(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: -)
الاتباع لابن أبي العز   (ابن أبي العز)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الاتباع

المؤلف: صدر الدين محمد بن علاء الدين عليّ بن محمد ابن أبي العز الحنفي، الأذرعي الصالحي الدمشقي (ت 792هـ)

المحقق: محمد عطا الله حنيف - عاصم بن عبد الله القريوتي

الناشر: عالم الكتب - لبنان

الطبعة: الثانية، 1405هـ

عدد الصفحات: 93

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইত্তিবা লি-ইবন আবিল ইয   (ইবন আবিল ইয)

বিভাগ: বিভিন্ন দল ও তাদের মতবাদ খণ্ডন


গ্রন্থ: আল-ইত্তিবা

লেখক: সদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলাউদ্দীন আলী বিন মুহাম্মাদ ইবন আবিল ইয আল-হানাফী, আল-আজরুয়ী আস-সালিহী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭৯২ হিজরি)

সম্পাদক ও গবেষক: মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ হানীফ - আসেম বিন আব্দুল্লাহ আল-কারিউতী

প্রকাশক: আলমুল কুতুব - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌وَهُوَ حسبي وَعَلِيهِ أتوكل

 

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم القَاضِي صدر الدّين عَليّ بن الْعِزّ الْحَنَفِيّ رحمه الله

 

أما بعد فَإِنِّي وقفت على رِسَالَة لبَعض الْحَنَفِيَّة رجح فِيهَا تَقْلِيد مَذْهَب أبي حنيفَة رحمه الله وحض على ذَلِك وَوجدت فِيهَا مَوَاضِع مشكلة فَأَحْبَبْت أَن أنبه عَلَيْهَا خوفًا من التَّفَرُّق الْمنْهِي عَنهُ وَاتِّبَاع الْهوى المردي امتثالا لقَوْله تَعَالَى {واعتصموا بِحَبل الله جَمِيعًا وَلَا تفَرقُوا} آل عمرَان 103 وَقَوله تَعَالَى {إِن الَّذين فرقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا لست مِنْهُم فِي شَيْء} الْأَنْعَام 159 وَقَوله تَعَالَى {شرع لكم من الدّين مَا وصّى بِهِ نوحًا وَالَّذِي أَوْحَينَا إِلَيْك وَمَا وصينا بِهِ إِبْرَاهِيم ومُوسَى وَعِيسَى أَن أقِيمُوا الدّين وَلَا تتفرقوا فِيهِ} الشورى 13 وَقَوله تَعَالَى {وَإِن هَذِه أمتكُم أمة وَاحِدَة وَأَنا ربكُم فاتقون فتقطعوا أَمرهم بَينهم زبرا كل حزب بِمَا لديهم فَرِحُونَ} الْمُؤْمِنُونَ 53 زبرا أَي كتبا وَقَوله تَعَالَى {وَمَا تفَرقُوا إِلَّا من بعد مَا جَاءَهُم الْعلم بغيا بَينهم} الشورى 14 وَقَوله تَعَالَى {وَلَا تتبع الْهوى فيضلك عَن سَبِيل الله}
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি

 

শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম ও বিচারক সদরুদ্দীন আলী ইবনুল ইয আল-হানাফী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

 

পর সমাচার, আমি জনৈক হানাফী আলিমের একটি পুস্তিকা পাঠ করলাম, যাতে তিনি ইমাম আবু হানীফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর মাযহাবের অনুকরণের (তাকলীদ) প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আমি সেখানে কিছু বিভ্রান্তিকর ও সমস্যাসংকুল বিষয় দেখতে পেলাম। তাই নিষিদ্ধ অনৈক্য এবং ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি অনুসরণের আশঙ্কায় সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা সমীচীন মনে করলাম। এটি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর আনুগত্যস্বরূপ: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" (আলে ইমরান ১০৩); এবং আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই" (আল-আনআম ১৫৯); এবং আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না" (আশ-শূরা ১৩); এবং আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমাকে ভয় করো। অতঃপর তারা তাদের দ্বীনের বিষয়কে নিজেদের মধ্যে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত" (আল-মুমিনুন ৫২-৫৩)। 'যুবুরান' অর্থাৎ কিতাবসমূহ। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই কেবল তারা পরস্পর বিদ্বেষবশত মতভেদ করেছিল" (আশ-শূরা ১৪); এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, কারণ তা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।" (সাদ ২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২২)
الْآيَة (ص 26) وَلقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رضي الله عنه (فَإِنَّهُ من يَعش بعدِي فسيرى اخْتِلَافا كثيرا فَعَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة) رَوَاهُ ابو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وأمثال ذَلِك فِي الْكتاب وَالسّنة كَثِيرَة فِي النَّهْي عَن التَّفَرُّق وَاتِّبَاع الْهوى

أَقُول هَذَا وأعتقد أَن أَبَا حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى إِمَام جليل من كبار أَئِمَّة الْمُسلمين رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ

مِنْهَا قَوْله فِي أول الْخطْبَة م: الْحَمد لله الَّذِي هدَانَا إِلَى اتِّبَاع الْملَّة الحنيفية وأرشدنا إِلَى سلوك طَريقَة الْعلمَاء الْحَنَفِيَّة

ش: فَإِنَّهُ إِن كَانَ يُرِيد بطريقة الْعلمَاء الْحَنَفِيَّة اتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس الصَّحِيح فَلَيْسَ ذَلِك مُخْتَصًّا بالعلماء الْحَنَفِيَّة بل سَائِر عُلَمَاء الْمُسلمين على هَذِه الطَّرِيقَة وَإِنَّمَا خَالف فِي اعْتِبَار الْقيَاس أهل الظَّاهِر وَإِن كَانَ يُرِيد بذلك تقليدهم للْإِمَام أبي حنيفَة فَفِيهِ تَفْصِيل فَإِن من قلد إِمَامًا معينا فِيمَا وَقع لَهُ وَلم يتَبَيَّن لَهُ فِيهِ الدَّلِيل فَذَلِك سَائِغ بل وَاجِب
আয়াতটি (সূরা সাদ: ২৬) এবং ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “নিশ্চয়ই আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।” এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে ‘হাসান সহীহ’ বলেছেন। কুরআন ও সুন্নাহতে বিভেদ সৃষ্টি এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এ জাতীয় অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান।

আমি এটি বলছি এবং বিশ্বাস করি যে, আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মুসলিম উম্মাহর মহান ইমামদের অন্তর্ভুক্ত একজন অত্যন্ত মর্যাদাবান ইমাম (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

তন্মধ্যে খুতবার শুরুতে তাঁর বক্তব্য (মূল): সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের একনিষ্ঠ মিল্লাতের (দ্বীনের) অনুসরণের হিদায়াত দিয়েছেন এবং আমাদের হানাফী উলামায়ে কেরামের পথ অবলম্বনের দিশা দান করেছেন।

ব্যাখ্যা: তিনি যদি হানাফী উলামায়ে কেরামের পথ বলতে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং সহীহ কিয়াসের অনুসরণ করাকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা কেবল হানাফী উলামাদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং সমস্ত মুসলিম আলিমগণই এই পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেবল আহলে যাহিরগণ কিয়াসের প্রামাণিকতার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর যদি এর দ্বারা তিনি ইমাম আবু হানিফার তাকলীদ করাকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে তাতে বিস্তারিত বিশ্লেষণের অবকাশ রয়েছে। কেননা, কোনো ব্যক্তি যদি তার সামনে উপস্থিত হওয়া কোনো সমস্যার দলীলের ব্যাপারে অবগত হতে না পারে, তবে সেক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ইমামের তাকলীদ করা কেবল বৈধই নয়, বরং ওয়াজিব বা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৩)
عَلَيْهِ عِنْد الضَّرُورَة إِذا وَقعت لَهُ كائنة لَا يعلم حكم الله فِيهَا وبلغه قَوْله فِيهَا وَلم يعلم لَهُ فِيهَا مُخَالفا وَإِن قَلّدهُ فِيمَا تبين لَهُ فِيهِ الدَّلِيل مُوَافق لَهُ فَلَيْسَ ذَلِك بتقليد لَهُ بل يكون فِي ذَلِك مُتبعا للدليل إِلَّا أَن يَنْوِي تَقْلِيد الإِمَام دون مُتَابعَة الدَّلِيل إِذْ الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ

وَإِن قَلّدهُ فِيمَا تبين لَهُ فِيهِ أَن الدَّلِيل مُخَالف لَهُ أَو قدر على النّظر فِي الدَّلِيل وفهمه وَلم يفعل فَهَذَا هُوَ التَّقْلِيد المذموم فَإِن صَاحبه دَاخل فِي زمرة الَّذين قَالُوا {إِنَّا وجدنَا آبَاءَنَا على أمة وَإِنَّا على آثَارهم مقتدون} الزخرف 23 وَالَّذين قَالَ الله عَنْهُم {وَإِذا قيل لَهُم اتبعُوا مَا أنزل الله قَالُوا بل نتبع مَا ألفينا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} الْبَقَرَة 177 وَسَيَأْتِي لهَذَا الْمَعْنى زِيَادَة بَيَان إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَمِنْهَا قَوْله م: وَجَعَلَنِي مِمَّن عرف مَرَاتِب أَدِلَّة الشَّرْع وَكَيْفِيَّة دلالتها

ش

: فَإِن هَذَا يُنَاقض مَقْصُوده بِهَذِهِ الرسَالَة فَإِن من عرف مَرَاتِب أَدِلَّة الشَّرْع وَكَيْفِيَّة دلالتها يكون من أهل الإجتهاد فَلَا يسوغ لَهُ تَقْلِيد إِمَام معِين وَلَا الْأَمر بذلك إِلَّا أَن يُرِيد أَنه عرف صناعَة الإستدلال بالأدلة الشَّرْعِيَّة أصُول الْفِقْه وَلم يعرف الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة نَفسهَا الَّتِي هِيَ الْكتاب وَالسّنة وَمَا أَظُنهُ يرضى لنَفسِهِ بِهَذِهِ الْمنزلَة بل الظَّاهِر أَن مُرَاده أَنه يعرف الْأَدِلَّة الشَّرْعِيَّة ومراتبها وَكَيْفِيَّة دلالتها وَحِينَئِذٍ فَلَا يسوغ لَهُ التَّقْلِيد لإِمَام معِين وَلَا غير معِين إِلَّا فِيمَا خفى عَنهُ وَلَا الْأَمر بتقليد إِمَام معِين من الْأَئِمَّة

وَهُوَ فِي هَذِه الرسَالَة يَدْعُو إِلَى تَقْلِيد الإِمَام أبي حنيفَة رحمه الله دون غبره وَيُقِيم الدَّلِيل على ذَلِك وَهَذَا تنَاقض بَين وَلَيْسَ هَذَا من طَريقَة
জরুরি প্রয়োজনে যখন তার জন্য এমন কোনো বিষয়ের উদ্ভব হয় যাতে আল্লাহর বিধান তার জানা নেই এবং সেই বিষয়ে ইমামের বক্তব্য তার নিকট পৌঁছেছে অথচ এর কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে তার জানা নেই, তখন তা অনুসরণ করা আবশ্যক। আর যদি সে এমন বিষয়ে ইমামের তাকলিদ করে যাতে দলিল তার নিকট স্পষ্ট এবং তা ইমামের অনুকূল হয়, তবে তা মূলত তাকলিদ নয় বরং তা দলিলের অনুসরণ হিসেবেই গণ্য হবে; যদি না সে দলিলের অনুসরণের পরিবর্তে কেবল ইমামের তাকলিদের নিয়ত করে। কেননা সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

পক্ষান্তরে, যদি সে এমন বিষয়ে ইমামের তাকলিদ করে যেখানে তার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে যে দলিল ইমামের মতের পরিপন্থী, অথবা সে দলিল পর্যালোচনা ও তা অনুধাবনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা করল না, তবে এটিই সেই নিন্দনীয় তাকলিদ। এমন ব্যক্তি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত যারা বলেছিল, {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি} (সূরা যুখরুফ: ২৩)। যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার ওপর আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি} (সূরা বাকারা: ১৭০/১৭৭)। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ের অধিকতর ব্যাখ্যা আসবে।

তার মধ্য থেকে গ্রন্থকারের উক্তি: এবং তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা শরয়ি দলিলের স্তরসমূহ এবং সেগুলোর নির্দেশনার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত।

ব্যাখ্যা

: নিশ্চয়ই এটি এই পুস্তিকায় তাঁর উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা যে ব্যক্তি শরয়ি দলিলের স্তরসমূহ ও সেগুলোর নির্দেশনার পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত, সে ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমামের তাকলিদ করা কিংবা তার আদেশ দেওয়া বৈধ নয়; যদি না তিনি এর দ্বারা কেবল শরয়ি দলিল থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম-কানুন তথা উসূলে ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাকে বুঝিয়ে থাকেন এবং মূল শরয়ি দলিল তথা কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত না হন। তবে আমি মনে করি না যে তিনি নিজের জন্য এই নিম্ন স্তরের অবস্থান পছন্দ করবেন। বরং বাহ্যত এটাই স্পষ্ট যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো তিনি শরয়ি দলিল, তার স্তরসমূহ এবং নির্দেশনার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত। এমতাবস্থায়, যা তাঁর নিকট অস্পষ্ট থেকে যায় তা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট ইমামের তাকলিদ করা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ইমামের তাকলিদ করার আদেশ দেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন নয়।

অথচ তিনি এই পুস্তিকায় অন্য ইমামদের পরিবর্তে কেবল ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির তাকলিদের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন এবং এর সপক্ষে দলিল পেশ করছেন। এটি একটি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা এবং এটি সঠিক পদ্ধতি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৪)
الْعلمَاء الْحَنَفِيَّة بل ابو يُوسُف وَمُحَمّد وَغَيرهمَا من أَصْحَاب أبي حنيفَة خالفوا ابا حنيفَة فِيمَا ظهر لَهُم فِيهِ الدَّلِيل على خلاف قَوْله وَلم يخرجُوا بذلك عَن كَونهم من أَصْحَابه بل الَّذِي ذكره غير وَاحِد من أهل الْعلم إِذا كَانَ لَهُ نوع تميز يتبع أَي الْقَوْلَيْنِ أرجح عِنْده وأقربه إِلَى الدَّلِيل بِحَسب تميزه فَإِنَّهُ خير لَهُ من الْخَيْر الْمُطلق فَكيف من يعرف أَدِلَّة الشَّرْع وَكَيْفِيَّة دلالتها وَلم يقل أحد من الْعلمَاء أَنه يجب أَو يشرع الْتِزَام قَول شخص معِين فِي كل مَا يُوجِبهُ ويحرمه ويبيحه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بل قد قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله أجمع الْمُسلمُونَ على أَن من استبانت لَهُ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يحل لَهُ أَن يَدعهَا لقَوْل أحد

وَمِنْهَا قَوْله م: وجبلني على التعصب لمجتهد كَانَ من قورن شهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم بخيرها وعدالتها

ش: فَإِن فِي هَذَا الْكَلَام نظرا من وَجْهَيْن

أَحدهمَا دَعْوَاهُ أَنه جبل على الْوَصْف الَّذِي ذكره وَهَذَا الْوَصْف وَهُوَ التعصب لمجتهد معِين مكتسب وَلَيْسَ فِي الطَّبْع السَّلِيم مَا يَقْتَضِي
হানাফী আলেমগণ, এমনকি আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং ইমাম আবু হানিফার অন্যান্য অনুসারীবৃন্দও এমন সব বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার বিরোধিতা করেছেন যেখানে তাঁদের নিকট তাঁর মতের বিপরীতে দলিলের প্রামাণ্যতা স্পষ্ট হয়েছে। এতে করে তাঁরা তাঁর অনুসারীদের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত হয়ে যাননি। বরং একাধিক প্রাজ্ঞ আলেম উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তির মাঝে বিচার-বিশ্লেষণের নূন্যতম সক্ষমতা থাকে, তবে তার উচিত সেই মতটিই গ্রহণ করা যা তার নিকট অধিক অগ্রগণ্য এবং তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী দলিলের নিকটতর; এটি তার জন্য নিরঙ্কুশ অন্ধ অনুকরণের চেয়ে বহুগুণ শ্রেয়। সুতরাং যিনি শরীয়তের দলিলসমূহ এবং সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত, তাঁর ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। আলেমদের কেউই এই মত পোষণ করেননি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণিত কোনো ওয়াজিব, হারাম বা হালাল বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বক্তব্য অনুসরণ করা আবশ্যক বা শরীয়তসম্মত। বরং ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারো মতের কারণে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়।"

মূল পাঠের বক্তব্য: "আর তিনি আমাকে এমন একজন মুজতাহিদের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যিনি সেই শ্রেষ্ঠ যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের কল্যাণ ও ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন।"

ব্যাখ্যা: নিশ্চয়ই এই বক্তব্যের মধ্যে দুই দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে—

প্রথমত: তাঁর এই দাবি যে, তিনি উল্লিখিত গুণের ওপর প্রকৃতিগতভাবে স্বভাবপ্রাপ্ত। অথচ নির্দিষ্ট কোনো মুজতাহিদের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্বের এই বৈশিষ্ট্যটি একটি অর্জিত বিষয়; মানুষের সুস্থ ও সঠিক স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) দাবি এটি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৫)
التعصب لهَذَا الْعَالم دون هَذَا الْعَالم وَإِنَّمَا يَأْتِي ذَلِك غَالِبا من هوى النَّفس فَيكون حِينَئِذٍ قد جبل على خلق ذميم وَلَو ادّعى أَنه جبل على اتِّبَاع الْحق وَقَول هَذَا الإِمَام الْمعِين هُوَ الْحق لكَانَتْ الْمُقدمَة الأولى مسلمة وَالثَّانيَِة مَحل النزاع فَإِن كل مَوْلُود يُولد على الْفطْرَة قَالَ الله تَعَالَى {فأقم وَجهك للدّين حَنِيفا فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا} الْآيَة الرّوم 30 فَفِي الْفطر مركوز معرفَة حسن اتِّبَاع الْحق لَا أَن اتِّبَاع هَذَا الْعَالم مُتَعَيّن دون هَذَا الْعَالم إِلَّا أَن يَدعِي أَن هَذَا الْعَالم مَعْصُوم عَن الْخَطَأ فِي اجْتِهَاده دون غَيره وَلَا يَدعِي هَذَا عَاقل فَإِنَّهُ يكون قد أنزلهُ منزلَة الرَّسُول صلوَات الله عَلَيْهِ وَسَلَامه فَإِن الْغَضَب والتعصب لوَاحِد معِين من الْأَئِمَّة وصف مَذْمُوم من جنس فعل الرافضة وَهُوَ من أَفعَال الْجَاهِلِيَّة كَمَا فِي صَحِيح مُسلم وَسنَن النَّسَائِيّ عَن جُنْدُب بن عبد الله البَجلِيّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (من قتل تَحت راية عمية يَدْعُو عصبية وينصر عصبية فَقتلته جَاهِلِيَّة)

وروى أَبُو دَاوُد عَن جُبَير بن مطعم رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (لَيْسَ منا من دَعَا إِلَى عصبية وَلَيْسَ منا من قَالَ بعصبية وَلَيْسَ منا من مَاتَ على عصبية)
এক আলেমের পরিবর্তে অন্য আলেমের প্রতি এই অন্ধ গোঁড়ামি সাধারণত প্রবৃত্তির তাড়না থেকেই উদ্ভূত হয়। এমতাবস্থায় সেই ব্যক্তি এক নিন্দনীয় স্বভাবের ওপর গড়ে ওঠে, যদিও সে দাবি করে যে সে সত্য অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর 'এই নির্দিষ্ট ইমামের কথাই সত্য'—এমন দাবির ক্ষেত্রে প্রথম বিষয়টি (সত্যের অনুসরণ) স্বীকৃত হলেও দ্বিতীয় বিষয়টি (উক্ত ইমামের কথাই ধ্রুব সত্য হওয়া) বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। কেননা প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর জন্মগ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।} (সূরা আর-রূম: ৩০)। সুতরাং মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির মাঝেই সত্য অনুসরণের সৌন্দর্যের জ্ঞান নিহিত রয়েছে; এটি নির্দিষ্ট কোনো আলেমের অন্ধ অনুসরণের ওপর সীমাবদ্ধ নয়। তবে কেউ যদি দাবি করে যে, এই আলেম তার ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি থেকে নিষ্পাপ (মাসুম), যা অন্য কেউ নন—তবে এমন দাবি কোনো বিবেকবান ব্যক্তি করতে পারেন না। কারণ সেক্ষেত্রে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদায় আসীন করা হবে। কেননা ইমামগণের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো একজনের জন্য রাগান্বিত হওয়া বা পক্ষপাতমূলক গোঁড়ামি প্রদর্শন করা একটি নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য, যা রাফেজিদের কর্মপদ্ধতির পর্যায়ভুক্ত এবং এটি জাহেলিয়াতের কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি সহীহ মুসলিম ও সুনানে নাসায়ীতে জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন পতাকার নিচে অন্ধ গোঁড়ামির দিকে আহ্বান জানিয়ে কিংবা গোঁড়ামিকে সাহায্য করতে গিয়ে নিহত হয়, তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।"

ইমাম আবু দাউদ জুবায়ের ইবনে মুতয়িম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে অন্ধ গোঁড়ামির দিকে আহ্বান জানায়, সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে কথা বলে এবং সেও আমাদের দলভুক্ত নয় যে গোঁড়ামির ওপর মৃত্যুবরণ করে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث جَابر رضي الله عنه حِين قَالَ الْأَنْصَار يَا للْأَنْصَار وَقَالَ بالمهاجرون فَخرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا بَال دَعْوَى الْجَاهِلِيَّة وَفِي رِوَايَة مُنْتِنَة الحَدِيث

وَعَن أبي بن كَعْب رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من سمعتموه يدعوا بدعوة الْجَاهِلِيَّة فاعضوه بِهن أَبِيه وَلَا تكنوا) وَفِي لفظ

من سمعتموه يتعزى بعزاء الْجَاهِلِيَّة فأعضوه بِهن أَبِيه وَلَا تكنوا فَسمع أبي رجلا يَقُول يَا لفُلَان فَقَالَ أعضض أير أَبِيك فَقَالُوا يَا ابا الْمُنْذر مَا كنت فحاشا فَقَالَ بِهَذَا أمرنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (عَلَيْكُم بِالْجَمَاعَة فَإِن يَد الله على الْجَمَاعَة)

الثَّانِي: إستدلاله على تَقْدِيمه لَهُ على غَيره بِكَوْنِهِ من خير الْقُرُون فَإِن هَذَا لَا يلْزم تَقْدِيم هَذَا الإِمَام وَحده على غَيره مِمَّن كَانَ فِي زَمَانه وَقَبله بل وَلَا على من بعده فَإِن تَفْضِيل الْجُمْلَة على الْجُمْلَة لَا يَقْتَضِي تَفْضِيل كل فَرد على كل فَرد بل قد يتنازع الْعلمَاء هَل فِي غير الصَّحَابَة من هُوَ خير من
সহীহাইন-এ জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যখন আনসারগণ ‘হে আনসারগণ!’ বলে এবং মুহাজিরগণ [‘হে মুহাজিরগণ!’ বলে] ডাক দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে এসে বললেন, "জাহিলিয়াতের এই ডাকের কারণ কী?" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, "[এটি] অত্যন্ত দুর্গন্ধময়।"

উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যাকে জাহিলিয়াতের আহ্বানে আহ্বান করতে শুনবে, তাকে তার পিতার লিঙ্গ কামড়ে ধরতে বলো এবং এ ক্ষেত্রে তোমরা কোনো রূপক শব্দ ব্যবহার করো না (বরং স্পষ্টভাবে বলো)।" এবং অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

"তোমরা যাকে জাহিলিয়াতের আভিজাত্যের দোহাই দিয়ে গর্ব করতে শুনবে, তাকে তার পিতার লিঙ্গ কামড়ে ধরতে বলো এবং কোনো রূপক শব্দ ব্যবহার করো না।" একবার উবাই (রা.) এক ব্যক্তিকে "হে অমুক বংশের লোক!" বলে ডাকতে শুনে বললেন, "তোমার পিতার লিঙ্গ কামড়ে ধরো।" লোকেরা বলল, "হে আবু মুনযির! আপনি তো কখনও অশ্লীলভাষী ছিলেন না!" তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।" এটি ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জামাতবদ্ধ থাকাকে আবশ্যক করে নাও, কেননা জামাতের ওপর আল্লাহর সাহায্য (হাত) রয়েছে।"

দ্বিতীয়ত: অন্যদের ওপর তাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার এই দলিল পেশ করা যে, তিনি সর্বোত্তম যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তা এই ইমামকে এককভাবে তাঁর সমসাময়িক, পূর্ববর্তী এমনকি পরবর্তী কারো ওপর প্রাধান্য দেওয়াকে অবধারিত করে না। কেননা একটি সমষ্টিগত দলের ওপর অন্য একটি দলের শ্রেষ্ঠত্ব সেই দলের প্রতিটি ব্যক্তির ওপর অপর দলের প্রতিটি ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে না। বরং উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি না যে শ্রেষ্ঠ...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৭)
بَعضهم على قَوْلَيْنِ ذكرهمَا القَاضِي عِيَاض وَغَيره وَالْأَكْثَر على تَفْضِيل كل فَرد وَلَكِن من بعد الصَّحَابَة لَيْسَ مثلهم فقد كَانَ فيهم مثل الْحجَّاج بن يُوسُف وَفضل الْأَفْرَاد إِنَّمَا هُوَ بالتقوى كَمَا قَالَ الله تَعَالَى {إِن أكْرمكُم عِنْد الله أَتْقَاكُم} الحجرات 13 وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (لَا فضل لعربي على عجمي وَلَا لعجمي على عَرَبِيّ وَلَا لأسود على أَبيض وَلَا لأبيض على أسود إِلَّا بالتقوى) (النَّاس كلهم بَنو آدم وآدَم من تُرَاب)

وَلَو قابله مالكي الْمَذْهَب بِمثل مثل قَوْله وَادّعى أَن الإِمَام مَالك بن أنس أولى بالاتباع من أبي حنيفَة رحمهمَا الله تَعَالَى فَإِن مذْهبه مَذْهَب أهل الْمَدِينَة الشَّرِيفَة أصح مَذَاهِب أهل الْمَدَائِن فَإِنَّهُم كَانُوا يتأسون بآثار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَكثر من سَائِر الْأَمْصَار وَكَانَ غَيرهم من أهل الْأَمْصَار دونهم فِي الْعلم بِالسنةِ النَّبَوِيَّة واتباعها حَتَّى أَنهم يفتقرون إِلَى نوع من سياسة الْمُلُوك وآراء الْعلمَاء ومقاصد الْعباد أَكثر من افتقار أهل الْمَدِينَة وَلِهَذَا لم يذهب أحد من عُلَمَاء الْمُسلمين إِلَى أَن إِجْمَاع أهل مَدِينَة من الْمَدَائِن
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে দুটি মতের কথা উল্লেখ করেছেন যা কাজী ইয়াজ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তবে অধিকাংশের অভিমত হলো প্রত্যেক ব্যক্তিরই পৃথক শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গ তাঁদের সমতুল্য নন। কারণ তাঁদের মধ্যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ন্যায় লোকও বিদ্যমান ছিল। আর ব্যক্তিবিশেষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী} [আল-হুজুরাত: ১৩]। এবং নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কিংবা শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—কেবল তাকওয়া ব্যতীত।) (সকল মানুষই আদমের বংশধর এবং আদম মাটি হতে সৃষ্ট।)

যদি কোনো মালিকি মাযহাবের অনুসারী অনুরূপ যুক্তির অবতারণা করেন এবং দাবি করেন যে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে ইমাম মালিক বিন আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) অপেক্ষা অধিকতর যোগ্য, তবে তাঁর যুক্তি এই যে, ইমাম মালিকের মাযহাব হলো পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারাবাসীদের মাযহাব, যা সকল জনপদের মাযহাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ। কেননা তাঁরা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণে অধিক অগ্রগামী ছিলেন। অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীরা সুন্নাহর জ্ঞান ও তার অনুসরণে তাঁদের তুলনায় নিম্নস্তরে ছিল, এমনকি তারা রাজকীয় নীতি, আলিমগণের ব্যক্তিগত রায় এবং ইবাদতকারীদের আধ্যাত্মিক লক্ষ্যসমূহের প্রতি মদীনাবাসীদের তুলনায় অধিক মুখাপেক্ষী ছিল। এই কারণেই মুসলিম আলিমগণের মধ্যে কেউ এই মত পোষণ করেননি যে কোনো নির্দিষ্ট নগরের অধিবাসীদের ঐক্যমত্য (ইজমা)...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৮)
حجَّة يجب اتباعها لَا فِي تِلْكَ الْأَعْصَار وَلَا بعْدهَا غير الْمَدِينَة الشَّرِيفَة فَإِنَّهُ قد اخْتلفت فِي إِجْمَاع أَهلهَا إِلَّا استدلاله بذلك على تَقْدِيم مَذْهَب مَالك نَظِير اسْتِدْلَال على تَقْدِيم مَذْهَب أبي حنيفَة وَمن مثل هَذَا الإستدلال نَشأ الإفتراق فِي هَذِه الْأمة فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون

وَمِنْهَا قَوْله م: والصلوة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي الْأُمِّي الْمَبْعُوث إِلَى النَّاس كَافَّة بشيرا وَنَذِيرا وداعيا إِلَى الله باذنه وسراجا منيرا وعَلى آله وَأَصْحَابه وعترته الَّذين أذهب الله عَنْهُم الرجس وطهرهم تَطْهِيرا أما بعد فَإِن الزَّمَان لما انْتهى إِلَى وَقت تضعضع فِيهِ أَرْكَان رباع الْعُلُوم وتقعقع فِيهِ بُنيان بقاع الْمَعْلُوم وخلت غاياتها عَن أُسَامَة أبي الشبلين حَتَّى ضج فِيهَا ثعالبة أَبُو الْحصين وشاع الحَدِيث والطعن على مَذْهَب الأقدمين وذاع ادِّعَاء أَن ابا حنيفَة الَّذِي هُوَ أقدم الْمُجْتَهدين لم يعلم أَحَادِيث البُخَارِيّ وَخَالف سيد الْمُرْسلين وَكَانَ ذَلِك موهما لوهن مذْهبه عِنْد ضعفاء الْيَقِين أَشَارَ إِلَيّ بعض الإخوان الَّذين هم بِمَنْزِلَة الْإِنْسَان للعين وَالْعين للْإنْسَان أَن اكْتُبْ رِسَالَة تقَوِّي اعْتِقَاد ضعفة الْحَنَفِيَّة فِي مَذْهَب إمَامهمْ وتعرف مَا للنَّاس عَلَيْهِ فِي غَالب الْبلدَانِ من الِاحْتِيَاج إِلَى مذْهبه من خَلفهم وإمامهم فكتبتها مُشْتَمِلَة على مُقَدّمَة ومقصد وخاتمة الْمُقدمَة فِي بَيَان سَبَب تَرْجِيح تَقْلِيده على غَيره

ش: وفيهَا مبَاحث فَقَوله ذاع ادِّعَاء فَإِن فِي هَذَا الْكَلَام مُقَابلَة الْفَاسِد بالفاسد وَالْوَاجِب رد الْبَاطِل بِحَق وَلَا يجوز رد الْبَاطِل بِالْبَاطِلِ فَإِن الْبَاطِل لَا يرد الْبَاطِل وَإِنَّمَا يردهُ الْحق قَالَ الله تَعَالَى {بل نقذف بِالْحَقِّ على الْبَاطِل فيدمغه فَإِذا هُوَ زاهق} الْأَنْبِيَاء 21

وَالْوَاجِب أَن يُقَال لمن قَالَ إِن ابا حنيفَة خَالف سيد الْمُرْسلين هَذَا القَوْل كذب وبهتان وَسَب لهَذَا الإِمَام الْجَلِيل يسْتَحق قَائِله الردع والزجر عَن هَذِه الْمقَالة الْبَاطِلَة إِن أَرَادَ بِهِ أَنه خَالفه عَن قَصده وَإِن أَرَادَ بِهِ أَنه خَالفه عَن تَأْوِيل أَو ذمّ القَوْل وَلم يذكر قَائِله فَهُوَ هَين كَمَا يُوجد فِي كَلَام
এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই যা অনুসরণ করা আবশ্যক—না সেই যুগে আর না পরবর্তী সময়ে—পবিত্র মদিনা ব্যতীত, কারণ সেখানকার অধিবাসীদের ঐকমত্যের (ইজমা) প্রামাণিকতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে ইমাম মালিকের মাযহাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই দলিল প্রদান ঠিক তেমনি, যেমনটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে দলিল প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই উম্মাহর মধ্যে অনৈক্যের সূচনা হয়েছে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।

এগুলোর মধ্যে লেখকের বক্তব্য হলো: আমাদের নেতা ও উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যাঁকে সমস্ত মানুষের প্রতি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গীসাথী এবং বংশধরদের ওপর, যাঁদের থেকে আল্লাহ অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং তাঁদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করেছেন। অতঃপর, সময় যখন এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছাল যখন ইলমের আবাসস্থলের স্তম্ভগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়ল, সুনিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিগুলো কম্পিত হতে লাগল এবং সেই লক্ষ্যস্থলগুলো সিংহহৃদয় বীরদের থেকে শূন্য হয়ে পড়ল, এমনকি সেখানে ধূর্ত শৃগালরা শোরগোল শুরু করল; আর যখন পূর্বসূরিদের মাযহাবের সমালোচনা ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়ল এবং এই দাবি ব্যাপকতা লাভ করল যে, মুজতাহিদদের মধ্যে অগ্রগণ্য ইমাম আবু হানিফা বুখারীর হাদিসসমূহ জানতেন না এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরোধিতা করেছেন—যা দুর্বল চিত্তের মানুষদের নিকট তাঁর মাযহাবের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে সংশয় তৈরি করছিল—তখন আমার কিছু দ্বীনি ভাই, যারা আমার কাছে চোখের মণি এবং দৃষ্টিশক্তির মতো অতি প্রিয়, তাঁরা আমাকে ইঙ্গিত দিলেন যেন আমি একটি পুস্তিকা রচনা করি যা হানাফী মাযহাবের সাধারণ অনুসারীদের তাদের ইমামের মাযহাবের প্রতি বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করবে এবং অধিকাংশ জনপদে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম ও ইমামদের জন্য তাঁর মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করবে। ফলে আমি এটি রচনা করলাম, যা একটি ভূমিকা, একটি মূল লক্ষ্য এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত। ভূমিকাটি হচ্ছে অন্য ইমামদের তুলনায় তাঁর তাকলিদ বা অনুসরণের অগ্রাধিকারের কারণ বর্ণনার বিষয়ে।

ব্যাখ্যাকার বলেন: এতে বেশ কিছু আলোচনা রয়েছে। লেখকের এই কথা—"দাবিটি ব্যাপকতা লাভ করেছে"—এর প্রেক্ষিতে বলা যায়, এই বক্তব্যে মন্দকে মন্দের দ্বারা মোকাবিলা করা হয়েছে। অথচ আবশ্যক হলো বাতিলের জবাব সত্যের মাধ্যমে দেওয়া; মিথ্যা বা বাতিলকে মিথ্যার মাধ্যমে প্রতিহত করা বৈধ নয়। কারণ বাতিল কখনও বাতিলকে খণ্ডন করতে পারে না, বরং সত্যই কেবল মিথ্যাকে পরাভূত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।" (আল-আম্বিয়া: ১৮)

আর যে ব্যক্তি বলে যে আবু হানিফা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরোধিতা করেছেন, তাকে এটি বলা আবশ্যক যে, এই বক্তব্য চরম মিথ্যা ও অপবাদ এবং এই মহান ইমামকে গালি দেওয়ার শামিল। যদি সে এর দ্বারা উদ্দেশ্য করে থাকে যে ইমাম ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, তবে এই ভ্রান্ত উক্তির জন্য সেই ব্যক্তি কঠোর তিরস্কার ও শাস্তির যোগ্য। আর যদি সে এর দ্বারা বুঝাতে চায় যে ইমাম নিজস্ব ব্যাখ্যার কারণে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অথবা সে কেবল মতটির সমালোচনা করে কিন্তু মত প্রকাশকারীর নাম উল্লেখ না করে, তবে বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়, যেমনটি আলেমদের বক্তব্যে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْمُخْتَلِفين فِي مسَائِل الِاجْتِهَاد من كَلَام البُخَارِيّ رحمه الله وَقَالَ بعض النَّاس كَذَا وَقَالَ فِي بعض الْمَوَاضِع فَخَالف الرَّسُول وَلم يسم الْمُخَالف من هُوَ وَذكر فِي الشَّرْط أَن مُحَمَّد بن الْحسن استبعد قَول أبي حنيفَة رحمه الله فِي عدم لُزُوم الْوَقْف وَسَماهُ تحكما من غير حجَّة وَالْمُصَنّف فِي هَذِه الرسَالَة فِي الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة عشر قد نسب إِلَى الشَّافِعِي مُخَالفَة قَول الله {والمطلقات يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَة قُرُوء} الْبَقَرَة 228

‌‌لَا تنه عَن خلق وَتَأْتِي مثله

 

وَالْقَوْل قد يكون مُخَالفا للنَّص وقائله مَعْذُور فَإِن الْمُخَالفَة بِتَأْوِيل لم يسلم مِنْهَا أحد من أهل الْعلم وَذَلِكَ التَّأْوِيل وَإِن كَانَ فَاسِدا فصاحبه مغْفُور لَهُ لحصوله عَن اجْتِهَاده فَإِن الْمُجْتَهد إِذا اجْتهد وَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ أجر على اجْتِهَاده وَأجر على إِصَابَته الْحق وَإِذا اجْتهد وَأَخْطَأ فَلهُ أجر على اجْتِهَاده وَخَطأَهُ مغْفُور لَهُ

فمخالفة النَّص إِذا كَانَت عَن قصد فَهِيَ كفر وَإِن كَانَت عَن إجتهاد فَهِيَ من الْخَطَأ المغفور
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে ইজতিহাদী মাসয়ালাসমূহে মতবিরোধকারীদের প্রসঙ্গে; তিনি কিছু স্থানে বলেছেন, "কিছু লোক এমন বলেছেন।" এবং কিছু স্থানে তিনি বলেছেন যে, "তিনি রাসূলের বিরোধিতা করেছেন", কিন্তু সেই বিরোধিতাকারী কে তা তিনি উল্লেখ করেননি। এবং 'শর্ত' অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) ওয়াকফ আবশ্যক না হওয়ার ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতকে অবাস্তব মনে করেছেন এবং একে কোনো দলিল ছাড়াই একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এই রিসালার লেখক দ্বাদশ মাসয়ালায় ইমাম শাফিঈর দিকে আল্লাহর বাণী—"আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন 'কুরু' (ঋতু বা পবিত্রতা) পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে" [আল-বাকারাহ: ২২৮]—এর বিরোধিতার বিষয়টি সম্বন্ধ করেছেন।

‌‌অন্যকে যে স্বভাব থেকে বারণ করো, তা নিজে করো না

 

কোনো বক্তব্য নস (স্পষ্ট বিধান)-এর পরিপন্থী হতে পারে, কিন্তু সেই প্রবক্তা এক্ষেত্রে ক্ষমাপ্রাপ্ত। কেননা কোনো না কোনো ব্যাখ্যার (তাওয়ীল) কারণে নসের সাথে এই বিরোধ থেকে আলেমদের কেউই মুক্ত নন। আর সেই ব্যাখ্যা যদি ত্রুটিপূর্ণও হয়, তবুও এর প্রবক্তা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য; কারণ এটি তার ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। কেননা একজন মুজতাহিদ যখন ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি দুটি পুরস্কার লাভ করেন: একটি তার ইজতিহাদের জন্য এবং অন্যটি সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য। আর তিনি যখন ইজতিহাদ করে ভুল করেন, তখন তিনি তার ইজতিহাদের জন্য একটি পুরস্কার লাভ করেন এবং তার ভুলটি ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

সুতরাং নস বা স্পষ্ট বিধানের বিরোধিতা যদি ইচ্ছাকৃত হয় তবে তা কুফরি, আর যদি ইজতিহাদবশত হয় তবে তা ক্ষমাপ্রাপ্ত ভুলের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَلَا يجوز أَن يُقَال عَن أبي حنيفَة وَلَا عَمَّن دونه من أهل الْعلم فِيمَا يُوجد من أَقْوَاله مُخَالفا للنَّص أَنه خَالف الرَّسُول قصدا بل إِمَّا أَن يُقَال إِن النَّص لم يبلغهُ أَو لم يظْهر لَهُ دَلِيل على ذَلِك الحكم أَو عَارضه عِنْده دَلِيل آخر أَو غير ذَلِك من الْأَعْذَار رحمهم الله وَرَضي عَنْهُم أَجْمَعِينَ

وَقد انحرف فِي شَأْن أبي حنيفَة رحمه الله طَائِفَتَانِ فطائفة قد غلبت فِي تَقْلِيده فَلم تتْرك لَهُ قولا وأنزلوه منزلَة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَإِن أورد عَلَيْهِم نَص مُخَالف قَوْله تأولوه على غير تَأْوِيله ليدفعوه عَنْهُم وَلم يكن أَصْحَابه مَعَه كَذَلِك بل رجعُوا عَن كثير مِمَّا كَانُوا قلدوه فِيهِ لما ظهر لَهُم فِيهِ الدَّلِيل على خلاف قَوْله وَطَائِفَة تنقصته وَادعت أَنه أَخذ بِالرَّأْيِ وَترك النَّص هُوَ وَأَصْحَابه وسموهم أَصْحَاب الرَّأْي وهم مَا بَين مُسْتَقل فِي ذَلِك من الطَّرفَيْنِ ومستكثر فتراهم مَا بَين قَادِح تَارَة بِحَق وَتارَة بباطل وَالله يغْفر لنا وَلَهُم

وَأما الْمَعْنى الْفَاسِد الَّذِي قوبل بِهِ هَذَا القَوْل الْبَاطِل فَهُوَ دَعْوَى أَن أَبَا حنيفَة أقدم الْمُجْتَهدين فَإِنَّهُ إِن أَرَادَ أقدم الْمُجْتَهدين من هَذِه الْأمة فَهَذَا بَاطِل قطعا فكم قبله من مجتهدي الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَإِن أَرَادَ أقدم الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة الْمَشْهُورين وَهَذَا هُوَ مُرَاده فالإمام مَالك كَانَ معاصرا لَهُ فَإِن مولد أبي حنيفَة رحمه الله سنة ثَمَانِينَ من الْهِجْرَة ووفاته سنة خمسين
তাই ইমাম আবু হানিফা কিংবা তাঁর পরবর্তী অন্য কোনো আলেম সম্পর্কে—যাঁদের কোনো বক্তব্য নসের (সুস্পষ্ট ধর্মীয় পাঠের) পরিপন্থী পাওয়া যায়—এ কথা বলা বৈধ নয় যে, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলের বিরোধিতা করেছেন। বরং হয় এ কথা বলতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট নসটি তাঁর নিকট পৌঁছায়নি, অথবা সেই বিধানের ওপর তাঁর কাছে কোনো দলিল স্পষ্ট হয়নি, অথবা তাঁর নিকট এর বিপরীতে অন্য কোনো দলিল ছিল অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো ওজর (অজুহাত) ছিল। আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে দুই দল বিচ্যুত হয়েছে। এক দল তাঁর তাকলিদের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছে; ফলে তারা তাঁর কোনো বক্তব্যই বর্জন করেনি এবং তাঁকে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদায় আসীন করেছে। যদি তাদের সামনে তাঁর বক্তব্যের বিরোধী কোনো নস পেশ করা হয়, তবে তারা সেটিকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ তাঁর ছাত্র ও সহচরগণ তাঁর সাথে এমন ছিলেন না; বরং যখনই তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে কোনো দলিল তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁরা তাঁর অনেক বক্তব্য থেকেই ফিরে এসেছেন। আর অপর এক দল তাঁকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং দাবি করেছে যে, তিনি ও তাঁর ছাত্ররা নস বর্জন করে কেবল রায়ের (নিজস্ব মতামত) ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিতেন। তারা তাঁদেরকে 'আসহাবুর রায়' (যুক্তিনির্ভর দল) বলে নামকরণ করেছে। এই উভয় পক্ষের মধ্যে কেউ অল্প বাড়াবাড়ি করেছে, আবার কেউ অতিমাত্রায়। আপনি দেখবেন যে, তারা কখনও হকের সাথে আবার কখনও বাতিলের সাথে তাঁর সমালোচনা করে। আল্লাহ আমাদের এবং তাঁদের ক্ষমা করুন।

আর সেই বাতিল বক্তব্যের বিপরীতে যে ভ্রান্ত অর্থটি পেশ করা হয় তা হলো—এই দাবি যে ইমাম আবু হানিফা ছিলেন প্রাচীনতম মুজতাহিদ। তিনি যদি এই উম্মতের সকল মুজতাহিদের মধ্যে প্রাচীনতম মুজতাহিদ হওয়ার অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, তবে তা নিশ্চিতভাবেই বাতিল। কারণ তাঁর পূর্বে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের মধ্যে কত কত মুজতাহিদ অতিবাহিত হয়েছেন। আর যদি তিনি প্রসিদ্ধ চার ইমামের মধ্যে প্রাচীনতম হওয়ার অর্থ গ্রহণ করে থাকেন—যা মূলত তাঁর উদ্দেশ্য—তবে জেনে রাখা উচিত যে, ইমাম মালিক তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। কেননা ইমাম আবু হানিফা (রহ.) হিজরি ৮০ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫০ সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمِائَة ومولد مَالك رحمه الله سنة ثَلَاث وَتِسْعين ووفاته سنة تسع وَسبعين وَمِائَة فتعاصرا سبعا وَخمسين سنة وَلم يثبت أَن أَحدهمَا تأهل للِاجْتِهَاد قبل صَاحبه وعَلى تَقْدِير ثُبُوته لَا يلْزم مِنْهُ جَوَاز التَّقْلِيد لوَاحِد مِنْهُمَا دون الآخر فضلا عَن الْوُجُوب بل الْوَاجِب فِي مسَائِل النزاع الرَّد إِلَى الله وَالرَّسُول قَالَ الله سبحانه وتعالى {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول} النِّسَاء 59 وَالرَّدّ إِلَى الله إِلَى كِتَابه وَالرَّدّ إِلَى الرَّسُول الرَّد إِلَيْهِ فِي حَيَاته وَإِلَى سنته بعد وَفَاته

وَأهل التَّقْلِيد لَا يَفْعَلُونَ ذَلِك بل يَأْخُذ أحدهم بِمَا يجد فِي كتب أَصْحَاب ذَلِك الإِمَام الَّذِي قَلّدهُ وَلَا يلْتَفت إِلَى قَول من خَالفه كَائِنا من كَانَ وَنَصّ ذَلِك الإِمَام والكتب عِنْده بِمَنْزِلَة نَص الشَّارِع وَكَثِيرًا مَا يكون ذَلِك النَّص من كَلَام بعض الْأَصْحَاب فِي الْفَتَاوَى وَلم يكن لذَلِك الإِمَام فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة قَول مَنْقُول

وَيلْزم الْقَائِل بترجيح الْمُجْتَهد الأقدم أَن يرجح قَول زيد (رض) وَعمر (رض) وَغَيرهمَا من الصَّحَابَة أَو قَول سعيد بن الْمسيب وَالقَاسِم بن مُحَمَّد أَو غَيرهمَا من التَّابِعين على قَول
এবং একশত হিজরিতে। ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম হয় তিরানব্বই হিজরিতে এবং মৃত্যু হয় একশত উনআশি হিজরিতে। ফলে তাঁরা সাতান্ন বছর যাবৎ সমসাময়িক ছিলেন। এটি প্রমাণিত নয় যে, তাঁদের একজন অপরজনের পূর্বে ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। আর যদি তা প্রমাণিত হয়েও থাকে, তবুও তার দ্বারা অন্যজনকে বাদ দিয়ে কেবল একজনের তাকলিদ বা অনুসরণ করা বৈধ হওয়া অনিবার্য হয় না, ওয়াজিব হওয়া তো দূরের কথা। বরং বিবাদপূর্ণ মাসআলাসমূহে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই হলো ওয়াজিব। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" (আন-নিসা: ৫৯)। আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় সরাসরি তাঁর কাছে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

আর তাকলিদপন্থীরা তা করে না; বরং তাদের প্রত্যেকেই সেই ইমামের অনুসারীদের কিতাবে যা পায় তা-ই গ্রহণ করে যার সে তাকলিদ করেছে। সে তার বিরোধিতাকারীর বক্তব্যের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না, তিনি যেই হোন না কেন। উক্ত ইমামের বক্তব্য এবং মাযহাবী কিতাবসমূহ তাদের নিকট শরীয়তদাতার বাণীর সমতুল্য। অথচ অনেক সময় সেই বক্তব্যটি মূলত ফতোয়ার কিতাবে বর্ণিত ইমামের কোনো কোনো শিষ্যের উক্তি হয়ে থাকে, যেখানে উক্ত মাসআলায় সেই ইমামের নিজস্ব কোনো বক্তব্যই বর্ণিত নেই।

আর যারা প্রাচীনতম মুজতাহিদকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলে, তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, তারা যেন যায়িদ (রা.), উমর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীগণের বক্তব্যকে অথবা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও কাসিম ইবনে মুহাম্মাদসহ অন্যান্য তাবিঈগণের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩২)
إِمَامه وَهَذَا لَا يَفْعَله كثير من المقلدين وَلَا شكّ أَن هَذَا تَرْجِيح لم ينشأ عَن دَلِيل بل هُوَ فَاسد فكم من تلميذ أعلم من شَيْخه وَأفضل مِنْهُ فَهَذَا أَبُو حنيفَة رحمه الله شَيْخه حَمَّاد وَلَا يذكر حَمَّاد عِنْد مقلدي أبي حنيفَة رحمه الله

وَأَيْضًا فقد يُعَارضهُ من يُقَلّد الإِمَام الْمُتَأَخر بِأَن يَقُول الإِمَام الْمُتَأَخر اطلع على أَقْوَال الْأَئِمَّة الْمُتَقَدِّمين وَنظر فِي أدلتهم وَاخْتَارَ الصَّحِيح وَالأَصَح فَيكون تَقْلِيده أولى لجمعه مَا كَانَ مُتَفَرقًا عِنْد الْأَئِمَّة الَّذين كَانُوا قبله وإطلاعه على مَا يطلع عَلَيْهِ كل فَرد مِنْهُم فَظهر سُقُوط الِاسْتِدْلَال بفدم الْمُجْتَهد

وَمِنْهَا قَوْله م: المبحث الأول فِي بَيَان فَضله نقلا وعقلا اما النَّقْل فَهُوَ مَا اشْتهر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ خير الْقُرُون الَّذين أَنا فيهم ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ يفشو الْكَذِب فَإِن فِيهِ دلَالَة على خيرية
...তাঁর ইমাম। আর অনেক মুকাল্লিদই (অনুসারী) এটি করেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অগ্রাধিকার প্রদান কোনো দলিলের ভিত্তিতে উত্থিত হয়নি, বরং এটি ত্রুটিপূর্ণ। কারণ কত ছাত্রই না তার শিক্ষকের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন। এই যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.), তাঁর উস্তাদ ছিলেন হাম্মাদ; অথচ ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের নিকট হাম্মাদের কথা তেমন আলোচিতই হয় না।

অধিকন্তু, পরবর্তী যুগের কোনো ইমামের অনুসারী এর বিপরীতে এই যুক্তি দিতে পারেন যে, পরবর্তী ইমাম পূর্ববর্তী ইমামগণের মতামতের বিষয়ে অবগত হয়েছেন, তাঁদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করেছেন এবং সঠিক ও অধিকতর সঠিক মতটি গ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর তাকলিদ করাই হবে অধিকতর উত্তম; কারণ তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণের নিকট বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা জ্ঞানকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের লব্ধ জ্ঞানের ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন। সুতরাং মুজতাহিদের প্রাচীনত্বের ভিত্তিতে দলিল উপস্থাপনের অসারতা প্রমাণিত হলো।

তন্মধ্যে তাঁর বক্তব্য হলো: প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনা ও যুক্তির নিরিখে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায়। বর্ণনার (নকল) ক্ষেত্রে যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তা হলো, তিনি বলেছেন: "সর্বোত্তম যুগ হলো সেটি যাতে আমি রয়েছি, এরপর তাদের পরবর্তী যারা আসবে, এরপর তাদের পরবর্তী যারা আসবে; এরপর মিথ্যার বিস্তার ঘটবে।" নিশ্চয়ই এর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৩)
التَّابِعين وَلم يكن ذَلِك إِلَّا لعلمهم بأحوال الدّين وَأَتْبَاع مَا ورثوا من سيد الْمُرْسلين من علم الْكتاب وَالسّنة وآثار الصَّحَابَة الطاهرين وجدهم فِي الشّعْر شكّ عَمَّا يتَوَقَّف عَلَيْهِ الْقيَاس لحفظهم عَمَّا يُوجب الْجرْح والالتباس وفرط تحرزهم عَن تَغْيِير مَا وجدوه من الْحق وَعَن إِلْحَاق غير الْحق بِالْحَقِّ وَكَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله إِمَامًا صَادِقا وفقيها فائقا عَالما بِالْكتاب وَالسّنة سالكا محجة أهل السّنة مُتبعا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم فِيمَا أَمر وَسنة ذَا أَصْحَاب عُلَمَاء أنقياء لَا من أهل الْبدع وَلَا من أهل الْأَهْوَاء مجتهدين بذلوا وسعهم فِي تَحْقِيق الْحق فِيمَا عزلهم من المسالك جلّ أَو دق وَمن شهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم بخيره أولى بالتقليد من مُجْتَهد غَيره انْتهى

ش: فَإِن هَذَا الإستدلال غير صَحِيح لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَين الْقُرُون فِي الْجُمْلَة وَقد يكون فِي التَّفْضِيل من غَيره أفضل مِنْهُ كالحجاج فَلَا يَصح الِاسْتِدْلَال على تَفْضِيل فَرد مِنْهُم على من بعده بِكَوْنِهِ مِنْهُم وَإِنَّمَا يرجح بِالسَّبقِ إِلَى الْإِصَابَة مَعَ التَّسَاوِي فِي الزَّمَان كَمَا يرجح أول من أسلم على من تَأَخّر إِسْلَامه لَا بِالسَّبقِ فِي الْوُجُود قَالَ الله تَعَالَى {إِن أكْرمكُم عِنْد الله أَتْقَاكُم} الحجرات 13 وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (مثل أمتِي كَمثل الْمَطَر لَا يدْرِي آخِره خير أم أَوله) أخرجه التِّرْمِذِيّ وَلما كَانَ هَذَا الِاسْتِدْلَال صَحِيحا فَهُوَ مُشْتَرك بَين الْحَنَفِيَّة والمالكية فقد تقدم أَن مَالِكًا عاصر أَبَا حنيفَة رحمه الله سبعا وَخمسين سنة وَلم يثبت أَن أَحدهمَا تأهل للِاجْتِهَاد قبل صَاحبه وكل مِنْهُمَا من الْقُرُون المفضلة
তাবিঈগণ; আর তা কেবল দ্বীনের অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের গভীর জ্ঞান এবং রাসুলকুলের শিরোমণির নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিতাব ও সুন্নাহর ইলম এবং পবিত্র সাহাবায়ে কিরামের আসারের অনুসরণের কারণেই সম্ভব হয়েছিল। কিয়াসের ক্ষেত্রে যেসকল বিষয়ে সংশয় উৎপন্ন হয়, তাঁদের গভীর প্রজ্ঞা তা দূর করে দিয়েছিল; কারণ তাঁরা ত্রুটিযুক্ত ও বিভ্রান্তিকর বিষয়সমূহ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছিলেন। তাঁরা যা সত্য হিসেবে পেয়েছেন তা পরিবর্তন করা এবং সত্যের সাথে অসত্যের সংমিশ্রণ ঘটানো থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। ইমাম আবু হানিফা (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ ইমাম, অনন্য ফকিহ, কিতাব ও সুন্নাহর প্রাজ্ঞ আলিম, আহলুস সুন্নাহর পথযাত্রী এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী। তাঁর অনুসারীগণ ছিলেন পবিত্র ও প্রাজ্ঞ আলিম, তাঁরা বিদআতপন্থী বা প্রবৃত্তিপূজারী ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন মুজতাহিদ, সত্যের স্বরূপ উদঘাটনে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, চাই তা বড় কোনো বিষয় হোক বা সূক্ষ্ম। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাদের কল্যাণের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা অন্য কোনো মুজতাহিদের তুলনায় অনুসরণের জন্য অধিকতর যোগ্য। (সমাপ্ত)

ব্যাখ্যা: এই যুক্তিটি সঠিক নয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামগ্রিকভাবে সেই যুগগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের কথা বর্ণনা করেছেন। অথচ শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে এমন ব্যক্তিও থাকতে পারেন যার চেয়ে পরবর্তী যুগের কেউ শ্রেষ্ঠ হতে পারেন, যেমন হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ)। সুতরাং কেবল সেই যুগের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে পরবর্তী যুগের কারো ওপর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের দলিল দেওয়া সঠিক নয়। বরং শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো সমসাময়িকদের মাঝে সত্যে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগামিতা, যেমন প্রথম ভাগে ইসলাম গ্রহণকারীদের পরবর্তী ভাগে ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; কেবল আগে বিদ্যমান থাকার কারণে নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির ন্যায়, জানা যায় না এর প্রথম অংশ উত্তম নাকি শেষ অংশ।" (তিরমিযী)। এই যুক্তিটি যদি সঠিক ধরা হয়, তবে তা হানাফি ও মালিকি—উভয় মাজহাবের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। কেননা ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, ইমাম মালিক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ইমাম আবু হানিফা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর সমসাময়িক হিসেবে সাতান্ন বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁদের একজনের ওপর অন্যজনের ইজতিহাদের যোগ্যতা আগে অর্জিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আর তাঁদের প্রত্যেকেই সেই শ্রেষ্ঠ যুগগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ورسخوا ذَلِك بِأَن قَالُوا مَذْهَب مَالك مَذْهَب أهل الْمَدِينَة الشَّرِيفَة النَّبَوِيَّة دَار الْهِجْرَة وَدَار النُّصْرَة الَّتِي من الله فِيهَا لرَسُوله صلى الله عليه وسلم الاسلام وشرائعه وإليها هَاجر الْمُهَاجِرُونَ إِلَى الله وَرَسُوله وَبهَا كَانَ للْأَنْصَار وَالتَّابِعِينَ وتابعيهم أصح الْمذَاهب أهل الْمَدَائِن الاسلامية وَلَا شكّ أَن مَالِكًا رحمه الله كَانَ من تَابِعِيّ التَّابِعين من الْقُرُون المفضلة وفلي هَذِه الْقُرُون الَّتِي أثنى عَلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمذهب أهل الْمَدِينَة أصح مَذَاهِب أهل الْمَدَائِن إِذْ آثَار النُّبُوَّة فِيهَا بَاقِيَة لم تَتَغَيَّر كَمَا تقدم التَّنْبِيه على بعض ذَلِك من قَوْلهم وَهُوَ فِي الْقُوَّة كَمَا ترى يحكون عَن الشَّافِعِي رحمه الله أَنه قَالَ لَهُ مُحَمَّد بن الْحسن أَيهمَا أعلم صَاحبكُم أَو صاحبنا يَعْنِي أَبَا حنيفَة ومالكا رحمهمَا الله قلت على الْإِنْصَاف قَالَ نعم قلت فأنشدك الله من أعلم بِالْقُرْآنِ صاحبنا أَو صَاحبكُم قَالَ اللَّهُمَّ صَاحبكُم قلت أنْشدك الله من أعلم بِالسنةِ صاحبنا أَو صَاحبكُم قَالَ اللَّهُمَّ صَاحبكُم قلت فأنشدك الله من أعلم بأقاويل أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صاحبنا أَو صَاحبكُم قَالَ اللَّهُمَّ صَاحبكُم قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله فَلم يبْق إِلَّا الْقيَاس وَالْقِيَاس لَا يكون إِلَّا على هَذِه الْأَشْيَاء فعلى أَي شَيْء تقيس ويستدلون أَيْضا من الْمَنْقُول بِمَا هُوَ أخص من هَذَا الحَدِيث وَهُوَ الحَدِيث الَّذِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَغَيره عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (يُوشك أَن يضْرب النَّاس أكباد الْإِبِل فِي طلب الْعلم فَلَا يَجدونَ عَالما أعلم من عَالم

তারা একে এই বলে সুদৃঢ় করেছেন যে, মালেকী মাজহাব হলো পবিত্র নববী নগরী মদীনার অধিবাসীদের মাজহাব—যা হিজরতের কেন্দ্র ও নুসরাতের (সাহায্যের) ভূমি। এখানেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য ইসলাম ও এর শরীয়াহর ভিত্তি সুসংহত করেছেন। এই নগরীর দিকেই মুহাজিরগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিলেন। এখানেই আনসার, তাবিঈন এবং তাঁদের অনুসারীদের (তাবে-তাবিঈন) মাঝে ইসলামী শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মাজহাব বিদ্যমান ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের তাবে-তাবিঈনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সেই বরকতময় যুগগুলোর মানুষ ছিলেন, যেগুলোর প্রশংসা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেন। মদীনার অধিবাসীদের মাজহাব অন্যান্য শহরের মাজহাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ, কারণ সেখানে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ অবিকৃতভাবে বিদ্যমান ছিল, যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁদের বক্তব্য থেকে কিছু সংকেত প্রদান করা হয়েছে। আর এর যৌক্তিক শক্তিও আপনার কাছে সুস্পষ্ট।

ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত আছে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনাদের সাথি বেশি জ্ঞানী নাকি আমাদের সাথি?" অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)। আমি (শাফিঈ) বললাম, "ইনসাফের সাথে উত্তর দেব কি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আমি বললাম, "আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কুরআনের জ্ঞানে কে বেশি পারদর্শী? আমাদের সাথি নাকি আপনাদের সাথি?" তিনি বললেন, "অবশ্যই আপনাদের সাথি (ইমাম মালিক)।" আমি বললাম, "আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, সুন্নাহর জ্ঞানে কে বেশি পারদর্শী? আমাদের সাথি নাকি আপনাদের সাথি?" তিনি বললেন, "অবশ্যই আপনাদের সাথি।" আমি বললাম, "আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের বাণীর বিষয়ে কে বেশি অবগত? আমাদের সাথি নাকি আপনাদের সাথি?" তিনি বললেন, "অবশ্যই আপনাদের সাথি।" ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তখন বললেন, "তবে তো কেবল কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) বাকি রইল। আর কিয়াস তো পূর্বোক্ত এই বিষয়গুলোর (কুরআন, সুন্নাহ ও আসার) ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। সুতরাং (উৎসসমূহ যেখানে আমাদের নিকট বেশি, সেখানে) আপনারা কিসের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করবেন?"

তাঁরা বর্ণিত দলিলের মধ্য থেকে এমন একটি হাদিস দ্বারাও প্রমাণ পেশ করেন যা এই প্রসঙ্গের সাথে আরও সুনির্দিষ্টভাবে সম্পর্কিত। আর তা হলো সেই হাদিস যা তিরমিজি ও অন্যান্য ইমামগণ নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "এমন এক সময় নিকটবর্তী যখন মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্তে সফর করবে (উটের কলিজায় আঘাত করবে), কিন্তু তারা মদীনার সেই আলেমের চেয়ে বড় কোনো আলেম খুঁজে পাবে না।"

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْمَدِينَة) وَقد روى عَن غير وَاحِد كَابْن جريج وَابْن عُيَيْنَة وَغَيرهم أَنهم قَالُوا هُوَ مَالك وَالَّذين نازعوا فِي ذَلِك لَهُم مأخذان أَحدهمَا الطعْن فِي الحَدِيث فَزعم بَعضهم أَن فِيهِ انْقِطَاعًا وَالثَّانِي أَنه أَرَادَ غير مَالك كالعمري الزَّاهِد وَقد أجابوا عَن ذَلِك بِأَنَّهُ لم يكن فِي عصر مَالك أحد ضرب النَّاس أكباد الْإِبِل إِلَيْهِ أَكثر من مَالك فِي ذَلِك الْعَصْر فَإِنَّهُ رحمه الله تَأَخّر مَوته عَنْهُم وَلَا رَحل إِلَى أحد من عُلَمَاء الْمَدِينَة مَا رَحل إِلَى مَالك رحمه الله لَا قبله وَلَا بعده وَمَعَ هَذَا فقد عرض عَلَيْهِ الرشيد وَغَيره أَن يحمل النَّاس على موطأه فَامْتنعَ من ذَلِك وَقَالَ إِن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تفَرقُوا فِي الْأَمْصَار وَإِنَّمَا جمعت علم أهل بلدي أَو كَمَا قَالَ رحمه الله

وَمِنْهَا قَوْله م: وَأما الْعقل فلتقدمه واختصاصه بتدوين علم الْفِقْه وإشخاصه فَإِنَّهُ صور الْمسَائِل وَأجَاب عَنْهَا وأوضح الْأَسْبَاب والعلل وَبنى عَلَيْهَا وَقد حكى أَن بعض الشَّافِعِيَّة فِي زمن الْمُزنِيّ كَانَ يغض من أبي حنيفَة رحمه الله فَبلغ ذَلِك الْمُزنِيّ فَقَالَ لَهُ مَالك وامرءا سلم لَهُ الْعلمَاء ثَلَاثَة أَربَاع الْعلم وَهُوَ لَا يسلم لَهُم ربعه فَقَالَ الرجل كَيفَ ذَلِك يَا إِمَام فَقَالَ الْعلم نصفه سُؤال وَنصفه جَوَاب فَأَما النّصْف الأول فقد اخْتصَّ بِهِ أَبُو حنيفَة رحمه الله لم يُشَارِكهُ فِيهِ أحد وَأما النّصْف الآخر فَهُوَ يَقُول كُله لَهُ لِأَنَّهُ أصَاب فِي اجْتِهَاده وَغَيره يَقُول الْمُجْتَهد يخطىء
(মদিনার আলেম) ইবনে জুরাইজ এবং ইবনে উয়ায়নাহসহ একাধিক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন তিনি হলেন ইমাম মালিক। যারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন তাদের দুটি যুক্তি রয়েছে: প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা; তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এর সূত্রে বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাদের মতে এই হাদিসে ইমাম মালিক ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেমন আবেদ আল-উমারী। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ইমাম মালিকের যুগে জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর মতো দূর-দূরান্ত থেকে উটের পিঠে চড়ে সফর করার মতো ব্যক্তিত্ব আর কেউ ছিলেন না। কেননা তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সমসাময়িকদের তুলনায় দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এবং মদিনার আলেমদের মধ্যে তাঁর কাছে ইলম অন্বেষণে যে পরিমাণ সফর হয়েছে, তা তাঁর পূর্বে বা পরে আর কারও ক্ষেত্রে ঘটেনি। এতদসত্ত্বেও হারুনুর রশিদসহ অন্যান্যরা যখন তাঁকে তাঁর সংকলিত ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থটি পালনে জনগণকে বাধ্য করার প্রস্তাব দেন, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং আমি কেবল আমার শহরের (মদিনার) আলেমদের জ্ঞান সংকলন করেছি"—অথবা তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যেমনটি বলেছিলেন।

এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (গ্রন্থকারের) উক্তি: আর বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি হলো, ফিকহ শাস্ত্রের সংকলন এবং এর বিন্যাস ও উপস্থাপনায় তাঁর অগ্রণী ভূমিকা। তিনি বিভিন্ন মাসআলা বা সমস্যার রূপরেখা তৈরি করেছেন, সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন এবং এগুলোর কারণ ও যুক্তি (ইল্লাত) স্পষ্ট করে তার ওপর সিদ্ধান্ত নির্মাণ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, ইমাম মুজানির যুগে জনৈক শাফেয়ী মতাবলম্বী ইমাম আবু হানিফাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সমালোচনা করছিলেন। এ সংবাদ মুজানির কাছে পৌঁছালে তিনি তাকে বললেন, "তোমার কী হয়েছে যে এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করছ, যার জন্য ওলামায়ে কেরাম জ্ঞানের তিন-চতুর্থাংশ মেনে নিয়েছেন, অথচ তিনি তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশও মানেননি?" লোকটি জিজ্ঞাসা করল, "হে ইমাম, সেটি কীভাবে?" তিনি বললেন, "জ্ঞানের অর্ধেক হলো প্রশ্ন আর বাকি অর্ধেক উত্তর। প্রথম অর্ধেকের (অর্থাৎ প্রশ্ন উত্থাপনের) ক্ষেত্রে আবু হানিফাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অনন্য ছিলেন, সেখানে কেউ তাঁর অংশীদার ছিল না। আর দ্বিতীয় অর্ধেকের (উত্তরের) ক্ষেত্রে তিনি মনে করতেন এর পুরোটাই তাঁর, কারণ তিনি তাঁর ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, যেখানে অন্যরা মনে করেন মুজতাহিদ ভুলও করতে পারেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويصيب أصَاب فِي بعض وَأَخْطَأ فِي بعض فقد سلمُوا لَهُ ثَلَاثَة أَربَاع الْعلم كَمَا ترى وَهُوَ لَا يسلم لَهُم ربعه فَتَابَ الرجل عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ وَلَعَلَّ هَذَا معنى قَول الإِمَام الشَّافِعِي رحمه الله النَّاس عِيَال على أبي حنيفَة رحمه الله فِي الْفِقْه وتقليد الأقدم فِي الاستنباط أولى لِأَنَّهُ هُوَ الَّذِي أَخذ مَا أَخذ من المآخذ وعض عَلَيْهَا بالنواجذ والأضراس وَغَيره الْتقط مَا من أقلامه سقط وَحَازَ مَا افرط مِنْهُ أَن أفرط وَهَذَا أَمر يعرفهُ ذَوُو التَّحْصِيل فَلَا يحْتَاج إِلَى دَلِيل وَلَا تَعْلِيل وَكفى استياسا وتنبيها بِمَا أنْشدهُ الحريري فِي مقاماته الَّذِي حَاز قصبات السَّبق فِي مقالاته

(فَلَو قبل مبكاها بَكَيْت صبَابَة … للسعدى شفيت النَّفس قبل المتندم)

(وَلَكِن بَكت قبلي فهيج لي الْبكاء … بكاءها فَقلت الْفضل للمتقدم)

انْتهى ش: فَأَما استدلاله بالتقدم فقد تقدم التَّنْبِيه على بعض مَا فِيهِ وَأما استدلاله باختصاصه بتدوين علم الْفِقْه فَمَمْنُوع لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أَنه لم يدون بِنَفسِهِ فِي الْفِقْه مصنفا ينْسب إِلَيْهِ وَإِنَّمَا صنف أَصْحَابه بعده على مذْهبه مَا صنفوه

وَالثَّانِي أَنه غير مُخْتَصّ بتصوير الْمسَائِل وَالْجَوَاب عَنْهَا إِن كَانَ هَذَا هُوَ مُرَاده بتدوين علم الْفِقْه فقد فعل هَذَا غَيره من عُلَمَاء الْمُسلمين وعابه بَعضهم وَقَالَ إِن الْوَاجِب ضبط أصُول ذَلِك من الْكتاب وَالسّنة حَتَّى إِذا وَقعت حَادِثَة طلب معرفَة الحكم فِيهَا من مظانه وَالْعُلَمَاء مُخْتَلفُونَ فِي بيع الْكتب الَّتِي فِيهَا الْعلم بِالرَّأْيِ هَل يجوز أم لَا على قَوْلَيْنِ

وَعَن عَليّ رضي الله عنه أَنه كَانَ إِذا أرسل إِلَيْهِ بعض نوابه يسْأَله عَن قَضِيَّة من قضايا الْجد مَعَ الاخوة يَأْمر فِيهَا بِاجْتِهَادِهِ وَيَقُول قطع
তিনি কোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; এর মাধ্যমে তারা তাকে ইলমের তিন-চতুর্থাংশ প্রদান করেছেন যেমনটি আপনি দেখছেন, অথচ তিনি তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশও স্বীকার করেন না। অতঃপর সেই ব্যক্তি তার পূর্বাবস্থান থেকে তওবা করলেন। সম্ভবত ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই বাণীর অর্থ এটাই: "ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সকল মানুষ আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুখাপেক্ষী।" আর ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ধারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করাই অধিক উত্তম; কারণ তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মূল উৎসসমূহ থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন। পক্ষান্তরে অন্যরা কেবল তাঁর কলম থেকে যা বিচ্যুত হয়েছে তা কুড়িয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর থেকে যা অতিরিক্ত রয়ে গিয়েছিল তা অর্জন করেছেন। এটি এমন এক বিষয় যা উচ্চতর ইলম অর্জনকারীরা জানেন, তাই এর জন্য কোনো দলিল বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতার জন্য আল-হারীরী তাঁর 'মাকামাত' গ্রন্থে যা আবৃত্তি করেছেন তাই যথেষ্ট, যিনি তাঁর বাচনভঙ্গিতে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন।

(যদি তার ক্রন্দনের পূর্বে আমি অনুরাগে কাঁদতাম … তবে অনুশোচনাকারীর পূর্বেই আমি প্রাণের প্রশান্তি লাভ করতাম।)

(কিন্তু সে আমার পূর্বেই ক্রন্দন করল, ফলে তার ক্রন্দন আমাকে ব্যথিত করল … তাই আমি বললাম, শ্রেষ্ঠত্ব তো অগ্রবর্তীদের জন্যই।)

সমাপ্ত। ব্যাখ্যা: অগ্রবর্তিতার মাধ্যমে তাঁর দলিল পেশ করার বিষয়টি এবং তাতে যা নিহিত রয়েছে সে সম্পর্কে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছে। আর ফিকহ শাস্ত্র সংকলনে তাঁর একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে যে দলিল দেওয়া হয়েছে, তা দুটি কারণে অগ্রহণযোগ্য।

প্রথমত: তিনি নিজে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কোনো গ্রন্থ সংকলন করেননি; বরং তাঁর অনুসারীরাই তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর মাযহাব অনুযায়ী যা সংকলন করার তা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: মাসআলাসমূহ চিত্রায়ন করা এবং সেগুলোর উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি একক কেউ নন। যদি ফিকহ শাস্ত্র সংকলন বলতে এটিই উদ্দেশ্য হয়, তবে মুসলিম উম্মাহর অন্যান্য আলেমগণও এটি করেছেন। এমনকি কেউ কেউ এর সমালোচনাও করেছেন এবং বলেছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহের মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করা আবশ্যক, যাতে কোনো নতুন ঘটনা ঘটলে তার যথাযথ উৎস থেকে বিধানটি খুঁজে বের করা যায়। আর ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতে রচিত ইলমী কিতাবসমূহ ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ কি না, সে বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।

হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর কোনো প্রতিনিধি তাঁর কাছে ভাইদের সাথে দাদার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করে পাঠাতেন, তখন তিনি তাকে ইজতিহাদ করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন: এটি চূড়ান্ত ফয়সালা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الْكتب كَأَنَّهُ رضي الله عنه رأى إِنَّه إِنَّمَا يتَكَلَّم فِيهَا بِالِاجْتِهَادِ للضَّرُورَة فالضرورة تبيحه كالميتة وَكره أَن يُقَلّد غَيره من غير اجْتِهَاده فَأمر بتقطيع الْكتاب لذَلِك بِخِلَاف مَا إِذا كَانَ مَعَه نَص فَإِنَّهُ يبلغهُ وَيَأْمُر بتبليغه وَلَا يَأْمر بِقطع كِتَابه

وَأما قَوْله إِن تَقْدِيم الأقدم فِي الإستنباط أولى فَإِن ذَلِك غير مُسلم بل قد يكون التلميذ أفضل من شَيْخه كَمَا تقدم

فَيُقَال لَهُ إِن كنت قلدته لكَونه أقدم فِي الإستنباط فقلد شَيْخه لإنه أقدم مِنْهُ وَكَذَلِكَ من هُوَ أقدم حَتَّى يَنْتَهِي الْأَمر إِلَى أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

فَإِن أَبى قيل لَهُ كَيفَ يجوز تَقْلِيد من هُوَ أَصْغَر وَأَقل علما وَلَا يجوز تَقْلِيد من هُوَ أكبر وَأكْثر علما وَهَذَا تنَاقض بَين

وَإِن قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله جمع علم من قبله إِلَى علمه قيل لَهُ فَمن جَاءَ بعد أبي حنيفَة رحمه الله قد جمع علمه إِلَى علمه فيلزمك تَقْلِيده

فَإِن قَالَ نعم فقد جعل صغَار الْعلمَاء أولى بالتقليد من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ورضى عَنْهُم وَإِلَّا تنَاقض

وَأما قَوْله فِي الْحِكَايَة الَّتِي تنْسب إِلَى الْمُزنِيّ أَنه قَالَ إِن أَبَا حنيفَة رحمه الله سلم لَهُ النَّاس إِلَى فِيهِ أحد فَإِن هَذِه الْحِكَايَة لَا أَظن انها
গ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্ভবত এই অভিমত পোষণ করতেন যে, ইজতিহাদের মাধ্যমে মাসআলা বর্ণনা করা কেবল প্রয়োজনের খাতিরেই হয়ে থাকে; আর প্রয়োজনীয়তা একে মৃত পশুর মাংসের ন্যায় বৈধতা দান করে। তিনি অপছন্দ করতেন যে, কেউ নিজের ইজতিহাদ ব্যতিরেকেই অন্যের তাকলিদ বা অনুকরণ করুক। এই কারণেই তিনি সেই কিতাবটি খণ্ড-বিখণ্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে যখন তাঁর নিকট কোনো নস বা অকাট্য প্রমাণ থাকত, তখন তিনি তা প্রচার করতেন এবং অন্যদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দিতেন; সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর কিতাব নষ্ট করার নির্দেশ দিতেন না।

আর তাঁর এই দাবি যে—বিধান আহরণ বা ইস্তিম্বাতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক শ্রেয়—তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং অনেক সময় ছাত্র তাঁর শিক্ষকের চেয়েও অধিক ফযীলতপূর্ণ হতে পারেন, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

এমতাবস্থায় তাকে বলা হবে: যদি আপনি তাঁর ইস্তিম্বাতের ক্ষেত্রে প্রাচীন হওয়ার কারণে তাঁর তাকলিদ করে থাকেন, তবে তাঁর শিক্ষকের তাকলিদ করুন, কেননা তিনি তাঁর চেয়েও প্রাচীন। একইভাবে ধারাবাহিকভাবে তাদেরই অনুসরণ করুন যারা অধিকতর প্রাচীন, যতক্ষণ না বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়।

যদি তিনি তা অস্বীকার করেন, তবে তাকে বলা হবে: যিনি বয়সে ছোট এবং ইলমে কম, তাঁর তাকলিদ করা কীভাবে বৈধ হতে পারে, অথচ যিনি বয়সে বড় এবং ইলমে অধিক, তাঁর তাকলিদ করা বৈধ হবে না? এটি একটি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা।

যদি তিনি বলেন যে, আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পূর্ববর্তীদের জ্ঞানকে নিজের জ্ঞানের সাথে পুঞ্জীভূত করেছেন; তবে তাকে বলা হবে: তবে তো আবু হানিফার (রাহিমাহুল্লাহ) পরে যারা এসেছেন, তারা আবু হানিফার জ্ঞানকে নিজেদের জ্ঞানের সাথে যুক্ত করেছেন; সুতরাং আপনার জন্য তাঁদেরই তাকলিদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

যদি তিনি তা স্বীকার করে নেন, তবে তিনি কনিষ্ঠ আলেমদের তাকলিদ করাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) চেয়েও অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য সাব্যস্ত করলেন। অন্যথায় এটি স্ববিরোধী হবে।

আর আল-মুযানীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত সেই বর্ণনার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য—যেখানে বলা হয়েছে যে, আবু হানিফার (রাহিমাহুল্লাহ) শ্রেষ্ঠত্ব সকল মানুষ একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিল—নিশ্চয়ই এই বর্ণনাটি সম্পর্কে আমি মনে করি না যে এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৮)
تصح عَن الْمُزنِيّ لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أَن قَوْله أَن ابا حنيفَة اخْتصَّ بِالنِّصْفِ الأول الَّذِي هُوَ السُّؤَال لَا يُشَارِكهُ فِيهِ أحد لَا يَصح لِأَن الْحَوَادِث لَا زَالَت تتجدد وَيسْأل عَنْهَا وتصور أسئلة وَيُجَاب عَنْهَا قبل أبي حنيفَة رحمه الله وَمَعَهُ وَبعده وَلَا يَدعِي الإختصاص وَعدم الْمُشَاركَة فِي ذَلِك إِلَّا متعصب جَاهِل

وَالثَّانِي إِن السُّؤَال لَا يَصح أَن يكون نصف الْعلم وَلَا شَيْئا مِنْهُ وَإِنَّمَا الْعلم الشَّرْعِيّ وَمَعْرِفَة الْأَحْكَام فِي الْمسَائِل الشَّرْعِيَّة بأدلتها وَلَا يدْخل السُّؤَال بِوَجْه والتشقيق فِي الأسئلة وتوليدها يُدْرِكهُ عوام النَّاس وَإِنَّمَا يخْتَص الْعلمَاء بِمَعْرِِفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة بأدلتها وإستنباطها

وَمِنْهَا قَوْله م: المبحث الثَّانِي فِي فضل اجْتِهَاده اعْلَم أَن الْأمة إِذا اخْتلفُوا فِي مَسْأَلَة على قَوْلَيْنِ وَاسْتقر خلافهم على ذَلِك لَا يجوز لأحد بعد ذَلِك أَن يحدث قولا ثَالِثا عِنْد عَامَّة الْعلمَاء وَأما قبل الِاسْتِقْرَار فَهُوَ جَائِز بِلَا خلاف وَأَبُو حنيفَة رحمه الله اجْتهد قبل اسْتِقْرَار الْمذَاهب وصادف اجْتِهَاده مَحَله فَكَانَ جَائِزا بِلَا خلاف ثمَّ من اجْتهد بعد ذَلِك فَإِنَّمَا اجْتهد بعد اسْتِقْرَار الْمذَاهب وَذَلِكَ لَا يجوز عِنْد أَكثر الْعلمَاء كَمَا مر وَمَا كَانَ جَائِزا بِلَا خلاف فَهُوَ أفضل مِمَّا كَانَ مُخْتَلفا فِيهِ والمنازع مكابر وَقد صرح أَبُو بكر الرَّازِيّ فِي شرح آثَار الطَّحَاوِيّ بِأَن اجْتِهَاد من بعد أبي حنيفَة رحمه الله غير مُعْتَد بِهِ وتقليد الْأَفْضَل أفضل وَإِن لم يكن وَاجِبا فان بعض الْعلمَاء ذهب إِلَى أَن تَقْلِيد الْأَفْضَل أفضل انْتهى

ش: فَإِن الَّذِي ذكره أهل الْأُصُول فِي هَذَا الأَصْل أَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم إِذا اخْتلفُوا فِي مسئلة على قَوْلَيْنِ فَلَيْسَ لمن بعدهمْ أَن يَقُول قولا ثَالِثا إِن كَانَ ذَلِك بعد اسْتِقْرَار مذاهبهم فِيمَا قَالُوا وَكَذَلِكَ اخْتِلَاف الْعلمَاء فِي كل عصر على أَقْوَال رد القَوْل الْحَادِث بعد اسْتِقْرَار الْخلاف على
আল-মুযানী (রহ.)-এর পক্ষ থেকে এটি দুটি কারণে শুদ্ধ হয়:

প্রথমত: তাঁর এই দাবি যে, আবু হানিফা (রহ.) ইলমের প্রথম অর্ধাংশ তথা প্রশ্ন উত্থাপন করার বিষয়ে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং এতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়—তা সঠিক নয়। কারণ নিত্যনতুন ঘটনাবলি সর্বদা ঘটে চলেছে এবং আবু হানিফা (রহ.)-এর পূর্বে, তাঁর সমসাময়িককালে এবং তাঁর পরেও সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, প্রশ্নের অবয়ব কল্পনা করা হয়েছে এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করা হয়েছে। এই বিষয়ে একক বৈশিষ্ট্য বা অন্য কারো অংশীদার না থাকার দাবি কেবল একজন অজ্ঞ ও গোঁড়া ব্যক্তিই করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: সওয়াল বা প্রশ্ন করা ইলমের অর্ধেক হওয়া কিংবা ইলমের কোনো অংশ হওয়া সঠিক নয়। বরং শরয়ি ইলম হলো দলিল-প্রমাণসহ শরয়ি মাসআলাসমূহের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মধ্যে কোনোভাবেই প্রশ্ন করা অন্তর্ভুক্ত নয়। আর প্রশ্নের শাখা-প্রশাখা বের করা ও প্রশ্ন উদ্ভাবন করা সাধারণ মানুষের পক্ষেও সম্ভব; কিন্তু আলেমগণ কেবল দলিল-প্রমাণসহ শরয়ি বিধানাবলি জানা এবং তা থেকে মাসআলা ইস্তিনবাত বা উদ্ভাবন করার মাধ্যমেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন।

তাঁর উক্তিগুলোর মধ্যে এটিও একটি: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইজতিহাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে। জেনে রাখুন যে, উম্মাহ যখন কোনো মাসআলায় দুটি মতে বিভক্ত হয় এবং তাঁদের বিরোধ সেই দুই মতেই স্থির হয়ে যায়, তখন অধিকাংশ আলেমের মতে এর পর তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন করা কারো জন্য জায়েজ নয়। তবে বিরোধটি স্থির হওয়ার পূর্বে তা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ। আবু হানিফা (রহ.) মাজহাবসমূহ সুসংহত ও স্থির হওয়ার পূর্বেই ইজতিহাদ করেছেন এবং তাঁর ইজতিহাদ যথার্থ ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে, যা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ ছিল। অতঃপর যারা এর পরে ইজতিহাদ করেছেন, তাঁরা মূলত মাজহাবসমূহ স্থির হওয়ার পরেই তা করেছেন; যা অধিকাংশ আলেমের মতে জায়েজ নয়, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ, তা বিতর্কিত বিষয়ের চেয়ে উত্তম; এক্ষেত্রে বিরোধকারী ব্যক্তি মূলত সত্য অস্বীকারকারী। আবু বকর আল-রাজি ‘শারহু আসারিত তাহাবি’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবু হানিফা (রহ.)-এর পরবর্তী কারো ইজতিহাদ গ্রহণযোগ্য নয়। আর অধিকতর উত্তম ব্যক্তিকে অনুসরণ করাও উত্তম, যদিও তা ওয়াজিব না হয়; কেননা কোনো কোনো আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, সর্বোত্তম ব্যক্তির তাকলিদ করা উত্তম। সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা: উসূলবিদগণ এই মূলনীতি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যখন কোনো মাসআলায় দুটি মতে বিভক্ত হতেন, তখন তাঁদের সেই মতসমূহ স্থির হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তৃতীয় কোনো মত পোষণ করার সুযোগ থাকে না। একইভাবে, প্রত্যেক যুগের আলেমগণ যখন কয়েকটি মতের ওপর স্থির হন, তখন সেই বিরোধ সুসংহত হওয়ার পর নতুন কোনো মতের উদ্ভবকে প্রত্যাখ্যান করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مَا فِي هَذَا الأَصْل من الْخلاف وعَلى تَقْدِير صِحَّته لَا يلْزم مِنْهُ رد قَول مَالك وَالثَّوْري وَالْأَوْزَاعِيّ وَاللَّيْث وأمثال هَؤُلَاءِ المعاصرين لأبي حنيفَة إِذا خالفوه فِي مَسْأَلَة فَإِن الْمَذْهَب لم يسْتَقرّ بِزَعْمِهِ وَإِنَّمَا يلْزم مِنْهُ أَن الصَّحَابَة إِذا اتَّفقُوا فِي مَسْأَلَة على حكم أَو اخْتلفُوا فِيهَا على قَوْلَيْنِ أَو أَكثر أَنه لَيْسَ لمن بعدهمْ أَن يحدث فِيهَا قولا آخر

وَهَذَا الأَصْل مُشكل على الْمُقَلّد فِي مسَائِل

مِنْهَا مَسْأَلَة الحكم بالنظير فِي قتل الصَّيْد حَالَة الْإِحْرَام فَإِنَّهُ حكم اتّفقت الصَّحَابَة عَلَيْهِ وَالْقَوْل بِالْقيمَةِ حَادث وَهُوَ قَول أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف خلافًا لمُحَمد

وَمِنْهَا مَسْأَلَة اللوطي فَإِن أَبَا حنيفَة يرى تعزيزه دون حَده وَلم يقل أحد من الصَّحَابَة رضي الله عنهم بالاكتفاء بتعزيزه وَإِنَّمَا اخْتلفُوا فِي كَيْفيَّة قَتله فَمُقْتَضى هَذَا الأَصْل أَنه لَا يجوز الإكتفاء بتعزيزه لِأَنَّهُ قَول
এই মূলনীতির (আসল) মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতার নিরিখেও, ইমাম মালিক, সাওরি, আওজা’ই, লাইস এবং ইমাম আবু হানিফার সমসাময়িক অনুরূপ ফকীহগণের বক্তব্য প্রত্যাখান করা আবশ্যক হয় না যখন তাঁরা কোনো মাসআলায় তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। কারণ তাঁর দাবি অনুযায়ী তখনও মাযহাব সুসংহত হয়নি। বরং এর দ্বারা যা আবশ্যক হয় তা হলো, সাহাবায়ে কেরাম যখন কোনো মাসআলার হুকুমের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন অথবা দুই বা ততোধিক মতে বিভক্ত হন, তখন তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাতে নতুন কোনো মত উদ্ভাবন করার অবকাশ থাকে না।

আর এই মূলনীতিটি কয়েকটি মাসআলায় মুকাল্লিদের জন্য সমস্যাসংকুল।

তার মধ্যে একটি হলো ইহরাম অবস্থায় শিকার করার ক্ষেত্রে সমজাতীয় বা অনুরূপ জরিমানা প্রদানের মাসআলা। এটি এমন একটি বিধান যে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর শিকারের আর্থিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি একটি পরবর্তী উদ্ভাবিত অভিমত, যা ইমাম মুহাম্মদের বিপরীতে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের বক্তব্য।

অন্যটি হলো সমকামী ব্যক্তির মাসআলা; ইমাম আবু হানিফার মতে তাকে 'হদ' প্রদানের পরিবর্তে কেবল 'তাযীর' (লঘুদণ্ড) প্রদান করতে হবে। অথচ সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে কেউই কেবল তাযীর প্রদানের কথা বলেননি; বরং তাঁরা তাকে হত্যার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ করেছেন। সুতরাং এই মূলনীতির দাবি অনুযায়ী, তাকে কেবল তাযীর প্রদান করা জায়েয হবে না, কারণ এটি একটি (পরবর্তী উদ্ভাবিত) মত।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪০)
حَادث بعد إستقرار الْخلاف بَين الصَّحَابَة على أَقْوَال لَيْسَ هُوَ مِنْهَا ونظائر هَاتين الْمَسْأَلَتَيْنِ كَثِيرَة فَظهر أَن هَذَا الأَصْل الَّذِي ذكره حجَّة عَلَيْهِ فِي تَقْلِيده لَا لَهُ

وَكم قد خَالف أَبَا حنيفَة أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد وَزفر وَغَيرهم من أَصْحَابه فِي مسَائِل لَا تكَاد تحصى وَكم قد رجعُوا عَن مَسْأَلَة لما ظهر لَهُم فِيهَا الدَّلِيل على خلاف مَا كَانُوا وافقو فِيهِ وَقد قَالَ ابو يُوسُف لما رَجَعَ عَن قَوْله فِي مِقْدَار الصَّاع وَعَن صَدَقَة الخضروات وَغَيرهَا لَو رأى صَاحِبي مَا رايت لرجع كَمَا رجعت وَإِنَّمَا قَالَ ذَلِك لِأَنَّهُ يعلم من أبي حنيفَة رحمه الله أَنه إِذا ظهر لَهُ الدَّلِيل رَجَعَ إِلَيْهِ

وَمن ظن أَن أَبَا حنيفَة أَو غَيره من أَئِمَّة الْمُسلمين يتَعَمَّد مُخَالفَة الحَدِيث الصَّحِيح أَو غَيره أَو أَنه إِذا قَالَ بِالْقِيَاسِ ثمَّ ظهر لَهُ النَّص لَا يرجع إِلَيْهِ فقد أَخطَأ عَلَيْهِم بل لَو تبين لَهُ خطأ ذَلِك الْقيَاس لرجع عَنهُ إِلَى مَا هُوَ أصح مِنْهُ وَإِن لم يكن ثمَّ نَص فَكيف إِذا ظهر لَهُ النَّص فاذا سَاغَ هَذَا لأَصْحَاب أبي حنيفَة رحمه الله كَيفَ لَا يسوغ لغَيرهم وَالرُّجُوع إِلَى الْحق خير من التَّمَادِي فِي الْبَاطِل فَقَوله وَأَبُو حنيفَة اجْتهد قبل
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু মতের ওপর মতপার্থক্য স্থির হওয়ার পর এটি একটি নতুন উদ্ভূত বিষয়, যা সেই মতগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। এই দুটি মাসআলার অনুরূপ আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যে মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, তা তাঁর তাকলিদের সপক্ষে নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধেই প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায়।

ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম জুফার এবং তাঁর অন্যান্য ছাত্রগণ অসংখ্য মাসআলায় কতবার যে ইমাম আবু হানিফার বিরোধিতা করেছেন তা গণনা করা দুষ্কর। আবার অনেক মাসআলায় তাঁরা নিজেদের পূর্বতন অবস্থান থেকে ফিরে এসেছেন, যখন তাঁদের কাছে এমন দলিল স্পষ্ট হয়েছে যা তাঁদের পূর্বমতের পরিপন্থী ছিল। ইমাম আবু ইউসুফ যখন সা‘-এর পরিমাণ, শাকসবজির জাকাত এবং অন্যান্য মাসআলায় নিজের মত পরিবর্তন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "আমার উস্তাদ (ইমাম আবু হানিফা) যদি তা দেখতেন যা আমি দেখেছি, তবে তিনিও আমার মতোই ফিরে আসতেন।" তিনি এ কথা এজন্যই বলেছিলেন কারণ তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সম্পর্কে জানতেন যে, তাঁর নিকট যখনই কোনো দলিল স্পষ্ট হতো, তিনি সেদিকেই ফিরে আসতেন।

যারা মনে করে যে, ইমাম আবু হানিফা কিংবা মুসলিম উম্মাহর অন্য কোনো ইমাম ইচ্ছাকৃতভাবে সহিহ হাদিস বা অন্য কোনো দলিলের বিরোধিতা করেছেন, অথবা কিয়াসের ভিত্তিতে কোনো মত প্রদানের পর যখন তাঁর কাছে অকাট্য পাঠ (নস) স্পষ্ট হয়েছে তখন তিনি তার দিকে ফিরে আসেননি, তারা তাঁদের ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করেছে। বরং যদি তাঁর কাছে সেই কিয়াসের ভুলও স্পষ্ট হতো, তবে তিনি তার চেয়ে অধিকতর সঠিক মতের দিকে ফিরে আসতেন, এমনকি সেখানে যদি কোনো স্পষ্ট দলিল নাও থাকত। সুতরাং যেখানে তাঁর কাছে নস বা অকাট্য প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে, সেখানে ফিরে না আসার প্রশ্নই আসে না। যদি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ছাত্রদের জন্য এমনটি করা বৈধ হয়, তবে অন্যদের জন্য কেন তা বৈধ হবে না? আর সত্যের দিকে ফিরে আসা বাতিলের ওপর অটল থাকার চেয়ে বহুগুণ উত্তম। সুতরাং তাঁর উক্তি— "এবং আবু হানিফা ইতিপূর্বেই ইজতিহাদ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪১)
اسْتِقْرَار الْمذَاهب وصادف اجْتِهَاده مَحَله إِلَى آخِره لَا يلْزم مِنْهُ تَقْلِيد أبي حنيفَة وَحده وَلَا يلْزم مِنْهُ أَنه لَا يجوز الإجتهاد فِي مَسْأَلَة لَا يعرف عَن السّلف فِيهَا قَول وَلَا أَن أحدا إِذا ظهر لَهُ رُجْحَان قَول أحد أَنه لَا يَأْخُذ بِهِ إِلَّا مَا وَافق قَول أبي حنيفَة رحمه الله والمنازع فِي هَذَا هُوَ المكابر

وَمَا نسبه إِلَى أبي بكر الرَّازِيّ من أَن اجْتِهَاد من بعد أبي حنيفَة رحمه الله غير مُعْتَد بِهِ قَول سَاقِط لِأَنَّهُ مُجَرّد دَعْوَى قد ادّعى نظيرها غَيره من المتعصبين وَاخْتلفُوا مَتى انسد بَاب الِاجْتِهَاد على أَقْوَال مَا أنزل الله بهَا من سُلْطَان فَمنهمْ من قَالَ بعد الْمِائَتَيْنِ من الْهِجْرَة وَمِنْهُم من قَالَ بعد الشَّافِعِي رحمه الله وَمِنْهُم من قَالَ بعد الْأَوْزَاعِيّ وسُفْيَان وَعند هَؤُلَاءِ أَن الأَرْض قد خلت من قَائِم لله بِحجَّة وَلم يبْق فِيهَا من يتَكَلَّم بِعلم أَو ينظر فِي كتاب الله أَو سنة رَسُوله لأخذ الْأَحْكَام مِنْهُمَا وَلَا يحكم وَلَا يُفْتِي بِمَا فيهمَا حَتَّى يعرضه على قَول مقلده ومتبوعه فَإِن وَافقه حكم بِهِ وَأفْتى بِهِ وَإِلَّا رده وَلم يقبله وَهَذِه أَقْوَال كَمَا ترى فِي غَايَة الْفساد وَالْقَوْل على الله بِغَيْر علم وَأَيْضًا فَإِن الْحَوَادِث متعاقبة الْوُقُوع فَإِذا وَقعت حَادِثَة غير منصوصة فَلَا بُد فِيهَا من الإجتهاد أَو حَادِثَة فِي الحكم فِيهَا خلاف بَين السّلف فَلَا بُد فِيهَا من الِاجْتِهَاد ليظْهر أَي الْأَقْوَال فِيهَا أقرب إِلَى مُوَافقَة الدَّلِيل من الْكتاب وَالسّنة وَإِن كَانَت تِلْكَ الْمَسْأَلَة إجماعية فَلَا يسوغ فِيهَا الإجتهاد سَوَاء ذَلِك كُله زمَان أبي حنيفَة وَبعده وَمَا يَقُول غير هَذَا إِلَّا صَاحب هوى وعصبية نسْأَل الله السَّلامَة والعافية

وَقَوله م: وتقليد الْأَفْضَل أفضل إِلَى آخِره
মাযহাবসমূহের স্থায়িত্ব এবং তাঁর ইজতিহাদ সঠিক লক্ষ্যস্থলে উপনীত হওয়া ইত্যাদি থেকে কেবল আবু হানিফার তাকলিদ করা অপরিহার্য হয়ে যায় না। এর দ্বারা এটাও জরুরি হয় না যে, এমন কোনো বিষয়ে ইজতিহাদ করা জায়েয হবে না যে বিষয়ে সালাফদের কোনো বক্তব্য জানা নেই। এমনকি এর অর্থ এটাও নয় যে, কারো কাছে যদি কোনো একটি মতের প্রাধান্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে তিনি তা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না তা আবু হানিফার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এ বিষয়ে যে বিতণ্ডা করে, সে মূলত হঠকারী ও অহংকারী।

আর তিনি আবু বকর আল-রাজি থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পরবর্তী ব্যক্তিদের ইজতিহাদ গ্রহণযোগ্য নয়—তা একটি অসার বক্তব্য। কারণ এটি নিছক একটি দাবি, যার অনুরূপ দাবি অন্যান্য গোঁড়াপন্থীরাও করেছে। ইজতিহাদের দ্বার কখন রুদ্ধ হয়েছে সে সম্পর্কে তারা বিভিন্ন মত পোষণ করেছে, যেগুলোর পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন হিজরি দুইশত বছর পর, কেউ বলেছেন ইমাম শাফেয়ীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পর, আবার কেউ বলেছেন আওযাঈ ও সুফিয়ানের পর। এদের মতে, পৃথিবী এখন এমন ব্যক্তি থেকে শূন্য হয়ে গেছে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল নিয়ে দণ্ডায়মান হবেন, এবং এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই যারা ইলমের সাথে কথা বলবেন কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণের জন্য সেদিকে দৃষ্টিপাত করবেন। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী কোনো ফয়সালা বা ফতোয়া দেয় না যতক্ষণ না তা তাদের অনুসৃত ইমামের বক্তব্যের সামনে পেশ করা হয়; যদি তা মিলে যায় তবে ফয়সালা দেয় ও ফতোয়া প্রদান করে, অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করে। আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, এই বক্তব্যগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ের ভ্রান্ত এবং কোনো ইলম ছাড়াই আল্লাহর নামে কথা বলার শামিল। তদুপরি, নিত্যনতুন ঘটনাবলি তো ঘটতেই থাকে। সুতরাং যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে যার সরাসরি কোনো শরয়ি নির্দেশ (নস) নেই, তবে সেক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা অপরিহার্য। অথবা এমন কোনো বিষয় যাতে সালাফদের মাঝে মতভেদ রয়েছে, সেখানেও ইজতিহাদ করা আবশ্যক যাতে স্পষ্ট হয় কোন মতটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের অধিক নিকটবর্তী। আর বিষয়টি যদি ইজমা বা ঐকমত্যপূর্ণ হয়, তবে তাতে ইজতিহাদ করা বৈধ নয়। এই নিয়ম আবু হানিফার যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সকল সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। প্রবৃত্তি পূজারি এবং গোঁড়া ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যতিক্রম কিছু বলে না। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি।

আর তাঁর উক্তি (মীম): উত্তম ব্যক্তির অনুসরণ করাই অধিকতর উত্তম... শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪২)
ش: على تَقْدِير صِحَّته يلْزم مِنْهُ أَن لَا يُقَلّد أَبَا حنيفَة فِيمَا خَالفه فِيهِ شُرَيْح وَسَعِيد بن الْمسيب وَالقَاسِم بن مُحَمَّد وخارجة ابْن زيد فضلا عَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم والمقلد لَو تعَارض عِنْده قَول أبي حنيفَة وَقَول أحد من هَؤُلَاءِ بل لَو عَارض قَول أبي حنيفَة رحمه الله حَدِيث صَحِيح لما أَخذ إِلَّا بقول أبي حنيفَة وَقَالَ أَبُو حنيفَة أخبر بِهَذَا وَلَوْلَا أَن هَذَا الحَدِيث مَنْسُوخ لما خَالفه أَبُو حنيفَة رحمه الله وَإِن كَانَ عِنْده معرفَة بِوُجُوه التَّأْوِيل أَخذ يؤول ذَلِك الحَدِيث ويحرفه مَا اسْتَطَاعَ وَإِن كَانَ الحَدِيث مُوَافقا لما قَالَه أَبُو حنيفَة قَالَ هَذَا لنا وَيكون أَخذه لذَلِك الحَدِيث على وَجه الاعتضاد بِهِ لَا على وَجه الِاعْتِمَاد عَلَيْهِ فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون مَعَ أَن الْأَفْضَل من الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة لَا يُعلمهُ إِلَّا الله تَعَالَى هُوَ أعلم بِمن اتَّقى وَالْعلم برجحان قَول على قَول أيسر من الْعلم بِفضل أحد الْإِمَامَيْنِ على الآخر فَإِن الْأَحْكَام عَلَيْهَا أَدِلَّة من الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع والإستنباط وَقد تكلم فِيهَا الصَّحَابَة والتابعون وتابعوهم وَالْأَئِمَّة وَالْفُقَهَاء إِلَى الْيَوْم

وَأما تَفْضِيل شخص على شخص من الْعلمَاء فَلَيْسَ مَنْصُوصا عَلَيْهِ وَلَا مجمعا عَلَيْهِ وغالب الخائضين فِيهِ إِنَّمَا يَتَكَلَّمُونَ بهوى وتعصب وَهل قلد أحد من المقلدين إِمَامًا من الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة لما بدا لَهُ انه أفضل من
ব্যাখ্যা: এটি সঠিক হওয়ার অনুমিতিতে এর দ্বারা অনিবার্যভাবে এটিই সাব্যস্ত হয় যে, শুরাইহ, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ এবং খারিজা ইবনে যায়দ (সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের কথা না হয় বাদই থাকল) যেসব বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার বিরোধিতা করেছেন, সেসব বিষয়ে তাঁর তাকলিদ করা যাবে না। অথচ একজন মুকাল্লিদ যদি ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যের সাথে এদের কারো বক্তব্যের বিরোধ দেখতে পায়, এমনকি যদি ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্যের বিপরীতে কোনো সহিহ হাদিসও পরিলক্ষিত হয়, তবুও সে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না। সে বলে যে, ইমাম আবু হানিফা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন; আর এই হাদিসটি যদি রহিত না হতো তবে ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ কখনোই এর বিরোধিতা করতেন না। যদি তার ব্যাখ্যার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকে, তবে সে উক্ত হাদিসটিকে অপব্যাখ্যা করতে শুরু করে এবং সাধ্যমতো তার অর্থ বিকৃত করে। আর হাদিসটি যদি ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যের অনুকূলে হয়, তখন সে বলে, "এটি আমাদের স্বপক্ষে"। সেক্ষেত্রে তার হাদিস গ্রহণ করাটা হয় কেবল সমর্থনের উদ্দেশ্যে, তার ওপর নির্ভর করার জন্য নয়। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে। অথচ চার ইমামের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, তা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না; কে অধিক মুত্তাকী তা তিনিই ভালো জানেন। কোনো ইমামের ওপর অন্য ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের চেয়ে এক মতের ওপর অন্য মতের প্রাধান্য নির্ণয় করা অধিকতর সহজ। কেননা বিধানসমূহের সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও ইস্তিম্বাত থেকে দলিল বিদ্যমান রয়েছে। সাহাবী, তাবিঈ, তাবে-তাবিঈ, ইমামগণ এবং ফকিহগণ আজ পর্যন্ত এই বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করে আসছেন।

আর আলেমদের মধ্যে একজনের ওপর অন্যজনকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা কোনো অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে প্রমাণিত নয় এবং এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যও নেই। যারা এ বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হয়, তাদের অধিকাংশই মূলত প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে কথা বলে। মুকাল্লিদদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে যে চার ইমামের মধ্য থেকে কোনো একজনের তাকলিদ করেছে কেবল এই কারণে যে, তার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি শ্রেষ্ঠ...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৩)
البَاقِينَ وَلَا أَظُنهُ ذَلِك بل لِأَن وَالِده أَو وليه أَو صديقه شغله فِي كتاب من ذَلِك الْمَذْهَب أَو أَشَارَ عَلَيْهِ أَن يشْتَغل فِيهِ فقلده فِي ذَلِك وَقد يحملهُ على ذَلِك إِرَادَة ولَايَة أَو وَظِيفَة أَو نَحْو ذَلِك ثمَّ بعد ذَلِك يحملهُ الْهوى على التعصب لذَلِك الْمَذْهَب وَحده وَالْأَخْذ بِجَمِيعِ أَقْوَال ذَلِك الإِمَام وَإِن ظهر لَهُ الدَّلِيل فِي خِلَافه فِي بعض الْمسَائِل مَعَ علمه أَن الْمُجْتَهد يخطىء ويصيب وَقد قَالَ الله تَعَالَى {يَا دَاوُد إِنَّا جعلناك خَليفَة فِي الأَرْض فاحكم بَين النَّاس بِالْحَقِّ وَلَا تتبع الْهوى فيضلك عَن سَبِيل الله} ص 26

وَلَا نقُول إِن هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة وأمثالهم لَا يجوز تقليدهم لآحاد الْعَوام وَأَنه يجب على آحَاد الْعَوام أَن يكون مُجْتَهدا فِي كل مَسْأَلَة تنزل بِهِ فان هَذَا قَول ضَعِيف قَالَه بعض أهل الْكَلَام وَجُمْهُور الْأَئِمَّة وَالْأمة على خِلَافه وَهُوَ خطأ لِأَن أَكثر الْعَوام عاجزون عَن معرفَة الإستدلال على كل مَسْأَلَة

وَهَؤُلَاء الْأَئِمَّة المشهورون كَانَ لَهُم من الِاجْتِهَاد فِي معرفَة الْأَحْكَام وَإِظْهَار الدّين للأنام مَا فَضلهمْ الله بِهِ على غَيرهم

وَمن ظن أَنه يعرف الْأَحْكَام من الْكتاب وَالسّنة بِدُونِ معرفَة مَا قَالَه هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة وأمثالهم فَهُوَ غالط مخطىء وَلَكِن لَيْسَ الْحق وَقفا على وَاحِد مِنْهُم وَالْخَطَأ وَقفا بَين البَاقِينَ حَتَّى يتَعَيَّن اتِّبَاعه دون غَيره كَمَا هُوَ ظَاهر مَا يَدْعُو إِلَيْهِ الشَّيْخ فِي هَذِه الرسَالَة

وَمِنْهَا قَوْله م: المبحث الثَّالِث فِي قُوَّة اجْتِهَاده لم يسْتَدلّ أَبُو حنيفَة رحمه الله على حكم مَسْأَلَة بِغَيْر الْكتاب مَا دَامَ الِاسْتِدْلَال بِالْكتاب مُمكنا وَلَا يخفى
অন্যান্যদের তুলনায়; বরং আমি মনে করি না যে বিষয়টি সেরূপ, বরং এটি এজন্য যে তার পিতা, অভিভাবক অথবা কোনো বন্ধু তাকে উক্ত মাযহাবের কোনো কিতাবে মশগুল করে রেখেছেন অথবা তাকে তাতে অধ্যয়ন করতে পরামর্শ দিয়েছেন, ফলে সে তাতে তাকে অনুকরণ করেছে। কখনো কখনো কোনো পদমর্যাদা, চাকরি বা অনুরূপ কিছুর আকাঙ্ক্ষাও তাকে এই পথে পরিচালিত করে। অতঃপর প্রবৃত্তির তাড়না তাকে কেবলমাত্র সেই মাযহাবের প্রতি গোঁড়ামিতে এবং সেই ইমামের সকল বক্তব্য গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে, যদিও কিছু মাসআলায় তার কাছে বিপরীত দলিল স্পষ্ট হয়ে যায়—অথচ সে জানে যে মুজতাহিদ ভুলও করেন আবার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা (প্রতিনিধি) বানিয়েছি, অতএব মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।" (সূরা সাদ: ২৬)

আর আমরা এটি বলছি না যে, এই সকল ইমাম ও তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গের তাকলীদ করা সাধারণ জনগণের জন্য না-জায়েয, কিংবা প্রত্যেক সাধারণ ব্যক্তির ওপর প্রতিটি উদ্ভূত মাসআলায় মুজতাহিদ হওয়া ওয়াজিব। কারণ এটি একটি দুর্বল মত যা কতিপয় কালামশাস্ত্রবিদ ব্যক্ত করেছেন, অথচ জমহুর ইমামগণ এবং উম্মাহর অধিকাংশ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এটি ভুল কারণ অধিকাংশ সাধারণ মানুষ প্রতিটি মাসআলায় দলিল উদ্ঘাটন করতে সক্ষম নয়।

আর এই প্রখ্যাত ইমামগণের হুকুম-আহকাম অনুধাবন এবং মানুষের নিকট দ্বীনকে সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এমন ইজতিহাদী সক্ষমতা ছিল, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই সকল ইমাম ও তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য জানা ছাড়াই সে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম বুঝতে সক্ষম হবে, সে বিভ্রান্ত ও ভুলকারী। তবে সত্য কেবলমাত্র তাঁদের কোনো একজনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় এবং ভুল অন্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যে, অন্য সবাইকে ছেড়ে কেবলমাত্র একজনেরই অনুসরণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়বে—যেমনটি এই রিসালায় শায়খের আহ্বানের মূল বিষয় থেকে প্রতীয়মান হয়।

তার মধ্যে শায়খের এই বক্তব্যটিও রয়েছে: তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইজতিহাদের প্রখরতা প্রসঙ্গে। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) কোনো মাসআলার হুকুমের ক্ষেত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু থেকে দলিল গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন থেকে দলিল গ্রহণ সম্ভব হতো। এবং এটি অস্পষ্ট নয় যে...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৪)
التَّنَاقُض وَالِاخْتِلَاف قَالَ الله تَعَالَى {أَفلا يتدبرون الْقُرْآن وَلَو كَانَ من عِنْد غير الله لوجدوا فِيهِ اخْتِلَافا كثيرا} النِّسَاء 82 انْتهى

ش: أنظر إِلَى ركاكة هَذِه الْعبارَة وخلطها وفسادها وَمرَاده أَنه يسْتَدلّ بِالْكتاب ثمَّ بِالسنةِ ثمَّ بِالْإِجْمَاع ثمَّ بِالْقِيَاسِ وَهَذَا الْوَصْف الَّذِي قَالَه فِي الإِمَام أبي حنيفَة صَحِيح لَا ريب فِيهِ عِنْد الْمنصف وَلَكِن لَا يلْزم مِنْهُ أَن غَيره من الْأَئِمَّة لَيْسَ مَوْصُوفا بِهَذَا الْوَصْف وَلم يصر أحد مِنْهُم إِمَامًا من أَئِمَّة الْمُسلمين لَهُ لِسَان صدق فِي الْأمة إِلَّا لاتصافه بِهَذَا الْوَصْف وَلَكِن مَا من وَاحِد مِنْهُم إِلَّا وَقد فَاتَهُ معرفَة بعض النُّصُوص أَو خَفِي عَنهُ وَجه الصَّوَاب فِي الاستنباط مِنْهَا أَو لم يحضرهُ النَّص حِين أفتى بِخِلَافِهِ إِذْ كل مِنْهُم بشر ينسى كَمَا ينسى الْبشر وَمن هَذَا يحصل الْخَطَأ فِي الإجتهاد وَيَقَع الْخلاف من الْعلمَاء رضي الله عنهم من هَذَا أَن يُؤْخَذ بقَوْلهمْ فِيمَا اتَّفقُوا عَلَيْهِ وَمَا اخْتلفُوا فِيهِ ينظر فِيهِ فَمَا كَانَ أقرب إِلَى مُوَافقَة الدَّلِيل فَهُوَ الَّذِي يتَعَيَّن الْأَخْذ بِهِ وَمن لم يكن أَهلا للنَّظَر فِي دَلِيل الْقَوْلَيْنِ فليسكت وليكف النَّاس شَره وَإِن نظر فِي الْقَوْلَيْنِ وَلم يظْهر لَهُ رُجْحَان أَحدهمَا فَحِينَئِذٍ يجوز لَهُ الْأَخْذ بالقولين وَلَيْسَ قَول فلَان وَالْحَالة هَذِه بِأولى من قَول فلَان وَالله يهدي من يَشَاء إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم

قَوْله م: وَلم يسْتَدلّ بِالْحَدِيثِ إِلَّا مَا ثَبت عِنْده صِحَّته بمتنه وَمَعْنَاهُ وَكَانَ إِمَامًا حاويا بِمَا يتَعَلَّق بالأركان فِي الحَدِيث انْتهى

ش: وَإِن كَانَ فِي لَفظه قُصُور فَفِي مَعْنَاهُ نظر فَإِنَّهُ لَا يلْزم ثُبُوت صِحَة الحَدِيث لصِحَّة الِاسْتِدْلَال بِهِ بل يَصح الِاسْتِدْلَال بِمَا يحْتَمل الصِّحَّة عِنْد عدم الْمعَارض فَكيف بِمَا ترجح صِحَّته وَإِن لم يثبت
বৈপরীত্য ও মতভেদ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত} আন-নিসা: ৮2। সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা: এই বাক্যটির দুর্বলতা, অসংলগ্নতা এবং অসারতার দিকে লক্ষ্য করুন। তাঁর উদ্দেশ্য হলো এই যে, তিনি প্রথমে কিতাবুল্লাহ, তারপর সুন্নাহ, তারপর ইজমা এবং এরপর কিয়াসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেন। ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে তিনি যে বর্ণনা দিয়েছেন তা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির নিকট নিঃসন্দেহে সঠিক। তবে এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, অন্যান্য ইমামগণ এই গুণে গুণান্বিত নন। তাঁদের কেউ-ই উম্মতের মধ্যে সত্যনিষ্ঠার সুখ্যাতি ও মুসলমানদের ইমামতের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি এই গুণটি অর্জন করা ব্যতীত। তবে তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে যে, কোনো কোনো নস (শরয়ি পাঠ) তাঁদের অগোচরে রয়ে গেছে অথবা তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত আহরণের দিকটি তাঁদের নিকট অস্পষ্ট থেকে গেছে, কিংবা ফতোয়া প্রদানের সময় সেই নসটি তাঁদের স্মরণে ছিল না যার কারণে তাঁরা এর পরিপন্থী ফতোয়া প্রদান করেছেন; কেননা তাঁরা মানুষ এবং সাধারণ মানুষের মতোই তাঁরা বিস্মৃত হতে পারেন। মূলত এভাবেই ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ভুল সংঘটিত হয় এবং ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-দের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো, তাঁরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তা গ্রহণ করা হবে, আর যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। অতঃপর যা দালিলিক প্রমাণের অধিক নিকটবর্তী হবে, সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি উভয় মতের দলিল পর্যালোচনার যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত নীরব থাকা এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা। আর যদি কেউ উভয় মত পর্যালোচনা করার পরও কোনোটির শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে না পারে, তবে সেই অবস্থায় তার জন্য উভয় মতের যেকোনোটি গ্রহণ করা বৈধ। এমতাবস্থায় একজনের বক্তব্য অন্যজনের বক্তব্যের চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।

মূল পাঠ: তিনি কেবল সেই হাদিস দ্বারাই দলিল পেশ করতেন যা তাঁর নিকট শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হতো এবং তিনি হাদিসের রুকন বা মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ইমাম ছিলেন। সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা: যদিও তাঁর শব্দচয়নে কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তবে এর অর্থের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ আছে। কারণ দলিল হিসেবে গ্রহণের জন্য হাদিসের অকাট্য বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক নয়; বরং কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয় না থাকলে যে হাদিসটি বিশুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তা দ্বারাও দলিল গ্রহণ করা শুদ্ধ। এমতাবস্থায় যার বিশুদ্ধতা প্রবল বলে মনে হয়, তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা আরও বেশি সংগত, যদিও তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত না হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৫)
قَوْله وَقد روى عَن يحيى بن نصر رَحمَه الله تَعَالَى قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة رحمه الله قَالَ عِنْدِي صناديق من الحَدِيث مَا أخرجت إِلَّا الْيَسِير مِنْهَا أَرَادَ مَا سلم عَن النّسخ والمعارضة فروى عَن أبي يُوسُف أَنه قَالَ احفظ عشْرين ألف حَدِيث مَنْسُوخ وَلَا بُد لَهَا من نَاسخ فَأَيْنَ انصاف من يتفقه أَن أَبَا حنيفَة وَأَصْحَابه لم يصلهم مَا رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه هَل ذَلِك إِلَّا زيغ وتعصب بَاطِل نَعُوذ بِاللَّه من ذَلِك انْتهى

ش: فَإِنَّهُ لَا يَصح نِسْبَة هَذَا الْكَلَام إِلَى الْإِمَامَيْنِ أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف رحمهمَا الله وَإِن مَا حَكَاهُ عَن أبي حنيفَة قد ذكره البُخَارِيّ فِي مُسْند أبي حنيفَة بِمَعْنَاهُ لَكِن رُوَاته ضِعَاف وَيحيى بن نصر صَاحب هَذَا ضَعِيف قَالَ أَبُو زرْعَة لَيْسَ بِشَيْء

وَأَيْضًا فَإِن الْأَحَادِيث كلهَا ناسخها ومنسوخها لم تجمع فِي زمن أبي حنيفَة رحمه الله وَلَقَد رَحل أهل الحَدِيث فِي جمعهَا فِي زمن أبي حنيفَة
তাঁর উক্তি: ইয়াহইয়া ইবনে নাসর (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম আবু হানিফাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: "আমার নিকট হাদিসের বহু সিন্দুক রয়েছে, যেখান থেকে আমি কেবল সামান্যই প্রকাশ করেছি।" তিনি এর দ্বারা সেই সব হাদিস বুঝিয়েছেন যা রহিতকরণ ও বৈপরীত্য থেকে সুরক্ষিত। ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি বিশ হাজার মানসুখ (রহিত) হাদিস মুখস্থ করেছি যেগুলোর জন্য অবশ্যই নাসিখ (রহিতকারী) প্রয়োজন।" সুতরাং সেই সব ফিকহ অন্বেষীদের ন্যায়নিষ্ঠা কোথায় যারা মনে করে যে, ইমাম আবু হানিফাহ ও তাঁর সঙ্গীদের নিকট ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা পৌঁছেনি? এটি কি সত্য বিচ্যুতি ও বাতিল গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছু? আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা: নিশ্চয়ই এই বক্তব্য ইমাম আবু হানিফাহ এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর প্রতি নিসবত করা সঠিক নয়। আবু হানিফাহ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা বুখারি 'মুসনাদে আবু হানিফাহ' গ্রন্থে সমার্থে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এর বর্ণনাকারীরা জঈফ বা দুর্বল। আর এই বর্ণনার রাবী ইয়াহইয়া ইবনে নাসর নিজেও দুর্বল; আবু জুরআ বলেছেন, "তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন।"

তদুপরি, নাসিখ ও মানসুখসহ সমস্ত হাদিস ইমাম আবু হানিফাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগে সংকলিত হয়নি। অথচ আহলুল হাদিসগণ ইমাম আবু হানিফাহ-এর যুগেই হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তরে সফর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَبعده حَتَّى جمعوها ودونت وَهَذَا مُسْند الإِمَام أبي حنيفَة الَّذِي خرجه البُخَارِيّ مَوْجُود روينَاهُ مَعَ جملَة تيَسّر رِوَايَته من كتب الحَدِيث ومسند الإِمَام أَحْمد أكبر مِنْهُ بِلَا ريب بأضعاف كَثِيرَة وَكَذَلِكَ موطأ مَالك أكبر مِنْهُ ومسند الشَّافِعِي أَيْضا وَقد ألف غَيرهم من أهل الحَدِيث من السّنَن وَالْمَسَانِيد مؤلفات عديدة وَلم يلْتَزم أحد مِنْهُم رحمهم الله جمع الصَّحِيح بمفرده كَمَا الْتَزمهُ الشَّيْخَانِ البُخَارِيّ وَمُسلم رحمهمَا الله وَإِن كَانَ غَيرهمَا قد جمع الصَّحِيح وَلَكِن الصحيحان اللَّذَان جَمعهمَا البُخَارِيّ وَمُسلم أصح الْكتب المصنفة هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ أَئِمَّة الْإِسْلَام وَلَفظ بَعضهم وَلَيْسَ بعد الْقُرْآن كتاب أصح من كتاب مُسلم وَالْبُخَارِيّ وجمهورهم على أَن البُخَارِيّ أصح من مُسلم وَاتَّفَقُوا على أَن البُخَارِيّ أجل من مُسلم وَأعلم بصناعة الحَدِيث مِنْهُ رجح مِنْهُ وَمن رجح مُسلما فَإِنَّمَا رَجحه بجمعه لألفاظ الحَدِيث فِي مَكَان وَاحِد فان ذَلِك أيسر على من يُرِيد جمع أَلْفَاظ الحَدِيث قَالُوا وَلم يَقع للْبُخَارِيّ غلط إِلَّا وَقد بَين فِيهِ الصَّوَاب فان من عَادَته انه إِذا وَقع من الروَاة غلط فِي لفظ ذكر أَلْفَاظ سَائِر الروَاة الَّتِي يعلم فِيهَا الصَّوَاب كَمَا وَقع لَهُ حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا

এবং এর পরবর্তী সময়ে তাঁরা এগুলো সংগ্রহ ও সংকলন করেন। আর ইমাম আবু হানিফার এই মুসনাদটি, যা বুখারী বর্ণনা করেছেন, সেটি বিদ্যমান রয়েছে; আমরা হাদীসের অন্যান্য গ্রন্থসমূহের সাথে এটিও বর্ণনা করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। ইমাম আহমদের মুসনাদ নিঃসন্দেহে এর চেয়ে বহুগুণ বড়। একইভাবে ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং ইমাম শাফেয়ীর মুসনাদও এর চেয়ে বৃহৎ। হাদীসবিদদের মধ্যে অন্যান্যেরাও অনেক সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে তাঁদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) কেউ শুধুমাত্র সহীহ হাদীস সংকলনের আবশ্যকতা গ্রহণ করেননি, যেমনটি শায়খাইন তথা বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) করেছিলেন। যদিও তাঁদের বাইরেও অন্য কেউ সহীহ হাদীস সংকলন করেছেন, তবুও বুখারী ও মুসলিম যে দুটি সহীহ গ্রন্থ সংকলন করেছেন, তা-ই হচ্ছে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ। ইসলামের ইমামগণ এই মতের উপরেই একমত। তাঁদের কারো কারো বক্তব্য হলো, আল-কুরআনের পর বুখারী ও মুসলিমের কিতাব অপেক্ষা আর কোনো বিশুদ্ধ কিতাব নেই। তবে জমহুর বা অধিকাংশের মতে বুখারী মুসলিম অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ। তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বুখারী মুসলিমের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান এবং হাদীসের কারিগরি বিদ্যায় তাঁর চেয়ে অধিক পারদর্শী। আর যিনি মুসলিমকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তিনি মূলত হাদীসের শব্দাবলী একস্থানে সুবিন্যস্তভাবে সমবেত করার কারণেই তা করেছেন; কেননা যারা হাদীসের বিভিন্ন শব্দরূপ একত্র করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অধিক সহজতর। তাঁরা বলেন, ইমাম বুখারীর সংকলনে এমন কোনো ভুল ঘটেনি যার সঠিক রূপটি তিনি সেখানে স্পষ্ট করে দেননি। কেননা তাঁর রীতি হলো, কোনো বর্ণনাকারী যদি কোনো শব্দে ভুল করেন, তবে তিনি অন্যান্য বর্ণনাকারীদের শব্দসমূহ উল্লেখ করে দেন যার মাধ্যমে সঠিকটি অবগত হওয়া যায়। যেমনটি আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে ঘটেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "না"...

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৭)
يزَال يلقى فِي النَّار وَهِي تَقول هَل من مزِيد حَتَّى يضع رب الْعِزَّة فِيهَا قدمه فَتَقول قطّ قطّ وينزوي بَعْضهَا إِلَى بعض وَأما الْجنَّة فَيبقى فِيهَا فضل فينشيء الله لَهَا خلقا فيسكنهم فضول الْجنَّة هَكَذَا هُوَ فِي أَكثر الرِّوَايَات وَوَقع فِي بعض طرقه غلط قَالَ فِيهِ وَأما النَّار فَيبقى فِيهَا فضل فَالْبُخَارِي رَوَاهُ فِي سَائِر الْمَوَاضِع على الصَّوَاب ليبين غلط هَذَا الرَّاوِي بِخِلَاف مُسلم فَإِنَّهُ وَقع لَهُ فِي عدَّة أَحَادِيث غلط أنكرها عَلَيْهِ الْحفاظ

وَالَّذِي أنكر على الشَّيْخَيْنِ أَحَادِيث قَليلَة جدا وَأَحَادِيث البُخَارِيّ وَمُسلم لم يقل أهل الحَدِيث أَنَّهَا صَحِيحَة بِمُجَرَّد رِوَايَة البُخَارِيّ وَمُسلم لَهَا بل لِأَنَّهُ قد رَوَاهَا غَيرهمَا من الْعلمَاء والمحدثين من لَا يُحْصى عَددهمْ إألا الله تَعَالَى وَلم ينْفَرد وَاحِد مِنْهُم بِحَدِيث بل مَا من حَدِيث رَوَاهُ إِلَّا وَقد رَوَاهُ قبل زَمَانه وَمن زَمَانه وَبعد طوائف وَلَو لم يخلق البُخَارِيّ وَمُسلم لم ينقص من الدّين شَيْء وَكَانَت تِلْكَ الْأَحَادِيث مَوْجُودَة بأسانيد يحصل بهَا الْمَقْصُود وَفَوق الْمَقْصُود

وَإِنَّمَا قَوْلنَا رَوَاهُ البُخَارِيّ ة وَمُسلم كَقَوْلِنَا رَوَاهُ الْقُرَّاء السَّبْعَة وَالْقُرْآن مَنْقُول بالتواتر لم يخْتَص هَؤُلَاءِ السَّبْعَة بِنَقْل الشَّيْء مِنْهُ

وَكَذَلِكَ التَّصْحِيح لم يُقَلّد أهل الحَدِيث فِيهِ البُخَارِيّ وَمُسلمًا بل جُمْهُور مَا صَحَّحَاهُ وَمَا كَانَ قبلهمَا عِنْد أَئِمَّة الحَدِيث
জাহান্নামে (পাপীদের) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে এবং সেটি বলতে থাকবে, ‘আরও কি কিছু আছে?’ যতক্ষণ না মহাপরাক্রমশালী প্রতিপালক তাতে তাঁর কদম (পা) রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, ‘যথেষ্ট, যথেষ্ট’ এবং এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে। পক্ষান্তরে জান্নাতের ক্ষেত্রে কিছু স্থান অতিরিক্ত থেকে যাবে, তখন আল্লাহ তাআলা জান্নাতের জন্য নতুন এক মাখলুক (সৃষ্টি) সৃজন করবেন এবং জান্নাতের সেই অতিরিক্ত অংশে তাদের বসবাস করাবেন। অধিকাংশ বর্ণনায় বিষয়টি এভাবেই এসেছে। তবে এর কোনো কোনো সূত্রে ভুল ঘটেছে, যাতে বলা হয়েছে: ‘পক্ষান্তরে জাহান্নামের ক্ষেত্রে কিছু অংশ অতিরিক্ত থেকে যাবে’। ইমাম বুখারী অন্যান্য সকল স্থানে হাদীসটি সঠিকভাবেই বর্ণনা করেছেন যাতে এই বর্ণনাকারীর ভুলটি স্পষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে, কারণ তাঁর গ্রন্থে বেশ কিছু হাদীসে এমন ভুল প্রকাশ পেয়েছে যা হাফিজুল হাদীসগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শাইখাইন (ইমাম বুখারী ও মুসলিম)-এর ওপর যে হাদীসগুলোর ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে তা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। আর মুহাদ্দিসগণ বুখারী ও মুসলিমের হাদীসগুলোকে কেবল বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন বলেই সহীহ বলেননি। বরং এই কারণে যে, এই হাদীসগুলো তাঁরা ছাড়াও অসংখ্য ও অগণিত আলিম ও মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন যাদের সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারবে না। তাঁদের কেউই কোনো হাদীস বর্ণনায় একক বা স্বতন্ত্র ছিলেন না; বরং এমন কোনো হাদীস নেই যা তাঁরা বর্ণনা করেছেন অথচ তা তাঁদের সময়ের আগে, তাঁদের সময়ে কিংবা তাঁদের পরে বিভিন্ন জামাত বা দল বর্ণনা করেননি। যদি ইমাম বুখারী ও মুসলিম সৃষ্টি না-ও হতেন, তবে দ্বীনের কোনো কিছুই কমতি হতো না। সেই হাদীসগুলো এমন সব সনদের মাধ্যমে বিদ্যমান থাকত যার দ্বারা উদ্দিষ্ট লক্ষ্য এবং তদুপরি আরও বেশি কিছু অর্জিত হতো।

আমাদের এই কথা বলা যে, ‘এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন’, তা আমাদের এই উক্তির মতো যে, ‘এটি সাত ক্বারী বর্ণনা করেছেন’। অথচ কুরআন মুতাওয়াতির বা অকাট্য পরম্পরায় বর্ণিত, এই সাত ক্বারীই কেবল তা বর্ণনা করার জন্য নির্দিষ্ট নন।

একইভাবে হাদীস সহীহকরণের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ ইমাম বুখারী ও মুসলিমকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেননি। বরং তাঁরা যে বিষয়গুলোকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁদের পূর্ববর্তী হাদীস ইমামদের নিকট যা সহীহ হিসেবে গণ্য ছিল, জমহুর মুহাদ্দিসগণ মূলত তাকেই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৮)
صَحِيحا متلقى بِالْقبُولِ وَكَذَلِكَ فِي عصرهما وَبعده وَقد نظر أَئِمَّة هَذَا الْفَنّ فِي كِتَابَيْهِمَا ووافقوهما على تَصْحِيح مَا صَحَّحَاهُ إِلَّا مَوَاضِع يسيرَة نَحْو عشْرين حَدِيثا غالبها فِي مُسلم إنتقدها عَلَيْهِمَا طَائِفَة من الْحفاظ وَقد انتصر طَائِفَة لَهما وَطَائِفَة قررت قَول المنتقد وَالصَّحِيح التَّفْصِيل فَإِن فِيهَا مَوَاضِع منتقدة بِلَا ريب فِي مُسلم مثل حَدِيث أم حَبِيبَة

সহীহ এবং সর্বজনগৃহীত হিসেবে সমাদৃত, যা তাঁদের যুগে এবং তাঁদের পরবর্তীকালেও একইভাবে বজায় ছিল। হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ তাঁদের কিতাবদ্বয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন এবং তাঁরা যেগুলোকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন, তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত—যা সংখ্যায় প্রায় বিশটির মতো হাদীস—যাদের অধিকাংশ সহীহ মুসলিমে বিদ্যমান এবং হাফেজগণের একটি দল সেগুলোর সমালোচনা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ তাঁদের সপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আবার অন্য দল সমালোচকদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এক্ষেত্রে সঠিক পন্থা হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ; কেননা সহীহ মুসলিমে নিঃসন্দেহে কিছু সমালোচিত স্থান রয়েছে, যেমন উম্মে হাবীবার হাদীসটি।

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিবা লিইবনি আবিল ইয (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَحَدِيث خلق التربة يَوْم السبت وَحَدِيث صَلَاة الْكُسُوف بِثَلَاث رَكْعَات وَأكْثر وفيهَا مَوَاضِع لَا انتقاد فِيهَا وَأكْثر مَا لَا انتقاد فِيهِ البُخَارِيّ فَإِنَّهُ أبعد الْكِتَابَيْنِ عَن الإنتقاد وَلَا يكَاد يروي لفظا فِيهِ انتقاد إِلَّا ويروي اللَّفْظ الآخر الَّذِي يبين أَنه منتقد وَفِي الْجُمْلَة من نقد سَبْعَة آلَاف دِرْهَم فَلم يبهرج عَلَيْهِ فِيهَا إِلَّا دَرَاهِم يسيرَة وَمَعَ هَذَا فَهِيَ مُعْتَبرَة لَيست بمغشوشة مَحْضَة فَهَذَا إِمَام فِي صَنعته وَفِي كِتَابه سَبْعَة آلَاف

শনিবার মাটি সৃষ্টির হাদিস এবং তিন বা ততোধিক রাকাতবিশিষ্ট সূর্যগ্রহণের সালাতের হাদিস—এসকল বিষয়ে এমন কিছু স্থান রয়েছে যা পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তবে পর্যালোচনার দিক থেকে ইমাম বুখারীর কিতাবটিই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ; কেননা এটি দুই কিতাবের (সহীহাইন) মধ্যে সমালোচনা থেকে অধিক দূরে অবস্থিত। তিনি যখনই কোনো সমালোচিত শব্দ বর্ণনা করেন, তখন প্রায়শই এমন অন্য একটি শব্দও বর্ণনা করেন যা স্পষ্ট করে দেয় যে পূর্বের শব্দটি ত্রুটিযুক্ত। মোদ্দাকথা হলো, যে ব্যক্তি সাত হাজার দিরহাম পরীক্ষা করেন এবং তাতে মাত্র সামান্য কিছু দিরহাম অগ্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হয়, তবুও সেগুলো কিন্তু পুরোপুরি জাল বা কৃত্রিম নয়। সুতরাং তিনি স্বীয় বিদ্যায় একজন অনন্য ইমাম এবং তার কিতাবে সাত হাজার হাদিস বিদ্যমান।