّ وَالاسْتِمَاعُ إِلَيْهِ فَنَقُولُ: إِنَّهُ سُنَّةٌ، سَمِعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَأَمَرَ بِضَرْبِهِ، لَا يُنْكِرُهُ إِلَّا جَاهِلٌ مُخَالِفٌ لِلسُّنَّةِ وَقَدْ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي "، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْبُنْدَارُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الدُّورِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْبُسْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ:: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. قَالَ:

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ". صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنِ ابْنِ بُنْدَارٍ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ هَذَا وَأَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ بِآمِدَ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْعَدْلُ / قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الرَّازِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَيَّادٍ الفَرْغَانِيُّ حَمْدُونَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَمَّعٍ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ حَارِثَةَ اللَّيْثِيِّ. أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: أَنَا سَمِعت رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - يَقُولُ: إِنَّ مُحَرِّمَ الْحَلالِ كَمُحِلِّ الْحَرَامِ. وَرَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، وَذَكَرَ قصَّة وسببا. أخبرنَا بذلك أَبُو اسحق إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّيَّانُ بِأَصْبَهَانَ. قَالَ: حَدثنَا ابْن حرشيد. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ
আর দফ বাজানো এবং তা শোনার ব্যাপারে আমরা বলি: নিশ্চয়ই এটি একটি সুন্নাত (سنة), যা রাসূলুল্লাহ (সা.) শুনেছেন এবং এটি বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সুন্নাতের বিরোধী কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া কেউ একে অস্বীকার করে না। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (سنة) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।" আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমদ আল-বুন্দার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আদ-দুরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-বুসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শুবা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) হুসাইন থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (سنة) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।" এটি সহিহ (صحيح), যা বুখারি ইবনে বুন্দার মুহাম্মদ বিন বাশশারের সূত্রে এই মুহাম্মদ বিন জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আল-কাসিম বিন আহমদ আল-আসবাহানি আমেদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আর-রাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আহমদ বিন আইয়াদ আল-ফারগানি হামদুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আজ-জুহরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) ইব্রাহিম বিন ইসমাইল বিন মুজাম্মি আল-আনসারি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন হারিসা আল-লাইসি থেকে। নিশ্চয়ই তার পিতা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে উমর বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই হালালকে হারামকারী ব্যক্তি হারামকে হালালকারীর সমতুল্য।" সুলাইমান বিন বিলাল এটি ইব্রাহিম বিন ইসমাইল থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং তিনি একটি ঘটনা ও কারণ উল্লেখ করেছেন। আসবাহানে আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আত-তাইয়ান আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: ইবনে হুরশিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا)। তিনি বলেন: আবু বকর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا)...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫২)
عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْفَقِيهُ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلالٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَمَّعٍ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عباد ابْن حَارِثَةَ الأَنْصَارِيِّ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ يَصْحَبُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةَ فَقَالَ: قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ / صلى الله عليه وسلم َ - يَقُولُ: " إِنَّ مُحَرِّمَ الْحَلالِ كَمُحِلِّ الْحَرَام ". وَهَذَا الإِسْنَادَانِ وَإِنْ كَانَ فِي الأَوَّلِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَفِي الثَّانِي الصَّاغَانِيُّ وُهُمَا ضَعِيفَانِ، فَإِنَّ هَذَا اللَّفْظَ قَدْ صَحَّ مِنْ قَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ. أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَزَّازُ بِبَغْدَادَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي جدي يَعْنِي أَحْمد بن هبيع قَالَ ك حَدَّثَنَا أَبُو سَعْدٍ الصَّاغَانِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: لَمْ أَلْقَ أَبِي وَلَقِيتُ أَخِي فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " الْمُحَرِّمُ حَلالَ اللَّهِ كَالْمُسْتَحِلِّ حَرَامَ اللَّهِ ". أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ أَبُو مُحَمَّدٍ، عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّرِيفِينِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حُبَاسَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ. قَالَ: نَبَّأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ قَالَ: أَنْبَأَنَا زُهَيْر عَن أبي اسحق قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَجَاءَ ابْنٌ لَهُ أَرَاهُ الْقَاسِمَ / فَقَالَ: أَصَبْتَ الْيَوْمَ مِنْ حَاجَتِكَ شَيْئًا؟ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ. وَمَا حَاجَتُهُ؟ قَالَ: مَا رَأَيْتُ غُلامًا آكَلَ لِضَبٍّ مِنْهُ. فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: أَوَ لَيْسَ بِحَرَامٍ؟ قَالَ: وَمَنْ حَرَّمَهُ؟ قَالَ: أَوْ لَمْ يكن رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - يَكْرَهُهُ؟ قَالَ: أَوْ لَيْسَ الرَّجُلُ يَكْرَهُ الشَّيْءُ وَلَيْسَ بِحَرَامٍ؟ ثُمَّ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّ مُحَرِّمَ الْحَلالِ كَمُسْتَحِلِّ الْحَرَامِ.

