(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: -)
الفروسية المحمدية - ت مشهور   (ابن القيم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الفروسية

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)

المحقق: مشهور بن حسن بن محمود بن سلمان

الناشر: دار الأندلس - السعودية - حائل

الطبعة: الأولى، 1414 - 1993

عدد الصفحات: 506

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফুরুসিয়্যাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকীক মাশহুর   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-ফুরুসিয়্যাহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)

মুহাক্কিক: মাশহুর বিন হাসান বিন মাহমুদ বিন সালমান

প্রকাশক: দারুল আন্দালুস - সৌদি আরব - হাইল

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ - ১৯৯৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮১)
بِسم الله الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه الْعَالم الْحَافِظ الْعَلامَة أوحد عصره وفريد دهره شيخ الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين قامع الْبِدْعَة والمبتدعين الشَّيْخ شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الرحمن أبي بكر بن أَيُّوب الزرعي الْمَعْرُوف بِابْن قيم الْمدرسَة الجوزية رضي الله عنه وَغفر لَهُ وأعلا فِي الْجنَّة دَرَجَته آمين

‌‌تحمدة وتقدمة

الْحَمد لله الَّذِي أرسل رَسُوله بِالْهدى وَدين الْحق لِيظْهرهُ على جَمِيع الْأَدْيَان وأيده بِالْآيَاتِ الظَّاهِرَة والمعجزات الباهرة وَمن أعظمها الْقُرْآن وأمده بملائكة السَّمَاء تقَاتل بَين يَدَيْهِ مقاتلة الفرسان وَنَصره برِيح الصِّبَا تحارب عَنهُ أهل الزيغ والعدوان كَمَا نَصره بِالرُّعْبِ وقذفه فِي قُلُوب أعدائه وَبَينه وَبينهمْ مسيرَة شهر من الزَّمَان وَأقَام لَهُ جُنُودا من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار تقَاتل مَعَه بِالسَّيْفِ والسهم والسنان
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

শায়খ, ফকিহ, আলেম, হাফিজ (الحافظ), আল্লামা, আপন যুগের অদ্বিতীয় এবং সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব, ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ, বিদআত ও বিদাতপন্থীদের দমনকারী শায়খ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আবু বকর বিন আইয়ুব আল-জুরয়ি, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া হিসেবে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন, আমিন) বলেছেন:

‌‌হামদ ও ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন; এবং তাঁকে সুস্পষ্ট নিদর্শন ও চমৎকার মুজিজাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআন। তিনি আসমানের ফেরেশতাদের দ্বারা তাঁকে সাহায্য করেছেন যারা তাঁর সম্মুখে অশ্বারোহী যোদ্ধাদের ন্যায় লড়াই করত। তিনি তাঁকে পুবালি বাতাসের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন যা তাঁর পক্ষ হয়ে সত্যবিচ্যুত ও শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করত, ঠিক যেভাবে তিনি তাঁকে শত্রুদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন—যখন তাঁর ও তাদের মাঝে এক মাসের পথ দূরত্ব বিদ্যমান থাকত। আর তিনি তাঁর জন্য মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে এমন এক সেনাদল গঠন করেছিলেন যারা তাঁর সাথে তলোয়ার, তীর ও বর্শা হাতে যুদ্ধ করত।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮২)
وتصاول بَين يَدَيْهِ فِي ميادين السباق تصاول الأقران وتبذل فِي نصرته من نفوسها وأموالها نفائس الْأَثْمَان تَسْلِيمًا للْمَبِيع الَّذِي جرى عقده على أَيدي الصَّادِق المصدوق وَالْتزم للْبَائِع الضَّمَان {إِن الله اشْترى من الْمُؤمنِينَ أنفسهم وَأَمْوَالهمْ بِأَن لَهُم الْجنَّة يُقَاتلُون فِي سَبِيل الله فيقتلون وَيقْتلُونَ وَعدا عَلَيْهِ حَقًا فِي التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالْقُرْآن} التَّوْبَة 111 وتبارك الَّذِي أرسل رسله بِالْبَيِّنَاتِ وَأنزل مَعَهم الْكتاب وَالْمِيزَان وَأنزل الْحَدِيد فِيهِ بَأْس شَدِيد وَمَنَافع تتمّ بهَا مصَالح الْإِنْسَان وَعلم الفروسية وَجعل الشجَاعَة خلقا فَاضلا يخْتَص بِهِ من يَشَاء وكمله لحزبه وأصاره حلية أهل الْإِيمَان فَأوجب محبته للجواد الشجاع وكمله ومقته للبخيل الجبان

وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ رب الْعَالمين وإله الْأَوَّلين والآخرين وقيوم السَّمَاوَات وَالْأَرضين الَّذِي أَفَاضَ على خلقه النِّعْمَة وَكتب على نَفسه الرَّحْمَة وَضمن الْكتاب الَّذِي كتبه أَن رَحمته تغلب غَضَبه تعرف إِلَى عباده بأوصافه وأفعاله وأسمائه وتحبب إِلَيْهِم بنعمته وآلائه وابتدأهم بإحسانه وعطائه فَهُوَ المحسن إِلَيْهِم والمجازي على إحسانه بِالْإِحْسَانِ فَلهُ النِّعْمَة وَالْفضل وَالثنَاء الْحسن الْجَمِيل والإمتنان {يمنون عَلَيْك أَن أَسْلمُوا قل لَا تمنوا عَليّ إسلامكم بل الله يمن عَلَيْكُم أَن هدَاكُمْ للْإيمَان} الحجرات 17

وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وأمينه على وحيه وَخيرته من خلقه وسفيره بَينه وَبَين عباده وحجته على جَمِيع الْإِنْس والجان أرْسلهُ على حِين فَتْرَة من الرُّسُل فهدى بِهِ إِلَى أقوم الطّرق وَأبين السبل وافترض
আর তারা তাঁর সম্মুখে প্রতিযোগিতার ময়দানে সমকক্ষদের ন্যায় বীরত্বপূর্ণ মোকাবিলা করেছে এবং তাঁর সাহায্যে নিজেদের জান ও মালের মূল্যবান সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে; এটি ছিল সেই বিক্রিত বস্তুর সমর্পণ যা সত্যবাদী (الصادق) ও সত্যায়িত (المصدوق) সত্তার হাতে সম্পাদিত চুক্তির অংশ ছিল এবং তিনি বিক্রেতার জন্য দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন। {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা মারে ও মরে। এটি তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে তাঁর দেওয়া একটি সত্য প্রতিশ্রুতি।} আত-তাওবাহ: ১১১। অত্যন্ত বরকতময় সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসুলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন। আর তিনি লৌহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ, যার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় স্বার্থসিদ্ধি হয়। তিনি সমরবিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং বীরত্বকে একটি উৎকৃষ্ট স্বভাবজাত গুণ সাব্যস্ত করেছেন, যা দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন। তিনি একে তাঁর দলের জন্য পূর্ণতা দান করেছেন এবং একে মুমিনদের ভূষণ বানিয়েছেন। অতঃপর তিনি দানশীল ও বীরের জন্য তাঁর মহব্বত অবধারিত করেছেন এবং একে পূর্ণতা দিয়েছেন, আর কৃপণ ও কাপুরুষকে তিনি ঘৃণা করেছেন।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি জগতসমূহের প্রতিপালক, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ এবং আসমান ও জমিনসমূহের নিয়ন্ত্রক। তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর নেয়ামতরাজি ঢেলে দিয়েছেন, নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন এবং তাঁর স্ব-লিখিত কিতাবে এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর বিজয়ী। তিনি তাঁর গুণাবলি, কার্যাবলি ও নামের মাধ্যমে বান্দাদের কাছে আত্মপরিচয় দিয়েছেন এবং তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের প্রিয়পাত্র হয়েছেন। তিনি তাঁর ইহসান ও দানের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব দান করেছেন। সুতরাং তিনিই তাদের প্রতি অনুগ্রহকারী এবং তিনি ইহসানের বদলে ইহসান দ্বারা পুরস্কৃত করেন। সকল নেয়ামত, শ্রেষ্ঠত্ব, সুন্দর ও উত্তম প্রশংসা এবং মহত্ত্ব কেবল তাঁরই প্রাপ্য। {তারা ইসলাম গ্রহণ করে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমাদের ইসলাম গ্রহণকে আমার ওপর অনুগ্রহ মনে করো না; বরং আল্লাহই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন।} আল-হুজুরাত: ১৭।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাঁর ওহির আমানতদার, সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত এবং সমস্ত মানুষ ও জিনের ওপর তাঁর অকাট্য প্রমাণ (حجة)। তিনি রাসুলদের আগমনের বিরতিকালে প্রেরিত হয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে সবচেয়ে সঠিক পথ ও সুস্পষ্ট পন্থার দিকে হেদায়েত দান করেছেন এবং (বিধানসমূহ) ফরজ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৩)
على الْعباد طَاعَته ومحبته وتعظيمه وَالْقِيَام بحقوقه وسد إِلَى الْجنَّة جَمِيع الطّرق فَلم يفتح لأحد إِلَّا من طَرِيقه فشرح الله لَهُ صَدره وَرفع لَهُ ذكره وَوضع عَنهُ وزره وَبَعثه بِالْكتاب الْهَادِي وَالسيف النَّاصِر بَين يَدي السَّاعَة حَتَّى يعبد سُبْحَانَهُ وَحده لَا شريك لَهُ وَجعل رزقه تَحت ظلّ سَيْفه وَرمحه وَجعل الذلة وَالصغَار على من قَابل أمره بالمخالفة والعصيان وَأنزل عَلَيْهِ من الْكتب أجلهَا وَمن الشَّرَائِع أكملها وَمن الْأُمَم أفضلهَا وهم يُوفونَ سبعين أمة هم خَيرهَا وَأَكْرمهَا على الرَّحْمَن وَخَصه من الْأَخْلَاق بأزكاها وَمن مَرَاتِب الْكَمَال بِأَعْلَاهَا وَجمع لَهُ من المحاسن مَا فرقه فِي نوع الْإِنْسَان فَهُوَ أكمل النَّاس خلقا وَأَحْسَنهمْ خلقا وأشجعهم قلبا وأجودهم كفا وألينهم عَرِيكَة وأوسعهم صَدرا وألطفهم عشرَة وأفصحهم لِسَانا وأثبتهم جنَانًا وأشرفهم بَيْتا ونسبا

فَهُوَ مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هَاشم بن عبد منَاف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب بن فهر بن مَالك بن النَّضر بن كنَانَة بن خُزَيْمَة بن مدركة بن إلْيَاس بن مُضر بن نزار بن معد بن عدنان

فصلى الله وَمَلَائِكَته وأنبياؤه وَرُسُله والصالحون من خلقه عَلَيْهِ كَمَا عرفنَا بِاللَّه وأسمائه وَصِفَاته وَوَحدهُ ودعا إِلَيْهِ وآتاه الْوَسِيلَة والفضيلة وَبَعثه الْمقَام الْمَحْمُود الَّذِي وعده فِي دَار السَّلَام وَالسَّلَام عَلَيْهِ وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

أما بعد فَإِن الله سُبْحَانَهُ أَقَامَ دين الْإِسْلَام بِالْحجَّةِ والبرهان وَالسيف
বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, তাঁকে সম্মান প্রদান করা এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করা অপরিহার্য। তিনি জান্নাতের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন; ফলে তাঁর প্রদর্শিত পথ ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা উন্মুক্ত হবে না। মহান আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁর ভার লাঘব করেছেন। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে পথপ্রদর্শক কিতাব ও সাহায্যকারী তরবারি সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে কেবলমাত্র অংশীদারহীন এক আল্লাহর ইবাদত করা হয়। তিনি তাঁর জীবিকা নির্ধারণ করেছেন তাঁর তরবারি ও বর্শার ছায়াতলে এবং যারা তাঁর আদেশের অবাধ্যতা ও বিরোধিতা করবে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা অবধারিত করেছেন। তিনি তাঁর ওপর কিতাবসমূহের মধ্যে মহত্তম কিতাব, শরিয়তসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত এবং উম্মতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম উম্মত অবতীর্ণ করেছেন। তারা সত্তরটি উম্মতের সংখ্যা পূর্ণ করে এবং দয়াময় আল্লাহর নিকট তারা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম চারিত্রিক মাধুর্য ও পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন করেছেন। মানবজাতির মধ্যে ছড়িয়ে থাকা সকল উত্তম গুণাবলী তিনি তাঁর সত্তায় পুঞ্জীভূত করেছেন। তিনি শারীরিক অবয়বে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত, চরিত্রে সর্বোত্তম, হৃদয়ে সবচেয়ে সাহসী, দানে সবচেয়ে উদার, স্বভাবে অত্যন্ত কোমল, হৃদয়ে সর্বাধিক প্রশস্ত, মেলামেশায় অত্যন্ত অমায়িক, বাচনভঙ্গিতে প্রাঞ্জলতম, সংকল্পে অটলতম এবং বংশ ও আভিজাত্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান।

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান।

অতএব মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, নবীগণ, রাসূলগণ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে পুণ্যবান বান্দাগণ তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করুন; যেহেতু তিনি আমাদের মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করেছেন, তাঁর একত্ববাদ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে 'ওয়াসিলা' ও 'ফাদিলা' দান করুন এবং শান্তির আলয়ে তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে আসীন করুন যার প্রতিশ্রুতি তিনি তাঁকে দিয়েছেন। তাঁর ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা প্রমাণ (حجة) ও অকাট্য দলিল (برهان) এবং তরবারির মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৪)
والسنان فكلاهما فِي نَصره أَخَوان شقيقان وَكِلَاهُمَا شجيع لَا يتم إِلَّا بشجاعة الْقلب وثبات الْجنان وَهَذِه الْمنزلَة الشَّرِيفَة والمرتبة المنيفة مُحرمَة على كل مهين جبان كَمَا حرمت عَلَيْهِ المسرة والأفراح وأحضر قلبه الهموم والغموم والمخاوف وَالْأَحْزَان فَهُوَ يحْسب أَن كل صَيْحَة عَلَيْهِ وكل مُصِيبَة قاصدة إِلَيْهِ فقلبه بالحزن مغمور بِهَذَا الظَّن والحسبان

وَقد علم أَن الفروسية والشجاعة نَوْعَانِ فأكملها لأهل الدّين وَالْإِيمَان وَالنَّوْع الثَّانِي مورد مُشْتَرك بَين الشجعان

وَهَذَا مُخْتَصر فِي الفروسية الشَّرْعِيَّة النَّبَوِيَّة الَّتِي هِيَ من أشرف عبادات الْقُلُوب والأبدان الحاملة لأَهْلهَا على نصْرَة الرَّحْمَن السائقة لَهُم إِلَى أَعلَى غرف الْجنان علقته على بعد من الأوطان واغتراب عَن الْأَصْحَاب والإخوان وَقلة بضَاعَة فِي هَذَا الشَّأْن فَمَا كَانَ فِيهِ من صَوَاب فَمن فضل الله وتوفيقه وَمَا كَانَ فِيهِ من خطأ فَمن الشَّيْطَان وَالله وَرَسُوله مِنْهُ بريئان

فَأَقُول وَبِاللَّهِ الْمُسْتَعَان وَعَلِيهِ التكلان

ثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه سَابق بالأقدام وَثَبت عَنهُ أَنه سَابق بَين الْإِبِل وَثَبت عَنهُ أَنه سَابق بَين الْخَيل وَثَبت عَنهُ أَنه حضر نضال السِّهَام وَصَارَ مَعَ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ فَأَمْسَكت الْأُخْرَى وَصَارَ مَعَ الطَّائِفَتَيْنِ كلتيهما وَثَبت عَنهُ أَنه رمى بِالْقَوْسِ وَثَبت عَن الصّديق أَنه رَاهن كفار مَكَّة على غَلَبَة الرّوم للْفرس وراهنوه على أَن لَا يكون ذَلِك وَوَضَعُوا الْخطر من الْجَانِبَيْنِ وَكَانَ ذَلِك بِعلم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وإذنه وَثَبت عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه طعن بِالرُّمْحِ وَركب الْخَيل مسرجة ومعراة وتقلد السَّيْف
এবং বর্শা—উভয়ই সত্যের সাহায্যে সহোদর দুই ভাইয়ের মতো। আর উভয়টিই এমন বীরত্বের দাবি রাখে যা অন্তরের সাহস ও চিত্তের স্থিরতা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ও সুউচ্চ মাকাম প্রত্যেক হীন কাপুরুষের জন্য নিষিদ্ধ, যেমনভাবে তার জন্য আনন্দ ও উল্লাসকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে তার অন্তরকে দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা, ভয় ও শোকে নিমজ্জিত রেখেছে। সে মনে করে যে, প্রতিটি চিৎকারই তার বিরুদ্ধে এবং প্রতিটি বিপদই তার দিকে ধাবমান; ফলে তার অন্তর এই সংশয় ও কুধারণার কারণে দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে।

এটি জানা কথা যে, রণকৌশল ও বীরত্ব দুই প্রকার। এর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রকারটি হলো দ্বীন ও ঈমানদারদের জন্য। আর দ্বিতীয় প্রকারটি সকল বীরদের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

এটি শরয়ি ও নববী রণকৌশল বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যা অন্তর ও শরীরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এটি তার অনুসারীদের পরম করুণাময় আল্লাহর সাহায্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ কক্ষসমূহের দিকে পরিচালিত করে। আমি এটি স্বদেশ থেকে দূরে, বন্ধু-বান্ধব ও ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্ন প্রবাস জীবনে এবং এই বিষয়ে সামান্য জ্ঞান নিয়ে সংকলন করেছি। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকের ফল, আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।

আমি বলছি, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। তাঁর থেকে এটিও প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি উটের দৌড় প্রতিযোগিতা এবং ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছেন। তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন এবং দুই দলের একদলের সাথে শরিক হলেন, তখন অন্য দলটি বিরত থাকল; এরপর তিনি উভয় দলের সাথেই শরিক হলেন। তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ করেছেন। সিদ্দীক (আবু বকর) থেকে প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি পারস্যের বিরুদ্ধে রোমকদের বিজয়ের ব্যাপারে মক্কার কাফিরদের সাথে বাজি ধরেছিলেন, আর তারাও বাজি ধরেছিল যে তা ঘটবে না, এবং উভয় পক্ষ বাজি নির্ধারণ করেছিল। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জ্ঞান ও অনুমতিক্রমেই হয়েছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটিও প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি বর্শা দিয়ে আঘাত করেছেন, জিনযুক্ত ও জিনবিহীন উভয় প্রকার ঘোড়ায় আরোহণ করেছেন এবং তরবারি ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৫)
‌‌مسابقته صلى الله عليه وسلم بالأقدام

 

فَأَما مسابقته بالأقدام فَفِي مُسْند الإِمَام أَحْمد وَسنَن أبي دَاوُد من حَدِيث عَائِشَة قَالَت

سابقني النَّبِي صلى الله عليه وسلم فسبقته فلبثنا حَتَّى إِذا أرهقني اللَّحْم سابقني فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِه بِتِلْكَ

وَفِي رِوَايَة أُخْرَى

أَنهم كَانُوا فِي سفر فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابه تقدمُوا فتقدموا ثمَّ قَالَ لعَائِشَة سابقيني فسابقها فسبقته ثمَّ سَافَرت مَعَه مرّة أُخْرَى فَقَالَ لأَصْحَابه تقدمُوا ثمَّ قَالَ سابقيني فسبقته وسبقني فَقَالَ (هَذِه بِتِلْكَ)

‌‌مسابقة الصَّحَابَة على الْأَقْدَام بَين يَدَيْهِ صلى الله عليه وسلم

 

وتسابق الصَّحَابَة على الْأَقْدَام بَين يَدَيْهِ صلى الله عليه وسلم بِغَيْر رهان

فَفِي صَحِيح مُسلم عَن سَلمَة بن الْأَكْوَع قَالَ
‌রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতা

 

তাঁর পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতার বিবরণ ইমাম আহমদের মুসনাদ এবং আবু দাউদের সুনান গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে; তিনি বলেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন এবং আমি তাঁর আগে চলে গেলাম। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, এমনকি যখন আমার শরীরে মেদ বৃদ্ধি পেল, তিনি পুনরায় আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন এবং এবার তিনি আমার আগে চলে গেলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "এই জয়টি পূর্বের পরাজয়ের বিনিময়ে।"

অন্য একটি বর্ণনায় (রিওয়ায়াত - رواية) এসেছে:

তাঁরা এক সফরে ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমরা অগ্রসর হও।" তারা অগ্রসর হলেন। এরপর তিনি আয়েশাকে বললেন, "আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করো।" আয়েশা তাঁর সাথে দৌড়ালেন এবং তিনি নবীজির আগে চলে গেলেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় তাঁর সাথে সফরে বের হলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমরা অগ্রসর হও।" এরপর আয়েশাকে বললেন, "আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করো।" তখন আয়েশা তাঁর সাথে দৌড়ালেন এবং নবীজি তাঁর আগে চলে গেলেন। এরপর নবীজি বললেন, "এই জয়টি পূর্বের পরাজয়ের বিনিময়ে।"

‌রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে সাহাবীদের পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতা

 

সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে কোনো প্রকার বাজি ধরা ছাড়াই পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন।

সহীহ মুসলিম-এ সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৬)
بَيْنَمَا نَحن نسير وَكَانَ رجل من الْأَنْصَار لَا يسْبق شدا فَجعل يَقُول أَلا مسابق إِلَى الْمَدِينَة هَل من مسابق فَقلت أما تكرم كَرِيمًا وتهاب شريفا قَالَ لَا إِلَّا أَن يكون رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قلت يَا رَسُول الله بِأبي أَنْت وَأمي ذَرْنِي أسابق الرجل فَقَالَ إِن شِئْت فسبقته إِلَى الْمَدِينَة

‌‌فصل

 

‌‌مصارعته صلى الله عليه وسلم

 

وَأما مصارعته صلى الله عليه وسلم فَفِي سنَن أبي دَاوُد عَن مُحَمَّد بن عَليّ بن ركَانَة

إِن ركَانَة صارع النَّبِي صلى الله عليه وسلم فصرعه النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
একদা আমরা পথ চলছিলাম, তখন আনসারদের একজন লোক ছিল যাকে দৌড়ে কেউ পেছনে ফেলতে পারত না। সে বলতে লাগল, 'মদিনা পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতার কেউ আছ কি? কেউ কি আছ যে প্রতিযোগিতা করবে?' তখন আমি বললাম, 'তুমি কি কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করবে না এবং কোনো শরীফ ব্যক্তিকে ভয় পাবে না?' সে বলল, 'না, তবে তিনি যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হন (তবে ভিন্ন কথা)।' বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমাকে এই লোকটির সাথে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দিন।' তিনি বললেন, 'যদি তুমি চাও (তবে পার)।' এরপর আমি তাকে মদিনা পর্যন্ত দৌড়ে হারিয়ে দিলাম।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুস্তি লড়া

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুস্তি লড়ার বিষয়টি সুনানে আবু দাউদে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে রুকানাহ থেকে বর্ণিত আছে যে,

রুকানাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আছাড় দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَهَذَا الحَدِيث فِيهِ قصَّة نذكرها أخبرنَا شَيخنَا أَبُو الْحجَّاج الْحَافِظ فِي كتاب تَهْذِيب الْكَمَال قَالَ

ركَانَة بن عبد يزِيد بن هَاشم بن الْمطلب بن عبد منَاف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب الْقرشِي المطلبي كَانَ من مسلمة الْفَتْح وَهُوَ الَّذِي صارع النَّبِي صلى الله عليه وسلم [فصرعه النَّبِي صلى الله عليه وسلم] مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا وَذَلِكَ قبل إِسْلَامه وَقيل [إِن] ذَلِك كَانَ سَبَب إِسْلَامه وَهُوَ أمثل مَا روى فِي مصارعة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأما مَا ذكر من مصارعة النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَبَا جهل فَلَيْسَ لذَلِك أصل انْتهى كَلَام شَيخنَا

وَقَالَ الزبير بن بكار فِي كتاب النّسَب

وركانة بن عبد يزِيد الَّذِي صارع النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة قبل الْإِسْلَام وَكَانَ أَشد النَّاس فَقَالَ يَا مُحَمَّد إِن صرعتني آمَنت بك فصرعه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أشهد إِنَّك سَاحر ثمَّ أسلم بعد
এই হাদিসটিতে একটি ঘটনা রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করছি। আমাদের শায়খ আবু আল-হাজ্জাজ আল-হাফিজ (الحافظ) তাঁর তহজীব আল-কামাল গ্রন্থে আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেছেন:

রুকানা বিন আবদ ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব আল-কুরাশি আল-মুত্তালিবি মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিলেন [অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুপোকাত করেছিলেন] দুই বা তিনবার। এটি ছিল তাঁর ইসলাম গ্রহণের পূর্বের ঘটনা এবং বলা হয়ে থাকে যে এটিই ছিল তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুস্তি লড়া সম্পর্কে যা বর্ণিত (روى) হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য (أمثل) বর্ণনা। আর আবু জেহেলের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুস্তি লড়ার যে বর্ণনা দেওয়া হয় তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই। আমাদের শায়খের বক্তব্যের সমাপ্তি।

আর জুবায়ের বিন বাক্কার কিতাব আল-নাসাব গ্রন্থে বলেছেন:

রুকানা বিন আবদ ইয়াজিদ সেই ব্যক্তি যিনি মক্কায় ইসলামের পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিলেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "হে মুহাম্মদ! আপনি যদি আমাকে কুস্তিতে হারাতে পারেন তবে আমি আপনার ওপর ঈমান আনব।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুপোকাত করলেন। তখন তিনি বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন জাদুকর।" এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৮)
‌‌فصل

 

‌‌مسابقته صلى الله عليه وسلم بَين الْخَيل

 

وَأما مسابقته صلى الله عليه وسلم بَين الْخَيل فَفِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث ابْن عمر قَالَ

سَابق رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَين الْخَيل فَأرْسلت الَّتِي أضمرت مِنْهَا وأمدها الحفياء إِلَى ثنية الْوَدَاع وَالَّتِي لم تضمر أمدها ثنية الْوَدَاع إِلَى مَسْجِد بني زُرَيْق

وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَن مُوسَى بن عقبَة
অনুচ্ছেদ (فصل)

 

ঘোড়দৌড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিযোগিতা

 

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি সহিহাইনে ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন। তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (أضمرت) ঘোড়াগুলোকে আল-হাফয়া থেকে সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত পাঠালেন এবং যেগুলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় (لم تضمر), সেগুলোর সীমা ছিল সানিয়াতুল বিদা থেকে বনু জুরাইক মসজিদ পর্যন্ত।

এবং সহিহাইনে মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণিত-
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৮৯)
أَن بَين الحفياء إِلَى ثنية الْوَدَاع سِتَّة أَمْيَال أَو سَبْعَة

وَقَالَ البُخَارِيّ قَالَ سُفْيَان من الحفياء إِلَى ثنية الْوَدَاع خَمْسَة أَمْيَال أَو سِتَّة وَمن ثنية الْوَدَاع إِلَى مَسْجِد بني زُرَيْق ميل

وَفِي مُسْند الإِمَام أَحْمد من حَدِيث عبد الله بن عمر أَيْضا إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم سبق بَين الْخَيل وأرهن

وَفِي لفظ لَهُ سبق بَين الْخَيل وَأعْطى السَّابِق

وَفِي الْمسند أَيْضا من حَدِيث أنس أَنه قيل لَهُ أَكُنْتُم تراهنون على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يراهن قَالَ
আল-হাফ্ইয়া থেকে সানিয়াতুল ওয়াদা পর্যন্ত দূরত্ব ছয় বা সাত মাইল।

ইমাম বুখারি বলেন, সুফিয়ান বলেছেন যে, আল-হাফ্ইয়া থেকে সানিয়াতুল ওয়াদা পর্যন্ত পাঁচ বা ছয় মাইল এবং সানিয়াতুল ওয়াদা থেকে বনু জুরাইক মসজিদ পর্যন্ত এক মাইল।

এবং মুসনাদে ইমাম আহমাদে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে আরও এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন এবং বাজির পণ নির্ধারণ করেছেন।

তাঁর বর্ণিত অন্য একটি শব্দগত পাঠে (لفظ) এসেছে যে, তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছেন এবং বিজয়ীকে পুরস্কার দিয়েছেন।

মুসনাদে আরও বর্ণিত হয়েছে আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে বাজি ধরতেন কিংবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বাজি ধরতেন? তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯০)
نعم وَالله لقد رَاهن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على فرس لَهُ يُقَال لَهُ (سبْحَة) فَسبق النَّاس فبهش لذَلِك وَأَعْجَبهُ

وَفِي سنَن أبي دَاوُد عَن ابْن عمر

إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم سبق بَين الْخَيل وَفضل الْقرح فِي الْغَايَة

‌‌فصل

 

‌‌مسابقته صلى الله عليه وسلم بَين الْإِبِل

 

وَأما مسابقته بَين الْإِبِل فَفِي صَحِيح البُخَارِيّ تَعْلِيقا عَن أنس
হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর একটি ঘোড়ার ওপর বাজি ধরেছিলেন যাকে 'সুবহা' বলা হতো। সেটি প্রতিযোগিতায় অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, এতে তিনি অত্যন্ত প্রফুল্ল হয়েছিলেন এবং বিষয়টি তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

আর সুনান আবু দাউদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে,

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন এবং লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ঘোড়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌উটের মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিযোগিতার বিবরণ

 

আর উটের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি সহিহ বুখারিতে আনাস (রা.) থেকে ঝুলন্ত বর্ণনা (تعليقا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯১)
ابْن مَالك قَالَ

كَانَت (العضباء) لَا تسبق فجَاء أَعْرَابِي على قعُود لَهُ فسابقها فسبقها الْأَعرَابِي وَكَأن ذَلِك شقّ على أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ (حق على الله أَن لَا يرْتَفع شَيْء إِلَّا وَضعه)

وَفِي صَحِيحه أَيْضا عَن حميد عَن أنس بِهَذِهِ الْقِصَّة وَقَالَ إِن حَقًا على الله عز وجل أَن لَا يرفع شَيْئا من الدُّنْيَا إِلَّا وَضعه

قلت تَأمل قَوْله فِي اللَّفْظ الأول أَن لَا يرْتَفع شَيْء وَفِي اللَّفْظ الثَّانِي أَن لَا يرفع شَيْئا من الدُّنْيَا إِلَّا وَضعه فَجعل الْوَضع لما رفع وارتفع لَا لما رَفعه سُبْحَانَهُ فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ إِذا رفع عَبده بِطَاعَتِهِ وأعزه بهَا لَا يَضَعهُ أبدا

‌‌فصل

 

‌‌تناضل الصَّحَابَة بِالرَّمْي بِحَضْرَتِهِ صلى الله عليه وسلم

 

وَأما تناضل أَصْحَابه بِالرَّمْي بِحَضْرَتِهِ فَفِي صَحِيح البُخَارِيّ عَن سَلمَة بن الْأَكْوَع قَالَ مر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَفر من أسلم ينتضلون بِالسوقِ فَقَالَ

