(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: -)
بسط الكف في إتمام الصف   (الجلال السيوطي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بسط الكف في إتمام الصف

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: خالد عبد الكريم جمعة ـ عبد القادر أحمد عبد القادر.

الناشر: مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع. - الكويت

سنة النشر:

عدد الصفحات: 19

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাস্তুল কাফ ফি ইতমামিস সাফ (কাতার পূর্ণ করার বিবরণে হস্ত প্রসারিত করা)   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল (বিষয়াবলি)


বই: বাস্তুল কাফ ফি ইতমামিস সাফ

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর, জালালুদ্দিন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

সম্পাদক: খালিদ আব্দুল করিম জুমা — আব্দুল কাদির আহমদ আব্দুল কাদির.

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ প্রকাশনা ও বিতরণ. - কুয়েত

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ৯)
الْحَمد لله الَّذِي لَا يقطع من وَصله وَلَا ينصر من خذله وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أفضل نَبِي أرْسلهُ صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَأَصْحَابه الطَّائِفَة المكملة وَبعد

فقد

‌‌(سُئِلت عَن عدم إتْمَام الصُّفُوف)

والشروع فِي صف قبل إتْمَام صف‌‌ فأجبت بِأَنَّهُ مَكْرُوه لَا تحصل بِهِ فَضِيلَة الْجَمَاعَة ثمَّ وَردت إِلَيّ فَتْوَى فِي ذَلِك فَكتبت عَلَيْهَا مَا نَصه:

لَا تحصل لَهُ الْفَضِيلَة وَبَيَان ذَلِك بتقرير أَمريْن أَحدهمَا أَن هَذَا الْفِعْل مَكْرُوه الثَّانِي أَن الْمَكْرُوه فِي الْجَمَاعَة يسْقط فضيلتها.

فَأَما الأول فقد صَرَّحُوا بذلك حَيْثُ قَالُوا فِي الْكَلَام على التخطي يكره إِلَّا إِذا كَانَ بَين يَدَيْهِ فُرْجَة لَا يصل إِلَيْهَا إِلَّا بالتخطي فَإِنَّهُم يقصرون بِتَرْكِهَا إِذْ يكره إنْشَاء صف قبل إتْمَام مَا قبله وَيشْهد لَهُ من الحَدِيث قَوْله صلى الله عليه وسلم أَتموا الصُّفُوف مَا كَانَ من نقص فَفِي الْمُؤخر رَوَاهُ أَبُو دَاوُد.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীকে বিচ্ছিন্ন করেন না এবং যাকে তিনি লাঞ্ছিত করেন তাকে কেউ সাহায্য করেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর—যাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ দল—আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর,

নিশ্চয়ই

(আমাকে কাতারসমূহ পূর্ণ না করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল)

এবং একটি কাতার পূর্ণ করার আগে নতুন কাতার শুরু করা সম্পর্কে। আমি উত্তর দিয়েছি যে, এটি অপছন্দনীয় (مكروه) এবং এর মাধ্যমে জামাতের ফজিলত অর্জিত হয় না। অতঃপর এ বিষয়ে আমার কাছে একটি ফতোয়া আসল, আমি তার ওপর এই মর্মে লিখলাম:

তার ফজিলত অর্জিত হবে না। এর ব্যাখ্যা দুটি বিষয়ের বর্ণনার মাধ্যমে করা যায়: প্রথমটি হলো এই কাজটি অপছন্দনীয় (مكروه); দ্বিতীয়টি হলো জামাতের মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয় তার ফজিলতকে নষ্ট করে দেয়।

প্রথম বিষয়টির ব্যাপারে ফকিহগণ স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তাঁরা (মানুষের ঘাড়) টপকানোর আলোচনায় বলেছেন: এটি অপছন্দনীয় (مكروه), তবে সামনে যদি এমন কোনো শূন্যস্থান থাকে যেখানে ঘাড় টপকানো ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব নয় (তবে তা মাকরুহ নয়)। কারণ তারা সেই স্থানটি পূর্ণ না করে অবহেলা করেছে; যেহেতু পূর্বের কাতার পূর্ণ করার আগে নতুন কাতার শুরু করা অপছন্দনীয় (مكروه)। আর হাদিস থেকে এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা কাতারসমূহ পূর্ণ করো, আর যদি কোনো অপূর্ণতা থাকে তবে তা যেন শেষ কাতারে থাকে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَفِي شرح الْمُهَذّب فِي بَاب التَّيَمُّم لَو أدْرك الإِمَام فِي رُكُوع غير الْأَخِيرَة فالمحافظة على الصَّفّ الأول أولى من الْمُبَادرَة إِلَى الْإِحْرَام لإدراك الرَّكْعَة.

وَأما كَون كل مَكْرُوه فِي الْجَمَاعَة يسْقط الْفَضِيلَة فَهَذَا أَمر مَعْرُوف مُقَرر متداول على أَلْسِنَة الْفُقَهَاء يكَاد يكون مُتَّفقا عَلَيْهِ هَذَا آخر مَا كتبت.

وَقد أوردت فِي هَذِه الأوراق تَحْرِير مَا قلت بعد أَن تعرف أَن الْفَضِيلَة الَّتِي نفيتها هِيَ التَّضْعِيف الْمعبر عَنهُ فِي الحَدِيث ببضع وَعشْرين لَا أصل بركَة الْجَمَاعَة وَسَيَأْتِي تَقْرِير الْفرق بَين الْأَمريْنِ ثمَّ الْكَلَام أَولا فِي تَحْرِير أَن هَذَا الْفِعْل مَكْرُوه من كَلَام الْفُقَهَاء والمحدثين.

قَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب فِي بَاب الْجَمَاعَة اتّفق أَصْحَابنَا وَغَيرهم على اسْتِحْبَاب سد الْفرج فِي الصُّفُوف وإتمام الصَّفّ الأول ثمَّ الَّذِي يَلِيهِ ثمَّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى آخرهَا وَلَا يشرع فِي صف حَتَّى يتم مَا قبله. هَذِه عِبَارَته.

وَلَا يُقَابل الْمُسْتَحبّ إِلَّا الْمَكْرُوه فَإِن قيل يُقَابله خلاف الأولى قلت الْجَواب من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن الْمُتَقَدِّمين لم يفرقُوا بَينهمَا وَإِنَّمَا فرق إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَمن تَابعه الثَّانِي أَن الْقَائِلين بِهِ قَالُوا هُوَ مَا لم يرد فِيهِ دَلِيل خَاص وَإِنَّمَا اسْتُفِيدَ من العموميات وَالْمَكْرُوه مَا ورد فِيهِ دَلِيل خَاص وَهَذَا قد وَردت فِيهِ أَدِلَّة خَاصَّة فضلا عَن دَلِيل وَاحِد فَمن ذَلِك الحَدِيث الْمَذْكُور فِي الْفَتْوَى وَقد رَوَاهُ أَبُو دَاوُد من حَدِيث أنس.
শরহুল মুহাজ্জাব-এর তায়াম্মুম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কেউ ইমামকে শেষ রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো রাকাতের রুকুতে পায়, তবে প্রথম কাতার রক্ষা করা রাকাত পাওয়ার জন্য দ্রুত তাহরিমা বাঁধার চেয়ে উত্তম।

আর জামাতের ক্ষেত্রে প্রতিটি অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয় ফজিলতকে নষ্ট করে দেয়—এটি ফকিহগণের নিকট একটি সুপরিচিত, প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত বিষয় যা প্রায় সর্বসম্মত (متفق عليه) হিসেবে গণ্য। এটিই আমার লেখার শেষ অংশ।

আমি এই পাতাগুলোতে আমার বক্তব্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছি; এটি জানার পর যে, আমি যে ফজিলতটি নাকচ করেছি তা হলো হাদিসে বিশের অধিক (সাতাশ বা তেইশ) গুণ সওয়াব বৃদ্ধির বিষয়টি, জামাতের মূল বরকত নয়। এই দুই বিষয়ের পার্থক্যের ব্যাখ্যা সামনে আসবে। অতঃপর ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যের আলোকে এই কাজটি যে অপছন্দনীয় (مكروه), তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রথমে আলোচনা করা হবে।

ইমাম নববী শরহুল মুহাজ্জাব-এর জামাত অধ্যায়ে বলেন: আমাদের সাথীগণ (শাফেয়ি ফকিহগণ) এবং অন্যান্যরা কাতারের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা পূরণ করা এবং প্রথমে প্রথম কাতার পূর্ণ করা, তারপর তার পরেরটি এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ করা পছন্দনীয় (مستحب) হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আর কোনো কাতার শুরু করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তার আগেরটি পূর্ণ হয়। এটিই তাঁর ভাষ্য।

আর পছন্দনীয় (مستحب)-এর বিপরীতে অপছন্দনীয় (مكروه) ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। যদি বলা হয় যে এর বিপরীতে 'খিলাফে আওলা' (উত্তমের পরিপন্থী) রয়েছে, তবে আমি বলব এর উত্তর দুটি: প্রথমত, পূর্বসূরী (المتقدمين) আলেমগণ এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি; কেবল ইমামুল হারামাইন এবং তাঁর অনুসারীরাই এই পার্থক্য করেছেন। দ্বিতীয়ত, যারা এই পার্থক্যের কথা বলেন তারা বলেন যে, এটি (খিলাফে আওলা) হলো যার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ দলিল (دليل خاص) নেই বরং তা সাধারণ প্রমাণাদি (العموميات) থেকে আহরিত। আর অপছন্দনীয় (مكروه) হলো যার ব্যাপারে বিশেষ দলিল (دليل خاص) বর্ণিত হয়েছে। আর এই মাসআলায় তো একটির পরিবর্তে একাধিক বিশেষ দলিলসমূহ (أدلة خاصة) বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ফতোয়ায় উল্লিখিত হাদিসটি, যা আবু দাউদ আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب // بِإِسْنَاد حسن // وَمن ذَلِك مَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم // بِإِسْنَاد صَحِيح // عَن ابْن عمر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أقِيمُوا الصَّلَاة وحاذوا بَين المناكب وسدوا الْخلَل ولينوا بأيدي إخْوَانكُمْ وَلَا تذروا فرجات للشَّيْطَان وَمن وصل صفا وَصله الله وَمن قطع صفا قطعه الله وَمعنى قطعه الله أَي من الْخَيْر والفضيلة وَالْأَجْر الجزيل.

وَقَالَ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه بَاب أَثم من لَا يتم الصُّفُوف وَأورد فِيهِ حَدِيث أنس مَا أنْكرت شَيْئا إِلَّا أَنكُمْ لَا تقيمون الصُّفُوف فَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر يحْتَمل أَن البُخَارِيّ أَخذ الْوُجُوب من صِيغَة الْأَمر فِي قَوْله سووا وَمن عُمُوم قَوْله صلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي وَمن وُرُود الْوَعيد على تَركه فترجح عِنْده بِهَذِهِ الْقَرَائِن أَن إِنْكَار أنس إِنَّمَا وَقع على ترك الْوَاجِب وَمَعَ القَوْل بِهِ صَلَاة من خَالف صَحِيحَة لاخْتِلَاف الْجِهَتَيْنِ.

