(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: -)
أسنى المتاجر وبيان أحكام من غلب على وطنه النصاري ولم يهاجر وما يترتب عليه من العقوبات والزواجر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أسنى المتاجر وبيان أحكام من غلب على وطنه النصاري ولم يهاجر وما يترتب عليه من العقوبات والزواجر
المؤلف: أحمد بن يحيى بن محمد الونشريسي التلمساني، أبو العباس المالكي (ت 914هـ)
المحقق: د. حسين مؤنس
الناشر: مكتبة الثقافة الدينية - مصر
الطبعة: الأولى، 1406هـ، / 1986م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 65
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসনা আল-মাতাঝির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা ‘আলা ওয়াতানিহি আন-নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু ‘আলাইহি মিনাল ‘উকুবাত ওয়াঝ ঝাওয়াজির বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আসনা আল-মাতাঝির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা ‘আলা ওয়াতানিহি আন-নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু ‘আলাইহি মিনাল ‘উকুবাত ওয়াঝ ঝাওয়াজির
লেখক: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ানশারিসি আত-তিলিমসানি, আবু আল-আব্বাস আল-মালিকি (ওফাত ৯১৪ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. হুসাইন মুনিস
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিয়্যাহ - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি / ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২২)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم صلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَسلم تَسْلِيمًا
كتب إِلَى الشَّيْخ الْفَقِيه الْمُعظم الْخَطِيب الْفَاضِل الْقدْوَة الصَّالح الْبَقِيَّة وَالْجُمْلَة الفاضلة النقية الْعدْل الأرضي أَبُو عبد الله بن قطيه أدام الله سموهُ ورقيه بِمَا نَصه
1 -
الْمَسْأَلَة هَل تجوز إِقَامَة الْمُسلم فِي بلد غلب عَلَيْهِ النَّصَارَى الْحَمد لله وَحده
جوابكم يَا سَيِّدي رَضِي الله عَنْكُم ومتع الْمُسلمين بحياتكم فِي نازلة وَهِي أَن قوما من هَؤُلَاءِ الأندلسيين الَّذين هَاجرُوا من الأندلس وَتركُوا هُنَاكَ الدّور وَالْأَرضين والجنات والكرمات وَغير ذَلِك من أَنْوَاع الْأُصُول وبذلوا زِيَادَة على ذَلِك كثيرا من ناض المَال وَخَرجُوا من تَحت حكم الْمسلمَة الْكَافِرَة وَزَعَمُوا أَنهم فروا إِلَى الله سُبْحَانَهُ بايدينهم وأنفسهم وأهليهم وذرياتهم وَمَا بقى بِأَيْدِيهِم أَو أَيدي بَعضهم من الْأَمْوَال واستقروا بِحَمْد الله سُبْحَانَهُ بدار الْإِسْلَام تَحت طَاعَة الله وَرَسُوله وَحكم الذِّمَّة الْمسلمَة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মহান শাইখ, বিজ্ঞ ফকীহ, খতীব, বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও সৎ পুরুষ, পুণ্যবানদের উত্তরসূরি, পবিত্র ও গুণী ব্যক্তিত্ব, সন্তোষভাজন ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) আবু আবদুল্লাহ ইবনে কুতাইয়াহ—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও উন্নতি দীর্ঘস্থায়ী করুন—তাঁর নিকট নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু সম্বলিত পত্র লেখা হয়েছে:
১ -
মাসআলা: খ্রিস্টানদের আধিপত্য রয়েছে এমন দেশে একজন মুসলিমের বসবাস করা কি বৈধ? সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।
হে আমার সাইয়্যিদ, আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আপনার জীবনের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন। একটি উদ্ভূত সমস্যা প্রসঙ্গে আপনার জবাব কাম্য; বিষয়টি হলো অন্দালুসীয়দের একদল লোক যারা অন্দালুস থেকে হিজরত করেছেন। তারা সেখানে ঘরবাড়ি, জমিজমা, বাগান, আঙুরক্ষেত এবং বিভিন্ন ধরণের স্থাবর সম্পত্তি ত্যাগ করে এসেছেন। এর পাশাপাশি তারা প্রচুর নগদ অর্থ বিসর্জন দিয়েছেন এবং কাফেরদের শাসন থেকে বের হয়ে এসেছেন। তারা মনে করেন যে, তারা তাদের দ্বীন, জীবন, পরিবার-পরিজন এবং বংশধরদের নিয়ে মহান আল্লাহর দিকে পলায়ন করেছেন। তাদের অথবা তাদের কয়েকজনের নিকট যে সম্পদ অবশিষ্ট ছিল তা নিয়েই তারা—মহান আল্লাহর প্রশংসায়—দারুল ইসলামে তথা মুসলিম ভূখণ্ডে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং মুসলিম শাসনের অধীনে বসতি স্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ندموا على الْهِجْرَة بعد حصولهم بدار الاسلام تسخطوا وَزَعَمُوا أَنهم وجدوا الْحَال عَلَيْهِم ضيقَة وَأَنَّهُمْ لم يَجدوا بدار الاسلام الَّتِي هِيَ دَار الْمغرب هَذِه صانها الله وحرس أوطانها وَنصر سُلْطَانه بِالنِّسْبَةِ إِلَى التَّسَبُّب فِي طلب انواع المعاش على الْجُمْلَة رفقا وَلَا يسرا وَلَا مرتفقا وَلَا إِلَى التَّصَرُّف فِي الأقطار أمنا لايقا وصرحوا فِي هَذَا الْمَعْنى بأنواع من قَبِيح الْكَلَام الدَّال على ضعف دينهم وَعدم صِحَة يقينهم فِي معتقدهم وان هجرتهم لم تكن لله وَرَسُوله كَمَا زَعَمُوا وَإِنَّمَا كَانَت لدينا يصيبونها عَاجلا عِنْد وصولهم جَارِيَة على وفْق أهوائهم فَلَمَّا لم يجدوها وفْق أغراضهم صَرَّحُوا بذم دَار الْإِسْلَام وشأنه وَشتم الذى كَانَ السَّبَب لَهُم فِي هَذِه الْهِجْرَة وسبه وبمدح دَار الْكفْر وَأَهله (83 ب) والندم على مُفَارقَته وَرُبمَا حفظ عَن بَعضهم أَنه قَالَ على جِهَة الْإِنْكَار لِلْهِجْرَةِ إِلَى دَار الْإِسْلَام الَّتِي هِيَ هَذَا الوطن صانه الله إِلَى هَا هُنَا يُهَاجر من هنايك بل من هَا هُنَا تجب الْهِجْرَة إِلَى هُنَاكَ وَعَن آخر مِنْهُم أَيْضا أَنه قَالَ إِن جَازَ صَاحب قشتالة إِلَى هَذِه النواحى نسير إِلَيْهِ فنطلب مِنْهُ أَن يردنا إِلَى هُنَاكَ يعْنى إِلَى دَار الْكفْر ومعاودة الدُّخُول تَحت الذِّمَّة الْكَافِرَة كَيفَ أمكنهم
فَمَا الَّذِي يلحقهم فِي ذَلِك من الْإِثْم وَنقص رُتْبَة الدّين والجرحة
وَهل هم بِهِ مرتكبون الْمعْصِيَة الَّتِي كَانُوا فروا مِنْهَا إِن تَمَادَوْا على ذَلِك وَلم يتوبوا وَلم يرجِعوا إِلَى الله سُبْحَانَهُ مِنْهُ
وَكَيف بِمن رَجَعَ مِنْهُم بعد الْحُصُول فِي دَار الْإِسْلَام إِلَى دَار الْكفْر وَالْعِيَاذ الله
তারা ইসলামি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পর হিজরতের জন্য অনুতপ্ত হলো এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করল। তারা দাবি করল যে, তারা সেখানে জীবনযাত্রার সংকীর্ণতার সম্মুখীন হয়েছে। তারা আরও দাবি করল যে, এই ইসলামি ভূখণ্ডে—যা মাগরিব অঞ্চল, আল্লাহ একে রক্ষা করুন, এর স্বদেশসমূহকে হিফাজত করুন এবং এর সুলতানকে সাহায্য করুন—সামগ্রিকভাবে জীবিকা অন্বেষণের বিভিন্ন উপায়ের ক্ষেত্রে তারা কোনো স্বাচ্ছন্দ্য, সহজতা বা অবলম্বন খুঁজে পায়নি, এমনকি বিভিন্ন অঞ্চলে চলাফেরার ক্ষেত্রেও তারা যথাযথ নিরাপত্তা পায়নি। তারা এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের কটু কথা স্পষ্টভাবে বলেছে, যা তাদের দ্বীনের দুর্বলতা এবং তাদের বিশ্বাসের (معتقد) বিশুদ্ধতাহীনতার প্রমাণ দেয়। তাদের হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য ছিল না যেমনটি তারা দাবি করেছিল; বরং তা ছিল পার্থিব কোনো স্বার্থের জন্য, যা তারা সেখানে পৌঁছামাত্রই তাদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী অবিলম্বে লাভ করতে চেয়েছিল। যখন তারা তা তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী পেল না, তখন তারা ইসলামি ভূখণ্ডের নিন্দা ও সমালোচনা করতে শুরু করল এবং যারা তাদের এই হিজরতের কারণ হয়েছিল তাদের গালিগালাজ ও অভিশাপ দিল। পাশাপাশি তারা কুফরি ভূখণ্ড ও সেখানকার অধিবাসীদের প্রশংসা করতে লাগল এবং তা ত্যাগ করার কারণে আক্ষেপ প্রকাশ করতে লাগল। এমনকি তাদের কারো কারো কথা সংরক্ষিত আছে যে, সে এই ভূখণ্ডের—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—উদ্দেশ্যে হিজরত করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছিল: "ওখান থেকে কি কেউ এখানে হিজরত করে? বরং এখান থেকেই তো ওখানে হিজরত করা ওয়াজিব!" তাদের মধ্য থেকে অন্য একজন এও বলেছিল: "কাস্টিলের অধিপতি যদি এই অঞ্চলে আসেন, তবে আমরা তার কাছে গিয়ে অনুরোধ করব যেন তিনি আমাদের পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যান," অর্থাৎ কুফরি ভূখণ্ডে এবং কাফিরদের নিরাপত্তাধীন প্রজা হিসেবে পুনরায় ফিরে যাওয়ার জন্য তারা উন্মুখ হয়ে পড়ল।
এতে তাদের ওপর কী পরিমাণ পাপ এবং দ্বীনি মর্যাদার হানি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ণকারী ত্রুটি (جرحة) আপতিত হবে?
তারা যদি এই অবস্থায় অটল থাকে এবং তওবা না করে মহান আল্লাহর দিকে ফিরে না আসে, তবে তারা কি সেই অবাধ্যতাতেই লিপ্ত বলে গণ্য হবে যা থেকে তারা পলায়ন করেছিল?
আর যে ব্যক্তি ইসলামি ভূখণ্ডে আসার পর পুনরায় কুফরি ভূখণ্ডে ফিরে গেল, তার হুকুম কী হবে? আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَهل يجب على من قَامَت عَلَيْهِ مِنْهُم بالتصريح بذلك أَو بِمَعْنَاهُ شَهَادَة أدب أَو لَا حَتَّى يتَقَدَّم إِلَيْهِم فِيهِ بالوعظ والإنذار فَمن تَابَ إِلَى الله سُبْحَانَهُ نزك ورجى لَهُ قبُول التَّوْبَة وَمن تَمَادى عَلَيْهِ ادب أَو يعرض عَنْهُم وَيتْرك كل وَاحِد مِنْهُم وَمَا اخْتَارَهُ فَمن ثبته الله فِي دَار الاسلام رَاضِيا فَلهُ نِيَّته وأجره على الله سُبْحَانَهُ وَمن اخْتَار الرُّجُوع إِلَى دَار الْكفْر ومعاودة الذِّمَّة الْكَافِرَة ترك يذهب إِلَى سخط الله وَمن ذمّ دَار الاسلام مِنْهُم تَصْرِيحًا اَوْ معنى ترك وَمَا عول عَلَيْهِ
بينوا لنا حكم الله تَعَالَى فِي ذَلِك كُله وَهل من شَرط الْهِجْرَة أَلا يُهَاجر أحد إِلَّا إِلَى دنيا مَضْمُونَة يُصِيبهَا عَاجلا عِنْد وُصُوله جَارِيَة على وفْق غَرَضه حَيْثُ حل أبدا من نواحى الْإِسْلَام أَو لَيْسَ ذَلِك بِشَرْط بل تجب عَلَيْهِم الْهِجْرَة من دَار الْكفْر إِلَى دَار الْإِسْلَام إِلَى حُلْو أَو مر أَو وسع أَو ضيق أَو عسر أَو يسر بِالنِّسْبَةِ (84 أ) إِلَى احوال الدُّنْيَا وَإِنَّمَا الْقَصْد بهَا سَلامَة الدّين والأهل وَالْولد مثلا وَالْخُرُوج من حكم الْملَّة الْكَافِرَة إِلَى حكم الْملَّة الْمسلمَة إِلَى مَا شَاءَ الله من حُلْو أَو مر اَوْ ضيق عَيْش اَوْ سعته وَنَحْو ذَلِك من الْأَحْوَال الدنياوية بَيَانا شافيا مجودا مشروحا كَافِيا يَأْجُركُمْ الله سُبْحَانَهُ وَالسَّلَام الْكَرِيم يعْتَمر مقامكم الْعلي وَرَحْمَة الله تَعَالَى وَبَرَكَاته
فأجبته بِمَا هَذَا نَصه
الْحَمد لله تَعَالَى وَحده وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد بعده
আর যাদের মধ্যে যারা সুস্পষ্টভাবে বা সমার্থবোধক কোনো অভিব্যক্তির মাধ্যমে এমন আচরণের প্রমাণ দিয়েছে, তাদের কি শিষ্টাচারমূলক দণ্ড প্রদানের সাক্ষ্য দেওয়া আবশ্যক? নাকি তাদের নিকট নসিহত ও সতর্কবার্তা পেশ করার পূর্বে তা করা হবে না? অতঃপর যারা মহান আল্লাহর নিকট তওবা করবে, তাদের পবিত্র (تزكية) ঘোষণা করা হবে এবং তাদের তওবা কবুল হওয়ার আশা রাখা হবে। আর যারা সেই আচরণের ওপর অবিচল থাকবে, তাদের শাস্তি প্রদান করা হবে অথবা তাদের থেকে বিমুখ হওয়া হবে এবং তাদের প্রত্যেককে তার পছন্দের বিষয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। সুতরাং আল্লাহ যাকে সন্তুষ্ট চিত্তে দারুল ইসলামে অটল রেখেছেন, তার জন্য তার নিয়ত রয়েছে এবং তার প্রতিদান মহান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি দারুল কুফরে ফিরে যাওয়া এবং কাফেরদের জিম্মাদারিতে পুনরায় আসক্ত হওয়াকে বেছে নিয়েছে, তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির দিকে ধাবিত হতে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর তাদের মধ্যে যারা সুস্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে দারুল ইসলামের নিন্দা করে, তাকে তার মতাদর্শের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে।
এই সমস্ত বিষয়ে আমাদের নিকট মহান আল্লাহর বিধান বর্ণনা করুন। আর হিজরতের জন্য কি এমন কোনো শর্ত রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি নিশ্চিত পার্থিব সচ্ছলতা লাভ করা ব্যতীত হিজরত করবে না—যা সে ইসলামি ভূখণ্ডের যেখানেই পদার্পণ করুক না কেন তৎক্ষণাৎ তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী সর্বদা লাভ করবে? নাকি এটি কোনো শর্ত নয়, বরং পার্থিব অবস্থার প্রেক্ষিতে (৮৪ ক) তিক্ত হোক বা মিষ্টি, প্রশস্ত হোক বা সংকীর্ণ কিংবা অভাব হোক বা সচ্ছলতা—তাদের ওপর দারুল কুফর থেকে দারুল ইসলামের দিকে হিজরত করা ওয়াজিব? মূলত এর উদ্দেশ্য হলো দ্বীন, পরিবার এবং সন্তানাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কুফরি মিল্লাতের শাসন থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামি মিল্লাতের শাসনের অধীনে আসা—চাই তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় জীবন তিক্ত হোক বা মিষ্টি, সংকীর্ণ হোক বা প্রশস্ত কিংবা দুনিয়াবি অন্য যেকোনো অবস্থা হোক। আমাদের নিকট একটি পর্যাপ্ত, নিপুণ, বিস্তারিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করুন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনাদের সুউচ্চ মকামে সম্মানজনক সালাম এবং মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর আমি তাকে এই মর্মে উত্তর প্রদান করেছি:
যাবতীয় প্রশংসা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যার পরে আর কেউ নেই।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 -الْجَواب الْهِجْرَة إِلَى أَرض الْإِسْلَام فَرِيضَة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة
الْجَواب عَمَّا سَأَلْتُم عَنهُ وَالله سُبْحَانَهُ ولي التَّوْفِيق بفضله إِن الْهِجْرَة من أَرض الْكفْر إِلَى أَرض الْإِسْلَام فَرِيضَة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَكَذَلِكَ الْهِجْرَة من أَرض الْحَرَام وَالْبَاطِل بظُلْم أَو فتْنَة
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (يُوشك أَن يكون خير مَال الْمُسلم غنم يتبع بهَا شعب الْجبَال ومواقع الْقطر يفر بِدِينِهِ من الْفِتَن) أخرجه البُخَارِيّ والموطأ وَأَبُو دَاوُود وَالنَّسَائِيّ وَقد روى أَشهب عَن مَالك (لَا يُقيم أحد فِي مَوضِع يعْمل فِيهِ بِغَيْر الْحق) قَالَ فِي (الْعَارِضَة) فَإِن قيل فَإِذا لم يُوجد بلد إِلَّا كَذَلِك قلت يخْتَار الْمَرْء أقلهَا إِثْمًا مثل أَن يكون الْبَلَد فِيهِ كفر فبلد فِيهِ جور خير مِنْهُ أَو بلد فِيهِ عدل وَحرَام فبلد فِيهِ جور وحلال خير مِنْهُ للمقام أَو بلد فِيهِ معاص فِي حُقُوق الله فَهُوَ أولى من بلد فِيهِ معاص فِي مظالم الْعباد وَهَذَا الأنموذج دَلِيل على مَا رَوَاهُ وَقد قَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه فلَان بِالْمَدِينَةِ وَفُلَان بِمَكَّة وَفُلَان بِالْيمن وَفُلَان بالعراق وَفُلَان بِالشَّام امْتَلَأت الأَرْض وَالله جورا وظلما انْتهى
2 -উত্তর: ইসলামি ভূখণ্ডের পানে হিজরত করা কিয়ামত পর্যন্ত একটি ফরজ (فَرِيضَة) বিধান।
আপনারা যা জিজ্ঞাসা করেছেন তার উত্তর এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর অনুগ্রহে তাওফিক দানকারী; নিশ্চয়ই কুফরি ভূখণ্ড থেকে ইসলামি ভূখণ্ডের পানে হিজরত করা কিয়ামত পর্যন্ত একটি ফরজ (فَرِيضَة) বিধান। তেমনিভাবে হারাম ও বাতিলপূর্ণ ভূমি থেকে হিজরত করাও, যেখানে জুলুম অথবা ফিতনা (فتنة) বিদ্যমান।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন একজন মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ হবে কিছু ছাগল, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির জায়গায় চলে যাবে, ফিতনা (الفتن) থেকে নিজ দ্বীনকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পলায়ন করবে।" অত্র হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারি, মুয়াত্তা, আবু দাউদ এবং নাসায়ি। আর আশহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন (روى): "কেউ যেন এমন স্থানে বসবাস না করে যেখানে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু অনুযায়ী কাজ করা হয়।" ‘আল-আরিজাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যদি প্রশ্ন করা হয়, যদি এমন কোনো দেশ না পাওয়া যায় যা এই ত্রুটিমুক্ত নয়? আমি বলব: মানুষ তার মধ্যে সবচেয়ে কম গুনাহের দেশটিকে বেছে নেবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি দেশে কুফর (كفر) থাকে, তবে যে দেশে অন্যায় (جور) আছে তা কুফরপূর্ণ দেশ থেকে উত্তম। অথবা একটি দেশে ইনসাফ আছে কিন্তু হারাম বিদ্যমান, তবে বসবাসের জন্য যে দেশে অন্যায় (جور) থাকলেও হালাল বিদ্যমান তা সেই দেশের চেয়ে উত্তম। অথবা এমন দেশ যেখানে আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে নাফরমানি বা গুনাহ হয়, সেটি বান্দার হকের ওপর জুলুম করা হয় এমন দেশের চেয়ে বসবাসের জন্য অধিক উপযোগী। এই উদাহরণটি তাঁর বর্ণিত বর্ণনারই একটি প্রমাণ।" আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "অমুক মদিনায়, অমুক মক্কায়, অমুক ইয়েমেনে, অমুক ইরাকে এবং অমুক সিরিয়ায়; আল্লাহর কসম! পৃথিবী অন্যায় (جور) ও জুলুমে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 -لَا تجوز الْإِقَامَة إِلَّا فِي حَالَة الْعَجز عَن الْهِجْرَة بِكُل وَجه الْأَدِلَّة من الْقُرْآن الْكَرِيم
وَلَا يسْقط هَذِه الْهِجْرَة الْوَاجِبَة على هَؤُلَاءِ الَّذين استولى الطاغية لعنة الله تَعَالَى على معاقلهم وبلادهم إِلَّا تصور الْعَجز عَنْهَا بِكُل وَجه وَحَال لَا الوطن وَالْمَال فَإِن ذَلِك كُله ملغى فِي نظر الشَّرْع (84 ب) قَالَ الله تَعَالَى {إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ من الرِّجَال وَالنِّسَاء والولدان لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَة وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلا فَأُولَئِك عَسى الله أَن يعْفُو عَنْهُم وَكَانَ الله عفوا غَفُورًا} فَهَذَا الإستضعاف المعفو عَمَّن اتّصف بِهِ غير الاستضعاف المعتذر بِهِ فِي أول الْآيَة وصدرها وَهُوَ قَول الظالمي أنفسهم {كُنَّا مستضعفين فِي الأَرْض} فَإِن الله تَعَالَى لم يقبل قَوْلهم فِي الِاعْتِذَار بِهِ فَدلَّ على أَنهم كَانُوا قَادِرين على الْهِجْرَة من وَجه مَا وَعَفا عَن الاستضعاف الَّذِي لَا يُسْتَطَاع مَعَه حِيلَة وَلَا يهتدى بِهِ سَبِيل بقوله {فَأُولَئِك عَسى الله أَن يعْفُو عَنْهُم} عَسى من الله واجبه فالمستضعف المعاقب فِي صدر الْآيَة هُوَ الْقَادِر من وَجه والمستضعف المعفو عَنهُ فِي عجزها هُوَ الْعَاجِز من كل وَجه فَإِذا عجز الْمُبْتَلى بِهَذِهِ الْإِقَامَة عَن الْفِرَار بِدِينِهِ وَلم يسْتَطع سَبِيلا إِلَيْهِ وَلَا ظَهرت لَهُ حِيلَة
৩ -হিজরত (هِجْرَة) করতে সর্বতোভাবে অক্ষম হওয়া ব্যতীত [দারুল হারবে] অবস্থান করা বৈধ নয়। পবিত্র কুরআন থেকে এর প্রমাণাদি।
যাদের দুর্গ ও জনপদসমূহের ওপর আল্লাহ তাআলার অভিশপ্ত তাগুত আধিপত্য বিস্তার করেছে, তাদের ওপর এই হিজরত (هِجْرَة) করা ওয়াজিব (وَاجِب) হওয়া ততক্ষণ রহিত হবে না, যতক্ষণ না তারা সর্বাবস্থায় এবং সর্বতোভাবে হিজরত করতে অক্ষম বলে সাব্যস্ত হবে। এক্ষেত্রে স্বদেশ বা ধন-সম্পদ কোনো ওজর হতে পারে না; কারণ শরয়ি (شَرْعِي) দৃষ্টিকোণ থেকে এ সব কিছুই বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। (৮৪ খ) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে সে সব অসহায় (مُسْتَضْعَف) পুরুষ, নারী ও শিশু যারা কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও পায় না। অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} সুতরাং ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য এই যে অসহায়ত্ব (اسْتِضْعَاف), তা সেই অসহায়ত্ব থেকে ভিন্ন যা আয়াতের শুরুর দিকে নিজেদের ওপর জুলুমকারীদের ওজর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হলো তাদের এই বক্তব্য: {আমরা পৃথিবীতে অসহায় (مُسْتَضْعَف) ছিলাম।} আল্লাহ তাআলা ওজর হিসেবে তাদের এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি; যা প্রমাণ করে যে, তারা কোনো না কোনোভাবে হিজরত (هِجْرَة) করতে সক্ষম ছিল। আর তিনি সেই অসহায়ত্বকে (اسْتِضْعَاف) ক্ষমা করেছেন যার ক্ষেত্রে কোনো উপায় থাকে না এবং কোনো পথও পাওয়া যায় না। তিনি ইরশাদ করেছেন: {অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন}। আল্লাহর কালামে ‘আসা’ (عسى) শব্দটি নিশ্চিত বিষয়কে (وَاجِب) নির্দেশ করে। সুতরাং আয়াতের প্রথমাংশে উল্লিখিত শাস্তিযোগ্য অসহায় (مُسْتَضْعَف) ব্যক্তি হলো সেই, যে কোনো না কোনোভাবে সক্ষম ছিল; আর আয়াতের শেষাংশে উল্লিখিত ক্ষমাযোগ্য অসহায় (مُسْتَضْعَف) ব্যক্তি হলো সেই, যে সর্বতোভাবে অক্ষম ছিল। সুতরাং যখন এই অবস্থানে লিপ্ত ব্যক্তি তার দ্বীন নিয়ে পলায়ন করতে অক্ষম হয় এবং কোনো পথ বা উপায় খুঁজে না পায়...
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلَا قدرَة عَلَيْهِ بِوَجْه وَلَا حَال وَكَانَ بِمَثَابَة المقعد أَو المأسور أَو كَانَ مَرِيضا جدا أَو ضَعِيفا جدا فَحِينَئِذٍ يُرْجَى لَهُ الْعَفو وَيصير بِمَثَابَة الْمُكْره على التَّلَفُّظ بالْكفْر وَمَعَ هَذَا لَا بُد أَن تكون لَهُ نِيَّة قَائِمَة أَنه لَو قدر وَتمكن لهاجر وعزم صَادِق مستصحب أَنه إِن ظفر بمكنة وقتا مَا فيهاجر وَأما المستطيع بِأَيّ وَجه كَانَ وَبِأَيِّ حِيلَة تمكنت فَهُوَ غير مَعْذُور وظالم لنَفسِهِ إِن أَقَامَ حَسْبَمَا تضمنته الْآيَات وَالْأَحَادِيث الواردات قَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا عدوي وَعَدُوكُمْ أَوْلِيَاء تلقونَ إِلَيْهِم بالمودة وَقد كفرُوا بِمَا جَاءَكُم من الْحق} إِلَى قَوْله {وَمن يَفْعَله مِنْكُم فقد ضل سَوَاء السَّبِيل} وَقَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا بطانة من دونكم لَا يألونكم خبالا ودوا مَا عنتم قد بَدَت الْبغضَاء من أَفْوَاههم وَمَا تخفي صُدُورهمْ أكبر قد بَينا لكم الْآيَات إِن كُنْتُم تعقلون} وَقَالَ الله تَعَالَى {لَا يتَّخذ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافرين أَوْلِيَاء من دون الْمُؤمنِينَ وَمن يفعل ذَلِك فَلَيْسَ من الله فِي شَيْء إِلَّا أَن تتقوا مِنْهُم تقاة ويحذركم الله نَفسه وَإِلَى الله الْمصير}
আর তার ওপর কোনোভাবেই বা কোনো অবস্থাতেই কোনো সক্ষমতা নেই, এবং সে পঙ্গু বা বন্দীর ন্যায় অথবা অত্যন্ত অসুস্থ কিংবা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির মতো; এমতাবস্থায় তার জন্য ক্ষমার আশা রাখা যায় এবং সে কুফরি উচ্চারণে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির সমতুল্য হয়ে যায়। এতদসত্ত্বেও তার মধ্যে এই দৃঢ় নিয়ত থাকা আবশ্যক যে, যদি সে সক্ষম হতো এবং সামর্থ্য রাখত তবে অবশ্যই হিজরত করত; এবং তার সাথে এমন এক অটল ও চিরন্তন সংকল্প থাকতে হবে যে, যখনই সে কোনো সময় সামর্থ্য পাবে তখনই হিজরত করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি যেকোনোভাবে সক্ষম এবং যেকোনো উপায়ে সামর্থ্য রাখে, সে ওজরগ্রস্ত নয় এবং সে নিজের প্রতি জুলুমকারী যদি সে অবস্থান করে—যেমনটি বর্ণিত আয়াত ও হাদিসসমূহে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও অথচ তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তারা তা অস্বীকার করেছে...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {তোমাদের মধ্যে যে কেউ এটি করবে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; তারা তোমাদের অনিষ্ট সাধনে কোনো ত্রুটি করে না, যা তোমাদের বিপন্ন করে তারা তা-ই কামনা করে। তাদের মুখ থেকে তো ঘৃণা প্রকাশ পেয়ে গেছে, আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও গুরুতর। আমি তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি যদি তোমরা অনুধাবন করো}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {মুমিনগণ যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে; আর যে কেউ এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে ব্যতিক্রম হলো—যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করো। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল}।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(85 أ) وَقَالَ تَعَالَى {وَلَا تركنوا إِلَى الَّذين ظلمُوا فتمسكم النَّار وَمَا لكم من دون الله من أَوْلِيَاء ثمَّ لَا تنْصرُونَ} وَقَالَ تَعَالَى {بشر الْمُنَافِقين بِأَن لَهُم عذَابا أَلِيمًا الَّذين يتخذون الْكَافرين أَوْلِيَاء من دون الْمُؤمنِينَ أيبتغون عِنْدهم الْعِزَّة فَإِن الْعِزَّة لله جَمِيعًا} إِلَى قَوْله {وَلنْ يَجْعَل الله للْكَافِرِينَ على الْمُؤمنِينَ سَبِيلا} وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكَافرين أَوْلِيَاء من دون الْمُؤمنِينَ أتريدون أَن تجْعَلُوا لله عَلَيْكُم سُلْطَانا مُبينًا} وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُود وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعضهم أَوْلِيَاء بعض وَمن يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُم فَإِنَّهُ مِنْهُم إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين} وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا} الَّذين اتَّخذُوا دينكُمْ هزوا وَلَعِبًا من الَّذين أُوتُوا الْكتاب من قبلكُمْ وَالْكفَّار أَوْلِيَاء وَاتَّقوا الله إِن كُنْتُم مُؤمنين وَإِذا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاة اتَّخَذُوهَا هزوا وَلَعِبًا ذَلِك بِأَنَّهُم قوم لَا يعْقلُونَ) وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا وَلِيكُم الله وَرَسُوله وَالَّذين آمنُوا الَّذين يُقِيمُونَ الصَّلَاة وَيُؤْتونَ الزَّكَاة وهم رَاكِعُونَ وَمن يتول الله وَرَسُوله وَالَّذين آمنُوا فَإِن حزب الله هم الغالبون} وَقَالَ تَعَالَى {إِن الَّذين تَوَفَّاهُم الْمَلَائِكَة ظالمي أنفسهم قَالُوا فيمَ كُنْتُم قَالُوا كُنَّا مستضعفين فِي الأَرْض قَالُوا ألم تكن أَرض الله وَاسِعَة فتهاجروا فِيهَا فَأُولَئِك مأواهم جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ من الرِّجَال وَالنِّسَاء والولدان لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَة وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلا فَأُولَئِك عَسى الله أَن يعْفُو عَنْهُم وَكَانَ الله عفوا غَفُورًا} وَقَالَ تَعَالَى
(৮৫ ক) মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা জুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, অতঃপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।} মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। যারা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে; তারা কি তাদের কাছে সম্মান ও প্রতিপত্তি খোঁজে? অথচ সমস্ত সম্মান তো কেবল আল্লাহরই।} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর আল্লাহ মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না।} মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট দলিল পেশ করতে চাও?} মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।} মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও ক্রীড়ার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদের এবং কাফিরদের তোমরা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও। আর যখন তোমরা সালাতের জন্য আহ্বান করো, তখন তারা একে উপহাস ও ক্রীড়ার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে; এটি এজন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা অনুধাবন করে না।} মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের প্রকৃত বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ; যারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং তারা রুকুকারী। আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই হবে বিজয়ী।} মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যখন সেই লোকদের জান কবজ করে যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তারা জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?’ তারা উত্তর দেয়, ‘আমরা জমিনে অসহায় ছিলাম।’ ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?’ অতএব তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম, আর তা কত মন্দ গন্তব্য। তবে পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে অসহায়, যাদের কোনো উপায় অবলম্বনের সামর্থ্য নেই এবং যারা কোনো পথ খুঁজে পায় না; আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ পরম মার্জনাকারী ও অতিশয় ক্ষমাশীল।} এবং মহান আল্লাহ বলেন—
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
{ترى كثيرا مِنْهُم يتولون الَّذين كفرُوا لبئس مَا قدمت لَهُم أنفسهم أَن سخط الله عَلَيْهِم وَفِي الْعَذَاب هم خَالدُونَ وَلَو كَانُوا يُؤمنُونَ بِاللَّه وَالنَّبِيّ وَمَا أنزل إِلَيْهِ مَا اتخذوهم أَوْلِيَاء وَلَكِن كثيرا مِنْهُم فَاسِقُونَ} والظالمون أنفسهم فِي هَذِه الْآيَة السَّابِقَة إِنَّمَا هم التاركون لِلْهِجْرَةِ مَعَ الْقُدْرَة عَلَيْهَا حَسْبَمَا تضمنه قَوْله تَعَالَى {ألم تكن أَرض الله وَاسِعَة فتهاجروا فِيهَا} فظلمهم أنفسهم إِنَّمَا كَانَ بِتَرْكِهَا وَهِي الْإِقَامَة مَعَ الْكفَّار وتكثير سوادهم وَقَوله {تَوَفَّاهُم الْمَلَائِكَة} فِيهِ تَنْبِيه على أَن الموبخ على ذَلِك والمعاقب عَلَيْهِ إِنَّمَا هُوَ من مَاتَ مصرا على هَذِه الْإِقَامَة (85 ب) وَأما من تَابَ عَن ذَلِك وَهَاجَر وأدركه الْمَوْت وَلَو بِالطَّرِيقِ فتوفاه الْملك خَارِجا عَنْهُم فيرجى قبُول تَوْبَته أَلا يَمُوت ظَالِما لنَفسِهِ وَيدل ذَلِك ايضا على قَول الله تَعَالَى {وَمن يخرج من بَيته مُهَاجرا إِلَى الله وَرَسُوله} إِلَى قَوْله {وَكَانَ الله غَفُورًا رحِيما} فَهَذِهِ الْآي القرآنية كلهَا أَو أَكْثَرهَا مَا سوى قَوْله {ترى كثيرا مِنْهُم} إِلَى آخرهَا نُصُوص فِي تَحْرِيم الْمُوَالَاة الكفرانية وَأما قَوْله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُود وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعضهم أَوْلِيَاء بعض وَمن يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُم فَإِنَّهُ مِنْهُم إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين} فَمَا أبقت مُتَعَلقا إِلَى التطرق لهَذَا التَّحْرِيم وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذين اتَّخذُوا دينكُمْ هزوا وَلَعِبًا من الَّذين أُوتُوا الْكتاب من قبلكُمْ وَالْكفَّار أَوْلِيَاء وَاتَّقوا الله إِن كُنْتُم مُؤمنين}
{আপনি তাদের অনেককে দেখতে পাবেন যে, তারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করছে। তাদের নফস তাদের জন্য যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তা কতই না মন্দ যে, আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তারা আজাব বা শাস্তির মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। আর তারা যদি আল্লাহ, নবি এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান আনত, তবে তারা তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না; কিন্তু তাদের অধিকাংশ পাপাচারী (فاسقون)}। পূর্ববর্তী এই আয়াতে নিজেদের প্রতি জুলুমকারী বলতে মূলত তাদের বোঝানো হয়েছে, যারা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হিজরত বর্জন করেছে, যা মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা সেখানে হিজরত করতে?} এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাদের নিজেদের প্রতি জুলুম করার কারণ ছিল হিজরত বর্জন করা, আর তা হলো কাফিরদের সাথে অবস্থান করা এবং তাদের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করা। আর আল্লাহর বাণী {ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করে} এর মধ্যে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে যে, যার ওপর তিরস্কার ও শাস্তি নির্ধারিত হবে, সে হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে এই অবস্থায় অটল থেকে মৃত্যুবরণ করেছে (৮৫ খ)। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ থেকে তওবা করে হিজরত করেছে এবং পথিমধ্যে মৃত্যুর শিকার হয়েছে, ফলে ফেরেশতা কাফিরদের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তার প্রাণ হরণ করেছেন, তার তওবা কবুল হওয়ার আশা করা যায়; যাতে করে সে নিজের প্রতি জুলুমকারী হিসেবে মৃত্যুবরণ না করে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হিজরতকারী হয়ে নিজ গৃহ থেকে বের হয়...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু}। এই সমস্ত কুরআনের আয়াত অথবা এর অধিকাংশ—{আপনি তাদের অনেককে দেখতে পাবেন...} থেকে শেষ পর্যন্ত আয়াতটি ছাড়া—কুফুরি বন্ধুত্বের নিষিদ্ধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল (نصوص)। আর মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।}—এই আয়াতটি উক্ত নিষিদ্ধতার দিকে ধাবিত হওয়ার কোনো অবকাশ বা সম্পর্কই অবশিষ্ট রাখেনি। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে উপহাস ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদের এবং কাফিরদের তোমরা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।}
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 -من أجَاز هَذِه الْإِقَامَة مارق من الدّين ومفارق لجَماعَة الْمُسلمين
وتكرار الْآيَات فِي هَذَا الْمَعْنى وجريها على نسق ووتيرة وَاحِدَة مُؤَكد للتَّحْرِيم وَرَافِع للاحتمال المتطرق إِلَيْهِ فَإِن الْمَعْنى إِذا نَص عَلَيْهِ وأكد بالتكرار فقد ارْتَفع الِاحْتِمَال لَا شكّ فتتعاضد هَذِه النُّصُوص القرآنية وَالْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة والاجماعات القطعية على هَذَا النَّهْي فَلَا تَجِد فِي تَحْرِيم هَذِه الْإِقَامَة وَهَذِه الْمُوَالَاة الكفرانية مُخَالفا من أهل الْقبْلَة المتمسكين بِالْكتاب الْعَزِيز الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد فَهُوَ تَحْرِيم مَقْطُوع بِهِ من الدّين كتحريم الْميتَة وَالدَّم وَلحم الْخِنْزِير وَقتل النَّفس بِغَيْر حق وأخواته من الكليات الْخمس الَّتِي أطبق أَرْبَاب الْملَل والأديان على تَحْرِيمهَا وَمن خَالف الْآن فِي ذَلِك أَو رام الْخلاف من المقيمين مَعَهم والراكنين إِلَيْهِم فجوز هَذِه الْإِقَامَة واستخف أمرهَا واستسهل حكمهَا فَهُوَ مارق من الدّين ومفارق لجَماعَة الْمُسلمين ومحجوج بِمَا لَا مدفع فِيهِ لمُسلم ومسبوق بالاجماع الَّذِي لَا سَبِيل إِلَى مُخَالفَته وخرق سَبيله
5 -
رَأْي أبي الْوَلِيد بن رشد الْجد تَحْرِيم الْإِقَامَة قَالَ زعيم الْفُقَهَاء القَاضِي أَبُو الْوَلِيد بن رشد رحمه الله فِي أول (كتاب التِّجَارَة) (86 أ) إِلَى أَرض الْحَرْب من مقدماته فرض الْهِجْرَة غير سَاقِط بل الْهِجْرَة بَاقِيَة لَازِمَة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَاجِب بِإِجْمَاع الْمُسلمين على من أسلم بدار الْحَرْب أَن لَا يُقيم بهَا حَيْثُ تجرى عَلَيْهِ أَحْكَام الْمُشْركين وَأَن يهجرها وَيلْحق بدار الْمُسلمين حَيْثُ تجرى عَلَيْهِ أحكامهم قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (أَنا برىء من كل مُسلم مُقيم مَعَ الْمُشْركين) إِلَّا أَن الْهِجْرَة لَا
4 -যে ব্যক্তি এই অবস্থানকে বৈধ মনে করে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন।
এই অর্থে আয়াতসমূহের পুনরাবৃত্তি এবং ধারাবাহিকভাবে একই পদ্ধতিতে তাদের অবতারণা এর নিষিদ্ধতাকে সুনিশ্চিত করে এবং এতে সম্ভাব্য অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ দূর করে। কারণ, যখন কোনো অর্থের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) প্রদান করা হয় এবং পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তা সুদৃঢ় করা হয়, তখন নিঃসন্দেহে সেখানে অন্য কোনো সম্ভাবনার অবকাশ থাকে না। সুতরাং এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কুরআনের নস (نص) সমূহ, নববী হাদিসসমূহ এবং অকাট্য ইজমা (إجماع قطعي) একে অপরকে শক্তিশালী করে। ফলে এই অবস্থান ও কুফরি বন্ধুত্বের হারম বা নিষিদ্ধতার (تحريم) বিষয়ে কিবলাপন্থী তথা পবিত্র কিতাব—যার সামনে বা পেছনে কোনো দিক থেকেই বাতিল আসতে পারে না এবং যা প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ—তাকে ধারণকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কোনো ভিন্নমত পাওয়া যায় না। এটি দ্বীনের এমন একটি অকাট্য হারাম বা নিষিদ্ধ (تحريم مقطوع به) বিষয়, যেমন মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ও পঞ্চ-মৌলিক প্রয়োজনীয় (আল-কুল্লিয়্যাত আল-খামস) বিষয়াবলীর নিষিদ্ধতা; যার হারম বা নিষিদ্ধ হওয়ার (تحريم) ব্যাপারে সকল ধর্ম ও আদর্শের অনুসারীরা একমত। আর বর্তমানে যে ব্যক্তি এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করবে অথবা তাদের সাথে অবস্থানরত ও তাদের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা ভিন্নমতের ইচ্ছা পোষণ করবে এবং এই অবস্থানকে বৈধ মনে করবে কিংবা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিবে ও এর বিধানকে সহজ মনে করবে, তবে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন। একজন মুসলিমের কাছে যার কোনো খণ্ডনযোগ্য যুক্তি নেই এবং যা এমন ইজমা (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত যার বিরোধিতা করার বা তার সীমা লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।
5 -
অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে রুশদ আল-জাদ্দ-এর অভিমত ফকিহগণের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব কাজী আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে রুশদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'মুকাদ্দামাত' গ্রন্থের 'কিতাবুত তিজারা' (৮৬ ক) এর শুরুতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডের বিষয়ে বলেছেন: হিজরতের বিধান রহিত হয়ে যায়নি, বরং হিজরত কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট ও আবশ্যক। মুসলমানদের ইজমা (إجماع) অনুযায়ী যে ব্যক্তি দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করবে, তার জন্য সেখানে অবস্থান না করা ওয়াজিব (واجب), যতক্ষণ সেখানে তার ওপর মুশরিকদের বিধান জারি থাকে। তার জন্য সেখান থেকে হিজরত (هجرة) করা এবং মুসলিম ভূখণ্ডে চলে আসা আবশ্যক যেখানে তার ওপর ইসলামের বিধান কার্যকর হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি ঐ সকল মুসলিমের দায়িত্ব থেকে মুক্ত, যারা মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করে।" তবে হিজরত...
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يحرم على المُهَاجر بهَا الرُّجُوع إِلَى وَطنه إِن عَاد دَار إِيمَان وَإِسْلَام كَمَا حرم على الْمُهَاجِرين من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (الرُّجُوع) إِلَى مَكَّة للَّذي ادخره الله لَهُم من الْفضل فِي ذَلِك
قَالَ فَإِذا وَجب بِالْكتاب وَالسّنة وَإِجْمَاع الْأمة على من أسلم الْحَرْب أَن يهجره وَيلْحق بدار الْمُسلمين وَلَا يثوى بَين الْمُشْركين وَيُقِيم بَين أظهرهم لِئَلَّا تجرى عَلَيْهِم أحكامهم فَكيف يُبَاح لأحد الدُّخُول إِلَى بِلَادهمْ حَيْثُ تجرى عَلَيْهِ أحكامهم فِي تِجَارَة أَو غَيرهَا وَقد كره مَالك رحمه الله أَن يسكن أحد بِبَلَد يسب فِيهِ السّلف فَكيف بِبَلَد يكفر فِيهِ بالرحمن وَتعبد فِيهِ من دونه الْأَوْثَان لَا تَسْتَقِر نفس أحد على هَذَا إِلَّا مُسلم مَرِيض الايمان انْتهى
6 -
مناقشة فقهية حول رأى ابْن رشد فَإِن قلت الْمُسْتَفَاد من كَلَام صَاحب الْمُقدمَات وَغَيره من الْفُقَهَاء الْمُتَقَدِّمين صُورَة طروء الاسلام على الاقامة بَين أظهر الْمُشْركين وَالصُّورَة الْمَسْئُول عَنْهَا هِيَ صُورَة طروء الاقامة على أَصَالَة الاسلام وَبَين الصُّورَتَيْنِ بون بعيد فَلَا يحسن الِاسْتِدْلَال بِهِ على الصُّورَة الْمَسْئُول الْآن عَن حكمهَا
একজন হিজরতকারীর (المهاجر) জন্য সেখানে তার স্বদেশে ফিরে যাওয়া নিষিদ্ধ (حرام), যদি তা পুনরায় ঈমান ও ইসলামের ভূখণ্ডে পরিণত হয়, যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতকারী (المهاجرين) সাহাবীগণের জন্য মক্কায় ফিরে যাওয়া নিষিদ্ধ (حرام) ছিল, সেই শ্রেষ্ঠত্বের কারণে যা আল্লাহ তাদের জন্য এতে জমা রেখেছেন।
তিনি বলেন, যখন কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা এটা আবশ্যিক (واجب) হয়ে গেছে যে, যে ব্যক্তি যুদ্ধরত কাফেরদের ভূখণ্ডে ইসলাম গ্রহণ করবে, সে তা হিজরত (يهجره) করবে এবং মুসলিমদের ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হবে, আর মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করবে না এবং তাদের মধ্যে বসবাস করবে না যাতে তাদের বিধানসমূহ তাদের ওপর কার্যকর না হয়; তবে কীভাবে কোনো ব্যক্তির জন্য তাদের দেশে প্রবেশ করা বৈধ হতে পারে যেখানে ব্যবসা বা অন্য কোনো কারণে তার ওপর তাদের বিধানসমূহ কার্যকর হবে? ইমাম মালিক (রহ.) অপছন্দ (كره) করেছেন যে কেউ এমন কোনো শহরে বসবাস করবে যেখানে পূর্বসূরিদের (السلف) গালি দেওয়া হয়, তাহলে এমন শহর সম্পর্কে কী ধারণা যেখানে রহমানকে অস্বীকার করা হয় এবং তাঁর পরিবর্তে মূর্তিপূজা করা হয়? ঈমানে দুর্বল কোনো মুসলিম ছাড়া আর কারও অন্তর এতে স্থির থাকতে পারে না। ইতি।
৬ -
ইবনে রুশদের মতামতের ওপর ফিকহী পর্যালোচনা যদি আপনি বলেন, 'আল-মুকাদ্দিমাত' গ্রন্থের লেখক এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী ফকিহগণের (الفقهاء) বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো মুশরিকদের মধ্যে অবস্থানকালীন অবস্থায় ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি; আর বর্তমানে যে অবস্থা (صورة) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তা হলো ইসলামে থাকা অবস্থায় সেখানে গিয়ে বসবাসের বিষয়টি। এই দুই অবস্থার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তাই বর্তমানে যে অবস্থাটির বিধান (حكم) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার ওপর এর দ্বারা দলিল উপস্থাপন করা (استدلال) সঠিক হবে না।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قلت تفقه الْمُتَقَدِّمين إِنَّمَا كَانَ فِي تَارِك الْهِجْرَة مُطلقًا ومثلوا ذَلِك بِصُورَة من صوره وَهُوَ من أسلم فِي دَار الْحَرْب وَأقَام وَهَذِه الْمَسْئُول عَنْهَا أَيْضا صُورَة ثَانِيَة من صوره لَا تخَالف الأولى المتمثل بهَا إِلَّا فِي طروء الْإِقَامَة خَاصَّة فالصورة الأولى المتمثل بهَا بهَا عِنْدهم طَرَأَ الاسلام فِيهَا على الاقامة وَالصُّورَة الثَّانِيَة الملحقة بهَا الْمَسْئُول عَنْهَا طرأت الأقامة فِيهَا على الاسلام وَاخْتِلَاف الطروء فرق صورى وَهُوَ غير مُعْتَبر فِي استدعاء (86 ب) نَص قصر الحكم عَلَيْهِ وانتهائه إِلَيْهِ وَإِنَّمَا خص من تقدم من أَئِمَّة الْهدى المقتدى بهم الْكَلَام بِصُورَة من أسلم وَلم يُهَاجر لِأَن هَذِه الْمُوَالَاة الشركية كَانَت مفقودة فِي صدر الاسلام وعزته وَلم تحدث على مَا قيل إِلَّا بعد مُضِيّ مئين من السنين وَبعد انْقِرَاض أَئِمَّة الْأَمْصَار الْمُجْتَهدين فَلذَلِك لَا شكّ لم يتَعَرَّض لأحكامها الْفِقْهِيَّة أحد مِنْهُم ثمَّ لما نبغت هَذِه الْمُوَالَاة النَّصْرَانِيَّة فِي الْمِائَة الْخَامِسَة وَمَا بعْدهَا من تَارِيخ الْهِجْرَة وَقت اسْتِيلَاء ملاعين النَّصَارَى دمرهم الله على جَزِيرَة صقلية وَبَعض كور الأندلس سُئِلَ عَنْهَا بعض الْفُقَهَاء واستفهموا عَن الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة الْمُتَعَلّقَة
আমি বলছি, পূর্বসূরিদের ফিকহী বুঝ (تفقه) কেবল সাধারণভাবে হিজরত (هجرة) বর্জনকারীদের ক্ষেত্রে ছিল এবং তাঁরা এর স্বরূপ হিসেবে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন, আর তা হলো—ঐ ব্যক্তি যে যুদ্ধের আবাসে (دار الحرب) ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং সেখানে অবস্থান করেছে। বর্তমানে জিজ্ঞাসিত বিষয়টিও এর দ্বিতীয় একটি স্বরূপ, যা প্রথম উদাহরণ থেকে কেবল অবস্থানের পরিস্থিতির ভিন্নতা ছাড়া অন্য কোনোভাবে পৃথক নয়। সুতরাং তাঁদের পেশকৃত প্রথম উদাহরণটিতে অবস্থানের ওপর ইসলামের আপতন ঘটেছিল, আর দ্বিতীয় স্বরূপটি যা এর সাথে সংযুক্ত এবং যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তাতে ইসলামের ওপর অবস্থানের আপতন ঘটেছে। এই আপতনের ভিন্নতা কেবল কাঠামোগত পার্থক্য, যা (৮৬ খ) কোনো বিধানকে (حكم) নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রাখা বা তার সমাপ্তি নির্ধারণের জন্য কোনো সুস্পষ্ট দলিলের (نص) প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। পথপ্রদর্শক ইমামগণ (أئمة), যাঁদের অনুসরণ করা হয়, তাঁরা বিশেষভাবে কেবল সেই ব্যক্তির স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করেছেন যে ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু হিজরত (هجرة) করেনি। কারণ, শিরক-ভিত্তিক এই মৈত্রী ইসলামের প্রাথমিক যুগ ও তার শ্রেষ্ঠত্বের সময়ে অনুপস্থিত ছিল। যেমনটি বলা হয়ে থাকে, কয়েকশ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামগণের (أئمة) তিরোধানের আগে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। এই কারণে, নিঃসন্দেহে তাঁদের কেউ এর ফিকহী (فقهية) বিধানাবলি নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি। অতঃপর যখন হিজরি পঞ্চম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ে এই খ্রিস্টান মৈত্রীর প্রাদুর্ভাব ঘটল—যে সময় অভিশপ্ত খ্রিস্টানরা (আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন) সিসিলি দ্বীপ এবং আন্দালুসের কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল—তখন কয়েকজন ফকিহকে (فقهاء) এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ফিকহী (فقهية) বিধানসমূহ সম্পর্কে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بمرتكبها فَأجَاب بِأَن أحكامهم جَارِيَة مَعَ أَحْكَام من أسلم وَلم يُهَاجر والحقوا هَؤُلَاءِ الْمَسْئُول عَنْهُم والمسكوت عَن حكمهم بهم وسووا بَين الطَّائِفَتَيْنِ فِي الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة والمتعلقة بِأَمْوَالِهِمْ وَأَوْلَادهمْ وَلم يرَوا فِيهَا فرقا بَين الْفَرِيقَيْنِ وَذَلِكَ لِأَنَّهُمَا فِي مُوالَاة الْأَعْدَاء ومساكنتهم ومداخلتهم وملابستهم وَعدم مباينتهم وَترك الْهِجْرَة الْوَاجِبَة عَلَيْهِم والفرار مِنْهُم وَسَائِر الْأَسْبَاب الْمُوجبَة لهَذِهِ الْأَحْكَام الْمَسْكُوت عَنْهَا فِي الصُّورَة الْمَسْئُول عَن فَرضهَا بِمَثَابَة وَاحِدَة فألحقوا رضى الله عَنْهُم الْأَحْكَام الْمَسْكُوت عَنْهَا فِي هَؤُلَاءِ الْمَسْكُوت عَنْهُم بِالْأَحْكَامِ المتفقه فِيهَا فِي أُولَئِكَ فَصَارَ اجْتِهَاد الْمُتَأَخِّرين فِي هَذَا مُجَرّد إِلْحَاق لمسكوت عَنهُ بمنطوق بِهِ مسَاوٍ لَهُ فِي الْمَعْنى من كل وَجه وَهُوَ مِنْهُم رضي الله عنهم عدل من النّظر واحتياط فِي الِاجْتِهَاد وركون إِلَى الْوُقُوف مَعَ من تقدم من أَئِمَّة الْهدى المقتدى بهم فَكَانَ غَايَة فِي الْحسن والزين
এর অপরাধী সম্পর্কে তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, তাদের বিধানসমূহ (أحكام) সেই সকল ব্যক্তির বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু হিজরত করেনি। তাঁরা ওই সকল ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে এবং যাদের বিধানের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করা হয়েছে, তাদের পূর্বোক্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁরা ফিকহী (فقهية) বিধিবিধান এবং তাদের সম্পদ ও সন্তানদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ক্ষেত্রে উভয় দলের মধ্যে সমতা বজায় রেখেছেন। তাঁরা এই দুই দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেননি; কারণ শত্রুদের সাথে মিত্রতা বজায় রাখা, সহাবস্থান, মেলামেশা, সংমিশ্রণ এবং তাদের থেকে পৃথক না হওয়া এবং তাদের ওপর আবশ্যক হিজরত ত্যাগ করা ও তাদের থেকে পলায়ন না করাসহ অন্যান্য কারণসমূহ—যা প্রশ্নোক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে এই অপ্রকাশিত বিধানগুলোকে (المسكوت عنها) অবধারিত করে তোলে—উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন ছিল। সুতরাং তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই অপ্রকাশিত বিধানগুলোকে (المسكوت عنها) ওই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফিকহীভাবে সাব্যস্ত বিধানের সাথে সংযুক্ত করেছেন। ফলে এই বিষয়ে পরবর্তী যুগের আলিমদের ইজতিহাদ (اجتهاد) কেবল একটি অপ্রকাশিত বা মৌনাবলম্বনকৃত বিষয়কে (مسكوت عنه) একটি সুস্পষ্ট বা মানতুক (منطوق به) বিষয়ের সাথে সংযুক্তকরণে রূপ নিয়েছে, যা সর্বদিক থেকে অর্থগতভাবে সমান। তাঁদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে এটি ছিল এক ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্রে সতর্কতা (احتياط) এবং পূর্ববর্তী অনুসরণযোগ্য হিদায়াতের ইমামগণের মতামতের ওপর নির্ভরতা; যা ছিল সৌন্দর্য ও উৎকর্ষের চরম শিখর।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
7 -الْأَدِلَّة من الحَدِيث الشريف
وَأما الِاحْتِجَاج على تَحْرِيم هَذِه الْإِقَامَة من السّنة فبمَا خرجه التِّرْمِذِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعث سَرِيَّة إِلَى خثعم فاعتصم نَاس بِالسُّجُود فأسرع فيهم الْقَتْل وَبلغ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم (87 أ) فَأمر لَهُم بِنصْف الْعقل وَقَالَ (انا برىء من كل مُسلم يُقيم بَين أظهر الْمُشْركين) قَالُوا يَا رَسُول الله وَلم قَالَ (لَا تتراءى ناراهما) وَفِي الْبَاب أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تساكنوا الْمُشْركين وَلَا تجامعوهم فَمن ساكنهم أَو جامعهم فهم مِنْهُم والتنصيص فِي هذَيْن الْحَدِيثين على الْمَقْصُود بِحَيْثُ لَا يخفى على أحد مِمَّن لَهُ نظر سليم وترجيح مُسْتَقِيم وَقد ثبتا فِي الحسان من المصنفات السِّتَّة الَّتِي تَدور عَلَيْهَا رحى الاسلام قَالُوا وَلَا معَارض لَهما وَلَا نَاسخ وَلَا مُخَصص وَلَا غَيرهمَا ومقتضاهما لَا مُخَالف لَهما من الْمُسلمين وَذَلِكَ كَاف فِي الِاحْتِجَاج بهما هَذَا مَعَ اعتضاضهما بنصوص الْكتاب وقواعد الشَّرْع وشهادتهما لَهما
৭ -পবিত্র হাদিস থেকে প্রাপ্ত দলিলসমূহ
আর সুন্নাহ থেকে এই অবস্থানের (ইকামত) নিষিদ্ধতার সপক্ষে দলিল হলো ইমাম তিরমিজি যা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) খাছআম গোত্রের দিকে একটি সেনাদল প্রেরণ করেছিলেন। তখন কিছু লোক সিজদাবনত হওয়ার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতে চেয়েছিল (নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে), কিন্তু তাদের দ্রুত হত্যা করা হয়। বিষয়টি নবী (সা.)-এর নিকট পৌঁছালে (৮৭ ক) তিনি তাদের জন্য অর্ধেক দিয়ত প্রদানের নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘আমি ওই প্রত্যেক মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যে মুশরিকদের মাঝে অবস্থান করে।’ তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কেন? তিনি বললেন, ‘তাদের উভয়ের অগ্নি যেন একে অপরকে দেখতে না পায়।’ এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে একত্রিত হয়ো না। যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসবাস করল অথবা তাদের সাথে একত্রিত হলো, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ এই হাদিসদ্বয়ে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর এমন সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যা সুস্থ চিন্তাশক্তি ও সঠিক বিচারবোধ সম্পন্ন কারোর কাছেই অস্পষ্ট নয়। আর হাদিস দুটি সেই ছয়টি কিতাবের হাসান (حسان) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ওপর ইসলামের ভিত্তি আবর্তিত হয়। উলামায়ে কেরাম বলেন, এই হাদিস দুটির কোনো বিরোধী (معارض), রহিতকারী (ناسخ), নির্দিষ্টকারী (مخصص) বা অন্য কিছু নেই। আর মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি এর মর্মার্থের বিরোধিতা করেছেন; যা দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এর পাশাপাশি হাদিস দুটি কুরআনের স্পষ্ট বাণী ও শরয়ি মূলনীতিসমূহ দ্বারা সমর্থিত এবং এ দুটিও সেগুলোর অনুকূলে সাক্ষ্য প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَفِي سنَن أبي دَاوُود من التَّوْبَة حَدِيث مُعَاوِيَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لَا تَنْقَطِع الْهِجْرَة حَتَّى تَنْقَطِع التَّوْبَة وَلَا تَنْقَطِع النّوبَة حَتَّى تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا وَفِيه من حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم فتح مَكَّة
(لَا هِجْرَة بعد الْفَتْح وَلَكِن جِهَاد وَنِيَّة وَإِن استنفرتم فانفروا)
8 -رأى أبي سُلَيْمَان الْخطابِيّ الْأَمر فِي الْهِجْرَة إِلَى النّدب والاستحباب
قَالَ أَبُو سُلَيْمَان الْخطابِيّ كَانَت الْهِجْرَة فِي أول الاسلام مَنْدُوبًا إِلَيْهَا غير مَفْرُوضَة وَذَلِكَ قَوْله سُبْحَانَهُ {وَمن يُهَاجر فِي سَبِيل الله يجد فِي الأَرْض مراغما كثيرا وسعة} نزل حِين اشْتَدَّ أَذَى الْمُشْركين على الْمُسلمين بِمَكَّة ثمَّ وَجَبت الْهِجْرَة على الْمُسلمين عِنْد خُرُوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَة وَأمرُوا بالإنتقال إِلَى حَضرته ليك ونوا مَعَه فيتعاونوا ويتظاهر إِن حزبهم أَمر وليتعلموا أَمر دينهم وليتفقهوا فِيهِ وَكَانَ عظم الْخَوْف فِي ذَلِك الزَّمَان من قُرَيْش وهم اهل مَكَّة فَلَمَّا فتحت مَكَّة وبخعت بِالطَّاعَةِ زَالَ ذَلِك الْمَعْنى وارتفع وجوب الْهِجْرَة وَعَاد الْأَمر فِيهَا إِلَى النّدب والاستحباب فهما هجرتان فالمنطعة مِنْهُمَا هِيَ الْفَرْض والباقية هِيَ النّدب فَهَذَا وَجه (87 ب) الْجمع بَين الْحَدِيثين على أَن بَين الاسنادين مَا بَينهمَا اسناد حَدِيث ابْن عَبَّاس مُتَّصِل صَحِيح وأسناد (حَدِيث) مُعَاوِيَة فِيهِ مقَال انْتهى
সুনান আবু দাউদ-এর তওবা অধ্যায়ে মুআবিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "তওবা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তওবা বন্ধ হবে না।" এবং তাতে ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন
(মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে; সুতরাং যখন তোমাদের যুদ্ধের জন্য ডাক দেওয়া হবে, তখন বেরিয়ে পড়ো)
৮ -আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবির মতে হিজরতের বিষয়টি নফল (ندب) ও মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দিকে ফিরে গেছে
আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে হিজরত নফল (مندوب) ছিল, ফরজ (مفروض) ছিল না। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে জমিনে অনেক আশ্রয়স্থল ও সচ্ছলতা লাভ করবে}। এটি তখন অবতীর্ণ হয়েছিল যখন মক্কায় মুসলমানদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন তীব্রতর হয়েছিল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলে মুসলমানদের ওপর হিজরত করা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায়। তাঁদেরকে তাঁর সান্নিধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁরা তাঁর সাথে থাকতে পারেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন করতে পারেন যদি কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি তাঁদের আক্রান্ত করে, আর যাতে তাঁরা তাঁদের দ্বীনি বিষয়াদি শিক্ষা করতে পারেন ও তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে পারেন। সেই সময়ে ভয়ের প্রধান কারণ ছিল কুরাইশরা, যারা ছিল মক্কাবাসী। অতঃপর যখন মক্কা বিজিত হলো এবং আনুগত্যের কাছে নতি স্বীকার করল, তখন সেই প্রেক্ষাপট বিলুপ্ত হলো এবং হিজরতের আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেল। তখন হিজরতের বিষয়টি পুনরায় নফল (ندب) ও মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দিকে ফিরে গেল। সুতরাং হিজরত হলো দুই প্রকার; যার মধ্যে রহিত হওয়া হিজরতটি ছিল ফরজ (فرض) এবং অবশিষ্টটি হলো নফল (ندب)। এটিই হলো (৮৭ খ) হাদিসদ্বয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের দিক। তবে উল্লেখ্য যে, উভয় সনদের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে; ইবনে আব্বাসের হাদিসের সনদটি সংযুক্ত (متصل) ও সহিহ (صحيح), আর মুআবিয়াহর হাদিসের সনদের ব্যাপারে সমালোচনা (فيه مقال) রয়েছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
9 -نقض رَأْي أبي سُلَيْمَان الْخطابِيّ
قلت هَاتَانِ الهجرتان اللَّتَان تضمنهما حَدِيث مُعَاوِيَة وَحَدِيث ابْن عَبَّاس هما الهجرتان اللَّتَان انْقَطع فرضهما بِفَتْح مَكَّة فالهجرة الأولى الْهِجْرَة من الْخَوْف على الدّين وَالنَّفس كهجرة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه المكيين فَإِنَّهَا كَانَت عَلَيْهِم فَرِيضَة لَا يجزى إِيمَان دونهَا وَالثَّانيَِة هِيَ الْهِجْرَة إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي دَاره الَّتِي اسْتَقر فِيهَا فقد بَايع من قَصده على الْهِجْرَة وَبَايع آخَرين على الْإِسْلَام
10 -رَأْي أبي بكر بن الْعَرَبِيّ من بقى عصى وَيخْتَلف فِي حَاله
وَأما الْهِجْرَة من أَرض الْكفْر فَهِيَ فَرِيضَة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة قَالَ ابْن الْعَرَبِيّ فِي الْأَحْكَام الذّهاب فِي الأَرْض يَنْقَسِم إِلَى سِتَّة اقسام
الأول الْهِجْرَة وَهِي الْخُرُوج من دَار الْحَرْب إِلَى دَار الْإِسْلَام وَكَانَت فرضا فِي أَيَّام النَّبِي عليه السلام وَهَذِه الْهِجْرَة بَاقِيَة مَفْرُوضَة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَالَّتِي انْقَطَعت بِالْفَتْح هِيَ الْقَصْد إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَيْثُ كَانَ فَإِن بَقِي فِي دَار الْحَرْب عصى وَيخْتَلف فِي حَاله وَانْظُر بَقِيَّة اقسام الْهِجْرَة فِيهَا
وَقَالَ فِي الْعَارِضَة إِن الله حرم أَولا على الْمُسلمين أَن يقيموا بَين أظهر الْمُشْركين بِمَكَّة وافترض عَلَيْهِم أَن يلْحقُوا بِالنَّبِيِّ بِالْمَدِينَةِ فَلَمَّا فتح الله مَكَّة سَقَطت الْهِجْرَة وَبَقِي تَحْرِيم الْمقَام بَين أظهر الْمُشْركين وَهَؤُلَاء الَّذين اعتصموا بِالسُّجُود وَلم يَكُونُوا اسلموا واقاموا مَعَ الْمُشْركين إِنَّمَا كَانَ اعتصامهم فِي الْحَال نعم إِنَّه لَا يحل قتل من بَادر إِلَى الاسلام إِذا رأى السَّيْف على رَأسه
9 -আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবির মতের খণ্ডন
আমি বলছি, মুআবিয়া এবং ইবনে আব্বাসের হাদিসে যে হিজরতদ্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এই হিজরতদ্বয়ের আবশ্যকতা মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে রহিত হয়েছে। প্রথম হিজরতটি ছিল জান ও দ্বীন রক্ষার্থে ভীতি থেকে হিজরত, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর মক্কী সাহাবীদের হিজরত; কারণ এটি তাঁদের ওপর ফরজ ছিল এবং তা পালন করা ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হতো না। আর দ্বিতীয়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর সেই আবাসে হিজরত করা যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর যে ব্যক্তি তাঁর নিকট গমনের সংকল্প করত, তিনি তাদের থেকে হিজরতের ওপর বায়আত নিতেন এবং অন্যদের থেকে ইসলামের ওপর বায়আত নিতেন।
10 -আবু বকর ইবনুল আরাবির অভিমত: যে ব্যক্তি রয়ে গেল সে অবাধ্য হলো এবং তার অবস্থার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে
তবে কুফর ভূমি থেকে হিজরত করা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ফরজ। ইবনুল আরাবি 'আল-আহকাম' গ্রন্থে বলেছেন: পৃথিবীতে বিচরণ করা ছয়টি ভাগে বিভক্ত। প্রথম: হিজরত, আর তা হলো দারুল হারব থেকে দারুল ইসলামে বের হয়ে আসা। এটি নবী আলাইহিস সালামের যুগে ফরজ ছিল। এই হিজরত কিয়ামত পর্যন্ত ফরজ হিসেবেই অবশিষ্ট থাকবে। আর যে হিজরত মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে, তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে অবস্থান করতেন সেই নির্দিষ্ট স্থানের উদ্দেশ্যে হিজরত করা। অতএব, যদি কেউ দারুল হারবে অবস্থান করে তবে সে অবাধ্য হলো এবং তার হুকুমের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; হিজরতের অবশিষ্ট প্রকারগুলো সেখানে দেখে নিন। আর তিনি 'আল-আরিজাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আল্লাহ প্রথমত মুসলিমদের জন্য মক্কায় মুশরিকদের মাঝে বসবাস করা হারাম করেছিলেন এবং তাঁদের ওপর মদিনায় নবীর সাথে মিলিত হওয়া ফরজ করেছিলেন। অতঃপর যখন আল্লাহ মক্কা বিজয় দান করলেন, তখন হিজরতের আবশ্যকতা বিলুপ্ত হলো এবং মুশরিকদের মাঝে বসবাসের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল। আর যারা সিজদার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করেছিল অথচ তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং মুশরিকদের সাথেই অবস্থান করছিল, তাদের সেই সুরক্ষা ছিল তৎকালীন পরিস্থিতির সাপেক্ষে। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি দ্রুত ইসলাম গ্রহণ করে তার হত্যা বৈধ নয় যখন সে তার মাথার ওপর তলোয়ার দেখতে পায়।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
باجماع من الْأَئِمَّة وَلَكِن قتلوا لأحد مَعْنيين إِمَّا لِأَن السُّجُود لَا يعْصم وَإِنَّمَا يعْصم الْإِيمَان بِالشَّهَادَتَيْنِ لفظا وَإِمَّا لِأَن الَّذين قتلوهم لم يَكُونُوا يعلمُونَ أَن ذَلِك يعصمهم وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح فَإِن بني جذيمة لما اسرع خَالِد فيهم الْقَتْل قَالُوا صبأنا صبانا وَلم يحسنوا أَن يَقُولُوا اسلمنا فَقَتلهُمْ فوداهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم بخطأ خَالِد وَخطأ الامام وعامله (88 أ) فِي بَيت المَال
11 -مسالة فرعية النُّطْق بِالشَّهَادَتَيْنِ شَرط الْإِسْلَام
قَالَ وَهَذَا يدل على أَنه لَيْسَ بِشَرْط الاسلام قَول لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله على التَّعْيِين وَإِنَّمَا وداهم نصف الْعقل على معنى الصُّلْح والمصلحة كَمَا ودى أهل جذيمة بمثلي ذَلِك على مَا اقتضته حَال كل وَاحِد فِي قَوْله
12 -
حكم دم الْمُقِيم بدار الْحَرْب وَمَاله هَل العاصم الْإِسْلَام أم الدَّار راي مَالك بن أنس وَقد اخْتلف النَّاس فِيمَن اسْلَمْ وَبَقِي بدار الْحَرْب فَقتل أَو أسر أَو سبى أَهله وَمَاله فَقَالَ مَالك حقن دَمه وَمَاله لمن أَخذه حَتَّى يحوزه بدار الْإِسْلَام وَقيل عَنهُ إِنَّه يجوز مَاله وَأَهله وَبِه قَالَ الشَّافِعِي وَالْمَسْأَلَة مُحَققَة فِي مسَائِل الْخلاف مَبْنِيَّة على أَن الْحَرْبِيّ هَل يملك ملكا صَحِيحا أم لَا وَأَن العاصم هَل هُوَ الاسلام أَو الدَّار فَمن ذهب إِلَى أَنه يملك ملكا صَحِيحا تمسك بقوله عليه السلام هَل ترك لنا عقيل من دَار وَبِقَوْلِهِ صلى الله عَلَيْهِ
ইমামগণের সর্বসম্মতি (إجماع) ক্রমে, তবে তাদের হত্যা করা হয়েছিল দুটি কারণের যেকোনো একটির জন্য; হয় এই কারণে যে, সিজদাবনত হওয়া জান-মালের সুরক্ষা প্রদান করে না, বরং মৌখিকভাবে দুই সাক্ষ্য (الشهادتين) প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত ঈমানই কেবল সুরক্ষা প্রদান করে। অথবা এই কারণে যে, যারা তাদের হত্যা করেছিল তারা জানত না যে বিষয়টি তাদের সুরক্ষা দিবে—আর এটিই হলো সঠিক (الصحيح) অভিমত। কারণ, বনু জাযিমা গোত্রের ওপর যখন খালিদ (রা.) দ্রুত আক্রমণ শুরু করলেন, তখন তারা বলতে শুরু করল 'আমরা আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছি, আমরা আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছি', অথচ তারা সুন্দরভাবে 'আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি' বলতে পারছিল না। ফলে তিনি তাদের হত্যা করেন। অতঃপর নবী (সা.) খালিদ (রা.)-এর ভুল এবং ইমাম ও তাঁর প্রতিনিধির ভুলের কারণে (৮৮ ক) বায়তুল মাল থেকে তাদের রক্তপণ পরিশোধ করেন।
11 -উপ-বিষয়: দুই সাক্ষ্য (الشهادتين) পাঠ করা ইসলামের শর্ত
তিনি বলেন, এটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্টভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বলা ইসলামের শর্ত নয়। বরং সমঝোতা ও জনস্বার্থের খাতিরে তাদের অর্ধেক রক্তপণ প্রদান করা হয়েছিল, যেমনটি বনু জাযিমা গোত্রকে তাদের প্রত্যেকের অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্বিগুণ রক্তপণ দেওয়া হয়েছিল।
12 -
দারুল হারবে বসবাসকারীর জান ও মালের বিধান; সুরক্ষাকারী কি ইসলাম নাকি আবাসস্থল? মালিক ইবনে আনাস-এর অভিমত যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু দারুল হারবে রয়ে গেছে, অতঃপর সে নিহত হলো অথবা তাকে বন্দি করা হলো কিংবা তার পরিবার ও সম্পদ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হলো—তাদের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক বলেন, তার রক্ত ও সম্পদ সুরক্ষিত হবে এবং যে ব্যক্তি তা হস্তগত করবে, তাকে তা দারুল ইসলামে নিয়ে আসা পর্যন্ত তার মালিকানায় থাকবে। আবার তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার সম্পদ ও পরিবার হস্তগত করা বৈধ; আর এটিই ইমাম শাফিঈ-র অভিমত। বিষয়টি মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে এই ভিত্তির ওপর যে, হারবি (যুদ্ধরত কাফির) কি কোনো কিছুর সঠিক মালিকানা লাভ করতে পারে কি না? এবং সুরক্ষাকারী বিষয়টি কি ইসলাম নাকি আবাসস্থল (দার)? সুতরাং যারা মনে করেন যে সে সঠিক মালিকানা লাভ করতে পারে, তারা নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যে: "আকীল কি আমাদের জন্য কোনো ঘর অবশিষ্ট রেখেছে?" এবং তাঁর অন্য একটি বাণীর মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَسلم أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله فَإِذا قالوها عصموا مني دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالهمْ إِلَّا بِحَقِّهَا فسوى بَين الدِّمَاء وَالْأَمْوَال وأضافها إِلَيْهِم والاضافة تقتضى التَّمْلِيك ثمَّ أخبر عَمَّن أسلم مِنْهُم أَنه مَعْصُوم وَذَلِكَ يَقْتَضِي أَلا يكون لأحد عَلَيْهِ سَبِيل وَتمسك أَيْضا من أتبعه مَاله بقوله صلى الله عليه وسلم من أسلم على شَيْء فَهُوَ لَهُ وَبِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لَا يحل مَال إمرىء مُسلم إِلَّا عَن طيب نفس مِنْهُ وَأما مَالك وَأَبُو حنيفَة وَمن قَالَ بقولهمَا فعندهم أَن العاصم إِنَّمَا هُوَ الدَّار فَمَا لم يحز الْمُسلم مَاله وَولده بدار الاسلام وَإِلَّا فَمَا أُصِيب من ذَلِك بدار الْكفْر فَهُوَ فَيْء للْمُسلمين وَكَانَ الْكفَّار عِنْدهم لايملكون بل أَمْوَالهم وَأَوْلَادهمْ حَلَال لمن يقدر عَلَيْهَا من الْمُسلمين كدمائهم فَمن أسلم مِنْهُم وَلم يحز مَالا وَلَا ولدا بدار الاسلام فَكَأَنَّهُ لَا مَال لَهُ وَلَا ولد وَكَأن الْيَد للْكفَّار كَمَا أَن الدَّار لَهُم وَلَيْسَت يَد صَاحبه الإسلامي يدا إِذْ كَانَ بَين أظهرهم 13 -
رَأْي أبي بكر بن الْعَرَبِيّ العاصم للدم الاسلام وللمال الدَّار وَرَأى الشَّافِعِي العاصم لَهما جَمِيعًا الْإِسْلَام وَقَالَ ابْن الْعَرَبِيّ أَيْضا العاصم لدم الْمُسلم الْإِسْلَام (88 ب) ولماله الدَّار وَقَالَ الشَّافِعِي العاصم لَهما جَمِيعًا هُوَ الْإِسْلَام وَقَالَ أَبُو حنيفَة العاصم الْمُقَوّم لَهما هُوَ الدَّار والمؤثم هُوَ الْإِسْلَام وَتَفْسِير ذَلِك أَن من أسلم وَلم يُهَاجر حَتَّى قتل فَإِنَّهُ تجب فِيهِ الْكَفَّارَة عِنْده دون الدِّيَة والقود وَلَو هَاجر لَوَجَبَتْ الْكَفَّارَة وَالدية على عَاقِلَته قيل فعلى هَذَا دَمه محقون عِنْد مَالك وَالشَّافِعِيّ وَقَتله خطأ لَا دِيَة فِيهِ عِنْد أبي حنيفَة وَإِنَّمَا فِيهِ الْكَفَّارَة خَاصَّة وَهُوَ الظَّاهِر من
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হক ব্যতীত।" তিনি রক্ত ও সম্পদের মাঝে সমতা রক্ষা করেছেন এবং এগুলোকে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন; আর এই সম্বন্ধকরণ মালিকানা সাব্যস্ত করার দাবি রাখে। অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তারা নিরাপদ (معصوم)। আর এটি দাবি করে যে, তার বিরুদ্ধে কারো কোনো পথ (হস্তক্ষেপের সুযোগ) থাকবে না। যিনি তার সম্পদকে তার অনুগামী করেছেন, তিনিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিছুর উপর ইসলাম গ্রহণ করল, তা তারই থাকবে।" এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত বৈধ নয়।" পক্ষান্তরে ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানিফা এবং যারা তাদের মত পোষণ করেন, তাদের নিকট সুরক্ষা প্রদানকারী হলো ভূখণ্ড (দার)। সুতরাং যতক্ষণ না একজন মুসলিম তার সম্পদ ও সন্তানকে দারুল ইসলামে (ইসলামের ভূখণ্ডে) নিয়ে আসে, ততক্ষণ দারুল কুফরে (কুফরি ভূখণ্ডে) যা কিছু হস্তগত হবে তা মুসলমানদের জন্য ফায় (ফৈ) হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মতে কাফিররা মালিকানা লাভ করে না, বরং তাদের সম্পদ ও সন্তানাদি সেইসব মুসলমানদের জন্য হালাল যারা তা হস্তগত করতে সক্ষম হবে, যেমনটি তাদের রক্ত (হালাল)। সুতরাং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল অথচ দারুল ইসলামে কোনো সম্পদ বা সন্তান নিয়ে এল না, সে যেন সম্পদহীন ও সন্তানহীন রয়ে গেল। আর কর্তৃত্ব কাফিরদের হাতেই রয়ে গেল যেমনটি ভূখণ্ড তাদের অধীনে; আর ইসলাম গ্রহণকারীর অধিকার সেখানে কোনো কার্যকর অধিকার নয় যেহেতু সে তাদের মাঝেই অবস্থান করছে।
আবু বকর ইবনুল আরাবির অভিমত: রক্তের সুরক্ষাকারী হলো ইসলাম এবং সম্পদের সুরক্ষাকারী হলো ভূখণ্ড; আর ইমাম শাফিঈর অভিমত: উভয়ের সুরক্ষাকারী হলো ইসলাম। ইবনুল আরাবি আরও বলেছেন: মুসলিমের রক্তের সুরক্ষাকারী হলো ইসলাম এবং তার সম্পদের সুরক্ষাকারী হলো ভূখণ্ড। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: উভয়ের সুরক্ষাকারীই হলো ইসলাম। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: ক্ষতিপূরণ ও জাগতিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে সুরক্ষাকারী হলো ভূখণ্ড এবং পারলৌকিক পাপের ক্ষেত্রে সুরক্ষাকারী হলো ইসলাম। এর ব্যাখ্যা হলো: যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল কিন্তু হিজরত করার পূর্বেই নিহত হলো, তার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার নিকট কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হবে, কিন্তু দিয়াত (دية) বা রক্তপণ এবং কিসাস (قود) ওয়াজিব হবে না। আর যদি সে হিজরত করত, তবে হত্যাকারীর পক্ষ থেকে (আকিলাহ বা আত্মীয়স্বজনের ওপর) কাফফারা (كفارة) ও দিয়াত (دية) উভয়ই ওয়াজিব হতো। বলা হয়েছে: এই ভিত্তিতে ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈর নিকট তার রক্ত সংরক্ষিত; আর ইমাম আবু হানিফার নিকট তাকে ভুলবশত হত্যা করলে কোনো দিয়াত (دية) নেই, বরং কেবল কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হবে। আর এটিই প্রকাশ্য মত...
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قَول الْمُفَسّرين وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بقوله تَعَالَى {وَالَّذين آمنُوا وَلم يهاجروا مَا لكم من ولايتهم من شَيْء حَتَّى يهاجروا} وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {فَإِن كَانَ من قوم عَدو لكم وَهُوَ مُؤمن فَتَحْرِير رَقَبَة مُؤمنَة} وَلم يذكر دِيَة قَالُوا وَالْمرَاد بِهَذَا الْمُؤمن إِنَّمَا هُوَ الْمُسلم الَّذِي لم يُهَاجر لِأَنَّهُ مُؤمن فِي قوم أَعدَاء فَهُوَ مِنْهُم لقَوْله تَعَالَى {وَمن يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُم فَإِنَّهُ مِنْهُم} فَهُوَ مُؤمن من قوم عَدو فَلَمَّا ذكر الدِّيَة فِي أول الْآيَة فِي الْمُؤمن الْمُطلق وَفِي آخرهَا فِي الْمُؤمن الَّذِي قومه تَحت عهدنا وميثاقنا وهم الذميون وَسكت عَنْهَا فِي هَذَا الْمُؤمن الَّذِي بَين الْأَعْدَاء دلّ على سُقُوطهَا وَأَنه إِنَّمَا أوجب فِيهِ الْكَفَّارَة خَاصَّة هَذَا حكم دَمه قَالَ ابْن الْعَرَبِيّ وَهَذِه الْمَسْأَلَة خراسانية عظما لم تبلغها الْمَالِكِيَّة وَلَا عرفتها الْأَئِمَّة العراقية فَكيف بالمقلدة المغربية
মুফাসসিরগণের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তারা হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের বিষয়ে তোমাদের কোনো দায়িত্ব নেই।" এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "তবে সে যদি তোমাদের শত্রু কওমের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সে মুমিন হয়, তবে একজন মুমিন দাসকে মুক্তি দেওয়া ওয়াজিব।" এখানে তিনি রক্তপণ (دية) উল্লেখ করেননি। তাঁরা বলেন, এই মুমিন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই মুসলিম যে হিজরত করেনি; কেননা সে শত্রুপক্ষের মাঝে অবস্থানরত একজন মুমিন। সুতরাং সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই একজন হবে।" অতএব সে শত্রু কওমের অন্তর্ভুক্ত একজন মুমিন। যেহেতু আয়াতের শুরুতে সাধারণ (مطلق) মুমিনের ক্ষেত্রে রক্তপণ (دية) উল্লেখ করা হয়েছে এবং আয়াতের শেষাংশে সেই মুমিনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যার কওম আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তারা হলো জিম্মি (ذمي), অথচ শত্রুদের মাঝে অবস্থানরত এই মুমিনের ক্ষেত্রে তিনি রক্তপণ সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, যা এর রহিত হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। আর এক্ষেত্রে তিনি কেবল কাফফারা (كفارة) আদায় করাকে সুনির্দিষ্টভাবে আবশ্যক করেছেন। এটাই তার রক্তের বিধান। ইবনুল আরাবি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খুরাসানি মাসআলা, মালিকি মাজহাবের ফকিহগণ যে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি এবং ইরাকি ইমামগণও যা জানতেন না; তাহলে মাগরিবি অনুসারীদের (مقلدة) অবস্থা আর কী হবে!
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪০)
14 -رَأْي أَصْحَاب أبي حنيفَة الدَّار لَا تعصم الونشريشي ينْقض هَذَا الرَّأْي
احْتج أَصْحَاب أَبى حنيفَة على أَن العاصم الدَّار بِأَن التَّحَرُّز والاعتصام والامتناع إِنَّمَا يكون بالحصون والقلاع وَأَن الْكَافِر إِذا صَار فِي دَارنَا عصم دَمه وَمَاله فَصَارَ كَالْمَالِ إِذا كَانَ مطروحا على الطَّرِيق لم يلْزم فِيهِ قطع وَإِذا حوز بحوزة كَانَ مَضْمُونا بِالْقطعِ وَاحْتج الشَّافِعِي بقول النَّبِي صلى الله عليه وسلم أمرت أَن أقَاتل النَّاس الحَدِيث فنص على أَن الْعِصْمَة للنَّفس وَالْمَال إِنَّمَا تكون بِكَلِمَة الْإِسْلَام وَلَو أَن مُسلما دخل إِلَى دَار الْحَرْب (89 أ) فَإِنَّهُ مَعْصُوم الدَّم وَالْمَال وَالدَّار مَعْدُومَة وَأما قَول أَصْحَابنَا إِن الاسلام عَاصِم للنَّفس دون الْوَلَد وَالْمَال وَقَول أَصْحَاب أبي حنيفَة إِن التَّحَرُّز والتعصم يكون بالقلاع فَكَلَام فأسد لِأَنَّهُ تعلق بالعصمة الحسية الَّتِي يكتسبها الْكَافِر والمحارب وَلَا يَعْتَبِرهَا الشَّرْع وَإِنَّمَا الْكَلَام على مَا يعتبره الشَّرْع أَلا ترى أَن الْمُحَارب من الْمُسلمين وَالْكَافِر يتحصنان بالقلاع ودمهما وأموالهما مباحان أَحدهمَا على الاطلاق وَالثَّانِي يشْتَرط أَن يسْتَمر وَلَا يقْلع ويتمادى ويتمنع وَلَكِن المَال إِنَّمَا يمنعهُ إِحْرَاز صَاحبه لَهُ بِكَوْنِهِ مَعَه فِي حرز
14 -ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের অভিমত যে, আবাসস্থল সুরক্ষা (عصمة) প্রদান করে না; আল-ওয়ানশারিশি এই অভিমতকে খণ্ডন করেছেন।
আবু হানিফার অনুসারীরা এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, আবাসস্থলই হলো সুরক্ষা (عصمة) প্রদানকারী; কারণ সতর্কতা অবলম্বন, নিরাপত্তা লাভ এবং প্রতিরক্ষা কেবল দুর্গ ও কেল্লার মাধ্যমেই সম্ভব। আর কোনো কাফের যখন আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তখন তার রক্ত ও সম্পদ সুরক্ষিত (معصوم) হয়ে যায়। ফলে তা সেই সম্পদের ন্যায় হয়ে যায় যা রাস্তায় পড়ে থাকলে চুরির অপরাধে হাত কর্তন (قطع) আবশ্যক হয় না, কিন্তু যখন তা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সংরক্ষিত (حوزة) থাকে, তখন তা চুরির কারণে হাত কর্তনের (قطع) মাধ্যমে দণ্ডনীয় হয়। ইমাম শাফেয়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে..." এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এতে সুস্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে যে, জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা (عصمة) কেবল ইসলামের কালিমার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর যদি কোনো মুসলিম যুদ্ধরত ভূখণ্ডে (দারুল হারব) প্রবেশ করে (৮৯ ক), তবে সে রক্ত ও সম্পদের দিক থেকে সুরক্ষিত (معصوم), যদিও সেখানে আবাসস্থলের সেই সুরক্ষা বিদ্যমান নেই। আর আমাদের (মালেকী) সাথীদের এই বক্তব্য যে—ইসলাম কেবল জীবনের নিরাপত্তা দেয়, সন্তান ও সম্পদের নয়; এবং আবু হানিফার অনুসারীদের এই বক্তব্য যে—সতর্কতা ও সুরক্ষা কেবল দুর্গের মাধ্যমে অর্জিত হয়; এই উভয় বক্তব্যই অসার (فاسد)। কারণ এটি কেবল বাহ্যিক সুরক্ষার (عصمة حسية) ওপর নির্ভরশীল যা একজন কাফের বা বিদ্রোহী যোদ্ধা লাভ করে থাকে, অথচ শরিয়ত একে গণ্য করে না। বরং আলোচনা কেবল সেই বিষয়ের ওপর যা শরিয়ত গ্রাহ্য করে। আপনি কি দেখেন না যে, মুসলিমদের মধ্য থেকে বিদ্রোহী (মুহারিব) এবং কাফের উভয়েই দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করে, অথচ তাদের উভয়ের রক্ত ও সম্পদ বৈধ (مباح)? এদের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে তা নিঃশর্তভাবে বৈধ (مباح), আর দ্বিতীয় জনের ক্ষেত্রে শর্ত হলো যে সে বিদ্রোহ অব্যাহত রাখবে, তা থেকে বিরত হবে না এবং অবাধ্যতা ও প্রতিরোধ বজায় রাখবে। তবে সম্পদের বিষয়টি হলো—মালিক তা কোনো সুরক্ষিত স্থানে (حرز) রাখার মাধ্যমেই কেবল তা সংরক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قلت بقول الشَّافِعِي قَالَ أَشهب وَسَحْنُون وَهُوَ اخْتِيَار القَاضِي أبي بكر بن الْعَرَبِيّ حَسْبَمَا تضمنه كَلَامه الْآن وَبقول مَالك قَالَ أَبُو حنيفَة وَأصبغ بن الْفرج وَاخْتَارَهُ ابْن رشد وَهُوَ الْمَشْهُور عَن مَالك رحمه الله ومنشأ الْخلاف مَا مر تَقْرِيره
15 -
رَأْي ابْن الْحَاج لَيْسَ لأحد على مَال الْمُسلم الْمُقِيم بدار الْحَرْب أَو دَمه سَبِيل وأجرى الْفَقِيه القَاضِي الشهير أَبُو عبد الله بن الْحَاج وَغَيره من الْمُتَأَخِّرين مَال هَذَا الْمُسلم الْمَسْئُول عَنهُ الْمُقِيم بدار الْحَرْب وَلم يبرح عَنْهَا بعد اسْتِيلَاء الطاغية عَلَيْهَا على هَذَا الْخلاف الْمُتَقَدّم بَين عُلَمَاء الْأَمْصَار فِي مَال من أسلم وَأقَام بدار الْحَرْب ثمَّ فرق ابْن الْحَاج بعد الْإِلْحَاق والتسوية فِي هَذِه الْأَحْكَام الملحقة بِأَن مَال من أسلم كَانَ مُبَاحا قبل إِسْلَامه بِخِلَاف مَال الْمُسلم لِأَن يَده لم تزل وَلَا تقدم لَهُ فِي وَقت مَا كفر مُبِيح مَاله وَولده يَوْمًا للْمُسلمين فَلَيْسَ لأحد عَلَيْهِمَا من سَبِيل وَهُوَ رَاجِح من القَوْل وواضح من الِاسْتِدْلَال وَالنَّظَر وَظَاهر عِنْد التَّأَمُّل لمنشأ الْخلاف الَّذِي تقدم بَيَانه على مَا لَا يخفى ويعتضد هَذَا الْفرق بِنَصّ آخر مسئلة من سَماع يحيي من كتاب الْجِهَاد وَلَفظه
আমি ইমাম শাফেয়ীর মতানুসারে বলেছি; আশহাব ও সাহনুনও তাই বলেছেন এবং এটিই কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবির পছন্দ, যা তাঁর বর্তমান বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। ইমাম মালিকের মতানুসারে ইমাম আবু হানিফা ও আসবাগ ইবনুল ফারাজ মত দিয়েছেন এবং ইবনে রুশদ একেই পছন্দ করেছেন। এটিই ইমাম মালিক (রহ.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত। আর মতভেদের উৎস হলো যা পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১৫ -
ইবনুল হাজ্জের অভিমত: দারুল হারবে বসবাসকারী কোনো মুসলমানের সম্পদ বা প্রাণের ওপর কারও কোনো অধিকার নেই বিখ্যাত ফকিহ ও কাজী আবু আবদুল্লাহ ইবনুল হাজ্জ এবং পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) অন্যান্য আলেমগণ প্রশ্নোল্লিখিত সেই মুসলমানের সম্পদের ক্ষেত্রে—যিনি দারুল হারবে বসবাস করছেন এবং কোনো জালেম শাসক সেটি দখল করার পরেও সেখান থেকে প্রস্থান করেননি—বিখ্যাত শহরগুলোর আলেমদের সেই পূর্ববর্তী মতভেদকে প্রয়োগ করেছেন, যা মূলত ইসলাম গ্রহণ করে দারুল হারবে অবস্থানকারী ব্যক্তির সম্পদের ব্যাপারে হয়েছিল। অতঃপর ইবনুল হাজ্জ এই বিষয়গুলোকে একই পর্যায়ভুক্ত করা ও সমতা বিধানের পর একটি পার্থক্য নির্ণয় করেছেন এই বলে যে, যে ব্যক্তি নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছেন তার সম্পদ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে বৈধ (مباح) ছিল, কিন্তু একজন [জন্মগত] মুসলমানের সম্পদের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ তার মালিকানা অধিকার কখনও বিলুপ্ত হয়নি এবং কোনো সময় তার মধ্যে এমন কুফরি বিদ্যমান ছিল না যা তার সম্পদ ও সন্তানকে কোনো একদিন মুসলমানদের জন্য বৈধ করে দেয়। সুতরাং তাদের ওপর কারও কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য (راجح) মত এবং দলীলপ্রমাণের (استدلال) ও পর্যালোচনার বিচারে সুস্পষ্ট। ইতিপূর্বে বর্ণিত মতভেদের উৎসের প্রতি লক্ষ্য করলে বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যটি 'কিতাবুল জিহাদ'-এর অন্তর্ভুক্ত 'সামাউ ইয়াহইয়া'-এর শেষ মাসআলার অকাট্য প্রমাণ (نص) দ্বারা আরও শক্তিশালী হয়, যার শব্দাবলি হলো:
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪২)
16 -
رَأْي ابْن الْحَاج فِي الْمُسلمين المتخلفين فِي برشلونه الَّذين يشتركون مَعَ النَّصَارَى فِي الإغارة على الْمُسلمين وَسَأَلته عَمَّن تخلف من أهل برشلونه من الْمُسلمين عَن الارتحال عَنْهَا بعد السّنة الَّتِي أجلت لَهُم يَوْم فتحت فِي ارتحالهم فَأَغَارَ (89 ب) على الْمُسلمين تعوذا مِمَّا يخَاف من الْقَتْل إِن ظفر بِهِ فَقَالَ مَا أرَاهُ إِلَّا بِمَنْزِلَة الْمُحَارب
১৬ -
বার্সেলোনায় অবস্থানকারী সেই মুসলিমদের ব্যাপারে ইবনুল হাজ-এর অভিমত, যারা মুসলিমদের ওপর আক্রমণে নাসারাদের সাথে অংশগ্রহণ করে আমি তাকে বার্সেলোনার সেই মুসলিম অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যারা শহরটি বিজিত হওয়ার দিনে তাদের প্রস্থানের জন্য যে এক বছর সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তার পরেও সেখানে রয়ে গিয়েছিল। অতঃপর সে (ধৃত হলে) তাকে হত্যা করা হতে পারে—এই ভয়ে মুসলিমদের ওপর আক্রমণে লিপ্ত হয়েছিল। তিনি বললেন, "আমি তাকে একজন যুদ্ধরত (محارب) ব্যক্তির অবস্থানেই দেখছি।"
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الَّذِي يتلصص بدار الْإِسْلَام من الْمُسلمين وَذَلِكَ أَنه مُقيم على دين الْإِسْلَام فَإِن أُصِيب فَأمره إِلَى الامام يحكم فِيهِ بِمثل مَا يحكم فِي أهل الْفساد والحرابه وَأما فِي مَاله فَلَا أرَاهُ يحل لأحد اصابه انْتهى مَحل الْحَاجة مِنْهُ ابْن رشد قَوْله إِنَّهُم فِي غارتهم على الْمُسلمين بِمَنْزِلَة الْمُحَاربين صَحِيح لَا اخْتِلَاف فِيهِ لِأَن الْمُسلم إِذا حَارب فَسَوَاء أَكَانَت حرابته فِي بلد الْإِسْلَام أَو فِي بلد الْكفْر الحكم فِيهِ سَوَاء وَأما قَوْله فِي مَاله أَنه لَا يحل لأحد أَصَابَهُ فَهُوَ خلاف ظَاهر قَول مَالك فِي الْمُدَوَّنَة فِي الَّذِي يسلم فِي دَار الْحَرْب ثمَّ يَغْزُو الْمُسلمُونَ تِلْكَ الدَّار فيصيبون أَهله وَمَاله وَولده أَن ذَلِك كُله فَيْء إِذْ لم يفرق فِيهَا بَين أَن يكون الْجَيْش غنم مَاله وودله قبل خُرُوجه أَو بعد خُرُوجه انْتهى قلت فَظَاهر كَلَام ابْن رشد هَذَا يُؤذن بترجيح خلاف مَا رَجحه معاصره وبلديه القَاضِي أَبُو عبد الله بن الْحَاج فِي مَال هَؤُلَاءِ الْمَسْئُول عَنْهُم وَأَوْلَادهمْ فَتَأَمّله
17 -رَأْي شُيُوخ آخَرين لَا سَبِيل على دِمَاء الْمُسلمين المقيمين مَعَ النَّصَارَى إِلَّا إِذا اشْتَركُوا فِي محاربة الْمُسلمين وَلَا سَبِيل على أَمْوَالهم إِلَّا إِذا أَعَانُوهُم بهَا
وَقَالَ بعض الْمُحَقِّقين من الشُّيُوخ يظْهر أَن الْأَحْكَام الملحقة بهم فِي الْأَنْفس وَالْأَوْلَاد وَالْأَمْوَال جَارِيَة على المقيمين مَعَ النَّصَارَى الْحَرْبِيين على حسب مَا تقرر من الْخلاف وتمهد من التَّرْجِيح ثمَّ إِن حاربونا مَعَ أَوْلِيَائِهِمْ ترجحت حِينَئِذٍ اسْتِبَاحَة دِمَائِهِمْ وَإِن أَعَانُوهُم بِالْمَالِ على قتالنا ترجحت اسْتِبَاحَة أَمْوَالهم وَقد ترجح سبى ذَرَارِيهمْ للاستخلاص من أَيْديهم وإنشائهم بَين أظهر الْمُسلمين آمِنين من الْفِتْنَة فِي الدّين معصومين من مَعْصِيّة ترك الْهِجْرَة
যে ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্য থেকে দারুল ইসলামে দস্যুতা করে, সে মূলত ইসলামের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। যদি সে আক্রান্ত হয় (ধরা পড়ে), তবে তার বিষয়টি ইমামের (শাসকের) নিকট ন্যস্ত, তিনি তার ব্যাপারে সেইরূপ ফয়সালা করবেন যেরূপ ফয়সালা ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও দস্যুতায় লিপ্তদের ক্ষেত্রে করা হয়। আর তার সম্পদের ব্যাপারে আমি মনে করি না যে তা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ। ইবনে রুশদ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি এখানেই শেষ। তাঁর বক্তব্য— ‘মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করার ক্ষেত্রে তারা দস্যুদের পর্যায়ভুক্ত’—এটি সঠিক (صحيح) এবং এতে কোনো মতভেদ নেই। কারণ একজন মুসলিম যখন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন তার সেই দস্যুতা ইসলামি ভূখণ্ডে হোক বা কুফরি ভূখণ্ডে হোক, তার বিধান অভিন্ন। আর তার সম্পদের বিষয়ে তাঁর (ইবনে রুশদের) বক্তব্য যে ‘তা লাভ করা কারো জন্য বৈধ নয়’, এটি আল-মুদাওওয়ানাহ গ্রন্থে ইমাম মালিকের মতের বাহ্যিক পরিপন্থী। সেখানে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে দারুল হারবে (যুদ্ধরত অমুসলিম দেশে) ইসলাম গ্রহণ করে, অতঃপর মুসলিমরা সেই ভূখণ্ড আক্রমণ করে তার পরিবার, সম্পদ ও সন্তান লাভ করে; তখন এই সবই রাষ্ট্রীয় সম্পদ (ফাই) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সেখানে লস্কর (বাহিনী) তার সম্পদ ও সন্তান তার বেরিয়ে আসার আগে হস্তগত করেছে নাকি পরে—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি, ইবনে রুশদের এই বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম তাঁর সমসাময়িক ও স্বদেশীয় বিচারক আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-হাজ্জ প্রশ্নোক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ ও সন্তানদের ব্যাপারে যে মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তার বিপরীত মতকেই অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
17 -অন্যান্য শায়খদের অভিমত: খ্রিস্টানদের সাথে বসবাসকারী মুসলিমদের প্রাণের ওপর কোনো হস্তক্ষেপের পথ নেই, যতক্ষণ না তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এবং তাদের সম্পদের ওপরও কোনো হস্তক্ষেপের পথ নেই, যতক্ষণ না তারা তা দিয়ে তাদের (কাফেরদের) সাহায্য করে।
শায়খদের মধ্য থেকে কতিপয় গবেষক (محقق) বলেছেন, এটিই প্রতীয়মান হয় যে— জান, সন্তান ও সম্পদের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ যুদ্ধরত খ্রিস্টানদের সাথে বসবাসকারীদের ওপরও কার্যকর হবে; যা বিদ্যমান মতভেদ এবং সুনির্ধারিত অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের মূলনীতি অনুযায়ী সাব্যস্ত। অতঃপর, তারা যদি তাদের মিত্রদের সাথে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে তাদের রক্ত বৈধ হওয়া প্রাধান্য (ترجيح) পাবে। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করে, তবে তাদের সম্পদ বৈধ হওয়া প্রাধান্য (ترجيح) পাবে। এমনকি তাদের সন্তানদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে গ্রহণ করাও প্রাধান্য (ترجيح) পেয়েছে, যাতে তাদের (কাফেরদের) হাত থেকে উদ্ধার করা যায় এবং মুসলিমদের মাঝে লালন-পালন করে দ্বীনের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখা যায় ও হিজরত বর্জনের পাপাচার থেকে সুরক্ষা প্রদান করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
18 -شكوى الْمُهَاجِرين إِلَى أَرض الْإِسْلَام من ضيق المعاش زعم فَاسد وتوهم كاسد لَا رخصَة لأحد فِي الرُّجُوع إِلَى بِلَاد النَّصَارَى بِحَال
وَمَا ذكر فِي السُّؤَال من حُصُول النَّدَم والتسخط لبَعض الْمُهَاجِرين من دَار الْحَرْبِيين إِلَى دَار الْمُسلمين لما زعموه من ضيق المعاش وَعدم الانتعاش زعم فَاسد وتوهم كاسد فِي نظر الشَّرِيعَة الغراء فَلَا يتَوَهَّم هَذَا الْمَعْنى ويعتبره ويجعله نصب عَيْنَيْهِ إِلَّا ضَعِيف الْيَقِين بل عديم الْعقل وَالدّين وَكَيف يتخيل هَذَا الْمَعْنى يدلى بِهِ حجَّة فِي إِسْقَاط الْهِجْرَة من دَار الْحَرْب وَفِي بِلَاد الْإِسْلَام (90 أ) أَعلَى الله كَلمته مجَال رحب للقوى والضعيف والثقيل والخفيف وَقد وسع الله الْبِلَاد فيستجير بهَا من أَصَابَته هَذِه الصدمة الكفرانية والصاعقة النَّصْرَانِيَّة فِي الدّين والأهل وَالْأَوْلَاد فقد هَاجر من عَلَيْهِ الصَّحَابَة وأكابرهم رضوَان الله عَلَيْهِم إِلَى أَرض الْحَبَشَة فِرَارًا بدينهم من أَذَى الْمُشْركين من أهل مَكَّة جمَاعَة عَظِيمَة ورفقة كَرِيمَة مِنْهُم جَعْفَر بن أبي طَالب وَأَبُو سَلمَة بن عبد الْأسد وَعُثْمَان بن عَفَّان وَأَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح وَحَال أَرض الْحَبَشَة مَا قد علم وَهَاجَر آخَرُونَ إِلَى غَيرهَا وهجروا أوطانهم وَأَمْوَالهمْ وَأَوْلَادهمْ وآباءهم ونبذوهم وقاتلوهم وحاربوهم تمسكا مِنْهُم بدينهم ورفضا لدنياهم فَكيف بِعرْض من اعراضها لَا يخل تَركه بالتكسب بَين أظهر الْمُسلمين وَلَا يُؤثر رفضه فِي متسع المسترزقين وَلَا سِيمَا بِهَذَا الْقطر الديني المغربي صانه الله وزاده عزا وشرفا ووقاه من الأغيار والأكدار وسطا وطرفا فَإِنَّهُ من أخصب أَرض الله
১৮ -ইসলামী ভূখণ্ডে হিজরতকারীদের জীবনযাত্রার সংকীর্ণতা সম্পর্কে অভিযোগ করা একটি ভ্রান্ত দাবি এবং অকেজো কল্পনা; খ্রিস্টানদের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কারো জন্য কোনো অবস্থাতেই কোনো অনুমতি নেই।
প্রশ্নে যুদ্ধক্ষেত্র (দারুল হারব) থেকে মুসলিম ভূখণ্ডে হিজরতকারী কিছু মুহাজিরের অনুশোচনা ও অসন্তোষের যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে—তাদের দাবি অনুযায়ী জীবনযাত্রার সংকীর্ণতা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের অভাবের কারণে—তা উজ্জ্বল শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি ভ্রান্ত দাবি এবং অকেজো কল্পনা। দুর্বল (ضعيف) ইয়াকীন বা বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এমন ধারণা পোষণ করে না, একে গুরুত্ব দেয় না এবং নিজের চোখের সামনে তুলে ধরে না; বরং সে তো আকল ও দ্বীনহীন ব্যক্তি। কীভাবে এ ধরনের বিষয় কল্পনা করা যায় এবং একে দারুল হারব থেকে হিজরতের আবশ্যকতা বাতিলের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়? অথচ ইসলামী ভূখণ্ডে (৯০ ক) —আল্লাহ তাঁর বাণীকে সমুন্নত করুন—শক্তিশালী, দুর্বল (ضعيف), সামর্থ্যবান ও অক্ষম সবার জন্যই প্রশস্ত সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা জমিনকে প্রশস্ত করেছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন, পরিবার ও সন্তানের ওপর এই কুফরি আঘাত এবং খ্রিস্টীয় বজ্রপাতের শিকার হয়েছে, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে। কেননা সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), মক্কার মুশরিকদের কষ্ট থেকে নিজেদের দ্বীন নিয়ে পলায়ন করে হাবাশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে হিজরত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিল এক বিশাল জামাত ও এক মহৎ কাফেলা, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জাফর ইবনে আবি তালিব, আবু সালামাহ ইবনে আবদুল আসাদ, উসমান ইবনে আফফান এবং আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ। আর হাবাশার তৎকালীন অবস্থা তো সর্বজনবিদিত। অন্যরা অন্য স্থানে হিজরত করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার জন্য এবং দুনিয়াকে ত্যাগ করার উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বদেশ, সম্পদ, সন্তান ও পিতাদের ত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের বিসর্জন দিয়েছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই ও যুদ্ধ করেছিলেন। এমতাবস্থায় দুনিয়ার সাধারণ কোনো সামগ্রীর অভাবের কারণে কীভাবে হিজরত বর্জন করা যায়? যা ত্যাগ করলে মুসলিমদের মাঝে থেকে জীবিকা অর্জনে কোনো বিঘ্ন ঘটে না এবং যা প্রত্যাখ্যান করলে রিযিক অন্বেষণকারীদের বিশাল সুযোগে কোনো প্রভাব পড়ে না। বিশেষ করে দ্বীনি ভূখণ্ড মরক্কোর (মাগরিব) ক্ষেত্রে এ কথা আরও প্রযোজ্য—আল্লাহ একে হেফাজত করুন, এর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন এবং একে সব ধরনের শত্রু ও ক্লেশ থেকে সর্বতোভাবে রক্ষা করুন—কেননা এটি আল্লাহর জমিনের মধ্যে অন্যতম উর্বর ভূমি।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أَرضًا وأشبعها بلادا طولا وعرضا وخصوصا حَاضِرَة فاس وانظارها ونواحيها من كل الْجِهَات وأقطارها وَلَئِن سلم هَذَا الْوَهم وَعدم صَاحبه وَالْعِيَاذ بِاللَّه الْعقل الرَّاجِح والرأي الناجح والفهم فقد أَقَامَ علما وبرهانا على نَفسه الخسيسة الرذلة بترجيح عرض دنياوي حطامى محتقر على عمل ديني أخروى مدخر وبئست هَذِه المفاضلة والأرجيحة وخاب وخسر من آثرها وَوَقع فِيهَا أما علم المغبون فِي صفقته النادم على هجرته من دَار يدعى فِيهَا التَّثْلِيث وتضرب فِيهَا النواقيس ويعبد فِيهَا الشَّيْطَان وَيكفر بالرحمن أَن لَيْسَ للانسان إِلَّا دينه إِذْ بِهِ نجاته الأبدية وسعادته الأخروية وَعَلِيهِ يبْذل نَفسه النفيسة فضلا عَن جملَة مَاله قَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تلهكم أَمْوَالكُم وَلَا أَوْلَادكُم عَن ذكر الله وَمن يفعل ذَلِك فَأُولَئِك هم الخاسرون} وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا أَمْوَالكُم وَأَوْلَادكُمْ فتْنَة وَالله عِنْده أجر عَظِيم} وَأعظم فَوَائِد المَال وأجلها عِنْد الْعُقَلَاء إِنْفَاقه فِي سَبِيل الله وابتغاء مرضاته وَكَيف يتقحم بالتشبث (90 ب) ويترامى ويتطارح أَو يتسارع من أَجله إِلَى مُوالَاة العداة وَقد قَالَ تَعَالَى {فترى الَّذين فِي قُلُوبهم مرض يُسَارِعُونَ فيهم يَقُولُونَ نخشى أَن تصيبنا دَائِرَة} والدائرة فِي هَذِه النَّازِلَة فَوَات التَّمَسُّك بعقار المَال فوصف بمرمض الْقلب وَضعف الْيَقِين وَلَو كَانَ قوي الدّين صَحِيح الْيَقِين واثقا بِاللَّه تَعَالَى مُعْتَمدًا عَلَيْهِ وَمُسْندًا ظَهره إِلَيْهِ لما أهمل قَاعِدَة التَّوَكُّل على علو رتبها ونمو ثَمَرَتهَا وشهادتها بِصِحَّة
জমিকে এবং একে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে দেশসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন, বিশেষ করে ফেজ (Fas) মহানগরী এবং এর আশপাশ ও সকল প্রান্তের অঞ্চলসমূহকে। আর যদি এই ভ্রান্ত ধারণাটি সঠিক বলে গণ্য হয় এবং এর পোষণকারীর মধ্যে—আল্লাহ রক্ষা করুন—প্রখর বুদ্ধি, সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞার অভাব ঘটে, তবে সে এক তুচ্ছ, নশ্বর ও অবজ্ঞাত পার্থিব স্বার্থকে আখেরাতের সঞ্চিত দ্বীনি আমলের ওপর প্রাধান্য দিয়ে নিজের হীন ও নীচ সত্তার বিরুদ্ধে এক নিদর্শন ও প্রমাণ স্থাপন করল। কতই না মন্দ এই তুলনা ও অগ্রাধিকার! যে ব্যক্তি একে বেছে নিয়েছে এবং এতে নিপতিত হয়েছে, সে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ হয়েছে। নিজ লেনদেনে প্রতারিত এবং এমন এক আবাসভূমি থেকে হিজরত করার কারণে অনুতপ্ত ব্যক্তি—যেখানে ত্রিত্ববাদের আহ্বান জানানো হয়, গির্জার ঘণ্টা বাজানো হয়, শয়তানের উপাসনা করা হয় এবং দয়াময় আল্লাহর সাথে কুফর করা হয়—সে কি জানে না যে, মানুষের জন্য তার দ্বীন অপেক্ষা মূল্যবান আর কিছুই নেই? কেননা এর মধ্যেই তার চিরন্তন মুক্তি ও পরকালীন সৌভাগ্য নিহিত। আর এই দ্বীনের জন্যই তাকে তার মহামূল্যবান প্রাণ উৎসর্গ করতে হয়, সমস্ত সম্পদের কথা তো বাহুল্য মাত্র। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এরূপ করবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।} আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল একটি পরীক্ষা; আর আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার।} বুদ্ধিমানদের নিকট সম্পদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহত্তম উপযোগিতা হলো তা আল্লাহর পথে এবং তাঁর সন্তুষ্টির অন্বেষায় ব্যয় করা। এমতাবস্থায় কীভাবে একজন ব্যক্তি পার্থিব ধনের মোহে অন্ধ হয়ে (৯০ খ) নিজেকে বিপদে নিক্ষেপ করে এবং শত্রুদের সাথে মিত্রতা স্থাপনে ব্যতিব্যস্ত হয়? অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তুমি তাদেরকে তাদের (কাফেরদের) মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখবে। তারা বলে: আমরা আশঙ্কা করছি যে কোনো বিপদ আমাদের ওপর আপতিত হবে।} বর্তমান এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে 'বিপদ' বলতে পার্থিব স্থাবর সম্পত্তি হারানোর ভয়কে বোঝানো হয়েছে। ফলে তাকে অন্তরের ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং ইয়াকিনের দুর্বলতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদি সে দ্বীনের ওপর দৃঢ় এবং সঠিক (صحيح) ইয়াকিন সম্পন্ন হতো, মহান আল্লাহর ওপর আস্থাশীল ও তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরশীল হতো এবং তাঁর প্রতিই মস্তক অবনত করত, তবে সে তাওয়াক্কুলের মূলনীতিকে উপেক্ষা করত না; যার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ, ফলাফল অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং যা বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য প্রদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْإِيمَان ورسوخ الْيَقِين وَإِذا تقرر هَذَا فَلَا رخصَة لأحد مِمَّن ذكرت فِي الرُّجُوع وَلَا فِي عدم الْهِجْرَة بِوَجْه وَلَا حَال فَإِنَّهُ لَا يعْذر مهما توصل إِلَى ذَلِك بِمَشَقَّة فادحة أَو حِيلَة دقيقة بل مهما وجد سَبِيلا إِلَى التَّخَلُّص من ربقة الْكفْر وَحَيْثُ لَا يجد عشيرة تذب عَنهُ وحماة يحْمُونَ عَلَيْهِ ورضى بالْمقَام بمَكَان فِيهِ الضيم على الدّين وَالْمَنْع من إِظْهَار شَعَائِر الْمُسلمين فَهُوَ مارق من الدّين منخرط فِي سلك الْمُلْحِدِينَ وَالْوَاجِب الْفِرَار من دَار غلب عَلَيْهَا أهل الشّرك والخسران إِلَى دَار الْأَمْن وَالْإِيمَان وَلذَلِك قوبلوا فِي الْجَواب عِنْد الِاعْتِذَار بقوله (ألم تكن أَرض الله وَاسِعَة) أَي حَيْثُ مَا توجه المُهَاجر وَإِن كَانَ ضَعِيفا فَإِنَّهُ يجد الأَرْض وَاسِعَة ومتصلة فَلَا عذر بِوَجْه لمستطيع وَإِن كَانَ بِمَشَقَّة فِي الْعَمَل أَو فِي الْحِيلَة أَو فِي اكْتِسَاب الرزق أَو ضيق فِي الْمَعيشَة إِلَّا المستضعف الْعَاجِز رَأْسا الَّذِي لَا يَسْتَطِيع حِيلَة وَلَا يهتدى سَبِيلا وَمن بَادر إِلَى الْفِرَار وسارع فِي الِانْتِقَال من دَار الْبَوَار إِلَى دَار الْأَبْرَار فَذَلِك إِمَارَة ظَاهِرَة فِي الْحَال العاجلة لما يصير إِلَيْهِ حَاله فِي الآجلة لِأَن من يسر لَهُ الْعَمَل الصَّالح كَانَ مأمولا لَهُ الظفر والفوز وَمن تيَسّر لَهُ الْعَمَل الْخَبيث كَانَ مخوفا عَلَيْهِ الْهَلَاك والخسران جعلنَا الله وَإِيَّاكُم مِمَّن يسر لليسرى وانتفع بالذكرى
19 -لابد من إرهاقهم بالعقوبة الشَّدِيدَة والتنكيل المبرح ضربا وسجنا
وَمَا ذكرت عَن هَؤُلَاءِ الْمُهَاجِرين من قَبِيح الْكَلَام وَسَب دَار الْإِسْلَام وَتمنى الرُّجُوع إِلَى دَار الشّرك والأصنام وَغير ذَلِك من الْفَوَاحِش الْمُنكرَة الَّتِي
ঈমান ও সুদৃঢ় ইয়াকিন। আর যখন এটি স্থির হলো, তখন আপনার বর্ণিত ব্যক্তিদের জন্য ফিরে আসা বা হিজরত না করার কোনো অনুমতি কোনোভাবেই বা কোনো অবস্থাতেই নেই। কেননা, সে কোনোভাবেই ওজরপ্রাপ্ত হবে না, চাই সে তা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম বা সূক্ষ্ম কৌশলের মাধ্যমে অর্জন করুক না কেন; বরং যতক্ষণ সে কুফরির শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাবে। আর যেখানে সে তাকে রক্ষা করার মতো কোনো গোত্র এবং তার নিরাপত্তা প্রদানকারী কোনো অভিভাবক পাবে না, অথচ সে এমন স্থানে অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকে যেখানে দ্বীনের ওপর জুলুম করা হয় এবং মুসলিমদের ধর্মীয় নিদর্শনাবলী প্রকাশে বাধা প্রদান করা হয়, তবে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং মুলহিদদের অন্তর্ভুক্ত। আর শিরক ও ক্ষতির প্রাধান্য বিস্তারকারী ভূখণ্ড থেকে নিরাপত্তা ও ঈমানের ভূখণ্ডের দিকে পলায়ন করা ওয়াজিব। এই কারণেই ওজর পেশ করার সময় তাদের প্রতিউত্তরে বলা হয়েছে: (আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না?) অর্থাৎ মুহাজির যেদিকেই গমন করুক না কেন, যদিও সে দুর্বল (ضعيف) হয়, সে জমিনকে প্রশস্ত ও বিস্তীর্ণ পাবে। সুতরাং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোনো অজুহাত নেই, যদিও তা কর্মে বা কৌশলে কিংবা জীবিকা অন্বেষণে কষ্টসাধ্য হয় অথবা জীবনযাত্রায় সংকীর্ণতা থাকে; কেবল সেই নিতান্ত অসহায় ও অক্ষম ব্যক্তি ছাড়া যে কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও খুঁজে পায় না। আর যে ব্যক্তি ধ্বংসের আবাসস্থল থেকে পুণ্যবানদের আবাসস্থলের দিকে দ্রুত পলায়ন ও হিজরতে তৎপর হয়, তবে তা ইহকালীন অবস্থায় একটি প্রকাশ্য আলামত যে, পরকালে তার অবস্থা কী হবে। কারণ যার জন্য নেক আমল সহজ করা হয়, তার জন্য সফলতা ও বিজয়ের আশা করা যায়। আর যার জন্য মন্দ কাজ সহজ করা হয়, তার ব্যাপারে ধ্বংস ও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের জন্য সহজ পথকে সহজ করা হয়েছে এবং যারা নসিহত দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
১৯ -তাদেরকে কঠোর শাস্তি এবং প্রহার ও কারাবাসের মাধ্যমে যন্ত্রণাদায়ক ও দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড প্রদান করা অপরিহার্য।
আর এই মুহাজিরদের সম্পর্কে আপনি যে কুরুচিপূর্ণ কথা, দারুল ইসলামের নিন্দা এবং শিরক ও মূর্তিপূজার দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অন্যান্য বর্জনীয় (منكر) অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করেছেন, যা...
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
(91 أ) لَا تصدر إِلَّا من اللئام يُوجب لَهُم خزي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وينزلهم أَسْوَأ الْمنَازل وَالْوَاجِب على من مكنه الله فِي الأَرْض ويسره لليسرى أَن يقبض على هَؤُلَاءِ وَأَن يرهقهم الْعقُوبَة الشَّدِيدَة والتنكيل المبرح ضربا وسجنا حَتَّى لَا يتعدوا حُدُود الله لِأَن فتْنَة هَؤُلَاءِ أَشد ضَرَرا من فتْنَة الْجُوع وَالْخَوْف وَنهب الْأَنْفس وَالْأَمْوَال وَذَلِكَ أَن من هلك هُنَاكَ فَإلَى رَحْمَة الله تَعَالَى وكريم عَفوه وَمن هلك دينه فَإلَى لعنة الله وعظيم سخطه فَإِن محبَّة الْمُوَالَاة الشركية والمساكنة النَّصْرَانِيَّة والعزم على رفض الْهِجْرَة والركون إِلَى الْكفَّار والرضى بِدفع الْجِزْيَة غليهم ونبذ الْعِزَّة الاسلامية وَالطَّاعَة الامامية والبيعة السُّلْطَانِيَّة وَظُهُور السُّلْطَان النَّصْرَانِي عَلَيْهَا وإذلاله إِيَّاهَا فواحش عَظِيمَة مهلكة قاصمة للظهور يكَاد أَن تكون كفرا وَالْعِيَاذ بِاللَّه
20 -
الْمُقِيم والراجع بعد الْهِجْرَة والمتمنى الرُّجُوع لَا يحِق لَهُم تولى الْقَضَاء أَو الْإِمَامَة وَلَا تقبل شَهَادَتهم وَأما جرحة الْمُقِيم والراجع بعد الْهِجْرَة والمتمنى للرُّجُوع وتأخيره عَن الْمَرَاتِب الكمالية الدِّينِيَّة من قَضَاء وَشَهَادَة وإمامة فَمَا لَا خَفَاء فِيهِ وَلَا امتراء مِمَّن لَهُ أدنى مسكة من الْفُرُوع الاجتهادية والمسائل الْفِقْهِيَّة وكما لَا تقبل شَهَادَتهم كَذَلِك لَا يقبل خطاب حكامهم قَالَ ابْن عَرَفَة رحمه الله وَشرط قبُول خطاب القَاضِي صِحَة ولَايَته لمن تصح تَوليته بِوَجْه احْتِرَازًا من مُخَاطبَة قُضَاة
(91 অ) এটি কেবল নীচ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেই প্রকাশিত হতে পারে যা তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালের লাঞ্ছনা অনিবার্য করে তোলে এবং তাদেরকে নিকৃষ্টতম অবস্থানে নামিয়ে দেয়। আর আল্লাহ যাকে পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করেছেন এবং কল্যাণের পথ সহজ করে দিয়েছেন, তার ওপর ওয়াজিব হলো এদের পাকড়াও করা এবং এদের ওপর কঠোর শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক যাতনা প্রয়োগ করা—প্রহার ও কারাদণ্ডের মাধ্যমে—যাতে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন না করে। কারণ এদের ফিতনা ক্ষুধা, ভয় এবং জান-মাল লুণ্ঠনের ফিতনার চেয়েও অধিক ক্ষতিকর। কেননা পার্থিব বিপদে যারা ধ্বংস হয় তারা আল্লাহর রহমত ও তাঁর মহান ক্ষমার দিকে ধাবিত হয়; কিন্তু যার দ্বীন ধ্বংস হয়, সে আল্লাহর অভিশাপ ও তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধের দিকে ধাবিত হয়। কেননা শিরকপূর্ণ আনুগত্যের প্রতি ভালোবাসা, খ্রিস্টানদের সাথে সহাবস্থান, হিজরত বর্জনের সংকল্প, কাফেরদের প্রতি ঝুঁকে পড়া, তাদের জিযিয়া প্রদানে সন্তুষ্ট থাকা এবং ইসলামী মর্যাদা, ইমামের আনুগত্য ও সুলতানি বায়আত বর্জন করা এবং তাদের ওপর খ্রিস্টান সুলতানের বিজয় ও লাঞ্ছনা—এগুলো অত্যন্ত জঘন্য ও ধ্বংসাত্মক পাপাচার যা কোমর ভেঙে দেয় এবং প্রায় কুফরের নামান্তর; আল্লাহ আমাদের এ থেকে রক্ষা করুন।
20 -
হিজরতের পর বসবাসকারী, প্রত্যাবর্তনকারী এবং প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির জন্য বিচারকের পদ বা ইমামত লাভ করা বৈধ নয় এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় আর হিজরতের পর বসবাসকারী, প্রত্যাবর্তনকারী এবং প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির অযোগ্যতা বা সমালোচনা (جرحة) এবং বিচারকার্য, সাক্ষ্য ও ইমামতের মতো উচ্চতর দ্বীনি মর্তবা থেকে তাদের পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এমন যা অস্পষ্ট নয় এবং এতে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই তাদের কাছে, যাদের ইজতিহাদমূলক ফুরুয়ি মাসআলা ও ফিকহ শাস্ত্রের সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে। আর তাদের সাক্ষ্য যেমন কবুল করা হয় না, তেমনি তাদের বিচারকদের ডিক্রিও গ্রহণ করা হয় না। ইবনে আরাফাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বিচারকের ডিক্রি কবুল হওয়ার শর্ত হলো তার নিয়োগ বৈধ হওয়া—এমন কারো মাধ্যমে যার নিয়োগদানের অধিকার রয়েছে—যাতে অযোগ্য বিচারকদের সম্বোধন থেকে বেঁচে থাকা যায়।"
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أهل الدجن كقضاة مسلمى بلنسية وطرطوشة وقوصرة عندنَا وَنَحْو ذَلِك انْتهى
21 -
هَل هِيَ تقبل خطابات قُضَاة أهل الدجن وَهل يجوز الرَّد عَلَيْهَا وَسُئِلَ الامام أَبُو عبد الله المازرى رحمه الله فِي زَمَانه عَن أَحْكَام تأتى من صقلية من عِنْد قاضيها أَو شُهُود عدُول هَل يقبل ذَلِك مِنْهُم أم لَا مَعَ أَنَّهَا ضَرُورَة وَلَا تدرى إقامتهم هُنَاكَ تَحت أهل الْكفْر هَل هِيَ اضطرار أَو اخْتِيَار
22 -
رَأْي المازرى تَحْسِين الظَّن بِالْمُسْلِمين إِذا كَانَ قَاضِي أهل الدجن مُضْطَرّا للاقامة فإقامته لَا تقدح فِي ولَايَتهفَأجَاب القادح فِي هَذَا وَجْهَان الأول يشْتَمل على القَاضِي
আহলুদ দাজন (অমুসলিম শাসনাধীন মুসলিম), যেমন আমাদের নিকটস্থ বালেন্সিয়া, তরতূশা ও কুসরার মুসলিম বিচারকগণ এবং তদ্রূপ অন্যান্যরা। সমাপ্ত।
২১ -
আহলুদ দাজনের বিচারকদের চিঠিপত্র কি গ্রহণযোগ্য হবে এবং সেগুলোর উত্তর দেওয়া কি বৈধ? ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-মাযিরী (রহিমাহুল্লাহ)-কে তাঁর সমসাময়িককালে সিসিলি থেকে প্রেরিত বিচারিক রায়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা সেখানকার বিচারক অথবা নির্ভরযোগ্য (عدول) সাক্ষীদের পক্ষ থেকে আসত। প্রশ্নটি ছিল—সেগুলো কি তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে কি না? যদিও এটি একটি বিশেষ প্রয়োজন (ضرورة), তবে কাফিরদের শাসনাধীনে সেখানে তাদের অবস্থান কি বাধ্যগত (اضطرار) নাকি স্বেচ্ছাধীন (اختيار), তা অজ্ঞাত।
২২ -
আল-মাযিরীর অভিমত: মুসলিমদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা; যদি আহলুদ দাজনের বিচারক সেখানে অবস্থানে বাধ্য (مضطر) হন, তবে তাঁর সেই অবস্থান তাঁর বিচারিক কর্তৃত্বের (ولاية) ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি (لا تقدح) করবে না।তিনি উত্তর দিলেন: এক্ষেত্রে আপত্তির (القادح) দিক দুটি; প্রথমটি বিচারক সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وبيناته من نَاحيَة الْعَدَالَة فَلَا يُبَاح الْمقَام فِي دَار الْحَرْب فِي قياد أهل الْكفْر وَالثَّانِي من نَاحيَة الْولَايَة إِذْ القَاضِي مولى من قبل أهل الْكفْر وَالْأول لَهُ قَاعِدَة (91 ب) يعْتَمد عَلَيْهَا فِي هَذِه المسئلة وَشبههَا وَهِي تَحْسِين الظَّن بِالْمُسْلِمين ومباعدة الْمعاصِي عَنْهُم فَلَا يعدل عَنْهَا لظنون كَاذِبَة وتوهمات واهية كتجويز من ظَاهره الْعَدَالَة وَقد يجوز فِي الخفاء وَفِي نفس الْأَمر أَن يكون ارْتكب كَبِيرَة إِلَّا من قَامَ الدَّلِيل على عصمته وَهَذَا التجويز مطرح وَالْحكم للظَّاهِر إِذْ هُوَ الرَّاجِح إِلَّا ان يظْهر من المخايل مَا يُوجب الْخُرُوج عَن الْعَدَالَة فَيجب التَّوَقُّف حِينَئِذٍ حَتَّى يظْهر مَا يُوجب زَوَال مُوجب راجحية الْعَدَالَة وَيبقى الحكم الظَّاهِر لغَلَبَة الظَّن بعد ذَلِك وَالْحكم هُوَ مُسْتَفَاد من قَرَائِن محصورة فَيعْمل عَلَيْهَا وقرائن الْعَدَالَة مَأْخُوذَة من أَمر مُطلق سلفى متلقى وَقد أمليت فِي هَذَا طرفا فِي شرح الْبُرْهَان وَذكرت طَريقَة أبي الْمَعَالِي وطريقتي لما تكلمنا فِيمَا جرى بَين الصَّحَابَة من الوقايع والفتن رضى الله عَنْهُم أَجْمَعِينَ
এবং ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) দিক থেকে এর প্রমাণাদি হলো, কুফরি শক্তির শাসনাধীন যুদ্ধক্ষেত্রে (দারুল হারব) অবস্থান করা বৈধ নয়। দ্বিতীয় কারণটি হলো কর্তৃত্বের (الولاية) দিক থেকে, যেহেতু বিচারক কুফরি শক্তির পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। প্রথমটির ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি (৯১ খ) রয়েছে যার ওপর এই মাসয়ালা ও এর সদৃশ বিষয়গুলোতে নির্ভর করা হয়; আর তা হলো মুসলিমদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং তাদের থেকে পাপাচারকে দূরে রাখা। সুতরাং মিথ্যা ধারণা বা দুর্বল সংশয়ের কারণে এই নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না; যেমন—যাহার মধ্যে বাহ্যিকভাবে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) বিদ্যমান, তাহার ব্যাপারে এমন সম্ভাবনা পোষণ করা যে, সে গোপনে বা প্রকৃতপক্ষে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) লিপ্ত হতে পারে, যদি না তাহার নিষ্পাপ হওয়ার (عصمة) ব্যাপারে কোনো প্রমাণ থাকে। এ জাতীয় ধারণা বর্জনীয় এবং বিধান বাহ্যিক অবস্থার (الظاهر) ওপর ভিত্তি করেই প্রদান করা হবে, কারণ তা-ই অগ্রগণ্য (الراجح); যতক্ষণ না এমন কোনো নিদর্শন প্রকাশ পায় যা ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) থেকে বিচ্যুত হওয়াকে আবশ্যক করে। এমতাবস্থায় সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (التوقف) আবশ্যক, যতক্ষণ না ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) প্রাবল্য দূরীভূত হওয়ার কারণ স্পষ্ট হয়। আর প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে এর পরবর্তী বাহ্যিক বিধানই বলবৎ থাকবে। এই বিধান মূলত নির্দিষ্ট কিছু আলামত বা সূত্র (قرائن) থেকে গৃহীত, যার ওপর আমল করা হয়। আর ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) আলামতসমূহ (قرائن) পূর্ববর্তী সালাফদের থেকে প্রাপ্ত একটি নিরঙ্কুশ বিষয় হতে গৃহীত। আমি শারহুল বুরহান গ্রন্থের ব্যাখ্যায় এর একটি অংশ বর্ণনা করেছি এবং ইমাম আবু আল-মা'ালীর পদ্ধতি ও আমার নিজস্ব পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছি যখন আমরা সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর মধ্যে সংঘটিত ঘটনাবলি ও ফিতনা (الفتن) সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আসনাল মাতাজির ওয়া বায়ানু আহকামি মান গালাবা আলা ওয়াতানিহিন নাসারা ওয়া লাম ইয়ুহাজির ওয়া মা ইয়াতারাওতাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায যাওয়াজির
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَهَذَا الْمُقِيم بِبَلَد الْحَرْب إِن كَانَ اضطرارا فَلَا شكّ أَنه لَا يقْدَح فِي عَدَالَته وَكَذَا إِن كَانَ (متأولا و) تَأْوِيله صَحِيحا مثل إِقَامَته بِبَلَد أهل الْحَرْب لرجاء هِدَايَة أهل الْحَرْب أَو نقلهم عَن ضَلَالَة مَا وَأَشَارَ إِلَيْهِ الباقلاني وكما اشار أَصْحَاب مَالك فِي جَوَاز الدُّخُول لفكاك الْأَسير وَأما لَو أَقَامَ بِحكم الْجَاهِلِيَّة والاعراض عَن التَّأْوِيل اخْتِيَارا فَهَذَا يقْدَح فِي عَدَالَته وَاخْتلف الْمَذْهَب فِي رد شَهَادَة الدَّاخِل اخْتِيَارا لتِجَارَة اخْتلف فِي تَأْوِيل الْمُدَوَّنَة فِيهَا أَشد اخْتِلَاف فَمن ظَهرت عَدَالَته مِنْهُم وَشك فِي إِقَامَته على أَي وَجه فَالْأَصْل عذره لِأَن جلّ الِاحْتِمَالَات السَّابِقَة تشهد لعذره فَلَا ترد لاحْتِمَال وَاحِد إِلَّا أَن تكون قراين تشهد أَن إِقَامَته كَانَت اخْتِيَارا لَا لوجه
23 -تَوْلِيَة الْكَافِر للقضاة والامناء وَاجِب عقلا وَلَا يقْدَح فِي احكامهم
وَأما الْوَجْه الثَّانِي وَهُوَ تَوْلِيَة الْكَافِر للقضاة والامناء وَغَيرهم لحجز النَّاس بَعضهم عَن بعض فَوَاجِب حَتَّى ادّعى بعض أهل الْمَذْهَب أَنه وَاجِب
আর এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে (বলদ আল-হারব) অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি নিরুপায় (اضطرار) হয়ে থাকেন, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তা তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র কোনো ক্ষতি করবে না। একইভাবে, তিনি যদি (সঠিক ব্যাখ্যা অনুসারী হন এবং) তাঁর ব্যাখ্যা যদি সঠিক হয়, যেমন হারবিদের (যুদ্ধরত কাফির) দেশে অবস্থান করা তাদের হিদায়াতের আশায় অথবা কোনো বিভ্রান্তি থেকে তাদের সরিয়ে আনার জন্য, যার প্রতি বাকিল্লানি ইঙ্গিত করেছেন। এবং যেমন মালিকি অনুসারীরা বন্দি মুক্তির জন্য সেখানে প্রবেশের বৈধতার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু যদি কেউ স্বেচ্ছায় জাহিলিয়াতের শাসন মেনে এবং সঠিক ব্যাখ্যা বর্জন করে সেখানে অবস্থান করে, তবে তা তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র ক্ষেত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে। আর ব্যবসার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় সেখানে প্রবেশকারীর সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে মাযহাবে মতভেদ রয়েছে; মুদাওয়ানাহ-র ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই বিষয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। সুতরাং যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) স্পষ্ট এবং তাদের অবস্থানের ধরন নিয়ে সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে মূলনীতি (أصل) হলো তাদের নির্দোষ গণ্য করা। কারণ পূর্বোক্ত অধিকাংশ সম্ভাবনাই তাঁর নির্দোষ হওয়ার পক্ষে প্রমাণ দেয়। সুতরাং কেবল একটি সম্ভাব্যতার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না, যদি না এমন কোনো আলামত পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে তাঁর অবস্থান কোনো সংগত কারণ ছাড়াই কেবল স্বেচ্ছাধীন ছিল।
23 -অবিশ্বাসী (كافر) কর্তৃক বিচারপতি (قضاة) এবং আমানতদার (أمناء) নিয়োগ করা বুদ্ধিগতভাবে আবশ্যিক (واجب) এবং এটি তাদের রায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।
আর দ্বিতীয় দিকটি হলো, মানুষের একে অপরের বিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে অবিশ্বাসী (كافر) কর্তৃক বিচারপতি (قضاة), আমানতদার (أمناء) এবং অন্যদের নিয়োগ করা আবশ্যিক (واجب), এমনকি মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারী দাবি করেছেন যে এটি আবশ্যিক (واجب)।