نَبَّأَنَا إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، نَبَّأَنَا مَحْمُودُ بْنُ حِرَاشٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو بَلْجٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " فَصْلُ مَا بَيْنَ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ الدُّفُّ وَالصَّوْتُ فِي النِّكَاحِ "، هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَلْزَمَ أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ مُسْلِمًا
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-ফকিহ আন-নায়সাবুরী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সুলায়মান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল ওয়াহাব, তিনি সুলায়মান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজাম্মি আল-আনসারী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে হারিসাহ আল-আনসারী থেকে, তার পিতা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি হজ ও ওমরার সফরে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের সঙ্গী ছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আমাকে বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই হালালকে হারামকারী ব্যক্তি হারামকে হালালকারীর মতো।" আর এই সনদ দুটির প্রথমটিতে ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল এবং দ্বিতীয়টিতে আস-সাগানি রয়েছেন, আর তারা উভয়েই দুর্বল (ضعيف); তবে এই শব্দ সংবলিত বর্ণনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তি হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে। বাগদাদে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বাযযা আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাবিই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাদ আস-সাগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার সাক্ষাৎ পাইনি, তবে আমার ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয়েছে, তিনি আমার পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর হালালকৃত বস্তুকে হারামকারী ব্যক্তি আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল জ্ঞানকারীর ন্যায়।" আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সারিফিনি আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুবাসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আলী ইবনে জাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: যুহাইর আমাদের আবু ইসহাক থেকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তার এক পুত্র আসল, যাকে আমি কাসিম মনে করি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আজ তোমার প্রয়োজনীয় কোনো কিছু পেয়েছ? তখন উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বলল: তার প্রয়োজন আবার কী? তিনি বললেন: আমি কোনো কিশোরকে তার চেয়ে বেশি সান্ডা ভক্ষণকারী দেখিনি। উপস্থিতদের কেউ একজন বলল: এটি কি হারাম নয়? তিনি বললেন: কে একে হারাম করেছে? সে বলল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি এটি অপছন্দ করতেন না? তিনি বললেন: মানুষ কি এমন কোনো কিছু অপছন্দ করতে পারে না যা হারাম নয়? এরপর তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: হালালকে হারামকারী ব্যক্তি হারামকে হালাল জ্ঞানকারীর ন্যায়।

ইবরাহীম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহমুদ ইবনে হিরাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বালজ আমাদের মুহাম্মদ ইবনে হাতিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো বিয়েতে দফ বাজানো এবং ঘোষণা দেওয়া।" এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, যা আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি ইমাম মুসলিমের ওপর (তার শর্তানুযায়ী) আবশ্যক করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫৩)
إِخْرَاجَهُ فِي الصَّحِيحِ، وَقَالَ: قَدْ رُوِيَ عَنْهُ - يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ حَاطِبٍ أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ وَسَمَّاكَ بن حَرْب وَأَبُو عَوْنٍ وَيُوسُفَ بْنَ سَعْدٍ وَغَيْرَهُمْ، وَأَبُو بَلْجٍ هَذَا؛ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ

وَأَخَرْجَ هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيُّ. وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ / ابْنُ مَاجَةَ فِي سُنَنِهِمَا مِنْ حَدِيثِ هُشَيْمِ بْنِ شَبِيبٍ، هَذَا وَقَدْ رَوَاهُ عَنْ أَبِي بَلْجٍ كَرِوَايَةِ هُشَيْمٍ شُعْبَةُ الْحَجَّاجُ، وَأَبُو عَوَانَةَ الْوَضَّاحُ

أَمَّا حَدِيُثُ شُعْبَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو السَّنَابِلِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الصَّهْبَاءِ بِنَيْسَابُورَ قَالَ، قَالَ: أَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن اسحق قَالَ: أَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ: قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى قَالَ: نَبَّأَنَا خَالِدٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي بَلْجٍ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حَاطِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -؛ إِنَّ فَصْلَ مَا بَيْنَ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ الصَّوْتُ

وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي عَوَانَةَ، أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَهَّاب بن مُحَمَّد ابْن اسحق بِأَصْبَهَانَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَنْدَه الْحَافِظُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ ابْن يَحْيَى. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بَلْجٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -، قَالَ: " فَصْلُ مَا بَيْنَ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ / ضَرْبُ الدُّفِّ ".

أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَفِيفٍ بِبُوشَنْجَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُرَيْحٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّد ابْن صَاعِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم ابْن عُرْوَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ جَابر: سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -. صَوْتَ دُفٍّ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقِيلَ: فُلانٌ تَزَوَّجَ، فَقَالَ: هَذَا نِكَاحٌ لَيْسَ بِالسِّفَاحِ، وَهَذَا الإِسْنَادُ، إِنِّمَا أَخْرَجْتُهُ عَلَى ضَعْفِهِ، لأَنَّهُ شَاهِدٌ لِلْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الْمُتَقَدِّمِ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْعَدْلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دَكَّةَ. قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ قَالَ: نَبَّأَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ ذَكْوَانَ عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ قَالَتْ: جَاءَ رَسُول
তিনি এটি সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর থেকে—অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে হাতিব থেকে—আবু মালিক আল-আশজায়ি, সিমাক ইবনে হারব, আবু আউন, ইউসুফ ইবনে সাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আর এই আবু বালজ; তার নাম হলো ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইম।

এবং এই হাদিসটি আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ি ও আবু আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ তাদের স্ব-স্ব সুনান গ্রন্থে হুশাইম ইবনে শাবিবের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর শুবা ইবনে হাজ্জাজ ও আবু আওয়ানা আল-ওয়াদদাহ এই হাদিসটি আবু বালজ থেকে হুশাইমের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে শুবার হাদিস সম্পর্কে, নিশাপুরে আবুল সানাবিল হিবাতুল্লাহ ইবনে আবিস সাহবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাকাফি আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আলি আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ আমাদের শুবা থেকে, তিনি আবু বালজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে হাতিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো শব্দ (ঘোষণা)।"

আর আবু আওয়ানার হাদিস সম্পর্কে, ইসফাহানে আবু উমর আবদুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ আল-হাফিজ আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মাসউদ আর-রাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের আবু আওয়ানা থেকে, তিনি আবু বালজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাতিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো দফ বাজানো।"

আবু মনসুর আবদুর রহমান ইবনে আফিফ বুশাঞ্জে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ আল-আনসারি আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমাইয়া মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে উرওয়াহ আমাদের আবু সলিহ থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দফের শব্দ শুনতে শুনেছেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কী?" বলা হলো: "অমুক ব্যক্তি বিবাহ করেছে।" তখন তিনি বললেন: "এটি বিবাহ, ব্যভিচার নয়।" আর এই সনদ (إسناد) টি আমি এর দুর্বলতা (ضعف) থাকা সত্ত্বেও এই কারণে বর্ণনা করেছি যে, এটি পূর্বে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য একটি সমর্থক (شاهد) বর্ণনা।

আবুল কাসিম ইবনে আহমাদ আল-ইসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-আদল আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাক্কা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে জাকওয়ান আমাদের রুবাইয়্যি বিনতে মুয়াব্বিয (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫৪)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: فَدَخَلَ عَلَيَّ صَبِيحَةَ بُنِيَ عَلَيَّ فَجَلَسَ عَلَى فِرَاشِي كَمَجْلِسِكَ مِنِّي فَجَعَلَتْ جُوَيْرَاتٌ يَضْرِبْنَ بِدُفٍّ يَنْدُبْنَ مَنْ قُتِلَ مِنْ آبَائِي يَوْمَ بَدْرٍ إِلَى أَنْ قَالَتْ إِحْدَاهُنَّ /

(وَفِينَا نَبِيٌّ يَعْلَمُ مَا فِي غَدِ … )

 

فَقَالَ: دَعِي هَذَا، وَقُولِي الَّذِي كُنْتِ تَقُولِينَ قَبْلَهَا.