وأفرط ابْن حزم فَجزم بِالْبُطْلَانِ وَنَازع من ادّعى الْإِجْمَاع على عدم الْوُجُوب بِمَا // صَحَّ // عَن عمر أَنه ضرب قدم أبي عُثْمَان النَّهْدِيّ لإِقَامَة الصَّفّ وَبِمَا صَحَّ عَن سُوَيْد بن غَفلَة قَالَ كَانَ بِلَال يُسَوِّي مناكبنا وَيضْرب أقدامنا فِي الصَّلَاة فَقَالَ مَا كَانَ عمر وبلال يضربان أحدا
ইমাম নববী শারহুল মুহাযযাব গ্রন্থে হাসান (حسن) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন; এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমা এবং হাকিম সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সালাত কায়েম করো, কাঁধে কাঁধ মিলাও, ফাঁকগুলো বন্ধ করো, তোমাদের ভাইদের হাতের স্পর্শে নরম হয়ে যাও এবং শয়তানের জন্য কোনো ফাঁক ছেড়ো না। যে ব্যক্তি কাতার মেলাবে, আল্লাহ তাকে যুক্ত করবেন, আর যে কাতার বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করবেন।" আর 'আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করবেন' এর অর্থ হলো—কল্যাণ, ফজিলত এবং মহান প্রতিদান থেকে তাকে বঞ্চিত করবেন।

ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে 'যে ব্যক্তি কাতার পূর্ণ করে না তার গুনাহ' শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ করেছেন এবং সেখানে আনাস (রা.)-এর এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "তোমরা কাতার কায়েম করো না—এটি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো কাজ আমার নিকট অপছন্দনীয় ছিল না।" হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এটি সম্ভব যে, বুখারি 'তোমরা সোজা করো' এই আদেশসূচক শব্দ থেকে বিষয়টি ওয়াজিব (واجب) হওয়া গ্রহণ করেছেন; এবং 'তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ'—এই নির্দেশের ব্যাপকতা থেকে এবং কাতার বর্জনের ওপর হুঁশিয়ারি আসার কারণে। ফলে এই সকল আলামতের (قرائن) ভিত্তিতে তার নিকট এটিই প্রাধান্য পেয়েছে যে, আনাস (রা.)-এর এই আপত্তি কেবল একটি ওয়াজিব (واجب) বিধান বর্জন করার কারণেই ছিল। তবে এই মত সত্ত্বেও, বিধান লঙ্ঘনকারীর সালাত সহিহ (صحيح) হবে, কারণ এখানে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো ভিন্ন।

আর ইবনে হাজম এ বিষয়ে অতিশয়োক্তি করেছেন এবং সালাত বাতিল (بطلان) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন। যারা ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার ওপর ইজমা (إجماع) দাবি করেছেন, তিনি তাদের সেই বর্ণনার মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন যা উমর (রা.) থেকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি কাতার সোজা করার জন্য আবু উসমান আন-নাহদির পায়ে আঘাত করেছিলেন। এবং যা সুওয়াইদ বিন গাফালা থেকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: বিলাল সালাতে আমাদের কাঁধ সমান করে দিতেন এবং আমাদের পায়ে আঘাত করতেন। অতঃপর তিনি (ইবনে হাজম) বললেন: উমর ও বিলাল তো আর (বিনা কারণে) কাউকে আঘাত করতেন না।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১২)
على ترك غير الْوَاجِب.

قَالَ ابْن حجر وَفِيه نظر لجَوَاز أَنَّهُمَا كَانَا يريان التعزيز على ترك السّنة

وَقَالَ ابْن بطال تَسْوِيَة الصُّفُوف لما كَانَت من السّنَن الْمَنْدُوب إِلَيْهَا الَّتِي يسْتَحق فاعلها الْمَدْح عَلَيْهَا دلّ على أَن تاركها يسْتَحق الذَّم.

وَهَذَا صَرِيح فِي أَنه لَا يحصل لَهُ الْفَضِيلَة.

وَفِي الصَّحِيح حَدِيث لتسون صفوفكم أَو ليخالفن الله بَين وُجُوهكُم قَالَ شرَّاح الحَدِيث تَسْوِيَة الصُّفُوف تطلق على أَمريْن اعْتِدَال القائمين على سمت وَاحِد وسد الْخلَل الَّذِي فِي الصَّفّ.

وَاخْتلف فِي الْوَعيد الْمَذْكُور فَقيل هُوَ على حَقِيقَته وَالْمرَاد بتشويه الْوَجْه تَحْويل خلقه عَن وَضعه بجعله مَوضِع الْقَفَا.

قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر وعَلى هَذَا فَهُوَ وَاجِب والتفريط فِيهِ حرَام. قَالَ وَهُوَ نَظِير الْوَعيد فِيمَن رفع رَأسه قبل الإِمَام وَيُؤَيّد ذَلِك حَدِيث أبي أُمَامَة لتسون الصُّفُوف أَو لتطمسن الْوُجُوه رَوَاهُ أَحْمد // بِسَنَد فِيهِ ضعف //.

قلت وَإِذا كَانَ هَذَا نَظِير مسابقة الإِمَام فِي الْوَعيد فَهُوَ نَظِيره فِي
ওয়াজিব (واجب) নয় এমন বিষয় বর্জনের ওপর।

ইবনে হাজার বলেন, এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ সম্ভাবনা আছে যে তারা উভয়ই সুন্নাত (سنة) বর্জনের জন্য শাস্তি প্রদানের (تعزير) পক্ষপাতী ছিলেন।

ইবনে বাত্তাল বলেন, কাতার সোজা করা যেহেতু মুস্তাহাব (مندوب) সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার সম্পাদনকারী প্রশংসার যোগ্য, সেহেতু এটি প্রমাণ করে যে এর বর্জনকারী নিন্দার যোগ্য।

এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, এর ফলে সে ফজিলত লাভ করবে না।

সহিহ গ্রন্থে হাদিস রয়েছে: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, নতুবা আল্লাহ তোমাদের চেহারাসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে দেবেন।" হাদিস বিশারদগণ বলেছেন, কাতার সোজা করা শব্দটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ হয়: দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের এক সমান্তরালে সোজা হওয়া এবং কাতারের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা পূরণ করা।

উল্লিখিত সতর্কবাণী সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেছেন এটি তার প্রকৃত অর্থেই প্রযোজ্য এবং চেহারার বিকৃতি বলতে এখানে এর সৃষ্টিগত অবয়ব পরিবর্তন করে ঘাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন, এই ভিত্তিতে এটি ওয়াজিব (واجب) এবং এতে অবহেলা করা হারাম (حرام)। তিনি বলেন, এটি ইমামের আগে মাথা তোলার ব্যাপারে বর্ণিত সতর্কবাণীর অনুরূপ। আবু উমামা (রা.) বর্ণিত হাদিস একে সমর্থন করে: "তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করবে নতুবা তোমাদের চেহারাগুলো মিটিয়ে দেওয়া হবে।" এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন // এমন সনদে (سند) যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে //।

আমি বলছি, এটি যদি সতর্কবাণীর দিক থেকে ইমামের অগ্রগামী হওয়ার অনুরূপ হয়, তবে এটি তার অনুরূপ হবে...
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
سُقُوط الْفَضِيلَة وَهُوَ أَمر مُتَّفق عَلَيْهِ كَمَا سَيَأْتِي.

وَمِنْهُم من حمله على الْمجَاز. قَالَ النَّوَوِيّ مَعْنَاهُ توقع بَيْنكُم الْعَدَاوَة والبغضاء وَاخْتِلَاف الْقُلُوب.

// وَفِي الصَّحِيح // أَيْضا حَدِيث أقِيمُوا صفوفكم وتراصوا قَالَ الشُّرَّاح المُرَاد بأقيموا اعتدلوا وبتراصوا تلاصقوا بِغَيْر خلل وَفِيه أَيْضا حَدِيث سووا صفوفكم فَإِن تَسْوِيَة الصُّفُوف من إِقَامَة الصَّلَاة اسْتدلَّ بِهِ الْجُمْهُور على سنة التَّسْوِيَة وَابْن حزم على وُجُوبهَا لِأَن إِقَامَة الصَّلَاة وَاجِبَة وكل شَيْء من الْوَاجِب وَاجِب.

أخرج أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ عَن جَابر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن من تَمام الصَّلَاة إِقَامَة الصَّفّ.

وَأخرج أَحْمد // بِسَنَد صَحِيح // عَن ابْن مَسْعُود قَالَ رَأَيْتنَا وَمَا تُقَام الصَّلَاة حَتَّى تتكامل الصُّفُوف.

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير // بِسَنَد رِجَاله ثِقَات // عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إيَّاكُمْ والفرج يَعْنِي فِي الصَّلَاة.
শ্রেষ্ঠত্ব রহিত হওয়া, যা একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) বিষয় যেমনটি সামনে আসবে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে রূপক অর্থে গ্রহণ করেছেন। ইমাম নববী বলেন, এর অর্থ হলো তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়া এবং অন্তরের বিভেদ ঘটা।

সহিহ গ্রন্থেও একটি হাদিস রয়েছে: "তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং মিলেমিশে দাঁড়াও।" ব্যাখ্যাকারগণ বলেন, 'সোজা করো' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং 'মিলেমিশে দাঁড়ানো' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো ফাঁক না রেখে একে অপরের সাথে সংলগ্ন হওয়া। এতে আরও একটি হাদিস রয়েছে: "তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সমান করো, কেননা কাতার সমান করা সালাত কায়েম করার অন্তর্ভুক্ত।" জুমহুর (বিদ্বানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ) এর মাধ্যমে কাতার সমান করা সুন্নত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এবং ইবনে হাজম এর ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন; কারণ সালাত কায়েম করা ওয়াজিব এবং ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিষয়ই ওয়াজিব।

আবু ইয়ালা ও তাবারানি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয় কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার অন্তর্ভুক্ত।"

ইমাম আহমাদ একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আমাদের দেখেছি যে, কাতারগুলো পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সালাত শুরু করা হতো না।"

তাবারানি আল-কবীর গ্রন্থে এমন একটি সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقات), ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা (কাতারের মাঝে) ফাঁক রাখা থেকে বেঁচে থাকো।" অর্থাৎ সালাতের মধ্যে।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأخرج أَبُو يعلى عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تراصوا الصُّفُوف فَإِنِّي رَأَيْت الشَّيَاطِين تتخللكم.

وَأخرج الإِمَام أَحْمد // بِسَنَد حسن // عَن أبي أُمَامَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سووا صفوفكم وسدوا الْخلَل فَإِن الشَّيْطَان يدْخل فِيمَا بَيْنكُم.

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن ابْن عَبَّاس عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من نظر إِلَى فُرْجَة فِي صف فليسدها بِنَفسِهِ فَإِن لم يفعل فَمن مر فليتخط على رقبته فَإِنَّهُ لَا حُرْمَة لَهُ.

وَالْأَحَادِيث فِي ترك الْفرج وتقطيع الصُّفُوف كَثِيرَة جدا وَفِيمَا أوردناه كِفَايَة.

وَمن الْأَحَادِيث الَّتِي فِي التَّرْغِيب وَلَا ترهيب فِيهَا حَدِيث من سد فُرْجَة فِي الصَّفّ غفر لَهُ رَوَاهُ الْبَزَّار // بِإِسْنَاد حسن // عَن أبي جُحَيْفَة.

وَحَدِيث من سد فُرْجَة فِي صف رَفعه الله بهَا دَرَجَة وَبنى لَهُ بَيْتا فِي الْجنَّة رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط عَن عَائِشَة // بِسَنَد لَا بَأْس بِهِ // وَأخرجه ابْن أبي شيبَة عَن عَطاء // مُرْسلا. //
আবু ইয়ালা ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কাতারগুলো ঘন করে দাঁড়াও, কেননা আমি শয়তানদের তোমাদের মাঝে প্রবেশ করতে দেখেছি।"

ইমাম আহমদ হাসান (حسن) সনদে আবু উমামাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং ফাঁকগুলো বন্ধ করো, কেননা শয়তান তোমাদের মাঝে প্রবেশ করে।"

তাবারানি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কাতারের মধ্যে কোনো ফাঁকা জায়গা দেখবে, সে যেন নিজেই তা পূরণ করে। যদি সে তা না করে, তবে যে ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করবে সে যেন তার ঘাড় টপকিয়ে চলে যায়, কারণ তার কোনো সম্মান নেই।"

কাতারের ফাঁকা রাখা এবং কাতার বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যথেষ্ট।

আর উৎসাহমূলক হাদিসসমূহের মধ্যে যাতে কোনো ভীতিপ্রদর্শন নেই, তার একটি হলো: "যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা বন্ধ করবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" বাজ্জার হাসান (حسن) সনদে আবু জুহাইফাহ (রাযি.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং অন্য একটি হাদিস হলো: "যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা বন্ধ করবে, আল্লাহ তার কারণে তার মর্যাদা এক স্তর বৃদ্ধি করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে আয়েশা (রাযি.) থেকে সন্তোষজনক (لا بأس به) সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি শাইবাহ এটি আতা থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَحَدِيث إِن الله وَمَلَائِكَته يصلونَ على الَّذين يصلونَ الصُّفُوف. رَوَاهُ الْحَاكِم وَغَيره.

وَحَدِيث أَلا تصفون كَمَا تصف الْمَلَائِكَة عِنْد رَبهم قَالُوا وَكَيف تصف الْمَلَائِكَة قَالَ يتمون الصَّفّ الْمُقدم ويتراصون فِي الصَّفّ. أخرجه النَّسَائِيّ.

وَأخرج عبد الرزاق فِي مُصَنفه وَابْن أبي شيبَة عَن ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ لِأَن تقع ثنتاي أحب إِلَيّ من أَن أرى فُرْجَة فِي الصَّفّ أَمَامِي فَلَا أَصْلهَا.

وَأخرج عبد الرزاق عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ أَنه كَانَ يكره أَن يقوم الرجل فِي الصَّفّ الثَّانِي حَتَّى يتم الصَّفّ الأول وَيكرهُ ان يقوم فِي الصَّفّ الثَّالِث حَتَّى يتم الصَّفّ الثَّانِي.

وَأخرج عَن ابْن جريج قَالَ قلت لعطاء أتكره أَن يقوم الرجل وَحده وَرَاء الصَّفّ قَالَ نعم وَالرجلَانِ وَالثَّلَاثَة إِلَّا فِي الصَّفّ قلت لعطاء أَرَأَيْت إِن وجدت الصَّفّ مزحوما لَا أرى فِيهِ فُرْجَة قَالَ لَا يُكَلف الله نفسا إِلَّا وسعهَا وَأحب إِلَيّ وَالله أَن أَدخل فِيهِ.
এবং হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ সেই সকল ব্যক্তিদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন যারা কাতারসমূহকে সংযুক্ত করে। এটি আল-হাকিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

এবং হাদিস: তোমরা কি সেভাবে কাতারবদ্ধ হবে না যেভাবে ফেরেশতাগণ তাঁদের রবের নিকট কাতারবদ্ধ হন? তাঁরা আরজ করলেন: ফেরেশতাগণ কীভাবে কাতারবদ্ধ হন? তিনি বললেন: তাঁরা সামনের কাতারসমূহ পূর্ণ করেন এবং কাতারের মধ্যে নিবিড় হয়ে দাঁড়ান। এটি আন-নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

এবং আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে এবং ইবনে আবি শায়বা ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার সামনের দাঁত দুটি পড়ে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় এর চেয়ে যে, আমি আমার সামনের কাতারে কোনো ফাঁকা জায়গা দেখব আর তা পূরণ করব না।

এবং আবদুর রাজ্জাক ইব্রাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোনো ব্যক্তির দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ানোকে অপছন্দ করতেন যতক্ষণ না প্রথম কাতার পূর্ণ হয় এবং তৃতীয় কাতারে দাঁড়ানোকে অপছন্দ করতেন যতক্ষণ না দ্বিতীয় কাতার পূর্ণ হয়।

এবং ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আতা-কে বললাম, আপনি কি কোনো ব্যক্তির কাতারের পেছনে একা দাঁড়ানোকে অপছন্দ করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমনকি দুই জন বা তিন জন ব্যক্তিকেও (অপছন্দ করি), যতক্ষণ না তারা কাতারের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমি আতা-কে বললাম: আপনার অভিমত কী যদি আমি কাতারকে জনাকীর্ণ অবস্থায় পাই এবং তাতে কোনো ফাঁকা জায়গা না দেখি? তিনি বললেন: আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না, তবে আল্লাহর কসম, আমার নিকট এটিই অধিক প্রিয় যে আমি তাতে প্রবেশ করি।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
16 - وَأخرج عَن النَّخعِيّ قَالَ يُقَال إِذا دحس الصَّفّ فَلم يكن فِيهِ مدْخل فليستخرج رجلا من ذَلِك الصَّفّ فَليقمْ مَعَه فَإِن لم يفعل فَصلَاته تِلْكَ صَلَاة وَاحِدَة لَيست بِصَلَاة جمَاعَة.

وَأخرج عَن ابْن جريج قَالَ قلت لعطاء أيكره أَن يمشي الرجل يخرق الصُّفُوف قَالَ إِن خرق الصُّفُوف إِلَى فُرْجَة فقد أحسن وَحقّ على النَّاس أَن يدحسوا الصُّفُوف حَتَّى لَا يكون بَينهم فرج ثمَّ قَالَ {إِن الله يحب الَّذين يُقَاتلُون فِي سَبيله صفا كَأَنَّهُمْ بُنيان مرصوص} فَالصَّلَاة أَحَق أَن يكون فِيهَا ذَلِك.

وَأخرج عَن يحيى بن جعدة قَالَ أَحَق الصُّفُوف بالإتمام أَولهَا.

وَأخرج سعيد بن مَنْصُور فِي سنَنه وَابْن أبي شيبَة وَالْحَاكِم عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ صلى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على الصَّفّ الأول ثَلَاثًا وعَلى الَّذِي يَلِيهِ وَاحِدَة.

وَأخرج سعيد بن مَنْصُور عَن أبي أُمَامَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله وَمَلَائِكَته يصلونَ على الصَّفّ الأول قَالُوا يَا رَسُول الله وعَلى الثَّانِي قَالَ إِن الله وَمَلَائِكَته يصلونَ على الصَّفّ الأول قَالُوا يَا رَسُول الله وعَلى الثَّانِي قَالَ إِن الله وَمَلَائِكَته يصلونَ على الصَّفّ
১৬ - ইবরাহিম নাখয়ী থেকে উদ্ধৃত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, যখন কাতার পূর্ণ হয়ে যায় এবং সেখানে প্রবেশের কোনো সুযোগ না থাকে, তখন সে যেন সেই কাতার থেকে একজনকে টেনে আনে এবং তাকে সাথে নিয়ে দাঁড়ায়। যদি সে তা না করে, তবে তার সেই সালাত একক সালাত হিসেবে গণ্য হবে, জামাতের সালাত হিসেবে নয়।

ইবনে জুরায়জ থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আতা-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোনো ব্যক্তির কাতার চিরে সামনে এগিয়ে যাওয়া কি অপছন্দনীয় (أيكره)? তিনি বললেন, যদি কেউ কোনো শূন্যস্থানের উদ্দেশ্যে কাতার চিরে সামনে এগিয়ে যায় তবে সে উত্তম কাজ করল। আর মানুষের ওপর কর্তব্য হলো কাতারসমূহকে এমনভাবে সংলগ্ন করা যাতে তাদের মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে। এরপর তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা এক সিসাঢালা প্রাচীর}। সুতরাং সালাত এ গুণের জন্য অধিক হকদার।

ইয়াহইয়া ইবনে জাদা থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: কাতারগুলোর মধ্যে পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমটি সবচেয়ে বেশি হকদার।

সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বাহ এবং হাকেম ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের ওপর তিনবার এবং তার পরবর্তী কাতারের ওপর একবার রহমতের দোয়া করেছেন।

সাঈদ ইবনে মানসুর আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় কাতারের ওপরও কি? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় কাতারের ওপরও কি? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের ওপর...
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأول قَالُوا يَا رَسُول الله وعَلى الثَّانِي قَالَ سووا صفوفكم وحاذوا بَين مناكبكم ولينوا فِي أَيدي إخْوَانكُمْ وسدوا الْخلَل فَإِن الشَّيْطَان يدْخل فِيمَا بَيْنكُم بِمَنْزِلَة الْحَذف.

وَأخرج عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ قَالَ كَانَ يُقَال سووا الصُّفُوف وتراصوا لَا تتخللكم الشَّيَاطِين كَأَنَّهُمْ بَنَات الْحَذف

وَأخرج عَن ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ مَا خطا رجل خطْوَة أعظم أجرا من خطْوَة إِلَى ثلمة صف ليسدها

وَأخرج عبد الرزاق وَابْن أبي شيبَة عَن عبد الرحمن بن سابط قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا تغبرت الْأَقْدَام فِي مشي أحب إِلَى الله من رقع صف. يَعْنِي فِي الصَّلَاة.

وَأخرج ابْن أبي شيبَة عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَنه سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة فاعدلوا صفوفكم وسدوا الْفرج فَإِنِّي أَرَاكُم من وَرَاء ظَهْري.

وَمِمَّا يُنَاسب ذَلِك أَيْضا مَا رَوَاهُ البُخَارِيّ // فِي الصَّحِيح // بَاب الصَّلَاة بَين السَّوَارِي فِي غير جمَاعَة ثمَّ أورد فِيهِ حَدِيث ابْن عمر عَن بِلَال فِي الصَّلَاة فِي الْكَعْبَة.
প্রথমটি—তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে। তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো, কাঁধের সাথে কাঁধ মেলাও, তোমাদের ভাইদের হাতে (কাতার সোজা করার সময়) নমনীয় হও এবং ফাঁকগুলো বন্ধ করো। কেননা শয়তান তোমাদের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে হাজাফ (ছোট ভেড়া)-এর ন্যায় প্রবেশ করে।

ইব্রাহিম নাখাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বলা হতো, তোমরা কাতারগুলো সোজা করো এবং গাদাগাদি করে দাঁড়াও; শয়তান যেন তোমাদের মাঝে ঢুকে না পড়ে, যেন তারা হাজাফ-এর বাচ্চা (ছোট কালো ভেড়া)।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি কাতারের কোনো ফাঁক বন্ধ করার উদ্দেশ্যে যে কদম বাড়ায়, সওয়াবের দিক থেকে তার চেয়ে মহান আর কোনো কদম নেই।

আব্দুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শাইবা আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কাতারের ফাঁক পূরণ করার উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়ার ফলে পদযুগল ধূলিমলিন হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো হাঁটা নেই। অর্থাৎ নামাজের কাতার।

ইবনে আবি শাইবা আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং ফাঁকগুলো বন্ধ করো; কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখতে পাই।

এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরও একটি বিষয় হলো যা বুখারি সহিহ গ্রন্থে 'জামাত ব্যতীত স্তম্ভগুলোর মাঝে নামাজ পড়া' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেখানে কাবার ভেতরে নামাজ পড়া সম্পর্কে বিলাল (রা.)-এর সূত্রে ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر إِنَّمَا قيدها بِغَيْر الْجَمَاعَة لِأَن ذَلِك يقطع الصُّفُوف وتسوية الصُّفُوف فِي الْجَمَاعَة مَطْلُوب.

وَقَالَ الرَّافِعِيّ فِي شرح الْمسند احْتج البُخَارِيّ بِهَذَا الحَدِيث على أَنه لَا بَأْس بِالصَّلَاةِ بَين الساريتين إِذا لم يكن فِي جمَاعَة.

وَقَالَ الْمُحب الطَّبَرِيّ كره قوم الصَّفّ بَين السَّوَارِي للنَّهْي الْوَارِد عَن ذَلِك وَمحل الْكَرَاهَة عِنْد عدم الضّيق وَالْحكمَة فِيهِ انْقِطَاع الصَّفّ.

فَهَذَا الَّذِي أوردناه من الْأَحَادِيث وَكَلَام شارحيها من أهل الْمَذْهَب وَغَيرهم صَرِيح فِي كَرَاهَة هَذَا الْفِعْل وَفِي بَعْضهَا مَا يُصَرح بِسُقُوط الْفَضِيلَة.

ولنذكر الْآن مَا وَقع فِي كتب الْمَذْهَب من المكروهات الَّتِي لَا فَضِيلَة مَعهَا.

فَأول مَا صَرَّحُوا بذلك فِي مَسْأَلَة الْمُقَارنَة قَالَ الرَّافِعِيّ رحمه الله فِي الشَّرْح قَالَ صَاحب التَّهْذِيب وَغَيره ذكرُوا أَنه يكره الْإِتْيَان بالأفعال مَعَ الإِمَام وتفوت بِهِ فَضِيلَة الْجَمَاعَة.

وَكَذَا قَالَ النَّوَوِيّ فِي الرَّوْضَة وَشرح الْمُهَذّب وَابْن الرّفْعَة فِي الْكِفَايَة.

قَالَ الزَّرْكَشِيّ فِي الْخَادِم: الْكَلَام فِي هَذِه الْمَسْأَلَة فِي شَيْئَيْنِ: أَحدهمَا فِي كَون الْمُقَارنَة مَكْرُوهَة. الثَّانِي تفويتها فَضِيلَة الْجَمَاعَة. فَأَما
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, তিনি এটিকে জামাআত ব্যতীত সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ তা কাতারসমূহকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, আর জামাআতে কাতার সোজা রাখা একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়।

ইমাম রাফেয়ি শারহুল মুসনাদ গ্রন্থে বলেন, বুখারি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, যদি জামাআত না হয় তবে দুই স্তম্ভের মাঝে সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই।

মুহিব্বুত তাবারী বলেন, একদল আলেম এই বিষয়ে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার কারণে স্তম্ভগুলোর মাঝে কাতারবদ্ধ হওয়াকে অপছন্দনীয় (مكروه) মনে করেছেন; আর এই অপছন্দনীয়তা (كراهة) হচ্ছে স্থানাভাব না থাকার ক্ষেত্রে, এবং এর পেছনের হিকমত হলো কাতারের বিচ্ছিন্নতা।

সুতরাং হাদিসসমূহ এবং মাজহাবের অনুসারী ও অন্যদের মধ্য থেকে এগুলোর ব্যাখ্যাকারীদের যে বক্তব্যগুলো আমরা উল্লেখ করেছি, তা এই কাজটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট এবং এগুলোর কোনো কোনোটিতে ফজিলত বাতিল হওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

এখন আমরা মাজহাবের কিতাবসমূহে উল্লিখিত এমন সব অপছন্দনীয় (المكروهات) বিষয়সমূহ উল্লেখ করব যেগুলোর কারণে ফজিলত লাভ হয় না।

তারা প্রথম যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তা হলো ‘মুকারানা’ (ইমামের সাথে সাথে কাজ করা) সংক্রান্ত মাসআলা। ইমাম রাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) আশ-শারহ গ্রন্থে বলেন, সাহেবুত তাহজিব এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ইমামের সাথে সাথে আমলসমূহ সম্পাদন করা অপছন্দনীয় (يكره) এবং এর মাধ্যমে জামাআতের ফজিলত নষ্ট হয়ে যায়।

অনুরূপ কথা ইমাম নববী রওজা ও শারহুল মুহাজ্জাব গ্রন্থে এবং ইবনে রুফআ কিফায়া গ্রন্থে বলেছেন।

যারকাশি আল-খাদিম গ্রন্থে বলেন: এই মাসআলার আলোচনা দুটি বিষয়ে বিভক্ত: প্রথমটি হলো মুকারানা অপছন্দনীয় (مكروهة) হওয়া প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়টি হলো এর মাধ্যমে জামাআতের ফজিলত নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে। তবে...
(খণ্ড: ১) বাসতুল কাফ্ ফি ইতমামিস সাফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأول فقد صرح بِالْكَرَاهَةِ الْبَغَوِيّ وَتَابعه الرَّوْيَانِيّ. وَكَلَام الإِمَام وَغَيره يَقْتَضِي أَنه خلاف الأولى وَأما الثَّانِي فعبارة التَّهْذِيب إِذا أَتَى بالأفعال مَعَ الإِمَام يكره وتفوت بِهِ فَضِيلَة الْجَمَاعَة وَلَكِن تصح صلَاته.

وَقَالَ ابْن الْأُسْتَاذ فِي هَذَا نظر فَإِنَّهُ حِينَئِذٍ يَنْبَغِي أَن يجْرِي الْخلاف فِي صِحَة صلَاته إِلَّا أَن يُقَال تفوته فَضِيلَة الْأَوْلَوِيَّة مَعَ أَن حكم الْجَمَاعَة عَلَيْهِ.

قَالَ التَّاج الْفَزارِيّ فِي كَلَام الْبَغَوِيّ نظر فَإِنَّهُ حكم بِفَوَات فَضِيلَة الْجَمَاعَة وَحكم بِصِحَّة الصَّلَاة وَذَلِكَ تنَاقض وَتَبعهُ أَيْضا السُّبْكِيّ وَصَاحب الْمُهِمَّات والبارزي فِي تَوْضِيحه الْكَبِير.

قَالَ الزَّرْكَشِيّ وَهَذَا كُله مَرْدُود فَإِن الصِّحَّة لَا تَسْتَلْزِم الثَّوَاب بِدَلِيل الصَّلَاة فِي الثَّوْب الْحَرِير وَالدَّار الْمَغْصُوبَة وإفراد يَوْم الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ وَالْحكم بِانْتِفَاء فَضِيلَة الْجَمَاعَة لَا يُنَاقض حُصُولهَا بِدَلِيل مَا لَو صلى بِالْجَمَاعَة فِي أَرض مَغْصُوبَة فالإقتداء صَحِيح وَهُوَ فِي جمَاعَة لَا ثَوَاب فِيهَا قَالَ وَمِمَّا يشْهد لانفكاك ثَوَاب الْجَمَاعَة الْمَسْبُوق يدْرك الإِمَام بعد الرُّكُوع من الرَّكْعَة الْأَخِيرَة فَإِنَّهُ فِي جمَاعَة قطعا لِأَن اقتداءه صَحِيح بِلَا خلاف وَإِلَّا لبطلت صلَاته وَمَعَ ذَلِك اخْتلفُوا فِي حُصُول الْفَضِيلَة لَهُ قَالَ وَكَذَلِكَ كل صَلَاة لَا تسْتَحب فِيهَا الْجَمَاعَة كَصَلَاة العراة جمَاعَة فَإِنَّهُ يَصح الِاقْتِدَاء وَمَعَ ذَلِك لَا ثَوَاب فِيهَا لِأَنَّهَا غير مَطْلُوبَة قَالَ وَالْحَاصِل أَن النَّوَوِيّ نفى فَضِيلَة الْجَمَاعَة أَي ثَوَابهَا وَلم يقل بطلت الْجَمَاعَة فَدلَّ على أَن الْجَمَاعَة بَاقِيَة وَأَنه فِي حكم الْمُقْتَدِي لِأَنَّهُ
প্রথমটির ক্ষেত্রে আল-বাগাউই স্পষ্টভাবে অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন এবং আর-রویانীয় তাঁর অনুসরণ করেছেন। ইমাম ও অন্যদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি উত্তম তরিকাহর পরিপন্থী (خلاف الأولى)। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আত-তাহযিব-এর ভাষ্য হলো: যখন সে ইমামের সাথে সাথে কার্যাবলি সম্পাদন করবে, তখন তা অপছন্দনীয় (يكره) হবে এবং এর ফলে জামাতের ফজিলত নষ্ট হবে, তবে তার সালাত সহিহ (تصح) হবে।

ইবনুল উস্তায বলেন: এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ সেক্ষেত্রে তখন তার সালাত সহিহ (صحة) হওয়া নিয়ে মতভেদ তৈরি হওয়া উচিত, যদি না বলা হয় যে সে কেবল উত্তম হওয়ার ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ তার ওপর জামাতের বিধান কার্যকর থাকছে।

আত-তাজ আল-ফাজারি বলেন: আল-বাগাউই-এর বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কেননা তিনি একদিকে জামাতের ফজিলত নষ্ট হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, আবার সালাত সহিহ (صحة) হওয়ারও হুকুম দিয়েছেন, যা স্ববিরোধী। আস-সুবকি, আল-মুহিম্মাত-এর লেখক এবং আল-বারযি তাঁর তওদিহুল কাবির গ্রন্থেও তাঁর অনুসরণ করেছেন।

আয-যারকাশি বলেন: এ সবই প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ সহিহ (صحة) হওয়া সওয়াব প্রাপ্তিকে আবশ্যক করে না, যার প্রমাণ হলো রেশমি কাপড়ে সালাত আদায় করা, দখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করা এবং কেবল জুমার দিনে রোজা রাখা। জামাতের ফজিলত রহিত হওয়ার হুকুম দেওয়াটা জামাত বিদ্যমান থাকার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, যার দলিল হলো কেউ যদি দখলকৃত জমিতে জামাতের সাথে সালাত আদায় করে, তবে তার অনুসরণ (الإقتداء) সহিহ (صحيح) হবে এবং সে জামাতের মধ্যেই গণ্য হবে যাতে কোনো সওয়াব নেই। তিনি বলেন: জামাতের সওয়াব পৃথক হওয়ার একটি প্রমাণ হলো মাসবুক ব্যক্তি, যে শেষ রাকাতে রুকুর পর ইমামকে পায়। সে নিশ্চিতভাবেই জামাতে রয়েছে, কারণ কোনো মতভেদ ছাড়াই তার অনুসরণ (الإقتداء) সহিহ (صحيح); অন্যথায় তার সালাত বাতিল হয়ে যেত। তা সত্ত্বেও তার ফজিলত অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। তিনি বলেন: একইভাবে যে সালাতে জামাত মুস্তাহাব (تستحب) নয়, যেমন বিবস্ত্র ব্যক্তিদের জামাতের সাথে সালাত আদায় করা; সেখানে অনুসরণ (الإقتداء) সহিহ (يصح) হলেও কোনো সওয়াব নেই, কারণ তা শরিয়ত কর্তৃক কাম্য নয়। তিনি বলেন: সারকথা হলো, ইমাম নাওয়াবী জামাতের ফজিলত তথা সওয়াব অস্বীকার করেছেন, জামাত বাতিল হওয়ার কথা বলেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে জামাত বহাল রয়েছে এবং সে মুক্তাদি হওয়ার হুকুমেই গণ্য, কারণ সে...