(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: -)
دفع التشنيع في مسألة التسميع القسم: مسائل فقهية
الكتاب: دفع التشنيع في مسألة التسميع
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: د. خالد عبد الكريم جمعة , عبد القادر أحمد عبد القادر
الناشر: مكتبة دار العروبة - الكويت
الطبعة: الأولى، 1407
عدد الصفحات: 29
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
সম্পাদক: ড. খালিদ আব্দুল কারিম জুমআ, আব্দুল কাদির আহমদ আব্দুল কাদির
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مَسْأَلَة مَذْهَب الشَّافِعِي رضي الله عنه أَن الْمُصَلِّي إِذا رفع رَأسه من الرُّكُوع يَقُول فِي حَال ارتفاعه سمع الله لمن حَمده فَإِذا اسْتَوَى قَائِما يَقُول رَبنَا لَك الْحَمد وَأَنه يسْتَحبّ الْجمع بَين هذَيْن للْإِمَام وَالْمَأْمُوم وَالْمُنْفَرد وَبِهَذَا قَالَ عَطاء وَأَبُو بردة وَمُحَمّد بن سِيرِين وَإِسْحَق وَدَاوُد
وَقَالَ أَبُو حنيفَة يَقُول الإِمَام وَالْمُنْفَرد سمع الله لمن حَمده فَقَط وَالْمَأْمُوم رَبنَا لَك الْحَمد فَقَط وَحَكَاهُ ابْن الْمُنْذر عَن ابْن مَسْعُود وَأبي هُرَيْرَة وَالشعْبِيّ وَمَالك وَأحمد قَالَ وَبِه أَقُول
وَقَالَ الثَّوْريّ وَالْأَوْزَاعِيّ وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد وَأحمد يجمع الإِمَام بَين الذكرين ويقتصر الْمَأْمُوم على رَبنَا لَك الْحَمد وَاحْتج لَهُم بِحَدِيث أبي هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّمَا جعل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
একটি মাসয়ালা ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব হলো, মুসল্লি যখন রুকু থেকে তার মাথা উত্তোলন করেন, তখন মাথা তোলার অবস্থায় তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবেন। অতঃপর যখন সোজা হয়ে দাঁড়াবেন, তখন ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবেন। ইমাম, মুক্তাদি এবং একাকী নামাজ আদায়কারী সকলের জন্য এই উভয় যিকিরের সমন্বয় করা মুস্তাহাব। আতা, আবু বুরদাহ, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, ইসহাক এবং দাউদও এই মত ব্যক্ত করেছেন।
আবু হানিফাহ বলেন, ইমাম এবং একাকী নামাজ আদায়কারী কেবল ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবেন এবং মুক্তাদি কেবল ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবেন। ইবনে মুনযির এটি ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা, শাবি, মালিক এবং আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ‘আমিও এই মতই পোষণ করি।’
সাওরি, আওযায়ি, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং আহমাদ বলেন, ইমাম উভয় যিকিরের সমন্বয় করবেন এবং মুক্তাদি কেবল ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন। তারা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই [ইমাম] নির্ধারণ করা হয়েছে...’
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الإِمَام ليؤتم بِهِ فَلَا تختلفوا عَلَيْهِ فَإِذا كبر فكبروا وَإِذا ركع فاركعوا وَإِذا قَالَ سمع الله لمن حَمده فَقولُوا رَبنَا لَك الْحَمد وَإِذا سجد فاسجدوا وَإِذا صلى جَالِسا فصلوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ وَبِحَدِيث عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا قَالَت صلى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي بَيته وَهُوَ شَاك فصلى جَالِسا وَصلى وَرَاءه قوم قيَاما فَأَشَارَ إِلَيْهِم أَن اجلسوا فَلَمَّا انْصَرف قَالَ إِنَّمَا جعل الإِمَام ليؤتم بِهِ فَإِذا ركع فاركعوا وَإِذا رفع فارفعوا وَإِذا قَالَ سمع الله لمن حَمده فَقولُوا رَبنَا لَك الْحَمد وَإِذا صلى جَالِسا فصلوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ رَوَاهُمَا الشَّيْخَانِ
ولأصحابنا الشَّافِعِيَّة فِي الإحتجاج مسالك
المسلك الأول أَنه لَا حجَّة للخصوم فِي هذَيْن الْحَدِيثين إِذْ لَيْسَ فيهمَا مَا يدل على النَّفْي بل فيهمَا أَن قَول الْمَأْمُوم رَبنَا لَك الْحَمد يكون عقب قَول الإِمَام سمع الله لمن حَمده وَالْوَاقِع فِي التَّصْوِير ذَلِك لِأَن الإِمَام يَقُول التسميع فِي حَال انْتِقَاله وَالْمَأْمُوم يَقُول التَّحْمِيد فِي حَال اعتداله فَقَوله يَقع عقب قَول الإِمَام كَمَا فِي الحَدِيث وَنَظِير ذَلِك قَوْله صلى الله عليه وسلم إِذا قَالَ الإِمَام وَلَا
ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য, সুতরাং তোমরা তার সাথে মতবিরোধ করো না। যখন তিনি তাকবীর দেবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দাও। যখন তিনি রুকু করবেন, তখন তোমরাও রুকু করো। যখন তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলবেন, তখন তোমরা ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলো। যখন তিনি সাজদাহ করবেন, তখন তোমরা সাজদাহ করো। আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করো। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) বর্ণিত হাদিস অনুসারে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ অবস্থায় তাঁর ঘরে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি বসে ছিলেন। তাঁর পেছনে একদল লোক দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাঁদের বসে যাওয়ার জন্য ইঙ্গিত করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন: ইমাম তো নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্যই। সুতরাং যখন তিনি রুকু করবেন, তোমরা রুকু করো; যখন তিনি মাথা তুলবেন, তোমরাও মাথা তোলো; যখন তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলবেন, তোমরা ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলো। আর তিনি যদি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। শাইখাইন হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন।
আমাদের শাফেয়ি আলিমগণের দলীল (حجة) উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি (مسالك) রয়েছে।
প্রথম পদ্ধতি (المسلك الأول) নিশ্চয়ই এই হাদিস দুটিতে প্রতিপক্ষের জন্য কোনো প্রমাণ (حجة) নেই, কারণ এতে বর্জন বা অস্বীকারের (نفي) কোনো অবকাশ নেই। বরং এতে বর্ণিত হয়েছে যে, মুক্তাদীর ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলা ইমামের ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলার পরপরই হবে। আর বাস্তবে বিষয়টি এমনই ঘটে, কারণ ইমাম স্থানান্তরের সময় তাসমি (تسميع) পাঠ করেন এবং মুক্তাদী সোজা হয়ে স্থির হওয়ার সময় তাহমিদ (تحميد) পাঠ করেন। ফলে মুক্তাদীর উক্তি ইমামের উক্তির পরেই সংগঠিত হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে। এর দৃষ্টান্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: যখন ইমাম বলবেন ‘ওয়ালা (ولا)...’
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الضَّالّين فَقولُوا آمين فَإِنَّهُ لَا يلْزم مِنْهُ أَن الإِمَام لَا يُؤمن بعد قَوْله {وَلَا الضَّالّين} وَلَيْسَ فِيهِ تَصْرِيح بِأَن الإِمَام يُؤمن كَمَا أَنه لَيْسَ فِي هذَيْن الْحَدِيثين تَصْرِيح بِأَن الإِمَام يَقُول رَبنَا لَك الْحَمد لكنهما مستفادان من أَدِلَّة أُخْرَى صَرِيحَة مِنْهَا هُنَا مَا أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا قَالَ سمع الله لمن حَمده قَالَ اللَّهُمَّ لَك الْحَمد
وَأخرج مُسلم عَن حُذَيْفَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ حِين رفع رَأسه سمع الله لمن حَمده رَبنَا لَك الْحَمد
وَأخرج البُخَارِيّ مثله من رِوَايَة ابْن عمر وَمُسلم مثله من رِوَايَة عبد الله بن أبي أوفى
فَثَبت بِهَذِهِ الْأَحَادِيث أَن الإِمَام يجمع بَين التسميع والتحميد على خلاف ظَاهر هذَيْن الْحَدِيثين فَلم يصلح الإستدلال بهما على ان الإِمَام لَا يجمع بَينهمَا واذا لم يصلح الِاسْتِدْلَال بهما فِي حق الإِمَام لم يصلح الإستدلال بهما فِي حق الْمَأْمُوم أَيْضا كَمَا لايخفى
...আ-লীন (الضَّالّين), তখন তোমরা আমীন বলো। কেননা এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, ইমাম 'ওয়ালাদ-দাল্লীন' (وَلَا الضَّالّين) বলার পর আমীন বলবেন না। আবার এতে ইমামের আমীন বলার বিষয়টি স্পষ্ট বর্ণনা (تصريح) হিসেবে নেই, যেমনটি এই দুটি হাদিসে ইমামের 'রব্বানা লাকাল হামদ' বলার বিষয়টি স্পষ্ট বর্ণনা (تصريح) হিসেবে নেই। তবে এই উভয় বিষয় অন্য সব সুস্পষ্ট (صريحة) দলিল থেকে সংগৃহীত। এর মধ্যে একটি হলো যা বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তখন বলতেন 'আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ'।
মুসলিম হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) যখন তাঁর মাথা তুলতেন তখন বলতেন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হামদ'।
বুখারি অনুরূপ বর্ণনা (رواية) ইবনে উমর (রা.) থেকে এবং মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা (رواية) আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
সুতরাং এই হাদিসগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, ইমাম তাসমি (تسميع) এবং তাহমিদ (تحميد)-এর মধ্যে সমন্বয় করবেন, যা এই দুই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر)-এর পরিপন্থী। অতএব, ইমাম এই দুটির সমন্বয় করবেন না—এই মর্মে উক্ত হাদিসদ্বয় দ্বারা প্রমাণ পেশ করা (استدلال) সঠিক নয়। আর ইমামের ক্ষেত্রে যখন এই প্রমাণ পেশ করা (استدلال) সঠিক নয়, তখন মুক্তাদির (مأموم) ক্ষেত্রেও তা সঠিক হবে না, যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المسلك الثَّانِي إِذا ثَبت أَنه لَا دلَالَة فِي هذَيْن الْحَدِيثين على أَن الإِمَام لَا يجمع بَين الذكرين وَلَا على أَن الْمَأْمُوم لَا يجمع بَينهمَا وَثَبت أَن التَّصْرِيح بِأَن الإِمَام يجمع بَينهمَا من أَدِلَّة أُخْرَى دلّ ذَلِك على أَن الْمَأْمُوم أَيْضا يجمع بَينهمَا لِأَن الأَصْل اسْتِوَاء الْمَأْمُوم فِيمَا يسْتَحبّ من الْأَذْكَار فِي الصَّلَاة كتكبيرات الإنتقالات وتسبيحات الرُّكُوع وَالسُّجُود
المسلك الثَّالِث ثَبت فِي صَحِيح البُخَارِيّ من حَدِيث مَالك بن الْحُوَيْرِث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ صلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي فَهَذَا يدل على أَن الْمَأْمُوم يجمع بَين التسميع والتحميد لِأَنَّهُ أَمر الْأَئِمَّة بِأَن يصلوا كَمَا صلى وَقد ثَبت بِتِلْكَ الْأَحَادِيث أَنه لما صلى قَالَ سمع الله لمن حَمده رَبنَا لَك الْحَمد فَلَزِمَ من ذَلِك أَن كل مصل يَقُول ذَلِك فتتحقق المثلية
المسلك الرَّابِع نقل الطَّحَاوِيّ وَابْن عبد الْبر الْإِجْمَاع على أَن الْمُنْفَرد يجمع بَينهمَا وَجعله الطَّحَاوِيّ حجَّة لكَون الإِمَام يجمع بَينهمَا وَيصْلح جعله حجَّة لكَون الْمَأْمُوم أَيْضا يجمع بَينهمَا لِأَن الأَصْل إستواء الثَّلَاثَة فِي الْمَشْرُوع فِي الصَّلَاة إِلَّا مَا صرح الشَّرْع بإستثنائه
দ্বিতীয় পন্থা যখন এটি প্রমাণিত হলো যে এই দুই হাদিসে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইমাম দুই জিকিরকে একত্র করবেন না, আর না এটি প্রমাণ করে যে মুক্তাদি এই দুইটিকে একত্র করবে না; এবং যখন অন্য দলিল দ্বারা এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে ইমাম উভয়টিকে একত্র করবেন, তখন এটি নির্দেশ করে যে মুক্তাদিও উভয়টিকে একত্র করবে। কারণ মূলনীতি হলো সালাতের মুস্তাহাব (مستحب) জিকিরসমূহের ক্ষেত্রে মুক্তাদি ইমামের সমান, যেমন স্থানান্তরের তকবিরসমূহ এবং রুকু ও সিজদার তাসবিহসমূহ।
তৃতীয় পন্থা সহিহ বুখারিতে মালিক ইবনে হুয়াইরিস থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" এটি নির্দেশ করে যে মুক্তাদি তাসমি' (تسميع) এবং তাহমিদ (تحميد)-কে একত্র করবে। কেননা তিনি ইমামদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সেভাবেই সালাত আদায় করেন যেভাবে তিনি করেছেন। আর ওই সকল হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি যখন সালাত আদায় করেছেন তখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হামদ' বলেছেন। সুতরাং এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে প্রত্যেক সালাত আদায়কারীই তা বলবে, যাতে রাসূলের সালাতের সাথে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
চতুর্থ পন্থা ইমাম তহাবি ও ইবনে আবদিল বার এই বিষয়ে ইজমা (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, একাকী সালাত আদায়কারী উভয় জিকিরকে একত্র করবে। ইমাম তহাবি একে ইমামের ক্ষেত্রে উভয়টি একত্র করার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন; এবং এটি মুক্তাদির ক্ষেত্রেও উভয়টি একত্র করার প্রমাণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কারণ মূলনীতি হলো সালাতের বিধিবদ্ধ বিষয়গুলোতে তিন শ্রেণির সালাত আদায়কারীর অবস্থান সমান, যতক্ষণ না শরিয়ত স্পষ্টভাবে কোনো বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করে।
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المسلك الْخَامِس الإستئناس بِمَا أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ بِسَنَد ضَعِيف عَن بُرَيْدَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَا بُرَيْدَة إِذا رفعت رَأسك من الرُّكُوع فَقل سمع الله لمن حَمده الْهم رَبنَا لَك الْحَمد ملْء السَّمَوَات وملء الأَرْض وملء مَا شِئْت من شَيْء بعد وَبِمَا أخرجه عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ كُنَّا إِذا صلينَا خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سمع الله لمن حَمده قَالَ من وَرَاءه سمع الله لمن حَمده وَبِمَا أخرجه عَن ابْن عون قَالَ قَالَ مُحَمَّد إِذا قَالَ الإِمَام سمع الله لمن حَمده قَالَ من خَلفه سمع الله لمن حَمده اللَّهُمَّ رَبنَا لَك الْحَمد
المسلك السَّادِس أَن الصَّلَاة مَبْنِيَّة على أَلا يفتر عَن الذّكر فِي شَيْء مِنْهَا فَإِن لم يَأْتِ بالذكرين فِي الرّفْع والإعتدال بَقِي أحد الْحَالين خَالِيا عَن الذّكر
المسلك السَّابِع قَالَ الْأَصْحَاب معنى قَوْله صلى الله عليه وسلم وَإِذا قَالَ سمع الله لمن حَمده فَقولُوا رَبنَا لَك الْحَمد أَي قُولُوا رَبنَا لَك الْحَمد مَعَ مَا قد علمتموه من قَول سمع الله لمن حَمده وَإِنَّمَا خص هَذَا بِالذكر لأَنهم كَانُوا يسمعُونَ
পঞ্চম পথ ইমাম দারাকুতনি কর্তৃক একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদিস দ্বারা সমর্থন গ্রহণ করা হয়েছে, যা বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে বুরাইদাহ! যখন তুমি রুকু থেকে মাথা তুলবে, তখন বলো: 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ মিল'আস সামাওয়াতি ওয়া মিল'আল আরদি ওয়া মিল'আ মা শি'তা মিন শায়িন বা'দ'।" এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে সালাত আদায় করতাম, তখন তিনি যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তখন তাঁর পেছনের মুক্তাদিরাও 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন।" এবং ইবনে আউন থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে মুহাম্মদ বলেছেন: "ইমাম যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবেন, তখন তাঁর পেছনের মুক্তাদিরাও বলবেন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ'।"
ষষ্ঠ পথ সালাতের ভিত্তি হলো এর কোনো অংশেই যেন জিকির থেকে বিরত থাকা না হয়। সুতরাং যদি রুকু থেকে ওঠার সময় এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় উভয় জিকিরই করা না হয়, তবে এই দুই অবস্থার যেকোনো একটি জিকিরশূন্য থেকে যায়।
সপ্তম পথ আসহাবগণ (মাযহাবের ইমামগণ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—"আর যখন তিনি 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবেন, তখন তোমরা 'রাব্বানা লাকাল হামদ' বলো"—এর অর্থ হলো: তোমরা 'রাব্বানা লাকাল হামদ' বলো সেই জিকিরের সাথে যা তোমরা ইতোমধ্যেই 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলা থেকে শিখেছ। আর এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারা তা শুনতে পেত।
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
جهر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بسمع الله لمن حَمده فَإِن السّنة فِيهِ الْجَهْر ولايسمعون قَوْله رَبنَا لَك الْحَمد غَالِبا لِأَنَّهُ يَأْتِي بِهِ سرا وَكَانُوا يعلمُونَ قَوْله صلى الله عليه وسلم صلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي مَعَ قَاعِدَة التأسي بِهِ صلى الله عليه وسلم مُطلقًا فَكَانُوا موافقين فِي سمع الله لمن حَمده فَلم يحْتَج إِلَى الْأَمر بِهِ وَلَا يعْرفُونَ رَبنَا لَك الْحَمد فَأمروا بِهِ
المسلك الثَّامِن الْقيَاس على حَدِيث إِذا قَالَ الْمُؤَذّن حَيّ على الصَّلَاة فَقولُوا لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه فَإِن الرَّاجِح فِي مَذْهَب الْخصم أَن السَّامع يجمع بَين الحيعلة والحوقلة فَيكون قَوْله فَقولُوا لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه أَي مضموما إِلَى الْكَلِمَة الَّتِي قَالَهَا الْمُؤَذّن فَكَذَلِك معنى الحَدِيث فَقولُوا رَبنَا لَك الْحَمد أَي مضموما إِلَى الْكَلِمَة الَّتِي قَالَهَا الإِمَام
المسلك التَّاسِع أَن الحَدِيث بعضه مَنْسُوخ وَهُوَ قَوْله وَإِذا صلى جَالِسا فصلوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ فَمَا الْمَانِع أَن يكون دخل فِي بَقِيَّة الفاظه نسخ أَو تَخْصِيص أَو تَأْوِيل وَإِذا طرقه هَذَا الإحتمال سقط بِهِ الإستدلال
নবী (সা.) উচ্চস্বরে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ পাঠ করতেন, কারণ এতে সুন্নাহ (السنة) হলো উচ্চস্বরে পাঠ করা। সাহাবীগণ সাধারণত তাঁর ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ পাঠ শুনতে পেতেন না, কারণ তিনি তা নীরবে পাঠ করতেন। তারা নবী (সা.)-এর বাণী ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ’ এবং তাঁকে নিঃশর্তভাবে অনুকরণের (التأسي) মূলনীতি সম্পর্কে জানতেন। ফলে তারা ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার বিষয়ে একমত ছিলেন এবং এতে নতুন নির্দেশের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তারা ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ সম্পর্কে জানতেন না, তাই তাদের এটি বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম পদ্ধতি (المسلك الثامن) সেই হাদিসের ওপর অনুমান (القياس) করা যেখানে বলা হয়েছে: “যখন মুয়াজ্জিন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বলবে, তখন তোমরা বলো ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।” কেননা প্রতিপক্ষের মাযহাবে (مذهب) অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) মত হলো, শ্রবণকারী হাইয়ালাহ (الحيعلة) এবং হাওকালাহ (الحوقلة) উভয়টিই একত্রিত করবে। সুতরাং তাঁর বাণী “তোমরা বলো লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”-এর অর্থ হলো মুয়াজ্জিন যা বলেছেন সেই বাক্যের সাথে একে যুক্ত করা। অনুরূপভাবে হাদিসের অর্থ “তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ বলো” অর্থাৎ ইমাম যা বলেছেন সেই বাক্যের সাথে একে যুক্ত করা।
নবম পদ্ধতি (المسلك التاسع) হাদিসটির কিয়দংশ রহিত (منسوخ), আর তা হলো তাঁর বাণী: “যখন তিনি (ইমাম) বসে নামাজ পড়েন, তখন তোমরা সবাই বসে নামাজ পড়ো।” সুতরাং হাদিসের অবশিষ্ট শব্দমালার মধ্যে রহিতকরণ (نسخ), সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) অথবা ব্যাখ্যা (تأويل) প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়? আর যখন এতে এই রূপ সম্ভাবনার (الاحتمال) উদ্রেক হয়, তখন তা দ্বারা দলিল প্রদান (استدلال) বাতিল হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
দাফউত তাশনি ফি মাসআলাতিত তাসমি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَالَ ابْن أبي شيبَة فِي مُصَنفه ثَنَا ابْن علية عَن ابْن عون قَالَ كَانَ مُحَمَّد بن سِيرِين يَقُول إِذا قَالَ الإِمَام سمع الله لمن حَمده قَالَ من خَلفه سمع الله لمن حَمده اللَّهُمَّ رَبنَا لَك الْحَمد
ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে বলেন: ইবনে উলাইয়্যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনে আউন থেকে (عن); তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলতেন: ইমাম যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলেন, তখন তাঁর পেছনে থাকা ব্যক্তিগণও বলবেন— 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' (হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা)।