(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: -)
الاستخراج لأحكام الخراج   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: الاستخراج لأحكام الخراج

المؤلف: أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (ت 795هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 155

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইস্তিখরাজ লি-আহকামিল খারাজ   (ইবনে রজব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


গ্রন্থ: আল-ইস্তিখরাজ লি-আহকামিল খারাজ

লেখক: আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (মৃ. ৭৯৫ হি.)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৫৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الاستخراج لأحكام الخراج]ـ

المؤلف: أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (المتوفى: 795هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[খরাজ সংক্রান্ত বিধানাবলি উদ্ঘাটন]

লেখক: আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بسم اللّه الرحمن الرحيم، وبه توفيقي

قال الشيخ الِإمام العالم العلامة أبو الفرج عبد الرجمن بن الشيخ الِإمام شهاب الدين أبي العباس أحمد بن رجب الحنبلي، أمتع اللّه ببقائه:

الحمد للّه الذي مهد لبني- آدم قبل أن يخلقهم بساط الأرض وجعلهم فوق ظهورها خلائف يخلف بعضهم فيها البعض، ومكن لعباده المؤمنين في مشارق الأرض ومغاربها لِإقامة ما شرعه من السنن والفرض وأشهد أن لا إله إلا اللّه وحده لا شريك له، المتصرف في خلقه بالِإبرام والنقض والعطاءوالمنع والرفع والخفض.

وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أشرف نبي حث على طاعة اللّه وحض، وأفضل رسول ظهر دينه على الدين كله في طول البلاد والعرض.

[صلى اللّه عليه وعلى آله وصحبه صلاة تدوم وتبقى، إلى يوم اللقاء والعرض] وسلم تسليماً.

 

أما بعد فإن اللّه تعالى خلق الخلق كلهم لعبادته. كما قال: (وما خلقت الجن والِإنس إلا ليعبدون). وأرسل الرسل كلهم للدعوة إلى توحيده وطاعته كما قال (وما أرسلنا من رسول إلا يوحى إليه، أنه لا إله إلا أنا فاعبدون)

ولما أهبط آدم وزوجته وأسكنهما في الأرض، أخذ عليهما أن من أطاعه من ذريتهما واتبع رسله كان من السعداء، ومن أعرضِ عن ذلك كان من الأشقياء، كما قال تعالى (قلنا اهبطوا منها

جميعاَ فإما يأتينكم مني هدى فمن تبع هداي فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون، والذين كفروا وكذبوا بآياتنا أولئك أصحاب النار هم فيها

خالدون) وقال تعالى (قال اهبطا منها جميعاً بعضكم لبعض عدو فإما يأتينكم مني هدى، فمن
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং তাঁর মাধ্যমেই আমার তাওফিক।

শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, আল্লামা আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে শায়খ ইমাম শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে রজব আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাঁর হায়াতকে দীর্ঘায়িত করে আমাদের উপকৃত করুন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদম সন্তানদের সৃষ্টির পূর্বেই তাদের জন্য পৃথিবীর জমিন প্রস্তুত করেছেন এবং তাদেরকে এর উপরিভাগে খলিফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছেন, যাতে তাদের একদল অপর দলের স্থলাভিষিক্ত হয়। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে আধিপত্য দান করেছেন, যাতে তারা তাঁর প্রবর্তিত সুন্নাত ও ফরয বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছু নির্ধারণ বা রদবদল করা, দান করা বা না করা এবং কাউকে উন্নত করা বা অবনমিত করার মাধ্যমে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব পরিচালনা করেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; তিনি শ্রেষ্ঠতম নবী যিনি আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান ও উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি সেই সর্বোত্তম রাসূল, যাঁর দীন পৃথিবীর দিগন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের সর্বত্র অন্য সমস্ত দীনের ওপর জয়যুক্ত হয়েছে।

[আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর—এমন দরুদ যা কিয়ামতের দিনের সাক্ষাৎ ও হিসাবের জন্য পেশ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ও স্থায়ী থাকবে]।

 

অতঃপর, মহান আল্লাহ সমস্ত মাখলুকাতকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: (আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি)। আর তিনি সমস্ত রাসূলকে তাঁর তাওহীদ ও আনুগত্যের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্যই প্রেরণ করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: (আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো)।

যখন তিনি আদম ও তাঁর স্ত্রীকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন এবং তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করলেন, তখন তিনি তাঁদের থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাঁর রাসূলগণের অনুসরণ করবে, তারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে; আর যারা এ থেকে বিমুখ হবে, তারা হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আমরা বললাম, তোমরা সকলেই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: (তিনি বললেন, তোমরা উভয়েই এখান থেকে একত্রে নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যে...)
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
اتبع هداي فلا يضل ولا يشقى، ومن أعرض عن ذكري فإن له معيشة ضنكاً ونحشره يوم القيامة أعمى)

فلما افترق بنو آدم وصاروا فرقاً شتى بين مؤمن وكافر وبر وفاجر، أرسل اللّه الرسل وأنزل معهم الكتب، وأقام بهم الحجج، لئلا يكون للناس على اللّه حجة بعد الرسل، وأمر عباده المؤمنين بدعوة الكافرين، وشرع جهادهم بالسيف والسنان، وبإقامة الحجج والبراهين، وجعل العاقبة

لأهل التقوى وأتباع المرسلين، وسلط على من استنكف عن عبادته واستكبر عنها جنده الغالبين، حتى صاروا عبيداً للعبيد عقوبة على امتناعهم من عبادة رب العالمين، وأورث المؤمنين ما كان خولهم من الأموال والأولاد والديار والأراضين. كما قال تعالى حاكياً عن نبيه موسى عليه السلام حيث قال لقومه (استعينوا باللّه واصبروا إن الأرض للّه يورثها من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين) وقال تعالى مخاطباً أمة محمد صلى الله عليه وسلم: (وعد اللّه الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات ليستخلفنهم في الأرض كما استخلف الذين من قبلهم وليمكنن لهم دينهمْ الذي ارتضى لهم وليبدلنهم من بعد خوفهم أمناً يعبدونني لا يشركون بي شيئاً

ومن كفر بعد ذلك فأولئك هم الفاسقون وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله

زوى لي الأرض فرأيت مشارقها ومغاربها وسيبلغ ملك أمتي ما زوي لي منها. وقد صدق اللّه وعده، ونصر عبده، وأعز جنده، وهزم الأحزاب وحدة، فمكن لأمة محمد صلى الله عليه وسلم في البلاد، وملكهم رقاب غيرهم من العباد وأورثهم أرضهم وديارهمِ وأموالهم بسبب ما شرعه لهم من الجهاد، ولم يقبض اللّه نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم حتى فتح عليه جزيرة العرب، وكثيراً من بلاد اليمن وغيرها من البلاد، فمن ذلك ما أخذه صلحاً ومنه، ما فتحه بالسيف عنوة ومنه ما أسلم أهله طوعاً. ثم افتتح خليفته، الصديق الأكبر كثيراً من أرض فارس والروم. ثم اتسعت رقعة
যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠাব।)

অতঃপর যখন আদম সন্তানগণ বিভক্ত হয়ে পড়ল এবং মুমিন ও কাফির এবং নেককার ও বদকার—এই বিভিন্ন দলে পরিণত হলো, তখন আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁদের সাথে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করলেন। তাঁদের মাধ্যমে তিনি প্রমাণসমূহ প্রতিষ্ঠিত করলেন, যাতে রাসূলদের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের কাফিরদেরকে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমে এবং প্রমাণ ও যুক্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা বিধিবদ্ধ করলেন। আর তিনি শুভ পরিণাম নির্ধারণ করলেন

মুত্তাকী ও রাসূলদের অনুসারীদের জন্য। আর যারা তাঁর ইবাদত করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং অহংকার করল, তিনি তাদের ওপর তাঁর বিজয়ী বাহিনীকে প্রবল করে দিলেন। ফলে তারা বান্দাদের দাসে পরিণত হলো, যা ছিল রাব্বুল আলামীনের ইবাদত থেকে বিরত থাকার শাস্তি। আর তিনি মুমিনদেরকে তাদের (কাফিরদের) সেই সব সম্পদ, সন্তান, ঘরবাড়ি ও ভূমির উত্তরাধিকারী বানালেন যা তিনি তাদেরকে দান করেছিলেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মূসা আলাইহিস সালাম-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যখন তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন: (তোমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এই যমীন আল্লাহর; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী দান করেন এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য)। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতকে সম্বোধন করে বলেন: (তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে খেলাফত দান করবেন যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে দান করেছিলেন এবং তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন; তারা আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না।

অতঃপর এর পরও যারা কুফরী করবে, তারাই ফাসিক)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ

আমার জন্য সমগ্র যমীনকে সংকুচিত করে দেখিয়েছেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখেছি। আর আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল।" আর আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্য করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, তাঁর বাহিনীকে সম্মানিত করেছেন এবং একাই সম্মিলিত শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করেছেন। ফলে তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতকে বিভিন্ন জনপদে শক্তিশালী করেছেন এবং অন্যান্য মানুষের ওপর তাদের কর্তৃত্ব দান করেছেন এবং জিহাদ বিধিবদ্ধ করার মাধ্যমে তাদেরকে তাদের (অন্যান্য জাতির) ভূমি, ঘরবাড়ি ও সম্পদের মালিক বানিয়েছেন। আর আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ কবজ করেননি যতক্ষণ না তিনি তাঁর জন্য আরব উপদ্বীপ এবং ইয়ামেনসহ আরও অনেক দেশ বিজয় করে দিলেন। এসবের মধ্যে কিছু এলাকা সন্ধির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, কিছু এলাকা তলোয়ারের মাধ্যমে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে এবং কিছু এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর তাঁর খলীফা সিদ্দিক আকবর পারস্য ও রোমের অনেক ভূমি জয় করেন। এরপর ভূখণ্ড আরও বিস্তৃত হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
الِإسلام وكثرت الفتوح على عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فكان أكثرها عنوة وبعضها صلحا. وكثر في زمانه أهل الِإسلام، وملك المسلمون أكثر بلاد العراق، ومصر والشام، فكان من رأيه السديد وأمره

الرشيد أن ترك أراضي العنوة التي فتحها اللّه تعالى عليه فيئاً لعموم المسلمين، يشترك في الانتفاع بغلتها عموم المجاهدين إلى يوم الدين، وضرب عليها خراجاً يؤخذ ممن يقر بيديه يكون عدة للمقاتلين، وكان ذلك برضى من الأنصار والمهاجرين وبإشارة أكابرهم بذلك كعلي بن أبي طالب ومعاذ بن جبل وغيرهما من أئمة أهل العلم والدين.

 

وقد استخرت اللّه تعالى في جمع كتاب يجمع أحكام الخراج، وما يتعلق به من تصوير المسائل وتقرير المذإهب وتحرير الدلائل والحجاج وسميته "كتاب الاستخراج لأحكام الخراج "، ورتبته على عشرة أبواب ليسهل كشف مسائله وتطلبها من الكتاب واللّه الموفق للصواب:

الباب الأول: في معنى الخراج في اللغة.

الباب الثاني: فيما ورد في السنة من ذكر الخراج.

الباب الثالث: في أصل وضع الخراج وأول من وضعه في الِإسلام.

الباب الرابع: فيما يوضع عليه الخراج من الأرض وما لا يوضع

الباب الخامس: في معنى الخراج وهل هو أجر أو ثمن [أو] جزية.

الباب السادس: فيما وضع عمر عليه الخراج من الأرض.

الباب السابع: في مقدار الخراج.

الباب الثامن: في حكم تصرفات أرباب الأرض الخراجية فيها.
আমিরুল মুমিনীন উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ইসলামের প্রসার ঘটে এবং বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পায়; এর অধিকাংশ ছিল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত এবং কিছু ছিল সন্ধির মাধ্যমে। তাঁর সময়ে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিমরা ইরাক, মিসর ও শামের অধিকাংশ ভূখণ্ডের মালিকানা লাভ করে। এটি ছিল তাঁর সঠিক মতামত ও বিচক্ষণ

সিদ্ধান্ত যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে যেসব ভূখণ্ড বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজয় করিয়েছেন সেগুলোকে তিনি সাধারণ মুসলিমদের জন্য 'ফাই' (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) হিসেবে রেখে দেন, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুজাহিদ এর উৎপন্ন ফসলের সুবিধা ভোগে অংশীদার হতে পারে। তিনি এগুলোর ওপর 'খারাজ' (ভূমি রাজস্ব) ধার্য করেন যা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে যাদের হাতে তা বহাল রাখা হয়েছে, যাতে এটি যোদ্ধাদের যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে গণ্য হয়। এটি আনসার ও মুহাজিরদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এবং তাদের অগ্রজ ব্যক্তিবর্গ যেমন আলী বিন আবি তালিব, মুয়াজ বিন জাবাল এবং ইলম ও দীনের অন্যান্য ইমামদের পরামর্শক্রমে সম্পাদিত হয়েছিল।

 

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করে খারাজের বিধানাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহের চিত্রায়ন, মাযহাবসমূহের বর্ণনা এবং দলিল ও যুক্তিসমূহ পর্যালোচনার সংবলিত একটি কিতাব সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমি এর নাম দিয়েছি "কিতাবুল ইস্তিখরাজ লি আহকামিল খারাজ" (খারাজের বিধানাবলি আহরণ সংক্রান্ত গ্রন্থ)। আমি এটি দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি যাতে এর মাসআলাসমূহ অনুসন্ধান করা ও কিতাব থেকে তা খুঁজে বের করা সহজ হয়। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা:

প্রথম অধ্যায়: আভিধানিক অর্থে খারাজের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর বর্ণনায় খারাজের উল্লেখ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: খারাজ প্রবর্তনের মূল ভিত্তি এবং ইসলামে সর্বপ্রথম কে এটি প্রবর্তন করেছেন।

চতুর্থ অধ্যায়: যে সকল ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করা হয় এবং যেগুলোর ওপর হয় না।

পঞ্চম অধ্যায়: খারাজের অর্থ এবং এটি কি পারিশ্রমিক, মূল্য নাকি জিযিয়া।

ষষ্ঠ অধ্যায়: উমর (রা.) যে সকল ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করেছিলেন।

সপ্তম অধ্যায়: খারাজের পরিমাণ প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: খারাজি ভূমির মালিকদের সেই ভূমিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
الباب التاسع: في حكم تصرفات الِإمام في أرض العنوة إذا صارت وقفاً [أو فيئاً].

الباب العاشر: في حكم مال الخراج ومصارفه والتصرف فيه.
নবম অধ্যায়: আনওয়া (বলপ্রয়োগে বিজিত) ভূমি যখন ওয়াকফ [অথবা ফাই] হিসেবে গণ্য হয়, তখন তাতে ইমামের পদক্ষেপ বা পরিচালনার বিধান প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়: খরাজী সম্পদ, এর ব্যয়ের খাত এবং তাতে হস্তক্ষেপ বা ব্যবহারের বিধান প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول: في معنى الخراج

قال بعضهم: هو المال الذي يجبى ويؤتى به لأوقات محدودة ذكره ابن عطية قال وقال الأصمعي الخراج الجعل مرة واحدة والخراج ما ردد لأوقات ما قال ابن عطية هذا فرق استعمالي وإلا فهما في اللغة بمعنى وقد ورد في كتاب الله: {أَمْ تَسْأَلُهُمْ خَرْجاً فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيْرٌ} (1). هذه قراءة ابن كثير ونافع وأبي عمرو وعاصم وقرأ حمزة والكسائي: {أَمْ تَسْأَلُهُمْ خَرْجاً فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيْرٌ}. وقرأ ابن عامر خرجا في الموضعين وقال تعالى في قصة ذي القرنين َ{فهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجاً} (2) وقرىء خراجا أيضا قال ابن عباس رضي الله عنه خرجا يعني أجرا وقال أبو عبيد الخراج في كلام العرب إنما هو الغلة ألا تراهم يسمعون غلة الأرض والدار والمملوك خرجا ومنه حديث النبي صلى الله عليه وسلم (3) أنه قضى بالخراج بالضمان وحديث (3) أن النبي صلى الله عليه وسلم لما حجمه أبوطيبة كلم أهله فوضعوا عنه من خراجه فسمى الغلة خراجا وقال الأزهري الخراج اسم لما يخرج من الفرائض في الأموال ويقطع على القرية وعلى مال الفيء ويقع على الجزية على الغلة والخراج المصدر انتهى والجزية تسمى خراجا وقد كتب النبي

--------------------------------------------

(1) المؤمنون 72.

(2) الكهف 94.

