(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفرائض وشرح آيات الوصية القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: الفرائض وشرح آيات الوصية
المؤلف: أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد السهيلي (ت 581هـ)
المحقق: د. محمد إبراهيم البنا
الناشر: المكتبة الفيصلية - مكة المكرمة
الطبعة: الثانية، 1405
عدد الصفحات: 151
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উত্তরাধিকার আইন এবং ওয়াসিয়্যাতের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা বিভাগ: উত্তরাধিকার আইন ও ওয়াসিয়্যাত
গ্রন্থ: উত্তরাধিকার আইন এবং ওয়াসিয়্যাতের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা
লেখক: আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আস-সুহাইলি (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ফয়সালিয়া - মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مُقَدّمَة الْمُؤلفالْحَمد لله الَّذِي لَهُ مِيرَاث السَّمَوَات وَالْأَرْض وَهُوَ على كل شَيْء قدير المبدئ المعيد الْغَنِيّ الحميد الَّذِي يحي وَيُمِيت وَإِلَيْهِ الْمصير وَصلى الله على مُحَمَّد نبيه البشير النذير المبتعث بِالْكتاب الْمُنِير لينذر يَوْم الْجمع لَا ريب فِيهِ فريق فِي الْجنَّة وفريق فِي السعير
وَبعد فَإِن علم الْفَرَائِض علم شرِيف قرآني لَا يشْتَغل بِهِ إِلَّا عَالم رباني قَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنه حِين مَاتَ زيد بن ثَابت رحمه الله الْيَوْم مَاتَ رباني هَذِه الْأمة لِأَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي زيد بن ثَابت
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও যমীনের উত্তরাধিকার যাঁর এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি সৃষ্টির আদি সূচনাকারী ও পুনরুত্থানকারী, অভাবমুক্ত ও পরম প্রশংসিত। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তাঁর দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, যাঁকে আলোকোজ্জ্বল কিতাবসহ প্রেরণ করা হয়েছে যাতে তিনি সমবেত হওয়ার দিন সম্পর্কে সতর্ক করেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই; সেদিন একদল জান্নাতে এবং একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে থাকবে।
অতঃপর, নিশ্চয়ই ফারায়িয বা উত্তরাধিকার শাস্ত্র একটি সুমহান কুরআনিক জ্ঞান, রব্বানি আলেম ব্যতীত অন্য কেউ এতে ব্যাপৃত হয় না। ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) যখন যায়িদ বিন সাবিত (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইন্তেকাল করেন, তখন বলেছিলেন, "আজ এই উম্মতের রব্বানি আলেম মৃত্যুবরণ করলেন।" কেননা রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যায়িদ বিন সাবিত সম্পর্কে বলেছিলেন-
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأفرضهم زيد بن ثَابت وَقَالَ عليه السلام الْعلم ثَلَاثَة آيَة محكمَة وَسنة قَائِمَة وفريضة عادلة فَجعل علم الْفَرَائِض ثلث علم الدّين
وكال عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَيَّام كَانَ بِالشَّام يكْتب إِلَى زيد بن ثَابت وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ اسْتَخْلَفَهُ عَلَيْهَا فَيبْدَأ باسمه على نَفسه لمكانه من الْعلم وَالْفِقْه فِي الدّين وَحين أشكلت عَلَيْهِ مَسْأَلَة الْجد مَشى بِنَفسِهِ إِلَى منزل زيد بن ثَابت يَسْتَفْهِمهُ عَن رَأْيه فِيهَا
আর তাদের মধ্যে মিরাস শাস্ত্রে সর্বাধিক পারদর্শী হলেন যায়েদ বিন সাবিত। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ইলম হলো তিনটি—সুস্পষ্ট আয়াত, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ এবং ন্যায়নিষ্ঠ ফারায়েজ। এভাবে তিনি ফারায়েজ শাস্ত্রকে দ্বীনি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত করেছেন।
আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সিরিয়ায় অবস্থানকালীন দিনগুলোতে মদিনায় যায়েদ বিন সাবিতের নিকট চিঠি লিখতেন—যাঁকে তিনি সেখানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। ইলম এবং দ্বীনি প্রজ্ঞায় যায়েদ বিন সাবিতের সুউচ্চ অবস্থানের কারণে তিনি নিজের নামের পূর্বে তাঁর নাম দিয়ে শুরু করতেন। আর যখন তাঁর নিকট দাদার মিরাস সংক্রান্ত মাসআলাটি জটিল মনে হলো, তখন তিনি স্বয়ং যায়েদ বিন সাবিতের বাসগৃহে গমন করলেন যাতে এ বিষয়ে তাঁর অভিমতটি বুঝে নিতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فَانْتهى إِلَى قَوْله وَاسْتحْسن مَا سمع من قِيَاسه فِيهَا وَنَظره رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ فَإِنَّهُم اجتهدوا للْمُسلمين وتفقهوا فِي الْكتاب الْمُبين وتحروا الصدْق فِيمَا نقلوه من وَحي رب الْعَالمين حَتَّى استقامت قناة الْإِسْلَام فعلى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعَلى أَصْحَابه وَأَهله أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام
الْحِكْمَة فِي الْوَصِيَّة بالأولاد ثمَّ إِنِّي نظرت فِيمَا بَينه الله سُبْحَانَهُ فِي كِتَابه من حَلَال وَحرَام وحدود وَأَحْكَام فَلم نجده افْتتح شَيْئا من ذَلِك بِمَا افْتتح بِهِ آيَة الْفَرَائِض وَلَا ختم شَيْئا من ذَلِك بِمَا خَتمهَا بِهِ فَإِنَّهُ قَالَ فِي أَولهَا {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم} فآخبر تَعَالَى عَن نَفسه أَنه موص تَنْبِيها على حكمته فِيمَا أوصى بِهِ وعَلى عدله وَرَحمته أما حكمته فَإِنَّهُ علم سُبْحَانَهُ مَا تضمنه أمره من الْمصلحَة لِعِبَادِهِ وَمَا كَانَ فِي فعلهم قبل هَذَا الْأَمر من الْفساد حَيْثُ كَانُوا يورثون الْكِبَار وَلَا يورثون الصغار ويورثون الذُّكُور وَلَا يورثون الْإِنَاث وَيَقُولُونَ أنورث أَمْوَالنَا من لَا يركب الْفرس وَلَا يضْرب بِالسَّيْفِ ويسوق الْغنم فَلَو وَكلهمْ الله إِلَى آرائهم وتركهم مَعَ أهوائهم لمالت بهم الأهوء عِنْد الْمَوْت مَعَ بعض الْبَنِينَ دون بعض فَأدى ذَلِك إِلَى التشاجر والتباغض والجور وَقلة النصفة فَانْتزع الْوَصِيَّة مِنْهُم وردهَا على نَفسه دونهم ليرضي بِعِلْمِهِ وَحكمه وَلذَلِك قَالَ تَعَالَى حِين ختم الْآيَة {وَصِيَّة من الله وَالله عليم حَلِيم}
তিনি তাঁর বক্তব্য পর্যন্ত পৌঁছলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর কিয়াস ও দৃষ্টিভঙ্গি যা শুনেছিলেন তা পছন্দ করলেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কেননা তাঁরা মুসলিমদের কল্যাণে ইজতিহাদ করেছেন, সুস্পষ্ট কিতাবের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং রাব্বুল আলামীনের ওহী থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে সত্যনিষ্ঠা বজায় রেখেছেন, এমনকি ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সন্তানদের বিষয়ে ওসিয়তের হিকমত অতঃপর আমি আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর কিতাবে হালাল-হারাম, সীমা ও বিধিবিধান সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে চিন্তা করলাম। আমি এর কোনোটিকেই মিরাসের আয়াতের ন্যায় শুরু হতে দেখিনি এবং সেগুলোর কোনোটির সমাপ্তিও এর সমাপ্তির ন্যায় পাইনি। কারণ তিনি এর শুরুতে বলেছেন, {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের বিষয়ে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি নির্দেশ দাতা; যা তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর হিকমত এবং তাঁর ইনসাফ ও রহমতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। তাঁর হিকমতের বিষয়টি হলো, তিনি সুবহানাহু তাঁর নির্দেশের মধ্যে তাঁর বান্দাদের জন্য যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং এই নির্দেশের পূর্বে তাদের কর্মকাণ্ডে যে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান ছিল সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তখন তারা বড়দের মিরাস প্রদান করত কিন্তু ছোটদের দিত না, এবং পুরুষদের মিরাস দিত কিন্তু নারীদের দিত না। তারা বলত, "আমরা কি আমাদের সম্পদ তাকে দেব যে ঘোড়ায় চড়ে না, তলোয়ার চালায় না এবং গবাদি পশু চড়ায় না?" আল্লাহ যদি তাদের তাঁদের নিজস্ব মতামতের ওপর সোপর্দ করতেন এবং তাঁদের প্রবৃত্তির ওপর ছেড়ে দিতেন, তবে মৃত্যুর সময় তাঁদের প্রবৃত্তি তাঁদের কোনো কোনো সন্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ত আর অন্যদের বঞ্চিত করত। ফলে তা বিবাদ, পারস্পরিক বিদ্বেষ, জুলুম এবং ইনসাফের অভাবের দিকে ধাবিত করত। তাই তিনি তাঁদের থেকে ওসিয়তের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তা তাঁদের পরিবর্তে নিজের অধিকারে রেখেছেন যাতে তারা তাঁর জ্ঞান ও ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকে। এই কারণেই মহান আল্লাহ আয়াতের শেষে বলেছেন, {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও পরম সহিষ্ণু}।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقَالَ قبل ذَلِك {فَرِيضَة من الله إِن الله كَانَ عليما حكيما}
وَأما عدله فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ سوى بَين الذُّكُور لأَنهم سَوَاء فِي أَحْكَام الدِّيات والعقول ورجاء الْمَنْفَعَة وان صغر السن لايبطل حق الْولادَة وَلَا معنى النّسَب وان كلا مِنْهُم فلق الأكباد وشجا الحساد وَلذَلِك قَالَ تَعَالَى {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم} وَلم يقل بأولادكم لِأَنَّهُ أَرَادَ الْعدْل فيهم والتحذير من الْجور عَلَيْهِم وَجَاء بِاللَّفْظِ عَاما غير مَقْصُور على الْمِيرَاث أَو غَيره وَلذَلِك قَالَ النَّبِي عليه السلام إِنِّي لَا أشهد على جور وَذَلِكَ أَيْضا قَالَه فِي هبة فضل بهَا بشير بن سعد بعض وَلَده على بعض لِأَنَّهُ رأى الله
এবং তিনি এর আগে বলেছেন {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়}।
আর তাঁর ন্যায়বিচারের বিষয়টি হলো, তিনি পবিত্র সত্তা পুরুষদের মধ্যে সমতা বিধান করেছেন; কেননা তারা রক্তপণের বিধান, বুদ্ধি এবং উপকারের প্রত্যাশার ক্ষেত্রে সমান। আর অল্পবয়স্ক হওয়া জন্মগত অধিকার কিংবা বংশীয় মর্যাদাকে বাতিল করে দেয় না। তাদের প্রত্যেকেই কলিজার টুকরো এবং হিংসুকদের জন্য মনঃকষ্টের কারণ। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন}। তিনি ‘সন্তানদের দ্বারা’ বলেননি, কারণ তিনি তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ওপর জুলুম করার ব্যাপারে সতর্ক করতে চেয়েছেন। এই শব্দটি সাধারণভাবে এসেছে, যা কেবল মিরাস বা অন্য কিছুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ কারণেই নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কোনো জুলুমের সাক্ষী হব না’। আর এ কথাটি তিনি এমন এক দানের ক্ষেত্রে বলেছিলেন যার মাধ্যমে বাশির ইবনে সাদ তাঁর সন্তানদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন; কারণ তিনি আল্লাহকে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تَعَالَى قد أَمر بِالْعَدْلِ فيهم أمرا غير مَقْصُور على بَاب دون بَاب وَلذَلِك رأى كثير من الْعلمَاء أَن لَا يفضل فِي الْهِبَة وَالصَّدَََقَة ابْن على بنت إِلَّا بِمَا فَضله الله بِهِ للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ وَهُوَ قَول أَحْمد ابْن حَنْبَل
وَكَانُوا يستحبون الْعدْل فِي الْبَنِينَ حَتَّى فِي الْقبْلَة وَرَأى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رجلا قَاعِدا فجَاء طِفْل لَهُ فأقعده فِي حجره وَجَاءَت بنت لَهُ صَغِيرَة فأقعدها على الأَرْض فَقَالَ لَهُ عليه الصلاة والسلام أليست بولدك أَو كَمَا قَالَ قَالَ بلَى قَالَ فاعدل فيهمَا وَهَذَا كُله منتزع من قَوْله سُبْحَانَهُ {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم}
وَأما مَا تضمنته وَصيته من الرَّحْمَة إِلَى مَا ذكرنَا من الْعدْل وَالْحكمَة فَإِنَّهُ جعل للبنات حظا فِي أَمْوَال آبائهن رَحْمَة مِنْهُ لضعفهن وترغيبا فِي نِكَاحهنَّ لِأَن الْمَرْأَة تنْكح لمالها وجمالها ولدينها فَعَلَيْك بِذَات الدّين قَالَ صلى الله عليه وسلم اتَّقوا الله فِي الضعيفين يَعْنِي الْمَرْأَة واليتيم فَكَانَ من رأفته بِهن أَن قسم
মহান আল্লাহ তাদের ব্যাপারে ইনসাফ করার এমন আদেশ দিয়েছেন যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই কারণেই অনেক আলেম মনে করেন যে, দান (হেবা) ও সদকার ক্ষেত্রে ছেলেকে মেয়ের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না, কেবল আল্লাহ যেভাবে তাদের অংশ নির্ধারণের মাধ্যমে প্রাধান্য দিয়েছেন তা ব্যতীত (অর্থাৎ: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের সমান)। এটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল-এর অভিমত।
তাঁরা সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করাকে এমনকি চুম্বনের ক্ষেত্রেও মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় মনে করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপবিষ্ট দেখলেন, এমতাবস্থায় তার একটি পুত্রসন্তান এল এবং সে তাকে নিজের কোলে বসাল। এরপর তার এক ছোট কন্যাসন্তান এল, তখন সে তাকে মাটিতে বসাল। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "সে কি তোমার সন্তান নয়?" (অথবা তিনি যেরূপ বলেছেন)। সে বলল: "অবশ্যই।" তিনি বললেন: "তবে তাদের উভয়ের মাঝে ইনসাফ করো।" আর এই সবকিছুই মহান আল্লাহর বাণী—"আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন"—থেকে গৃহীত।
আর আমরা ইনসাফ ও হিকমতের যে আলোচনা করেছি, তাঁর সেই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত রহমত বা দয়ার বিষয়টি হলো—তিনি মেয়েদের দুর্বলতার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে এবং তাদের বিবাহে উৎসাহিত করার লক্ষে পিতার সম্পত্তিতে কন্যাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেছেন। কারণ নারীকে তার সম্পদ, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারির জন্য বিবাহ করা হয়; সুতরাং তোমার কর্তব্য হলো দ্বীনদার নারীকে নির্বাচন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা দুই দুর্বলের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো—অর্থাৎ নারী ও এতিম।" সুতরাং তাদের প্রতি তাঁর দয়া ও করুণার বহিঃপ্রকাশ ছিল এই যে, তিনি বণ্টন করে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لَهُنَّ مَعَ الذُّكُور وَكَانَ من عدله أَن جعل للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ لما يلْزم الذُّكُور من الْإِنْفَاق وَالصَّدَاق إِذا بلغُوا النِّكَاح وَلما أوجب عَلَيْهِم من الْجِهَاد للأعداء والذب عَن النِّسَاء وَجعل حظهم مثنى حَظّ الْإِنَاث كَمَا جعل حَظّ الرجل مثل حظي الْأُنْثَى فِي الشَّهَادَات والديات لِأَنَّهُنَّ ناقصات عقل وَدين للْحيض الْمَانِع لَهُنَّ فِي بعض الْأَوْقَات من الصّيام والصلوات فَجمع بَين الْعدْل وَالرَّحْمَة وَنبهَ على الْعلم وَالْحكمَة
وانتبه أَيهَا التَّالِي لكتاب الله الْمَأْمُور بتدبره كَيفَ قَالَ {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم} بِلَفْظ الْأَوْلَاد دون لفظ الْأَبْنَاء لما سَنذكرُهُ من الْفرق بَينهمَا إِن شَاءَ الله
ثمَّ أضَاف الْأَوْلَاد إِلَيْهِم بقوله {أَوْلَادكُم} وَمَعْلُوم أَن الْوَلَد فلذة الكبد وَذَلِكَ مُوجب للرحمة الشَّدِيدَة فَمَعَ أَنه أضَاف الْأَوْلَاد إِلَيْهِم جعل الْوَصِيَّة لنَفسِهِ دونهم ليدل على أَنه أرأف وأرحم بالأولاد من آبَائِهِم أَلا ترى أَنه لَا يحسن أَن يَقُول العَبْد لِأَخِيهِ أوصيك فِي أولادك لِأَن أَبَا الْوَلَد أرْحم بهم فَكيف يوصيه غَيره بهم وَإِنَّمَا الْمَعْرُوف أَن يَقُول أوصيك بولدي خيرا فَلَمَّا قَالَ الله تبارك وتعالى {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم} علم أَن رب الْأَوْلَاد أرْحم بالأولاد من الْوَالِدين لَهُم حَيْثُ أوصى بهم وَفِيهِمْ وَلذَلِك قَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاة
পুরুষদের সাথে তাদের ক্ষেত্রে; আর তাঁর ন্যায়বিচারের দাবি ছিল এই যে, তিনি একজন পুরুষের জন্য দুই নারীর অংশের সমান অংশ নির্ধারণ করেছেন। কারণ পুরুষরা যখন বিবাহের বয়সে উপনীত হয়, তখন তাদের ওপর ভরণপোষণ ও মোহরানা প্রদান আবশ্যক হয় এবং তাদের ওপর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ও নারীদের রক্ষা করাও আবশ্যক করা হয়েছে। তিনি তাদের অংশকে নারীদের অংশের দ্বিগুণ করেছেন, যেমনটি তিনি সাক্ষ্য প্রদান এবং রক্তপণের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের অংশকে দুই নারীর অংশের সমান করেছেন; কারণ তারা জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ—সেই ঋতুস্রাবের কারণে যা নির্দিষ্ট সময়ে তাদের রোজা ও নামাজ থেকে বিরত রাখে। এভাবে তিনি ন্যায়বিচার ও দয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
হে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকারী, যাকে এর মর্ম নিয়ে চিন্তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আপনি লক্ষ্য করুন—কীভাবে তিনি বলেছেন {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}। এখানে 'সন্তান' শব্দ ব্যবহার করেছেন, 'পুত্র' শব্দ ব্যবহার করেননি; ইনশাআল্লাহ, এই দুই শব্দের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা আমরা পরে উল্লেখ করব।
এরপর তিনি {তোমাদের সন্তানরা} বলে সন্তানদের তাদের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। আর এটি সুবিদিত যে, সন্তান কলিজার টুকরো, যা তীব্র মমতার উদ্রেক করে। সন্তানদের তাদের দিকে সম্বন্ধিত করা সত্ত্বেও তিনি অসিয়ত বা নির্দেশ প্রদানের বিষয়টি তাদের পরিবর্তে নিজের দিকে নিয়েছেন; যাতে এটি নির্দেশ করে যে, তিনি সন্তানদের প্রতি তাদের পিতাদের চেয়েও অধিক স্নেহশীল ও দয়ালু। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো দাসের জন্য তার ভাইকে এটা বলা শোভন নয় যে, "আমি তোমাকে তোমার সন্তানদের ব্যাপারে অসিয়ত করছি", কারণ সন্তানের পিতা তাদের প্রতি অধিক দয়ালু। সুতরাং অন্য কেউ কীভাবে তাকে তাদের ব্যাপারে অসিয়ত বা নির্দেশ দিতে পারে? বরং প্রচলিত নিয়ম হলো এমন বলা যে, "আমি তোমাকে আমার সন্তানের ব্যাপারে কল্যাণের অসিয়ত করছি"। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যখন বললেন {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}, তখন জানা গেল যে, সন্তানদের প্রতিপালক তাদের প্রতি পিতা-মাতার চেয়েও অধিক দয়ালু; যেহেতু তিনি তাদের ব্যাপারে এবং তাদের কল্যাণে অসিয়ত করেছেন। আর এই কারণেই তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالسَّلَام فِي امْرَأَة رَآهَا قد أَلْقَت نَفسهَا على ابْنهَا فِي بعض الْمَغَانِم الله أرْحم بِعَبْدِهِ الْمُؤمن من هَذِه بِوَلَدِهَا وَكَذَلِكَ قَالَ فِي الْحمرَة الَّتِى أَخذ فراخها فَأَلْقَت نَفسهَا عَلَيْهِم حَتَّى أطبق عَلَيْهَا الكساء مَعَهم فَقَالَ عليه الصلاة والسلام أتعجبون من رَحْمَة هَذِه بفراخها فَالله أرْحم بِعَبْدِهِ الْمُؤمن مِنْهَا وحسبك بقوله سُبْحَانَهُ {وَهُوَ أرْحم الرَّاحِمِينَ} فالأبوان من الرَّاحِمِينَ فَالله تَعَالَى أرْحم مِنْهُمَا فَلذَلِك أوصى الاباء بأولادهم وَإِن كَانَ الْمَعْرُوف أَلا يوصى وَالِد بولده وَإِنَّمَا يُوصي الْإِنْسَان غَيره بِولد نَفسه إِذا غَابَ عَنهُ وَأما أَن يوصى وَالِد بِولد نَفسه فَغير مَعْرُوف فِي الْعَادة لِأَن للْوَلَد أَن يَقُول أَنا أرْحم بولدي مِنْك فَكيف توصيني بهم فسبحان من هُوَ أرْحم الرَّاحِمِينَ وَأَعْدل الْحَاكِمين
রাসূলুল্লাহ (সা.) এক মহিলার ব্যাপারে বলেছেন, যাকে তিনি যুদ্ধের গনীমতের মধ্যে দেখেছিলেন যে সে নিজের সন্তানের ওপর নিজেকে নিক্ষেপ করছে (মমতায় জড়িয়ে ধরছে)— "আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি এই মহিলার তার সন্তানের প্রতি মমতার চেয়েও অধিক দয়ালু।" অনুরূপভাবে তিনি সেই হুমারা পাখির ব্যাপারেও বলেছেন যার ছানাগুলোকে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ফলে সে নিজেকে তাদের ওপর নিক্ষেপ করেছিল এমনকি তাদের সাথে তার ওপরও কাপড় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "তোমরা কি এই পাখির তার ছানাগুলোর প্রতি মমতায় আশ্চর্য হচ্ছ? আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি এই পাখির চেয়েও অধিক দয়ালু।" আপনার জন্য মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট— {এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু}। পিতামাতাও দয়াবানদের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের চেয়েও অধিক দয়ালু। আর এ কারণেই তিনি পিতাদের তাদের সন্তানদের ব্যাপারে অসিয়ত (নির্দেশ) করেছেন, যদিও প্রচলিত নিয়ম হলো কোনো পিতাকে তার নিজের সন্তানের ব্যাপারে অসিয়ত করা হয় না। মানুষ সাধারণত অন্য কাউকে তার নিজের সন্তানের ব্যাপারে অসিয়ত করে যখন সে তাদের থেকে অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু কোনো পিতাকে তার নিজের সন্তানের ব্যাপারে অসিয়ত করা স্বাভাবিক নিয়মে পরিচিত নয়; কারণ পিতা এ কথা বলতে পারেন যে, "আমি আমার সন্তানের প্রতি আপনার চেয়েও অধিক দয়ালু, তবে কেন আপনি আমাকে তাদের ব্যাপারে অসিয়ত করছেন?" সুতরাং মহিমান্বিত সেই সত্তা যিনি দয়াবানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু এবং বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فصل
فِي أسرار قَوْله يُوصِيكُم الله وَقَالَ سُبْحَانَهُ {يُوصِيكُم} بِلَفْظ الْفِعْل الدَّائِم لَا بِلَفْظ الْمَاضِي كَمَا قَالَ فِي غير آيَة نَحْو قَوْله تَعَالَى {أنزلناها وفرضناها} وَنَحْو قَوْله {فرض عَلَيْك الْقُرْآن} وَنَحْو قَوْله {ذَلِكُم وَصَّاكُم بِهِ} وَنَحْو قَوْله {كتب عَلَيْكُم الصّيام} و {كتب عَلَيْكُم الْقِتَال} وَلم يقل هَهُنَا كَذَلِك وَإِنَّمَا قَالَ {يُوصِيكُم} وَالْحكمَة فِي ذَلِك وَالله أعلم أَن الْآيَة ناسخة للْوَصِيَّة الْمَكْتُوبَة عَلَيْهِم فِي قَوْله {كتب عَلَيْكُم إِذا حضر أحدكُم الْمَوْت} الْآيَة فَلَمَّا نسخ الْوَصِيَّة الْمَاضِيَة واستأنف حكما
পরিচ্ছেদ
আল্লাহর বাণী 'তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন' এর রহস্যসমূহ প্রসঙ্গে এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন {তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন} বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়ার শব্দে, অতীত কালবাচক শব্দে নয়; যেমনটি তিনি অন্যান্য আয়াতে বলেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা তা অবতীর্ণ করেছি এবং তা ফরজ করেছি}, এবং তাঁর বাণী: {যিনি আপনার ওপর কুরআন নির্ধারণ করেছেন}, এবং তাঁর বাণী: {তিনি তোমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন}, এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে} ও {তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে}। কিন্তু এখানে তিনি তেমনটি বলেননি, বরং বলেছেন {তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}। এর রহস্য—আর আল্লাহই ভালো জানেন—এই যে, এই আয়াতটি সেই অসিয়ত বা নির্দেশের রহিতকারী যা তাদের ওপর অবধারিত করা হয়েছিল তাঁর এই বাণীতে: {তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়} আয়াতটি। অতঃপর যখন তিনি পূর্ববর্তী নির্দেশ রহিত করলেন এবং নতুন একটি বিধান প্রবর্তন করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
آخر جَاءَ بِلَفْظ الْفِعْل المستأنف تَنْبِيها على نسخ مَا مضى والشروع فِي حكم آخر فَقَالَ {يُوصِيكُم الله}
وَجَاء بِالِاسْمِ الظَّاهِر وَلم يقل أوصيكم وَلَا نوصيكم كَمَا قَالَ {نتلوها عَلَيْك} و {نقص عَلَيْك} لِأَنَّهُ أَرَادَ تَعْظِيم هَذِه الْوَصِيَّة والترهيب من إضاعتها كَمَا قَالَ {يعظكم الله} و {ويحذركم الله نَفسه} فَمَتَى أَرَادَ تَعْظِيم الْأَمر جَاءَ بِهَذَا الِاسْم ظَاهرا لِأَنَّهُ أهيب أَسْمَائِهِ وأحقها بالتعظيم وَالله أعلم فصل
فِي سر اخْتِيَار لفظ الْوَلَد دون الابْن وَقَالَ {فِي أَوْلَادكُم} وَلم يقل فِي أَبْنَائِكُم لِأَن لفظ الْولادَة هُوَ الَّذِي يَلِيق بِمَسْأَلَة الْمِيرَاث فَفِي تَخْصِيص هَذَا اللَّفْظ فقه وتنبيه أما الْفِقْه فَإِن الْأَبْنَاء من الرضَاعَة لَا يَرِثُونَ لأَنهم لَيْسُوا بأولاد وَكَذَلِكَ الابْن المتبنى فقد كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تبنى زيدا قبل النّسخ للتبني فَكَانَ يَقُول أَنا ابْن مُحَمَّد
অন্যত্র এটি সূচনামূলক ক্রিয়াবাচক শব্দে এসেছে যা পূর্ববর্তী বিধানের রহিতকরণ এবং অন্য একটি নতুন বিধানের প্রারম্ভ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য। ফলে তিনি বলেছেন {আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}
এখানে আল্লাহর প্রকাশ্য নাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং ‘আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি’ বা ‘আমরা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি’ বলা হয়নি, যেমনটি তিনি বলেছিলেন {আমি তা আপনার নিকট তিলাওয়াত করছি} এবং {আমি আপনার নিকট বর্ণনা করছি}; কারণ তিনি এই নির্দেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং তা অমান্য করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করতে চেয়েছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন {আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন} এবং {আল্লাহ তোমাদের তাঁর নিজের সত্তা সম্পর্কে সতর্ক করছেন}। সুতরাং যখনই তিনি কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে চেয়েছেন, তখনই এই প্রকাশ্য নাম নিয়ে এসেছেন; কারণ এটি তাঁর নামসমূহের মধ্যে সর্বাধিক মহিমাপূর্ণ এবং সম্মানের অধিকতর যোগ্য। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। অনুচ্ছেদ
‘ইবন’ (পুত্র) শব্দের পরিবর্তে ‘ওয়ালাদ’ (সন্তান) শব্দ চয়নের রহস্য প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন {তোমাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে} এবং ‘তোমাদের পুত্রদের ক্ষেত্রে’ বলেননি; কারণ জন্মের সাথে সম্পৃক্ত শব্দই উত্তরাধিকারের মাসআলার সাথে অধিক মানানসই। এই শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার মধ্যে ফিকহ (গভীর তত্ত্ব) এবং সতর্কবার্তা রয়েছে। ফিকহ বা তত্ত্বের বিষয়টি হলো, দুগ্ধপানের মাধ্যমে যারা পুত্র হয় তারা উত্তরাধিকার পায় না কারণ তারা প্রকৃত সন্তান নয়। একইভাবে পালক পুত্রও (উত্তরাধিকার পায় না)। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দত্তক গ্রহণের প্রথা রহিত হওয়ার আগে যায়িদকে দত্তক নিয়েছিলেন, তখন সে বলত, ‘আমি মুহাম্মাদের পুত্র’।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَلَا يَقُول أَنا ولد مُحَمَّد وَلذَلِك قَالَ سُبْحَانَهُ {وحلائل أَبْنَائِكُم الَّذين من أصلابكم} لِأَن الْوَلَد لَا يكون إِلَّا من صلب أَو بطن غير أَن لفظ الْأَوْلَاد يَقع على الذُّكُور وَالْإِنَاث حَقِيقَة فَلذَلِك عدل عَنهُ إِلَى لفظ الْأَبْنَاء فِي آيَة التَّحْرِيم وَأما فِي آيَة الْمَوَارِيث فجَاء بِلَفْظ الْأَوْلَاد تَنْبِيها على الْمَعْنى الَّذِي يتَعَلَّق بِهِ حكم الْمِيرَاث وَهُوَ التولد فالماء حَيَاة الْبشر كَمَا أَن المَاء حَيَاة الشّجر وَلذَلِك عبر فِي الرُّؤْيَا بِالْمَاءِ عَن المَال وَهُوَ يسري من الأَصْل إِلَى الْفَرْع الْمُتَوَلد مِنْهُ أَشد من سريان المَاء من الْفَرْع إِلَى الأَصْل وَلذَلِك كَانَ سَبَب الْوَلَد فِي الْمِيرَاث أقوى من سَبَب الْوَالِد لِأَن الْوَلَد فرع متولد فاليه يسري المَال أقوى من سريانه إِلَى الْأَب وَهَذَا الْمَعْنى بِعَيْنِه مَرْوِيّ عَن زيد بن ثَابت حيت كَلمه عمر رَضِي اله عَنهُ فِي مِيرَاث الْجد مَعَ الْإِخْوَة فَضرب لَهُ الْمثل فِي الشَّجَرَة لَهَا فرعان وَفِي الْفَرْع الْوَاحِد غصنان فَإِن قطع أحد الغصنين سرت الْقُوَّة وَالْمَاء إِلَى الْغُصْن الْبَاقِي فصل
فِي الموازنة بَين الْجد وَالْأَخ وَفِي دلَالَة الْوَلَد وَإِذا ثَبت هَذَا فالجد إِذا الأَصْل وَالْأَخ أقوى سَببا لِأَنَّهُ يُدْلِي
এবং সে বলে না যে আমি মুহাম্মাদের সন্তান; আর একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তোমাদের সেই পুত্রদের স্ত্রীগণ যারা তোমাদের নিজ পৃষ্ঠদেশ হতে জাত}। কারণ সন্তান কেবল পৃষ্ঠদেশ বা গর্ভ থেকেই হয়ে থাকে; তবে ‘সন্তানাদি’ শব্দটি প্রকৃত অর্থেই নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। একারণেই নিষিদ্ধতার আয়াতে এটি পরিবর্তন করে ‘পুত্র’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে উত্তরাধিকারের আয়াতে ‘সন্তানাদি’ শব্দ আনা হয়েছে সেই অর্থের দিকে নির্দেশ করতে যার সাথে উত্তরাধিকারের বিধান সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো জন্মলাভ বা উদ্ভব। সুতরাং পানি মানুষের জীবন, যেমনটি পানি গাছের জীবন; আর একারণেই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পানি দ্বারা সম্পদকে বোঝানো হয়। আর তা মূল থেকে তার মাধ্যমে জাত শাখার দিকে এমনভাবে প্রবাহিত হয় যা শাখা থেকে মূলের দিকে প্রবাহের চেয়েও প্রবলতর। একারণেই উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সন্তানের কারণটি পিতার কারণের চেয়ে শক্তিশালী; কেননা সন্তান হলো একটি উদ্ভূত শাখা, ফলে তার দিকে সম্পদের প্রবাহ পিতার দিকে প্রবাহের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়। আর ঠিক এই মর্মটিই জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত হয়েছে যখন উমর (রা.) ভাইদের উপস্থিতিতে দাদার উত্তরাধিকার নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর সামনে একটি গাছের উদাহরণ পেশ করেন যার দুটি শাখা রয়েছে এবং একটি শাখায় দুটি উপশাখা আছে। যদি একটি উপশাখা কেটে ফেলা হয়, তবে শক্তি ও পানি অবশিষ্ট উপশাখাটির দিকে প্রবাহিত হয়। পরিচ্ছেদ।
দাদা ও ভাইয়ের মধ্যে ভারসাম্য এবং ‘সন্তান’ শব্দের তাৎপর্য প্রসঙ্গে আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন দাদা যদিও মূল, তবুও ভাই অধিক শক্তিশালী কারণ; কেননা সে সম্পর্কিত হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بِوِلَادَة الْأَب لَهُ وَقد تقدم أَن الْولادَة أقوى الْأَسْبَاب فَإِن قَالَ الْجد وَأَنا أَيْضا ولدت الْمَيِّت قيل لَهُ إِنَّمَا ولدت وَالِده وَولده قد ولد الْإِخْوَة فَصَارَ سببهم قَوِيا وَإِنَّمَا لم يحجبوا الْجد بِهَذِهِ الْقُوَّة لِأَن الْجد أصل وَولد الْوَلَد ولد غير أَن الْوَلَد أَحَق مِنْهُ مَا دَامَ حَيا
وَقد اخْتلف هَل يَقع على ولد الْوَلَد اسْم الْوَلَد حَقِيقَة أَو مجَازًا وَالَّذِي عِنْدِي أَنه حَقِيقَة وَلَكِن الْوَلَد أقرب من ولد الْوَلَد وَإِن شَاركهُ فِي الِاسْم لِأَن ولد الْوَلَد لم يكن ولدا للْجدّ إِلَّا بِوَاسِطَة الْوَالِد
فَإِن قيل فَإِن تصدق بِصَدقَة على وَلَده أَكَانَ يشاركهم فِيهَا ولد الْوَلَد
قُلْنَا أما الصَّدَقَة فالغرض بهَا التَّمْلِيك فَلَا يتَنَاوَل ولد الْوَلَد إِلَّا بتبيان من الْمُتَصَدّق مُخَصص عُمُوم اللَّفْظ بِقَرِينَة الْغَرَض والمقصد بِخِلَاف التحبيس فَإِن الْمَقْصد بِهِ التعقيب دون التَّمْلِيك فَتَنَاول الْوَلَد وَولد الْوَلَد مَا تعاقبوا
পিতার মাধ্যমে তার জন্মের কারণে, এবং ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে জন্মই হলো (উত্তরাধিকারের) কারণসমূহের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী। যদি দাদা বলেন, "আমিও মৃত ব্যক্তিকে জন্ম দিয়েছি," তবে তাকে বলা হবে, "আপনি কেবল তার পিতাকে জন্ম দিয়েছেন।" আর তার সন্তান ভাইদের জন্ম দিয়েছে, ফলে তাদের কারণটিও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারা এই শক্তির কারণে দাদাকে বঞ্চিত করবে না, কারণ দাদা হলেন মূল এবং সন্তানের সন্তানও সন্তান হিসেবে গণ্য, তবে সরাসরি সন্তান জীবিত থাকা পর্যন্ত তার হক দাদর চেয়ে বেশি।
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে, সন্তানের সন্তানের ক্ষেত্রে 'সন্তান' শব্দটি কি প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয় নাকি রূপক অর্থে। আমার নিকট অভিমত হলো এটি প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে সন্তান এই নামের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের সন্তানের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী। কেননা সন্তানের সন্তান পিতার মাধ্যম ছাড়া দাদার সন্তান হতে পারে না।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেউ যদি তার সন্তানদের জন্য কিছু দান করে, তবে কি সন্তানের সন্তানরাও তাদের সাথে তাতে শরিক হবে?
আমরা বলব: সদকার উদ্দেশ্য হলো মালিকানা প্রদান করা, তাই দাতার পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা ছাড়া এটি সন্তানের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করবে না, যা উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কোনো ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্ট করে। পক্ষান্তরে ওয়াকফের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা এর উদ্দেশ্য হলো পরম্পরা বজায় রাখা, মালিকানা প্রদান নয়। তাই এটি সন্তান এবং সন্তানের সন্তান—যারা একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়—সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فصل
فِي الموازنة بَين الْبُنُوَّة والولادة فَإِذا فهمت هَذَا علمت أَن لفظ الْبُنُوَّة أوسع من لفظ الْولادَة لِأَن الْمَقْصُود بهَا الدعْوَة وَالنّسب فَإِذا نسبت فقد تنْسب إِلَى وَالِد وَغير وَالِد أَلا ترى إِلَى قَوْله تَعَالَى {وَابْن السَّبِيل} فنسب إِلَى السَّبِيل وَلَيْسَ بوالده وَكَذَلِكَ قَوْلهم ابْن آوى وَابْن عرس وَبَنَات أوبر للكمأة وَبَنَات نعش فِي النُّجُوم وَلَا يحسن فِي شَيْء من هَذَا لفظ الْوَلَد فَمن هَذَا لم ير زيد رحمه الله حجَّة لمن قَالَ من الصَّحَابَة إِن الْجد كَالْأَبِ كَمَا أَن ابْن الابْن كالابن لقَوْله سُبْحَانَهُ {يَا بني آدم} و {يَا بني إِسْرَائِيل} وَلقَوْله {مِلَّة أبيكم إِبْرَاهِيم} لِأَن هَذَا نسب وتعريف وَلَو ذكر الْولادَة لَكَانَ لَهُم فِيهَا حجَّة ومتعلق لما قدمْنَاهُ من الْمَقْصُود بِلَفْظ الْوَلَد وَلَفظ الابْن وَفرق مَا بَينهمَا وَالْولد يَقع على الذّكر
পরিচ্ছেদ
পুত্রত্ব ও জন্মদানের মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা প্রসঙ্গে আপনি যদি এটি অনুধাবন করেন তবে জানতে পারবেন যে, ‘পুত্রত্ব’ শব্দটি ‘জন্মদান’ শব্দের তুলনায় অধিক ব্যাপক। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্বন্ধ ও বংশীয় সম্পর্ক। সুতরাং যখন কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, তখন তা কখনো পিতার সাথে হয় আবার কখনো পিতা ছাড়া অন্য কিছুর সাথে হয়। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী: “এবং ইবনুস সাবিল (পথের মুসাফির)”-এর প্রতি লক্ষ্য করেন না? এখানে রাস্তার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে, অথচ রাস্তা তার জন্মদাতা পিতা নয়। অনুরূপভাবে তাদের প্রচলিত শব্দাবলি যেমন ‘ইবনু আওয়া’ (শেয়াল), ‘ইবনু ইর্স’ (বেজি), ছত্রাকের ক্ষেত্রে ‘বানাতু আব্বার’ এবং নক্ষত্ররাজির ক্ষেত্রে ‘বানাতু না’শ’। এসবের কোনোটির ক্ষেত্রেই ‘ওয়ালাদ’ (জন্মজাত সন্তান) শব্দটি ব্যবহার করা সমীচীন হবে না। এই কারণেই যায়েদ (রাহিমাহুল্লাহ) ঐসব সাহাবীদের বক্তব্যের সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ পাননি যারা বলেন যে, দাদা পিতার মতো, যেমনটি নাতি পুত্রের মতো। তারা দলিল হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: “হে আদম সন্তান”, “হে বনী ইসরাঈল” এবং “তোমাদের পিতা ইবরাহীমের আদর্শ”-কে পেশ করেন। অথচ এগুলো হলো নিছক বংশীয় পরিচয় ও পরিচিতি প্রদান মাত্র। যদি এখানে ‘জন্মদান’ শব্দের উল্লেখ থাকত, তবে তাদের জন্য তা দলিল ও প্রমাণের ভিত্তি হতে পারত, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ‘ওয়ালাদ’ ও ‘ইবন’ শব্দের উদ্দেশ্য এবং উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের আলোচনায় বর্ণনা করেছি। আর ‘ওয়ালাদ’ শব্দটি মূলত পুরুষের (পুত্রের) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَالْأُنْثَى وَالْوَاحد وَالْجمع بِخِلَاف الابْن لِأَنَّهُ على وزن فعل كَالْقَبْضِ والنفض وَالْخلف وَهُوَ قَابل لصورة الْفِعْل من المفعولات فَالْوَلَد مَوْلُود قَابل لصورة الْفِعْل الَّذِي هُوَ الْولادَة كَمَا أَن النفض من الْوَرق قد قبل صُورَة الْفِعْل الَّذِي هُوَ النفض فَوَقع على الْوَاحِد والجميع من أجل ذَلِك
غير أَنه قَالَ فِي الْآيَة {فِي أَوْلَادكُم} فَجمع الْوَلَد لِإِضَافَتِهِ إِلَى ضمير الْجمع وَلَو كَانَ مُضَافا إِلَى ضمير الْوَاحِد لجاء بِلَفْظ الْإِفْرَاد وَإِن عَنى الْجمع لقَوْله عليه السلام أَنا سيد ولد آدم وَلَا فَخر وَلم يقل أَوْلَاد آدم فافهمه
وَمن الْفَوَائِد لفظ الْوَلَد دلَالَته على أَن الْجَنِين والسقط المستهل يَرث لِأَنَّهُ ولد قد تولد وقلما يُقَال فِي مثله ابْن فلَان حَتَّى يكبر فينسب إِلَى الْأَب لِأَن لفظ الْبُنُوَّة كَمَا قدمنَا مَوْضُوع للنسب بِخِلَاف لفظ الْوَلَد أَلا ترى أَنهم يَقُولُونَ فِي الْأَنْسَاب ابْن فلَان بن فلَان بن فلَان فصل
فِي استنباط حكم العَبْد وَالْكَافِر من الْآيَة وَقَوله {فِي أَوْلَادكُم للذّكر} تضمن أَن لَا يَرث الْوَلَد العَبْد الْأَب الْحر
এবং স্ত্রীলিঙ্গ, একবচন ও বহুবচন—সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহৃত হয়, যা 'ইবন' (পুত্র) শব্দের বিপরীত। কারণ এটি 'ফা'ল' ওজনে গঠিত, যেমন ‘ধরা’, ‘ঝাড়া’ এবং ‘স্থলাভিষিক্ত’ শব্দগুলো। এটি কর্মবাচ্য থেকে ক্রিয়ার রূপ গ্রহণে সক্ষম। সুতরাং 'ওয়ালাদ' (সন্তান) হলো এমন এক 'জাতক', যা 'জন্মদান' নামক ক্রিয়ার রূপ গ্রহণে সক্ষম; ঠিক যেমন গাছের ঝরা পাতা ‘ঝাড়া’ নামক ক্রিয়ার রূপ গ্রহণ করেছে। এই কারণেই এটি একবচন ও বহুবচন উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হয়।
তবে তিনি আয়াতে বলেছেন "তোমাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে", এখানে 'সন্তান' শব্দটিকে বহুবচন করা হয়েছে কারণ এটি একটি বহুবচন সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। যদি এটি একবচন সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হতো, তবে এটি একবচন রূপেই আসত, যদিও তা দ্বারা বহুবচনই উদ্দেশ্য হতো। এর প্রমাণ হলো তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বাণী: "আমি আদম-সন্তানদের সরদার, এতে কোনো অহংকার নেই।" তিনি "আদমের সন্তানদের" (আওলাদ) বলেননি। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন।
এর অন্যতম একটি উপকারিতা হলো, 'সন্তান' শব্দটির ব্যবহার একথার প্রমাণ যে, গর্ভস্থ ভ্রূণ এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিৎকার করা মৃতবৎ শিশুও উত্তরাধিকার লাভ করবে; কারণ সে একজন সন্তান হিসেবে জন্মলাভ করেছে। এমন শিশুর ক্ষেত্রে খুব কমই 'অমুকের পুত্র' বলা হয় যতক্ষণ না সে বড় হয় এবং পিতার বংশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়। কারণ 'পুত্রত্ব' (বুনুওয়্যাহ) শব্দটি বংশ পরিচয়ের জন্য নির্ধারিত, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি; পক্ষান্তরে 'সন্তান' শব্দটির বিষয়টি ভিন্ন। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, বংশলতিকার বর্ণনায় তারা বলে থাকে অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুক? পরিচ্ছেদ।
আয়াত থেকে দাস ও কাফিরের বিধান উদ্ঘাটন প্রসঙ্গে এবং তাঁর বাণী "তোমাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য" কথাটি একথার অন্তর্ভুক্ত করে যে, কৃতদাস সন্তান তার স্বাধীন পিতার উত্তরাধিকার লাভ করবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
لقَوْله {فِي أَوْلَادكُم} بِإِضَافَة التَّعْرِيف وَلم يقل يُوصِيكُم الله فِيمَا ولدتم وَعرف الْأَوْلَاد بِالْإِضَافَة إِلَى والديهم وَالْعَبْد لَا يعرف بِالْإِضَافَة إِلَى وَالِده إِنَّمَا يُقَال فِيهِ عبد فلَان ومملوك فلَان فَيعرف بِالْإِضَافَة إِلَى سَيّده وَيُقَال فِي ولد الْحر ولد فلَان وَابْن فلَان فَدلَّ ذَلِك على انْقِطَاع الْمِيرَاث بَينهمَا
وتضمن هَذَا الْفِقْه أَيْضا قَوْله {للذّكر} بلام التَّمْلِيك لِأَن لَام الْإِضَافَة هَهُنَا إِنَّمَا هِيَ لإضافة الْملك وَالْعَبْد لَا يملك ملكا مُطلقًا لِأَن السَّيِّد لَهُ أَن ينتزع مَاله مِنْهُ وَأكْثر الْعلمَاء يَقُولُونَ لَا يملك بِحَال من الْأَحْوَال فعلى كلا الْوَجْهَيْنِ لَا يَصح أَن يدْخل العَبْد فِي عُمُوم هَذَا اللَّفْظ أَعنِي قَوْله {للذّكر} وَلَا فِي قَوْله {ولأبويه لكل وَاحِد مِنْهُمَا السُّدس}
وَإِذا منع الرّقّ من الْمِيرَاث فأحرى أَن يمْنَع الْكفْر لِأَن الرّقّ أثر الْكفْر والسباء الَّذِي أوجبه الْكفْر فَخرج من هَذَا أَن لَا يَرث الْكَافِر الْمُسلم فصل
فِي استنباط حكم الذّكر مُطلقًا وَقَوله {للذّكر} بِالْألف وَاللَّام الَّتِي للْجِنْس مَعَ اللَّفْظ الْمُشْتَقّ من الذُّكُورَة
আল্লাহর বাণী {তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে}-এ সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; তিনি এটি বলেননি যে, তোমরা যা জন্ম দিয়েছ সে সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন। সন্তানদেরকে তাদের পিতা-মাতার দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে পরিচিত করা হয়েছে। অথচ একজন দাসকে তার পিতার দিকে সম্বন্ধ করে পরিচিত করা হয় না; বরং তার ক্ষেত্রে বলা হয় 'অমুকের দাস' এবং 'অমুকের মালিকানাধীন'। ফলে তাকে তার মুনিবের দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমেই চেনা যায়। আর স্বাধীন ব্যক্তির সন্তানের ক্ষেত্রে বলা হয় 'অমুকের সন্তান' এবং 'অমুকের পুত্র'। সুতরাং এটি তাদের উভয়ের মধ্যে উত্তরাধিকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
এই ফিকহী বিষয়টি তাঁর বাণী {পুরুষের জন্য}-এর মধ্যেও নিহিত রয়েছে, যা মালিকানা নির্দেশক 'লাম' অক্ষরের সাথে যুক্ত। কারণ এখানে সম্বন্ধসূচক 'লাম'টি মালিকানা বুঝানোর জন্যই এসেছে। আর একজন দাস পূর্ণাঙ্গ মালিকানার অধিকারী হতে পারে না, কারণ মুনিবের অধিকার রয়েছে তার সম্পদ তার থেকে নিয়ে নেওয়ার। অধিকাংশ আলিম বলেন, দাস কোনো অবস্থাতেই মালিক হতে পারে না। সুতরাং উভয় মতেই, একজন দাসকে এই শব্দের সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হবে না—অর্থাৎ আল্লাহর বাণী {পুরুষের জন্য} এবং তাঁর বাণী {তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ}-এর অন্তর্ভুক্ত সে হবে না।
আর দাসত্ব যদি উত্তরাধিকার লাভে বাধা প্রদান করে, তবে কুফর বা অবিশ্বাস আরও জোরালোভাবে বাধা প্রদান করবে। কারণ দাসত্ব হলো কুফরেরই প্রভাব এবং যুদ্ধবন্দিত্বের ফলাফল যা কুফরের কারণে অবধারিত হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো কাফির কোনো মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না। পরিচ্ছেদ।
সাধারণভাবে পুরুষ সম্পর্কিত বিধান উদ্ভাবন প্রসঙ্গে এবং তাঁর বাণী {পুরুষের জন্য}, এখানে আলিফ-লাম ব্যবহৃত হয়েছে জাতিবাচক অর্থে এবং শব্দটি পুরুষত্ববাচক শব্দ হতে ব্যুৎপন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
يدل على الْعُمُوم وعَلى تَعْلِيق الحكم بالصفحة الَّتِي من الذُّكُورَة فَلَو قَالَ للذّكر مِنْهُم مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ لَكَانَ هَذَا الحكم مَقْصُورا على الْأَوْلَاد دون غَيرهم فَلَمَّا لم يقلهُ دخل فِيهِ الْإِخْوَة فَكَانَ للذّكر مِنْهُم حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ إِذا ورثوا وَكَذَلِكَ الأبوان للْأُم الثُّلُث وَللْأَب الثُّلُثَانِ إِذا ورثا لعُمُوم قَوْله {للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ}
فَإِن قيل قد تقدم ذكر الْأَوْلَاد فَمن هُنَاكَ اسْتغنى عَن أَن يَقُول مِنْهُم
قُلْنَا لَو قَالَ مِنْهُم لَكَانَ لفظا يخصص الْعُمُوم تَخْصِيصًا أقوى من تَخْصِيص ذَلِك الْمَعْنى لِأَن دَلِيل اللَّفْظ أقوى من دَلِيل الْمَعْنى لِأَنَّهُ لَيْسَ من لفظ إِلَّا وَهُوَ مُتَضَمّن لِمَعْنى فَصَارَ أقوى من معنى دون لفظ كَمَا فِي صناعَة النَّحْو الْعَامِل اللَّفْظِيّ أقوى من الْمَعْنَوِيّ فَافْهَم هَذَا فِي صناعَة الْأُصُول
وَاعْلَم أَن خُصُوص أول الْكَلَام لَا يمْنَع من عُمُوم آخِره إِذا كَانَت صيغته صِيغَة الْعُمُوم مثل مَا فِي هَذَا الْموضع وَهُوَ قَوْله {للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ} فصل
فِي نصيب البنتين وَقَوله {مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ} بلام التَّعْرِيف الَّتِي للْجِنْس دلّ على أَن الْأُنْثَيَيْنِ
এটি সাধারণত্ব এবং পুরুষত্বের গুণের সাথে বিধানকে সম্পৃক্ত করার প্রতি নির্দেশ করে। যদি তিনি বলতেন যে "তাদের মধ্যকার পুরুষের জন্য দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ", তবে এই বিধানটি কেবল সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ হতো, অন্য কারও জন্য নয়। যেহেতু তিনি তা বলেননি, তাই এর মধ্যে ভাই-বোনেরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; ফলে যখন তারা উত্তরাধিকারী হয়, তখন তাদের মধ্যে পুরুষের জন্য দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ বরাদ্দ হয়। অনুরূপভাবে পিতা-মাতার ক্ষেত্রেও, যখন তারা উত্তরাধিকারী হয়, তখন মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং বাবার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ হয়; কারণ "পুরুষের জন্য দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ" এই উক্তির সাধারণত্ব এটিই দাবি করে।
যদি বলা হয় যে, ইতোপূর্বে সন্তানদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই সেখান থেকেই "তাদের মধ্যকার" কথাটি বলার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায় (অর্থাৎ এটি উহ্য থাকে)।
আমরা বলব: যদি তিনি "তাদের মধ্যকার" বলতেন, তবে তা এমন একটি শব্দ হতো যা সেই অর্থের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণের চেয়ে আরও জোরালোভাবে সাধারণত্বকে নির্দিষ্ট করত। কারণ শাব্দিক দলিল অর্থগত দলিলের চেয়ে শক্তিশালী। কেননা প্রতিটি শব্দই কোনো না কোনো অর্থ বহন করে, ফলে তা শব্দবিহীন অর্থের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়; যেমন নাহু শাস্ত্রে শাব্দিক আমিল অর্থগত আমিলের চেয়ে শক্তিশালী। সুতরাং উসুল শাস্ত্রে বিষয়টি উপলব্ধি করুন।
জেনে রাখুন যে, বক্তব্যের শুরুর বিশেষত্ব তার শেষের সাধারণত্বকে বাধাগ্রস্ত করে না, যদি তার গঠনরীতি সাধারণত্বের হয়। যেমনটি এই স্থানে হয়েছে, আর তা হলো তাঁর উক্তি: "পুরুষের জন্য দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ"। পরিচ্ছেদ।
দুই কন্যার অংশ প্রসঙ্গে এবং তাঁর উক্তি "দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ" - এখানে জাতিবাচক সংজ্ঞার্থ জ্ঞাপক 'লাম' (আলিফ-লাম) ব্যবহারের মাধ্যমে এটি নির্দেশ করে যে দুই নারী...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قد استحقتا الثُّلثَيْنِ إِذْ الْأُنْثَى الْوَاحِدَة لَهَا مَعَ الذّكر الثُّلُث فَإِذا لم يكن ثمَّ ذكر وَكَانَت اثْنَتَانِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ بِهَذَا اللَّفْظ القرآني فَإِذا ثَبت هَذَا فَمن ثمَّ قَالَ {فَإِن كن نسَاء فَوق اثْنَتَيْنِ} مُبينًا لحكم الثَّلَاث وَمَا هُوَ أَكثر مِنْهُنَّ مستغنيا عَن بَيَان حكم الاثنتين لِأَنَّهُ قد بَينه بِدلَالَة اللَّفْظ كَمَا تقدم
وَظن كثير من النَّاس أَن تَوْرِيث الثُّلثَيْنِ للبنتين إِنَّمَا هُوَ بِالْقِيَاسِ على الْأُخْتَيْنِ وَقَالَ بَعضهم إِنَّمَا عرف ذَلِك بِالنِّسْبَةِ الْوَارِدَة وَقَالَ بَعضهم إِنَّمَا عرف من الفحوى لَا من اللَّفْظ لِأَن الْوَاحِدَة إِذا كَانَ لَهَا الثُّلُث مَعَ الذّكر فأحرى أَن يكون لَهَا الثُّلُث مَعَ عدم الذّكر
وَالَّذِي عِنْدِي أَن اللَّفْظ مغن عَن هَذَا وكاف شاف لما قدمْنَاهُ وَالْحَمْد لله فصل
فِي مرجع الضَّمِير فِي كنوَقَوله تَعَالَى {فَإِن كن نسَاء فَوق اثْنَتَيْنِ}
তারা উভয়ে দুই-তৃতীয়াংশের হকদার হয়েছে। কেননা একজন নারী যখন একজন পুরুষের সাথে থাকে, তখন সে (পুরুষের সাথে মিলিয়ে) এক-তৃতীয়াংশ পায়। সুতরাং যখন সেখানে কোনো পুরুষ না থাকে এবং তারা সংখ্যায় দুইজন হয়, তখন এই কুরআনিক শব্দ দ্বারা তারা উভয়ে দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন তিনি বলেছেন: {অতঃপর যদি তারা দুইয়ের অধিক নারী হয়}, যা তিন এবং ততোধিক নারীর বিধান বর্ণনা করছে। এখানে দুইজনের বিধান বর্ণনার প্রয়োজন নেই, কারণ শব্দের দালালাত বা অর্থ দ্বারা ইতিপূর্বেই তা বর্ণিত হয়েছে।
অনেক মানুষ মনে করেন যে, দুই কন্যাকে দুই-তৃতীয়াংশ মীরাস প্রদান করা কেবল দুই বোনের ওপর কিয়াস করার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি বর্ণিত অনুপাতের মাধ্যমেই জানা গিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি শব্দের মাধ্যমে নয় বরং মর্মার্থ (ফাহওয়া) থেকে জানা গিয়েছে। কারণ একজনের জন্য যদি পুরুষের সাথে এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারিত থাকে, তবে পুরুষ না থাকলে সে এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার আরও বেশি যোগ্য।
আমার নিকট এই শব্দই এ বিষয়ে যথেষ্ট এবং আমরা যা পেশ করেছি তার জন্য এটিই একটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত সমাধান। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। পরিচ্ছেদ।
'কুন্না' (كن) ক্রিয়ার সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল প্রসঙ্গেএবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তারা দুইয়ের অধিক নারী হয়}।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
قد يُقَال لم كنى بضمير الْجمع الْمُؤَنَّث وَلم يتَقَدَّم مَا يعود عَلَيْهِ فِي اللَّفْظ
قُلْنَا لَو تقدم ذكر جمع مؤنث فِي اللَّفْظ لاستغنى أَن يَقُول {نسَاء} ولقال فَإِن كن فَوق اثْنَتَيْنِ كَمَا قَالَ فِي الْأَخَوَات {فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ} لِأَنَّهُ قد تقدم ذكر أُخْت وَلم يتَقَدَّم هُنَا إِلَّا ذكر الْأَوْلَاد فَقَالَ الطَّبَرِيّ حاكيا عَن الْكُوفِيّين بِعُود الضَّمِير على المتروكات كَأَنَّهُ قَالَ المتروكات وَاخْتَارَ هَذَا القَوْل وَضعف قَول من قَالَ يعود على الْوَلَد لِأَن الْوَلَد يجمع الْمُذكر والمؤنث والمذكر يغلب على الْمُؤَنَّث فِي الْجمع
وَالَّذِي اخْتَارَهُ عِنْدِي غير صَحِيح لِأَنَّهُ فِيهِ عود الضَّمِير على مَا لَيْسَ فِي اللَّفْظ وَترك اللَّفْظ الظَّاهِر وَإِنَّمَا كَانَ يلْزم تَغْلِيب الْمُؤَنَّث على الْمُذكر لَو عَاد الضَّمِير على جملَة الْأَوْلَاد وَإِنَّمَا يعود على الْبَعْض وَذَلِكَ الْبَعْض هم النِّسَاء وَالِاسْم الْمُضمر هُوَ الظَّاهِر والمتكلم لَا يُرِيد سوى ذَلِك الِاسْم وَعنهُ يخبر وَحكمه يُرِيد أَن يبين فَلذَلِك قَالَ {كن} كَمَا قَالَ {وَإِن كَانَت وَاحِدَة} فجَاء بضمير الْوَاحِدَة الَّتِي يُرِيد
প্রশ্ন করা হতে পারে যে, কেন এখানে স্ত্রীবাচক বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ শব্দে এর আগে এমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি যার দিকে এটি ফিরতে পারে?
আমরা বলি, যদি শব্দে ইতিপূর্বে কোনো স্ত্রীবাচক বহুবচনের উল্লেখ থাকত, তবে "নারীগণ" বলার প্রয়োজন হতো না; বরং সরাসরি বলা হতো "যদি তারা দুইয়ের অধিক হয়", যেমনটি বোনদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে "যদি তারা দু’জন হয়"। কারণ সেখানে 'বোন' শব্দের উল্লেখ আগে এসেছিল, কিন্তু এখানে কেবল 'সন্তানদের' উল্লেখ ব্যতীত অন্য কিছু আসেনি। তাই তাবারী কুফী আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, এই সর্বনামটি 'পরিত্যক্তাদের' দিকে ফিরছে; যেন তিনি বলেছেন 'পরিত্যক্তারা'। তিনি এই মতটিকেই পছন্দ করেছেন এবং যারা বলেন যে এটি 'সন্তান' শব্দের দিকে ফিরছে, তাদের মতকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। কারণ 'সন্তান' শব্দটি পুরুষ ও নারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, আর পুংলিঙ্গবাচক শব্দই সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গবাচকের ওপর প্রাধান্য পায়।
তিনি যা পছন্দ করেছেন তা আমার নিকট সঠিক নয়। কারণ এতে সর্বনাম এমন কিছুর দিকে ফিরছে যা শব্দে বিদ্যমান নেই এবং এখানে প্রকাশ্য শব্দকে পরিহার করা হয়েছে। পুরুষবাচকের ওপর স্ত্রীবাচককে প্রাধান্য দেওয়া কেবল তখনই আবশ্যক হতো যদি সর্বনামটি সকল সন্তানের দিকে ফিরত। কিন্তু এটি কেবল একটি অংশের দিকে ফিরছে, আর সেই অংশটি হলো নারীগণ। এখানে প্রচ্ছন্ন বিশেষ্যটিই হলো প্রকাশ্য এবং বক্তা সেই বিশেষ্যটি ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেননি, বরং তিনি সে সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন এবং তার বিধান বর্ণনা করতে চাচ্ছেন। এ কারণেই তিনি "যদি তারা হয়" বলেছেন, যেমনটি তিনি বলেছিলেন "যদি সে একাকী হয়"। ফলে তিনি সেই একবচনের সর্বনাম ব্যবহার করেছেন যা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَن يبين حكمهَا وَهِي ولد كَمَا أَن النِّسَاء ولد وَهَذَا بَين
وَقد حكى سِيبَوَيْهٍ من كَانَت أمك بِالنّصب فأنث الِاسْم الأول لِأَنَّهُ هُوَ الْأَخير فِي الْمَعْنى وأعجب من هَذَا قَوْلهم إِنَّه قَامَ زيد وَإِذا أخبروا عَن الْمُؤَنَّث قَالُوا إِنَّهَا قَامَت هِنْد فأنثوا ليشاكل أول الْكَلَام آخِره وَإِن لم يكن الِاسْم الأول هُوَ اثاني
فَإِن قلت إِنَّمَا هُوَ ضمير الْقِصَّة
قُلْنَا وَإِن كَانَ ضمير الْقِصَّة فقد اختاروه على ضمير الْأَمر فِي هَذَا الْموضع للمشاكلة قَالَ الله سُبْحَانَهُ {فَإِنَّهَا لَا تعمى الْأَبْصَار} وَلم يقل إِنَّه وَقَالَ {إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل} وَنَحْو من الأول قَوْلهم بحسبك زيد فأدخلوا الْبَاء على حسب وهم يُرِيدُونَ زيدا لِأَنَّهُ هُوَ ويعضد هَذَا قَول الشَّاعِر
যাতে তাদের বিধান স্পষ্ট করা যায়, আর তারা হলো সন্তান যেমন মহিলারাও হলো সন্তান; আর এটি সুস্পষ্ট।
সিবওয়াইহ ‘মান কানাত উম্মাকা’ (তোমার মা কে ছিল) বাক্যটি নসব সহযোগে বর্ণনা করেছেন; এখানে তিনি প্রথম বিশেষ্যটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করেছেন কারণ অর্থগত দিক থেকে সেটিই হলো শেষোক্ত বিষয়টি। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো তাদের এই বক্তব্য: ‘ইন্নাহু কমা যায়দুন’ (নিশ্চয়ই সে, যায়েদ দাঁড়িয়েছে), অথচ তারা যখন কোনো নারী সম্পর্কে সংবাদ দেয় তখন বলে: ‘ইন্নাহা ক-মাত হিন্দুন’ (নিশ্চয়ই সে, হিন্দ দাঁড়িয়েছে)। তারা এখানে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করেছে যাতে বাক্যের প্রথমাংশ শেষাংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যদিও প্রথম বিশেষ্যটি দ্বিতীয়টি নয়।
আপনি যদি বলেন যে, এটি তো কেবলই ‘জমিরে কিসসা’ (বিষয়বাচক সর্বনাম)।
আমরা বলব, এটি ‘জমিরে কিসসা’ হলেও তারা এই স্থানে সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে একে ‘জমিরে আমর’-এর বিপরীতে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: “নিশ্চয়ই চোখগুলো অন্ধ হয় না”, তিনি ‘ইন্নাহু’ (পুংলিঙ্গ) বলেননি। তিনি আরও বলেছেন: “নিশ্চয়ই তা যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়”। আর প্রথম প্রকারের অনুরূপ হলো তাদের উক্তি: ‘বিহাসবিকা যায়দুন’; এখানে তারা ‘হাসব’ শব্দের ওপর ‘বা’ বর্ণ যুক্ত করেছে অথচ তারা ‘যায়দ’কেই উদ্দেশ্য করছে কেননা সেটিই মূল সত্তা। আর কবির পঙক্তি একেই শক্তিশালী করে—
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أَلَيْسَ عجيبا بِأَن الْفَتى
… يصاب بِبَعْض الَّذِي فِي يَدَيْهِ
فَأدْخل الْبَاء على اسْم لَيْسَ وَإِنَّمَا موضعهَا الْخَبَر لِأَنَّهُ هُوَ وَقَول الراجز عَن الْكَرِيم وَأَبِيك يعتمل
… ان لم يجد يَوْمًا على من يتكل
… وَكَانَ حَقه أَن يَقُول من يتكل عَلَيْهِ فَأدْخل الْحَرْف على الأول لِأَنَّهُ هُوَ الثَّانِي وَكَذَلِكَ جَاءَ بضمير جمَاعَة الْمُؤَنَّث عَائِدًا على الْأَوْلَاد لِأَنَّهُ لم يرد مِنْهُم إِلَّا النِّسَاء وَالَّذِي أضمر هُوَ الَّذِي أظهر وَلَا معنى لإنكار من أنكر فصل
فِي مُتَعَلق الْجَار فِي قَوْله تَعَالَى من بعد وَصِيَّة وَقَوله {فَلَهُنَّ ثلثا مَا ترك} يَعْنِي مَا ترك الْمَالِك وَلم يتَقَدَّم لَهُ ذكر وَلَكِن لما كَانَ الْكَلَام فِي معرض الْبَيَان لقسم الْمَوَارِيث علم أَن الضَّمِير عَائِد إِلَى الْمَوْرُوث
وَقَوله {ترك} أَي خلف وَلَيْسَ التّرْك هَهُنَا بِفعل وَقد يكون التّرْك فعلا يُثَاب
এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে যুবক
… তার দুই হাতে থাকা কিছুর দ্বারা আক্রান্ত হয়
এখানে 'বা' হরফটি 'লাইসা'-এর ইসিমের ওপর প্রবেশ করানো হয়েছে, অথচ এর প্রকৃত স্থান ছিল খবরে, কারণ সেটি এবং রাজেয-এর উক্তিটি অভিন্ন: "সম্মানিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তোমার পিতার শপথ সে পরিশ্রম করে
… যদি সে কোনোদিন এমন কাউকে না পায় যার ওপর সে ভরসা করবে
…" অথচ এখানে ব্যাকরণগতভাবে বলা উচিত ছিল "যার ওপর সে ভরসা করবে"। কিন্তু অব্যয়টি প্রথমটির ওপর প্রবেশ করানো হয়েছে কারণ সেটিই মূলত দ্বিতীয়টি। একইভাবে এখানে স্ত্রীবাচক বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে যা 'সন্তান' (আওলাদ) শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে, কারণ তাদের দ্বারা কেবল নারীদেরই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যা উহ্য রাখা হয়েছে তা-ই যা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং যারা এটি অস্বীকার করে তাদের আপত্তির কোনো ভিত্তি নেই। পরিচ্ছেদ
মহান আল্লাহর বাণী "কোনো অসিয়তের পর"-এ 'জার' (অব্যয়)-এর সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে এবং মহান আল্লাহর বাণী {তবে তাদের জন্য রয়েছে তিনি যা রেখে গেছেন তার দুই-তৃতীয়াংশ} অর্থাৎ মালিক যা রেখে গেছেন। যদিও এর পূর্বে মালিকের কোনো উল্লেখ আসেনি, কিন্তু যেহেতু আলোচনাটি মিরাস বা উত্তরাধিকার বন্টনের প্রেক্ষাপটে ছিল, তাই এটি স্পষ্ট যে সর্বনামটি মৃত ব্যক্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করছে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী {রেখে গেছেন} অর্থাৎ পেছনে ফেলে গেছেন। এখানে 'রেখে যাওয়া' বা 'বর্জন করা' কোনো (শরয়ী) কাজ নয়। তবে কখনো কোনো কিছু বর্জন করা এমন একটি কাজ হতে পারে যার জন্য সওয়াব লাভ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
عَلَيْهِ صَاحبه أَو يُعَاقب كَتَرْكِ الطَّاعَة أَو ترك الْمعْصِيَة لِأَنَّهُ لَا جَزَاء إِلَّا على فعل وَأما هَهُنَا فالترك عبارَة عَمَّا خلف الْمَيِّت أَي يبْقى بعد ارتحاله فَعبر بِالتّرْكِ مجَازًا من مجَاز التَّشْبِيه لشبه حَاله بِحَال الْمُسَافِر فَإِنَّهُ يتْرك مَا يتْرك لأَهله ويسير
وَإِذا ثَبت هَذَا فَلَا يجوز أَن يتَعَلَّق حرف الْحر من قَوْله فِي آخر الْآيَة {من بعد وَصِيَّة} ب {ترك} وَإِن كَانَ يَلِيهِ فِي الْفظ ظَاهرا وَلذَا تعلقه بالاستقرار الْمُضمر فِي قَوْله {فَلَهُنَّ ثلثا} أَي اسْتَقر لَهُنَّ الثُّلُثَانِ من بعد وَصِيَّة أَي من بعد إِخْرَاج وَصِيَّة
وَيمْتَنع أَيْضا تعلق حرف الْجَرّ بترك لوجه آخر نذكرهُ فِي آخر الْمَسْأَلَة إِن شَاءَ الله
فَإِن قيل مَا فَائِدَة هَذَا النَّحْو فِي هَذَا الْموضع وَمَا فقهه تعلق بِالتّرْكِ أَو لم يتَعَلَّق
قُلْنَا فقه ذَلِك أَن الْكَفَن وجهازالميت لَيْسَ للْوَرَثَة فِيهِ حق لِأَن حَقهم لم يجب لَهُم إِلَّا بعد مَوته وَبعد إِخْرَاج الْوَصِيَّة وَالدّين وَلم جعلنَا حرف الْجَرّ مُتَعَلقا ب {ترك} لَكَانَ الْمَعْنى مُجملا غير مُبين ولكان مَا ترك بعد مَا أوصى يدْخل فِيهِ الْكَفَن وَغَيره لِأَن الْوَصِيَّة إِنَّمَا هِيَ قبل الْمَوْت وَلَو وَجب لَهُم ذَلِك بأثر الْوَصِيَّة وَمن بعد تَركه لما ترك أَن يوصى فِيهِ كَانَ الْكَفَن لَهُم وَلَو كَانَ لَهُم لم يجبروا على تكفينه ولكانوا بِمَا كفنوا مَأْجُورِينَ على إحسانهم بهَا وَلَيْسَ الْأَمر على ذَلِك بِإِجْمَاع وَيدل على ذَلِك أَيْضا قَوْله {يُوصي} وَلم يقل يوصيها وَذَلِكَ لِأَن الْوَصِيَّة
এর ওপর এর অধিকারীকে সওয়াব দেওয়া হয় অথবা শাস্তি দেওয়া হয়, যেমন আনুগত্য ত্যাগ করা বা পাপাচার ত্যাগ করা। কারণ কর্ম ছাড়া কোনো প্রতিদান নেই। কিন্তু এখানে ‘ত্যাগ করা’ (তরক) বলতে মৃত ব্যক্তি যা পেছনে রেখে যায় তা বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ তার প্রস্থানের পর যা অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং এখানে ‘ত্যাগ করা’ শব্দটি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সাদৃশ্যমূলক রূপক; কারণ তার অবস্থা মুসাফিরের অবস্থার সদৃশ, কেননা সে তার পরিবারের জন্য যা রেখে যাওয়ার তা রেখে দিয়ে চলে যায়।
আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন আয়াতের শেষে তাঁর বাণী ‘ওসিয়তের পর’ অংশের অব্যয়টি ‘ছেড়ে যাওয়া’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া জায়েয নয়, যদিও বাহ্যিকভাবে শব্দের দিক থেকে তা এর পরপরই এসেছে। এই কারণেই এর সংশ্লিষ্টতা হলো ‘তাদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ’ বাণীর মধ্যে উহ্য থাকা ‘সাব্যস্ত হওয়া’ এর সাথে। অর্থাৎ, ওসিয়ত পূর্ণ করার পর তাদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত হবে।
অন্য একটি কারণেও ‘ছেড়ে যাওয়া’ শব্দের সাথে অব্যয়টির সংশ্লিষ্ট হওয়া অসম্ভব, যা আমরা ইনশাআল্লাহ এই মাসআলার শেষে উল্লেখ করব।
যদি প্রশ্ন করা হয়: এই স্থানে এই ব্যাকরণগত আলোচনার ফায়দা কী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া বা না হওয়ার ফিকহী তাৎপর্য কী?
আমরা বলি: এর ফিকহী তাৎপর্য এই যে, মৃত ব্যক্তির কাফন ও দাফনের সরঞ্জামে উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার নেই। কারণ তাদের অধিকার তার মৃত্যুর পর এবং ওসিয়ত ও ঋণ পরিশোধের পরেই কেবল সাব্যস্ত হয়। যদি আমরা অব্যয়টিকে ‘ছেড়ে যাওয়া’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট করতাম, তবে অর্থ অস্পষ্ট থেকে যেত এবং বিশদ হতো না। তখন ওসিয়ত করার পর যা রেখে যাওয়া হয়েছে তার মধ্যে কাফনসহ অন্যান্য জিনিসও অন্তর্ভুক্ত হতো; কারণ ওসিয়ত তো মৃত্যুর আগেই করা হয়। আর যদি ওসিয়তের প্রভাবে এবং তার রেখে যাওয়া জিনিসের ভিত্তিতে তাদের জন্য তা পাওনা হতো—যে সম্পর্কে ওসিয়ত করা হয়েছে—তবে কাফন তাদের মালিকানাধীন হতো। আর যদি তা তাদের হতো, তবে তাদের ওপর তাকে কাফন পরানোর বাধ্যবাধকতা থাকত না এবং তারা কাফন পরানোর মাধ্যমে তাদের ইহসানের জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হতো। অথচ ইজমা অনুযায়ী বিষয়টি এমন নয়। তাঁর বাণী ‘সে ওসিয়ত করে’ এটিও এর প্রমাণ দেয়; তিনি ‘তা ওসিয়ত করে’ বলেননি। আর তা এই জন্য যে, ওসিয়ত
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قَول يَقُوله وَالْوَصِيَّة أَيْضا الشَّيْء الَّذِي وصّى بِهِ وَأَن الْمَعْنى من بعد إِخْرَاج مَا يُوصي بِهِ لَا من بعد تَركه للإيصاء وَالْوَصِيَّة إِذا تكون بِمَعْنى الْمصدر وَهُوَ الْإِيصَاء وَتَكون المَال الْمُوصى فِيهِ تَقول قبضت وَصِيَّة وحمدت وَصِيَّة أَي حمد إيصاؤه وَفعله وَالدّين كَذَلِك يكون مصدرا من دنت أدين وَذَلِكَ قَوْله {تداينتم بدين} وَيكون المَال الْمَأْخُوذ بِالدّينِ تَقول قد قضى دينه واللهم اقْضِ عَنَّا الدّين وَهُوَ هُنَا الِاسْم لَا الْمصدر كَمَا أَن الْوَصِيَّة كَذَلِك فصل
ثَان فِي مُعَلّق من وَمِمَّا يمْنَع أَن يتَعَلَّق الْجَار فِي قَوْله {من بعد وَصِيَّة} بِالتّرْكِ وَيُوجب أَن يتَعَلَّق بِالْفِعْلِ الْمُضمر فِي قَوْله {لَهُنَّ} أَي وَجب لَهُنَّ
কথা যা সে বলে, এবং ওসিয়ত বলতে সেই বস্তুকেও বোঝায় যা ওসিয়ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো যা ওসিয়ত করা হয়েছে তা বের করার পর, ওসিয়ত করার কাজ ত্যাগ করার পর নয়। ওসিয়ত যখন মাসদার (ক্রিয়া বিশেষ্য) হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তার অর্থ হয় ওসিয়ত করা, আবার এটি সেই সম্পদকেও বোঝায় যা ওসিয়ত করা হয়েছে। আপনি বলেন ‘আমি ওসিয়ত গ্রহণ করেছি’ এবং ‘আমি ওসিয়তের প্রশংসা করেছি’ অর্থাৎ তার ওসিয়ত করার কাজ ও তার কর্মের প্রশংসা করা হয়েছে। ঋণ শব্দটিও একইভাবে ‘দানতু আদীনু’ থেকে মাসদার হিসেবে আসে, আর তা হলো আল্লাহর বাণী {যখন তোমরা ঋণের লেনদেন করো}। আবার ঋণের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্পদকেও ঋণ বলা হয়; আপনি বলেন ‘সে তার ঋণ পরিশোধ করেছে’ এবং ‘হে আল্লাহ, আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দিন’। এখানে এটি নাম (বিশেষ্য) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, মাসদার হিসেবে নয়, যেমন ওসিয়ত শব্দটিও তদ্রূপ।
দ্বিতীয়: ‘মিন’ এর সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণী {ওসিয়তের পরে}-এর মধ্যে অব্যয়টি ‘পরিত্যাগ করা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট হতে যা বাধা প্রদান করে এবং তাঁর বাণী {তাদের জন্য}-এর মধ্যে যে ক্রিয়াটি উহ্য রয়েছে তার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াকে যা আবশ্যক করে, তা হলো: ‘তাদের জন্য তা নির্ধারিত বা সাব্যস্ত হয়েছে’।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَاسْتقر لَهُنَّ أَن حرف من إِذا دخل على الظّرْف دلّ على ابْتِدَاء غَايَة وَلم يدل على انْتِهَاء تَقول نَحن فِي هَذَا الْبَلَد من يَوْم كَذَا وَمن عَام كَذَا فالمقام إِذا فِي الْبَلَد مُسْتَمر فَإِذا جِئْت بِفعل منقض غير مُسْتَمر قلت كَلمته عَام كَذَا وَقبل كَذَا وَبعد كَذَا بِغَيْر من فَيكون الظّرْف محيطا بِالْفِعْلِ من طَرفَيْهِ فَإِن جِئْت ب من لم تزل إِلَّا على الطّرف الْوَاحِد وَهُوَ الِابْتِدَاء وَالتّرْك لَيْسَ بِفعل مُسْتَمر وَلَا هُوَ أَيْضا فعل فيؤرخ ببعد أَو قبل فَثَبت أَن الْحَرْف مُتَعَلق بِمَا قُلْنَا
وَمن شَوَاهِد مَا قُلْنَا فِي من وتعلقها قَوْله سُبْحَانَهُ خَبرا عَن أهل الْجنَّة {إِنَّا كُنَّا قبل فِي أهلنا مشفقين} لما ذكر الْفِعْل المنقضي وَهُوَ الإشفاق فَلَمَّا ذكر الدُّعَاء قَالَ {إِنَّا كُنَّا من قبل نَدْعُوهُ} بِزِيَادَة من لِأَن دعاءهم مُسْتَمر يَقُول سُبْحَانَهُ {دَعوَاهُم فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ} وَقَالَ {وَلَهُم مَا يدعونَ} فدعواهم وافتقارهم إِلَى الله مُسْتَمر فِي الْآخِرَة وبدؤه من قبل
ثمَّ إِن التّرْك لَا يتَصَوَّر إِلَّا بعد خُرُوج التارك عَن دَاره ووطنه وَمَا دَامَ بَين أَهله لَا يُقَال ترك لَهُم كَذَا فَكَذَا الْمَيِّت إِذا خرج بأكفانه وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ من جهازه وَذَلِكَ كُله من مَاله وحرمته حَيا كحرمته مَيتا فِيمَا يجب من ستر عَوْرَته وَنَحْو ذَلِك فَعِنْدَ ذَلِك يَقُول النَّاس مَا ترك وَتقول الْمَلَائِكَة مَا قدم فصل
فِي فَائِدَة الصّفة فِي قَوْله وَصِيَّة يُوصي بهَا وَقَوله {يُوصي بهَا} فِي مَوضِع الصّفة للْوَصِيَّة وَالصّفة تقيد الْمَوْصُوف وَفَائِدَة
তাদের জন্য এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ‘মিন’ (থেকে) অব্যয়টি যখন কোনো ‘জরফ’ বা ক্রিয়াবিশেষণের ওপর দাখিল হয়, তখন তা সীমার শুরু বোঝায় এবং সমাপ্তি বোঝায় না। আপনি বলেন: “আমরা এই শহরে অমুক দিন থেকে এবং অমুক বছর থেকে আছি।” সুতরাং এক্ষেত্রে শহরে অবস্থান করাটি নিরবচ্ছিন্ন। কিন্তু আপনি যখন এমন কোনো কাজ নিয়ে আসেন যা সমাপ্ত হয়ে গেছে এবং নিরবচ্ছিন্ন নয়, তখন আপনি বলেন: “আমি তার সাথে অমুক বছর কথা বলেছি”, অথবা “অমুক সময়ের আগে”, অথবা “পরে”, সেখানে ‘মিন’ ব্যবহার করেন না। এমতাবস্থায় ‘জরফ’ বা কালটি কাজের উভয় দিককে পরিবেষ্টন করে থাকে। আর যদি আপনি ‘মিন’ ব্যবহার করেন, তবে তা কেবল একটি দিকের ওপর অবশিষ্ট থাকে, আর তা হলো শুরু। আর ‘ত্যাগ করা’ (তরক) কোনো নিরবচ্ছিন্ন কাজ নয় এবং এটি এমন কোনো কাজও নয় যাকে ‘পরে’ বা ‘আগে’ দ্বারা সময় নির্ধারণ করা হবে। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, অব্যয়টি আমরা যা বলেছি তার সাথেই সংশ্লিষ্ট।
‘মিন’ এবং এর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আমরা যা বলেছি তার স্বপক্ষে অন্যতম প্রমাণ হলো জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে সুমহান আল্লাহর সংবাদ প্রদান: “নিশ্চয়ই আমরা ইতিপূর্বে আমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।” এখানে যখন তিনি একটি সমাপ্ত হয়ে যাওয়া কাজের কথা উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো ‘ইশফাক’ বা শঙ্কা। কিন্তু যখন তিনি দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমরা ইতিপূর্বে তাঁকে ডাকতাম,” এখানে ‘মিন’ বৃদ্ধি করার কারণ হলো তাদের দোয়া নিরবচ্ছিন্ন। সুমহান আল্লাহ বলেন: “সেখানে তাদের প্রার্থনা হবে: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র,” এবং তিনি বলেছেন: “তারা যা চাইবে তা-ই তাদের জন্য থাকবে।” সুতরাং তাদের দোয়া এবং আল্লাহর প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতা আখিরাতেও নিরবচ্ছিন্ন এবং এর শুরু ছিল আগে থেকে।
অতঃপর, ত্যাগকারী তার ঘর ও স্বদেশ থেকে বের হওয়ার আগে ‘ত্যাগ করা’ (তরক) কল্পনা করা যায় না। যতক্ষণ সে তার পরিবারের মাঝে থাকে, ততক্ষণ বলা হয় না যে সে তাদের জন্য অমুক অমুক জিনিস রেখে গেছে। তদ্রূপ মৃত ব্যক্তি যখন তার কাফন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ বের হয়—আর এ সবই তার সম্পদ থেকে হয়ে থাকে, এবং জীবিত অবস্থায় তার মর্যাদা যেমন, মৃত অবস্থায়ও তার সতর ঢাকা ও অনুরূপ বিষয়ে তার মর্যাদা তেমনই থাকে—তখনই মানুষ বলে: “সে কী রেখে গেল?” আর ফেরেশতারা বলে: “সে কী অগ্রিম পাঠাল?” পরিচ্ছেদ।
“ওসিয়ত যা সে করে” এই বাণীতে বিশেষণের উপকারিতা প্রসঙ্গে এবং তাঁর বাণী “যা সে করে” অংশটি ‘ওসিয়ত’-এর বিশেষণ হিসেবে এসেছে, আর বিশেষণ বিশেষ্যকে সীমাবদ্ধ করে এবং এর উপকারিতা...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
هَذَا التَّقْيِيد أَن يعلم أَن للْمَيت أَن يُوصي وَلَو قَالَ {من بعد وَصِيَّة} لتوهم أَنَّهَا وَصِيَّة غَيره أَو وَصِيَّة الله الْمَذْكُورَة فِي أول الْآيَة
وَقَالَ {يُوصي بهَا} وَلم يقل من بعد وَصيته وَلَا من بعد الْوَصِيَّة الَّتِي يُوصي بهَا ليدل على أَن الْوَصِيَّة ندب وَلَيْسَت بِفَرْض قد وَجب عَلَيْهِ لِأَنَّك تَقول فِي الْأَعْمَال الْوَاجِبَة الَّتِي قد عرف وُجُوبهَا يكون كَذَا من بعد صَلَاتنَا أَو من بعد الصَّلَاة وَفِيمَا لم يعرف وُجُوبه افْعَل كَذَا أَو كَذَا من بعد صَلَاة نصليها أَو صَوْم تصومه أَو صَدَقَة تخرجها فَيدل لفظ التنكير على عدم الْوُجُوب وَيدل لفظ التَّعْرِيف على الْفَرْض الْمَعْرُوف لاسيما وَقد تقدم أَن الْوَصِيَّة كَانَت مَفْرُوضَة بقوله {كتب عَلَيْكُم إِذا حضر أحدكُم الْمَوْت} الْآيَة فصل
فِي سر تَقْدِيم الْوَصِيَّة على الدّين وَقَوله {من بعد وَصِيَّة يُوصي بهَا أَو دين} وَإِخْرَاج الدّين لَا شكّ قبل إِخْرَاج
এই সীমাবদ্ধকরণের উদ্দেশ্য হলো এটি জানানো যে, মৃত ব্যক্তির অসিয়ত করার অধিকার রয়েছে। আর যদি তিনি বলতেন {কোনো অসিয়তের পর}, তবে এমন সংশয় হতে পারত যে, এটি অন্য কারো অসিয়ত অথবা আয়াতের শুরুতে উল্লিখিত আল্লাহর অসিয়ত।
তিনি বলেছেন {যা সে অসিয়ত করে} এবং ‘তার অসিয়তের পর’ বা ‘সেই অসিয়তের পর যা সে অসিয়ত করে’ বলেননি, যাতে এটি নির্দেশ করে যে অসিয়ত করা মুস্তাহাব এবং এটি এমন কোনো ফরজ নয় যা তার ওপর আবশ্যক হয়ে গেছে। কারণ, আপনি সুপরিচিত ওয়াজিব আমলসমূহের ক্ষেত্রে বলে থাকেন ‘আমাদের সালাতের পর’ অথবা ‘সালাতের পর’। আর যেগুলোর আবশ্যকতা সুনিশ্চিত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বলেন ‘আমাদের আদায়কৃত কোনো সালাতের পর’ অথবা ‘তোমার রাখা কোনো রোজার পর’ অথবা ‘তোমার প্রদানকৃত কোনো সদকার পর’। সুতরাং অনির্দিষ্টবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আবশ্যকতা না থাকা বোঝায় এবং নির্দিষ্টবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে সুপরিচিত ফরজকে বোঝায়। বিশেষ করে ইতিপূর্বে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে অসিয়ত ফরজ ছিল: {তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের ওপর অসিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো} (আয়াত)। পরিচ্ছেদ।
ঋণের পূর্বে অসিয়তকে আগে উল্লেখ করার রহস্য প্রসঙ্গে এবং তাঁর বাণী {এমন অসিয়তের পর যা সে করে অথবা ঋণের পর}। আর ঋণ পরিশোধ করা যে অসিয়ত আদায়ের পূর্বে হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْوَصِيَّة وَبعد الْكَفَن لِأَن الْغُرَمَاء فِي حَيَاته لم يكن لَهُم سَبِيل على كَفنه وَمَا يُجهز بِهِ وبدئ بِهِ فِي الْعَمَل قبل الْوَصِيَّة لِأَن أداءه فرض وَالْفَرْض مقدم على النّدب
فَإِن قيل لم بَدَأَ الله بِالْوَصِيَّةِ قبل ذكر الدّين
قُلْنَا فِي حكم البلاغة أَن يقدم مَا يجب الاعتناء بشرحه وَبَيَانه وَأَدَاء الدّين مَعْلُوم وَأمره بَين لِأَنَّهُ حق للْغُرَمَاء ومنعهم مِنْهُ ظلم ظَاهر فَبَدَأَ بِمَا يحْتَاج إِلَى بَيَانه وَقد قَالَ سِيبَوَيْهٍ إِنَّه يقدم فِي كَلَامهم مَا هم بِهِ أهم وببيانه أَعنِي وَإِن كَانَا جَمِيعًا يهمانهم ويعنيانهم
وَوجه آخر وَهُوَ أَن الْوَصِيَّة طَاعَة وَخير وبر يَفْعَله الْمَيِّت وَالدّين إِنَّمَا هُوَ لمَنْفَعَة نَفسه وَهُوَ مَذْمُوم فِي غَالب أَحْوَاله وَقد تعوذ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من الْكفْر وَالدّين فَبَدَأَ بالأفضل وَمَا يقدم فِي تَرْتِيب الْكَلَام فقد يكون لقبلية الْفضل نَحْو قَوْله {وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة} وَنَحْو قَوْله 6 {من النَّبِيين وَالصديقين} وَقد يكون لقبلية الزَّمَان نَحْو قَوْله {نوحًا وَإِبْرَاهِيم} وَقد يكون لقبلية التَّرْتِيب نَحْو تَقْدِيم الْيَهُود على النَّصَارَى
ওসিয়ত হবে কাফন পরানোর পরে; কারণ পাওনাদারদের জন্য তার জীবদ্দশায় তার কাফন এবং দাফন-কাফনের সরঞ্জামের ওপর কোনো অধিকার ছিল না। আর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওসিয়তের আগে ঋণ পরিশোধ দিয়ে শুরু করা হবে, কারণ ঋণ পরিশোধ করা ফরজ এবং ফরজ নফলের ওপর অগ্রগণ্য।
যদি প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ কেন ঋণের কথা উল্লেখ করার আগে ওসিয়ত দিয়ে শুরু করেছেন?
আমরা বলব, অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতি হলো সেই বিষয়কে আগে উপস্থাপন করা যার ব্যাখ্যা ও বিবৃতির প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক। আর ঋণ পরিশোধের বিষয়টি সুপরিচিত এবং এর নির্দেশ অত্যন্ত স্পষ্ট, কারণ এটি পাওনাদারদের অধিকার এবং তাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত করা সুস্পষ্ট জুলুম। তাই আল্লাহ সেই বিষয়টি দিয়ে শুরু করেছেন যার বর্ণনার প্রয়োজন ছিল। সিবওয়াইহি বলেছেন যে, আরবরা তাদের কথাবার্তায় সেই বিষয়কেই আগে নিয়ে আসে যা তাদের নিকট অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যার বর্ণনার প্রতি তারা বেশি আগ্রহী, যদিও উভয় বিষয়ই তাদের নিকট গুরুত্ববহ এবং অর্থবহ।
অন্য একটি দিক হলো, ওসিয়ত একটি আনুগত্য, কল্যাণ ও পুণ্যকর্ম যা মৃত ব্যক্তি সম্পাদন করে। পক্ষান্তরে ঋণ হলো নিজের উপকারের জন্য গৃহীত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নিন্দনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুফর ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তাই আল্লাহ অধিকতর শ্রেষ্ঠ বিষয়টি দিয়ে শুরু করেছেন। আর বাক্যের বিন্যাসে কোনো কিছুকে আগে উল্লেখ করা কখনও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে হয়, যেমন তাঁর বাণী: "তোমরা নামাজ কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো" এবং তাঁর বাণী: "নবীগণ ও সত্যনিষ্ঠদের মধ্য হতে"। আবার কখনও তা সময়ের অগ্রবর্তীতার কারণে হয়, যেমন তাঁর বাণী: "নূহ ও ইব্রাহিম"। আবার কখনও তা বিন্যাসের ক্রমানুসারে হয়, যেমন নাসারাদের আগে ইহুদিদের উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
فِي الذّكر لأَنهم كَانُوا مجاورين للْمُسلمين فِي الدَّار وَقد يكون تقديمهم فِي اللَّفْظ لقبلية الزَّمَان لِأَن التَّوْرَاة قبل الْإِنْجِيل ومُوسَى قبل عِيسَى وَقد يكون تَقْدِيم الصَّلَاة قبل الزَّكَاة من قبلية الرُّتْبَة لِأَنَّهَا حق الْبدن وَالزَّكَاة حق المَال وَالْبدن فِي الرُّتْبَة قبل المَال
وَمن وُجُوه القبليات أَيْضا السَّبَب والمسبب كالمرض وَالْمَوْت فِي حكم البلاغة كَمَا رُوِيَ أَن أَعْرَابِيًا سمع قَارِئًا يقْرَأ وَالله حَكِيم عَزِيز والأعرابي لَا يحفظ الْقُرْآن فَقَالَ الْأَعرَابِي مَا أَرَاهَا أنزلت كَمَا تَقول فَقَالَ الْقَارئ {وَالله عَزِيز حَكِيم} فَقَالَ الْأَعرَابِي نعم عز فَلَمَّا عز حكم
فَاجْعَلْ هَذِه القبليات أصلا فِي معرفَة الْحِكْمَة والإعجاز فِي كتاب الله فَإِنَّهُ لَا تقدم فِيهِ صفة على أُخْرَى وَلَا شَيْء على شَيْء إِلَّا بقبلية من هَذِه القبليات فترتب الْأَلْفَاظ فِي اللِّسَان على حسب تَرْتِيب الْمعَانِي فِي الْجنان فتدبره وَالله الْمُسْتَعَان فصل
فِي نصيب الذّكر عذا انْفَرد وَقَوله {وَإِن كَانَت وَاحِدَة فلهَا النّصْف} فِيهِ نَص وَدَلِيل أما النَّص فثبوت النّصْف للْبِنْت الْوَاحِدَة مَعَ عدم الْأَخ وَأما الدَّلِيل فَلِأَن الذّكر إِذا انْفَرد ورث المَال كُله لِأَنَّهُ قَالَ {للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ} وللأنثى
আলোচনার ক্ষেত্রে, কেননা তারা জনপদে মুসলিমদের প্রতিবেশী ছিল। আর শাব্দিক বর্ণনায় তাদের আগে উল্লেখ করার কারণ সময়ের অগ্রগামিতা হতে পারে, কেননা ইঞ্জিলের আগে তাওরাত এবং ঈসার আগে মুসা (আ.)। আবার জাকাতের আগে সালাতকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ মর্যাদাগত অগ্রগামিতা হতে পারে, যেহেতু সালাত হচ্ছে শরীরের হক আর জাকাত মালের হক, আর মর্যাদার দিক থেকে মালের আগে শরীরের স্থান।
অগ্রগামিতার প্রকারসমূহের মধ্যে কারণ ও কার্যকারণও অন্তর্ভুক্ত, যেমন অলঙ্কারশাস্ত্রের বিধানে রোগ ও মৃত্যু। যেমন বর্ণিত আছে যে, এক গ্রাম্য আরব এক কারীকে পাঠ করতে শুনলেন, "আল্লাহ প্রজ্ঞাময় ও মহাপরাক্রমশালী"। গ্রাম্য আরবটি কুরআন হিফজ জানতেন না, তাই তিনি বললেন, "আপনি যেভাবে পড়ছেন, আমার মনে হয় না তা এভাবে নাযিল হয়েছে।" তখন কারী পাঠ করলেন, {আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়}। তখন গ্রাম্য আরবটি বললেন, "হ্যাঁ, তিনি পরাক্রমশালী হয়েছেন, আর যখন তিনি পরাক্রমশালী হলেন, তখন তিনি হুকুম দিলেন।"
সুতরাং আল্লাহর কিতাবের হিকমত ও অলৌকিকতা অনুধাবনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগামিতার বিষয়গুলোকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করুন। কেননা এতে কোনো গুণের আগে অন্য গুণ এবং কোনো বিষয়ের আগে অন্য বিষয় এই অগ্রগামিতার প্রকারভেদ ব্যতিরেকে আসেনি। সুতরাং জিহ্বায় শব্দের বিন্যাস অন্তরে অর্থের বিন্যাস অনুযায়ী হয়ে থাকে। অতএব এতে চিন্তা-গবেষণা করুন, আর আল্লাহই সাহায্যকারী। পরিচ্ছেদ।
পুরুষ যখন একা থাকে তখন তার অংশ প্রসঙ্গে আর তাঁর বাণী {আর যদি একজন হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক} এতে সুস্পষ্ট পাঠ (নস) ও প্রমাণ (দলিল) রয়েছে। সুস্পষ্ট পাঠটি হলো—ভাই না থাকা অবস্থায় একজন কন্যার জন্য অর্ধাংশ সাব্যস্ত হওয়া। আর প্রমাণটি হলো—পুরুষ যখন একা হয় তখন সে সমস্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়, কেননা আল্লাহ বলেছেন {এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান} এবং নারীর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
النّصْف إِذا كَانَت وَحدهَا فللذكر النصفان وَهُوَ الْكل إِذا كَانَ وَحده فصل
فِي حِكْمَة نصيب الْأَبَوَيْنِ مَعَ الْوَلَد وَقَوله {ولأبويه} ذكرهمَا بِلَفْظ الْأُبُوَّة دون لفظ الْولادَة كَمَا قَالَ {وبالوالدين إحسانا} لِأَن هَذِه الْآيَة معرضها ومقصودها غير ذَلِك وَلَفظ الْوَالِدين أوفى وأجلب للرحمة وأشكل بِالْوَضْعِ الَّذِي يُرَاد بِهِ الرِّفْق بهما لِأَن لفظ الْولادَة يشْعر بِحَال الْمَوْلُود وبرحمتهما لَهُ إِذا ذَاك أَلا ترَاهُ يَقُول فِي آيَة الْوَالِدين {وَقل رب ارحمهما كَمَا ربياني صَغِيرا} وَلَفظ الْأَبَوَيْنِ أوقر وَإِن كَانَ الآخر أرق أَلا تراهم لَا يَقُولُونَ فِي الكنية إِلَّا يَا أَبَا فلَان وَلَا يَقُولُونَ يَا وَالِد فلَان فَكَانَ لفظ الْأَبَوَيْنِ هَا هُنَا أشكل بِهَذَا الْمقَام الَّذِي هُوَ إِعْلَام بحظ هذَيْن اللَّذين ينْسب إِلَيْهِمَا الْمَيِّت والأبوة فِي مُقَابلَة الْبُنُوَّة وَالْوَالِد فِي مُقَابلَة الْوَلَد مَعَ أَن لفظ الْأُبُوَّة هُنَا فقها وَهُوَ سريان الْمِيرَاث من الْأَب إِلَى أَبِيه إِذا عدم الْأَب لِأَن لفظ الْأُبُوَّة يتَنَاوَلهُ وَقد قرنت مَعَه هَهُنَا الْأُم
অর্ধেক যদি সে একা থাকে, তবে পুরুষের জন্য দুই অর্ধেক, যা পূর্ণ অংশ যখন সে একা থাকে। পরিচ্ছেদ।
সন্তানের সাথে পিতা-মাতার অংশের হিকমত প্রসঙ্গে এবং তাঁর বাণী {এবং তাঁর পিতা-মাতার জন্য}, এখানে তিনি তাঁদেরকে জন্মদানের শব্দের পরিবর্তে পিতৃত্বের শব্দে উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছিলেন {এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো}। কারণ এই আয়াতের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তা থেকে ভিন্ন। আর 'ওয়ালিদাইন' (জন্মদাতা পিতা-মাতা) শব্দটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও দয়া উদ্রেককারী এবং এমন পরিস্থিতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে তাঁদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন উদ্দেশ্য। কেননা জন্মদান শব্দটি নবজাতকের অবস্থা এবং সেই সময় তার প্রতি তাঁদের দয়ার কথা অনুভব করায়। আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি 'ওয়ালিদাইন' সংক্রান্ত আয়াতে বলেছেন {এবং বলো: হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন}? আর 'আবাওয়াইন' (পিতা-মাতা) শব্দটি অধিক গাম্ভীর্যপূর্ণ, যদিও অপরটি অধিক কোমল। আপনি কি দেখছেন না যে, তারা কুনিয়ার ক্ষেত্রে কেবল 'হে অমুকের পিতা' বলে থাকে, 'হে অমুকের জন্মদাতা' বলে না? সুতরাং এখানে 'আবাওয়াইন' শব্দটিই এই অবস্থানের জন্য অধিক মানানসই ছিল, যা মূলত এমন দুই ব্যক্তির অংশ সম্পর্কে অবহিত করা যাদের দিকে মৃত ব্যক্তিকে সম্বন্ধ করা হয়। আর পিতৃত্ব হলো পুত্রত্বের বিপরীতে এবং জন্মদাতা হলো সন্তানের বিপরীতে। পাশাপাশি এখানে 'পিতৃত্ব' শব্দটির একটি ফিকহি তাৎপর্য রয়েছে, আর তা হলো পিতার অবর্তমানে তার পিতার (দাদার) দিকে মিরাসের সঞ্চালন, কারণ পিতৃত্ব শব্দটি তাকেও শামিল করে, আর এখানে তার সাথে মাকেও যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
بِلَفْظ الْأُبُوَّة وَلَا يُقَال لَهَا أَب وَلَا أَبَة إِذا انْفَرَدت وَلَا يُقَال لَهَا إِلَّا وَالِدَة فَلَو ذكر بِلَفْظ الْولادَة لسرى أَيْضا حق الْمِيرَاث مِنْهَا إِلَى والدها إِذا عدمت هِيَ كَمَا سرى ذَلِك فِي الْأَب إِلَى الْجد إِذا عدم الْأَب وَهَذَا دَقِيق فافهمه
وَقد تقدم اللَّفْظ بَين حالتي اللَّفْظَيْنِ وَمَا يشاكله من مقامات الْكَلَام كل وَاحِد من الاسمين وتنزيل الْأَلْفَاظ فِي مواطنها وَهُوَ معنى البلاغة وَهِي الفصاحة وَمن هُنَا يعلم الإعجاز فِي كَلَام الله الْعَزِيز وَالْحَمْد لله
وَقَوله {لكل وَاحِد مِنْهُمَا السُّدس مِمَّا ترك إِن كَانَ لَهُ ولد} سوى الله بَين الْأَبَوَيْنِ فِي هَذِه الْمَسْأَلَة إِذا كَانَ للْمَيت ولد وَلم يفضلهما على الْوَلَد لِأَنَّهُ يُقَال للْأَب كَمَا كنت تحب لابنك من الْغنى وَالْخَيْر أَكثر مِمَّا تحب لأَبِيك فَكَذَلِك حَال ابْنك مَعَ وَلَده كحالك مَعَ ولدك لِأَن الْوَالِد أحب النَّاس غنى لِابْنِهِ وأعزهم فقرا عَلَيْهِ كم قَالَ الصّديق لابنته عَائِشَة رضي الله عنهما عِنْد مَوته وَكَانَ أَبوهُ حَيا فَقَالَ لَهَا مَا من أحد أحب إِلَيّ غنى مِنْك وَلَا أعز فقرا عَليّ بعدِي مِنْك وَلم يسْتَثْن أَبَاهُ وَلَا غَيره
পিতৃত্বের শব্দের মাধ্যমে, এবং তাকে (মাতাকে) একা উল্লেখ করার সময় 'পিতা' বা 'পিতৃ-সংশ্লিষ্ট' কোনো শব্দ বলা হয় না, বরং তাকে শুধুমাত্র 'মাতা' বলা হয়। সুতরাং যদি তাকে 'জন্মদান' শব্দের মাধ্যমে উল্লেখ করা হতো, তবে তার অবর্তমানে উত্তরাধিকারের অধিকার তার থেকে তার পিতার দিকেও সঞ্চারিত হতো, যেমনটি পিতার অবর্তমানে তা দাদার দিকে সঞ্চারিত হয়। এটি একটি সূক্ষ্ম বিষয়, তাই এটি অনুধাবন করুন।
ইতিপূর্বে শব্দদ্বয়ের দুই অবস্থার মধ্যবর্তী শব্দাবলী এবং প্রতিটি নামের ক্ষেত্রে সংলাপে এর অনুরূপ অবস্থানসমূহ এবং শব্দগুলোকে তাদের যথাযথ স্থানে প্রয়োগ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে; আর এটাই হলো অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জলতার প্রকৃত অর্থ। এখান থেকেই মহান আল্লাহর বাণীর অলৌকিকত্ব সম্পর্কে জানা যায়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এবং তাঁর বাণী: {তাদের প্রত্যেকের জন্য তিনি যা রেখে গেছেন তার এক-ষষ্ঠাংশ, যদি তার সন্তান থাকে}। এই মাসআলায় মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে আল্লাহ পিতামাতা উভয়কে সমান সাব্যস্ত করেছেন এবং সন্তানদের তুলনায় তাঁদের একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেননি। কারণ পিতাকে বলা হয়: তুমি তোমার সন্তানের জন্য যতটুকু স্বচ্ছলতা ও কল্যাণ কামনা করতে, তা তোমার পিতার জন্য কামনার চেয়েও অধিক ছিল; তেমনিভাবে তোমার সন্তানের সাথে তার সন্তানের অবস্থাও তোমার সন্তানের সাথে তোমার অবস্থার মতোই। কারণ একজন পিতা তার সন্তানের স্বচ্ছলতাকে অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন এবং তার দারিদ্র্যকে নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি অসহনীয় মনে করেন। যেমন সিদ্দীক (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর কন্যা আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন—অথচ তখন তাঁর পিতাও জীবিত ছিলেন—তিনি তাকে বলেছিলেন: "আমার কাছে তোমার স্বচ্ছলতার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কারো স্বচ্ছলতা নেই এবং আমার মৃত্যুর পর তোমার দারিদ্র্যের চেয়ে অধিক কষ্টদায়ক আমার কাছে আর কিছু নেই।" তিনি তাঁর পিতা বা অন্য কাউকেই এর ব্যতিক্রম করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
ثمَّ إِن الْوَلَد يؤملون من النِّكَاح والحياة وَغَيره بحداثة سنهم مَا لَا يؤمله الأبوان ثمَّ قَالَ الْأَب إِن فريضتك لَا تنقص بِكَثْرَة الْوَرَثَة وان كَانَ الْوَلَد عشْرين وفريضة ولد ابْنك الْهَالِك قد تنقص بِكَثْرَة الْأَوْلَاد حَتَّى تكون أقل من الْعشْر فيرضى الأبوان بقسم الله تَعَالَى لَهما ويريان الْعدْل من الله بَينا فِيمَا قسم فَإِنَّهُ لم يحجب بالبنين فيعطي الْأَب نصفا وَلَا ثلثا وَلَا حجب بِالْأَبِ فَأعْطَاهُ عشرا وَلَا تسعا بل جعل لَهُ أَوسط الْفَرَائِض وَهُوَ السُّدس وَلَا يُزَاد بقلة الْوَلَد وَلَا بِنَقص بكثرتهم وَالْحَمْد لله فصل
فِي حِكْمَة التَّسْوِيَة بَين الْأَبَوَيْنِ مَعَ وجود الْوَلَد وَسوى الله بَين الْأَب وَالأُم فِي هَذَا الْموضع لِأَن الْأَب وَإِن كَانَ يسْتَوْجب التَّفْضِيل بِمَا كَانَ يُنْفِقهُ على الابْن وبنصرته لَهُ وانتهاضه بالذب عَنهُ صَغِيرا فالأم أَيْضا حَملته كرها وَوَضَعته كرها وَكَانَ بَطنهَا لَهُ وعَاء وثديها لَهُ سقاء وحجرها لَهُ قبَاء فتكافأت الحجتان من الْأَبَوَيْنِ فسوى الله بَينهمَا فَأَعْطَاهُمَا سدسا وَذَلِكَ الثُّلُث أبقى للبنتين الثُّلثَيْنِ لما تقدم من الْحِكْمَة الْمُوجبَة لتفضيل الْوَلَد فِي الْمِيرَاث على الْأَبَوَيْنِ
এরপর, সন্তানরা তাদের অল্প বয়সের কারণে বিবাহ, জীবন এবং অন্যান্য বিষয়ে এমন সব আশা-আকাঙ্ক্ষা রাখে যা পিতা-মাতা রাখেন না। অতঃপর পিতা বলেন, উত্তরাধিকারীর সংখ্যা বেশি হলেও তোমার নির্ধারিত অংশ হ্রাস পায় না, যদিও সন্তান সংখ্যা বিশজন হয়। পক্ষান্তরে তোমার মৃত পুত্রের সন্তানের নির্ধারিত অংশ অধিক সন্তানের কারণে হ্রাস পেতে পারে, এমনকি তা দশমাংশের চেয়েও কমে যেতে পারে। ফলে পিতা-মাতা তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার বণ্টনে সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর কৃত বণ্টনের মাঝে সুষ্পষ্ট ইনসাফ প্রত্যক্ষ করেন। কেননা পিতার অংশ পুত্রদের উপস্থিতির কারণে এমনভাবে কমে যায় না যে তাকে অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ দিতে হবে, আবার পিতার উপস্থিতির কারণেও তাদের অংশ এমনভাবে কমে যায় না যে তাকে এক-দশমাংশ বা এক-নবমাংশ দেওয়া হবে। বরং আল্লাহ তার জন্য মধ্যম পর্যায়ের অংশ নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো এক-ষষ্ঠাংশ; যা সন্তানের স্বল্পতার কারণে বৃদ্ধি পায় না এবং তাদের আধিক্যের কারণে হ্রাসও পায় না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। পরিচ্ছেদ।
সন্তান বিদ্যমান থাকা অবস্থায় পিতা ও মাতার মাঝে সমতা বিধানের হিকমত প্রসঙ্গে আল্লাহ এই ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার মাঝে সমতা বজায় রেখেছেন। কারণ পিতা যদিও সন্তানের পেছনে ব্যয় করার কারণে এবং তাকে সাহায্য করা ও শৈশবে তাকে রক্ষা করার প্রচেষ্টার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার ছিলেন, কিন্তু মাতাও তাকে কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং কষ্টের সাথে প্রসব করেছেন; তার উদর ছিল সন্তানের জন্য আধার, তার স্তন ছিল পানপাত্র এবং তার কোল ছিল আচ্ছাদনস্বরূপ। সুতরাং পিতা-মাতা উভয়ের পক্ষ থেকে যুক্তিগুলো সমান হলো। ফলে আল্লাহ তাদের মাঝে সমতা বিধান করেছেন এবং তাদের উভয়কে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন। আর ওই এক-তৃতীয়াংশ (উভয়ের সমষ্টি) দুই কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট রাখে; যা মিরাছের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ওপর সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পূর্বোল্লিখিত হিকমতের কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারায়িয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
فصل
فِي بَيَان حالات الْأُم مَعَ الْأَب وَللْأُمّ ثَلَاث حالات حَالَة تسوى فِيهَا مَعَ الْأَب وَهِي هَذِه وَحَالَة يفضل الْأَب عَلَيْهَا فَيكون لَهُ مثلا حظها وَذَلِكَ مَعَ عدم الْوَلَد لِأَنَّهُ حِينَئِذٍ صَاحب فرض وعاصب وَالْمَرْأَة لَا تكون عاصبة فيزيد عَلَيْهَا حِينَئِذٍ بِالتَّعْصِيبِ فَيكون لَهَا الثُّلُث وَله الثُّلُثَانِ وَالْحَالة الثَّالِثَة تفضل فِيهَا الْأُم على الْأَب وَذَلِكَ مَا دَامَ حَيا فَإِنَّهُ يُؤمر بِالْبرِّ بهَا والصلة لَهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا يلْزمه الْأَب قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لمعاوية بن حيدة الْقشيرِي وَقد قَالَ لَهُ من أبر يَا رَسُول الله قَالَ أمك قَالَ ثمَّ من قَالَ أمك ثمَّ أَبَاك ثمَّ أدناك فأدناك ففضل الْأُم على الْأَب فِي الْبر
وَقيل لشهاب بن خرَاش مَا جعلت لأَبِيك من دعائك قَالَ الثُّلثَيْنِ ولأمي الثُّلُث قيل لَهُ أَلَيْسَ كَمَا يُقَال للْأُم ثلثا الْبر قَالَ بلَى وَلَكِن أبي كَانَ صابح شرطة لِأَنَّهُ كَانَ على شرطة ابْن هُبَيْرَة
পরিচ্ছেদ
পিতার সাথে মায়ের বিভিন্ন অবস্থার বর্ণনায় মায়ের তিনটি অবস্থা রয়েছে। একটি অবস্থা হলো যেখানে তিনি পিতার সমান সাব্যস্ত হন; আর সেটি হলো এই অবস্থা। দ্বিতীয় একটি অবস্থা হলো যেখানে পিতা মায়ের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন, ফলে পিতার অংশ হয় মায়ের দ্বিগুণ। এটি সন্তান না থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ এমতাবস্থায় পিতা নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী এবং অবশিষ্টাংশভোগী (আসাবা) উভয়ই হন। পক্ষান্তরে নারী আসাবা হন না। ফলে আসাবা হওয়ার কারণে পিতা মায়ের চেয়ে বেশি অংশ লাভ করেন; তখন মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং পিতার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারিত হয়। আর তৃতীয় অবস্থা হলো যেখানে মা পিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন; এটি হলো পার্থিব জীবনে জীবিত থাকা অবস্থায়। কেননা মায়ের প্রতি সদাচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে পিতার তুলনায় অধিক গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ আল-কুশাইরীকে বলেছিলেন—যখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচরণ করব?" তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: "তারপর কার সাথে?" তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে, এরপর তোমার পিতার সাথে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়দের সাথে।" সুতরাং তিনি সদাচরণের ক্ষেত্রে মায়ের মর্যাদাকে পিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
শিহাব ইবনে খিরাশকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি আপনার দুআয় পিতার জন্য কতটুকু বরাদ্দ রেখেছেন?" তিনি বললেন: "দুই-তৃতীয়াংশ আর মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।" তাঁকে বলা হলো: "মাতা কি সদাচরণের দুই-তৃতীয়াংশের অধিকারী নন—যেমনটা বলা হয়ে থাকে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, অবশ্যই; কিন্তু আমার পিতা পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, কারণ তিনি ইবনে হুবায়রার পুলিশ বাহিনীতে নিয়োজিত ছিলেন।"