(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: -)
المسائل التسع   (حامد مرزا الفرغاني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: المسائل التسع

المؤلف: حامد مرزا خان الفرغاني النمنكاني الحنفي (ت 1393هـ)

الناشر: مكتبة الإيمان - المدينة المنورة

الطبعة: الثانية، 1405

عدد الصفحات: 57

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাসায়িলুত তিসআ   (হামিদ মির্জা আল-ফারগানি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ (الفقه العام)


গ্রন্থ: আল-মাসায়িলুত তিসআ

লেখক: হামিদ মির্জা খান আল-ফারগানি আন-নামানকানি আল-হানাফি (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ঈমান - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أشرف الْمُرْسلين سيد الْأَوَّلين والآخرين سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

‌‌الْمَسْأَلَة الأولى

 

قَالَ الْقَدُورِيّ وَلَا الأستئجار على الْأَذَان وَالْحج وَكَذَا الامامة وَتَعْلِيم الْقُرْآن والاصل ان كل طَاعَة يخْتَص بهَا الْمُسلم لايجوز الِاسْتِئْجَار عَلَيْهِ عندنَا وَعند الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى يَصح فِي كل مَالا يتَعَيَّن على الْأَجِير لانه اسْتِئْجَار على عمل مَعْلُوم غير مُتَعَيّن عَلَيْهِ فَيجوز وَلنَا قَوْله عليه الصلاة والسلام اقرؤا الْقُرْآن والاتأكلوا بِهِ وَفِي آخر مَا عهد رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم الى عُثْمَان بن أبي الْعَاصِ وان اتَّخذت مُؤذنًا فَلَا تَأْخُذ على الْأَذَان اجرا

ولان الْقرْبَة مَتى حصلت وَقعت عَن الْعَامِل وَلذَا تعْتَبر اهليته فَلَا يجوز لَهُ اخذ الاجرة من غَيره كَمَا فِي الصَّوْم وَالصَّلَاة ولان التَّعْلِيم مِمَّا لَا يقدر الْمعلم الا بِمَعْنى من قبل المتعلم فَيكون مُلْتَزما مَالا يقدر على تَسْلِيمه فَلَا يَصح

وَبَعض مَشَايِخنَا استحسنو االأستئجار على تَعْلِيم الْقُرْآن الْيَوْم لانه ظهر التوالي فِي الامور الدِّينِيَّة فَفِي الأمتناع يضيع حفظ الْقُرْآن وَعَلِيهِ الْفَتْوَى هِدَايَة من كتاب الاجارة
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা, আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

‌‌প্রথম মাসআলা

 

ইমাম কুদুরি (রহ.) বলেছেন, আজান ও হজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়, অনুরূপভাবে ইমামতি ও কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই বিধান। মূলনীতি হলো, এমন প্রতিটি ইবাদত যা কেবল মুসলমানের সাথে নির্দিষ্ট, আমাদের নিকট তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ নয়। আর ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর মতে, যা পালন করা শ্রমিকের ওপর সুনির্দিষ্টভাবে অবধারিত নয় এমন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক গ্রহণ সহিহ (صحيح) হবে; কারণ এটি একটি জানা কাজের বিপরীতে পারিশ্রমিক নির্ধারণ যা তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে অপরিহার্য নয়, তাই এটি বৈধ। আমাদের দলিল হলো নবী (সা.)-এর বাণী: "তোমরা কুরআন পাঠ করো তবে এর বিনিময়ে ভক্ষণ করো না (পারিশ্রমিক গ্রহণ করো না)।" এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) উসমান ইবনে আবিল আস (রা.)-কে যে সর্বশেষ অসিয়ত বা উপদেশ প্রদান করেছিলেন তাতে ছিল: "আর যদি তুমি মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করো, তবে আজানের জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করো না।"

তদুপরি, যখন কোনো নৈকট্যমূলক ইবাদত সম্পন্ন হয় তখন তা আমলকারীর পক্ষ থেকেই সম্পাদিত হয় এবং এজন্য তার যোগ্যতাই ধর্তব্য হয়। সুতরাং রোজা ও নামাজের ন্যায় অন্যের থেকে এর পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ নয়। এছাড়া শিক্ষা প্রদানের বিষয়টি এমন যা শিক্ষক শিক্ষার্থীর বোধগম্যতা বা অংশগ্রহণ ছাড়া সম্পন্ন করতে সক্ষম নন; ফলে তিনি এমন বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন যা হস্তান্তরে তিনি পূর্ণ সক্ষম নন, তাই এটি সহিহ (صحيح) নয়।

তবে আমাদের পরবর্তী যুগের কোনো কোনো মাশায়েখ বর্তমানে কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে মুস্তাহসান বা উত্তম মনে করেছেন। কারণ দ্বীনি বিষয়ে বর্তমানে শিথিলতা ও অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে; এমতাবস্থায় পারিশ্রমিক গ্রহণে বাধা দিলে কুরআন হিফজ করার ধারা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এর ওপরই ফতোয়া কার্যকর — হিদায়া, কিতাবুল ইজারা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৪)
وَفِي الْبَزَّازِيَّة وَيكرهُ اتِّخَاذ الطَّعَام فِي الْيَوْم الأول وَالثَّالِث وَبعد الْأُسْبُوع وَنقل الطَّعَام الى الْقَبْر فِي المواسم واتخاذ الدعْوَة لقِرَاءَة الْقُرْآن وَجمع الصلحاء والقراء للختم اَوْ لقِرَاءَة سُورَة الْأَنْعَام أَو الاخلاص وَالْحَاصِل ان اتِّخَاذ الطَّعَام عِنْد قِرَاءَة الْقُرْآن لاجل الاكل يكره وفيهَا من كتاب الِاسْتِحْسَان وان اتخذ طَعَاما للْفُقَرَاء كَانَ حسنا 1 هـ

واطال فِي ذَلِك فِي الْمِعْرَاج وَقَالَ هَذِه الْأَفْعَال كلهَا للسمعة والرياء فيحترز عَنْهَا لانهم لايريدون بهَا وَجه الله تَعَالَى 1 هـ ج 1 ص 941 رد الْمُخْتَار

قَالَ فِي الْفَتْح وَيكرهُ اتِّخَاذ الضِّيَافَة من الطَّعَام من اهل الْمَيِّت لانه شرع فِي السرُور لافي الشرور وَهِي بِدعَة مستقبحة

روى الْأَمَام احْمَد وَابْن ماجة بِإِسْنَاد صَحِيح عَن جرير بن عبد الله رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ كُنَّا نعد الأحتماع الى اهل الْمَيِّت وصنعهم الطَّعَام من النِّيَاحَة 1 هـ الْمُحْتَار ج 1 ص 940

وَبحث هُنَا فِي شرح الْمنية بمعارضة حَدِيث جرير الْمَار بِحَدِيث آخر فِيهِ انه عليه الصلاة والسلام دَعَتْهُ امْرَأَة رجل ميت لما رَجَعَ من دَفنه فجَاء وَجِيء بِالطَّعَامِ اقول وَفِيه نظر فانه وَاقعَة حَال لاعموم لَهَا مَعَ احْتِمَال سَبَب خَاص بِخِلَاف حَدِيث جرير على انه بحث فِي الْمَنْقُول فِي مَذْهَبنَا وَمذهب غَيرنَا كالشافعية والحنابلة اسْتِدْلَالا بِحَدِيث جرير الْمَذْكُور على الْكَرَاهِيَة رد الْمُحْتَار ج 1941

ان الْقِرَاءَة بِشَيْء من الدُّنْيَا لَا تجوز وانما افتى الْمُتَأَخّرُونَ بِجَوَاز الِاسْتِئْجَار على تَعْلِيم الْقُرْآن لَا على التِّلَاوَة وعللوه بِالضَّرُورَةِ وَهِي خوف ضيَاع الْقُرْآن وَلَا ضَرُورَة فِي جَوَاز الأستئجار على التِّلَاوَة رد الْمُحْتَار ج 1767

আল-বাযযাযিয়া গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথম দিন, তৃতীয় দিন এবং এক সপ্তাহ পর খাবারের আয়োজন করা মাকরুহ। অনুরূপভাবে বিভিন্ন বিশেষ মৌসুমে কবরে খাবার নিয়ে যাওয়া, কুরআন তিলাওয়াতের জন্য দাওয়াতের ব্যবস্থা করা এবং খতমের উদ্দেশ্যে কিংবা সূরা আল-আনআম অথবা সূরা আল-ইখলাস পাঠের জন্য নেককার ও ক্বারীগণকে সমবেত করাও অপছন্দনীয়। সারকথা হলো, কুরআন তিলাওয়াতের সময় খাওয়ার উদ্দেশ্যে খাবারের আয়োজন করা মাকরুহ। তবে উক্ত কিতাবের 'ইস্তিহসান' অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, যদি দরিদ্রদের খাওয়ানোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, তবে তা উত্তম (حسن)।

'আল-মিরাজ' গ্রন্থে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এই সব কাজই লোকদেখানো এবং সুখ্যাতি অর্জনের জন্য করা হয়; তাই এগুলো পরিহার করা আবশ্যক। কারণ তারা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৪১)

'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মেহমানদারির জন্য খাবারের আয়োজন করা মাকরুহ। কারণ শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে মেহমানদারির বিধান রাখা হয়েছে আনন্দের মুহূর্তে, বিপদের সময় নয়; আর এটি একটি নিকৃষ্ট বিদআত।

ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ একটি সহীহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া এবং তাদের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপ (নিয়াহাহ) হিসেবে গণ্য করতাম।" (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৪০)

'শারহুল মুনইয়া' গ্রন্থে এখানে জারীর (রা.)-এর বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের বিপরীতে অন্য একটি হাদিস দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে যে, এক ব্যক্তির ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দাফন থেকে ফেরার পথে দাওয়াত দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি সেখানে যান এবং খাবার পরিবেশন করা হয়। আমি (গ্রন্থকার) বলি, এই আপত্তিতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি ছিল একটি বিশেষ ঘটনা যা সর্বজনীন নয় এবং এতে কোনো বিশেষ কারণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি জারীর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের পরিপন্থী নয়। অধিকন্তু, আমাদের মাযহাব (হানাফি) এবং শাফেয়ী ও হাম্বলি মাযহাবের উদ্ধৃতিসমূহে জারীর (রা.)-এর উক্ত হাদিসটিকেই মাকরুহ হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৪১)

দুনিয়াবী কোনো বিনিময়ের বিনিময়ে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। পরবর্তী যুগের ফকীহগণ কেবল কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন, তিলাওয়াতের ওপর নয়। তারা একে 'প্রয়োজনীয়তা' (যরূরাত)-এর ভিত্তিতে জায়েজ বলেছেন, যা হলো কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু কেবল তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান নেই। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৬৭)

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৫)
قَالَ صَاحب الطَّرِيقَة فِي آخر الْفَصْل الثَّالِث فِي بعض امور مبتدعة بَاطِلَة أكب النَّاس عَلَيْهَا على ظن انها قرب مَقْصُودَة وَهَذِه كَثِيرَة فلنذكر اعظمها مِنْهَا وقف الاوقاف سِيمَا النُّقُود لتلاوة الْقُرْآن اَوْ لَان يصلى نوافل اَوْ لَان يسبح اَوْ لَان يهلل اَوْ يصلى على النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَيُعْطِي ثَوَابهَا لروح الْوَاقِف اَوْ لروح من اراده

وَمِنْهَا الْوَصِيَّة من الْمَيِّت باتخاذ الطَّعَام والضيافة يَوْم مَوته اَوْ بعده وباعطاء دَرَاهِم مَعْدُودَة لمن يَتْلُو الْقُرْآن لروحه اَوْ يهلل اَوْ يسبح لَهُ اَوْ بِأَن يبيت عِنْد قَبره رجال اربعين لية اَوْ اكثر اَوْ اقل اَوْ بِأَن يَبْنِي على قَبره وكل هَذِه بدع ومنكرات وَالْوَقْف وَالْوَصِيَّة باطلان والمأخوذ مِنْهُمَا حرَام للآخذ وَهُوَ عَاص بالتلاوة للقران وَالذكر لاجل حطام الدُّنْيَا الخ شِفَاء العليل 174

الْقيَاس عِنْد الْحَنَفِيَّة عدم الْأُجْرَة فِي التَّعْلِيم مُطلقًا وَجوز فِي الرقي خَاصَّة لهَذَا الحَدِيث على خلاف الْقيَاس وَهُوَ قَوْله عليه الصلاة والسلام احق مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ اجرا كتاب الله الخ وحملو الْأُجْرَة فِي الحَدِيث على الْأُجْرَة للرقية الخ

وان الحَدِيث خبر وَاحِد الا يُعَارض نَحْو نَص قَوْله تَعَالَى وَلَا تشتروا بآياتي ثمنا قَلِيلا الخ وَدَعوى دلَالَة النُّصُوص والاجماع على الْجَوَاز كذب وافتراء

فان دلَالَة الادلة الْأَرْبَعَة على عدم الْجَوَاز لقَوْله سبحانه وتعالى قل لَا اسألكم عَلَيْهِ أجرا ان هُوَ الاذكر للْعَالمين

وَلقَوْله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم اقرؤا الْقُرْآن وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ وللأجماع على انه لاثواب الا بِالنِّيَّةِ وَهِي الْحَالة الباعثه على الْعَمَل الْمعبر عَنْهَا بالعزم
‘তরিকাহ’ গ্রন্থের লেখক তৃতীয় পরিচ্ছেদের শেষে এমন কিছু উদ্ভাবিত ও বাতিল বিষয় সম্পর্কে বলেছেন যার প্রতি মানুষ এই ধারণায় ঝুঁকে পড়েছে যে এগুলো উদ্দিষ্ট ইবাদত। এই ধরনের বিষয় অনেক, তাই আমরা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরগুলো উল্লেখ করছি। তার মধ্যে একটি হলো—ওয়াকফ করা, বিশেষ করে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ আদায়, তাসবিহ পাঠ, তাহলিল পাঠ অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের বিনিময়ে নগদ অর্থ প্রদান করা এবং এর সওয়াব ওয়াকফকারীর রুহ বা সে যার জন্য ইচ্ছা করেছে তার রুহে পৌঁছানো।

এর মধ্যে আরও রয়েছে—মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর দিনে বা পরে খাবার ও মেহমানদারির আয়োজন করার ওসিয়ত করা; তার রুহের মাগফিরাতের জন্য কোরআন তিলাওয়াতকারী, তাহলিল বা তাসবিহ পাঠকারীকে নির্দিষ্ট দিরহাম প্রদান করা; অথবা তার কবরের পাশে চল্লিশ রাত বা তার কম-বেশি সময় অবস্থান করার বা কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের ওসিয়ত করা। এগুলোর সবই বিদআত এবং বর্জনীয় (منكرات)। এক্ষেত্রে ওয়াকফ ও ওসিয়ত উভয়ই বাতিল এবং তা থেকে যা গ্রহণ করা হয় তা গ্রহণকারীর জন্য হারাম। দুনিয়াবী তুচ্ছ সম্পদের বিনিময়ে কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির করার কারণে সে পাপিষ্ঠ হিসেবে গণ্য হবে... (শিফা আল-আলীল, ১৭৪)।

হানাফি মাজহাবের কিয়াস অনুযায়ী—শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়। তবে কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও এই হাদিসের ভিত্তিতে বিশেষভাবে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে তা বৈধ করা হয়েছে। আর তা হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহর কিতাবই সেই বস্তু যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার অধিক হকদার তোমরা"...। তারা হাদিসে বর্ণিত পারিশ্রমিককে রুকইয়াহর পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

নিশ্চয়ই হাদিসটি একক সংবাদ (خبر واحد), যা মহান আল্লাহর বাণীর মতো অকাট্য দলিলের সাথে বিরোধপূর্ণ হতে পারে না: "তোমরা আমার আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করো না"...। আর নসসমূহ ও ইজমার দলিল (এ বিষয়ে) বৈধতার ইঙ্গিত দেয় বলে যে দাবি করা হয়, তা মিথ্যা ও অপবাদ।

কেননা চারটি দলিলের নির্দেশনাই এর অবৈধতার পক্ষে, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; এটি তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।"

এবং মহান আল্লাহ তাআলার রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তোমরা কোরআন পাঠ করো কিন্তু এর দ্বারা ভক্ষণ করো না (বিনিময় নিও না)।" আর এই বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে—নিয়াত ব্যতীত কোনো সওয়াব নেই; আর নিয়াত হলো কাজের প্রতি সেই উদ্দীপক অবস্থা যাকে দৃঢ় সংকল্প হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৬)
6 - وَالْقَصْد وَلَا تُوجد فِيمَا نَحن فِيهِ فَلَا ثَوَاب وَلَا اجارة وَلَا بيع لانهما بِهِ مَا واردان على الْمَوْجُود وَالثَّوَاب هُنَا مَعْدُوم واما الْقيَاس فان الْقِرَاءَة مثل الصَّوْم وَالصَّلَاة فِي كَونهَا عبَادَة بدنية مَحْضَة فَكَمَا لَا تجوز الْأُجْرَة عَلَيْهِمَا لَا تجوز عَلَيْهَا الخ البريقة شرح الطَّرِيقَة المحمدية ج 2 126 من بَاب الرِّيَاء

وَعَن الحافط الْعَيْنِيّ فِي شرح الْهِدَايَة عَن الْوَاقِعَات وَيمْنَع الْقَارئ للدنيا والآخذ والمعطي آثمان وَكَانَ احتجاج الْمُعْتَرض بِالْحَدِيثِ والكتب الضعيفة كَانَ رَأيا فِي مُقَابلَة النَّص وترجيح الْمَرْجُوح على الرَّاجِح

وَقد كَانَ دَلِيل الْمُقَلّد هُوَ قَول من قَلّدهُ لَا غير 1 هـ البريقة ج 2127 وانما مَذْهَب الْمُقَلّد فِيمَا يسْأَله مَذْهَب من يسْأَله عَنهُ هَذَا هُوَ الاصل اه الْملَل والنحل ج 1357

الحكم والفتيا بالْقَوْل الْمَرْجُوح جهل وخرق للاجماع الدّرّ الْمُخْتَار ج 1357 قَوْله بالْقَوْل الْمَرْجُوح كَقَوْل مُحَمَّد مَعَ وجود قَول ابي يُوسُف رحمهمَا الله تَعَالَى اذا لم يصحح اَوْ يقو وَجهه واولى من هَذَا بِالْبُطْلَانِ الافتاء بِخِلَاف ظَاهر الرِّوَايَة اذا لم يصحح والافتاء بالْقَوْل المرجوع عَنهُ 1 هـ ج رد الْمُحْتَار

مَسْأَلَة فِيمَن يقْرَأ ختمات من الْقُرْآن بِأُجْرَة هَل يحل لَهُ ذَلِك وَهل يكون مَا يَأْخُذهُ من الْأُجْرَة من بَاب التكسب اَوْ الصَّدَقَة

الْجَواب نعم يحل لَهُ اخذ المَال على الْقِرَاءَة وَالدُّعَاء بعْدهَا وَلَيْسَ ذَلِك من بَاب الْأُجْرَة وَلَا الصَّدَقَة بل من بَاب الْجعَالَة فَإِن الْقِرَاءَة لَا يجوز الِاسْتِئْجَار عَلَيْهَا لِأَن مَنْفَعَتهَا لَا تعود للْمُسْتَأْجر لما تقرر فِي مَذْهَبنَا من أَن ثَوَاب الْقِرَاءَة للقارئ لَا للمقروء لَهُ
6 - উদ্দেশ্য (নিয়ত), যা আমাদের আলোচ্য বিষয়ে অনুপস্থিত। তাই এখানে কোনো সওয়াব নেই, কোনো পারিশ্রমিক নেই এবং কোনো কেনা-বেচাও নেই। কারণ বিনিময় এবং কেনা-বেচা উভয়ই বিদ্যমান বিষয়ের ওপর কার্যকর হয়, অথচ এখানে সওয়াব তো অবিদ্যমান। আর কিয়াসের (যৌক্তিক তুলনা) ক্ষেত্রে বলা যায়, তিলাওয়াত হলো রোজা ও নামাজের মতোই একটি বিশুদ্ধ শারীরিক ইবাদত। সুতরাং যেভাবে এ দুটির ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ নেই, তেমনি তিলাওয়াতের ওপরও তা জায়েজ নয়... ইত্যাদি। আল-বারীকাহ শারহুত ত্বরীকাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, ১২৬ পৃষ্ঠা, রিয়া (লোকপ্রদর্শন) অধ্যায়।

এবং হাফিজ আল-আইনি শারহুল হিদায়াহ-তে ‘আল-ওয়াকিআত’ থেকে বর্ণনা করেছেন: দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে তিলাওয়াতকারীকে বাধা দিতে হবে; এবং গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ই গুনাহগার হবে। আর বিরোধিতাকারীর হাদিস এবং দুর্বল (ضعيف) গ্রন্থাবলি দিয়ে দলিল পেশ করা ছিল মূলত অকাট্য দলিলের (নস) বিপরীতে ব্যক্তিগত মত প্রদান এবং প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) মতের ওপর অপ্রাধান্যযোগ্য (المرجوح) মতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শামিল।

আর মুকাল্লিদের (অনুসারী) দলিল কেবল তার ইমামের কথা ছাড়া আর কিছু নয়। [আল-বারীকাহ, ২য় খণ্ড, ১২৭ পৃষ্ঠা]। মূলত একজন মুকাল্লিদ যা জিজ্ঞাসা করেন, তার মাযহাব হলো সেই মুফতির মাযহাব যাকে তিনি প্রশ্ন করেন; এটাই হলো মূলনীতি। [আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১ম খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা]।

অপ্রাধান্যযোগ্য (المرجوح) মতের ভিত্তিতে ফয়সালা ও ফতোয়া প্রদান করা মূর্খতা এবং ইজমা (إجماع)-এর পরিপন্থী। [আদ-দুররুল মুখতার, ১ম খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা]। ‘অপ্রাধান্যযোগ্য মত’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যেমন ইমাম আবু ইউসুফের (র.) মত বিদ্যমান থাকা অবস্থায় ইমাম মুহাম্মদের (র.) মত গ্রহণ করা, যদি তার সপক্ষে বিশুদ্ধতা (تصحيح) সাব্যস্ত না হয় বা তার দিকটি শক্তিশালী না হয়। আর এর চেয়েও বাতিলযোগ্য কাজ হলো বিশুদ্ধতা (تصحيح) প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও ‘জাহিরুর রিওয়াহ’র বিপরীত ফতোয়া দেওয়া এবং যে মত থেকে প্রত্যাবর্তন (مرجوع عنه) করা হয়েছে তার ওপর ফতোয়া দেওয়া। [রদ্দুল মুহতার]।

মাসআলা: যে ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন খতম করে, তার জন্য কি তা হালাল হবে? এবং সে যা গ্রহণ করে তা কি উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি সদকার অন্তর্ভুক্ত হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, তিলাওয়াত এবং এরপর দোয়ার জন্য অর্থ গ্রহণ করা তার জন্য জায়েজ। তবে এটি পারিশ্রমিক বা সদকার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং ‘জুআলা’ (পুরস্কার বা কাজের বিনিময়)-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জায়েজ নয়, কারণ এর উপকারিতা ভাড়া প্রদানকারীর কাছে ফিরে আসে না। যেহেতু আমাদের মাযহাবে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো, তিলাওয়াতের সওয়াব তিলাওয়াতকারীর জন্য, যার জন্য তিলাওয়াত করা হয়েছে তার জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৭)
وَتجوز الْجعَالَة عَلَيْهَا ان شَرط الدُّعَاء بعْدهَا وَإِلَّا فَلَا وَتَكون الْجعَالَة على الدُّعَاء لَا على الْقِرَاءَة هَذَا مُقْتَضى قَوَاعِد الْفِقْه وَقَررهُ لنا أشياخنا اه الْحَاوِي للفتاوي لجلال الدّين السُّيُوطِيّ رَحمَه الله تَعَالَى ج 1126

فَأَما الاخذ على الرّقية فَإِن أَحْمد رَحمَه الله تَعَالَى اخْتَار جَوَازه وَقَالَ لابأس بِهِ وَذكر حَدِيث ابي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَالْفرق بَينه وَبَين مَا اخْتلف فِيهِ اي فِي تَعْلِيم الْقُرْآن ان الرّقية نوع من المداواة والمأخوذ عَلَيْهَا جعل والمداواة يُبَاح أَخذ الْأجر عَلَيْهَا والجعالة أوسع من الأجارة وَلِهَذَا تجوز مَعَ جَهَالَة الْعَمَل والمدة وَقَوله عليه الصلاة والسلام أَحَق مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ أجرا كتاب الله يَعْنِي بِهِ الْجعل أَيْضا فِي الرّقية لِأَنَّهُ ذكر ذَلِك أَيْضا فِي سِيَاق الْجَبْر اه المغنى لِابْنِ قدامَة رَحمَه الله تَعَالَى 8 5 ج 5 من الأجارة

مَذْهَب على رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ ان الْحَظْر والاباحة اذا اجْتمعَا فالحظر أولى اذا تساوى سبباهما وَكَذَلِكَ يجب أَن يكون حكمهمَا فِي الْأَخْبَار المروية عَن النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَمذهب أَصْحَابنَا يدل على أَن ذَلِك قَوْلهم وَقد بَيناهُ فِي أصُول الْفِقْه اه أَحْكَام الْقُرْآن 158 ج 2

وَمِمَّا يدل على أَن التَّحْرِيم أولى لَو تَسَاوَت الْآيَتَانِ فِي ايجاب حكميهما أَن فعل الْمَحْظُور يسْتَحق بِهِ الْعقَاب وَترك الْمُبَاح لَا يسْتَحق بِهِ الْعقَاب والأحتياط والأمتناع مِمَّا لَا يُؤمن اسْتِحْقَاق الْعقَاب بِهِ فَهَذِهِ قَضِيَّة وَاجِبَة فِي حكم الْعقل اه احكام الْقُرْآن ج 2 159

وَمَتى ورد خبران فِي احدهما حظر شئ وَفِي الآخر اباحته فخبر الْحَظْر أولاهما

এর ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জায়েজ হবে যদি এর পর দোয়ার শর্তারোপ করা হয়, অন্যথায় নয়। আর এই পারিশ্রমিক হবে দোয়ার বিনিময়ে, তিলাওয়াতের বিনিময়ে নয়। ফিকহের মূলনীতিসমূহের দাবি এটিই এবং আমাদের শায়খগণ আমাদের নিকট এটি সাব্যস্ত করেছেন। সমাপ্ত - জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.)-এর আল-হাবি লিল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৬।

ঝাড়ফুঁকের (রুকইয়া) বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ (রহ.) এর বৈধতাকে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন যে, এতে কোনো দোষ নেই। তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন। আর ঝাড়ফুঁক এবং যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো, ঝাড়ফুঁক এক প্রকার চিকিৎসা। আর এর বিনিময়ে যা গ্রহণ করা হয় তা হলো নির্ধারিত পুরস্কার। চিকিৎসার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ। আর পুরস্কারভিত্তিক চুক্তি সাধারণ শ্রম চুক্তির চেয়ে ব্যাপক; এই কারণেই কাজের ধরন ও সময়সীমা অজ্ঞাত থাকলেও এটি বৈধ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, তার মধ্যে আল্লাহর কিতাবই অধিক হকদার", এর দ্বারা ঝাড়ফুঁকের বিনিময়ই উদ্দেশ্য। কারণ তিনি এটি পুরস্কার প্রদানের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত - ইবনে কুদামা (রহ.)-এর আল-মুগনী, ইজারা অধ্যায়, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৮।

আলী (রা.)-এর মাযহাব হলো, যখন নিষেধাজ্ঞা ও বৈধতা একত্র হয়, তখন নিষেধাজ্ঞাই প্রাধান্য পাবে—যদি উভয় বিষয়ের কারণসমূহ সমান হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহের (الأخبار المروية) ক্ষেত্রেও হুকুম এমনই হওয়া উচিত। আমাদের সাথীদের মাযহাবও নির্দেশ করে যে এটিই তাদের অভিমত এবং আমরা তা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে বর্ণনা করেছি। সমাপ্ত - আহকামুল কুরআন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৮।

আর যা হারাম হওয়া বা নিষেধাজ্ঞাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রমাণ বহন করে—যদি বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে দুটি আয়াত সমান হয়—তা হলো, নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া শাস্তির যোগ্য করে তোলে, কিন্তু একটি বৈধ কাজ ত্যাগ করলে শাস্তির যোগ্য হতে হয় না। আর যে বিষয়ে শাস্তির ভয় থাকে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন ও বিরত থাকা আকল বা যুক্তির বিচারে একটি আবশ্যকীয় বিষয়। সমাপ্ত - আহকামুল কুরআন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৯।

যখন দুটি সংবাদ (خبر) বর্ণিত হয় যার একটিতে কোনো বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যটিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তখন নিষেধাজ্ঞার সংবাদটিই (خبر) অগ্রগণ্য হবে।

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৮)
بِالِاسْتِعْمَالِ اه أَحْكَام الْقُرْآن ج 2 2387

قَالَ الامام البُخَارِيّ فِي كتاب فَضَائِل الْقُرْآن بَاب اثم من راآى بِقِرَاءَة الْقُرْآن أَو تَأْكُل بِهِ أَو فجر بِهِ

وَرُوِيَ فِيهِ ثَلَاثَة أَحَادِيث الحَدِيث الاول عَن عَليّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يَقُول يَأْتِي فِي آخر الزَّمَان قوم حدثاء الاسنان سُفَهَاء الاحلام يَقُولُونَ من خير قَول الْبَريَّة يَمْرُقُونَ من الاسلام كَمَا يَمْرُق السهْم من الرَّمية لَا يُجَاوز ايمانهم حَنَاجِرهمْ فأينما لقيتموهم فاقتلوهم فان قَتلهمْ أجر لمن قَتلهمْ

الثَّانِي عَن ابي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يَقُول يخرج فِيكُم قوم تحقرون صَلَاتكُمْ مَعَ صلَاتهم وَصِيَامكُمْ مَعَ صِيَامهمْ وعملكم مَعَ عَمَلهم وقرؤون الْقُرْآن لَا يُجَاوز حَنَاجِرهمْ يَمْرُقُونَ من الدّين كَمَا يَمْرُق السهْم من الرَّمية ينظر فِي النصل هُوَ حَدِيد السهْم فَلَا يرى شَيْئا وَينظر فِي الْقدح هُوَ السهْم فَلَا يرى شَيْئا وَينظر فِي الريش فَلَا يرى شَيْئا ويتمارى فِي الفوق بِضَم الْفَاء هُوَ مدْخل الْوتر

الثَّالِث عَن أبي مُوسَى الاشعري رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم قَالَ الْمُؤمن الَّذِي يقْرَأ الْقُرْآن وَيعْمل بِهِ كالأترجة طعمها طيب وريحها طيب وَالْمُؤمن الَّذِي لَا يقْرَأ الْقُرْآن وَيعْمل بِهِ كالتمرة طعمها طيب وَلَا ريح لَهَا وَمثل الْمُنَافِق الَّذِي يقْرَأ الْقُرْآن كالريحانة رِيحهَا طيب وطعمها مر وَمثل الْمُنَافِق الَّذِي لَا يقْرَأ الْقُرْآن كالحنظلة طعمها مر خَبِيث وريحها مر 1 هـ
ব্যবহারের মাধ্যমে। সমাপ্ত, আহকামুল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৮৭।

ইমাম বুখারি ‘ফাযাইলুল কুরআন’ গ্রন্থে ‘কুরআন পাঠের মাধ্যমে লোক দেখানো অথবা এর দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা কিংবা এর মাধ্যমে পাপাচার করার গুনাহ’ পরিচ্ছেদে বলেছেন—

এবং এতে তিনটি হাদিস বর্ণিত (روي) হয়েছে। প্রথম হাদিসটি আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা বয়সে তরুণ এবং বুদ্ধি-বিবেচনায় অপরিণত। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বচন (কুরআন) থেকে আবৃত্তি করবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি শিকার থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। সুতরাং তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাবে হত্যা করবে; কেননা তাদের হত্যা করা হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতের দিন সওয়াবের কাজ হবে।

দ্বিতীয় হাদিসটি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা তোমাদের সালাতকে, তাদের রোযার তুলনায় তোমাদের রোযাকে এবং তাদের আমলের তুলনায় তোমাদের আমলকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি শিকার থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তীরের ফলক (النصل) তথা তীরের লৌহখণ্ড পরীক্ষা করলে সেখানে (রক্তের) কোনো চিহ্ন দেখা যায় না, তীরের কাণ্ড (القدح) দেখলে সেখানেও কিছু দেখা যায় না, তীরের পালক (الريش) দেখলে সেখানেও কিছু পাওয়া যায় না এবং তীরের খাঁজ (الفوق)—যা সুতা বসানোর জায়গা—সেটি নিয়েও সন্দেহ হয় (যে শিকার ভেদ করেছে কি না)।

তৃতীয় হাদিসটি আবু মুসা আল-াশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে মুমিন কুরআন পাঠ করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে তার দৃষ্টান্ত হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার স্বাদও চমৎকার এবং ঘ্রাণও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না কিন্তু তদানুযায়ী আমল করে তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের মতো, যার স্বাদ চমৎকার কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার দৃষ্টান্ত হলো রায়হান ফুলের মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিতকুটে। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হলো মাকাল ফলের মতো, যার স্বাদ তিতকুটে ও মন্দ এবং ঘ্রাণও তিতকুটে। সমাপ্ত (هـ)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر رَحمَه الله تَعَالَى قَوْله يَقُولُونَ من قَول خير الْبَريَّة هُوَ من المقلوب وَالْمرَاد من قَول خير الْبَريَّة أَي من قَول الله تَعَالَى وَهُوَ الْمُنَاسب للتَّرْجَمَة

وَقَوله لَا يُجَاوز حَنَاجِرهمْ ان المُرَاد أَن الايمان لم يرسخ فِي قُلُوبهم

وَمنا سبة هذَيْن الْحَدِيثين للتَّرْجَمَة أَن الْقِرَاءَة اذا كَانَت لغير الله تَعَالَى فَهِيَ للرياء أَو للتأكل بِهِ وَنَحْو ذَلِك

فالاحاديث الثَّلَاثَة دَالَّة لأركان التَّرْجَمَة لِأَن مِنْهُم من راآي بِهِ واليه الاشارة فِي حَدِيث أبي مُوسَى رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ

وَمِنْهُم من تَأْكُل بِهِ وَهُوَ مخرج من حَدِيث أَيْضا

وَمِنْهُم من فجر بِهِ وَهُوَ مخرج من حَدِيث أبي سعيد رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَعلي رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ

وَقد أخرج أَبُو عبيد فِي فَضَائِل الْقُرْآن من وَجه آخر عَن أبي سعيد رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَصَححهُ الْحَاكِم رَفعه تعلمُوا الْقُرْآن واسألوا الله بِهِ قبل أَن يتعلمه قوم يسْأَلُون بِهِ الدُّنْيَا

فان الْقُرْآن يتعلمه ثَلَاثَة نفر رجل يباهي بِهِ وَرجل يستأكل بِهِ وَرجل يَقْرَؤُهُ لله

وَأخرج أَحْمد وَأَبُو يعلى من حَدِيث عبد الرَّحْمَن بن شبْل رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ رَفعه أقرؤا الْقُرْآن وَلَا تغلو فِيهِ وَلَا تجفوا عَنهُ وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ وَسَنَده قوي
হাফিয ইবনে হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: তাঁর বাণী— "তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের কথা বলবে"—এটি ইনভার্টেড বা বিপরীত বিন্যাস (مقلوب) এর অন্তর্ভুক্ত। আর 'সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের কথা' বলতে মহান আল্লাহর বাণী উদ্দেশ্য, যা অধ্যায় শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর তাঁর বাণী— "তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইমান তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়নি।

অধ্যায় শিরোনামের সাথে এই হাদিস দুটির সামঞ্জস্য হলো এই যে, তিলাওয়াত যখন আল্লাহ তাআলার জন্য না হয়ে অন্য কারো উদ্দেশ্যে হয়, তখন তা লোকদেখানো অথবা এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ হাসিল এবং এই জাতীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।

সুতরাং তিনটি হাদিসই অধ্যায় শিরোনামের মূল বিষয়গুলোর প্রমাণ বহন করে; কারণ তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা এর মাধ্যমে লোকদেখানো কাজ করে, যার দিকে আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ এর মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করে, যা অপর একটি হাদিস থেকেও প্রমাণিত।

আর তাদের মধ্যে কেউ এর মাধ্যমে পাপাচার করে, যা আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

আবু উবায়দ তার ফাদায়িলুল কুরআন গ্রন্থে ভিন্ন সূত্রে আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলে ঘোষণা করেছেন—তিনি এটি মারফূ (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা কুরআন শিক্ষা করো এবং এর উসিলায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো, এমন এক জাতি এটি শিক্ষা করার পূর্বেই যারা এর দ্বারা দুনিয়া অন্বেষণ করবে।"

কেননা কুরআন তিন ধরণের ব্যক্তি শিক্ষা করে: এমন ব্যক্তি যে এর দ্বারা দম্ভ প্রকাশ করে, এমন ব্যক্তি যে এর দ্বারা জীবিকা অন্বেষণ করে এবং এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটি পাঠ করে।

আহমদ এবং আবু ইয়ালা আব্দুর রহমান ইবনে শিবল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিসে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, এতে অতিরঞ্জন করো না, এ থেকে বিমুখ থেকো না এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করো না।" আর এর সনদ শক্তিশালী (قوي)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১০)
واخرج ابو عبيد عَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ سَيَجِيءُ زمَان يسْأَل فِيهِ بِالْقُرْآنِ فاذا سألوكم فَلَا تعطوهم الخ فتح الْبَارِي ج 982

قَوْله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم فِي الحَدِيث الاول فاقتلوهم الخ قَالَ مَالك من قدرعليه مِنْهُم استتيب فان تَابَ والا قتل

وَقَالَ سَحْنُون من كَانَ يَدْعُو الى بِدعَة قوتل حَتَّى يُؤْتى عَلَيْهِ أَو يرجع الى الله تَعَالَى وان لم يدع يصنع بِهِ مَا صنع عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ ويسجن ويكرر عَلَيْهِ الضَّرْب حَتَّى يَمُوت اه عُمْدَة الْقَارئ على صَحِيح البُخَارِيّ ج 2061

اقرؤوا الْقُرْآن وَاعْمَلُوا بِهِ وَلَا تجفوا عَنهُ وَلَا تغلوا فِيهِ وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ وَلَا تَسْتَكْثِرُوا بِهِ ح ع طب هَب عَن عبد الرَّحْمَن بن شبْل رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ الْجَامِع الصَّغِير ج 265 قَالَ الْبَيْهَقِيّ رجال أَحْمد ثِقَات

وَقَالَ ابْن حجر فِي الْفَتْح سَنَده قوي شرح الْجَامِع الصَّغِير من بَاب الْهمزَة

عَن ابْن شبْل رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ مَرْفُوعا اقرؤا الْقُرْآن وَلَا تغلوا فِيهِ وَلَا تجفوا عَنهُ وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ وَلَا تَسْتَكْثِرُوا بِهِ أخرجه أَحْمد وَابْن رَاهَوَيْه وَابْن أبي شَيْبه وَعبد الرَّزَّاق ورجالهم ثِقَات فقه السّنَن والاثار 315

قَوْله أَحْمد 438 ج 3 وَفِي مجمع الزَّوَائِد رِجَاله ثِقَات 95 ج 4 قَوْله رِجَالهمْ ثِقَات
আবু উবাইদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এমন এক সময় আসবে যখন কুরআনের বিনিময়ে যাচনা করা হবে; সুতরাং তারা যখন তোমাদের কাছে যাচনা করে, তখন তাদের কিছু দিও না... (ইত্যাদি)। ফাতহুল বারী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৮২।

প্রথম হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা তাদের হত্যা করো"... (ইত্যাদি)। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, তাদের মধ্য থেকে যাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যাবে, তাদের তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।

সাহনুন (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বান করে, তার বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করা হবে যতক্ষণ না সে পরাভূত হয় অথবা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। আর যদি সে আহ্বান না করে, তবে তার সাথে ওমর (রা.) যা করেছিলেন তা-ই করা হবে; তাকে বন্দি করা হবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত বারবার প্রহার করা হবে। সমাপ্ত। উমদাতুল কারী শরহ সহিহ বুখারি, খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ৬১।

তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং সে অনুযায়ী আমল করো; এর থেকে বিমুখ হয়ো না, এতে সীমালঙ্ঘন করো না, এর মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করো না। (হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, তাবারানি ও বায়হাকি)। আবদুর রহমান ইবনে শিবল (রা.) থেকে বর্ণিত। আল-জামি আস-সগির, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৫। ইমাম বায়হাকি বলেছেন, আহমদের বর্ণনাকারী ব্যক্তিবর্গ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

এবং ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন, এর সনদ (سند) শক্তিশালী (قوي)। শরহ আল-জামি আস-সগির, হামযা অধ্যায়।

ইবনে শিবল (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এতে সীমালঙ্ঘন করো না, এর থেকে বিমুখ হয়ো না, এর মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করো না। এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, ইবনে রাহওয়াইহ, ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবদুর রাজ্জাক। তাঁদের বর্ণনাকারী ব্যক্তিবর্গ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার, পৃষ্ঠা ৩১৫।

আহমদের উক্তি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩৮; এবং মাজমাউজ যাওয়াইদ-এ রয়েছে, তাঁর বর্ণনাকারী ব্যক্তিবর্গ নির্ভরযোগ্য (ثقات), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৫। তাঁর উক্তি: "তাঁদের বর্ণনাকারী ব্যক্তিবর্গ নির্ভরযোগ্য (ثقات)"।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১১)
روى ابْن رَاهَوَيْه وَابْن ابي شيبَة عَن وَكِيع عَن هِشَام الدستوَائي عَن يحيى بن ابي كثير عَن ابي رَاشد الحبراني عَن عبد الرَّحْمَن ابْن شبْل وَبِه روى عبد الرَّزَّاق عَن معمر عَن يحيى بن ابي كثير عَن زيد بن سَلام عَن جده ابي رَاشد الحبراني كَذَا فِي نصب الرَّايَة 237 ج 2

وَعَن ابي بن كَعْب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم بشر هَذِه الْأمة بالسناء والرفعة وَالدّين والتمكين فِي الارض فَمن عمل مِنْهُم عمل الاخرة للدنيا لم يكن فِي الْآخِرَة نصيب رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الاسناد

وَفِي رِوَايَة الْبَيْهَقِيّ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم بشر هَذِه الامة بالتيسير والسناء والرفعة والتمكين فِي الْبِلَاد والنصر فَمن عمل مِنْهُم بِعَمَل الْآخِرَة للدنيا فَلَيْسَ لَهُ فِي الأخرة من نصيب اه التَّرْغِيب والترهيب 65 ج 1

وَرُوِيَ عَن الْجَارُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم من طلب الدُّنْيَا بِعَمَل الْآخِرَة طمس وَجهه ومحق ذكره واثبت اسْمه فِي النَّار رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ

وَعَن ابي هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يخرج فِي آخر الزَّمَان رجال يختلون الدُّنْيَا بِالدّينِ يلبسُونَ للنَّاس جُلُود الضَّأْن من اللين ألسنتهم أحلى من الْعَسَل وَقُلُوبهمْ قُلُوب الذئاب يَقُول الله عز وجل أبي يغترون أم عَليّ يجترؤون فِي حَلَفت لَأَبْعَثَن على اولئك مِنْهُم فتْنَة تدع الْحَلِيم حيران رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من رِوَايَة يحيى بن عبيد سَمِعت أبي يَقُول
ইবনে রাহওয়াইহি এবং ইবনে আবি শাইবাহ ওকী‘ হতে, তিনি হিশাম আদ-দাস্তাওয়াই হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর হতে, তিনি আবু রাশিদ আল-হুবরানি হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে শিবল হতে বর্ণনা করেছেন (رَوَى)। এবং একই সূত্রে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা‘মার হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর হতে, তিনি যায়েদ ইবনে সালাম হতে, তিনি তাঁর দাদা আবু রাশিদ আল-হুবরানি হতে; এভাবেই নাসবুর রায়াহ, ২য় খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

উবাই ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "এই উম্মতকে আলোকোজ্জ্বলতা, সুউচ্চ মর্যাদা, দ্বীন এবং পৃথিবীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুসংবাদ প্রদান করো। অতঃপর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুনিয়ার স্বার্থে আখিরাতের আমল করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।" এটি আহমাদ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে, হাকেম এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সঠিক সূত্রবিশিষ্ট (صَحِيحُ الإِسْنَادِ) বলেছেন।

বায়হাকির বর্ণনায় (رِوَايَة) এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "এই উম্মতকে সহজসাধ্যতা, আলোকোজ্জ্বলতা, সুউচ্চ মর্যাদা, জনপদে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সাহায্যের সুসংবাদ প্রদান করো। অতঃপর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুনিয়ার স্বার্থে আখিরাতের আমল করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।" সমাপ্ত— আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ১ম খণ্ড, ৬৫ পৃষ্ঠা।

আল-জারুদ হতে বর্ণিত হয়েছে (رُوِيَ), তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আখিরাতের আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করবে, তার চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হবে, তার নাম-যশ মুছে ফেলা হবে এবং তার নাম জাহান্নামে তালিকাভুক্ত করা হবে।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "শেষ জামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের সামনে ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে নিজেদের কোমলতা জাহির করার জন্য, তাদের জিহ্বা মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ের অন্তরের মতো। মহান আল্লাহ বলেন: তারা কি আমার ব্যাপারে ধোকায় নিমজ্জিত, নাকি তারা আমার বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখাচ্ছে? আমি আমার নিজের নামে শপথ করছি, আমি অবশ্যই তাদের উপর তাদের মধ্য হতে এমন এক ফিতনা (فِتْنَة) বা বিপর্যয় প্রেরণ করব, যা ধৈর্যশীল বা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে।" এটি তিরমিযি ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদের বর্ণনা (رِوَايَة) থেকে উদ্ধৃত করেছেন; (ইয়াহইয়া বলেন) আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১২)
سَمِعت ابا هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ فَذكره وَرَوَاهُ مُخْتَصرا من حَدِيث ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا وَقَالَ حَدِيث حسن اه التَّرْغِيب والترهيب ص 64 ج 1

وَعَن بُرَيْدَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم من قَرَأَ الْقُرْآن يتأكل بِهِ النَّاس جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة وَوَجهه عظم لَيْسَ عَلَيْهِ لحم رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الايمان مشكاة المصابيع ص 193 من فَضَائِل الْقُرْآن اخْتلفُوا فِي الْعَام الْوَارِد على سَبَب خَاص بِحَسب اخْتِصَاصه بِهِ على أَرْبَعَة اقسام

لَان الْعَام لَا يَخْلُو اما ان يكون واردا جَزَاء بِسَبَب مَنْقُول اَوْ جَوَابا لسؤال سَائل وَالْجَوَاب اما ان يكون مُسْتقِلّا أَو غير مُسْتَقل والمستقل اما أَن يكون زَائِدا على قدر الْجَواب أَو لَا يكون زَائِدا فَصَارَ أَرْبَعَة أَقسَام الخ

وَالثَّالِث مَا خرج مخرج الْجَواب وَهُوَ مُسْتَقل بِنَفسِهِ وَلم يزدْ على قدر الْجَواب وَهَذَا يخْتَص بالِاتِّفَاقِ بِمَا تقدم الخ 00 حَاشِيَة الازميري على شرح مرقات الاصول 116 ج 2

وَذهب مَالك وَالشَّافِعِيّ رحمهمَا الله تَعَالَى الى اخْتِصَاصه بِالسَّبَبِ وارادة ذَلِك السَّبَب الْخَاص مِنْهُ مجَازًا وانما يثبت الحكم لغيره بِنَصّ آخر وبالقياس الخ من الْحَاشِيَة الْمَذْكُورَة 117 ج 2

وَلَا يُمكن ان تعَارض الْفُرُوع الْجُزْئِيَّة الاصول الْكُلية لَان الْفُرُوع الْجُزْئِيَّة ان لم تقتض عملا فَهِيَ فِي مَحل التَّوَقُّف وان اقْتَضَت عملا فالرجوع الى الاصول هُوَ
আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান (حسن) হাদিস। সমাপ্ত। আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, পৃ. ৬৪, খণ্ড ১।

বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি মানুষের কাছে জীবিকা অন্বেষণের জন্য কুরআন পাঠ করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার মুখমণ্ডল হবে মাংসহীন হাড্ডি মাত্র।" এটি বায়হাকি শুআবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন। মিশকাতুল মাসাবিহ, পৃ. ১৯৩, ফাযাইলুল কুরআন অধ্যায়। কোনো বিশেষ কারণের প্রেক্ষিতে বর্ণিত সাধারণ (عام) শব্দাবলি সেই কারণের সাথে সুনির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে তারা (উলামাগণ) চারটি প্রকারে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

কারণ সাধারণ (عام) শব্দটি হয় কোনো বর্ণিত কারণের বিনিময় হিসেবে অবতীর্ণ হবে, অথবা কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আসবে। আর উত্তরটি হয় স্বতন্ত্র (مستقل) হবে অথবা অস্বতন্ত্র হবে। আর স্বতন্ত্র (مستقل) অংশটি হয় উত্তরের পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত হবে অথবা অতিরিক্ত হবে না। এভাবে এটি চারটি প্রকারে বিভক্ত হয়েছে... ইত্যাদি।

এবং তৃতীয় প্রকার হলো যা উত্তরের ধাঁচে বর্ণিত হয়েছে এবং যা নিজেই স্বতন্ত্র (مستقل), আর তা উত্তরের পরিমাণের ওপর অতিরিক্ত হয়নি। এটি সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বোক্ত বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট হবে... ইত্যাদি। হাশিয়া আল-আযমিরি আলা শারহি মিরকাতিল উসুল, পৃ. ১১৬, খণ্ড ২।

ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুমাল্লাহ) একে কারণের সাথে নির্দিষ্ট করার এবং এর দ্বারা সেই বিশেষ কারণটিকে রূপক (مجاز) হিসেবে গ্রহণ করার অভিমত পোষণ করেছেন। আর অন্য কারো জন্য বিধান কেবল অন্য কোনো স্পষ্ট নস (نص) অথবা কিয়াস (قياس)-এর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হবে... ইত্যাদি। উক্ত হাশিয়া থেকে, পৃ. ১১৭, খণ্ড ২।

আর আংশিক শাখা-প্রশাখাগুলো সামগ্রিক মূলনীতিগুলোর (اصول) পরিপন্থী হওয়া সম্ভব নয়। কারণ আংশিক শাখাগুলো যদি আমলের দাবি না রাখে তবে সেগুলো স্থগিত (توقف) রাখার পর্যায়ে থাকবে, আর যদি আমলের দাবি রাখে তবে মূলনীতির (اصول) দিকে প্রত্যাবর্তন করাই হলো [পন্থা]...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصِّرَاط الْمُسْتَقيم الِاعْتِصَام 161 ج 1 وَالْقَاعِدَة الْكُلية فِي قبُول الْعِبَادَات ان تكون خَالِصَة لله سُبْحَانَهُ وخالية عَن شَيْء من أغراض النَّفس لقَوْله سُبْحَانَهُ أَلا لله الدّين الْخَالِص لمحرره الشَّيْخ حَامِد

{من كَانَ يُرِيد حرث الْآخِرَة} أَي كسب الْآخِرَة وَالْمعْنَى من كَانَ يُرِيد بِعَمَلِهِ الْآخِرَة {نزد لَهُ فِي حرثه} أَي بالتضعيف الْوَاحِدَة الى عشرَة الى مَا يَشَاء الله تَعَالَى من الزِّيَادَة وَقيل انا نزيد فِي توفيقه واعانته وتسهيل سَبِيل الْخيرَات والطاعات اليه

{وَمن كَانَ يُرِيد حرث الدُّنْيَا} يَعْنِي يُرِيد بِعَمَلِهِ الدُّنْيَا مؤثرا لَهَا على الْآخِرَة {نؤته مِنْهَا} أَي مَا قدر وَقسم مِنْهَا {وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَة من نصيب} يَعْنِي لانه لم يعْمل لَهَا

عَن ابي بن كَعْب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله

عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم بشر هَذِه الامة بالسناء والرفعة والتمكين فِي الارض فَمن عمل مِنْهُم عمل الْآخِرَة للدنيا لم يكن لَهُ فِي الْآخِرَة نصيب ذكره فِي جَامع الاصول وَلم يعزه الى أحد من الْكتب السِّتَّة وَأخرجه الْبَغَوِيّ باسناده اه الخازن 94 ج 4 من سُورَة الشورى وَقد تقدم هَذَا الحَدِيث بعزوه الى مخرجيه

والدلائل كَثِيرَة لبُطْلَان الْعَمَل اذا كَانَ بغرض من أغراض الدُّنْيَا

هَذَا وَقد ألف بعض الْعلمَاء لجَوَاز أَخذ الاجرة لقِرَاءَة الْقُرْآن أَي للتلاوة الْمُجَرَّدَة لقصد وُصُول ثَوَابهَا الى الْمَيِّت رِسَالَة وَاسْتدلَّ بِهِ بِمَا رَوَاهُ الامام البُخَارِيّ
আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম আল-ইতিসাম ১ম খণ্ড, ১৬১ পৃষ্ঠা। ইবাদত কবুল হওয়ার সাধারণ নীতি হলো—তা মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হতে হবে এবং নফসের যাবতীয় পার্থিব উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ দ্বীন।" এর লেখক শাইখ হামিদ।

{যে ব্যক্তি আখিরাতের শস্য কামনা করে} অর্থাৎ আখিরাতের অর্জন। এর মর্ম হলো—যে ব্যক্তি তার আমলের দ্বারা আখিরাত চায়, {আমি তার শস্যে বৃদ্ধি দান করি} অর্থাৎ একে দশ গুণ থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা যতটুকু ইচ্ছা করেন সে পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেন। কারো মতে, আমরা তার তাওফিক বৃদ্ধিকরি, তাকে সাহায্য করি এবং তার জন্য কল্যাণের পথ ও আনুগত্যের বিষয়গুলো সহজ করে দিই।

{আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার শস্য কামনা করে} অর্থাৎ সে তার আমলের মাধ্যমে দুনিয়া চায় এবং একে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেয়, {আমি তাকে তা থেকে কিছু দান করি} অর্থাৎ তার জন্য যা নির্ধারিত ও বরাদ্দ করা হয়েছে তা তাকে দিই। {কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ নেই} কারণ সে আখিরাতের জন্য আমল করেনি।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "এই উম্মতকে সুসংবাদ দাও শ্রেষ্ঠত্ব, উচ্চ মর্যাদা এবং জমিনে কর্তৃত্ব লাভ করার। তবে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আখিরাতের আমল দুনিয়ার উদ্দেশ্যে করবে, আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।" এটি জামি আল-উসুল-এ উল্লেখ করা হয়েছে এবং কুতুবে সিত্তাহ-র কোনোটির দিকে এর সম্বন্ধ (عزوه) করা হয়নি। আল-বাগাওয়ী এটি তার সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন। ইতি আল-খাজিন ৪র্থ খণ্ড, ৯৪ পৃষ্ঠা, সূরা আশ-শুরা। ইতিপূর্বে এই হাদিসটি এর তাখরিজকারী (مخرجيه) দের বর্ণনাসহ উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে আমল করলে তা বাতিল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনেক দলিল বিদ্যমান রয়েছে।

তদুপরি, কোনো কোনো আলেম পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার—অর্থাৎ কেবল তিলাওয়াত করে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে—বৈধতার ব্যাপারে একটি রিসালা রচনা করেছেন এবং এর সপক্ষে ইমাম বুখারী যা বর্ণনা করেছেন তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৪)
حَدِيث أَحَق مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ أجرا كتاب الله وَادّعى انه عَام وان المانعين من جَوَاز الاجرة لَا خبْرَة لَهُم وَأَنه كتم تَرْجَمَة الْبَاب من الصَّحِيح وَهِي بَاب جَوَاز اخذ الاجرة بِالْفَاتِحَةِ على الرّقية وَلم يطالع من الصَّحِيح بَاب اثم من راآى بِالْقُرْآنِ أَو تَأْكُل بِهِ الخ من فَضَائِل الْقُرْآن ادعائه الْعُمُوم بَاطِل عِنْد الائمة الاربعة بِمَا تقدم من الْكتاب وَبِنَحْوِ قل مَا أَسأَلكُم عَلَيْهِ من أجر وَبِنَحْوِ وَلَا تشتروا بأيات الله ثمنا قَلِيلا وَبِالْحَدِيثِ بنهحو اقرؤا الْقُرْآن وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ

وبالاجماع على أَن لَا ثَوَاب للْعَمَل اذا كَانَ مشوبا لغَرَض من أغراض الدُّنْيَا مَا لم يكن خَالِصا لوجه الله سُبْحَانَهُ

وبالقياس لعدم جَوَاز أَخذ الاجرة لصَلَاة وَنَحْوهَا

وَكَذَا ادعاؤه بَان المانعين من جَوَاز الاجرة لمُجَرّد تِلَاوَة الْقُرْآن لَا خبْرَة لَهُم باختصاص الدَّلِيل وعمومه

وَهل الائمة الاربعة لَا خبْرَة لَهُم فِي علم الحَدِيث وَكَذَا الامام البُخَارِيّ لَا خبْرَة لَهُ فِيهِ وَهل يَدعِي هَذِه الدَّعْوَى الا الْجَاهِل بقدرهم فَكيف كتم تَرْجَمَة الامام البُخَارِيّ فِي هَذَا الحَدِيث فِي بَابه وترجمته شرح للْحَدِيث الَّذِي يُورِدهُ من تَقْيِيد أَو تَعْمِيم أَو غَيرهمَا وَقد لبس للنَّاس فِي قَوْله مَذْهَب الشاففية كَذَا وَالْحَنَفِيَّة كَذَا فِي جَوَاز الاجرة نَاقِلا عَن الْكتب الضعيفة الحكم والفتيا بالْقَوْل الْمَرْجُوح جهل وخرق للاجماع كَمَا تقدم وَمذهب الْمَالِكِيَّة كَذَا وَمذهب الْحَنَابِلَة كَذَا

وَهل الْمَذْهَب الا ماقاله امام الْمَذْهَب كَمَا تقدم وَهل قَالَ أحد مِنْهُم بِجَوَاز
হাদিস: 'তোমরা যা কিছুর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, তার মধ্যে আল্লাহর কিতাবই অধিকতর হকদার।' তিনি দাবি করেছেন যে এটি সাধারণ (عام) এবং যারা পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয় বলে মনে করেন তাদের এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি সহিহ-এর পরিচ্ছেদ শিরোনাম (ترجمة) গোপন করেছেন, যা হলো 'সুরা ফাতিহা দ্বারা রুকইয়াহ করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ'। অথচ তিনি সহিহ-এর ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়ের 'যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা লৌকিকতা প্রদর্শন করে অথবা এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে তার গুনাহ' ইত্যাদি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদটি পাঠ করেননি। তার এই সাধারণীকরণ (تعميم)-এর দাবি চার ইমামের নিকট বাতিল (باطل) হিসেবে গণ্য; যা ইতিপূর্বে বর্ণিত কিতাবুল্লাহর আয়াত—'বলো, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না' এবং 'তোমরা আমার আয়াতসমূহ নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না'—এবং হাদিসের ভাষ্য—'তোমরা কুরআন পাঠ করো কিন্তু এর বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করো না'—এর ন্যায় দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত।

পাশাপাশি সর্বসম্মতি (إجماع) দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, আমল যতক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ না হয় এবং তা যদি দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্যে কলুষিত থাকে, তবে তাতে কোনো সওয়াব নেই।

এবং কিয়াস (قياس)-এর ভিত্তিতেও এটি প্রমাণিত, কারণ সালাত বা এই জাতীয় ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়।

অনুরূপভাবে তার এই দাবি—যে ব্যক্তিরা নিছক কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন তাদের দলিলের বিশেষত্ব ও সাধারণত্ব সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই—তাও ভিত্তিহীন।

চার ইমামের কি হাদিস শাস্ত্রে কোনো অভিজ্ঞতা নেই? কিংবা ইমাম বুখারি কি এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ? মাকাম ও মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তি ছাড়া কি কেউ এমন দাবি করতে পারে? তিনি কীভাবে এই হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি-এর পরিচ্ছেদ শিরোনাম (ترجمة) গোপন করলেন? অথচ পরিচ্ছেদ শিরোনাম হলো সংশ্লিষ্ট হাদিসের ব্যাখ্যা (شرح), যা হাদিসটিকে শর্তযুক্তকরণ (تقييد) বা সাধারণীকরণ (تعميم) অথবা অন্য কোনো অর্থ প্রদান করে। তিনি শাফেয়ী ও হানাফি মাজহাবের দোহাই দিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতা বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন, যেখানে তিনি দুর্বল (ضعيف) কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) মতের ভিত্তিতে হুকুম বা ফতোয়া প্রদান করা অজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী সর্বসম্মতি (إجماع)-এর পরিপন্থী কাজ, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

মাজহাব তো কেবল তা-ই যা মাজহাবের ইমামগণ বলেছেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কি কেউ এটি বৈধ হওয়ার কথা বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৫)
اخذ الاجرة بِمُجَرَّد التِّلَاوَة وَلم يقلهُ بل منعُوهُ كَمَا تقدم فشجع النَّاس بقوله هَذَا بِبيع دينهم بدنياهم وَكَأَنَّهُ لم يعلم الى الْآن حَقِيقَة اخلاص الْعِبَادَة لله سُبْحَانَهُ وَأتي فِيهِ أثارا مَقْطُوعَة عَن بعض الصَّحَابَة بِأَن أُجْرَة ختم الْقُرْآن كَذَا وَكَذَا من الدَّرَاهِم وَالدَّنَانِير

وَهل يعْتَمد عَلَيْهَا من نسب الى الْعلم فِي مُعَارضَة كتاب الله وَالسّنة والاجماع وَالْقِيَاس وَهل يَثِق من لَهُ خبْرَة بِالْحَدِيثِ على المقطوعات فَهَذَا حَاله واذا كَانَ الامر كَمَا قَالَ فَمَا مَعَاني نَحْو لَا يشْتَرونَ بآيَات الله ثمنا قَلِيلا وَمَا تَسْأَلهُمْ عَلَيْهِ من أجر فِي مَوَاضِع من الْقُرْآن الْمجِيد واقرؤا الْقُرْآن وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ

وَذَلِكَ الحَدِيث خبر وَاحِد هَل يُعَارض القطعيات لَا لَا كَمَا تقدم

وَكَذَا ادعاؤه بَان المانعين من أَخذ الاجرة على التِّلَاوَة استدلوا بِمثل حَدِيث الْقوس وَلَا يحْتَج بِهَذَا الا من لَا خبْرَة لَهُ بمراتب الادله وَكتب الحَدِيث الخ بَاطِل لجهله فِي دَعْوَاهُ هَذِه أَو تجاهله عَمَّن يسْتَدلّ بِمثل هَذَا الحَدِيث وهم الائمة الاربعة والمتقدمون من أَصْحَابهم والامام البُخَارِيّ فِي فَضَائِل الْقُرْآن شبه من أكل بِالْقُرْآنِ بِمن لم يُجَاوز الْقُرْآن حنجرته فَهَل يجوز لَهُم انهم لَا خبْرَة لَهُم بمراتب الادلة وَكتب الحَدِيث

وَحَدِيث الْقوس رَوَاهُ فِي جمع الْفَوَائِد 636 ج 1 ابو الدَّرْدَاء رَفعه من يَأْخُذ على تَعْلِيم الْقُرْآن قوسا قَلّدهُ الله قوسا من نَار للكبير

قَالَ الْمخْرج رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن طَرِيق يحيى بن عبد الْعَزِيز عَن
নিছক তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার কথা তিনি বলেননি, বরং তারা এটি নিষেধ করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে তাদের দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন বিক্রি করতে প্রলুব্ধ করেছেন। মনে হচ্ছে তিনি এখন পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদতে ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারেননি। তিনি এ বিষয়ে কিছু সাহাবী থেকে বর্ণিত মাকতু (مقطوع) কিছু বর্ণনা (آثار) পেশ করেছেন যে, কুরআন খতমের পারিশ্রমিক হিসেবে অমুক অমুক পরিমাণ দিরহাম ও দিনার প্রদান করা হতো।

আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াসের বিরোধিতায় ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি কি এর ওপর নির্ভর করতে পারে? আর হাদিস শাস্ত্রে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি কি মাকতু (مقطوع) বর্ণনাগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারেন? সুতরাং এটিই তার অবস্থা। যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি তিনি বলেছেন, তবে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত ‘তারা আমার আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে না’ এবং ‘তুমি তো তাদের কাছে এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাও না’—এই আয়াতগুলোর অর্থ কী হবে? আর (হাদিসে আছে) ‘তোমরা কুরআন পাঠ করো কিন্তু এর বিনিময়ে আহার করো না’—এরই বা অর্থ কী হবে?

তাছাড়া উক্ত হাদিসটি হলো একক বর্ণনা (خبر واحد); এটি কি অকাট্য প্রমাণাদির (قطعيات) বিরোধিতা করতে পারে? না, কখনোই না, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে তার এই দাবি যে—যারা তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতে নিষেধ করেন তারা ‘ধনুকের হাদিস’ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন এবং হাদিসের কিতাবসমূহ ও দলীলের স্তর সম্পর্কে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তারা ব্যতীত কেউ এটি দ্বারা দলীল গ্রহণ করে না—তার এই দাবিটি বাতিল। কারণ তিনি তার এই দাবিতে অজ্ঞ অথবা তিনি সেইসব ইমামদের সম্পর্কে না জানার ভান করছেন যারা এই হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন; আর তারা হলেন চার ইমাম এবং তাদের পূর্ববর্তী অনুসারীগণ। ইমাম বুখারি ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়ে যারা কুরআনের বিনিময়ে আহার করে তাদেরকে ওইসব ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করেছেন যাদের কুরআন পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তাহলে কি তাদের (আইম্মায়ে কেরাম) ব্যাপারে এ কথা বলা বৈধ হবে যে, দলীলের স্তর ও হাদিসের কিতাবসমূহ সম্পর্কে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই?

আর ‘ধনুকের হাদিসটি’ জামউল ফাওয়ায়িদ (১ম খণ্ড, ৬৩৬) গ্রন্থে আবু দারদা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে একটি ধনুক গ্রহণ করবে, আল্লাহ তাকে আগুনের একটি ধনুক পরিধান করাবেন।" এটি আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

বর্ণনাকারী (আল-মুখাররিজ) বলেছেন: তাবারানি এটি আল-কাবীর গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজিজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْوَلِيد بن مُسلم وَلم أجد من ذكره وَلَيْسَ هُوَ فِي الضُّعَفَاء وَبَقِيَّة رِجَاله رجال الصَّحِيح كَذَا فِي مجمع الزَّوَائِد 495

فَقَوْل الْمُجِيز رَاجع عَلَيْهِ لعماه اَوْ تعاميه بِمَا تقدم من الادلة وبمراتب الادلة وَكتب الحَدِيث

وَالْفرق الضَّالة انما ضلوا لاخذهم طرفا من الادلة وَعدم نظرهم الى أطرافها وناحية من نَوَاحِيهَا وَلم يتفكروا فِي جوانبها وَلم ينظر الْمُجِيز الى تَقْيِيد الائمة حَدِيث الصَّحِيح بالرقية كَمَا تقدم وَصَاحب الصَّحِيح قد قَيده بِأخذ الاخر على الرّقية والمجيز قد تعامى عِنْد أَخذه عَن تَرْجَمَة الْبَاب

وَكَأَنَّهُ سمع من بعض الطّلبَة أَن الْعبْرَة بِعُمُوم اللَّفْظ لَا بِخُصُوص السَّبَب وَهَذِه القاعده حَيْثُ لم يُوجد معَارض للْعُمُوم

وَلم يسمع الْقَاعِدَة الْعَامَّة عِنْد الاصوليين مَا من عَام الا وَقد خص مِنْهُ الْبَعْض لدفع التَّعَارُض بَين الادلة وَفِي الاتقان 16 ج 2 اذ مَا من عَام الا ويتخيل فِيهِ التَّخْصِيص الخ فَرَاجعه ان شِئْت اذ مَا من عَام الا وَقد خص الخ الاتقان 17 ج 3
আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম; আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন। এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী; মাজমাউজ যাওয়ায়েদ-এর ৪৯৫ পৃষ্ঠায় এরূপই উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং অনুমোদনকারীর বক্তব্য তার নিজের ওপরই বর্তায় (অর্থাৎ তা প্রত্যাখ্যাত), কারণ তিনি পূর্ববর্ণিত দলীলসমূহ, দলীলের স্তরসমূহ এবং হাদিসের কিতাবসমূহের ব্যাপারে অন্ধত্ব বা ছদ্ম-অন্ধত্ব প্রদর্শন করেছেন।

পথভ্রষ্ট দলগুলো মূলত এজন্যই বিচ্যুত হয়েছে যে, তারা দলীলের একাংশ গ্রহণ করেছে এবং এর অন্যান্য দিক ও বিভাগের প্রতি দৃষ্টিপাত করেনি; তারা এর সকল দিক নিয়ে চিন্তা করেনি। আর অনুমোদনকারী ব্যক্তি ইমামগণের পক্ষ থেকে সহিহ হাদিসকে রুকইয়ার (ঝাড়ফুঁক) সাথে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি লক্ষ্য করেননি, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ গ্রন্থের সংকলক একে রুকইয়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। অথচ অনুমোদনকারী ব্যক্তি হাদিসটি গ্রহণ করার সময় অধ্যায়ের শিরোনাম (ترجمة الباب) থেকে বিমুখ থেকেছেন।

মনে হচ্ছে তিনি কোনো শিক্ষার্থীর নিকট থেকে শুনেছেন যে, ‘বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা, প্রেক্ষিতের বিশেষত্ব নয়’। অথচ এই নীতিটি তখনই প্রযোজ্য যখন ব্যাপকতার (عموم) কোনো বিরোধী দলীল বিদ্যমান না থাকে।

তিনি উসুলবিদদের (اصوليين) নিকট প্রসিদ্ধ সেই সাধারণ নীতিটি শোনেননি যে, ‘এমন কোনো সাধারণ (عام) বিষয় নেই যার কোনো অংশকে সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়নি’, যাতে দলীলসমূহের মধ্যকার বৈপরীত্য নিরসন করা যায়। আল-ইতকান-এর ২য় খণ্ডের ১৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: ‘যেহেতু এমন কোনো সাধারণ (عام) বিষয় নেই যাতে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) সম্ভাবনা নেই...’ ইত্যাদি। অতএব আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন; কেননা ‘এমন কোনো সাধারণ (عام) বিষয় নেই যা সুনির্দিষ্ট (خص) করা হয়নি’... ইত্যাদি; আল-ইতকান ৩য় খণ্ড, ১৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أشرف الْمُرْسلين سيد الْأَوَّلين والآخرين سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

 

‌‌الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فِي تَحْقِيق احاديث مسح الْخُفَّيْنِ والجوربين والنعلين

 

الحَدِيث الْخَامِس رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم أَنه مسح على جوربيه قلت رُوِيَ من حَدِيث الْمُغيرَة بن شُعْبَة وَمن حَدِيث أبي مُوسَى وَمن حَدِيث بِلَال رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم

فَحَدِيث الْمُغيرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ رَوَاهُ السّنَن الاربعة 1 أَبُو دَاوُد ص 34 2 وَالتِّرْمِذِيّ فِي ص 15 وَابْن مَاجَه ص 42 وص 184 ج 1

من حَدِيث أبي قيس الاودي عَن هُذَيْل بن شُرَحْبِيل عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَوَضَّأ وَمسح على الجوربين والنعلين انْتهى قَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা আমাদের সরদার মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

‌‌দ্বিতীয় মাসআলা: চামড়ার মোজা, সুতি মোজা এবং জুতার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের যাচাই-বিশ্লেষণ

 

পঞ্চম হাদিস: নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সুতি মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। আমি বলছি: এটি মুগিরা ইবনে শু'বা, আবু মুসা এবং বিলাল (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

মুগিরা (রা.)-এর হাদিসটি সুনান চতুষ্টয় বর্ণনা করেছেন: ১. আবু দাউদ (পৃ. ৩৪), ২. তিরমিজি (পৃ. ১৫) এবং ইবনে মাজাহ (খণ্ড ১, পৃ. ৪২ ও ১৮৪)।

এটি আবু কাইস আল-আওদি-এর হাদিস থেকে, তিনি হুজাইল ইবনে শুরাহবিল থেকে, আর তিনি মুগিরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অজু করলেন এবং সুতি মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ করলেন। (সমাপ্ত)। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقَالَ النَّسَائِيّ فِي سنَنه الْكُبْرَى لَا نعلم أحدا تَابع أَبَا قيس على هَذِه الرِّوَايَة وَالصَّحِيح عَن الْمُغيرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَنه عليه الصلاة والسلام مسح على الْخُفَّيْنِ انْتهى

وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي النَّوْع الْخَامِس وَالثَّلَاثِينَ من الْقسم الرَّابِع وَقَالَ أَبُو دَاوُد فِي سنَنه كَانَ عبد الرَّحْمَن بن مهْدي لَا يحدث بِهَذَا الحَدِيث لَان الْمَعْرُوف عَن الْمُغيرَة أَن النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مسح على الْخُفَّيْنِ وَقَالَ وروى أبوموسى الاشعري رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَيْضا عَن النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم أَنه مسح على الجوربين وَلَيْسَ بالمتصل وَلَا بِالْقَوِيّ قَالَ وَمسح على الجوربين عَليّ بن أبي طَالب وَأَبُو مَسْعُود والبراء بن عَازِب وَأنس بن مَالك وَأَبُو أُمَامَة وَسَهل بن سعد وَعَمْرو بن حُرَيْث وَرُوِيَ ذَلِك عَن عمر بن الْخطاب وَابْن عَبَّاس انْتهى رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم

وَذكر الْبَيْهَقِيّ حَدِيث الْمُغيرَة هَذَا وَقَالَ أَنه حَدِيث مُنكر ضعفه سُفْيَان الثَّوْريّ وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَأحمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وعَلى بن الْمَدِينِيّ وَمُسلم بن الْحجَّاج وَالْمَعْرُوف عَن الْمُغيرَة حَدِيث الْمسْح على الْخُفَّيْنِ ويروى عَن جمَاعَة أَنهم فَعَلُوهُ انْتهى
ইমাম নাসাঈ তাঁর 'সুনানে কুবরা'-তে বলেছেন, "আমরা এমন কাউকে জানি না যিনি আবু কায়সকে এই বর্ণনায় অনুসরণ করেছেন। আর মুগীরা (রা.) থেকে যা সহীহ (الصحيح) প্রমাণিত তা হলো, নবী (সা.) চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করেছিলেন।" সমাপ্ত।

এবং ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-তে চতুর্থ পরিচ্ছেদের পঁয়ত্রিশতম অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ বলেছেন, "আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এই হাদিস বর্ণনা করতেন না, কারণ মুগীরা (রা.) থেকে সুপরিচিত (المعروف) বর্ণনা হলো নবী (সা.) চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করেছিলেন।" তিনি আরও বলেন, আবু মুসা আল-াশ'আরী (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সাধারণ মোজার ওপর মাসেহ করেছিলেন, কিন্তু এটি অবিচ্ছিন্ন (بالمتصل) নয় এবং শক্তিশালী (بالقوي) নয়। তিনি বলেন, আলী ইবনে আবি তালিব, আবু মাসউদ, বারা ইবনে আযিব, আনাস ইবনে মালিক, আবু উমামা, সাহল ইবনে সা'দ এবং আমর ইবনে হুরায়স (রা.) সাধারণ মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

ইমাম বায়হাকী মুগীরা (রা.)-এর এই হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন যে, এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস। সুফিয়ান সাওরী, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এটিকে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন। মুগীরা (রা.) থেকে সুপরিচিত (المعروف) হাদিস হলো চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বর্ণনা এবং একদল (সাহাবী বা তাবিঈ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা এটি করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَ النَّوَوِيّ كل وَاحِد من هَؤُلَاءِ لَو انْفَرد قدم على التِّرْمِذِيّ مَعَ أَن الْجرْح مقدم على التَّعْدِيل قَالَ وَاتفقَ الْحفاظ على تَضْعِيفه وَلَا يقبل قَول التِّرْمِذِيّ انه حسن صَحِيح

وَقَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين فِي الامام أَبُو قيس الاودي اسْمه عبد الرَّحْمَن بن ثروان احْتج بِهِ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَذكر الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه أَن أَبَا مُحَمَّد يحيى بن مَنْصُور قَالَ رَأَيْت مُسلم بن الْحجَّاج ضعف هَذَا الْخَبَر وَقَالَ أَبُو قبيس الاودي وهذيل بن شُرَحْبِيل لَا يحتملان وخصوصا مَعَ مخالفتهما الاجلة الذ 2 ين رووا هَذَا الْخَبَر عَن الْمُغيرَة فَقَالُوا مسح على الْخُفَّيْنِ وَقَالَ لَا تتْرك ظَاهر الْقُرْآن بِمثل أبي قيس وهذيل قَالَ فَذكرت هَذِه الْحِكَايَة عَن مُسلم لأبي الْعَبَّاس مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الدغولي فَسَمعته يَقُول سَمِعت عَليّ بن مُحَمَّد بن شَيبَان يَقُول سَمِعت أَبَا قدامَة السَّرخسِيّ يَقُول قَالَ عبد الرَّحْمَن بن مهْدي قلت لِسُفْيَان الثَّوْريّ لَو حَدَّثتنِي بِحَدِيث أبي قيس عَن هُذَيْل مَا قبلته مِنْك فَقَالَ سُفْيَان الحَدِيث ضَعِيف ثمَّ أسْند الْبَيْهَقِيّ عَن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ لَيْسَ يرْوى هَذَا الحَدِيث الا من رِوَايَة أبي قيس الاودي وَأبي عبد الرَّحْمَن بن مهْدي أَن يحدث بِهَذَا الحَدِيث وَقَالَ هُوَ مُنكر وَأسْندَ الْبَيْهَقِيّ أَيْضا عَن عَليّ بن الْمدنِي قَالَ حَدِيث الْمُغيرَة بن شُعْبَة فِي الْمسْح رَوَاهُ عَن الْمُغيرَة الا انه قَالَ وَمسح على الجوربين
ইমাম নববী বলেছেন, এদের প্রত্যেকে যদি এককভাবেও থাকতেন, তবুও ইমাম তিরমিজির ওপর তাদের প্রাধান্য দেওয়া হতো; বিশেষ করে যখন জেরহ বা ত্রুটি বর্ণনা (الجرح) তাদিল বা গুণকীর্তনের (التعديل) ওপর অগ্রগণ্য হয়। তিনি বলেন, হাফেজগণ (الحفاظ) একে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং ইমাম তিরমিজির একে হাসান (حسن) সহিহ (صحيহ) বলার উক্তিটি গ্রহণযোগ্য নয়।

শাইখ তাকিউদ্দীন 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেছেন, আবু কাইস আল-আওদি—যার নাম আব্দুর রহমান বিন সারওয়ান—তাকে ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বাইহাকি তার সুনান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মনসুর বলেছেন: আমি মুসলিম বিন হাজ্জাজকে এই বর্ণনাটিকে (الخبر) দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন, আবু কাইস আল-আওদি এবং হুযাইল বিন শুরাহবিল [বর্ণনার ক্ষেত্রে] সহনযোগ্য নন, বিশেষ করে যখন তারা ওই সকল সুমহান রাবিদের বিরোধিতা করেছেন যারা মুগিরা থেকে এই বর্ণনাটি (الخبر) বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন যে, তিনি চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, আবু কাইস ও হুযাইলের মতো বর্ণনাকারীদের কারণে কুরআনের প্রকাশ্য বিধানকে পরিত্যাগ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুসলিমের এই ঘটনাটি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আদ-দাগুলির নিকট উল্লেখ করলাম; তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, তিনি আলি বিন মুহাম্মদ বিন শাইবানকে বলতে শুনেছেন: আমি আবু কুদামা আস-সারখাসিকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুর রহমান বিন মাহদি বলেছেন, আমি সুফিয়ান সাওরিকে বললাম: আপনি যদি হুযাইলের সূত্রে আবু কাইসের হাদিসটি আমাকে শোনাতেন, তবুও আমি তা আপনার থেকে গ্রহণ করতাম না। তখন সুফিয়ান বললেন, হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। এরপর বাইহাকি আহমদ বিন হাম্বল থেকে সনদসহ বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, এই হাদিসটি কেবল আবু কাইস আল-আওদির সূত্রেই বর্ণিত হয়। আর আব্দুর রহমান বিন মাহদি এই হাদিসটি বর্ণনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)। বাইহাকি আলি বিন আল-মাদিনি থেকেও সনদসহ বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, মাসেহ সম্পর্কিত মুগিরা বিন শুবার হাদিসটি মুগিরা থেকেই বর্ণিত, তবে তিনি এতে বলেছেন যে তিনি মোজার ওপর মাসেহ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২০)
فَخَالف النَّاس وَأسْندَ أَيْضا عَن يحيى بن معِين قَالَ النَّاس كلهم يَرْوُونَهُ على الْخُفَّيْنِ غير أبي قيس قَالَ الشَّيْخ وَمن يُصَحِّحهُ يعْتَمد بعد تَعْدِيل أبي قيس على كَونه لَيْسَ مُخَالفا لرِوَايَة الْجُمْهُور مُخَالفَة مُعَارضَة بل هُوَ امرزائد على مَا رَوَوْهُ وَلَا يُعَارضهُ وَلَا سِيمَا وَهُوَ طَرِيق مُسْتَقل بِرِوَايَة هُذَيْل عَن الْمُغيرَة لم يُشَارك المشهورات فِي سندها انْتهى

أما حَدِيث أبي مُوسَى رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَهُوَ الَّذِي اشار اليه أَبُو دَاوُد فَأخْرجهُ ابْن مَاجَه فِي سنَنه وَالطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه عَن عِيسَى بن سِنَان عَن الضَّحَّاك ابْن عبد الرَّحْمَن عَن أبي مُوسَى رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَوَضَّأ وَمسح على الجوربين والنعلين انْتهى وَلم أَجِدهُ فِي نُسْخَتي من ابْن مَاجَه وَلَا ذكره ابْن عَسَاكِر فِي الاطراف وَكَأَنَّهُ فِي بعض النّسخ فقد عزاهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي التَّحْقِيق لِابْنِ مَاجَه وَكَذَلِكَ الشَّيْخ فِي الامام وَقَالَ وَقَول أبي دَاوُد فِي هَذَا الحَدِيث لَيْسَ بالمتصل وَلَا بِالْقَوِيّ أوضحه الْبَيْهَقِيّ فَقَالَ الضَّحَّاك ابْن عبد الرَّحْمَن لم يثبت سَمَاعه من أبي مُوسَى رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَعِيسَى بن سِنَان ضَعِيف لَا يحْتَج بِهِ انْتهى وَأخرجه العقيلى فِي كتاب الضُّعَفَاء وَأعله بِعِيسَى بن سِنَان وَضَعفه عَن يحيى بن معِين وَغَيره وَأما حَدِيث بِلَال فَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه من طَرِيق ابْن أبي شيبَة ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَة عَن الاعمش عَن الحكم عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن كَعْب بن عُجَره عَن بِلَال رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يمسح على الْخُفَّيْنِ والجوربين انْتهى
তিনি অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন এবং হাদিসটিকে সনদযুক্ত করে (أسند) বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আবু কাইস ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী এটি চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করার বিষয়ে বর্ণনা করেন। শায়খ বলেন: যারা একে সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করেন, তারা আবু কাইসের নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) পর এই বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন যে, তার বর্ণনাটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের বর্ণনার এমন কোনো বিরোধী নয় যা বৈপরীত্য সৃষ্টি করে; বরং এটি তাদের বর্ণিত বিষয়ের অতিরিক্ত একটি তথ্য যা তার সাথে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি করে না। বিশেষ করে এটি মুগিরাহ থেকে হুযাইলের বর্ণনার একটি স্বতন্ত্র পথ, যা প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহের সনদের সাথে অংশীদার নয়। সমাপ্ত।

আর আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি, যার প্রতি আবু দাউদ ইঙ্গিত করেছেন, তা ইবনে মাজাহ তার সুনানে এবং তাবারানি তার মুজামে ঈসা ইবনে সিনান থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) ওজু করলেন এবং মোজা ও জুতার ওপর মাসাহ করলেন। সমাপ্ত। আমার কাছে থাকা ইবনে মাজাহ-র কপিতে আমি এটি পাইনি এবং ইবনে আসাকিরও 'আতরাফ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেননি। সম্ভবত এটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, কারণ ইবনে আল-জাওযি 'তাহকিক' গ্রন্থে একে ইবনে মাজাহ-র দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং শায়খও 'আল-ইমাম' গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন। তিনি বলেছেন: এই হাদিস সম্পর্কে আবু দাউদের উক্তি হলো, এটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) নয় এবং শক্তিশালীও (قوي) নয়। বায়হাকি এটি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: দাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান কর্তৃক আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি এবং ঈসা ইবনে সিনান দুর্বল (ضعيف), যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (لا يحتج به)। সমাপ্ত। আর উকাইলি একে 'কিতাবুদ দুয়াফা'-তে সংকলন করেছেন এবং ঈসা ইবনে সিনানের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত (أعله) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও অন্যান্যদের সূত্রে তাকে দুর্বল (ضعفه) আখ্যা দিয়েছেন। আর বিলালের হাদিসটি তাবারানি তার মুজামে ইবনে আবি শাইবাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে, তিনি বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) চামড়ার মোজা ও সাধারণ মোজার ওপর মাসাহ করতেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَأخرجه عَن يزِيد بن أبي زِيَاد وَابْن أبي ليلى عَن كَعْب بن عجْرَة عَن بِلَال رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم نَحوه وَيزِيد بن أبي زِيَاد وَابْن أبي ليلى مستضعفان مَعَ نسبتهما الى الصدْق وَالله تَعَالَى أعلم نصب الرَّايَة 1168

واذا عرفت ان احاديث مسح الجورب مُتَكَلم فِيهَا وَلم يَصح تَصْحِيح التِّرْمِذِيّ فشروط الائمة الاربعة على جَوَاز مسح الجورب أَن يكون ثخينا مستمسكا على السَّاق بِغَيْر ربط صَحِيحَة ليَكُون فِي معنى الْخُف لِأَن غسل الرجل قَطْعِيّ وَالْخَبَر المستفيض فِي مسح الْخُف يصلح ان يكون مُخَصّصا اما الاحاديث الَّتِي تكلم فِيهَا النقاد لَا تصلح لتخصيص الْقطعِي فَلَا يجوز الْمسْح على الجورب الرَّقِيق الَّذِي لَا يسْتَمْسك بِنَفسِهِ على السَّاق

شُرُوط الائمة الاربعة فِي مسح الجورب فِي فقه الْمذَاهب الاربعة ج 193

احاديث مسح النَّعْلَيْنِ فِيهِ عَن ابْن عَبَّاس وَابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم فَحَدِيث ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا رَوَاهُ ابْن عدي ثمَّ الْبَيْهَقِيّ من جِهَته عَن رواد بن الْجراح عَن سُفْيَان عَن زيد بن اسْلَمْ عَن عَطاء بن يسَار عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا ان رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَوَضَّأ مرّة وَمسح على نَعْلَيْه انْتهى قَالَ الْبَيْهَقِيّ هَكَذَا رَوَاهُ رواد وَهُوَ ينْفَرد عَن الثَّوْريّ بمناكر هَذَا احدها والثقات رَوَوْهُ عَن الثَّوْريّ دون هَذِه اللَّفْظَة قَالَ الشَّيْخ
এবং এটি ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ ও ইবন আবি লায়লা হতে, তারা কাব বিন উজরাহ হতে এবং তিনি বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) অনুরূপ করেছেন। ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ ও ইবন আবি লায়লা সত্যবাদিতার (الصدق) সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা দুর্বল (مستضعفان) গণ্য। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। নাসবুর রায়া ১১৬৮

আর যখন আপনি জানলেন যে, মোজার ওপর মাসাহ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সমালোচিত (متكلم فيها) এবং তিরমিযীর সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) সহিহ (يصح) নয়, তখন মোজার ওপর মাসাহ জায়েজ হওয়ার বিষয়ে চার ইমামের শর্তাবলি হলো যে, তা মোটা হতে হবে এবং কোনো কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই নলার ওপর আটকে থাকতে হবে, যাতে তা চামড়ার মোজার অর্থে গণ্য হয়। কারণ পা ধৌত করা অকাট্য (قطعي) বিধান এবং চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ সম্পর্কিত মুস্তাফিদ সংবাদ (الخبر المستفيض) অকাট্য বিধানের বিশেষক (مخصص) হওয়ার উপযুক্ত। তবে যেসব হাদিস নিয়ে সমালোচকগণ (النقاد) সমালোচনা করেছেন (تكلم فيها), সেগুলো অকাট্য (القطعي) বিধানকে বিশেষিত করার উপযুক্ত নয়। সুতরাং এমন পাতলা মোজার ওপর মাসাহ করা জায়েজ নয় যা নিজে নিজে নলার ওপর আটকে থাকে না।

ফিকহুল মাযাহিবিল আরবাআহ গ্রন্থে চার ইমামের মোজার ওপর মাসাহ করার শর্তাবলি, ১ম খণ্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠা।

জুতা জোড়ার ওপর মাসাহ করার হাদিসসমূহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিসটি ইবনে আদি এবং এরপর বায়হাকি তাঁর সূত্র ধরে রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম হতে, তিনি আতা বিন ইয়াসার হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) একবার ওজু করলেন এবং তাঁর জুতা জোড়ার ওপর মাসাহ করলেন। (সমাপ্ত)। বায়হাকি বলেন: রাওয়াদ এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আস-সাওরি হতে অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা (مناكر) করার ক্ষেত্রে একক (ينفرد), এটি সেগুলোর একটি। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) আস-সাওরি হতে এই শব্দ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ বলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২২)
تَقِيّ الدّين فِي الامام ورواد هَذَا لَيْسَ بِالْقَوِيّ انْتهى ثمَّ سَاقه الْبَيْهَقِيّ عَن زيد بن الْحباب عَن سُفْيَان هَكَذَا ان النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مسح على النَّعْلَيْنِ وَقَالَ الصَّحِيح رِوَايَة الْجَمَاعَة فقد رَوَاهُ سُلَيْمَان بن بِلَال وَمُحَمّد بن عجلَان وورقاء بن عمر وَمُحَمّد بن جَعْفَر بن ابي كثير عَن زيد بن اسْلَمْ فحكوا فِي الحَدِيث غسل رجلَيْهِ والْحَدِيث وَاحِد

وَالْعدَد الْكثير اولى بِالْحِفْظِ من الْعدَد الْيَسِير مَعَ فضل من حفظ فِيهِ الْغسْل بعد الرش على من لم يحفظه قَالَ فِي الامام وَحَدِيث زيد بن الْحباب هَذَا أَجود ماذكر الْبَيْهَقِيّ فِي الْبَاب وَزيد بن الْحباب ذكر ابْن عدي عَن ابْن معِين أَنه قَالَ أَحَادِيث زيد بن الْحباب عَن الثَّوْريّ مَقْلُوبَة قَالَ ابْن عدي وَهُوَ من اثبات مَشَايِخ الْكُوفَة مِمَّن لَا يشك فِي صدقه وَالَّذِي قَالَه ابْن معِين ان احاديثه عَن الثَّوْريّ مَقْلُوبَة انما لَهُ عَن الثَّوْريّ أَحَادِيث تستغرب بذلك الاسناد وَالْبَعْض يرفعهُ وَلَا يرفعهُ غَيره وَبَاقِي أَحَادِيثه كلهَا مُسْتَقِيمَة وَذكر ابْن عدي لزيد بن الْحباب احاديث لَيْسَ فِيهَا هَذَا واذا كَانَ زيد ثِقَة صَدُوقًا كَانَ الحَدِيث مِمَّا ينْفَرد بِهِ الثِّقَة

وَحَدِيث ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا رَوَاهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده حَدثنَا ابراهيم ابْن سعيد ثَنَا روح بن عبَادَة عَن ابْن ابي ذِئْب عَن نَافِع ان بن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا كَانَ يتوضأونعلاه فِي رجلَيْهِ وَيمْسَح عَلَيْهِمَا وَيَقُول كَذَلِك كَانَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يفعل انْتهى
তাকিউদ্দীন 'আল-ইমাম' গ্রন্থে রোওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন, "ইনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)"। এরপর আল-বাইহাকি এটি জায়েদ বিন আল-হুবাব থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জুতো জোড়ার ওপর মাসেহ করেছেন। তিনি (বাইহাকি) বলেছেন, বিশুদ্ধ (الصحيح) হলো একদল বর্ণনাকারীর (জামায়াত) বর্ণনা। সুলাইমান বিন বিলাল, মুহাম্মদ বিন আজলান, ওয়ারকা বিন উমর এবং মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির—তাঁরা সকলে জায়েদ বিন আসলাম থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা হাদিসে দুই পা ধোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন; অথচ হাদিসটি মূলত একটিই।

অল্প সংখ্যক বর্ণনাকারীর তুলনায় অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর মুখস্থ রাখার বিষয়টি (حفظ) অধিক গ্রহণযোগ্য। এর সাথে সেই ব্যক্তির বিশেষ গুণ যোগ হবে যিনি পানি ছিটানোর পর পা ধোয়ার বিষয়টি স্মরণ রেখেছেন, তার তুলনায় যে তা স্মরণ রাখতে পারেনি। 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: জায়েদ বিন আল-হুবাব বর্ণিত এই হাদিসটি এই অধ্যায়ে আল-বাইহাকি কর্তৃক উল্লিখিত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম। জায়েদ বিন আল-হুবাব সম্পর্কে ইবনে আদি, ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সুফিয়ান সাওরি থেকে জায়েদ বিন আল-হুবাবের বর্ণিত হাদিসগুলো ওলটপালট (مقلوبة)"। ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি কুফার সুদৃঢ় (اثبات) মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁর সত্যবাদিতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।" ইবনে মাইন যে কথাটি বলেছেন যে তাঁর সাওরি থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো ওলটপালট, তার অর্থ হলো—সাওরি থেকে তাঁর এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা সেই সনদের কারণে অপরিচিত (تستغرب) মনে হয়; কেউ কেউ সেটিকে রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (يرفعه) করেন, আবার অন্যরা তা করেন না। তবে তাঁর বাকি সব হাদিসই সঠিক বা ত্রুটিমুক্ত (مستقيمة)। ইবনে আদি জায়েদ বিন আল-হুবাবের এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যাতে এই সমস্যা নেই। আর জায়েদ যখন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং সত্যবাদী (صدوقا), তখন হাদিসটি এমন হবে যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা (ينفرد) করেছেন।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি আল-বাজজার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমাদের নিকট রাওহ ইবনে উবাদাহ বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি জিব থেকে, তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন ওজু করতেন তখন তাঁর জুতো জোড়া পায়েই থাকত এবং তিনি সেগুলোর ওপর মাসেহ করতেন। তিনি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই করতেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قَالَ الْبَزَّار لَا نعلم رَوَاهُ عَن نَافِع الا ابْن أبي ذِئْب وَلَا عَن ابْن أبي ذِئْب الا روح وانما كَانَ يمسح عَلَيْهِمَا لِأَنَّهُ توضأمن غير حدث وَكَانَ يتوضألكل صَلَاة من غير حدث فَهَذَا مَعْنَاهُ انْتهى كَلَامه فَأجَاب النَّاس عَن أَحَادِيث الْمسْح على النَّعْلَيْنِ بِثَلَاثَة أجوبة أَحدهَا أَنه كَانَ من النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم فِي الْوضُوء المتطوع بِهِ

يُؤَيّدهُ مَا أخرجه ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَترْجم عَلَيْهِ بَاب ذكر الدَّلِيل على أَن مسح النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم على النَّعْلَيْنِ كَانَ فِي وضوء تطوع لَا من حدث عَن سُفْيَان عَن السّديّ عَن عبد خير عَن عَليّ انه دَعَا بكوز من مَاء ثمَّ تَوَضَّأ وضُوءًا خَفِيفا وَمسح على نَعْلَيْه ثمَّ قَالَ هَكَذَا وضوء رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم للظَّاهِر مالم يحدث

قَالَ فِي الامام وَهَذَا الحَدِيث أخرجه أَحْمد بن عبيد الصفار فِي مُسْنده بِزِيَادَة لفظ وَفِيه ثمَّ قَالَ هَكَذَا فعل رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مَا لم يحدث انْتهى

قلت وَهَكَذَا فعل ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي النَّوْع الثَّالِث والاربعين من الْقسم الْخَامِس فَأخْرج عَن أَوْس بن أبي أَوْس أَنه تَوَضَّأ وَمسح على النَّعْلَيْنِ وَقَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يمسح عَلَيْهِمَا

قَالَ ابْن حبَان وَهَذَا انما كَانَ فِي وضوء النَّفْل ثمَّ اسْتدلَّ بِحَدِيث اخرجه عَن النزال بن سُبْرَة عَن على أَنه توضأومسح برجليه وَقَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله
আল-বজ্জার বলেন: আমরা জানি না যে নাফি থেকে ইবনে আবি দিব ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন, আর ইবনে আবি দিব থেকে রাউহ ব্যতীত কেউ বর্ণনা (رواه) করেননি। তিনি মূলত এগুলোর ওপর মাসাহ করেছিলেন কারণ তিনি অপবিত্রতা (حدث) ছাড়াই অজু করেছিলেন এবং তিনি অপবিত্রতা (حدث) ছাড়াই প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করতেন। এটিই এর মর্মার্থ—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। অতঃপর আলিমগণ জুতার ওপর মাসাহ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর তিনটি উত্তর প্রদান করেছেন; যার একটি হলো, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে নফল (تطوع) অজুর ক্ষেত্রে ছিল।

ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে যা বর্ণনা (أخرجه) করেছেন তা একে সমর্থন করে এবং তিনি এর ওপর অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লামের জুতার ওপর মাসাহ করা যে নফল (تطوع) অজুতে ছিল, অপবিত্রতা (حدث) থেকে নয়—তার দলিল উল্লেখের পরিচ্ছেদ’। সুফিয়ান থেকে, তিনি সুদ্দি থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে, আর তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রা.) এক ঘটি পানি চাইলেন, অতঃপর হালকা অজু করলেন এবং তাঁর জুতো জোড়ার ওপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লামের অজু এমনই ছিল বাহ্যিক পবিত্রতার জন্য, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্র (حدث) হতেন।

‘আল-ইমাম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই হাদিসটি আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন এবং তাতে রয়েছে: “অতঃপর তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম এমনই করতেন যতক্ষণ না তিনি অপবিত্র (حدث) হতেন।” সমাপ্ত।

আমি বলছি: অনুরূপভাবে ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থের পঞ্চম ভাগের তেতাল্লিশতম প্রকারে করেছেন। তিনি আউস ইবনে আবি আউস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, তিনি অজু করলেন এবং জুতোর ওপর মাসাহ করলেন এবং বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লামকে তাদের (জুতোদ্বয়ের) ওপর মাসাহ করতে দেখেছি।

ইবনে হিব্বান বলেন: এটি কেবল নফল (نفل) অজুর ক্ষেত্রে ছিল। এরপর তিনি একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যা তিনি নাজ্জাল ইবনে সুবরা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে, তিনি অজু করলেন এবং তাঁর দুই পা মাসাহ করলেন এবং বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৪)
تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم فعل كَمَا فعلت وَهَذَا وضوء من لم يحدث انْتهى وَقد تقدم للبزار فِي حَدِيث ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا نَحْو ذَلِك

الْجَواب الثَّانِي قَالَه الْبَيْهَقِيّ ان معنى مسح على نَعْلَيْه اي غسلهمَا فِي النَّعْل وَاسْتدلَّ بِحَدِيث الصَّحِيحَيْنِ فِي النِّعَال وان ابْن عُيَيْنَة زَاد فِيهِ وَيمْسَح عَلَيْهَا ثمَّ سَاقه بِسَنَدِهِ الى سُفْيَان عَن مُحَمَّد بن عجلَان عَن سعيد المَقْبُري عَن عبيد بن جريج قَالَ قيل لِابْنِ عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا رَأَيْنَاك تفعل شَيْئا لم نر احدا يَفْعَله غَيْرك قَالَ وماهو قَالَ رَأَيْنَاك تلبس النِّعَال السبتية قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يَلْبسهُمَا وَيتَوَضَّأ فِيهَا ثمَّ يمسح عَلَيْهِمَا

قَالَ فِي الامام وَفِي هَذَا الِاسْتِدْلَال نظر وَالَّذِي يظْهر انه يتوضأثم يَلْبسهُمَا وَكَأَنَّهُ أَخذ لَفْظَة فِيهَا على ظَاهرهَا وَلَكِن يحْتَاج الى أَن يكون لَفْظَة يتوضألا تطلق الا على الْغسْل انْتهى كَلَامه

الْجَواب الثَّالِث قَالَه الطَّحَاوِيّ فِي كتاب شرح الْآثَار وَهُوَ انه مسح على النَّعْلَيْنِ فضلا وَاسْتشْهدَ بِحَدِيث ابي مُوسَى الاشعري رضي الله عنه ان النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مسح على جوربيه ونعليه وَبِحَدِيث الْمُغيرَة ابْن شُعْبَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ نَحوه روى الاول ابْن مَاجَه وَالثَّانِي رَوَاهُ ابو دَاوُود وَالتِّرْمِذِيّ وَقد تقدم الْكَلَام عَلَيْهَا فِي حَدِيث الجواربين نصب الرَّايَة 1891

فعلى مَا تقدم من التحقيقات فَمَعْنَى الْمسْح على النَّعْلَيْنِ فِي الْوضُوء من غير حدث اَوْ معنى مسح نَعْلَيْه أَي غسلهمَا فِي النَّعْلَيْنِ أَو مسح على النَّعْلَيْنِ فضلا عَن الْغسْل انْتهى وَالله أعلم

...তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তিনি ঠিক তেমনই করেছেন যেমনটি আমি করেছি; আর এটি হলো সেই ব্যক্তির অজু যে নতুন করে অপবিত্র (حدث) হয়নি। এখানেই (উদ্ধৃতির) সমাপ্তি। আল-বজ্জারের মুসনাদ-এ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসে অনুরূপ বর্ণনা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় উত্তরটি ইমাম বায়হাকী প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, 'জুতার ওপর মাসেহ (مسح)' করার অর্থ হলো জুতা পরিহিত অবস্থায় পা ধৌত করা। তিনি এ বিষয়ে দুই সহিহ (الصحيحين) গ্রন্থে বর্ণিত জুতা সংক্রান্ত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং ইবনে উইয়াইনাহ এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, 'তিনি সেগুলোর ওপর মাসেহ (مسح) করতেন'। অতঃপর তিনি তাঁর সনদ (سند) সহকারে সুফিয়ান, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে এবং তিনি উবায়েদ ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইবনে উমর (রা.)-কে বলা হলো, 'আমরা আপনাকে এমন কিছু করতে দেখেছি যা অন্য কাউকে করতে দেখিনি।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'সেটি কী?' বর্ণনাকারী বললেন, 'আমরা আপনাকে সিবতিয়াহ (চামড়ার পশমহীন) জুতা পরিধান করতে দেখেছি।' তিনি বললেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম-কে এই দুই জুতা পরিধান করতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় অজু করতে ও সেগুলোর ওপর মাসেহ (مسح) করতে দেখেছি।'

ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ তাঁর 'আল-ইমাম' কিতাবে বলেছেন: এই দলিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের (الاستدلال) ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে। যা প্রকাশ্য তা হলো—তিনি অজু করতেন এবং এরপর জুতা পরিধান করতেন। মনে হচ্ছে তিনি 'তাতে' শব্দটির বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছেন; তবে এর জন্য শর্ত হলো 'অজু করা' শব্দটি যেন কেবল 'ধৌত করা' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এখানেই তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি।

তৃতীয় উত্তরটি ইমাম তহাবী তাঁর 'শারহু মাআনিল আসার' কিতাবে দিয়েছেন। আর তা হলো, তিনি অতিরিক্ত (فضلا) আমল হিসেবে জুতার ওপর মাসেহ (مسح) করেছিলেন। তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রা.)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ (مسح) করেছেন। মুগীরা ইবনে শু’বা (রা.) থেকে অনুরূপ একটি হাদিস বর্ণিত আছে। প্রথমটি ইবনে মাজাহ এবং দ্বিতীয়টি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। মোজা সংক্রান্ত হাদিসের আলোচনায় 'নাসবুর রায়াহ' (১৮৯১) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

সুতরাং পূর্বোক্ত বিশ্লেষণগুলোর (التحقيقات) আলোকে, অজুতে জুতার ওপর মাসেহ (مسح) করার অর্থ হলো অপবিত্র (حدث) না হওয়া অবস্থায় অজু করা, অথবা এর অর্থ হলো জুতা পরিহিত অবস্থায় পা ধৌত করা, অথবা পা ধৌত করার অতিরিক্ত (فضلا) আমল হিসেবে জুতার ওপর মাসেহ (مسহ) করা। এখানেই সমাপ্তি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أشرف الْمُرْسلين سيد الاولين والآخرين سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

‌‌الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة فِي اثبات السّنة الْقبلية للْجُمُعَة

 

قَالَ الْحَافِظ ابْن قيم الجوزية رَحمَه الله تَعَالَى فِي زَاد الْمعَاد ص 170 فِي ادِّعَاء عدم السّنة الْقبلية للْجُمُعَة بِرَأْيهِ ورأي من قَالَه بَعْدَمَا تكلم وُجُوهًا فِي عدمهَا عقلية وللمثبت أَكثر مِمَّا قَالَه واثباتها قَول جُمْهُور الْفُقَهَاء

قَالَ ابْن الْمُنْذر روينَا عَن ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا أَنه كَانَ يصلى قبل الْجُمُعَة اثْنَتَيْ عشرَة رَكْعَة وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا أَنه كَانَ يصلى ثَمَان رَكْعَات وَهَذَا دَلِيل على أَن ذَلِك كَانَ مِنْهُم من بَاب التَّطَوُّع الْمُطلق وَلذَلِك اخْتلف فِي الْعدَد الْمَرْوِيّ عَنْهُم اه

يُقَال الا يجوز أَن يريَا النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم أَو أخبرا بذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল, পূর্বাপর সকলের নেতা, আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

‌তৃতীয় মাসয়ালা: জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত সাব্যস্ত করার বিষয়ে

 

হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) 'যাদুল মাআদ'-এর ১৭০ পৃষ্ঠায় জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত না থাকার দাবির ক্ষেত্রে নিজের এবং যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের স্বপক্ষে কিছু যৌক্তিক দিক নিয়ে আলোচনার পর বলেছেন যে, (সুন্নাত) সাব্যস্তকারীদের নিকট তাঁর বলা কথার চেয়েও অধিক প্রমাণ রয়েছে। আর এটি সাব্যস্ত করা অধিকাংশ (جمهور) ফিকহবিদদের (فقهاء) অভিমত।

ইবনুল মুনজির বলেছেন, ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জুমার পূর্বে বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁদের এই আমল ছিল সাধারণ ঐচ্ছিক (تطوع مطلق) ইবাদতের পর্যায়ভুক্ত, আর এই কারণেই তাঁদের থেকে বর্ণিত (مروي) রাকাত সংখ্যার মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমাপ্ত।

বলা হয়ে থাকে যে, এমন কি হতে পারে না যে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা করতে দেখেছেন অথবা তাঁদেরকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল?
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلم لَا يجوز صلَاته قبل الْجُمُعَة مرّة كَذَا وَمرَّة كَذَا مَا لم يَأْتِ رِوَايَة أَنه صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يصلى بِعَدَد خَاص من أول الامر فدعوى التَّطَوُّع الْمُطلق فِي فعلهمَا لَا يتَّجه وتشدد عبد الله بن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا فِي الِاتِّبَاع الْمَحْض مَشْهُور واجتنابه عَمَّا لم يفعل رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مسطور فِي الاحاديث فاختلاف الْعدَد الْمَرْوِيّ لَا يدل على عدم صُدُور الصَّلَاة قبل الْجُمُعَة عَن سيد الْعَالمين صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَقد ثَبت أَربع رَكْعَات قبل الْجُمُعَة بِرِوَايَة على رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ كَمَا يَأْتِي

قَالَ الْحَافِظ ابْن الْقيم وَقَالَ التِّرْمِذِيّ فِي الْجَامِع وَرُوِيَ عَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَنه كَانَ يُصَلِّي قبل الْجُمُعَة أَرْبعا وَبعدهَا أَرْبعا واليه ذهب ابْن الْمُبَارك وَالثَّوْري رحمهمَا الله وَلم يجب الْحَافِظ عَن هَذِه الرِّوَايَة الصَّحِيحَة كَمَا فِي فقه السّنَن والْآثَار وصدور الاربع قبل الْجُمُعَة من مثل عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَذَهَاب مثل ابْن الْمُبَارك وسُفْيَان الثَّوْريّ رحمهمَا الله تَعَالَى وهما أعلم بِالسنةِ أولى بِالْأَخْذِ من أَمْثَال الْحَافِظ فَلَهُمَا الاسوة الْحَسَنَة

ثمَّ قَالَ الْحَافِظ وَقَالَ اسحق بن ابراهيم بن هَانِئ النَّيْسَابُورِي رَأَيْت أَبَا عبد الله رَحمَه الله تَعَالَى اذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة يصلى الى أَن يعلم ان الشَّمْس قد قاربت ان تَزُول ثمَّ امسك عَن الصَّلَاة حَتَّى يُؤذن الْمُؤَذّن فاذا أَخذ فِي الاذان قَامَ فصلى رَكْعَتَيْنِ أَو أَرْبعا يفصل بَينهمَا بِالسَّلَامِ فاذا صلى الْفَرِيضَة انْتظر فِي الْمَسْجِد ثمَّ يخرج مِنْهُ فَيَأْتِي بعض الْمَسَاجِد الَّتِي بِحَضْرَة الْجَامِع فَيصَلي فِيهِ رَكْعَتَيْنِ فَرُبمَا صلى أَرْبعا ثمَّ يجلس ثمَّ
কেন জুমার আগে তাঁর সালাত কখনো এভাবে আবার কখনো অন্যভাবে আদায় করা বৈধ হবে না, যতক্ষণ না এমন কোনো বর্ণনা (رواية) আসে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই কোনো বিশেষ সংখ্যায় সালাত আদায় করতেন? সুতরাং তাঁদের কর্মের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ নফল (تطوع)-এর দাবিটি যৌক্তিক নয়। একনিষ্ঠ অনুসরণের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর কঠোরতা সুবিদিত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম) যা করেননি তা থেকে তাঁর বিরত থাকার বিষয়টি হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুতরাং বর্ণিত সংখ্যার বিভিন্নতা জুমার আগে বিশ্বজাহানের সর্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সালাত সংঘটিত না হওয়ার প্রমাণ হতে পারে না। নিশ্চয়ই আলী (রা.)-এর বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে জুমার আগে চার রাকাত আদায় করা প্রমাণিত হয়েছে, যা সামনে আসবে।

হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, তিরমিযী জামি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। ইবনুল মুবারক ও সুফিয়ান সাওরি (রহ.) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। হাফিজ (ইবনুল কাইয়্যিম) এই বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা (رواية) সম্পর্কে কোনো উত্তর প্রদান করেননি, যেমনটি ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার গ্রন্থে রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মতো ব্যক্তিত্ব থেকে জুমার আগে চার রাকাতের বিষয়টির অবতারণা হওয়া এবং ইবনুল মুবারক ও সুফিয়ান সাওরি (রহ.)-এর মতো মনীষীদের—যাঁরা সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ—এই মত গ্রহণ করা হাফিজের মতো ব্যক্তিদের অনুসরণের চেয়ে অধিক শ্রেয়। তাঁদের মাঝেই উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে।

অতঃপর হাফিজ বলেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে হানি নাইসাবুরি বলেছেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ, রহ.) দেখেছি যে, জুমার দিন উপস্থিত হলে তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন যতক্ষণ না বুঝতেন যে সূর্য মধ্যাকাশ থেকে ঢলে পড়ার নিকটবর্তী হয়েছে। অতঃপর মুয়াজ্জিন আজান দেওয়া পর্যন্ত তিনি সালাত থেকে বিরত থাকতেন। যখন মুয়াজ্জিন আজান শুরু করতেন, তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দুই অথবা চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং মাঝে সালামের মাধ্যমে তা পৃথক করতেন। যখন তিনি ফরজ (فريضة) সালাত শেষ করতেন, তখন মসজিদে অপেক্ষা করতেন, অতঃপর সেখান থেকে বেরিয়ে জুমার মসজিদের সন্নিকটে অবস্থিত কোনো মসজিদে আসতেন এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন; কখনো কখনো চার রাকাতও আদায় করতেন, তারপর বসতেন এবং...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৭)
يقوم فيصلى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ وَذَلِكَ سِتّ رَكْعَات وَرُبمَا صلى بعد السِّت سِتا آخر أَو أقل أَو أَكثر

وَقد أَخذ من هَذَا بعض أَصْحَابه رِوَايَة أَن للْجُمُعَة سنة رَكْعَتَيْنِ أَو أَرْبعا وَلَيْسَ بِصَرِيح وَلَا بِظَاهِر فان أَحْمد يمسك عَن الصَّلَاة فِي وَقت النَّهْي فاذا زَالَ وَقت النَّهْي قَامَ فَأَتمَّ تطوعه اه

قَوْله فاذا أَخذ الْمُؤَذّن فِي الاذان قَامَ فصلى هَل يجوز الْعقل ان الامام أَحْمد يتْرك سنة اسْتِمَاع الاذان الثَّابِت بِالْحَدِيثِ وَهُوَ قَوْله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم اذا سَمِعْتُمْ الْمُؤَذّن فَقولُوا مثل مَا يَقُول أَو كَمَا قَالَ

والاذان الاول سنة الْخَلِيفَة الراشد اللَّازِم أَخذه ويشتغل بالتطوع الْمُطلق باتمامه الا أَنَّهَا أهم من اجابة الْمُؤَذّن ثمَّ الْعجب هَل للتطوع اتمام فِي كل جُمُعَة

قَوْله وَقد أَخذ من هَذَا بعض اصحابه الخ واصحابه أعلم بِمَا فعل الامام أَحْمد من الَّذِي جَاءَ من بعده نَحْو أَربع مائَة سنة فَفعل الامام ظَاهر أَن للْجُمُعَة سنة

وانتظار الامام أَحْمد رَحمَه الله تَعَالَى الى الزَّوَال احْتِرَازًا عَن الصَّلَاة فِي الْوَقْت الْمَكْرُوه هُوَ عين مايفعل فِي جَمِيع اقطار الْبِلَاد الاسلامية من انتظارهم بعد تَحِيَّة الْمَسْجِد مَعَ زِيَادَة اَوْ لَا الى الاذان الاول فهم متبعون بِأحد أَعْلَام سلف الامة رَحِمهم الله تَعَالَى فَلَا ملامة عَلَيْهِم والامام أَحْمد رأى ان اقامة السّنة أولى من اسْتِمَاع الاذان فِي الْمَسْجِد فَلَو لم تكن للْجُمُعَة سنة قبلية لم يتْرك الِاسْتِمَاع
তিনি উঠে আরও দুই রাকাত নামাজ পড়তেন এবং তা হতো মোট ছয় রাকাত। কখনো কখনো তিনি এই ছয় রাকাতের পর আরও ছয় রাকাত কিংবা তার চেয়ে কম বা বেশি নামাজ পড়তেন।

তাঁর কোনো কোনো সঙ্গী এখান থেকে একটি বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করেছেন যে, জুমার জন্য দুই বা চার রাকাত সুন্নত রয়েছে। তবে এটি সুস্পষ্ট (صريح) বা প্রকাশ্য (ظاهر) কিছু নয়। কেননা ইমাম আহমদ নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতেন; অতঃপর যখন নিষিদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হতো, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর নফল (تطوع) ইবাদত পূর্ণ করতেন। সমাপ্ত।

তাঁর উক্তি: "যখন মুয়াজ্জিন আজান শুরু করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তেন।" বিবেক কি এটি অনুমোদন করে যে, ইমাম আহমদ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আজান শোনার সুন্নতটি ত্যাগ করবেন? অথচ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণী হলো: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।

আর প্রথম আজান হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত যা গ্রহণ করা আবশ্যক। তিনি সাধারণ নফল (تطوع مطلق) নামাজ পূর্ণ করতে মশগুল থাকতেন, যেন এটি মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। অতঃপর আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতি জুমায় কি নফল নামাজের এমন কোনো পূর্ণতা বা সমাপ্তি আছে?

তাঁর উক্তি: "এখান থেকে তাঁর কোনো কোনো সঙ্গী গ্রহণ করেছেন..." ইত্যাদি। চারশ বছর পরে যারা এসেছেন, তাদের চেয়ে ইমাম আহমদের সঙ্গীরা তাঁর আমল সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। সুতরাং ইমামের আমলটি প্রকাশ্য (ظاهر) প্রমাণ যে জুমার সুন্নত রয়েছে।

আর ইমাম আহমদ (রহমাতুল্লাহি তাআলা) অপছন্দনীয় সময়ে (وقت مكروه) নামাজ পড়া থেকে বাঁচতে সূর্য ঢলে পড়া (জাওয়াল) পর্যন্ত যে অপেক্ষা করতেন, তা ঠিক সেটিই যা মুসলিম বিশ্বের সকল প্রান্তে করা হয়ে থাকে; অর্থাৎ তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ের পর প্রথম আজান পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করা। তারা উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) অন্যতম এক ইমামের অনুসরণ করছেন, তাই তাদের ওপর কোনো তিরস্কার নেই। ইমাম আহমদ মনে করতেন যে, সুন্নত কায়েম করা মসজিদে আজান শোনার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যদি জুমার কোনো পূর্ববর্তী সুন্নত (سنة قبلية) না থাকত, তবে তিনি আজান শোনা ত্যাগ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَفِي فقه السّنَن والْآثَار فِي ص 101 قَالَ ولعَبْد الرَّزَّاق بِسَنَد صَحِيح (1) عَن أبي عبد الرَّحْمَن السّلمِيّ قَالَ كَانَ عبد الله رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ يَأْمُرنَا أَن نصلى قبل الْجُمُعَة أَرْبعا وَبعدهَا أَرْبعا (1) كَذَا فِي آثَار السّنَن ج 296 وَفِي الدِّرَايَة ص 133 رِجَاله ثِقَات اه

وللطحاوي عَن ابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا بِسَنَد صَحِيح (2) أَنه كَانَ يُصَلِّي قبل الْجُمُعَة اربعا لَا يفصل بَينهُنَّ بِسَلام ثمَّ بعد الْجُمُعَة رَكْعَتَيْنِ ثمَّ أَرْبعا اه ج 1198 آثَار السّنَن 94 ج 2

وَقد أقرّ الْحَافِظ بِثُبُوت الصَّلَاة قبل الْجُمُعَة عَن ابْن مَسْعُود وَابْن عمر وَابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم فَكفى بهم قدوة فِي اثبات السّنة قبل الْجُمُعَة وبالامام أَحْمد الَّذِي اجتنابه عَن الزِّيَادَة فِي الدّين مَعْلُوم لَا يحْتَاج الى التَّعْرِيف

فاذا ثَبت الصَّلَاة قبل الْجُمُعَة عَن هَؤُلَاءِ الاجلة فَكيف لَا تكون للْجُمُعَة سنة قبلية مَعَ اجازة النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم للصَّلَاة الى خُرُوج الامام

فِي الْجَامِع الصَّغِير للسيوطي رَحمَه الله تَعَالَى فِي ج 5 ص 514 كَانَ يرْكَع قبل الْجُمُعَة اربعا وَبعدهَا اربعا لَا يفصل فِي شيءمنهن بِتَسْلِيم وَفِيه ان الْجُمُعَة كالظهر فِي الرَّاتِبَة الْقبلية وَهُوَ الاصح عِنْد الشَّافِعِيَّة (5) عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ شَارِحه الْعَلامَة الْمَنَاوِيّ فِيهِ أُمُور الى أَن قَالَ أَنه أَي جلال الدّين السُّيُوطِيّ مؤلف الْجَامِع قد أَسَاءَ التَّصَرُّف حَيْثُ عدل لهَذَا الطَّرِيق الْمَعْلُول وَاقْتصر عَلَيْهِ

এবং 'ফিকাউস সুনান ওয়াল আসার'-এর ১০১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক একটি সহিহ (صحيح) সনদে (১) আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আমাদের জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন। (১) অনুরূপ বর্ণনা 'আসারুস সুনান'-এর ২য় খণ্ডের ২৯৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং 'আদ-দিরায়া'-এর ১৩৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। সমাপ্ত।

ইমাম তহাবি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদে (২) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুমার আগে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মাঝে সালামের মাধ্যমে কোনো বিচ্ছেদ করতেন না। এরপর জুমার পরে দুই রাকাত, অতঃপর চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। সমাপ্ত। 'আসারুস সুনান' ২য় খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠা এবং ১১৯৮ নম্বর হাদিস।

হাফেজ (الحافظ) ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম থেকে জুমার আগের সালাত প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জুমার আগের সুন্নত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁরাই আদর্শ হিসেবে যথেষ্ট। সেই সাথে ইমাম আহমদের কথা তো বলাই বাহুল্য, দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু পরিহার করার ব্যাপারে যাঁর সতর্কতা সর্বজনবিদিত এবং যা কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নয়।

সুতরাং যখন এই সকল মহান ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে জুমার আগের সালাত প্রমাণিত হয়েছে, তখন জুমার জন্য কেন পূর্ববর্তী সুন্নত থাকবে না? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম ইমামের খুতবার জন্য বের হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায়ের অনুমতি প্রদান করেছেন।

সুয়ুতি রহমাতুল্লাহি তাআলা রচিত 'আল-জামি আস-সগির'-এর ৫ম খণ্ডের ৫১৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে: তিনি জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার কোনোটিতেই তিনি সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ করতেন না। এতে বর্ণিত হয়েছে যে, জুমা জোহরের মতোই জুমার পূর্ববর্তী সুন্নতে রাতেবা (الراتبة القبلية)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর শাফেয়ি মাযহাব মতে এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح) মত। (৫) এটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা থেকে বর্ণিত। এর ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুনাউয়ি এতে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করে পরিশেষে বলেছেন যে, তিনি অর্থাৎ ‘আল-জামি’ গ্রন্থের সংকলক জালালুদ্দিন সুয়ুতি এই ত্রুটিপূর্ণ (المعلول) সূত্রের দিকে ঝুঁকে এবং এর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে অসঙ্গত কাজ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مَعَ وُرُوده من طَرِيق مَقْبُول فقد رَوَاهُ الخلقي فِي فَوَائده من حَدِيث على كرم الله وَجهه قَالَ الزين الْعِرَاقِيّ واسناده جيد اه

وَبِهَذَا الحَدِيث انْدفع كل مَا قَالَه الْحَافِظ فِي ادِّعَاء عدم الرَّاتِبَة قبل الْجُمُعَة

وَرُوِيَ عَن ثَوْبَان رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم كَانَ يسْتَحبّ أَن يصلى بعد نصف النَّهَار فَقَالَت عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا يَا رَسُول الله اني أَرَاك تسْتَحب الصَّلَاة هَذِه السَّاعَة قَالَ تفتح فِيهَا أَبْوَاب السَّمَاء وَينظر الله تبارك وتعالى بِالرَّحْمَةِ الى خلقه وَهِي صَلَاة كَانَ يحافظ عَلَيْهَا آدم ونوح وابراهيم ومُوسَى وَعِيسَى على نَبينَا وَعَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام رَوَاهُ الْبَزَّار التَّرْغِيب والترهيب ج 1 ص 400

ثمَّ انْتِظَار الامام أَحْمد رَحمَه الله تَعَالَى الى الاذان الاول لزوَال الشَّمْس دَلِيل على ان الاذان الاول يكون بعد الزَّوَال والا فَكيف يسكت الامام لَو كَانَ الاذان الاول شرع قبل الزَّوَال فِي زمَان عُثْمَان رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ

وايضا علم مِمَّا رُوِيَ الْحَافِظ عَن عبد الله بن عمر انه كَانَ يصلى قبل الْجُمُعَة اثْنَتَيْ عشرَة رَكْعَة وَعَما رُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا أَنه كَانَ يصلى قبل الْجُمُعَة ثَمَان رَكْعَات عدم صَوَاب ادِّعَاء الْحَافِظ أَن رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم كَانَ يخرج الى الْخطْبَة كَمَا زَالَت الشَّمْس بِلَا تَأْخِير والا فَكيف تسع صلاتهما ان كَانَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم يخْطب عِنْد زَوَال الشَّمْس بِلَا تَأْخِير وَالله أعلم بِالصَّوَابِ
এটি একটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও, আল-খালকি তাঁর ফাওয়াইদ-এ আলী (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। জাইন আল-ইরাকি বলেছেন, এর সনদ (اسناد) উত্তম (جيد)। সমাপ্ত।

এই হাদিসের মাধ্যমে হাফেজ (ইবনে হাজার) জুমার আগে সুন্নতে রাতেবা না থাকার দাবির সপক্ষে যা কিছু বলেছেন, তা খণ্ডন হয়ে যায়।

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বিপ্রহরের পর সালাত আদায় করা পছন্দ করতেন। আয়েশা (রা.) বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি দেখছি আপনি এই সময়ে সালাত আদায় করা পছন্দ করেন।" তিনি বললেন, "এই সময়ে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করেন। এটি এমন এক সালাত যা আদম, নূহ, ইবরাহিম, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) নিয়মিত আদায় করতেন।" আল-বাজজার এটি বর্ণনা করেছেন (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০০)।

অতঃপর সূর্য ঢলে পড়ার (জাওয়াল) পর প্রথম আজান পর্যন্ত ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর অপেক্ষা করা এই কথার দলিল যে, প্রথম আজান সূর্য ঢলার পরেই হয়ে থাকে। অন্যথায়, উসমান (রা.)-এর যুগে যদি সূর্য ঢলার আগে প্রথম আজান প্রবর্তন করা হতো, তবে ইমাম কীভাবে নীরব থাকতেন?

এছাড়া হাফেজ (ইবনে হাজার) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুমার আগে বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জুমার আগে আট রাকাত সালাত আদায় করতেন—তা থেকে হাফেজের সেই দাবির অসারতা প্রমাণিত হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য ঢলার সাথে সাথেই কোনো বিলম্ব ছাড়াই খুতবার জন্য বের হতেন। অন্যথায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি সূর্য ঢলার সাথে সাথে বিলম্ব না করে খুতবা দিতেন, তবে তাঁদের দুজনের সালাত আদায়ের সময় কীভাবে সংকুলান হতো? আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৩০)
حَدِيث آخر اخرجه ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي النَّوْع الثَّانِي وَالتسْعين من الْقسم الاول عَن سليم بن عَامر عَن عبد الله بن الزبير رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مَا من صَلَاة مَكْتُوبَة الا وَبَين يَديهَا رَكْعَتَانِ انْتهى نصب الرَّايَة ج 2142

قَوْله فِي صَحِيحه قلت الحَدِيث أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ ص 99 عَن سليم بن عَامر عَن أبي عَامر الخبايري عَن عبد الله بن الزبير وَقَالَ محشيه فِي نُسْخَة صَحِيحَة سليم بن ابي عَامر الخبايري قلت رجال الدَّارَقُطْنِيّ ثِقَات وَأخرجه ابْن نصر الْمروزِي فِي قيام اللَّيْل ص 26 وَفِيه سليم بن أبي عَامر اه حَاشِيَة نصب الرَّايَة

فعلى الخطباء أَن يمهلوا بعد الزَّوَال سَاعَة يُمكن فِيهَا ارْبَعْ رَكْعَات عملا بِمَا ثَبت عَن رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَأَن يقطعوا سلسلتهم الافواهية بَين الزَّوَال وَالْخُرُوج فِي قَوْلهم الزَّوَال فالخروج فالاذان فالخطبة فَالصَّلَاة
অন্য একটি হাদিস; ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বিরানব্বইতম প্রকারে সুলাইম ইবনে আমির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো নির্ধারিত নামাজ নেই যার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ নেই।" সমাপ্ত — নাসবুর রাইয়াহ, ২/১৪২।

তাঁর বক্তব্য "তাঁর সহিহ গ্রন্থে": আমি বলছি, হাদিসটি দারা কুতনি (পৃষ্ঠা ৯৯) সুলাইম ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু আমির আল-খাবাইরি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। এর টীকাকার একটি বিশুদ্ধ (صحيحة) পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে বলেছেন যে, তাতে "সুলাইম ইবনে আবি আমির আল-খাবাইরি" রয়েছে। আমি বলছি, দারা কুতনির বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقات)। ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি এটি কিয়ামুল লাইল (পৃষ্ঠা ২৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে "সুলাইম ইবনে আবি আমির" রয়েছে। সমাপ্ত — হাশিয়া নাসবুর রাইয়াহ।

অতএব, খতিবদের উচিত সূর্য ঢলার (যাওয়াল) পর এমন পরিমাণ সময় বিরতি দেওয়া যাতে চার রাকাত নামাজ পড়া সম্ভব হয়; যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তার ওপর আমল করার নিমিত্তে। এবং সূর্য ঢলা ও খুতবার জন্য বের হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে তাদের প্রচলিত মৌখিক ধারা—যেমন তাদের কথা: "সূর্য ঢলা, এরপর বের হওয়া, এরপর আজান, এরপর খুতবা, তারপর নামাজ"—তা পরিহার করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুত তিসউ (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على اشرف الْمُرْسلين سيد الْأَوَّلين والآخرين سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

‌‌الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة فِي تَحْقِيق رفع الْيَدَيْنِ فِي الرُّكُوع وَتَركه

 

قَالَ الامام البُخَارِيّ فِي جُزْء رفع الْيَدَيْنِ فِي ص 24 وَكَانَ الثَّوْريّ ووكيع وَبَعض الْكُوفِيّين لَا يرفعون أَيْديهم وَقد رووا أَحَادِيث كَثِيرَة وَلم يعتبوا على من رفع يَدَيْهِ وَلَوْلَا أَنَّهَا حق مَا رووا تِلْكَ الاحاديث لانه لَيْسَ لأحد أَن يَقُول على رَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم مَا لم يقل أَو يفعل لقَوْل النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم من تَقول على مَا لم أقل فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار وَلم يثبت عَن أحد من اصحاب النَّبِي صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم أَنه لَا يرفع يَدَيْهِ وَلَيْسَ اسانيده اصح من رفع الايدي

وَقد أقرّ الامام البُخَارِيّ رَحمَه الله تَعَالَى بقوله وَقد رووا فِي ذَلِك احاديث كَثِيرَة ان لتاركي الرّفْع فِي سوى التَّحْرِيمَة أَحَادِيث كَثِيرَة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল, আদি ও অন্তের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।

‌‌চতুর্থ মাসআলা: রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু হতে ওঠার সময় হাত তোলা (রফি আল-ইয়াদাইন) এবং তা বর্জনের তাহকিক প্রসঙ্গে

 

ইমাম বুখারি জুজউ রফি আল-ইয়াদাইন এর ২৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: সুফিয়ান সাওরি, ওয়াকি এবং কুফার কতিপয় আলেম হাত তুলতেন না; তবে তাঁরা এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং যারা হাত তুলতেন তাঁদের সমালোচনা করেননি। যদি এটি সত্য না হতো, তবে তাঁরা সেসব হাদিস বর্ণনা করতেন না। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি বা করেননি, সে সম্পর্কে কারো পক্ষে অসত্য কিছু বলা বৈধ নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু আরোপ করবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কারো থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়নি যে, তিনি হাত তুলতেন না; এবং এর সনদসমূহ (أسانيد) হাত উত্তোলনের হাদিসগুলোর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) নয়।

ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর উক্তি—'নিশ্চয় তাঁরা এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন'—এর মাধ্যমে এটি স্বীকার করেছেন যে, তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে হাত উত্তোলন যারা বর্জন করেন, তাদের পক্ষেও অনেক হাদিস রয়েছে।