وَهَذَا صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ عَلِيٍّ غَيْرَ مَنْسُوبٍ - وَهُوَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ الْفَضْلِ

كَذَلِكَ رَوَاهُ حَمَّاد بن سلمةعن خَالِدِ بْنِ ذَكْوَانَ أَتَمَّ مِنْ هَذَا، أَخْبَرَنَاهُ أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَزْوِينِيُّ بِالرَّيِّ، قَالَ: نَبَّأَنَا أَبُو طَلْحَةَ الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي الْمُنْذِرِ الْخَطِيبُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَسْلَمَةَ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مَاجَةَ صَاحِبُ السُّنَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدثنَا يزِيد بن هرون، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الْحُسَيْنِ الْمَدَايِنِيِّ - اسْمُهُ خَالِدٌ - قَالَ: كُنَّا بِالْمَدِينَةِ يَوْمَ عَاشُوَرَاءَ وَالْجَوَارِي يَضْرِبْنَ بِالدُّفِّ وَيَتَغَنَّيْنَ فَدَخَلْنَا عَلَى الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ، فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهَا، فَقَالَتْ: دَخَلَ عَلِيَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: صَبِيحَةَ عُرْسِي وَعِنْدِي جَارِيتَانِ تُغَنِّيَانِ وَتَنْدُبَانِ آبَائِي الَّذِينَ قُتِلُوا / يَوْمَ بَدْرٍ وَتَقُولانِ فِيمَا تَقُولانِ:

(وَفِينَا نَبِيٌّ يَعْلَمُ مَا فِي غَدِ … )

 

فَقَالَ: أَمَّا هَذَا فَلا تَقُولُوهُ. لَا يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلَّا اللَّهِ عز وجل

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَزَّازُ بِبَغْدَادَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكِنَانِيُّ الْمُقْرِي، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ. قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الأَبَّارُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بن إِسْحَق عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: سَافَرَ سَفَرًا فَنَذَرَتْ جَارِيَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ: إِنِ اللَّهِ عز وجل رَدَّهُ أَنْ تَضْرِبَ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -: আমার বিবাহের পরের সকালে তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমার বিছানায় বসলেন ঠিক যেভাবে তুমি আমার সামনে বসেছ। এরপর কিছু কিশোরী দফ বাজাতে লাগল এবং বদরের দিন নিহত আমার পিতৃপুরুষদের শোকগাঁথা গাইতে লাগল, যতক্ষণ না তাদের একজন বলল /

(এবং আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন যিনি জানেন আগামীকাল কী ঘটবে … )

 

তখন তিনি বললেন: "এটি ত্যাগ করো এবং এর আগে যা বলছিলে তা-ই বলো।"

এবং এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা, যা ইমাম বুখারি আলির সূত্রে সংকলন করেছেন যিনি কোনো বংশনাম ব্যতীত উল্লেখিত হয়েছেন - আর তিনি হলেন ইবনুল মাদিনি, বিশর ইবনুল ফাদল-এর সূত্রে।

অনুরূপভাবে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এটি খালেদ ইবনে জাকওয়ানের সূত্রে এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনুল হোসেন আল-কাজওয়িনি রাই শহরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালহা আল-কাসিম ইবনে আবিল মুনজির আল-খাতিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাসলামাহ আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুনান-এর রচয়িতা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আবুল হোসেন আল-মাদায়িনি থেকে - তার নাম খালেদ - তিনি বলেন: আমরা আশুরার দিনে মদিনায় ছিলাম এবং কিশোরীরা দফ বাজাচ্ছিল ও গান গাইছিল। তখন আমরা রুবায়্যি বিনতে মুয়াব্বিদের নিকট প্রবেশ করলাম এবং বিষয়টি তাকে জানালাম। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বাসর রাতে আমার নিকট আসলেন এবং আমার নিকট দুইজন কিশোরী ছিল যারা গান গাইছিল এবং বদরের দিন নিহত আমার পিতৃপুরুষদের শোকগাঁথা গাইছিল। তারা তাদের কথার মাঝে বলছিল:

(এবং আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন যিনি জানেন আগামীকাল কী ঘটবে … )

 

তখন তিনি বললেন: "এই কথাটি অন্তত বলো না। কেননা মহান আল্লাহ ছাড়া আগামীকাল কী ঘটবে তা কেউ জানে না।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হোসেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-বাজজাজ বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ওমর ইবনে ইবরাহিম আল-কিনানি আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে রাশিদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-আব্বাব, আবদুর রহমান ইবনে ইসহাকের সূত্রে, তিনি শা'বি থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সফরে বের হয়েছিলেন, তখন কুরাইশদের এক কিশোরী মানত করেছিল যে, যদি আল্লাহ তাআলা তাকে ফিরিয়ে আনেন তবে সে দফ বাজাবে...
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫৫)
فِي بَيْتِ عَائِشَةَ بِدُفٍّ، فَلَمَّا رَجَعَ رَسُول اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَتِ الْجَارِيَةُ، فَقَالَت عَائِشَة للنَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: هَذِهِ فُلانَةُ بِنْتُ فُلانَةٍ نَذَرَتْ إِنْ رَدَّكَ اللَّهِ تَعَالَى أَنْ تَضْرِبَ فِي بَيْتِي بِدُفٍّ، قَالَ: فَلْتَضْرِبْ، وَهَذَا إِسْنَادٌ مُتَّصِلٌ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ. وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -: " لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيةٍ " فَلَوْ كَانَ ضَرْبُ الدُّفِّ مَعْصِيةً / لأَمَرَ بِالتَّكْفِيرِ عَنْ نَذْرِهَا، وَمَنَعَهَا مِنْ فِعْلِهِ

