(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: -)
اللمعة في تحقيق الركعة لإدراك الجمعة   (الجلال السيوطي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: اللمعة في تحقيق الركعة لإدراك الجمعة

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

تحقيق: د خالد عبد الكريم جمعة، عبد القادر أحمد عبد القادر

الناشر: مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع - الكويت

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 17

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-লুমআ ফি তাহকীকির রাকাত লি-ইদরাকিল জুমুআ (জুমুআ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাকাতের অনুসন্ধান বিষয়ক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা)   (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: আল-লুমআ ফি তাহকীকির রাকাত লি-ইদরাকিল জুমুআ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. খালিদ আব্দুল কারীম জুমুআ, আব্দুল কাদির আহমদ আব্দুল কাদির

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উরুবা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مَسْأَلَة:

فِي قَول الْمِنْهَاج فِي صَلَاة الْجُمُعَة من أدْرك رُكُوع الثَّانِيَة أدْرك الْجُمُعَة فَيصَلي بعد سَلام الإِمَام وَمَشى عَلَيْهِ الشَّارِح الْمُحَقق وَكَذَلِكَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ بقوله إِن شَرط إِدْرَاك الْجُمُعَة بركوع الثَّانِيَة أَن يسْتَمر الإِمَام إِلَى السَّلَام وَوَقع لبَعْضهِم أَنه قَالَ يجوز مُفَارقَة الإِمَام إِذا أدْرك رُكُوع الثَّانِيَة قبل أَن يسلم الإِمَام إِثْر السُّجُود الثَّانِي وَأفْتى بذلك جمَاعَة من الشَّافِعِيَّة فعلام يعْتَمد الْمُقَلّد للْإِمَام الشَّافِعِي رضي الله عنه وعنا

‌‌الْجَواب:

الْحَمد لله وَسَلام على عباده الَّذين إصطفى هَذِه الْمَسْأَلَة من معضلات الْمسَائِل الَّتِي يجب التَّوَقُّف فِيهَا فَإِن الْمَفْهُوم من كَلَام كثيرين اشْتِرَاط الِاسْتِمْرَار إِلَى السَّلَام وَمن كَلَام آخَرين خِلَافه وَهَا أَنا أبين ذَلِك وَاضحا مفصلا فَأَقُول:

الْمَفْهُوم من كَلَام الْمَشَايِخ الثَّلَاثَة: الرَّافِعِيّ وَالنَّوَوِيّ وَابْن الرّفْعَة اشْتِرَاط الِاسْتِمْرَار إِلَى السَّلَام حَيْثُ عبروا فِي عدَّة مَوَاضِع. الرَّافِعِيّ فِي شرحيه وَالنَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب والمنهاج وَابْن الرّفْعَة فِي
মাসআলা (مسألة):

জুমুআর সালাত প্রসঙ্গে ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের বক্তব্য হলো: যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু (ركوع) পেলো, সে জুমুআ পেলো (إدراك); এমতাবস্থায় সে ইমামের সালামের (سلام) পর সালাত পূর্ণ করবে। মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকারগণ এই মতের ওপরই চলেছেন। তদ্রূপ শাইখ তাকিউদ্দীন আস-সুবকীও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, দ্বিতীয় রাকাতের রুকু (ركوع) পাওয়ার মাধ্যমে জুমুআ পাওয়ার (إدراك) শর্ত হলো ইমামের সালাম (سلام) পর্যন্ত তাঁর সাথে থাকা। তবে কোনো কোনো আলিমের নিকট হতে এমন কথা বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিতীয় রাকাতের রুকু (ركوع) পাওয়ার পর এবং ইমামের দ্বিতীয় সিজদাহ পরবর্তী সালামের (سلام) আগেই ইমামের থেকে পৃথক হওয়া (مفارقة) জায়েজ। শাফেয়ী মাযহাবের একদল ফকীহ এই মর্মে ফতোয়া প্রদান করেছেন। এমতাবস্থায় ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারী কিসের ওপর নির্ভর করবেন?

উত্তর:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। এই মাসআলাটি (مسألة) ঐ সকল অতি জটিল (معضلات) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (توقف) আবশ্যক। কেননা অনেক আলিমের বক্তব্য থেকে সালাম (سلام) পর্যন্ত সাথে থাকার শর্তারোপ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, আবার অন্যদের বক্তব্য থেকে এর বিপরীতটি অনুমিত হয়। আমি এখন বিষয়টি স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি। আমি বলছি:

তিনজন প্রধান মাশায়েখ—রাফেয়ী, নববী এবং ইবনুর রিফআহ-এর বক্তব্য থেকে সালাম (سلام) পর্যন্ত ইমামের সাথে থাকা শর্ত হিসেবেই প্রতীয়মান হয়; যেহেতু তাঁরা বিভিন্ন স্থানে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ইমাম রাফেয়ী তাঁর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহ), ইমাম নববী ‘শারহুল মুহাযযাব’ ও ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থে এবং ইবনুর রিফআহ তাঁর...
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১০)
الْكِفَايَة بقَوْلهمْ صلى بعد سَلام الإِمَام رَكْعَة أضَاف بعد سَلام الإِمَام فَإِذا سلم الإِمَام قَامَ وأتى بِرَكْعَة وتكرر ذَلِك مِنْهُم فِي مَوَاضِع عديدة وَهَذَا وَإِن كَانَ مُحْتملا لذكر بعد صور الْمَسْأَلَة لَا للتَّقْيِيد لَكِن يَدْفَعهُ عدم ذكر الشق الآخر وَهُوَ مَا لَو فَارق قبل السَّلَام مَا حكمه فَإِنَّهُ لَو كَانَ حكمه الْإِدْرَاك لنبهوا عَلَيْهِ ليعرفوا أَن قَوْلهم بعد سَلام الإِمَام وَنَحْوه لَيْسَ للتَّقْيِيد.

وَكَذَا قَالَ ابْن الرّفْعَة فِي مَسْأَلَة المزحوم إِذا رَاعى تَرْتِيب نَفسه عَالما بطلت صلَاته ثمَّ إِن أدْرك الإِمَام فِي رُكُوع الثَّانِيَة وَجب عَلَيْهِ أَن يحرم مَعَه وتدرك الْجُمُعَة بِهَذِهِ الرَّكْعَة فَإِذا سلم الإِمَام أضَاف إِلَيْهَا أُخْرَى.