(3) هو في السنن باسناد حسن.
প্রথম অধ্যায়: খরাজ-এর অর্থ প্রসঙ্গে

কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন সম্পদ যা সংগ্রহ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে প্রদান করা হয়; ইবনে আতিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আল-আসমাঈ বলেছেন: 'খারজ' (خرج) হলো এককালীন প্রতিদান, আর 'খরাজ' (خراج) হলো যা নির্দিষ্ট সময়ে সময়ে বারবার প্রদান করা হয়। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এটি ব্যবহারের দিক থেকে পার্থক্য, নতুবা ভাষাগতভাবে উভয়টি একই অর্থবোধক। আল্লাহর কিতাবে এসেছে: "আপনি কি তাদের কাছে কোনো প্রতিদান চান? আপনার রবের প্রতিদানই সর্বোত্তম।" (১)। এটি ইবনে কাসির, নাফি‘, আবু আমর এবং আসেম-এর কিরাত। হামযাহ ও আল-কিসাঈ পড়েছেন: "আপনি কি তাদের কাছে কোনো প্রতিদান চান? আপনার রবের প্রতিদানই সর্বোত্তম।" ইবনে আমির উভয় স্থানে 'খারজান' পড়েছেন। মহান আল্লাহ যুল-কারনাইনের ঘটনায় বলেছেন: "তবে কি আমরা আপনার জন্য কোনো কর ধার্য করব?" (২) এটি 'খরাজান'-ও পড়া হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: 'খারজান' অর্থ হলো পারিশ্রমিক বা মজুরি। আবু উবায়দ বলেন: আরবদের কথায় 'খরাজ' বলতে মূলত লভ্যাংশ বা উৎপাদনকে বুঝায়। আপনি কি দেখেন না তারা জমি, বাড়ি এবং দাসের উপার্জনকে 'খরাজ' বলে অভিহিত করে? এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস (৩), যেখানে তিনি ফয়সালা করেছেন যে, "লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার বিপরীতে প্রাপ্য" (আল-খরাজু বিদ-দামান)। এবং অপর একটি হাদিস (৩) হলো, আবু তাইবাহ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সিঙা লাগালেন, তখন তিনি তার মালিকপক্ষের সাথে কথা বললেন এবং তারা তার খরাজ (দৈনিক পাওনা) কমিয়ে দিল। এখানে তিনি উপার্জনকে 'খরাজ' নামে অভিহিত করেছেন। আল-আযহারী বলেন: সম্পদের ফরযকৃত অংশ থেকে যা বের করা হয়, কোনো গ্রাম বা 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ)-এর ওপর যা ধার্য করা হয়, তার নাম হলো খরাজ। এটি জিযিয়া এবং লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং 'খরাজ' হলো মূল ক্রিয়ামূল (মাসদার)। (উদ্ধৃতি শেষ)। জিযিয়াকেও খরাজ বলা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মুমিনুন ৭২।

(২) আল-কাহাফ ৯৪।

(৩) এটি সুনান গ্রন্থসমূহে হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
صلى الله عليه وسلم إلى قيصر كتابا مع دحية يخبره بين إحدى ثلاث منها أن يقر له بخراج يجري عليه والحديث في مسند الامام أحمد وغيره.
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, তিনি দিহইয়ার মাধ্যমে কায়সারের নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন যাতে তাঁকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি সম্পর্কে অবহিত করেন; যার মধ্যে একটি ছিল তাঁর অনুকূলে কর প্রদানের স্বীকৃতি প্রদান করা যা তাঁর ওপর নিয়মিত ধার্য থাকবে। আর হাদীসটি ইমাম আহমাদের মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الباب الثاني: فيما ورد في السنة من ذكر الخراج قد وردت أحاديث تدل على وقوعه

تقريره في صحيح مسلم من طريق اسماعيل (1) عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "منعت العراق درهمها وقفيزها ومنعت الشام مديها ودينارها ومنعت مصر أردبها ودينارها وعدتم من حيث بدأتم وعدتم من حيث بدأتم وعدتم من حيث بدأتم شهد على ذلك لحم أبي هريرة ودمه". وروى أبو اسحق الفزاري في كتاب السير له عن الأوزاعي عن عروة ابن رويم قال: جاء نفر إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله إنا كنا حديثي عهد بجاهلية فكنا نصيب من الايتام والربا فأردنا أن نحبس أنفسنا في بيوت نعبد الله حتى نموت قال: فسر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: "إنكم ستجندون أجنادا ويكون لكم ذمة وخراج وستفتح لكم أرضون على سيف البحر منها مدائن وقصور فمن أدرك ذلك منكم فاستطاع أن يحبس نفسه في مدينة من تلك المدائن أو قصر من تلك القصور حتى يموت فليفعل". وكذلك رواه عمر بن عبد الواحد في مسائله عن الاوزاعي به وهو مرسل (2).

--------------------------------------------

(1) كذا بالاصل والصواب كما في الصحيح سهيل وهو ابن أبي صالح.

(2) وصله أبو حاتم في الوحدان وابو زرعة في مسند الشاميين والبغوي في معجم الصحابة وابن عساكر في التاريخ من طريق عروة بن رؤيم عن شيخ من جرش عن سليمان رجل من الصحابة به.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহতে খরাজ (ভূমি রাজস্ব) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। খরাজ যে কার্যকর হবে সে সম্পর্কে হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

সহীহ মুসলিমে ইসমাঈল (১) থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইরাক তার দিরহাম ও কাফীয (পরিমাপক) আটকে দেবে, সিরিয়া তার মুদ ও দিনার আটকে দেবে এবং মিশর তার ইরদাব ও দিনার আটকে দেবে; আর তোমরা সেই অবস্থায় ফিরে যাবে যেখান থেকে শুরু করেছিলে, তোমরা সেই অবস্থায় ফিরে যাবে যেখান থেকে শুরু করেছিলে, তোমরা সেই অবস্থায় ফিরে যাবে যেখান থেকে শুরু করেছিলে। আবু হুরায়রার রক্ত ও মাংস এর ওপর সাক্ষ্য দিচ্ছে।" আবু ইসহাক আল-ফাযারী তাঁর ‘কিতাবুস সিয়ার’-এ আওযাঈ থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে রুয়াইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়াত থেকে নিকট অতীতেই ইসলামে এসেছি। আমরা ইয়াতীমদের মাল ও সুদ গ্রহণ করতাম। তাই আমরা চাচ্ছি নিজেদেরকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করতে। তিনি বলেন: এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "তোমরা অচিরেই সেনাবাহিনী হিসেবে সংগঠিত হবে এবং তোমাদের জন্য যিম্মা ও খরাজ নির্ধারিত হবে। সমুদ্র উপকূলে তোমাদের জন্য অনেক ভূখণ্ড বিজিত হবে, যাতে থাকবে বহু শহর ও অট্টালিকা। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই সময়টি পাবে এবং সক্ষম হবে ওই শহরগুলোর কোনো শহরে বা অট্টালিকাগুলোর কোনো অট্টালিকায় নিজেকে মৃত্যু পর্যন্ত আটকে রাখতে, সে যেন তা-ই করে।" একইভাবে উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ তাঁর 'মাসায়িল'-এ আওযাঈ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুরসাল (২)।

--------------------------------------------

(১) মূলে এমনই আছে, তবে সঠিক হলো সুহাইল, যেমনটি সহীহ (মুসলিমে) রয়েছে। তিনি হলেন ইবনে আবি সালিহ।

(২) আবু হাতিম 'আল-উহদান'-এ, আবু যুরআ 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ, বাগাবী 'মুজামুস সাহাবা'-এ এবং ইবনে আসাকির 'তারীখ'-এ উরওয়াহ ইবনে রুয়াইম থেকে, তিনি জারশের এক শায়খ থেকে, তিনি সুলাইমান নামক একজন সাহাবী থেকে এটি মাওসুল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
وجاءت أحاديث آخر تدل على كراهة الدخول فيه قال أبو داود في سننه باب في الدخول في أرض الخراج حدثنا هارون بن محمد بن بكار ابن بلال حدثنا محمد بن عيسى يعني ابن سميع حدثنا زيد بن واقد حدثني أبو عبد الله عن معاذ أنه قال: "من عقد الجزية في عنقه فقد برىء مما عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم". هذا موقوف وأبو عبد الله لا يعرف.

وأخرجه أبو عبيد عن هشام بن عمار عن صدقة بن خالد عن زيد بن واقد قال: حدثني أبو عبد الله مسلم بن مشكم قال: "من عقد الجزية في عنقه فقد برىء مما عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم". هذه الرواية أصح وهي مرسلة وصدقة بن خالد أحفظ من ابن سميع ثم قال أبو داود حدثنا حيوة بن شريح الحضرمي حدثنا بقية حدثني عمارة بن أبي الشعثاء حدثني سنان بن قيس حدثني شبيب بن نعيم حدثني يزيد بن خمير حدثني أبو الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أخذ أرضا بجزيتها فقد استقال هجرته ومن نزع صغار كافر من عنقه فجعله في عنقه فقد و لى الاسلام ظهره". قال: فسمع مني خالد بن معدان هذا الحديث فقال لي أشبيب حدثك قلت نعم قال فإذا قدمت فسله أن يكتب لي: بالحديث قال فكتبه له فلما قدمت سألني ابن معدان القرطاس فأعطيته فلما قرأه ترك ما في يده من الارض حين سمع ذلك قال أبو داود هذا يزيد بن خمير اليزني ليس هو صاحب شعبة انتهى ومراده أن يزيد بن خمير هذا غير الذي يروي عنه شعبة وهو كذلك ويزيد هذا يزني متقدم يحدث عنه بشير بن عبيدالله وغيره وشيخ شعبة يروي عنه صفوان بن عمرو ونحوه وشبيب بن نعيم الكلاعي يقال له أيضا شبيب بن أبي روح الوحاظي الحمصي يروي عنه حريز الرحبي وغيره ذكره ابن حبان في ثقاته وقال أبو داود شيوخ حريز كلهم ثقات وسنان بن قيس ويقال سيار ذكره ابن حبان في ثقاته

وروى عنه معاوية بن صالح أيضا وعمارة بن أبي الشعثاء وأخراج
আরও কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা এতে (খারাজি জমিতে) প্রবেশের অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে ‘খারাজি জমিতে প্রবেশ’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলেন: হারুন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাকার ইবনে বিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা অর্থাৎ ইবনে সামি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাইদ ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ আমার নিকট মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের ঘাড়ে জিজিয়ার বোঝা চাপিয়ে নিল, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আদর্শের উপর ছিলেন তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।" এটি একটি মাওকুফ বর্ণনা এবং আবু আব্দুল্লাহ নামক রাবী অপরিচিত।

আবু উবাইদ এটি হিশাম ইবনে আম্মার থেকে, তিনি সাদাকাহ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি জাইদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুসলিম ইবনে মিশকাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি নিজের ঘাড়ে জিজিয়ার বোঝা চাপিয়ে নিল, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আদর্শের উপর ছিলেন তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।" এই বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ এবং এটি মুরসাল; আর সাদাকাহ ইবনে খালিদ ইবনে সামি'র তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য মুখস্থকারী। অতঃপর আবু দাউদ বলেন: হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উমারা ইবনে আবুল শা'সা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সিনান ইবনে কায়স আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শাবিব ইবনে নুয়াইম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াজিদ ইবনে খুমাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু দারদা (রা.) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি জিজিয়াসহ কোনো জমি গ্রহণ করল, সে যেন তার হিজরত বাতিল করে দিল; আর যে ব্যক্তি কোনো কাফিরের অধীনতার লাঞ্ছনা নিজের ঘাড় থেকে সরিয়ে তা নিজের ঘাড়ে তুলে নিল, সে ইসলামের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করল।" বর্ণনাকারী বলেন: খালিদ ইবনে মা'দান আমার নিকট থেকে এই হাদিসটি শুনলেন এবং আমাকে বললেন, শাবিব কি আপনার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যখন আপনি তার কাছে যাবেন, তখন তাকে বলবেন যেন তিনি হাদিসটি আমার জন্য লিখে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সেটি তার জন্য লিখে দিলেন। যখন আমি আসলাম, ইবনে মা'দান আমার কাছে সেই কাগজটি চাইলেন এবং আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম। যখন তিনি তা পাঠ করলেন, এই হাদিস শোনার পর তার হাতে যে জমি ছিল তা তিনি ছেড়ে দিলেন। আবু দাউদ বলেন: এই ইয়াজিদ ইবনে খুমাইর আল-ইয়াজানি সেই ব্যক্তি নন যিনি শু'বাহর উস্তাদ। সমাপ্ত। তার উদ্দেশ্য হলো, এই ইয়াজিদ ইবনে খুমাইর সেই ব্যক্তি নন যার থেকে শু'বাহ বর্ণনা করেন, আর বিষয়টি তেমনই। এই ইয়াজিদ হলেন একজন পূর্ববর্তী ইয়াজানি রাবী, যার থেকে বশির ইবনে উবাইদুল্লাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আর শু'বাহর উস্তাদ থেকে সাফওয়ান ইবনে আমর ও তার সমসাময়িকরা বর্ণনা করেন। আর শাবিব ইবনে নুয়াইম আল-কালা'ঈকে শাবিব ইবনে আবু রুহ আল-ওয়াহাজি আল-হিমসিও বলা হয়, যার থেকে হারিজ আল-রাহবি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তার 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য রাবীদের তালিকা) গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ বলেন: হারিজের সকল উস্তাদই নির্ভরযোগ্য। আর সিনান ইবনে কায়স—কাউকে তাকে সাইয়্যারও বলা হয়—ইবনে হিব্বান তাকে তার 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তার থেকে মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ এবং উমারা ইবনে আবুল শা'সাও বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটি বের করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا الحديث الحافظ أبو أحمد الحاكم في كتاب الكنى من طريق المعافي بن عمران عن أبي عبد الرحمن الشامي عن عمارة بن عثمان القرشي عن شبيب بن نعيم الكلاعي عن يزيد بن خمير عن أم الدرداء عن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه وقال هذا حديث منكر رواية من فوق المعافي الى يزيد بن خمير مجاهيل قال وأبو عبد الرحمن خليق أن يكون محمد بن قيس المصلوب والله أعلم وفي هذا الاسناد مخالفة لرواية بقية التي أخرجها أبو داود وفيه زيادة أم الدرداء.

وفيه حديث آخر من رواية نصير بن محمد الرازي صاحب ابن المبارك عن عثمان بن زائدة عن الزبير بن عدي عن أنس بن مالك رضي الله عنه رفعه قال: "من أقر بالخراج وهو قادر على أن لا يقر به فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا". قال ابن أبي حاتم حدثنا صالح بن أحمد بن حنبل قال سألت أبي عن هذا الحديث فقال هذا حديث منكر ما سمعنا بهذا وقال ابن أبي حاتم وقال أبي هذا حديث باطل لا أصل له وقال الميموني كتبت الى أحمد أسأله عن هذا الحديث فأتاني الجواب ما سمعنا بهذا هو حديث منكر.

وقد روي عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه كان يكره الدخول في الخراج (1) وإنما كان الخراج في عهد عمر رضي الله عنه ونقل صالح في مسائله عن أبيه نحو هذا الكلام وخرج هذا الحديث يحيى بن آدم في كتابه عن عبيد الله الاشجعي عن سفيان الثوري عن الزبير بن عدي عن رجل من جهينة عن النبي صلى الله عليه وسلم وهذا أشبه والجهني مجهول لا يعرف.

--------------------------------------------

(1) رواه يحيى بن ادم في كتاب الخراج.
এই হাদিসটি হাফিজ আবু আহমদ আল-হাকিম তাঁর 'কিতাবুল কুনা'-তে মুআফি ইবনে ইমরান-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আবদুর রহমান আশ-শামি থেকে, তিনি উমারা ইবনে উসমান আল-কুরাশি থেকে, তিনি শাবিব ইবনে নুয়াইম আল-কালাঈ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে খুমাইর থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস; মুআফির পরবর্তী স্তর থেকে ইয়াজিদ ইবনে খুমাইর পর্যন্ত বর্ণনাকারীরা মাজহুল (অপরিচিত)। তিনি আরও বলেন, আবু আবদুর রহমান সম্ভবত মুহাম্মদ ইবনে কায়েস আল-মাসলুব হতে পারেন; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এই সনদে বাকিয়্যাহ-এর বর্ণনার সাথে বৈপরীত্য রয়েছে যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এতে উম্মুদ দারদার অতিরিক্ত উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইবনুল মুবারকের সাথী নুসাইর ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি-এর সূত্রে বর্ণিত অন্য একটি হাদিস রয়েছে; তিনি উসমান ইবনে জাইদাহ থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে আদি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি খারাজ (ভূমি কর) মেনে নিল অথচ সে তা না মানতে সক্ষম ছিল, তার ওপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।" ইবনে আবি হাতিম বলেন, সালিহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এটি একটি মুনকার হাদিস, আমরা এর কথা শুনিনি। ইবনে আবি হাতিম বলেন, আমার পিতা বলেছেন: এটি একটি বাতিল হাদিস, যার কোনো ভিত্তি নেই। আল-মাইমুনি বলেন, আমি আহমদ (ইবনে হাম্বল)-এর কাছে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পত্র লিখলাম। উত্তরে তিনি জানালেন: আমরা এর কথা শুনিনি, এটি একটি মুনকার হাদিস।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি খারাজ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে অপছন্দ করতেন (১)। আর মূলত খারাজ ব্যবস্থা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ছিল। সালিহ তাঁর 'মাসায়েল'-এ তাঁর পিতা থেকে এই কথার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আদম তাঁর কিতাবে উবায়দুল্লাহ আল-আশজাঈ থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে আদি থেকে, তিনি জুহাইনা গোত্রের একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর এটিই অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়, তবে জুহানি ব্যক্তিটি মাজহুল (অপরিচিত), তাকে চেনা যায় না।

--------------------------------------------

(১) ইয়াহইয়া ইবনে আদম তাঁর 'কিতাবুল খারাজ'-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الباب الثالث: في أصل وضع الخراج وأول من وضعه في الاسلام

ذكروا أن سواد العراق كان الخراج موضوعا عليه قبل الاسلام في زمن ملوك الفرس فذكر يحيى بن آدم في كتاب الخراج عن الحسن بن صالح قال: سوادنا هذا يعني سواد الكوفة سمعنا أنه كان في أيدي النبط فظهر عليهم أهل فارس فكانوا يؤدون اليهم الخراج فلما ظهر المسلمون على أهل فارس تركوا السواد ومن لم يقاتلهم من النبط والدهاقين على حالهم ووضعوا الجزية على رؤس الرجال ومسحوا عليهم ما كان في أيديهم من الارض ووضعوا عليها الخراج وقبضوا على كل أرض ليست في يد أحد فكانت صوافى إلى الامام قال الناصري من أصحابنا في كتاب المستوعب ذكر شيخنا في شرحه يعني أبا حكيم النهرواني أنه وجد في بعض الكتب عن أبي الحسين اسحاق بن يحيى بن شريح أن السواد كان في القديم علىالمقاسمة وأول من نقله من المقاسمة الى الخراج قباز بن فيروز وكان سبب نقله من المقاسمة الى الخراج أن كسرى قباز بن فيروز ركب في بعض الايام للتصيد فانفرد عن أصحابه في طلب طريدة فأشرف على بستان فيه ثمرة وامرأة تخبز ومعها ابن لها فكان الصبي كلما هم بأخذ شيء من الثمرة من البسان تركت خبزها ومنعته من تناول شيء من الثمرة فناداها كسرى قباز لم منعت الصبي من ذلك؟ فقالت: إنها مقاسمة للملك فيها حق ولم يأت عامله ليقبضه فرق لها قباز وأمر باطلاق
তৃতীয় অধ্যায়: খরাজ (ভূমি কর) প্রবর্তনের মূল ভিত্তি এবং ইসলামে সর্বপ্রথম কে তা প্রবর্তন করেছিলেন সে সম্পর্কে

তারা উল্লেখ করেছেন যে, পারস্য সম্রাটদের আমলে ইসলামের পূর্বেই ইরাকের সাওয়াদ (উর্বর ভূমি) অঞ্চলের ওপর খরাজ ধার্য ছিল। ইয়াহইয়া ইবনে আদম 'কিতাবুল খরাজ'-এ হাসান ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের এই সাওয়াদ—অর্থাৎ কুফার সাওয়াদ অঞ্চল—সম্পর্কে আমরা শুনেছি যে, এটি নাতীয়দের (নবতী) অধিকারে ছিল। অতঃপর পারস্যবাসীরা তাদের ওপর বিজয় লাভ করে এবং তারা পারস্যবাসীদের খরাজ প্রদান করত। যখন মুসলমানরা পারস্যবাসীদের ওপর বিজয়ী হলেন, তখন তারা সাওয়াদ অঞ্চল এবং ঐসব নাতীয় ও দেহকানদের (ভূমিমালিক) তাদের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখলেন যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। তারা পুরুষদের ওপর জিজিয়া ধার্য করলেন এবং তাদের অধিকারে থাকা ভূমি জরিপ করে তার ওপর খরাজ নির্ধারণ করলেন। আর যে সকল ভূমি কারো অধিকারে ছিল না, সেগুলো তারা বাজেয়াপ্ত করলেন এবং তা ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) খাস জমিতে পরিণত হলো। আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের মধ্যে আল-নাসেরী তার 'আল-মুস্তাউয়িব' গ্রন্থে বলেছেন, আমাদের শাইখ—অর্থাৎ আবু হাকিম আল-নাহরওয়ানী—তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো কোনো কিতাবে আবুল হুসাইন ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে শুরাইহ-এর সূত্রে পেয়েছেন যে, প্রাচীনকালে সাওয়াদ অঞ্চলের কর ব্যবস্থা ছিল 'মুকাসামা' (ফসলের অংশীদারিত্ব) ভিত্তিক। আর সর্বপ্রথম যিনি একে মুকাসামা থেকে খরাজে রূপান্তর করেছিলেন তিনি হলেন কুবাজ ইবনে ফিরোজ। একে মুকাসামা থেকে খরাজে রূপান্তরের কারণ ছিল এই যে, সম্রাট কুবাজ ইবনে ফিরোজ একদিন শিকার করতে বের হয়েছিলেন। শিকারের সন্ধানে তিনি তার সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তিনি ফলমূল সমৃদ্ধ একটি বাগানের নিকট পৌঁছালেন, যেখানে এক নারী রুটি তৈরি করছিল এবং তার সাথে তার এক পুত্রসন্তান ছিল। শিশুটি যখনই বাগান থেকে কোনো ফল ছিঁড়তে উদ্যত হচ্ছিল, মহিলাটি তার রুটি তৈরির কাজ ফেলে তাকে ফল নিতে বাধা দিচ্ছিল। সম্রাট কুবাজ তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি শিশুটিকে ফল নিতে বাধা দিচ্ছ? মহিলাটি উত্তর দিল: এটি মুকাসামা (অংশীদারিত্বমূলক) বাগান, এতে রাজার হক রয়েছে, অথচ রাজার প্রতিনিধি এখনও তা গ্রহণ করতে আসেনি। কুবাজ তার প্রতি দয়াপরবশ হলেন এবং তা মওকুফ করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الغلات والثمار لأهل السواد ووضع على ذلك المسايح وألزم أهلها الخراج.

ولم يزل السواد على المساحة والخراج الى أن زال ملك الاكاسرة عنه وافتتحه عمر رضي الله عنه على يد سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه وقد تقدم قول الامام أحمد رضي الله عنه إنما كان الخراج على عهد عمر رضي الله عنه يعني أنه لم يكن في الاسلام قبل خلافة عمر رضي الله عنه ولا ريب أن عمر رضي الله عنه وضع الخراج على أرض السواد ولم يقسمها بين الغانمين وكذلك غيرها من أراضي العنوة.

وذكر أبو عبيد أن علي بن أبي طالب رضي الله عنه ومعاذ بن جبل أشارا على عمر رضي الله عنهم بذلك.

وروي من طريق اسرائيل عن أبي سحاق عن حارثة بن مضرب عن عمر رضي الله عنه أنه أراد أن يقسم السواد بين المسلمين فأمر أن يحصوا فوجد الرجل نصيبه ثلاثة من الفلاحين فشاور في ذلك فقال له علي ابن أبي طالب دعهم يكونوا مادة للمسلمين فتركهم وبعث عليهم عثمان ابن حنيف فوضع عليهم ثمانية وأربعين وأربعة وعشرين واثنى عشر (1).

ومن طريق يحيى بن حمزة حدثني تميم بن عطية العنسي أخبرني عبد الله بن قيس قال: قدم عمر رضي الله عنه الجابية فأراد قسم الأرض بين المسلمين فقال معاذ رضي الله عنه إذن والله ليكونن ما تكره إنك إن قسمتها اليوم صار الريع العظيم في أيدي القوم ثم يبيدون فيصير ذلك الى الرجل الواحد أو المرأة ثم يأتي من بعدهم قوم يسدون في الاسلام مسدا وهم لا يجدون شيئا فانظر أمرا يسع أولهم وآخرهم وفي رواية أخرى له قال فصار عمر الى قول معاذ رضي الله عنهما.

--------------------------------------------

(1) يعني درهما كما رواية البهقي من طريق محمد بن عبيد الله الثقفي.
সাওয়াদ অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য শস্য ও ফলের ওপর ভিত্তি করে তিনি জরিপ পদ্ধতি নির্ধারণ করেন এবং তাদের ওপর খারাজ (ভূমি কর) ধার্য করেন।

পারস্য সম্রাটদের শাসন বিলুপ্ত হওয়া এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে বিজিত হওয়া পর্যন্ত সাওয়াদ অঞ্চলটি ভূমি জরিপ ও খারাজের ব্যবস্থার ওপর বহাল ছিল। ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত উক্তি অনুযায়ী, খারাজের ব্যবস্থা কেবল উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগেই প্রবর্তিত হয়েছিল। অর্থাৎ, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের পূর্বে ইসলামে খারাজের প্রচলন ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাওয়াদ অঞ্চলের ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করেছিলেন এবং তা গনীমত লাভকারীদের মধ্যে বণ্টন করেননি। অনুরূপভাবে অন্যান্য বিজিত (আনওয়াহ) ভূমির ক্ষেত্রেও তিনি একই নীতি অবলম্বন করেছিলেন।

আবু উবাইদ উল্লেখ করেছেন যে, আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং মুয়াজ বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ইসরাঈলের সূত্রে আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসা বিন মুদাররিব থেকে এবং তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাওয়াদ অঞ্চলের ভূমি মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করার ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি তখন লোক গণনার নির্দেশ দিলে দেখা গেল যে, জনপ্রতি ভাগে তিনজন করে কৃষক পড়ে। তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, "তাদেরকে এভাবেই থাকতে দিন যেন তারা মুসলমানদের জন্য আয়ের উৎস হতে পারে।" ফলে তিনি তা বণ্টন করা থেকে বিরত থাকলেন এবং উসমান বিন হুনাইফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সেখানে পাঠালেন। তিনি তাদের ওপর যথাক্রমে ৪৮, ২৪ এবং ১২ (দিরহাম) ধার্য করলেন (১)।

ইয়াহইয়া বিন হামজার সূত্রে তামীম বিন আতিয়্যা আল-আনাসি বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ বিন কায়স বলেছেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জাবিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে মুসলমানদের মধ্যে ভূমি বণ্টন করার ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আল্লাহর শপথ, এমনটি করলে নিশ্চিতভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যা আপনি অপছন্দ করেন। আপনি যদি আজ এটি বণ্টন করে দেন, তবে বিশাল আয়ের উৎসগুলো এই একদল লোকের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। অতঃপর তারা মারা গেলে সেই সম্পদ মাত্র একজন পুরুষ বা একজন মহিলার হাতে চলে যাবে। এরপর এমন এক প্রজন্ম আসবে যারা ইসলামের জন্য অনেক কাজ করবে অথচ তারা কিছুই পাবে না। সুতরাং এমন কোনো ব্যবস্থা দেখুন যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সকলের জন্যই সংকুলান হয়।" অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ দিরহাম, যেমনটি বাইহাকীর বর্ণনায় মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আস-সাকাফীর সূত্রে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وروي أبو زرعة الدمشقي وأخرجه من طريقه الحافظ أبو القاسم ابن عساكر عن هشام بن حماد عن الوليد بن مسلم عن تميم بن عطية حدثني عبد الله بن قيس الهمداني قال: كنت فيمن يلقي عمر بن الخطاب رضي الله عنه مقدمة من الشام والجابية يريد قسم ما فتحناه من الأرضين قال فتلقيناه خلف أذرعات مع أبي عبيدة رضي الله عنه فذكر الحديث وقال فيه فمضى عمر رضي الله عنه حتى نزل الجابية فذكر عمر رضي الله عنه قسم الأرضين فأشار عليه معاذ بن جبل رضي الله عنه بايقافها فأجابه عمر رضي الله عنه الى ايقافها وعبد الله بن قيس قال أحمد ثقة وقال أبو حاتم صالح وتميم بن عطية قال أبو حاتم محله الصدق.

قلت أما ما أشار به معاذ رضي الله عنه فهو وضع الخراج على الأرض وتركها فيأ للمسلمين وأما ما أشار به علي رضي الله عنه فإنما هو في رقاب الأسارى ولذلك بعث عثمان بن حنيف فوضع عليهم الجزية.

وقد جاء ذلك صريحا في رواية أخرى فرواه الحسن بن زياد اللؤلؤي في كتاب الخراج له عن اسرائيل باسناده المتقدم (1) ولفظه أنا عمر رضي الله عنه لما افتتح السواد أراد أن يقسم رؤس الرجال بين المسلمين وذكر بقية الحديث وقال في آخره: بعث عثمان بن حنيف فوضع على رؤس الرجال من أهل السواد علىالموسر منهم ثمانية وأربعين درهما وعلى المقتصد أربعة وعشرين وعلى الدون احدى عشر درهما وجعل ذلك جزية عليهم يؤدونها في كل عام وقد روي أن عمر

--------------------------------------------

(1) يعني عن أبي إسحاق عن حارثة بن مضرب أن عمر لما افتتح السواد الخ.
আবু যুরআ আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র থেকে আল-হাফিজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির এটি সংকলন করেছেন; হিশাম ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তামীম ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন যে আবদুল্লাহ ইবনে কাইস আল-হামদানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যখন তিনি শাম এবং জাবিয়া থেকে আসছিলেন এবং আমাদের বিজিত ভূমিগুলো বণ্টন করতে চাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা আবু উবাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আদরিআতের পেছনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি। এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অগ্রসর হলেন এবং জাবিয়াতে অবতরণ করলেন। অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ভূমি বণ্টনের কথা উল্লেখ করলে মুআয ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে সেগুলো বণ্টন না করে স্থগিত (সাধারণ সম্পদ হিসেবে) রাখার পরামর্শ দেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ভূমিগুলো স্থগিত রাখার ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেন। আর আবদুল্লাহ ইবনে কাইস সম্পর্কে ইমাম আহমদ বলেছেন তিনি বিশ্বস্ত, এবং আবু হাতিম বলেছেন তিনি নেককার। আর তামীম ইবনে আতিয়্যাহ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন যে তাঁর স্থান সত্যবাদিতার স্তরে।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা পরামর্শ দিয়েছিলেন তা ছিল ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করা এবং তা মুসলমানদের জন্য 'ফায়' (যুদ্ধে প্রাপ্ত সাধারণ সম্পদ) হিসেবে রেখে দেওয়া। আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা পরামর্শ দিয়েছিলেন তা ছিল যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে, আর সেই কারণেই তিনি উসমান ইবনে হুনাইফকে পাঠিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করেছিলেন।

অন্য এক বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে এসেছে। আল-হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লু'লুয়ি তাঁর কিতাবুল খারাজ-এ ইসরাঈল থেকে তাঁর পূর্ববর্তী সনদে (১) এটি বর্ণনা করেছেন। এর পাঠ হলো: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন আস-সাওয়াদ বিজয় করলেন, তখন তিনি মুসলমানদের মধ্যে পুরুষদের বণ্টন করে দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। এরপর তিনি হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করেন এবং শেষে বলেন: তিনি উসমান ইবনে হুনাইফকে পাঠালেন এবং তিনি আস-সাওয়াদবাসীদের মধ্য থেকে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর আটচল্লিশ দিরহাম, মধ্যবিত্তদের ওপর চব্বিশ দিরহাম এবং নিম্নবিত্তদের ওপর এগারো দিরহাম ধার্য করলেন এবং একে তাদের ওপর জিজিয়া হিসেবে নির্ধারণ করলেন যা তারা প্রতি বছর প্রদান করবে। উমর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে—

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসাহ ইবনে মুদাররিব থেকে যে, উমর যখন আস-সাওয়াদ বিজয় করলেন... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
رضي الله عنه خيرهم بين الاسلام والجزية فاختاروا الجزية فلم يضرب الجزية عليهم بغير اختيارهم.

فروى يحيى بن آدم في كتاب الخراج حدثني محمد بن طلحة بن مصرف عن محمد بن المساور عن شيخ من قريش عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه أتاه رؤساء السواد وفيهم ابن الرفيل فقالوا: يا أمير المؤمنين إنا قوم من أهل السواد وكان أهل فارس قد ظهروا علينا وأضروا بنا ففعلوا وفعلوا حتى ذكروا النساء فلما سمعنا بكم فرحنا بكم وأعجبنا ذلك فلم نرد كفكم عن شيء حتى أخرجتموهم عنا فبلغنا أنكم تريدون أن تسترقونا فقال عمر ر ضي الله عنه فالآن إن شئتم فالاسلام وإن شئتم فالجزية فاختاروا الجزية ولعل عمر رضي الله عنه أراد قسمة الارض وأهلها جميعا ويدل عليه ما رواه الاعمش عن أبي اسحاق عن طلحة بن مصرف قال قسم عمر رضي الله عنه السواد بين أهل الكوفة فأصاب كل رجل منهم ثلاثة فلاحين فقال له علي رضي الله عنه فما يكون لمن بعدهم فتركهم أخرجه ابن أبي شيبة والاثرم.

وفي صحيح البخاري من رواية زيد بن أسلم عن ابيه أنه سمع عمر ابن الخطاب رضي الله عنه يقول: أما والذي نفسي بيده لولا أن أترك آخر الناس بيانا ليس لهم شيء ما فتحت على قرية إلا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خبير ولكني أتركها خزانة لهم يقتسمونها.

ولم يزل أمر السواد على الخراج الى دولة بني العباس فجعله المنصور مقاسمة حيث رخصت الاسعار فلم تف الغلات بخراجها وخرب السواد فجعله مقاسمة ثم تبعه على ذلك ابنه المهدي وجعله مقاسمة بالثلث فيما سقي بالدوالي وبالربع فيما سقي بالدواليب والنواضح.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি তাদের ইসলাম এবং জিজিয়ার মাঝে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, ফলে তারা জিজিয়া বেছে নিয়েছিল। সুতরাং তিনি তাদের সম্মতি ব্যতিরেকে তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করেননি।

ইয়াহইয়া ইবনে আদম 'কিতাবুল খারাজ'-এ বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনে মুসাররিফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাওয়ার থেকে, তিনি কুরাইশ বংশের একজন শায়খ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) অঞ্চলের প্রধানগণ তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং তাদের মধ্যে ইবনুর রাফিলও উপস্থিত ছিলেন। তারা বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমরা সাওয়াদ অঞ্চলের অধিবাসী। ইতিপূর্বে পারস্যের লোকেরা আমাদের ওপর বিজয়ী হয়েছিল এবং তারা আমাদের ওপর অনেক জুলুম করেছিল। তারা আমাদের সাথে অত্যন্ত মন্দ আচরণ করেছিল—এমনকি তারা নারীদের লাঞ্ছিত করার কথাও উল্লেখ করল। অতঃপর যখন আমরা আপনাদের আগমনের খবর শুনলাম, আমরা আনন্দিত হলাম এবং এটি আমাদের অত্যন্ত মুগ্ধ করল। সুতরাং আমরা আপনাদের কোনো কিছু থেকেই বিরত রাখতে চাইনি যতক্ষণ না আপনারা তাদের আমাদের অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেছেন। কিন্তু এখন আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনারা আমাদের দাস হিসেবে গ্রহণ করতে চান।" তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে ইসলাম গ্রহণ করো, অথবা চাইলে জিজিয়া প্রদান করো।" তখন তারা জিজিয়াই পছন্দ করে নিল। সম্ভবত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ভূমি এবং এর অধিবাসী সকলকেই বণ্টন করতে চেয়েছিলেন। আল-আমাশ আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একথাই নির্দেশ করে। তিনি বলেন, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুফাবাসীদের মধ্যে সাওয়াদের ভূমি বণ্টন করেছিলেন, যার ফলে তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তিনজন করে কৃষক পেয়েছিল। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন, "তাহলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী অবশিষ্ট থাকবে?" তখন তিনি সেই সিদ্ধান্ত ত্যাগ করলেন। এটি ইবনে আবি শাইবা এবং আল-আছরাম উদ্ধৃত করেছেন।

সহিহ বুখারিতে জায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: "শোনো, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি যদি পরবর্তী প্রজন্মের লোকদের নিঃস্ব অবস্থায় রেখে যাওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে কোনো জনপদ বিজিত হওয়ার পর আমি তা অবশ্যই বণ্টন করে দিতাম, যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার বণ্টন করেছিলেন। কিন্তু আমি এগুলো তাদের জন্য একটি সঞ্চিত ভাণ্ডার হিসেবে রেখে যাচ্ছি যা তারা পর্যায়ক্রমে ভোগ করবে।"

সাওয়াদ অঞ্চলের খারাজ (ভূমি কর) ব্যবস্থা আব্বাসীয় খেলাফতের আমল পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল। অতঃপর আল-মনসুর একে 'মুকাসামা' (উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ) পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করেন। কারণ সেই সময় পণ্যের দাম কমে গিয়েছিল এবং উৎপাদিত ফসল দ্বারা নির্ধারিত খারাজ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না, ফলে সাওয়াদ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তিনি একে মুকাসামা পদ্ধতিতে নিয়ে আসেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র আল-মাহদী তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তিনি মুকাসামার হার নির্ধারণ করেন—যেসব জমি বালতির সাহায্যে সেচ দেওয়া হতো সেখানে এক-তৃতীয়াংশ এবং যেসব জমি চাকা বা সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হতো সেখানে এক-চতুর্থাংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الرابع: فيما يوضع عليه الخراج من الأرضين وما لا يوضع

الأرض أما أن تكون للمسلمين أو للكفار فأماأرض المسلمين فهي قسمان: أحدهماأرض لها مالك معين من المسلمين وهي ما أحياها المسلمون من غير أرض العنوة أو ما أسلم أهلها عليها ولم يكن ضرب عليهم خراج قبل الاسلام فهذه لاخراج عليها وكذلك ما ملكها بعض المسلمين من الكفار ابتداء كأرض قاتلوا عليها الكفار وقسمها الامام بين الغانمين فكل هذه من أراضي المسلمين مملوكة لمن هي في يده ولا خراج على المسلم في خالص ملكه الذي لا حق لأحد فيه وهذا لا يعلم فيه خلاف ونص عليه الامام أحمد في: إحياء الموات وفيمن أسلم على أرض بيده ونقل حنبل عنه فيمن أسلم على شيء فهو له ويؤخذ منه خراج الارض قال القاضي: هذا محمول على أنه كان في يده أرض من أرض الخراج فلا يسقط خراجها بإسلامه.

وفي مسائل حرب قال احمد مرة: أرض الصلح هي خراج قيل: كيف قال الرجل يكون في يده الأرض فيسلم ويصالح على أرضه؟! فهذا هو خراج قال حرب هذا عندي وهم ولا أدري كيف هذا لأن الرجل اذا لم يسلم وصالح على أرضه أخذ منه ما صالح عليه فإذا أسلم بعد الصلح فان أرضه عشر انما الخراج العنوة.
চতুর্থ অধ্যায়: কোন প্রকার ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করা হবে এবং কোনটির ওপর করা হবে না

ভূমি হয় মুসলিমদের হবে অথবা কাফিরদের। মুসলিমদের ভূমি দুই প্রকার: প্রথমত, এমন ভূমি যার নির্দিষ্ট মুসলিম মালিক রয়েছে। এটি হলো সেই ভূমি যা মুসলিমগণ অনাবাদী ভূমি থেকে আবাদ করেছে এবং যা 'আনোয়া' (যুদ্ধলব্ধ) ভূমি নয়, অথবা সেই ভূমি যার অধিবাসীরা তার ওপর ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং ইসলামের পূর্বে তাদের ওপর কোনো খারাজ ধার্য ছিল না; সুতরাং এই ভূমির ওপর কোনো খারাজ নেই। অনুরূপভাবে, যা কোনো মুসলিম প্রারম্ভিকভাবে কাফিরদের থেকে মালিকানা লাভ করেছে, যেমন সেই ভূমি যার ওপর তারা কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করেছে এবং ইমাম তা গনীমত গ্রহণকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। এই সবই মুসলিমদের ভূমি যা তার দখলদারের মালিকানাধীন। আর মুসলিমের জন্য তার নিছক ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ভূমিতে কোনো খারাজ নেই, যেখানে অন্য কারো হক নেই। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। ইমাম আহমাদ 'আবাদহীন ভূমি পুনরুজ্জীবিতকরণ' অধ্যায়ে এবং যার হাতে থাকা ভূমিসহ ইসলাম গ্রহণ করেছে তার ব্যাপারে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। হাম্বল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ কোনো কিছুর ওপর ইসলাম গ্রহণ করে তবে তা তারই থাকবে এবং সেই ভূমির খারাজ তার থেকে নেওয়া হবে। কাজী বলেন: এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন তার হাতে খারাজি ভূমি থাকত; এমতাবস্থায় তার ইসলাম গ্রহণের কারণে খারাজ রহিত হবে না।

হারবের মাসায়েল (প্রশ্নোত্তর) গ্রন্থে রয়েছে যে, ইমাম আহমাদ একবার বলেছেন: সন্ধিকৃত ভূমি হলো খারাজি ভূমি। জিজ্ঞাসা করা হলো: কীভাবে? তিনি বললেন: কোনো ব্যক্তির হাতে ভূমি আছে, অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তার ভূমির ওপর সন্ধি করল; তবে এটিই খারাজ। হারব বলেন: আমার কাছে এটি একটি ভুল ধারণা বলে মনে হয় এবং আমি জানি না এটি কীভাবে হয়। কারণ, কোনো ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ না করে এবং তার ভূমির ব্যাপারে সন্ধি করে, তবে তার থেকে সেই পরিমাণ নেওয়া হবে যার ওপর সন্ধি হয়েছে। কিন্তু যদি সে সন্ধির পর ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার ভূমি উশরি (দশমাংশ কর যোগ্য) ভূমি হিসেবে গণ্য হবে; খারাজ তো কেবল যুদ্ধলব্ধ ভূমির ওপর হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال لي أحمد مرة أخرى: أرض الصلح هي عشر كيف يؤخذ منها الخراج ولا أدري لعلي أنا لم أفهم عن أبي عبد الله القول الأول في أرض الصلح.

وسمعت أحمد مرة أخرى يقول: اذا فتح المسلمون الأرض عنوة فصارت فيأ لهم فهو خراج قال: وأرض العشر الرجل يسلم بنفسه من غير قتال وفي يده الأرض فهو عشر مثل المدينة ومكة.

وفي كتاب الخلال عن حرب ويعقوب بن بختان عن احمد في الذمي يسلم وله أرضون قال: يقوم بخراجها ويمكن تأويله على أنه كانت بيده أرض خراج كما تأول عليه القاضي رواية حنبل والله أعلم.

وذهب الحنفية الى أن من حيى مواتا في أرض الاسلام وسقاه من أرض الخراج أن عليه الخراج وهذا بنوه على أصلهم في أن الاعتبار في وجوب الخراج بالماء المسقي به لا بالارض.

القسم الثاني

أرض للمسلمين عموما ليس لها مالك معين فهذه التي يوضع عليها الخراج في الجملة وسواء كانت في أيدي المسلمين أو الكفار وأما أرض الكفار التي صالحونا على أنها لهم ولنا عليها الخراج فيثبت الخراج عليها أيضا بحسب ما صالحوا عليه وهذا كله مجمع عليه في الجملة لا يعلم فيه خلاف إلا أن يحيى بن آدم حكي في كتابه عن شريك أنه قال: إنما أرض الخراج ما كان صلحا على خراج يؤدونه الى المسلمين قال: وأما السواد فانه أخذ عنوة فهو فيء ولكنهم تركوا فيه ووضع عليهم شيء وليس بالخراج وكأن مأخذه في ذلك والله أعلم أن الخراج ما وضع على الكفار على وجه الصغار عليهم والذلة و هذا انما يكون فيما وضع على
এবং আহমদ আমাকে অন্য এক সময়ে বলেছিলেন: সন্ধিকৃত ভূমি হলো উশর (দশমাংশ) ভিত্তিক ভূমি; সেখান থেকে কীভাবে খরাজ নেওয়া হবে? আমি জানি না, সম্ভবত আমি সন্ধিকৃত ভূমির ব্যাপারে আবু আব্দুল্লাহর প্রথম উক্তিটি ঠিকমতো বুঝতে পারিনি।

আমি আহমদকে অন্য এক সময়ে বলতে শুনেছি: মুসলমানরা যদি কোনো ভূমি যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করে এবং তা তাদের জন্য 'ফায়' হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাতে খরাজ ধার্য হবে। তিনি বলেন: আর উশর ভিত্তিক ভূমি হলো—কোনো ব্যক্তি যুদ্ধ ছাড়াই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করল এবং ভূমিটি তার অধীনেই থাকল, তবে তাতে উশর প্রযোজ্য হবে, যেমন মদিনা ও মক্কার ক্ষেত্রে হয়েছে।

আল-খাল্লালের কিতাবে হারব ও ইয়াকুব ইবনে বখতান সূত্রে আহমদের উদ্ধৃতিতে এসেছে যে, কোনো জিম্মি যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার অধীনে কিছু ভূমি থাকে, তবে তিনি বলেছেন: তিনি সেগুলোর খরাজ প্রদান অব্যাহত রাখবেন। এর ব্যাখ্যা এভাবে করা সম্ভব যে, তার হাতে থাকা ভূমিটি মূলত খরাজী ভূমি ছিল, যেমনটি হানবালের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে কাজী ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

হানাফী মাযহাবের মতে, যদি কেউ ইসলামের ভূখণ্ডে কোনো পতিত জমি আবাদ করে এবং খরাজী ভূমির পানি দিয়ে তা সেচন করে, তবে তাকে খরাজ দিতে হবে। তারা এটি তাদের এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বলেছেন যে, খরাজ ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সেচকার্যে ব্যবহৃত পানির বিবেচনা করা হয়, ভূমির নয়।

দ্বিতীয় বিভাগ

সাধারণভাবে মুসলমানদের এমন ভূমি যার কোনো নির্দিষ্ট মালিক নেই; মূলত এই ভূমির ওপরই সামগ্রিকভাবে খরাজ ধার্য করা হয়, চাই তা মুসলমানদের অধীনে থাকুক বা কাফেরদের অধীনে। আর কাফেরদের যে ভূমি এই শর্তে সন্ধি করা হয়েছে যে তা তাদের মালিকানায় থাকবে এবং আমরা তার ওপর খরাজ পাব, তবে তাদের সাথে কৃত সন্ধি অনুযায়ী তাতে খরাজ সাব্যস্ত হবে। এই পুরো বিষয়টি সাধারণভাবে ঐকমত্যপূর্ণ এবং এতে কোনো মতভেদ জানা নেই; তবে ইয়াহইয়া ইবনে আদম তার কিতাবে শারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: খরাজী ভূমি কেবল সেটিই যা সন্ধির ভিত্তিতে সাব্যস্ত এবং যা তারা মুসলমানদের প্রদান করে। তিনি বলেন: আর সাওয়াদ যেহেতু যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, তাই তা 'ফায়'; কিন্তু তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর কিছু ধার্য করা হয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে খরাজ নয়। সম্ভবত তার এই মতের ভিত্তি হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—খরাজ হলো তা যা কাফেরদের ওপর অবমাননা ও হীনম্মন্যতা স্বরূপ ধার্য করা হয়, আর এটি কেবল তখনই হয় যখন তা ধার্য করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
أرضهم بسبب الكفر كالجزية الموضوعة على رؤسهم بسبب الكفر وسمى الجزية خراجا كما سبق ذكره بخلاف ما وضع على أرض المسلمين فانه ليس موضوعا على وجه الصغار وانما هو في الحقيقة كالاجرة له وهذا نزاع لفظي لا يترتب عليه حكم شرعي ويحتاج ههنا الى الكلام على مسألتين:

أحداهما الارض التي لعموم المسلمين نوعان: أحدهما أرض الفيء وهي ما لم يتعلق حق مسلم معين بها ابتداء كأرض هرب أهلها من الكفار واستولى المسلمون عليها فهذه فيء.

وأرض من مات من الكفار ولا وارث له فانها فيء عند الشافعي واحمد في المشهور عنه وكذا عند أبي حنيفة وأصحابه إلا أنهم جعلوها مصروفة في مصالخ خاصة وعند مالك والنخعي ماله لأهل ملته ودينه وعن احمد نحوه.

واختلف العلماء في حكم أرض الفيء هل تصير وقفا بمجرد انتقالها الى المسلمين أم لا؟ نص الشافعي أنها تصير وقفا ما عدا الخمس لأن الفيء عنده يخمس واختلف أصحابه على طريقين:

أحدهما أن يصير هذا بالوقفية على قوله أن مصرف الفيء المصالح فأماعلى قوله انه للمقاتلة فيجب قسمتها بينهم.

والثاني أنه وقف على القولين جميعا لكن ان قلنا مصرف الفي المصالح صرفت غلة هذه الأرض في المصالح وان قلنا المقاتلة خاصة صرفت الغلة في مصالحهم.

واختلف أصحابنا هل تصير أرض الفي وقفا بمجرد استيلاء المسلمين عليها أم لا على وجهين:

فمنهم من حكى هذا لخلاف في الارض التي جلى أهلها عنها خاصة
কুফরের কারণে তাদের ভূমির ওপর (আরোপিত কর), যেমন কুফরের কারণে তাদের ওপর মাথাপিছু জিজিয়া কর ধার্য করা হয়। আর ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, জিজিয়াকে খরাজও বলা হয়। মুসলমানদের ভূমির ওপর যা ধার্য করা হয় তার বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ তা হীনম্মন্যতার উদ্দেশ্যে চাপানো হয়নি, বরং প্রকৃতপক্ষে তা ভাড়ার মতো। আর এটি একটি শাব্দিক বিবাদ মাত্র, যার ওপর কোনো শরয়ি বিধান নির্ভরশীল নয়। এখানে দুটি মাসআলা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে:

প্রথমত: সাধারণ মুসলমানদের মালিকানাধীন ভূমি দুই প্রকার: এর একটি হলো ‘ফাই’ ভূমি। এটি এমন ভূমি যার ওপর প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো মুসলমানের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; যেমন কাফেরদের সেই ভূমি যা ছেড়ে তারা পলায়ন করেছে এবং মুসলমানরা তা দখল করে নিয়েছে। এটিই হলো ‘ফাই’।

আর সেই কাফেরের ভূমি যার কোনো ওয়ারিশ নেই, ইমাম শাফেঈ এবং ইমাম আহমাদের নিকট (বিখ্যাত মতানুযায়ী) তা ‘ফাই’ হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের নিকটও অনুরূপ, তবে তাঁরা তা বিশেষ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের কথা বলেছেন। আর ইমাম মালেক ও নাখয়ির মতে, তার সম্পদ তার নিজ মিল্লাত ও ধর্মের লোকদের জন্য। ইমাম আহমাদ থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

আলেমগণ ফাই ভূমির বিধান সম্পর্কে মতবিরোধ করেছেন যে, মুসলমানদের অধিকারে আসার সাথে সাথেই কি তা ওয়াকফ হয়ে যাবে কি না? ইমাম শাফেঈর সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বাদে বাকি সবটুকুই ওয়াকফ হয়ে যাবে; কারণ তাঁর নিকট ফাই-এর ক্ষেত্রেও খুমুস বের করতে হয়। তবে তাঁর অনুসারীরা এ বিষয়ে দুটি পন্থায় বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথমটি হলো: তাঁর (ইমাম শাফেঈর) যে মতানুযায়ী ফাই-এর ব্যয়খাত হলো জনকল্যাণমূলক কাজ, সেই মতের ওপর ভিত্তি করেই তা ওয়াকফ হবে। তবে তাঁর যে মতে এটি যোদ্ধাদের প্রাপ্য, সেই মতানুযায়ী এটি তাদের মধ্যে বণ্টন করা আবশ্যক।

দ্বিতীয়টি হলো: উভয় মতানুসারেই তা ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। তবে যদি আমরা বলি ফাই-এর ব্যয়খাত হলো জনকল্যাণমূলক কাজ, তবে এই ভূমির আয় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। আর যদি আমরা বলি এটি যোদ্ধাদের জন্য নির্দিষ্ট, তবে এর আয় তাদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

আমাদের সাথীদের মধ্যেও এ নিয়ে দুটি অভিমত রয়েছে যে, মুসলমানদের দখলের সাথে সাথেই ফাই ভূমি ওয়াকফ হয়ে যাবে কি না:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মতবিরোধকে কেবল সেই ভূমির ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যেখান থেকে তার অধিবাসীরা বিশেষ কারণে চলে গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
كأبي الخطاب ومن تبعه ومنهم من حكاه في أرض من مات ولا وارث له خاصة كالقاضي في الاحكام السلطانية وجعل حكمها حكم أرض العنوة على ما سيأتي ان شاء الله تعالى.

وذكر أن الامام له أن يصطفي لبيت المال من مال الغانمين باستطابة نفوسهم أو بحق الخمس ويكون ملكا لجميع المسلمين أو لأهل الخمس فان شاء الامام؟ استغله ومنهم من حكى في الارض التي جلى عنها الكفار حتى تصير وقفا بمجرد ذلك أم لا تصير وقفا بدون وقف الامام روايتين ولم يحك في أرض بيت المال الموروثة أنها لا تصير وقفا بدون وقف الامام كصاحب المحرر والمنصوص عن أحمد في ذلك ما نقله عنه صالح وأبو الحارث قال: كل أرض جلي عنها أهلها بغير قتال فهي فيء.

ونقل عنه المروزي انه قال: الأرض الميتة اذا كانت لم تملك فان ملكت فهي فيء للمسلمين مثل من مات وترك مالا لا يعرف له وارث والقاضي يتأول قول أحمد أنها فيء بأن المراد أنها وقف وظاهر كلام احمد يأبى ذلك ويدل على أنها مملوكة لعموم المسلمين.

ومن الأصحاب من جعل أرض العنوه المضروب عليها كذلك كما سنذكره ان شاء الله تعالى.

وإذا قلنا لا تصير وقفا بدون وقف الامام فحكمها قبل ذلك حكم مال الفيء المنقول صرح به صاحب المحرر وكذا ذكره القاضي في الأحكام السلطانية في أرض بيت المال الموروثة دون الارض التي اصطفاها الامام لبيت المال فانه جعلها كالوقف المؤبد وفي ذلك نظر.

وروي عن عمر بن عبد العزيز أنه أمر أن يزارع أرض الصوافي بجزء معلوم فان لم يوجد من يزارع عليها فلتمنح فان لم يوجد من يأخذها أنفق عليها من بيت المال ولا تبور أخرجه يحيى بن آدم.
যেমন আবু আল-খাত্তাব এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিষয়টি বিশেষভাবে এমন ব্যক্তির জমির ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে মারা গেছে এবং যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই, যেমনটি আল-কাজি 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর বিধানকে 'আনওয়া' (যুদ্ধলব্ধ) জমির বিধানের অনুরূপ করেছেন, যা সামনে ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমামের জন্য গনিমত গ্রহণকারীদের নিকট থেকে তাদের তুষ্টির ভিত্তিতে অথবা 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) এর অধিকারের ভিত্তিতে বাইতুল মালের জন্য সম্পদ চয়ন করার অধিকার রয়েছে। আর তা সকল মুসলিমের অথবা খুমুসের হকদারদের মালিকানা হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম চাইলে তা থেকে আয় বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাফিররা ছেড়ে চলে যাওয়া ভূমির ব্যাপারে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, তা কি কেবল এর মাধ্যমেই ওয়াকফ হয়ে যাবে, নাকি ইমামের ওয়াকফ করা ব্যতীত ওয়াকফ হবে না। তিনি বাইতুল মালের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে এমনটি উল্লেখ করেননি যে, ইমামের ওয়াকফ করা ব্যতীত তা ওয়াকফ হবে না, যেমনটি 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের লেখক করেছেন। এ বিষয়ে আহমাদ থেকে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং যা সালেহ ও আবু আল-হারিস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তা হলো: "যে ভূমি থেকে তার অধিবাসীরা যুদ্ধ ব্যতীত বিতাড়িত হয়েছে, তা 'ফায়' (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ)।"

আল-মারওয়াযি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "অনাবাদি ভূমি যদি মালিকানাধীন না হয় (তবে তা যে আবাদ করবে তার), কিন্তু যদি তা পূর্বে মালিকানাধীন থেকে থাকে তবে তা মুসলিমদের জন্য 'ফায়' হিসেবে গণ্য হবে, যেমন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে সম্পদ রেখে মারা গেছে কিন্তু তার কোনো পরিচিত উত্তরাধিকারী নেই।" আল-কাজি আহমাদের বক্তব্য—'তা ফায়'—এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই মর্মে যে এর উদ্দেশ্য হলো তা ওয়াকফ, কিন্তু আহমাদের কথার বাহ্যিক দিক তা প্রত্যাখ্যান করে এবং নির্দেশ করে যে এটি সাধারণ মুসলিমদের মালিকানাধীন।

আমাদের (মাযহাবের) সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ কর ধার্যকৃত 'আনওয়া' ভূমিও এমনটি গণ্য করেছেন, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করব।

আমরা যদি বলি যে ইমামের ওয়াকফ করা ব্যতীত তা ওয়াকফ হবে না, তবে এর পূর্ব পর্যন্ত এর বিধান হবে স্থাবর 'ফায়' সম্পদের বিধানের ন্যায়; 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের লেখক এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আল-কাজিও 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে বাইতুল মালের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে এমনটিই উল্লেখ করেছেন, তবে ইমাম বাইতুল মালের জন্য যে জমিটি বিশেষভাবে চয়ন করেছেন তার ক্ষেত্রে নয়। কারণ তিনি সেটিকে চিরস্থায়ী ওয়াকফের মতো গণ্য করেছেন, আর এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

উমর বিন আবদুল আজিজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'সওয়াফি' (রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাস) জমিগুলো নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে বর্গা চাষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি এমন কাউকে পাওয়া না যায় যে বর্গা চাষ করবে, তবে তা কাউকে (বিনা মূল্যে ব্যবহারের জন্য) দিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি এমন কাউকেও পাওয়া না যায় যে তা গ্রহণ করবে, তবে বাইতুল মাল থেকে এর পেছনে ব্যয় করা হবে এবং তা অনাবাদি ফেলে রাখা হবে না; এটি ইয়াহইয়া বিন আদম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ونقل يحيى بن آدم عن الحسن بن صالح في جميع هذه الأراضي أن أمرها إلى الامام فان شاء أقام فيها من يعمرها ويؤدي الى بيت مال المسلمين عنها شيئا ويكون الفضل له وان شاء أنفق عليها من بيت المال واستأجر من يقوم فيها ويكون فضلها للمسلمين وإن شاء أقطعها رجلا ممن له غناء عن المسلمين.

وقد روي عن عمر رضي الله عنه ما يدل على أنه جعلها كأرض العنوة في التخيير سواء.

قال الأثرم: حدثنا عفان حدثنا عبد الواحد بن زياد حدثنا أبو طلق حدثني أبو حنظلة بن نعيم أن سعدا كتب إلى عمر رضي الله عنه إنا أخذنا أرضا لم يقاتلنا أهلها فكتب اليه عمر رضي الله عنه إن شئتم أن تقسموها بينكم فاقسموها وإن شئتم أن تدعوها فيعمرها أهلها فمن جاء منكم بعد ذلك كان له فيها نصيب فإني أخاف أن تشاحنوا فيها وفي شربها فيقتل بعضكم بعضا.

ورورى الحسن بن زياد في كتاب الخراج عن الحسن بن عمارة عن محمد بن عبيد الله وعبد الرحمن بن سابط عن يعلى بن أمية أن عمر رضي الله عنه. استعمله على نجران وأوصاه أيما أرض جلي عنها أهلها فادفع الأرض وما فيها من النخيل والشجر إلى من يعملها ويقوم عليها على أن ما كان يسقى سيحا أو تسقيها السماء فلهم الثلث وللمسلمين الثلثان وما كان يسقى بغرب فلهم الثلثان وللمسلمين الثلث واسناده ضعيف جدا (1).

النوع الثاني: ما تعلق به ابتداء حق مسلم معين وهي أرض العنوة

--------------------------------------------

(1) لأن الحسن ين عمارة رما ابن المديني بالوضع وقال مسلم متروك.
ইয়াহইয়া ইবনে আদম হাসান ইবনে সালেহ থেকে এই সকল ভূমির ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে, এর বিষয় ইমামের এখতিয়ারে। তিনি চাইলে সেখানে এমন কাউকে নিয়োগ করতে পারেন যে তা আবাদ করবে এবং মুসলমানদের বাইতুল মালে এর পক্ষ থেকে কিছু প্রদান করবে আর অতিরিক্ত অংশ তার হবে। তিনি চাইলে বাইতুল মাল থেকে এর জন্য ব্যয় করতে পারেন এবং সেখানে কাজ করার জন্য লোক ভাড়া করতে পারেন আর এর অতিরিক্ত লাভ মুসলমানদের জন্য হবে। আর তিনি চাইলে তা এমন কোনো ব্যক্তিকে ইকতা (ভূমি বরাদ্দ) দিতে পারেন যার দ্বারা মুসলমানদের উপকার সাধিত হয়।

ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে, তিনি এখতিয়ার প্রদানের ক্ষেত্রে একে আনওয়াহ ভূমির (যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত ভূমি) সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

আসরাম বলেন: আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তালক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হানজালা ইবনে নুয়াইম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সা’দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পত্র লিখলেন: আমরা এমন এক ভূমি অধিকার করেছি যার অধিবাসীরা আমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি। তখন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে লিখে পাঠালেন: তোমরা চাইলে তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিতে পারো, আর যদি চাও তবে তা রেখে দিতে পারো যাতে তার অধিবাসীরাই তা আবাদ করে; ফলে পরবর্তীতে তোমাদের মধ্য থেকে যারা আসবে তাদের জন্যও সেখানে অংশ থাকবে। কারণ আমি আশঙ্কা করি যে, তোমরা তা নিয়ে এবং এর পানি সেচ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হবে, ফলে একে অপরকে হত্যা করবে।

হাসান ইবনে যিয়াদ 'কিতাবুল খারাজ'-এ হাসান ইবনে আম্মারা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে, তিনি ইয়া’লা ইবনে উমাইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে নাজরানের দায়িত্ব প্রদান করেন এবং তাকে এই মর্মে নির্দেশ দেন যে: যে ভূমি থেকে তার অধিবাসীরা চলে গেছে, সেই ভূমি এবং তার খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা এমন ব্যক্তিকে প্রদান করো যে তাতে কাজ করবে এবং তার দেখাশোনা করবে এই শর্তে যে—যা প্রাকৃতিকভাবে বা বৃষ্টির পানিতে সিক্ত হয় তার এক-তৃতীয়াংশ তাদের জন্য এবং দুই-তৃতীয়াংশ মুসলমানদের জন্য থাকবে; আর যা কৃত্রিম উপায়ে সেচ করা হয় তার দুই-তৃতীয়াংশ তাদের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ মুসলমানদের জন্য থাকবে। আর এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (১)।

দ্বিতীয় প্রকার: যাতে প্রাথমিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মুসলমানের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয়, আর তা হলো আনওয়াহ ভূমি (বিজিত ভূমি)।

--------------------------------------------

(১) কারণ হাসান ইবনে আম্মারার বিরুদ্ধে ইবনে আল-মাদিনি জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাকে পরিত্যক্ত বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
التي قوتل الكفار عليها واخذت منهم قهرا فاختلف العلماء قديما وحديثا في حكم هذه الارض اختلافا كبيرا وحاصله يرجع الى أقول ثلاثة:

أحدهما أنه يتعين قسمتها بين الغانمين بعد اخراج الخمس منها كما تقسم المنقولات وهذا قول الشافعي وحكاه ابن المنذر عن أبي ثور واختاره وحكاه الخلال في كتاب الاموال رواية عن أحمد من رواية عبد الله عنه وإلى الآن لم نقف على نقل صريح عن أحد معين قبل الشافعي بهذا القول إلا أن يحيى بن آدم حكاه عن قائل لم يسمه وحكاه أحمد عن أهل المدينة وأما ما روي عن الزبير رضي الله عنه من طلب قسمة أرض مصر وعن بلال رضي الله عنه من طلب قسمة أرض الشام فذاك إنما يدل على جواز قسمته لا على أنه لا يجوز غير ذلك ولهذا لما أبى عمر رضي الله عنه عليهم القسمة لم ينكروا عليه ولا قال أحد منهم إن ذلك غير جائز (1) أو أنه مخالف لكتاب الله عز وجل.

والقول الثاني أنها تصير فيأ للمسلمين بمجرد الاستيلاء عليها لا يملكها الغانمون ولا يجوز قسمتها عليهم وهذا قول مالك وأصحابه وهو رواية عن أحمد واختاره أبو بكر من أصحابنا قال أحمد في رواية حنبل ما كان عنوة كان المسلمون فيه شرعا واحدا وعمر ترك السواد لذلك ومما روي عنه أن أرض العنوة فيء من السلف الحسن البصري وعطاء بن السائب وشريك بن عبد الله النخعي والحسن بن صالح ويحيى بن آدم لكنه مع ذلك قال يتخير الامام بين قسمتها وتركها ولعل من قبله يقول كذلك الا مالكا فانه منع القسمة.

القول الثالث: أن الإمام يخير بين الأمرين إن شاء قسمها بين

--------------------------------------------

(1) إلا بلالا ومعاذا واتباعهما فانهم نازعوه في أرض الشام وراجعوه حتى دعا عليهم عمر فماتوا والقصة باسنادها في الأموال وسنن البهقي.
যে ভূমিতে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছে এবং যা তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে, সেই ভূমির বিধান সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ ব্যাপক মতভেদ করেছেন। এর সারমর্ম তিনটি মতের দিকে ফিরে যায়:

প্রথমটি হলো, স্থাবর সম্পদের মতো এই ভূমি থেকেও এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর তা যুদ্ধজয়ী গনীমত লাভকারীদের মধ্যে বণ্টন করা আবশ্যক। এটি ইমাম শাফেয়ীর মত। ইবনুল মুনযির আবু সাওর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একেই পছন্দ করেছেন। আল-খলাল তার ‘কিতাবুল আমওয়াল’ গ্রন্থে এটি ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, যা আব্দুল্লাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ইমাম শাফেয়ীর পূর্বে নির্দিষ্ট কারো পক্ষ থেকে এই মতের ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট উদ্ধৃতি পাইনি, তবে ইয়াহইয়া ইবনে আদম এমন এক ব্যক্তির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি। ইমাম আহমদ এটি মদীনার অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর জুবাইর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে মিসরের ভূমি বণ্টনের দাবি এবং বিলাল (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে শামের ভূমি বণ্টনের যে দাবি বর্ণিত হয়েছে, তা কেবল তা বণ্টনের বৈধতা প্রমাণ করে; এমন নয় যে এটি ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ নেই। এ কারণেই উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) যখন তাঁদের জন্য ভূমি বণ্টন করতে অস্বীকার করলেন, তখন তাঁরা তাঁর বিরোধিতা করেননি এবং তাঁদের কেউই বলেননি যে এটি জায়েজ নয় (১) অথবা এটি মহান আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী।

দ্বিতীয় মতটি হলো, এই ভূমি জয় করার সাথে সাথেই তা মুসলমানদের জন্য ‘ফাই’ (সাধারণ সম্পদ) হয়ে যাবে। বিজয়ীরা এর মালিক হবে না এবং তাদের মধ্যে এটি বণ্টন করা জায়েজ নয়। এটি ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের মত এবং ইমাম আহমদেরও একটি বর্ণনা। আমাদের সাথীদের মধ্যে আবু বকর একেই পছন্দ করেছেন। হাম্বলের বর্ণনায় ইমাম আহমদ বলেন, যা জোরপূর্বক বিজয় করা হয়েছে তাতে সকল মুসলমানের সমান অধিকার। উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) এই কারণেই ‘সাওয়াদ’ (ইরাকের উর্বর ভূমি) বণ্টন না করে রেখে দিয়েছিলেন। সালাফদের মধ্য থেকে যাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে জোরপূর্বক বিজিত ভূমি ‘ফাই’ হিসেবে গণ্য হবে, তাঁরা হলেন— হাসান বসরী, আতা ইবনুস সাইব, শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ী, হাসান ইবনে সালেহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আদম। তবে ইয়াহইয়া ইবনে আদম এর পাশাপাশি বলেছেন যে, ইমাম এটি বণ্টন করা বা না করার ব্যাপারে পছন্দ করার ক্ষমতা রাখেন। সম্ভবত তাঁর পূর্ববর্তীরাও এমনই বলতেন, তবে ইমাম মালিক এটি বণ্টন করা নিষিদ্ধ করেছেন।

তৃতীয় মত: ইমাম দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার ক্ষমতা রাখেন; তিনি চাইলে তা বণ্টন করতে পারেন...

--------------------------------------------

(১) তবে বিলাল, মুআয এবং তাঁদের অনুসারীরা ছাড়া; কেননা তাঁরা শামের ভূমির ব্যাপারে তাঁর সাথে বিতণ্ডা করেছিলেন এবং বারংবার আবেদন জানিয়েছিলেন, এমনকি উমর তাঁদের জন্য প্রার্থনা (বদদুআ) করেন এবং তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনাটি তার সনদসহ ‘আল-আমওয়াল’ এবং ‘সুনানুল বায়হাকী’তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الغانمين وان شاء لم يقسمها لعموم المسلمين وهذا قول أكثر العلماء في الجملة منهم أبو حنيفة والثوري وابن المبارك ويحيى بن آدم وأحمد في المشهور عنه وأبو عقيل وإسحاق واختلفوا في كيفية تخير الامام فقالت طائفة يخير بين أن يقسمها بين الغانمين وبين وقفها وهو المشهور عن أحمد.

وروي عن الثوري وابن المبارك وأبي عبيد واختلفوا هل تخمس اذا قسمها أم لا على قولين: حكاهما يحيى بن آدم والقول بالتخميس منصوص عن أحمد والثوري وعلى هذا فلا يجوز أن ترد على أهلها تمليكا بخراج ولا غيره ذكره القاضي أبو يعلى في خلافه وغيره وقالت طائفة يخير بين قسمتها وأهلها بين الغانمين وبين إقرار أهلها عليها ويجعل عليها وعليهم الخراج فتكون ملكا لهم هذا قول أبي حنيفة وحكاه الطحاوي عن الثوري.

وحكي عن أبي حنيفة أنه إن شاء أيضا صرف عنها أهلها ونقل إليها قوما بالخراج وليس له عنده وقفها.

وقالت طائفة يخير بين أربعة أشياء: الوقف والقسمة وإقرار أهلها على ملكهم بالخراج والجزية وأن يجلي أهلها عنها وينقل إليها قوما لذلك وهذا قول طائفة من أصحابنا كالقاضي في المحرر ومن تابعه واختلفوا هل يوضع الخراج على جميع أراضي العنوة أم يستثنى بعضها فمن أصحابنا من قال يوضع الخراج على جميع أراضي العنوة حتى على مزارع ملكة إذا قلنا فتحت عنوة وهو قول أبي الخطاب في كتاب الانتصار والسامري وغيرهما وقيل إن قولهما خلاف الاجماع وقالت طائفة لا خراج على مزارع مكة سواء قلنا فتحت عنوة أو صلحا وهو قول أبي عبيد واكثر أصحابنا فان النبي صلى الله عليه وسلم لما رد مكة على أهلها لم يضرب عليهم خراجا وقد قيل في تعليله إن مكة لا يقر فيها كافر بحال فكذلك ما هو في الأصل على الكافر
গনীমত লাভকারীদের মধ্যে, এবং যদি তিনি চান তবে সাধারণ মুসলমানদের কল্যাণের জন্য তা বণ্টন করবেন না। এটিই অধিকাংশ আলেমের সাধারণ অভিমত, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা, সাওরি, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আহমাদ (তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী), আবু আকিল এবং ইসহাক। তবে ইমামের পছন্দের ইখতিয়ারের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁরা মতভেদ করেছেন। একদল আলেম বলেছেন, তিনি গনীমত লাভকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করা এবং তা ওয়াকফ করে দেওয়ার মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখেন; আর আহমাদ থেকে এটিই প্রসিদ্ধ মত।

এটি সাওরি, ইবনুল মুবারক এবং আবু উবাইদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আর ইমাম যখন তা বণ্টন করবেন, তখন তার খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করা হবে কি না, এ বিষয়ে তাঁরা দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন; যা ইয়াহইয়া ইবনে আদম বর্ণনা করেছেন। খুমুস বের করার বিষয়টি আহমাদ এবং সাওরি থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত। এই মত অনুযায়ী, খারাজ বা অন্য কিছুর বিনিময়ে মালিকানা হিসেবে তা তার পূর্বতন অধিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জায়েয নয়; কাযী আবু ইয়ালা তাঁর 'খিলাফ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। অন্য একদল আলেম বলেছেন, ইমাম গনীমত লাভকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করা অথবা তার পূর্বতন অধিবাসীদের সেখানে বহাল রাখা এবং তাদের ওপর ও সেই ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করার মধ্যে ইখতিয়ার রাখেন, ফলে তা তাদের মালিকানাধীন থাকবে। এটি আবু হানিফার মত এবং তাহাবি এটি সাওরি থেকেও বর্ণনা করেছেন।

আবু হানিফা থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম যদি চান তবে এর অধিবাসীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে পারেন এবং অন্য একদল লোককে খারাজের বিনিময়ে সেখানে স্থানান্তর করতে পারেন। তবে তাঁর মতে, ইমামের জন্য এটি ওয়াকফ করার অধিকার নেই।

অন্য একদল আলেম বলেছেন, ইমাম চারটি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার রাখেন: ওয়াকফ করা, বণ্টন করা, খারাজ ও জিযিয়ার বিনিময়ে অধিবাসীদের তাদের মালিকানায় বহাল রাখা এবং অধিবাসীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে অন্য একদল লোককে সেখানে স্থানান্তরিত করা। এটি আমাদের (হাম্বলি) মাযহাবের একদল আলেমের মত, যেমন 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে কাযী এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ। তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, জোরপূর্বক বিজিত (আনওয়াহ) সকল ভূমির ওপর কি খারাজ ধার্য করা হবে, নাকি কিছু ভূমিকে এর ব্যতিক্রম রাখা হবে? আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, সকল 'আনওয়াহ' ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করা হবে, এমনকি মক্কার কৃষিভূমির ওপরও—যদি আমরা বলি যে মক্কা জোরপূর্বক বিজিত হয়েছে। এটি আবু الخطাব তাঁর 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে এবং সামিরি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। তবে বলা হয়ে থাকে যে, তাঁদের এই বক্তব্য ইজমার পরিপন্থী। অন্য একদল আলেম বলেছেন, মক্কার কৃষিভূমির ওপর কোনো খারাজ নেই, চাই আমরা বলি তা জোরপূর্বক বিজিত হয়েছে অথবা সন্ধির মাধ্যমে। এটি আবু উবাইদ এবং আমাদের অধিকাংশ সাথীদের মত। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয়ের পর তা অধিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাদের ওপর কোনো খারাজ ধার্য করেননি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, মক্কায় কোনো অবস্থায়ই কোনো কাফেরকে থাকতে দেওয়া হয় না, তাই যা মূলত কাফেরের ওপর ধার্য করা হয় (খারাজ), তাও সেখানে প্রযোজ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والخراج في معنى الجزية فتصان مكة عنه. وإن قيل انه أجرة فبيوت مكة لا تؤجر لكن من منع إجارة بيونتها فأكثرهم خصوا ذلك بالمساكن إلا أن القاضي ابا يعلى ذكر في الاحكام السلطانية أن ما هو داخل في حدود الحرم كله لا يباع ولا يؤجر وذكر أن أحمد نص عليه في رواية مثنى الانباري.

وقيل في تعليل منع وضع الخراج على مزارع مكة إن العرب كما لا جزية على رقابهم فكذلك لا جزية على أرضهم ولكن في أخذ الجزية منهم نزاع مشهور ومقتضى هذا التعليل أنه لا يضرب الخراج على جميع أرض العرب الذي لا يؤخذ منهم الجزية وهذا قول الكوفيين الحسن بن صالح ويحيى بن آدم وحكي عن أبي حنيفة وفي كلام أبي عبيد ما يدل عليه.

وأعلم أن مآخذ الاختلاف بين العلماء في هذه المسألة ينبني على تحرير الكلام في ثلاثة أصول:

أحدهما أن الأرض المأخوذة عنوة هل هي داخلة في آية الغنيمة أو في آية الفيء؟

الثاني حكم خبير وهل قسمها النبي صلى الله عليه وسلم أو لم يقسمها؟

الثالث ما فعله عمر رضي الله عنه بأرض السواد وغيره من أرض العنوة.

الأصل الأول أن الأرض المعنوة هل هي داخلة في آية الغنائم المذكورة في سورة الانفاق وهي قوله تعالى: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} (1) الآية. أم هي داخلة في آية الفيء المذكورة في سورة الحشر وهي قوله تعالى: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ} (2) الآية. ثم

--------------------------------------------

(1) الانفال اية 41.

(2) سورة الحشر اية 7.
খরাজ জিজিয়ার অর্থ বহন করে, তাই মক্কাকে তা থেকে রক্ষা করা হয়। আর যদি বলা হয় যে এটি ভাড়া, তবে মক্কার ঘরবাড়ি ভাড়া দেওয়া যায় না। তবে যারা মক্কার ঘরবাড়ি ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ করেছেন, তাদের অধিকাংশই তা কেবল আবাসস্থলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন। তবে কাজী আবু ইয়ালা 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হারামের সীমানার ভেতরে যা কিছু আছে তার কোনোটিই বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ মুসান্না আল-আনবারীর বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

মক্কার ফসলি জমির ওপর খরাজ আরোপ না করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, আরবদের ওপর যেমন ব্যক্তিগতভাবে জিজিয়া নেই, তেমনি তাদের ভূমির ওপরও কোনো জিজিয়া নেই। তবে তাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করার বিষয়ে একটি প্রসিদ্ধ মতপার্থক্য রয়েছে। এই যুক্তির দাবি হলো—যেসব আরব ভূমি থেকে জিজিয়া নেওয়া হয় না, সেসব ভূমির ওপর খরাজও ধার্য করা হবে না। এটি কুফাবাসীদের অভিমত, যেমন হাসান ইবনে সালিহ ও ইয়াহইয়া ইবনে আদম। এটি আবু হানিফা থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং আবু উবাইদ-এর বক্তব্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

জেনে রাখুন যে, এই মাসআলায় ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার মতপার্থক্যের উৎস তিনটি মূলনীতির আলোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:

প্রথমত: যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত ভূমি কি গনিমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, নাকি ফায়-এর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত?

দ্বিতীয়ত: খায়বারের বিধান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা বণ্টন করেছিলেন নাকি করেননি?

তৃতীয়ত: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সওয়াদ ভূমি এবং যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অন্যান্য ভূমির ক্ষেত্রে যা করেছিলেন।

প্রথম মূলনীতি: যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত ভূমি কি সূরা আনফালের গনিমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত? যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা জেনে রেখো যে, যুদ্ধে যা তোমরা গনিমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য...} (১) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। নাকি এটি সূরা হাশরে উল্লিখিত ফায়-এর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত? যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু ফায় হিসেবে দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, তাঁর স্বজনদের, এতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্য...} (২) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। অতঃপর

--------------------------------------------

(১) আনফাল, আয়াত ৪১।

(২) সূরা হাশর, আয়াত ৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكر تلاوة اصناف المهاجرين والأنصار ومن جاء بعدهم فقالت طائفة: الأرض داخلة في آية الغنيمة فانه تعالى قال: {وَاعْلَمُوا أَنَّ مَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ}. وشيءنكره في سياق النفي فيعم كل ما يسمى شيئا قالوا: وأية الفي لم يدخل فيها حكم الغنيمة كما أن آية الغنيمة لم يدخل فيها الفيء بل الغنيمة والفيء لكل واحد منهما حكم يختص به وهذا قول من قال من الفقهاء إن الأرض تتعين قسمتها بين الغانمين وقال طائفة بل الأرض داخلة في آية الفيء وهذا قول أكثر العماء صرحوا بذلك وممن روي عنه عمر بن عبد العزيز وقد سبق ذكر من قال من السلف إن السواد فيء ونص عليه الامام أحمد.

ووجه دخول الأرض في الفي أن الله تعالى قال: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ} إلى قوله: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا} الآية. فجعل الفيء لثلاثة أصناف المهاجرين والأنصار والذين جاؤوا من بعدهم ولذلك لما تلا عمر رضي الله عنه هذه الآية قال: "استوعبت هذه الآية الناس فلم يبق أحد من المسلمين إلا له فيها حق غلا بعض من تملكون من أرقائكم". أخرجه أبو داود من طريق الزهري عن عمر رضي الله عنه منقطعا.

وروي من وجه آخر عن الزهري موصولا ورواه هشام بن سعد عن زيد بن أسلم عن أبيه عن عمر رضي الله عنه أيضا ثم إن عمر رضي الله عنه جعل أرض العنوة فيأ وأرصدها للمسلمين إلى يوم القيامة فدل على أنه فهم دخولها في آيات الفيء ولذلك قرره أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز في رسالته المشهورة التي بين فيها أحكام الفيء وقد اعتمد عليها مالك وأخذ بها كما ذكر ذلك القاضي إسماعيل في كتاب أحكام القرآن وساقها بتمامها باسناده.
মুহাজির, আনসার এবং যারা তাদের পরে এসেছে, তাদের বিভিন্ন শ্রেণির বর্ণনা প্রদান করা হলো। একদল বলেছেন: ভূমি গনীমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর জেনে রেখো যে, কোনো বস্তু থেকে তোমরা যা গনীমত লাভ করো..."। এখানে 'কোনো বস্তু' শব্দটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা 'বস্তু' হিসেবে অভিহিত সব কিছুকেই শামিল করে। তারা বলেন: ফায়-এর আয়াতের মধ্যে গনীমতের বিধান প্রবেশ করবে না, ঠিক যেমন গনীমতের আয়াতের মধ্যে ফায় প্রবেশ করবে না। বরং গনীমত ও ফায়—উভয়ের জন্যই স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে। এটি ঐ সকল ফকীহদের মত যারা বলেন যে, যুদ্ধলব্ধ ভূমি গনীমত লাভকারীদের মধ্যে বণ্টন করা আবশ্যক। অন্য একদল বলেন, বরং ভূমি ফায়-এর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এটিই অধিকাংশ আলিমের অভিমত এবং তারা স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেছেন। যাদের থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ অন্যতম। সালাফদের মধ্য থেকে যারা ইরাকের উর্বর ভূমিকে 'ফায়' হিসেবে গণ্য করেছেন, তাদের আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং ইমাম আহমাদও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন।

ভূমিতে ফায়-এর বিধান অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিকটি হলো, মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে ফায় হিসেবে যা দান করেছেন, তা আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের..." আয়াতটির শেষ পর্যন্ত যেখানে বলা হয়েছে: "আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন"। এখানে আল্লাহ ফায়-কে তিন শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন: মুহাজির, আনসার এবং যারা তাদের পরে এসেছে। এই কারণেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, তখন বললেন: "এই আয়াতটি সমস্ত মানুষকে শামিল করেছে, ফলে মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যার এতে কোনো অধিকার নেই, কেবল তোমাদের মালিকানাধীন কিছু দাস ব্যতীত।" এটি আবু দাউদ যুহরীর সূত্রে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এটি যুহরীর থেকে অন্য একটি সূত্রে সংযুক্তভাবেও বর্ণিত হয়েছে। হিশাম ইবনে সাদ এটি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন। অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যুদ্ধলব্ধ ভূমিকে ফায় হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের কল্যাণে তা সংরক্ষণ করেন। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যুদ্ধলব্ধ ভূমিকে ফায়-এর আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বুঝেছিলেন। এই কারণেই আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজীজ তাঁর প্রসিদ্ধ পত্রে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, যেখানে তিনি ফায়-এর বিধানাবলী ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম মালিক এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এটি গ্রহণ করেছেন, যেমনটি কাজী ইসমাইল 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাঁর সনদসহ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وذكر البخاري في صحيحه بعضها تعليقا وبين دخول الأرض في الفيء وان هذه الآيات ليست بسبب بني النضير وبنو النضير أجلاهم النبي صلى الله عليه وسلم من المدينة بعد أن حاصرهم.

قال الزهري: حاصر رسول الله صلى الله عليه وسلم بني النضير وهم سبط من اليهود بناحية من المدينة حتى نزلوا على الجلاء وعلى أن لهم ما أقلت الابل من الأمتعة إلا الحلقة فأنزل الله فيهم يعني أول سورة الحشر. أخرجه أبو عبيد وخرجه أبو داود مطولا من طريق الزهري عن عبد الرحمن بن كعب عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فذكر حديثا طويلا وفيه ان النبي صلى الله عليه وسلم غزا على بني النضير بالكتاب فقاتلهم حتى نزلوا على الجلاء فجلت بنو النضير واحتملوا ما أقلت الابل من أمتعتهم وأبواب بيوتهم وخشبها فدل أن نخل بني النضير لرسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة أعطاه الله إياها وخصه بها فقال تعالى: {وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلا رِكَابٍ} (1) يقول فأعطى النبي صلى الله عليه وسلم أكثرها للمهاجرين وقسمها بينهم وقسم منها لرجلين من الأنصار كانا ذوي حاجة وبقي منها صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي في أيدي بني فاطمة رضي الله عنها وهذا الكلام أكثره مدرج من قول الزهري والله أعلم.

وخرج أبو داود من قوله كانت بنو النضير للنبي صلى الله عليه وسلم الى آخره من قول الزهري.

وثبت في الصحيحين عن ابن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم حرق نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فنزلت فيهم هذه الآية: {مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا} (2) الآية.

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر اية6.

(2) سورة الحشر اية 5.
বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এগুলোর কিছু অংশ মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ফাই-এর মধ্যে ভূমির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে এই আয়াতগুলো শুধু বনু নাদিরের কারণে নয়। বনু নাদিরকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনা থেকে অবরোধ করার পর বহিষ্কার করেছিলেন।

যুহরি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু নাদিরকে অবরোধ করেন—তারা ছিল মদিনার এক প্রান্তের এক ইয়াহুদি গোত্র—যতক্ষণ না তারা নির্বাসন মেনে নেয় এবং তাদের উট যে পরিমাণ আসবাবপত্র বহন করতে পারে তা নিয়ে যাওয়ার শর্তে রাজি হয়, তবে অস্ত্রশস্ত্র ব্যতিরেকে। ফলে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সুরা হাশরের প্রথম দিকের আয়াতগুলো নাজিল করেন। এটি আবু উবাইদ বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ যুহরির সূত্রে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, যা আবদুর রহমান ইবনে কাব থেকে এবং তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সেখানে একটি দীর্ঘ হাদিস উল্লেখ করেছেন, যেখানে রয়েছে যে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু নাদিরের সাথে কিতাবের (চুক্তির) ভিত্তিতে যুদ্ধ করেন এবং তাদের সাথে লড়াই করেন যতক্ষণ না তারা নির্বাসনে যেতে রাজি হয়। অতঃপর বনু নাদির নির্বাসিত হলো এবং তারা তাদের উট যে পরিমাণ আসবাবপত্র, ঘরের দরজা ও কাঠ বহন করতে পারে তা নিয়ে গেল। এটি প্রমাণ করে যে বনু নাদিরের খেজুর বাগানগুলো বিশেষভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য ছিল, যা আল্লাহ তাঁকে প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তাদের নিকট হতে তাঁর রাসুলকে যে ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট চালনা করনি।" (১) তিনি বলেন, অতঃপর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অধিকাংশ মুহাজিরদের দিয়ে দেন এবং তাদের মধ্যে বণ্টন করেন। এর মধ্য থেকে আনসারদের দু’জন অভাবী ব্যক্তিকে কিছু অংশ দেন এবং বাকি অংশ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সদকা হিসেবে অবশিষ্ট থাকে যা ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সন্তানদের হাতে ছিল। আর এই কথার অধিকাংশই যুহরির বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত (মুদরাজ), আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু দাউদ "বনু নাদিরের সম্পদ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য ছিল..." থেকে শেষ পর্যন্ত যুহরির বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সহিহাইন-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রমাণিত আছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু নাদিরের খেজুর গাছ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন, যা ছিল বুওয়াইরাহ নামক স্থানে। তখন তাদের সম্পর্কে এই আয়াত নাজিল হয়: "তোমরা যে সব খেজুর গাছ কেটেছ অথবা যেগুলো তোমরা সেগুলোর কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ..." (২) আয়াত পর্যন্ত।

--------------------------------------------

(১) সুরা হাশর, আয়াত ৬।

(২) সুরা হাশর, আয়াত ৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي الصحيحين أيضا عن عمر رضي الله عنه أنه قال كانت أموال بني النضير مما أفاء الله على رسوله مما لم يوجب المسلمون عليه بخيل ولا ركاب وكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة فكان ينفق منها على أهله نفقة سنة ثم ما بقي جعله في الكراع والسلاح عدة في سبيل الله عز و جل. وإذا علم أن الآية نزلت بسبب بني النضير فبنو النضير بما تركوا أرضهم ونخلهم و سلاحهم وقد جعله الله فيأ وخصه برسوله إما لأنه كان يملك الفيء في حياته أو لإنه كان يقسمه باجتهاد ونظره بخلاف الغنيمة.

ولا ريب أن بني النضير لم يتركوا أرضهم إلا بعد حصار ومحاربة ولم ينزلوا من حصونهم إلا خشية القتل ومع هذا فقد جعل الله أرض بني النضير فيأ وقوله تعالى: {فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلا رِكَابٍ} تذكير بنعمة الله عليهم في أنهم لم يحتاجوا في أخذ ذلك إلى كثير عمل ولا مشقة.

وقال مجاهد في قوله: {فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلا رِكَابٍ} قال يذكرهم ربهم أنه نصرهم بغير كراع ولا عدة في بني قريضة وخيبر خرجه آدم بن أبي إياس عن ورقاء عن أبي نجيح عنه.

ومعلوم أن خيبر وقع فيها قتال لكن يسير فتكون الآية كقوله: {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ} (1) وحينئذ فاما أن تكون الأرض تستثنى من عموم قوله: {وَاعْلَمُوا أَنَّ مَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} الآية! فيكون ذلك تخصيصا من العام وإما أن يكون هذا ناسخا لحكم الأرض من آية الغنيمة فان قصة بني النضير بعد قصة بدر بالاتفاق والأشبه التخصيص إلا أن يقال إن قصة بدر لم يدخل فيها إلا المنقولات إذ لم يكن في غنيمة بدر أرض وهذا على قول من يرى التخصيص

--------------------------------------------

(1) سورة ال عمران اية 123.
সহীহাইনদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিম) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এ-ও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, বনু নাযিরের সম্পদ ছিল সেই ‘ফায়’ (বিনা যুদ্ধে অর্জিত সম্পদ) এর অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দান করেছিলেন এবং যার জন্য মুসলিমগণ কোনো ঘোড়া বা উট চালনা করেননি। এটি বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি তা থেকে তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের ভরণপোষণ ব্যয় করতেন, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর পথে যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে ব্যয় করতেন। যখন এটি জানা গেল যে, আয়াতটি বনু নাযিরের ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে, তখন বনু নাযির তাদের ভূমি, খেজুর বাগান এবং অস্ত্রশস্ত্র যা কিছু ত্যাগ করে গিয়েছিল, আল্লাহ সেগুলোকে ‘ফায়’ সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; হয় এই কারণে যে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ‘ফায়’-এর মালিক ছিলেন অথবা তিনি তা গনীমতের (রণলব্ধ সম্পদ) বিপরীতে স্বীয় ইজতিহাদ ও বিবেচনার ভিত্তিতে বণ্টন করতেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বনু নাযির অবরোধ ও যুদ্ধের পরই কেবল তাদের ভূমি ত্যাগ করেছিল এবং হত্যার ভয়েই কেবল তারা তাদের দুর্গ থেকে নেমে এসেছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহ বনু নাযিরের ভূমিকে ‘ফায়’ সাব্যস্ত করেছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: “আর যার জন্য তোমরা কোনো ঘোড়া বা উট চালনা করোনি”, এটি তাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের একটি স্মরণিকা যে, তা হস্তগত করতে তাদের খুব বেশি পরিশ্রম বা কষ্টের প্রয়োজন হয়নি।

মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: “আর যার জন্য তোমরা কোনো ঘোড়া বা উট চালনা করোনি” এর ব্যাখ্যায় বলেন, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি বনু কুরাইযা ও খায়বারে কোনো ঘোড়া বা যুদ্ধের সরঞ্জাম ছাড়াই তাদেরকে সাহায্য করেছেন। এটি আদম ইবনে আবি ইয়াস—ওয়ারকা থেকে—তিনি আবু নাজীহ থেকে—তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর এটি সর্বজনবিদিত যে, খায়বারে যুদ্ধ হয়েছিল, তবে তা ছিল সামান্য। ফলে আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো হবে: “বস্তুত আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন যখন তোমরা হীনবল ছিলে।” (১) এমতাবস্থায় ভূমি হয় মহান আল্লাহর এই বাণীর সাধারণ অর্থ থেকে ব্যতিক্রম হবে: “আর জেনে রেখো যে, যা কিছু তোমরা গনীমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য...” (আয়াত)। ফলে এটি হবে সাধারণ (আম) থেকে বিশেষীকরণ (তাখসীস)। অথবা এটি গনীমতের আয়াত থেকে ভূমির বিধানের জন্য রহিতকারী (নাসিখ) হবে। কারণ সর্বসম্মতিক্রমে বনু নাযিরের ঘটনা বদরের ঘটনার পরে সংঘটিত হয়েছিল। তবে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ মত হলো বিশেষীকরণ (তাখসীস); যদি না বলা হয় যে, বদরের ঘটনায় কেবল অস্থাবর সম্পদই অন্তর্ভুক্ত ছিল, কারণ বদরের গনীমতে কোনো ভূমি ছিল না। আর এটি তাদের অভিমত যারা বিশেষীকরণের (তাখসীস) প্রবক্তা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بالسبب ظاهر ومما يدل على تخصيص آية الغنيمة بالمنقولات أن الله تعالى خص هذه الأمة باباحة الغنيمة كما ثبت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من وجوه كثيرة.

والذي خصت باباحته هو المنقولات دون الأرض فان الله تعالى أورث بني إسرائيل أرض الكفار وديارهم ولم يكن ذلك ممتنعا عليها لأن الأرض ليست بداخلة في مطلق الغنيمة وإنما كان ممتنعا عليهم المنقولات ولهذا كانوا يحرقونها بالنار. وانما خص الغانمون من هذه الأمة بالمنقولات دون الأرض لأن قتالهم وجهادهم لله عز وجل لا للغنيمة وانما الغنيمة رخصة من الله تعالى ورحمة بهم فخصوا بما ليس له أصل يبقى وأما ماله أصل يبقى فانه يكون مشتركا بين المسلمين كلهم من وجد منهم ومن لم يوجد بعد ذلك ويبين هذا أن الله تعالى نسب الغنيمة للغانمين فقال: {وَاعْلَمُوا أَنَّ مَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ} فأما الأرض فاضافها الى الرسول لقوله: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى} إشارة إلى أن كل قرية يفيئها الله على أمته الى يوم القيامة فهي مضافة الى الرسول غير مختصة بالغانمين والامام يقول مقام الرسول في قسمتها بالاجتهاد وقوله: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى} من الأرض خاصة. وقد صح عن عطاء بن السائب والحسن البصري وغيرهما من السلف انهم قالوا الأرض فيء وإن أخذت بقتال وتقدم ذكر ذلك عن جماعة من العلماء يدل على ذلك انه جعلها لثلاثة أصناف المهاجرين والانصار ومن جاء بعدهم من المسلمين وهذا لا يمكن في المنقولات قطعا لأن المنقولات تستهلك ويختص به من يأخذه فلا يمكن اشتراك جميع المسلمين فيه.

وقد قيل ان هذه الآية نزلت في قرى عرينة التي فتحت على النبي صلى الله عليه وسلم أو فيها وفي قرى بني قريظة والنضير وحنين وقيل بل الآية تعم كل
কারণটি সুস্পষ্ট এবং যা গনীমতের আয়াতকে কেবল অস্থাবর সম্পদের সাথে সুনির্দিষ্ট করার প্রমাণ দেয় তা হলো, আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে গনীমত হালাল করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে।

আর যা হালাল করার মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয়েছে তা হলো অস্থাবর সম্পদ, ভূমি নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে কাফেরদের ভূমি ও ঘরবাড়ির উত্তরাধিকারী করেছিলেন এবং তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল না, কারণ ভূমি সাধারণ 'গনীমত' শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তাদের জন্য অস্থাবর সম্পদগুলোই নিষিদ্ধ ছিল এবং এ কারণেই তারা সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলত। আর এই উম্মতের যোদ্ধাদের কেবল অস্থাবর সম্পদের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, ভূমির মাধ্যমে নয়; কারণ তাদের লড়াই ও জিহাদ হচ্ছে মহান আল্লাহর জন্য, গনীমতের জন্য নয়। গনীমত তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুযোগ এবং তাদের প্রতি তাঁর করুণা। ফলে তাদের এমন বস্তু দিয়ে বিশেষিত করা হয়েছে যার কোনো স্থায়ী মূল অবশিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে যার স্থায়ী মূল অবশিষ্ট থাকে, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সকল মুসলিমের মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক হয়। এটি এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তাআলা গনীমতকে যোদ্ধাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তিনি বলেছেন: "আর জেনে রেখো যে, তোমরা যা কিছু গনীমত হিসেবে লাভ করো..."। কিন্তু ভূমির বিষয়টি তিনি রাসূলের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু 'ফাই' হিসেবে দিয়েছেন..."। এটি এই সংকেত প্রদান করে যে, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর উম্মতকে যে সকল জনপদ দান করবেন, তা রাসূলের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, যা কেবল গনীমত গ্রহণকারী যোদ্ধাদের সাথে নির্দিষ্ট নয়। আর ইমাম এর বণ্টনের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের মাধ্যমে রাসূলের স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু 'ফাই' হিসেবে দিয়েছেন..." এটি বিশেষভাবে ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আতা বিন সাইব, হাসান বসরী এবং সালাফদের আরও অনেকের থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন—ভূমি 'ফাই' হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইতিপূর্বে একদল আলেমের থেকে এ বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, তিনি একে তিন শ্রেণির জন্য সাব্যস্ত করেছেন: মুহাজির, আনসার এবং যারা তাদের পরে আসবে এমন মুসলিমগণ। আর এটি অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই সম্ভব নয়, কারণ অস্থাবর সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং যে তা লাভ করে তার সাথেই তা নির্দিষ্ট হয়ে যায়, ফলে এতে সকল মুসলিমের অংশীদারিত্ব সম্ভব নয়।

বলা হয়ে থাকে যে, এই আয়াতটি উরাইনার জনপদসমূহের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বিজিত হয়েছিল, অথবা এই জনপদসমূহ এবং বনী কুরাইজা, নাযীর ও হুনাইনের জনপদসমূহের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এই আয়াতটি বরং সাধারণ যা প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ما فتح الى آخر الدهر وهو أصح وان كان سبب نزولها في قرى عرينة فان سبب النزول لا يخص الحكم العام قال معمر بلغنا أن هذه الآية نزلت في الجزية والخراج خراج القرى يعني القرى تؤدي الخراج ذكره ابن أبي حاتم..

وكذا قال الحسن بن صالح: إن الفيء ما أخذ من الكفار بصلح من جزية أو خراج وكذا فسر أحمد الفيء بأنه ما صولح عليه من الأرضين وجزية الرؤس وخراج الأرض. وقال: فيه حق لجميع المسلمين ولم يذكر في هذه الآية بغير إيجاف كما ذكره في الآية الأولى.

وقد تقدم عن مجاهد أنه حمل الآية الأولى على خيبر وقريظة مع ما فيها من نفي الايجاف فما لم يذكر فيه نفي الايجاف أولى أن يحمل على حالة القتال فمن هنا قالت طائفة من السلف المراد به ما أخذه المسلمون بقتال من الأرض.

ذكر ابن إسحاق عن أبيه عن المغيرة بن عبد الرحمن قال ابن إسحاق وحدثني عبد الله بن أبي بكر دخل حديث أحدهما في الآخر قال أنزل الله تعالى في بني النضير سورة الحشر فكانت أموال بني النضير مما لم يوجف المسلمون عليه خيلا ولا ركابا فجعل الله أموالهم لنبيه صلى الله عليه وسلم يضعها حيث شاء ثم قال ما أفاء الله على رسوله من أهل القرى ما أوجف المسلمون عليه بالخيل والركاب وفتح بالحرب فلله وللرسول ولذي القربى فهذا قسم آخر بين المسلمين على ما وضعه الله عز وجل فقسم الفيء لمن سمي من المهاجرين والأنصار ولمن جاء بعدهم أخرجه القاضي إسماعيل.

ونحو هذا قال قتادة ويزيد بن رومان وإن هذه القرى مما أخذ بالقتال لكنهم قالوا نسخ ذلك بآية الأنفال فان أرادوا النسخ الاصطلاحي وهو رفع الحكم فلا يصح لأن آية الأنفال نزلت عقب بدر
যা কিয়ামত পর্যন্ত বিজিত হবে এবং এটাই অধিকতর বিশুদ্ধ মত। যদিও এটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ ছিল উরাইনার গ্রামসমূহ, তবে অবতীর্ণ হওয়ার বিশেষ কারণ সাধারণ বিধানকে সীমাবদ্ধ করে না। মামার বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এই আয়াতটি জিজয়া এবং খরাজ অর্থাৎ গ্রামসমূহের খরাজ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যার অর্থ হলো গ্রামগুলো খরাজ প্রদান করবে। ইবনে আবি হাতিম এটি উল্লেখ করেছেন।

হাসান ইবনে সালিহও অনুরূপ বলেছেন: নিশ্চয়ই ফায় হলো যা কাফিরদের কাছ থেকে সন্ধির মাধ্যমে জিজয়া বা খরাজ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ইমাম আহমাদও ফায়-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো ভূমির সেই অংশ যার ওপর সন্ধি করা হয়েছে, ব্যক্তিদের জিজয়া এবং ভূমির খরাজ। তিনি বলেছেন: এতে সকল মুসলিমের অধিকার রয়েছে। আর এই আয়াতে 'বিনা যুদ্ধে' কথাটি উল্লেখ করা হয়নি, যা প্রথম আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

মুজাহিদ থেকে ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রথম আয়াতটিকে খায়বার ও কুরাইজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য করেছেন—যাতে যুদ্ধ না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং যে আয়াতে যুদ্ধ না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ নেই, সেটি যুদ্ধের অবস্থার ওপর প্রয়োগ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এখান থেকেই পূর্বসূরিদের একটি দল বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভূমি থেকে মুসলিমরা যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করেছে।

ইবনে ইসহাক তার পিতার সূত্রে আল-মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান থেকে উল্লেখ করেছেন। ইবনে ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরও আমার কাছে বর্ণনা করেছেন এবং একজনের হাদিস অন্যজনের সাথে মিলে গেছে। তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বনু নাযীর সম্পর্কে সূরা আল-হাশর অবতীর্ণ করেন। বনু নাযীরের সম্পদ এমন ছিল যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়া বা উট চালনা করে যুদ্ধ করেনি। ফলে আল্লাহ তাদের সম্পদ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্ধারিত করে দেন, তিনি যেখানে ইচ্ছা তা ব্যয় করতেন। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহ গ্রামবাসীর কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যে ফায় দান করেছেন, যা মুসলিমরা ঘোড়া বা উট চালনা করে যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেছেন, তা আল্লাহ, রাসূল এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য। এটি মুসলিমদের মধ্যে অন্য একটি বণ্টনপদ্ধতি যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নির্ধারণ করেছেন। ফলে তিনি ফায়-কে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের জন্য এবং যারা তাদের পরে আসবে তাদের জন্য বণ্টন করেছেন। এটি কাজী ইসমাইল বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ এবং ইয়াযীদ ইবনে রুমানও অনুরূপ বলেছেন যে, এই গ্রামগুলো যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে। তবে তারা বলেছেন যে এটি সূরা আল-আনফালের আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যদি তারা পারিভাষিক নসখ বা বিধান তুলে নেওয়া উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা সঠিক হবে না; কারণ সূরা আল-আনফালের আয়াত বদর যুদ্ধের অব্যবহিত পরেই অবতীর্ণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قبل بني النضير وإن أرادوا أنها بينت أمرها وأن المراد بأية الحشر خمس الغنيمة خاصة وهذا قول عطاء الخراساني ذكره آدم بن أبي إياس في تفسيره عن أبي شيبة عنه على تقدير أن يكون المراد الخمس خاصة ولو قيل على تقدير أني كون المراد الخمس خاصة بآية الحشر أنها بينت ان خمس الغنيمة لا يختص بالاصناف الخمس بل يشترك فيها جميع المسلمين كان متوجها ويستدل بذلك على أن مصرف الخمس كله مصرف الفيء وهو أقوى الاقوال وهو قول مالك وقرره عمر بن عبد العزيز في رسالته في الفيء تقريرا بليغا شافيا رضي الله عنه فهذه ثلاثة أقول في الآية.

إذا قلنا إن الفيء هنا ما أخذ بقتال هل هي منسوخة أو أن المراد بها خمس الغنيمة أو أن المراد بها الأرض خاصة وهذا الثالث أصح ويقرر هذا أن الفيء يستعمل كثيرا فيما أخذ بقتال.

وروى إبراهيم بن طهمان عن أبي الزبير عن جابر رضي الله عنه قال أفاء الله على رسوله خيبر فأقرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما كانوا وذكر الحديث.

وروى يحيى بن سعيد عن بشير بن يسار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أفاء الله عليه خيبر قسمها ستة وثلاثين سهما وذكر الحديث خرجه أبو داود وإذا تقرر هذا فمن رأى دخول الأرض في أية الغنيمة خاصة أوجب قسمتها بين الغانمين ومن رأى دخولها في آية الفيء خاصة فمنهم من أوجب ارصادها للمسلمين عموما كقول مالك وأصحابه ومنهم من خير بين ذلك وبين قسمتها وهو قول الأكثرين.

ثم أن أبا عبيد زعم ان الصحابة رضي الله عنهم رأوا دخولها في كلتا الأثنتين فلذلك منهم من أشار بقسمتها ومنهم من أشار بحبسها ورد ذلك أصحاب مالك وقالوا: لو دخلت في آية الغنيمة لكانت حقا للغانمين
বনু নাদীরের পূর্বে, আর যদি তারা উদ্দেশ্য করেন যে এটি তার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এবং হাশরের আয়াতের উদ্দেশ্য কেবল গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের) পঞ্চমাংশ, তবে এটি আতা আল-খুরাসানীর মত। আদম ইবনে আবি ইয়াস তাঁর তাফসিরে আবু শায়বার সূত্রে তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। যদি ধরে নেওয়া হয় যে এর উদ্দেশ্য কেবল পঞ্চমাংশ, আর যদি বলা হয় যে হাশরের আয়াতের মাধ্যমে পঞ্চমাংশ উদ্দেশ্য হওয়ার বিষয়টি এটি স্পষ্ট করেছে যে, গনিমতের পঞ্চমাংশ কেবল পাঁচটি শ্রেণির জন্য নির্ধারিত নয় বরং সকল মুসলিম এতে অংশীদার হবে, তবে তা গ্রহণযোগ্য অভিমত হবে। এর মাধ্যমে দলীল পেশ করা হয় যে, পঞ্চমাংশের সম্পূর্ণ ব্যয়খাত হলো ফাই-এর ব্যয়খাত। আর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী অভিমত এবং এটি ইমাম মালিকের বক্তব্য। উমর বিন আব্দুল আজিজ ফাই সংক্রান্ত তাঁর পত্রে এটি অত্যন্ত সাবলীল ও সন্তোষজনকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। সুতরাং এই আয়াতের ক্ষেত্রে এই তিনটি অভিমত রয়েছে।

আমরা যদি বলি যে এখানে ফাই বলতে যা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে তা বোঝায়, তবে তা কি রহিত? নাকি এর দ্বারা গনিমতের পঞ্চমাংশ উদ্দেশ্য? অথবা এর দ্বারা কেবল ভূমি উদ্দেশ্য? এই তৃতীয় মতটিই সর্বাধিক সঠিক। এটি এ বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করে যে, যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তার ক্ষেত্রেও প্রায়শই 'ফাই' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আবু জুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে খায়বারের ভূমি ফাই হিসেবে দান করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে তাদের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখলেন এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বশির ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খায়বার ফাই হিসেবে দান করলেন, তখন তিনি একে ছত্রিশ ভাগে বিভক্ত করলেন এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন যারা ভূমিকে কেবল গনিমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, তারা যুদ্ধজয়ীদের মধ্যে তা বণ্টন করা আবশ্যক মনে করেন। আর যারা একে কেবল ফাই-এর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সাধারণভাবে সকল মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ করা আবশ্যক মনে করেন, যেমন ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের অভিমত। আবার কেউ কেউ একে বণ্টন করা এবং সংরক্ষণ করার মধ্যে ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ রেখেছেন, যা অধিকাংশ আলেমের অভিমত।

অতঃপর আবু উবাইদ দাবি করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একে উভয় আয়াতের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। এ কারণেই তাদের মধ্যে কেউ কেউ তা বণ্টনের পরামর্শ দিয়েছেন এবং কেউ কেউ তা আটকে রাখার (জনকল্যাণে রাখার) পরামর্শ দিয়েছেন। ইমাম মালিকের অনুসারীরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: যদি এটি গনিমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তা অবশ্যই যুদ্ধজয়ীদের প্রাপ্য অধিকার হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كالمنقولات فكيف يخير الامام بين اعطائها لأهلها المستحقين لها وبين منعهم حقهم؟! وقد يقال ان من رأى قسمتها كالزبير وبلال رضي الله عنهما وهو أول اختياري عمر رضي الله عنه لم يكن مأخذه في ذلك دخولها في آية الغنيمة وإنما يكون مأخذهم في ذلك أنها لما كانت فيئا لجميع المسلمين وحقا مشتركا بينهم جاز تخصيص الغانمين بها لانهم من جملة المسلمين ولهم خصوصية على غيرهم بحصول هذه الارض بقتالهم عليها فإذا كانت المصلحة في تخصيصهم بها جاز وهذا كما أقطع عثمان رضي الله عنه جماعة من الصحابة بعض أرض السواد إقطاع تمليك ونظيره وقف الامام بعض أراضي بيت المال على بعض المسلمين وقد أفتي بجواز ذلك ابن عقيل من أصحابنا وطوائف من أصحاب الشافعي وأبي حنيفة ومن الشافعية من منع ذلك وسنذكر ذلك مستوفى فيما بعد إن شاء الله تعالى.

الأصل الثاني حكم خيبر وقد اختلف الناس فيما فعله فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم: فقالت طائفة قسمها جميعا بين أهل الحدبية ومن شهد خيبر ومن غاب عنها وهذا قول الزهري ذكره أبو داود في سننه وقد تقدم أن عمر رضي الله عنه قال: "لولا آخر الناس ما فتحت قرية إلا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر". وكذا روى ابن وهب في مسنده عن ابن لهيعة عن يزيد (1) بن أبي حبيب عمن سمع عبد الله بن المغيرة بن أبي بردة يقول سمعت سفيان بن وهب الخولاني يقول لما افتتحت مصر قال الزبير بن العوام لعمرو بن العاص رضي الله عنهما أقسمها كما قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر فقال عمرو: لا أقسمها حتى أكتب إلى أمير المؤمنين فكتب إلى عمر رضي الله عنه فكتب إليه عمر رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) يزيد هذا ممن يكثر الرواية عنه ابن لهيعة وهو مجهول.
স্থাবর সম্পত্তির মতো; সুতরাং ইমামকে কেন তাদের হকদারদেরকে তা প্রদান করা এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মধ্যে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া হবে?! বলা হয়ে থাকে যে, যারা এটি বন্টন করার পক্ষে মত দিয়েছেন—যেমন জুবাইর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা), এবং এটিই ছিল ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রাথমিক পছন্দ—তাদের এই অবস্থানের ভিত্তি এটি গণিমতের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিল না, বরং তাদের যুক্তি ছিল যেহেতু এটি সকল মুসলিমের জন্য 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং তাদের মধ্যে একটি যৌথ অধিকার, তাই যুদ্ধে বিজয়ীদের জন্য এটি নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়েজ, কারণ তারা মুসলিমদেরই অংশ এবং এই ভূমি তাদের যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হওয়ায় অন্যদের তুলনায় তাদের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। সুতরাং যদি তাদের জন্য এটি নির্দিষ্ট করার মধ্যে জনকল্যাণ নিহিত থাকে তবে তা বৈধ। আর এটি অনেকটা ওসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক সাহাবীগণের একটি দলকে সাওয়াদ অঞ্চলের কিছু ভূমি মালিকানা হিসেবে প্রদানের (ইকতা) মতো। এর অনুরূপ উদাহরণ হলো ইমাম কর্তৃক বাইতুল মালের কিছু জমি নির্দিষ্ট কিছু মুসলিমের জন্য ওয়াকফ করা। আমাদের মাজহাবের আলেম ইবনুল আকিল এবং শাফেয়ি ও আবু হানিফার অনুসারীদের একটি দল এর বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন। তবে শাফেয়িগণের মধ্যে কেউ কেউ এটি নিষেধ করেছেন। ইনশাআল্লাহ তায়ালা আমরা সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দ্বিতীয় মূলনীতি: খায়বারের বিধান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে যা করেছিলেন তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছেন, তিনি এর সম্পূর্ণ অংশ হুদাইবিয়াবাসী এবং যারা খায়বারে উপস্থিত ছিল ও যারা অনুপস্থিত ছিল তাদের সকলের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছিলেন। এটি ইমাম যুহরীর মত, যা আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এবং আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের কথা না ভাবলে আমি প্রতিটি বিজিত জনপদই বন্টন করে দিতাম, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বন্টন করেছিলেন।" অনুরূপভাবে ইবনে ওয়াহাব তার মুসনাদে ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ (১) বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি এমন একজনের থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি আবদুল্লাহ বিন মুগিরা বিন আবি বুরদাহকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি সুফিয়ান বিন ওয়াহাব আল-খাওলানিকে বলতে শুনেছেন: যখন মিশর বিজিত হলো, তখন জুবাইর বিন আওয়াম আমর ইবনুল আসকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, "এটি বন্টন করে দিন যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বন্টন করেছিলেন।" আমর বললেন, "আমিরুল মুমিনীনকে চিঠি লেখা পর্যন্ত আমি এটি বন্টন করব না।" এরপর তিনি ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে চিঠি লিখলেন এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে প্রতিউত্তর লিখলেন...

--------------------------------------------

(১) এই ইয়াজিদ হলেন সেই ব্যক্তি যার থেকে ইবনে লাহিয়া অধিক বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন অপরিচিত (মাজহুল) রাবী।