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ الْبَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ قَالَ: نَبَّأَنَا هُشَيْمُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: مَرَّ عِيَاضٌ الْأَشْعَرِيُّ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَقَالَ: مَالِي لَا أَرَاهُمْ يُقَلِّسُونَ، فَإِنَّهُ مِنَ السُّنَّةِ. قَالَ زِيَادٌ فَسَّرَ هُشَيْمٌ. " التَّقْلِيسَ: الضَّرْبُ بِالدُّفِّ ". قَالَ نَعَمْ. هَذَا حَدِيثٌ رَوَاهُ شَرِيكٌ عَنْ مُغِيرَةَ كَرِوَايَةِ هُشَيْمٍ

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ بِالرَّيِّ. قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ ابْن مُحَمَّدٍ الصَّيْدَلانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ الطُّرَائِفِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُوشَنْجِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ مُغِيرَةَ، وَذَكَرَهُ

وَهَذَا الْقَدْرُ فِي ضَرْبِ الدُّفِّ وَجَوَازِ اسْتِمَاعِهِ كَافٍ إِنْ شَاءَ اللَّهِ عز وجل.

تَمَّ الْجُزْءُ الأَوَّلِ مِنْ كِتَابِ السَّمَاعِ مِنْ نُسْخَةِ الْمُصَنِّفِ بِخَطِّهِ، قَالَ يَتْلُوهُ إِنْ شَاءَ اللَّهِ عز وجل فِي الثَّانِي الْقَوْلُ فِي شبابه الرَّاعِي.
আয়েশার (রা.) ঘরে দফ (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র) সহকারে, অতঃপর যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসলেন, তখন দাসীটি আসল। আয়েশা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: এই সেই অমুকের কন্যা অমুক, সে মানত করেছিল যে আল্লাহ তাআলা যদি আপনাকে (সহিহ-সালামতে) ফিরিয়ে আনেন তবে সে আমার ঘরে দফ বাজাবে। তিনি বললেন: সে যেন বাজায়। আর এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (إسناد متصل) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাপের কাজে কোনো মানত নেই।" সুতরাং দফ বাজানো যদি পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তার মানতের কাফফারা আদায় করার নির্দেশ দিতেন এবং তাকে তা করতে নিষেধ করতেন।

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে আলী আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুগীরাহ থেকে, তিনি শাব্বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াদ আল-আশআরী ঈদের দিনে পথ অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি বললেন: কী ব্যাপার, আমি তাদের 'তাকলীস' করতে দেখছি না কেন? অথচ এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। যিয়াদ বলেন, হুশাইম 'তাকলীস' এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, 'তাকলীস হলো দফ বাজানো'। তিনি (মুগীরাহ) বললেন, হ্যাঁ। এটি এমন একটি হাদিস যা শারীক মুগীরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে হুশাইম বর্ণনা করেছেন।

রায়-এ আবু বকর আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইদালানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুস আত-তুরাইফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-বুশানজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে আদী আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, শারীক মুগীরাহ থেকে আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

আর দফ বাজানো এবং তা শোনার বৈধতার বিষয়ে এই পরিমাণই যথেষ্ট, ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)।

লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি হতে কিতাবুস সামা-এর প্রথম খণ্ড সমাপ্ত হলো। তিনি বলেছেন, ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় খণ্ডে রাখাল বালকের বক্তব্য সংক্রান্ত আলোচনা এর পরবর্তী অংশ হিসেবে আসবে।
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الصفحة فارغة
পৃষ্ঠাটি খালি
(খণ্ড: ১) আস সামা লিইবনিল কাইসারানি (পৃষ্ঠা: ৫৭)
الْجُزْءُ الثَّانِي

 

مِنْ كِتَابِ السَّمَاعِ
দ্বিতীয় খণ্ড (الجزء الثاني)

 

শ্রবণ (سماع) বিষয়ক গ্রন্থ হতে