(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة المودود بأحكام المولود - ت الأرنؤوط القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تحفة المودود بأحكام المولود
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751 هـ)
المحقق: عبد القادر الأرناؤوط [ت 1425 هـ]
الناشر: مكتبة دار البيان - دمشق
الطبعة: الأولى، 1391 - 1971
عدد الصفحات: 311
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - সম্পাদনায়: আল-আরনাউত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ
লেখক: মুহাম্মদ ইবন আবী বকর ইবন আইয়ুব ইবন সা’দ শামসুদ্দিন ইবন কাইয়িম আল-জাওজিয়া (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
গবেষক: আব্দুল কাদির আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪২৫ হিজরি]
প্রকাশক: মাকতাবাত দার আল-বায়ান - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯১ - ১৯৭১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين
الْحَمد لله الْعلي الْعَظِيم الْحَلِيم الْكَرِيم الغفور الرَّحِيم
الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين أظهر خلق الْإِنْسَان من سلالة من طين ثمَّ جعله نُطْفَة فِي قَرَار مكين ثمَّ خلق النُّطْفَة علقَة سَوْدَاء للناظرين ثمَّ خلق الْعلقَة مُضْغَة وَهِي قِطْعَة لحم بِقدر أَكلَة الماضغين ثمَّ خلق المضغة عظاما مُخْتَلفَة الْمَقَادِير والأشكال وَالْمَنَافِع أساسا يقوم عَلَيْهِ هَذَا الْبناء الْمُبين ثمَّ كسا الْعِظَام لَحْمًا هُوَ لَهَا كَالثَّوْبِ للابسين ثمَّ أنشأه خلقا آخر فَتَبَارَكَ الله أحسن الْخَالِقِينَ
فسبحان من شملت قدرته كل مَقْدُور وَجَرت مَشِيئَته فِي خلقه بتصاريف الْأُمُور وَتفرد بِملك السَّمَوَات وَالْأَرْض يخلق مَا يَشَاء {يهب لمن يَشَاء إِنَاثًا ويهب لمن يَشَاء الذُّكُور} الشورى 49 وتبارك الْعلي الْعَظِيم الْحَلِيم الْكَرِيم السَّمِيع الْبَصِير الْعَلِيم {هُوَ الَّذِي يصوركم فِي الْأَرْحَام كَيفَ يَشَاء لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْعَزِيز الْحَكِيم} آل عمرَان 3
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সকল প্রশংসা সুউচ্চ, মহান, সহনশীল, মহিমান্বিত, অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু আল্লাহর জন্য।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। তিনি মানুষের সৃষ্টিকে মাটির নির্যাস থেকে প্রকাশ করেছেন, অতঃপর তাকে এক সুরক্ষিত আধারে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করেছেন। এরপর সেই শুক্রবিন্দুকে দর্শকদের নিকট কৃষ্ণবর্ণ জমাট রক্তে পরিণত করেছেন, অতঃপর সেই জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে রূপান্তরিত করেছেন যা চর্বণকারীর এক গ্রাস মাংসের সমতুল্য। এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে বিভিন্ন পরিমাপ, আকৃতি ও উপযোগিতা সম্পন্ন হাড় সৃষ্টি করেছেন যা এই সুস্পষ্ট কাঠামোর ভিত্তি স্বরূপ, অতঃপর হাড়সমূহকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছেন যা পরিধানকারীর পোশাকের ন্যায়। অতঃপর তাকে অন্য এক পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টিতে রূপ দিয়েছেন; অতএব আল্লাহ কতই না বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।
সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা যাঁর ক্ষমতা প্রতিটি সম্ভাব্য বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যাঁর ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টির ওপর বিচিত্র বিষয়াদির পরিচালনার মাধ্যমে কার্যকর হয়। তিনি আসমান ও জমিনের রাজত্বে একক; তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। {তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন} (আশ-শুরা: ৪৯)। এবং বরকতময় সেই সুউচ্চ, মহান, সহনশীল, মহিমান্বিত, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বজ্ঞাতা সত্তা; {তিনিই জরায়ুতে তোমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা রূপ দান করেন। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়} (আলে ইমরান: ৩)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَأشْهد أَن لَا اله إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ إِلَهًا جلّ عَن المثيل والنظير وَتَعَالَى عَن الشَّرِيك والظهير وتقدس عَن شبه خلقه فَلَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير
وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وَخيرته من خلقه وأمنيه على وحيه وحجته على عباده أرْسلهُ رَحْمَة للْعَالمين وقدوة للعاملين ومحجة للسالكين وَحجَّة على الْعباد أَجْمَعِينَ فهدى من الضَّلَالَة وَعلم بِهِ من الْجَهَالَة وَكثر بِهِ بعد الْقلَّة وأعز بِهِ بعد الذلة وأغنى بِهِ بعد الْعيلَة وَفتح برسالته أعينا عميا وآذانا صمًّا وَقُلُوبًا غلفًا فَبلغ الرسَالَة وَأدّى الْأَمَانَة ونصح الْأمة حَتَّى وضحت شرائع الْأَحْكَام وَظَهَرت شرائع الْإِسْلَام وَعز حزب الرَّحْمَن وذل حزب الشَّيْطَان فأشرق وَجه الدَّهْر حسنا واصبح الظلام ضِيَاء واهتدى كل حيران فصلى الله وَمَلَائِكَته وأنبياؤه وَرُسُله وعباده الْمُؤْمِنُونَ عَلَيْهِ كَمَا وَجه الله وَعرف بِهِ ودعا إِلَيْهِ وَعَلِيهِ السَّلَام وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته
أما بعد فان الله سُبْحَانَهُ نوع أَحْكَامه على الْإِنْسَان من حِين خُرُوجه إِلَى هَذِه الدَّار إِلَى حِين يسْتَقرّ فِي دَار الْقَرار وَقبل ذَلِك وَهُوَ فِي الظُّلُمَات
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এমন এক ইলাহ যিনি সদৃশ ও সমতুল্য হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে এবং শরীক ও সাহায্যকারী গ্রহণ করা থেকে সুউচ্চ। তিনি সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র, কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মাঝে মনোনীত এবং তাঁর ওহীর আমানতদার ও তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর সুনিশ্চিত প্রমাণ। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, আমলকারীদের জন্য আদর্শ, পথিকদের জন্য সুস্পষ্ট পথ এবং সকল বান্দার ওপর দলিল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তি থেকে হেদায়েত দান করেছেন, মূর্খতা দূর করে জ্ঞান দান করেছেন, স্বল্পতার পর সংখ্যাধিক্য দান করেছেন, লাঞ্ছনার পর সম্মানিত করেছেন এবং অভাবের পর সচ্ছলতা দান করেছেন। তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে তিনি অন্ধ চক্ষু, বধির কর্ণ এবং মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করেছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন, যার ফলে শরীয়তের বিধানসমূহ সুস্পষ্ট হয়েছে, ইসলামের বিধিবিধানসমূহ প্রকাশিত হয়েছে, রহমানের দল সম্মানিত হয়েছে এবং শয়তানের দল লাঞ্ছিত হয়েছে। ফলে মহাকালের ললাট সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয়েছে, অন্ধকার জ্যোতিতে পরিণত হয়েছে এবং প্রত্যেক বিভ্রান্ত ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা পেয়েছে। সুতরাং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, নবীগণ, রাসূলগণ এবং মুমিন বান্দারা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, তাঁর পরিচয় করিয়েছেন এবং তাঁর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের ওপর তাঁর বিধানাবলিকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন—এই পৃথিবীতে তার আগমনের লগ্ন থেকে শুরু করে পরকালীন চিরস্থায়ী আবাসে থিতু হওয়া পর্যন্ত, এমনকি এর পূর্বেও যখন সে (মাতৃগর্ভের) অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৫)
الثَّلَاث كَانَت أَحْكَامه الْقَدَرِيَّة جَارِيَة عَلَيْهِ ومنتهية إِلَيْهِ فَلَمَّا انْفَصل عَن أمه تعلّقت بِهِ أَحْكَامه الأمرية وَكَانَ الْمُخَاطب بهَا الْأَبَوَيْنِ أَو من يقوم مقامهما فِي تَرْبِيَته وَالْقِيَام عَلَيْهِ فَللَّه سُبْحَانَهُ فِيهِ أَحْكَام قيمه بهَا مَا دَامَ تَحت كفَالَته فَهُوَ المطالب بهَا دونه حَتَّى إِذا بلغ حد التَّكْلِيف تعلّقت بِهِ الْأَحْكَام وَجَرت عَلَيْهِ الأقلام وَحكم لَهُ بِأَحْكَام أهل الْكفْر وَأهل الْإِسْلَام وَأخذ فِي التأهب لمنازل السُّعَدَاء أَو دَار الأشقياء فتطوى بِهِ مراحل الْأَيَّام والليالي إِلَى الدَّار الَّتِي كتب من أَهلهَا وَيسر فِي مراحله تِلْكَ لأسبابها وَاسْتعْمل بعملها فَإِذا انْتهى بِهِ السّير إِلَى آخر مرحلة أشرف مِنْهَا على الْمسكن الَّذِي عمر لَهُ قبل إيجاده إِمَّا منزل شقوته وَإِمَّا منزل سعادته فهناك يضع عَصا السّفر عَن عَاتِقه ويستقر نَوَاه وَتصير دَار الْعدْل مَأْوَاه أَو دَار السَّعَادَة مثواه
فصل
وَهَذَا كتاب قصدنا فِيهِ ذكر أَحْكَام الْمَوْلُود الْمُتَعَلّقَة بِهِ بعد وِلَادَته مَا دَامَ صَغِيرا من عقيقته وأحكامها وَحلق رَأسه وتسميته وختانه وبوله وثقب أُذُنه وَأَحْكَام تَرْبِيَته وأطواره من حِين كَونه نُطْفَة إِلَى مستقره فِي الْجنَّة أَو النَّار فجَاء كتابا نَافِعًا فِي مَعْنَاهُ مُشْتَمِلًا من الْفَوَائِد على مَا لَا يكَاد يُوجد بسواه من نكت بديعة من التَّفْسِير وَأَحَادِيث تَدْعُو
(এই) তিন অবস্থায় তার ওপর তাকদিরি বিধানসমূহ কার্যকর ছিল এবং তাঁর প্রতিই তা সমাপ্ত হচ্ছিল। অতঃপর যখন সে তার মা থেকে পৃথক হলো, তখন তার সাথে শরিয়তের নির্দেশনামূলক বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট হলো। এ ক্ষেত্রে সম্বোধিত ব্যক্তি হলেন তার পিতা-মাতা অথবা তার লালন-পালন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার অভিভাবকের ওপর কিছু বিধান রয়েছে যতক্ষণ শিশুটি তার তত্ত্বাবধানে থাকে। ফলে শিশুর পরিবর্তে অভিভাবকই সেই বিধান পালনে আদিষ্ট হন। এভাবে যখন সে শরয়ি দায়িত্ব পালনের সীমায় পৌঁছায়, তখন তার ওপর সরাসরি বিধানাবলি অর্পিত হয় এবং তার কর্মলিপি লিখতে কলম চলতে শুরু করে। তখন তার ওপর কুফরপন্থী অথবা ইসলামপন্থীদের বিধান প্রযোজ্য হয় এবং সে সৌভাগ্যবানদের মঞ্জিল অথবা দুর্ভাগাদের আবাসের দিকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দিন ও রাতের পরিক্রমায় সে ঐ আবাসের দিকে অগ্রসর হতে থাকে যার অধিবাসী হিসেবে তাকে লিখে রাখা হয়েছে। সে তার সেই পথচলায় গন্তব্যের উপকরণগুলোর মাধ্যমে সাবলীল হয় এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে থাকে। অতঃপর যখন তার সফর শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সে এমন এক বাসস্থানের নিকটবর্তী হয় যা তার সৃষ্টির পূর্বেই তার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল; চাই তা দুর্ভাগ্যের আবাস হোক কিংবা সৌভাগ্যের। সেখানে সে তার সফরের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে এবং স্থায়ীভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। তখন ইনসাফের ঘর তার আশ্রয়স্থল হয় অথবা সৌভাগ্যের ঘর তার ঠিকানায় পরিণত হয়।
পরিচ্ছেদ
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমরা নবজাতক সংশ্লিষ্ট সেইসব বিধান উল্লেখ করার সংকল্প করেছি যা জন্মের পর তার শৈশবকাল পর্যন্ত প্রযোজ্য; যেমন: আকিকা ও এর বিধানাবলি, মস্তক মুণ্ডন, নামকরণ, খতনা, তার পেশাব সম্পর্কিত বিধান, কান ছিদ্র করা, তার লালন-পালন ও প্রতিপালনের নিয়মাবলি এবং শুক্রাণু অবস্থা থেকে শুরু করে জান্নাত বা জাহান্নামে তার স্থায়ী ঠিকানা হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়। ফলে এটি একটি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থে পরিণত হয়েছে যা এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে সমৃদ্ধ এবং এতে এমন সব অনন্য তাত্ত্বিক তথ্য রয়েছে যা সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এতে রয়েছে তাফসিরের সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয়াবলি এবং এমন সব হাদিস যা (মানুষকে) আহ্বান করে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْحَاجة إِلَى مَعْرفَتهَا وعللها وَالْجمع بَين مختلفها ومسائل فقهية لَا يكَاد الطَّالِب يظفر بهَا وفوائد حكمِيَّة تشتد الْحَاجة إِلَى الْعلم بهَا فَهُوَ كتاب ممتع لقارئه معجب للنَّاظِر فِيهِ يصلح للمعاش والمعاد وَيحْتَاج إِلَى مضمونه كل من وهب لَهُ شَيْء من الْأَوْلَاد وَمن الله أَسْتَمدّ السداد وأسأله التَّوْفِيق لسبل الرشاد انه كريم جواد وسميته
تحفة المودود بِأَحْكَام الْمَوْلُود
وَالله سُبْحَانَهُ المسؤول أَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم انه حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل وَجَعَلته سَبْعَة عشر بَابا
1 - الْبَاب الأول فِي اسْتِحْبَاب طلب الْأَوْلَاد
2 - الْبَاب الثَّانِي فِي كَرَاهَة تسخط مَا وهب الله لَهُ من الْبَنَات
3 - الْبَاب الثَّالِث فِي اسْتِحْبَاب بِشَارَة من ولد لَهُ ولد
4 - الْبَاب الرَّابِع فِي اسْتِحْبَاب الْأَذَان وَالْإِقَامَة فِي أُذُنه
5 - الْبَاب الْخَامِس فِي اسْتِحْبَاب تحنيكه
6 - الْبَاب السَّادِس فِي الْعَقِيقَة وأحكامها وَذكر الِاخْتِلَاف فِي وُجُوبهَا وَحجَّة التَّابِعين
এগুলোর জ্ঞান এবং এগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে অবগতি, এগুলোর বৈপরীত্যপূর্ণ বিষয়সমূহের (مختلف الحديث) মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং এমন কিছু ফিকহি মাসআলা যা একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর, সেই সাথে এমন কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ উপকারিতা যার জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত জরুরি—এই সবকিছুর প্রয়োজনেই এই কিতাব। এটি এর পাঠকের জন্য উপভোগ্য এবং পর্যালোচনাকারীর নিকট চমৎকার একটি গ্রন্থ; যা ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণের জন্য উপযোগী। যাদের সন্তান-সন্ততি দান করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই এই কিতাবের বিষয়বস্তু জানা প্রয়োজন। আমি আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা ও হেদায়াতের তাওফিক প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও মহানুভব। আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ
আমি সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমি কিতাবটিকে সতেরোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।
১ - প্রথম অধ্যায়: সন্তান কামনার মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়তা প্রসঙ্গে।
২ - দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ কাউকে কন্যা সন্তান দান করলে তার ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার অপছন্দনীয়তা প্রসঙ্গে।
৩ - তৃতীয় অধ্যায়: যার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে তাকে সুসংবাদ দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে।
৪ - চতুর্থ অধ্যায়: নবজাতকের কানে আজান ও ইকামত দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে।
৫ - পঞ্চম অধ্যায়: নবজাতকের তাহনিক করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে।
৬ - ষষ্ঠ অধ্যায়: আকিকা ও এর বিধানাবলি এবং এর আবশ্যকতা সংক্রান্ত মতভেদ ও তাবেঈগণের (تابعين) দলিলের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৭)
7 - الْبَاب السَّابِع فِي حلق رَأسه وَالتَّصَدُّق بزنة شعره
8 - الْبَاب الثَّامِن فِي ذكر تَسْمِيَته ووقتها ووجوبها
9 - الْبَاب التَّاسِع فِي ختان الْمَوْلُود وَأَحْكَامه
10 - الْبَاب الْعَاشِر فِي ثقب أذن الذّكر وَالْأُنْثَى وَحكمه
11 - الْبَاب الْحَادِي عشر فِي حكم بَوْل الْغُلَام وَالْجَارِيَة قبل أكلهما الطَّعَام
12 - الْبَاب الثَّانِي عشر فِي حكم ريق الرَّضِيع ولعابه وَهل هُوَ طَاهِر أَو نجس لِأَنَّهُ لَا يغسل فَمه مَعَ كَثْرَة قيئه
13 - الْبَاب الثَّالِث عشر فِي جَوَاز حمل الْأَطْفَال فِي الصَّلَاة وان لم يعلم حَال ثِيَابهمْ
14 - الْبَاب الرَّابِع عشر فِي اسْتِحْبَاب تَقْبِيل الْأَطْفَال والأهل
15 - الْبَاب الْخَامِس عشر فِي وجوب تَأْدِيب الْأَوْلَاد وتعليمهم وَالْعدْل بَينهم
16 - الْبَاب السَّادِس عشر فِي ذكر فُصُول نافعة فِي تربية الْأَطْفَال
17 - الْبَاب السَّابِع عشر فِي أطوار الطِّفْل من حِين كَونه نُطْفَة إِلَى وَقت دُخُوله الْجنَّة أَو النَّار
7 - সপ্তম অধ্যায়: নবজাতকের মাথা মুণ্ডন এবং তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ সদকা করা প্রসঙ্গে।
8 - অষ্টম অধ্যায়: নবজাতকের নামকরণ, নামকরণের সময় এবং এর আবশ্যকতা (وجوب) উল্লেখ প্রসঙ্গে।
9 - নবম অধ্যায়: নবজাতকের খতনা এবং এর বিধানসমূহ (أحكام) প্রসঙ্গে।
10 - দশম অধ্যায়: ছেলে ও মেয়ে শিশুর কান ফুটানো এবং এর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।
11 - একাদশ অধ্যায়: খাবার গ্রহণের পূর্বে ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।
12 - দ্বাদশ অধ্যায়: দুগ্ধপোষ্য শিশুর লালা ও থুতুর বিধান (حكم) এবং তা পবিত্র (طاهر) নাকি অপবিত্র (نجس) - যেহেতু অধিক বমি করা সত্ত্বেও তার মুখ ধৌত করা হয় না - সেই প্রসঙ্গে।
13 - ত্রয়োদশ অধ্যায়: শিশুদের পোশাকের অবস্থা নিশ্চিতভাবে জানা না থাকলেও সালাতে তাদের বহন করার বৈধতা (جواز) প্রসঙ্গে।
14 - চতুর্দশ অধ্যায়: শিশুদের এবং পরিজনদের চুম্বন করার মোস্তাহাব (استحباب) আমল প্রসঙ্গে।
15 - পঞ্চদশ অধ্যায়: সন্তানদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া, জ্ঞান দান করা এবং তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রসঙ্গে।
16 - ষোড়শ অধ্যায়: শিশুদের লালন-পালন ও প্রতিপালন বিষয়ক কতগুলো উপকারী পরিচ্ছেদ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
17 - সপ্তদশ অধ্যায়: বীর্য (نطفة) অবস্থা থেকে শুরু করে জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত শিশুর বিভিন্ন পর্যায়সমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْبَاب الأول فِي اسْتِحْبَاب طلب الْوَلَدقَالَ الله تَعَالَى {فَالْآن باشروهن وابتغوا مَا كتب الله لكم} الْبَقَرَة 187 فروى شُعْبَة عَن الحكم عَن مُجَاهِد قَالَ هُوَ الْوَلَد وَقَالَهُ الحكم وَعِكْرِمَة وَالْحسن الْبَصْرِيّ وَالسُّديّ وَالضَّحَّاك
وَأَرْفَع مَا فِيهِ مَا رَوَاهُ مُحَمَّد بن سعد عَن أَبِيه حَدثنِي عمي حَدثنِي أبي عَن أَبِيه عَن ابْن عَبَّاس قَالَ هُوَ الْوَلَد وَقَالَ ابْن زيد هُوَ الْجِمَاع وَقَالَ قَتَادَة ابْتَغوا الرُّخْصَة الَّتِي كتب الله لكم وَعَن ابْن عَبَّاس رِوَايَة أُخْرَى قَالَ لَيْلَة الْقدر
প্রথম পরিচ্ছেদ সন্তান কামনার মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো} (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)। শুবা হাকাম হতে এবং তিনি মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি হলো সন্তান। হাকাম, ইকরিমাহ, হাসান বসরি, সুদ্দি এবং দাহহাকও অনুরূপ বলেছেন।
এই বিষয়ে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের (أرفع) তথ্য হলো যা মুহাম্মদ ইবনে সাদ তার পিতা হতে বর্ণনা (رواية) করেছেন—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আমার চাচা, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আমার পিতা, তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি হলো সন্তান। ইবনে যাইদ বলেন: এটি হলো সহবাস। কাতাদাহ বলেন: তোমরা সেই অবকাশ (رخصة) অন্বেষণ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে রেখেছেন। ইবনে আব্বাস হতে অপর একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এটি হলো লাইলাতুল কদর।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَالتَّحْقِيق أَن يُقَال لما خفف الله عَن الْأمة بِإِبَاحَة الْجِمَاع لَيْلَة الصَّوْم إِلَى طُلُوع الْفجْر وَكَانَ المجامع يغلب عَلَيْهِ حكم الشَّهْوَة وَقَضَاء الوطر حَتَّى لَا يكَاد يخْطر بِقَلْبِه غير ذَلِك أرشدهم سُبْحَانَهُ إِلَى أَن يطلبوا رِضَاهُ فِي مثل هَذِه اللَّذَّة وَلَا يباشروها بِحكم مُجَرّد الشَّهْوَة بل يَبْتَغُوا بهَا مَا كتب الله لَهُم من الْأجر
وَالْولد الَّذِي يخرج من أصلابهم يعبد الله لَا يُشْرك بِهِ شَيْئا ويبتغوا مَا أَبَاحَ الله لَهُم من الرُّخْصَة بِحكم محبته لقبُول رخصه فَإِن الله يحب أَن يُؤْخَذ بِرُخصِهِ كَمَا يكره أَن تُؤْتى مَعْصِيَته وَمِمَّا كتب لَهُم لَيْلَة الْقدر وَأمرُوا أَن يبتغوها لَكِن يبْقى أَن يُقَال فَمَا تعلق ذَلِك بِإِبَاحَة مُبَاشرَة أَزوَاجهم فَيُقَال فِيهِ إرشاد إِلَى أَن لَا يشغلهم مَا أُبِيح لَهُم من الْمُبَاشرَة عَن طلب هَذِه اللَّيْلَة الَّتِي هِيَ خير من ألف شهر فَكَأَنَّهُ سُبْحَانَهُ يَقُول اقضوا وطركم من
প্রকৃত অনুসন্ধান হলো এই যে, মহান আল্লাহ যখন রোজার রাতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মিলনের অনুমতি দিয়ে উম্মতের ওপর বিধান সহজ করে দিলেন, এবং মিলনকারীর ওপর যেহেতু কামভাব ও জৈবিক চাহিদা পূরণ প্রবল থাকে, এমনকি তার হৃদয়ে অন্য কিছু উদিত হওয়ার অবকাশ থাকে না বললেই চলে; তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে এই নির্দেশনা প্রদান করলেন যেন তারা এই আনন্দের মাঝেও তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তারা যেন কেবল লালসার বশবর্তী হয়ে এতে লিপ্ত না হয়, বরং এর মাধ্যমে তারা যেন সেই সওয়াব বা প্রতিদান অনুসন্ধান করে যা আল্লাহ তাদের জন্য লিখে রেখেছেন।
এবং এমন সন্তান (কামনা করে) যারা তাদের বংশধারা থেকে আসবে এবং আল্লাহর ইবাদত করবে ও তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর তারা যেন সেই সহজীকরণ (رخصة) অন্বেষণ করে যা আল্লাহ তাদের জন্য বৈধ করেছেন, কেননা আল্লাহ তাঁর দেওয়া সহজতাসমূহ গ্রহণ করাকে পছন্দ করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যেমন তাঁর নাফরমানি করাকে অপছন্দ করেন, তেমনি তাঁর দেওয়া সহজীকরণ (رخصة) গ্রহণ করাকে ভালোবাসেন। আর আল্লাহ তাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো লাইলাতুল কদর, এবং তাদেরকে তা তালাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে, এর সাথে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা বৈধ হওয়ার সম্পর্ক কী? এর উত্তরে বলা হয়, এতে এই নির্দেশনা রয়েছে যে, তাদের জন্য যা বৈধ করা হয়েছে তা যেন তাদেরকে এই রাতের অনুসন্ধান থেকে বিচ্যুত না করে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, তোমরা তোমাদের জৈবিক চাহিদা পূরণ করো...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১০)
نساءكم لَيْلَة الصّيام وَلَا يشغلكم ذَلِك عَن ابْتِغَاء مَا كتب الله لكم من هَذِه اللَّيْلَة الَّتِي فَضلكُمْ الله بهَا وَالله أعلم
وَعَن انس قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَأْمر بِالْبَاءَةِ وَينْهى عَن التبتل نهيا شَدِيدا وَيَقُول ((تزوجوا الْوَدُود الْوَلُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأَنْبِيَاء يَوْم الْقِيَامَة)) رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وَأَبُو حَاتِم فِي صَحِيحَة
وَعَن معقل بن يسَار قَالَ جَاءَ رجل إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إنى
সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সান্নিধ্য গ্রহণ করো এবং তা যেন তোমাদের সেই বিষয় অন্বেষণ করা থেকে বিমুখ না করে যা আল্লাহ তোমাদের জন্য এই রাতে নির্ধারিত করেছেন, যে রাতের মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহের নির্দেশ দিতেন এবং বৈরাগ্য অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: “তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবিনী, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য নবীদের সামনে গর্ব করব।” এটি ইমাম আহমদ এবং আবু হাতিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
মা'কিল ইবন ইয়াসার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, “আমি...”
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১১)
أصبت امْرَأَة ذَات حسن وجمال وَإِنَّهَا لَا تَلد أفأتزوجها قَالَ لَا ثمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَة فَنَهَاهُ ثمَّ أَتَاهُ الثَّالِثَة فَقَالَ تزوجوا الْوَلُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
وَعَن عبد الله بن عَمْرو أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أنكحوا أُمَّهَات الْأَوْلَاد فَإِنِّي أباهي بكم يَوْم الْقِيَامَة رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد
وَعَن عَائِشَة قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم النِّكَاح من سنتي وَمن لم يعْمل بِسنتي فَلَيْسَ مني وَتَزَوَّجُوا فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأُمَم يَوْم الْقِيَامَة
وَقد روى حَمَّاد بن سَلمَة عَن عَاصِم عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن العَبْد لترفع لَهُ الدرجَة فَيَقُول أَي رب أَنى لي هَذَا فَيَقُول باستغفار ولدك لَك من بعْدك
আমি এক রূপবতী ও বংশমর্যাদাসম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি, তবে সে সন্তান জন্মদানে অক্ষম। আমি কি তাকে বিবাহ করব? তিনি বললেন: না। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি তাঁকে পুনরায় নিষেধ করলেন। এরপর তৃতীয়বার আসলে তিনি বললেন: তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী ও মমতাময়ী নারীকে বিবাহ করো; কেননা আমি তোমাদের মাধ্যমে সংখ্যাধিক্য লাভ করব। এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) আবু দাউদ ও নাসায়ি।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী জননীদের বিবাহ করো, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের নিয়ে গর্ব করব। এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) ইমাম আহমাদ।
আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বিবাহ আমার সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। আর তোমরা বিবাহ করো, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের তুলনায় সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ববোধ করব।
আর হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আসিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন (روى) যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই বান্দার মর্যাদা উচ্চ করা হবে, তখন সে বলবে: হে আমার রব! এটি আমার জন্য কীভাবে হলো? তখন তিনি বলবেন: তোমার মৃত্যুর পর তোমার সন্তানের তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার (ইস্তিগফার) মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১২)
فصل
وَمِمَّا يرغب فِي الْوَلَد مَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه عَن أبي حسان قَالَ توفّي ابْنَانِ لي فَقلت لأبي هُرَيْرَة سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا تحدثناه تطيب بِهِ أَنْفُسنَا عَن مَوتَانا قَالَ نعم صغارهم دعاميص الْجنَّة يتلَقَّى أحدهم أَبَاهُ أَو قَالَ أَبَوَيْهِ فَيَأْخُذ بِنَاحِيَة ثَوْبه أَو يَده كَمَا آخذ أَنا بصنفة ثَوْبك هَذَا فَلَا يتناهى حَتَّى يدْخلهُ الله وأباه الْجنَّة
وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا وَكِيع حَدثنَا شُعْبَة عَن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن أَبِيه أَن رجلا كَانَ يَأْتِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ ابْن لَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَتُحِبُّهُ فَقَالَ يَا رَسُول الله أحبك الله كَمَا أحبه فَفَقدهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا فعل ابْن فلَان قَالُوا يَا رَسُول الله مَاتَ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لِأَبِيهِ أما تحب أَن لَا تَأتي بَابا من أَبْوَاب الْجنَّة إِلَّا وجدته ينتظرك
পরিচ্ছেদ
সন্তান লাভের প্রতি উৎসাহিত করে এমন বর্ণনাসমূহের মধ্যে একটি হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হাসসান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার দুই পুত্র ইন্তেকাল করলে আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললাম: আপনি কি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোনো হাদিস শুনেছেন যা আমাদের নিকট বর্ণনা করবেন এবং যার মাধ্যমে আমাদের মৃত সন্তানদের শোকে আমাদের মন প্রশান্ত হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ; তাদের ছোট শিশুরা জান্নাতের প্রজাপতি (দামীস) সদৃশ। তাদের কেউ যখন তার পিতার সাথে—অথবা তিনি বলেছেন তার পিতামাতার সাথে—সাক্ষাৎ করবে, তখন সে তাঁর কাপড়ের আঁচল অথবা হাত ধরবে, যেমন আমি এখন তোমার কাপড়ের এই প্রান্তটি ধরেছি। অতঃপর সে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষান্ত হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে এবং তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।
ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসতেন এবং তাঁর সাথে তাঁর এক পুত্র থাকত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি তাকে ভালোবাসো? সে আরজ করল: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাকে যেমন ভালোবাসি, আল্লাহ আপনাকে ঠিক তেমনি ভালোবাসুন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে অনুপস্থিত দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: অমুক ব্যক্তির পুত্রের কী হলো? তারা আরজ করল: হে আল্লাহর রাসুল! সে ইন্তেকাল করেছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পিতাকে বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি জান্নাতের যে দরজাতেই উপস্থিত হবে, তাকে সেখানে তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে?
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عَلَيْهِ فَقَالَ رجل أَله خَاصَّة يَا رَسُول الله أَو لكلنا قَالَ بل لكلكم
قَالَ أَحْمد وَحدثنَا عبد الله حَدثنَا عبد ربه بن بارق الْحَنَفِيّ حَدثنَا أَبُو زميل الْحَنَفِيّ قَالَ سَمِعت ابْن عَبَّاس يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من كَانَ لَهُ فرطان من أمتِي دخل الْجنَّة فَقَالَت عَائِشَة رصي الله عَنْهَا بِأبي أَنْت وَأمي فَمن كَانَ لَهُ فرط فَقَالَ وَمن كَانَ لَهُ فرط يَا موفقة قَالَت فَمن لم يكن لَهُ فرط فِي أمتك قَالَ فَأَنا فرط أمتِي لم يصابوا بمثلي
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ للنِّسَاء مَا مِنْكُن امْرَأَة يَمُوت لَهَا ثَلَاثَة من الْوَلَد إِلَّا كَانُوا لَهَا حِجَابا من النَّار فَقَالَت امْرَأَة وَاثْنَانِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم وَاثْنَانِ وَفِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة نَحوه وَرَوَاهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ابْن مَسْعُود وَأَبُو بزْرَة الْأَسْلَمِيّ وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا من
...তার ওপর। তখন এক ব্যক্তি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি বিশেষভাবে তার জন্য, নাকি আমাদের সকলের জন্য?" তিনি বললেন, "বরং তোমাদের সকলের জন্য।"
ইমাম আহমাদ বলেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুর রাব্বিহ ইবনে বারিক আল-হানাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু যুমাইল আল-হানাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের মধ্যে যার দুইজন অগ্রগামী সন্তান থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তবে যার একজন অগ্রগামী সন্তান রয়েছে?" তিনি বললেন, "হে সৌভাগ্যবতী! যার একজন অগ্রগামী সন্তান রয়েছে তার জন্যও।" তিনি বললেন, "তবে আপনার উম্মতের মধ্যে যার কোনো অগ্রগামী সন্তান নেই?" তিনি বললেন, "তবে আমিই আমার উম্মতের অগ্রগামী; তারা আমার বিয়োগের ন্যায় আর কোনো বিপদে আক্রান্ত হবে না।"
এবং সহীহাইন-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কোনো নারী নেই যার তিনটি সন্তান মারা যায়, অথচ তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকারী পর্দা হবে না।" তখন এক নারী বললেন, "আর দুইজন হলে?" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "দুইজন হলেও।" এবং সহীহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস-এ এর অনুরূপ রয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি ইবনে মাসউদ ও আবু বারযাহ আল-আসলামি বর্ণনা করেছেন। এবং সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে: "এমন কোনো..."
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مُسلم يَمُوت لَهُ ثَلَاثَة من الْوَلَد لم يبلغُوا الْحِنْث فَتَمَسهُ النَّار إِلَّا تَحِلَّة الْقسم
وَفِي صَحِيح البُخَارِيّ من حَدِيث أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من النَّاس مُسلم يَمُوت لَهُ ثَلَاثَة من الْوَلَد لم يبلغُوا الْحِنْث إِلَّا أدخلهُ الله الْجنَّة بِفضل رَحمته إيَّاهُم وَفِي صَحِيح مُسلم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ أَتَت امْرَأَة بصبي لَهَا فَقَالَت يَا نَبِي الله أدع الله لَهُ فَلَقَد دفنت ثَلَاثَة فَقَالَ دفنت ثَلَاثَة قَالَت نعم قَالَ لقد احتظرت بحظار شَدِيد من النَّار فَالْوَلَد انه إِن عَاشَ بعد أَبَوَيْهِ نفعهما وان مَاتَ قبلهمَا نفعهما
وَقد روى مُسلم فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا مَاتَ الْإِنْسَان انْقَطع عمله إِلَّا من ثَلَاث صَدَقَة جَارِيَة أَو علم ينْتَفع بِهِ أَو ولد صَالح يَدْعُو لَهُ
কোনো মুসলিম যার তিনটি সন্তান মারা যায় যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, তবে কেবল শপথ পূরণের সামান্য সময় ব্যতীত।
এবং সহিহ বুখারিতে আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মানুষের মধ্যে এমন কোনো মুসলিম নেই যার তিনটি সন্তান মারা যায় যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তবে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর রহমতের বিশেষ অনুগ্রহে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এবং সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: এক নারী তার এক শিশুকে নিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর নবী! এর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, কারণ আমি তো ইতিপূর্বে তিনটি সন্তান দাফন করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি তিনটি সন্তান দাফন করেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে এক সুদৃঢ় প্রাচীর দ্বারা নিজেকে রক্ষা করেছ। কেননা সন্তান তার পিতামাতার পরে জীবিত থাকলে যেমন তাদের উপকারে আসে, তেমনি তাদের আগে মারা গেলেও তাদের উপকারে আসে।
আর ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান দান, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فان قيل مَا تَقولُونَ فِي قَوْله عز وجل {وَإِن خِفْتُمْ أَلا تقسطوا فِي الْيَتَامَى فانكحوا مَا طَابَ لكم من النِّسَاء مثنى وَثَلَاث وَربَاع فَإِن خِفْتُمْ أَلا تعدلوا فَوَاحِدَة أَو مَا ملكت أَيْمَانكُم ذَلِك أدنى أَلا تعولُوا} النِّسَاء 3
قَالَ الشَّافِعِي إِن لَا تكْثر عيالكم فَدلَّ على أَن قلَّة الْعِيَال أولى قيل قد قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله ذَلِك وَخَالفهُ جُمْهُور الْمُفَسّرين من السّلف وَالْخلف وَقَالُوا معنى الْآيَة ذَلِك أدنى أَن لَا تَجُورُوا وَلَا تميلوا فانه يُقَال عَال الرجل يعول عولا إِذا مَال وجار وَمِنْه عول الْفَرَائِض لِأَن سهامها إِذا زَادَت دَخلهَا النَّقْص وَيُقَال عَال يعيل عيلة إِذا احْتَاجَ قَالَ تَعَالَى {وَإِن خِفْتُمْ عيلة فَسَوف يغنيكم الله من فَضله إِن شَاءَ إِن الله عليم حَكِيم} التَّوْبَة 28 وَقَالَ الشَّاعِر
(وَمَا يدْرِي الْفَقِير مَتى غناهُ
… وَمَا يدْرِي الْغَنِيّ مَتى يعيل)
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কী: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো—দুই, তিন বা চার জন; আর যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা সমতা (عدل) রক্ষা করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের। এটাই অধিকতর নিকটবর্তী যে তোমরা অন্যায়ে লিপ্ত (تعولوا) হবে না} (সূরা নিসা: ৩)।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন: (এর অর্থ হলো) যাতে তোমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। সুতরাং এটি নির্দেশ করে যে, পরিবার ছোট হওয়া উত্তম। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ইমাম শাফিঈ (রহ.) এ কথাটি বলেছেন ঠিকই, কিন্তু সালাফ (السلف) ও খালাফ (الخلف)-দের অধিকাংশ (جمهور) মুফাসসির তাঁর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আয়াতের অর্থ হলো: এটি অধিকতর নিকটবর্তী যাতে তোমরা যুলুম না করো এবং পক্ষপাতিত্ব না করো। কেননা, যখন কোনো ব্যক্তি পক্ষপাতিত্ব বা যুলুম করে তখন বলা হয় ‘আ-লা আর-রাজুলু ইয়াউলু আওলান’ (عولا)। ফারায়িজ বা মিরাসি আইনের ‘আউল’ (عول) পরিভাষাটি এখান থেকেই এসেছে; কারণ যখন উত্তরাধিকারীদের অংশসমূহ (سهام) বৃদ্ধি পায়, তখন মূল হিস্যায় ঘাটতি দেখা দেয়। আবার কেউ অভাবগ্রস্ত হলে বলা হয় ‘আ-লা ইয়াঈলু আয়লাতান’ (عيلة)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের (عيلة) আশঙ্কা করো, তবে আল্লাহ চাইলে তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (সূরা তাওবাহ: ২৮)। জনৈক কবি বলেছেন:
(অভাবী জানে না কখন তার সচ্ছলতা আসবে
… আর ধনী জানে না কখন সে অভাবগ্রস্ত (يعيل) হবে।)
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَي مَتى يحْتَاج ويفتقر
وَأما كَثْرَة الْعِيَال فَلَيْسَ من هَذَا وَلَا من هَذَا وَلكنه من أفعل يُقَال أعال الرجل يعيل إِذا كثر عِيَاله مثل ألبن وأتمر إِذا صَار ذَا لبن وتمر هَذَا قَول أهل اللُّغَة
قَالَ الواحدي فِي بسيطه وَمعنى تعولُوا تميلوا وتجوروا عَن جَمِيع أهل التَّفْسِير واللغة وَرُوِيَ ذَلِك مَرْفُوعا رَوَت عَائِشَة رضي الله عنها عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله ذَلِك أَن لَا تعولُوا قَالَ أَن لَا تَجُورُوا وَرُوِيَ أَن لَا تميلوا قَالَ وَهَذَا قَول ابْن عَبَّاس وَالْحسن وَقَتَادَة وَالربيع وَالسُّديّ وَأبي مَالك وَعِكْرِمَة وَالْفراء والزجاج وَابْن قُتَيْبَة وَابْن الأنبا ري
قلت وَيدل على تعين هَذَا الْمَعْنى من الْآيَة وان كَانَ مَا ذكره الشَّافِعِي رحمه الله لُغَة حَكَاهَا الْفراء عَن الْكسَائي أَنه قَالَ وَمن الصَّحَابَة
অর্থাৎ যখন সে অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্র হয়।
আর অধিক সন্তান-সন্ততির বিষয়টি এর কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি ‘আফআলা’ ওজনের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয় ‘আআলা আর-রাজুলু’ যখন তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যেমন ‘আলবানা’ এবং ‘আতমারা’ বলা হয় যখন কারো প্রচুর দুধ ও খেজুর হয়। এটি ভাষাবিদদের অভিমত।
আল-ওয়াহিদি তাঁর আল-বাসিত গ্রন্থে বলেন: সমস্ত মুফাসসির ও ভাষাবিদদের মতে ‘তাউলু’ এর অর্থ হলো তোমরা বিচ্যুত হওয়া এবং অন্যায় করা। বিষয়টি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আল্লাহর বাণী ‘যাতে তোমরা অন্যায় না করো’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ ‘যাতে তোমরা জুলুম বা অন্যায় না করো’। আরও বর্ণিত হয়েছে: ‘যাতে তোমরা বিচ্যুত না হও’। তিনি বলেন, এটি ইবনে আব্বাস, হাসান, কাতাদাহ, রাবি, সুদ্দি, আবু মালিক, ইকরিমাহ, আল-ফাররা, আজ-জাজ্জাজ, ইবনে কুতাইবাহ এবং ইবনে আল-আনবারির অভিমত।
আমি বলি, আয়াত থেকে এই অর্থটি সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রতীয়মান হয়, যদিও ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তা একটি আভিধানিক অর্থ যা আল-ফাররা আল-কিসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি এবং সাহাবীদের কেউ কেউ এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من يَقُول عَال يعول إِذا كثر عِيَاله قَالَ الْكسَائي وَهُوَ لُغَة فصيحة سَمعتهَا من الْعَرَب لَكِن يتَعَيَّن الأول لوجوه
أَحدهَا أَنه الْمَعْرُوف فِي اللُّغَة الَّذِي لَا يكَاد يعرف سواهُ وَلَا يعرف عَال يعول إِذا كثر عِيَاله إِلَّا فِي حِكَايَة الْكسَائي وَسَائِر أهل اللُّغَة على خِلَافه
الثَّانِي أَن هَذَا مَرْوِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَو كَانَ من الغرائب فانه يصلح للترجيح
الثَّالِث أَنه مَرْوِيّ عَن عَائِشَة وَابْن عَبَّاس وَلم يعلم لَهما مُخَالف من الْمُفَسّرين وَقد قَالَ الْحَاكِم أَبُو عبد الله تَفْسِير الصَّحَابِيّ عندنَا فِي حكم الْمَرْفُوع
الرَّابِع أَن الْأَدِلَّة الَّتِي ذَكرنَاهَا على اسْتِحْبَاب تزوج الْوَلُود وأخبار النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه يكاثر بأمته الْأُمَم يَوْم الْقِيَامَة يرد هَذَا التَّفْسِير
الْخَامِس أَن سِيَاق الْآيَة إِنَّمَا هُوَ فِي نقلهم مِمَّا يخَافُونَ الظُّلم والجور فِيهِ إِلَى غَيره فَإِنَّهُ قَالَ فِي أَولهَا {وَإِن خِفْتُمْ أَلا تقسطوا فِي الْيَتَامَى فانكحوا مَا طَابَ لكم من النِّسَاء مثنى وَثَلَاث وَربَاع} النِّسَاء 4 فدلهم سُبْحَانَهُ
যারা বলেন ‘আলা ইয়াউলু’ অর্থ যখন কারো সন্তান-সন্ততি অধিক হয়; আল-কিসায়ী বলেন, এটি একটি বিশুদ্ধ ভাষা যা আমি আরবদের নিকট থেকে শুনেছি। তবে প্রথম অর্থটিই নিম্নোক্ত কারণে গ্রহণ করা আবশ্যক:
প্রথমত: এটিই ভাষায় প্রসিদ্ধ অর্থ যা ছাড়া অন্য কোনো অর্থ প্রায় জানাই নেই। আল-কিসায়ীর বর্ণনা ব্যতিরেকে ‘আলা ইয়াউলু’ অর্থ সন্তান-সন্ততি অধিক হওয়া—এমনটি আর কোথাও জানা যায় না এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন।
দ্বিতীয়ত: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি এটি বিরল (غرائب) পর্যায়েরও হয়ে থাকে, তবুও এটি কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত দলিল।
তৃতীয়ত: এটি আয়েশা (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং মুফাসসিরদের মধ্যে তাঁদের কোনো বিরোধী মতের কথা জানা যায়নি। আর হাকেম আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের নিকট সাহাবীর তাফসীর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছানো (مرفوع) নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।’
চতুর্থত: অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিবাহ করার মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে আমরা যে দলিলগুলো উল্লেখ করেছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সংবাদ যে, কিয়ামতের দিন তিনি তাঁর উম্মতের আধিক্য নিয়ে অন্য উম্মতদের নিকট গর্ব করবেন—এই বিষয়গুলো উক্ত তাফসীরকে প্রত্যাখ্যান করে।
পঞ্চমত: আয়াতের প্রেক্ষাপট হলো তাদের এমন বিষয় থেকে সরিয়ে আনা যাতে তারা জুলুম ও অবিচারের ভয় করছে। কেননা আল্লাহ তাআলা আয়াতের শুরুতে বলেছেন: {আর যদি তোমরা ভয় করো যে এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিবাহ করো—দুজন, তিনজন অথবা চারজন} (নিসা: ৪)। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
على مَا يتخلصون بِهِ من ظلم الْيَتَامَى وَهُوَ نِكَاح مَا طَابَ لَهُم من النِّسَاء البوالغ وأباح لَهُم مِنْهُ ثمَّ دلهم على مَا يتخلصون بِهِ من الْجور وَالظُّلم فِي عدم التَّسْوِيَة بَينهُنَّ فَقَالَ {فَإِن خِفْتُمْ أَلا تعدلوا فَوَاحِدَة أَو مَا ملكت أَيْمَانكُم} النِّسَاء 4 ثمَّ أخبر سُبْحَانَهُ أَن الْوَاحِدَة وَملك الْيَمين أدنى إِلَى عدم الْميل والجور وَهَذَا صَرِيح فِي الْمَقْصُود
السَّادِس أَنه لَا يلتئم قَوْله {فَإِن خِفْتُمْ أَلا تعدلوا} فِي الْأَرْبَع فانكحوا وَاحِدَة أَو تسروا مَا شِئْتُم بِملك الْيَمين فان ذَلِك أقرب إِلَى أَن لَا تكْثر عيالكم بل هَذَا أَجْنَبِي من الأول فَتَأَمّله
السَّابِع أَنه من الْمُمْتَنع أَن يُقَال لَهُم إِن خِفْتُمْ أَن أَلا تعدلوا بَين الْأَرْبَع فلكم أَن تتسروا بِمِائَة سَرِيَّة وَأكْثر فانه أدنى أَن لَا تكْثر عيالكم
الثَّامِن أَن قَوْله {ذَلِك أدنى أَلا تعولُوا} تَعْلِيل لكل وَاحِد من الْحكمَيْنِ الْمُتَقَدِّمين وهما نقلهم من نِكَاح الْيَتَامَى إِلَى نِكَاح النِّسَاء البوالغ وَمن نِكَاح الْأَرْبَع إِلَى نِكَاح الْوَاحِدَة أَو ملك الْيَمين وَلَا يَلِيق تَعْلِيل ذَلِك بعلة الْعِيَال
التَّاسِع أَنه سُبْحَانَهُ قَالَ {فَإِن خِفْتُمْ أَلا تعدلوا} وَلم يقل وان خِفْتُمْ أَنا تفتقروا أَو تحتاجوا وَلَو كَانَ المُرَاد قلَّة الْعِيَال لَكَانَ الْأَنْسَب أَن يَقُول ذَلِك
এমন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যা দ্বারা তারা ইয়াতীমদের প্রতি জুলুম (ظلم) করা থেকে নিষ্কৃতি পায়; আর তা হলো প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের মধ্য থেকে যাদের তাদের পছন্দ হয় তাদের বিবাহ করা। তিনি তাদের জন্য তা বৈধ করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের এমন বিষয়ের দিশা দিয়েছেন যার মাধ্যমে তারা স্ত্রীদের মধ্যে সমতা (التسوية) রক্ষায় ব্যর্থতা জনিত পক্ষপাতিত্ব (جور) ও জুলুম (ظلم) থেকে মুক্তি পেতে পারে। তিনি বলেছেন: {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইনসাফ (عدل) করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের (ما ملكت أيمانكم)} আন-নিসা: ৪। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবহিত করেছেন যে, একজন স্ত্রী গ্রহণ এবং দাসী (ملك اليمিন) রাখা পক্ষপাতিত্ব (ميل) ও অবিচার (جور) না করার অধিকতর নিকটবর্তী। আর এটি মূল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দলিল।
ষষ্ঠত: তাঁর এই বাণী {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইনসাফ (عدل) করতে পারবে না} চারজন স্ত্রীর ক্ষেত্রে, তবে তোমরা একজনকে বিবাহ করো অথবা দাসীদের (ملك اليمিন) মধ্য থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো; কেননা তা তোমাদের পরিজন (عيالكم) বৃদ্ধি না হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী—এই বক্তব্যের সাথে কোনো সামঞ্জস্য তৈরি হয় না। বরং এটি প্রথম প্রসঙ্গের সাথে সম্পর্কহীন; সুতরাং এটি অনুধাবন করুন।
সপ্তমত: এটি অসম্ভব যে তাদের বলা হবে—যদি তোমরা চারজন স্ত্রীর মধ্যে ইনসাফ (عدل) করতে না পারার আশঙ্কা করো, তবে তোমরা একশত বা তার অধিক দাসী (سرية) গ্রহণ করতে পারো; কেননা তা পরিজন (عيالكم) বৃদ্ধি না হওয়ার জন্য অধিকতর নিকটবর্তী।
অষ্টমত: তাঁর এই বাণী {এটাই অধিকতর নিকটবর্তী যে তোমরা অবিচার (تعولوا) করবে না}—পূর্বোক্ত দুটি বিধানের প্রত্যেকটির জন্য কারণ দর্শানো (تعليل)। বিধান দুটি হলো: তাদের ইয়াতীমদের বিবাহ করা থেকে সরিয়ে প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের বিবাহের দিকে নিয়ে আসা এবং চারজন বিবাহের পরিবর্তে একজন স্ত্রী অথবা দাসী (ملك اليمিন) গ্রহণের দিকে নিয়ে আসা। আর এই বিষয়টির কারণ হিসেবে পরিজনের আধিক্যের কারণ (علة) পেশ করা সংগত নয়।
নবমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইনসাফ (عدل) করতে পারবে না}, তিনি এটি বলেননি যে—যদি তোমরা দরিদ্র হওয়ার বা মুখাপেক্ষী হওয়ার আশঙ্কা করো। আর যদি উদ্দেশ্য পরিজনের স্বল্পতাই হতো, তবে সেটাই বলা অধিকতর উপযুক্ত হতো।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الْعَاشِر أَنه سُبْحَانَهُ إِذا ذكر حكما مَنْهِيّا عَنهُ وَعلل النَّهْي بعلة أَو أَبَاحَ شَيْئا وَعلل عَدمه بعلة فَلَا بُد أَن تكون الْعلَّة مصادفة لضد الحكم الْمُعَلل وَقد علل سُبْحَانَهُ إِبَاحَة نِكَاح غير الْيَتَامَى والاقتصار على الْوَاحِدَة أَو مَا ملك الْيَمين بِأَنَّهُ أقرب إِلَى عدم الْجور وَمَعْلُوم أَن كَثْرَة الْعِيَال لَا تضَاد عدم الحكم الْمُعَلل فَلَا يحسن التَّعْلِيل بِهِ
দশম হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন কোনো নিষিদ্ধ (منهي عنه) বিধান বর্ণনা করেন এবং সেই নিষেধাজ্ঞাকে কোনো কারণ (علة) দ্বারা ব্যাখ্যা করেন, অথবা কোনো বিষয়কে বৈধ করেন এবং তার সপক্ষে কোনো কারণ (علة) প্রদান করেন, তখন সেই কারণটি (علة) অবশ্যই সেই নির্দেশিত বিধানের (الحكم المعلل) বিপরীত অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইয়াতীম ব্যতীত অন্য নারীদের বিবাহ করা এবং একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা অথবা দাসীদের অধিকারে রাখার বৈধতার কারণ (علة) হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি অবিচার (جور) না করার অধিকতর নিকটবর্তী। আর এটি সুবিদিত যে, পরিবারের আধিক্য উক্ত নির্দেশিত বিধানের (الحكم المعلل) বিপরীত কিছু নয়, তাই এটি দ্বারা কারণ (علة) দর্শানো সংগত নয়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْبَاب الثَّانِي فِي كَرَاهَة تسخط الْبَنَاتقَالَ الله تَعَالَى {لله ملك السَّمَاوَات وَالْأَرْض يخلق مَا يَشَاء يهب لمن يَشَاء إِنَاثًا ويهب لمن يَشَاء الذُّكُور أَو يزوجهم ذكرانا وإناثا وَيجْعَل من يَشَاء عقيما إِنَّه عليم قدير} الشورى 49 50
فقسم سُبْحَانَهُ حَال الزَّوْجَيْنِ إِلَى أَرْبَعَة أَقسَام اشْتَمَل عَلَيْهَا الْوُجُود وَأخْبر أَن مَا قدره بَينهمَا من الْوَلَد فقد وهبهما إِيَّاه وَكفى بِالْعَبدِ تعرضا لمقته أَن يتسخط مَا وهبه وَبَدَأَ سُبْحَانَهُ بِذكر الْإِنَاث فَقيل جبرا لَهُنَّ لأجل استثقال الْوَالِدين لمكانهن وَقيل وَهُوَ أحسن إِنَّمَا قدمهن لِأَن سِيَاق الْكَلَام أَنه فَاعل مَا يَشَاء لَا مَا يَشَاء الأبوان فان الْأَبَوَيْنِ لَا يُريدَان إِلَّا الذُّكُور غَالِبا وَهُوَ سُبْحَانَهُ قد أخبر أَنه يخلق مَا يَشَاء فَبَدَأَ بِذكر الصِّنْف الَّذِي يَشَاء وَلَا يُريدهُ الأبوان
وَعِنْدِي وَجه آخر وَهُوَ أَنه سُبْحَانَهُ قدم مَا كَانَت تؤخره الْجَاهِلِيَّة
দ্বিতীয় অধ্যায় কন্যা সন্তানে অসন্তুষ্টি প্রকাশের অপছন্দনীয়তা প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।} (সূরা আশ-শূরা: ৪৯-৫০)
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দম্পতিদের অবস্থাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন যা মহাবিশ্বে বিদ্যমান। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের উভয়ের মধ্যে তিনি যে সন্তানের ফয়সালা করেছেন, তা মূলত তাদের প্রতি তাঁর পক্ষ হতে দান। আর কোনো বান্দার জন্য আল্লাহর ক্রোধের শিকার হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ যা দান করেছেন তাতে সে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কন্যাদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন; বলা হয়ে থাকে যে, পিতা-মাতা তাদের উপস্থিতিকে ভার মনে করে বিধায় তাদের মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনার জন্য এটি করা হয়েছে। আবার বলা হয়ে থাকে—এবং এটিই অধিকতর উত্তম ব্যাখ্যা—যেহেতু আলোচনার প্রেক্ষাপট হলো তিনি যা চান তা-ই করেন, পিতা-মাতা যা চায় তা নয়; কারণ পিতা-মাতা সাধারণত পুত্র সন্তানই কামনা করে। আর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সৃষ্টি করেন। তাই তিনি সেই শ্রেণির উল্লেখ দিয়ে শুরু করেছেন যা তিনি চান কিন্তু পিতা-মাতা (সাধারণত) তা কামনা করে না।
আমার নিকট আরেকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে, আর তা হলো—জাহিলিয়াতের যুগে যাদের অবজ্ঞা করে পিছিয়ে রাখা হতো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা (এই আয়াতে) তাদেরই অগ্রগণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২১)
من أَمر الْبَنَات حَتَّى كَانُوا يئدوهن أَي هَذَا النَّوْع الْمُؤخر عنْدكُمْ مقدم عِنْدِي فِي الذّكر وَتَأمل كَيفَ نكر سُبْحَانَهُ الْإِنَاث وَعرف الذُّكُور فجبر نقص الْأُنُوثَة بالتقديم وجبر نقص التَّأْخِير بالتعريف فَإِن التَّعْرِيف تنويه كَأَنَّهُ قَالَ ويهب لمن يَشَاء الفرسان الْأَعْلَام الْمَذْكُورين الَّذين لَا يخفون عَلَيْكُم ثمَّ لما ذكر الصِّنْفَيْنِ مَعًا قدم الذُّكُور إِعْطَاء لكل من الجنسين حَقه من التَّقْدِيم وَالتَّأْخِير وَالله أعلم بِمَا أَرَادَ من ذَلِك
وَالْمَقْصُود أَن التسخط بالإناث من أَخْلَاق الْجَاهِلِيَّة الَّذين ذمهم الله تَعَالَى فِي قَوْله {وَإِذا بشر أحدهم بِالْأُنْثَى ظلّ وَجهه مسودا وَهُوَ كظيم يتَوَارَى من الْقَوْم من سوء مَا بشر بِهِ أيمسكه على هون أم يدسه فِي التُّرَاب أَلا سَاءَ مَا يحكمون} النَّحْل 58 59 وَقَالَ {وَإِذا بشر أحدهم بِمَا ضرب للرحمن مثلا ظلّ وَجهه مسودا وَهُوَ كظيم} الزخرف 17 وَمن هَاهُنَا عبر بعض المعبرين لرجل قَالَ لَهُ رَأَيْت كَأَن وَجْهي أسود فَقَالَ أَلَك امْرَأَة حَامِل قَالَ نعم قَالَ تَلد لَك أُنْثَى
وَفِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث أنس بن مَالك قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
কন্যাদের বিষয়টি এমন ছিল যে, তারা তাদের জীবন্ত সমাহিত করত। অর্থাৎ, তোমাদের নিকট যে শ্রেণীটি পশ্চাৎপদ হিসেবে গণ্য, আমার নিকট বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা অগ্রগণ্য। লক্ষ্য করুন, মহান আল্লাহ কীভাবে নারীবাচক শব্দকে অনির্দিষ্ট হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে নির্দিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি (প্রথমে উল্লেখ করার মাধ্যমে) নারীত্বের ঘাটতি পূরণ করেছেন এবং (পুরুষদের বিলম্বে উল্লেখের) ঘাটতিকে নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন। কেননা নির্দিষ্টকরণ এক প্রকার বিশেষায়িত গুরুত্ব প্রদান করে; যেন তিনি বলছেন: "তিনি যাকে ইচ্ছা সেই সুপরিচিত অশ্বারোহী বীরদের দান করেন, যারা তোমাদের অজানা নয়।" অতঃপর যখন তিনি উভয় শ্রেণীর কথা একত্রে উল্লেখ করলেন, তখন পুরুষদের আগে স্থান দিলেন যাতে উভয় লিঙ্গই তাদের অগ্রাধিকার ও পশ্চাৎবর্তিতার প্রাপ্য মর্যাদা লাভ করে। আর আল্লাহই ভালো জানেন তিনি এর মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য করেছেন।
মূল উদ্দেশ্য হলো, কন্যা সন্তান লাভে অসন্তুষ্ট হওয়া জাহিলিয়াতের স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত, যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে নিন্দা করেছেন: "যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ কওম থেকে আত্মগোপন করে। সে কি হীনতা সত্ত্বেও তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ।" (সূরা আন-নাহল: ৫৮-৫৯)। তিনি আরও বলেন: "যখন তাদের কাউকে সেই সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় যা সে পরম দয়াময়ের প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়।" (সূরা আয-যুখরুফ: ১৭)। এখান থেকেই জনৈক স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী এক ব্যক্তিকে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে বলেছিল: "আমি দেখলাম যেন আমার মুখমন্ডল কালো হয়ে গেছে।" তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমার কি কোনো গর্ভবতী স্ত্রী আছে?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তোমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেবে।"
আর সহীহ মুসলিমে আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২২)
من عَال جاريتين حَتَّى تبلغا جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة أَنا وَهُوَ هَكَذَا وَضم إصبعيه
وروى عبد الرَّزَّاق أخبرنَا معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن عُرْوَة بن الزبير عَن عَائِشَة قَالَت جَاءَت امْرَأَة وَمَعَهَا ابنتان لَهَا تَسْأَلنِي فَلم تَجِد عِنْدِي شَيْئا غير تَمْرَة وَاحِدَة فأعطيتها إِيَّاهَا فأخذتها فشقتها بَين ابنتيها وَلم تَأْكُل مِنْهَا شَيْئا ثمَّ قَامَت فَخرجت هِيَ وابنتاها فَدخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على تفيئة ذَلِك فَحَدَّثته حَدِيثهَا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من ابْتُلِيَ من هَذِه الْبَنَات بِشَيْء فَأحْسن إلَيْهِنَّ كن لَهُ سترا من النَّار رَوَاهُ ابْن الْمُبَارك عَن معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن عبد الله بن أبي بكر بن حزم عَن عُرْوَة وَهُوَ فِي الصَّحِيح والْحَدِيث فِي مُسْند أَحْمد
وَفِيه أَيْضا من حَدِيث أَيُّوب بن بشير الْأنْصَارِيّ عَن أبي سعيد
"যে ব্যক্তি দুইজন কন্যাসন্তানকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে এবং আমি এভাবে আসব"—এবং তিনি তাঁর অঙ্গুলিদ্বয় একত্রিত করলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; আয়েশা (রা.) বলেন: জনৈক নারী তাঁর দুই কন্যাসহ আমার নিকট এসে সাহায্য চাইলেন। তিনি আমার নিকট একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই পেলেন না। আমি সেটি তাঁকে দিয়ে দিলে তিনি তা গ্রহণ করে তাঁর দুই কন্যার মাঝে ভাগ করে দিলেন এবং নিজে তা থেকে কিছুই আহার করলেন না। এরপর তিনি উঠে তাঁর দুই কন্যাসহ বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলে আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যাকে এই কন্যাসন্তানদের মাধ্যমে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয় এবং সে তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তবে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে।" ইবনুল মুবারক এটি মা'মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাজম থেকে এবং তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি সহিহ (صحيح) গ্রন্থে বর্ণিত এবং হাদিসটি মুসনাদ আহমদেও রয়েছে।
এবং এতে আইয়ুব ইবনে বশির আল-আনসারি থেকে আবু সাঈদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْخُدْرِيّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يكون لأحد ثَلَاث بَنَات أَو ثَلَاث أَخَوَات أَو بنتان أَو أختَان فيتقي الله فِيهِنَّ وَيحسن إلَيْهِنَّ إِلَّا دخل الْجنَّة وَرَوَاهُ الْحميدِي عَن سُفْيَان عَن سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أَيُّوب بن بشير عَن سعيد الْأَعْشَى عَن أبي سعيد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من كَانَ لَهُ ثَلَاث بَنَات أَو أَخَوَات أَو بنتان أَو أختَان فَأحْسن صحبتهن وصبر عَلَيْهِنَّ وَاتَّقَى الله فِيهِنَّ دخل الْجنَّة
وَقَالَ مُحَمَّد بن عبد الله الْأنْصَارِيّ عَن ابْن جريج حَدثنِي أَبُو الزبير عَن عمر بن نَبهَان عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من كَانَ لَهُ ثَلَاث بَنَات فَصَبر على لأوائهن وعَلى ضرائهن دخل الْجنَّة وَفِي رِوَايَة فَقَالَ رجل يَا رَسُول الله واثنتين قَالَ واثنتين قَالَ يَا رَسُول الله وَوَاحِدَة قَالَ وَوَاحِدَة
আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা বা তিনটি বোন অথবা দুটি কন্যা বা দুটি বোন থাকে, অতঃপর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এটি আল-হুমাইদি সুফিয়ান থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে বাশির থেকে, তিনি সাঈদ আল-আ’শা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যার তিনটি কন্যা বা বোন অথবা দুটি কন্যা বা দুটি বোন থাকে, অতঃপর সে তাদের সাথে উত্তম সহাবস্থান করল, তাদের ওপর ধৈর্য ধারণ করল এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুয যুবাইর আমার নিকট উমর ইবনে নাবহান থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যার তিনটি কন্যা রয়েছে এবং সে তাদের দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটনে ধৈর্য ধারণ করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুজন হয়?" তিনি বললেন, "দুজন হলেও।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! যদি একজন হয়?" তিনি বললেন, "একজন হলেও।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ حَدثنَا أَحْمد بن الْحسن حَدثنَا الْأَصَم حَدثنَا الْحسن بن مكرم حَدثنَا عُثْمَان بن عمر أنبأ النهاس عَن شَدَّاد أبي عمار عَن عَوْف بن مَالك أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من كَانَ لَهُ ثَلَاث بَنَات ينْفق عَلَيْهِنَّ حَتَّى بَين أَو يمتن كن لَهُ حِجَابا من النَّار
وَقَالَ عَليّ بن الْمَدِينِيّ حَدثنَا يزِيد بن زُرَيْع حَدثنَا النهاس بن قهم حَدثنَا شَدَّاد أَبُو عمار عَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من عبد يكون لَهُ ثَلَاث بَنَات فينفق عَلَيْهِنَّ حَتَّى يبن أَو يمتن إِلَّا كن لَهُ حِجَابا من النَّار فَقَالَت امْرَأَة يَا رَسُول الله وابنتان قَالَ وابنتان قَالَ وَقَالَ أَبُو عمار عَن عَوْف بن مَالك قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا وَامْرَأَة سفعاء الْخَدين كهاتين فِي الْجنَّة
ইমাম বায়হাকী বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আল-হাসান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-আসাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুকরাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নাহহাস, শাদ্দাদ আবু আম্মার থেকে, তিনি আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের পেছনে ব্যয় করে যতক্ষণ না তারা স্বতন্ত্র হয় অথবা মৃত্যুবরণ করে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকারী পর্দা হবে।"
এবং আলী ইবনে আল-মাদিনী বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে যুরাই, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আন-নাহহাস ইবনে কাহাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাদ্দাদ আবু আম্মার, তিনি আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো বান্দার তিনটি কন্যা সন্তান থাকে এবং সে তাদের পেছনে ব্যয় করে যতক্ষণ না তারা স্বতন্ত্র হয় অথবা মৃত্যুবরণ করে, তারা অবশ্যই তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকারী পর্দা হবে।" তখন এক মহিলা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আর যদি দুইজন হয়?' তিনি বললেন, "দুইজন হলেও।" তিনি বলেন, এবং আবু আম্মার আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি এবং সন্তানদের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী বিবর্ণ গালবিশিষ্ট নারী জান্নাতে এই দুটির ন্যায় (একত্রে) থাকব।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وروى فطر بن خَليفَة عَن شُرَحْبِيل بن سعد عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من مُسلم يكون لَهُ ابنتان فَيحسن إِلَيْهِمَا مَا صحبهما وصحبتاه إِلَّا أدخلتاه الْجنَّة
وَقَالَ عبد الرَّزَّاق أَنبأَنَا معمر عَن ابْن الْمُنْكَدر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من كَانَ لَهُ ثَلَاث بَنَات أَو أَخَوَات فكفهن وآواهن وزوجهن دخل الْجنَّة قَالُوا وابنتان قَالَ وابنتان حَتَّى ظننا أَنهم لَو قَالُوا أَو وَاحِدَة قَالَ أَو وَاحِدَة هَذَا مُرْسل
وَقَالَ عبد الله بن الْمُبَارك عَن حَرْمَلَة بن عمرَان قَالَ سَمِعت أَبَا عشانة قَالَ سَمِعت عقبَة بن عَامر الْجُهَنِيّ يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من كَانَت لَهُ ثَلَاث بَنَات فَصَبر عَلَيْهِنَّ فأطعمهن وسقاهن وكساهن من
ফিতর ইবনে খলিফা শুরাহবিল ইবনে সা’দ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তির যদি দুইজন কন্যা থাকে এবং সে যতদিন তারা তার সঙ্গে থাকে এবং সে তাদের সঙ্গে থাকে, তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, তবে তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুনকাদির থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যার তিনটি কন্যা বা বোন থাকে এবং সে তাদের ভরণপোষণ দেয়, তাদের আশ্রয় দেয় এবং তাদের বিবাহ দেয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” তাঁরা বললেন, “এবং দুইজন হলেও?” তিনি বললেন, “এবং দুইজন হলেও।” এমনকি আমাদের ধারণা হলো যে, তাঁরা যদি একজন সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করতেন, তবে তিনি বলতেন, “এবং একজন হলেও।” এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা।
এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক হারমালা ইবনে ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আশানা থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “যার তিনটি কন্যা থাকে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের আহার, পানীয় ও পোশাকের ব্যবস্থা করে...”
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جدته كن لَهُ حِجَابا من النَّار رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده
وَقد قَالَ تَعَالَى فِي حق النِّسَاء {فَإِن كرهتموهن فَعَسَى أَن تكْرهُوا شَيْئا وَيجْعَل الله فِيهِ خيرا كثيرا} النِّسَاء 19 وَهَكَذَا الْبَنَات أَيْضا قد يكون للْعَبد فِيهِنَّ خير فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَيَكْفِي فِي قبح كراهتهن أَن يكره مَا رضيه الله وَأَعْطَاهُ عَبده وَقَالَ صَالح بن أَحْمد كَانَ أبي إِذا ولد لَهُ ابْنة يَقُول الْأَنْبِيَاء كَانُوا آبَاء بَنَات وَيَقُول قد جَاءَ فِي الْبَنَات مَا قد علمت وَقَالَ يَعْقُوب بن بختان ولد لي سبع بَنَات فَكنت كلما ولد لي ابْنة دخلت على أَحْمد بن حَنْبَل فَيَقُول لي يَا أَبَا يُوسُف الْأَنْبِيَاء آبَاء بَنَات فَكَانَ يذهب قَوْله همي
...তার নাতনিরা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকবচ হবে। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নারীদের বিষয়ে বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হতে পারে যে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ প্রচুর কল্যাণ নিহিত রেখেছেন} (আন-নিসা: ১৯)। একইভাবে কন্যাদের ক্ষেত্রেও ইহকাল ও পরকালে বান্দার জন্য কল্যাণ থাকতে পারে। তাদের অপছন্দ করার নিকৃষ্টতা বর্ণনায় এটুকুই যথেষ্ট যে, ব্যক্তি তা-ই অপছন্দ করছে যা আল্লাহ পছন্দ করেছেন এবং তাঁর বান্দাকে দান করেছেন। সালেহ ইবনে আহমদ বলেন, আমার পিতার যখন কোনো কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হতো, তখন তিনি বলতেন: “নবীগণ কন্যাদের পিতা ছিলেন।” তিনি আরও বলতেন: “কন্যাদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা তো তুমি জানোই।” ইয়াকুব ইবনে বখতান বলেন, আমার সাতটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। যখনই আমার কোনো মেয়ে হতো, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট যেতাম। তিনি আমাকে বলতেন: “হে আবু ইউসুফ! নবীগণ কন্যাদের পিতা ছিলেন।” ফলে তাঁর এই কথা আমার সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দিত।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْبَاب الثَّالِث فِي اسْتِحْبَاب بِشَارَة من ولد لَهُ ولد وتهنئتهقَالَ الله تَعَالَى فِي قصَّة إِبْرَاهِيم عليه السلام {وَلَقَد جَاءَت رسلنَا إِبْرَاهِيم بالبشرى قَالُوا سَلاما قَالَ سَلام فَمَا لبث أَن جَاءَ بعجل حنيذ فَلَمَّا رأى أَيْديهم لَا تصل إِلَيْهِ نكرهم وأوجس مِنْهُم خيفة قَالُوا لَا تخف إِنَّا أرسلنَا إِلَى قوم لوط وَامْرَأَته قَائِمَة فَضَحكت فبشرناها بِإسْحَاق وَمن وَرَاء إِسْحَاق يَعْقُوب} إِلَى قَوْله {فَلَمَّا ذهب عَن إِبْرَاهِيم الروع وجاءته الْبُشْرَى يجادلنا فِي قوم لوط} هود 69 74
وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَة الصافات {فبشرناه بِغُلَام حَلِيم} الصافات 101 وَقَالَ فِي الذاريات {وبشروه بِغُلَام عليم} الذاريات 28 وَقَالَ فِي سُورَة الْحجر {ونبئهم عَن ضيف إِبْرَاهِيم إِذْ دخلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلاما قَالَ إِنَّا مِنْكُم وجلون قَالُوا لَا توجل إِنَّا نبشرك بِغُلَام عليم قَالَ أبشرتموني على أَن مسني الْكبر فَبِمَ تبشرون قَالُوا بشرناك بِالْحَقِّ فَلَا تكن من القانطين قَالَ وَمن يقنط من رَحْمَة ربه إِلَّا الضالون} الْحجر 57 - 52 وَقَالَ تَعَالَى {يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نبشرك بِغُلَام اسْمه يحيى لم نجْعَل لَهُ من قبل سميا} مَرْيَم 7
তৃতীয় পরিচ্ছেদ যার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে তাকে সুসংবাদ প্রদান ও অভিনন্দন জানানোর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া প্রসঙ্গেমহান আল্লাহ ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, {আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইবরাহিমের নিকট সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল। তারা বলল, ‘সালাম’; তিনিও বললেন, ‘সালাম’। অতঃপর তিনি অবিলম্বে একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে আসলেন। যখন তিনি দেখলেন যে, তাদের হাত খাবারের দিকে পৌঁছাচ্ছে না, তখন তিনি তাদের অপরিচিত মনে করলেন এবং তাদের থেকে মনে মনে কিছুটা আতঙ্কবোধ করলেন। তারা বলল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা লুত জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছি’। আর তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম এবং ইসহাকের পরে ইয়াকুবের (সুসংবাদ দিলাম)} থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত {অতঃপর যখন ইবরাহিমের আতঙ্ক দূর হলো এবং তার নিকট সুসংবাদ পৌঁছাল, তখন সে লুত জাতি সম্পর্কে আমার (প্রেরিত ফেরেশতাদের) সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো} (সূরা হুদ: ৬৯-৭৪)।
এবং আল্লাহ তাআলা সূরা আস-সাফফাত-এ ইরশাদ করেছেন, {অতঃপর আমি তাকে এক পরম ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম} (সূরা আস-সাফফাত: ১০১)। এবং সূরা আয-যারিয়াত-এ ইরশাদ করেছেন, {এবং তারা তাকে এক পরম জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিল} (সূরা আয-যারিয়াত: ২৮)। এবং সূরা আল-হিজর-এ ইরশাদ করেছেন, {আর আপনি তাদেরকে ইবরাহিমের মেহমানদের সম্পর্কে অবহিত করুন। যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করে বলল, ‘সালাম’। তিনি বললেন, ‘আমরা তো তোমাদের ব্যাপারে আতঙ্কিত’। তারা বলল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা আপনাকে এক পরম জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি’। তিনি বললেন, ‘বার্ধক্য আমাকে স্পর্শ করা সত্ত্বেও কি তোমরা আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছ? তবে কিসের ভিত্তিতে তোমরা সুসংবাদ দিচ্ছ?’ তারা বলল, ‘আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিচ্ছি, সুতরাং আপনি নিরাশদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না’। তিনি বললেন, ‘পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়?’} (সূরা আল-হিজর: ৫২-৫৭)। এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে আমি কাউকে এই নামধারী করিনি} (সূরা মারইয়াম: ৭)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقَالَ {فنادته الْمَلَائِكَة وَهُوَ قَائِم يُصَلِّي فِي الْمِحْرَاب أَن الله يبشرك بِيَحْيَى مُصدقا} آل عمرَان 39 وَلما كَانَت الْبشَارَة تسر العَبْد وتفرحه اسْتحبَّ للْمُسلمِ أَن يُبَادر إِلَى مَسَرَّة أَخِيه وإعلامه بِمَا يفرحه 0
وَلما ولد النَّبِي صلى الله عليه وسلم بشرت بِهِ ثويبة عَمه أَبَا لَهب وَكَانَ مَوْلَاهَا وَقَالَت قد ولد اللَّيْلَة لعبد الله ابْن فَأعْتقهَا أَبُو لَهب سُرُورًا بِهِ فَلم يضيع الله ذَلِك لَهُ وسقاه بعد مَوته فِي النقرة الَّتِي فِي أصل إبهامه فان فَاتَتْهُ الْبشَارَة اسْتحبَّ لَهُ تهنئته وَالْفرق بَينهمَا إِن الْبشَارَة إِعْلَام لَهُ بِمَا يسره والتهنئة دُعَاء لَهُ بِالْخَيرِ فِيهِ بعد أَن علم بِهِ
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে আহ্বান করল যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন যে, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করছেন} (আলে ইমরান: ৩৯)। যেহেতু সুসংবাদ (بشارة) বান্দাকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করে, সেহেতু একজন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের আনন্দদায়ক কোনো বিষয়ে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে প্রফুল্ল করা পছন্দনীয় (مستحب)।
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন সুওয়াইবাহ তাঁর চাচা আবু লাহাবকে তাঁর জন্মের সুসংবাদ (بشارة) প্রদান করেন; তিনি আবু লাহাবের দাসী ছিলেন। তিনি বললেন, "আজ রাতে আবদুল্লাহর এক পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে।" আবু লাহাব তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়ে তাঁকে মুক্ত করে দেন। আল্লাহ তাঁর এই কর্মটি বিফলে যেতে দেননি এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ায় অবস্থিত ক্ষুদ্র গর্তের ন্যায় স্থান থেকে তাঁকে পানি পান করিয়েছেন। যদি সুসংবাদ (بشارة) প্রদানের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে অভিনন্দন (تهنئة) জানানো পছন্দনীয় (مستحب)। এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো: সুসংবাদ (بشارة) হলো কাউকে আনন্দদায়ক সংবাদ প্রদান করে অবহিত করা, আর অভিনন্দন (تهنئة) হলো বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তাতে বরকত ও কল্যাণের দোয়া করা।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَلِهَذَا لما أنزل الله تَوْبَة كَعْب بن مَالك وصاحبيه ذهب إِلَيْهِ البشير فبشره فَلَمَّا دخل الْمَسْجِد جَاءَ النَّاس فهنؤوه وَكَانَت الْجَاهِلِيَّة يَقُولُونَ فِي تهنئتهم بِالنِّكَاحِ بالرفاء والبنين والرفاء الالتحام والاتفاق أَي تزوجت زواجا يحصل بِهِ الِاتِّفَاق والالتحام بَيْنكُمَا والبنون فيهنؤون بالبنين سلفا وتعجيلا وَلَا يَنْبَغِي للرجل أَن يهنىء بالابن وَلَا يهنىء بالبنت بل يهنىء بهما أَو يتْرك التهنئه ليتخلص من سنة الْجَاهِلِيَّة فان كثيرا مِنْهُم كَانُوا يهنئون بالابن وبوفاة الْبِنْت دون وِلَادَتهَا وَقَالَ أَبُو بكر بن الْمُنْذر فِي الْأَوْسَط روينَا عَن الْحسن الْبَصْرِيّ أَن رجلا جَاءَ إِلَيْهِ وَعِنْده رجل قد ولد لَهُ غُلَام فَقَالَ لَهُ يهنك الْفَارِس فَقَالَ لَهُ الْحسن مَا يدْريك فَارس هُوَ أَو حمَار قَالَ فَكيف نقُول قَالَ قل بورك لَك فِي الْمَوْهُوب وشكرت الْوَاهِب وَبلغ رشده وَرزقت بره وَالله اعْلَم
এজন্যই যখন আল্লাহ তাআলা কাব বিন মালিক এবং তাঁর দুই সাথীর তাওবা কবুল করার বিষয়টি নাযিল করলেন, তখন একজন সুসংবাদদাতা তাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে সুসংবাদ প্রদান করলেন। অতঃপর যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন লোকজন এসে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করল। আর জাহিলিয়াত যুগের লোকেরা বিবাহের অভিনন্দনে বলত, 'রাফা ও বানীন' (সুখ-শান্তি ও পুত্রসন্তান)। 'রাফা' হলো নিবিড় বন্ধন ও ঐক্য; অর্থাৎ তোমাদের মাঝে ঐক্য ও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হয় এমন বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। আর 'বানীন' বলতে তারা আগেভাগে ও দ্রুত পুত্রসন্তান লাভের অভিনন্দন জানাত। কোনো ব্যক্তির জন্য কেবল পুত্রসন্তানের অভিনন্দন জানানো কিংবা কেবল কন্যাসন্তানের অভিনন্দন জানানো উচিত নয়; বরং উভয় সন্তানের জন্যই অভিনন্দন জানাবে অথবা অভিনন্দন জানানো বর্জন করবে, যেন জাহিলিয়াতের প্রথা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কেননা তাদের অনেকেই পুত্রসন্তানের জন্য অভিনন্দন জানাত এবং কন্যাসন্তানের জন্মের পরিবর্তে তার মৃত্যুতে অভিনন্দন জানাত। আবু বকর বিন মুনযির তাঁর আল-আওসাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আমাদের নিকট হাসান বসরী থেকে বর্ণিত (روينا) হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে সেখানে এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যার একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। তখন আগন্তুক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'বীর অশ্বারোহী হওয়ার অভিনন্দন!' হাসান বসরী তাকে বললেন, 'তুমি কীভাবে জানলে যে সে অশ্বারোহী হবে নাকি গাধা হবে?' সে বলল, 'তবে আমরা কী বলব?' তিনি বললেন, 'বলো: যা দান করা হয়েছে তাতে আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তুমি দাতার শুকরিয়া আদায় করো, সন্তানটি পূর্ণ বয়সে উপনীত হোক এবং তুমি তার আনুগত্য লাভ করো।' আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْبَاب الرَّابِع فِي اسْتِحْبَاب التأذين فِي أُذُنه الْيُمْنَى وَالْإِقَامَة فِي أُذُنه الْيُسْرَىوَفِي هَذَا الْبَاب أَحَادِيث أَحدهَا مَا رَوَاهُ أَبُو عبد الله الْحَاكِم حَدثنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن دُحَيْم حَدثنَا أَحْمد بن حَازِم بن أبي غرزة حَدثنَا عبيد الله بن مُوسَى أَنا سُفْيَان بن سعيد الثَّوْريّ عَن عَاصِم بن عبيد الله أَخْبرنِي عبيد الله بن أبي رَافع عَن أبي رَافع قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أذن فِي أذن الْحسن بن عَليّ حِين وَلدته فَاطِمَة رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث صَحِيح
الثَّانِي مَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب من حَدِيث الْحسن بن عَليّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من ولد لَهُ مَوْلُود فَأذن فِي أُذُنه الْيُمْنَى وَأقَام فِي أُذُنه الْيُسْرَى رفعت عَنهُ أم الصّبيان
চতুর্থ অধ্যায় নবজাতকের ডান কানে আজান এবং বাম কানে একামত দেওয়া মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া প্রসঙ্গেএই অধ্যায়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো যা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন দুহাইম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন হাযিম বিন আবি গারজাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরি থেকে, তিনি আসিম বিন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে থেকে, তিনি আবু রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হাসান বিন আলীর কানে আজান দিতে দেখেছি যখন ফাতিমা তাঁকে জন্ম দিয়েছিলেন। এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) একে সহিহ (صحيح) হাদিস বলেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো যা বাইহাকি 'শুয়াবুল ঈমান' গ্রন্থে হাসান বিন আলী থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যার কোনো সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, এরপর সে যদি তার ডান কানে আজান দেয় এবং বাম কানে একামত দেয়, তবে তার থেকে 'উম্মুস সিবইয়ান' (নবজাতকের ব্যাধি বা শয়তানি প্রভাব) দূর করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ - তাহকিক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالثَّالِث مَا رَوَاهُ أَيْضا من حَدِيث أبي سعيد عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أذن فِي أذن الْحسن بن عَليّ يَوْم ولد وَأقَام فِي أُذُنه الْيُسْرَى قَالَ وَفِي إسنادهما ضعف
وسر التأذين وَالله أعلم أَن يكون أول مَا يقرع سمع الْإِنْسَان كَلِمَاته المتضمنة لكبرياء الرب وعظمته وَالشَّهَادَة الَّتِي أول مَا يدْخل بهَا فِي الْإِسْلَام فَكَانَ ذَلِك كالتلقين لَهُ شعار الْإِسْلَام عِنْد دُخُوله إِلَى الدُّنْيَا كَمَا يلقن كلمة التَّوْحِيد عِنْد خُرُوجه مِنْهَا وَغير مستنكر وُصُول أثر التأذين إِلَى قلبه وتأثيره بِهِ وان لم يشْعر مَعَ مَا فِي ذَلِك من فَائِدَة أُخْرَى وَهِي هروب الشَّيْطَان من كَلِمَات الْأَذَان وَهُوَ كَانَ يرصده حَتَّى يُولد فيقارنه للمحنة الَّتِي قدرهَا الله وشاءها فَيسمع شَيْطَانه مَا يُضعفهُ ويغيظه أول أَوْقَات تعلقه بِهِ
وَفِيه معنى آخر وَهُوَ أَن تكون دَعوته إِلَى الله وَإِلَى دينه الْإِسْلَام وَإِلَى عِبَادَته سَابِقَة على دَعْوَة الشَّيْطَان كَمَا كَانَت فطْرَة الله الَّتِي فطر عَلَيْهَا سَابِقَة على تَغْيِير الشَّيْطَان لَهَا وَنَقله عَنْهَا ولغير ذَلِك من الحكم
তৃতীয় বর্ণনাটি হলো যা তিনি আবু সাঈদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসেও উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ইবনে আলীর জন্মের দিন তার কানে আজান দিয়েছিলেন এবং তার বাম কানে ইকামত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই দুটিরই বর্ণনা সূত্রে (إسناد) দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।
আজান দেওয়ার রহস্য—আর আল্লাহই ভালো জানেন—হলো মানুষের শ্রবণে সর্বপ্রথম যা আঘাত করবে তা যেন হয় রবের মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্বলিত বাক্যসমূহ এবং সেই সাক্ষ্য (শাহাদাহ) যার মাধ্যমে মানুষ প্রথম ইসলামে প্রবেশ করে। ফলে এটি দুনিয়াতে প্রবেশের সময় তাকে ইসলামের প্রতীক তালকিন (দীক্ষা) দেওয়ার মতো, যেমনটি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাকে তাওহিদের কালিমার তালকিন করা হয়। আজানের প্রভাব শিশুর অন্তরে পৌঁছানো এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হওয়াকে অস্বীকার করা যায় না, যদিও সে তা উপলব্ধি করতে না পারে। এর পাশাপাশি এতে আরেকটি উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো আজানের শব্দ শুনে শয়তানের পলায়ন; কেননা সে শিশুটির জন্মের প্রতীক্ষায় ওত পেতে থাকে যেন আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ও ইচ্ছাকৃত পরীক্ষার কারণে সে তার সাথে যুক্ত হতে পারে। ফলে তার (শিশুর) শয়তানটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার প্রথম মুহূর্তেই এমন কিছু শুনতে পায় যা তাকে দুর্বল ও রাগান্বিত করে দেয়।
এতে আরও একটি নিহিত অর্থ রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহ, তাঁর দ্বীন ইসলাম এবং তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান যেন শয়তানের আহ্বানের অগ্রগামী হয়; যেমন আল্লাহর সেই সৃষ্টিগত স্বভাব (ফিতরাত), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তা শয়তানের পরিবর্তন ও বিচ্যুত করার পূর্বেই বিদ্যমান থাকে। এছাড়াও এতে আরও অনেক হিকমত বা প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে।