(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الأمنية في إدراك النية   (القرافي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الأمنية في إدراك النية.

المؤلف: أبو العباس شهاب الدين أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن المالكي الشهير بالقرافي (ت 684هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

عدد الصفحات: 63

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-উমনিয়া ফি ইদরিকিন নিয়্যাহ   (আল-কারাফি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: আল-উমনিয়া ফি ইদরিকিন নিয়্যাহ।

লেখক: আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান আল-মালিকি, যিনি আল-কারাফি নামে পরিচিত (মৃ. ৬৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৬৩

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌خطْبَة الْكتاب

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله

الْحَمد لله الْمُحِيط بخفيات الغيوب المطلع على سرائر الْقُلُوب الْمُخَصّص بإراداته كل مَحْبُوب وموهوب المتعالي بِجلَال صمديته عَن مشابهة كل مربوب

وَأفضل صلواته على نبيه سيدنَا مُحَمَّد الْمَبْعُوث بِأَفْضَل المناهج الى أفضل مَطْلُوب وعَلى آله وَأَصْحَابه وأزواجه صَلَاة نستدفع بهَا الخطوب ونأمن بهَا من النصب والكروب يَوْم ظُهُور الفضائح والعيوب

أما بعد فَيَقُول الشَّيْخ الْفَقِيه الإِمَام الْعَالم شهَاب الدّين أَحْمد ابْن أدريس الْمَالِكِي

إِن الْبَاعِث لي على هَذَا الْكتاب مبَاحث وَقعت للفضلاء تشوفت النُّفُوس الى الْكَشْف عَنْهَا وتمنت الصَّوَاب فِيهَا

1 - مِنْهَا قَول بعض الْفُضَلَاء لم قَالَ صلى الله عليه وسلم الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَلم يقل الْأَعْمَال بالإرادات وَمَا الْفرق بَين نوى وَبَين أَرَادَ وَاخْتَارَ وعزم وعنى وَشاء واشتهى وَقضى وَقدر وَهل هِيَ مترادفة أَو متباينة
গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল গোপন ও অদৃশ্য বিষয় পরিবেষ্টনকারী, অন্তরের রহস্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত; যিনি তাঁর ইচ্ছার মাধ্যমে প্রতিটি প্রিয় ও দানকৃত বস্তুকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং যিনি তাঁর সুমহান অমুখাপেক্ষিতার কারণে অন্য সকল সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে ঊর্ধ্বে।

আর তাঁর সর্বোত্তম রহমত বর্ষিত হোক তাঁর নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ সহ প্রেরিত হয়েছেন; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও স্ত্রীগণের ওপর। এমন এক রহমত যার মাধ্যমে আমরা বিপদাপদ দূর করি এবং দোষ-ত্রুটি ও অপমান প্রকাশ হওয়ার দিন ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে নিরাপত্তা লাভ করি।

অতঃপর, ফকিহ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম শিহাব উদ্দিন আহমাদ ইবনে ইদরিস আল-মালিকি বলছেন:

এই কিতাবটি রচনার পেছনে আমার মূল অনুপ্রেরণা হলো বিদগ্ধ পণ্ডিতগণের মধ্যে উত্থাপিত কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা, যা উন্মোচনের জন্য মন উন্মুখ হয়ে থাকে এবং সেগুলোর সঠিক সমাধান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।

1 - তন্মধ্যে একটি হলো কোনো কোনো পণ্ডিতের উক্তি: কেন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন "আমলসমূহ নিয়ত (نية) অনুযায়ী হয়", অথচ তিনি কেন বলেননি "আমলসমূহ ইচ্ছা (إرادة) অনুযায়ী হয়"? আর 'নিয়ত করা', 'ইচ্ছা করা', 'পছন্দ করা', 'দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা', 'উদ্দেশ্য করা', 'চাওয়া', 'আকাঙ্ক্ষা করা', 'ফয়সালা করা' ও 'নির্ধারণ করা'—এই শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য কী? এগুলো কি সমার্থক (مترادف) নাকি একে অপরের থেকে ভিন্ন ভিন্ন (متباين)?
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وَلم لم يقل عليه السلام الْأَفْعَال بِالنِّيَّاتِ بل قَالَ الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَمَا الْفرق بَين عمل وَفعل وصنع وَأثر وبرأ وَخلق وأوجد واخترع وابتدع وَأَنْشَأَ وَهل هِيَ مترادفه أَو متباينة

2 - وَمِنْهَا قَول بعض الْفُضَلَاء لم اشْترطت النِّيَّة فِي الذَّبَائِح مَعَ انها لَيست عبَادَة وَالنِّيَّة إِنَّمَا تشْتَرط فِي الْعِبَادَات كَالصَّلَاةِ وَالزَّكَاة وَالصَّوْم وَنَحْوهَا

3 - وَمِنْهَا مَا قَالَه بعض الْفُضَلَاء الْأَعْيَان من أَنه يحْكى الْإِجْمَاع فِي أَن النَّاظر الأول الَّذِي يتَوَصَّل بِهِ الى إِثْبَات الصَّانِع يتَعَذَّر الْقَصْد الى التَّقَرُّب بِهِ قَالَ وحكاية الْإِجْمَاع فِي تعذره يعد إشْكَالًا فَإِن غَايَة النّظر فِي النّظر الأول ان يكون شاكا فِي أَن لَهُ إِلَهًا أوجب عَلَيْهِ النّظر أم لَا وَقصد التَّقَرُّب بالمشكوك فِيهِ غير مُتَعَذر فَإِنَّهُ وَقع فِي الشَّرِيعَة المحمدية الَّتِي هِيَ أكمل الشَّرَائِع فِي غير مَا موطن وَله مثل

الأول إِذا شكّ هَل صلى أم لَا يجب عَلَيْهِ أَن يُصَلِّي ويقصد بِصَلَاتِهِ التَّقَرُّب مَعَ حُصُول الشَّك

2 - الثَّانِي إِذا شكّ فِي صَلَاة من الْخمس وَجب عَلَيْهِ ان يُصَلِّي خمس صلوَات يَنْوِي بهَا التَّقَرُّب مَعَ حُصُول الشَّك فِي كل صَلَاة بِوَجْه الْقَصْد اليها

3 - الثَّالِث إِذا شكّ هَل تطهر أم لَا وَجب عَلَيْهِ التطهر وَيَنْوِي بِهِ التَّقَرُّب مَعَ حُصُول الشَّك فِي وجوب الْوضُوء عَلَيْهِ

4 - الرَّابِع اذا شكّ هَل صلى ثَلَاثًا أم أَرْبعا وَجب عَلَيْهِ الْإِتْيَان بالرابعة وَيُمكن أَن يَنْوِي بهَا التَّقَرُّب مَعَ حُصُول الشَّك

5 - الْخَامِس اذا شكّ هَل صَامَ أم لَا وَجب عَلَيْهِ الصَّوْم وَيَنْوِي بِهِ التَّقَرُّب مَعَ حُصُول الشَّك ونظائره كَثِيره
কেন নবী (আলাইহিস সালাম) 'আল-আফআল বিন-নিয়াত' (কাজসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) বলেননি, বরং 'আল-আমাল বিন-নিয়াত' (আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) কেন বললেন? আর আমল, ফে'ল, সুন্‌, আছার, বারাআ, খালাকা, আওজাদা, ইখতারাআ, ইবতাদাআ এবং আনশাআ-এর মধ্যে পার্থক্যই বা কী? এগুলো কি সমার্থক (مترادفة) নাকি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (متباينة)?

2 - তন্মধ্যে একটি হলো কোনো কোনো পণ্ডিতের এই প্রশ্ন যে, জবেহকৃত পশুর ক্ষেত্রে কেন নিয়ত শর্ত করা হয়েছে, অথচ তা কোনো ইবাদত নয়? আর নিয়ত তো কেবল সালাত, জাকাত, সিয়াম এবং অনুরূপ ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রেই শর্ত হিসেবে গণ্য হয়।

3 - তন্মধ্যে আরও একটি হলো জনৈক বিশিষ্ট পণ্ডিতের বক্তব্য; যাতে এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণিত হয়েছে যে, যে প্রাথমিক চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের স্তরে পৌঁছানো যায়, তার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সংকল্প করা অসম্ভব। তিনি বলেন, এর অসম্ভব হওয়ার ওপর ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করাটা সমস্যাযুক্ত; কারণ প্রাথমিক চিন্তাগবেষণার চূড়ান্ত অবস্থা হলো এই যে, ব্যক্তির মনে এই সন্দেহ থাকতে পারে যে তার এমন কোনো উপাস্য আছে কি না যিনি তার ওপর এই চিন্তাগবেষণাকে আবশ্যক করেছেন কি না। এমতাবস্থায় সন্দেহপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের সংকল্প করা অসম্ভব নয়। কেননা এটি মুহাম্মদী শরয়ি বিধানে—যা শরয়ি বিধানসমূহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গতম—একাধিক ক্ষেত্রে ঘটেছে এবং এর দৃষ্টান্তও রয়েছে:

প্রথম: যখন কেউ সন্দেহ করে যে সে সালাত আদায় করেছে কি না, তখন তার ওপর সালাত আদায় করা আবশ্যক হয় এবং সন্দেহের বিদ্যমানতা সত্ত্বেও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সংকল্প করতে হয়।

2 - দ্বিতীয়: যখন কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কোনো একটির ব্যাপারে সন্দেহ করে, তখন তার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আবশ্যক হয়, যাতে সে প্রতিটি সালাতের ক্ষেত্রে সন্দেহের সাথে নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করে।

3 - তৃতীয়: যখন কেউ পবিত্রতা অর্জন করার ব্যাপারে সন্দেহ করে, তখন তার ওপর পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক হয় এবং ওজু ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও সে এর মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করে।

4 - চতুর্থ: যখন কেউ তিন রাকাত না কি চার রাকাত সালাত পড়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তখন চতুর্থ রাকাত আদায় করা তার ওপর আবশ্যক হয় এবং সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও এর দ্বারা নৈকট্য লাভের নিয়ত করা সম্ভব।

5 - পঞ্চম: যদি কেউ সিয়াম পালন করেছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে তার ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক হয় এবং সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও সে এর মাধ্যমে নৈকট্য লাভের নিয়ত করে; আর এর অনুরূপ উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
زز وَإِذا وَقع هَذَا فِي هَذِه الشَّرِيعَة المعظمة فِي مَوَاضِع كَثِيرَة فَكيف يَحْكِي الْإِجْمَاع فِي تعذر قصد التَّقَرُّب بِالنّظرِ الأول مَعَ أَن غَايَته حُصُول الشَّك غير أَن الشَّك فِي النّظر فِي الْمُوجب وَفِي هَذِه الصُّور فِي الشَّيْء الْوَاجِب وَلَا فرق لِأَن الشَّك إِذا كَانَ مَانِعا منع فيهمَا أَو لَيْسَ مَانِعا فَلَا يمْنَع فيهمَا فهما سَوَاء وكما أمكن قصد التَّقَرُّب فِي أَحدهمَا أمكن فِي الآخر

وَلما اجْتمعت عِنْدِي هَذِه الأسئلة تحركت داعيتي لوضع هَذَا الْكتاب أذكر فِيهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى عشرَة أَبْوَاب

1 - الْبَاب الأول فِي حَقِيقَة النِّيَّة وَالْفرق بَينهَا وَبَين غَيرهَا من أَقسَام الْإِرَادَة وَبَيَان الْأَلْفَاظ الْوَارِدَة فِي السُّؤَال الأول

2 - الْبَاب الثَّانِي فِي محلهَا وَهل هُوَ الْقلب أَو الدِّمَاغ

3 - الْبَاب الثَّالِث فِي دَلِيل وُجُوبهَا

4 - الْبَاب الرَّابِع فِي حكمه إِيجَابهَا وَفِيه يظْهر أَن النِّيَّة لَا تفْتَقر الى نِيَّة مَعَ فَوَائِد أخر إِن شَاءَ الله تَعَالَى

5 - الْبَاب الْخَامِس فِيمَا يفْتَقر الى النِّيَّة شرعا وَمَا لَا تمكنه نِيَّته وَمَا لَا يَنْوِي وَمَا تتعذر نِيَّته عقلا وَفِيه يظْهر الْجَواب عَن السُّؤَال الثَّانِي وَالثَّالِث مَعَ فَوَائِد أخر

6 - الْبَاب السَّادِس فِي شُرُوط النِّيَّة وَهل يشْتَرط أَن يكون متعلقها مَقْدُورًا مكتسبا أم لَا وَفِيه فَوَائِد وإشكالات وأجوبتها

7 - الْبَاب السَّابِع فِي أَقسَام النِّيَّة وتنوعها الى الفعلية والكمية وَتظهر فِيهِ فَوَائِد جمة

8 - الْبَاب الثَّامِن فِي أَقسَام الْمَنوِي وتنوعه الى الْمَقَاصِد والوسائل
আর যখন এই মহান শরীয়তের বহু ক্ষেত্রে এরূপ সংঘটিত হয়েছে, তখন প্রথম চিন্তার মাধ্যমে নৈকট্য লাভের সংকল্প অসম্ভব হওয়ার বিষয়ে ইজমা কীভাবে বর্ণনা করা হয়? অথচ এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো সংশয় সৃষ্টি হওয়া। পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, এক ক্ষেত্রে সংশয়টি হলো আবশ্যকতা নির্ধারণী চিন্তার মধ্যে, আর এই সুরতগুলোতে সংশয়টি হলো ওয়াজিব বিষয়ের মধ্যে। এতে কোনো পার্থক্য নেই; কারণ সংশয় যদি প্রতিবন্ধক হয়, তবে তা উভয় ক্ষেত্রেই হবে, আর যদি প্রতিবন্ধক না হয়, তবে কোনো ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। সুতরাং উভয়টিই সমান। আর যেভাবে একটির ক্ষেত্রে নৈকট্য লাভের সংকল্প করা সম্ভব হয়েছে, অন্যটির ক্ষেত্রেও তা সম্ভব।

যখন আমার নিকট এই প্রশ্নগুলো একত্রিত হলো, তখন এই গ্রন্থটি রচনার জন্য আমার উদ্দীপনা জাগ্রত হলো। ইনশাআল্লাহ তাআলা এতে আমি দশটি অধ্যায় উল্লেখ করব।

1 - প্রথম অধ্যায়: নিয়তের প্রকৃত স্বরূপ এবং ইচ্ছার অন্যান্য প্রকারের সাথে এর পার্থক্য প্রসঙ্গে, এবং প্রথম প্রশ্নে বর্ণিত শব্দমালার বর্ণনা।

2 - দ্বিতীয় অধ্যায়: নিয়তের স্থান প্রসঙ্গে; তা কি অন্তর নাকি মস্তিষ্ক?

3 - তৃতীয় অধ্যায়: নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার দলিল প্রসঙ্গে।

4 - চতুর্থ অধ্যায়: নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার বিধানের রহস্য প্রসঙ্গে; এতে ইনশাআল্লাহ তাআলা আরও অন্যান্য উপকারিতাসহ এ বিষয়টি পরিস্ফুট হবে যে, নিয়ত করার জন্য অন্য কোনো নিয়তের প্রয়োজন নেই।

5 - পঞ্চম অধ্যায়: শরীয়তের দৃষ্টিতে যা নিয়তের মুখাপেক্ষী এবং যার নিয়ত করা সম্ভব নয়, যার নিয়ত করা হয় না এবং যার নিয়ত করা বিবেকগতভাবে অসম্ভব; এতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর ও অন্যান্য বহু উপকারিতা পরিস্ফুট হবে।

6 - ষষ্ঠ অধ্যায়: নিয়তের শর্তাবলি প্রসঙ্গে এবং নিয়তের বিষয়বস্তু সাধ্য ও উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া শর্ত কি না, সে প্রসঙ্গে। এতে বিভিন্ন উপকারিতা, সংশয় ও সেগুলোর উত্তর রয়েছে।

7 - সপ্তম অধ্যায়: নিয়তের প্রকারভেদ এবং কর্মগত ও পরিমাণগত বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে; এতে প্রচুর উপকারিতা প্রকাশ পাবে।

8 - অষ্টম অধ্যায়: নিয়তকৃত বিষয়ের প্রকারভেদ এবং লক্ষ্য ও মাধ্যম হিসেবে এর বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
9 - الْبَاب التَّاسِع فِي معنى قَول الْفُقَهَاء المتطهر يَنْوِي رفع الْحَدث وَمَا معنى الْحَدث وَتَحْقِيق هَذِه الْمعَانِي

10 - الْبَاب الْعَاشِر فِيمَا يَقُوله الْفُقَهَاء إِن النِّيَّة تقبل الرّفْع مَعَ أَن الْوَاقِع يَسْتَحِيل رَفعه وَالشَّرْع لَا يرد بِخِلَاف الْعقل

فَهَذِهِ عشرَة أَبْوَاب مُشْتَمِلَة على مَقَاصِد الْكتاب وسميته الأمنية فِي إِدْرَاك النِّيَّة
9 - নবম অধ্যায়: ফকিহগণের এই উক্তির মর্মার্থ প্রসঙ্গে যে, ‘পবিত্রতা অর্জনকারী ব্যক্তি অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করবে’; এবং অপবিত্রতা বলতে কী বোঝায় ও এই অর্থসমূহের তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

10 - দশম অধ্যায়: ফকিহগণের এই উক্তি প্রসঙ্গে যে, নিয়ত প্রত্যাহার বা রদ করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে যা ঘটে গেছে তা প্রত্যাহার করা অসম্ভব; আর শরিয়ত বিবেচনাবোধের পরিপন্থী কোনো বিধান প্রদান করে না।

এই দশটি অধ্যায় কিতাবের মূল লক্ষ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং আমি এর নামকরণ করেছি আল-উমনিইয়াহ ফি ইদরাকিন নিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الْبَاب الأول فِي حَقِيقَة النِّيَّة

 

أعلم ان جنس النِّيَّة هُوَ الإرداة وَهِي صفة تَقْتَضِي التَّخْصِيص لذاتها عقلا شَاهدا وغائبا كَمَا يَقْتَضِي الْعلم الْكَشْف لذاته عقلا شَاهدا وغائبا وترتب الْكَشْف عَلَيْهِ

والتخصيص على الإرداة لَيْسَ بِمَعْنى زَائِد أوجب لَهُ ذَلِك

بل التَّخْصِيص مَعَ الْإِرَادَة والكشف مَعَ الْعلم نَحْو كَون الْعشْرَة زوجا والخمسة فَردا لَيْسَ مُعَللا بِشَيْء

ثمَّ إِن هَذِه الْإِرَادَة متنوعة الى الْعَزْم والهم وَالنِّيَّة والشهوة وَالْقَصْد وَالِاخْتِيَار وَالْقَضَاء وَالْقدر والعناية والمشيئة فَهِيَ عشرَة أَلْفَاظ
প্রথম অধ্যায়: নিয়তের (النية) স্বরূপ প্রসঙ্গে

 

জেনে রাখুন যে, নিয়তের (النية) মূল হলো ইচ্ছা (الإرادة); আর এটি এমন একটি গুণ যা দৃশ্যমান (شاهد) ও অদৃশ্য (غائب) উভয় জগতেই বুদ্ধিগতভাবে নিজ সত্তার জন্য বিশেষায়ন (التخصيص) দাবি করে, যেমন জ্ঞান (العلم) দৃশ্যমান ও অদৃশ্য উভয় জগতেই বুদ্ধিগতভাবে নিজ সত্তার জন্য উন্মোচন (الكشف) দাবি করে এবং এই উন্মোচন জ্ঞানের ওপরই নির্ভরশীল হয়।

আর ইচ্ছার (الإرادة) ওপর বিশেষায়নের (التخصيص) এই দাবি কোনো অতিরিক্ত অর্থের কারণে নয় যা একে আবশ্যক করেছে।

বরং ইচ্ছার (الإرادة) সাথে বিশেষায়ন (التخصيص) এবং জ্ঞানের (العلم) সাথে উন্মোচন (الكشف) হলো দশ সংখ্যাটি জোড় (زوج) হওয়া এবং পাঁচ সংখ্যাটি বিজোড় (فرد) হওয়ার মতো, যা কোনো বাহ্যিক কারণ দ্বারা ব্যাখ্যাযোগ্য নয়।

অতঃপর, এই ইচ্ছা (الإرادة) বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত, যথা: দৃঢ় সংকল্প (العزم), মানসিক চিন্তা (الهم), নিয়ত (النية), প্রবৃত্তি (الشهوة), উদ্দেশ্য (القصد), পছন্দ (الاختيار), ফয়সালা (القضاء), নির্ধারণ (القدر), বিশেষ তত্ত্বাবধান (العناية) এবং পরম ইচ্ছা (المشيئة); সুতরাং এগুলো দশটি পরিভাষা।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ولنبحث الْآن هَل هِيَ أَلْفَاظ مترادفة اَوْ متباينة أَو بَعْضهَا كَذَلِك وَالْبَعْض الآخر من الْقسم الْأُخَر وَمَا هُوَ جَائِز على الله تَعَالَى مِنْهَا وَمَا هُوَ مُتَعَذر

فَنَقُول الَّذِي يظْهر من مبَاحث الْفُضَلَاء وإشارات الأدباء فِيمَا ينقلونه عَن اللُّغَة أَن الْإِرَادَة كَمَا تقدم تَفْسِيرهَا هِيَ الصّفة المخصصة لأحد طرفِي الْمُمكن بِمَا هُوَ جَائِز عَلَيْهِ من وجود أَو عدم أَو هَيْئَة دون هَيْئَة أَو حَالَة دون حَالَة أَو زمَان دون زمَان وَجَمِيع مَا يُمكن أَن يَتَّصِف الْمُمكن بِهِ بَدَلا عَن خلَافَة أَو ضِدّه أَو نقيضه أَو مثله

غير أَنَّهَا فِي الْمشَاهد لَا يجب لَهَا حُصُول مرادها وَفِي حق الله تَعَالَى يجب لَهَا ذَلِك لِأَنَّهَا فِي الشَّاهِد عرض مَخْلُوق ومصرف بِالْقُدْرَةِ الألهية والمشيئة الربانية ومرادها وَفِي ميلحق الله تَعَالَى معنى لَيْسَ بِعرْض وَاجِبَة الْوُجُود مُتَعَلقَة لذاتها أزلية أبدية وَاجِبَة النّفُوذ فِيمَا تعلّقت بِهِ

وَأما الْعَزْم فَهُوَ الْإِرَادَة الكائنة على وفْق الداعية والداعية ميل يحصل فِي النَّفس لما شَعرت بِهِ من اشْتِمَال المُرَاد على مصلحَة خَالِصَة أَو راجحة أَو دَرْء مفْسدَة خَالِصَة أَو راجحه والميل جَائِز على الْخلق مُمْتَنع على الله تَعَالَى فَلَا جرم لَا يُقَال فِي حق الله تَعَالَى عزم بِمَعْنى اراد الْإِرَادَة الْخَاصَّة المصممة بل عزائم الله تَعَالَى طلبة الرَّاجِح أَي كَلَامه النفساني فَإِذا قُلْنَا إِن الله تَعَالَى يجب أَن تُؤْتى رخصَة كَمَا يحب أَن بؤتى عَزَائِمه فَالْمُرَاد مطلوباته والطلب أحد أَقسَام الْكَلَام لَيْسَ من الْإِرَادَة فِي شَيْء فالعزائم لَيست من الْعَزْم الَّذِي نريده بقولنَا عزمنا على السّفر أَو على الْإِقَامَة

فَظهر الْفرق بَين الْعَزْم والإرادة وَهُوَ معنى قَول بعض الْفُضَلَاء الْعَزْم إِرَادَة فِيهَا تصميم
এখন আমরা অনুসন্ধান করব যে, এগুলো কি সমার্থক (مترادفة) শব্দ নাকি ভিন্নতর (متباينة) শব্দ, অথবা এগুলোর কিছু সমার্থক এবং অবশিষ্টগুলো অন্য প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; আর আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এগুলোর কোনটি বৈধ (جائز) এবং কোনটি অসম্ভব।

আমরা বলছি যে, বিদগ্ধ পণ্ডিতদের আলোচনা এবং ভাষাবিদদের ইশারা-ইঙ্গিত থেকে যা প্রতীয়মান হয়—যা তাঁরা ভাষাতত্ত্ব থেকে বর্ণনা করেছেন—তাহলো এই যে, ইচ্ছা, যার ব্যাখ্যা ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তা হলো এমন একটি গুণ যা সম্ভাব্য বিষয়ের দুটি প্রান্তের কোনো একটিকে এমন বিষয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করে যা তার জন্য হওয়া সম্ভব—চাই তা অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব হোক, কোনো বিশেষ আকৃতি বা অবস্থা হোক, কিংবা কোনো বিশেষ সময় হোক—এবং যা কিছু দ্বারা কোনো সম্ভাব্য বিষয় গুণান্বিত হওয়া সম্ভব তার বিপরীতে, বা তার উল্টো, বা তার বিপরীতধর্মী কিংবা তার সদৃশ বিষয়ের পরিবর্তে।

তবে পার্থক্য এই যে, দৃশ্যমান জগতের ক্ষেত্রে ইচ্ছার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হওয়া অনিবার্য নয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে তা অনিবার্য। কেননা দৃশ্যমান জগতে তা হলো একটি সৃষ্ট আপতিক গুণ, যা ঐশ্বরিক কুদরত এবং রব্বানি ইচ্ছার মাধ্যমে পরিচালিত। পক্ষান্তরে, আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এটি এমন এক অর্থ যা কোনো আপতিক গুণ নয়; বরং তা সত্তাগতভাবে অনিবার্য অস্তিত্ব, অনাদি ও অনন্ত, এবং যা কিছুর সাথে তা সংশ্লিষ্ট হয় তাতে তার প্রভাব কার্যকর হওয়া অনিবার্য।

আর 'দৃঢ় সংকল্প' হলো এমন ইচ্ছা যা প্রেষণার অনুগামী। আর প্রেষণা হলো মনের মধ্যে সৃষ্ট এমন এক ঝোঁক বা প্রবণতা, যা কোনো উদ্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে বিশুদ্ধ বা প্রবল কল্যাণ নিহিত থাকা অথবা বিশুদ্ধ বা প্রবল অকল্যাণ দূর করার অনুভূতির ফলে তৈরি হয়। এই প্রকার ঝোঁক বা প্রবণতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। ফলে আল্লাহ তাআলার শানে 'দৃঢ় সংকল্প' শব্দটি সেই অর্থে বলা যাবে না যা দ্বারা বিশেষ কোনো সুদৃঢ় ইচ্ছাকে বোঝানো হয়। বরং আল্লাহর দৃঢ় নির্দেশসমূহ (عزائم) বলতে তাঁর কাম্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়সমূহকে বোঝায়, অর্থাৎ তাঁর সত্তাগত কথা। সুতরাং আমরা যখন বলি যে, 'আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন যে তাঁর প্রদানকৃত সহজ সুযোগ (رخصة) গ্রহণ করা হোক যেমনিভাবে তিনি তাঁর দৃঢ় নির্দেশসমূহ (عزائم) পালিত হওয়া পছন্দ করেন', তখন এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁর নির্দেশিত বিষয়সমূহ। আর 'নির্দেশ' বা 'চাহিদা' হলো কথার একটি প্রকার, যা ইচ্ছার কোনো অংশ নয়। অতএব, এই 'আযায়িম' বা দৃঢ় নির্দেশসমূহ (عزائم) সেই সংকল্প থেকে ভিন্ন যা আমরা 'সফরের সংকল্প করলাম' বা 'অবস্থানের সংকল্প করলাম' বলার সময় বুঝিয়ে থাকি।

সুতরাং দৃঢ় সংকল্প এবং ইচ্ছার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হলো। আর এটাই কোনো কোনো পণ্ডিতের সেই বক্তব্যের অর্থ যে—দৃঢ় সংকল্প হলো এমন এক ইচ্ছা যাতে সংকল্পের দৃঢ়তা বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَأما الْهم فِي مثل قَوْله تَعَالَى {وَلَقَد هَمت بِهِ وهم بهَا} وَفِي قَوْله صلى الله عليه وسلم من هم بحسنة فَلم يعملها كتبت لَهُ حسنه وَمن هم بسيئه فَلم يعملها لم تكْتب عَلَيْهِ فَالظَّاهِر أَنه مرادف للعزم وَأَن مَعْنَاهُمَا وَاحِدًا ويستحيل على الله تَعَالَى كَمَا اسْتَحَالَ الْعَزْم

وَأما النِّيَّة فَهِيَ إِرَادَة تتَعَلَّق بإمالة الْفِعْل الى بعض مَا يقبله لَا بِنَفس الْفِعْل من حَيْثُ هُوَ فعل فَفرق بَين قصدنا لفعل الصَّلَاة وَبَين قصدنا لكَون ذَلِك قربَة أَو فرضا أَو نفلا أَو أَدَاء أَو قَضَاء الى غير ذَلِك مِمَّا هُوَ جَائِز على الْفِعْل بالإرادة الْمُتَعَلّقَة بِأَصْل الْكسْب والإيجاد وَهِي الْمُسَمَّاة بالإرادة من جِهَة أَن هَذِه الْإِرَادَة مميلة للْفِعْل الى بعض جهاته الْجَائِزَة عَلَيْهِ فتسمى من هَذَا الْوَجْه نِيَّة فَصَارَت الْإِرَادَة إِذا اضيف إِلَيْهَا هَذَا الِاعْتِبَار صَارَت نِيَّة

وَهَذَا الِاعْتِبَار هُوَ تَمْيِيز الْفِعْل عَن بعض رتبه وتمييز الْفِعْل عَن بعض رتبه جَائِز على الله تَعَالَى فَإِنَّهُ سبحانه وتعالى قدير يُرِيد بِالْفِعْلِ الْوَاحِد نفع قوم وضرر قوم وضلال قوم الى غير ذَلِك مِمَّا هُوَ جَائِز على فعله تَعَالَى كَمَا قَالَ جلّ علاهُ {قل هُوَ للَّذين آمنُوا هدى وشفاء وَالَّذين لَا يُؤمنُونَ فِي آذانهم وقر وَهُوَ عَلَيْهِم عمى} فَجعل نفس إِنْزَال الْقُرْآن الْقَدِيم هدى لقوم وضلالا لآخرين وَهُوَ فعل وَاحِد وَالْكل بإرادته تَعَالَى ومشيئته

وَكَذَلِكَ نعمه على خلقه قد تكون فتْنَة لآخرين ونقمة عَلَيْهِم وَقد تكون نعْمَة لأخرين بالاتعاظ وَغَيره من النعم وَالْكل بإرادته تَعَالَى

আর সংকল্প (الهم) এর ক্ষেত্রে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর অবশ্যই সে তার প্রতি সংকল্প করেছিল এবং তিনিও তার প্রতি সংকল্প করতেন} এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই বাণীতে: "যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প (هم) করল অথচ তা সম্পাদন করল না, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়; আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প (هم) করল অথচ তা সম্পাদন করল না, তার বিরুদ্ধে কোনো গোনাহ লেখা হয় না।" এখানে দৃশ্যত এটি দৃঢ় ইচ্ছা (العزم) এর সমার্থক এবং উভয়ের অর্থ এক। আর আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব, যেমনটি তাঁর ক্ষেত্রে দৃঢ় ইচ্ছা (العزم) করা অসম্ভব।

আর নিয়ত হলো এমন এক ইচ্ছা যা কর্মকে তার কিছু সম্ভাব্য দিকের দিকে ধাবিত করার সাথে সংশ্লিষ্ট, কর্মটি স্বয়ং একটি কর্ম হওয়ার দিক থেকে নয়। সুতরাং আমাদের সালাত আদায়ের সংকল্প করা এবং সেই সালাতটি আল্লাহর নৈকট্য লাভ, কিংবা ফরজ, নফল, আদায় অথবা কাজা হওয়ার সংকল্প করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এটি কর্মের মূল অর্জন ও অস্তিত্ব লাভের সাথে সংশ্লিষ্ট ইচ্ছা—যাকে কেবল ‘ইচ্ছা’ বলা হয়—তা হতে ভিন্ন। এই বিশেষ ইচ্ছাকেই নিয়ত বলা হয় কারণ এটি কর্মকে তার বৈধ (جائز) সম্ভাব্য বিভিন্ন দিকের কোনো একটির দিকে ধাবিত করে। সুতরাং ইচ্ছার সাথে যখন এই বিশেষ বিবেচনাটি যুক্ত হয়, তখন তা নিয়তে পরিণত হয়।

আর এই বিবেচনাটি হলো কর্মকে তার কতিপয় স্তর থেকে পৃথক করা। আর কর্মকে তার বিভিন্ন স্তর থেকে পৃথক করা আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে বৈধ (جائز); কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বশক্তিমান। তিনি একই কর্মের মাধ্যমে এক সম্প্রদায়ের কল্যাণ, অন্য সম্প্রদায়ের ক্ষতি এবং অন্য এক সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্টতা চাইতে পারেন—যা আল্লাহ তায়ালার কার্যাবলীর ক্ষেত্রে বৈধ (جائز)। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও নিরাময়, আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের নিকট অন্ধত্বস্বরূপ}। সুতরাং তিনি অনাদি কুরআন অবতীর্ণ করার বিষয়টিকে এক সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত এবং অন্যদের জন্য পথভ্রষ্টতা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তা মূলত একটিই কর্ম। আর এর সবকিছুই তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

অনুরূপভাবে, সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ অন্যদের জন্য পরীক্ষা (فتنة) ও শাস্তিস্বরূপ হতে পারে, আবার অন্যদের জন্য উপদেশ গ্রহণ ও অন্যান্য নেয়ামতের মাধ্যমে রহমত হতে পারে। আর এর সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন।

(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
غير أَن أَسمَاء الله تَعَالَى توقيفية فَلَا يُسمى الله تَعَالَى نَاوِيا وَيُسمى مرِيدا

هَذَا إِن اقْتصر على الِاعْتِبَار الْعَام وَهُوَ مُطلق إمالة الْفِعْل الى بعض جهاته وَالصَّحِيح انه لَا يقْتَصر عَلَيْهِ وَأَن يُؤْخَذ معنى أخص فنه وَهُوَ إمالة الْفِعْل الى جِهَة حكم شَرْعِي يَشْمَل الْإِبَاحَة فينوي إِيقَاع الْفِعْل على الْوَجْه الَّذِي أَمر الله بِهِ وَنهى عَنهُ أَو أَبَاحَهُ

وَمِنْهُم من يَقُول بل أخص من هَذَا وَهُوَ أَن يمِيل الْفِعْل الى جِهَة التَّقَرُّب وَالْعِبَادَة

وعَلى التَّقْدِيرَيْنِ فيستحيل على الله مَعْنَاهَا بِخِلَاف الْمَعْنى الْعَام

وتفارق النِّيَّة الْإِرَادَة من وَجه آخر وَهُوَ أَن النِّيَّة لَا تتَعَلَّق إِلَّا بِفعل الناوي والإرادة تتَعَلَّق بِفعل الْغَيْر كَمَا نُرِيد مغْفرَة الله تَعَالَى وإحسانه وَلَيْسَت من فعلنَا

وَأما الشَّهْوَة فَهِيَ إِرَادَة مُتَعَلقَة براحات الْبشر كالملاذ وَرفع الآلام وَنَحْوهَا فتستحيل على الله تَعَالَى

وَأما الْقَصْد فَهُوَ الْإِرَادَة الكائنة بَين جِهَتَيْنِ كمن قصد الْحَج من مصر وَغَيرهَا وَمِنْه السّفر القاصد أَي فِي طَريقَة مُسْتَقِيمَة وَبِهَذَا الْمَعْنى يَسْتَحِيل على الله تَعَالَى

وَأما الِاخْتِيَار فَهُوَ الْإِرَادَة الكائنة بَين شَيْئَيْنِ فَصَاعِدا وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {وَاخْتَارَ مُوسَى قومه سبعين رجلا} أَي أَرَادَهُم دون غَيرهم مُضَافا الى اعْتِقَاد رُجْحَان الْمُخْتَار وَهُوَ جَائِز على الله تَعَالَى قَالَ الله تَعَالَى {وَلَقَد اخترناهم على علم على الْعَالمين}

وَأما الْقَضَاء فَهُوَ الْإِرَادَة المقرونه بالحكم الجبري فقضاء الله تَعَالَى لزيد بالسعادة أَرَادَ بِهِ سعادته مَعَ إخْبَاره بِكَلَامِهِ النفساني
তবে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ ওহীনির্ভর, তাই আল্লাহ তাআলাকে 'নিয়তকারী' বলা যায় না, যদিও তাঁকে 'ইচ্ছাকারী' বলা হয়।

এটি তখন হবে যখন বিষয়টিকে কেবল সাধারণ বিবেচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, আর তা হলো কোনো কাজকে স্রেফ কোনো একটি বিশেষ দিকে ধাবিত করা। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো, একে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না, বরং এর অধিকতর বিশেষ অর্থ গ্রহণ করতে হবে; আর তা হলো কাজকে শরয়ী বিধানের দিকে ধাবিত করা যা বৈধতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে ব্যক্তি কোনো কাজকে সেই পন্থায় সম্পন্ন করার নিয়ত করবে যা আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন অথবা যার অনুমতি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, বরং এর অর্থ আরও সুনির্দিষ্ট; আর তা হলো কোনো কাজকে নৈকট্য লাভ এবং ইবাদতের দিকে ধাবিত করা।

আর উভয় বিবেচনাতেই এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব, যা সাধারণ অর্থের বিপরীত।

নিয়ত ও ইচ্ছার মধ্যে অন্য একটি দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে; আর তা হলো নিয়ত কেবল নিয়তকারীর নিজস্ব কাজের সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে, পক্ষান্তরে ইচ্ছা অন্যের কাজের সাথেও সংশ্লিষ্ট হতে পারে। যেমন আমরা আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও অনুগ্রহের ইচ্ছা পোষণ করি, অথচ তা আমাদের কৃত কোনো কাজ নয়।

আর কামলিপ্সা বা প্রবৃত্তি হলো এমন ইচ্ছা যা মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন স্বাদ গ্রহণ, কষ্ট নিবারণ ও এই জাতীয় বিষয়াদি; সুতরাং এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব।

আর সংকল্প হলো সেই ইচ্ছা যা দুটি দিকের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে, যেমন কেউ মিশর বা অন্য কোনো স্থান থেকে হজের সংকল্প করল। এ থেকেই 'সরল পথ' কথাটি এসেছে, অর্থাৎ যা সোজা পথের ভ্রমণ। এই অর্থেও এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব।

আর পছন্দ বা নির্বাচন হলো সেই ইচ্ছা যা দুই বা ততোধিক জিনিসের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর মুসা তাঁর সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোককে বেছে নিলেন।" অর্থাৎ তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে তাঁদেরই ইচ্ছা করেছিলেন, যার সাথে পছন্দকৃত বিষয় বা ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাসও যুক্ত ছিল। আর এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এবং আমি জেনেশুনেই তাদেরকে বিশ্ববাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি (বেছে নিয়েছি)।"

আর ফয়সালা বা ডিক্রি হলো এমন ইচ্ছা যা অমোঘ হুকুমের সাথে যুক্ত। সুতরাং যায়েদের জন্য আল্লাহ তাআলার সৌভাগ্যের ফয়সালা করার অর্থ হলো, তিনি তার সৌভাগ্য ইচ্ছা করেছেন এবং তাঁর আত্মিক বাণীর মাধ্যমে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
عَن سعادته وَمِنْه قَضَاء الْحَاكِم إِذا أخبر عَن حكم الله تَعَالَى فِي تِلْكَ الْوَاقِعَة واخبارا إنشائيا وَلذَلِك تعذر نقضه بِخِلَاف الْفتيا وَقد بسطته فِي كتاب الْأَقْضِيَة فِي الذَّخِيرَة وبينت تَحْقِيق الْفرق بَينه وَبَين الْفتيا

وَأما الْقدر فَهُوَ الْإِرَادَة المتعلقه بِمَا فِيهِ مِقْدَار من الْأَجْسَام أَو عدد من الْأَعْرَاض وَهُوَ جَائِز على الله تَعَالَى

وَأما الْعِنَايَة فَهِيَ الأرادة الْمُتَعَلّقَة بالشَّيْء على نوع من الْحصْر والتخصيص وَلذَلِك قَالَت الْعَرَب إياك أَعنِي وأسمعي يَا جَارة أَي أخصك دون غَيْرك وَلم يقل إياك أُرِيد وَيَقُولُونَ مَا يَعْنِي بِكَلَامِهِ أَي مَا يخص بِهِ من الْمعَانِي الَّتِي يحتملها دون غَيرهَا

وموارد الِاسْتِعْمَال تشهد لهَذِهِ الْأُمُور مَقْصُودَة بأمرين

أَحدهمَا أَن الأَصْل فِي الْكَلَام الْحَقِيقَة مُضَافا الى أَن الأَصْل عدم الترادف وَبِهَذَا التَّفْسِير هُوَ جَائِز على الله تَعَالَى غير أَن اسماء الله تَعَالَى توقيفية فَلَا يُقَال لله تَعَالَى عان وان قيل مُقَدّر ومريد
...তাঁর সৌভাগ্য থেকে; আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো বিচারকের ফয়সালা (قضاء), যখন তিনি সেই নির্দিষ্ট ঘটনায় মহান আল্লাহর বিধান সম্পর্কে একটি গঠনমূলক সংবাদ (إخبارا إنشائيا) প্রদান করেন। এই কারণেই ফতোয়া (الفتيا)-র বিপরীতে এটিকে বাতিল করা অসম্ভব। আমি এ বিষয়টি আল-যাখিরা গ্রন্থের কিতাবুল আকদিয়া-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং ফয়সালা ও ফতোয়ার মধ্যকার পার্থক্যের প্রকৃত রূপটি সেখানে স্পষ্ট করেছি।

আর তাকদির বা পরিমাপ (القدر) হলো সেই ইচ্ছা (الإرادة) যা নির্দিষ্ট পরিমাণের দেহ (الأجسام) অথবা নির্দিষ্ট সংখ্যক গুণাবলীর (الأعراض) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে জায়েজ বা সম্ভব।

আর ইনায়াহ বা বিশেষ যত্ন (العناية) হলো এমন ইচ্ছা (الأرادة) যা কোনো বিষয়ের সাথে এক ধরনের সীমাবদ্ধকরণ (الحصر) ও সুনির্দিষ্টকরণের (التخصيص) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হয়। এই কারণেই আরবরা বলে থাকে: ‘তোমাকেই আমি বোঝাচ্ছি, সুতরাং হে প্রতিবেশী! তুমি শোনো’ অর্থাৎ: ‘অন্য কাউকে বাদ দিয়ে আমি তোমাকেই নির্দিষ্ট (أخص) করছি।’ এখানে ‘আমি তোমাকে চাচ্ছি’ বলা হয় না। তারা আরও বলে থাকে: ‘তিনি তাঁর কথার দ্বারা কী বুঝাতে চাইছেন?’ অর্থাৎ: সম্ভাব্য অর্থসমূহের মধ্য থেকে তিনি কোন অর্থটিকে সুনির্দিষ্ট করছেন যা অন্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ এই বিষয়গুলোর সাক্ষ্য দেয়, যা দুটি কারণে উদ্দিষ্ট।

প্রথমটি হলো—কথার ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো প্রকৃত অর্থ (الحقيقة), এর সাথে যোগ হয়েছে এই মূলনীতি যে, সমার্থকতা না থাকাটাই (عدم الترادف) মূল। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে আল্লাহর নামসমূহ যেহেতু শরীয়ত নির্ধারিত (توقيفية), তাই মহান আল্লাহকে ‘আ-ন’ (عان) বলা যাবে না, যদিও তাঁকে মুকান্দির (مقدر) এবং মুরিদ (مريد) বলা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَأما الْمَشِيئَة فَالظَّاهِر انها مرادفه للأرادة وَقَالَ الْحَنَفِيَّة هِيَ مباينة وجعلوها مشتقه من الشَّيْء وَالشَّيْء اسْم لموجود حَتَّى قَالُوا اذا قَالَ الْحَالِف ان شِئْت دُخُول الدَّار فَعَبْدي حر فَأَرَادَ الدُّخُول للدَّار لَا يعْتق عَبده حَتَّى يدْخل الدَّار وَلَا يَكْفِي ارادة دُخُول الدَّار حَتَّى يدخلهَا بِنَاء على ان الْمَشِيئَة مشتقه من الشَّيْء

وَوَقع فِي ذَلِك بيني وَبينهمْ بحث كَبِير وأطنبنا فِي كشف كتب اللُّغَة فَلم نجد للمشيئة معنى إِلَّا الْإِرَادَة فَالظَّاهِر الترادف وَهِي جَائِزَة على الله تَعَالَى كالإرادة

وَلَا يفهم من قولي إِن الْمَعْنى جَائِز على الله تَعَالَى الْإِمْكَان الْخَاص وَهُوَ جَوَاز الْوُجُود والعدم فَإِنِّي لم أرده وَإِنَّمَا أُرِيد بِالْجَوَازِ الْإِمْكَان الْعَام وَهُوَ كَون الْمَعْنى غير مُمْتَنع فَيصدق على الْوَاجِب وَهُوَ الْمَقْصُود فَإِن جَمِيع صِفَات الله تَعَالَى واجبه لَهُ سُبْحَانَهُ

فَهَذِهِ التعابير والتغايرات بَين هَذِه الْمعَانِي الْعشْرَة يساعد عَلَيْهَا الِاسْتِعْمَال وَالْأُصُول الْمُوجبَة لعدم الترادف

فتلخص ان النِّيَّة غير التِّسْعَة الْبَاقِيَة لما ذكر فِيهَا من الخصوصية الْمُتَقَدّمَة وخصوصيات كل وَاحِد من التِّسْعَة المفقودة فِي النِّيَّة فيجزم النَّاظر بِالْفرقِ حِينَئِذٍ وَلَا يضركون الِاسْتِعْمَال قد يتوسع فِيهِ فيستعمل وَأَرَادَ وَمرَاده نوى أَرَادَ وَمرَاده عزم أَو قصد أَو عَنى فَإِنَّهَا متقاربه الْمعَانِي حَتَّى يكَاد يجْزم بَينهَا بالترادف

غير أَن زين الدّين بن مصطفى من المغاربة وَالْقَاضِي شمس الدّين الحوفي وَجَمَاعَة من عُلَمَاء الْعرَاق تعرضوا للْفرق بَينهمَا وَهُوَ أولى من الترادف تَكْثِير الْفَوَائِد اللُّغَوِيَّة
আর ইচ্ছা (المشيئة) প্রসঙ্গে প্রতীয়মান হয় যে, তা সংকল্পের (الإرادة) সমার্থক (مرادفه)। তবে হানাফিগণ বলেন যে, এটি পৃথক (مباينة) এবং তারা এটিকে 'বস্তু' (الشيء) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتقة) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর 'বস্তু' (الشيء) হচ্ছে বিদ্যমান (موجود) কোনো সত্তার নাম। এমনকি তারা বলেছেন যে, যদি কোনো শপথকারী ব্যক্তি বলে: "যদি আমি ঘরে প্রবেশ করতে ইচ্ছা (شِئْت) করি, তবে আমার দাস মুক্ত"; অতঃপর সে ঘরে প্রবেশের সংকল্প করল, তবুও তার দাস মুক্ত হবে না যতক্ষণ না সে ঘরে প্রবেশ করে। শুধুমাত্র প্রবেশের সংকল্প করাই যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না সে প্রবেশ করে; এটি এই মতের ভিত্তিতে যে, ইচ্ছা (المشيئة) শব্দটি 'বস্তু' (الشيء) থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتقة)।

এ বিষয়ে আমার ও তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং আমরা ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থাবলি অনুসন্ধানে অনেক গভীর চর্চা করেছি। সেখানে আমরা ইচ্ছা-র (المشيئة) জন্য সংকল্প (الإرادة) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ খুঁজে পাইনি। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তারা সমার্থক (الترادف) এবং এটি সংকল্পের (الإرادة) ন্যায় আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য (جائزة)।

আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অর্থটি প্রযোজ্য (جائز) বলার দ্বারা যেন 'বিশেষ সম্ভাব্যত' (الْإِمْكَان الْخَاص) না বোঝা হয়, যা অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের সম্ভাবনা (جواز الوجود والعدم) বুঝায়; কারণ আমি তা বোঝাতে চাইনি। বরং আমি প্রযোজ্যতা (الجواز) দ্বারা 'সাধারণ সম্ভাব্যত' (الْإِمْكَان الْعَام) উদ্দেশ্য নিয়েছি, যার অর্থ হলো বিষয়টি অসম্ভব (ممتنع) নয়। ফলে তা অনিবার্য (الواجب) সত্তার ক্ষেত্রেও সত্য হয় এবং এটিই উদ্দেশ্য। কেননা আল্লাহ তাআলার সকল গুণাবলি (صفات) তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য আবশ্যিক (واجبة)।

সুতরাং এই দশটি অর্থের মধ্যকার এই প্রকাশভঙ্গি ও ভিন্নতাগুলো ভাষাগত ব্যবহার এবং সেই সকল মূলনীতি (الأصول) দ্বারা সমর্থিত যা সমার্থক (الترادف) না হওয়াকে আবশ্যক করে।

সংক্ষেপে সারকথা হলো, 'নিয়ত' (النية) অবশিষ্ট নয়টি থেকে ভিন্ন, যা এতে উল্লিখিত পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্য এবং নিয়ত-এর মধ্যে অনুপস্থিত সেই নয়টির প্রত্যেকের বিশেষত্বের কারণে। ফলে পর্যবেক্ষক তখন পার্থক্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। আর ভাষাগত ব্যবহারে প্রশস্ততা থাকতে পারে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; যেমন কেউ 'সংকল্প ও তার উদ্দেশ্য' (أَرَادَ وَمرَاده) শব্দটিকে 'নিয়ত করেছে' (نوى), 'সংকল্প করেছে' (عزم), 'উদ্দেশ্য করেছে' (قصد) বা 'অভিপ্রায় করেছে' (عنى) অর্থে ব্যবহার করতে পারে। কারণ এগুলোর অর্থ একে অপরের খুবই নিকটবর্তী, এমনকি কেউ কেউ এগুলোর মাঝে সমার্থক (الترادف) হওয়ার বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যান।

তবে মাগরিবের অধিবাসী জয়নুদ্দিন ইবনে মুস্তফা, কাজী শামসুদ্দিন আল-হুফি এবং ইরাকের একদল আলেম এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন; আর ভাষাগত উপকারিতা বৃদ্ধির জন্য সমার্থক (الترادف) হওয়ার চেয়ে এটিই অধিক উত্তম।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَبِهَذَا يظْهر معنى قَوْله عليه السلام الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَلم يقل الْأَعْمَال بالإرادات والعنايات أَو غير ذَلِك فَإِنَّهُ عليه السلام لم يرد إِلَّا الْإِرَادَة الْخَاصَّة المميلة للْفِعْل الى جِهَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة كَمَا تقدم فِي تَفْسِير النِّيَّة

وَأما كَونه عليه السلام قَالَ الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَلم يقل الْأَفْعَال وَلَا الإيثار وَلَا الإيجاد فان الْفرق وَاقع بَين أثر وأوجد وَخلق وَفعل وَعمل وصنع وبرأ وذرأ وَجعل وَكسب فَهَذِهِ عشرَة أَلْفَاظ

وَالْفرق بَينهَا أَن أثر يصلح للإيجاد والإعدام

وأوجد خَاص بالإيجاد

وَخلق لَهُ مَعْنيانِ - أَحدهمَا قدر وَهُوَ المُرَاد بقوله تَعَالَى {الْخَالِق البارئ المصور} 2 - وَالثَّانِي أوجد قَالَ بعض الْفُضَلَاء والمثال الْجَامِع ان الشقة اذا قدمت للخياط وأعتبرها قبل الْقطع فَقَالَ تكون قميصين فَهَذَا تَقْدِير فَإِذا فصلها فَهَذَا أثر فَإِذا خاطها فَهُوَ تَصْوِير فخلق الله تَعَالَى علمه وَقدره فِي الْأَشْيَاء قبل وجودهَا وإيجاد أبعاضها بردهَا وتكميل خلقهَا
আর এর মাধ্যমেই তাঁর (عليه السلام) বাণী: "সকল আমল নিয়তের (النيات) ওপর নির্ভরশীল"-এর অর্থ স্পষ্ট হয়। তিনি এ কথা বলেননি যে "সকল আমল ইচ্ছা (الإرادات) ও বিশেষ মনোযোগের (العنايات) ওপর নির্ভরশীল" অথবা অন্য কিছু; কারণ তিনি (عليه السلام) কেবল সেই বিশেষ ইচ্ছা (الإرادة) বুঝিয়েছেন যা কোনো কাজকে শরয়ী বিধানের (الأحكام الشرعية) দিকে ধাবিত করে, যেমনটি ইতিপূর্বে নিয়তের (النية) সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে।

আর তাঁর (عليه السلام) "আমল" (الأعمال) শব্দটি ব্যবহার করার কারণ এবং "ক্রিয়া" (الأفعال), "অগ্রাধিকার" (الإيثار) বা "অস্তিত্ব দান" (الإيجাদ) শব্দগুলো ব্যবহার না করার কারণ হলো— প্রভাব ফেলা (أثر), অস্তিত্ব প্রদান করা (أوجد), সৃষ্টি করা (خلق), সম্পাদন করা (فعل), কাজ করা (عمل), প্রস্তুত করা (صنع), সৃষ্টি করা (برأ), সৃষ্টি করে ছড়িয়ে দেওয়া (ذرأ), নির্ধারণ করা (جعل) এবং উপার্জন করা (كسب)— এই দশটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।

এগুলোর মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রভাব ফেলা (أثر) শব্দটি অস্তিত্ব দান এবং বিলুপ্ত করা (الإعدام)— উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।

আর অস্তিত্ব প্রদান করা (أوجد) শব্দটি কেবল অস্তিত্বে আনার (الإيجاد) বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট।

সৃষ্টি করা (خلق) শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে— প্রথমটি হলো পরিমাপ বা নির্ধারণ করা (قدر), যা মহান আল্লাহর বাণী "তিনিই স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী"-এর উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়টি হলো অস্তিত্বে আনা (أوجد)। জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি একটি সমন্বিত উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, যখন এক টুকরো কাপড় দর্জির কাছে দেওয়া হয় এবং কাটার আগে সে তা পর্যবেক্ষণ করে বলে যে "এটি দিয়ে দুটি জামা হবে", তখন এটি হলো নির্ধারণ (تقدير)। এরপর যখন সে কাপড়টি পৃথক বা কাটছাঁট করে, তখন তা হয় প্রভাব ফেলা (أثر)। আর যখন সে তা সেলাই করে, তখন তা হয় রূপদান (تصوير)। সুতরাং মহান আল্লাহর সৃষ্টি করা (خلق) হলো তাঁর জ্ঞান এবং বস্তুসমূহ অস্তিত্বে আসার আগে সেগুলোর ব্যাপারে তাঁর নির্ধারণ (قدر); এবং বস্তুর অংশবিশেষের অস্তিত্ব দান ও সেগুলোর সৃষ্টিকে পূর্ণতা দান করা।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَفعل يظْهر أَنه مرادف لأوجد وَقيل مَعْنَاهُ إِذا أُرِيد تَعْظِيم الْأَمر قيل عمل وَأَن اريد الِاقْتِصَار على تَأْثِير الْأَثر قيل فعل

وَأما عمل فَقيل مَعْنَاهُ فعل فعلا لَهُ شرف وَظُهُور وَكَذَلِكَ فعل إِذا أسْند ظُهُوره للحس وَلذَلِك قَالَ الله تَعَالَى {ألم تَرَ كَيفَ فعل رَبك بأصحاب الْفِيل} {ألم تَرَ كَيفَ فعل رَبك بعاد} وَلم يقل كَيفَ عمل رَبك لِأَنَّهُ أثر فِيهِ عِقَاب وانتقام لَا شرف وتعظيم

وَقَالَ الله تَعَالَى {مِمَّا عملت أَيْدِينَا أنعاما} وَأكْثر مَا ورد فِي الْقُرْآن الْكَرِيم من ذكر أَفعَال الْخَيْر بِلَفْظ عمل لَا بِلَفْظ الْفِعْل فَقَالَ تَعَالَى {بِمَا كُنْتُم تَعْمَلُونَ} {فَنعم أجر العاملين} {من عمل صَالحا فلنفسه} وَهُوَ كثير جدا

وَأما صنع فيطلق على مَا فِيهِ قُوَّة فِي الإيجاد وَلذَلِك يُقَال أَرْبَاب الصَّنَائِع للحرف لاحتياجها الى مزِيد قُوَّة والكائن عَن الصنع أبدا يكون عَظِيما فِي نَفسه وَلذَلِك قَالَ الله تَعَالَى {صنع الله الَّذِي أتقن كل شَيْء} إِشَارَة الى عَظمَة تسيير الْجبَال وزوالها عَن مواطنها وَلذَلِك قَالَ الله تَعَالَى فِي الْآيَة الْأُخْرَى {وَإِن كَانَ مَكْرهمْ لتزول مِنْهُ الْجبَال} فَدلَّ ذَلِك على أَن أزالة الْجبَال عَظِيم فِي نفس الْأَمر وَإِن كَانَت الْقُدْرَة الْقَدِيمَة نِسْبَة الممكنات إِلَيْهَا بِنِسْبَة وَاحِدَة

وَأما برأَ فَهُوَ يخْتَص بإيجاد الْأَجْسَام وَقد يُضَاف إِلَيْهِ أَنَّهَا من التُّرَاب وَمِنْه بريت الْقَلَم أَي هيأته على صور مخصوصه
'ফেল' (فعل) বা ক্রিয়া শব্দটি 'আওজাদা' (أوجد) বা অস্তিত্ব দান করার সমার্থক (مرادف) বলে প্রতীয়মান হয়। বলা হয়ে থাকে যে, যখন কোনো বিষয়কে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্য থাকে তখন তাকে 'আমল' (عمل) বা কাজ বলা হয়; আর যখন কেবল প্রভাবের ক্রিয়াশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার উদ্দেশ্য থাকে তখন তাকে 'ফেল' (فعل) বা ক্রিয়া বলা হয়।

পক্ষান্তরে 'আমল' (عمل) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো এমন কাজ করা যাতে মর্যাদা ও স্পষ্টতা বিদ্যমান থাকে। একইভাবে 'ফেল' (فعل) শব্দটিও তখন ব্যবহৃত হয় যখন এর প্রকাশেন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার (حس) সাথে সম্পর্কিত হয়। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কী রূপ আচরণ (فعل) করেছেন?} এবং {আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক আদ জাতির সাথে কী রূপ আচরণ (فعل) করেছেন?}। এখানে তিনি 'কী রূপ আমল (عمل) করেছেন' বলেননি; কারণ এতে শাস্তি (عقاب) ও প্রতিশোধের (انتقام) প্রভাব রয়েছে, কোনো মর্যাদা বা মহিমান্বিত করার বিষয় নেই।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, {যা আমাদের হাত তৈরি (عملت) করেছে সেই চতুষ্পদ জন্তুসমূহ থেকে}। পবিত্র কুরআনে ভালো কাজের অধিকাংশ বর্ণনা 'আমল' (عمل) শব্দ দিয়ে এসেছে, 'ফেল' (فعل) শব্দ দিয়ে নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তোমরা যা করতে (تعملون)}, {সৎকর্মশীলদের (العاملين) প্রতিদান কতই না উত্তম}, এবং {যে ব্যক্তি সৎকাজ (عمل صالحا) করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে}—এই ধরনের উদাহরণ অনেক।

আর 'সুন'আ' (صنع) বা নির্মাণ শব্দটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাতে অস্তিত্ব দান করার ক্ষেত্রে বিশেষ শক্তি নিহিত থাকে। এই কারণেই বিভিন্ন পেশার কারুশিল্পীদের 'আরবাব আস-সানা'ই' (أرباب الصنائع) বলা হয়, কারণ সেই কাজগুলোতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। আর 'সুন'আ' (صنع) বা নির্মাণ প্রক্রিয়া থেকে যা কিছু সৃষ্টি হয় তা সর্বদা নিজস্ব সত্তায় মহিমান্বিত হয়ে থাকে। এই কারণে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আল্লাহর সুনিপুণ নির্মাণ (صنع الله), যিনি প্রতিটি জিনিসকে সুদৃঢ় করেছেন}—যা পাহাড়ের সঞ্চালন এবং তাদের স্বস্থান থেকে অপসৃত হওয়ার মহত্ত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন, {যদিও তাদের চক্রান্ত এমন ছিল যাতে পাহাড় টলে যেত}। এটি প্রমাণ করে যে, পাহাড়ের অপসারণ বিষয়টি বাস্তবে অত্যন্ত বিশাল বিষয়, যদিও অনাদি কুদরত বা ক্ষমতার নিকট সকল সম্ভবপর বিষয় (ممكنات) সমানুপাতিক।

আর 'বারাআ' (برأ) বা সৃষ্টি করা বিষয়টি বিশেষত দেহের (أجسام) অস্তিত্ব দান করার সাথে সংশ্লিষ্ট। কখনও এর সাথে এটিও যোগ করা হয় যে এগুলো মাটি থেকে তৈরি। এখান থেকেই 'বারাইতু আল-কালাম' (بريت القلم) কথাটি এসেছে, যার অর্থ হলো আমি কলমটিকে একটি বিশেষ আকৃতিতে প্রস্তুত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {أُولَئِكَ هم خير الْبَريَّة} إِن همز فَمن الْبُرْء الَّذِي هُوَ الإيجاد الْخَاص أَو لم يهمز فَمن الْبَراء الْمَقْصُورَة الَّذِي هُوَ التُّرَاب

وَأما دَرأ فَمَعْنَاه الدّفع وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {ويدرأ عَنْهَا الْعَذَاب} أَي يدْفع فالإخراج من الْعَدَم إِلَى الْوُجُود كالدفع من حيّز الْعَدَم إِلَى حيّز الْوُجُود

وَأما جعل فَلهُ خَمْسَة معَان قَالَ أَبُو عَليّ الْفَارِسِي فِي الْإِيضَاح جعل بِمَعْنى فعل نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَجعل الظُّلُمَات والنور}

وَبِمَعْنى صير نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَجَعَلنَا اللَّيْل لباسا}

وَبِمَعْنى سمى نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَجعلُوا الْمَلَائِكَة الَّذين هم عباد الرَّحْمَن إِنَاثًا} أَي سموهم إِنَاثًا لانهم لم يؤثروا فِي ذواتهم

وَبِمَعْنى قَارب نَحْو قَوْلنَا جعل زيد يَقُول كَذَا أَي قَارب القَوْل وَشرع فِيهِ

وَبِمَعْنى ألْقى نَحْو قَوْلك جعلت متاعك بعضه على بعض أَي أَلقيته
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী {তারা সৃষ্টির (البرية) শ্রেষ্ঠ}। যদি শব্দটি হামযাহ সহকারে পড়া হয়, তবে তা 'আল-বুরউ' থেকে আগত, যার অর্থ বিশেষ সৃষ্টি বা অস্তিত্ব দান (الإيجاد الخاص)। আর যদি হামযাহ ছাড়া পড়া হয়, তবে তা 'আল-বারা' (المقصورة) থেকে আগত, যার অর্থ মাটি (التراب)।

আর 'দারাআ' (درأ) এর অর্থ হলো প্রতিহত করা (الدفع)। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী {আর তা তার থেকে আজাব প্রতিহত করবে (ويدرأ)} অর্থাৎ দূর করবে। সুতরাং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে বের করে আনা হলো অনস্তিত্বের বলয় থেকে অস্তিত্বের বলয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো।

আর 'জাআলা' (جعل) শব্দের পাঁচটি অর্থ রয়েছে। আবু আলী আল-ফারিসি 'আল-ইজাহ' গ্রন্থে বলেছেন: 'জাআলা' শব্দটি 'কাজ করা' (فعل) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {আর তিনি অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন (جعل)}।

এবং 'রূপান্তরিত করা' (صير) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {আর আমি রাতকে করেছি (جعلنا) আবরণ}।

এবং 'নামকরণ করা' (سمى) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {আর তারা ফেরেশতাদেরকে নারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে (جعلوا), যারা পরম করুণাময়ের বান্দা}। অর্থাৎ তারা তাদের নারী হিসেবে নামকরণ করেছে, কারণ তারা তাদের সত্তাগত বিষয়ে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

এবং 'উপক্রম হওয়া' বা 'নিকটবর্তী হওয়া' (قارب) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আমাদের উক্তি: 'যায়েদ এমনটি বলতে শুরু করল (جعل)' অর্থাৎ সে কথাটি বলার নিকটবর্তী হলো এবং তা শুরু করল (شرع)।

এবং 'রাখা' বা 'নিক্ষিপ্ত করা' (ألقى) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'আমি তোমার আসবাবপত্র একটির ওপর আরেকটি রাখলাম (جعلت)' অর্থাৎ আমি সেগুলো সেখানে স্থাপন করলাম।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَأما كسب فَمَعْنَاه إِيجَاد الْفِعْل على نوع من التعاطي والمحاولة وَلذَلِك يُقَال الْإِنْسَان يكْسب وَلَا يُقَال لله تَعَالَى يكْسب قَالَ الله تَعَالَى {فبمَا كسبت أَيْدِيكُم}

وَإِذا تقررت هَذِه الْمعَانِي بِنَاء على موارد الِاسْتِعْمَال منصوصة بِأَن الأَصْل عدم الترادف فَلَا يضر وُرُود بَعْضهَا مَكَان بعض فِي الصُّور لتقاربها فِي الْمعَانِي

فَإِذا تعين أَن الْعَمَل لما فِيهِ شرف وَظُهُور بِخِلَاف أصل الْأَثر فَإِنَّهُ يُسمى فعلا حسنا حِينَئِذٍ أَن يُقَال الاعمال بِالنِّيَّاتِ دون الْأَفْعَال بِالنِّيَّاتِ لَان التَّقْدِير فِي خبر الْمُبْتَدَأ الْمَحْذُوف الْأَعْمَال مُعْتَبرَة بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا يُرَاد اعْتِبَارهَا إِذا كَانَت تصلح لله تَعَالَى ولايصلح لَهُ إِلَّا مَا كَانَ شريفا فِي نَفسه فَإِذا أضيف إِلَيْهِ النِّيَّة صَار يَتَرَتَّب عَلَيْهِ الثَّوَاب عِنْد الله تَعَالَى وَيُسمى الْمحرم عملا وَإِن كَانَ مَنْهِيّا عَنهُ مُبْعدًا عِنْد الله تَعَالَى لانه عَظِيم فِي طوره وَلذَلِك تسمى الْمعاصِي كَبَائِر وعظائم لما حوى الْفِعْل من معنى العظمة فِي طوره خيرا أَو شرا

وَلذَلِك منع بعض الْعلمَاء من تنَاول الحَدِيث الْوضُوء حَيْثُ اسْتدلَّ بِهِ على وجوب النِّيَّة فِي الوضؤ فَقَالَ لَا أسلم أَن الْوضُوء من الْأَعْمَال بل هُوَ من الْأَفْعَال والْحَدِيث إِنَّمَا ورد فِي الْأَعْمَال وَتَقْدِيره أَن الطَّهَارَة شَرط ووسيلة لَا تقصد فِي نَفسهَا فَلم يصل شرف رُتْبَة الْمَقَاصِد فَلَيْسَ فِيهِ من الظُّهُور والشرف مَا فِي الصَّلَاة وَنَحْوهَا فَلَا نسلم اندراجه وَهُوَ منع مَشْهُور من قبل الْحَنَفِيَّة فِي مَسْأَلَة اشْتِرَاط النِّيَّة فِي الطَّهَارَة

فَظهر حِينَئِذٍ حَقِيقَة النِّيَّة وَالْعَمَل وَالْفرق بَينهمَا وَبَين أضدادهما وَالْجَوَاب عَن السُّؤَال وَهُوَ الْمَطْلُوب
আর 'কসব' (کسب) এর অর্থ হলো কোনো প্রকার প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো কার্য সম্পাদন করা। এই কারণেই বলা হয় যে মানুষ অর্জন (کسب) করে, কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে 'কসব' শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {সেজন্য যা তোমাদের হাতসমূহ অর্জন (کسب) করেছে}।

যখন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহের ভিত্তিতে এই অর্থগুলো নির্ধারিত হলো—যেখানে মূলনীতি হলো শব্দগুলোর মধ্যে সমার্থকতা (ترادف) না থাকা—তখন অর্থের নৈকট্যের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটির পরিবর্তে অন্যটির ব্যবহার কোনো ক্ষতি করে না।

যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে, 'আমল' (عمل) শব্দটির প্রয়োগ সম্মান ও গুরুত্বের আধিক্যের কারণে হয়ে থাকে, পক্ষান্তরে মূল প্রভাবকে 'ফেইল' (فعل) বলা হয়; তখন এটি বলা সংগত যে 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল', 'ফেইলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' নয়। কেননা উহ্য উদ্দেশ্য (مبتدأ) এর বিধেয় (خبر) এর প্রাক্কলন হলো: 'আমলসমূহ নিয়তের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য'। আর এগুলো কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয় যখন তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির যোগ্য হয়; আর কেবল তা-ই আল্লাহর যোগ্য যা স্বয়ং মর্যাদাপূর্ণ। সুতরাং যখন এর সাথে নিয়ত যুক্ত হয়, তখন তা আল্লাহর কাছে সওয়াব বা প্রতিদান প্রাপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি কোনো হারাম কাজকেও 'আমল' (عمل) বলা হয় যদিও তা নিষিদ্ধ এবং আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে দূরকারী; কারণ তা তার নিজ সত্তায় একটি গুরুতর বিষয়। এই কারণেই পাপাচারসমূহকে কাবিরা (كبائر) এবং গুরুতর বিষয় (عظائم) বলা হয়, যেহেতু সেই কার্যের মধ্যে ভালো বা মন্দের বিচারে গুরুত্বের অর্থ নিহিত থাকে।

এ কারণেই কোনো কোনো আলেম ওযুর ক্ষেত্রে এই হাদিসটির প্রয়োগ অস্বীকার করেছেন, যেখানে ওযুতে নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে এটি থেকে দলিল পেশ করা হয়। তিনি বলেন: আমি এটা স্বীকার করি না যে ওযু 'আমল' (عمل) এর অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি 'ফেইল' (فعل) এর অন্তর্ভুক্ত। আর হাদিসটি মূলত 'আমল' এর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো, পবিত্রতা একটি শর্ত এবং মাধ্যম মাত্র, যা স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়। ফলে এটি উদ্দেশ্যের মর্যাদায় উন্নীত হতে পারেনি। আর ওযুর মধ্যে নামাজ বা সমজাতীয় ইবাদতের মতো গুরুত্ব ও প্রকাশ্যতা নেই। সুতরাং আমরা এর অন্তর্ভুক্তি স্বীকার করি না। এটি পবিত্রতার ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত হওয়ার মাসআলায় হানাফিগণের পক্ষ থেকে একটি প্রসিদ্ধ আপত্তি (منع)।

এর মাধ্যমে নিয়ত ও আমলের প্রকৃত স্বরূপ এবং এ দুটির মাঝে ও এদের বিপরীত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হলো। সেই সাথে প্রশ্নের উত্তরও উদঘাটিত হলো, যা ছিল কাঙ্ক্ষিত।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْبَاب الثَّانِي فِي مَحل النِّيَّة

 

اعْلَم أَن النِّيَّة هِيَ نوع من الْإِرَادَة كَمَا تقدم والإرادة وأنواعها وَالْعلم وَالظَّن وَالشَّكّ وَالْخَوْف والرجاء وَجَمِيع مَا ينْسب إِلَى الْقلب من الْأَعْمَال هُوَ قَائِم بِالنَّفسِ قَالَ الْمَازرِيّ فِي شرح التَّلْقِين أَكثر الْفُقَهَاء وَأَقل الفلاسفة على أَن الْعقل فِي الْقلب وَأَقل الْفُقَهَاء واكثر الفلاسفة على أَنه فِي الدِّمَاغ محتجين بِأَنَّهُ إِذا أصَاب الدِّمَاغ آفَة فسد الْعقل وَبَطلَت الْعُلُوم والأنظار والفكر وأحوال النَّفس

وَأجِيب بِأَن استقامة الدِّمَاغ لَعَلَّهَا شَرط والشيءقد يفْسد لفساد مَحَله وَقد يفْسد لفساد شَرطه وَمَعَ الأحتمال فَلَا جزم بل النُّصُوص وَارِدَة بِأَن ذَلِك فِي الْقلب كَقَوْلِه تَعَالَى {أفلم يَسِيرُوا فِي الأَرْض فَتكون لَهُم قُلُوب يعْقلُونَ بهَا} {إِن فِي ذَلِك لذكرى لمن كَانَ لَهُ قلب} {أُولَئِكَ كتب فِي قُلُوبهم الْإِيمَان} {أَفَمَن شرح الله صَدره لِلْإِسْلَامِ} وَلم يذكر الدِّمَاغ قطّ فِي هَذِه الْمَوَاضِع فَدلَّ على أَن مَحل الْعقل الْقلب لَا الدِّمَاغ

وَجعل الله تَعَالَى فِي مجاري عَادَته استقامة الدِّمَاغ شرطا فِي حُصُول أَحْوَال الْعقل وَالْقلب على وَجه الاسْتقَامَة
দ্বিতীয় অধ্যায়: নিয়তের স্থান (محل) প্রসঙ্গে।

 

জেনে রাখুন যে, নিয়ত (نية) হলো এক প্রকারের ইচ্ছা (إرادة), যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর ইচ্ছা (إرادة) ও এর প্রকারভেদসমূহ, জ্ঞান (علم), প্রবল ধারণা (ظن), সন্দেহ (شك), ভয় (خوف), আশা (رجاء) এবং অন্তরের (قلب) দিকে নিসবত করা হয় এমন সকল আমল নফসের (نفس) সাথে সম্পৃক্ত। আল-মাজিরি ‘শারহুত তালকিন’-এ বলেছেন যে, অধিকাংশ ফকিহ (فقهاء) এবং অল্প সংখ্যক দার্শনিক (فلاسفة) এই মত পোষণ করেন যে, আকল (عقل) অন্তরে (قلب) অবস্থিত। আর অল্প সংখ্যক ফকিহ (فقهاء) এবং অধিকাংশ দার্শনিক (فلاسفة) মনে করেন যে, এটি মস্তিষ্কে অবস্থিত। তারা যুক্তি প্রদান করেছেন যে, যখন মস্তিষ্কে কোনো ব্যাধি আক্রান্ত হয়, তখন আকল (عقل) নষ্ট হয়ে যায় এবং জ্ঞান (علوم), পর্যবেক্ষণ (أنظار), চিন্তা (فكر) ও নফসের (نفس) অবস্থাসমূহ বাতিল হয়ে যায়।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মস্তিষ্কের সুস্থতা সম্ভবত একটি শর্ত (شرط)। কোনো বস্তু কখনও তার স্থানের (محل) ত্রুটির কারণে নষ্ট হতে পারে, আবার কখনও তার শর্তের (شرط) ত্রুটির কারণেও নষ্ট হতে পারে। আর সম্ভাবনার উপস্থিতিতে কোনো বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না; বরং বর্ণিত দলিলসমূহ (نصوص) নির্দেশ করে যে, তা অন্তরে (قلب) অবস্থিত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তারা জমিনে ভ্রমণ করেনি, যাতে তাদের এমন অন্তর (قلب) হতো যা দ্বারা তারা বুঝতে পারত?} {নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর (قلب) আছে} {তাদের অন্তরে (قلب) তিনি ঈমান লিখে দিয়েছেন} {তবে কি যার বক্ষ আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন?}। এই সকল স্থানে কখনোই মস্তিষ্কের কথা উল্লেখ করা হয়নি, যা প্রমাণ করে যে আকলের (عقل) স্থান (محل) হলো অন্তর (قلব), মস্তিষ্ক নয়।

আর মহান আল্লাহ তাঁর স্বাভাবিক নিয়মে মস্তিষ্কের সুস্থতাকে আকল (عقل) ও অন্তরের (قلب) অবস্থাসমূহ সঠিকভাবে অর্জিত হওয়ার জন্য একটি শর্ত (شرط) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِذا تقرر أَن الْعقل فِي الْقلب يلْزم على أصولنا أَن النَّفس فِي الْقلب لِأَن جَمِيع مَا ينْسب إِلَى الْعقل من الْفِكر والعلوم وَغير ذَلِك إِنَّمَا هِيَ صِفَات النَّفس فَتكون النَّفس فِي الْقلب عملا بظواهر النُّصُوص

وَقد قَالَ بعض الْعلمَاء إِن النَّفس هِيَ الرّوح وَهِي الْعقل فتسمى نفسا بِاعْتِبَار ميلها إِلَى الملاذ والشهوات

وروحا بِاعْتِبَار تعلقهَا بالجسد تعلق التَّدْبِير بِإِذن الله تَعَالَى فِي غذائه وَصِحَّته وسقمه وَمَتى فارقته ذهبت حَيَاته فِي مجاري الْعَادَات وَمن الْمُمكن عقلا أَن تذْهب الرّوح من الْجَسَد وَيبقى حَيا كَمَا تضع الْمَرْأَة جَنِينهَا وَتبقى حَيَّة على حَالهَا

فَالنَّفْس جسم لطيف حَيّ شفاف فِي جسم حَيّ كثيف فمفارقته كمفارقة الْجَنِين

وَبِاعْتِبَار كرنها محصلة للعلوم بالفكر تسمى عقلا فَصَارَ لَهَا ثَلَاثَة أَسمَاء بِاعْتِبَار ثَلَاثَة أَحْوَال والموصوف وَاحِد وَبِهَذَا يتَّجه أَنَّهَا فِي الْقلب

وَإِذا كَانَت النَّفس فِي الْقلب كَانَت النِّيَّة والإرادة وأنواع الْعُلُوم وَجَمِيع أَحْوَال النَّفس فِي الْقلب
যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে, বুদ্ধি (العقل) হৃদযন্ত্রে (القلب) থাকে, তখন আমাদের মূলনীতি অনুযায়ী (أصولنا) এটি আবশ্যক হয় যে, আত্মা (النفس) হৃদযন্ত্রেই অবস্থান করে; কারণ চিন্তা-ভাবনা ও জ্ঞানসহ বুদ্ধির প্রতি যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তার সবই মূলত আত্মারই গুণাবলি। সুতরাং দলিলের (النصوص) বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী আত্মা (النفس) হৃদযন্ত্রেই অবস্থান করে।

কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, আত্মা (النفس) মূলত রুহ (الروح) এবং তা-ই হলো বুদ্ধি (العقل)। তবে আনন্দ ও প্রবৃত্তির (الشهوات) প্রতি ঝোঁকের কারণে একে আত্মা (النفس) নামে অভিহিত করা হয়।

আর দেহের সাথে পরিচালনার সম্পর্কের বিচারে—যা মহান আল্লাহর নির্দেশে তার পুষ্টি, সুস্থতা ও অসুস্থতার সাথে সংশ্লিষ্ট—একে রুহ (الروح) বলা হয়। আর যখন এটি দেহ ত্যাগ করে, তখন সাধারণ নিয়মে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। তবে যুক্তিসঙ্গতভাবে (عقلا) এটি সম্ভব যে, দেহ থেকে রুহ (الروح) বের হয়ে যাওয়ার পরও তা জীবিত থাকবে, যেমন একজন নারী তার গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ করার পরও নিজে জীবিত থাকেন।

বস্তুত আত্মা (النفس) হলো একটি সজীব ও স্বচ্ছ সূক্ষ্ম দেহ (جسم لطيف), যা একটি সজীব ও স্থুল দেহের অভ্যন্তরে থাকে; তাই এর পৃথক হওয়া অনেকটা গর্ভস্থ সন্তানের পৃথক হওয়ার মতো।

আর চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণের মাধ্যম হওয়ার বিচারে একে বুদ্ধি (العقل) বলা হয়। ফলে তিনটি অবস্থার প্রেক্ষিতে এর তিনটি নাম হয়েছে, অথচ এর মূল সত্তা একটিই। আর এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, এটি হৃদযন্ত্রেই (القلب) অবস্থান করে।

আর যখন আত্মা (النفس) হৃদযন্ত্রে (القلب) থাকে, তখন নিয়ত (النية), ইচ্ছা (الإرادة), বিবিধ জ্ঞান এবং আত্মার (النفس) সকল অবস্থাও হৃদযন্ত্রেই বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْبَاب الثَّالِث فِي اعْتِبَارهَا شرعا

 

وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {وَمَا أمروا إِلَّا ليعبدوا الله مُخلصين لَهُ الدّين} وَالْإِخْلَاص هُوَ إِرَادَة تمييل الْفِعْل إِلَى جِهَة الله تَعَالَى وَحده خَالِصا وَالْقَصْد الْمُتَعَلّق بتمييل الْفِعْل إِلَى جِهَة الله تَعَالَى هُوَ النِّيَّة كَمَا تقدم فِي بَيَان حَقِيقَة النِّيَّة وَصِيغَة الْحصْر الَّتِي فِي الْآيَة تَقْتَضِي أَن مَا لَيْسَ بمنوي لَيْسَ مَأْمُورا بِهِ وَمَا لَيْسَ مَأْمُورا بِهِ لَا يكون عبَادَة وَلَا تَبرأ الذِّمَّة من الْمَأْمُور بِهِ وَهُوَ الْمَطْلُوب

وَفِي مُسلم قَالَ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لكل امرىء مَا نوى

وَتَقْدِيره الْأَعْمَال مُعْتَبرَة بِالنِّيَّاتِ لِأَن الْأَخْبَار مَعَ المجرورات محذوفة فتقدر وَيكون الْمَجْرُور مُتَعَلقا بهَا وَأحسن مَا قدر الْخَبَر هَا هُنَا بِهَذِهِ الْآيَة لِأَنَّهُ جَامع بَين الشَّرْع والنحو فَيكون مَا لَيْسَ بمنوي غير مُعْتَبر وَهُوَ الْمَطْلُوب

وَهَذَا الحَدِيث يتَنَاوَل جَمِيع مَا يُسمى عملا لعُمُوم الْألف وَاللَّام وَيبقى النزاع فِيمَا يُسمى فعلا كَمَا تقدم مَعَ الْحَنَفِيَّة

وَقد تقدم فِي الْبَاب الأول الْجَواب عَن السُّؤَال الثَّانِي لم قَالَ صلى الله عليه وسلم الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَلم يقل الْأَفْعَال بِالنِّيَّاتِ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরীয়তের দৃষ্টিতে এর গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) প্রসঙ্গে।

 

আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই প্রদান করা হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ (مخلصين) হয়ে।} আর ইখলাস (إخلاص) হলো কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কর্মকে নির্দিষ্ট করা। আর কর্মকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত করার সাথে সংশ্লিষ্ট সংকল্পই হলো নিয়ত (نية), যেমনটি নিয়তের (نية) প্রকৃত রূপ বর্ণনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আয়াতে ব্যবহৃত সীমাবদ্ধকরণমূলক কাঠামো (صيغة الحصر) এটিই দাবি করে যে, যা নিয়ত (نية) বিহীন তা আদিষ্ট নয়; আর যা আদিষ্ট নয় তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না এবং আদিষ্ট বিষয় পালনের দায়ভার থেকেও মুক্তি ঘটে না; আর এটিই মূলত কাম্য।

মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের (نية) ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যা সে নিয়ত (نية) করে।"

এর ব্যাখ্যা হলো: আমলসমূহ নিয়তের (نية) মাধ্যমেই গ্রহণযোগ্য (معتبرة); কেননা হরফে জরের পরবর্তী শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধেয়টি (خبر) এখানে উহ্য রয়েছে, যা অনুমিত ধরে নিতে হবে এবং জার-মজরুরটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। এখানে বিধেয়টি (خبر) উহ্য ধরার ক্ষেত্রে এই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য রাখাই সবচেয়ে উত্তম; কারণ এটি শরীয়ত ও ব্যাকরণগত নিয়মের মধ্যে সমন্বয়কারী। সুতরাং যা নিয়ত (نية) বিহীন তা অগ্রহণযোগ্য (غير معتبر), আর এটিই মূলত কাম্য।

এই হাদিসটি 'আমল' হিসেবে অভিহিত প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এতে যুক্ত আলিফ-লাম (الألف واللام) ব্যাপকতা (عموم) প্রদান করে। তবে যেটিকে কেবল 'ক্রিয়া' (فعل) বলা হয়, সে বিষয়ে হানাফীদের সাথে মতভেদ পূর্বের ন্যায় বহাল থাকে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কেন "আমলসমূহ নিয়তের (نية) ওপর নির্ভরশীল" বললেন এবং কেন "ক্রিয়াসমূহ নিয়তের (نية) ওপর নির্ভরশীল" বলেননি—এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর প্রথম পরিচ্ছেদে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الْبَاب الرَّابِع فِي حِكْمَة إِيجَاب النِّيَّة فِي الشَّرْع

وَحِكْمَة إِيجَابهَا تَمْيِيز الْعِبَادَات عَن الْعَادَات أَو تَمْيِيز مَرَاتِب الْعِبَادَات

فَالْأول لتمييز مَا لله تَعَالَى عَن مَا لَيْسَ لَهُ فيصلح الْفِعْل للتعظيم كالغسل يَقع تبردا وتنظيفا وَيَقَع عبَادَة مَأْمُور بهَا فَإِذا نوى تعين أَنه لله تَعَالَى فَيَقَع تَعْظِيم العَبْد للرب بذلك الْغسْل وَمَعَ عدم النِّيَّة لَا يحصل التَّعْظِيم وكالصوم يكون لعدم الْغذَاء وَيكون للتقرب فَإِذا نوى حصل بِهِ التَّعْظِيم لله تَعَالَى ونظائره فِي الْأَفْعَال كَثِيرَة فقالء وَيكون للتقرب فَإِذا حصل بِهِ التَّعْظِيم لله تَعَالَى ونظائره فِي الْأَفْعَال كَثِيرَة فَقَالَ

2 - وَأما الثَّانِي فكالصلاة تَنْقَسِم إِلَى فرض ومندوب فالفرض يَنْقَسِم إِلَى مَنْدُوب وَغير مَنْدُوب وَغير الْمَنْدُوب يَنْقَسِم إِلَى الصَّلَوَات الْخمس قَضَاء وَأَدَاء وَالْمَنْدُوب يَنْقَسِم إِلَى راتب كالعيدين وَالْوتر وَغير راتب كالنوافل وَكَذَلِكَ القَوْل فِي قربات المَال وَالصَّوْم والنسك فشرعت النِّيَّة لتمييز هَذِه الرتب وَلأَجل هَذِه الْحِكْمَة تُضَاف صَلَاة الْكُسُوف وَالِاسْتِسْقَاء وَالْعِيدَيْنِ إِلَى أَسبَابهَا لتمييز رتبها وَكَذَلِكَ تتَعَيَّن إِضَافَة الْفَرَائِض إِلَى أَسبَابهَا لتمييز رتبها لَا لِأَن تِلْكَ الْأَسْبَاب قرب فِي نَفسهَا بِخِلَاف أَسبَاب الْكَفَّارَات لَا تُضَاف إِلَيْهَا فِي النَّوْع الْوَاحِد لِأَنَّهَا مستوية نَحْو كَفَّارَات الْحِنْث فِي الْيَمين إِذا وَقع وَاحِدَة مِنْهَا لَا تضيفها إِلَى سَببهَا لِأَن الْأَسْبَاب مستوية بِخِلَاف
শরয়ি বিধানে নিয়ত ওয়াজিব করা (إيجاب) সংক্রান্ত হিকমত বা প্রজ্ঞা বিষয়ক চতুর্থ অধ্যায়

আর নিয়ত ওয়াজিব করার হিকমত হলো অভ্যাস (عادات) থেকে ইবাদতকে (عبادات) পৃথক করা অথবা ইবাদতের স্তরসমূহের (مراتب العبادات) মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।

প্রথমটি হলো যা মহান আল্লাহর জন্য এবং যা তাঁর জন্য নয়—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করা, যাতে আমলটি সম্মান প্রদর্শনের উপযোগী হয়। যেমন গোসল; এটি শরীর শীতলীকরণ (تبردا) বা পরিচ্ছন্নতার (تنظيفا) উদ্দেশ্যে হতে পারে, আবার এটি আদিষ্ট ইবাদত (عبادة) হিসেবেও হতে পারে। সুতরাং যখন কেউ নিয়ত করে, তখন তা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে হওয়া সুনির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং সেই গোসলের মাধ্যমে রবের প্রতি বান্দার সম্মান প্রদর্শন সাব্যস্ত হয়। আর নিয়ত না থাকলে সম্মান প্রদর্শন অর্জিত হয় না। তেমনিভাবে রোজা; কখনো খাদ্যের অভাবের কারণে হতে পারে আবার কখনো নৈকট্য লাভের (تقرب) জন্যও হতে পারে। যখন নিয়ত করা হয়, তখন এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন অর্জিত হয়। কর্মের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে।

2 - আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো যেমন নামাজ; যা আবশ্যিক (فرض) এবং পছন্দনীয় (مندوب) এই দুই ভাগে বিভক্ত। আবার আবশ্যিক (فرض) নামাজগুলো এমনভাবে বিভক্ত যে, সেখানে কাজা (قضاء) এবং আদায় (أداء) হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পার্থক্য থাকে। পছন্দনীয় (مندوب) আমলগুলো আবার দুই ভাগে বিভক্ত; যথা—নির্ধারিত সুন্নাত (راتب) যেমন দুই ঈদ ও বিতর নামাজ এবং অনির্ধারিত সুন্নাত যেমন নফল (نوافل) নামাজ। একইভাবে আর্থিক দান-সদকা, রোজা এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা (نسك) এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং এই স্তরগুলোর (رتب) মধ্যে পার্থক্য করার জন্য নিয়তকে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এই হিকমতের কারণেই সূর্যগ্রহণ, বৃষ্টির প্রার্থনা এবং দুই ঈদের নামাজকে তাদের নির্দিষ্ট কারণের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় যাতে তাদের স্তরের পার্থক্য বোঝা যায়। তেমনিভাবে ফরজ (فرائض) ইবাদতসমূহকেও তাদের নির্দিষ্ট কারণের সাথে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক যাতে সেগুলোর স্তরের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এটি এই জন্য নয় যে সেই কারণগুলো নিজের মধ্যেই ইবাদত, বরং কাফফারা (كفارات) প্রদানের কারণগুলোর বিষয়টি ভিন্ন; সেগুলো একই প্রকারের হওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় না কারণ সেগুলো সমান। যেমন কসম ভঙ্গের কাফফারা (كفارات); যখন এর কোনো একটি সংঘটিত হয়, তখন আপনি সেটিকে তার নির্দিষ্ট কারণের দিকে সম্পৃক্ত করবেন না, কারণ কারণগুলো সমান, তবে এর ব্যতিক্রম...
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
كَفَّارَة حنث وَكَفَّارَة ظهارة وَكَفَّارَة قتل تتَعَيَّن فِيهَا الْإِضَافَة كَمَا يتَعَيَّن التَّكْفِير عَن تِلْكَ الْجِنَايَة وَتلك الْيَمين

وَسوى أَبُو حنيفَة بَين الصَّلَوَات وَالْكَفَّارَات فِي عدم الإضافات إِلَى الْأَسْبَاب وَالْفرق مَا تقدم من استوائها

وَأما الصَّلَوَات فَكلهَا مُخْتَلفَة حَتَّى الظّهْر وَالْعصر بقصر الْقِرَاءَة فِي الْعَصْر وطولها فِي الظّهْر وَهَذِه الْحِكْمَة قد اعْتبرت فِي سِتّ قَوَاعِد فِي الشَّرِيعَة فنذكرها ليتضح للفقيه الشريعه

1 - الْقَاعِدَة الأولى القربات الَّتِي لَا لبس فِيهَا لاتحتاج إِلَى نِيَّة كالإيمان بِاللَّه تَعَالَى وتعظيمه وإجلاله وَالْخَوْف من عَذَابه والرجاء لثوابه والتوكل على كرمه وَالْحيَاء من جَلَاله والمحبه لجماله والمهابة من سُلْطَانه وَكَذَلِكَ التَّسْبِيح والتهليل وَقِرَاءَة الْقُرْآن وَسَائِر الْأَذْكَار فَإِنَّهَا متميزة لجنابه سبحانه وتعالى وَكَذَلِكَ النِّيَّة منصرفة إِلَى الله تَعَالَى بصورتها فَلَا جرم لم تفْتَقر النِّيَّة إِلَى نِيَّة أُخْرَى وَلَا حَاجَة للتَّعْلِيل بِأَنَّهَا لَو افْتَقَرت لنِيَّة أُخْرَى لزم التسلسل وَكَذَلِكَ يُثَاب الْإِنْسَان على على نِيَّة مُنْفَرِدَة ولايثاب على الْفِعْل الْمُنْفَرد لانصرافها بصورتها إِلَى الله تَعَالَى وَالْفِعْل مُتَرَدّد بَين مَا لله تَعَالَى وَمَا لغيره

