(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: -)
المسائل الفقهية لابن قداح   (ابن قداح)

القسم: الفقه العام


الكتاب: المسائل الفقهية

المؤلف: أبو علي عمر بن قداح الهواري (ت 734 هـ)

المحقق: محمد بن الهادي أبو الأجفان [ت 1427 هـ]

الناشر: مركز المصطفى للدراسات الإسلامية (منشورات ELGA) - مالطا

الطبعة: بلا، 1996 م

عدد الصفحات: 162

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে কাদ্দাহ-এর আল-মাসাইলুল ফিকহিয়্যাহ   (ইবনে কাদ্দাহ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আল-মাসাইলুল ফিকহিয়্যাহ

লেখক: আবু আলী উমর বিন কাদ্দাহ আল-হাওয়ারী (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন আল-হাদী আবু আল-আফজান [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]

প্রকাশক: মার্কাজুল মুস্তফা লিদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ (ELGA প্রকাশনী) - মাল্টা

সংস্করণ: নেই، ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌(مُقَدّمَة الْمُؤلف)

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم صلى الله على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا

الْحَمد لله كَمَا يجب لجلاله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا

هَذِه مسَائِل على الْمَشْهُور من مَذْهَب مَالك رَحمَه الله تَعَالَى مِمَّا أفتى بِهِ الشَّيْخ الْفَقِيه الإِمَام الْعَالم الْقدْوَة أَبُو حَفْص عمر بن قداح الهواري رحمه الله آمين
(লেখকের ভূমিকা)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর মহিমার জন্য যথাযোগ্য। আর আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মতানুসারে এগুলো এমন কিছু মাসআলা, যে বিষয়ে শায়খ, ফকিহ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু হাফস উমর ইবনে কাদ্দাহ আল-হাওয়ারি (রহিমাহুল্লাহ) ফতোয়া প্রদান করেছেন। আমিন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌(مسَائِل الصَّلَاة)

 

1 - مَسْأَلَة لَا يُؤذن الْمُؤَذّن وَهُوَ جنب وَلَو كَانَ فِي خَارج الْمَسْجِد

2 - مَسْأَلَة رجل صلى إِلَى غير الْقبْلَة سَاهِيا أَو مُجْتَهدا أعَاد فِي الْوَقْت
‌‌(নামাজের মাসআলাসমূহ)

 

1 - মাসআলা: মুয়াজ্জিন অপবিত্র অবস্থায় আজান দেবেন না, এমনকি তিনি মসজিদের বাইরে থাকলেও।

2 - মাসআলা: কোনো ব্যক্তি যদি ভুলবশত কিংবা গবেষণার মাধ্যমে কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে নামাজ পড়েন, তবে তিনি ওয়াক্ত থাকাকালীন তা পুনরায় আদায় করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
3 - مَسْأَلَة إِذا ضَاقَ الْوَقْت على الْمُسَافِر وَهُوَ رَاكب فِي مَوضِع خوف فَإِنَّهُ يسْتَقْبل الْقبْلَة وَيُصلي على دَابَّته فَإِن أَمن أعَاد فِي الْوَقْت

4 - مَسْأَلَة يكره أَن يُوقد الْقنْدِيل فِي الْمَسْجِد بالكبريت

5 - مَسْأَلَة لَا يجوز أَن يغمس أحد فَتِيلَة فِي قنديل الْمَسْجِد وَلَا توقد فتيلفة مِنْهُ

6 - مَسْأَلَة يكره أَن يُوقد الْقنْدِيل من الْمَسْجِد

7 - مَسْأَلَة تجوز الصَّلَاة فِي مَقَابِر الْمُسلمين

8 - مَسْأَلَة من كَانَ فِي بَيته صُورَة فَإِن كَانَت مِمَّا يمتهن كالبسط جَازَت الصَّلَاة عَلَيْهِ وَإِن كَانَت فِي الأستار الْمُعَلقَة كرهت وَإِن كَانَت مِمَّا لَهَا فِي الْبَيْت ظلّ لم تحل وَالصَّلَاة مَعَ ذَلِك كُله صَحِيحَة
3 - মাসআলা: যখন মুসাফিরের জন্য সময় সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সে কোনো ভীতিকর স্থানে আরোহী অবস্থায় থাকে, তখন সে কিবলামুখী হবে এবং তার সওয়ারির ওপরই সালাত আদায় করবে। অতঃপর যদি সে নিরাপদ হয়, তবে সে ওয়াক্তের মধ্যেই তা পুনরায় আদায় করবে।

4 - মাসআলা: দিয়াশলাই (গন্ধক) দিয়ে মসজিদের প্রদীপ জ্বালানো অপছন্দনীয় (مكروه)।

5 - মাসআলা: কারো জন্য মসজিদের প্রদীপে সলতে ডুবানো বৈধ নয় এবং তা থেকে অন্য কোনো সলতে জ্বালানোও যাবে না।

6 - মাসআলা: মসজিদের (আগুন) থেকে প্রদীপ জ্বালানো অপছন্দনীয় (مكروه)।

7 - মাসআলা: মুসলিমদের কবরস্থানে সালাত আদায় করা বৈধ।

8 - মাসআলা: যার ঘরে ছবি থাকে, তা যদি এমন ব্যবহার্য বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয় যা অবমানিত হয় (যেমন গালিচা), তবে তার ওপর সালাত আদায় করা বৈধ। আর যদি তা ঝুলন্ত পর্দায় থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় (مكروه)। আর যদি তা এমন কিছু হয় যার ছায়া পড়ে (মূর্তি জাতীয়), তবে তা বৈধ হবে না। তবে এসব সত্ত্বেও সালাত সহিহ (صحيحة) হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
9 - مَسْأَلَة يكره للْمُصَلِّي أَن يُصَلِّي للنيام من غير سِتَّة لأجلي التشويش

10 - مَسْأَلَة يكره للرجل أَن يغلق عَيْنَيْهِ فِي الصَّلَاة إِلَّا أَن يكون بَين يَدَيْهِ مَا يشوشه

11 - مَسْأَلَة يكره النّوم فِي الْمَسْجِد لأجل الرَّائِحَة الخبيثة تؤذي الْمَلَائِكَة

12 - مَسْأَلَة لَا يجوز لأحد أَن يؤم حَتَّى يعلم العقيدة وشيئا من فرض الْعين وفاتحة الْكتاب وشيئا من الْقُرْآن

13 - مَسْأَلَة لَا يقْرَأ الْمَأْمُوم مَعَ إِمَامه فِي الْجَهْر

14 - مَسْأَلَة كل من صلى بأَهْله فَلَا يُعِيد فِي جمَاعَة أُخْرَى
9 - মাসআলা: একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটার কারণে কোনো সুতরা (سترة) ব্যতীত ঘুমন্ত ব্যক্তিদের অভিমুখী হয়ে মুসল্লির সালাত আদায় করা মাকরূহ (مكروه)।

10 - মাসআলা: সালাতে চোখ বন্ধ করা পুরুষের জন্য মাকরূহ (مكروه), তবে যদি তার সামনে এমন কিছু থাকে যা তার মনোযোগ বিঘ্নিত করে (তবে তা ভিন্ন কথা)।

11 - মাসআলা: দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে ঘুমানো মাকরূহ (مكروه), যা ফেরেশতাদের কষ্ট দেয়।

12 - মাসআলা: কারো জন্য ইমামতি করা বৈধ (جائز) নয় যতক্ষণ না সে আকীদা, ফরজ আইন (فرض العين)-এর কিছু বিষয়, সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের কিয়দাংশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে।

13 - মাসআলা: মুক্তাদি তার ইমামের সাথে সশব্দ (جهر) কিরাতের সময় কিরাত পড়বে না।

14 - মাসআলা: যে ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে সালাত আদায় করেছে, সে পুনরায় অন্য কোনো জামাতে তা আদায় করবে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
15 - مَسْأَلَة من صلى بَين الأساطير فَإِن كَانَ لضيق الْمَسْجِد فَلَا بَأْس وَإِلَّا كره

16 - مَسْأَلَة من تنهد فِي الصَّلَاة فَإِن كَانَ غَلَبَة فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَإِن كَانَ لغير غَلَبَة فَإِن كَانَ عَامِدًا أَو جَاهِلا بطلت صلَاته وَإِن كَانَ نَاسِيا فَإِن كَانَ فَذا أَو إِمَامًا سجد بعد السَّلَام وَإِن كَانَ مَأْمُوما فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

17 - مَسْأَلَة من نفخ فِي الصَّلَاة بِالْألف وَالْفَاء نَاسِيا فَإِن كَانَ إِمَامًا أَو مُنْفَردا بعد السَّلَام وَإِن كَانَ مَأْمُوما فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

18 - مَسْأَلَة من ابتلع نخامة فِي الصَّلَاة وَهُوَ قَادر على طرحها بطلت صلَاته وصومه إِن كَانَ صَائِما

19 - مَسْأَلَة فِي رجل بَصق وَهُوَ فِي الصَّلَاة فَإِن كَانَ أرسلها بِصَوْت عَامِدًا أَو جَاهِلا بطلت صلَاته وَإِن كَانَ سَاهِيا فَإِن كَانَ إِمَامًا أَو مُنْفَردا يسْجد بعد الصَّلَاة وَإِن كَانَ مَأْمُوما فالإمام يحمل عَنهُ ذَلِك

20 - مَسْأَلَة من يلحن فِي الْفَاتِحَة بطلت صلَاته

21 - مَسْأَلَة من يلحن فِي الْفَاتِحَة وَجب عَلَيْهِ التَّعَلُّم وَإِلَّا كَانَ عَاصِيا
15 - মাসআলা: যে ব্যক্তি স্তম্ভগুলোর মাঝখানে নামাজ আদায় করে; যদি মসজিদের সংকীর্ণতার কারণে হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, অন্যথায় তা অপছন্দনীয় (كره)।

16 - মাসআলা: যে ব্যক্তি নামাজে দীর্ঘশ্বাস ফেলে; যদি তা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয় তবে তার ওপর কোনো দায় নেই। কিন্তু যদি তা অনিচ্ছাকৃত না হয়—চাই সে ইচ্ছাকৃতভাবে করুক বা অজ্ঞতাবশত—তবে তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে। আর যদি সে বিস্মৃত (ناسي) হয়ে এমনটি করে এবং সে যদি একাকী নামাজ আদায়কারী (فذ) বা ইমাম (إمام) হয়, তবে সে সালামের পর সিজদা দেবে। আর যদি সে মুক্তাদি (مأموم) হয়, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

17 - মাসআলা: যে ব্যক্তি নামাজে বিস্মৃত (ناسي) হয়ে 'আলিফ' ও 'ফা' বর্ণের ন্যায় শব্দ করে ফুঁ দেয়; সে যদি ইমাম (إمام) বা একাকী নামাজ আদায়কারী (منفرد) হয় তবে সালামের পর সিজদা দেবে। আর যদি সে মুক্তাদি (مأموم) হয়, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

18 - মাসআলা: যে ব্যক্তি নামাজরত অবস্থায় কফ নিক্ষেপ করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা গিলে ফেলে, তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে; আর সে যদি রোজা অবস্থায় থাকে তবে তার রোজাও বাতিল হয়ে যাবে।

19 - মাসআলা: সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে নামাজে থুথু ফেলেছে; যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অজ্ঞতাবশত শব্দসহকারে তা নিক্ষেপ করে তবে তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে। আর যদি সে ভুলবশত (ساهي) এমনটি করে এবং সে ইমাম (إمام) বা একাকী নামাজ আদায়কারী (منفرد) হয়, তবে সে নামাজের পর সিজদা দেবে। আর যদি সে মুক্তাদি (مأموم) হয়, তবে ইমাম (إمام) তার পক্ষ থেকে সেই ভার বহন করবেন।

20 - মাসআলা: যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহায় ভুল পাঠ করে (يلحن), তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে।

21 - মাসআলা: যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহায় ভুল পাঠ করে (يلحن), তার জন্য সঠিক পাঠ শিখে নেওয়া আবশ্যক (وجب); অন্যথায় সে পাপিষ্ঠ (عاصي) বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
22 - مَسْأَلَة لَا تجوز الصَّلَاة خلف من يلحن

23 - مَسْأَلَة يُؤمر الصَّبِي بِالصَّلَاةِ قبل الْبلُوغ على جِهَة التمرين وَلَا يُؤمر بِالصَّوْمِ

24 - مَسْأَلَة لَا يجوز تحلية السكين بِالذَّهَب وَلَا بِالْفِضَّةِ فَإِن صلى بِهِ فَالصَّلَاة صَحِيحَة

25 - مَسْأَلَة من رفع رَأسه إِلَى السَّمَاء وَهُوَ فِي الصَّلَاة أَو نظر إِلَى الأَرْض كره لَهُ ذَلِك

26 - مَسْأَلَة من بَكَى فِي صلَاته غَلَبَة فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَإِن كَانَ غير غَلَبَة كره

27 - مَسْأَلَة من غلق عَيْنَيْهِ فِي الصَّلَاة كره لَهُ ذَلِك وَإِنَّمَا يكون قلبه وبصره فِي قِرَاءَته
22 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি কিরাআতে ভুল (لحن) করে, তার পেছনে নামাজ পড়া জায়েজ নয়।

23 - মাসয়ালা: নাবালককে সাবালক হওয়ার পূর্বে অভ্যাসের জন্য নামাজের নির্দেশ দেওয়া হবে, কিন্তু রোজার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

24 - মাসয়ালা: ছুরি সোনা বা রূপা দিয়ে অলংকৃত করা জায়েজ নয়; তবে যদি তা নিয়ে নামাজ পড়া হয়, তবে নামাজ শুদ্ধ (صحيحة) হবে।

25 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে আকাশের দিকে মাথা তোলে অথবা জমিনের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তার জন্য তা অপছন্দনীয় (كره)।

26 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে অনিচ্ছাবশত কান্নাকাটি করে তার কোনো অসুবিধা নেই; তবে যদি তা অনিচ্ছাবশত না হয়, তবে তা অপছন্দনীয় (كره)।

27 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে চোখ বন্ধ করে রাখে তার জন্য তা অপছন্দনীয় (كره); বরং তার অন্তর ও দৃষ্টি কিরাআতের দিকেই থাকা উচিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
28 - مَسْأَلَة لَا يجوز التَّخَتُّم بِالذَّهَب وَلَا بِالنُّحَاسِ وَلَا بالرصاص وَلَا بالحديد

29 - مَسْأَلَة يسْتَحبّ للرجل أَن يصنع خَاتمًا من فضَّة ويجعله فِي يَده الْيُسْرَى

30 - مَسْأَلَة من صلى مَعَ الإِمَام رَكْعَتَيْنِ ونعس فِي الثَّالِثَة فَإِن كَانَ نَومه خَفِيفا أَتَى بِرَكْعَة بعد سَلام الإِمَام وَإِن كَانَ ثقيلا ابْتَدَأَ الصَّلَاة

31 - مَسْأَلَة إِذا صلى الإِمَام بِالْجَمَاعَة الْمغرب ثمَّ نزل الْمَطَر بعد فَرَاغه مِنْهَا فَهَل يجمع أم لَا

فِي الْمَذْهَب قَولَانِ أحوطهما عدم الْجمع
28 - মাসআলা: স্বর্ণ, তামা, সীসা কিংবা লোহার আংটি পরিধান করা বৈধ নয়।

29 - মাসআলা: পুরুষের জন্য রুপার আংটি তৈরি করা এবং তা বাম হাতে পরিধান করা মুস্তাহাব।

30 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ইমামের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর তৃতীয় রাকাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল; তার তন্দ্রা যদি হালকা হয় তবে সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর (অবশিষ্ট) এক রাকাত আদায় করে নেবে, আর যদি ঘুম গভীর হয় তবে সে নতুন করে সালাত শুরু করবে।

31 - মাসআলা: যখন ইমাম জামাতের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন এবং তা শেষ করার পর বৃষ্টি নামল, তখন তিনি (পরবর্তী সালাতের সাথে) জমা করবেন কি না? এ বিষয়ে মাযহাবে দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সতর্কতামূলক মত হলো জমা না করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮০)
32 - مَسْأَلَة من دخل الْمَسْجِد بنية الْمغرب فَلَمَّا صلى قَامَ الإِمَام ليجمع فَإِنَّهُ يجمع مَعَهم

33 - مَسْأَلَة يجوز أَن يجمع مَعَ الإِمَام الْمُعْتَكف وَغَيره مِمَّن يبيت فِي الْمَسْجِد

34 - مَسْأَلَة يجوز الْجمع إِذا كَانَ الطين أَو الوحل على انْفِرَاده على ظَاهر الْمَذْهَب

35 - مَسْأَلَة يجوز الْجمع لرفع الْحَرج عَن بعض الْجَمَاعَة وَيجمع مَعَهم من لَيْسَ عَلَيْهِ حرج

36 - مَسْأَلَة من سلم قبل المسمع وَبعد سَلام الإِمَام صحت صلَاته

37 - مَسْأَلَة من سمع تنحنحا أَو سمع صَوتا فَظن أَن الإِمَام سلم فَسلم ثمَّ تبين لَهُ أَن الإِمَام لم يكن سلم بطلت صلَاته

38 - مَسْأَلَة من كثر عَلَيْهِ السَّهْو فِي كل صَلَاة سقط سُجُود السَّهْو عَنهُ
32 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মাগরিবের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করল, অতঃপর যখন সে সালাত আদায় করল এবং ইমাম (নামাজ) একত্রে পড়ার (جمع) জন্য দাঁড়ালেন, তবে সে তাদের সাথে একত্রে নামাজ পড়বে।

33 - মাসআলা: এতেকাফকারী (المعتكف) এবং যারা মসজিদে রাত যাপন করেন তাদের জন্য ইমামের সাথে একত্রে নামাজ আদায় (يجمع) করা জায়েজ (يجوز)।

34 - মাসআলা: মাযহাবের প্রকাশ্য মত (ظاهر المذهب) অনুযায়ী, কেবল কাদা বা পিচ্ছিল মাটি থাকলেও নামাজ একত্রে আদায় (الجمع) করা জায়েজ (يجوز)।

35 - মাসআলা: জামাতের (الجماعة) একাংশের অসুবিধা (الحرج) দূর করার জন্য নামাজ একত্রে আদায় (الجمع) করা জায়েজ (يجوز), এবং যাদের কোনো অসুবিধা নেই তারাও তাদের সাথে একত্রে নামাজ পড়বে।

36 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মুসাম্মি বা উচ্চস্বরে তাকবির ঘোষণাকারীর (المسمع) আগে এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর সালাম ফেরাবে, তার সালাত সঠিক (صحت) হবে।

37 - মাসআলা: যে ব্যক্তি গলা খাঁকারি বা কোনো শব্দ শুনে ধারণা করল যে ইমাম সালাম ফিরিয়েছেন এবং সেও সালাম ফেরাল, অতঃপর তার নিকট স্পষ্ট হলো যে ইমাম সালাম ফেরাননি, তবে তার সালাত বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে।

38 - মাসআলা: যার প্রতি সালাতেই অত্যধিক ভুল বা বিস্মৃতি (السهو) ঘটে, তার ওপর থেকে সাহু সিজদা (سجود السهو) রহিত (سقط) হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮১)
39 - مَسْأَلَة من كَانَ وَرَاء إِمَام وَسمع آيَة فتدبرها وَلم يُتَابع الإِمَام كره لَهُ ذَلِك

40 - مَسْأَلَة من نسي الْفَاتِحَة فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة وَذكرهَا وَهُوَ رَاكِع فَرفع رَأسه وَقرأَهَا وَأَرَادَ أَن يسْجد ثمَّ ذكر الحكم فَإِن يلغيها ويبتدئ الْقِرَاءَة وَيسْجد بعد السَّلَام وَإِن كَانَ جَاهِلا أعَاد الصَّلَاة

41 - مَسْأَلَة من وجد الإِمَام رَاكِعا فَكبر للْإِحْرَام وَهوى للرُّكُوع وَلم يدْرك الطُّمَأْنِينَة فَإِنَّهُ يرجع بنية الإلغاء ويتمادى مَعَ الإِمَام وَيَأْتِي بِمَا بَقِي عَلَيْهِ بعد سَلام الإِمَام

42 - مَسْأَلَة من ترك الْجُلُوس الْوسط عَامِدًا بطلت صلَاته

43 - مَسْأَلَة من غَلبه النّوم فَإِنَّهُ لَا يُصَلِّي حَتَّى يَزُول إِلَّا أَن تكون فَرِيضَة فَإِن يُصَلِّي وَيقْرَأ مَا تيَسّر ويخفف فِي صلَاته
39 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে থেকে কোনো আয়াত শুনল এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে গিয়ে ইমামের অনুসরণ করল না, তার জন্য তা মাকরুহ (كره)।

40 - মাসআলা: যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেল এবং রুকু অবস্থায় তা স্মরণ করল, অতঃপর মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করল এবং সিজদাহ করার ইচ্ছা করল, এরপর (সঠিক) বিধানটি স্মরণ করল; এমতাবস্থায় সে উক্ত রাকাতটি বাতিল (يلغيها) গণ্য করবে এবং নতুন করে কিরাত শুরু করবে এবং সালামের পর সিজদাহ করবে। আর যদি সে (এই বিধান সম্পর্কে) অজ্ঞ হয়, তবে সে নামাজ পুনরায় আদায় করবে।

41 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং তাকবিরে তাহরিমা বলে রুকুর দিকে ঝুঁকে পড়ল কিন্তু স্থিরতা (طمأنينة) অর্জন করতে পারল না, তবে সে উক্ত রাকাতটি বাতিল করার (إلغاء) নিয়তে ফিরে আসবে এবং ইমামের সাথে নামাজ চালিয়ে যাবে এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে।

42 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যবর্তী বৈঠক বর্জন করল, তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে।

43 - মাসআলা: যার ওপর ঘুম প্রবল হয়ে যায়, সে যেন ঘুম দূর না হওয়া পর্যন্ত নামাজ না পড়ে; তবে যদি তা ফরজ (فريضة) নামাজ হয়, তবে সে নামাজ পড়বে এবং যা সহজ হয় তা পাঠ করবে এবং নামাজ সংক্ষেপ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮২)
44 - مَسْأَلَة من غلب عَلَيْهِ النّوم فِي التَّشَهُّد الْأَخير فَإِنَّهُ يقْرَأ من أول التَّشَهُّد إِلَى الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عليه وسلم تَسْلِيمًا وتجزيه صلَاته

45 - مَسْأَلَة من صلى فِي بَيته الْمغرب فَإِنَّهُ يجوز لَهُ أَن يجمع مَعَ النَّاس فِي الْمَسْجِد

46 - مَسْأَلَة إِذا صلى الإِمَام رَكْعَة من الصُّبْح قبل طُلُوع الشَّمْس وَالْأُخْرَى بعد طُلُوعهَا وَدخل مَعَه رجل فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة فَهَل يدْخل مَعَه بنية الْأَدَاء أَو بنية الْقَضَاء الْمَذْهَب أَن إِحْدَاهمَا تنوب عَن الْأُخْرَى

47 - مَسْأَلَة من تكلم فِي صلَاته سَاهِيا فَإِن كَانَ فَذا أَو إِمَامًا يسْجد بعد السَّلَام فَإِن لم يسْجد فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَإِن كَانَ مَأْمُوما فالإمام يحمل ذَلِك عَنهُ

48 - مَسْأَلَة مَسْجِد لَيْسَ لَهُ إِمَام راتب يجوز أَن يُصَلِّي فِيهِ إِمَام بِاللَّيْلِ وَآخر بِالنَّهَارِ وَجَمَاعَة بعد جمَاعَة على الظَّاهِر وَيكرهُ فِي كل مَسْجِد لَهُ إِمَام راتب أَن تجمع فِيهِ الصَّلَاة مرَّتَيْنِ

49 - مَسْأَلَة إِذا سلم الإِمَام بِلَفْظ التنكير فَصلَاته بَاطِلَة على الظَّاهِر

50 - مَسْأَلَة إِذا سلم الإِمَام قبل إتْمَام صلَاته فسبح بِهِ فَتكلم وَأجِيب
44 - মাসআলা: যার ওপর শেষ তাশাহহুদে ঘুম প্রবল হয়, সে তাশাহহুদের শুরু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ এবং সালাম (تَسْلِيمًا) পর্যন্ত পড়বে; এতেই তার সালাত যথেষ্ট হবে।

45 - মাসআলা: যে ব্যক্তি নিজ গৃহে মাগরিবের সালাত আদায় করেছে, তার জন্য মসজিদে সাধারণ মানুষের সাথে জামাতে শরিক হওয়া জায়েজ।

46 - মাসআলা: যদি ইমাম সূর্যোদয়ের পূর্বে সুবহের এক রাকাত এবং সূর্যোদয়ের পরে অন্য রাকাত আদায় করেন এবং কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতে তার সাথে শরিক হয়, তবে সে কি আদায়ের নিয়তে শরিক হবে নাকি কাজার নিয়তে? মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো, একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হবে।

47 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ভুলবশত সালাতে কথা বলে, সে যদি একাকী সালাত আদায়কারী (فذا) বা ইমাম হয় তবে সে সালামের পরে সিজদা করবে; যদি সিজদা না করে তবে তার ওপর কোনো আবশ্যকতা নেই। আর যদি সে মুক্তাদি হয়, তবে ইমাম তার পক্ষ থেকে তা বহন করবেন।

48 - মাসআলা: যে মসজিদে কোনো স্থায়ী (راتب) ইমাম নেই, সেখানে প্রকাশ্য (الظَّاهِر) মতানুসারে রাতে একজন ইমাম এবং দিনে অন্যজন ইমামের সালাত পড়ানো এবং এক জামাতের পর পুনরায় জামাত করা জায়েজ। তবে যে মসজিদে স্থায়ী (راتب) ইমাম রয়েছেন, সেখানে দুইবার জামাত করা মাকরূহ।

49 - মাসআলা: যদি ইমাম অনির্দিষ্ট (التنكير) শব্দে সালাম প্রদান করেন, তবে প্রকাশ্য (الظَّاهِر) মতানুসারে তার সালাত বাতিল (بَاطِلَة)।

50 - মাসআলা: যদি ইমাম সালাত পূর্ণ করার পূর্বেই সালাম প্রদান করেন এবং তাকে তাসবিহ্ দেওয়া হয়, অতঃপর তিনি কথা বলেন এবং তাকে উত্তর দেওয়া হয়...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
فَإِنَّهُ يرجع بنية وتكبير وَيَأْتِي بِمَا بَقِي عَلَيْهِ وَيسْجد بعد السَّلَام وَصحت صلَاتهم

51 - مَسْأَلَة من سلم من اثْنَتَيْنِ سَاهِيا وَأقَام الصَّلَاة وتلبس بِصَلَاة أُخْرَى لم تضره الْإِقَامَة وَيرجع للإصلاح بنية وتكبير وَيَأْتِي بِبَقِيَّة صلَاته وَيسْجد لسَهْوه بعد السَّلَام

52 - مَسْأَلَة من سلم من اثْنَتَيْنِ وَرجع بنية من غير تَكْبِير فَإِن يجْزِيه على قَول ابْن أبي زيد رحمه الله

53 - مَسْأَلَة إِذا سقط الإِمَام الْجُلُوس الْوسط وَلم يسْجد قبل السَّلَام وَكَلمه بعض الْجَمَاعَة قبل السَّلَام فَالْمَذْهَب إِن صلَاته صَحِيحَة

54 - مَسْأَلَة من شكّ فِي الْجُلُوس الْوسط فَإِن يسْجد قبل السَّلَام أَو بعده وَإِن لم يسْجد بعد السَّلَام وَطَالَ ذَلِك أعَاد الصَّلَاة

55 - مسالة فِي إِمَام قَامَ لثالثة فَتَبِعَهُ بعض الْجَمَاعَة وَجلسَ الْآخرُونَ حَتَّى ركع الإِمَام فَإِنَّهُ يتم صلَاته وَيسْجد قبل السَّلَام وَصحت صلَاته وَصَلَاة من تبعه وَبَطلَت صَلَاة القاعدين
কারণ তিনি নিয়ত (نية) ও তাকবির (تكبير) সহকারে ফিরে আসবেন এবং যা অবশিষ্ট রয়েছে তা পূর্ণ করবেন এবং সালাম (سلام)-এর পর সিজদা করবেন; এতে তাদের নামাজ শুদ্ধ (صحت) গণ্য হবে।

51 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি ভুলবশত (ساهيا) দুই রাকাত শেষে সালাম (سلام) ফিরিয়েছেন এবং ইকামত (إقامة) দিয়ে অন্য নামাজে প্রবৃত্ত হয়েছেন, তবে সেই ইকামত (إقامة) তার কোনো ক্ষতি করবে না। তিনি নামাজ সংশোধনের জন্য নিয়ত (نية) ও তাকবির (تكبير) সহকারে ফিরে আসবেন এবং নামাজের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবেন এবং সালাম (سلام)-এর পর ভুলের জন্য সিজদা (يسجد لسهوه) করবেন।

52 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি দুই রাকাতের পর সালাম (سلام) ফিরিয়েছেন এবং তাকবির (تكبير) ব্যতীত শুধুমাত্র নিয়ত (نية) নিয়ে ফিরে এসেছেন, ইবনে আবি জায়েদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতানুসারে তা তার জন্য যথেষ্ট (يجزيه) হবে।

53 - মাসআলা (مسألة): যদি ইমাম মধ্যবর্তী বৈঠক (الجلوس الوسط) বাদ দেন এবং সালাম (سلام)-এর পূর্বে সিজদা না করেন, আর সালাম (سلام)-এর আগে জামাতের কেউ তাঁর সাথে কথা বলে, তবে মাযহাব (المذهب) অনুযায়ী তাঁর নামাজ শুদ্ধ (صحيحة)।

54 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি মধ্যবর্তী বৈঠকের (الجلوس الوسط) ব্যাপারে সন্দেহে (شك) পতিত হন, তিনি সালাম (سلام)-এর আগে বা পরে সিজদা করবেন। আর যদি তিনি সালাম (سلام)-এর পর সিজদা না করেন এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে তিনি নামাজ পুনরায় আদায় (أعاد) করবেন।

55 - মাসআলা (مسألة): এমন ইমাম সম্পর্কে যিনি (ভুলবশত) তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়িয়েছেন এবং জামাতের কিছু লোক তাঁর অনুসরণ (تبعه) করেছে, আর অন্যেরা ইমামের রুকু (ركع) করা পর্যন্ত বসে ছিল। এমতাবস্থায় ইমাম তাঁর নামাজ পূর্ণ করবেন এবং সালাম (سلام)-এর পূর্বে সিজদা করবেন। এতে তাঁর নামাজ এবং যারা তাঁর অনুসরণ (تبعه) করেছে তাদের নামাজ শুদ্ধ (صحت) হবে, কিন্তু বসে থাকা ব্যক্তিদের নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
56 - مَسْأَلَة إِمَام قَامَ إِلَى خَامِسَة فسبح بِهِ فَسَأَلَ أَصْحَابه فَأَجَابُوهُ إِنَّك قُمْت إِلَى خَامِسَة فَالْمَشْهُور صِحَة الصَّلَاة

57 - مَسْأَلَة إِذا سلم الْمُصَلِّي وَهُوَ فِي الظّهْر بنية الْعَصْر فَإِن كَانَ قَرِيبا رَجَعَ بنية وتكبير وَسلم على مَا أحرم عَلَيْهِ وَسجد بعد السَّلَام فَإِن تبَاعد أعَاد أبدا

58 - مَسْأَلَة من سلم من الظّهْر نَاسِيا بنية الْعَصْر أَجْزَأته صلَاته

59 - مَسْأَلَة إِذا كَانَ الإِمَام فِي صَلَاة الْعَصْر وَدخل خَلفه رجل عَلَيْهِ الظّهْر فَصلاهَا مَعَه فَصلَاته بَاطِلَة

60 - مَسْأَلَة من صلى الظّهْر وَذكر سَجْدَة من الأولى وَهُوَ قَائِم فِي الثَّانِيَة رَجَعَ إِلَى الْجُلُوس وَسجد السَّجْدَة الَّتِي عَلَيْهِ وَتَمَادَى على صلَاته وَسجد بعد السَّلَام

61 - مَسْأَلَة فِي رجل صلى الظّهْر أَو الْعَصْر وَذكر سَجْدَة من الرَّكْعَة الأولى بَعْدَمَا عقد الثَّانِيَة فَإِنَّهُ يلغي الأولى وَتَكون هَذِه الثَّانِيَة أولى وَيتم صلَاته وَيسْجد بعد السَّلَام
56 - মাসআলা: জনৈক ইমাম পঞ্চম রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হলেন, অতঃপর মুক্তাদিরা তাকে তাসবিহ্ পাঠ করে সতর্ক করলেন। তিনি তার সাথীদের (মুক্তাদিদের) জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তর দিলেন যে, আপনি পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত হলো সালাত সঠিক (صحة) হওয়া।

57 - মাসআলা: যদি সালাত আদায়কারী যোহরের সালাতে থাকা অবস্থায় আসরের নিয়তে সালাম ফিরায়, তবে সময় যদি অল্প অতিবাহিত হয়, সে পুনরায় নিয়ত ও তাকবিরের সাথে ফিরে আসবে এবং যে সালাতের ইহরাম বেঁধেছিল তার ওপর ভিত্তি করে সালাম ফিরাবে ও সালামের পর সাজদাহ করবে। আর যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে সে সর্বদা তা পুনরায় আদায় করবে।

58 - মাসআলা: যে ব্যক্তি যোহরের সালাতে ভুলে আসরের নিয়তে সালাম ফিরাল, তার সালাত যথেষ্ট (أجزأته) হবে।

59 - মাসআলা: যদি ইমাম আসরের সালাতে থাকেন এবং তার পেছনে এমন এক ব্যক্তি প্রবেশ করেন যার ওপর যোহরের সালাত বাকি আছে, অতঃপর সে ইমামের সাথে তা আদায় করে, তবে তার সালাত বাতিল (باطلة) বলে গণ্য হবে।

60 - মাসআলা: যে ব্যক্তি যোহরের সালাত আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় প্রথম রাকাতের একটি সাজদাহর কথা স্মরণ করল, সে বসা অবস্থায় ফিরে যাবে এবং তার ওপর বাকি থাকা সাজদাহটি আদায় করবে, অতঃপর তার সালাত চালিয়ে যাবে এবং সালামের পর সাজদাহ করবে।

61 - মাসআলা: জনৈক ব্যক্তি যোহরের বা আসরের সালাত আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতের রুকু সম্পন্ন করার পর প্রথম রাকাতের একটি সাজদাহর কথা স্মরণ করল, তবে সে প্রথম রাকাতটি বাতিল করে দেবে এবং এই দ্বিতীয় রাকাতটিই প্রথম রাকাত হিসেবে গণ্য হবে। এরপর সে তার সালাত সম্পন্ন করবে এবং সালামের পর সাজদাহ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
62 - مَسْأَلَة من صلى الظّهْر وَذكر سَجْدَة من الثَّانِيَة وَهُوَ قَائِم فِي الثَّالِثَة فَإِنَّهُ يخر للسُّجُود من الْقيام ويتمادى على صلَاته وَيسْجد بعد السَّلَام فَإِن ذكر بعد عقد الثَّالِثَة صَارَت الثَّالِثَة ثَانِيَة وَتَمَادَى وَسجد قبل السَّلَام لِاجْتِمَاع النَّقْص وَالزِّيَادَة

63 - مَسْأَلَة من صلى من الْعشَاء رَكْعَة وَقَرَأَ فِيهَا بِفَاتِحَة الْكتاب وَسورَة بنية الْوتر فَإِن ذكر ذَلِك قبل الرُّكُوع أعَاد الْقِرَاءَة وَسجد بعد السَّلَام وَإِن لم يذكر حَتَّى ركع بطلت صلَاته

64 - مَسْأَلَة من صلى الْمغرب سرا سجد سَجْدَتَيْنِ قبل السَّلَام فَإِن نسي سجدهما بعد السَّلَام فَإِن طَال فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

65 - مَسْأَلَة فِي إِمَام صلى رَكْعَة من الْمغرب ثمَّ ذكر أَنه مُحدث فَقَالَ لأَصْحَابه تعيدون صَلَاتكُمْ فَإِنِّي مُحدث فَإِن أتموها بطلت صلَاتهم ويبتدئونها من غير إِقَامَة فَلَو اسْتخْلف عَلَيْهِم أَو صلوها أفذاذا صحت صلَاتهم

66 - مَسْأَلَة فِي إِمَام صلى ثَلَاث رَكْعَات من الظّهْر فأحدث فاستخلف مَسْبُوقا فَإِنَّهُ يتم بالقوم هَذِه الرَّكْعَة وَيُشِير لَهُم بِالْجُلُوسِ وَسَوَاء كَانَ فيهم مَسْبُوقا أَو لم يكن وَيقوم بِغَيْر تَكْبِير وَيَأْتِي بِرَكْعَة وَيجْلس ويتشهد ثمَّ يقوم وَيَأْتِي بِرَكْعَتَيْنِ نسقا ويتشهد وَيسلم بهم

67 - مَسْأَلَة من ترك الصَّلَاة أعواما وَكَانَ يَصُوم ثمَّ تَابَ إِلَى الله تَعَالَى من ذكر فَإِنَّهُ يُصليهَا وَلَا يُعِيد الصَّوْم فَإِن كَانَ لاعب أَهله وأمنى فَإِنَّهُ يقْضِي الْأَيَّام الَّتِي جرى لَهُ ذَلِك فِيهَا وَيكفر عَن كل يَوْم كَفَّارَة يقْضِي
62 - মাসআলা: যে ব্যক্তি জোহরের নামাজ আদায়কালে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় রাকাতের একটি সিজদার কথা স্মরণ করল, সে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে সিজদায় অবনত হবে এবং তার নামাজ চালিয়ে যাবে এবং সালামের পর সিজদা (سجود السهو) করবে। আর যদি সে তৃতীয় রাকাতের রুকু সম্পন্ন করার পর তা স্মরণ করে, তবে ওই তৃতীয় রাকাতটি দ্বিতীয় রাকাত হিসেবে গণ্য হবে এবং সে নামাজ চালিয়ে যাবে এবং সালামের পূর্বে সিজদা করবে; কারণ এখানে ঘাটতি (نقص) ও বৃদ্ধি (زيادة) উভয়ই একত্রিত হয়েছে।

63 - মাসআলা: কেউ যদি এশার নামাজের এক রাকাত আদায় করে এবং তাতে বিতর (وتر) নামাজের নিয়তে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পাঠ করে, অতঃপর যদি রুকুর আগেই তা স্মরণ হয়, তবে সে কিরাত পুনরায় পাঠ করবে এবং সালামের পরে সিজদা করবে। আর যদি রুকু করার আগে পর্যন্ত স্মরণ না হয়, তবে তার নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যাবে।

64 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজ নিঃশব্দে (سرا) আদায় করেছে, সে সালামের পূর্বে দুটি সিজদা করবে। যদি সে তা ভুলে যায়, তবে সালামের পরে সিজদা করবে। আর যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে তার ওপর আর কিছু আবশ্যক হবে না।

65 - মাসআলা: কোনো ইমাম মাগরিবের এক রাকাত নামাজ পড়ানোর পর যদি স্মরণ করেন যে তিনি অপবিত্র (محدث), অতঃপর তিনি মুক্তাদিদের বলেন, "তোমরা তোমাদের নামাজ পুনরায় পড়ো, কারণ আমি অপবিত্র"; এমতাবস্থায় তারা যদি সেই নামাজ পূর্ণ করে তবে তাদের নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যাবে এবং তারা ইকামত ছাড়াই নতুন করে নামাজ শুরু করবে। তবে ইমাম যদি কাউকে স্থলাভিষিক্ত (استخلاف) করতেন অথবা তারা একাকী (أفذاذا) নামাজটি সম্পন্ন করত, তবে তাদের নামাজ সহিহ (صحيح) হতো।

66 - মাসআলা: কোনো ইমাম জোহরের তিন রাকাত নামাজ পড়ানোর পর অপবিত্র হয়ে পড়লেন এবং একজন মাসবুক (مسبوق) ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত (استخلاف) করলেন; এমতাবস্থায় সেই মাসবুক ব্যক্তি মুক্তাদিদের নিয়ে এই রাকাতটি পূর্ণ করবেন এবং তাদেরকে বসে থাকার ইঙ্গিত দেবেন—চাই তাদের মধ্যে অন্য কোনো মাসবুক থাকুক বা না থাকুক। অতঃপর তিনি তাকবির ছাড়াই দাঁড়িয়ে নিজের এক রাকাত আদায় করবেন এবং বসে তাশাহহুদ পাঠ করবেন। তারপর তিনি পুনরায় দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে (نسقا) দুই রাকাত আদায় করবেন এবং তাশাহহুদ পড়ে তাদের নিয়ে সালাম ফিরাবেন।

67 - মাসআলা: যে ব্যক্তি দীর্ঘ বছর নামাজ ত্যাগ করেছে অথচ রোজা রাখত, অতঃপর সে আল্লাহর কাছে তওবা করেছে, সে ওই নামাজগুলোর কাজা (قضاء) আদায় করবে কিন্তু রোজার পুনরাবৃত্তি করবে না। তবে সে যদি (রোজা অবস্থায়) নিজ স্ত্রীর সাথে শৃঙ্গার করে বীর্যপাত (أمنى) করে থাকে, তবে সে ওই দিনগুলোর কাজা (قضاء) আদায় করবে এবং প্রত্যেক দিনের বিনিময়ে কাফফারা (كفارة) প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৬)
68 - مَسْأَلَة إِذا تخلف جمَاعَة عَن الْجُمُعَة وهم أَصْحَاب أعذار جَازَ لَهُم أَن يصلوا جمَاعَة ظهرا أَرْبعا فَإِن لم يكن لَهُ أعذار عوقبوا على تخلفهم وصلوا أفذاذا ظهرا أَرْبعا

69 - مَسْأَلَة إِذا صلى الرجل الْجُمُعَة ثمَّ ذكر بعد فَرَاغه مِنْهَا أَنه صلاهَا بِثَوْب نجس فَإِنَّهُ يُعِيدهَا ظهرا أَرْبعا

70 - مَسْأَلَة إِذا أحدث الْخَطِيب يَوْم الْجُمُعَة بعد الْخطْبَة فَلَا بَأْس أَن يسْتَخْلف فَإِن اسْتخْلف من غير عذر بطلت صلَاته

71 - مَسْأَلَة إِذا تشوش من شَيْء يمنعهُ من السُّجُود أزاله فَإِن كَانَ عَن يَمِينه أبعده وَلَا يردهُ عَن يسَاره لِأَنَّهُ كالمار من بَين يَدَيْهِ

72 - مَسْأَلَة إِذا خَافَ على السراج فَلَا بَأْس أَن يصلحه وَهُوَ فِي الصَّلَاة

73 - مَسْأَلَة من كَانَ فِي يَده مِصْبَاح وَخَافَ فَوَات الرَّكْعَة مَعَ الإِمَام إِن وَضعه على الأَرْض فَرَكَعَ وَرفع وخر للسُّجُود وَهُوَ فِي يَده فَلَا بَأْس إِن وَضعه على الأَرْض قبل السُّجُود

74 - مَسْأَلَة إِذا جهل الْمَسْبُوق تَرْتِيب الْقِرَاءَة فَأسر فِيمَا يجْهر فِيهِ فَصلَاته صَحِيحَة
68 - মাসআলা: যদি কোনো দল জুমুআহ থেকে বিরত থাকে এবং তারা ওজরপ্রাপ্ত হয়, তবে তাদের জন্য জামাতবদ্ধভাবে যোহরের চার রাকাত সালাত আদায় করা বৈধ। আর যদি তাদের কোনো ওজর না থাকে, তবে অনুপস্থিত থাকার কারণে তারা শাস্তিযোগ্য হবে এবং এককভাবে যোহরের চার রাকাত সালাত আদায় করবে।

69 - মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি জুমুআহর সালাত আদায় করার পর স্মরণ করে যে, সে নাপাক পোশাকে সালাত আদায় করেছে, তবে সে পুনরায় যোহরের চার রাকাত সালাত আদায় করবে।

70 - মাসআলা: যদি জুমুআর দিন খতিব খুতবার পর অপবিত্র হয়ে যান (অজু ভঙ্গ হয়), তবে তিনি অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করলে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যদি কোনো ওজর ছাড়াই স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

71 - মাসআলা: যদি কেউ এমন কোনো কিছুর কারণে বিঘ্নিত হয় যা তাকে সিজদা করতে বাধা দেয়, তবে সে তা সরিয়ে ফেলবে। যদি তা তার ডান দিকে থাকে তবে তা দূরে সরিয়ে দেবে, কিন্তু বাম দিকে সরাবে না; কারণ তা সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর মতো হবে।

72 - মাসআলা: যদি কেউ প্রদীপের ব্যাপারে (নিভে যাওয়া বা পড়ে যাওয়ার) আশঙ্কা করে, তবে সালাত অবস্থায় তা ঠিক করাতে কোনো দোষ নেই।

73 - মাসআলা: যার হাতে চেরাগ বা বাতি রয়েছে এবং সে যদি তা মাটিতে রাখতে গিয়ে ইমামের সাথে রুকু ছুটে যাওয়ার ভয় করে, তবে সে তা হাতে রেখেই রুকু করবে, রুকু থেকে উঠবে এবং সিজদার জন্য অবনমিত হবে। সিজদা করার আগে তা মাটিতে রাখলে কোনো অসুবিধা নেই।

74 - মাসআলা: যদি মাসবুক ব্যক্তি কিরাআতের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার কারণে উচ্চস্বরে পাঠের স্থলে নিম্নস্বরে পাঠ করে, তবে তার সালাত সহীহ (صحيح) হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৭)
75 - مَسْأَلَة إِذا أَتَى الْمَسْبُوق فِي صَلَاة الْمغرب بالركعتين نسقا وَلم يسْجد قبل وَلَا بعده أعَاد أبدا

76 - مَسْأَلَة إِذا انحط الإِمَام للرُّكُوع فنسي وخر للسُّجُود وركعت الْجَمَاعَة وسبحوا بِهِ فَرجع إِلَى الْقيام وَركع وَرفع بهم فَإِن صلَاتهم صَحِيحَة وَيسْجد لسَهْوه بعد السَّلَام

77 - مَسْأَلَة من صلى الْوتر رَكْعَتَيْنِ سَاهِيا سجد بعد السَّلَام وَصحت صلَاته

78 - مَسْأَلَة من صلى الْوتر بِالْفَاتِحَةِ وَحدهَا فَإِن كَانَ سَاهِيا سجد قبل السَّلَام وَإِن كَانَ عَامِدًا فَلَا سُجُود عَلَيْهِ

79 - مَسْأَلَة من صلى النَّافِلَة بِالْفَاتِحَةِ وَحدهَا فَلَا سُجُود عَلَيْهِ

80 - مَسْأَلَة من صلى الْعشَاء وَشك عِنْد التَّشَهُّد هَل هُوَ فِيهَا أَو فِي الشفع
75 - মাসআলা: মাগরিবের নামাজে মাসবুক ব্যক্তি যদি ধারাবাহিকভাবে দুই রাকাত আদায় করেন এবং (ভুলের জন্য) আগে বা পরে কোনো সিজদাহ না করেন, তবে তাকে তা সর্বদা পুনরায় আদায় করতে হবে।

76 - মাসআলা: ইমাম যদি রুকুর জন্য অবনত হতে গিয়ে ভুলে সরাসরি সিজদায় চলে যান এবং মুক্তাদিগণ রুকু করেন ও তাকে তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে সতর্ক করেন, অতঃপর ইমাম পুনরায় কিয়ামে (দাঁড়ানো অবস্থায়) ফিরে এসে রুকু করেন এবং তাদের নিয়ে রুকু থেকে মাথা উঠান, তবে তাদের নামাজ সঠিক (صحيحة) হবে এবং ইমাম তার ভুলের জন্য সালামের পরে সিজদাহ প্রদান করবেন।

77 - মাসআলা: কেউ ভুলবশত বিতরের নামাজ দুই রাকাত পড়লে সালামের পরে সিজদাহ দেবেন এবং তার নামাজ সঠিক (صحيحة) হবে।

78 - মাসআলা: কেউ বিতরের নামাজে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করলে, যদি তা ভুলবশত হয় তবে সালামের আগে সিজদাহ দেবেন, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হয় তবে তার ওপর কোনো সিজদাহ নেই।

79 - মাসআলা: কেউ নফল নামাজে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করলে তার ওপর কোনো সিজদাহ নেই।

80 - মাসআলা: কেউ এশার নামাজ পড়ার সময় তাশাহহুদের বৈঠকে যদি সন্দেহ করেন যে, তিনি কি এশার নামাজেই আছেন নাকি শাফআ (বিতরের দুই রাকাত) নামাজে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৮)
أَو فِي الْوتر فَإِنَّهُ يسلم على أَنَّهَا الْعشَاء وَيسْجد سَجْدَتَيْنِ بعد السَّلَام وَيُصلي الشفع وَالْوتر

81 - مَسْأَلَة رجل اسْتخْلف على رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا صلاهما أَشَارَ إِلَى الْجَمَاعَة بِالْجُلُوسِ وَقَامَ لقَضَاء رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا قضاهما رَجَعَ الْمُسْتَخْلف وَقَالَ لَهُ أصلح بالقوم بإني أسقطت سَجْدَة من إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ لَا أَدْرِي من أَي الرَّكْعَتَيْنِ هِيَ فَإِن الْمُسْتَخْلف يسْجد سَجْدَتَيْنِ قبل السَّلَام وَيَقُول لَهُم من وَافق الإِمَام فِي قَوْله فليأت بِرَكْعَة وَمن لم يُوَافقهُ سلم وَانْصَرف

82 - مسأله يكره لمن عَلَيْهِ صلوَات أَن يُصَلِّي قيام رَمَضَان لِأَن الصَّلَاة الْوَاحِدَة من دينه أفضل من قيام لَيْلَة

83 - مَسْأَلَة إِذا أدْرك الرجل رَكْعَة من الْجُمُعَة ثمَّ قَامَ إِلَى الْقَضَاء فَأَخْطَأَ الْقبْلَة سَاهِيا فَاسْتَدَارَ فِي أثْنَاء الصَّلَاة فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

84 - مَسْأَلَة من نسي الْوتر وَلم يذكرهُ حَتَّى صلى الصُّبْح فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

85 - مَسْأَلَة إِذا نسي الرجل الْوتر وَلم يذكر حَتَّى طلع الْفجْر فصلاه من غير شفع ثمَّ صلى الفحر وَالصُّبْح فقد أَسَاءَ وَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ

86 - مَسْأَلَة إِذا ذكر الإِمَام صَلَاة منسية قطع هُوَ وَمن خَلفه

87 - مَسْأَلَة إِذا صلى الإِمَام بِجَمَاعَة ثمَّ صلى تِلْكَ الصَّلَاة بِجَمَاعَة أُخْرَى وَلم يعلمهُمْ بذلك فقد أَسَاءَ وَصَلَاة الآخرين بَاطِلَة
অথবা বিতর নামাজে (ভুলবশত ইশার নিয়তে শুরু করলে); সে ইশা মনে করে সালাম ফিরিয়ে দেবে এবং সালামের পর দুটি সেজদা (سجدة) প্রদান করবে, অতঃপর শাফআ ও বিতর নামাজ আদায় করবে।

81 - মাসআলা: এক ব্যক্তি দুই রাকাতের জন্য স্থলাভিষিক্ত (استخلاف) হলো। যখন সে ঐ দুই রাকাত আদায় করল, তখন সে জামাতকে বসার ইশারা করল এবং (নিজের) ছুটে যাওয়া দুই রাকাত কাজা করার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। যখন সে তা পূর্ণ করল, তখন মূল ইমাম ফিরে এসে তাকে বললেন, জামাতের সালাত সংশোধন করুন, কারণ আমি প্রথম দুই রাকাতের কোনো একটি থেকে একটি সেজদা (سجدة) ছেড়ে দিয়েছি, যা আমার মনে নেই কোন রাকাত থেকে ছিল। এমতাবস্থায় স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি সালামের পূর্বে দুটি সেজদা (سجدة) প্রদান করবে এবং মুসল্লিদের বলবে, ইমামের কথায় যারা একমত তারা যেন এক রাকাত আদায় করে নেয়, আর যারা একমত নয় তারা সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে।

82 - মাসআলা: যার জিম্মায় কাজা নামাজ রয়েছে, তার জন্য রমজানের কিয়াম (قيام) অর্থাৎ তারাবিহ পড়া অপছন্দনীয় (يكره); কারণ তার ঋণের (কাজা) একটি নামাজ আদায় করা সারা রাতের কিয়াম (قيام) এর চেয়েও উত্তম।

83 - মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি জুমার এক রাকাত পায়, অতঃপর অবশিষ্ট নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়ায় এবং ভুলবশত কিবলা নির্ধারণে ভুল করে, পরে নামাজের মধ্যেই সঠিক দিকে ঘুরে যায়, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

84 - মাসআলা: যে ব্যক্তি বিতর নামাজ পড়তে ভুলে গেল এবং ফজরের নামাজ পড়ার আগ পর্যন্ত তা মনে পড়ল না, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

85 - মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি বিতর নামাজ ভুলে যায় এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত তা মনে না পড়ে, অতঃপর শাফআ (জোড় রাকাত) ছাড়াই তা আদায় করে এবং এরপর ফজরের সুন্নত ও ফরজ আদায় করে, তবে সে মন্দ কাজ করল, কিন্তু তার নামাজ পুনরায় আদায় (إعادة) করতে হবে না।

86 - মাসআলা: যদি ইমামের কোনো ভুলে যাওয়া নামাজের কথা মনে পড়ে যায়, তবে সে নিজে এবং তার পেছনের মুক্তাদিগণ নামাজটি বন্ধ করে দেবে।

87 - মাসআলা: যদি ইমাম এক জামাতের সাথে নামাজ পড়ার পর পুনরায় সেই একই নামাজ অন্য এক জামাতের সাথে পড়ান এবং তাদের বিষয়টি না জানান, তবে তিনি মন্দ কাজ করলেন এবং পরবর্তী জামাতের নামাজ বাতিল (باطلة) বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৮৯)
88 - مَسْأَلَة من تلبس بِصَلَاة الظّهْر ثمَّ ذكر أَنه صلاهَا فَهَل يقطع أم لَا الظَّاهِر أَنه يتمادى على أَنَّهَا نَافِلَة

89 - مَسْأَلَة من تلبس بِصَلَاة الْعَصْر ثمَّ ذكر أَنه صلاهَا فَإِن كَانَ قد عقد رَكْعَة أضَاف إِلَيْهَا أُخْرَى بنية النَّافِلَة وَإِن لم يعْقد رَكْعَة قطع

90 - مَسْأَلَة من أدْرك رَكْعَة من الْمغرب ثمَّ قَامَ بِرَكْعَة بِالْحَمْد جَهرا وسورى جَهرا وَجلسَ ثمَّ قَامَ وأتى بِرَكْعَة بِالْحَمْد وَحدهَا سرا فَإِنَّهُ يسْجد قبل السَّلَام فَإِن نسي فَبعد السَّلَام بِالْقربِ فَإِن طَال فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَصحت صلَاته

91 - مَسْأَلَة إِذا تذكر الرجل صَلَاة الْوتر بعد أَن صلى الْفجْر فَإِنَّهُ يُصَلِّي الشفع وَالْوتر وَيسْتَحب لَهُ إِعَادَة الْفجْر

92 - مَسْأَلَة من ذكر صَلَاة الْوتر وَكَانَ الْوَقْت ضيقا فَإِن بَقِي لطلوع الشَّمْس مِقْدَار أَربع رَكْعَات فَإِن كَانَ تنفل أول اللَّيْل أوتر الْآن بِوَاحِدَة وَصلى الصُّبْح وَإِن يكن تنفل فَهَل يُصَلِّي الشفع وَالْوتر وركعة من الصُّبْح قبل الطُّلُوع أَو يُوتر بِوَاحِدَة وَيُصلي الصُّبْح كلهَا فِي الْوَقْت قَولَانِ الأول لأصبغ وَالثَّانِي لِابْنِ الْمَوَّاز فَإِن بَقِي للشمس مِقْدَار خمس رَكْعَات فَإِن لم يكن تنفل أول
88 - মাসআলা: যে ব্যক্তি যোহরের নামাজ শুরু করল, অতঃপর স্মরণ করল যে সে তা ইতিপূর্বে আদায় করেছে, তবে সে কি নামাজটি ছেড়ে দিবে নাকি না? বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, সে এটি নফল (نافلة) হিসেবে পূর্ণ করবে।

89 - মাসআলা: যে ব্যক্তি আসরের নামাজ শুরু করল, অতঃপর স্মরণ করল যে সে তা আদায় করেছে; সে যদি ইতোমধ্যে এক রাকাত সম্পন্ন করে থাকে, তবে নফল (نافلة) নিয়তে তার সাথে আরও এক রাকাত যুক্ত করবে। আর যদি এক রাকাত সম্পন্ন না করে থাকে, তবে নামাজ ছেড়ে দিবে।

90 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মাগরিবের এক রাকাত পেল, এরপর দাঁড়িয়ে এক রাকাত উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা ও উচ্চস্বরে অন্য সূরা পাঠ করে আদায় করল এবং বসল; এরপর পুনরায় দাঁড়িয়ে এক রাকাত কেবল সূরা ফাতিহা নিভৃতে (سرا) পাঠ করে আদায় করল, তবে সে সালামের পূর্বে সিজদা প্রদান করবে। যদি সে ভুলে যায় তবে সালামের নিকটবর্তী সময়ে প্রদান করবে। আর যদি ব্যবধান দীর্ঘ হয়ে যায় তবে তার ওপর আর কিছু নেই এবং তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

91 - মাসআলা: যখন কোনো ব্যক্তি ফজর পড়ার পর বিতর নামাজের কথা স্মরণ করে, তবে সে শাফআ ও বিতর আদায় করবে এবং তার জন্য ফজর পুনরায় আদায় করা মুস্তাহাব (يستحب)।

92 - মাসআলা: যে ব্যক্তি বিতর নামাজের কথা স্মরণ করল এমতাবস্থায় যে সময় সংকীর্ণ; যদি সূর্যোদয়ের জন্য চার রাকাত পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে—এমতাবস্থায় সে যদি রাতের প্রথম ভাগে নফল আদায় (تنفل) করে থাকে, তবে এখন এক রাকাত বিতর পড়বে এবং ফজরের নামাজ আদায় করবে। আর যদি নফল আদায় না করে থাকে, তবে সে কি শাফআ ও বিতর এবং ফজরের এক রাকাত সূর্যোদয়ের পূর্বে পড়বে, নাকি এক রাকাত বিতর পড়বে এবং ফজরের পুরো নামাজ সময়ের মধ্যে আদায় করবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে—প্রথমটি আসবাগের এবং দ্বিতীয়টি ইবনুল মাওয়াজের। আর যদি সূর্যোদয়ের জন্য পাঁচ রাকাত পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে এবং যদি সে প্রথমে নফল আদায় না করে থাকে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯০)
اللَّيْل فَإِنَّهُ يُصَلِّي الشفع وَالْوتر وَإِن كَانَ تنفل فَهَل يُصَلِّي الْوتر وَالصُّبْح ويجزيه الشفع الأول ويركع للفجر قَولَانِ الظَّاهِر أَنه يتْرك الْفجْر إِلَى طُلُوع الشَّمْس وَإِن بَقِي أَزِيد من خمس رَكْعَات صَلَّاهُنَّ فَإِن بَقِي قدر ثَلَاث رَكْعَات صلى الْوتر وَحده ثمَّ صلى الصُّبْح فَإِن بَقِي قدر رَكْعَتَيْنِ صلى الصُّبْح وَحدهَا

93 - مَسْأَلَة إِذا نسي الرجل صَلَاة الْفجْر فَذكر ذَلِك بعد طُلُوع الشَّمْس فَهَل يُصليهَا طلبا للثَّواب أَو قَضَاء فِي الْمَذْهَب قَولَانِ الظَّاهِر أَنَّهَا قَضَاء لِأَن النَّوَافِل تقضى بِخِلَاف السّنَن

94 - مَسْأَلَة من كَانَت عَلَيْهِ سِتّ صلوَات فَأخذ فِي قَضَائهَا فَلَمَّا صلى مِنْهَا صَلَاتَيْنِ أُقِيمَت الصَّلَاة عَلَيْهِ أَعنِي الْحَاضِرَة إِن يدْخل مَعَ الإِمَام ويصليها فَإِذا فرغ من صلَاته صلى مَا بَقِي عَلَيْهِ وَأعَاد الْحَاضِر الَّتِي صلاهَا مَعَ الإِمَام

95 - مَسْأَلَة من تَوَضَّأ وَصلى خمس صلوَات ثمَّ ذكر أَنه نسي مسح رَأسه فَإِنَّهُ يمسحه إِن كَانَ المَاء قَرِيبا وَيُعِيد الصَّلَوَات

96 - مَسْأَلَة من تَوَضَّأ خمس أوضية ثمَّ صلى خمس صلوَات ثمَّ ذكر أَنه نسي مسح رَأسه فِي أحد الْخمس الأوضية فَإِنَّهُ يمسح رَأسه وَيُعِيد الْخمس صلوَات فَإِن نسي أَن يمسح من آخر الأوضية فَإِنَّهُ يمسح رَأسه وَيُعِيد الْأَخِيرَة وَحدهَا

97 - مَسْأَلَة من أسقط سَجْدَة من الرَّكْعَة الأولى وتذكر ذَلِك وَهُوَ قَائِم فِي الثَّانِيَة فَإِنَّهُ يرجع إِلَى الأَرْض ثمَّ يسْجد فَإِن ذكرهَا وَهُوَ رَاكِع فَقَوْلَانِ
...রাতের (সালাত)। কেননা তিনি শাফআ ও বিতর আদায় করবেন। আর যদি তা নফল (نفل) হয়, তবে কি তিনি বিতর ও সুব্হ আদায় করবেন এবং পূর্বের শাফআ কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? আর তিনি কি ফজরের (সুন্নত) দুই রাকাত আদায় করবেন? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। প্রকাশ্য (الظاهر) মত হলো, তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের সালাত স্থগিত রাখবেন। আর যদি পাঁচ রাকাত (ركعة)-এর অধিক সময় বাকি থাকে তবে তিনি সেগুলো পড়বেন। যদি তিন রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় থাকে তবে তিনি শুধু বিতর পড়বেন, অতঃপর সুব্হ পড়বেন। আর যদি দুই রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় থাকে তবে কেবল সুব্হ পড়বেন।

93 - মাসয়ালা: যদি কোনো ব্যক্তি ফজরের সালাত ভুলে যায় এবং সূর্যোদয়ের পর তা স্মরণে আসে, তবে তিনি কি সওয়াবের আশায় তা পড়বেন নাকি কাজা (قضاء) হিসেবে? মাযহাবের মধ্যে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। প্রকাশ্য (الظاهر) মত হলো এটি কাজা (قضاء), কারণ নফল (نوافل) সমূহের কাজা করা হয়, যা সুন্নাত (سنن) সমূহের বিপরীত।

94 - মাসয়ালা: যার জিম্মায় ছয় ওয়াক্ত সালাত বাকি আছে এবং তিনি তা কাজা (قضاء) করতে শুরু করেছেন; এমতাবস্থায় দুই রাকাত পড়ার পর সালাতের অর্থাৎ উপস্থিত (حاضرة) ওয়াক্তের ইকামত হয়ে গেল। তিনি ইমামের সাথে দাখিল হয়ে তা আদায় করবেন। সালাত শেষ করে তিনি অবশিষ্ট সালাতগুলোর কাজা (قضاء) সম্পন্ন করবেন এবং ইমামের সাথে যে উপস্থিত (حاضرة) ওয়াক্তের সালাতটি আদায় করেছেন তা পুনরায় পড়বেন।

95 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি অজু করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের পর স্মরণ করল যে, সে মাথা মাসেহ (مسح) করতে ভুলে গেছে; পানি নিকটে থাকলে সে মাথা মাসেহ (مسح) করবে এবং সালাতগুলো পুনরায় আদায় করবে।

96 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি পাঁচবার অজু করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের পর স্মরণ করল যে, পাঁচ অজুর কোনো একটিতে সে মাথা মাসেহ (مسح) করতে ভুলে গেছে; তবে সে মাথা মাসেহ (مسح) করবে এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই পুনরায় আদায় করবে। আর যদি সে শেষ অজুতে মাসেহ (مسح) করতে ভুলে থাকে, তবে সে মাথা মাসেহ (مسح) করবে এবং কেবল শেষ সালাতটি পুনরায় আদায় করবে।

97 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি প্রথম রাকাত (ركعة) থেকে একটি সিজদা (سجدة) ছেড়ে দিল এবং দ্বিতীয় রাকাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় তা স্মরণ করল; তবে সে জমিনে ফিরে গিয়ে সিজদা (سجدة) করবে। আর যদি রুকু (ركوع) অবস্থায় তা স্মরণ হয়, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯১)
98 - مَسْأَلَة من صلى يَوْم الْجُمُعَة فِي مَوضِع لَا يسمع فِيهِ قِرَاءَة الإِمَام وَخَافَ على نَفسه من الوسوسة فَإِنَّهُ يقْرَأ

99 - مَسْأَلَة من أحرم فِي الْجُمُعَة بنية الظّهْر بطلت صلَاته وَلَو أحرم فِي الظّهْر بنية الْجُمُعَة أَجْزَأته صلَاته

100 - مَسْأَلَة لَو أحرم يَوْم الْجُمُعَة بنية الْجُمُعَة وَجرى على لِسَانه ذكر الظّهْر أَجْزَأته صلَاته

101 - مَسْأَلَة من صلى الْوتر وَذكر فِي تشهده أَنه نسي الْفَاتِحَة فَإِنَّهُ يشفع وتره وَإِن ذكر ذَلِك وَهُوَ رَاكِع فَإِنَّهُ يقطع ويبتديء الْوتر

102 - مَسْأَلَة من ذكر الْوتر وَهُوَ فِي الصُّبْح فَإِن كَانَ فَذا أَو إِمَامًا وَذكر ذَلِك فِي الرُّكُوع تَمَادى على صلَاته وَإِن ذكر قبله قطع وَصلى الْوتر وَالصُّبْح وَإِن كَانَ مَأْمُوما تَمَادى مَعَ إِمَامه وَسلم

103 - مَسْأَلَة إِذا نسي الإِمَام سَجْدَة من الرَّكْعَة الأولى والفاتحة من الْأُخْرَى فَإِنَّهُ يَأْتِي بِرَكْعَة بِأم الْقُرْآن وَحدهَا وَيسْجد قبل السَّلَام وَيُعِيد الصَّلَاة احْتِيَاطًا

104 - مَسْأَلَة فِيمَن دخل الْمَسْجِد ليُصَلِّي الْمغرب ثمَّ ذكر أَن عَلَيْهِ الظّهْر
98 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি জুমার দিন এমন স্থানে সালাত আদায় করল যেখানে ইমামের কিরাত শোনা যায় না এবং সে নিজের ওপর কুমন্ত্রণার (وسوسة) ভয় করল, তবে সে কিরাত পড়বে।

99 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি জুমার সালাতে জোহরের নিয়তে এহরাম বাঁধল, তার সালাত বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে। আর যদি জোহরের সালাতে জুমার নিয়তে এহরাম বাঁধে, তবে তার সালাত যথেষ্ট (أجزأته) হবে।

100 - মাসআলা (مسألة): যদি জুমার দিন জুমার নিয়তেই এহরাম বাঁধে কিন্তু মুখে জোহরের কথা উচ্চারিত হয়, তবে তার সালাত যথেষ্ট (أجزأته) হবে।

101 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় করল এবং তাশাহহুদে স্মরণ করল যে সে সুরা ফাতিহা ভুলে গিয়েছে, তবে সে তার বিতরকে জোড় (يشفع) করবে। আর যদি রুকুতে থাকা অবস্থায় তা স্মরণ করে, তবে সালাত ছিন্ন (يقطع) করবে এবং নতুন করে বিতর শুরু করবে।

102 - মাসআলা (مسألة): যে ব্যক্তি ফজরের সালাতে থাকা অবস্থায় বিতরের কথা স্মরণ করল; সে যদি একাকী (فذا) সালাত আদায়কারী বা ইমাম হয় এবং রুকুতে থাকা অবস্থায় তা স্মরণ করে, তবে সে তার সালাত চালিয়ে যাবে (تمادى)। আর যদি রুকুর আগে স্মরণ করে, তবে সালাত ছিন্ন (قطع) করে বিতর ও ফজরের সালাত আদায় করবে। আর যদি সে মুক্তাদি (مأموما) হয়, তবে ইমামের সাথে সালাত চালিয়ে যাবে এবং সালাম ফেরাবে।

103 - মাসআলা (مسألة): যদি ইমাম প্রথম রাকাতের একটি সেজদা এবং অন্য রাকাতের সুরা ফাতিহা ভুলে যান, তবে তিনি শুধুমাত্র উম্মুল কুরআন দ্বারা এক রাকাত আদায় করবেন এবং সালামের আগে সেজদা করবেন এবং সতর্কতা স্বরূপ (احتياطا) পুনরায় সালাত আদায় করবেন।

104 - মাসআলা (مسألة): সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে মাগরিবের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করল, অতঃপর তার স্মরণ হলো যে তার ওপর জোহরের সালাত বাকি আছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯২)
فَإِن أُقِيمَت صَلَاة الْمغرب صلاهَا ثمَّ صلى الظّهْر ثمَّ أعَاد الْمغرب وَإِن قبل دُخُول الْمَسْجِد فَلَا يدْخلهُ

105 - مَسْأَلَة من أدْرك مَعَ الإِمَام يَوْم الْجُمُعَة رَكْعَة ثمَّ قَامَ لقَضَاء الرَّكْعَة الثَّانِيَة فأداره النَّاس عَن الْقبْلَة غَلَبَة سلم على مَا أحرم عَلَيْهِ وَصلى ظهرا أَرْبعا

106 - مَسْأَلَة من اسْتَيْقَظَ بعد طُلُوع الْفجْر وَذكر أَن عَلَيْهِ خمس صلوَات فَإِن يَبْتَدِئ بهَا قبل صَلَاة الصُّبْح

107 - مَسْأَلَة إِذا خر الْمُصَلِّي للسُّجُود نَاسِيا للرُّكُوع وَلم يذكر حَتَّى سجد سَجْدَة فَإِنَّهُ يعتدل قَائِما وَلَا يُعِيد الْقِرَاءَة ثمَّ يرْكَع ويتمادى على صلَاته وَيسْجد بعد السَّلَام

فَإِن انحط للرُّكُوع فَسَهَا وخر للسُّجُود ثمَّ ذكر بعد أَن سجد سَجْدَة فَإِنَّهُ يقوم محدودبا إِلَى مَحل الرُّكُوع يرفع رَأسه ويتمادى على صلَاته وَيسْجد بعد السَّلَام

108 - مَسْأَلَة إِمَام فِي قَرْيَة صلى الْجُمُعَة فَلَمَّا فرغ من صلَاته وجد الْجَمَاعَة خَمْسَة عشر رجلا فَإِن كَانَ فِيهَا جمَاعَة تتقرى بهم الْقرْيَة وَالْمذهب أَن صلَاتهم صَحِيحَة وَلَا يجوز أَن يدْخل على ذَلِك ابْتِدَاء
যদি মাগরিবের সালাত শুরু (أُقِيمَت) হয়ে যায়, তবে তিনি তা আদায় করবেন, এরপর জোহর আদায় করবেন এবং পুনরায় মাগরিব আদায় করবেন। আর যদি মসজিদে প্রবেশের পূর্বে হয়, তবে তিনি তাতে প্রবেশ করবেন না।

১০৫ - মাসআলা: যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের সাথে এক রাকাত পেল (أدْرك), অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত পূরণ (قضاء) করার জন্য দাঁড়াল, কিন্তু লোকজন তাকে প্রবলভাবে কিবলা থেকে বিমুখ করে দিল, তবে সে যে অবস্থায় তাহরিমাহ (أحرم) বেঁধেছিল সেই অবস্থাতেই সালাম ফিরিয়ে দেবে এবং চার রাকাত জোহর আদায় করবে।

১০৬ - মাসআলা: যে ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পর জাগ্রত হলো এবং তার স্মরণে এল যে তার জিম্মায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বকেয়া রয়েছে, তবে সে সুব্হ সালাতের পূর্বে সেগুলো আদায় করা শুরু করবে।

১০৭ - মাসআলা: যদি কোনো সালাত আদায়কারী রুকু করতে ভুলে সিজদাহয় অবনমিত হয় এবং এক সিজদাহ করার আগ পর্যন্ত তার স্মরণে না আসে, তবে সে সোজা হয়ে (يعتدل) দাঁড়াবে এবং কিরাত পুনরায় পড়বে না; এরপর রুকু করবে এবং তার সালাত চালিয়ে যাবে এবং সালামের পর সিজদাহ করবে।

আর যদি সে রুকুর জন্য ঝুঁকেছিল কিন্তু ভুলবশত সিজদাহয় পতিত হয়, এরপর এক সিজদাহ করার পর তার স্মরণে আসে, তবে সে রুকুর স্থান পর্যন্ত কুব্জ হয়ে দাঁড়াবে, মাথা তুলবে এবং তার সালাত চালিয়ে যাবে ও সালামের পর সিজদাহ করবে।

১০৮ - মাসআলা: কোনো গ্রামের একজন ইমাম জুমার সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষ করার পর তিনি দেখলেন যে জামাত পনেরো জন পুরুষের ছিল। যদি তাদের মাঝে এমন এক জামাত থাকে যাদের দ্বারা গ্রামটি আবাদ হয়, তবে মাযহাব (المذهب) অনুযায়ী তাদের সালাত সহিহ (صحيحة) এবং প্রারম্ভিকভাবে এমন অবস্থায় প্রবেশ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৩)
109 - مَسْأَلَة من كَانَ عَلَيْهِ سُجُود سَهْو بعد السَّلَام فنسيه حَتَّى تلبس بِصَلَاة أُخْرَى ثمَّ ذكر فَإِنَّهُ يتمادى على صلَاته وَيسْجد بعد السَّلَام

وَإِن كَانَ السُّجُود قبليا فَإِن كَانَ مِمَّا تفْسد الصَّلَاة بِتَرْكِهِ رَجَعَ بنية وتكبير مَا لم تطل الْقِرَاءَة أَو يرْكَع فَإِن طَالَتْ الْقِرَاءَة أَو ركع بطلت صلَاته وَإِن كَانَ مِمَّا لَا تفْسد الصَّلَاة بِتَرْكِهِ تَمَادى على صلَاته وَلَا شَيْء عَلَيْهِ

110 - مَسْأَلَة إِذا قضى الْمَأْمُوم رَكْعَة قبل فرَاغ الإِمَام سَاهِيا رَجَعَ إِلَى إِمَامه وَلَا شَيْء عَلَيْهِ

111 - مَسْأَلَة إِذا وجد الرجل الإِمَام يُصَلِّي على الْجِنَازَة وَلم يدر مَا هِيَ ذكر أَو أُنْثَى فَإِنَّهُ يَدْعُو بِمَا تيَسّر لَهُ وَصحت صلَاته

112 - مَسْأَلَة إِذا صلى الرجل وَحده وَأخْبر انه سَهَا فِي الصَّلَاة فَإِن تَيَقّن ذَلِك رَجَعَ وَإِلَّا فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

113 - مَسْأَلَة من دخل الْمَسْجِد يَوْم الْجُمُعَة وَالْإِمَام يخْطب فَلَا يرْكَع هَذَا هُوَ الْمَذْهَب وَيَقُول سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله وَلَا إِلَه إِلَّا الله وَالله أكبر وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم أَجْزَأته عَن تَحِيَّة الْمَسْجِد
১০৯ - মাসয়ালা: যার ওপর সালামের পরবর্তী (بعدي) সহু সিজদা (سجود السهو) ওয়াজিব ছিল, কিন্তু সে তা ভুলে গিয়ে অন্য নামাজ শুরু করে দেয় এবং পরবর্তীতে তা স্মরণ হয়, তবে সে তার (বর্তমান) নামাজ অব্যাহত রাখবে এবং সালামের পর সিজদা করবে।

আর যদি সিজদাটি সালামের পূর্ববর্তী (قبلي) হয়, তবে তা যদি এমন বিষয়ের জন্য হয় যার ত্যাগের কারণে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়, তবে সে নিয়ত ও তাকবিরসহ (পূর্বের নামাজে) ফিরে যাবে যতক্ষণ না কিরাত দীর্ঘ হয় অথবা সে রুকু করে। কিন্তু যদি কিরাত দীর্ঘ হয়ে যায় অথবা সে রুকু করে ফেলে, তবে তার নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যাবে। আর যদি তা এমন বিষয়ের জন্য হয় যার ত্যাগের কারণে নামাজ বাতিল (باطل) হয় না, তবে সে তার নামাজ অব্যাহত রাখবে এবং তার ওপর অন্য কিছু আবশ্যক হবে না।

১১০ - মাসয়ালা: যদি মুক্তাদি ইমামের নামাজ শেষ করার আগে ভুলবশত (سهو) এক রাকাত (ركعة) পূর্ণ করে ফেলে, তবে সে তার ইমামের কাছে ফিরে আসবে এবং তার ওপর কোনো দায় থাকবে না।

১১১ - মাসয়ালা: কোনো ব্যক্তি যদি ইমামকে জানাজার নামাজ পড়তে দেখে এবং মৃত ব্যক্তি পুরুষ না নারী তা তার জানা না থাকে, তবে সে তার সাধ্যমতো দোয়া করবে এবং তার নামাজ শুদ্ধ (صحيح) হবে।

১১২ - মাসয়ালা: যদি কোনো ব্যক্তি একাকী নামাজ পড়ে এবং তাকে জানানো হয় যে সে নামাজে ভুল (سهو) করেছে; এমতাবস্থায় যদি সে বিষয়ে তার নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) জন্মে তবে সে (সংশোধনে) ফিরে আসবে, অন্যথায় তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না।

১১৩ - মাসয়ালা: জুমার দিনে ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন তখন কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে নামাজ পড়বে না; এটিই মাযহাব (مذهب)-এর অভিমত। সে বলবে: ‘আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই’; এটিই তার জন্য তাহিয়্যাতুল মাসজিদ-এর বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৪)
114 - مَسْأَلَة من اغْتسل من الْجَنَابَة وَصلى الصُّبْح ثمَّ تَوَضَّأ لصَلَاة الظّهْر وَذكر أَنه لم يغسل رجلَيْهِ من الْجَنَابَة فَإِنَّهُ يُعِيد الصُّبْح إِيجَابا وَالظّهْر اسْتِحْبَابا

115 - مَسْأَلَة من صلى الصُّبْح وأتى الْمَسْجِد فَوجدَ فِي تِلْكَ الصَّلَاة فَدخل مَعَه وَنوى بهَا الدّين الَّذِي عَلَيْهِ لم يجزه

116 - مَسْأَلَة رجل صلى الظّهْر وأتى الْمَسْجِد فَوجدَ الإِمَام فِي صَلَاة الظّهْر فَدخل مَعَه وَصلى ظهرا من دين عَلَيْهِ وَبَقِي يتبعهُ فِي أَرْكَان الصَّلَاة وَهُوَ يعْتَقد أَنه لَا يَقْتَدِي بِهِ ويعتقد وجوب قِرَاءَة أم الْقُرْآن عَلَيْهِ فَالْحكم أَن الصَّلَاة صَحِيحَة وَقد أَسَاءَ فِيمَا فعل

117 - مَسْأَلَة إِذا قَامَ الإِمَام إِلَى خَامِسَة ثمَّ ذكر فَإِنَّهُ يرجع إِلَى الْجُلُوس ويتشهد وَيسلم وَيسْجد بعد السَّلَام

118 - مَسْأَلَة إِذا اغْتَسَلت الْمَرْأَة من حَيْضَتهَا لأَرْبَع رَكْعَات وَقَامَت تصلي الْعَصْر ثمَّ ذكرت صَلَاة منسية فَإِنَّهَا تصلي المنسية وَهل تعيد الْعَصْر أم لَا فِي الْمَذْهَب قَولَانِ الظَّاهِر عدم الْإِعَادَة

119 - مَسْأَلَة إِذا أخرت الْمَرْأَة الْعَصْر حَتَّى بَقِي لغروب الشَّمْس رَكْعَة وَقَامَت تصلي فَلَمَّا صلت الرَّكْعَة الأولى غربت الشَّمْس فَقَامَتْ إِلَى الثَّانِيَة فَحَاضَت فَهَل تسْقط عَنْهَا أم لَا فِي الْمَذْهَب قَولَانِ الظَّاهِر أَنَّهَا تقضي
114 - মাসআলা: যে ব্যক্তি জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করার পর ফজরের সালাত আদায় করল, অতঃপর জোহরের সালাতের জন্য অযু করল এবং তার স্মরণ হলো যে সে জানাবাতের গোসলের সময় তার উভয় পা ধৌত করেনি; তবে সে আবশ্যিকভাবে ফজরের সালাত এবং মুস্তাহাব হিসেবে জোহরের সালাত পুনরায় আদায় করবে।

115 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল এবং মসজিদে এসে দেখল সেই সালাত জামাতে হচ্ছে, অতঃপর সে তাতে শরিক হলো এবং এর দ্বারা নিজের জিম্মায় থাকা কোনো কাজা সালাতের নিয়ত করল; তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

116 - মাসআলা: এক ব্যক্তি জোহরের সালাত আদায় করার পর মসজিদে এসে দেখল ইমাম জোহরের সালাত পড়াচ্ছেন, অতঃপর সে তার সাথে শরিক হলো এবং নিজের জিম্মায় থাকা একটি কাজা জোহরের সালাত আদায়ের নিয়ত করল। সে সালাতের রুকনগুলোতে ইমামের অনুগামী থাকল অথচ সে বিশ্বাস করছিল যে সে ইমামের ইক্তিদা করছে না এবং নিজের ওপর উম্মুল কুরআন পাঠ করা আবশ্যক বলে মনে করছিল; এমতাবস্থায় বিধান হলো যে সালাতটি সহিহ (صحيحة), তবে সে যা করেছে তাতে ভুল করেছে।

117 - মাসআলা: যখন ইমাম পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে তা স্মরণ হয়, তবে তিনি বৈঠকের দিকে ফিরে আসবেন, তাশাহহুদ পড়বেন ও সালাম ফেরাবেন এবং সালামের পর সেজদা করবেন।

118 - মাসআলা: যদি কোনো নারী তার ঋতুস্রাব থেকে চার রাকাতের সমপরিমাণ সময় থাকতে পবিত্রতার গোসল করে এবং আসরের সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায়, অতঃপর কোনো বিস্মৃত সালাতের কথা স্মরণ করে, তবে সে সেই বিস্মৃত সালাতটি আদায় করবে। এখন সে কি আসরের সালাত পুনরায় আদায় করবে কি না—এ ব্যাপারে মাযহাবে দুটি অভিমত রয়েছে; তবে প্রকাশ্য মত হলো পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নেই।

119 - মাসআলা: যখন কোনো নারী আসরের সালাত বিলম্বিত করে এমনকি সূর্যাস্তের মাত্র এক রাকাত পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে এবং সে সালাতে দাঁড়ায়; অতঃপর যখন সে প্রথম রাকাত আদায় করল তখন সূর্য ডুবে গেল এবং সে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াল এমতাবস্থায় তার ঋতুস্রাব শুরু হলো; এখন এই সালাত কি তার ওপর থেকে রহিত হবে কি না—এ ব্যাপারে মাযহাবে দুটি অভিমত রয়েছে; তবে প্রকাশ্য মত হলো তাকে এটি কাজা করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৫)
120 - مَسْأَلَة من دخل الْمَسْجِد بعد مَا أحدث الإِمَام لم يجز أَن يسْتَخْلف

121 - مَسْأَلَة مَسْبُوق اسْتخْلف على رَكْعَة أَو سَجْدَة وَكَانَ فِي الْجَمَاعَة مسبوقون مثله وَغير مسبوقين فَإِن الْمُسْتَخْلف يخر إِلَى السَّجْدَة وَيسْجد المسبوقون مَعَه وَيسْجد من حضر مَعَ الإِمَام من أول الصَّلَاة لأَنْفُسِهِمْ ثمَّ يتبعُون الْمُسْتَخْلف فِي الرَّكْعَة الَّتِي بقيت ويجلسون ثمَّ يقوم الْمُسْتَخْلف بعد أَن فرغ فَيَأْتِي بِرَكْعَة وَيجْلس ويتشهد ثمَّ يَأْتِي بِرَكْعَتَيْنِ نسقا ثمَّ يسلم وَيسلم بسلامه من حضر الصَّلَاة من أَولهَا ثمَّ يقوم المسبوقون فَيَأْتُونَ بِمَا بَقِي عَلَيْهِم من صلَاتهم أفذاذا على نَحْو مَا فعل الْمُسْتَخْلف

122 - مَسْأَلَة من أَتَى الْمَسْجِد فَوجدَ الإِمَام جَالِسا فَجَلَسَ وَكبر للْإِحْرَام وَهُوَ جَالس فَلَمَّا قَامَ الإِمَام قَامَ وَصلى مَعَ الإِمَام مَا أدْركهُ وَقضى بعد سَلام الإِمَام مَا فَاتَهُ فَصلَاته مجزئة

123 - مَسْأَلَة من أَتَى الْمَسْجِد فَوجدَ الإِمَام رَاكِعا فَكبر وَهُوَ رَاكِع وَنوى بهَا الْإِحْرَام فَإِن ذَلِك لَا يُجزئهُ عَن هَذِه الرَّكْعَة إِلَّا أَن يكون فِي حَال الْقيام أَو فِي آخر جُزْء مِنْهُ

124 - مَسْأَلَة إِمَام صلى الصُّبْح ثَلَاث رَكْعَات ثمَّ ذكر أَنه نسي أم الْقُرْآن من الأولى فَإِنَّهُ يسْجد قبل السَّلَام وَيُعِيد الصَّلَاة إِيجَابا

125 - مَسْأَلَة من صلى الظّهْر أَرْبعا ثمَّ ذكر أَن عَلَيْهِ أَربع سَجدَات فَإِنَّهُ إِن ذكر ذَلِك قبل السَّلَام فَإِنَّهُ يخر إِلَى سَجْدَة وَتَكون هَذِه رَكْعَة ثمَّ يقوم فَيصَلي رَكْعَة بِالْحَمْد وَالسورَة ثمَّ يجلس ويتشهد وَيقوم فَيَأْتِي بِرَكْعَتَيْنِ بام الْقُرْآن وَحدهَا
120 - মাসআলা: যে ব্যক্তি ইমামের অযু নষ্ট হওয়ার পর মসজিদে প্রবেশ করেছে, তার জন্য স্থলাভিষিক্ত হওয়া জায়েজ (يجوز) হবে না।

121 - মাসআলা: কোনো মাসবুক ব্যক্তিকে যদি কোনো রাকাত বা সিজদার জন্য স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং জামাতে তার মতো মাসবুক এবং অ-মাসবুক (যারা শুরু থেকে ছিল) উভয়ই থাকে, তবে স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি সিজদায় লুটিয়ে পড়বে এবং মাসবুকরা তার সাথে সিজদা করবে। আর যারা সালাতের শুরু থেকে ইমামের সাথে উপস্থিত ছিল তারা নিজেরাই সিজদা করবে, এরপর তারা অবশিষ্ট রাকাতে স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির অনুসরণ করবে এবং বৈঠকে বসবে। অতঃপর স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি ফারেগ হওয়ার পর দাঁড়াবে এবং এক রাকাত আদায় করে বসবে ও তাশাহহুদ পড়বে, এরপর একাধারে দুই রাকাত আদায় করবে এবং সালাম ফিরাবে। তার সালামের সাথে সাথে যারা সালাতের শুরু থেকে উপস্থিত ছিল তারাও সালাম ফিরাবে। এরপর মাসবুকরা দাঁড়াবে এবং স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি যেভাবে করেছে সেভাবে এককভাবে (أفذاذا) তাদের সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে।

122 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মসজিদে এসে ইমামকে বসা অবস্থায় পেল, অতঃপর সে বসে পড়ল এবং বসা অবস্থায় তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) বলল; এরপর যখন ইমাম দাঁড়ালেন তখন সেও দাঁড়াল এবং ইমামের সাথে যতটুকু পেল তা আদায় করল এবং ইমামের সালামের পর যা ছুটে গিয়েছিল তা কাজা করল, তবে তার সালাত যথেষ্ট (مجزئة) হবে।

123 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মসজিদে এসে ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং রুকুতে থাকা অবস্থায় তাকবির বলল ও এর মাধ্যমে তাহরিমার নিয়ত করল, তবে তা তার জন্য এই রাকাতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট (يجزئ) হবে না, যতক্ষণ না তা দাঁড়ানো অবস্থায় অথবা দাঁড়ানোর শেষাংশে হয়।

124 - মাসআলা: কোনো ইমাম ফজরের সালাত তিন রাকাত পড়লেন এবং এরপর তার মনে পড়ল যে তিনি প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা (أم القرآن) পড়তে ভুলে গেছেন, তবে তিনি সালামের পূর্বে সিজদা করবেন এবং আবশ্যিকভাবে (إيجابا) সালাত পুনরায় আদায় করবেন।

125 - মাসআলা: যে ব্যক্তি যোহরের চার রাকাত পড়ার পর মনে করল যে তার ওপর চারটি সিজদা পাওনা রয়ে গেছে, তবে যদি সে সালামের আগেই তা মনে করে, তবে সে একটি সিজদায় লুটিয়ে পড়বে এবং এটিই এক রাকাত হিসেবে গণ্য হবে। এরপর সে দাঁড়াবে এবং সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে এক রাকাত পড়বে, এরপর বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং দাঁড়িয়ে কেবল সূরা ফাতিহা (أم القرآن) দিয়ে দুই রাকাত আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৬)
وَيسْجد قبل السَّلَام لنَقص السُّورَة فَإِن لم يذكر حَتَّى سلم فَإِنَّهُ يرجع بنية وتكبير وَيفْعل كَمَا ذكرنَا

126 - مَسْأَلَة من صلى أَيَّامًا تَوَضَّأ فِيهَا بِمَاء مُضَاف تغير لَونه بطاهر أعَاد الصَّلَاة أبدا وَلَا يلْزمه غسل ثَوْبه إِلَّا اسْتِحْبَابا

127 - مَسْأَلَة فِي قيام رَمَضَان يجوز للْإِمَام أَن يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي أول اللَّيْل ويوترون وينصرفون ثمَّ يأْتونَ فِي آخر اللَّيْل فَيصَلي بهم أَيْضا فَإِن ذَلِك جَائِز حسن

128 - مَسْأَلَة إِمَام قَامَ إِلَى خَامِسَة فَقَامَ بعض النَّاس مَعَه سَهوا وَجلسَ آخَرُونَ لعلمهم بخطأه فَمن سَهَا بسهوه صحت صلَاته وَكَذَلِكَ من جلس لعلمه بخطأه صحت صلَاته وَأتبعهُ آخَرُونَ فِي الْقيام متعمدون ذَلِك فَمن تَأَول أَن الْمَأْمُوم مَأْمُور إِمَامه فِي الْعمد والسهو بطلت صلَاته لجهله وَمن تَأَول سُقُوط شَيْء من صلَاته فَإِن وَافق تَأْوِيله تَأْوِيل الإِمَام صحت صلَاته وَإِلَّا بطلت

129 - مَسْأَلَة إِمَام صلى الصُّبْح ثَلَاثًا وَلم تدخل الْجَمَاعَة مَعَه إِلَّا بعد أَن صلى رَكْعَة فصلوا مَعَه رَكْعَتَيْنِ وَلم يعلمُوا بالركعة الأولى فَإِن يسلم سرا ويخبر أَصْحَابه فَيَأْتُونَ بِرَكْعَة وَيسْجد لنَفسِهِ بعد السَّلَام وَكَذَلِكَ أَصْحَابه إِذا فرغوا من قَضَاء الرَّكْعَة

130 - مَسْأَلَة إِذا تعين لمَسْجِد زَيْت فَلَا يجوز أَن يعْطى مِنْهُ لمَسْجِد آخر
সুরা বাদ পড়ার কারণে তিনি সালামের পূর্বে সিজদা করবেন। যদি সালাম দেওয়ার আগ পর্যন্ত মনে না পড়ে, তবে তিনি নিয়ত ও তাকবিরসহ ফিরে আসবেন এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি সেভাবে করবেন।

126 - মাসআলা: যে ব্যক্তি কয়েকদিন এমন মিশ্রিত পানি দ্বারা ওযু করে নামাজ পড়েছেন যার রঙ কোনো পবিত্র বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, তিনি সেই নামাজগুলো সর্বদা পুনরায় আদায় করবেন। আর মুস্তাহাব হিসেবে ব্যতীত তার কাপড় ধোয়া আবশ্যক নয়।

127 - মাসআলা: কিয়ামে রমজানের ক্ষেত্রে ইমামের জন্য এটি বৈধ যে, তিনি রাতের প্রথম ভাগে লোকদের নিয়ে নামাজ পড়বেন এবং তারা বিতর পড়ে বিদায় নেবে। অতঃপর রাতের শেষ ভাগে তারা পুনরায় আসবে এবং তিনি তাদেরকে নিয়ে আবারও নামাজ পড়বেন; নিশ্চয়ই এটি বৈধ ও উত্তম (حسن)।

128 - মাসআলা: কোনো ইমাম পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন এবং কিছু লোক ভুলবশত তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেল, আবার অন্য কিছু লোক তাঁর ভুল সম্পর্কে অবগত থাকায় বসে রইল। এমতাবস্থায় যারা তাঁর ভুলের কারণে ভুলবশত দাঁড়িয়েছে তাদের নামাজ সঠিক (صحيح) হবে। একইভাবে যারা তাঁর ভুল সম্পর্কে জানার কারণে বসে রইল তাদের নামাজও সঠিক (صحيح) হবে। আর অন্য কিছু লোক স্বেচ্ছায় দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করল; এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি এই ব্যাখ্যা করবে যে, মুক্তাদি ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত হোক সর্বাবস্থায় ইমামের অনুগামী হতে আদিষ্ট, তার নামাজ অজ্ঞতার কারণে বাতিল হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তার নামাজের কোনো অংশ বাদ পড়ার ব্যাখ্যা করবে, তার ব্যাখ্যা যদি ইমামের ব্যাখ্যার সাথে মিলে যায় তবে নামাজ সঠিক (صحيح) হবে, অন্যথায় বাতিল হবে।

129 - মাসআলা: কোনো ইমাম ফজরের নামাজ তিন রাকাত পড়লেন এবং জামাত তাঁর সাথে এক রাকাত হওয়ার পরই শরিক হলো। ফলে তারা তাঁর সাথে দুই রাকাত পড়ল অথচ তারা (ইমামের অতিরিক্ত পড়া) প্রথম রাকাতটি সম্পর্কে জানত না। এক্ষেত্রে ইমাম গোপনে সালাম ফেরাবেন এবং তাঁর সাথীদেরকে অবহিত করবেন। অতঃপর তারা (ছুটে যাওয়া) এক রাকাত আদায় করে নেবে। ইমাম সালামের পর নিজের জন্য সিজদা দেবেন এবং তাঁর সাথীরাও যখন তাদের রাকাত পূর্ণ করা শেষ করবে তখন অনুরূপ করবে।

130 - মাসআলা: যখন কোনো মসজিদের জন্য তেল নির্ধারিত করা হয়, তখন তা থেকে অন্য কোনো মসজিদে দেওয়া বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
وَهل يجوز أَن يُوقد مِنْهُ فِي الْمِيضَاة لأجل المتوضئين أم لَا الأولى تَركه

131 - مَسْأَلَة لَا يجوز أَن يسمع الطِّفْل الصَّغِير فَإِن سمع فَصَلَاة من اقْتدى بِهِ صَحِيحَة

132 - مَسْأَلَة إِذا سمع رجل بِغَيْر إِذن الإِمَام فَلَا بَأْس بِهِ إِذا احْتِيجَ إِلَى ذَلِك

133 - مَسْأَلَة إِذا أَقَامَ الإِمَام الصَّلَاة على نَفسه ثمَّ رغب إِلَيْهِ رجل أَن ينتظره فَإِنَّهُ يسْتَأْنف الْإِقَامَة

134 - مَسْأَلَة إِذا أحرم الرجل لنَفسِهِ واقتدى بِهِ غَيره بعد أَن عقد رَكْعَة فَيُسْتَحَب لَهُ أَن يَنْوِي أَنه إِمَام ليحصل لَهُ ثَوَاب الْجَمَاعَة

135 - مَسْأَلَة من أحرم فِي صَلَاة ثمَّ تبين لَهُ أَنه نوى غَيرهَا فَإِنَّهُ يقطع ويستأنف الْإِقَامَة

136 - مَسْأَلَة من صلى رَكْعَتَيْنِ الشفع واشتغل بشغل خَفِيف فَإِنَّهُ يُوتر وَإِن تطاول أعَاد الشفع وَصلى الْوتر
অজুকারীদের সুবিধার্থে অজুখানায় তা দ্বারা বাতি জ্বালানো কি বৈধ হবে না কি হবে না? এটি বর্জন করাই শ্রেয়।

১৩১ - মাসয়ালা: ছোট শিশুর উচ্চস্বরে তাকবীর ধ্বনি পৌঁছে দেওয়া বৈধ নয়। তবে সে যদি ধ্বনি পৌঁছে দেয়, তবে যারা তার অনুসরণ করে সালাত আদায় করেছে তাদের সালাত সহিহ (صحيحة) হবে।

১৩২ - মাসয়ালা: যদি কোনো ব্যক্তি ইমামের অনুমতি ছাড়াই উচ্চস্বরে তাকবীর পৌঁছে দেয়, তবে প্রয়োজনে তা করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

১৩৩ - মাসয়ালা: ইমাম যদি নিজের জন্য সালাতের ইকামত দেন, অতঃপর কোনো ব্যক্তি তাকে অপেক্ষা করার অনুরোধ করেন, তবে তিনি পুনরায় নতুন করে ইকামত দেবেন।

১৩৪ - মাসয়ালা: যদি কোনো ব্যক্তি একাকী সালাতের ইহরাম বাঁধে এবং এক রাকাত সম্পন্ন করার পর অন্য কেউ তাকে ইক্তিদা করে, তবে তার জন্য ইমাম হওয়ার নিয়ত করা মুস্তাহাব, যাতে সে জামাতের সওয়াব লাভ করতে পারে।

১৩৫ - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি সালাতের ইহরাম বাঁধার পর অনুধাবন করল যে সে অন্য কোনো সালাতের নিয়ত করেছে, তবে সে সালাতটি ত্যাগ করবে এবং পুনরায় ইকামত দিয়ে সালাত শুরু করবে।

১৩৬ - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি শাফ’ (জোড়) এর দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর সামান্য কোনো কাজে লিপ্ত হলো, তবে সে বিতর পড়ে নেবে। আর যদি বিরতি দীর্ঘ হয়, তবে সে শাফ’ পুনরায় পড়ে বিতর সালাত আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৮)
137 - مَسْأَلَة رجل دخل الْمَسْجِد وَسمع التَّكْبِير فَظن أَن الإِمَام سجد للتلاوة فَسجدَ وَبَقِي سَاجِدا حَتَّى ركع الإِمَام وَرفع رَأسه ثمَّ تبين لَهُ ذَلِك فَإِنَّهُ يلغي مَا فعل ويتمادى مَعَ الإِمَام وَيَقْضِي مَا فَاتَهُ بعد سَلَامه

138 - مَسْأَلَة إِذا قَامَ الْمَسْبُوق إِلَى الْقَضَاء قبل الإِمَام سَاهِيا وَسلم الإِمَام وَهُوَ قَائِم فَإِنَّهُ يتمادى على صلَاته وَيسْجد سَجْدَتَيْنِ قبل السَّلَام

139 - مَسْأَلَة من صلى الصُّبْح بعد أَن طلعت الشَّمْس ثمَّ وجد فِي ثَوْبه نَجَاسَة فَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ على الْمَشْهُور

140 - مَسْأَلَة من نسي الْفَاتِحَة من رَكْعَتَيْنِ وَذكر فِي الثَّالِثَة رَجَعَ إِلَى الْجُلُوس وَسجد سَجْدَتَيْنِ قبل السَّلَام وَسلم على نَافِلَة

وَإِن ذكر بعد أَن فرغ من صلَاته سجد سَجْدَتَيْنِ وَقبل السَّلَام أَو بعده بِقرب ذَلِك وَيُعِيد الصَّلَاة

141 - مَسْأَلَة إِذا سَهَا الإِمَام سَهوا يُوجب بطلَان الصَّلَاة وَلم تسبح الْجَمَاعَة وَلَا نصت بالْكلَام وتمادوا مَعَه على ذَلِك فصلاتهم بَاطِلَة على مَذْهَب ابْن الْقَاسِم 129 رَحمَه الله
137 - মাসআলা: এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং তাকবীর শুনতে পেয়ে ধারণা করল যে ইমাম তিলাওয়াতের সিজদাহ করছেন। ফলে সে সিজদাহ করল এবং ইমাম রুকুতে যাওয়া ও মাথা তোলা পর্যন্ত সিজদাবনত থাকল। এরপর তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হলো। এমতাবস্থায় সে যা করেছে তা বাতিল গণ্য করবে এবং ইমামের সাথে নামাজ চালিয়ে যাবে এবং তার যা ছুটে গেছে তা ইমামের সালামের পর পূর্ণ করবে।

138 - মাসআলা: যদি মাসবুক ব্যক্তি ভুলবশত ইমামের (সালাম ফেরানোর) আগে ছুটে যাওয়া অংশ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যায় এবং সে দণ্ডায়মান থাকা অবস্থায় ইমাম সালাম ফেরান, তবে সে তার নামাজ চালিয়ে যাবে এবং সালামের আগে দুটি সিজদাহ প্রদান করবে।

139 - মাসআলা: সূর্যোদয়ের পর কেউ ফজরের নামাজ আদায় করল, অতঃপর তার পোশাকে নাপাকি দেখতে পেল; তবে প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী তার ওপর নামাজ পুনরায় পড়ার আবশ্যকতা নেই।

140 - মাসআলা: যে ব্যক্তি দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেল এবং তৃতীয় রাকাতে গিয়ে তা স্মরণ করল, সে বসা অবস্থায় ফিরে আসবে এবং সালামের পূর্বে দুটি সিজদাহ প্রদান করবে এবং নফল হিসেবে সালাম ফেরাবে।

আর যদি নামাজ শেষ করার পর তা স্মরণ হয়, তবে সে সালামের পূর্বে অথবা পরে নিকটবর্তী সময়ে দুটি সিজদাহ প্রদান করবে এবং নামাজ পুনরায় আদায় করবে।

141 - মাসআলা: ইমাম যদি এমন কোনো ভুল করেন যা নামাজ বাতিল হওয়াকে আবশ্যক করে এবং মুক্তাদিগণ তাসবীহ পাঠ না করে কিংবা কথা বলে তা সংশোধন না করে এবং ইমামের সাথেই নামাজ চালিয়ে যায়, তবে ইবনে আল-কাসিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী তাদের নামাজ বাতিল (باطلة)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
142 - مَسْأَلَة إِذا صلى الرجل وَشك فِي أثْنَاء الصَّلَاة هَل هُوَ فِي الظّهْر أم فِي الْعَصْر فَإِنَّهُ يتمادى على صلَاته فَإِن أَتَاهُ الْيَقِين بنى عَلَيْهِ وَإِلَّا أعَاد الصَّلَاة

143 - مَسْأَلَة من كَانَ فِي الصَّفّ الأول فِي الْجُمُعَة وأحدث فَإِنَّهُ يخرج من الْمَسْجِد وَلَا يتَيَمَّم على الْمَشْهُور

144 - مَسْأَلَة فِي إِمَام صلى رَكْعَة من الظّهْر ثمَّ ذكر أَن فِي ثَوْبه نَجَاسَة فاستخلف ثمَّ تبين لَهُ أَن الثَّوْب طَاهِر فَلَا صَلَاة الْمَأْمُومين بَاطِلَة وَكَذَلِكَ إِذا ظن أَن دَمًا نزل من أَنفه فاستخلف فَوَجَدَهُ مَاء

145 - مَسْأَلَة من صلى بِالنَّاسِ رَكْعَة ثمَّ ذكر أَنه مُحدث وَهُوَ فِي الرُّكُوع فَرفع رَأسه وَرفع النَّاس مَعَه فاستخلف قَائِما فَإِنَّهُ تصح على أحد الْقَوْلَيْنِ

146 - مَسْأَلَة من كرر الْفَاتِحَة فِي الرَّكْعَة سَاهِيا سجد بعد السَّلَام وَمن كرر السُّورَة فَلَا شَيْء عَلَيْهِ
142 - মাসআলা: যখন কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করে এবং নামাজের মাঝখানে সন্দেহ করে যে সে কি যোহরের নামাজে আছে নাকি আসরের নামাজে, তবে সে তার নামাজ চালিয়ে যাবে। এরপর যদি তার নিকট নিশ্চিত বিষয়টি স্পষ্ট হয়, তবে সে তার ওপর ভিত্তি করে নামাজ পূর্ণ করবে, অন্যথায় সে নামাজ পুনরায় পড়বে।

143 - মাসআলা: জুমার নামাজে যে ব্যক্তি প্রথম কাতারে ছিল এবং তার অজু ভেঙে যায়, তবে সে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাবে এবং প্রসিদ্ধ (المشهور) মতানুযায়ী সে তায়াম্মুম করবে না।

144 - মাসআলা: এমন ইমামের ক্ষেত্রে যে যোহরের এক রাকাত নামাজ পড়ার পর স্মরণ করল যে তার কাপড়ে অপবিত্রতা রয়েছে, তাই সে কাউকে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করল এবং পরবর্তীতে তার কাছে প্রকাশ পেল যে কাপড়টি পবিত্র ছিল; তবে মুক্তাদিদের নামাজ বাতিল (باطلة) হবে না। অনুরূপভাবে যদি সে মনে করে যে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং সে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় তা ছিল পানি।

145 - মাসআলা: যে ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এক রাকাত নামাজ পড়ার পর রুকুতে থাকা অবস্থায় স্মরণ করল যে সে অপবিত্র, এমতাবস্থায় সে মাথা তুলল এবং লোকজনেরাও তার সাথে মাথা তুলল, অতঃপর সে দাঁড়ানো অবস্থায় কাউকে স্থলাভিষিক্ত করল; তবে দুই মতের একটি অনুযায়ী তা সহিহ (تصح) হবে।

146 - মাসআলা: যে ব্যক্তি নামাজের কোনো রাকাতে ভুলে সুরা ফাতিহা একাধিকবার পাঠ করবে, সে সালামের পর সিজদা প্রদান করবে। আর যে ব্যক্তি অন্য কোনো সুরা একাধিকবার পাঠ করবে, তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ১০০)
147 - مَسْأَلَة من لحن فِي السُّورَة الَّتِي مَعَ أم الْقُرْآن فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

148 - مَسْأَلَة من سَهَا عَن الْفَاتِحَة فِي الْوتر شفعها بِرَكْعَة وَسجد قبل السَّلَام وأوتر

149 - مَسْأَلَة من قدح فِي إِمَام فَلَا يقبل قَوْله إِلَّا أَن يثبت ذَلِك

150 - مَسْأَلَة من شكّ وَهُوَ الصَّلَاة أَن فِي جسده نَجَاسَة وَتَمَادَى على صلَاته فَلَمَّا سلم ارْتَفع الشَّك عَنهُ لم يضرّهُ ذَلِك

151 - مَسْأَلَة من ذكر سَجْدَة من الرَّكْعَة الْأَخِيرَة من الْجُمُعَة بعد سَلام الإِمَام فَإِنَّهُ يخر إِلَى سَجْدَة ويتشهد وَيسلم وَيسْتَحب أَن يُعِيد ظهرا أَرْبعا

152 - مَسْأَلَة إِذا أدْرك الْمَأْمُوم رَكْعَة من صَلَاة الْجُمُعَة وَقضى الرَّكْعَة الَّتِي فَاتَتْهُ ثمَّ ذكر عَلَيْهِ سَجْدَة مُبْهمَة فَإِنَّهُ يخر إِلَى السَّجْدَة الْآن وَيَأْتِي بِرَكْعَة وَيُعِيد ظهرا أَرْبعا

153 - مَسْأَلَة من رعف فِي صلَاته فَإِن كَانَ فَذا فتله إِن كَانَ يَسِيرا وَتَمَادَى على صلَاته وَإِن كَانَ كثيرا لَا يذهبه الفتل قطع وَإِن كَانَ مَأْمُوما فَإِنَّهُ يفتله إِن كَانَ يَسِيرا وَإِن كَانَ كثيرا فمضت لَهُ رَكْعَة بسجدتيها فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِن شَاءَ قطع وَإِن شَاءَ بنى وَخرج بِالشُّرُوطِ وَغسل الدَّم ثمَّ رَجَعَ فَيتم صلَاته
147 - মাসয়ালা: উম্মুল কুরআন তথা সূরা ফাতিহার সাথে পঠিত সূরাতে যে ব্যক্তি ভুল (لحن) করবে, তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না।

148 - মাসয়ালা: বিতর নামাজে যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে (سها) যাবে, সে পরবর্তী রাকাতকে তার সাথে মিলিয়ে জোড় করে নিবে এবং সালামের পূর্বে সিজদাহ (سجدة) প্রদান করে পুনরায় বিতর নামাজ আদায় করবে।

149 - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি কোনো ইমামের সমালোচনা বা দোষারোপ (قدح) করবে, তার কথা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না সে তা প্রমাণ করতে পারে।

150 - মাসয়ালা: নামাজরত অবস্থায় যে ব্যক্তির মনে সন্দেহ (شك) তৈরি হয় যে তার শরীরে অপবিত্রতা (نجاسة) লেগে আছে এবং সে ওই অবস্থাতেই নামাজ চালিয়ে যায়, অতঃপর সালাম ফেরানোর পর তার ওই সন্দেহ দূর হয়ে যায়, তবে এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।

151 - মাসয়ালা: জুমার শেষ রাকাতে কোনো সিজদাহ (سجدة) বাদ পড়ার কথা যদি ইমামের সালাম ফেরানোর পর স্মরণে আসে, তবে সে সিজদাহর জন্য লুটিয়ে পড়বে, তাশাহহুদ পড়বে এবং সালাম ফেরাবে; আর মুস্তাহাব হলো সে যেন পুনরায় চার রাকাত জোহর আদায় করে নেয়।

152 - মাসয়ালা: যদি কোনো মুক্তাদি জুমার নামাজের এক রাকাত পায় এবং ছুটে যাওয়া রাকাতটি পূর্ণ করার পর তার কোনো অনির্দিষ্ট সিজদাহ (سجدة) বাকি থাকার কথা মনে পড়ে, তবে সে তৎক্ষণাৎ সিজদাহর জন্য লুটিয়ে পড়বে এবং আরও এক রাকাত আদায় করবে, অতঃপর পুনরায় চার রাকাত জোহর পড়বে।

153 - মাসয়ালা: নামাজের মধ্যে যার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে (رعف) শুরু করে, সে যদি একাকী নামাজ আদায়কারী (فذ) হয় এবং রক্তের পরিমাণ অল্প হয়, তবে সে তা আঙুল দিয়ে ঘষবে এবং নামাজ চালিয়ে যাবে। আর যদি রক্ত বেশি হয় যা ঘষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়, তবে নামাজ ভেঙে দিবে। আর যদি সে মুক্তাদি হয়, তবে অল্প রক্তের ক্ষেত্রে তা ঘষে দিবে। কিন্তু রক্ত যদি বেশি হয় এবং ইতোমধ্যে তার এক রাকাত দুই সিজদাহসহ (سجدة) সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে তার এখতিয়ার রয়েছে; সে চাইলে নামাজ ভেঙে দিতে পারে অথবা চাইলে পূর্বের নামাজের ওপর ভিত্তি (بنى) করে নির্দিষ্ট শর্তাবলি মেনে বেরিয়ে রক্ত ধুয়ে আসতে পারে এবং ফিরে এসে তার নামাজ পূর্ণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল ফিকহিয়্যাহ লিইবনি কাদ্দাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
154 - مَسْأَلَة من كَانَ فِي صَلَاة وَسقط عَلَيْهِ ثوب نجس فَإِن صلَاته بطلت

155 - مَسْأَلَة رجل صلى وحرك ثوبا نجسا بِرَأْسِهِ فَإِنَّهُ يقطع وَإِن تَمَادى أعَاد فِي الْوَقْت

156 - مَسْأَلَة رجل أخر الْعَصْر إِلَى أَن بَقِي لغروب الشَّمْس وَمِقْدَار رَكْعَة فَلَمَّا صلى هَذِه ذكر فِي آخر صلَاته أَنه أسقط سَجْدَة من الرَّكْعَة الَّتِي أَتَى بهَا قبل الْغُرُوب فَإِنَّهُ يَأْتِي بِرَكْعَة وَتَكون صلَاته قَضَاء كلهَا

157 - مَسْأَلَة من صلى الْجُمُعَة خَارج الْمَسْجِد وَكَانَ فِيهِ اتساع فَصلَاته صَحِيحَة

158 - مَسْأَلَة فِي رجل صلى مَعَ الإِمَام رَكْعَة فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّانِيَة سَهَا
১৫৪ - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি নামাজরত ছিল এবং তার ওপর একটি অপবিত্র (نجس) কাপড় পতিত হলো, তবে তার নামাজ বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে।

১৫৫ - মাসয়ালা: কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ল এবং মাথা দিয়ে একটি অপবিত্র (نجس) কাপড় নাড়াচাড়া করল, তবে সে নামাজ ছিন্ন করবে। আর যদি সে তা অব্যাহত রাখে, তবে ওয়াক্ত থাকতেই তা পুনরায় আদায় করবে।

১৫৬ - মাসয়ালা: কোনো ব্যক্তি আসরের নামাজকে এতটা বিলম্ব করল যে সূর্যাস্তের কেবল এক রাকাত সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট রইল। অতঃপর যখন সে এই নামাজটি পড়ল, নামাজের শেষ পর্যায়ে তার স্মরণ হলো যে, সূর্যাস্তের পূর্বে আদায়কৃত রাকাতে সে একটি সিজদা ছেড়ে দিয়েছে; এমতাবস্থায় সে এক রাকাত আদায় করবে এবং তার সম্পূর্ণ নামাজটি কাজা (قضاء) হিসেবে গণ্য হবে।

১৫৭ - মাসয়ালা: যে ব্যক্তি মসজিদের ভেতর প্রশস্ততা থাকা সত্ত্বেও মসজিদের বাইরে জুমার নামাজ আদায় করল, তার নামাজ সহিহ (صحيحة) হবে।

১৫৮ - মাসয়ালা: এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ইমামের সাথে এক রাকাত নামাজ আদায় করল, অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে সে ভুল (سها) করল।