وَارْمُوا بني إِسْمَاعِيل فَإِن أَبَاكُم كَانَ راميا ارموا وَأَنا مَعَ بني فلَان
ইবনে মালেক (রা.) বলেন

(আল-আদবা) নামক উটনীটি কখনো প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়ত না। একদা এক মরুবাসী তার একটি তরুণ উটের পিঠে চড়ে এল এবং প্রতিযোগিতায় সেটিকে ছাড়িয়ে গেল। এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো। তখন তিনি বললেন, "আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, দুনিয়ায় কোনো কিছু যখনই উঁচুতে ওঠে, তিনি তাকে নিচে নামিয়ে দেন।"

তাঁর সহীহ গ্রন্থেও হুমাইদ-এর সূত্রে আনাস (রা.) থেকে এই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি দুনিয়ার কোনো কিছুকে যখনই উন্নীত করেন, তখনই তাকে নিচে নামিয়ে দেন।"

আমি বলছি, তাঁর প্রথম ভাষ্যের "কোনো কিছু উঁচুতে ওঠে" এবং দ্বিতীয় ভাষ্যের "দুনিয়ার কোনো কিছুকে উন্নীত করেন" বাক্য দুটি লক্ষ্য করুন। এখানে তিনি 'নিচে নামানো' বা অবনমনকে ওই জিনিসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন যা নিজে উঁচুতে ওঠে বা পার্থিবভাবে উন্নীত হয়, কিন্তু আল্লাহ যাকে মর্যাদা দান করেন তার ক্ষেত্রে নয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন তাঁর কোনো বান্দাকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে উন্নীত করেন এবং এর দ্বারা তাকে সম্মানিত করেন, তখন তিনি তাকে কখনো নিচে নামান না।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে সাহাবীদের তীরের লড়াই প্রতিযোগিতা

 

আর তাঁর উপস্থিতিতে সাহাবীদের তীরের লড়াই প্রতিযোগিতার বিষয়টি সহীহ বুখারী-তে সালামাহ ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা বাজারে তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। তখন তিনি বললেন,

“হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর ছোড়ো, কেননা তোমাদের পিতা একজন দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। তোমরা তীর ছোড়ো, আর আমি অমুক গোত্রের সাথে আছি।”
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯২)
قَالَ فَأمْسك أحد الْفَرِيقَيْنِ بِأَيْدِيهِم

فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا لكم لَا ترمون

قَالُوا كَيفَ نرمي وَأَنت مَعَهم

فَقَالَ ارموا وَأَنا مَعكُمْ كلكُمْ

‌‌فصل

 

‌‌مراهنة الصّديق للْمُشْرِكين بِعِلْمِهِ وإذنه صلى الله عليه وسلم

 

وَأما مراهنة الصّديق للْمُشْرِكين بِعِلْمِهِ وإذنه فروى التِّرْمِذِيّ فِي جَامِعَة من حَدِيث سُفْيَان الثَّوْريّ عَن حبيب بن أبي عمْرَة عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس فِي قَول الله تَعَالَى عز وجل {الم غلبت الرّوم فِي أدنى الأَرْض وهم من بعد غلبهم سيغلبون} [الرّوم: 1 - 3] [قَالَ]

كَانَ الْمُشْركُونَ يحبونَ أَن يظْهر أهل فَارس على الرّوم لأَنهم وإياهم أهل أوثان وَكَانَ الْمُسلمُونَ يحبونَ أَن يظْهر الرّوم على فَارس لأَنهم أهل كتاب فذكروه لأبي بكر رضي الله عنه فَذكره أَبُو بكر لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ [لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم]

أما إِنَّهُم سيغلبون فذكروه لَهُم فَقَالُوا اجعلوا بَيْننَا وَبَيْنك أَََجَلًا فَإِن ظهرنا كَانَ لنا كَذَا وَكَذَا وَإِن ظهرتم كَانَ لكم كَذَا فَجعل أجل خمس سِنِين فَلم يظهروا فَذكرُوا ذَلِك للنَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلا جعلت إِلَى دون الْعشْر قَالَ سعيد والبضع مَا دون الْعشْر قَالَ ثمَّ ظَهرت الرّوم بعد قَالَ فَذَلِك قَوْله {الم غلبت الرّوم فِي أدنى الأَرْض وهم من بعد غلبهم سيغلبون فِي بضع سِنِين لله الْأَمر من قبل وَمن بعد ويومئذ يفرح الْمُؤْمِنُونَ بنصر الله}
তিনি বললেন, অতঃপর দুই দলের এক দল তাদের হাত গুটিয়ে নিল।

তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তোমাদের কী হলো যে তোমরা তীর নিক্ষেপ করছ না?"

তারা আরজ করলেন, "আমরা কীভাবে তীর নিক্ষেপ করব অথচ আপনি তাদের সাথে রয়েছেন?"

তিনি বললেন, "তোমরা তীর নিক্ষেপ কর, আর আমি তোমাদের সকলের সাথেই রয়েছি।"

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবগতি ও অনুমতিক্রমে মুশরিকদের সাথে সিদ্দীক (রা.)-এর বাজি ধরা

 

আর মুশরিকদের সাথে সিদ্দীক (রা.)-এর বাজি ধরার বিষয়টি তাঁর অবগতি ও অনুমতিক্রমেই হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে সুফিয়ান আল-সাওরী থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবি আমরা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী: {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে} [রূম: ১-৩] সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন (روى) যে, [তিনি বলেন:]

মুশরিকরা পছন্দ করত যেন পারস্যবাসীরা রোমানদের ওপর বিজয়ী হয়, কারণ তারা এবং পারস্যবাসীরা উভয়ই ছিল মূর্তিপূজারী। অন্যদিকে মুসলিমরা পছন্দ করত যেন রোমানরা পারস্যবাসীদের ওপর বিজয়ী হয়, কারণ তারা ছিল আহলে কিতাব। তারা বিষয়টি আবু বকর (রা.)-এর নিকট উল্লেখ করলে আবু বকর (রা.) তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আরজ করলেন। তখন [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে] বললেন:

"জেনে রেখো, তারা নিশ্চয়ই বিজয়ী হবে।" অতঃপর তিনি (আবু বকর) তাদের (মুশরিকদের) কাছে এটি উল্লেখ করলে তারা বলল, "আমাদের ও আপনাদের মাঝে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন। যদি আমরা বিজয়ী হই তবে আমরা এই এই পাব, আর যদি আপনারা বিজয়ী হন তবে আপনারা এই এই পাবেন।" অতঃপর তিনি পাঁচ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করলেন, কিন্তু তারা বিজয়ী হলো না। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, "তুমি কেন দশের কম সময় নির্ধারণ করলে না?" সাঈদ বলেন, 'বিদউন' (بضع) হলো দশের কম। তিনি বলেন, এরপর রোমানরা বিজয়ী হলো। তিনি বলেন, আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ তাই: {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক (بضع) বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনরা আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে।}
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৩)
) [الرّوم: 1 - 5]

قَالَ سُفْيَان

سَمِعت أَنهم ظَهَرُوا عَلَيْهِم [يَوْم بدر]

قَالَ التِّرْمِذِيّ

هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح

وَفِي جَامعه أَيْضا عَن نيار بن مكرم الْأَسْلَمِيّ قَالَ

لما نزلت {الم غلبت الرّوم فِي أدنى الأَرْض} إِلَى قَوْله {فِي بضع سِنِين} [الرّوم: 1 - 3] وَكَانَت فَارس يَوْم نزلت هَذِه الْآيَة قاهرين للروم وَكَانَ الْمُسلمُونَ يحبونَ ظُهُور الرّوم عَلَيْهِم لأَنهم وإياهم أهل كتاب و [فِي] ذَلِك قَوْله تَعَالَى {ويومئذ يفرح الْمُؤْمِنُونَ بنصر الله ينصر من يَشَاء وَهُوَ الْعَزِيز الرَّحِيم} [الرّوم: 4 - 5] وَكَانَت قُرَيْش تحب ظُهُور فَارس لأَنهم وإياهم لَيْسُوا بِأَهْل كتاب وَلَا إِيمَان ببعث فَلَمَّا أنزل الله هَذِه الْآيَة خرج أَبُو بكر الصّديق يَصِيح فِي نواحي مَكَّة {الم غلبت الرّوم فِي أدنى الأَرْض وهم من بعد غلبهم سيغلبون فِي بضع سِنِين}
) [আর-রুম: ১ - ৫]

সুফিয়ান বলেন

আমি শুনেছি যে তারা তাদের ওপর বিজয়ী হয়েছিল [বদরের দিন]

তিরমিজি বলেন

এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস

এবং তাঁর জামি' গ্রন্থে নিয়ার বিন মুকরাম আল-আসলামি থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন

যখন নাজিল হলো {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী এলাকায়} থেকে তাঁর বাণী {কয়েক বছরের মধ্যে} পর্যন্ত [আর-রুম: ১ - ৩]; আর এই আয়াত যখন নাজিল হয় তখন পারস্য রোমানদের ওপর প্রভাবশালী ছিল। মুসলিমরা রোমানদের বিজয় কামনা করতেন কারণ তাঁরা এবং রোমানরা উভয়ই আহলে কিতাব ছিলেন। আর এ বিষয়েই মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু} [আর-রুম: ৪ - ৫]। আর কুরাইশরা পারস্যের বিজয় কামনা করত কারণ তারা এবং পারস্যবাসীরা কেউই আহলে কিতাব ছিল না এবং পুনরুত্থানেও বিশ্বাসী ছিল না। ফলে যখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করলেন, তখন আবু বকর সিদ্দীক মক্কার চতুর্দিকে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে বের হলেন: {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী এলাকায়। আর তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে}।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৪)
) [الرّوم: 1 - 4] فَقَالَ نَاس من قُرَيْش [لأبي بكر] فَذَلِك بَيْننَا وَبَيْنكُم بزعم صَاحبك أَن الرّوم ستغلب فَارس فِي بضع سِنِين افلا نراهنك على ذَلِك قَالَ بلَى قَالَ وَذَلِكَ قبل تَحْرِيم الرِّهَان فارتهن أَبُو بكر وَالْمُشْرِكُونَ وتواضعوا الرِّهَان وَقَالُوا لأبي بكر كم نجْعَل الْبضْع وَهُوَ ثَلَاث سِنِين إِلَى تسع سِنِين فسم بَيْننَا وَبَيْنك وسطا ننتهي إِلَيْهِ قَالَ فسموا بَينهم سِتّ سِنِين قَالَ فمضت السِّت سِنِين قبل أَن يظهروا فَأخذ الْمُشْركُونَ رهن أبي بكر فَلَمَّا دخلت السّنة السَّابِعَة ظَهرت الرّوم على فَارس فعاب الْمُسلمُونَ على أبي بكر تَسْمِيَته سِتّ سِنِين لِأَن الله قَالَ {فِي بضع سِنِين} قَالَ وَأسلم عِنْد ذَلِك نَاس كثير

قَالَ التِّرْمِذِيّ

هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح

وَفِي الْجَامِع أَيْضا من حَدِيث ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لأبي بكر فِي مناحبته
) [রূম: ১-৪] তখন কুরাইশদের কিছু লোক [আবু বকরকে] বলল, "আপনার সাথীর দাবি অনুযায়ী রোমকগণ কয়েক বছরের মধ্যে পারস্যবাসীদের ওপর বিজয়ী হবে—এই বিষয়টি আমাদের ও আপনাদের মাঝে (মীমাংসার অপেক্ষায়) রইল। আমরা কি এ বিষয়ে আপনার সাথে বাজি ধরব না?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আর এটি বাজি ধরা হারাম হওয়ার আগের ঘটনা। ফলে আবু বকর এবং মুশরিকরা বাজি ধরলেন এবং বাজির শর্তাবলি নির্ধারণ করলেন। তারা আবু বকরকে বলল, "আমরা 'বিদউ' (কয়েক বছর)-এর মেয়াদ কত ধরব? এটি তিন বছর থেকে নয় বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। সুতরাং আপনি আমাদের ও আপনার মাঝে একটি মধ্যবর্তী সময় নির্ধারণ করুন যাতে আমরা একমত হতে পারি।" বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাদের মাঝে ছয় বছর নির্ধারণ করল। বর্ণনাকারী বলেন, রোমকগণ বিজয়ী হওয়ার পূর্বেই ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। ফলে মুশরিকরা আবু বকরের বাজির মাল গ্রহণ করল। যখন সপ্তম বছর পদার্পণ করল, তখন রোমকগণ পারস্যবাসীদের ওপর বিজয়ী হলো। তখন মুসলমানরা আবু বকরের ছয় বছর নির্ধারণ করার বিষয়টিকে ভুল হিসেবে গণ্য করলেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন {কয়েক বছরের মধ্যে}। বর্ণনাকারী বলেন, সেই সময় অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

ইমাম তিরমিজি বলেন

এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)

এবং আল-জামি'-এ ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিসে আরও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকরকে তাঁর বাজির বিষয়ে বলেছিলেন
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৫)
أَلا أخفضت (وَفِي لفظ أَلا احتطت) فَإِن الْبضْع مَا بَين الثَّلَاث إِلَى التسع

[رَوَاهُ] من حَدِيث الزُّهْرِيّ عَن عبيد الله بن عتبَة عَن ابْن عَبَّاس

وَقَوله فِي الحَدِيث مناحبته فالمناحبة المخاطرة وَهِي الْمُرَاهنَة من النحب وَهُوَ النّذر وَكِلَاهُمَا مناحب هَذَا بِالْعقدِ وَهَذَا بِالنذرِ

وَقَوله أَلا أخفضت يجوز أَن يكون من الْخَفْض وَهُوَ الدعة وَالْمعْنَى هلا نفست الْمدَّة فَكنت فِي خفض من أَمرك ودعة وَيجوز أَن يكون من الْخَفْض الَّذِي هُوَ من الانخفاض أَي هلا استنزلتم إِلَى أَكثر مِمَّا اتفقتم عَلَيْهِ

وَقَوله فِي اللَّفْظ الآخر هلا احتطت هُوَ من الإحتياط أَي هلا أخذت بالأحوط وَجعلت الْأَجَل أقْصَى مَا يَنْتَهِي إِلَيْهِ الْبضْع فَإِن النَّص لَا يتعداه

وَقَوله وَذَلِكَ قبل تَحْرِيم الرِّهَان من كَلَام بعض الروَاة لَيْسَ من كَلَام أبي بكر وَلَا [من كَلَام] النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তুমি কি আরও কমিয়ে দিতে না? (অন্য শব্দে: তুমি কি সতর্কতা অবলম্বন করলে না?) কারণ 'বিদ্' হলো তিন থেকে নয় এর মধ্যবর্তী সময়কাল।

[এটি বর্ণিত হয়েছে] জুহরি থেকে, উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবার সূত্রে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিস হতে।

হাদিসে বর্ণিত তাঁর উক্তি 'মুনাহাবাহ'; মূলত 'মুনাহাবাহ' হলো ঝুঁকি গ্রহণ, যা হলো বাজি ধরা। এটি 'নাহব' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মানত। তারা উভয়ই 'মুনাহিব' (مناحب); একজন চুক্তির মাধ্যমে এবং অন্যজন মানতের মাধ্যমে।

তাঁর উক্তি 'তুমি কি কমিয়ে দিতে না?'; এটি 'খাফদ' শব্দ থেকে হওয়া সম্ভব যার অর্থ প্রশান্তি। এর অর্থ হলো: তুমি কেন সময় বাড়িয়ে দিলে না যাতে তুমি তোমার বিষয়ে স্বস্তিতে ও প্রশান্তিতে থাকতে পারতে? আবার এটি 'ইনখিফাদ' থেকেও হতে পারে, অর্থাৎ: তোমরা যা নির্ধারণ করেছিলে তার চেয়ে কেন আরও কমিয়ে দিলে না?

অন্য শব্দে বর্ণিত তাঁর উক্তি 'তুমি কি সতর্কতা অবলম্বন করলে না?'; এটি সতর্কতা (الاحتياط) থেকে উদ্ভূত। অর্থাৎ: তুমি কেন অধিকতর সতর্কতামূলক (الأحوط) পন্থা অবলম্বন করলে না এবং মেয়াদকালকে 'বিদ্' এর সর্বোচ্চ সীমায় নির্ধারণ করলে না? কারণ শরয়ী পাঠ (النص) একে অতিক্রম করে না।

আর তাঁর উক্তি 'আর এটি বাজি নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের ঘটনা'; এটি জনৈক বর্ণনাকারীর (الرواة) উক্তি, এটি আবু বকর (রা.)-এর কথা নয় এবং নবী (সা.)-এরও [কথা] নয়।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৬)
‌‌هَل الْمُرَاهنَة على الْمسَائِل الَّتِي فِيهَا ظُهُور أَعْلَام الْإِسْلَام وأدلته وبراهينه مَمْنُوعَة

 

وَقد اخْتلف أهل الْعلم فِي إحكام هَذَا الحَدِيث ونسخه على قَوْلَيْنِ

فادعت طَائِفَة نسخه بنهي النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن الْغرَر والقمار قَالُوا فَفِي الحَدِيث دلَالَة على ذَلِك وَهُوَ قَوْله وَذَلِكَ قبل تَحْرِيم الرِّهَان

قَالُوا وَيدل على نسخه مَا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وَأهل السّنَن من حَدِيث أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

لَا سبق إِلَّا فِي خف أَو حافر أَو نصل

والسبق بِفَتْح السِّين وَالْبَاء وَهُوَ الْخطر الَّذِي وَقع عَلَيْهِ الرِّهَان
ইসলামের নিদর্শন, দলিল ও প্রমাণাদির বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন বিষয়গুলোতে বাজি (رهان) ধরা কি নিষিদ্ধ?

 

এই হাদিসটির কার্যকারিতা (إحكام) এবং রহিতকরণ (نسخ) নিয়ে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন।

একদল আলেম দাবি করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক অনিশ্চয়তা (غرر) ও জুয়া (قمار) নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে এটি রহিত (نسخ) হয়ে গেছে। তারা বলেছেন, এই হাদিসের মধ্যেই এর সপক্ষে প্রমাণ (دلالة) রয়েছে, আর তা হলো তাঁর বাণী: "এবং এটি বাজি (رهان) হারাম হওয়ার আগের ঘটনা।"

তাঁরা আরও বলেন যে, ইমাম আহমদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তা এর রহিতকরণের (نسخ) সপক্ষে দলিল প্রদান করে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

“উট, ঘোড়া অথবা তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে পুরস্কার বা বাজি (سبق) রাখা বৈধ নয়।”

এখানে 'সাবাক' (سبق) শব্দটি সীন ও বা বর্ণের উপর ফাতহা (যবর) যোগে গঠিত; এর অর্থ হলো সেই সম্পদ যা বাজির (رهان) জন্য নির্ধারণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৭)
وَإِلَى هَذَا القَوْل ذهب أَصْحَاب مَالك وَالشَّافِعِيّ وَاحْمَدْ

وَادعت طَائِفَة أَنه مُحكم غير مَنْسُوخ وَأَنه لَيْسَ مَعَ مدعي نسخه حجَّة يتَعَيَّن الْمصير إِلَيْهَا

قالواوالرهان لم يحرم جملَة فَإِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رَاهن فِي تسبيق الْخَيل كَمَا تقدم وَإِنَّمَا الرِّهَان على الْمحرم الرِّهَان على الْبَاطِل الَّذِي لَا مَنْفَعَة فِيهِ فِي الدّين وَأما الرِّهَان على مَا فِيهِ ظُهُور أَعْلَام الْإِسْلَام وأدلته وبراهينه كَمَا [قد] رَاهن عَلَيْهِ الصّديق فَهُوَ من أَحَق الْحق وَهُوَ أولى بِالْجَوَازِ من الرِّهَان على النضال وسباق الْخَيل وَالْإِبِل أدنى وَأثر هَذَا فِي الدّين أقوى لِأَن الدّين قَالَ بِالْحجَّةِ والبرهان وبالسيف [والسنان] والمقصد الأول إِقَامَته بِالْحجَّةِ وَالسيف منفذ

قَالُوا وَإِذا كَانَ الشَّارِع قد أَبَاحَ الرِّهَان فِي الرَّمْي والمسابقة بِالْخَيْلِ وَالْإِبِل لما فِي ذَلِك من التحريض على تعلم الفروسية وإعداد الْقُوَّة للْجِهَاد فجواز ذَلِك فِي الْمُسَابقَة والمبادرة إِلَى الْعلم وَالْحجّة الَّتِي بهَا تفتح الْقُلُوب ويعز الْإِسْلَام وَتظهر أَعْلَامه أولى وَأَحْرَى.

وَإِلَى هَذَا ذهب أَصْحَاب أبي حنيفَة وَشَيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية

قَالَ أَرْبَاب هَذَا القَوْل والقمار الْمحرم هُوَ أكل المَال بِالْبَاطِلِ
ইমাম মালেক, শাফেয়ী এবং আহমাদের অনুসারীগণ এই মত গ্রহণ করেছেন।

এবং একটি দল দাবি করেছেন যে, এটি সুস্পষ্ট (محكم), রহিত (منسوখ) নয়; এবং যারা এটি রহিতকরণের (نسخ) দাবি করেন, তাদের নিকট এমন কোনো প্রমাণ (حجة) নেই যার প্রতি প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে।

তাঁরা বলেন, বাজি ধরা বা পন রাখা সামগ্রিকভাবে হারাম করা হয়নি। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় বাজি ধরেছিলেন যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। মূলত নিষিদ্ধ বাজি হলো বাতিলের ওপর বাজি ধরা যাতে দ্বীনের কোনো কল্যাণ নেই। পক্ষান্তরে যে বিষয়ে ইসলামের নিশানাসমূহ এবং এর দলিল ও প্রমাণাদি প্রকাশিত হয়—যেভাবে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বাজি ধরেছিলেন—তা পরম সত্যের অন্তর্ভুক্ত। এটি তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড় বা উটের দৌড়ের বাজির তুলনায় বৈধ হওয়ার অধিক দাবি রাখে এবং দ্বীনের ওপর এর প্রভাব অধিক শক্তিশালী। কেননা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে এবং তলোয়ার ও অস্ত্রের মাধ্যমে; আর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠা করা এবং তলোয়ার হলো তার বাস্তবায়নকারী।

তাঁরা বলেন, শরীয়ত দাতা যখন তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড় এবং উট দৌড়ে বাজি ধরা বৈধ করেছেন—যেহেতু এতে বীরত্ব শিক্ষা এবং জিহাদের শক্তি সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান করা হয়—সেহেতু জ্ঞান এবং দলিলাদির প্রতিযোগিতায় তা বৈধ হওয়া আরও বেশি সমীচীন ও অগ্রাধিকারযোগ্য, যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ বিজিত হয়, ইসলাম সম্মানিত হয় এবং এর নিদর্শনসমূহ প্রকাশিত হয়।

ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

এই মতের প্রবক্তাগণ বলেন, নিষিদ্ধ জুয়া হলো অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ করা।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৮)
فَكيف يلْحق بِهِ أكله بِالْحَقِّ

قَالُوا وَالصديق لم يقامر قطّ فِي جَاهِلِيَّة وَلَا إِسْلَام وَلَا أقرّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على قمار فضلا عَن أَن يَأْذَن فِيهِ

وَهَذَا تَقْرِير قَول الْفَرِيقَيْنِ

‌‌فصل

 

‌‌الْمُسَابقَة بالأقدام بعوض وَبلا عوض

 

وَأما الْمُسَابقَة بالأقدام فاتفق الْعلمَاء على جَوَازهَا بِلَا عوض

وَاخْتلفُوا هَل يجوز بعوض على قَوْلَيْنِ

أَحدهمَا لَا يجوز وَهُوَ مَذْهَب أَحْمد وَمَالك وَنَصّ عَلَيْهِ
অতএব ন্যায়সঙ্গত উপায়ে ভক্ষণ করাকে কীভাবে এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে?

তারা বলেন, সিদ্দীক (রা.) জাহেলি যুগে (جاهلية) কিংবা ইসলামে কখনোই জুয়া খেলেননি এবং রাসূলুল্লাহ (সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুয়ার ওপর মৌনসম্মতি দেননি, তাতে অনুমতি দেওয়া তো দূরের কথা।

এটি উভয় পক্ষের বক্তব্যের (قول) বিস্তারিত বিবরণ।

‌‌পরিচ্ছেদ (فصل)

 

‌‌বিনিময়সহ এবং বিনিময়হীন পদব্রজে প্রতিযোগিতা

 

আর পদব্রজে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে আলেমগণ বিনিময়হীন অবস্থায় এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

তবে বিনিময়ের মাধ্যমে তা বৈধ হবে কি না, সে বিষয়ে তারা দুটি মতভেদের (قولين) ওপর বিভক্ত হয়েছেন।

তার মধ্যে একটি হলো তা বৈধ নয় এবং এটি আহমাদ ও মালিকের মাজহাব (مذهب) এবং তিনি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন উক্তি (نص) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ৯৯)
الشَّافِعِي

وَالثَّانِي يجوز وَهُوَ مَذْهَب أبي حنيفَة

وللشافعية وَجْهَان فحجة من مَنعه حَدِيث أبي هُرَيْرَة لَا سبق إِلَّا فِي خف أَو حافر أَو نصل

وَهَذَا يتَعَيَّن حمله على أحد مَعْنيين

- إِمَّا أَن يُرِيد بِهِ نفي الْجعل أَي لَا يجوز الْجعل إِلَّا فِي هَذِه الثَّلَاثَة فَيكون نفيا فِي معنى النَّهْي عَن الْجعل فِي غَيرهَا لَا عَن نفس السباق

- وَإِمَّا أَن يُرِيد بِهِ أَن لَا يجوز الْمُسَابقَة على غَيرهَا بعوض فَيكون نهيا عَن الْمُسَابقَة بِالْعِوَضِ فِي غير الثَّلَاثَة [فعلى التَّقْدِير الأول يكون الْمَنْع من الْجعل على غير الثَّلَاثَة]

وعَلى الثَّانِي يكون الْمَنْع من العقد الْمُشْتَرط فِيهِ الْجعل [على] غَيرهَا وعَلى التَّقْدِيرَيْنِ فَهُوَ مُقْتَض للْمَنْع [من الْجعل] فِي غَيرهَا

قَالُوا وَلِأَن غير هَذِه الثَّلَاثَة لَا يحْتَاج إِلَيْهَا فِي الْجِهَاد كالحاجة إِلَى الثَّلَاثَة وَلَا يقوم مقَامهَا وَلَا ينفع فِيهِ نَفعهَا فَكَانَت كأنواع اللّعب الَّذِي
শাফিয়ী

এবং দ্বিতীয় মতটি হলো এটি বৈধ (يجوز), আর এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব (مذهب)।

শাফিয়ীগণের নিকটও দুটি অভিমত রয়েছে। যারা এটি নিষিদ্ধ করেছেন তাদের দলীল (حجة) হলো আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস: "উট, ঘোড়দৌড় বা তীর নিক্ষেপ ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় কোনো পুরস্কার (سبق) নেই।"

আর এই হাদিসটিকে অবশ্যই (يتعين) দুটি অর্থের যেকোনো একটির ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক।

- হয় এর দ্বারা পুরস্কার (الجعل) প্রদানকে অস্বীকার (نفي) করা হয়েছে; অর্থাৎ এই তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোথাও পুরস্কার প্রদান বৈধ নয়। ফলে এটি অন্য ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা (النهي) বুঝাবে, কিন্তু মূল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নয়।

- অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যে, এই তিনটি ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের ওপর বিনিময়ের বিনিময়ে প্রতিযোগিতা করা বৈধ নয়। ফলে এটি ওই তিনটি ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে বিনিময়ের শর্তে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা (النهي) হিসেবে গণ্য হবে। [সুতরাং প্রথম ব্যাখ্যা (التقدير) অনুযায়ী, এই তিনটি ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে পুরস্কার (الجعل) প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে]

আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা (التقدير) অনুযায়ী, এটি হবে এমন চুক্তি (عقد) নিষিদ্ধ হওয়া যাতে এই তিনটির বাইরে পুরস্কার (الجعل) প্রদানের শর্তারোপ করা হয়েছে। উভয় ব্যাখ্যা অনুযায়ীই, এটি এই তিনটির বাইরে পুরস্কার (الجعل) প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দাবি রাখে (مقتض)।

তারা বলেন, জিহাদের ময়দানে এই তিনটি বিষয়ের মতো অন্য কোনো বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা নেই, অন্য কোনো কিছু এদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না এবং জিহাদে এদের মতো সুফলদায়কও নয়। সুতরাং এগুলো সেই সব ক্রীড়া-কৌতুকের ন্যায় যা...
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০০)
لَا يجوز الْمُرَاهنَة عَلَيْهِ

وَحجَّة من جوز الْجعل فِي ذَلِك قِيَاس الْقدَم على الْحَافِر والخف فَإِن كلا مِنْهُمَا مسابقة فَهَذَا بِنَفسِهِ وَهَذَا بمركوبه

قَالُوا وكما أَن فِي مسابقة الْإِبِل وَالْخَيْل تمرينا على الفروسية والشجاعة فَكَذَلِك الْمُسَابقَة على الْأَقْدَام فَإِن فِيهَا [من] تمرين الْبدن على الْحَرَكَة والخفة والإسراع والنشاط مَا هُوَ مَطْلُوب فِي الْجِهَاد

قَالُوا والْحَدِيث يحْتَمل أَن يُرَاد بِهِ أَن أَحَق مَا بذل فِيهِ السَّبق هَذِه الثَّلَاثَة لكَمَال نَفعهَا وَعُمُوم مصلحتها فَيكون كَقَوْلِه لَا رَبًّا إِلَّا فِي النَّسِيئَة أَي إِن الرِّبَا الْكَامِل فِي النَّسِيئَة

قَالُوا وَأَيْضًا فَهَذَا مثل قَوْله لَا صَلَاة لِجَار الْمَسْجِد إِلَّا فِي الْمَسْجِد وَلَا صَلَاة بِحَضْرَة طَعَام وَلَا صَلَاة وَهُوَ يدافعه
এর ওপর বাজি ধরা (المراهنة) বৈধ নয়।

আর যারা এতে পুরস্কার (الجعل) নির্ধারণকে বৈধ বলেছেন তাদের দলিল হলো পদব্রজ প্রতিযোগিতাকে ঘোড়া ও উটের দৌড়ের ওপর অনুমান (قياس) করা। কারণ এগুলোর প্রতিটিই প্রতিযোগিতা; এর একটি সশরীরে এবং অন্যটি সওয়ারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তাঁরা বলেন, উট ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় যেভাবে বীরত্ব ও অশ্বারোহণের প্রশিক্ষণ হয়, তেমনি পদব্রজ প্রতিযোগিতাতেও শরীরের সঞ্চালন, ক্ষিপ্রতা, গতি ও উদ্দীপনার [এমন] অনুশীলন রয়েছে, যা জিহাদের জন্য কাম্য।

তাঁরা বলেন, হাদিসটির সম্ভাব্য অর্থ হতে পারে যে, এই তিনটি ক্ষেত্রই পুরস্কার প্রদানের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত; কারণ এগুলোর উপকারিতা অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এবং এর কল্যাণ ব্যাপক। এটি তাঁর সেই বাণীর মতো, "বাকি (النسيئة) ব্যতীত কোনো সুদ (ربا) নেই," অর্থাৎ পরিপূর্ণ সুদ হলো বাকিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে।

তাঁরা আরও বলেন, এটি তাঁর এই বাণীর অনুরূপ, "মসজিদের নিকটবর্তীর জন্য মসজিদে ছাড়া কোনো নামাজ নেই", "খাবার উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোনো নামাজ নেই" এবং "মল-মূত্রের বেগ চেপে রেখে কোনো নামাজ নেই।"
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০১)
الأخبثان وَلَا وضوء لمن لم يذكر اسْم الله عَلَيْهِ … وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يَنْفِي الْكَمَال لَا الصِّحَّة

قَالُوا وَلِأَن ذَلِك جعَالَة على عمل مُبَاح فَكَانَ جَائِزا كالثلاثة الْمَذْكُورَة فِي النَّص
দুই অপবিত্র বস্তু (মল-মূত্র) এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করল না তার ওজু নেই' ... ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ যা মূলত পূর্ণতা (الكمال) নাকচ করে, শুদ্ধতা (الصحة) নয়।

তারা বলেন, যেহেতু এটি একটি বৈধ (مباح) কাজের বিনিময়ে নির্ধারিত পারিশ্রমিক (جعالة), তাই এটি জায়েজ (جائز); যেমনটি মূল পাঠে (النص) বর্ণিত তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০২)
قَالَ المانعون هَذَا جمع بَين مَا فرق الله وَرَسُوله بَينهمَا حكما وَحَقِيقَة فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أثبت السَّبق فِي الثَّلَاثَة ونفاه عَمَّا عَداهَا وَهَذَا يَقْتَضِي عدم مُسَاوَاة وَمَا أثْبته لما نَفَاهُ فِي الحكم والحقيقة فَلَا يجوز التَّسْوِيَة بَينهمَا

وَهَذَا كَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم لَا يجلد فَوق عشرَة اسواط إِلَّا فِي حد من حُدُود الله فَفرق بَين الْحَد وَغَيره فِي تجَاوز الْعشْرَة فَلَا يجوز قِيَاس أَحدهمَا على الآخر وَلَا الْجمع بَينهمَا فِي الحكم

وَكَذَلِكَ مَنعه من بيع الرطب بِالتَّمْرِ وتجويزه فِي الْعَرَايَا لَا يجوز الْجمع بَينهمَا فِي التَّحْرِيم وَلَا فِي الْمَنْع

وَكَذَلِكَ تَحْرِيمه رَبًّا الْفضل مَعَ اتِّحَاد الْجِنْس فِي الْأَعْيَان الَّتِي نَص عَلَيْهَا وتجوزيه التَّفَاضُل مَعَ اخْتِلَاف الْجِنْس

وَكَذَلِكَ سَائِر مَا فرق بَينهمَا فِي الحكم
নিষেধকারীরা বলেন, এটি এমন দুটি বিষয়কে একত্রিত করা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধানগত (حكما) এবং বাস্তবতার (حقيقة) দিক থেকে পৃথক করেছেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটিতে প্রতিযোগিতার পুরস্কারের বৈধতা সাব্যস্ত করেছেন এবং এ তিনটি ব্যতীত অন্যগুলো থেকে তা নাকচ করেছেন। এটি এমন বিষয়ের মধ্যে অসমতা দাবি করে যা তিনি বিধানে (حكم) এবং বাস্তবতায় (حقيقة) সাব্যস্ত করেছেন বনাম যা তিনি নাকচ করেছেন; সুতরাং এ দুটির মাঝে সমতা বিধান করা বৈধ নয়।

এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মতো: "আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حد) সমূহের কোনো একটি ব্যতীত দশটির বেশি কশাঘাত করা যাবে না।" সুতরাং তিনি দশটি অতিক্রম করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حد) এবং অন্যগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অতএব একটির ওপর অন্যটিকে তুলনা (قياس) করা এবং বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে উভয়কে একত্রিত করা জায়েয নয়।

অনুরূপভাবে, শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং 'আরাইয়া' (العرايا) এর ক্ষেত্রে তা জায়েয রাখা; হারাম সাব্যস্ত হওয়া (تحريم) বা নিষেধের (منع) ক্ষেত্রে এ দুটির মাঝে সমতা বিধান করা জায়েয নয়।

অনুরূপভাবে, যে সকল বস্তুর ব্যাপারে নস (نص) বর্ণিত হয়েছে সেগুলোতে সমজাতীয় হওয়ার ক্ষেত্রে 'রিবা আল-ফদল' (ربا الفضل) হারাম করা (تحريم) এবং জাতীয়তা ভিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে কম-বেশি (تفاضل) করাকে জায়েয রাখা।

অনুরূপভাবে, অন্যান্য সকল বিষয় যেগুলোর মাঝে তিনি বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০৩)
فَلَا يفرق بَين مَا جمع بَينه وَلَا يجمع بَين مَا فرق بَينه فَلَا بُد من إِلْغَاء أحد الْأَمريْنِ إِمَّا إِلْغَاء مَا اعتبرتموه من الْجمع بَين مَا فرق الشَّارِع بَينه أَو إِلْغَاء مَا اعْتَبرهُ من الْفرق وَلَا سَبِيل إِلَى الثَّانِي فَتعين الأول

ثمَّ تبين أَن مَا ذكرتموه من الْجمع لَيْسَ بِصَحِيح فَأَي فروسية وَأي مصلحَة لِلْإِسْلَامِ وَأَهله للمجاهدين فِي مسابقة السعاة على اقدامهم وَمَتى انْكَسَرَ بأحدهم عَدو وانتصر بِهِ حق أَو تقوت بِهِ فِئَة وَمَتى [كسر] بعث بِهَذَا على قَدَمَيْهِ

فَأحْسن أَحْوَال هَذَا الْعَمَل أَن يكون مُبَاحا فَأَما التراهن عَلَيْهِ فَلَا

وَأما مَا نظرتم بِهِ هَذَا الحَدِيث من قَوْله لَا رَبًّا إِلَّا فِي النَّسِيئَة وَلَا صَلَاة لِجَار الْمَسْجِد إِلَّا فِي الْمَسْجِد ونظائرهما فَلَو نظرتموه بقوله لَا صَلَاة لمن لَا وضوء لَهُ وَلَا صَلَاة إِلَّا بِفَاتِحَة

সুতরাং যে বিষয়গুলোকে একত্রিত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না, আর যে বিষয়গুলোকে পৃথক করা হয়েছে সেগুলোকে একত্রিত করা যাবে না। অতএব দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিকে বর্জন করা আবশ্যক: হয় শারী‘আহ প্রণেতা যা পৃথক করেছেন সেগুলোকে আপনাদের একত্রিত করার বিবেচনাকে বর্জন করা, অথবা তাঁর করা পার্থক্যকে অগ্রাহ্য করা। আর দ্বিতীয়টির কোনো অবকাশ নেই, তাই প্রথমটিই নির্ধারিত হলো।

অতঃপর স্পষ্ট হলো যে, আপনারা যে একত্রিত করার কথা উল্লেখ করেছেন তা বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। ইসলাম ও এর অনুসারীদের জন্য এবং মুজাহিদদের জন্য পদব্রজে দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতায় কী এমন বীরত্ব বা কী এমন কল্যাণ নিহিত আছে? তাদের মাধ্যমে কখন কোনো শত্রু পরাজিত হয়েছে, বা সত্য বিজয়ী হয়েছে, অথবা কোনো দল শক্তিশালী হয়েছে? এবং পদব্রজে গমনকারী কাউকে পাঠিয়ে কখন [শত্রুকে] পর্যুদস্ত করা হয়েছে?

এই কাজের সর্বোত্তম অবস্থা হতে পারে যে এটি অনুমোদিত (مباح); তবে এর ওপর বাজি ধরা চলবে না।

আর আপনারা এই হাদিসটিকে তাঁর বাণী: "বিলম্বিত লেনদেন ব্যতীত কোনো সুদ নেই" এবং "মসজিদের প্রতিবেশীর নামাজ মসজিদ ব্যতীত হয় না" এবং এই জাতীয় উদাহরণগুলোর সাথে যে তুলনা করেছেন, তা যদি আপনারা তাঁর এই বাণীর সাথে তুলনা করতেন: "যার অজু নেই তার কোনো নামাজ নেই" এবং "সুরা ফাতিহা ব্যতীত কোনো নামাজ নেই" (তবে তা-ই অধিক সংগতিপূর্ণ হতো)।

(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০৪)
الْكتاب وَلَا صِيَام لمن لم يبيت النِّيَّة من اللَّيْل وَلَا عمل لمن لَا نِيَّة لَهُ وَلَا اجْرِ لمن لَا حَسبه لَهُ ونظائره لَكَانَ
আল-কিতাব এবং "যে ব্যক্তি রাত থাকতে নিয়ত সাব্যস্ত করেনি তার কোনো সিয়াম নেই", "যার নিয়ত নেই তার কোনো আমল নেই" এবং "যার সওয়াব লাভের নিয়ত নেই তার কোনো প্রতিদান নেই" ও এর সদৃশ দৃষ্টান্তসমূহ যদি হতো...
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০৫)
أولى إِذْ حَقِيقَة ذَلِك نفي مُسَمّى هَذِه الْأَشْيَاء شرعا وَاعْتِبَار وَمَا خرج عَن هَذَا فلمعارض أوجب خُرُوجه

قَالُوا وَأما قَوْلكُم إِن هَذَا جعَالَة على عمل مُبَاح فَكَانَ جَائِزا كَسَائِر الجعالات فَجَوَابه من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن هَذَا ينْتَقض عَلَيْكُم بِسَائِر مَا منعتم مِنْهُ الرِّهَان من الْعَمَل الْمُبَاح كالسباحة والمبادرة إِلَى جَوَاب مسَائِل الْعلم والمسابقة إِلَى الْحِفْظ والتسابق فِي الصناعات الْمُبَاحَة كلهَا فَإِنَّكُم لَا تجوزون الرِّهَان فِي شَيْء من ذَلِك

الثَّانِي الْجعَالَة الْمَعْهُودَة عرفا وَشرعا أَن ينْتَفع الْجَاعِل بِالْعَمَلِ وَالْعَامِل بالجعل وَأما هَا هُنَا فَإِن الْعَامِل لَا يَجْعَل مَالا لمن يغلبه إِذْ لَا مَنْفَعَة لَهُ فِي ذَلِك وَإِنَّمَا يبْذل المَال فِي مُقَابلَة [النَّفْع] الَّذِي يحصل لَهُ
এটিই অধিকতর সংগত, যেহেতু এর প্রকৃত রূপ হচ্ছে শরীয়তসম্মতভাবে (شرعا) এবং আইনগত বিচারে (اعتبار) এই বিষয়গুলোর অস্তিত্ব অস্বীকার করা। আর এর বাইরে যা কিছু রয়েছে, তা কোনো বিরোধী প্রমাণের কারণে যা সেটিকে বর্জন করাকে আবশ্যক করে তুলেছে।

তারা বলেন, আপনাদের এই বক্তব্য যে, এটি একটি বৈধ (مباح) কাজের বিনিময়ে নির্ধারিত পুরস্কার (جعالة), তাই অন্যান্য সাধারণ পুরস্কারের (جعالة) মতোই এটি বৈধ (جائز) - এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়।

প্রথমত, এটি আপনাদের বিপক্ষে সেই সকল বৈধ (مباح) কাজের মাধ্যমে খণ্ডন হয়ে যায় যেগুলোতে আপনারা বাজি (رهان) ধরা নিষিদ্ধ করেছেন। যেমন: সাঁতার কাটা, ইলমি মাসআলার উত্তর দিতে অগ্রণী হওয়া, মুখস্থ করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা এবং সকল প্রকার বৈধ (مباح) শিল্পের প্রতিযোগিতা; কারণ আপনারা এগুলোর কোনোটিতেই বাজি (رهان) ধরাকে বৈধ (جائز) মনে করেন না।

দ্বিতীয়ত, প্রথাগত এবং শরীয়তসম্মত (شرعا) পুরস্কার (جعالة) হলো এই যে, পুরস্কারদাতা কাজটির মাধ্যমে উপকৃত হবেন এবং কর্মী পুরস্কারের (جعالة) মাধ্যমে উপকৃত হবেন। কিন্তু এখানে কর্ম সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা বিজয়ী ব্যক্তির জন্য সম্পদ নির্ধারণ করে না, কারণ এতে তার কোনো উপকার নেই। সে তো কেবল নিজের প্রাপ্ত [উপকারের] বিনিময়েই সম্পদ ব্যয় করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌فصل

 

‌‌الصراع بِالرَّهْنِ وَبلا رهن

 

وَأما الصراع فَيجوز بِلَا رهن وَلَا يجوز بِالرَّهْنِ عِنْد الْجُمْهُور
পরিচ্ছেদ (فصل)

 

বাজি (رهن) সহ এবং বাজি (رهن) ব্যতীত কুস্তি (صراع)

 

আর কুস্তির (صراع) ক্ষেত্রে তা বাজি (رهن) ব্যতীত বৈধ (جائز), তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) মতে বাজি (رهن) সহ তা বৈধ (جائز) নয়।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১০৯)
كمالك وَأحمد وَالشَّافِعِيّ وَجوز بعض أَصْحَابه فعله بالرهان وَهُوَ قَول أَصْحَاب أبي حنيفَة

‌‌السباحة بِالرَّهْنِ وَبلا رهن

 

وَأما السباحة فَلَا يجوز بِالرَّهْنِ عِنْد الْجُمْهُور وَفِي جَوَازهَا وَجه لأَصْحَاب الشَّافِعِي
যেমন মালিক, আহমদ ও শাফিঈ; তবে তাঁর (ইমাম শাফিঈর) কিছু অনুসারী বাজির (رهان) মাধ্যমে এটি সম্পাদন করা বৈধ (جائز) বলেছেন এবং এটিই আবু হানিফার অনুসারীদের অভিমত (قول)।

‌বাজি (رهان) সহ এবং বাজি ব্যতীত সাঁতার কাটা

 

আর সাঁতারের বিষয়ে জুমহুর (جمهور) উলামাদের নিকট বাজির (رهان) সাথে তা জায়েজ (جائز) নয়, তবে এর বৈধতার স্বপক্ষে শাফিঈর অনুসারীদের একটি অভিমত (وجه) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১১০)
‌‌المشابكة بِالْأَيْدِي

 

وَلَهُم فِي المشابكة بِالْأَيْدِي وَجْهَان

‌‌الْأَدِلَّة وَالتَّرْجِيح

 

وَالْحجّة على الْجَوَاز وَالْمَنْع كَمَا تقدم فِي مسابقة الْأَقْدَام سَوَاء وَيلْزم من جوزه أَن يجوز الرِّهَان على العلاج إِذْ لَا فرق بَينهمَا فَإِن العلاج عمل مُبَاح كالصراع ومسابقة الْأَقْدَام وَله أصل فِي السّنة وَهُوَ

أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مر بِقوم يربعون حجرا ليعرفوا الأشد مِنْهُم فَلم يُنكر عَلَيْهِم
হাতে হাত মেলানো (হাত কুস্তি)

 

হাতে হাত মেলানো বা হাত কুস্তির বিষয়ে তাদের মধ্যে দুইটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।

‌দলিলসমূহ এবং প্রাধান্যদান (الترجيح)

 

এর বৈধতা (الجواز) এবং নিষেধাজ্ঞার (المنع) দলিলসমূহ ঠিক তেমনই যেমনটি ইতিপূর্বে পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর যিনি একে বৈধ সাব্যস্ত করেন, তার ক্ষেত্রে শারীরিক কসরতের (العلاج) ওপর বাজি (الرهান) ধরা বৈধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা শারীরিক কসরত একটি বৈধ (مباح) কাজ যেমন কুস্তি (الصراع) এবং দৌড় প্রতিযোগিতা। সুন্নাহর মধ্যে এর একটি ভিত্তি রয়েছে, আর তা হলো:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা পাথর উত্তোলন করছিল যাতে তাদের মধ্যে কে অধিক শক্তিশালী তা তারা জানতে পারে, আর তিনি তাদের প্রতি কোনো অসম্মতি প্রকাশ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল ফুরুসিয়্যাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - তাহকিক মাশহুর (পৃষ্ঠা: ১১১)
و (يربعون) بِالْبَاء الْمَفْتُوحَة أَي يَرْفَعُونَهُ

وَلَكِن يلْزم من جوز الصراع بِالرَّهْنِ أحد أَمريْن

إِمَّا أَن لَا يجوز إِخْرَاج السَّبق مِنْهُمَا مَعًا بل يتَعَيَّن جعله من أَحدهمَا أَو من غَيرهمَا

وَإِمَّا أَن يتْرك قَوْله فِي الْمُحَلّل إِذا كَانَ السَّبق مِنْهُمَا لِاسْتِحَالَة دُخُول الْمُحَلّل مَعَ المتصارعين وملزم من جعل عقد المسابقات من بَاب الجعالات وَجوز إِخْرَاج السَّبق فِي المصارعة والعدو أَن يجوزه فِي الصناعات الْمُبَاحَة كلهَا وَهَذَا لَا يعلم بِهِ قَائِل

فَإِن قَالَ أَنا أجوزه فِيمَا يكون فِيهِ معرفَة على الْحَرْب وَقُوَّة قيل فجوزه فِي صناعات آلَات الْحَرْب كلهَا وَإِلَّا فاذكر فرقا مطردا منعكسا بَين مَا يجوز من ذَلِك وَمَا لَا يجوز وَيكون ذَلِك الْفرق مِمَّا [قد] اعْتَبرهُ الشَّارِع

‌‌فصل

 

‌‌الْمُسَابقَة بَين الْخَيل وَالْبِغَال وَالْحمير وَالْبَقر وَالْحمام والسفن

 

وَأما الْمُسَابقَة بَين الْخَيل وَبَين الْحَافِر الْمَذْكُور فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة فقصرها أَصْحَاب مَالك وَأحمد على الْخَيل وجوزها
এবং (ইয়ারবা'উনা) 'বা' বর্ণের উপরে ফাতহা সহকারে, অর্থাৎ তারা তা উত্তোলন করে।

কিন্তু যারা বাজির বিনিময়ে কুস্তিকে বৈধ মনে করেন, তাদের জন্য দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি আবশ্যক হয়ে পড়ে।

হয় এটি যে, প্রতিযোগীদের উভয়ের পক্ষ থেকে বাজি বা পুরস্কার প্রদান বৈধ হবে না, বরং তা যেকোনো এক পক্ষ থেকে অথবা তৃতীয় কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে হওয়া সুনির্দিষ্ট হতে হবে।

অথবা যখন পুরস্কার উভয়ের পক্ষ থেকে হবে, তখন 'মুহাল্লিল' (বৈধতাদানকারী তৃতীয় পক্ষ) সংক্রান্ত তার অভিমত ত্যাগ করতে হবে; কারণ দুই কুস্তিগিরের সাথে 'মুহাল্লিল'-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া অসম্ভব। আর যারা প্রতিযোগিতার চুক্তিকে 'জুআলাহ' (পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি) হিসেবে গণ্য করেন এবং কুস্তি ও দৌড় প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রদানকে বৈধ বলেন, তাদের জন্য সমস্ত বৈধ পেশা ও শিল্পের ক্ষেত্রেও তা বৈধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, অথচ এমন কোনো প্রবক্তা সম্পর্কে জানা নেই।

যদি তিনি বলেন, 'আমি কেবল সেসব ক্ষেত্রেই তা বৈধ মনে করি যাতে যুদ্ধবিদ্যা ও শক্তির নৈপুণ্য রয়েছে', তবে তাকে বলা হবে, তবে যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরির সমস্ত শিল্পের ক্ষেত্রেও একে বৈধ ঘোষণা করুন। অন্যথায়, যা বৈধ এবং যা অবৈধ—উভয়ের মধ্যে এমন একটি সুসংগত ও সার্বজনীন পার্থক্য বর্ণনা করুন যা শরিয়ত প্রণেতা কর্তৃক স্বীকৃত।

‌‌অনুচ্ছেদ

 

‌‌ঘোড়া, খচ্চর, গাধা, গরু, কবুতর এবং নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা

 

আর আবু হুরাইরাহ বর্ণিত হাদিসে উল্লেখিত ঘোড়া এবং ক্ষুরবিশিষ্ট পশুর মধ্যে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ-এর অনুসারীগণ একে কেবল ঘোড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন এবং একে বৈধ বলেছেন...