وَأما كَون الْإِنْسَان يُثَاب على نِيَّة وَاحِدَة وعَلى الْفِعْل عشرا إِذا نوى فَلِأَن الْأَفْعَال هِيَ الْمَقَاصِد والنيات وَسَائِل والوسائل أَخفض رُتْبَة من الْمَقَاصِد
কসম ভঙ্গের কাফফারা (كَفَّارَة), যিহারের কাফফারা (كَفَّارَة) এবং হত্যার কাফফারার (كَفَّارَة) ক্ষেত্রে সেগুলোকে নির্দিষ্ট করে সম্বন্ধযুক্ত করা (الإضافة) আবশ্যক, যেমনটি সেই অপরাধ (الجناية) এবং সেই শপথের (الْيَمين) জন্য কাফফারা আদায় করা (التَّكْفِير) আবশ্যক হয়।

ইমাম আবু হানিফা সালাত এবং কাফফারাগুলোর (الْكَفَّارَات) মধ্যে সেগুলোকে কারণসমূহের সাথে সম্বন্ধযুক্ত না করার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রেখেছেন; আর পার্থক্য হলো পূর্বে তাদের সমতার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।

আর সালাতসমূহের সবগুলিই ভিন্ন ভিন্ন, এমনকি জোহর ও আসরের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে; আসরের কিরাত সংক্ষিপ্ত হওয়া এবং জোহরের কিরাত দীর্ঘ হওয়ার মাধ্যমে। আর এই প্রজ্ঞা শরিয়তের ছয়টি মূলনীতির (قَوَاعِد) ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়েছে, যা আমরা উল্লেখ করছি যেন ফকিহদের নিকট শরিয়ত স্পষ্ট হয়।

১ - প্রথম মূলনীতি (الْقَاعِدَة): যেসব নৈকট্যমূলক ইবাদতের (القربات) ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই, সেগুলোতে নিয়তের (نِيَّة) প্রয়োজন হয় না। যেমন মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা, তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা, তাঁর আজাবের ভয় রাখা, তাঁর সওয়াবের আশা করা, তাঁর করুণার ওপর তাওয়াক্কুল করা, তাঁর মহিমার প্রতি লজ্জাবোধ করা, তাঁর সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসা রাখা এবং তাঁর রাজকীয় প্রতাপের ভয় রাখা। তদ্রূপ তাসবিহ (التَّسْبِيح), তাহলিল (التهليل), কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য জিকিরসমূহ (الأذكار); কেননা এগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্যই সুনির্দিষ্ট। একইভাবে নিয়ত (النِّيَّة) তার স্বরূপগত কারণেই আল্লাহর দিকে নিবেদিত থাকে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই নিয়ত অন্য কোনো নিয়তের মুখাপেক্ষী হয় না; আর এটি প্রমাণের জন্য এই যুক্তির প্রয়োজন নেই যে, এটি যদি অন্য নিয়তের মুখাপেক্ষী হতো তবে তা অসীম ধারাবাহিকতার (التسلسل) দিকে নিয়ে যেত। একইভাবে মানুষ কেবল একক নিয়তের (نِيَّة) ওপর সওয়াব পায়, কিন্তু নিয়তহীন নিছক কাজের ওপর সওয়াব পায় না। কারণ নিয়ত তার স্বরূপগতভাবেই আল্লাহর দিকে নিবেদিত, কিন্তু কাজ আল্লাহ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্য হওয়ার মধ্যে দোদুল্যমান থাকে।

আর মানুষ যখন নিয়ত করে তখন একটি নিয়তের ওপর এবং কাজের ওপর দশগুণ সওয়াব পাওয়ার বিষয়টি এমন যে, কাজগুলো হলো মূল লক্ষ্য (المقاصد) আর নিয়তসমূহ হলো মাধ্যম (الوسائل)। আর মাধ্যমসমূহ মর্যাদার দিক থেকে মূল লক্ষ্যের (المقاصد) চেয়ে নিম্নতর।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
2 - الْقَاعِدَة الثَّانِيَة الْأَلْفَاظ إِذا كَانَت نصوصا فِي شيئ غير مترددة لم تحتج إِلَى نِيَّة لإنصرافها بصراحتها لمدلولها وَإِن كَانَت كِنَايَة أَو مُشْتَركَة مترددة افْتَقَرت إِلَى نِيَّة

3 - الْقَاعِدَة الثَّالِثَة الْمَقَاصِد من الْأَعْيَان فِي الْعُقُود إِذا كَانَت متعينة استغنت عَمَّا يعينها كمن أستأجر بساطا وقدوما أَو ثوبا أَو عِمَامَة لم يحْتَج إِلَى تعْيين الْمَنْفَعَة فِي العقد لإنصراف هَذِه الْأَشْيَاء بصورتها إِلَى مقاصدها وَإِن كَانَت الْعين مترددة بَين منفعتين كالدابة للْحَمْل وَالرُّكُوب وَالْأَرْض للْبِنَاء والزراعة وَالْغَرْس فيفتقر إِلَى التَّعْيِين

4 - الْقَاعِدَة الرَّابِعَة النُّقُود إِذا كَانَ بَعْضهَا غَالِبا لم يحْتَج إِلَى تَعْيِينهَا فِي العقد وَإِن لم يكن احْتَاجَ إِلَى التَّعْيِين

5 - الْقَاعِدَة الْخَامِسَة الْحُقُوق إِذا تعيّنت لمستحقها كَالدّين الْمُنْفَرد فانه يتَعَيَّن لرَبه بِغَيْر نِيَّة مثل حُقُوق الله تَعَالَى إِذا تعيّنت لَهُ كالإيمان وَمَا ذكرمعه وان تردد بَين دينين أَحدهمَا برهن وَالْآخر بِغَيْر رهن فَإِن الدَّافِع يفْتَقر فِي تعْيين الْمَدْفُوع إِلَى النِّيَّة وَالتَّصْرِيح

6 - الْقَاعِدَة السَّادِسَة التَّصَرُّفَات إِذا كَانَت دَائِرَة بَين جِهَات شَتَّى لَا تَنْصَرِف لأحدها إِلَّا بنية كمن هُوَ وَصِيّ على أَيْتَام مُتعَدِّدَة فَاشْترى سلْعَة لاتتعين لأَحَدهم إِلَّا بِالنِّيَّةِ

وَمَتى كَانَ التَّصَرُّف تحدا انصرفت لجِهَة لتعينه كتصرفه لنَفسِهِ وَلغيره بِالْوكَالَةِ وَلَا تَنْصَرِف للْغَيْر إِلَّا بِالنِّيَّةِ لِأَن تصرف الْإِنْسَان لنَفسِهِ اغلب فَيَنْصَرِف التَّصَرُّف إِلَيْهِ وَالنِّيَّة فِي هَذِه الصُّورَة مقصودها التَّمْيِيز ومقصودها فِي الْعِبَادَات التَّمْيِيز والتقرب
২ - দ্বিতীয় মূলনীতি: শব্দসমূহ যখন কোনো বিষয়ে অকাট্য পাঠ (نص) হিসেবে আসে এবং কোনো প্রকার সংশয়যুক্ত না হয়, তখন তা অর্থের সুস্পষ্টতার কারণে নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী হয় না। তবে তা যদি পরোক্ষ (كناية) অথবা অনেকার্থক (مشترك) ও সংশয়যুক্ত হয়, তবে তা নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী হবে।

৩ - তৃতীয় মূলনীতি: চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বস্তুসমূহ ব্যবহারের উদ্দেশ্য যদি নির্ধারিত থাকে, তবে তা নতুন করে নির্ধারণের প্রয়োজন হয় না। যেমন: কেউ যদি একটি বিছানা, একটি কুঠার, একটি পোশাক কিংবা একটি পাগড়ি ভাড়া নেয়, তবে চুক্তির সময় তার উপযোগিতা বা ব্যবহারের ধরন নির্ধারণের প্রয়োজন নেই; কারণ এই বস্তুগুলোর অবয়বই তাদের ব্যবহারের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু যদি বস্তুটি দুটি ব্যবহারের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত হয়, যেমন পশু—যা বোঝা বহন এবং আরোহণ উভয় কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিংবা ভূমি—যা নির্মাণ কাজ এবং চাষাবাদ বা বৃক্ষরোপণ উভয় কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সেক্ষেত্রে ব্যবহারের ধরন নির্ধারণ করা আবশ্যক।

৪ - চতুর্থ মূলনীতি: যদি কোনো মুদ্রা অধিক প্রচলিত হয়, তবে চুক্তির সময় তা নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন হবে।

৫ - পঞ্চম মূলনীতি: অধিকারসমূহ যখন তার প্রাপ্যের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়, যেমন একক ঋণ; তবে তা নিয়ত (نية) ছাড়াই পাওনাদারের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহর হকসমূহ যখন তাঁর জন্য নির্ধারিত হয়—যেমন ঈমান এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি। কিন্তু যদি দুটি ঋণের মধ্যে অস্পষ্টতা থাকে, যার একটি বন্ধকযুক্ত (رهن) এবং অন্যটি বন্ধকহীন, তবে পরিশোধকারীকে তা নির্দিষ্ট করার জন্য নিয়ত (نية) ও সুস্পষ্ট ঘোষণার আশ্রয় নিতে হবে।

৬ - ষষ্ঠ মূলনীতি: কার্যাবলি যখন বিভিন্ন দিকে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন নিয়ত (نية) ব্যতীত তা কোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট হয় না। যেমন: কেউ যদি অনেক এতিমের অভিভাবক হয় এবং কোনো পণ্য ক্রয় করে, তবে নিয়ত (نية) ব্যতীত তা তাদের কারো জন্য সুনির্দিষ্ট হবে না।

আর যখন কাজটি সুনির্দিষ্ট থাকে, তখন তা নির্ধারিত হওয়ার কারণে সেদিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়; যেমন নিজের জন্য কোনো কাজ করা। তবে ওকালতের মাধ্যমে অন্যের জন্য কাজ করলে তা নিয়ত (نية) ছাড়া অন্যের জন্য সাব্যস্ত হবে না; কারণ মানুষের নিজের জন্য কাজ করাই স্বাভাবিক এবং কাজগুলো তার নিজের দিকেই ধাবিত হয়। এই অবস্থায় নিয়তের (نية) মূল উদ্দেশ্য হলো পার্থক্য করা (تمييز); আর ইবাদতের ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য হলো পার্থক্য করা (تمييز) এবং নৈকট্য (تقرب) অর্জন করা।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
سُؤال هَذَا التَّقْرِير يشكل بِالتَّيَمُّمِ فَإِنَّهُ متميز بصورته لله تَعَالَى فَلم افْتقر إِلَى نِيَّة

جَوَابه أَن التَّيَمُّم خَارج عَن نمط الْعِبَادَات فَإِنَّهَا كلهَا تَعْظِيم وإجلال وَلَيْسَ فِي مس التُّرَاب ومسحه بِالْوَجْهِ صُورَة تَعْظِيم بل هُوَ يشبه الْعَبَث واللعب فَاحْتَاجَ إِلَى نِيَّة ليخرج من حيّز اللّعب إِلَى حيّز التَّقَرُّب بنيته
প্রশ্ন: এই বিষয়টি তায়াম্মুম (تيمم) দ্বারা সমস্যার সম্মুখীন হয়; কারণ এটি মহান আল্লাহর জন্য তার নিজস্ব রূপের কারণে স্বতন্ত্র, তবে কেন এটি নিয়ত (نية)-এর মুখাপেক্ষী হলো?

এর উত্তর হলো, তায়াম্মুম (تيمم) ইবাদাত (عبادات)-এর প্রচলিত রীতির বাইরে। কারণ সমস্ত ইবাদাতই হলো সম্মান ও মহিমা প্রদর্শন, অথচ মাটি স্পর্শ করা এবং তা মুখে মসেহ করার মাঝে সম্মান প্রদর্শনের কোনো চিত্র নেই; বরং এটি নিরর্থক কাজ ও খেলার সদৃশ। তাই একে ক্রীড়া-কৌতুকের গণ্ডি থেকে নিয়তের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের (تقرب) পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়ত (نية)-এর প্রয়োজন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌تَنْبِيه

 

هذالحكمة هِيَ سَبَب اخْتِلَاف الْعلمَاء فِي اشْتِرَاط النِّيَّة فِي رَمَضَان وَالْوُضُوء وَنَحْوهمَا فزفر يَقُول فِي رَمَضَان وَأَبُو حنيفَة يَقُول فِي الْوضُوء أَنَّهُمَا متعينان بصورتهما لله تَعَالَى وَلَيْسَ لَهما رتب فَلَا حَاجَة فيهمَا للنِّيَّة

وَمَالك وَالشَّافِعِيّ رحمهمَا الله تَعَالَى يَقُولَانِ الْإِمْسَاك فِي رَمَضَان قد يكون لعدم الْغذَاء والمفطرات وَالْوُضُوء قد يكون للتعليم والتجديد على سَبِيل النّدب أَو لرفع الْحَدث على سَبِيل الْوُجُوب فاحتاجا إِلَى النِّيَّة لتميز الْعِبَادَة عَمَّا لَيْسَ بِعبَادة وامتياز الْفَرْض عَن النّدب فِي الْوضُوء
সতর্কবার্তা

 

এই হিকমত বা গূঢ় রহস্যটিই হলো রমজান, অজু এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোতে নিয়ত শর্ত হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণের মতপার্থক্যের কারণ। ইমাম জুফার (রহ.) রমজানের ক্ষেত্রে এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.) অজুর ক্ষেত্রে বলেন যে, এই দুটি বিষয় তাদের বাহ্যিক রূপের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত এবং এগুলোর ভিন্ন কোনো স্তর নেই; তাই এ ক্ষেত্রে নিয়তের কোনো প্রয়োজন নেই।

ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেন, রমজানে পানাহার থেকে বিরত থাকা কখনো খাদ্য বা রোজা ভঙ্গকারী উপকরণের অভাবের কারণেও হতে পারে। তদ্রূপ, অজু কখনো শিক্ষা দান কিংবা মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে নবায়নের উদ্দেশ্যে হতে পারে, আবার কখনো আবশ্যকীয় (وجوب) ভাবে অপবিত্রতা (حدث) দূর করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে। ফলে ইবাদতকে ইবাদত নয়—এমন বিষয় থেকে পৃথক করতে এবং অজুর ক্ষেত্রে ফরজ (فرض) ও মুস্তাহাব (ندب) আমলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে নিয়তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تَنْبِيه

وَقع فِي الْمَذْهَب إطلاقات متناقضة

قَالَ الْأَصْحَاب صَرِيح الطَّلَاق وَغَيره غير مُحْتَاج للنِّيَّة اتِّفَاقًا

وَقَالَ صَاحب الْمُقدمَات فِي كنايات الطَّلَاق صَرِيح الطَّلَاق مفتقر الى النِّيَّة اتِّفَاقًا

وَقَالَ اللَّخْمِيّ فِي الْإِكْرَاه على الطَّلَاق فِي افتقار الصَّرِيح إِلَى النِّيَّة قَولَانِ أصَحهمَا أَنه لابد فِي الصَّرِيح من النِّيَّة وَكَون النِّيَّة مُعْتَبرَة فِي الصَّرِيح اتِّفَاقًا وَغير مُعْتَبرَة اتِّفَاقًا وَفِي اعْتِبَارهَا قَولَانِ هَذِه إطلاقات كلهَا متناقضة وَلَا يجْتَمع مِنْهَا اثْنَان بل مَتى صدق أحد هَذِه الثَّلَاثَة كذب اثْنَان مِنْهَا

وتحقيقهما أَن النِّيَّة فِي الْمَذْهَب من الْأَلْفَاظ الْمُشْتَركَة بَين الْقَصْد الْخَاص وَبَين كَلَام النَّفس فَحَيْثُ قَالُوا الصَّرِيح لَا يفْتَقر إِلَى النِّيَّة إتفاقا مَعْنَاهُ أَن الصَّرِيح لَا يفْتَقر إِلَى إِرَادَة اسْتِعْمَاله فِي مَدْلُوله إِلَى نِيَّة كَمَا يفْتَقر صرفة عَن حقيقتة إِلَى مجازها أَو عَن عُمُومه إِلَى الْخُصُوص إِلَى نِيَّة بل ينْصَرف بصراحته لمدلوله كَمَا تقدم فِي الْقَوَاعِد السِّت

وَمعنى قَوْلهم إِن الصَّرِيح يفْتَقر إِلَى النِّيَّة اتِّفَاقًا أَنه لَا بُد فِي الصَّرِيح من الْقَصْد غلى إنْشَاء الصِّيغَة حذرا مِمَّن أَرَادَ أَن يَقُول يَا طَارق فَقَالَ يَا طَالِق أَو أَرَادَ أَن يَقُول أَنْت منطلقة فَقَالَ أَنْت طَالِق لِأَنَّهُ التف لِسَانه وَسبق لَا يَقْصِدهُ لذَلِك فَلَا تنَاقض بَين
সতর্কতা (تنبيه)

মাজহাবের অভ্যন্তরে কিছু পরস্পরবিরোধী সাধারণ বক্তব্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

ফকিহগণ বলেছেন, তালাকের স্পষ্ট (صريح) শব্দ এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) নিয়তের (نية) প্রয়োজন নেই।

আল-মুকাদ্দিমাত গ্রন্থের লেখক তালাকের ইঙ্গিতমূলক (كنايات) শব্দাবলি প্রসঙ্গে বলেছেন, স্পষ্ট (صريح) তালাকের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী হতে হয়।

আল-লাখমি তালাকের ক্ষেত্রে জবরদস্তি প্রসঙ্গে বলেছেন যে, স্পষ্ট (صريح) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের (نية) প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুটি অভিমত (قولان) রয়েছে; যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصحهما) হলো স্পষ্ট (صريح) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (نية) থাকা অপরিহার্য। আর স্পষ্ট (صريح) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (نية) ধর্তব্য হওয়া বিষয়ে সর্বসম্মত (اتفاقاً) দাবি করা, আবার ধর্তব্য না হওয়া বিষয়ে সর্বসম্মত (اتفاقاً) দাবি করা এবং এই বিষয়ে দুটি অভিমত (قولان) বিদ্যমান থাকা—এই সকল বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণরূপে পরস্পরবিরোধী এবং এগুলোর মধ্য থেকে দুটির একত্রে সমাবেশ সম্ভব নয়। বরং যখন এই তিনটির কোনো একটি সত্য হবে, তখন অন্য দুটি মিথ্যা বলে গণ্য হবে।

