(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: -)
ملحق فتاوى لابن قداح لم تتضمنها مسائله القسم: الفقه العام
الكتاب: ملحق فتاوى لابن قداح لم تتضمنها مسائله
المؤلف: أبو علي عمر بن قداح الهواري (ت 734 هـ)
المحقق: محمد بن الهادي أبو الأجفان [ت 1427 هـ]
الناشر: مركز المصطفى للدراسات الإسلامية (منشورات ELGA) - مالطا
الطبعة: بلا، 1996 م
عدد الصفحات: 177
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে কাদ্দাহ-এর ফতোয়ার পরিশিষ্ট যা তাঁর মাসায়েলগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: ইবনে কাদ্দাহ-এর ফতোয়ার পরিশিষ্ট যা তাঁর মাসায়েলগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়
লেখক: আবু আলী উমর বিন কাদ্দাহ আল-হাওয়ারি (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন আল-হাদি আবু আল-আজফান [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]
প্রকাশক: মার্কাজুল মুস্তফা ফর ইসলামিক স্টাডিজ (ELGA পাবলিকেশনস) - মাল্টা
সংস্করণ: সংস্করণ বিহীন, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
(مُلْحق فَتَاوَى لِابْنِ قداح لم تتضمنها مسَائِله)
(الْكِتَابَة بِالذَّهَب فِي الْإِجَازَة) 1 - سُئِلَ ابْن قداح عَن الْكتب بِالذَّهَب فِي آيَة تعرض أَو تصلية تقع فِي الْإِجَازَة حِين كتب الْإِجَازَة
فَأجَاب التَّعْظِيم هُوَ اتِّبَاع السّنة بكتبها بِالسَّوَادِ خَالِصا وَرَأَيْت إجازات كَثِيرَة محدقة بِالذَّهَب وفيهَا الفواصل كَذَلِك فِيهَا شَهَادَات لشيوخ شُيُوخنَا وهم كَذَلِك يَفْعَلُونَ واتبعناهم نَحن اقْتِدَاء بهم وبالقياس على تَحِيَّة الْمُصحف إِذْ هُوَ من اتِّبَاع كتب الْمُصحف وتعظيمه
(شِرَاء زرع من غَاصِب) 2 - كَانَ ابْن عَرَفَة رحمه الله يَحْكِي عَن أَبِيه أَنه سَأَلَ الشَّيْخ القَاضِي أَبَا عَليّ بن قداح عَن شِرَاء عشور الْعَرَب فَنَهَاهُ عَن ذَلِك ثمَّ بلغه أَن القَاضِي اشْترى مِنْهُ فَقَالَ لَهُ اي كَيفَ تنهاني وَتفعل فَقَالَ الْفَقِيه يعرف كَيفَ يتَصَرَّف فِي الشِّرَاء وَالْبيع وَلَعَلَّه إِمَّا أَنه رَآهُ مَكْرُوها وَهُوَ يعرف كَيفَ يتعاطاه وَلَا يتَعَدَّى أَو يكون الْعَرَبِيّ تحلل أهل العشور أَو رَآهُ فَقِيرا يسْتَحق ذَلِك أَو اضْطر إِلَيْهِ القَاضِي فَهُوَ ضَرُورَة حَال وَالله أعلم بِقَصْدِهِ
(ইবনে কাদ্দাহ-এর ফতোয়ার পরিশিষ্ট যা তাঁর মাসায়েল গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়নি)
(অনুমতিপত্রে (إجازة) স্বর্ণের কালিতে লেখা) 1 - ইবনে কাদ্দাহ-কে অনুমতিপত্র (إجازة) লিখার সময় তাতে স্বর্ণের কালিতে কোনো আয়াত অথবা দরুদ (تصلية) লেখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তিনি উত্তরে বললেন, প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন হলো কেবল বিশুদ্ধ কালো কালিতে লেখার মাধ্যমে সুন্নাহর অনুসরণ (اتباع السنة) করা। আমি এমন অনেক অনুমতিপত্র (إجازة) দেখেছি যা স্বর্ণমণ্ডিত এবং তার বিরতিচিহ্নগুলোও তদ্রূপ। সেগুলোতে আমাদের শাইখদের শাইখদের সাক্ষ্য (شهادات) রয়েছে এবং তাঁরাও এমনটিই করতেন। আমরা তাঁদের অনুসরণে এবং মুসহাফের সম্মানের সাথে তুলনা বা কিয়াস (قياس) করে এটি অনুসরণ করেছি; কেননা এটি মুসহাফের লিখন পদ্ধতি ও তাকে সম্মান প্রদর্শনেরই অন্তর্ভুক্ত।
(জবরদখলকারীর (غاصب) নিকট থেকে ফসল ক্রয় করা) 2 - ইবনে আরাফাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করতেন যে, তিনি শাইখ কাজী আবু আলী ইবনে কাদ্দাহ-কে আরবদের ওশর (عشور) -এর ফসল ক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে তা করতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারলেন যে কাজী সাহেব নিজেই তা ক্রয় করেছেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, আপনি আমাকে নিষেধ করলেন অথচ আপনি নিজেই তা করছেন? তদুত্তরে তিনি বললেন, একজন ফকিহ (فقيه) জানেন যে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কীভাবে লেনদেন করতে হয়। সম্ভবত তিনি বিষয়টিকে অপছন্দনীয় বা মাকরূহ (مكروه) হিসেবে দেখেছিলেন এবং তিনি জানতেন কীভাবে তা সম্পাদন করতে হয় যেন তা সীমা লঙ্ঘন না করে। অথবা হতে পারে ওই আরব ব্যক্তি ওশর (عشور) প্রদানকারীদের নিকট থেকে দায়মুক্ত (تحلل) হয়েছিল, কিংবা তিনি তাকে হকদার কোনো দরিদ্র হিসেবে দেখেছিলেন, অথবা কাজী সাহেব এর জন্য বাধ্য হয়েছিলেন যা একটি বিশেষ প্রয়োজনীয় অবস্থা (ضرورة)। তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
(قِرَاءَة كتب الخرافات والشعوذة) 3 - أخبر الشَّيْخ أَبُو الْحسن البطرني أَنه حضر حَلقَة فَتْوَى ابْن قداح فَسئلَ عَمَّن يسمع حَدِيث عنترة هَل تجوز إِمَامَته فَقَالَ لَا تجوز إِمَامَته وَلَا شَهَادَته وَكَذَلِكَ حَدِيث دلهمة لِأَنَّهَا كذب ومستحل الْكَذِب كَاذِب وَكَذَلِكَ كتب الْأَحْكَام للمنجمين وَكتب العزائم بِمَا لَا يعرف من الْكَلَام
(تَحْرِيك النَّعْل والاعتماد عَلَيْهِ فِي الصَّلَاة) 4 - لما نقل الشَّيْخ أَبُو الْقَاسِم الْبُرْزُليّ رَحمَه اله عَن عز الدّين أَن من صلى إِلَى جنب من يتَحَقَّق نَجَاسَة ثِيَابه ويلاصقه لَا تجوز صلَاته قَالَ لَا يَخْلُو عندنَا أَن يعتمده أَو يلاصقه خَاصَّة فَإِن كَانَ يعْتَمد عَلَيْهِ بِحَيْثُ يجلس على ثِيَابه أَو يسْجد بِبَعْض أَعْضَائِهِ فَكَمَا قَالَ وَإِن لاصقة خَاصَّة فأحفظ فِي الْإِكْمَال أَن ثِيَاب الْمُصَلِّي إِذا كَانَت تماس النَّجَاسَة وَلَا يجلس عَلَيْهَا فَلَا تضره وَأما إِذا اسْتندَ إِلَيّ فَفِي الْمُدَوَّنَة لَا يسْتَند إِلَى حائق وَلَا جنب فَقيل إِن الْمُسْتَند شريك الْمُسْتَند إِلَيْهِ فِي الْعِبَادَة وَقيل بِنَجَاسَة ثيابهما وَيُعِيد من فعل ذَلِك فِي الْوَقْت
وَمن هَذَا الْمَعْنى الْمَسْأَلَة المنقولة عَن ابْن قداح من حرك نعاله وَهُوَ فِي وعَاء
(কুসংস্কার ও জাদুটোনার বই পাঠ করা) 3 - শেখ আবু আল-হাসান আল-বাতারনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ইবন কাদ্দাহ-এর ফতোয়া প্রদানের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে 'আনতারা'-এর কিসসা-কাহিনী (হাদিস) শ্রবণ করে, তার ইমামতি কি বৈধ হবে? তিনি বললেন: তার ইমামতি বৈধ নয় এবং তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে 'দালহামা'-এর কাহিনীও (হাদিস), কারণ সেগুলো মিথ্যা (كذب)। আর যে ব্যক্তি মিথ্যাকে হালাল মনে করে, সে মিথ্যাবাদী (كاذب)। একইভাবে জ্যোতিষীদের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত আহকাম ও সিদ্ধান্তবলীর বইসমূহ এবং অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বাক্য দ্বারা লিখিত জাদুটোনার বইসমূহের বিধানও অনুরূপ।
(নামাজে জুতা নড়াচড়া করা এবং তার ওপর ভর করা) 4 - যখন শেখ আবু আল-কাসিম আল-বুরজুলি (রহিমাহুল্লাহ) ইজ্জুদ্দীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি এমন একজনের পাশে নামাজ পড়ে যার কাপড়ের অপবিত্রতা নিশ্চিত এবং সে তাকে স্পর্শ করে থাকে, তবে তার নামাজ বৈধ হবে না। তিনি (বুরজুলি) বললেন: আমাদের নিকট বিষয়টি দুই অবস্থার বাইরে নয়—হয় সে তার ওপর ভর দেবে অথবা কেবল তাকে স্পর্শ করবে। যদি সে তার ওপর এমনভাবে ভর দেয় যে তার কাপড়ের ওপর বসে পড়ে অথবা শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে তার ওপর সেজদা করে, তবে বিষয়টি তেমনই (অবৈধ) যেমনটি তিনি বলেছেন। আর যদি কেবল স্পর্শ করে, তবে আল-ইকমাল গ্রন্থে আমার মনে পড়ছে যে, নামাজির কাপড় যদি অপবিত্রতা স্পর্শ করে কিন্তু সে তার ওপর না বসে, তবে তা কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি সে তার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়, তবে আল-মুদাওওয়ানাহ গ্রন্থে আছে যে, নামাজি দেয়াল বা কোনো ব্যক্তির পাশে হেলান দেবে না। বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি হেলান দেয় সে ইবাদতের ক্ষেত্রে যার ওপর হেলান দেওয়া হয়েছে তার অংশীদার হয়ে যায়। আবার কারো মতে তাদের উভয়ের কাপড়ই অপবিত্র হয়ে যায়; এবং যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে ওয়াক্ত থাকাকালীন নামাজ পুনরায় আদায় করবে।
আর এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো ইবন কাদ্দাহ থেকে বর্ণিত সেই মাসআলাটি, যেখানে কোনো ব্যক্তি তার জুতা নড়াচড়া করে যখন তা কোনো পাত্র বা ব্যাগের মধ্যে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
فِي صلَاته فَإِن يُعِيد أَو يقطع الشَّك مني فَإِن كَانَ دفع ذَلِك بِيَدِهِ مَعَ تحقق نَجَاسَة النَّعْل كَمَا تقدم فِي الِاسْتِنَاد وَأما إِن لم يتَحَقَّق نَجَاسَة فَهِيَ من الْمَسْأَلَة الَّتِي يغلب فِيهَا الأَصْل على الْغَالِب للضَّرُورَة فَلَا يضرّهُ
وَأما إِن اعْتمد عَلَيْهِ بصدره فَهِيَ مَسْأَلَة من فرش طَاهِرا على نجس أَو مُتَنَجّس فَإِن كَانَ مَرِيضا جَازَ وَإِن كَانَ صَحِيحا فَقَوْلَانِ وَظَاهر الْمُدَوَّنَة الصِّحَّة مُطلقًا
(نِسْيَان مسح الرَّأْس) 5 - سُئِلَ ابْن عبد السَّلَام عَن رجل بِرَأْسِهِ مرض يمنعهُ من غسله فِي الْجَنَابَة ينْتَقل مَعَه إِلَى الْمسْح نسي مَسحه حَتَّى تَوَضَّأ فَمسح رَأسه هَل يُجزئهُ كَمَسْأَلَة اللمْعَة أَو لَا يُجزئهُ
فَأجَاب بِأَنَّهُ يُجزئهُ
وَأجَاب بعض أشياخه وَهُوَ الشَّيْخ أَبُو الْحسن الْمُنْتَصر بِعَدَمِ الْإِجْزَاء وَصَوَّبَهُ غير وَاحِد لِأَنَّهُ للْغسْل وَاجِب لكل الرَّأْس إِجْمَاعًا وللوضوء قد لَا يعم وَإِن عَم فالعموم غير وَاجِب إِجْمَاعًا فَصَارَ كفضيلة عَن وَاجِب ابْن عَرَفَة وَبِأَن مسح الْغسْل الْغسْل وَالْمسح لَا يَكْفِي عَن الْغسْل انْتهى
وَبِمَا أفتى بِهِ ابْن عبد السَّلَام قَالَ أَبُو عَليّ بن قداح
...তাঁর সালাতে। তবে কি তিনি পুনরায় সালাত আদায় করবেন নাকি তাঁর সন্দেহ দূর করবেন? যদি তিনি তাঁর হাত দিয়ে তা সরিয়ে দেন এবং জুতায় অপবিত্রতা (نجاسة) থাকা নিশ্চিত হয়, যেমনটি হেলান দেওয়ার (الاستناد) আলোচনার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি অপবিত্রতা (نجاسة) নিশ্চিত না হয়, তবে এটি এমন একটি মাসআলা যেখানে প্রয়োজনের তাগিদে মূল অবস্থাকে (الأصل) প্রবল অবস্থার (الغالب) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, সুতরাং তা তাঁর জন্য ক্ষতিকর হবে না।
আর যদি তিনি তাঁর বুক দিয়ে সেটির ওপর ভর করেন, তবে এটি অপবিত্র (نجس) বা নাপাকযুক্ত (متنجس) বস্তুর ওপর পবিত্র বিছানা বিছানোর মাসআলার ন্যায়। যদি তিনি অসুস্থ হন তবে তা বৈধ (جائز), আর যদি সুস্থ হন তবে সে ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। তবে মুদাওওয়ানাহ-এর বাহ্যিক বর্ণনা অনুযায়ী তা সাধারণভাবে শুদ্ধ (صحيح)।
(মাথা মাসাহ করতে ভুলে যাওয়া) ৫ - ইবনে আবদুস সালামকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার মাথায় এমন রোগ রয়েছে যা তাকে জানাবাতের (جنابة) গোসলে মাথা ধুতে বাধা দেয়, ফলে তার বিধান মাসাহে (المسح) স্থানান্তরিত হয়; এমতাবস্থায় সে মাসাহ করতে ভুলে গেল এবং পরে যখন ওযু (وضوء) করল তখন মাথা মাসাহ করল। এটি কি তার জন্য যথেষ্ট (يجزئه) হবে—যেমনটি ধৌত করার সময় কোনো স্থান শুকনো থেকে যাওয়ার (اللمعة) মাসআলার ক্ষেত্রে হয়—নাকি যথেষ্ট (يجزئه) হবে না?
তিনি উত্তর দিলেন যে, এটি তার জন্য যথেষ্ট (يجزئه) হবে।
তবে তাঁর কোনো কোনো উস্তাদ—যিনি হলেন শায়খ আবুল হাসান আল-মুনতাসির—যথেষ্ট না হওয়ার (عدم الإجزاء) পক্ষে মত দিয়েছেন এবং একাধিক আলিম একে সঠিক বলেছেন। কারণ, সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) গোসলের ক্ষেত্রে পুরো মাথা ধোয়া ওয়াজিব (واجب), আর ওযুর (وضوء) ক্ষেত্রে হয়তো পুরো মাথা বেষ্টন করা হয় না; আর যদি বেষ্টন করা হয়ও, তবে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعًا) সেই পূর্ণতা ওয়াজিব (واجب) নয়। ইবনে আরাফার মতে, এটি ওয়াজিবের (واجب) পরিবর্তে অতিরিক্ত ফযিলত স্বরূপ হয়ে গেল। আর গোসলের মাসাহ হলো ধৌত করার স্থলাভিষিক্ত এবং ধৌত করার পরিবর্তে কেবল মাসাহ যথেষ্ট নয়। সমাপ্ত।
ইবনে আবদুস সালাম যে ফতোয়া দিয়েছেন, আবু আলী ইবনে কাদ্দাহ-ও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
(بَقَاء لمْعَة من غسل الْجَنَابَة) 6 - سُئِلَ الشَّيْخَانِ الجليلان أَبُو عَليّ بن قداح وَأَبُو حسن الْمُنْتَصر عَمَّن بقيت عَلَيْهِ لمْعَة من الْجَنَابَة فَلَمَّا غسلهَا بنية الْوضُوء أحدث قبل كَمَال الطَّهَارَة فَأجَاب أَبُو عَليّ بن قداح بِأَن قَالَ إِن قُلْنَا إِن الْحَدث لَا يرْتَفع إِلَّا بالكمال لم تطهر اللمْعَة من الْجَنَابَة وغن قُلْنَا يرْتَفع حدث كل عُضْو بالفراغ مِنْهُ ارْتَفَعت جَنَابَة اللمْعَة
وَأجَاب أَبُو الْحسن بِأَنَّهَا تطهر للجنابة مُطلقًا لِأَنَّهَا غسلت بنية الْفَرْض
(قتل الذِّمِّيّ الَّذِي يسرق أَوْلَاد الْمُسلمين) 7 - سُئِلَ القاضيان على الْجَمَاعَة والأنكحة أَبُو عَليّ بن قداح وَأَبُو عبد الله بن عبد السَّلَام أَيَّام سُلْطَان إفريقية الْأَمِير أبي يحيى عَن ذمِّي يسرق صغَار الْمُسلمين ويبيعهم من الْحَرْبِيين فَأجَاب أَبُو عَليّ بِأَنَّهُ يقتل بِالسَّيْفِ
وَأجَاب ابْن عبد السَّلَام بِأَنَّهُ يصلب وَيقتل وَاحْتج بصلب عبد الْملك بن مَرْوَان للحادث الَّذِي تنبأ قَالَ فِي الْمُدَوَّنَة وطعنه بالحربة بِيَدِهِ فَفعل بالذمي ذَلِك
(জানাবাতের গোসলে শরীরের কোনো অংশ ধৌত না হওয়া প্রসঙ্গে) 6 - দুই মহান শায়খ আবু আলী বিন কাদ্দাহ এবং আবু হাসান আল-মুনতাসিরকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার জানাবাত (جنابة) এর গোসলে শরীরের কোনো এক স্থান ধৌত হওয়া বাকি থেকে গিয়েছিল (لمعة)। অতঃপর যখন তিনি তা ওযুর নিয়তে ধৌত করলেন, তখন পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পূর্বেই তার নাপাকি (أحدث) প্রকাশ পেল। আবু আলী বিন কাদ্দাহ এই উত্তর দিয়েছেন যে, যদি আমরা বলি যে নাপাকি (الحدث) পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন ছাড়া দূর হয় না, তবে জানাবাত (جنابة) থেকে সেই অংশটি পবিত্র হবে না। আর যদি আমরা বলি যে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গের নাপাকি (حدث) দূর হয়ে যায়, তবে সেই নির্দিষ্ট অংশের জানাবাত (جنابة) দূর হয়ে যাবে।
আবু আল-হাসান উত্তর প্রদান করেছেন যে, সেটি জানাবাত (جنابة) থেকে নিঃশর্তভাবে পবিত্র হয়ে যাবে; কারণ তা ফরয (فرض) নিয়তে ধৌত করা হয়েছে।
(মুসলিম শিশুদের অপহরণকারী জিম্মিকে হত্যা করা প্রসঙ্গে) 7 - ইফ্রিকিয়ার সুলতান আমির আবু ইয়াহইয়ার রাজত্বকালে জামাত ও নিকাহ বিষয়ক দুই বিচারক আবু আলী বিন কাদ্দাহ এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন আব্দুস সালামকে এমন এক জিম্মি (ذمي) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মুসলিম শিশুদের চুরি করে হারবিদের (حربيين) নিকট বিক্রি করে দেয়। আবু আলী উত্তর দিয়েছেন যে, তাকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করা হবে।
ইবন আব্দুস সালাম উত্তর দিয়েছেন যে, তাকে শূলে চড়ানো হবে এবং হত্যা করা হবে। তিনি দলিল হিসেবে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান কর্তৃক নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার সেই ব্যক্তির (الحادث) শূলে চড়ানোর ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাকে নিজ হাতে বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিলেন। সুতরাং সেই জিম্মির (ذمي) ক্ষেত্রেও অনুরূপ দণ্ড কার্যকর করা হবে।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
وَكَانَ ابْن عَرَفَة رحمه الله يَقُول فِي احتجاج ابْن عبد السَّلَام بذلك نظر لِأَن قَضِيَّة الْحَارِث أقرب إِلَى الْحِرَابَة من فعل هَذَا الذِّمِّيّ لعَظيم مفسدته وَإِنَّمَا حكم القاضيان فِيهِ بِالْقَتْلِ وَإِن كَانَ إِنَّمَا فِي سَرقَة الصَّغِير الْقطع لِأَنَّهُ بِفِعْلِهِ ذَلِك نَاقض للْعهد مَعَ عظم مفْسدَة فعله بِمَا ينشأ عَنهُ من تملك الْحر وتنصره وَاخْتِيَار ابْن عَرَفَة أَنه نَاقض للْعهد وَإِن الْحق كَانَ أَن يُخَيّر الإِمَام فِيهِ بالخمسة الَّتِي للأسير الْكَافِر وَلَيْسَ الصلب مِنْهَا
وَفِي ابْن يُونُس أَن نَصْرَانِيّا نخس بغلا عَلَيْهِ امْرَأَة مسلمة فَوَقَعت فانكشف عورتها فَكتب عمر بن الْخطاب بِأَنَّهُ يصلب فِي ذَلِك الْموضع وَقَالَ إِنَّمَا عاهدناهم على إِعْطَاء الْجِزْيَة قيل فَيحْتَمل أَن يكون صلبه بعد الْقَتْل وَيحْتَمل أَن يكون قبل الْقَتْل كَمَا حُكيَ عبد الْملك بن مَرْوَان فَيكون فِيهِ الرَّد على اعْتِرَاض من اعْترض القَاضِي ابْن عبد السَّلَام فِي النَّازِلَة الْمُتَقَدّمَة
(الذّبْح على كرتين) 8 - نزلت هَذِه الازلة أَيَّام ابْن قداح هرب ثَوْر من المسلخ إِلَى الرحبة بعد أَن حصل فِيهِ بعض الذّبْح وَأتم فِي الرحبة
فَأفْتى بِجَوَاز بَيْعه وَبَينهمَا نَحْو ثَلَاثمِائَة بَاعَ
ইবন আরাফাহ (রহ.) ইবন আবদুস সালামের এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলতেন যে, এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কারণ হারিসের ঘটনাটি এই জিম্মির কর্মকাণ্ডের চেয়ে দস্যুবৃত্তির অধিক নিকটবর্তী ছিল তার কাজের ভয়াবহ অনিষ্টতার কারণে। দুই বিচারক এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন, যদিও শিশুর চুরির ক্ষেত্রে কেবল হাত কাটার বিধান রয়েছে। এর কারণ হলো, তার এই কাজ চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছিল, যেহেতু তার কাজের অনিষ্টতা ছিল অত্যন্ত গুরুতর—যার ফলে স্বাধীন ব্যক্তিকে দাসে পরিণত করা এবং খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার পথ তৈরি হতো। ইবন আরাফাহ-এর পছন্দনীয় মত হলো, এটি চুক্তির লঙ্ঘন, তবে সঠিক পন্থা ছিল ইমামকে সেই পাঁচটি বিষয়ের মধ্য থেকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া যা একজন কাফির বন্দির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর শূলে চড়ানো সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইবন ইউনুসের বর্ণনায় এসেছে যে, একজন খ্রিস্টান এমন এক খচ্চরকে খোঁচা দিয়েছিল যার পিঠে একজন মুসলিম নারী আরোহী ছিলেন। ফলে তিনি পড়ে যান এবং তার সতর উন্মোচিত হয়ে পড়ে। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নির্দেশ দিলেন যে, তাকে সেই স্থানেই শূলে চড়ানো হবে। তিনি বললেন, আমরা তাদের সাথে কেবল জিজিয়া প্রদানের শর্তে চুক্তি করেছি। বলা হয়ে থাকে, সম্ভবত তাকে হত্যার পর শূলে চড়ানো হয়েছিল, আবার এও সম্ভব যে হত্যার পূর্বেই তা করা হয়েছিল, যেমনটি আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ানের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। ফলে এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির আপত্তির খণ্ডন হয়, যিনি পূর্বোক্ত ঘটনায় বিচারক ইবন আবদুস সালামের ওপর আপত্তি তুলেছিলেন।
(দুই দফায় জবাই করা)
8 - ইবন কাদ্দাহ-এর সময়ে এই মাসআলাটি বা সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল যে, একটি ষাঁড় জবাইখানা থেকে আংশিক জবাই হওয়া অবস্থায় দেউড়িতে পালিয়ে যায় এবং সেখানেই জবাই সম্পন্ন করা হয়।
তিনি এটি বিক্রয় করার বৈধতার ফাতাওয়া দিয়েছিলেন, আর এ দুই স্থানের দূরত্ব ছিল প্রায় তিনশ হাত।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
وَأجَاب السيوري بِمَا تقدم جَوَابا وَاحِدًا فِي الْغَلَبَة وَالِاخْتِيَار
وَأجَاب ابْن مُحرز الَّذِي يذكي فيغلب على تَمام التذكية أَو يرى أَنه قد تمّ ثمَّ تبين أَنه لم يتم لكنه رَجَعَ بِالْقربِ فَأَتمَّ ذَكَاته أكلت وَإِن تبَاعد لم تُؤْكَل فَإِن قطع من الْحُلْقُوم والأوداج الْأَقَل وَالَّذِي بَقِي الْأَكْثَر فَلَا خلاف أَنه لَا يُؤْكَل إِذا تبَاعد وَإِن كَانَ الْبَاقِي هُوَ الْأَقَل فَفِيهِ اخْتِلَاف الْعلمَاء وعندما لَا يُؤْكَل إِلَّا بِكَمَال الذّبْح وَهُوَ قطع الْأَوْدَاج والحلقوم
(رد قلَّة الزَّيْت عَن قلَّة السّمن) 9 - سُئِلَ ابْن قداح عَمَّن تسلف قلَّة سمن فَأَرَادَ أَن يرد عَنْهَا قلَّة زَيْت
فَأجَاب بِأَن ذَلِك جَائِز
আস-সিয়ুরী পূর্বোক্ত বিষয়ের আলোকে প্রবলতা (الغلبة) এবং ইখতিয়ারের (الاختيار) ক্ষেত্রে একটিই উত্তর প্রদান করেছেন।
ইবনে মুহরিজ উত্তর দিয়েছেন, যে ব্যক্তি জবেহ করে কিন্তু জবেহ পূর্ণ করার (تَمام التذكية) ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তার ওপর প্রবল হয়ে যায়, অথবা সে মনে করে যে তা পূর্ণ হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে স্পষ্ট হয় যে তা পূর্ণ হয়নি, এমতাবস্থায় সে যদি নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে ফিরে এসে তার জবেহ (ذكاته) সম্পন্ন করে তবে তা খাওয়া যাবে। আর যদি দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয় তবে তা খাওয়া যাবে না। এমতাবস্থায় যদি কণ্ঠনালী (الحلقوم) ও গ্রীবা ধমনীর (الأوداج) সামান্য অংশ কাটা হয় এবং অধিকাংশ অংশ বাকি থাকে, তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে তা না খাওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। আর যদি অবশিষ্ট অংশ সামান্য হয়, তবে সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে। আমাদের নিকট পূর্ণ জবেহ (كمال الذبح) ব্যতীত তা খাওয়া বৈধ নয়; আর তা হলো গ্রীবা ধমনী (الأوداج) ও কণ্ঠনালী (الحلقوم) কর্তন করা।
(ঘিয়ের জগের পরিবর্তে তেলের জগ পরিশোধ করা) 9 - ইবনে কাদ্দাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এক জগ ঘি ধার নিয়েছিল এবং তার পরিবর্তে এক জগ তেল ফিরিয়ে দিতে চাইল।
তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, তা বৈধ (جائز)।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
(تحمل تكاليف التحصين) 10 - قَالَ الْمعلم مُحَمَّد بن الرَّامِي الْبناء قد سَأَلت الْفَقِيه أَبَا عبد الله بن رَاشد فِي قوم أَرَادوا أَن يحصنوا على أنفسهم إِمَّا بِأَن يَفْعَلُوا دربا أَو سورا أَو حفيرا أَو شَيْئا يحصنون بِهِ على أنفسهم من الْعَدو واللصوص وَمِمَّا يخَافُونَ مِنْهُ على أنفسهم وعَلى أَمْوَالهم فَمنهمْ من أَرَادَ ذَلِك وَمِنْهُم من أَبى ذَلِك هَل يجْبر من أَبى ذَلِك أم لَا فَقَالَ نعم يجْبر من أَبى على ذَلِك لِأَن النَّاس يجبرون على مَا لَهُم فِيهِ الْمصلحَة وَالْمَنْفَعَة فَيجْبر من أَبى عل ذَلِك
فَقلت لَهُ فَكيف يكون الْغرم فِي ذَلِك بَينهم قَالَ تقوم الدّور كل دَار وَقيمتهَا فالدار الجديدة بسومها والردية بسومها ثمَّ يجمل ثمن الدّور كلهَا جلمة وَاحِدَة ثمَّ يقدر كم ينْفق فِي هَذَا الدَّرْب أَو فِي هَذَا السُّور أَو هَذَا الحفير ثمَّ تحصر النَّفَقَة جملَة وَاحِدَة ثمَّ تفض النَّفَقَة على مَا تجمل من قيمَة الدّور فَيُؤَدِّي كل وَاحِد مِنْهُم على دَاره بِقدر مَا تقومت عَلَيْهِ إِمَّا كثيرا وَإِمَّا قَلِيلا
وَمِثَال ذَلِك أَن تكون جملَة قيمَة الدَّار مائَة دِينَار وَتَكون قيمَة جملَة النَّفَقَة عشرَة دَنَانِير فتجيء قسمتهَا دِرْهَم من النَّفَقَة على دِينَار من الْقيمَة
(প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়ভার বহন করা) ১০ - স্থপতি শিক্ষক মুহাম্মদ ইবনে আর-রামি আল-বান্না বলেন, আমি ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে রাশিদকে এমন একদল লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য কোনো প্রবেশপথ, প্রাচীর, পরিখা বা এমন কিছু নির্মাণ করতে চেয়েছিল যার মাধ্যমে তারা শত্রু, চোর-ডাকাত এবং অন্যান্য আশঙ্কাজনক বিষয় থেকে নিজেদের জান ও মাল রক্ষা করতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ এতে সম্মত হলো আর কেউ অসম্মতি জানাল। এমতাবস্থায় যারা অসম্মতি জানিয়েছে তাদেরকে কি বাধ্য করা যাবে? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, যারা অস্বীকার করেছে তাদেরকে বাধ্য করা যাবে। কারণ মানুষকে এমন বিষয়ে বাধ্য করা যায় যাতে তাদের সামষ্টিক কল্যাণ ও উপকার নিহিত রয়েছে। সুতরাং যারা অসম্মতি জানাবে তাদেরকে এ বিষয়ে বাধ্য করা হবে।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তবে তাদের মধ্যে ব্যয়ের দায়ভার কীভাবে বণ্টিত হবে? তিনি বললেন, প্রতিটি বাড়ি তার অবস্থা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বাড়ি তার বাজারমূল্য অনুযায়ী এবং জরাজীর্ণ বাড়ি তার বাজারমূল্য অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে হবে। এরপর সবকটি বাড়ির মোট মূল্য একত্রে যোগ করা হবে। অতঃপর উক্ত প্রবেশপথ, প্রাচীর বা পরিখা নির্মাণে কত ব্যয় হবে তা নিরূপণ করা হবে এবং মোট ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর বাড়িগুলোর মোট মূল্যের অনুপাতে এই ব্যয় বণ্টন করা হবে। ফলে প্রত্যেকের বাড়ির মূল্যায়িত মূল্য অনুযায়ী—তা বেশি হোক বা কম—তাকে সে অনুপাতে ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
এর উদাহরণ হলো, যদি বাড়িগুলোর মোট মূল্য একশত দিনার হয় এবং মোট ব্যয়ের পরিমাণ দশ দিনার হয়, তবে ব্যয়ের বণ্টন হবে বাড়ির মূল্যের প্রতি এক দিনারের বিপরীতে এক দিরহাম হারে।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
فَمن كَانَ عِنْده مَا يُقَاوم عشرَة دَنَانِير جَاءَ عَلَيْهِ أدا عشرَة دَرَاهِم وَمن كَانَ عِنْده مَا يُقَاوم عشرَة دَرَاهِم جَاءَ عَلَيْهِ أَدَاء دِرْهَم وَاحِد بِحَسب ذَلِك فِي الْكثير واليسير
قَالَ الْمُؤلف ابْن الرَّامِي وَسَأَلت القَاضِي أَبَا عَليّ بن قداح فَقَالَ مثله يجْبر النَّاس على مَا لَهُم فَقلت لَهُ كَيفَ يكون الْغرم عَلَيْهِ قَالَ بالسواء بَينهم على الدّور قلت لَهُ فَمن كَانَت دَاره ثمينة وَغَيرهَا ردية يكون أداؤهما وَاحِدًا قَالَ نعم هَذَا عقد يلْزمه
قَالَ الْمُؤلف وَسَأَلت القَاضِي ابْن عبد السَّلَام عَن التحصين قَالَ لَا يجْبر من أَبى قلت لَهُ وَكَيف يكون الْأَدَاء فِيهِ قَالَ إِنَّا نحب التحصين ونكره الترسيم على من أَبى قلت لَهُ وَكَيف يَا سَيِّدي يكون ذَلِك وَالنَّاس يَخْتَلِفُونَ فِي ذَلِك فَمنهمْ من يهون عَلَيْهِ وَمِنْهُم من يمْتَنع من الْأَدَاء
قَالَ تكلم من لَا يرد الْكَلَام حسن وموعظة ورغبة حَتَّى يلين وَيُؤَدِّي مَعَ أَصْحَابه من غير تكلّف
قَالَ الْمُؤلف ابْن الرَّامِي وَأَنا أرى بَعْدَمَا يرضون أَن تقسم نَفَقَة التحصين نِصْفَيْنِ يسْقط النّصْف على قيمَة الديار كَمَا ذكرنَا أَولا ن التقسيط ويقسط النّصْف الثَّانِي على ذَوي الْأَمْوَال يفْرض عَلَيْهِم بِحَسب أَحْوَالهم الأول وَالثَّانِي وَالثَّالِث
مِثَال ذَلِك بَينهم يكون ثَلَاثَة أنَاس وَيكون نصف النَّفَقَة سِتَّة دَرَاهِم فَيُؤَدِّي الأول وَهُوَ الْقوي مِنْهُم ثَلَاثَة دَرَاهِم وَيُؤَدِّي الثَّانِي وَهُوَ الَّذِي يَلِيهِ دِرْهَمَيْنِ وَيُؤَدِّي الثَّالِث درهما وَاحِدًا هَكَذَا يكون بَينهم التقسيط على حسبان ذَلِك وَالله الْمُوفق للصَّوَاب
সুতরাং যার নিকট দশ দিনারের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর দশ দিরহাম প্রদান করা আবশ্যক হবে; আর যার নিকট দশ দিরহামের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাকে এক দিরহাম প্রদান করতে হবে। এটি অধিক কিংবা অল্প—উভয় ক্ষেত্রেই এই অনুপাত অনুযায়ী কার্যকর হবে।
গ্রন্থকার ইবনুর রামি বলেন, আমি কাজী আবু আলী ইবনে কাদ্দাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: অনুরূপভাবে মানুষকে তাদের সম্পদের স্বার্থে বাধ্য করা হবে। আমি তাঁকে বললাম: তাদের ওপর ব্যয়ের দায়ভার কেমন হবে? তিনি বললেন: ঘরগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে। আমি তাঁকে বললাম: তবে যার ঘর অধিক মূল্যবান আর যার ঘর নিম্নমানের, তাদের কি সমান হারে প্রদান করতে হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি একটি অপরিহার্য চুক্তি।
গ্রন্থকার বলেন, আমি কাজী ইবনে আবদুস সালামকে নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: যে এতে অসম্মতি জানায় তাকে বাধ্য করা হবে না। আমি তাঁকে বললাম: সেক্ষেত্রে অর্থ প্রদান কীভাবে সম্পন্ন হবে? তিনি বললেন: আমরা নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ পছন্দ করি, তবে যে অসম্মত তার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা অপছন্দ করি। আমি তাঁকে বললাম: হে আমার মহোদয়, এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে? তাদের মধ্যে কারো নিকট এটি সহজসাধ্য মনে হয়, আবার কেউ অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়।
তিনি বললেন: যাঁর কথা কেউ উপেক্ষা করে না, এমন ব্যক্তি উত্তম কথা, সদুপদেশ এবং উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সাথে কথা বলবেন, যেন তারা কোমল হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের সাথীদের সাথে অর্থ প্রদান করে।
গ্রন্থকার ইবনুর রামি বলেন, আমার অভিমত এই যে, তারা একমত হওয়ার পর নিরাপত্তা প্রাচীরের ব্যয়ভার দুই ভাগে বিভক্ত করা হবে। এর অর্ধেক ঘরবাড়ির মূল্যের ওপর নির্ধারিত হবে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে আনুপাতিক বণ্টনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। আর অবশিষ্ট অর্ধেক সম্পদশালীদের ওপর তাদের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী—প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে বিন্যস্ত করে—ধার্য করা হবে।
এর উদাহরণ হলো: তাদের মধ্যে তিনজন লোক রয়েছে এবং ব্যয়ের অর্ধাংশ হলো ছয় দিরহাম। এমতাবস্থায় প্রথম ব্যক্তি, যে সামর্থ্যবান, সে তিন দিরহাম প্রদান করবে। দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার অবস্থান এর পরেই, সে দুই দিরহাম প্রদান করবে। আর তৃতীয় ব্যক্তি এক দিরহাম প্রদান করবে। এই হিসাব অনুযায়ী তাদের মধ্যে আনুপাতিক বণ্টন সম্পন্ন হবে। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
(حق الزَّوْجَة فِي السُّكْنَى بِبَلَد فِيهَا قَاض إِذا ادَّعَت مضارة زَوجهَا بهَا) 11 - سُئِلَ الشَّيْخ أَبُو الْقَاسِم عظوم فِي أَوَائِل شعْبَان سنة 985 هـ عَن مَسْأَلَة رجل زوج ابْنَته من رجل فِي مَحل استيطانه وَمَكَثت عِنْد زَوجهَا فِي بلد أَبِيهَا بُرْهَة ثمَّ إِن زَوجهَا رغب أَبَاهَا أَن يُسَافر بهَا لبلده وَهِي من الكور لَيْسَ فِيهَا قَاض فَأذن لَهُ ثمَّ إِن الزَّوْجَة أَتَت لأَبِيهَا زائرة بِالْإِقَامَةِ عِنْده فِي الْبَلَد وَبهَا الْحَاكِم وتناولهما فِيهَا الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة وَادعت المضاررة من زَوجهَا وَسُوء عشرته وَأَرَادَ الزَّوْج النقلَة وَالرُّجُوع بهَا لهنالك
فَهَل لَهُ ذَلِك فَأجَاب بِمَا نَصه بعد الِافْتِتَاح إِذا كَانَ الْأَمر كَمَا ذكر فللزوجة الْمَذْكُورَة مَا دعت إِلَيْهِ من السُّكْنَى بِالْمَدِينَةِ الْمَذْكُورَة الَّتِي تتمشى فِيهَا الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة وَلَا يُجَاب الزَّوْج لما دَعَا إِلَيْهِ من نقلهَا بِوَجْه على مَا أفتى بِهِ الشُّيُوخ أَبُو الْقَاسِم أَحْمد الغبريني وَأَبُو لي بن قداح وَالْإِمَام ابْن عَرَفَة وتلميذه الْبُرْزُليّ وَهُوَ تَقْيِيد للْمُدَوّنَة وارتضاه الشَّيْخ ابْن نَاجِي
(স্বামীর পক্ষ থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার দাবি করলে একজন কাজী (قاض) বিদ্যমান এমন শহরে স্ত্রীর বসবাসের অধিকার) 11 - শায়খ আবু আল-কাসিম আজ্জুমকে ৯৮৫ হিজরি সালের শাবান মাসের শুরুর দিকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এক ব্যক্তি তার মেয়েকে এমন এক ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেন যে তার নিজ এলাকাতেই বসবাস করত। মেয়েটি তার স্বামীর সাথে তার পিতার শহরে কিছুকাল অবস্থান করে। অতঃপর স্বামী তার পিতার কাছে তাকে নিজের শহরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, যা ছিল এমন এক পল্লী অঞ্চল যেখানে কোনো কাজী (قاض) নেই। পিতা তাকে অনুমতি প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্ত্রী তার পিতার নিকট বেড়াতে আসে এবং সেই শহরেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছা করে যেখানে শাসক বিদ্যমান এবং যেখানে তাদের মধ্যে শরিয়াহর বিধানসমূহ কার্যকর হয়। সে তার স্বামীর পক্ষ থেকে ক্ষতিসাধন এবং দুর্ব্যবহারের দাবি করে। আর স্বামী তাকে সেখান থেকে স্থানান্তর করে নিয়ে যেতে চায়।
এমতাবস্থায় তার কি সেই অধিকার আছে? তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর এই মর্মে উত্তর প্রদান করেন: যদি বিষয়টি বর্ণিত অবস্থার অনুরূপ হয়, তবে উক্ত স্ত্রীর জন্য উল্লিখিত সেই শহরেই বসবাসের অধিকার থাকবে যেখানে শরিয়াহর বিধানসমূহ পরিচালিত হয়। তাকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে স্বামীর কোনো দাবিই কোনোভাবে গ্রহণ করা হবে না। যেমনটি ফতোয়া দিয়েছেন শায়খ আবু আল-কাসিম আহমদ আল-গাবরিনী, আবু আলী ইবনে কাদ্দাহ, ইমাম ইবনে আরাফাহ এবং তাঁর ছাত্র আল-বুরজুলি। এটি আল-মুদাওওয়ানাহ গ্রন্থের জন্য একটি সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) এবং শায়খ ইবনে নাজি এটি পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
(الطَّلَاق الْمُعَلق تَعْلِيق السِّيَاق) 12 - سُئِلَ عظوم عَن رجل خطب لوَلَده امْرَأَة ثمَّ تشاجر مَعَ وَلَده فَقَالَ للْوَلَد بعض إخوانه الْمَرْأَة الَّتِي خطبهَا لَك والدك فَقَالَ الْوَلَد هِيَ عَليّ حرَام
فَهَل تحل لَهُ أم لَا فَأجَاب بِمَا نَصه الْحَمد لله ظَاهر السُّؤَال يَقْتَضِي أَن الْبِنْت الْمَذْكُورَة إِنَّمَا حصل فِيهَا مُجَرّد خطْبَة وَحِينَئِذٍ فَالْمَسْأَلَة فِيهَا اضْطِرَاب بَين الْأَشْيَاخ وَالْحكم فِيهَا ينظر إِلَى الحكم فِي الْمَسْأَلَة الطَّلَاق الْمُعَلق تَعْلِيق السِّيَاق وَفِيه اللُّزُوم على ظَاهر الْمُدَوَّنَة من قَوْله ستراجعها فَيَقُول هِيَ طَالِق وَهُوَ نَص النَّوَادِر وَقَالَ فِيهَا من دعِي إِلَى نِكَاح امْرَأَة فَقَالَ هِيَ طَالِق وَلم يقل إِن تَزَوَّجتهَا لزمَه الطَّلَاق إِن تزَوجهَا وَقَالَ أَشهب
فَمن الْأَشْيَاخ من ألحق مَسْأَلَة التَّحْرِيم الْمَذْكُورَة بهَا فألزم التَّحْرِيم الْمُعَلق تَعْلِيق السِّيَاق كَالطَّلَاقِ الْمُعَلق كَذَلِك وَلم يفرق بَينهمَا قَالَ الشَّيْخ الْبُرْزُليّ هُوَ ظَاهر الْمُدَوَّنَة وَبِه أفتى الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد الشبيبي وَغير وَاحِد من مشيخة التونسيين
وَمِنْهُم من لم يلْحقهَا بهَا فَأفْتى بِعَدَمِ اللُّزُوم كالشيخ أبي عَليّ بن قداح
(প্রেক্ষাপটনির্ভর শর্তযুক্ত তালাক (الطلاق المعلق تعليق السياق)) 12 - আযুমকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে তার ছেলের জন্য এক মহিলার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। অতঃপর সে তার ছেলের সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন ছেলের জনৈক ভাই তাকে বলল, "যে মহিলার প্রস্তাব তোমার পিতা তোমার জন্য দিয়েছেন (তার ব্যাপারে তোমার মত কী?)"। ছেলেটি উত্তরে বলল, "সে আমার জন্য নিষিদ্ধ (حرام)"।
এখন প্রশ্ন হলো, ঐ মহিলা কি তার জন্য বৈধ হবে নাকি হবে না? উত্তরে তিনি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। প্রশ্নের বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উল্লিখিত মেয়েটির ক্ষেত্রে কেবল বিয়ের প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মাঝে অসংলগ্নতা বা মতভেদ (اضطراب) বিদ্যমান। এর বিধানটি প্রেক্ষাপটনির্ভর শর্তযুক্ত তালাক (الطلاق المعلق تعليق السياق) সংক্রান্ত মাসআলার হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল-মুদাওওয়ানাহ এর বাহ্যিক বর্ণনা অনুযায়ী এতে আবশ্যকতা (اللزوم) সাব্যস্ত হয়; যার উদাহরণ হলো, কাউকে বলা হলো "তুমি তাকে ফিরিয়ে নিবে", আর সে উত্তরে বলল "সে তালাকপ্রাপ্তা (طالق)"। এটি আন-নাওয়াদির গ্রন্থের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص)। তাতে বলা হয়েছে, যাকে কোনো মহিলাকে বিবাহ করার আহ্বান জানানো হলো এবং সে বলল, "সে তালাকপ্রাপ্তা (طالق)" কিন্তু সে এ কথা বলেনি যে "যদি আমি তাকে বিবাহ করি", তবে সে তাকে বিবাহ করলে তালাক কার্যকর হওয়া আবশ্যক (لزم) হয়ে যাবে। আশহাবও অনুরূপ বলেছেন।
সুতরাং আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নিষিদ্ধকরণের (تحريم) এই মাসআলাটিকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তারা প্রেক্ষাপটনির্ভর শর্তযুক্ত নিষিদ্ধকরণকেও শর্তযুক্ত তালাকের ন্যায় আবশ্যক (التزام) করেছেন এবং উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। শায়খ আল-বুরজুলি বলেন, আল-মুদাওওয়ানাহ এর বাহ্যিক ভাষ্য এটিই। শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-শাবিবি এবং তিউনিসিয়ার একাধিক শায়খ এই ফতোয়া প্রদান করেছেন।
আবার তাদের মধ্যে এমন একদল আছেন যারা একে এর সাথে যুক্ত করেননি। ফলে তারা এটি আবশ্যক না হওয়ার (عدم اللزوم) ফতোয়া দিয়েছেন, যেমন শায়খ আবু আলী বিন কাদ্দাহ।
(খণ্ড: ১)
মুলহাকু ফাতাওয়া লিইবনে কাদ্দাহ লাম তাতাদাম্মানহা মাসায়িলুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
قَائِلا لِأَن الْعَامَّة لَا تعرف التَّعْلِيق وَكَانَ قَوْله يعجب الشَّيْخ أَبَا مهْدي عِيسَى الغبريني ويميل إِلَيْهِ وَبِه كَانَ يُفْتِي الشَّيْخ أَبُو الْعَبَّاس بن حيدرة وَأفْتى الشَّيْخ ابْن عَرَفَة رَحمَه الله تَعَالَى أَولا بلزومه على ظَاهرهَا وَقَالَ إِن الْعَامَّة تقصد التَّعْلِيق وَلَكِن لَا تعرف أَن تعبر عَنهُ ثمَّ رَجَعَ فِي أَوَاخِر أَيَّامه إِلَى الْفَتْوَى بِعَدَمِ اللُّزُوم
এই কথা বলে যে, সাধারণ মানুষ স্থগিতকরণ (تعليق) সম্পর্কে জানে না। তাঁর এই উক্তিটি শায়খ আবু মাহদি ঈসা আল-গুবরিনিকে মুগ্ধ করত এবং তিনি এর প্রতি ঝুঁকেছিলেন। শায়খ আবু আল-আব্বাস ইবনে হাইদারাহ এর মাধ্যমেই ফতোয়া প্রদান করতেন। শায়খ ইবনে আরাফাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) প্রথমে এর বাহ্যিক রূপের ওপর ভিত্তি করে এটি আবশ্যক হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ স্থগিতকরণ (تعليق)-ই উদ্দেশ্য করে কিন্তু তারা তা ব্যক্ত করতে জানে না। অতঃপর তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে এটি আবশ্যক না হওয়ার ফতোয়ার দিকে ফিরে আসেন।