وَقَالَ فِي مَسْأَلَة الْمَسْبُوق المُرَاد بِإِدْرَاك الرَّكْعَة أَن يحرم الْمَأْمُوم ويركع مَعَ الإِمَام وَالْإِمَام رَاكِع فيجتمعان فِي جُزْء مِنْهُ ويتابع الإِمَام إِلَى أَن يتم.

قَالَ الرَّافِعِيّ المُرَاد بِإِدْرَاك الرُّكُوع أَن يُدْرِكهُ فِيهِ أَو يُتَابِعه فِيمَا بعده من الْأَركان فَهَذِهِ الْعبارَات كلهَا ظَاهِرَة فِي اعْتِبَار الِاسْتِمْرَار إِلَى السَّلَام.

وَأما مَسْأَلَة الْمُفَارقَة الَّتِي ذكرهَا الأسنوي وجوزها قبل السَّلَام فَلم يُصَرح بهَا أحد من الْمَشَايِخ الثَّلَاثَة وَإِنَّمَا ذكرُوا مَسْأَلَة الْمُفَارقَة مريدين بهَا بعد الرَّكْعَة الأولى بِقَرِينَة أَنَّهُمَا لم يذكراها فِي مَسْأَلَة الْمَسْبُوق وَإِنَّمَا ذكرهَا الرَّافِعِيّ وَالنَّوَوِيّ فِي مَسْأَلَة الِاسْتِخْلَاف وَابْن الرّفْعَة فِي مَسْأَلَة الزحمة وكل من الْمَسْأَلَتَيْنِ خَاص بِإِدْرَاك الرَّكْعَة الأولى.
ইমামের সালামের পর এক রাকাত যুক্ত করার কথা বলাটিই যথেষ্ট। তিনি যোগ করেছেন যে, ইমামের সালামের পর যখন ইমাম সালাম ফেরাবেন, তখন তিনি দাঁড়াবেন এবং এক রাকাত আদায় করবেন। এটি তাদের আলোচনায় বহু স্থানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। যদিও এটি মাসআলার কয়েকটি সুরত বা রূপ বর্ণনার সম্ভাবনা রাখে, নির্দিষ্টকরণের (تقييد) জন্য নয়, তবে অন্য দিকটি অর্থাৎ সালামের আগে বিচ্ছিন্ন হওয়া (مفارقة) ঘটলে তার হুকুম কী হবে—তা উল্লেখ না থাকা এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। কেননা, যদি এক্ষেত্রেও নামাজ প্রাপ্তি (إدراك) গণ্য হতো, তবে তারা অবশ্যই সে বিষয়ে সতর্ক করতেন যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, 'ইমামের সালামের পর' ইত্যাদি বলাটি কোনো নির্দিষ্টকরণের (تقييد) জন্য নয়।

অনুরূপভাবে ইবনুল রিফআ ভিড় (الزحمة) সংক্রান্ত মাসআলায় বলেছেন যে, যদি কেউ জেনেশুনে নিজের নামাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। অতঃপর যদি সে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে (ركوع) ইমামকে পায়, তবে তার জন্য ইমামের সাথে তাহরিমা বাঁধা বা ইহরাম (إحرام) করা ওয়াজিব এবং এই রাকাতের মাধ্যমেই সে জুমার নামাজ প্রাপ্ত (إدراك) হবে। এরপর যখন ইমাম সালাম ফেরাবেন, সে এর সাথে অন্য একটি রাকাত যুক্ত করবে।

তিনি মাসবুক (مسبوق) এর মাসআলায় বলেছেন: রাকাত প্রাপ্তি (إدراك الركعة) বলতে উদ্দেশ্য হলো মুক্তাদি তাহরিমা বাঁধবে (إحرام) এবং ইমাম রুকুতে (ركوع) থাকাকালীন তার সাথে রুকু (ركوع) করবে। এভাবে তারা সেই রুকুর একটি অংশে একত্রিত হবে এবং নামাজ সম্পন্ন করা পর্যন্ত ইমামের অনুসরণ করবে।

রাফেঈ বলেন: রুকু প্রাপ্তি (إدراك الركوع) বলতে উদ্দেশ্য হলো তাকে রুকুতে (ركوع) পাওয়া অথবা পরবর্তী রুকনগুলোতে (الأركان) তার অনুসরণ করা। এই সমস্ত অভিব্যক্তিগুলো সালাম পর্যন্ত ধারাবাহিকতা (استمرار) বজায় রাখার আবশ্যকতা প্রকাশে সুস্পষ্ট।

আর আল-আসনাবী বিচ্ছিন্ন হওয়ার (مفارقة) যে মাসআলাটি উল্লেখ করেছেন এবং সালামের পূর্বে যা জায়েজ বলেছেন, সে বিষয়ে তিন মাশায়েখের কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার (مفارقة) বিষয়টি কেবল প্রথম রাকাতের পরের সময়ের জন্য উল্লেখ করেছেন; এর প্রমাণ হলো তারা মাসবুক (مسبوق) এর মাসআলায় এটি উল্লেখ করেননি। বরং রাফেঈ ও নববী এটি ইস্তিখলাফ বা স্থলাভিষিক্ত করার (استخلاف) মাসআলায় উল্লেখ করেছেন এবং ইবনুল রিফআ এটি ভিড়ের (الزحمة) মাসআলায় উল্লেখ করেছেন। এই দুটি মাসআলার প্রত্যেকটিই প্রথম রাকাত প্রাপ্তির (إدراك الركعة الأولى) সাথে সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১১)
هَذَا وَقد صرح بِالْمَسْأَلَة وَاشْتِرَاط الِاسْتِمْرَار إِلَى السَّلَام الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ والكمال الدَّمِيرِيّ فِي شرحيهما على الْمِنْهَاج وَعبارَة السُّبْكِيّ والدميري هَذَا إِذا أكملها مَعَ الإِمَام أما لَو خرج مِنْهَا قبل السَّلَام فَلَا ويرشد إِلَيْهِ قَوْله فَيصَلي بعد سَلام الإِمَام رَكْعَة هَذِه عِبَارَته.

وَقَول الشَّيْخ جلال الْمحلي فِي شَرحه وَاسْتمرّ مَعَه إِلَى أَن سلم يحْتَمل التَّقْيِيد والتصوير لأجل صُورَة الْكتاب.

وَالْأول أوجه وَإِلَّا لبين حكم الْقسم الآخر وألحقه بِالْأولِ كَمَا جرت بِهِ عَادَته وَعَادَة الشُّرَّاح قبله وَإِلَّا لَكَانَ زِيَادَة إِبْهَام واستمرار على مَا فِي الْمَتْن من الْإِبْهَام.

وَإِن نظرت إِلَى الِاسْتِدْلَال وجدته يُؤَيّد الِاشْتِرَاط وَذَلِكَ لِأَن الأَصْل فِي الْجُمُعَة أَلا يصلى شَيْء مِنْهَا إِلَّا مَعَ الإِمَام خرج صُورَة من أدْرك رَكْعَة بِالْحَدِيثِ فَوَجَبَ الِاقْتِصَار عَلَيْهِ بِشَرْط حُصُول مُسَمّى الرَّكْعَة. وَالتَّشَهُّد وَالسَّلَام داخلان فِي مُسَمّى الرَّكْعَة وَذَلِكَ من وُجُوه:

أَحدهَا أَن النُّصُوص وَالْإِجْمَاع على أَن الْجُمُعَة وَالصُّبْح والعيد وَنَحْوهَا رَكْعَتَانِ وَالظّهْر وَالْعصر وَالْعشَاء أَربع رَكْعَات وَالْمغْرب ثَلَاث رَكْعَات وَالْقَوْل بِأَن آخر الرَّكْعَات الْفَرَاغ من السَّجْدَة الثَّانِيَة وَأَن التَّشَهُّد وَالسَّلَام قدر زَائِد عَلَيْهَا يلْزم عَلَيْهِ أحد أَمريْن إِمَّا إِخْرَاج ذَلِك عَن مُسَمّى الصَّلَاة وَهُوَ شَيْء لم يقلهُ أحد فِي التَّشَهُّد وَإِن قَالَ بِهِ بعض الْعلمَاء فِي
এই বিষয়ে এবং সালাম (سلام) পর্যন্ত ইমামের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে নামাজ চালিয়ে যাওয়ার শর্তের ব্যাপারে শায়খ তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এবং আল-কামাল আদ-দামিরি আল-মিনহাজ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুবকি ও দামিরির বক্তব্য হলো: "এটি তখনই প্রযোজ্য যখন সে ইমামের সাথে নামাজ পূর্ণ করবে। তবে যদি সে সালাম (سلام) ফেরার আগেই নামাজ থেকে বেরিয়ে যায়, তবে তা হবে না [জুমার নামাজ হিসেবে গণ্য হবে না]।" আর তাঁদের এই বক্তব্যটি মূলত এই বাণীর দিকেই দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে, "অতঃপর সে ইমামের সালামের (سلام) পর এক রাকাত (ركعة) নামাজ আদায় করবে।" এটিই তাঁদের ভাষ্য।

আর শায়খ জালাল আল-মহাল্লি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা বলেছেন যে, "এবং সে তাঁর [ইমামের] সাথে সালাম (سلام) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নামাজে থাকবে"—এটি কিতাবের বিষয়বস্তুর খাতিরে কোনো বিশেষ অবস্থা বা চিত্রায়নের সম্ভাবনা রাখে।

আর প্রথমোক্ত বিষয়টিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত; অন্যথায় তিনি অন্য অংশের হুকুমও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন এবং তাকে প্রথমটির সাথে যুক্ত করতেন, যেমনটি তাঁর এবং তাঁর পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারকদের অনুসৃত পদ্ধতি। অন্যথায় এটি অস্পষ্টতা বৃদ্ধি করত এবং মূলপাঠে (متن) বিদ্যমান অস্পষ্টতাকেই অব্যাহত রাখত।

আর আপনি যদি দলিলের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তা এই শর্তারোপকেই সমর্থন করছে। কারণ জুমার নামাজের মূল বিধান হলো, ইমামের সাথে ব্যতীত এর কোনো অংশই আদায় করা যাবে না। তবে হাদিস দ্বারা এক রাকাত (ركعة) পাওয়ার সুরতটি এর ব্যতিক্রম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে; ফলে শুধুমাত্র সেই সুরতটির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক (واجب), যেখানে 'রাকাত' (ركعة) এর সংজ্ঞাগত পূর্ণতা অর্জিত হয়। আর তাশাহহুদ ও সালাম (سلام) রাকাতের (ركعة) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর এটি কয়েকটি দিক থেকে প্রমাণিত:

তার একটি হলো, টেক্সটসমূহ (نصوص) এবং ঐক্যমত (إجماع) এই বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে জুমুআ, সুব্হ, ঈদ এবং এই জাতীয় নামাজগুলো হলো দুই রাকাত (ركعة); আর জোহর, আসর ও এশা হলো চার রাকাত (ركعة) এবং মাগরিব হলো তিন রাকাত (ركعة)। এখন যদি বলা হয় যে রাকাতের (ركعة) শেষ সীমা হলো দ্বিতীয় সেজদা সমাপ্ত করা, আর তাশাহহুদ ও সালাম (سلام) হলো এর অতিরিক্ত অংশ—তবে এর ফলে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি অনিবার্য হয়ে পড়ে: হয় এগুলোকে নামাজের সংজ্ঞার বাইরে বের করে দেওয়া—যা তাশাহহুদের ক্ষেত্রে কেউ বলেননি, যদিও কিছু আলেম এটি বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১২)
السَّلَام وَإِمَّا دَعْوَى أَن الصَّلَاة رَكْعَتَانِ وَشَيْء أَو أَربع وَشَيْء أَو ثَلَاث وَشَيْء وَهُوَ أَمر ينبو عَنهُ السّمع ويأباه حَملَة الشَّرْع.

الثَّانِي أَن الحَدِيث واتفاق الْمَذْهَب مُصَرح بِأَن الْوتر رَكْعَة وَهِي مُشْتَمِلَة على تشهد وَسَلام فدعوى أَنَّهُمَا خارجان عَن مُسَمّى الرَّكْعَة خلاف الأَصْل وَالظَّاهِر إِذْ الاصل وَالظَّاهِر أَن الإسم اذا أطلق على شَيْء يكون منصبا على جَمِيع أَجْزَائِهِ وَلَا يخرج بَعْضهَا عَن إِطْلَاق الِاسْم عَلَيْهِ إِلَّا بِدَلِيل ينص عَلَيْهِ.

الثَّالِث أَن أَكثر مَا يُقَال فِي إخراجهما عَن مُسَمّى الرَّكْعَة الْقيَاس على الرَّكْعَة الأولى وَهُوَ بعيد لِأَن السَّجْدَة الثَّانِيَة فِي الرَّكْعَة الأولى يعقبها الشُّرُوع فِي رَكْعَة أُخْرَى فَوَجَبَ كَونهَا آخر الرَّكْعَة وَالتَّشَهُّد الأول يعقبه رَكْعَة أَو رَكْعَتَانِ فصح جعله فاصلا بَين مَا سبق وَمَا سَيَأْتِي وَأما الرَّكْعَة الْأَخِيرَة فَلَا يعقبها شُرُوع فِي رَكْعَة أُخْرَى فَوَجَبَ أَن يكون تشهدها جُزْءا مِنْهَا وداخلا فِي مسماها وَلم يصلح أَن يكون فاصلا إِذْ لَا شَيْء يفصله مِنْهَا.

الرَّابِع وَمِمَّا يُؤَيّد ذَلِك أَنه لَا بدع أَن يزِيد بعض الرَّكْعَات على بعض بأركان وَسنَن فَكَمَا أَن الأولى زَادَت من الْأَركان بِالنِّيَّةِ وَالتَّكْبِيرَة وَمن السّنَن بِدُعَاء الإستفتاح وبالتعوذ على رَأْي مَشى عَلَيْهِ صَاحب بالتبنيه رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ فَكَذَلِك زَادَت الثَّانِيَة بالتشهد وَالسَّلَام وبالقنوت فِي بعض الصَّلَوَات.

الْخَامِس وَمِمَّا يُؤَيّد ذَلِك اخْتِلَاف الْأَصْحَاب فِي جلْسَة الاسْتِرَاحَة
সালাম অথবা এই দাবি করা যে নামাজ দুই রাকাত এবং অতিরিক্ত কিছু, অথবা চার রাকাত এবং অতিরিক্ত কিছু, অথবা তিন রাকাত এবং অতিরিক্ত কিছু; এটি এমন একটি বিষয় যা কর্ণগোচর হওয়া মাত্রই প্রকৃতিবিরুদ্ধ মনে হয় এবং শরিয়তের বাহকগণ তা প্রত্যাখ্যান করেন।

দ্বিতীয়ত, হাদিস এবং মাযহাবের ঐক্যমত্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, বিতর হলো এক রাকাত, যা তাশাহহুদ ও সালাম অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এই দাবি করা যে, এই দুটি রাকাতের সংজ্ঞার বাইরে, তা মূলনীতি (أصل) এবং প্রকাশ্য (ظاهر) বিষয়ের পরিপন্থী। কেননা মূলনীতি (أصل) এবং প্রকাশ্য (ظاهر) বিষয় হলো এই যে, যখন কোনো নাম কোনো বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তা তার সমস্ত অংশের ওপরই বর্তায় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল (دليل) ব্যতীত এর কোনো অংশকে সেই নামের প্রয়োগ থেকে বের করা যায় না।

তৃতীয়ত, এই দুটিকে রাকাতের সংজ্ঞার বাইরে রাখার পক্ষে সবচেয়ে বেশি যা বলা হয় তা হলো প্রথম রাকাতের ওপর কিয়াস (قياس) করা। আর এটি একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা; কারণ প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদাহর পরপরই অন্য একটি রাকাত শুরু হয়, তাই একে রাকাতের শেষ অংশ হওয়া আবশ্যক। আর প্রথম তাশাহহুদের পর এক বা দুই রাকাত অবশিষ্ট থাকে, ফলে একে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশের মধ্যবর্তী বিচ্ছেদকারী গণ্য করা সঠিক। কিন্তু শেষ রাকাতের পর অন্য কোনো রাকাত শুরু হয় না, তাই এর তাশাহহুদকে এরই অংশ এবং এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক; আর এটি বিচ্ছেদকারী হওয়ার যোগ্য নয়, যেহেতু এর মাধ্যমে বিচ্ছেদ করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

চতুর্থত, বিষয়টিকে যা সমর্থন করে তা হলো—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে কিছু রাকাত রুকনসমূহ (أركان) ও সুন্নতসমূহ (سنن) এর দিক থেকে অন্য রাকাতের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে। যেমন প্রথম রাকাতে রুকনসমূহ (أركان) এর মধ্যে নিয়ত ও তাকবির এবং সুন্নতসমূহ (سنন) এর মধ্যে ছানা ও আউযুবিল্লাহর আধিক্য থাকে—যেমনটি 'তানবিহ' গ্রন্থের লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর মতানুসারে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদ, সালাম এবং কোনো কোনো নামাজে কুনুতের আধিক্য রয়েছে।

পঞ্চমত, বিষয়টিকে যা সমর্থন করে তা হলো 'জলসায়ে ইস্তিরাহাত' (বিশ্রামের বৈঠক) নিয়ে ইমামগণের (أصحاب) মধ্যকার মতভেদ।
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هَل هِيَ من الرَّكْعَة الأولى أَو من الثَّانِيَة أَو فاصلة بَين الرَّكْعَتَيْنِ على أوجه حَكَاهَا ابْن الرّفْعَة فِي الْكِفَايَة وبنوا على ذَلِك مَا لَو خرج الْوَقْت فِيهَا.

فَإِن قُلْنَا إِنَّهَا من الأولى فَالصَّلَاة قَضَاء لِأَنَّهُ لم يدْرك رَكْعَة من الْوَقْت أَو من الثَّانِيَة أَو فاصلة فأداء فَانْظُر كَيفَ لم يجزموا بِأَن آخر الأولى السَّجْدَة الثَّانِيَة وَالتَّشَهُّد الْأَخير نَظِير جلْسَة الاسْتِرَاحَة بل يجب الْقطع بِأَنَّهُ من الرَّكْعَة الَّتِي قبله وَلَا يحسن فِيهِ خلاف جلْسَة الاستراحه لِأَن جلْسَة الاسْتِرَاحَة تعقبها رَكْعَة فَيصح أَن يَجْعَل جُزْءا مِنْهَا أَو فاصلا بَينهَا وَبَين مَا قبلهَا وَلَا رَكْعَة بعد التَّشَهُّد الْأَخير فَلَا يَصح جعله من غير الرَّكْعَة الَّتِي هُوَ فِيهَا إِذْ لَا شَيْء بعده تجْعَل مِنْهُ أَو فاصلا بَينه وَبَين مَا قبله وَبِهَذَا يحصل الْفرق بَينه وَبَين التَّشَهُّد الأول.

السَّادِس علم مِمَّا قَرَّرْنَاهُ أَن قَوْله صلى الله عليه وسلم من أدْرك رَكْعَة من الصُّبْح قبل أَن تطلع الشَّمْس فقد أدْرك الصُّبْح أَي أَدَاء لَا يَكْتَفِي فِيهِ بالفراغ من السَّجْدَة الثَّانِيَة بل لَا بُد من الْفَرَاغ من الْجُلُوس بعْدهَا إِن جلسها على الأول وَهُوَ مَرْجُوح فَكَذَا حَدِيث من أدْرك رَكْعَة من الْجُمُعَة لَا يكْتَفى فِيهِ بالفراغ من السَّجْدَة الثَّانِيَة بل لَا بُد من الْفَرَاغ من الْجُلُوس بعْدهَا لما قَطعنَا بِهِ من كَونه من جملَة الرَّكْعَة.
এটি কি প্রথম রাকাতের অন্তর্ভুক্ত, না কি দ্বিতীয় রাকাতের, না কি দুই রাকাতের মধ্যবর্তী বিচ্ছেদকারী বিরতি (فاصلة)? ইবনে আল-রিফ'আ আল-কিফায়া গ্রন্থে এ সংক্রান্ত কয়েকটি অভিমত বর্ণনা করেছেন। নামাজের ওয়াক্ত যদি এর মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তবে তার বিধান কী হবে—ফকিহগণ এই আলোচনার ওপরই তার ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

যদি আমরা বলি যে এটি প্রথম রাকাতের অন্তর্ভুক্ত, তবে নামাজটি কাজা (قضاء) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সে ওয়াক্তের ভেতরে পূর্ণ এক রাকাত প্রাপ্ত হয়নি। আর যদি তা দ্বিতীয় রাকাতের অংশ বা মধ্যবর্তী বিরতি হয়, তবে তা আদা (أداء) হিসেবে গণ্য হবে। লক্ষ্য করুন, তারা কীভাবে নিশ্চিত করেননি যে দ্বিতীয় সিজদাই প্রথম রাকাতের সমাপ্তি; বরং শেষ তাশাহহুদকে বিশ্রাম গ্রহণের বৈঠকের (جلسة الاستراحة) সদৃশ ধরা হয়েছে। পক্ষান্তরে এটি নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক যে, তা পূর্ববর্তী রাকাতেরই অংশ। বিশ্রাম গ্রহণের বৈঠকের ক্ষেত্রে যে মতভেদ আছে, এখানে তা হওয়া সমীচীন নয়। কারণ বিশ্রাম গ্রহণের বৈঠকের পরে আরেকটি রাকাত বিদ্যমান থাকে, ফলে একে সেই পরবর্তী রাকাতের অংশ বা দুই রাকাতের মধ্যবর্তী বিরতি (فاصلة) হিসেবে গণ্য করা সম্ভব। কিন্তু শেষ তাশাহহুদের পরে আর কোনো রাকাত নেই, তাই একে যে রাকাতে এটি অবস্থিত তা ছাড়া অন্য কিছুর অংশ হিসেবে গণ্য করা সঠিক হবে না। যেহেতু এর পরে এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যার অংশ হিসেবে একে সাব্যস্ত করা যায় কিংবা যা এবং পূর্ববর্তী রাকাতের মাঝে একে বিরতি হিসেবে গণ্য করা যায়। এভাবেই শেষ তাশাহহুদ ও প্রথম তাশাহহুদের (التشهد الأول) মাঝে পার্থক্য সূচিত হয়।

ষষ্ঠত, আমাদের এই সবিস্তার আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাত পেলো, সে ফজর নামাজ পেলো" অর্থাৎ আদা (أداء) হিসেবে পেলো—এ ক্ষেত্রে কেবল দ্বিতীয় সিজদা সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রথম অভিমত অনুযায়ী (যা মূলত অগ্রাহ্য (مرجوح)) সিজদা পরবর্তী বৈঠক থেকেও অবসর হওয়া জরুরি। একইভাবে, জুমার এক রাকাত প্রাপ্ত হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটির ক্ষেত্রেও কেবল দ্বিতীয় সিজদা শেষ করা যথেষ্ট নয়, বরং সিজদা পরবর্তী বৈঠকও সম্পন্ন করতে হবে। কারণ আমরা এটি নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত করেছি যে, তা সংশ্লিষ্ট রাকাতের সামগ্রিক অংশের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৪)
السَّابِع قَوْله صلى الله عليه وسلم من أدْرك من الْجُمُعَة رَكْعَة فَليصل إِلَيْهَا أُخْرَى ظَاهر فِي أَن التَّشَهُّد وَالسَّلَام دَاخل فِي مُسَمّى الرَّكْعَة وَذَلِكَ لِأَن قَوْله أُخْرَى صفة لموصوف مُقَدّر أَي رَكْعَة أُخْرَى والركعة الَّتِي تصلى مُشْتَمِلَة على تشهد وَسَلام وَقد سَمَّاهَا رَكْعَة فَوَجَبَ دخولهما فِي مُسَمّى الرَّكْعَة فَإِن قيل يقدر فِي الحَدِيث فَليصل إِلَيْهَا رَكْعَة وَيضم إِلَيْهَا التَّشَهُّد وَالسَّلَام قُلْنَا هَذَا تَقْدِير مَا لَا دَلِيل عَلَيْهِ وَلَا حَاجَة إِلَيْهِ وَالتَّقْدِير لَا يُصَار إِلَيْهِ إِلَّا عِنْد الْحَاجة وَلَا حَاجَة.

الثَّامِن لفظ الحَدِيث وَالْأَصْحَاب فِي صَلَاة الْخَوْف أَن الْفرْقَة الثَّانِيَة يصلونَ مَعَ الإِمَام رَكْعَة دَلِيل أَن التَّشَهُّد وَالسَّلَام داخلان فِي مُسَمّى الرَّكْعَتَيْنِ فَإِنَّهَا تتشهد مَعَه وتسلم وَكَذَا قَوْلهم فَإِن صلى مغربا فبفرقة رَكْعَتَيْنِ وبالثانية رَكْعَة فَإِن الأولى تتشهد مَعَه وَالثَّانيَِة كَذَلِك وتسلم مَعَه.

وَالتَّاسِع قَول الْفُقَهَاء فِي صَلَاة النَّفْل فَإِن أحرم بِأَكْثَرَ من رَكْعَة فَلهُ التَّشَهُّد فِي رَكْعَتَيْنِ وَفِي كل رَكْعَة صَرِيح فِي أَن التَّشَهُّد دَاخل فِي مُسَمّى

সপ্তম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি জুমার নামাজের এক রাকাত (ركعة) পেল, সে যেন তার সাথে অপর একটি যুক্ত করে নেয়"—এটি স্পষ্ট যে, তাশাহহুদ ও সালাম রাকাত (ركعة) শব্দের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো, "অপর একটি" কথাটি একটি ঊহ্য বিশেষ্যের বিশেষণ, অর্থাৎ "অপর এক রাকাত" (ركعة أخرى)। আর যে রাকাতটি আদায় করা হয়, তা তাশাহহুদ ও সালাম সংবলিত হয়। যেহেতু তিনি একে রাকাত (ركعة) নামে অভিহিত করেছেন, তাই রাকাতের (ركعة) সংজ্ঞায় এই দুটির অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক। যদি বলা হয় যে, হাদিসে বিষয়টি এভাবে ঊহ্য ধরা হবে—"সে যেন তার সাথে এক রাকাত (ركعة) যুক্ত করে এবং তার সাথে তাশাহহুদ ও সালামও যোগ করে"—তবে আমরা বলব, এটি এমন এক অনুমান যার কোনো দলিল (دليل) নেই এবং এর কোনো প্রয়োজনও নেই। আর প্রয়োজন ব্যতীত অনুমানের আশ্রয় নেওয়া হয় না, অথচ এখানে কোনো প্রয়োজন নেই।

অষ্টম: ভয়কালীন নামাজ (صلاة الخوف) সংক্রান্ত হাদিসের শব্দাবলি এবং ইমামগণের বক্তব্য হলো—দ্বিতীয় দলটি ইমামের সাথে এক রাকাত (ركعة) আদায় করবে। এটি এই বিষয়ে দলিল (دليل) যে, তাশাহহুদ ও সালাম "দুই রাকাত" শব্দের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। কেননা সেই দলটি ইমামের সাথে তাশাহহুদ পাঠ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অনুরূপভাবে তাদের বক্তব্য হলো—যদি ইমাম মাগরিবের নামাজ পড়ান, তবে প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত এবং দ্বিতীয় দলের সাথে এক রাকাত (ركعة) পড়বেন। এক্ষেত্রে প্রথম দল ইমামের সাথে তাশাহহুদ পড়বে এবং দ্বিতীয় দলও একইভাবে তাশাহহুদ পড়বে এবং ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে।

নবম: নফল নামাজের (صلاة النفل) ক্ষেত্রে ফকিহগণের বক্তব্য হলো—যদি কেউ দুই রাকাতের অধিক নামাজের জন্য ইহরাম (إحرام) বাঁধে, তবে সে প্রতি দুই রাকাতে অথবা প্রতি রাকাতে (ركعة) তাশাহহুদ পড়তে পারবে। এটি এই বিষয়ে স্পষ্ট (صريح) যে, তাশাহহুদ রাকাতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত...

(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الرَّكْعَة حَيْثُ جعلُوا الرَّكْعَة ظرفا للتَّشَهُّد فَيكون مِنْهَا وَلَو كَانَ زَائِدا عَلَيْهَا لم يَصح الظّرْف لِأَنَّهُ يكون بعْدهَا لَا فِيهَا فَقَوْلهم تشهد فِي كل رَكْعَة كَقَوْلِهِم تجب الْفَاتِحَة فِي كل رَكْعَة وكقولهم فِي صَلَاة الْكُسُوف فِي كل رَكْعَة ركوعان فَإِن ذَلِك دَاخل فِي مُسَمّى الرَّكْعَة قطعا.

الْعَاشِر قَوْله صلى الله عليه وسلم فِي صَلَاة التَّسْبِيح إِنَّهَا أَربع رَكْعَات فِي كل رَكْعَة خمس وَسَبْعُونَ تَسْبِيحَة ثمَّ فصلها خمس عشرَة فِي الْقيام وَعشرَة فِي الرُّكُوع إِلَى أَن قَالَ وَعشر فِي الرَّكْعَة الَّتِي فِي جلْسَة الاسْتِرَاحَة إِلَى أَن قَالَ وَعشر فِي التَّشَهُّد صَرِيح فِي أَن جلْسَة الاسْتِرَاحَة وَالتَّشَهُّد بعض من الرَّكْعَة وداخلان فِي مُسَمّى الرَّكْعَة وَإِلَّا لم يَصح أَن فِي كل رَكْعَة خَمْسَة وَسبعين وَالْبَاقِي مزِيد على الرَّكْعَة.

وَلَفظ الحَدِيث يُصَلِّي أَربع رَكْعَات يقْرَأ فِي كل رَكْعَة بِفَاتِحَة الْكتاب وَسورَة فَإِذا انْقَضتْ الْقِرَاءَة فَقل الله أكبر وَالْحَمْد لله وَسُبْحَان الله وَلَا إِلَه إِلَّا الله خمس عشرَة مرّة قبل أَن تركع ثمَّ اركع فقلها عشرا ثمَّ ارْفَعْ رَأسك فقلها عشرا قبل أَن تقوم ثمَّ اسجد فقلها عشرا ثمَّ ارْفَعْ رَأسك فقلها
রকআত; যেহেতু তাঁরা রকআতকে তাশাহহুদের আধার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, ফলে তা (তাশাহহুদ) রকআতেরই অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি তা রকআতের অতিরিক্ত কিছু হতো, তবে তা আধার হওয়া সঠিক হতো না; কারণ তখন তা রকআতের ভেতরে নয় বরং তার পরে হতো। সুতরাং তাঁদের বক্তব্য "প্রত্যেক রকআতে তাশাহহুদ পড়বে" ঠিক তাঁদের এই বক্তব্যের ন্যায় যে, "প্রত্যেক রকআতে ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব" এবং সূর্যগ্রহণের সালাত সম্পর্কে তাঁদের উক্তি যে, "প্রত্যেক রকআতে দুই রুকু রয়েছে"। কেননা এগুলো নিশ্চিতভাবেই রকআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

দশম দলিল হলো সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী যে, এটি চার রকআত, প্রতি রকআতে পঁচাত্তরবার তাসবিহ রয়েছে। অতঃপর তিনি এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন—পনেরোবার কিয়ামে এবং দশবার রুকুতে—পর্যায়ক্রমে তিনি বলেছেন—এবং দশবার সেই রকআতে যা বিশ্রামের বৈঠকে (জলসায়ে ইস্তিরাহা) এবং দশবার তাশাহহুদে। এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, বিশ্রামের বৈঠক এবং তাশাহহুদ হলো রকআতেরই অংশ এবং রকআত শব্দের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় প্রতি রকআতে পঁচাত্তরবার তাসবিহ হওয়ার বিষয়টি সঠিক হতো না এবং অবশিষ্ট অংশগুলো রকআতের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হতো।

হাদিসের শব্দাবলি হলো: "তিনি চার রকআত সালাত আদায় করবেন, প্রতি রকআতে ফাতিহাতুল কিতাব এবং একটি সূরা পাঠ করবেন। যখন কিরাত শেষ হবে, তখন রুকু করার আগে পনেরোবার বলবে: আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অতঃপর রুকু করবে এবং সেখানে দশবার তা বলবে। এরপর মাথা উঠাবে এবং দাঁড়ানোর আগে দশবার তা বলবে। এরপর সিজদা করবে এবং দশবার বলবে। অতঃপর মাথা উঠাবে এবং তা বলবে..."
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عشرا ثمَّ اسجد فقلها عشرا ثمَّ اجْلِسْ للاستراحة فقلها عشرا قبل أَن تقوم فَذَلِك خَمْسَة وَسَبْعُونَ فِي كل رَكْعَة وَهِي ثَلَاثمِائَة فِي أَربع رَكْعَات أخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَالْحَاكِم وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحَيْهِمَا.

فَإِن قيل الْأَرْجَح أَن جلْسَة الاسْتِرَاحَة فاصلة لَا من الأولى وَلَا من الثَّانِيَة قلت الْجَواب عَن ذَلِك أَن هَذِه الجلسة فِي صَلَاة التَّسْبِيح لَيست كجلسة الاسْتِرَاحَة بل جلْسَة مزيدة فِي هَذِه الصَّلَاة كالركوع فِي صَلَاة الْكُسُوف.

ذكر ذَلِك شيخ الْإِسْلَام ابْن حجر فِي أَمَالِيهِ وَلِهَذَا طولت فَدلَّ على أَنَّهَا هُنَا من الرَّكْعَة الأولى فَكَذَلِك التَّشَهُّد الْأَخير من الرَّكْعَة الرَّابِعَة وَلَا تتمّ خَمْسَة وَسَبْعُونَ إِلَّا بِمَا يُقَال فِيهِ.

فَإِن قيل فَمَا الَّذِي أوجب لَك التَّوَقُّف مَعَ مَا ذكرت من وُجُوه الِاسْتِدْلَال قلت مَسْأَلَة رَأَيْتهَا فِي تَهْذِيب الْبَغَوِيّ فَإِنَّهُ بعد أَن قرر فِي مسَائِل الِاسْتِخْلَاف أَن الْخَلِيفَة الْمُقْتَدِي فِي الثَّانِيَة يتم ظهرا لَا جُمُعَة لِأَنَّهُ لم يدْرك مَعَ الإِمَام رَكْعَة قَالَ مَا نَصه وَلَو أدْرك الْمَسْبُوق فِي الرُّكُوع من الرَّكْعَة الثَّانِيَة فَرَكَعَ وَسجد مَعَ الإِمَام فَلَمَّا قعد للتَّشَهُّد أحدث الإِمَام وَتقدم الْمَسْبُوق لَهُ أَن يتم الْجُمُعَة لِأَنَّهُ صلى مَعَ الإِمَام رَكْعَة هَذَا نَصه بِحُرُوفِهِ.
দশবার, অতঃপর সিজদা করবে এবং তা দশবার পাঠ করবে, তারপর বিশ্রামের বৈঠকে (جلسة الاستراحة) বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বে তা দশবার পাঠ করবে। এভাবে প্রতি রাকাতে পঁচাত্তর বার এবং চার রাকাতে তা তিনশ বার হবে। এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং হাকিম ও ইবনে খুজাইমা তাঁদের নিজ নিজ সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

যদি বলা হয় যে, অধিক গ্রহণযোগ্য (الأرجح) মত অনুযায়ী বিশ্রামের বৈঠকটি একটি পৃথককারী বিরতি মাত্র, যা প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো রাকাতের অন্তর্ভুক্ত নয়; তবে এর উত্তরে আমি বলব: সালাতুত তাসবিহ-এর এই বৈঠকটি সাধারণ বিশ্রামের বৈঠকের মতো নয়; বরং এটি এই সালাতের একটি অতিরিক্ত বৈঠক, যেমনটি কুসুফ বা সূর্যগ্রহণের সালাতে অতিরিক্ত রুকু হয়ে থাকে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার তাঁর আমালি গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একারণেই এটি দীর্ঘায়িত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, এখানে এই বৈঠকটি প্রথম রাকাতের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে চতুর্থ রাকাতের শেষ তাশাহহুদও; এতে যা পাঠ করা হয় তা ব্যতিরেকে পঁচাত্তরের সংখ্যা পূর্ণ হয় না।

যদি বলা হয়: আপনি দলিলের যেসব দিক উল্লেখ করেছেন, তা সত্ত্বেও কোন বিষয়টি আপনাকে এই অবস্থানে থামতে বাধ্য করল? আমি বলব: একটি মাসআলা যা আমি বগভীর তাহজিব গ্রন্থে দেখেছি। কেননা তিনি স্থলাভিষিক্তকরণ (استخلاف) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর—যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতে মুক্তাদি হিসেবে ইমামের স্থলাভিষিক্ত হয়, সে জোহর পূর্ণ করবে, জুমা নয়, কারণ সে ইমামের সাথে এক রাকাত পায়নি—তিনি হুবহু এই পাঠটি উল্লেখ করেছেন: "যদি কোনো মাসবুক ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু পায় এবং ইমামের সাথে রুকু ও সিজদা আদায় করে, অতঃপর যখন তাশাহহুদের জন্য বসল তখন ইমামের অজু নষ্ট হয়ে যায় এবং মাসবুক ব্যক্তি সামনে অগ্রসর হয়, তবে সে জুমা পূর্ণ করতে পারবে; কারণ সে ইমামের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করেছে।" এটিই তাঁর হুবহু পাঠ।
(খণ্ড: ১) আল-লুমআ ফী তাহকীকির রাকআ লিইদরাকিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَإِن صحت هَذِه الْمَسْأَلَة اتجه مَا قيل فِي الْمُفَارقَة إِلَّا أَنِّي لم أر من ذكر هَذِه الْمَسْأَلَة الَّتِي ذكرهَا الْبَغَوِيّ وَلم أر أحدا صرح بموافقته فِيهَا وَلَا بمخالفته وَقد ذكر هُوَ مَا يشْعر بِأَنَّهُ قَالَهَا تخريجا من عِنْده وَلم ينقلها نقل الْمَذْهَب وَلم يتَعَرَّض لَهَا أحد من الْمُتَأَخِّرين لَا الرَّافِعِيّ فِي شرحيه وَلَا النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب على تتبعه وَلَا ابْن الرّفْعَة فِي الْكِفَايَة مَعَ حرصه على تتبع مَا زَاد على الشَّيْخَيْنِ وَلَا السُّبْكِيّ وَلَا أحد مِمَّن تكلم على الرَّوْضَة كصاحب الْمُهِمَّات وَالْخَادِم.

وَهِي مَحل نظر وَهِي الَّتِي أوجبت لي التَّوَقُّف فِي مَسْأَلَة الْمُفَارقَة. وَالتَّحْقِيق أَن الرَّكْعَة اسْم لجَمِيع أَرْكَان الْوَاحِدَة من إعداد الصَّلَاة من الْقيام إِلَى مثله أَو إِلَى التَّحَلُّل وَإِخْرَاج التَّشَهُّد وَالسَّلَام عَن مُسَمّى الرَّكْعَة بعيد جدا والأحوط عدم تَجْوِيز الْمُفَارقَة قبل السَّلَام ليتَحَقَّق مُسَمّى الرَّكْعَة الْمُعْتَبرَة فِي إِدْرَاك الْجُمُعَة.

وَالله تَعَالَى أعلم.

যদি এই মাসআলাটি বিশুদ্ধ (صحت) হয়, তবে নামাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া (مفارقة) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সংগতিপূর্ণ হবে। তবে আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি ইমাম বাগাভী বর্ণিত এই মাসআলাটি উল্লেখ করেছেন; এমনকি এই বিষয়ে কেউ তাঁর সাথে স্পষ্টভাবে একমত বা দ্বিমত পোষণ করেছেন বলেও আমার নজরে পড়েনি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি এটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা-লব্ধ উদ্ভাবন (تخريج) হিসেবে বলেছেন, মাজহাবের বর্ণনা হিসেবে তা উল্লেখ করেননি। পরবর্তীকালের আলেমগণের (المتأخرين) কেউই এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি—না ইমাম রাফেয়ী তাঁর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে, না ইমাম নববী তাঁর গভীর অনুসন্ধান সত্ত্বেও শারহুল মুহাজ্জাবে, না ইবনে রিফআহ আল-কিফায়া গ্রন্থে শায়খাইনের অতিরিক্ত মাসআলাসমূহ অন্বেষণে তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, না ইমাম সুবকী, আর না রওজাহ গ্রন্থের উপর ব্যাখ্যা প্রদানকারীগণের মধ্যে কেউ, যেমন আল-মুহিম্মাত ও আল-খাদিম গ্রন্থের লেখকগণ।

বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে এবং এটিই আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (مفارقة) মাসআলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত (توقف) থাকতে বাধ্য করেছে। সঠিক বিশ্লেষণ (التحقيق) হলো এই যে, কিয়াম থেকে শুরু করে অনুরূপ কিয়াম পর্যন্ত অথবা নামাজ থেকে হালাল হওয়া (تحلل) পর্যন্ত নামাজের একটি এককের সমস্ত রুকনসমূহের (أركان) সমষ্টির নাম হলো রাকাত। রাকাতের সংজ্ঞাগত নাম থেকে তাশাহহুদ ও সালামকে বহির্ভূত রাখা অত্যন্ত সুদূরপরাহত বিষয়। জুমুআ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাকাতের যে সংজ্ঞাটি গ্রহণযোগ্য (معتبرة), তা নিশ্চিত করার জন্য সালামের আগে ইমাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া (مفارقة) অনুমোদন না করাই হবে অধিকতর সতর্কতামূলক (الأحوط)।

আর মহান আল্লাহ তায়ালাই সর্বাধিক অবগত।