এ দুটির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো—মাজহাবের পরিভাষায় 'নিয়ত' (نية) শব্দটি একটি বহুর্থক শব্দ, যা বিশেষ উদ্দেশ্য এবং মনের কথার মাঝে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ফকিহগণ যখন বলেন যে, স্পষ্ট (صريح) শব্দ সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী নয়, তখন তার অর্থ হলো—স্পষ্ট (صريح) শব্দকে তার নিজস্ব অর্থের ওপর প্রয়োগ করার জন্য কোনো সংকল্পের প্রয়োজন নেই। যেমন কোনো শব্দকে তার মূল অর্থ বা হাকিকত (حقيقة) থেকে রূপক বা মাজায (مجاز) অর্থের দিকে ফেরাতে অথবা সাধারণ (عموم) অর্থ থেকে বিশেষ (خصوص) অর্থের দিকে ফেরাতে নিয়তের (نية) প্রয়োজন হয়, স্পষ্ট (صريح) শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়; বরং তা তার স্পষ্টতার কারণেই নিজস্ব অর্থের দিকে ধাবিত হয়, যেমনটি পূর্বোক্ত ছয়টি মূলনীতিতে অতিবাহিত হয়েছে।

আর তাদের এই বক্তব্যের অর্থ যে, স্পষ্ট (صريح) তালাক সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী—তা হলো বাক্যটি উচ্চারণের ক্ষেত্রে সংকল্প বা ইচ্ছা থাকা আবশ্যক। এটি এই আশঙ্কায় যে, কেউ হয়তো 'হে তারিক' বলতে চেয়েছিল কিন্তু তার মুখে 'হে তালিদ' (তালাকপ্রাপ্তা) উচ্চারিত হয়ে গেল, অথবা 'তুমি প্রস্থানকারী' বলতে চেয়েছিল কিন্তু তার পরিবর্তে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' বলে ফেলল; যেহেতু তার জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং সে উদ্দেশ্য ছাড়াই এটি আগে বলে ফেলেছে। তাই এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
اشْتِرَاط النِّيَّة فِي إِرَادَة النُّطْق وَبَين عدم اشْتِرَاطهَا فِي انصراف اللَّفْظ لمدلوله بعد النُّطْق

وَمعنى قَوْلهم فِي اشْتِرَاط النِّيَّة فِي الصَّرِيح قَولَانِ أَن الْكَلَام النفساني فِي اشْتِرَاط مقارنته للنطق اللساني قَولَانِ أَي ينْطق بِقَلْبِه كَمَا ينْطق بِلِسَانِهِ

وَقد صرح بِهِ صَاحب الْجَوَاهِر

وَعبر عَنهُ صَاحب الْجلاب بِعِبَارَة أُخْرَى فَقَالَ من اعْتقد الطَّلَاق بِقَلْبِه وَلم يلفظ بِهِ بِلِسَانِهِ فَفِي لُزُوم الطَّلَاق لَهُ قَولَانِ فَسَماهُ اعتقادا وَالْكَلَام النفساني لَيْسَ من بَاب الاعتقادات والعلوم وَلَا من بَاب الارادات والعزوم إِنَّمَا هُوَ نوع مُغَاير لَهما من أَعْرَاض الْقُلُوب

فَظهر عدم التَّنَاقُض بَين هَذِه الثَّلَاثَة وَأَن لفظ الِاعْتِقَاد وَالنِّيَّة لَيْسَ على ظاهرهما فِي الْكَلَام النفساني

وَمَتى سَمِعت أَن فِي الطَّلَاق بِالنِّيَّةِ قَوْلَيْنِ فَاعْلَم أَن المُرَاد الطَّلَاق بالْكلَام النفساني وَإِلَّا فَمن نوى طَلَاق امْرَأَته أَو اعتقده أَو عزم عَلَيْهِ لَا يلْزمه طَلَاق بِاتِّفَاق وَإِنَّمَا الْخلاف إِذا طلق بالْكلَام النفساني فَاعْلَم ذَلِك وتفقد النِّيَّة فِي مواردها إِذا ثبتَتْ أَو سلبت أَو أختلف فِيهَا وَمَا المُرَاد بِتِلْكَ النِّيَّة فقد غلط فِيهَا جمع كثير من الْفُقَهَاء ويمكنك أَن تَقول فِي الطَّلَاق بِالنِّيَّةِ قَولَانِ وانعقد الْإِجْمَاع على عدم لُزُوم الطَّلَاق بِالنِّيَّةِ بِنَاء على اخْتِلَاف الْمَعْنى فِي النِّيَّة كَمَا تقدم بَيَانه لتميز الْعِبَادَة عَمَّا لَيْسَ بِعبَادة
উচ্চারণের সংকল্পের ক্ষেত্রে নিয়ত (النية) শর্ত হওয়া এবং উচ্চারণের পর শব্দের অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তা শর্ত না হওয়ার মধ্যকার পার্থক্য।

স্পষ্ট (الصريح) শব্দের ক্ষেত্রে নিয়ত (النية) শর্ত হওয়ার বিষয়ে দুটি মত (قولان) থাকার অর্থ হলো—জিহ্বার উচ্চারণের সাথে অন্তরের কথার (الكلام النفساني) সংশ্লিষ্টতা শর্ত হওয়া নিয়ে দুটি মত (قولان) রয়েছে; অর্থাৎ সে তার অন্তর দিয়ে সেভাবে উচ্চারণ করবে যেভাবে সে তার জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ করে।

'আল-জাওয়াহির' গ্রন্থের লেখক এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

'আল-জাল্লাব' গ্রন্থের লেখক এটি ভিন্নভাবে ব্যক্ত করেছেন; তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি তার অন্তরে তালাকের বিশ্বাস (اعتقاد) পোষণ করে কিন্তু মুখে তা উচ্চারণ করে না, তার ক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়ে দুটি মত (قولان) রয়েছে।" তিনি একে বিশ্বাস (اعتقاد) হিসেবে অভিহিত করেছেন, অথচ অন্তরের কথা (الكلام النفساني) বিশ্বাস (الاعتقادات) ও জ্ঞান (العلوم) পর্যায়ের বিষয় নয় এবং তা ইচ্ছা (الإرادات) ও সংকল্পের (العزوم) অন্তর্ভুক্তও নয়; বরং তা হৃদয়ের বিশেষ অবস্থাসমূহের (أعراض القلوب) এমন এক প্রকার যা এই উভয় থেকে ভিন্ন।

ফলে এই তিনটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই এবং এটি স্পষ্ট হলো যে, অন্তরের কথার (الكلام النفساني) ক্ষেত্রে বিশ্বাস (الاعتقاد) ও নিয়ত (النية) শব্দ দুটি তাদের শাব্দিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।

যখন আপনি শুনবেন যে নিয়ত (النية) দ্বারা তালাকের ক্ষেত্রে দুটি মত (قولان) রয়েছে, তখন জেনে রাখুন যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্তরের কথার (الكلام النفساني) মাধ্যমে তালাক। অন্যথায়, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ত (نوى) করল অথবা বিশ্বাস (اعتقده) করল অথবা সংকল্প (عزم) করল, সর্বসম্মতিক্রমে (باتفاق) তার তালাক কার্যকর হবে না। মূলত মতভেদ কেবল তখনই হয় যখন অন্তরের কথার (الكلام النفساني) মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়। সুতরাং এটি জেনে রাখুন এবং নিয়ত (النية) যেখানে সাব্যস্ত হয়, নাকচ হয় কিংবা যেখানে এটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সেখানে নিয়তের (النية) প্রয়োগস্থলগুলো অনুসন্ধান করুন এবং সেই নিয়ত (النية) দ্বারা উদ্দেশ্য কী তাও খতিয়ে দেখুন; কেননা ফকিহদের (الفقهاء) একটি বড় দল এ বিষয়ে ভুল করেছেন। আপনি বলতে পারেন যে নিয়ত (النية) দ্বারা তালাকের বিষয়ে দুটি মত (قولان) রয়েছে, আবার নিয়ত (النية) দ্বারা তালাক কার্যকর না হওয়ার ওপর ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—যা নিয়তের (النية) অর্থের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে (যেভাবে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে) ইবাদতকে (العبادة) ইবাদত নয় এমন বিষয় থেকে পৃথক করার জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الْبَاب الْخَامِس فِيمَا يفْتَقر إِلَى النِّيَّة الشَّرْعِيَّة

ويتحرر ذَلِك بتقسيمين

التَّقْسِيم الأول الشَّرِيعَة كلهَا إِمَّا مَطْلُوب أَو غير مَطْلُوب وَغير الْمَطْلُوب لَا يتَقرَّب بِهِ إِلَى الله تَعَالَى فَلَا معنى للنِّيَّة فِيهِ وَالْمَطْلُوب إِمَّا نواة أَو أوَامِر

فالنواهي كلهَا يخرج الْإِنْسَان عَن عهدتها بِتَرْكِهَا وَإِن لم يشْعر بهَا فضلا عَن الْقَصْد إِلَيْهَا فمثاله زيد الْمَجْهُول لنا حرم الله علينا قَتله وَمَاله وَعرضه وَقد خرجنَا عَن عُهْدَة ذَلِك النَّهْي وَإِن لم نشعر بِهِ وَكَذَلِكَ سَائِر المجهولات لنا من الْمُحرمَات

نعم إِن شعرنَا بالمحرم ونوينا تَركه لله تَعَالَى حصل لنا مَعَ الْخُرُوج عَن الْعهْدَة الثَّوَاب لأجل النِّيَّة فَهِيَ شَرط فِي الثَّوَاب لَا فِي الْخُرُوج عَن الْعهْدَة

والأوامر قِسْمَانِ

1 - قسم تكون صُورَة فعله كَافِيَة فِي تَحْصِيل مصْلحَته كأداء الدُّيُون والودائع والغصوب ونفقات الزَّوْجَات والأقارب فَإِن الْمصلحَة الْمَقْصُودَة من فعل هَذِه الْأُمُور انْتِفَاع أَرْبَابهَا بهَا وَذَلِكَ لَا يتَوَقَّف على النِّيَّة من حهة الْفَاعِل فَيخرج الْإِنْسَان عَن عهدتها وَأَن لم ينوها

2 - وَالْقسم الثَّانِي الْأَوَامِر الَّتِي لَا تكون صورتهَا كَافِيَة فِي تَحْصِيل مصلحتها الْمَقْصُودَة مِنْهَا كالصلوات والطهارات وَالصِّيَام
পঞ্চম অধ্যায়: যে সকল বিষয় শরয়ি নিয়ত (نية)-এর মুখাপেক্ষী

এটি দুটি বিভাজনের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে

প্রথম বিভাজন: সমগ্র শরিয়ত (شريعة) হয় কাঙ্ক্ষিত (مطلوب) অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত (غير مطلوب)। যা অনাকাঙ্ক্ষিত, তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করা যায় না, তাই তাতে নিয়ত (نية)-এর কোনো কার্যকারিতা নেই। আর কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহ হয় নিষেধাজ্ঞা (نواهي) অথবা আদেশ (أوامر)

সকল নিষেধাজ্ঞা (نواهي) থেকে মানুষ তা বর্জন করার মাধ্যমেই দায়মুক্ত (عهدة) হয়ে যায়, যদিও সে সম্পর্কে সে অবগত না থাকে, এমনকি তা ত্যাগের সংকল্প (قصد) না থাকলেও। উদাহরণস্বরূপ: জনৈক ব্যক্তি 'জায়েদ' যে আমাদের কাছে অপরিচিত, আল্লাহ আমাদের জন্য তাকে হত্যা করা এবং তার সম্পদ ও সম্মান বিনষ্ট করা হারাম করেছেন। আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা (نهي)-এর দায় (عهدة) থেকে মুক্ত হয়ে যাই যদিও আমরা সে সম্পর্কে সচেতন না থাকি। আমাদের কাছে অজানা অন্যান্য হারাম বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য

হ্যাঁ, যদি আমরা হারাম বিষয় সম্পর্কে অবগত হই এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা বর্জনের নিয়ত (نية) করি, তবে দায়মুক্তির (عهدة) পাশাপাশি নিয়ত (نية)-এর কারণে সওয়াব (ثواب) অর্জিত হবে। সুতরাং এটি সওয়াব (ثواب) অর্জনের শর্ত, দায়মুক্তির জন্য নয়

আদেশসমূহ (أوامر) দুই প্রকার

1 - এক প্রকার এমন যার কাজের বাহ্যিক রূপই তার উদ্দেশ্য বা কল্যাণ (مصلحة) অর্জনে যথেষ্ট। যেমন—ঋণ পরিশোধ করা, আমানত ও আত্মসাৎকৃত মাল ফেরত দেওয়া এবং স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের ভরণপোষণ। কেননা এই কাজগুলো সম্পাদনের মূল উদ্দেশ্য হলো এর হকদারদের উপকৃত হওয়া; আর তা সম্পাদনকারীর নিয়ত (نية)-এর ওপর নির্ভর করে না। সুতরাং ব্যক্তি নিয়ত (نية) না করলেও এর দায় (عهدة) থেকে মুক্ত হয়ে যায়

2 - আর দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই সকল আদেশ (أوامر) যার বাহ্যিক রূপ তার উদ্দিষ্ট কল্যাণ (مصلحة) অর্জনে যথেষ্ট নয়। যেমন—সালাত (صلوات), পবিত্রতা অর্জন (طهارات) এবং রোজা (صيام)
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والنسك فَإِن الْمَقْصُود مِنْهَا تَعْظِيم الرب سبحانه وتعالى بِفِعْلِهَا والخضوع لَهُ فِي إتيانها وَذَلِكَ إِنَّمَا يحصل إِذا قصدت من أَجله سبحانه وتعالى فَإِن التَّعْظِيم بِالْفِعْلِ بِدُونِ قصد الْمُعظم محَال كمن صنع ضِيَافَة لإِنْسَان فَانْتَفع بهَا غَيره من غير قصد فَإنَّا نجزم بِأَن الْمُعظم بهَا الَّذِي قصد بالكرامة دون من انْتفع بهَا من غير قصد

فَهَذَا الْقسم هُوَ الَّذِي أَمر فِيهِ صَاحب الشَّرْع بِالنِّيَّةِ

وعَلى هَذِه الْقَاعِدَة يتَخَرَّج خلاف الْعلمَاء فِي إِيجَاب النِّيَّة فِي إِزَالَة النَّجَاسَة فَمن إعتقد أَن الله تَعَالَى أوجب مجانبة الْحَدث والخبث حَالَة الْوُقُوف بَين يَدَيْهِ تَعْظِيمًا لَهُ فَيكون من بَاب المأمورات الَّتِي لَا تَكْفِي صورتهَا من تَحْصِيل مصلحتها فَتجب فِيهَا النِّيَّة

وَمن إعتقد أَن الله حرم مُلَابسَة الْخبث فَتكون هَذِه من بَاب المنهيات فَلَا تفْتَقر إِلَى نِيَّة وَهُوَ الصَّحِيح

وَالْقسم الثَّانِي الْفِعْل يَنْقَسِم إِلَى مَا يُمكن أَن يَقع لله تَعَالَى وَلغيره وَمَا لَا يُمكن أَن يَقع إِلَّا لله تَعَالَى وَمَا لَا يُمكن أَن يَقع لله تَعَالَى الْبَتَّةَ فَهَذِهِ ثَلَاثَة فُصُول
আর ইবাদত (النسক), কেননা এগুলোর উদ্দেশ্য হলো তা পালনের মাধ্যমে মহান প্রতিপালকের মহিমা প্রকাশ করা এবং তা আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বিনয়াবনত হওয়া। আর এটি কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন তা মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। কারণ, যাকে সম্মান করা হচ্ছে তাঁর প্রতি সংকল্প (قصد) ব্যতিরেকে কর্মের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন অসম্ভব। যেমন কেউ কোনো ব্যক্তির জন্য মেহমানদারির আয়োজন করল, আর সেই সংকল্প ব্যতিরেকেই অন্য কেউ তার দ্বারা উপকৃত হলো; তবে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, এর মাধ্যমে সম্মান কেবল তাকেই করা হয়েছে যাকে মূল্যায়নের সংকল্প (قصد) করা হয়েছিল, তাকে নয় যে সংকল্প ছাড়াই এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

এই বিভাগটিই হলো সেই ক্ষেত্র, যেখানে শরীয়তপ্রণেতা (صاحب الشرع) নিয়ত (النية) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর এই মূলনীতির (القاعدة) ওপর ভিত্তি করেই নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে নিয়ত (النية) আবশ্যক হওয়া সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতপার্থক্য নিরসন করা হয়। সুতরাং যারা মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সামনে দাঁড়ানোর অবস্থায় তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে হাদাস (الحدث) ও খাবাস (الخبث) থেকে দূরে থাকাকে আবশ্যক করেছেন, তবে তা আদিষ্ট বিষয়সমূহের (المأمورات) অন্তর্ভুক্ত হবে, যেগুলোর কেবল বাহ্যিক রূপই তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যথেষ্ট নয়; ফলে সেক্ষেত্রে নিয়ত (النية) ওয়াজিব হবে।

আর যারা মনে করেন যে, আল্লাহ নাপাকির (الخبث) সংশ্রব হারাম করেছেন, তবে তা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের (المنهيات) অন্তর্ভুক্ত হবে, ফলে এটি নিয়তের (نية) মুখাপেক্ষী হবে না; আর এটিই সহিহ (الصحيح) মত।

দ্বিতীয় প্রকার: কর্ম তিন ভাগে বিভক্ত—যা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে এবং অন্য কারো উদ্দেশ্যে হওয়া সম্ভব, যা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো উদ্দেশ্যে হওয়া সম্ভব নয়, এবং যা কোনোভাবেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে হওয়া সম্ভব নয়। এই হলো তিনটি পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الْفَصْل الأول فِي التَّصَرُّف الَّذِي يُمكن أَن يَقع لله تَعَالَى وَلغيره

 

وَقد تقدم أَن الْعِبَادَات تفْتَقر إِلَى النِّيَّة وَدَلِيل وُجُوبهَا

فِيهَا وَقد ظن بعض الْفُقَهَاء أَن النِّيَّة لَا يَعْتَبِرهَا الشَّرْع إِلَّا فِي الْعِبَادَات حَتَّى سَمِعت كثيرا من الْفُضَلَاء يحد الْعِبَادَة بِأَنَّهَا عبارَة عَمَّا تشْتَرط فِيهِ النِّيَّة وَلذَلِك يجْعَلُونَ الرّبع الأول أبدا من دواوين الْفِقْه بعض الْعِبَادَات لَا يُسمى بِغَيْر ذَلِك

وأشكل على جمَاعَة مِنْهُم أشتراط النِّيَّة فِي الذَّبَائِح مَعَ أَنَّهَا غير عبَادَة وَالْتزم بَعضهم أَنَّهَا عبَادَة لأجل اشْتِرَاط النِّيَّة فِيهَا بِنَاء على هَذَا الأعتقاد

وَلَيْسَ كَمَا اعتقده بل قد يعْتَبر الشَّرْع النِّيَّة فِيمَا هُوَ فرض عين كالصلوات الْخمس وَفِيمَا هُوَ فرض كِفَايَة كَصَلَاة الْجَنَائِز من القربات وَفِيمَا هُوَ فرض كِفَايَة من غير القربات كاشتراط النِّيَّة فِي ذَكَاة الْحَيَوَان فَإِن أكل لُحُوم الْحَيَوَان من فروض الْكِفَايَة لِئَلَّا تضعف الْعُقُول عَن الْعُلُوم والأجساد عَن ملاقاة الْأَعْدَاء فتستأصل شأفة الْإِسْلَام وتفقد هداة الْأَنَام

وَقد تعْتَبر النِّيَّة فِيمَا لَيْسَ قربَة من الْمُحرمَات فَإِن الْإِنْسَان إِذا حفر بِئْر ليهلك فِيهَا نَبِي من الْأَنْبِيَاء فَإِنَّهُ كَافِر تَزُول عصمَة دَمه ويخلد فِي النَّار أَو ليَقَع فِيهَا مُؤمن فَلَا تَزُول عصمه دَمه وَلَا يخلد فِي النَّار وَيجب تعزيره وتفسيقه وَلَا يثبت الشَّرْع أحد هذَيْن الْحكمَيْنِ إِلَّا بِشَرْط أَن ينوى سَببه
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা এবং অন্য কারো পক্ষ থেকে সংঘটিত হতে পারে এমন কার্যাবলি প্রসঙ্গে

 

ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, ইবাদতসমূহ নিয়তের মুখাপেক্ষী এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে এর আবশ্যকতা (وجوب)-র দলীলও বর্ণিত হয়েছে।

কোনো কোনো ফকিহ ধারণা করেছেন যে, শরিয়ত ইবাদত ব্যতীত অন্য কোথাও নিয়তকে গণ্য করে না; এমনকি আমি অনেক বিদগ্ধ আলেমকে ইবাদতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবাদত হলো এমন বিষয় যাতে নিয়ত শর্ত করা হয়। আর এ কারণেই তারা ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের প্রথম চতুর্থাংশ সর্বদা ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর জন্য নির্ধারণ করেন এবং একে অন্য কোনো নামে অভিহিত করেন না।

তাদের একটি দলের নিকট পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত হওয়াটি জটিল ঠেকেছে, অথচ এটি কোনো ইবাদত নয়। আবার তাদের কেউ কেউ এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে একে ইবাদত হিসেবে মেনে নিয়েছেন যেহেতু এতে নিয়ত শর্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি তাদের বিশ্বাসের অনুরূপ নয়, বরং শরিয়ত কখনো এমন বিষয়েও নিয়তকে গণ্য করে যা ফরজে আইন (فرض عين), যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; আবার কখনো এমন বিষয়েও গণ্য করে যা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), যেমন: জানাজার নামাজ। আবার কখনো ইবাদত নয় এমন ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-র ক্ষেত্রেও নিয়ত গণ্য হয়, যেমন পশু জবাই করার ক্ষেত্রে নিয়তের শর্ত। কেননা পশুর গোশত ভক্ষণ করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-র অন্তর্ভুক্ত, যাতে জ্ঞানার্জনে মেধা এবং শত্রুর মোকাবিলায় শরীর দুর্বল না হয়ে পড়ে; অন্যথায় ইসলামের মূলোৎপাটন হবে এবং মানবজাতির পথপ্রদর্শকদের অভাব দেখা দেবে।

এমনকি কখনো কখনো হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রেও নিয়তকে গণ্য করা হয় যা ইবাদত নয়। যেমন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নবীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কূয়া খনন করে, তবে সে কাফিরে পরিণত হবে, তার জানের নিরাপত্তা বিলুপ্ত হবে এবং সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। অথবা যদি কোনো মুমিনকে সেখানে ফেলার উদ্দেশ্যে তা করে, তবে তার জানের নিরাপত্তা বিলুপ্ত হবে না এবং সে জাহান্নামেও চিরস্থায়ী হবে না; তবে তাকে দণ্ড প্রদান (تعزير) এবং পাপাচারী সাব্যস্ত করা (تفسيق) আবশ্যক। আর শরিয়ত এই দুটি বিধানের কোনোটিই সাব্যস্ত করে না যতক্ষণ না সে এর কারণের নিয়ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَهَا أَنا أبسط من موارد النِّيَّة فِي نظر الشَّرْع مَا يمهد لَك هَذَا الْبَحْث فِي عشرَة انواع فَهِيَ مُخْتَلفَة الْحَقَائِق متشابهة الْأَحْكَام إِن شَاءَ الله تَعَالَى

النَّوْع الأول مَا اعْتبر الشَّرْع فِيهِ النِّيَّة لتميز المدلولات كالحالف أَو النَّاذِر بِلَفْظ مُشْتَرك فالشرع إِنَّمَا يُوجب الْكَفَّارَة أَو الْوَفَاء فِيمَا نَوَاه دون غَيره

النَّوْع الثَّانِي صرف الْأَلْفَاظ عَن حقائقها المدلولات إِلَى مجازاتها كالحالف أَو النَّاذِر بِلَفْظ عَام أَو مُطلق وَيَنْوِي بِهِ تَخْصِيص ذَلِك الْعَام أَو تَقْيِيد ذَلِك الْمُطلق فالشرع إِنَّمَا يعْتَبر الْمجَاز الْمَنوِي دون الْحَقِيقَة المدلولة

النَّوْع الثَّالِث صرف الْأَلْفَاظ إِلَى بعض مَا يصلح لَهُ بِالنِّيَّةِ كألفاظ الْكِنَايَات فِي الطَّلَاق وَالْعتاق والأيمان إِلَى بعض المحامل الَّتِي يصلح لَهَا اللَّفْظ فِي ذَلِك الْبَاب وَلَا تترتب الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة إِلَّا على الْمَنوِي دون غَيره

النَّوْع الرَّابِع صُورَة الذَّكَاة فِي الْحَيَوَان الْمَقْدُور عَلَيْهِ والعقر فِي الصَّيْد دَائِرَة بَين سَبَب التَّحْرِيم الَّذِي هُوَ المينة وَبَين سَبَب الْإِبَاحَة الَّذِي هُوَ الذَّكَاة الشَّرْعِيَّة

فَإِذا نوى الذَّكَاة الشَّرْعِيَّة تخصصت الصُّورَة الْوَاقِعَة بِسَبَب الْحل دون سَبَب التَّحْرِيم وان لم ينْو شَيْئا لَا يرتب الشَّرْع الْحل لعدم تعين سَببه فَإِن الشَّرْع كَمَا شرع الْأَحْكَام شرع الْأَسْبَاب وَجعل لكل
আর এখন আমি শরীয়তের দৃষ্টিতে নিয়তের (نية) ক্ষেত্রসমূহ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করছি যা আপনার জন্য এই গবেষণাকে দশটি প্রকারে সহজতর করবে; এগুলোর স্বরূপ ভিন্ন হলেও বিধানের (أحكام) দিক থেকে এগুলো সদৃশ, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

প্রথম প্রকার: যেক্ষেত্রে শরীয়ত অর্থের পার্থক্য নিরূপণে নিয়তের (نية) ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যেমন—কোনো ব্যক্তি যদি বহুর্থবোধক (مشترك) শব্দের মাধ্যমে শপথ করে বা মানত করে, তবে শরীয়ত কেবল সেই বিষয়ের ওপরই কাফফারা বা মানত পূরণ ওয়াজিব করে যা সে নিয়ত (نية) করেছে, অন্য কিছুর ওপর নয়।

দ্বিতীয় প্রকার: শব্দকে তার মূল আভিধানিক অর্থ (حقيقة) থেকে রূপক অর্থের (مجاز) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। যেমন—শপথকারী বা মানতকারী কোনো সাধারণ (عام) বা নিরঙ্কুশ (مطلق) শব্দের মাধ্যমে শপথ করল এবং সে এর মাধ্যমে সেই সাধারণকে (عام) নির্দিষ্ট (تخصيص) করার অথবা সেই নিরঙ্কুশকে (مطلق) সীমাবদ্ধ (تقييد) করার নিয়ত (نية) করল। এক্ষেত্রে শরীয়ত কেবল সেই নিয়তের রূপক অর্থকেই (مجاز) ধর্তব্য গণ্য করবে, মূল আভিধানিক অর্থ (حقيقة) নয়।

তৃতীয় প্রকার: নিয়তের (نية) মাধ্যমে শব্দকে এমন কিছু অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যার যোগ্যতা শব্দটি রাখে। যেমন—তালাক, দাসমুক্তি বা শপথের ক্ষেত্রে ইঙ্গিতবাহী (كناية) শব্দাবলি ব্যবহার করা, যা সেই প্রসঙ্গের সম্ভাব্য অর্থের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে নিয়তের (نية) ওপর ভিত্তি করেই কেবল শরয়ী বিধানসমূহ (أحكام شرعية) কার্যকর হবে, অন্য কিছুর ওপর নয়।

চতুর্থ প্রকার: আয়ত্তাধীন পশুর জবেহ (ذكاة) এবং শিকারকৃত পশুর জখম করার বিষয়টি হারাম হওয়ার কারণ—যা হলো মৃত (ميتة)—এবং হালাল হওয়ার কারণ—যা হলো শরয়ী জবেহ (ذكاة شرعية)—এই দুইয়ের মাঝে আবর্তিত হয়।

সুতরাং যখন সে শরয়ী জবেহ (ذكاة شرعية) করার নিয়ত (نية) করে, তখন সম্পাদিত প্রক্রিয়াটি হারামের পরিবর্তে হালাল হওয়ার কারণের সাথে সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর যদি সে কোনো কিছু নিয়ত (نية) না করে, তবে শরীয়ত তার হালাল হওয়ার বিধান দেয় না; কারণ হালাল হওয়ার কারণটি সুনির্দিষ্ট হয়নি। কেননা শরীয়ত যেমন বিধানাবলি (أحكام) প্রণয়ন করেছে, তেমনি সেগুলোর কারণসমূহও (أسباب) নির্ধারণ করেছে এবং প্রত্যেকটির জন্য...
(খণ্ড: ১) আল-উমনিইয়াহ ফী ইদরাকিন নিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
مسبب معِين حكما معينا فَإِذا دارت الْحَقِيقَة بَين أَسبَاب مُخْتَلفَة تَقْتَضِي التَّحْلِيل وَالتَّحْرِيم وَغير ذَلِك من الْأَحْكَام لم يرتب الشَّرْع أحد الْأَحْكَام لعدم تعين سَببه وَيَقَع هَا هُنَا فِي هَذِه الصُّورَة التَّحْرِيم لِأَن الْقَاعِدَة الشَّرْعِيَّة أَن عدم سَبَب الْإِبَاحَة سَبَب التَّحْرِيم وَعدم سَبَب التَّحْرِيم سَبَب الاباحة كَمَا أَن عدم الاسكار الَّذِي هُوَ سَبَب التَّحْرِيم سَبَب الأباحة وَعدم العقد فِي النِّسَاء الَّذِي هُوَ سَبَب الاباحة سَبَب التَّحْرِيم وَعدم هَا هُنَا سَبَب الأباحه وَهُوَ قصد الذَّكَاة الشَّرْعِيَّة فَيثبت التَّحْرِيم فَمَا رتب الشَّرْع التَّحْرِيم فِي هَذِه الصُّورَة إِلَّا لوُقُوع سَببه الَّذِي هُوَ عدم سَبَب الإباحه على مَا تقدم

النَّوْع الْخَامِس الذكاء الشَّرْعِيَّة دَائِرَة بَين سَبَب أصل الْحل فِي الْأكل وَبَين سَبَب التَّقَرُّب بالضحايا والهدايا وَسبب بَرَاءَة الذِّمَّة من هدى أَو فديَة أَو نذر حَتَّى يَنْوِي أَحدهَا فيرتب الشَّرْع عَلَيْهِ حكمه لتعيين سَببه

6 - النَّوْع السَّادِس صُورَة دفع المَال للْمَسَاكِين دَائِرَة بَين سَبَب أصل التَّقَرُّب الَّذِي هُوَ صَدَقَة التَّطَوُّع وَبَين سَبَب بَرَاءَة الذِّمَّة من الزَّكَاة الْوَاجِبَة وَبَين سَبَب بَرَاءَة الذِّمَّة من نذر وَاجِب

وَإِن كَانَ الْمَدْفُوع مدا دَار أَيْضا بَين ذَلِك وَبَين الْبَرَاءَة من كَفَّارَة الْيَمين أَو الظِّهَار أَو جَزَاء الصَّيْد أَو كَفَّارَة إِفْسَاد الصَّوْم فَإِذا نوى الدَّافِع أحد هَذِه الْأَسْبَاب رتب الشَّرْع عَلَيْهِ مسببه وَإِلَّا فَلَا يرتب شَيْئا إِلَّا الْإِبَاحَة بِخِلَاف ذَكَاة الْحَيَوَان ترَتّب عِنْد عدم النِّيَّة التَّحْرِيم

وَالْفرق أَن الشَّرْع عين لإباحة الْحَيَوَان سَببا وَهُوَ قصد الذَّكَاة الشَّرْعِيَّة وَقد عدمت

وَقد تقدم أَن الْقَاعِدَة الْمُتَّفق عَلَيْهَا أَن عدم الْإِبَاحَة عِلّة التَّحْرِيم وَقد عدمت فيترتب التَّحْرِيم وَسبب الاباحة هُنَا المملك لِلْمَالِ
একটি নির্দিষ্ট কার্যফল (مسبب) একটি নির্দিষ্ট বিধানকে (حكم) নির্দেশ করে। সুতরাং যখন প্রকৃত অবস্থা এমন বিভিন্ন কারণের (أسباب) মধ্যে আবর্তিত হয় যা বৈধকরণ (تحليل) ও অবৈধকরণ (تحريم) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিধানের (أحكام) দাবি রাখে, তখন শরিয়ত কোনো একটি বিধানকে (أحكام) সুনির্দিষ্ট করে না, কারণ তার কারণটি (سبب) নির্দিষ্ট নয়। এমতাবস্থায় এই সুরতে অবৈধতা (تحريم) কার্যকর হবে; কেননা শরয়ী মূলনীতি (القاعدة الشرعية) হলো: বৈধতার কারণ (سبب الإباحة) না থাকা অবৈধতার কারণ (سبب التحريم), আর অবৈধতার কারণ (سبب التحريم) না থাকা বৈধতার কারণ (سبب الإباحة)। যেমন নেশাগ্রস্ততা না থাকা—যা অবৈধতার কারণ (سبب التحريم)—তা বৈধতার কারণ (سبب الإباحة) হিসেবে গণ্য। আবার নারীদের ক্ষেত্রে বিবাহ বন্ধন না থাকা—যা বৈধতার কারণ (سبب الإباحة)—তা অবৈধতার কারণ (سبب التحريم) হিসেবে গণ্য। আর এখানে বৈধতার কারণ (سبب الإباحة) অনুপস্থিত, আর তা হলো শরয়ী জবেহ (ذكاة شرعية) করার উদ্দেশ্য; ফলে অবৈধতা (تحريم) সাব্যস্ত হবে। সুতরাং শরিয়ত এই সুরতে অবৈধতা (تحريم) কেবল তখনই নির্ধারণ করেছে যখন তার কারণ (سبب) সংঘটিত হয়েছে, আর তা হলো পূর্বে বর্ণিত বৈধতার কারণ (سبب الإباحة) না থাকা।

পঞ্চম প্রকার: শরয়ী জবেহ (ذكاة شرعية) বিষয়টি আবর্তিত হয় খাওয়ার মূল বৈধতার কারণ (سبب) এবং কুরবানি ও হাদিয়ার মাধ্যমে নৈকট্য লাভের কারণ (سبب) এবং হাদি, ফিদইয়া বা মানতের (نذر) মাধ্যমে দায়মুক্ত হওয়ার (براءة الذمة) কারণের (سبب) মাঝে; যতক্ষণ না এর কোনো একটির নিয়ত করা হয়। অতঃপর যখন কোনো একটি কারণ (سبب) নির্দিষ্ট হয়, শরিয়ত তার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট বিধান (حكم) প্রদান করে।

6 - ষষ্ঠ প্রকার: অভাবীদের অর্থ প্রদানের বিষয়টি আবর্তিত হয় নফল সদকা (صدقة التطوع) হিসেবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মূল কারণ (سبب), ওয়াজিব জাকাত আদায়ের মাধ্যমে দায়মুক্ত হওয়ার (براءة الذمة) কারণ (سبب) এবং ওয়াজিব মানত (نذر) আদায়ের মাধ্যমে দায়মুক্ত হওয়ার (براءة الذمة) কারণের (سبب) মাঝে।

আর যদি প্রদানকৃত বস্তু এক মুদ (একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ) হয়, তবে তাও এগুলোর মাঝে এবং শপথের কাফফারা, যিহার, শিকারের জরিমানা অথবা রোজা ভঙ্গের কাফফারা থেকে দায়মুক্ত হওয়ার (براءة الذمة) মাঝে আবর্তিত হয়। সুতরাং যখন প্রদানকারী এ সকল কারণের (أسباب) কোনো একটির নিয়ত করে, শরিয়ত তার ওপর সেই নির্দিষ্ট কার্যফল (مسبب) আরোপ করে; অন্যথায় সাধারণ বৈধতা (إباحة) ব্যতীত অন্য কিছু সাব্যস্ত হয় না। তবে প্রাণীর জবেহ করার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ সেখানে নিয়তের অনুপস্থিতিতে অবৈধতা (تحريم) সাব্যস্ত হয়।

আর পার্থক্য হলো, শরিয়ত প্রাণীর বৈধতার (إباحة) জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারণ (سبب) নির্ধারণ করেছে, আর তা হলো শরয়ী জবেহ (ذكاة شرعية) করার উদ্দেশ্য, যা এখানে অনুপস্থিত।

আর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বসম্মত মূলনীতি (القاعدة) হলো: বৈধতা (إباحة) না থাকা হলো অবৈধতার (تحريم) কার্যকর কারণ (علة)। যেহেতু তা এখানে অনুপস্থিত, তাই অবৈধতা (تحريم) সাব্যস্ত হবে। আর এখানে বৈধতার কারণ (سبب الإباحة) হলো সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরকারী।