(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: -)
المسلمون في بلاد الغربة   (أمين الشقاوي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المسلمون في بلاد الغربة

إعداد: د أمين بن عبد الله الشقاوي

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 406

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 صفر 1443

পরবাসে মুসলিমগণ   (আমিনুশ শাকাবি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: পরবাসে মুসলিমগণ

প্রস্তুতকারক: ড. আমিন বিন আব্দুল্লাহ আল-শাকাবি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরী - ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৮ সফর ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد.

فإن إخواننا المسلمين الذين يعيشون في دول الكفر سواء أكانوا من أهلها الأصليين أم من الوافدين عليها في أشد الحاجة إلى معرفة الأحكام الفقهية في النوازل التي تمر بهم ليعلموا ما هو أرضى لله وأحب إليه، ويعملون بما يستطيعون من ذلك والتوجيه إلى الأخذ بالحلول الممكنة لمواجهة المشكلات، ولأن غالب تلك المسائل هي من النوازل، فإن معرفة الحق فيها وأقرب الأقوال إليه يتطلب - بعد الإلمام بالنصوص الشرعية المتعلقة بتلك المسائل- معرفة القواعد الشرعية، وتصور الوقائع المراد التطبيق عليها تصوراً دقيقاً لشدة التشابه، ودقة الفوارق بين تلك المسائل، واختلاف الحال بين شخص وآخر، وتغير الفتوى بتغير الحال في المسألة الواحدة والشخص الواحد، ومن يرد الله به خيراً يفقهه في الدين، ومن علم الله من نيته الحرص على مرضاة الله، ألهمه الصواب ووفقه له، قال تعالى: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ} … [البقرة:282].
উপোদ্ঘাত

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর—

অমুসলিম দেশসমূহে (কুফরি রাষ্ট্রে) বসবাসরত আমাদের মুসলিম ভাইগণ—তারা সেখানকার আদি অধিবাসী হোন কিংবা সেখানে বহিরাগত হোন—তাদের ওপর আপতিত সমসাময়িক জটিল সমস্যাবলির ফিকহি বিধানসমূহ জানার বিষয়ে অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। যাতে তারা জানতে পারেন কোনটি আল্লাহর নিকট অধিক সন্তোষজনক ও প্রিয় এবং তারা তাদের সাধ্যমতো সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন এবং বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধানগুলো গ্রহণের দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন। যেহেতু এই মাসআলাগুলোর অধিকাংশ সমসাময়িক উদ্ভূত জটিল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই এতে সত্য এবং সত্যের নিকটতম সিদ্ধান্ত জানার জন্য—সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোর বিষয়ে শরয়ি নস (আইনি পাঠ্য) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের পাশাপাশি—শরয়ি মূলনীতিসমূহ অবগত হওয়া এবং যেসব বাস্তব ঘটনার ওপর বিধান প্রয়োগ করা হবে সে সম্পর্কে সূক্ষ্ম ও সঠিক ধারণা লাভ করা আবশ্যক। কারণ এই মাসআলাগুলোর মধ্যে যেমন গভীর সাদৃশ্য রয়েছে, তেমনি এগুলোর পার্থক্যসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতির ভিন্নতা থাকে; এমনকি অবস্থা পরিবর্তনের কারণে একই মাসআলায় অথবা একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফতোয়া পরিবর্তিত হতে পারে। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা বা সম্যক জ্ঞান দান করেন। আল্লাহ যার নিয়তে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের একাগ্রতা দেখেন, তিনি তাকে সঠিক পথের দিশা দান করেন এবং তাকে তৌফিক প্রদান করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন...} … [আল-বাকারা: ২৮২]।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا} [الأنفال:29]، وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (28)} [الحديد]، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنيَّاتِ»(1).

وإن مما يعين على معرفة فقه النوازل التي يعانيها إخواننا المسلمون في بلاد الغربة الرجوع إلى سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه في مكة إذ كانوا يعيشون غرباء قليلين وسط مجتمع كافر، ناصبهم العداء، وحاربهم في كل شيء، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «بَدَأَ الإِسْلَامُ غَرِيبًا، وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاء»(2).

 

ومن القواعد الشرعية التي يُستعان بها في هذا الباب:

1 - درء المفاسد مقدم على جلب المصالح: ومثال ذلك: أن الله أمر الولد ببر والديه وإن كانا كافرين، فإذا كان برهما يفضي إلى فتنة الولد في دينه، فهذه مفسدة كبيرة مراعاتها مقدم على برهما عند التعارض.

2 - جاءت الشريعة الإسلامية بتكثير المصالح وتقليل المفاسد، وترجيح أعظم المصلحتين: مثال ذلك: أن المسلم الذي يعيش في بلاد الكفر وله بلد إسلامي، فإنه يجب عليه الرجوع إلى بلده، فإن كانت مصلحة بقائه في

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم (1)، وصحيح مسلم برقم (1907).

(2) صحيح مسلم برقم (145).
وقال تعالى: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান (হক-বাতিল পার্থক্যকারী মানদণ্ড) প্রদান করবেন} [আল-আনফাল: ২৯], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনো; তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত থেকে দ্বিগুণ অংশ দান করবেন এবং তোমাদের জন্য নূর প্রদান করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (২৮)} [আল-হাদিদ], এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল»(১).

প্রবাসে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা যে সমস্ত নতুন উদ্ভূত সমস্যার (নাওয়াযিল) সম্মুখীন হচ্ছেন, তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের সীরাত বা জীবনীর দিকে ফিরে তাকানো অন্যতম সহায়ক বিষয়। তখন তাঁরা একটি কাফের সমাজের মাঝে স্বল্পসংখ্যক অপরিচিত আগন্তুক হিসেবে বসবাস করছিলেন, যারা তাঁদের সাথে চরম শত্রুতা পোষণ করত এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল অপরিচিত আগন্তুক অবস্থায়, আর অচিরেই তা আবার শুরুর মতো সেই অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং সেই অপরিচিত আগন্তুকদের জন্য সুসংবাদ»(২).

 

এই ক্ষেত্রে যে সকল শরয়ি মূলনীতি থেকে সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - ক্ষতি প্রতিরোধ করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য: এর উদাহরণ হলো: আল্লাহ সন্তানকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও তাঁরা কাফের হন। তবে যদি তাঁদের সাথে সদাচার করার ফলে সন্তানের দ্বীনের ক্ষেত্রে ফেতনার সৃষ্টি হয়, তবে এটি একটি বড় ক্ষতি, যা বিরোধ দেখা দিলে তাঁদের প্রতি সদাচারের চেয়ে অগ্রগণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

২ - ইসলামি শরীয়াহ কল্যাণ বৃদ্ধি এবং ক্ষতি হ্রাস করার উদ্দেশ্যে এসেছে, পাশাপাশি দুটি কল্যাণের মধ্যে যেটি বৃহত্তর সেটিকে প্রাধান্য দিতে এসেছে: এর উদাহরণ হলো: কুফর রাষ্ট্রে বসবাসকারী কোনো মুসলিমের যদি একটি ইসলামি রাষ্ট্র (ফিরে যাওয়ার জায়গা) থাকে, তবে তার জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। তবে যদি সেখানে অবস্থানের কল্যাণ...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, হাদিস নং (১), এবং সহীহ মুসলিম, হাদিস নং (১৯০৭)।

(২) সহীহ মুসলিম, হাদিস নং (১৪৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
تلك الدولة الكافرة أعظم، كان بقاؤه أولى ما دامت تلك المصلحة راجحة.

3 - من أصول الإسلام وقواعده بغض الكافر، وإظهار العداوة له: وقد استثنى من هذه القاعدة الكفار الذين لا يظهرون العداوة للمسلمين، ولا يقاتلونهم ولا يظاهرون عليهم، بل ربما كانوا عوناً لهم في بعض الأحوال، وذلك بالبر والقسط كما قال تعالى: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ (8)} [الممتحنة].

وفي السيرة النبوية أن قبيلة خزاعة كانت عبية نصح لرسول الله صلى الله عليه وسلم مسلمهم وكافرهم، وأذن النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه أن يهاجروا إلى الحبشة، وهي دار كفر، قائلاً: «إِنَّ فِيهَا مَلكَاً لَا يُظْلَم أَحَدٌ عِنْدَهُ»(1).

ولما طرد أهل الطائف رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يستطع دخول مكة إلا بدخوله في إجارة المطعم بن عدي وكان كافراً، وقد عرف له النبي صلى الله عليه وسلم هذه النعمة، فقال في غزوة بدر حين جمع له الأسرى «لَوْ كَانَ المُطْعِمُ بْنُ عَدِيٍّ حَيًّا، ثُمَّ كَلَّمَنِي فِي هَؤُلَاءِ النَّتْنَى، لَتَرَكْتُهُمْ لَهُ»(2).

--------------------------------------------

(1) سيرة ابن هشام (1/ 345) وقال د. أكرم العمري في كتابه السيرة النبوية الصحيحة (1/ 171) إسناده حسن.

(2) صحيح البخاري برقم (4024).
সেই কাফির রাষ্ট্রটি বৃহত্তর হয়, তবে যতক্ষণ সেই জনকল্যাণ (مصلحة) প্রবল (راجحة) থাকে, ততক্ষণ তার টিকে থাকা অধিকতর শ্রেয় (أولى)।

৩ - ইসলামের মূলনীতি (أصول) ও ভিত্তিগুলোর (قواعد) অন্তর্ভুক্ত হলো কাফিরদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এবং তাদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করা: তবে এই নিয়ম (قاعدة) থেকে সেই সব কাফিরদের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে যারা মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করে না, তাদের সাথে যুদ্ধ করে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা তাদের জন্য সাহায্যকারীও হয়ে থাকে। এটি সৌজন্য (بر) ও ইনসাফের (قسط) মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। (৮)} [আল-মুমতাহিনা]।

সীরাতে নববীতে বর্ণিত হয়েছে যে, খুযাআ গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী ছিল—তাদের মুসলিম ও কাফির নির্বিশেষে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে হাবাশায় হিজরত করার অনুমতি দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি কুফরি ভূখণ্ড (دار كفر); তিনি বলেছিলেন: «সেখানে এমন একজন রাজা আছেন যার নিকট কেউ অত্যাচারিত হয় না»(১)।

যখন তায়েফবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, তখন তিনি মুতয়িম বিন আদীর আশ্রয় (إجارة) ব্যতীত মক্কায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না, অথচ সে ছিল একজন কাফির। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এই অনুগ্রহের কথা স্বীকার করতেন। তাই বদরের যুদ্ধে যখন যুদ্ধবন্দীদের একত্র করা হলো, তখন তিনি বলেছিলেন: «যদি মুতয়িম বিন আদী জীবিত থাকতো এবং এই দুর্গন্ধযুক্ত লোকগুলোর ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলতো, তবে আমি তার খাতিরে এদেরকে ছেড়ে দিতাম»(২)।

--------------------------------------------

(১) সীরাতে ইবনে হিশাম (১/৩৪৫); ড. আকরাম আল-উমারী তাঁর 'আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আস-সহীহাহ' (১/১৭১) গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

(২) সহীহ বুখারী, হাদিস নং (৪০২৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
4 - أن جميع أوامر الشرع إنما تجب على العبد بالاستطاعة لها والقدرة على فعلها، قال تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286]. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ»(1). ونتج عن هذه القاعدة قاعدة أخرى عظيمة المنافع هي:

5 - المشقة تجلب التيسير، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ»(2). وقال تعالى فيمن يشق عليه الصيام: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [البقرة: 184].

6 - من المفيد جداً أن تعلم فروض العين وفروض الكفاية، حتى إذا تعارضت قُدِّم فرض العين على فرض الكفاية.

مثال ذلك: امرأة تريد أن تدرس نوعاً من العلم لتخدم به أخواتها المسلمات، ولكن لا تتمكن من هذا التخصص إلا بالاختلاط والسفور، وهنا يقال إن المحافظة على العفاف والحشمة فرض عين، وتلك الدراسة فرض كفاية، وفرض العين مقدم على فرض الكفاية، والنتيجة المنع من دراسة ذلك التخصص .. وغير ذلك من القواعد الشرعية التي تعين على فهم مقاصد الشرع.

7 - من المعلوم بالاستقراء - من قواعد الشريعة- وأصولها

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم (7288).

(2) صحيح البخاري برقم (1117).
4 - শরীয়তের সমস্ত নির্দেশ বান্দার উপর তখনই আবশ্যক (تجب) হয় যখন সে তা পালনে সক্ষম এবং তা সম্পাদনের সামর্থ্য রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না} [বাকারা: ২৮৬]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যখন তোমাদেরকে কোনো নির্দেশ দিই, তখন তোমরা তা সাধ্যমতো পালন করো।"(১) আর এই মূলনীতি থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আরেকটি মূলনীতি উদ্ভূত হয়েছে, তা হলো:

5 - কষ্ট সহজতা আনয়ন করে (المشقة تجلب التيسير)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাও সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশে (কাত হয়ে) শুয়ে।"(২) আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন যাদের জন্য রোজা রাখা কষ্টকর: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে} [বাকারা: ১৮৪]।

6 - ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فروض العين) এবং সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (فروض الكفاية) বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত উপকারী, যাতে যখন এ দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তখন ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض العين) বিষয়টিকে সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (فرض الكفاية) এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া যায়।

এর উদাহরণ হলো: একজন নারী এমন কোনো বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করতে চান যার মাধ্যমে তিনি তার মুসলিম বোনদের সেবা করবেন, কিন্তু পর্দা রক্ষা না করে এবং অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) ব্যতীত সেই বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বলা হবে যে, পবিত্রতা ও শালীনতা রক্ষা করা ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين), আর সেই পড়াশোনা সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (فرض كفاية)। আর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين) বিষয়টি সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (فرض كفاية) এর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। এর ফলে সেই বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে... এবং শরীয়তের এজাতীয় অন্যান্য মূলনীতিসমূহ যা শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشرع) অনুধাবনে সহায়তা করে।

7 - শরীয়তের মূলনীতি ও এর উসুল (أصول) সমূহের আরোহ পদ্ধতি বা সামগ্রিক পর্যবেক্ষণের (بالاستقراء) মাধ্যমে এটি সুবিদিত যে—

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর (৭২৮৮)।

(২) সহিহ বুখারি, নম্বর (১১১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أن الأحرى بالمسلم الأخذ بالاحتياط في المسائل المختلف فيها الذي يكون الخلاف فيها سائغاً، وذلك حين يكون للخلاف حظٌ من النظر، بمعنى أن لكل قولٍ من الأدلة الشرعية ما يؤيده، وسيأتي لذلك أمثلة في فتاوى أهل العلم المرفقة.

8 - من القواعد الشرعية التي تفيد المسلم في المسائل المشكوك فيها الأخذ بما غلب على ظنه ولا تبرأ ذمته إلا بذلك؛ فالصائم مثلاً إذا شك في غروب الشمس ولم يتيقن ذلك، وغلب على ظنه أنها لم تغرب فلا يحل له الفطر حتى يغلب على ظنه أنها غربت، ومثل ذلك دخول وقت الصلاة وغيرها من المسائل الكثيرة، وسيأتي لها أمثلة في الفتاوى المرفقة.

وقد اقتصرت في بعض المسائل على الفتاوى ثقةً في أصحابها، وأشرت إلى المراجع لمن يريد التوسع والمزيد من التفاصيل، وقد كُتبت في الموضوع رسائل مطولة ومفصلة، أحببت كتابة هذه الرسالة المختصرة كنموذج للدخول منها إلى الكتب المطولة .. هذا وإن من أهم الكتب التي اطلعت عليها في هذا الباب رسالة الدكتوراه لأخينا د. محمد يسري. وقد امتازت هذه الرسالة بالتأصيل والسير على آثار السلف مع قوة في العبارة، ووضوح في التعبير، نقلت منها بعض المواضع، وأحلت القارئ عليها للاستزادة، فجزاه الله عن الإسلام
একজন মুসলিমের জন্য অধিকতর উচিত হলো এমন মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (احتياط) গ্রহণ করা, যেগুলোতে মতভেদ হওয়া গ্রহণযোগ্য (سائغ); আর এটি তখনই হয় যখন মতভেদের পেছনে যৌক্তিক ভিত্তি থাকে, অর্থাৎ প্রতিটি মতেরই সপক্ষে শরয়ি দলিলের সমর্থন থাকে। সংযুক্ত আলেমদের ফতোয়াসমূহে এর উদাহরণ আসবে।

৮ - সন্দেহযুক্ত মাসআলাসমূহে মুসলিমদের জন্য উপকারী শরয়ি নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হলো প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ওপর আমল করা; আর এটি ছাড়া দায়মুক্তি ঘটে না। উদাহরণস্বরূপ, একজন রোজাদার যদি সূর্যাস্তের বিষয়ে সন্দেহ করে এবং সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারে, বরং তার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে সূর্য এখনো অস্তমিত হয়নি, তবে তার জন্য ইফতার করা বৈধ হবে না যতক্ষণ না তার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে সূর্য ডুবে গেছে। নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়া এবং এ জাতীয় আরও অনেক মাসআলার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। সংযুক্ত ফতোয়াসমূহে এর উদাহরণ সামনে আসবে।

আমি কিছু মাসআলায় কেবল ফতোয়া উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি সেগুলোর প্রণেতাদের নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) ওপর আস্থা রেখে, আর যারা বিস্তারিত ও বিস্তৃত জানতে চান তাদের জন্য মূল উৎসগ্রন্থগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি। এই বিষয়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত অনেক গবেষণা প্রবন্ধ রচিত হয়েছে; আমি এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি বড় বড় কিতাবসমূহ অধ্যয়নের প্রবেশদ্বার বা নমুনা হিসেবে লিখতে চেয়েছি। এই বিষয়ে আমি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কিতাব দেখেছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমাদের ভাই ড. মুহাম্মাদ ইউসরির পিএইচডি থিসিস। এই থিসিসটি বিষয়বস্তুর মৌলিকত্ব এবং সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণের পাশাপাশি শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল ভাষার জন্য অনন্য। আমি সেখান থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছি এবং পাঠককে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সেই গ্রন্থের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছি। আল্লাহ তাকে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والمسلمين خير الجزاء.

وبعد التأمل في المسائل التي يحتاجها إخواننا المسلمون الذين يعيشون في دول الكفر وجدت أنها ترجع إلى ثلاثة أصول(1):

الأول: الجنسية والإقامة.

الثاني: التحاكم واستيفاء الحقوق.

الثالث: الولاء والبراء.

 

وقد اقتصرت في هذا الكتاب على ما يقارب خمسين مسألة على أمل العون من الله تعالى على جمع المسائل التي لم تذكر في طبعات قادمة.

وأفضل ما أختم به الصلاة والسلام على نبي الرحمة المهداة، والنعمة المسداة محمد بن عبدالله صلى الله عليه وسلم.

 

المؤلف

الرياض: 18/ 05/1436 هـ

--------------------------------------------

(1) وقد وزعت المسائل على هذه الأصول الثلاثة وجعلت تحت كل أصل أقرب المسائل إليه، مع تداخل بعض المسائل في هذه الأصول الثلاثة.
এবং মুসলিমদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর কুফরি রাষ্ট্রসমূহে বসবাসরত আমাদের মুসলিম ভাইদের প্রয়োজনীয় মাসআলাসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার পর আমি লক্ষ্য করেছি যে, সেগুলো তিনটি মূলনীতির (أصول)(১) দিকে প্রত্যাবর্তন করে:

প্রথম: নাগরিকত্ব ও আবাসন।

দ্বিতীয়: বিচারপ্রক্রিয়া ও অধিকার আদায়।

তৃতীয়: আনুগত্য ও বিমুখতা।

 

আমি এই কিতাবটিতে প্রায় পঞ্চাশটি মাসআলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি; এই আশায় যে, মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য পেলে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে অনুল্লিখিত মাসআলাগুলো সংগ্রহ করতে পারব।

সবশেষে আমি উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমতের নবী এবং বর্ষিত নেয়ামত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি।

 

লেখক

রিয়াদ: ১৮/০৫/১৪৩৬ হিজরি

--------------------------------------------

(১) আমি মাসআলাগুলোকে এই তিনটি মূলনীতির (أصول) ওপর বিন্যস্ত করেছি এবং প্রতিটি মূলনীতির (أصل) অধীনে তার সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাসআলাগুলো রেখেছি, যদিও এই তিনটি মূলনীতির (أصول) মাঝে কিছু মাসআলা পরস্পর সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الأصل الأول

الجنسية والإقامة
প্রথম মূলনীতি

জাতীয়তা ও বসবাস
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن المسائل التي تتعلق بهذا الأصل ما يلي:

أولاً: الجنسية.

ثانياً: الإقامة.

ثالثاً: إسلام الكافر.

رابعاً: حجاب المرأة المسلمة.

خامساً: الاختلاط.

سادساً: القروض.

سابعاً: التأمين.

ثامناً: البطاقات الائتمانية.

تاسعاً: تربية الأسرة.

عاشراً: اللباس.

الحادي عشر: اقتناء الكلاب.

الثاني عشر: أحكام الأطعمة، وفيه مسائل:

(أ) الذبائح.

(ب) دخول المحرمات في المأكولات أو المشروبات.

(ج) الأكل في أواني الكفار.

(د) الأكل في مطاعم الكفار.
এই মূলনীতির (أصل) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

প্রথমত: নাগরিকত্ব।

দ্বিতীয়ত: আবাসন (إقامة)।

তৃতীয়ত: কাফিরের ইসলাম গ্রহণ।

চতুর্থত: মুসলিম নারীর পর্দা (حجاب)।

পঞ্চমত: অবাধ মেলামেশা (اختلاط)।

ষষ্ঠত: ঋণসমূহ (قروض)।

সপ্তমত: বীমা (تأمين)।

অষ্টমত: ক্রেডিট কার্ড।

নবমত: পরিবারের প্রতিপালন।

দশমত: পোশাক-পরিচ্ছদ।

একাদশ: কুকুর প্রতিপালন।

দ্বাদশ: খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত বিধানাবলি (أحكام الأطعمة), এবং এতে কয়েকটি মাসয়ালা (مسائل) রয়েছে:

(ক) জবেহকৃত পশু (ذبائح)।

(খ) খাদ্য বা পানীয়র মধ্যে নিষিদ্ধ উপাদানের (محرمات) প্রবেশ।

(গ) কাফিরদের পাত্রে আহার করা।

(ঘ) কাফিরদের রেস্তোরাঁয় আহার করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثالث عشر: بناء المساجد في بلاد الكفر.

الرابع عشر: صرف أموال الزكاة في الدعوة إلى الله.

الخامس عشر: صرف الزكاة للمؤلفة قلوبهم من الكفار.

السادس عشر: زكاة الفطر.

السابع عشر: صلاة الجمعة، وفيه مسائل:

(أ) العدد المطلوب لصلاة الجمعة.

(ب) أداء المرأة لصلاة الجمعة.

(ج) ترجمة خطبة الجمعة.

(د) صلاة الجمعة قبل الزوال.

(هـ) إقامة الجمعة على دفعتين لضيق المسجد.

الثامن عشر: قبول المسلمين من الكفار التبرعات لمشاريع خيرية.

التاسع عشر: السكن.

العشرون: الزواج الصوري.

الحادي والعشرون: أوقات الصلاة، وفيها مسائل:

(أ) في حال استمرار الليل أو النهار أربعاً وعشرين ساعة فأكثر.

(ب) في حال قصر الليل أو النهار قصراً مفرطاً مع بقاء العلامات الفلكية الشرعية.
ত্রয়োদশ: অমুসলিম ভূখণ্ডে মসজিদ নির্মাণ।

চতুর্দশ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয়।

পঞ্চদশ: অমুসলিমদের মধ্য থেকে যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন (المؤلفة قلوبهم) তাদের জাকাত প্রদান।

ষোড়শ: জাকাতুল ফিতর।

সপ্তদশ: জুমার সালাত, এবং এতে কয়েকটি মাসআলা (مسائل) রয়েছে:

(ক) জুমার সালাতের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা (العدد المطلوب)।

(খ) নারীদের জুমার সালাত আদায়।

(গ) জুমার খুতবার অনুবাদ।

(ঘ) সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) পূর্বে জুমার সালাত।

(ঙ) মসজিদের সংকীর্ণতার কারণে দুই ধাপে জুমা কায়েম করা।

অষ্টাদশ: জনহিতকর প্রকল্পের জন্য অমুসলিমদের থেকে মুসলিমদের অনুদান গ্রহণ।

ঊনবিংশ: আবাসন।

বিংশ: কৃত্রিম বা নামমাত্র বিবাহ (الزواج الصوري)।

একবিংশ: সালাতের ওয়াক্তসমূহ, এবং এতে কয়েকটি মাসআলা (مسائل) রয়েছে:

(ক) দিন বা রাত চব্বিশ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্থায়ী হওয়ার ক্ষেত্রে।

(খ) রাত বা দিন অতিরিক্ত ছোট হওয়ার ক্ষেত্রে, যেখানে শরিয়ত নির্ধারিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক চিহ্নসমূহ বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الثاني والعشرون: أوقات الصيام، وفيها مسائل:

(أ) الرؤية في دخول شهر رمضان وخروجه.

(ب) الصيام يوم عرفة، هل هو يوم اجتماع الناس في عرفة؟ أو اليوم التاسع بحسب كل بلد؟

(ج) تحديد زمن الإمساك في رمضان في حال الغيم.

(د) فتاوى متفرقة في الصيام.

الثالث والعشرون: خوف المسلم من إظهار دينه.

الرابع والعشرون: الصلاة في المساجد التي فيها قبور.

الخامس والعشرون: الصلاة خلف الإمام المبتدع.

السادس والعشرون: دفن المسلم في مقابر الكفار.
বাইশতম: সিয়ামের সময়সমূহ এবং এতে কিছু মাসআলা রয়েছে:

(ক) রমজান মাসের শুরু এবং শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়।

(খ) আরাফাহর দিনে সিয়াম পালন; এটি কি সেই দিন যেদিন মানুষ আরাফাতে সমবেত হয়? নাকি প্রতিটি জনপদ অনুযায়ী জিলহজ মাসের নবম দিন?

(গ) মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় রমজানে ইমসাক বা পানাহার বিরতির সময় নির্ধারণ করা।

(ঘ) সিয়াম বিষয়ক বিবিধ ফতোয়া।

তেইশতম: মুসলিমের স্বীয় দ্বীন প্রকাশে শঙ্কা।

চব্বিশতম: কবরবিশিষ্ট মসজিদে সালাত আদায়।

পঁচিশতম: বিদআতি (المبتدع) ইমামের পেছনে সালাত আদায়।

ছাব্বিশতম: কাফেরদের কবরস্থানে মুসলিমের দাফন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أولاً: الجنسية

قد كتب د. محمد يسري إبراهيم في كتابه (فقه النوازل) للأقليات المسلمة تأصيلاً وتطبيقاً بحثاً مطولاً عن الجنسية والتجنس، أفاد فيه وأجاد، أنقل منه بتصرف واختصار، قال حفظه الله: "جرى عمل فقهائنا المتقدمين على تقسيم العالم إلى دار إسلام ودار كفر، وأما في الواقع المعاصر فقد انقسم الناس باعتبار الجنسيات، وصار من الممكن للإنسان أن يتجنس بجنسية بلد غير بلده الأصلي الذي نشأ فيه هو وآباؤه وفق شروط معينة تختلف من دولة إلى أخرى.

وسعى كثير من أبناء هذا الزمان إلى الحصول على جنسيات غير جنسيات بلادهم الأصلية، تدفعهم إلى ذلك دوافع شتى؛ فمن لاجئ سياسي، ومن باحثٍ عن حرية وساعٍ إلى الحصول على حقوق أو مميزات لم يجدها في قومه .. إلى غير ذلك من المآرب.

ولكن الأمر ليس قاصراً على الميزات التي يُعطاها المرء فحسب، بل ثمة حقوق وواجبات عليه؛ من الالتزام بقوانين تلك البلد، والتحاكم إلى أنظمتها، والدفاع عنها، والانخراط في سلك المدافعين عنها من أبنائها، وبذل الجهد والوسع في تقويتها ورفعة شأنها، وعقد الولاء لها والبراء من غيرها .. إلى غير ذلك من مفردات منظومة كبيرة تسمى بـ "المواطنة".
প্রথমত: নাগরিকত্ব

ড. মুহাম্মদ ইউসরি ইব্রাহিম তাঁর (ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিয়াতিল মুসলিমাহ: তাসিলান ওয়া তাতবিকান) গ্রন্থে নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা গ্রহণ সম্পর্কে একটি দীর্ঘ গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও চমৎকার আলোচনা করেছেন। আমি সেখান থেকে কিছুটা পরিমার্জন ও সংক্ষেপণসহ উদ্ধৃত করছি। তিনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) বলেছেন: "আমাদের পূর্ববর্তী ফকীহগণের কর্মপদ্ধতি ছিল বিশ্বকে দারুল ইসলাম এবং দারুল কুফর—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা। কিন্তু সমকালীন বাস্তবতায় মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে একজন মানুষের পক্ষে তাঁর ও তাঁর পিতৃপুরুষের আদি জন্মভূমি ব্যতীত অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে, যা রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন সুনির্দিষ্ট শর্তাবলীর অধীনে সম্পন্ন হয়।

বর্তমান সময়ের অনেকেই নিজ দেশের নাগরিকত্ব ব্যতীত অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টা করেন। বিবিধ উদ্দেশ্য তাঁদের এই পথে পরিচালিত করে; কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে, কেউ স্বাধীনতার অন্বেষায়, আবার কেউ এমন সব অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা লাভের আশায় যা তাঁরা নিজ জাতির মধ্যে খুঁজে পাননি... এভাবে আরও বিবিধ উদ্দেশ্য এতে নিহিত থাকে।

তবে বিষয়টি কেবল একজন ব্যক্তির প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর ওপর কিছু অধিকার ও কর্তব্যও বর্তায়; যেমন সেই দেশের আইন মেনে চলা, সেই দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা, দেশ রক্ষা করা, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে সাধারণ নাগরিকদের ন্যায় অংশগ্রহণ করা, দেশের শক্তি বৃদ্ধি ও মর্যাদা সমুন্নত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করা এবং সেই দেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা ও অন্য দেশ থেকে বিমুখ থাকা... এভাবেই 'নাগরিকত্ব' নামক একটি বৃহৎ ব্যবস্থার বিভিন্ন অনুষঙ্গ পূর্ণতা পায়।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن هنا مسّت الحاجة اليوم إلى معرفة حكم التجنس بجنسيات الدول غير الإسلامية؛ لشدة الدوافع والمقتضيات إلى ذلك.

المفهوم الاصطلاحي للجنسية والتجنس:

يعرف القانونيون "الجنسية" بأنها: (الرابطة القانونية والسياسية التي تربط بين الفرد والدولة، والتي بمقتضاها يعتبر الفرد جزءاً في شعب الدولة يتمتع بالحقوق المترتبة على تمتعه بجنسية الدولة والتي لا يتمتع بها الأجنبي كأصل عام، ويلتزم أيضاً بالالتزامات التي تترتب على وصف الوطني والتي لا يلتزم بها الأجنبي).

وعرّفها بعض القانونيين بقوله: (رابطة سياسية وقانونية بين الفرد والدولة)، وهناك من يضيف إلى هاتين الرابطتين رابطةً ثالثة؛ هي الرابطة الاجتماعية، خاصة إذا كان شعب الدولة مكوناً من أمة واحدة.

أما "التجنس" فهو: (طلب انتساب إنسان إلى جنسية دولة من الدول وموافقتها على قبوله في عداد رعاياها، وينشأ عن ذلك التجنس خضوع المتجنس لقوانين الدولة التي تجنَّس بجنسيتها، وقبوله لها طوعاً أو كرهاً، والتزام الدفاع عنها في حال الحرب).

وللتجنس شروط تشترطها الدول، فمنها العام، ومنها الخاص ببعض الدول.

 

آثار التجنس:

إن أهم أثر يترتب على التجنس هو كسب صفة الوطني، والتي
এখান থেকেই বর্তমান যুগে অনৈসলামিক রাষ্ট্রসমূহের নাগরিকত্ব (جنسية) গ্রহণের বিধান (حكم) জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে; যেহেতু এর প্রেক্ষাপটে জোরালো প্রভাবক ও আবশ্যকতা বিদ্যমান।

নাগরিকত্ব (جنسية) ও নাগরিকত্ব গ্রহণ (تجنس)-এর পারিভাষিক ধারণা:

আইনজ্ঞগণ "নাগরিকত্ব" (جنسية)-কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেন: (এটি এমন একটি আইনি ও রাজনৈতিক বন্ধন যা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, এবং যার ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের জনসমষ্টির একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে সে এমন সব অধিকার ভোগ করে যা নাগরিকত্বের কারণে সৃষ্টি হয় এবং যা সাধারণত কোনো বিদেশি নাগরিক পায় না। তদ্রূপ সে এমন সব দায়বদ্ধতা পালনে বাধ্য থাকে যা একজন স্বদেশির ওপর অর্পিত হয় কিন্তু বিদেশির ওপর হয় না)।

কোনো কোনো আইনজ্ঞ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: (ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যকার একটি রাজনৈতিক ও আইনি বন্ধন)। আবার কেউ কেউ এই দুই বন্ধনের সাথে তৃতীয় একটি বন্ধন যোগ করেন, আর তা হলো সামাজিক বন্ধন; বিশেষত যখন রাষ্ট্রের জনগণ একটি একক জাতিসত্তা নিয়ে গঠিত হয়।

আর "নাগরিকত্ব গ্রহণ" (تجنس) হলো: (কোনো ব্যক্তির একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করা এবং তাকে প্রজাসাধারণের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে রাষ্ট্রের সম্মতি প্রদান। এই নাগরিকত্ব গ্রহণের ফলে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি উক্ত রাষ্ট্রের আইনের অনুগত হতে বাধ্য থাকে—চাই তা স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়—এবং যুদ্ধকালীন সময়ে রাষ্ট্রকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে)।

নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসমূহ কিছু শর্তারোপ করে থাকে; যার কিছু সাধারণ এবং কিছু নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ।

 

নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রভাবসমূহ:

নাগরিকত্ব গ্রহণের ফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রভাবটি পরিলক্ষিত হয় তা হলো স্বদেশি হওয়ার মর্যাদা অর্জন করা, যা...
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
تستوجب التمتع بجميع الحقوق التي يتمتع بها الوطني الأصلي والالتزام بكافة الواجبات التي يُلزم بها، ولعل من أهم هذه الحقوق والواجبات ما يلي:

أولاً: الحقوق:

يكون المتجنس مساوياً في الحقوق للوطني في الجملة، وإن استثنيت بعض الأمور كالتقدم لوظائف حساسة، ومن بين هذه الحقوق:

1 - الحصول على حق المواطنة.

2 - التمتع بالإقامة الدائمة.

3 - تكفل الدولة الحماية الدبلوماسية للمنتسب إليها، وتتولى القنصليات رعاية أحواله الشخصية خارج البلد.

4 - التمتع بالحقوق السياسية كحق الانتخاب بعد اجتياز فترة الاختبار، وبممارسة الحريات الأساسية.

ثانياً: الواجبات:

1 - خضوع المتجنس لقوانين الدولة والاحتكام إليها.

2 - المشاركة في جيشها والتزام الدفاع عنها في حالة الحرب.

3 - تمثيل الدولة خارجياً.

4 - مشاركته في بناء صرح الدولة.
এটি একজন মূল নাগরিকের ভোগ করা সমস্ত অধিকার ভোগ করা এবং তার উপর অর্পিত সকল কর্তব্য পালনের বাধ্যবাধকতাকে অপরিহার্য করে তোলে। সম্ভবত এই অধিকার ও কর্তব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: অধিকারসমূহ:

নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি সাধারণভাবে মূল নাগরিকের সমান অধিকার লাভ করেন, যদিও সংবেদনশীল পদের আবেদনের মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এই অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - নাগরিকত্বের অধিকার লাভ করা।

২ - স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ভোগ করা।

৩ - রাষ্ট্র তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির জন্য কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং কনস্যুলেটগুলো দেশের বাইরে তার ব্যক্তিগত বিষয়ের দেখাশোনা করে।

৪ - পরীক্ষামূলক সময় অতিবাহিত করার পর ভোটাধিকারের মতো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করা এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলো চর্চা করা।

দ্বিতীয়ত: কর্তব্যসমূহ:

১ - নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তির রাষ্ট্রের আইনের অনুগত থাকা এবং তার কাছে বিচারপ্রার্থনা করা।

২ - সেনাবাহিনীর অংশ হওয়া এবং যুদ্ধাবস্থায় রাষ্ট্রকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

৩ - আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা।

৪ - রাষ্ট্রের কাঠামো নির্মাণে অংশগ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
حكم التجنس بجنسية الدولة غير المسلمة:

البحث في هذه المسألة يختلف عن البحث في مسألة الهجرة من دار الكفر إلى دار الإسلام من حيث إن الهجرة أمر قديم بقِدم الإسلام، وتناوله العلماء في كتب الفقه والتفسير وشروح الحديث وغيرها.

وأما التجنس فمسألة حادثة ونازلة لم تكن على عهد السلف والأئمة، وإنك لواجد في كتب الأئمة الفقهاء التفصيل الواضح في أحكام الهجرة من دار الكفر إلى دار الإسلام، وأحكام الأقليات غير المسلمة في المجتمع المسلم، أما فقه الأقليات المسلمة في البلاد غير المسلمة فنادر في كتب الفقه؛ لأنه نادرٌ ما كان يحتاج المسلم للإقامة الدائمة هنالك؛ لوجود الخلافة الإسلامية التي يأوي إليها المسلم ويتفيأ ظلالها، ولانعدام الحدود بين الدول الإسلامية، فأينما تيمم المسلم في بلاد الإسلام فهو في بلاده لا يحس بغربة ولا وحشة، وكذا العزة الإسلامية التي يتمتع بها المسلم فهو ليس بحاجة للإقامة في بلاد الكفر فضلاً عن التجنس بجنسياتها، ذلك أن التجنس بجنسية الدول الكافرة موطئ للإقامة في بلاد الكفر، وهو إن دل على شيء فإنما يدل على خلل أو ضعف حلَّ بالمسلمين والخلل العظيم في هويتهم، إذ المهزوم والضعيف هو الذي يريد أن يشابه المنتصر والقوي فيقتدي به.

ومن نظر في التاريخ وجد أن هذا أمر مطَّرد، فوقت أن كانت الدولة للمسلمين كان المشركون حريصين على تعلم لغتهم
অমুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ (التجنس) করার বিধান:

এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা কুফরি ভূখণ্ড (دار الكفر) থেকে ইসলামি ভূখণ্ড (دار الإسلام) অভিমুখে হিজরত (الهجرة) সংক্রান্ত গবেষণার চেয়ে ভিন্ন। কারণ হিজরত (الهجرة) হলো ইসলামের মতোই একটি প্রাচীন বিষয়, যা আলেমগণ (العلماء) ফিকহ (الفقه), তাফসির (التفسير) এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে আলোচনা করেছেন।

পক্ষান্তরে, নাগরিকত্ব গ্রহণ (التجنس) বিষয়টি একটি আধুনিক উদ্ভূত (حادثة) ও সমসাময়িক সমস্যা (نازلة), যা সালাফ (السلف) এবং ইমামগণের (الأئمة) যুগে ছিল না। আপনি ফকিহ (الفقهاء) ইমামগণের কিতাবসমূহে কুফরি ভূখণ্ড (دار الكفر) থেকে ইসলামি ভূখণ্ড (دار الإسلام) অভিমুখে হিজরতের (الهجرة) বিধান এবং মুসলিম সমাজে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের বিধানাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। কিন্তু অমুসলিম দেশগুলোতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ফিকহ (الفقه) সংক্রান্ত আলোচনা ফিকহের কিতাবসমূহে বিরল; কারণ তখন কোনো মুসলমানের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার প্রয়োজন খুব কমই হতো। এর কারণ ছিল ইসলামি খিলাফতের (الخلافة) অস্তিত্ব, যেখানে মুসলমানরা আশ্রয় নিত এবং এর ছায়াতলে অবস্থান করত। এছাড়া ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনো সীমান্ত ছিল না। ফলে একজন মুসলমান ইসলামি ভূখণ্ডের যেখানেই যেতেন, তিনি নিজের দেশেই আছেন বলে মনে করতেন; সেখানে তিনি কোনো পরবাস বা একাকীত্ব অনুভব করতেন না। তেমনিভাবে মুসলমানরা যে ইসলামি মর্যাদা ভোগ করতেন, তার ফলে কুফরি রাষ্ট্রে বসবাস করারই তাদের প্রয়োজন ছিল না, নাগরিকত্ব গ্রহণ (التجنس) তো দূরের কথা। মূলত কাফির রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণ (التجنس) করা হলো সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি সোপান। এটি যদি কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, তবে তা মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান কোনো বিচ্যুতি বা দুর্বলতা এবং তাদের পরিচয়ে (الهوية) বড় ধরনের সংকটেরই ইঙ্গিত দেয়। কেননা পরাজিত ও দুর্বলরাই সর্বদা বিজয়ীকে অনুকরণ করতে চায় এবং তাদের অনুসরণ করে।

আর যারা ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন তারা দেখতে পাবেন যে এটি একটি অবিরাম ধারা। যখন রাষ্ট্রক্ষমতা মুসলমানদের হাতে ছিল, তখন মুশরিকরা তাদের ভাষা শেখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
والعيش في بلادهم؛ ليتمتعوا بالأمن والعدل ورغد العيش الذي كانت بلادهم قفراً منه.

ثم إنه بعد سقوط الخلافة الإسلامية وانتشار الغزو الصليبي لبلاد الإسلام، أو ما سُمي زوراً بـ (الاستعمار)؛ فتحت دول الكفر باب التجنس لمن يرغب في ذلك من المسلمين؛ لطمس هويتهم، وإخماد روح الإيمان والجهاد في قلوبهم، وذلك في أوائل القرن الميلادي المنصرم، وهي نتيجة طبيعية لضعف المسلمين وقوة شوكة عدوهم.

يقول ابن خلدون في مقدمته الشهيرة: (المغلوب مولع أبداً بالاقتداء بالغالب في شعاره وزيِّه ونِحلته وسائر أحواله وعوائده؛ والسبب في ذلك أن النفس أبداً تعتقد الكمال فيمن غلبها وانقادت إليه؛ إما لنظره بالكمال بما وقر عندها من تعظيمه، أو لما تغالط من أن انقيادها ليس لغالب طبيعي إنما هو لكمال الغالب وتشبُّهه به، وذلك هو الاقتداء، أو لما تراه - والله أعلم - من أن غلب الغالب لها ليس بعصبية ولا قوة ناس وإنما هو بما انتحل من العوائد والمذاهب.

ولذلك ترى المغلوب يتشبه أبداً بالغالب في ملبسه ومركبه وسلاحه في اتخاذها وأشكالها؛ بل وفي سائر أحواله)(1).

والحاصل أن التجنس بجنسية الدول الكافرة مسألة حادثة،

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن خلدون، (2/ 505).
এবং তাদের দেশগুলোতে বসবাস করা; যাতে তারা সেই নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করতে পারে, যা থেকে তাদের নিজ দেশগুলো রিক্ত ছিল।

অতঃপর ইসলামী খিলাফতের পতন এবং মুসলিম ভূখণ্ডে ক্রুসেডারদের আগ্রাসন—অথবা যাকে মিথ্যাভাবে ‘উপনিবেশবাদ’ বলা হয়—ছড়িয়ে পড়ার পর, কুফরি রাষ্ট্রসমূহ সেইসব মুসলিমদের জন্য নাগরিকত্বের দ্বার উন্মোচন করে যারা তা গ্রহণে আগ্রহী ছিল; যাতে তাদের স্বকীয়তা বিলুপ্ত করা যায় এবং তাদের অন্তরে ঈমান ও জিহাদের চেতনাকে স্তিমিত করে দেওয়া যায়। এটি ছিল গত ঈসায়ী শতাব্দীর শুরুর দিকের ঘটনা, যা মুসলিমদের দুর্বলতা এবং তাদের শত্রুদের প্রতাপের এক স্বাভাবিক পরিণতি।

ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত মুকাদ্দিমাহ-তে বলেন: (পরাজিত জাতি সর্বদা বিজয়ীর প্রতীক, পোশাক, ধর্মবিশ্বাস এবং যাবতীয় অবস্থা ও অভ্যাসের অনুকরণে মত্ত থাকে। এর কারণ হলো, মানুষের মন সর্বদা তার ওপর বিজয়ীর মধ্যে পূর্ণতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করে এবং তার প্রতি অনুগত হয়ে পড়ে; হয়তো বিজয়ীর প্রতি অন্তরে বদ্ধমূল হওয়া শ্রদ্ধাবোধ থেকে তাকে পূর্ণ জ্ঞান করার কারণে, অথবা এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে যে, তার এই আনুগত্য কোনো স্বাভাবিক বিজয়ীর প্রতি নয়, বরং বিজয়ীর পূর্ণতা ও তার সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের জন্য—আর এটাই হলো অনুকরণ। অথবা—আল্লাহই ভালো জানেন—সে মনে করে যে, বিজয়ীর এই বিজয় কোনো গোষ্ঠীগত সংহতি বা শক্তির কারণে নয়, বরং তার গৃহীত অভ্যাস ও আদর্শের কারণে হয়েছে।

আর একারণেই তুমি দেখবে যে, পরাজিত জাতি সর্বদা তাদের পোশাক, যানবাহন ও অস্ত্রের ধরন ও আকৃতির ক্ষেত্রে, এমনকি জীবনের যাবতীয় ক্ষেত্রে বিজয়ীর অনুকরণ করে থাকে)(1)।

সারকথা হলো, কাফের দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করা একটি আধুনিক বা নতুন উদ্ভূত বিষয়,

--------------------------------------------

(1) মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন, (২/ ৫০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد اختلف فيها فقهاء العصر على أربعة أقوال:

القول الأول:

قول أكثر الفقهاء المعاصرين وهو المنع، وممن قال به العلامة الشيخ محمد رشيد رضا، والشيخ علي محفوظ عضو هيئة كبار العلماء بالأزهر الشريف، والشيخ محمد عبدالباقي الزرقاني، والشيخ إدريس الشريف محفوظ مفتي لبنان، والشيخ يوسف الدجوي عضو هيئة كبار العلماء بالأزهر الشريف، والشيخ عبداللطيف بن عبدالرحمن، والعلامة عبدالحميد بن باديس، والعلامة البشير الإبراهيمي، وكل أعضاء جمعية العلماء المسلمين الجزائريين، واللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء في المملكة العربية السعودية، والعلامة الشيخ ابن عثيمين .. وغيرهم.

القول الثاني:

قول بعض فقهاء العصر وهو الجواز، ومنهم د. يوسف القرضاوي، ود. وهبة الزحيلي، بشرط المحافظة على الدين والتمسك به، وعدم الذوبان في المجتمع الكافر.

القول الثالث:

جواز التجنس بجنسية الدولة الكافرة عند الضرورة؛ كما لو كان مضطهداً في دينه في بلده المسلم ولم يقبله أحد سوى الحكومة الكافرة، وهو رأي بعض أعضاء مجمع الفقه الإسلامي، وقد وضع الشيخ الخليلي ثلاثة شروط للجواز، وهي:
এ বিষয়ে বর্তমান সময়ের ফকিহগণ চারটি মতের ওপর ইখতিলাফ বা মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত:

অধিকাংশ সমসাময়িক ফকিহদের মত হলো এটি নিষিদ্ধ (المنع), এবং যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা, আল-আযহার আল-শরিফের হাইয়াত কিবারিল উলামা-র সদস্য শেখ আলি মাহফুজ, শেখ মুহাম্মদ আব্দুল বাকি আল-জুরকানি, লেবাননের মুফতি শেখ ইদ্রিস আল-শরিফ মাহফুজ, আল-আযহার আল-শরিফের হাইয়াত কিবারিল উলামা-র সদস্য শেখ ইউসুফ আল-দাজউয়ি, শেখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান, আল্লামা আব্দুল হামিদ বিন বাদিস, আল্লামা আল-বশির আল-ইব্রাহিমি, আলজেরিয়ার মুসলিম উলামা সমিতির সকল সদস্য, সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, আল্লামা শেখ ইবনে উসাইমিন এবং অন্যান্যরা।

দ্বিতীয় মত:

বর্তমান সময়ের কিছু ফকিহদের মত হলো এটি বৈধ (الجواز), যাদের মধ্যে রয়েছেন ড. ইউসুফ আল-কারজাভি এবং ড. ওয়াহবা আল-জুহাইলি; তবে শর্ত হলো দ্বীন রক্ষা করা ও তাতে অবিচল থাকা এবং কাফের সমাজে বিলীন না হওয়া।

তৃতীয় মত:

জরুরি অবস্থার (الضرورة) প্রেক্ষিতে কাফের রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা বৈধ (جواز); যেমন যদি কেউ তার নিজের মুসলিম দেশে দ্বীনি কারণে নির্যাতিত হয় এবং কাফের সরকার ছাড়া অন্য কেউ তাকে গ্রহণ না করে। এটি ইসলামি ফিকহ একাডেমির কিছু সদস্যের অভিমত। শেখ আল-খলিলি এর বৈধতার (الجواز) জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন, সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
1 - انسداد أبواب العالم الإسلامي في وجه لجوئه إليهم.

2 - أن يضمر النية على العودة متى تيسَّر ذلك.

3 - أن يختار البلد التي يمارس فيها دينه بحرية.

القول الرابع:

التفصيل في المسألة؛ فالناس في طلب الجنسية على ثلاثة أقسام:

1 - التجنس بجنسية الدولة الكافرة من غير مسوِّغ شرعي، بل تفضيلاً للدولة الكافرة وإعجاباً بها وبشعبها وحكمها، وهذه ردة عن الإسلام عياذاً بالله.

2 - التجنس للأقليات المسلمة التي هي من أصل سكان تلك البلاد؛ فهو مشروع وعليهم نشر الإسلام في بلادهم، وتبييت النية للهجرة لو قامت دولة الإسلام واحتاجت إليهم.

3 - تجنس الأقليات المسلمة التي لم تكن من أهل البلد الكافرة، ويعتريه الحالات التالية:

(أ) أن يترك المسلم بلده بسبب الاضطرار والاضطهاد ويلجأ لهذه الدولة؛ فهو جائز بشرط الاضطرار الحقيقي للجوء، وأن يتحقق الأمن للمسلم وأهله في بلاد الكفر، وأن يستطيع إقامة دينه هناك، وأن ينوي الرجوع لبلاد الإسلام متى تيسر ذلك، وأن ينكر المنكر ولو بقلبه، مع عدم الذوبان في مجتمعات الكفر.
1 - মুসলিম বিশ্বে তার আশ্রয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া।

2 - যখনই সুযোগ হবে তখন (স্বদেশে) ফিরে আসার নিয়ত অন্তরে পোষণ করা।

3 - এমন দেশ নির্বাচন করা যেখানে সে স্বাধীনভাবে তার ধর্ম পালন করতে পারবে।

চতুর্থ অভিমত:

বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ; নাগরিকত্ব কামনার ক্ষেত্রে মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:

1 - কোনো শরিয়তসম্মত ওজর ব্যতিরেকে কাফের রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা, বরং কাফের রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সেই রাষ্ট্র, তার জনগণ ও শাসনব্যবস্থার প্রতি মুগ্ধতা থেকে তা করা; এটি ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ (ردة), আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

2 - সেই সব মুসলিম সংখ্যালঘু যারা মূলত সেসব দেশেরই আদি অধিবাসী; তাদের নাগরিকত্ব গ্রহণ শরিয়তসম্মত (مشروع) এবং তাদের কর্তব্য হলো নিজ দেশে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করা এবং ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ও তাদের প্রয়োজন হলে হিজরতের নিয়ত রাখা।

3 - সেই সব মুসলিম সংখ্যালঘু যারা কাফের দেশের আদি অধিবাসী নয়; তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিম্নরূপ:

(ক) কোনো মুসলিম যদি নিরুপায় অবস্থা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ দেশ ত্যাগ করে এই রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করে; তবে তা বৈধ (جائز), শর্ত হলো আশ্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত নিরুপায় অবস্থা থাকতে হবে, কুফরি রাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট মুসলিম ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে, সেখানে দ্বীন পালনে সক্ষম হতে হবে, সুযোগ হওয়া মাত্রই ইসলামি ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার নিয়ত রাখতে হবে এবং কুফরি সমাজে বিলীন না হয়ে অন্তত অন্তর দিয়ে হলেও মন্দ কাজের (منكر) প্রতিবাদ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
(ب) أن يترك المسلم بلده قاصداً بلاد الكفر لأجل القوت؛ فلو بقي في بلاده لهلك هو وأهله، فله أن يتجنس إذا لم يستطع البقاء بغير جنسيته.

(ج) التجنس لمصلحة الإسلام والمسلمين ونشر الدعوة، وهو جائز.

(د) التجنس لمجرد أغراض دنيوية بلا ضرورة ولا مصلحة للإسلام وأهله، وهو محرم.

وهذا التفصيل رجّحه بعض الباحثين وأصحاب الرسائل الجامعية.

أدلة المانعين:

استدل المانعون بأدلة كثيرة، وعمومات ومقاصد شرعية نوردها فيما يلي:

- قال تعالى: {لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً} [آل عمران: 28].

- وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (23) قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ (24)} [التوبة].
(খ) কোনো মুসলিমের জীবিকার তাগিদে নিজ দেশ ত্যাগ করে কুফরি ভূখণ্ডে গমনের বিষয়টি; এমতাবস্থায় সে যদি নিজ দেশে অবস্থান করত তবে সে ও তার পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত, এমতাবস্থায় তার জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণ করা বৈধ যদি নাগরিকত্ব গ্রহণ ব্যতীত সেখানে অবস্থান করা সম্ভব না হয়।

(গ) ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ এবং দাওয়াত প্রচারের উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব গ্রহণ করা; আর এটি বৈধ (جائز)।

(ঘ) কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) ছাড়াই কেবল পার্থিব উদ্দেশ্যে এবং ইসলাম ও তার অনুসারীদের কোনো কল্যাণ ব্যতীত নাগরিকত্ব গ্রহণ করা; আর এটি নিষিদ্ধ (محرم)।

এই বিস্তারিত বিবরণটিকে কিছু গবেষক ও একাডেমিক থিসিস রচয়িতাগণ প্রাধান্য (رجحه) দিয়েছেন।

নিষিদ্ধকারীগণের দলিলসমূহ:

যারা নিষিদ্ধ করেছেন তারা অনেক দলিল, সাধারণ মূলনীতি (عمومات) এবং শরয়ি উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد شرعية) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যা আমরা নিচে উল্লেখ করছি:

- মহান আল্লাহ বলেন: "মুমিনগণ যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফেরদের অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম হলো যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্টের ভয় করো (تقاة)।" [আলে ইমরান: ২৮]।

- মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদের অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের বিপরীতে কুফরকে পছন্দ করে। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, তারাই জালিম। বলুন, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।" [আত-তাওবাহ: ২৩-২৪]।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ففي هاتين الآيتين النهي عن اتخاذ ذوي القربى أولياء إن كانوا كفاراً؛ فكيف باتخاذ الأباعد أولياء وأصحاباً، وإظهار الموافقة لما هم عليه والرضا به؟

- وقال عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء].

- ومن السنة ما رواه أبو داود من حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ جَامَعَ الْمُشْرِكَ وَسَكَنَ مَعَهُ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ»(1).

-وقوله صلى الله عليه وسلم: «أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّه لِمَ؟ قَالَ: «لَا تَرَاءَى نَارَاهُمَا»(2).

- وبما رواه النسائي من حديث جرير بن عبدالله قال: بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ، وَعَلَى فِرَاقِ الْمُشْرِكِ(3).

-وروى النسائي في سننه من حديث بهز بن حكيم عن أبيه

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود برقم (2787) وحسنه الألباني في السلسلة الصحيحة برقم (2330).

(2) سنن الترمذي برقم (1604) وحسنه الألباني في صحيح سنن الترمذي برقم (1307).

(3) سنن النسائي برقم (4175)، وأحمد في مسنده برقم (19238) وقال محققوه حديث صحيح.
এই দুই আয়াতে নিকটাত্মীয়রা কাফির হলে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে; তবে অনাত্মীয়দের বন্ধু ও সাথী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তারা যে অবস্থায় আছে তার প্রতি সম্মতি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করার বিষয়টি কেমন হতে পারে?

- মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছিল, ফেরেশতারা যখন তাদের জান কবজ করছিল তখন তারা বলল, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?’ তারা বলল, ‘আমরা জমিনে অসহায় ছিলাম।’ ফেরেশতারা বলল, ‘আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?’ সুতরাং এদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম আর তা কতই না মন্দ গন্তব্য!} [নিসা]।

- সুন্নাহর মধ্য থেকে আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত সামুরা বিন জুনদুব (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখযোগ্য যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুশরিকের সাথে একত্রিত হলো এবং তার সাথে বসবাস করল, সেও তারই মতো»(১)।

- এবং নবী (সা.)-এর বাণী: «আমি এমন প্রত্যেক মুসলিম থেকে সম্পর্কহীন যে মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করে», তারা আরজ করল: হে আল্লাহর রাসুল! কেন? তিনি বললেন: «তাদের উভয়ের আগুন যেন একে অপরকে দেখতে না পায়»(২)।

- এবং নাসাঈ কর্তৃক বর্ণিত জারির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা এবং মুশরিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ওপর বায়আত গ্রহণ করেছি(৩)।

- এবং নাসাঈ তার সুনান গ্রন্থে বাহজ বিন হাকিম থেকে তার পিতার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং (২৭৮৭) এবং আলবানী একে সিলসিলাহ সহিহাহ-তে হাসান (حسن) বলেছেন, হাদিস নং (২৩৩০)।

(২) সুনান তিরমিজি, হাদিস নং (১৬০৪) এবং আলবানী একে সহিহ সুনান তিরমিজি-তে হাসান (حسن) বলেছেন, হাদিস নং (১৩০৭)।

(৩) সুনান নাসাঈ, হাদিস নং (৪১৭৫), এবং আহমাদ তার মুসনাদ-এ, হাদিস নং (১৯২৩৮); এর গবেষকগণ একে সহিহ (صحيح) হাদিস বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ عز وجل مِنْ مُشْرِكٍ بَعْدَمَا أَسْلَمَ عَمَلاً، أَوْ يُفَارِقُ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ»(1).

- وفي صحيح مسلم عن بريدة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا بعث أميراً على سرية أو جيشاً أوصاه بأمور؛ فذكرها، ومنها: «ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ»(2).

وجه الدلالة من الآيات والأحاديث السابقة:

لقد استفاضت النصوص الشرعية السابقة في التحذير من موالاة الكافرين، ومحبتهم ومودتهم، والرضا عنهم وعن منكراتهم، وأوضحت أن ذلك مناقض لأصل الإسلام وهادم لعقيدة الولاء والبراء والحب والبغض في الله التي لا يصح إسلام عبدٍ إلا بها.

ولما كان التجنس يلزم منه - لا محالة - ولاء المرء للدولة التي يحمل جنسيتها وخضوعه لنظامها وقوانينها، ويصير المتجنس واحداً من المواطنين له ما لهم وعليه ما عليهم، وتجري عليه أحكام ملتهم في الأحوال الشخصية والمواريث، وعدم تدخله في شؤون أولاده إذا بلغوا السن القانونية عندهم سواء الذكور والإناث .. ، لمّا كان الأمر كذلك كان طلب التجنس بجنسية الدول

--------------------------------------------

(1) سنن النسائي برقم (2568) وحسنه الألباني في صحيح الجامع الصغير برقم (7748).

(2) صحيح مسلم برقم (1731).
তার দাদা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কোনো মুশরিক (مشرك) ইসলাম গ্রহণ করার পর তার কোনো আমল কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদের ছেড়ে মুসলিমদের দলে যোগদান করে»(১).

- এবং সহীহ মুসলিম-এ বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো ক্ষুদ্র সেনাদল বা বাহিনীর ওপর কোনো আমির নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষ কিছু বিষয়ে অসিয়ত করতেন; তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল: «অতঃপর তুমি তাদেরকে তাদের আবাসভূমি ছেড়ে মুহাজিরদের আবাসভূমির দিকে হিজরত করার আহ্বান জানাও»(২).

পূর্ববর্তী আয়াত ও হাদিসসমূহ হতে নির্দেশনার দিক (وجه الدلالة):

পূর্ববর্তী শরয়ী ভাষ্যসমূহ (نصوص) কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও হৃদ্যতা এবং তাদের ও তাদের গর্হিত কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার ব্যাপারে সতর্ক করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে (استفاضت)। এই ভাষ্যগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এজাতীয় আচরণ ইসলামের মূল ভিত্তির পরিপন্থী এবং আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (الولاء والبراء) তথা আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা এবং আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা ও ঘৃণার আকিদাকে ধ্বংসকারী, যা ব্যতিরেকে কোনো বান্দার ইসলাম শুদ্ধ হয় না।

যেহেতু নাগরিকত্ব গ্রহণের ফলে অনিবার্যভাবে সেই রাষ্ট্রের প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুগত্য (ولاء) এবং তার শাসনব্যবস্থা ও আইনের প্রতি বশ্যতা জরুরি হয়ে পড়ে; আর নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি উক্ত রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়—যাদের ন্যায় তারও অধিকার ও দায়বদ্ধতা সাব্যস্ত হয়; এবং তার ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিধানসমূহ কার্যকর হয়; আর সন্তানরা আইনগত বয়সে পদার্পণ করলে তাদের ক্ষেত্রে—চাই তারা পুত্র হোক বা কন্যা—পিতার কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না...; বাস্তবতা যখন এমনই, তখন অমুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের আবেদন করা...

--------------------------------------------

(১) সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৫৬৮ এবং আলবানী একে সহীহ আল-জামে আস-সাগীর-এ (হাদিস নং ৭৭৪৮) হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭৩১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الكافرة من غير إكراه عليها بل طلباً من المتجنس أو موافقة على قبولها صورة من صور الردة عن الإسلام عياذاً بالله، وخروجاً عن سبيل المؤمنين ودخولاً في معية الكافرين؛ الذين حذرنا الله تعالى منهم ومن اتباع سبيلهم، والمقام بين أظهرهم، وموالاتهم والركون إليهم، كما دلت على ذلك النصوص السابقة.

ثم ختم حفظه الله البحث في هذه المسألة بقوله: (والذي يظهر بعد عرض أدلة المختلفين وردَّها إلى الكتاب والسنة والمقاصد المرعية المعتبرة، أن مذهب المحرِّمين هو الصحيح، وأدلتهم قوية سالمة من المعارض المساوي فضلاً عن الراجح.

إلا أنه قد تعتري المسألة أحوال وملابسات تبيح التجنس لضرورة ملجئة فتقدَّر بقدرها، وغنيٌّ عن البيان أن الكلام ليس على من تجنَّس رغبة في الكفر وتفضيلاً لأحكامه واعتزازاً وافتخاراً بتلك الجنسية، ولا الكلام عمّن يتجنس لتحصيل مصالح دنيوية ليست ضرورية، بل غايتها أن تكون من التحسينيات؛ فالأول مرتد قطعاً، ولا يتوقف في هذا عالم، والثاني على خطر عظيم وهو ممن استحبَّ الحياة الدنيا على الآخرة، ويشمله قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ (24)} [التوبة].
কোনরূপ বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কাফের [রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা], বরং নাগরিকত্ব প্রত্যাশীর পক্ষ থেকে আবেদন বা তা গ্রহণে সম্মতি প্রদান হলো ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগের একটি রূপ (আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই), এবং মুমিনদের পথ থেকে বিচ্যুতি ও কাফেরদের দলভুক্ত হওয়া; যাদের সম্পর্কে এবং যাদের পথ অনুসরণ করা, তাদের মাঝে বসবাস করা, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন, যেমনটি পূর্ববর্তী দলীলসমূহ নির্দেশ করেছে।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এই মাসআলার গবেষণা এই বলে সমাপ্ত করেছেন: (বিবদমান পক্ষগুলোর দলীলসমূহ উপস্থাপন এবং সেগুলোকে কিতাব, সুন্নাহ ও সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের পর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো—হারাম বা নিষিদ্ধকারীগণের মাযহাবই সঠিক (الصحيح), এবং তাদের দলীলসমূহ শক্তিশালী ও সমপর্যায়ের কোনো বিরোধী বর্ণনা থেকে মুক্ত, প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) হওয়া তো দূরের কথা।

তবে এই মাসআলায় এমন কিছু অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতা সৃষ্টি হতে পারে যা একান্ত নিরুপায় হওয়ার দরুন নাগরিকত্ব গ্রহণ করাকে বৈধ করে, সেক্ষেত্রে তা প্রয়োজনের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই আলোচনা ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে নয় যে কুফরির প্রতি অনুরাগী হয়ে, কুফরি বিধানসমূহকে প্রাধান্য দিয়ে এবং সেই নাগরিকত্বের ওপর গর্ব ও অহংকার করে তা গ্রহণ করেছে; আর ঐ ব্যক্তির ব্যাপারেও নয় যে অপ্রয়োজনীয় পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তা শুধু বিলাসিতা বা শোভাবর্ধনের পর্যায়ভুক্ত হওয়া। প্রথম ব্যক্তি অকাট্যভাবে ধর্মত্যাগী, এ ব্যাপারে কোনো আলেম দ্বিধা পোষণ করেন না। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি গুরুতর বিপদের ওপর রয়েছে এবং সে ঐসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা পরকালের চেয়ে পার্থিব জীবনকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। আর মহান আল্লাহর এই বাণী তাকে শামিল করে: {বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার তোমরা আশঙ্কা কর এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান—আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। (২৪)} [আত-তাওবাহ]।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقوله جل ذكره: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ (20)} [الشورى].

وإنما الكلام في ثلاث حالات، وبيانها كالآتي:

1 - الأقليات المسلمة التي هي من سكان تلك البلاد أصلاً؛ فهؤلاء تثبت لهم الجنسية بمجرد ولادتهم، ولا خيار لهم في ذلك؛ فهم مكرهون عليها ولا إثم على مكره، ولا تستقيم لهم حياة بدون جنسية؛ فهي في حقهم ضرورة، لكن مع ذلك لابد أن يلتزموا بأحكام الإسلام جُهدهم ويُظهروا دينهم وإلا وجب عليهم التحول ولزمتهم الهجرة، والهجرة لا تنقطع حتى تنقطع التوبة، ولا تنقطع التوبة حتى تطلع الشمس من مغربها، ومن اختار البقاء، أو ضاقت به السبل فليعمل على إظهار دينه ما استطاع، أو ليعزم على الهجرة لبلاد المسلمين متى ما أمكنه ذلك، ولا يكلف الله نفساً إلا وسعها.

2 - من اضطر إلى التجنس بسبب اضطهاده في بلده الأصلي، أو للتضييق عليه في نفسه أو عِرضه أو قوته، أو كان لا يحمل جنسية أصلاً ومُنع من الإقامة إلا بالتجنس؛ فهؤلاء إن لم يمكنهم دفع ضرورتهم بالإقامة فقط وكان لابد من التجنس وتعيَّن لدفع ضرورتهم الواقعة المعتبرة؛ فلهم التجنس من باب "الضرورات تبيح
মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি; আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দান করি এবং পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই।} [আশ-শূরা: ২০]।

মূলত আলোচনাটি তিনটি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

1 - মুসলিম সংখ্যালঘু যারা মূলত ওই সকল দেশেরই আদি বাসিন্দা; তাদের জন্য জন্মসূত্রেই নাগরিকত্ব সাব্যস্ত হয় এবং এতে তাদের কোনো পছন্দ বা ইখতিয়ার থাকে না; তারা এক্ষেত্রে বাধ্য (مكره), আর বাধ্য ব্যক্তির কোনো পাপ নেই। নাগরিকত্ব ছাড়া তাদের জীবন সুচারুরূপে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়; তাই এটি তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্যতা (ضرورة)। তবে তা সত্ত্বেও তাদের সাধ্যমতো ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং নিজেদের দ্বীন প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তাদের স্থান পরিবর্তন করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়বে এবং তাদের ওপর হিজরত (هجرة) করা বাধ্যতামূলক হবে। আর হিজরত (هجرة) ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না তাওবা (توبة) বন্ধ হয়, আর তাওবা (توبة) ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়। যারা সেখানে অবস্থান করাকেই বেছে নেয় অথবা যাদের পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, তারা যেন সাধ্যমতো নিজ দ্বীন প্রকাশের চেষ্টা করে অথবা সুযোগ হওয়ামাত্রই মুসলিম দেশগুলোতে হিজরত (هجرة) করার দৃঢ় সংকল্প রাখে। আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।

2 - যারা নিজ দেশে নির্যাতিত হওয়ার কারণে, অথবা নিজের জীবন, সম্মান বা জীবিকার ওপর সংকীর্ণতার কারণে নাগরিকত্ব গ্রহণে বাধ্য হয়, অথবা যার আদতে কোনো নাগরিকত্ব নেই এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ ছাড়া সেখানে বসবাস করতে বাধা প্রদান করা হয়; এমতাবস্থায় তারা যদি কেবল বসবাসের অনুমতির মাধ্যমে তাদের অপরিহার্যতা (ضرورة) নিরসন করতে না পারে এবং নাগরিকত্ব গ্রহণই যদি তাদের অপরিহার্যতা (ضرورة) নিরসনের জন্য সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়, তবে "অপরিহার্যতা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে (الضرورات تبيح)" এই মূলনীতির আলোকে তাদের জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণ বৈধ।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
المحظورات" قال تعالى: {وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ} [الأنعام: 119]. وقد أباح الشرع النطق بكلمة الكفر حال الإكراه مع طمأنينة القلب بالإيمان. قال تعالى: {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ} [النحل: 106]. وقال سبحانه: {لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً} [آل عمران: 28].

ولكن لابد أن تُقدر الضرورة بقدرها بعد تحقق كونها ضرورة ملجئة، وتعين التجنس مزيلاً لها؛ بشرط أن لَاّ تذوب شخصيته في شخصية الكفار، وأن يأمن على نفسه وأهله وأولاده الفتنة، وأن يستشعر انتماءه للإسلام وأهله، وينوي الرجوع إلى بلاد المسلمين متى زال عذره، وأن ينكر المنكرات بقلبه إن لم يمكنه ذلك بيده ولسانه، وأن يتخير البلد الذي يستطيع فيه إظهار دينه بلا غضاضة عليه.

3 - أن يتجنس المسلم لتحقيق مصالح كلية كبرى للإسلام وأهله؛ كالدعوة إلى الله، وتحصيل علوم ضرورية يحتاجها المسلمون ولا يمكن تحصيلها بدون ذلك، مع أمنه على نفسه، ودينه، وأهله وولده، وانتفاء المفاسد التي ذكرناها آنفاً في حقه أو في حق أهله، فهذا باب يسوغ فيه النظر والاجتهاد والموازنة بين المصالح
"নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ" আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের কী হয়েছে যে, যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা তোমরা খাবে না? অথচ তিনি তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তবে তোমরা যার প্রতি বাধ্য হও তা ব্যতীত} [আল-আনআম: ১১৯]। আর শরিয়ত ঈমানের ওপর অন্তরের অবিচলতা বজায় রেখে জবরদস্তির অবস্থায় কুফরি বাক্য উচ্চারণের অনুমতি দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে সে নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অবিচল} [আন-নাহল: ১০৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুমিনরা যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যে এমন করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না; তবে যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করো} [আলে ইমরান: ২৮]।

তবে প্রয়োজনীয়তাকে (ضرورة) তার সঠিক মাত্রায় নির্ধারণ করতে হবে, যখন তা নিরুপায় হওয়ার মতো জরুরি অবস্থা হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং নাগরিকত্ব গ্রহণই তা দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে নির্ধারিত হবে; এই শর্তে যে, কাফিরদের কৃষ্টি ও পরিচয়ের মধ্যে তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের বিলুপ্তি ঘটবে না, সে নিজের ওপর এবং তার পরিবার ও সন্তানদের ফিতনার ব্যাপারে নিরাপদ থাকবে, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি নিজের সম্পৃক্ততা অনুভব করবে, ওজর দূর হওয়ামাত্র মুসলিমদের দেশে ফিরে আসার নিয়ত রাখবে, আর যদি হাত ও মুখ দিয়ে সম্ভব না হয় তবে অন্তত অন্তর দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে এবং এমন দেশ বেছে নেবে যেখানে সে কোনো প্রকার সংকোচ ছাড়াই নিজের দ্বীন প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।

৩ - ইসলাম ও মুসলিমদের বৃহৎ সামগ্রিক স্বার্থ অর্জনের জন্য কোনো মুসলিমের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা; যেমন আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং এমন সব জরুরি জ্ঞান অর্জন করা যা মুসলিমদের জন্য প্রয়োজন অথচ নাগরিকত্ব গ্রহণ ব্যতীত তা অর্জন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শর্ত হলো—সে নিজে এবং তার দ্বীন, পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে নিরাপদ থাকবে এবং তার বা তার পরিবারের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে উল্লিখিত অনিষ্টসমূহ বিদ্যমান থাকবে না। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ, ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং স্বার্থের (مصالح) মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والمفاسد، والله يعلم المفسد من المصلح، والله عند قلب المرء ولسانه ولا يخفى عليه شيء من أمره.

وهذه الصورة من التجنس قد تلحق بالتجنس الإجباري ظاهراً، ولكنها من الاضطراري حقيقة وحكماً في حين أن الصورتين الأوليين من التجنس الاضطراري من غير خلاف .. والله أعلم"(1).

--------------------------------------------

(1) فقه النوازل للأقليات المسلمة للدكتور محمد يسري (2/ 1098 - 1125) بتصرف.
এবং অনিষ্টসমূহ। আর আল্লাহ সংশোধনকারী থেকে অনিষ্টকারীকে জানেন; আল্লাহ মানুষের অন্তর ও জিহ্বার অবস্থা সম্পর্কে অবগত এবং তাঁর কাছে মানুষের কোনো বিষয়ই গোপন নেই।

নাগরিকত্ব গ্রহণের এই পদ্ধতিটি বাহ্যিকভাবে বাধ্যতামূলক (إجباري) নাগরিকত্বের অন্তর্ভুক্ত মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বাস্তবতা (حقيقة) ও বিধানের (حكم) বিচারে নিরুপায় বা আবশ্যিক (اضطراري) অবস্থার অন্তর্ভুক্ত; যেখানে প্রথমোক্ত দুটি পদ্ধতি কোনো মতভেদ ছাড়াই নিরুপায় বা আবশ্যিক (اضطراري) নাগরিকত্বের অন্তর্ভুক্ত... আর আল্লাহই ভালো জানেন।(১)

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ ইউসরি রচিত ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিয়াতিল মুসলিমাহ (২/ ১০৯৮ - ১১২৫) সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌ثانياً: الإقامة

1 - "كلام أهل العلم المتقدمين وبحوثهم بوجوب الهجرة من بلد الكفر إلى بلد الإسلام، وما يستحب من ذلك أو يباح كان في واقع غير الواقع المعاصر، فقد كانت الخلافة الإسلامية التي يأوي إليها كل مسلم قائمة، وبلاد المسلمين كلها بلد واحد، فأينما تيمم المسلم في بلاد الإسلام فهو في بلده لا يحس بغربة ولا يشعر بوحشة.

أما اليوم فإن بعض المسلمين يفر بدينه من بلده لما يقع عليه من الاضطهاد في دينه ودنياه، وربما وجد في تلك البلاد حياة كريمة وتمتعاً في الحقوق وحرية في إقامة شعائر دينه قد لا توجد في غالب الدول الإسلامية"(1)، فإلى الله المشتكى من غربة الدين، وقلة الناصرين، وتسلط الظالمين.

2 - إن هذه المسألة وما شابهها لا يمكن تنزيل حكمها على العموم لاختلاف أحوال الناس، فلكل فرد حكمه الذي يخصه بحسب واقعه وحاله على حد قوله تعالى: {لَا

--------------------------------------------

(1) فقه النوازل للأقليات المسلمة للدكتور محمد يسري (2/ 1094).
দ্বিতীয়ত: অবস্থান (الإقامة)

১ - "কুফর রাষ্ট্র (بلد الكفر) থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে (بلد الإسلام) হিজরত (هجرة) করার আবশ্যকতা (وجوب), এবং এর যা কিছু পছন্দনীয় (مستحب) বা বৈধ (مباح) হওয়া বিষয়ক পূর্ববর্তী আলেমগণের আলোচনা ও গবেষণাগুলো বর্তমান বাস্তবতার চেয়ে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে ছিল। তখন ইসলামি খিলাফত (خلافة) প্রতিষ্ঠিত ছিল যেখানে প্রত্যেক মুসলিম আশ্রয় গ্রহণ করতে পারত এবং মুসলিম দেশগুলো সব মিলে একটি দেশ হিসেবে গণ্য ছিল। ফলে একজন মুসলিম ইসলামের দেশগুলোর যেখানেই যেতেন, তিনি নিজেকে নিজ দেশেই মনে করতেন; কোনো পরবাস বা নিঃসঙ্গতা অনুভব করতেন না।

কিন্তু বর্তমানে কোনো কোনো মুসলিম তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার ওপর আপতিত নির্যাতনের কারণে দ্বীন রক্ষার তাগিদে নিজ দেশ থেকে পলায়ন করেন। সম্ভবত তারা সেসব দেশে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ জীবন, অধিকার ভোগ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা লাভ করেন, যা অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রে সচরাচর পাওয়া যায় না"(১)। দ্বীনের এই নিঃসঙ্গতা, সাহায্যকারীর স্বল্পতা এবং জালিমদের আধিপত্যের অভিযোগ আল্লাহর দরবারেই পেশ করছি।

২ - এই মাসআলা এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোর বিধান বা হুকুম (حكم) মানুষের অবস্থার ভিন্নতার কারণে সাধারণভাবে (العموم) প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বরং মহান আল্লাহর এই বাণী অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার বাস্তবতা ও অবস্থাভেদে স্বতন্ত্র হুকুম (حكم) প্রযোজ্য হবে: {না...

--------------------------------------------

(১) ডক্টর মুহাম্মাদ ইউসরি প্রণীত ফিকহুন নাওয়াযিল লিল আক্বাল্লিয়্যাত আল-মুসলিমা (২/ ১০৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا (98)} [النساء]. فواجد الحيلة غير فاقدها، والقوي غير الضعيف، والغني غير الفقير، وذو العصبة غير الكلالة .. وهكذا تختلف الأحكام باختلاف الأحوال، وتختلف من جانب آخر وهو أنها ترجع إلى قواعد تحتاج في تطبيقها على الوقائع إلى النظر الدقيق والفهم الثاقب، والإلمام التام مثل قاعدة "درء المفاسد مقدم على جلب المصالح" وقاعدة "دفع أعظم الضررين بفعل أدناهما" .. وغيرها.

3 - مما يعين على الوصول إلى معرفة القول الصائب، المقارنة بين حال الشخص في تلك البلاد الكافرة، وحاله في بلده، فيرجح منهما أكثر الحالين نفعاً وأقلهما ضرراً.

4 - مما يعين على ذلك معرفة حال تلك الدول الكافرة، فمنها دولٌ المسلمون فيها كثير لهم ثقلهم واعتبارهم، مساجدهم عامرة، وشعائرهم ظاهرة، ومنها دول بخلاف ذلك.

5 - النظر الدقيق والفهم العميق للنصوص الشرعية والسيرة النبوية يقضي بالتفريق بين من كان من تلك البلاد الكافرة أصلاً ومولداً، وبين الطارئ عليها، فلا يستوي من إذا خرج من تلك البلاد رجع إلى بلده بين أهله وذويه، وبين
তারা কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও খুঁজে পায় না (৯৮)} [আন-নিসা]। সুতরাং যে উপায়ের সংস্থান রাখে সে তার মতো নয় যে তা পায় না; শক্তিশালী ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির মতো নয়, ধনী ব্যক্তি দরিদ্রের মতো নয় এবং যার শক্তিশালী আত্মীয়স্বজন আছে সে উত্তরাধিকারীহীন (الكلالة) ব্যক্তির মতো নয়। এভাবেই পরিস্থিতিভেদে বিধানসমূহ পরিবর্তিত হয়। অন্যদিক থেকে এটি এমন কিছু মূলনীতির (القواعد) দিকে প্রত্যাবর্তন করে যেগুলোর বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, প্রখর প্রজ্ঞা এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের প্রয়োজন। যেমন একটি মূলনীতি হলো: "ক্ষতি দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য" এবং অন্যটি হলো: "দুটি অনিষ্টের মধ্যে বৃহত্তরটিকে এড়ানোর জন্য ক্ষুদ্রতরটি গ্রহণ করা" ইত্যাদি।

3 - সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যা সহায়ক হতে পারে তা হলো, সেই অমুসলিম দেশে উক্ত ব্যক্তির অবস্থা এবং তার নিজ দেশের অবস্থার মধ্যে তুলনা করা। অতঃপর এই দুই অবস্থার মধ্যে যেটি অধিকতর উপকারী এবং সর্বনিম্ন ক্ষতিকর, সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

4 - এ বিষয়ে সহায়ক আরেকটি দিক হলো সেই অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া। কারণ এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে মুসলিমদের সংখ্যা অনেক, সেখানে তাদের সামাজিক গুরুত্ব ও প্রভাব রয়েছে, তাদের মসজিদগুলো আবাদ এবং ধর্মীয় নিদর্শনসমূহ প্রকাশ্য। আবার এমন কিছু দেশও রয়েছে যার অবস্থা এর বিপরীত।

5 - শরীয়তের দলীলসমূহ (النصوص) এবং সীরাতে নববীর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও গভীর উপলব্ধি এই দাবি করে যে, সেই অমুসলিম দেশের মূল অধিবাসী বা সেখানে জন্মগ্রহণকারী এবং সেখানে নতুন আগমনকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই দেশ থেকে বের হলে নিজের দেশ ও পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেতে পারে, সে আর ওই ব্যক্তি সমান নয় যে...
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
من إذا خرج فإنما يخرج من بلده إلى بلاد أخرى لا يمكنه دخولها، فضلاً عن الإقامة فيها إلا بشروط والتزامات لا تتهيأ إلا للقليل.

فمن لاحظ ما تقدم وأمعن النظر لم يفته الصواب إن شاء الله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} [العنكبوت].

 

سُئلت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء بالمملكة العربية السعودية، يقول السائل:

ولدت في فرنسا وأعيش فيها إلى الآن، حيث أبلغ من العمر (26) سنة، أبواي تونسيان وأنا الآن متزوج ولي طفلان، الأول (أربع) سنوات، والثاني (تسعة) أشهر، أريد الهجرة إلى بلاد عربية من أجل مستقبل أبنائي خاصة، وللحفاظ على دينهم ولغتهم، كنت أنوي الاستقرار في تونس لأن جميع عائلتي هناك، وأبواي ينويان الرجوع إلى هناك، لكن المشكلة أن الحجاب هناك ممنوع منعاً باتاً على المرأة المسلمة حتى في الشارع، وجميع أفراد عائلتي هناك قد استكرهوا على نزع الحجاب، كما أنه لا يجوز هناك اللقاءات أو الاجتماعات ذات الصبغة الدينية، حتى ولو كان ضمن حفلة زواج أو غيرها، والمسلمون هناك خاصةً الشباب منهم مضطرون للعيش فرادى وفي خوف دائم، حتى لمجرد الصلاة الدائمة في المسجد.

لذلك فالعيش هناك بالنسبة لي ولزوجتي التي ترتدي
যে ব্যক্তি বের হয়, সে মূলত নিজ দেশ থেকে এমন অন্য দেশে যায় যেখানে প্রবেশ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, সেখানে বসবাস করা তো দূরের কথা; তবে কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা সাপেক্ষে যা খুব সামান্য কিছু লোক ছাড়া অন্যদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

সুতরাং যিনি পূর্বোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করবেন এবং গভীরভাবে চিন্তা করবেন, ইনশাআল্লাহ তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবেন না: {আর যারা আমার পথে প্রচেষ্টা (جاهدوا) চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন} [আনকাবুত]।

 

সৌদি আরব রাজ্যের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রশ্নকারী বলেন:

আমি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করছি, যেখানে আমার বর্তমান বয়স (২৬) বছর। আমার পিতামাতা তিউনিসীয় এবং আমি বর্তমানে বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। প্রথম সন্তানের বয়স (চার) বছর এবং দ্বিতীয় জনের (নয়) মাস। আমি বিশেষ করে আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের দ্বীন ও ভাষা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কোনো একটি আরব দেশে হিজরত (هجرة) করতে চাই। আমি তিউনিসিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করেছিলাম কারণ আমার সকল আত্মীয়-স্বজন সেখানে থাকেন এবং আমার পিতামাতাও সেখানে ফিরে যাওয়ার সংকল্প করছেন। কিন্তু সমস্যা হলো সেখানে মুসলিম নারীদের জন্য পর্দা (حجاب) এমনকি রাস্তায় চলাচলের সময়ও চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। আমার পরিবারের সকল সদস্য সেখানে পর্দা (حجاب) বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন। তদুপরি, সেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কোনো বৈঠক বা সমাবেশ করা জায়েজ (جائز) নেই, এমনকি তা বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্য কিছুর অধীনে হলেও। সেখানকার মুসলমানরা, বিশেষ করে যুবসমাজ, একাকী এবং সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে, এমনকি মসজিদে নিয়মিত সালাত (صلاة) আদায়ের কারণেও।

তাই সেখানে বসবাস করা আমার এবং আমার স্ত্রীর জন্য—যিনি পরিধান করেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الحجاب يعتبر مستحيلاً؛ لأنه حتى بالنسبة لأبنائي لا أضمن لهم أن يتعلموا دينهم هناك على قواعد صحيحة، وعندما أرجع وأفكر في وضعي الحالي وكيف أني أعيش في بلاد الكفار أجد نفسي معلقاً بين الأرض والسماء، ولا عندي حل يريحني؛ لأني لا أعرف هل الهجرة في هذه الحال واجبة أم لا؟ أرجو إفادتي جزاكم الله كل خير بأحاديث وآيات قرآنية أتخذ على أساسها القرار السليم، حتى لا أندم بعد ذلك أو أحس أنني أخطأت؟.

الجواب: نشكرك أيها الأخ على هذا الإحساس والشعور الديني الذي هو واجب على كل مسلم يؤمن بالله رباً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبياً ورسولاً، ونوصيك بتقوى الله تعالى في جميع أمورك، كما نفيدك بأن الإقامة في بلاد الكفار محرمة في الشريعة الإسلامية إلا لحاجة معتبرة شرعاً، كعلاج لا يوجد عند المسلمين أو دعوة إلى الإسلام .. ونحو ذلك، وعليك بالاجتهاد وبذل الأسباب التي تخلصك من البقاء في بلاد الكفار والانتقال إلى بلاد المسلمين، ولو إلى غير بلدك التي هي مسقط رأسك، والله تعالى يقول: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ} [الطلاق: 2، 3]. وإذا كان حالك في فرنسا وتونس كما ذكرت ولم تتيسر لك الهجرة، فعليك تقوى الله في نفسك والتمسك بدينك والثبات عليه والمحافظة على شعائر الدين كالصلوات الخمس وغيرها، ودوام الالتجاء إلى الله أن يثبت قلبك، وعليك البعد عن مشاركة أهل السوء ومجالستهم، وإن وجدت أحداً من المسلمين فلازم صحبته، كما عليك الدعوة إلى الله
হিজাব পরিধান করা সেখানে অসম্ভব বলে বিবেচিত হয়; কেননা এমনকি আমার সন্তানদের ব্যাপারেও আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না যে, তারা সেখানে সঠিক মূলনীতির ওপর তাদের দ্বীন শিখতে পারবে। যখন আমি আমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পুনরায় চিন্তা করি এবং কাফেরদের ভূখণ্ডে বসবাস করার বিষয়টি ভাবি, তখন নিজেকে আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আমার নিকট এমন কোনো সমাধান নেই যা আমাকে প্রশান্তি দেবে; কারণ আমি জানি না এই অবস্থায় হিজরত (الهجرة) করা ওয়াজিব (واجب) কি না? আমি আপনাদের নিকট হাদিস ও কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি—আল্লাহ আপনাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন—যাতে তার ভিত্তিতে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং পরবর্তীতে অনুতপ্ত না হই অথবা আমি ভুল করেছি বলে অনুভব না করি।

উত্তর: হে ভাই, আপনার এই ধর্মীয় অনুভূতি ও চেতনার জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই, যা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাসী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক (واجب)। আমরা আপনাকে আপনার সকল বিষয়ে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। সেই সাথে আপনাকে অবগত করছি যে, কাফেরদের ভূখণ্ডে বসবাস করা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ (محرم), তবে শরয়িভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো বিশেষ প্রয়োজন থাকলে ভিন্ন কথা—যেমন এমন চিকিৎসা যা মুসলিমদের নিকট সহজলভ্য নয় অথবা ইসলামের দাওয়াতের (دعوة) কাজ ইত্যাদি। কাফেরদের ভূখণ্ডে অবস্থান করা থেকে মুক্তি পেতে এবং মুসলিমদের দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আপনার যথাসাধ্য চেষ্টা ও উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা উচিত, যদিও তা আপনার জন্মভূমি ব্যতীত অন্য কোনো দেশ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেবেন (২) এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না} [আত-তালাক: ২, ৩]। আর যদি ফ্রান্স ও তিউনিসিয়ায় আপনার অবস্থা আপনার বর্ণনামতোই হয়ে থাকে এবং হিজরত (الهجرة) করা আপনার জন্য সহজসাধ্য না হয়, তবে আপনি নিজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন, আপনার দ্বীনকে আঁকড়ে ধরুন, এর ওপর অটল থাকুন এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহ যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও অন্যান্য বিষয়গুলো যথাযথভাবে রক্ষা করুন। আল্লাহ আপনার অন্তরকে যেন দৃঢ় রাখেন সেজন্য সর্বদা তাঁর নিকট প্রার্থনা করুন। পাপাচারী লোকদের সাহচর্য ও তাদের সাথে উঠাবসা করা থেকে দূরে থাকুন। যদি কোনো মুসলিমের দেখা পান, তবে তার সঙ্গ অবলম্বন করুন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের (دعوة) কাজ অব্যাহত রাখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসলিমূনা ফী বিলাদিল গুরবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حسب الاستطاعة. نسأل الله الكريم لك التوفيق وأن ييسر لك الخير أينما كنت إنه ولي ذلك والقادر عليه(1).

وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء

عضو … عضو … نائب الرئيس … الرئيس

بكر أبو زيد … صالح الفوزان … عبدالعزيز آل الشيخ … عبدالعزيز بن باز

 

كما سُئل الشيخ عبدالعزيز بن باز رحمه الله، يقول السائل: ما هي نصيحتكم للإخوة والأخوات المقيمين في انجلترا ولا يعملون ويتلقون معونة مالية من الحكومة؟ وأحياناً هم يحصلون على عمل ولكن لا يخبرون الحكومة، فهل عملهم هذا يعتبر عملاً صحيحاً؟

الجواب: الواجب على جميع المسلمين المقيمين في بلاد الكفر، أن يهاجروا إلى البلاد الإسلامية التي تقام فيها شعائر الله إذا استطاعوا ذلك، فإن لم يتيسر ذلك فإلى البلاد التي هي أقل شراً، كما هاجر جماعة من الصحابة} بأمر النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلى الحبشة؛ لأن بلاد الحبشة ذاك الوقت أقل شراً مما يقع على المسلمين في مكة من الشر قبل فتح مكة، فإن لم يستطيعوا فعليهم أن يتقوا الله في محلهم، وأن يحذروا ما حرم الله

--------------------------------------------

(1) فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (1/ 455 - 456) برقم 19581.
সামর্থ্য অনুযায়ী। আমরা মহান আল্লাহর কাছে আপনার জন্য তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আপনার জন্য কল্যাণ সহজ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।(১).

আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

স্থায়ী ফতোয়া ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কমিটি

সদস্য … সদস্য … সহ-সভাপতি … সভাপতি

বকর আবু যাইদ … সালিহ আল-ফাওজান … আব্দুল আজিজ আল-শেখ … আব্দুল আজিজ বিন বাজ

 

অনুরূপভাবে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রশ্নকারী বলেন: ইংল্যান্ডে বসবাসরত সেই সকল ভাই ও বোনদের প্রতি আপনার উপদেশ কী যারা কাজ করেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করেন? অনেক সময় তারা কাজ পান কিন্তু সরকারকে তা জানান না, তবে কি তাদের এই কাজ সঠিক (صحيح) কাজ হিসেবে গণ্য হবে?

উত্তর: কুফর রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো, যদি তারা সক্ষম হয় তবে যেন এমন ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত করে যেখানে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যদি তা সহজসাধ্য না হয়, তবে এমন দেশে যেতে হবে যা তুলনামূলক কম অনিষ্টকর। যেভাবে একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে মক্কা থেকে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন; কারণ তৎকালীন আবিসিনিয়া মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কায় মুসলিমদের ওপর যে অনিষ্ট সাধিত হতো তার চেয়ে কম মন্দ ছিল। সুতরাং তারা যদি সক্ষম না হয়, তবে তাদের উচিত তারা যেখানে আছে সেখানেই আল্লাহকে ভয় করা এবং আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে বেঁচে থাকা।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা (১/ ৪৫৫ - ৪৫৬), নম্বর ১৯৫৮১।